(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: -)
منتقى من أخبار الأصمعي للربعي   (أبو محمد الربعي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: منتقى من أخبار الأصمعي

المؤلف: عبد الله بن أحمد بن ربيعة بن زبر الربعي، أبو محمد (ت 329هـ)

انتقاء: الضياء المقدسي (643 هـ)

المحقق: محمد مطيع الحافظ

الناشر: دار طلاس

الطبعة: الأولى 1987

عدد الصفحات: 166

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আর-রিবয়ী কর্তৃক আল-আসমায়ীর সংবাদ থেকে নির্বাচিত   (আবু মুহাম্মদ আর-রিবয়ী)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আল-আসমায়ীর সংবাদ থেকে নির্বাচিত

লেখক: আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন রাবীআহ বিন জাবর আর-রিবয়ী, আবু মুহাম্মদ (মৃত্যু ৩২৯ হিজরি)

নির্বাচন: আদ-দিয়া আল-মাকদিসি (৬৪৩ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ মুতি আল-হাফিজ

প্রকাশক: দার তুলাস

সংস্করণ: প্রথম ১৯৮৭

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৬

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খাইর আকবিল

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: -)
المنتقى من أخبار الأصمعي

 

تأليف

القاضي أبي محمد عبد الله بن أحمد الربعي

المتوفى سنة 329 هـ

 

انتقاء

الحافظ ضياء الدين محمد بن عبد الواحد المقدسي

المتوفى سنة 643 هـ

 

تحقيق

محمد مطيع الحافظ

 

دار طلاس

 

الطبعة الأولى

1987
আল-আসমাঈর সংবাদসমূহ থেকে নির্বাচিত সংকলন

 

রচনা

আল-কাজী আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমাদ আল-রিবয়ী

মৃত্যু: ৩২৯ হিজরি

 

নির্বাচন ও সংকলন

আল-হাফিজ জিয়াউদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী

মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরি

 

সম্পাদনা ও গবেষণা

মুহাম্মদ মুতী আল-হাফিজ

 

দার তালাশ

 

প্রথম সংস্করণ

১৯৮৭
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৮৯)
‌‌الجزء الأول من المنتقى من أخبار الأصمعي وفيه من الجزء السابع وبعض الثامن

تأليف

أبي محمد عبد الله بن أحمد بن زبر الربعي القاضي عن شيوخه رواية أبي بكر محمد بن أحمد بن عثمان السلمي عنه رواية أبي الحسن أحمد بن عبد الواحد بن محمد بن أحمد بن عثمان بن أبي الحديد.

عن جده أبي بكر محمد (بن أحمد بن عثمان السلمي) رواية أبي الحسن علي بن أحمد بن منصور الغساني المالكي عنه رواية أبي عبد الله محمد بن حمزة بن محمد بن أبي جميل القرشي عنه.
আল-আসমায়ীর সংবাদ হতে চয়নকৃত অংশসমূহের প্রথম খণ্ড এবং এতে সপ্তম খণ্ড হতে এবং অষ্টম খণ্ডের কিছু অংশ রয়েছে।

রচনা

আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে জাবর আর-রিবয়ি আল-কাদি, তাঁর শাইখগণের নিকট হতে; তাঁর থেকে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান আস-সুলামির বর্ণনা; তাঁর থেকে আবু হাসান আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে আবিল হাদিদের বর্ণনা।

তাঁর দাদা আবু বকর মুহাম্মদ (ইবনে আহমদ ইবনে উসমান আস-সুলামি) থেকে; তাঁর থেকে আবু হাসান আলি ইবনে আহমদ ইবনে মানসুর আল-গাসসানি আল-মালিকির বর্ণনা; তাঁর থেকে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হামজা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি জামিল আল-কুরাশির বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৯১)
بسم الله الرحمن الرحيم

والحمد لله رب العالمين، وصلى الله على محمد وآله وسلم تسليماً كثيراً.

قرئ على أبي عبد الله محمد بن حمزة بن محمد القرشي يوم الخميس سابع شوال من سنة ثمان وسبعين وخمس مائة بدمشق، أخبركم أبو الحسن علي بن أحمد بن منصور الغساني المالكي سنة أربع وعشرين وخمس مائة، أنبا الشيخ أبو الحسن ⦗ص: 92⦘ أحمد بن عبد الواحد بن محمد بن أبي الحديد قراءة عليه في شهر ربيع الأول سنة سبع وستين وأربع مائة في داره بدمشق، قال: أنبا جدي أبو بكر محمد بن أحمد بن عثمان السلمي قراءة عليه وأنا أسمع في شهور سنة إحدى وأربع مائة، قال: أنبا أبو محمد عبد الله ابن أحمد بن ربيعة بن زبر.

1- ثنا محمد بن شداد بن عيسى المسمعي، ثنا عبد الملك بن قريب الأصمعي قال:

قال أعرابي لرجل: اشكر المنعم عليك، وأنعم على الشاكر لك تستوجب من ربك زيادته، ومن أخيك منا صحته.
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহ মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর অজস্র শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।

৫৭৮ হিজরি সনের ৭ই শাওয়াল বৃহস্পতিবার দমেশকে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন হামযা বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাশির সামনে পাঠ করা হয়েছে; আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন মানসুর আল-গাসসানি আল-মালিকি ৫২৪ হিজরি সনে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল হাসান ⦗পৃষ্ঠা: ৯২⦘ আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি আল-হাদিদ, ৪৬৭ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে দমেশকে তাঁর নিজ বাড়িতে তাঁর সামনে পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান আস-সুলামি, ৪০১ হিজরি সনের মাসগুলোতে তাঁর সামনে পাঠের মাধ্যমে যখন আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন রাবিআহ বিন যাবর।

১- মুহাম্মাদ বিন শাদ্দাদ বিন ঈসা আল-মাসমায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক বিন কুরাইব আল-আসমাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

এক মরুবাসী এক ব্যক্তিকে বললেন: তোমার প্রতি যিনি অনুগ্রহ করেছেন তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, আর যে তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ তার প্রতি অনুগ্রহ করো; তবেই তুমি তোমার রবের নিকট থেকে তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধি এবং তোমার ভাইয়ের নিকট থেকে অকৃত্রিম হিতাকাঙ্ক্ষা লাভের যোগ্য হবে।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৯৩)
2- حدثنا العباس بن محمد، ثنا الأصمعي، عن ابن عون، عن محمد:

أن خالد بن الوليد دخل على عمر، وعلى قميص خالد حرير، فقال له عمر: ما هذا يا خالد؟ قال: وما بأسه يا أمير المؤمنين؟! أليس قد لبسه ابن عوف؟ فقال: وأنت مثل ابن عوف، ولك مثل ما لابن عوف؟! عزمت على من في البيت إلا أخذ كل واحدٍ منهم طائفةً منه مما يليه. قال: فمزقوه حتى لم يبق شيءٌ.
২- আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসমাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আউন থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে:

খালেদ বিন ওয়ালিদ ওমরের নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় খালেদের জামায় রেশম ছিল। ওমর তাকে বললেন: হে খালেদ, এটি কী? তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, এতে দোষের কী আছে?! ইবনে আউফ কি তা পরিধান করেননি? তিনি বললেন: তুমি কি ইবনে আউফের মতো, আর তোমার মর্যাদা কি ইবনে আউফের মর্যাদার মতো?! আমি ঘরে উপস্থিত সবার প্রতি নির্দেশ দিচ্ছি যে, তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার নিকটবর্তী অংশ থেকে এক টুকরো করে ছিঁড়ে নেয়। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তারা সেটি ছিঁড়ে ফেললেন, এমনকি তার কিছুই অবশিষ্ট থাকল না।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৯৩)
3- حدثنا محمد بن روح، قال: سمعت الأصمعي يقول: سمعت ابن أبي الزناد يحدث عن هشام بن عروة قال: ⦗ص: 94⦘ ما حدث ابن شهاب عن أبي بحديثٍ فيه طولٌ إلا زاد فيه ونقص.
৩- মুহাম্মদ ইবনে রূহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসমাঈকে বলতে শুনেছি: আমি ইবনুল আবী যিনাদকে হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৯৪⦘ ইবনে শিহাব আমার পিতার উদ্ধৃতিতে কোনো দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলে তাতে কিছু না কিছু বাড়াতেন অথবা কমাতেন।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৯৪)
4- حدثنا محمد بن روح، ثنا عبد الملك بن قريب الأصمعي قال:

تقدم رجلان إلى عبيد الله بن الحسن العنبري، فشهدا عنده على إعدام رجل، فقال: تشهدان أنه معدم مفقع؟ فقالا أصلح الله القاضي، شهدنا بما علمنا، فما المفقع؟ فقال: المفقع أجير المعدوم، فقالا: نشهد أنه معدم مفقع مفاقيع متفقع.
৪- মুহাম্মাদ ইবন রূহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক ইবন কুরাইব আল-আসমাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

দুইজন ব্যক্তি উবাইদুল্লাহ ইবন আল-হাসান আল-আনবারীর নিকট উপস্থিত হয়ে জনৈক ব্যক্তির নিঃস্ব হওয়ার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করল। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে সে রিক্ত ও সর্বস্বান্ত? তারা বলল: আল্লাহ বিচারকের কল্যাণ করুন, আমরা যা জানি সে অনুযায়ী সাক্ষ্য দিয়েছি, তবে ‘সর্বস্বান্ত’ কী? তিনি বললেন: ‘সর্বস্বান্ত’ হলো নিঃস্ব ব্যক্তির মজুর। তখন তারা বলল: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে সে রিক্ত, সর্বস্বান্ত, অতি রিক্ত ও পুরোপুরি নিঃস্ব।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৯৫)
5- حدثنا محمد بن القاسم، ثنا الأصمعي، عن عبد الله بن النعمان الحراني عن عكرمة:

في قوله: {ذواتا أفنان} . قال: ظل الأغصان على الحيطان، أما سمعت قول الشاعر:

ما هاج شوقك من هديل حمامةٍ … تدعو على فنن الغصون حماما

تدعو أبا فرخين صادف طاوياً … ذا مخلبين من الصقور قطاما
৫- মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসমায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুন নুমান আল-হাররানি থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন:

আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে: {শাখা-পল্লববিশিষ্ট}। তিনি বলেন: দেয়ালের ওপর বৃক্ষশাখার ছায়া। তুমি কি কবির উক্তি শোননি:

কপোতের কূজন তোমার বিরহ-ব্যাকুলতাকে কতটা উদ্দীপ্ত করল... যা বৃক্ষশাখার ওপর অন্য এক কপোতকে আহ্বান করছে।

সে ডাকছে দুই ছানার পিতাকে, যার মুখোমুখি হয়েছে এক ক্ষুধার্ত... তীক্ষ্ণ নখধারী শিকারি বাজপাখি।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৯৬)
6- حدثنا محمد بن القاسم، ثنا الأصمعي، عن عبد الله بن النعمان عن عكرمة:

في قوله عز وجل: {يخرج من بين الصلب والترائب} . قال: صلب الرجل، وترائب المرأة. أما سمعت قول الشاعر:

والزعفران على ترائبها … شرقٌ به اللبات والنحر
৬- আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আসমাঈ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুন নুমান থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন:

মহান আল্লাহর (তাআলা) এই বাণী সম্পর্কে: {তা মেরুদণ্ড ও বক্ষপিঞ্জরের মধ্য থেকে নির্গত হয়}। তিনি বলেন: পুরুষের মেরুদণ্ড এবং নারীর বক্ষপিঞ্জর। তুমি কি কবির এই কথা শোনোনি:

তার বক্ষপিঞ্জরের ওপর জাফরান … তার দ্বারা সিক্ত হয়ে আছে বুকের উপরিভাগ ও কণ্ঠদেশ।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৯৭)
7- حدثنا محمد بن القاسم، ثنا الأصمعي، عن عيسى ابن عمر قال:

كان نابغة بني شيبان ينشد الشعر فيكثر، حتى إذا فرغ قبض على لسانه فقال: لأسلطن عليك ما يسوؤك: سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر.
৭- মুহাম্মদ বিন কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসমায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

বনু শায়বানের নাবিগাহ প্রচুর পরিমাণে কবিতা আবৃত্তি করতেন। অবশেষে যখন তিনি তা শেষ করতেন, তখন নিজের জিহ্বা চেপে ধরতেন এবং বলতেন: আমি অবশ্যই তোমার ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেব যা তোমার জন্য অপ্রীতিকর হবে; (আর তা হলো:) সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৯৭)
8- حدثنا محمد بن القاسم، ثنا الأصمعي، ثنا معاذ بن العلاء قال:

رأيت غاراً باليمن في بعض جبالها، فقيل لي: إن فيه عجباً، فدخلته فرأيت فيه رجلاً من حجارة، أسفله أعلاه، فيأتي قومٌ فيطرحونه، ثم يأتون بعد وقد عاد، فحدثني أهل اليمن أن آباءهم حدثوهم عن آبائهم: أنه كان رجلاً غداراً.
৮- মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আসমাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআয ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমি ইয়ামেনের কোনো এক পাহাড়ে একটি গুহা দেখেছিলাম। আমাকে বলা হয়েছিল যে, এতে এক বিস্ময়কর বিষয় রয়েছে। অতঃপর আমি তাতে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে পাথরের তৈরি এক ব্যক্তিকে দেখলাম, যার নিচের অংশটি ছিল উপরের দিকে। একদল লোক আসত এবং তাকে ফেলে দিত, এরপর তারা পুনরায় এসে দেখত যে সে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে গিয়েছে। ইয়ামেনবাসীরা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তাঁদের পূর্বপুরুষগণ তাঁদের নিকট তাঁদের পূর্বপুরুষদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন: সে ছিল একজন অতিশয় বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৯৮)
9- حدثنا محمد بن القاسم، ثنا الأصمعي، عن صالح ابن أسلم قال:

نظرت إلى امرأة مستترة بثوب، وهي تطوف بالبيت، فنظر إليها عمر بن أبي ربيعة من وراء الثوب ثم قالب:

ألما بذات الخال واستطلعا لنا … على العهد باقٍ ودها أم تصرما

قال: فقلت له: امرأةٌ مسلمةٌ غافلةٌ محرمة قد سيرت فيها شعراً وهي لا تعلم. قال: إني قد أنشدت من الشعر ما بلغك، ورب هذه البنية ما حللت إزاري على فرجٍ حرام قط.
৯- মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আসমায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ ইবনু আসলাম থেকে, তিনি বলেন:

আমি এক নারীকে দেখলাম যিনি চাদর দিয়ে নিজেকে আবৃত করে রেখেছেন এবং তিনি কা’বা গৃহ তওয়াফ করছেন। তখন উমর ইবনু আবি রাবিয়া কাপড়ের আড়াল থেকে তার দিকে তাকালেন এবং বললেন:

সেই তিলধারিণী নারীর নিকট যাও এবং আমাদের জন্য সংবাদ নাও ... তার ভালোবাসা কি আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অটুট আছে না কি তা ছিন্ন হয়ে গেছে?

তিনি (সালিহ) বলেন: আমি তাকে বললাম, "তিনি একজন মুসলিম নারী, নিভৃতচারী এবং ইহরাম অবস্থায় রয়েছেন, অথচ আপনি তাকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করলেন যা তিনি জানেনও না।" তিনি বললেন: "আমি তো সেই কবিতাই আবৃত্তি করেছি যা তোমার নিকট পৌঁছেছে। এই গৃহের রবের কসম! আমি কখনোই কোনো হারাম যৌনাঙ্গের জন্য আমার ইজার (লুঙ্গি) খুলিনি।"
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৯৮)
10- حدثنا محمد بن القاسم، ثنا الأصمعي قال:

قيل لأعرابي: صلب الأمير زنديقاً، فقال: من طلق الدنيا فالآخرة صاحبته، ومن فارق الحق فالجذع راحلته.
১০- আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আসমায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

এক আরব পল্লীবাসীকে বলা হলো: আমির এক যিনদিককে শূলে চড়িয়েছেন। তখন তিনি বললেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াকে তালাক দেয়, পরকাল তার সঙ্গিনী হয়; আর যে সত্য পরিত্যাগ করে, শূলের কাষ্ঠখণ্ডই তার বাহন হয়।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ৯৯)
11- حدثنا أحمد بن عبيد بن ناصح، ثنا الأصمعي، عن أبي عمرو بن العلاء قال:

أسلم أعرابي في أيام عمر بن الخطاب، فجعل عمر يعلمه الصلاة، فيقول: صل الظهر أربعاً، والعصر أربعاً، والمغرب ثلاثاً، والعشاء أربعاً، والصبح ركعتين، فلا يحفظ، ويعيد عليه فلا يحفظ، بل يجعل الأربع ثلاثاً، والثلاث أربعاً، فضجر عمر فقال: إن الأعراب أحفظ شيء للشعر فقال:

إن الصلاة أربعٌ وأربع …

ثم ثلاثٌ بعدهن أربع …

ثم صلاة الفجر لا تضيع …

أحفظت؟ قال: نعم. قال: الحق بأهلك.
১১- আহমাদ বিন উবাইদ বিন নাসিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসমাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর বিন আল-আলা থেকে, তিনি বলেন:

উমর ইবনুল খাত্তাবের শাসনকালে জনৈক গ্রাম্য আরব ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন উমর তাকে নামাজ শিক্ষা দিতে শুরু করলেন। তিনি বলতেন: জোহরের নামাজ চার রাকাত পড়ো, আসরের নামাজ চার রাকাত, মাগরিবের নামাজ তিন রাকাত, এশার নামাজ চার রাকাত এবং ফজরের নামাজ দুই রাকাত। কিন্তু সে তা মুখস্থ রাখতে পারছিল না। উমর বারবার তাকে শেখাতে লাগলেন কিন্তু তবুও সে মুখস্থ রাখতে পারছিল না; বরং সে চার রাকাতকে তিন রাকাত এবং তিন রাকাতকে চার রাকাত বানিয়ে ফেলছিল। এতে উমর বিরক্ত হলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই গ্রাম্য আরবরা কবিতা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে সর্বাধিক পারদর্শী। অতঃপর তিনি বললেন:

নিশ্চয়ই নামাজ চার এবং চার …

অতঃপর তিন, যার পরে রয়েছে চার …

অতঃপর ফজরের নামাজ, যা নষ্ট কোরো না …

তুমি কি মুখস্থ করেছ? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমার পরিবারের সাথে গিয়ে মিলিত হও।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০০)
12- حدثنا أحمد بن عبيد، ثنا الهيثم بن عدي، عن الأعمش، عن مجاهد، عن عبد الله بن عمرو قال:

إذا ظهرت بيوت مكة على أخشابها فخذ حذرك.

قال أبو جعفر: سمعت الأصمعي وأبا زيد يقولان: الأخشب: الجبل.
১২- আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাইসাম ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

যখন মক্কার ঘরবাড়িগুলো তার পাহাড়গুলোর উপর প্রকাশ পাবে, তখন তুমি সতর্ক হয়ে যেও।

আবু জাফর বলেন: আমি আসমায়ি এবং আবু যাইদকে বলতে শুনেছি: আল-আখশাব হলো পাহাড়।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০০)
13- حدثنا أحمد بن عبيد، قال: سمعت الأصمعي يقول:

حاصبٌ من قطر، يشبه بوقع الحصى وأنشد:

⦗ص: 101⦘

فقد مسحت بحمد الله كعبته … وقد حصبت نهاراً وسط من حصبا
১৩- আহমদ ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসমাঈকে বলতে শুনেছি:

বৃষ্টির পাথর-কণা, যা নুড়িপাথর পড়ার শব্দের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ; আর তিনি আবৃত্তি করেছেন:

⦗পৃষ্ঠা: ১০১⦘

আল্লাহর প্রশংসায় আমি তার কাবা স্পর্শ করেছি … এবং আমি দিনের বেলা কঙ্কর নিক্ষেপকারীদের মাঝে কঙ্কর নিক্ষেপ করেছি।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০১)
14- حدثنا أحمد بن عبيد، قال: سمعت الأصمعي يقول:

سحوت القرطاس أسحوه سحواً: إذا قشرته فأخذت منه سحاءةً. قال: والمسحاة التي تسحى بها الأرض تجوف بها، والساحية: المطر الشديد الواقع الذي يقشر الأرض. وسحت الشاة تسح سحوحاً: إذا سمنت.
১৪- আহমাদ বিন উবাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসমায়ীকে বলতে শুনেছি:

আমি কাগজ ছিলে ফেলেছি, অর্থাৎ: যখন আমি তা থেকে একটি পাতলা অংশ ছাড়িয়ে নিয়েছি। তিনি বলেন: আর কোদাল হলো তা যার দ্বারা মাটি চাঁছা হয় এবং গর্ত করা হয়। আর ‘সাহিয়াহ’ হলো সেই প্রবল বৃষ্টি যা মাটির উপরিভাগ ছিলে ফেলে। আর ভেড়া যখন হৃষ্টপুষ্ট বা মোটা হয়, তখন তাকে ‘সাহাত’ বলা হয়।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০১)
15- حدثنا أحمد بن عبيد، قال: سمعت الأصمعي يقول:

يقال الجرادة مذكرٌ والأنثى من الجراد. كما يقال: بطةٌ وحية، وجميعه جراد، والرجل من الجراد: قطعةٌ منه قدر ⦗ص: 102⦘ ما يكون مئة ذراع في مثلها. وإذا باض الجراد قيل: غرز فهو مغرز. ويقال أيضاً: قد رز الجراد فهو راز. قال: ويبقى في الأرض أربعين ليلةً ثم يثور مثل صغار الدود، فيقال: قد أدبى بيض الجراد إذا صار دبى.
১৫- আহমদ ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসমাঈকে বলতে শুনেছি:

বলা হয়, 'জারাদাহ' (পঙ্গপাল) শব্দটি পুরুষবাচক এবং পঙ্গপালের স্ত্রীবাচকও এর অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি বলা হয়: 'বাত্তাহ' (হাঁস) এবং 'হাইয়াহ' (সাপ); আর এর সমষ্টিগত নাম হলো 'জারাদ'। পঙ্গপালের এক 'রিজল' (দল) বলতে বোঝায় পঙ্গপালের এমন এক অংশ বা ঝাঁক যা পরিমাপে ⦗পৃষ্ঠা: ১০২⦘ প্রায় একশত হাত দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের সমান হয়। যখন পঙ্গপাল ডিম পাড়ে, তখন বলা হয়: 'গারাজা' (সে ডিম গেঁথে দিয়েছে), ফলে তাকে 'মুগরিয' বলা হয়। আরও বলা হয়: 'রাযযাল জারাদ' (পঙ্গপাল ডিম পেড়েছে), তখন তাকে 'রায' বলা হয়। তিনি বলেন: এটি মাটিতে চল্লিশ রাত অবস্থান করে, অতঃপর ছোট কীটের মতো বের হয়ে আসে। যখন সেগুলো 'দাবা' (পাখাহীন ছোট পঙ্গপাল) এ পরিণত হয়, তখন বলা হয়: পঙ্গপালের ডিমগুলো 'দাবা' স্তরে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০২)
16- حدثنا أحمد بن عبيد قال: سمعت الأصمعي يقول:

جشر الصبح: انكشط عند الظلام. يقال: جشر يجشر جشوراً: انفلق. ويقال: أصبح بنو قالن جشراً: إذا أووا في الإبل ولم ينصرفوا إلى البيوت. ويقال: جشروا دوابهم إذا أخرجوها من القرية ترعى قريباً منها. قال: وإذا أخذ البعير سعالٌ في صدره قيل: قد جشر يجشر جشراً، والاسم منه الجشرة.
১৬- আহমাদ ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসমায়ীকে বলতে শুনেছি:

ভোরের জাশারা: অন্ধকারের সময় তা উন্মোচিত হওয়া। বলা হয়: জাশারা, ইয়াজশুরু, জাশুরান—অর্থাৎ বিদীর্ণ হওয়া। আরও বলা হয়: বানু কালিন জাশার অবস্থায় ভোরে উপনীত হয়েছে—যখন তারা উটের পালের সাথে অবস্থান করে এবং নিজ বাড়িতে ফিরে আসে না। আরও বলা হয়: তারা তাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলোকে জাশারা করেছে—যখন তারা সেগুলোকে গ্রামের কাছাকাছি চরে বেড়ানোর জন্য গ্রাম থেকে বের করে দেয়। তিনি বলেন: আর যখন উটের বুকে কাশি হয়, তখন বলা হয়: জাশারা, ইয়াজশারু, জাশরান; আর এর বিশেষ্য হলো আল-জাশরাহ।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০৩)
17- حدثنا أحمد بن عبيد، قال: سمعت الأصمعي يقول:

رجلٌ أمرط وأمعط: إذا سقط شعر رأسه ولحيته، وهو من المرط والمعط. وسهم أمرط إذا سقط عنه قذذه، ونبل أمرط لا ريش عليها، واحدها: مرط، وأنشد:

حتى رأى من خمر المحاط … ذا أكلبٍ كالأقدح الأمرط

معناه: أنه وصف ثوراً قد أحاطت به الكلاب، وقوله: من خمر. فالخمر: ما ستر ووارى، والمحاط: حيث أحيط به. وقوله: ذا أكلب: هو الصائد الذي معه كلاب. وقوله: كالأقدح: يعني النبل. والقداح: النبل. الأمرط: ليس عليها ريش شبهها بها، والمرط من الثياب: الإزار.
১৭- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন উবাইদ, তিনি বলেন: আমি আসমাঈকে বলতে শুনেছি:

আমরাত এবং আমআত ব্যক্তি: যখন তার মাথার ও দাড়ির চুল পড়ে যায়; আর এটি 'মারত' ও 'মাআত' শব্দ থেকে আগত। আমরাত তীর হলো যখন তার পালক পড়ে যায়, এবং আমরাত বাণ হলো যার ওপর কোনো পালক নেই, এর একবচন হলো: মারত। আর তিনি কাব্য পাঠ করেছেন:

অবশেষে সে মুহাতের আড়াল থেকে দেখল ... শিকারীকে যার সাথে কুকুর রয়েছে, যা পালকহীন তীরের ন্যায়।

এর অর্থ হলো: তিনি একটি ষাঁড়ের বর্ণনা দিয়েছেন যাকে কুকুরগুলো পরিবেষ্টন করেছে। আর তাঁর উক্তি: 'খামর' থেকে; 'খামর' হলো: যা কিছু আবৃত ও গোপন করে। আর 'মুহাত' হলো: যেখানে তাকে পরিবেষ্টন করা হয়েছে। আর তাঁর উক্তি: 'যা আকলাব' অর্থ: সেই শিকারী যার সাথে শিকারি কুকুর রয়েছে। আর তাঁর উক্তি: 'কাল আকদাহ' অর্থ: তীরের বাণসমূহ। আর 'কিদাহ' হলো তীরের বাণ। 'আমরাত' হলো: যার ওপর কোনো পালক নেই, তিনি (কুকুরগুলোকে) এর সাথে তুলনা করেছেন। আর পোশাকের ক্ষেত্রে 'মিরত' হলো: চাদর বা লুঙ্গি।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০৩)
18- حدثنا أحمد بن عبيد قال: سمعت الأصمعي يقول:

⦗ص: 104⦘

اللطلط: الشاة الدرداء التي ليست له أسنان.
১৮- আহমাদ ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসমাঈকে বলতে শুনেছি:

⦗পৃষ্ঠা: ১০৪⦘

আল-লাতলাত: এমন দাঁতহীন বকরি যার কোনো দাঁত নেই।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০৪)
19- حدثنا أحمد بن عبيد قال: سمعت الأصمعي يقول:

الوجا: مقصورةٌ، وهو أن يشتكي الفرس حافره، فإذا وطئ الأرض قيل هو يتوجى. قال: والحفى: أن ينهك الحافر وتأكله الأرض.
১৯- আহমাদ ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসমায়ীকে বলতে শুনেছি:

আল-ওয়াজা: এটি আলিফ মাকসুরাহ যোগে গঠিত একটি শব্দ, এর অর্থ হলো ঘোড়ার খুরে ব্যথা হওয়া; সুতরাং যখন সে জমিনে পা ফেলে তখন তাকে ‘ইয়াতাওয়াজ্জা’ (ব্যথাগ্রস্ত) বলা হয়। তিনি বলেন: আর আল-হাফা হলো: খুর জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়া এবং মাটি দ্বারা তা ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০৪)
20- قال: وسمعت الأصمعي يقول:

العقق: جمع العقوق، وهي الحامل إذا عظم بطنها، وهي عقوقٌ، ولا يقال: معق وأنشدنا لزهير:

غزت سماناً فآبت ضمراً خدجاً … من بعدما جنبوها بدناً عققا
২০- তিনি বলেন: আমি আসমায়ীকে বলতে শুনেছি:

‘আল-উকাক’ হলো ‘আল-আকুক’-এর বহুবচন; আর তা হলো সেই গর্ভবতী প্রাণী যার পেট যখন বড় হয়ে যায়। তাকে ‘আকুক’ বলা হয়, ‘মু’ইক্ক’ বলা হয় না। তিনি আমাদের নিকট জুহাইরের এই কবিতাটি আবৃত্তি করেন:

তারা হৃষ্টপুষ্ট অবস্থায় অভিযানে গিয়েছিল, অতঃপর ফিরে এলো কৃশকায় ও অকালপ্রসূত অবস্থায় ... সেগুলোকে স্থূলকায় ও গর্ভবতী অবস্থায় পার্শ্বে হাঁকিয়ে নেওয়ার পর।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০৫)
21- حدثنا أحمد عبيد، قال: سمعت الأصمعي يقول: يقال للدابة إذا مر مراً سريعاً: مر وله أجيج ومر يؤج أجا
২১- আমাদের নিকট আহমদ উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসমায়িকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: চতুষ্পদ জন্তু যখন খুব দ্রুতগতিতে অতিক্রম করে তখন তার সম্পর্কে বলা হয়: সে অতিক্রম করল এমতাবস্থায় যে তার মাঝে প্রচণ্ড তেজ ছিল এবং সে অত্যন্ত দ্রুতবেগে ধাবিত হলো।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০৫)
22- قال: وسمعت الأصمعي يقول:

الريح اللجوج الدائمة الهبوب، تكون في كل زمانٍ، وأكثر ما تكون إذا ولى القيظ.
২২- তিনি বলেন: আমি আসমাঈকে বলতে শুনেছি:

‘লজুজ’ বায়ু হলো যা অবিরাম প্রবাহিত হয়, এটি সকল সময়েই হয়ে থাকে; আর এটি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে যখন প্রচণ্ড গ্রীষ্মকাল বিদায় নেয়।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০৫)
23- قال: وسمعت الأصمعي يقول:

الإشعار إلزاقك الشيء بالشيء، وأنشدنا:

نقلبهم جيلاً فجيلاً تراهم … شعائر قربانٍ بها نتقرب

⦗ص: 106⦘

قال: والإشعار: أن تطعن البدنة حتى يسيل دمها، وأشعرها سناناً: أي ألزقه بها، ومنه قول النبي صلى الله عليه وسلم في حديث أم عطية: ((أشعرنها إياه)) : أي نشفنها به؛ الزقنه بجلدها. ومنه قوله للأنصار: ((أنتم الشعار)) ، وهو الثوب الذي يلبسه الرجل على جلده، فأراد أنهم في القرب منه بمنزلة الشعار، والناس بمنزلة الدثار، وهو ما لبس فوق الدثار.
২৩- তিনি বলেন: আমি আসমাঈকে বলতে শুনেছি:

‘আল-ইশআর’ হলো কোনো বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে যুক্ত করা বা সেঁটে দেওয়া। তিনি আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন:

আমরা তাদের এক প্রজন্মের পর অন্য প্রজন্মে পরিবর্তন করি, তুমি তাদের দেখবে … উৎসর্গের নিদর্শনসমূহ যার মাধ্যমে আমরা নৈকট্য লাভ করি।

⦗পৃষ্ঠা: ১০৬⦘

তিনি বলেন: আর ‘আল-ইশআর’ হলো কুরবানির উটকে আঘাত করা যাতে তার রক্ত প্রবাহিত হয়। আর ‘আশআরাহা সিনানান’ মানে: তিনি এর সাথে বর্শার ফলক বিদ্ধ করেছেন। এ থেকেই উম্মে আতিয়্যার হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তাকে এটি পরিয়ে দাও" (আশইরনাহা ইয়্যাহু): অর্থাৎ এর দ্বারা তাকে মুছে দাও; এটি তার গায়ের চামড়ার সাথে সংলগ্ন করে দাও। এ থেকেই আনসারদের প্রতি তাঁর বাণী: "তোমরা হলে শরীরের সাথে লেগে থাকা পোশাক" (আনতুমুশ শিআর)। এটি হলো সেই পোশাক যা মানুষ তার শরীরের চামড়ার সাথে সংলগ্ন করে পরিধান করে। তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন যে, নৈকট্যের দিক থেকে তারা তাঁর কাছে ‘শিআর’ স্বরূপ, আর অন্য মানুষরা ‘দিসার’ স্বরূপ। আর ‘দিসার’ হলো যা দিসারের (মূলত শিআরের) ওপর পরিধান করা হয়।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০৬)
24- قال: وسمعت الأصمعي يقول:

القانع والمعتر. المعتر: الذي يعتر بك لتعطيه، يقال: ⦗ص: 107⦘ عره يعره عراً: إذا أطاف به. قال: ومثله: اعتراه يعتريه، وعراه يعروه، كل ذلك إذا أتاه وأطاف به.
২৪- তিনি বললেন: আমি আসমাঈকে বলতে শুনেছি:

আল-কানি' (অল্পে তুষ্ট) এবং আল-মু'তার (সাহায্যপ্রার্থী)। আল-মু'তার: সেই ব্যক্তি যে আপনার সামনে ঘোরাফেরা করে যেন আপনি তাকে কিছু দান করেন। বলা হয়: ⦗পৃষ্ঠা: ১০৭⦘ 'আরাহু', 'ইয়াউরুহু', 'আররান': যখন সে কারও নিকটবর্তী হয় বা চারপাশ ঘিরে থাকে। তিনি বললেন: এর অনুরূপ শব্দ হলো: 'ই'তারা-হু', 'ইয়া'তারি-হি' এবং 'আরা-হু', 'ইয়া'রু-হু'; এই সবগুলোরই অর্থ হলো যখন কেউ কারও নিকট আসে এবং তাকে ঘিরে থাকে।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০৭)
25- حدثنا أحمد بن عبيد قال: سمعت الأصمعي يقول:

حبل العاتق: موضع الرداء من العنق. وحبائل الشيطان: مصايده. والحبالة: المصيدة ما كانت. وحبائل الموت: أسبابه.
২৫- আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসমায়ীকে বলতে শুনেছি:

হাবলুল আতিক: ঘাড়ের সেই স্থান যেখানে চাদর রাখা হয়। আর হাবাইলুশ শয়তান: তার ফাঁদসমূহ। আর আল-হিবালহ্: যেকোনো ধরনের ফাঁদ। আর হাবাইলুল মাওত: মৃত্যুর কারণসমূহ।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০৭)
26- حدثنا أحمد بن عبيد قال: سمعت الأصمعي يقول:

رمحٌ حليف الغرب أي: حديدٌ. وأنشد:

حتى إذا ما تجلى ليلها فزعت … من فارسٍ، وحليف الغرب ملتام

⦗ص: 108⦘

قال: يعني: الحمر لما أصبحت فزعت من الصايد ومعه رمحٌ حليف. وقوله: ملتام: يشبه بعضه بعضاً. يقال: رجل حليف اللسان أي حديد.
২৬- আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসমায়ীকে বলতে শুনেছি:

'রুমহুন হালিফুল গারব' অর্থাৎ: ধারালো বর্শা। আর তিনি কাব্য আবৃত্তি করেছেন:

অবশেষে যখন তার রাত্রি অপসৃত হয়ে প্রভাত হলো তখন সে ভীত হয়ে পড়ল … একজন অশ্বারোহী এবং সুতীক্ষ্ণ ও সুসংবদ্ধ অস্ত্রের ভয়ে।

⦗পৃষ্ঠা: ১০৮⦘

তিনি বলেন: এর অর্থ হলো, বন্য গাধাগুলো যখন সকাল করল তখন তারা শিকারির ভয়ে ভীত হলো যার সাথে একটি তীক্ষ্ণ বর্শা ছিল। এবং তার উক্তি: 'মুলতাম' এর অর্থ: যা একে অপরের সদৃশ বা সুসংবদ্ধ। বলা হয়: 'রাজুলুন হালিফুল লিসান' অর্থাৎ প্রখর রসনাবিশিষ্ট বা ধারালো জিহ্বার অধিকারী ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১) মুনতাকা মিন আখবারিল আসমায়ি লির রিবয়ি (পৃষ্ঠা: ১০৮)
27- حدثنا محمد بن القاسم بن خلاد، ثنا الأصمعي، عن العمري وغيره:

أن عبد الله بن جعفر أسلف الزبير بن العوام ألف ألف درهم، فلما توفي الزبير. قال ابن الزبير لعبد الله بن جعفر: إني وجدت في كتب أبي: أن له عليك ألف ألف درهم. فقال: هو صادقٌ فاقبضها إذا شئت، ثم لقيه بعد فقال: يابن جعفر إنما وهمت، المال لك عليه. قال: فهو له. قال: لا أريد ذاك، قال: ⦗ص: 109⦘ فاختر، إن شئت فهو له، وإن كرهت ذلك فلك [فيه] نظرة ما شئت، فإن لم ترد ذلك فبعني من ماله ما شئت، قال: أبيعك، ولكني أقوم فقوم الأموال، ثم أتاه، فقال: أحب أن لا يحضرني وإياك أحد فقال له عبد الله: يحضرني وإياك الحسن والحسين فيشهدان لك. قال: ما أحب أن يحضرنا أحد، قال: انطلق فمضى معه فأعطاه خراباً وشيئا لا عمارة له، وقومه عليه، حتى إذا فرغ قال عبد الله لغلامه: ألق لي في هذا الموضع مصلى فألقى له في أغلظ موضع من تلك المواضع مصلى، -يعني-: فصلى ركعتين وسجد فأطال السجود يدعو، فلما قضى ما أراد من الدعاء قال لغلامه: احفر في موضع سجودي فحفر، فإذا عين قد أنبطها فقال له ابن الزبير: أقلني، قال: أما دعائي فأجابه الله تبارك وتعالى إياي فلا أقيلك، فصار ما أخذ منه أعمر مما في يدي ابن الزبير.
২৭- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে কাসেম ইবনে খাল্লাদ, তিনি আসমাঈ থেকে, তিনি উমারি এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেন:

আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, জুবায়ের ইবনুল আওয়ামকে দশ লক্ষ দিরহাম ঋণ দিয়েছিলেন। যখন জুবায়ের মৃত্যুবরণ করলেন, তখন ইবনুয জুবায়ের আবদুল্লাহ ইবনে জাফরকে বললেন: আমি আমার পিতার নথিপত্রে পেয়েছি যে, আপনার কাছে তাঁর দশ লক্ষ দিরহাম পাওনা রয়েছে। তিনি বললেন: তিনি সত্য বলেছেন, আপনি যখন ইচ্ছা তা গ্রহণ করুন। পরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত হলে তিনি বললেন: হে ইবনে জাফর, আমি আসলে ভুল করেছি, মূলত সম্পদটি আপনারই তাঁর কাছে পাওনা ছিল। তিনি বললেন: তবে তা তাঁর জন্যই। তিনি বললেন: আমি তা চাই না। তিনি বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১০৯⦘ তবে পছন্দ করুন, যদি আপনি চান তবে তা তাঁরই হোক, আর যদি তা অপছন্দ করেন তবে আপনি যতক্ষণ ইচ্ছা অবকাশ পাবেন। আর যদি তাও না চান, তবে তাঁর সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা আমার কাছে বিক্রি করুন। তিনি বললেন: আমি আপনার কাছে বিক্রি করব, তবে আমি সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করব। এরপর তিনি তাঁর কাছে এলেন এবং বললেন: আমি চাই যে আমাদের সাথে অন্য কেউ উপস্থিত না থাকুক। আবদুল্লাহ তাঁকে বললেন: আমার ও আপনার সাথে হাসান ও হুসাইন উপস্থিত থাকুক, তারা আপনার জন্য সাক্ষ্য দেবে। তিনি বললেন: আমি চাই না আমাদের সাথে কেউ থাকুক। তিনি বললেন: চলুন। অতঃপর তিনি তাঁর সাথে গেলেন এবং তিনি তাঁকে একটি পরিত্যক্ত ও অনাবাদী জমি দিলেন এবং সেটির মূল্য নির্ধারণ করে তাঁর নিকট হস্তান্তর করলেন। যখন কাজ শেষ হলো, আবদুল্লাহ তাঁর গোলামকে বললেন: এই স্থানে আমার জন্য একটি জায়নামাজ বিছিয়ে দাও। গোলাম সেই স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্ত জায়গায় একটি জায়নামাজ বিছিয়ে দিল। অর্থাৎ: তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং দীর্ঘ সময় সিজদাহ করে দুআ করলেন। যখন তিনি দুআ শেষ করলেন, তখন গোলামকে বললেন: আমার সিজদাহর স্থানে খনন করো। সে খনন করল এবং দেখা গেল সেখান থেকে একটি ঝরনা প্রবাহিত হচ্ছে। তখন ইবনুয জুবায়ের তাঁকে বললেন: আমার সাথে এই চুক্তি বাতিল করুন। তিনি বললেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা যেহেতু আমার দুআ কবুল করেছেন, তাই আমি আপনার সাথে চুক্তি বাতিল করব না। ফলে তিনি যা গ্রহণ করেছিলেন তা ইবনুয জুবায়েরের হাতে থাকা অংশের চেয়েও অধিক আবাদযোগ্য ও উর্বর হয়ে উঠল।