(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: -)
حلم معاوية لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: حلم معاوية لابن أبي الدنيا

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281 هـ)

تحقيق: إبراهيم صالح [ت 1443 هـ]

الناشر: دار البشائر

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 36

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433

ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত হিলমে মুয়াবিয়া   (ইবনে আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত হিলমে মুয়াবিয়া

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু: ২৮১ হিজরি)

সম্পাদনা: ইব্রাহিম সালিহ [মৃত্যু: ১৪৪৩ হিজরি]

প্রকাশক: দার আল-বাশাইর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খাইরি আকবিল

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: -)
حلم معاوية

تأليف

ابن أبي الدنيا

عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان

المتوفى سنة 281 هـ

 

تحقيق

إبراهيم صالح

 

دار البشائر

1424 هـ - 2003 م
মুয়াবিয়ার সহনশীলতা

রচনা

ইবনে আবিদ দুনিয়া

আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান

মৃত্যু ২৮১ হিজরি

 

তাহকিক

ইব্রাহিম সালেহ

 

দারুল বাশায়েব

১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
نقلت من حلم معاوية من‌‌ الجزء الأول، تأليف ابن أبي الدنيا، وهو سماعي.

1 - بإسناد: حكي أن معاوية ذكر عند عمر بن الخطاب، فقال: دعونا من ذم فتى قريش وابن سيدها، من يضحك في الغضب، ولا ينال إلا على الرضى، ومن لا يأخذ ما فوق رأسه إلا من تحت قدميه.
ইবন আবিদ দুনিয়া রচিত ‘হিলমু মুআবিয়া’ এর প্রথম খণ্ড হতে এটি নকল করা হয়েছে এবং এটি আমার শ্রবণকৃত।

১ - সনদসহ বর্ণিত: বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট মুআবিয়ার কথা আলোচনা করা হলে তিনি বললেন: “কুরাইশের এই যুবক এবং তাদের নেতার পুত্রের নিন্দা করা ছেড়ে দাও; যে ক্রোধের সময়ও হাসে, এবং যাকে কেবল সন্তুষ্টির মাধ্যমেই লাভ করা যায়, আর যে তার পায়ের তলার (ভিত্তি মজবুত করা) ব্যতিরেকে মাথার ওপরের কিছু ধরে না।”
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - وبإسناد: لما قدم عمر الشام، تلقاه معاوية في موكب عظيم؛ فلما دنا منه قال له عمر: أنت صاحب الموكب العظيم؟ قال: نعم يا أمير المؤمنين. قال: مع ما يبلغني من طول وقوف ذوي الحاجات ببابك؟ قال: مع ما يبلغك من ذاك. قال: ولم تفعل هذا؟ قال: نحن بأرض جواسيس العدو بها كثير، فيجب أن نظهر من عز السلطان ما نرهبهم به؛ فإن أمرتني فعلت، وإن نهيتني انتهيت.

فقال عمر: يا معاوية، ما أسألك عن شيء، إلا تركتني في مثل رواجب الضرس؛ لئن كان ما قلت حقاً، إنه لرأي أريب، ولئن كان باطلاً، إنها لخدعة أديب. ⦗ص: 20⦘ قال: فمرني يا أمير المؤمنين. قال: لا آمرك ولا أنهاك. فقال رجلٌ: يا أمير المؤمنين، ما أحسن ما صدر الفتى عما أوردته فيه. فقال عمر: لحسن مصادره وموارده جشمناه ما جشمناه.
২ - এবং একটি সনদসহ বর্ণিত: উমর (রা.) যখন শামে আগমন করলেন, মুআবিয়া (রা.) এক বিশাল রাজকীয় কাফেলা নিয়ে তাঁর অভ্যর্থনা জানালেন। যখন তিনি তাঁর নিকটবর্তী হলেন, উমর (রা.) তাঁকে বললেন: আপনিই কি এই বিশাল কাফেলার অধিপতি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনিন। তিনি (উমর) বললেন: অথচ আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, প্রয়োজনগ্রস্তরা আপনার দরজায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে? তিনি বললেন: আপনার নিকট যে সংবাদ পৌঁছেছে তা সত্ত্বেও (আমি এটি করি)। তিনি বললেন: আপনি কেন এমনটি করেন? তিনি বললেন: আমরা এমন এক ভূমিতে রয়েছি যেখানে শত্রুপক্ষের অনেক গুপ্তচর বিচরণ করে, তাই আমাদের জন্য শাসনব্যবস্থার এমন জাঁকজমক প্রকাশ করা আবশ্যক যা দ্বারা আমরা তাদের মনে ভীতি সঞ্চার করতে পারি। এখন আপনি যদি আমাকে আদেশ করেন তবে আমি তা পালন করব, আর যদি নিষেধ করেন তবে আমি বিরত থাকব।

তখন উমর (রা.) বললেন: হে মুআবিয়া, আমি আপনাকে যে বিষয়েই জিজ্ঞাসা করি না কেন, আপনি আমাকে এমন এক অবস্থায় ছেড়ে দেন যেন দাঁতের সন্ধিস্থলের মতো (অর্থাৎ আমাকে নিরুত্তর বা সংশয়ে ফেলে দেন)। আপনি যা বলেছেন তা যদি সত্য হয়, তবে তা এক বুদ্ধিমান ব্যক্তির সুচিন্তিত রায়; আর যদি তা মিথ্যা হয়, তবে তা এক নিপুণ ব্যক্তির চাতুর্য মাত্র। ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ তিনি বললেন: তবে হে আমিরুল মুমিনিন, আমাকে আদেশ করুন। তিনি বললেন: আমি আপনাকে আদেশও করছি না, আবার নিষেধও করছি না। তখন এক ব্যক্তি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি এই যুবককে যে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছিলেন, তিনি তা থেকে কতই না চমৎকারভাবে বেরিয়ে এলেন। উমর (রা.) বললেন: তাঁর এই চমৎকার উপস্থাপনা ও বিচক্ষণতার কারণেই আমরা তাঁকে সেই মহান দায়িত্বভার অর্পণ করেছি যা আমরা করেছি।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
3 - وبإسناده قال: كان عمر بن الخطاب إذا رأى معاوية، قال: هذا كسرى العرب.
৩ - এবং তাঁর সনদে তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব যখনই মুয়াবিয়াকে দেখতেন, তখন বলতেন: ইনি আরবদের কিসরা।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
4 - وبإسناده: أن عمر دعا أبا سفيان يعزيه بابنه يزيد، فقال له أبو سفيان: من جعلت على عمله يا أمير المؤمنين؟ قال: جعلت أخاه معاوية، وابناك مصلحان، ولا يحل لنا أن تنزع مصلحاً.
৪ - এবং তাঁর সনদে বর্ণিত: উমর (রা.) আবু সুফিয়ানকে তাঁর পুত্র ইয়াযীদের মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে ডাকলেন। তখন আবু সুফিয়ান তাঁকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি তাঁর কর্মস্থলে কাকে নিযুক্ত করেছেন?" তিনি বললেন: "আমি তাঁর ভাই মুয়াবিয়াকে নিযুক্ত করেছি; আপনাদের উভয় পুত্রই যোগ্য ব্যক্তি এবং আমাদের জন্য কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে পদচ্যুত করা বৈধ নয়।"
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
5 - وبإسناده: قال علي: لا تكرهوا إمارة معاوية، فإنكم لو قد فقدتموه، رأيتم الرؤوس تنزو من كواهلها كالحنظل.
৫ - এবং তাঁর সনদে বর্ণিত: আলী (রা.) বলেছেন: তোমরা মুয়াবিয়ার নেতৃত্বকে অপছন্দ করো না, কারণ তোমরা যদি তাকে হারিয়ে ফেলো, তবে তোমরা মস্তকসমূহকে তাদের ঘাড় থেকে মাকাল ফলের ন্যায় ছিটকে পড়তে দেখবে।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
6 - وبإسناده قال: قال عمر: تعجبون من دهي هرقل وكسرى، وتدعون معاوية!.
৬ - এবং তাঁর সনদে তিনি বলেন: উমর (রা.) বলেছেন: তোমরা হিরাক্লিয়াস ও কসরুর বিচক্ষণতা দেখে বিস্মিত হও, অথচ তোমরা মুয়াবিয়াকে উপেক্ষা করো!
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
7 - وبإسناده: قال ابن عباس: لله بلاد ابن هندٍ، ما أكرم حسبه، وأكرم مقدرته! والله ما شتمنا على منبرٍ قط، ولا بالأرض، ضناً منه بأحسابنا وحسبه.
৭ - এবং তাঁর সনদ অনুযায়ী: ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: ইবনে হিন্দের শহরসমূহ আল্লাহর জন্য (অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর মঙ্গল করুন), তাঁর বংশমর্যাদা কতই না মহান এবং তাঁর সামর্থ্য কতই না উদার! আল্লাহর শপথ, তিনি কখনো কোনো মিম্বরে কিংবা যমীনে আমাদের গালি দেননি, আমাদের এবং তাঁর বংশমর্যাদার সম্মান রক্ষার তাগিদ থেকেই তিনি তা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
8 - وبإسناده: قال ابن عباس: قد علمت بما كان معاوية يغلب الناس؛ كان إذا طاروا وقع، وإذا وقعوا طار.
৮ - তার বর্ণনাসূত্রসহ: ইবনে আব্বাস বলেন: আমি জেনেছি কিসের মাধ্যমে মুয়াবিয়া মানুষের ওপর প্রবল হতেন; তারা যখন উড়ে যেত, তখন তিনি স্থির হতেন; আর তারা যখন স্থির হতো, তখন তিনি উড়ে যেতেন।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
9 - وبإسناده: لما جاء نعي معاوية إلى ابن عباس، والمائدة بين يديه، فقال لغلامه: ارفع ارفع. ثم قال: اللهم أنت أوسع لمعاوية، ثم قال: خيرٌ ممن يكون بعده، وشر ممن كان قبله؛ ثم قال:

جبلٌ تزعزع ثم مال بجمعه … في البحر لا رَتقَت عليك الأبحر
৯ - এবং তাঁর সনদে বর্ণিত: যখন ইবনে আব্বাসের নিকট মুয়াবিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছাল, তখন তাঁর সামনে দস্তরখান সাজানো ছিল। তিনি তাঁর গোলামকে বললেন: উঠিয়ে নাও, উঠিয়ে নাও। এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আপনি মুয়াবিয়ার জন্য (কবরকে) প্রশস্ত করে দিন। এরপর তিনি বললেন: তিনি তাঁর পরবর্তী ব্যক্তিদের চেয়ে উত্তম এবং তাঁর পূর্ববর্তী ব্যক্তিদের চেয়ে নিকৃষ্ট ছিলেন। অতঃপর তিনি আবৃত্তি করলেন:

একটি পাহাড় যা প্রকম্পিত হলো, অতঃপর তার সমগ্র ভার নিয়ে সমুদ্রের মাঝে ঢলে পড়ল … সমুদ্রসমূহ যেন তোমার এই অভাব পূরণ করতে না পারে।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
10 - وبإسناده: قال عبد الله بن الزبير، وهو يخطب، وذكر معاوية فقال: رحم الله ابن هندٍ، لوددت أنه بقي ما بقي من أبي قبيسٍ حجرٌ، على مثل ما فارقنا عليه، كان -والله- كما قال بطحاء العذري:

ركوب المنابر ذو هيبةٍ … معن بخطبته مجهر

تثوب إليه هوادي الكلام … إذا ضل خطبته المهمر
১০ - এবং তাঁর বর্ণনাসূত্রে বর্ণিত: আবদুল্লাহ ইবনুল যুবাইর খুতবা প্রদানকালে মুআবিয়ার কথা উল্লেখ করে বললেন: আল্লাহ হিন্দ-এর পুত্রের প্রতি রহম করুন; আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই কামনা করতাম যে, আবু কুবাইস পাহাড়ের একটি পাথর অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত তিনি সেই অবস্থার ওপর আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতেন, যেভাবে তিনি আমাদের ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন। তিনি ছিলেন—আল্লাহর শপথ—ঠিক তেমনই যেমন বাতাহ আল-উযরি বলেছেন:

মিম্বরে আরোহণকারী ও গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন … স্বীয় ভাষণে তিনি ছিলেন সারগর্ভ ও উচ্চকণ্ঠ

কথার শ্রেষ্ঠ ও অগ্রগামী অংশগুলো তাঁর দিকেই ধাবিত হয় … যখন অসার বক্তারা তাদের ভাষণে খেই হারিয়ে ফেলে।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
11 - وبإسناده عن ابن عمر، قال: ⦗ص: 22⦘ ما رأيت أحداً بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم أسود من معاوية.
১১ - এবং তাঁর সনদে ইবনে উমর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আমি মুয়াবিয়া অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠ নেতা আর কাউকে দেখিনি।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
12 - وبإسناده عن عامرٍ، قال: أغلظ رجلٌ لمعاوية، فقال: أنهاك عن السلطان، فإن غضبه غضب الصبي، ويأخذ أخذ الأسد.
12 - এবং তাঁর সনদে আমির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি মুআবিয়ার প্রতি রূঢ় আচরণ করল। তখন তিনি বললেন: আমি তোমাকে সুলতান (শাসক) সম্পর্কে সতর্ক করছি; কেননা তাঁর ক্রোধ শিশুর ক্রোধের ন্যায় এবং তাঁর পাকড়াও সিংহের পাকড়াওয়ের ন্যায়।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
13 - وبإسناده عن الأعمش، قال: طاف الحسن بن علي مع معاوية، فكان يمشي بين يديه، فقال: ما أشبه أليته بأليتي هندٍ، فسمعه معاوية، فالتفت إليه، [فقال:] أما إنه كان يعجب أبا سفيان.
১৩ - এবং তাঁর সনদে আল-আ'মাশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী মুয়াবিয়ার সাথে তাওয়াফ করছিলেন এবং তিনি তাঁর সামনে হাঁটছিলেন। তখন তিনি (জনৈক ব্যক্তি) বললেন: "তাঁর নিতম্ব হিন্দের নিতম্বের কতই না সদৃশ!" মুয়াবিয়া তা শুনতে পেলেন এবং তাঁর দিকে ফিরে তাকিয়ে [বললেন:] "জেনে রেখো, এটি আবু সুফিয়ানকে মুগ্ধ করত।"
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
14 - وبإسناده، قال: أسمع رجلٌ مرةً معاوية كلاماً شديداً، غضب منه أهله، فقيل له: لو سطوت عليه، فكان نكالاً. قال: إني لأستحيي أن يضيق حلمي عن ذنب أحدٍ من رعيتي.
14 - এবং তাঁর বর্ণনাসূত্রে তিনি বলেন: একদা এক ব্যক্তি মুয়াবিয়াকে অত্যন্ত কঠোর কথা শোনালেন, এতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা রাগান্বিত হলেন। তখন তাঁকে বলা হলো: আপনি যদি তাঁর ওপর কঠোরতা প্রদর্শন করতেন, তবে তা একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতো। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমি এতে লজ্জা বোধ করি যে, আমার সহনশীলতা আমার প্রজাদের কোনো একজনের অপরাধের তুলনায় সংকীর্ণ হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
15 - وبإسناده، قال: حج معاوية، فلما كان عند الردم، أخذ حسين بخطامه فأناخ به، ثم ساره طويلاً، ثم انصرف؛ وزجر معاوية راحلته وسار. فقال عمرو بن عثمان: ينيخ بك الحسين، وتكف عنه، وهو ابن أبي طالبٍ! ⦗ص: 23⦘ فقال معاوية: دعني من علي؛ فوالله ما فارقني حتى خفت أن يقتلني، فلو قتلني ما أفلحتم؛ وإن لكم من بني هاشمٍ ليوماً.
১৫ - এবং তাঁর সনদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: মুআবিয়া হজ্জ পালন করলেন, অতঃপর যখন তিনি আর-রাদমে পৌঁছালেন, হুসাইন তাঁর উটের লাগাম ধরে সেটি বসিয়ে দিলেন, এরপর দীর্ঘ সময় তাঁর সাথে একান্তে কথা বললেন, তারপর প্রস্থান করলেন; আর মুআবিয়া তাঁর বাহনকে হাঁকিয়ে নিয়ে চলতে লাগলেন। তখন আমর ইবনে উসমান বললেন: হুসাইন আপনার উট বসিয়ে দিচ্ছেন আর আপনি তাঁকে ছেড়ে দিচ্ছেন, অথচ তিনি আবু তালিবের পুত্র! ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ মুআবিয়া বললেন: আলীর প্রসঙ্গ আমার কাছে বাদ দাও; আল্লাহর কসম, তিনি আমার নিকট থেকে সরেননি যতক্ষণ না আমি আশঙ্কা করেছি যে তিনি আমাকে হত্যা করে ফেলবেন, আর যদি তিনি আমাকে হত্যা করতেন তবে তোমরা সফল হতে পারতে না; এবং নিশ্চয়ই বনু হাশিমের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য একটি কঠিন দিন রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
16 - وبإسناده عن سفيان بن عيينة، قال: بينا معاوية يسير في طريق مكة، إذ نام على راحلته، فلحقه ابن الزبير، فقال: أتنام وأنا معك؟ أما تخاف أن أقتلك؟ قال: لست من قتالي الملوك، إنما يصيد كل طيرٍ قدره؛ إنما أنت - يا ابن الزبير - ثعلبٌ رواغٌ، تدخل من جُحر وتخرج من جحر؛ والله لكأني بك قد ربقت كما يربق الجدي، فميا ليتني لك حياً فأخلصك، وبئس المخلص كنت.
১৬ - এবং তাঁর সনদে সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া যখন মক্কার পথে ভ্রমণ করছিলেন, তখন তিনি তাঁর বাহনের ওপর ঘুমিয়ে পড়লেন। এমতাবস্থায় ইবনুল জুবাইর তাঁর কাছে পৌঁছালেন এবং বললেন, "আমি আপনার সাথে থাকা অবস্থায় আপনি ঘুমাচ্ছেন? আপনি কি আমাকে ভয় পাচ্ছেন না যে আমি আপনাকে হত্যা করব?" তিনি বললেন, "তুমি রাজাদের হত্যাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নও; প্রতিটি পাখি কেবল তার সামর্থ্য অনুযায়ী শিকার করে। হে ইবনুল জুবাইর! তুমি তো কেবল এক ধূর্ত শিয়াল, যে এক গর্ত দিয়ে প্রবেশ করে আর অন্য গর্ত দিয়ে বের হয়। আল্লাহর কসম, আমি যেন তোমাকে দেখছি যে, তোমাকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়েছে যেভাবে ছাগলছানাকে বেঁধে রাখা হয়। হায়, আমি যদি তখন জীবিত থাকতাম তবে তোমাকে উদ্ধার করতাম! আর আমি কতই না মন্দ উদ্ধারকারী হতাম।"
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
17 - وبإسناده: أن رجلاً طال مقامه بباب معاوية، ثم أذن له، فقال: يا أمير المؤمنين، انقطعت إليك بالأمل، واحتملت جفوتك بالصبر، وليس لمقربٍ أن يأمن، وليس لمباعدٍ أن ييأس، وكل صائرٌ إلى حظه من رزق الله. فقال معاوية: هذا كلامٌ له ما بعده؛ فأمر بعهده إلى فلسطين؛ فقال الرجل:

دخلتُ على معاوية بن حربٍ … وكنت وقد أيست من الدخول

وما أدركت ما أملت حتى … حللت محلة الرجل الذليل ⦗ص: 24⦘

وأغضيت العيون على قذاها … ولم أنظر إلى قالٍ وقيل
১৭ - এবং তার সনদে বর্ণিত: এক ব্যক্তি মুয়াবিয়ার দরজায় দীর্ঘকাল অবস্থান করার পর তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো। তখন সে বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, আমি আশা নিয়ে আপনার নিকট সমর্পিত হয়েছি এবং আপনার রূঢ়তাকে ধৈর্যের সাথে সহ্য করেছি। কোনো নিকটবর্তী ব্যক্তির জন্য নিরাপদ বোধ করা সাজে না, আবার কোনো দূরবর্তী ব্যক্তির জন্য হতাশ হওয়া সাজে না; প্রত্যেকেই আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তার রিজিকের অংশের দিকে ধাবিত হয়। তখন মুয়াবিয়া বললেন: এটি এমন এক বক্তব্য যার পরবর্তী প্রভাব সুদূরপ্রসারী; অতঃপর তিনি তাকে ফিলিস্তিনের নিয়োগপত্র প্রদানের নির্দেশ দিলেন। তখন লোকটি বলল:

আমি মুয়াবিয়া বিন হারবের নিকট প্রবেশ করলাম … অথচ আমি প্রবেশের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছিলাম

আমি যা আশা করেছিলাম তা অর্জন করতে পারিনি যতক্ষণ না … আমি একজন লাঞ্ছিত ব্যক্তির অবস্থানে উপনীত হলাম ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘

আমি চোখের যাতনা (কষ্ট) সহ্য করেও চোখ বুজে থাকলাম … আর আমি কোনো প্রকার আলোচনা-সমালোচনার প্রতি কর্ণপাত করিনি।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
18 - وبإسناده قال: دخل سعد بن أبي وقاص على معاوية، فسلم ولم يسلم بإمرة المؤمنين؛ فقال له معاوية: لو شئت أن تقول غيرها لقلت. قال: فنحن المؤمنون ولم نؤمرك؛ كأنك معجبٌ بما أنت فيه يا معاوية! والله ما يسرني أني على الذي أنت عليه، وأني هرقت محجمةٌ من دمٍ. قال: لكني وابن عمك علياً -يا أبا إسحاق- قد هرقنا فيها أكثر من محجمةٍ ومحجمتين؛ تعال واجلس معي على السرير.
১৮ - এবং তাঁর সনদসহ তিনি বলেন: সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস মুয়াবিয়ার নিকট প্রবেশ করলেন। এরপর তিনি সালাম দিলেন, কিন্তু 'আমীরুল মুমিনীন' হিসেবে সালাম দিলেন না। তখন মুয়াবিয়া তাকে বললেন: আপনি যদি এ ছাড়া অন্য কিছু বলতে চাইতেন তবে অবশ্যই তা বলতেন। তিনি (সা'দ) বললেন: আমরা হলাম মুমিন, অথচ আমরা আপনাকে আমীর নিযুক্ত করিনি। হে মুয়াবিয়া! মনে হচ্ছে আপনি যা লাভ করেছেন তা নিয়ে আপনি বড়ই আত্মতৃপ্ত! আল্লাহর কসম, আপনি যে অবস্থায় আছেন সে অবস্থায় থাকা আমাকে আনন্দিত করবে না, যদি তার বিনিময়ে আমাকে এক সিঙ্গা পরিমাণ রক্তও ঝরাতে হয়। তিনি (মুয়াবিয়া) বললেন: কিন্তু হে আবু ইসহাক! আমি এবং আপনার চাচাতো ভাই আলী এতে এক বা দুই সিঙ্গা পরিমাণের চেয়েও অনেক বেশি রক্ত ঝরিয়েছি। আসুন এবং আমার সাথে এই খাটিয়ার ওপর বসুন।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
19 - بإسناده عن المغيرة، قال: لما جيء معاوية بنعي علي رحمه الله وهو قائلٌ مع امرأته ابنة قرظة في يومٍ صائفٍ، قال: {إنا لله وإنا إليه راجعون} ماذا فقدوا من العلم والحلم، والفضل والفقه. فقالت امرأته: أنت بالأمس تطعن في عينيه، وتسترجع عليه اليوم؟ قال: ويلك، لا تدرين ماذا فقدوا من علمه وفضله وسوابقه.
১৯ - মুগিরাহ হতে তাঁর সনদের মাধ্যমে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন মুআবিয়াহর নিকট আলীর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মৃত্যু সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি এক গ্রীষ্মের তপ্ত দিনে তাঁর স্ত্রী বিনতে কারযার সাথে দ্বিপ্রহরের বিশ্রামে ছিলেন। তিনি বললেন: {নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন}; তারা জ্ঞান, সহনশীলতা, মর্যাদা এবং ফিকহ হতে কত কিছুই না হারাল! তখন তাঁর স্ত্রী বললেন: আপনি গতকাল পর্যন্ত তাঁর নিন্দা করছিলেন, আর আজ তাঁর জন্য 'ইন্নালিল্লাহ' পাঠ করছেন? তিনি বললেন: তোমার ধ্বংস হোক! তুমি জানো না তারা তাঁর জ্ঞান, মর্যাদা এবং ইসলামের জন্য তাঁর সুদীর্ঘ অতীত অবদানসমূহ হতে কী হারিয়েছে।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
20 - وبإسناده، قال: جاء ابن أحوز التميمي إلى معاوية، فقال: يا أمير المؤمنين، جئتك من عند ألأم الناس، وأبخل الناس، وأعيا الناس، وأجبن الناس. ⦗ص: 25⦘ فقال: ويلك، وأنى أتاه اللؤم، وكنا نتحدث أن لو كان لعلي بيتٌ من تبرٍ وآخر من تبنٍ، لأنفد التبر قبل أن يُنفد التبن؟ ويحك، وأنى أتاه العي، وإن كنا نتحدث أنه ما جرت المواسي على رأس رجلٍ من قريشٍ أفصح من علي؟ ويلك، وأنى أتاه الجبن، وما برز له رجلٌ قط إلا صرعه؟ -والله- يا ابن أحوز- لولا أن الحرب خدعةٌ، لضربت عنقك؛ اخرج، فلا تقيمن في بلدي. قال عطاءٌ: وإن كان يقاتله، فإنه قد كان يعرف فضله.
20 - এবং তাঁরই সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে আহওয়ায আত-তামিমি মুয়াবিয়ার নিকট এসে বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, আমি আপনার নিকট এসেছি এমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে যে মানুষের মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট, সবচেয়ে কৃপণ, সবচেয়ে বাকপটুতাহীন এবং সবচেয়ে ভীরু। ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ তখন তিনি (মুয়াবিয়া) বললেন: তোমার দুর্ভোগ হোক! তার মাঝে নিকৃষ্টতা কোত্থেকে আসবে? অথচ আমরা বলাবলি করতাম যে, যদি আলীর একটি ঘর সোনায় পূর্ণ থাকত এবং অন্যটি খড়ে পূর্ণ থাকত, তবে সে খড় শেষ হওয়ার আগেই সোনা নিঃশেষ করে ফেলত। তোমার দুর্ভোগ হোক! তার মাঝে বাচনভঙ্গির অক্ষমতা কোত্থেকে আসবে? অথচ আমরা আলোচনা করতাম যে, কুরাইশদের কোনো পুরুষের মাথায় ক্ষুর চলেনি যে আলীর চেয়ে অধিক সাবলীল ভাষী ছিল। তোমার দুর্ভোগ হোক! তার মাঝে ভীরুতা কোত্থেকে আসবে? অথচ এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তার বিরুদ্ধে দ্বৈরথে অবতীর্ণ হয়েছে আর সে তাকে ধরাশায়ী করেনি। আল্লাহর কসম—হে ইবনে আহওয়ায—যদি যুদ্ধ একটি কৌশল না হতো, তবে আমি তোমার গর্দান উড়িয়ে দিতাম; এখান থেকে বেরিয়ে যাও, আমার দেশে অবস্থান করবে না। আতা বলেন: যদিও তিনি তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন, তবুও তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৫)
21 - وبإسناده عن المغيرة، قال: أرسل الحسن بن علي وابن جعفر إلى معاوية يسألانه المال، فبعث بمئة ألفٍ -أو لكل واحدٍ منهما مئة ألفٍ- فبلغ ذلك علياً، فقال لهما: ألا تستحييان؟ رجلٌ نطعن في عينه غدوةً وعشيةً، تسألانه المال؟ قالا: لأنك حرمتنا وجاد لنا.
২১ - এবং তাঁর সনদে মুগীরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী এবং ইবনে জাফর মুয়াবিয়ার নিকট অর্থ চেয়ে লোক পাঠালেন। তখন তিনি এক লক্ষ - অথবা তাদের প্রত্যেকের জন্য এক লক্ষ করে - পাঠালেন। এ সংবাদ আলীর নিকট পৌঁছালে তিনি তাদের দুজনকে বললেন: তোমরা কি লজ্জা পাও না? এমন একজন ব্যক্তি যার আমরা সকাল-সন্ধ্যা সমালোচনা করি, তোমরা তাঁর নিকট অর্থ প্রার্থনা করছ? তাঁরা বললেন: কারণ আপনি আমাদের বঞ্চিত করেছেন এবং তিনি আমাদের প্রতি বদান্যতা দেখিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৫)
22 - وبإسناده: أن عمرو بن العاص قال لعبد الله بن عباسٍ: يا بني هاشمٍ، أما والله لقد تقلدتم بقتل عثمان فرم الإماء العوارك؛ أطعتم فساق أهل العراق في عيبه، وأحرزتموه مراق أهل مصر، وأويتم قتلته؛ وإنما نظر الناس إلى قريشٍ، ونظرت قريشٌ إلى بني عبد مناف، ونظرت بنو عبد مناف إلى بني هاشمٍ. ⦗ص: 26⦘ فقال عبد الله بن العباس لمعاوية: يا معاوية، ما تكلم عمرو إلا عن رأيك، وإن أحق الناس أن لا يتكلم في أمر عثمان لأنتما. أما أنت يا معاوية، فزينت له ما كان يصنع، حتى إذا أحصر طلب نصرك، فأبطأت عنه، وأحببت قتلته، وتربصت به. وأما أنت يا عمرو، فأضرمت المدينة عليه، وهربت إلى فلسطين تسأل عن أنبائه؛ فلما أتاك قتله، أضاقتك عداوة علي، إلى أن لحقت بمعاوية، فبعت دينك منه بمصر.

فقال معاوية: حسبك -يرحمك الله- عرضني لك عمرو، وعرض نفسه؛ لا جزي عن الرحم خيراً.
২২ - এবং তাঁর সনদসূত্রে বর্ণিত: আমর ইবনুল আস আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে বললেন: হে বনী হাশিম, আল্লাহর কসম! তোমরা উসমানের হত্যাকাণ্ডের দায়ভার এমনভাবে গলায় জড়িয়ে নিয়েছ যেমন ঋতুবতী ক্রীতদাসীরা অলংকার পরিধান করে। তোমরা তাকে দোষারোপ করার ক্ষেত্রে ইরাকের পাপাচারীদের আনুগত্য করেছ, তাকে মিশরের বিদ্রোহীদের শিকারে পরিণত করেছ এবং তার হত্যাকারীদের আশ্রয় দিয়েছ। অথচ মানুষ কুরাইশদের দিকে তাকিয়ে থাকে, কুরাইশরা তাকিয়ে থাকে বনী আবদে মানাফের দিকে, আর বনী আবদে মানাফ তাকিয়ে থাকে বনী হাশিমের দিকে। ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ তখন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস মুয়াবিয়াকে বললেন: হে মুয়াবিয়া, আমর যা কিছু বলেছে তা তোমারই মতানুসারে বলেছে। প্রকৃতপক্ষে উসমানের ব্যাপারে কথা না বলার সবচেয়ে বেশি হকদার ছিলে তোমরা দুজন। তোমার কথা যদি বলি হে মুয়াবিয়া, তবে তুমিই তার কর্মকাণ্ডকে তার দৃষ্টিতে সুশোভিত করে তুলেছিলে; পরিশেষে তিনি যখন অবরুদ্ধ হলেন এবং তোমার নিকট সাহায্য চাইলেন, তখন তুমি গড়িমসি করলে, তার মৃত্যু কামনা করলে এবং সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকলে। আর তোমার কথা যদি বলি হে আমর, তবে তুমিই তার বিরুদ্ধে মদিনায় উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়েছিলে এবং ফিলিস্তিনে পালিয়ে গিয়ে তার পরিণতির সংবাদ নিতে থাকলে। অতঃপর যখন তার নিহত হওয়ার খবর তোমার কাছে পৌঁছাল, তখন আলীর প্রতি শত্রুতা তোমাকে সংকীর্ণতায় ফেলে দিল, শেষ পর্যন্ত তুমি মুয়াবিয়ার সাথে গিয়ে হাত মেলালে এবং মিশরের বিনিময়ে তার কাছে নিজের দ্বীন বিক্রি করে দিলে।

তখন মুয়াবিয়া বললেন: যথেষ্ট হয়েছে—আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন—আমর আমাকে এবং নিজেকে তোমার লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে দিয়েছে; আত্মীয়তার বন্ধনের পক্ষ থেকে কোনো কল্যাণ লাভ হলো না।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৬)
23 - وبإسناده عن ابن سيرين، قال: قام رجلٌ إلى معاوية كأنه سفودٌ محترقٌ، فقال: يا معاوية، والله لتستقيمن أو لنقومنك. قال معاوية: بماذا؟ قال: بالقتل. قال: إذاً نستقيم يا أعرابي.
২৩ - এবং তাঁর সনদসহ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি মুআবিয়াহর সম্মুখে দাঁড়াল, যাকে দেখতে মনে হচ্ছিল যেন এক দগ্ধ লোহার শলাকা। সে বলল: হে মুআবিয়াহ, আল্লাহর শপথ! আপনি হয় অবশ্যই সোজা পথে চলবেন, নয়তো আমরাই আপনাকে সোজা করে দেব। মুআবিয়াহ বললেন: কীসের মাধ্যমে? সে বলল: হত্যার মাধ্যমে। তিনি বললেন: হে বেদুঈন, তাহলে আমরা সোজা পথেই চলব।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
ونقلت من‌‌ الجزء الثاني، وليس فيه سماعي:

24 - بإسنادٍ، قال: كتب ابن الزبير إلى معاوية: قد علمت أني صاحب الدار، وأني الخليفة بعد عثمان، ولأفعلن ولأفعلن. فدعا معاوية يزيد، فقال: ما ترى؟ قال: أرى -والله- أن لو كنت أنت وهذا على السواء، ما كان ينبغي أن تقبل منه هذا. قال: فما ترى؟ قال: أرى أن تبعث إليه خيلاً؛ قال: ويحك، إني لا أصل إلى ابن الزبير حتى أقتل دونه رجالاً من قريشٍ؛ فكم ترى أن أرسل إليه؟ قال: أربعين ألف فارسٍ. قال: فكم ترى يكفيها لمخاليها؟ قال: أربعون ألف مخلاةً، لكل مخلاةٍ درهمٌ، فذلك أربعون ألف درهمٍ. فقال معاوية: يا غلام، اكتب إلى ابن الزبير: إن أمير المؤمنين قد بعث إليك ثلاثين ألف درهمٍ، تستعين بها على أمرك.

قال: فكتب ابن الزبير: وصلت أمير المؤمنين رحمٌ. فقال معاوية ليزيد: ربحنا على ابن الزبير عشرة آلاف درهمٍ في المخالي.
এবং আমি দ্বিতীয় খণ্ড থেকে অনুলিপি করেছি, এবং এতে আমার শ্রবণ (শ্রুত বর্ণনা) নেই:

২৪ - একটি সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনুর যুবাইর মুয়াবিয়ার নিকট লিখলেন: আপনি জেনেছেন যে আমিই গৃহের অধিকারী এবং উসমানের পরে আমিই খলিফা; আর আমি অবশ্যই এটি করব এবং ওটি করব। অতঃপর মুয়াবিয়া ইয়াজিদকে ডাকলেন এবং বললেন: তোমার অভিমত কী? সে বলল: আল্লাহর শপথ—আমি মনে করি যে, আপনি এবং এই ব্যক্তি যদি সমান পর্যায়েও হতেন, তবে আপনার জন্য তার থেকে এটি গ্রহণ করা উচিত হতো না। তিনি বললেন: তাহলে তোমার অভিমত কী? সে বলল: আমি মনে করি আপনি তার কাছে অশ্বারোহী বাহিনী প্রেরণ করুন। তিনি বললেন: তোমার ধ্বংস হোক, আমি ইবনুর যুবাইর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারব না যতক্ষণ না তার সামনে কুরাইশের একদল লোককে হত্যা করি; সুতরাং তুমি কী মনে করো যে তার কাছে আমি কত (অশ্বারোহীর সমপরিমাণ অর্থ) পাঠাব? সে বলল: চল্লিশ হাজার অশ্বারোহী। তিনি বললেন: তবে তাদের পশু-খাদ্যের থলেগুলোর জন্য কতটুকু পর্যাপ্ত হবে বলে তুমি মনে করো? সে বলল: চল্লিশ হাজার থলে, প্রতিটি থলের জন্য এক দিরহাম; তবে তা মোট চল্লিশ হাজার দিরহাম। অতঃপর মুয়াবিয়া বললেন: হে বালক, ইবনুর যুবাইরের নিকট লেখ: আমীরুল মুমিনীন আপনার নিকট ত্রিশ হাজার দিরহাম পাঠিয়েছেন, যা দিয়ে আপনি আপনার কাজে সহায়তা গ্রহণ করবেন।

বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর ইবনুর যুবাইর লিখলেন: আমীরুল মুমিনীন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেছেন। অতঃপর মুয়াবিয়া ইয়াজিদকে বললেন: আমরা পশু-খাদ্যের থলের হিসেবে ইবনুর যুবাইরের বিপরীতে দশ হাজার দিরহাম সাশ্রয় করেছি।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
25 - وبإسناده، قال: أتي معاوية بقطائف، فقسمها بين أهل الشام، وأعطى شيخاً ⦗ص: 28⦘ قطيفةٌ، فتسخطها، وحلف ليضربن بها رأس معاوية؛ فبلغ معاوية فقال له: أوفِ بنذرك، وليرفق الشيخ بالشيخ.
২৫ - এবং তাঁর সনদে তিনি বলেন: মুআবিয়ার নিকট কিছু মখমলের চাদর আনা হলো, অতঃপর তিনি তা শামবাসীদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন এবং এক বৃদ্ধকে ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ একটি চাদর দিলেন। কিন্তু সে এতে অসন্তুষ্ট হলো এবং শপথ করল যে, সে তা দিয়ে অবশ্যই মুআবিয়ার মাথায় আঘাত করবে। এই সংবাদ মুআবিয়ার নিকট পৌঁছালে তিনি তাকে বললেন: তোমার মানত পূর্ণ করো, আর এক বৃদ্ধ যেন অন্য বৃদ্ধের প্রতি কোমল হয়।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
26 - وبإسنادٍ: أن أعرابياً كان على عهد معاوية، قالت له امرأته وبناته: لو أتيت أمير المؤمنين، فسألته وأخبرته بحالك، لعل الله يرزقك منه شيئاً. قال: إنه ليس بيدي شيءٌ. فباعوا حلياً ومتاعاً لهم، وتجهز حتى أتى معاوية، فدخل عليه وقد نصب في الطريق، فرأى جماعة الناس على معاوية، فلم يقدر على كلامه، فدار خلفه فقعد خلف السرير على مثل بين وسادتين، فجعل يخفق برأسه لما لقي من العياء في طريقه، فنام وتفرق الناس عن معاوية.

فلما أمسوا وخرج للمغرب، ثم رجع فتعشى وخرج لصلاة العشاء، والشيخ نائمٌ لا يعلم، حتى ذهب هوي من الليل، فدخل معاوية على أهله، فانتبه الشيخ لما أصابه برد الليل، فإذا هو بالسرج، وإذا ليس بالبيت أحدٌ غيره، فقام فخرج إلى الدار، فإذا الأبواب مقفلةٌ، فاسترجع، وقال: إنا لله، جئت أطلب الخير، فالآن أوخذ بظن أني جئت أغتال أمير المؤمنين. فجعل يطلب مكاناً يختبئ فيه إلى أن يصبح، فلم يجد، فدخل تحت سرير معاوية.

فلما ذهب هوي من الليل، إذا معاوية قد أقبل؛ شيخٌ ضخم البطن، متوشحٌ بملحفةٍ حمراء، حتى قعد على السرير، والشيخ ينظر، وهو يسترجع في نفسه، يقول: الآن أقتل. ثم قال معاوية: يا غلام؛ فأتاه بعض الوصفاء، فقال: انطلق إلى ابنة قرظة، فادعها. فأتاها، فقالت: لا أستطيع؛ فرده إليها، فقال: عزمت عليك؛ فجاءت تمشي ⦗ص: 29⦘ ومعها جوارٍ يسترنها، حتى قعدت على السرير معه، وطرن الجواري. فكلمها معاوية ساعةً ثم قال: عزمت عليك إلا نزلت فمشيت؛ ورمى عنها ثيابها، وبقيت في درعٍ رقيقٍ من قز، يستبين منه جميع جسدها، فمشت؛ فقال: أقبلي، فأقبلت؛ ثم قال: أدبري، فأدبرت؛ والشيخ ينظر، ثم أقبلت، فإذا هي ببريق عين الشيخ من تحت السرير، فصاحت وقالت: افتضحت؛ وقعدت وتقنعت بيدها، فقام معاوية إليها فقال: ما لك، ويحك، قالت: رجلٌ تحت السرير. فأدخل معاوية يده، فأخذ برأسه، فإذا شعيراتٌ، فجعل لا يقدر على أن يقبض على شعره؛ فلما علم أنه شيخٌ كبيرٌ تركه. ولبست ابنة قرظة ثيابها، وانطلقت إلى بيتها؛ وخرج الشيخ إلى معاوية، فقال: يا أمير المؤمنين، لينفعني عندك الصدق. قال: هيه. فقص عليه القصة، فقال: لا بأس عليك، وجعل معاوية يضحك، وجعل يسائله؛ فإذا الأعرابي منظرٌ، لا يسأله عن شيءٍ إلا أخبره.

فلما أصبح دعا معاوية خصياً له، فقال: خذ بيد هذا، فأدخله على بنت قرظة، وقل لها: إن هذا الذي تخلاك البارحة، وللخلوة نحلةٌ، فأعطيه نحلته.

فأدخله الخصي عليها، وأخبرها بما قال معاوية، فصاحت بالخادم فخرج، وحبست الأعرابي وقالت: ويحك، ما قصتك؟ فقص عليها القصة، فأعطته، وأوقرت راحلته ثياباً وغير ذلك، وقالت له: إذا خرجت من عندي، فلا تقيمن في هذه البلاد، فإن رآك أحدٌ بها نكلت بك؛ وخافت أن يقيم، فكلما ذكره معاوية دعاه فذكر له ما كان؛ ثم قالت لغلام لها: انطلق فاحمله وما معه على الراحلة، ثم انخس به حتى تخرجه من هذه الأرض. ⦗ص: 30⦘ فانطلق الأعرابي وقد أصاب حاجته.
২৬ - একটি সনদের মাধ্যমে বর্ণিত: মুয়াবিয়ার যুগে এক গ্রাম্য লোক ছিল। তার স্ত্রী ও কন্যারা তাকে বলল: "আপনি যদি আমিরুল মুমিনীনের কাছে যেতেন এবং তাকে আপনার অবস্থা জানাতেন ও কিছু চাইতেন, তবে হয়তো আল্লাহ আপনাকে তার মাধ্যমে কিছু দান করতেন।" সে বলল: "আমার হাতে তো কিছুই নেই।" তখন তারা তাদের অলঙ্কার ও আসবাবপত্র বিক্রি করল এবং সে প্রস্তুতি নিয়ে মুয়াবিয়ার কাছে এল। সে সেখানে প্রবেশ করল যখন মুয়াবিয়া রাস্তার পাশে জনসমক্ষে বসেছিলেন। সে মুয়াবিয়ার কাছে মানুষের ভিড় দেখল, তাই তার সাথে কথা বলতে সক্ষম হলো না। সে পেছনের দিকে ঘুরে গেল এবং দুটি বালিশের ন্যায় জিনিসের মাঝে খাটের পেছনে বসল। দীর্ঘ পথের ক্লান্তির কারণে তার মাথা নুয়ে পড়তে লাগল, এরপর সে ঘুমিয়ে পড়ল এবং মানুষজন মুয়াবিয়ার কাছ থেকে বিদায় নিল।

যখন সন্ধ্যা হলো এবং তিনি মাগরিবের নামাজের জন্য বের হলেন, তারপর ফিরে রাতের খাবার খেয়ে এশার নামাজের জন্য বের হলেন, তখনো সেই বৃদ্ধ লোকটা ঘুমন্ত এবং সে কিছুই জানত না। রাতের অনেকটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মুয়াবিয়া তার পরিবারে (কক্ষে) প্রবেশ করলেন। রাতের ঠাণ্ডায় বৃদ্ধের ঘুম ভেঙে গেল এবং সে প্রদীপ দেখতে পেল। ঘরে তিনি ছাড়া আর কেউ নেই দেখে সে দাঁড়িয়ে বাড়ির ভেতরের দিকে গেল, কিন্তু দেখল দরজাগুলো তালাবদ্ধ। সে 'ইন্না লিল্লাহ' পাঠ করল এবং বলল: "আমি কল্যাণ অন্বেষণে এসেছি, অথচ এখন আমাকে এই সন্দেহে পাকড়াও করা হতে পারে যে আমি আমিরুল মুমিনীনকে অতর্কিত হত্যা করতে এসেছি।" এরপর সে সকাল পর্যন্ত লুকিয়ে থাকার জায়গা খুঁজতে লাগল, কিন্তু কোনো স্থান না পেয়ে সে মুয়াবিয়ার খাটের নিচে ঢুকে পড়ল।

যখন রাতের আরও কিছু অংশ অতিবাহিত হলো, তখন মুয়াবিয়া এগিয়ে এলেন। তিনি ছিলেন বিশাল উদরবিশিষ্ট এক বৃদ্ধ, লাল চাদর পরিহিত। তিনি খাটের ওপর বসলেন, আর সেই বৃদ্ধ লোকটা তাকিয়ে দেখছিল এবং মনে মনে তওবা-ইস্তিগফার করছিল আর বলছিল: "এখন আমি নিশ্চিত মারা পড়ব।" এরপর মুয়াবিয়া বললেন: "হে কিশোর!" তখন তার এক খাদেম এল। তিনি বললেন: "ক্বারজার কন্যার কাছে যাও এবং তাকে ডেকে আনো।" সে তার কাছে গেল, কিন্তু সে বলল: "আমি আসতে পারব না।" তিনি পুনরায় তাকে পাঠালেন এবং বললেন: "আমি তোমাকে আসার জন্য জোরালো নির্দেশ দিচ্ছি।" এরপর সে হেঁটে এল ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ এবং তার সাথে কিছু দাসী ছিল যারা তাকে আড়াল করে রেখেছিল। অবশেষে সে তার সাথে খাটের ওপর বসল এবং দাসীরা চলে গেল। মুয়াবিয়া কিছুক্ষণ তার সাথে কথা বললেন, তারপর বললেন: "আমি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি যে তুমি নিচে নামবে এবং হাঁটবে।" এরপর তিনি তার পরিহিত পোশাক সরিয়ে দিলেন, ফলে সে পাতলা রেশমি পোশাক পরিহিত অবস্থায় রইল যার ভেতর দিয়ে তার শরীরের সবকিছু ফুটে উঠছিল। সে হাঁটতে শুরু করল। তিনি বললেন: "সামনে আসো", সে সামনে এল। এরপর বললেন: "পেছনে যাও", সে পেছনে গেল। বৃদ্ধটি খাটের নিচ থেকে এসব দেখছিল। যখন সে পুনরায় সামনে এল, তখন হঠাৎ খাটের নিচ থেকে বৃদ্ধের চোখের আভা তার নজরে এল। সে চিৎকার করে বলে উঠল: "আমি লাঞ্ছিত হয়েছি!" এবং সে বসে পড়ে নিজের হাত দিয়ে নিজেকে আড়াল করতে লাগল। মুয়াবিয়া উঠে তার কাছে গেলেন এবং বললেন: "তোমার কী হয়েছে? ধিক তোমাকে!" সে বলল: "খাটের নিচে একজন মানুষ আছে।" মুয়াবিয়া তার হাত ভেতরে ঢুকিয়ে লোকটির মাথা ধরলেন, কিন্তু দেখলেন সেখানে সামান্য কিছু চুল আছে; তিনি তার চুল মুষ্টিবদ্ধ করতে পারলেন না। যখন তিনি বুঝলেন যে এটি একজন অতি বৃদ্ধ মানুষ, তখন তাকে ছেড়ে দিলেন। ক্বারজার কন্যা তার পোশাক পরিধান করে নিজের ঘরে চলে গেল। আর বৃদ্ধটি মুয়াবিয়ার সামনে বেরিয়ে এল এবং বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনার কাছে যেন আমার সত্যবাদিতা উপকারে আসে।" তিনি বললেন: "বলো।" সে তার কাছে পুরো ঘটনা বর্ণনা করল। তিনি বললেন: "তোমার কোনো ভয় নেই।" মুয়াবিয়া হাসতে লাগলেন এবং তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে লাগলেন। দেখা গেল সেই গ্রাম্য লোকটি বেশ অভিজ্ঞ ও বুদ্ধিমান, তাকে যা-ই জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল সে তার যথার্থ উত্তর দিচ্ছিল।

সকাল হলে মুয়াবিয়া তার এক খোজাকে ডাকলেন এবং বললেন: "এর হাত ধরো এবং তাকে ক্বারজার কন্যার কাছে নিয়ে যাও। তাকে গিয়ে বলো: এই সেই ব্যক্তি যে গত রাতে তোমাকে নির্জনে দেখেছিল, আর নির্জনতার একটি উপঢৌকন আছে, তাই তাকে তার উপঢৌকন দিয়ে দাও।"

খোজা তাকে সেখানে নিয়ে গেল এবং মুয়াবিয়া যা বলেছিলেন তা তাকে জানাল। সে খাদেমকে চিৎকার করে ধমক দিল, ফলে সে বেরিয়ে গেল। এরপর সে সেই গ্রাম্য লোকটিকে আটকে রাখল এবং বলল: "ধিক তোমাকে! তোমার আসল ঘটনা কী?" সে তার কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলল। তখন সে তাকে অনেক দান করল এবং পোশাক-পরিচ্ছদ ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে তার বাহন পূর্ণ করে দিল। সে তাকে বলল: "তুমি যখন আমার এখান থেকে বের হবে, তখন আর এই দেশে অবস্থান করবে না। যদি কেউ তোমাকে এখানে দেখে, তবে আমি তোমাকে কঠোর শাস্তি দেব।" সে ভয় পাচ্ছিল যে লোকটি এখানে অবস্থান করলে মুয়াবিয়া যখনই তাকে স্মরণ করবেন, তখনই তাকে ডেকে আনবেন এবং যা ঘটেছিল তা আবার আলোচনা করবেন। এরপর সে তার এক দাসকে বলল: "যাও, একে এবং এর মালামাল বাহনে তুলে দাও, তারপর দ্রুত তাকে চালিয়ে এই ভূখণ্ড থেকে বের করে দাও।" ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ অবশেষে গ্রাম্য লোকটি তার উদ্দেশ্য সফল করে প্রস্থান করল।
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
27 - وبإسناده عن عبد الله بن أبي مليكة، قال: خطبهم معاوية على منبر مكة، فقال: إن عتبة بن أبي سفيان كتب إلي، يذكر أن أناساً من باهلة دلوا الروم على عورات المسلمين، وبالله لقد هممت أن أكتب إليه أن يحملهم في البحر، ثم يغرقهم. فقام عبدٌ أسود، فقال: والله لا نرضى بكل رجلٍ منهم رجلاً من ولد أبي سفيان. فقال معاوية: اجلس يا غراب. فقال: أبالسودة تعيرني؟ الغراب ينقر عين الرخم.

وقال عمرو بن العاص: ألا تضرب عنق هذا الكلب؟ قال: إنا -والله- لا نحول بينهم وبين ألسنتهم ما لم يحولوا بيننا وبين سلطاننا.
২৭ - এবং তাঁর সনদে আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া মক্কার মিম্বরে দাঁড়িয়ে তাঁদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই উতবা ইবনে আবি সুফিয়ান আমার নিকট লিখেছেন যে, বাহিলা গোত্রের কিছু লোক রোমানদের নিকট মুসলিমদের গোপন বিষয়গুলো ফাঁস করে দিয়েছে। আল্লাহর কসম, আমি তাকে এই মর্মে লিখে পাঠানোর সংকল্প করেছিলাম যে, সে যেন তাদেরকে সমুদ্রে নিয়ে যায় এবং এরপর তাদের ডুবিয়ে মারে।" তখন একজন কৃষ্ণাঙ্গ দাস দাঁড়িয়ে বলল: "আল্লাহর কসম, আমরা তাদের প্রত্যেকের বিনিময়ে আবু সুফিয়ানের সন্তানদের মধ্য থেকে কোনো একজনকে (বিনিময় হিসেবে) মেনে নিতে রাজি নই।" তখন মুয়াবিয়া বললেন: "বসে পড় ওহে কাক।" সে বলল: "আপনি কি আমাকে আমার কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার কারণে বিদ্রূপ করছেন? অথচ কাক শকুনের চোখ ঠোকর দিয়ে খুবলে নেয়।"

আমর ইবনুল আস বললেন: "আপনি কি এই কুকুরের গর্দান উড়িয়ে দেবেন না?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আমাদের এবং আমাদের শাসনক্ষমতার মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে না দাঁড়ায়, ততক্ষণ আমরা তাদের এবং তাদের জিহ্বার (বাকস্বাধীনতার) মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াব না।"
(খণ্ড: ১) হিলমু মুআবিয়া লি ইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
28 - وبإسناده عن قتادة، قال: لقي معاوية ابن عباس، فقال له: يا ابن عباسٍ، احتسب الحسن، لا يحزنك الله ولا يسوؤك. قال: أما ما أبقى الله أمير المؤمنين فلا يحزني ولا يسؤوني. قال: فأعطاه على كلمته ألف ألفٍ رقةً وعروضاً وأشياء. قال: خذها فاقسمها في أهلك.
২৮ - এবং তাঁর সনদে কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া (রা.) ইবনে আব্বাসের (রা.) সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁকে বললেন: হে ইবনে আব্বাস, হাসানের (ইন্তেকালের) ব্যাপারে সওয়াবের আশা রাখুন; আল্লাহ আপনাকে শোকাতুর না করুন এবং আপনার অমঙ্গল না করুন। তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: আল্লাহ যতক্ষণ আমিরুল মুমিনীনকে অবশিষ্ট রেখেছেন, ততক্ষণ কোনো কিছুই আমাকে শোকাতুর করবে না এবং আমার অমঙ্গল করবে না। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তাঁর এই কথার প্রেক্ষিতে তাঁকে দশ লক্ষ রৌপ্যমুদ্রা, পণ্যসামগ্রী ও বিবিধ বস্তু প্রদান করলেন। তিনি বললেন: এগুলো গ্রহণ করুন এবং আপনার পরিবার-পরিজনের মাঝে বণ্টন করে দিন।