(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: -)
أخبار لحفظ القرآن لابن عساكر   (أبو القاسم ابن عساكر)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أخبار لحفظ القرآن الكريم لابن عساكر

المؤلف: ثقة الدين، أبو القاسم علي بن الحسن بن هبة الله المعروف بابن عساكر (ت 571هـ)

تحقيق: خير الله الشريف

الناشر: دار الفرائد للطباعة والنشر والتوزيع - دمشق

الطبعة: الأولى، 1996

عدد الصفحات: 29

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433

ইবনে আসাকির কর্তৃক সংকলিত কুরআন হিফয সংক্রান্ত তথ্যাবলি   (আবুল কাসিম ইবনে আসাকির)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: ইবনে আসাকির কর্তৃক সংকলিত পবিত্র কুরআন হিফয সংক্রান্ত তথ্যাবলি

লেখক: সিকাতুদ্দীন، আবুল কাসিম আলী বিন হাসান বিন হিবাতুল্লাহ, যিনি ইবনে আসাকির নামে পরিচিত (মৃত ৫৭১ হিজরি)

তাহকীক: খাইরুল্লাহ আশ-শরীফ

প্রকাশক: দারুল ফারায়েদ প্রকাশনা ও বিতরণ - দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম، ১৯৯৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বা-গিয়াল খাইর আকবিল

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: -)
أخبار لحفظ القرآن

 

تأليف

ابن عساكر

الإمام الحافظ أبي القاسم علي بن الحسن بن هبة الله

المتوفى سنة 571 هـ

 

تحقيق

خير الله الشريف

 

دار الفرائد للطباعة والنشر والتوزيع

دمشق 1996
কুরআন হিফজ সংক্রান্ত বর্ণনা

 

রচনায়

ইবনে আসাকির

ইমাম হাফেজ আবুল কাসিম আলি বিন হাসান বিন হিবাতুল্লাহ

মৃত্যু ৫৭১ হিজরি

 

সম্পাদনা

খাইরুল্লাহ আশ-শারিফ

 

দারুল ফারায়েদ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ

দামেস্ক ১৯৯৬
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ১৫)
جزء فيه

 

‌‌أخبار لحفظ القرآن

تخريج الشيخ

الإمام الحافظ أبي القاسم علي بن الحسن بن هبة الله الشافعي

عن شيوخه

رواية الشيوخ

الفقيه الحسين بن علي الصالحي

والفقيه عبد الرحمن بن أبي منصور

والفقيه محاسن بن أبي المعالي

الشافعيون عنه

سماعاً لصاحبه

أحمد بن عبد الوارث بن خليفة القلعي المغربي منهم
একটি খণ্ড যাতে রয়েছে

 

‌‌কুরআন মুখস্থ রাখা সংক্রান্ত বর্ণনা

শাইখ কর্তৃক সংকলিত

ইমাম হাফেজ আবুল কাসিম আলী বিন হাসান বিন হিবাতুল্লাহ আশ-শাফেয়ী

তাঁর উস্তাদদের সূত্রে

উস্তাদগণের বর্ণনা

ফকিহ হুসাইন বিন আলী আস-সালিহি

এবং ফকিহ আবদুর রহমান বিন আবি মনসুর

এবং ফকিহ মাহাসিন বিন আবিল মাআলি

তাঁরা শাফেয়ী, যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন

তাঁর সাথীর সরাসরি শ্রবণ (সামা) অনুযায়ী

তাঁদের নিকট থেকে আহমদ বিন আবদুল ওয়ারিস বিন খলিফা আল-কালায়ী আল-মাগরিবি
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

قرأت على الشيوخ الأئمة الشيخ الفقيه الحسين بن علي الصالحي والشيخ الصالح أبي محمد عبد الرحمن بن أبي منصور والشيخ الصالح الفقيه محاسن بن أبي المعالي في ذي القعدة سنة ست وستين وخمسمائة بمدرسة عز الدين بن عبد الشافعي قالوا أنا الشيخ الإمام الثقة الحافظ أبو القاسم علي بن الحسن بن هبة الله الشافعي قال

1 - أنا الشيخ أبو القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل الحافظ بأصبهان قال أنا أحمد بن علي بن خلف أنا حمزة بن عبد العزيز المهلبي أنا أبو الحسن أحمد بن محمد بن عبدوس الطرائفي ثنا عثمان بن سعيد الدارمي ثنا أبو أيوب سليمان بن عبد الرحمن الدمشقي ثنا الوليد بن مسلم ثنا ابن جريج عن عطاء بن أبي رباح وعكرمة مولى ابن عباس عن ابن عباس رضي الله عنهما بينا هو جالسٌ عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ جاءه علي بن أبي طالب سلام الله عليه فقال بأبي أنت وأمي يا رسول الله تفلت هذا القرآن من صدري فما أجدني أقدر عليه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 18⦘ يا أبا الحسن ألا أعلمك كلمات ينفعك الله بهن وينفع بهن من علمته ويثبت ما تعلمته في صدرك فقال أجل يا رسول الله فعلمني.

فقال إذا كانت ليلة الجمعة فإن استطعت أن تقوم في ثلث الليل الأخير فإنها ساعةٌ مشهودةٌ والدعاء فيها مستجابٌ وهو قول أخي يعقوب لبنيه {سَوْفَ أسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّي} حتى تأتي ليلة الجمعة فإن لم تستطع فقم في وسطها فإن لم تستطع فقم في أولها فصل أربع ركعات تقرأ بفاتحة الكتاب وسورة يس وفي الركعة الثانية بفاتحة الكتاب و {حم} الدخان وفي الثالثة بفاتحة الكتاب و {الم تنزيل} وفي الركعة الرابعة بفاتحة الكتاب وتبارك المفصل فإذا فرغت من التشهد فاحمد الله وأحسن الثناء على الله وصل علي وأحسن وعلى سائر النبيين واستغفر للمؤمنين والمؤمنات ولإخوانك الذين سبقوك بالإيمان ثم قل في آخر ذلك

اللهم ارحمني ⦗ص: 19⦘ بترك المعاصي أبداً ما أبقيتني وارحمني أن أتكلف ما لا يعنيني وارزقني حسن النظر فيما يرضيك عني اللهم بديع السموات والأرض ذا الجلال والإكرام والعزة التي لا ترام أسألك يا الله يا رحمن بجلالك ونور وجهك أن تلزم قلبي حفظ كتابك كما علمتني وارزقني أن أتلوه على النحو الذي يرضيك عني اللهم بديع السموات والأرض ذا الجلال والإكرام والعزة التي لا ترام أسألك يا الله يا رحمن بجلالك ونور وجهك أن تنور بكتابك بصري وأن تطلق به لساني وأن تفرج به عن قلبي وأن تشرح بهصدري وأن تستعمل به بدني فإنه لا يعينني على الحق غيرك ولا يؤتيه إلا أنت ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم

أبا الحسن تفعل ذلك ثلاث جمعٍ أو خمساً أو سبعاً تجاب بإذن الله والذي بعثني بالحق ما أخطأ مؤمناً قط

قال عبد الله والله ما لبث علي إلا خمساً أو سبعاً حتى جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم في ⦗ص: 20⦘ مثل ذلك المجلس فقال يا رسول الله إن كنت فيما خلا لأتعلم أربع آياتٍ أو نحوها فإذا قرأتهن مع نفسي يتفلتن وأنا اليوم أتعلم أربعين آيةً أو نحوها فإذا قرأتها مع نفسي فلكأنما كتاب الله بين عيني ولقد كنت أسمع الحديث فإذا أردته تفلت - وأنا اليوم أسمع الأحاديث في الترمذي فإذا تحدثت بها لم أخرم منها حرفاً - منها لم أخرم منها حرفاً (1) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك مؤمن ورب الكعبة أبو الحسن

قال الحافظ رواه أبو عيسى الترمذي في جامعه عن أحمد بن الحسن الترمذي عن سليمان بن عبد الرحمن وقال غريب لا نعرفه إلا من حديث الوليد وقد روي بعضه من وجه آخر

--------------------------------------------

(1) هكذا في المطبوع.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমি ইমাম ও শাইখদের সামনে পাঠ করেছি—যাঁরা হলেন শাইখ ফকিহ আল-হুসাইন বিন আলী আল-সালিহি, শাইখ সালিহ আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আবি মনসুর এবং শাইখ সালিহ ফকিহ মাহাসিন বিন আবিল মাআলি। এটি ছিল ৫৬৬ হিজরি সনের জিলকদ মাসে, ইজ্জুদ্দিন বিন আবদ আল-শাফেয়ীর মাদরাসায়। তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট শাইখ ইমাম, নির্ভরযোগ্য হাফিজ আবুল কাসিম আলী বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ আল-শাফেয়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—

১ - আমাদের নিকট শাইখ আবুল কাসিম ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আল-হাফিজ ইসফাহানে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—আমাদের নিকট আহমদ বিন আলী বিন খালাফ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হামজা বিন আবদুল আজিজ আল-মুহাল্লাবি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবুল হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুস আল-তারাইফি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আইয়ুব সুলাইমান বিন আবদুর রহমান আদ-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনে জুরাইজ বর্ণনা করেছেন আতা বিন আবি রাবাহ এবং ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় আলী বিন আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাছে এসে বললেন, "আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক হে আল্লাহর রাসূল! এই কুরআন আমার অন্তর থেকে ছুটে যাচ্ছে, আমি তা ধরে রাখতে পারছি না।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ "হে আবুল হাসান! আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে উপকৃত করবেন এবং তুমি যাকে শেখাবে তাকেও উপকৃত করবেন, আর তুমি যা শিখবে তা তোমার অন্তরে গেঁথে দেবেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে শিখিয়ে দিন।"

তিনি বললেন, "যখন জুমার রাত আসবে, যদি পারো তবে রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশে দাঁড়াবে, কেননা সেটি হলো উপস্থিতির সময় এবং সেই সময়ে দোয়া কবুল করা হয়। আর এটিই আমার ভাই ইয়াকুবের সেই কথা যা তিনি তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন: {আমি শীঘ্রই তোমাদের জন্য আমার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব}। যতক্ষণ না জুমার রাত আসে। যদি না পারো তবে মধ্যভাগে দাঁড়াবে, আর যদি তাও না পারো তবে রাতের প্রথম ভাগে দাঁড়াবে। এরপর চার রাকাত নামাজ পড়বে। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহা ও সূরা ইয়াসিন পড়বে, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা ও 'হা-মীম' আদ-দুখান পড়বে, তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা ও 'আলিফ লাম মীম তানজিল' (সূরা সাজদাহ) পড়বে এবং চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহা ও 'তাবারাকাল্লাজি' (সূরা মুলক) পড়বে। যখন তাশাহহুদ থেকে অবসর হবে, তখন আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং আল্লাহর উত্তম গুণকীর্তন করবে, আর আমার ওপর এবং অন্যান্য নবীদের ওপর উত্তমরূপে দরুদ পাঠ করবে। আর মুমিন নর-নারীদের জন্য এবং তোমার সেইসব ভাইদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে যারা ঈমানের সাথে তোমার আগে চলে গেছেন। এরপর এর শেষে বলবে—

হে আল্লাহ! আমার প্রতি দয়া করুন ⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ যেন আমি চিরকাল গুনাহ ত্যাগ করতে পারি যতক্ষণ আপনি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন। আমার প্রতি দয়া করুন যাতে আমি অহেতুক বিষয়ে কষ্ট না করি। আর আমাকে সেই বিষয়ের উত্তম সমঝ দান করুন যা আপনাকে আমার প্রতি সন্তুষ্ট করে। হে আল্লাহ! আসমান ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা, মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী এবং এমন প্রতাপের অধিকারী যা কেউ কামনা করে নাগাল পায় না; হে আল্লাহ, হে রহমান! আমি আপনার মহিমা এবং আপনার চেহারার নূরের অসিলায় আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে, আপনি আমার অন্তরকে আপনার কিতাব মুখস্থ করার জন্য অবিচল করে দিন যেমনটি আপনি আমাকে শিখিয়েছেন। আর আমাকে তা এমনভাবে তিলাওয়াত করার তাওফিক দিন যা আপনাকে আমার প্রতি সন্তুষ্ট করে। হে আল্লাহ! আসমান ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা, মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী এবং এমন প্রতাপের অধিকারী যা কেউ কামনা করে নাগাল পায় না; হে আল্লাহ, হে রহমান! আমি আপনার মহিমা এবং আপনার চেহারার নূরের অসিলায় আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে, আপনি আপনার কিতাবের মাধ্যমে আমার দৃষ্টিকে আলোকিত করে দিন, এর মাধ্যমে আমার জিহ্বাকে সাবলীল করে দিন, এর মাধ্যমে আমার অন্তরের দুশ্চিন্তা দূর করে দিন, এর মাধ্যমে আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং এর মাধ্যমে আমার শরীরকে নিয়োজিত রাখুন। কেননা সত্যের ওপর আপনার সাহায্য ছাড়া অন্য কেউ আমাকে সাহায্য করতে পারে না এবং আপনি ছাড়া অন্য কেউ তা প্রদান করতে পারে না। আর সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।

হে আবুল হাসান! তুমি এটি তিন জুমা, অথবা পাঁচ জুমা, অথবা সাত জুমা করবে; আল্লাহর ইচ্ছায় তোমার দোয়া কবুল হবে। সেই সত্তার কসম যিনি আমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, এটি কোনো মুমিনকে কখনো হতাশ করবে না।"

আবদুল্লাহ বলেন, আল্লাহর কসম, আলী মাত্র পাঁচ বা সাত জুমা অতিবাহিত করেননি, এরই মধ্যে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ অনুরূপ এক মজলিসে এসে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! ইতিপূর্বে আমি চারটি বা এর কাছাকাছি আয়াত শিখতাম, কিন্তু যখনই আমি নিজে নিজে সেগুলো পড়তাম, তা আমার থেকে ছুটে যেত। আর আজ আমি চল্লিশটি বা এর কাছাকাছি আয়াত শিখছি, যখন আমি নিজে নিজে সেগুলো পড়ি, তখন মনে হয় যেন আল্লাহর কিতাব আমার চোখের সামনে রয়েছে। আমি আগে হাদিস শুনতাম, যখন তা বর্ণনা করতে চাইতাম তা ছুটে যেত; আর আজ আমি হাদিস শুনছি, যখন আমি তা বর্ণনা করি, তখন তা থেকে একটি অক্ষরও কমবেশি হয় না।" তা থেকে একটি অক্ষরও কমবেশি হয় না (১)। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "কাবার রবের কসম, হে আবুল হাসান! তুমি একজন মুমিন।"

হাফিজ বলেন, এটি আবু ঈসা তিরমিজি তাঁর জামে গ্রন্থে আহমদ বিন আল-হাসান তিরমিজি থেকে, তিনি সুলাইমান বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি গরিব হাদিস, ওয়ালিদ-এর হাদিস ছাড়া এটি আমরা জানি না। এর কিছু অংশ অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে এভাবেই রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২০)
2 - أخبرناه الشيخ أبو عبد الله محمد بن الفضل بن أحمد الفراوي بنيسابور أنا أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي البيهقي الحافظ أنا أبو عبد الله الحافظ أنا أبو محمد أحمد بن عبد الله بن محمد بن بشر بن مغفل ثنا أبي ثنا أبو عبد الله محمد بن الأزهر بن عيسى السجزي ثقة ثنا أبو إسحاق الهجري لقيته بالبصرة ثنا المغيرة بن أبي السعدي أبو الحارث ثنا الحسن بن أبي الحسن عن عمر بن عبد العزيز عن أبيه عن أبي الدرداء قال

سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ⦗ص: 21⦘ إذا خشي أحدكم نسيان القرآن فليقل اللهم ارحمني بترك المعاصي أبداً ما أبقيتني وارحمني بترك ما لا يعنيني وارزقني حسن النظر فيما يرضيك عني وألزم قلبي حفظ كتابك كما علمتني ونور به بصري واشرح به صدري واجعلني أتلوه على ما يرضيك عني وأفرج به عن قلبي وأطلق به لساني واستعمل به بدني ونور به قلبي ولا حول ولا قوة إلا بالله
২ - শেখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল ইবনু আহমাদ আল-ফারাওয়ী নিশাপুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনু আলী আল-বায়হাকী আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মাদ আহমাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু বিশর ইবনু মুগাফফাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল আযহার ইবনু ঈসা আস-সিজযী—যিনি নির্ভরযোগ্য—আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আল-হিজরী—যার সাথে আমার বসরায় সাক্ষাৎ হয়েছে—আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-মুগীরা ইবনু আবিস সা’দী আবু আল-হারিস আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনু আবিল হাসান আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন উমার ইবনু আব্দুল আযীয থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু আদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ যখন তোমাদের কেউ কুরআন ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা করে, তখন সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যতদিন জীবিত রাখবেন ততদিন গুনাহ বর্জনের মাধ্যমে আমার প্রতি দয়া করুন। আমার কোনো উপকারে আসে না এমন অনর্থক কাজ বর্জনের মাধ্যমে আমার প্রতি দয়া করুন। আমাকে সেইসব বিষয়ের প্রতি যথাযথ দৃষ্টি বা অনুধাবন করার তাওফীক দান করুন যা আপনাকে আমার প্রতি সন্তুষ্ট করবে। আপনি যেভাবে আমাকে শিখিয়েছেন সেভাবেই আমার অন্তরকে আপনার কিতাব মুখস্থ রাখার জন্য অবিচ্ছেদ্য করে দিন। এর মাধ্যমে আমার দৃষ্টিকে আলোকিত করুন, এর মাধ্যমে আমার বক্ষ প্রশস্ত করুন, আমাকে এমনভাবে তিলাওয়াত করার তাওফীক দিন যা আপনাকে আমার প্রতি সন্তুষ্ট করবে। এর মাধ্যমে আমার অন্তরকে দুশ্চিন্তামুক্ত করুন, এর মাধ্যমে আমার জিহ্বাকে সাবলীল করুন, এর মাধ্যমে আমার দেহকে আপনার আনুগত্যে নিয়োজিত করুন এবং এর মাধ্যমে আমার অন্তরকে আলোকিত করুন। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত গুনাহ থেকে ফেরার কোনো উপায় নেই এবং ইবাদত করার কোনো শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২১)
3 - أخبرنا الشيخ الأمين أبو محمد هبة الله بن أحمد بن محمد العدل شفاهاً أن أبا بكر أحمد بن علي بن ثابت حدثهم لفظاً بدمشق قال أنا محمد بن الحسين بن محمد المتوثي قال ثنا عثمان بن أحمد الدقاق ثنا محمد بن خلف بن عبد السلام ثنا موسى بن إبراهيم المروزي ثنا وكيعٌ عن عبيدة عن شقيق عن ابن مسعود

عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من أراد أن يؤتيه الله حفظ القرآن وحفظ العلم فليكتب هذا الدعاء في إناء نظيفٍ بعسلٍ ثم يغسله بماء مطرٍ يأخذه قبل أن يقع إلى الأرض ثم يشربه على الريق ثلاثة أيام فإنه يحفظ بإذن الله اللهم إني أسألك بأنك ⦗ص: 22⦘ مسؤولٌ لم يسأل مثلك أسألك بحق محمد رسولك ونبيك وإبراهيم خليلك وصفيك وموسى كليمك ونجيك وعيسى كلمتك وروحك وأسألك بكتاب إبراهيم وتوراة موسى وزبور داود وإنجيل عيسى وقرآن محمدٍ وأسألك بكل وحيٍ أوحيته وبكل حق قضيته وبكل سائلٍ أعطيته وأسألك باسمك الذي دعاك به أنبياؤك فاستجبت لهم وأسألك باسمك الذي تتثبت به أرزاق العباد وأسألك بكل اسمٍ هو لك أنزلته في كتابك وأسألك باسمك الذي استقل به عرشك وأسألك باسمك الذي وضعته على الأرضين فاستقرت وأسألك باسمك الذي دعمت به السموات فاستعلت وأسألك باسمك الذي وضعته على النهار فاستنار وأسألك باسمك الذي وضعته على الليل فأظلم وأسألك باسمك الذي وضعته على الجبال فرست وأسألك باسمك الواحد الأحد الصمد الوتر الفرد الظاهر الطاهر الطهر المبارك ⦗ص: 23⦘ المقدس الحي القيوم نور السموات والأرض عالم الغيب والشهادة الكبير المتعال أن ترزقني حفظ كتابك القرآن وحفظ أصناف العلم وتثبتها في قلبي وشعري وبشري وتخلطهما بلحمي ودمي ومخي وتشغل بهما جسدي في ليلي ونهاري فإنه لا حول ولا قوة إلا بالله
৩ - বিশ্বস্ত শাইখ আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আদল আমাদের মৌখিকভাবে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর আহমাদ ইবনে আলি ইবনে সাবিত দামেস্কে তাঁদেরকে মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-মুতাউসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আহমাদ আদ-দাক্কাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনে আবদুস সালাম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুসা ইবনে ইব্রাহিম আল-মারওয়াযি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ওয়াকি' উবাইদাহ থেকে, তিনি শাকিক থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন—

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি চায় যে আল্লাহ তাকে কুরআন হিফজ করার এবং ইলম (জ্ঞান) হিফজ করার তাওফিক দান করুন, সে যেন একটি পরিষ্কার পাত্রে মধু দিয়ে এই দোয়াটি লেখে। এরপর বৃষ্টির পানি দ্বারা তা ধুয়ে নেয় যা মাটিতে পড়ার আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে। অতঃপর তা খালি পেটে তিন দিন পান করবে। তবে আল্লাহর ইচ্ছায় সে তা মুখস্থ রাখতে পারবে। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এই উসিলায় যে, আপনিই একমাত্র প্রার্থিত সত্তা, আপনার মতো আর কারো কাছে প্রার্থনা করা হয় না। আমি আপনার কাছে আপনার রাসুল ও নবী মুহাম্মদ, আপনার খলিল ও মনোনীত ইব্রাহিম, আপনার সাথে বাক্যালাপকারী ও আপনার রহস্যবিদ মুসা এবং আপনার কালেমা ও রূহ ঈসার হকের উসিলায় প্রার্থনা করছি। ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ আমি আপনার কাছে ইব্রাহিমের কিতাব, মুসার তাওরাত, দাউদের যাবুর, ঈসার ইঞ্জিল এবং মুহাম্মদের কুরআনের উসিলায় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার নিকট আপনার অবতীর্ণ প্রতিটি ওহির মাধ্যমে, আপনার ফয়সালা করা প্রতিটি হকের মাধ্যমে এবং আপনি দান করেছেন এমন প্রতিটি যাঞ্চাকারীর উসিলায় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার কাছে আপনার সেই নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যার মাধ্যমে আপনার নবীগণ আপনাকে ডেকেছিলেন এবং আপনি তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। আমি আপনার কাছে আপনার সেই নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যার মাধ্যমে আপনি বান্দাদের রিজিক সুনিশ্চিত করেন। আমি আপনার সেই প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনার জন্য রয়েছে এবং যা আপনি আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন। আমি আপনার সেই নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যার ওপর আপনার আরশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি আপনার সেই নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনি জমিনগুলোর ওপর রেখেছেন ফলে তা স্থির হয়েছে। আমি আপনার সেই নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যার দ্বারা আপনি আসমানসমূহকে অবলম্বন দিয়েছেন ফলে তা উচ্চে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি আপনার সেই নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনি দিবসের ওপর রেখেছেন ফলে তা আলোকিত হয়েছে। আমি আপনার সেই নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনি রাত্রির ওপর রেখেছেন ফলে তা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েছে। আমি আপনার সেই নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনি পাহাড়সমূহের ওপর রেখেছেন ফলে তা দৃঢ়ভাবে স্থাপিত হয়েছে। আমি আপনার সেই নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যিনি এক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী, বেজোড়, একক, প্রকাশ্য, পবিত্র, পরম পবিত্র, বরকতময়, ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ অতি পবিত্র, চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, আসমানসমূহ ও জমিনের নূর, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, সুমহান ও সর্বোচ্চ। (আমি প্রার্থনা করছি) যেন আপনি আমাকে আপনার কিতাব কুরআন হিফজ করার এবং বিভিন্ন প্রকার ইলম হিফজ করার তাওফিক দান করেন, আর তা আমার অন্তরে, আমার পশমে ও চামড়ায় সুদৃঢ় করে দেন এবং এগুলোকে আমার গোশত, রক্ত ও মগজের সাথে মিশিয়ে দেন। আর আমার শরীরকে দিন-রাত এগুলোতে নিয়োজিত রাখেন। কেননা আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই।"
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২৩)
4 - كتب إلي الشيخ أبو سعد أحمد بن عبد الجبار بن أحمد من بغداد يذكر أن أبا محمد الحسن بن محمد الخلال الحافظ أجاز لهم قال أنا أبو الحسن أحمد بن محمد بن عمران بن موسى بن عروة بن الجراح المعروف بالجندي ثنا أبو محمد الحسن بن محمد العلوي ثنا إبراهيم بن عبد الله ابن أخي عبد الرزاق عن عمه عن معمر عن الزهري عن همام عن ابن عباس قال

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أهدي لك يا ابن عباس هديةً علمنيها جبريل عليه السلام للحفظ قال قلت بلى يا رسول الله قال اكتب على صحيفةٍ بزعفران فاتحة الكتاب والمعوذتين و {قُلْ هُوَ الله أَحَدٌ} ويس إلى آخرها وسورة الواقعة إلى آخرها وسورة الملك وسورة الحشر إلى آخرها ثم تغسله بماءٍ نظيف وتشربه على ⦗ص: 24⦘ الريق عند السحر مع مثله لبان ومثله عسل ومثله سكر ثم تصلي بعد الشرب ركعتين تقرأ في كل ركعة فاتحة الكتاب وخمسين مرة {قُلْ هُوَ اللهُ أحَدٌ} ثم تصبح صائماً فإنه لا يأتي عليك أربعون يوماً إلا وتصير حافظاً بإذن الله ولا تشربه على التجربة اشربه وأنت موقن بأن الله يفعل إن شاء الله
৪ - বাগদাদ থেকে শাইখ আবু সা'দ আহমাদ বিন আব্দুল জাব্বার বিন আহমাদ আমার কাছে লিখেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, হাফেজ আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-খল্লাল তাদের অনুমতি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইমরান বিন মুসা বিন উরওয়াহ বিন আল-জাররাহ, যিনি আল-জুন্দি নামে পরিচিত। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-আলাভি। আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ—যিনি আব্দুর রাজ্জাক-এর ভ্রাতুষ্পুত্র—তিনি তাঁর চাচার থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "হে ইবনে আব্বাস! আমি কি তোমাকে এমন একটি উপহার দেব যা জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমাকে মুখস্থ রাখার জন্য শিখিয়েছেন?" তিনি বলেন, আমি বললাম, "হ্যাঁ, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন, "তুমি একটি পাতায় জাফরান দিয়ে সূরা ফাতিহা, মুআউবিযাতাইন, 'বলুন: তিনি আল্লাহ এক', সূরা ইয়াসিন শেষ পর্যন্ত, সূরা আল-ওয়াকিয়া শেষ পর্যন্ত, সূরা আল-মুলক এবং সূরা আল-হাশর শেষ পর্যন্ত লেখো। অতঃপর তা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলো এবং ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ সাহরির সময় খালি পেটে তা পান করো; তার সাথে সমপরিমাণ লোবান, সমপরিমাণ মধু এবং সমপরিমাণ চিনি মিশিয়ে নেবে। এরপর পান করার পর দুই রাকাত সালাত আদায় করবে, যার প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা এবং পঞ্চাশ বার 'বলুন: তিনি আল্লাহ এক' পাঠ করবে। অতঃপর দিনের বেলা রোজা রাখবে। নিশ্চয়ই চল্লিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই আল্লাহর অনুমতিতে তুমি প্রখর স্মৃতির অধিকারী হয়ে যাবে। এটি পরীক্ষার ছলে পান করো না, বরং পান করো এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে যে, আল্লাহ তাআলা এটি কার্যকর করবেন, ইনশাআল্লাহ।"
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌في الحجامة وفضلها

5 - أخبرنا الشيخ أبو غالب أحمد بن الحسن بن البناء قال أنا الشريف أبو الغنائم بن المأمون أنا علي بن عمر الدارقطني ثنا أبو روق أحمد بن محمد بن بكر الهزاني بالبصرة ثنا أبو الخطاب زياد بن يحيى ثنا غزال بن محمد ثنا محمد بن جحادة عن نافع قال

قال لي عبد الله بن عمر قد تبيغ بي الدم فابغني حجاماً ولا يكون صبياً صغيراً ولا شيخاً كبيراً فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم الحجامة تزيد الحافظ حفظاً والعاقل عقلاً فاحتجموا على اسم الله ولا تحتجموا الخميس والجمعة والسبت والأحد واحتجموا يوم الاثنين والثلاثاء وما من جذامٍ ولا برصٍ إلا ينزل يوم الأربعاء
শিঙা লাগানো (হিজামা) এবং এর ফযীলত প্রসঙ্গে

৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু গালিব আহমদ বিন আল-হাসান বিন আল-বান্না, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরিফ আবু আল-গানাইম বিন আল-মামুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন উমর আদ-দারাকুতনী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু রূক আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন বকর আল-হাজ্জানী বসরায়, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-খাত্তাব যিয়াদ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন গাযাল বিন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন জুহাদাহ, নাফে’ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

আবদুল্লাহ বিন উমর আমাকে বললেন: "আমার শরীরে রক্ত বেড়ে গেছে (রক্তের আধিক্য ঘটেছে), তাই আমার জন্য একজন শিঙা প্রয়োগকারী (হাজ্জাম) তালাশ করো। সে যেন ছোট বালক না হয় এবং বৃদ্ধ লোকও না হয়। কারণ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: শিঙা লাগানো মুখস্থকারীর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং বুদ্ধিমানের বুদ্ধিবৃত্তি বৃদ্ধি করে। অতএব তোমরা আল্লাহর নামে শিঙা লাগাও। আর তোমরা বৃহস্পতিবার, শুক্রবার, শনিবার এবং রবিবার শিঙা লাগাবে না। তোমরা সোমবার ও মঙ্গলবার শিঙা লাগাও। আর কুষ্ঠ ও শ্বেতী রোগ বুধবারেই অবতীর্ণ হয়।"
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌سبب النسيان

6 - أخبرنا الشيخان أبو القاسم إسماعيل بن أحمد وأبو عبد الله يحيى بن الحسن ابن البناء قالا أنا أبو محمد عبد الله بن محمد الخطيب أنا أبو جعفر عمر بن إبراهيم الكتاني المقرئ ثنا عبد الله بن محمد البغوي ثنا أبو خيثمة ثنا يزيد بن هارون أنا المسعودي عن القاسم بن عبد الرحمن قال

قال عبد الله إني لأحسب الرجل ينسى العلم كان يعلمه بالخطيئة يعملها
বিস্মৃতির কারণ

৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ—আবু আল-কাসিম ইসমাইল ইবন আহমাদ এবং আবু আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া ইবনুল হাসান ইবনুল বান্না। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-খতিব। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর উমর ইবন ইব্রাহিম আল-কাত্তানি আল-মুকরি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন হারুন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মাসউদি, আল-কাসিম ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

আবদুল্লাহ বলেছেন: নিশ্চয়ই আমি মনে করি, একজন ব্যক্তি তার অর্জিত জ্ঞান ভুলে যায় কেবল তার কৃত পাপের কারণে।
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২৫)
7 - أخبرنا الشيخ أبو القاسم تميم بن أبي سعيد بن أبي العباس بهراة أنا أبو سعد أحمد بن إبراهيم بن موسى المقرئ ثنا الحسن بن أحمد بن محمد بن الحسن المزكي ثنا عبد الله بن محمد الإسفراييني ثنا محمد بن الحسين بن محمد بن سنان عن حسين بن الفرج الوراق قال

سئل سفيان بن عيينة هل يسلب العبد العلم بالذنب يصيبه قال ألم تسمع قوله {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قاَسِيَةً يُحَرِفُونَ الكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَنَسُواْ حظّاً مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ} وهو ⦗ص: 26⦘ كتاب الله وهو أعظم العلم وهو حظهم الأكبر الذي صار لهم واختصوا به وصار لهم حجة عليهم
৭ - আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন শাইখ আবুল কাসিম তামীম ইবনে আবি সাঈদ ইবনে আবুল আব্বাস হেরাতে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুসা আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-মুযাক্কি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ইসফারায়িনি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সিনান, হুসাইন ইবনুল ফারাজ আল-ওয়াররাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, বান্দা কি তার দ্বারা সংঘটিত পাপের কারণে ইলম বা জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয়? তিনি বললেন: তুমি কি মহান আল্লাহর এই বাণী শোনোনি— "অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের দরুন আমি তাদের অভিশপ্ত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা শব্দসমূহকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করে এবং তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ তারা ভুলে গিয়েছে।" আর এটি হলো ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ আল্লাহর কিতাব, যা শ্রেষ্ঠতম জ্ঞান এবং এটিই ছিল তাদের সেই বড় অংশ যা তারা লাভ করেছিল এবং যাতে তারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছিল, অতঃপর তা তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২৬)
8 - أخبرنا الشيخ أبو الفرج سعيد بن أبي الرجاء بن أبي منصور بأصبهان أنا أبو الفتح منصور بن الحسين بن علي الكاتب وأبو طاهر أحمد بن محمود بن أحمد الثقفي قالا أنا أبو بكر محمد بن إبراهيم بن المقرئ ثنا محمد بن أحمد بن زيرك اليزدي ثنا محمد بن عمرو بن النضر سمعت يحيى بن يحيى يقول

سأل رجل مالكاً فقال هل يصلح لهذا الحفظ شيءٌ فقال إن كان يصلح له شيءٌ فترك المعاصي
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল ফারাজ সাঈদ ইবনে আবিল রাজা ইবনে আবি মানসুর আসফাহানে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফাতহ মানসুর ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী আল-কাতিব এবং আবু তাহির আহমদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমদ আস-সাকাফী। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনুল মুকরি। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে যিরাক আল-ইয়াযদি। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনুন নাদর। আমি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি—

জনৈক ব্যক্তি (ইমাম) মালিককে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘স্মৃতিশক্তির (মুখস্থ রাখার) জন্য কি কোনো কিছু ফলপ্রসূ আছে?’ তিনি বললেন, ‘যদি কোনো কিছু এর জন্য ফলপ্রসূ হয়ে থাকে, তবে তা হলো পাপ বর্জন করা।’
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২৬)
9 - أخبرنا الشيخ أبو القاسم زاهر بن طاهر الشحامي بنيسابور قال قرئ على أبي عثمان سعيد بن محمد بن أحمد البحيري وأنا حاضر أنا أبو زكريا يحيى بن إسماعيل بن يحيى الحربي أنا أبو حامد أحمد بن حمدون بن أحمد بن رستم الأعمشي ثنا علي بن خشرم قال

قلت لوكيع بن الجراح إني رجلٌ بليدٌ وليس لي حفظٌ فعلمني دواءً للحفظ فقال وكيع يا بني والله ما جربت دواءً للحفظ مثل ترك المعاصي فإن أحببت حفظ الحديث فعليك به
৯ - শাইখ আবুল কাসিম জহির বিন তাহির আশ-শাহামি নিশাপুরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু উসমান সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-বুহাইরির নিকট এটি পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তখন উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন ইসমাইল বিন ইয়াহইয়া আল-হারবি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ আহমদ বিন হামদুন বিন আহমদ বিন রুস্তম আল-আ’মাশি। আলী বিন খাশরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমি ওকি ইবনুল জাররাহকে বললাম, ‘আমি একজন স্থূলবুদ্ধি লোক এবং আমার কোনো মুখস্থ শক্তি নেই। অতএব আপনি আমাকে মুখস্থ করার কোনো ওষুধ শিখিয়ে দিন।’ তখন ওকি বললেন, ‘হে বৎস! আল্লাহর কসম, আমি মুখস্থ করার জন্য গুনাহ বর্জনের মতো অন্য কোনো কার্যকর ওষুধ পরীক্ষা করে দেখিনি। অতএব তুমি যদি হাদিস মুখস্থ করতে ভালোবাসো, তবে তুমি এটিই অবলম্বন করো।’
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২৭)
10 - أخبرنا الشيخ أبو القاسم ابن السمرقندي أنا أحمد بن محمد بن أحمد بن النقور أنا أبو طاهر محمد بن عبد الرحمن المخلص ثنا أبو ذر أحمد بن محمد بن محمد الباغندي ثنا أحمد بن الفتح المروزي الحربي قال سمعت بشر بن الحارث رحمه الله يقول

إذا أردت أن تلقن العلم فلا تعصه
১০ - শাইখ আবুল কাসিম ইবনুল সামারকান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-নাকুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহির মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুখলিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু যর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বাগান্দি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আল-ফাতহ আল-মারওয়াযি আল-হারবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বিশর ইবনুল হারিসকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলতে শুনেছি:

আপনি যদি জ্ঞান অর্জন করতে চান, তবে তাঁর অবাধ্য হবেন না।
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২৭)
11 - أخبرنا الشيخ أبو العز أحمد بن عبيد الله العكبري أنا أبو الحسين محمد بن محمد بن علي الوراق ثنا أبو طاهر محمد بن عبد الرحمن المخلص إملاءً ثنا أبو بكر أحمد بن محمد بن أبي شيبة ثنا عبد الله بن هاشم الطوسي قال سمعت وكيعاً يقول

كنا نستعين على حفظ الحديث بالعمل به وكنا نستعين على طلبه بالصوم
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আল-ইজ্জ আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-উকবারী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুখলিস শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি শায়বা, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন হাশিম আত-তুসী, তিনি বলেন: আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি—

আমরা হাদিস মুখস্থ করার জন্য তার ওপর আমল করার মাধ্যমে সাহায্য নিতাম এবং হাদিস অন্বেষণের জন্য সিয়ামের মাধ্যমে সাহায্য নিতাম।
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২৭)
12 - أخبرنا الشيخ أبو الحسن علي بن حمزة بن عبد الله بن الحسن بن حمزة الفارسي أنا جدي أبو محمد أنا أبو الحسن علي بن محمد بن إبراهيم إجازة قال وجدت للحفظ في كتاب سكينة زوجة الشيخ أبي الحسين البلوطي رحمه الله

تقرأ فاتحة الكتاب و {قُلْ هُوَ اللهً أحَدٌ} ⦗ص: 28⦘ و {قُلْ أعُوذُ بِرَبِّ الفَلَقِ} و {قُلْ أعُوذُ بِرَبِ النَّاسِ} وآية الكرسي وتقرأ {سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنْسَى} {إنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْأنَهُ فَإذَا قَرَآْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ ثُمَّ إنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} {عَلَّمَهُ شَدِيدُ القُوَى} {عَلَّمَ الإنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلمْ} {الرَّحْمنُ عَلَّمَ القُرْآنَ خَلَقَ الإنْسَانَ عَلَّمَهُ البَيَانَ} {بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ} {كَذلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلاً} {فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ} {قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِيْ صَدْرِي وَيَسِّرْ لِيْ أمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِيْ وَزِيراً مِنْ أهْلِي هَارُونَ أخِي اشْدُدْ بِهِ أزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أمْرِي كَيْ نُسَبِّحُكَ كَثِيراً وَنَذْكُرُكَ كَثِيراً إنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيراً قَالَ قَدْ أُوْتِيْتَ سُؤْلَكَ يَا مُوْسَى}
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল হাসান আলী ইবনে হামজাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হাসান ইবনে হামজাহ আল-ফারিসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা আবু মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইজাজাতান (অনুমতিক্রমে); তিনি বলেন: আমি হিফজ বা মুখস্থ রাখার জন্য শায়খ আবুল হুসাইন আল-বালুতি (রহিমাহুল্লাহ)-এর স্ত্রী সাকিনার কিতাবে পেয়েছি:

আপনি সূরা ফাতিহা এবং {বলুন: তিনি আল্লাহ এক} ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ এবং {বলুন: আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের নিকট} এবং {বলুন: আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের নিকট} এবং আয়াতুল কুরসি পাঠ করবেন। এবং পাঠ করবেন {আমি আপনাকে পাঠ করাব, ফলে আপনি বিস্মৃত হবেন না} {নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। তারপর এর বিশদ বর্ণনা দেওয়া আমারই দায়িত্ব} {তাকে শিক্ষা দান করেছে এক মহাশক্তিশালী সত্তা} {তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না} {পরম করুণাময়, তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাকে ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন} {বরং এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত} {এভাবেই—যাতে আমি আপনার হৃদয়কে এর মাধ্যমে সুদৃঢ় করি এবং আমি তা স্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করেছি} {অতঃপর আমি সুলাইমানকে তা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম} {সে বলল: হে আমার রব! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। আর আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। আর আমার জন্য আমার পরিবারবর্গ থেকে একজন সাহায্যকারী নিযুক্ত করুন—আমার ভাই হারুনকে। তার মাধ্যমে আমার শক্তি বৃদ্ধি করুন এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন, যাতে আমরা আপনার অধিক পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করতে পারি এবং আপনাকে অধিক স্মরণ করতে পারি। নিশ্চয় আপনি আমাদের সম্যক দ্রষ্টা। তিনি বললেন: হে মুসা! তোমার প্রার্থনা কবুল করা হয়েছে।}
(খণ্ড: ১) আখবার লি হিফযিল কুরআন লি ইবনি আসাকির (পৃষ্ঠা: ২৯)
13 - أنشدني بعض شيوخي بإسناد لا يحضرني الآن لبعضهم

شكوت إلى وكيع سوء حفظي ..... فأرشدني إلى ترك المعاصي

وذلك أن حفظ العلم فضلٌ ..... وفضل الله لا يؤتاه عاص

آخر الجزء والحمد لله وحده وحسبنا الله ونعم الوكيل

فرغ من نسخه أحمد بن عبد الوارث بن خليفة القلعي المغربي رحم الله من دعا لكاتبه ولمن قرأ فيه بالمغفرة والنجاة من النار آمين آمين آمين

وصلى الله على محمد وآله وسلم تسليماً
১৩ - আমার জনৈক শাইখ (শিক্ষক) আমাকে এমন একটি সনদে এটি শুনিয়েছেন যা এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই—

আমি ওকী'র কাছে আমার মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা নিয়ে অভিযোগ করলাম... তখন তিনি আমাকে পাপাচার বর্জন করার নির্দেশ দিলেন।

আর তা একারণে যে, ইলম বা জ্ঞান হলো আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ... আর আল্লাহর অনুগ্রহ কোনো পাপী ব্যক্তিকে দান করা হয় না।

অধ্যায়ের সমাপ্তি। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

এর অনুলিপি সম্পন্ন করেছেন আহমদ বিন আব্দুল ওয়ারিছ বিন খলীফা আল-কালায়ি আল-মাগরিবি। আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর রহম করুন যে এর লেখক ও পাঠকের জন্য ক্ষমা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রার্থনা করবে। আমীন, আমীন, আমীন।

এবং আল্লাহ মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও পূর্ণ মাত্রায় শান্তি বর্ষণ করুন।