(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: -)
الفتوة لأبي عبد الرحمن السلمي   (أبو عبد الرحمن السلمي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الفتوة

المؤلف: محمد بن الحسين بن محمد بن موسى بن خالد بن سالم النيسابوري، أبو عبد الرحمن السلمي (ت 412هـ)

المحقق: د. إحسان ذنون الثامري / د. محمد عبد الله القدحات

الناشر: دار الرازي / عمان - الأردن

الطبعة: الأولى 1422 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 99

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী রচিত আল-ফুতুওয়াহ   (আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-ফুতুওয়াহ

লেখক: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন খালিদ বিন সালিম আন-নিশাপুরী، আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী (মৃত্যু ৪১২ হি.)

সম্পাদক: ড. ইহসান জুনুন আস-সামিরি / ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-কাদহাত

প্রকাশক: দারুর রাজি / আম্মান - জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম ১৪২২ হি. - ২০০২ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৯

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: -)
الفتوة

 

لأبي عبد الرحمن محمد بن الحسين السلمي

(412 هـ)

 

تحقيق

د. إحسان ذنون الثامري

د. محمد عبد الله القدحات

 

دار الرازي

عمان - الأردن

 

الطبعة الأولى

1422 هـ - 2002 م
আল-ফুতুওয়াহ

 

আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সুলামী-র

(৪১২ হি.)

 

সম্পাদনা

ড. ইহসান যুননুন আস-সামিরী

ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-কুদহাত

 

দারুর রাযী

আম্মান - জর্ডান

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২২ হি. - ২০০২ খ্রি.
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌الجزء الأول من كتاب الفتوة

مما جمعه الشيخ أبو عبد الرحمن محمد بن الحسين السلمي

قدس الله روحه العزيز
কিতাবুল ফুতুওয়্যাহর প্রথম খণ্ড

শাইখ আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন আস-সুলামী যা সংকলন করেছেন

আল্লাহ তাঁর মহান আত্মাকে পবিত্র করুন
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم وعليه نتوكل

الحمد لله الذي جعل منهاج الفتوة واضح الملاحب، يؤول ويرشد إلى كل حسنٍ واجب، ونزهها عن الفواحش والمعايب، وأرقاها إلى أعلى المراتب، وارتضى لها من أنبيائه المرسلين، وأصفيائه المقربين، كل من كتب اسمه على صفاء لوح الصدق، وبان له طريق الحق، فقام بواجبه، ودام جالساً على مراتبه.

فأول من أجاب إلى دعوة الفتوة، وحبا مكرمات المروة، آدم بديع الفطرة، رفيع الأسرة، المشتق من أديم الأرض اسمه، الثابت في محل الإرادة رسمه، الساكن في دار الحشمة، المؤيد بالأنوار والعصمة، المتوج بتاج الكرامة، الحال بدار السلامة.

وقبل بها هابيل لما طرد عنه قابيل، ودام بحقها شيث، ونزهها عن كل أمر خبيث. ورفع بها إلى المكان العلي إدريس، فنجا من كيد إبليس. وبحبها كثرت نياحة نوح، وكان نورها عليه يلوح. وتسمى بها عاد، فما رجع إلى دنسٍ ولا عاد. وحسن لهود بها وفاء العهود. ونجا بها صالح من القبائح. ولقب بها إبراهيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই ওপর আমরা ভরসা করি।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ফুতুওয়াতের (মহত্ত্ব ও বীরত্বের) পথকে সুস্পষ্ট করেছেন, যা প্রতিটি আবশ্যকীয় কল্যাণের দিকে নিয়ে যায় ও পথপ্রদর্শন করে। তিনি একে অশ্লীলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র করেছেন এবং একে উচ্চতম মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। তিনি তাঁর প্রেরিত নবী ও নিকটবর্তী মনোনীত বান্দাদের মধ্য থেকে তাদের জন্য একে পছন্দ করেছেন, যাঁদের নাম সত্যের স্বচ্ছ ফলকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং যাঁদের কাছে হকের পথ প্রকাশিত হয়েছে; ফলে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিজ মর্যাদায় অটল থেকেছেন।

অতঃপর ফুতুওয়াতের আহ্বানে সর্বপ্রথম যিনি সাড়া দিয়েছেন এবং বীরত্ব ও মহত্ত্বের সম্মানসমূহ প্রাপ্ত হয়েছেন, তিনি হলেন অনন্য স্বভাবের অধিকারী ও উচ্চ বংশমর্যাদাপূর্ণ আদম (আ.), যাঁর নাম জমিনের উপরিভাগ থেকে গৃহীত, যাঁর রূপরেখা আল্লাহর ইচ্ছার স্থলে সুপ্রতিষ্ঠিত, যিনি মর্যাদার আলয়ে বসবাসকারী, নূর ও নিষ্পাপতা দ্বারা সমর্থিত, সম্মানের মুকুটে ভূষিত এবং শান্তিধামে অবস্থানকারী।

হাবিল একে গ্রহণ করেছিলেন যখন কাবিল তাঁকে বিতাড়িত করেছিল, এবং শিস (আ.) এর হকের ওপর অটল ছিলেন ও একে সকল অপবিত্র বিষয় থেকে মুক্ত রেখেছিলেন। এর মাধ্যমে ইদ্রিস (আ.)-কে উচ্চ স্থানে উন্নীত করা হয়েছিল, ফলে তিনি ইবলিসের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এর প্রতি ভালোবাসার কারণেই নূহ (আ.)-এর রোনাজারি দীর্ঘ হয়েছিল এবং এর নূর তাঁর ওপর বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। এর মাধ্যমে আদ নামাঙ্কিত হয়েছিল, ফলে সে কোনো মলিনতার দিকে ফিরে যায়নি এবং তার পুনরাবৃত্তি করেনি। এর মাধ্যমেই হূদ (আ.)-এর অঙ্গীকার পূর্ণ করা সুন্দর হয়েছিল। এর বদৌলতে সালেহ (আ.) মন্দ বিষয়সমূহ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এবং ইবরাহিম (আ.)-কে এর দ্বারা উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ৪)
الخليل، فكسر رؤوس الأصنام والتماثيل. وفدي بها إسماعيل، بأمر الملك الجليل، ورقى بها لوط إلى مقام ليس بعده هبوط، وكان بها إسحاق، قائماً إلى يوم التلاق، ونهض بأسبابها يعقوب، وكشف بها ضر أيوب.

سلك بها يوسف الصديق أكرم طريق، ودام له بها التوفيق. وانقاد ذو الكفل إلى رتبتها العلياء، وقام بأمورها المرضية الحسناء. وحاز قصباتها شعيب، فنزه عن كل ريب وعيب، رفل لها موسى إرفالاً، وأجاب هارون فأحسن مقالاً، شرف بها أهل الكهف والرقيم، ففازوا بدار النعيم. عمر بها قلب داود، ولذ له بها الركوع والسجود. وورثها منه سليمان، وسخر له بها الإنس والجان. وصحت ليونس شروطها، فوفى. وورد بها زكريا مورد الصفا. وصدق بها يحيى فنجا من الغم، وعظم بها لما هم، فما اهتم، وبالألم ما ألم. وجلا بها العسعس عيسى بالنور الصريح، ولقب بها الروح والمسيح. وفتح الله بها لمحمد صلى الله عليه وآله فتحاً مبيناً، فجعل عليها أخاه وابن عمه أمير المؤمنين علياً أميناً.

اللهم فوفقنا للقيام بحقوق هذه الصحبة، وأعد علينا بركات هذه النسبة، واجعلنا من أهل هذه الحقائق، واسلكنا بها أحمد الطرائق، فمن كان يرجو لقاء ربه فليعمل عملاً صالحاً. ولا يشرك بعبادة ربه أحداً، والحمد لله على نعمه أبداً، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم الذي لم يتخذ ولداً، ولم يكن له شريك في الملك، ولم يكن له ولي من الذل، وكبره تكبيراً.

والحمد لله الذي أبدى آثار فضله على خواص عباده، فهداهم إلى موافقته، وبعدهم عن مخالفته، فأخبر عن أحوالهم في مقامهم، بما زين به خليله صلى الله عليه وسلم،
খলিল (ইবরাহিম), তিনি মূর্তিসমূহ ও প্রতিমাসমূহের মস্তক চূর্ণ করেছিলেন। মহান অধিপতির আদেশে এর মাধ্যমে ইসমাইলকে মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছিল। এর দ্বারা লুত এমন এক উচ্চ মর্যাদায় আরোহণ করেছিলেন যার পরে আর কোনো অবনতি নেই। এর মাধ্যমেই ইসহাক সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত। এর উপকরণসমূহ নিয়ে ইয়াকুব সচেষ্ট হয়েছিলেন এবং এর দ্বারা আইয়ুবের কষ্ট দূরীভূত হয়েছিল।

সিদ্দিক ইউসুফ এর মাধ্যমে অতি সম্মানজনক পথে চলেছিলেন এবং এর দ্বারা তাঁর তাওফিক অব্যাহত ছিল। জুল কিফল এর উচ্চ মর্যাদার অনুগামী হয়েছিলেন এবং এর সন্তোষজনক ও সুন্দর কার্যাবলি সম্পাদন করেছিলেন। শুআইব এর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন, ফলে তিনি সকল প্রকার সংশয় ও ত্রুটি থেকে পবিত্র হয়েছিলেন। মুসা এর জন্য সগৌরবে পথ চলেছিলেন এবং হারুন (আহ্বানে) সাড়া দিয়ে উত্তম কথা বলেছিলেন। আসহাবে কাহাফ ও রাকিমের অধিবাসীরা এর দ্বারা সম্মানিত হয়েছিলেন, ফলে তারা নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত লাভ করেছিলেন। এর দ্বারা দাউদের অন্তর আবাদ হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে তাঁর নিকট রুকু ও সেজদা অত্যন্ত স্বাদময় হয়েছিল। সুলায়মান তাঁর থেকে এর উত্তরাধিকার লাভ করেছিলেন এবং এর দ্বারা মানুষ ও জিনকে তাঁর অনুগত করে দেওয়া হয়েছিল। ইউনুসের জন্য এর শর্তাবলি সঠিক প্রমাণিত হয়েছিল এবং তিনি তা পূর্ণ করেছিলেন। জাকারিয়া এর দ্বারা স্বচ্ছতার প্রস্রবণে উপনীত হয়েছিলেন। ইয়াহইয়া একে সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন, ফলে তিনি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। তিনি যখন সংকল্পবদ্ধ হয়েছিলেন তখন এর দ্বারা মহান হয়েছিলেন, ফলে তিনি উদ্বিগ্ন হননি এবং কোনো যন্ত্রণায় ব্যথিত হননি। ঈসা এর দ্বারা স্পষ্ট নূরের মাধ্যমে অন্ধকার দূরীভূত করেছিলেন এবং এর দ্বারা রুহ ও মসিহ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। আল্লাহ এর মাধ্যমে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-কে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছেন এবং তাঁর ভাই ও চাচাতো ভাই আমিরুল মুমিনিন আলীকে এর উপর বিশ্বস্ত আমানতদার নিযুক্ত করেছেন।

হে আল্লাহ, আমাদের এই সাহচর্যের হকসমূহ আদায় করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের ওপর এই সম্পর্কের বরকতসমূহ পুনরায় বর্ষণ করুন। আমাদের এই হাকিকতসমূহের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং এর মাধ্যমে আমাদের অতি প্রশংসনীয় পথে পরিচালিত করুন। অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে। আর আল্লাহর নেয়ামতসমূহের জন্য সর্বদা তাঁরই প্রশংসা। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই; যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই এবং হীনতা থেকে রক্ষার জন্য তাঁর কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই; আর আপনি যথাযথভাবে তাঁর মহিমা ঘোষণা করুন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বিশিষ্ট বান্দাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেছেন, ফলে তিনি তাঁদেরকে তাঁর আনুগত্যের দিকে পরিচালিত করেছেন এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে দূরে রেখেছেন। অতঃপর তিনি তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের সংবাদ দিয়েছেন, যা দ্বারা তিনি তাঁর খলিল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অলঙ্কৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ৫)
وهي الفتوة. فقال تعالى: {قالوا سمعنا فتى يذكرهم يقال له إبراهيم} . سماه فتىً لأنه خلى له في نفسه وأهله وماله وولده، ووهب الكل لمن له الكل، وخلى من الكون وما فيه لما تسمى بالفتوة، وسمي به، وأخبر بعد ذلك تعالى عن خواص أوليائه بهذا الاسم. فقال: {إنهم فتية آمنوا بربهم} ، بلا واسطة ولا استدلال، بل آمنوا به له، فأكرموا بزيادة هدى حتى قاموا إلى بساط القرب، { [فـ] قالوا ربنا رب السموات والأرض} ، فألبسهم الحق خلعه، من خلعة وآواهم إلى كريم رعايته، وصرفهم في لطائف تقليبه، فقال: {ونقلبهم ذات اليمن وذات الشمال} . كذا من لزم طريق الفتوة كان في رعاية الحق، ولحياته وتوليته وحياطته.

سألت -أكرمك الله لمرضاته- عن الفتوة. فاعلم أن الفتوة هي الموافقة وحسن الطاعة، وترك كل مذموم، وملازمة مكارم الأخلاق ومحاسنها، ظاهراً وباطناً وسراً وعلناً، وكل حال من الأحوال، ووقت من الأوقات يطالبك بنوع من الفتوة فلا يخلو حال من الأحوال عن الفتوة. فتوة تستعملها مع ربك تعالى، وفتوة تستعملها مع نبيك صلى الله عليه وسلم، وفتوة مع الصحابة، وفتوة مع السلف
আর এটি হলো ফুতুওয়াত। মহান আল্লাহ বলেন: "তারা বলল, আমরা এক যুবককে তাদের (মূর্তিদের) নিয়ে আলোচনা করতে শুনেছি, যাকে ইবরাহিম বলা হয়।" তিনি তাকে ‘ফাতা’ (যুবক) হিসেবে নামকরণ করেছেন কারণ তিনি নিজের নফস, পরিবার, সম্পদ ও সন্তানের মায়া ত্যাগ করে কেবল তাঁর (আল্লাহর) জন্যই নিবেদিত হয়েছিলেন। তিনি সবকিছু তাঁরই জন্য উৎসর্গ করেছিলেন যাঁর মালিকানায় সবকিছু রয়েছে। যখন তিনি ফুতুওয়াত গুণে গুণান্বিত হলেন এবং এই নামে অভিহিত হলেন, তখন তিনি জগত ও জগতের সবকিছু থেকে মুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর মহান আল্লাহ তাঁর বন্ধুদের (আউলিয়া) মধ্য থেকে বিশেষ স্তরের ব্যক্তিদের সম্পর্কে এই নামে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই তারা ছিল কয়েকজন যুবক যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল।" তারা কোনো মাধ্যম বা যুক্তিনির্ভর প্রমাণ ছাড়াই সরাসরি তাঁর প্রতি তাঁরই খাতিরে ঈমান এনেছিল। ফলে তাদেরকে অতিরিক্ত হিদায়াত দ্বারা সম্মানিত করা হলো, এমনকি তারা নৈকট্যের দস্তরখানে দণ্ডায়মান হলো এবং বলল: "আমাদের প্রতিপালক আসমানসমূহ ও জমিনের প্রতিপালক।" অতঃপর পরম সত্য (আল্লাহ) তাদেরকে তাঁর সম্মানের পোশাক পরিয়ে দিলেন এবং তাঁর মহান তত্ত্বাবধানে আশ্রয় দিলেন। তিনি তাঁর সূক্ষ্ম ব্যবস্থাপনায় তাদেরকে ডানে-বামে ফেরালেন এবং বললেন: "আর আমি তাদের ডানে ও বামে পার্শ্বপরিবর্তন করাচ্ছিলাম।" একইভাবে যে ব্যক্তি ফুতুওয়াতের পথ আঁকড়ে ধরে, সে পরম সত্যের (আল্লাহর) তত্ত্বাবধানে থাকে এবং তাঁর জীবন পরিচালনা ও হেফাযত লাভ করে।

আপনি—আল্লাহ আপনাকে তাঁর সন্তুষ্টির মাধ্যমে সম্মানিত করুন—ফুতুওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। জেনে রাখুন যে, ফুতুওয়াত হলো (আল্লাহর বিধানের সাথে) ঐকমত্য পোষণ করা, সুন্দরভাবে আনুগত্য করা, সমস্ত নিন্দনীয় বিষয় বর্জন করা এবং প্রকাশ্য-গোপনে ও সর্বাবস্থায় মহান ও সুন্দর চারিত্রিক গুণাবলি আঁকড়ে ধরা। প্রতিটি অবস্থা ও প্রতিটি মুহূর্ত আপনার কাছে বিশেষ এক প্রকার ফুতুওয়াত দাবি করে; সুতরাং কোনো অবস্থাই ফুতুওয়াত থেকে মুক্ত নয়। এক প্রকার ফুতুওয়াত আপনি আপনার মহান প্রতিপালকের সাথে পালন করবেন, এক প্রকার ফুতুওয়াত আপনার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে পালন করবেন, এক প্রকার সাহাবায়ে কিরামের সাথে এবং এক প্রকার পূর্বসূরিদের (সালাফ) সাথে পালন করবেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ৬)
الصالحين، وفتوة مع مشايخك، وفتوة مع إخوانك، وفتوة مع أهلك وولدك وأقاربك، وفتوة مع ملكيك كرام الكاتبين. وأنا مبين أطرافاً من ذلك على الاختصار من سنن النبي صلى الله عليه وسلم، وآثار السلف وآدابهم وشمائلهم بعد أن أستعين بالله في ذلك، وفي جميع أموري، وهو حسبي ونعم الوكيل.

فمن الفتوة الملاطفة مع الإخوان، والقيام بحوائجهم. أخبرنا عبد الرحمن ابن محمد بن محمود، ثنا أحمد بن محمد بن يحيى، ثنا محمد بن الأزهر، ثنا محمد ابن عبد الله المصري، ثنا يعلى بن ميمون، ثنا يزيد الرقاشي عن أنس بن مالك رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من ألطف مؤمناً أو قام له بحاجة من حوائج الدنيا، صغر ذلك أو كبر، كان حقاً على الله أن يخدمه خادماً يوم القيامة)) .

ومن الفتوة مقابلة الإساءة بالإحسان، وترك المكافأة على القبيح، أخبرنا محمد بن عبد الله بن محمد بن صبيح الجوهري، ثنا عبد الله بن محمد بن عبد الرحمن بن شيرويه، ثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، أخبرنا قبيصة عن سفيان عن أبي إسحاق عن أبي الأحوص عن أبيه، قال: ((قلت: يا رسول الله، إذا مررت برجل فلم يضفني، فمر بي أفعل به مثل ذلك؟ قال: لا)) .
নেককারদের সাথে, এবং তোমার শায়েখদের সাথে ফুতুওয়াত (উদারতা), এবং তোমার ভাইদের সাথে ফুতুওয়াত, এবং তোমার পরিবার, সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের সাথে ফুতুওয়াত, এবং তোমার কিরামান কাতিবীন ফিরিশতাদ্বয়ের সাথে ফুতুওয়াত বজায় রাখা। আর আমি আল্লাহর সাহায্য কামনার পর এবং আমার সকল বিষয়ে তাঁরই ওপর ভরসা রেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ, সালাফদের আসার (বর্ণনা), তাদের আদব এবং তাদের গুণাবলি থেকে সংক্ষেপে এর কিছু দিক বর্ণনা করছি। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

ভাইদের সাথে সদয় আচরণ করা এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ করা ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল আজহার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়ালা ইবনে মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ আর-রকাশী আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের সাথে সদয় আচরণ করে অথবা তার দুনিয়াবী প্রয়োজনসমূহের কোনো একটি পূরণ করে দেয়, তা ছোট হোক বা বড়, আল্লাহর ওপর এটি হক হয়ে যায় যে, কিয়ামতের দিন তিনি তাকে একজন সেবক দিয়ে সেবা করাবেন।”

মন্দের বিপরীতে উত্তম আচরণ করা এবং কদর্য আচরণের প্রতিশোধ নেওয়া বর্জন করাও ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সবিহ আল-জাওহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে শিরওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাবিদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আহওয়াস থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি কোনো ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাই আর সে আমাকে মেহমানদারি না করে, পরবর্তীতে সে যদি আমার পাশ দিয়ে যায় তবে আমি কি তার সাথে অনুরূপ আচরণ করব? তিনি বললেন: না।”
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ৭)
ومن الفتوة ترك طلب عثرات الإخوان. أخبرنا أحمد بن محمد بن رجا البزاري. ثنا أحمد بن عمير بن حوصا، ثنا أبو عمير عيسى بن محمد، ثنا محمد بن يوسف، ثنا سفيان عن ثور بن يزيد عن راشد عن معاوية رضي الله عنهم، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنك إن اتبعت عثرات المسلمين، أفسدتهم أو كدت أن تفسدهم)) .

ومن الفتوة حضور دار من يثق به من الإخوان من غير دعوة. أخبرنا عبد الله بن محمد بن علي بن زياد، ثنا محمد بن إسحاق الثقفي، ثنا سعيد بن يحيى، ثنا أبي، ثنا يزيد بن كيسان عن أبي حازم عن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: ((بينا أبو بكر وعمر رضي الله عنهما جالسان، إذ جاءهما النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ما أجلسكم هاهنا؟ قالوا: والذي بعثك بالحق، ما أخرجنا إلا الجوع. قال: اذهبوا إلى بيت فلان رجل من الأنصار)) .. وذكر الحديث.
ভ্রাতৃবৃন্দের ভুলত্রুটি অনুসন্ধান বর্জন করা ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন রাজা আল-বাজ্জারি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন উমাইর বিন হাওসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমাইর ঈসা বিন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি সওর বিন ইয়াযিদের নিকট থেকে, তিনি রাশিদের নিকট থেকে, তিনি মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয় তুমি যদি মুসলিমদের গোপন ত্রুটিসমূহ অনুসন্ধান করো, তবে তুমি তাদের চরিত্র নষ্ট করে দেবে অথবা প্রায় তাদের নষ্ট করে ফেলার উপক্রম করবে।"

ভ্রাতৃবৃন্দের মধ্যে যার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে, দাওয়াত ছাড়াই তার গৃহে উপস্থিত হওয়া ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন যিয়াদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাকাফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন কায়সান, তিনি আবু হাযিমের নিকট থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদা আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) উপবিষ্ট ছিলেন, এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিকট আসলেন এবং বললেন: তোমাদের কিসে এখানে বসিয়ে রেখেছে? তাঁরা বললেন: সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, কেবল ক্ষুধাই আমাদের (ঘর থেকে) বের করেছে। তিনি বললেন: তোমরা আনসারদের অমুক ব্যক্তির বাড়িতে চলো।" .. এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ৮)
ومن الفتوة ترك العيب على طعام يقدم إليه. أخبرنا محمد بن عبد الله بن محمد بن صبيح، ثنا عبد الله بن شيرويه، ثنا إسحاق الحنظلي، ثنا جرير عن الأعمش، عن أبي حازم عن أبي هريرة رضي الله عنهم، قال: ((ما عاب رسول الله صلى الله عليه وسلم طعاماً قط، كان إذا اشتهاه أكله، وإلا تركه)) .

ومن الفتوة استعمال مكارم الأخلاق إذ هي من أعمال أهل الجنة. أخبرنا أبو القاسم إبراهيم بن محمد النصر آباذي، ثنا محمد بن الربيع عن سليمان الجسري بمصر، ثنا أبي، ثنا طلق بن السمح، ثنا يحيى بن أيوب عن حميد، عن أنس رضي الله عنه أنه مرض فعاده بعض إخوانه، فقال لخادمته سلمي لإخواننا ولو كسرا، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إن مكارم الأخلاق من أعمال أهل الجنة)) .

‌‌ذكر بيان بعض مكارم الأخلاق من السنة

أخبرنا محمد بن محمد بن يعقوب الحافظ، ثنا عبد الله بن أيوب العسقلاني، ثنا هاشم بن محمد الأنصاري، ثنا عمرو بن بكر، عن عباد، عن أيوب بن موسى، وإسماعيل بن أمية عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: ((إن [من] مكارم الأخلاق التزاور في الله وحق على المزور أن يقرب إلى أخيه ما تيسر عنده، وإن لم يجد عنده إلا جرعة من ماء، وإن احتشم أن
বদান্যতা (ফুতুওয়াহ)-র অন্তর্ভুক্ত হলো নিজের নিকট পেশকৃত খাদ্যের কোনো খুঁত না ধরা। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সাবিহ, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন শিরওয়াইহ, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইসহাক আল-হানজালি, আমাদের বর্ণনা করেছেন জারির, তিনি আ’মাশ থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো কোনো খাবারের ত্রুটি বর্ণনা করেননি। তাঁর নিকট পছন্দনীয় হলে তিনি তা ভক্ষণ করতেন, নতুবা তা বর্জন করতেন।"

সচ্চরিত্র বা উন্নত নৈতিকতা অবলম্বন করাও বদান্যতার (ফুতুওয়াহ) অংশ, কেননা এগুলো জান্নাতবাসীদের আমল। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আন-নাসরাবাদি, মিশরে মুহাম্মদ বিন আল-রবি সুলাইমান আল-জাসরি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তালক বিন আস-সামহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব, তিনি হুমাইদ থেকে এবং তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি অসুস্থ হলে তাঁর কতিপয় ভাই (সাথী) তাঁকে দেখতে আসেন। তখন তিনি তাঁর পরিচারিকাকে বললেন, আমাদের ভাইদের মেহমানদারি করো, যদিও তা সামান্য রুটির টুকরো হয়। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই উন্নত চরিত্র জান্নাতবাসীদের আমলের অন্তর্ভুক্ত।"

‌‌সুন্নাহ থেকে কতিপয় উন্নত চরিত্রের বর্ণনা

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-হাফিজ, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আইয়ুব আল-আসকালানি, আমাদের বর্ণনা করেছেন হাশেম বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আমর বিন বকর, তিনি আব্বাদ থেকে, তিনি আইয়ুব বিন মুসা এবং ইসমাইল বিন উমাইয়া থেকে, তাঁরা নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করা উন্নত চরিত্রের [অন্তর্ভুক্ত]। আর যার সাথে সাক্ষাৎ করা হয়েছে তার ওপর অর্পিত হক হলো, তার ভাইয়ের সামনে যা সহজলভ্য তা-ই পেশ করা, এমনকি তার নিকট এক ঢোক পানি ব্যতীত আর কিছু না থাকলেও। আর যদি সে সংকোচবোধ করে যে..."
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ৯)
يقرب إلى أخيه ما تيسر، لم يزل في مقت الله تعالى يومه وليلته)) .

ومن الفتوة التآلف مع الإخوان. أخبرنا محمد بن محمد بن يعقوب الحجاجي، ثنا عبد الله بن صالح المدائني بالمصيصة، ثنا أبو الدرداء هاشم بن يعلى ثنا عمر وابن بكر عن ابن جريج عن عطاء عن جابر رضي الله عنهم، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((المؤمن إلفٌ مألوف، ولا خير فيمن لا يألف ولا يؤلف، وخير الناس أنفعهم للناس)) .

ومن الفتوة السخاوة. أخبرنا أبو الحسين بن صبيح، ثنا محمد بن المسيب الأرغياني، ثنا عبد الرحمن بن الحارث، ثنا بقية بن الوليد، ثنا الأوزاعي عن الزهري عن عائشة رضي الله عنهم، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الجنة دار الأسخياء)) .

ومن الفتوة حفظ الود القديم. أخبرنا محمد بن محمود الفقيه المروزي بها، ثنا محمد بن عمير الرازي، ثنا إسحاق بن إبراهيم بن يونس، ثنا حسين ابن مرزوق النوفلي، ثنا عبد الله بن إبراهيم الغفاري، ثنا عبد الله بن أبي بكر بن
তার ভাইয়ের কাছে সহজলভ্য যা আছে তা পেশ করা উচিত, অন্যথায় সে তার দিন ও রাত মহান আল্লাহর ক্রোধের মধ্যে অতিবাহিত করে।

ভ্রাতৃবৃন্দের সাথে হৃদ্যতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখা ফুতুওয়্যাত বা বীরত্বের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-হাজ্জাজি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন সালিহ আল-মাদায়িনী আল-মাসিসায়, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দিরদা হাশিম বিন ইয়ালা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ও ইবন বকর, ইবন জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিন ব্যক্তি সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং সে অন্যের সাথে মিশে যায়, আর এমন ব্যক্তির মাঝে কোনো কল্যাণ নেই যে অন্যের সাথে মিশতে পারে না এবং যার সাথেও কেউ মিশতে পারে না। আর মানুষের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ যে মানুষের জন্য সবচাইতে বেশি উপকারী।"

দানশীলতা ফুতুওয়্যাত বা বীরত্বের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন বিন সাবিহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়্যিব আল-আরগিয়ানি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন আল-হারিস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ, তিনি আল-আওযায়ী থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জান্নাত হলো দানশীলদের আবাস।"

পুরনো হৃদ্যতা রক্ষা করা ফুতুওয়্যাত বা বীরত্বের অন্তর্ভুক্ত। মার্ভে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আল-ফকিহ আল-মারওয়াযী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উমাইর আর-রাযী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন ইউনুস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবন মারযুক আন-নাওফালী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-গিফারী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আবু বকর বিন...
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ১০)
أخي محمد بن المنكدر، عن صفوان بن سليم عن عطاء، عن عائشة رضي الله عنها، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن الله يحب حفظ الود القديم)) . أخبرنا أبو علي الحافظ، ثنا إسحاق بن إبراهيم الموصلي، ثنا علي بن الحسين الخواص الموصلي، ثنا عبد الله بن إبراهيم بهذا.

ومن الفتوة أن يتعمد الرجل إخوانه وجيرانه. أخبرنا إبراهيم بن محمد ابن يحيى، ثنا حبشون بن موسى الخلال، ثنا محمد بن حسان، ثنا قبيصة، ثنا سفيان عن عبد الملك بن أبي بشير، عن عبد الله بن أبي المساور رضي الله عنهم، قال: سمعت ابن عباس رضي الله عنهما ينحل ابن الزبير ويقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((ليس المؤمن الذي يشبع وجاره جائع إلى جنبه)) .

ومن الفتوة استعمال الأدب وقت الأكل، أخبرنا إبراهيم بن أحمد البزاري، ثنا الحسين بن علي بن زكريا البصري، ثنا عثمان بن عمرو الدباغ، ثنا ابن علاثة، ثنا الأوزاعي، عن يحيى بن أبي كثير، عن جعفر عن أبي هريرة رضي الله عنهم، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا يتبعن أحدكم بصره لقمة أخيه)) .
মুহাম্মদ বিন মুনকাদিরের ভাই, সাফওয়ান বিন সুলাইম থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ পুরনো হৃদ্যতা বজায় রাখা পছন্দ করেন।" আবু আলী আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-মাওসিলি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আলী বিন আল-হুসাইন আল-খাওওয়াস আল-মাওসিলি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম এর মাধ্যমে এটি বর্ণিত হয়েছে।

এবং বীরত্বের (ফুতুওয়াহ) একটি দিক হলো ব্যক্তি তার ভাই ও প্রতিবেশীদের প্রতি যত্নশীল হওয়া। ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাবশুন বিন মুসা আল-খাল্লাল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন হাসান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, কাবিসা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান আব্দুল মালিক বিন আবি বশির থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আবি আল-মুসাওয়ির (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে ইবনে জুবায়েরের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলতে শুনেছি: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "ঐ ব্যক্তি মুমিন নয় যে পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করে অথচ তার পাশেই তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।"

এবং বীরত্বের (ফুতুওয়াহ) অন্তর্ভুক্ত হলো আহারের সময় শিষ্টাচার বজায় রাখা। ইব্রাহিম বিন আহমাদ আল-বাযযারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হুসাইন বিন আলী বিন জাকারিয়া আল-বাসরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, উসমান বিন আমর আদ-দাব্বাগ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইবনে আলাসাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আল-আওযায়ী ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে, তিনি জাফর থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের লোকমার (খাবারের গ্রাস) দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে না থাকে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ১১)
ومن الفتوة المداراة مع الإخوان ما لم تكن معصية. أخبرنا إسماعيل بن أحمد الخلالي، ثنا أبو بدر أحمد بن خالد بن عبد الملك، ثنا مخلد يعني ابن يزيد، عن أبي داود النخعي، عن أبي الجويرية، عن ابن عباس رضي الله عنهم، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((رأس العقل بعد الإيمان بالله مداراة الناس في غير ترك الحق)) .

ومن الفتوة المساعدة مع الإخوان وموافقتهم. أخبرنا إسماعيل بن أحمد الخلالي، أخبرنا محمد بن الحسين بن قتيبة، ثنا إسحاق بن إبراهيم بن سويد، ثنا إسماعيل بن أبي أويس، ثنا أبي عن محمد بن المنكدر، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنهم، قال: ((صنع رجل لرسول الله صلى الله عليه وسلم طعاماً، فدعاه وأصحابه، لما وضع الطعام، قال رجل من القوم: إني صائم. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((دعاكم أخوكم وتكلف لكم. ثم قال: افطر وصم يوماً مكانه إن شئت)) .

ومن الفتوة أن يبدأ في رفقه بأصحابه دون خاصته. أخبرنا إسماعيل بن أحمد الخلالي، أخبرنا محمد بن الحسين بن قتيبة، أخبرنا حامد بن يحيى، ثنا سفيان، عن عطاء بن السائب، عن أبيه، عن علي رضي الله عنه أن فاطمة ابنة رسول الله صلى الله عليه وسلم سألته خادماً، فقال: ((.. .. لا أعطيك خادماً وأدع
আর ফুতুওয়াত (উদারতা) হলো ভাইদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখা যতক্ষণ তা কোনো গুনাহর কাজ না হয়। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন আহমদ আল-খাল্লালি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বদর আহমদ বিন খালিদ বিন আব্দুল মালিক, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মাখলাদ—অর্থাৎ ইবনে ইয়াযীদ—তিনি আবু দাউদ আন-নাখায়ি থেকে, তিনি আবুল জুওয়াইরিয়াহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পর বুদ্ধিমত্তার মূল হলো সত্য বর্জন না করে মানুষের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখা।"

আর ফুতুওয়াত হলো ভাইদের সাহায্য করা এবং তাদের সাথে একমত হওয়া। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন আহমদ আল-খাল্লালি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন কুতাইবাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন সুওয়াইদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইসমাঈল বিন আবি উওয়াইস, আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য খাবার তৈরি করলেন এবং তাঁকে ও তাঁর সাহাবীদের দাওয়াত দিলেন। যখন খাবার পরিবেশন করা হলো, তখন দলের এক ব্যক্তি বললেন: আমি রোযা রেখেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'তোমাদের ভাই তোমাদের দাওয়াত দিয়েছেন এবং তোমাদের জন্য কষ্ট করেছেন।' অতঃপর বললেন: 'রোযা ভেঙে ফেলো এবং চাইলে এর পরিবর্তে অন্য একদিন রোযা রেখো'।"

আর ফুতুওয়াত হলো নিজের ঘনিষ্ঠজনদের আগে সঙ্গীদের প্রতি সৌজন্য ও কোমল আচরণ করা। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন আহমদ আল-খাল্লালি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন কুতাইবাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামিদ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান, আতা বিন আস-সাইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা তাঁর কাছে একজন সেবক চেয়েছিলেন, তখন তিনি বললেন: ".. .. আমি তোমাকে সেবক দেব না এবং ছেড়ে দেব..."
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ১২)
أهل الصفة تطوي بطونهم من الجوع)) .

ومن الفتوة أن يمكن إخوانه أن يحكموا في ماله كحكمهم في أموالهم. أخبرنا محمد بن عبد الله بن زكريا، ثنا أحمد بن الحسين الحافظ، ومكي بن عبدان قالا: ثنا محمد بن يحيى الذهلي، ثنا عبد الرزاق، ثنا معمر، عن الزهري، عن ابن المسيب رضي الله عنهم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقضى في مال أبي بكر كما يقضي في مال نفسه.

ومن الفتوة محبة القرى والضيافة. أخبرنا محمد بن عبد الله بن محمد بن قريش، ثنا الحسين بن سفيان، ثنا محمد بن رمح، ثنا ابن لهيعة، عن يزيد بن أبي حبيب أن أبا الخير حدثه عن عقبة بن عامر رضي الله عنهم، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((بئس القوم قوم لا ينزلون الضيف)) . وبإسناده قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا خير فيمن لا يضيف)) .

ومن الفتوة تعظيم الإخوان والحركة لهم. أخبرنا إسماعيل بن عبد الله الميكالي، وعلي بن سعد العسكري، ثنا جعفر بن الفضل الراسبي، ثنا محمد بن يوسف العرياني، ثنا أبو الأسود مجاهد بن فرقد الأطرابلسي، ثنا واثلة بن الخطاب القرشي، قال: ((دخل رجلٌ المسجد والنبي صلى الله عليه وسلم وحده
আহলে সুফফাদের পেট ক্ষুধার তাড়নায় সংকুচিত হয়ে যেত।

আর ফুতুওয়াতের (উদারতা) অন্তর্ভুক্ত হলো নিজের সম্পদে তার ভাইদেরকে এমনভাবে কর্তৃত্ব প্রদান করা, যেমন তারা নিজেদের সম্পদে করে থাকে। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাকারিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে হুসাইন আল-হাফিয এবং মাক্কী ইবনে আবদান আমাদের বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-দুহলী আমাদের বলেছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের বলেছেন, মা’মার আমাদের বলেছেন, যুহরী থেকে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকরের সম্পদে সেভাবেই ফয়সালা বা ব্যয় করতেন যেভাবে তিনি নিজের সম্পদে করতেন।

আর ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হলো মেহমানদারি ও আতিথেয়তাকে ভালোবাসা। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুরাইশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুসাইন ইবনে সুফিয়ান আমাদের বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে রুমহ আমাদের বলেছেন, ইবনে লাহিআহ আমাদের বলেছেন, ইয়াযিদ ইবনে আবু হাবিব থেকে, আবুল খায়ের তাকে উকবাহ ইবনে আমির (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সেই জাতি অতি নিকৃষ্ট যারা মেহমানকে স্থান দেয় না বা আপ্যায়ন করে না।" এবং একই সনদে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে মেহমানদারি করে না তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।"

আর ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হলো ভাইদের সম্মান করা এবং তাদের জন্য তৎপর হওয়া। ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মিকালী এবং আলী ইবনে সাদ আল-আসকারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর ইবনে ফাদল আর-রাসিবী আমাদের বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-উরিয়ানী আমাদের বলেছেন, আবু আল-আসওয়াদ মুজাহিদ ইবনে ফারকাদ আল-আতরাবুলুসী আমাদের বলেছেন, ওয়াসিলা ইবনুল খাত্তাব আল-কুরাশী আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একাকী ছিলেন..."
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ১৩)
فتحرك له النبي صلى الله عليه وسلم، فقيل له: يا رسول الله، المكان واسع. فقال: إن للمؤمن حقاً)) .

ومن الفتوة استقامة الأحوال. أخبرنا أبو عمرو محمد بن جعفر بن مطر، ومحمد بن إبراهيم بن عبده، قالا: ثنا إبراهيم بن علي، ثنا يحيى بن يحيى، ثنا عبد الرحمن بن أبي الزياد، عن أبيه، عن عروة رضي الله عنهم، قال: قال سفيان ابن عبد الله الثقفي: ((يا رسول الله، قل لي في الإسلام قولاً لا أسأل عنه أحداً بعدك. قال: قل: آمنت بالله ثم استقم)) .

ومن الفتوة سخاوة النفس. وسلامة الصدر. أخبرنا أبو بكر الديونجي، ثنا الحسين بن سفيان، قال: وجدت في إجازة عثمان بن سعيد، ثنا محمد بن عمران ابن أبي بكر ليلى، ثنا سليمان بن رجاء، عن صالح المزي، عن الحسن، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنهم، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن أبدال أمتي لم يدخلوا الجنة بأعمال، ولكن دخلوها برحمة الله، وسخاوة الأنفس، وسلامة الصدر)) .
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য নড়ে জায়গা করে দিলেন। তখন তাঁকে বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, স্থান তো প্রশস্তই ছিল। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই মুমিনের একটি হক বা অধিকার রয়েছে।"

আর ফুতুওয়াত (উদারতা) হলো অবস্থার অটলতা। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে মাতার এবং মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবদাহ; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে আলী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে আবিয যিয়াদ; তিনি তাঁর পিতা থেকে; তিনি উরওয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেন যে, সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ আস-সাকাফী বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, ইসলাম সম্পর্কে আমাকে এমন একটি কথা বলুন যার পর আমি আর কারো কাছে তা জিজ্ঞাসা করব না।" তিনি বললেন: "তুমি বলো: আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি, অতঃপর অটল থাকো।"

আর ফুতুওয়াত হলো অন্তরের উদারতা এবং বক্ষের নির্মলতা। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আদ-দিউনাজী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে সুফিয়ান; তিনি বলেন: আমি উসমান ইবনে সাঈদের অনুমতিপত্রে (ইজাজাহ) পেয়েছি যে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইমরান ইবনে আবি বকর লায়লা; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে রাজা; তিনি সালিহ আল-মুররি থেকে; তিনি হাসান থেকে; তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের আবদালগণ (আল্লাহর বিশেষ অলীবর্গ) কেবল আমলের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করবেন না; বরং তাঁরা তাতে প্রবেশ করবেন আল্লাহর রহমত, অন্তরের উদারতা এবং বক্ষের নির্মলতার মাধ্যমে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن الفتوة الشفقة على الإخوان والمواساة معهم. أخبرنا أبو عمرو محمد ابن أحمد بن حمدان، ثنا عمران بن موسى السختياني، ثنا شيبان بن أبي شيبة، ثنا أبو الأشهب، عن أبي نضرة، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنهم، قال: بينا نحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر، إذ جاءه رجل على راحلة له، قال: فجعل يضرب يميناً وشمالاً، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من كان له فضل ظهر فليعد به على من لا ظهر له، ومن كان فضل زاد فليعد به على من لا زاد له. قال: فذكر من أصناف المال ما ذكر حتى رأينا أنه لا حق لأحد منا في فضل)) .

ومن الفتوة التحبب، والتزاور في الله، والتواصل. أخبرنا محمد بن عبد الله ابن صبيح، ثنا عبد الله بن شيرويه، ثنا إسحاق الحنظلي، ثنا النضر بن شميل، ثنا شعبة، عن يعلى بن عطاء، قال: سمعت الوليد بن عبد الرحمن يحدث عن أبي إدريس الخولاني، قال في حديث ذكره: فلقيت عبادة بن الصامت، فقال: لا أحدثك إلا ما سمعت الله ذكره على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم: ((حقت محبتي للمتحابين في، وحقت محبتي للمتبادلين في، وحقت محبتي للمتزاورين في وحقت محبتي للمتواصلين في)) .

ومن الفتوة محبة الغرباء، وحسن تعدهم. أخبرنا عبد الله بن محمد بن علي ابن زياد، ثنا محمد بن إسحاق بن خزيمة، ثنا أبو شعيب، حدثنا محمد بن مسلم،
আর ফুতুওয়াত (উদারতা ও আদর্শ চরিত্র) এর অন্তর্ভুক্ত হলো ভাইদের প্রতি মমতা পোষণ এবং তাদের সাথে সহমর্মিতা ও সমবেদনা প্রকাশ করা। আবু আমর মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন হামদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইমরান ইবন মূসা আস-সাখতিয়ানী আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন শায়বান ইবন আবী শায়বা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু আল-আশহাব আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু নাদরা থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তার সওয়ারীতে চড়ে আসলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি (সাহায্যের আশায়) ডানে-বামে তাকাতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যার নিকট অতিরিক্ত সওয়ারী আছে, সে যেন তা তাকে দিয়ে দেয় যার কোনো সওয়ারী নেই। আর যার নিকট অতিরিক্ত পাথেয় আছে, সে যেন তা তাকে দিয়ে দেয় যার কোনো পাথেয় নেই।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি বিভিন্ন প্রকার সম্পদের কথা উল্লেখ করলেন, এমনকি আমরা মনে করলাম যে, আমাদের কারো অতিরিক্ত সম্পদে কোনো অধিকার নেই।

আর ফুতুওয়াত এর অন্তর্ভুক্ত হলো পারস্পরিক সৌহার্দ্য স্থাপন, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরের সাক্ষাৎ করা এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখা। মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন সাবিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুল্লাহ ইবন শিরওয়াইহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইসহাক আল-হানজালী আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আন-নাদর ইবন শুমাইল আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন শু'বাহ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়া'লা ইবন আতা থেকে, তিনি বলেন: আমি ওয়ালিদ ইবন আব্দুর রহমানকে আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি তাঁর বর্ণিত একটি হাদীসে বলেন: অতঃপর আমি উবাদা ইবন আস-সামিতের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি বললেন: আমি তোমাকে কেবল তা-ই বলব যা আমি আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবানে ব্যক্ত করেছেন তা শুনেছি: "আমার সন্তুষ্টির জন্য যারা পরস্পরকে ভালোবাসে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত হয়েছে। আমার সন্তুষ্টির জন্য যারা পরস্পরকে দান করে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত হয়েছে। যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পর সাক্ষাৎ করে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত হয়েছে এবং যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত হয়েছে।"

আর ফুতুওয়াত এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুসাফির বা অপরিচিতদের ভালোবাসা এবং তাদের সাথে উত্তম আচরণ করা। আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন যিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন খুযাইমা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু শুআইব আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন মুসলিম আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ১৫)
عن محمد بن عبد الله بن أوس، عن سليمان بن هرمز، عن عبد الله بن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((أحب شيء إلى الله تعالى الغرباء. قالوا: يا رسول الله من هم؟ قال: الفرارون بدينهم، يحشرون يوم القيامة إلى عيسى بن مريم عليه السلام) .

ومن الفتوة صدق الحديث، وأداء الأمانة. أخبرنا عبد الله بن محمد السمري، ثنا عبد الله بن محمد بن عبد الرحمن، ثنا إسحاق بن إبراهيم، أخبرنا يحيى بن يحيى، أخبرنا ابن لهيعة، عن الحارث بن زيد، عن ابن حجيرة، عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهم، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: ((أربع إذا كن فيك، فما عليك، فإنك من الدنيا، حفظ الأمانة، وصدق الحديث، وحسن الخلق، وعفة طعمة)) .

ومن الفتوة إصلاح السر قبل التزيي بزي الصالحين. أخبرنا عبد الله بن أحمد ابن جعفر الشيباني، أخبرنا أحمد بن محمد بن علي الباشاني، أخبرنا أحمد بن عبد الله الجويباري، أخبرنا سلم بن سالم، عن عباد بن كثير، عن مالك بن دينار، عن الحسن، قال: بلغني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: ((لا تلبسوا الصوف إلا وقلوبكم نقية، فإن من لبس الصوف على دغلٍ وغش قلاه جبار السماء)) .
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আউস থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে হুরমুজ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় হলো অপরিচিত আগন্তুকরা। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা? তিনি বললেন: যারা নিজেদের দ্বীন নিয়ে পলায়নকারী, কিয়ামতের দিন তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালামের নিকট সমবেত হবে।"

এবং সত্য কথা বলা ও আমানত রক্ষা করাও মহত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আস-সামারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে লাহিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হারিস ইবনে যাইদ থেকে, তিনি ইবনে হুজাইরা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "চারটি গুণ যখন তোমার মধ্যে থাকবে, তখন দুনিয়ার যা কিছুই তোমার থেকে চলে যাক না কেন, তাতে তোমার কোনো ক্ষতি হবে না: আমানত রক্ষা করা, সত্য কথা বলা, উত্তম চরিত্র এবং পবিত্র আহার।"

এবং নেককারদের পোশাক পরিধান করার পূর্বে নিজের গোপন অবস্থা (অন্তর) সংশোধন করাও মহত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে জাফর আশ-শায়বানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-বাশানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জুইবারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সালাম ইবনে সালিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাদ ইবনে কাসির থেকে, তিনি মালিক ইবনে দিনার থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের অন্তর নির্মল না হওয়া পর্যন্ত পশমি বস্ত্র পরিধান করো না; কেননা যে ব্যক্তি অন্তরে মালিন্য ও প্রতারণা রেখে পশমি বস্ত্র পরিধান করে, আকাশের প্রবল পরাক্রমশালী (আল্লাহ) তাকে ঘৃণা করেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن الفتوة حسن القراء. وإكرام الضيف. أخبرنا محمد بن الفضل بن محمد ابن إسحاق، أخبرنا محمد بن إسحاق الثقفي، أخبرنا إسحاق الحنظلي، عن [أبي] حازم، عن أبي هريرة رضي الله عنهم، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من كان يؤمن بالله واليوم الآخر، فليحسن قراء ضيفه)) .

ومن الفتوة الأكل بعد أكل الأصحاب [.. .. ..] . أخبرنا محمد بن يعقوب الأصم، أخبرنا العباس بن محمد الدوري، أخبرنا يحيى بن معين، حدثنا عبد الرحمن بياع الهروي، عن جعفر بن محمد، عن أبيه رضي الله عنهم، قال: ((كان رسول اله صلى الله عليه وسلم إذا أكل مع قوم، كان آخرهم أكلاً)) .

ومن الفتوة أن يرى أن الباقي من ماله ما بذله، لا ما أمسكه. أخبرنا عبد الله ابن محمد بن علي، أخبرنا أبو العباس الثقفي، حدثنا الحسين بن عيسى، أخبرنا ابن المبارك، أخبرنا سفيان، عن أبي إسحاق الهمداني، عن عمرو بن شرحبيل عن عائشة رضي الله عنهم، قالت: ((أهديت لرسول الله صلى الله عليه وسلم شاة، فقسمها. فقلت: لم يبق منها إلا عنقها. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قد بقي كلها إلا عنقها)) .
ফুতুওয়াহর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মেহমানদারির সৌন্দর্য এবং অতিথির সম্মান করা। মুহাম্মদ ইবনুল ফজল ইবনু মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক আস-সাকাফি আমাদের অবহিত করেছেন, ইসহাক আল-হানজালি আমাদের অবহিত করেছেন আবু হাজিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানের আপ্যায়ন সুন্দর করে।"

ফুতুওয়াহর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো সাথীদের আহার শেষ করার পর আহার করা। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াকুব আল-আসাম্ম আমাদের অবহিত করেছেন, আব্বাস ইবনু মুহাম্মদ আদ-দাওরি আমাদের অবহিত করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন আমাদের অবহিত করেছেন, আবদুর রহমান বায়্যা আল-হিরাউই আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জাফর ইবনু মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) যখন কোনো সম্প্রদায়ের সাথে আহার করতেন, তখন তিনি সবার শেষে আহার শেষ করতেন।"

ফুতুওয়াহর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি মনে করা যে, নিজের সম্পদের মধ্যে যা দান করা হয়েছে তা-ই প্রকৃত অবশিষ্ট রয়েছে, আর যা সে জমিয়ে রেখেছে তা অবশিষ্ট নেই। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আলী আমাদের অবহিত করেছেন, আবুল আব্বাস আস-সাকাফি আমাদের অবহিত করেছেন, হুসাইন ইবনু ঈসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের অবহিত করেছেন, সুফিয়ান আমাদের অবহিত করেছেন আবু ইসহাক আল-হামদানি থেকে, তিনি আমর ইবনু শারাহবিল থেকে, তিনি আয়েশা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-কে একটি বকরি উপহার দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা বণ্টন করে দিলেন। আমি বললাম: এর ঘাড়ের অংশটুকু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বললেন: বরং এর ঘাড়ের অংশটুকু ছাড়া সবটুকুই (পরকালের পাথেয় হিসেবে) অবশিষ্ট আছে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومن الفتوة الإفطار على سرور الإخوان. أخبرنا محمد بن عبد الله بن محمد بن قريش، حدثنا مسدد بن قطن، حدثنا داود بن رشيد، حدثنا بقية، عن محمد بن عبد الرحمن، حدثني عبيد الله عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهم، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من دخل على أخيه المسلم، وهو صائم، فأراد أن يفطر، فليفطر)) . وذكر الحديث.

ومن الفتوة حسن العشرة، والملاعبة مع الإخوان، والبشر معهم. أخبرنا عبد العزيز بن جعفر بن محمد الخرقي ببغداد، حدثنا محمد بن هارون بن بريه، حدثنا عيسى بن مهران، حدثنا الحسن بن الحسين، حدثنا الحسين بن زيد، قال: قلت لجعفر بن محمد: جعلت فداك، هل كانت في النبي صلى الله عليه وسلم دعابة ومداعبة؟ فقال: لقد وصفه الله بخلق عظيم في المداعبة، إن الله بعث أنبياءه، فكانت فيهم كزازة. وبعث محمداً صلى الله عليه وسلم بالرأفة والرحمة، وكان من رأفته بأمته، مداعبته لهم، لكيلا يبلغ بأحد منهم التعظيم حتى لا ينظر إليه. ثم قال: حدثني أبي محمد، عن أبيه علي [عن أبيه الحسين] عن أبيه علي
আভিজাত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ভাইদের খুশির জন্য রোজা ভেঙে ফেলা। মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুরাইশ আমাদের জানিয়েছেন, মুসাদ্দাদ ইবনে কুতন আমাদের বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে রাশিদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে আমাদের বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ নাফি থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার কোনো মুসলিম ভাইয়ের নিকট প্রবেশ করে এবং সে রোজা অবস্থায় থাকে, আর সে (ভাই) যদি চায় যে সে রোজা ভেঙে ফেলুক, তবে সে যেন রোজা ভেঙে ফেলে।" এরপর তিনি হাদিসটি পূর্ণ করেন।

আর আভিজাত্যের অন্তর্ভুক্ত হলো উত্তম সাহচর্য, ভাইদের সাথে কৌতুক করা এবং তাদের সাথে হাস্যোজ্জ্বল থাকা। আব্দুল আজিজ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-খারকি বাগদাদে আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে হারুন ইবনে বারিয়্যাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে মিহরান আমাদের বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে হুসাইন আমাদের বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে জায়েদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জাফর ইবনে মুহাম্মদকে বললাম: আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে কি কৌতুক ও হাস্যরসের উপস্থিতি ছিল? তিনি বললেন: আল্লাহ তাঁকে কৌতুক করার ক্ষেত্রেও মহান চরিত্রের অধিকারী বলে বর্ণনা করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর নবীদের প্রেরণ করেছেন এবং তাঁদের মাঝে এক প্রকার গাম্ভীর্যপূর্ণ আড়ষ্টতা ছিল। কিন্তু তিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মমতা ও দয়া সহকারে প্রেরণ করেছেন। আর উম্মতের প্রতি তাঁর মমতারই বহিঃপ্রকাশ ছিল তাদের সাথে তাঁর কৌতুক করা, যাতে তাদের কেউ তাঁকে নিয়ে এমন অতি-গাম্ভীর্যে না পৌঁছায় যার ফলে তারা তাঁর দিকে তাকাতেও সক্ষম না হয়। অতঃপর তিনি বললেন: আমার পিতা মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা আলী থেকে, [তাঁর পিতা হুসাইন থেকে], তাঁর পিতা আলী থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ১৮)
رضوان الله عليهم، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليبشر الرجل من أصحابه إذا رآه مغموماً بالمداعبة. وكان صلى الله عليه وسلم يقول: ((إن الله يبغض المعبس في وجوه إخوانه)) .

ومن الفتوة أن لا يطالع العبد نفسه، ولا أفعالها، ولا يطلب على فعله عوضاً. سمعت محمد بن عبد الله الرازي يقول: سئل أبو العباس بن عطاء عن أقرب شيء إلى مقت الله. فقال: رؤية النفس وأفعالها، وأشد من ذلك مطالبة الأعواض على أفعالها.

ومن الفتوة ملازمة التوبة وتصحيحها بصحة العزم على ترك العود إلى ما منه تاب. سمعت منصور بن عبد الله الهروي يقول: سمعت أبا الحسن المزين يقول: صحة التوبة ثلاثة أشياء: الندم على ما مضى، وصحة العزم على ترك العود إلى ما منه تاب، ووجل القلب على ذلك، لأنه من ذنوبه على يقين. ومما أحدث من التوبة على وجل لا يدري أمقبولٌ منه أم مضروبٌ به وجهه.

ومن الفتوة استجلاب محبة الله بالتحبب إلى أوليائه. سمعت عبد الواحد ابن بكر الورثاني يقول: سمعت القناد يقول: سمعت أبا موسى الديبلي يقول: سمعت أبا يزيد البسطامي و [قد] سأله رجل، فقال: دلني على عمل أتقرب به إلى الله. فقال: تحب أولياء الله. وتتحبب إليهم ليحبوك، فإن الله ينظر في قلوب أوليائه في كل يوم وليلة سبعين مرة فلعله أن ينظر إلى اسمك في قلب ولي من أوليائه، فيحبك ويغفر لك.
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই তাঁর সাহাবীদের মধ্যে কাউকে বিষণ্ণ দেখতেন, তখন কৌতুক করে তাঁকে আনন্দিত করতেন। আর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর ভাইদের সামনে মুখ ভার করে থাকাকে ঘৃণা করেন।"

আর ফুতুওয়াত (আধ্যাত্মিক বীরত্ব)-এর একটি দিক হলো বান্দা নিজের নফস বা তার কৃতকর্মের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না এবং তার কর্মের বিনিময়ে কোনো প্রতিদান কামনা করবে না। আমি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস বিন আতাকে আল্লাহর ক্রোধের সবচেয়ে নিকটবর্তী বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: নিজের নফস এবং তার আমলসমূহকে (গৌরবের সাথে) দেখা, আর তার চেয়েও গুরুতর হলো সেই আমলগুলোর বিনিময়ে প্রতিদান দাবি করা।

আর ফুতুওয়াত-এর অন্তর্ভুক্ত হলো সর্বদা তওবায় লিপ্ত থাকা এবং যা থেকে তওবা করা হয়েছে তাতে আর ফিরে না আসার দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে তওবাকে বিশুদ্ধ করা। আমি মনসুর বিন আব্দুল্লাহ আল-হিরাভিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল হাসান আল-মুযাইয়িনকে বলতে শুনেছি: তওবা বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত তিনটি: যা অতীত হয়েছে তার জন্য অনুতপ্ত হওয়া, যা থেকে তওবা করা হয়েছে তাতে পুনরায় ফিরে না আসার দৃঢ় সংকল্প করা এবং এই তওবার বিষয়ে হৃদয়ে ভীতি পোষণ করা; কারণ সে নিজের পাপের ব্যাপারে নিশ্চিত, কিন্তু তার কৃত তওবাটি কবুল করা হয়েছে নাকি তার মুখের ওপর ছুড়ে মারা হয়েছে—সে বিষয়ে সে আশঙ্কার মধ্যে থাকে।

আর ফুতুওয়াত-এর আরেকটি দিক হলো আল্লাহর ওলীদের সাথে মহব্বত স্থাপনের মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা অন্বেষণ করা। আমি আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে বকর আল-ওয়ারসানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল-কান্নাতকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু মুসা আদ-দাইবিলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু ইয়াজিদ আল-বিস্তামিকে বলতে শুনেছি—এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমাকে এমন কোনো আমলের কথা বলে দিন যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর ওলীদের ভালোবাসো এবং তাদের প্রিয়পাত্র হও যেন তাঁরা তোমাকে ভালোবাসেন; কেননা আল্লাহ প্রতিদিন দিনে ও রাতে সত্তর বার তাঁর ওলীদের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করেন, হতে পারে তিনি তাঁর কোনো এক ওলীর অন্তরে তোমার নাম দেখতে পাবেন, ফলে তিনি তোমাকে ভালোবাসবেন এবং ক্ষমা করে দেবেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن الفتوة أن لا تعاتب إخوانك عند زلاتهم. وأن تتوب عنهم إذا أذنبوا. سمعت أبا الفرج الصائغ يقول: سمعت الحسين بن سهل، حدثنا أحمد بن عمران الرازي، سمعت على بن صالح يقول: سمعت عمران بن موسى الديبلي يقول: سمعت أبي يقول: قدم يوسف بن الحسين علي أبي يزيد البسطامي رحمهم الله، فسأله: مع من تأمرني أن أصحب؟ فقال: من إذا مرضت عادك، وإذا أذنبت تاب عنك. وأنشد في هذا المعنى:

إذا مرضنا أتيناكم نعودكم … وتذنبون، فنأتيكم، فتعتذروا

ومن الفتوة أن لا يقعد العبد عن الكسب إلا بعد صحة عقدة التوكل. سمعت أبا بكر الرازي يقول: سمعت أبا عثمان الآدمي يقول: سمعت إبراهيم الخواص يقول: لا ينبغي للصوفي أن يتعرض للقعود عن الكسب إلا أن يكون رجلاً مطلوباً بتركه، قد وقعت به حالة من الأحوال اقتطعته عن مواضع كسبه، وقد أعتبه الحال عن المكاسب، فأما إذا كانت الحاجات منه قائمة، ولم يقع له عروف تحول بينه وبين التكلف، فالعمل أولى به، والكسب أحل له وأبلغ، لأن القعود لمن خرج عن المعارف والتشرف والعادات.

ومن الفتوة تصحيح اعتقاده فيما بينه وبين ربه فيما ألزم من الأحوال والآداب. سمعت أبا بكر الرازي يقول: سمعت خير النساج يقول: سمعت أبا حمزة يقول: إني لأستحيي من الله أن أدخل البادية، وأنا شبعان، وقد أعتقد
আর ফুতুওয়াহ-এর একটি দিক হলো, তোমার ভাইদের পদস্খলনের জন্য তাদের তিরস্কার না করা এবং তারা কোনো পাপ করলে তাদের পক্ষ থেকে তাওবা করা। আমি আবু আল-ফারাজ আস-সায়েগকে বলতে শুনেছি: আমি আল-হুসাইন ইবনে সাহলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে উমরান আর-রাজি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: আমি আলী ইবনে সালিহকে বলতে শুনেছি: আমি উমরান ইবনে মুসা আদ-দাইবুলিকে বলতে শুনেছি: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: ইউসুফ ইবনে আল-হুসাইন আবু ইয়াজিদ আল-বিসতামি (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)-এর নিকট আসলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি আমাকে কার সঙ্গে সংগত থাকার নির্দেশ দেন? তিনি বললেন: এমন ব্যক্তির সঙ্গে, যে তোমার অসুস্থতায় তোমাকে দেখতে আসবে এবং তুমি পাপ করলে তোমার পক্ষ থেকে তাওবা করবে। এবং তিনি এই অর্থে কবিতা আবৃত্তি করলেন:

যখন আমরা অসুস্থ হই, আমরা তোমাদের দেখতে আসি … আর তোমরা যখন পাপ করো, তখন আমরা তোমাদের কাছে আসি এবং তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো।

আর ফুতুওয়াহ-এর অন্তর্ভুক্ত হলো, তাওয়াক্কুলের দৃঢ় সংকল্প শুদ্ধ হওয়ার আগে বান্দার উপার্জনকে পরিত্যাগ না করা। আমি আবু বকর আর-রাজিকে বলতে শুনেছি: আমি আবু উসমান আল-আদমিকে বলতে শুনেছি: আমি ইবরাহিম আল-খাওওয়াসকে বলতে শুনেছি: সুফির জন্য উপার্জনকে পরিত্যাগ করা উচিত নয়, যতক্ষণ না সে এমন ব্যক্তিতে পরিণত হয় যাকে তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে। অর্থাৎ তার ওপর এমন এক আধ্যাত্মিক অবস্থা আপতিত হয়েছে যা তাকে তার উপার্জনের ক্ষেত্রগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং সেই অবস্থা তাকে উপার্জন থেকে ফিরিয়ে রেখেছে। কিন্তু যদি তার অভাব-অভিযোগ বিদ্যমান থাকে এবং তার ও প্রচেষ্টার মধ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, তবে কাজ করাই তার জন্য শ্রেয় এবং উপার্জনই তার জন্য অধিক হালাল ও সংগত। কারণ কর্মহীন বসে থাকা কেবল তাদের জন্য যারা আধ্যাত্মিক জ্ঞান, সম্মান ও জাগতিক অভ্যাসসমূহ থেকে ঊর্ধ্বে উঠে গেছেন।

আর ফুতুওয়াহ-এর অন্তর্ভুক্ত হলো, তার ওপর অর্পিত আধ্যাত্মিক অবস্থা ও আদবসমূহ পালনের ক্ষেত্রে তার ও তার রবের মধ্যে বিদ্যমান আকিদাকে বিশুদ্ধ করা। আমি আবু বকর আর-রাজিকে বলতে শুনেছি: আমি খায়ের আন-নাসসাজকে বলতে শুনেছি: আমি আবু হামজাকে বলতে শুনেছি: আমি আল্লাহর কাছে এই লজ্জা বোধ করি যে, আমি তৃপ্ত অবস্থায় মরুভূমিতে প্রবেশ করব, অথচ আমি বিশ্বাস রাখি...
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ২০)
التوكل لئلا يكون شبعي زاداً أتزوده.

ومن الفتوة تعظيم حرمات الله. سمعت محمد بن شاذان يقول: سمعت علي بن موسى التاهرتي يقول: وقع من عبد الله بن مروان فلس في بئر قذرة، فاكترى عليه بثلاثة عشر ديناراً حتى أخرجه. فقيل له في ذلك، فقال: كان عليه اسم الله مكتوباً، فاحترمته لذلك.

ومن الفتوة أن تعامل الناس على حسب ما تحب أن يعاملوك به وهو ما روي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((وأحب للناس ما تحب لنفسك، تكن مؤمناً)) ، وفي حديث آخر: وآت للناس ما تحب أن يؤتى إليك)) . سمعت أبا بكر الرازي يقول: سمعت سعيد الصوفي يقول: سمعت ابن يزدانيار و [قد] قال له رجلٌ: أوصني. فقال: اقض من الناس حسب ما يقضى لهم من نفسك.
তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা), যাতে আমার পরিতৃপ্তি এমন কোনো পাথেয় না হয় যা আমি পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করি।

আর আল্লাহর পবিত্র বিষয়সমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ফুতুওয়াত বা মহানুভবতার অন্তর্ভুক্ত। আমি মুহাম্মদ বিন শাযানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী বিন মুসা আত-তাহারতীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মারওয়ানের একটি পয়সা একটি নোংরা কূপে পড়ে গিয়েছিল, তখন তিনি সেটি উদ্ধার করার জন্য তেরো দিনার মজুরি দিয়ে লোক নিয়োগ করলেন। এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন: তাতে আল্লাহর নাম উৎকীর্ণ ছিল, তাই আমি সেটির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছি।

আর ফুতুওয়াত হলো মানুষের সাথে এমন আচরণ করা যা তুমি নিজের জন্য তাদের নিকট থেকে প্রত্যাশা করো। আর এটি সেই বর্ণনার অনুরূপ যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মানুষের জন্য তা-ই পছন্দ করো যা নিজের জন্য পছন্দ করো, তবেই তুমি মুমিন হতে পারবে।” এবং অন্য একটি হাদীসে এসেছে: “মানুষের কাছে তা-ই নিয়ে আসো যা তুমি পছন্দ করো যে তোমার কাছে নিয়ে আসা হোক।” আমি আবু বকর আর-রাযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সাঈদ আস-সূফীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে ইয়াযদানইয়ারকে বলতে শুনেছি—আর জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বলেছিল: আমাকে উপদেশ দিন। তখন তিনি বললেন: মানুষের পাওনা সেভাবেই মিটিয়ে দাও যেভাবে তুমি নিজের পক্ষ থেকে তাদের জন্য তা মেটানো পছন্দ করো।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ২১)
ومن الفتوة الهجرة إلى الله بالسر والقلب، وأصله قول الله عز وجل {فآمن له لوط وقال إني مهاجر إلى ربي} . سمعت أبا الطيب الشيرازي يقول: سمعت أبا بكر الطمستاني يقول: من صحب منا الكتاب والسنة، وعرف عن نفسه، وعن الحق والدنيا، وهاجر إلى الله بسره وقلبه، فليلزم الصدق في هجرته، فقد بلغ المبلغ في الفتوة، إلا أن ينقضه بالرجوع إلى شيء مما هاجر منه. قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((فهجرته إلى ما هاجر إليه)) .

ومن الفتوة الصحبة مع الله، أو مع رسوله، أو مع أوليائه. وقال أبو عثمان الحيري: من صحت صحبته مع الله، لزم قراءة كتابه بالتدبر، وآثر كلام الله على كل كلام، واتبع آدابه وأوامره، وما خوطب به. ومن صحت صحبته مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، اتبع أخلاقه وسننه وآدابه وشمائله، وجعل السنن أمامه فيما يأتي ويذر. ومن صحت صحبته مع أولياء الله، اتبع سيرتهم وطريقتهم، وتأدب بآدابهم، ولزم سننهم. ومن سقط عن هذه الدرجة فهو من الهالكين.
ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হলো গোপন ও অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র দিকে হিজরত করা, আর এর মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহ্‌র বাণী: {অতঃপর লূত তার প্রতি ঈমান আনলেন এবং বললেন: আমি আমার রবের দিকে হিজরত করছি}। আমি আবুত্তাইয়িব আশ-শিরাজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আত-তুমুস্তানিকে বলতে শুনেছি: আমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহর সাহচর্য গ্রহণ করল এবং নিজের নফস, সত্য (হক) ও দুনিয়া সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করল, আর স্বীয় গোপন সত্তা ও অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র দিকে হিজরত করল, সে যেন তার হিজরতে সত্যনিষ্ঠ থাকে। তবেই সে ফুতুওয়াতের চূড়ান্ত স্তরে উপনীত হলো, যদি না সে যা থেকে হিজরত করেছে তার কোনোটিতে পুনরায় ফিরে গিয়ে তা ভঙ্গ করে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে যেদিকে সে হিজরত করেছে))।

আল্লাহ্‌র সাথে, অথবা তাঁর রাসূলের সাথে, অথবা তাঁর ওলিদের সাথে সাহচর্য রক্ষা করা ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। আবু উসমান আল-হিরি বলেন: আল্লাহ্‌র সাথে যার সাহচর্য যথার্থ হয়েছে, সে গভীর অভিনিবেশ সহকারে তাঁর কিতাব তিলাওয়াত করাকে আবশ্যক করে নিয়েছে, সমস্ত কথার ওপর আল্লাহ্‌র কালামকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং তাঁর আদব, নির্দেশ ও যা দ্বারা তাকে সম্বোধন করা হয়েছে তা অনুসরণ করেছে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যার সাহচর্য যথার্থ হয়েছে, সে তাঁর চরিত্র, সুন্নাহ, আদব ও গুণাবলী অনুসরণ করেছে এবং স্বীয় গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে সুন্নাহকে পথপ্রদর্শক হিসেবে নির্ধারণ করেছে। আর আল্লাহ্‌র ওলিদের সাথে যার সাহচর্য যথার্থ হয়েছে, সে তাঁদের জীবনচরিত ও তরীকা অনুসরণ করেছে, তাঁদের আদব অনুযায়ী আদব শিক্ষা করেছে এবং তাঁদের অনুসৃত পথ আঁকড়ে ধরেছে। আর যে ব্যক্তি এই স্তর থেকে বিচ্যুত হলো, সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ২২)
ومن الفتوة مطالبة العبد نفسه بالصدق. ليشغله ذلك عن الفراغ إلى أحوال الخلق أجمع. حكي لي عن أبي بكر الطمستاني أنه قال: كل من استعمل الصدق بينه وبين الله، شغله صدقه مع الله عن الفراغ إلى خلق الله.

ومن الفتوة الثقة بضمان الله تعالى في الرزق. سمعت أحمد بن محمد بن زكريا يقول: سمعت علي بن إبراهيم يقول: سمعت إبراهيم بن شيبان يقول: قال سهل بن عبد الله: من اهتم لرزقه بعد ضمان الله له، لم يكن له عند الله قدر.

ومن الفتوة موافقة الإخوان على الجملة وترك الخلاف عليهم. سمعت أبا العباس أحمد بن محمد النسوي يقول: سمعت أحمد بن عطاء يقول: سمعت علي بن جعفر يقول: قال أحمد بن إبراهيم الصوري قال: سمعت المسيب بن واضح يقول: كل أخ قلت له قم، قال إلى أين، فليس لك بأخ.

ومن الفتوة أن لا يخالف حبيبك في محبوب ومكروه. سمعت عبد الواحد بن بكر يقول: سمعت عبد الله بن أحمد الناقد يقول: سمعت أحمد بن الصلت يقول: سمعت بشر بن الحارث يقول: ليس من المروءة أن تحب ما يبغضه حبيبك. وأنشدت في هذا المعنى (شعر) :

أشبهت أعدائي فصرت أحبهم … إذا كان حظي منك حظى منهم

وأهنتني فأهنت نفسي صاغرة … ما من يهون عليك ممن أكرم

ومن الفتوة حفظ الأدب في الدعاء والسؤال والمناجاة. سمعت محمد بن عبد الله يقول: سمعت سعيد بن عثمان العباسي يقول: حججت ثمانين حجة على قدمي في الفقر، فبينا أنا أطوف، إذ جرى على لساني في الطواف أن قلت: حبيبي.
ফুতুওয়াত বা বীরত্ব হলো বান্দার নিজের নফসের নিকট সত্যবাদিতার দাবি করা; যাতে এই বিষয়টি তাকে সমস্ত সৃষ্টির অবস্থা পর্যবেক্ষণের অবসর থেকে বিমুখ রাখে। আবু বকর আল-তামাস্তানি থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের এবং আল্লাহর মাঝে সত্যবাদিতা অবলম্বন করে, আল্লাহর সাথে তার সেই সত্যবাদিতা তাকে আল্লাহর সৃষ্টিজগত নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার অবসর থেকে বিরত রাখে।

ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হলো রিযিকের ব্যাপারে মহান আল্লাহর নিশ্চয়তার ওপর ভরসা রাখা। আমি আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যাকারিয়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলি ইবনে ইবরাহিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবরাহিম ইবনে শায়বানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ বলেছেন: আল্লাহ তাআলা রিযিকের দায়িত্ব নেওয়ার পর যে ব্যক্তি তা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়, আল্লাহর নিকট তার কোনো মর্যাদা নেই।

ফুতুওয়াতের অংশ হলো সামগ্রিকভাবে ভাইদের সাথে একমত হওয়া এবং তাদের বিরোধিতা বর্জন করা। আমি আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-নাসাওয়ীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনে আতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলি ইবনে জাফরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আস-সুরি বলেছেন: আমি মুসাইয়িব ইবনে ওয়াদিহকে বলতে শুনেছি: তুমি যে ভাইকে বললে ‘দাঁড়াও’, আর সে প্রশ্ন করল ‘কোথায় যাব?’, সে তোমার প্রকৃত ভাই নয়।

ফুতুওয়াতের একটি দিক হলো তোমার প্রিয়জন যা পছন্দ বা অপছন্দ করেন, তাতে তার বিরোধিতা না করা। আমি আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে বকরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আন-নাক্বিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনে আস-সালতকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বিশর ইবনে আল-হারিসকে বলতে শুনেছি: তোমার প্রিয়জন যা অপছন্দ করেন তা ভালোবাসা শিষ্টাচারের (মুরুওয়াত) অন্তর্ভুক্ত নয়। এ প্রসঙ্গে এই কবিতাটি আবৃত্তি করা হয়েছে:

তুমি আমার শত্রুদের সদৃশ হয়েছ বিধায় আমি তাদের ভালোবাসতে শুরু করেছি … যদি তোমার থেকে আমার প্রাপ্তি তাদের প্রাপ্তির মতোই হয়।

তুমি আমাকে তুচ্ছ করেছ, তাই আমি বশ্যতা স্বীকার করে নিজেকেও তুচ্ছ করেছি … কারণ যাকে তুমি তুচ্ছজ্ঞান করো সে আমার নিকট সম্মানিত হতে পারে না।

ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হলো দোয়া, প্রার্থনা ও মুনাজাতের ক্ষেত্রে আদব বা শিষ্টাচার রক্ষা করা। আমি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনে উসমান আল-আব্বাসীকে বলতে শুনেছি: আমি চরম অভাবের মাঝে পদব্রজে আশিবার হজ পালন করেছি। এমতাবস্থায় আমি যখন তাওয়াফ করছিলাম, তখন হঠাৎ আমার জিহ্বায় এ কথাটি জারি হলো যে আমি বললাম: ‘হে আমার প্রিয়তম’।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ২৩)
فإذا هاتفٌ يهتف يقول: ليس ترضى أن تكون مسكيناً حتى تدعى المحبة، فغشي علي. فأفقت وأن أقول: مسكينك. مسكينك. مسكينك.

ومن الفتوة القيام بمنافع الخلق مع حفظ آداب العبودية. سمعت محمد ابن عبد الله العزيز يقول: سمعت يوسف بن الحسين يقول: سمعت ذا النون رضي الله عنهم يقول: شعار أهل المعرفة خصال ثلاث: تفريج كرب الحيوانين، ونشر آلاء الله في مجالس الذاكرين، والدلالة على الله بلسان العارفين.

ومن الفتوة محاسبة النفس والعلم بها، والأسف على ما فاته من عمره على المخالفة. سمعت أبا الحسن الفارسي يقول: سمعت أحمد بن علي يقول: قال الكتاني: حكي لي عن رجل من أهل الرقة أنه كان محاسباً لنفسه، فنظر يوماً، فإذا هو ابن ستين سنة، فحسب أيامها، فإذا في أحد وعشرين ألف يوم وخمسمائة يوم. قال: فصرخ صرخة [و] خر مغشياً عليه، وقال: يا ويلتاه.. ..ألقى ربي بأحد وعشرين ألف وخمسمائة ذنب؟ على أن يكون في اليوم ذنبٌ واحد، فكيف ولي في كل [يوم] عشرة آلاف ذنب؟!. قال: فغشي عليه ثانياً، فحركوه، فإذا هو ميت.

يتلوه إن شاء الله:

ومن الفتوة حفظ الورع ظاهراً أو باطناً

والحمد لله رب العالمين وصلى الله على سيدنا محمد وآله أجمعين.
হঠাৎ এক অদৃশ্য ঘোষক ডেকে বললেন: তুমি কি মিসকীন হয়েই সন্তুষ্ট হতে পারছ না, যতক্ষণ না তুমি ভালোবাসার দাবি করছ? তখন আমি মূর্ছা গেলাম। যখন আমার জ্ঞান ফিরল, আমি বলছিলাম: আপনার মিসকীন। আপনার মিসকীন। আপনার মিসকীন।

আর ফুতুওয়্যাত বা মহত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত হলো দাসত্বের আদবসমূহ বজায় রেখে সৃষ্টির কল্যাণে নিয়োজিত হওয়া। আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আজিজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি ইউসুফ বিন হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি যুন-নুন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কে বলতে শুনেছি: আধ্যাত্মিক জ্ঞানীদের বৈশিষ্ট্য তিনটি: প্রাণীকুলের দুঃখ-কষ্ট দূর করা, যিকিরকারীদের মজলিসে আল্লাহর নেয়ামতসমূহ প্রচার করা এবং আরিফ বা আধ্যাত্মিক জ্ঞানীদের ভাষায় আল্লাহর দিকে পথপ্রদর্শন করা।

আর ফুতুওয়্যাতের অন্তর্ভুক্ত হলো নফসের আত্মপর্যালোচনা করা এবং এর অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া, আর অবাধ্যতায় জীবনের যে সময় অতিবাহিত হয়েছে তার জন্য অনুশোচনা করা। আমি আবুল হাসান আল-ফারিসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আহমদ বিন আলীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আল-কাত্তানি বলেছেন: আমার কাছে রাক্কার জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি নিয়মিত নিজের নফসের হিসাব নিতেন। একদিন তিনি লক্ষ্য করে দেখলেন যে, তাঁর বয়স ষাট বছর হয়েছে। তিনি এর দিনগুলো গণনা করে দেখলেন যে, তা একুশ হাজার পাঁচশত দিন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি এক চিৎকার দিয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেলেন এবং বললেন: হায় আফসোস! আমি কি আমার রবের সাথে একুশ হাজার পাঁচশত গুনাহ নিয়ে সাক্ষাৎ করব? এটা তো তখন যদি প্রতিদিন মাত্র একটি করে গুনাহ ধরা হয়; তবে আমার কী দশা হবে যখন আমি প্রতিদিন দশ হাজার গুনাহ করেছি?! বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি দ্বিতীয়বার মূর্ছা গেলেন, তারপর লোকেরা তাঁকে নাড়া দিয়ে দেখল যে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

ইনশাআল্লাহ এর পরে আসছে:

আর ফুতুওয়্যাতের অন্তর্ভুক্ত হলো প্রকাশ্য ও গোপনে পরহেযগারি রক্ষা করা।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الجزء الثاني من الكتاب الفتوة

مما جمعه الشيخ أبو عبد الرحمن محمد بن الحسين السلمي رحمة الله عليه
ফুতুওয়াহ গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশ

শাইখ আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সুলামী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) যা সংগ্রহ করেছেন তার মধ্য থেকে
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

ومن الفتوة حفظ الورع ظاهراً وباطناً. سمعت أبا الحسين الفارسي يقول: سمعت ابن علويه يقول: سمعت يحيى بن معاذ الرازي رضي الله عنهم يقول: الورع ورعان ورعٌ في الظاهر، وورع في الباطن. أما في الظاهر فلا يتحرك إلا لله، وأما في الباطن فلا تدخل قلبك شيئاً سوى الله تعالى.

ومن الفتوة الاحتراز من الشيطان بالجوع. سمعت أبا الحسين الفارسي يقول: سمعت ابن عصام يقول: من جاع لا يقربه الشيطان إذا كان جوعه بعلم.

ومن الفتوة تأثير الذكر على ظاهر العبد وباطنه. أما في ظاهره في الذبول والخشوع، وفي باطنه بالرضا. سمعت محمد بن أحمد بن إبراهيم النسوي يقول: سمعت جعفر بن محمد بن نصير يقول: سمعت الجنيد يقول: إن لله عباداً إذا ذكروا عظمة الله، تقطعت أوصالهم فرقاً من الله، وهيبة له. وإنهم لهم الفصحاء الطلقاء الألباء العالمون بالله وأيامه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

প্রকাশ্য এবং গোপনে পরহেজগারি (ওরা’) রক্ষা করা বীরত্ব বা আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্বের (ফুতুওয়াহ) অন্তর্ভুক্ত। আমি আবুল হুসাইন আল-ফারসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে আলাউইয়াহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মুআয আর-রাজিকে (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলতে শুনেছি: পরহেজগারি দুই প্রকার—প্রকাশ্য পরহেজগারি এবং অভ্যন্তরীণ পরহেজগারি। প্রকাশ্য পরহেজগারি হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে কোনো নড়াচড়া না করা, আর অভ্যন্তরীণ পরহেজগারি হলো মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুকে তোমার হৃদয়ে প্রবেশ করতে না দেওয়া।

ক্ষুধার মাধ্যমে শয়তান থেকে আত্মরক্ষা করা বীরত্বের অন্তর্ভুক্ত। আমি আবুল হুসাইন আল-ফারসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে ইসামকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকে, শয়তান তার নিকটবর্তী হয় না, যদি তার সেই ক্ষুধা ইলম বা সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতে হয়।

বান্দার প্রকাশ্য ও গোপন অবস্থার ওপর জিকিরের প্রভাব প্রতিফলিত হওয়া বীরত্বের অন্তর্ভুক্ত। প্রকাশ্যভাবে এর প্রভাব হলো কৃশতা ও বিনয়াবনত থাকা, আর গোপনে এর প্রভাব হলো সন্তুষ্টি লাভ করা। আমি মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন ইবরাহিম আন-নাসাউয়িকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি জাফর বিন মুহাম্মদ বিন নুসায়েরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি জুনায়েদকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যারা যখন আল্লাহর মহত্ত্ব স্মরণ করেন, তখন আল্লাহর ভয়ে এবং তাঁর প্রতাপের কারণে তাদের শরীরের জোড়াগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। প্রকৃতপক্ষে তারাই হলো বাগ্মী, সাবলীল বক্তা, বুদ্ধিমান এবং আল্লাহ ও তাঁর দিনসমূহ (ইতিহাস ও ঘটনাবলি) সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞানী।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن الفتوة الثقة بما ضمن الله لك، والاشتغال بما أمرك به. سمعت أبا الحسين الفارسي يقول: سمعت إبراهيم بن فاتك يقول: سمعت الجنيد رضي الله عنهم يقول: لا تهتم لرزقك الذي قد كفيته، واعمل عملك الذي قلدته، فإن ذلك من عمل الكرام والفتيان.

ومن الفتوة أن لا يشغلك عن الله في الدارين شاغل. سمعت أبا الحسين الفارسي يقول: سمعت علي بن الحسين بن حمدان يقول: سمعت أبي يقول: قالت رابعة: إلهي همي من الدنيا في الدنيا ذكرك، وفي الآخرة رؤيتك، ثم تفعل بي ما شئت.

ومن الفتوة طلب صلاح القلب بحفظ الجوارح، واشتغالها بما يعنيها. سمعت أبا الحسين الفارسي يقول: سمعت ابن عصام يقول: سمعت سهل بن عبد الله التستري رحمهم الله يقول: ما من عبد حفظ جوارحه إلا حفظ الله عليه قلبه، وما من عبد حفظ الله عليه قلبه إلا جعله أميناً، وما من عبد جعله الله أميناً إلا جعله إماماً يقتدى به، وما من عبد جعله الله إماماً يقتدى به إلا جعله الله حجة على خلقه.

ومن الفتوة العفو عند القدرة. سمعت أبا الحسين الفارسي يقول: سمعت محمد بن الحسن يقول: سمعت علي بن عبد الحميد الغضائري يقول: سمعت السري رضي الله عنهم يقول: من عفا وهو يقدر على الانتصار، عفا الله عنه بقدرته عليه.
ফুতুওয়াহ বা আধ্যাত্মিক মহত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ আপনার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তার ওপর আস্থা রাখা এবং তিনি আপনাকে যা করার আদেশ দিয়েছেন তাতে মগ্ন থাকা। আমি আবুল হুসাইন আল-ফারিসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি ইব্রাহিম বিন ফাতিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি জুনায়েদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "আপনার সেই রিযিক নিয়ে চিন্তিত হবেন না যার দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে, বরং আপনার সেই কাজ করুন যা আপনার ওপর অর্পণ করা হয়েছে; কেননা এটিই মর্যাদাবান ব্যক্তি ও আধ্যাত্মিক যুবকদের কর্ম।"

ফুতুওয়াহর আরও একটি দিক হলো উভয় জগতে কোনো ব্যস্ততাই যেন আপনাকে আল্লাহ থেকে বিমুখ না করে। আমি আবুল হুসাইন আল-ফারিসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আলি বিন আল-হুসাইন বিন হামদানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: রাবেয়া বলেছেন: "হে আমার ইলাহ! দুনিয়াতে আমার একমাত্র চিন্তা হলো আপনার স্মরণ, আর আখিরাতে আপনার দর্শন; এরপর আপনি আমার সাথে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারেন।"

ফুতুওয়াহর অন্যতম দিক হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হিফাযত করার মাধ্যমে অন্তরের সংশোধন অন্বেষণ করা এবং সেগুলোকে অর্থবহ কাজে নিয়োজিত রাখা। আমি আবুল হুসাইন আল-ফারিসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি ইবনে ইসামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি সাহল বিন আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারি (রাহিমাহুমুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "যে বান্দাই নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হিফাযত করে, আল্লাহ অবশ্যই তার অন্তরকে হিফাযত করেন। আর যে বান্দার অন্তর আল্লাহ হিফাযত করেন, তাকে তিনি আমানতদার বানান। আর যাকে আল্লাহ আমানতদার বানান, তাকে তিনি অনুসরণের যোগ্য ইমাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। আর যাকে আল্লাহ অনুসরণের যোগ্য ইমাম বানান, তাকে তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর দলীল হিসেবে সাব্যস্ত করেন।"

ফুতুওয়াহর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেওয়া। আমি আবুল হুসাইন আল-ফারিসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি মুহাম্মদ বিন আল-হাসানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আলি বিন আব্দুল হামিদ আল-গাদায়িরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি সাররি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তাঁর সর্বময় ক্ষমতার বদৌলতে তাকে ক্ষমা করে দেন।"
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ২৯)
ومن الفتوة الاشتغال بعيبه عن عيوب الناس. سمعت محمد بن طاهر الوزيري يقول: سمع الحسن بن محمد بن إسحاق يقول: سمعت ابن عثمان يقول: سمعت ذا النون رحمهم الله يقول: من نظر إلى عيوب الناس عمي عن عيوب نفسه، ومن نظر في عيوبه عمي عن عيوب الناس.

ومن الفتوة إحياء السر بالذكر، وإحياء العلانية بالطاعة. سمعت عبد الله بن محمد بن اسفنديار [ان] يقول: سمعت الحسن بن علويه يقول: سمعت يحيى ابن معاذ رحمهم الله يقول: خلق الله السر، وجعل حياته بذكره. وخلق العلانية، وجعل حياتها بطاعته. وخلق الدنيا وجعل السلامة منها ترك ما فيها. وخلق الآخرة وجعل التمتع بها في العمل لها.

ومن الفتوة موافقة المحب حبيبه في جميع أوامره. سمعت أبا الحسين علي بن محمد القزويني الصوفي يقول: سمعت أبا الحسين المالكي يقول: أتى النوري إلى أبي القاسم الجنيد بن محمد، فقال: بلغني أنك تتكلم في كل شيء، فتكلم فيما شئت حتى أزيد عليك. فقال أبو القاسم في ماذا أكلمك؟ فقال: في المحبة. فقال: أحكي لك حكاية، كنت أنا وجماعة من أصحابي في بستان. فأبطأ علينا من يجيئنا بما نحتاج إليه، فصعدنا نطلع على سطح البستان؛ فإذا بضرير ومعه غلام حسن الوجه، والضرير يقول: يا هذا أمرتني بكذا، فامتثلت.
ফুতুওয়াহর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অন্যের দোষ বাদ দিয়ে নিজের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকা। আমি মুহাম্মদ বিন তাহের আল-ওয়াজিরিকে বলতে শুনেছি, তিনি আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাককে বলতে শুনেছেন, তিনি ইবনে উসমানকে বলতে শুনেছেন, তিনি জুন-নুন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) কে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি মানুষের দোষের দিকে তাকায়, সে নিজের দোষ সম্পর্কে অন্ধ হয়ে যায়; আর যে নিজের দোষের দিকে তাকায়, সে মানুষের দোষ সম্পর্কে অন্ধ হয়ে যায়।

ফুতুওয়াহর আরও একটি দিক হলো জিকিরের মাধ্যমে গোপন সত্তাকে জীবিত রাখা এবং আনুগত্যের মাধ্যমে বাহ্যিকতাকে জীবিত রাখা। আমি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইসফেনদিয়ারকে বলতে শুনেছি, তিনি আল-হাসান বিন আলাউইয়াকে বলতে শুনেছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মুআযকে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) বলতে শুনেছেন: আল্লাহ তাআলা গোপন সত্তা বা কলব সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর জিকিরের মাধ্যমে এর জীবন দান করেছেন। তিনি বাহ্যিক অবয়ব সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে এর জীবন দান করেছেন। তিনি দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং এতে যা আছে তা বর্জন করার মাঝে এর থেকে নিরাপত্তা রেখেছেন। আর তিনি আখিরাত সৃষ্টি করেছেন এবং এর জন্য আমল করার মাঝে এর উপভোগ নিহিত রেখেছেন।

ফুতুওয়াহর অন্তর্ভুক্ত হলো প্রেমিকের সকল আদেশে তার প্রিয়তমের সাথে একমত হওয়া। আমি আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ আল-কাজভিনী আস-সুফিকে বলতে শুনেছি, তিনি আবুল হুসাইন আল-মালিকিকে বলতে শুনেছেন: আন-নুরী আবুল কাসিম আল-জুনাইদ বিন মুহাম্মদের কাছে এসে বললেন, "আমি সংবাদ পেয়েছি যে আপনি সব বিষয়ে কথা বলেন, সুতরাং আপনি যা ইচ্ছা তা নিয়ে কথা বলুন যাতে আমি আপনার চেয়ে বেশি বলতে পারি।" তখন আবুল কাসিম বললেন, "আমি আপনার সাথে কোন বিষয়ে কথা বলব?" তিনি বললেন, "মহব্বত (প্রেম) সম্পর্কে।" তিনি বললেন, "আমি আপনাকে একটি কাহিনী শোনাই; আমি এবং আমার একদল সাথী একটি বাগানে ছিলাম। আমাদের যা প্রয়োজন ছিল তা নিয়ে আসতে যে ব্যক্তি আসার কথা ছিল সে দেরি করছিল। তখন আমরা বাগানের ছাদের উপর আরোহণ করে উঁকি দিলাম; সেখানে দেখলাম এক অন্ধ ব্যক্তি, তার সাথে একজন সুদর্শন কিশোর রয়েছে। আর সেই অন্ধ ব্যক্তিটি বলছিল: হে অমুক, তুমি আমাকে এই এই আদেশ দিয়েছিলে, আর আমি তা পালন করেছি।"
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ৩০)
ونهيتني عن كذا فتركت. وما أخالفك في شيء تريده، فماذا تريد مني؟ قال: تموت. فقال الضرير: ها أنا ذا أموت. وتمدد وغطى وجهه. فقلت لأصحابي: ما بقي على هذا الضرير شيء، ولكن لا يمكنه الموت في الحقيقة، ولكنه قد تشبه بالموتى. فنزلنا وخرجنا إليه، فحركناه فإذا هو ميت. فقام النوري وانصرف.

ومن الفتوة الرجوع من الإخوان على طريق المعاتبة إلى أنس الغفران. سمعت أبا الحسين القزويني يقول: سمعت جعفر الخلدي [يقول:] سمعت ابن مسروق يقول: سمعت محمد بن بشير يقول: حدثني ابن السماك أنه جرى بينه وبين صديق له كلام، فقال له صديقه: الميعاد غداً نتعاتب فقال: بل الميعاد غداً نتغافر.

ومن الفتوة حسن الظن بالخلق، وحفظ حرماتهم. سمعت أبا العباس محمد ابن الحسن البغدادي يقول: سمعت محمد بن عبد الله الفرغاني يقول: سمعت الجنيد رحمهم الله يقول، وقد كلمه أصحاب في الذين يقفون على الحلقة، فيسألونه، أنهم ليسوا بموضع للإجابة، وأنهم يتعنتون، وأحب أصحابي أن لا أجيب مثل هؤلاء. فقال: رؤيتي فيهم غير رؤيتكم، إنما أؤمل أن يتعلقوا بكلمة، فتكون سبباً لنجاتهم.
এবং আপনি আমাকে অমুক অমুক বিষয় থেকে নিষেধ করেছিলেন, ফলে আমি তা বর্জন করেছি। আপনি যা চান আমি তার কোনো কিছুতেই আপনার বিরোধিতা করি না; তাহলে এখন আপনি আমার নিকট কী চান? তিনি বললেন: মৃত্যু। তখন সেই অন্ধ ব্যক্তিটি বললেন: এই তো আমি মৃত্যুবরণ করছি। এরপর তিনি হাত-পা প্রসারিত করলেন এবং নিজের চেহারা ঢেকে নিলেন। আমি আমার সাথীদের বললাম: এই অন্ধ ব্যক্তির তো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, তবে বাস্তবে তো তার মৃত্যু হতে পারে না, বরং সে মৃতদের অনুকরণ করছে মাত্র। এরপর আমরা নিচে নেমে তার নিকট গেলাম এবং তাকে নাড়া দিলাম, দেখা গেল তিনি মারা গেছেন। তখন নূরী উঠে দাঁড়ালেন এবং প্রস্থান করলেন।

ফুতুওয়াত বা মহত্বের একটি দিক হলো, ভাইদের সাথে বিবাদের পথ পরিহার করে ক্ষমার সৌহার্দ্যের দিকে ফিরে আসা। আমি আবুল হুসাইন আল-কাযউয়িনীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি জা’ফর আল-খুলদীকে [বলতে] শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে মাসরূককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে বশীরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবনে আস-সিমাক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, একদা তাঁর ও তাঁর এক বন্ধুর মাঝে কিছু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তখন তাঁর বন্ধু তাঁকে বলল: আগামীকাল আমাদের সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত হলো একে অপরকে তিরস্কার করার জন্য। তিনি (ইবনে আস-সিমাক) বললেন: বরং আগামীকাল আমাদের সাক্ষাতের সময় হলো একে অপরকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য।

মাখলুক বা সৃষ্টির প্রতি সুধারণা পোষণ করা এবং তাদের মর্যাদা রক্ষা করাও ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। আমি আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-বাগদাদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ফারগানীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি জুনাইদ (রাহিমাহুমুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি— এমতাবস্থায় যে, তাঁর সাথীরা তাঁর সাথে সেইসব লোকদের সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন যারা ইলমী হালকার পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করত। সাথীরা বলছিলেন যে, তারা উত্তর পাওয়ার যোগ্য নয় এবং তারা কেবল তর্কে লিপ্ত হয়। আমার সাথীরা চাচ্ছিলেন যেন আমি তাদের মতো লোকদের উত্তর না দিই। তখন তিনি বললেন: তাদের সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি তোমাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভিন্ন। আমি কেবল এই আশা পোষণ করি যে, তারা হয়তো কোনো একটি কথা আঁকড়ে ধরবে, যা তাদের নাজাত বা মুক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুতুওয়াতু লি আবি আবদির রহমান আস-সুলামি (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومن الفتوة بذل النصيحة للإخوان والعلم بنقصان نفسه في ترك ما ينصحهم به. سمعت محمد بن الحسن الخشاب يقول: حدثنا أحمد بن محمد بن صالح، حدثنا محمد بن عبدون، حدثنا بدر المغازلي، قال: قلت لبشر الحافي: أيش تقول في المقام ببغداد؟ فقال: إن سرك أن تموت مسلماً فلا تقم بها، فقلت: فأنت بها مقيم. فقال: إن العبد إذا ضيع أمر الله، لقيه شر ملقى، وإني أخاف أني ضيعت أمر الله فألقى شر ملقى.

ومن الفتوة قبول ما يسمعه من كلام الحكماء، وإن لم يفهم، لتوصله بركات ذلك إلى محل الفهم منه وفيه. سمعت أبا العباس بن الخشاب يقول: سمعت محمد بن عبد الله الفرغاني يقول: سمعت الجنيد رحمهم الله يقول: كنت أجلس إلى شيوخ بضع عشرة سنة، وهم يتكلمون في هذا العلم. وما كنت أفهم ما يقولون، ولا كنت أنكر عليهم. وكانت فائدتي منهم من جمعة إلى جمعة أن أجي فأسمع ما يقولون، وعندي أنه حق، وإن لم يكن ما أفهم، ولم أبد بالإنكار عليهم، فما مضت تلك المدة حتى إذا أجروا مسألة جاءوني إلى البيت، فسألوني، وقالوا: جرت مسألة كيت كيت، فأحببنا أن تسمعه، أو نحوه من الكلام.
ফুতুওয়াতের (যুবপৌরুষ) অন্তর্ভুক্ত হলো ভাইদের নসিহত প্রদান করা এবং তিনি তাদের যা নসিহত করেন তা নিজে বর্জন করার মাধ্যমে নিজের নফসের ত্রুটি সম্পর্কে অবগত হওয়া। আমি মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-খাশশাবকে বলতে শুনেছি: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবদুন বর্ণনা করেছেন, বদর আল-মাগাজিলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বিশর আল-হাফিকে বললাম: বাগদাদে অবস্থানের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: তুমি যদি মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করতে পছন্দ করো, তবে এখানে অবস্থান করো না। আমি বললাম: অথচ আপনি নিজেই এখানে অবস্থান করছেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই বান্দা যখন আল্লাহর নির্দেশকে অবহেলা করে, তখন সে নিকৃষ্ট পরিণতির সম্মুখীন হয়; আর আমি ভয় পাচ্ছি যে, আমি আল্লাহর নির্দেশকে অবহেলা করেছি বিধায় আমি নিকৃষ্ট পরিণতির সম্মুখীন হবো।

ফুতুওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হলো প্রাজ্ঞজনদের কথা শোনা মাত্রই তা গ্রহণ করা, যদিও তা বোধগম্য না হয়; যেন এর বরকত তাকে সেই বিষয়টি অনুধাবন করার স্তরে পৌঁছে দেয়। আমি আবুল আব্বাস ইবনে খাশশাবকে বলতে শুনেছি: আমি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ফারগানিকে বলতে শুনেছি: আমি জুনাইদ (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) কে বলতে শুনেছি: আমি দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাশায়েখদের মজলিসে বসতাম, আর তাঁরা এই ইলম নিয়ে আলোচনা করতেন। তাঁরা যা বলতেন আমি তা বুঝতাম না, আবার তাঁদের প্রতি কোনো আপত্তিও পোষণ করতাম না। এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তাঁদের মজলিস থেকে আমার প্রাপ্তি এটাই ছিল যে, আমি আসতাম এবং তাঁরা যা বলতেন তা শুনতাম। আমার নিকট বিশ্বাস ছিল যে তাঁদের কথা সত্য, যদিও তা আমার বোধগম্য ছিল না। আমি তাঁদের প্রতি কোনো প্রকার অস্বীকৃতি প্রকাশ করিনি। অতঃপর সেই সময় অতিবাহিত হওয়ার পর অবস্থা এমন হলো যে, যখনই তাঁরা কোনো মাসআলা নিয়ে আলোচনা করতেন, তখন তাঁরা আমার বাড়িতে আসতেন এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন। তাঁরা বলতেন: অমুক অমুক মাসআলা উত্থাপিত হয়েছে, আমরা চাইছি আপনি তা শুনুন; অথবা এই জাতীয় কথা।