(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
كتاب الأربعين في إرشاد السائرين إلى منازل المتقين أو الأربعين الطائية   (أبو الفتوح الطائي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: كتاب الأربعين في إرشاد السائرين إلى منازل المتقين أو الأربعين الطائية

المؤلف: محمد بن محمد بن علي، أبو الفتوح الطائي الهمذاني (ت 555هـ)

المحقق: عبدالستار أبوغدة

الناشر: دار البشائر الإسلامية

الطبعة: الأولى 1420 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 227

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়েরিন ইলা মানাজিলিল মুত্তাকিন অথবা আল-আরবাঈন আত-তাইয়্যাহ   (আবু আল-ফুতুহ আত-তাইয়্যি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়েরিন ইলা মানাজিলিল মুত্তাকিন অথবা আল-আরবাঈন আত-তাইয়্যাহ

লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি, আবু আল-ফুতুহ আত-তাইয়্যি আল-হামাদানি (মৃত্যু: ৫৫৫ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: আবদুস সাত্তার আবু গুদ্দাহ

প্রকাশক: দার আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: ইয়া বাযিয়াল খাইরি আকবিল

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
مكتبة نظام يعقوبي الخاصة - البحرين

سلسلة دفائن الخزائن (2)

 

كتاب الأربعين

في إرشاد السائرين إلى منازل المتقين

 

لأبي الفتوح مجد الدين محمد بن محمد بن علي الطائي الهمذاني

(475- 555هـ)

 

تحقيق

الدكتور عبد الستار أبوغدة

 

دار البشائر الإسلامية

 

الطبعة الأولى

1420 هـ - 1999 م
নিজাম ইয়াকুবী ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার - বাহরাইন

কোষাগারের লুক্কায়িত রত্নভাণ্ডার সিরিজ (২)

 

আরবাঈন গ্রন্থ

মুত্তাকীদের স্তরের অভিমুখে পথিকদের পথপ্রদর্শন প্রসঙ্গে

 

আবু আল-ফুতুহ মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আত-তাঈ আল-হামাদানী কর্তৃক

(৪৭৫- ৫৫৫ হিজরি)

 

সম্পাদনা ও তাহকীক

ডক্টর আবদুল সাত্তার আবু গুদ্দাহ

 

দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله على سوابغ آلائه، وصلى الله على محمد خاتم أنبيائه، وعلى آله وأصفيائه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد، فقد روي عَنِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم بطرق شتى وروايات مختلفة أنه قال: من حفظ على أمتي أربعين حديثاً من السنة كنت له شفيعاً يوم القيامة وفي رواية أخرى أربعين حديثاً مما يحتاجون إليه كتبه الله فقيهاً عالماً.

ولمَّا كان الحال على ما وصفت رجوت الله تعالى أن يجعلني من
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর অঢেল নেয়ামতরাজির ওপর। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক নবীদের সিলমোহর মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও মনোনীত ব্যক্তিবর্গের ওপর, আর বর্ষিত হোক অবারিত সালাম।

অতঃপর, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিবিধ পথে ও বিচিত্র বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য সুন্নাহ থেকে চল্লিশটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী হব।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি হতে চল্লিশটি হাদিস (সংরক্ষণ করলে) আল্লাহ তাকে ফকিহ ও আলিম হিসেবে লিপিবদ্ধ করবেন।"

আর বিষয়টি যখন আমার বর্ণিত অবস্থার ন্যায় হলো, তখন আমি মহান আল্লাহর নিকট আশা পোষণ করলাম যে তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা...
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
جملتهم، ويحشرني في زمرتهم، فأمليت من مسموعاتي أربعين حديثاً، عن أربعين شيخاً.

كل حديث عن واحد من الصحابة رضي الله عنهم أجمعين، أشير إلى اسمه وكنيته ونسبه ومدة حياته وأيام وفاته وبعض فضائله.

وذكرت عقيب كل حديث بعض ما اشتمل عليه من الفوائد، فقد قالت عائشة رضي الله عنها: اطلبوا كنوز العلم تحت كلمة رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

وشرحت ما كان مشكلاً فيه من العربية.

وأتبعته بحكاية تليق بذلك، وأبيات يستحسن إنشاؤها هنالك، لتكون تذكرة للأصحاب، وتبصرة لذوي الألباب، وسميته:

كتاب الأربعين

في إرشاد السائرين إلى منازل المتقين

وأردت أن أفتتح الكتاب بحديث (الأعمال بالنيات) اقتداء بعلماء الأمة وأعيان الأئمة ولكن منعني من ذلك رعاية الترتيب في تقديم رواية أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه، اتباعاً للكتاب والسنة.

والله تعالى المعين على ما نبغيه، والموفق لما يرضيه، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
...তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আমাকে তাদের দলেই হাশর করেন। অতঃপর আমি আমার শ্রবণকৃত বিষয়গুলো থেকে চল্লিশজন শাইখের সূত্রে চল্লিশটি হাদিস শ্রুতলিপি হিসেবে লিপিবদ্ধ করলাম।

প্রতিটি হাদিসই একজন সাহাবী (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত, যেখানে আমি তাঁর নাম, উপনাম, বংশপরিচয়, জীবনকাল, ইন্তেকালের সময় এবং তাঁর কিছু গুণাবলি উল্লেখ করেছি।

আমি প্রতিটি হাদিসের পর তার অন্তর্ভুক্ত কিছু উপকারিতা উল্লেখ করেছি, কারণ আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: তোমরা আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণীর নিচে ইলমের ভাণ্ডার অনুসন্ধান করো।

এবং আরবি ভাষার যে বিষয়গুলো দুর্বোধ্য ছিল, আমি সেগুলোর ব্যাখ্যা করেছি।

অতঃপর আমি এর সাথে সংগতিপূর্ণ একটি কাহিনী এবং সেখানে পাঠ করার মতো উত্তম কিছু কাব্যপদ যুক্ত করেছি, যাতে তা সাথীদের জন্য স্মারক এবং প্রজ্ঞাবানদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি স্বরূপ হয়। আমি কিতাবটির নাম রেখেছি:

কিতাবুল আরবাঈন

মুত্তাকীদের মঞ্জিলসমূহের দিকে পথচারীদের নির্দেশনার বর্ণনায়

আমি উম্মতের উলামায়ে কেরাম ও মহান ইমামগণের অনুসরণে 'নিয়তের ওপর আমল নির্ভরশীল' হাদিসটি দিয়ে গ্রন্থটি শুরু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণে আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর বর্ণনাকে অগ্রগণ্য রেখে ক্রমধারা বজায় রাখার বিষয়টি আমাকে তা থেকে বিরত রেখেছে।

আর মহান আল্লাহই আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সাহায্যকারী এবং তাঁর সন্তুষ্টির কাজে তাওফিকদাতা; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বশক্তিমান।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌الْحَدِيثُ الأَوَّلُ [دُعَاءُ آخِرِ الصَّلاةِ]

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإْمَامُ الرَّئِيسُ زَيْنُ الدِّينِ شَيْخُ الإْسِلامِ أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ حَسَّانِ بْنَ سَعِيدٍ الْمَنِيعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

প্রথম হাদিস [সালাতের শেষের দোয়া]

আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন শায়খ, ইমাম, প্রধান, যায়নুদ্দীন, শায়খুল ইসলাম আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে হাসসান ইবনে সাঈদ আল-মানিয়ী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন), আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন হাফিজ...
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
أَبُو مَسْعَودٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيُّ الرَّازِيُّ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْكُشَانِيُّ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إبراهيم بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ الزَّاهِدُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ الْقُشَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رضي الله عنه،

عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلاتِي، قَالَ عليه السلام: " قُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلا يَغْفُرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ "

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ، عَالٍ، مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ مِنْ حَدِيثِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ.
আবু মাসউদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালি আর-রাজি: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-কুশানি: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান আজ-জাহিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কুতাইবা ইবনে সাঈদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-লাইস, এবং আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে রুমহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-লাইস, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে,

আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন: আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি আমার সালাতে পাঠ করব। তিনি (আলাইহিস সালাম) বললেন: "বলুন: হে আল্লাহ! আমি নিজের ওপর অনেক জুলুম করেছি, আর আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। সুতরাং আপনি আপনার পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমা দান করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু।"

এটি একটি হাসান সহীহ ও উচ্চ পর্যায়ের হাদীস, যা লাইস ইবনে সা'দ-এর বর্ণিত হাদীস হিসেবে এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐক্যমত পোষণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
أورده مسلم فِي كتابه بالطريق الَّذِي بيناه، وبطريق آخر وزاد فِيهِ: قَالَ: " وفي بيتي " يعني: فِي صلاتي وفي بيتي وذكر فِي رواية قُتَيْبَة: كبيرا بدل كثيرا.

وأورده الْبُخَارِيّ فِي كتاب الصلاة عَنْ قُتَيْبَة، عَنِ اللَّيْث وفي كتاب الدعوات عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْن يُوسُفَ، عَنِ اللَّيْث.

رواه عَنِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أفضل الصحابة وأولاها بالخلافة وأحقها بالتقدمة، مختار الجبار، ومعدن الوقار، صاحب المصطفى عليه السلام فِي الغار، وسيد المهاجرين والأنصار، الصِّدِّيق أَبُو بَكْر عَبْد اللَّهِ وقيل:
ইমাম মুসলিম এটি তাঁর কিতাবে আমরা যে সনদ বর্ণনা করেছি সেই সনদে এবং অন্য একটি সনদে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: "এবং আমার ঘরে" অর্থাৎ: আমার সালাতে এবং আমার ঘরে। কুতাইবা-এর বর্ণনায় 'কাছীরান' (অধিক)-এর পরিবর্তে 'কাবীরান' (বড়) উল্লেখ করা হয়েছে।

আর ইমাম বুখারী এটি সালাত অধ্যায়ে কুতাইবা থেকে, তিনি লাইস থেকে; এবং দোয়া অধ্যায়ে আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন।

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন সাহাবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, খিলাফতের সবচেয়ে যোগ্য এবং অগ্রগণ্য হওয়ার অধিক হকদার, জাব্বার (আল্লাহর) মনোনীত, গাম্ভীর্যের আধার, গুহায় মুস্তফা আলাইহিস সালামের সঙ্গী এবং মুহাজির ও আনসারদের সরদার, সিদ্দিক আবু বকর আবদুল্লাহ এবং বলা হয়েছে:
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
عتيق بْن أَبِي قحافة عُثْمَان بْن عامر بْن عَمْرو بْن كعب بْن سَعْد بْن تيم بْن مرة.

وأمه: سلمي وهي أم الْخَيْر بنت صخر بْن عامر بْن عَمْرو بْن كعب بْن سَعْد بْن تيم بْن مرة، ابنة عم أَبِيهِ.

ولد رضي الله عنه بعد عام الفيل بسنتين وأربعة أشهر إِلا أياما.

وَهُوَ أول من أسلم من الرجال، سبق إِلَى سبق إِلَى قبول الحق من غير تلعثم ولا شماس، فبذل نفسه وأنفق ماله وترك عزه ورئاسته، وَكَانَ قبل الإْسِلام ذا جاه عريض ومال كثير، مقدما فِي علم الأنساب، بصيرا بعلم الرؤيا، مقبول القول، فآثر عَلَى هَذِهِ المآثر، وتخلى عما سواه من المفاخر [واسلم أبواه بعده] .

قَالَ عليه السلام: " مَا نفعني مال أحد مثل مال أَبِي بَكْر " أجلسه
আতিক বিন আবু কুহাফা উসমান বিন আমির বিন আমর বিন কাব বিন সাদ বিন তাইম বিন মুররাহ।

এবং তাঁর মা: সালমা, যিনি উম্মুল খায়ের বিনতে সাখর বিন আমির বিন আমর বিন কাব বিন সাদ বিন তাইম বিন মুররাহ, তাঁর পিতার চাচাতো বোন।

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হস্তীবাহিনীর বছরের দুই বছর চার মাস কয়েক দিন পর জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। তিনি কোনো দ্বিধা ও অনীহা ছাড়াই সত্য গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হয়েছেন। তিনি স্বীয় জান উৎসর্গ করেছেন, সম্পদ ব্যয় করেছেন এবং নিজের সম্মান ও নেতৃত্ব ত্যাগ করেছেন। ইসলামের আগে তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান ও প্রচুর সম্পদের মালিক ছিলেন; বংশবিদ্যায় অগ্রগণ্য, স্বপ্নতত্ত্বের জ্ঞানে পারদর্শী এবং সর্বজনগৃহীত বক্তব্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি এসব গুণাবলির ওপর [ইসলামকে] অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং অন্যান্য আভিজাত্য বর্জন করেছেন [এবং তাঁর মাতা-পিতা তাঁর পরে ইসলাম গ্রহণ করেন]।

তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "আবু বকরের সম্পদ আমাকে যতটা উপকৃত করেছে, অন্য কারো সম্পদ আমাকে ততটা উপকৃত করেনি।" তিনি তাকে বসালেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم معه فِي العريش يوم بدر، وَقَالَ فِي حقه: " لو كنت متخذا خليلا لاتخذت أبا بكر خليلا ولكن صاحبكم خليل اللَّه عز وجل شبهه بميكائيل رأفة ورحمة، وبإبراهيم خليل الرحمن عفوا ووقارا، وأمره أن يصلي بالناس أيام مرضه وبذلك حاج عمر رضي الله عنه الأنصار يوم السقيفة فَقَالَ: رضيه رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لديننا، أفلا نرضاه لدنيانا؟ وأيكم تطيب نفسه أن يزيله عَنْ مقام أقامه فِيهِ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ فانقادوا لَهُ وبايعوه.

استخلف فِي شهر ربيع الأول سنة إحدى عشرة وتوفي بعد النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم بسنتين وأشهر بالمدينة، وَهُوَ ابن ثلاث وستين صلى عَلَيْهِ عُمَر بْن الْخَطَّابِ رضي الله عنه، ودفن مَعَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، وكانت مدة خلافته سنتين وأربعة أشهر.

سمي عتيقا لجمال وجهه، وقيل: لأن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " أنت عتيق اللَّه من النار "

وفي الْحَدِيث دلالة عَلَى فضل الدعاء، وحث عَلَى الاشتغال بِهِ والإكثار منه، مَعَ الابتهال بالغدو والآصال، لا سيما فِي الصلوات، وعند
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদরের দিন তাঁবুতে তাঁর সাথেই ছিলেন এবং তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: “আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম; কিন্তু তোমাদের এই সঙ্গী তো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর অন্তরঙ্গ বন্ধু।” তিনি দয়া ও মমতায় তাঁকে মিকাইলের সাথে এবং ক্ষমা ও গাম্ভীর্যে রহমানের অন্তরঙ্গ বন্ধু ইবরাহিমের সাথে তুলনা করেছেন। নবীজী তাঁর অসুস্থতার দিনগুলোতে তাঁকে মানুষের সালাতে ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাকীফার দিন ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আনসারদের সাথে এই বিষয়ের মাধ্যমেই যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: “আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের দ্বীনের জন্য যাঁকে পছন্দ করেছেন, তবে কি আমরা আমাদের দুনিয়ার বিষয়ের জন্য তাঁকে পছন্দ করব না? আর তোমাদের মধ্যে কার মন সায় দেবে তাঁকে এমন এক অবস্থান থেকে সরিয়ে দিতে যেখানে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বসিয়েছিলেন?” এরপর তারা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেন এবং তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেন।

তিনি এগারো হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসে খলীফা নিযুক্ত হন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের দুই বছর কয়েক মাস পর মদীনায় ইন্তেকাল করেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর জানাযার সালাত পড়ান এবং তাঁকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে দাফন করা হয়। তাঁর খিলাফতের সময়কাল ছিল দুই বছর চার মাস।

তাঁর চেহারার সৌন্দর্যের কারণে তাঁকে ‘আতীক’ (মুক্ত) নামকরণ করা হয়েছিল। আবার বলা হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বলেছিলেন: “তুমি জাহান্নামের আগুন থেকে আল্লাহর পক্ষ হতে মুক্ত (আতীক)।”

আর এই হাদীসে দোয়ার ফযীলতের প্রমাণ রয়েছে এবং সকাল ও সন্ধ্যায় রোনাজারি সহকারে দোয়ায় মশগুল হওয়া ও অধিক পরিমাণে দোয়া করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, বিশেষ করে সালাতের মধ্যে এবং...
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
ظهور الآيات قَالَ اللَّه تَعَالَى: {ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً} ، قَالَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: " الدعاء هُوَ العبادة "، وفي رواية: " ليس شيء أكرم عَلَى اللَّه من الدعاء "

ولا أجل من الدعاء لأن الدعاء يشتمل عَلَى ذكر المعبود والثناء عَلَيْهِ واعتراف العبد بالذنب عند الالتجاء إِلَيْهِ تَعَالَى وفي ذَلِكَ تحصيل المقصود وطلب الموعود، حيث قَالَ جل وعز: {ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} ، وَقَالَ: {فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ} ففي الذكر طمأنينة القلب، وفي الدعاء الإنابة إِلَى الرب وروي أن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إن اللَّه تَعَالَى يستحي أن يرفع العبد إِلَيْهِ يديه فيردهما خائبتين "، وفي رواية: " صفراوين "

ومن شرط الدعاء: حضور القلب، ورفع اليدين، وجعل بطون الأكف مما يلي السماء، فإن ذَلِكَ مأثور مشهور، وفي الأحاديث مذكور

وينبغي أن يدعو بصلاح الدين والدنيا، ولا يدعو بإثم ولا قطيعة رحم.
নিদর্শনাদির প্রকাশ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ডাকো বিনীতভাবে এবং গোপনে।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দোয়াই হলো ইবাদত।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কিছু নেই।"

এবং দোয়ার চেয়ে মহান কিছু নেই; কারণ দোয়া মা’বুদের জিকির, তাঁর প্রশংসা এবং আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনার সময় বান্দার নিজের পাপ স্বীকার করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এতে উদ্দেশ্য হাসিল এবং প্রতিশ্রুত বিষয়ের প্রার্থনা রয়েছে, যেমন মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।" তিনি আরও বলেছেন: "সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব।" জিকিরের মধ্যে রয়েছে হৃদয়ের প্রশান্তি, আর দোয়ার মধ্যে রয়েছে প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তন। বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা যখন বান্দা তাঁর দিকে নিজের হাত উত্তোলন করে, তখন সেই হাত দুটোকে ব্যর্থ মনোরথে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "শূন্য হাতে।"

দোয়ার শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: হৃদয়ের উপস্থিতি, দুই হাত উত্তোলন করা এবং হাতের তালু আকাশের দিকে রাখা; কেননা তা বর্ণিত ও প্রসিদ্ধ এবং হাদীসসমূহে উল্লিখিত রয়েছে।

আর উচিত দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের জন্য দোয়া করা এবং কোনো পাপকর্ম বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য দোয়া না করা।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
وروى فِي الأخبار أن اللَّه تَعَالَى يَقُول: " عبدي منك الإملاء ومني الكتابة، ومنك الصبر ومني المثوبة، ومنك الدعاء ومني الإجابة "

وَكَانَ يَحْيَى بْن معاذ الرَّازِيّ رحمة اللَّه عَلَيْهِ يَقُول فِي مناجاته: يَا من ألزمنا طاعة لا حاجة بِهِ إليها، لا تحرمنا مغفرة لا غني بنا عَنْهَا

وقيل: مَا فتح اللَّه عز وجل لسان عبده بالمعذرة إِلا لفتح باب المغفرة، عَلَى مَا قَالَ القائل:

لو لم ترد نيل مَا أرجو وأطلبه … من جود كفك مَا علمتني الطلبا

أخبرنا أبوبكر عبد الله بن الحسين أحمد النسوي، أخبرنا أبومنصور محمد بن عيسى بن عبد العزيز بن يزيد بن الصباح شيخ الصوفية، أخبرنا أبوعلي الحسين بن محمد البروجردي الغزال، حدثنا أبوعلي الحسن بن محمد بن علي، حدثنا محمد بن أيوب بن يحيى، حدثنا القعنبي، حدثنا عبد الرحمن بن أبي الموالي قال:

سمعت مُحَمَّد بْن كعب القرظي يَقُول: من الكبائر ثلاث: أن تأمن مكر اللَّه، وأن تيأس من روح اللَّه عز وجل، وأن تقنط من رحمة اللَّه تَعَالَى
বর্ণিত আছে যে আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে আমার বান্দা, তোমার পক্ষ থেকে হলো আমলনামা পেশ করা আর আমার পক্ষ থেকে হলো তা লিপিবদ্ধ করা; তোমার পক্ষ থেকে হলো ধৈর্য আর আমার পক্ষ থেকে হলো প্রতিদান; এবং তোমার পক্ষ থেকে হলো প্রার্থনা আর আমার পক্ষ থেকে হলো তা কবুল করা।"

ইয়াহইয়া বিন মুআয আর-রাযী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর মুনাজাতে বলতেন: হে মহান সত্তা, যিনি আমাদের ওপর এমন আনুগত্য আবশ্যক করেছেন যার প্রতি আপনার কোনো প্রয়োজন নেই, আপনি আমাদের সেই ক্ষমা থেকে বঞ্চিত করবেন না যার প্রতি মুখাপেক্ষী না হয়ে আমাদের কোনো উপায় নেই।

বলা হয়ে থাকে: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার জিহ্বাকে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য তখনই উন্মুক্ত করে দেন যখন তিনি ক্ষমার দ্বার খুলতে চান, যেমনটি জনৈক কবি বলেছেন:

আমি যা আশা করি এবং প্রার্থনা করি তা যদি আপনি প্রদান করতে না চাইতেন, তবে আপনার হাতের বদান্যতা থেকে প্রার্থনা করা আপনি আমাকে শেখাতেন না।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আবদুল্লাহ বিন হুসাইন আহমদ আন-নাসাওয়ী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিদের শাইখ আবু মানসুর মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আবদুল আজিজ বিন ইয়াযিদ বিন আস-সাবাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-বুরুজারদি আল-গাযযাল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কানাবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন আবিল মাওয়ালি, তিনি বলেন:

আমি মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাযীকে বলতে শুনেছি: কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে তিনটি হলো: আল্লাহর কৌশল থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা, আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া স্বস্তি হতে নিরাশ হওয়া এবং আল্লাহ তাআলার রহমত থেকে আশাহত হওয়া।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
أنشدنا شرف الأئمة أَبُو حفص بْن مُحَمَّد الشيزري، قَالَ: أنشدنا الْقَاضِي أَبُو علي الْحَسَن بْن عَلِيّ بْن مُحَمَّد الْوَخْشِيّ، قَالَ:

أنشدنا الفضل بْن أَحْمَدَ الخصيبي، لبعضهم:

أتلعب بالدعاء وتزدريه … وما يدريك مَا فعل الدعاء؟!

سهام الليل لا تخطي ولكن … لها أمد، وللأمد انقضاء
শারফুল আইম্মাহ আবু হাফস বিন মুহাম্মদ আশ-শাইযারি আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: কাজি আবু আলী হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াখশি আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন:

আল-ফজল বিন আহমাদ আল-খুসাইবি আমাদের কোনো একজনের এই কবিতাটি শুনিয়েছেন:

তুমি কি দুআ নিয়ে খেলা করছ এবং একে তুচ্ছজ্ঞান করছ? … অথচ তুমি জানো না দুআ কী অসাধ্য সাধন করতে পারে?!

রাত্রিকালীন তীরগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না, তবে … সেগুলোর একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে, আর প্রতিটি মেয়াদেরই পরিসমাপ্তি আছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٣٩)
‌‌الْحَدِيث الثاني [إنما الأعمال بالنيات]

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإْمَامُ نَاصِرُ الْحَدِيثِ رُكْنُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحُسَيْنُ بْنُ مُسْعُودٍ الْبَغَوِيُّ نَوَّرَ اللَّهُ حُفْرَتَهُ، أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيَّ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بُوَيْهٌ الزَّرَّادُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجُرْجَانِيُّ وَأَبُوأحمد مُحَمَّدِ بْنُ أَحْمَدَ الْمُعَلِّمُ الْهَرَوِيُّ، قَالا: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عِيسَى بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَالِينِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ (النَّسَوِيُّ) ، حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ
দ্বিতীয় হাদিস [নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল]

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, হাদিসের সাহায্যকারী, রুকনুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন বিন মাসউদ আল-বাগাওয়ী, আল্লাহ তাঁর কবরকে আলোকিত করুন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বুয়াইহ আজ-জাররাদ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন মুহাম্মদ আল-জুরজানী এবং আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মুয়াল্লিম আল-হারাওয়ী, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন ঈসা বিন মুহাম্মদ আল-মালিনী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-হাসান বিন সুফিয়ান (আন-নাসাওয়ী); আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিব্বান বিন
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
مُوسَى وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَسْمَاءَ بن أَخِي جُوَيْرِيَةَ بْنِ أَسْمَاءَ، قَالا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيِّ:

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ "

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ كَبِيرٌ، عَالٍ، مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ وَعِظَمِ مَوْقِعِهِ، مُسْتَفِيضٌ مِنْ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ، رَوَاهُ عَنْهُ أَكْثَرُ مِنْ مِائَتَيْ نَفْسٍ عَامَّتُهُمْ أَئِمَّةٌ مُعَرَّفُونَ

روي عَنْ الشَّافِعِيّ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: يدخل فِي هَذَا الْحَدِيث ثلث العلم

وَقَالَ أَبُو داود السِّجِسْتَانِيّ رحمه الله: الفقه يدور عَلَى أربعة
মূসা এবং আব্দুল্লাহ ইবন আসমা (যিনি জুওয়াইরিয়াহ ইবন আসমার ভ্রাতুষ্পুত্র) বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, তিনি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আত-তাইমী থেকে, তিনি আলক্বামাহ ইবন ওয়াক্কাস আল-লায়সী থেকে:

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই যাবতীয় আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে হয়, তবে তার হিজরত আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য হয়, তবে তার হিজরত সেই বিষয়ের দিকেই হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।"

এটি একটি হাসান সহীহ সুমহান ও উচ্চ সনদসম্পন্ন হাদীস। এর বিশুদ্ধতা এবং সুউচ্চ মর্যাদার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে। এটি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-আনসারীর সূত্রে বর্ণিত একটি মুস্তাফীদ্ব হাদীস; তাঁর নিকট থেকে দুই শতাধিক ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের অধিকাংশই সুপরিচিত ইমাম।

ইমাম শাফেয়ী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: এই হাদীসের মধ্যে ইলমের এক-তৃতীয়াংশ শামিল রয়েছে।

আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: ফিকহ শাস্ত্র চারটি (মূল হাদীসের) ওপর আবর্তিত।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤١)
أحاديث: " الحلال بين والحرام بين " و " الأعمال بالنيات " و " مَا نهيتكم عَنْهُ فاجتنبوه وما أمرتكم بِهِ فأتوا منه مَا استطعتم "، " ولا ضرر ولا ضرار "

رواه عَنِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم التالي لأبي بكر رضي الله عنه فِي الخلافة، وتلوه فِي الفضل، والمصلي لَهُ فِي القدر والمنزلة، أمير المؤمنين، أَبُو حفص عُمَر بْن الْخَطَّابِ بْن نفيل بْن عَبْد العزى بْن رباح بْن عَبْد اللَّهِ بْن قرط بْن رزاح بْن عدي بْن كعب بْن لؤي بْن غالب العدوي وَهُوَ الفاروق الَّذِي: يفرق بين الحق والباطل

وأمه: حنتمة بنت هشام بْن المغيرة المخزومية، وَأَبُو جهل بْن
হাদিসসমূহ: "হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট", "আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল", "আমি তোমাদের যা নিষেধ করেছি তা বর্জন করো এবং যা আদেশ করেছি তা সাধ্যমতো পালন করো" এবং "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না"।

এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন খিলাফতের ক্ষেত্রে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্থলাভিষিক্ত, ফজিলতের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসারী এবং সম্মান ও মর্যাদায় তাঁর অব্যবহিত পরবর্তী ব্যক্তি, আমীরুল মুমিনীন আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফাইল ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে রাবাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত ইবনে রিযাহ ইবনে আদী ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব আল-আদাবী। তিনি হলেন আল-ফারুক, যিনি সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করেন।

তাঁর মাতা হলেন: হানতামাহ বিনতে হিশাম ইবনে আল-মুগীরাহ আল-মাখযুমিয়্যাহ; আর আবু জাহল ইবনে...
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
هشام خاله. قَالَ عُمَر بْن الْخَطَّابِ رضي الله عنه: اسرع إلي الشيب من قبل أخوالي بني المغيرة.

بشرة رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بالجنة، وشهد أن اللَّه تَعَالَى جعل الحق عَلَى لسانه وقلبه، وأن رضاه عز، وغضبه عدل، وأن الشيطان يفر منه، وأن اللَّه عز وجل أعز الدين بِهِ، واستبشر أهل السماء بإسلامه، وسماه عبقريا ومحدثا وسراج أهل الجنة ودعاه صاحب رحى دارة العرب يعيش حميدا، ويموت شهيدا، وأنه رجل لا يحب الباطل ولو كَانَ بعده نبي لكان عمر.

استخلف سنة ثلاث عشرة، فِي جمادى الآخرة لثمان بقين منه، وطعنه أَبُو لؤلؤة غلام المغيرة بْن شعبة يوم الأربعاء لسبع بقين من ذي الحجة سنة ثلاث وعشرين، ومات يوم السبت غرة محرم سنة أربع وعشرين صلى عَلَيْهِ صهيب، ودفن مَعَ صاحبيه فِي حجرة عائشة رضي الله عنها بأمرها وكانت خلافته عشر سنين وسبعة أشهر وخمس ليال، وقيل غير ذَلِكَ.
হিশাম তাঁর মামা ছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: বনু মুগিরার আমার মামাদের পক্ষ থেকেই আমার মাঝে দ্রুত বার্ধক্য এসেছে।

আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, মহান আল্লাহ তাঁর জবান ও অন্তরে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর সন্তুষ্টি ছিল সম্মান আর তাঁর ক্রোধ ছিল ন্যায়বিচার। শয়তান তাঁকে দেখে পলায়ন করত। মহান আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দীনকে শক্তিশালী করেছেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণে আসমানবাসীরা আনন্দিত হয়েছিলেন। রাসুল (সা.) তাঁকে অসাধারণ প্রতিভাধর, ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং জান্নাতবাসীদের প্রদীপ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁকে আরবের শাসনচক্রের পরিচালক হিসেবে সম্বোধন করেছেন; তিনি প্রশংসিত হয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং শহিদ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি বাতিলকে পছন্দ করতেন না। যদি তাঁর পরে কোনো নবী আসতেন, তবে তিনি হতেন উমর।

তিনি তেরো হিজরি সনের জমাদিউল আখিরা মাসের আট দিন অবশিষ্ট থাকতে খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মুগিরা ইবনে শু’বার গোলাম আবু লুলু তেইশ হিজরি সনের জিলহজ মাসের সাত দিন বাকি থাকতে বুধবার দিন তাঁকে ছুরিকাঘাত করে। তিনি চব্বিশ হিজরি সনের মহরম মাসের প্রথম দিন শনিবার ইন্তেকাল করেন। সুহাইব (রা.) তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান। আয়েশা (রা.)-এর অনুমতিক্রমে তাঁকে তাঁর দুই সঙ্গীর সাথে আয়েশা (রা.)-এর কামরায় দাফন করা হয়। তাঁর খিলাফতকাল ছিল দশ বছর সাত মাস পাঁচ দিন, এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٣)
قَالَ علي رضي الله عنه: واعمراه قّوم الأود، وأبرأ العمد، ومات نقي الثوب، قليل العيب.

وَكَانَ ابن مسعود رضي الله عنه يَقُول: إن عمر كَانَ حصنا حصينا للإسلام، وما زلنا أعزة منذ أسلم.

وَهُوَ أول من سمي أمير المؤمنين.

واختلف فِي سنه فقيل: ثلاث وستون سنة، وقيل: ست وستون، وَقَالَ بعضهم: خمس وخمسون سنة، وقيل: غير ذَلِكَ.

وفي الْحَدِيث: دلالة عَلَى أن صحة جميع الأعمال الشرعية، قولها وفعلها، وفرضها ونفلها، بالنية، لأن كلمة إنما ملفقة من نفي وإثبات، فإن للإثبات، وما للنفي، فهي تعمل بركنيها إثباتا ونفيا، تثبت الشيء وتنفي مَا عداه، ولهذا قيل: " الأعمال البهيمية مَا عملت بغير نية "

وقوله: " فمن كانت هجرته إِلَى اللَّه ورسوله فهجرته إِلَى اللَّه
আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হায় ওমর! তিনি বক্রতাকে সোজা করেছেন, ব্যাধি নিরাময় করেছেন, এবং পবিত্র বসনে অতি সামান্য ত্রুটি নিয়ে বিদায় নিয়েছেন।

ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: নিশ্চয়ই ওমর ইসলামের জন্য এক সুদৃঢ় দুর্গ ছিলেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমরা সর্বদা সম্মানিত রয়েছি।

তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাকে আমীরুল মুমিনীন হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।

তাঁর বয়সের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে: তেষট্টি বছর, বলা হয়েছে: ছেষট্টি বছর, আবার কেউ কেউ বলেছেন: পঞ্চান্ন বছর। এছাড়াও ভিন্ন মত বর্ণিত হয়েছে।

এই হাদীসে এর সপক্ষে দলিল রয়েছে যে, সমস্ত শারঈ আমল—তার কথা ও কাজ, ফরয ও নফল—নিয়তের মাধ্যমেই বিশুদ্ধ হয়। কেননা 'ইন্নামা' শব্দটি নেতিবাচকতা ও ইতিবাচকতার সমন্বয়ে গঠিত; 'ইন্না' হলো ইতিবাচক সাব্যস্ত করার জন্য এবং 'মা' হলো নেতিবাচকতার জন্য। সুতরাং এটি তার এই দুই স্তম্ভের মাধ্যমে ইতিবাচকতা ও নেতিবাচকতার কাজ করে; এটি একটি বিষয়কে সাব্যস্ত করে এবং তা ব্যতীত অন্য সব কিছুকে নাকচ করে দেয়। এই কারণেই বলা হয়েছে: "পশুসুলভ কাজ হলো তা-ই যা নিয়ত ছাড়া করা হয়।"

এবং তাঁর বাণী: "অতঃপর যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হবে, তবে তার হিজরত আল্লাহর দিকেই..."
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٤)
ورسوله " يريد بِذَلِكَ أن من قصد بالهجرة رضا اللَّه تَعَالَى ولم يخلطها بشيء من الدنيا فهجرته مقبولة عند اللَّه عز وجل، وأجره واقع عَلَى اللَّه تَعَالَى.

" ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها أَوِ امرأة يتزوجها " يريد أن حظه من هجرته مَا قصد ونواه، وليس لَهُ عند اللَّه تَعَالَى أجرة، ولا من الثواب حظ.

ويقال: إن هَذَا إنما جاء فِي رجل لأجل امرأة أبت أن تتزوجه حَتَّى يهاجر إليها فهاجر وتزوجها، فكنا نسميه (مهاجر أم قيس) .

وقد قَالَ عليه السلام: " نية المؤمن خير من عمله " قيل: أراد بِهِ من عمل الكافر "، وقيل: لأن العمل يدخله الرياء، والنية لا يدخلها الرياء، ولأن النية تصلح العمل فكانت خيرا من العمل.

(والنية) فِي اللغة عبارة عَنِ القصد، ويقال: نويت الشيء، إذا قصدته وعزمت عَلَيْهِ بقلبك، وَقَالَ بعضهم: أصل النية الطلب، يقال: لفلان عندي نية ونواة، أي طلبة وحاجة ويجوز فِيهِ التخفيف والتشديد.

وأما (الدنيا) فهي اسم لهذه الدار الأولى، وهي (فعلى) من دنا يدنو، وسميت بِهِ لدنوها، قَالَ اللَّه تَعَالَى: {إِذْ أَنْتُمْ بِالْعُدْوَةِ الدُّنْيَا} ، ويجوز أن تكون دنيا (فعلى) من الدني، وَهُوَ الخسيس.

 

أَخْبَرَنَا تاج الإْسِلام أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُور بْن عَبْد الجبار السَّمْعَانِيّ، أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُور أَحْمَد بْن الْحُسَيْن بْن علي العمروي، حَدَّثَنَا أَبُو سَعْد عَبْد الرَّحْمَنِ بْن حمدان النصروي، حَدَّثَنَا بشر بْن أَحْمَدَ المهرجاني، أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَر أَحْمَد بْن الْحُسَيْن الحذاء،
এবং তাঁর রাসূলের প্রতি"; এর দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে, যে ব্যক্তি হিজরতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করে এবং এর সাথে পার্থিব কোনো কিছুকে মিশ্রিত করে না, তবে তার হিজরত মহান আল্লাহর নিকট কবুল হয় এবং তার প্রতিদান আল্লাহ তাআলার ওপর অবধারিত হয়।

"আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হয়"; তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে, তার হিজরত থেকে তার প্রাপ্য হবে তা-ই যা সে উদ্দেশ্য ও নিয়ত করেছে। আল্লাহ তাআলার নিকট তার জন্য কোনো প্রতিদান নেই এবং সওয়াবের কোনো অংশও নেই।

বলা হয়ে থাকে যে, এই বিষয়টি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে এক নারীকে বিবাহ করতে চেয়েছিল, কিন্তু সে নারী হিজরত না করা পর্যন্ত তাকে বিবাহ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে সে হিজরত করে এবং তাকে বিবাহ করে। তখন আমরা তাকে "উম্মে কায়েসের হিজরতকারী" বলে ডাকতাম।

নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম।" বলা হয়েছে: তিনি এর দ্বারা "কাফিরের আমল অপেক্ষা উত্তম" উদ্দেশ্য করেছেন। আবার বলা হয়েছে: কারণ আমলের মধ্যে লোকদেখানো বা রিয়া প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু নিয়তের মধ্যে রিয়া প্রবেশ করে না। এবং যেহেতু নিয়ত আমলকে সংশোধন করে, তাই এটি আমলের চেয়ে উত্তম।

(নিয়ত) আভিধানিক ভাষায় সংকল্প বা উদ্দেশ্যের নাম। বলা হয়: আমি কোনো কিছুর নিয়ত করেছি, অর্থাৎ যখন আপনি তা উদ্দেশ্য করেন এবং আপনার অন্তরে সেটির সংকল্প করেন। কেউ কেউ বলেছেন: নিয়তের মূল অর্থ হলো অন্বেষণ করা। বলা হয়: অমুকের কাছে আমার নিয়ত বা নাওয়াত রয়েছে, অর্থাৎ কোনো চাহিদা বা প্রয়োজন রয়েছে। এই শব্দে তাশদীদ এবং তাশদীদ ছাড়া উভয় পাঠই বৈধ।

আর (দুনিয়া) হলো এই প্রথম আবাসের নাম। এটি 'দানা ইয়াদনূ' (নিকটবর্তী হওয়া) থেকে 'ফু'লা' ওজনে এসেছে; এর নিকটবর্তী হওয়ার কারণেই একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যখন তোমরা ছিলে নিকটবর্তী উপত্যকায়।" এটি 'আদ-দানী' থেকেও 'ফু'লা' ওজনে হতে পারে, যার অর্থ হলো তুচ্ছ বা নিকৃষ্ট।

 

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাজুল ইসলাম আবু বকর মুহাম্মদ বিন মনসুর বিন আব্দুল জব্বার আস-সামআনী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী আল-আমরুয়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাদ আব্দুর রহমান বিন হামদান আন-নাসরুয়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন আহমদ আল-মিহরাজানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-হাদ্দাহ।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٥)
أَخْبَرَنَا بعض أصحابنا عَنْ عَبْد الأعلى بْن حماد النرسي، قَالَ: دخلت عَلَى المتوكل فَقَالَ: يَا أبا يَحْيَى، قد هممنا أن نصلك بخير فتدافعت الأمور، فقلت: يَا أمير المؤمنين، سمعت مسلم بْن خالد المكي يَقُول: سمعت جَعْفَر بْن مُحَمَّد الصادق، يَقُول: من لم يشكر الهمة لم يشكر النعمة ثُمَّ قلت: أفلا أنشدك بيتين قالهما بعض الشعراء؟ قَالَ: مَا هما؟ فأنشدته:

لأشكرنك معروفا هممت بِهِ … إن اهتمامك بالمعروف معروف

ولا ألومك إن لم يمضه قدر … فالشيء بالقدر المحتوم مصروف

قَالَ: فاستحسنهما فكتبهما بيده من إعجابه بهما، وأمر لِي بجائزة.
আমাদের কিছু সাথী আবদ আল-আ'লা ইবন হাম্মাদ আন-নারসী থেকে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুতাওয়াক্কিলের নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি বললেন: হে আবু ইয়াহইয়া, আমরা তোমাকে উত্তম কিছু প্রদানের সংকল্প করেছিলাম, কিন্তু পরিস্থিতি তা বিলম্বিত করেছে। আমি বললাম: হে আমীরুল মু'মিনীন, আমি মুসলিম ইবন খালিদ আল-মাক্কীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি জাফর ইবন মুহাম্মদ আস-সাদিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি উত্তম সংকল্পের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে প্রাপ্ত নিআমতের জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। এরপর আমি বললাম: আমি কি আপনাকে জনৈক কবির বলা দুটি পংক্তি শোনাব না? তিনি বললেন: সেগুলো কী? তখন আমি তাঁকে শুনালাম:

আমি অবশ্যই আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব সেই কল্যাণের জন্য যার সংকল্প আপনি করেছেন … কেননা কল্যাণের প্রতি আপনার এই সংকল্পই তো একটি কল্যাণ

আর আমি আপনাকে তিরস্কার করি না যদি তকদীর তা বাস্তবায়িত না করে … কারণ প্রতিটি বিষয়ই অবধারিত তকদীর দ্বারা পরিচালিত

তিনি বলেন: অতঃপর মুতাওয়াক্কিল পংক্তি দুটি পছন্দ করলেন এবং মুগ্ধ হয়ে নিজ হাতে তা লিখে নিলেন, আর আমার জন্য একটি পুরস্কারের নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٦)
‌‌الْحَدِيث الثالث [صفة الوضوء]

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإْمَامُ الْحَافِظُ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَلِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْخَيْرِ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الصَّفَّارُ الْمَرْوَزِيُّ الْمَعْرُوفُ بِأَبِي الْخَيْرِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ، أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الأَدِيبُ أَبُو الْهَيْثَمِ مُحَمَّدُ بْنُ مَكِّيٍّ الْكُشْمِيهَنِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مَطَرٍ الْفَرَبْرِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ -، حَدَّثَنَا عَبْدَانُ -، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ -، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ،

قَالَ: رَأَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رضي الله عنه تَوَضَّأَ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ ثَلاثًا، ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاثًا، ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيمنى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلاثًا، ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُسْرَى إِلَى الْمِرْفَقِ ثَلاثًا، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى ثَلاثًا، ثُمَّ الْيُسْرَى ثَلاثًا، ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তৃতীয় হাদিস [অজুর পদ্ধতি]

শায়খ ইমাম হাফিজ আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবি আলী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল খায়ের মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে আবদুল্লাহ আস-সাফফার আল-মারওয়াযী, যিনি আবুল খায়ের ইবনে আবি ইমরান নামে পরিচিত। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ও সাহিত্যিক আবুল হাইসাম মুহাম্মদ ইবনে মাক্কী আল-কুশমিহানী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার আল-ফারাবরী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যুহরী, আতা ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি উসমানের মুক্তদাস হুমরান থেকে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন: আমি উসমান ইবনে আফফানকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অজু করতে দেখেছি। তিনি তাঁর দুই হাতের ওপর তিনবার পানি ঢাললেন। এরপর তিনি কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করলেন। এরপর তিনি তিনবার তাঁর মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। এরপর তিনি তাঁর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিনি তাঁর বাম হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিনি তাঁর মাথা মাসহ করলেন। এরপর তিনি তাঁর ডান পা তিনবার ধৌত করলেন, এরপর বাম পা তিনবার। এরপর তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখেছি-
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٧)
تَوَضَّأَ نَحْوَ وَضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ: " مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وَضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا بِشَيْءٍ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ "

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ، عَالٍ، مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ، مِنْ حَدِيثِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، رَوَاهُ عَنْهُ الأَعْلامُ مِنْ أَصْحَابِهِ مِثْلُ: صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، وَمَعْمَرٍ، وَيُونُسُ، وَمَالِكٌ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَغَيْرُهُمْ

رواه عَنِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم الثالث فِي الترتيب، أمير المؤمنين: أَبُو عَمْرو ويقال: أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عُثْمَان بْن عفان بْن أَبِي العاص بْن أمية بْن عبد شمس بْن عبد مناف بْن قصي الأموي القرشي رضي الله عنه، يلتقي نسبه ونسب رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي عبد مناف.

قدمه أهل الشورى، واجتمع عَلَيْهِ الملأ من المهاجرين والأنصار.

وأمه: أروى بنت كريز بْن ربيعة، وكانت قد أسلمت، وأم أروى:
তিনি আমার এই অযুর মতো অযু করলেন, তারপর বললেন: "যে ব্যক্তি আমার এই অযুর মতো অযু করবে, অতঃপর দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং তাতে নিজের মনে মনে কোনো কথা বলবে না, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"

এটি একটি হাসান ও আলী (উচ্চ সনদসম্পন্ন) হাদিস, এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে। এটি ইবনে শিহাব আজ-জুহরির হাদিস, তাঁর বিশিষ্ট সাথীবর্গ তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যেমন: সালিহ বিন কায়সান, মা’মার, ইউনুস, মালিক, ইব্রাহিম বিন সাদ, সুফিয়ান বিন উয়াইনা এবং অন্যান্যরা।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি খিলাফতের ক্রম অনুযায়ী তৃতীয় ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন আমিরুল মুমিনিন: আবু আমর—যাঁকে আবু আব্দুল্লাহও বলা হয়—উসমান বিন আফফান বিন আবুল আস বিন উমাইয়া বিন আব্দে শামস বিন আব্দে মানাফ বিন কুসাই আল-উমাবি আল-কুরাশি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তাঁর বংশলতিকা আব্দে মানাফের স্তরে গিয়ে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশলতিকার সাথে মিলিত হয়েছে।

শূরা কমিটির সদস্যগণ তাঁকে অগ্রগণ্য করেছেন এবং মুহাজির ও আনসারদের সকল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি তাঁর ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

তাঁর মা ছিলেন: আরওয়া বিনতে কুরাইজ বিন রাবিয়া, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আর আরওয়ার মা ছিলেন:
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٨)
أم حكيم بنت عَبْد المطلب بْن هاشم، وهي البيضاء توأمة عَبْد اللَّهِ بْن عَبْد المطلب أَبِي النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، فجده عُثْمَان من قبل أمه عمة النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم

لقب بذي النورين لأنه جمع بين ابنتي النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: رقية وأم كلثوم، ويقال: لم يجمع بين بنتي نبي من لدن آدم إِلَى قيام الساعة إِلا عُثْمَان

وَكَانَ رضي الله عنه من ذوي السابقة فِي الإْسِلام والشرف والعلم والهجرة، هاجر الهجرتين، وصلى إِلَى القبلتين، وزوجه النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم الابنتين، وأوتي من الأجر كفلين

قام بنفسه وماله فِي واجب النصرة، وجهز جيش العسرة بست مائة وخمسين بعيرا وخمسين فرسا، واشترى بئر رومة بعشرين ألفا وتصدق بها عَلَى المسلمين، وابتاع المربد فوسع بِهِ المسجد

وأتسع الإْسِلام فِي زمانه فكثرت الفتوح

وَكَانَ لينا رحيما، عطوفا كريما، سخيا حليما

إمام البررة، وقتيل الفجرة، وخيرة الخيرة

وسماه النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم بالأمين، وشهد لَهُ بالجنة، وبشره بالشهادة، وعزاه عَلَى البلية، ودعا لَهُ بالمغفرة فَقَالَ: " غفر اللَّه لك يَا عُثْمَان مَا قدمت وما أخرت وما أعلنت وما أخفيت وما أبديت وما كَانَ وما هُوَ كائن إِلَى
উম্মে হাকিম বিনতে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম, এবং তিনি ‘আল-বায়দা’ নামে পরিচিত; তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের যমজ বোন ছিলেন। সুতরাং উসমানের মাতামহী ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফু।

তাকে ‘যুন-নুরাইন’ (দুই জ্যোতির অধিকারী) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে কারণ তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই কন্যা রুকাইয়্যাহ ও উম্মে কুলসুমকে পর্যায়ক্রমে বিবাহ করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, আদম থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত উসমান ব্যতীত আর কেউ কোনো নবীর দুই কন্যাকে বিবাহ করার সৌভাগ্য লাভ করেননি।

তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলামে অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং মর্যাদা, জ্ঞান ও হিজরতের গৌরব অর্জন করেছিলেন। তিনি দুই বার হিজরত করেছিলেন, দুই কিবলার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই কন্যাকে তার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন এবং তাকে দ্বিগুণ প্রতিদান প্রদান করা হয়েছে।

তিনি সাহায্য করার আবশ্যকীয় কর্তব্যে নিজের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি ‘জাইশুল উসরাহ’ (সংকটকালীন বাহিনী) কে ছয়শত পঞ্চাশটি উট এবং পঞ্চাশটি ঘোড়া দিয়ে সজ্জিত করেছিলেন। তিনি বিশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে ‘বি’রে রুমা’ (রুমা কূপ) ক্রয় করে তা মুসলিমদের জন্য সদকা করে দিয়েছিলেন এবং মিরবাদ (খেজুর শুকানোর স্থান) ক্রয় করে তার মাধ্যমে মসজিদ সম্প্রসারণ করেছিলেন।

তার সময়ে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল এবং প্রচুর বিজয় অর্জিত হয়েছিল।

তিনি ছিলেন কোমল ও দয়ালু, সহানুভূতিশীল ও মর্যাদাবান, দানশীল ও সহনশীল।

তিনি ছিলেন পুণ্যবানদের ইমাম, পাপাচারীদের হাতে শাহাদাতবরণকারী এবং সর্বোত্তমদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) বলে অভিহিত করেছিলেন, তার জান্নাতি হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তাকে শাহাদাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, তাকে আসন্ন বিপদে ধৈর্য ধারণের সান্ত্বনা দিয়েছিলেন এবং তার জন্য ক্ষমার দোয়া করে বলেছিলেন: "হে উসমান! আল্লাহ তোমার পূর্বের ও পরের, প্রকাশ্য ও গোপন, জাহিরকৃত এবং যা অতীতে হয়েছে ও ভবিষ্যতে কিয়ামত পর্যন্ত যা ঘটবে—সবই ক্ষমা করে দিন।"
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٤٩)
يوم القيامة " وكان يبجله ويعظمه، ويذكر أن الملائكة تستحي منه وتحترمه.

استخلف عُثْمَان رضي الله عنه أول يوم من المحرم سنة أربع وعشرين، وقتل فِي ذي الحجة سنة خمس وثلاثين، يوم الجمعة، أوسط أيام التشريق، وَكَانَ صائما.

وَكَانَ رأى فِي المنام أن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ: " أفطر عندنا " وكانت خلافته إحدى عشرة سنة وأحد عشر شهرا وأياما

وله يوم قتل تسعون سنة، وقيل ست وثمانون سنة.

صلى عَلَيْهِ جبير بْن مطعم، وقيل: حكيم بْن حزام، وقيل حويطب بْن عَبْد العزى، ودفن فِي البقيع.

وَقَالَ عَبْد الرَّحْمَنِ بْن مهدي: كَانَ لعثمان شيئان ليسا لأبي بكر ولا لعمر: صبر نفسه حَتَّى قتل مظلوما، وجمعه الناس عَلَى المصحف.

وفي الْحَدِيث دلالة عَلَى كيفية الوضوء، وبيان لإسباغه وإكماله، فإن السنة فِي غسل هَذِهِ الأعضاء التثليث، وأما التثليث فِي مسح الرأس فلم يذكر فِي هَذِهِ الرواية وجاء فِي رواية أخرى
কিয়ামত দিবসে" এবং তিনি তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন, আর উল্লেখ করা হয় যে ফেরেশতারা তাকে দেখে লজ্জা পেতেন ও তাকে সম্মান করতেন।

উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) চব্বিশ হিজরি সালের মহরম মাসের প্রথম দিনে খলিফা নিযুক্ত হন এবং পয়ত্রিশ হিজরি সালের জিলহজ মাসে, আইয়ামে তাশরিকের মধ্যবর্তী জুমাবার দিনে তাঁকে হত্যা করা হয়, আর তখন তিনি রোজা অবস্থায় ছিলেন।

তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বলছেন: "আমাদের কাছে ইফতার করো।" তাঁর খিলাফতকাল ছিল এগারো বছর এগারো মাস কয়েক দিন।

শাহাদাতের দিন তাঁর বয়স হয়েছিল নব্বই বছর, আবার কারো মতে ছিয়াশি বছর।

জুবায়ের ইবনে মুতয়িম তাঁর জানাজা পড়ান; কারো মতে হাকীম ইবনে হিযাম, আবার কারো মতে হুয়াইতিব ইবনে আব্দুল উযযা তা পড়ান; এবং তাঁকে বাকী গোরস্থানে দাফন করা হয়।

আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন: উসমানের এমন দুটি বৈশিষ্ট্য ছিল যা আবু বকর বা উমরের ছিল না: মজলুম অবস্থায় নিহত হওয়া পর্যন্ত নিজের ধৈর্য ধারণ করা এবং মানুষকে একটি মাসহাফের ওপর একত্রিত করা।

আর এই হাদিসে ওজুর পদ্ধতির প্রমাণ এবং তা পূর্ণাঙ্গ ও সুচারুরূপে সম্পাদনের বর্ণনা রয়েছে। কেননা এই অঙ্গগুলো ধোয়ার ক্ষেত্রে সুন্নাহ হলো তিনবার করে ধোয়া; তবে মাথা মাসাহ করার ক্ষেত্রে তিনবার করার বিষয়টি এই বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়নি, বরং অন্য বর্ণনায় এসেছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٠)
وفيه نوع دلالة عَلَى وجوب الترتيب، لأن فعل النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم خرج مخرج البيان لما اقتضاه الكتاب.

وفيه دليل عَلَى فضل الوضوء، وأنه مكفر الذنب.

وفيه دليل عَلَى شرف الصلاة عقيب الوضوء، وأن الصلاة الَّتِي لم يحدث المرء فِيهَا نفسه من أرجى الصلوات وأقربها إِلَى القبول.

وفيه دلالة عَلَى أن العبادة الواحدة قد يرجى مِنْهَا غفران مَا تقدم من الذنوب.

وفي ذَلِكَ دليل على أن الفوز من فضل اللَّه، والثواب من كرم اللَّه، إذ العبد لا يستحق بركعتين مغفرة ذنوب كثيرة، ولو كَانَ ذَلِكَ عَلَى حكم الجزاء المحض وتقرير الثواب بالفعل لكانت العبادة الواحدة تكفر السيئة الواحدة، فلما كفرت الذنوب الكثيرة عرف أن المغفرة من اللَّه الكريم بفضله الواسع العميم، وليست عَلَى حكم المقابلة، ولا عَلَى فضيلة المعاوضة.

و (الوضوء) بفتح الواو، وَهُوَ الماء الَّذِي يتوضأ بِهِ، مثل الطهور: اسم لما يتطهر بِهِ، والسحور: اسم لما يتسحر بِهِ وبضم الواو: اسم الفعل وأصل الوضوء من الوضاءة، وهي النظافة والحسن، يقال: وجه وضئ أي حسن و (المضمضة) : تحريك الماء فِي الفم، وكذلك المصمصة بالصاد.
এতে ক্রমবিন্যাস (তারতীব) ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে এক প্রকার দলিল রয়েছে, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম কিতাবের (কুরআনের) দাবির ব্যাখ্যা হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

এতে ওযুর শ্রেষ্ঠত্বের দলিল রয়েছে এবং এটি যে গুনাহের কাফফারা (পাপমোচনকারী) তাও প্রমাণিত হয়।

এতে ওযুর পর পর নামায আদায়ের মর্যাদার দলিল রয়েছে এবং যে নামাযে মানুষ নিজের সাথে মনে মনে কথা বলে না, তা কবুল হওয়ার অধিক আশাব্যঞ্জক এবং কবুলিয়তের খুব কাছাকাছি।

এতে এরও প্রমাণ রয়েছে যে, একটি ইবাদতের মাধ্যমে পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ হওয়ার আশা করা যায়।

আর এতে এ কথার প্রমাণ রয়েছে যে, সফলতা আল্লাহর পক্ষ হতে এক বিশেষ অনুগ্রহ এবং সওয়াব তাঁর মহানুভবতার দান। কেননা বান্দা কেবল দুই রাকাত নামাযের বিনিময়ে অসংখ্য গুনাহের ক্ষমা পাওয়ার হকদার হয় না। যদি এটি কেবল কর্মের বিশুদ্ধ প্রতিদান এবং কাজের মাধ্যমে সওয়াব নির্ধারণের নিয়মে হতো, তবে প্রতিটি ইবাদত কেবল একটি পাপকেই মোচন করত। কিন্তু যখন এর মাধ্যমে অসংখ্য গুনাহ মোচন করা হলো, তখন বোঝা গেল যে, এই ক্ষমা হলো মহান আল্লাহর প্রশস্ত ও ব্যাপক অনুগ্রহের বহিঃপ্রকাশ; এটি কেবল প্রতিদান কিংবা বিনিময়ের নিয়মে নয়।

'উদু' (ওয়াও বর্ণে জবরসহ) দ্বারা ঐ পানিকে বোঝায় যা দ্বারা ওযু করা হয়; যেমন 'তাহুর' হলো ঐ বস্তু যা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয় এবং 'সাহুর' হলো যা দ্বারা সাহরি গ্রহণ করা হয়। আর (ওয়াও বর্ণে পেশসহ) 'উদু' হলো ওযু করার কর্মটির নাম। ওযু শব্দের মূল উৎপত্তি 'অদাআত' থেকে, যার অর্থ পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য। যেমন বলা হয় 'ওয়াজহুন অদিয়ুন' অর্থাৎ সুন্দর ও উজ্জ্বল চেহারা। 'মাদমাদাহ' হলো মুখের ভেতর পানি নাড়াচাড়া করা, অনুরূপভাবে সাদ বর্ণ দিয়ে 'মাসমাসাহ' শব্দটিও একই অর্থ প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥١)
و (الاستنثار) مثل الاستنشاق والنثرة اسم لطرف الأنف وَقَالَ بعضهم: الاستنشاق: جذب الماء إِلَى الأنف والاستنثار: استخراجه.

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْر عَبْد اللَّهِ بْن الْحُسَيْن التوني، أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُور مُحَمَّد بْن عِيسَى، أَخْبَرَنَا محبوب بْن مُحَمَّد البردعي، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْن مُحَمَّدِ بْنِ صاعد، حَدَّثَنَا الْحُسَيْن بْن الحسن، حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ بْن الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن طلحة، حَدَّثَنَا عَبْد الرَّحْمَنِ بْن مروان:

أن الأسود بن يَزِيد كَانَ يجتهد فِي العبادة ويصوم فِي الحر حَتَّى يتحفز جسده ويصفر لونه، فَقَالَ لَهُ علقمة بْن قيس: لم تعذب هَذَا الجسد؟ فيقول الأسود: كرامته أريد، إن الأمر جد فجدوا
এবং (ইস্তিনসার) হলো ইস্তিনশাকের মতো। ‘নাসরা’ নাকের অগ্রভাগকে বলা হয়। আর কেউ কেউ বলেছেন: ইস্তিনশাক হলো নাকের ভেতর পানি টেনে নেওয়া এবং ইস্তিনসার হলো তা বের করে দেওয়া।

আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আত-তুনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মাহবূব ইবনে মুহাম্মদ আল-বারদাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-হুসাইন ইবনুল হাসান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে তালহা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে মারওয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন:

নিশ্চয়ই আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ ইবাদতে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং প্রচণ্ড গরমে রোজা রাখতেন, এমনকি তার শরীর অতিশয় দুর্বল হয়ে পড়ত এবং গায়ের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যেত। আলকামা ইবনে কায়স তাকে বললেন: আপনি কেন এই শরীরকে কষ্ট দিচ্ছেন? তখন আসওয়াদ বলতেন: আমি এর সম্মানই কামনা করি। নিশ্চয়ই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর, তাই তোমরাও গুরুত্ব দাও।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٢)
أنشدنا تاج الإْسِلام أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُور السَّمْعَانِيّ رحمه الله، أنشدنا أَبُو غالب، أنشدنا أَبُو الْقَاسِمِ بْن بشران، أنشدنا أَبُو بَكْر الآجري، قَالَ: كَانَ ابن المبارك كثيرا يتمثل بهذه الأبيات:

اغتنم ركعتين زلفى إِلَى اللَّه … إذا كنت فارغا مستريحا

وإذا مَا هممت بالنطق فِي الباطل … فاجعل مكانه تسبيحا

فاغتنام السكوت أفضل من خوض … وإن كنت بالحديث فصيحا
তাজুল ইসলাম আবু বকর মুহাম্মদ বিন মানসুর আস-সামআনী (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আবু গালিব আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আবুল কাসিম বিন বিশরান আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, আবু বকর আল-আজিদরি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন; তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক প্রায়শই এই কবিতাগুলো দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করতেন:

আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে দুই রাকাত (নামাজ) আদায়ের সুযোগ গ্রহণ করো … যখন তুমি অবসর ও স্বস্তিতে থাকো

আর যখনই তুমি কোনো মিথ্যা বা অনর্থক কথা বলার সংকল্প করো … তবে তার স্থলে তাসবিহ পাঠ করো

কেননা নীরবতা অবলম্বন করা অনর্থক আলোচনায় লিপ্ত হওয়ার চেয়ে উত্তম … যদিও তুমি কথা বলায় অত্যন্ত সাবলীল হও
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٣)
‌‌الْحَدِيث الرابع [اللعن عَلَى أمور الظلم]

أَخْبَرَنَا الإْمَامُ تَاجُ الإْسِلامِ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السَّمْعَانِيُّ قَدَّسَ اللَّهُ رَوْحَهُ وَنَوَّرَ ضَرِيحَهُ، أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْفَوَارِسِ عُمَرُ بْنُ الْمُبَارَكِ بْنِ عُمَرَ الْخِرَقِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْفَاكِهِيُّ، بِمَكَّةَ حَرَسَهَا اللَّهُ -، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى بْنُ أَبِي مَيْسَرَةَ -، وَحَدَّثَنَا خَلادُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا فِطْرُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الطُّفَيْلِ -، قَالَ:

قُلْنَا أَوْ قِيلَ لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: هَلْ تَرَكَ
চতুর্থ হাদিস [জুলুমের বিষয়াবলির ওপর অভিশাপ]

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম তাজুল ইসলাম আবু বকর মুহাম্মদ বিন মনসুর বিন আব্দুল জব্বার আস-সামআনী (আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন); আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবুল ফাওয়ারিস ওমর বিন আল-মুবারক বিন ওমর আল-খিরাকি; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল কাসেম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-ফাকিহি, মক্কায়—আল্লাহ তা রক্ষা করুন—; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু ইয়াহইয়া বিন আবি মায়সারাহ; এবং আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন খাল্লাদ বিন ইয়াহইয়া; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ফিতর বিন খলিফাহ, আল-কাসিম বিন আবি বাজজাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু তুফায়েলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:

আমরা বললাম অথবা আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলা হলো: তিনি কি রেখে গেছেন...
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٤)
رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كِتَابًا عِنْدَكُمْ؟ قَالَ: مَا تَرَكَ عِنْدَنَا كِتَابًا نَكْتُبُهُ إِلا شَيْئًا فِي عِلاقَةِ سَيْفِي، فَوَجَدْنَا صَحِيفَةً صَغِيرَةً فِيهَا: " لَعَنَ اللَّهُ مَنْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ، لَعَنَ اللَّهُ مَنْ أَهَلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ، لَعَنَ اللَّهُ مَنْ زَحْزَحَ مَنَارَ الأَرْضِ "

هذا حديث صحيح، عال، من حديث أَبِي الطُفيل عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ، ويقال عمرو بن واثلة.

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٍ فِي كِتَابِهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدِ بْنِ الْمُثَنَّى، عَنْ غُنْدَرٍ عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ.

رواه عَنِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أمير المؤمنين، ورابع الخلفاء الراشدين، أقدمهم إجابة وإيمانا، وأقومهم قضية وإيقانا، أَبُوالْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طالب بْن عَبْد المطلب بْن هاشم بْن عبد مناف بْن قصي بْن كلاب بْن مرة بْن كعب، واسمه حيدرة، وكناه النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أبا تراب.

ابن عم النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، وصاحبه حقا، ومعينه صدقا، ختم اللَّه بِهِ الخلافة كما ختم النبوة بمحمد صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনাদের নিকট কোনো কিতাব রেখে গেছেন? তিনি বললেন: তিনি আমাদের নিকট লিখে রাখার মতো কোনো কিতাব রেখে যাননি, কেবল আমার তরবারির হাতলের সাথে থাকা একটি বস্তু ব্যতীত। অতঃপর আমরা তাতে একটি ছোট সহীফা পেলাম যাতে রয়েছে: "আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর যে তার নিজের মুনিব ব্যতীত অন্যকে মুনিব হিসেবে গ্রহণ করে; আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর যে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে পশু জবাই করে; আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর যে জমিনের সীমানা চিহ্ন পরিবর্তন করে।"

এটি একটি সহীহ ও উচ্চ পর্যায়ের (আলি) হাদীস, যা আবু তুফাইল আমির বিন ওয়াসিলাহ-এর বর্ণিত হাদীস থেকে গৃহীত, আর তাকে আমর বিন ওয়াসিলাহ-ও বলা হয়।

ইমাম মুসলিম এটি তাঁর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন বাশশার এবং মুহাম্মাদ বিন আল-মুসান্না থেকে, তাঁরা গুন্দার থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, আর তিনি আল-কাসিম বিন আবি বাযযাহ থেকে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন আমীরুল মুমিনীন এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের চতুর্থ খলীফা, তাঁদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ ও ঈমানের দিক থেকে প্রাচীনতম, বিচার ফয়সালা ও দৃঢ় বিশ্বাসের দিক থেকে সবচেয়ে সুদৃঢ়, আবুল হাসান আলী বিন আবী তালিব বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আব্দ মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব। তাঁর নাম ছিল হায়দারা, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) রেখেছিলেন আবু তুরাব।

তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই, তাঁর প্রকৃত সঙ্গী এবং তাঁর সত্যনিষ্ঠ সাহায্যকারী। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে খিলাফতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন যেমনটি তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে নবুওয়াতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٥)
باب العلم، ومعدن الفضل، وحائز السبق، يعسوب الدين، ومبيد المشركين ذو القرنين، وَأَبُو الريحانتين: الحسن والحسين.

وأمه فاطمة بنت أسد بْن هاشم بْن عَبْد المطلب أول هاشمية ولدت لهاشمي.

كانت قد أسلمت وهاجرت وتوفيت بالمدينة، فخلع النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم قميصه وألبسه إياها، وتولى دفنها، واضطجع فِي قبرها، فلما سوى عَلَيْهَا التراب سئل عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " ألبسها لتلبس من ثياب الجنة، واضطجعت معها فِي قبرها ليخفف عَنْهَا ضغطة القبر، إنها كانت أحسن خلق اللَّه صنيعا إلي بعد أَبِي طالب "

وإذا أردت أن تعلم قرب منزلته من رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فتأمل صنيعه فِي المؤاخاة بين الصحابة، جعل يضم الشكل إِلَى الشكل، والمثل منهم إِلَى المثل فيؤلف بينهما، إِلَى أن آخى بين أَبِي بَكْر وعمر رضي الله عنهما، وادخر عليا لنفسه، واختصه بأخوته وناهيك بِهِ من فضيلة وشرف

وَقَالَ عليه السلام يوم خيبر: " لأعطين الراية غدا رجلا يحب اللَّه ورسوله، ويحبه اللَّه ورسوله، يفتح اللَّه عَلَى يديه "

وجعل رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حبه علامة الإيمان، وبغضه أمارة النفاق.
জ্ঞানের দরজা, শ্রেষ্ঠত্বের আধার, অগ্রগামিতার অধিকারী, দ্বীনের নেতা, মুশরিকদের বিনাশকারী, যুল-কারনায়ন এবং দুই সুগন্ধি ফুলের পিতা: হাসান ও হুসাইন।

এবং তাঁর মাতা ফাতিমা বিনতে আসাদ বিন হাশিম বিন আবদিল মুত্তালিব; প্রথম হাশিমী নারী যিনি একজন হাশিমীর জন্ম দিয়েছিলেন।

তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, হিজরত করেছিলেন এবং মদিনায় ইন্তেকাল করেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জামা খুলে তাঁকে পরিয়ে দিলেন, নিজে তাঁর দাফন সম্পন্ন করলেন এবং তাঁর কবরে শুয়ে পড়লেন। যখন তাঁর ওপর মাটি সমান করা হলো, তখন এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, "আমি তাঁকে (আমার জামা) পরিয়েছি যাতে তিনি জান্নাতের পোশাক পরতে পারেন, এবং আমি তাঁর সাথে তাঁর কবরে শুয়েছি যেন তাঁর কবরের চাপ হালকা হয়; নিশ্চয়ই তিনি আবু তালিবের পর আমার প্রতি আল্লাহর সৃষ্টিজগতের মধ্যে সর্বোত্তম আচরণকারী ছিলেন।"

আপনি যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে জানতে চান, তবে সাহাবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনে তাঁর (রাসূলের) কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করুন। তিনি সদৃশদের সাথে সদৃশদের এবং সমমনাদের সাথে সমমনাদের যুক্ত করে তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করছিলেন; এমনকি তিনি আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করলেন। আর আলীকে তিনি নিজের জন্য রেখে দিলেন এবং তাঁকে নিজের ভ্রাতৃত্বের জন্য বিশেষভাবে মনোনীত করলেন; তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার জন্য এটিই যথেষ্ট।

খায়বরের দিন তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: "আগামীকাল আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা অর্পণ করব যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন; আল্লাহ তাঁর হাতেই বিজয় দান করবেন।"

আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রতি ভালোবাসাকে ঈমানের নিদর্শন এবং তাঁর প্রতি বিদ্বেষকে নিফাকের লক্ষণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবুল আরবাঈন ফি ইরশাদিস সায়িরিনা ইলা মানাযিলিল মুত্তাকিন আও আল-আরবাউনাত তায়্যিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٦)
أخبره رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بما يصيبه بعده من مقاساة الأمور ولقاء الحروب وبأنه مقتول.

أسلم وَهُوَ ابن ثماني سنين، وقيل ابن تسع، وقيل ابن أربع عشرة، وقيل غير ذَلِكَ.

وقتل بالكوفة يوم الجمعة فِي رمضان سنة أربعين، وَكَانَ ابن ثلاث وستين، وقيل ابن ثمان وخمسين سنة صلى عَلَيْهِ الحسن، ودفن فِي قصر الإمارة عند المسجد الجامع، وغيب قبره.

وكانت خلافته أربع سنين وثمانية أشهر وتسعة عشرة يوما.

وفي الْحَدِيث دلالة عَلَى أن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم مَا خص أحدا من أصحابه بوصية ولا كتاب.

قَالَ طلحة بْن مصرف سألت عَبْد اللَّهِ بْن أَبِي أوفى: أوصى رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: أوصى بكتاب اللَّه عز وجل.

وزعمت الرافضة أن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم أوصى إِلَى علي وخصه بِذَلِكَ من بين الصحابة وَهُوَ زعم باطل.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর পরবর্তী কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা ও যুদ্ধবিগ্রহের সম্মুখীন হওয়া এবং তিনি যে শহীদ হবেন, সে সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন।

তিনি আট বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন; মতান্তরে নয় বছর, আবার কেউ বলেন চৌদ্দ বছর বয়সে, এছাড়াও অন্যান্য বর্ণনা রয়েছে।

৪০ হিজরি সনের রমজান মাসে জুমুআর দিনে কুফায় তাঁকে শহীদ করা হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর, মতান্তরে আটান্ন বছর। হাসান তাঁর জানাযার সালাত পড়ান এবং তাঁকে জামে মসজিদের নিকটবর্তী ইমারত প্রাসাদে দাফন করা হয় এবং তাঁর কবরের স্থান গোপন রাখা হয়।

তাঁর খিলাফতকাল ছিল চার বছর আট মাস উনিশ দিন।

এই হাদিসে এ কথার প্রমাণ রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মধ্যে কাউকেই কোনো বিশেষ অসিয়ত বা কিতাবের জন্য নির্দিষ্ট করে যাননি।

তালহা বিন মুসাররিফ বলেন, আমি আবদুল্লাহ বিন আবু আওফাকে জিজ্ঞেস করলাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কোনো অসিয়ত করেছিলেন? তিনি বললেন: তিনি মহান আল্লাহর কিতাব (অনুসরণ করার) অসিয়ত করেছিলেন।

রাফেযিরা দাবি করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের মধ্য হতে কেবল আলীকে অসিয়ত করে তাঁকে নির্দিষ্ট করেছিলেন, যা একটি বাতিল ও অসার দাবি।