(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: -)
تاريخ دنيسر   (عمر بن الخضر)

القسم: كتب السنة


الكتاب: تاريخ دنيسر

المؤلف: الطبيب أبو حفص عمر بن الخضر بن اللمش (574 هـ -640؟ هـ)

المحقق: إبراهيم صالح [ت 1443 هـ]

الناشر: دار البشائر

الطبعة: الأولى 1413 هـ - 1992 م

عدد الصفحات: 202

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দুনাইসিরের ইতিহাস   (উমর ইবনে আল-খিদর)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: দুনাইসিরের ইতিহাস

লেখক: চিকিৎসক আবু হাফস উমর ইবনে আল-খিদর ইবনুল লামিশ (৫৭৪ হিজরী -৬৪০? হিজরী)

গবেষক: ইব্রাহিম সালেহ [ওফাত ১৪৪৩ হিজরী]

প্রকাশক: দারুল বাশায়ির

সংস্করণ: প্রথম ১৪১৩ হিজরী - ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০২

[কিতাবের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খাইরি আকবিল (হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও)

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: -)
كتاب

تاريخ دنيسر

 

تأليف

الطبيب أبي حفص عمر بن الخضر بن اللمش

(574هـ -640؟ هـ)

 

عني بتحقيقه

إبراهيم صالح

 

دار البشائر

 

الطبعة الأولى

1413 هـ - 1992 م
গ্রন্থ

দানাইসারের ইতিহাস

 

রচনা

চিকিৎসক আবু হাফস উমর ইবনুল খিদর ইবনুল লামাশ

(৫৭৪ হি. - ৬৪০? হি.)

 

সম্পাদনায়

ইবরাহীম সালিহ

 

দারুল বাশাঈর

 

প্রথম সংস্করণ

১৪১৩ হি. - ১৯৯২ খ্রি.
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌الْبَابُ الأَوَّلُ فِيمَنِ اشْتُهِرَ بِالْعِلْمِ وَالْحِلْمِ

‌‌1- فَمِنْهُمْ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَوَاحَةَ التُّرْكِيُّ:

قَرَأَ عَلَى أَبِي الأَصْبَغِ السَّمَاتِي الْمَعْرُوفِ بِابْنِ الطَّحَّانِ، وَغَيْرِهِ، وَهُوَ الَّذِي أَشْهَرَ بِدُنَيْسَرَ قِرَاءَةَ الْقَرْآنِ كَثِيرًا، وَأَرْغَبَ النَّاسَ فِي ذَلِكَ، وَازْدَحَمَ عَلِيهِ الطَّلَبَةُ. وَأَكْثَرُ الَّذِينَ قَرَأُوا عَلِيهِ انْتَفَعُوا بِبَرَكَتِهِ؛ وَكَانَ فَقِيهًا حَنَفِيًّا، مُنْفَرِدًا بِعِلْمِ الْفَرَائِضِ، وَقِرَاءَةِ النَّاسِ [عَلِيهِ] ، وَأَدْرَكْتُ آخِرَ أَيَّامِهِ فِي الصِّغَرِ، فَقَرَأْتُ عَلِيهِ شَيْئًا مِنَ الْفَرَائِضِ بِالْمَسْجِدِ الْمَعْرُوفِ بِمَسْجِدِ غَازِي، وَقِيلَ لِي: إِنَّ كِنَانَ تُوُفِّيَ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَمَانِينَ وخمسمئة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: জ্ঞান ও সহিষ্ণুতার জন্য যারা প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন

১- তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু বকর ইবন আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা আল-তুর্কি:

তিনি আবুল আসবাগ আস-সামাতি—যিনি ইবনুত তাহহান নামে পরিচিত—এবং অন্যদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি দুনাইসিরে কুরআনের কিরাত পাঠকে ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধ করেছেন এবং মানুষকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন, ফলে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে ভিড় জমাত। যারা তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন, তাদের অধিকাংশই তাঁর বরকতের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন হানাফি ফকিহ, ফারায়েজ শাস্ত্র (উত্তরাধিকার আইন) এবং মানুষের কিরাত শ্রবণে অনন্য। আমি আমার শৈশবে তাঁর শেষ দিনগুলো পেয়েছিলাম এবং গাজি মসজিদ নামে পরিচিত মসজিদে তাঁর কাছে ফারায়েজ শাস্ত্রের কিছু অংশ পড়েছি। আমাকে বলা হয়েছে যে, কেনান ৫৮৫ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌2- أَبُو بَكْرٍ عَتِيقُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ الْقُرَشِيُّ الْمُقْرِئُ الْمِصْرِيُّ:

هُوَ صِقِلِي الأَصْلِ، الْمِصْرِيُّ الْمَوْلِدِ وَالْمَنْشَأِ، مَارِدِيُّ الدَّارِ، ثُمَّ سَكَنَ دُنَيْسَرَ؛ كَانَ إِمَامًا بِالْمَسْجِدِ النِّظَامِيِّ، قَرَأَ الْقُرْآنَ بِالْقِرَاءَاتِ عَلَى ابْنِ الْكِيزَانِيِّ. وَأَبِي الْحَسَنِ الْبَطَائِحِّي، وَيَحْيَى بْنِ سَعْدُونٍ الأَزْدِيِّ، وَخَلْقٍ غَيْرِهِمْ، وَسَمِعَ الْحَدِيثَ مِنَ الْحَاجِبِ أَبِي الْفَتْحِ ابْنِ الْبَطِّيِّ، وَأَبِي الْقَاسِمِ بْنِ بُنْدَارٍ، وَغَيْرِهِمَا.

وَأَقْرَأَ بِدُنَيْسَرَ، وَأَسْمَعَ بِالْخِنْدِفِ؛ وَكُنْتُ أَقْرَأُ الْحَدِيثَ عَلِيهِ بِالْمَشْهَدِ الْمَعْرُوفِ بِعَمْرِو بْنِ خِنْدِفٍ، هَذَا لا يُعْرَفُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ.

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَتِيقُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ الْمُقْرِئُ بِقِرَاءَتِي عَلِيهِ بِدُنَيْسَرَ. قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ يَحْيَى بْنُ ثَابِتِ بْنِ بُنْدَارِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَقَّالُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو
২- আবু বকর আতিক ইবনে আবিল কাসিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হিবাতুল্লাহ আল-কুরাশি আল-মুকরি আল-মিসরি:

তিনি মূলে সিকিলীয়, মিশরে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা, মারিদে তাঁর বসতি ছিল, অতঃপর তিনি দুনাইসারে বসবাস করেন। তিনি নিজামিয়া মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি ইবনুল কিজানি, আবুল হাসান আল-বাতায়িহি, ইয়াহইয়া ইবনে সাদুন আল-আজদি এবং আরও অনেকের নিকট বিভিন্ন কিরাআতে কুরআন পাঠ করেছেন। তিনি আল-হাজিব আবু ফাতহ ইবনুল বাত্তি, আবুল কাসিম ইবনে বুন্দার এবং অন্যদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।

তিনি দুনাইসারে কুরআন পাঠ করাতেন এবং খিনদিফে হাদিস শ্রবণ করাতেন। আমি তাঁর নিকট আমর ইবনে খিনদিফ নামে পরিচিত মাজারে হাদিস পাঠ করতাম, তবে এটি আলেমদের নিকট (ঐতিহাসিকভাবে) পরিচিত নয়।

আবু বকর আতিক ইবনে আবিল কাসিম আল-মুকরি দুনাইসারে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবুল কাসিম ইয়াহইয়া ইবনে সাবিত ইবনে বুন্দার ইবনে ইবরাহিম আল-বাক্কাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু...
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٢٩)
عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ طَلْحَةَ النِّعَالِي، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْفَارِسِيُّ الدِّيبَاجِيُّ، قَالَ: أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْقَاضِي الْمَحَامِلِي، قَالَ: نَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلانِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ((مَنْ تَوَضَّأَ فَلِيسْتَنْثِرْ، وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلِيوتِرْ)) .

أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْمُبَارَكُ [بْنُ الْمُبَارَكِ] بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بِقِرَاءَتِي عَلِيهِ بِالْحَرِيمِ، أَنْبَا أَبُو الْغَنَايِمِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُهْتَدِي بِاللَّهِ، أَنْبَا أَبُو الطَّيِّبِ طَاهِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الطَّبَرِيّ، ثَنَا أبو أحمد ابن الْغِطْرِيفِ، ثَنَا أَبُو خَلِيفَةَ يَعْنِي الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ عَنْ مَالِكٍ عَنِ ابْنِ
আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন তালহা আন-নিআলী বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আবদুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মাহদী আল-ফারিসি আদ-দীবাজি, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন ইসমাঈল আল-কাদি আল-মাহামিলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মালিক, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু ইদরিস আল-খাওলানি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ওজু করে সে যেন নাক ঝাড়ে, আর যে ব্যক্তি পাথর ব্যবহার (ইস্তিজমার) করে সে যেন তা বিজোড় সংখ্যায় করে।”

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির আল-মুবারক [বিন আল-মুবারক] বিন হিবাতুল্লাহ—হারীমে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু আল-গানায়িম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুহতাদি বিল্লাহ, আমাদের অবহিত করেছেন আবু আত-তাইয়িব তাহির বিন আবদুল্লাহ আত-তাবারী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আহমদ ইবনুল গিতরীফ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু খলিফা অর্থাৎ আল-ফাদল বিন আল-হুবাব আল-জুমাহি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-কা'নাবি, তিনি মালিক থেকে, তিনি ইবনে...
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٣٠)
شِهَابٍ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلانِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ((مَنْ تَوَضَّأَ فَلِيسْتَنْثِرْ، وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلِيوتِرْ)) .

وَقَدْ رَوَاهُ مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَتَمَّ مِنْ ذَا:

أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ أنبا أو الغنايم، أنبا أبو الطيب، ثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْغِطْرِيفِيُّ، ثَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، ثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ((إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلِيجْعَلْ فِي أَنْفِهِ الْمَاءَ ثُمَّ لِيسْتَنْثِرْ، وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلِيوتِرْ)) .

قَالَ أَبُو عُبَيْدِ فِي الاسْتِجْمَارِ: قِيلَ هُوَ الاسْتِنْجَاءُ بِالأَحْجَارِ.

وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَتِيقُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ الْمُقْرِئُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْبطِّيِّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ جَعْفَرُ بْنُ يَحْيَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَحْيَى بْنِ عبد الله المكي، أخبرنا أبو.. اللَّه الْبَغَوِيّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ.. .. مُحَمَّد.. .. عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ.. .. أَنَّ أَزْوَاجَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلْنَ إِلَى أَبِي بكرٍ يَسْأَلْنَ مِيرَاثَهُنَّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؛ فَأَرْسَلَتْ إِلِيهِنَّ عَائِشَةُ رضي الله عنها: أَلا تَتَّقِينَ اللَّهَ؟ أَلَمْ يَقُلْ
শিহাব থেকে, তিনি আবু ইদরিস আল-খাওলানি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ওযু করবে সে যেন নাক ঝাড়ে, আর যে ব্যক্তি পাথর দিয়ে শৌচকর্ম (ইস্তিজমার) করবে সে যেন তা বেজোড় সংখ্যায় সম্পন্ন করে।"

আর ইমাম মালিক এটি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এর চেয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন:

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবুল গানায়িম থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু তায়্যিব থেকে, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ আল-গিতরিফি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু খলিফা, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-কানাবি, তিনি মালিক থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ওযু করবে তখন সে যেন তার নাকে পানি দেয় এবং এরপর তা ঝেড়ে ফেলে। আর যে ব্যক্তি পাথর দিয়ে শৌচকর্ম করবে সে যেন তা বেজোড় সংখ্যায় সম্পন্ন করে।"

আবু উবাইদ ইস্তিজমার সম্পর্কে বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, এটি হলো পাথর দিয়ে শৌচকর্ম বা ইস্তিনজা করা।

আর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আতীক ইবনে আবুল কাসিম আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বাকি ইবনে আহমাদ ইবনে সালমান, যিনি ইবনুল বাত্তি নামে পরিচিত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাদল জাফর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ আল-মাক্কি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু... আল্লাহ আল-বাগাওয়ী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাবারি... ... মুহাম্মদ... ... মামার থেকে, তিনি... থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণ আবু বকর (রা.)-এর নিকট আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উত্তরাধিকার (মিরাস) চেয়ে লোক পাঠালেন; তখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁদের নিকট সংবাদ পাঠালেন: আপনারা কি আল্লাহকে ভয় করবেন না? তিনি কি বলেননি—
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٣١)
رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((لا نُوَرَّثْ، مَا تَرْكَنَاهُ صَدَقَةٌ)) ؟ قَالَ: فَرَضِينَ بِقَوْلِهَا وَتَرَكْنَ ذَلِكَ.

قُلْتُ: وَقَدْ أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَيُّوبَ، بِقِرَاءَتِي عَلِيهِ بِبَغْدَادَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَا طَاهِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الطبري، ثنا أَبُو أَحْمَدَ الْغِطْرِيفُ، حَدَّثَنَا أَبُو خَلِيفَةَ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، عَنْ جُوَيْرِيَّةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، عَنِ ِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ((لا نُوَرَّثْ، مَا تَرْكَنَاهُ صَدَقَةٌ)) .

‌‌3- الشَّيْخُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ شِهَابٍ الْحَنْبَلِي:

قِيلَ لِي: إِنَّهُ قَرَأَ عَلَى ابْنِ الطَّحَّانِ، وَغَيْرِهِ؛ وَكَانَ حَسِنَ الأَدَاءِ وَالتَّجْوِيدِ فِي الْقِرَاءَةِ، اجْتَمَعْتُ بِهِ مِرَارًا بِدُنَيْسَرَ، وَلَمْ أَقْرَأْ عَلِيهِ شَيْئًا.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি (বলেননি): "আমাদের কোনো উত্তরাধিকার রাখা হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা"? তিনি বললেন: অতঃপর তারা তাঁর এই কথায় সন্তুষ্ট হলেন এবং তা বর্জন করলেন।

আমি বললাম: আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বাগদাদে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাহির ইবনে আবদুল্লাহ আল-তাবারী আমাদের জানিয়েছেন, আবু আহমদ আল-গিতরিফ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু খলিফা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জুওয়াইরিয়া থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি মালিক ইবনে আওস ইবনে আল-হাদাসান থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে, তিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আমাদের কোনো উত্তরাধিকার রাখা হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা।"

‌‌৩- শাইখ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে শিহাব আল-হাম্বলী:

আমাকে বলা হয়েছে যে, তিনি ইবনুত তাহহান এবং অন্যদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন; তিনি তিলাওয়াতে সুন্দর শৈলী ও তাজবীদের অধিকারী ছিলেন। দুনিয়সারে তাঁর সাথে আমার কয়েকবার সাক্ষাৎ হয়েছে, তবে আমি তাঁর নিকট কিছু পাঠ করিনি।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌4- أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِي بْنِ الدَّبَّاسِ النيلي، يعرف بِابْنِ الزَّامِرِ:

قَرَأَ الْقُرْآنَ بِالْقِرَاءَاتِ كَثِيرًا عَلَى أَبِي الْحَسَنِ بْنِ الْمُرَحِّبِ الْبَطَائِحِيِّ، سَكَنَ دُنَيْسَرَ، وَأَقْرَأْ بِهَا جَمَاعَةً الْقُرْآنَ وَالْقِرَاءَاتِ، وَقَرَأْتُ عَلِيهِ.

‌‌5- أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ خَتْلَخَ النُّصَيْبِيُّ:

قَرَأَ بِالْقِرَاءَاتِ بِنَصِيبِينَ، وَهُوَ رجلٌ زاهدٌ، كَثِيرُ السِّيَاحَةِ، ملازمٌ لِقَرَاءَةِ الْقُرْآنِ، وَرُبَّمَا كَانَ يَغْلِبُهُ النَّوْمُ فِي بَعْضِ اللَّيَالِي فَيَمْنَعُهُ عَنْهُ باجتهادٍ قَوِيٍّ.

نَزَلَ بِدُنَيْسَرَ مِرَارًا، وَأَقَامَ مَرَّةً بِالْمَسْجِدِ الرَّئِيسِيِّ بِالتَّلِّ، فَقَصَدْتُ زِيَارَتَهُ هُنَاكَ، وَقَرَأْتُ عَلِيهِ شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ، وَكَانَ يَكْرَهُ أَنْ يَتَكَلَّمَ عِنْدَهُ بِمَا لِيسَ فِيهِ فَائِدَةٌ.

وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: قَالَ بَعْضُ السَّلَفِ: النَّاسُ عَلَى أَرْبَعَةِ أحوالٍ: رجلٌ
৪- আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আদ-দাব্বাস আন-নাইলি, তিনি ইবনুজ জামির নামে পরিচিত:

তিনি আবুল হাসান বিন আল-মুরাহহিব আল-বাতাইহির নিকট বহুবার বিভিন্ন কিরাআত অনুযায়ী কুরআন পাঠ করেছেন। তিনি দুনাইসিরে বসবাস করতেন এবং সেখানে একদলকে কুরআন ও কিরাআত শিক্ষা দিয়েছেন। আমিও তাঁর নিকট পাঠ করেছি।

৫- আবু আমর উসমান বিন খাতলাখ আন-নুসাইবি:

তিনি নুসাইবিনে বিভিন্ন কিরাআত অনুযায়ী পাঠ সমাপ্ত করেছেন। তিনি একজন জাহিদ (সংসারবিরাগী) ব্যক্তি ছিলেন, অধিক ভ্রমণ করতেন এবং সর্বদা কুরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকতেন। কোনো কোনো রাতে তাঁর ওপর ঘুম প্রবল হয়ে উঠলে তিনি কঠোর প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা প্রতিহত করতেন।

তিনি কয়েকবার দুনাইসিরে এসেছিলেন এবং একবার আত-তাল্ল এর প্রধান মসজিদে অবস্থান করেছিলেন। আমি সেখানে তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম এবং তাঁর নিকট কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করেছিলাম। তাঁর সম্মুখে নিরর্থক কোনো কথা বলা তিনি অপছন্দ করতেন।

আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: পূর্বসূরিদের (সালাফ) কেউ কেউ বলেছেন: মানুষ চার অবস্থায় থাকে: এমন এক ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٣٣)
يَدْرِي وَيَدْرِي أَنَّهُ يَدْرِي فَهَذَا عالمٌ فَاتَّبِعُوهُ؛ ورجلٌ يَدْرِي وَلا يدري أنه يدري فذا نَائِمٌ فَأَيْقِظُوهُ؛ ورجلٌ لا يَدْرِي وَيَدْرِي أَنَّهُ لا يَدْرِي فَهَذَا مُسْتَرْشِدٌ فَأَرْشِدُوهُ؛ ورجلٌ لا يَدْرِي وَلا يَدْرِي أَنَّهُ لا يَدْرِي فَهَذَا ضَالٌّ فَارْفُضُوهُ.

ثُمَّ قَالَ: [قَالَ] بَعْضُهُمْ فِي الْمَعْنَى شِعْرًا:

إِذَا كُنْتَ لا تَدْرِي وَلا أَنْتَ بِالَّذِي … يُسَائِلُ مَنْ يَدْرِي فكيف بأن تدري

إذا كُنْتَ فِي كُلِّ الأُمُورِ بغمةٍ … فَكُنْ هَكَذَا أَرْضًا يَطَاهَا الَّذِي يَدْرِي

جَهِلْتَ فَلَمْ تَعْلَمْ بِأَنَّكَ جاهلٌ … فَمَنْ لِي بِأَنْ تَدْرِي بِأَنَّكَ لا تَدْرِي

وَمِنْ أَعْجَبِ الأَشْيَاءِ أَنَّكَ لا تَدْرِي … وَأَنَّكَ لا تَدْرِي بِأَنَّكَ لا تَدْرِي

قُلْتُ: هَذَا الْكَلامُ الَّذِي سَمِعْتُهُ من الشيخ عثمان قد رُوِيَ عَنِ الْخَلِيلِ بْنِ أَحْمَدَ بإسنادٍ، وَرُوِيَ عَنْهُ أَيْضًا خَبَرٌ يُشْبِهُهُ:

قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْفَضْلِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ فَارِسٍ، أَخْبَرَكُمْ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ نَصْرِ بْنِ الزَّاغُونِيِّ إِجَازَةً؛ وَأَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ ثَابِتُ بْنُ الْمُشَرَّفِ بْنِ أَبِي سَعْدٍ الْخَبَّازُ فِي كِتَابِهِ، قَالَ: أخبرنا أبو بكر ابن الزَّاغُونِيِّ قِرَاءَةً
(একজন ব্যক্তি) জানে এবং সে জানে যে সে জানে, সে হলো আলেম, সুতরাং তোমরা তাকে অনুসরণ করো; আর এক ব্যক্তি জানে কিন্তু জানে না যে সে জানে, সে হলো নিদ্রিত, সুতরাং তাকে জাগ্রত করো; আর এক ব্যক্তি জানে না এবং সে জানে যে সে জানে না, সে হলো পথনির্দেশ প্রত্যাশী, সুতরাং তাকে সঠিক পথ দেখাও; আর এক ব্যক্তি জানে না এবং সে জানে না যে সে জানে না, সে হলো পথভ্রষ্ট, সুতরাং তাকে বর্জন করো।

অতঃপর তিনি বলেন: [বলেছেন] তাদের কেউ কেউ এই বিষয়ের অর্থ সম্পর্কে কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

যখন তুমি জানো না এবং তুমি এমনও নও যে … যে জানে তাকে জিজ্ঞাসা করবে, তবে তুমি কীভাবে জানবে?

যদি তুমি সকল বিষয়ে অজ্ঞতার অন্ধকারে থাকো … তবে তুমি এমন ভূমির ন্যায় হও যাকে জ্ঞানী ব্যক্তি পদদলিত করে।

তুমি অজ্ঞ ছিলে কিন্তু জানতে না যে তুমি অজ্ঞ … তবে কে আছে যে তোমাকে জানাবে যে তুমি জানো না?

আর বিস্ময়কর বিষয়সমূহের মধ্যে একটি হলো এই যে, তুমি জানো না … এবং তুমি এও জানো না যে তুমি জানো না।

আমি বলি: শাইখ উসমানের নিকট থেকে আমি যে কথাটি শুনেছি, তা খলিল বিন আহমদ থেকে সনদের সাথে বর্ণিত হয়েছে এবং তার থেকে অনুরূপ আরেকটি সংবাদও বর্ণিত হয়েছে:

আমি আবু ফজল ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন ফারিসের নিকট পাঠ করেছি, আবু বকর মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ বিন নাসর ইবনুয যাগুনী ইজাজতসূত্রে তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন; এবং আবু সাদ সাবিত বিন মুশাররাফ বিন আবু সাদ আল-খাব্বায তার কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনুয যাগুনী পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٣٤)
عَلِيهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِي بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبُسْرِيُّ إِذْنَا، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ.. .. قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ الزَّاهِدُ، حَدَّثَنَا.. .. عَنِ الْمَازِنِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ الْخَلِيلَ بْنَ أَحْمَدَ.. .. تُؤْجَرُ فِيهِ، ورجلٌ كَانَ عَالِمًا فَتَفَلَّتَ عِلْمُهُ فَذَاكِرْهُ تَنْفَعْهُ وَتَنْتَفِعْ؛ ورجلٌ يُرِيَكَ أَنَّهُ عالمٌ فَلا تُنَاطِقْهُ.

قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَدْ حَدَّثَ فِي النَّاسِ رجلٌ آخَرُ: جاهلٌ يَسْتَجْهِلُ عِلْمَكَ فَاحْذَرْهُ عَلَى نَفْسِكَ.
তার সূত্রে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আবুল কাসিম আলি ইবন আহমদ ইবন আল-বুসরি অনুমতিক্রমে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আবু আব্দুল্লাহ উবাইদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন.. .. তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু উমর আজ-জাহিদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন.. .. আল-মাজিনি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি খলিল ইবন আহমদকে বলতে শুনেছি.. .. যাতে তুমি সওয়াব লাভ করবে; এবং এমন এক ব্যক্তি যে আলিম ছিল কিন্তু তার ইলম হারিয়ে গিয়েছে, তার সাথে ইলমি আলোচনা করো, তাকে উপকৃত করো এবং নিজেও উপকৃত হও; এবং এমন এক ব্যক্তি যে নিজেকে আলিম হিসেবে জাহির করে, তার সাথে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়ো না।

আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আর মানুষের মাঝে বর্তমানে আরও এক প্রকারের ব্যক্তির উদ্ভব ঘটেছে: এমন এক জাহিল যে তোমার ইলমকে অজ্ঞতা হিসেবে সাব্যস্ত করতে চায়, সুতরাং তার থেকে নিজের ব্যাপারে সতর্ক থাকো।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌6- أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَبِي عَلِي بْنِ أَبِي نَصْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الإِسْعَرْدِيُّ:

قَرَأَ بِالْقِرَاءَاتِ عَلَى أَبِي الْجُودِ اللَّخْمِيِّ بِمِصْرَ، وَسَمِعَ بِهَا الْحَدِيثَ مِنْهُ، وَمِنْ غَيْرِهِ؛ ثُمَّ وَرَدَ عَلِينَا دُنَيْسَرَ فَقَرَأْتُ عليه بخان السَّبِيلَ الشِّهَابِيَّ، وَسَمِعْتُ مِنْهُ مَنَامَ حَمْزَةَ بْنِ حَبِيبٍ الزَّيَّاتِ.

قَرَأْتُ عَلَى أَبِي عَمْرٍو عُثْمَانَ بْنِ أَبِي عَلِي الإِسْعَرْدِيِّ بِدُنَيْسَرَ، أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْجُودِ غِيَاثُ بْنُ فَارِسٍ اللَّخْمِيُّ بِالْقَاهِرَةِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْفُتُوحِ نَاصِرُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْحُسَيْنِيُّ الزَّيْدِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ يَحْيَى بْنُ عَلِي بْنِ الْفَرَجِ الْخَشَّابُ الْمُقْرِئُ بِقِرَاءَتِي عَلِيهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْقَزْوِينِيُّ قِرَاءَةً عَلِيهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الطَّيِّبِ عَبْدُ الْمُنْعِمِ بْنُ غَلْبُونٍ الْمُقْرِئُ قِرَاءَةً عَلِيهِ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرِ بْنِ هَارُونَ السَّامِرِيُّ قِرَاءَةً عَلِيهِ، حَدَّثَنَا
৬- আবু আমর উসমান ইবন আবি আলি ইবন আবি নাসর ইবন মুহাম্মদ আল-ইসআরদি:

তিনি মিশরে আবুল জুদ আল-লাখমির নিকট বিভিন্ন কিরাতের পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং সেখানে তাঁর নিকট ও অন্যদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। এরপর তিনি আমাদের নিকট দুনাইসারে আগমন করেন, তখন আমি তাঁর নিকট ‘খান আস-সাবিল আশ-শিহাবি’-তে পাঠ করি এবং তাঁর নিকট হামজা ইবন হাবিব আজ-জাইয়াতের স্বপ্নের বিবরণ শ্রবণ করি।

আমি দুনাইসারে আবু আমর উসমান ইবন আবি আলি আল-ইসআরদির নিকট পাঠ করেছি, (তিনি বলেন) কায়রোতে আবুল জুদ গিয়াস ইবন ফারিস আল-লাখমি আপনাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন কাজি আবুল ফুতুহ নাসির ইবনুল হাসান ইবন ইসমাঈল আল-হুসাইনি আজ-জাইদি, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবুল হুসাইন ইয়াহইয়া ইবন আলি ইবনুল ফারজ আল-খাশ্শাব আল-মুকরি তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, আমাদের অবহিত করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-কাজউিনি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে, আমাদের অবহিত করেছেন আবু তায়্যিব আব্দুল মুনইম ইবন গালবুন আল-মুকরি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবন নাসর ইবন হারুন আস-সামিরি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٣٦)
أَبُو بَكْرٍ الْقَاضِي مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْمَعْرُوفُ بِوَكِيعٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا مَجَّاعَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى حَمْزَةَ بن حَبِيبٍ الزَّيَّاتِ رحمه الله وَهُوَ يَبْكِي، فَقُلْتُ: مَا يُبْكِيكَ؟ فَقَالَ: وَكَيْفَ لا أَبْكِي؟ رَأَيْتُ فِي مَنَامِي كَأَنِّي قَدْ عُرِضْتُ عَلَى اللَّهِ عز وجل، فَقَالَ لِي: يَا حَمْزَةُ اقْرَأِ الْقُرْآنَ كَمَا عَلَّمْتُكَ؛ فَوَثَبْتُ قَائِمًا، فَقَالَ لِي: اجْلِسْ فَإِنِّي أُحِبُّ أَهْلَ الْقُرْآنِ. فَقَرَأْتُ حَتَّى بَلَغْتُ سُورَةَ طَهَ، فقلت: {طوى وأنا اخترتك} فَقَالَ: بَيْنَ {طُوًى وأنَّا اخْتَرْنَاكَ} ثُمَّ قَرَأْتُ حَتَّى بَلَغْتُ سُورَةَ يس، فَأَرَدْتُ أَنْ أُغِطِّيَ، فَقُلْتُ: {تنزيل العزيز الرحيم} فَقَالَ لِي: قُلْ: {تَنْزِيلَ الْعَزِيزِ الرحيم} يَا حَمْزَةُ هَكَذَا قَرَأْتُ، وَهَكَذَا أَقْرَأْتُ حَمَلَةَ الْعَرْشِ، وَكَذَا يَقْرَأُ الْمُقْرِئُونَ؛ ثُمَّ دَعَا عز وجل بِسِوَارٍ فَسَوَّرَنِي، فَقَالَ: هَذَا بِقِرَاءَتِكَ الْقُرْآنَ، ثُمَّ دَعَا بمنطقةٍ فَمَنْطَقَنِي، فَقَالَ: هَذَا بِصَوْمِكَ النَّهَارَ؛ ثُمَّ دَعَا بتاجٍ فَتَوَّجَنِي، ثُمَّ قَالَ: هَذَا لإِقْرَائِكَ النَّاسَ الْقُرْآنَ. يَا حَمْزَةُ لا تَدَعْ تَرْتِيلا فَإِنِّي نَزَّلْتُهُ تَنْزِيلا.

আবু বকর আল-কাদি মুহাম্মদ ইবনে খালাফ, যিনি ওয়াকি হিসেবে পরিচিত, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে রুশাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাজ্জাআহ ইবনুল জুবায়ের আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হামজা ইবনে হাবিব আল-জায়্যাত (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি কাঁদছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: "আপনার কান্নার কারণ কী?" তিনি বললেন: "আমি কেন কাঁদব না? আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমাকে মহান আল্লাহর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আমাকে বললেন: 'হে হামজা, কুরআন পাঠ করো যেভাবে আমি তোমাকে শিখিয়েছি।' তখন আমি লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন: 'বসো, কারণ আমি কুরআনওয়ালাদের ভালোবাসি।' অতঃপর আমি পাঠ করলাম যতক্ষণ না সুরা ত্বহা পর্যন্ত পৌঁছালাম। আমি পাঠ করলাম: {তুওয়া এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি}। তখন তিনি বললেন: {তুওয়া এবং আমরা তোমাকে মনোনীত করেছি}-এর মাঝে। অতঃপর আমি পাঠ করলাম যতক্ষণ না সুরা ইয়াসিন পর্যন্ত পৌঁছালাম। তখন আমি অস্পষ্ট করে পাঠ করতে চাইলাম এবং বললাম: {পরাক্রমশালী পরম দয়ালু কর্তৃক অবতীর্ণ (পেশ যোগে)}। তখন তিনি আমাকে বললেন: 'বলো: পরাক্রমশালী পরম দয়ালু কর্তৃক অবতীর্ণ (জবর যোগে)। হে হামজা, এভাবেই আমি পাঠ করেছি, এভাবেই আমি আরশ বহনকারীদের পাঠ করিয়েছি এবং এভাবেই কারীগণ পাঠ করেন।' অতঃপর মহান আল্লাহ একটি কঙ্কন আনালেন এবং আমাকে পরিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: 'এটি তোমার কুরআন পাঠ করার বিনিময়ে।' এরপর তিনি একটি কোমরবন্ধ আনালেন এবং আমাকে পরিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: 'এটি তোমার দিনে রোজা রাখার বিনিময়ে।' এরপর তিনি একটি মুকুট আনালেন এবং আমাকে পরিয়ে দিলেন। অতঃপর বললেন: 'এটি মানুষকে তোমার কুরআন শিক্ষা দেওয়ার বিনিময়ে। হে হামজা, তুমি তারতিলের সাথে পাঠ করা বর্জন করো না, কারণ আমি তা যথাযথভাবে অবতীর্ণ করেছি।'"

(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٣٧)
‌‌7- أَبُو الْمَعَالِي بْنُ أَبِي الْجَيْشِ بْنِ أَبِي الْمَعَالِي الْمُقْرِئُ الدَّنَيْسَرِيُّ الْحُصَرِيُّ:

قَرَأَ الْقُرْآنَ بِالْقِرَاءَاتِ عَلَى أَبِي جَعْفَرٍ الْقُرْطُبِيِّ بِدِمَشْقَ، وَقَرَأَ عَلَى غَيْرِهِ، وَهُوَ رجلٌ زاهدٌ يُحِبُّ الانْقِطَاعَ عَنِ النَّاسِ، وَالْخُمُولَ، وَكَثْرَةَ قِرَاءَةِ الْقُرْآنَ، وَيَكْرَهُ الْجَاهَ، وَالْقُرْبَ مِنَ السَّلاطِينِ، وَأَنْ يَؤُمَّ بِهِمْ أَوْ بِأَتْبَاعِهِمْ، وَإِذَا عُرِضَ عَلِيهِ شيءٌ مِنْ ذَلِكَ امْتَنَعَ حَتَّى إِنَّهُ امْتَنَعَ مِنَ الإِمَامَةِ بِالْجَامِعِ الْغَرْبِيِّ بِدُنَيْسَرَ لِكَوْنِهَا وِلايَةً سُلْطَانِيَّةً.
৭- আবুল মাআলী বিন আবিল জাইশ বিন আবিল মাআলী আল-মুকরি আদ-দানাইসিরি আল-হুসারি:

তিনি দামেস্কে আবু জাফর আল-কুরতুবির নিকট বিভিন্ন কিরাতে কুরআন পাঠ করেছেন এবং অন্যদের নিকটও পড়েছেন। তিনি ছিলেন একজন যাহিদ ব্যক্তি, যিনি জনবিচ্ছিন্নতা, অখ্যাত থাকা এবং অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা পছন্দ করতেন। তিনি প্রতিপত্তি এবং সুলতানদের নৈকট্য অপছন্দ করতেন এবং তাদের বা তাদের অনুসারীদের ইমামতি করাও অপছন্দ করতেন। যখনই তাঁর নিকট এ জাতীয় কোনো প্রস্তাব দেওয়া হতো, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করতেন; এমনকি তিনি দানাইসিরের জামে আল-গারবিতে ইমামতি করতেও অস্বীকৃতি জানান, যেহেতু তা ছিল সুলতানি প্রশাসনের একটি পদ।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٣٩)
‌‌الْبَابُ الثَّانِي فِي ذِكْرِ مَنْ سَكَنَهَا أَوْ مَرَّ بِهَا مِنْ مَشَايِخِ الْحَدِيثِ وَأَصْحَابِهِ وَرُوَاتِهِ وَعُلَمَائِهِ

‌‌8- أَبُو عَلِي حَنْبَلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ فَرَجِ بْنِ سَعَادَةَ الْمُكَبِّرُ الرُّصَافِيُّ الْبَغْدَادِيّ:

سَمِعَ جَمِيعَ مُسْنَدِ الإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ الشَّيْبَانِيِّ مِنَ الرَّئِيسِ أَبِي الْقَاسِمِ ابن الْحُصَيْنِ، وَحَمَلَ إِلَى إِرْبِلَ فَأَسْمَعَهُ بِهَا، وَسَمِعْتُ بِهَا كَثِيرًا مِنْهُ، ثُمَّ رَحَلَ إِلَى دِمَشْقَ فَأْسَمَعَهُ بِهَا وَأَلْحَقَ هُنَاكَ الصِّغَارَ بِالْكِبَارِ، سَمِعَ عَلِيهِ أَهْلُ دُنَيْسَرَ شَيْئًا مِنْهُ حِينَ قَدِمَهَا عَلِيهِمْ فِي طَرِيقِهِ إِلَى الشَّامِ.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যারা এখানে বসবাস করেছেন অথবা এখান দিয়ে অতিক্রম করেছেন এমন হাদিসের শাইখগণ, তাঁদের সাথীবৃন্দ, বর্ণনাকারীগণ এবং আলিমগণের আলোচনায়

৮- আবু আলী হাম্বল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ফারাজ ইবনে সাআদাহ আল-মুকাব্বির আর-রুসাফি আল-বাগদাদি:

তিনি প্রধান আবু আল-কাসিম ইবনুল হুসাইন থেকে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল আশ-শাইবানি-এর সম্পূর্ণ মুসনাদ শ্রবণ করেছেন। তিনি এটি ইরবিলে বহন করে নিয়ে যান এবং সেখানে তা বর্ণনা করেন; আর আমিও সেখানে তাঁর নিকট থেকে অনেক কিছু শ্রবণ করেছি। অতঃপর তিনি দামেস্কে সফর করেন এবং সেখানেও এটি পাঠ করে শোনান; সেখানে তিনি ছোটদের বড়দের কাতারে শামিল করেন। তিনি যখন শামে যাওয়ার পথে দুনাইসির নামক স্থানে পৌঁছেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরাও তাঁর নিকট থেকে এর কিছু অংশ শ্রবণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٤٠)
قَرَأْتُ عَلَى أَبِي عَلِي حَنْبِلِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَرَجِ بِإِرْبِلَ، أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْعَبَّاسِ بن الحصين الشيباني الكاتب، أنا أَبُو عَلِي الْحَسَنُ بْنُ عَلِي بْنِ الْمُذَهِّبِ، قَالَ: أَنْبَأَ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ الْقُطَيْعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ الشَّيْبَانِيُّ رضي الله عنه، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: ثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، ثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ النُّعْمَانِ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ وكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((اكْتَحِلُوا بِالإِثْمِدِ الْمُرَوَّحِ فَإِنَّهُ يَجْلُو الْبَصَرَ، وَيُنْبِتُ الشَّعْرَ)) .

وَأَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَلِي بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّ عَلِي بْنَ يَحْيَى الْمُدِيرَ أَخْبَرَهُمْ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أبو الحسين ابن النقور، أخبرنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجُنْدِيُّ، حَدَّثَنَا
আমি ইরবিলে আবু আলি হাম্বাল বিন আবদুল্লাহ বিন আল-ফারাজের নিকট পাঠ করেছি। আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ বিন আল-আব্বাস বিন আল-হুসাইন আশ-শাইবানি আল-কাতিব তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আমার নিকট আবু আলি হাসান বিন আলি বিন আল-মুযাহহিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক আল-কুতাইয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানির পুত্র আবদুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আহমদ আজ-জুবাইরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আন-নুমান আব্দুর রহমান বিন আন-নুমান আল-আনসারি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সুগন্ধযুক্ত ইসমদ সুরমা ব্যবহার করো, কেননা তা দৃষ্টিশক্তিকে স্বচ্ছ করে এবং চোখের পাপড়ি উৎপন্ন করে।"

এবং আব্দুর রহমান বিন আলি বিন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আলি বিন ইয়াহইয়া আল-মুদির তাঁদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন ইবনে আন-নাক্কুর আমাদের অবহিত করেছেন, আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-জুন্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٤١)
البغوي، حدثني جدي أحمد بن منيع، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((عَلِيكُمْ بِالإِثْمِدِ عِنْدَ النَّوْمِ، فَإِنَّهُ يَجْلُو الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعْرَ)) .

قَالَ الْبَغَوِيُّ: وَحَدَّثَنَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْهُذَلِي، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَعَلِي بْنُ هَاشِمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَن ِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مثلَهُ.

وَأَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الأَوَّلِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُظَفَّرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ حَمَّوَيْهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خُزَيْمٍ، ثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ:
বাগভী, আমার নিকট আমার দাদা আহমাদ ইবনে মানি' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযিদ আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আল-মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা ঘুমের সময় ইছমিদ (সুরমা) ব্যবহার করো; কেননা তা দৃষ্টিশক্তিকে স্বচ্ছ করে এবং পশম (চোখের পাঁপড়ি) গজায়।"

বাগভী বলেন: আর আমাদের নিকট এটি ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আল-হুযালি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া ও আলী ইবনে হাশিম বর্ণনা করেছেন, তারা ইসমাইল ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি ইবনে আল-মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান, আমাদের জানিয়েছেন আব্দুল আওয়াল, আমাদের জানিয়েছেন ইবনুল মুজাফ্ফার, আমাদের জানিয়েছেন ইবনে হাম্মুওয়াইহি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে খুযাইম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দ ইবনে হুমাইদ, আমাদের জানিয়েছেন জাফর ইবনে আউন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে মুসলিম, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আল-মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٤٢)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((عَلِيكُمْ بِالإِثْمِدِ عِنْدَ النَّوْمِ، فَإِنَّهُ يَشُدُّ الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعْرَ)) .

وَأَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي طَاهِرٍ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْفَرَجِ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ حُبَابَةُ، حَدَّثَنَا البغوي، ثنا محمد بن سنان، ثنا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنِ الْفَرَافِصَةِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ:

قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((عَلِيكُمْ بِالْكُحْلِ، فَإِنَّهُ يُنْبِتُ الشَّعْرَ وَيَشُدُّ الْعَيْنَ)) .

أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُذَهَّبِ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أحمد، حدثني أبي، ثنا يعلى بن عبيد، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ:

قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((خَيْرُ أَكْحَالَكُمُ الإِثْمِدُ، يَجْلُو الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعْرَ)) .

قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: وَحَدَّثَنَا عَلِي بْنُ ثَابِتٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ النُّعْمَانِ بْنِ مَعْبَدِ بْنِ هُوَذَةَ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ:

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِالإِثْمِدِ الْمُرَوَّحِ عِنْدَ النَّوْمِ.
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা ঘুমানোর সময় ইছমিদ সুরমা ব্যবহার করো, কারণ এটি দৃষ্টিশক্তিকে প্রখর করে এবং চুল গজাতে সাহায্য করে।"

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান, আমাদের খবর দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবি তাহির আল-বাযযার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুল ফারাজ আহমদ বিন উসমান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনু হুবাবাহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-বাগাভি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন সিনান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আসিম, উসমান বিন আবদুল মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি ফারাফিসাহ থেকে এবং তিনি উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সুরমা ব্যবহার করো, কারণ এটি চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চোখকে শক্তিশালী করে।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান, আমাদের খবর দিয়েছেন ইবনুল হুসাইন, আমাদের খবর দিয়েছেন ইবনুল মুযাহহাব, আমাদের খবর দিয়েছেন আহমদ বিন জাফর, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ, তিনি বলেন আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়ালা বিন উবাইদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুফিয়ান, আবদুল্লাহ বিন উসমান থেকে বর্ণিত, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের সুরমাসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হলো ইছমিদ, এটি দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং চুল গজাতে সাহায্য করে।"

আহমদ বিন হাম্বল বলেছেন: এবং আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী বিন সাবিত, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন নুমান বিন মাবাদ বিন হুযাহ আল-আনসারী, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমানোর সময় সুগন্ধযুক্ত ইছমিদ সুরমা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٤٣)
قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: الْمُرَوَّحُ: الْمُطَيَّبُ بِالْمِسْكِ.

قُلْتُ: الإِثْمِدُ يَحْفَظُ صِحَّةَ الْعَيْنِ، وَيَجْلُوهَا مَدَّ الْبَصَرِ، وَيَحُلُّ مَا فِي الْعَيْنِ مِنَ الْكَدَرِ.

أَخْبَرَنَا حَنْبَلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِي، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا أَبُو أُوَيْسٍ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ:

أَنَّ ِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ وَسَارَ وَهُوَ مَعَهُ نَحْوَ مَكَّةَ، حَتَّى إِذَا كَانُوا بِشِعْبِ الْخَرَّارِ مِنَ الْجُحْفَةِ اغْتَسَلَ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ، وَكَانَ رَجُلا أَبِيضَ حَسِنَ الْجِلْدِ وَالْجِسْمِ، فَنَظَرَ إِلِيهِ عَامِرُ بْنُ رَبِيعَةَ، أَخُو بَنِيَ عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ، وَهُوَ يَغْتَسِلُ فَقَالَ: مَا رَأَيْتُ كَالِيوْمِ وَلا جِلْدَ مخبأةٍ؛ فَلُبِطَ بِسَهْلٍ. فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقِيلَ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ سهلٌ وَاللَّهِ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَمَا يُفِيقُ. قَالَ: ((هَلْ تَتَّهِمُونَ فِيهِ مِنْ أَحَدٍ)) ؟ قَالُوا: نَظَرَ إِلِيهِ عَامِرُ بْنُ رَبِيعَةَ. فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامِرًا، فَتَغَيَّظَ عَلِيهِ، وَقَالَ: ((عَلَى مَا يَقْتُلُ أَحَدُكُمْ أخاه؟ هلا إذا رَأَيْتَ مَا يُعْجِبُكَ بَرَّكْتَ؟)) .

ثُمَّ قَالَ: ((اغْتَسِلْ لَهُ)) . فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ وَمِرْفَقَيْهِ وَرُكْبَتَيْهِ وَأَطْرَافَ رِجْلِيهِ، وَدَاخِلَةَ إِزَارِهِ فِي قَدَحٍ، ثُمَّ صَبَّ ذَلِكَ الْمَاءَ عَلِيهِ، يَصُبُّهُ عَلَى رَأْسِهِ وَظَهْرِهِ
আবু উবাইদ বলেছেন: মুরাওয়াহ হলো যা কস্তুরী দ্বারা সুগন্ধিযুক্ত করা হয়েছে।

আমি বলছি: ইসমিদ চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, এটি দৃষ্টিশক্তিকে প্রখর করে এবং চোখের আবিলতা দূর করে।

হাম্বল ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উওয়াইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহরী আবু উমামাহ ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা তাকে জানিয়েছেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং সফর করলেন, সাহলও তাঁর সাথে ছিলেন। যখন তাঁরা জুহফার অন্তর্গত খিররার উপত্যকায় পৌঁছালেন, তখন সাহল ইবনে হুনাইফ গোসল করলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ফর্সা এবং সুন্দর চামড়া ও সুঠাম দেহের অধিকারী একজন মানুষ। বনু আদি ইবনে কাব গোত্রের আমের ইবনে রাবিআ তাকে গোসলরত অবস্থায় দেখে বললেন, "আমি আজকের মতো এমন দৃশ্য আর দেখিনি, এমনকি কোনো পর্দানশীন কুমারীর চামড়াও এতো সুন্দর দেখিনি।" তৎক্ষণাৎ সাহল আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসা হলো এবং তাঁকে বলা হলো, "হে আল্লাহর রাসুল! সাহল—আল্লাহর কসম—সে মাথা উঠাতে পারছে না এবং তার জ্ঞানও ফিরছে না।" তিনি বললেন, "তোমরা কি এই ব্যাপারে কাউকে সন্দেহ করছো?" তাঁরা বললেন, "আমের ইবনে রাবিআ তার দিকে তাকিয়েছিল।" তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমেরকে ডাকলেন এবং তার প্রতি রাগান্বিত হলেন। তিনি বললেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ কেন তার ভাইকে হত্যা করতে চাও? যখন তুমি এমন কিছু দেখলে যা তোমাকে মুগ্ধ করেছে, তখন কেন তুমি তার জন্য বরকতের দোয়া করলে না?"

তারপর তিনি বললেন, "তার জন্য গোসল করো।" তখন আমের একটি পাত্রে তার মুখমণ্ডল, উভয় হাত, উভয় কনুই, উভয় হাঁটু, উভয় পায়ের প্রান্তসমূহ এবং তার লুঙ্গির ভেতরের অংশ ধৌত করলেন। এরপর সেই পানি সাহলের ওপর ঢেলে দেওয়া হলো; তাঁর মাথায় ও পিঠের ওপর তা ঢালা হলো।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٤٤)
مَنْ خَلْفِهِ، ثُمَّ يُكْفِي الْقَدَحُ وَرَاءَهُ. فَفُعِلَ بِهِ ذَلِكَ، فَرَاحَ سهلٌ مَعَ النَّاسِ لِيسَ بِهِ بأسٌ.

قُلْتُ: قَوْلَهُ: لُبِطَ بِهِ: أَيْ صُرِعَ. وَقَوْلُهُ: بَرَّكْتَ: أَيْ دَعْوَتَ بِالْبَرَكَةِ. وَقَوْلُهُ: دَاخِلَةَ إِزَارِهِ؛ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: طَرْفَ إِزَارِهِ الدَّاخِلِ، الَّذِي يَلِي جَسَدَهُ، وَهُوَ يَلِي الْجَانِبَ الأَيْمَنَ مِنَ الرَّجْلِ، لأَنَّ الْمُؤْتَزِرَ [إِنَّمَا] يَبْدَأُ إِذَا اتَّزَرَ بِجَانِبِهِ الأَيْمَنَ، فَذَلِكَ الطَّرَفُ يُبَاشِرُ جَسَدَهُ فَهُوَ الَّذِي يُغْسَلُ. وَقَوْلُهُ: يُكَفِي الْقَدَحُ وَرَاءَهُ: أَيْ يَقْلِبُهُ وَرَاءَهُ.

وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثُ فِي الْعَيْنِ، وَأَنَّهَا حَقٌّ، مِنْهَا قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: ((الْعَيْنُ حَقٌّ)) .

أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَلِي، أَخْبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِي التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بكر ابن مَالِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ:

قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((الْعَيْنُ حَقٌّ)) . أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ.

وَأَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ الْقَزَّازُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ ثَابِتٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ بْنُ مَهْدِيٍّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بن مخلد، ثنا شُعَيْبُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ، قَالَ:
তার পিছন থেকে, এরপর পাত্রটি তার পেছনে উপুড় করে দেওয়া হবে। তার সাথে এমনটাই করা হলো, ফলে সাহল মানুষের সাথে এমনভাবে চলে গেলেন যে তার কোনো কষ্ট ছিল ছিল না।

আমি বলছি: তাঁর উক্তি: "তাকে আছাড় দেওয়া হয়েছে" অর্থাৎ সে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গিয়েছিল। তাঁর উক্তি: "তুমি বরকতের দোয়া করেছ" অর্থাৎ তুমি বরকতের জন্য প্রার্থনা করেছ। তাঁর উক্তি: "তার লুঙ্গির ভেতরের অংশ"; আবু উবাইদ বলেছেন: তার পরিধেয় বস্ত্রের ভেতরের প্রান্ত যা তার শরীরের সংলগ্ন থাকে এবং এটি ব্যক্তির ডান পাশে থাকে, কারণ পরিধানকারী যখন লুঙ্গি পরিধান শুরু করে তখন তার ডান দিক থেকেই শুরু করে, ফলে সেই প্রান্তটি তার শরীরের সংস্পর্শে থাকে এবং সেটিই ধৌত করা হয়। তাঁর উক্তি: "পাত্রটি তার পেছনে উপুড় করে দেওয়া হবে" অর্থাৎ সেটিকে তার পেছনে উল্টে দেওয়া হবে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বদনজর সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং এটি যে সত্য তাও বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী হলো: "বদনজর লাগা সত্য।"

আবদুর রহমান ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবনে আলী আত-তামিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবনে মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "বদনজর লাগা সত্য।" তাঁরা উভয়ই এটি সহিহাইনে (বুখারি ও মুসলিম) উদ্ধৃত করেছেন।

এবং আবদুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মানসুর আল-কাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবনে সাবিত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর ইবনে মাহদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শুআইব ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়া ইবনে হিশাম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٤٥)
قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ((الْعَيْنُ تُدْخِلُ الرَّجُلَ الْقَبْرَ، وَالْجَمَلَ الْقِدْرَ)) .

وَقَدْ رُوِيَتْ أَحَادِيثُ كَثِيرَةٌ فِي هَذَا الْمَعْنَى.

فَإِنْ قِيلَ: كَيْفَ يَعْمَلُ نَظَرُ الْعَيْنِ مِنْ بعدٍ حَتَّى يُؤَثِّرَ؟

فَقَدْ أجاب شيخنا أبو الفرج ابن الْجَوْزِيِّ: أَنَّ طَبَائِعَ النَّاسِ تَخْتَلِفُ كَمَا يَخْتَلِفُ طَبَائِعُ الْهُوَامِّ، وَقَدْ جَاءَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَمَرَ بِقَتْلِ ذِي الطُّفْيَتَيْنِ مِنَ الْحَيَّاتِ وَالأَبْتَرِ، وَقَالَ: إِنَّهُمَا يَطْمِسَانِ الْبَصَرَ، وَيُسْقِطَانِ الْحَبَلَ؛ وَإِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ بِسُمٍّ فَصَلَ عَنْ أَعْيُنِهِمَا فِي الْهَوَاءِ حَتَّى أَصَابَ مَنْ رَأَيْنَهُ، فَكَذَلِكَ الآدَمِيُّ.

قَالَ ابْنُ السَّائِبِ: كَانَ فِي الْمُشْرِكِينَ مَنْ يَمْكُثُ الِيوْمَيْنِ وَالثَّلاثَةَ لا يَأْكُلُ، ثُمَّ يَرْفَعُ جَانِبَ خِبَائِهِ، فَتَمُرُّ بِهِ النِّعَمُ، فَيَقُولُ: لَمْ أَرَ كَالِيوْمِ إِبِلا، وَلا أَحْسَنَ مِنْ هَذِهِ. فَمَا تَذْهَبُ إِلا قَرِيبًا حَتَّى يَسْقُطَ مِنْهَا عِدَّةٌ.

وَقَالَ الأَصْمَعِيُّ: رَأَيْتُ رَجُلا عَيُونَا يَقُولُ: إِذَا رَأَيْتُ الشَّيْءَ يُعْجِبْنِي وَجَدْتُ حَرَارَةً تَخْرُجُ مِنْ عَيْنِي. وَقَدْ عُلِمَ أَنَّ فِي النَّاسِ مَنْ تَلْسَعُهُ الْعَقْرَبُ فَتَمُوتُ.

قَالَ ابْنُ قُتَيْبَةَ: كَانَ الْمُتَوَكِّلُ قَدْ جِيءَ بِأَسْوَدَ مِنْ بَعْضِ الْبَوَادِي يَأْكُلُ الأَفَاعِي وَهِيَ أحياءٌ، وَيَتَلَقَّاهَا بِالنَّهْشِ مِنْ جِهَةِ رُؤُوسِهَا، وَيَأْكُلُ ابْنَ عِرْسٍ وَيَتَلَقَّاهُ بِالنَّهْشِ والأَكْلِ مِنْ جِهَةِ رَأْسِهِ، وَأُتِيَ بِآخَرَ يَأْكُلُ الْجَمْرَ كَمَا يَأْكُلُهُ الظَّلِيمُ.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "বদনজর মানুষকে কবরে এবং উটকে হাঁড়িতে প্রবেশ করায়।"

এই মর্মে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: চোখের দৃষ্টি কীভাবে দূর থেকে কাজ করে প্রভাব ফেলে?

আমাদের শায়খ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী উত্তর দিয়েছেন: মানুষের প্রকৃতি যেমন ভিন্ন হয়, বিষাক্ত পোকামাকড়ের প্রকৃতিও তেমনি ভিন্ন হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি পিঠে দুটি রেখাবিশিষ্ট সাপ এবং লেজকাটা সাপ মারার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন: এই দুটি দৃষ্টিশক্তি হরণ করে এবং গর্ভপাত ঘটায়। মূলত এটি এক প্রকার বিষের কারণে হয়, যা তাদের চোখ থেকে বাতাসে বিচ্ছুরিত হয়ে সেই ব্যক্তিকে আক্রান্ত করে যাকে তারা দেখে; মানুষের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ।

ইবনুল সায়েব বলেন: মুশরিকদের মধ্যে এমন ব্যক্তি ছিল যে দুই-তিন দিন কিছু না খেয়ে থাকত, এরপর সে তার তাঁবুর এক পাশ তুলত এবং তার সামনে দিয়ে গবাদি পশু যাওয়ার সময় সে বলত: "আজকের মতো উট আমি কখনো দেখিনি, আর এর চেয়ে সুন্দর উটও আর হয় না।" এরপর অল্প সময় অতিবাহিত না হতেই তার মধ্য থেকে বেশ কিছু উট লুটিয়ে পড়ত।

আসমাঈ বলেন: আমি এমন একজন বদনজর দানকারী ব্যক্তিকে দেখেছি যে বলত: "যখন আমি কোনো পছন্দনীয় বস্তু দেখি, তখন আমি আমার চোখ থেকে তাপ বের হতে অনুভব করি।" আর এটি জানা আছে যে, মানুষের মধ্যে এমনও আছে যাকে বিচ্ছু হুল ফোটালে বিচ্ছুটিই মারা যায়।

ইবনু কুতাইবা বলেন: খলীফা মুতাওয়াক্কিলের কাছে কোনো এক মরুভূমি থেকে এমন এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে আনা হয়েছিল, যে জীবন্ত সাপ খেয়ে ফেলত এবং সেগুলোকে মাথার দিক থেকে কামড় দিয়ে ধরে ফেলত। সে নেউলকেও মাথার দিক থেকে কামড় দিয়ে খেয়ে ফেলত। আবার অন্য এমন এক ব্যক্তিকে আনা হয়েছিল, যে উটপাখির মতো জ্বলন্ত কয়লা খেয়ে ফেলত।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٤٦)
فَلا تُنْكِرْ أَنْ يَكُونَ فِي النَّاسِ ذُو طَبِيعَةٍ ذَاتِ سُمٍّ وضررٍ، فَإِذَا نَظَرَ إِلَى الشَّيْءِ يُعْجِبُهُ فَصَلَ مِنْ عَيْنِهِ فِي الْهَوَاءِ شيءٌ مِنَ السُّمِّ فَيَصِلُ إِلَى الْمَرْئِيِّ فَيُعِلُّهُ.

وَمِمَّا يُشْبِهُ هَذَا، أَنَّ الْمَرْأَةَ الطَّامِثَ تَدْنُو مِنْ إنَاءِ اللَّبِنِ فَيَفْسَدُ اللَّبَنُ، وَلِيسَ ذَلِكَ إِلا لشيءٍ [فصَلَ من بدنها فو] صل إِلَى اللَّبَنِ. وَقَدْ تَدْخُلُ الْبُسْتَانَ فَتَضُرُّ بكثيرٍ مِنَ الْغُروسِ مَنْ غير أن تمـ[ـسها، وَلا يَخْتَمِرُ الْعَجِينُ] إِذَا وُضِعَ فِي الْبَيْتِ الَّذِي فِيهِ الْبِطِّيخَ، وَنَاقِفُ الْحَنْظَلِ تَدْمَعُ عَيْنَاهُ، وَكذَلِكَ قَاطِعُ الْبَصَلِ تَدْمَعُ عَيْنَاهُ، وَالنَّاظَرُ إِلَى الْعَيْنِ الْمُحْمَرَّةِ [تَعْتَرِي عَيْنَهُ حمرةٌ] ؛ وَقَدْ يَتَثَاءَبُ الرَّجُلُ فَيَتَثَاءَبُ غَيْرُهُ. هَذَا آخِرُ كَلامِ الشَّيْخِ أَبِي الْفَرَجِ.

قُلْتُ: وَقَدْ رَوَى شَيْخُنَا حَنْبَلٌ عَنْ غَيْرِ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ الْحُصَيْنِ.

أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِي حَنْبَلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّصَافِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَعَالِي مَنْصُورُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَنْصُورٍ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْغَزَّالِ السَّاقِي، أَخْبَرَنَا أَبُو الحسين ابن النَّقُورِ، حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُخَلِّصُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْبَغَوِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ رَاشِدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ الواسطي، قال: أخبرني أبي رَاشِدِ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ قَالَ:

أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رجلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ حَدِّثْنِي [حَدِيثًا] وَاجْعَلْهُ وَجِيزًا؛ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ((صَلِّ صَلاةَ مودعٍ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ كُنْتَ لا تَرَاهُ
অতএব মানুষের মাঝে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর স্বভাবসম্পন্ন কারো অস্তিত্বকে অস্বীকার করবেন না। যখন সে এমন কিছুর দিকে তাকায় যা তাকে মুগ্ধ করে, তখন তার চোখ থেকে বাতাসের মাধ্যমে বিষাক্ত কিছু নির্গত হয় এবং তা দৃষ্ট বস্তুর নিকট পৌঁছায়, ফলে তাকে রোগাক্রান্ত করে ফেলে।

আর এর সদৃশ বিষয় হলো, ঋতুবতী নারী যখন দুধের পাত্রের নিকটবর্তী হয় তখন দুধ নষ্ট হয়ে যায়। এটি কেবল তার শরীর থেকে নির্গত হয়ে দুধে গিয়ে পৌঁছানো কোনো কিছুর কারণেই ঘটে। সে হয়তো কোনো বাগানে প্রবেশ করে এবং কোনো স্পর্শ ছাড়াই অনেক চারাগাছের ক্ষতি করে ফেলে। আর যে ঘরে তরমুজ থাকে সেখানে রাখা খামির ফুলে ওঠে না (গাঁজানো হয় না)। আবার মাকাল ফল বিদীর্ণকারীর চোখ থেকে পানি পড়ে; একইভাবে যে পেঁয়াজ কাটে তার চোখ থেকেও পানি পড়ে। যে ব্যক্তি লাল (প্রদাহযুক্ত) চোখের দিকে তাকায়, তার চোখেও লালচে ভাব চলে আসে। আবার কোনো ব্যক্তি হাই তুললে অন্যজনও হাই তোলে। এটিই শায়খ আবুল ফারাজের বক্তব্যের শেষ অংশ।

আমি বলছি: আমাদের শায়খ হানবাল এটি আবুল কাসিম ইবনুল হুসাইন ব্যতীত অন্য সূত্র থেকেও বর্ণনা করেছেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হানবাল বিন আব্দুল্লাহ আর-রুসাফী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাআলী মানসুর বিন আহমাদ বিন মানসুর—যিনি ইবনুল গাজ্জাল আস-সাকী নামে পরিচিত—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন ইবনুন নাক্কুর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুখাল্লিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আল-বাগাবী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন রাশিদ বিন আবদি রাব্বিহি আল-ওয়াসিতী, তিনি বলেন: আমাকে আমার পিতা রাশিদ বিন আবদি রাব্বিহি সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাফে, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন লোক আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে একটি হাদিস বলুন এবং তা সংক্ষিপ্ত রাখুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "বিদায় গ্রহণকারীর ন্যায় সালাত আদায় করো যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও...
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٤٧)
فَإِنَّهُ يَرَاكَ، وَآيسْ مِمَّا فِي أَيْدِي النَّاسِ تَعِشْ غَنِيًّا، وَإِيَّاكَ وَمَا يُعْتَذَرُ مِنْهُ)) .

وَأَخْبَرَنَا حَنْبَلٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْمَعَالِي، أَخْبَرَنَا ابْنُ النقور، حدثنا المخلص، حديثنا يَحْيَى بْنُ صَاعِدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَان ووكيع، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، عَنْ شُرَيْكٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ خَمْسِينَ مَرَّةً خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ)) .

تُوُفِّيَ شَيْخُنَا حَنْبَلٌ بِبَغْدَادَ سَنَةَ ثلاث وستمئة، بَعْدَ رُجُوعِهِ مِنَ الشَّامِ بِقَلِيلٍ.
কেননা তিনি তোমাকে দেখছেন; আর মানুষের হাতে যা রয়েছে তা থেকে নিরাশ হয়ে যাও, তবেই তুমি অভাবমুক্ত হয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারবে; এবং ঐ সকল কাজ থেকে বিরত থাকো যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্বল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাআলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুন নাকূর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুখলিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ও ওয়াকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান, তিনি শারীক থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি পঞ্চাশ বার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে, সে তার গুনাহসমূহ থেকে ঐ দিনের ন্যায় (নিষ্পাপ হয়ে) বের হবে যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিলেন।"

আমাদের শাইখ হাম্বল শাম (সিরিয়া) থেকে প্রত্যাবর্তনের অল্প সময় পর ছয়শত তিন হিজরী সনে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٤٨)
‌‌9- أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ يَحْيَى بْنِ أحمد بن طبرزذ، الْحَنْبَلِي الْبَغْدَادِيّ الدَّارَقُزِيُّ:

كَانَ قَدْ بَكَرَ بِهِ أَخُوهُ أَبُو الْبَقَاءِ، فَأَسْمَعَهُ الْعَوَالِي مِنْ أَبِي الْقَاسِمِ ابن الْحُصَيْنِ، وَأَبِي الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْحَرِيرِيِّ، وَأَبِي غَالِبِ بْنِ البَنَّا، وَأَبِي بَكْرٍ الأَنْصَارِيِّ، وَغَيْرِهِمْ مِنْ نُظُرَائِهِمْ؛ فَلَمَّا فَهِمَ الطَّلَبَ قَصَدَ هُوَ أَيْضًا الشُّيُوخَ، وَسَمِعَ الْكَثِيرَ، وَسَمَاعَاتُهُ مضبوطة؛ سمع منه الكثير ببغداذ وَإِرْبِلَ وَدِمَشْقَ، وَغَيْرِهَا، وَأَلْحَقَ الصِّغَارَ بِالْكِبَارِ، وَتَفَرَّدَ بِكَثْرَةِ السَّمَاعِ مَعَ عُلُوِّ الرِّوَايَةِ، وَسَمِعَ مِنْهُ أَهْلُ دُنَيْسَرَ حِينَ قَدِمَهَا عَلِيهِمْ مَارًّا إِلَى الشَّامِ؛ وَلَمْ أَسْمَعْ مِنْ أحدٍ مِنَ الشُّيُوخِ أَكْثَرَ مِنْ سَمَاعِي مِنْهُ.

أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُعَمَّرِ بْنِ طَبَرْزَدْ، بِقِرَاءَةِ أَبِي نَصْرِ ابن
৯- আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন মা'মার বিন ইয়াহইয়া বিন আহমদ বিন তাবারজাদ, আল-হানবালি আল-বাগদাদি আদ-দারাকুজি:

তার ভাই আবু আল-বাকা তাকে খুব অল্প বয়সেই ইলম অর্জনের পথে নিয়ে যেতেন। তিনি তাকে আবুল কাসিম ইবনুল হুসাইন, আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ বিন উমর আল-হারিরি, আবু গালিব ইবনুল বান্না, আবু বকর আল-আনসারি এবং তাদের সমপর্যায়ের অন্যান্যদের নিকট থেকে উঁচু স্তরের (আওয়ালী) হাদিসসমূহ শ্রবণ করিয়েছেন। অতঃপর যখন তিনি ইলম অন্বেষণের গুরুত্ব বুঝতে শিখলেন, তখন নিজেও শায়খদের উদ্দেশ্য করে যাত্রা করলেন এবং প্রচুর পরিমাণে হাদিস শ্রবণ করলেন; তার সংগৃহীত শ্রবণসমূহ ছিল অত্যন্ত সুসংরক্ষিত। বাগদাদ, ইরবিল, দামেস্ক এবং অন্যান্য স্থানে অসংখ্য লোক তার নিকট থেকে বর্ণনা শ্রবণ করেছেন। তিনি ছোটদের বড়দের সাথে (উচ্চ সনাদের মাধ্যমে) সংযুক্ত করেছেন। উচ্চ স্তরের বর্ণনার (উলুউ) পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে শ্রবণের ক্ষেত্রে তিনি অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। সিরিয়ার পথে যাওয়ার সময় যখন তিনি দুনাইসার অঞ্চলে পৌঁছেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা তার নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। আমি আমার শায়খদের মধ্যে অন্য কারো নিকট থেকে তার চেয়ে অধিক পরিমাণে হাদিস শ্রবণ করিনি।

আবু নাসর ইবনে-এর পাঠের মাধ্যমে আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুয়াম্মার বিন তাবারজাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন:
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٤٩)
وَهْبَانَ عَلِيهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ بِدَارِ الْحَدِيثِ الْمُظَفَّرِيَّةِ بِإِرْبِلَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ بْنِ الطَّبَرِ الْحَرِيرِيُّ، بِقِرَاءَةِ أَخِي عَلِيهِ فِي ذِي الْقِعْدَةِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وعشرين وخمسمئة، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِي بْنِ الْفَتْحِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَتْحِ الْحَرْبِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْعُشَارِيِّ، قِرَاءَةً عَلِيهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، يَوْمَ الثُّلاثَاءِ الْعِشْرِينَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ أربعٍ وَأَرْبَعِينَ وأربعمئة، أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُخَلِّصُ، قِرَاءَةً عَلِيهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سنة سبع وثمانين وثلثمائة، حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أنسٍ، قَالَ:

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاءَ قَالَ: ((أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ)) .

وَقَدْ رَوَاهُ حَمَّادُ [بْنُ زَيْد عَنْ] عَبْدِ الْعَزِيزِ، فَقَالَ فِيهِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ.

أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصِ بْنُ طَبَرْزَدْ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْبَدْرِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَنْصُورٍ الْكَرْخِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِي بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ، أَخْبَرَنَا الْقَاضِي
ওয়াহবান তার নিকট পাঠ করেছেন, আর আমি শুনছিলাম ইরবিলের দারুল হাদিস আল-মুজাফফারিয়্যাহতে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আহমাদ বিন উমার বিন আত-তাবার আল-হারিরি, আমার ভাইয়ের পাঠের মাধ্যমে তার নিকট পাঁচশ চব্বিশ হিজরি সালের যুল-কা’দাহ মাসে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মাদ বিন আলি বিন আল-ফাতহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-ফাতহ আল-হারবি, যিনি ইবনুল উশারি নামে পরিচিত, তার নিকট পাঠের মাধ্যমে, আর আমি শুনছিলাম, চারশ চুয়াল্লিশ হিজরি সালের বিশে যিলহজ মঙ্গলবার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আল-আব্বাস বিন আব্দুর রহমান আল-মুখাল্লিস, তার নিকট পাঠের মাধ্যমে, আর আমি শুনছিলাম, তিনশ সাতাশি হিজরি সালের রমজান মাসে, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন সায়িদ, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ, আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়ারিস বিন সাঈদ, আব্দুল আজিজ বিন সুহাইব থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: "আমি আল্লাহর নিকট অপবিত্র নর ও নারী শয়তানদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

আর এটি হাম্মাদ [বিন যায়েদ] আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাতে তিনি বলেছেন: "হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস বিন তাবারযাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বদর ইব্রাহিম বিন মানসুর আল-কারখি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন আলি বিন সাবিত আল-খাতিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাদি...
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٥٠)
أَبُو عُمَرَ الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا أبو علي اللؤلؤي، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَعَبْدُ الْوَارِثِ، عن َعَبْدُ العزيز، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ:

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاءَ؛ قَالَ عَنْ حَمَّادِ قَالَ: ((اللَّهُمِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ)) . وَقَالَ عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ قَالَ: ((أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ)) .

بَعْضُ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ يَرْوُونَهُ: الْخُبْثِ، بِتَسْكِينِ الْبَاءِ، وَكَذَلِكَ رَوَاهُ أَبُو عُبَيْدٍ.

قَالَ أَبُو سُلِيمَانَ الْخَطَّابِيُّ: وَإِنَّمَا هُوَ الْخُبُثِ، مَضْمُومَةُ الْبَاءِ: جَمْعُ خَبِيثٍ، وَالْخَبَائِثِ: جَمْعُ خبيثةٍ، اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ مِنْ مَرَدَةِ ذُكُورِهِمْ وَإِنَاثِهِمْ.

وَفِي قَوْلِ أَبِي عُبَيْدٍ: الْخُبْثُ: بِتَسْكِينِ الْبَاءِ؛ الإِنْسُ. وَالْخَبَائِثُ: الشَّيَاطِينُ.

أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصِ بْنُ طَبَرْزَد الدَّارَقَزِّيُّ بِإِرْبِلَ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي الأَنْصَارِيُّ فِي رَبِيعِ الأَوَّلِ سَنَةَ خمسٍ وعشرين وخمسمئة، أَخْبَرَنَا أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِي بْنِ الْفَتْحِ الْحَرْبِيُّ الْعُشَارِيُّ فِيمَا قُرِئَ عَلِيهِ وَأَنَا حاضرٌ أَسْمَعُ
আবু উমর আল-কাসিম ইবনে জাফর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশেমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-লু’লুয়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ এবং আব্দুল ওয়ারিস, আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন; হাম্মাদ থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতে তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" আর আব্দুল ওয়ারিস থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতে তিনি বলতেন: "আমি আল্লাহর নিকট অপবিত্র পুরুষ ও নারী শয়তানদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

হাদীসের কোনো কোনো রাবী একে 'বা' অক্ষরে সুকুন দিয়ে 'খুবছ' রূপে বর্ণনা করেছেন এবং আবু উবাইদও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি বলেন: এটি মূলত 'বা' অক্ষরে পেশ দিয়ে 'খুবুছ', যা 'খাবীছ'-এর বহুবচন; আর 'খাবাইছ' হলো 'খাবীছাহ'-এর বহুবচন। তিনি শয়তানদের অবাধ্য পুরুষ ও নারীদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।

আবু উবাইদের মতে: 'বা' অক্ষরে সুকুন দিয়ে 'খুবছ' অর্থ হলো মানুষ, আর 'খাবাইছ' হলো শয়তানকুল।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস ইবনে তাবারযাদ আদ-দারা কায্যি ইরবিলে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি আল-আনসারি পাঁচশ পঁচিশ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল ফাতহ আল-হারবি আল-উশারি—যা তাঁর নিকট পঠিত হয়েছে এবং আমি উপস্থিত থেকে তা শ্রবণ করেছি।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٥١)
فِي صَفَرٍ مِنْ سَنَةٍ خَمْسِينَ وأربعمئة، حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ عَلِي الْوَزِيرُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِي بْنِ زَيْدٍ، وَيُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ:

أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ، وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ [وَيَدِهِ] ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ السُّوءَ؛ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لا يَدْخُلُ الْجنَّةَ عبدٌ لا يُؤْمِنُ جَارُهُ بوائِقَهُ)) . وَقَدْ رُوِيَ: يَأْمَنُ.

وَأَخْبَرَنَا ابْنُ طَبَرْزَدْ، أَخْبَرَنَا ابْنُ خَيْرُونٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِي عِيسَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْجُرَيْجِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى ثَعْلَبٌ، قَالَ:
৪৫০ হিজরীর সফর মাসে, আবুল কাসিম ঈসা বিন আলী আল-ওয়াজীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নাসর আত-তাম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন যায়দ, ইউনুস বিন উবায়েদ এবং হুমায়দ থেকে, তাঁরা আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((মুমিন সেই ব্যক্তি যার থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে, আর মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা [ও হাত] থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে এবং মুহাজির সেই ব্যক্তি যে মন্দ কাজ ত্যাগ করে; সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, এমন কোনো বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ নয়।)) এবং এটিও বর্ণিত হয়েছে: ‘নিরাপদ বোধ করে’।

এবং ইবনে তাবারযাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে খায়রূন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-খাতীব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফেজ আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী ঈসা বিন মুহাম্মদ আল-জুরায়জী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন ইয়াহইয়া ছা'লাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٥٢)
كُنْتُ أُحِبُّ أَنْ أَرَى أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ، فَصِرْتُ إِلِيهِ، فَلَمَّا دَخَلْتُ عَلِيهِ قَالَ لِي: فِيمَ تَنْظُرُ؟ فَقُلْتُ: فِي النَّحْوِ وَالْعَرَبِيَّةِ؛ فَأَنْشَدَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بن حنبل:

إِذَا مَا خَلَوْتَ الدَّهْرَ يَوْمًا فَلا تَقُلْ … خَلَوْتُ، وَلَكِنْ قُلْ: عَلِيَّ رقيبٌ

وَلا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ يُغْفِلُ مَا مَضَى … وَلا أَنَّ مَا نُخْفِي عَلِيهِ يَغِيبُ

لَهَوْنَا عَنِ الأَيَّامِ حَتَّى تَتَابَعَتْ … ذنوبٌ عَلَى آثَارِهِنَّ ذُنُوبُ

فَيَا لِيتَ أَنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ مَا مَضَى … وَيَأْذَنُ فِي تَوْبَاتِنَا فَنَتُوبُ

أَخْبَرَنَا الطَّبَرْزَدِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَزَّازُ، أَنْشَدَنَا أَسْبَهَدُوسْتَ الدَّيْلَمِيُّ، أَنْشَدَنَا أَبُو نَصْرٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ نَبَاتَةَ السعدي لنفسه:

وَلَمَّا اسْتَقَلَّتْ لِلرَّوَاحِ حَمُولَهُمْ … فَلَمْ يَبْقَ إِلا شامتٌ وَغَيُورُ

وَقَفْنَا فمن باكٍ [يكفكف دمـ]ـعة … وملتزمٍ قَلْبًا يَكَادُ يَطِيرُ
আমি আহমাদ ইবনে হাম্বালকে দেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতাম, তাই আমি তাঁর নিকট গমন করলাম। যখন আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম, তিনি আমাকে বললেন: "তুমি কোন বিষয়ে অধ্যয়ন করো?" আমি বললাম: "নাহু এবং আরবী ভাষা নিয়ে।" তখন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বাল আমাকে আবৃত্তি করে শোনালেন:

তুমি যদি কখনো নির্জনে সময় অতিবাহিত করো, তবে বলো না যে … "আমি একাকী", বরং বলো: "আমার উপর একজন পর্যবেক্ষক রয়েছেন।"

আর তুমি কখনো মনে করো না যে, যা অতিবাহিত হয়েছে সে সম্পর্কে আল্লাহ উদাসীন … অথবা আমরা যা গোপন করি তা তাঁর নিকট অদৃশ্য থাকে।

আমরা দিনগুলোকে হেলায় কাটিয়েছি, যার ফলে … একের পর এক গুনাহের পেছনে আরও গুনাহ পুঞ্জীভূত হয়েছে।

হায়! আল্লাহ যদি অতীতকে ক্ষমা করে দিতেন … এবং আমাদের তওবা করার তাওফিক দান করতেন, তবে আমরা তওবা করতাম।

তাবারযাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মানসুর আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-কাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসবাহাদুস্ত আদ-দাইলামী আমাদের শুনিয়েছেন, আবু নাসর আব্দুল আজিজ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে নাবাতাহ আস-সাদী নিজের রচিত কবিতা আমাদের শুনিয়েছেন:

আর যখন প্রস্থানের উদ্দেশ্যে তাদের বাহনগুলো যাত্রা শুরু করল … তখন কেবল উপহাসকারী এবং ঈর্ষান্বিত ব্যক্তিরাই অবশিষ্ট রইল।

আমরা দাঁড়িয়ে রইলাম; তাদের মধ্যে কেউ রোদনরত অবস্থায় [অশ্রু মুছছিল] … আর কেউ ব্যথিত হৃদয়কে আঁকড়ে ধরেছিল যা যেন উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٥٣)
‌‌10- أَبُو أَحْمَدَ [عَبَّاسُ بْنُ أَحْمَدَ] بْنِ عَبَّاسٍ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ أَبِي الرَّيَّانِ الْخَبَّازُ الْبَغْدَادِيّ، ثُمَّ الدُّنَيْسَرِيُّ:

سَمِعَ مِنَ الْقَاضِي أَبِي الْحُسَيْنِ ابن الْفَرَّاءِ، وَسَمَاعَهُ صَحِيحٌ.

أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ عَبَّاسُ بْنُ أَحْمَدَ الْخَبَّازُ بِقِرَاءَتِي عَلِيهِ بِدُنَيْسَرَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خَلَفٍ الْفَرَّاءُ، قِرَاءَةً عَلِيهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ ثلاثٍ وعشرين وخمسمئة، أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الْمُظَفَّرِ هَنَّادُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ النَّسَفِيُّ في يوم السبت ثاني عشرين شَوَّالٍ سَنَةَ ثمانٍ وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِ مئة، أَخْبَرَنَا الْقَاضِي الشَّرِيفُ أَبُو عُمَرَ الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَمْرٍو اللؤلؤي، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ سُلِيمَانُ بْنُ الأَشْعَثَ السِّجِسْتَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ:
১০- আবু আহমাদ [আব্বাস ইবনে আহমাদ] ইবনে আব্বাস, যিনি ইবনে আবির রাইয়ান আল-খাব্বাজ আল-বাগদাদি নামে পরিচিত, অতঃপর আদ-দুনাইসারি:

তিনি কাজি আবু হুসাইন ইবনুল ফাররা থেকে শুনেছেন এবং তার শ্রবণ সহিহ।

আবু আহমাদ আব্বাস ইবনে আহমাদ আল-খাব্বাজ আদ-দুনাইসারে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পাঠের মাধ্যমে তার নিকট, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ আল-ফাররা, তার নিকট পাঠের মাধ্যমে যা আমি শুনছিলাম ৫২৩ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু মুজাফফর হান্নাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আন-নাসাফি ৪৫৮ হিজরি সনের বাইশ শাওয়াল, শনিবার দিনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আশ-শারিফ আবু উমর আল-কাসিম ইবনে জাফর ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-হাশেমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলি মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আমর আল-লু’লুয়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ, মালিক থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে:
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٥٤)
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَهُوَ يَذْكُرُ الصَّدَقَةَ وَالتَّعَفُّفَ عَنِ الْمَسْأَلَةِ: ((الِيدُ الْعُلِيَا خيرٌ مِنَ الِيدِ السُّفْلَى)) .

وَالِيدُ الْعُلِيَا: [هِيَ] الْمُنْفِقَةُ. وَالسُّفْلَى: [هِيَ] السَّائِلَةُ.

أَخْبَرَنَا عَبَّاسُ بْنُ أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ الْفَرَّاءِ، أَخْبَرَنَا هنَّادُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِي، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ:

خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: ((إِيَّاكُمْ وَالشُّحَّ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِالشُّحِّ، أَمَرَهُمْ بِالْبُخْلِ فَبَخِلُوا، وَأَمَرَهُمْ بِالْقَطِيعَةِ فَقَطَعُوا، وَأَمَرَهُمْ بِالْفُجُورِ فَفَجَرُوا)) .

قُلْتُ: وَقَدْ رَوَى بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ بِزِيَادَاتٍ كَثِيرَةٍ.

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمُنْعِمِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بن سعد، بقراءتي عليه ببغداذ، أَخْبَرَنَا عَلِي بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بَيَانٍ فِي سَنَةِ ست وخمسمئة، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلَدٍ سَنَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ، وَأَيْضًا سنة ثمان عشرة وأربعمئة، قِرَاءَةً عَلِيهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ صَالِحٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا
নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে থাকা অবস্থায় সদকা এবং যাচনা করা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে আলোচনা করার সময় বলেছেন: "উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।"

আর উপরের হাত হলো: [সেটি] দানকারী হাত। এবং নিচের হাত হলো: [সেটি] যাচনাকারী হাত।

আব্বাস বিন আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হুসাইন বিন আল-ফাররা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হান্নাদ বিন ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফস বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আল-হারিস থেকে, তিনি আবু কাসীর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা প্রদান করলেন এবং বললেন: "তোমরা কৃপণতা ও লোভ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা এই কৃপণতার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। এটি তাদের কার্পণ্য করতে আদেশ করেছিল তাই তারা কার্পণ্য করেছিল, এটি তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে আদেশ করেছিল তাই তারা সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল এবং এটি তাদের পাপাচার করতে আদেশ করেছিল তাই তারা পাপাচার করেছিল।"

আমি বলছি: বকর বিন আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদিসের মর্মার্থ অনেক বর্ধিত অংশসহ বর্ণনা করেছেন।

আবদুল মুনয়িম বিন আবদুল ওয়াহহাব বিন সা'দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বাগদাদে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, আলী বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন বায়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন পাঁচশত ছয় হিজরিতে, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ চারশত সতেরো এবং চারশত আঠারো হিজরিতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শ্রবণ করেছি, ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন সালিহ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) তারিখু দুনিয়সার (পৃষ্ঠা: ٥٥)
الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَبُو حَفْصٍ الأَبَّارُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ:

عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((إِيَّاكُمْ وَالظُّلْمَ، فَإِنَّ الظُّلْمَ ظلماتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وإياكم والفحش، فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل لا يَحِبُّ الْفُحْشَ وَلا التَّفَحُّشَ، وَإِيَّاكُمْ وَالشُّحَّ، فَإِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الشُّحُّ؛ أَمَرَهُمْ بِالْكَذِبِ فَكَذَبُوا، وَأَمَرَهُمْ بِالظُّلْمِ فَظَلَمُوا، وَأَمَرَهُمْ بِالْقَطِيعَةِ فقطعوا)) . فقام رجلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الإِسْلامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: ((أَنْ يَسْلَمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِكَ وَيَدِكَ)) . قَالَ: فَأَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: ((أَنْ يُرَاقَ دَمُكَ، وَيُعْقَرَ جَوَادُكَ)) . قَالَ: فَأَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: ((تَهْجُرَ مَا كَرِهَ رَبُّكَ عز وجل، وَهُمَا هِجْرَتَانِ: هِجْرَةُ الْبَادِي وَهِجْرَةُ الْحَاضِرِ؛ فَأَمَّا هِجْرَةُ الْبَادِي: فَإِذَا دُعِيَ أَجَابَ، وَإِذَا أُمِرَ أَطَاعَ. وَأَمَّا هِجْرَةُ الْحَاضِرِ: فَأَشَدُّهُمَا بَلِيةً، وَأَعْظَمُهُمَا أَجْرَا)) .

‌‌11- أَبُو الْفَضْلِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ فَارِسٍ بْنِ مُقَلِّدِ بْنِ أَبِي الْحِنَّاءِ، السُّلَمِيّ الْحَنْبَلِي السَّيْبِيُّ الأَصْلِ، الْبَغْدَادِيّ الْمَوْلِدِ وَالْمَنْشَأِ، الدُّنَيْسِرِيُّ الدَّارِ:

سَمِعَ مِنْ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِي بْنِ أَحْمَدَ الْمُقْرِئُ، سِبْطِ الشَّيْخِ أَبِي
আল-হাসান ইবনে আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আব্দুর রহমান আবু হাফস আল-আব্বার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জুহাদাহ থেকে, তিনি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুযানী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো, কেননা জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে। আর তোমরা অশ্লীলতা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা আল্লাহ মহান অশ্লীলতা ও অশ্লীল আচরণ পছন্দ করেন না। আর তোমরা কৃপণতা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীদের কৃপণতাই ধ্বংস করেছে; এটি তাদের মিথ্যার আদেশ দিয়েছিল ফলে তারা মিথ্যা বলেছিল, এটি তাদের জুলুমের আদেশ দিয়েছিল ফলে তারা জুলুম করেছিল এবং এটি তাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার আদেশ দিয়েছিল ফলে তারা তা ছিন্ন করেছিল।" তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, ইসলামের কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "তোমার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকা।" সে বলল: তবে কোন জিহাদ সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "যাতে তোমার রক্ত প্রবাহিত হয় এবং তোমার ঘোড়াটি আহত (নিহত) হয়।" সে বলল: তবে কোন হিজরত সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "তোমার প্রতিপালক যা অপছন্দ করেন তা তুমি বর্জন করবে। আর হিজরত দুই প্রকার: মরুবাসীর হিজরত এবং স্থায়ী বাসিন্দার হিজরত। মরুবাসীর হিজরত হলো: যখন তাকে ডাকা হয় তখন সে সাড়া দেয় এবং যখন তাকে আদেশ করা হয় তখন সে আনুগত্য করে। আর স্থায়ী বাসিন্দার হিজরত: এ দুটির মধ্যে এটি পরীক্ষায় অধিক কঠিন এবং পুরস্কারের দিক থেকে অধিক মহিমান্বিত।"

‌‌১১- আবু আল-ফাদল ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ফারিস ইবনে মুকাল্লিদ ইবনে আবিল হান্না, আস-সুলামি আল-হাম্বালি, আদি নিবাস সাইব, জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাগদাদে এবং বাসস্থান ছিল দুনাইসিরে:

তিনি আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আহমদ আল-মুকরি থেকে শ্রবণ করেছেন, যিনি শায়খ আবুর দৌহিত্র...