(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: -)
أدب النساء لعبد الملك بن حبيب القسم: كتب السنة
الكتاب: أدب النساء الموسوم بكتاب العناية والنهاية
المؤلف: عبد الملك بن حَبِيب بن حبيب بن سليمان بن هارون السلمي الإلبيري القرطبي، أبو مروان (ت 238هـ)
المحقق: عبد المجيد تركي
الناشر: دار الغرب الإسلامي
الطبعة: الأولى 1412 هـ - 1992 م
عدد الصفحات: 296
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবদ আল-মালিক বিন হাবিবের আদাবুন নিসা বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আদাবুন নিসা, যা কিতাবুল ইনায়াহ ওয়ান নিহায়াহ নামে পরিচিত
লেখক: আবদ আল-মালিক বিন হাবিব বিন হাবিব বিন সুলাইমান বিন হারুন আস-সুলামি আল-ইলবিরি আল-কুরতুবি, আবু মারওয়ান (মৃত্যু: ২৩৮ হিজরি)
তাহকিক: আবদ আল-মাজিদ তুর্কি
প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৬
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগী আল-খাইর আকবিল
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: -)
أدب النساء
الموسوم
بكتاب العناية والنهاية
تأليف
عبد الملك بن حبيب
238 هـ
حققه وقدم له ووضع فهارسه
عبد المجيد تركي
دار الغرب الإسلامي
الطبعة الأولى
1412 هـ - 1992 م
নারীদের শিষ্টাচার
যা
আল-ইনায়াহ ওয়া আন-নিহায়াহ কিতাব হিসেবে অভিহিত
রচনা
আবদুল মালিক ইবনে হাবিব
২৩৮ হিজরি
সম্পাদনা, ভূমিকা ও নির্ঘণ্ট প্রস্তুতকরণে
আবদুল মাজিদ তুর্কি
দারুল গারব আল-ইসলামি
প্রথম সংস্করণ
১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وآله
ما جاء في فضل المرأة الصالحة1- حدثنا عبد الملك بن حبيب عن مطرف بن عبد الله وعبد العزيز الأويسي عن عبد الرحمن بن أبي الخطمي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من خير فائدةٍ يفيدها امرؤٌ مسلمٌ زوجةٌ صالحةٌ، إن نظر إليها سرته وإن أمرها أطاعته وإن غاب عنها حفظته)) .
2- وعن عطاء بن أبي رباح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من خير فائدةٍ يفيدها المرء المسلم بعد الأخ الصالح، المرأة الصالحة التي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
নেককার নারীর ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে১- আবদুল মালিক বিন হাবীব আমাদের নিকট মুতাররিফ বিন আবদুল্লাহ এবং আবদুল আযীয আল-উয়াইসী থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবিল খাতমি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((একজন মুসলিম ব্যক্তি যে সর্বোত্তম সম্পদ লাভ করে, তা হলো একজন নেককার স্ত্রী; যদি সে তার দিকে তাকায় তবে সে তাকে আনন্দিত করে, যদি তাকে আদেশ করে তবে সে তার আনুগত্য করে এবং সে যদি তার থেকে অনুপস্থিত থাকে তবে সে তার (সতীত্ব ও সম্পদের) হেফাযত করে))।
২- এবং আতা বিন আবি রাবাহ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নেককার ভাইয়ের পর একজন মুসলিম ব্যক্তি যে সর্বোত্তম সম্পদ লাভ করে, তা হলো সেই নেককার স্ত্রী, যে...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
[إن] نظر إليها سرته وإن أمرها أطاعته وإن غاب عنها حفظته في نفسها وفي ماله)) .
3- وعن أبي هريرة فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل: أي النساء أفضل؟ فقال: ((التي تسره إن نظر إليها، وتطيعه إذا أمرها، ولا تخالفه بما يكره في نفسها أو ماله)) .
4- ويروى عن لقمان الحكيم أنه قال: ((يا بني! أول ما تتخذه في الدنيا امرأةٌُ صالحةٌ وصاحبٌ صالحٌ تستريح إلى المرأة الصالحة إذا دخلت وتستريح إلى الصاحب الصالح إذا خرجت إليه. واعلم أنك يوم تكسب واحداً منهما فقد كسبت حسنةً. واتق المرأة السوء والصاحب السوء، لا تستريح إليها إذا دخلت عليها ولا تستريح إلى الصاحب السوء إذا خرجت إليه! واعلم أنك يوم تكسب واحداً منهما فقد كسبت سيئةً)) .
[যদি] সে তার দিকে তাকায় তবে সে তাকে আনন্দিত করে, যদি সে তাকে আদেশ করে তবে সে তার আনুগত্য করে এবং যদি সে তার অনুপস্থিত থাকে তবে সে নিজের ব্যাপারে এবং তার সম্পদের ব্যাপারে তার হেফাযত করে। .
৩- আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন নারী সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "সেই নারী যে তাকে আনন্দিত করে যখন সে তার দিকে তাকায়, তার আনুগত্য করে যখন সে তাকে আদেশ করে এবং নিজের ও তার সম্পদের ব্যাপারে এমন কিছু করে তার বিরোধিতা করে না যা সে অপছন্দ করে।" .
৪- লোকমান হাকীম হতে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছিলেন: "হে বৎস! দুনিয়াতে তুমি সর্বপ্রথম যা গ্রহণ করবে তা হলো একজন নেককার নারী এবং একজন সৎ সঙ্গী; তুমি যখন (ঘরে) প্রবেশ করবে তখন নেককার নারীর কাছে প্রশান্তি লাভ করবে এবং যখন (বাইরে) বের হবে তখন সৎ সঙ্গীর কাছে প্রশান্তি লাভ করবে। আর জেনে রেখো, যেদিন তুমি তাদের মধ্য হতে একজনকে লাভ করবে, সেদিন তুমি একটি নেকি অর্জন করলে। আর মন্দ নারী ও মন্দ সঙ্গী থেকে বেঁচে থাকো; তুমি যখন তার কাছে প্রবেশ করবে তখন তার কাছে প্রশান্তি পাবে না এবং যখন মন্দ সঙ্গীর কাছে বের হবে তখনও প্রশান্তি পাবে না! আর জেনে রেখো, যেদিন তুমি তাদের মধ্য হতে একজনকে লাভ করবে, সেদিন তুমি একটি গোনাহ অর্জন করলে।" .
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
ويروى أن داود عليه السلام! - كان يقول: ((اللهم لا تجعل أهلي أهل سوءٍ فأكون رجل سوءٍ!)) .
5- وعن عبد الرحمن بن عوف أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من سعادة [ابن] آدم ثلاثةٌ: المرأة الصالحة والمسكن الواسع والمركب الهني)) .
وعن إسماعيل بن محمد بن سعد [بن أبي وقاص] عن أبيه عن جده، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من سعادة [ابن] آدم ثلاثةٌ. فمن سعادته المرأة الصالحة والمسكن الصالح والمركب الصالح. ومن شقاوته المرأة السوء، والمسكن السوء والمركب السوء)) .
6- قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه!: ((الخيرات ثلاثٌ: إيمانٌ بالله، وفقهٌ في الدين، والزوجة الصالحة. والسوءات ثلاثٌ: كفرٌ بالله، والجفاء في الدين، والمرأة السوء)) .
আর বর্ণিত আছে যে, দাউদ আলাইহিস সালাম বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমার পরিবারকে মন্দ পরিবার বানাবেন না, যার ফলে আমি মন্দ মানুষে পরিণত হই।"
৫- আর আবদুর রহমান ইবনে আওফ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আদম সন্তানের সৌভাগ্যের বিষয় তিনটি: নেককার স্ত্রী, প্রশস্ত বাসস্থান এবং আরামদায়ক বাহন।"
আর ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাদ [ইবনে আবি ওয়াক্কাস] থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আদম সন্তানের সৌভাগ্যের বিষয় তিনটি। তাঁর সৌভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো নেককার স্ত্রী, উত্তম বাসস্থান এবং উত্তম বাহন। আর তাঁর দুর্ভাগ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো মন্দ স্ত্রী, মন্দ বাসস্থান এবং মন্দ বাহন।"
৬- আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "কল্যাণকর বিষয় তিনটি: আল্লাহর প্রতি ঈমান, দ্বীনের গভীর জ্ঞান এবং নেককার স্ত্রী। আর অকল্যাণকর বিষয় তিনটি: আল্লাহর সাথে কুফরি, দ্বীনের প্রতি বিমুখতা এবং মন্দ স্ত্রী।"
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
وعن أبي سليم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((خير العيش ثلاثةٌ وشر العيش ثلاثةٌ: فخير العيش زوجةٌ صالحةٌ ودارٌ واسعةٌ وجارٌ صالحٌ. وشر العيش امراةٌ سوءٌ ودارٌ ضيقةٌ وجارٌ سوءٌ)) .
7- وعن طلق [بن السمح المصري الإسكندراني] أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من رزقه الله لساناً ذاكراً وقلباً شاكراً وجسداً على البلاء صابراً وزوجةً صالحةً فقد تمت عليه النعم)) .
وقال صلى الله عليه وسلم: ((من رزقه الله لساناً ذاكراً وقلباً شاكراً وجسداً صابراً وامرأةً صالحة فقد أتاه الله في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنةً)) .
8- وعن عمرو بن العاص أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((الدنيا متاع وخير متاع الدنيا المرأة الصالحة)) . يعني بالمتاع المتعة.
9- وعن سعيد بن [أبي] أيوب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ألا [أخبركم] بنسائكم من أهل الجنة؟ قالوا: بلى يا رسول الله! قال: الودود الولود التي إن أساءت إليه وضعت يدها في يده ثم قالت: اعف أو
আবু সালীম হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "উত্তম জীবন তিনটি এবং মন্দ জীবন তিনটি: উত্তম জীবন হলো নেককার স্ত্রী, প্রশস্ত গৃহ এবং সৎ প্রতিবেশী। আর মন্দ জীবন হলো অসৎ নারী, সংকীর্ণ গৃহ এবং মন্দ প্রতিবেশী।"
৭- এবং তাল্ক [ইবনে সামহ আল-মিসরি আল-ইসকান্দারানি] হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যাকে যিকরকারী জিহ্বা, শুকরকারী অন্তর, বিপদে ধৈর্যশীল শরীর এবং নেককার স্ত্রী দান করেছেন, তার প্রতি নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করা হয়েছে।"
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যাকে যিকরকারী জিহ্বা, শুকরকারী অন্তর, ধৈর্যশীল শরীর এবং নেককার স্ত্রী দান করেছেন, তাকে আল্লাহ দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেছেন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করেছেন।"
৮- এবং আমর ইবনুল আস হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দুনিয়া হলো ক্ষণস্থায়ী ভোগের বস্তু এবং দুনিয়ার সর্বোত্তম ভোগের বস্তু হলো নেককার নারী।" এখানে 'মাতা' (ভোগের বস্তু) বলতে আনন্দ বা উপকার বুঝানো হয়েছে।
৯- এবং সাঈদ ইবনে [আবি] আইয়ুব হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি কি তোমাদের জান্নাতী নারীদের সম্পর্কে [সংবাদ দেব] না? তাঁরা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: অত্যন্ত প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারিণী নারী, যে যদি স্বামীর সাথে কোনো মন্দ আচরণ করে ফেলে তবে সে তার হাত স্বামীর হাতের ওপর রাখে এবং বলে: আপনি আমাকে ক্ষমা করুন অথবা..."
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
افعل ما بدا لك!)) .
10- وعن فضيل بن مرزوق أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ألا أنبئكم برجالكم من أهل الجنة؟ الولي في الجنة، والصديق في الجنة، والشهيد في الجنة، والصالح في الجنة، والمولود في الجنة، والرجل [يكون في جانب المصر] يزور أخاه [لا يزوره إلا لله] في الجنة. [ألا أنبئكم بنسائكم من أهل الجنة؟ قالوا: بلى يا رسول الله! قال] : الودود الولود العون التي إذا غضبت أو ظلمت [أو غضب] قالت: إن يدي في يدك [لا أذوق غمضاً حتى ترضى] )) .
وعن يحيى بن أبي كثير أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((خير نسائكم الودود الولود العون المواسية المواتية. وشر نسائكم اللجوج العاقر العاصية)) .
তোমার যা ইচ্ছা করো!
১০- ফুযাইল বিন মারযূক হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আমি কি তোমাদের জান্নাতী পুরুষদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না? ওলী জান্নাতী, সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি (সিদ্দীক) জান্নাতী, শহীদ জান্নাতী, নেককার ব্যক্তি জান্নাতী, (শৈশবে মৃত) শিশু জান্নাতী এবং সেই ব্যক্তিও জান্নাতী [যে শহরের অন্য প্রান্তে] তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে যায় [সে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তার সাথে সাক্ষাৎ করে]। [আমি কি তোমাদের জান্নাতী নারীদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তারা বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন]: অত্যন্ত প্রেমময়ী, অধিক সন্তানপ্রসূ ও সাহায্যকারিণী; যে নারী রাগান্বিত হলে অথবা তার ওপর অন্যায় করা হলে [কিংবা তার স্বামী রাগান্বিত হলে] সে বলে: নিশ্চয়ই আমার হাত আপনার হাতে, [আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি চোখের পাতা এক করব না]))।
ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমাদের নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা, যারা অত্যন্ত প্রেমময়ী, অধিক সন্তানপ্রসূ, সাহায্যকারিণী, সমবেদনাকারী এবং স্বামীর অনুগত। আর তোমাদের নারীদের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট হলো তারা, যারা অত্যন্ত ঝগড়াটে, বন্ধ্যা এবং অবাধ্য))।
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
11- وعن يعقوب بن جعفر المدني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((مثل المرأة الصالحة في سائر النساء كمثل الغراب الأبيض في غربانٍ سودٍ. ومثل المرأة السوء كمثل بيتٍ مزينٌ ظاهره، خربٌ باطنه)) .
12- وعن سعيد بن المسيب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((خير النساء التي إذا غضبت سكنت وإذا ظلمت صبرت)) . وعن [صفوان] بن سليم، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((النساء أربعٌ: امرأة مواسية مواتية محبةٌ مجنةٌ يفوض إليها زوجها، فهي تمسك وتنفق بقدرٍ، فتلك عامل من عمال الله عز وجل!. وامرأةٌ مواسيةٌ ومواتيةٌ محبةٌ مجنةٌ يفوض إليها زوجها، فهي [لا] تنفق و [لا] تدبر، فتلك الماحق. وامرأة بارك [الله فيها] لا يردها عن زوجها إلا الله عز وجل والإسلام، فهي تحفظه في غيبةٍ وتؤدي إليه حقه من نفسها، فتلك [من] أشراف النساء وأرفعهن عند
11- এবং ইয়াকুব ইবন জাফর আল-মাদানি থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((অন্যান্য সকল নারীর মধ্যে পুণ্যবতী নারীর উদাহরণ হলো অনেকগুলো কালো দাঁড়কাকের মধ্যে একটি সাদা দাঁড়কাকের ন্যায়। আর অসৎ নারীর উদাহরণ হলো এমন এক গৃহের ন্যায় যার বহির্ভাগ সুশোভিত, কিন্তু অভ্যন্তর ভাগ ধ্বংসপ্রাপ্ত।))
12- এবং সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((সেই নারীই সর্বোত্তম যে রাগান্বিত হলে শান্ত থাকে এবং যখন তার প্রতি অন্যায় করা হয় তখন সে ধৈর্য ধারণ করে।)) এবং [সাফওয়ান] ইবন সুলাইম থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নারী চার প্রকার: এমন এক নারী যে সহমর্মী, অনুগতা, প্রেমময়ী ও সতী-সাধ্বী, যার নিকট তার স্বামী সকল দায়িত্ব অর্পণ করে, ফলে সে পরিমিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যয় করে; সে মহান আল্লাহর কর্মীদের মধ্যে একজন কর্মী! এবং এমন এক নারী যে সহমর্মী, অনুগতা, প্রেমময়ী ও সতী-সাধ্বী, যার নিকট তার স্বামী সকল দায়িত্ব অর্পণ করে, কিন্তু সে [ব্যয়ও] করে না এবং [ব্যবস্থাপনাও] করে না; সেই হলো বিনাশকারী। এবং এমন এক নারী যার মধ্যে [আল্লাহ বরকত দান করেছেন], যাকে মহান আল্লাহ এবং ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছু তার স্বামী থেকে বিমুখ করতে পারে না; সে তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করে এবং তার প্রতি নিজের হক আদায় করে; সেই নারী হলো নারীদের মধ্যে অন্যতম সম্মানিত এবং তাদের মধ্যে উচ্চমর্যাদাপূর্ণ...))
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
الله منزلة. وامرأةٌ حسنٌ منظرها عجيبٌ مخبرها حسنٌ مالها طيبٌ طعامها محبةٌ لزوجها مواتيةٌ له، فتلك سيدة النساء)) .
باب ما جاء في المرأة السوء13- وعن الخطاب عن خالد المخزومي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من النساء محبةٌ مجنةٌ تنفق بقدرٍ وتضع [مالها] في حق، فتلك عاملٌ من عمال الله - تعالى!. ومن النساء محبةٌ مجنةٌ لا تنفق بقدرٍ ولا تضع [مالها] في حق، فتلك الماحق. قالوا: وما الماحق يا رسول الله؟ قال: النار الموقدة)) .
14- وعن أبي أمية أن عمر بن الخطاب قال: ((النساء ثلاثٌ: فمنهن وعاء للوأر ليس فيها غير ذلك. وأخرى تعين أهلها على الدهر ولا
আল্লাহর নিকট উচ্চ মর্যাদা। আর এমন নারী যার রূপ সুন্দর, যার স্বভাব চমৎকার, যার সম্পদ উত্তম, যার খাবার সুস্বাদু, যে তার স্বামীর প্রতি প্রেমময়ী ও তার অনুগত; সে-ই নারীদের নেত্রী।))।
মন্দ নারী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিচ্ছেদ১৩- আল-খাত্তাব হতে বর্ণিত, তিনি খালিদ আল-মাখযুমী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নারীদের মধ্যে কেউ কেউ প্রেমময়ী ও লজ্জাশীলা, যারা পরিমিত ব্যয় করে এবং সঠিক খাতে [তাদের সম্পদ] ব্যয় করে; তারা মহান আল্লাহর কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত! আর নারীদের মধ্যে কেউ কেউ প্রেমময়ী ও লজ্জাশীলা কিন্তু পরিমিত ব্যয় করে না এবং সঠিক খাতে [তাদের সম্পদ] ব্যয় করে না; তারা হলো ‘মাহিক’ (নিশ্চিহ্নকারী)। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, মাহিক কী? তিনি বললেন: প্রজ্বলিত আগুন))।
১৪- আবু উমাইয়াহ হতে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: ((নারীরা তিন প্রকার: তাদের মধ্যে কেউ কেবল সন্তান ধারণের আধার, যাতে এ ছাড়া আর কিছু নেই। আর অন্যজন সে, যে তার পরিবারকে সময়ের প্রতিকূলতায় সাহায্য করে এবং...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
تعين الدهر عليهم. والأخرى على غلٍ، فمن يجعله الله عز وجل! - برقبة من يشاء ويفكها إذا يشاء)) .
15- وعن عيسى بن عبد الله بن يعقوب النوفلي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((استعذ بالله من المنفرات! وقيل: وما المنفرات يا رسول الله! قال: الإمام الجائر يأخذ منك الحق ويمنعك الحق. والجار السوء فعينه تراك وقلبه يرعاك إن [ورأى] خيراً ستره وإن رأى شراً أظهره. وامراةٌ تشيب قبل المشيب)) .
16- وعن عطاء الخراساني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ثلاثة من جهد البلاء: جار سوءٍ وإمامٌ جائرٌ وامرأةٌ يكد عليها زوجها وهي تخونه)) .
17- وقال لقمان الحكيم لابنه: ((يا بني! ليكن أول شيءٍ تكسبه
কালচক্র তাদের ওপর নির্ধারিত হয়েছে। আর অন্যটি হচ্ছে শৃঙ্খলবদ্ধ অবস্থায়, মহান আল্লাহ যাকে চান তার ঘাড়ে তা পরিয়ে দেন এবং যখন চান তা মুক্ত করে দেন।
১৫- ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াকুব আন-নাওফালী থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((বিরক্তি উদ্রেককারী বিষয়াদি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো! জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, বিরক্তি উদ্রেককারী বিষয়গুলো কী? তিনি বললেন: অত্যাচারী শাসক, যে তোমার কাছ থেকে তোমার হক আদায় করে নেয় কিন্তু তোমাকে তোমার হক প্রদান করে না। আর মন্দ প্রতিবেশী, যার চোখ তোমাকে দেখে এবং যার অন্তর তোমাকে পর্যবেক্ষণ করে; যদি সে ভালো কিছু দেখে তবে তা গোপন করে, আর যদি মন্দ কিছু দেখে তবে তা প্রকাশ করে দেয়। আর এমন স্ত্রী যে বার্ধক্য আসার আগেই স্বামীকে বৃদ্ধ বানিয়ে দেয়))।
১৬- আতা আল-খুরাসানী থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তিনটি বিষয় চরম বিপদের অন্তর্ভুক্ত: মন্দ প্রতিবেশী, অত্যাচারী শাসক এবং এমন স্ত্রী যার জন্য তার স্বামী কঠোর পরিশ্রম করে অথচ সে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে))।
১৭- আর লুকমান হাকিম তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন: ((হে বৎস! তোমার উপার্জিত প্রথম বস্তু যেন হয়...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
بعد الإيمان بالله والخليل الصالح امرأةً صالحةً، لأنه من غدا فاكتسب امرأةً صالحةً فقد التقط يومه ذلك لقطةً صالحةً. ومن غدا فاكتسب امرأة سوءٍ فقد أصابته مصيبةٌ)) .
((يا بني! إنما مثل المرأة الصالحة كمثل الدهن في الرأس يلين العروق ويحسن الشعر. ومثال المرأة الصالحة كمثل التاج على رأس الملك. ومثل المرأة الصالحة كمثل اللؤلؤ والجوهر لا يدري أحدٌ ما قيمته)) .
((ومثال المرأة السوء كمثل السيل لا ينتهي حتى يبلغ منتهاه ولا ينتهي حتى يبلغ ما يريد. فأنعتها لك حتى تعزلها. يا بني! إنها إذا تكلمت أسمعت، وإذا مشت أسرعت، وإذا قعدت وقفت، وإذا غضبت سمعت لأنيابها فغدت مثل أنياب الفحل. وإذا دخل عليها زوجها صكت في وجهه، وإذا خرج عنها لعنته في ظهره. كل شرٍ ينقص إلا شر المرأة السوء وكل داءٍ يبر [أ] إلا داء المرأة السوء إنما مثلها كمثل حطبةٍ ثقيلةٍ على رقبة شيخٍ كبيرٍ. وقرٌ على وقرٍ! لا يستطيع أن يضعها عنه ولا [أن] يحملها. يا بني! لأن تساكن الأسد والأسود خيرٌ من أن تساكنها! تبكي وهي ظالمةٌ وتحكم وهي الجائرة وتنطق وهي الجاهلة. وهي [أفعى] بلدغها)) .
18- وعن عبد الله بن قيس عن يعقوب بن جعفر أن رسول الله
আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং সৎ বন্ধুর পর (সর্বোত্তম নিয়ামত) হলো একজন পুণ্যবতী নারী। কারণ যে ব্যক্তি ভোরে একজন পুণ্যবতী নারী লাভ করল, সে যেন সেই দিন এক মহান সম্পদ কুড়িয়ে পেল। আর যে ভোরে একজন মন্দ নারী লাভ করল, সে যেন এক বিপদে পতিত হলো।
((হে বৎস! নিশ্চয়ই পুণ্যবতী নারীর দৃষ্টান্ত হলো মাথায় মাখা তেলের মতো, যা শিরা-উপশিরাগুলোকে নরম করে এবং চুলকে সুন্দর করে। পুণ্যবতী নারীর উদাহরণ হলো রাজার মাথার মুকুটের মতো। আর পুণ্যবতী নারীর উদাহরণ হলো মুক্তা ও মণির মতো, যার প্রকৃত মূল্য কেউ জানে না।))
((আর মন্দ নারীর উদাহরণ হলো প্রবল বন্যার মতো, যা তার গন্তব্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থামে না এবং যা চায় তা হাসিল না করা পর্যন্ত নিবৃত্ত হয় না। আমি তোমার কাছে তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করছি যাতে তুমি তাকে এড়িয়ে চলতে পারো। হে বৎস! সে যখন কথা বলে তখন উচ্চস্বরে শোনায়, যখন হাঁটে তখন দ্রুত হাঁটে, যখন বসে থাকে তখন (সহসা) দাঁড়িয়ে পড়ে, আর যখন সে রাগান্বিত হয় তখন তার দাঁতের শব্দ শোনা যায় এবং তা কোনো শক্তিশালী পুরুষ উটের দাঁতের মতো হয়ে যায়। যখন তার স্বামী তার কাছে প্রবেশ করে তখন সে তার মুখের ওপর আঘাত হানে, আর যখন স্বামী তার নিকট থেকে প্রস্থান করে তখন সে তার অসাক্ষাতে তাকে অভিশাপ দেয়। প্রত্যেক অনিষ্টই হ্রাস পায় মন্দ নারীর অনিষ্টতা ব্যতীত, এবং প্রত্যেক ব্যাধিই আরোগ্য হয় মন্দ নারীর ব্যাধি ব্যতীত। তার উদাহরণ হলো কোনো বৃদ্ধ লোকের ঘাড়ে চাপানো ভারী কাঠের বোঝার মতো। বোঝার ওপর বোঝা! সে না পারে তা নামিয়ে রাখতে, আর না পারে তা বহন করতে। হে বৎস! সিংহ এবং বিষধর কালো সাপের সাথে বসবাস করাও তার সাথে বসবাস করার চেয়ে উত্তম! সে নিজে অন্যায়কারী হয়েও কাঁদে, অবিচার করেও বিচারকের ভূমিকা নেয় এবং অজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও কথা বলে। সে দংশনকারী সাপের ন্যায়।))
১৮- এবং আবদুল্লাহ ইবনে কায়স হতে ইয়াকুব ইবনে জাফরের সূত্রে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৪৬)
صلى الله عليه وسلم قال: ((لا خير في جماعة النساء إذا اجتمعن إلا على ذكر الله تعالى!. إنما مثلهن إذا اجتمعن كمثل ضرابٍ أدخل حديدةً في النار حتى إذا احترقت ضربها فأحرق شررها كل شيءٍ أصابته)) .
19- قال عبد الملك بن حبيب: بلغني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ثلاثة يذهبن لب اللبيب: خصومةٌ ملحةٌ ودينٌ فادحٌ وامرأة سوءٍ)) .
20- وعن عبد العزيز بن أبي رواد قال: ((رأيت شيخاً يحمل شيخاً على عنقه وهو يطوف به حول الكعبة. فإذا [حايد] الركن وقف به فدعا الله -تعالى! - ثم سمعته يقول: عيبتني صغيراً وعيبتني كبيراً!. فلما فرغ من طوافه سألناه عن كلامه فقال: نعم! أترون هذا الشيخ أكبر مني؟ قلنا: نعم! قال: فإنه ابني! حملته صغيراً وها أنا أحمله كبيراً. صيره إلى ما ترون امرأة سوء كانت عنده فصبر عليها حتى صيرته إلى ما ترون)) .
21- وعن سعيد بن عبد العزيز الدمشقي أن أبا الدرداء قال لامرأة لها طلاقة لسان: ((لو كنت خرساء لكان خير [ألك] !)) .
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নারীদের সমাবেশের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই যখন তারা একত্রিত হয়, তবে মহান আল্লাহর জিকিরের সমাবেশ ব্যতীত। তারা যখন একত্রিত হয়, তাদের উদাহরণ হলো সেই কর্মকারের ন্যায় যে আগুনের মধ্যে লোহার টুকরো প্রবেশ করিয়েছে; যখন সেটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তখন সে সেটিকে আঘাত করে, ফলে তার স্ফুলিঙ্গ যা কিছু স্পর্শ করে তাকেই জ্বালিয়ে দেয়।”
১৯- আব্দুল মালেক ইবনে হাবিব বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তিনটি বিষয় বুদ্ধিমানের বুদ্ধি হরণ করে: অনবরত ঝগড়া-বিবাদ, দুঃসহ ঋণ এবং অসৎ স্ত্রী।”
২০- আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখলাম তিনি অপর এক বৃদ্ধকে নিজের কাঁধে বহন করে কাবার চারদিকে তাওয়াফ করছেন। যখন তিনি রুকনের (কোণ) সমান্তরালে আসতেন, তখন তাঁকে নিয়ে থামতেন এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। তারপর আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: তুমি আমাকে ছোটবেলায় পরিশ্রান্ত করেছ এবং বড়বেলায়ও পরিশ্রান্ত করেছ! যখন তিনি তাওয়াফ শেষ করলেন, আমরা তাঁকে তাঁর কথার তাৎপর্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: হ্যাঁ! তোমরা কি এই বৃদ্ধকে আমার চেয়ে বয়সে বড় মনে করছ? আমরা বললাম: হ্যাঁ! তিনি বললেন: সে আমার পুত্র! আমি তাকে শৈশবে বহন করেছি আর এখন বার্ধক্যেও আমিই তাকে বহন করছি। তার এই করুণ অবস্থার কারণ হলো এক অসৎ স্ত্রী যে তার কাছে ছিল; সে তার ওপর ধৈর্য ধারণ করেছিল যতক্ষণ না সে তাকে এই অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে যা তোমরা দেখছ।”
২১- সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ আদ-দামেশকি থেকে বর্ণিত যে, আবু দারদা জনৈক বাচাল নারীকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন: “তুমি যদি মূক (বোবা) হতে, তবে তা তোমার জন্য অধিকতর কল্যাণকর হতো!”
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
22- وعن زيد بن أسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بين يديه [وهو يصلي] صبي فأشار إليه فرجع ومرت بين يديه جاريةٌ صغيرةٌ فأشار إليها فأتت فلما قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((هن أجراء)) .
باب ما ينبغي أن تنكح المرأة عليه من الخصال23- عن مجاهد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((تنكح المرأة على أربع خصالٍ: على مالها وعلى جمالها وعلى حسبها وعلى دينها. فعليك بذات الدين تربت يداك!)) .
[قال عبد الملك بن حبيب] : وما استفاد امرؤ مسلم في الإسلام خيراً وأفضل من زوجة صالحة تسره إذا نظر إليها وتطيعه إذا أمرها وتحفظه في نفسها وماله إذا غاب عنها.
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الناكح أربعةٌ: فناكحٌ للدنيا، وناكحٌ لحسبٍ، وناكحٌ لمالٍ، وناكحٌ لجمالٍ. يا ابن آدم تربت يداك عليك بذات الدين!)) .
২২- যায়িদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দিয়ে [যখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন] একটি বালক অতিক্রম করছিল, তিনি তাকে ইশারা করলেন ফলে সে ফিরে গেল। এরপর একটি ছোট বালিকা তাঁর সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল, তিনি তাকে ইশারা করলেন কিন্তু সে চলে এল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ শেষ করলেন তখন বললেন: "তারা (নারীরা) অধিক সাহসী।"
পরিচ্ছেদ: নারীর যেসব গুণের ভিত্তিতে বিবাহ করা বাঞ্ছনীয়২৩- মুজাহিদ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নারীকে চারটি বৈশিষ্ট্যের কারণে বিবাহ করা হয়: তার সম্পদ, তার সৌন্দর্য, তার আভিজাত্য এবং তার দ্বীনদারিতা। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকেই গ্রহণ করো, অন্যথায় তোমার দুই হাত ধূলিমলিন হোক!"
[আবদুল মালিক ইবনে হাবিব বলেন]: ইসলামে একজন মুসলিম পুরুষ নেককার স্ত্রীর চেয়ে উত্তম ও কল্যাণকর আর কিছুই লাভ করেনি; যে স্ত্রীর দিকে তাকালে স্বামী আনন্দিত হয়, স্বামী তাকে আদেশ করলে সে তা মান্য করে এবং স্বামী অনুপস্থিত থাকলে সে নিজের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদের হিফাজত করে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বিবাহকারী চার প্রকার: দুনিয়ার জন্য বিবাহকারী, আভিজাত্যের জন্য বিবাহকারী, সম্পদের জন্য বিবাহকারী এবং সৌন্দর্যের জন্য বিবাহকারী। হে আদম সন্তান! তোমার দুই হাত ধূলিমলিন হোক, তুমি দ্বীনদার নারীকেই বেছে নাও!"
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
24- وقال عمرو بن العاص: ((أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا عليكم أن تنكحوا المرأة من أجل مالها [فعسى ألا] يأتي بخيرٍ عليكم! فذات الدين والأمانة من النساء فابتغوها! ولا تنكحوا النساء لحسنهن فعسى حسنهن أن يرديهن! فلأمةٌ سوداء ذات الدين أفضل! فعليكم بذاوت الدين فاطلبوهن فإنهن أعز فيكم من الغراب الأعصم في سائر الغربان!)) .
باب ما جاء في فضل الأبكار على غيرهن25- عن مكحول أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((انكحوا الجواري فإنهن أعذب أفواهاً وأنتق أرحاماً وأعز أخلاقاً. وإني مكاثر بكم الأمم يوم القيامة فانكحوا وتوالدوا فإن ذراري المسلمين عصافير خضرٌ في شجر الجنة يكفلهم أبوهم إبراهيم خليل الله!)) .
وعن الأوزاعي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((عليكم بالأبكار فإنهن
24- এবং আমর ইবনুল আস বর্ণনা করেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা কোনো নারীকে তার সম্পদের লোভে বিয়ে করো না, [কারণ সম্ভবত এটি] তোমাদের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না! বরং নারীদের মধ্যে যারা দ্বীনদার ও বিশ্বস্ত, তাদের তালাশ করো! তোমরা নারীদের তাদের সৌন্দর্যের কারণে বিয়ে করো না, কারণ সম্ভবত তাদের সৌন্দর্য তাদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবে! বরং একজন দ্বীনদার কৃষ্ণবর্ণের দাসীও শ্রেষ্ঠ! তোমরা দ্বীনদার নারীদের গ্রহণ করো এবং তাদেরই তালাশ করো, কারণ তারা তোমাদের মধ্যে অন্যান্য সাধারণ কাকের পালের মধ্যে সাদা পা বিশিষ্ট কাকের মতোই বিরল!))।
অন্যদের তুলনায় কুমারী মেয়েদের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক অধ্যায়25- মাকহুল থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা কুমারী মেয়েদের বিয়ে করো, কারণ তাদের মুখ অধিক মিষ্ট, তাদের গর্ভাশয় অধিক সন্তান প্রসবকারী এবং তাদের চরিত্র অধিকতর কোমল। আর আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের আধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতদের সামনে গর্ব করব। অতএব তোমরা বিয়ে করো এবং সন্তান উৎপাদন করো, কারণ মুসলিমদের (অপ্রাপ্তবয়স্ক মৃত) সন্তানরা জান্নাতের বৃক্ষরাজিতে সবুজ পাখির ন্যায় বিচরণ করবে, যাদের লালন-পালন করবেন তাদের পিতা আল্লাহর বন্ধু ইব্রাহিম!))।
এবং আওযায়ী থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা কুমারীদের গ্রহণ করো, কারণ তারা
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
أعذب أفواهاً وأقبل أرحاماً وأحسن أخلاقاً!)) .
وعن عبد الرحمن بن زيد بن أسلم، عن أبيه أن عمر بن الخطاب قال: ((انكحوا الأبكار فإنهن أعذب أفواهاً، وأسخن أقبالاً، وأكثر أولاداً، وأرضى باليسير من الجماع!)) .
26- وعن مطرف بن عبد الله عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لجابر بن عبد الله: ((أنكحت يا جابر)) ؟، قال: ((نعم يا رسول الله!)) قال: ((بكراً أم ثيباً؟)) قال: ((بل ثيباً يا رسول الله!)) قال: ((فهلا بكراً تلاعبها وتلاعبك؟)) فقلت: ((كان لي أخواتٌ فلم أحب أن أدخل عليهن غرةً مثلهن)) قال: ((فلا بأس إذاً)) .
وعن وهب بن كيسان، عن جابر بن عبد الله قال جابرٌ: ((ثم قال لي
...মুখ অধিক মিষ্টি, জরায়ু অধিক গ্রহণকারী এবং চরিত্র অধিক সুন্দর!)) ।
এবং আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: ((তোমরা কুমারী নারীদের বিবাহ করো, কেননা তাদের মুখ অধিক মিষ্টি, তাদের জরায়ু অধিক উষ্ণ, তারা অধিক সন্তানদানকারিণী এবং তারা সামান্য সহবাসেই অধিক সন্তুষ্ট হয়!)) ।
২৬- এবং মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ থেকে আনাস বিন মালিকের সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাবির বিন আব্দুল্লাহকে বললেন: ((হে জাবির, তুমি কি বিবাহ করেছ?)) তিনি বললেন: ((হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!)) তিনি বললেন: ((কুমারী নাকি বিবাহিতা?)) তিনি বললেন: ((বরং বিবাহিতা, হে আল্লাহর রাসূল!)) তিনি বললেন: ((তবে কেন কুমারী বিবাহ করলে না, যার সাথে তুমি আমোদ-প্রমোদ করতে এবং সেও তোমার সাথে আমোদ-প্রমোদ করত?)) আমি বললাম: ((আমার বেশ কয়েকজন বোন রয়েছে, তাই আমি তাদের মাঝে তাদের মতোই এক অনভিজ্ঞ নারীকে নিয়ে আসা পছন্দ করিনি।)) তিনি বললেন: ((তবে এতে কোনো সমস্যা নেই।)) ।
এবং ওয়াহাব বিন কায়সান থেকে জাবির বিন আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণিত, জাবির বলেন: ((অতঃপর তিনি আমাকে বললেন...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إذا دخلت على أهلك فالكيس الكيس!)) . يعني في الجماع. قال جابر: ((فلما دخلت عليها أخبرتها بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم[فقالت] : سمعاً وطاعةً!)) .
27- قال عبد الملك [بن حبيب] : لم يتزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم بكراً إلا عائشة أحب نسائه إليه، بل أحب الخلق إليه.
لقد بلغني عن عمرو بن العاص أنه قال: ((نظر إلي رسول الله صلى الله عليه وسلم يوماً حتى ظننت أني أحب الخلق إليه فقلت: يا رسول الله! من أحب الناس إليك؟ قال: عائشة! فقلت: أنا أسألك عن الرجال! فقال: أبوها!)) .
28- قال عبد الملك [بن حبيب] : وتزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي بنت ست وابتنى بها وهي بنت تسع سنين واختلى بها في بيت أبيها قبل أن
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তুমি তোমার স্ত্রীর নিকট প্রবেশ করবে, তখন বিচক্ষণ থেকো, বিচক্ষণ থেকো!" অর্থাৎ সহবাসের ক্ষেত্রে। জাবির বলেন: "অতঃপর আমি যখন তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তাঁকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী সম্পর্কে অবহিত করলাম। [অতঃপর সে বলল]: আমি শ্রবণ করলাম এবং আনুগত্য করলাম!"
২৭- আব্দুল মালিক [ইবনে হাবিব] বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা ছাড়া অন্য কোনো কুমারীকে বিবাহ করেননি। তিনি তাঁর নিকট তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন, বরং সমস্ত সৃষ্টির মাঝে তাঁর অধিক প্রিয় ছিলেন।
আমর ইবনুল আস থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: "একদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যে আমি ধারণা করলাম আমিই সম্ভবত তাঁর নিকট সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। তাই আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি বললেন: আয়েশা! আমি বললাম: আমি আপনাকে পুরুষদের মধ্য থেকে জিজ্ঞেস করছি। তিনি বললেন: তাঁর পিতা!"
২৮- আব্দুল মালিক [ইবনে হাবিব] বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেছিলেন যখন তাঁর বয়স ছয় বছর এবং তাঁর সাথে বাসর করেছিলেন যখন তাঁর বয়স নয় বছর। তিনি তাঁর পিতার ঘরে তাঁর সাথে নির্জনে অবস্থান করেছিলেন এর আগে যে...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
يبني بها. وإن كانت لتلعب باللعب في بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم من صغرها! وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصرف إليها الجواري إذا رآهن ليلعبن معها.
باب ما جاء في كراهية العاقر العجوز29- قال عبد الملك [بن حبيب] : وحدثني أبو صالح عن عبد الله بن دينار عن زيد بن أبي مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((انكحوا الودود الولود من النساء وكاثروا فإني مكاثرٌ بكم الأمم يوم القيامة! ولا تنكحوا عجوزاً ولا عاقراً فإن ذراري المسلمين تحت ظل العرش يحضنهم أبوهم إبراهيم، خليل الله، يستغفرون لآبائهم إلى يوم القيامة)) .
তিনি তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করলেন। অথচ তিনি শৈশবের কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে খেলনা নিয়ে খেলতেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বালিকাদের দেখতেন তখন তাদের তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিতেন যাতে তারা তাঁর সাথে খেলতে পারে।
বন্ধ্যা ও বৃদ্ধা নারীকে বিবাহ করার অপছন্দনীয়তা বিষয়ক অধ্যায়২৯- আব্দুল মালিক [ইবনে হাবীব] বলেন: আবু সালিহ আমার কাছে আব্দুল্লাহ বিন দীনার থেকে এবং তিনি যায়িদ বিন আবি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা নারীদের মধ্যে যারা অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তানপ্রসূ তাদের বিবাহ করো এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করো; কেননা কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য জাতির সামনে গর্ব করব! তোমরা কোনো বৃদ্ধা বা বন্ধ্যা নারীকে বিবাহ করো না। কারণ মুসলিমদের সন্তানরা আরশের ছায়ার নিচে থাকবে, তাদের পিতা আল্লাহর খলীল ইব্রাহিম তাদের লালন-পালন করবেন এবং তারা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তাদের পিতা-মাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।)) .
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
30- وعن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن التبتل نهياً شديداً وقال: ((تزوجوا الودود الولود من النساء فإني مكاثرٌ بكم النبيين يوم القيامة! وإياكم والعاقر فإن مثلها كمثل رجلٍ قاعدٍ على رأس بئرٍ [يسقي] أرضاً سبخةً فلا أرضه تنبت ولا عينه تنضب)) .
31- وعن ابن جريج أن رجلاً أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ((يا رسول الله! إن لي ابنة عم هي همي من النساء وهي عاقرٌ. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تنكحها! ثم قال له: لأن تنكح سوداء ولوداً خيرٌ من أن تنكح حسناء لا تلد. إن علمتم أن السقط من ذراري المسلمين يقال له: أدخل
৩০- আনাস বিন মালিক হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোরভাবে বৈরাগ্য (সংসারবিরাগ) অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: ((তোমরা নারীদের মধ্যে অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনীকে বিবাহ করো, কেননা কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য নবীদের সামনে গর্ব করব! আর তোমরা বন্ধ্যা নারী হতে সতর্ক থাকো, কেননা তার উদাহরণ হলো এমন এক ব্যক্তির ন্যায় যে একটি কূপের মুখে বসে লোনা (অনুর্বর) জমিতে পানি সেচ দিচ্ছে, ফলে না তার জমিতে কিছু জন্মাচ্ছে, আর না তার কূপের পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে।))।
৩১- ইবনে জুরাইজ হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল: ((হে আল্লাহর রাসূল! আমার এক চাচাতো বোন আছে যে নারীদের মধ্যে আমার অতি প্রিয়, কিন্তু সে বন্ধ্যা। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাকে বিবাহ করো না! অতঃপর তিনি তাকে বললেন: একজন সন্তান প্রসবকারিনী কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে বিবাহ করা সন্তান জন্মদানে অক্ষম একজন সুন্দরী নারীকে বিবাহ করার চেয়ে উত্তম। তোমরা যদি জানতে যে, মুসলিমদের সন্তানদের মধ্য হতে গর্ভপাত হওয়া সন্তানকেও বলা হবে: প্রবেশ করো...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
الجنة! فيظل محبنطئاً على باب الجنة يقول: لا أدخل الجنة حتى يدخل أبواي! فيقال: ادخولوها -الجنة! - بفضل رحمة الله!)) .
قال عبد الملك [بن حبيب] : والمحبنطئ المتغضب المتقاعس.
32- وعن سفيان أن عمر بن الخطاب قال: ((إن ابنة عشر سنين تسر الناظرين، وابنة عشرين لذة للمعانقين، وابنة الثلاثين ذات سمنٍ ولينٍ، وابنة أربعين ذات بناتٍ وبنين، وابنة خمسين عجوزٌ في الغابرين)) .
وعن عائشة رضي الله عنها! - أنها قالت: ((إذا أتت على المرأة خمسون سنةً لم تلد أبداً)) .
باب ما جاء في فضل السراري33- وعن ابن شهاب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((عليكم
জান্নাত! তখন সে জান্নাতের দরজায় জেদ ধরে অবস্থান করবে এবং বলবে: আমি জান্নাতে প্রবেশ করব না যতক্ষণ না আমার পিতামাতা প্রবেশ করে! তখন বলা হবে: তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো আল্লাহর রহমতের অনুগ্রহে!))।
আবদুল মালিক [ইবনে হাবীব] বলেছেন: 'মুহাবানতি' (محبنطئ) অর্থ রাগান্বিত হয়ে পিছিয়ে থাকা ব্যক্তি।
৩২- সুফিয়ান থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: ((দশ বছর বয়সী কন্যা দর্শকদের আনন্দ দেয়, বিশ বছর বয়সী কন্যা আলিঙ্গনকারীদের জন্য তৃপ্তিদায়ক, ত্রিশ বছর বয়সী কন্যা স্থূলতা ও কোমলতা সম্পন্ন, চল্লিশ বছর বয়সী কন্যা পুত্র ও কন্যাদের অধিকারিণী, আর পঞ্চাশ বছর বয়সী নারী গত হওয়া বৃদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত))।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: ((যখন কোনো নারীর বয়স পঞ্চাশ বছর হয়, তখন সে আর কখনোই সন্তান প্রসব করে না))।
দাসীদের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়৩৩- ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তোমাদের ওপর (অপরিহার্য)...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
بالسراري فاتخذوهن مباركات الأرحام!)) .
قال [عبد الملك بن حبيب] : وحدثني عبد الله بن مسلم عن عطاء الخراساني عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((اطلبوا الولد من أمهات الأولاد فإن الله -تعالى! - جعل في أرحامهن البركة!)) .
34- قال عبد الملك [بن حبيب] : وبلغني أن رجلاً أتى سعيد بن المسيب رضي الله عنه! - فشكا إليه قلة الولد فقال له: ((عليك بالسراري فإنهن أشف أرحاماً!)) .
قال عبد الملك [بن حبيب] : يعني أقبل للولد وأكثر أولاداً.
[عبد الملك بن حبيب في كتاب النساء قال: حدثني مطرف عن مالك بن] أنس قال: ((كان القاسم بن محمد بن أبي بكرٍ الصديق وسالم بن عبد الله بن عمر بن الخطاب [وعلي] بن [الحسين] بن علي بن أبي
...উপপত্নীদের (দাসী) মাধ্যমে, সুতরাং তোমরা তাদের গ্রহণ করো, তারা বরকতময় জরায়ুর অধিকারী!))।
[আবদুল মালিক বিন হাবিব] বলেন: আবদুল্লাহ বিন মুসলিম আতা আল-খুরাসানি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা উম্মুল ওয়ালাদদের (সন্তানবতী দাসী) নিকট সন্তান অন্বেষণ করো, কারণ আল্লাহ তায়ালা তাদের জরায়ুতে বরকত দান করেছেন!))।
৩৪- আবদুল মালিক [বিন হাবিব] বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিকট এসে সন্তানহীনতার অভিযোগ করলেন। তিনি তাকে বললেন: ((তুমি উপপত্নী (দাসী) গ্রহণ করো, কারণ তাদের জরায়ু অধিক উর্বর ও সন্তান ধারণে সক্ষম!))।
আবদুল মালিক [বিন হাবিব] বলেন: অর্থাৎ তারা সন্তান গ্রহণের জন্য অধিক অনুকূল এবং অধিক সন্তানপ্রসূ।
[আবদুল মালিক বিন হাবিব 'কিতাবুন নিসা'-তে বলেন: মুতাররিফ মালিক বিন] আনাস থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ((কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর সিদ্দিক, সালিম বিন আবদুল্লাহ বিন উমর ইবনুল খাত্তাব এবং [আলী] বিন [হুসাইন] বিন আলী বিন আবু...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
طالب [رضي الله عنهم!] كانوا [من] بني أمهات الأولاد)) .
باب ما ينبغي للرجل أن يفعله مع امرأته والمرأة مع زوجها ليلة البناء35- وعن أبي وائل أنه قال: ((جاء رجلٌ [يقال له: أبو حريز] إلى ابن مسعودٍ فقال: إني تزوجت امرأةً [شابة] بكراً وقد خشيت أن تكرهني! فقال ابن مسعودٍ: إن الألفة من الله -تعالى! - وإن الفرقة من الشيطان يكره ما أحل الله لها. فإذا دخلت فمرها أن تصلي خلفك ركعتين ثم قل: اللهم بارك لي في أهلي وبارك لها في! اللهم وارزقها مني وارزقني منها! اللهم اجمع بيننا كما جمعت وفرق بيننا -إذا فرقت- في خيرٍ!. ثم إذا [دنوت] منها فخذ بناصيتها وادع الله بالبركة واسأل الله من خيرها وتعوذ من شرها!] )) .
তালিব [আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন!] তারা [উম্মু ওয়ালাদ (দাসী-মাতা)-এর] সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
অনুচ্ছেদ: বাসর রাতে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে এবং স্ত্রী তার স্বামীর সাথে যা করা উচিত৩৫- এবং আবু ওয়াইল হতে বর্ণিত যে তিনি বলেন: ((জনৈক ব্যক্তি [যাকে আবু হারীয বলা হয়] ইবনে মাসউদের নিকট আসলেন এবং বললেন: আমি এক [যুবতী] কুমারী মহিলাকে বিয়ে করেছি এবং আমি আশঙ্কা করছি যে সে আমাকে অপছন্দ করতে পারে! তখন ইবনে মাসউদ বললেন: নিশ্চয়ই হৃদ্যতা আল্লাহর পক্ষ থেকে -তিনি সুউচ্চ! - আর বিচ্ছেদ শয়তানের পক্ষ থেকে, সে ঘৃণা করে যা আল্লাহ তার জন্য হালাল করেছেন। অতএব যখন তুমি (ঘরে) প্রবেশ করবে তখন তাকে তোমার পেছনে দুই রাকাত সালাত আদায়ের নির্দেশ দাও, অতঃপর বলো: হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দিন এবং তার জন্য আমার মাঝে বরকত দান করুন! হে আল্লাহ! আপনি তাকে আমার পক্ষ থেকে রিযিক দান করুন এবং আমাকে তার পক্ষ থেকে রিযিক দান করুন! হে আল্লাহ! আমাদের মাঝে মিলন ঘটান যতক্ষণ আপনি আমাদের একত্রিত রাখেন এবং আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটান -যখনই আপনি বিচ্ছেদ ঘটাবেন- কল্যাণের সাথে! তারপর যখন তুমি তার [নিকটবর্তী] হবে তখন তার কপালের অগ্রভাগের চুল ধরো এবং আল্লাহর কাছে বরকতের দোয়া করো এবং আল্লাহর কাছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করো ও তার অনিষ্ট হতে পানাহ চাও!] )) ।
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
36- وعن زيد بن أسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا تزوج أحدكم المرأة فليأخذ بناصيتها وليدع بالبركة!)) .
وكان ابن مسعود إذا غشي أهله قال: ((اللهم لا تجعل للشيطان في ما رزقتنا نصيباً!)) .
37- قال عبد الملك [بن حبيب] : وحدثني أسد بن موسى وغيره أن سلمان صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم تزوج امرأةً من كندة بالعراق. فلما كان ليلة البناء بها دعا إليها. فلما وقف بباب البيت صوت ثلاثة أصواتٍ فلم تجبه فقال: ((يا هذه أخرساء أنت أم بكماء أم لا تسمعين؟)) فقالت: ((لا يا صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم! ولكن العروس تستحي أن تتكلم!)) فدخل إلى البيت فإذا هو قد بخر. [فقال] : ((هذا مضرورٌ أم محمومٌ قد
৩৬- যায়িদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহ করবে, তখন সে যেন তার ললাটের অগ্রভাগ ধরে এবং বরকতের জন্য দুয়া করে!)) ।
এবং ইবনে মাসউদ যখন তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হতেন, তখন বলতেন: ((হে আল্লাহ, আপনি আমাদের যা রিযিক দান করেছেন তাতে শয়তানের কোনো অংশ রাখবেন না!)) ।
৩৭- আব্দুল মালিক [ইবনে হাবিব] বলেন: আসাদ ইবনে মুসা এবং অন্যান্যরা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথী সালমান ইরাকের কিনদাহ গোত্রের এক নারীকে বিবাহ করেছিলেন। বাসর রাতে যখন তিনি তার কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন এবং ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে তিনবার ডাক দিলেন কিন্তু সে কোনো উত্তর দিল না, তখন তিনি বললেন: ((হে নারী, তুমি কি বোবা নাকি মূক নাকি তুমি শুনতে পাচ্ছ না?)) সে উত্তর দিল: ((না, হে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথী! কিন্তু নববধু কথা বলতে লজ্জা পায়!)) এরপর তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন এবং দেখলেন যে সেখানে সুগন্ধি ধোঁয়া দেওয়া হয়েছে। [তিনি বললেন]: ((এটি কি কোনো রুগ্ন ব্যক্তি নাকি জ্বরাক্রান্ত ব্যক্তি যে...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
دثرته أم تحولت القبلة في كندة؟)) فقالت: ((لا يا صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكن العروس تزين بيتها)) . ثم قال: ((لا أدري أتطيعين أم ما تقولين؟)) فقالت: ((لقد ذكرت مقعد من أوجب الله طاعته!)) . قال: ((لقد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من نكح امرأةً فليمسح بناصيتها وليدع بالبركة وليركع ركعتين ويحمد الله عز وجل! - وليسأله البركة فيها!. فإذا رأيتني قمت فقومي! فإذا كبرت [فكبري] ! فإذا ركعت فاركعي! فإذا سجدت فاسجدي! وإذا قعدت فاقعدي! فإذا دعوت فأمني! وإذا سلمت فسلمي!)) . فقام وقامت خلفه. فلما فرغ رجع إليها فألم بها.
فلما أصبح نظر إلى أثاثٍ كثيرٍ وإماءٍ كثيرٍ فوعظها في ذلك وحدثها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: ((يا صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم! أما ما في البيت ففي سبيل الله - تعالى! وأما كل أمةٍ أو عبدٍ فهو خيرٌ لله تعالى!. اكفني براً أكفك خبزاً، خبز الخبز وحرارة التنور!.
فلما أمست ضاق فغضبت [فقالت] : ((يا صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم قم فأتخذ آلة البيت حملاً
"তুমি কি এটি আবৃত করেছ নাকি কিন্দাহ গোত্রে কিবলা পরিবর্তিত হয়ে গেছে?" তিনি বললেন: "না, হে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথী, বরং কনে তার ঘরকে সুসজ্জিত করে।" অতঃপর তিনি বললেন: "আমি জানি না তুমি কি আনুগত্য করবে নাকি তুমি কী বলছ?" তিনি বললেন: "আপনি এমন একজনের মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন যার আনুগত্য আল্লাহ আবশ্যক করেছেন!" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিবাহ করবে, সে যেন তার ললাট বা কপালের সম্মুখভাগের চুল স্পর্শ করে এবং বরকতের দুআ করে, আর দুই রাকাত সালাত আদায় করে এবং মহান আল্লাহর প্রশংসা করে! - আর তাঁর কাছে তার মাঝে বরকতের প্রার্থনা করে। অতএব তুমি যখন দেখবে আমি দাঁড়িয়েছি, তখন তুমিও দাঁড়াবে! যখন আমি তাকবির বলব [তখন তুমিও তাকবির বলবে]! যখন আমি রুকু করব তখন তুমি রুকু করবে! যখন আমি সাজদাহ করব তখন তুমি সাজদাহ করবে! যখন আমি বসব তখন তুমি বসবে! যখন আমি দুআ করব তখন তুমি আমীন বলবে! আর যখন আমি সালাম ফিরাব তখন তুমি সালাম ফিরাবে!" অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং তিনিও তাঁর পেছনে দাঁড়ালেন। যখন তিনি (সালাত থেকে) অবসর হলেন, তখন তাঁর নিকট ফিরে এলেন এবং তাঁর সাথে মিলিত হলেন।
যখন সকাল হলো, তিনি প্রচুর আসবাবপত্র এবং অনেক দাসী দেখতে পেলেন, ফলে তিনি তাকে এ বিষয়ে উপদেশ দিলেন এবং তাঁর কাছে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথী! ঘরে যা কিছু আছে তা আল্লাহ তাআলার পথেই উৎসর্গিত! আর প্রত্যেক দাস বা দাসী তো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণস্বরূপ! আপনি আমাকে গম সরবরাহ করুন, আমি আপনার জন্য রুটির ব্যবস্থা করব; রুটি তৈরি এবং তন্দুরের তাপ সহ্য করার দায়িত্ব আমার!"
যখন সন্ধ্যা হলো, তিনি (ঘরটি আসবাবপত্রে) সংকীর্ণ বোধ করলেন এবং রাগান্বিত হলেন, [অতঃপর বললেন]: "হে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথী! উঠুন এবং ঘরের এই আসবাবপত্রগুলো বোঝা হিসেবে গ্রহণ করুন..."
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
والليل سفراً!)) قال: ((اقصدي رحمة الله!)) .
38- وحدثني بعض أشياخنا أن محمد بن سيرين قال: تزوجت امرأة من بني تميم. فلما [كانت] ليلة البناء دخلت عليها فإذا هي جالسة على باب خدرها. فأهويت إليها بيدي فقالت: ((مهلاً! على رسلك!)) . فحمدت الله وأثنت عليه ثم قالت: ((إن الله عز وجل! - يضع العلم حيث يشاء وإنه بلغني أن الرجل إذا دخل بيته يؤمر أن يصلي ركعتين وتصلي امرأته خلفه. فإذا فرغ قال: اللهم بارك لي في أهلي وبارك لأهلي في! اللهم ارزقني منهم وارزقهم مني! اللهم [ارزقني] ألفتهم ومودتهم وارزقهم ألفتي ومودتي وحبب بعضنا إلى بعض!)) .
قال: ((فقمت ففعلت ذلك. فلما فرغت أهويت إليها فقالت: ((مهلاً! على رسلك! إن الرجل يؤمر إذا أراد غشيان أهله [أن] يدعو قبل ذلك
...এবং রাত একটি সফর!)) তিনি বললেন: ((আল্লাহর রহমত অন্বেষণ করো!))।
৩৮- এবং আমাদের কতিপয় শিক্ষক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলেছেন: আমি বনু তামীম গোত্রের এক নারীকে বিবাহ করেছিলাম। অতঃপর যখন বাসর রাত হলো, আমি তার নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাকে তার কক্ষের দরজায় উপবিষ্ট অবস্থায় পেলাম। আমি আমার হাত বাড়িয়ে তার দিকে অগ্রসর হলাম, তখন সে বলল: ((থামো! স্থির হও!))। অতঃপর সে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করল, তারপর বলল: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা—যেখানে ইচ্ছা জ্ঞান দান করেন। আর আমার নিকট এই মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, পুরুষ যখন তার ঘরে প্রবেশ করে, তখন তাকে দুই রাকাত সালাত আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তার স্ত্রী তার পেছনে সালাত আদায় করবে। অতঃপর যখন সে সালাত শেষ করবে, তখন সে বলবে: হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দান করুন এবং আমার পরিবারের জন্য আমাতে বরকত দান করুন! হে আল্লাহ! তাদের পক্ষ থেকে আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমার পক্ষ থেকে তাদের রিযিক দান করুন! হে আল্লাহ! [আমাকে দান করুন] তাদের হৃদ্যতা ও ভালোবাসা এবং তাদেরকে দান করুন আমার হৃদ্যতা ও ভালোবাসা; আর আমাদের একে অপরের নিকট প্রিয় করে দিন!))।
তিনি বললেন: ((অতঃপর আমি দাঁড়ালাম এবং তা পালন করলাম। যখন আমি অবসর হলাম, তখন তার দিকে অগ্রসর হলাম, সে বলল: ((থামো! স্থির হও! নিশ্চয়ই পুরুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখন সে তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে চায়, তখন যেন তার পূর্বে দুআ করে...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
فيقول: اللهم جنبنا الشيطان وجنبه ما رزقتنا ولا تجعل له فينا نصيباً!)) .
قال: ((ففعلت ذلك فلم أزل أعرف بعد ذلك الألفة واللطف والخير)) .
39- قال عبد الملك [بن حبيب] : وبلغني عن عثمان بن عفان [أنه] لما تزوج نائلة بنت الفرافصة أتت مع الأحوص الكلبي، أتى بها من الشام. فأدخلت داره ليلاً وقد هيئ لها المجلس. فلما أخذت مجلسها وأصلح من شأنها -وعثمان في المسجد قد صلى العشاء الآخرة- أتته مولاةٌ له فأذنته بها وقالت: ((إن قضيت صلاتك فانصرف إلى أهلك!)) .
فقام حتى دخل عليها فسلم ثم جلس في فراشه فردت عليه السلام. فقال لها عثمان: ((ما أدري! تقومين إلينا أم نقوم إليك؟)) فقالت: ((والله ما سرت إليك مسيرة شهرٍ من أهلي وأنا أريد أن تعنى إلى عرض هذا البيت! بل أقوم إليك وكرامةً)) .
তিনি বলেন: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদের যা দান করেছেন তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আমাদের মাঝে শয়তানের কোনো অংশ রাখবেন না!)) ।
তিনি বলেন: ((আমি তা-ই করলাম এবং এরপর থেকে আমি সর্বদা হৃদ্যতা, অনুগ্রহ ও কল্যাণই প্রত্যক্ষ করেছি)) ।
৩৯- আবদুল মালিক [ইবনে হাবিব] বলেন: উসমান ইবনে আফফান [সম্পর্কে] আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি যখন নায়েলা বিনতে আল-ফারাফিসাকে বিবাহ করেন, তখন তিনি আল-আহওয়াস আল-কালবির সাথে সিরিয়া থেকে এসেছিলেন। তাঁকে রাতে তাঁর ঘরে প্রবেশ করানো হয় এবং তাঁর জন্য বসার স্থান প্রস্তুত করা হয়েছিল। যখন তিনি নিজ আসনে বসলেন এবং তাঁর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি ঠিক করা হলো—আর উসমান (রা.) মসজিদে ইশার সালাত আদায় করছিলেন—তখন তাঁর এক দাসী তাঁর কাছে এসে তাঁকে তাঁর সম্পর্কে অবহিত করল এবং বলল: ((আপনি যদি আপনার সালাত শেষ করে থাকেন, তবে আপনার স্ত্রীর নিকট গমন করুন!)) ।
অতঃপর তিনি উঠে তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এবং সালাম দিলেন, এরপর তাঁর বিছানায় বসলেন এবং তিনিও সালামের উত্তর দিলেন। উসমান (রা.) তাকে বললেন: ((আমি জানি না! তুমি কি আমার কাছে আসবে নাকি আমি তোমার কাছে আসব?)) তখন তিনি বললেন: ((আল্লাহর কসম! আমি আমার পরিবার থেকে আপনার উদ্দেশ্যে এক মাসের পথ পাড়ি দিয়ে আসিনি এই জন্য যে, ঘরের এই সামান্য দূরত্বের জন্য আপনি কষ্ট করবেন! বরং সম্মান প্রদর্শনার্থে আমিই আপনার কাছে আসছি)) ।
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
فلما قعدت إلى جنبه أقبلت تنظر إليه [وقد وضع قلنسوته] فقال لها: ((لعلك تكرهين ما ترين من كبري وشيبي؟ إن وراء هذا ما يحسن!)) فقالت: ((إني -والله! - لمن نسوةٍ أحب أزواجهن إليهن الكهل السيد)) فقال لها: ((ضعي رداءك!)) فوضعته ثم قال لها: [اطرحي خمارك!)) فطرحته ثم قال] : ((اخلعي درعك!)) فخلعته، ثم [قال] : ((حلي مئزرك!)) فقالت: ((أنت وذلك!)) .
[قال: ((صدقت!)) . وبنى بها فأعجبته فولدت ابنته مريم. وقتل وهي عنده. فخطبها بعده أشراف قريشٍ فلم تنكح بعده أحداً حتى ماتت] .
যখন তিনি তার পাশে বসলেন, তখন তিনি তার দিকে তাকাতে লাগলেন [সে অবস্থায় তিনি নিজের টুপিটি খুলে রেখেছিলেন]। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: ((হয়তো তুমি আমার বার্ধক্য এবং পক্ককেশ দেখে অপছন্দ করছ? নিশ্চয়ই এর পেছনে এমন কিছু রয়েছে যা সুন্দর!)) তখন তিনি বললেন: ((আমি -আল্লাহর কসম!- সেই নারীদের অন্তর্ভুক্ত যাদের নিকট স্বামীদের মধ্যে প্রবীণ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি প্রিয়))। এরপর তিনি তাকে বললেন: ((তোমার চাদরটি রেখে দাও!)) তখন তিনি তা রাখলেন। তারপর তিনি তাকে বললেন: [তোমার ওড়নাটি ফেলে দাও!)) তখন তিনি তা ফেলে দিলেন। তারপর তিনি বললেন] : ((তোমার কামিজটি খুলে ফেলো!)) তখন তিনি তা খুললেন। এরপর [তিনি বললেন] : ((তোমার ইজারটি খুলে দাও!)) তখন তিনি বললেন: ((এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আপনারই!))।
[তিনি বললেন: ((তুমি সত্য বলেছ!))। এরপর তিনি তার সাথে বাসর যাপন করলেন এবং তাকে তাঁর খুবই ভালো লাগল। অতঃপর তিনি তাঁর কন্যা মরিয়মকে জন্ম দিলেন। তিনি তাঁর নিকট থাকাবস্থায়ই নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর কুরাইশদের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, কিন্তু তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর পর আর কাউকে বিয়ে করেননি]।
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
باب ما ينبغي للمرأة أن تضعه فيما بينها وبين زوجها40- قال عبد الملك [بن حبيب] : حدثني إسماعيل بن البشر أن رجلاً أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ((يا رسول الله! إن لي امرأةً إذا أتيتها مهموماً قامت إلي فأخذت بطرف ردائي ومسحت على وجهي ثم قالت: إن كان همك الدنيا فقد صرفها الله عنك! وإن كان همك الآخرة فزادك الله هماً!)) . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((هذه لها أجر الشهداء ورزقهم)) .
41- وعن إبراهيم بن أدهم أن أبا الدرداء قال لأم الدرداء: ((إذا غضبت [فأرضيني] وإذا غضبت أرضيك. فإنا ألا نفعل يوشك أن تفتري)) .
42- قال عبد الملك [بن حبيب] : وبلغني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتي بسببيٍ فقال عليٍ بن أبي طالبٍ: ((يا فاطمة اذهبي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم
একজন নারী তার ও তার স্বামীর মাঝে যা রাখা উচিত সেই পরিচ্ছেদ৪০- আব্দুল মালিক [ইবনে হাবিব] বলেন: ইসমাঈল ইবনে আল-বিশর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমার এমন একজন স্ত্রী আছে যে, আমি যখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় তার কাছে আসি, সে আমার দিকে এগিয়ে আসে এবং আমার চাদরের আঁচল ধরে আমার মুখ মুছে দেয়, অতঃপর বলে: 'আপনার চিন্তা যদি দুনিয়া নিয়ে হয়, তবে আল্লাহ তা আপনার থেকে দূর করে দিয়েছেন! আর আপনার চিন্তা যদি আখিরাত নিয়ে হয়, তবে আল্লাহ আপনার এই চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিন!'" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এই নারীর জন্য শহীদদের সমপরিমাণ সওয়াব ও তাদের রিযিক রয়েছে।"
৪১- ইব্রাহিম ইবনে আদহাম থেকে বর্ণিত যে, আবু দারদা উম্মুদ দারদাকে বলেছিলেন: "আমি যখন রাগান্বিত হই তখন তুমি আমাকে সন্তুষ্ট করো, আর তুমি যখন রাগান্বিত হও তখন আমি তোমাকে সন্তুষ্ট করব। আমরা যদি এমনটি না করি তবে শীঘ্রই আমাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটবে।"
৪২- আব্দুল মালিক [ইবনে হাবিব] বলেন: আমার কাছে পৌঁছেছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছু যুদ্ধবন্দী আনা হয়েছিল। তখন আলী ইবনে আবি তালিব বললেন: "হে ফাতিমা, তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যাও..."
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
[فاسأليه] خادماً!)) . فأتت فاستحت أن تكلمه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ألحاجةٍ جاءت فاطمة أم جاءت زائرةً؟)) .
فأخذتها العبرة فقالت: ((يا رسول الله! أما الماء فإني أغرفه من البئر في جوف الدار لا يراني أحدٌ. وأما العجين فإني أخبز في بيتي لا يراني أحدٌ. والغسل أغسل في بيتي لا يراني أحدٌ)) وأرته يديها قد خلقتا من العمل. ((ولكن -يا نبي الله! - إنما يشق علي الحطب أحتطب من مكان بعيدٍ، والمرأة -يا نبي الله! - عورةٌ، فذلك الذي يشق علي)) .
فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن ذلك على ما هو خير لك من خادمٍ وخادمٍ وخادمٍ. إذا انصرفت إلى بيتك فأصلحي فراش زوجك! فإذا جاء فتلقيه بالباب وخذي منه رداءه! ثم إذا قعد على فراشه فاخلعي نعليه! فإن كان مفطراً [فقربي] إليه ما في بيتك! فإذا فرغ وفرغت ما بين يديه فاقعدي قريباً منه! فإذا دعاك إلى فراشه [فأجيبيه] ! وإن لم يدعك [فأدني] إلى فراشك!
((فإذا استويت فيه [فكبري] الله ثلاثاً وثلاثين مرةً [وسبحيه] ثلاثاً وثلاثين مرةً، واحمديه ثلاثاً وثلاثين مرةً واختمي المائة بلا إله إلا الله وحده لا شريك له.. .. إلى آخرها. فذلك -يا فاطمة! - خيرٌ لك من خادمٍ وخادمٍ وخادمٍ!)) . قالها ست مراتٍ.
فلما انصرفت فاطمة سألها علي رضي الله عنه! -: ((ما قال أبوك؟ فأخبرته بالذي قال لها صلى الله عليه وسلم فقال لها علي: ((والذي خلقني لهذا خيرٌ لك من خادمٍ وخادمٍ!)) .
[তুমি তাঁর কাছে] একজন খাদেম চাও!)) এরপর তিনি আসলেন কিন্তু তাঁর সাথে কথা বলতে লজ্জা বোধ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((ফাতিমা কি কোনো প্রয়োজনে এসেছে নাকি সাক্ষাতের জন্য এসেছে?))।
তখন তাঁর চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে এল এবং তিনি বললেন: ((হে আল্লাহর রাসূল! পানির কথা যদি বলেন, তবে আমি তা ঘরের ভেতরের কূপ থেকে সংগ্রহ করি, কেউ আমাকে দেখে না। আর আটার কথা যদি বলেন, তবে আমি আমার ঘরেই রুটি তৈরি করি, কেউ আমাকে দেখে না। আর কাপড় ধোয়ার কথা যদি বলেন, তবে আমি আমার ঘরেই ধুই, কেউ আমাকে দেখে না))। তিনি তাঁকে তাঁর দুই হাত দেখালেন যা পরিশ্রমের কারণে খসখসে হয়ে গিয়েছিল। ((কিন্তু—হে আল্লাহর নবী!—আমার জন্য কেবল জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করাই কষ্টকর, যা আমাকে দূর থেকে সংগ্রহ করতে হয়। আর নারী—হে আল্লাহর নবী!—হলো পর্দা, আর এটিই আমার জন্য কষ্টকর))।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: ((নিশ্চয়ই এটি তোমার জন্য একজন খাদেম, দুইজন খাদেম এবং তিনজন খাদেমের চেয়েও উত্তম। যখন তুমি তোমার ঘরে ফিরে যাবে, তখন তোমার স্বামীর বিছানা গুছিয়ে রাখবে! যখন সে আসবে, তখন দরজায় তাকে অভ্যর্থনা জানাবে এবং তার থেকে তার চাদরটি গ্রহণ করবে! এরপর যখন সে তার বিছানায় বসবে, তখন তার জুতা দুটি খুলে দেবে! যদি সে অভুক্ত থাকে তবে তোমার ঘরে যা আছে তা তার সামনে [পরিবেশন করবে]! যখন সে অবসর হবে এবং তার সামনের জিনিসপত্র সরানো হবে, তখন তার কাছে বসবে! এরপর সে যদি তোমাকে তার বিছানায় ডাকে, তবে [তাতে সাড়া দেবে]! আর যদি সে তোমাকে না ডাকে, তবে তোমার বিছানায় [চলে যাবে]!
((অতঃপর যখন তুমি তাতে (বিছানায়) উঠবে, তখন তেত্রিশ বার আল্লাহর [তাকবির (বড়ত্ব) পাঠ করবে], তেত্রিশ বার [তাঁর তাসবিহ (পবিত্রতা) পাঠ করবে], এবং তেত্রিশ বার তাঁর প্রশংসা করবে এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু...’ শেষ পর্যন্ত পড়ার মাধ্যমে একশত পূর্ণ করবে। হে ফাতিমা! এটি তোমার জন্য একজন খাদেম, দুইজন খাদেম এবং তিনজন খাদেমের চেয়েও উত্তম!))। তিনি এটি ছয়বার বললেন।
ফাতিমা যখন ফিরে আসলেন, তখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: ((তোমার পিতা কী বলেছেন?)) তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে যা বলেছেন তা জানালেন। তখন আলী তাঁকে বললেন: ((যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর কসম! এটি তোমার জন্য একজন খাদেম ও দুইজন খাদেমের চেয়েও উত্তম!))।
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
43- قال عبد الملك [بن حبيب] : وبلغني أن الحسن والحسين ابني علي بن أبي طالبٍ وعبد الله بن جعفر بن أبي طالبٍ خطبوا إلى المسيب بن نجبة الفزاري وكان شريف الكوفة فاستشار فيهم علياً فقال له: ((أما حسنٌ فطلاقٌ! وأما حسينٌ فشديد الخلق! ولكن عليك بعبد الله بن جعفرٍ)) . فزوجه.
فلما [كانت] الليلة التي بنى بها دعاها أبوها فجلست بين يديه فقال لها: ((يا بنيتي! اعلمي أن أهلك -الذين هم أهلك [بعد اليوم]- الذين تمسين فيهم وتصبحين! أطيعي زوجك إذا أمرك وآته إذا دعاك وكوني له أمةً يكن لك عبداً! واعلمي أن أطيب الطيب الماء وأحسن الحلي الكحل)) .
44- وعن مقاتل بن سليمان أن رسول الله صلى الله عليه وسلم [قال] : ((أيما امرأةٍ صلت خمسها، وصامت شهرها، وحفظت زوجها، وأطاعت ربها تدخل من أي أبواب الجنة شاءت)) .
45- قال عبد الملك [بن حبيب] : وحدثني بعض المشيخة أن إسماعيل بن خارجة الفزاري زوج ابنته الحجاج بن يوسف. فلما
43- আবদুল মালিক [ইবনে হাবিব] বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আলী ইবনে আবি তালিবের দুই পুত্র হাসান ও হুসাইন এবং আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিব মুসাইয়্যিব ইবনে নাজাবাহ আল-ফাজারির নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, যিনি কুফার একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি তাদের ব্যাপারে আলীর পরামর্শ চাইলেন। তখন আলী তাকে বললেন: "হাসানের কথা যদি বলো, সে তো অধিক তালাক প্রদানকারী! আর হুসাইনের কথা যদি বলো, সে তো কঠোর মেজাজের! বরং তুমি আবদুল্লাহ ইবনে জাফরকে গ্রহণ করো।" অতঃপর তিনি তার সাথে বিয়ে দিলেন।
অতঃপর যখন বাসর রাত এল, তখন তার পিতা তাকে ডাকলেন এবং সে তার সামনে গিয়ে বসল। তিনি তাকে বললেন: "হে আমার আদরের কন্যা! জেনে রেখো, তোমার পরিবার হচ্ছে তারাই—যারা [আজকের পর থেকে] তোমার আপন—যাদের মাঝে তুমি সকাল-সন্ধ্যা অতিবাহিত করবে! তোমার স্বামী যখন তোমাকে কোনো আদেশ করবে, তার আনুগত্য করবে; যখন সে তোমাকে ডাকবে, তার কাছে যাবে; এবং তুমি তার জন্য দাসী হয়ে থেকো, তবে সেও তোমার জন্য দাসের মতো হয়ে থাকবে! আর জেনে রেখো, সবচেয়ে উত্তম সুগন্ধি হলো পানি এবং সবচেয়ে সুন্দর অলঙ্কার হলো সুরমা।"
44- মুকাতিল ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [বলেছেন]: "যে নারী তার পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, তার মাসের (রমজানের) রোজা রাখে, তার সতীত্ব ও স্বামীর আমানত রক্ষা করে এবং তার রবের আনুগত্য করে, সে জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে।"
45- আবদুল মালিক [ইবনে হাবিব] বলেন: কিছু প্রবীণ ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইসমাইল ইবনে খারিজাহ আল-ফাজারি তার কন্যাকে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের কাছে বিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন...
(খণ্ড: ১)
আদাবুন নিসা লি আবদিল মালিক বিন হাবিব
(পৃষ্ঠা: ১৬৪)
[كانت] ليلة البناء بها دخل عليها أبوها فرفع جانب الخدر فقال: ((يا بنيتي! إني رأيت النساء إنما يؤدب من النساء! وإن أمك قد هلكت وتركتك صغيرة فاسمعي مقالتي واحفظي وصيتي! كوني لزوجك في بعض أحيانه أقرب من شسع نعله، وفي بعض أحيانه أبعد من الثريا! وعليك بالطيب وأطيب الطيب الماء! وإياك والغيرة فإنها مفتاح الطلاق! ودعي المعاتبة فإنها نورة ولا تنطفئ في فورة حيث الغضب فإني رأيت الود في الصدر والأذى إذا اجتمعا لم يلبث الحب [أن] يذهب)) .
46- قال عبد الملك [بن حبيب] : وبلغني أن مالكاً رحمه الله! - خير ابنته في نفسها [أن] تنكح من أحبت فاختارت فتى من أبناء الملوك قد رفض الدنيا وأخذ في الزهادة. فلما كان انتقالها إليه اجتمع إليها أخوات ثلاث وحاضنة لها. فابتدرت الحاضنة وصيتها [فقالت] : ((أي بنيتي! من لم يغط من نور نظره ما يتبين له [به] رشده
[সেটি ছিল] বাসর রাত, যখন তার পিতা তার নিকট প্রবেশ করলেন এবং পর্দার এক পাশ উত্তোলন করে বললেন: "হে আমার প্রিয় কন্যা! আমি দেখেছি যে নারীরা কেবল নারীদের মাধ্যমেই শিষ্টাচার প্রাপ্ত হয়! তোমার মা মারা গেছেন এবং তোমাকে ছোট অবস্থায় রেখে গেছেন, তাই আমার কথা শোনো এবং আমার উপদেশ স্মরণ রাখো! তোমার স্বামীর জন্য কোনো কোনো সময় তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটবর্তী থেকো, আবার কোনো কোনো সময় সুরাইয়া নক্ষত্রের চেয়েও অধিক দূরবর্তী থেকো! সুগন্ধি ব্যবহার করা তোমার কর্তব্য, আর সবচেয়ে উত্তম সুগন্ধি হলো পানি! আর খবরদার! অহেতুক ঈর্ষা থেকে বেঁচে থেকো, কারণ এটি তালাকের চাবিকাঠি! আর অভিযোগ করা বর্জন করো, কারণ এটি হলো এমন উত্তাপ যা রাগের তীব্রতায় নেভে না; কেননা আমি দেখেছি যে, যখন অন্তরে ভালোবাসা এবং কষ্ট একসাথে জমা হয়, তখন ভালোবাসা বিলীন হতে দেরি হয় না।"
৪৬- আব্দুল মালিক [ইবন হাবিব] বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইমাম মালিক (রহ.) তাঁর কন্যাকে কার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে সে বিষয়ে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন [যেন] সে যাকে পছন্দ করে তাকেই বিয়ে করতে পারে। তখন সে রাজপুত্রদের মধ্য থেকে এমন এক যুবককে পছন্দ করল যে দুনিয়া বিমুখতা অবলম্বন করেছিল এবং পরহেজগারি গ্রহণ করেছিল। যখন তাকে তার স্বামীর গৃহে নিয়ে যাওয়ার সময় হলো, তখন তার নিকট তার তিন বোন এবং এক ধাত্রী সমবেত হলো। ধাত্রী তাকে উপদেশ দিতে শুরু করল [এবং বলল]: "হে আমার প্রিয় কন্যা! যে ব্যক্তি তার দৃষ্টির জ্যোতি দ্বারা সেটিকে আবৃত করে না যার মাধ্যমে তার সঠিক পথ স্পষ্ট হয়...