(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: -)
عمدة الكتاب لأبي جعفر النحاس القسم: النحو والصرف
الكتاب: عمدة الكتاب
المؤلف: أبو جعفر النَّحَّاس أحمد بن محمد بن إسماعيل بن يونس المرادي النحوي (ت 338 هـ)
المحقق: بسام عبد الوهاب الجابي [ت 1438 هـ]
الناشر: دار ابن حزم - الجفان والجابي للطباعة والنشر
الطبعة: الأولى 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 459
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু জাফর আন-নাহহাস বিরচিত উমদাতুল কিতাব বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: উমদাতুল কিতাব
লেখক: আবু জাফর আন-নাহহাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইউনুস আল-মুরাদি আন-নাহবি (মৃত্যু ৩৩৮ হি.)
সম্পাদক: বাসসাম আব্দুল ওয়াহাব আল-জাবি [মৃত্যু ১৪৩৮ হি.]
প্রকাশক: দার ইবনে হাযম - আল-জাফফান ওয়াল জাবি লিত-তিবাআহ ওয়ান নাশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হি. - ২০০৪ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: ইয়া বাগিয়াল খায়ের আকবিল
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: -)
عمدة الكتاب
لأبي جعفر أحمد بن محمد بن إسماعيل النحاس
المتوفى سنة 338 هـ
بعناية
بسام عبد الوهاب الجابي
دار ابن حزم - الجفان والجابي للطباعة والنشر
الطبعة الأولى
1425 هـ - 2004 م
উমদাতুল কুততাব
আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আন-নাহহাস বিরচিত
মৃত্যু ৩৩৮ হিজরি
সম্পাদনায়
বাসসাম আব্দুল ওয়াহহাব আল-জাবি
দার ইবনে হাজম - আল-জাফ্ফান ওয়া আল-জাবি মুদ্রণ ও প্রকাশনা
প্রথম সংস্করণ
১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم، وبه الثقة
قال أبو جعفر أحمد بن محمد النحوي:
1- الحمد لله الواحد المجيد، القوي الشديد، المبدئ المعيد؛ ذي العزة والسلطان، والرحمة والامتنان؛ الذي تواضع كل شيء لعظمته، واستسلم الخلق لقدرته؛ أحمده على النعماء، وأشكره على الشدة والرخاء؛ مالك الملك يؤتي الملك من يشاء، وينزع الملك ممن يشاء، ويعز من يشاء، ويذل من يشاء، بيده الخير، وهو على كل شيء قديرٌ؛ الذي علم بالقلم، علم الإنسان ما لم يعلم؛ وصلى الله على محمدٍ عبده المرسل بالحجة والبرهان، والنور والفرقان؛ داعياً إلى الحق وشاهداً على الخلق، وعلى آل محمدٍ وسلم تسليماً.
2- فلم يزل صلى الله عليه يصدع بما أمر به ويجاهد في سبيله محتسباً صابراً، يحض على الطاعة والعلم كما حدثنا أبو سعدٍ محمد بن يحيى، يعرف بالرهاوي، قال: حدثنا أبو فروة يزيد بن محمد بن يزيد بن سنان، قال: حدثني، أبي، عن أبيه، قال: حدثنا زيد بن أبي أنيسة، عن عاصم بن أبي النجود، عن زر بن حبيش، قال: أتيت صفوان بن عسالٍ المرادي، فقال لي: ما أقدمك؟ قلت: التماس العلم؛ فقال: إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إن الملائكة لتضع أجنحتها لطالب العلم رضىً بما يصنع)) وذكر الحديث.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম (بسم الله الرحمن الرحيم), এবং তাঁরই ওপর ভরসা (الثقة)
আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মাদ আন-নাহবী বলেছেন:
1- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক, মহিমান্বিত, অতি শক্তিশালী, প্রবল পরাক্রমশালী, সৃষ্টির সূচনাদানকারী এবং পুনরুত্থানকারী; যিনি মর্যাদা ও রাজত্বের অধিকারী এবং দয়া ও করুণার আধার; যাঁর মহত্ত্বের সামনে প্রতিটি বস্তু অবনত এবং যাঁর কুদরতের নিকট প্রতিটি সৃষ্টি আত্মসমর্পণকারী। আমি তাঁর প্রশংসা করি সকল নিআমতের ওপর এবং শোকরিয়া আদায় করি দুঃখ ও সুখে। তিনি সকল রাজত্বের মালিক, যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন; যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন। তাঁরই হাতে সকল কল্যাণ এবং তিনি প্রতিটি বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা মুহাম্মাদ-এর ওপর, যাঁকে প্রেরণ (المرسل) করা হয়েছে দলিল ও প্রমাণ এবং নূর ও ফুরকানসহ; যিনি সত্যের দিকে আহ্বানকারী ও সৃষ্টির ওপর সাক্ষী এবং মুহাম্মাদ-এর পরিবারের ওপরও সালাম বর্ষিত হোক পূর্ণাঙ্গভাবে।
2- তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবিরত আল্লাহর নির্দেশসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন এবং আল্লাহর পথে সওয়াবের আশায় ও ধৈর্যের সাথে জিহাদ করেছেন। তিনি আনুগত্য ও ইলম অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করতেন, যেমনটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু সা’দ মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া, যিনি রহাউই নামে পরিচিত; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু ফারওয়া ইয়াযিদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াযিদ বিন সিনান; তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) আমার পিতা, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে (عن); তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যায়েদ বিন আবি আনিসা, তিনি আসিম বিন আবি আন-নাজুদ-এর সূত্রে (عن), তিনি যির বিন হুবাইশ-এর সূত্রে (عن); তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান বিন আসসাল আল-মুরাদি-এর নিকট আসলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: কোন উদ্দেশ্যে তোমার আসা? আমি বললাম: ইলম অন্বেষণ করার জন্য। তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানাগুলো বিছিয়ে দেয়))—এবং তিনি হাদিসটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
3- قال أبو جعفر: ومن العلم صناعة الكتاب، وقد وهم من زعم أن أحكام الكتابة مباينةٌ لأحكام الشريعة، لأن ذلك مخالفٌ لما يوجبه الدين والعقل، لأن الكتابة فرعٌ من فروع الشريعة، والشريعة أصلٌ، والكتابة سياسةٌ للملك، والملك لا قوام له إلا بالدين، فقد تبين أن الكتابة فرعٌ من فروع الدين، وما كان فرعاً لشيءٍ لم يباينه، وأحكام الكتابة ملائمةٌ لأحكام الشريعة. والدليل على ذلك أن مسلماً لو أحيا أرضاً مواتاً كان حكم الفقيه والكاتب فيها سواءً؛ وكذلك في ما يخرج من الزكاة من العشر ونصف العشر، وكذا حكم الصدقات من الإبل والبقرة والغنم، وكذا الحكم في الركاز والفيء والغنائم. وقد ألزم بعض الناس الكاتب أشياء يعجز عنها، وترك أشياء يحتاج إليها، وإنما أدوات الكتابة: الخط، والبلاغة، والعلم بترتيب أعمال الدواوين، والخبرة بمجاري الأعمال، والدربة بوجوه استخراج الأموال مما يحل ويسع. فهذه الآلات ليس لواحدٍ منها حيزٌ بذاته ولا انفرادٌ باسمه يخصه، وإنما هو جزءٌ من الكتابة وداخلٌ في أركانها.
4- فأما الفقه والفرائض وصناعة الحساب والعلم بالنحو، فكل واحدٍ منها منفردٌ على حدته وإن كان الكاتب محتاجاً إلى أشياء منها، نحو ما يكتب بالألف والياء وإلى شيءٍ من المقصور والمدود.
3- আবু জাফর বলেন: বিজ্ঞানের একটি শিল্প হলো সচিব-বিদ্যা (বা লিপি শিল্প)। যারা মনে করেন যে সচিব-বিদ্যার বিধিবিধান শরিয়তের বিধিবিধান থেকে ভিন্ন, তারা মূলত ভ্রান্তিতে লিপ্ত; কারণ এই ধারণা ধর্ম ও বিবেক যা আবশ্যক করে তার পরিপন্থী। মূলত সচিব-বিদ্যা হলো শরিয়তের একটি শাখা (فرع), আর শরিয়ত হলো মূল (أصل)। সচিব-বিদ্যা হলো রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশাসনিক নীতি, আর ধর্ম ছাড়া রাষ্ট্রের কোনো স্থায়িত্ব নেই। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, সচিব-বিদ্যা দ্বীনেরই একটি শাখা। আর যা কোনো কিছুর শাখা হয়, তা তার মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না; তাই সচিব-বিদ্যার বিধিবিধানগুলো শরিয়তের বিধিবিধানের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। এর প্রমাণ হলো, কোনো মুসলিম যদি কোনো অনাবাদী ভূমি আবাদ করে, তবে সে ক্ষেত্রে ফকিহ এবং লিপিকারের বিধান অভিন্ন হবে। একইভাবে জাকাতের ক্ষেত্রে ওশর ও অর্ধ-ওশর প্রদানের বিধানে এবং উট, গরু ও ছাগলের সদকার বিধানেও তাদের সিদ্ধান্ত একই। অনুরূপভাবে রিকায, ফায় এবং গণিমতের বিধানও অভিন্ন। কিছু মানুষ লিপিকারের ওপর এমন সব বিষয়ের দায়ভার চাপিয়েছেন যা পালন করা তার সাধ্যাতীত, আবার এমন কিছু বিষয় বর্জন করেছেন যা তার জন্য অপরিহার্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে সচিব-বিদ্যার উপকরণসমূহ হলো: হস্তলিখন, অলঙ্কারশাস্ত্র, দাপ্তরিক কার্যাবলীর বিন্যাস পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান, প্রশাসনিক কর্মধারা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা এবং বৈধ ও প্রশস্ত পন্থায় সম্পদ আহরণের পদ্ধতিগত দক্ষতা। এই উপকরণগুলোর কোনোটিরই নিজস্ব পৃথক কোনো সত্তা নেই বা বিশেষ নামে তা স্বতন্ত্র নয়। বরং এগুলো সচিব-বিদ্যারই অংশ এবং এর স্তম্ভ (ركن) সমূহের অন্তর্ভুক্ত।
4- তবে ফিকহ (فقه), ফারায়েদ (উত্তরাধিকার শাস্ত্র), গণিত এবং ব্যাকরণ শাস্ত্রের বিষয়টি ভিন্ন; এগুলোর প্রতিটিই স্বকীয়ভাবে স্বতন্ত্র, যদিও লিপিকারের জন্য এগুলোর কোনো কোনো বিষয়ের প্রয়োজন হয়। যেমন আলিফ ও ইয়া-এর মাধ্যমে লিখন পদ্ধতি এবং মাকসুর ও মাদুদ (সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘ স্বর) সংক্রান্ত কিছু নিয়মাবলী।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
5- ولو كلف الكاتب ما ذكره من ذكره لجعل الأصعب طريقاً إلى الأسهل، والأشق مفتاحاً للأهون؛ وفي طباع الناس النفار عن ما ألزمهم من جميع هذه الأشياء. على أن بعض الناس قد ترك كل ما قال وأغفل كل ما يحتاج إليه، وجهل ما يجب عليه، حتى صار يعيب العلم وأهله، ويستصغر الأدب وأصله، وهذا كما حكى ابن الأعرابي أن العرب تقول: من أمل رجلاً هابه، ومن جهل شيئاً عابه.
6- قال أبو جعفر: وهو في هذا الفعل مخالفٌ لله عز وجل ولرسوله صلى الله عليه وسلم وللصحابة رضي الله عنهم وللتابعين رحمهم الله والحكماء.
قال الله جل وعز: {إنما يخشى الله من عباده العلماء} ، وقال تعالى: {وتلك الأمثال نضربها للناس وما يعقلها إلا العالمون} ، وقال جل ذكره: {وعلمك ما لم تكن تعلم وكان فضل الله عليك عظيماً} ، وقال عز وجل: {وعلمتم ما لم تعلموا أنتم ولا آباؤكم} .
7- وقرئ على عبد الله بن محمد بن عبد العزيز، عن شريك بن سعيدٍ، قال: حدثنا أبو بكر ابن عياش، عن سعيد بن عبد الكريم، عن أبي عمار، عن أنس بن مالك، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((طلب العلم فريضةٌ على كل مسلمٍ، وطالب العلم يستغفر له كل شيء حتى الحوت في البحر)) .
8- قال: وحدثني شريكٌ قال: حدثنا عبد الرزاق، عن معمر،
5- যদি লেখককে সেই বিষয়ের ভার দেওয়া হতো যা কোনো বর্ণনাকারী উল্লেখ করেছেন, তবে তা সহজসাধ্য বিষয়ের জন্য কঠিনতম পথ এবং অনায়াসলব্ধ বিষয়ের জন্য কষ্টসাধ্য চাবিকাঠিতে পরিণত হতো; কেননা মানুষের প্রকৃতি হলো ঐ সকল বিষয় থেকে বিমুখ হওয়া যা তাদের ওপর বাধ্যতামূলক করা হয়। তদুপরি, কিছু লোক তার বর্ণিত সবকিছু বর্জন করেছে এবং যা প্রয়োজন তা অবহেলা করেছে, আর যা আবশ্যক তা সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেছে। এমনকি তারা ইলম ও আহলে ইলমের নিন্দা করতে শুরু করেছে এবং আদব ও এর মূলভিত্তিকে তুচ্ছজ্ঞান করেছে। এটি ঠিক ইবনুল আরাবির বর্ণিত সেই প্রবাদের মতো যা আরবরা বলে থাকে: "যে ব্যক্তি কারো নিকট প্রত্যাশা রাখে সে তাকে সমীহ করে, আর যে কোনো বিষয়ে অজ্ঞ থাকে সে তার নিন্দা করে"।
6- আবু জাফর বলেন: সে তার এই কার্যের মাধ্যমে মহান আল্লাহ, তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবীগণ (الصحابة), তাবেয়ীন (التابعين) এবং প্রজ্ঞাবানদের বিরুদ্ধাচরণ করছে।
মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করেন"; তিনি আরও বলেছেন: "আমি মানুষের জন্য এই সকল দৃষ্টান্ত পেশ করি, কিন্তু কেবল জ্ঞানীরাই তা অনুধাবন করতে পারে"; তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: "তিনি আপনাকে এমন কিছু শিখিয়েছেন যা আপনি জানতেন না এবং আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহিমান্বিত"; তিনি আরও বলেন: "তোমাদেরকে এমন বিষয় শিখানো হয়েছে যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতে না"৷
7- আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল আজিজের নিকট পাঠ করা হয়েছে শারিক বিন সাঈদ থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু বকর ইবনে আইয়াশ, তিনি সাঈদ বিন আবদুল কারীম থেকে, তিনি আবু আম্মার থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ (فريضة), আর ইলম অন্বেষণকারীর জন্য সবকিছুই ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি সমুদ্রের মাছও"৷
8- তিনি বলেন: আর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) শারিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুর রাজ্জাক, মা’মার থেকে,
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قال: ((إن الرجل ليطلب العلم لغير الله فيأبى العلم حتى يكون لله)) .
9- وحدثني محمد بن أيوب بن حبيب، قال: حدثنا حفص بن عمر، قال: حدثنا قبيصة بن عقبة قال: حدثنا سفيان [الثوري] ، عن حبيب ابن أبي ثابت: ((طلبت هذا العلم زماناً وما أريد به الله، فنفعني الله به بعد)) .
10- وحدثني محمد بن أيوب، قال: حدثنا يحيى بن عثمان، قال: حدثنا أبو إبراهيم إسماعيل بن إسحاق الأنصاري، قال: حدثنا مسعر بن كدام، وروي عن عطية العوفي، عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من غدا يطلب العلم صلت عليه الملائكة، وبورك له في معيشته، ولم ينتقص في رزقه، وكان مباركاً عليه)) .
11- قال أبو جعفرٍ: ولو كان من لا يحسن يمسك عن الطعن على من يحسن لكان أقرب لعذره كما قرئ على علي بن سعيد بن بشير، عن أحمد بن إبراهيم الدورقي قال: حدثنا محمد بن منصورٍ؟؟؟ قال: حدثنا جعفر بن سليمان، عن مالك بن دينار، أنه قال: كفى بك شراً أن لا تكون صالحاً وتطعن على الصالحين، وكفى بك خائناً أن لا تكون خائناً وأنت أمينٌ للخائنين.
12- ويروى عن أبي الدرداء، قال: اطلبوا العلم، فإن عجزتم عنه
তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই একজন লোক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে ইলম অন্বেষণ করে, কিন্তু ইলম তা প্রত্যাখ্যান করে যতক্ষণ না তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয়।"
৯- এবং মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন হাবিব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাফস বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাবিদাহ বিন উকবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান [আস-সাওরি] হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: "আমি দীর্ঘকাল এই ইলম অন্বেষণ করেছি অথচ তখন আমার উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ছিল না, অতঃপর আল্লাহ পরবর্তীতে এর মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করেছেন।"
১০- এবং মুহাম্মদ বিন আইয়ুব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইব্রাহিম ইসমাইল বিন ইসহাক আল-আনসারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মিসআর বিন কিদাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এবং এটি আতিয়্যাহ আল-আওফি থেকে বর্ণিত (روي), তিনি আবু সাইদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সকালবেলা ইলম অন্বেষণে বের হয়, ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করে, তার জীবনযাত্রায় বরকত দান করা হয়, তার জীবিকায় কোনো ঘাটতি হয় না এবং সে বরকতময় হয়ে ওঠে।"
১১- আবু জাফর বলেন: যে ব্যক্তি কোনো বিষয় ভালো জানে না, সে যদি সেই ব্যক্তির সমালোচনা (الطعن) করা থেকে বিরত থাকত যে তা ভালো জানে, তবে তা তার ওজরের জন্য অধিকতর নিকটবর্তী হতো; যেমনটি আলী বিন সাইদ বিন বাশিরের নিকট পাঠ করা হয়েছে, তিনি আহমাদ বিন ইব্রাহিম আদ-দাওরাকি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর বিন সুলাইমান মালিক বিন দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমার মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে তুমি নিজে নেককার (صالحاً) নও অথচ তুমি নেককারদের (الصالحين) সমালোচনা (تطعن) করো। আর তোমার বিশ্বাসঘাতক (خائناً) হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে তুমি নিজে বিশ্বাসঘাতক নও অথচ তুমি বিশ্বাসঘাতকদের (للخائنين) নিকট আমানতদার (أمينٌ) হিসেবে গণ্য হয়ে আছো।"
১২- এবং আবু আদ-দারদা থেকে বর্ণিত (يروى) আছে, তিনি বলেন: "তোমরা ইলম অন্বেষণ করো, আর যদি তোমরা তাতে অক্ষম (عجزتم) হও তবে..."
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فأحبوا أهله، فإن لم تحبوهم فلا تبغضوهم.
13- قال أبو جعفر: ولو لم يلحق من فعل هذا إلا أنه ينسب به إلى الجهل الذي يغضب منه كل أحدٍ ويكون من الهمج الرعاع كما قال عليٌ صلى الله عليه: الناس ثلاثةٌ: عالمٌ ربانيٌ، ومتعلمٌ على سبيل نجاةٍ، وهمجٌ رعاعٌ.
والهمج: البعوض، أي: هو بمنزلة البهائم.
14- حدثنا محمد بن الحسن البخاري، قال: حدثنا أبو بكر أحمد بن إسحاق بن صالح، قال: حدثني إبراهيم بن محمد بن عرعرة، قال: حدثنا عبد الملك بن عبد الرحمن الذماري، قال: حدثنا سفيان، عن الأوزاعي، عن كثير بن قيسٍ، عن يزيد بن سمرة، عن أبي الدرداء، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((من سلك طريقاً يطلب فيه علماً سلك الله به طريقاً إلى الجنة، وإن الملائكة لتضع أجنحتها لطالب العلم لرضاها بما يصنع، وإنه تستغفر له دواب الأرض حتى الحيتان في البحر، وإن فضل العالم على العابد كفضل القمر ليلة البدر على سائر الكواكب، وإن العلماء ورثة الأنبياء، وإن الأنبياء لم يورثوا ديناراً ولا درهماً، ولكن ورثوا العلم، فمن أخذ به فقد أخذ بحظٍ وافرٍ)) .
সুতরাং তাদের (জ্ঞানের অনুসারীদের) ভালোবাসুন; যদি তাদের ভালোবাসতে না পারেন, তবে অন্তত তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করবেন না।
13- আবু জাফর বলেন: যে ব্যক্তি এরূপ কাজ করে, তার পরিণাম যদি কেবল এটাই হয় যে তাকে এমন মূর্খতার দিকে নিসবত করা হবে যা দেখে যে কেউ ক্রুদ্ধ হবে এবং সে সেই নির্বোধ জনসাধারণের (همج رعاع) অন্তর্ভুক্ত হবে, তবে তাই যথেষ্ট। যেমন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: মানুষ তিন প্রকার: আল্লাহনিষ্ঠ আলেম (عالم رباني), নাজাতের পথে থাকা শিক্ষার্থী এবং একদল নির্বোধ সাধারণ জনতা (همج رعاع)।
আর 'হামাজ' (الهمج) অর্থ মশা; অর্থাৎ সে পশুর স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
14- মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আরআরাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল মালিক ইবনে আবদুর রহমান আয-যিমারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট আওযাঈ থেকে, তিনি কাসির ইবনে কায়েস থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে সামুরা থেকে, তিনি আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((যে ব্যক্তি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের একটি পথ সুগম করে দেন। নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আর আলেমের জন্য আসমান ও জমিনের সকল সৃষ্টি, এমনকি সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে। ইবাদতকারীর তুলনায় আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণিমার চাঁদের মতো, যা সমস্ত নক্ষত্ররাজির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে। নিশ্চয়ই আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাঁরা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন ইলম। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক বিশাল অংশ লাভ করল))।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
15- قرئ على أحمد بن سعيد الدمشقي، عن إسماعيل بن يحيى المزني في فضل العلم، قال: وإنه قال صلى الله عليه: ((يقال يوم القيامة للعابد: ادخل الجنة، ويقال للعالم: قف واشفع لمن شئت)) .
16- وقال صلى الله عليه وسلم: ((لا حسد إلا في اثنتين: رجلٌ آتاه الله مالاً فسلطه على هلكته في الحق، ورجلٌ آتاه الله حكمةً فهو يقضي بها ويعلمها)) .
17- وقال صلى الله عليه: ((من دل على خيرٍ فله مثل أجر فاعله)) .
18- وقال صلى الله عليه وسلم: ((العالم والمتعلم كهذه من هذه -وجمع بين أصبيعه السبابة والتي تليها- شريكان في الأجر، ولا خير في سائر الناس)) .
19- وقال صلى الله عليه وسلم: ((اغد عالماً أو متعلماً أو مستمعاً أو محباً لذلك، ولا تكن الخامس فتهلك)) .
20- وقال صلى الله عليه وسلم: ((رددوا المسائل فإن أجر آخرها كأجر أولها)) .
21- وعن عيسى صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تلق اللؤلؤ إلى الخنزير فإنه لا يصنع به شيئاً، ولا تعط الحكمة من لا يريدها فإن الحكمة خيرٌ من اللؤلؤ، ومن لا يريدها شرٌ من الخنزير)) .
15- আহমদ বিন সাঈদ আদ-দিমাশকি-এর নিকট পাঠ করা হয়েছে (قرئ على), ইসমাঈল বিন ইয়াহইয়া আল-মুযানী থেকে (عن) ইলমের ফযিলত সম্পর্কে বর্ণিত; তিনি বলেন: নিশ্চয়ই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((কিয়ামতের দিন ইবাদতকারীকে বলা হবে: জান্নাতে প্রবেশ করো; আর আলিমকে বলা হবে: দাঁড়াও এবং তুমি যার জন্য ইচ্ছা সুপারিশ করো।)) .
16- এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((দুইটি বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে ঈর্ষা নেই: এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে তা সত্যের পথে ব্যয় করার পূর্ণ সামর্থ্য দিয়েছেন; আর এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত দান করেছেন, যা দ্বারা সে বিচার-ফয়সালা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।)) .
17- এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের সন্ধান দেবে, সে তার সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ প্রতিদান লাভ করবে।)) .
18- এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আলিম এবং তালিবে ইলম —এই বলে তিনি তাঁর তর্জনী ও তার পার্শ্ববর্তী আঙুলকে একত্রিত করলেন— তারা উভয়েই সওয়াবের অংশীদার; আর অবশিষ্ট মানুষের মাঝে কোনো কল্যাণ নেই।)) .
19- এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তুমি আলিম হও, অথবা তালিবে ইলম, অথবা শ্রবণকারী, কিংবা ইলমের প্রতি অনুরাগী হও; কিন্তু পঞ্চম ব্যক্তি হয়ো না, নতুবা তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।)) .
20- এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা মাসআলাসমূহ পুনরাবৃত্তি করো; কারণ এর শেষ ভাগের সওয়াব প্রথম ভাগের সওয়াবের মতোই।)) .
21- আর ঈসা (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ((তোমরা শুকরের নিকট মুক্তো নিক্ষেপ করো না, কারণ সে তা দিয়ে কিছুই করবে না; আর যে হিকমত পেতে অনিচ্ছুক তাকে তা দিও না, কেননা হিকমত মুক্তোর চেয়েও উত্তম, আর যে ব্যক্তি তা চায় না সে শুকরের চেয়েও নিকৃষ্ট।)) .
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
قال المزني: في هذا الحديث معنيان؛ أحدهما: أدبٌ والآخر تمثيلٌ.
22- وعن عمر رضي الله عنه أنه قال: من رق وجهه رق علمه.
23- وعن علي صلى الله عليه [كذا] أنه قال: تعلموا العلم، فإذا تعلمتموه فاكظموا عليه، ولا تخلطوه بضحكٍ ولا بلعبٍ فتمجه القلوب.
24- حدثنا ابن عناز [أو غسان؟؟] ، قال: حدثنا أبو الظاهر، قال: أخبرنا ابن وهب، قال: سمعت سفيان يقول في هذه الآية: {وجعلني مباركاً أين ما كنت} قال: معلم الخير.
25- وقال إبراهيم: ((لا يتعلم مستكبرٌ ولا مستحٍ)) .
26- وقال رجاء بن حيوة: يقال ما أحسن الإسلام ويزينه الإيمان، وما أحسن الإيمان ويزينه التقوى، وما أحسن التقوى ويزينه العلم، وما أحسن العلم ويزنه الحلم، وما أحسن الحلم ويزينه الرفق.
27- وكان عبد الله بن عباس يقول: لصوت فقيهٍ -أو قال عالمٍ- أثقل على إبليس من مئة عابدٍ.
28- وقال مالك بن أنسٍ: إن العلم ليس بكثرة الرواية، إنما العلم نورٌ يجعله الله في القلوب.
29- وروى مالك بن أنسٍ أن عيسى صلى الله عليه قال: ((تأتي أمة
ইমাম মুযানী বলেন: এই হাদিসে দুটি অর্থ রয়েছে; একটি হলো শিষ্টাচার এবং অন্যটি হলো দৃষ্টান্ত।
22- ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: যার লজ্জা কমে যায়, তার জ্ঞানও কমে যায়।
23- আলী (আ.) [মূল পাঠে এভাবেই আছে] থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: তোমরা জ্ঞান অর্জন করো, আর যখন তা শিখবে তখন তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো। একে হাসি-তামাশা বা খেলাধুলার সাথে মিশ্রিত করো না, নতুবা অন্তরসমূহ একে প্রত্যাখ্যান করবে।
24- আমাদের নিকট ইবনে আননায [অথবা গাসসান??] বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু তাহির বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের ইবনে ওয়াহাব সংবাদ (أخبرنا) দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে এই আয়াতের বিষয়ে বলতে শুনেছি: {এবং তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন আমি যেখানেই থাকি}; তিনি বলেন: অর্থাৎ কল্যাণের শিক্ষক।
25- এবং ইব্রাহিম বলেন: "অহঙ্কারী এবং অতি লজ্জাশীল ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে পারে না।"
26- এবং রাজা ইবনে হাইওয়াহ বলেন: বলা হয় যে, ইসলাম কতই না চমৎকার আর ঈমান একে সুশোভিত করে, ঈমান কতই না চমৎকার আর তাকওয়া একে সুশোভিত করে, তাকওয়া কতই না চমৎকার আর জ্ঞান একে সুশোভিত করে, জ্ঞান কতই না চমৎকার আর সহনশীলতা একে সুশোভিত করে, এবং সহনশীলতা কতই না চমৎকার আর কোমলতা একে সুশোভিত করে।
27- এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলতেন: একজন ফকিহ —অথবা তিনি বলেছিলেন একজন আলিম— এর কণ্ঠস্বর ইবলিসের নিকট একশজন ইবাদতকারীর চেয়েও বেশি ভারী।
28- এবং মালিক ইবনে আনাস বলেন: নিশ্চয়ই জ্ঞান কেবল অধিক বর্ণনা (رواية)-এর নাম নয়, বরং জ্ঞান হলো এক প্রকার নূর যা আল্লাহ তাআলা অন্তরে দান করেন।
29- এবং মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন যে ঈসা (আ.) বলেছেন: ((অচিরেই এমন এক উম্মত আসবে...
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
محمدٍ صلى الله عليه علماء حكماء كأنهم من الفقه أنبياء)) قال مالكٌ: وأراهم صدر هذه الأمة.
30- قال مالكٌ: إن حقاً على من طلب العلم أن يكون فيه وقارٌ وسكينةٌ وخشيةٌ، وأن يكون متبعاً لأثر من مضى قبله.
31- قال أبو جعفرٍ: وقد صار أكثر من مضى يطعن على متعلمي العربية جهلاً وتعدياً، حتى إنهم يحتجون بما يزعمون أن القاسم بن مخيمرة قال: النحو أوله شغلٌ وآخره بغيٌ.
ويحتجون بقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((لأن يمتلئ جوف أحدكم قيحاً حتى يريه خيرٌ له من أن يمتلئ شعراً)) .
وبقول الله: {والشعراء يتبعهم الغاوون} .
والمحتج بما ذكرنا جاهلٌ بكتاب الله، غالطٌ في معنى حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، لأن الله جل ثناؤه قال: {إلا الذين آمنوا} الآية مستثناةٌ.
والحديث: ((لأن يمتلئ جوف أحدكم قيحاً)) قال الشعبي: معناه: من الشعر الذي هجي به النبي صلى الله عليه وسلم.
ويروى هذا عن عائشة رضي الله عنها.
وفيه تأويلٌ آخر، وهو اختيار أبي عبيدٍ، أن معنى امتلاء جوفه من الشعر أن يغلب عليه حتى لا يكون فيه فضلٌ لقراءة القرآن ولا لذكر الله، فأما من كان ناظراً في القرآن والذكر فلم يمتلئ جوفه شعراً.
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাজ্ঞ আলিমগণ, তাঁরা যেন ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের নবীগণের ন্যায়।)) মালিক বলেন: আমি তাঁদের এই উম্মতের অগ্রবর্তী দল হিসেবে গণ্য করি।
30- মালিক বলেন: জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য এটি অবশ্যই কর্তব্য যে, তার মধ্যে গাম্ভীর্য (وقار), প্রশান্তি (سكينة) ও খোদাভীতি (خشية) থাকবে এবং সে তার পূর্বসূরিদের ঐতিহ্যের (أثر) অনুসারী (متبع) হবে।
31- আবু জাফর বলেন: পূর্ববর্তীদের অনেকেই অজ্ঞতা ও সীমালঙ্ঘনবশত আরবি ভাষা শিক্ষার্থীদের সমালোচনা করতেন, এমনকি তাঁরা কাসিম ইবন মুখাইমারাহর বলে কথিত এই উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেন যে: ব্যাকরণ (النحو) চর্চার শুরু হলো ব্যস্ততা এবং শেষ হলো সীমালঙ্ঘন (بغي)।
তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেন: "তোমাদের কারো উদর পুঁজ দ্বারা পূর্ণ হওয়া যা তাকে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে, তা কবিতা (شعر) দ্বারা পূর্ণ হওয়ার চেয়ে তার জন্য উত্তম।"
এবং আল্লাহর বাণী দ্বারা: {আর কবিদের অনুসরণ করে বিভ্রান্তরা}।
আমরা যা উল্লেখ করেছি তা দিয়ে যারা দলিল পেশ করে, তারা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অজ্ঞ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের মর্মার্থের ক্ষেত্রে ভ্রান্ত; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে...}, এই আয়াতটি পূর্ববর্তী হুকুম থেকে ব্যতিক্রমধর্মী (مستثناة)।
আর হাদিসটি: "তোমাদের কারো উদর পুঁজ দ্বারা পূর্ণ হওয়া...", এ সম্পর্কে শা'বি বলেন: এর অর্থ হলো সেই কবিতা (شعر) যার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ব্যঙ্গ (هجي) করা হয়েছে।
এটি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকেও বর্ণিত (يروى) হয়েছে।
এর মধ্যে আরেকটি ব্যাখ্যা (تأويل) রয়েছে, যা আবু উবায়দ গ্রহণ করেছেন: উদর কবিতা (شعر) দ্বারা পূর্ণ হওয়ার অর্থ হলো এটি মানুষের ওপর এমনভাবে প্রবল হয়ে ওঠা যে, সেখানে কুরআন তিলাওয়াত বা আল্লাহর জিকিরের (ذكر) জন্য কোনো অবকাশ না থাকে। তবে যে ব্যক্তি কুরআন ও জিকিরের (ذكر) প্রতি মনোযোগী, তার উদর কবিতা (شعر) দ্বারা পূর্ণ হয়নি।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ولولم يكن في هذه الآية إلا قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن من الشعر حكمةً)) . وقوله لحسان: ((يا حسان! أجب عن رسول الله، اللهم أيده بروح القدس)) . لكان فيه كفايةٌ.
32- وقد سمع النبي صلى الله عليه وسلم الشعر واستحسنه وأثاب قائله، وكذا الصحبة والتابعون، واستشهدوا به في كتاب الله، منهم ابن عباس كما روى أبو داود الطيالسي عن مسمع قال: سمعت عكرمة قال: كان ابن عباس إذا سئل عن شيءٍ من أمر القرآن أنشد فيه شعراً من أشعارهم.
33- وأما قول القاسم بن مخيمرة، فإن صح فإنه مخالفٌ لقول النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه وتابعيه، وما كان كذلك لم يجز لمسلمٍ أن يحتج به. وأيضاً فقوله: أوله شغلٌ وآخره بغيٌ؛ كلامٌ لا معنى له، لأن أول الفقه شغلٌ، وأول الحساب شغلٌ، وآخره بغيٌ، وكذا أوائل العلوم، أفترى الناس تاركين العلوم من أجل أن أولها شغلٌ!؟
وقوله: وآخره بغيٌ، إن كان يريد به أن صاحب النحو إذا حذقه صار فيه زهوٌ واستحقر من يلحن، فهذا موجودٌ في غيره من العلوم من الفقه وغيره في بعض الناس، وإن كان مكروهاً.
وإن كان يريد بالبغي التجاوز في ما لا يحل فهذا كلامٌ محالٌ، لأن النحو إنما هو لتعلم اللغة التي نزل بها القرآن، وهي لغة النبي صلى الله عليه وكلام أهل الجنة وأهل السماء؛ كما قال مقاتل بن حيان: كلام أهل السماء العربية.
যদি এই বিষয়ের সপক্ষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী ছাড়া আর কিছুই না থাকত: "নিশ্চয় কিছু কবিতায় প্রজ্ঞা রয়েছে", এবং হাসসানকে বলা তাঁর এই কথা: "হে হাসসান! আল্লাহর রাসুলের পক্ষ থেকে উত্তর দাও, হে আল্লাহ! তাকে রুহুল কুদুস (জিবরাঈল) দ্বারা সাহায্য করুন", তবে তা-ই যথেষ্ট হতো।
32- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবিতা শুনেছেন, তা পছন্দ করেছেন এবং এর আবৃত্তিকারীকে পুরস্কৃত করেছেন। একইভাবে সাহাবীগণ এবং তাবেয়ীগণ (التابعون) তা করেছেন। তাঁরা আল্লাহর কিতাবের অর্থ বর্ণনায় কবিতা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। তাঁদের মধ্যে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অন্যতম, যেমনটি আবু দাউদ আত-তায়ালিসি মিসমা' থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইকরিমাকে বলতে শুনেছি: ইবনে আব্বাসকে যখন কুরআনের কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি সে বিষয়ে তাঁদের (আরবদের) কবিতা থেকে পংক্তি আবৃত্তি করতেন।
33- আর কাসিম ইবনুল মুখাইমিরাহ-এর বক্তব্যের ব্যাপারে বলা যায় যে, যদি তা সহিহ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিতও হয়, তবে তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবী এবং তাবেয়ীগণের (التابعون) বক্তব্যের পরিপন্থী। আর যা এমন হয়, কোনো মুসলিমের জন্য তা দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ নয়। এছাড়া তাঁর এই কথা: "এর শুরু হলো ব্যস্ততা এবং শেষ হলো সীমালঙ্ঘন" — এটি একটি অর্থহীন কথা। কারণ ফিকহ শাস্ত্রের শুরুও ব্যস্ততা, হিসাববিজ্ঞানের শুরুও ব্যস্ততা; একইভাবে অন্যান্য ইলমের শুরুর অবস্থাও তদ্রূপ। তবে কি আপনি মনে করেন যে, মানুষ ইলম অর্জন বর্জন করবে কেবল এই কারণে যে তার শুরুটা ব্যস্ততাপূর্ণ!?
আর তাঁর কথা: "এর শেষ হলো সীমালঙ্ঘন", এর দ্বারা যদি তিনি বুঝিয়ে থাকেন যে নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রবিদ যখন এতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন তখন তাঁর মাঝে অহংকার চলে আসে এবং তিনি ব্যাকরণগত ভুলকারীকে তুচ্ছজ্ঞান করেন, তবে এটি ফিকহসহ অন্যান্য ইলমের ক্ষেত্রেও কিছু মানুষের মাঝে দেখা যায়, যদিও তা অপছন্দনীয় (مكروه)।
আর যদি তিনি সীমালঙ্ঘন বলতে এমন বিষয়ের অতিশয্য বুঝিয়ে থাকেন যা বৈধ নয়, তবে এটি একটি অসম্ভব কথা। কারণ নাহু শাস্ত্র তো কেবল সেই ভাষা শিক্ষার জন্য যার মাধ্যমে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভাষা এবং জান্নাতবাসী ও আসমানবাসীদের ভাষা; যেমনটি মুকাতিল ইবনে হাইয়ান বলেছেন: আসমানবাসীদের ভাষা হলো আরবি।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
34- وفي الحديث: ((أحبوا العربية لثلاثٍ: لأني عربيٌ، والقرآن عربيٌ، وكلام أهل الجنة عربيٌ)) .
35- والأحاديث عن النبي صلى الله عليه والصحابة والتابعين في فضل العربية كثيرةٌ. فمن ذلك ما رواه أبو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((أعربوا القرآن والتمسوا غرائبه)) .
36- وكتب عمر رضي الله عنه إلى أبي موسى: أما بعد؛ فتفقهوا في السنة، وتفقهوا في العربية.
37- وقال أبي بن كعبٍ: تعلموا العربية كما تعلمون حفظ القرآن.
38- وكان عبد الله بن عمر يضرب ولده على اللحن.
39- وقال رجلٌ للحسن: يا أبا سعيدٍ! والله ما أراك تلحن؛ فقال: يا ابن أخي! إن سبقت اللحن.
40- وقال مورقٌ: تعلموا النحو والفرائض، فإنه من دينكم.
41- وسئل يزيد بن هارون عن معنى اللحن، فقال: اللغة.
42- وكتب عمر رضي الله عنه إلى أبي موسى: مر من قبلك بتعلم العربية فإنه يدل على صواب الكلام، ومرهم برواية الشعر فإنه يدل على معالي الأخلاق.
43- ومر الحسن بقومٍ يتعلمون العربية، فقال: أحسنوا، يتعلمون
34- এবং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: ((তোমরা তিনটি কারণে আরবিকে ভালোবাসো: যেহেতু আমি একজন আরব, কুরআন আরবিতে এবং জান্নাতবাসীদের ভাষা আরবি))।
35- নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), সাহাবীগণ এবং তাবেঈনদের (التابعين) নিকট থেকে আরবি ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে আবু হুরায়রা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: ((তোমরা কুরআনের ব্যাকরণগত বিশুদ্ধতা (أعربوا) রক্ষা করো এবং এর বিরল শব্দার্থসমূহ (غرائبه) অনুসন্ধান করো))।
36- উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু মুসার নিকট লিখেছিলেন: অত:পর; তোমরা সুন্নাহর গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করো এবং আরবি ভাষার গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করো।
37- উবাই বিন কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: তোমরা আরবি ভাষা শেখো ঠিক যেভাবে তোমরা কুরআন মুখস্থ করা শেখো।
38- আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ব্যাকরণগত ভুল (اللحن) করার কারণে তাঁর সন্তানকে প্রহার করতেন।
39- এক ব্যক্তি হাসানকে (বসরি) বললেন: হে আবু সাঈদ! আল্লাহর শপথ, আমি আপনাকে ব্যাকরণগত ভুল (تلحن) করতে দেখি না; তিনি উত্তর দিলেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি তো ব্যাকরণগত ভুলের (اللحن) প্রাদুর্ভাবের পূর্বেই তা অতিক্রম করেছি।
40- মুররিক বলেছেন: তোমরা ব্যাকরণ (النحو) এবং উত্তরাধিকার শাস্ত্র (الفرائض) শেখো, কেননা তা তোমাদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত।
41- ইয়াজিদ ইবনে হারুনকে 'লাহন' (اللحن) শব্দের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: ভাষা।
42- উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু মুসার নিকট লিখেছিলেন: তোমার অধীনস্থদের আরবি ভাষা শেখার নির্দেশ দাও, কারণ তা শুদ্ধ বাচনভঙ্গির পরিচয় দেয়; আর তাদের কবিতা বর্ণনা (رواية) করার নির্দেশ দাও, কারণ তা মহৎ চরিত্রের দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
43- হাসান (বসরি) একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা আরবি শিখছিল, তখন তিনি বললেন: তারা উত্তম কাজ করছে, তারা শিখছে।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
لغة نبيهم صلى الله عليه وسلم.
44- وإن الحسن قال: من لحن في القرآن فقد كذب على الله.
45- وقال هشام بن عروة: خرج علينا أبي يوماً ومعلمنا يعلمنا النحو، فلما خرج أبي أسكتنا المعلم، فجلس أبي، فقال للمعلم: مرهم فليتعلموا، فما أحدث أحدٌ مروءةً هي أعجب إلي من النحو.
46- وقال الزهري: ما أحدث الناس مروءةً هي أعجب إلي من الفصاحة.
47- وقال الخليل بن أحمد: لحن أيوب [السختياني] ، فقال: أستغفر الله.
48- وقال شعبة: تعلموا العربية، فإنها تزيد في العقل.
49- وقال قتادة: لا أسأل عن عقل رجلٍ لم يدله عقله على أن يتعلم من العربية ما يصلح لسانه.
50- وقال عمر رضي الله عنه: تعلموا العربية، فإنها تثبت العقل وتزيد في المروءة.
51- وقال رضي الله عنه: تعلموا إعراب القرآن كما تعلمون حفظه.
52- قال أبو جعفر: وقد كان الكتاب فيما مضى أرغب الناس في علم النحو وأكثرهم تعظيماً لأهله، حتى دخل فيهم من لا يستحق هذا الاسم، فصعب عليه باب العدد، فعابوا من الإعراب الحساب. وبعد
তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভাষা।
৪৪- আর হাসান (বসরি) বলেন: "যে ব্যক্তি কুরআনে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করল, সে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করল।"
৪৫- হিশাম ইবনে উরওয়াহ বলেন: "একদিন আমার পিতা আমাদের কাছে এলেন এমতাবস্থায় যে আমাদের শিক্ষক আমাদের নাহু (النحو) বা ব্যাকরণ শিক্ষা দিচ্ছিলেন। যখন আমার পিতা আসলেন, শিক্ষক আমাদের চুপ করিয়ে দিলেন। তারপর আমার পিতা বসলেন এবং শিক্ষককে বললেন: 'তাদের আদেশ দিন যেন তারা শিক্ষা লাভ করে। কারণ, নাহু (النحو) চর্চার চেয়ে চমৎকার কোনো আভিজাত্য বা গুণ (মুরুয়াত) কেউ কখনো অর্জন করেনি'।"
৪৬- যুহরি বলেন: "মানুষের মধ্যে বাগ্মিতার (الفصاحة) চেয়ে চমৎকার কোনো আভিজাত্য বা গুণ (মুরুয়াত) পরিলক্ষিত হয়নি।"
৪৭- খলিল ইবনে আহমদ বলেন: "আইয়ুব [আস-সাখতিয়ানি] একবার ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করলেন, তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"
৪৮- শু'বাহ বলেন: "তোমরা আরবি ভাষা শেখো, কেননা এটি বুদ্ধি বৃদ্ধি করে।"
৪৯- কাতাদাহ বলেন: "আমি সেই ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন করি না, যার বুদ্ধি তাকে নিজের জিহ্বাকে সংশোধন করার মতো আরবি ভাষা শিখতে পরিচালিত করে না।"
৫০- উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "তোমরা আরবি ভাষা শেখো, কারণ এটি বুদ্ধিকে সুদৃঢ় করে এবং আভিজাত্য (মুরুয়াত) বৃদ্ধি করে।"
৫১- তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আরও বলেন: "তোমরা যেভাবে কুরআনের হেফজ শেখো, তেমনিভাবে কুরআনের ব্যাকরণ বা ইরাব (إعراب) শেখো।"
৫২- আবু জাফর বলেন: "অতীতকালে লেখকরা নাহু (النحو) শাস্ত্রের প্রতি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক আগ্রহী ছিলেন এবং এ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের সবচেয়ে বেশি সম্মান করতেন। পরিশেষে তাদের মাঝে এমন কিছু লোক প্রবেশ করল যারা এই পদের যোগ্য ছিল না। এরপর তাদের কাছে 'সংখ্যার অধ্যায়' কঠিন মনে হতে লাগল। ফলে তারা ব্যাকরণগত (الإعراب) হিসাব-নিকাশের সমালোচনা করতে শুরু করল।" অতঃপর...
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
عليهم معرفة الهمزة التي تنضم وينفتح ما قبلها، أو تختلف حركتها وحركة ما قبلها، فكتبوا: ((يقرأوا)) بزيادة واوٍ لا معنى لها، ولم يفرقوا بين ذوات الياء وذوات الواو، ولا بين الواو التي يثبت بعدها ألفٌ وبين الواو التي لا يثبت بعدها ألفٌ، فكتبوا: ((فلان يرجوا)) كذا بألفٍ لا معنى لها، وكتبوا: ((جاءني مسلموا القرية)) بألف بعد الواو ولا يجوز إثباتها، ولم يفرقوا بين ما يكتب بالياء إذا انفصل وإذا اتصل فكتبوا إحداهما بالياء، فجاؤوا بما لا يجوز عند أحدٍ من النحويين، وكتبوا ((عن من)) موصولاً، وكذلك ((عن ما)) بمعنى الذي، ولم يفرقوا بين ((ما)) إذا كانت بمعنى الذي وإذا كانت زائدة توكيداً، واصطلحوا على ما لا يجوز وعلى الخطإ الفاحش، فصاروا يتطيرون من الصواب إذا كتبه بعضهم، وينكرون على من كتب: ورحمة الله؛ بالهاء؛ جهلاً منهم بأن تأنيث الأسماء بالهاء، وأنه لا فرق بين هذا وبين ((جارية زيدٍ)) .
53- ولم يكن متقدموهم كذلك، فقد قال عبد الحميد: إن الكتاب قليلٌ والمسمين بالكتاب كثيرٌ، والعلم معينٌ على نفسه من أخذه، فمن أدخل نفسه في الكتاب مصطبراً على ما ينوبه بالعفاف عن الطمع والتتبع للمعروف، وترك الضجر لأهل الانقطاع، وصبر على النوائب، وحاول جر المنافع إلى الصديق، وأظهر بشره وحسن معاملته فهو الذي احتوى على الكتاب واحتوى الكتاب عليه.
54- وقال: أنتم معاشر الكتاب ذوو الأخطار، من خيار
তাদের সেই হামজা (الهمزة) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা আবশ্যক যা পেশযুক্ত এবং যার পূর্বের অক্ষর জবরযুক্ত হয়, অথবা যেটির হরকত এবং তার পূর্বের অক্ষরের হরকত ভিন্ন হয়। তাই তারা 'يقرأوا' লিখেছে একটি অর্থহীন অতিরিক্ত ওয়াও (واو) যোগ করে। তারা ইয়া-যুক্ত (ذوات الياء) এবং ওয়াও-যুক্ত (ذوات الواو) শব্দগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি। আবার যে ওয়াও-এর পরে আলিফ (ألف) বহাল থাকে এবং যে ওয়াও-এর পরে আলিফ (ألف) বহাল থাকে না—এই দুয়ের মাঝেও তারা পার্থক্য করেনি। ফলে তারা 'فلان يرجوا' লিখেছে এমন এক আলিফ (ألف) যোগ করে যার কোনো অর্থ নেই। তারা 'جاءني مسلموا القرية' লিখেছে ওয়াও-এর পরে আলিফ (ألف) দিয়ে, অথচ তা বহাল রাখা বৈধ নয়। তারা বিচ্ছিন্ন বা সংযুক্ত অবস্থায় যা ইয়া (الياء) দিয়ে লেখা হয় তার মধ্যেও পার্থক্য করেনি, ফলে তারা এর একটিকে ইয়া (الياء) দিয়ে লিখেছে; এমতাবস্থায় তারা এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা কোনো ব্যাকরণবিদের (النحويين) নিকট বৈধ নয়। তারা 'عن من' শব্দটিকে সংযুক্ত অবস্থায় লিখেছে, তেমনিভাবে আল্লাযি (الذي) অর্থে ব্যবহৃত 'عن ما' শব্দটিকেও। তারা 'মা' (ما) যখন আল্লাযি (الذي) অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং যখন তা গুরুত্ব প্রদানের জন্য অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবে আসে, তার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি। তারা এমন সব বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে যা বৈধ নয় এবং যা অত্যন্ত জঘন্য ভুল (الخطإ الفاحش)। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, যখন তাদের কেউ সঠিক পদ্ধতিতে লেখে, তখন তারা তা নিয়ে কুলক্ষণ বা অপয়া মনে করে। তারা 'ورحمة الله' শব্দটিকে হা (الهاء) দিয়ে লেখকের সমালোচনা করে; মূলত এটি তাদের অজ্ঞতা যে বিশেষ্যের স্ত্রীলিঙ্গ রূপ হা (الهاء) দিয়েই হয় এবং এ ক্ষেত্রে এর সাথে 'جارية زيدٍ'-এর কোনো পার্থক্য নেই।
53- তাদের পূর্বসূরিগণ (متقدموهم) এমন ছিলেন না। আব্দুল হামিদ বলেছেন: প্রকৃত লেখক সংখ্যায় খুবই কম, যদিও লেখক হিসেবে পরিচয় দানকারীর সংখ্যা অনেক। জ্ঞান তাকেই সাহায্য করে যে তা অর্জন করে। সুতরাং যে ব্যক্তি ধৈর্য ও সংযমের সাথে নিজেকে লেখনী কার্যে নিয়োজিত করে, লোভ-লালসা থেকে মুক্ত থেকে অল্পে তুষ্ট থাকে, ন্যায়ের পথে চলে, নিঃস্বদের প্রতি বিরক্তি ত্যাগ করে, বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করে, বন্ধুর উপকার করার চেষ্টা করে এবং নিজের প্রফুল্লতা ও সদাচরণ প্রকাশ করে—সেই ব্যক্তিই লেখনী শিল্পকে পূর্ণরূপে আয়ত্ত করেছে এবং লেখনী শিল্পও তাকে আপন করে নিয়েছে।
54- তিনি বলেন: হে লেখক সম্প্রদায়! আপনারা অত্যন্ত মর্যাদাবান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, আপনারা শ্রেষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত...
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الخيار، على أيديكم مجاري النعم والنقم، ليس فوقكم رغبةٌ لذي مطلبٍ، فأفضلكم الفاضل، وخيركم الخير، تشهدون ما غاب الناس عنه، خيركم منتظرٌ وشركم مخوفٌ، فليست حالٌ تعدل مكان الكاتب ماخلا ذروة الرياسة، أصول إن صال ولا أنفذ إن قال مقالاً منه، فلتكن أخلاقكم بحيث وضعكم الله من عباده في بلاده، فإنه لا أقبح من كاتب دق نظره وصغر خطره في المعروف أن يبيعه أو يباع له، فاجعلوا إسداء المعروف إلى الناس تجارتكم المربحة.
55- وقد كان عبد الحميد مع بلاغته وعلمه على النهاية من الوفاء لمن صحبه.
56- حكى عمرو بن بحرٍ الجاحظ، أن مروان بن محمدٍ قال لعبد الحميد لما كثرت عليه جيوش أبي مسلمٍ وقوي أمر بني العباس وبلغه قول نصر بن سيارٍ.
أرى خلل الرماد وميض نارٍ
… ويوشك أن يكون لها ضرام
فقلت من التعجب: ليت شعري
… أأيقاظٌ أمية أم نيام
فإن النار بالعودين تذكى
… وإن الحرب أولها كلام
[فقل] لبني أمية حيث حلوا
… على الإسلام والعرب السلام
أرى يا عبد الحميد أن تصير إلى هؤلاء القوم فتعلمهم أنك آثرت ناحيتهم على ناحيتي، فلعلهم يسكنون إليك، فتدبر لي عليهم؛ فتفكر
পছন্দনীয় ব্যক্তিগণ (الخيار), তোমাদের হাত ধরেই নেয়ামত ও প্রতিশোধের ধারা প্রবাহিত হয়। কোনো আকাঙ্ক্ষাকারীর জন্য তোমাদের ঊর্ধ্বে কোনো লক্ষ্য নেই। তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন যিনি ফযীলতসম্পন্ন, আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন যিনি কল্যাণময়। মানুষ যা থেকে অনুপস্থিত থাকে তোমরা তার সাক্ষী হও। তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তির প্রতীক্ষা করা হয় এবং তোমাদের মধ্যে মন্দ ব্যক্তিকে ভয় করা হয়। সার্থকতা বা প্রধান নেতৃত্বের চূড়া ব্যতীত কোনো অবস্থাই একজন লেখকের মর্যাদার সমতুল্য নয়। তারা সেই সব মূল ভিত্তি যারা যদি আক্রমণ করে তবে তার চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর কেউ হয় না এবং যদি কোনো কথা বলে তবে তার চেয়ে অধিক কার্যকর আর কিছু হয় না। অতএব তোমাদের চরিত্র যেন তেমন হয় যেমন আল্লাহ তোমাদের তাঁর বান্দাদের মাঝে এবং তাঁর দেশসমূহে আসীন করেছেন। কেননা একজন লেখকের জন্য এর চেয়ে কদর্য আর কিছু হতে পারে না যে, তার দৃষ্টি সূক্ষ্ম হওয়া সত্ত্বেও সৎকাজের ক্ষেত্রে তার মর্যাদা তুচ্ছ হয়ে যায়, অথবা সে তা বিক্রয় করে বা তার জন্য তা বিক্রয় করা হয়। সুতরাং মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শনকেই তোমাদের লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করো।
55- আব্দুল হামিদ তাঁর অলঙ্কারশাস্ত্রের পাণ্ডিত্য (بلاغة) এবং জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গীদের প্রতি বিশ্বস্ততার (وفاء) চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন।
56- আমর বিন বাহর আল-জাহিজ বর্ণনা (حكى) করেছেন যে, মারওয়ান বিন মুহাম্মদ আব্দুল হামিদকে বলেছিলেন যখন আবু মুসলিমের বাহিনী তাঁর ওপর চড়াও হয়েছিল এবং বনু আব্বাসের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং নসর বিন সাইয়্যারের উক্তি তাঁর নিকট পৌঁছেছিল।
আমি ছাইভস্মের মাঝে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখতে পাচ্ছি
… এবং অচিরেই তাতে দাউদাউ শিখা জ্বলে উঠবে।
আমি বিস্ময়ে বললাম: হায়! বনু উমাইয়ারা কি জাগ্রত নাকি নিদ্রিত?
নিশ্চয়ই আগুনের শিখা দুটি কাষ্ঠখণ্ডের মাধ্যমে প্রজ্বলিত হয়
… আর যুদ্ধের সূচনা হয় কথার মাধ্যমে।
[বলুন] বনু উমাইয়ারা যেখানেই অবস্থান করুক
… ইসলাম ও আরবদের প্রতি সালাম (বিদায় সম্ভাষণ)।
হে আব্দুল হামিদ, আমি সমীচীন মনে করি যে তুমি এই কওমের নিকট চলে যাও এবং তাদের জানাও যে তুমি আমার পক্ষ ত্যাগ করে তাদের পক্ষকে প্রাধান্য দিয়েছ। সম্ভবত তারা তোমার প্রতি আশ্বস্ত হবে, তখন তুমি তাদের বিরুদ্ধে আমার জন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারবে। সুতরাং তুমি ভেবে দেখো...
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৪০)
عبر الحميد، ثم قال متمثلاً:
أسر وفاءً ثم أظهر غدرةً
… فمن لي بعذرٍ يشمل الناس واسعه
قال: فتركه مروان ساعةً، ثم رد عليه القول، فقال متمثلاً:
فغدري ظاهرٌ لا شك فيه
… لطالبه وعذري بالمغيب
فأمسك مروان عنه، وعلم أنه من أهل الوفاء.
57- ومن حسن ما في هذا قول علي بن زيدٍ الكاتب حين استصحبه رجلٌ من الملوك، فقال له عليٌ: أصحبك على ثلاث خلالٍ؛ قال: وما هي؟ قال: لا تهتك لي ستراً، ولا تشتم لي عرضاً، ولا تقبل فيَّ قول قائلٍ حتى تستبرئني. قال: هذه لك، فما لي عندك؟ قال: لا أفشي لك سراً، ولا أؤخر عنك نصيحةً، ولا أوثر عليك أحداً؛ قال: نعم الصاحب المصحوب أنت.
58- وقد حكي عن عمرو بن مسعدة على بلاغته وتقدمه في الكتابة ومكانه من الرياسة ومحله من الصناعة أن رجلاً قال له: ما صنعتك؟ فقال له على التبرم: كاتبٌ. قال: من أي الكتاب أنت فإنهم خمسةٌ؟ قال
আবদুল হামিদ, অতঃপর তিনি উদাহরণের মাধ্যমে বললেন:
গোপনে আনুগত্য পোষণ করে প্রকাশ্যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন
… কে দিবে আমায় এমন ওজর যা সকল মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও ব্যাপক হয়?
বর্ণনাকারী বলেন: মারওয়ান তাকে কিছুক্ষণ একা ছেড়ে দিলেন, এরপর তার কথার প্রত্যুত্তর দিলেন এবং কাব্যের মাধ্যমে বললেন:
আমার বিশ্বাসঘাতকতা সুস্পষ্ট, এতে কোনো সন্দেহ নেই
… যে তা খুঁজতে চায় তার কাছে; আর আমার অজুহাত অদৃশ্যে লুকায়িত।
অতঃপর মারওয়ান তার থেকে বিরত হলেন এবং বুঝতে পারলেন যে তিনি বিশ্বস্তদের অন্তর্ভুক্ত।
57- এই বিষয়ে চমৎকার বর্ণনার মধ্যে একটি হলো লেখক আলী ইবনে যায়িদ-এর কথা। যখন রাজন্যবর্গের মধ্যে জনৈক ব্যক্তি তাকে সাথী হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলেন, আলী তাকে বললেন: আমি তিনটি শর্তে আপনার সাথে থাকব। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: সেগুলো কী? আলী বললেন: আপনি আমার কোনো গোপনীয়তা উন্মোচন করবেন না, আমার সম্মানহানি করবেন না এবং আমার ব্যাপারে কারো কথা গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ না আপনি আমার থেকে বিষয়টি যাচাই করে নিচ্ছেন। তিনি বললেন: এগুলো আপনার জন্য বরাদ্দ। তবে আমার জন্য আপনার কাছে কী রয়েছে? তিনি বললেন: আমি আপনার কোনো গোপন বিষয় ফাঁস করব না, আপনার থেকে কোনো উপদেশ প্রদানে বিলম্ব করব না এবং আপনার ওপর অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দেব না। তিনি বললেন: আপনি সাথী ও সহযোগী হিসেবে কতই না চমৎকার।
58- আমর ইবনে মাসআদাহ সম্পর্কে বর্ণিত (حكي) হয়েছে যে—তার বাগ্মিতা, রচনাশৈলীতে শ্রেষ্ঠত্ব, প্রশাসনিক উচ্চমর্যাদা এবং পেশাগত দক্ষতা সত্ত্বেও—এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল: আপনার পেশা কী? তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন: লেখক। লোকটি বলল: আপনি কোন পর্যায়ের লেখক? কেননা তারা পাঁচ প্রকারের হয়ে থাকে। তিনি বললেন
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৪১)
عمرو: فقلت: أسمهم لي.
قال: كاتب خراجٍ يحتاج إلى أن يكون عارفاً بالطسوج والمساحة والتقسيط خبيراً بالحساب والمقاسمات.
وكاتب رسائل يحتاج إلى أن يكون عارفاً بالفصول والوصول حاذقاً بالعقود والفتوح والترغيب والترهيب والابتداء والجواب.
وكاتب قاضٍ يحتاج أن يكون عارفاً بالحلال والحرام والتأويل والتنزيل والمتشابه والمقالات والاختلاف في الأموال والفروج حافظاً للأحكام حاذقاً بالشروط.
وكاتب جندٍ يحتاج إلى أن يكون عارفاً بحلى الرجال وشياة الدواب.
وكاتب معونةٍ يحتاج إلى أن يكون عارفاً بالقصاص والجراحات ومواضع الحدود ومبالغ العقوبات في الجنايات.
فمن أيهم أنت؟
قال عمرو: وكنت متكئاً فاستويت جالساً تعجباً من قوله: فقلت: أنا كاتب رسائل.
فقال: لي أخٌ من إخوانك واجب الحق عليك معنيٌ بأمورك لا يغفل لك عن صغيرٍ ولا كبيرٍ، يكاتبك في كل حقٍ وباطلٍ وأنت له على مثل ذلك تزوجت أمه كيف تكتب إليه أتهنيه أم تعزيه؟ قلت: هو إلى التعزية أقرب؛ قال: فاكتب إليه بذلك؛ فلم يتجه لي شيءٌ، فقلت: لا أهنيه ولا أعزيه ولا أكتب إليه. قال: إنك لا تغفل له عن شيء ولا تجد بداً من أن تكتب إليه. قلت: هي بالمصائب أشبه. قال: فكيف تعزيه؟ قال:
আমর: আমি বললাম: তাদের পরিচয় আমার কাছে বর্ণনা করুন।
তিনি বললেন: একজন ভূমিকর বিষয়ক সচিবকে প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ, ভূমির পরিমাপ এবং কিস্তি নির্ধারণ সম্পর্কে অবগত হতে হয় এবং হিসাব-নিকাশ ও বণ্টন বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে হয়।
আর একজন পত্র আদান-প্রদান বিষয়ক সচিবকে বাক্যের বিভাজন ও সংযোগ বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন হতে হয় এবং চুক্তিপত্র, বিজয়বার্তা, উৎসাহ প্রদান, ভীতি প্রদর্শন এবং প্রারম্ভিকতা ও উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে দক্ষ হতে হয়।
একজন বিচারকের (কাজী) সচিবকে বৈধ (حلال) ও অবৈধ (حرام), ব্যাখ্যা (تأويل), অবতীর্ণ বাণী (تنزيل), অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়সমূহ এবং বিভিন্ন মতবাদ ও সম্পদ ও বিবাহ সংক্রান্ত বিরোধসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হয়; তাকে আইনি বিধিবিধানের বিষয়ে সংরক্ষণকারী (حافظ) এবং শর্তাবলি নির্ধারণে নিপুণ হতে হয়।
আর একজন সামরিক সচিবকে সৈনিকদের গুণাবলি এবং পশুর চিহ্নসমূহ সম্পর্কে অবগত থাকতে হয়।
আর একজন প্রশাসনিক সহায়তা বিষয়ক সচিবকে কিসাস, জখম, দণ্ডবিধির ক্ষেত্রসমূহ এবং অপরাধের ক্ষেত্রে দণ্ডের পরিমাণ সম্পর্কে জানতে হয়।
তো আপনি তাদের মধ্যে কোন পর্যায়ের?
আমর বললেন: আমি হেলান দিয়ে বসে ছিলাম, তার কথা শুনে আশ্চর্যান্বিত হয়ে সোজা হয়ে বসলাম এবং বললাম: আমি পত্র আদান-প্রদান বিষয়ক সচিব।
তিনি বললেন: আপনার এমন এক ভাই রয়েছে যার হক আদায় করা আপনার জন্য কর্তব্য এবং সে আপনার বিষয়াবলীতে অত্যন্ত মনোযোগী, আপনার ছোট-বড় কোনো বিষয়ই সে উপেক্ষা করে না; সে আপনার কাছে সত্য ও মিথ্যা উভয় বিষয়েই পত্র লিখে এবং আপনিও তার ক্ষেত্রে একই রূপ আচরণ করেন। এখন সে তার নিজের মাকে বিবাহ করেছে; আপনি তাকে কী লিখে পাঠাবেন? আপনি কি তাকে অভিনন্দন জানাবেন নাকি সমবেদনা প্রকাশ করবেন? আমি বললাম: এটি সমবেদনা জানানোরই অধিক নিকটবর্তী। তিনি বললেন: তবে তাকে সে বিষয়েই লিখুন। কিন্তু আমার মাথায় কিছুই আসছিল না। তখন আমি বললাম: আমি তাকে অভিনন্দনও জানাব না, সমবেদনাও জানাব না এবং তাকে কোনো পত্রও লিখব না। তিনি বললেন: আপনি তো তার কোনো বিষয়ই উপেক্ষা করেন না এবং তাকে পত্র না লিখেও আপনার কোনো উপায় নেই। আমি বললাম: এটি বিপদের সাথেই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি বললেন: তাহলে আপনি কীভাবে তাকে সমবেদনা জানাবেন? তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৪২)
ففكرت ساعةً فلم يتجه لي شيءٌ، فقلت: أقلني! أنا كاتب خراجٍ.
قال: فوجه بك أمير المؤمنين إلى ناحية من عمله وأمرك بالعدل والإنصاف وأن لا تدع شيئاً من حق السلطان يذهب ضياعاً وحذرك أن تشكى، فخرجت حتى قدمت الناحية، فوقفوك على قراح خطه قابل فتي، كيف تمسحه؟ قلت: آخذ وسطه وآخذ طوله فأضربه فيه؛ قال: يختلف عليك العطوف؛ قلت: آخذ طوله وعرضه من ثلاثة مواضع، قال: إن طرفيه محددان وفي تحديده تقويسٌ وذلك يختلف؛ فأعياني ذلك، فقلت أقلني! فإني كاتب معونةٍ.
قال: فرجلٌ وثب على رجلٍ فشجه موضحةً، فوثب على من شجه فشجه مأمومةً، كم بينهما من الدية؟ قلت: لا علم لي بذلك؛ قال: فلست كاتب معونةٍ! فقلت: أقلني! أنا كاتب جندٍ.
قال: فإن رجلين من عسكرك اسمهما واحدٌ، هذا مشقوق الشفة العليا وهذا مشقوق الشفة السفلى، كيف تحليهما؟ قلت: لا علم لي، أقلني! فأنا كاتب قاضٍ.
قال: فإن رجلاٌ هلك وخلف حرةً حاملاً وسرية ًحاملاً، فولدتا في ليلةٍ واحدةٍ، الحرة جاريةً والسرية غلاماً، فأخذت الحرة البنت فوضعتها في مهد السرية، وأخذت الابن، وتناكرتا كيف تحكم بينهما؟ قلت: لا علم لي بذلك، فأقلني! قال: قد فعلت.
আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করলাম কিন্তু আমার কাছে কোনো সমাধান প্রতিভাত হলো না। তখন আমি বললাম: আমাকে অব্যাহতি দিন! আমি তো কেবল ভূমিরাজস্ব দপ্তরের লেখক (كاتب خراج)।
তিনি বললেন: আমিরুল মুমিনীন আপনাকে তাঁর প্রশাসনের কোনো এক অঞ্চলে পাঠালেন এবং আপনাকে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ করার নির্দেশ দিলেন, আর সুলতানের হকের কিছুই যেন নষ্ট না হয় সেই আদেশ দিলেন এবং আপনার বিরুদ্ধে যেন কোনো অভিযোগ না আসে সে ব্যাপারে সতর্ক করলেন। অতঃপর আপনি সেই অঞ্চলে পৌঁছালেন। সেখানে আপনাকে একটি ভূখণ্ডের সামনে উপস্থিত করা হলো যার নকশা অঙ্কন করা হয়েছিল। আপনি কীভাবে সেটি পরিমাপ করবেন? আমি বললাম: আমি এর মধ্যভাগ ও দৈর্ঘ্য গ্রহণ করব এবং সেটিকে গুণ করব। তিনি বললেন: বাঁকা অংশগুলো আপনার গণনায় পার্থক্য ঘটাবে। আমি বললাম: আমি তিন স্থান থেকে এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ গ্রহণ করব। তিনি বললেন: এর দুই প্রান্ত সুচালো এবং সেই সুচালো অংশে বক্রতা রয়েছে, যা পরিমাপে ব্যবধান ঘটাবে। এ বিষয়টি আমাকে অপারগ করে দিল। তখন আমি বললাম: আমাকে অব্যাহতি দিন! আমি তো কেবল প্রশাসনিক সহায়তা দপ্তরের লেখক (كاتب معونة)।
তিনি বললেন: তবে ধরুন এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তার মাথায় এমন ক্ষত সৃষ্টি করল যা হাড় পর্যন্ত পৌঁছে স্পষ্ট হয়ে গেছে (موضحة), তখন আক্রান্ত ব্যক্তিও আক্রমণকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে এমনভাবে জখম করল যা মগজের পর্দা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে (مأمومة)। এখন এই দুইয়ের মাঝে রক্তপণের (دية) ব্যবধান কত হবে? আমি বললাম: এ বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই। তিনি বললেন: তাহলে আপনি তো সহায়তা দপ্তরের লেখকও নন! আমি বললাম: আমাকে অব্যাহতি দিন! আমি তো কেবল সেনাদপ্তরের লেখক (كاتب جند)।
তিনি বললেন: যদি আপনার সেনাদলে একই নামের দুইজন ব্যক্তি থাকে, যাদের একজনের ওপরের ঠোঁট কাটা এবং অন্যজনের নিচের ঠোঁট কাটা; আপনি কীভাবে তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ করবেন? আমি বললাম: আমার জানা নেই, আমাকে অব্যাহতি দিন! আমি তো বিচারকের লেখক (كاتب قاض)।
তিনি বললেন: যদি এক ব্যক্তি মারা যায় এবং সে একজন গর্ভবতী স্বাধীন স্ত্রী (حرة) ও একজন গর্ভবতী দাসী (سرية) রেখে যায়, আর তারা একই রাতে সন্তান প্রসব করল—স্বাধীন স্ত্রী একটি কন্যা এবং দাসী একটি পুত্র সন্তান প্রসব করল; অতঃপর স্বাধীন স্ত্রী কন্যাটিকে দাসীর দোলনায় রেখে তার পুত্র সন্তানটিকে নিজের বলে নিয়ে নিল এবং পরবর্তীতে তারা একে অপরকে অস্বীকার করতে লাগল, এমতাবস্থায় আপনি তাদের মাঝে কীভাবে ফয়সালা করবেন? আমি বললাম: এ বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই, তাই আমাকে অব্যাহতি দিন! তিনি বললেন: আমি আপনাকে অব্যাহতি দিলাম।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
ثم سألته تفسيره فقال: أما الذي تزوجت أمه، فاكتب إليه:
إن الأقدار تجري بغير محاب المخلوقين والستر في عافية خيرٌ من شائنة في ملكٍ، والله يختار للعبد، خار الله لك في جميع الأمور.
وأما القراح فتمسح اعوجاجه حتى تبصر كم قبضةً تكون فيه، فإن استوى في يدك عقدٌ تعرفه فاضرب طرفه في وسطه.
وأما الشجة المأمومة ففيها ثلاثٌ وثلاثون وثلثٌ من الإبل، وفي الموضحة خمسٌ من الإبل، فيرد صاحب الموضحة على صاحب المأمومة ثمانياً وعشرين وثلثاً من الإبل.
وأما الجنديان، فتكتب المشقوق الشفة العليا أعلم، والمشقوق الشفة السفلى أفلح.
وأما الحرة والسرية فيوزن لبنهما، فأيتهما كانت أخف لبناً كانت الجارية لها، وذكر الحديث.
وهذا حسنٌ غير منكر إلا ما قال في اللبن، فإن الفقهاء الذين تدور عليهم الفتيا مخالفون له، وسنذكر جملة الشجاج إذا انتهينا إلى موضعها من هذا الكتاب إن شاء الله.
59- وليس ينكر أن يكون عمرو بن مسعدة على محله من الكتابة وموضعه من الرئاسة يشكل عليه مثل هذا، وقد كان فيه توقفٌ وترك
এরপর আমি তাকে এর ব্যাখ্যা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: যার মা বিবাহ করেছেন, তার কাছে এই মর্মে লেখো:
নিশ্চয়ই তাকদির সৃষ্টিজীবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী চলে না; আর সুস্থতার সাথে গোপনীয়তা রক্ষা করা রাজকীয় কলঙ্কের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ বান্দার জন্য যা উত্তম তা নির্বাচন করেন; আল্লাহ আপনার সকল বিষয়ে মঙ্গল দান করুন।
আর 'ক্বারাহ' (এক প্রকার ধনুক বা ভূমি) প্রসঙ্গে কথা হলো, তুমি এর বক্রতা মেপে দেখবে যতক্ষণ না তুমি বুঝতে পারো যে তাতে কত মুষ্টি রয়েছে। যদি তোমার হাতে তোমার পরিচিত কোনো মাপ ঠিক হয়ে যায়, তবে এর প্রান্তভাগ মাঝখানে স্থাপন করো।
আর 'মামুমাহ' (মস্তিষ্কের ঝিল্লি পর্যন্ত পৌঁছানো মাথার ক্ষত) এর রক্তপণ হলো তেত্রিশটি এবং একটির তিন ভাগের এক ভাগ উট। আর 'মুদিহাহ' (হাড় দৃশ্যমানকারী মাথার ক্ষত) এর ক্ষেত্রে পাঁচটি উট। সুতরাং 'মুদিহাহ' এর মালিক 'মামুমাহ' এর মালিককে আটাশটি এবং একটির তিন ভাগের এক ভাগ উট ফিরিয়ে দেবে।
আর দুই সৈন্যের ব্যাপারে কথা হলো, তুমি লিখে দাও যে—যার উপরের ঠোঁট চেরা সে হলো 'আ'লাম' এবং যার নিচের ঠোঁট চেরা সে হলো 'আফলাহ'।
আর স্বাধীন নারী ও দাসীর ব্যাপারে কথা হলো, তাদের উভয়ের দুধ ওজন করা হবে; যে নারীর দুধ ওজনে হালকা হবে, কন্যা শিশুটি তারই হবে। — এভাবেই তিনি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
এটি একটি গ্রহণযোগ্য (حسن) বর্ণনা যা অস্বীকৃত নয় (غير منكر); কেবল দুধের ব্যাপারে তিনি যা বলেছেন তা ব্যতীত। কারণ যেসব ফকিহদের ওপর ফতোয়া আবর্তিত হয়, তাঁরা এর বিরোধী। ইনশাআল্লাহ, আমরা যখন এই কিতাবের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে পৌঁছাব, তখন মাথার ক্ষতসমূহের বিস্তারিত আলোচনা করব।
59- আর এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমর ইবনে মাসআদাহ তার লিখনশৈলী ও নেতৃত্বের সুউচ্চ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও তার কাছে এই জাতীয় বিষয়গুলো অস্পষ্ট হতে পারে। আর এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে দ্বিধা ও বর্জন (ترك) পরিলক্ষিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
جسارةٍ على ما أرتج عليه كما روي أن المأمون أمره أن يكتب إلى العمال في سائر النواحي والأمصار بالاستكثار من القناديل في المساجد الجامعة والطرق السابلة في شهر رمضان، قال فكتبت:
بسم الله الرحمن الرحيم
أما بعد؛ فقد أمر أمير المؤمنين بالاستكثار من المصابيح في شهر رمضان. واعتاص عليَّ المعنى، فلم أدر ما أكتب، وأرتج. فنمت مهموماً، فأتاني آتٍ في منامي، فقال لي: اكتب فإن في ذلك أنساً للسابلة وضياءً للمتهجد، ونفيا ًلمكامن الريب وتنزيهاً لبيوت الله عن وحشة الظلم.
60- ومن أحسن ما في هذا، وهو من كلام بعض أهل عصرنا، قال: وجدت قول القائل: الكتابة اسمٌ مشتركٌ يوقع على معانٍ كثيرةٍ، فتارةً يقع على كمالها واستيعاب أقسامها، وتارةً على بعض منازلها.
ويسمى به من يعلم البعض منها، حتى إنه في عصرنا هذا يوقع على من لبس لبسة أهلها، فمن كان من الكتاب جامعاً لأدوات الكتابة فهو الذي يصلح فيها للرئاسة العالية، ومن كان مقصراً عن تلك المنزلة وجب أن تنزل طبقته بحسب ما معه من الصناعة.
61- وسمعت علي بن سليمان يقول: كنا إذا قللنا ما مع الإنسان من النحو قلنا: نحو كتابيٌ؛ ألا تراهم يفرون إلى قراءة الأخبار ويطلبون (الكامل) ويدعون ما يحتاجون إليه من النحو لصعوبته.
যা তার নিকট রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল তার ওপর দুঃসাহস প্রদর্শন করে, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে (روي) যে, আল-মামুন তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি বিভিন্ন প্রান্তের ও শহরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিকট রমজান মাসে জামে মসজিদসমূহ ও চলাচলের পথগুলোতে প্রচুর প্রদীপ প্রজ্বলনের জন্য পত্র লেখেন; তিনি বলেন, তখন আমি লিখলাম:
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
আম্মা বাদ; আমিরুল মুমিনীন রমজান মাসে প্রচুর প্রদীপ প্রজ্বলনের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি আমার নিকট জটিল হয়ে উঠল, আমি কী লিখব তা বুঝতে পারছিলাম না এবং কথা রুদ্ধ (أرتج) হয়ে আসছিল। এমতাবস্থায় আমি চিন্তিত মনে ঘুমিয়ে পড়লাম, তখন স্বপ্নে একজন আগন্তুক আমার নিকট এলেন এবং আমাকে বললেন: লেখো, কেননা এর মধ্যে পথচারীদের জন্য রয়েছে স্বস্তি, তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের জন্য রয়েছে আলো, সংশয়ের স্থানসমূহের বিদূরণ এবং আল্লাহর ঘরসমূহকে অন্ধকারের ভীতিকর নির্জনতা থেকে পবিত্রকরণ।
60- আর এ বিষয়ে যা কিছু চমৎকার রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো আমাদের সমসাময়িক কিছু লোকের কথা; তিনি বলেন: আমি কোনো এক প্রবক্তার উক্তিতে পেয়েছি যে, লিখনশৈলী (الكتابة) হলো একটি বহুর্থক শব্দ (اسم مشترك) যা বহুবিধ অর্থের ওপর প্রযুক্ত হয়। কখনো এটি এর পূর্ণতা ও সকল প্রকারের ব্যাপ্তির ওপর প্রযুক্ত হয়, আবার কখনো এর কতিপয় স্তরের ওপর প্রযুক্ত হয়।
আর একে সেই ব্যক্তি দ্বারাও নামকরণ করা হয় যে এর সামান্য কিছু জানে; এমনকি আমাদের এই যুগে এটি তার ওপরও প্রযুক্ত হয় যে এই পেশার লোকদের পোশাক পরিধান করে। সুতরাং লেখকদের মধ্যে যে ব্যক্তি লিখনশৈলীর (الكتابة) সকল উপকরণ অর্জন করতে পেরেছে, সেই উচ্চতর নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত। আর যে ব্যক্তি সেই স্তরের চেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন, তার শিল্পজ্ঞানের দক্ষতা অনুযায়ী তার মর্যাদাও নিম্নগামী হওয়া বাঞ্ছনীয়।
61- আমি আলি ইবনে সুলায়মানকে বলতে শুনেছি: যখন কোনো ব্যক্তির ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্রের জ্ঞান কম হতো, তখন আমরা বলতাম: এটি 'লেখকদের ব্যাকরণ' (نحو كتابي); আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে তারা ইতিহাসের খবরাখবর পাঠের দিকে ধাবিত হয় এবং আল-কামিল অন্বেষণ করে, কিন্তু ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্রের যা কিছু তাদের প্রয়োজন তা কঠিন হওয়ার কারণে বর্জন করে।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
62- قال أبو جعفرٍ: وقد سئل بعضهم: لم حذفت الألف من الرحمن؟ فلم يدر.
63- وقال بعض رؤسائهم: حذفت لكثرة الاستعمال. وهذا عجيبٌ من الجواب، لأنه لا يقع إلا لله عز وجل، فما معنى كثرة الاستعمال؟
64- وقال آخر: حذفت فرقاً بينها وبين الألف الثانية.
65- وحتى زعم بعضهم أنه يكتب ثلاث سجلاتٍ بغير هاءٍ لتأنيث الجمع. وهذا بطلان العدد، لأن بابه أن ينظر إلى الواحد لا إلى الجمع، والصواب في هذا ما قاله الأخفش سعيدٌ قال: تقول: ثلاثة حماماتٍ لأن الواحد حمامٌ مذكرٌ.
66- وقد قال قائل هذا في عمن: إنها تكتب موصولةً للإدغام. ولو جاز هذا لكتبت الرحمن براءين ومن في: عن من بمعنى الذي، والكتاب على الانفصال.
67- وقد ذكرنا أشياء كثيرةً، منها أنه فرق بين الخلف والكذب، فزعم أنه من قال: أنا أفعل؛ ثم لم يفعل، أنه ليس بكاذبٍ؛ وهذا مخالفٌ على نص كتاب الله، قال الله عز وجل: {ألم تر إلى الذين نافقوا يقولون لإخوانهم الذين كفروا من أهل الكتاب لئن أخرجتم لنخرجن معكم ولا نطيع فيكم أحداً أبداً وإن قوتلتم لننصرنكم} . فقال جل ثناؤه: {والله يشهد إنهم لكاذبون} فأكذبهم في المستقبل.
ونظيره قوله عز وجل: {ياليتنا نرد ولا نكذب بآيات ربنا ونكون من
62- আবু জাফর বলেন: তাদের কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ‘আর-রহমান’ শব্দ থেকে কেন আলিফ বিলুপ্ত করা হয়েছে? কিন্তু তিনি তা জানতেন না।
63- তাদের জনৈক প্রধান ব্যক্তি বলেছিলেন: এটি অত্যধিক ব্যবহারের (كثرة الاستعمال) কারণে বিলুপ্ত করা হয়েছে। এটি একটি অদ্ভুত উত্তর, কারণ এই নাম একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য ব্যবহৃত হয় না; এমতাবস্থায় অত্যধিক ব্যবহারের অর্থ কী হতে পারে?
64- অন্যজন বললেন: উক্ত আলিফ এবং দ্বিতীয় আলিফের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য একে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
65- এমনকি তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, বহুবচনের স্ত্রীলিঙ্গ (تأنيث الجمع) নির্দেশের জন্য ‘হা’ বর্ণ ব্যতীত ‘তিনটি দলিল’ (ثلاث سجلات) লেখা হয়। এটি সংখ্যার ব্যাকরণগত ভুল (بطلান العدد), কারণ এই ক্ষেত্রে নিয়ম হলো একবচনের (الواحد) দিকে লক্ষ করা, বহুবচনের (الجمع) দিকে নয়। এ বিষয়ে সঠিক কথাটি সাঈদ আল-আখফাশ বলেছেন; তিনি বলেন: তুমি বলবে ‘তিনটি কবুতর’ (ثلاثة حمامات), কারণ এর একবচন হলো ‘হামাম’ (حمام), যা পুরুষবাচক (مذكر)।
66- আর এই প্রবক্তাই ‘আম্মান’ (عمن) সম্পর্কে বলেছেন যে, বর্ণের সন্ধির (إدغام) কারণে এটি সংযুক্ত অবস্থায় লেখা হয়। যদি এটি বৈধ হতো, তবে ‘আর-রহমান’ শব্দটি দুটি ‘রা’ দিয়ে লেখা হতো এবং ‘আন মান’ (عن من) বাক্যাংশে ‘মান’ শব্দটি যদি ‘যা/যিনি’ (الذي) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে লিখনরীতি অনুযায়ী তা পৃথকভাবে লিখতে হতো।
67- আমরা এ সংক্রান্ত অনেক বিষয় উল্লেখ করেছি, যার মধ্যে একটি হলো—তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ (الخلف) এবং মিথ্যার (الكذب) মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, যে ব্যক্তি বলে: ‘আমি করব’; অতঃপর তা করে না, সে মিথ্যাবাদী (كاذب) নয়। অথচ এটি আল্লাহর কিতাবের অকাট্য ভাষ্যের (نص) পরিপন্থী। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তুমি কি তাদের দেখনি যারা মুনাফিকি করেছে? তারা আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে তাদের কাফির ভাইদের বলে: যদি তোমাদের বহিষ্কার করা হয়, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে বেরিয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনো কারো আনুগত্য করব না। আর যদি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাহায্য করব।} অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী (كاذبون)}। এভাবে আল্লাহ ভবিষ্যতের সংবাদের ক্ষেত্রেও তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন।
এর অনুরূপ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হায়! যদি আমাদের পুনরায় ফিরিয়ে আনা হতো, তবে আমরা আমাদের রবের আয়াতসমূহকে মিথ্যা (نكذب) প্রতিপন্ন করতাম না এবং আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম...}
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
المؤمنين} فأكذبهم الله جل ثناؤه فقال عز وجل: {ولو ردوا لعادوا لما نهوا عنه وإنهم لكاذبون} .
68- ولولا كراهية الإطالة لذكرنا من هذا أشياء كثيرةً. على أن لشيخنا ابن كيسان كتاباً مفرداً في ما وقع من الغلط في (أدب الكاتب) المصنف.
69- ومن حسن ما سمعناه في وصف كاتبٍ ما نعت به أبو علي البصير أبا الحسن عبيد الله بن يحيى، وهو قوله: إن أمير المؤمنين قد استصلحك لنفسه، وائتمنك على رعيته، فنطق بلسانك، وأخذ وأعطى بيدك، وأورد وأصدر عن رأيك، وكان تفويضه إليك بعد امتحانه إياك وتسليطه الحق على الهوى فيك بعد أن ميل بينك وبين الذين نصبوا لمرتبتك، وأجروا إلى غايتك: فأسقطهم مضمارك، وخفوا في ميزانك، لم يزدك -أيده الله- رفعةً وتشريفاً إلا ازددت له هيبةً وتعظيماً، ولا تسليطاً وتمكيناً إلا زدت نفسك عن الدنيا عزوفاً وتنزيهاً، ولا تقريباً واختصاصاً إلا ازددت بالعامة رأفةً وعليها حدباً.
ولا يخرجك فرط النصح له عن النظر لرعيته، ولا إثبات حقه عن الأخذ بحقها عنده، ولا القيام بما هو له عن تضمن ما هو عليه.
ولا تشغلك معاناة كبار الأمور عن تفقد صغارها، ولا الجذل بإصلاح ما تصلح منها عن النظر في عواقبها، تمضي ما كان الرشد في
{মুমিনগণ} তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন এবং বলেছেন: {আর যদি তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হতো, তবে তারা যে কাজ করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল তা পুনরায় করত এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী (كاذبون)}।
68- দীর্ঘায়িত হওয়ার বিষয়টি অপছন্দনীয় না হলে আমরা এ বিষয়ে আরও অনেক কিছু উল্লেখ করতাম। তবে আমাদের শাইখ ইবনে কিসানের একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে সেই ভুলগুলোর (الغلط) বিষয়ে, যা 'আদাবুল কাতিব' নামক গ্রন্থে সংঘটিত হয়েছে।
69- একজন লেখকের বর্ণনায় আমরা যা শুনেছি তার মধ্যে অন্যতম চমৎকার বর্ণনা হলো আবু আলী আল-বাসীর কর্তৃক আবুল হাসান উবায়দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়াকে দেওয়া বিশেষত্বসমূহ। তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আমিরুল মুমিনীন আপনাকে নিজের জন্য উপযুক্ত মনে করেছেন এবং তাঁর প্রজাদের ওপর আপনাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) মনে করে আমানতদার নিযুক্ত করেছেন। তিনি আপনার জবানিতে কথা বলেছেন, আপনার হাতে গ্রহণ ও প্রদান করেছেন এবং আপনার মতামতের ভিত্তিতেই যাবতীয় বিষয়ের নিষ্পত্তি করেছেন। আপনার পরীক্ষার পর এবং আপনার ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির ওপর সত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার পর তাঁর এই দায়িত্ব অর্পণ ছিল; যখন তিনি আপনার এবং ঐ সকল ব্যক্তিদের মধ্যে তুলনা করেছেন যারা আপনার মর্যাদার আকাঙ্ক্ষী ছিল এবং আপনার সমকক্ষ হতে চেয়েছিল। ফলে আপনার কর্মতৎপরতা তাদেরকে হটিয়ে দিয়েছে এবং আপনার পাল্লায় তারা হালকা প্রমাণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা—তাঁর সাহায্য আপনার সাথে থাকুক—আপনার উচ্চমর্যাদা ও সম্মান যতই বৃদ্ধি করেছেন, তাঁর প্রতি আপনার ভীতি ও সম্মান ততই বৃদ্ধি পেয়েছে। আপনার কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা যতই বেড়েছে, দুনিয়ার প্রতি আপনার নিরাসক্তি ও পবিত্রতা ততই বৃদ্ধি পেয়েছে; আপনার সান্নিধ্য ও বিশেষত্ব যতই বেড়েছে, সাধারণ মানুষের প্রতি আপনার দয়া ও মমত্ববোধ ততই বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাঁর প্রতি আপনার অগাধ কল্যাণকামিতা আপনাকে প্রজাদের অবস্থার প্রতি দৃষ্টিদান হতে বিরত করে না; তাঁর অধিকার সাব্যস্ত করা আপনাকে তাঁর কাছে প্রজাদের প্রাপ্য অধিকার আদায় হতে বিমুখ করে না এবং তাঁর কার্যাদি সম্পাদন করা আপনাকে তাঁর ওপর অর্পিত দায়দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত করে না।
গুরুত্বপূর্ণ বড় বিষয়গুলোর ব্যবস্থাপনা আপনাকে ছোট বিষয়গুলোর তদারকি থেকে গাফেল করে না এবং কোনো সংশোধনীমূলক কাজের সাফল্যে আনন্দিত হওয়া আপনাকে এর পরিণাম চিন্তা করা থেকে বিরত রাখে না; আপনি সেই বিষয়ই কার্যকর করেন যাতে সঠিক পথ রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
إمضائه، وترجئ ما يوجد الحزم في إرجائه، وتبذل ما كان الفضل في بذله، وتمنع ما كانت المصلحة في منعه، وتلين في غير ضعفٍ، وتشتد في غير عنفٍ، وتعفو في غير فشلٍ، وتسطو في غير جورٍ، وتقرب في غير تبذلٍ، وتبعد من غير تكبرٍ، وتخص في غير ميلٍ، وتعم في غير تضييعٍ، ولا يشقى بك المحق وإن كان عدواً، ولا يسعد بك المبطل وإن كان ولياً، فالسلطان يعتد لك من الغناء والكفاية والذب والحياطة والنصح والأمانة والعفة والنزاهة والنصب في ما أدى إلى الراحة بما يراك معه حيث انتهى إحسانه إليك مستوجباً للزيادة، وكافة الرعية إلا من غمط منهم العافية مثنون عليك بحسن السيرة ويمن النقيبة، ويعدون من مآثرك أنك لم تدحض حجةً بباطلٍ، ولم تدفع حقا ًبشبهةٍ، ولم تقصد لإزالة نعمةٍ.
وهذا يسيرٌ من كثيرٍ، لو قصدنا لتفصيله لأنفدنا الزمان قبل تحصيله، ثم كان قصرنا الوقوف دون الغاية منه.
70- قال أبو جعفر: ومما يوصف به الكاتب المستقيم الأمر أن يكون مبادراً أيامه، كما روى المزني عن الشافعي، أنه حكى عن بعض الحكماء أنه قال: ليس من أحدٍ وإن ساعدته المقادير بمستخرجٍ من الدنيا غضارة عيشٍ إلا من خلالٍ مكروهةٍ.
ومن انتظر بمعاجلة الدرك مؤاجلة الاستقصاء سلبته الأيام فرصته، لأن صناعة الدهر السلب، وشروط الأيام الإقالة، وفي ذلك يقول:
...তার কার্যকরীকরণ; এবং আপনি সেই বিষয়গুলো বিলম্বিত করবেন যেগুলোতে বিলম্ব করাটাই হলো বিচক্ষণতা; যা দান করা উত্তম তা দান করবেন এবং যা প্রতিরোধ করাতে জনকল্যাণ নিহিত তা প্রতিরোধ করবেন; দুর্বলতা প্রদর্শন না করে নম্রতা বজায় রাখবেন এবং কঠোরতা না করে দৃঢ়তা দেখাবেন; অক্ষমতা প্রকাশ না করে ক্ষমা করবেন এবং জুলুম না করে শাসন করবেন; নিজেকে ছোট না করে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখবেন এবং অহংকার না করে দূরত্ব বজায় রাখবেন; পক্ষপাতহীনভাবে বিশিষ্টতা প্রদান করবেন এবং অপচয় না করে সাধারণকে অন্তর্ভুক্ত করবেন; আপনার নিকট সত্যপন্থী ব্যক্তি দুর্ভাগা হবে না যদিও সে শত্রু হয় এবং বাতিলপন্থী ব্যক্তি ভাগ্যবান হবে না যদিও সে বন্ধু হয়। কেননা সুলতান আপনার সমৃদ্ধি, সামর্থ্য, সুরক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ, সদুপদেশ, আমানতদারি, চারিত্রিক পবিত্রতা, শুদ্ধতা এবং স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক ফলাফলের জন্য কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করেন; যখন তিনি আপনাকে দেখেন যে আপনার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন তিনি তা আরও বৃদ্ধির যোগ্য মনে করেন। আর অকৃতজ্ঞ একদল লোক ব্যতীত সাধারণ প্রজাসকল আপনার উত্তম জীবনচরিত ও স্বভাবের প্রশংসা করে; তারা আপনার কীর্তিসমূহের মধ্যে গণ্য করে যে, আপনি মিথ্যার দ্বারা কোনো অকাট্য প্রমাণকে (حجة) নস্যাৎ করেননি, সংশয়ের (شبهة) মাধ্যমে কোনো সত্যকে প্রতিহত করেননি এবং কোনো নেয়ামত হরণের ইচ্ছা পোষণ করেননি।
এগুলো বহুর মধ্যে অতি সামান্য; যদি আমরা এর বিস্তারিত বিবরণের ইচ্ছা করতাম, তবে তা সম্পন্ন করার পূর্বেই সময় ফুরিয়ে যেত; তবুও আমাদের আলোচনা এর চূড়ান্ত লক্ষ্যবস্তুর পূর্বেই সীমাবদ্ধ থাকল।
৭০- আবু জাফর বলেন: একজন সঠিক পথের অনুসারী লেখকের গুণাবলির মধ্যে অন্যতম হলো সময়ের সদ্ব্যবহার করা। যেমন আল-মুজানি ইমাম শাফেঈ থেকে বর্ণনা করেছেন (روى) যে, তিনি জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির উক্তি উদ্ধৃত করেছেন: এমন কেউ নেই, যাকে ভাগ্য সহায়তা করার পর সে দুনিয়াতে সুখকর জীবন লাভ করেছে, কিন্তু তার সাথে কিছু অপছন্দনীয় (مكروه) বিষয় জড়িত ছিল না।
আর যে ব্যক্তি দ্রুত ফল লাভের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ অনুসন্ধানের আশায় বিলম্ব করে, সময় তার সুযোগ ছিনিয়ে নেয়। কেননা মহাকালের কাজই হলো ছিনিয়ে নেওয়া এবং দিনগুলোর ধর্ম হলো সুযোগ কেড়ে নেওয়া। এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الحكيم:
بادر إذا الحاجات يوماً أمكنت
… بورودهن بوادر الآفات
كم من مؤخر حاجةٍ قد أمكنت
… لغدٍ وليس غدٌ له بموات
تأتي الحوادث حين تأتي جمةً
… وترى السرور يجيء في الفلتات
71- ويروى أن المأمون كان يتفقد ما يكتب به الكتاب، فيسقط من لحن، ويحط مقدار من أتى بما غيره أجود منه في العربية؛ فكان الكتاب يتثابرون على ما يأخذون من النحو لما كانت الرؤساء يتفقدون هذا منهم ويقربون العلماء.
72- كما قال المفضل بن محمدٍ: جاءني رسول الله الرشيد، فنهضت، فلما دخلت عليه سلمت، فأومأ بيده ومحمدٌ عن يمينه والمأمون عن يساره والكسائي بين يديه يطارحهما معاني القرآن ومعاني الشعر، فقال لي الرشيد: كم اسماً في {فسيكفيكهم الله} ؟ فقلت: ثلاثة أسماءٍ يا أمير المؤمنين؛ اسم الله، والكاف الثانية اسم النبي صلى الله عليه وسلم، والهاء مع الميم اسم الكفار؛ قال الرشيد: كذا قال الرجل، وأشار إلى الكسائي، ثم التفت إلى محمدٍ فقال: أفهمت ما قال؟ قال: نعم؛ قال: فاردده علي إن كنت صادقاً؛ فرده عليه كما لفظت به، فقال: أحسنت أمتع الله بك؛ ثم أقبل علي، فقال: من يقول:
প্রাজ্ঞ ব্যক্তি:
যখনই কোনো প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ আসে, তখনই দ্রুত পদক্ষেপ নাও
… কেননা বিলম্বের সাথে সাথেই আপদ ও বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কত মানুষই আছে যারা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কাজকে আগামীকালের জন্য পিছিয়ে দেয়
… অথচ আগামীকাল তাদের জন্য অনুকূল হয় না।
বিপদ যখন আসে তখন ঝাঁকে ঝাঁকে আসে
… আর সুখের দেখা পাওয়া যায় কেবল কদাচিৎ বা আকস্মিকভাবে।
৭১- বর্ণিত আছে (يروى) যে, খলিফা আল-মামুন লেখকদের লিখিত বিষয়গুলো তদারকি করতেন। তিনি ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) কারণে লেখকদের বাদ দিতেন এবং যে ব্যক্তি আরবির উৎকৃষ্ট শব্দের পরিবর্তে অন্য কিছু নিয়ে আসত, তিনি তার মর্যাদা কমিয়ে দিতেন। ফলে লেখকরা নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের যা কিছু শিখতেন, তার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল থাকতেন; কারণ শাসকরা তাদের এই বিষয়গুলো তদারকি করতেন এবং আলেমদের নিকটবর্তী করতেন।
৭২- যেমনটি মুফাদদাল ইবনে মুহাম্মদ বলেছেন: খলিফা হারুনুর রশীদের এক দূত আমার নিকট আসলেন। আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং যখন তাঁর নিকট প্রবেশ করে সালাম দিলাম, তখন তিনি হাতের ইশারায় অভিবাদন জানালেন। তাঁর ডানে মুহাম্মদ এবং বামে মামুন বসা ছিলেন। আল-কিসায়ি তাঁদের সামনে বসে তাঁদের সাথে কুরআনের অর্থ ও কবিতার ভাবার্থ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। হারুনুর রশীদ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: {ফসায়াকফীকাহুমুল্লাহ} বাক্যে কয়টি বিশেষ্য (اسم) রয়েছে? আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, তিনটি বিশেষ্য (اسم); আল্লাহর নাম, দ্বিতীয়ত ‘কাফ’ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম, এবং ‘হা’ ও ‘মিম’ কাফেরদের নাম। রশীদ বললেন: এই ব্যক্তিও—তিনি আল-কিসায়ির দিকে ইঙ্গিত করলেন—অনুরূপ কথা বলেছেন। এরপর তিনি মুহাম্মদের দিকে ফিরে বললেন: তিনি যা বললেন তা কি বুঝতে পেরেছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আমার সামনে তা পুনরাবৃত্তি করো। তখন তিনি আমি যেভাবে বলেছিলাম ঠিক সেভাবেই তা পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি বললেন: চমৎকার করেছ, আল্লাহ তোমার দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন। এরপর তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন: কে বলে:
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
نفلق هاماً لم تنله أكفنا
… بأسيافنا هام الملوك القماقم
قال: قلت: الفرزدق، يا أمير المؤمنين؛ قال: كيف يفلق هاماً لم تنله كفه؟ قلت: على التقديم والتأخير، كأنه قال: نفلق بأسيافنا هام الملوك القماقم هام من لم تنله أكفنا، على التعجب والاستفهام؛ قال: أصبت. ثم أقبل على الكسائي؛ فحادثه ساعةً، ثم التفت إلي، فقال: أعندكم مسألةٌ؟ قلت: نعم، لصاحب هذا البيت؛ قال: هات! قلت: قال:
أخذنا بآفاق السماء عليكم
… لنا قمراها والنجوم الطوالع
قال الرشيد: قد أفادنا هذا الشيخ؛ يعني الكسائي، ثم التفت إلى محمدٍ والمأمون، فقال: أحفظتما ما قاله في هذه المسألة؟ قالا: نعم، علمنا علي بن حمزة أن القمرين ها هنا الشمس والقمر، كما قالوا: سيرة العمرين، يريدون أبا بكرٍ وعمر، وكما قالوا: ما أطرد الأسودان، أي: الليل والنهار. قلت: أزيد يا أمير المؤمنين في السؤال؟ قال: زد! قلت: فلم استحبوا هذا؟ قال: لما اجتمع شيئان من جنسٍ واحدٍ فكان أحدهما أشهر من الآخر، غلب الأشهر، لأن القمر أشهر عند العرب لأنسه وكثرة بروزهم فيه ومشاهدتهم إياه دون الشمس في أكثر الأوقات، وتلك القصة في قولهم: العمران، لطول خلافة عمر
আমরা আমাদের তলোয়ার দিয়ে সেই মস্তকগুলো চূর্ণ করি যা আমাদের করতল স্পর্শ করতে পারেনি
… আমাদের তলোয়ারের আঘাতে চূর্ণ হয় মহান প্রতাপশালী রাজাদের মস্তকসমূহ।
বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, এটি ফারাযদাকের কবিতা। তিনি বললেন: তার করতল স্পর্শ করেনি এমন মস্তক সে কীভাবে চূর্ণ করে? আমি বললাম: এটি শব্দ বিন্যাসের অগ্র-পশ্চাৎ (التقديم والتأخير) করার কারণে হয়েছে; যেন তিনি বুঝিয়েছেন: আমরা আমাদের তলোয়ার দিয়ে মহান রাজাদের সেই মস্তকসমূহ চূর্ণ করি, যারা (মর্যাদার কারণে) আমাদের হাতের নাগালের বাইরে ছিল—এটি মূলত বিস্ময় ও জিজ্ঞাসাসূচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বললেন: তুমি সঠিক বলেছ। অতঃপর তিনি কিসায়ীর দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং কিছুক্ষণ তাঁর সাথে কথোপকথন করলেন। এরপর আমার দিকে ফিরে বললেন: তোমাদের কাছে কি কোনো প্রশ্ন আছে? আমি বললাম: হ্যাঁ, এই পংক্তির রচয়িতা সম্পর্কে। তিনি বললেন: পেশ করো! আমি বললাম: কবি বলেছেন:
আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে আকাশের দিগন্তসমূহ কব্জা করেছি
… আমাদের জন্যই রয়েছে তার দুই চাঁদ (القمرين) এবং উদীয়মান নক্ষত্ররাজি।
রশিদ বললেন: এই শায়খ—অর্থাৎ কিসায়ী—আমাদের উপকৃত করেছেন। অতঃপর তিনি মুহাম্মদ ও মামুনের দিকে ফিরে বললেন: এই মাসআলায় তিনি যা বললেন, তা কি তোমরা মুখস্থ করেছ? তারা বলল: হ্যাঁ, আলি ইবনে হামজা আমাদের শিখিয়েছেন যে, এখানে ‘দুই চাঁদ’ (القمرين) বলতে সূর্য ও চন্দ্রকে বোঝানো হয়েছে; যেমন তারা ‘দুই উমরের জীবনী’ (سيرة العمرين) বলে থাকে এবং এর মাধ্যমে তারা আবু বকর ও উমরকে উদ্দেশ্য করে। আবার যেমন তারা বলে থাকে: ‘দুই কালো বস্তু’ (الأسودان) কতটা প্রবহমান—অর্থাৎ রাত ও দিন। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, আমি কি এই প্রশ্নে আরও কিছু যোগ করব? তিনি বললেন: যোগ করো। আমি বললাম: তারা কেন এই পদ্ধতিটিকে পছন্দ করলেন? তিনি বললেন: যখন একই জাতীয় (جنس واحد) দুটি বিষয় একত্রে আসে এবং তাদের একটি অন্যটির চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ হয়, তখন সেই প্রসিদ্ধ অংশটিকে প্রাধান্য (تغليب) দেওয়া হয়। কারণ আরবদের কাছে চন্দ্র অধিক পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ; কেননা এর আলোতে তারা অধিক চলাফেরা করে এবং সূর্যের তুলনায় অধিকাংশ সময় একে প্রত্যক্ষ করে। আর ‘দুই উমর’ (العمران) বলার কারণ হলো উমরের খিলাফতের দীর্ঘস্থায়িত্ব।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وكثرة الفتوح فيها، وكذا الليل، لأنهم فيه أفرغ وسمرهم فيه أكثر. فقلت: أفيه يا أمير المؤمنين غير هذا؟ فقال: ما أعلمه؛ ثم التفت إلى الكسائي، فقال: أتعرف في هذا غير ما جرى مما أفدتناه؟ قال: لا يا أمير المؤمنين؛ وهو وفاء المعنى؛ فأمسك عني قليلاً، ثم قال لي: أتعرف أنت فيه أكثر من هذا؟ قلت: نعم يا أمير المؤمنين، بقيت الغاية التي افتخر بها قائل هذا الشعر؛ قال: فقل! قلت: الشمس أراد بها إبراهيم خليل الرحمن، والقمر أراد محمداً صلى الله عليه وسلم، والنجوم الطوالع أنت والخلفاء من آبائك ومن يكون من ولدك إلى يوم القيامة. قال: فتهلل وجهه، وقال: حسنٌ والله، والعلم كثيرٌ لا يحاط به، ولعله هذا الشيخ لم يسمع هذا فيفيدناه، وإن هذا لعمري لأبلغ إلى غاية الفخر؛ ثم رفع رأسه إلى الفضل بن الربيع، فقال: يحمل إلى منزل الشيخ عشرة آلاف درهمٍ، فيقدم بها من ساعته.
73- ومما كتبناه عن علي بن سليمان:
أن الأصمعي غاب عن الرشيد غيبةً طويلةً، فلما وافى دخل إليه، فقال له: يا عبد الملك! أطلت الغيبة؛ فقال: يا أمير المؤمنين! ما ألاقتني أرضٌ حتى وافيتك؛ فلم يدر الرشيد ما معنى ألاقتني، فأمسك مغتاظاً، فلما انفض الناس قال: ما معنى ألاقتني؟ قال: أقرتني وأثبتتني؛ فقال: له: احذر أن تكلمني بين العامة بما لا أفهمه.
...এবং সেখানে বিজয়ের প্রাচুর্য, তদ্রূপ রাতও, কারণ তাতে তারা অধিক অবসর পায় এবং তাতে তাদের নৈশকালীন আলাপচারিতা অধিক হয়। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন! এ বিষয়ে কি এছাড়া অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: আমার জানা নেই; অতঃপর তিনি আল-কিসায়ীর দিকে ফিরে তাকিয়ে বললেন: আমরা যা আলোচনা করলাম এবং তুমি আমাদের যা শিখিয়েছ, তা ব্যতীত তুমি কি এ বিষয়ে অন্য কিছু জানো? তিনি বললেন: না, হে আমিরুল মুমিনিন; এটিই অর্থের পূর্ণতা; অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ আমার দিক থেকে নিবৃত্ত থাকলেন, তারপর আমাকে বললেন: তুমি কি এ সম্পর্কে এর চেয়ে বেশি কিছু জানো? আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনিন, এই কবিতার কবির গর্ব করার মতো মূল উদ্দেশ্যটি এখনও বাকি আছে; তিনি বললেন: তবে বলো! আমি বললাম: সূর্য দ্বারা তিনি ইবরাহিম খলিলুর রহমানকে বুঝিয়েছেন, চাঁদ দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝিয়েছেন, আর উদিত নক্ষত্রগুলো হলেন আপনি এবং আপনার পূর্বপুরুষ ও কিয়ামত পর্যন্ত আপনার বংশধরদের মধ্য থেকে যারা খলিফা হবেন তারা। এতে তাঁর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, চমৎকার! জ্ঞান অনেক যা আয়ত্ত করা যায় না। সম্ভবত এই শায়খ এটি শোনেননি যে আমাদের জানাবেন, আর আমার জীবনের কসম, এটি নিশ্চয়ই গর্বের চূড়ান্ত পর্যায়; তারপর তিনি ফজল ইবনে রাবি’র দিকে মাথা তুললেন এবং বললেন: শায়খের বাড়িতে দশ হাজার দিরহাম পৌঁছে দাও এবং এখনই তা নিয়ে রওনা হও।
৭৩- আলী ইবনে সুলাইমান থেকে আমরা যা লিখেছি তার মধ্যে রয়েছে:
আল-আসমাঈ দীর্ঘ সময় যাবত আল-রশিদের নিকট থেকে অনুপস্থিত ছিলেন। অতঃপর যখন তিনি ফিরে এলেন এবং তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তিনি তাকে বললেন: হে আব্দুল মালিক! তুমি দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত ছিলে; তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! আপনার কাছে না আসা পর্যন্ত কোনো ভূমি আমাকে স্থির রাখতে (আলাকাতনি) পারেনি; আল-রশিদ 'আলাকাতনি' শব্দের অর্থ বুঝতে পারলেন না, ফলে তিনি রাগান্বিত হয়ে চুপ থাকলেন। যখন লোকজন চলে গেল, তিনি বললেন: 'আলাকাতনি' শব্দের অর্থ কী? তিনি বললেন: আমাকে স্থির রাখা এবং থামিয়ে রাখা; তখন তিনি তাকে বললেন: সাধারণ মানুষের সামনে আমার সাথে এমন ভাষায় কথা বলা থেকে সতর্ক থেকো যা আমি বুঝি না।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৫১)
74- فممن امتنع من النحويين من ملازمة السلاطين إجلالاً للعلم وغنى نفسٍ: الخليل بن أحمد وبكر بن محمدٍ المازني.
ونملي خبر الخليل عن علي بن سليمان ومحمد بن الحسين بن الحسن، عن عبد الله بن عبد العزيز، وفي رواية علي بن سليمان زيادة بيتين في آخر الأبيات، والخبر أن سليمان بن حبيبٍ المهلبي وجه إلى الخليل، فامتنع، وكتب إليه.
أبلغ سليمان أني عنه في سعةٍ
… وفي غنىً غير أني لست ذا مال
سخى بنفسي أني لا أرى أحداً
… يموت هزلاً ولا يبقى على حال
والرزق عن قدرٍ لا الضعف ينقصه
… ولا يزيدك فيه حول محتال
والرزق يغشى أناساً لا خلاق لهم
… كالسيل يغشى أصول الدندن البالي
كل امرئٍ بسبيل الموت مرتهنٌ
… فاعمل لبالك إني شاغلٌ بالي
والفقر في النفس لا في المال نعرفه
… ومثل ذاك الغنى في النفس لا المال
75- وكان خبر المازني قريباً من هذا لما عرض عليه الواثق المقام. وقد أمليت خبره عن علي بن محمدٍ المعروف بابن الخردلي، عن أحمد بن يحيى، أن المازني أشخصه الواثق إلى سر من رأى لأن جاريةً غنت وراء ستارةٍ:
৭৪- ব্যাকরণবিদদের মধ্যে যারা ইলমের মর্যাদা রক্ষা এবং মনের ঐশ্বর্যের কারণে সুলতানদের সান্নিধ্য বর্জন করেছিলেন, তারা হলেন: খলিল বিন আহমদ এবং বকর বিন মুহাম্মদ আল-মাজিনী।
আমরা আলী বিন সুলাইমান এবং মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-হাসান হতে, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের সূত্রে খলিলের সংবাদ (الخبر) বর্ণনা করছি। আলী বিন সুলাইমানের বর্ণনা (رواية)-এ পঙ্ক্তিগুলোর শেষে অতিরিক্ত দুটি পঙ্ক্তি রয়েছে। সংবাদ (الخبر) এই যে, সুলাইমান বিন হাবিব আল-মুহাল্লাবী খলিলের নিকট লোক পাঠালেন, কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানালেন এবং তাকে লিখে পাঠালেন:
সুলাইমানকে সংবাদ পৌঁছে দাও যে, আমি তার অভাব হতে মুক্ত... এবং প্রাচুর্যের মধ্যে আছি যদিও আমি সম্পদশালী নই।
আমার মন এই সত্যে আশ্বস্ত যে, আমি কাউকে দেখি না যে... ক্ষুধায় মৃত্যুবরণ করে, আর না কেউ চিরকাল এক অবস্থায় অবশিষ্ট থাকে।
রিযিক নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী আসে, দুর্বলতা (الضعف) একে হ্রাস করে না... আর কোনো চতুর প্রবঞ্চকের কৌশলও এতে কোনো বৃদ্ধি ঘটাতে পারে না।
রিযিক এমন সব লোকদের আচ্ছন্ন করে যাদের কোনো চারিত্রিক অংশ নেই... যেমন ঢল জীর্ণ কাষ্ঠখণ্ডের গোড়াকে প্লাবিত করে।
প্রত্যেক ব্যক্তিই মৃত্যুর পথে বন্ধকস্বরূপ... সুতরাং তুমি তোমার নিজের জন্য কাজ করো, আমি আমার চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত আছি।
আমরা দারিদ্র্যকে অন্তরের মধ্যেই চিনি, সম্পদে নয়... আর অনুরূপভাবে ধনাঢ্যতাও অন্তরের বিষয়, সম্পদের নয়।
৭৫- আল-মাজিনীর সংবাদটিও (الخبر) এর কাছাকাছি ছিল যখন খলিফা আল-ওয়াসিক তাকে দরবারে অবস্থানের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তার সংবাদ (الخبر) আলী বিন মুহাম্মদ (যিনি ইবনুল খুরদালি নামে পরিচিত) হতে, তিনি আহমদ বিন ইয়াহইয়া সূত্রে বর্ণনা করেছি যে, আল-ওয়াসিক মাজিনীকে 'সুররা মান রাআ' শহরে উপস্থিত করেছিলেন কারণ এক দাসী পর্দার আড়াল থেকে গেয়েছিল:
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৫২)
أظليم إن مصابكم رجلاً
… أهدى السلام تحيةً ظلم
فقال لها الواثق: رجلٌ؛ فقالت: لا أقوله إلا كما علمت؛ فقال للفتح: كيف هو يا فتح؟ قال: هو خبر ((إن)) كما قال أمير المؤمنين؛ فقالت الجارية: علمني أعلم الناس بالعربية المازني، كان يعرب شعر غنائي؛ فأمر أمير المؤمنين بإشخاصه، فأشخص. قال أحمد بن يحيى: فلقيني يعقوب بن السكيت، فسألني، فأجبته: بالنصب؛ قال: فأين خبر ((إن)) ؟ قلت: ((ظلم)) ، ثم أتى المازني، فأجاب بمقالة الجارية.
76- قال أبو جعفر: وجدت في هذا الخبر زيادةً من رواية البصريين عن المازني، وهي أن المازني قال: قلت لابن قادمٍ ولابن سعدان لما كابراني: كيف تقول نفقتك ديناراً أصلح من درهمٍ؟ فقال: دينارٌ؛ فرفع، قلت: كيف تقول: ضربك زيداً خيرٌ لك؟ فنصب؛ فقلت: فرق بينهما، فانقطع، وكان ذلك عند الواثق، وحضر ابن السكيت، فقال لي الواثق: هات مسألةً! فقلت ليعقوب: {فأرسل معنا أخانا نكتل} ما وزنه من الفعل؟ فقال: نفعل. فقال له الواثق: غلطت؛ ثم قال لي: فسره يا مازني! فقلت: نكتل تقديره نفتعل، نكتيل، فانقلبت الياء ألفاً لفتحة ما قبلها، فصار لفظها نكتال، فأسكنت اللام للجزم، لأنه جواب الأمر، فحذفت الألف لالتقاء
হে যালিম! নিশ্চয় তোমাদের এক ব্যক্তিকে আঘাত করা
… যে অভিবাদনস্বরূপ সালাম পেশ করেছে, তা একটি অন্যায়।
তখন আল-ওয়াছিক তাকে বললেন: "(শব্দটি হবে) রফ’ সহকারে 'ব্যক্তিটি'"; সে বলল: "আমি যা শিখেছি তা ছাড়া অন্যভাবে বলব না।" তখন তিনি আল-ফাতহকে জিজ্ঞেস করলেন: "হে ফাতহ, এটি কেমন হবে?" তিনি বললেন: "এটি 'ইন্না' (إن)-এর খবর (خبر), যেমনটি আমীরুল মুমিনীন বলেছেন।" তখন দাসীটি বলল: "আরবি ভাষায় সবচেয়ে বড় পণ্ডিত আল-মাযিনী আমাকে এটি শিখিয়েছেন, তিনি আমার গীত-কবিতার ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ করতেন।" তখন আমীরুল মুমিনীন তাকে উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে উপস্থিত করা হলো। আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া বলেন: ইয়াকুব ইবনে আস-সিক্কীতের সাথে আমার দেখা হলো, তিনি আমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। আমি উত্তর দিলাম: "নসব সহকারে।" তিনি বললেন: "তাহলে 'ইন্না' (إن)-এর খবর (خبر) কোনটি?" আমি বললাম: "(কবিতার শেষে থাকা) 'যুলম' (ظلم) শব্দটি।" এরপর আল-মাযিনী আসলেন এবং দাসীটি যা বলেছিল সেই অনুযায়ীই উত্তর দিলেন।
৭৬- আবু জাফর বলেন: আমি এই সংবাদের (خبر) মধ্যে বসরী বর্ণনাকারীদের সূত্রে আল-মাযিনী থেকে একটি অতিরিক্ত বর্ণনা (رواية) পেয়েছি। আর তা হলো, আল-মাযিনী বলেন: আমি ইবনে ক্বাদিম এবং ইবনে সা’দানকে বলেছিলাম যখন তারা আমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল: "তোমার এক দিনার ব্যয় করা এক দিরহামের চেয়ে উত্তম"—এটি তুমি কীভাবে বলবে? তিনি বললেন: "দিনারুন"; অর্থাৎ তিনি রফ’ পড়লেন। আমি বললাম: "তোমার যায়দকে প্রহার করা তোমার জন্য কল্যাণকর"—এটি কীভাবে বলবে? তখন তিনি নসব পড়লেন। আমি বললাম: "এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করুন।" তখন তিনি নিরুত্তর হয়ে গেলেন। এই ঘটনাটি আল-ওয়াছিকের মজলিসে হয়েছিল এবং সেখানে ইবনে আস-সিক্কীত উপস্থিত ছিলেন। তখন আল-ওয়াছিক আমাকে বললেন: "একটি মাসআলা (مسألة) পেশ করো!" আমি ইয়াকুবকে বললাম: {আমাদের সাথে আমাদের ভাইকে পাঠান, যাতে আমরা শস্য পরিমাপ করে আনতে পারি (নাকতাল)}—এই ক্রিয়াটির ওজন (وزن) কী? তিনি বললেন: "নাফ’আল।" আল-ওয়াছিক তাকে বললেন: "তুমি ভুল (غلط) করেছ।" এরপর তিনি আমাকে বললেন: "হে মাযিনী, এর ব্যাখ্যা দাও!" আমি বললাম: "নাকতাল-এর মূল রূপ হলো নাফতা’ইল, অর্থাৎ নাক্তায়িল। ইয়ায়ের পূর্বের অক্ষরে যবর থাকার কারণে ইয়াটি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে, ফলে তার উচ্চারণ দাঁড়িয়েছিল নাকতাল। এরপর জযম প্রদানের জন্য লাম অক্ষরটিকে সাকিন করা হয়েছে, কারণ এটি আদেশের উত্তর (جواب الأمر)। ফলে দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে (التقاء الساكنين) আলিফটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে..."
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
الساكنين. فقال: هذا الجواب، لا جوابك يا يعقوب!
فلما خرجنا، قال لي يعقوب: ما حملك على هذا وبيني وبينك المودة الخالصة؟ قلت: والله ما قصدت تخطئتك، ولكن كانت في نفسي هينة الجواب ولم أظن أنها تعزب عنك، ولو علمت ذلك ما ألقيتها.
77- وحضرت يوماً آخر، وقد اجتمع جماعةٌ من نحويي الكوفة، فقال لي الواثق: يا مازني! هات مسألةً؛ فقلت: ما تقولون في قول الله جل وعز {وما كانت أمك بغياً} لم لم يقل: ((بغيةً)) وهي صفةٌ لمؤنثٍ؟ فأجابوا بجواباتٍ ليست بمرضيةٍ، فقال لي الواثق: هات الجواب؟ فقلت: يا أمير المؤمنين! لو كانت بغي على تقدير فعيل بمعنى فاعلة لحقتها الهاء مثل كريمةٍ وظريفة ٍوإنما تحذف الهاء إذا كانت بمعنى مفعولةٍ نحو: امرأةٍ قتيلٍ، وكفٍ خضيبٍ، وتقدير بغي ها هنا ليس بفعيل، إنما هو فعول، وفعولٌ لا يلحقه الهاء في وصف التأنيث، نحو امرأةٍ شكورٍ، وبئرٍ شطونٍ، إذا كانت بعيدة الرشاء، وتقدير بغي بغويٌ، قلبت الواو ياءً ثم أدغمت الياء في الياء نحو سيدٍ وميتٍ؛ فاستحسن الجواب. ثم أتيته، فاستأذنته في الخروج، فقال: هلا أقمت عندنا؟ فقلت: يا أمير المؤمنين! لي بنيةٌ أشفق أن أغيب عنها؛ قال: كأني بك وقد قالت لك قول ابنة الأعشى للأعشى:
أرانا إذا أضمرتك البلاد
… نجفى وتقطع منا الرحم
সুকুনবিশিষ্ট দুই বর্ণের। তখন তিনি বললেন: "এটিই সঠিক উত্তর, হে ইয়াকুব, তোমার উত্তরটি নয়!"
যখন আমরা বের হলাম, ইয়াকুব আমাকে বললেন: "আমাদের মাঝে অকৃত্রিম হৃদ্যতা থাকা সত্ত্বেও তোমাকে এই কাজে কিসে উদ্বুদ্ধ করল (আমাকে ভুল প্রমাণ করতে)?" আমি বললাম: "আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে ভুল প্রমাণ করার ইচ্ছা করিনি; বরং উত্তরটি আমার মনে অত্যন্ত সহজ মনে হয়েছিল এবং আমি ভাবিনি যে এটি আপনার অগোচরে থাকবে। যদি আমি তা জানতাম, তবে আমি তা উপস্থাপন করতাম না।"
৭৭- আমি অন্য একদিন উপস্থিত হলাম, তখন কুফার একদল ব্যাকরণবিদের সমাবেশ ঘটেছিল। আল-ওয়াসিক আমাকে বললেন: "হে মাজিনি! একটি মাসআলা পেশ করো।" আমি বললাম: "আল্লাহ জাল্লা ওয়া আজ্জা-এর বাণী {আর তোমার মা ব্যভিচারিণী ছিলেন না} সম্পর্কে আপনারা কী বলেন? কেন এখানে 'বাগিয়্যাহ' বলা হয়নি, অথচ এটি একটি স্ত্রীবাচক বিশেষণ?" তারা এমন কিছু উত্তর দিলেন যা সন্তোষজনক ছিল না। তখন আল-ওয়াসিক আমাকে বললেন: "তুমি উত্তরটি দাও।" আমি বললাম: "হে আমিরুল মুমিনিন! যদি 'বাগি' শব্দটি 'ফায়ীল' ওজনে 'ফায়িলাহ' (কর্তৃবাচ্য) অর্থে হতো, তবে 'কারীমাহ' ও 'জারিফাহ'-এর মতো এতেও 'হা' যুক্ত হতো। মূলত 'হা' তখনই বিলুপ্ত হয় যখন তা 'মাফউলাহ' (কর্মবাচ্য) অর্থে ব্যবহৃত হয়; যেমন: 'ইমরাআতুন কাতিল' এবং 'কাফফুন খাজিব'। আর এখানে 'বাগি' শব্দের ওজন 'ফায়ীল' নয়, বরং এটি 'ফাউল' ওজনের। আর স্ত্রীবাচক বিশেষণের ক্ষেত্রে 'ফাউল' ওজনে 'হা' যুক্ত হয় না; যেমন: 'ইমরাআতুন শাকূর' এবং 'বি'রুন শাতুন'—যখন তা অত্যন্ত গভীর কূয়ো হয়। আর 'বাগি' এর মূল রূপ হলো 'বাগউইউন', যেখানে 'ওয়াও' বর্ণটি 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এরপর 'ইয়া' বর্ণটি অপর একটি 'ইয়া'-র সাথে সন্ধিযুক্ত হয়েছে; যেমন 'সাইয়্যিদ' ও 'মাইয়্যিত' শব্দদ্বয়ে হয়ে থাকে।" তিনি উত্তরটি চমৎকার বলে গ্রহণ করলেন। অতঃপর আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে প্রস্থানের অনুমতি চাইলাম। তিনি বললেন: "তুমি কেন আমাদের নিকট অবস্থান করলে না?" আমি বললাম: "হে আমিরুল মুমিনিন! আমার একটি ছোট কন্যা রয়েছে, যার থেকে দূরে থাকতে আমি মমতা ও শঙ্কা বোধ করি।" তিনি বললেন: "আমি যেন তোমাকে দেখতে পাচ্ছি এবং সে তোমাকে আল-আ'শার কন্যার সেই কথাটিই বলছে যা সে আল-আ'শাকে বলেছিল:
আমি দেখছি যে, যখন দেশসমূহ তোমাকে আমাদের থেকে আড়াল করবে... তখন আমাদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করা হবে এবং আমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হবে।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল কিতাব লি আবি জাফর আন-নাহহাস
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
وقلت:
تقول بنتي وقد قربت مرتحلاً
… يا رب جنب أبي الأوصاب والوجعا
عليك مثل الذي صليت فاغتمضي
… عينا فإن لجنب المرء مضطجعا
فوالله ما ترك ما في نفسي، وأمر لي بمالٍ، وأذن لي في الانصراف.
78- وفر أبو عمر بن العلاء من الحجاج، قال: فبينما أنا أسير، إذ سمعت رجلاً ينشد:
ربما تجزع النفوس من الأمر
… له فرجةٌ كحل العقال
مات والله الحجاج. فما أدري بأيهما كنت أفرح. يعني: موت الحجاج، أو قوله: فرجةً.
79- وعبد الله بن أبي إسحاق واحد القراء والنحويين، كان ممتنع الجانب، قليل الغشيان للسلطان، حتى عير بالكبر، وهجي به.
ومن النحويين من سارع إلى السلاطين والكتاب ثم لم يحمد معهم العاقبة80- منهم سيبويه وابن السكيت كما حدثنا علي بن سليمان، قال: حدثنا أحمد بن يحيى ومحمد بن يزيد وبعض أصحابنا يختلفون في الشيء بعد الشيء، قالوا: لما ورد سيبويه إلى العراق شق أمره على
আমি বললাম:
আমার কন্যা বলছিল যখন আমি যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম
… হে প্রতিপালক, আমার পিতাকে ক্লান্তি ও বেদনা থেকে রক্ষা করুন।
তোমার ওপরও তা-ই বর্ষিত হোক যা তুমি প্রার্থনা করেছ, সুতরাং আশ্বস্ত হয়ে চোখ বন্ধ করো
… কেননা মানুষের পার্শ্বদেশের জন্য শয্যা (বিশ্রামস্থল) নির্ধারিত রয়েছে।
আল্লাহর শপথ, তিনি আমার মনে কোনো অপ্রাপ্তি রাখেননি, তিনি আমার জন্য অর্থ প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং আমাকে বিদায় নেয়ার অনুমতি দিলেন।
৭৮- আবু আমর ইবনুল আলা হাজ্জাজের নিকট থেকে পালিয়ে গেলেন। তিনি বলেন: আমি যখন পথ চলছিলাম, তখন এক ব্যক্তিকে আবৃত্তি করতে শুনলাম:
কখনো কখনো প্রাণ কোনো বিষয়ে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে
… অথচ তার মুক্তি উটের পায়ের রশি খোলার মতোই দ্রুত।
আল্লাহর শপথ, হাজ্জাজ মারা গিয়েছে। আমি জানি না এ দুটির মধ্যে কোনটি নিয়ে আমি বেশি আনন্দিত হয়েছিলাম। অর্থাৎ: হাজ্জাজের মৃত্যুতে, নাকি তার 'মুক্তি' শব্দটি বলাতে।
৭৯- আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক ছিলেন ক্বারি (القراء) এবং ব্যাকরণবিদদের (النحويين) অন্যতম। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাশীল ছিলেন, সুলতানের নিকট কম যাতায়াত করতেন, এমনকি তাকে অহংকারী বলে দোষারোপ করা হতো এবং তা নিয়ে তাকে ব্যঙ্গ করা হতো।
ব্যাকরণবিদদের (النحويين) মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা সুলতান ও লেখকদের সান্নিধ্য লাভের জন্য দ্রুত ছুটে যেতেন, কিন্তু তাদের সাথে তাদের শেষ পরিণাম প্রশংসনীয় হয়নি।৮০- তাদের মধ্যে ছিলেন সিবওয়াইহ এবং ইবনুস সিক্কিত, যেমনটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আলী বিন সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমাদ বিন ইয়াহইয়া এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ এবং আমাদের আরও কিছু সঙ্গী যারা বিভিন্ন বিষয়ে পরস্পর মতপার্থক্য করতেন; তারা বললেন: সিবওয়াইহ যখন ইরাকে আসলেন, তখন তার পরিস্থিতি দুষ্কর হয়ে পড়ল...