(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: -)
مشيخة القزويني القسم: علوم الحديث
الكتاب: مشيخة القزويني
المؤلف: عمر بن علي بن عمر القزويني، أبو حفص، سراج الدين (ت 750هـ)
المحقق: الدكتور عامر حسن صبري
الناشر: دار البشائر الإسلامية
الطبعة: الأولى 1426 هـ - 2005 م
عدد الصفحات: 558
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাশয়াখাতুল কাযভিনি বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: মাশয়াখাতুল কাযভিনি
লেখক: উমর ইবনে আলি ইবনে উমর আল-কাযভিনি، আবু হাফস، সিরাজুদ্দীন (মৃত্যু ৭৫০ হিজরি)
সম্পাদক: ডক্টর আমির হাসান সাবরি
প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খাইরি আকবিল
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (33)
مشيخة
الإمام سراج الدين عمر بن علي القزويني
المحدث المقرئ القرشي الشافعي
إمام جامع الخلافة العباسية ببغداد
(683هـ - 750هـ)
حققه وقدم له وعلق عليه
الدكتور عامر حسن صبري
دار البشائر الإسلامية
الطبعة الأولى
1426 هـ - 2005 م
হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা ও গ্রন্থমালা (৩৩)
মাশয়াখা
ইমাম সিরাজুদ্দীন উমর ইবন আলী আল-কাজভিনী
মুহাদ্দিস, ক্বারী, কুরাইশী, শাফেয়ী
বাগদাদের আব্বাসীয় খিলাফত জামে মসজিদের ইমাম
(৬৮৩ হিজরি - ৭৫০ হিজরি)
তাহকিক, ভূমিকা ও টীকা প্রদান করেছেন
ডক্টর আমের হাসান সাবরী
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়া
প্রথম সংস্করণ
১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٧٧)
[افتتاحية]بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله العالم بأسرار القلوب، المطلع على خفيات الغيوب، ذي العظمة والكبرياء، والرأفة والعلياء، والنور والبهاء، مسبغ أصناف الآلاء، ودافع نوازل البلاء، وجاعل العلماء ورثة الأنبياء، ومؤيدهم بحسن توفيقه في حفظ سنة سيد الأنبياء، وحراسة حديثه عن قول أولي الكذب والافتراء، ومودعه في صدور الحفاظ الأصفياء الصلحاء، الذين قال فيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يحمل هذا العلم من كل خلفٍ عدوله
… )) الحديث، إلى غير ذلك من مناقبهم الواضحة السناء، المنشورة اللواء.
وصلى الله على نبيه محمدٍ، المستخرج من صميم العرب العرباء، ورسوله المؤيد بالكتاب الذي أفحم أفهام البلغاء، وأخرس ألسن الفصحاء، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ما نسخ حالك الظلام بناصع الضياء، ومسخ بأصل الأشقياء بظهور الحق على ألسنة الأتقياء.
ثم إن الله تعالى بعظيم منته، وجميل رأفته، اختص كل طبقةٍ وزمانٍ
[ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অন্তরের রহস্যসমূহ সম্পর্কে পরিজ্ঞাত, অদৃশ্যের গোপন বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত; যিনি মহানুভবতা ও শ্রেষ্ঠত্ব, মমতা ও উচ্চমর্যাদা এবং নূর ও সৌন্দর্যের অধিকারী; যিনি সকল প্রকার নেয়ামত পূর্ণকারী এবং অবতীর্ণ বিপদাপদ দূরকারী; আর যিনি আলেমদের নবীদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন এবং নবীদের সরদারের সুন্নাহ সংরক্ষণে তাঁর উত্তম তাওফিকের মাধ্যমে তাঁদের সাহায্য করেছেন। আর মিথ্যা ও অপবাদ রটনাকারীদের কথা থেকে তাঁর হাদিসকে সুরক্ষা দান করেছেন এবং তা গচ্ছিত রেখেছেন সেই সব পবিত্র ও পুণ্যবান হাফেজ (حفاظ)-দের অন্তরে, যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((প্রত্যেক প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ (عدول) ব্যক্তিরাই এই জ্ঞান বহন করবে
… )) হাদিস, এছাড়াও তাঁদের আরও অনেক উজ্জ্বল মহিমা ও সুপ্রসিদ্ধ কীর্তি রয়েছে।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মাদের ওপর, যাঁকে বিশুদ্ধ আরব বংশধারা থেকে বাছাই করা হয়েছে, এবং তাঁর ঐ রাসূলের ওপর যাঁকে এমন কিতাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে যা অলংকারশাস্ত্রবিদদের বোধগম্যতাকে হার মানিয়েছে এবং বাগ্মীদের জিহ্বাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, যতক্ষণ পর্যন্ত উজ্জ্বল আলো ঘন অন্ধকারকে দূরীভূত করতে থাকে এবং খোদাভীরু ব্যক্তিদের জবানে সত্য প্রকাশের মাধ্যমে দুর্ভাগাদের মূল উৎপাটন করতে থাকে।
অতঃপর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর মহান অনুগ্রহ ও সুন্দর মমতায় প্রতিটি স্তর (طبقة) ও যুগকে বিশিষ্ট করেছেন
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٧٨)
وعصرٍ وأوان، بأئمةٍ جعلهم هداةً للمهتدين، وقادةً للمتبعين، تنتظم بهم أمور الشريعة المحمدية، وتستقيم بهم مناهج السنة النبوية.
فهم لها رعاةٌ، وإلى الاقتداء بها دعاةٌ، وهم جهابذة نقده، وموائد حله وعقده، وإليهم يرجع في تصحيحه، ولهم يعتمد في توضيحه، لا سيما الإمام العالم العامل، والحبر الفاضل الكامل، صاحب السيرة العمرية، ومقتدي السنة النبوية، حائز قصب السبق، والمجلي في حلبة الصدق، ذي الآراء السديدة، والمناهج الرشيدة، مقتفي آثار السلف الصالحين، وموضح سنن الحق للسالكين، مجتهد العراق ومسندها بالاتفاق، الذي شاع جميل ذكره في الآفاق، وامتدت شوقاً إلى جميل طلعته الأعناق، سراج الحق والملة والدين أبو حفص عمر بن علي بن عمر القزويني، أعز الله تعالى أهل السنة الغراء بشريف همته الفارعة، وقمع أهل البدعة الشنعاء عنيف سطوته المانعة، ولا زالت وفود الطالبين مزدحمةً على أبوابه، مقبلةً على ثرى أعتابه.
والمسؤول من جميل عوائده، وجزيل فوائده، أن يتصدق في حق أصغر تلامذته أبي الحسن علي بن أبي الحسين منصور بن علي الواسطي مولداً الأصبهاني أصلاً، ويلبسه الخرقة التي لبسها من المشايخ الثقات والصلحاء الأثبات، ويجيزه بما صح عنده سماعاً وقراءةً ومناولةً وإجازةً،
যুগ যুগ এবং প্রতিটি সময়ে এমন সব ইমামদের মাধ্যমে আল্লাহ দ্বীনকে হিফাযত করেছেন, যাদেরকে তিনি হিদায়াতপ্রাপ্তদের জন্য পথপ্রদর্শক এবং অনুসরণকারীদের জন্য নেতা বানিয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমেই মুহাম্মাদী শরীয়তের বিষয়াবলী সুশৃঙ্খল হয় এবং তাঁদের মাধ্যমেই নববী সুন্নাহর পথসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
তাঁরাই সুন্নাহর সংরক্ষক এবং এর অনুকরণের প্রতি আহ্বানকারী। তাঁরাই এর সূক্ষ্ম সমালোচনা (نقد)-র বিশেষজ্ঞ এবং এর সমাধানের মূলভিত্তি। এর বিশুদ্ধ সাব্যস্তকরণে (تصحيح) তাঁদের নিকটই প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং এর ব্যাখ্যায় তাঁদের ওপরই নির্ভর করা হয়। বিশেষ করে সেই আমলকারী আলেম ইমাম, পূর্ণাঙ্গ ও শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত, উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর আদর্শের অনুসারী এবং নববী সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুগামী; যিনি শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণকারী এবং সত্যের ময়দানে প্রদীপ্ত। তিনি সঠিক মতামত ও সুপথের অধিকারী, সালাফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণকারী এবং সত্য অন্বেষণকারীদের জন্য হকের সুন্নাহর বর্ণনাকারী। তিনি ইরাকের মুজতাহিদ এবং সর্বসম্মতিক্রমে সেখানকার মুসনাদ বর্ণনাকারী, যাঁর সুখ্যাতি দিগন্ত জুড়ে বিস্তৃত এবং যাঁর দর্শন লাভের আশায় পিপাসুরা উন্মুখ হয়ে থাকে। তিনি হলেন সত্য, মিল্লাত ও দ্বীনের প্রদীপ আবু হাফস উমর বিন আলী বিন উমর আল-কাযভিনি। আল্লাহ তাআলা তাঁর সুউচ্চ হিম্মতের মাধ্যমে উজ্জ্বল সুন্নাহর অনুসারীদের সম্মানিত করুন এবং তাঁর কঠোর প্রতিরোধের মাধ্যমে ঘৃণ্য বিদআতপন্থীদের দমন করুন। জ্ঞানপিপাসুদের দল যেন সর্বদা তাঁর দ্বারে ভিড় করে এবং তাঁর সান্নিধ্যে ধন্য হয়।
তাঁর মহানুভবতা ও অঢেল জ্ঞানগর্ভ অনুগ্রহের নিকট বিনীত প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন তাঁর কনিষ্ঠ ছাত্র—জন্মসূত্রে ওয়াসিতি এবং মূল বংশসূত্রে আসবাহানি—আবুল হাসান আলী বিন আবু হোসাইন মনসুর বিন আলী-এর প্রতি সদয় হন। তিনি যেন তাকে সেই খিরকা পরিধান করান, যা তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) শায়খগণ এবং সুদৃঢ় (أثبات) নেককার ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে পরিধান করেছেন। আর তাকে যেন সেই সমস্ত বিষয় বর্ণনা করার অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন, যা তাঁর নিকট শ্রবণ (سماع), পঠন (قراءة), অর্পণ (مناولة) এবং অনুমতি (إجازة) প্রদানের মাধ্যমে বিশুদ্ধ (صح) বলে প্রমাণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٧٩)
أو سمعه منه بقراءته أو قراءة غيره، وأن يذكر كل كتابٍ باسمه وطرقه على ما تيسر من ذلك عالياً ونازلاً، مغتنماً في ذلك جزيل الأجر، فائزاً برفيع القدر، وجميل الذكر.
أمتع الله الإسلام والمسلمين بطول حياته، ولا أخلى كافة المحبين من عميم أنسه وكريم لقائه، وطرز الأكوان بمحاسن ذكره، وحميد صفاته، وأبقى ذريته الطاهرة بقاءً لا تنوبه الأكدار، وجعل أعمارهم أطول الأعمار بمحمدٍ وآله الطيبين الطاهرين وصحبه الكرام المنتجبين.
অথবা তিনি তাঁর থেকে তা শ্রবণ (سمع) করেছেন নিজের পাঠের মাধ্যমে অথবা অন্যের পাঠের মাধ্যমে; আর তিনি যেন প্রতিটি কিতাবকে তার নাম ও সূত্রসমূহ (طرق) সহ উল্লেখ করেন যা উচ্চমানের (عاليا) এবং নিম্নমানের (نازلا) সনদের মধ্য হতে সহজতর হয়েছে, এর মাধ্যমে মহান সওয়াব লাভে ধন্য হয়ে এবং উচ্চ মর্যাদা ও উত্তম প্রশংসার অধিকারী হয়ে।
আল্লাহ তাআলা তাঁর দীর্ঘ জীবনের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করুন এবং সকল অনুরাগী ব্যক্তিকে তাঁর ব্যাপক সান্নিধ্য ও সম্মানজনক সাক্ষাৎ থেকে বঞ্চিত না করুন; আর জগতসমূহকে তাঁর উত্তম আলোচনা ও প্রশংসনীয় গুণাবলি দ্বারা অলঙ্কৃত করুন। তিনি তাঁর পবিত্র বংশধরদের এমন এক স্থায়িত্ব দান করুন যাকে কোনো পঙ্কিলতা স্পর্শ করবে না এবং মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পবিত্র ও নেককার পরিবারবর্গ এবং তাঁর সম্মানিত ও মনোনীত সাহাবীবর্গের অসিলায় তাদের জীবনকে দীর্ঘতম করুন।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٨٠)
[مقدمة المؤلف]بسم الله الرحمن الرحيم
قال الشيخ أبو حفص سراج الدين عمر ابن السيد علي بن عمر القزويني، المحدث الشافعي، الإمام بجامع الخليفة ببغداد، بلغه الله من فضل كرمه مآله، وختم بسعادتي الدنيا والآخرة أعماله:
أحمد الله على نعمه العظام، وأشكره على مننه الجسام، وأصلي وأسلم على نبيه محمدٍ سيد الرسل الكرام، المبعوث إلى كافة الخاص والعام، وعلى آله دعائم الإسلام، وأصحابه مبيني الشرائع والأحكام.
أما بعد:
فقد علم الأئمة الفضلاء، والمشايخ العلماء، والقادة الفقهاء -أعلى الله قدرهم ورفع في الدنيا والآخرة ذكرهم0 أن السنة بين أئمة الحديث في القديم والحديث أن لا يسوغ لأحدٍ رواية الحديث إلا بالإسناد إلى النقلة، أهل السداد والرشاد، لزيادة شرفه بالنسبة إلى سائر العلوم، وجلالة قدره، بأنه مغير العادات والرسوم، وكيف لا وعليه مدار الأحكام الدينية، وبه يتوسل إلى الدرجات العلية، من سلكه فقد نجا، ومن تركه فقد غوى، كما بينه غير واحدٍ من علماء السلف في كتبهم المصنفة في شرف أهل الحديث المتبعين سنن الرواية والتحديث.
فلهذا تفضل جماعةٌ منهم واستجازوا مني ما لي فيه حق الرواية: قراءةً وسماعاً، أو مناولةً وإجازةً، أو كتابةً أو تأليفاً، بعد معرفة كل واحدٍ منهم بقلة بضاعتي، وصرف عمري فيما لا يعنيني وإضاعتي، فتقبلت بالمنة قولهم
[লেখকের ভূমিকা]বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
শায়খ আবু হাফস সিরাজুদ্দীন উমর ইবনুল সায়্যিদ আলী ইবনে উমর আল-কাযভিনী, শাফিঈ মাযহাবের হাদিস বিশারদ (المحدث), বাগদাদের জামেউল খলিফার ইমাম—আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম করুণায় তাঁকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিন এবং তাঁর আমলসমূহকে দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের মাধ্যমে সমাপ্ত করুন—তিনি বলেন:
আমি আল্লাহর মহান নেয়ামতসমূহের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর বিশাল অনুগ্রহের জন্য শোকর আদায় করছি। আর আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি সম্মানিত রাসুলগণের সরদার এবং বিশেষ ও সাধারণ সকল মানুষের নিকট প্রেরিত। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গের ওপর যারা ইসলামের স্তম্ভ, এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর যারা শরিয়তের বিধান ও নিয়মাবলির বর্ণনাকারী।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই গুণী ইমামগণ, বিজ্ঞ মাশায়েখগণ এবং ফকিহ (فقهاء) নেতৃবৃন্দ—আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের সুনাম সুউচ্চ করুন—অবগত আছেন যে, প্রাচীন ও বর্তমানকালের হাদিস ইমামগণের নিকট এটিই প্রতিষ্ঠিত রীতি যে, নির্ভরযোগ্য ও সঠিক পথের অনুসারী বর্ণনাকারীগণ (النقلة) পর্যন্ত সনদ (الإسناد) ব্যতীত অন্য কারো জন্য হাদিস বর্ণনা করা বৈধ নয়। এটি করা হয়েছে অন্যান্য সমস্ত ইলমের তুলনায় এই ইলমের বিশেষ মর্যাদা এবং এর মাহাত্ম্যের কারণে; কেননা এটিই মানুষের অভ্যাস ও প্রথাকে পরিবর্তনকারী। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে দ্বীনি বিধানের মূল ভিত্তি এর ওপরই নির্ভরশীল? এর মাধ্যমেই উচ্চ মাকামে পৌঁছানো সম্ভব হয়। যে ব্যক্তি এর পথ অনুসরণ করবে সে মুক্তি পাবে, আর যে একে বর্জন করবে সে পথভ্রষ্ট হবে; যেমনটি সালাফ (السلف) বা পূর্বসূরি আলেমগণ হাদিস বিশেষজ্ঞগণ (أهل الحديث) এর মর্যাদা বিষয়ে লিখিত কিতাবসমূহে একাধিকবার বর্ণনা করেছেন, যারা বর্ণনা ও হাদিস শাস্ত্রের নিয়মাবলি অনুসরণ করেন।
এই কারণেই তাদের একটি জামাত অনুগ্রহপূর্বক আমার নিকট থেকে সেই সকল বিষয়ের বর্ণনা (الرواية) করার অনুমতি চেয়েছেন যেগুলোতে আমার বর্ণনার অধিকার রয়েছে; চাই তা পাঠ (قراءة), শ্রবণ (سماعاً), অথবা সরাসরি প্রদান (مناولة) ও অনুমতি (إجازة) বা লেখা কিংবা রচনার মাধ্যমেই হোক। অথচ তারা প্রত্যেকেই আমার জ্ঞানের স্বল্পতা এবং অনর্থক কাজে আমার আয়ুক্ষয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তবুও আমি কৃতজ্ঞতার সাথে তাদের আবেদন গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٨١)
وأجبت بالسمع والطاعة مسؤولهم، وأجزت لكل واحدٍ منهم على حدته، ولمن أضافه في الاستجازة إلى نفسه من أهله وعشيرته، أن يروي عني ما يصل إليه ويصح لديه أنه من مقروءاتي ومسموعاتي على مشايخي، ومناولاتي ومستجازاتي منهم، وما كتبوا إلي من بلاد الإسلام بخطوطهم بعد التماسي ذلك منهم حجازاً وشاماً وعراقاً، عرباً وعجماً، من جميع أصناف العلوم من التفاسير والأحاديث وكتب القراءات السبعة والعشرة والشواذ والأخبار والسنن والآثار.
ومن كل ما يتعلق بالعلوم الدينية، والمعارف الربانية السنية من كتب التصوف وأحوال الصوفية المتمسكين بأحوط المذاهب وأشرف المطالب، وغير ذلك من كتب الأدب نحواً ولغةً وشعراً، وكتب الأصول والفروع.
ومن سائر ما للرواية فيه عرفاً، ويدخل للدراية فيه شرعاً مجالٌ، وجميع ما ألفته وجمعته من علم القرآن والحديث والفقه والتاريخ والتصوف، وما سؤألفه وأرويه، معتمداً في ذلك كله على شرائط صحة التحديث عند أرباب النقل والحديث.
وكتبت لكل منهم إجازةً، وذكرت فيها شروطاً وآداباً، وخرجت لكتب عينتها طرقاً على قدر ملتمسه وحسب حاله، فسارت بها الركبان، واختلفت بأصحابها البلدان.
وأكثرها إملاءً من حفظي من غير تقييد نسخةٍ عندي أتلو منها، فاختلفت لذلك طرق الكتب في كل إجازةٍ، إذ قد يكون في حفظي للكتاب الواحد طرقٌ كثيرةٌ إلى مؤلفه، فيخطر ببالي في وقت كتابة بعض الإجازات طريقٌ، وفي بعضها آخر، فيقف عليهما معاً من لا خبرة له بهذا الشأن، وهو الكل إلا شرذمةٌ يسيرةٌ، وهي أقل من القليل، فلا يكاد يشك في الغلط والتناقض.
আমি তাদের আবেদনকারীর নিকট শ্রবণ ও আনুগত্যের সাথে সাড়া প্রদান করেছি এবং তাদের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে এবং তাদের সাথে যারা নিজেদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন থেকে অনুমোদনের (إجازة) জন্য যুক্ত হয়েছে, তাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে সেইসব বিষয় বর্ণনা (رواية) করার অনুমতি প্রদান করেছি যা তাদের নিকট পৌঁছাবে এবং তাদের নিকট বিশুদ্ধ (يصح) বলে প্রমাণিত হবে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো আমার শায়খদের নিকট আমার পঠিত (مقروءات), শ্রুত (مسموعات), তাদের থেকে প্রাপ্ত সরাসরি হস্তান্তর (مناولة) ও অনুমোদিত বিষয়সমূহ (مستجازات), এবং হিজাজ, শাম, ইরাক ও আরব-অনারবসহ বিভিন্ন ইসলামি ভূখণ্ড থেকে আমার অনুরোধের প্রেক্ষিতে তারা নিজ হাতে যা কিছু লিখে পাঠিয়েছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে তাফসির, হাদিস, সাত কেরাআত, দশ কেরাআত ও বিরল (شاذ) কেরাআতের কিতাবসমূহ, সংবাদ (أخبار), সুনান ও বর্ণনা (أثر) সহ সকল প্রকার শাস্ত্র।
আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দ্বীনি ইলম ও মহিমান্বিত রব্বানি মা’রেফাত সংশ্লিষ্ট তাসাউফ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ এবং সেসব সুফিদের অবস্থা যারা অত্যন্ত সতর্ক মাজহাব (مذهب) ও শ্রেষ্ঠতম লক্ষ্যসমূহকে আঁকড়ে ধরেন। এছাড়া নাহু, লুগাত ও কাব্যসহ আদব শাস্ত্রের কিতাবসমূহ এবং উসুল (أصول) ও ফুরু’ (فروع) এর কিতাবসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত।
প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী বর্ণনার (رواية) সুযোগ রয়েছে এমন যাবতীয় বিষয় এবং শরিয়তসম্মত বিচার-বিশ্লেষণের (دراية) পরিসর রয়েছে এমন সকল শাস্ত্রও এর আওতাভুক্ত। এছাড়া কুরআন, হাদিস, ফিকহ, ইতিহাস ও তাসাউফ বিষয়ে আমার রচিত ও সংকলিত যাবতীয় কিতাব এবং ভবিষ্যতে যা কিছু আমি রচনা ও বর্ণনা (رواية) করব—এসব কিছুর ক্ষেত্রে আমি হাদিস বর্ণনার (تحديث) ক্ষেত্রে বর্ণনাবিদ ও হাদিস বিশেষজ্ঞদের নিকট বিশুদ্ধতার শর্তাবলির ওপর নির্ভর করেছি।
আমি তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে অনুমতিপত্র (إجازة) লিখেছি এবং তাতে কিছু শর্ত ও আদব (أدب) উল্লেখ করেছি। তাদের আবেদন ও অবস্থা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু কিতাবের জন্য আমি বিভিন্ন সূত্র (طرق) বের করে দিয়েছি, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
এগুলোর অধিকাংশ আমি আমার স্মৃতি থেকে মুখস্থ লিখিয়েছি, আমার সামনে কোনো পাণ্ডুলিপি ছিল না যা দেখে আমি পাঠ করব। এই কারণে প্রতিটি অনুমতিপত্রে (إجازة) কিতাবসমূহের সূত্রগুলো (طرق) ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। কেননা, একটি কিতাবের লেখকের কাছে পৌঁছানোর জন্য আমার স্মৃতিতে অনেকগুলো সূত্র (طرق) সংরক্ষিত থাকতে পারে; ফলে কোনো অনুমতিপত্র (إجازة) লেখার সময় আমার মনে একটি সূত্রের (طريق) কথা উদয় হয়, আবার অন্য সময় অন্যটি। এমতাবস্থায় এই বিষয়ে যাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই—আর গুটিকয়েক নগণ্য ব্যক্তি ছাড়া প্রায় সবাই এমন—তারা যখন দুটি সূত্র একসাথে দেখে, তখন তারা ভুল ও বৈপরীত্যের বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٨٢)
وكم من عائبٍ قولاً صحيحاً
… وآفته من الفهم السقيم
وأيضاً فإني صرت محتاجاً إلى كتابة إجازةٍ في كل وقتٍ لبعض العلماء بخطي تأليفاً أتكلف فيها على قدر حاله، حيث أمرنا أن ننزل الناس منازلهم، فتفرق بذلك أكثر وقتي، وشغلني عما يعنيني.
[سبب تأليف الكتاب]فلما كتبت لبعض الفضلاء إجازةً طلب كثيرٌ من السادة العلماء نقلها، فمنعهم من ذلك تخصيصها باسمه والإلحاقات التي فيها، أمروني -ومطلق الأمر عندي للوجوب- أن أبيضها لهم، وأضم إليها ما يعن لي من الكتب المصنفة في القراءات وغيرها، وأحذف منها ما يخص ذلك الفاضل مما سمعه [علي] وذكرته هناك، قائلين بأن هذه الإجازة تكون كالمشيخة لكل من يدرك زمانك مطلقاً، فأما ما يقرؤه عليك قارئٌ أو يسمعه منك سامعٌ، أو يلتمسه منك ملتمسٌ من زيادة كتبٍ مروية، وأحاديث نبوية، فإنه يخص به منفرداً عن هذه، مبيناً قراءاته أو سماعه أو إجازته، وما يرويه المختص من هذه الإجازة اختص به وأستجاز بموجبه، فرأيت ملتمسهم أرفه لسري وأسهل لأمري.
[رواية الأكابر عن الأصاغر]هذا، ولعمري هو المشار إليه بقول المحدثين في باب رواية الأكابر
কত মানুষই তো একটি সহিহ (صحيح) কথাকে দোষারোপ করে
… অথচ তার সেই ত্রুটি মূলত নিজেরই বিকৃত বুঝ বা উপলব্ধির কারণে।
তদুপরি, আমি আলেমদের একাংশের জন্য প্রায়শই স্বহস্তে একটি ইজাজাহ (إجازة) লিখে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলাম, যা তাদের প্রত্যেকের যোগ্যতানুসারে প্রস্তুত করতে আমাকে বেশ শ্রম দিতে হতো; যেহেতু আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা মানুষকে তাদের যথাযথ মর্যাদার আসনে আসীন করি। এর ফলে আমার সময়ের সিংহভাগ ব্যয় হয়ে যাচ্ছিল এবং এটি আমাকে আমার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজসমূহ থেকে বিমুখ করে দিচ্ছিল।
[গ্রন্থটি রচনার কারণ]অতঃপর যখন আমি কোনো এক বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য একটি ইজাজাহ (إجازة) লিখলাম, তখন অনেক আলেম সেটি নকল করার আবেদন জানালেন। কিন্তু সেই ইজাজাহটি (إجازة) উক্ত ব্যক্তির নামে নির্দিষ্ট হওয়ার কারণে এবং তাতে ব্যক্তিগত কিছু সংযুক্তি থাকায় তা অন্যদের অনুকূলে ছিল না। তাই তারা আমাকে নির্দেশ দিলেন—আর নির্দেশ আমার নিকট ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার নামান্তর—যেন আমি এটি তাদের জন্য পরিমার্জিত আকারে পুনর্লিখন করি এবং কিরাত (قراءات) ও অন্যান্য বিষয়ে সংকলিত কিতাবসমূহ থেকে যা আমার নিকট যুক্তিসঙ্গত মনে হয় তা এতে অন্তর্ভুক্ত করি। আর উক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ শ্রবণসমূহ যা আমি সেখানে উল্লেখ করেছিলাম, তা যেন আমি বাদ দিই। তারা বললেন যে, এই ইজাজাহটি (إجازة) আপনার সমসাময়িক সকলের জন্য সাধারণভাবে একটি মাশইয়াখাহ (مشيخة) হিসেবে গণ্য হবে। আর কোনো পাঠক আপনার নিকট যা পাঠ (قراءة) করবে, কোনো শ্রোতা যা আপনার নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করবে, অথবা বর্ণিত কিতাবসমূহ এবং নববী হাদিসসমূহের অতিরিক্ত বর্ণনার জন্য যে আবেদন করবে, তা এই সাধারণ ইজাজাহর (إجازة) বাইরে তাকে এককভাবে প্রদান করা হবে, যেখানে তার পাঠ (قراءة), শ্রবণ (سماع) বা ইজাজাহর (إجازة) বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত থাকবে। ফলে যে ব্যক্তি এই ইজাজাহর (إجازة) অন্তর্ভুক্ত হবে সে একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হবে এবং সেই অনুযায়ী বর্ণনা করার অনুমতি লাভ করবে। আমি দেখলাম যে, তাদের এই প্রস্তাবটি আমার মনের জন্য স্বস্তিদায়ক এবং আমার কাজের জন্য অধিকতর সহজ।
[ছোটদের নিকট থেকে বড়দের বর্ণনা (رواية الأكابر عن الأصاغر)]আর আমার জীবনের শপথ, এটিই মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ‘বড়দের বর্ণনা’ (رواية الأكابر) অধ্যায়ের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٨٣)
عن الأصاغر، فإنهم صنفوا في ذلك تصانيف، بينوا فيها من روى من الأكابر عن الأصاغر وطولوا، ومن أشهر ما يستدل به:
رواية الخلفاء الأربعة وغيرهم من عظماء الصحابة -رضوان الله عليهم- عن عائشة رضي الله عنها كثيراً من الأحكام.
حتى أن جماعةٌ رووا عمن روي عنهم، وجماعةٌ رووا شيئاً لغيرهم ثم نسوه، فلما أخبرهم به ذلك الغير رووه عنه عن أنفسهم، وقالوا فيه: حدثني فلانٌ عني.
وأعظم من ذلك: رواية النبي صلى الله عليه وسلم عن تميم الداري على المنبر في حديث الجساسة.
وأعظم من هذا أيضاً: روايته صلى الله عليه وسلم عن أمه في حديثه عنها أنها أخبرت بإضاءة قصور الشام وبصرى عند ولادته.
فإذن لا نكير على من آثر الرواية عن هذا الفقير، وله مثل هؤلاء السادة سلفٌ، وهو في حسن التواضع لهم خلفٌ.
ছোটদের (الأصاغر) থেকে বর্ণনা প্রসঙ্গে; কেননা ইমামগণ এ বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেখানে তাঁরা বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন যে কোন বড়রা (الأكابر) ছোটদের (الأصاغر) থেকে বর্ণনা করেছেন। এ ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ বিষয়গুলো হলো:
চার খলিফা (الخلفاء) এবং অন্যান্য মহান সাহাবীগণ (الصحابة) -আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন- কর্তৃক আয়েশা (রা.) থেকে অনেক শরয়ি বিধান (الأحكام) বর্ণনা করা।
এমনকি একদল বর্ণনাকারী এমন আছেন যারা তাঁদের থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাঁদের সূত্রেই পুনরায় বর্ণনা করেছেন। আবার একদল বর্ণনাকারী এমন আছেন যারা অন্যের কাছে কোনো কিছু বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তীতে তা ভুলে গিয়েছেন; অতঃপর যখন সেই ব্যক্তিটি তাঁদেরকে বিষয়টি অবহিত করেন, তখন তাঁরা সেই ব্যক্তির মাধ্যমেই নিজের সূত্রে তা বর্ণনা করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে বলেছেন: "অমুক ব্যক্তি আমার বরাতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।"
এর চেয়েও বড় বিষয় হলো: জাসসাসার হাদিসে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তামিমিদারি (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করা।
এর চেয়েও বড় বিষয় হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর জননীর সূত্রে বর্ণিত সেই হাদিস, যেখানে তিনি (মাতা) তাঁর জন্মের সময় সিরিয়া ও বসরার রাজপ্রাসাদসমূহ আলোকিত হওয়ার সংবাদ দিয়েছিলেন।
অতএব, যারা এই অধম (الفقير) থেকে বর্ণনা করাকে প্রাধান্য দিয়েছেন তাদের প্রতি কোনো তিরস্কার নেই। কারণ এই সকল মহান ব্যক্তিবর্গ তাঁর জন্য আদর্শ পূর্বসূরি (سلف) এবং তাঁদের প্রতি উত্তম বিনয় প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তিনি তাঁদের সুযোগ্য উত্তরসূরি (خلف)।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٨٤)
[شرط المصنف في كتابه]مع أني لا أذكر إن شاء الله تعالى في هذه المشيخة طريقاً إلا بعد علمي أنه أعلى الطرق في زماني هذا، لا يدعي أحدٌ في زمننا أعلى منه إلا استدل بدعواه على كذبه أو جهله بالطرق، فإنه علمٌ لا يكاد يعرفه إلا ماهرٌ في كل حين، وهو علمٌ برأسه كالفرائض من الفقه، لا يجوز أن يقبل فيه كل أحدٍ من أهل الحديث، وليس في عصرنا من يفهمه إلا واحدٌ بالعراق كله ولم يمعن فيه، وبعض المشهورين بالشام.
وإن روى أحدٌ كتاباً أعلى مني عدداً -سماعاً أو إجازةً- علمت إمكان ذلك في زماني هذا، ولم أتمكن من مساواته بالإجازة العامة المعمول بها عند الأكثر قياساً على الوقف، بينت أنه قد يرويه بعض الموجودين في هذه الأيام أعلى مني عدداً، وهذا إنما يكون في الكتب المصنفة في هذه الأعصار المتأخرة، كـ (مشارق الأنوار) ، و (جامع الأصول) ، و (مفاتيح الغيب) ونحوها، وأما في كتب الأئمة المتقدمين على هؤلاء، وفي كتب الحديث المسندة، فليس لأحدٍ أن يدعي أعلى من ذلك، سوى واحدٍ بدمشق قد عبر المائة، سمع البخاري، وفي صحة السماع عليه أنظارٌ وبحوثٌ وفوق كل ذي علمٍ عليمٍ.
[গ্রন্থে সংকলকের শর্ত]ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমি এই মাশয়াখাত (উস্তাদগণের তালিকায়) এমন কোনো সনদ (طريق) উল্লেখ করব না যা বর্তমান সময়ে আমার জানামতে সর্বোচ্চ স্তরের সনদ (أعلى الطرق) নয়। আমাদের যুগে কেউ যদি এর চেয়ে উচ্চতর হওয়ার দাবি করে, তবে তার সেই দাবিই তার মিথ্যাচার (كذب) অথবা সনদ (طرق) সম্পর্কে তার অজ্ঞতার (جهل) প্রমাণ দেবে। কেননা এটি এমন এক বিদ্যা যা প্রতিটি যুগে কেবল দক্ষ পণ্ডিতরাই অনুধাবন করতে পারেন। এটি ফিকহ শাস্ত্রের ফারায়েজের (উত্তরাধিকার আইন) ন্যায় একটি স্বতন্ত্র ইলম। হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) মধ্য থেকে যে কাউকেই এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়। বর্তমান যুগে সমগ্র ইরাকে কেবল একজন ব্যক্তি ব্যতীত একে বোঝার মতো আর কেউ নেই, যদিও তিনি এই বিষয়ে খুব গভীরে প্রবেশ করেননি, আর সিরিয়ার (শাম) কতিপয় প্রসিদ্ধ ব্যক্তি এটি অনুধাবন করেন।
যদি কেউ বর্ণনাকারীদের সংখ্যার বিচারে শ্রবণ (سماع) বা অনুমতির (إجازة) মাধ্যমে আমার চেয়ে উচ্চতর স্তরের (أعلى) কোনো গ্রন্থ বর্ণনা করেন, তবে বর্তমান যুগে আমি তা সম্ভব বলে মনে করি। কিন্তু অধিকাংশের নিকট প্রচলিত 'সাধারণ অনুমতি'র (إجازة عامة) মাধ্যমে—যাকে ওয়াকফের সাথে তুলনা (قياس) করা হয়—আমি তার সমকক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হইনি। আমি এটিও স্পষ্ট করেছি যে, বর্তমানে জীবিত কেউ কেউ সংখ্যার দিক থেকে আমার চেয়ে উচ্চতর স্তরে কোনো কোনো কিতাব বর্ণনা করতে পারেন। এটি কেবল পরবর্তী যুগে সংকলিত গ্রন্থসমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমন: মাশারিকুল আনওয়ার, জামেউল উসুল, মাফাতিহুল গাইব এবং এই জাতীয় কিতাবসমূহ। তবে পূর্ববর্তী ইমামগণের কিতাবসমূহ এবং মুসনাদ হাদিসের কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে দামেস্কের শতবর্ষী এক ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ উচ্চতর হওয়ার দাবি করতে পারেন না, যিনি বুখারি শ্রবণ (سماع) করেছেন। তবে তাঁর নিকট শ্রবণের (سماع) বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে নানাবিধ পর্যবেক্ষণ (أنظار) ও গবেষণা (بحوث) রয়েছে। আর প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেই একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٨٥)
ولا تظنن أن قولي ذلك كله هو مجرد دعوى، فإن هذا أيضاً مما يفهمه أهل هذا الشأن، وأنه واجب القبول، مصرحٌ بعلمٍ شريفٍ من علوم الإسناد، والله أعلم.
وهذا ذكر بعض ما أرويه من الكتب على سبيل الاختصار طالباً مشاهيرها، المتداولة بين أهل الزمان دون ما لم يعرفوه في أكثر البلدان.
وإن طول الله في العمر وسهل في الأمر كتبت مشيخةً تحتوي على مجلدات، أذكر فيها جميع شيوخي وشيوخ أولادي، إذ شاركوني في أكثر مروياتي إجازةً وسماعاً، وأذكر جميع أسانيدنا بأعلى الطرق إلى المصنفين من جميع المذاهب الأربعة، ولا أبقي كتاباً مصنفاً مشهوراً متداولاً إلا وذكرت إسنادي فيه إلى مؤلفه من جميع أصناف العلوم الشرعية والأدبية وكتب الصوفية، بحيث لا يبقى لمعرضٍ عن فضيلة طلب الإسناد عذرٌ في إعراضه، ولا لطالب رواية جميع العلوم بالإسناد مانعٌ من أغراضه إن شاء الله تعالى.
وأقدم على ذكر الكتب الآن طرفاً نزراً من شروط رواية الحديث وآدابه وعلومه المذكورة في تلك الإجازة المشار إليها، مع إضافاتٍ قد لا آمن القلم أن يجري بها في إثباتها.
فمن الشروط التي اشترط على من يروم رواية الحديث:
[اشتراط الإسناد]أن لا يقرأ شيئاً ولا يرويه إلا بإسنادٍ متصلٍ إلى راوي ذلك الحديث، أو مؤلف ذلك الكتاب، للراوي والمؤلف معاً، كيلا تنقطع سلسلة الإسناد،
আর আপনি মনে করবেন না যে, আমার এ সকল কথা নিছক কোনো দাবি; বরং এটি এমন একটি বিষয় যা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ অনুধাবন করেন। এটি গ্রহণ করা অপরিহার্য (واجب) এবং এটি ইসনাদ শাস্ত্রের একটি অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞানের স্পষ্ট ঘোষণা, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
এখানে আমি আমার বর্ণিত কিতাবসমূহের কিছু অংশ সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করছি। আমি কেবল সে সকল প্রসিদ্ধ কিতাব বেছে নিয়েছি যা বর্তমান যুগের আলেমদের মাঝে প্রচলিত, এবং অধিকাংশ জনপদে যেগুলো অপরিচিত সেগুলো পরিহার করেছি।
আল্লাহ যদি দীর্ঘ আয়ু দান করেন এবং বিষয়টি সহজ করে দেন, তবে আমি একাধিক খণ্ডে একটি মাশয়াখা (শায়খদের তালিকা) রচনা করব। সেখানে আমি আমার এবং আমার সন্তানদের সকল শায়খের কথা উল্লেখ করব; কেননা ইজাজত (إجازة) ও শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে তারা আমার অধিকাংশ বর্ণনায় শরিক হয়েছেন। আমি চার মাজহাবের সকল গ্রন্থকারের নিকট পৌঁছানোর জন্য আমাদের সকল সূত্র-পরম্পরা (أسانيد) উচ্চস্তরের ধারায় (أعلى الطرق) উল্লেখ করব। কোনো প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত গ্রন্থই আমি বাদ দেব না যার লেখক পর্যন্ত আমার সূত্র-পরম্পরা (إسنادي) আমি উল্লেখ করব না—তা শরয়ি জ্ঞান, সাহিত্য কিংবা সুফিদের কিতাব যা-ই হোক না কেন। এতে ইনশাআল্লাহ, ইসনাদ (الإسناد) অনুসন্ধানের মর্যাদা থেকে বিমুখ ব্যক্তির জন্য কোনো অজুহাত অবশিষ্ট থাকবে না এবং ইসনাদ (الإسناد) সহযোগে সকল জ্ঞান অর্জনকারীর উদ্দেশ্য হাসিলে কোনো বাধা থাকবে না।
গ্রন্থসমূহের আলোচনার পূর্বে আমি হাদিস বর্ণনার শর্তাবলি, এর আদব ও সংশ্লিষ্ট ইলমসমূহ (علوم) থেকে সামান্য কিছু আলোচনা করছি, যা উল্লিখিত ইজাজতে বর্ণিত হয়েছে। এর সাথে কিছু সংযোজনও রয়েছে যা লেখনীর মাধ্যমে বিধৃত হয়েছে।
যিনি হাদিস বর্ণনা করতে চান, তার জন্য আরোপিত শর্তাবলির মধ্যে অন্যতম হলো:
[ইসনাদ বা সূত্র-পরম্পরার শর্ত (اشتراط الإسناد)]তিনি কোনো কিছুই পাঠ বা বর্ণনা করবেন না সেই হাদিসের বর্ণনাকারী অথবা সেই গ্রন্থের লেখক পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সূত্র (إسناد متصل) ব্যতিরেকে—তা বর্ণনাকারী এবং লেখক উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য—যাতে সূত্র-পরম্পরা বা ইসনাদের (الإسناد) ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে না যায়।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٨٦)
الذي هو مما اختص الله تعالى به هذه الأمة دون سائر الأمم، وبين نقص غيرهم على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم في إسقاط عدالتهم، وعدم جواز الرواية بالعنعنة عنهم بقوله: ((بينوا عني ولو آيةً، وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج)) .
قال العلماء: أي ولا حرج في إسقاط الرواية عنهم، حيث لم يكونوا أهلاً للضبط والعدالة، وقد صح عن عبد الله بن المبارك الإمام أنه قال: الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء.
وقال أحمد بن حنبلٍ الإمام: طلب الإسناد العالي سنةٌ عمن سلف.
وقيل ليحيى بن معينٍ الإمام في مرضه الذي مات فيه: ما تشتهي؟ قال: بيتٌ خالٍ، وإسنادٌ عالٍ.
وقال محمد بن أسلم الطوسي الإمام الزاهد: قرب الإسناد قربةٌ إلى الله تعالى.
ولذلك كان السلف الصالح رحمة الله عليهم ينهون عن إسقاط الإسناد غاية النهي، حتى أنهم لم يرووا حكايةً ولا شعراً إلا بالإسناد إلى المروي عنه، حتى لا يدعي أحدٌ كلام غيره أو شعر غيره، فقد فعله كثيرٌ ممن فضحه الله ببركة الإسناد وجهابذته، فما ظنك بالحديث والتفسير والفقه الذي هو علم الشريعة خاصةً من بين سائر العلوم، حتى لو أوصي لأهل العلم أو لعلماء الشرع لم يصرف إلا إلى علماء التفسير والحديث والفقه، وناهيك بهم شرفاً.
ولا اغترار بكثرة عدد من ترك الإسناد في علومه في أقطار البلاد، بل ربما أنكره مستغنياً عنه بسواد بياض منقطع الإسناد، محتملٍ للزيادة
যা মহান আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে অন্যান্য সকল উম্মতের পরিবর্তে বিশেষভাবে দান করেছেন। তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র জবানে অন্যদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বাতিল করার মাধ্যমে তাদের ত্রুটি বর্ণনা করেছেন। তাদের থেকে আন-আনা (عنعنة) তথা সরাসরি সংযোগহীন সূত্রের মাধ্যমে বর্ণনা করা বৈধ না হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো যদিও তা একটি আয়াত হয়, আর বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।"
উলামায়ে কেরাম বলেন: অর্থাৎ তাদের থেকে বর্ণনা পরিত্যাগ করায় কোনো দোষ নেই, যেহেতু তারা সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) ও ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) যোগ্য ছিল না। ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সনদ (إسناد) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি সনদ (إسناد) না থাকত তবে যার যা ইচ্ছা সে তা-ই বলত।"
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: "উচ্চ সনদ (إسناد عال) অনুসন্ধান করা পূর্বসূরিদের একটি সুন্নাত (سنة)।"
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে তাঁর অন্তিম অসুস্থতার সময় জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "আপনি কী আকাঙ্ক্ষা করেন?" তিনি বলেছিলেন: "একটি নির্জন ঘর এবং একটি উচ্চ সনদ (إسناد عال)।"
যাহিদ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আসলাম আত-তুসী বলেছেন: "সনদের (إسناد) নৈকট্য মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম।"
এই কারণেই সালাফে সালেহীন (রহমতুল্লাহি আলাইহিম) সনদ (إسناد) বর্জন করা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। এমনকি তাঁরা কোনো কাহিনী কিংবা কবিতাও বর্ণনা করতেন না যার থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে তার পর্যন্ত সনদ (إسناد) উল্লেখ করা ব্যতীত; যাতে কেউ অন্যের বক্তব্য কিংবা কবিতাকে নিজের বলে দাবি করতে না পারে। এমন কাজ অনেকেই করেছে যাদেরকে আল্লাহ তাআলা সনদের (إسناد) বরকতে এবং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের মাধ্যমে লাঞ্ছিত করেছেন। তাহলে হাদিস, তাফসীর ও ফিকহ সম্পর্কে আপনার ধারণা কী হতে পারে, যা অন্য সকল জ্ঞানের মাঝে বিশেষভাবে শরীয়তের জ্ঞান? এমনকি যদি আলেমদের বা শরীয়ত বিশারদদের জন্য কোনো অসিয়ত করা হয়, তবে তা তাফসীর, হাদিস ও ফিকহের আলেমদের ছাড়া অন্য কাউকে প্রদান করা হয় না। আর তাদের মর্যাদার জন্য এটিই যথেষ্ট।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যারা তাদের জ্ঞানচর্চায় সনদ (إسناد) বর্জন করেছে, তাদের সংখ্যার আধিক্য দেখে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। বরং অনেকেই হয়তো সনদকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে বিচ্ছিন্ন সনদ (منقطع الإسناد) বিশিষ্ট পাণ্ডুলিপির কালো অক্ষরের ওপর নির্ভর করে তা অস্বীকার করে, যা পরিবর্ধনের সম্ভাবনা রাখে।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٨٧)
والنقصان والتبديل والتحريف، يفتون بموجبه، ويروون عن مشاهدة خطه، فلو قيل لهم: من أين لكم أن هذا الكتاب تأليف فلانٍ، أو هذا الكلام للإمام الشافعي، أو أبي حنيفة -رحمة الله عليهما- لاشتغلوا بتأويلات يسوغون بها باطلهم، بل كذبوا بما لم يحيطوا بعلمه، فهذا الزمان الذي أخبر بمعناه صلى الله عليه وسلم في كثيرٍ من أحاديثه الصحيحة، هذا مع أنهم يقرؤون في كتب الأصول حكاية اختلاف العلماء قديماً وحديثاً في قبول رواية المراسيل التي يرويها التابعي المشهور عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بمجرد إسقاط ذكر الصحابي المروي عنه، فإن الشافعي وجمهور المحدثين لم يقبلوها، وإن قبل الشافعي مراسيل سعيدٍ بن المسيب، فإنه إنما قبلها لكونه تتبعها فوجدها عنده مسانيد.
فإذا كان مثل سعيد بن المسيب، والحسن البصري، ومحمد بن سيرين، وعمر بن عبد العزيز، والقاسم بن محمد بن أبي بكر الصديق وغيرهم من سادات التابعين، إذا أطلقوا الرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأسقطوا ذكر الصحابي لم يقبل ذلك احتجاجاً، به، فكيف [بغيرهم] ممن بعد سبعمائة ونيفٍ وعشرين سنةٍ؟!
يقولون في مثل كتاب (المصابيح) ، و (المشارق) ، و (الشهاب) ، وغيرها: قال رسول لله صلى الله عليه وسلم؟! متأولين ثبوت أسانيدها عند أهلها، ويا له من خطأ ظاهرٍ عند أهله، فالواجب أن يذكر إسناد الكتاب المقروء أولاً، ويقول: أخبرنا فلان بن فلان بن فلان إجازةً أو قراءةً عليه، أو سماعاً، على ما تقتضيه روايته عن شيخه، قال: أخبرنا فلانٌ هكذا إلى مؤلفه، ثم يقول:
...এবং ঘাটতি, পরিবর্তন ও বিকৃতি থাকা সত্ত্বেও তারা সেই অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করে এবং তার হাতের লেখা দেখার ভিত্তিতে বর্ণনা করে। যদি তাদেরকে বলা হয়: আপনারা কীভাবে জানলেন যে এই বইটি অমুকের রচনা, অথবা এই বক্তব্যটি ইমাম শাফিঈ বা ইমাম আবু হানিফা —আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন— এর? তবে তারা এমন সব অপব্যাখ্যায় লিপ্ত হবে যার মাধ্যমে তারা তাদের বাতিল বিষয়কে বৈধ করতে চায়। বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি। আর এটিই সেই জামানা বা সময় যার মর্মার্থ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অনেক সহিহ (صحيحة) হাদিসে সংবাদ দিয়েছেন। এটি এমন অবস্থায় যে, তারা উসুলের কিতাবসমূহে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের সেই মতভেদের বিবরণ পড়ে থাকে, যা এমন সব মুরসাল (مراسيل) বর্ণনা কবুল করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ছিল, যা একজন প্রসিদ্ধ তাবেয়ি (تابعي) কেবল তাঁর নিকট থেকে বর্ণিত সাহাবি (صحابي)-র নাম উহ্য রেখে সরাসরি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। ইমাম শাফিঈ এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণ (محدثين) তা গ্রহণ করেননি। যদিও ইমাম শাফিঈ সাঈদ ইবনে মুসাইয়িবের মুরসাল (مراسيل) বর্ণনাগুলো গ্রহণ করেছেন, তবে তা তিনি কেবল এজন্যই গ্রহণ করেছেন কারণ তিনি সেগুলো অনুসন্ধান করে সেগুলোকে তাঁর নিকট মুসনাদ (مسانيد) হিসেবে পেয়েছেন।
যদি সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব, হাসান বসরি, মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, উমর ইবনে আবদুল আজিজ, কাসেম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিক এবং তাবেয়িগণের (تابعين) অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মতো ব্যক্তিগণ যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি বর্ণনা (رواية) করেন এবং সাহাবি (صحابي)-র নাম বাদ দেন, তখন যদি তা দলিল হিসেবে (احتجاجاً) গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে সাতশত বিশ বছরেরও বেশি সময় পরে যারা এসেছে তাদের অবস্থা কী হবে?!
তারা আল-মাসাবিহ, আল-মাশারিক এবং আশ-শিহাব-এর মতো কিতাবগুলোর ক্ষেত্রে বলে থাকে: “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন”?! এর মাধ্যমে তারা এই কিতাবগুলোর সনদসমূহ (أسانيد) সংশ্লিষ্টদের নিকট সাব্যস্ত বলে অপব্যাখ্যা করে। অথচ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট এটি কতই না স্পষ্ট ভুল! সুতরাং কর্তব্য হলো প্রথমে পঠিত কিতাবের সনদ (إسناد) উল্লেখ করা এবং এভাবে বলা: অমুকের পুত্র অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তার শায়খ (شيخ) থেকে তাঁর বর্ণনা (رواية) যেভাবে প্রাপ্ত হয়েছে সে অনুযায়ী—ইজাজত (إجازة) হিসেবে হোক অথবা তাঁর নিকট পাঠ (قراءة) করার মাধ্যমে হোক অথবা শ্রবণ (سماع) করার মাধ্যমে হোক। তিনি বলেন: অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—এভাবে কিতাবের লেখক পর্যন্ত পৌঁছানো, অতঃপর বলা:
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٨٨)
قال رحمة الله عليه كذا وكذا، وفي كل مجلسٍ يعيد ذلك الإسناد إلى مؤلفه، أو يقول بالإسناد المذكور إلى مؤلف هذا الكتاب: فلانٌ قال رحمة الله عليه كذا وكذا، ولا يهمل ذلك، فلا يجوز غيره، إذ ما من كتابٍ مصنفٍ في نوعٍ من أنواع العلوم إلا ولهذه الطائفة المنصورة على مؤلفه إسنادٌ معروفٌ عندهم يعرفه الباحث من جنسه، إما بطريقٍ عالٍ أو نازلٍ، سماعاً أو إجازةً.
[سماع الحديث وروايته]ومنها: أن لا يروي شيئاً من العلوم من صحيفةٍ لم تقرأ، بل لا بد أن يكون ذلك الكتاب والحديث بخط المؤلف الراوي له أو مقروءٍ عليه، أو على من قرأ عليه وهلم جرا إلى أن يصل إلى أحد شيوخ نفسه ممن يروي هو عنه، وإن لم يكن كذلك فأقل مراتبه أن يكون مقابلاً بأصل، هذا شأنه، فإن قول القائل عن كتاب لم يقرأه ولم يقابل المقروء: أخبرنا فلانٌ بجميع هذا الكتاب إلى أن يسنده إلى مؤلفه -مع علمه باختلاف النسخ وزيادتها ونقصانها- يكون كذباً في الزيادة قطعاً، ورأس هذا الأمر وعموده الصدق والاحتياط.
وقد عد الحاكم أبو عبد الله الحافظ البيع في طبقات المجروحين من كان هذا شأنه، وقال: وهم يتوهمون أنهم في روايتها صادقون، حتى أن عبد الله بن لهيعة الإمام المصري ترك الاحتجاج بروايته مع جلالته لتساهله بأمر الكتب.
তিনি (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) এমন এমন বলেছেন; এবং প্রতিটি মজলিসে তিনি সেই সূত্র (إسناد) গ্রন্থকার পর্যন্ত পুনরাবৃত্তি করেন, অথবা এই কিতাবের গ্রন্থকার পর্যন্ত উল্লিখিত সূত্রের (إسناد) মাধ্যমে বলেন: অমুক ব্যক্তি (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) এমন এমন বলেছেন। তিনি এতে কোনো অবহেলা করেন না, কারণ এছাড়া অন্য কিছু বৈধ নয়। কেননা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে এমন কোনো রচিত গ্রন্থ নেই, যার গ্রন্থকার পর্যন্ত এই সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (الطائفة المنصورة) নিকট সুপরিচিত কোনো সূত্র (إسناد) নেই যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গবেষকগণ জানেন; চাই তা উচ্চ (عالي) বা নিম্ন (نازل) পর্যায়ের সূত্রের মাধ্যমে হোক, কিংবা শ্রবণ (سماع) বা অনুমতি (إجازة) প্রদানের মাধ্যমে হোক।
[হাদিস শ্রবণ ও এর বর্ণনা]এর মধ্যে একটি হলো: ইলমের কোনো বিষয় এমন কোনো পাণ্ডুলিপি (صحيفة) থেকে বর্ণনা (رواية) না করা যা পাঠ করা হয়নি। বরং সেই কিতাব ও হাদিসটি হয় বর্ণনাকারী (الراوي) গ্রন্থকারের নিজ হাতের লেখায় হতে হবে, অথবা তাঁর সামনে পঠিত হতে হবে, অথবা এমন কারো সামনে পঠিত হতে হবে যিনি স্বয়ং তাঁর সামনে পাঠ করেছেন এবং এভাবে ধারাটি চলতে থাকবে যতক্ষণ না তা তাঁর নিজের সেই শায়খদের (شيوخ) মধ্যে কোনো একজনের নিকট পৌঁছায় যার থেকে তিনি বর্ণনা (رواية) করেন। আর যদি এমনটি না হয়, তবে এর সর্বনিম্ন স্তর হলো তা মূল পাণ্ডুলিপির (أصل) সাথে মিলিয়ে দেখা (مقابلة)। কেননা কোনো ব্যক্তি যদি এমন কিতাব সম্পর্কে বলে যা সে পাঠ করেনি এবং পঠিত পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েও দেখেনি যে: "অমুক আমাদের এই সম্পূর্ণ কিতাবটির সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)" এবং একে গ্রন্থকার পর্যন্ত সম্পর্কিত (إسناد) করে—অথচ সে অনুলিপিগুলোর ভিন্নতা এবং সেগুলোর হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পর্কে অবগত—তবে অতিরিক্ত অংশগুলোর ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিতভাবেই মিথ্যা (كذب) বলে গণ্য হবে। আর এই বিষয়ের মূল ভিত্তি ও স্তম্ভ হলো সত্যবাদিতা (الصدق) ও সতর্কতা (الاحتياط)।
হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ 'তাবাকাতুল মাজরুহিন' গ্রন্থে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাদের অবস্থা এমন ছিল এবং তিনি বলেছেন: তারা মনে করে যে তারা বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে সত্যবাদী (صادقون), এমনকি মিসরীয় ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া-র সুউচ্চ মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তাঁর বর্ণনাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা বর্জন করা হয়েছে, কারণ তিনি কিতাবপত্রের বিষয়ে শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শন করতেন।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٨٩)
واعلم أن رواية مثل هذا الكتاب بالسماع أعظم كذباً من روايته بالإجازة، ولا اغترار بفعل أكثر بلاد العجم روايتهم كتاب (المصابيح) من أي نسخةٍ وقعت بأيديهم، خصوصاً إن قرئت على رجلٍ فاضلٍ أديبٍ جعلوا تلك النسخة معتمد النسخ، ولم يعلموا أنهم ربما زادوا سقماً بتصرف ذلك الفاضل في الألفاظ النبوية التي ضبطت من ألفاظ العلماء خلفاً عن سلفٍ آحاداً، كما ضبطت ألفاظ القرآن تواتراً.
فالحمد لله الذي لم يجعل للفضلاء في ألفاظ القرآن نصيباً، بل حفظه بقوله: {إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون} ، فجزى الله أهل البلاد الشامية أفضل الجزاء، فإن هذا الأمر عندهم مضبوطٌ.
[التثبت في الرواية]ومنها: أن يحترز من الغلط والتصحيف والزلل والتحريف في الأسانيد والمتون، لكن إن كانت النسخة مضبوطة بخط بعض المعتمدين من الحفاظ الراوين له فبها ونعمت، وإلا فلا بد أن يكون القارئ أو المسمع أو بعض الحاضرين عارفاً بأسماء الرجال، والجرح والتعديل، وعلم العربية، وتصرفات اللغة، كيلا يقع غلطٌ في شيء من ذلك.
[حفظ ما جاء في الأصل وإن كان فيه خللٌ]وإياه وتغيير ما في الأصول المقروء منها من الألفاظ التي يزعم أنها
জেনে রাখুন যে, শ্রবণসূত্রে (بالسماع) এই জাতীয় গ্রন্থ বর্ণনা করা অনুমতিক্রমে (بالإجازة) বর্ণনা করার চেয়েও বড় মিথ্যাচার। অনারব দেশসমূহের অধিকাংশের কর্ম দ্বারা প্রতারিত হওয়া উচিত নয়, যারা 'আল-মাসাবিহ' গ্রন্থটি তাদের হাতে আসা যে কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা করে। বিশেষ করে যদি তা এমন কোনো গুণী সাহিত্যিকের কাছে পাঠ করা হয়, যাকে তারা সেই পাণ্ডুলিপির নির্ভরযোগ্য অনুলিপি তৈরির ভিত্তি হিসেবে গণ্য করে। তারা জানে না যে, নবিজির সেই শব্দাবলির মধ্যে ওই গুণী ব্যক্তির হস্তক্ষেপের কারণে তারা হয়তো এর ত্রুটি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা পরবর্তী উলামায়ে কিরাম পূর্ববর্তীদের থেকে একক বর্ণনার পদ্ধতিতে (آحاداً) যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে এসেছেন, ঠিক যেভাবে কুরআনের শব্দাবলি নিরবচ্ছিন্নভাবে (تواتراً) সংরক্ষিত হয়েছে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কুরআনের শব্দাবলির ক্ষেত্রে গুণীজনদের কোনো অংশ রাখেননি, বরং তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমিই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।" আল্লাহ সিরিয়া অঞ্চলের অধিবাসীদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, কারণ এই বিষয়টি তাদের কাছে সুসংরক্ষিত।
[বর্ণনা গ্রহণে সতর্কতা (التثبت في الرواية)]আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: সনদসমূহ (الأسانيد) এবং মতনসমূহ (المتون) এর মধ্যে ভুল, শব্দের বিকৃতি (التصحيف), স্খলন এবং বিকৃতি (التحريف) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা। তবে পাণ্ডুলিপিটি যদি উক্ত গ্রন্থটি বর্ণনাকারী কোনো নির্ভরযোগ্য হাফেজগণের (الحفاظ) স্বহস্তে লিখিত ও সুসংরক্ষিত হয়, তবে তো খুবই উত্তম। অন্যথায়, পাঠক অথবা পাঠ শ্রবণকারী কিংবা উপস্থিত যে কোনো ব্যক্তিকে অবশ্যই আসমাউর রিজাল বা বর্ণনাকারী পরিচিতি (أسماء الرجال), জরাহ ও তাদিল বা দোষগুণ বিচার (الجرح والتعديل), আরবি ভাষাতত্ত্ব এবং এর প্রয়োগরীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে, যাতে এসবে কোনো ভুল না ঘটে।
[মূল পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা সংরক্ষণ করা, তাতে ত্রুটি থাকলেও]আর পঠিত মূল পাণ্ডুলিপি (الأصول) থেকে কোনো শব্দ পরিবর্তন করার ব্যাপারে তাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যা সে ধারণা করে যে...
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٩٠)
غلطٌ، بل يبين ما يغلب على ظنه صحته، بعد تحقيقه على الحاشية: صوابه كذا، فإنه ربما ورد كذلك، وله وجهٌ صالحٌ لم يصل علمه إليه، أو وجهٌ ضعيفٌ وردت الرواية به، خصوصاً عند من لم يجوز الرواية بالمعنى، فالأمر فيه عنده شديدٌ، وأيضاً فإنه لا قائل بجواز رواية الحديث بالمعنى لمثل أهل هذا الزمان، فإنهم اتفقوا على عدم الجواز لهم، واختلفوا في جوازه لمن بلغ مرتبة الاجتهاد من العلماء.
وإذا أشكل حرفٌ في الرواية فليقل ما يغلب على ظنه صحته، ثم يردفه بقوله: أو كما قال، ليسلم من تبعته إن شاء الله تعالى، فهكذا فعله الأئمة من الصحابة والتابعين فمن بعدهم.
[ألفاظ الأداء]ومنها: أن لا يطلق اللفظ في كل ما يرويه بـ (حدثنا) أو (أخبرنا) كما يفعله بعض من لا فهم له ولا دين، بل يفصل، فيقول فيما سمعه من لفظ الشيخ مع غيره: حدثنا فلانٌ، وبمفرده: حدثني، فإن كان الشيخ حدثه من لفظه، قال: أملى من حفظه، وإن كان من الكتاب، قال: قراءةً من لفظه وكتابه.
ويقول فيما سمعه على الشيخ بقراءة نفسه: أخبرني فلانٌ، إما مطلقاً هكذا، أو مقيداً بقوله: بقراءتي عليه، وإن كان معه غيره، قال: أخبرنا فلانٌ، وكذلك إن قرأ غيره على الشيخ وهو يسمع مطلقاً أو مقيداً، إفراداً وجمعاً.
ويقول فيما ناوله بيده وقال: إروي هذا الكتاب، أو ما في هذا الكتاب عني: أخبرني فلانٌ مناولةً، ولا يطلق.
وكذلك إن أجاز له أن يروي عنه مطلقاً فليقل: أخبرني، أو أخبرنا في
এটি ভুল, বরং তার নিকট যা সঠিক (صحة) বলে প্রবল ধারণা হয়, তা টীকায় যাচাই করার পর স্পষ্ট করবে: "এটি এভাবে সঠিক"। কারণ পাঠটি হয়তো সেভাবেই বর্ণিত হয়েছে এবং এর কোনো গ্রহণযোগ্য (صالح) ব্যাখ্যা থাকতে পারে যা তার ইলমের নাগালে আসেনি, অথবা এটি কোনো দুর্বল (ضعيف) দিক হতে পারে যার মাধ্যমে বর্ণনাটি (الرواية) এসেছে। বিশেষ করে যারা মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনা (الرواية بالمعنى) করা বৈধ মনে করেন না, তাদের নিকট বিষয়টি অত্যন্ত কঠোর। অধিকন্তু, বর্তমান সময়ের লোকদের জন্য হাদিসের মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনা (الرواية بالمعنى) করার বৈধতার কোনো প্রবক্তা নেই; কারণ তারা এ যুগের লোকদের জন্য এটি অবৈধ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং আলেমদের মধ্যে যারা ইজতিহাদের (الاجতেহাদ) স্তরে পৌঁছেছেন, তাদের জন্য এটি বৈধ কি না সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন।
বর্ণনার (الرواية) মধ্যে কোনো শব্দ যদি অস্পষ্ট হয়, তবে তার নিকট যা সঠিক (صحة) বলে প্রবল ধারণা হয় সেটিই বলবে এবং এরপর বলবে: "অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন", যাতে সে এর দায়ভার থেকে ইনশাআল্লাহ নিরাপদ থাকতে পারে। সাহাবী (الصحابة), তাবিঈ (التابعين) এবং তাদের পরবর্তী ইমামগণ এভাবেই আমল করেছেন।
[বর্ণনা প্রদানের শব্দাবলী (ألفاظ الأداء)]এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তার বর্ণিত সকল ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" (حدثنا) বা "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন" (أخبرنا) শব্দ ব্যবহার না করা, যেমনটি বিচার-বুদ্ধি ও দ্বীনদারীহীন কিছু লোক করে থাকে। বরং সে বিস্তারিত বলবে। শাইখের মুখ থেকে অন্যদের সাথে যা শুনেছে সে ক্ষেত্রে বলবে: "অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" (حدثنا), আর একাকী শুনলে বলবে: "অমুক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন" (حدثني)। যদি শাইখ নিজ শব্দে তাকে হাদিস শুনিয়ে থাকেন, তবে বলবে: "তিনি স্মৃতি থেকে শ্রুতিলিপি (أملى) দিয়েছেন", আর যদি কিতাব থেকে হয়, তবে বলবে: "তার শব্দ ও কিতাব থেকে পাঠের (قراءة) মাধ্যমে"।
শাইখের নিকট নিজে পাঠ করে যা শুনেছে, সে ক্ষেত্রে সে বলবে: "অমুক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন" (أخبرني), হয় এভাবে সাধারণভাবে অথবা "তার নিকট আমার পাঠের (قراءة) মাধ্যমে" শব্দ যোগ করে সীমাবদ্ধভাবে। আর যদি তার সাথে অন্য কেউ থাকে, তবে বলবে: "অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন" (أخبرنا)। একইভাবে যদি অন্য কেউ শাইখের নিকট পাঠ করে আর সে তা শোনে, তবে তা ঢালাওভাবে অথবা নির্দিষ্ট করে, একবচন বা বহুবচন শব্দে বলবে।
আর শাইখ যাকে নিজ হাতে কিতাব প্রদান করে বলেছেন: "এই কিতাবটি অথবা এতে যা আছে তা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো", সে ক্ষেত্রে সে বলবে: "অমুক আমাকে সরাসরি প্রদানের মাধ্যমে (مناولة) সংবাদ দিয়েছেন", এটি ঢালাওভাবে বলবে না।
অনুরূপভাবে যদি তাকে সাধারণভাবে বর্ণনা করার অনুমতি (أجاز) প্রদান করেন, তবে সে বলবে: "তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন" (أخبرني), অথবা "তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন" (أخبرنا)...
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٩١)
الجمع، فلانٌ إجازةً من لفظه، أو خطه، أو كتابه، أو بلفظه وخطه وكتابه إلينا على ما يقتضيه الواقع، ولا يطلق في شيءٍ من الإجازة: أخبرنا، مطلقاً من غير تقييدٍ، فإذا أراد أن يطلق في شيءٍ من المناولة أو الإجازة فليقل: أنبأنا فلانٌ فقط، أو أجاز لنا فلانٌ، أو كتب لنا أو إلينا، فإذا لم يجز في هذه الصور إطلاق لفظ الإخبار، فإطلاق لفظ التحديث أولى، بل لا يجوز في هذه الصور: حدثنا، مقيداً أيضاً على الوجه المختار.
فأعلى هذه المراتب: حدثنا فلانٌ من حفظه، ثم حدثنا من لفظه وكتابه، وفيه خلافٌ، ثم بعدهما: حدثني، ثم أخبرنا، ثم أخبرني، ثم ناولنا، ثم ناولني، ثم أجاز لنا بلفظه وخطه، ثم أجاز لنا بلفظه، ثم بخطه، ثم كتب لنا، ثم إلينا، ثم وجدنا بخط فلانٍ، ثم وجدت بخطه على ما تقدم من تقديم الجمع على الإفراد في الكل، وهكذا إلى آخر أسانيد ذلك الكتاب بتحرير صورة الحال في كل شيخٍ من شيوخه.
فإن شك في شيءٍ من ذلك أخذ بأقلها مرتبةً، كما إذا شك في التحديث والإخبار أخذنا بالإخبار، أو شك في السماع والإجازة، وقال: أنبأنا إجازةً إن لم يكن سماعاً، هذا هو الاحتياط، في كل فصلٍ منه خلافٌ مذكورٌ في كتب الأئمة.
[مراعاة الأمانة في الحكم على الحديث]ومنها: أن لا يطلق في شيء من أنواع الحديث غير ما هو لائقٌ به من الصحة والضعف، فيقول في الحديث الصحيح: هذا حديثٌ حسنٌ، فيكون قد أنزل [مرتبته] ، وفي الحسن أنه صحيحٌ، فيكون قد أعلى مرتبته،
বহুবচন শব্দে, অমুক ব্যক্তি তাঁর মৌখিক উচ্চারণ, হস্তলিখন বা পাণ্ডুলিপি থেকে, অথবা বাস্তবতা যা দাবি করে সে অনুযায়ী আমাদের প্রতি তাঁর উচ্চারণ, হস্তলিখন ও পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে অনুমোদন (إجازة) দিয়েছেন। কোনো প্রকার শর্ত আরোপ ছাড়া নিঃশর্তভাবে অনুমোদনের (إجازة) ক্ষেত্রে 'তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا) শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না। যদি কেউ হস্তার্পণ (مناولة) বা অনুমোদনের (إجازة) ক্ষেত্রে কোনো শব্দ প্রয়োগ করতে চায়, তবে সে যেন কেবল বলে: 'অমুক আমাদের তথ্য দিয়েছেন' (أنبأنا), অথবা 'অমুক আমাদের অনুমোদন (إجازة) দিয়েছেন', অথবা 'আমাদের প্রতি বা আমাদের কাছে লিখেছেন'। সুতরাং এই সুরতগুলোতে যদি সংবাদ প্রদান (إخبار) শব্দটির নিঃশর্ত প্রয়োগ জায়েজ না হয়, তবে হাদিস বর্ণনা (تحديث) শব্দটির প্রয়োগ না হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। বরং পছন্দনীয় মত অনুযায়ী এই সুরতগুলোতে শর্তযুক্তভাবেও 'তিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন' (حدثنا) বলা জায়েজ নয়।
এই স্তরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো: 'অমুক তাঁর স্মৃতি (حفظ) থেকে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন' (حدثنا), এরপর 'তাঁর উচ্চারণ ও পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন' (حدثنا) - তবে এতে মতভেদ (خلاف) রয়েছে। এরপরের স্তরগুলো হলো: 'তিনি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন' (حدثني), এরপর 'তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا), এরপর 'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرني), এরপর 'তিনি আমাদের হস্তার্পণ করেছেন' (ناولنا), এরপর 'তিনি আমাকে হস্তার্পণ করেছেন' (ناولني), এরপর 'তিনি তাঁর উচ্চারণ ও হস্তলিখনের মাধ্যমে আমাদের অনুমোদন দিয়েছেন' (أجاز لنا), এরপর 'তিনি তাঁর উচ্চারণের মাধ্যমে আমাদের অনুমোদন দিয়েছেন' (أجاز لنا), এরপর 'তাঁর হস্তলিখনের মাধ্যমে', এরপর 'আমাদের জন্য লিখেছেন', এরপর 'আমাদের প্রতি লিখেছেন', এরপর 'আমরা অমুকের হস্তাক্ষরে পেয়েছি', এরপর 'আমি তাঁর হস্তাক্ষরে পেয়েছি'। এক্ষেত্রে পূর্বোল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী সব জায়গাতেই একবচনের ওপর বহুবচনকে প্রাধান্য দিতে হবে। এভাবেই ওই গ্রন্থের সকল সনদ (أسانيد)-এর শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রত্যেক উস্তাদের (شيخ) অবস্থার বিবরণ যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
যদি এগুলোর কোনোটিতে সন্দেহ হয়, তবে সর্বনিম্ন স্তরেরটি গ্রহণ করতে হবে। যেমন: যদি হাদিস বর্ণনা (تحديث) এবং সংবাদ প্রদানের (إخبار) মধ্যে সন্দেহ হয়, তবে আমরা সংবাদ প্রদান (إخبار) গ্রহণ করব। অথবা শ্রবণ (سماع) এবং অনুমোদনের (إجازة) মধ্যে সন্দেহ হলে বলবে: 'তিনি আমাদের অনুমোদনের (إجازة) মাধ্যমে তথ্য দিয়েছেন (أنبأنا) যদি শ্রবণ (سماع) না হয়ে থাকে'। এটিই হলো সতর্কতা (احتياط)। এর প্রতিটি পরিচ্ছেদে ইমামগণের কিতাবসমূহে বর্ণিত মতভেদ (خلاف) রয়েছে।
[হাদিসের হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আমানতদারিতা রক্ষা করা]
তার মধ্যে অন্যতম হলো: হাদিসের কোনো প্রকারের ক্ষেত্রে সহিহ (صحيح) বা জঈফ (ضعيف) হওয়ার বিষয়ে যা উপযুক্ত তা ছাড়া অন্য কিছু প্রয়োগ না করা। যেমন: সহিহ (صحيح) হাদিসের ক্ষেত্রে বলা: 'এটি হাসান (حسن) হাদিস', যার ফলে সেটির মর্যাদা (مرتبة) কমিয়ে দেওয়া হলো। আবার হাসান (حسن) হাদিসের ক্ষেত্রে বলা যে এটি সহিহ (صحيح), যার ফলে সেটির মর্যাদা (مرتبة) বাড়িয়ে দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٩٢)
وكذلك في جميع الأنواع التي يخالف بعضها بعضاً في القوة والضعف، فإنه يعد حينئذٍ كاذباً وخائناً.
[أنواع علوم الحديث]وهذا ذكر بعض أنواعه ليستدل به على غيره، فإن أنواع علوم الحديث قد أطنب فيها مع تفاريعها بحسب علوم أئمتها، حتى إن الضعيف -وهو نوعٌ واحدٌ منها- بلغ به الإمام أبو حاتم ابن حبان البستي في تقسيمه خمسين قسماً إلا واحداً، فما ظنك بغيره؟
[الحديث الصحيح]فالحديث الصحيح على أنواعه، وهو: المسند الذي يتصل إسناده بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط إلى منتهاه، ولا يكون شاذاً ولا معللاً.
وفي هذه الأوصاف احترازٌ عن: المرسل، والمنقطع، والمعضل،
অনুরূপভাবে সেই সমস্ত প্রকারের ক্ষেত্রেও যা শক্তি ও দুর্বলতার (الضعف) দিক থেকে একে অপরের বিপরীত হয়, তখন তাকে মিথ্যাবাদী (كاذب) ও বিশ্বাসঘাতক (خائن) হিসেবে গণ্য করা হবে।
[হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদ]আর এটি হলো এর কিছু প্রকারের উল্লেখ যাতে এর মাধ্যমে অন্যান্য প্রকারগুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। নিশ্চয়ই হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদসমূহ এর ইমামগণের জ্ঞান অনুযায়ী তাদের শাখা-প্রশাখাসহ অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এমনকি দুর্বল (ضعيف) হাদিস—যা এর একটি প্রকার মাত্র—ইমাম আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি তাঁর বিভাজনে উনপঞ্চাশটি প্রকারে পৌঁছেছেন; তাহলে অন্যান্য প্রকার সম্পর্কে আপনার ধারণা কী?
[সহিহ (صحيح) হাদিস]সহিহ (صحيح) হাদিস এর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে; আর তা হলো: মুসনাদ যার সনদ (إسناد) একজন ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (العدل الضابط) বর্ণনাকারী থেকে অপর একজন ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (العدل الضابط) বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (متصل) ভাবে পৌঁছেছে এবং যা ব্যতিক্রমী (شاذ) কিংবা ত্রুটিযুক্ত (معلل) নয়।
আর এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন (مرسل), বিচ্ছিন্ন (منقطع) এবং জটিল (معضل) হাদিসগুলো থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٩٣)
والشاذ، وما فيه علةٌ قادحةٌ، وما من راويه نوع جرحٍ، فهذا هو الحديث الذي يحكم له بالصحة، بخلافٍ بين أهل الحديث، وقد يختلفون في صحة بعض الأحاديث لاختلافهم في وجود هذه الأوصاف فيه، أو لاختلافهم في اشتراط بعض هذه الأوصاف في راويه.
ومتى قالوا: (هذا حديثٌ صحيحٌ) فمعناه: أنه اتصل سنده مع وجود جميع الأوصاف المذكورة فيه، وليس من شرطه أن يكون مقطوعاً به في نفس الأمر، إذ منه ما ينفرد بروايته عدلٌ واحدٌ.
وليس من الأخبار التي أجمعت الأمة على تلقيها بالقبول.
وكذلك إذا قالوا في حديث: ((إنه غير صحيحٍ)) ، فليس ذلك قطعاً منهم بأنه كذبٌ في نفس الأمر، إذ قد يكون صدقاً في نفس الأمر، وإنما المراد به: أنه لم يصح إسناده على الشرط المذكور، والله أعلم.
قلت: هكذا قاله الشيخ أبو عمرو ابن الصلاح في كتاب (علوم الحديث) له، وأما ما ذكره الإمام الحاكم أبو عبد الله ابن البيع النيسابوري في كتاب علوم الحديث له: إن الصحيح هو أن يرويه عدلان ضابطان، عن
এবং বিচ্যুত (الشاذ), যাতে ক্ষতিকর কোনো ত্রুটি (علة قادحة) বিদ্যমান এবং যার বর্ণনাকারীর মাঝে কোনো ধরনের সমালোচনা (جرح) রয়েছে—এটিই সেই হাদিস যা বিশুদ্ধতার (صحة) পর্যায়ভুক্ত বলে বিবেচিত হয়, যাতে হাদিস বিশারদগণের মাঝে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তাঁরা কোনো কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন; কারণ সেটিতে এই বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান থাকার ব্যাপারে তাঁদের মাঝে দ্বিমত থাকতে পারে অথবা বর্ণনাকারীর মাঝে এসব গুণাবলি শর্ত হিসেবে রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের মাঝে মতপার্থক্য হতে পারে।
আর যখন তাঁরা বলেন: "এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস", তখন এর অর্থ দাঁড়ায়: উল্লিখিত সকল বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতির সাথে এর সূত্রটি নিরবচ্ছিন্ন (اتصل سنده) হয়েছে। আর এটি আবশ্যক নয় যে, বিষয়টি বাস্তবক্ষেত্রে অকাট্য হতে হবে; কারণ এমন হাদিসও থাকতে পারে যা কেবল একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
এবং এটি এমন কোনো সংবাদ নয় যার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে উম্মাহ ঐকমত্য পোষণ করেছে।
অনুরূপভাবে, তাঁরা যখন কোনো হাদিস সম্পর্কে বলেন: "এটি অবিশুদ্ধ (غير صحيح)", তবে তা তাঁদের পক্ষ থেকে বাস্তবক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে মিথ্যা (كذب) হওয়ার প্রমাণ নয়। কেননা বাস্তবক্ষেত্রে তা সত্য হতে পারে, বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: উল্লিখিত শর্তাবলি অনুযায়ী এর সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ হয়নি। আল্লাহই ভালো জানেন।
আমি বলছি: শায়খ আবু আমর ইবনে সালাহ তাঁর উলুমুল হাদিস গ্রন্থে এভাবেই বলেছেন। আর ইমাম হাকিম আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল বাইয়্যি আন-নিশাপুরী তাঁর উলুমুল হাদিস গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস হলো সেটি যা দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী বর্ণনা করবেন, তাঁদের থেকে...
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٩٤)
عدلين ضابطين إلى منتهاه، فليس بصحيحٍ، فإن كثيراً من أحاديث الصحيحين لم يكن تحصيل هذه الشريطة فيه.
وكيف، ومن أصح الأحاديث: ((إنما الأعمال بالنيات)) ، فإنه حديثٌ أجمع على صحته علماء الأمصار وفقهاء الأقطار وله طرقٌ ومتابعاتٌ كثيرةٌ، وما رواه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الصحيح غير عمر بن الخطاب، وما رواه عن عمر بن الخطاب إلا علقمة بن وقاص الليثي، وما رواه عن علقمة إلا محمدٌ بن إبراهيم التيمي، وما رواه عن محمد بن إبراهيم إلا يحيى بن سعيد الأنصاري، ومحمد بن عمرو بن علقمة، وما رواه عن محمد بن عمرو إلا ربيع بن زيادٍ [الضبي] ، وقد رواه عن يحيى بن سعيدٍ الأنصاري جماعةٌ من الثقات وغيرهم يزيدون على المائتين.
قال أبو حاتم بن حبانٍ: حديث: ((الأعمال بالنية)) تفرد به أهل
(শৃঙ্খলের) শেষ পর্যন্ত দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও সংরক্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী থাকতে হবে—এই শর্তটি সঠিক (صحيح) নয়; কারণ সহীহাইনের অনেক হাদিসেই এই শর্তের প্রতিফলন ঘটেনি।
আর তা কীভাবে সম্ভব, যেখানে অন্যতম বিশুদ্ধ হাদিস হলো: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল"। এটি এমন একটি হাদিস যার বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে সকল জনপদের উলামায়ে কেরাম ও ফকিহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং এর অনেক সূত্র (طرق) ও সমর্থক বর্ণনা (متابعات) রয়েছে। অথচ সহীহ গ্রন্থে এটি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে কেবল উমর ইবনুল খাত্তাব বর্ণনা করেছেন। উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে এটি কেবল আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসি বর্ণনা করেছেন। আলকামা থেকে এটি কেবল মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আত-তাইমি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম থেকে এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি এবং মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা বর্ণনা করেছেন। আর মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে এটি কেবল রাবি ইবনে যিয়াদ [আদ-দব্বি] বর্ণনা করেছেন। তবে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি থেকে দুই শতাধিক নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও অন্যান্য বর্ণনাকারীর একটি বিশাল দল এটি বর্ণনা করেছেন।
আবু হাতিম ইবনে হিব্বান বলেন: "আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি এককভাবে (تفرد) বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٩٥)
المدينة، وليس هو عند أهل العراق، ولا عند أهل مكة واليمن، ولا عند أهل الشام، ومصر، قد أخرجه الأئمة في كتبهم من طرقٍ تختصر على ذكر طريقٍ واحدٍ لكل واحدٍ منهم.
فرواه محمد بن إسماعيل البخاري عن أبي بكرٍ عبد الله الحميدي، عن سفيان، في أول جامعه الصحيح.
ورواه مسلم بن الحجاج القشيري عن محمد بن المثنى، عن عبد الوهاب الثقفي.
ورواه أبو داود السجستاني عن محمد بن كثيرٍ، عن الثوري.
ورواه الترمذي عن عبد الوهاب الثقفي.
ورواه أبو عبد الرحمن النسائي عن عمرو بن منصور، عن القعنبي.
ورواه محمد بن يزيد بن ماجه القزويني في سننه عن أبي بكر بن أبي شيبة، عن يزيد بن هارون، كلهم عن يحيى بن سعيد الأنصاري.
মদিনা, অথচ এটি ইরাকবাসীদের নিকট নেই, মক্কাবাসী ও ইয়ামেনবাসীদের নিকটও নেই এবং শাম ও মিশরবাসীদের নিকটও নেই। ইমামগণ তাঁদের কিতাবসমূহে এটি এমন সব সূত্রের (طرق) মাধ্যমে সংকলন করেছেন (أخرج) যা তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একটি মাত্র সূত্র (طريق) উল্লেখের ওপর সীমাবদ্ধ।
অতঃপর মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি তাঁর জামি আস-সহিহ-এর শুরুতে আবু বকর আবদুল্লাহ আল-হুমায়দি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (رواه)।
এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরি এটি মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাফি থেকে বর্ণনা করেছেন (رواه)।
এবং আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি এটি মুহাম্মাদ ইবনে কাসির থেকে, তিনি আস-সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন (رواه)।
এবং আত-তিরমিজি এটি আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাফি থেকে বর্ণনা করেছেন (رواه)।
এবং আবু আবদির রহমান আন-নাসায়ি এটি আমর ইবনে মানসুর থেকে, তিনি আল-কা'নাবি থেকে বর্ণনা করেছেন (رواه)।
এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ আল-কাযওয়িনি তাঁর সুনান গ্রন্থে আবু বকর ইবনে আবি শায়বা থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (رواه); তাঁরা সকলেই ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٩٦)
قال الإمام المطلبي أبو عبد الله محمد بن إدريس الشافعي، فيما رواه عنه البويطي: يدخل في حديث: ((الأعمال بالنيات)) ، ثلث العلم.
وقال الإمام أبو عبد الله أحمد بن حنبل: مدار الإسلام على ثلاثة أحاديث: حديث عمر: ((الأعمال بالنية)) ، وحديث عائشة رضي الله عنها: ((من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد)) ، وحديث النعمان بن بشير: ((الحلال بينٌ والحرام بينٌ)) ، فإذا كان هذا الحديث بهذه الصحة والشهرة لم يحصل فيه شرط الحاكم أبي عبد الله من العدلين، فكيف يحكم لغيره من الأحاديث باشتراط العدد ولم يبلغ أكثرها بعض مرتبته، والاعتماد على ما ذكره ابن الصلاح.
وله أنواعٌ متعددةٌ مختلفة المراتب، والله أعلم.
[الحديث الحسن]ثم بعد الحديث الصحيح: الحديث الحسن.
قال أبو سليمان الخطابي: الحديث الحسن ما عرف مخرجه واشتهر رجاله، قال: وعليه مدار أكثر الحديث، [وهو] الذي [يقبله] أكثر العلماء، ويستعمله عامة الفقهاء.
ইমাম মুত্তালিবী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ বলেছেন—যেমনটি তাঁর থেকে আল-বুয়াইতি বর্ণনা করেছেন—"নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইলমের এক-তৃতীয়াংশ।
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বল বলেন: ইসলামের ভিত্তি তিনটি হাদিসের ওপর: উমর (রা.)-এর হাদিস: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল", আয়েশা (রা.)-এর হাদিস: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত", এবং নুমান বিন বশীর (রা.)-এর হাদিস: "হালাল সুস্পষ্ট এবং হারাম সুস্পষ্ট"। সুতরাং, এই হাদিসটি যদি এমন বিশুদ্ধতা (صحة) এবং প্রসিদ্ধি (شهرة) থাকা সত্ত্বেও এতে হাকেম আবু আব্দুল্লাহর 'দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি' (العدلين)-এর শর্ত পূর্ণ না হয়, তবে অন্যান্য হাদিসের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর সংখ্যা নির্ধারণের শর্ত কীভাবে আরোপ করা যাবে, অথচ সেগুলোর অধিকাংশ এর মর্যাদার সামান্য স্তরেও পৌঁছেনি? আর ইবনুস সালাহ যা উল্লেখ করেছেন, তার ওপরই নির্ভরতা।
এর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে যার মর্যাদা ভিন্ন ভিন্ন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
[হাসান (الحسن) হাদিস]অতঃপর সহিহ (الصحيح) হাদিসের পরে হাসান (الحسن) হাদিসের স্থান।
আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবী বলেন: হাসান (الحسن) হাদিস হলো তা, যার উৎসস্থল (مخرج) পরিচিত এবং যার বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ। তিনি বলেন: অধিকাংশ হাদিস এরই ওপর আবর্তিত, এবং এটিই সেই হাদিস যা অধিকাংশ আলেম গ্রহণ করেন এবং সাধারণ ফকিহগণ প্রয়োগ করেন।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٩٧)
وقال أبو عيسى الترمذي: الحديث الحسن أن لا يكون في إسناده من يتهم بالكذب، ولا يكون حديثاً شاذاً.
وقال بعضهم: الحديث الذي فيه ضعفٌ قريبٌ محتملٌ هو الحسن، ويصلح للعمل به.
قال الشيخ أبو عمرو بن الصلاح ما مختصره: كل هذا مستبهمٌ لا يشفي الغليل، وتنقح لي واتضح أن الحديث الحسن قسمان:
أحدهما الحديث الذي لا يخلو رجال إسناده من مستورٍ لم تتحقق أهليته، غير أنه ليس مغفلاً كثير الخطأ، ولا متهماً بالكذب أو سببٍ مفسقٍ، ويكون متن الحديث مع ذلك قد عرف مخرجه من وجهٍ آخر، واعتضد بمتابعاتٍ، قال: وكلام الترمذي عليه يتنزل.
والثاني: أن يكون راويه من المشهورين بالصدق والأمانة، غير أنه لم يبلغ درجة رجال الصحيح، لكونه يقصر عنهم في الحفظ والإتقان، قال: وعليه يتنزل كلام الخطابي، ولا بد مع ذلك كله أن يكون سليماً عن الشاذ، والمنكر، المعلل.
وله أيضاً أنواعٌ متعددةٌ قوةً وضعفاً.
وأما ما صار إليه صاحب (المصابيح) من تقسيم أحاديثه إلى نوعين: الصحاح والحسان، يريد بالصحاح ما أورده الشيخان، وبالحسان ما أورده
আবু ঈসা আত-তিরমিযী বলেন: হাসান (حسن) হাদিস হলো সেটি যার সনদে (إسناد) এমন কেউ নেই যে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) এবং সেটি শায (شاذ) হাদিস নয়।
কেউ কেউ বলেন: যে হাদিসে নিকটবর্তী ও সহনীয় পর্যায়ের দুর্বলতা (ضعف) থাকে তা-ই হাসান (حسن), এবং এটি আমলযোগ্য (يصلح للعمل به)।
শায়খ আবু আমর ইবনুস সালাহ সংক্ষেপে বলেন: এই সবকিছুই অস্পষ্ট যা সন্তোষজনক নয়; আমার নিকট এটি পরিমার্জিত ও স্পষ্ট হয়েছে যে হাসান (حسن) হাদিস দুই প্রকার:
প্রথমটি হলো সেই হাদিস যার সনদের রাবিদের (رجال إسناد) মধ্যে এমন কোনো মাসতূর (مستور) বা প্রচ্ছন্ন ব্যক্তি থেকে মুক্ত নয় যার যোগ্যতা প্রমাণিত হয়নি, তবে সে গাফেল বা চরম অমনোযোগী (مغفل) নয় এবং অত্যধিক ভুলকারী (كثير الخطأ) নয়, এবং মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) নয় কিংবা তার মধ্যে ফাসিক হওয়ার মতো কোনো কারণ (سبب مفسق) নেই। এর পাশাপাশি হাদিসের মতনটি (متن) অন্য কোনো সূত্রেও বর্ণিত হিসেবে পরিচিত এবং মুতাবা’আতের (متابعات) মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। তিনি বলেন: ইমাম তিরমিযীর বক্তব্য এই প্রকারের ওপরই প্রযোজ্য হয়।
দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: এর বর্ণনাকারী (راوي) সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার জন্য সুপরিচিত, তবে তিনি সহীহ (صحيح) হাদিসের বর্ণনাকারীদের স্তরে পৌঁছাননি, কারণ হিফয (حفظ) বা মুখস্থশক্তি ও ইতকান (إتقان) বা নিপুণতার ক্ষেত্রে তাদের তুলনায় তার কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন: ইমাম খাত্তাবীর কথাটি এই প্রকারের ওপরই প্রযোজ্য। তবে এসব শর্তের পাশাপাশি হাদিসটি শায (شاذ), মুনকার (منكر) এবং মুআল্লাল (معلل) হওয়া থেকে মুক্ত থাকা আবশ্যক।
এর শক্তি ও দুর্বলতার বিচারে আরও অনেক প্রকারভেদ রয়েছে।
আর মাসাবিহ গ্রন্থের লেখক হাদিসকে সহীহ (صحاح) ও হাসান (حسان) — এই দুই ভাগে যেভাবে বিভক্ত করেছেন, সেক্ষেত্রে তিনি সহীহ (صحاح) বলতে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) যা বর্ণনা করেছেন তা বুঝিয়েছেন, আর হাসান (حسان) বলতে বুঝিয়েছেন যা বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٩٨)
غيرهما، فهذا اصطلاح لا يعرف، وليس الحسن عند أهل الحديث عبارةٌ عن ذلك، فإن هذه الكتب تشتمل على حسنٍ وغيره، قاله ابن الصلاح أيضاً، والله أعلم.
[الحديث الضعيف]ثم الحديث الضعيف، هو: حديثٌ لم تجتمع فيه صفات الحديث الصحيح، ولا صفات الحسن المذكورة فيما تقدم.
وله أنواعٌ وفروعٌ كثيرةٌ جداً، ومراتب مختلفةٌ، كما ذكرنا عن أبي حاتم.
وهذه الأنواع الثلاثة إليها مرجع الأنواع كلها في غالب الاستعمالات، والباقي كالفروع.
[الحديث المسند]والحديث المسند في قول الحافظ أبي بكر الخطيب هو: ما اتصل إسناده من راويه إلى منتهاه، وأكثر ما يستعمل ذلك فيما جاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم دون ما جاء عن الصحابة وغيرهم، فإن أسند منقطعٌ كمالكٍ، عن الزهري، عن ابن عباسٍ، فليس بمسندٍ، لأن الزهري لم يسمع من ابن عباسٍ.
অন্যান্যদের ক্ষেত্রে; এটি এমন এক পরিভাষা যা সুপরিচিত নয়। হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) নিকট হাসান (حسن) বলতে যা বোঝানো হয়েছে এটি তা নয়; কারণ এই কিতাবগুলো হাসান (حسن) ও অন্যান্য প্রকারের হাদিসকেও অন্তর্ভুক্ত করে। ইবনে আস-সালাহ-ও এটি বলেছেন। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
[দুর্বল (الضعيف) হাদিস]অতঃপর দুর্বল (الضعيف) হাদিস হলো: সেই হাদিস যাতে সহিহ (صحيح) হাদিসের বৈশিষ্ট্যসমূহ কিংবা পূর্বে বর্ণিত হাসান (حسن) হাদিসের বৈশিষ্ট্যসমূহ একত্রিত হয়নি।
এর বহু প্রকার ও উপশাখা এবং বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যেমনটি আমরা আবু হাতিম থেকে উল্লেখ করেছি।
সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূলত এই তিন প্রকারের দিকেই সকল প্রকারের হাদিস প্রত্যাবর্তন করে এবং অবশিষ্টগুলো এগুলোর শাখা হিসেবে গণ্য।
[মুসনাদ হাদিস]হাফিজ আবু বকর আল-খাতিব-এর মতে মুসনাদ হাদিস হলো: যার সনদ (إسناد) বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (متصل)। এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, সাহাবায়ে কেরাম (الصحابة) বা অন্যদের থেকে বর্ণিত তথ্যের ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং কোনো বিচ্ছিন্ন (منقطع) সনদকে যদি মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যেমন: মালিক, তিনি যুহরি থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে—তবে সেটি মুসনাদ নয়; কারণ যুহরি ইবনে আব্বাস থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ٩٩)
[الحديث المتصل]والحديث المتصل، ويقال له: الموصول، ومطلقه يقع على المرفوع والموقوف، وهذا الذي اتصل إسناده، فكأن كل واحدٍ من راويه قد سمعه ممن فوقه حتى ينتهي إلى منتهاه.
مثال المتصل المرفوع من الموطأ: مالكٌ، عن ابن شهابٍ، عن سالم بن عبد الله بن عمر، عن أبيه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ومثال المتصل الموقوف: مالكٌ، عن نافعٍ، عن ابن عمر، قوله، والله أعلم.
[الحديث المرفوع]والحديث المرفوع، هو: ما أضيف إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم خاصة، ولا يقع مطلقاً غير ذلك، نحو الموقوف على الصحابة وغيرهم، ويدخل في المرفوع: المتصل، والمنقطع، والمرسل ونحوه.
[الحديث الموقوف]والحديث الموقوف: ما يروى عن الصحابة من أقوالهم وأفعالهم ونحوها، فيوقفه عليهم ولا يتجاوز به إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، هذا إذا أطلق كان مختصاً بالصحابي، وقد يستعمل إلى غيرهم، فيقال: هذا حديثٌ وقفه فلانٌ على عطاءٍ، وطاووس.
وقال أبو القاسم الفوراني، من فقهاء الخراسانيين: الفقهاء
[মুত্তাসিল (المتصل) হাদিস]মুত্তাসিল (المتصل) হাদিস, একে মাউসুল (الموصول) হাদিসও বলা হয়। সাধারণভাবে এটি মারফু (المرفوع) এবং মাওকুফ (الموقوف) উভয় প্রকারের হাদিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। এটি এমন হাদিস যার সনদ অবিচ্ছিন্ন (اتصل إسناده), যেখানে এর প্রত্যেক বর্ণনাকারী তাঁর ওপরের স্তরের বর্ণনাকারীর নিকট থেকে তা শ্রবণ করেছেন বলে গণ্য হয় এবং এভাবে তা শেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
মুওয়াত্তা থেকে মারফু মুত্তাসিল (المتصل المرفوع) হাদিসের উদাহরণ: ইমাম মালিক, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সালেম বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
মাওকুফ মুত্তাসিল (المتصل الموقوف) হাদিসের উদাহরণ: ইমাম মালিক, নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে তাঁর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
[মারফু (المرفوع) হাদিস]মারফু (المرفوع) হাদিস হলো: যা বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। এটি সাহাবী বা অন্যদের ওপর মাওকুফ (الموقوف) হওয়ার মতো অন্য কোনো ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয় না। মারফু হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে: মুত্তাসিল (المتصل), মুনকাতি (المنقطع), মুরসাল (المرسل) এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদিস।
[মাওকুফ (الموقوف) হাদিস]মাওকুফ (الموقوف) হাদিস হলো: যা সাহাবীদের থেকে তাঁদের কথা, কাজ এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি হিসেবে বর্ণিত হয়, যা তাঁদের ওপরই স্থগিত থাকে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছায় না। এটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হলে সাহাবীদের সাথে নির্দিষ্ট থাকে। তবে কখনো কখনো অন্যদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন বলা হয়: এটি এমন একটি হাদিস যা অমুক ব্যক্তি আতা এবং তাউসের ওপর মাওকুফ (وقفه) করেছেন।
খুরাসানি ফকিহগণের অন্তর্ভুক্ত আবুল কাসিম আল-ফাওরানি বলেছেন: ফকিহগণ...
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ١٠٠)
يقولون: الخبر ما يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم، والأثر ما يروى عن الصحابة، ومراده بالفقهاء: الخراسانيون منهم دون غيرهم، فإن ذاك عندهم مرفوعٌ وهذا موقوفٌ.
[الحديث المقطوع]والحديث المقطوع، وهو غير المنقطع الذي يأتي ذكره، ويقال في جمعه: المقاطيع والمقاطع، وهو: ما جاء عن التابعين موقوفاً عليهم من أقوالهم وأفعالهم.
[الحديث المرسل]والحديث المرسل، صورته التي لا خلاف فيها: حديث التابعي الكبير الذي لقي جماعةً من الصحابة وجالسهم، كعبيد الله بن عدي بن الخيار، ثم سعيد بن المسيب وأمثالهما، إذا قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم.
والمشهور التسوية بين التابعين أجمعين في ذلك إذا لم يذكروا الصحابي في إسنادهم، وفي تعريفه خلافٌ كثيرٌ بين الأئمة.
قلت: وأما مراسيل الصحابة فقد اتفق الكل على قبولها، إلا ما انفرد به الإمام أبو إسحاق الإسفراييني، من أصحاب الإمام الشافعي، فإنه لم يقبلها أيضاً، وذلك مثل قول عائشة رضي الله عنها: ((أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم) ، نزل قبل ولادتها بخمس سنين، فيكون قد سمعت القصة من النبي صلى الله عليه وسلم، أو من صحابي أدرك ذلك الزمان، والله أعلم.
তারা বলেন: সংবাদ (الخبر) হলো যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়, আর আসার (الأثر) হলো যা সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত হয়। ফকিহদের বলতে তিনি কেবল খুরাসান অঞ্চলের ফকিহদের উদ্দেশ্য করেছেন, অন্যদের নয়। কারণ তাঁদের মতে প্রথমটি হলো মারফু (مرفوع) এবং দ্বিতীয়টি হলো মাওকুফ (موقوف)।
[মাকতু (المقطوع) হাদিস]আর মাকতু (المقطوع) হাদিস হলো সেটি, যা মুনকাতি (المنقطع) থেকে ভিন্ন—যার আলোচনা সামনে আসবে। এর বহুবচনে মাকাতী’ (المقاطيع) ও মাকাতি’ (المقاطع) বলা হয়। এটি হলো তা, যা তাবেয়ীদের (التابعين) বক্তব্য বা কাজ হিসেবে তাঁদের ওপর মাওকুফ (موقوف) বা সীমাবদ্ধ অবস্থায় বর্ণিত হয়।
[মুরসাল (المرسل) হাদিস]মুরসাল (المرسل) হাদিসের যে রূপটি নিয়ে কোনো মতভেদ নেই, তা হলো: এমন প্রবীণ তাবেয়ীর (التابعين) হাদিস যিনি সাহাবীদের এক বিশাল দলের সাক্ষাৎ পেয়েছেন এবং তাঁদের সান্নিধ্যে বসেছেন, যেমন উবায়দুল্লাহ ইবনে আদি ইবনুল খিয়ার, এরপর সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ; যখন তাঁরা বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন।"
আর প্রসিদ্ধ মত হলো—সনদ (إسناد)-এ সাহাবীর নাম উল্লেখ না করার ক্ষেত্রে সকল তাবেয়ীকে (التابعين) সমান গণ্য করা। এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ইমামদের মাঝে অনেক মতভেদ রয়েছে।
আমি বলছি: সাহাবীদের মুরসাল (مراسيل الصحابة) হাদিসগুলো কবুল করার ব্যাপারে সকলে ঐক্যমত পোষণ করেছেন, কেবল ইমাম শাফেয়ীর অনুসারী ইমাম আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী ভিন্নমত পোষণ করেছেন; তিনিও এগুলো গ্রহণ করতেন না। এর উদাহরণ হলো আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র উক্তি: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওহী শুরুর প্রথম যে বিষয়টি..." যা তাঁর জন্মের পাঁচ বছর পূর্বে নাজিল হয়েছিল। এমতাবস্থায় তিনি এই ঘটনা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে অথবা সেই সময়ের কোনো সাহাবীর নিকট থেকে শুনেছেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ١٠١)
[الحديث المنقطع]والحديث المنقطع: الفرق بينه وبين المرسل مذاهب لأهل الحديث والفقهاء، والأقرب من ذلك: أن المنقطع ما رواه من هو دون التابعي، عن الصحابي، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، مثل: رواية مالكٍ، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم.
[الحديث المعضل]والحديث المعضل: ما سقط من إسناده اثنان فصاعداً، وأصحاب الحديث يقولون: أعضله فهو معضلٌ -بفتح الصاد- وهو لقبٌ لنوعٍ خاص من المنقطع، فكل معضلٍ منقطعٌ، وليس كل منقطعٍ معضلاً.
ومثاله: ما يرويه تابعي التابعي أو من دونه قائلاً فيه: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو عن أبي بكرٍ وعمر وغيرهما، غير ذاكرٍ للوسائط بينه وبينهم، قال الشيخ أبو عمرو بن الصلاح: وقول المصنفين من الفقهاء وغيرهم: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وكذا، ونحو ذلك، كله من قبيل المعضل.
[الحديث المعنعن]والحديث المعنعن هو: الذي يقال في إسناده: [فلانٌ عن] فلانٍ، من غير بيان اتصال بسماع، أو إجازةٍ، قد عده بعضهم من قبيل المرسل والمنقطع، والذي عليه الجمهور: أنه من قبيل الإسناد المتصل، بشرط أن
[বিচ্ছিন্ন (المنقطع) হাদিস]বিচ্ছিন্ন (المنقطع) হাদিস: এটি এবং মুরসাল (المرسل) এর মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদ ও ফকিহগণের বিভিন্ন মত রয়েছে। এর মধ্যে অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো: বিচ্ছিন্ন (المنقطع) হলো তা, যা তাবেয়ীর পরবর্তী স্তরের কোনো বর্ণনাকারী সাহাবী থেকে এবং সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। যেমন: মালিকের বর্ণনা ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
[দুর্ভেদ্য (المعضل) হাদিস]দুর্ভেদ্য (المعضل) হাদিস হলো: যার সনদ (إسناد) থেকে ধারাবাহিকভাবে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়ে গেছে। হাদিস বিশারদগণ বলেন: তিনি একে 'আদলা' করেছেন, সুতরাং তা দুর্ভেদ্য (معضل) - 'সোয়াদ' বর্ণে ফাতহা যোগে। এটি বিচ্ছিন্ন (المنقطع) হাদিসের একটি বিশেষ প্রকারের উপাধি। সুতরাং প্রত্যেক দুর্ভেদ্য (معضل) হাদিসই বিচ্ছিন্ন (منقطع), কিন্তু প্রত্যেক বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস দুর্ভেদ্য (معضل) নয়।
এর উদাহরণ হলো: তাবে-তাবেয়ী বা তার পরবর্তী স্তরের কেউ যখন এভাবে বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন", অথবা আবু বকর ও উমর প্রমুখ থেকে বর্ণনা করেন, কিন্তু নিজের এবং তাদের মধ্যবর্তী মাধ্যমগুলো উল্লেখ করেন না। শায়খ আবু আমর ইবনুস সালাহ বলেছেন: ফকিহ ও অন্যান্য গ্রন্থকারদের এই বলা যে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এমন বলেছেন" এবং এই জাতীয় যা কিছু আছে, তার সবই দুর্ভেদ্য (المعضل) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।
['আন'আনাকৃত (المعنعن) হাদিস]'আন'আনাকৃত (المعنعন) হাদিস হলো: যার সনদ (إسناد)-এ সরাসরি শ্রবণ (سماع) বা ইজাজত (إجازة) এর মাধ্যমে সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা ছাড়াই বলা হয়: "অমুক থেকে (عن) অমুক"। কেউ কেউ একে মুরসাল (المرسل) এবং বিচ্ছিন্ন (المنقطع) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন। তবে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত হলো: এটি নিরবচ্ছিন্ন সনদ (الإسناد المتصل) এর অন্তর্ভুক্ত হবে, এই শর্তে যে...
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ١٠٢)
يكون الذين أضيفت العنعنة إليهم قد ثبتت ملاقاة بعضهم بعضاً، مع براءتهم من وصمة التدليس، فحينئذٍ تحمل على الاتصال، إلا أن يظهر فيه خلاف ذلك.
[الحديث المدلس]والحديث المدلس نوعان، أحدهما: تدليس الإسناد، وهو أن يروي عمن لقيه ما لم يسمعه منه، موهماً أنه سمعه منه، أو عمن عاصره ولم يلقه موهماً أنه قد لقيه وسمعه منه، ثم قد يكون بينهما واحدٌ أو أكثرٌ، ومن شأنه أن لا يقول في ذلك: حدثنا فلانٌ، ولا أخبرنا، وما أشبهما، وإنما يقول: قال فلانٌ، أو عن فلانٌ، ونحو ذلك.
ومن ذلك ما روي عن علي بن خشرمٍ، قال: كنا عند ابن عيينة، فقال: الزهري، فقيل له: حدثكم الزهري؟ فسكت، ثم قال: الزهري، فقيل له: سمعته من الزهري؟ فقال: لا، لم أسمعه من الزهري، ولا ممن سمع من الزهري، حدثني عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري.
والثاني: تدليس الشيوخ، وهو: أن يروى عن شيخ حديثاً سمعه منه، فيسميه، أو يكنيه، أو ينسبه، أو يصفه بما لا يعرف به، كيلا يعرف.
ومثاله: ما روي عن الإمام أبي بكر بن مجاهدٍ المقرئ أنه روى عن أبي بكرٍ عبد الله بن أبي داود السجستاني، فقال: حدثنا عبد الله بن أبي عبد الله. وروي عن أبي بكرٍ محمد بن الحسن النقاش المفسر المقرئ، فقال: حدثنا محمد بن سندٍ، نسبه إلى جد له.
والأئمة للنوع الأول أشد كراهيةً منهم للثاني، فإن الثاني لا طائل تحته، وقد استعمله كثيرٌ من العلماء الحفاظ، والله أعلم.
যাদের দিকে 'আনআনা' (العنعنة) সম্বন্ধ করা হয়েছে, তাদের একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ প্রমাণিত হলে এবং তারা 'তাদলিস' (التدليس) বা লুকোচুরির দোষ থেকে মুক্ত হলে, তখন সেই বর্ণনাকে 'সংযুক্ত' (الاتصال) হিসেবে গণ্য করা হবে, যদি না এর বিপরীতে কোনো প্রমাণ প্রকাশ পায়।
[তাদলিসকৃত হাদিস (الحديث المدلس)]তাদলিসকৃত হাদিস (الحديث المدلس) দুই প্রকার; প্রথমটি হলো: 'ইসনাদগত তাদলিস' (تدليس الإسناد), আর তা হলো এমন কোনো রাবির কাছ থেকে বর্ণনা করা যার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছে, কিন্তু তিনি যা বর্ণনা করছেন তা তার কাছ থেকে সরাসরি শোনেননি, বরং এমনভাবে বর্ণনা করেন যাতে মনে হয় যে তিনি তার কাছ থেকেই শুনেছেন। অথবা এমন সমসাময়িক কারো কাছ থেকে বর্ণনা করা যার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি, অথচ এমনভাবে বর্ণনা করা যাতে ধারণা হয় যে তার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তার কাছ থেকে তিনি তা শুনেছেন। এরপর কখনো তাদের উভয়ের মাঝে একজন বা একাধিক মধ্যস্থতাকারী থাকতে পারেন। এ ধরণের বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারী সাধারণত "আমাদের কাছে অমুক হাদিস বর্ণনা করেছেন" বা "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন" বা অনুরূপ কোনো শব্দ ব্যবহার করেন না; বরং তিনি বলেন: "অমুক বলেছেন" বা "অমুক থেকে বর্ণিত" ইত্যাদি শব্দ।
এর একটি উদাহরণ হলো যা আলী ইবনে খাশরাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা ইবনে উয়াইনার কাছে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: "যুহরী"। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: যুহরী কি আপনাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন? তিনি চুপ রইলেন। এরপর তিনি আবার বললেন: "যুহরী"। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কি তা যুহরীর নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: না, আমি এটি যুহরীর নিকট থেকে শুনিনি এবং যুহরীর নিকট থেকে যারা শুনেছেন তাদের থেকেও শুনিনি। আমার কাছে আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে।
দ্বিতীয় প্রকার হলো: 'শাইখদের পরিচয়ে তাদলিস' (تدليس الشيوخ); তা হলো এমন একজন শাইখ থেকে হাদিস বর্ণনা করা যার কাছ থেকে তিনি সরাসরি শুনেছেন, কিন্তু এরপর সেই শাইখকে এমন কোনো নামে, উপনামে, বংশপরিচয়ে বা গুণাবলীতে উল্লেখ করা যার মাধ্যমে তিনি পরিচিত নন, যাতে তাকে চেনা না যায়।
এর উদাহরণ হলো: ইমাম আবু বকর ইবনে মুজাহিদ আল-মুকরি থেকে যা বর্ণিত যে, তিনি আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি থেকে বর্ণনা করার সময় বলেছেন: "আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে আবু আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন"। আবার আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হাসান আন-নাক্কাশ আল-মুফাসসির আল-মুকরি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে সানাদ বর্ণনা করেছেন"; এখানে তিনি তাকে তার জনৈক দাদার সাথে সম্বন্ধ করে উল্লেখ করেছেন।
ইমামগণ দ্বিতীয় প্রকারের তুলনায় প্রথম প্রকারটিকে অধিক অপছন্দ করতেন। কারণ দ্বিতীয় প্রকারটি কোনো বড় উদ্দেশ্যহীন বিষয় (যাতে বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা নষ্ট হয় না) এবং অনেক হাফেজ আলেম এটি ব্যবহার করেছেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ١٠٣)
[الحديث المسلسل]والحديث المسلسل: ما تتابع رجال إسناده وتواردوا فيه على صفةٍ واحدةٍ، أو حالٍ واحدةٍ، كقولهم: أخبرنا فلانٌ وهو أول حديث سمعته منه إلى آخره.
والتسلسل بالمحمدين أو غيرهم، وبالفقهاء أو غيرهم.
وببعض البلاد كالمكيين والمدنيين والشاميين والنيسابوريين وغيرهم.
أو ببعض الأفعال، كقولهم: أخبرنا ويده في يدي، أو أطعمنا تمراً ولبناً، وصوره كثيرةٌ عندهم.
[الحديث المدبج]والحديث المدبج، هو: ما يرويه الأقران بعضهم عن بعضٍ، كرواية الصحابي عن الصحابي، ورواية التابعي عن التابعي، ورواية القرين عن القرين، بشرط أن يروي كل واحدٍ عن صاحبه، فإن انفرد أحد القرينين بالرواية عن صاحبه دون الآخر فليس بمدبج، وقيل: يكفي رواية أحدهما عن الآخر في اسم مدبجٍ.
[الحديث المنسوخ]والحديث المنسوخ: ما رفع الشارع حكمه المقدم بحكمه المتأخر.
كقوله صلى الله عليه وسلم: ((كنت نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها)) .
وتارةً من الصحابي كقول جابرٍ: ((كان آخر الأمرين من رسول الله صلى الله عليه وسلم ترك الوضوء مما مست النار)) .
[আল-হাদিস আল-মুসালসাল]মুসালসাল (المسلسل) হাদিস হলো সেই হাদিস, যার সনদের (إسناده) বর্ণনাকারীগণ একের পর এক একই বৈশিষ্ট্য বা একই অবস্থার ওপর একে অপরের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়ে বর্ণনা করেছেন। যেমন তাদের উক্তি: 'অমুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি'—এভাবে শেষ পর্যন্ত।
এই ধারাবাহিকতা (التسلسل) হতে পারে বর্ণনাকারীদের নাম 'মুহাম্মদ' হওয়ার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো নামের মাধ্যমে, কিংবা ফকিহগণের (بالفقهاء) মাধ্যমে অথবা অন্যদের মাধ্যমে।
অথবা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে, যেমন মক্কাবাসী, মদিনাবাসী, শামী (সিরীয়), নিশাপুরী এবং অন্যান্য।
অথবা নির্দিষ্ট কিছু কাজের মাধ্যমে, যেমন তাদের উক্তি: 'তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে তাঁর হাত ছিল আমার হাতের মধ্যে', অথবা 'তিনি আমাদের খেজুর ও দুধ খাইয়েছেন'। মুহাদ্দিসগণের নিকট এর অনেক ধরন রয়েছে।
[আল-হাদিস আল-মুদাব্বাজ]মুদাব্বাজ (المدبج) হাদিস হলো তা, যা সমসাময়িক বা সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীগণ (الأقران) একে অপরের থেকে বর্ণনা করেন। যেমন সাহাবীর থেকে সাহাবীর বর্ণনা, তাবেয়ীর থেকে তাবেয়ীর বর্ণনা এবং সমপর্যায়ের একজনের থেকে অন্যজনের বর্ণনা; শর্ত হলো যে তাদের প্রত্যেকেই একে অপরের থেকে বর্ণনা করবেন। যদি সমপর্যায়ের দুজনের মধ্যে কেবল একজন তার সঙ্গীর থেকে বর্ণনা করেন এবং অপরজন তা না করেন, তবে তাকে মুদাব্বাজ (مدبج) বলা হবে না। তবে বলা হয়ে থাকে যে, মুদাব্বাজ (مدبج) নামকরণের জন্য একজনের থেকে অন্যজনের বর্ণনা হওয়াই যথেষ্ট।
[আল-হাদিস আল-মানসুখ]মানসুখ (المنسوخ) হাদিস হলো তা, যার পূর্ববর্তী বিধানকে শরিয়ত প্রণেতা তাঁর পরবর্তী কোনো বিধানের মাধ্যমে রহিত করে দিয়েছেন।
যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, সুতরাং এখন তোমরা কবর যিয়ারত করো।"
আবার কখনো কখনো এটি সাহাবীর বর্ণনার মাধ্যমেও জানা যায়, যেমন জাবির (রা.)-এর উক্তি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ছিল আগুনে স্পর্শ করা (রান্না করা) খাবার গ্রহণের ফলে অজু করার আবশ্যকতা বর্জন করা।"
(খণ্ড: ১)
মাশয়াখাতুল কাযভীনি
(পৃষ্ঠা: ١٠٤)
وتارةً من التاريخ، كقوله في رواية شداد بن أوس وغيره عام الفتح، وهي سنة ثمانٍ: ((أفطر الحاجم والمحجوم)) ، ثم نسخ بقول ابن عباس في حجة الوداع، وهي سنة عشرٍ: ((احتجم رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو محرمٌ صائمٌ)) .
وتارةً بالإجماع، كحديث قتل شارب الخمر في المرة الرابعة، فإن إجماعهم على خلافه يدل على ناسخٍ يخالفه.
[الحديث الشاذ]الحديث الشاذ قسمان:
أحدهما: هو الفرد المخالف للحفاظ.
والفرد الذي ليس في راويه من الثقة والضبط ما يقع جابراً لما يوجبه التفرد، والشذوذ من النكارة والضعف.
وروي عن يونس بن عبد الأعلى الصدفي قال: قال الإمام الشافعي: ليس الشاذ أن يروي الثقة ما لا يروي غيره، إنما الشاذ أن يروي ثقةٌ حديثاً يخالف ما روى الناس.
وحكى الحافظ أبو يعلى الخليلي القزويني نحو هذا عن الشافعي وجماعةٍ من أهل الحجاز، ثم قال: الذي عليه حفاظ الحديث أن الشاذ ما ليس له إلا إسنادٌ واحدٌ يشذ بذلك شيخٌ، ثقةً كان أو غير ثقةٍ، [فما كان
কখনও ইতিহাসের মাধ্যমে (নাসিখ-মানসুখ জানা যায়), যেমন অষ্টম হিজরি তথা মক্কা বিজয়ের বছরের বর্ণনায় শাদ্দাদ ইবনে আউস ও অন্যদের থেকে বর্ণিত হাদিস: "শিঙা দানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের রোজা ভঙ্গ হয়ে গেছে।" পরবর্তীতে দশম হিজরি তথা বিদায় হজের বর্ণনায় ইবনে আব্বাসের কথা দ্বারা এটি রহিত (نسخ) হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামরত ও রোজা অবস্থায় শিঙা গ্রহণ করেছেন।"
আবার কখনও ঐকমত্যের (إجماع) মাধ্যমে (নাসিখ-মানসুখ জানা যায়), যেমন চতুর্থবার মদ্যপানকারীকে হত্যা করার হাদিস। কেননা এর বিপরীতে ওলামাদের ঐকমত্য (إجماع) প্রমাণ করে যে, এমন কোনো রহিতকারী (ناسخ) দলিল রয়েছে যা এর বিপরীত বিধান দেয়।
[ব্যতিক্রমী (شاذ) হাদিস]ব্যব্যতিক্রমী (شاذ) হাদিস দুই প্রকার:
এক: এটি এমন একক (فرد) বর্ণনা যা হাফেজদের (حفاظ) বর্ণনার বিপরীত।
এবং এমন একক (فرد) বর্ণনা যার বর্ণনাকারীর মধ্যে এমন নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও প্রখর স্মৃতিশক্তি (ضبط) নেই যা তার একক হওয়ার (تفرد) কারণে সৃষ্ট ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের (شذوذ) অন্তর্ভুক্ত অগ্রহণযোগ্যতা (نكارة) ও দুর্বলতার (ضعف) ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আস-সাদাফি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ বলেছেন: "কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি তা বর্ণনা করলেই সেটি ব্যতিক্রমী (شاذ) হয় না; বরং ব্যতিক্রমী (شاذ) হলো যখন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করেন যা অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার বিপরীত হয়।"
হাফেজ আবু ইয়ালা আল-খালিলি আল-কাজউইনি ইমাম শাফিঈ ও হিজাজ অঞ্চলের একদল আলেমের সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: "হাদিসের হাফেজদের (حفاظ) নিকট গ্রহণযোগ্য মত হলো, ব্যতিক্রমী (شاذ) হচ্ছে এমন বর্ণনা যার কেবল একটিমাত্র সনদ (إسناد) রয়েছে এবং এর মাধ্যমে কোনো একজন শাইখ একক হয়ে পড়েছেন, চাই তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হোন বা অনির্ভরযোগ্য হোন। [অতঃপর যা...