(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: -)
مناقب الشافعي للآبري   (أبو الحسن الآبري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مناقب الإمام الشافعي

المؤلف: أبو الحسن، محمد بن الحسين بن إبراهيم بن عاصم، الآبُري [بضم الباء وكسر الراء مخففة كما ضبطه محققه نقلا عن العلماء؛ خلافًا للمثبَت على غلاف المطبوع] ت 363 هـ

المحقق: د. جمال عزون

الناشر: الدار الأثرية

الطبعة: الأولى 1430 هـ - 2009 م

عدد الصفحات: 102

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবরির লেখা মানাকিব আশ-শাফিঈ   (আবু হাসান আল-আাবরি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: ইমাম শাফিঈর গুণাবলি (মানাকিব)

লেখক: আবু হাসান, মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন ইব্রাহিম বিন আসিম, আল-আাবরি [আলেমদের উদ্ধৃতি দিয়ে সম্পাদক যেভাবে নির্ধারণ করেছেন তাতে 'বা' বর্ণে পেশ এবং 'রা' বর্ণে হালকাভাবে যের হবে; যা মুদ্রিত কপির মলাটে বিদ্যমান স্বরচিহ্নের বিপরীত] মৃত্যু ৩৬৩ হিজরি

সম্পাদক: ড. জামাল আজজুন

প্রকাশক: আদ-দারুল আসারিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: -)
مناقب الإمام الشافعي

 

تأليف

الحافظ أبي الحسن محمد بن الحسين إبراهيم الأبري السجستاني

المتوفى سنة 363 هـ

 

من خلال قطعتين مخطوطين ونصوص مبثوثة في الكتب

 

دراسة وتحقيق

د/ جمال عزون

 

الدار الأثرية

 

الطبعة الأولى

1430 هـ - 2009 م
ইমাম শাফিঈর গুণাবলি ও মর্যাদা

 

রচনা

হাফিয আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবরাহীম আল-আবরী আস-সিজিস্তানি

মৃত্যু: ৩৬৩ হিজরি

 

দুটি পাণ্ডুলিপির অংশবিশেষ এবং বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে থাকা উদ্ধৃতি থেকে সংকলিত

 

গবেষণা ও সম্পাদনা

ড. জামাল আযযুন

 

আদ-দারুল আসারিয়্যাহ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

1- سمعت (1) الخليل بن أحمد ينشد في الجهاد يوماً:

يجود بالنفس إذ ضن الجواد بها … والجود بالنفس أقصى غاية الجود

--------------------------------------------

(1) من هنا تبدأ القطعة المخطوطة المحفوظة في مكتبة جار الله ولي الدين أفندي بتركيا.
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

১- আমি খলিল ইবনে আহমদকে (১) একদিন জিহাদ বিষয়ে আবৃত্তি করতে শুনেছি:

তিনি প্রাণ উৎসর্গ করেন যখন সাধারণ দানশীল ব্যক্তি তা দিতে কার্পণ্য করে … আর জীবন উৎসর্গ করাই হলো বদান্যতার সর্বোচ্চ সীমা।

--------------------------------------------

(১) এখান থেকেই তুরস্কের জারুল্লাহ ওয়ালিউদ্দিন এফেন্দি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি অংশটি শুরু হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
2- قال: وقال يحيى بن خالد بن برمك البرمكي:

((نظرنا في أمور الناس فوجدنا الشريف إذا تقوى تواضع، ووجدنا الدنيء إذا تقوى تجبر)) .
২- তিনি বললেন: এবং ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ ইবনে বারমাক আল-বারমাকি বলেছেন:

((আমরা মানুষের বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং দেখতে পেয়েছি যে, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি যখন শক্তিশালী হয় তখন সে বিনয়ী হয়, আর নীচ প্রকৃতির লোক যখন শক্তিশালী হয় তখন সে উদ্ধত হয়))।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
3- وفيما حكي لنا عن بعض مشايخنا عن داود بن علي أنه قال: حكي لنا عن الشافعي أنه قال:

((لا تقدم على أمر لا يعنيك، ولا تتكلف ما قد كفيت، ولا تتبسط إلى من لا يعرفك، ولا تخاصم من هو دونك، وما اشتبه عليك فدعه إلى غيره، ومن أكرمك فزده إكراماً، [و] من لم يكن نفسه على محبتك فتعده إلى غيره)) .
৩- আমাদের নিকট আমাদের কতিপয় মাশায়েখ থেকে দাউদ বিন আলি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট ইমাম শাফিয়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:

((এমন বিষয়ে অগ্রসর হয়ো না যা তোমার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, যা তোমার জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে তা নিয়ে অনর্থক ভার গ্রহণ করো না, যে তোমাকে চেনে না তার নিকট নিজেকে অবারিত করো না, তোমার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের কারো সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না, যা তোমার নিকট অস্পষ্ট ঠেকে তা অন্যের নিকট ছেড়ে দাও, যে তোমাকে সম্মান করে তার সম্মান বৃদ্ধি করে দাও, এবং যার মন তোমার প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত নয় তাকে ছেড়ে অন্যের দিকে মনোযোগী হও।))
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
4- وسمعت بعض أصحابنا ينشد لبعض السلف:

رأيت الناس يشكون الزمانا … وما لزماننا عيبٌ سوانا

نعيب زماننا والعيب فينا … ولو نطق الزمان به رمانا
৪- এবং আমি আমাদের জনৈক সঙ্গীকে কোনো কোনো সালাফের নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করতে শুনেছি:

আমি মানুষকে যুগের অভিযোগ করতে দেখেছি … অথচ আমাদের যুগের আমরা ব্যতীত অন্য কোনো দোষ নেই

আমরা আমাদের যুগের নিন্দা করি অথচ দোষ আমাদের নিজেদের মাঝেই … আর যুগ যদি কথা বলতে পারত তবে সে আমাদের দিকেই তা ছুড়ে দিত
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
5- سمعت ابن أبي داود ببغداد يقول: سمعت ابن زغبة يقول: ⦗ص: 66⦘ سمعت الليث بن سعد يقول لأصحاب الحديث:

((يا هذا أنتم إلى الأدب أحوج منكم إلى الحديث)) .
৫- আমি বাগদাদে ইবনে আবু দাউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে জুগবাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘ আমি লাইস ইবনে সাদকে হাদীস বিশারদদের (আসহাবুল হাদীস) উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি:

“হে লোক! হাদীস অর্জনের চেয়ে আদব বা শিষ্টাচার অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তোমাদের নিকট অনেক বেশি।”
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
6- وحدثنا ابن أبي داود إملاءً ببغداذ في الرصافة، وحدثنا محمد بن مصفى، حدثنا بقية، عن الزبيدي -وهو محمد بن الوليد الزبيدي الحمصي- حدثنا مكحول، عن عبادة بن الصامت قال:

((سألنا رسول الله صلى الله عليه وسلم هل تقرؤون معي من القرآن شيئاً؟ قال: قلنا: نعم والله يا رسول الله، نهذه هذاً وندرسه درساً. قال: فلا تفعلوا إلا بأم القرآن سراً في أنفسكم)) .
৬- ইবন আবু দাউদ বাগদাদের রুসাফায় শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এবং মুহাম্মদ ইবন মুসাফফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুবাইদী থেকে—যিনি হলেন মুহাম্মদ ইবন ওয়ালিদ আল-জুবাইদী আল-হিমসী—মাকহুল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাদাহ ইবন আস-সামিত থেকে, তিনি বলেন:

((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমরা কি আমার সাথে কুরআনের কোনো অংশ পাঠ করো?" তিনি বলেন: আমরা বললাম, "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তা দ্রুততার সাথে এবং ধারাবাহিকভাবে পাঠ করি।" তিনি বললেন, "তোমরা উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) ব্যতীত অন্য কিছু পাঠ করো না, যা তোমরা নিজেদের মধ্যে নীরবে পাঠ করবে।"))।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
7- وحدثنا محمد بن إسحاق الثقفي بنيسابور، قال: حدثنا قتيبة بن سعيد الثقفي، قال: حدثنا مالك، عن الزهري، عن سالم، عن أبيه قال:

((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا افتتح الصلاة رفع يديه، وإذا ركع وإذ رفع من الركوع، ولا يفعل ذلك بين السجدتين)) .

قال أبو الحسن رضي الله عنه: المعنى واحدٌ واللفظ قريبٌ.
৭- আর নিসাবুরে আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আস-সাকাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট কুতাইবা ইবন সাঈদ আস-সাকাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন, যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

((আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন তখন তাঁর হাত দুটি উঠাতেন, আর যখন রুকু করতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন; তবে দুই সিজদার মাঝে তিনি তা করতেন না।))।

আবুল হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: মূল অর্থ একই এবং শব্দগুলো কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
8- سمعت محمد بن إسحاق بن خزيمة يقول: سمعت محمد بن يحيى يحكي عن علي بن عبد الله -يعني المديني- قال: قال سفيان:

((هذا مثل هذه الأسطوانة)) .
৮- আমি মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুযাইমাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া-কে আলী বিন আব্দুল্লাহ —অর্থাৎ আল-মাদিনী— থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: সুফইয়ান বলেছেন:

“এটি এই খুঁটির মতো।”
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৬)
9- وسمعت من سمع أبا يعقوب رحمه الله يقول حين أملى هذا الحديث عن سفيان، عن الزهري فقال: ((كأنك تنظر إلى النبي صلى الله عليه وسلم بهذا ⦗ص: 67⦘ الإسناد)) .
৯- এবং আমি এমন এক ব্যক্তির থেকে শুনেছি যিনি আবু ইয়াকুবকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলতে শুনেছেন যখন তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি যুহরীর সূত্রে এই হাদিসটি শ্রুতিলিখন করাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "যেন আপনি এই ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ সনদের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাকাচ্ছেন।"
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
10- أخبرنا أبو بكر محمد بن يحيى بن آدم المصري فيما قرأناه عليه بالفسطاط، قال: أخبرنا محمد -يعني ابن عبد الله بن عبد الحكم- قال: حدثنا الشافعي قال:

((قال لي محمد بن الحسن: بم حكم عمر بن الخطاب بالدية باثني عشر ألف على وزن ستة؟ قال: قلت: فإذا كان على وزن ستة فهذه عشرة آلاف ونيف وأنت تقول: عشرة آلاف. قال: لم يكونوا يحسنون يحسبون. قال: قلت: فيحكم عمر بما يأخذ من أموال الناس بما لم يتعين حسابه ولا معرفته!)) .
১০- আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আদম আল-মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যা আমরা ফুস্তাতে তাঁর নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন: মুহাম্মদ—অর্থাৎ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল হাকাম—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শাফি'ঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

((মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমাকে বললেন: উমর ইবনুল খাত্তাব কেন বারো হাজার (দিরহাম) রক্তপণের ফয়সালা দিয়েছেন যা ছয় (দানিক) ওজনের ভিত্তিতে? তিনি (শাফি'ঈ) বলেন: আমি বললাম: যদি তা ছয় (দানিক) ওজনের ভিত্তিতে হয়, তবে তা দশ হাজার এবং আরও কিছু হবে, অথচ আপনি বলছেন দশ হাজার। তিনি (মুহাম্মদ ইবনুল হাসান) বললেন: তারা তো ভালোমতো হিসাব করতে পারতেন না। তিনি (শাফি'ঈ) বলেন: আমি বললাম: তবে কি উমর মানুষের সম্পদ থেকে এমন কিছু গ্রহণের ফয়সালা দেবেন যার হিসাব এবং পরিচয় সুনির্দিষ্ট ছিল না!))।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
11- قال لنا محمد بن يحيى بن آدم: حدثنا محمد بن عبد الله بن عبد الحكم: ((على وزن ستة)) يريدون العشرة دراهم ستة دنانير وزنها.
১১- মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আদম আমাদের নিকট বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: ((ছয়-এর ওজনে)) এর দ্বারা তারা বুঝিয়েছেন যে দশ দিরহামের ওজন হবে ছয় দিনারের সমান।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
12- أخبرني محمد بن يحيى خادم المزني بمصر، قال: أخبرنا محمد -يعني ابن عبد الله بن عبد الحكم- قرئ عليه، قال: أخبرنا الشافعي قال:

((ناظرت محمد بن الحسن في الدية فقال: نحن أعلم بالدية منكم. قال: فكيف؟ قال: لأنا أهل الورق وعلينا حكم؟ قال: قلت: لا ما هو كذلك. قال: فكيف؟ قال: قلت: الحاكم منا وتكونوا أنتم أعلم منا!)) .
১২- আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মিশরে আল-মুজানীর খাদেম মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ —অর্থাৎ ইবনে আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম— যা তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছিল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন:

((আমি রক্তপণ (দিয়ত) প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ বিন আল-হাসানের সাথে মুনাজারা করলাম। তখন তিনি বললেন: দিয়ত সম্পর্কে আমরা আপনাদের চেয়ে বেশি অবগত। তিনি বললেন: তা কীভাবে? তিনি বললেন: কারণ আমরা রৌপ্য মুদ্রার অধিকারী এবং বিচার আমাদের ওপরই কার্যকর হয়। তিনি বললেন: আমি বললাম: না, বিষয়টি তেমন নয়। তিনি বললেন: তবে কীভাবে? তিনি বললেন: আমি বললাম: বিচারক আমাদের পক্ষ থেকে, আর আপনারা আমাদের চেয়ে বেশি জ্ঞানী হবেন!))।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
13- أخبرني محمد بن يحيى المصري، قال: أخبرنا ابن عبد الحكم، قال: سمعت الشافعي يقول:

((قال لي محمد بن الحسن: روى أصحابكم في العارية شيئاً لم تعرفوا ما هو. قال النبي صلى الله عليه وسلم في العارية: هي علينا ضمانه. ليس بأن الضمان في أصل العارية. قال الشافعي: فقلت له: فما تقول فيمن قال -فيما لا يضمن-: هو علي ضمانه، أيضمن أم لا؟ قال محمد بن الحسن ⦗ص: 68⦘ لا يضمن. قال الشافعي: فقلت له: إنما تخدع هؤلاء)) .
১৩- মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-মিসরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইবন আব্দুল হাকাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি:

((মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আমাকে বললেন: তোমাদের সাথীরা আরিয়াহ (ধারকৃত বস্তু) সম্পর্কে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যার প্রকৃত অর্থ তোমরা জানো না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরিয়াহ সম্পর্কে বলেছেন: "এর দায়ভার (জামানত) আমাদের ওপর।" এর অর্থ এই নয় যে, জামানত আরিয়াহর মূল প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত। শাফিঈ বলেন: আমি তাকে বললাম: যে বিষয়ে কোনো জামানত নেই, সে সম্পর্কে যদি কেউ বলে— "এর দায়ভার আমার ওপর"—তবে সে কি দায়বদ্ধ হবে কি না? মুহাম্মদ বিন আল-হাসান ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ বললেন: সে দায়বদ্ধ হবে না। শাফিঈ বলেন: তখন আমি তাকে বললাম: আপনি কেবল এদের প্রতারিত করছেন।))
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
14- قرأت على أبي عبيد الله محمد بن الربيع بن سليمان بمصر، وعلى أبي عبد الله محمد بن يوسف بن النضر الهروي بدمشق، وعلى محمد بن يحيى بن آدم بالفسطاط، أن ابن عبد الحكم أخبرهم قال: سمعت الشافعي يقول:

((قال لي محمد بن الحسن: لو علمت أن سيف بن سليمان يروي حديث اليمين مع الشاهد لأفسدته. قال: فقلت له: يا أبا عبد الله إذا أفسدته فسد)) .
১৪- আমি মিসরে আবু উবাইদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুর রবী' ইবনে সুলাইমানের নিকট, দামেস্কে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনুন নাদর আল-হারাউয়ীর নিকট এবং ফুস্তাতে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আদমের নিকট পাঠ করেছি যে, ইবনে আব্দুল হাকাম তাঁদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি:

((মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আমাকে বললেন: আমি যদি জানতাম যে সাইফ ইবনে সুলাইমান এক সাক্ষী ও কসমের হাদিসটি বর্ণনা করেন, তবে আমি তা অসার সাব্যস্ত করতাম। তিনি (শাফিঈ) বলেন: তখন আমি তাঁকে বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি যদি তা অসার সাব্যস্ত করেন, তবে তা অসারই হবে।))
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
15- أخبرنا محمد بن يحيى خادم المزني، قال: أخبرنا ابن عبد الحكم، قال: أخبرنا الشافعي قال:

((ناظر ابن.. .. (1) محمد بن الحسن فقال له: اترك القياس واستحسن. قال: فقال له: يا أبا عبد الله أما علمت أنك كشفت عورتك لبني آدم أنت تقول: إن القياس لا يكون إلا على الكتاب والسنة، ثم تقول: دع القياس واستحسن)) .

--------------------------------------------

(1) في الأصل ابن البنا، ويبدو أنه مصحف، ولم أقف على مصدر للخبر يكشف رسم هذا الاسم.
১৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া, মুযানির খাদেম; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনু আব্দিল হাকাম; তিনি বলেন: শাফেঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:

((তিনি ইবনে... (১) মুহাম্মাদ বিন হাসানের সাথে বিতর্ক করেছিলেন; মুহাম্মাদ বিন হাসান তাঁকে বললেন: কিয়াস বর্জন করুন এবং ইসতিহসান (বিবেচনাপ্রসূত উত্তম মনে করা) গ্রহণ করুন। তিনি (শাফেঈ) তাঁকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি কি জানেন না যে, আপনি বনী আদমের নিকট নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছেন? আপনি বলছেন যে, কিতাব ও সুন্নাহ ব্যতিরেকে কিয়াস হয় না, আবার বলছেন: কিয়াস ত্যাগ করুন এবং ইসতিহসান করুন।))।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে 'ইবনুল বান্না', যা সম্ভবত ভুল লিখিত হয়েছে। আমি এই বর্ণনার এমন কোনো উৎস খুঁজে পাইনি যা এই নামের সঠিক রূপ উন্মোচন করতে পারে।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৬৮)
16- أخبرني أبو بكر عبد الرحمن بن العباس الشافعي بمصر، عن محمد بن إسماعيل البخاري، قال: حدثني مصعب الزبيري قال:

((قدم الشافعي المدينة وأقدمه رجلٌ طالبيٌ وكان موافقاً للقوم، فكان يجلس في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وينشد أشعار الشعراء، وكان حسن اللفظ به، فصيح القول، عالماً بمعانيه. قال: فجلس عند أبي أياماً ثم قال له يوماً: ترضى في قرشيتك ما أنت فيه أن تكون شاعراً! قال: فقال: فما أصنع يا عم؟ قال: تتفقه فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من يرد الله به خيراً ⦗ص: 69⦘ يفقهه في الدين. قال: وأنى لي ذلك؟ قال: مالك بن أنس سيد المسلمين. فقال: قم بنا إليه. قال: فأتينا مالكاً فجلس عند مالك، وأخبر أبي مالكاً بشرفه وأمره. قال: فقربه مالكٌ وأدناه. قال: وجعل يسمع من مالك. فلما كان بعد أيام قال: أيش يقول مالك: أمرنا الذي عليه أهل بلدنا، والذي عليه أئمة المسلمين الراشدين المهديين؟ فقال له: إن أولهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم أبو بكر ثم عمر ثم عثمان الذين توفوا بالمدينة. قال: فترك مذهبه وما كان فيه، وسمع الموطأ من مالك وسر به مالك. فأقصاه العلوي واشتد به الحال. قال: فأتى أبي العلوي فقال: أقدمت ابن عمك محمد بن إدريس ثم جفيته! قال: إنه ليستحكم ويصد الناس عن مذهبنا وقال بمقالته. فقال: وما يكون الناس يستمعون وينتقلون من رأي إلى رأي. فقال له: صدقت قد أخطأت. ثم وصله بثلاث مئة دينار. وكان الشافعي في خلال ذلك ربما جالس إبراهيم بن أبي يحيى فربما يقول: ما أجهله. ثم خرج إلى مكة فكتب عن سفيان بن عيينة، وعن مسلم بن خالد. ثم خرج بعد ذلك إلى اليمن فافتتن به أهل اليمن، فكتب السلطان الذي كان باليمن إلى هارون: إن قبلي رجلٌ من ولد شافع قد افتتن اليمن عن آخرها، لو أراد أن يخرج معه عن آخرهم لفعلوا. قال: فكتب إليه أن يحمله مغصوباً إليه. قال: فحمل فوافى به الرقة ولم يتركه أن يأخذ من شعره ولا من أظفاره. فلما وافى الرقة لقي محمد بن الحسن وكان معه ستون ديناراً، فاعتذر إليه ودفعها إلى كاتبه فقال: اكتب لي كتبه. قال: فكتب له. قال: فجلس محمد بن الحسن يوماً في مسجد الرقة وجعل يزري بأهل الحجاز ويقول: أيش يحسنوا، وهل فيهم أحدٌ يحسن مسألةً؟ قال: وكان الشافعي في ناحية، فبلغه فجاء فسلم عليه، وإن شاربه ليدخل ⦗ص: 70⦘ فمه، والفضل بن الربيع حاضرٌ. فقال الشافعي لابن الحسن: أما أصحابك فأعلم الناس بما لم يكن أبداً وأجهلهم بالسنن. فناظره فقال له: قد أكثرت -والفضل يكتب ما يجري بينهما- فقال الشافعي يومئذ: ما تقول في صلاة الخوف كيف يصليها الرجل؟ فقال محمد بن الحسن: منسوخ قال الله عز وجل: {وإذا كنت فيهم فأقمت لهم الصلاة} ، فلما خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم من بين أظهرهم لم تجب عليهم صلاة الخوف. فقال الشافعي: قال الله عز وجل: {خذ من أموالهم صدقةً تطهرهم} ، فلما خرج رسول الله من بين أظهرهم لم تجب عليهم! قال ابن الحسن: كلا بل تجب عليهم. فقال الشافعي: وكلا بل تجب عليهم)) .
১৬- মিশরে আবু বকর আবদুর রহমান ইবনে আব্বাস শাফেয়ী আমাকে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারী থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুসআব আল-যুবাইরী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

((শাফেয়ী মদিনায় আসলেন এবং এক তালিবী ব্যক্তি তাকে নিয়ে এসেছিলেন, আর তিনি সেই কওমের সাথে একমত ছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে বসতেন এবং কবিদের কবিতা আবৃত্তি করতেন। তিনি অতি সুন্দর শব্দ চয়নকারী, প্রাঞ্জলভাষী এবং কবিতার অর্থ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানী ছিলেন। তিনি বলেন: তিনি আমার পিতার নিকট কয়েক দিন অবস্থান করলেন, এরপর একদিন আমার পিতা তাকে বললেন: তুমি যে কুরাইশ বংশীয় মর্যাদার অধিকারী, তাতে কি তুমি এতেই সন্তুষ্ট যে তুমি একজন কবি হবে! তিনি বলেন: তখন তিনি (শাফেয়ী) বললেন: হে চাচা, তবে আমি কী করব? তিনি বললেন: ফিকহ শিক্ষা কর, কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ যার কল্যাণ চান ⦗পৃষ্ঠা: ৬৯⦘ তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। তিনি বললেন: এটা আমার পক্ষে কীভাবে সম্ভব? তিনি বললেন: মালিক ইবনে আনাস মুসলমানদের নেতা। তিনি বললেন: আমাদের নিয়ে তার কাছে চলুন। তিনি বলেন: আমরা মালিকের কাছে আসলাম এবং তিনি মালিকের নিকট বসলেন। আমার পিতা মালিককে তার বংশীয় মর্যাদা ও অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি বলেন: মালিক তাকে নিকটে টেনে নিলেন এবং কাছে স্থান দিলেন। তিনি বলেন: তিনি মালিকের কাছ থেকে ইলম শ্রবণ করতে শুরু করলেন। কয়েক দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি বললেন: মালিক কী বলেন: আমাদের সেই আদর্শ যার ওপর আমাদের শহরের অধিবাসীরা অটল, এবং যার ওপর মুসলিমদের হেদায়েতপ্রাপ্ত ও সত্যপথগামী ইমামগণ অটল ছিলেন? তখন তাকে বলা হলো: তাদের প্রথম হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এরপর আবু বকর, এরপর উমর, এরপর উসমান, যারা মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন। তিনি বলেন: এরপর তিনি তার পূর্বের মাযহাব ও অবস্থা ত্যাগ করলেন এবং মালিকের নিকট থেকে মুয়াত্তা শ্রবণ করলেন, এতে মালিক অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। ফলে সেই আলাভী ব্যক্তি তাকে দূরে সরিয়ে দিল এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠল। তিনি বলেন: তখন আমার পিতা সেই আলাভীর নিকট গিয়ে বললেন: তুমি তোমার চাচাতো ভাই মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিসকে নিয়ে আসলে, এরপর তাকে উপেক্ষা করলে! সে বলল: সে তো পারদর্শী হয়ে উঠেছে এবং মানুষকে আমাদের মাযহাব থেকে ফিরিয়ে দিচ্ছে এবং তার নিজের মত ব্যক্ত করছে। তিনি বললেন: তাতে কী হয়েছে যদি মানুষ কথা শোনে এবং এক মত থেকে অন্য মতে স্থানান্তরিত হয়? সে তাকে বলল: আপনি সত্য বলেছেন, আমি ভুল করেছি। এরপর সে তাকে তিনশ দিনার প্রদান করল। এই সময়ের মধ্যে শাফেয়ী সম্ভবত মাঝে মাঝে ইব্রাহিম ইবনে আবি ইয়াহইয়ার মজলিসে বসতেন, ফলে ইব্রাহিম হয়তো বলতেন: সে কতই না মূর্খ। এরপর তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা ও মুসলিম ইবনে খালিদ থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করলেন। এরপর তিনি ইয়ামেনের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং ইয়ামেনবাসী তার প্রতি মোহিত হলো। ইয়ামেনের সুলতান হারুনের নিকট লিখলেন: আমার নিকট শাফে’র বংশধরদের একজন ব্যক্তি এসেছে যে সমগ্র ইয়ামেনকে নিজের অনুরাগী বানিয়ে ফেলেছে; সে যদি তাদের সবাইকে নিয়ে বিদ্রোহ করতে চাইত তবে তারা তাই করত। তিনি বলেন: হারুন তার নিকট লিখলেন যাতে তাকে বন্দি অবস্থায় তার কাছে পাঠানো হয়। তিনি বলেন: তাকে বহন করে রাক্কায় নিয়ে আসা হলো এবং তাকে তার চুল বা নখ কাটার সুযোগ দেয়া হয়নি। যখন তিনি রাক্কায় পৌঁছলেন, তখন মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের সাথে তার সাক্ষাৎ হলো। তার নিকট ষাট দিনার ছিল, তিনি তার নিকট ওজর পেশ করলেন এবং সেগুলো তার লেখকের নিকট দিয়ে বললেন: আমার জন্য তার কিতাবগুলো লিখে দাও। তিনি বলেন: সে তার জন্য সেগুলো লিখে দিল। তিনি বলেন: একদিন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান রাক্কার মসজিদে বসলেন এবং হিজাজবাসীদের তুচ্ছজ্ঞান করতে শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন: তারা কী ভালো জানে? তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে একটি মাসআলা ভালো বুঝতে পারে? তিনি বলেন: শাফেয়ী এক কোণায় ছিলেন। এ খবর তার নিকট পৌঁছালে তিনি আসলেন এবং তাকে সালাম দিলেন, তখন তার গোঁফ তার মুখে প্রবেশ করছিল ⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ এবং ফজল ইবনুর রাবী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শাফেয়ী ইবনুল হাসানকে বললেন: তোমাদের সাথীরা তো ঐসব বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জানে যা কখনো ঘটেনি, কিন্তু সুন্নাহর বিষয়ে তারা সবচেয়ে বেশি অজ্ঞ। তিনি তার সাথে বিতর্ক করলেন। তিনি তাকে বললেন: তুমি অনেক কথা বলেছ—আর ফজল তাদের মাঝে যা ঘটছিল তা লিখে নিচ্ছিলেন—সেদিন শাফেয়ী বললেন: ভয়ের নামাজ সম্পর্কে তোমার মত কী, মানুষ কীভাবে তা আদায় করবে? মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বললেন: এটি রহিত হয়ে গেছে, মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আপনি যখন তাদের মধ্যে থাকবেন এবং তাদের জন্য নামাজ কায়েম করবেন}। সুতরাং যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন, তখন তাদের ওপর ভয়ের নামাজ আর ওয়াজিব নেই। তখন শাফেয়ী বললেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন যা তাদের পবিত্র করবে}। তবে কি আল্লাহর রাসূল যখন তাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন, তখন তাদের ওপর যাকাত ওয়াজিব নয়! ইবনুল হাসান বললেন: কক্ষনো না, বরং তা ওয়াজিব। শাফেয়ী বললেন: ঠিক তেমনি এটিও (ভয়ের নামাজ) তাদের ওপর ওয়াজিব।))
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭০)
17- وحدثني أبو الفرج سلامة بن أحمد بن الفضل النصيبي إملاءً علي في جامع نصيبين من كتابه، قال: حدثنا شجاع بن الهيثم بن موسى الرازي، قال: حدثنا عبد الله بن محمد البلوي، قال: حدثني خالي عمارة بن زيد قال:

((كنت صديقاً لمحمد بن الحسن فدخلت معه على الرشيد، فسأله ⦗ص: 71⦘ عن أحواله فقال: في حبرة يا أمير المؤمنين. ثم تسارا فسمعت محمد بن الحسن يقول: يا أمير المؤمنين إن محمد بن إدريس الشافعي يزعم أنه للخلافة أهلٌ. قال: فغضب الرشيد فقال: علي به. فأتي به وأجثي بين يديه، فكره الرشيد أن يعجل عليه من غير امتحان فقال: هيه. فقال: فما هيه يا أمير المؤمنين؟ أنت الداعي وأنا المدعو، وأنت السائل وأنا المجيب. قال: كيف علمك بكتاب الله فإنه أولى أن يبتدأ به؟ قال: جمعه الله في صدري وجعل دفتيه جنبي، فقال: كيف علمك به؟ قال: أي علم تريد يا أمير المؤمنين، علم تأويله، أم علم تنزيله، مكيه أم مدنيه، ليليه أم نهاريه، أم سفريه أم حضريه، أم إنسيه أم وحشيه، أم نسقه وصفته، أم تسمية سوره؟ قال: فأعجب الرشيد ذلك فقال: لقد ادعيت من القرآن أمراً عظيماً فكيف علمك بالفرائض؟ قال: إني لأفرض الصلب، وأعرف اختلافهم في الجد. قال: فكيف علمك بالأحكام؟ قال: في عتاق أم طلاق، أم في قضاء، أم في الأشربة، أم في المتاجرات. قال: فكيف علمك بالطب؟ قال: أعرف منه ما قالت الروم وبابل وبقراط وساهمور وأرسطو طاليس وجالينوس. قال: فكيف علمك بالنجوم؟ قال: أعرف منه القطب الدائر والمائي والناري، والمذكر والمؤنث، وما يهتدى به في البر والبحر. قال: فكيف علمك بالشعر؟ قال: أعرف الشاذ منه وما ⦗ص: 72⦘ نبه للمكارم. قال: فكيف علمك بأنساب العرب؟ قال: أعرف منه نسب الكرام وفيهم نسب أمير المؤمنين ونسبي. فقال: لقد ادعيت من العلوم أمراً عظيماً تطول به المحنة فعظ أمير المؤمنين بموعظة -قد جرى ذكرها في الحكاية الأولى- قال: ثم التفت إلى محمد بن الحسن فقال: ناظره بين يدي حتى أكون فاصلاً بينكما. قال: فالتفت محمد بن الحسن إلى محمد بن إدريس فقال: ما تقول يا شافعي في رجل تزوج بامرأة ودخل بها، وتزوج ثانية ولم يدخل بها، وتزوج ثالثة ودخل بها، وتزوج رابعة ولم يدخل بها، أصاب الثانية أم الأولى والرابعة عمة الثالثة؟ قال الشافعي: ينزل عن الثانية والرابعة من غير أن يلزمه شيءٌ، ويتمسك بالأولى والثالثة. قال محمد: ما حجتك؟ قال: أما الثانية فإن الله عز وجل يقول: {فإن لم تكونوا دخلتم بهن فلا جناح عليكم} ، وأما الرابعة فإن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن تنكح المرأة على عمتها أو على خالتها. ما تقول أنت يا محمد بن الحسن كيف استقبل النبي صلى الله عليه وسلم يوم النحر وكبر؟ قال: فتعتع محمد بن الحسن. قال عبد الله بن محمد البلوي: ولو سأله كيف فعل أبو حنيفة لأخبره. فقال الشافعي: يا أمير المؤمنين سألني عن الأحكام فأجبته، وسألته عن سنة من سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم يحتاج إليها الصادر والوارد فلا يجيبني، أمن الإنصاف هذا؟ فتبسم الرشيد وأمر له بعشرة آلاف درهم. فخرج الشافعي ففرقها على باب داره، وانصرف مكرماً)) .

⦗ص: 73⦘

قال أبو الحسن رضي الله عنه:

في هذه الحكاية زيادة ونقصان عن الحكاية الأولى، ويشبه -والله أعلم- أنه كان للشافعي مناظرات واجتماعات مع محمد بن الحسن بين يدي هارون غير مرة والله أعلم.
১৭- আবু আল-ফারাজ সালামা ইবনে আহমাদ ইবনে আল-ফাদল আন-নাসিবি তাঁর কিতাব থেকে নাসিবিন জামে মসজিদে আমার কাছে শ্রুতিলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুজা ইবনে আল-হাইসাম ইবনে মুসা আর-রাজি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বালাউই আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার মামা উমারা ইবনে যাইদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে:

((আমি মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের বন্ধু ছিলাম, তাই আমি তাঁর সাথে রশিদের দরবারে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি (রশিদ) তাঁকে ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: অত্যন্ত খুশিতে আছি, হে আমিরুল মুমিনীন! এরপর তাঁরা কানে কানে কথা বললেন, তখন আমি মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানকে বলতে শুনলাম: হে আমিরুল মুমিনীন! মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ দাবি করেন যে, তিনি খিলাফতের যোগ্য। বর্ণনাকারী বলেন: এতে রশিদ রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। এরপর তাঁকে আনা হলো এবং তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে বসানো হলো। রশিদ পরীক্ষা না করে তাঁর ব্যাপারে তড়িঘড়ি করা অপছন্দ করলেন এবং বললেন: হেই (বলুন)। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! 'হেই' মানে কী? আপনি আহ্বানকারী আর আমি আহূত, আপনি প্রশ্নকর্তা আর আমি উত্তরদাতা। তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কেমন? কারণ এটি দিয়েই শুরু করা সবচেয়ে উত্তম। তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলা তা আমার অন্তরে একত্র করে দিয়েছেন এবং আমার দুই পাঁজরকে তার দুই মলাট বানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন: সে সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কেমন? তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি কোন ধরণের জ্ঞান চান? তার ব্যাখ্যার (তাউইল) জ্ঞান, নাকি অবতীর্ণ হওয়ার (তানজিল) জ্ঞান? মক্কি নাকি মাদানি? রাত্রিকালীন নাকি দিবাভাগ? সফরকালীন নাকি বসতবাড়িকালীন? জনপদীয় নাকি বন্য-পরিবেশীয়? নাকি তার বিন্যাস ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে, অথবা তার সূরাগুলোর নামকরণ সম্পর্কে? বর্ণনাকারী বলেন: এতে রশিদ বিস্মিত হলেন এবং বললেন: তুমি তো কুরআন সম্পর্কে বিশাল কিছু দাবি করলে! তাহলে উত্তরাধিকার আইন (ফরায়েজ) সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কেমন? তিনি বললেন: আমি মূল অংশগুলো বণ্টন করি এবং পিতামহের (দাদার) ব্যাপারে তাঁদের মতভেদ সম্পর্কে জানি। তিনি বললেন: আহকাম (বিধান) সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কেমন? তিনি বললেন: তা কি দাস মুক্তি নাকি তালাক বিষয়ক? নাকি বিচারকার্য, পানীয় অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত? তিনি বললেন: চিকিৎসাশাস্ত্র (তীব) সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কেমন? তিনি বললেন: রোমান, ব্যাবিলন, হিপোক্রেটিস, সাহমুর, এরিস্টটল এবং গ্যালেন যা বলেছেন আমি তা জানি। তিনি বললেন: জ্যোতির্বিজ্ঞান (নজুম) সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কেমন? তিনি বললেন: আমি মেরুনক্ষত্র, জলজ ও অগ্নিময় রাশি, পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ এবং এর মাধ্যমে স্থলে ও জলে পথ চেনার পদ্ধতি সম্পর্কে জানি। তিনি বললেন: কবিতা সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কেমন? তিনি বললেন: আমি এর বিরল বিষয়গুলো এবং যা ⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘ মহৎ গুণাবলীর প্রতি উদ্বুদ্ধ করে তা জানি। তিনি বললেন: আরবদের বংশলতিকা সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কেমন? তিনি বললেন: আমি শ্রেষ্ঠদের বংশপরিচয় জানি, যার মধ্যে আমিরুল মুমিনীনের বংশ এবং আমার নিজের বংশও রয়েছে। তিনি বললেন: তুমি তো ইলম সম্পর্কে এমন বিশাল দাবি করলে যার পরীক্ষা দীর্ঘ হবে। অতএব আমিরুল মুমিনীনকে কিছু উপদেশ দাও—যা প্রথম কাহিনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের দিকে ফিরে বললেন: আমার সামনে তার সাথে বিতর্ক করো যাতে আমি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন: তখন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিসের দিকে ফিরে বললেন: হে শাফিঈ! আপনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে এক নারীকে বিবাহ করল এবং তার সাথে বাসর করল, দ্বিতীয় একজনকে বিবাহ করল কিন্তু বাসর করল না, তৃতীয় একজনকে বিবাহ করল এবং তার সাথে বাসর করল এবং চতুর্থ একজনকে বিবাহ করল কিন্তু বাসর করল না; এমতাবস্থায় যদি দ্বিতীয় স্ত্রী প্রথম স্ত্রীর মা হয় আর চতুর্থ স্ত্রী তৃতীয় স্ত্রীর ফুফু হয়? শাফিঈ বললেন: সে কোনো কিছু আবশ্যক হওয়া ছাড়াই দ্বিতীয় ও চতুর্থ স্ত্রীকে ছেড়ে দেবে এবং প্রথম ও তৃতীয় স্ত্রীকে নিজ বিবাহে রাখবে। মুহাম্মাদ বললেন: আপনার দলিল কী? তিনি বললেন: দ্বিতীয় স্ত্রীর ব্যাপারে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: {আর যদি তোমরা তাদের সাথে বাসর না করে থাকো, তবে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই}। আর চতুর্থ স্ত্রীর ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন যে, কোনো নারীকে তার ফুফুর উপস্থিতিতে (একত্রে) বিবাহ করা যাবে না। এরপর শাফিঈ বললেন: হে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান! আপনি কী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানির দিন কীভাবে কিবলামুখী হতেন এবং তাকবির দিতেন? বর্ণনাকারী বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আমতা আমতা করতে লাগলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বালাউই বলেন: যদি তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন আবু হানিফা কী করেছেন, তবে তিনি তা বলে দিতেন। তখন শাফিঈ বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! তিনি আমাকে বিধান (আহকাম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন আর আমি তার উত্তর দিয়েছি, আর আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন একটি সুন্নাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যা প্রত্যেকের প্রয়োজন হয়, অথচ তিনি আমাকে উত্তর দিতে পারছেন না; এটি কি ইনসাফ? তখন রশিদ হাসলেন এবং তাঁকে দশ হাজার দিরহাম দেওয়ার আদেশ দিলেন। শাফিঈ বের হয়ে গেলেন এবং তাঁর বাড়ির দরজায় তা বিলিয়ে দিলেন এবং সসম্মানে ফিরে গেলেন।))

⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘

আবু আল-হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:

এই কাহিনীতে প্রথম কাহিনীর তুলনায় কিছু কম-বেশি রয়েছে। আর সম্ভবত—আল্লাহই ভালো জানেন—হারুনের সামনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের সাথে শাফিঈর একাধিকবার বিতর্ক ও সাক্ষাৎ হয়েছিল। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭৩)
18- أخبرني أبو بكر عبد الرحمن بن أحمد بن العباس الشافعي رحمه الله قراءةً عليه في جامع الفسطاط، قال: حدثني يحيى بن زكريا النيسابوري، قال: حدثني أبو سعيد الفريابي، قال: سمعت محمد بن إدريس وراق الحميدي يقول: سمعت الحميدي يقول: سمعت الشافعي يقول:

كنت أطلب الشعر وأنا صغيرٌ وأكتب، فبينا أنا أمشي بمكة أو في ناحية من مكة إذ سمعت صائحاً يقول: يا محمد بن إدريس عليك بطلب العلم. فالتفت فلم أر أحداً، فرجعت فكنت أطلب العلم وأكتبه على الخزف، وأطرحه في زير حتى امتلأ. وكنت يتيماً ولم يكن لأبي شيءٌ. قال: فولي عم لي بناحية اليمن على القضاء فخرجت معه، فلما قدمت من اليمن أتيت مسلم بن خالد الزنجي، فسلمت عليه فلم يرد علي السلام وقال: أحدهم يجيئنا حتى ظننت أنه صلح أفسد نفسه. قال: فصرت إلى سفيان بن عيينة فسلمت عليه، فرد علي السلام وقال: بلغني يا أبا عبد الله ما كنت فيه وما بلغني إلا خيرٌ فلا تعد. قال: ثم خرجت إلى المدينة فقرأت الموطأ على مالك. ثم خرجت إلى العراق فصرت إلى محمد بن الحسن، فكنت أتناظر مع أصحابه. قال: فشكوني إلى محمد بن الحسن في ذلك، وقالوا له: إن هذا الحجازي يعيب علينا قولنا ويخطئنا. قال: فذكر محمد بن الحسن لي ذلك. فقلت له: إنا كنا لا نعرف إلا التقليد فلما قدمنا عليكم سمعناكم تقولون: لا تقلدوا واطلبوا الحق والحجاج. فقال: ناظرني. فقلت: أناظر بعض أصحابك وأنت تسمع. فقال: لا إلا أنا. فقلت: فذاك. قال: تسأل أو أسأل؟ قلت: ما شئت. قال: فما تقول في رجل غصب من رجل عموداً فبنى عليه قصراً ثم جاء مستحق فاستحق؟ قلت: يخير بين العمود وبين قيمته؛ فإن اختار العمود هدم القصر وأخرج ⦗ص: 74⦘ العمود فيرد على صاحبه. قال: فما تقول في رجل غصب خشبةً فبنى عليها سفينة، ثم لجج بها في البحر ثم جاء صاحبه فاستحقه؟ قلت: يقدم إلى أقرب مرسى فيخير بين قيمته وبين الخشبة، فإن أخذ قيمته وإلا نقض السفينة، وترد الخشبة إلى صاحبها. قال: فما تقول في رجل غصب من رجل خيط إبريسم فخاط به جرحه ثم جاء صاحبه فاستحقه؟ قلت: له قيمته. قال: فكبر وكبر أصحابه وقالوا: تركت قولك يا حجازي. قال: قلت له: على رسلك أرأيت لو أن صاحب الدار أراد أن يهدم قصره ويرد العمود إلى صاحبه ولا يعطيه قيمته، أكان للسلطان أن يمنعه من ذلك؟ قال: لا. فقلت: أرأيت صاحب السفينة لو أراد أن ينقض السفينة ويرد الخشبة إلى صاحبها أكان للسلطان أن يمنعه؟ قال: لا. فقلت: أرأيت الخيط الذي خاط به الجرح [لو] أراد أن ينقض جرحه أكان للسلطان أن يمنعه؟ فقال: نعم. قلت: فكيف تقيس ما هو محظورٌ بما هو مباحٌ؟)) .
১৮- আবু বকর আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন আব্বাস আশ-শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) ফুস্তাত জামে মসজিদে তাঁর নিকট পাঠকালে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া আন-নিসাবুরী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-ফিরইয়াবি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হুমাইদী-র লেখক মুহাম্মাদ বিন ইদরীসকে বলতে শুনেছি যে, আমি হুমাইদীকে বলতে শুনেছি যে, আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি:

আমি ছোটবেলায় কবিতা অন্বেষণ করতাম এবং তা লিখতাম। একদা আমি মক্কায় বা মক্কার কোনো এক এলাকায় হাঁটছিলাম, এমতাবস্থায় আমি একজন আহ্বানকারীকে উচ্চস্বরে বলতে শুনলাম: হে মুহাম্মাদ বিন ইদরীস! তোমার জন্য ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণ করা আবশ্যক। আমি ফিরে তাকালাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। তখন আমি ফিরে এলাম এবং ইলম অন্বেষণ করতে শুরু করলাম। আমি ইলম মাটির পাত্রের টুকরোয় লিখে রাখতাম এবং তা একটি বড় মাটির পাত্রে জমা করে রাখতাম, শেষ পর্যন্ত সেটি পূর্ণ হয়ে গেল। আমি এতিম ছিলাম এবং আমার পিতার কোনো সম্পদ ছিল না। তিনি বলেন: এরপর আমার এক চাচা ইয়ামেন অঞ্চলে বিচারকের দায়িত্ব লাভ করলেন, তাই আমি তাঁর সাথে সেখানে গেলাম। যখন আমি ইয়ামেন থেকে ফিরে এলাম, তখন আমি মুসলিম বিন খালিদ আয-যানজীর নিকট আসলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন না এবং বললেন: তাদের কেউ একজন আমাদের নিকট আসে (সেভাবে তুমি আসনি), এমনকি আমি ভেবেছিলাম সে নিজেকে সংশোধন করেছে কিন্তু সে নিজেকে নষ্ট করে ফেলেছে। তিনি বলেন: এরপর আমি সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ-র নিকট গেলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! তুমি যে অবস্থায় ছিলে তা আমার নিকট পৌঁছেছে, আর আমার নিকট তোমার ব্যাপারে কল্যাণ ব্যতীত অন্য কিছু পৌঁছেনি, সুতরাং তুমি পুনরায় এমন করো না। তিনি বলেন: এরপর আমি মদীনার উদ্দেশ্যে বের হলাম এবং ইমাম মালিকের নিকট মুয়াত্তা পাঠ করলাম। এরপর আমি ইরাকের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম এবং মুহাম্মাদ বিন হাসানের নিকট গেলাম। আমি তাঁর সাথীদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতাম। তিনি বলেন: তখন তারা মুহাম্মাদ বিন হাসানের নিকট এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করল এবং তাঁকে বলল: এই হিজাযী ব্যক্তি আমাদের মতামতের দোষ ধরছে এবং আমাদের ভুল সাব্যস্ত করছে। তিনি বলেন: তখন মুহাম্মাদ বিন হাসান আমার নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। আমি তাঁকে বললাম: আমরা কেবল অন্ধ অনুকরণই জানতাম, কিন্তু যখন আপনাদের নিকট আসলাম, তখন আপনাদের বলতে শুনলাম—আপনারা অন্ধ অনুকরণ করবেন না বরং সত্য ও দলিল অনুসন্ধান করুন। তখন তিনি বললেন: তবে আমার সাথে বিতর্ক করুন। আমি বললাম: আমি আপনার কোনো একজন সাথীর সাথে বিতর্ক করব আর আপনি তা শুনবেন। তিনি বললেন: না, বরং কেবল আমার সাথেই করতে হবে। আমি বললাম: তবে তাই হোক। তিনি বললেন: আপনি প্রশ্ন করবেন নাকি আমি করব? আমি বললাম: আপনার যা ইচ্ছা। তিনি বললেন: তবে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার মতামত কী যে অন্য এক ব্যক্তির থেকে একটি স্তম্ভ আত্মসাৎ করল এবং তার ওপর একটি প্রাসাদ নির্মাণ করল, এরপর মূল মালিক এসে তার হক দাবি করল? আমি বললাম: মালিককে স্তম্ভ অথবা তার মূল্যের মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হবে; সে যদি স্তম্ভটিই গ্রহণ করতে চায় তবে প্রাসাদ ভেঙে স্তম্ভটি বের করা হবে এবং তা তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ⦗পৃষ্ঠা: ৭৪⦘ তিনি বললেন: তবে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার মতামত কী যে এক টুকরো কাঠ আত্মসাৎ করল এবং তার ওপর ভিত্তি করে একটি নৌকা তৈরি করল, এরপর তা নিয়ে গভীর সমুদ্রে চলে গেল, এমতাবস্থায় তার মালিক এসে সেটি দাবি করল? আমি বললাম: নৌকাটিকে নিকটবর্তী বন্দরে আনা হবে এবং মালিককে কাঠের মূল্য অথবা খোদ কাঠের মধ্যে ইখতিয়ার দেওয়া হবে; যদি সে মূল্য গ্রহণ না করে তবে নৌকাটি ভেঙে কাঠটি মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বললেন: তবে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার মতামত কী যে অন্য ব্যক্তির থেকে একটি রেশমি সুতা আত্মসাৎ করল এবং তা দিয়ে নিজের ক্ষতস্থান সেলাই করল, এরপর মালিক এসে তা দাবি করল? আমি বললাম: মালিককে তার মূল্য পরিশোধ করা হবে। তিনি বলেন: তখন তিনি (মুহাম্মাদ বিন হাসান) এবং তাঁর সাথীরা উচ্চস্বরে তাকবীর দিয়ে উঠলেন এবং বললেন: হে হিজাযী! আপনি তো আপনার নিজ মূলনীতি ত্যাগ করলেন। তিনি (শাফিঈ) বলেন: আমি তাঁকে বললাম: একটু স্থির হোন। আপনি কি মনে করেন যদি প্রাসাদের মালিক নিজেই তার প্রাসাদ ভেঙে স্তম্ভটি তার মালিককে ফিরিয়ে দিতে চায় এবং তাকে মূল্য দিতে না চায়, তবে কি শাসকের জন্য তাকে তা থেকে বাধা দেওয়া বৈধ হবে? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: আপনি কি মনে করেন যদি নৌকার মালিক নৌকাটি ভেঙে কাঠটি তার মালিককে ফিরিয়ে দিতে চায়, তবে কি শাসকের জন্য তাকে বাধা দেওয়া বৈধ হবে? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: তবে আপনি কি মনে করেন যে সুতাটি দিয়ে সে তার ক্ষতস্থান সেলাই করেছে, সেটি যদি সে খুলে ফেলতে চায়, তবে কি শাসকের জন্য তাকে তা থেকে বাধা দেওয়া বৈধ হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: তবে আপনি কীভাবে একটি নিষিদ্ধ (ক্ষতিকর) বিষয়কে একটি বৈধ (নির্দোষ) বিষয়ের সাথে তুলনা করছেন?
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭৪)
19- أخبرني أبو الحسن أحمد بن محمد بن يحيى الفقيه العسكري فيما قرأت عليه بطرسوس، قال: حدثنا أبو سعيد محمد بن عقيل الفريابي، عن ابن عبد الحكم، قال: سمعت الشافعي يقول: قال أبو يوسف:

((لأروحن الليلة إلى أمير المؤمنين على المدنيين في اليمن مع الشاهد بقاصمة الظهر. قال: فقال له رجلٌ: فيقول: ماذا قالوا؟ قال: أقول: لا يقضى إلا بشاهدين؛ لأن الله قد أبى إلا الشاهدين وتلا الآية في الدين. فقال له رجلٌ: فإن قالوا لك: فمن الشاهدان اللذان أمر الله أن يقبلا وأن لا يحكم إلا بهما؟ قال: أقول: مسلمين عدلين. قال: فقلت: فإن قالوا لك: فلم أجزت شهادة النصراني في الحقوق وقد قال الله ⦗ص: 75⦘ عز وجل: {من رجالكم} ، وقال: {ممن ترضون من الشهداء} ، قال: فتفكر ساعةً وقال: هم أحمق من أن يهتدوا لهذا. قال: فقلت: فإنما يحتج بقولك على ضعفاء الناس)) .
১৯- আবুল হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-ফকিহ আল-আসকারি আমাকে খবর দিয়েছেন, যা আমি তাঁর কাছে তারসুসে পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে আকিল আল-ফিরইয়াবি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি ইবনে আবদিল হাকাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি শাফেয়িকে বলতে শুনেছি, আবু ইউসুফ বলেছেন:

((আজ রাতে আমি আমিরুল মুমিনিনের কাছে ইয়েমেনের মদিনাবাসীদের বিরুদ্ধে (এক সাক্ষীর ভিত্তিতে ফয়সালা করার বিষয়ে) কোমর ভেঙে দেওয়ার মতো শক্তিশালী যুক্তি নিয়ে উপস্থিত হব। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: তখন তিনি (আমিরুল মুমিনিন) বলবেন: তারা কী বলেছে? তিনি বললেন: আমি বলব: দুইজন সাক্ষী ব্যতীত কোনো ফয়সালা করা হবে না; কারণ আল্লাহ দুইজন সাক্ষী ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন—এবং তিনি ঋণের বিষয়ে আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: যদি তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে: সেই দুইজন সাক্ষী কারা যাদের গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন এবং যাদের ছাড়া ফয়সালা করা যাবে না? তিনি বললেন: আমি বলব: দুইজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম। তিনি বলেন: আমি বললাম: যদি তারা আপনাকে বলে: তবে আপনি কেন অধিকারের ক্ষেত্রে খ্রিস্টানদের সাক্ষ্য বৈধ করেছেন, অথচ মহান আল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেছেন: {তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে}, এবং বলেছেন: {সাক্ষীদের মধ্যে যাদের তোমরা পছন্দ করো}? তিনি বলেন: তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন এবং বললেন: তারা এতটাই নির্বোধ যে তারা এ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না। তিনি বলেন: আমি বললাম: আপনার এই কথাটি কেবল দুর্বল প্রকৃতির মানুষের বিরুদ্ধেই যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।))।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭৫)
20- أخبرني أبو بكر عبد الرحمن بن العباس الشافعي، قال: سمعت يحيى بن زكريا النيسابوري يقول: سمعت ابن عبد الحكم يقول: قال لي الشافعي:

((ناظرت محمد بن الحسن في الدور فما وجدته بها ملياً. قال الشافعي: والدور إنما وضعه لهم يهوديٌ من أهل الحيرة)) .
২০- আবু বকর আব্দুর রহমান ইবনুল আব্বাস আশ-শাফিয়ী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আন-নাইসাবুরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্দুল হাকামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইমাম শাফিয়ী আমাকে বলেছেন:

((“আমি আবর্তনমূলক মাসআলা (আদ-দাওর) বিষয়ে মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের সাথে বিতর্ক করেছি, কিন্তু আমি তাকে এ বিষয়ে পারদর্শী পাইনি। ইমাম শাফিয়ী বলেন: আবর্তনমূলক মাসআলা মূলত হিরা অঞ্চলের এক ইহুদি তাদের জন্য উদ্ভাবন করেছিল।”))
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭৫)
21- أخبرنا أبو عبيد الله محمد بن الربيع بن سليمان بمصر، وأبو عبد الله محمد بن يوسف بن النضر الهروي بدمشق، ومحمد بن يحيى بن آدم المصري خادم المزني بمصر وهذا لفظه، قرأت عليه قال: أخبرنا ابن عبد الحكم، قال: سمعت الشافعي يقول:

((قال محمد بن الحسن: أقمت على مالك بن أنس ثلاث سنين وكسر. وكان يقول: إنه سمع منه لفظاً أكثر سبع مئة حديث. قال: وكان إذا حدثهم عن مالك امتلأ منزله، وكثر الناس حتى يضيق عليهم الموضع، وإذا حدثهم عن غير مالك لم يجئه إلا اليسير، فكان يقول: ما أعلم أحداً أسوأ ثناءً على أصحابكم منكم؛ إذا حدثتكم عن مالك ⦗ص: 76⦘ امتلأتم على الموضع، وإذا حدثتكم عن أصحابكم إنما تأتوني متكارهين)) .
২১- আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আবু উবাইদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন রাবী বিন সুলাইমান মিশরে, এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন নাসর আল-হারাবী দামেস্কে, এবং মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আদম আল-মিসরী—যিনি মিশরে আল-মুযানির খাদেম ছিলেন—আর এটি তার শব্দপ্রয়োগ, আমি তার নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আব্দুল হাকাম, তিনি বলেন: আমি শাফিয়ীকে বলতে শুনেছি:

((মুহাম্মাদ বিন হাসান বলেন: আমি মালিক বিন আনাসের নিকট তিন বছরের কিছু বেশি সময় অবস্থান করেছি। তিনি বলতেন যে, তিনি তাঁর নিকট থেকে সরাসরি মৌখিকভাবে সাতশর বেশি হাদিস শুনেছেন। তিনি বলেন: তিনি যখন তাদের নিকট মালিকের সূত্রে হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন তাঁর ঘর পূর্ণ হয়ে যেত এবং মানুষের সংখ্যা এত বৃদ্ধি পেত যে তাদের জন্য স্থান সংকীর্ণ হয়ে পড়ত। আর যখন তিনি মালিক ছাড়া অন্য কারো সূত্রে হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন তাঁর কাছে সামান্য সংখ্যক লোকই আসত। তখন তিনি বলতেন: তোমাদের চেয়ে তোমাদের সাথীদের ওপর মন্দ প্রশংসাকারী আমি আর কাউকে জানি না; যখন আমি তোমাদের কাছে মালিকের সূত্রে হাদিস বর্ণনা করি ⦗পৃষ্ঠা: ৭৬⦘ তখন তোমরা স্থানে পরিপূর্ণ হয়ে যাও, আর যখন আমি তোমাদের কাছে তোমাদের সাথীদের সূত্রে হাদিস বর্ণনা করি, তখন তোমরা কেবল অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমার নিকট আসো))।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
22- أخبرني محمد بن يحيى المصري خادم المزني، أن الربيع بن سليمان أخبرهم، قال: سمعت الشافعي يقول:

((حملت عن محمد بن الحسن [حمل] بختي ليس عليه إلا سماعي)) .
২২- আমাকে মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-মিসরি, আল-মুজানীর খাদেম, অবহিত করেছেন যে, আর-রাবি' বিন সুলাইমান তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি শাফি'ঈকে বলতে শুনেছি:

((আমি মুহাম্মদ বিন আল-হাসানের নিকট থেকে একটি বাখতি উটের সমপরিমাণ (জ্ঞানের) বোঝা গ্রহণ করেছি, যাতে আমার শ্রবণকৃত (বর্ণনা) ব্যতীত আর কিছুই নেই।))
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
23- أخبرني الزبير بن عبد الواحد بحمص، قال: حدثني يوسف بن عبد الأحد القمني، قال: حدثني بعض أصحابنا قال: قال الشافعي:

((كان لمحمد بن الحسن عندي يدٌ فما قدرت أن أكافئه بها إلا بكتابتي عنه)) .
২৩- জুবায়ের বিন আব্দুল ওয়াহিদ হিমসে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ বিন আব্দুল আহাদ আল-কুমমানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের জনৈক সঙ্গী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাফেয়ী বলেছেন:

((আমার ওপর মুহাম্মদ বিন হাসানের অনুগ্রহ ছিল, যার প্রতিদান আমি তাঁর নিকট হতে (ইলম) লিপিবদ্ধ করা ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা দিতে সক্ষম হইনি।))
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
24- وقرئ على مكحول بساحل الشام بمدينة بيروت وأنا أسمع، أنه سمع إبراهيم بن خرزاذ أخا عثمان بن خرزاذ أظن أنه قال: سمعت حرملة يقول: سمعت الشافعي يقول:

((كتبت عن محمد بن الحسن وقر حمل)) .
২৪- সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের বৈরুত শহরে মাখহুলের সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম যে, তিনি উসমান বিন খারযাদের ভাই ইবরাহিম বিন খারযাদকে বলতে শুনেছেন—আমার ধারণা তিনি এটিই বলেছেন—আমি হারমালাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি:

((আমি মুহাম্মদ বিন হাসান থেকে এক উট পরিমাণ বোঝা (ইলম) লিখেছি।))
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
25- وقرأت فيما حكي عن البويطي قال: قال الشافعي رحمه الله:

⦗ص: 77⦘

((كتب هارون البربري إلى هارون الرشيد: إن كانت لك حاجةٌ قبلنا فاحذر محمد بن إدريس الشافعي فإنه قد غلب على ما قبلي، فحملت إليه فألزمت الباب، فاجتمع أصحاب الحديث علي أن أضع على أبي حنيفة كتاباً. فقلت: لا أعرف قوله ولا يمكنني حتى أنظر في كتبهم. فأمرت فكتبت لي كتب محمد بن الحسن، فنظرت فيها سنةً فحفظتها، ثم وضعت عليهم الكتاب البغدادي)) .
২৫- আমি পড়েছি যা আল-বুয়াইতি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

⦗পৃষ্ঠা: ৭৭⦘

((হারুন আল-বারবারী হারুন আর-রশীদের নিকট লিখে পাঠালেন: আমাদের এই অঞ্চলে আপনার যদি কোনো প্রয়োজন থেকে থাকে, তবে মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফেয়ী সম্পর্কে সতর্ক থাকুন; কারণ তিনি আমার নিকটবর্তী অঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তার করেছেন। এরপর আমাকে তাঁর নিকট নিয়ে আসা হলো এবং আমাকে দরবারে আটকে রাখা হলো। তখন আসহাবুল হাদিসগণ (হাদিসের অনুসারীরা) আমার নিকট একত্রিত হয়ে দাবি জানালেন যেন আমি আবু হানিফার মতবাদের খণ্ডনে একটি কিতাব রচনা করি। আমি বললাম: আমি তাঁর বক্তব্য সম্পর্কে জানি না এবং তাদের কিতাবগুলো না দেখা পর্যন্ত আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়। তখন আমি নির্দেশ দিলাম এবং মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসানের কিতাবসমূহ আমার জন্য অনুলিপি করা হলো। আমি এক বছর ধরে সেগুলো অধ্যয়ন করলাম ও মুখস্থ করলাম, অতঃপর তাদের মতবাদের বিপক্ষে 'আল-কিতাব আল-বাগদাদী' রচনা করলাম।))
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭৭)
26- وقرأت عن ابن بنت الشافعي قال:

((لما أدخل الشافعي على هارون فسمع كلامه قال: أكثر الله في أهلي مثلك)) .
২৬- এবং আমি শাফেয়ীর কন্যার পুত্রের সূত্রে পড়েছি, তিনি বলেন:

((যখন শাফেয়ীকে হারুনের নিকট উপস্থিত করা হলো এবং তিনি তাঁর কথা শুনলেন, তখন তিনি বললেন: আল্লাহ আমার পরিজনের মধ্যে আপনার মতো মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন।)) ।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭৭)
27- حدثني محمد بن عبد الله بن جعفر الرازي بحمص، قال: حدثنا الحسين بن علي بن أبي مروان، قال: حدثنا الربيع بن سليمان، قال: قال لي الشافعي:

((سألت محمد بن الحسن كتاباً فدافعني به، فكتبت إليه بهذه الأبيات:

قل لمن لم تر عين … من رآه مثله

ومن [كأن من] رآه … قد رأى من قبله

العلم ينهى أهله … أن يمنعوه أهله

لعله يبذله … لأهله لعله
২৭- মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আর-রাজি হিমসে আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি মারওয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাবি' ইবনে সুলাইমান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাফি'ঈ আমাকে বলেছেন:

((আমি মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান (আশ-শায়বানি)-এর কাছে একটি কিতাব চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তা দিতে বিলম্ব করছিলেন, ফলে আমি তাঁর কাছে এই পঙক্তিগুলো লিখে পাঠালাম:

বলুন সেই ব্যক্তিকে যার মতো কাউকে কোনো চোখ দেখেনি … যে তাকে দেখেছে (সে অনন্য)

এবং যে ব্যক্তি [যেন] তাকে দেখেছে … সে যেন তার পূর্বসূরিদেরই দেখেছে

জ্ঞান তার অধিকারীদেরকে বারণ করে … যেন তারা এর উপযুক্ত পাত্র থেকে তা আটকে না রাখে

হয়তোবা তিনি তা অকাতরে দান করবেন … এর যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য, সম্ভবত।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুশ শাফেয়ী লিল আবুরী (পৃষ্ঠা: ৭৮)
قال: فحمل محمدٌ الكتاب في كمه، وجاءني به معتذراً من حبسه)) .

28- أخبرني أبو نعيم عبد الملك بن محمد بن عدي بجرجان، ومحمد بن يحيى بن آدم خادم المزني بمصر، عن الربيع بن سليمان، قال: سمعت الشافعي يقول:

((ما رأيت أحداً يسئل مسألةً فيها نظر إلا رأيت الكراهة في وجهه إلا محمد بن الحسن)) .
তিনি বলেন: “অতঃপর মুহাম্মদ কিতাবটি তাঁর আস্তিনে বহন করলেন এবং তা আটকে রাখার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আমার নিকট নিয়ে আসলেন।”

২৮- আবু নুআইম আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আদি জুরজানে এবং আল-মুযানির খাদেম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আদম মিসরে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা রাবি ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফিয়ীকে বলতে শুনেছি:

“আমি এমন কাউকে দেখিনি যাকে গভীর চিন্তা-ভাবনা সম্বলিত কোনো মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হয়েছে অথচ তার চেহারায় আমি বিরক্তির চিহ্ন দেখিনি, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ব্যতীত।”