(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: -)
إتحاف الزائر وإطراف المقيم للسائر لأبي اليمن ابن عساكر القسم: كتب السنة
الكتاب: إتحاف الزائر وإطراف المقيم للسائر في زيارة النبي صلى الله عليه وسلم
المؤلف: عبد الصمد بن عبد الوهاب بن أبي الحسن محمد بن هبة الله بن عبد الله بن الحسين أمين الدين أبو اليمن بن عساكر الدمشقي نزيل مكة (ت 686هـ)
المحقق: حسين محمد علي شكري
الناشر: شركة دار الأرقم بن أبي الأرقم
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 186
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু আল-ইয়ামান ইবনে আসাকির রচিত ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইতরাফুল মুকিম লিস-সায়ির বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যিয়ারত প্রসঙ্গে ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইতরাফুল মুকিম লিস-সায়ির
লেখক: আবদুস সামাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব বিন আবিল হাসান মুহাম্মদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আমিনুদ্দিন আবু আল-ইয়ামান ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি, মক্কায় বসবাসকারী (মৃত্যু ৬৮৬ হিজরি)
মুহাক্কিক: হুসাইন মুহাম্মদ আলী শুকরি
প্রকাশক: শারিকাহ দারুল আরকাম বিন আবিল আরকাম
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৬
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: -)
إتحاف الزائر
وإطراف المقيم للسائر
في زيارة النبي صلى الله عليه وسلم
للإمام الحافظ
أبي اليمن عبد الصمد بن عبد الوهاب بن عساكر
618 - 686 هـ
قابل أصوله الخطية وعلق عليه
حسين محمد علي شكري
شركة دار الأرقم بن أبي الأرقم
দর্শনার্থীদের জন্য উপঢৌকন
এবং পথচারীদের প্রতি নিবাসীর অভিনব হাদিয়া
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যিয়ারত প্রসঙ্গে
ইমাম আল-হাফিয
আবু ইয়ামান আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আসাকির
৬১৮ - ৬৮৬ হিজরি
মূল পাণ্ডুলিপি যাচাই এবং টীকা বিন্যাস করেছেন
হুসাইন মুহাম্মদ আলি শুকরি
দারুল আরকাম বিন আবিল আরকাম প্রকাশনী
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١٧)
بسم الله الرحمن الرحيمأخبرنا الإمام العالم الحافظ أبو اليمن عبد الصمد بن عبد الوهاب بن الحسن بن عساكر الدمشقي، بقراءة الإمام أبي عمرو عثمان التوزري وأنا حاضر بحرم سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم تجاه حجرته الشريفة، في ربيع الآخر سنة ثمان وسبعين وستمائة.
قال: الحمد لله رب العالمين، و [صلى الله على] سيدنا محمد المصطفى الأمين، وعلى جميع الأنبياء والمرسلين، [وعلى آله] وآلهم أجمعين، ورضي الله عن الصحابة والتابعين، وسائر عباد الله الصالحين، وسلم عليه وعليهم، آمين.
وبعد:
فهذا مختصرٌ في زيارة سيدنا سيد البشر رسول الله صلى الله عليه وسلم، وشرف وعظم وكرم، ألفته تحفةً للزائر، وجعلته نحلةً من المقيم يتزودها المسافر، إذ كانت زيارة تربته المقدسة المكرمة من أهم القربات، والمثول في حضرته المشرفة المعظمة من أنجح [المساعي وأكمل] الطلبات، والقصد إلى مسجده الشريف من العباد [من أوصل] الصلات، فإليه تشد الرحال، ولديه تحط الأوزار، و [عليه] تعقد الآمال، وقد أثبت في هذا المختصر ما ينبغي للزائر فعله، وأسندت من الأحاديث الواردة في ذلك ما صح نقله وحسن مثله، والله تعالى يسعفنا في الدنيا بدوام زيارته، ويسعدنا في الآخرة ببركة شفاعته، ويوردنا حوضه، ويرينا وجهه، ويجعلنا من حزبه وخاصته، آمين.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম, আলিম, হাফিয আবুল ইয়ামীন আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে হাসান ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি; এটি পাঠ করেছেন ইমাম আবু আমর উসমান আত-তাওযারি আর আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর হারামে তাঁর সম্মানিত হুজরার সম্মুখে, ৬৭৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে।
তিনি বলেন: সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, এবং [দরুদ বর্ষিত হোক] আমাদের নেতা আল-মুস্তফা আল-আমিন মুহাম্মাদ-এর ওপর, এবং সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর, [এবং তাঁর পরিবার] ও তাঁদের সকলের পরিবারের ওপর; আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন সাহাবী ও তাবেয়ীগণের ওপর এবং আল্লাহর সকল নেককার বান্দাদের ওপর; আর শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ও তাঁদের সকলের ওপর। আমীন।
অতঃপর:
এটি মানবজাতির শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর যিয়ারত সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ, যাঁকে আল্লাহ সম্মানিত, মহিমান্বিত ও মর্যাদাবান করেছেন। আমি এটি যিয়ারতকারীর জন্য একটি উপহার হিসেবে রচনা করেছি এবং একে স্থায়ীবাসীর পক্ষ থেকে একটি উপঢৌকন বানিয়েছি যা মুসাফির পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করবে। যেহেতু তাঁর পবিত্র ও সম্মানিত রওজা যিয়ারত করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল এবং তাঁর সম্মানিত ও মহান উপস্থিতিতে হাজির হওয়া সবচেয়ে সফল [প্রচেষ্টা ও সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ] প্রার্থনা। ইবাদতকারীদের জন্য তাঁর সম্মানিত মসজিদের দিকে যাত্রা করা [সবচেয়ে শক্তিশালী] সেতুবন্ধন। তাঁর দিকেই সফরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তাঁর সান্নিধ্যে গোনাহের বোঝা মোচন হয় এবং [তাঁর ওপরই] আশা-আকাঙ্ক্ষা ন্যস্ত করা হয়। আমি এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে যিয়ারতকারীর জন্য যা করা উচিত তা লিপিবদ্ধ করেছি এবং এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্য থেকে যা বর্ণনা বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য তা উল্লেখ করেছি। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে আমাদের তাঁর যিয়ারত অব্যাহত রাখার তৌফিক দিন এবং আখেরাতে তাঁর সুপারিশের বরকতে আমাদের সৌভাগ্যবান করুন, আমাদের তাঁর হাওজে উপনীত করুন, আমাদের তাঁর চেহারা দেখান এবং আমাদের তাঁর দলভুক্ত ও খাস বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١٩)
فصلويتعلق بالزيارة جمعٌ من الآداب يشاركه فيها غيره، من أسفار القرب والمباحات؛ من الاستخارة، وتجديد التوبة، والخروج عن المظالم، واستحلال المعاملين، والتوصية، وإرضاء من يتوجب عليه إرضاؤه، وإطابة النفقة، والتوسعة في الزاد على نفسه ورفيقه وجماله، وعدم المشاركة فيه، وتوديع المنزل بركعتين، وتقديم الصدقة عند الخروج من منزله على المسير ولو قلت، وغير ذلك مما لا يختص هذا السفر لحصره، فلا نطول بذكره.
&فصل&
ليجتهد في إخلاص النية وتصحيح العقيدة في ذلك، فإنه ملاك الأمر وقد ورد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في ((الصحيحين)) ما رويناه من طرق من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قال:
((إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى)) .
وليحرص على تحصيل رفيق موافقٍ، رفيق راغبٍ في الخير، كاره للشر، إن نسي ذكره، وإن ذكر أعانه، جعلنا الله كذلك.
&فصل&
ثم ينوي زيارته صلى الله عليه وسلم، فإنه من حج ولم يزره فقد جفاه، ولم يحسن
পরিচ্ছেদজিয়ারতের সাথে বেশ কিছু আদব সংশ্লিষ্ট রয়েছে যা ইবাদত ও মুবাহ সংক্রান্ত অন্যান্য সফরের সাথেও সাদৃশ্যপূর্ণ; যেমন— ইস্তিখারা করা, তাওবাহ নবায়ন করা, যুলুম-অন্যায় থেকে মুক্ত হওয়া, লেনদেনকারীদের নিকট থেকে দায়মুক্তি নেওয়া, অসিয়ত করা, যাদের সন্তুষ্ট করা আবশ্যক তাদের সন্তুষ্ট করা, ব্যয়ভার পবিত্র করা, নিজের জন্য, সঙ্গীর জন্য এবং বাহনের জন্য পাথেয় সংগ্রহে উদারতা প্রদর্শন করা ও তাতে কার্পণ্য না করা, দুই রাকাত নামাজের মাধ্যমে ঘর থেকে বিদায় নেওয়া এবং ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কিছু সদকা প্রদান করা—যদিও তা সামান্য হয়। এছাড়া আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা কেবল এই সফরের জন্যই নির্দিষ্ট নয়, তাই সেগুলো উল্লেখ করে আলোচনা দীর্ঘ করছি না।
&পরিচ্ছেদ&
তিনি যেন নিয়তের একনিষ্ঠতা এবং আকিদা সংশোধনের জন্য সচেষ্ট হন, কেননা এটিই হলো মূল ভিত্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ‘সহীহাইন’-এ আমাদের বর্ণিত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন:
((নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই পাবে))।
তিনি যেন একজন উপযুক্ত সঙ্গী অন্বেষণে সচেষ্ট হন, এমন সঙ্গী যে কল্যাণের প্রতি আগ্রহী এবং অমঙ্গলের প্রতি অনীহা পোষণকারী; যদি সে ভুলে যায় তবে তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে, আর স্মরণ থাকলে তাকে সহযোগিতা করবে। আল্লাহ আমাদেরও এমন বানিয়ে দিন।
&পরিচ্ছেদ&
অতঃপর তিনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিয়ারতের নিয়ত করবেন। কেননা, যে ব্যক্তি হজ করল অথচ তাঁর জিয়ারত করল না, সে তাঁর প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করল এবং উত্তম কাজ করল না।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
فيما أتاه، وكذلك من كان من جيرانه وساكني القرى التي بين الحرمين من لم يزره منهم من غير مانعٍ، فقد أساء فيما توخاه، فإنه صلى الله عليه وسلم يستحق كما يقول الذي يقول:
لو جئتكم زائراً أسعى على بصري
… لم أقض حقاً وأي الحق أديت
أخبرنا الشيخ أبو صادق الحسن بن يحيى بن صباح بن الحسن بن عثمان المخزومي المعدل –رحمه الله قراءةً عليه، بقيسارية دمشق، أخبرنا أبو محمد عبد الله بن رفاعة بن عذير السعدي الفرضي قراءةً عليه أخبرنا أبو النعمان تراب بن عمر بن عبيد بن عباس العسقلاني، أخبرنا أبو الحسن علي بن عمر بن مهدي الدارقطني، حدثنا أبو عبد الله الحسين بن إسماعيل المحاملي، حدثنا عبيد بن محمد الوراق، حدثنا موسى بن هلال العبدي، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((من زار قبري وجبت له شفاعتي)) .
যা তিনি প্রদান করেছেন তাতে; তদ্রূপ তাঁর প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা রয়েছে এবং দুই হারামের মধ্যবর্তী গ্রামসমূহের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাঁকে যিয়ারত করেনি, তারা তাদের সংকল্পে মন্দ কাজ করেছে। কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপযুক্ত যেমনটা কোনো এক বক্তা বলেন:
আমি যদি আমার চোখের মণির ওপর ভর করে আপনার যিয়ারতে আসতাম
… তবুও আমি আপনার হক আদায় করতে পারতাম না, আর কোন হকই বা আমি আদায় করতে পেরেছি?
শেখ আবু সাদিক হাসান বিন ইয়াহইয়া বিন সাবাহ বিন আল-হাসান বিন উসমান আল-মাখজুমি আল-মুয়াদ্দাল (রাহিমাহুল্লাহ) দামেস্কের কায়সারিয়ায় পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন রিফায়া বিন উযাইর আস-সাদী আল-ফারাজি পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আন-নুমান তুরাব বিন উমর বিন উবাইদ বিন আব্বাস আল-আসকালানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান আলী বিন উমর বিন মাহদী আদ-দারাকুতনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলি আমাদের বর্ণনা দিয়েছেন, উবাইদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক আমাদের বর্ণনা দিয়েছেন, মুসা বিন হিলাল আল-আবদি আমাদের বর্ণনা দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
((যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করবে, তার জন্য আমার শাফাআত (সুপারিশ) ওয়াজিব হয়ে যাবে।))
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢١)
كذا رواه الإمام أبو الحسن الدارقطني في ((سننه)) .
كما أخبرناه جدي الشيخ أبو البركات الحسن بن محمد بن الحسن قراءةً عليه رحمه الله، أخبرنا عمي أبو الحسين هبة الله بن الحسن بن هبة الله الفقيه الأصولي الحافظ، أخبرنا أبو الطاهر عبد الرحمن بن أحمد بن عبد القادر بن محمد بن يوسف، أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الملك بن بشران، أخبرنا أبو الحسن علي بن عمر بن مهدي الحافظ، حدثنا القاضي المحاملي، حدثنا عبيد بن محمد الوراق، حدثنا موسى بن هلال العبدي، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((من زار قبري وجبت له شفاعتي)) .
ইমাম আবুল হাসান আদ-দারাকুতনি তাঁর 'সুনান'-এ এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন।
যেমনটি আমাকে আমার দাদা শাইখ আবুল বারাকাত আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার চাচা আবুল হুসাইন হিবাতুল্লাহ ইবনে আল-হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ আল-ফকিহ আল-উসুলি আল-হাফিজ; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে বিশরান; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলি ইবনে উমর ইবনে মাহদি আল-হাফিজ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজি আল-মাহামিলি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে হিলাল আল-আবদি, উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল।”
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وأخرجه الإمام أبو بكر البزار في ((مسنده)) ، وكذلك رواه الحافظ أبو القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل الأصبهاني في كتابه، عن أحمد بن علي بن خلف، عن أبي القاسم بن حبيب، حدثنا أبو بكر أحمد بن سعد بن نصر بن بكار، حدثنا أبو عبد الرحمن عبد الله بن عبيد الله، حدثنا محمد بن إسماعيل الأحمسي، عن موسى بن هلال العبدي، فذكره.
وكذلك رواه أبو بكر أحمد بن مروان المالكي في ((مجالسته)) ، ورواه أبو داود سليمان بن داود الطيالسي في ((مسنده)) باختلافٍ في لفظه وزيادةٍ في معناه.
كما نبأني الشيخان أبو محمد عبد الله بن محمد بن أحمد بن قدامة الفقيه المصنف الحنبلي، وأبو الطاهر إسماعيل بن ظفر بن أحمد بن إبراهيم المقدسيان، رحمهما الله، قال أبو محمد: أخبرنا أبو الفتح محمد
এবং ইমাম আবু বকর আল-বাজার এটি তাঁর ‘মুসনাদ’-এ সংকলন করেছেন। একইভাবে হাফেজ আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-ফজল আল-আসফাহানি তাঁর কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আলী ইবনে খালাফ থেকে, তিনি আবুল কাসিম ইবনে হাবিব থেকে; তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু বকর আহমাদ ইবনে সাদ ইবনে নাসর ইবনে বক্কার হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-আহমাসি হাদিস বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে হিলাল আল-আবদি থেকে, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
অনুরূপভাবে আবু বকর আহমাদ ইবনে মারওয়ান আল-মালিকি তাঁর ‘মুজালাসাত’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ সুলায়মান ইবনে দাউদ আত-তায়ালিসি তাঁর ‘মুসনাদ’-এ শব্দের কিছু ভিন্নতা ও অর্থের অতিরিক্ততা সহ এটি বর্ণনা করেছেন।
যেমন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ—হাম্বলি ফকিহ ও গ্রন্থকার আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে কুদামা এবং আবু তাহের ইসমাইল ইবনে জাফর ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন)। আবু মুহাম্মদ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
بن عبد الباقي بن أحمد بن سليمان الحاجب قراءةً عليه، أخبرنا حمد ابن أحمد بن الحسن الحداد. وقال إسماعيل: أخبرنا أبو المكارم أحمد بن محمد بن محمد بن عبد الله اللبان، أخبرنا أبو [علي] الحسن بن أحمد بن الحسن الحداد.
قالا: أخبرنا أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد الحافظ، حدثنا أبو محمد عبد الله بن جعفر بن فارس، حدثنا أبو بشر يونس بن حبيب بن عبد القاهر العجلي، حدثنا أبو داود الطيالسي، حدثنا سوار بن ميمون أبو الجراح العبدي، حدثني رجلٌ من آل عمر، عن عمر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
((من زار قبري –أو قال: من زارني- كنت له شفيعاً، أو شهيداً، ومن مات في أحد الحرمين بعثه الله عز وجل من الآمنين يوم القيامة)) .
বিন আব্দুল বাকী বিন আহমদ বিন সুলাইমান আল-হাজিব-এর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামদ ইবনে আহমদ ইবনে হাসান আল-হাদ্দাদ। এবং ইসমাইল বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মাকারিম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-লাব্বান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু [আলী] হাসান ইবনে আহমদ ইবনে হাসান আল-হাদ্দাদ।
তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-হাফিজ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে ফারিস, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বিশর ইউনুস ইবনে হাবীব ইবনে আব্দুল কাহের আল-ইজলি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাওয়ার ইবনে মাইমুন আবু আল-জাররাহ আল-আবদি, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর বংশের এক ব্যক্তি, তিনি উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-কে বলতে শুনেছি:
((যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল—অথবা তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার সাথে সাক্ষাৎ করল—আমি তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব, এবং যে ব্যক্তি দুই হারামের (মক্কা বা মদিনা) কোনো একটিতে মৃত্যুবরণ করল, মহান আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন নিরাপদ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত করবেন।))
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أخبرنا الشيخ أبو بكر عتيق بن أبي الفضل بن سلامة السلماني المعدل قراءةً عليه رحمه الله، أخبرنا الحافظ أبو القاسم علي بن الحسن، (ح) وأخبرنا الحافظ أبو الحسن محمد بن أحمد بن أبي بكر قراءةً رحمه الله، أخبرنا أبو المعالي عبد الله بن عبد الرحمن بن أحمد بن علي السلمي إجازةً، قالا: أخبرنا الشريف أبو القاسم علي بن إبراهيم خطيب دمشق، أخبرنا أبو الحسن رشأ بن نظيف بن ما شاء الله المقرئ، أخبرنا
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু বকর আতিক ইবনে আবিল ফাদল ইবনে সালামাহ আস-সালমানি আল-মুআদ্দিল তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবুল কাসিম আলি ইবনুল হাসান; (হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবি বকর পাঠ করার মাধ্যমে—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাআলি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনে আলি আস-সুলামি অনুমতির মাধ্যমে; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শরিফ আবুল কাসিম আলি ইবনে ইবরাহিম—দামেস্কের খতিব; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান রাশা ইবনে নাজিফ ইবনে মাশাআল্লাহ আল-মুকরি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
أبو محمد الحسن بن إسماعيل الضراب، أخبرنا أبو بكر أحمد بن مروان المالكي، حدثنا زكريا بن عبد الرحمن النصري، حدثنا محمد بن الوليد، حدثنا وكيع بن الجراح، عن خالد، وابن عون، عن الشعبي والأسود بن ميمون، عن هارون بن قزعة، عن مولى حاطب، عن حاطب رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم:
((من زارني بعد موتي فكأنما زارني في حياتي، ومن مات في أحد الحرمين بعث يوم القيامة من الآمنين)) .
أخبرنا الحسن بن محمد، أخبرنا علي بن الحسن، أخبرنا أبو القاسم إسماعيل بن محمد، أخبرنا أحمد بن عبد الغفار بن أشته،
আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে ইসমাঈল আদ-দাররাব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে মারওয়ান আল-মালিকী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া ইবনে আবদুর রহমান আন-নাসরী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-ওয়ালিদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ওয়াকী ইবনুল জাররাহ, তিনি খালিদ এবং ইবনে আউন থেকে, তাঁরা আশ-শা’বী এবং আসওয়াদ ইবনে মায়মুন থেকে, তিনি হারুন ইবনে কাযাআহ থেকে, তিনি হাতিবের মুক্ত দাস থেকে, তিনি হাতিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আমার মৃত্যুর পর আমাকে যিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশাতেই আমাকে যিয়ারত করল। আর যে ব্যক্তি দুই হারামের কোনো একটিতে মৃত্যুবরণ করল, কিয়ামতের দিন সে নিরাপদ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পুনরুত্থিত হবে।”
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আল-হাসান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আবদিল গাফফার ইবনে আশতাহ,
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
أخبرنا أبو سعيد النقاش، أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الله بن إبراهيم البزاز حدثنا الحسن ابن الطيب البلخي، حدثنا علي بن حجر، حدثنا حفص بن سليمان، عن ليث، عن مجاهد، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من زار قبري بعد موتي كان كمن زارني في حياتي)) .
حديثٌ غريب من حديث ليث بن أبي سليم، عن مجاهد بن جبر المكي، عن عبد الله بن عمر، معدودٌ في أفراد ليث، وما هو مكان عهدته، ولكنها على الراوي عنه، وهو حفص بن سليمان، ويقال: حفص بن أبي داود الأزدي الكوفي البزاز القارئ المعروف: بحفيص، قارئ أهل الكوفة بعد عاصم بن أبي النجود، وهو ابن امرأة عاصم، كان ربيبه في حجره، وتلميذه في القراءة، والرواة عنه ربما سموه وربما كنوه، وكذلك أباه، وربما فعلوا ذلك في نسبه، فاشتبه ذلك على من لا علم له، ومن كثرة اختلافهم في ذلك صحف بعضهم
আবু সাঈদ আন-নাক্কাশ আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-বাযযার আমাদের জানিয়েছেন, আল-হাসান ইবনুত তাইয়্যেব আল-বালখী আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী বিন হুজর আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাফস বিন সুলায়মান আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার মৃত্যুর পর আমার কবর যিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করল।"
এটি একটি গারীব (বিরল) হাদীস, যা লাইস বিন আবি সুলাইম থেকে, তিনি মুজাহিদ বিন জাবর আল-মাক্কী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণিত। এটি লাইস-এর একক বর্ণনার (আফরাদ) অন্তর্ভুক্ত। তবে এই হাদীসের দুর্বলতার দায়ভার তার ওপর নয়, বরং তার থেকে বর্ণনাকারী হাফস বিন সুলাইমানের ওপর। তাকে হাফস বিন আবি দাউদ আল-আযদি আল-কুফি আল-বাযযার আল-ক্বারী বলা হয়, যিনি 'হাফীস' নামে পরিচিত। তিনি আসিম বিন আবি আন-নুজুদের পর কুফাবাসীদের ক্বারী ছিলেন। তিনি আসিমের স্ত্রীর পুত্র ছিলেন, তাঁর কোলেই লালিত-পালিত হয়েছেন এবং ক্বিরাআতের ক্ষেত্রে তাঁর ছাত্র ছিলেন। বর্ণনাকারীরা কখনও তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন, আবার কখনও তাঁর কুনিয়াহ (উপনাম) ব্যবহার করেছেন; তাঁর পিতার ক্ষেত্রেও তারা একইরূপ করেছেন। কখনও কখনও তারা তাঁর বংশপরিচয়ের বর্ণনায়ও এমনটি করেছেন, যার ফলে এ বিষয়ে জ্ঞানহীন ব্যক্তিদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের অধিক মতভেদের কারণে কেউ কেউ নামের বানানেও ভুল করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
((حفص)) بـ ((جعفر)) بن سليمان، وإمامته في القراءة مشهورة، وربما انفرد عن عاصم بحروفٍ لا متابع له عليها من أصحاب عاصم، لكنها مأثورة.
وقد روى هذا الحديث الحسن بن الطيب، عن علي بن حجر فزاد فيه زيادة منكرة، قال فيه:
((من حج فزار قبري بعد موتي كان كمن زارني في حياتي وصحبني)) .
تفرد بقوله: ((وصحبني)) الحسن بن الطيب، وفيه نظر، والله سبحانه أعلم. حكاه محمد بن يوسف رحمه الله.
أخبرنا الحسن بن يحيى، أخبرنا عبد الله بن رفاعة، أخبرنا علي بن الحسن، أخبرنا تراب بن عمر، أخبرنا علي بن عمر إملاءً، حدثنا يحيى بن محمد بن صاعد، حدثنا أبو محمد عبد الله بن محمد العبادي –من بني عبادة بن ربيعة في بني مرة بالبصرة-، حدثنا سلمة بن سالم الجهني –إمام مسجد بني حرام ومؤذنهم-، حدثنا
((হাফস)) ((জাফর)) ইবনে সুলাইমানের সূত্রে বর্ণিত, এবং কিরাত শাস্ত্রে তার ইমামত বা নেতৃত্ব সুবিদিত। অনেক সময় তিনি আসিমের অন্যান্য ছাত্রদের বিপরীতে এমন কিছু হরফ বা পাঠরীতির ক্ষেত্রে একক হয়ে পড়েছেন যাতে আসিমের অন্য কোনো ছাত্র তার অনুসরণ করেনি, তবে সেগুলো নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত।
আর এই হাদিসটি হাসান ইবনে আল-তাইয়্যেব আলী ইবনে হাজার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে একটি আপত্তিকর (মুনকার) অংশ বৃদ্ধি করেছেন। তিনি এতে বলেছেন:
((যে ব্যক্তি হজ করল এবং আমার মৃত্যুর পর আমার কবর জিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করল এবং আমার সাহচর্য লাভ করল))।
হাসান ইবনে আল-তাইয়্যেব এককভাবে ((এবং আমার সাহচর্য লাভ করল)) কথাটি বর্ণনা করেছেন, আর তার বর্ণনার ব্যাপারে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন। মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ (রহ.) এটি বর্ণনা করেছেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে রিফাআহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আল-হাসান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তুরাব ইবনে উমর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে উমর শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়েদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আব্বাদি —যিনি বসরার বনু মুররাহ গোত্রের বনু আব্বাদ ইবনে রবিআহ বংশের লোক—, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সালামাহ ইবনে সালিম আল-জুহানি —যিনি বনু হারাম মসজিদের ইমাম এবং তাদের মুয়াজ্জিন ছিলেন—, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن سالم، عن أبيه رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((من جاءني زائراً لم تنزعه حاجةٌ إلا زيارتي كان حقاً علي أن أكون له شفيعاً يوم القيامة)) .
وقد رويناه من طرقٍ عدة، وفي إحدى روايات الدارقطني: ((من حج فزار قبري بعد وفاتي فكأنما زارني في حياتي)) .
وفي أخرى: ((من زارني بعد موتي فكأنما زارني في حياتي، ومن مات بأحد الحرمين بعث من الآمنين يوم القيامة)) .
وروينا من حديث علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((من لم يزر قبري فقد جفاني)) .
ومن حديث أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((من زارني ميتاً فكأنما زارني حياً، ومن زار قبري وجبت له شفاعتي يوم القيامة، وما من أحد من أمتي له سعة ثم لم يزرني فليس له عذر)) .
كل ذلك قد رويناه بأسانيدنا، ولسنا نطول بإيراد طرقها، وتأليف مختلفها، وجمع مفترقها، إذ الغرض الاختصار، لا الإطالة والإكثار.
وعن كعب الأحبار رضي الله عنه قال: ((ما من فجرٍ يطلع إلا نزل
উবাইদুল্লাহ ইবন উমর, নাফে থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি কেবল আমার যিয়ারতের উদ্দেশ্যেই আমার নিকট আসলো এবং অন্য কোনো প্রয়োজন তাকে চালিত করেনি, কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশকারী হওয়া আমার ওপর আবশ্যকীয় পাওনা হয়ে গেল।"
আমরা এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছি। দারা কুতনী-এর একটি বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি হজ করল এবং আমার ইন্তেকালের পর আমার কবর যিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশাতেই আমার যিয়ারত করল।"
অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি আমার ইন্তেকালের পর আমার যিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবদ্দশাতেই আমার যিয়ারত করল। আর যে ব্যক্তি দুই হারামের (মক্কা বা মদীনা) যেকোনো একটিতে মৃত্যুবরণ করল, সে কিয়ামতের দিন নিরাপদদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পুনরুত্থিত হবে।"
আমরা আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল না, সে আমার প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করল।"
আর আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আমার ইন্তেকালের পর আমার যিয়ারত করল, সে যেন আমার জীবিত অবস্থায় যিয়ারত করল। আর যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফাআত বা সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে গেল। আমার উম্মতের মধ্যে যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আমার যিয়ারত করল না, তার কোনো ওজর বা অজুহাত নেই।"
এর সবই আমরা আমাদের সনদসহ বর্ণনা করেছি। আমরা এর বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করে, বিভিন্ন বর্ণনার সমন্বয় করে এবং বিচ্ছিন্ন অংশগুলো একত্রিত করে কথা দীর্ঘায়িত করব না; কারণ উদ্দেশ্য হলো সংক্ষেপ করা, দীর্ঘ করা বা সংখ্যা বৃদ্ধি করা নয়।
কা'ব আল-আহবার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এমন কোনো ভোর উদিত হয় না যাতে অবতরণ করে না..."
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
سبعون ألفاً من الملائكة، حتى يحفوا بالقبر يضربون بأجنحتهم، ويصلون على النبي صلى الله عليه وسلم، حتى إذا أمسوا عرجوا، وهبط مثلهم فصنعوا مثل ذلك، حتى إذا انشقت الأرض خرج في سبعين ألفاً من الملائكة يزفونه، صلى الله عليه وسلم) .
সত্তর হাজার ফেরেশতা (অবতরণ করেন), যতক্ষণ না তাঁরা কবরকে পরিবেষ্টন করেন এবং নিজ নিজ ডানা ঝাপটাতে থাকেন, আর তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরুদ পাঠ করতে থাকেন। অতঃপর যখন সন্ধ্যা হয়, তাঁরা ঊর্ধ্বারোহণ করেন এবং তাঁদের সমসংখ্যক ফেরেশতা অবতরণ করেন এবং তাঁরাও অনুরূপ কাজ করেন। অবশেষে যখন জমিন বিদীর্ণ হবে, তখন তিনি সত্তর হাজার ফেরেশতার মাঝে বহির্গত হবেন যারা তাঁকে সংবর্ধনা জানিয়ে নিয়ে যাবেন, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
فصل
ينبغي للزائر أن ينوي -مع التقرب إلى الله سبحانه بزيارته- التقرب بالمسافرة إلى مسجده صلى الله عليه وسلم، وشد الرحال إليه، والصلاة فيه، لئلا يفوته ما دل عليه الحديث الصحيح:
((لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد)) .
والحديث الآخر:
((صلاةٌ في مسجدي هذا أفضل من ألف فيما سواه من المساجد)) .
قال لنا شيخنا أبو عمرو رحمه الله: ولا يلزم من هذا خللٌ في زيارته على ما لا يخفى، والله أعلم.
অনুচ্ছেদ
দর্শনার্থীর উচিত—তাঁর যিয়ারতের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নৈকট্য লাভের পাশাপাশি—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদের দিকে সফর করা, সেখানে সফরের প্রস্তুতি নেওয়া এবং সেখানে সালাত আদায়ের মাধ্যমে নৈকট্য লাভের নিয়ত করা; যাতে সহীহ হাদীস যে বিষয়ের ওপর নির্দেশনা দিয়েছে তা যেন তার হাতছাড়া না হয়:
((তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে না)) ।
এবং অন্য হাদীসটি:
((আমার এই মসজিদে একটি সালাত অন্য যে কোনো মসজিদের তুলনায় এক হাজার গুণ শ্রেষ্ঠ)) ।
আমাদের শায়খ আবু আমর রাহিমাহুল্লাহ আমাদের বলেছেন: এতে তাঁর যিয়ারতের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি হবে না, যা স্পষ্ট। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣١)
قرأت على الشيخ أبي محمد عبد العزيز بن عبد السلام بن أبي القاسم السلمي إمام العصر، وفقيه أهل الشام ومصر، في آخرين –بالمعزية-، وأبي العباس أحمد بن عبد الله المقدسي المعروف –بصاحب البدوي- العبد الصالح ببيت المقدس، أخبرهم أبو حفص عمر بن محمد بن معمر بن طبرزد قراءةً عليه فأقروا به، أخبرنا أبو القاسم هبة الله بن محمد بن عبد الواحد بن الحصين، أخبرنا أبو طالب محمد بن محمد بن غيلان، أخبرنا أبو بكر محمد بن إبراهيم الشافعي، حدثنا أحمد بن عبيد الله –هو ابن إدريس-، حدثنا
আমি যুগের ইমাম এবং শাম ও মিসরবাসীদের ফকিহ শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল সালাম ইবনে আবিল কাসিম আল-সুলামির নিকট এবং আরও অন্যদের সাথে –আল-মুইজ্জিয়্যাহতে– এবং বাইতুল মাকদিসের পুণ্যবান বান্দা ‘সাহেবে বাদবী’ নামে পরিচিত আবু আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসির নিকট পাঠ করেছি; আবু হাফস ওমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াম্মার ইবনে তাবারজাদ তাঁদের নিকট এটি পাঠ করেছিলেন এবং তাঁরা তা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে গাইলান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আশ-শাফিয়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ওবায়দুল্লাহ –যিনি হলেন ইবনে ইদ্রিস–, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
يزيد، أخبرنا محمد بن عمرو، عن أبي سلمة، عن أبي هريرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم:
((لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد مسجدي، والمسجد الحرام، والمسجد الأقصى)) متفقٌ عليه.
أخرجه البخاري في ((مسنده)) عن أبي الوليد، عن شعبة، عن عبد الملك قال: سمعت قزعة قال: سمعت أبا سعيد الخدري رضي الله عنه يحدث عن النبي صلى الله عليه وسلم، فذكره.
ورواه مسلم في ((صحيحه)) عن عمرو الناقد وزهير بن حرب، عن ابن عيينة وقال فيه: ((مسجدي [هذا] ، ومسجد الحرام، ومسجد الأقصى)) .
ورواه أيضاً عن أبي بكر بن أبي شيبة، عن عبد الأعلى، عن معمر، عن الزهري وقال: فيه: ((تشد الرحال إلى ثلاثة مساجد)) .
ورواه أيضاً عن هارون بن سعيد الأيلي، عن ابن وهب، عن عبد الحميد بن جعفر، أن عمران بن أبي أنس حدثه، أن سلمان الأغر حدثه، أنه سمع أبا هريرة رضي الله عنه، فذكره.
وقال فيه: ((إنما يسافر إلى ثلاثة مساجد: مسجد الكعبة، ومسجدي، ومسجد إيليا)) .
ইয়াজিদ, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন:
((তিনটি মসজিদ ব্যতীত সফরের পাথেয় প্রস্তুত করা যাবে না: আমার এই মসজিদ, মসজিদে হারাম এবং মসজিদে আকসা)) এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
ইমাম বুখারি এটি তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে আবু ওয়ালিদ থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক থেকে উদ্ধৃত করেছেন; আব্দুল মালিক বলেন: আমি কাযাআহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
আর ইমাম মুসলিম এটি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে আমর আন-নাকিদ এবং জুহাইর ইবনে হারব থেকে, তাঁরা ইবনে উয়ায়নাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: ((আমার [এই] মসজিদ, মসজিদে হারাম এবং মসজিদে আকসা))।
তিনি আরও এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ থেকে, তিনি আব্দুল আ'লা থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে এবং তাতে বলেছেন: ((তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যে সফরের পাথেয় প্রস্তুত করা হবে))।
তিনি আরও এটি হারুন ইবনে সাঈদ আল-আইলি থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইমরান ইবনে আবি আনাস তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, সালমান আল-আগার তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে এটি বর্ণনা করতে শুনেছেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
এবং তাতে বলা হয়েছে: ((কেবল তিনটি মসজিদের দিকেই সফর করা হবে: কাবার মসজিদ, আমার মসজিদ এবং ইলিয়া মসজিদ))।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وقوله: ((مسجد الحرام)) ، القول فيه كما في نظائر له، مثل قولهم: ((دار الآخرة)) ، و ((مسجد الجامع)) ، فعلى طريقة الكوفيين هو إضافة الموصوف إلى صفته، وهو عندهم سائغ، ولا يسوع ذلك البصريون، يقولون: تقديره ((شهر الوقت الحرام)) ، و ((مسجد المكان الجامع)) ، و ((دار الحياة الآخرة)) ، والله أعلم.
أبو سلمة اسمه عبد الله، وقيل: لا يعرف له اسم، وهو: أبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف بن عبد بن الحارث بن زهرة الزهري الفقيه القرشي المدني.
وفي اسم أبي هريرة رضي الله عنه واسم أبيه اختلافٌ كثير، قد نبهنا عليها في غير هذا الموضع، والله سبحانه أعلم.
وفي ((الغريب)) : ((لا تشد الغرض إلا إلى ثلاثة مساجد)) ، والغرض: جمع غرضة، والغرض: الحزام الذي يشد على بطن الناقة وهو البطان، والمغرض: الموضع الذي يشد عليه.
وقوله: ((لا تشد الرحال)) معناه: أنه إذا نذر الصلاة في بقعةٍ غير هذه المساجد الثلاثة لا يلزمه، أو لا ينعقد نذره، فيجب عليه أن يشد إليها الرحال، ويقطع إلى قصدها المسافة بالترحال، وقد تشد الرحال إلى المسجد الحرام فرضاً للحج والعمرة، وكانت تشد إلى النبي صلى الله عليه وسلم في حياته للهجرة، وكانت واجبةً على الكفاية في قول بعض أهل العلم، فأما إلى بيت المقدس فإنه فضيلةٌ واستحباب.
والحديث متأول على أنه لا يعتكف إلا في هذه المساجد الثلاثة، فيرحل إليها إذا نذر الاعتكاف فيها، وهو قول بعض السلف، ولو عين للاعتكاف غير هذه المساجد الثلاثة هي يتعين أم لا؟ فيه اختلاف، والله سبحانه أعلم.
এবং তাঁর বক্তব্য: "মসজিদুল হারাম", এই বিষয়ে আলোচনা এর অনুরূপ অন্যান্য দৃষ্টান্তের মতোই, যেমন তাদের কথা: "দারুল আখিরাত" এবং "মসজিদুল জামে"। কুফী পণ্ডিতদের পদ্ধতি অনুযায়ী এটি হলো মাউসুফকে (যাকে বর্ণনা করা হয়েছে) তার সিফাতের (গুণ) দিকে ইযাফাত (সম্বন্ধ) করা, যা তাদের নিকট বৈধ; কিন্তু বসরী পণ্ডিতগণ একে বৈধ মনে করেন না। তারা বলেন: এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো "পবিত্র সময়ের মাস", "একত্রিত হওয়ার স্থানের মসজিদ" এবং "পরকালীন জীবনের আবাস"। আল্লাহই ভালো জানেন।
আবু সালামাহ্, তাঁর নাম আবদুল্লাহ; আবার বলা হয় যে, তাঁর নাম জানা নেই। তিনি হলেন: আবু সালামাহ্ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ ইবনে আবদ ইবনুল হারিস ইবনে যুহরাহ্ আল-জুহরী, যিনি একজন ফকীহ, কুরাশী ও মাদানী ছিলেন।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং তাঁর পিতার নামের ব্যাপারে অনেক মতভেদ রয়েছে, যা আমরা এই স্থান ব্যতীত অন্য জায়গায় উল্লেখ করেছি। মহান আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
"আল-গারীব" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও উটের পিঠের বন্ধনী বাঁধা যাবে না"। "আল-গারাদ" হলো "গারাদাহ্" শব্দের বহুবচন। "আল-গারাদ" বলতে সেই বেল্ট বা ফিতাকে বোঝায় যা উটনীর পেটে বাঁধা হয় এবং এটিই হলো "বিতান" (পেটি)। আর "মাগরাদ" হলো সেই স্থান যেখানে এটি বাঁধা হয়।
এবং তাঁর বাণী: "সফরের প্রস্তুতি নেওয়া যাবে না" এর অর্থ হলো: যদি কেউ এই তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে সালাত আদায়ের মানত করে, তবে তা পালন করা তার জন্য আবশ্যক হবে না, অথবা তার মানত কার্যকর হবে না; যার ফলে সেখানে সফরের প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার এবং ভ্রমণের মাধ্যমে সেই দূরত্ব অতিক্রম করার আবশ্যকতা তৈরি হবে। হজ্জ ও উমরার ফরয পালনের জন্য মসজিদুল হারামের উদ্দেশ্যে সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় হিজরতের উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে সফরের প্রস্তুতি নেওয়া হতো, যা কোনো কোনো আলিমের মতে 'ফরযে কিফায়া' ছিল। আর বাইতুল মাকদিসের উদ্দেশ্যে সফর করা একটি ফযীলত ও মুস্তাহাব আমল।
হাদীসটির ব্যাখ্যা এভাবেও করা হয়েছে যে, এই তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও ইতিকাফ করা যাবে না; ফলে সেখানে ইতিকাফের মানত করলে সেখানে সফর করে যেতে হবে। এটি কোনো কোনো সালাফ (পূর্বসূরি)-এর অভিমত। তবে ইতিকাফের জন্য এই তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো মসজিদ নির্দিষ্ট করলে তা কি নির্ধারিত হবে নাকি হবে না? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। মহান আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
أخبرنا الشيخ أبو البقاء يعيش بن علي بن يعيش بن أبي السرايا الموصلي –شيخ النحاة بحلب- قراءةً عليه بها، أخبرك أبو الفضل عبد الله بن أحمد بن محمد الطوسي –خطيب الموصل بها-، أخبرنا أبو الفرج محمد بن محمود أبو حاتم القزويني، حدثنا أبو أحمد الفرضي ببغداد، حدثنا القاضي أبو عبد الله المحاملي، حدثنا علي بن شعيب قال: قال ابن أبي فديك: حدثنا عبد الله بن يزيد، عن أبيه، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((صلاة في مسجدي خير من ألف صلاة فيما سواه من المساجد إلا المسجد الحرام، ومنبري على ترعةٍ من ترع الجنة، وما بين بيتي ومنبري روضة من رياض الجنة)) .
وأخبرنا الشيخ أبو إسحق إبراهيم بن عثمان بن يوسف الكاشغري
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল বাকা ইয়াঈশ ইবনে আলী ইবনে ইয়াঈশ ইবনে আবিস সারায়া আল-মাওসিলী—যিনি আলেপ্পোর ব্যাকরণবিদদের প্রধান—সেখানে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফযল আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আত-তুসী—যিনি মসুলের খতীব ছিলেন—; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফারাজ মুহাম্মাদ ইবনে মাহমুদ আবু হাতিম আল-কাযউইনী; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আহমাদ আল-ফারযী বাগদাদে; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কাজী আবু আব্দুল্লাহ আল-মাহামিলী; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী ইবনে শুআইব, তিনি বলেন: ইবনে আবি ফুদাইক বলেছেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেছেন:
((আমার এই মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য সকল মসজিদে এক হাজার সালাতের চেয়েও উত্তম। আর আমার মিম্বর জান্নাতের বাগানসমূহের অন্যতম একটি উচ্চভূমির ওপর অবস্থিত, এবং আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্য হতে একটি বাগান।))
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে উসমান ইবনে ইউসুফ আল-কাশগারী।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
رحمه الله قراءةً عليه، أخبرنا أبو القاسم يحيى بن ثابت بن بندار بن إبراهيم البقال، أخبرنا طراد بن محمد بن علي الزينبي، أخبرنا أبو الحسين علي بن محمد بن عبد الله بن بشران المعدل، أخبرنا أبو جعفر محمد بن عمرو بن البختري الرزاز، حدثنا أحمد بن زهير، حدثنا مالك بن إسماعيل أبو غسان، حدثنا زهير، حدثنا محمد بن إسحاق، حدثني خبيب بن عبد الرحمن، عن حفص بن
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ইয়াহইয়া বিন সাবিত বিন বান্দার বিন ইবরাহিম আল-বাক্কাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তিরাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আজ-জায়নাবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুয়াদ্দাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আল-বাখতারি আর-রাজজাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন জুহাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক বিন ইসমাইল আবু গাসসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন খুবায়েব বিন আব্দুর রহমান, হাফস বিন... থেকে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
عاصم، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((إن منبري على حوضي، وإن ما بين بيتي ومنبري روضة من رياض الجنة، وصلاة في مسجدي كألف صلاة فيما سواه من المساجد، إلا المسجد الحرام)) .
حديث صحيح أخرجه مسلم في ((صحيحه)) من طرقٍ:
وخبيب هذا بخاء معجمة مضمومة، وكذلك جده خبيب بن يساف، ولجده صحبةٌ، والله أعلم.
وظاهر هذا؛ يدل على أن مسجد مكة أفضل من مسجد المدينة، واختلاف العلماء رضي الله عنهم في التفضيل بينهما مشهور، وليس تفصيله ههنا من غرضنا.
ولا خلاف أن الموضع الذي ضم أعضاء المصطفى صلوات الله وسلامه عليه المقدسة المشرفة، أفضل بقاع الأرض على الإطلاق، حتى موضع الكعبة المعظمة، والله سبحانه أعلم.
وقد روى هذا الحديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه وقال فيه: ((وصلاةٌ في المسجد الحرام أفضل من مئة ألف فيما سواه)) .
كما أخبرنا الشيخ الأصيل بقية الأشياخ أبو محمد الحسن بن
আসেম থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“নিশ্চয়ই আমার মিম্বর আমার হাউজের (হাউজে কাওসার) ওপর অবস্থিত, আর আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহ থেকে একটি বাগান। আর আমার মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত মসজিদে হারাম ব্যতীত অন্য সব মসজিদে এক হাজার সালাতের সমান।”
এটি একটি সহীহ হাদিস, যা ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
আর এই খুবাইব নামটি ‘খা’ বর্ণের ওপর পেশ দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে তাঁর দাদা খুবাইব ইবনে ইয়াসাফের নামও। আর তাঁর দাদার সাহাবিত্বের মর্যাদা রয়েছে, আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আর এর বাহ্যিক দিকটি একথাই নির্দেশ করে যে, মক্কার মসজিদ মদীনার মসজিদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এই দুই মসজিদের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম (রা.)-গণের মাঝে প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে, তবে সেটির বিস্তারিত আলোচনা এখানে আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
আর এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, যে পবিত্র স্থানটি মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুমহান ও বরকতময় পবিত্র অঙ্গসমূহকে ধারণ করে আছে, তা পৃথিবীর সমস্ত ভূখণ্ডের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠ, এমনকি সম্মানিত কাবার স্থানের চেয়েও। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই সর্বজ্ঞ।
আর এই হাদিসটি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-ও বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বর্ণিত হয়েছে: “আর মসজিদে হারামে এক ওয়াক্ত সালাত অন্য সব মসজিদের তুলনায় এক লক্ষ সালাতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।”
যেমনটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বংশীয় মর্যাদাসম্পন্ন শাইখ, পূর্বসূরী মাশায়েখদের অবশিষ্টাংশ আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
علي بن الحسين بن محمد الأسدي قراءةً رحمه الله، أخبرنا جدي القاضي النفيس أبو القاسم الحسين، أخبرنا أبو القاسم علي بن محمد بن علي المصيصي، أخبرنا محمد بن عبد الرحمن بن عثمان بن القاسم أبي نصر التميمي، أخبرنا أبو الحسن خيثمة بن سليمان بن حيدرة القرشي، أخبرنا أبو عمرو هلال بن العلاء بن هلال الباهلي، حدثنا عبد الله بن جعفر، حدثنا عبد الله بن عمرو، عن عبد
আলী বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আল-আসাদী পঠন পাঠের মাধ্যমে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা কাজী নাফীস আবুল কাসিম আল-হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-মাসিসী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন উসমান বিন আল-কাসিম আবু নাসর আত-তামিমী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান খাইসামা বিন সুলাইমান বিন হায়দারা আল-কুরাশী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর হিলাল বিন আল-আলা বিন হিলাল আল-বাহিলী, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন জাফর, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আমর, আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
الكريم الجزري، عن عطاء، عن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((صلاة في مسجدي هذا أفضل من ألف صلاة فيما سواه، إلا المسجد الحرام، وصلاة في المسجد الحرام أفضل من مئة ألف صلاة فيما سواه)) .
حكى شيخنا أبو عمرو رحمه الله، عن أبي بكر النقاش الإمام المفسر أنه قال: حسبت على هذا الرواية فبلغت صلاةٌ في المسجد الحرام عمر خمس وخمسين سنة وستة أشهر وعشرين ليلة، وصلاة يوم وليلة في المسجد الحرام –وهي خمس صلوات- عمر مئتي سنة وسبعٍ وسبعين سنةً وتسعة أشهر وعشر ليال.
وقد روينا هذا الحديث من حديث عبد الله بن الزبير رضي الله عنهما بزيادة حسنةٍ.
فأخبرنا الحسن بن محمد قراءةً رحمه الله، أنبأنا أبو الطاهر الحافظ، أخبرنا محمد بن عبد السلام بن أحمد الأنصاري، أخبرنا
কারীম আল-জাযারি, আতা থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
((আমার এই মসজিদে এক সালাত মাসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য যেকোনো মসজিদের এক হাজার সালাতের চেয়ে উত্তম। আর মাসজিদুল হারামে এক সালাত অন্য যেকোনো মসজিদের এক লক্ষ সালাতের চেয়ে উত্তম।))
আমাদের শাইখ আবু আমর (রহিমাহুল্লাহ) ইমাম ও মুফাসসির আবু বকর আন-নাক্কাশ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি এই বর্ণনার ভিত্তিতে হিসাব করে দেখেছি যে, মাসজিদুল হারামের একটি সালাত পঞ্চান্ন বছর, ছয় মাস এবং বিশ রাতের ইবাদতের সমান হয়। আর মাসজিদুল হারামে একদিন ও এক রাতের সালাত—যা পাঁচটি সালাত—দুইশত সাতাত্তর বছর, নয় মাস এবং দশ রাতের ইবাদতের সমান হয়।
আমরা এই হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে একটি উত্তম বর্ধিত অংশসহ বর্ণনা করেছি।
আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ) পঠনরত অবস্থায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহের আল-হাফিয আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুস সালাম ইবনে আহমদ আল-আনসারী আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
الحسن بن أحمد بن إبراهيم أبو علي، أخبرنا القاضي أبو بكر مكرم بن أحمد بن محمد البزاز، حدثنا أحمد بن عبيد الله النرسي، حدثنا شبابة بن سوار، حدثنا الربيع بن صبيح، قال: سمعت عطاء بن أبي رباح يحدث عن عبد الله بن الزبير رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((صلاة في مسجدي [هذا] أفضل من ألف صلاة في غيره إلا المسجد الحرام، وصلاة في المسجد الحرام تعدل مئة ألف)) .
قال الربيع: فقلت لعطاء: أرأيت هذا الفضل الذي جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد الحرام خاصةً، أو في الحرم كله؟ قال: بل في الحرم كله، قال: ((الحرم كله مسجد)) .
وأخبرنا الحسن بن علي بن الحسين، أخبرنا أبو القاسم الحسين، أخبرنا الخطيب أبو عبد الله الحسن بن أحمد بن أبي الحديد
আল-হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহীম আবু আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু বকর মাকরাম ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাযযার, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আন-নারসি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন রাবী ইবনে সাবিহ, তিনি বলেন: আমি আতা ইবনে আবি রাবাহকে আবদুল্লাহ ইবনে আয-যুবাইর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন:
((আমার [এই] মসজিদে এক সালাত অন্য মসজিদের এক হাজার সালাতের চেয়ে উত্তম, তবে মসজিদুল হারাম ব্যতীত। আর মসজিদুল হারামে এক সালাত এক লক্ষ সালাতের সমান।))।
রাবী বলেন: আমি আতাকে বললাম: নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণিত এই ফযিলত কি বিশেষভাবে শুধু মসজিদুল হারামের জন্য, নাকি পুরো হারাম এলাকার জন্য? তিনি বললেন: বরং পুরো হারাম এলাকার জন্য। তিনি বলেন: ((পুরো হারামই মসজিদ))।
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খতিব আবু আবদুল্লাহ আল-হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে আবি আল-হাদিদ।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
السلمي، أخبرنا أبو الحسن محمد بن عوف، أخبرنا أبو القاسم الفضل بن جعفر بن محمد التميمي، حدثنا إسحاق بن أحمد، حدثنا محمد بن إسحاق الصاغاني، حدثنا محمد بن يزيد الأزدي، حدثنا سعيد بن سالم القداح، عن سعيد بن بشير، عن إسماعيل بن
আস-সুলামী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন আওফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-ফাদল বিন জাফর বিন মুহাম্মাদ আত-তামিমী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আহমাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আস-সাগানী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইয়াযীদ আল-আযদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন সালিম আল-কাদ্দাহ, সাঈদ বিন বাশীর থেকে, তিনি ইসমাঈল বিন থেকে...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٤١)
عبيد الله، عن أم الدرداء رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:
((فضل الصلاة في المسجد الحرام على غيره مئة ألف صلاة، وفي مسجدي ألف صلاة، وفي مسجد بيت المقدس خمس مئة صلاة)) .
هذا حديثٌ حسنٌ غريب من حديث سعيد بن بشير الدمشقي، عن إسماعيل بن عبيد الله بن أبي المهاجر الدمشقي مولى بني مخزوم، عن أم الدرداء -وهي الصغرى- زوج أبي الدرداء، واسمها هجيمة بنت حيي الأوصابية من حمير، تفرد به سعيد بن سالم القداح المكي الدار، الكوفي الأصل، عن سعيد بن بشير، وهو ممن يكتب حديثه وكان موصوفاً بحفظ، وقد خطأ جماعةٌ من الحفاظ من ذكره في الضعفاء، روى عنه الكبار، ورواه عن سعيد بن سالم القداح، محمد بن أبي خالد يزيد الأزدي المعروف بالمقابري البغدادي، وقد كتب عنه الحفاظ.
فصلإذا توجه قاصداً للزيارة، فينبغي له أن يكثر من الصلاة والتسليم على رسول الله صلى الله عليه وسلم في طريقه إليه، فإذا وقع بصره على معالم المدينة وأشجارها وما يعرف به، فليزدد من الصلاة والتسليم عليه صلى الله عليه وسلم، وليسأل الله سبحانه أن ينفعه بزيارته، ويسعده بها في داريه، ويستحب له أن يقول:
اللهم افتح لي أبواب رحمتك، وارزقني في زيارة نبيك ما رزقته أولياءك وأهل طاعتك، واغفر لي وارحمني يا خير مسؤول.
&فصل&
يستحب له الاغتسال لدخول المدينة، ولبس النظيف من الثياب، ثم إذا دخلها ينبغي له أن يستحضر في قلبه شرف المدينة وفضلها، وأنها أفضل أمكنة الدنيا عند بعض العلماء بعد مكة، وعند بعضهم هي أفضل على الإطلاق، وأن الذي شرفت المدينة به، هو خير البشر، وأفضل الخلائق أجمعين، صلى الله تعالى عليه وآله وسلم.
উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি উম্মুদ দারদা (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
“মসজিদুল হারামে সালাত আদায়ের ফজিলত অন্য মসজিদের তুলনায় এক লক্ষ গুণ বেশি, আমার মসজিদে (মসজিদুন নববী) এক হাজার গুণ বেশি এবং বাইতুল মাকদিসের মসজিদে পাঁচশত গুণ বেশি।”
এটি একটি হাসান গরীব হাদিস, যা সাঈদ ইবনে বাশির আদ-দিমাশকি থেকে বর্ণিত, তিনি ইসমাঈল ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি আল-মুহাজির আদ-দিমাশকি (বনু মাখজুমের মুক্তদাস) থেকে, তিনি উম্মুদ দারদা আস-সুগরা থেকে—যিনি আবু দারদার স্ত্রী এবং তাঁর নাম হুযাইমাহ বিনতে হুয়াই আল-আওসাবিইয়াহ আল-হিমইয়ারি। সাঈদ ইবনে সালিম আল-কাদ্দাহ আল-মাক্কি (আদ-দার, আদিতে কুফি) এটি এককভাবে সাঈদ ইবনে বাশির থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাঈদ ইবনে বাশির) এমন একজন ব্যক্তি যার হাদিস লিখে রাখা হয় এবং তিনি হেফজ বা মুখস্থ রাখার গুণে গুণান্বিত ছিলেন। হাফেজগণের একটি দল তাঁকে দুর্বল বর্ণনাকারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কারণে ভুল করেছেন, তাঁর থেকে বড় বড় আলেমগণ হাদিস বর্ণনা করেছেন। সাঈদ ইবনে সালিম আল-কাদ্দাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবি খালিদ ইয়াযিদ আল-আযদি, যিনি আল-মুকাবিরি আল-বাগদাদি হিসেবে পরিচিত এবং হাফেজগণ তাঁর থেকে বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন।
পরিচ্ছেদযখন কেউ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে, তখন তাঁর উচিত পথিমধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ ও সালাম পাঠ করা। যখন তাঁর দৃষ্টি মদিনার নিদর্শনসমূহ, সেখানকার গাছপালা এবং পরিচিত বিষয়গুলোর ওপর পড়বে, তখন তিনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ ও সালাম আরও বাড়িয়ে দেবেন। আর তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন যাতে তিনি এই জিয়ারতের মাধ্যমে তাঁকে উপকৃত করেন এবং উভয় জাহানে তাঁকে এর মাধ্যমে সৌভাগ্যবান করেন। তাঁর জন্য এটি বলা মুস্তাহাব:
হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন। আপনার নবীর জিয়ারতের মাধ্যমে আমাকে তা দান করুন যা আপনি আপনার ওলি এবং আপনার আনুগত্যশীল বান্দাদের দান করেছেন। আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার ওপর রহম করুন, হে সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা।
&পরিচ্ছেদ&
মদিনায় প্রবেশের জন্য গোসল করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। অতঃপর যখন তিনি সেখানে প্রবেশ করবেন, তখন তাঁর উচিত হবে মদিনার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অন্তরে উপস্থিত করা; আর এটিও স্মরণে রাখা যে, কিছু আলেমের মতে মক্কার পরে এটিই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্থান, আবার কোনো কোনো আলেমের মতে এটি নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠতম স্থান। আর যাঁর মাধ্যমে মদিনা এই মর্যাদা লাভ করেছে, তিনি হলেন মানবজাতির শ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম, তাঁর এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
فليكن من أول ما يقدم، إلى أن يرحل عنها مستشعراً لتعظيمه، ممتلئ القلب من هيبته، كأنه شاهده يراه ويشاهده، محضراً في قلبه رأفته صلى الله عليه وسلم بأمته، وشفقته على من آمن منهم، واهتمامه بما يصلح أحوالهم في الدارين، حتى تكون زيارته له زيارة المحب المبجل، والمتحنن المعظم صلى الله عليه وسلم وشرف وكرم.
فصلفإذا أراد دخول المسجد فليقل: اللهم صل على محمدٍ وآل محمدٍ وسلم، اللهم اغفر لي ذنوبي، وافتح لي أبواب رحمتك، أعوذ بالله العظيم، وبوجهه الكريم، وسلطانه القديم من الشيطان الرجيم.
أخبرنا الحسن بن محمد بن الحسن، أخبرنا الحسين بن الحسن، أخبرنا علي بن محمد بن علي، أخبرنا شيخ الإسلام أبو عبد الله محمد بن مهران بن أحمد بن محمد بن مهران، أخبرنا أبو الحسن أحمد بن محمد بن عمران بن موسى، أخبرنا عبد الملك بن أحمد بن نصر الدقاق، حدثنا يونس بن عبد الأعلى، حدثنا ابن وهب، أخبرني يحيى بن عبد الله بن سالم، عن عمارة بن غزية، أنه سمع ربيعة بن أبي عبد الرحمن يقول: سمعت عبد الملك بن سعيد بن سويد الأنصاري يقول: سمعت أبا حميد، أو أبا أسيد الأنصاري رضي الله عنهما يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((إذا دخل أحدكم المسجد فليسلم على النبي صلى الله عليه وسلم، ثم ليقل: اللهم افتح
তিনি যখন সেখানে উপস্থিত হবেন, তখন থেকে সেখান থেকে বিদায় নেওয়া পর্যন্ত যেন তাঁর প্রতি সম্মানবোধ অনুভব করেন এবং তাঁর গাম্ভীর্যে অন্তর ভরপুর থাকে; যেন তিনি তাঁকে সচক্ষে দেখছেন এবং পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি যেন তাঁর অন্তরে উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দয়া, মুমিনদের প্রতি তাঁর মমতা এবং ইহকাল ও পরকালে তাদের অবস্থার সংশোধনে তাঁর গভীর আগ্রহকে উপস্থিত রাখেন; যাতে তাঁর এই যিয়ারত এক পরম শ্রদ্ধাশীল প্রেমিক এবং মহিমান্বিত দরদীর যিয়ারত হিসেবে গণ্য হয়। আল্লাহ তাঁর ওপর শান্তি, সম্মান ও মর্যাদা বর্ষণ করুন।
পরিচ্ছেদঅতঃপর তিনি যখন মসজিদে প্রবেশ করতে চাইবেন, তখন যেন বলেন: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিন। আমি মহান আল্লাহর কাছে, তাঁর সম্মানিত চেহারার মাধ্যমে এবং তাঁর অনাদি কর্তৃত্বের মাধ্যমে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন হাসান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন ইবন হাসান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখুল ইসলাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন মিহরান ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মিহরান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইমরান ইবন মুসা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল মালিক ইবন আহমদ ইবন নাসর আদ-দাক্কাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবন আব্দুল আলা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন ওয়াহাব, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল্লাহ ইবন সালিম, আম্মারা ইবন গাজিয়্যাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাবিয়া ইবন আবি আব্দুর রহমান-কে বলতে শুনেছেন: আমি আব্দুল মালিক ইবন সাঈদ ইবন সুয়াইদ আল-আনসারি-কে বলতে শুনেছি: আমি আবু হুমাইদ অথবা আবু উসাইদ আল-আনসারি রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
((তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সালাম পেশ করে, অতঃপর যেন বলে: হে আল্লাহ! আপনি খুলে দিন
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
لي أبواب رحمتك، وإذا خرج فليسلم على النبي صلى الله عليه وسلم وليقل: اللهم إني أسألك من فضلك)) .
أخرجه مسلم في ((صحيحه)) من حديث أبي حميد أو أبي أسيد، ولفظه: ((إذا دخل أحدكم فليقل، وإذا خرج فليقل)) .
وفي رواية: ((فليسلم على النبي صلى الله عليه وسلم ثم ليقل)) .
وأخرجه أبو عيسى الترمذي في ((جامعه)) عن علي بن حجر، عن إسماعيل بن إبراهيم، عن ليث، عن عبد الله بن الحسن، عن أمه فاطمة بنت الحسين، عن جدتها فاطمة الكبرى، رضوان الله عليهم أجمعين.
قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل المسجد صلى على محمد صلى الله عليه وسلم وسلم وقال:
((رب اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك، وإذا خرج صلى على آل محمد وسلم، وقال: رب اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب فضلك)) .
قال الترمذي: حديث فاطمة حديثٌ حسن، وليس إسناده بمتصل، لأن فاطمة بنت الحسين لم تدرك فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى آله أجمعين.
আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো (খুলে দিন), আর যখন সে বের হবে তখন যেন সে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি সালাম পাঠ করে এবং বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।
এটি মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে আবু হুমাইদ অথবা আবু উসাইদ-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দগুলো হলো: ‘যখন তোমাদের কেউ (মসজিদে) প্রবেশ করে তখন সে যেন বলে, আর যখন সে বের হয় তখন সে যেন বলে।’
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: ‘সে যেন নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি সালাম পাঠ করে, এরপর যেন বলে।’
আর আবু ঈসা তিরমিযী এটি তাঁর ‘জামে’ গ্রন্থে আলী ইবন হুজর থেকে, তিনি ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন হাসান থেকে, তিনি তাঁর জননী ফাতিমা বিনতে হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতামহী ফাতিমা আল-কুবরা (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরূদ ও সালাম পাঠ করতেন এবং বলতেন:
‘হে আমার রব! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন। আর যখন তিনি বের হতেন তখন মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর দরূদ ও সালাম পাঠ করতেন এবং বলতেন: হে আমার রব! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাগুলো খুলে দিন।’
তিরমিযী বলেন: ফাতিমার হাদীসটি হাসান হাদীস, তবে এর সনদ মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) নয়; কারণ ফাতিমা বিনতে হুসাইন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সকল পরিবারের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক-এর কন্যা ফাতিমার সাক্ষাৎ পাননি।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
فصل
ثم ليدخل المسجد -شرفه الله سبحانه- فيقصد الروضة المعظمة وهي ما بين قبره ومنبره صلى الله عليه وسلم، فيصلي ركعتين تحية المسجد إلى جانب المنبر.
وفي كتاب ((الإحياء)) : أن الواقف يجعل عمود المنبر حذاء منكبه ويستقبل السارية التي إلى جانبها الصندوق، فذلك موقف رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم يشكر الله سبحانه على هذه النعمة، ويسأله إتمام ما قصده.
وفي كتاب ((المدينة)) : إن ذرع ما بين المنبر ومقام النبي صلى الله عليه وسلم الذي كان يصلي فيه حتى توفي، أربع عشرة ذراعاً وشبر، وإن ذرع ما بين القبر والمنبر ثلاث وخمسون ذراعاً، ثم يأتي الضريح المقدس، فيستدبر القبلة ويستقبل جداره على نحو ثلاثة أذرع من السارية التي عند رأس القبر في زاوية جداره.
وجدت في كتاب الشيخ أبي عبد الله محمد بن محمود بن هبة الله بن محاسن الحافظ المؤرخ البغدادي في ((أخبار المدينة)) وأجازني روايته، وقد لقيته ببغداد سنة إحدى وأربعين، وسمعت منه، وكتب لي بخطه بعض ما سمعته منه، وناولني تاريخه الذي ذيل به ((تاريخ بغداد)) ، وكتب عني-فيما أظن- وسمع بقراءتي.
পরিচ্ছেদ
অতঃপর সে মসজিদে প্রবেশ করবে -আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে সম্মানিত করুন- এবং মহান রওজার দিকে অগ্রসর হবে, যা হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর এবং মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান। এরপর সে মিম্বরের পাশে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ সালাত আদায় করবে।
‘এহিয়া’ কিতাবে বর্ণিত আছে যে: অবস্থানকারী ব্যক্তি মিম্বরের খুঁটি তার কাঁধ বরাবর রাখবে এবং সেই স্তম্ভের দিকে মুখ করবে যার পাশে সিন্দুক রয়েছে। কারণ সেটিই হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাঁড়ানোর স্থান। অতঃপর সে এই নিআমতের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার শুকরিয়া আদায় করবে এবং তিনি যেন তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করেন সেই প্রার্থনা করবে।
‘মদিনা’ কিতাবে বর্ণিত আছে যে: মিম্বর এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত আদায়ের স্থানের (যেখানে তিনি ইন্তেকাল পর্যন্ত সালাত আদায় করেছেন) মধ্যবর্তী পরিমাপ হলো চৌদ্দ হাত এক বিঘত। আর কবর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো তিপ্পান্ন হাত। অতঃপর সে পবিত্র রওজার নিকট আসবে এবং কিবলাকে পেছনে রেখে এর দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়াবে; যা দেয়ালের কোণে কবরের মাথার পার্শ্বস্থ স্তম্ভ থেকে প্রায় তিন হাত দূরত্বে অবস্থিত।
আমি শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে মাহাসিন আল-হাফিজ আল-বাগদাদি ইতিহাসবিদের ‘আখবারুল মদিনা’ কিতাবে এটি পেয়েছি। তিনি আমাকে এটি বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেছেন। আমি একচল্লিশ সনে বাগদাদে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাঁর থেকে শ্রবণ করেছি। আমি তাঁর নিকট যা শুনেছি তার কিছু অংশ তিনি নিজ হাতে আমার জন্য লিখে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর রচিত ইতিহাসের কিতাবটি আমাকে প্রদান করেন যা তিনি ‘তারিখে বাগদাদ’ এর পরিশিষ্ট হিসেবে লিখেছেন। আমার ধারণা মতে, তিনি আমার থেকেও কিছু লিখে নিয়েছেন এবং আমার পাঠ শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুয যায়ির ওয়া ইত্রাফুল মুকিম লিস সায়ির লিআবিল ইয়ামান ইবনি আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
أخبرنا يحيى بن الحسين الأواني، أخبرنا أبو الكرم الشهرزوري، أخبرنا أبو بكر الخياط، حدثنا أبو عبد الله ابن دوست، حدثنا الحسين ابن صفوان، حدثنا ابن أبي الدنيا، حدثنا سعيد بن عثمان الجرجاني،
ইয়াহইয়া বিন আল-হুসাইন আল-আওয়ানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কারাম আশ-শাহরাযুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-খাইয়াত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ ইবনে দুস্ত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হুসাইন ইবনে সাফওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবিদ দুনইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন উসমান আল-জুরজানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,