(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: -)
عروس الأجزاء القسم: كتب السنة
الكتاب: عروس الأجزاء
المؤلف: أَبُو الفَرَجِ مَسْعُوْدُ بنُ الحَسَنِ الثَّقَفِيُّ الأَصْبَهَانِيُّ (ت 562هـ)
المحقق: محمد صباح منصور
الناشر: دار البشائر الإسلامية
الطبعة: الأولى، 1424هـ - 2003م
عدد الصفحات: 91
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433
আরূসুল আজযা বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আরূসুল আজযা
লেখক: আবু আল-ফারাজ মাসউদ বিন আল-হাসান আল-সাকাফী আল-আসবাহানী (মৃত্যু ৫৬২ হিজরী)
সম্পাদক: মুহাম্মদ সাবাহ মনসুর
প্রকাশক: দার আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরী - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: -)
عروس الأجزاء
تصنيف
سيد الرؤساء مسعود بن الحسن الثقفي الأصبهاني
المتوفى سنة 562 هـ
تحقيق
محمد صباح منصور
دار البشائر الإسلامية
الطبعة الأولى
1424هـ - 2003م
আরূসুল আজযা
সংকলন
সাইয়্যিদুল রুআসা মাসউদ বিন আল-হাসান আল-সাকাফী আল-আসবাহানী
মৃত্যু: ৫৬২ হিজরী
তাহকীক
মুহাম্মদ সাবাহ মানসূর
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ
প্রথম প্রকাশ
১৪২৪ হিজরী - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الجزء الأول من كتاب عروس الأجزاءخرجه الحافظ أبو منصور بن علي الجرباذقاني
لسيد الرؤساء مسعود بن الحسن الثقفي
أخبرنا به عنه:
الشيخ الإمام العالم ضياء الدين أبوبكر محمد بن يوسف بن أبي بكر القراكلائي الآملي الطبري المعروف بإمام الملك الناصر رحمه الله
سماع منه لعبد الرحمن بن حمدان بن أحمد الكناني التكريتي نفعه الله بالعلم
وقف على جميع المسلمين
ومستقره بالمدرسة الضيائية بسفح قاسيون
تقبل الله من واقفه
কিতাব ‘আরুসুল আজজা’-র প্রথম খণ্ডএটি সংকলন করেছেন হাফিজ আবু মানসুর বিন আলী আল-জারবাজকানী
সাইয়িদুর রুয়াসা মাসউদ বিন আল-হাসান আস-সাকাফীর জন্য
তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের এটি জানিয়েছেন:
শাইখ, ইমাম, আলিম যিয়াউদ্দীন আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আবি বকর আল-কারাকলাই আল-আমুলি আত-তাবারী, যিনি ইমামুল মালিকুন নাসির হিসেবে পরিচিত, আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন
এটি তাঁর নিকট থেকে শুনেছেন আব্দুর রহমান বিন হামদান বিন আহমদ আল-কিনানী আত-তিকরিতী, আল্লাহ তাঁকে ইলমের মাধ্যমে উপকৃত করুন
সকল মুসলিমের জন্য ওয়াকফকৃত
এবং এর অবস্থান কাসিয়ুন পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত আল-মাদরাসাতুয যিয়াইয়্যাহ-তে
আল্লাহ এর ওয়াকফকারীর পক্ষ থেকে কবুল করুন
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
[لا قوة إلا بالله]
أخبرنا الشيخ الإمام ضياء الدين أبوبكر محمد بن يوسف بن أبي بكر الطبري المقرئ - قراءة عَلَيْهِ وأنا أسمع فِي يوم الثلاثاء سابع شعبان سنة ست وتسعين وخمسمائة بجامع دمشق - قال: أخبرنا سيد الرؤساء عز الدين أبو الفرج مسعود بن الحسن الثقفي - بِقِرَاءَةِ أَبِي مَنْصُورٍ مُحَمَّدِ بْنِ علي بن المطهر المحدث الجرباذقاني بأصبهان -:
1 - أنا الشيخ السديد أبوعمرو بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْدَهْ الْحَافِظُ بِقِرَاءَةِ أَبِي مُحَمَّدٍ الطِّيسِيِّ الْحَافِظُ أنا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ الْخَفَّافُ الْقَنْطَرِيُّ فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ أنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مِهْرَانَ السَّرَّاجُ الثَّقَفِيُّ سَنَةَ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ وثلاثمائة ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ
اسْتَفْتَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ جَحْشٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنِّي أُسْتَحَاضُ فَقَالَ إِنَّمَا ذَلِكَ عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ صَلِّي.
⦗ص: 26⦘ وَكَانَتْ تَغْتَسِلُ عِنْدَ كُلِّ صَلاةٍ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
[আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই]
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম জিয়াউদ্দীন আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আবি বকর আত-তাবারী আল-মুক্বরি—তাঁকে পড়ে শোনানো হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম ৫৯৬ হিজরি সনের ৭ই শাবান মঙ্গলবার দামেস্কের জামে মসজিদে—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যিদুর রুআসা ইজ্জুদ্দীন আবু আল-ফারাজ মাসউদ বিন আল-হাসান আস-সাকাফী—ইস্পাহানে আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-মুতাহার আল-মুহাদ্দিস আল-জারবাজাক্বানি পাঠের মাধ্যমে—:
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আস-সাদিদ আবু আমর বিন আবু আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ আল-হাফিজ—আবু মুহাম্মদ আত-তীসী আল-হাফিজ পাঠের মাধ্যমে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-খাফফাফ আল-কানতারী—তাঁকে যা পড়ে শোনানো হয়েছে তাতে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন মিহরান আস-সাররাজ আস-সাকাফী ৩১২ হিজরি সনে। আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন কুতাইবা বিন সাঈদ। আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন লাইস বিন সা'দ ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন—
উম্মে হাবীবা বিনতে জাহশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফতোয়া প্রার্থনা করে বললেন, "আমি ইস্তিহাজাগ্রস্থ (প্রবল রক্তস্রাব হওয়া)।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এটি একটি শিরা (থেকে নির্গত রক্ত), সুতরাং তুমি গোসল করো এবং এরপর সালাত আদায় করো।"
⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ আর তিনি প্রত্যেক সালাতের সময় গোসল করতেন।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
2 - وَبِهِ ثنا اللَّيْثُ عَنْ يَزِيدَ عن أَبِي حَبِيبٍ عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ عِرَاكٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ
إِنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ سَأَلَتْ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الدَّمِ قَالَتْ عَائِشَةُ رَأَيْتُ مَرْكَنَهَا مُلِئَ دَمًا فَقَالَ لَهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم امْكُثِي قَدْرَ مَا كَانَتْ تحبسك حيضتك ثم اغتسلي.
২ - এবং এর মাধ্যমে আমাদের নিকট লাইস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবু হাবিব থেকে, তিনি জাফর থেকে, তিনি ইরাক থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন
নিশ্চয়ই উম্মে হাবিবা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি তাঁর গোসলের গামলাটি রক্তে পূর্ণ হতে দেখেছি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তোমার ঋতুস্রাব তোমাকে যতটুকু সময় আটকে রাখত, ততটুকু সময় তুমি অপেক্ষা করো, তারপর গোসল করে নাও।"
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
3 - وأخبرنا سيد الرؤساء أنا أَبُو عَمْرِو بْنِ مَنْدَهْ أنا الْخَفَّافُ كِتَابَةً أنا السَّرَّاجُ نا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ نا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدِ (ح) قال السراج ثنا أَبُو هَمَّامٍ ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ الله بن نَمِرٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ
خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الاثْنَيْنِ إِلَى قِبَاءَ حَتَّى إذا فِي بَنِي سَالِمٍ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَابِ عِتْبَانَ فَصَرَخَ بِهِ فَخَرَجَ يَجُرُّ إِزَارَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَجَّلْنَا الرَّجُلَ فَقَالَ عِتْبَانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ يَعْجَلُ عَنِ امْرَأَتِهِ وَلَمْ يُمْنِ مَاذَا عَلَيْهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ
৩ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যিদুর রুয়াসা, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর ইবনে মানদাহ, তিনি বলেন আমাদের আল-খাফফাফ লিখিতভাবে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের আস-সাররাজ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, (হ) সাররাজ বলেন, আমাদের আবু হাম্মাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের ইসমাইল ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন শারিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নামির থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি সাঈদ আল-খুদরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
আমি সোমবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কুবার উদ্দেশ্যে বের হলাম, এমনকি যখন আমরা বনু সালিম গোত্রে পৌঁছালাম, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতবানের দরজায় দাঁড়ালেন এবং তাঁকে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন। এরপর তিনি তাঁর পরিধেয় বস্ত্র টেনে টেনে বেরিয়ে এলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমরা লোকটিকে তাড়াহুড়োয় ফেলে দিয়েছি। ইতবান বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনার অভিমত কী—যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর নিকট থেকে দ্রুত আলাদা হতে বাধ্য হয় এবং বীর্যপাত না ঘটে, তবে তার ওপর কী করণীয়? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: পানি (গোসল) কেবল পানির (বীর্যপাত) কারণেই ওয়াজিব হয়।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
4 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ كَتِفَ شَاةٍ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلاةِ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَلَمْ يَتَمَضْمَضْ.
৪ - [এবং তাঁর মাধ্যমেই] আমাদের নিকট কুতাইবা বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে,
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি বকরীর কাঁধের গোশত ভক্ষণ করেছিলেন, অতঃপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ালেন ও সালাত আদায় করলেন এবং তিনি (নতুন করে) ওযু করেননি ও কুলিও করেননি।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
5 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ لَبَنًا ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَتَمَضْمَضَ ثُمَّ قَالَ إِنَّ لَهُ دَسَمًا.
৫ - [এবং একই সনদে] আমাদের নিকট কুতাইবা ইবনে সাঈদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইস থেকে, তিনি উকাইল থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুধ পান করলেন, অতঃপর তিনি পানি চাইলেন এবং কুলি করলেন। এরপর তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই এতে চর্বি রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
6 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ يَحْيَى عَنْ بَشِيرِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ النُّعْمَانِ صَاحِبِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ
أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَوِيقٍ فَأَكَلَ وَأَكَلْنَا مَعَهُ ثُمَّ تَمَضْمَضَ فَقَامَ وَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ.
৬ - [এবং সেই একই সূত্রে] কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লায়স ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি বশির ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী সুওয়াইদ ইবনে নু'মান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছাতু আনা হলো। তিনি তা খেলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে খেলাম। অতঃপর তিনি কুলি করলেন এবং দাঁড়িয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন, অথচ তিনি (নতুন করে) অজু করেননি।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
7 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا أَبُو عَوَانَةَ وَاسْمُهُ الْوَضَّاحُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاةَ الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ وَرَجُلٌ يَقْرَأُ خَلْفَهُ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ أَيُّكُمْ قَرَأَ {سَبِّحِ اسم ربك الأعلى} فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أَنَا وَلَمْ أُرِدْ بِهَا إِلا الْخَيْرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ عَرَفْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا.
৭ - [এবং তাঁর সনদেই] আমাদের নিকট কুতাইবা ইবনে সাঈদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আওয়ানাহ—তাঁর নাম আল-ওয়াদদাহ—হাদীস বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ ইবনে আওফা থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন যে,
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যোহর অথবা আসরের সালাত আদায় করছিলেন এবং এক ব্যক্তি তাঁর পিছনে তিলাওয়াত করছিল। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কে 'আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন' পাঠ করেছ?" উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: "আমি, আর আমি এর মাধ্যমে কেবল কল্যাণই চেয়েছি।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি অনুভব করছিলাম যে, তোমাদের কেউ একজন আমার সাথে এটি (তিলাওয়াত) নিয়ে টানাহেঁচড়া করছিল।"
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
8 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ
كُنَّا نَقُولُ فِي الصَّلاةِ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم السَّلامُ عَلَى اللَّهِ السَّلامُ عَلَى فُلانٍ فَقَالَ لَنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلامُ فَإِذَا قَعَدَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاةِ فَلْيَقُلْ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورسوله ثم يتخير من الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ.
৮ - [এবং তাঁর মাধ্যমেই] কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জারীর আমাদের নিকট মানসুর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ওয়াইল থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে নামাজে থাকাকালীন বলতাম: আল্লাহর ওপর সালাম বর্ষিত হোক, অমুকের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। তখন একদিন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ নিজেই সালাম। সুতরাং যখন তোমাদের কেউ নামাজে বসবে, সে যেন বলে: যাবতীয় অভিবাদন আল্লাহর জন্য, যাবতীয় প্রার্থনা এবং যাবতীয় পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।" অতঃপর সে নিজের জন্য যা ইচ্ছা প্রার্থনা (দোয়া) পছন্দ করে নেবে।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
9 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ وَطَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا التَّشَهُّدَ كَمَا يُعَلِّمُنَا الْقُرْآنَ وَكَانَ يَقُولُ التَّحِيَّاتُ الْمُبَارَكَاتُ الصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ سَلامٌ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ سَلامٌ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
৯ - [এবং তাঁরই সূত্রে] কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইস ইবনে সা'দ থেকে, তিনি আবু যুবায়র থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের ও তাউস থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন যেভাবে তিনি আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: সমস্ত সম্মানজনক অভিবাদন, বরকতসমূহ, সালাতসমূহ এবং পবিত্র বিষয়সমূহ আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকতসমূহ বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
10 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ حَطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ قَالَ صَلَّى بِنَا أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ صَلاةً فَلَمَّا جَلَسَ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أُقِرَّتِ الصَّلاةُ بِالْبِرِّ وَالزَّكَاةِ
⦗ص: 29⦘ فَلَمَّا قَضَى أَبُو مُوسَى الصَّلاةَ اسْتَقْبَلَ الْقَوْمَ بِوَجْهِهِ فَقَالَ أَيُّكُمُ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقَالَ أَيُّكُمُ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقَالَ لَعَلَّكَ يَا حَطَّانُ قُلْتَهَا قَالَ مَا قُلْتُهَا وَلَكِنْ هِبْتُ أَنْ تَبْكَعَنِي بِهَا فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أَنَا قُلْتُهَا وَلَمْ أُرِدْ بِهَا إِلا الْخَيْرَ
ثُمَّ قَالَ أَبُو مُوسَى أَمَا تَعْلَمُونَ كَيْفَ تَقُولُونَ فِي صَلاتِكُمْ إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَنَا وَبَيَّنَ لَنَا سُنَّتَنَا وَعَلَّمَنَا صَلاتَنَا قَالَ
إِذَا قمتم إلى صلاتكم فَأَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ثُمَّ لِيَؤُمُّكُمْ أَحَدُكُمْ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَالَ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ يُجِبْكُمُ اللَّهُ عز وجل وَإِذَا كَبَّرَ وَرَكَعَ فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوا فَإِنَّ الإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ فَتِلْكَ بِتِلْكَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ سَمِعَ اللَّهُ لَكُمْ فَإِذَا كَبَّرَ وَسَجَدَ فَكَبِّرُوا وَاسْجُدُوا فَإِنَّ الإِمَامَ يَسْجُدُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ فَتِلْكَ بِتِلْكَ فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ فَلْيَكُنْ مِنْ أَوَّلِ قَوْلِ أَحَدُكُمْ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إلا اله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
১০ - [এবং তাঁর মাধ্যমেই] আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতায়বা বিন সাঈদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানা, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি ইউনুস বিন জুবায়ের হতে, তিনি হাত্তান বিন আব্দুল্লাহ আর-রাক্কাশি হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু মুসা আল-আশআরি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি (তাশাহহুদের জন্য) বসলেন, তখন কওমের এক ব্যক্তি বলে উঠল: সালাতকে নেক আমল ও জাকাতের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।
⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ আবু মুসা যখন সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি লোকেদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন: তোমাদের মধ্যে এমন কথা কে বলেছে? লোকেরা নিরব রইল। তিনি পুনরায় বললেন: তোমাদের মধ্যে এমন কথা কে বলেছে? এবারও লোকেরা নিরব রইল। তখন তিনি বললেন: হে হাত্তান, সম্ভবত তুমিই এটি বলেছ? তিনি (হাত্তান) বললেন: আমি তা বলিনি, তবে আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে আপনি হয়তো একারণে আমাকে তিরস্কার করবেন। তখন কওমের এক ব্যক্তি বলল: আমি এটি বলেছি, আর আমি এর মাধ্যমে কেবল কল্যাণেরই ইচ্ছা করেছি।
অতঃপর আবু মুসা বললেন: তোমরা কি জানো না তোমাদের সালাতে কী বলতে হয়? আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আমাদের সুন্নাত বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের সালাত শিখিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
যখন তোমরা তোমাদের সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের কাতারসমূহ সোজা করবে, এরপর তোমাদের মধ্য থেকে একজন ইমামতি করবে। তিনি যখন তাকবীর বলবেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে। আর যখন তিনি 'গাইরিল মাগদুব আলাইহিম ওয়ালাদ-দাল্লীন' বলবেন, তখন তোমরা বলবে 'আমীন', আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তোমাদের ডাকে সাড়া দেবেন। আর তিনি যখন তাকবীর বলে রুকু করবেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে ও রুকু করবে; কেননা ইমাম তোমাদের আগে রুকু করবেন, ফলে এটি ওটির বিনিময় হয়ে যাবে। আর তিনি যখন 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবেন, তখন তোমরা বলবে 'আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ', আল্লাহ তোমাদের কথা শ্রবণ করবেন। তিনি যখন তাকবীর বলে সিজদাহ করবেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে ও সিজদাহ করবে; কেননা ইমাম তোমাদের আগে সিজদাহ করবেন এবং তোমাদের আগে মাথা উঠাবেন, ফলে এটি ওটির বিনিময় হয়ে যাবে। যখন বসার (তাশাহহুদ) সময় হবে, তখন তোমাদের প্রত্যেকের প্রথম কথা যেন হয়: সকল সম্মানজনক সম্ভাষণ আল্লাহর জন্য, সকল সালাত ও পবিত্র বিষয়সমূহ আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
11 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا بَكْرُ بْنُ نَضْرٍ عَنِ ابْنِ الْهَادِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ
قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا السَّلامُ عَلَيْكَ قَدْ عَرَفْنَاهُ فَكَيْفَ الصَّلاةُ عَلَيْكَ قَالَ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ كَمَا صَلَّيْتَ
⦗ص: 30⦘ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ
১১ - [তার মাধ্যমেই] আমাদের নিকট কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, বকর ইবনে নাদর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল হাদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে খাব্বাব থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—
আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি এই সালাম তো আমরা জেনেছি, তবে আপনার প্রতি সালাত কীভাবে হবে? তিনি বললেন, তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও আপনার রাসূল মুহাম্মাদের প্রতি সালাত বর্ষণ করুন যেমন আপনি সালাত বর্ষণ করেছেন
⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ ইবরাহীমের প্রতি, এবং মুহাম্মাদের প্রতি বরকত নাযিল করুন যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহীমের প্রতি।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
12 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا قَالَ الْقَارِئُ {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عليهم ولا الضالين} فَقَالَ مَنْ خَلْفهُ آمِينَ فَوَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ أَهْلِ السَّمَاءِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.
১২ - [এবং তাঁর মাধ্যমেই] আমাদের নিকট কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াকুব ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে,
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন তিলাওয়াতকারী (ইমাম) ‘গাইরিল মাগদুবী আলাইহিম ওয়ালাদ দাল্লীন’ বলেন এবং তাঁর পেছনে থাকা মুক্তাদিগণ ‘আমীন’ বলেন, অতঃপর যার কথা আসমানবাসীদের (ফেরেশতাদের) কথার সাথে মিলে যায়, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
13 - قَالَ وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مِثْلَهُ.
১৩ - তিনি বলেন: কুতায়বা ইবনু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ সুহায়ল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—অতঃপর তিনি অনুরূপ (হাদিস) উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
14 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ
خَرَّ رَسُولُ الله عَنْ فَرَسٍ فَجُحِشَ فَصَلَّى لَنَا قَاعِدًا فَصَلَّيْنَا مَعَهُ قُعُودًا ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ.
১৪ - [এবং তাঁর সূত্রে] আমাদের নিকট কুতায়বাহ ইবনে সাঈদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি লায়স ইবনে সাদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন এবং তাঁর শরীরের একপাশ ছিলে গেল। ফলে তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে বসে সালাত আদায় করলাম। এরপর তিনি সালাত শেষ করে বললেন: ইমাম তো নিযুক্ত করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্যই। সুতরাং তিনি যখন তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলো; যখন তিনি রুকু করেন, তখন তোমরাও রুকু করো; যখন তিনি সিজদাহ করেন, তখন তোমরাও সিজদাহ করো; আর তিনি যখন বসে সালাত আদায় করেন, তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করো।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
15 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا اللَّيْثُ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّهُ قَالَ
اشْتَكَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ وَهُوَ قَاعِدٌ وَأَبُو بَكْرٍ يُكَبِّرُ يُسْمِعُ النَّاسَ تَكْبِيرَهُ قَالَ فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا فَرَآنَا قِيَامًا فَأَشَارَ إِلَيْنَا فَقَعَدْنَا فَصَلَّيْنَا بِصَلاتِهِ قُعُودًا فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ إِنْ كِدْتُمْ آنِفًا لَتَفْعَلُونَ فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّومِ يَقُومُونَ عَلَى مُلُوكِهِمْ وَهُمْ قُعُودٌ فَلا تَفْعَلُوا ائْتَمُّوا بِأَئِمَّتِكُمْ إِنْ صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِنْ صَلَّى قَاعدًا فَصَلُّوا قعودا
১৫ - [এবং তাঁর মাধ্যমেই] আমাদের নিকট কুতায়বাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইস থেকে, তিনি আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন—
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলেন, তাই আমরা তাঁর পিছনে সালাত আদায় করলাম যখন তিনি বসা ছিলেন। আবু বকর তাকবীর দিচ্ছিলেন যেন মানুষকে তাঁর তাকবীর শোনাতে পারেন। তিনি (জাবির) বলেন: এরপর তিনি আমাদের দিকে তাকালেন এবং আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমাদের ইশারা করলেন, ফলে আমরা বসে পড়লাম। আমরা তাঁর সালাতের সাথে বসে সালাত আদায় করলাম। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, তখন বললেন: তোমরা এইমাত্র পারস্য ও রোমবাসীদের মতো কাজ করতে যাচ্ছিলে; তারা তাদের রাজাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে অথচ তারা (রাজারা) বসা থাকে। তোমরা এরূপ করো না। তোমরা তোমাদের ইমামদের অনুসরণ করো; যদি তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন তবে তোমরাও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, আর যদি তিনি বসে সালাত আদায় করেন তবে তোমরাও বসে সালাত আদায় করো।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أحاديث أبي كريب
16 - وأخبرنا سيد الرؤساء مسعود أنا أَبُو عَمْرِو بْنِ مَنْدَهْ قراءة عَلَيْهِ وأنا أسمع فِي رمضان سنة ثلاث وسبعين وأربعمائة أنا أَبُو الْحُسَيْن الخفاف فِي كتابه أنا أَبُو الْعَبَّاس السراج ثنا أَبُو كريب ثنا ابْن فضيل وابن نمير. قَالَ السراج وثنا أَبُو كريب ويعقوب بْن إِبْرَاهِيم قَالا ثنا أَبُو مُعَاوِيَة
كلهم عَنِ الأَعْمَش عَنْ أَبِي سُفْيَان عَنْ جَابِر قَالَ
ركب رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فرسًا بالمدينة يَعْنِي الْحَدِيث.
আবু কুরাইব-এর হাদীসসমূহ
১৬ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যিদুর রুয়াসা মাসউদ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর বিন মানদাহ; তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণ করছিলাম ৪৭৩ হিজরীর রমজান মাসে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হোসেন আল-খাফফাফ তাঁর কিতাবে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আস-সাররাজ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে ফুদাইল এবং ইবনে নুমাইর। সাররাজ বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব এবং ইয়াকুব বিন ইবরাহীম; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া।
তাঁরা সকলে আমাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় একটি ঘোড়ায় আরোহণ করেছিলেন—অর্থাৎ পূর্ণ হাদীসটি।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
17 - وحدثنا الرئيس مسعود أنا ابْنُ مَنْدَهْ أنا الْخَفَّافُ إِجَازَةً أنا السَّرَّاجُ أنا أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ ثنا قَبِيصَةُ وَسُوَيْدُ الْكَلْبِيُّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ
أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِطَعَامٍ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ فَأَكَلَهُ ثُمَّ تَوَضَّأَ فَصَلَّى ثُمَّ أَكَلَ بَعْدَ ذَلِكَ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ.
১৭ - প্রেসিডেন্ট মাসউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু মানদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-খাফফাফ ইজাযাত প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আস-সাররাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু কুরাইব মুহাম্মদ ইবনুল আলা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কবিসাহ ও সুওয়াইদ আল-কালবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনু আবি সালামা আল-মাজিশুন থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আগুনের স্পর্শ করা (রান্না করা) কিছু খাদ্য আনা হলে তিনি তা আহার করলেন। অতঃপর তিনি অযু করলেন এবং সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি পুনরায় আহার করলেন এবং সালাত আদায় করলেন, কিন্তু (নতুন করে) অযু করলেন না।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
18 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا السَّرَّاجُ قَالَ ثنا أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ ثنا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ وَابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ
صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وعمر وعثمان وكانوا يفتتحون بالحمد لله رب العالمين
وَهَذَا الْحَدِيثُ مِنْ أَحَادِيثَ قُتَيْبَةَ بن سعيد.
১৮ - [এবং সেই সনদে] আমাদের নিকট আস-সাররাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু কুরাইব মুহাম্মদ ইবনুল আলা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক মা’মার এবং ইবনে আবি আরুবাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে এবং তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর, উমর এবং উসমানের পেছনে সালাত আদায় করেছি। তাঁরা ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ (সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য) দ্বারা কিরাত শুরু করতেন।
আর এই হাদিসটি কুতাইবাহ ইবনে সাঈদের বর্ণিত হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
19 - أخبرنا سيد الرؤساء مسعود أنا أَبُو عَمْرِو بْنِ مَنْدَهْ أنا أَبُو الْحُسَيْنِ الْخَفَّافُ إِجَازَةً أنا أَبُو الْعَبَّاس السراج ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا اللَّيْثُ عَنِ ابْنِ عَجْلانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَوْلَى الْحُرَقَةِ عَنْ أَبِي السَّائِبِ مَوْلَى هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أيما رجل صَلَّى صَلاةً بِغَيْرِ قِرَاءَةٍ فَهِيَ خِدَاجٌ فَهِيَ خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ قَالَ قُلْتُ إِنِّي لا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْرَأَ مَعَ الإِمَامِ قَالَ اقْرَأْ فِي نَفْسِكَ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل قَالَ قَسَّمْتُ الصَّلاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي فَأَوَّلُهَا لِي وَأَوْسَطُهَا بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَآخِرُهَا لِعَبْدِي وَلَهُ مَا سَأَلَ قَالَ {الحمد لله رب العالمين} قَالَ حَمِدَنِي عَبْدِي قَالَ {الرَّحْمَنِ الرحيم} قَالَ أَثْنَى عَلِيَّ عَبْدِي وَقَالَ {مالك يوم الدين} قَالَ مَجَّدَنِي عَبْدِي فَهَذَا لِي قَالَ {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} قَالَ أَخْلَصَ الْعِبَادَةَ لِي وَاسْتَعَانَنِي عَلَيْهَا فَهَذَا بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلَهُ مَا سَأَلَ قَالَ {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضالين} فَهَذَا لِعَبْدِي وَلَهُ مَا سَأَلَ.
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইয়িদুল রুয়াসা মাসউদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর বিন মানদাহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আল-খাফফাফ অনুমতিসূত্রে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আস-সাররাজ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কুতাইবা বিন সাঈদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন লাইস, তিনি ইবন আজলান থেকে, তিনি আল-হুরাকার মুক্তদাস আবদুর রহমান থেকে, তিনি হিশাম বিন জুহরার মুক্তদাস আবু সাইব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন:
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি কিরাত পাঠ করা ছাড়া সালাত আদায় করল, তা অপূর্ণাঙ্গ, তা অপূর্ণাঙ্গ, তা অসম্পূর্ণ। (বর্ণনাকারী) বললেন, আমি বললাম: আমি তো ইমামের পেছনে পড়তে সক্ষম নই। তিনি বললেন: তুমি তা মনে মনে পড়ো। কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: আমি সালাতকে (সুরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি। এর প্রথমাংশ আমার জন্য, মধ্যভাগ আমার ও আমার বান্দার মধ্যে এবং শেষাংশ আমার বান্দার জন্য; আর আমার বান্দা যা চাইবে তা-ই পাবে। বান্দা যখন বলে ‘সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য’, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। যখন সে বলে ‘পরম করুণাময়, অতি দয়ালু’, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করল। যখন সে বলে ‘বিচার দিবসের মালিক’, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমাকে মহিমান্বিত করল; এটি আমার জন্য। যখন সে বলে ‘আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই’, তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করেছে এবং এর ওপর আমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছে; এটি আমার ও আমার বান্দার মাঝে, আর আমার বান্দা যা চাইবে তা-ই পাবে। যখন সে বলে ‘আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন, তাদের পথ যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন, যাদের ওপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়’, তখন আল্লাহ বলেন: এটি আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই পাবে।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
20 - وأخبرنا الرئيس مسعود ثنا أَبُو عَمْرِو بْنُ مَنْدَهْ سماعا أنا أبوالحسين الْخَفَّافُ إِذْنًا أنا السَّرَّاجُ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ أنا سُفْيَانُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ
⦗ص: 34⦘ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ اسْتُحِيضَتْ فَكَانَتْ تَمْكُثُ سَبْعَ سِنِينَ وَتَجْلِسُ فِي الْمِرْكَنِ الَّذِي فِيهِ الْمَاءُ فَيَعْلُوهُ الدَّمُ فَسَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَتْرُكَ الصَّلاةَ قَدْرَ أَقْرَائِهَا أَوْ حَيْضَتِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي.
يَقُول سُفْيَانُ لَمْ يَأْمُرْهَا أَنْ تَغْتَسِلَ لِكُلِّ صَلاةٍ.
২০ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাইস মাসউদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর ইবনে মানদাহ শ্রবণের মাধ্যমে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আল-খাফফাফ অনুমতিক্রমে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সাররাজ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আস-সাব্বাহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে,
⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ উম্মে হাবিবা বিনতে জাহশ ইস্তিহাজা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তিনি দীর্ঘ সাত বছর এই অবস্থায় ছিলেন। তিনি পানির একটি গামলায় বসতেন এবং রক্ত পানির উপরে ভেসে উঠত। অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি তাকে তার ঋতুস্রাব বা হায়েযের দিনগুলোর সমপরিমাণ সময় সালাত বর্জন করার নির্দেশ দিলেন, অতঃপর গোসল করে সালাত আদায় করতে বললেন।
সুফিয়ান বলেন: তিনি তাকে প্রতি সালাতের জন্য গোসল করার নির্দেশ দেননি।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
21 - [وَبِهِ] حَدَّثَنَا السَّرَّاجُ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ أنا سُفْيَانُ عَنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ يُحَدِّثُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ لَحْمًا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَأَنَّ أَبَا بَكْرٍ أَكَلَ لَحْمًا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَأَنَّ عُمَرَ أَكَلَ لَحْمًا ثُمَّ صلى ولم يتوضأ.
২১ - [এবং তাঁর সূত্রেই] আস-সাররাজ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনুল সাব্বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফইয়ান আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে,
নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোশত আহার করেছেন, অতঃপর সালাত আদায় করেছেন এবং অজু করেননি। আর নিশ্চয়ই আবু বকর গোশত আহার করেছেন, অতঃপর সালাত আদায় করেছেন এবং অজু করেননি। আর নিশ্চয়ই উমর গোশত আহার করেছেন, অতঃপর সালাত আদায় করেছেন এবং অজু করেননি।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
22 - أخبرنا سيد الرؤساء أنا أَبُو عَمْرِو بْنِ مَنْدَهْ أنا الْخَفَّافُ إِجَازَةً أنا السَّرَّاجُ ثنا قُتَيْبَةُ ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الْمَسْجِدِ فَوَجَدَ بَيْنَ أَلْيَتَيْهِ رِيحًا فَلا يَخْرُجُ حَتَّى يَجِدَ ريحا أو يسمع صوتا
২২ - সায়্যিদুর রুআসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আমর ইবন মানদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-খাফফাফ আমাদের ইজাযাহ যোগে সংবাদ দিয়েছেন, আস-সাররাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কুতাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আযীয ইবন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুহাইল হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আবু হুরায়রাহ হতে বর্ণনা করেন যে,
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ মসজিদে থাকে এবং তার নিতম্বদ্বয়ের মাঝে বায়ু অনুভব করে, সে যেন বের না হয় যতক্ষণ না সে গন্ধ পায় অথবা শব্দ শোনে।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
23 - وأخبرنا الرئيس أنا أَبُو عَمْرِو بْنِ مَنْدَهْ أنا أَبُو الْحُسَيْنِ الْخَفَّافُ إِجَازَةً أنا أَبُو الْعَبَّاس السراج ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ أنا سُفْيَانُ عَنِ الزُّهْرِيِّ. قَالَ السَّرَّاجُ وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثنا سُفْيَانُ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَاللَّفْظُ لِمُحَمَّدٍ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ
يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لا صَلاةَ لِمَنْ لَمْ يقرأ بفاتحة الكتاب.
آخر الجزء الأول من أجزاء الأصل
২৩ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাইস, আমাদের জানিয়েছেন আবু আমর বিন মানদাহ, আমাদের ইজাজাতক্রমে জানিয়েছেন আবুল হুসাইন আল-খাফফাফ, আমাদের জানিয়েছেন আবুল আব্বাস আস-সাররাজ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল সাব্বাহ, আমাদের জানিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি যুহরী থেকে। আস-সাররাজ বলেন, এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হারুন বিন আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি যুহরী থেকে — আর শব্দবিন্যাস মুহাম্মদের — তিনি মাহমুদ ইবনুর রাবী’ থেকে, তিনি উবাদাহ বিন সামিত থেকে —
যিনি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার কোনো সালাত নেই।"
মূল পাণ্ডুলিপির খণ্ডসমূহের মধ্যে প্রথম খণ্ডের সমাপ্তি।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الجزء الثاني من كتاب عروس الأجزاءرواية الرئيس عز الدين أبي الفرج مسعود بن الحسن الثقفي عن شيوخه
رواه عنه: الشيخ الإمام ضياء الدين سيد القراء أبوبكر محمد بن يوسف بن أبي بكر القراكلائي الآملي الطبري إمام الملك الناصر رحمه الله
سماع منه لـ: عبد الرحمن بن حمدان بن أحمد الكناني التكريتي
نفعه الله بالعلم
আরুসুল আজজা গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডনিজ শায়খদের সূত্রে রাইস ইজ্জুদ্দীন আবুল ফারাজ মাসউদ বিন হাসান আস-সাকাফীর বর্ণনা
তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন: শায়খ ইমাম জিয়াউদ্দীন সাইয়িদুল কুররা আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আবু বকর আল-কারাকলাই আল-আমুলি আত-তাবারী, আল-মালিকুন নাসিরের ইমাম, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন
তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন: আব্দুর রহমান বিন হামদান বিন আহমদ আল-কিনানি আত-তিকরিতি
আল্লাহ তাঁকে ইলমের মাধ্যমে উপকৃত করুন
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه أستعين
أخبرنا الشيخ الإمام العالم سيد القرّاء، ضياء الدين أبوبكر محمد بن يوسف بن أبي بكر الطبري بدمشق سنة ست وتسعين وخمسمائة قال: قرئ على سيد الرؤساء أبي الفرج مسعود بن الحسن الثقفي وأنا أسمع في جمادى الآخرة سنة سبع وخمسين وخمسمائة:
24 - أَخْبَرَكُمُ الْمُطَهَّرُ أَبُو الْفَضْلِ الْبَزَّانِيُّ ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ التَّاجِرُ ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْعَلاءِ الْجَوْزَجَانِيُّ ثنا الْعَبَّاسُ ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى ثنا شَيْبَانُ عَنْ فِرَاسٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ
أَنَّ أَبَاهُ اسْتُشْهِدَ يَوْمَ أُحُدٍ وَتَرَكَ بَنَاتٍ وَتَرَكَ عَلَيْهِ دَيْنًا فَلَمَّا حَضَرَ جِدَادُ النَّخْلِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ وَالِدِي قَدِ اسْتُشْهِدَ يَوْمَ أُحُدٍ وَتَرَكَ دَيْنًا كَثِيرًا وَأَنِّي أُحِبُّ أَنْ يَرَاكَ الْغُرَمَاءُ فَقَالَ اذْهَبْ فَبَيْدِرْ كُلَّ تَمْرٍ عَلَى نَاحِيَةٍ فَفَعَلْتُ ثُمَّ دَعَوْتُهُ فلما نظروا إليه كأنهم أُغْرُوا بِي تِلْكَ السَّاعَةِ فَلَمَّا رَأَى مَا يَصْنَعُونَ أَطَافَ حَوْلَ أَعْظَمِهِمْ بَيْدَرًا ثَلاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ جَلَسَ عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ ادْعُ أَصْحَابَكَ فَمَا
⦗ص: 40⦘ زَالَ يَكِيلُ لَهُمْ حَتَّى أَدَّى اللَّهُ عَنْ وَالِدِي أَمَانَتَهُ وَأَنَا أَرْضَى أَنْ يُؤَدِّيَ اللَّهُ أَمَانَةَ وَالِدِي وَلا أَرْجِعَ إِلَى أَخَوَاتِي بِتَمْرَةٍ فَسَلَّمَ اللَّهُ الْبَيَادِرَ كُلَّهَا حَتَّى أَنِّي أَنْظُرُ إِلَى الْبَيْدَرِ الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَنْقُصْ تَمْرَةً وَاحِدَةً
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَوْرَدَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ أحمد بن أبي سُرَيْجٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى هَذَا عَنْ شَيْبَانَ هَذَا.
سَاوَيْتُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ شَيْخَ الْوَقْتِ .. .. (1) أَبَا الْوَقْتِ مِنْ حَيْثُ العدد.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, ক্বারীগণের নেতা দিয়াউদ্দীন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আবি বকর আত-তাবারী, দামেশকে, পাঁচশত ছিয়ানব্বই হিজরি সনে। তিনি বলেন: প্রধানদের নেতা আবুল ফারাজ মাসউদ ইবনুল হাসান আস-সাকাফীর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে আর আমি তা শুনছিলাম পাঁচশত সাতান্ন হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে:
২৪ - তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মুতাহার আবু ফাদল আল-বাযযানী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাজির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল আলা আল-জাওযাজানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইবান, ফিরাসের সূত্রে, আশ-শা'বী থেকে, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ
যে, তাঁর পিতা উহুদ যুদ্ধের দিন শহীদ হন এবং কন্যাদের ও ঋণ রেখে যান। যখন খেজুর আহরণের সময় হলো, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললাম: আপনি তো জানেন যে আমার পিতা উহুদ যুদ্ধের দিন শহীদ হয়েছেন এবং অনেক ঋণ রেখে গিয়েছেন; আমি চাই যে পাওনাদাররা আপনাকে দেখুক। তিনি বললেন: যাও এবং প্রত্যেক জাতের খেজুর আলাদা করে স্তূপ করো। আমি তা-ই করলাম, তারপর তাঁকে ডাকলাম। পাওনাদাররা যখন তাঁকে দেখল, তখন তারা যেন সেই মুহূর্তে আমার ওপর চড়াও হওয়ার সুযোগ খুঁজছিল। যখন তিনি দেখলেন তারা কী করছে, তখন তিনি তাদের সবচেয়ে বড় স্তূপটির চারপাশে তিনবার প্রদক্ষিণ করলেন এবং তার ওপর বসলেন। তারপর বললেন: তোমার পাওনাদারদের ডাকো। অতঃপর তিনি তাদের মেপে দিতে থাকলেন যতক্ষণ না আল্লাহ আমার পিতার পক্ষ থেকে তাঁর আমানত (ঋণ) পরিশোধ করে দিলেন। আমি এতেই সন্তুষ্ট ছিলাম যে আল্লাহ আমার পিতার ঋণ পরিশোধ করে দিন, যদিও আমি আমার বোনদের কাছে একটি খেজুরও নিয়ে না ফিরি। কিন্তু আল্লাহ সব স্তূপই অক্ষত রাখলেন, এমনকি আমি সেই স্তূপটির দিকে তাকাচ্ছিলাম যার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসেছিলেন, তা থেকে একটি খেজুরও কমেনি।
এটি একটি সহীহ হাদীস, ইমাম বুখারী এটি আহমাদ ইবনে আবি সুরাইজের সূত্রে, এই উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা থেকে, এই শাইবান থেকে বর্ণনা করেছেন।
আমি এই হাদীসের সূত্রে সমকালীন শায়খ... (১) আবুল ওয়াক্তের সমপর্যায়ে পৌঁছেছি রাবী সংখ্যার দিক থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৪০)
25 - وأخبرنا سيد الرؤساء مسعود أنا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ السِّمْسَارُ فِي سَمَاعِهِ أنا أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ عَلِيٍّ قَالَ قُرِئَ عَلِى أَبِي الْقَاسِمِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيِّ وَأَنَا أَسْمَعُ ثنا كَامِلُ بْنُ طَلْحَةَ إِمْلاءً مِنْ كِتَابِهِ ثنا عَبَّادُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ ثنا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ طَبَقَاتُ أُمَّتِي خَمْسُ طَبَقَاتٍ كُلُّ طَبَقَةٍ مِنْهَا أَرْبَعُونَ سَنَةً وَطَبَقَتِي وَطَبَقَةُ أَصْحَابِي أَهْلُ الْعِلْمِ وَالإِيمَانِ وَالَّذِينَ يَلُونَهُمْ إِلَى الثَّمَانِينَ أَهْلُ الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَالَّذِينَ يَلُونَهُمْ إِلَى الْعِشْرِينَ وَمِائَةِ أَهْلُ التَّرَاحُمِ وَالتَّوَاصُلِ وَالَّذِينَ يَلُونَهُمْ إِلَى السِّتِّينَ يَعْنِي وَمِائَةً أَهْلُ التَّقَاطُعِ وَالتَّدَابُرِ وَالَّذِينَ يَلُونَهُمْ إلى مئتين أَهْلُ الْهَرَجِ وَالْحَرْبِ.
২৫ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইয়্যিদুর রুআসা মাসউদ; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আস-সিমসার তাঁর শ্রবণ অনুযায়ী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ঈসা ইবনে আলী; তিনি বলেন: আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাবীর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কামিল ইবনে তালহা তাঁর কিতাব হতে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনে আব্দুস সামাদ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু),
যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার উম্মতের স্তরগুলো হলো পাঁচটি স্তর, যার প্রতিটি স্তর হলো চল্লিশ বছর করে। আমার এবং আমার সাহাবীদের স্তর হলো ইলম (জ্ঞান) এবং ঈমানদারদের স্তর। তাদের পরবর্তী আশি বছর পর্যন্ত যারা আসবে তারা হলো নেক কাজ ও তাকওয়া অবলম্বনকারীদের স্তর। তাদের পরবর্তী একশ বিশ বছর পর্যন্ত যারা আসবে তারা হলো পারস্পরিক দয়া ও সুসম্পর্ক বজায় রাখাকারীদের স্তর। তাদের পরবর্তী অর্থাৎ একশ ষাট বছর পর্যন্ত যারা আসবে তারা হলো পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্নকারী ও একে অপরের থেকে বিমুখ থাকাকারীদের স্তর। এবং তাদের পরবর্তী দুইশ বছর পর্যন্ত যারা আসবে তারা হলো ফিতনা-ফ্যাসাদ ও যুদ্ধ-বিগ্রহের লোকদের স্তর।
(খণ্ড: ১)
আরূসুল আজযা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
26 - وَبِهِ قَالَ حَدَّثَنَا كَامِلٌ ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ
أَنَّ رَجُلا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ قِيَامِ السَّاعَةِ وَأُقِيمَتِ الصَّلاةُ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاتَهُ قَالَ أَيْنَ السَّائِلُ عَنِ السَّاعَةِ فَقَالَ الرَّجُلُ أنا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ وَمَا أَعْدَدْتَ لَهَا فَإِنَّهَا قَائِمَةٌ فَقَالَ مَا أَعْدَدْتُ لَهَا مِنْ كَثِيرِ عَمَلٍ غَيْرَ أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ عز وجل وَرَسُولَهُ فَقَالَ أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ فَمَا فَرِحَ الْمُسْلِمُونَ بِشَيْءٍ بَعْدَ الإِسْلامِ مَا فَرِحُوا بِهِ.
২৬ - এবং এই সনদেই তিনি বলেন, কামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। এমতাবস্থায় সালাতের ইকামত প্রদান করা হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত সমাপ্ত করলেন, তখন বললেন: "কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়?" লোকটি বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি।" তিনি বললেন: "তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? কারণ তা তো অবশ্যই সংঘটিত হবে।" সে বলল: "আমি এর জন্য অনেক বেশি আমল প্রস্তুত করতে পারিনি, তবে আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি।" তখন তিনি বললেন: "তুমি যাকে ভালোবাসো, তুমি তারই সাথে থাকবে।" ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানরা অন্য কোনো বিষয়ে এতটা আনন্দিত হয়নি, যতটা তারা এই কথা শুনে আনন্দিত হয়েছিল।