(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: -)
حديث مجاعة بن الزبير القسم: كتب السنة
الكتاب: من حديث أبي عبيدة مجاعة بن الزبير العتكي البصري
المؤلف: مُجَّاعَةُ بنُ الزُّبَيْرِ البَصْرِيُّ (ت 146هـ)
المحقق: عامر حسن صبري
الناشر: دار البشائر الإسلامية [ضمن سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (20)]
الطبعة: الأولى، 1423هـ - 2003م
عدد الصفحات: 114
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433
মুজাআ ইবনে আল-জুবায়েরের হাদিস বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আবু উবায়দাহ মুজাআ ইবনে আল-জুবায়ের আল-আতাকি আল-বাসরির হাদিস থেকে
লেখক: মুজাআ ইবনে আল-জুবায়ের আল-বাসরি (মৃ. ১৪৬ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: আমির হাসান সাবরি
প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ [হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা ও কিতাব সিরিজের অন্তর্ভুক্ত (২০)]
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৪
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের প্রত্যাশী, অগ্রসর হও
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (22، 21، 20)
مجموع فيه ثلاث رسائل حديثية
-[من حديث أبي عبيدة مجاعة بن الزبير العتكي البصري]-
من حديث محمد بن عثمان بن كرامة
وحديث طاهر بن خالد بن نزار الأيلي
رواية محمد بن مخلد العطار عنهما
الزيادات في كتاب الجود والسخاء
للإمام الحافظ أبي القاسم سليمان بن أحمد الطبراني
تحقيق
الدكتور عامر حسن صبري
دار البشائر الإسلامية
الطبعة الأولى
1423هـ - 2003م
ধারাবাহিক হাদিস সংকলন ও গ্রন্থমালা (২২, ২১, ২০)
তিনটি হাদিস বিষয়ক গবেষণাপত্রের সমষ্টি
-[আবু উবায়দাহ মুজাআহ ইবনে জুবাইর আল-আতাকি আল-বসরির বর্ণিত হাদিস থেকে]-
মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে কারামাহ বর্ণিত হাদিস থেকে
এবং তাহের ইবনে খালিদ ইবনে নিজার আল-আইলি বর্ণিত হাদিস
তাদের উভয়ের নিকট থেকে মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আল-আত্তারের বর্ণনা
‘আল-জুদ ওয়াস সাখা’ (উদারতা ও দানশীলতা) কিতাবের বর্ধিত অংশসমূহ
ইমাম হাফেজ আবু আল-কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি প্রণীত
সম্পাদনা
ডক্টর আমের হাসান সাবরি
দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ
প্রথম সংস্করণ
১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৯)
سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (20)
من حديث
أبي عبيدة مجاعة بن الزبير العتكي
وفيه ثلاثة أقسام:
القسم الأول: رواية ابن قانع عن السري بن سهل
عن عبد الله بن رشيد عن مجاعة.
القسم الثاني: من رواية أبي الحسين عبد الصمد بن
علي الطسي البغدادي، عن السري به.
القسم الثالث: نسخة السري، عن مجاعة
مما لم يرد في القسمين الأولين.
হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা ও কিতাব ধারাবাহিক (২০)
হাদিস হতে
আবু উবায়দাহ মুজাআহ ইবনুল জুবাইর আল-আতাকি
এবং এতে তিনটি বিভাগ রয়েছে:
প্রথম বিভাগ: আস-সাররি ইবনে সাহল হতে ইবনে কানি‘র বর্ণনা
আব্দুল্লাহ ইবনে রাশিদ হতে, তিনি মুজাআহ হতে।
দ্বিতীয় বিভাগ: আবুল হুসাইন আব্দুল সামাদ ইবনে
আলী আত-তুসি আল-বাগদাদির বর্ণনা হতে, আস-সাররি হতে পূর্বোক্ত সূত্রে।
তৃতীয় বিভাগ: আস-সাররির পাণ্ডুলিপি, মুজাআহ হতে
যা প্রথম দুই বিভাগে বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الجزء الثاني من حديث أبي عبيدة مجاعة بن الزبير العتكيرواية القاضي أبي الحسين عبد الباقي بن قانع عن السري بن سهل [عن عبد الله بن] رشيد عنه
وفيه من حديث ابن قانع عن شيوخه
رواية أبي الحسن أحمد بن علي بن الحسن البادا عن ابن قانع
رواية أبي الحسن محمد بن أحمد بن محمد بن الجبان عن ابن البادا
رواية الشيخ الصالح الثقة أبي المعالي محمد بن محمد بن محمد عن جده المذكور
رواية الشيخ الصالح أبي عبد الله محمد بن عبد الله بن الحسين الهروي ثم [الإشكيذباني] عنه رضي الله عنهم أجمعين
سماع لإسماعيل بن عبد الله بن عبد المحسن الأنصاري المالكي عرف بابن الأنماطي نفعه الله الكريم به آمين.
আবু উবাইদাহ মুজাআহ ইবনুল জুবায়ের আল-আতাকির হাদিসের দ্বিতীয় খণ্ডকাজী আবুল হুসাইন আবদুল বাকি ইবনে কানি-এর বর্ণনা, আস-সিররি ইবনে সাহল থেকে, তিনি [আবদুল্লাহ ইবনে] রাশিদ থেকে, তিনি তাঁর থেকে।
এবং এতে ইবনে কানি-এর হাদিসসমূহ তাঁর শায়খদের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
আবুল হাসান আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান আল-বাদার বর্ণনা, ইবনে কানি' থেকে।
আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল জাব্বানের বর্ণনা, ইবনে আল-বাদা থেকে।
সৎ ও নির্ভরযোগ্য শায়খ আবুল মাআলি মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদের বর্ণনা, তাঁর উল্লেখিত দাদার থেকে।
সৎ শায়খ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন আল-হারাউয়ি অতঃপর [আল-ইশকিজবানি]-এর বর্ণনা, তাঁর থেকে; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
এটি ইসমাইল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুহসিন আল-আনসারি আল-মালিকির শ্রবণকৃত, যিনি ইবনুল আনমাতি নামে পরিচিত; পরম দয়ালু আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁকে উপকৃত করুন, আমীন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
اللهم يسر وانفع رب زدني علما
أخبرنا الشيخ الفقيه الصالح الزاهد أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن الحسين الإشكيذباني الحنبلي وفقه الله قراءة عليه بحرم الله تجاه الحجر الأسود في ثالث عشر [ .. .. .. ] سنة تسعين وخمسمائة قال أخبرنا الشيخ الصالح أبو المعالي محمد بن محمد بن الجبان المعروف بابن اللحاس بقراءتي عليه ثامن والعشرين من ذي القعدة سنة ست وخمسين وخمسمائة في منزله بالحريم الطاهري قال أخبرنا جدي محمد بن أحمد قال أخبرنا أبو الحسن أحمد بن علي بن الحسن البادا قراءة عليه في منزله في سنة خمس عشرة وأربعمائة حدثنا أبو الحسين عبد الباقي بن قانع القاضي حدثنا أبو سهل السري بن سهل الجنديسابوري حدثنا عبد الله بن رشيد حدثنا أبو عبيدة مجاعة بن الزبير العتكي:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ, সহজ করে দিন এবং ফলপ্রসূ করুন, হে প্রতিপালক, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।
শাইখ, ফকিহ, নেককার, দুনিয়াবিমুখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আল-ইশকিকবানি আল-হাম্বলি (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) আল্লাহর পবিত্র হারামে হাজরে আসওয়াদের সম্মুখে ৫৯০ হিজরি সনের ১৩ই [ .. .. .. ] তারিখে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, নেককার শাইখ আবু আল-মাআলি মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-জাব্বান—যিনি ইবনে আল-লাহহাস নামে পরিচিত—৫৫৬ হিজরি সনের ২৮শে যিলকদ তারিখে হারিমুত তাহিরিতে তাঁর নিজ বাসভবনে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, আমার দাদা মুহাম্মদ বিন আহমাদ আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, আবু আল-হাসান আহমাদ বিন আলী বিন আল-হাসান আল-বাদা ৪১৫ হিজরি সনে তাঁর নিজ বাসভবনে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন বিচারক আবু আল-হুসাইন আব্দুল বাকি বিন কানি‘। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু সাহল আস-সাররি বিন সাহল আল-জুন্দিসাবুরি। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন রাশিদ। আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু উবাইদাহ মুজাআহ বিন আল-যুবাইর আল-আতাকি:
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪০)
1 - عَنِ الْحَسَنِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَطْرُقَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ لَيْلا.
১ - হাসান হতে বর্ণিত, তিনি জাবির হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো ব্যক্তির রাতে নিজ পরিবারের কাছে (হঠাৎ) আসাকে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪০)
2 - عَنِ الْحَسَنِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّهُ ضَحَّى قَبْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَاهُ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَأَمَرَهُ أَنْ يُعِيدَ ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عِنْدِي إِلا جَذَعَةً فَرَخَّصَ لَهُ وَقَالَ مَا تَصْلُحُ لأَحَدٍ بعدك.
২ - হাসান হতে বর্ণিত, তিনি জাবির (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগে কুরবানী করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট এসে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি তাঁকে পুনরায় কুরবানী করার নির্দেশ দেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে একটি ‘জাযাআ’ (ছয় মাস বয়সী মেষ) ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন তিনি তাঁকে সেটির অনুমতি প্রদান করলেন এবং বললেন: এটি তোমার পর আর কারো জন্য বৈধ হবে না।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪০)
3 - عَنِ الْحَسَنِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا لا حِسَابَ عَلَيْهِمْ وَلا عَذَابَ فَقَامَ إِلَيْهِ عُكَّاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ الأَسَدِيُّ فَقَالَ ⦗ص: 41⦘ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَقَالَ أَنْتَ مِنْهُمْ فَقَامَ إِلَيْهِ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَقَالَ سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنْ هُمْ قَالَ هم الذين لا يكتوون ولا يسترقون وَلا يَتَطَيَّرُونَ وَعَلَى ربِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ. قَالَ الْحَسَنُ عَاشَ عُكَّاشَةُ بَقِيَّةَ أَجَلِهِ وَهُوَ مُسْتَيْقِنٌ أَنَّهُ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ مُجَّاعَةُ بَلَغَنِي أَنَّهُ اسْتُشْهِدَ يوم اليمامة.
৩ - হাসান হতে বর্ণিত, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্য হতে সত্তর হাজার ব্যক্তি কোনো হিসাব ও কোনো শাস্তি ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন উক্কাশাহ ইবনে মিহসান আল-আসাদী দাঁড়িয়ে আরজ করলেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ আল্লাহর নিকট দুআ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেন: তুমি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর নিকট দুআ করুন যেন তিনি আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেন: উক্কাশাহ এ ব্যাপারে তোমার অগ্রগামী হয়ে গিয়েছে। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: তারা হলো সেই সব লোক যারা (চিকিৎসার উদ্দেশ্যে) লোহা পুড়িয়ে দাগ নেয় না, ঝাড়ফুঁক প্রার্থনা করে না এবং কোনো কিছুকে কুলক্ষণ হিসেবে গণ্য করে না; বরং তারা তাদের রবের ওপর ভরসা করে। হাসান বলেন, উক্কাশাহ তাঁর জীবনের অবশিষ্ট সময় এই সুদৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে অতিবাহিত করেছেন যে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন। মুজ্জা’আহ বলেন, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪১)
4 - عَنِ الْحَسَنِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا وُضِعَ الْمَيِّتُ فِي قَبْرِهِ فَيَقُولانِ ⦗ص: 42⦘ يَا هَذَا مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ فَيَقُولُ رَبِّي اللَّهُ وَدِينِي الإِسْلامُ وَنَبِيِّي مُحَمَّدُ صلى الله عليه وسلم فَيُوَسَّعُ لَهُ فِي قَبْرِهِ وَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى الْجَنَّةِ وَبَابٌ إِلَى النَّارِ فَيَقُولانِ لَهُ انْظُرْ إِلَى بَيْتِكَ هَذَا [كَانَ فِي النَّارِ وَلَكِنَّ اللَّهَ عَصَمَكَ وَرَحِمَكَ فَأَبْدَلَكَ بِهِ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ] فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ أُبَشِّرُ أهلي فيقولان له سكن ثُمَّ يَنْزِعَانِ الرُّوحَ مِنْهُ فَيَنْطَلِقَانِ بِهِ [ … ... ] وَأَمَّا الْكَافِرُ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولانِ لَهُ يَا هَذَا مَنْ رَبُّكَ وَمَا [دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ] فَيَقُولُ لا أَدْرِي فَيَقُولانِ لَهُ لا دَرَيْتَ وَلا تَلَيْتَ ثُمَّ [يَضْرِبَاهُ وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى] تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلاعُهُ ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابَانِ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ وَبَابًا إِلَى النَّارِ [فَيَقُولانِ] لَهُ انْظُرْ إِلَى بَيْتِكَ هَذَا مِنَ الْجَنَّةِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ لَكَ بَيْتَكَ مِنَ النَّارِ ثُمَّ يَنْزِعَانِ الرُّوحَ مِنْهُ فَيَذْهَبَانِ بِهِ فَيَجْعَلانِهِ فِي سِجِّينٍ وَالسِّجِينُ الأَرْضُ السَّابِعَةُ السُّفْلَى.
৪ - হাসান থেকে বর্ণিত, আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে রাখা হয়, তখন তারা (ফেরেশতাদ্বয়) বলে ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ হে ব্যক্তি! তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমার নবী কে? তখন সে বলে, আমার রব আল্লাহ, আমার দ্বীন ইসলাম এবং আমার নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তখন তার জন্য তার কবরকে প্রশস্ত করে দেওয়া হয় এবং তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা ও জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। তখন তারা তাকে বলে, তোমার এই ঘরের দিকে তাকাও [যা জাহান্নামে ছিল, কিন্তু আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করেছেন এবং তোমার প্রতি দয়া করেছেন, ফলে তিনি এর বদলে তোমাকে জান্নাতে একটি ঘর দান করেছেন]। তখন মুমিন ব্যক্তি বলে, আমি আমার পরিবারকে সুসংবাদ দেব। তখন তারা তাকে বলে, তুমি শান্ত হয়ে থাকো। এরপর তারা তার থেকে রূহ কবজ করে নেয় এবং তা নিয়ে প্রস্থান করে [ … ... ]। আর কাফেরের ক্ষেত্রে, তারা তাকে বসায় এবং তাকে বলে, হে ব্যক্তি! তোমার রব কে এবং তোমার [দ্বীন কী ও তোমার নবী কে]? তখন সে বলে, আমি জানি না। তখন তারা তাকে বলে, তুমি জানোনি এবং তুমি (সঠিক পথ) অনুসরণ করোনি। এরপর [তারা তাকে প্রহার করে এবং তার ওপর কবরকে এমনভাবে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে,] তার একদিকের পাঁজরের হাড় অন্যদিকের হাড়ের ভেতর ঢুকে যায়। এরপর তার জন্য দুটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, একটি জান্নাতের দিকে এবং অন্যটি জাহান্নামের দিকে। [তখন তারা তাকে] বলে, জান্নাতের এই ঘরের দিকে তাকাও, আল্লাহ এর পরিবর্তে তোমাকে জাহান্নামের ঘরটি দিয়েছেন। এরপর তারা তার থেকে রূহ বের করে নেয় এবং তা নিয়ে গিয়ে সিজ্জিনে নিক্ষেপ করে। আর সিজ্জিন হলো সপ্তম নিম্নতম যমীন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
5 - عَنِ الْحَسَنِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا أَتَى عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاثَةُ أَيَّامٍ مُتَتَابِعَاتٍ لَيْسَ بَيْنَهُنَّ جُوعٌ.
৫ - হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এমন নিরবচ্ছিন্ন তিনটি দিন অতিবাহিত হয়নি, যাতে তিনি ক্ষুধার্ত ছিলেন না।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
6 - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ تَابَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ.
৬ - মুহাম্মদ বিন সিরিন থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পূর্বে তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
7 - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اخْتَصَمَتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ إِلَى اللَّهِ عز وجل فَقَالَتِ النَّارُ مَا لِي يَدْخُلُنِي الْجَبَّارُونَ وَالْمُتَكَبِّرُونَ وَقَالَتِ الْجَنَّةُ مَا لِي ⦗ص: 44⦘ يَدْخُلُنِي فُقَرَاءُ النَّاسُ وَسُقَّاطِهِمْ فَقَالَ لِلنَّارِ أَنْتِ عَذَابِي أُصِيبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ وَقَالَ لِلجَنَّةِ أَنْتِ رَحْمَتِي أُصِيبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْكُمَا مِلْؤُهَا قَالَ فَيُلْقَى فِي النَّارِ فَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ ثُمَّ يُلْقَى فِيهَا فَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ حَتَّى يَضَعَ الرَّبُّ تبارك وتعالى قَدَمَهُ عَلَى النَّارِ فَيَنْزَوِيَ بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَتَقُولُ قَطْ قَطْ. قَالَ الشَّيْخُ مَعْنَى قَطْ قط حسبي.
৭ - মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাত ও জাহান্নাম মহান আল্লাহর নিকট বিবাদ করল। জাহান্নাম বলল, আমার কী হলো যে, প্রতাপশালী ও অহংকারীরা আমার মধ্যে প্রবেশ করছে! আর জান্নাত বলল, আমার কী হলো যে, ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ মানুষের মধ্যে যারা দরিদ্র ও সাধারণ তারা আমার মধ্যে প্রবেশ করছে! তখন আল্লাহ জাহান্নামকে বললেন: তুমি হলে আমার আযাব, তোমার মাধ্যমে আমি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেই। আর তিনি জান্নাতকে বললেন: তুমি হলে আমার রহমত, তোমার মাধ্যমে আমি যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করি। আর তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই তা পূর্ণ করার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, অতঃপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং সে বলবে, আরও কি আছে? পুনরায় তাতে নিক্ষেপ করা হবে এবং সে বলবে, আরও কি আছে? যতক্ষণ না বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালক তাঁর পা জাহান্নামের ওপর রাখবেন, তখন এর একাংশ অপর অংশের সাথে সংকুচিত হয়ে মিশে যাবে এবং জাহান্নাম বলবে, যথেষ্ট, যথেষ্ট। শায়খ বলেন, 'ক্বাত ক্বাত' শব্দের অর্থ হলো আমার জন্য যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
8 - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ تَذَاكَرْنَا نِسَاءُ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَكْثَرُ أَمْ رَجِالُهَا فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوَّلُ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ عَلَى أَضْوَى كَوْكَبٍ دُرِّيٍّ فِي السَّمَاءِ لِكُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ ثِنْتَانِ يُرَى مُخُّ سَاقِهَا مِنْ وَرَاءِ الثِّيَابِ [وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا فِي الْجَنَّةِ أَعْزَبُ].
৮ - মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন হতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আলোচনা করছিলাম যে জান্নাতবাসীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি হবে নাকি পুরুষের সংখ্যা। তখন আবু হুরায়রা বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের আকৃতিতে হবে। অতঃপর তাদের পরবর্তী দলটি হবে আকাশের অতি উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায়। তাদের প্রত্যেকের জন্য দুজন করে স্ত্রী থাকবে, যাদের পায়ের নলার মজ্জা পোশাকের বাহির থেকে দেখা যাবে। [আর সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, জান্নাতে কোনো অবিবাহিত ব্যক্তি থাকবে না।]
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
9 - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ لِلَّهِ عز وجل [مِائَةِ اسْمٍ] غَيْرَ اسْمٍ مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ.
৯ - মুহাম্মদ ইবনে সীরীন থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই মহামহিমান্বিত আল্লাহর [একশত নাম] হতে একটি কম নাম রয়েছে; যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে (সংরক্ষণ করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
10 - عَنْ [مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ بَغِيَّةً مِنْ بَغَايَا بَنِي إِسْرَائِيلَ مَرَّتْ عَلَى بِئْرٍ وَكَلْبٌ عَلَيْهَا يَلْهَثُ كَادَ أَنْ يَنْقَطِعَ عُنُقَهُ عَطَشًا فَنَزَعَتْ خِمَارَهَا وَمُوقَهَا قَالَ الْحَسَنُ نَزَعَتْ خِمَارَهَا وَخُفَّهَا فَاسْتَقَتْ لَهُ فَسَقَتْهُ حَتَّى رَوَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَغَفَرَ اللَّهُ لَهَا أَوْ فَرَحِمَهَا بِرَحْمَتِهَا الْكَلْبَ وَتَابَ عَلَيْهَا.
১০ - [মুহাম্মাদ বিন সিরীন] থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: বনী ইসরাঈলের পতিতা নারীদের একজন একটি কূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন একটি কুকুর সেই কূপের ধারে তৃষ্ণায় জিহ্বা বের করে হাঁপাচ্ছিল, তৃষ্ণার আধিক্যে যার প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছিল। তখন সেই নারী তার ওড়না এবং চামড়ার মোজা খুলল। হাসান বলেন: সে তার ওড়না এবং মোজা খুলে পানি তুলল এবং কুকুরটিকে পান করাল যতক্ষণ না সে তৃপ্ত হলো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: অতঃপর কুকুরের প্রতি দয়া করার কারণে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন অথবা তার প্রতি দয়া করলেন এবং তার তাওবাহ কবুল করলেন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
11 - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَرُبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ تُخْطِئُ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ وَأَصْدَقُهُمْ رُؤْيَا أَصْدَقُهُمْ حَدِيثًا وَالرُّؤْيَا ثَلاثَةٌ فَبُشْرَى مِنَ اللَّهِ عز وجل وَرُؤْيَا مَا يُحَدِّثُ الرَّجُلُ نَفْسَهُ بِالنَّهَارِ وَيَرَاهَا بِاللَّيْلِ وَرُؤْيَا مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مِمَّا يَكْرَهُهُ فَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ.
১১ - মুহাম্মদ ইবনে সিরীন হতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন শেষ জামানা নিকটবর্তী হবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। আর তাদের মধ্যে যার কথা অধিক সত্য, তার স্বপ্নও অধিক সত্য হবে। স্বপ্ন তিন প্রকার: আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, মানুষ সারা দিন মনে মনে যা কল্পনা করে এবং রাতে তা স্বপ্নে দেখে, এবং শয়তানের পক্ষ থেকে (ভীতিপ্রদ) স্বপ্ন। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তখন সে যেন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
12 - وَبِإِسْنَادِهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لا عَدْوَى وَلا طِيَرَةَ وَأُحِبُّ الفأل الصالح.
১২ - এবং তাঁর সনদসহ তিনি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো ছোঁয়াচে রোগ নেই এবং কোনো অশুভ লক্ষণ নেই; আর আমি নেক ফাল (উত্তম লক্ষণ) পছন্দ করি।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
13 - وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ يَتَبَخْتَرُ فِي بُرْدَيْنِ لَهُ فَقَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ هَلْ تُحَدِّثُ فِي شَأْنِ بُرْدَيَّ هَذَيْنِ قَالَ نَعَمْ ⦗ص: 47⦘ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَجُلا مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ يَتَبَخْتَرُ فِي بُرْدَيْنِ فَبَلَعَتْهُ الأَرْضُ فَهُوَ يَتَجَلْجَلُ فِيهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
১৩ - মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবু হুরায়রার নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তার দুটি চাদর পরিহিত অবস্থায় দম্ভভরে হেঁটে আসলো। অতঃপর সে বলল, হে আবু হুরায়রা! আপনি কি আমার এই চাদর দুটির ব্যাপারে কিছু বলবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের পূর্ববর্তী এক ব্যক্তি তার দুটি চাদর পরে দম্ভভরে পথ চলছিল, এমতাবস্থায় জমিন তাকে গ্রাস করে নিল। অতঃপর সে কিয়ামত পর্যন্ত তাতে (মাটির নিচে) ধসে যেতেই থাকবে।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
14 - وَبِإِسْنَادِهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا لَبِسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِالْيَمِينِ مِنْ نَعْلِهِ وَإِذَا خَلَعَ فَلْيَبْدَأْ بِالْيُسْرَى.
১৪ - এবং তাঁর সনদসূত্রে তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন জুতা পরিধান করবে, তখন সে যেন ডান দিক থেকে শুরু করে এবং যখন তা খুলবে, তখন যেন বাম দিক থেকে শুরু করে।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
15 - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ نُهِيتُ عَنْ ثِيَابِ الْمُعَصْفَرِ وَعَنْ لُبْسِ الْقَسِّيِّ وَعَنِ الْمَيَاثِرِ ⦗ص: 48⦘[وَعَنْ خَاتَمِ الذَّهَبِ] وَعَنْ لُبْسِ الْحَرِيرِ فَقُلْتُ فِرَاشُ الْحَرِيرِ وَالدِّيبَاجِ كَلِبْسِهِنَّ قَالَ نَعَمْ.
১৫ - মুহাম্মদ ইবনে সিরীন হতে, তিনি উবাইদাহ হতে, তিনি আলী (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে কুসুম রঙে রঞ্জিত বস্ত্র, কাসসি (রেশম মিশ্রিত বস্ত্র) পরিধান করা এবং মায়াছির (রেশমি গদি) ব্যবহার করা হতে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ [এবং স্বর্ণের আংটি পরিধান করা] ও রেশমি বস্ত্র পরিধান করা হতে নিষেধ করা হয়েছে। আমি বললাম: রেশম ও দীবাজের বিছানা ব্যবহার করা কি তা পরিধান করার মতোই? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
16 - وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم [مَنْ حَلَفَ] عَلَى يَمِينٍ مَصْبُورَةٍ كَاذِبَةٍ فليتبوأ مقعده من النار.
16 - মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন হতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “[যে ব্যক্তি] জেনেশুনে কোনো মিথ্যা শপথ করল, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।”
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
17 - و [عن مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ مَعْبَدِ بْنِ سِيرِينَ] عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ⦗ص: 49⦘ أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الدُّبَّاءِ والحنتم والنقير قيل والمزفت قال ذلك أَخْبَثُ عِنْدَ اللَّهِ عز وجل.
১৭ - এবং [মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন থেকে, তিনি মা’বাদ ইবনে সীরীন থেকে বর্ণিত] আবু সাঈদ আল-খুদরী হতে বর্ণিত যে, ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুব্বা, হানতাম ও নাকীর (জাতীয় পাত্র) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আর মুজাফফাত? তিনি বললেন, তা মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট অধিক নিকৃষ্ট।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
18 - وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ مَعْبَدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ تَكُونُ لَهُ الْجَارِيَةُ فَيَخْشَى أَنْ تَحْمِلَ فَيَعْزِلُ عَنْهَا وَالْمَرْأَةٌ الحُرَّةُ تَخْشَى أَنْ تَحْمِلَ فَيَعْزِلُ عَنْهَا فَقَالَ فَلا عَلَيْكُمْ أَنْ لا تَفْعَلُوا إِنَّمَا هُوَ الْقَدَرُ.
১৮ - মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত, তিনি মা'বাদ ইবনে সিরীন থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার একজন ক্রীতদাসী রয়েছে এবং সে তার গর্ভবতী হওয়ার আশঙ্কায় তার সাথে আযল (সহবাসকালে বীর্য বাইরে নির্গত) করে, এবং এমন স্বাধীন নারী সম্পর্কেও যার গর্ভবতী হওয়ার আশঙ্কায় তার স্বামী তার সাথে আযল করে। তখন তিনি বললেন: "তোমরা যদি এটি না করো তবে তোমাদের কোনো সমস্যা নেই; নিশ্চয়ই এটি কেবল তাকদীর।"
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
19 - وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَرَأَ الْقُرْآَنَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعَةٌ كُلُّهُمْ مِنَ الأَنْصَارِ ⦗ص: 50⦘ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَأَبُو زَيْدٍ وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَأُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ.
১৯ - মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চারজন ব্যক্তি কুরআন সংগ্রহ করেছিলেন, যাঁদের সকলেই ছিলেন আনসার ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ যায়েদ বিন সাবিত, আবু যায়েদ, মুয়াজ বিন জাবাল এবং উবাই বিন কাব।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৫০)
20 - وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلا سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أكلت الأحمر الأَهْلِيَّةُ ثُمَّ جَاءَهُ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُفْنِيَتِ الْحُمُرُ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَا طَلْحَةَ فَنَادَى فِي النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ عز وجل وَرَسُولَهُ يَنْهَيَانِكُمْ عَنِ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ فَإِنَّهَا رِجْسٌ فَأُكْفِيَتِ الْقُدُورُ بما فيها.
২০ - মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গৃহপালিত গাধাগুলো খেয়ে ফেলা হয়েছে। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গাধাগুলো শেষ হয়ে গিয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু তালহা (রা.)-কে নির্দেশ দিলেন, আর তিনি লোকদের মাঝে ঘোষণা করে দিলেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ (মহামহিম ও মহিমান্বিত) এবং তাঁর রাসূল তোমাদেরকে গৃহপালিত গাধা (ভক্ষণ) থেকে নিষেধ করছেন; কারণ তা অপবিত্র। ফলে হাঁড়িগুলো তাতে যা কিছু ছিল সেসহ উল্টে দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৫০)
21 - حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْعَمَلَ.
২১ - কাতাদাহ আমাদের নিকট বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুজানি সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত; আমি উপস্থিত, আপনার কোনো শরীক নেই, আমি উপস্থিত; নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত আপনারই এবং সকল কর্মও আপনারই।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৫১)
22 - عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ الْفَضْلَ بْنَ عَبَّاسٍ كَانَ رَدِيفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ جَمْعٍ إِلَى مِنًى فَجَعَلَ يُلَبِّي حَتَّى رَمَى الْجَمْرَةَ.
২২ - কাতাদাহ হতে, তিনি আতা হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, ফজল ইবনে আব্বাস জাম (মুজদালিফা) হতে মিনা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে একই বাহনে আরোহী ছিলেন। অতঃপর তিনি তালবিয়া পাঠ করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি জামরায় পাথর নিক্ষেপ করলেন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৫১)
23 - عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُطَرَّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّير قَالَ بَعَثَ إِلَيَّ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ فِي مَرَضِهِ فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ إِنِّي أُحَدِّثُكَ بِحَدِيثٍ لَعَلَّ يَنْفَعَكَ اللَّهُ بِهِ بَعْدِي اعْلَمْ أَنَّهُ كَانَ يُسَلِّمُ عَلَيَّ فَإِنْ عِشْتُ فاكْتُمْ عَلَيَّ وَإِنْ مِتُّ فَحَدِّثْ إِنْ شِئْتَ وَاعْلَمْ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جَمَعَ بَيْنَ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ وَلَمْ يَنْزِلُ [فِيهَا كِتَابُ اللَّهِ وَلَمْ يَنْهَ] عَنْهُ نَبِيٌّ فَإِنْ رَجُلٌ قَالَ بِرَأْيِهِ مَا شَاءَ يَعْنِي عُمْرَةً [وحجة].
২৩ - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখীর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইমরান ইবনে হুসাইন তাঁর অসুস্থতার সময় আমাকে ডেকে পাঠালেন, তাই আমি তাঁর নিকট আসলাম। তিনি বললেন: আমি তোমাকে একটি হাদিস বর্ণনা করছি, সম্ভবত আমার পরে আল্লাহ এর মাধ্যমে তোমাকে উপকৃত করবেন। জেনে রেখো যে, আমাকে সালাম দেওয়া হতো (ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে)। যদি আমি বেঁচে থাকি তবে এটি গোপন রেখো; আর যদি আমি মারা যাই, তবে তুমি চাইলে তা বর্ণনা করো। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হজ্জ ও ওমরাহ একত্রে পালন করেছিলেন। এ বিষয়ে [আল্লাহর কিতাব (নিষেধ) নাজিল করেনি এবং নিষেধ করেননি] কোনো নবী। অতঃপর এক ব্যক্তি নিজের রায় বা মতানুযায়ী যা ইচ্ছা বলেছেন, অর্থাৎ ওমরাহ [ও হজ্জ] সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৫২)
24 - عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي حَسَّانَ الأَعْرَجِ عَنِ [ابْنِ عَبَّاسٍ] قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذُو الْحُلَيْفَةَ أَشْعَرَ [بُدْنَةُ] مِنْ جَانِبِ السَّنَامِ الأَيْمَنِ وَأَمَاطَ عَنْهُ الدَّمَ وَقَلَّدَهُ نَعْلَيْهِ وَرَكِبَ نَاقَتَهُ وَاسْتَوَى عَلَى الْبَيْدَاءِ وَأَحْرَمَ عِنْدَ الظُّهْرِ فَلَبَّى بِالْحَجِّ.
২৪ - কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু হাসান আল-আ’রাজ থেকে, তিনি [ইবনে আব্বাস] থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফায় আসলেন, তখন তিনি [কুরবানীর পশুর] কুঁজের ডান পাশে চিহ্ন দিলেন এবং তা থেকে রক্ত মুছে ফেললেন। তিনি পশুর গলায় জুতোজোড়া লটকে দিলেন এবং তাঁর উটনীতে আরোহণ করলেন। অতঃপর যখন তিনি বায়দা প্রান্তরের উপর উঠলেন, তখন যোহরের সময় ইহরাম বাঁধলেন এবং হজের তালবিয়াহ পাঠ করলেন।
(খণ্ড: ১)
হাদিসু মাজআতা বনিয যুবায়ের
(পৃষ্ঠা: ৫২)
25 - عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ اخْتَلَفَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ فَقَالَ زَيْدٌ يَكُونُ آخِرَ عَهْدِهَا بِالْبَيْتِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِذَا طَافَتْ يَوْمَ النَّحْرِ تَنْفِرُ إِنَّ شَاءَتْ وَقَالَ الأَنْصَارُ لابْنِ عَبَّاسٍ لا نُبَايِعُكَ وَقَدْ خَالَفَكَ زَيْدٌ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لا أُبَالِ أَخَذْتُمْ عَنِّي أَوْ لَمْ تَأْخُذُوا وَلَكِنْ إِذَا قَدِمْتُمُ الْمَدِينَةَ فَسَلُوا صَاحِبَتِكُمْ أُمَّ سُلَيْمٍ عَنْ ذَلِكَ فَسَأَلُوهَا فَقَالَتْ إِنَّ صَفَيَّةَ بِنْتِ حُيَيٍّ حَاضَتْ بَعْدَمَا طَافَتْ بِالْبَيْتِ فِي يَوْمِ النَّحْرِ فَقَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ الْخَيْبَةُ إِنَّكِ لَحَابِسَتِنَا ⦗ص: 53⦘ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أن تنفر.
২৫ - কাতাদা হতে, তিনি ইকরামা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস ও যাইদ বিন সাবিত মতবিরোধ করলেন। যাইদ বললেন, বাইতুল্লাহর (তওয়াফ) যেন তার শেষ কাজ হয়। আর ইবনে আব্বাস বললেন, যদি সে কুরবানীর দিন তওয়াফ করে থাকে, তবে চাইলে সে প্রস্থান করতে পারবে। আনসারগণ ইবনে আব্বাসকে বললেন, আমরা আপনার কথা মানব না, যেহেতু যাইদ আপনার বিরোধিতা করেছেন। ইবনে আব্বাস বললেন, তোমরা আমার নিকট থেকে (বিধান) গ্রহণ করলে কি না করলে তাতে আমার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তবে তোমরা যখন মদীনায় পৌঁছাবে, তখন তোমাদের সাথী উম্মে সুলাইমকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো। অতঃপর তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই কুরবানীর দিন বাইতুল্লাহর তওয়াফ করার পর ঋতুবর্তী হয়েছিলেন। আয়েশা তাঁকে বললেন, হায় আফসোস! তুমি তো আমাদের আটকে দিলে। ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ অতঃপর বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করা হলো, তখন তিনি তাকে প্রস্থান করার নির্দেশ দিলেন।