(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: -)
جزء ابن فيل القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء ابن فيل
المؤلف: أَبُو طَاهِرٍ الحَسَنُ بنُ أَحْمَدَ بنِ إِبْرَاهِيْمَ بنِ فِيْلٍ البَالِسِيُّ (ت 311هـ)
المحقق: موسى إسماعيل البسيط
الناشر: مطبعة مسودي - القدس
الطبعة: الأولى 1421 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 184
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জুযু ইবনু ফীল বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: জুযু ইবনু ফীল
লেখক: আবু তাহির হাসান বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন ফীল আল-বালিসী (মৃত্যু ৩১১ হি.)
তাহকীককারী: মুসা ইসমাইল আল-বাসিত
প্রকাশক: মাসওয়াদী প্রেস - কুদস (জেরুসালেম)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হি. - ২০০১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৪
[কিতাবটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খাইর আকবিল
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: -)
جزء ابن فيل
لأبي طاهر الحسن بن أحمد بن إبراهيم بن فيل البالسي
(المتوفى سنة بضع عشرة وثلاثمئة)
دراسة وتحقيق
الدكتور موسى إسماعيل البسيط
الطبعة الأولى
1421 هـ - 2001 م
مطبعة مسودي - القدس
জুজ ইবনে ফিল
আবু তাহির আল-হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ফিল আল-বালিসি-এর রচনা
(মৃত্যু: ৩১০ হিজরি পরবর্তী কোনো এক বছর)
গবেষণা ও সম্পাদনা
ডক্টর মুসা ইসমাইল আল-বাসিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২১ হিজরি - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
মাসউদি প্রেস - আল-কুদস
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ
قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ الأوحد الْفَاضِلِ الصَّالِحِ نَاصِرِ الدِّينِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ الشَّيْخِ الصَّالِحِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عيسى بن سلطان الغزي الشافعي بمنزله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আল্লাহ মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
আমি অনন্য, গুণী ও পুণ্যবান শাইখ নাসিরুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল পুণ্যবান শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে ঈসা ইবনে সুলতান আল-গাজ্জী আশ-শাফিঈর নিকট তাঁর নিজ বাসভবনে পাঠ করেছি।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
يوم الجمعة الثاني عشر من المحرم سنة 853 وفيها مات قلت له: أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بكر الكومي سَنَةَ 792، أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ تَمَّامِ بْنِ حِبَّانَ سَنَةَ 745، أَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَبِي نَصْرِ بْنِ
৮৫৩ হিজরি সনের মুহাররম মাসের বারো তারিখ শুক্রবার এবং এই বছরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আমি তাকে বললাম: আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-কুমি ৭৯২ সালে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন তাম্মাম বিন হিব্বান ৭৪৫ সালে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন আবু নাসর বিন...
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
عَوَّةَ النَّحَّاسُ الْجَزَرِيُّ. أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُعُودٍ الْبُوصِيرِيُّ سَنَةَ 592، أَنَا أَبُو جَعْفَرٍ يَحْيَى بْنُ الْمُشَرَّفِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْخَضِرِ ابْنُ التَّمَّارِ سَنَةَ 517، أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَحْمَدَ بن نفيس
আউওয়াহ আন-নাহহাস আল-জাজারি। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে সুউদ আল-বুসিরি ৫৯২ হিজরি সনে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর ইয়াহইয়া ইবনুল মুশাররাফ ইবনে আলী ইবনুল খিদর ইবনুস তাম্মার ৫১৭ হিজরি সনে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে আহমদ ইবনে নাফিস।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
المقرئ 451، أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ بندار بن عبد الله ابن بُنْدَارٍ، قَاضِي أَذَنَةَ بِمِصْرَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي دَارِهِ فِي شَعْبَانَ سَنَةَ 385.
আল-মুকরি ৪৫১, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আল-হাসান বিন বুন্দার বিন আবদুল্লাহ ইবন বুন্দার, যিনি মিসরের আজানাহ শহরের বিচারক ছিলেন; ৩৮৫ হিজরি সনের শাবান মাসে তাঁর নিজ গৃহে তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٣١)
1- ثَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ فِيلٍ الأَسَدِيُّ الْبَالِسِيُّ الإِمَامُ بِمَدِينَةِ أَنْطَاكِيَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ، ثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عبيد، عن الحسن ويحيى بن أبي إسحق، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ:
((خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَكَّةَ فَكَانَ يَقْصُرُ الصَّلاةَ، ثُمَّ قَدِمْنَا مَكَّةَ فَأَقَمْنَا بِهَا عَشْرًا نَقْصُرُ الصَّلاةَ)) .
১- আনতাকিয়া শহরের ইমাম আবু তাহির আল-হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে ফীল আল-আসাদি আল-বালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব ইবনে সুওয়াইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি আল-হাসান এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবু ইসহাক থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
((আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলাম, এমতাবস্থায় তিনি সালাত কসর করছিলেন। অতঃপর আমরা মক্কায় পৌঁছলাম এবং সেখানে দশ দিন অবস্থান করলাম, (সেখানেও) আমরা সালাত কসর করছিলাম।))।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
2- حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ لَفْظًا، ثَنَا هَارُونُ بْنُ مُوسَى الْفَرْوِيُّ، قَالَ: وَثَنَا أَبُو ضَمْرَةَ أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
((إن الله إحتجز التوبة على كل صاحب بدعة)) .
২- আমাদের নিকট আবু তাহের মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন, হারুন বিন মুসা আল-ফারবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং আমাদের নিকট আবু দামরা আনাস বিন ইয়াজ বর্ণনা করেছেন হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন:
((নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিদআতকারীর জন্য তওবার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন)) ।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
3- حدثنا الحسن بن فِيلٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصَفًّى وَيَحْيَى بْنُ عثمان قال: ثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ:
((أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ بِغُسْلٍ واحد)) .
৩- হাসান ইবনু ফীল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনু মুসাফফা এবং ইয়াহইয়া ইবনু উসমান আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি হিশাম ইবনু যায়েদ ইবনু আনাস থেকে, তিনি আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন:
((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক গোসলেই তাঁর স্ত্রীদের নিকট গমনাগমন করতেন))।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
4- حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ إِمْلاءً، ثَنَا عَمْرُو بْنُ هِشَامٍ الْبَالِسِيُّ، ثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْجَدِّيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الْمَوَالِي الْمَدَنِيِّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
((مَنْ عَمَّرَهُ اللَّهُ أَرْبَعِينَ سَنَةً فِي الإِسْلامِ كَفَّ اللَّهُ عَنْهُ أَنْوَاعًا مِنَ الْبَلاءِ: الْجُذَامَ وَالْبَرَصَ وَجُنُونَ الشَّيْطَانِ.
وَمَنْ عَمَّرَهُ اللَّهُ خَمْسِينَ سَنَةً فِي الإِسْلامِ لَيَّنَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْحِسَابَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
وَمَنْ عمره الله ستين سَنَةً فِي الإِسْلامِ أَحَبَّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ وَأَهْلُ الأرض. رزقه الله الإنابة إليه بما يحب الله.
وَمَنْ عَمَّرَهُ اللَّهُ سَبْعِينَ سَنَةً فِي الإِسْلامِ أَحَبَّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ وَأَهْلُ الأَرْضِ.
وَمَنْ عَمَّرَهُ اللَّهُ تِسْعِينَ سَنَةً غَفَرَ لَهُ ذُنُوبَهُ وَكَانَ أسير الله في الأرض ويشفع فِي أَهْلِ بَيْتِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ)) .
৪- আবু তাহির আমাদের কাছে শ্রুতিলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে হিশাম আল-বালিসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল মালিক ইবনে ইবরাহিম আল-জাদ্দি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে আবিল মাওয়ালি আল-মাদানি থেকে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইবনে মুসা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান থেকে বর্ণিত, জাফর ইবনে আমর ইবনে উমাইয়া আদ-দামরি থেকে বর্ণিত, আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
((যাকে আল্লাহ ইসলামের ওপর চল্লিশ বছর বয়স দান করেছেন, আল্লাহ তার থেকে বিভিন্ন প্রকারের বিপদ দূর করে দেন: কুষ্ঠরোগ, শ্বেতি রোগ এবং শয়তানের প্ররোচনায় সৃষ্টি হওয়া উন্মাদনা।
আর যাকে আল্লাহ ইসলামের ওপর পঞ্চাশ বছর বয়স দান করেছেন, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার হিসাব সহজ করে দেবেন।
আর যাকে আল্লাহ ইসলামের ওপর ষাট বছর বয়স দান করেছেন, আসমানবাসী ও জমিনবাসী তাকে ভালোবাসবে। আল্লাহ তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী তাঁর দিকে একনিষ্ঠভাবে ফিরে আসার তাওফিক দান করবেন।
আর যাকে আল্লাহ ইসলামের ওপর সত্তর বছর বয়স দান করেছেন, আসমানবাসী ও জমিনবাসী তাকে ভালোবাসবে।
আর যাকে আল্লাহ নব্বই বছর বয়স দান করেছেন, আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন এবং সে জমিনে আল্লাহর বিশেষ অনুগত বান্দা হিসেবে গণ্য হয় এবং কিয়ামতের দিন সে তার পরিবারের লোকদের জন্য সুপারিশ করবে।))
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
5- حدثنا أبو طاهر، ثَنَا الْجَوْهَرِيُّ ثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنِي بُرَيْدُ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: ((إِنَّ اللَّهَ إِذَا أَرَادَ رَحْمَةَ أُمَّةٍ مِنْ عِبَادِهِ قَبَضَ نَبِيَّهَا قَبْلَهَا، فَجَعَلَهُ لَهَا فَرَطًا وسلفاً بين يديها، وإذا أراد الله هلاك أُمَّةٍ عَذَّبَهَا وَنَبِيُّهَا حَيٌّ، فَأَهْلَكَهَا وَهُوَ يَنْظُرُ، فأقر عينيه بِهَلاكِهَا حِينَ كَذَّبُوهُ وَعَصَوْا أَمْرَهُ)) .
৫- আবু তাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাওহারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বুরাইদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বুরদাহ্ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে কোনো উম্মতের প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করেন, তখন তাদের পূর্বে তাদের নবীকে তুলে নেন। অতঃপর তিনি তাকে তাদের জন্য অগ্রগামী এবং সম্মুখবর্তী পথপ্রদর্শক হিসেবে সাব্যস্ত করেন। আর আল্লাহ যখন কোনো উম্মতকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করেন, তখন তাদের নবীর জীবদ্দশায় তাদের আজাব প্রদান করেন। অতঃপর তিনি তাদের ধ্বংস করেন এমতাবস্থায় যে, তিনি তা প্রত্যক্ষ করেন। এভাবে তাদের ধ্বংসের মাধ্যমে তিনি তাঁর চক্ষু শীতল করেন, যেহেতু তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং তাঁর আদেশের অবাধ্য হয়েছিল।))।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
6- حدثنا أبو طاهر الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ، ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ وَنُوحُ بْنُ حَبِيبٍ الْقُومَسِيُّ قَالا ثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بن معد يكرب عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
((إِذَا أَحَبَّ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُعْلِمْهُ بِذَلِكَ)) .
৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাহির আল-হাসান ইবনে আহমাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে আল-হাসান আল-মারওয়াযী এবং নূহ ইবনে হাবীব আল-কূমাসী। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, ছাওর ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হাবীব ইবনে উবাইদ, আল-মিকদাম ইবনে মা’দী কারিব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
((তোমাদের কেউ যখন তার ভাইকে ভালোবাসে, তখন সে যেন তাকে তা জানিয়ে দেয়))।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
7- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا الْمُؤَمَّلُ بْنُ شِهَابٍ الْمَكِّيُّ، ثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((إِذَا أَحَبَّ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُعْلِمْهُ ثُمَّ لِيَزُرْهُ وَلا يَكُنْ أَوَّلَ قَاطِعٍ)) .
৭- হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআম্মাল ইবনে শিহাব আল-মাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আমির আল-আকাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবনে যায়িদ থেকে, তিনি আল-মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) বলেছেন: ((তোমাদের কেউ যখন তার ভাইকে ভালোবাসে, তখন সে যেন তাকে তা জানিয়ে দেয়, অতঃপর সে যেন তার সাথে সাক্ষাৎ করে এবং সে যেন সম্পর্ক ছিন্নকারী প্রথম ব্যক্তি না হয়।))
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
8- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ، ثَنَا أَبِي، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ مُصْعَبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو يَحْيَى مَوْلَى آلِ الزُّبَيْرِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَرَّ عَلَيْنَا رجلٌ فَقَالَ رَجُلٌ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي أُحِبُّ هَذَا فِي اللَّهِ تبارك وتعالى فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ((أَعْلَمْتَهُ ذَلِكَ)) قَالَ: لا. قَالَ: ((فَهَلْ تَدْرِي مَا اسْمُهُ؟)) قَالَ: لا. قَالَ: ((اذْهَبْ فَأَعْلِمْهُ وَسَلْهُ عَنِ اسْمِهِ)) قَالَ: فَذَهَبَ إِلَيْهِ الرَّجُلُ فَأَعْلَمَهُ ذَلِكَ وَسَأَلَهُ عَنِ اسْمِهِ فَقَالَ الرَّجُلُ: أَحَبَّكَ الَّذِي أَحْبَبْتَنِي فِيهِ.
فَرَجَعَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ بِالَّذِي قَالَ وَرَدَّ عَلَيْهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ((وَجَبَتْ)) .
৮- হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন ওয়াকী বিন আল-জাররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খারিজাহ বিন মুসআব থেকে বর্ণিত, যুবাইর পরিবারের মুক্তদাস আবু ইয়াহইয়া আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, সালেম বিন আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, তখন আমাদের সামনে দিয়ে এক ব্যক্তি অতিক্রম করলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর নবী! আমি এই ব্যক্তিকে মহান ও বরকতময় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি কি তাকে তা জানিয়েছ?" তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: "তবে তুমি কি তার নাম জানো?" তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: "যাও, তাকে তা জানাও এবং তার নাম জিজ্ঞাসা করো।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর সেই ব্যক্তি তাঁর কাছে গেলেন এবং তাকে বিষয়টি জানালেন ও তাঁর নাম জিজ্ঞাসা করলেন। তখন সেই ব্যক্তি বললেন: আপনি যাঁর সন্তুষ্টির জন্য আমাকে ভালোবেসেছেন, তিনি আপনাকে ভালোবাসুন।
অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে আসলেন এবং সেই ব্যক্তি যা বলেছেন ও যে উত্তর দিয়েছেন সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "(আল্লাহর ভালোবাসা) ওয়াজিব হয়ে গেল।"
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
9- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا الْحُسَيْنُ الْمَرْوَزِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، ثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ.
وَحَدَّثَنَا الحسن قال: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَبَلَةَ الرَّافِقِيُّ، ثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ أَبَا سَالِمٍ الْجَيْشَانِيَّ أَتَى إِلَى أَبِي أُمَيَّةَ فِي مَنْزِلِهِ فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ يَقُولُ إِنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:
((إِذَا أَحَبَّ أَحَدُكُمْ صَاحِبَهُ فَلْيَأْتِهِ فِي مَنْزِلِهِ فَلْيُخْبِرْهُ أَنَّهُ يُحِبُّهُ فيه تبارك وتعالى وَقَدْ جِئْتُكَ فِي مَنْزِلِكَ)) .
৯- আমাদের নিকট হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট হুসাইন আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট ইবনে লাহিয়াহ বর্ণনা করেছেন।
এবং হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে জাবালাহ আর-রাফিকী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনুল হাকাম ইবনে আবি মারইয়াম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট ইয়াযীদ ইবনে আবি হাবীব বর্ণনা করেছেন যে, আবু সালিম আল-জাইশানী আবু উমাইয়্যাহর নিকট তাঁর বাড়িতে আসলেন এবং বললেন: আমি আবু যারকে বলতে শুনেছি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
((যখন তোমাদের কেউ তার সঙ্গীকে ভালোবাসে, তখন সে যেন তার বাড়িতে যায় এবং তাকে সংবাদ দেয় যে, সে তাকে বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসে। আর আমি আপনার নিকট আপনার বাড়িতে এসেছি [তা জানাতে]))।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
10- حَدَّثَنَا أَبُو طَاهِرٍ، ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ المروزي، ثنا الفضل بن موسى السناني، ثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((لَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا بي، ولن تؤمنوا بي حَتَّى تَحَابُّوا، أَلا أُخْبِرُكُمْ بِشَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تحاببتم؟ أفشوا السلام بينكم)) .
১০- আমাদের নিকট আবু তাহের বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ফজল ইবনে মূসা আস-সিনানী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমাশ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
((তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না আমার প্রতি ঈমান আনবে, আর তোমরা আমার প্রতি ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয়ের সংবাদ দেব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।))
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٤١)
11- حدثنا أبو طاهر، ثَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ الْمِصِّيصِيُّ، ثَنَا عُبَيْدُ الله بن موسى العنسي، ثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَعْرَجُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ الْعُتْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ:
((إِنَّ الْمُتَحَابِّينَ فِي اللَّهِ عز وجل عَلَى عَمُودٍ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ، فِي رَأْسِ الْعَمُودِ سَبْعُونَ أَلْفَ غُرْفَةٍ يضيء حُسْنُهُنَّ لأَهْلِ الْجَنَّةِ كَمَا تُضِيءُ الشَّمْسُ لأَهْلِ الدُّنْيَا، عَلَيْهِمْ ثيابٌ سندسٌ خضرٌ مكتوبٌ عَلَى جِبَاهِهِمْ، هَؤُلاءِ الْمُتَحَابُّونَ فِي اللَّهِ تبارك وتعالى) .
১১- আবু তাহির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ বিন সাঈদ আল-মিসসিসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন মুসা আল-আনসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ বিন আবদুল্লাহ আল-আরাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন আল-হারিস আল-উতবি থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
((নিশ্চয়ই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা একে অপরকে ভালোবাসে, তারা লাল ইয়াকুত পাথরের একটি স্তম্ভের ওপর অবস্থান করবে। সেই স্তম্ভের শীর্ষে সত্তর হাজার কক্ষ থাকবে, যেগুলোর সৌন্দর্য জান্নাতবাসীদের জন্য এমনভাবে উজ্জ্বলতা ছড়াবে যেমনভাবে সূর্য পৃথিবীবাসীদের জন্য উজ্জ্বলতা ছড়ায়। তাদের পরিধানে থাকবে সবুজ রেশমি বস্ত্র এবং তাদের কপালে লেখা থাকবে: ‘এরাই তারা, যারা বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসত’))।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
12- حَدَّثَنَا أَبُو الطَّاهِرِ، حَدَّثَنِي أَبِي رحمه الله، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَاتِمٍ الطَّوِيلُ وَعِيسَى بْنُ سُلَيْمَانَ الْحِجَازِيُّ. قَالا: ثَنَا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ الأَشْجَعِيُّ.
وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ قَالَ: وَثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، ثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ خَلَفِ بْنِ خَلِيفَةَ.
وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ وَثَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، ثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ جَمِيلٍ، ثَنَا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ.
وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ قَالَ: وَثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ خَالِدٍ الْجُرْجَانِيُّ، ثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثَنَا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ عَنْ حميد الأعرج، عن عبد الله بن الحارث، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ.
১২- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু তাহের, তিনি বলেন আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ), আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে হাতিম আত-তবীল এবং ঈসা ইবনে সুলাইমান আল-হিজাজি। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে খলিফা আল-আশজায়ি।
এবং আমাদের নিকট হাসান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে সুলাইমান আল-ওয়াসিতি, খালাফ ইবনে খলিফা থেকে।
এবং আমাদের নিকট হাসান হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ইউসুফ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হায়সাম ইবনে জামিল, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে খলিফা।
এবং আমাদের নিকট হাসান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে খালিদ আল-জুরাযানি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কুতায়বা ইবনে সাঈদ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে খলিফা, তিনি হুমাইদ আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
13- وحدثنا الحسن، ثنا الحسين بن الحسن المروزي، ثنا محمد بن أبي عدي، ثنا محمد بن أبي حميد.
وحدثنا الحسن، ثنا مؤمل بن إهاب المكي، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْجَدِّيُّ، ثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي حُمَيْدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ وَرْدَانَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:
((إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَعُمُدًا مِنْ يَاقُوتٍ عَلَيْهَا غُرَفٌ مِنْ زَبَرْجَدٍ، لَهَا أَبْوَابٌ مُفَتَّحَةٌ، تَبُصُّ كَمَا يَبُصُّ الْكَوْكَبُ الدُّرِّيُّ)) . وَقَالَ مؤمل: تُضِيءُ كَمَا يُضِيءُ الْكَوْكَبُ الدُّرِّيُّ - قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. مَنْ يَسْكُنُهَا؟ قَالَ: ((الْمُتَحَابُّونَ فِي الله والمتلاقون في الله والمتباذلون فِي اللَّهِ تبارك وتعالى) .
১৩- এবং আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবি আদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবি হুমায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
এবং আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআম্মাল ইবনে ইহাব আল-মাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-জাদ্দী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আবি হুমায়দ থেকে, তিনি মূসা ইবনে ওয়ারদান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
((নিশ্চয়ই জান্নাতে ইয়াকুত (চুনি) নির্মিত স্তম্ভসমূহ রয়েছে, যার ওপর যবরজদ (পান্না) নির্মিত কক্ষসমূহ রয়েছে; সেগুলোর দরজাগুলো উন্মুক্ত এবং সেগুলো উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় চকচক করে।)) আর মুআম্মাল বলেছেন: সেগুলো উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় আলো দান করে—আমরা আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসুল! সেখানে কারা বসবাস করবেন? তিনি বললেন: ((আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা পরস্পরকে ভালোবাসে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা একে অপরের তরে ব্যয় করে।))
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
14- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ، ثَنَا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الْقَسْرِيُّ، ثَنَا أمي الصيرفي، عن أبي إسحق، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه قَالَ: ((إِنَّ الرَّجُلَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ لَيَشْتَاقُ إِلَى أَخِيهِ فِي اللَّهِ تعالى، فيؤتى بنجيبة من نجايب الجنة فيركبها إلى أخيه، بينه وَبَيْنَهُ مَسِيرَةُ أَلْفِ أَلْفِ عَامٍ، بِقَدْرِ مَسِيرِ أَحَدِكُمْ فَرْسَخًا أَوْ فَرْسَخَيْنِ فَيَلْقَاهُ فَيُعَانِقُهُ)) .
১৪- আমাদের নিকট হাসান বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে সাঈদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে ইয়াযীদ আল-কাসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উম্মি আস-সাইরাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিস থেকে এবং তিনি আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "জান্নাতবাসীদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি যখন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার কোনো ভাইয়ের সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা করবেন, তখন জান্নাতের উন্নতজাতের উটসমূহের মধ্য হতে একটি বাহন তার নিকট আনা হবে। অতঃপর তিনি তাতে আরোহণ করে তার ভাইয়ের নিকট যাবেন। তাদের উভয়ের মাঝে দশ লক্ষ বছরের পথ চলার সমপরিমাণ দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও তা তোমাদের কারো এক বা দুই ফারসাখ পথ চলার সময়ের মতো মনে হবে। অতঃপর তিনি তার সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাকে আলিঙ্গন করবেন।"
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
15- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا مَالِكُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْحِمْصِيُّ، ثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سعيد، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ أَبِي زِيَادٍ خِيَارِ بْنِ سَلَمَةَ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْبَصَلِ فقال: ((إِنَّ آخِرَ طَعَامٍ أَكَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَعَامٌ فِيهِ بَصَلٌ)) .
১৫- আমাদের নিকট আল-হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক বিন সুলাইমান আল-হিমসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বাহীর বিন সাঈদ থেকে, তিনি খালিদ বিন মা’দান থেকে, তিনি আবু যিয়াদ খিয়ার বিন সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়িশাকে পেঁয়াজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ যে খাদ্যটি গ্রহণ করেছিলেন, তা এমন খাদ্য ছিল যাতে পেঁয়াজ ছিল।"
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
16- حدثنا الحسن، ثنا محمد بن العلاء أبو كُرَيْبٍ، ثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ الأَنْصَارِيُّ، عَنِ ابْنِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أنه قال:
((إن لِكُلِّ أُمَّةٍ مَجُوسًا وَإِنَّ مَجُوسَ أُمَّتِي أَهْلُ الْقَدَرِ فَإِنْ مَرِضُوا فَلا تَعُودُوهُمْ، وَإِنْ خَطَبُوا فَلا تُزَوِّجُوهُمْ، وَإِنْ مَاتُوا فَلا تَشْهَدُوهُمْ)) .
১৬- আমাদের নিকট হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল আলা আবু কুরাইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুয়াবিয়া ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-হাশেমী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে কাব ইবনে মালিক আল-আনসারী বর্ণনা করেছেন, তিনি জাবের ইবনে আবদুল্লাহর পুত্র থেকে, তিনি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
“নিশ্চয়ই প্রত্যেক উম্মতেরই মাজুস (অগ্নিপূজক) রয়েছে, আর আমার উম্মতের মাজুস হলো কদরিয়া (তাকদীর অস্বীকারকারী) সম্প্রদায়। সুতরাং তারা অসুস্থ হলে তোমরা তাদের দেখতে যেয়ো না, তারা বিবাহের প্রস্তাব দিলে তাদের নিকট (কাউকে) বিবাহ দিয়ো না এবং তারা মারা গেলে তাদের জানাজায় উপস্থিত হয়ো না।”
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
17- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ الْحِمْصِيُّ، ثَنَا أَبُو حَيْوَةَ شُرَيْحُ بْنُ يَزِيدَ الْحَضْرَمِيُّ، ثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْوَهْبِيِّ عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ:
((إِنَّمَا مَثَلُ الْمُؤْمِنِ فِي الدُّنْيَا كَمَثَلِ رَجُلٍ مريض معه صبيه الَّذِي يَعْلَمُ دَاءَهُ وَدَوَاءَهُ فَإِذَا اشْتَهَى مَا يَضُرُّهُ مَنَعَهُ مِنْهُ، وَقَالَ: لا تَقْرَبْهُ فَإِنَّكَ إِنْ أَصَبْتَهُ أَهْلَكَكَ، فَلا يَزَالُ يَمْنَعُهُ مِمَّا اشتهى فما يَضُرُّهُ حَتَّى يَبْرَأَ مِنْ وَجَعِهِ بِإِذْنِ اللَّهِ. كَذَلِكَ الْمُؤْمِنُ يَشْتَهِي أَشْيَاءَ كَثِيرَةً مِمَّا فُضِّلَ بِهِ غَيْرُهُ عَلَيْهِ مِنَ الْعَيْشِ، فَيَمْنَعُهُ اللَّهُ تبارك وتعالى إِيَّاهُ وَيَحْجِزُهُ عَنْهُ، حَتَّى يَتَوَفَّاهُ ويدخله الجنة)) .
১৭- হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সাঈদ আল-হিমসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাইওয়াহ শুরাইহ ইবনে ইয়াযিদ আল-হাদরামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাফওয়ান ইবনে আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ আল-ওয়াহবি থেকে বর্ণিত, তিনি সালমান আল-ফারিসি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
((দুনিয়াতে মুমিনের উদাহরণ তো কেবল সেই অসুস্থ ব্যক্তির মতো, যার সাথে তার এমন অভিভাবক থাকে যে তার রোগ এবং ঔষধ সম্পর্কে অবগত। ফলে সে যখন ক্ষতিকর কিছুর আকাঙ্ক্ষা করে, তখন সে তাকে তা থেকে বিরত রাখে এবং বলে: "এর নিকটবর্তী হয়ো না, কারণ তুমি যদি তা গ্রহণ করো তবে তা তোমাকে ধ্বংস করে দেবে।" এভাবেই সে তাকে তার আকাঙ্ক্ষিত ক্ষতিকর বিষয়গুলো থেকে নিরন্তর বিরত রাখতে থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহর অনুমতিক্রমে সে তার যন্ত্রণা থেকে আরোগ্য লাভ করে। তদ্রূপ মুমিনও পার্থিব জীবনের এমন অনেক কিছুর আকাঙ্ক্ষা করে যা তার পরিবর্তে অন্যকে প্রদান করে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাকে তা থেকে বিরত রাখেন এবং তাকে তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন, যতক্ষণ না তিনি তাকে মৃত্যু দান করেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করান।)) .
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
18- قُرِئَ عَلَى أَبِي طَاهِرٍ وَأَنَا أَسْمَعُ، ثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ، ثَنَا الْخَلِيلُ بْنُ عُمَرَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثَنَا أَبِي، ثَنَا مَطَرٌ الْوَرَّاقُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((الْمَلائِكَةُ عَلَى أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ يَكْتُبُونَ مَنْ يَجِيءُ، كُلُّ رَجُلٍ جَاءَ فُلانٌ ساعة كذا وكذا، وإذا خَرَجَ الإِمَامُ رُفِعَتِ الأَقْلامُ وَطُوِيَتِ الصُّحُفُ تَقُولُ الملائكة: ما فعل فلان وما شاء فُلانٍ، اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ ضَالا فَاهْدِهِ، وَإِنْ كَانَ فَقِيرًا فَأَغْنِهِ، وَإِنْ كَانَ مَرِيضًا فَاشْفِهِ)) .
১৮- আবু তাহিরের নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তা শুনছিলাম; আবু উমাইয়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-খলীল ইবনে উমর ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মাতার আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
((জুমুআর দিনে ফেরেশতারা মসজিদের দরজাসমূহে অবস্থান করেন, তারা আগন্তুকদের নাম লিপিবদ্ধ করেন; প্রত্যেক ব্যক্তি যে আসে—অমুক ব্যক্তি অমুক অমুক সময়ে এসেছে। আর যখন ইমাম বের হন, তখন কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং দফতরসমূহ গুটিয়ে ফেলা হয়। তখন ফেরেশতারা বলেন: 'অমুকের কী হলো এবং অমুকের কী অবস্থা? হে আল্লাহ! যদি সে পথভ্রষ্ট হয় তবে তাকে হিদায়াত দান করুন, যদি সে অভাবগ্রস্ত হয় তবে তাকে সচ্ছলতা দান করুন এবং যদি সে অসুস্থ হয় তবে তাকে আরোগ্য দান করুন'।))
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
19- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الصُّورِيُّ قَالَ: وَثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلالٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: ((يَقْطَعُ الصَّلاةَ الْكَلْبُ الأَسْوَدُ وَالْمَرْأَةُ وَالْحِمَارُ)) . قَالَ: فَقُلْتُ: مَا بَالُ الأَسْوَدِ مِنَ الأَبْيَضِ مِنَ الأَحْمَرِ مِنَ الأَصْفَرِ؟ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا سَأَلْتَنِي فَقَالَ: ((الأَسْوَدُ شَيْطَانٌ)) .
১৯- আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আস-সূরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শাওযাব থেকে, মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, হুমাইদ ইবনে হিলাল থেকে, আবদুল্লাহ ইবনে আস-সামিত থেকে, আবু যার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((কালো কুকুর, নারী এবং গাধা সালাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়))। তিনি বলেন: আমি বললাম: সাদা, লাল কিংবা হলুদ বর্ণের তুলনায় কালো বর্ণের বিশেষত্ব কী? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেভাবেই জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেমনটি তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তখন তিনি বললেন: ((কালো কুকুর হলো শয়তান))।
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
20- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ، ثَنَا خَلَفُ بْنُ الْوَلِيدِ، ثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ عَنْ مطر الوراق، عن عمرو بن شعيب، عن أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ. قَالَ: ((رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي نَعْلَيْهِ، وَرَأَيْتُهُ يُصَلِّي حَافِيًا، وَرَأَيْتُهُ يَشْرَبُ قَائِمًا، وَرَأَيْتُهُ يَشْرَبُ قَاعِدًا، وَرَأَيْتُهُ يَنْصَرِفُ عَنْ يَمِينِهِ، وَرَأَيْتُهُ يَنْصَرِفُ عَنْ شِمَالِهِ)) .
২০- আল-হাসান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু উমাইয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালাফ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আর-রাজি মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর জুতা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি, এবং তাঁকে খালি পায়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আমি তাঁকে দাঁড়িয়ে পান করতে দেখেছি, এবং তাঁকে বসে পান করতে দেখেছি। আমি তাঁকে তাঁর ডান দিক দিয়ে (সালাত শেষে) ফিরতে দেখেছি, এবং তাঁকে তাঁর বাম দিক দিয়ে ফিরতেও দেখেছি।"
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
21- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، ثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّهُ قَالَ:
((لا تُلْبِسُوا عَلَيْنَا سُنَّةَ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم عِدَّتُهَا عِدَّةُ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وعشراً)) .
২১- আল-হাসান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু উমাইয়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বাকর আস-সাহমী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি রাজা ইবনে হাইওয়াহ থেকে, তিনি ক্বাবীসাহ ইবনে যুআইব থেকে, তিনি আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
((তোমরা আমাদের নিকট আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতকে অস্পষ্ট করো না; তার ইদ্দত বা অপেক্ষার সময়কাল হলো সেই নারীর ইদ্দতের সমান যার স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে, অর্থাৎ চার মাস দশ দিন।)) .
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٥١)
22- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ، ثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى أَبِي مُوسَى وَهُوَ يَحْتَجِمُ لَيْلا. فَقُلْتُ: لَوْ كَانَ هَذَا نَهَارًا. فقال: أتأمرني أُهْرِيقُ دَمِي وَأَنَا صَائِمٌ. وَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((أَفْطَرَ الحاجم والمحجوم)) .
২২- হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উমাইয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাওহ ইবন উবাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবন আবি আরুবাহ থেকে, তিনি মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি বাকর ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু মুসার নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি রাতে শিঙা (হিজামা) লাগাচ্ছিলেন। আমি বললাম: এটি যদি দিনে হতো। তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে আমার রক্ত প্রবাহিত করার নির্দেশ দিচ্ছ যখন আমি রোজা পালন করছি? অথচ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "শিঙা দানকারী এবং গ্রহণকারী (উভয়েরই) রোজা ভঙ্গ হয়ে গেছে।"
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
23- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ الْهَمْدَانِيُّ، ثَنَا أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ قَالَ: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ)) .
২৩- হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কুরাইব আল-হামদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বুরাইদ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
((মুমিন এক অন্ত্রে আহার করে এবং কাফির সাত অন্ত্রে আহার করে।))
(খণ্ড: ১)
জুজউ ইবনি ফীল
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
24- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، ثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْوَلِيدِ الْهَرَوِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فَضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، ثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((إِذَا وُضِعَ الطَّعَامُ فَكُلُوا مِنْ حَافَاتِهِ وَدَعُوا وَسَطَهُ فَإِنَّ الْبَرَكَةَ تَنْزِلُ فِي وَسَطِهِ)) .
২৪- আমাদের নিকট হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাশেম ইবনুল ওয়ালীদ আল-হারাভী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনু ফুদাইল ইবনু গাযওয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন খাবার রাখা হয়, তখন তোমরা এর চারপাশ থেকে আহার করো এবং এর মাঝখানটা ছেড়ে দাও; কেননা বরকত এর মাঝখানেই অবতীর্ণ হয়।"