(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: -)
فوائد أبي أحمد الحاكم   (أبو أحمد الحاكم)

القسم: كتب السنة


الكتاب: ما اتصل إلينا من فوائد أبي أحمد الحاكم

المؤلف: أبو أحمد محمد بن محمد بن أحمد بن إسحاق النيسابوري الكرابيسي المعروف بالحاكم الكبير (ت 378هـ)

المحقق: أحمد بن فارس السلوم

الناشر: دار ابن حزم

الطبعة: الأولى 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 144

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু আহমাদ আল-হাকিমের ফাওয়াইদ (উপকারিতা)   (আবু আহমাদ আল-হাকিম)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আবু আহমাদ আল-হাকিমের ফাওয়াইদ থেকে যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে

লেখক: আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইসহাক আন-নিশাপুরী আল-কারাবিসি, যিনি আল-হাকিম আল-কাবীর নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৭৮ হিজরি)

মুহাক্কিক: আহমাদ বিন ফারিস আস-সাল্লুম

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৪

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: -)
ما اتصل إلينا من

فوائد أبي أحمد الحاكم

رحمه الله تعالى

(285 - 378 هـ)

 

الجزء العاشر والحادي عشر

 

تحقيق وتخريج

د / أحمد بن فارس السلوم

عفا الله عنه

 

دار ابن حزم

 

الطبعة الأولى

1425 هـ - 2004 م
আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে

আবু আহমাদ আল-হাকিমের ফুওয়াইদ (শিক্ষাসমূহ)

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন

(২৮৫ - ৩৭৮ হিজরি)

 

দশম ও একাদশ খণ্ড

 

তাহকিক ও তাখরিজ

ড. আহমাদ বিন ফারিস আস-সাল্লুম

আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন

 

দার ইবনে হাজম

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌الجزء العاشر من فوائد أبي أحمد الحاكم
আবু আহমাদ আল-হাকিম-এর ফাওয়ায়িদ-এর দশম খণ্ড
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৫১)
بسم الله الرحمن الرحيم

{لكيلا تأسوا على ما فاتكم ولا تفرحوا بما آتاكم}

أخبرنا به المشايخ الثلاثة المسندون المعمرون الإمام العالم الحافظ البارع شمس الدين أبو بكر محمد بن الحافظ محب الدين أبي محمد عبد الله بن أحمد بن المحب عبد الله المقدسي، وغرس الدين أبو الصفا خليل بن شرف الدين صالح بن أبي بكر بن إبراهيم بن الحافظي، وأم محمد عائشة بنت سيف الدين أبي بكر بن عيسى بن أبي القاسم الحنفي الشهيرة ببنت قوالبج، قراءة عليها وأنا أسمع في يوم الثلاثاء، رابع شهر
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

{যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার জন্য উল্লসিত না হও।}

আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন দীর্ঘজীবী ও সনদধারী তিনজন শায়খ: ইমাম, বিজ্ঞ আলিম ও দক্ষ হাফিজ শামসুদ্দীন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হাফিজ মুহিবুদ্দীন আবি মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনুল মুহিব্ব আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসি; গারসুদ্দীন আবুল সাফা খলীল ইবনে শারাফুদ্দীন সালিহ ইবনে আবি বকর ইবনে ইবরাহীম ইবনুল হাফিজি; এবং উম্মু মুহাম্মাদ আয়িশা বিনতে সাইফুদ্দীন আবু বকর ইবনে ঈসা ইবনে আবিল কাসিম আল-হানাফি, যিনি বিনতে কাওয়ালিবাজ নামে পরিচিত। তাঁর সামনে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম; এটি ছিল মঙ্গলবার, মাসের চতুর্থ তারিখে...
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৫২)
المحرم، سنة ثلاث وتسعين وسبعمائة، بالمدرسة الخاتونية البرانية بدمشق المحروسة، والآخران إجازة إن لم يكن سماعاً، قالوا ثلاثتهم:

أخبرنا به المشايخ سعد الدين أبو زكريا محمد بن محمد بن سعد بن عبد الله بن سعد الأنصاري المقدسي، وعلاء الدين أبو الحسن علي بن الشهاب أحمد بن عسكر بن عبد الواحد القصيري الجمال، وشمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن ملعة بن مطرف القنوي ثم الصالحي، قراءة عليهم ونحن نسمع، قال ابن المحب والحافظي: في يوم الثلاثاء الثاني والعشرين من شهر رجب سنة ثمان عشرة وسبعمائة، بالجامع المظفري، وقالت بنت (ابن) قوالبج في يوم الاثنين تاسع عشر ربيع الآخر سنة إحدى وعشرين وسبعمائة، بمنزل الأول بقاسيون، زاد ابن المحب والحافظي فقالا:

وأبو عبد الله محمد بن نعمة بن سلمان الحوراني، ومحب الدين أبو عبد الله محمد بن المحب عبد الله بن أحمد بن محمد بن إبراهيم المقدسي، قراءة عليهما ونحن نسمع في التاريخ المذكور، زاد ابن المحب أيضاً - أعني: شيخنا، فقال:

وزين الدين أبو محمد عبد الرحمن بن الشيخ نصر بن عبيد بن
মুহররম মাস, সাতশ তিরানব্বই হিজরি সাল, সুরক্ষিত দামেস্কের মাদ্রাসা খাতুনিয়া বারানিয়াতে। অপর দুজন ইজাজাহ সূত্রে, যদি তা শ্রবণের মাধ্যমে না হয়ে থাকে। তাঁরা তিনজনই বলেছেন:

শায়খগণ আমাদের এর সংবাদ দিয়েছেন: সাদ উদ-দিন আবু যাকারিয়া মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ আনসারি মাকদিসি, আলা উদ-দিন আবু হাসান আলী ইবনে শিহাব আহমাদ ইবনে আসকার ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ কুসাইরি জামাল, এবং শামস উদ-দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মাল'আহ ইবনে মুতাররিফ কানাওয়ি অতঃপর সালিহি। তাঁদের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শ্রবণ করেছি। ইবনুল মুহিব্ব এবং আল-হাফিজি বলেছেন: সাতশ আঠারো হিজরি সালের রজব মাসের বাইশ তারিখ মঙ্গলবার, জামে মুজাফফারি মসজিদে। এবং বিনতে (ইবনে) কাওয়ালিজ সাতশ একুশ হিজরি সালের রবিউস সানি মাসের উনিশ তারিখ সোমবার কাসিউন পাহাড়ে অবস্থিত প্রথমজনের বাড়িতে বলেছেন। ইবনুল মুহিব্ব এবং আল-হাফিজি আরও বাড়িয়ে বলেছেন:

এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে নিমাহ ইবনে সালমান হাওরানি এবং মুহিব্ব উদ-দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহিব্ব আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম মাকদিসি; উল্লিখিত তারিখে তাঁদের নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শ্রবণ করেছি। ইবনুল মুহিব্ব—অর্থাৎ আমাদের শায়খ—আরও বাড়িয়ে বলেছেন:

এবং যয়ন উদ-দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে শায়খ নাসর ইবনে উবাইদ ইবনে...
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৫৩)
محمد بن عمران الحنفي الصالحي، قراءة عليه وأنا أسمع، في يوم الخميس خامس عشر جمادى الأولى سنة أربع وعشرين وسبعمائة، قالوا خلا ابن المحب:

أخبرنا الشيخ الإمام العالم بقية المشايخ شرف الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن أبي الفضل المرسي، قراءة عليه ونحن نسمع عشية السبت ثاني ربيع الآخر سنة ست وأربعين وستمائة، وقال ابن المحب شيخ شيخنا: أخبرنا الشيخ الإمام الحافظ أبو علي الحسن بن محمد بن محمد بن محمد البكري، قراءة عليه وأنا حاضر في الرابعة، في سادس شهر شوال
মুহাম্মাদ ইবনে ইমরান আল-হানাফি আস-সালিহি, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শ্রবণ করছিলাম, সাতশত চব্বিশ হিজরি সনের পনেরোই জুমাদাল উলা বৃহস্পতিবার; তাঁরা বললেন, ইবনুল মুহিব ব্যতীত:

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম ও প্রবীণ মাশায়েখদের যোগ্য উত্তরসূরি শারাফউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল ফজল আল-মুরসি; তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা শ্রবণ করছিলাম ছয়শত ছেচল্লিশ হিজরি সনের দোসরা রবিউস সানি শনিবার সন্ধ্যায়। আর আমাদের শায়খের শায়খ ইবনুল মুহিব বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, হাফিজ আবু আলি আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাকরি; তাঁর নিকট পাঠকালে আমি চতুর্থ বর্ষে উপস্থিত ছিলাম, শাওয়াল মাসের ছয় তারিখে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৫৪)
سنة ثلاث وخمسين وستمائة، قال هو والمرسي: أخبرتنا الشيخة الجليلة الحرة زينب بنت أبي القاسم عبد الرحمن بن الحسن بن أحمد بن سهل بن أحمد بن سهل بن أحمد بن عبدوس الجرجاني الشعري، قراءة عليها ونحن نسمع، قال البكري: في شهر ربيع الآخر سنة تسع وستمائة بنيسابور المحروسة، قالت: أخبرنا الشيخ أبو القاسم زاهر بن طاهر بن محمد الشحامي، قراءة عليه وأنا أسمع في منتصف شهر رمضان المعظم سنة إحدى وثلاثين وخمسمائة، قال: أنبا أبو سعد محمد بن عبد الرحمن الكنجروذي، وذلك سنة إحدى وخمسين وأربعمائة، قال: أنبا الحاكم أبو أحمد محمد بن محمد بن أحمد بن إسحاق الحافظ النيسابوري، قال:

৬৫৩ হিজরী সাল, তিনি এবং আল-মুরসি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মহীয়সী ও স্বাধীন শাইখা যাইনাব বিনতে আবিল কাসিম আবদুর রহমান বিন আল-হাসান বিন আহমাদ বিন সাহল বিন আহমাদ বিন সাহল বিন আহমাদ বিন আবদুস আল-জুরজানি আশ-শা’রি, তাঁর সম্মুখে পাঠ করার মাধ্যমে এমতাবস্থায় যে আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। আল-বাকরি বলেন: ৬০৯ হিজরী সনের রবিউল আখির মাসে সংরক্ষিত নিশাপুরে। তিনি (শাইখা) বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ আবুল কাসিম যাহির বিন তাহির বিন মুহাম্মদ আশ-শাহহামি, তাঁর সম্মুখে পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম ৫৩১ হিজরী সনের মহিমান্বিত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু সাদ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-কাঞ্জারুযি, আর তা ছিল ৪৫১ হিজরী সনে। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আল-হাকিম আবু আহমাদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন ইসহাক আল-হাফিয আন-নিশাপুরি। তিনি বলেন:

(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৫৫)
1- أنبا أبو القاسم عبد الله بن محمد بن عبد العزيز البغوي ببغداد، ثنا علي يعني ابن الجعد بن عبيد الجوهري، أنبا شعبة -يعني: ابن الحجاج- عن قتادة، عن داود السراج، عن أبي سعيد الخدري، قال: -يعني: شعبة- وقال لي هشام -وكان أحفظ، عن قتادة وأكثر مجالسة له مني-: هو عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من لبس الحرير في الدنيا لم يلبسه في الآخرة، وإن دخل الجنة لبسه أهل الجنة ولم يلبسه هو)) .
১- বাগদাদে আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-বাগউই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলি অর্থাৎ ইবনুল জাদ ইবনে উবাইদ আল-জাওহারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু’বাহ অর্থাৎ ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি দাউদ আস-সাররাজ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি অর্থাৎ শু’বাহ বলেন: হিশাম আমাকে বলেছেন—এবং তিনি কাতাদাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে আমার চেয়ে অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন এবং তাঁর অধিক সান্নিধ্য লাভকারী ছিলেন—এটি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশমি পোশাক পরিধান করবে, সে পরকালে তা পরিধান করবে না। এমনকি সে যদি জান্নাতে প্রবেশও করে, তবুও জান্নাতবাসীরা তা পরিধান করবে কিন্তু সে তা পরিধান করবে না।”
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৫৫)
2- أخبرنا أبو بكر محمد بن محمد بن سليمان الواسطي ببغداد، حدثني محمد -يعني: ابن أبان- بن عمران الواسطي، ثنا أبو عوانة، عن أبي بشر، عن سعيد بن جبير، عن أبي موسى قال: قال ⦗ص: 56⦘ رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا يسمع بي أحد من هذه الأمة لا يهودي ولا نصراني، فلا يؤمن بي إلا كان من أصحاب النار)) .

قال أبو موسى فقلت: ما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا وهو في كتاب الله عز وجل فوجدته: {ومن يكفر به من الأحزاب فالنار موعده} .
২- বাগদাদে আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল-ওয়াসিতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ—অর্থাৎ ইবনে আবান—ইবনে ইমরান আল-ওয়াসিতি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বিশর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((এই উম্মতের যে কেউ আমার সম্পর্কে শুনবে, চাই সে ইহুদি হোক বা খ্রিস্টান, অতপর আমার প্রতি ঈমান আনবে না, তবে সে অবশ্যই জাহান্নামিদের অন্তর্ভুক্ত হবে।))।

আবু মুসা বলেন, আমি বললাম: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু বলেছেন তা মহান ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাবেই রয়েছে। আর আমি তা পেয়েছি (এই আয়াতে): {আর বিভিন্ন দলের মধ্যে যারা তাকে অস্বীকার করবে, জাহান্নামই হবে তাদের প্রতিশ্রুত স্থান}।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৫৬)
3- أخبرنا أبو عروبة الحسين بن أبي معشر السلمي بحران، أنبا عبد الرحمن -يعني: ابن عمرو البجلي- ثنا زهير -يعني: ابن معاوية- ثنا مطرف وهو ابن طريف الحارثي، عن المنهال بن عمرو، عن نعيم بن دجاجة قال: كنت عند علي بن أبي طالب رضي الله عنه فجاءه عقبة أبو مسعود، فقال علي: يا فروخ ⦗ص: 57⦘ أما إنك تفتي الناس؟! قال: إنما أخبرهم أن الآخر فالآخر شر، قال: فحدث ما سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول في المائة، فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لا يكون مائة سنةٍ وعلى وجه الأرض عينٌ تطرف)) .

فقال علي رضي الله عنه: أخطأت أخطأت في أول فتواك، إنما قال ذلك لمن هو يومئذٍ، وهل الرخا أو الفرج إلا بعد المائة.
৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আরুবাহ আল-হুসাইন বিন আবি মা’শার আস-সুলামি হাররানে, আমাদের অবহিত করেছেন আবদুর রহমান—অর্থাৎ ইবনে আমর আল-বাজালি—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যুহাইর—অর্থাৎ ইবনে মুয়াবিয়া—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুতাররিফ, আর তিনি হলেন ইবনে তরীফ আল-হারিছি, মিনহাল বিন আমর থেকে, তিনি নুয়াইম বিন দাজাজাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলী বিন আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট ছিলাম, তখন উকবাহ আবু মাসউদ তাঁর নিকট আসলেন। আলী বললেন: হে ফারুখ! ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ আপনি কি মানুষকে ফতোয়া দিচ্ছেন?! তিনি বললেন: আমি কেবল তাদের এ সংবাদ দিচ্ছি যে, প্রতিটি পরবর্তী সময় তার পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে মন্দতর হবে। আলী বললেন: তাহলে একশ বছরের ব্যাপারে আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যা বলতে শুনেছেন তা বর্ণনা করুন। তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “একশ বছর অতিক্রান্ত হবে না এমতাবস্থায় যে জমিনের উপর কোনো পলক ফেলা চক্ষু (অর্থাৎ কোনো প্রাণী) অবশিষ্ট থাকবে।”

তখন আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আপনি ভুল করেছেন, আপনার প্রথম ফতোয়ায় আপনি ভুল করেছেন। তিনি তো এটি কেবল তৎকালীন লোকদের উদ্দেশ্যেই বলেছিলেন। আর সচ্ছলতা বা মুক্তি তো একশ বছরের পরেই আসবে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৫৭)
4- أخبرنا أبو الحسن علي بن عبد الحميد بن سليمان الغضائري بحلب، ثنا عبد الأعلى بن حماد -يعني: النرسي- ثنا وهيب بن خالد، عن أيوب ومعمر، عن الزهري، عن حميد بن عبد الرحمن، عن أم كلثوم بنت عقبة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ليس بالكذاب ⦗ص: 58⦘ من أصلح بين الناس، فقال خيراً أو نمى خيراً)) .
৪- হালবে আবু আল-হাসান আলী বিন আব্দুল হামিদ বিন সুলাইমান আল-গাজাইরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আলা বিন হাম্মাদ -অর্থাৎ: আন-নারসি- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওহাইব বিন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব ও মামার থেকে, তাঁরা আজ-জুহরি থেকে, তিনি হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি উম্মে কুলসুম বিনতে উকবাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((সে মিথ্যাবাদী নয় ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে দেয়, ফলে সে ভালো কথা বলে অথবা ভালো কথা পৌঁছে দেয়।))
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৫৮)
5- حدثنا أبو بكر يوسف بن يعقوب المقري بواسط، ثنا محمد بن خالد -يعني: ابن عبد الله الواسطي- ثنا فرج بن فضالة، عن لقمان بن عامر، عن أبي أمامة، عن السلمي وهو عمرو بن عبسة قال: لقد رأيتني وأنا ربع الإسلام، قلت: لو حدثتنا حديثاً سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس فيه انتقاصٌ ولا وهنٌ، قال: سمعته يقول: ((من ولد له ثلاثةٌ في الإسلام فماتوا قبل أن يبلغوا الحنث أدخله الله عز وجل الجنة، بفضل رحمته إياهم، ومن شاب شيبةً في الإسلام كانت له نوراً يوم القيامة، ومن رمى بسهم في سبيل الله عز وجل، فبلغ العدو، أصاب أو أخطأ، كان له كعتق رقبة، ومن أعتق رقبةً مؤمنةً أعتق الله تعالى ذكره بكل عضوٍ منها عضواً منه من النار، ومن ⦗ص: 59⦘ أنفق نفقةً في سبيل الله، فإن للجنة ثمانية أبوابٍ، دعته حجبة الجنة يدخل من أبواب الجنة شاء)) .
৫- ওয়াসিতে আমাদের নিকট আবু বকর ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে খালিদ—অর্থাৎ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিতি—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফারাজ ইবনে ফাদ্বালাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লুকমান ইবনে আমির থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে, তিনি আস-সুলামি তথা আমর ইবনে আবাসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নিজেকে এমন অবস্থায় দেখেছি যখন আমি ছিলাম ইসলামের এক-চতুর্থাংশ (চতুর্থ ব্যক্তি)। আমি বললাম: আপনি যদি আমাদের কাছে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করতেন যা আপনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন, যাতে কোনো বিচ্যুতি বা দুর্বলতা নেই। তিনি বললেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: ((ইসলামে থাকাকালীন যার তিনটি সন্তান জন্মগ্রহণ করল এবং তারা বালেগ হওয়ার পূর্বেই মারা গেল, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাদের প্রতি তাঁর রহমতের অনুগ্রহে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে ব্যক্তি ইসলামে বার্ধক্যে উপনীত হলো, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোনো তীর নিক্ষেপ করল এবং তা শত্রুর নিকট পৌঁছাল—লক্ষ্যভেদ হোক বা না হোক—তা তার জন্য একজন দাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিন দাস মুক্ত করল, আল্লাহ তাআলা সেই দাসের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে তার প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবেন। আর যে ব্যক্তি ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ আল্লাহর পথে কোনো কিছু ব্যয় করল, তবে জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে; জান্নাতের রক্ষীরা তাকে আহ্বান জানাবে যেন সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারে।))
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৫৯)
6- حدثنا أبو القاسم عبد الله بن محمد بن العباس البزار ببغداد، ثنا جبارة -يعني: ابن مغلس الحمامي- ثنا قيس -يعني: ابن الربيع- عن حكيم بن جبير، عن عباية بن رفاعة، عن رافع بن خديج ⦗ص: 60⦘ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((المسلمون عند شروطهم فيما أُحِلَّ)) .
৬- বাগদাদে আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আল-বাজ্জার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, জাবারাহ —অর্থাৎ ইবনে মুগাল্লিস আল-হাম্মানী— আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, কায়াস —অর্থাৎ ইবনুর রাবী— আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি হাকীম ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আবায়া ইবনে রিফাআহ থেকে, তিনি রাফে ইবনে খাদীজ থেকে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((মুসলিমগণ তাদের শর্তাবলীতে অটল থাকবে যা হালাল করা হয়েছে))।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৬০)
7- حدثنا أبو الليث نصر بن القاسم الفرائضي ببغداد، ثنا محمد -يعني: ابن بكار بن الريان- ثنا حسان بن إبراهيم الكرماني، ثنا عطية بن عطية، ثنا عطاء أنه سمع عمرو بن شعيب يقول: كنت عند سعيد بن المسيب جالساً فذكروا أن رجالاً يقولون: إن الله عز وجل قدر كل شيء، ما خلا أعمال العباد، قال: فوالله ⦗ص: 61⦘ ما رأيت سعيداً غضب غضباً أشد منه يومئذٍ حتى هم بالقيام، ثم إنه سكن فقال: أتكلموا به، أما والله لقد سمعت فيهم حديثاً كفاهم به شراً، ويحهم لو يعلمون، قال: قلت: رحمك الله يا أبا محمد، وما هو؟ قال: فنظر إلي وقد سكن بعض غضبه فقال: حدثني ابن خديج أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((يكون قومٌ من أمتي يكفرون بالله عز وجل وبالقرآن وهم لا يشعرون كما كفرت اليهود والنصارى)) ، قال: قلت: جعلت فداك يا رسول الله، وكيف ذاك؟! قال: ((يقرون ببعض القدر ويكفرون ببعضه)) ، قال: ((يجعلون إبليس عدلاً لله عز وجل في خلقه وقوته ورزقه ويقولون: الخير من الله والشر من إبليس ويقرون على ذلك فيكفرون بالقرآن بعد الإيمان والمعرفة، فما يلقى أمتي منهم من العداوة والبغضاء والجدال، أولئك زنادقة هذه الأمة، (في زمانهم) يكون ظلم السلطان فيا له من ظلمٍ وحيفٍ وأثرة، ثم يبعث الله طاعوناً فيفني عامتهم، ثم يكون خسفٌ فما أقل من ينجو منه، المؤمن يومئذٍ قليل فرحه، شديدٌ غمه، ثم يكون المسخ فيمسخ الله عز وجل عامة أولئك قردةً وخنازير، ثم يخرج الدجال على أثر ذلك))

قال: ثم بكى رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى بكينا لبكائه، قال: قلنا: ما هذا البكاء يا رسول الله؟ قال: ((رحمةٌ لهم، الأشقياء، إن منهم متعبداً، ومنهم مجتهد، مع أنهم ليسوا بأول من سبق إلى هذا القول وضاق بحمله ذرعاً، إن عامة من ⦗ص: 62⦘ هلك من بني إسرائيل بالتكذيب به)) ، قال: قلت: يا رسول الله، فقل لي كيف الإيمان بالقدر؟ قال: ((تؤمن بالله عز وجل وأنه لا يملك معه أحدٌ ضراً ولا نفعاً وتؤمن بالجنة والنار، وتعلم أن الله خلقهما قبل خلق الخلق، ثم خلق خلقه، فجعل من شاء منهم إلى النار، ومن شاء منهم إلى الجنة، عدلاً ذلك منه، فكل يعمل بما قد فرغ له منه، وهو صائرٌ إلى ما خلق له)) ، قال: قلت: صدق الله ورسوله أو كما قال.
৭- আমাদের নিকট বাগদাদে আবু আল-লাইস নাসর ইবনুল কাসিম আল-ফরাইদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ —অর্থাৎ ইবনে বাক্কার ইবনুর রাইয়ান— বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসসান ইবনে ইবরাহিম আল-কিরমানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আতিয়্যাহ ইবনে আতিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আতা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আমর ইবনে শুয়াইবকে বলতে শুনেছেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের নিকট বসা ছিলাম, তখন সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা উল্লেখ করল যে, কিছু লোক বলছে: মহান আল্লাহ বান্দাদের আমল বা কর্ম ব্যতীত অন্য সবকিছুর ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম, ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ আমি সাঈদকে সেদিনকার চেয়ে অধিক রাগান্বিত হতে আর কখনো দেখিনি, এমনকি তিনি রাগে উঠে দাঁড়ানোর উপক্রম করলেন। অতঃপর তিনি শান্ত হলেন এবং বললেন: তারা কি এই কথা বলেছে? শোনো, আল্লাহর কসম, আমি তাদের ব্যাপারে এমন একটি হাদিস শুনেছি যা তাদের অনিষ্টের বর্ণনায় যথেষ্ট। তাদের জন্য আক্ষেপ, তারা যদি জানত! বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম: হে আবু মুহাম্মাদ, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, সেই হাদিসটি কী? তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং তাঁর রাগ কিছুটা প্রশমিত হলো। তিনি বললেন: ইবনে খাদিজ আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ((আমার উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা মহান আল্লাহ এবং কুরআনের সাথে কুফরি করবে অথচ তারা তা উপলব্ধি করতে পারবে না, যেমন ইয়াহুদি ও নাসারারা কুফরি করেছিল।)) বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আপনার জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক, তা কীভাবে হবে?! তিনি বললেন: ((তারা ভাগ্যের কিছু অংশ স্বীকার করবে এবং কিছু অংশ অস্বীকার করবে।)) তিনি বললেন: ((তারা ইবলিসকে আল্লাহর সৃষ্টি, শক্তি এবং জীবিকা প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ বানিয়ে দেবে এবং বলবে: কল্যাণ আল্লাহর পক্ষ থেকে আর অকল্যাণ ইবলিসের পক্ষ থেকে। তারা এই বিশ্বাসের ওপর অটল থাকবে, ফলে তারা ঈমান ও মারেফাতের (পরিচয় লাভের) পর কুরআনের সাথে কুফরি করবে। আমার উম্মত তাদের পক্ষ থেকে যে শত্রুতা, বিদ্বেষ ও বিতর্কের সম্মুখীন হবে! তারা হলো এই উম্মতের যিনদিক (ধর্মত্যাগী)। তাদের সময়ে সুলতানের জুলুম ও অবিচার দেখা দেবে, আর তা কতই না ভয়াবহ জুলুম, অবিচার ও পক্ষপাতিত্ব হবে। অতঃপর আল্লাহ মহামারি পাঠাবেন যা তাদের অধিকাংশকে ধ্বংস করে দেবে। এরপর ভূমিধস হবে, যা থেকে খুব অল্প লোকই রক্ষা পাবে। সেদিন মুমিনের আনন্দ হবে অতি সামান্য এবং তার দুঃখ হবে অত্যন্ত গভীর। এরপর মানুষের রূপান্তর ঘটবে, ফলে মহান আল্লাহ তাদের অধিকাংশকে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করবেন। এরপরই দাজ্জাল আবির্ভূত হবে।))

বর্ণনাকারী বলেন: তারপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁদতে লাগলেন, এমনকি তাঁর কান্না দেখে আমরাও কাঁদতে লাগলাম। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, এই কান্নার কারণ কী? তিনি বললেন: ((তাদের প্রতি দয়া ও করুণা বশত; তারা হতভাগ্য! তাদের মধ্যে অনেক ইবাদতকারী ও অনেক কঠোর সাধক থাকবে। যদিও তারা প্রথম নয় যারা এই মতবাদ ব্যক্ত করেছে এবং তা বহনে সংকীর্ণতায় পড়েছে। নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈলের ধ্বংসপ্রাপ্তদের ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ অধিকাংশ একে অস্বীকার করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে।)) বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে বলুন যে ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস বা ঈমান কীভাবে হবে? তিনি বললেন: ((তুমি মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং বিশ্বাস করবে যে, তাঁর সাথে কেউ কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নয়। তুমি জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাস রাখবে এবং জানবে যে, সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ তা তৈরি করে রেখেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং যাকে ইচ্ছা জাহান্নামের জন্য এবং যাকে ইচ্ছা জান্নাতের জন্য নির্ধারণ করেছেন; এটি তাঁর পক্ষ থেকে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার। সুতরাং প্রত্যেকে সেই কাজই করে যা তার জন্য নির্ধারিত হয়ে আছে এবং সে সেদিকেই ধাবিত হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।)) বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সত্য বলেছেন— অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৬৩)
8- أخبرنا أبو الحسن القاسم بن محمد بن عبد الرحمن الجدي بمكة، ثنا محمد بن عبد الملك ابن أبي الشوارب، ثنا أبو عوانة، عن إبراهيم بن المهاجر، عن صفية بنت شيبة، عن عائشة: أنها ذكرت نساء الأنصار فأثنت عليهن وقالت لهن معروفاً، وقالت: لما نزلت سورة النور عمدن إلى حجز مناطقهن فشققنه فاتخذنه خمراً فدخلت امرأةٌ منهم على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله، كيف الطهر من الحيض؟ فقال: ((تعمد إحداكن إلى مائها وسدرها فتغتسل بها، ولتصب على رأسها وتبلغ شئون رأسها ولتدلكه فإن ذلك طهورٌ، ثم تفيض عليها من الماء، ثم تأخذ فرصةً ⦗ص: 64⦘ أو قرصةً -شك محمد بن عبد الملك- ممسكةً فلتطهر بها)) . قالت: يا رسول الله، كيف أتطهر بها؟ فقال: وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يكني)) ، قال: فقالت عائشة: تتبعي بها أثر الدم.
৮- মক্কায় আবুল হাসান আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-জাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক ইবনে আবিল শাওয়ারিব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি ইব্রাহিম বিন আল-মুহাজির থেকে, তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে শায়বাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে: তিনি আনসারী মহিলাদের কথা স্মরণ করলেন এবং তাদের ভূয়সী প্রশংসা করলেন ও তাদের সম্পর্কে উত্তম কথা বললেন। তিনি বললেন: যখন সূরা আন-নূর অবতীর্ণ হলো, তখন তারা তাদের কোমরের চাদরের কিনারার দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং তা ছিঁড়ে ওড়না বানিয়ে নিলেন। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার পদ্ধতি কী? তিনি বললেন: ((তোমাদের কেউ পানি ও বরই পাতা গ্রহণ করবে এবং তা দিয়ে গোসল করবে; সে তার মাথায় পানি ঢালবে এবং মাথার চুলের গোড়া পর্যন্ত তা পৌঁছাবে ও তা মর্দন করবে, কেননা তা উত্তম পবিত্রতা। অতঃপর সে নিজের দেহের ওপর পানি প্রবাহিত করবে। তারপর সে সুগন্ধিযুক্ত এক টুকরো তুলা ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ অথবা এক টুকরো কাপড় নেবে—মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক এ শব্দে সন্দেহ পোষণ করেছেন—এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে।)) মহিলাটি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি তা দিয়ে কীভাবে পবিত্র হবো? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপকভাবে বা ইশারায় কথা বললেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আয়েশা (রা.) বললেন: তুমি তা দিয়ে রক্তের চিহ্ন অনুসরণ করো (অর্থাৎ রক্তের স্থান পরিষ্কার করো)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৬৪)
9- أخبرنا أبو عبد العباس أحمد بن عبد الله بن سابور الدقيقي ببغداد، ثنا أبو نعيم -يعني: عبيد بن هشام الحلبي- ثنا عبيد الله -يعني: ابن عمرو الرقي-، عن عبد الله بن محمد بن عقيل، عن أبي سلمة، ⦗ص: 65⦘ عن علي بن حسين قال: أخبرني أبو رافع مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن الحسن بن علي حين ولد أرادت أمه فاطمة رضي الله عنها أن تعق عنه بكبشين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا تعقي عنه، ولكن احلقي شعره يوم السابع، ثم تصدقي بوزنه من الورق على الأوفاض من المرضى في سبيل الله)) ، ثم ولدت الحسين بن علي رضي الله عنه فصنعت به مثل ذلك.
৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দিল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাবুর আদ-দাকিকি বাগদাদে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম—অর্থাৎ উবাইদ বিন হিশাম আল-হালাবি—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ—অর্থাৎ ইবন আমর আর-রাক্কি—তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আকিল থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ তিনি আলি বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আযাদকৃত গোলাম আবু রাফে যে, হাসান বিন আলি যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখন তাঁর মা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা চাইলেন তাঁর পক্ষ থেকে দুটি ভেড়া দিয়ে আকিকা করতে। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তুমি তাঁর পক্ষ থেকে আকিকা করো না; বরং সপ্তম দিনে তাঁর মাথার চুল মুণ্ডন করো এবং সেই চুলের ওজনের সমপরিমাণ রুপা আল্লাহর পথে অসুস্থ অভাবী ও নিঃস্বদের মাঝে সদকা করো।” অতঃপর যখন হুসাইন বিন আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু জন্মগ্রহণ করলেন, তখন তিনি তাঁর ক্ষেত্রেও অনুরুপ কাজই করলেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৬৫)
10- أخبرنا أبو عبد الله محمد بن إبراهيم بن زياد الطيالسي، ثنا ⦗ص: 66⦘ إبراهيم بن حمزة -يعني: الزبيري- ثنا الدراوردي، عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتي وهو بالعقيق، فقيل له: إنك بوادٍ مبارك.
১০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন যিয়াদ আল-তায়ালিসি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘ ইবরাহিম বিন হামযা—অর্থাৎ: আল-যুবাইরি—, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-দারাবর্দি, উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট (এক আগন্তুক) এলেন যখন তিনি আকিক উপত্যকায় ছিলেন, অতঃপর তাঁকে বলা হলো: "নিশ্চয় আপনি এক বরকতময় উপত্যকায় আছেন।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৬৬)
11- أخبرنا أبو بكر محمد بن مروان بن عبد الملك البزاز بدمشق، ثنا هشام بن عمار، ثنا عثمان وهو ابن حصن بن علاق القرشي يكنى أبا محمد، عن عروة بن رويم، عن معاوية بن حيدة القشيري أنه قدم على النبي صلى الله عليه وسلم فقال: والذي بعثك بالحق ودين الحق ما تخلصت إليك حتى حلفت لقومي عدد هؤلاء -يعني: أنامل كفيه- بالله لا أتبعك ولا أومن بك ولا أصدقك، وإني أسألك بالله بم بعثك الله عز وجل ربك قال: بالإسلام، قال: أن تسلم وجهك لله وتخلي له نفسك، قال: فما حق أزواجنا علينا؟ قال: ((أطعم إن طعمت واكس إن كسيت، ولا تضرب الوجه ولا تقبحه ولا تهجر إلا في البيت، كيف وقد أفضى بعضكم إلى بعضٍ وأخذن منكم ميثاقاً غليظاً)) ، ثم أشار بيده قبل الشام، فقال: ((ها هنا تحشرون، ها هنا تحشرون، ركباناً ⦗ص: 67⦘ ورجالاً وعلى وجوهكم الفدام، وأول شيء يعرب عن أحدكم فخذه)) .
১১- দামেস্কে আবু বকর মুহাম্মদ বিন মারওয়ান বিন আব্দুল মালিক আল-বাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিশাম বিন আম্মার আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, উসমান—যিনি ইবনে হিসন বিন আল্লাক আল-কুরাশি এবং তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মদ—আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উরওয়াহ বিন রুওয়াইম থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন হাইদাহ আল-কুশাইরি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, আমি আপনার নিকট আসতে পারিনি যতক্ষণ না আমি আমার গোত্রের কাছে এদের সংখ্যার সমান—অর্থাৎ তাঁর হাতের আঙ্গুলের মাথাগুলো—আল্লাহর নামে কসম করেছি যে আমি আপনার অনুসরণ করব না, আপনার প্রতি ঈমান আনব না এবং আপনাকে সত্য বলে স্বীকার করব না। আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনার প্রতিপালক আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আপনাকে কী দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: ইসলামের সাথে। তিনি বললেন: যেন তুমি তোমার চেহারাকে আল্লাহর নিকট সমর্পণ করো এবং তোমার নফসকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করো। তিনি বললেন: আমাদের উপর আমাদের স্ত্রীদের অধিকার কী? তিনি বললেন: ((যখন তুমি আহার করবে তাকেও আহার করাবে, যখন তুমি পোশাক পরিধান করবে তাকেও পোশাক দেবে, চেহারায় আঘাত করবে না, তাকে মন্দ বলবে না এবং ঘরের বাইরে তাকে বর্জন করবে না। এটি কীভাবে সম্ভব যখন তোমরা একে অপরের সাথে একান্তে মিলিত হয়েছ এবং তারা তোমাদের নিকট থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে))। এরপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে শামের দিকে ইশারা করলেন এবং বললেন: ((এখানেই তোমাদের সমবেত করা হবে, এখানেই তোমাদের সমবেত করা হবে; আরোহী অবস্থায়, ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ পদব্রজে এবং তোমাদের মুখের ওপর কাপড় বাঁধা অবস্থায়। আর তোমাদের মধ্যে প্রথম যে অঙ্গটি কথা বলবে তা হলো তার উরু))।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৬৭)
12- أخبرنا أبو جعفر محمد بن إبراهيم الديبلي بمكة، ثنا عبد الحميد -يعني: ابن صبيح العنبري- ثنا حماد -يعني: ابن زيد- عن سعيد الجريري، عن مطرف قال: قال لي عمران بن الحصين: ألا أحدثك حديثاً لعل الله عز وجل ينفعك به، فإني أراك تحب الجماعة، قال: قلت: لأنا أحرص على الجماعة من نملةٍ، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا تزال طائفةٌ من أمتي على الحق ظاهرين حتى يأتي أمر الله)) ، قال مطرف: فنظرت في ذلك فإذا هم أهل الشام.
১২- মক্কায় আবু জাফর মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আদ-দাইবিলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল হামিদ—অর্থাৎ ইবনে সাবিহ আল-আনবারী—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ—অর্থাৎ ইবনে যায়েদ—সাঈদ আল-জারীরি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুতাররিফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইমরান বিন আল-হুসাইন আমাকে বললেন: আমি কি তোমাকে এমন একটি হাদিস শোনাব না যার মাধ্যমে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সম্ভবত তোমাকে উপকৃত করবেন? কারণ আমি দেখছি তুমি জামাআতকে ভালোবাসো। তিনি (মুতাররিফ) বলেন: আমি বললাম: আমি তো জামাআতের প্রতি পিপড়ার চেয়েও বেশি আগ্রহী। তিনি বললেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে।” মুতাররিফ বলেন: আমি এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে দেখলাম যে, তারা হলেন শামের অধিবাসী।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৬৮)
13- أخبرنا أبو القاسم عبد الوهاب بن عيسى بن أبي حية ببغداد، ثنا إسحاق -يعني: ابن أبي إسرائيل- ثنا حماد بن زيد، عن الزبير بن الخريت، عن عبد الله بن شقيق قال: خطبنا ابن عباس يوماً بعد العصر حين غربت الشمس وبدت النجوم وعلق الناس ينادونه: الصلاة الصلاة، وفي القوم رجلٌ من بني تميم، فجعل لا يفتر ولا ينثني أن يقول: الصلاة الصلاة، فقال ابن عباس: تعلمني بالسنة لا أم لك، وإني شهدت رسول الله صلى الله عليه وسلم جمع بين الظهر والعصر، وبين المغرب والعشاء، قال ابن شقيق: فوقع في نفي من ذلك شيءٌ حين حدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم عن شيء صنعه، قال: فلقيت أبا هريرة فذكرت ذلك له، فوافقه وصدقه.
১৩- বাগদাদে আবুল কাসিম আবদুল ওয়াহহাব ইবনে ঈসা ইবনে আবু হাইয়্যাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক—অর্থাৎ ইবনে আবু ইসরাঈল—আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আমাদের বর্ণনা করেছেন যুবায়ের ইবনুল খিররিত থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাকিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন আসরের পর ইবনে আব্বাস আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, একপর্যায়ে সূর্য ডুবে গেল এবং নক্ষত্ররাজি ফুটে উঠল। তখন লোকেরা তাকে ডেকে বলতে লাগল: সালাত, সালাত। সমবেত লোকদের মধ্যে বনু তামীম গোত্রের এক ব্যক্তি ছিল, সে কোনো বিরতি না দিয়ে অনবরত বলেই যাচ্ছিল: সালাত, সালাত। তখন ইবনে আব্বাস বললেন: তুমি কি আমাকে সুন্নাহ শেখাচ্ছ? তোমার মা না থাকুক! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি তিনি যুহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করেছেন। ইবনে শাকিক বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন সে সম্পর্কে তাঁর এই বর্ণনা শুনে আমার মনে কিছুটা খটকা তৈরি হলো। তিনি বলেন: এরপর আমি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তাকে জানালাম, তিনি ইবনে আব্বাসের কথার সাথে একমত পোষণ করলেন এবং তা সত্যায়ন করলেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৬৮)
14- أخبرنا أبو بكر محمد بن أحمد بن المستنير بالمصيصة، ثنا علي -يعني: ابن بكار- ثنا الفزاري -يعني: أبا إسحاق إبراهيم بن محمد- عن سفيان وهو الثوري، عن أبي إسحاق، عن بريد بن أبي مريم، عن أبي الحوراء، عن الحسن بن علي رضي الله عنه قال: علمني رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أقول هؤلاء ⦗ص: 69⦘ الكلمات في الوتر: ((اللهم اهدني فيمن هديت، وعافني فيمن عافيت، وتولني فيمن توليت، وبارك لي فيما أعطيت، وقني شر ما قضيت، فإنك تقضي ولا يقضى عليك، ولا يذل من واليت، تباركت ربنا وتعاليت)) .
১৪- আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-মুসতানীর আল-মাসসীসাহ্ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী -অর্থাৎ ইবনে বাক্কার- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফাযারী -অর্থাৎ আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে -যিনি আস-সাওরী-, আবু ইসহাক থেকে, বুরাইদ বিন আবি মারইয়াম থেকে, আবু আল-হাওরা থেকে, হাসান বিন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৯⦘ বিতরের সালাতে এই বাক্যগুলো বলার জন্য শিক্ষা দিয়েছেন: ((হে আল্লাহ! আপনি যাদের পথপ্রদর্শন করেছেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে পথপ্রদর্শন করুন, আপনি যাদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করেছেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন, আপনি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন, আপনি আমাকে যা দান করেছেন তাতে বরকত দিন, এবং আপনি যে মন্দ ফয়সালা করেছেন তা থেকে আমাকে রক্ষা করুন; কেননা আপনিই চূড়ান্ত ফয়সালা প্রদান করেন আর আপনার বিরুদ্ধে কোনো ফয়সালা প্রদান করা হয় না। আপনি যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন সে লাঞ্ছিত হয় না। হে আমাদের রব! আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ।))।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৬৯)
15- أخبرني أبو الطيب الحسين بن موسى الرقي بأنطاكية، ثنا عامر -يعني: ابن سيار- ثنا فرات -يعني: ابن السائب- عن ميمون يعني: ابن مهران، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم، وأبان بن أبي عياش، عن أنس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا دخل مذنبوا أهل التوحيد النار عيرهم المشركون، فقالوا لهم: ما أغنى عنكم توحيدكم، فقد استوينا نحن وأنتم في عذاب الله عز وجل، فيحمى الله لهم أنفاً، فيقول: انطلقوا ⦗ص: 70⦘ إلى جهنم فمن كان في صدره مثقال شعيرةٍ من إيمانٍ أو مثقال ذرةٍ أو مثقال حبةٍ من خردلٍ أو قالها مرةً من دهره مخلصاً، فأخرجوا منها خلقاً كثيراً، لا يحصيهم إلا الله عز وجل، فاحترقت أيديهم وأرجلهم، ونحلت أبدانهم، ولم تصل النار إلى وجوههم إكراماً للتوحيد، فيأتون عيناً من عيون الجنة، فيشربون من أحديها فينقى ما في بطونهم من أذى أو داءٍ، ويغتسلون بالأخرى فتنبت لحومهم على خصال أهل الجنة، فيسمون الجهنميون ما شاء الله، ثم يكرهون هذا الاسم، فيسألون الرب جل جلاله أن يضعه عنهم فيفعل، حتى ما يعرفون من غيرهم، فعند ذلك من بقي في النار يقول: {ربما يود الذين كفروا لو كانوا مسلمين} ويوقنون بالخلود، ويدعون بالويل والثبور)) .
১৫- আনতাকিয়ায় আবু তাইয়েব আল-হুসাইন বিন মুসা আর-রাক্কি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমির -অর্থাৎ ইবনে সাইয়ার- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ফুরাত -অর্থাৎ ইবনে আস-সাইব- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মাইমুন -অর্থাৎ ইবনে মিহরান- থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং আবান বিন আবি আয়্যাশ আনাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: ((যখন তাওহিদপন্থী গুনাহগাররা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন মুশরিকরা তাদের উপহাস করে বলবে: "তোমাদের তাওহিদ তোমাদের কী উপকারে এলো? আমরা এবং তোমরা আল্লাহর (মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) আযাবের ক্ষেত্রে সমান হয়ে গেছি।" তখন আল্লাহ তাদের জন্য আত্মমর্যাদাবোধের কারণে রাগান্বিত হবেন এবং বলবেন: তোমরা যাও ⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ জাহান্নামের দিকে, যার অন্তরে যব পরিমাণ ঈমান আছে, অথবা অণু পরিমাণ, অথবা সরিষার দানা পরিমাণ, অথবা যে ব্যক্তি তার জীবনে একবার ইখলাসের সাথে (তাওহিদ) বলেছে, (তাকে বের করে আনো)। অতঃপর তারা সেখান থেকে বিপুল সংখ্যক সৃষ্টিকে বের করে আনবে, আল্লাহ (মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) ছাড়া অন্য কেউ যাদের গণনা করতে পারবে না। তাদের হাত এবং পা পুড়ে গিয়েছিল এবং তাদের দেহ জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তাওহিদের সম্মানে আগুন তাদের চেহারা স্পর্শ করেনি। এরপর তারা জান্নাতের ঝরনাগুলোর একটির কাছে আসবে এবং তার একটি থেকে পান করবে, ফলে তাদের পেটের ভেতরকার সকল কষ্ট ও ব্যাধি দূর হয়ে যাবে। তারা অন্য একটি ঝরনায় গোসল করবে, ফলে জান্নাতবাসীদের গঠন অনুযায়ী তাদের শরীরের গোশত পুনরায় গজালে উঠবে। এরপর আল্লাহ যতদিন চাইবেন তারা 'জাহান্নামি' নামে পরিচিত হবে। অতঃপর তারা এই নামটিকে অপছন্দ করবে এবং রবের (তাঁর মহিমা মহান) নিকট প্রার্থনা করবে যেন তিনি তাদের থেকে এই নাম ঘুচিয়ে দেন। তিনি তা করবেন, এমনকি তাদের আর অন্যদের থেকে আলাদা করে চেনা যাবে না। সেই সময় যারা জাহান্নামে রয়ে যাবে তারা বলবে: {কাফেররা হয়তো আকাঙ্ক্ষা করবে যে তারা যদি মুসলিম হতো!} আর তারা সেখানে চিরস্থায়ী হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হবে এবং ধ্বংস ও আক্ষেপ ডেকে চিৎকার করতে থাকবে।))।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৭১)
16- أخبرنا أبو علي الحسين بن محمد السكوني بحمص، ثنا المسيب -يعني: ابن واضح- ثنا ابن المبارك عن سفيان عن فرات -يعني: القزاز- عن أبي حازم، عن ابن عمر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كره شم الطعام، وقال: ((إنما يشم السباع)) .
১৬- আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আস-সাকুনি হিমসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মুসাইয়্যাব—অর্থাৎ ইবনে ওয়াদিহ—আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি ফুরাত—অর্থাৎ আল-কাযযায—থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি খাবারের ঘ্রাণ নেওয়া অপছন্দ করতেন এবং বলেছেন: “নিশ্চয়ই হিংস্র প্রাণীরাই খাবারের ঘ্রাণ নেয়।”
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৭২)
17- أخبرنا أبو الأزهر صدقة بن منصور الكندي الحراني، ثنا محمد -يعني: ابن بكار بن الريان- ثنا قيس بن الربيع، عن زبيد الأيامي، عن طلحة -يعني: ابن مصرف- عن عبد الرحمن بن عوسجة، عن البراء -يعني: ابن عازب- قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((زينوا القرآن بأصواتكم)) .
১৭- আবু আল-আজহার সাদাকা বিন মানসুর আল-কিন্দি আল-হাররানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ—অর্থাৎ ইবনে বাক্কার বিন আর-রাইয়ান—বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট কায়েস বিন আর-রাবি বর্ণনা করেছেন জুবাইদ আল-ইয়ামি থেকে, তিনি তালহা—অর্থাৎ ইবনে মুসাররিফ—থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আওসাজাহ থেকে, তিনি আল-বারা—অর্থাৎ ইবনে আজিব—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো))।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৭২)
18- أخبرنا أبو علي الحسن بن محمد الكلابي بحلب، ثنا أبو مسلم الواقدي، واسمه: عبد الرحمن بن واقد، ثنا عبد الرحمن -يعني: ابن زيد بن أسلم- عن أبيه، عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ليس على أهل لا إله إلا الله وحشة في قبورهم ولا في منشرهم، وكأني بأهل لا إله إلا الله وقد ⦗ص: 73⦘ أخرجوا من القبور ينفضون التراب عن رؤوسهم، وهم يقولون: الحمد لله الذي أذهب عنا الحزن)) .
১৮- আবু আলী আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-কিলাবি হালবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুসলিম আল-ওয়াকিদি—তাঁর নাম: আবদুর রহমান বিন ওয়াকিদ—আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান—অর্থাৎ: ইবনে যায়দ বিন আসলাম—আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের জন্য তাদের কবরে এবং তাদের পুনরুত্থানের ময়দানে কোনো আতঙ্ক নেই। আমি যেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের দেখতে পাচ্ছি যখন তারা ⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘ কবর থেকে বের হয়ে আসছে এবং তাদের মাথা থেকে মাটি ঝাড়ছে, আর তারা বলছে: সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করেছেন।))
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৭৩)
19- أخبرنا أبو الجهم أحمد بن الحسين بمشغرا -قرية من قرى دمشق- ثنا هشام -يعني: ابن عمار- ثنا عمرو بن واقد القرشي، ثنا يونس وهو ابن ميسرة بن حلبس الجيلاني، عن أبي إدريس الخولاني، عن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((اللهم من آمن بي وصدقني وشهد أن ما جئت به الحق من عندك فأقلل ماله وولده، وعجل قبضه، اللهم ومن لم يؤمن بي ولم يصدقني ولم ⦗ص: 74⦘ يشهد أن ما جئت به الحق من عندك فأكثر ماله وولده وأطل عمره)) .
১৯- আবুল জাহম আহমদ বিন আল-হুসাইন দামেস্কের নিকটবর্তী মাশগারা নামক গ্রামে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হিশাম—অর্থাৎ ইবনে আম্মার—আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর বিন ওয়াকিদ আল-কুরায়শী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস—যিনি ইবনে মায়সারা বিন হালবাস আল-জিলানী—আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী থেকে, মুআজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমান আনল, আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল এবং সাক্ষ্য দিল যে আমি যা নিয়ে এসেছি তা আপনার পক্ষ থেকে আগত সত্য, তবে আপনি তার সম্পদ ও সন্তান কমিয়ে দিন এবং তার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করুন। হে আল্লাহ! আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমান আনল না, আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল না এবং ⦗পৃষ্ঠা: ৭৪⦘ সাক্ষ্য দিল না যে আমি যা নিয়ে এসেছি তা আপনার পক্ষ থেকে আগত সত্য, তবে আপনি তার সম্পদ ও সন্তান বাড়িয়ে দিন এবং তার আয়ু দীর্ঘ করুন।"।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৭৪)
20- أخبرني أبو معشر الفضل بن محمد بن حماد السلمي بحران، ثنا عبد السلام -يعني: ابن عبد الحميد الإمام- ثنا زهير -يعني: ابن معاوية- ثنا أبو الزبير، عن جابر قال: نهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع الأرض سنتين أو ثلاثاً.
২০- আমাকে হাররানে আবু মা'শার আল-ফাদল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ আস-সুলামী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সালাম —অর্থাৎ ইবনুল আবদুল হামিদ আল-ইমাম— তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহাইর —অর্থাৎ ইবনে মুআবিয়াহ— তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুয যুবাইর, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের দুই বা তিন বছরের জন্য জমি বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৭৫)
21- حدثنا أبو الحسن محمد بن الفيض الغساني بدمشق، ثنا إبراهيم -يعني: ابن هشام بن يحيى الغساني- ثنا شهاب -يعني: ابن خراش- عن أبان -يعني: ابن أبي عياش- عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((عرضت علي الأيام فرأيت فضيلة يوم الجمعة وبهاءه، ورأيت فيه نكتةً مثل الشامة، فأوحشتني فقلت: ما هذه النكتة السوداء في هذا البهاء والنور؟)) ، فقال: ((هذه الساعة تقوم فيها)) .
২১- আমাদের নিকট দামেস্কে আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল-ফায়জ আল-গাসসানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবরাহিম—অর্থাৎ ইবনে হিশাম বিন ইয়াহইয়া আল-গাসসানি—বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শিহাব—অর্থাৎ ইবনে খারাশ—বর্ণনা করেছেন, তিনি আবান—অর্থাৎ ইবনে আবি আইয়াশ—থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আমার সামনে দিনসমূহকে উপস্থাপন করা হলো, তখন আমি জুমার দিনের মর্যাদা ও এর সৌন্দর্য দেখতে পেলাম। আমি তাতে একটি তিলকের ন্যায় চিহ্ন দেখতে পেলাম, যা আমাকে বিচলিত করল। আমি বললাম: এই সৌন্দর্য ও নূরের মাঝে এই কালো চিহ্নটি কী? তিনি বললেন: এটি সেই সময় (কিয়ামত), যা এই দিনে সংঘটিত হবে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৭৬)
22- حدثنا أبو الحسين محمد بن إبراهيم بن شعيب الغازي بطبرستان، ثنا بشر بن هلال -يعني: الصواف- ثنا عبد الوارث -يعني: ابن سعيد العنبري- ثنا أيوب وهو السختياني، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إذا نعس أحدكم وهو يصلي فلينصرف، لعله أن يكون يدعو في صلاته، فيدعو على نفسه وهو لا يدري)) .
২২- আমাদের নিকট তাবারস্তানে আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে শুআইব আল-গাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বিশর ইবনে হিলাল—অর্থাৎ আস-সাওয়াফ—বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল ওয়ারিস—অর্থাৎ ইবনে সাঈদ আল-আনবারী—বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আইয়ুব বর্ণনা করেছেন—আর তিনি হলেন আস-সাখতিয়ানী—হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সালাত আদায়রত অবস্থায় তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন সে যেন (সালাত ছেড়ে) ফিরে যায়; কারণ সম্ভবত সে তার সালাতে দুআ করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই নিজের বিরুদ্ধে দুআ করে বসবে।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদু আবী আহমাদ আল হাকিম (পৃষ্ঠা: ৭৬)
23- أخبرنا أبو عثمان سعيد بن عبد العزيز الحلبي بدمشق، ثنا أبو نعيم -يعني: عبيد بن هشام الحلبي- ثنا عبد الله بن المبارك، عن مالك بن أنس، عن محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى خلف أبي بكر في ثوبٍ واحدٍ.
২৩- আবু উসমান সাঈদ ইবন আবদুল আজিজ আল-হালাবি দামেস্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু নুআইম -অর্থাৎ: উবাইদ ইবন হিশাম আল-হালাবি- আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবন আনাস থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরের পিছনে এক কাপড়ে সালাত আদায় করেছেন।