(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: -)
مناقب النساء الصحابيات لعبد الغني المقدسي   (عبد الغني المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: من مناقب النساء الصحابيات

المؤلف: عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي الجماعيلي الدمشقي الحنبلي، أبو محمد، تقي الدين (ت 600 هـ)

المحقق: إبراهيم صالح [ت 1443 هـ]

الناشر: دار البشائر [طبع مع حديث الإفك]

الطبعة: الأولى 1994 م

عدد الصفحات: 63

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433

আব্দুল গনি আল-মাকদিসী রচিত মহিলা সাহাবীগণের মর্যাদা   (আব্দুল গনি আল-মাকদিসী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মহিলা সাহাবীগণের কতিপয় মর্যাদা হতে

লেখক: আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর আল-মাকদিসী আল-জামাঈলী আদ-দিমাশকী আল-হাম্বলী, আবু মুহাম্মদ, তাকীউদ্দীন (মৃত্যু ৬০০ হি.)

সম্পাদক: ইব্রাহীম সালেহ [মৃত্যু ১৪৪৩ হি.]

প্রকাশক: দারুল বাশাইর [হাদীসুল ইফক-এর সাথে মুদ্রিত]

সংস্করণ: প্রথম ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩

শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: -)
نوادر الرسائل (9 - 10)

 

حديث الإفك

 

ويليه

-[من مناقب النساء الصحابيات]-

 

تأليف

الحافظ عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي

المتوفى سنة (600 هـ)

 

عني بتحقيقهما

إبراهيم صالح

 

دار البشائر

 

الطبعة الأولى

1994 م
বিরল পত্রাবলি (৯ - ১০)

 

ইফকের হাদিস

 

এবং তৎসহ

-[নারী সাহাবিগণের কতিপয় মর্যাদা]-

 

রচনায়

হাফেজ আব্দুল গণি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি

মৃত্যু: (৬০০ হিজরি)

 

সম্পাদনায়

ইব্রাহিম সালেহ

 

দারুল বাশায়ির

 

প্রথম সংস্করণ

১৯৯৪ খ্রি.
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫১)
من مناقب النساء الصحابيات

تأليف

الحافظ عبد الغني بن عبد الواحد بن علي المقدسي

فيه

صفية عمة النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

وأم عمارة
নারী সাহাবীগণের কতিপয় মর্যাদা ও গুণাবলি

রচনায়

আল-হাফিয আব্দুল গণি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী আল-মাকদিসি

এতে রয়েছে

সাফিয়্যাহ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফু

এবং উম্মু আম্মারাহ
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

وَلا حَوْلَ وَلا قَوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ

 

‌‌صَفِيَّةُ بِنْتُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَمَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأُمُّ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ رضي الله عنها

1 - أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ السَّلَفِيُّ، أَنْبَأَ الشَّرِيفُ أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ السَّلامِ بْنِ أَحْمَدَ الأَنْصَارِيُّ.

(ح) وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَ أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خَيْرُونَ الْمُعَدَّلُ، قَالا: أَنْبَأَ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ، أَنْبَأَ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ كَيْسَانَ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَرَوِيُّ، حَدَّثَتْنَا أُمُّ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهَا جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ عَبْدِ الْمُطَلَّبِ، قَالَتْ:

" لَمَّا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أُحِدٍ أَوِ الْخَنْدَقِ جَعَلَ نِسَاءَهُ فِي ⦗ص: 54⦘ أُطُمٍ يُقَالُ لَهُ: فَارِع عِنْدَ الْمَسْجِدِ، وَجَعَلَ مَعَهُنَّ حَسَّانَ بْنَ ثَابِتٍ، فَجَاءَتِ الْيَهُودُ يَبْتَغُونَ غِرَّةَ نِسَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

قَالَتْ: فَتَرَّقَى يَهُودِيٌّ مِنْهُمْ فِي الأُطُمِ حَتَّى أَطَلَّ عَلَيْنَا فِيهِ، فَقُلْتُ لِحَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ: قُمْ إِلَيْهِ فَاقْتُلْهُ، قَالَ: مَا ذَلِكَ فِيَّ، وَلَوْ كَانَ ذَلِكَ فِيَّ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

قَالَتْ: فَقُلْتُ لَهُ: فَارْبِطْ عَلَى ذِرَاعِي السَّيْفَ، قَالَتْ: فَرَبَطَهُ، فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَضَرَبْتُ رَأْسَهُ حَتَّى قَطَّعْتُهُ، ثُمَّ قُلْتُ لَهُ: إِرْمِ بِهِ عَلَى الْيَهُودِ فِي أَسْفَلٍ، قَالَ: مَا ذَلِكَ فِيَّ.

قَالَتْ: فَأَخَذْتُهُ فَرَمَيْتُ بِهِ عَلَيْهِمْ، فَتَفَرَّقُوا وَهُمْ يَقُولُونَ: قَدْ ظَنَنَّا أَنَّ مُحَمَّدًا لَمْ يَكُنْ لِيَتْرُكْ أَهْلَهُ خَلُوفًا لَيْسَ مَعَهُمْ أَحَدٌ.

قَالَتْ: وَكَانَ يَنْظُرُ إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِذَا شَدَّ عَلَى الْكُفَّارِ يَشُدُّ مَعَهُ، وَهُوَ مَعَنَا فِي الْحِصْنِ، وَإِذَا رَجَعَ إِلَى مَكَانِهِ رَجَعَ وَرَاءَهُ فِي الْحِصْنِ.

قَالَتْ: فَمَرَّ بِنَا سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ، وَبِهِ أَثَرُ صُفْرَةٍ، وَقَدْ كَانَ مُعْرِسًا قَبْلَ ذَلِكَ بِأَيَّامٍ، وَهُوَ يَرْتَجِزُ، وَيَقُولُ:

مَهِّلْ قَلِيلا يُدْرَكُ الْهَيْجَا حَمَلُ … لا بَأْسَ بِالْمَوْتِ إِذَا حَانَ الأَجَلُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় এবং কোনো শক্তি নেই।

 

‌‌সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফুফু এবং যুবাইর ইবনুল আওয়ামের মাতা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)।

১ - হাফেয আবু তাহের আহমাদ বিন মুহাম্মদ আস-সালাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শরীফ আবুল ফযল মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম বিন আহমাদ আল-আনসারী আমাদের অবহিত করেছেন।

(হ) এবং বাগদাদে আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকী বিন আহমাদ বিন সালমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল ফযল আহমাদ বিন হাসান বিন খাইরুন আল-মুয়াদ্দিল আমাদের অবহিত করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবু আলী হাসান বিন আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন শাযান আমাদের অবহিত করেছেন, আবু মুহাম্মদ হাসান বিন মুহাম্মদ বিন কাইসান আমাদের অবহিত করেছেন, ইসমাঈল বিন ইসহাক আল-কাযী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসহাক বিন মুহাম্মদ আল-ফারভী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, উম্মু জাফর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতা জাফর বিন যুবাইর থেকে, তিনি যুবাইর থেকে, তিনি সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

"যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ অথবা খন্দকের যুদ্ধের দিকে বের হলেন, তিনি তাঁর স্ত্রীদেরকে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ মসজিদের নিকটবর্তী 'ফারে' নামক একটি দুর্গে রাখলেন এবং তাদের সাথে হাসসান বিন সাবিতকে রেখে দিলেন। তখন ইয়াহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের অসতর্কতার সুযোগ খুঁজতে আসল।

তিনি বলেন: তখন তাদের মধ্য থেকে এক ইয়াহুদী দুর্গের উপরে চড়ল এমনকি সে আমাদের উঁকি দিয়ে দেখতে লাগল। আমি হাসসান বিন সাবিতকে বললাম: আপনি ওর দিকে উঠে যান এবং ওকে হত্যা করুন। তিনি বললেন: আমার মধ্যে সেই সাহস নেই; যদি আমার মধ্যে সেই শক্তি থাকত তবে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথেই যুদ্ধে থাকতাম।

তিনি বলেন: তখন আমি তাকে বললাম: তবে আমার বাহুর সাথে তলোয়ারটি বেঁধে দিন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি সেটি বেঁধে দিলেন। তখন আমি তার দিকে উঠে গেলাম এবং তার মাথায় আঘাত করলাম এমনকি তার মাথাটি বিচ্ছিন্ন করে ফেললাম। এরপর আমি তাকে বললাম: মাথাটি নিচে ইয়াহুদীদের দিকে ছুঁড়ে মারুন। তিনি বললেন: আমার মধ্যে সেই সাহস নেই।

তিনি বলেন: তখন আমি সেটি নিলাম এবং তাদের দিকে ছুঁড়ে মারলাম। এতে তারা এই কথা বলতে বলতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পালিয়ে গেল যে: আমরা তো নিশ্চিত ধারণা করেছিলাম মুহাম্মদ তাঁর পরিবারকে এমন অবস্থায় রেখে যাবেন না যে তাদের সাথে কেউ থাকবে না।

তিনি বলেন: আর তিনি (হাসসান) দুর্গে আমাদের সাথে থাকা অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে লক্ষ্য রাখতেন, যখন তিনি কাফিরদের ওপর আক্রমণ করতেন তখন তিনিও তাঁর সাথে আক্রমণ করতেন এবং তিনি যখন তাঁর স্থানে ফিরতেন তিনিও দুর্গের অভ্যন্তরে তাঁর পিছু পিছু ফিরে আসতেন।

তিনি বলেন: অতঃপর সা'দ বিন মুআয আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন, তাঁর গায়ে হলুদ রঙের সুগন্ধির চিহ্ন ছিল। এর কয়েকদিন পূর্বেই তিনি বিবাহ করেছিলেন। তিনি বীরত্বপূর্ণ কবিতা আবৃত্তি করছিলেন এবং বলছিলেন:

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করো, যুদ্ধের ধ্বংসলীলা উটশাবকের পিঠের ওপর পৌঁছে যাবে … মৃত্যুতে কোনো ক্ষতি নেই যখন আয়ু শেষ হয়ে আসে।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُّورِ البَّزَّازُ بِبَغْدَادَ، أَنْبَأَ أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْيُوسُفِيُّ.

وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الْحَقِّ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ ⦗ص: 55⦘ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، أَنْبَأَ عَمِّي أَبُو طَاهِرٍ، أَنْبَأَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ التَّمِيمِيُّ، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ، أَنْبَأَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَعْنِي ابْنَ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ:

أَخْبَرَنِي أَبِي الزُّبَيْرِ رضي الله عنه: " أَنَّهُ لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ، أَقْبَلَتِ امْرَأَةٌ تَسْعَى حَتَّى كَادَتْ أَنْ تُشْرِفَ عَلَى الْقَتْلَى.

قَالَ: فَكَرِهَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَرَاهُمْ، فَقَالَ: " الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةُ ".

قَالَ الزُّبَيْرُ: فَتَوَسَّمْتُ أَنَّهَا أُمِّي صَفِيَّةُ، قَالَ: فَخَرَجْتُ أَسْعَى إِلَيْهَا، فَأَدْرَكْتُهَا قَبْلَ أَنْ تَنْتَهِي إِلَى الْقَتْلَى. قَالَ: فَلَدَمَتْ فِي صَدْرِي - وَكَانَتِ امْرَأَةٌ جَلِدَةٌ - قَالَتْ: إِلَيْكَ، لا أَرْضَ لَكَ. قَالَ: فَقُلْتُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَزَمَ عَلَيْكِ. قَالَ: فَوَقَفَتْ، وَأَخْرَجَتْ ثَوْبَيْنِ مَعَهَا، فَقَالَتْ: هَذَانِ ثَوْبَانِ، جِئْتُ بِهِمَا لأَخِي حَمْزَةَ، فَقَدْ بَلَغَنِي مَقْتَلُهُ، فَكَفِّنُوهُ فِيهِمَا.

قَالَ: فَجِئْنَا بِالثَّوْبَيْنِ لِنُكَفِّنَ فِيهِمَا حَمْزَةَ، فَإِذَا إِلَى جَنْبِهِ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ قَتِيلٌ، قَدْ فُعِلَ بِهِ كَمَا فُعِلَ بِحَمْزَةَ.

قَالَ: فَوَجَدْنَا غَضَاضَةً وَحَيَاءً أَنْ نُكَفِّنَ حَمْزَةَ فِي ثَوْبَيْنِ وَالأَنْصَارِيُّ لا كَفَن لَهُ، فَقُلْنَا: لِحَمْزَةَ ثَوْبٌ، وَلِلأَنْصَارِيِّ ثَوْبٌ، فَقَدَّرْنَاهُمَا فَكَانَ أَحَدُهُمَا أَكْبَرُ مِنَ الآخَرِ.

⦗ص: 56⦘ قَالَ: فَأَقْرَعْنَا بَيْنَهُمَا، فَكَفَّنَّا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا فِي الثَّوْبِ الَّذِي صَارَ لَهُ ".
২ - বাগদাদে আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আন-নাক্কুর আল-বাজজায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তালিব আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মাদ আল-ইউসুফী আমাদের অবহিত করেছেন।

এবং আবু আল-হাসান আব্দুল হক বিন আব্দুল খালিক বিন আহমাদ বিন আব্দুল কাদির বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার চাচা আবু তাহির আমাদের অবহিত করেছেন, আল-হাসান বিন আলী আত-তামীমী আমাদের অবহিত করেছেন, আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান আমাদের অবহিত করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান বিন দাউদ আল-হাশিমী আমাদের অবহিত করেছেন, আবদুর রহমান অর্থাৎ ইবনে আবিয যিনাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি বলেন:

আমার পিতা যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: “যখন উহুদের যুদ্ধের দিন ছিল, তখন একজন মহিলা দৌড়ে আসছিলেন, এমনকি তিনি প্রায় নিহতদের (শহীদদের) লাশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনি তাঁদের দেখে ফেলুন তা অপছন্দ করলেন এবং বললেন: ‘মহিলাটি! মহিলাটি!’ (অর্থাৎ তাকে থামাও)।

যুবায়ের বলেন: আমি অনুমান করলাম যে তিনি আমার মা সাফিয়্যাহ। তিনি বলেন: সুতরাং আমি তাঁর দিকে দৌড়ে গেলাম এবং নিহতদের লাশের কাছে পৌঁছানোর আগেই আমি তাঁকে ধরে ফেললাম। তিনি বলেন: তখন তিনি আমার বুকে সজোরে ধাক্কা দিলেন—আর তিনি ছিলেন এক শক্তিশালী মহিলা—এবং বললেন: ‘সরে যাও, তোমার কোনো ভূমি নেই’ (অর্থাৎ আমার পথ ছাড়ো)। তিনি বলেন: আমি বললাম: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনাকে (না যাওয়ার জন্য) নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন: তখন তিনি থেমে গেলেন এবং তাঁর সাথে থাকা দুটি কাপড় বের করলেন। এরপর বললেন: ‘এই দুটি কাপড় আমি আমার ভাই হামযাহর জন্য নিয়ে এসেছি, কারণ আমি তাঁর শাহাদাতের সংবাদ পেয়েছি; সুতরাং তোমরা তাঁকে এই দুটি কাপড় দিয়ে কাফন দাও।’

তিনি বলেন: অতঃপর আমরা হামযাহকে কাফন দেওয়ার জন্য কাপড় দুটি নিয়ে এলাম। তখন দেখা গেল তাঁর পাশেই আনসারদের একজন লোক শহীদ হয়ে পড়ে আছেন, যাঁর সাথেও হামযাহর মতো আচরণ (অঙ্গহানি) করা হয়েছে।

তিনি বলেন: আমরা হামযাহকে দুটি কাপড় দিয়ে কাফন দিতে এবং আনসারী ব্যক্তির কোনো কাফন না থাকতে দেখে সংকোচ ও লজ্জাবোধ করলাম। তাই আমরা বললাম: হামযাহর জন্য একটি কাপড় এবং আনসারী ব্যক্তির জন্য একটি কাপড় রাখা হোক। আমরা কাপড় দুটি পরিমাপ করে দেখলাম যে একটি অপরটির চেয়ে বড় ছিল।

⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘ তিনি বলেন: অতঃপর আমরা কাপড় দুটির মধ্যে লটারি করলাম এবং তাঁদের প্রত্যেককে লটারিতে যার ভাগে যে কাপড় পড়ল তা দিয়ে কাফন দিলাম।”
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌أُمُّ عُمَارَةَ، نُسَيْبَةُ بِنْتُ كَعْبٍ

1 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ، أَنْبَأَ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَوْهَرِيُّ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ مَعْرُوفٍ، أَنْبَأَ الْحُسَيْنُ بْنُ الْفَهْمِ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَبْرَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ، يَقُولُ:

" شَهِدْتُ أُحُدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا تَفَرَّقَ النَّاسُ عَنْهُ دَنَوْتُ أَنَا وَأُمِّي نَذُبُّ عَنْهُ، قَالَ: " ابْنُ أُمِّ عُمَارَةَ؟ ".

قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: " ارْمِ "، فَرَمَيْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ رَجُلا مِنَ الْمُشْرِكِينَ بِحَجَرٍ، وَهُوَ عَلَى فَرَسٍ، فَأَصَبْتُ عَيْنَ الْفَرَسِ، فَاضْطَرَبَ الْفَرَسُ حَتَّى وَقَعَ صَاحِبُهُ، وَجَعَلْتُ أَعْلُوهُ بِالْحِجَارَةِ حَتَّى نَضَّدْتُ عَلَيْهِ مِنْهَا وَقْرًا، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتبسمُ، وَنَظَرَ إِلَى جُرْحٍ بِأُمِّي عَلَى عَاتِقِهَا، فَقَالَ: " أُمُّكَ، أُمُّكَ، أَعْصِبْ جُرْحَهَا، بَارَكَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ مِنْ أَهْلِ الْبَيْتِ، مَقَامُ أُمِّكَ خَيْرٌ مِنْ مَقَامِ فُلانٍ وَفُلانٍ، رَحِمَكُمُ اللَّهُ أَهْلَ الْبَيْتِ، وَمَقَامُ رَبِيبِكَ يَعْنِي زَوْجَ أُمِّهِ، خَيْرٌ مِنْ مَقَامِ فُلانٍ وَفُلانٍ، رَحِمَكُمُ اللَّهُ أَهْلَ الْبَيْتِ ".

قَالَتْ: ادْعُ اللَّهَ أن نُرَافِقُكَ فِي الْجَنَّةِ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلُهُمْ رُفَقَائِي فِي الْجَنَّةِ.

فَقَالَتْ: مَا أُبَالِي مَا أَصَابَنِي مِنَ الدُّنْيَا.
উম্মু উমারা, নুসাইবাহ বিনতে কাব

১ - আব্দুর রহীম বিন আব্দুল খালিক বিন আহমাদ বিন আব্দুল কাদির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মাদ আমাদের জানিয়েছেন, আল-হাসান বিন আলী আল-জাওহারী আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ বিন মারূফ আমাদের জানিয়েছেন, আল-হুসাইন বিন আল-ফাহম আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন সাদ আমাদের জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন উমর আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি সাবরাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি সা’সাআহ থেকে, তিনি হারিস বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন যাইদ বিন আসিমকে বলতে শুনেছি:

"আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উহুদ যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম। যখন লোকজন তাঁর চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তখন আমি এবং আমার মা তাঁর নিকটবর্তী হলাম তাঁকে রক্ষা করার জন্য। তিনি বললেন: 'উম্মু উমারার পুত্র?'"

আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "নিক্ষেপ করো"। তখন আমি তাঁর সামনে থাকা মুশরিকদের এক ব্যক্তির দিকে পাথর নিক্ষেপ করলাম, যে ছিল ঘোড়ায় সওয়ার। আমি ঘোড়ার চোখে আঘাত করলাম, ফলে ঘোড়াটি ছটফট করতে লাগল এবং শেষ পর্যন্ত তার সওয়ারি পড়ে গেল। আমি তার ওপর পাথর নিক্ষেপ করতে থাকলাম যতক্ষণ না আমি তার ওপর পাথরের স্তূপ জমে গেল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছিলেন। তিনি আমার মায়ের কাঁধে একটি জখম দেখলেন এবং বললেন: "তোমার মা, তোমার মা! তার জখমে পট্টি বেঁধে দাও। হে আহলে বাইত (পরিবার), আল্লাহ তোমাদের ওপর বরকত দান করুন। তোমার মায়ের মাকাম (মর্যাদা) অমুক ও অমুক ব্যক্তির মাকাম থেকে উত্তম। হে আহলে বাইত, আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করুন। আর তোমার রবীবে (অর্থাৎ তাঁর মায়ের স্বামী), তার মাকাম অমুক ও অমুক ব্যক্তির মাকাম থেকে উত্তম। হে আহলে বাইত, আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করুন।"

তিনি (উম্মু উমারা) বললেন: আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আমরা জান্নাতে আপনার সঙ্গী হতে পারি। তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, তাদের জান্নাতে আমার সঙ্গী বানিয়ে দিন।"

তখন উম্মু উমারা বললেন: দুনিয়াতে আমার ওপর যা-ই আসুক না কেন, তাতে এখন আমার আর কোনো পরোয়া নেই।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
2 - [وَبِهِ]، يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ ضُمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ:

أُتِيَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِمُرُوطٍ، فَكَانَ فِيهَا مِرْطٌ جَيِّدٌ وَاسِعٌ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّ هَذَا الْمِرْطَ لَثَمَنُ كَذَا وَكَذَا، فَلَوْ أَرْسَلْتَ بِهِ إِلَى زَوْجَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ، وَذَلِكَ حِدْثَانُ مَا دَخَلَتْ عَلَى ابْنِ عُمَرَ، فَقَالَ: ابْعَثْ بِهِ إِلَى مَنْ هُوَ أَحَقُّ بِهِ مِنْهَا، أُمُّ عُمَارَةَ نُسَيْبَةُ بِنْتُ كَعْبٍ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ يَوْمَ أُحِدٍ: " مَا الْتَفَتُّ يَمِينًا وَلا شِمَالا إِلا وَأَنَا أَرَاهَا تُقَاتِلُ دُونِي ".
২ - [এবং এই সনদেই], ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ, মূসা ইবনে দুমরাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট কিছু চাদর আনা হলো, তাতে একটি উৎকৃষ্ট ও প্রশস্ত চাদর ছিল। তখন তাঁদের কেউ কেউ বললেন: নিশ্চয়ই এই চাদরটির মূল্য তো এতো এতো; আপনি যদি এটি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের স্ত্রী সাফিয়্যাহ বিনতে আবি উবাইদের নিকট পাঠিয়ে দিতেন! আর এটি ছিল ইবনে উমরের ঘরে তাঁর নবপরিণিতা হিসেবে আসার সমসাময়িক ঘটনা। তখন তিনি (উমর) বললেন: এটি তাঁর কাছে পাঠাও যিনি এর জন্য তাঁর চেয়েও অধিক হকদার, অর্থাৎ উম্মে উমারা নুসায়বাহ বিনতে কাব। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উহুদের দিন বলতে শুনেছি: "আমি ডানে বা বামে যেদিকেই তাকিয়েছি, তাকে আমার সম্মুখে (আমাকে রক্ষার্থে) লড়াই করতে দেখেছি।"
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
3 - وَبِهِ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنِي الْمُنْذِرُ بْنُ سَعِيدٍ مَوْلَى لِبَنِي الزُّبَيْرِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حِبَّانَ، قَالَ:

" جُرِحَتْ أُمُّ عُمَارَةَ بِأُحُدٍ اثْنَا عَشْرَ جُرْحًا، وَقُطِعَتْ يَدُهَا بِالْيَمَامَةِ، وَجُرِحَتْ يَوْمَ الْيَمَامَةِ سِوَى يَدِهَا أَحَدَ عَشَرَ جُرْحًا، فَقَدِمَتِ الْمَدِينَةَ وَبِهَا الْجِرَاحَةُ، فَلَقَدْ رُئِيَ أَبُو بَكْرٍ يَأْتِيهَا يَسْأَلُ عَنْهَا وَهُوَ يَوْمَئِذٍ خَلِيفَةٌ.

قَالَ: تَزَوَّجَتْ ثَلاثَةً كُلَّهُمْ لَهُمْ مِنْهَا وَلَدٌ، تَزَوَّجَتْ غَزِيَّةَ بْنَ عَمْرٍو الْمَازِنِيِّ، لَهَا مِنْهُ تَمِيمُ بْنُ غَزِيَّةَ، وَتَزَوَّجَتْ زَيْدَ بْنَ عَاصِمِ بْنِ كَعْبٍ الْمَازِنِيِّ، فَلَهَا مِنْهُ حَبِيبُ بْنُ زَيْدٍ الَّذِي قَطَّعَهُ مُسَيْلَمَةُ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ قُتِلَ بِالْحِرَّةِ، وَالثَّالِثُ نَسِيتُهُ [وَمَاتَ وَلَدُهُ وَلَمْ يُعَقِبْ] ".
৩ - এবং তাঁর সূত্রে, মুহাম্মদ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বনু জুবায়েরের আযাদকৃত দাস মুনজির ইবনে সাঈদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হিব্বান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

"উম্মু উমারাহ উহুদ যুদ্ধে বারোটি জখম প্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং ইয়ামামার যুদ্ধে তাঁর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ইয়ামামার যুদ্ধে তাঁর হাত ব্যতীত আরও এগারোটি জখম হয়েছিল। এমতাবস্থায় তিনি মদিনায় ফিরে আসেন যে তাঁর শরীরে জখম ছিল। তখন আবু বকর (রা.)-কে দেখা যেত যে তিনি তাঁর কাছে আসতেন এবং তাঁর খোঁজখবর নিতেন, অথচ তখন তিনি খলিফা ছিলেন।

তিনি বলেন: তিনি তিনজনকে বিবাহ করেছিলেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষেই তাঁর সন্তান ছিল। তিনি গাজিয়্যাহ ইবনে আমর আল-মাযিনিকে বিবাহ করেন, তাঁর গর্ভে তামীম ইবনে গাজিয়্যাহ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যায়িদ ইবনে আসিম ইবনে কাব আল-মাযিনিকেও বিবাহ করেছিলেন, যাঁর থেকে হাবিব ইবনে যায়িদ জন্মগ্রহণ করেন—যাকে মুসাইলামা খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছিল—এবং আবদুল্লাহ ইবনে যায়িদ জন্মগ্রহণ করেন যিনি হাররার যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। আর তৃতীয় জনের নাম আমি ভুলে গিয়েছি [এবং তাঁর সন্তান মারা গিয়েছিল যার কোনো বংশধর অবশিষ্ট ছিল না]।"
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
4 - أَخْبَرَنَا أَبُو صَالِحٍ الدَّلالُ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي، أَنْبَأَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ، أَنْبَأَ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ أَبِي حَيَّةَ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ ⦗ص: 58⦘ شُجَاعٍ، أَنْبَأَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْوَاقِدِيُّ، قَالَ:

قَالُوا: " وَكَانَتْ نُسَيْبَةُ بِنْتُ كَعْبٍ أُمِّ عُمَارَةَ، وَهِيَ امْرَأَةُ غَزِيَّةَ بْنِ عَمْرٍو، شَهِدَتْ أُحُدًا وَزَوْجُهَا وَابْنَاهَا، وَخَرَجَتْ مَعَهَا بِشَنٍّ لَهَا فِي أَوَّلِ النَّهَارِ تُرِيدُ أَنْ تَسْقِي الْجَرْحَى، فَقَاتَلَتْ يَوْمَئِذٍ يَعْنِي: يَوْمَ أُحُدٍ، فَأَبْلَتْ بَلاءً حَسَنًا، فَجُرِحَتِ اثْنَيْ عَشَرَ جُرْحًا بَيْنَ طَعْنَةٍ بِرُمْحٍ أَوْ ضَرْبَةٍ بِسَيْفٍ.

وَكَانَتْ أُمُّ سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ، تَقُولُ: دَخَلْتُ عَلَيْهَا، فَقُلْتُ لَهَا: يَا خَالَةُ، حَدِّثِينِي خَبَرَكِ، فَقَالَتْ:

" خَرَجْتُ أَوَّلَ النَّهَارِ إِلَى أُحُدٍ وَأَنَا أَنْظُرُ مَا يَصْنَعُ النَّاسُ، وَمَعِي سِقَاءٌ فِيهِ مَاءٌ، فَانْتَهَيْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي أَصْحَابِهِ، وَالدَّوْلَةُ وَالرِّيحُ لِلْمُسْلِمِينَ، فَلَمَّا انْهَزَمَ الْمُسْلِمُونَ انْحَزْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلْتُ أُبَاشِرُ الْقِتَالَ، وَأَذِبُّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالسَّيْفِ، وَأَرْمِي بِالْقَوْسِ، حَتَّى خَلَصَتْ إِلَيَّ الْجِرَاحُ، فَرَأَيْتُ عَلَى عَاتِقِهَا جُرْحًا لَهُ غَوْرٌ أَجْوَفٌ.

فَقُلْتُ: يَا أُمَّ عُمَارَةَ، مِنْ أَصَابَكِ بِهَذَا؟ قَالَتْ: أَقْبَلَ ابْنُ قَمِئَةَ وَقَدْ وَلَّى النَّاسُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصِيحُ: دُلُّونِي عَلَى مُحَمَّدٍ، فَلا نَجَوْتُ إِنْ نَجَا، فَاعْتَرَضَ لَهُ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَأُنَاس مَعَهُ، فَكُنْتُ فِيهِمْ، فَضَرَبَنِي هَذِهِ الضَّرْبَةَ، وَلَقَدْ ضَرَبْتُهُ عَلَى ذَلِكَ ضَرَبَاتٍ، وَلَكِنَّ عَدُوَّ اللَّهِ كَانَ عَلَيْهِ دِرْعَانِ.

قُلْتُ: يَدُكِ مَا أَصَابَهَا؟ قَالَتْ: أُصِيبَتْ يَوْمَ الْيَمَامَةِ، لَمَّا جَعَلْتُ الأَعْرَابَ يَنْهَزِمُونَ بِالنَّاسِ، نَادَتِ الأَنْصَارُ: أَخْلِصُونَا، فَأَخْلَصْتُ الأَنْصَارَ فَكُنْتُ مَعَهُمْ حَتَّى انْتَهَيْنَا إِلَى حَدِيقَةِ الْمَوْتِ فَاقْتَتَلْنَا عَلَيْهَا سَاعَةً، حَتَّى قُتِلَ أَبُو دُجَانَةَ عَلَى بَابِ الْحَدِيقَةِ، وَدَخَلْتُهَا وَأَنَا أُرِيدُ عَدُوَّ اللَّهِ مُسَيْلَمَةَ، فَتَعَرَّضَ لِي رَجُلٌ مِنْهُمْ ⦗ص: 59⦘ فَضَرَبَ يَدِي فَقَطَعَهَا، فَوَاللَّهِ مَا كَانَتْ لِي نَاهِيَةٌ، وَ [لا عَرَّجْتُ عَلَيْهَا] حَتَّى وَقَفْتُ عَلَى الْخَبِيثِ مَقْتُولا، وَابْنِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ الْمَازِنِيِّ يَمْسَحُ سَيْفَهُ بِثِيَابِهِ، فَقُلْتُ: قَتَلْتَهُ؟، فَقَالَ: نَعَمْ، فَسَجَدْتُ لِلَّهِ شُكْرًا ".
৪ - আবু সালিহ আদ-দাল্লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী আমাদের জানিয়েছেন, তিনি আল-হাসান ইবনে আলী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আবী হাইয়্যাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ শুজা থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-ওয়াকিদী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

তারা বলেন: "নুসাইবাহ বিনতে কা'ব উম্মু উমারা—যিনি গাযিয়্যাহ ইবনে আমরের স্ত্রী ছিলেন—তিনি উহুদ যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং তার স্বামী ও দুই ছেলেও সেখানে ছিলেন। দিনের শুরুতে তিনি একটি মশক নিয়ে বের হয়েছিলেন যাতে আহতদের পানি পান করাতে পারেন। সেদিন অর্থাৎ উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি লড়াই করেন এবং অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দেন। সেদিন তিনি বর্শার আঘাত এবং তরবারির চোট মিলিয়ে মোট বারোটি জখমপ্রাপ্ত হন।

উম্মু সা'দ বিনতে আর-রাবী বলতেন: আমি তার কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাকে বললাম: হে খালা, আপনার যুদ্ধের কাহিনী আমাকে শোনান। তিনি বললেন:

"আমি দিনের শুরুতে উহুদের দিকে বের হলাম দেখার জন্য যে লোকেরা কী করছে, তখন আমার সাথে পানিভর্তি একটি মশক ছিল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছালাম যখন তিনি তাঁর সাহাবীদের মাঝে ছিলেন এবং যুদ্ধের পরিস্থিতি ও বিজয় মুসলিমদের অনুকূলে ছিল। কিন্তু যখন মুসলিমরা পরাজিত হয়ে পিছু হটতে লাগল, তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হলাম এবং সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হলাম। আমি তরবারি দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করছিলাম এবং তীর নিক্ষেপ করছিলাম, যতক্ষণ না আমি জখমপ্রাপ্ত হলাম।" (বর্ণনাকারী বলেন) আমি তাঁর কাঁধে একটি গভীর ও গর্তের মতো ক্ষত দেখতে পেলাম।

আমি বললাম: হে উম্মু উমারা, কে আপনাকে এই আঘাত করেছে? তিনি বললেন: "ইবনে কামিয়াহ এগিয়ে এল যখন লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে সরে গিয়েছিল। সে চিৎকার করে বলছিল: আমাকে মুহাম্মদের সন্ধান দাও, সে বেঁচে থাকলে আমার নিস্তার নেই। তখন মুসআব ইবনে উমাইর এবং তাঁর সাথে কিছু লোক তার পথরোধ করেন, আমি তাঁদের মধ্যে ছিলাম। সে আমাকে এই আঘাতটি করে। আমিও তখন তাকে কয়েকবার আঘাত করেছিলাম, কিন্তু আল্লাহর সেই দুশমন দুই স্তরের বর্ম পরিহিত ছিল।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম: আপনার হাতের কী হয়েছিল? তিনি বললেন: "তা ইয়ামামার যুদ্ধে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। যখন বেদুঈনরা লোকজনকে নিয়ে পিছু হটছিল, তখন আনসাররা ডাক দিয়ে বলল: আমাদের আলাদা করো। ফলে আমি আনসারদের সাথে যোগ দিলাম এবং তাদের সাথে ছিলাম যতক্ষণ না আমরা 'মৃত্যুর বাগানে' পৌঁছালাম। সেখানে আমরা কিছুক্ষণ লড়াই করলাম, এমনকি বাগানের দরজায় আবু দুজানাহ নিহত হলেন। আমি আল্লাহর দুশমন মুসাইলিমাকে খুঁজতে খুঁজতে ভেতরে প্রবেশ করলাম। তখন তাদের এক লোক আমার সামনে দাঁড়াল ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ এবং আমার হাতে আঘাত করে তা বিচ্ছিন্ন করে দিল। আল্লাহর কসম, কোনো বাধাই আমাকে থামাতে পারেনি এবং আমি এর জন্য থেমে থাকিনি যতক্ষণ না আমি সেই পাপিষ্ঠকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেলাম। তখন আমার ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ আল-মাযিনী তার কাপড় দিয়ে নিজের তরবারি মুছছিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: তুমি কি তাকে হত্যা করেছ? সে বলল: হ্যাঁ। তখন আমি শুকরিয়া স্বরূপ আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করলাম।"
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
5 - وَكَانَ ضُمْرَةُ بْنُ سَعِيدٍ يُحَدِّثُ، عَنْ جَدَّتِهِ وَكَانَتْ قَدْ شَهِدَتْ أُحُدًا تَسْقِي الْمَاءَ، قَالَتْ:

سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " لَمَقَامُ نُسَيْبَةَ بِنْتِ كَعْبٍ الْيَوْمَ خَيْرٌ مِنْ مَقَامِ فُلانٍ وَفُلانٍ " وَكَانَ يَرَاهَا يَوْمَئِذٍ تُقَاتِلُ أَشَدَّ الْقِتَالِ، وَإِنَّهَا لَحَاجِزَةٌ ثَوْبَهَا عَلَى وَسَطِهَا، حَتَّى جُرِحَتْ ثَلاثَةَ عَشْرَ جُرْحًا، فَلَمَّا حَضَرَتْهَا الْوَفَاةُ كُنْتُ فِيمَنْ غَسَّلَهَا، فَعَدَدْتُ جِرَاحَهَا جُرْحًا جُرْحًا فَوَجَدْتُهَا ثَلاثَةَ عَشْرَ جُرْحًا.

وَكَانَتْ تَقُولُ: إِنِّي لأَنْظُرُ إِلَى ابن قَمِئَةَ وَهُوَ يَضْرِبُهَا عَلَى عَاتِقِهَا، وَكَانَ أَعْظَمُ جِرَاحَهَا، وَلَقَدْ دَاوَتْهُ سَنَةً، ثُمَّ نَادَى مُنَادِي النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى حَمْرَاءِ الأَسَدِ، فَشَدَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابِهَا فَمَا اسْتَطَاعَتْ مِنْ نَزْفِ الدَّمِ، وَلَقَدْ مَكَثْنَا لَيْلَتَنَا نُكَمِّدُ الْجِرَاحَ حَتَّى أَصْبَحْنَا، فَلَمَّا رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْحَمْرَاءِ مَا وَصَلَ إِلَى بَيْتِهِ حَتَّى أَرْسَلَ إِلَيْهَا عَبْدَ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ الْمَازِنِيِّ يَسْأَلُ عَنْهَا، فَرَجَعَ إِلَيْهِ يُخْبِرُهُ بِسَلامَتِهَا، فَسُرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ.
৫ - জুমরাহ ইবনে সাঈদ তাঁর দাদী থেকে বর্ণনা করেন—যিনি ওহুদ যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং পানি পান করাতেন—তিনি বলেন:

আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আজ নুসাইবাহ বিনতে কাবের অবস্থান অমুক এবং অমুকের অবস্থানের চেয়েও উত্তম।" আর তিনি সেদিন তাঁকে অত্যন্ত কঠোরভাবে যুদ্ধ করতে দেখছিলেন। তিনি তাঁর পরিধেয় বস্ত্র কোমরে শক্ত করে বেঁধে নিয়েছিলেন, এমনকি তিনি তেরটি জখম প্রাপ্ত হলেন। অতঃপর যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন আমি তাঁদের মধ্যে ছিলাম যাঁরা তাঁকে গোসল দিয়েছিলেন। আমি তাঁর ক্ষতগুলো একে একে গণনা করলাম এবং সেখানে তেরটি ক্ষত পেলাম।

তিনি বলতেন: আমি ইবনে কামিয়াকে দেখছিলাম যখন সে তাঁর কাঁধের ওপর আঘাত করছিল, আর এটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় জখম। তিনি এক বছর ধরে সেই ক্ষতের চিকিৎসা করেছিলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষক যখন হামরাউল আসাদের দিকে ডাক দিলেন, তখন তিনি (নুসাইবাহ) নিজের বস্ত্র কষে নিলেন কিন্তু অত্যধিক রক্তক্ষরণের কারণে আর সক্ষম হলেন না। আমরা সারারাত জেগে সকাল হওয়া পর্যন্ত তাঁর ক্ষতস্থানে সেঁক দিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হামরাউল আসাদ থেকে ফিরে আসলেন, তিনি নিজের ঘরে পৌঁছানোর পূর্বেই আবদুল্লাহ ইবনে কাব আল-মাজিনীকে তাঁর সংবাদ নিতে পাঠালেন। তিনি ফিরে এসে তাঁর নিরাপদ থাকার সংবাদ দিলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে আনন্দিত হলেন।
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
6 - أَخْبَرَنِي سَعْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي، أَنْبَأَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعباسِ، أَنْبَأَ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ أَبِي حَيَّةَ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ شُجَاعٍ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الأَسْلَمِيُّ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلالٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، قَالَ: قَالَتْ أُمُّ عُمَارَةَ:

" لَمَّا كَانَ يَوْمَئِذٍ وَالنَّاسُ مُنْهَزِمُونَ فِي كُلِّ وَجْهٍ، وَأَنَا وَأَرْبَعُ نِسْوَةٌ، وَفِي يَدِي سَيْفٌ لِي صَارِمٌ، وَأُمُّ سُلَيْمٍ مَعَهَا خِنْجَرٌ قَدْ حَزَّمَتْهُ عَلَى وَسَطِهَا، وَهِيَ يَوْمَئِذٍ حَامِلٌ بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، وَأُمُّ سُلَيْطٍ، وَأُمُّ الْحَارِثِ، قَالُوا:

⦗ص: 60⦘ فَجَعَلَتْ نُسَيْبَةُ تَصِيحُ بِالأَنْصَارِ: أَيَّةُ عَادَةٍ هَذِهِ، مَا لَكُمْ وَلِلْفَرَارِ؟.

قَالَتْ: وَأَنْظُرُ إِلَى رَجُلٍ مِنْ هَوْزَانَ عَلَى جَمَلٍ أَوْرَقٍ مَعَهُ لِوَاءٌ، يُوضَعُ جَمَلُهُ فِي أَثَرِ الْمُسْلِمِينَ، فَأَعْتَرِضُ لَهُ فَأَضْرِبُ عَرْقُوبَ الْجَمَلِ، وَكَانَ جَمَلا مُشْرِفًا، فَوَضَعَ عَلَى عَجَزِهِ، وَأَشُدُّ عَلَيْهِ، فَلَمْ أَزَلْ أَضْرِبُهُ حَتَّى أَثَبْتُهُ، وَأَخَذْتُ سَيْفًا لَهُ، وَتَرَكْتُ الْجَمَلَ يُخَرْخِرُ، يَتَصَّفَقُ ظَهْرًا لِبَطْنٍ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ مُصَلِّتُ السَّيْفَ بِيَدِهِ، وَقَدْ طَرَحَ غَمْدَهُ يُنَادِي: " يَا أَصْحَابَ سُورَةِ الْبَقَرَةِ ".

قَالَ: وَكَرَّ الْمُسْلِمُونَ، فَجَعَلُوا يَقُولُونَ: يَا بَنِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، يَا بَنِي عَبْدِ اللَّهِ، يَا بَنِي عُبَيْدِ اللَّهِ، يَا خَيْلَ اللَّهِ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ سَمَّى خَيْلَهُ خَيْلَ اللَّهِ، وَجَعَلَ شِعَارَ الْمُهَاجِرِينَ بَنِي عَبْدِ اللَّهِ، وَجَعَلَ شِعَارَ الْخَزْرَجِ بَنِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَجَعَلَ شِعَارَ الأَوْسِ بَنِي عُبَيْدِ اللَّهِ.

[فَكَرَّتِ الأَنْصَارُ، وَوَقَفَتْ هَوْزَانُ حَلْبَ نَاقَةِ فُتُوحٍ، ثُمَّ كَانَتْ إِيَّاهَا، فَوَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ هَزِيمَةً كَانَتْ مِثْلَهَا، ذَهَبُوا فِي كُلِّ وَجْهٍ، فَرَجَعَ ابْنَايَ إِلَيَّ حَبِيبٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ بِأُسَارَى مُكَتَّفِينَ.

فَأَقُومُ إِلَيْهِمْ مِنَ الْغَيْظِ، فَأَضْرِبُ عُنُقَ وَاحِدٍ مِنْهُمْ، وَجَعَلَ النَّاسُ يَأْتُونَ بِالأُسَارَى، فَرَأَيْتُ فِي بَنِي مَازِنِ بْنِ النَّجَّارِ ثَلاثِينَ أَسِيرًا.

وَكَانَ الْمُسْلِمُونَ قَدْ بَلَغَ أَقْصَى هَزِيمَتِهِمْ مَكَّةَ، ثُمَّ كَرُّوا بَعْدَ وَتَرَاجَعُوا، فَأَسْهَمَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَمِيعًا] ".
৬ - আমাকে সা’দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আবদুল বাকী আমাকে জানিয়েছেন, হাসান বিন আলী আমাকে জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আব্বাস আমাকে জানিয়েছেন, আবদুল ওয়াহহাব বিন আবু হাইয়্যাহ আমাকে জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন শুজা আমাকে জানিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন উমর আল-আসলামী আমাকে জানিয়েছেন, সুলায়মান বিন বিলাল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উমারাহ বিন গাযিয়্যাহ থেকে, তিনি বলেন: উম্মু উমারাহ বলেছেন:

"সেদিন যখন মানুষ চারদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ছিল, তখন আমি ও আরও চারজন নারী ছিলাম। আমার হাতে ছিল একটি ধারালো তলোয়ার। উম্মু সুলাইমের কাছে ছিল একটি খঞ্জর যা তিনি তাঁর কোমরে বেঁধে রেখেছিলেন; তিনি তখন আবদুল্লাহ বিন আবু তালহাকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। এছাড়া উম্মু সুলাইত ও উম্মু আল-হারিসও ছিলেন। তারা বললেন:

⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ তখন নুসাইবাহ আনসারদের ডেকে চিৎকার করে বলতে লাগলেন: 'এ কেমন অভ্যাস! তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা পালিয়ে যাচ্ছ?'

তিনি বলেন: আমি হাওয়াজিন গোত্রের এক ব্যক্তির দিকে তাকালাম যে একটি ধূসর বর্ণের উটের পিঠে ছিল এবং তার হাতে একটি পতাকা ছিল। তার উটটি মুসলিমদের পশ্চাদ্ধাবন করছিল। আমি তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালাম এবং উটের পায়ের পেছনের রগ কেটে দিলাম। সেটি ছিল একটি উঁচু উট; এটি তার পেছনের অংশের ওপর পড়ে গেল। আমি তার ওপর চড়াও হলাম এবং তাকে আঘাত করতে থাকলাম যতক্ষণ না আমি তাকে পরাস্ত করলাম। এরপর আমি তার তলোয়ারটি কেড়ে নিলাম এবং উটটিকে সেখানে গোঙানো ও ছটফট করা অবস্থায় ফেলে রেখে আসলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁর হাতে কোষমুক্ত তলোয়ার ছিল; তিনি খাপটি ফেলে দিয়েছিলেন এবং ডাকছিলেন: 'হে সূরা আল-বাকারার সাথীরা!'

বর্ণনাকারী বলেন: তখন মুসলিমরা পাল্টা আক্রমণ করল এবং বলতে লাগল: হে বনী আবদুর রহমান! হে বনী আবদুল্লাহ! হে বনী উবাইদুল্লাহ! হে আল্লাহর অশ্বারোহী বাহিনী! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অশ্বারোহী বাহিনীকে 'আল্লাহর অশ্বারোহী বাহিনী' নামকরণ করেছিলেন। তিনি মুহাজিরদের স্লোগান নির্ধারণ করেছিলেন 'বনী আবদুল্লাহ', খাজরাজ গোত্রের জন্য 'বনী আবদুর রহমান' এবং আওস গোত্রের জন্য 'বনী উবাইদুল্লাহ'।

[অতঃপর আনসাররা পাল্টা আক্রমণ করল এবং হাওয়াজিন গোত্র একটি উট দোহন করার মতো স্বল্প সময়ের জন্য প্রতিরোধ করল, এরপর তারা পরাজিত হলো। আল্লাহর কসম! আমি তাদের মতো এমন পরাজয় আর দেখিনি; তারা চারদিকে পালিয়ে গেল। এরপর আমার দুই পুত্র হাবীব এবং আবদুল্লাহ বিন যাইদ হাত বাঁধা অবস্থায় যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে আমার কাছে ফিরে এল।

আমি রাগের চোটে তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাদের একজনের ঘাড় উড়িয়ে দিলাম। মানুষ যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে আসতে লাগল। আমি বনী মাজিন বিনুন নাজ্জারের কাছে ত্রিশজন যুদ্ধবন্দী দেখলাম।

মুসলিমদের পরাজয়ের মাত্রা এমন ছিল যে তারা মক্কা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, এরপর তারা ফিরে এসে পুনরায় আক্রমণ করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সকলের মাঝে গণিমতের অংশ বণ্টন করলেন।]"
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৬০)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ جَعْفَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنْبَأَ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، أَنْبَأَ ⦗ص: 61⦘ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ، أَنْبَأَ أَبُو الْحَسَنِ النَّحْوِيُّ، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ، أَنْبَأَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الأَسْلَمِيُّ، حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ ضُمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " دَخَلَ أَبِي عَلَى أُمِّ عُمَارَةَ، فَرَأَيْتُ يَدَهَا مَقْطُوعَةً، فَجَعَلَتْ تَمْسَحُ عَلَى رَأْسِي، وَبَرَّكَتْ عَلَيَّ، وَإِنَّمَا أَدْخَلَنِي أَبِي عَلَيْهَا لِذَلِكَ، وَأَنَا يَوْمَئِذٍ غُلامٌ، ثُمَّ بَلَغْتُ فَسَأَلْتُ ابْنَ ابْنِهَا عَبَّادَ بْنَ تَمِيمٍ وَذَكَرْتُ يَدَهَا، وَأَخْبَرْتُهُ إِنِّي دَخَلْتُ عَلَيْهَا فَمَسَحَتْ رَأْسِي بِيَدِهَا الْمُصَابَةُ، فَقَالَ عَبَّادُ بْنُ تَمِيمٍ: رَحِمَهَا اللَّهُ، فَقُلْتُ: هَلْ عَلِمْتَ أَنَّ امْرَأَةً مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَرَجَتْ فِي الرِّدَةِ غَيْرَهَا؟ فَقَالَ: لا، وَذَلِكَ أَنَّ ابْنَهَا حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ كَانَ مَعَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ بِعُمَانَ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْبَلَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ مِنْ عُمَانٍ، فَسَمِعَ بِهِ مُسَيْلَمَةُ فَاعْتَرَضَ لِعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، فَسَبَقَهُ.

وَكَانَ عَمِّي حَبِيبُ بْنُ زَيْدٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ الأَسْلَمِيُّ فِي السَّاقَةِ، فَأَصَابَهُمَا، فَقَالَ لَهُمَا: أَتَشْهَدَانِ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟ فَأَقَرَّ الأَسْلَمِيُّ بِمَا قَالَ، فَأَمَرَ بِهِ فَحُبِسَ فِي حَدِيدٍ، وَأَمَّا عَمِّي فَقَالَ لَهُ: أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟ فَقَالَ: " لا أَسْمَعُ "، فَقَالَ: أَتَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَأَمَرَ بِهِ فَقُطِّعَتْ يَدُهُ، فَلَمْ يَزَلْ يَقُولُ: أَتَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ، فَيَقُولُ: أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟ فَيَقُولُ: لا أَسْمَعُ، حَتَّى قَطَّعَهُ عُضْوًا عُضْوًا، فَقَطَعَ يَدَيْهِ مِنَ الْمَنْكَبَيْنِ، وَرِجْلَيْهِ مِنَ الْوِرْكَيْنِ، فَقَالَ: أَتْشَهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟ فَقَالَ: لا أَسْمَعُ، فَقَالَ: أَتَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَحَرَقَهُ بِالنَّارِ، وَهُوَ يَقُولُ: أَتَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: أَتْشَهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟ قَالَ: لا أَسْمَعُ، فَتَرَكَهُ فِي النَّارِ حَتَّى مَاتَ.

فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ جَدَّتِي أُمُّ عُمَارَةَ عَاهَدَتِ اللَّهَ: إِنْ رَأَيْتُهُ أَنْ لا أَكْذِبُ عَنْهُ أَوْ أُقْتَلُ دُونَهُ.

فَلَمَّا تَهَيَّأَ بَعْثُ خَالِدٍ إِلَى الْيَمَامَةِ جَاءَتْ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَاسْتَأْذَنَتْهُ لِلْخُرُوجِ، فَقَالَ: مَا مِثْلُكِ يُحَالُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْخُرُوجِ، وَقَدْ عَرْفَنَا جَزَاءُكِ فِي الْحَرْبِ، فَاخْرُجِي عَلَى اسْمِ اللَّهِ، وَأَوْصَى خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ بِهَا، وَكَانَ مُسْتَوْصِيًا بِهَا ⦗ص: 62⦘ مُتَعَاهِدًا لَهَا، فَلَمَّا انْتَهُوا إِلَى الْيَمَامَةِ وَاقْتَتَلُوا تَدَاعَتِ الأَنْصَارُ يَوْمَئِذٍ: أَخْلِصُونَا أَخْلِصُونَا.

قَالَتْ: قَلَّمَا انْتَهْيَنَا إِلَى بَابِ الْحَدِيقَةِ لَمْ يَخْلُصْ، حَتَّى قُلْتُ: لا يَخْلُصُ، وَازْدَحَمْنَا عَلَى البَابِ، وَأَهْلُ النَّجْدَةِ مِنْ عَدُوِّنَا فِي الْحَدِيقَةِ قَدِ انْحَازُوا يَكُونُونَ فِيهِ لِمُسَيْلَمَةَ، فَأَقْحَمْنَا فَضَارَبْنَاهُمْ سَاعَةً، وَاللَّهِ يَا بُنَيَّ مَا رَأَيْتُ قَوْمًا أَبْذَلُ لِمُهَجِ أَنْفُسِهِمْ مِنْهُمْ، وَجَعَلْتُ أَقْصِدُ لِعَدُوِّ اللَّهِ مُسَيْلَمَةَ لا أَرَاهُ، وَقَدْ عَاهَدْتُ اللَّهَ إِنْ رَأَيْتُهُ لا أَكْذِبُ عَنْهُ أَوْ أُقْتَلُ دُونَهُ، وَجَعَلَتِ الرِّجَالُ تَخْتَلِطُ، وَالسُّيُوفُ بَيْنَهُمْ، وَخَرُسَ الْقَوْمُ فَلا صَوْتَ إِلا وَقْعَ السُّيُوفِ، حَتَّى بَصَرْتُ بِعَدُوِّ اللَّهِ، فَأَشُدُّ عَلَيْهِ وَيَعْتَرِضُنِي رَجُلٌ مِنْهُمْ فَضَرَبَ يَدِي فَقَطَعَهَا، فَوَاللَّهِ مَا عَرَّجْتُ عَلَيْهَا حَتَّى أَنْتَهِي إِلَى الْخَبِيثِ وَهُوَ صَرِيعٌ، وَأَجِدُ ابْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ قَدْ قَتَلَهُ، فَحَمَدْتُ اللَّهَ عَلَى ذَلِكَ، وَقَطَعَ اللَّهُ دَابِرَهُمْ.

فَلَمَّا انْقَطَعَتِ الْحَرْبُ وَصِرْتُ إِلَى مَنْزِلِي، جَاءَنِي خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ إلى مَنْزِلِي بِطِيبٍ مِنَ الْعَرَبِ، فَدَاوَانِي بِالزَّيْتِ الْمَغْلِي فَكَانَ أَشَدُّ عَلَيَّ مِنَ الْقَطْعِ. وَكَانَ خَالِدٌ كَثِيرُ التَّعَاهُدِ لِي، حَسَنُ الصُّحْبَةِ، يَعْرِفُ حَقَّنَا وَيَحْفَظُ فِينَا وَصَيَّةَ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم.

قَالَ عَبَّادُ: فَقُلْتُ: يَا جَدَّةُ، أُكْثِرَتِ الْجِرَاحَ فِي الْمُسْلِمِينَ؟ فَقَالَتْ: يَا بُنَيَّ، لَقَدْ تَحَاجَزَ النَّاسُ، وَقُتِلَ عَدُوُّ اللَّهِ، وَإِنَّ الْمُسْلِمِينَ لَجَرْحَى كُلُّهُمْ، لَقَدْ رَأَيْتُ بَنِي أَبِي مُجَرَّحِينَ مَا بِهِمْ حَرَكَةٌ، وَلَقَدْ رَأَيْتُ فِي بَنِي مَالِكِ بْنِ النَّجَّارِ بِضَعَةَ عَشَرَ رَجُلا لَهُمْ أَنِينٌ، يُكْمِدُونَ لَيْلَهُمْ بِالنَّارِ، وَلَقَدْ أَقَامَ النَّاسُ بِالْيَمَامَةِ خَمْسَ عَشْرَةَ لَيْلَةً بَعْدَ وَضْعِ الْحَرْبِ أَوْزَارَهَا، وَمَا يُصَلِّي مَعَ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ الأَوَّلِينَ إِلا نَفَرٌ مِنَ الْخَزْرَجِ، وَذَلِكَ أَنَّا أُتِينَا مِنَ قِبَلِ الأَعْرَابِ انْهَمَكُوا بِالْمُسْلِمِينَ.

إِلا إِنِّي أَعْلَمُ أَنَّ طيِّئًا قَدْ أَبْلَتْ يَوْمَئِذٍ بَلاءً حَسَنًا، لَقَدْ رَأَيْتُ عُدَيَّ بْنَ حَاتِمٍ يَوْمَئِذٍ يَصِيحُ فِيهِمْ: فِدَاءً لَكُمْ أَبِي وَأُمِّي، اصْبِرُوا لِوَقْعِ الأَسْلِ، وَأَنَّ ابْنِي زَيْدٍ الْخَيْلُ يَوْمَئِذٍ يُقَاتِلانِ قِتَالا شَدِيدًا ".
৭ - আবু মনসুর জাফর বিন আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন উসমান আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন আবুল হাসান আন-নাহবী আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ বিন উবাইদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন আবু আব্দুল্লাহ আল-আসলামী আমাদের জানিয়েছেন, ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ বিন আবি সা’সা’আ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুসা বিন দুমরাহ বিন সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমার পিতা উম্মু উমারার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন আমি দেখলাম তাঁর হাত কাটা। তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। আমার পিতা আমাকে কেবল এই উদ্দেশ্যেই তাঁর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন, আর আমি তখন বালক ছিলাম। পরবর্তীতে আমি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলাম, তখন আমি তাঁর নাতি আব্বাদ বিন তামীমকে তাঁর হাতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম এবং উল্লেখ করলাম যে, আমি তাঁর নিকট গিয়েছিলাম আর তিনি তাঁর সেই আক্রান্ত হাত দিয়ে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন। তখন আব্বাদ বিন তামীম বললেন: আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। আমি বললাম: আপনি কি জানেন যে, মুরতাদদের যুদ্ধের সময় তিনি ছাড়া অন্য কোনো মুসলিম নারী যুদ্ধে বের হয়েছিলেন? তিনি বললেন: না। আর এর কারণ ছিল এই যে, তাঁর পুত্র হাবীব বিন যাইদ ওমানের আমরের ইবনুল আসের সাথে ছিলেন। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন, তখন আমর ইবনুল আস ওমান থেকে ফিরে আসছিলেন। মুসায়লামা তাঁর কথা শুনতে পেয়ে আমর ইবনুল আসের পথরোধ করল, তবে তিনি তাকে ছাড়িয়ে এগিয়ে গেলেন।

আমার চাচা হাবীব বিন যাইদ এবং আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহব আল-আসলামী বাহিনীর পশ্চাদ্ভাগে ছিলেন, ফলে তারা দুজন ধরা পড়লেন। সে (মুসায়লামা) তাদের দুজনকে বলল: তোমরা কি সাক্ষ্য দাও যে আমি আল্লাহর রাসূল? আসলামী সে যা বলল তা স্বীকার করে নিল, ফলে তাকে লোহার শিকলে বন্দি করার নির্দেশ দেওয়া হলো। আর আমার চাচার বিষয়ে সে বলল: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আমি আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: 'আমি শুনতে পাচ্ছি না।' সে বলল: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন সে নির্দেশ দিল এবং তাঁর একটি হাত কেটে ফেলা হলো। সে বারবার বলতে লাগল: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল? তিনি বলতেন: হ্যাঁ। সে বলত: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আমি আল্লাহর রাসূল? তিনি বলতেন: আমি শুনতে পাচ্ছি না। এমনকি সে তাঁর অঙ্গগুলো একে একে কেটে ফেলল। সে তাঁর দুই হাত কাঁধ থেকে এবং দুই পা উরু থেকে কেটে ফেলল। সে বলল: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আমি আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: আমি শুনতে পাচ্ছি না। সে বলল: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর সে তাঁকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিল, তখনও তিনি বলছিলেন: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল? তিনি বলতেন: হ্যাঁ। সে বলল: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আমি আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: আমি শুনতে পাচ্ছি না। অতঃপর সে তাঁকে আগুনের মধ্যে রেখে দিল যতক্ষণ না তিনি ইন্তেকাল করলেন।

যখন এই সংবাদ আমার দাদী উম্মু উমারার কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করলেন: আমি যদি তাকে (মুসায়লামাকে) দেখি, তবে আমি তাকে ছেড়ে আসব না অথবা তার সামনে শাহাদাত বরণ করব।

অতঃপর যখন ইয়ামামার উদ্দেশ্যে খালিদের বাহিনী প্রস্তুত হলো, তখন তিনি আবু বকরের কাছে এসে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি (আবু বকর) বললেন: তোমার মতো ব্যক্তিকে যুদ্ধে যেতে বাধা দেওয়া যায় না, আর যুদ্ধে তোমার বীরত্ব সম্পর্কে আমরা জানি। সুতরাং আল্লাহর নামে বের হও। তিনি খালিদ বিন ওয়ালীদকে তাঁর ব্যাপারে অসিয়ত করলেন। খালিদ তাঁর ব্যাপারে সচেতন ছিলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ এবং তাঁর খোঁজখবর রাখতেন। অতঃপর যখন তারা ইয়ামামায় পৌঁছালেন এবং লড়াই শুরু হলো, সেদিন আনসাররা একে অপরকে ডাক দিয়ে বলছিল: আমাদের আলাদা করো, আমাদের আলাদা করো।

তিনি (উম্মু উমারা) বললেন: আমরা বাগানের দরজার কাছে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই পথ রুদ্ধ হয়ে গেল, এমনকি আমি ভাবলাম যে ভেতরে ঢোকা সম্ভব হবে না। আমরা দরজায় ভিড় করলাম, আর আমাদের শত্রুপক্ষের সাহসী যোদ্ধারা বাগানের ভেতরে অবস্থান নিয়েছিল এবং মুসায়লামার জন্য সেখানে সমবেত হয়েছিল। আমরা ভেতরে ঢুকে পড়লাম এবং কিছুক্ষণ তাদের সাথে লড়াই করলাম। আল্লাহর কসম হে বৎস, আমি এমন কোনো কওম দেখিনি যারা তাদের প্রাণের ব্যাপারে তাদের চেয়ে বেশি বেপরোয়া ছিল। আমি আল্লাহর শত্রু মুসায়লামাকে খুঁজতে লাগলাম কিন্তু তাকে দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিলাম যে, আমি যদি তাকে দেখি তবে তাকে ছেড়ে আসব না অথবা তার সামনে শাহাদাত বরণ করব। পুরুষরা একে অপরের সাথে মিশে গিয়েছিল, তলোয়ারের ঝনঝনানি চলছিল এবং লোকেরা নীরব হয়ে গিয়েছিল, তলোয়ারের আঘাতের শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছিল না। পরিশেষে আমি আল্লাহর শত্রুকে দেখতে পেলাম। আমি তার ওপর আক্রমণ করলাম, কিন্তু তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আমার গতিরোধ করল এবং আমার হাতে আঘাত করে তা কেটে ফেলল। আল্লাহর কসম, আমি সেই কাটা হাতের দিকে ফিরেও তাকাইনি যতক্ষণ না আমি সেই খবীসের (মুসায়লামার) কাছে পৌঁছলাম, আর সে তখন মাটিতে পড়ে ছিল। আমি দেখলাম আমার পুত্র আব্দুল্লাহ বিন যাইদ তাকে হত্যা করে ফেলেছে। আমি এর জন্য আল্লাহর প্রশংসা করলাম, আর আল্লাহ তাদের মূল শিকড় কেটে দিলেন।

যখন যুদ্ধ শেষ হলো এবং আমি আমার গন্তব্যে ফিরে এলাম, তখন খালিদ বিন ওয়ালীদ আরবীয় সুগন্ধি নিয়ে আমার কাছে এলেন এবং ফুটন্ত তেল দিয়ে আমার চিকিৎসা করলেন, যা আমার কাছে হাত কাটার চেয়েও বেশি যন্ত্রণাদায়ক ছিল। খালিদ আমার খুব খোঁজখবর রাখতেন, আমার সাথে উত্তম আচরণ করতেন; তিনি আমাদের অধিকার জানতেন এবং আমাদের ব্যাপারে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসিয়ত রক্ষা করতেন।

আব্বাদ বললেন: আমি বললাম: হে দাদী, মুসলিমদের মধ্যে কি অনেক বেশি জখম হয়েছিল? তিনি বললেন: হে বৎস, লোকেরা একে অপরের থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল এবং আল্লাহর শত্রু নিহত হয়েছিল, তবে মুসলিমদের প্রায় সবাই আহত ছিল। আমি আমার পিতার সন্তানদের দেখেছি যারা জখম হয়ে পড়ে ছিল, তাদের মধ্যে নড়াচড়া করার শক্তি ছিল না। আমি বনী মালিক বিন নাজ্জারের দশজনের বেশি লোককে দেখেছি যারা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল এবং সারা রাত আগুনের সেঁক দিয়ে তাদের ক্ষতস্থানের জ্বালা উপশম করার চেষ্টা করছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর লোকেরা পনেরো রাত ইয়ামামায় অবস্থান করেছিল। আর মুহাজিরীনদের মধ্য থেকে কেবল খাযরাজ গোত্রের অল্প সংখ্যক লোকই খালিদ বিন ওয়ালীদের সাথে সালাত আদায় করত। এর কারণ ছিল এই যে, আমাদের ওপর বেদুঈনদের পক্ষ থেকে আক্রমণ এসেছিল যারা মুসলিমদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

তবে আমি জানি যে, তায় গোত্র সেদিন অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণ লড়াই করেছিল। আমি সেদিন আদী বিন হাতিমকে তাদের মাঝে চিৎকার করে বলতে দেখেছি: আমার বাবা-মা তোমাদের জন্য উৎসর্গিত হোক, তোমরা বর্শার আঘাত সহ্য করো। আর যাইদ আল-খাইলের দুই পুত্র সেদিন অত্যন্ত কঠোর লড়াই করেছিল।"
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৬২)
8 - قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَحَدَّثَنِي الْمُنْذِرُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى ⦗ص: 63⦘ بْنِ حِبَّانَ، قَالَ:

"جُرِحَتْ أُمُّ عُمَارَةَ أَحَدَ عَشَرَ جُرْحًا، أَوِ اثْنَيْ عَشَرَ جُرْحًا مِنْ ضَرْبَةٍ بِسَيْفٍ أَوْ طَعْنَةٍ بِرُمْحٍ، وَقُطِعَتْ يَدَهَا سِوَى ذَلِكَ، فَرُئِيَ أَبُو بَكْرٍ يأتيها يَسْأَلُ بهَا وَهُوَ يَوْمَئِذٍ خَلِيفَةٌ ".
৮ - আবু আব্দুল্লাহ বলেন: এবং মুনজির ইবনে সাঈদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ ইবনে হিব্বান থেকে, তিনি বলেন:

"উম্মু উমারা এগারোটি বা বারোটি জখমে জখমপ্রাপ্ত হয়েছিলেন যা ছিল তরবারির আঘাত কিংবা বর্শার বিঁধুনী হতে, এবং এছাড়া তাঁর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আবু বকরকে দেখা যেত তিনি তাঁর নিকট আসতেন এবং তাঁর খোঁজখবর নিতেন, অথচ তিনি তখন খলিফা ছিলেন।"
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرُ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، أَنْبَأَ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، أَنْبَأَ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ مَعْرُوفٍ الْخَشَّابُ، أَنْبَأَ الْحُسَيْنُ بْنُ الْفَهْمِ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ، أَنْبَأَ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عُمَارَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، قَالَ: قَالَتْ أُمُّ عُمَارَةَ:

" لَقَدْ رَأَيْتَنِي وَانْكَشَفَ النَّاسُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَا بَقِيَ إِلا فِي نفيرٍ مَا يُتمُّونَ عَشْرَةً، أَنَا وَابْنَايَ وَزَوْجِي بَيْنَ يَدَيْهِ نَذُبُّ عَنْهُ، وَالنَّاسُ يَمُرُّونَ بِهِ مُنْهَزِمِينَ، وَرَآنِي وَلا تِرْسَ مَعِي، وَرَأَى رَجُلا مُوَلِيًا مَعَهُ تِرْسٌ، فَقَالَ لِصَاحِبِ التِّرْسِ: " أَلْقِ تِرْسَكَ إِلَى مَنْ يُقَاتِلُ " فَأَخَذْتُهُ، فَجَعَلْتُ أَتَتَرَّسُ بِهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَإِنَّمَا فُعِلَ بِنَا الأَفَاعِيلَ أَصْحَابُ الْخَيْلِ، لَوْ كَانُوا رَجَّالَةً مِثْلَنَا أَصَبْنَاهُمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، فَيُقْبِلُ رَجُلٌ عَلَى فَرَسٍ، فَضَرَبَنِي وَتَتَرَّسْتُ لَهُ، فَلَمْ يَصْنَعْ سَيْفُهُ شَيْئًا، وَوَلَّى، وَأَضْرِبُ عَرْقُوبَ فَرَسَهِ، فَوَقَعَ عَلَى ظَهْرِهِ، فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصِيحُ: " يَابْنَ أُمِّ عُمَارَةَ، أُمَّكَ أُمَّكَ "، قَالَتْ: فَعَاوَنَنِي عَلَيْهِ حَتَّى أَوْرَدْتُهُ شُعُوبَ.
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আবদুর রহীম বিন আবদুল খালিক বিন আহমাদ বিন আবদুল কাদির বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল কাদির বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন আলী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মারূফ আল-খাশ্শাব, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন আল-ফাহম, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন সাদ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন উমর, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল জাব্বার বিন উমারা, উমারা বিন গাজিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উম্মু উমারা বলেছেন:

"আমি নিজেকে দেখেছি (উহুদ যুদ্ধের দিন) যখন লোকজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তখন অল্প কয়েকজন ব্যতীত কেউ অবশিষ্ট ছিল না, যাদের সংখ্যা দশজনও পূর্ণ ছিল না। আমি, আমার দুই পুত্র এবং আমার স্বামী তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে রক্ষা করছিলাম, আর লোকজন পরাজিত হয়ে পলায়নপর অবস্থায় তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখলেন যে আমার নিকট কোনো ঢাল নেই, আর তিনি এক ব্যক্তিকে পলায়ন করতে দেখলেন যার সাথে ঢাল ছিল। তখন তিনি সেই ঢাল বহনকারীকে বললেন: 'তোমার ঢালটি তাকে দিয়ে দাও যে যুদ্ধ করছে'। অতঃপর আমি সেটি গ্রহণ করলাম এবং তা দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রক্ষা করতে শুরু করলাম। মূলত অশ্বারোহী বাহিনীই আমাদের ওপর এই আক্রমণগুলো চালিয়েছিল; তারা যদি আমাদের মতো পদাতিক হতো, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা তাদের পরাজিত করতাম। এমতাবস্থায় এক অশ্বারোহী ব্যক্তি এগিয়ে এসে আমাকে আঘাত করল, কিন্তু আমি ঢাল দিয়ে তা ঠেকিয়ে দিলাম। ফলে তার তলোয়ার কোনো কাজ করল না এবং সে পিছু হটল। তখন আমি তার ঘোড়ার পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করলাম, ফলে সে পিঠের ওপর আছড়ে পড়ল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চস্বরে বলতে লাগলেন: 'হে উম্মু উমারার পুত্র! তোমার মা! তোমার মা!' উম্মু উমারা বলেন: তখন সে (আমার পুত্র) তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করল, এমনকি আমি তাকে মৃত্যুর ঘাটে পৌঁছে দিলাম।"
(খণ্ড: ১) মানাকিবুনি নিসায়িস সাহাবিয়্যাত লি আব্দুল গনী আল মাকদিসী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
10 - وَبِهِ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَبْرَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ:

" جُرِحْتُ يَوْمَئِذٍ جُرْحًا فِي عَضُدِي الْيُسْرَى، ضَرَبَنِي رَجُلٌ كَأَنَّهُ ⦗ص: 64⦘ الدَّقْلُ، وَلَمْ يُعَرِّجْ عَلَيَّ، وَمَضَى عَنِّي، وَجَعَلَ الدَّمُ لا يَرْقَأُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " اعْصُبْ جُرْحَكَ "، فَتُقْبِلُ أُمِّي إِلَيَّ وَمَعَهَا عَصَائِبٌ فِي حَقْوَيْهَا قَدْ أَعَدَّتْهَا لِلْجِرَاحِ فَرَبَطَتْ جُرْحِي، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَاقِفٌ يَنْظُرُ إِلَيَّ، ثُمَّ قَالَتْ: انْهَضْ يَا بُنَيَّ فَضَارِبِ الْقَوْمَ.

فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " وَمَنْ يَطِيقُ مَا تُطِيقِينَ يَا أُمَّ عُمَارَةَ؟ ".

قَالَتْ: وَأَقْبَلَ الرَّجُلُ الَّذِي ضَرَبَ ابْنِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " هَذَا ضَارِبُ ابْنَكِ ". قَالَتْ: فَأَعْتَرِضُ لَهُ، فَأَضْرِبُ سَاقَهُ، فَبَرَكَ.

قَالَتْ: فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتبسِمُ حَتَّى رَأَيْتُ نَوَاجِذَهُ، وَقَالَ: " اسْتَقَدْتِ يَا أُمَّ عُمَارَةَ ".

ثُمَّ أَقْبَلْنَا نَعُلُّهُ (1) السَّلاحَ حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى نَفْسِهِ: فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي ظَفَّرَكِ، وَأَقَّرَ عَيْنَكِ مِنْ عَدُوُّكِ، وَأَرَاكِ ثَأْرَكِ بِعَيْنِكِ "

--------------------------------------------

(1) العلل الشربة الثانية أو الشرب بعد الشرب.
১০ - এবং তাঁর মাধ্যমেই মুহাম্মদ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি সাবরা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আমর ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি তাঁর মা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

"সেদিন (উহুদের যুদ্ধে) আমি আমার বাম বাহুতে একটি জখমপ্রাপ্ত হই। আমাকে এমন এক ব্যক্তি আঘাত করেছিল যে দেখতে ছিল যেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ একটি লম্বা শুকনো খেজুর গাছ। সে আমার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই পাশ কাটিয়ে চলে গেল। তখন ক্ষত থেকে রক্ত ঝরা বন্ধ হচ্ছিল না। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'তোমার জখমটি বেঁধে নাও।' তখন আমার মা আমার দিকে এগিয়ে এলেন, তাঁর কোমরে কিছু পট্টি ছিল যা তিনি জখমীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। তিনি আমার জখমটি বেঁধে দিলেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আমার দিকে লক্ষ্য করছিলেন। এরপর আমার মা বললেন: ওঠো হে বৎস! এবার কওমের (শত্রুদের) সাথে যুদ্ধ করো।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন: 'হে উম্মে উমারা! তুমি যা সহ্য করার সামর্থ্য রাখো, তা আর কার আছে?'

তিনি (উম্মে উমারা) বললেন: ইতিমধ্যে সেই ব্যক্তিটি সামনে এল যে আমার ছেলেকে আঘাত করেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'এই তো তোমার ছেলেকে আঘাতকারী।' তিনি (উম্মে উমারা) বললেন: তখন আমি তার পথরোধ করলাম এবং তার পায়ে আঘাত করলাম, ফলে সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।

তিনি বললেন: তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাসতে দেখলাম, এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত প্রকাশ পেল। তিনি বললেন: 'হে উম্মে উমারা! তুমি প্রতিশোধ গ্রহণ করেছ।'

এরপর আমরা তাকে বারবার অস্ত্রের আঘাত করতে থাকলাম (১) যতক্ষণ না তাকে আমরা খতম করলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তোমাকে বিজয় দান করেছেন, তোমার শত্রুর পরাজয় দেখিয়ে তোমার চোখ শীতল করেছেন এবং তোমাকে স্বচক্ষে তোমার প্রতিশোধ দেখিয়েছেন।'

--------------------------------------------

(১) আল-আললু: দ্বিতীয়বার পান করানো বা পানের পর পান করানো (অর্থাৎ বারবার আঘাত করা)।