(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: -)
الفوائد المجموعة   (الشوكاني)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: الفوائد المجموعة في الأحاديث الموضوعة

المؤلف: محمد بن علي بن محمد الشوكاني (ت 1250هـ)

المحقق: عبد الرحمن بن يحي المعلمي اليماني

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت، لبنان

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مفهرس موضوعيا وحاشية المعلمي اليماني بذيل كل صفحة]

عدد الصفحات: 512

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ফাওয়ায়িদ আল-মাজমুআহ   (আশ-শাওকানি)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


কিতাব: জাল হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে সংগৃহীত ফায়দাসমূহ

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আলি বিন মুহাম্মাদ আশ-শাওকানি (মৃত্যু ১২৫০ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন

[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এটি বিষয়ভিত্তিক সূচিপত্র সম্বলিত এবং প্রতি পৃষ্ঠার নিচে আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির টীকা রয়েছে]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১২

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

الفوائد المجموعة في الأحاديث الموضوعة

تأليف: محمد بن علي بن محمد الشوكاني

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين وبه نستعين والصلاة والسلام على رسوله الأمين وآله الطاهرين.

وبعد: فلما كان تمييز الموضوع من الحديث عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم من أجل الفنون وأعظم العلوم، وأنبل الفوائد من جهات يكثر تعدادها، ولو لم يكن منها إلا تنبيه المقصرين في علم السنة، على ما هو مكذوب عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم ليجتنبوه، ويحذروا من العمل به، واعتقاد ما فيه، وإرشاد الناس إليه. كما وقع لكثير من المصنفين في الفقه والمتصدرين للوعظ، والمشتغلين بالعبادة، والمتعرضين للتصنيف في الزهد، فيكون لمن بين لهؤلاء ما هو كذب من السنة أجر من قام بالبيان الذي أوجبه الله، مع ما في ذلك من تخليص عباد الله من معرة العمل بالكذب، وأخذه على أيدي المتعرضين، لما ليس من شأنهم من التأليف والاستدلال والقيل والقال، وقد أكثر العلماء رحمهم الله من البيان للأحاديث الموضوعة وهتكوا أستار الكذابين، ونفوا عن حديث رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم انتحال المبطلين، وتحريف الغالين (1) ، وافتراء المفترين، وزور المزورين، وهم رحمهم الله تعالى قسمان. قسم: جعلوا مصنفاتهم مختصة بالرجال الكذابين والضعفاء، وما هو أعم من ذلك. وبينوا في تراجمهم ما رووه من موضوع، أو ضعيف، كمصنف ابن حبان، والعقيلي، والأزدي في الضعفاء، وأفراد

--------------------------------------------

(1) هكذا في المطبوعة، وهو الموافق لما جاء في حديث (يحمل هذا العلم من خلف عدوله...... الخ) راجع فتح المغيث ص (125) ، ووقع في الأصل (الأفاكين)
ভূমিকা

...

আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ ফিল আহাদিসিল মাওদুআহ

রচনায়: মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাওকানী

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল এবং তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজনের ওপর।

অত:পর: যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নামে বর্ণিত হাদিসের মধ্য থেকে জাল বা বানোয়াট বর্ণনাকে পৃথক করা শ্রেষ্ঠতম শিল্প, মহানতম জ্ঞান এবং বহুবিধ দিক থেকে অত্যন্ত মহৎ উপকারের অন্তর্ভুক্ত; আর যদি এর মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নামে যা মিথ্যা রচিত হয়েছে সে সম্পর্কে সুন্নাহ শাস্ত্রে অপরিপক্বদের সতর্ক করা ব্যতীত আর কোনো উপকার নাও থাকত—যাতে তারা তা বর্জন করে, এর ওপর আমল করা ও এতে বিশ্বাস স্থাপন করা থেকে বেঁচে থাকে এবং মানুষকে এর দিকে পথপ্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকে—[তবেই এটি যথেষ্ট হতো]। যেমনটি ফিকহ শাস্ত্রের অনেক লেখক, ওয়ায-নসিহতে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ, ইবাদতে মশগুল থাকা মানুষ এবং যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা বিষয়ে কিতাব সংকলনকারীদের ক্ষেত্রে ঘটেছে; ফলে যারা এদের কাছে সুন্নাহর নামে প্রচলিত মিথ্যাগুলো বর্ণনা করবেন, তারা আল্লাহ কর্তৃক আবশ্যককৃত সত্য প্রকাশের সওয়াব লাভ করবেন। এর পাশাপাশি আল্লাহর বান্দাদেরকে মিথ্যার ওপর আমল করার কলঙ্ক থেকে রক্ষা করা এবং যারা রচনা, দলীল প্রদান ও বাকবিতণ্ডার মতো নিজেদের অযোগ্য বিষয়ে লিপ্ত হয়েছে, তাদের হাত প্রতিহত করার সওয়াবও তারা পাবেন। উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুল্লাহ) জাল হাদিসসমূহ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে ব্যাপক কাজ করেছেন এবং মিথ্যাবাদীদের পর্দা উন্মোচন করেছেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের হাদিস থেকে বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ, সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি (১), মিথ্যুকদের অপবাদ এবং জালিয়াতিদের জালিয়াতি দূর করেছেন। তাঁরা (রাহিমাহুল্লাহ) দুই শ্রেণিতে বিভক্ত। প্রথম শ্রেণি: তাঁরা তাঁদের গ্রন্থগুলোকে মিথ্যুক ও দুর্বল বর্ণনাকারী এবং তার চেয়েও সাধারণ বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তাঁরা বর্ণনাকারীদের জীবনীতে তাদের বর্ণিত জাল বা দুর্বল হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন; যেমন: ইবনে হিব্বান, উকাইলি এবং আযদি-র 'আয-যুয়াফা' (দুর্বল বর্ণনাকারী) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং একক বর্ণনা বিষয়ক সংকলনসমূহ।

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে এভাবেই রয়েছে, যা এই হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: "এই ইলমকে প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরাই বহন করবে... ইত্যাদি।" দেখুন: ফাতহুল মুগিস, পৃষ্ঠা (১২৫)। মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: "চরম মিথ্যুকদের"।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الدارقطني، وتاريخ الخطيب، والحاكم، وكامل ابن عدي، وميزان الذهبي. وقسم: جعلوا مصنفاتهم مختصة بالأحاديث الموضوعة. كموضوعات ابن الجوزي والصغاني، والجوزقاني والقزويني.

ومن ذلك: مختصر المجد صاحب القاموس، ومقاصد السخاوي، وتمييز الطيب من الخبيث للديبع، والذيل على موضوعات ابن الجوزي للسيوطي، وكذلك كتاب الوجيز له، واللآلىء المصنوعة له، وتخريج الإحياء للعراقي، والتذكرة لابن طاهر الفتني.

وها أنا بمعونة الله وتيسيره، أجمع في هذا الكتاب جميع ما تضمنته هذه المصنفات من الأحاديث الموضوعة.

وقد أذكر ما لا يصح إطلاق اسم الموضوع عليه، بل غاية ما فيه أنه ضعيف بمرة ، وقد يكون ضعيفا ضعفاً خفيفاً، وقد يكون أعلى من ذلك ، والحامل على ذكر ما كان هكذا، التنبيه على أنه قد عد ذلك بعض المصنفين موضوعاً كابن الجوزي ، فإنه تساهل في موضوعاته حتى ذكر فيها ما هو صحيح، فضلا عن الحسن، فضلا عن الضعيف. وقد تعقبه السيوطي بما فيه كفاية، وقد أشرت إلى تعقباته: تارة منسوبة إليه. وتارة منسوبة إلى كتبه، واختصرتها اختصاراً لا يخل بالمراد، ودفعت ما يستحق الدفع منها ، وأهملت ما لا يتعلق به فائدة، وسميت هذا الكتاب " الفوائد المجموعة في الأحاديث الموضوعة ".

فمن كان عنده هذا الكتاب، فقد كان عنده جميع مصنفات المصنفين في الموضوعات. مع زيادات وقفت عليها في كتب الجرح والتعديل، وتراجم رجال الرواية، وتخريجات المخرجين، وتصنيفات المحققين وقد اقتصرت على قولي: حديث كذا، فيما كان قد رفعه واضعه إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم. فإن كان الواضع وضعه على صحابي أو من بعده اقتصرت على لفظ: قول فلان كذا،
আদ-দারাকুতনি, তারিখুল খতিব, আল-হাকিম, কামিল ইবনু আদি এবং মিজানুজ জাহাবি। একদল লেখক তাদের গ্রন্থসমূহকে কেবল জাল হাদিসসমূহের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। যেমন ইবনুল জাওজি, আস-সাগানি, আল-জাওজাকানি এবং আল-কাজউইনির জাল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আল-কামুস প্রণেতা আল-মাজদ-এর সংক্ষেপিত গ্রন্থ, আস-সাখাভির মাকাসিদ, আদ-দাইবা‘-এর তাময়িজুত তায়্যিব মিনাল খাবিস, ইবনুল জাওজির জাল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থের ওপর আস-সুয়ুতির সংযোজন, তেমনিভাবে তাঁর আল-ওয়াজিজ এবং আল-লাআলি আল-মাসনুয়াহ গ্রন্থসমূহ, আল-ইরাকির তাখরিজুল ইহয়া এবং ইবনু তাহির আল-ফাত্তানির আত-তাযকিরাহ।

আর এখন আমি আল্লাহর সাহায্য ও সহজকরণের মাধ্যমে জাল হাদিস বিষয়ক এসকল গ্রন্থে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা এই গ্রন্থে একত্রিত করছি।

কখনো আমি এমন কিছুও উল্লেখ করব যা ‘জাল’ হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয়, বরং বড়জোর তা চরম পর্যায়ের দুর্বল, অথবা সামান্য দুর্বল, কিংবা এর চেয়েও উচ্চ পর্যায়েরও হতে পারে। এ জাতীয় হাদিস উল্লেখ করার মূল কারণ হলো এই সতর্কতা প্রদান করা যে, কোনো কোনো লেখক এগুলোকে জাল হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমন ইবনুল জাওজি। তিনি তাঁর জাল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, এমনকি সেখানে সহিহ হাদিসও উল্লেখ করেছেন, হাসান ও দুর্বল তো দূরের কথা। আস-সুয়ুতি পর্যাপ্তভাবে তাঁর সমালোচনা করেছেন এবং আমি তাঁর সেই সমালোচনাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছি: কখনো সরাসরি তাঁর প্রতি নিসবত করে, আবার কখনো তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি নিসবত করে। আমি সেগুলো এমনভাবে সংক্ষিপ্ত করেছি যাতে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত না হয়। সেগুলোর মধ্যে যা খণ্ডনযোগ্য তা খণ্ডন করেছি এবং যা উপকারী নয় তা বর্জন করেছি। আমি এই গ্রন্থের নাম দিয়েছি ‘আল-ফাওয়ায়েদ আল-মাজমুয়াহ ফিল আহাদিসিল মাওদুয়াহ’।

সুতরাং যার কাছে এই গ্রন্থটি থাকবে, তার কাছে জাল হাদিস বিষয়ে লেখকদের সকল গ্রন্থই সংগৃহীত থাকবে। সেই সাথে এতে এমন কিছু অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে যা আমি জারহ ও তাদিল, বর্ণনাকারীদের জীবনী, মুকাররিজগণের তাখরিজ এবং মুহাক্কিকগণের লেখনীসমূহ থেকে সংগ্রহ করেছি। জালকারী যা নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক)-এর দিকে সম্পৃক্ত করে বর্ণনা করেছে, সে ক্ষেত্রে আমি ‘অমুক হাদিস’ বলে সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর যদি জালকারী কোনো সাহাবি বা পরবর্তী কারো দিকে তা সম্পৃক্ত করে থাকে, তবে আমি ‘অমুকের উক্তি হলো এটি’ শব্দে সীমাবদ্ধ থেকেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
ثم أذكر من روى ذلك الموضوع من المصنفين في الجرح والتعديل والتأريخ، فإن لم أجده إلا في كتب المصنفين في المتون الموضوعة، اقتصرت على عزوه إلى من أورده في مصنفه، وأسأل الله الإعانة على التمام، وأن يجعله من الأعمال المبلغة إلى دار السلام، والموجبة للفوز بحسن الختام.

وقد قدمت الأحاديث الموضوعة في مسائل الفقه، مبوباً ذلك على الأبواب ثم ذكرت بعد ذلك سائر الموضوعات، وقد ذكرت في أخريات مناقب الخلفاء الأربعة وسائر الصحابة ومن بعدهم أبحاثاً مفيدة، في ذكر النسخ الموضوعة، ومن هو مشهور بالوضع، والأسباب الحاملة على الوضع، وكذلك ذكرت في آخر باب فضائل القرآن الكتب (1) الموضوعة في التفسير، فليراجع ذلك من احتاج إليه، وأسأل الله الإعانة على التمام، وأن يجعله من الأعمال المبلغة إلى دار السلام، والموجبة بالفوز بحسن الختام.

--------------------------------------------

(1) في المطبوعة (القرآن الأحاديث) ثم ترك بياض.
এরপর আমি ঐ বানোয়াট বর্ণনাটি যারা বর্ণনা করেছেন—অর্থাৎ ‘জারহ ও তাদীল’ এবং ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থকারদের মধ্যে থেকে—তাদের উল্লেখ করব। আর যদি আমি তা কেবল বানোয়াট বিষয়বস্তুর গ্রন্থকারদের কিতাবসমূহেই পাই, তবে আমি তা কেবল তার কিতাবে উল্লেখকারীর দিকেই সম্বন্ধ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকব। আর আমি আল্লাহর নিকট এটি সমাপ্ত করার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং কামনা করছি যেন তিনি এটিকে শান্তির নিবাস পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার মতো আমল এবং সুন্দর সমাপ্তির মাধ্যমে সফলতার কারণ বানিয়ে দেন।

আর আমি ফিকহী মাসআলা সম্বলিত বানোয়াট হাদীসগুলোকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করে প্রথমে উল্লেখ করেছি, এরপর অন্যান্য বানোয়াট বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি। আর আমি চার খলিফা, অন্যান্য সাহাবীগণ এবং তাদের পরবর্তী ব্যক্তিদের ফযীলত বা মর্যাদার বর্ণনার শেষ দিকে বানোয়াট পাণ্ডুলিপি বা সংকলনগুলো, যারা হাদীস জাল করার জন্য সুপরিচিত তাদের এবং জাল করার কারণগুলো সম্পর্কে উপকারী আলোচনা উল্লেখ করেছি। একইভাবে আমি কুরআনের ফযীলত অধ্যায়ের শেষে তাফসীর শাস্ত্রের বানোয়াট কিতাবসমূহ (১) সম্পর্কে আলোচনা করেছি। অতএব যার প্রয়োজন সে যেন তা দেখে নেয়। আর আমি আল্লাহর নিকট এটি সমাপ্ত করার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং কামনা করছি যেন তিনি এটিকে শান্তির নিবাস পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার মতো আমল এবং সুন্দর সমাপ্তির মাধ্যমে সফলতার কারণ বানিয়ে দেন।

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে (কুরআন হাদীসসমূহ) এরপর খালি জায়গা রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌كتاب الطهارة

1 - حديث: "لا بَأْسَ بِبَوْلِ الْحِمَارِ وَكُلِّ مَا أُكِلَ لَحْمُهُ".

رَوَاهُ الْخَطِيبُ فِي تَأْرِيخِهِ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه مَرْفُوعًا. وَفِي إِسْنَادِهِ مَجْهُولانِ، وَهُوَ مَوْضُوعٌ، وَالْمُتَّهَمُ بِوَضْعِهِ إِسْحَاقُ (1) بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبَانٍ النخعي.

2 - حديث: "الدَّمُ مِقْدَارُ الدِّرْهَمِ يُغْسَلُ وَتُعَادُ مِنْهُ الصَّلاةُ".

رَوَاهُ الْخَطِيبُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا، وَهُوَ موضوع، والمتهم به نوح ابن أَبِي مَرْيَمَ.

3 _ قَوْلُ ابْنِ عَمْرٍو (2) : ماء البحر لا يجزي مِنْ جَنَابَةٍ، وَلا يُتَوَضَّأُ مِنْهُ.

لأَنَّ تَحْتَ الْبَحْرِ نَارًا، وَتَحْتَ النَّارِ بَحْرًا. حَتَّى عَدَّ سَبْعَةَ أَبْحُرٍ وَسَبْعَ نِيَارٍ.

قَالَ الْجَوْزَقَانِيُّ: بَاطِلٌ تَفَرَّدَ بِهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، وَكَانَ يَضَعُ الْحَدِيثَ، وَاسْتَدْرَكَهُ السُّيُوطِيُّ بِأَنَّهُ أَخْرَجَهُ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ فِي مُصَنَّفِهِ عَنْهُ بِإِسْنَادٍ لَيْسَ فِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، وأخرجه أيضا البيهقي بإسناد ليس فِيهِ الْمَذْكُورُ، وَأَخْرَجَهُ الدَّيْلَمِيُّ عَنْهُ موقوفاً.

4 _ قول أبي هريرة: مَاءَانِ لا يُجْزِيَانِ عَنْ غُسْلِ الْجَنَابَةِ؛ مَاءُ الْبَحْرِ وَمَاءُ الْحَمَّام.

قَالَ الْجَوْزَقَانِيُّ: بَاطِلٌ تَفَرَّدَ بِهِ مُحَمَدُّ بْنُ الْمُهَاجِرِ أَيْضًا، وَكَانَ يَضَعُ الْحَدِيثَ، وَاسْتَدْرَكَهُ السُّيُوطِيُّ بِأَنَّهُ أَخْرَجَهُ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ فِي مصنفه، بإسناد ليس فيه

--------------------------------------------

(1) هكذا في الميزان واللسان وتاريخ بغداد 5/288 وغيرها، ووقع في الأصلين (موسى) .

(2) هو عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ العاص كما في اللآلىء وغيرها، ووقع في الأصلين (عمر) .
পবিত্রতা অধ্যায়

১ - হাদীস: "গাধার প্রস্রাব এবং যার গোশত খাওয়া হয় এমন সবকিছুর প্রস্রাবে কোনো সমস্যা নেই।"

আল-খতীব তার 'তারীখ' গ্রন্থে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন এবং এটি জাল। এটি জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন ইসহাক (১) বিন মুহাম্মাদ বিন আবান আন-নাখায়ী।

২ - হাদীস: "দিরহাম পরিমাণ রক্ত ধুয়ে ফেলতে হবে এবং এর কারণে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে।"

আল-খতীব এটি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি জাল এবং এর জালকারী হিসেবে অভিযুক্ত হলেন নূহ ইবনে আবী মারইয়াম।

৩ _ ইবনে আমর (২)-এর উক্তি: সমুদ্রের পানি জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় এবং তা দিয়ে উযূ করা যাবে না।

কেননা সমুদ্রের নিচে আগুন রয়েছে এবং আগুনের নিচে সমুদ্র রয়েছে। এমনকি তিনি সাতটি সমুদ্র এবং সাতটি আগুনের কথা গণনা করেছেন।

আল-জাওযাকানী বলেছেন: এটি বাতিল। মুহাম্মাদ ইবনুল মুহাজির এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন, আর তিনি হাদীস জাল করতেন। আস-সুয়ূতী এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, ইবনু আবী শায়বাহ তার 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে এটি তার থেকে এমন সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে মুহাম্মাদ ইবনুল মুহাজির নেই। আল-বায়হাকীও এটি এমন সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে উক্ত ব্যক্তি নেই। আদ-দায়লামী এটি তার থেকে মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

৪ _ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি: দুই প্রকার পানি জানাবাতের গোসলের জন্য যথেষ্ট নয়; সমুদ্রের পানি ও হাম্মামের (গোসলখানা) পানি।

আল-জাওযাকানী বলেছেন: এটি বাতিল। মুহাম্মাদ ইবনুল মুহাজির এককভাবে এটিও বর্ণনা করেছেন, আর তিনি হাদীস জাল করতেন। আস-সুয়ূতী এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, ইবনু আবী শায়বাহ এটি তার 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে এমন সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে নেই...

--------------------------------------------

(১) আল-মীযান, আল-লিসান, তারীখে বাগদাদ (৫/২৮৮) এবং অন্যান্য গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে, তবে মূল পান্ডুলিপিদ্বয়ে 'মূসা' এসেছে।

(২) তিনি হলেন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস, যেমনটি আল-লাআলী ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে; তবে মূল পান্ডুলিপিদ্বয়ে 'উমর' এসেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، وَأَخْرَجَهُ أَيْضًا عبد الرزاق من قول عبد الله بن عمرو ابن العاص (1) .

5 - حديث: "إِذَا بَلَغَ الْمَاءُ أَرْبَعِينَ قُلَّةً لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَثَ".

رَوَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ عَنْ جَابِرٍ مَرْفُوعًا، وَقَالَ: لا يَصِحُّ، خَلَطَ فِيهِ الْقَاسِمُ ابن عبد الله الْعُمَرِيُّ، وَاسْتَدَرَكَهُ السُّيُوطِيُّ فَقَالَ: لَهُ طَرِيقٌ أُخْرَى عَنْ جَابِرٍ، أَخْرَجَهَا الدارقطنى فى سننه (2) .

6 - حديث: "غَسْلُ الإِنَاءِ وَطُهْرُ الْفِنَاءِ، يُوَرِّثَانِ الْغِنَى".

رَوَاهُ الْخَطِيبُ عَنْ أَنَسٍ مَرْفُوعًا، وَقَالَ لَمْ أَكْتُبْهُ إِلا مِنْ حَدِيثِ أَبِي الْحَسَنِ الزُّهْرِيِّ، وَهُوَ كَذَّابٌ. وَقَالَ الذَّهَبِيُّ فِي الْمِيزَانِ: وَضَعَهُ عَلِيُّ بْنُ مُحَّمَدٍ الزهري.

7 - حديث: "اسْتَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم جِبْرِيلَ، فَنَاوَلَهُ يَدَهُ، فَأَبَى أَنْ يَتَنَاوَلَهَا. فَقَالَ: يَا جِبْرِيلُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَأْخُذَ بِيَدِي؟ فَقَالَ: إِنَّكَ أَخَذْتَ بِيَدِ يَهُودِيٍّ، فَكَرِهْتُ أَنْ تَمَسَّ يَدِي يَدًا مَسَّتْهَا يَدُ كَافِرٍ، فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ، فَنَاوَلَهُ يَدَهُ، فأخذها بيده".

--------------------------------------------

(1) الخبر على كل حال موقوف وسنده عن ابن عمرو لا بأس به، أما عن أبي هريرة فواه.

(2) كذا هو في اللآلىء 2 / 3 ثم ساق سند الدارقطني إلى (محمد بن بكير الحضرمي عن جابر) قال (ثم قال: وكذا رواه القاسم) وهذا تخليط عجيب، والذي في سنن الدارقطني ص10 (..... محمد بن بكير الحضرمي نا القاسم ابن عبد الله العمري عن محمد بن المنكدر عن جابر.....، كذا رواه القاسم.....) فرجعت هذه الطريق إلى القاسم نفسه، ومحمد بن بكير توفي بعد سنة عشرين ومائتين.
মুহাম্মদ ইবনুল মুহাজির; এবং এটি আবদুর রাজ্জাকও আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (১) এর বক্তব্য থেকে বর্ণনা করেছেন।

৫ - হাদিস: "যখন পানি চল্লিশ কুল্লায় পৌঁছে, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না।"

এটি ইবনে আদি জাবির থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি সহিহ নয়, এতে আল-কাসিম বিন আবদুল্লাহ আল-উমারি সংমিশ্রণ করেছেন। আস-সুয়ূতি এর ওপর সংশোধনী দিয়ে বলেছেন: জাবির থেকে এর অন্য একটি সূত্র রয়েছে, যা আদ-দারা কুতনি তার সুনানে (২) বর্ণনা করেছেন।

৬ - হাদিস: "পাত্র ধৌত করা এবং আঙিনা পরিষ্কার করা সচ্ছলতা নিয়ে আসে।"

আল-খাতিব এটি আনাস থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: আমি এটি কেবল আবুল হাসান আজ-জুহরির হাদিস থেকে লিখেছি, আর সে একজন মিথ্যাবাদী। আয-যাহাবি আল-মিজানে বলেছেন: আলী বিন মুহাম্মদ আজ-জুহরি এটি জাল করেছে।

৭ - হাদিস: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম জিবরীল (আ.) এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন, কিন্তু তিনি তা ধরতে অস্বীকার করলেন। তিনি বললেন: হে জিবরীল, আমার হাত ধরতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন: আপনি একজন ইহুদির হাত ধরেছিলেন, তাই আমি অপছন্দ করলাম যে আমার হাত এমন হাতকে স্পর্শ করুক যাকে একজন কাফেরের হাত স্পর্শ করেছে। তখন তিনি পানি চাইলেন এবং ওজু করলেন, তারপর তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন, তখন তিনি তা নিজের হাত দিয়ে ধরলেন।"

--------------------------------------------

(১) খবরটি যে কোনোভাবেই মাওকুফ এবং ইবনে আমর থেকে এর সনদটি মন্দ নয়, তবে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিতটি অত্যন্ত দুর্বল।

(২) এটি আল-লাআলি ২/৩ এ এভাবেই রয়েছে, অতঃপর তিনি আদ-দারা কুতনির সনদকে (মুহাম্মদ বিন বুকাইর আল-হাদরামি থেকে জাবির সূত্রে) টেনেছেন এবং বলেছেন (অতঃপর তিনি বলেছেন: এবং এভাবেই আল-কাসিম বর্ণনা করেছেন) এবং এটি একটি আশ্চর্যজনক সংমিশ্রণ। আদ-দারা কুতনির সুনান পৃষ্ঠা ১০-এ যা রয়েছে তা হলো: (..... মুহাম্মদ বিন বুকাইর আল-হাদরামি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-কাসিম ইবনে আবদুল্লাহ আল-উমারি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে..... এভাবেই আল-কাসিম বর্ণনা করেছেন.....) ফলে এই সূত্রটি আল-কাসিমের দিকেই ফিরে যায়, আর মুহাম্মদ বিন বুকাইর ২২০ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
رواه العقيلى عَنِ الزُّبَيْرِ مَرْفُوعًا، وَقَالَ: مَوْضُوعٌ وَفِي إِسْنَادِهِ عُمَرُ بْنُ أَبِي عمر (1) العبدى، متروك.

8 - حديث: "مَنْ صَافَحَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا فَلْيَتَوَضَّأْ وَلْيَغْسِلْ يَدَه".

رَوَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه مَرْفُوعًا، وَقَالَ: لا يَصِحُّ، وَفِي إِسْنَادِهِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ هانئ، مجهول يحدث بالأباطيل.

9 - حديث: "لا تَغْتَسِلُوا بِالْمَاءِ الَّذِي يُسَخَّنُ فِي الشَّمْسِ، فَإِنَّهُ يُعْدِي مِنَ الْبَرَصِ".

رَوَاهُ الْعُقَيْلِيُّ عَنْ أَنَسٍ مَرْفُوعًا، وَقَالَ: لَيْسَ فِي الْمَاءِ المشمس شئ يَصِحُّ مُسْنَدًا، إِنَّمَا يُرْوَى فِيهِ شئ مِنْ قَوْلِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَفِي إِسْنَادِهِ (2) سَوَادَةُ ، وَهُوَ مَجْهُولٌ.

10 - حديث: "أَسْخَنْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم مَاءً فِي الشَّمْسِ فَقَالَ: لا تَفْعَلِي يَا حُمَيْرَاءُ، فَإِنَّهُ يُورِثُ الْبَرَصَ".

رَوَاهُ أَبُو نُعَيْمٍ فِي الطِّبِّ عَنْ عَائِشَةَ مَرْفُوعًا، وَقَالَ فِي إِسْنَادِهِ: خالد بن إسمعيل لا يحتج به، وقال الداراقطني: مَتْرُوكٌ، وَرَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ مِنْ طَرِيقٍ أُخْرَى فِيهَا الْهَيْثَمُ بْنُ عَدِيٍّ، كَذَّابٌ. وَأَخْرَجَهُ ابْنُ حِبَّانَ مِنْ طَرِيقٍ فِيهَا وَهْبُ بْنُ وَهْبٍ، وهو كذاب. وله طرق لا تَخْلُو مِنْ كَذَّابٍ أَوْ مجهول.

11 - حديث: "إِنَّمَا حَرَّمْتُ دُخُولَ الْحَمَّامِ بِغَيْرِ مِئْزَرٍ".

رَوَاهُ ابْنُ الْجَوْزِيُّ عَنْ أنس مرفوعاً، وقال موضوع ، فيه جماعة مجهولون.

12 – حديث: "الْمَضْمَضَةُ وَالاسْتِنْشَاقُ ثَلاثًا ، فَرِيضَةٌ لِلْجُنُبِ".

--------------------------------------------

(1) هكذا في المطبوعة وهو الصواب، ووقع في الأصل (عمرو بن أبي عمرو) .

(2) يعني في إسناد الخبر عن أنس، راجع لسان الميزان 3 / 127.
উকায়লী এটি জুবায়ের থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি জাল (মাওদু), এবং এর সনদে উমর বিন আবি উমর (১) আল-আবদি রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)।

৮ - হাদীস: "যে ব্যক্তি কোনো ইয়াহুদি বা খ্রিস্টানের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করে, সে যেন অজু করে এবং তার হাত ধুয়ে ফেলে।"

ইবনে আদি এটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি সহীহ নয়, এবং এর সনদে ইব্রাহিম বিন হানি রয়েছেন, যিনি অজ্ঞাত (মাজহুল) এবং ভিত্তিহীন বর্ণনা পেশ করেন।

৯ - হাদীস: "তোমরা রৌদ্রে উত্তপ্ত পানি দিয়ে গোসল করো না, কারণ এটি শ্বেতী রোগের উদ্রেক করে।"

উকাউলী এটি আনাস থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: রৌদ্রে উত্তপ্ত পানির বিষয়ে মুসনাদ হিসেবে সহীহ কোনো কিছু নেই, বরং এ বিষয়ে ওমর ইবনুল খাত্তাবের উক্তি হিসেবে কিছু বর্ণিত হয়েছে এবং এর সনদে (২) সাওয়াদাহ রয়েছেন, যিনি অজ্ঞাত (মাজহুল)।

১০ - হাদীস: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য রৌদ্রে পানি উত্তপ্ত করেছিলাম, তখন তিনি বললেন: হে হুমায়রা (আয়েশা)! এমন করো না, কারণ এটি শ্বেতী রোগ সৃষ্টি করে।"

আবু নুআয়ম 'তিব্ব' গ্রন্থে আয়েশা থেকে মারফু হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সম্পর্কে বলেছেন: খালিদ বিন ইসমাইল দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, এবং দারা কুতনী বলেছেন: সে পরিত্যক্ত (মাতরুক)। দারা কুতনী এটি অন্য সূত্রেও বর্ণনা করেছেন যাতে হাইসাম বিন আদি রয়েছেন, যিনি চরম মিথ্যাবাদী (কাযযাব)। ইবনে হিব্বান এটি এমন এক সূত্রে বের করেছেন যাতে ওয়াহাব বিন ওয়াহাব রয়েছেন, যিনিও চরম মিথ্যাবাদী। এর আরও কিছু সূত্র রয়েছে যা চরম মিথ্যাবাদী অথবা অজ্ঞাত (মাজহুল) বর্ণনাকারী থেকে মুক্ত নয়।

১১ - হাদীস: "আমি লুঙ্গি বা আবরণ ছাড়া গোসলখানায় প্রবেশ করা নিষিদ্ধ করেছি।"

ইবনুল জাওযী এটি আনাস থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি জাল (মাওদু), এতে একদল অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন।

১২ – হাদীস: "জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তির জন্য তিনবার কুলি করা এবং তিনবার নাকে পানি দেওয়া ফরজ।"

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে এভাবেই রয়েছে এবং এটিই সঠিক, তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে (আমর বিন আবি আমর) হিসেবে এসেছে।

(২) অর্থাৎ আনাস থেকে বর্ণিত খবরের সনদে, দেখুন লিসানুল মিজান ৩ / ১২৭।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
رَوَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ مَرْفُوعًا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ والداراقطني: وَضَعَهُ بَرَكَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَلَبِيُّ.

13 - حديث: "قُلْنَا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم: نَمَسُّ الْقُرْآنَ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، إِلا أَنْ تَكُونَ عَلَى جَنَابَةٍ، قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَوْلُهُ: (كِتَابٍ مَكْنُونٍ لا يَمَسُّهُ إِلا المطهرون) قَالَ: يَعْنِي مَكْنُونٌ مِنَ الشِّرْكِ وَمِنِ الشَّيْطَانِ. لا يَمَسُّهُ إِلا المطهرون، يَعْنِي لا يَمَسُّ ثَوَابَهُ إِلا المؤمنون".

رَوَاهُ الْجَوْزَقَانِيُّ عَنْ مُعَاذٍ مَرْفُوعًا، وقال موضوع باطل لا أصل له.

14 - حديث: "أنه جاء أبو بكر إلى عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم مَعَ عَائِشَةَ نَائِمَيْنِ فَفَتَحَ أَبُو بَكْرٍ الْبَابَ بِيَدِهِ وَدَخَلَ الْحُجْرَةَ، وَكَانَ سَاقُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم مُلْتَفًّا بِسَاقِ عَائِشَةَ، فَفَتَحَتْ عَائِشَةُ عَيْنَيْهَا، فَوَجَدَتْ أَبَاهَا قَائِمًا: فَقَالَتْ: يَا أَبَتِ مَا وَرَاءَكَ، وَبَكَتْ فَوَقَعَ دَمْعُهَا عَلَى وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم ، فَانْتَبَهَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم، فَقَالَ: مَا بُكَاؤُكِ؟ فَقَامَ أَبُو بَكْرٍ. وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وآله وسلم مَالِي أَرَاكَ هَكَذَا، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَشْرَقَتِ الشَّمْسُ وَفَاتَ وَقْتُ الصَّلاةِ. فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وآله وسلم مِنْ مَنَامِهِ ، وَهَمَّ أَنْ يَغْتَسِلَ وَيَتَوَضَّأَ لِلصَّلاةِ، فَجَاءَ جِبْرِيلُ فَقَالَ لا تَغْتَسِلْ وَتَيَمَّمْ وَصَلِّ فَإِنَّهُ جَائِزٌ رَوَاهُ الْجَوْزَقَانِيُّ عَنْ مُعَاذٍ مَرْفُوعًا وَقَالَ مَوْضُوعٌ لا أَصْلَ لَهُ وَقَدْ صَنَّفَ ابْنُ مَنْدَهْ جُزْءًا فِي رَدِّ هَذَا الْحَدِيثِ وَكَيْفِيَّةِ وَضْعِهِ

15- حديث: "مَنِ اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ حَلالا أَعْطَاهُ اللَّهُ مِائَةَ قَصْرٍ مِنْ دُرَّةٍ بَيْضَاءَ وَكَتَبَ لَهُ بِكُلِّ قَطْرَةٍ ثَوَابَ أَلْفِ شَهِيدٍ".

رَوَاهُ ابْنُ الْجَوْزِيُّ عَنْ أَنَسٍ مَرْفُوعًا وقال: وضعه دينار.
এটি ইবনে আদি মারফু সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান ও দারা কুতনী বলেছেন: বারাকাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হালাবি এটি জাল করেছে।

১৩ - হাদিস: "আমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম: আমরা কি অজু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করতে পারি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে যদি তুমি নাপাক অবস্থায় না থাকো। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, তবে আল্লাহর এই বাণী: (সুরক্ষিত কিতাব, যা পবিত্রগণ ব্যতীত কেউ স্পর্শ করে না) এর অর্থ কী? তিনি বললেন: এর অর্থ হলো শিরক ও শয়তান থেকে সুরক্ষিত। পবিত্রগণ ব্যতীত কেউ স্পর্শ করে না—অর্থাৎ মুমিনগণ ব্যতীত কেউ এর সওয়াব লাভ করতে পারবে না।"

এটি জাওজাকানি মারফু সূত্রে মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি বানোয়াট, বাতিল এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।

১৪ - হাদিস: "আবু বকর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন, তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশার সাথে ঘুমানো অবস্থায় ছিলেন। আবু বকর তার হাত দিয়ে দরজা খুললেন এবং কামরায় প্রবেশ করলেন। তখন নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) নলা আয়েশার নলার সাথে জড়ানো ছিল। আয়েশা তার চোখ খুললেন এবং তার পিতাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন। তিনি বললেন: হে পিতা, কী হয়েছে? এরপর তিনি কাঁদলেন এবং তার চোখের পানি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারায় পড়ল। এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সজাগ হলেন এবং বললেন: তোমার কান্নার কারণ কী? তখন আবু বকর দাঁড়ালেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমি কেন তোমাকে এমন অবস্থায় দেখছি? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, সূর্য উদিত হয়েছে এবং সালাতের ওয়াক্ত পার হয়ে গেছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তার ঘুম থেকে উঠলেন এবং সালাতের জন্য গোসল ও অজু করার সংকল্প করলেন। তখন জিবরাঈল এসে বললেন: আপনি গোসল করবেন না, বরং তায়াম্মুম করুন এবং সালাত আদায় করুন, কারণ এটি জায়েজ।" এটি জাওজাকানি মারফু সূত্রে মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি বানোয়াট, এর কোনো ভিত্তি নেই। ইবনে মানদাহ এই হাদিসটি খণ্ডন করে এবং এর জাল করার পদ্ধতি সম্পর্কে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন।

১৫- হাদিস: "যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে নাপাকি থেকে গোসল করে, আল্লাহ তাকে সাদা মুক্তার একশত প্রাসাদ দান করবেন এবং প্রতি ফোঁটার বিনিময়ে এক হাজার শহীদের সওয়াব লিখে দেবেন।"

এটি ইবনুল জাওজি মারফু সূত্রে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: দিনার এটি জাল করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
16- حديث: "مَنْ غَسَّلَ مَيِّتًا فَسَتَرَ عَلَيْهِ وَأَدَّى الأَمَانَةَ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ أَرْبَعِينَ كَبِيرَةً وَمَنْ كَسَا مَيِّتًا كَسَاهُ اللَّهُ مِنْ سُنْدُسِ الْجَنَّةِ وَإِسْتَبْرَقِهَا وَمَنْ حَفَرَ لَمَيِّتٍ قَبْرًا كَانَ كَمَنْ أَسْكَنَ بَيْتًا إِلَى أَنْ يَبْعَثَ اللَّهُ مَنْ فِي الْقُبُورِ".

رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا وَقَالَ: تَفَرَّدَ بِهِ يُوسُفُ بْنُ عَطِيَّةَ وَلَيْسَ بِشَيْءٍ وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ يُقَلِّبُ الأَخْبَارَ وَيُلَوِّنُ الْمُتُونَ الْمَوْضُوعَةَ بِالأَسَانِيدِ الصَّحِيحَةِ وَاسْتَدْرَكَهُ السُّيُوطِيُّ بِأَنَّهُ قَدْ أَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ مِنْ غَيْرِ طَرِيقِهِ وَكَذَا أخرج أَوَّلَهُ ابْنُ مَاجَهْ مِنْ طَرِيقٍ أخرى (1) .

17 - حديث: "تَمْكُثُ إِحْدَاكُنَّ شَطْرَ دَهْرِهَا لا تُصَلِّي".

قَالَ السَّخَاوِيُّ فِي الْمَقَاصِدِ: لا أَصْلَ لَهُ بِهَذَا اللَّفْظِ وَقَالَ النَّوَوِيُّ: بَاطِلٌ لا أَصْلَ له.

18 - حديث " زَكَاةُ الأَرْضِ يَبَسُهَا" وَفَي لَفْظٍ: "جُفُوفُ الأَرْضِ طَهُورُهَا" قَالَ فِي تَذْكَرَةِ الْمَوْضُوعَاتِ لابْنِ طَاهٍر الْفَتَّنِيِّ: لا أَصْلَ لَهُ فِي الْمَرْفُوعِ.

--------------------------------------------

(1) هو عن أبي رافع، وهو في سنن البيهقي 3 / 395 من طريق أبي عبد الرحمن عبد الله بن يزيد المقرئ (ثنا سعيد بن أبي أيوب حدثني شرحبيل بن شريك عن علي بن رباح اللخمي قال: سمعت أبا رافع يحدث أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم … ) وفيه (أربعين مرة) ونقل في اللآلىء بلفظ (أربعين كبيرة) وفي كنز العمال 8 / 82 (أربعين مرة) وأخرجه الحاكم في المستدرك 1 / 354 من وجه آخر عن المقرئ وفي سنده (..... علي بن رباح اللخمي عن أبي رافع) وفيه أربعين مرة) ومثله في تلخيص المستدرك. وقال الحاكم (صحيح على شرط مسلم) وأقره الذهبي. ونقل في كنز العمال عن المستدرك والكبير للطبراني بلفظ (أربعين كبيرة) وكأن هذا لفظ الطبراني كما في مجمع الزوائد 3 / 21 لكنه قصر في المتن وقال (رجاله رجال الصحيح) بنوا على أن أبا رافع هو القبطي الصحابي وهو المتبادر، لكن ينظر في سماع علي بن رباح منه.
১৬- হাদিস: "যে ব্যক্তি কোনো মৃতকে গোসল করাবে, অতঃপর তার ত্রুটি গোপন রাখবে এবং আমানত রক্ষা করবে, আল্লাহ তাকে চল্লিশটি কবিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মৃতকে কাফন পরাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পাতলা এবং পুরু রেশম পরিধান করাবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো মৃতের জন্য কবর খনন করবে, সে এমন ব্যক্তির মতো হবে যে তাকে সেই দিন পর্যন্ত একটি ঘরে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দিল, যেদিন আল্লাহ কবরবাসীদের পুনরুত্থিত করবেন।"

এটি দারাকুতনী আবু হুরায়রা থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইউসুফ বিন আতিয়্যাহ এটি বর্ণনায় একাকী হয়েছেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি বর্ণনাগুলোকে উল্টে দিতেন এবং বানোয়াট মতনসমূহকে সহীহ সনদের সাথে যুক্ত করে রঙ দিতেন। সুয়ূতী এটি সংশোধন করে বলেছেন যে, বায়হাকী এটি ভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং অনুরূপভাবে ইবনে মাজাহ এর প্রথম অংশ অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন (১)।

১৭ - হাদিস: "তোমাদের মহিলারা তাদের জীবনের অর্ধেক সময় সালাত আদায় না করে অতিবাহিত করে।"

সাখাবী 'আল-মাকাসিদ' গ্রন্থে বলেছেন: এই শব্দে এর কোনো ভিত্তি নেই। নববী বলেছেন: এটি বাতিল, এর কোনো ভিত্তি নেই।

১৮ - হাদিস: "জমিনের জাকাত (পবিত্রতা) হলো তার শুকিয়ে যাওয়া।" অন্য শব্দে: "জমিনের শুকিয়ে যাওয়া তার পবিত্রতা।" ইবনে তাহির আল-ফাত্তানি 'তাজকিরাতুল মাওদুআত' গ্রন্থে বলেছেন: মারফূ হিসেবে এর কোনো ভিত্তি নেই।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু রাফে থেকে বর্ণিত, এবং এটি সুনানে বায়হাকী (৩/৩৯৫)-এ আবু আবদুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল-মুকরির সূত্রে বর্ণিত (সাঈদ বিন আবি আইয়ুব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শুরাহবীল বিন শারীক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আলী বিন রাবাহ আল-লাখমী থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু রাফেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে আল্লাহর রাসূল...)। এতে 'চল্লিশ বার' শব্দ এসেছে। 'আল-লাআলী' গ্রন্থে 'চল্লিশটি কবিরা গুনাহ' শব্দে উদ্ধৃত হয়েছে এবং 'কানযুল উম্মাল' (৮/৮২)-এ 'চল্লিশ বার' শব্দে এসেছে। হাকীম এটি 'আল-মুস্তাদরাক' (১/৩৫৪)-এ মুকরির অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তার সনদে রয়েছে (আলী বিন রাবাহ আল-লাখমী আবু রাফে থেকে) এবং তাতে 'চল্লিশ বার' শব্দ রয়েছে; 'তালখীসুল মুস্তাদরাক'-এও অনুরূপ। হাকীম বলেছেন (এটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ) এবং যাহাবী এতে একমত হয়েছেন। 'কানযুল উম্মাল'-এ মুস্তাদরাক এবং তাবারানীর 'আল-মুজামুল কাবীর' থেকে 'চল্লিশটি কবিরা গুনাহ' শব্দে উদ্ধৃত হয়েছে। সম্ভবত এটি তাবারানীর শব্দ চয়ন, যেমনটি 'মাজমাউজ যাওয়াইদ' (৩/২১)-এ রয়েছে, তবে তিনি মতনের ক্ষেত্রে সংক্ষেপ করেছেন এবং বলেছেন (এর বর্ণনাকারীরা সহীহ হাদিসের বর্ণনাকারী)। তারা এই ভিত্তির ওপর এটি বলেছেন যে আবু রাফে হলেন কিবতী সাহাবী এবং এটাই সবার আগে মনে আসে, তবে তার থেকে আলী বিন রাবাহের সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
19 - حديث: "لا تَنْجَسُ الأَرْضُ مِنْ بَوْلٍ إِلا بَعْدَ (1) أَرْبَعِينَ يَوْمًا".

قَالَ السُّيُوطِيُّ فِي الذَّيْلِ: فِيهِ دَاوُدُ الوضاع.

20 - حديث: "حَبَّذَا السِّوَاكُ يُزِيدُ الرَّجُلَ فَصَاحَةً".

قال الصغاني: وضعه ظاهر.

21 - حديث: "حَبَّذَا الْمُتَخَلِّلُونَ مِنْ أُمَّتِي".

قَالَ الصَّغَانِيُّ أَيْضًا: مَوْضُوعٌ وَكَذَا قَالَ فِي حَدِيثِ تَخْلِيلِ الأَصَابِعِ فِي الوضوء وتخليلها بعد الطعام.

22 - حديث: "صَلاةٌ بِسِوَاكٍ خَيْرٌ مِنْ سَبْعِينَ صَلاةً بِغَيْرِ سِوَاكٍ".

قَالَ ابْنُ مَعِينٍ: بَاطِلٌ وَقَالَ الْبَيْهَقِيُّ لَهُ طرق وشواهد متعاضدة.

23 - حديث: "خَلِّلُوا أَصَابِعَكُمْ لا تَتَخَلَّلْهَا النَّارُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ".

قَالَ ابْنُ طَاهِرٍ: رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِسَنَدٍ وَاهٍ وَعَنْ عَائِشَةَ بِسَنَدٍ ضَعِيفٍ.

24 - حديث: " كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وآله وسلم يَسْتَاكُ عَرْضًا وَيَشْرَبُ مَصًّا.

قَالَ الْفِيرُوزَابَادِيُّ فِي الْمُخْتَصَرِ: ضعيف.

25 - حديث: "الْوُضُوءُ عَلَى الْوُضُوءِ نُورٌ عَلَى نُورٍ".

قَالَ الْعِرَاقِيُّ فِي تَخْرِيجِ الإحياء: لم أقف عليه.

26 - حديث: "مَنْ تَوَضَّأَ عَلَى طُهْرٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ".

ضَعَّفَ الترمذي إسناده.

--------------------------------------------

(1) كذا وقع في الأصلين، وهو تحريف، والذي في الذيل (تنجس الأرض من بول الأقلف) وكذا في ترجمة المتهم به داود بن سليمان الجرجاني الغازي، من الميزان واللسان.
১৯ - হাদিস: "চল্লিশ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রস্রাব দ্বারা ভূমি অপবিত্র হয় না (১)।"

সুয়ূতী 'আয-যাইল' গ্রন্থে বলেছেন: এতে দাউদ আল-ওয়াদদা (হাদিস জালকারী) রয়েছে।

২০ - হাদিস: "মিসওয়াক কতই না চমৎকার, এটি ব্যক্তির বাগ্মিতা বৃদ্ধি করে।"

সাগানি বলেছেন: এর জাল হওয়া স্পষ্ট।

২১ - হাদিস: "আমার উম্মতের মধ্যে যারা খিলাল করে তারা কতই না উত্তম।"

সাগানি আরও বলেছেন: এটি জাল। অনুরূপ কথা তিনি ওযুতে আঙুল খিলাল করা এবং খাবারের পর খিলাল করার হাদিস সম্পর্কেও বলেছেন।

২২ - হাদিস: "মিসওয়াকসহ এক সালাত মিসওয়াকহীন সত্তর সালাতের চেয়ে উত্তম।"

ইবনে মাঈন বলেছেন: এটি ভিত্তিহীন। আর বায়হাকী বলেছেন: এর একাধিক সূত্র ও পরস্পরকে শক্তিশালী করার মতো সাক্ষী রয়েছে।

২৩ - হাদিস: "তোমরা তোমাদের আঙুলসমূহ খিলাল করো, যাতে কিয়ামতের দিন সেগুলোতে আগুন প্রবেশ না করে।"

ইবনে তাহির বলেছেন: এটি আবু হুরায়রা থেকে অত্যন্ত দুর্বল সূত্রে এবং আয়েশা থেকে দুর্বল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

২৪ - হাদিস: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আড়াআড়িভাবে মিসওয়াক করতেন এবং চুষে পানি পান করতেন।"

ফিরুযাবাদি 'আল-মুখতাসার' গ্রন্থে বলেছেন: এটি দুর্বল।

২৫ - হাদিস: "ওযুর ওপর ওযু হলো জ্যোতির ওপর জ্যোতি।"

ইরাকী 'তাখরিজুল ইহয়া' গ্রন্থে বলেছেন: আমি এর কোনো উৎস খুঁজে পাইনি।

২৬ - হাদিস: "যে ব্যক্তি পবিত্র থাকা অবস্থায় পুনরায় ওযু করে, আল্লাহ তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেন।"

তিরমিযী এর সনদকে দুর্বল বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) উভয় মূল কপিতে এভাবেই এসেছে, যা একটি বিকৃতি। 'আয-যাইল' গ্রন্থে যা রয়েছে তা হলো: (খতনাবিহীন ব্যক্তির প্রস্রাব থেকে জমিন অপবিত্র হয়), এবং একইভাবে এর দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি দাউদ বিন সুলাইমান আল-জোরজানি আল-গাজীর জীবনীতে 'আল-মিযান' ও 'আল-লিসান' গ্রন্থেও এটি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
27 - حديث: "بُنِيَ الدِّينُ عَلَى النَّظَافَةِ".

رَوَاهُ فِي الإِحْيَاءِ: وَقَالَ الْعِرَاقِيُّ فِي تخريجه لم أجده.

28 - حديث: "الْوُضُوءُ مِنْ جَرٍّ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ مِنْ هَذِهِ الْمَطَاهِرِ الَّتِي يَتَطَهَّرُ مِنْهَا النَّاسُ؟ قَالَ: بَلْ مِنْ هَذِهِ الْمَطَاهِرِ الْتِمَاسًا لِبَرَكَةِ أَيْدِي الْمُسْلِمِينَ: ذَكَرَهُ الْفِيرُوزَابَادِيُّ فِي المختصر (1) .

29 - حديث: "مَسْحُ الرَّقَبَةِ أَمَانٌ مِنَ الْغُلِّ".

قَالَ النَّوَوِيُّ: مَوْضُوعٌ وَقَدْ تَكَلَّمَ عَلَيْهِ ابْنُ حَجَرٍ فِي التَّلْخِيصِ بِمَا يُفِيدُ أَنَّهُ لَيْسَ بِمَوْضُوعٍ.

30 - حديث: "مَنْ قَدَّمَ لأَخِيهِ إِبْرِيقًا يَِِتَوضَّأ مِنْهُ فَكَأَنَّمَا قَدَّمَ جَوَادًا وَأَكْرِمُوا طُهُورَكُمْ".

قَالَ ابْنُ تَيْمِيَّةَ: مَوْضُوعٌ.

31 - حديث: "مَنْ سَمَّى فِي الْوُضُوءِ لَمْ يَزَلْ مَلَكَانِ يَكْتُبَانِ لَهُ حَسَنَاتٍ حَتَّى يُحْدِثَ مِنْ ذَلِكَ الْوُضُوءِ".

قَالَ ابْنُ طَاهِرٍ: فِيهِ ابْنُ علوان (2) المشهور بالوضع.

32 - حديث: "يَا أَبَا هُرَيْرَةَ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَقُلْ: بِسْمِ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ فَإِنَّ حَفَظَتَكَ تَكْتُبُ لَكَ الْحَسَنَاتِ حتى تحدث".

--------------------------------------------

(1) أخرجه بقريب من هذا الطَّبَرَانِيُّ فِي الأَوْسَطِ، مِنْ طَرِيقٍ حسان بن إبراهيم الكرماني، عن عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وحسان (صدوق مخطىء) وعبد العزيز (صدوق عابد ربما وهم) كما في التقريب، والخبر فيما أرى منكر.

(2) هو الحسين بن علوان، والحديث وتاليه في الذيل للسيوطي، فالنسبة إليه أولى من ابن طاهر الفتنى.
২৭ - হাদিস: "দ্বীন পরিচ্ছন্নতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।"

এটি ইহয়া গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আল-ইরাকি এর তাখরিজে বলেছেন, আমি এটি খুঁজে পাইনি।

২৮ - হাদিস: "আপনার কাছে কি কলস থেকে ওযু করা অধিক প্রিয় নাকি এই পবিত্রতার স্থানগুলো থেকে যা দিয়ে মানুষ পবিত্রতা অর্জন করে? তিনি বললেন: বরং এই পবিত্রতার স্থানগুলো থেকে, মুসলমানদের হাতের বরকত লাভের আশায়।" ফিরুজাবাদি এটি আল-মুখতাসার (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

২৯ - হাদিস: "ঘাড় মাসাহ করা কিয়ামতের দিনের বেড়ি থেকে মুক্তির উপায়।"

নববী বলেছেন: এটি বানোয়াট; তবে ইবনে হাজার আত-তালখিস গ্রন্থে এ বিষয়ে এমন আলোচনা করেছেন যা নির্দেশ করে যে এটি বানোয়াট নয়।

৩০ - হাদিস: "যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ওযুর জন্য পানির পাত্র এগিয়ে দিল, সে যেন একটি উন্নতমানের ঘোড়া দান করল; এবং তোমরা তোমাদের পবিত্রতাকে সম্মান করো।"

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: এটি বানোয়াট।

৩১ - হাদিস: "যে ব্যক্তি ওযুতে আল্লাহর নাম নিল, যতক্ষণ পর্যন্ত দুজন ফেরেশতা তার জন্য নেকি লিখতে থাকেন যতক্ষণ না সে ওই ওযু ভেঙে ফেলে।"

ইবনে তাহির বলেছেন: এর সনদে ইবনে উলওয়ান (২) রয়েছেন, যিনি বানোয়াট হাদিস বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধ।

৩২ - হাদিস: "হে আবু হুরায়রা, যখন তুমি ওযু করবে তখন বলো: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, কারণ তোমার রক্ষণাবেক্ষণকারী ফেরেশতারা তোমার জন্য নেকি লিখতে থাকবে যতক্ষণ না তুমি ওযু ভেঙে ফেলো।"

--------------------------------------------

(১) তাবারানি আল-আওসাত গ্রন্থে হাসান ইবনে ইব্রাহিম আল-কিরমানি এর সূত্রে, আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এর কাছাকাছি বর্ণনা করেছেন। হাসান হলেন (সত্যবাদী তবে ভুলকারী) এবং আব্দুল আজিজ হলেন (সত্যবাদী ইবাদতগুজার যিনি মাঝেমধ্যে বিভ্রান্ত হতেন) যেমনটি আত-তাকরিব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর আমার মতে এই বর্ণনাটি মুনকার (পরিত্যক্ত)।

(২) তিনি হলেন হুসাইন ইবনে উলওয়ান। এই হাদিসটি এবং এর পরবর্তীটি সুয়ুতির আয-যাইল গ্রন্থে রয়েছে, তাই ইবনে তাহির ফাতানির পরিবর্তে তাঁর দিকে এটি নিসবত করা অধিক সমীচীন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
قَالَ ابْنُ طَاهِرٍ فِي تَذْكَرَتِهِ منكر (1) .

33 - حديث: "يَا أَنَسُ ادْنُ مِنِي أُعَلِّمْكَ مَقَادِيرَ الْوُضُوءِ فَدَنَوْتُ مِنْهُ فَلَمَّا أَنْ غَسَلَ يَدَيْهِ قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ فَلَمَّا اسْتَنْجَى قَالَ: اللَّهُمَّ حَصِّنْ فَرْجِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي فَلَمَّا تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ قَالَ: اللَّهُمَّ لَقِّنِّي حُجَّتِي وَلا تَحْرِمْنِي رَائِحَةَ الْجَنَّةِ فَلَمَّا أَنْ غَسَلَ وَجْهَهُ قَالَ: اللَّهُمَّ بَيِّضْ وَجْهِي يَوْمَ تَبْيَضُّ الْوُجُوهُ فَلَمَّا أَنْ غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ قَالَ: اللَّهُمَّ أَعْطِنِي كِتَابِي بِيَمِينِي فَلَمَّا مَسَحَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ قَالَ اللَّهُمَّ تَغَشَّنَا بِرَحْمَتِكَ وَجَنِّبْنَا عَذَابَكَ فَلَمَّا غَسَلَ قَدَمَيْهِ قَالَ: اللَّهُمَّ ثبت قدمي يوم تزول الأَقْدَامُ".

فِي إِسْنَادِهِ عَبَّادُ بْنُ صُهَيْبٍ قَالَ الْبُخَارِيُّ وَالنَّسَائِيُّ: مَتْرُوكٌ وَفِيهِ أَيْضًا أَحْمَدُ بْنُ هَاشِمٍ اتَّهَمَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ قَالَ النَّوَوِيُّ: هَذَا الْحَدِيثُ بَاطِلٌ لا أَصْلَ لَهُ وَتَابَعَهُ ابْنُ حَجَرٍ وَرَوَى نَحْوَهُ مِنْ حَدِيثِ عَلِيٍّ وَفِي إِسْنَادِهِ خَارِجَةُ بْنُ مُصْعَبٍ تَرَكَهُ الْجُمْهُورُ وكذبه ابن معين.

34 - حديث: "الْوُضُوءُ مُدٌّ وَالْغُسْلُ صَاعٌ وَسَيَأْتِي أَقْوَامٌ مِنْ بَعْدِي يَسْتَقِلُّونَ ذَلِكَ أُولَئِكَ خِلافُ أَهْلِ سُنَّتِي وَالآخِذُ بِسُنَّتِي مَعِي فِي حَظِيرَةِ الْقُدُسِ".

قَالَ ابْنُ طَاهِرٍ الْفَتَّنِىُّ فِي التَّذْكَرَةِ: فِيهِ مَجْرُوحٌ وَلا يَخْفَاكَ أَنَّهُ لا تَلازُمَ بَيْنَ مُجَرَّدِ الجرح والوضع وإن كَانَ فِي لَفْظِهِ مَا يُخَالِفُ الكَلامَ النَّبَوِيَّ عِنْدَ مَنْ لَهُ ممارسة (2) .

35 - حديث: "لا تتوضؤا فِي الْكَنِيفِ فَإِنَّ وُضُوءَ الْمُؤْمِنِ يوزن مع حسناته".

--------------------------------------------

(1) في الذيل (قَالَ فِي الْمِيْزَانِ: هَذَا الْحَدِيثُ منكر) وإنما قال ذلك ابْنُ حَجَرٍ فِي لِسَانِ الْمِيزَانِ 1 / 98/ 292.

(2) الخبر في الذيل عن الديلمي، وفي سنده عنبسة بن عبد الرحمن، عن محمد ابن زاذان، وكلاهما تالف، وعنبسة أتلفهما كان يضع الحديث.
ইবন তাহির তাঁর তাযকিরাহ গ্রন্থে বলেছেন: এটি মুনকার (১)।

৩৩ - হাদিস: "হে আনাস, আমার কাছে এসো, আমি তোমাকে ওযুর নিয়মাবলী শিক্ষা দেব। অতঃপর আমি তাঁর কাছে গেলাম। যখন তিনি তাঁর দুই হাত ধৌত করলেন, তখন বললেন: আল্লাহর নামে এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। অতঃপর যখন তিনি শৌচকার্য সম্পন্ন করলেন, তখন বললেন: হে আল্লাহ, আমার লজ্জাস্থানকে সংরক্ষিত রাখুন এবং আমার কাজকে সহজ করে দিন। অতঃপর যখন তিনি কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন, তখন বললেন: হে আল্লাহ, আমাকে আমার দলিল শিখিয়ে দিন এবং আমাকে জান্নাতের ঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত করবেন না। অতঃপর যখন তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ধৌত করলেন, তখন বললেন: হে আল্লাহ, আমার মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল করুন সেদিন, যেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে। অতঃপর যখন তিনি তাঁর দুই হাত ধৌত করলেন, তখন বললেন: হে আল্লাহ, আমার আমলনামা আমার ডান হাতে দান করুন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর মাথার ওপর হাত বুলিয়ে মাসাহ করলেন, তখন বললেন: হে আল্লাহ, আমাদের আপনার রহমত দিয়ে ঢেকে দিন এবং আপনার আজাব থেকে আমাদের দূরে রাখুন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর দুই পা ধৌত করলেন, তখন বললেন: হে আল্লাহ, আমার দুই পা অটল রাখুন সেদিন, যেদিন অনেক পা পিছলে যাবে।"

এর সনদে আব্বাদ বিন সুহাইব রয়েছে। ইমাম বুখারি ও নাসাঈ বলেছেন: সে পরিত্যক্ত। এতে আরও রয়েছে আহমাদ বিন হাশিম, যাকে দারা কুতনী অভিযুক্ত করেছেন। ইমাম নববী বলেছেন: এই হাদিসটি বাতিল, এর কোনো ভিত্তি নেই। ইবন হাজারও তাঁর অনুসরণ করেছেন। আলীর হাদিস থেকে এর সদৃশ বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তার সনদে খারিজাহ বিন মুসআব রয়েছে, যাকে জুমহুর বর্জন করেছেন এবং ইবন মাঈন তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।

৩৪ - হাদিস: "ওযুর জন্য এক মুদ এবং গোসলের জন্য এক সা পানি প্রয়োজন। অচিরেই আমার পরে এমন একদল লোক আসবে যারা একে নগণ্য মনে করবে; তারা আমার সুন্নতের অনুসারীদের পরিপন্থী। আর যারা আমার সুন্নত পালন করবে, তারা পবিত্র উদ্যানে আমার সাথে থাকবে।"

ইবন তাহির আল-ফাত্তানি তাঁর তাযকিরাহ গ্রন্থে বলেছেন: এতে সমালোচিত বর্ণনাকারী রয়েছে। আর আপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, কেবল সমালোচিত হওয়া এবং জাল হওয়ার মধ্যে কোনো আবশ্যিক সম্পর্ক নেই, যদিও এর শব্দ চয়নে এমন কিছু আছে যা নবীজির বাণীর বিপরীত বলে প্রতীয়মান হয় তাদের কাছে যাদের এ বিষয়ে গভীর জানাশোনা রয়েছে (২)।

৩৫ - হাদিস: "তোমরা শৌচাগারে ওযু করো না, কেননা মুমিনের ওযু তার নেক আমলগুলোর সাথে ওজন করা হবে।"

--------------------------------------------

(১) যাইলে রয়েছে (তিনি মীযান গ্রন্থে বলেছেন: এই হাদিসটি মুনকার)। তবে এটি মূলত ইবন হাজার লিসানুল মীযান গ্রন্থে (১/৯৮/২৯২) বলেছেন।

(২) সংবাদটি যাইলে দাইলামি থেকে বর্ণিত, এর সনদে আনবাসাহ বিন আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ বিন জাযান থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়েই অকেজো। আনবাসাহ তাদের মধ্যে অধিক অকেজো ছিল, সে হাদিস জাল করত।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
قَالَ فِي التَّذْكَرَةِ: وَضَعَهُ يَحْيَى بن عنبسة (1) .

36 - حديث: "كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وآله وسلم إِذَا اسْتَاكَ قَالَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْ سِوَاكِي رِضَاكَ عَنِّي واجعله طهوراً وتمحيصاً وتبيض وَجْهِي كَمَا تُبَيِّضُ بِهِ أَسْنَانِي.

قَالَ فِي التَّذْكَرَةِ: فِيهِ مُتَّهَمٌ بالوضع (2) .

37 - حديث: "الْوُضُوءُ مِنَ الْبَوْلِ مَرَّةً وَمِنَ الْغَائِطِ مَرَّتَيْنِ وَمِنَ الْجَنَابَةِ ثَلاثًا".

قَالَ فِي التَّذْكَرَةِ: فِيهِ مُنْكَرٌ (3) .

38 - حديث: "إِنَّ شَيْطَانًا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ مَعَهُ ثَمَانِيَةُ أَمْثَالِ وَلَدِ آدَمَ مِنَ الْجُنُودِ وَلَهُ خَلِيفَةٌ يُقَالُ لَهُ خِنْزَبٌ".

قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيُّ: موضوع.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في الميزان، فالنسبة إليه أولى.

(2) وهذا أيضاً في الذيل عن الديلمي، وفي سنده عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يعقوب البخاري الحارثي الملقب بالأستاذ، ترجمته في لسان الميزان 3 / 348 وهو مرمى بالوضع، وقد وقفت له على أشياء أجزم بأنها من وضعه، كوصية أبي حنيفة للسمتي، ومناظرة الأوزاعي مع أبي حنيفة، وأشياء لا ريب في وضعها، ولكنه يسمي شيوخاً لا يعرفون، ثم يصنع تلك البلايا، ويحدث بها عنهم، وقد كانت له معرفة وعلم، ونعوذ بالله من علم لا ينفع.

(3) هذا أيضاً في الذيل، وفيه (قال ابن عدي: لا أعلم رواه غير عمرو ابن فائد، وهو منكر، وقال الذهبي: بل باطل) والذي في ترجمة عمرو من الميزان واللسان (قال ابن عدي...... وهو منكر بل باطل) وصنيع المؤلف في هذه الأحاديث يدل أنه لم يقف على الذيل، ولا استقرأ الميزان.
'তাজকিরাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি ইয়াহইয়া ইবনে আনবাসা জাল করেছেন (১)।

৩৬ - হাদিস: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যখন মিসওয়াক করতেন, তখন বলতেন: হে আল্লাহ! আমার এই মিসওয়াককে আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম বানান, একে পবিত্রতা ও পাপ মোচনের উপায় করুন এবং আমার চেহারাকে এমনভাবে উজ্জ্বল করুন যেমন এর মাধ্যমে আপনি আমার দাঁতকে উজ্জ্বল করছেন।"

‘তাজকিরাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর বর্ণনাসূত্রে একজন হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি রয়েছেন (২)।

৩৭ - হাদিস: "প্রস্রাবের পর একবার ওযু (অঙ্গ ধৌত করা), মলত্যাগের পর দুইবার এবং জানাবাতের (অপবিত্রতা) পর তিনবার।"

‘তাজকিরাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এতে একজন মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনাকারী রয়েছেন (৩)।

৩৮ - হাদিস: "নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে একটি শয়তান রয়েছে, যার সাথে আদম সন্তানের আটগুণ সৈন্যবাহিনী রয়েছে এবং তার একজন প্রতিনিধি রয়েছে যাকে 'খিনজাব' বলা হয়।"

ইবনুল জাওযী বলেন: এটি জাল (মওযু)।

--------------------------------------------

(১) আল-মিযান গ্রন্থে তার জীবনী দেখুন, সুতরাং জাল করার বিষয়টি তার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করাই অধিকতর সঠিক।

(২) এটি দায়লামী সূত্রে 'আয-যাইল' গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে। এর বর্ণনাসূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-বুখারী আল-হারেসী রয়েছেন, যাকে 'আল-উস্তায' উপাধি দেওয়া হয়। লিসানুল মিযান (৩/৩৪৮) গ্রন্থে তার জীবনী রয়েছে এবং তিনি হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত। আমি এমন কিছু বিষয়ের সন্ধান পেয়েছি যে সম্পর্কে আমি নিশ্চিত যে সেগুলো তার নিজেরই জাল করা; যেমন: সিমতির প্রতি আবু হানিফার অসিয়ত নামা এবং আবু হানিফার সাথে আওযায়ীর বিতর্ক, আর এমন কিছু বিষয় যেগুলোর জাল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি এমন সব শায়খদের নাম উল্লেখ করেন যাদের কেউ চেনে না, তারপর এসব মুসিবত (জাল বর্ণনা) তৈরি করেন এবং তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সেগুলো বর্ণনা করেন। তার যথেষ্ট জানাশোনা ও জ্ঞান ছিল; আমরা আল্লাহর কাছে এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাই যা কোনো উপকারে আসে না।

(৩) এটিও 'আয-যাইল' গ্রন্থে রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে (ইবনে আদী বলেন: আমি জানি না যে আমর ইবনে ফায়েদ ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেছেন কি না, আর তিনি হলেন মুনকার। আয-যাহাবী বলেন: বরং এটি বাতিল)। আর আল-মিযান এবং লিসান গ্রন্থে আমরের জীবনীতে যা এসেছে তা হলো (ইবনে আদী বলেন... এটি মুনকার বরং বাতিল)। এসব হাদিসের ক্ষেত্রে লেখকের কর্মপদ্ধতি নির্দেশ করে যে, তিনি 'আয-যাইল' সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং আল-মিযান গ্রন্থটিও বিস্তারিতভাবে পাঠ করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
39 - حديث: "اغْتَسِلُوا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلَوْ كَأْسًا بِدِينَارٍ".

فِيهِ وَهْبُ بْنُ وَهْبٍ [أبو] البختري وضاع.

40 - حديث: "مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِنِيَّةٍ وَحَسَبَةٍ مِنْ غَيْرِ جَنَابَةٍ تَنْظِيفًا لِلْجُمُعَةِ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ يَبُلُّهَا مِنْ رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ وَسَائِرِ جَسَدِهِ فِي الدُّنْيَا نُورًا" _ وساق حديثاً طويلاً.

وهو موضوع _ والمتهم به عمر بن صبح.
৩৯ - হাদিস: "তোমরা জুমার দিনে গোসল করো, যদিও এক পেয়ালা পানির দাম এক দিনার হয়।"

এতে ওয়াহাব বিন ওয়াহাব [আবু] আল-বাখতারি রয়েছে, সে একজন হাদিস জালকারী।

৪০ - হাদিস: "যে ব্যক্তি জানাবত (অপবিত্রতা) ব্যতীত জুমার পরিচ্ছন্নতার উদ্দেশ্যে নিয়ত ও সওয়াবের আশায় জুমার দিনে গোসল করবে, আল্লাহ তার মাথার চুল, দাড়ি এবং শরীরের অন্যান্য অংশের প্রতিটি সিক্ত চুলের বিনিময়ে দুনিয়াতে তার জন্য নূর লিখে দেবেন" — এবং তিনি একটি দীর্ঘ হাদিস বর্ণনা করেছেন।

এটি বানোয়াট — এবং এর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি হলো উমর বিন সুবহ।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌‌‌كتاب الصلاة

كتاب الصلاة

…

كتاب الصلاة

1 - حديث: "مَنْ نَوَّرَ بِالْفَجْرِ نَوَّرَ اللَّهُ لَهُ قَلْبَهُ وَقَبْرَهُ وَقُبِلَتْ صَلاتُهُ".

رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ عَنْ أَنَسٍ مَرْفُوعًا وَقَالَ: تَفَرَّدَ بِهِ سُلَيْمَانُ بْنُ عَمْرٍو أَبُو دَاوُدَ النَّخَعِيُّ كَذَّابٌ.

2 - حديث: "إِذَا كَانَ الْفَيْءُ ذِرَاعًا وَنِصْفًا إِلَى ذِرَاعَيْنِ فَصَلُّوا الظُّهْرَ".

رَوَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ عَنْ أَنَسٍ مَرْفُوعًا وَفِي إِسْنَادِهِ الأَصْرَمُ بْنُ حَوْشَبٍ وضاع.

3 - حديث: "إِنَّ لِلَّهِ مَلَكًا يُسَمَّى شَمْخَائِيلَ يَأْخُذُ الْبَرَاءَاتِ لِلْمُصَلِّينَ مِنَ اللَّهِ عَنْ كُلِّ صَلاةٍ فَإِذَا أَصْبَحَ المؤمنون قاموا فَتَوَضَّئُوا لِصَلاةِ الْفَجْرِ وَصَلَّوْا أَخَذَ لهم براءة أولى مكتوب فِيهَا: عَبِيدِي وَإِمَائِي فِي جِوَارِي جَعَلْتُكُمْ فِي ذِمَّتِي وَحِفْظِي ثُمَّ ذَكَرَ لِكُلِّ صَلاةٍ بَرَاءَةٌ" وَسَاقَهُ مُطَوَّلا.

هُوَ حَدِيثٌ مَوْضُوعٌ وَفِي إسناده متهمون.

4 - حديث: "مَنْ جَمَعَ بَيْنَ صَلاتَيْنِ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ فَقَدْ أَتَى بَابًا مِنْ أَبْوَابِ الْكَبَائِرِ".

فِي إِسْنَادِهِ حسين بن قيس كَذَّبَهُ أَحْمَدُ وَقَدْ أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حُسَيْنٌ: ضَعَّفَهُ أَحْمَدُ وَالْعَمَلَ عليه.
‌‌‌নামাযের অধ্যায়

নামাযের অধ্যায়

…

নামাযের অধ্যায়

১ - হাদীস: "যে ব্যক্তি ফজরকে আলোকিত করবে, আল্লাহ তার অন্তর ও কবরে নূর দান করবেন এবং তার নামায কবুল করা হবে।"

দারাকুতনী এটি আনাস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি সুলায়মান ইবন আমরের একক বর্ণনা; আবু দাউদ আন-নাখায়ী একজন চরম মিথ্যাবাদী।

২ - হাদীস: "ছায়া যখন দেড় হাত থেকে দুই হাত হবে, তখন তোমরা যোহরের নামায পড়ো।"

ইবন আদী এটি আনাস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে আসরাম ইবন হাউশাব রয়েছে, যে হাদীস জালকারী ছিল।

৩ - হাদীস: "নিশ্চয়ই আল্লাহর শমখাইল নামে একজন ফেরেশতা আছে, যে প্রত্যেক নামাযের বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে নামাযীদের জন্য দায়মুক্তি গ্রহণ করে। অতঃপর যখন মুমিনগণ সকালে ওঠে ফজরের নামাযের জন্য ওযু করে এবং নামায পড়ে, তখন সে তাদের জন্য প্রথম দায়মুক্তি গ্রহণ করে যাতে লেখা থাকে: আমার দাস ও দাসীরা আমার সান্নিধ্যে আছে, আমি তোমাদেরকে আমার জিম্মায় ও হেফাজতে রাখলাম। এরপর তিনি প্রতিটি নামাযের জন্য একটি করে দায়মুক্তির কথা দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন।"

এটি একটি জাল হাদীস এবং এর সনদে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ রয়েছে।

৪ - হাদীস: "যে ব্যক্তি কোনো ওযর ছাড়া দুই নামাযকে একত্রে পড়বে, সে কবিরা গুনাহের দরজাগুলোর একটির কাছে উপস্থিত হলো।"

এর সনদে হুসাইন ইবন কায়স রয়েছে, যাকে আহমাদ মিথ্যাবাদী বলেছেন। তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, হুসাইনকে আহমাদ দুর্বল বলেছেন, তবে এর ওপর আমল প্রচলিত।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
5 - حديث: "إِذَا رَقَدَ الْمَرْءُ قَبَلَ أَنْ يُصَلِّيَ الْعَتَمَةَ وَقَفَ عَلَيْهِ (1) مَلَكَانِ يُوقِظَانِهِ يَقُولانِ: الصَّلاةَ ثُمَّ يُوَلِّيَانِ عَنْهُ وَيَقُولانِ: رَقَدَ الْخَاسِرُ".

رَوَاهُ الْخَطِيبُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا وهو موضوع.

6 - حديث: "قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي تَرَكْتُ الصَّلاةَ قَالَ فَاقْضِ مَا تَرَكْتَ: قَالَ كَيْفَ أَقْضِي؟ [قَالَ صَلِّ مَعَ (2) ] كُلِّ صَلاةٍ صَلاةً مِثْلَهَا قَالَ: قَبْلُ أَوْ بَعْدُ؟ قَالَ: لا [بَلْ] قَبْلُ.

وَهُوَ مَوْضُوعٌ وَالْمُتَّهَمُ بِهِ سَلَمَةُ بن عبدان الزاهد.

7 - حديث: "كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم مُؤَذِّنٌ يَطْرَبُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وآله وسلم: الأَذَانُ سَمْحٌ سَهْلٌ فَإِنْ كَانَ أَذَانُكَ سَمْحًا سَهْلا وَإِلا فَلا تُؤَذِّنْ".

رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَرْفُوعًا وقال لا أصل له وإسحق ابن أَبِي يَحْيَى الْكَعْبِيُّ لا تَحِلُّ الرِّوَايَةُ عَنْهُ. قَالَ السُّيُوطِيُّ: رَجَعَ (3) بن حِبَّانَ وَذَكَرَهُ فِي الثِّقَاتِ وَالْحَدِيثُ أخرجه الدارقطني في سننه.

8 - حديث: "لا يُؤَذِّنُ لَكُمْ مَنْ يُدْغِمُ الَهاءَ".

رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا وَقَالَ: الْمُتَّهَمُ بِهِ عَلِيُّ بْنُ جَمِيلٍ الرَّقِّيُّ كَانَ يضع على الثقات.

9 - حديث: " [إِنَّ (4) ] الْمُؤَذِّنِينَ وَالْمُلَبِّينَ يَخْرُجُونَ مِنْ قبورهم يؤذن

--------------------------------------------

(1) في الأصل (عليها) .

(2) من اللآلىء 2/13.

(3) بل (غفل) كما في الميزان واللسان فراجعهما

(4) من اللآلىء 2 / 7.
৫ - হাদিস: "যখন কোনো ব্যক্তি এশার সালাত আদায় করার আগে ঘুমিয়ে পড়ে, তখন তার কাছে দুইজন ফেরেশতা দাঁড়ায় (১) যারা তাকে জাগিয়ে দেয় এবং বলে: 'সালাত আদায় করো।' এরপর তারা সেখান থেকে চলে যায় এবং বলে: 'ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়েছে।'"

খতিব এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি জাল হাদিস।

৬ - হাদিস: "এক ব্যক্তি বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি সালাত বর্জন করেছি।' তিনি বললেন: 'যা বর্জন করেছ তা কাযা করো।' ব্যক্তিটি বললেন: 'কীভাবে কাযা করব?' [তিনি বললেন: প্রতিটি সালাতের সাথে (২)] তার মতো অনুরূপ একটি করে সালাত আদায় করো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'আগে না কি পরে?' তিনি বললেন: 'না, [বরং] আগে।'"

এটি একটি জাল হাদিস এবং এর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি হলো সালামাহ ইবন আবদান আজ-জাহিদ।

৭ - হাদিস: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একজন মুয়াজ্জিন ছিল যে সুর করে আজান দিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: 'আজান হলো সাবলীল ও সহজ। সুতরাং যদি তোমার আজান সাবলীল ও সহজ হয় তবে দাও, অন্যথায় আজান দিয়ো না।'"

ইবনে হিব্বান এটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর কোনো ভিত্তি নেই, আর ইসহাক ইবন আবি ইয়াহইয়া আল-কাব্বি থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয়। সুয়ূতী বলেন: ইবনে হিব্বান ফিরে এসেছেন (৩) এবং তাকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিকাত) কিতাবে উল্লেখ করেছেন। হাদিসটি দারা কুতনী তার সুনানে বর্ণনা করেছেন।

৮ - হাদিস: "যে ব্যক্তি 'হা' (هاء) অক্ষরকে ইদগাম করে সে যেন তোমাদের জন্য আজান না দেয়।"

দারা কুতনী এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি হলো আলী বিন জামিল আর-রাক্কি, সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নামে জাল হাদিস প্রচার করত।

৯ - হাদিস: "[নিশ্চয়ই (৪)] মুয়াজ্জিনগণ এবং তালবিয়া পাঠকারীগণ তাদের কবর থেকে আজান দিতে দিতে বের হবেন..."

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে ছিল (আলাইহা)।

(২) আল-লাআলী ২/১৩ থেকে।

(৩) বরং (গাফালা) তথা উপেক্ষা করেছেন, যেমনটি মিজান এবং লিসান কিতাবে রয়েছে, তাই সেগুলো দেখে নিন।

(৪) আল-লাআলী ২/৭ থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الْمُؤَذِّنُ وَيُلَبِّي الْمُلَبِّي وَيُغْفَرُ لِلْمُؤَذِّنُ مَدَّ صَوْتِهِ وَيَشْهَدُ لَهُ كُلُّ شَيْءٍ سَمِعَ صَوْتَهُ مِنْ شَجَرٍ وَحَجَرٍ وَمَدَرٍ وَرَطْبٍ وَيَابِسٍ وَيُكْتَبُ لَهُ بِعَدَدِ كُلِّ إِنْسَانٍ يُصَلِّي مَعَهُ فِي ذَلِكَ الْمَسْجِدِ مِثْلُ حَسَنَاتِهِمْ وَلا يَنْقُصُ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ.

وَهُوَ حَدِيثٌ طَوِيلٌ ذَكَرَ فِيهِ تَرْغِيبَاتٍ سَاقَهُ ابْنُ شَاهِينَ بِطُولِهِ وَهُوَ مَوْضُوعٌ.

فِي إِسْنَادِهِ سَلامٌ الطَّوِيلُ عَنْ عَبَّادِ بْنِ كثير يرويان الأكاذيب.

10- حديث: "إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ جِيءَ بِكَرَاسِيَّ مِنْ ذَهَبٍ مُكَلَّلَةٍ بِالدُّرِ وَالْيَاقُوتِ مَفْرُوشَةٍ بِالسُنْدُسِ وَالإِسْتَبْرَقِ ثُمَّ يُضْرَبُ عَلَيْهَا قِبَابٌ مِنْ نُورٍ ثُمَّ يُنَادَى: أَيْنَ الْمُؤَذِّنُونَ _ إلخ".

رَوَاهُ الْخَطِيبُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ مَرْفُوعًا وَقَالَ غَرِيبٌ جِدِّا تَفَرَّدَ بِهِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَحْيَى وَهُوَ ضعيف سيىء الحال جداً.

11 - حديث: "يجيء بِلالٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَاحِلَةٍ رَحْلُهَا ذَهَبٌ وَزِمَامُهَا دُرٌّ وَيَاقُوتٌ يَتْبَعُهُ الْمُؤَذِّنُونَ حَتَّى يُدْخِلَهُمُ الْجَنَّةَ حَتَّى إِنَّهُ لَيُدْخِلُ مَنْ أَذَّنَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا يَطْلُبُ بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ".

رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَرْفُوعًا وَقَالَ تَفَرَّدَ بِهِ خَالِدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَقَالَ ابْنُ عَدِيٍّ كَانَ يَضَعُ عَلَى الثِّقَاتِ.

12 - حديث: " إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ غُلِّقَتْ أَبْوَابُ النِّيرَانِ وَإِذَا قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الجنان _ إلخ".

رَوَاهُ الْحَاكِمُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَرْفُوعًا وَقَالَ: إِنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْفَرْغَانِيَّ: كَانَ يَضَعُ الْحَدِيثَ وَضْعًا فَاحِشًا (1) .

--------------------------------------------

(1) هكذا في اللآلىء والميزان واللسان. ووقع في الأصلين (خبيثا) .
মুয়াজ্জিন আযান দেয় এবং তালবিয়া পাঠকারী তালবিয়া পাঠ করে। মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর যতদূর পৌঁছায় সেই পরিমাণ তাকে ক্ষমা করা হয় এবং গাছপালা, পাথর, মাটির ঢিলা, ভেজা ও শুকনো যা কিছু তার আওয়াজ শুনেছে সবই তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। সেই মসজিদে তার সাথে যারা সালাত আদায় করবে তাদের প্রত্যেকের সমপরিমাণ নেকি তার আমলনামায় লেখা হবে, অথচ তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যতমও কমানো হবে না।

এটি একটি দীর্ঘ হাদিস যাতে বিভিন্ন উৎসাহব্যঞ্জক বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে; ইবনে শাহিন এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি জাল হাদিস।

এর সনদে সালাম আত-তিল এবং আব্বাদ বিন কাসির রয়েছে, তারা উভয়েই মিথ্যা বর্ণনা করে।

১০- হাদিস: "যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে, তখন স্বর্ণের এমন কতগুলো কুরসি আনা হবে যা মুক্তা ও ইয়াকুত দ্বারা সুশোভিত থাকবে এবং পাতলা ও পুরু রেশমি বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত থাকবে। অতঃপর সেগুলোর উপর নূরের গম্বুজ স্থাপন করা হবে, এরপর ঘোষণা করা হবে: মুয়াজ্জিনরা কোথায়? — ইত্যাদি।"

খতিব এটি আবু সাঈদ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি অত্যন্ত বিরল হাদিস। ইসমাইল বিন ইয়াহইয়া এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সে অত্যন্ত দুর্বল ও খুবই হীন অবস্থার বর্ণনাকারী।

১১ - হাদিস: "কিয়ামতের দিন বিলাল এমন এক সওয়ারিতে চড়ে আসবেন যার জিন হবে স্বর্ণের এবং যার লাগাম হবে মুক্তা ও ইয়াকুতের। মুয়াজ্জিনরা তাকে অনুসরণ করবে যতক্ষণ না তিনি তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান, এমনকি তিনি তাকেও প্রবেশ করাবেন যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে চল্লিশ দিন আযান দিয়েছে।"

দারাকুতনি এটি ইবনে উমর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি খালিদ বিন ইসমাইল এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নামে হাদিস জাল করত।

১২ - হাদিস: "যখন মুয়াজ্জিন বলবে: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহান), তখন জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর যখন সে বলবে: আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই), তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় — ইত্যাদি।"

হাকিম এটি ইবনে আব্বাস থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফারগানী জঘন্যভাবে হাদিস জাল করত (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-লাআলি, আল-মিজান এবং আল-লিসান গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তবে মূল পাণ্ডুলিপিদ্বয়ে 'খবিছান' (জঘন্যভাবে) শব্দ এসেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
13- حديث: "مَا مِنْ مَدِينَةٍ يَكْثُرُ أَذَانُهَا إلا قل َّ بَرْدُهَا".

رَوَاهُ الأَزْدِيُّ عَنْ عَلِيٍّ مَرْفُوعًا. وَقَالَ: مَوْضُوعٌ، وَالْمُتَّهَمُ بِهِ عمرو بن جميع.

14- حديث: "مَنْ أَفْرَدَ الإِقَامَةَ فَلَيْسَ مِنَّا".

رَوَاهُ الْجَوْزَقَانِيُّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَرْفُوعًا، وَهُوَ مَوْضُوعٌ. وَرِجَالُهُ بَيْنَ مجهول ومجروح.

15- حديث: "أذَّن بِلالٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم مَثْنَى مَثْنَى، وَأَقَامَ مِثْلَ ذَلِكَ.

قَالَ ابْنُ حِبَّانَ: بَاطِلٌ، وَزِيَادُ بْنُ عبد الله الْبَكَّائِيُّ فَاحِشُ الْخَطَإِ، وَقَالَ السُّيُوطِيُّ: هُوَ ثِقَةٌ. رَوَى لَهُ الشَّيْخَانِ (1) لكن؛ عُدَّ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ مَنَاكِيرِهِ.

وَقَدْ أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الأَوْسَطِ من طريق غيره (2) .

16- حديث: "بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاةٌ إِلا الْمَغْرِبَ (3) ".

رَوَاهُ الْبَزَّارُ عَنْ بُرَيْدَةَ مرفوعاً.

--------------------------------------------

(1) زياد: وثقوه في روايته لمغازي ابن إسحاق، وليس هذا منها، وفيه ضعف في غيرها، أخرج له مسلم ما ثبت من طريق غيره، أما البخاري فعنده حديث في الجهاد أخرجه عن عبد الأعلى وعن زياد، كلاهما عن حميد عن أنس. وقد أخرجه في غزوة أحد عن محمد بن طلحة عن حميد، وأخرجه مسلم عن ثابت عن أنس، وزياد في سند البخاري، قيل: إنه هذا، وتردد فيه ابن حجر في الفتح 6 / 16.

(2) الخبر الأول صحابيه أبو جحيفة، وخبر الطبراني عن عبد الله بن يزيد، وفي صحبته كلام، ولفظه آخر، وفي سنده محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى، وهو سيء الحفظ جداً على صدقه.

(3) المنكر قوله (إلا المغرب) وكذلك وقع غلط في السند كما يأتي:
১৩- হাদিস: "এমন কোনো শহর নেই যেখানে আজান বেশি হয় অথচ তার শীত কমে না।"

এটি আল-আজদি আলী (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি বানোয়াট (মাওযু), আর এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন আমর ইবনে জামি।

১৪- হাদিস: "যে ব্যক্তি এক একবার করে একামত দেয়, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"

এটি আল-জাওযাকানি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এবং এটি বানোয়াট। এর বর্ণনাকারীদের কেউ অজ্ঞাত (মাজহুল) এবং কেউ দোষযুক্ত (মাজরুহ)।

১৫- হাদিস: "বিলাল (রা.) আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের জন্য দুই দুই বার করে আজান দিতেন এবং অনুরূপভাবে (দুই দুই বার করে) একামত দিতেন।"

ইবনে হিব্বান বলেছেন: এটি বাতিল, এবং যিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাক্কায়ি অত্যন্ত ভুলকারী ব্যক্তি। আল-সুয়ূতী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) (১) তার থেকে বর্ণনা করেছেন; কিন্তু এই হাদিসটিকে তার মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তাবারানি তার 'আল-আওসাত' গ্রন্থে অন্য সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন (২)।

১৬- হাদিস: "প্রত্যেক আজান ও একামতের মাঝে সালাত রয়েছে, মাগরিব ছাড়া (৩)।"

এটি আল-বাযযার বুরায়দাহ (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) যিয়াদ: ইবনে ইসহাকের 'মাগাযি' (যুদ্ধাভিযান) বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তবে এই হাদিসটি তার অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্য বিষয়ের বর্ণনায় তার মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। ইমাম মুসলিম তার থেকে সেই হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন যা অন্য সূত্রে সাব্যস্ত। ইমাম বুখারির নিকট জিহাদ অধ্যায়ে একটি হাদিস রয়েছে যা তিনি আব্দুল আলা এবং যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ই হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে। তিনি এটি উহুদ যুদ্ধ সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনে তালহা থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ইমাম মুসলিম এটি সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। বুখারির সনদে যিয়াদ নামক এক ব্যক্তি রয়েছেন, বলা হয়েছে যে তিনি এই ব্যক্তিই; ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি' (৬/১৬) গ্রন্থে এ বিষয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন।

(২) প্রথম হাদিসটির সাহাবি হলেন আবু জুহাইফাহ, আর তাবারানির বর্ণনাটি আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ থেকে, যার সাহাবি হওয়ার বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং এর শব্দ ভিন্ন। এর সনদে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা রয়েছেন, যিনি সত্যবাদী হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

(৩) 'মাগরিব ছাড়া' কথাটি মুনকার (অস্বীকৃত), অনুরূপভাবে এর সনদেও ভুল সংঘটিত হয়েছে যেমন সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَقَدْ تَفَرَّدَ بِهِ حَيَّانُ بْنُ عبيد الله (1) وَهُوَ بَصْرِيٌّ مَشْهُورٌ لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ وَقَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ: كَذَّبَهُ الْفَلاسُ وَقَالَ السُّيُوطِيُّ: الَّذِي كَذَّبَهُ الفلاس رجل آخَرَ وَهَذَا قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: صَدُوقٌ وَذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ (2) وَلَكِنَّهُ لَمْ يُتَابِعْ عَلَى الزِّيَادَةِ الْمَذْكُورَةِ (3) وَقَدْ صَحَّ عَنْهُ صلى الله عليه وآله وسلم أَنَّهُ قَالَ: بَيْنَ أَذَانَيِ الْمَغْرِبِ صَلاةٌ (4) ثُمَّ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ: لمن شاء.

17 - حديث: "إِنَّ بِلالا قَالَ أَذَّنْتُ فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ شَدِيدَةِ الْبَرْدِ فَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ ثُمَّ أَذَّنْتُ ثَانِيَةً فَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ، ثُمَّ أَذَّنْتُ ثالثة فلم يأتي أحد، فقال رسول صلى الله عليه وآله وسلم: ما لهم يَا بِلالُ؟ قَالَ كَبَدَهُمُ الْبَرْدُ.

فَقَالَ اللَّهُمَّ اكْسِرْ عَنْهُمُ الْبَرْدَ [إلخ] ".

رَوَاهُ الْعُقَيِلُّي عَنْ جَابِرٍ مَرْفُوعًا وَقَالَ لَيْسَ لَهُ أَصْلٌ وَفِي إسناده: أيوب ابن سيار كذاب.

18 - حديث: "مَسْحُ الْعَيْنَيْنِ بِبَاطِنِ أَعْلَى السَّبَّابَتَيْنِ عِنْدَ قَوْلِ الْمُؤَذِّنِ أَشْهَدُ أَنَّ محمدا رسول الله _ إلخ".

رَوَاهُ الدَّيْلَمِيُّ فِي مُسْنَدِ الْفِرْدَوْسِ عن أبي بكر مرفوعاً.

--------------------------------------------

(1) في الأصلين (حبان بن عبد الله) خطأ.

(2) لكنه اختلط

(3) الحديث يرويه الثقات عن ابن بريدة، عن عبد الله بن مغفل مرفوعاً (بين كل أذانين صلاة) فرواه حيان هذا عن ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ مَرْفُوعًا، وزاد فيه، (إلا المغرب) وراجع اللآلىء 2 / 8.

(4) لفظ الصحيح (صلوا قبل صلاة المغرب ركعتين) .
এই হাদিসটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে হাইয়ান ইবনে উবাইদুল্লাহ (১) একক হয়ে গেছেন। তিনি একজন প্রখ্যাত বসরী বর্ণনাকারী, যার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। ইবনুল জাওজি বলেছেন: ফাল্লাস তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। সুয়ূতী বলেছেন: ফাল্লাস যাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন তিনি অন্য এক ব্যক্তি। আর এই ব্যক্তি (হাইয়ান) সম্পর্কে আবু হাতিম বলেছেন: তিনি সত্যবাদী এবং ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন (২)। তবে উল্লিখিত অতিরিক্ত অংশটির বর্ণনায় কেউ তাকে অনুসরণ করেনি (৩)। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: মাগরিবের দুই আজানের (আজান ও ইকামতের) মাঝে সালাত রয়েছে (৪)। অতঃপর তিনি তৃতীয়বার বলেছেন: যে ইচ্ছা করে তার জন্য।

১৭ - হাদিস: "নিশ্চয়ই বিলাল বলেছেন, আমি এক প্রচণ্ড শীতের রাতে আজান দিলাম কিন্তু কেউ এল না। এরপর আমি দ্বিতীয়বার আজান দিলাম কিন্তু কেউ এল না। এরপর আমি তৃতীয়বার আজান দিলাম তখনও কেউ এল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে বিলাল, তাদের কী হয়েছে? তিনি বললেন: শীত তাদের কাবু করে ফেলেছে।

অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ, তাদের থেকে শীতের তীব্রতা দূর করে দিন [ইত্যাদি]।"

উকাইলি এটি জাবির থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর কোনো ভিত্তি নেই। এর সনদে আইয়ুব ইবনে সাইয়ার নামক একজন চরম মিথ্যাবাদী রয়েছে।

১৮ - হাদিস: "মুয়াজ্জিনের 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ' বলার সময় শাহাদাত আঙুলদ্বয়ের উপরিভাগের পেট দিয়ে দুই চোখ মোছা—ইত্যাদি।"

দাইলামি এটি মুসনাদুল ফিরদাউস-এ আবু বকর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) উভয় মূল কপিতে (হিব্বান ইবনে আব্দুল্লাহ) রয়েছে, যা ভুল।

(২) কিন্তু তিনি শেষ বয়সে স্মৃতিভ্রম বা বিভ্রান্তিতে (ইখতিলাত) পড়েছিলেন।

(৩) নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ হাদিসটি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে— "প্রত্যেক দুই আজানের মাঝে সালাত রয়েছে"। কিন্তু এই হাইয়ান এটি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এতে "মাগরিব ব্যতীত" কথাটি বাড়িয়ে দিয়েছেন। দেখুন: আল-লাআলী ২/৮।

(৪) সহিহ হাদিসের শব্দ হলো— "তোমরা মাগরিবের সালাতের আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করো"।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
قَالَ ابْنُ طَاهِرٍ فِي التَّذْكَرَةِ: لا يصح (1) .

19 - حديث: " مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ: مَرْحَبًا بِحَبِيبِي وَقُرَّةِ عَيْنِي مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ اللَّهِ ثُمَّ يُقَبِّلُ إِبْهَامَيْهِ وَيَجْعَلُهُمَا عَلَى عَيْنَيْهِ لَمْ يَعْمَ وَلَمْ يَرْمَدْ أَبَدًا.

قَالَ فِي التذكرة: لا يصح (2) .

20 - حديث: "اجْعَلْ بَيْنَ أَذَانِكَ وَإِقَامَتِكَ قَدْرَ مَا يَفْرَغُ الآكِلُ مِنْ أَكْلِهِ _ إلخ".

رَوَاهُ فِي الْمَصَابِيحِ، وَضَعَّفَهُ، وَقَالَ الْقَزْوِينِيُّ: هُوَ مَوْضُوعٌ وَصَدْرُهُ لَيْسَ بموضوع (2) .

21 - حديث: "لَوْ كَانَ لأَهْلِ السَّمَاءِ مِنَ الْمَلائِكَةِ نُزُولٌ إِلَى الأَرْضِ لَمَا سَبَقَهُمْ إِلَى الأَذَانِ أَحَدٌ وَلَغَلَبُوا الناس عليه _ إلخ.

فِي إِسْنَادِهِ: كَذَّابَانِ: إِسْحَاقُ بْنُ وهب وعمر بن صبح.

22 - حديث: "مَنْ سَمِعَ الْمُنَادِيَ بِالصَّلاةِ فَقَالَ: مَرْحَبًا بِالْقَائِلِينَ عَدْلا مَرْحَبًا بِالصَّلاةِ وَأَهْلا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَلْفَيْ ألف حسنة _ إلخ.

--------------------------------------------

(1) ذكره والذي يليه السخاوي في المقاصد، وكلمة (لا يصح) إنما تقال فيما له قوة. فأما هذا فلا يرتاب عالم بالسنة في بطلانه، ونازعني فيه رجل في الهند، وحكى قصة، فقلت له: إن الدين لا يثبت بالتجربة، وسل عباد الأصنام تجد عندهم تجارب كثيرة، وذكرت قصة ابن مسعود وامرأته.

(2) في المقاصد: أن هذا أورده بعض المتصوفة، بسند فيه مجاهيل مع انقطاعه، عن الخضر، أقول: أفمثل هذا يقتصر فيه على كلمة (لا يصح) ؟

(3) الحديث عند الترمذي، وأوله (إذا أذنت فترسل وإذا أقمت فاحدر واجعل.. الخ) .

وقد رواه غيره، وهو على كل حال ضعيف، راجع تلخيص الحبير، نعم في آخره (ولا تقوموا حتى تروني) وهذه الجملة في الصحيح.
ইবনে তাহির ‘আত-তাযকিরাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: এটি সহিহ নয় (১)।

১৯ - হাদিস: "যে ব্যক্তি ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ শোনার সময় বলবে: ‘আমার প্রিয়তম এবং আমার চোখের মণি আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদকে স্বাগতম’, অতঃপর তার দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি চুম্বন করবে এবং তা তার দুই চোখের ওপর রাখবে, সে কখনও অন্ধ হবে না এবং কখনও চোখের ব্যথায় আক্রান্ত হবে না।"

‘আত-তাযকিরাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি সহিহ নয় (২)।

২০ - হাদিস: "তোমার আযান ও ইকামতের মাঝখানে এমন পরিমাণ বিরতি রাখ যাতে একজন আহারকারী তার খাবার শেষ করতে পারে — ইত্যাদি।"

এটি ‘আল-মাসাবিহ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি একে দুর্বল বলেছেন। আল-কাযওয়িনি বলেছেন: এটি জাল, তবে এর শুরুর অংশটি জাল নয় (২)।

২১ - হাদিস: "যদি আসমানি ফেরেশতাদের পৃথিবীতে অবতরণ করার সুযোগ থাকত, তবে আযানের ক্ষেত্রে কেউ তাদের চেয়ে অগ্রগামী হতে পারত না এবং তারা এ বিষয়ে মানুষের ওপর প্রবল হতো — ইত্যাদি।"

এর বর্ণনাসূত্রে দুইজন চরম মিথ্যাবাদী রয়েছে: ইসহাক ইবনে ওয়াহাব এবং উমর ইবনে সুব্হ।

২২ - হাদিস: "যে ব্যক্তি সালাতের আহ্বানকারীর আযান শুনে বলবে: ‘ন্যায়নিষ্ঠ কথা ঘোষণাকারীদের স্বাগতম, সালাতকে স্বাগতম ও অভিনন্দন’, আল্লাহ তার জন্য বিশ লক্ষ নেকি লিখে দেবেন — ইত্যাদি।"

--------------------------------------------

(১) সাখাভী ‘আল-মাকাসিদ’ গ্রন্থে এটি এবং এর পরবর্তীটি উল্লেখ করেছেন। ‘সহিহ নয়’ কথাটি কেবল এমন বর্ণনার ক্ষেত্রে বলা হয় যার কিছুটা ভিত্তি থাকে। কিন্তু এটি এমন এক বর্ণনা যার অসারতা সম্পর্কে সুন্নাহর কোনো বিশেষজ্ঞের মনেই কোনো সন্দেহ নেই। ভারতের এক ব্যক্তি এই বিষয়ে আমার সাথে বিতর্ক করেছিলেন এবং একটি গল্প শুনিয়েছিলেন। আমি তাকে বলেছিলাম: ধর্ম অভিজ্ঞতার দ্বারা প্রমাণিত হয় না; আপনি মূর্তিপূজারীদের জিজ্ঞাসা করুন, তাদের কাছেও আপনি অনেক অভিজ্ঞতা পাবেন। অতঃপর আমি ইবনে মাসউদ ও তাঁর স্ত্রীর ঘটনাটি উল্লেখ করলাম।

(২) ‘আল-মাকাসিদ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: কিছু সুফি এটি বর্ণনা করেছেন এমন এক সূত্রে যাতে অপরিচিত বর্ণনাকারী রয়েছে এবং এর সূত্রটি বিচ্ছিন্নভাবে খিজির থেকে বর্ণিত। আমি বলি: এই ধরণের বর্ণনার ক্ষেত্রে কি কেবল ‘সহিহ নয়’ বলা যথেষ্ট?

(৩) হাদিসটি তিরমিযীতে রয়েছে, যার শুরু হলো: "যখন তুমি আযান দিবে তখন ধীরস্থিরভাবে দিবে এবং যখন ইকামত দিবে তখন দ্রুত দিবে এবং তুমি বিরতি রাখবে... ইত্যাদি।" এটি অন্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এটি সবদিক থেকেই দুর্বল; দেখুন ‘তালখিসুল হাবির’। তবে হ্যাঁ, এর শেষে রয়েছে: "যতক্ষণ না তোমরা আমাকে দেখবে ততক্ষণ দাঁড়াবে না", আর এই বাক্যটি ‘সহিহ’ গ্রন্থে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
قال في التذكرة: موضوع (1) .

23 - حديث: "أَظْهِرُوا الأَذَانَ فِي بِيُوتِكُمْ وَمُرُوا [بِهِ (2) ] نِسَاءَكُمْ فَإِنَّهُ مَطْرَدَةٌ لِلشَّيْطَانِ وَنَمَاءٌ فِي الرِّزْقِ".

فِي إِسْنَادِهِ: كذاب.

24 - حديث: "إِذَا أَخَذَ الْمُؤَذِّنُ فِي أَذَانِهِ وَضَعَ الرَّبُّ يَدَهُ فَوْقَ رَأْسِهِ _ إلخ.

فِي إِسْنَادِهِ: عُمَرُ بْنُ صُبْحٍ وضاع (3) .

25 - حديث: "مَنْ أَذَّنَ سَنَةً مِنْ نِيَّةٍ صَادِقَةٍ يُحْشَرُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُوقَفُ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ: اشْفَعْ لَمَنْ شِئْتَ.

فِي إِسْنَادِهِ: وَضَّاعٌ.

26 _ قَوْلُ أَنَسٍ: فِي حِكَايَةِ قِصَّةِ رَحِيلِ بِلالٍ ثُمَّ رُجُوعِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ بَعْدَ رُؤْيَتِهِ صلى الله عليه وآله وسلم فِي الْمَنَامِ وَأَذَانِهِ بِهَا وَارْتِجَاجِ الْمَدِينَةِ.

لا أصل له (4) .

27 - حديث: "لا صَلاةَ لِجَارِ الْمَسْجِدِ إِلا فِي الْمَسْجِدِ".

رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ عَنْ عَائِشَةَ مَرْفُوعًا وَقَالَ: عُمَرُ بْنُ رَاشِدٍ: لا يَحِلُّ ذِكْرُهُ إِلا بِالْقَدْحِ.

قَالَ السُّيُوطِيُّ: وَثَّقَهُ العجلي وغيره

--------------------------------------------

(1) القائل (موضوع) هو السيوطي في الذيل، ومنه أخذه ابن طاهر الفتنى والخبر في لسان الميزان 6 / 200 قال ابن حجر (باطل) .

(2) من الذيل.

(3) وهذا وتاليه من الذيل.

(4) في اللسان 1 / 108 (هي قصة بينة الوضع) ونقل ذلك في الذيل.
আত-তাযকিরাহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে: জাল (১)।

২৩ - হাদীস: "তোমাদের ঘরগুলোতে আযান প্রকাশ করো এবং তোমাদের নারীদের [তা দিতে (২)] নির্দেশ দাও; কেননা তা শয়তানকে বিতাড়নকারী এবং রিজিকে প্রবৃদ্ধিদানকারী।"

এর বর্ণনাসূত্রে রয়েছে: একজন চরম মিথ্যাবাদী।

২৪ - হাদীস: "যখন মুয়াজ্জিন তার আযান শুরু করে, তখন রব তাঁর হাত তার মাথার ওপর রাখেন — ইত্যাদি।"

এর বর্ণনাসূত্রে রয়েছে: উমর ইবনে সুবহ, সে হাদীস জালকারী (৩)।

২৫ - হাদীস: "যে ব্যক্তি সত্য নিয়ত নিয়ে এক বছর আযান দেবে, তাকে কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করা হবে এবং জান্নাতের দরজায় দাঁড় করানো হবে। এরপর তাকে বলা হবে: তুমি যার জন্য চাও সুপারিশ করো।"

এর বর্ণনাসূত্রে রয়েছে: একজন হাদীস জালকারী।

২৬ - আনাস (রা.)-এর উক্তি: বিলাল (রা.)-এর প্রস্থান এবং স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে দেখার পর মদিনায় প্রত্যাবর্তন, সেখানে তাঁর আযান প্রদান এবং মদিনা প্রকম্পিত হওয়ার কাহিনী বর্ণনায়।

এর কোনো ভিত্তি নেই (৪)।

২৭ - হাদীস: "মসজিদের প্রতিবেশীর নামায মসজিদ ছাড়া হয় না।"

ইবনে হিব্বান এটি আয়েশা (রা.) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: উমর ইবনে রাশিদ; তার সমালোচনা ছাড়া তার উল্লেখ করা বৈধ নয়।

আস-সুয়ূতী বলেন: আল-ইজলী ও অন্যান্যরা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) যিনি 'জাল' (মাওদ্বূ) বলেছেন তিনি হলেন আয-যাইল গ্রন্থে আস-সুয়ূতী। ইবনে তাহির আল-ফাতানি তাঁর থেকেই এটি গ্রহণ করেছেন। আর বর্ণনাটি লিসানুল মিজান গ্রন্থের ৬/২০০-এ রয়েছে; ইবনে হাজার বলেছেন: (বাতিল)।

(২) আয-যাইল থেকে।

(৩) এটি এবং এর পরবর্তীটি আয-যাইল থেকে।

(৪) আল-লিসান গ্রন্থে ১/১০৮-এ রয়েছে (এটি স্পষ্টতই একটি জাল কাহিনী) এবং আয-যাইল গ্রন্থেও এটি উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وَرَوَى لَهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَلَهُ طُرُقٌ أُخْرَى عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَلِيٍّ.

وَقَدْ رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي سُنَنِهِ عَنْ جَابِرٍ.

قَالَ الْبَيْهَقِيُّ فِي الْمَعْرِفَةِ: إِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ وَرَوَاهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ فِي الْمُصَنَّفِ مِنْ قَوْلِ عَلِيٍّ رضي الله عنه وَقَالَ الصَّغَانِيُّ: مَوْضُوعٌ وَقَالَ الْفِيرُوزَبَادِيُّ فِي الْمُخْتَصَرِ: ضَعِيفٌ.

قال السخاوي في المقاصد: أسانيده ضعيفه وليس له إسناد يثبت وقد صح من قول علي (1) .

28 - حديث: "أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وآله وسلم كَانَ يُصَلِّي فِي الموضع

--------------------------------------------

(1) أما عمر بن راشد: فهذا الاسم مشترك بين جماعة، أشهرهم عمر بن راشد بن شجرة اليمامى، الذي أخرج له الترمذي وابن ماجة، وفي ترجمته: أخرج ابن حبان هذا الخبر، كما يظهر من اللآلىء، وجرى على ذلك ابن الجوزي فمن بعده. ويظهر لي أن ذلك وهم، وإنما راوي الخبر عمر بن راشد الجاري المدني، وذلك أن الخبر عن عمر بن راشد عن ابن أبي ذئب، والذي يروي عن ابن أبي ذئب هو الجارى، كما في كتاب ابن أبي حاتم والتهذيب: أما اليمامى، فهو في طبقة ابن أبي ذئب أي في طبقة شيوخ الجارى، وكلاهما تالف، والجارى أتلفهما، أحاديثه كذب وزور موضوعة.

وأما: رواية الخبر عن جابر وعن أبي هريرة، ففي سنن الدارقطني ص161 وكلاهما سنده واه. وكذلك ذكره الدارقطني عن علي من قوله، وسنده واه أيضاً، لكن رواه جماعة عن أبي حيان التميمي، عن أبيه سعيد بن حيان، عن علي من قوله، وزعم بعضهم أنه صحيح عن علي، وليس كذلك، فإنه لم يتحقق إدراك سعيد بن حيان لعلي، بل الظاهر عدمه، وقد أشار إلى ذلك البخاري في ترجمة سعيد من التاريخ 2 / 1/ 423 قال أولا (عن علي) ثم قال (سمع شريحا والحارث بن سويد) ومع ذلك: فسعيد لا يروي عنه إلا ابنه، ولم يوثقه إلا العجلي وابن حبان، وقاعدة ابن حبان معروفة، وقد استقرأت كثيراً من توثيق العجلي، فبان لي أنه نحو من ابن حبان.
তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং জাবির, আবু হুরায়রা ও আলীর সূত্রে এর অন্যান্য সনদও রয়েছে।

দারা কুতনি তাঁর সুনানে জাবির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

বায়হাকি 'আল-মা'রিফা' গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ দুর্বল। আবদুর রাজ্জাক 'আল-মুসান্নাফ' গ্রন্থে এটি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাগানি বলেছেন: এটি জাল। ফিরোজাবাদী 'আল-মুখতাসার' গ্রন্থে বলেছেন: এটি দুর্বল।

সাখাভি 'আল-মাকাসিদ' গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদসমূহ দুর্বল এবং এমন কোনো সনদ নেই যা সাব্যস্ত হয়, তবে এটি আলীর (১) উক্তি হিসেবে বিশুদ্ধ হয়েছে।

২৮ - হাদিস: "নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এই স্থানে সালাত আদায় করতেন..."

--------------------------------------------

(১) উমর বিন রাশিদ সম্পর্কে: এই নামটি একদল বর্ণনাকারীর মধ্যে সাধারণ, তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন উমর বিন রাশিদ বিন শাজারাহ আল-ইয়ামামি, যার হাদিস তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। তাঁর জীবনীতে এসেছে: ইবনে হিব্বান এই খবরটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি 'আল-লাআলি' থেকে স্পষ্ট হয়, এবং ইবনুল জাওজি ও তাঁর পরবর্তীগণ এর ওপর ভিত্তি করেই চলেছেন। আমার কাছে মনে হয় এটি একটি বিভ্রান্তি; বরং খবরের বর্ণনাকারী হলেন উমর বিন রাশিদ আল-জারি আল-মাদানি। কারণ খবরটি উমর বিন রাশিদ ইবনে আবি জিব থেকে বর্ণনা করেছেন, আর যিনি ইবনে আবি জিব থেকে বর্ণনা করেন তিনি হলেন আল-জারি, যেমনটি ইবনে আবি হাতিমের কিতাব এবং 'আত-তাহজিব'-এ বর্ণিত হয়েছে। আর আল-ইয়ামামি হলেন ইবনে আবি জিবের স্তরের, অর্থাৎ আল-জারির উস্তাদদের স্তরের। তারা উভয়েই পরিত্যক্ত, এবং আল-জারি তাদের মধ্যে অধিকতর পরিত্যক্ত; তার হাদিসসমূহ মিথ্যা, বানোয়াট ও জাল।

আর জাবির ও আবু হুরায়রা থেকে হাদিসের বর্ণনা সম্পর্কে: এটি সুনানে দারা কুতনির ১৬১ পৃষ্ঠায় রয়েছে এবং উভয়টির সনদ অত্যন্ত দুর্বল। একইভাবে দারা কুতনি আলীর উক্তি হিসেবে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর সনদও অত্যন্ত দুর্বল। তবে একদল বর্ণনাকারী আবু হাইয়ান আত-তামিমি থেকে, তিনি তাঁর পিতা সাঈদ বিন হাইয়ান থেকে, তিনি আলীর উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এটি আলীর সূত্রে সহিহ, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। কারণ সাঈদ বিন হাইয়ান আলীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন বলে প্রমাণিত নয়, বরং না পাওয়াটাই স্পষ্ট। বুখারি 'আত-তারিখ' (২/১/৪২৩) গ্রন্থে সাঈদের জীবনীতে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; তিনি প্রথমে বলেছেন (আলীর সূত্রে), এরপর বলেছেন (তিনি শুরাইহ এবং হারিস বিন সুওয়াইদ থেকে শুনেছেন)। তদুপরি, সাঈদ থেকে তাঁর ছেলে ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি, এবং ইজলি ও ইবনে হিব্বান ছাড়া কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেননি। আর ইবনে হিব্বানের মূলনীতি সর্বজনবিদিত। আমি ইজলির নির্ভরযোগ্য বলার বিষয়টি অনেক অনুসন্ধান করেছি, ফলে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি ইবনে হিব্বানের মতোই।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الَّذِي يَبُولُ فِيهِ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ رضي الله عنهما فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ: أَلا نَخُصُّ لَكَ مَوْضِعًا مِنَ الْحُجْرَةِ أَنْظَفَ مِنْ هَذَا؟ فَقَالَ: يَا حُمَيْرَاءُ أَمَا عَلِمْتِ أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا سَجَدَ لِلَّهِ سَجْدَةً طَهَّرَ اللَّهُ مَوْضِعَ سُجُودِهِ إِلَى سَبْعِ أَرَضِينَ".

رَوَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ عَنْ عَائِشَةَ مَرْفُوعًا وَقَدْ تَفَرَّدَ بِهِ بَزِيعُ بْنُ [حَسَّانَ أَبُو] الْخَلِيلِ وَهُوَ مَتْرُوكٌ.

وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ: يَأْتِي عَنِ الثِّقَاتِ بِأَشْيَاءَ مَوْضُوعَاتٍ كَأَنَّهُ الْمُتَعَمِّدُ لَهَا.

وَقَدْ أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ مِنْ طَرِيقٍ أخرى وضعفها (1) .

29 - حديث: "تَذْهَبُ الأَرْضُونَ كُلُّهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلا الْمَسَاجِدَ فَإِنَّهُ يَنْضَمُّ بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ".

رَوَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَرْفُوعًا وَفِي إِسْنَادِهِ: أَصْرَمُ بْنُ حَوْشَبٍ كَذَّابٌ.

30 - حديث: "إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاةُ فَانْتَعِلُوا".

رَوَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ عَنْ مُعَاذٍ مَرْفُوعًا وَفِي إِسْنَادِهِ: مُحَمَّدُ بْنُ الْحَجَّاجِ اللخمي وهو المتهم بوضعه.

31 - حديث: "خُذُوا زِينَةَ الصَّلاةِ قَالُوا: وَمَا زِينَةُ الصَّلاةِ؟ قَالَ: الْبَسُوا نِعَالَكُمْ وصلوا فيها ".

--------------------------------------------

(1) في سنده عبد الله بن صالح كاتب الليث، متكلم فيه، وهومن طريق زهرة بن معبد عن أبيه عن عائشة، ومعبد لم يرو عنه إلا إبنه، ولم يوثقه أحد، إلا أن ابن حبان ذكره في الثقات على عادته، ولفظه عن عائشة (..... كان يصلي حيثما دنا من البيت فقلت له: يا رسول الله إنك تصلي في المكان الذي تمر فيه الحائض....) ليس فيه ذكر البول.
যেখানে হাসান এবং হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) প্রস্রাব করেন। তখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাকে বললেন: "আমি কি আপনার জন্য কামরার কোনো অংশকে এর চেয়ে পরিচ্ছন্ন হিসেবে নির্দিষ্ট করে দেব না?" তিনি বললেন: "হে হুমায়রা! তুমি কি জানো না যে, বান্দা যখন আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সাজদাহ করে, তখন আল্লাহ তার সাজদাহর স্থানটিকে সাত তবক জমিন পর্যন্ত পবিত্র করে দেন?"

ইবনে আদি এটি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাযী ইবনে [হাসসান আবু] আল-খালীল এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন পরিত্যক্ত (মাতরুক) রাবী।

ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন সব বানোয়াট বিষয় নিয়ে আসেন, যেন তিনি তা ইচ্ছাকৃতভাবে করছেন।

তাবারানি এটি অন্য একটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং সেটিকে দুর্বল বলেছেন (১)।

২৯ - হাদীস: "কিয়ামতের দিন মসজিদসমূহ ব্যতীত সমস্ত জমিন বিলীন হয়ে যাবে, আর মসজিদগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে।"

ইবনে আদি এটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদে আসরাম ইবনে হাওশাব রয়েছে, যে একজন চরম মিথ্যাবাদী (কায্যাব)।

৩০ - হাদীস: "যখন সালাত কায়েম করা হয় (ইকামত দেওয়া হয়), তখন তোমরা জুতো পরিধান করো।"

ইবনে আদি এটি মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদে মুহাম্মদ ইবনে হাজ্জাজ আল-লাখমী রয়েছে, যে এটি জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত।

৩১ - হাদীস: "তোমরা সালাতের সৌন্দর্য গ্রহণ করো। তারা জিজ্ঞেস করল: সালাতের সৌন্দর্য কী? তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের জুতো পরিধান করো এবং তাতে সালাত আদায় করো।"

--------------------------------------------

(১) এর সানাদে লাইসের লেখক আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ রয়েছেন, যার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। এটি যুহরা ইবনে মাবাদ, তার পিতা এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সূত্র থেকে বর্ণিত। মাবাদ থেকে তার ছেলে ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি এবং কেউই তাকে নির্ভরযোগ্য বলেননি, তবে ইবনে হিব্বান তার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদীসের শব্দগুলো হলো: (.....তিনি ঘরের কাছাকাছি যেখানেই হতেন সেখানেই সালাত আদায় করতেন, তখন আমি তাকে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এমন স্থানে সালাত আদায় করছেন যেখান দিয়ে ঋতুবতী নারী যাতায়াত করে.....) এতে প্রস্রাবের কোনো উল্লেখ নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
رَوَاهُ ابْنُ عَدِيٍّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا وَفِي إِسْنَادِهِ: مُحَمَّدُ بن الفضل كذاب.

وقد رواه أبو الشيخ مِنْ طَرِيقٍ أُخْرَى (1) .

وَرَوَاهُ الْعُقَيْلِيُّ من طريق عباد ابن جويرية وهو كذاب. ورواه (2) الْخَطِيبُ وَابْنُ مَرْدُوَيْهِ مِنْ غَيْرِ طَرِيقِ هَذَيْنِ الْكَذَّابَيْنِ.

وَقَدْ ثَبَتَ في الأحاديث الصحيحة الثابتة عَنْ أَكْثَرَ مِنْ ثَلاثِينَ صَحَابِيًّا فِي الصَّلاةِ فِي النِّعَالِ مَا لا يَحْتَاجُ مَعَهُ إِلىَ أَحَادِيثِ الْكَذَّابِينَ.

مِنْهَا: صَلُّوا فِي نِعَالِكُمْ وَخَالِفُوا الْيَهُودَ.

أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ والحاكم وصححه (3) .

32 - حديث: "مَنْ تَكَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ بِكَلامِ الدُّنْيَا أَحْبَطَ اللَّهُ أَعْمَالَهُ.

قَالَ الصغاني: موضوع.

--------------------------------------------

(1) في سندها ضعف

(2) هو في تاريخ بغداد 14/287 في ترجمة راويه: يعقوب بن إسحاق الدعاء ولم يقل الخطيب في يعقوب هذا شيئاً، لا قد حاولا ثناء، غير أنه أورد له هذا الحديث، وشيخه لم أعرفه، وهو من طريق قتادة عن أنس بالعنعنة.

(3) هو من طريق (مروان بن معاوية الفزاري، عن هلال بن ميمون الرملي عن يعلي بن شداد بن أوس عن أبيه) مرفوعاً، ومروان ثقة، كان يدلس أسماء الشيوخ، ولا أثر لذلك هنا، لكن قال بن حجر في طبقات المدلسين (كان مشهوراً بالتدليس، وكان يدلس الشيوخ أيضاً، وصفه الدارقطني بذلك) . وهلال: قال يحيى ابن معين (ثقة) وقال النسائي (ليس به بأس قاله يحيى) وقال أبو حاتم (ليس بالقوي، يكتب حديثه) فاقتصر ابن حجر في التقريب على قوله (صدوق) . ويعلي قال ابن سعد (كان ثقة إن شاء الله) وذكره ابن حبان في الثقات، وفي التقريب (صدوق) والله أعلم
এটি ইবনে আদি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে রয়েছেন: মুহাম্মদ বিন ফজল, তিনি একজন চরম মিথ্যাবাদী।

আর আবুশ শাইখ এটি অন্য একটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন (১)।

উকায়লি এটি আব্বাদ ইবনে জুয়ায়রিয়াহ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি একজন চরম মিথ্যাবাদী। খতিব এবং ইবনে মারদুওয়াই এটি এই দুই মিথ্যাবাদীর সূত্র ব্যতীত অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন (২)।

নিশ্চয়ই জুতো পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করার বিষয়ে ত্রিশজনেরও বেশি সাহাবী থেকে সহীহ ও প্রমাণিত হাদিসসমূহ সাব্যস্ত হয়েছে, যার ফলে মিথ্যাবাদীদের হাদিসের আর কোনো প্রয়োজন অবশিষ্ট থাকে না।

সেগুলোর মধ্যে একটি হলো: "তোমরা তোমাদের জুতো পরিধান করে সালাত আদায় করো এবং ইহুদিদের বিরোধিতা করো।"

এটি আবু দাউদ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সহীহ বলেছেন (৩)।

৩২ - হাদিস: "যে ব্যক্তি মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলবে, আল্লাহ তার আমলসমূহ বিনষ্ট করে দেবেন।"

সাগানী বলেছেন: এটি জাল।

--------------------------------------------

(১) এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে।

(২) এটি তারিখু বাগদাদ (১৪/২৮৭)-এ এর বর্ণনাকারী ইয়াকুব বিন ইসহাক আদ-দুআ-এর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে। খতিব এই ইয়াকুব সম্পর্কে কিছুই বলেননি, প্রশংসাও করেননি, নিন্দাও করেননি; তবে তিনি তার সূত্রে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। আর তার উস্তাদকে আমি চিনতে পারিনি, এটি কাতাদা থেকে আনাস-এর সূত্রে 'আন'আনা' পদ্ধতিতে বর্ণিত।

(৩) এটি (মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া আল-ফাজারি, হিলাল বিন মায়মুন আল-রামলি থেকে, তিনি ইয়ালা বিন শাদ্দাদ বিন আউস থেকে, তিনি তার পিতা থেকে) মারফু হিসেবে বর্ণিত। মারওয়ান নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তিনি উস্তাদদের নামের ক্ষেত্রে তাদলীস করতেন, তবে এখানে তার কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু ইবনে হাজার 'তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন'-এ বলেছেন: "তিনি তাদলীসের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং তিনি উস্তাদদের ক্ষেত্রেও তাদলীস করতেন, দারাকুতনী তাকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।" হিলাল সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য"; নাসাঈ বলেছেন: "এতে কোনো সমস্যা নেই, এটি ইয়াহইয়া বলেছেন"; আবু হাতিম বলেছেন: "তিনি শক্তিশালী নন, তার হাদিস লিখে রাখা যায়"। ইবনে হাজার 'তাকরিব'-এ তাকে কেবল 'সত্যবাদী' বলার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। ইয়ালা সম্পর্কে ইবনে সা'দ বলেছেন: "ইনশাআল্লাহ তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন"; ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং 'তাকরিব'-এ তাকে 'সত্যবাদী' বলা হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
33 - حديث: "الْحَدِيثُ فِي الْمَسْجِدِ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ الْبَهِيمَةُ الْحَشِيشَ.

قَالَ الفيروزبادي: لم يوجد.

34 - حديث: "إِنَّ الْمَسْجِدَ لَيَنْزَوِي مِنَ النُّخَامَةِ.

قَالَ فِي تَذْكَرَةِ الْمَوْضُوعَاتِ: لَمْ يوجد (1) .

35 - حديث: "مَا مِنْ لَيْلَةٍ إِلا يُنَادِي مُنَادٍ: يَا أَهْلَ الْقُبُورِ مَنْ تغبطون؟ فيقولون: أهل المساجد _ إلخ.

قَالَ فِي التَّذْكَرَةِ: لَمْ يُوجَدْ.

36 - حديث: "إِذَا زَخْرَفْتُمْ مَسَاجِدَكُمْ وَحَلَّيْتُمْ مَصَاحِفَكُمْ فَالدَّمَارُ عَلَيْكُمْ.

لا يَصِحُّ رَفْعُهُ.

37 - حديث: "لَمَّا أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وآله وسلم أَنْ يَبْنِيَ مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ أَتَاهُ جِبْرِيلُ عليه السلام فَقَالَ: ابْنِهِ سَبْعَةَ أَذْرُعٍ طُولا فِي السَّمَاءِ لا مُزَخْرَفَةً وَلا مُنَقَّشَةً.

قَالَ الْفِيرُوزَبَادِيُّ فِي المختصر: لم يوجد.

38 - حديث: "جَنِّبُوا صِبْيَانَكُمْ مَسَاجِدَكُمْ.

قَالَ السَّخَاوِيُّ فِي الْمَقَاصِدِ: ضَعِيفٌ وَلَكُنْ لَهُ شَاهِدٌ بِأَسَانِيدَ لا تَخْلُو عَنْ ضعف.

--------------------------------------------

(1) سيأتي بعد أحاديث، في (حديث: "إذا هم إلخ)
৩৩ - হাদীস: "মসজিদে কথাবার্তা নেক আমলসমূহকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন চতুষ্পদ জন্তু ঘাস খেয়ে ফেলে।"

ফিরোজাবাদী বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

৩৪ - হাদীস: "নিশ্চয়ই মসজিদ কফ-শ্লেষ্মার কারণে সংকুচিত হয়ে যায়।"

'তাযকিরাতুল মাওদুআত'-এ বলা হয়েছে: এর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি (১)।

৩৫ - হাদীস: "এমন কোনো রাত নেই যাতে একজন ঘোষণাকারী এই বলে আহ্বান করেন না যে: হে কবরবাসী! তোমরা কাকে ঈর্ষা করো? তারা বলে: মসজিদবাসীদের... ইত্যাদি।"

'আত-তাযকিরাহ'-তে বলা হয়েছে: এর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

৩৬ - হাদীস: "যখন তোমরা তোমাদের মসজিদসমূহকে সুশোভিত করবে এবং তোমাদের মুসহাফসমূহকে (কুরআনের কপি) সজ্জিত করবে, তখন তোমাদের ওপর ধ্বংস নেমে আসবে।"

এটি মারফূ হিসেবে (রাসূলুল্লাহর বাণী হিসেবে) সাব্যস্ত হওয়া সহীহ নয়।

৩৭ - হাদীস: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনার মসজিদ নির্মাণ করতে চাইলেন, তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে এসে বললেন: এটি আকাশের দিকে উচ্চতায় সাত হাত নির্মাণ করুন, কোনো সুশোভিত সজ্জা বা কারুকার্য ছাড়াই।"

ফিরোজাবাদী 'আল-মুখতাসার'-এ বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

৩৮ - হাদীস: "তোমাদের শিশুদেরকে তোমাদের মসজিদসমূহ থেকে দূরে রাখো।"

সাখাভী 'আল-মাকাসিদ'-এ বলেছেন: এটি দুর্বল, তবে এর এমন কিছু সাক্ষী (সমর্থক বর্ণনা) রয়েছে যার সনদসমূহ দুর্বলতা থেকে মুক্ত নয়।

--------------------------------------------

(১) এটি সামনে কয়েকটি হাদীস পরে আসবে, (হাদীস: "যখন তারা সংকল্প করে" ইত্যাদি) অংশে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
39 - حديث: "إِنَّ مِنْ سَخَطِ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ صِبْيَانَهُمْ فِي مَسَاجِدِهِمْ فَيَنْهُونَهُمْ فَلا يَنْتَهُونَ.

فيه متروك.

40 - حديث: "مَنْ أَسْرَجَ فِي مَسْجِدٍ لَمْ تَزَلِ الْمَلائِكَةُ وَحَمَلَةُ الْعَرْشِ يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ مَا دَامَ فِي ذَلِكَ الْمَسْجِدِ ضَوْءٌ مِنْ ذَلِكَ السِّرَاجِ.

قَالَ فِي الْمَقَاصِدِ: سَنَدُهُ ضَّعِيفُ.

41 - حديث: "مَنْ عَلَّقَ فِي مَسْجِدٍ قِنْدِيلا صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ حتى ينطفىء ذلك القنديل ومن بسط فيه حَصِيرًا صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ حَتَّى يَنْقَطِعَ ذَلِكَ الْحَصِيرُ".

فِي إِسْنَادِهِ عُمَرُ بْنُ صُبْحٍ كذاب.

42 - حديث: "مَنْ تَوَضَّأَ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ يُرِيدُ الْمَسْجِدَ فَقَالَ بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ إِلا أَعْطَاهُ اللَّهُ كُلَّ مَا فِي الآيَةِ.

فِي إِسْنَادِهِ: سَلْمُ بْنُ مُسْلِمٍ وَلَيْسَ بشيء.

43 - حديث: "إِذَا هَمَّ الْعَبْدُ أَنْ يَبْزُقَ فِي الْمَسْجِدِ اضْطَرَبَتْ أَرْكَانُهُ وَانْزَوَى كَمَا تَنْزَوِي الْجِلْدَةُ فِي النَّارِ فَإِذَا هُوَ ابْتَلَعَهَا أَخْرَجَ اللَّهُ مِنْهُ اثْنَيْنِ وَسَبْعِينَ دَاءً وَكَتَبَ له بها ألف حسنة (1) .

44 - حديث: "تعَاهَدُوا هَذِهِ الْمَسَاجِدَ بِالتَّجْصِيصِ وَالْقَنَادِيلِ وَالسُّرُجِ وَالرِّيحِ الطَّيِّبَةِ وَالتَّوْسِيعِ عَلَى أَهْلِيكُمْ بِالطَّعَامِ وَالإِدَامِ وَالْكِسْوَةِ فِي رَمَضَانَ".

فِي إِسْنَادِهِ: الْحُسَيْنُ بْنُ علوان وضاع.

--------------------------------------------

(1) ذكره في الذيل عن الديملي، بسند فيه مجهولون
৩৯ - হাদীস: "নিশ্চয়ই বান্দাদের প্রতি আল্লাহর অসন্তুষ্টির অন্যতম লক্ষণ হলো, তাদের মাসজিদগুলোতে তাদের সন্তানদেরকে তাদের ওপর কর্তৃত্বশীল করে দেওয়া; ফলে তারা তাদের নিষেধ করে কিন্তু তারা তা মানে না।"

এতে পরিত্যক্ত রাবী রয়েছে।

৪০ - হাদীস: "যে ব্যক্তি মাসজিদে প্রদীপ প্রজ্বলন করবে, যতক্ষণ সেই মাসজিদে ওই প্রদীপের আলো থাকবে, ততক্ষণ ফেরেশতাগণ এবং আরশ বহনকারীগণ তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবেন।"

মাকাসিদ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর সনদ দুর্বল।

৪১ - হাদীস: "যে ব্যক্তি মাসজিদে কোনো ঝাড়বাতি ঝোলাবে, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকবে যতক্ষণ না সেই বাতিটি নিভে যায়; আর যে ব্যক্তি মাসজিদে কোনো চাটাই বিছিয়ে দেবে, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকবে যতক্ষণ না সেই চাটাইটি ছিঁড়ে যায়।"

এর সনদে উমর বিন সুবহ রয়েছে, যে চরম মিথ্যাবাদী।

৪২ - হাদীস: "যে ব্যক্তি ওযু করল এবং সুন্দরভাবে ওযু সম্পন্ন করল, অতঃপর মাসজিদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বের হলো এবং বলল— 'আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন'—তবে আল্লাহ তাকে এই আয়াতের মধ্যকার সব কিছু দান করবেন।"

এর সনদে সালম বিন মুসলিম রয়েছে, যার কোনো নির্ভরযোগ্যতা নেই।

৪৩ - হাদীস: "যখন কোনো বান্দা মাসজিদে থুতু ফেলার ইচ্ছা করে, তখন এর স্তম্ভসমূহ প্রকম্পিত হয় এবং এটি এমনভাবে কুঁচকে যায় যেমন চামড়া আগুনের তাপে কুঁচকে যায়। অতঃপর যদি সে তা গিলে ফেলে, তবে আল্লাহ তার শরীর থেকে বাহাত্তরটি রোগ দূর করে দেন এবং তার জন্য এক হাজার সওয়াব লিখে দেন (১)।"

৪৪ - হাদীস: "তোমরা এই মাসজিদগুলোর প্রতি যত্নবান হও চুনকাম করার মাধ্যমে, ঝাড়বাতি ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে এবং সুগন্ধি ব্যবহারের মাধ্যমে; আর রমজান মাসে তোমাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য খাদ্য, তরকারি ও পোশাকের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা দান করো।"

এর সনদে হুসাইন বিন আলওয়ান রয়েছে, যে হাদীস জালকারী।

--------------------------------------------

(১) এটি আয-যাইল গ্রন্থে দাইলামী থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, এমন এক সনদে যাতে অজ্ঞাত রাবীগণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
45 - حديث: "مَنْ كَسَحَ بَيْتًا مِنْ بِيُوتِ الله فكأنما حج أربعمائة حجة وأعتق أربعمائة نسمة وصام أربعمائة يوم وغزا أربعمائة غَزْوَةٍ".

فِي إِسْنَادِهِ: أَبُو سَلَمَةَ (1) يَرْوِي عَنِ الثِّقَاتِ مَا لَيْسَ فِي حَدِيثِهِمْ وَأَمَارَاتُ الْوَضْعِ لائِحَةٌ عليه.

46 - حديث: "يَا بَرِيرَةُ: اكْنُسِي الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْخَمِيسِ فَإِنَّ مَنْ أَخْرَجَ مِنَ الْمَسْجِدِ يَوْمَ الْخَمِيسِ أَذًى بِقَدْرِ مَا يُقْذِي الْعَيْنَ كَانَ كَعَدْلِ رَقَبَةٍ يَعْتِقُهَا".

فِي إِسْنَادِهِ: الْحُسَيْنُ بن علوان يضع الحديث.

47 - حديث: "كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم إِذَا قَامَ يُصَلِّي ظَنَّ الظَّانُّ أَنَّهُ جَسَدٌ لا رُوحَ فِيهِ.

قَالَ ابْنُ حبان: لا أصل له.

48 - حديث: "إِنَّ الرَّجُلَيْنِ مِنْ أُمَّتِي لَيَقُومَانِ إِلَى الصَّلاةِ فَرُكُوعُهُمَا وَسُجُودُهُمَا وَاحِدٌ وَإِنَّ مَا بَيْنَ صَلاتَيْهِمَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ.

قَالَ فِي المختصر: موضوع.

49 - حديث: "الصَّلاةُ عِمَادُ الدِّينِ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ هَدَمَ الدِّينَ.

ضَعَّفَهُ الْفِيرُوزَبَادِيُّ في المختصر وكذا السخاوي.

50 - حديث: "مَنْ أَعَانَ تَارِكَ الصَّلاةِ بِلُقْمَةٍ فَكَأَنَّمَا أَعَانَ عَلَى قَتْلِ الأَنْبِيَاءِ كلهم.

--------------------------------------------

(1) اسمه محمد بن عبد الله بن زياد الأنصاري، دجال، وهوصاحب خبر هامة بن الهيثم. قال في الميزان: وله طامات منها......) ذكر هذا الخبر ثم قال (رواه بقلة حياء عن حميد الطويل عن أنس مرفوعا ً) والخبر في الذيل من طريق الديملي عن هذا الخبيث عن مالك بن دينار عن أنس مرفوعاً، وله ترجمة في التهذيب.
৪৫ - হাদিস: "যে ব্যক্তি আল্লাহর ঘরসমূহের (মসজিদ) মধ্য থেকে কোনো একটি ঘর পরিষ্কার করবে, সে যেন চারশত হজ করল, চারশত দাস মুক্ত করল, চারশত দিন রোজা রাখল এবং চারশত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করল।"

এর সনদে: আবু সালামাহ (১) রয়েছেন, যিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে এমন সব বর্ণনা করেন যা তাদের হাদিসে নেই, আর জাল হওয়ার লক্ষণসমূহ এর ওপর সুস্পষ্ট।

৪৬ - হাদিস: "হে বারীরাহ: তুমি বৃহস্পতিবার দিন মসজিদ ঝাড়ু দিয়ো; কেননা যে ব্যক্তি বৃহস্পতিবার দিন মসজিদ থেকে চোখের ধুলিকণা পরিমাণ ময়লা বের করবে, তা একটি দাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে।"

এর সনদে: হুসাইন ইবনুল আলওয়ান রয়েছেন, যিনি হাদিস জাল করতেন।

৪৭ - হাদিস: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন প্রত্যক্ষকারী মনে করত যে তিনি একটি প্রাণহীন দেহ।"

ইবনে হিব্বান বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি নেই।

৪৮ - হাদিস: "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের দু'জন ব্যক্তি সালাতে দাঁড়ায় যাদের রুকু ও সাজদাহ একই রকম হয়, অথচ তাদের দুই সালাতের (মর্যাদাগত) পার্থক্য আকাশ ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়।"

মুখতাসার গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি জাল।

৪৯ - হাদিস: "সালাত হলো দ্বীনের খুঁটি, সুতরাং যে ব্যক্তি তা বর্জন করল সে দ্বীনকে ধ্বংস করল।"

আল-ফিরোজাবাদি মুখতাসার গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন এবং সাখাভিও তদ্রূপ বলেছেন।

৫০ - হাদিস: "যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগকারীকে এক লোকমা খাবার দিয়ে সাহায্য করল, সে যেন সকল নবীকে হত্যার কাজে সাহায্য করল।"

--------------------------------------------

(১) তার নাম মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ আল-আনসারি; সে একজন চরম মিথ্যাবাদী, এবং সে হামাহ ইবনুল হাইসাম সংক্রান্ত খবরের বর্ণনাকারী। আল-মিজান গ্রন্থে বলা হয়েছে: তার অনেক মারাত্মক আপত্তিকর বর্ণনা রয়েছে যার মধ্যে এটি একটি......) এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর তিনি বলেন (সে নির্লজ্জভাবে হুমাইদ আত-তাবীল থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছে)। আর আদ-দাইলমির সূত্রে 'যাইল' গ্রন্থে এই খবিস থেকে, সে মালিক ইবনে দিনার থেকে এবং তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণিত হয়েছে। আত-তাহযীব গ্রন্থে তার জীবনী রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قَالَ السُّيُوطِيُّ فِي الذَّيْلِ: مَوْضُوعٌ.

51 - حديث: "نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وآله وسلم عَنِ الْبُتَيْرَاءِ: أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ وَاحِدَةً.

قَالَ فِي الْمَقَاصِدِ: فِي سَنَدِهِ مَنْ غَلَبَهُ الْوَهْمُ.

وَقَالَ النَّوَوِيُّ: مُرْسَلٌ ضَعِيفٌ.

52 - حديث: "التَّكْبِيرُ جَزْمٌ.

قَالَ فِي الْمَقَاصِدِ: لا أَصْلَ لَهُ فِي الْمَرْفُوعِ وَإِنَّمَا هُوَ مِنْ قَوْلِ النَّخَعِيِّ.

53 - حديث: "صَلاةُ النَّهَارِ عَجْمَاءُ.

قَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ: إِنَّمَا هُوَ قَوْلُ بَعْضِ الْفُقَهَاءِ. وَقَالَ النَّوَوِيُّ: بَاطِلٌ لا أَصْلَ له.

54 - حديث: "كَانَ لا يَجْلِسُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم أَحَدٌ وَهُوَ يُصَلِّي إِلا خَفَّفَ صَلاتَهُ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ فَقَالَ: أَلَكَ حَاجَةٌ؟ فَإِذَا فَرَغَ مِنْ حَاجَتِهِ عَادَ إِلَى صَلاتِهِ.

قَالَ فِي المختصر. لم يوجد.

55 - حديث: "لَيْسَ السَّارِقُ الَّذِي يَسْرِقُ ثِيَابَ النَّاسِ إِنَّمَا السَّارِقُ الَّذِي يَسْرِقُ الصلاة يلقطها الطير كما يلقط الحب من الأرض.

مَوْضُوعٍ ذَكَرَهُ السُّيُوطِيُّ فِي الذَّيْلِ.

56 - حديث: "لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي الصَّفِّ الأَوَّلِ وَالأَذَانِ وَخِدْمَةِ الْقَوْمِ فِي السَّفَرِ لاقْتَرَعُوا عَلَيْهِ.

قَالَ فِي الذَّيْلِ: مِنْ أَبَاطِيلِ إِسْحَاقَ الملطي.

57 - حديث: "مَنْ أَدَّى فَرِيضَةً فَلَهُ عِنْدَ الله دعوة مستجابة.

موضوع.

58 - حديث: "مَنْ صَلَّى صَلاةً لَمْ يَدْعُ فِيهَا لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ فَصَلاتُهُ خِدَاجٌ.
সুয়ূতী 'আয-যাইল' গ্রন্থে বলেছেন: এটি বানোয়াট।

৫১ - হাদীস: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম 'বুতাইরা' থেকে নিষেধ করেছেন: তা হলো কোনো ব্যক্তির এক রাকাত নামাজ পড়া।"

‘আল-মাকাসিদ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর সনদে এমন ব্যক্তি রয়েছে যার ওপর বিভ্রান্তি প্রবল হয়েছে।

এবং নববী বলেছেন: এটি মুরসাল যঈফ।

৫২ - হাদীস: "তাকবীর জাযম হবে (অর্থাৎ দীর্ঘ না করে সংক্ষেপে সাকিনের সাথে বলতে হবে)।"

‘আল-মাকাসিদ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: মারফূ‘ হিসেবে এর কোনো ভিত্তি নেই, বরং এটি কেবল ইবরাহীম নাখঈ-এর উক্তি মাত্র।

৫৩ - হাদীস: "দিনের নামাজ হলো নিঃশব্দ।"

দারাকুতনী বলেছেন: এটি মূলত কিছু ফকীহগণের উক্তি। এবং নববী বলেছেন: এটি বাতিল, এর কোনো ভিত্তি নেই।

৫৪ - হাদীস: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম নামাজ পড়া অবস্থায় কেউ তাঁর কাছে বসলে তিনি তাঁর নামাজ সংক্ষেপ করতেন এবং তার দিকে ফিরে বলতেন: তোমার কি কোনো প্রয়োজন আছে? অতঃপর যখন সে তার প্রয়োজন শেষ করত, তিনি পুনরায় নামাজে ফিরে যেতেন।"

‘আল-মুখতাসার’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি পাওয়া যায়নি।

৫৫ - হাদীস: "সেই ব্যক্তি চোর নয় যে মানুষের কাপড় চুরি করে, বরং প্রকৃত চোর সে যে নামাজ চুরি করে; সে পাখির মতো দ্রুত ঠোকর দিয়ে নামাজ পড়ে, যেমন পাখি মাটি থেকে দানা তুলে নেয়।"

এটি বানোয়াট; সুয়ূতী ‘আয-যাইল’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

৫৬ - হাদীস: "মানুষ যদি জানত প্রথম কাতার, আযান এবং সফরে কওমের (সাথীদের) সেবার মধ্যে কী (ফযীলত) রয়েছে, তবে তারা এর জন্য লটারি করত।"

‘আয-যাইল’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি ইসহাক আল-মালাতীর মিথ্যাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

৫৭ - হাদীস: "যে ব্যক্তি কোনো ফরজ ইবাদত আদায় করল, আল্লাহর নিকট তার একটি কবুলযোগ্য দোয়া রয়েছে।"

বানোয়াট।

৫৮ - হাদীস: "যে ব্যক্তি এমন নামাজ পড়ল যাতে মুমিন নর-নারীদের জন্য দোয়া করেনি, তার সেই নামাজ ত্রুটিপূর্ণ।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فِي إِسْنَادِهِ: نُوحُ بْنُ ذَكْوَانَ وَلَيْسَ بِشَيْءٍ وَفِيهِ أَيْضًا: مَتْرُوكٌ.

59 - حديث: "صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فَلَمْ يَكُونُوا يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ إِلا عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلاةِ".

رَوَاهُ الْحَاكِمُ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ مرفرعاً وَهُوَ مَوْضُوعٌ.

وَالْمُتَّهَمُ بِهِ: مُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ الْيَمَامِيُّ.

وَقَالَ السُّيُوطِيُّ في اللآلىء: لَهُ طَرِيقٌ أُخْرَى (1) أَخْرَجَهَا أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَحَسَنَةُ وَابْنُ حَزْمٍ وَصَحَّحَهُ. وَقَدْ ضَعَّفَهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ وَالْبُخَارِيُّ.

وَقَالَ النَّوَوِيُّ فِي الْخُلاصَةِ: اتَّفَقُوا عَلَى تَضْعِيفِ هَذَا الْحَدِيثِ. انْتَهَى.

وَقَدْ عَارَضَهُ أَحَادِيثُ مُتَواِتَرٌة عَنْ نَحْوِ عِشْرِينَ صَحَابِيًّا وَالْمُثْبِتُ مُقَدَّمٌ عَلَى النَّافِي عَلَى فَرْضِ صَلاحِيَةِ هَذَا الْحَدِيثِ الْفَرْدُ لِلاعْتِبَارِ فَكَيْفَ وَهُوَ كَمَا تَرَى؟

60 - حديث: "مَنْ رَفَعَ يَدَيْهِ فِي الصَّلاةِ فَلا صَلاةَ لَهُ".

رَوَاهُ الْجَوْزَقَانِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا وَهُوَ مَوْضُوعٌ.

وَالْمُتَّهَمُ بِهِ: مَأْمُونُ بْنُ أحمد السلمي.

61 - حديث: "مَنْ رَفَعَ يَدَهُ فِي الرُّكُوعِ فَلا صَلاةَ لَهُ".

رَوَاهُ الْجَوْزَقَانِيُّ عَنْ أَنَسٍ مَرْفُوعًا وَهُوَ مَوْضُوعٌ.

وَالْمُتَّهَمُ بِهِ: مُحَمَّدُ بْنُ عُكَّاشَةَ الكرماني.

62 - حديث: "لَمَّا نَزَلَتْ: (إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ فصل لربك وانحر)

--------------------------------------------

(1) بلفظ آخر وفيه اختلاف. وقد بسطت الكلام فيه في كتابي (البحث مع الحنيفة، في سبع عشرة قضية)
এর সনদে নূহ ইবনে জাকওয়ান রয়েছেন, যিনি নির্ভরযোগ্য নন এবং এতে একজন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীও রয়েছেন।

৫৯ - হাদীস: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর এবং উমরের সাথে সালাত আদায় করেছি; তাঁরা সালাত শুরু করার সময় ব্যতীত হাত তুলতেন না।"

হাকিম এটি ইবনে মাসউদ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি জাল।

এর জন্য অভিযুক্ত বর্ণনাকারী হলেন: মুহাম্মাদ ইবনে জাবির আল-ইয়ামামী।

সুয়ুতী 'আল-লাআলী' গ্রন্থে বলেছেন: এর অন্য একটি সূত্র (১) রয়েছে যা আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে হাসান বলেছেন এবং ইবনে হাজম একে সহীহ বলেছেন। অথচ ইবনুল মুবারক, আহমাদ এবং বুখারী একে যয়ীফ বা দুর্বল বলেছেন।

নববী 'আল-খুলাসা' গ্রন্থে বলেছেন: তাঁরা এই হাদীসটিকে দুর্বল বলার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সমাপ্ত।

আর এটি প্রায় বিশজন সাহাবী থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতির হাদীসসমূহের বিরোধী। আর যদি তর্কের খাতিরে এই একক হাদীসটিকে গ্রহণযোগ্য বলে ধরেও নেওয়া হয়, তবুও নেতিবাচক প্রমাণের চেয়ে ইতিবাচক প্রমাণ অগ্রাধিকারযোগ্য; তাহলে এই হাদীসের অবস্থা তো আপনি দেখতেই পাচ্ছেন?

৬০ - হাদীস: "যে ব্যক্তি সালাতে হাত উঠালো, তার কোনো সালাত নেই।"

জাওযাকানী এটি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি জাল।

এর জন্য অভিযুক্ত বর্ণনাকারী হলেন: মামুন ইবনে আহমাদ আস-সুলামী।

৬১ - হাদীস: "যে ব্যক্তি রুকুতে হাত উঠালো, তার কোনো সালাত নেই।"

জাওযাকানী এটি আনাস থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি জাল।

এর জন্য অভিযুক্ত বর্ণনাকারী হলেন: মুহাম্মাদ ইবনে উকাশা আল-কিরমানি।

৬২ - হাদীস: "যখন অবতীর্ণ হলো: (নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি, অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং নহর করুন/কুরবানী করুন)

--------------------------------------------

(১) অন্য শব্দে এবং এতে মতভেদ রয়েছে। আমি আমার কিতাব 'আল-বাহাসু মাআল হানাফিয়্যাহ ফি সাবআ আশরাতা কাজিয়্যাহ' (হানাফীদের সাথে সতেরোটি বিষয়ে আলোচনা) গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وآله وسلم يَا جِبْرِيلُ: مَا هَذِهِ النَّحِيرَةُ الَّتِي أَمَرَنَا بِهَا رَبُّنَا عز وجل؟ قَالَ: لَيْسَتْ بِنَحِيرَةٍ وَلَكِنَّهُ يَأْمُرُكَ إِذَا أَحْرَمْتَ بِالصَّلاةِ أَنْ تَرْفَعَ يَدَيْكَ إِذَا كَبَّرْتَ وَإذَا ركَعْتَ وَإِذَا رَفَعْتَ رأسك من الركوع _ إلخ".

رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ عَنِ عَلِيٍّ مَرْفُوعًا وَهُوَ مَوْضُوعٌ لا يُسَاوِي شَيْئًا.

قَالَ السُّيُوطِيُّ: قَدْ أَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ وَالْبَيْهَقِيُّ.

وَقَالَ ابْنُ حَجَرٍ: إِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ جداً (1) .

--------------------------------------------

(1) لم يصححه الحاكم، وبين الذهبي حاله.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “হে জিবরীল, এই ‘নাহীরা’ কী যার নির্দেশ আমাদের মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালক আমাদের দিয়েছেন?” তিনি বললেন: “এটি কুরবানি নয়; বরং তিনি আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আপনি যখন সালাত শুরু করবেন, তখন তাকবীর বলার সময়, রুকু করার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় আপনার হাত দুটি উত্তোলন করবেন—ইত্যাদি।”

ইবনে হিব্বান আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে এটি বানোয়াট (মাওযূ) এবং এর কোনো ভিত্তি বা মূল্য নেই।

সুয়ূতী বলেছেন: হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে এবং বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হাজার বলেছেন: এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (১)।

--------------------------------------------

(১) হাকেম একে সহীহ বলেননি এবং যাহাবী এর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করেছেন।