(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: -)
الإقناع في حجية الإجماع القسم: أصول الفقه
الكتاب: الإقناع في حجية الإجماع
المؤلف: د. عبد العزيز بن ريس الريس
الناشر: مركز سطور للبحث العلمي، دار الإمام مسلم للنشر والتوزيع- المدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1440 هـ
عدد الصفحات: 85
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 30 رمضان 1442
আল-ইকনা ফি হুজজিয়াতিল ইজমা বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)
গ্রন্থ: আল-ইকনা ফি হুজজিয়াতিল ইজমা
লেখক: ড. আবদুল আজিজ বিন রাইস আল-রাইস
প্রকাশক: সুতুর সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চ، দারুল ইমাম মুসলিম পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন- মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪০ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ রমজান ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
سلام عليكم ورحمة الله وبركاته
أما بعد: فهذا تفريغ
(1) لدرس "حجية الإجماع وكشف بعض الشبهات"، الذي ألقيتُه ليلة الرابع والعشرين من شهر جمادى الآخرة لعام ثمان وثلاثين وأربعمائة وألف من هجرة النَّبِيّ - صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم -.
وتظهر أهمية هذا الدرس في حرص أهل البدع قديمًا وحديثًا في رد دليلٌ الإجماع أو إضعافه، وفي المقابل إهمال كثير من طلاب العلم لهذا الدليل المهم عمليًا.
لذا قمت بمراجعة المادة المفرَّغة وتنقيحها لتخرج في هذه الرسالة المكونة من مقدمة، وتمهيدٍ، وفصلين، وخاتمة وسميتها "الإقناع في حجية الإجماع"، وهي على النحو التالي:
- المقدمة: وهي التي بين يديك.
- التمهيد: أهمية الإجماع، وبعض أشياء.
- الفصل الأول: مسائل متعلقة بالإجماع، وبه ثلاث عشرة مسألة:
- المسألة الأولى: تعريف الإجماع.
--------------------------------------------
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
অতঃপর: এটি হলো "ইজমার প্রামাণিকতা এবং কিছু সংশয় নিরসন" শীর্ষক পাঠের একটি শ্রুতিলিখন
(১), যা আমি নবী —তাঁর ও তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক— এর হিজরি এক হাজার চারশত আটত্রিশ সনের চব্বিশে জুমাদিউল আখিরাত দিবাগত রাতে প্রদান করেছি।
এই পাঠের গুরুত্ব প্রতীয়মান হয় প্রাচীন ও আধুনিককালের বিদআতপন্থীদের ইজমার দলিলকে প্রত্যাখ্যান করার অথবা একে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে; আর এর বিপরীতে অনেক ইলম অন্বেষণকারী ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ দলিলের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করেন।
তাই আমি শ্রুতিলিখিত বিষয়বস্তুটি পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করেছি যাতে এটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমনিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার সম্বলিত এই পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়। আমি এর নামকরণ করেছি "আল-ইকনা ফি হুজজিয়াতিল ইজমা", যা নিম্নরূপ:
- ভূমিকা: যা আপনার সম্মুখে রয়েছে।
- উপক্রমনিকা: ইজমার গুরুত্ব এবং কিছু বিষয়।
- প্রথম অধ্যায়: ইজমা সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ, এতে তেরটি মাসআলা রয়েছে:
- প্রথম মাসআলা: ইজমার সংজ্ঞা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ৬)
- المسألة الثانية: أدلة الإجماع.
- المسألة الثالث: موقف أهل البدع من الإجماع.
- المسألة الرابعة: قسما الإجماع.
- المسألة الخامسة: الإجماع السكوتي.
- المسألة السادسة: حتمية استناد الإجماع على نص.
- المسألة السابعة: حجية الإجماع قبل الخلاف وبعده.
- المسألة الثامنة: ضابط القول الشاذ.
- المسألة التاسعة: حجية إجماع أهل كل فن في فنِّهم.
- المسألة العاشرة: شرطية انقراض العصر في الإجماع.
- المسألة الحادية العشرة: لا يجوز في الشريعة إحداث قول جديد.
- المسألة الثانية عشرة: طريقة معرفة الإجماع.
- المسألة الثالثة عشرة: الإجماع دليلٌ كاشف.
- الفصل الثاني: إشكالات على دليلٌ الإجماع، وبه أربع وعشرون شبهةً وتوجيهها:
- الشبهة الأولى: رد الإجماع بزعم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سلفه.
- الشبهة الثانية: رد الإجماع بزعم أن الصحابي راوي الحديث سلفه.
- الشبهة الثالثة: رد الإجماع بزاعم أنَّه ليس من المجمعين.
- الشبهة الرابعة: رد الإجماع بحجة ثبوت خرم إجماعات مدعاة.
- الشبهة الخامسة: رد الإجماع لمخالفة بعض العلماء إجماعات الصحابة.
- الشبهة السادسة: رد الإجماع بحجة وجود كثير من الفقهاء المتأخرين لا يعتد بالإجماع السكوتي.
- দ্বিতীয় মাসআলা: ঐক্যমত্যের (الإجماع) প্রমাণসমূহ।
- তৃতীয় মাসআলা: ঐক্যমত্যের (الإجماع) ব্যাপারে বিদআতিদের (أهل البدع) অবস্থান।
- চতুর্থ মাসআলা: ঐক্যমত্যের (الإجماع) দুই প্রকার।
- পঞ্চম মাসআলা: মৌন ঐক্যমত্য (الإجماع السكوتي)।
- ষষ্ঠ মাসআলা: ঐক্যমত্য (الإجماع) কোনো অকাট্য প্রমাণের (نص) ওপর ভিত্তি করা অনিবার্য হওয়া।
- সপ্তম মাসআলা: মতভেদের (خلاف) আগে ও পরে ঐক্যমত্যের (الإجماع) প্রামাণিকতা (حجية)।
- অষ্টম মাসআলা: বিচ্যুত (شاذ) মতের মানদণ্ড।
- নবম মাসআলা: নিজ নিজ শাস্ত্রে পারদর্শীদের ঐক্যমত্যের (الإجماع) প্রামাণিকতা (حجية)।
- দশম মাসআলা: ঐক্যমত্যের (الإجماع) ক্ষেত্রে যুগের অবসানের (انقراض العصر) শর্তযুক্ত হওয়া।
- একাদশ মাসআলা: শরিয়তে কোনো নতুন মতের উদ্ভব ঘটানো বৈধ নয়।
- দ্বাদশ মাসআলা: ঐক্যমত্য (الإجماع) জানার পদ্ধতি।
- ত্রয়োদশ মাসআলা: ঐক্যমত্য (الإجماع) একটি উন্মোচনকারী দলিল (دليل كاشف)।
- দ্বিতীয় অধ্যায়: ঐক্যমত্যের (الإجماع) দলিলের ওপর আপত্তিসমূহ, যাতে চব্বিশটি সংশয় (شبهة) ও সেগুলোর নিরসন রয়েছে:
- প্রথম সংশয় (شبهة): এই দাবিতে ঐক্যমত্য (الإجماع) প্রত্যাখ্যান করা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পূর্বসূরী।
- দ্বিতীয় সংশয় (شبهة): এই দাবিতে ঐক্যমত্য (الإجماع) প্রত্যাখ্যান করা যে, হাদিস বর্ণনাকারী (راوي) সাহাবি (صحابي) তাঁর পূর্বসূরী।
- তৃতীয় সংশয় (شبهة): এই দাবিতে ঐক্যমত্য (الإجماع) প্রত্যাখ্যান করা যে, তিনি ঐকমত্য পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন।
- চতুর্থ সংশয় (شبهة): দাবিকৃত ঐক্যমত্যসমূহে (إجماعات) বিচ্যুতি প্রমাণিত হওয়ার অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করা।
- পঞ্চম সংশয় (شبهة): সাহাবিদের (صحابة) ঐক্যমত্যের (إجماعات) সাথে কোনো কোনো আলেমের বিরোধিতার কারণে তা প্রত্যাখ্যান করা।
- ষষ্ঠ সংশয় (شبهة): পরবর্তী যুগের অনেক ফকিহ (فقهاء) মৌন ঐক্যমত্যকে (الإجماع السكوتي) গণ্য করেন না—এই যুক্তিতে ঐক্যমত্য (الإجماع) প্রত্যাখ্যান করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ৭)
- الشبهة السابعة: رد الإجماع لما نسب للشافعي: «ما ليس فيه خلاف فليس إجماعًا».
- الشبهة الثامنة: رد الإجماع بحجة أن السنة حجة في ذاتها ولا تحتاج إلىعمل.
- الشبهة التاسعة: رد الإجماع بحجة أن الإجماع الذي يحتج به الإمام أحمد وشيخ الإسلام ابن تيمية هو إجماع الصحابة.
- الشبهة العاشرة: الإجماع الذي هو حجة هو المعلوم من الدين
بالضرورة دون غيره.
- الشبهة الحادية عشرة: عدم العلم بالمخالف لا يدل على
الإجماع.
- الشبهة الثانية عشرة: لا يصح الاستدلال بالإجماع في مخالفة
الدليل، لئلا نوافق أهل البدع.
- الشبهة الثالثة عشرة: رد الإجماع بحجة الإجماع الذي لا يقطع به هو من الظن.
- الشبهة الرابعة عشرة: إذا صح الحديث وجب العمل به ولو لم
يعلم من عمل به؛ لأنه حجة بلا خلاف.
- الشبهة الخامسة عشرة: ترك الحديث لعدم العلم بالمخالف
عليه المتأخرون دون المتقدمين.
- الشبهة السادسة عشرة: إذا وجد نص لم يُعمل به فلابد وأن
هناك من عمل به، ولا يلزم أن ينقل قول من عمل به.
- الشبهة السابعة عشرة: مخالفة من قوله ليس حجة مما حكي
عليه الإجماع أعذر من مخالفة من قوله حجة وهو الكتاب والسنة، فكيف تترك الحجة وهو الكتاب والسنة إلى من قوله ليس حجة؟
- সপ্তম সংশয়: ইমাম শাফেঈর প্রতি যা নিসবত করা হয়েছে তার কারণে ঐক্যমত (إجماع) প্রত্যাখ্যান করা: «যে বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই, তা ঐক্যমত (إجماع) নয়।»
- অষ্টম সংশয়: সুন্নাহ (السنة) তার নিজ সত্তায় একটি প্রমাণ (حجة) এবং এটি আমলের মুখাপেক্ষী নয়—এই যুক্তিতে ঐক্যমত (إجماع) প্রত্যাখ্যান করা।
- নবম সংশয়: ইমাম আহমাদ এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যে ঐক্যমত (إجماع)-কে প্রমাণ (حجة) হিসেবে পেশ করেছেন তা হলো সাহাবিদের ঐক্যমত (إجماع)—এই অজুহাতে ঐক্যমত (إجماع) প্রত্যাখ্যান করা।
- দশম সংশয়: যে ঐক্যমত (إجماع) প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য, তা হলো দ্বীনের অকাট্যভাবে জ্ঞাত (المعلوم من الدين بالضرورة) বিষয়সমূহ, অন্য কিছু নয়।
- একাদশ সংশয়: ভিন্নমত পোষণকারী সম্পর্কে অবগত না হওয়া ঐক্যমত (إجماع)-এর প্রমাণ বহন করে না।
- দ্বাদশ সংশয়: বিদাতিদের (أهل البدع) সাথে সাদৃশ্য এড়াতে দলিলের (الدليل) বিপরীতে ঐক্যমত (إجماع)-এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা সঠিক নয়।
- ত্রয়োদশ সংশয়: যে ঐক্যমত (إجماع) সুনিশ্চিত (قطعي) নয় তা সংশয়াত্মক ধারণার (الظن) অন্তর্ভুক্ত—এই যুক্তিতে ঐক্যমত (إجماع) প্রত্যাখ্যান করা।
- চতুর্দশ সংশয়: যখন হাদিস সহিহ (صحيح) হবে, তখন তার ওপর আমল করা ওয়াজিব, যদিও তার ওপর কে আমল করেছেন তা জানা না থাকে; কারণ এটি বিনাতর্কে একটি প্রমাণ (حجة)।
- পঞ্চদশ সংশয়: ভিন্নমত সম্পর্কে না জানার কারণে হাদিস বর্জন করা পরবর্তী যুগের আলিমদের (المتأخرون) কাজ, পূর্ববর্তী আলিমদের (المتقدمون) নয়।
- ষোড়শ সংশয়: যদি এমন কোনো নস (نص) পাওয়া যায় যার ওপর আমল করা হয়নি, তবে অবশ্যই সেখানে এমন কেউ আছেন যিনি এর ওপর আমল করেছেন এবং আমলকারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করা আবশ্যক নয়।
- সপ্তদশ সংশয়: যার কথা প্রমাণ (حجة) নয় এমন ব্যক্তির বিরোধিতা করা—যার ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) বর্ণিত হয়েছে—কিতাব ও সুন্নাহর (السنة) বিরোধিতার চেয়ে অধিক গ্রহণযোগ্য। সুতরাং কীভাবে কিতাব ও সুন্নাহর মতো প্রমাণ (حجة) ছেড়ে দিয়ে এমন ব্যক্তির দিকে যাওয়া যায় যার কথা প্রমাণ (حجة) নয়?
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ৮)
- الشبهة الثامنة عشرة: أن طائفة من أهل العلم قالوا أقوالاً لم
يسبقوا إليها فدل هذا على جواز إحداث قول جديد.
- الشبهة التاسعة عشرة: رد الإجماع بحجة قول إسحاق ابن راهويه في مسألة:
… ما ظننت أن أحدًا يوافقني.
- الشبهة العشرون: درج العلماء على تقديم الكتاب والسنة على
الإجماع، وعليه إذا تعارض النص والإجماع قُدِّم النص.
- الشبهة الحادية والعشرون: لا إجماع في علوم الآلة لأنه لا
نصوص فيها ولا إجماع إلا وهو مستند على نص.
- الشبهة الثانية والعشرون: حقيقة مخالفة التابعي للصحابي
إحداث قول جديد.
- الشبهة الثالثة والعشرون: تقديم الكتاب والسنة على الإجماع
الظني دون القطعي.
- الشبهة الرابعة والعشرون: رد الإجماع بحجة أن النووي قال: إن
النص يعمل به ولو لم يعمل به أحد.
- الخاتمة.
والله أسأل أن يتقبل هذه الرسالة، وأن يجعلها نافعةً لخلقه، مقبولةً عنده سبحانه.
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
د. عبد العزيز بن ريس الريس
المشرف على موقع الإسلام العتيق
18/ 4/ 1439 هـ
- আঠারোতম সংশয় (الشبهة): আলেমদের একটি দল এমন কিছু কথা বলেছেন যা ইতিপূর্বে কেউ বলেনি, যা একটি নতুন মত প্রবর্তনের বৈধতা নির্দেশ করে।
- ঊনিশতম সংশয় (الشبهة): জনৈক আলেম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর এই বক্তব্যের দোহাই দিয়ে ঐক্যমত্যকে (الإجماع) প্রত্যাখ্যান করা যে:
… আমি ভাবিনি যে কেউ আমার সাথে একমত হবে।
- বিশতম সংশয় (الشبهة): আলেমগণ কিতাব ও সুন্নাহকে ঐক্যমত্যের (الإجماع) ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি অনুসরণ করেছেন; সেই অনুযায়ী যদি দলিল (النص) ও ঐক্যমত্যের (الإجماع) মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তবে দলিলকেই (النص) অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
- একুশতম সংশয় (الشبهة): সহায়ক শাস্ত্রসমূহে (علوم الآلة) কোনো ঐক্যমত্য (الإجماع) নেই, কারণ সেখানে কোনো দলিল (النصوص) নেই; আর দলিল (النص) ব্যতিরেকে কোনো ঐক্যমত্য (الإجماع) হয় না।
- বাইশতম সংশয় (الشبهة): সাহাবীর বিপরীতে তাবেয়ীর ভিন্নমত পোষণের বাস্তবতা হলো একটি নতুন মতের প্রবর্তন।
- তেইশতম সংশয় (الشبهة): সুনিশ্চিত (القطعي) ঐক্যমত্যের বিপরীতে ধারণাপ্রসূত (الظني) ঐক্যমত্যের (الإجماع) ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহকে অগ্রাধিকার প্রদান করা।
- চব্বিশতম সংশয় (الشبهة): ইমাম নববীর এই উক্তির দোহাই দিয়ে ঐক্যমত্যকে (الإجماع) প্রত্যাখ্যান করা যে: দলিল (النص) অনুযায়ী আমল করা হবে, যদিও কেউ তা পালন না করে থাকে।
- উপসংহার।
আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই রিসালাহটি কবুল করেন এবং একে তাঁর সৃষ্টির জন্য উপকারী ও তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্য করেন।
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
ড. আব্দুল আজিজ বিন রাইস আল-রাইস
আল-ইসলাম আল-আতিক ওয়েবসাইটের তত্ত্বাবধায়ক
১৮/ ৪/ ১৪৩৯ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ৯)
تمهيد
قبل الولوج في لُبِّ هذا البحث ينبغي أن نعلم أن دليل الإجماع من أهم الأدلة عند علماء أهل السُّنة، «وعليه مَدَارُ مُعظمِ الأحكَامِ في الفَرْقِ والجَمْعِ، وإليه استنادُ المقاييسِ والعِبَرِ، وبه اعتضَادُ الاستِنبَاطِ في طُرُقِ الفِكَرِ»
(1).
وتتجلى تلك الأهمية للإجماع عند النظر إلى كثير من أدلة الكتاب والسنة التي إذا أوردت في كثير من المسائل يعترض عليها كثير من المخالفين؛ بأنها ليست قطيعة في دلالتها بل تحتمل كذا وكذا
… ويأخذون في تنويع المشارب وتعديد المذاهب؛ لذا كان من
أنفع ما يحفظ عقيدة ومنهج أهل السنة: هو فهم السلف في الإفهام والتفهيم، والأخذ والرد، والنفي والإثبات، والتأصيل والتقعيد
… وما إلى ذلك.
وفهم السلف: صورة من صور الإجماع؛ لذا ضبط الإجماع مهم للغاية وكذا الاعتناء به؛ حتى يُحفظ معتقد أهل السنة ويُصان عن تلك الهالة المسماة «قطعي وظني الدلالة»، تلك الهالة التي قَلَبَتِ الإسلامَ رأسًا على عقب وظهرًا لبطنٍ، حيث يردُّ أولئك المتكلمون كثيرًا من الأدلة الظاهرة الواضحة بزعمهم أنها ليست قطعيةً في دلالتها أو أنَّها ظنيَّةٌ في ثبوتيَّتِها.
وليس معنى هذا أننا ننكر ما اصطُلح عليه بـ «قطعي الدلالة وظني الدلالة»، وإنما هو إيراد في مقام الرد على المتكلمين الذين ردوا الأدلة بحجة أنها ظنية في دلالتها أو ظنية في ثبوتها، - فمثلًا - يرد المتكلمون خبر الآحاد بحجة أنه ليس قطعيًا في ثبوته، فإذا أتيتَ لهم بالقطعي في ثبوته كالخبر المتواتر من السنة النبوية أو من القرآن: أثارَ أولئك القوم زوبعتَهم ليشككوا في دلالته، ومن ثَمَّ يرفضون الاحتجاج به
… وهكذا هو دأبهم.
--------------------------------------------
ভূমিকা
এই গবেষণার মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে আমাদের জানা উচিত যে, আহলুস সুন্নাহর আলেমগণের নিকট ইজমা (الإجماع) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। “বেশিরভাগ বিধি-বিধানের পার্থক্য ও সমন্বয়ের ভিত্তি হলো এর ওপর, পরিমাপ ও শিক্ষা এর ওপরই নির্ভরশীল এবং চিন্তার পথসমূহে এটিই গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন (استنباط)-কে শক্তিশালী করে।”
(১).
কুরআন ও সুন্নাহর বহু দলিলের প্রতি লক্ষ্য করলে ইজমার (الإجماع) এই গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ অনেক মাসআলার ক্ষেত্রে যখন সেই দলিলগুলো উপস্থাপন করা হয়, তখন বিরোধীদের অনেকে সেগুলোর বিরোধিতা করে এই দাবি তোলে যে, এগুলো অর্থবোধকতার দিক থেকে অকাট্য (قطعي) নয়, বরং এতে এই এই সম্ভাবনা রয়েছে... তারা নানা মত ও পথের সৃষ্টি করে। তাই আহলুস সুন্নাহর আক্বিদা ও মানহাজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যা সবচেয়ে বেশি উপকারী, তা হলো:
বোঝাপড়া, গ্রহণ ও বর্জন, অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতি এবং মূলনীতি ও নিয়মাবলি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সালাফদের (السلف) বুঝ অনুসরণ করা... ইত্যাদি।
সালাফদের (السلف) বুঝ হলো ইজমার (الإجماع) একটি রূপ। তাই ইজমার (الإجماع) নির্ভুলতা বজায় রাখা এবং এর প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যাতে আহলুস সুন্নাহর বিশ্বাস সংরক্ষিত থাকে এবং ‘অকাট্য (قطعي) ও ধারণাপ্রসূত (ظني) অর্থবোধকতা’ নামক সেই মায়াজাল থেকে রক্ষা পায়। এই মায়াজাল ইসলামকে আমূল উল্টে দিয়েছে, যেখানে মুতাকাল্লিমগণ (المتكلمون) অনেক সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য দলিলকে এই অজুহাতে প্রত্যাখ্যান করে যে, সেগুলো অর্থবোধকতার দিক থেকে অকাট্য (قطعي) নয় অথবা সেগুলো সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে ধারণাপ্রসূত (ظني)।
এর অর্থ এই নয় যে, আমরা ‘অকাট্য (قطعي) ও ধারণাপ্রসূত (ظني)’ পরিভাষাটিকে অস্বীকার করছি। বরং এটি সেই মুতাকাল্লিমদের (المتكلمون) জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আনা হয়েছে, যারা দলিলগুলোকে ধারণাপ্রসূত (ظني) হওয়ার অজুহাতে প্রত্যাখ্যান করেছে। উদাহরণস্বরূপ, মুতাকাল্লিমগণ একক বর্ণনাকে (خبر الآحاد) প্রত্যাখ্যান করে এই অজুহাতে যে, এটি সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে অকাট্য (قطعي) নয়। এরপর যখন আপনি তাদের কাছে সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে অকাট্য (قطعي) কোনো দলিল উপস্থাপন করবেন—যেমন সুন্নাহ বা কুরআন থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতির (متواتر) সংবাদ—তখন সেই লোকেরা এর অর্থগত বিষয়ে সংশয় তৈরির জন্য হৈচৈ শুরু করে এবং পরিণামে সেটি দ্বারা দলিল গ্রহণ করতে অস্বীকার করে... এভাবেই তাদের কর্মধারা চলতেই থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ১০)
فتقسيم الأدلة إلى قطعي وظني من حيث هو تقسيم لا إشكال فيه؛ إذ هو واقع ماله من دافع، ولا يصح أن يرد وإنما الواجب أن لا يستعمل هذا التقسيمُ استعمالا إبليسيًّا في رد الأدلة ورفضها.
إذا تبين هذا فلتعلمْ أن من أهم ما يضبط هذا الأمر هو الإجماع؛ لأن مزية دليل الإجماع أنه قاطع في دلالته، كما نص على هذا الغزالي في «المستصفى»
(1)، وابن قدامة في «روضة الناظر»
(2) ونقله الزركشي في «البحر المحيط»
(3) والشوكاني في «إرشاد الفحول»
(4) عن الصيرفي وابن برهان والأصفهاني بل صرح الأصفهاني أنه المشهور.
ومعنى أنه قاطع في دلالته أمران:
الأمر الأول: أن دلالته لا تحتمل أكثر من وجه.
الأمر الثاني: أنه لا يصح أن ينسخ؛ لأن الإجماع لم يكن إلا بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم، فإذن لا يمكن أن ينسخ، بل العكس صحيح على الصحيح، فإنَّ الإجماع يدل على نسخ الأدلة؛ لأنه مستند على نص وليس هو الناسخ في نفسه
(5).
--------------------------------------------
দলীলসমূহকে অকাট্য (قطعي) এবং ধারণাপ্রসূত (ظني) হিসেবে বিভাজন করার বিষয়টি এমন একটি বিভাজন যাতে কোনো সংশয় নেই; কারণ এটি একটি বাস্তব সত্য যাকে প্রতিহত করার উপায় নেই এবং একে প্রত্যাখ্যান করাও সঠিক নয়। বরং আবশ্যিক বিষয় হলো, দলীলসমূহ প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করার ক্ষেত্রে এই বিভাজনকে শয়তানি পন্থায় ব্যবহার না করা।
এটি যখন স্পষ্ট হলো, তখন জেনে রাখুন যে, এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ঐকমত্য (إجماع); কারণ ঐকমত্যের (إجماع) দলীলের বৈশিষ্ট্য হলো এটি এর নির্দেশনায় অকাট্য (قاطع)। যেমনটি গাজালী 'আল-মুস্তাসফা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন
(1), ইবনে কুদামা 'রাওদাতুন নাজির' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন
(2) এবং যারকাশি 'আল-বাহরুল মুহিত' গ্রন্থে
(3) ও শাওকানি 'ইরশাদুল ফুহুল' গ্রন্থে
(4) আস-সাইরাফি, ইবনুল বুরহান এবং আল-আসফাহানি থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন; বরং আল-আসফাহানি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এটিই প্রসিদ্ধ (مشهور)।
এর নির্দেশনা অকাট্য (قاطع) হওয়ার অর্থ হলো দুটি বিষয়:
প্রথম বিষয়: এর নির্দেশনা একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না।
দ্বিতীয় বিষয়: এটি রহিত (نسخ) হওয়া সঠিক নয়; কারণ ঐকমত্য (إجماع) কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পরেই সংঘটিত হয়েছে, সুতরাং এটি রহিত (نسخ) হওয়া সম্ভব নয়। বরং সঠিক (صحيح) মতানুসারে এর বিপরীতটিই সত্য; কারণ ঐকমত্য (إجماع) দলীলসমূহের রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে; কেননা এটি কোনো একটি মূল পাঠের (نص) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, এটি নিজে সরাসরি রহিতকারী (ناسخ) নয়
(5)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأولمسائل متعلقة بالإجماع
المسألة الأولى:تعريف الإجماعلا ينبغي المبالغة في التعاريف كما هو مسلك المتكلمين الذين بالغوا في التعاريف والحدود، بحيث إنه لا يأتي أحدهم بحد إلا ويعترض عليه الآخر، بحجة أنه ليس جامعا أو ليس مانعا أو أن ألفاظه مترادفة إلى غير ذلك
(1).
وإنما المقصود من التعريف تقريب المعرف، والمقصود من الحد تقريب المحدود، أما الحد الحقيقي فهذا لا وجود له، كما بينه شيخ الإسلام رحمه الله في «مجموع الفتاوى»
(2)، فالمقصود إذن من التعريف هو معرفة المحدود.
وما كان السلف الأولون من فقهاء أهل الحديث، كمالك والشافعي وأحمد وغيرهم، يعتنون بهذه التعاريف، لذا لا تجدها في كتبهم، ولا تجدهم يعتنون بها فضلاً عن أن يبالغوا فيها، كما بينه شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى في رده على المناطقة في «مجموع الفتاوى»
(3).
فمعنى الإجماع من حيث الجملة: «أنه اتفاق مجتهدي الأمة على مسألة شرعية بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم».
وذلك أن البحث جار في المسائل الشرعية وجار في المجتهدين، والإجماع إنما يكون حجة بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদইজমা (إجماع) সংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহপ্রথম মাসআলা:ইজমার (إجماع) সংজ্ঞাসংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি করা সমীচীন নয়, যেমনটি ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) অনুসৃত পথ; যারা সংজ্ঞা ও সংজ্ঞার্থের (الحدود) ক্ষেত্রে এতটাই বাড়াবাড়ি করেছেন যে, তাদের কেউ একটি সংজ্ঞা প্রদান করলে অন্যজন তাতে এই অজুহাতে আপত্তি উত্থাপন করেন যে, সেটি ব্যাপক (جامع) নয় কিংবা অন্য বিষয় হতে প্রভাবমুক্ত (مانع) নয় অথবা এর শব্দগুলো সমার্থক—ইত্যাদি
(১)।
বস্তুত সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো সংজ্ঞায়িত বিষয়টিকে নিকটবর্তী বা সহজবোধ্য করা এবং সংজ্ঞার্থের (الحد) উদ্দেশ্য হলো সীমাবদ্ধ বিষয়টিকে নিকটবর্তী করা। পক্ষান্তরে প্রকৃত সংজ্ঞার (الحد الحقيقي) কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই, যেমনটি শাইখুল ইসলাম (রহ.) ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট বিষয়টিকে চেনা বা জানা।
আহলে হাদিসের ফকিহগণের মধ্য থেকে প্রথম যুগের সালাফগণ, যেমন: মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও অন্যান্যগণ এই সংজ্ঞাগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না। এজন্য আপনি তাদের কিতাবসমূহে এগুলোর উপস্থিতি পাবেন না এবং তারা এগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপও করতেন না, এতে অতিশয়োক্তি করা তো দূরের কথা; যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ গ্রন্থে যুক্তিবিদদের (المناطقة) খণ্ডন করতে গিয়ে বর্ণনা করেছেন
(৩)।
সারসংক্ষেপ হিসেবে ইজমার (إجماع) অর্থ হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর কোনো শারয়ি বিষয়ের ওপর এই উম্মতের মুজতাহিদগণের (مجتهدي) ঐকমত্য।"
আর এর কারণ হলো, গবেষণা কেবল শারয়ি মাসআলাসমূহ এবং মুজতাহিদদের (المجتهدين) নিয়েই পরিচালিত হয়। আর ইজমা (إجماع) কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পরেই দলিল হিসেবে গণ্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وما وقع في حياته صلى الله عليه وسلم فإنه حجة لسببين:
الأول: إما أنه اطلع عليه، فهو إقرار منه صلى الله عليه وسلم.
الثاني: أو أن الله لم ينكره، فهذا إقرار من الله، فهو حجة على الصحيح.
بل عزا ابن حجر حجيته إلى جماهير أهل العلم في كتابه «النكت على مقدمة ابن الصلاح»
(1).
ومن الأدلة على ذلك: ما أخرج مسلم من حديث جابر قَالَ: «كُنَّا نَعْزِلُ
(2)، وَالْقُرْآنُ يَنْزِلُ»
(3).
استدل على جواز العزل بأن الله لم ينكره، قال سفيان ابن عيينة: لو كان منهيا عنه لنهى عنه القرآن
(4).
إذن الإجماع: «اتفاق مجتهدي الأمة على مسألة شرعية بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم».
وقال بعض المتكلمين كأبي بكر الباقلاني
(5) والآمدي
(6) في «أصول الأحكام» أن قول العوام يعتد به في الإجماع وفاقاً وخلافاً، بمعنى إذا خالف العامة لم يصح الإجماع.
وهذا فيه نظر كبير بل هو خطأ؛ وذلك أن العوام في مسائل الشريعة تبع لأهل العلم، فإذا أجمع أهل العلم فالعوام تبع لهم ولا يصح للعامي أن يخالف. ذكره
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় যা কিছু ঘটেছে, তা দুটি কারণে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য:
প্রথমত: হয় তিনি সে সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন, ফলে তা তাঁর পক্ষ থেকে মৌনসম্মতি (إقرار) হিসেবে গণ্য।
দ্বিতীয়ত: অথবা মহান আল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেননি, ফলে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মৌনসম্মতি (إقرار); তাই এটি বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুযায়ী প্রমাণ (حجة)।
বরং ইবনে হাজার তাঁর ‘আন-নুকাতি আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ’ গ্রন্থে এর প্রামাণ্যতাকে জমহুর (جماهير) আলিমদের অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন
(১)।
এর অন্যতম দলিল হলো যা মুসলিম জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা আজল (عزل) করতাম, যখন কুরআন নাজিল হচ্ছিল»
(৩)।
আজল (عزل) জায়েজ হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে এই মর্মে যে, আল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেননি। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বলেন: যদি এটি নিষিদ্ধ হতো, তবে কুরআন অবশ্যই তা নিষেধ করত
(৪)।
সুতরাং ইজমা (الإجماع): «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর কোনো শরয়ি বিষয়ে উম্মতের মুজতাহিদগণের (مجتهدين) ঐকমত্য»।
আবু বকর আল-বাকিলানি
(৫) এবং আল-আমিদি
(৬)-এর মতো কোনো কোনো মুতাকাল্লিম (متكلمين) তাঁদের ‘উসুলুল আহকাম’ গ্রন্থে বলেছেন যে, ইজমার (الإجماع) ঐক্য বা মতভেদের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের (عوام) মতকেও গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ যদি ভিন্নমত পোষণ করে তবে ইজমা (الإجماع) সহিহ (صحيح) হবে না।
আর এ বিষয়ে বড় ধরনের আপত্তি রয়েছে, বরং এটি ভুল; কেননা শরিয়তের মাসআলাসমূহে সাধারণ মানুষ (عوام) আলিমদের অনুসারী। সুতরাং যখন আলিমগণ ইজমা (إجماع) করবেন, তখন সাধারণ মানুষ তাঁদের অনুসারী হিসেবে গণ্য হবে এবং কোনো সাধারণ মানুষের (عامي) জন্য ভিন্নমত পোষণ করা বৈধ নয়। এটি উল্লেখ করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أبو الخطاب الحنبلي في «التمهيد»
(1).
* * *
المسألة الثانية:أدلة الإجماعتنوَّعت الأدلة وتضافرت على حجية الإجماع، وإليك بعضها:
الدليل الأول:
قوله تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء: 115].
استدل بهذه الآية جمع من الأصوليين كالآمدي في كتابه «أصول الإحكام»
(2)، وابن قدامة في «الروضة»
(3)، وشيخ الإسلام ابن تيمية كما في «مجموع الفتاوى»
(4)، بل أكثر من كَتبَ في الأصول إذا أورد مسألة الإجماع أتى بهذه الآية
(5)، وقد نسب هذا الاستدلال للشافعي بعضهم
(6)، ونازع آخرون في هذا الاستدلال
(7).
--------------------------------------------
আবু আল-খাত্তাব আল-হাম্বলি তার ‘আত-তামহিদ’ গ্রন্থে
(১)।
* * *
দ্বিতীয় মাসআলাহ:ইজমার (الإجماع) দলিলসমূহইজমার (الإجماع) প্রামাণিকতার (حجية) স্বপক্ষে বিভিন্ন ও শক্তিশালী দলিল বিদ্যমান রয়েছে, নিচে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:
প্রথম দলিল:
মহান আল্লাহর বাণী: {“আর যে ব্যক্তি তার নিকট হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ (سبيل المؤمنين) ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফেরাব যেদিকে সে ফিরে যেতে চায় এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাস।”} [আন-নিসা: ১১৫]।
উসুলবিদদের (الأصوليون) এক বিরাট জামাত এই আয়াতটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেমন আমেদী তার ‘উসুলুল আহকাম’ গ্রন্থে
(২), ইবনে কুদামা ‘আর-রাওদাহ’ গ্রন্থে
(৩) এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ গ্রন্থে
(৪)। বরং উসুল শাস্ত্রের অধিকাংশ লেখকই যখন ইজমার (الإجماع) মাসআলাহ আলোচনা করেছেন, তখন তারা এই আয়াতটি উল্লেখ করেছেন
(৫)। কেউ কেউ এই দলিল গ্রহণের বিষয়টি ইমাম শাফেয়ীর দিকে নিসবত করেছেন
(৬), আবার অনেকে এই দলিল পেশ করার ব্যাপারে আপত্তি (نازع) জানিয়েছেন
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وجه الدلالة من هذه الآية: أن الله رتب العقوبة على ترك سبيل المؤمنين، فدل هذا على أن اتباع سبيل المؤمنين واجب، فإذن إذا كان المؤمنون من أهل العلم من المجتهدين على قول في هذه المسألة فإن قولهم حجة وهذا هو المقصود.
الدليل الثاني: قوله سبحانه: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59].
استدل بهذه الآية أبو الحسين
(1)، والآمدي
(2)، وشيخ الإسلام ابن تيمية كما في «مجموع الفتاوى»
(3) وغيرهم.
ووجه الدلالة: أنه يعمل مباشرة بما لم يحصل فيه نزاع بخلاف ما حصل فيه نزاع فإنه يرد للكتاب والسنة.
الدليل الثالث: قوله تعالى {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} [آل عمران: 110]
استدل بهذه الآية أبو الحسين
(4)، والآمدي
(5)، والطوفي
(6)، وشيخ الإسلام ابن تيمية
(7) وغيرهم.
ووجه الدلالة: أن الأمة إذا أجمعت على قول فإن هذا القول خير؛ لأنها أمرت به، ولو لم يكن خيرًا لوجد في الأمة من ينكر ذلك، ولا يمكن أن يُنقل لنا القول المرجوح والخطأ دون القول الراجح.
--------------------------------------------
এই আয়াত থেকে দলিলের দিকটি হলো: আল্লাহ মুমিনদের পথ বর্জন করার ওপর শাস্তি নির্ধারণ করেছেন, যা প্রমাণ করে যে মুমিনদের পথ অনুসরণ করা ওয়াজিব। সুতরাং, যদি ইলমওয়ালা মুমিনদের মধ্য থেকে মুজতাহিদ (مجتهدون) গবেষকগণ কোনো বিষয়ের ওপর একটি নির্দিষ্ট মতে উপনীত হন, তবে তাদের সেই বক্তব্য দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে; আর এটিই হলো উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।} [আন-নিসা: ৫৯]।
এই আয়াতটি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন আবুল হুসাইন
(১), আল-আমেদী
(২), এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—যেমনটি ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’
(৩)-তে বর্ণিত হয়েছে—এবং অন্যান্যগণ।
দলিলের দিকটি হলো: যে বিষয়ে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়নি সেটির ওপর সরাসরি আমল করা হবে; পক্ষান্তরে যে বিষয়ে বিরোধ দেখা দেবে, তা কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
তৃতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করো।} [আল-ইমরান: ১১০]
এই আয়াতটি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন আবুল হুসাইন
(৪), আল-আমেদী
(৫), আত-তুফী
(৬) এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ
(৭) সহ অন্যান্যগণ।
দলিলের দিকটি হলো: উম্মাহ যখন কোনো বিষয়ের ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করে, তখন সেই কথাটিই উত্তম; কারণ তাদের এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি তা উত্তম না হতো, তবে উম্মতের মধ্যে অবশ্যই এমন কাউকে পাওয়া যেত যে তা অস্বীকার করত। আর এটা সম্ভব নয় যে, অধিক গ্রহণযোগ্য (راجح) মতটি ছাড়া আমাদের কাছে কেবল ভুল এবং কম গ্রহণযোগ্য (مرجوح) মতটিই বর্ণিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الدليل الرابع: قوله تعالى {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} [البقرة: 143].
والمراد بالوسط أي العدل والخيار، فإذا أجمع العلماء على قول فهذا هو القول الحق وهو الخيار الذي يحبه الله، وقد استدل بهذه الآية أبو الحسين
(1)، والآمدي
(2)، والطوفي
(3)، وشيخ الإسلام ابن تيمية
(4) وغيرهم.
الدليل الخامس: أخرج الشيخان من حديث معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما قال: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي قَائِمَةً بِأَمْرِ اللهِ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ أَوْ خَالَفَهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللهِ وَهُمْ ظَاهِرُونَ عَلَى النَّاسِ»
(5).
وأخرجه الشيخان من حديث المغيرة بن شعبة
(6)، ومسلم من حديث جابر
(7)، وثوبان
(8)، وسعد بن أبي وقاص
(9)، وغيرهم من صحابة
(10) رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وجه الدلالة من هذا الحديث: أن الأمة إذا أجمعت على قولٍ فحتمًا ولا بد أن يكون من بينها تلك الطائفة المنصورة التي لا تكون إلا على الحق؛ فبهذا يتبين أن هذا القول حقٌ، وهذا هو المراد إذ يدل على حجية الإجماع.
--------------------------------------------
চতুর্থ দলীল: মহান আল্লাহর বাণী {এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسطاً) জাতি বানিয়েছি} [আল-বাকারাহ: ১৪৩]।
এখানে 'ওয়াসাত' (وسط) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ন্যায়পরায়ণ ও শ্রেষ্ঠ। সুতরাং আলেমগণ যখন কোনো মতের ওপর ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছান, তখন সেটিই সত্য মত এবং সেটিই সেই শ্রেষ্ঠত্ব যা আল্লাহ পছন্দ করেন। আবুল হুসাইন
(১), আমেদি
(২), তুফি
(৩), শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ
(৪) এবং অন্যান্যগণ এই আয়াত দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।
পঞ্চম দলীল: শায়খাইন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল থাকবে। যারা তাদের অপদস্থ করতে চায় অথবা তাদের বিরোধিতা করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে আর তারা মানুষের ওপর বিজয়ী থাকে»
(৫)।
শায়খাইন এটি মুগিরা ইবনে শু'বাহ
(৬) হতে বর্ণিত হাদিস থেকে এবং ইমাম মুসলিম এটি জাবির
(৭) , সাওবান
(৮), সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস
(৯) ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য সাহাবী (صحابة)
(১০) হতে বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
এই হাদিস থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি: উম্মত যখন কোনো বিষয়ের ওপর ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছে, তখন নিশ্চিতভাবেই সেই সাহায্যপ্রাপ্ত দলটি তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে যারা কেবল সত্যের ওপরই প্রতিষ্ঠিত থাকে; এর মাধ্যমেই প্রতীয়মান হয় যে, এই মতটি সত্য। আর এটিই এখানে মূল উদ্দেশ্য, যা ইজমার প্রামাণিকতা (حجية الإجماع) নির্দেশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولنفرض أن الأمة في وقت أجمعت على قول معين فقطعًا هذا القول هو الراجح وهو الذي يحبه الله؛ لأن من بين المجمعين تلك الطائفة المنصورة.
الدليل السادس: ثبت عند أحمد وغيره عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «
… ، فَمَا رَأَى الْمُسْلِمُونَ حَسَنًا، فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ حَسَنٌ، وَمَا رَأَوْا سَيِّئًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ سَيِّئٌ»
(1).
هذا دليل على حجية الإجماع كما أفاده ابن حزم
(2)، وابن القيم في «الفروسية»
(3)، والشاطبي في «الاعتصام»
(4)، وغيرهم من أهل العلم.
ورواه الخطيب البغدادي
(5) مرفوعًا عن أنس رضي الله عنه، لكنه لا يصح من حديث أنس، كما بينه ابن حزم
(6)، وابن القيم في كتابه «الفروسية»
(7)، وابن عبد الهادي فيما نقله عنه العجلوني
(8)، والعلامة الألباني
(9).
الدليل السابع: ثبت عند ابن أبي عاصم عن أبي مسعود البدري أنه قال: «عليكم بالجماعة، فإن الله لا يجمع أمة محمد صلى الله عليه وسلم على ضلالة»
(10)--------------------------------------------
ধরা যাক, উম্মাহ কোনো এক সময়ে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করল, তবে নিশ্চিতভাবেই সেই মতটিই অগ্রগণ্য (الراجح) এবং তা-ই আল্লাহ পছন্দ করেন; কারণ ঐকমত্য পোষণকারীদের মধ্যে সেই সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) বিদ্যমান।
ষষ্ঠ দলিল: আহমদ এবং অন্যান্যদের নিকট ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «
… , মুসলিমগণ যা উত্তম মনে করেন, তা আল্লাহর নিকটও উত্তম। আর তারা যা মন্দ মনে করেন, তা আল্লাহর নিকটও মন্দ»
(১)।
এটি ঐকমত্যের প্রামাণিকতার (حجية الإجماع) ওপর একটি দলিল, যেমনটি ইবনে হাজম
(২), 'আল-ফুরুসিয়্যাহ' গ্রন্থে ইবনুল কাইয়্যিম
(৩), 'আল-ইতিসাম' গ্রন্থে আশ-শাতিবি
(৪) এবং ইলম অর্জনকারী অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন।
খতিব আল-বাগদাদি
(৫) এটি আনাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আনাসের হাদিস হিসেবে এটি সহিহ (صحيح) নয়; যেমনটি ইবনে হাজম
(৬), ইবনুল কাইয়্যিম তার 'আল-ফুরুসিয়্যাহ'
(৭) গ্রন্থে, ইবনে আব্দুল হাদি—যা তার থেকে আল-আজলুনি
(৮) উদ্ধৃত করেছেন—এবং আল্লামা আলবানি
(৯) স্পষ্ট করেছেন।
সপ্তম দলিল: ইবনে আবি আসিম-এর নিকট আবু মাসউদ আল-বাদরি থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «তোমরা জামায়াতের ওপর অবিচল থাকো, কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতকে ভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর একত্রিত করবেন না»
(১০)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هذا نص في حجية الإجماع وقد جاء مرفوعًا
(1)، والأصح -والله أعلم-أنه لا يصح مرفوعًا، وإنما يصح من كلام أبي مسعود البدري رضي الله عنه،
… إلى غير ذلك من الأدلة.
* تنبيه: استدل بعض الأصوليين بأدلة لا دلالة فيها على حجية الإجماع، ومن ذلك:
1 - أنهم استدلوا بالأدلة التي تدل على أن لزوم الجماعة واجب وأن من خرج عن الجماعة ومات مات ميتة جاهلية.
كالذي أخرجه مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ خَرَجَ مِنَ الطَّاعَةِ، وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ فَمَاتَ، مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً»
(2).
وأخرج أحمد وأبو داود من حديث أبي ذر رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْإِسْلَامِ مِنْ عُنُقِهِ»
(3).
والأظهر والله أعلم أن الاستدلال بمثل هذا لا يصح، لأن المراد بالجماعة في هذا الحديث جماعة الأبدان وهو السمع والطاعة للحاكم في غير معصية الله، وليس المراد به اجتماع الأمة وإنما المراد به جماعة الأبدان.
فقد ذكر الخطابي رحمه الله في كتابه «العزلة»: أن الفرقة نوعان فرقة أبدان وفرقة أديان، وفي المقابل الاجتماع يكون نوعين، اجتماع على الأبدان واجتماع على الأديان
(4).
--------------------------------------------
এটি ইজমার (إجماع) প্রামাণিকতা বিষয়ক একটি পাঠ যা মারফু (مرفوع)
(1) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। তবে অধিক সঠিক বক্তব্য—আল্লাহই ভালো জানেন—এটি মারফু (مرفوع) হিসেবে বিশুদ্ধ নয়, বরং এটি আবু মাসউদ আল-বাদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বক্তব্য হিসেবে বিশুদ্ধ (صحيح),
… ইত্যাদি দলীলসমূহ পর্যন্ত।
* সতর্কবার্তা: কিছু উসুলবিদ (أصوليون) এমন কিছু দলীল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন যা ইজমার (إجماع) প্রামাণিকতার ওপর কোনো প্রমাণ বহন করে না, তন্মধ্যে রয়েছে:
1 - তারা সেইসব দলীল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন যা নির্দেশ করে যে জামাআতের (جماعة) সাথে থাকা ওয়াজিব এবং যে ব্যক্তি জামাআত (جماعة) ত্যাগ করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করবে।
যেমনটি মুসলিম আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেল এবং জামাআত (جماعة) ত্যাগ করল, অতঃপর মৃত্যুবরণ করল, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল»
(2)।
এবং আহমাদ ও আবু দাউদ আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জামাআত (جماعة) থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হলো, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল»
(3)।
অধিক স্পষ্ট এবং আল্লাহই ভালো জানেন যে, এই ধরণের উদ্ধৃতি দ্বারা প্রমাণ পেশ করা সঠিক নয়। কারণ এই হাদিসে জামাআত (جماعة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শারীরিকভাবে দলবদ্ধ থাকা, আর তা হলো আল্লাহর অবাধ্যতা নয় এমন বিষয়ে শাসকের কথা শোনা ও আনুগত্য করা। এখানে উম্মতের ঐক্যবদ্ধ হওয়া (اجتماع) উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো শারীরিকভাবে দলবদ্ধ থাকা।
আল-খাত্তাবি (রহিমাহুল্লাহ) তার ‘আল-উযলাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: বিচ্ছিন্নতা (فرقة) দুই প্রকার—শারীরিক বিচ্ছিন্নতা এবং ধর্মীয় আদর্শিক বিচ্ছিন্নতা। পক্ষান্তরে, ঐক্যবদ্ধ হওয়াও (اجتماع) দুই প্রকার—শারীরিক ঐক্যবদ্ধতা এবং ধর্মীয় আদর্শিক ঐক্যবদ্ধতা
(4)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فالمراد بالجماعة في هذا الحديث جماعة الأبدان، أي الاجتماع على الحاكم في السمع الطاعة في غير معصية الله، ففرق بين هذا و بين إجماع الأمة على مسألة شريعة.
المسألة الثالثة موقف أهل البدع من الإجماعأهل البدع - من حيث الجملة - مع الإجماع طائفتان:
الطائفة الأولى: أنكرت الإجماع وقالت إن الإجماع ليس حجة، و
أول من أنكر الإجماع واشتهر بذلك هو النظَّام المعتزلي كما عزاه إليه ابن قدامة في «روضة الناظر»
(1) ونسبه إليه جماعة
(2)، وذكر شيخ الإسلام ابن تيمية
(3) أن المعتزلة والشيعة خالفوا في حجية الإجماع.
فإذن كل من أنكر حجية الإجماع فسلفه هو النظَّام المعتزلي، فإنه أول من خالف في حجية الإجماع
(4).
والطائفة الثانية: صعَّبت وجود الإجماع ولم تصرح بإنكاره، فلسان مقالها يقول: نقر بالإجماع. ولسان حالها يقول: لا يوجد إجماع.
ومثال ذلك:
1 - طائفة قالوا: لا يكون الإجماع إجماعًا حتى يجتمع العامة مع أهل العلم.
--------------------------------------------
এই হাদিসে 'জামাআত' বলতে উদ্দেশ্য হলো শারীরিক ঐক্যবদ্ধতা (الجماعة), অর্থাৎ আল্লাহর অবাধ্যতা নয় এমন বিষয়ে শাসকের কথা শ্রবণ ও আনুগত্য করার ওপর একত্রিত হওয়া। সুতরাং এই বিষয়টি এবং শরিয়তের কোনো মাসআলায় উম্মতের ঐকমত্যের (الإجماع) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
তৃতীয় মাসআলা ঐকমত্যের (الإجماع) ব্যাপারে বিদআতপন্থীদের অবস্থানবিদআতপন্থীরা—সামগ্রিকভাবে—ঐকমত্যের (الإجماع) প্রশ্নে দুই দলে বিভক্ত:
প্রথম দল: তারা ঐকমত্যকে (الإجماع) অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে, ঐকমত্য (الإجماع) কোনো দলিল (حجة) নয়। সর্বপ্রথম যিনি ঐকমত্য (الإجماع) অস্বীকার করার মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেন তিনি হলেন মুতাজিলি নাজ্জাম; যেমনটি ইবনে কুদামা 'রওজাতুন নাজির' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং একদল আলেমও এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন যে, মুতাজিলা ও শিয়াগণ ঐকমত্যের (الإجماع) প্রামাণিকতার (حجية) বিষয়ে বিরোধিতা করেছেন।
অতএব, যে ব্যক্তিই ঐকমত্যের (الإجماع) প্রামাণিকতাকে (حجية) অস্বীকার করবে, তার পূর্বসূরি হবে মুতাজিলি নাজ্জাম। কারণ সেই সর্বপ্রথম ঐকমত্যের (الإجماع) প্রামাণিকতার (حجية) ব্যাপারে বিরোধিতা করেছে।
দ্বিতীয় দল: তারা ঐকমত্যের (الإجماع) অস্তিত্ব থাকাকে অত্যন্ত কঠিন করে ফেলেছে এবং স্পষ্টভাবে তা অস্বীকার করেনি। তাদের মুখের ভাষা বলে: 'আমরা ঐকমত্যকে (الإجماع) স্বীকার করি'; কিন্তু তাদের বাস্তব অবস্থা বলে: 'কোনো ঐকমত্যের (الإجماع) অস্তিত্ব নেই'।
এর উদাহরণ হলো:
১ - একদল লোক বলেছে: ঐকমত্য (الإجماع) ততক্ষণ পর্যন্ত ঐকমত্য (الإجماع) হবে না, যতক্ষণ না সাধারণ মানুষ আলেমদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد تقدم نسبة هذا القول إلى الباقلاني والآمدي، وحقيقة هذا القول أنه لا يوجد إجماع لصعوبة تحقق ذلك.
فقد قال ابن قدامة: «وهذا القول يرجع إلى إبطال الإجماع؛ إذ لا يتصور قول الأمة كلهم في حادثة واحدة.
وإن تصوّر: فمن الذي ينقل قول جميعهم، مع كثرتهم وتفرقهم في البوادي والأمصار والقرى؟!»
(1).
2 - وطائفة قالوا: إن الإجماع السكوتي ليس حجة، وسيأتي - إن شاء الله - بحث الإجماع السكوتي.
ومعناه: أن يتكلم طائفة من أهل العلم ويشتهر هذا القول ولا ينكره آخرون.
فقالت هذه الطائفة: إن هذا الإجماع ليس حجة.
وهذا القول إذا دققتَ فيه وجدتَه رجع إلى قول المتكلمين، كما سيأتي بيانه - إن شاء الله -؛ إذ لازم القول بأن الإجماع السكوتي ليس حجة أن لا يوجد إجماع يحتج به.
قال أبو بكر الجصاص في كتابه «الفصول في الأصول» ما ملخصه: ولازم إنكار الاحتجاج بالإجماع السكوتي أن لا يوجد إجماع
(2).
وصدق رحمه الله.
--------------------------------------------
ইতোমধ্যেই এই অভিমতটি বাকিল্লানি এবং আমেদি-র প্রতি নিসবত করার বিষয়টি অতিবাহিত হয়েছে। আর এই বক্তব্যের প্রকৃত রূপ হলো এই যে, তা বাস্তবায়নের কাঠিন্যের কারণে মূলত কোনো ঐক্যমত্য (إجماع)-এর অস্তিত্ব নেই।
ইবনে কুদামা বলেছেন: «আর এই বক্তব্যটি মূলত ঐক্যমত্য (إجماع)-কে অসার সাব্যস্ত করার দিকেই ধাবিত হয়; কেননা কোনো একটি ঘটনায় উম্মাহর প্রত্যেকের বক্তব্য থাকা কল্পনা করা যায় না।
আর যদি তা কল্পনাও করা হয়, তবে তাদের সংখ্যাধিক্য এবং মরুভূমি, শহর ও গ্রামসমূহে ছড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও তাদের সকলের বক্তব্য কে বর্ণনা করবে?!»
(১)।
২ - আর একদল আলেম বলেছেন: মৌন ঐক্যমত্য (الإجماع السكوتي) কোনো প্রমাণ (حجة) নয়। ইনশাআল্লাহ, মৌন ঐক্যমত্য (الإجماع السكوتي) সংক্রান্ত আলোচনা সামনে আসবে।
এর অর্থ হলো: আলেমদের একটি দল কোনো বিষয়ে বক্তব্য দেবেন এবং সেই কথাটি প্রসিদ্ধি লাভ করবে, কিন্তু অন্য আলেমগণ তা অস্বীকার করবেন না।
এই দলটি বলেছে: এই ঐক্যমত্য (إجماع) কোনো প্রমাণ (حجة) নয়।
আর আপনি যদি এই বক্তব্যের ওপর সূক্ষ্মভাবে দৃষ্টিপাত করেন তবে দেখতে পাবেন যে, এটি মুতাকাল্লিমদের বক্তব্যের দিকেই ফিরে যায়, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বর্ণিত হবে। কেননা, মৌন ঐক্যমত্য (الإجماع السكوتي) প্রমাণ (حجة) নয়—এই কথা বলার অনিবার্য অর্থ হলো এমন কোনো ঐক্যমত্য (إجماع) না থাকা যা দ্বারা দলিল পেশ করা যায়।
আবু বকর আল-জাসসাস তার 'আল-ফুসুল ফিল উসুল' গ্রন্থে সারসংক্ষেপ হিসেবে বলেছেন: মৌন ঐক্যমত্য (الإجماع السكوتي) দ্বারা দলিল পেশ করার বিষয়টি অস্বীকার করার অনিবার্য পরিণতি হলো কোনো ঐক্যমত্য (إجماع)-এর অস্তিত্ব না থাকা
(২)।
আর তিনি সত্যই বলেছেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ২০)
وذكر نحو هذا ابن قدامة في «روضة الناظر»
(1)، بل وقال في «المغني» لما ذكر مسألة ونقل فيها قول بعض الصحابة دون مخالف: لا سبيل إلى نقل قول جميع الصحابة في مسألة، ولا إلى نقل قول العشرة، ولا يوجد الإجماع إلا القول المنتشر
(2).
ف
ينبغي لأهل السنة أن لا يغتروا بأقوال أهل البدع، وأن يكونوا متبصرين.
وممن خالف في حجية الإجماع أو ضيق كثيرًا الظاهرية، وسيأتي الكلام - إن شاء الله تعالى - على الظاهرية ومذهبهم في ذلك.
إيرادٌ وردُّهفإن قيل: ماذا يقال في قول الإمام أحمد: «من ادعى الإجماع فهو كاذب»؟
فيقال: الجواب من وجهين:
الوجه الأول: أن الإمام أحمد قطعًا لم يردْ إنكار الإجماع، بدليل أن الإمام أحمد نفسه استدل بالإجماع في مسائل كثيرة، منها:
1 - قول الإمام أحمد: «أجمعوا على أن التكبير - أي المقيد -، يبتدئ من غداة يوم عرفة»
(3).
2 - وقوله: «أجمعوا على أن أولاد المسلمين في الجنة»
(4).
--------------------------------------------
ইবনে কুদামা 'রওদাতুন নাজির'
(১)-এ এই ধরনের কথা উল্লেখ করেছেন, বরং তিনি 'আল-মুগনি'-তে একটি মাসয়ালা উল্লেখ করার সময় যখন কোনো বিরোধিতাকারী ছাড়াই কিছু সাহাবীর (صحابة) মত উদ্ধৃত করেছেন, তখন বলেছেন: কোনো মাসয়ালায় সকল সাহাবীর (صحابة) মত উদ্ধৃত করার কোনো পথ নেই, এমনকি দশজনের (العشرة) মতও নয়; আর প্রচারপ্রাপ্ত মত (القول المنتشر) ছাড়া ঐকমত্য (إجماع) পাওয়া যায় না
(২)।
সুতরাং
আহলে সুন্নাতের (أهل السنة) অনুসারীদের উচিত বিদআতপন্থীদের (أهل البدع) কথায় বিভ্রান্ত না হওয়া এবং সচেতন থাকা।
যারা ঐকমত্যের প্রামাণিকতা (حجية الإجماع) নিয়ে বিরোধিতা করেছেন বা বিষয়টিকে অত্যন্ত সংকুচিত করেছেন, তাদের মধ্যে জাহিরি (الظاهرية) সম্প্রদায় অন্যতম। ইনশাআল্লাহ তাআলা, জাহিরি (الظاهرية) সম্প্রদায় এবং এই বিষয়ে তাদের মাযহাব (مذهب) সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে।
আপত্তি (إيراد) এবং তার খণ্ডন (رد)যদি প্রশ্ন করা হয়: ইমাম আহমাদ রহ.-এর এই উক্তি সম্পর্কে কী বলা হবে: "যে ব্যক্তি ঐকমত্যের (الإجماع) দাবি করে, সে মিথ্যাবাদী"?
উত্তরে বলা হবে: এর জবাব দুইভাবে (وجهين) দেওয়া যায়:
প্রথম দিক (الوجه الأول): ইমাম আহমাদ নিশ্চিতভাবেই ঐকমত্য (إجماع) অস্বীকার করার ইচ্ছা করেননি। এর প্রমাণ হলো, ইমাম আহমাদ নিজেই বহু মাসয়ালায় ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন (استدل), সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - ইমাম আহমাদের উক্তি: "তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন (أجمعوا) যে, তাকবীর—অর্থাৎ নির্ধারিত (المقيد) তাকবীর—আরাফাত দিবসের সকাল থেকে শুরু হবে"
(৩)।
২ - এবং তাঁর উক্তি: "তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন (أجمعوا) যে, মুসলিমদের শিশুরা জান্নাতে যাবে"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ২১)
3 - وقوله: «أجمع أهل العلم على أن بيع الدين بالدين لا يجوز»
(1).
4 - وقوله: «إجماع العلماء والأئمة المتقدمين على أن القرآن كلام اللَّه غير مخلوق، هذا الدين الذي أدركت عليه الشيوخ، وأدرك الشيوخ من كان قبلهم على هذا»
(2).
5 - وقوله: «أجمعوا على أن من تذكر صلاة حضر في سفر فإنه يصلي صلاة حضر»
(3).
6 - وقوله في قوله تعالى {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [الأعراف: 204]: «أجمع الناس أن هذِه الآية في الصلاة»
(4).
7 - وقوله: «أجمعوا على أن الدم نجس»
(5).
8 - وقوله: «لم يختلف الناس أن الرجل إذا أسلم أنه على نكاحه»
(6).
وغير ذلك من المسائل التي نقل فيها الإمام أحمد الإجماع وعدم الخلاف، فالمقصود أن الإجماعات عن الإمام أحمد ليست قليلة، فكيف ينكر الإجماع وهو نفسه استدل بالإجماع؟!
الوجه الثاني: أن أصحاب الإمام أحمد لم يفهموا إنكار الإمام أحمد للإجماع؛ لذا انقسموا طوائف في توجيه كلامه كالتالي:
--------------------------------------------
3 - এবং তাঁর উক্তি: «জ্ঞানসাধকগণ ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন যে, ঋণের বিনিময়ে ঋণ বিক্রয় করা বৈধ নয়»
(1).
4 - এবং তাঁর উক্তি: «পূর্ববর্তী যুগের আলেম ও ইমামগণের ঐকমত্য (إجماع) এই যে, কুরআন আল্লাহর কালাম, তা মাখলুক (সৃষ্ট) নয়। এটিই সেই দ্বীন যা আমি আমার শিক্ষকগণের নিকট পেয়েছি এবং তাঁরা তাঁদের পূর্ববর্তীদের নিকট এই আদর্শই পেয়েছেন»
(2).
5 - এবং তাঁর উক্তি: «তাঁরা ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি আবাসের (মুকিম অবস্থার) সালাতের কথা সফরে থাকাকালীন স্মরণ করবে, সে আবাসের সালাত হিসেবেই তা পূর্ণ আদায় করবে»
(3).
6 - এবং মহান আল্লাহর বাণী {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [আল-আরাফ: ২০৪] এর ব্যাখ্যায় তাঁর উক্তি: «মানুষ (আলেমগণ) ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন যে, এই আয়াতটি সালাত সম্পর্কিত»
(4).
7 - এবং তাঁর উক্তি: «তাঁরা ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, রক্ত অপবিত্র (نجس)»
(5).
8 - এবং তাঁর উক্তি: «মানুষের (আলেমদের) মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ (لم يختلف) নেই যে, কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে সে তার পূর্বের বিবাহ অনুসারেই বহাল থাকবে»
(6).
এ ছাড়া আরও এমন অনেক মাসআলা রয়েছে যেগুলোতে ইমাম আহমাদ ঐকমত্য (الإجماع) এবং মতভেদের অনুপস্থিতির কথা বর্ণনা করেছেন। সারকথা হলো, ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত ঐকমত্যের (الإجماعات) বিবরণ সংখ্যায় কম নয়। সুতরাং কীভাবে তিনি ঐকমত্যকে অস্বীকার করতে পারেন, যেখানে তিনি নিজেই ঐকমত্য (بالإجماع) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন?!
দ্বিতীয় দিক: ইমাম আহমাদের অনুসারীগণও ইমাম আহমাদ কর্তৃক ঐকমত্য (الإجماع) অস্বীকার করার বিষয়টি বুঝতে পারেননি; এ কারণেই তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা নিম্নোক্ত কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়েছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ২২)
1 - فمنهم من حمله على الورع، كأبي يعلى في «العدة»
(1).
2 - ومنهم من حمله على الإجماع الذي يحكيه أهل البدع وليسوا أهلا لحكاية الإجماع، هذا القول الآخر الذي ذكره أبو يعلى في «العدة»
(2).
وقريب منه ما ذكر شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى في «بيان الدليل في بطلان التحليل»
(3)، وقريب منه ما ذكره ابن القيم في «إعلام الموقعين»
(4).
3 - وأيضًا لابن تيمية توجيه ثالث كما في «المسودة» قال: إن كلام الإمام احمد محمول على الإجماع بعد القرون المفضلة
(5).
* وأظهر هذه التوجيهات أن كلام الإمام أحمد - رحمه الله تعالى - هو في حق من ليس أهلاً لحكاية الإجماع كأهل البدع وكأهل الرأي الذين يردون النصوص بالإجماعات، وهم ليسوا أهلاً لحكاية الإجماع؛ لذا قال الإمام أحمد: في تتمة الكلام هذه دعوى بشر والأصم
… إلخ، أي دعوى أهل البدع.
وقد بين ابن تيمية رحمه الله تعالى في «التسعينية»، أن أهل البدع كثيراً ما يحكون إجماعات في مسائل عقدية وهم مخطئون في ذلك، فقال رحمه الله: «
… ، وهذا الإجماع نظير غيره من الإجماعات الباطلة المدعاة في الكلام وغيره -وما أكثرها-، فمن تدبر وجد عامة المقالات الفاسدة يبنونها على مقدمات لا تثبت إلّا بإجماع مدعى أو قياس، وكلاهما عند التحقيق يكون باطلًا»
(6).
--------------------------------------------
1 - তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে পরহেজগারির (الورع) ওপর প্রয়োগ করেছেন, যেমন আবু ইয়ালা 'আল-উদ্দাহ' গ্রন্থে করেছেন
(1).
2 - আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে সেই ইজমার (الإجماع) ওপর প্রয়োগ করেছেন যা বিদআতিরা বর্ণনা করে থাকে, অথচ তারা ইজমা (الإجماع) বর্ণনা করার যোগ্য নয়। এটি আবু ইয়ালা কর্তৃক 'আল-উদ্দাহ' গ্রন্থে উল্লিখিত দ্বিতীয় অভিমত
(2).
এর কাছাকাছি কথা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) 'বায়ানুদ দালিল ফি বুতলানিত তাহলিল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন
(3) এবং এর কাছাকাছি বক্তব্য ইবনুল কাইয়্যিম 'ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন
(4).
3 - এছাড়াও ইবনে তাইমিয়্যাহর একটি তৃতীয় ব্যাখ্যা রয়েছে যা 'আল-মুসাওয়াদ্দাহ' গ্রন্থে বিদ্যমান; তিনি বলেছেন: ইমাম আহমাদ-এর বক্তব্য শ্রেষ্ঠ যুগসমূহের (القرون المفضلة) পরবর্তী সময়ের ইজমার (الإجماع) ওপর প্রযোজ্য
(5).
* আর এই ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে অধিকতর স্পষ্ট হলো এই যে, ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর বক্তব্য সেইসব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা ইজমা (الإجماع) বর্ণনা করার যোগ্য নয়; যেমন বিদআতি ও আহলুর রায় (أهل الرأي), যারা বিভিন্ন ইজমার (الإجماع) দোহাই দিয়ে দলিলসমূহকে (النصوص) প্রত্যাখ্যান করে, অথচ তারা নিজেরা ইজমা (الإجماع) বর্ণনা করার যোগ্য নয়। এজন্যই ইমাম আহমাদ তার বক্তব্যের শেষাংশে বলেছেন: "এটি বিশর ও আসম্মের দাবি... ইত্যাদি", অর্থাৎ বিদআতিদের দাবি।
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) 'আত-তিসয়িনিয়্যাহ' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন যে, বিদআতিরা আকিদাগত বিষয়ে প্রায়ই ইজমার (الإجماع) কথা বলে থাকে, অথচ তারা সে ক্ষেত্রে ভুল পথে রয়েছে। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "…আর এই ইজমা (الإجماع) কালাম শাস্ত্র (الكلام) ও অন্যান্য বিষয়ে দাবিকৃত বাতিল ইজমাগুলোরই (الإجماع) অনুরূপ—আর এগুলোর সংখ্যা কতই না বেশি! যে ব্যক্তি গভীরভাবে চিন্তা করবে সে দেখতে পাবে যে, অধিকাংশ ভ্রান্ত মতাদর্শ এমন সব ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে যা কেবল দাবিকৃত ইজমা (الإجماع) অথবা কিয়াসের (القياس) মাধ্যমেই সাব্যস্ত করা সম্ভব। আর অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, উভয়টিই বাতিল বলে গণ্য হয়"
(6).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المسألة الرابعةقسما الإجماعينقسم الإجماع قسمين:
القسم الأول: الإجماع القطعي.
والقسم الثاني: الإجماع الظني.
وينقسيم الإجماع إلى قطعي وظني في ثبوته لا في دلالته؛ لأن الإجماع في دلالته لا يخرج عن كونه قاطعًا وقطعيًا - كما تقدم - وإنما البحث في ثبوته.
فالإجماع في ثبوته ينقسم قطعيًا وظنيًا، ذكر هذا ابن قدامة في «روضة الناظر»
(1)، وابن تيمية كما في «مجموع الفتاوى»
(2)، والزركشي في «البحر المحيط»
(3)، وغيرهم من أهل العلم.
وضابط الإجماع القطعي: - والله أعلم -: هو ما كان مبنياً على نص ظاهرٍ وتوارد العلماء عليه، كإيجاب الصلاة والزكاة ونحوِ ذلك، فإذا وجد نص ظاهر توارد العلماء عليه فمثل هذا يقال إنه إجماع قطعي، وهذا مستفاد من كلام شيخ الإسلام
(4) رحمه الله تعالى والزركشي
(5) وقد صرح به شيخنا العلامة ابن عثيمين
(6) رحمه الله تعالى.
أما الإجماع الظني: فهو خلاف ذلك مما رجع إلى استقراء أهل العلم
(7).
--------------------------------------------
চতুর্থ মাসআলাইজমার (إجماع) প্রকারভেদইজমা (إجماع) দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার: অকাট্য (قطعي) ইজমা (إجماع)।
এবং দ্বিতীয় প্রকার: ধারণাপ্রসূত (ظني) ইজমা (إجماع)।
ইজমা (إجماع) অকাট্য (قطعي) ও ধারণাপ্রসূত (ظني) হিসেবে বিভক্ত হয় এর সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) দিক থেকে, এর অর্থের নির্দেশনার (دلالة) দিক থেকে নয়; কারণ ইজমা (إجماع) তার অর্থের নির্দেশনার (دلالة) ক্ষেত্রে অকাট্য (قطعي) হওয়া ব্যতিরেকে হয় না—যেমনটি আগে অতিবাহিত হয়েছে—বরং আলোচনা কেবল এর সাব্যস্ত হওয়া (ثبوت) নিয়ে।
সুতরাং ইজমা (إجماع) সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) দিক থেকে অকাট্য (قطعي) ও ধারণাপ্রসূত (ظني) হিসেবে বিভক্ত। ইবনে কুদামা এটি 'রওদাতুন নাজির' গ্রন্থে
(১), ইবনে তাইমিয়্যাহ 'মাজমুউল ফাতাওয়া' গ্রন্থে
(২), যারকাশি 'আল-বাহরুল মুহিত' গ্রন্থে
(৩) এবং অন্যান্য আলেমগণও এটি উল্লেখ করেছেন।
অকাট্য (قطعي) ইজমার (إجماع) মূলনীতি হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—যা সুস্পষ্ট দলিলের (نص ظاهر) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং আলেমগণ যার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যেমন সালাত ও জাকাত ওয়াজিব হওয়া এবং এই জাতীয় বিষয়াদি। সুতরাং যখন কোনো সুস্পষ্ট দলিল (نص ظاهر) পাওয়া যায় যার ওপর আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেন, তখন সেটাকে অকাট্য (قطعي) ইজমা (إجماع) বলা হয়। এটি শাইখুল ইসলাম
(৪) রহিমাহুল্লাহ তায়ালা ও যারকাশি
(৫)-এর বক্তব্য থেকে গৃহীত এবং আমাদের শাইখ আল্লামা ইবনে উসাইমীন
(৬) রহিমাহুল্লাহ তায়ালা এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
আর ধারণাপ্রসূত (ظني) ইজমা (إجماع): এটি এর বিপরীত, যা আলেমদের অনুসন্ধানের (استقراء) ওপর নির্ভরশীল
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
سؤال وجواب
هل يُحكم بكفر منكر الإجماع؟
وللجواب عن هذا السؤال لابد من التفرقة بين من أنكر الإجماع القطعي، وبين من أنكر الإجماع الظني.
فالأول: يُحكم بكفره؛ لأنه ينكر النصوص الظاهرة كإيجاب الزكاة والصلاة.
والثاني: لا يكفر مثله.
ذكر هذا شيخ الإسلام ابن تيمية كما في «مجموع الفتاوى»
(1)، الزركشي في «البحر المحيط»
(2).
تنبيه: ومما ينبغي أن يعلم: أن الإجماع الظني على مراتب فليس على مرتبة واحدة، فيما نقله الزركشي
(3). وصدق رحمه فليس الإجماع الذي يتوارد العلماء على حكايته كالإجماع الذي لا يحكيه إلا عالم واحد فهو يتفاوت في قوته.
المسألة الخامسةالإجماع السكوتيوهذه المسألة من المسائل المهمة التي ينبغي ضبطها ضبطًا علميًا؛ لكثرة الشبهات والإشكالات التي تَرِدُ عليها، وسيأتي بحث ذلك -إن شاء الله-.
فالمراد بالإجماع السكوتي: أن ينطق طائفة من أهل العلم ويسكت الباقون.
وبعضهم يقول: تتكلم طائفة من أهل العلم ويشتهر قولهم ولا يخالفهم
--------------------------------------------
প্রশ্ন ও উত্তর
ইজমা (إجماع) অস্বীকারকারীর ওপর কি কুফরের হুকুম দেওয়া হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য নিশ্চিত ইজমা (إجماع قطعي) অস্বীকারকারী এবং ধারণাপ্রসূত ইজমা (إجماع ظني) অস্বীকারকারীর মাঝে পার্থক্য করা আবশ্যক।
প্রথমজন: তার ওপর কুফরের হুকুম দেওয়া হবে; কারণ সে জাকাত ও সালাত ফরজ হওয়ার মতো সুস্পষ্ট দলীলসমূহ অস্বীকার করে।
দ্বিতীয়জন: তার মতো ব্যক্তিকে কাফির বলা হবে না।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’
(১) গ্রন্থে এবং যারকাশী ‘আল-বাহরুল মুহীত’
(২) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
সতর্কবার্তা: যা জানা থাকা উচিত তা হলো— আল-যারকাশীর বর্ণনা অনুযায়ী ধারণাপ্রসূত ইজমা (إجماع ظني) বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে, এটি এক স্তরের নয়।
(৩) তিনি যথার্থই বলেছেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), কারণ যে ইজমা (إجماع) বর্ণনায় আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেন, তা সেই ইজমার মতো নয় যা কেবল একজন আলেম বর্ণনা করেছেন; সুতরাং এর শক্তির ক্ষেত্রে তারতম্য রয়েছে।
পঞ্চম মাসআলামৌন ইজমা (إجماع سكوتي)এই মাসআলাটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা তাত্ত্বিকভাবে আয়ত্ত করা প্রয়োজন; কারণ এ বিষয়ে অনেক সংশয় ও অস্পষ্টতা তৈরি হয়। ইনশাআল্লাহ সামনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
মৌন ইজমা (إجماع سكوتي) বলতে উদ্দেশ্য হলো: আলেমদের একটি দল কোনো মত ব্যক্ত করবেন এবং বাকিরা নীরব থাকবেন।
কেউ কেউ বলেন: আলেমদের একটি দল কথা বলবে এবং তাদের মতটি প্রসিদ্ধি লাভ করবে অথচ অন্য কেউ তাদের বিরোধিতা করবে না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
آخرون
(1).
والعلماء مع الإجماع السكوتي على قولين:
1 - منهم من يجعل الإجماع السكوتي خاصاً بالصحابة.
2 - ومنهم من يعممه للصحابة ومن بعدهم.
قد ذكر القولين العلائي في «إجمال الإصابة في حجية قول الصحابة»
(2).
والقول بحجية الإجماع السكوتي هو الصحيح لا محالة
(3).
بل إن القول بعدم حجيته هو كالقول بأن الإجماع ليس حجة؛ لأنه لا يوجد إجماع إلا الإجماع السكوتي، فلا يوجد إجماع منطوق كما تقدم في كلام الجصاص
(4)--------------------------------------------
অন্যান্যগণ
(১)।
মৌন ঐকমত্য (الإجماع السكوتي) সম্পর্কে আলেমদের দুটি মত রয়েছে:
১ - তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মৌন ঐকমত্যকে (الإجماع السكوتي) কেবল সাহাবীদের জন্য সুনির্দিষ্ট মনে করেন।
২ - আবার কেউ কেউ একে সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সাধারণ বা প্রযোজ্য মনে করেন।
আল্লামা আলাই তাঁর ‘ইজমালুল ইসাবাহ ফী হুজজিইয়াতি কাউলিস সাহাবাহ’ গ্রন্থে এই উভয় মত উল্লেখ করেছেন
(২)।
আর মৌন ঐকমত্য (الإجماع السكوتي) দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার মতটিই নিঃসন্দেহে সঠিক (الصحيح)
(৩)।
বরং একে দলীল হিসেবে অস্বীকার করা অনেকটা ঐকমত্যকে (الإجماع) দলীল হিসেবে অস্বীকার করার মতোই; কারণ মৌন ঐকমত্য (الإجماع السكوتي) ছাড়া বাস্তবে কোনো ঐকমত্যের (الإجماع) অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। কেননা, জাসসাস-এর বক্তব্যে যেমনটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, কোনো সুস্পষ্ট ঐকমত্য (إجماع منطوق) বিদ্যমান নেই
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وابن قدامة
(1).
إيراد ورده
فإن قال قائل: اشتهر عند بعض أهل العلم أن الشافعي خالف في حجية الإجماع السكوتي حيث قال: «لا ينسب إلى ساكت قول»
(2). فدل هذا على أن الشافعي لا يرى الإجماع السكوتي حجة.
يقال: قد خالف في نسبة هذا إلى الشافعي جمع من أهل العلم، وممن خالف في ذلك محقق المذهب الشافعي وإمامه أبو حامد الإسفراييني، وأبو حامد الشيرازي، والنووي رحمه الله تعالى، فقد نصوا على أن الشافعي يرى الإجماع السكوتي حجة في القديم وفي الجديد، وذكروا أمثلة للشافعي رحمه الله تعالى تدل على أن الإجماع السكوتي حجة
(3).
بل ذكر ابن برهان: أن القول بحجية الإجماع السكوتي هو الذي عليه الأئمة
(4).
وصدق -رحمه الله تعالى- فإن أول من خالف في حجيته هم المتكلمون.
أما أئمة الإسلام فهم متواردون على أن الإجماع السكوتي حجة وذلك أنهم لما قالوا الإجماع حجة واحتجوا به عمليًا في مسائل كثيرة فهم يرون بهذا أن الإجماع السكوتي حجة.
والأظهر -والله أعلم- أن الإجماع السكوتي لا يخص بالصحابة كما هو صنيع العلماء والمتوارد من صنيعهم، بل في الصحابة ومن بعدهم، كما سيأتي بيان هذا إن شاء الله تعالى.
--------------------------------------------
এবং ইবনে কুদামা
(1)।
আপত্তি ও তার নিরসন
যদি কোনো প্রশ্নকারী বলেন: কতিপয় আলেমদের নিকট এটি প্রসিদ্ধ যে, ইমাম শাফিঈ মৌন ইজমা (الإجماع السكوتي)-এর দলীলযোগ্যতার (حجية) ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। যেহেতু তিনি বলেছেন: "মৌন ব্যক্তির প্রতি কোনো বক্তব্য সম্বন্ধযুক্ত করা যাবে না"
(2)। এটি প্রমাণ করে যে, ইমাম শাফিঈ মৌন ইজমা (الإجماع السكوتي)-কে দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য করেন না।
উত্তরে বলা হবে: ইমাম শাফিঈর প্রতি এই উক্তির সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে একদল আলেম ভিন্নমত পোষণ করেছেন। যারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন তাঁদের মধ্যে শাফিঈ মাযহাবের মুহাক্কিক ও ইমাম আবু হামিদ আল-ইসফরাইনি, আবু হামিদ আল-শিরাজি এবং ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) রয়েছেন। তাঁরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম শাফিঈ তাঁর প্রাচীন (কাদীম) ও নতুন (জাদীদ) উভয় মতবাদেই মৌন ইজমা (الإجماع السكوتي)-কে দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য করতেন। তাঁরা ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এমন কিছু উদাহরণও উল্লেখ করেছেন যা প্রমাণ করে যে, মৌন ইজমা (الإجماع السكوتي) একটি দলীল (حجة)
(3)।
বরং ইবনে বুরহান উল্লেখ করেছেন যে: মৌন ইজমা (الإجماع السكوتي)-এর দলীলযোগ্যতার (حجية) মতটিই আইম্মায়ে কেরামের অনুসৃত পথ
(4)।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সত্যই বলেছেন; কেননা এর দলীলযোগ্যতার (حجية) ব্যাপারে সর্বপ্রথম যারা ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন তারা হলেন মুতাকাল্লিমগণ (المتكلمون)।
পক্ষান্তরে ইসলামের ইমামগণ মৌন ইজমা (الإجماع السكوتي) দলীল (حجة) হওয়ার ব্যাপারে একমত। এর কারণ হলো, তাঁরা যখন বলেছেন যে ইজমা (الإجماع) দলীল (حجة) এবং ব্যবহারিকভাবে অসংখ্য মাসআলায় এর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন, তখন এর দ্বারা তাঁরা মৌন ইজমা (الإجماع السكوتي)-কেও দলীল (حجة) হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।
আর অধিকতর স্পষ্ট মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—মৌন ইজমা (الإجماع السكوتي) কেবল সাহাবীদের সাথেই নির্দিষ্ট নয়, যেমনটি আলেমদের কর্মপদ্ধতি এবং তাঁদের থেকে ধারাবাহিকভাবে চলে আসা আচরণ থেকে প্রতীয়মান হয়; বরং এটি সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بل إن الصحابة قد يختلفون على قولين، فينعقد الإجماع بعد ذلك فيعمل العلماء بهذا الإجماع.
وهذا مما يدل على أن الإجماع السكوتي ليس خاصًا بالصحابة.
ومن أمثلة ذلك: أن الصحابة اختلفوا في الذي جامع -أي أولج- بلا إنزال؟ هل يجب عليه الغسل أم لا؟
فيه قولان للصحابة
(1)، لكن انعقد الإجماع بعد ذلك ونص عليه ابن المنذر
(2) وابن عبد البر
(3) وغيرهم من أهل العلم وسيأتي -إن شاء الله- ذكر أمثلة أخرى.
فالمقصود أن الإجماع السكوتي ليس خاصًا بالصحابة بل هو مطرد في أهل العلم، فإذا ذكر عالم مسألة واشتهر عنه فإنه حجة.
ويظهر لي - والله أعلم - أن تقييد الأمر بالاشتهار وعدم الاشتهار ليس عمليًا، فمجرد أن يذكر عالمٌ قولًا ولا يعرف عن غيره إنكار فهو حجة، وذلك لأمرين:
الأول: أنه لو كان منكراً فلا بد أن يوجد في الأمة من ينكره، ولا يمكن أن الله ينقل لنا القول المرجوح دون الراجح، فقد ذكر ابن القيم في كتابه «إعلام الموقعين»
(4) أن القول المرجوح خطأ من وجه، فلا ينقل مرجوح دون الراجح.
--------------------------------------------
বস্তুত সাহাবীগণ কখনো কখনো দুটি মতের ওপর মতভেদ করতেন, পরবর্তীতে ঐক্যমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হতো এবং আলিমগণ সেই ঐক্যমত্য (إجماع) অনুযায়ী আমল করতেন।
এটি একথারই প্রমাণ বহন করে যে, মৌন ঐক্যমত্য (إجماع سكوتي) কেবল সাহাবীগণের জন্য সুনির্দিষ্ট নয়।
এর উদাহরণ হলো: সাহাবীগণ বীর্যপাত ব্যতীত সহবাসকারী—অর্থাৎ লিঙ্গ প্রবেশ করানো ব্যক্তি—সম্পর্কে মতভেদ করেছিলেন যে, তার ওপর কি গোসল ওয়াজিব হবে নাকি হবে না?
এ বিষয়ে সাহাবীগণের দুটি মত রয়েছে
(১), কিন্তু পরবর্তীতে ঐক্যমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ইবনুল মুনযির
(২), ইবনু আবদিল বার
(৩) ও অন্যান্য আলিমগণ এটি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ সামনে আরও উদাহরণ আসবে।
সারকথা হলো, মৌন ঐক্যমত্য (إجماع سكوتي) কেবল সাহাবীগণের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি আলিমগণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; সুতরাং যখন কোনো আলেম একটি মাসআলা উল্লেখ করেন এবং তা তাঁর পক্ষ থেকে প্রসিদ্ধি লাভ করে, তবে তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয়।
আমার নিকট প্রতিভাত হয়—এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ—যে, বিষয়টি প্রসিদ্ধ হওয়া বা না হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং কোনো আলেম একটি মত ব্যক্ত করলে এবং অন্য কারো পক্ষ থেকে তার কোনো প্রতিবাদ বা অস্বীকৃতি জানা না গেলে, তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে। এটি দুটি কারণে:
প্রথমত: যদি বিষয়টি প্রত্যাখ্যাত (منكر) হতো, তবে উম্মতের মধ্যে অবশ্যই এমন কেউ থাকতেন যিনি এর প্রতিবাদ করতেন। আর এটা অসম্ভব যে, আল্লাহ আমাদের নিকট অগ্রগণ্য (راجح) মত ব্যতিরেকে কেবল অপ্রাধান্যযোগ্য (مرجوح) মত পৌঁছে দেবেন। ইমাম ইবনুল কায়্যিম তাঁর ‘ইলামুল মুওয়াক্কিইন’
(৪) কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, অপ্রাধান্যযোগ্য (مرجوح) মতটি একদিক থেকে ভুল; তাই অগ্রগণ্য (راجح) মতের উপস্থিতি ছাড়া কেবল অপ্রাধান্যযোগ্য (مرجوح) মতটি বর্ণিত হতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الثاني: أننا مأمورن باتباع سبيل المؤمنين، والذي يعرف من سبيل المؤمنين في هذه المسألة هو قول هذا الرجل سواء كان صحابياً أو تابعياً أو من بعده ولا يعرف عن غيره مخالفته، ونحن مأمورون باتباع سبيل المؤمنين، فإذن يجب اتباع هذا القول لأنه سبيل المؤمنين في هذه المسألة فيما نعلم.
إذن الإجماع السكوتي حجة على أي صورة كانت وهذا هو الشائع عمليًا عند العلماء فقد تواردوا على قول ابن عباس الذي أخرجه مالك في الموطأ: «من ترك نسكًا أو نسيه فليهرق دمًا»
(1)، وعملوا به؛ لأن ابن عباس قال به ولم يعارضه أحد من أهل العلم وفقهاء الإسلام المشهورين بل احتجوا به، والأمثلة على ذلك كثيرة.
* * *
المسألة السادسةحتمية استناد الإجماع على نصلا بد أن يكون الإجماع مستندًا على نص فلا يمكن للإجماع أن يكون حجة إلا أن يستند على نص وما من إجماع إلا وهو مستند على نص، فمتى ما قيل بصحة هذا الإجماع فقطعاً هو مستند على نص، والدليل على هذا أدلة:
الدليل الأول: قوله تعالى {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59]، فإذن عند التنازع نرده إلى الله وإلى الرسول، وعند الاتفاق نعمل به؛ لأنه مما دل عليه كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم، ذكر هذا ابن تيمية كما في «مجموع الفتاوى»
(2).
الدليل الثاني: قوله تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ} [النساء: 115]، فجعل سبيل المؤمنين موافقاً لما جاء به الرسول، فإذن كل إجماع فهو مستند على نص.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: আমরা মুমিনদের পথ অনুসরণ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আর এই মাসআলায় মুমিনদের যে পথটি জানা যায় তা হলো এই ব্যক্তির বক্তব্য—চাই তিনি সাহাবী (صحابي) হোন কিংবা তাবেয়ী (تابعي) হোন অথবা তাঁদের পরবর্তী কেউ হোন। আর অন্য কারো পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়েছে বলে জানা যায় না। যেহেতু আমরা মুমিনদের পথ অনুসরণ করতে আদিষ্ট হয়েছি, সেহেতু এই বক্তব্যটি অনুসরণ করা ওয়াজিব; কারণ আমাদের জানামতে এটিই এই মাসআলায় মুমিনদের পথ।
সুতরাং মৌন ঐক্যমত (إجماع سكوتي) যে কোনো রূপেই হোক না কেন তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য। আলেমদের নিকট এটিই কার্যত প্রচলিত। তাঁরা ইবনে আব্বাসের সেই বক্তব্যের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন যা মালিক মুয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: «যে ব্যক্তি হজের কোনো আমল পরিত্যাগ করল বা ভুলে গেল, সে যেন রক্ত প্রবাহিত (কুরবানি) করে»
(1) এবং তাঁরা এর ওপর আমল করেছেন; কারণ ইবনে আব্বাস এটি বলেছেন এবং ইলম অর্জনকারী ও ইসলামের প্রসিদ্ধ ফকিহগণের কেউ তাঁর বিরোধিতা করেননি, বরং তাঁরা এটিকে দলিল (حجة) হিসেবে পেশ করেছেন। এর উদাহরণ অনেক।
* * *
ষষ্ঠ মাসআলাঐক্যমতের (إجماع) ভিত্তি হিসেবে নস (نص) থাকা অনিবার্যঐক্যমত (إجماع) অবশ্যই কোনো দলিলের (نص) ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। কোনো নসের (نص) ওপর ভিত্তি করা ছাড়া ঐক্যমত (إجماع) দলিল (حجة) হতে পারে না। এমন কোনো ঐক্যমত (إجماع) নেই যা কোনো নসের (نص) ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। সুতরাং যখনই কোনো ঐক্যমতের বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণিত হবে, তখন তা নিশ্চিতভাবেই কোনো নসের (نص) ওপর ভিত্তি করেই হবে। এর সপক্ষে প্রমাণসমূহ হলো:
প্রথম দলিল: আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও} [আন-নিসা: ৫৯]। সুতরাং বিবাদের সময় আমরা তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেব, আর ঐক্যের সময় আমরা সে অনুযায়ী আমল করব; কারণ এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণীর নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত। ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি «মাজমুউল ফাতাওয়া»
(2) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয় দলিল: আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যে ব্যক্তি তার কাছে হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতিরেকে অন্য পথ অনুসরণ করে...} [আন-নিসা: ১১৫]। এখানে মুমিনদের পথকে রাসূলের আনীত আদর্শের অনুসারী করা হয়েছে। অতএব, প্রতিটি ঐক্যমতই (إجماع) কোনো না কোনো নসের (نص) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الدليل الثالث: أنه لم يخالف في ذلك إلا من شذ كما بين ذلك الآمدي
(1)، فيكفي أن يعلم أن المخالف في ذلك ممن شذوا.
الدليل الرابع: أن العلماء لما قالوا في مسألة بقول فإما قالوه بالرأي المجرد أو برأي مستند إلى دليل وقطعاً أنه الثاني، فلما كان الثاني فدل هذا على أن ما أجمعوا عليه فهو مستند على نص قطعا، لكن لا يشترط أن يُعرف هذا المستند ولا يتوقف الاستدلال عليه، بل يتم الاستدلال مباشرة بمجرد معرفة الإجماع في مسألةٍ ما.
سؤال وجواب
هل يجب أن يوجد في الأمة من يعرف مستند الإجماع؟
لشيخ الإسلام كلامٌ يدل على هذا، وإن كان كلامه فيما وقفتُ عليه ليس صريحا، فأصرح ما وقفت عليه في كتابه «الجواب الصحيح»
(2)، علمًا أن له كلامًا صريحًا في مسألة النسخ بالإجماع وأنه لا بد أن يعرف مستند الإجماع الذي ينسخ النص
(3). وقال ابن تيمية: وابن جرير وطائفة يقولون: لا ينعقد الإجماع إلا عن نص نقلوه عن الرسول مع قولهم بصحة القياس. ونحن لا نشترط أن يكونوا كلهم علموا النص فنقلوه بالمعنى كما تنقل الأخبار لكن استقرأنا موارد الإجماع فوجدناها كلها منصوصة وكثير من العلماء لم يعلم النص وقد وافق الجماعة كما أنه قد يحتج بقياس وفيها إجماع لم يعلمه فيوافق الإجماع
(4)--------------------------------------------
তৃতীয় দলিল: এতে কেবল বিচ্ছিন্ন (شذ) ব্যক্তিরাই দ্বিমত পোষণ করেছেন, যেমনটি আল-আমেদী বর্ণনা করেছেন
(১); সুতরাং এটি জানাই যথেষ্ট যে, এক্ষেত্রে যারা দ্বিমত পোষণ করেছেন তারা বিচ্ছিন্ন (شذ) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।
চতুর্থ দলিল: আলেমগণ যখন কোনো বিষয়ে কোনো মত ব্যক্ত করেন, তখন তারা হয় তা নিছক ব্যক্তিগত রায় (رأي) থেকে বলেন অথবা দলিলের (دليل) ওপর ভিত্তি করে কোনো রায় (رأي) প্রদান করেন; আর এটি নিশ্চিতভাবেই দ্বিতীয়টি। যেহেতু এটি দ্বিতীয় প্রকারের, তাই এটি প্রমাণ করে যে তারা যে বিষয়ে ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছেছেন তা নিশ্চিতভাবেই কোনো সুস্পষ্ট নস (نص)-এর ওপর ভিত্তি করে। তবে এই ভিত্তিটি জানা থাকা শর্ত নয় এবং এর মাধ্যমে দলিল প্রদান করা সেই ভিত্তি জানার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং কোনো বিষয়ে কেবল ঐক্যমত (إجماع) জানার মাধ্যমেই সরাসরি দলিল প্রদান সম্পন্ন হয়ে যায়।
প্রশ্ন ও উত্তর
উম্মতের মধ্যে কি এমন কারো থাকা ওয়াজিব, যিনি ঐক্যমতের (إجماع) ভিত্তি সম্পর্কে অবগত?
শাইখুল ইসলামের এমন কিছু কথা রয়েছে যা এর সপক্ষে ইঙ্গিত দেয়, যদিও আমি যা দেখেছি তাতে তার বক্তব্য সরাসরি স্পষ্ট নয়। আমি তার «আল-জাওয়াব আস-সহীহ»
(2) কিতাবে এ বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পেয়েছি। উল্লেখ্য যে, ঐক্যমতের (إجماع) মাধ্যমে রহিতকরণ (نسخ) এবং যে ঐক্যমত (إجماع) কোনো নস (نص)-কে রহিত করে তার ভিত্তি জানা থাকা আবশ্যক হওয়ার বিষয়ে তার স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে
(৩)। ইবনে তাইমিয়া বলেন: ইবনে জারীর এবং একদল আলেম বলেন যে, রাসূল থেকে বর্ণিত কোনো নস (نص) ব্যতীত ঐক্যমত (إجماع) সংঘটিত হয় না, যদিও তারা কিয়াস (قياس)-এর বৈধতার পক্ষে মত দেন। আমরা এটি শর্তারোপ করি না যে, তাদের সবাইকে সেই নস (نص) জানতে হবে এবং সংবাদসমূহের (أخبار) মতো অর্থগতভাবে (معنى) বর্ণনা করতে হবে; তবে আমরা ঐক্যমতের (إجماع) ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করেছি এবং সেগুলোকে সম্পূর্ণ নস-ভিত্তিক (منصوصة) হিসেবে পেয়েছি। অনেক আলেম হয়তো নস (نص) সম্পর্কে জানেন না অথচ জামাআতের সাথে একমত পোষণ করেন, যেমন কেউ হয়তো কোনো বিষয়ে কিয়াস (قياس) দিয়ে দলিল পেশ করেন অথচ সে বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে যা তিনি জানেন না, ফলে তার মতটি ঐক্যমতের (إجماع) অনুকূলে হয়ে যায়
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
و المهم أنه إذا قيل لا بد أن يكون في الأمة من يعرف مستند الإجماع. فإنه يقال: هذا لا ينفعنا عملياً؛ لأننا عملياً متى ما رأينا الإجماع احتججنا به سواء علمنا المستند أو لم نعلم وسواء علمنا في الأمة من يعرف مستنده أم لا؛ وذلك أن الشريعة بينت أن الإجماع حجة ولم تشترط معرفة المستند إذن كل دليل يدل على أن الإجماع حجة فهو دليل على عدم اشتراط معرفة المستند.
المسألة السابعةحجية الإجماع قبل الخلاف وبعدهوالمراد من هذه المسألة: بيان أنَّ الإجماع حجة سواءٌ انعقد الإجماع بعد خلاف، أو حدثَ خلاف بعد إجماع.
فأما الإجماع الذي حدث بعده خلاف فلا شك أنه حجة والمخالفون يجب عليهم أن يرجعوا إلي الإجماع، ويدل لذلك كل دليل يدل على أن الإجماع حجة، فمن خالف الإجماع القديم فقطعاً أن خلافه خطأ؛ لأنه خالف الحق وهو ما أجمع عليه أهل العلم.
وهذا له نظائر وأمثلة حتى قال ابن القيم رحمه الله كما في «مختصر الصواعق»: لهذا مئتا مثال
(1).
أي: أنه قد حصل إجماع قديم ثم حصل خلاف، وهذا من الفقه الدقيق، الذي ينبغي لطالب العلم أن يدقق فيه، فإنه يوجد مسائل غير قليلة يحكى فيها خلاف وإذا دقق في الأمر تبين أن الخلاف بعد إجماع سابق، فلذا يرد الخلاف بالإجماع السابق.
--------------------------------------------
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে, যদি বলা হয় উম্মতের মধ্যে এমন কাউকে অবশ্যই থাকতে হবে যিনি ইজমার ভিত্তি (مستند الإجماع) সম্পর্কে অবগত। তবে এর উত্তরে বলা হবে: এটি আমাদের জন্য ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কোনো উপকারে আসবে না; কারণ আমরা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে যখনই কোনো ঐক্যমত (إجماع) দেখি, আমরা তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করি (احتججنا به), চাই আমরা তার ভিত্তি সম্পর্কে জানি বা না জানি এবং উম্মতের মধ্যে কেউ তার ভিত্তি জানে কি না তাও আমাদের দেখার বিষয় নয়। এর কারণ হলো, শরিয়ত স্পষ্ট করেছে যে ঐক্যমত (إجماع) একটি অকাট্য দলিল (حجة) এবং ভিত্তি জানার শর্তারোপ করেনি। সুতরাং, যে সকল দলিল প্রমাণ করে যে ঐক্যমত (إجماع) একটি অকাট্য দলিল (حجة), সেই প্রতিটি দলিলই ভিত্তি জানার শর্তহীনতারও প্রমাণ।
সপ্তম মাসআলামতভেদের পূর্বে ও পরে ইজমার প্রামাণ্যতা (حجية الإجماع)এই মাসআলার উদ্দেশ্য হলো: এটি বর্ণনা করা যে, ঐক্যমত (إجماع) একটি অকাট্য দলিল (حجة); চাই সেই ঐক্যমত (إجماع) মতভেদের পরে সংঘটিত হোক, অথবা ঐক্যমতের (إجماع) পরে কোনো মতভেদের উদ্ভব হোক।
আর যে ঐক্যমতের (إجماع) পরে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তা অকাট্য দলিল (حجة) হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই এবং বিরোধীদের জন্য আবশ্যক হলো ঐক্যমতের (إجماع) দিকে ফিরে আসা। ঐক্যমত (إجماع) অকাট্য দলিল (حجة) হওয়ার স্বপক্ষে বিদ্যমান সকল প্রমাণই এর দলিল। সুতরাং, যে ব্যক্তি প্রাচীন ঐক্যমতের (الإجماع القديم) বিরোধিতা করবে, তার বিরোধিতা নিশ্চিতভাবেই ভুল; কারণ সে সত্যের বিরোধিতা করেছে, যার ওপর আলেমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন (أجمع عليه)।
এর অনেক সদৃশ উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত রয়েছে, এমনকি ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) মুখতাসারুস সাওয়াইক গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন: এর জন্য দুইশত উদাহরণ রয়েছে
(১)।
অর্থাৎ: একটি প্রাচীন ঐক্যমত (إجماع قديم) সম্পন্ন হয়েছিল, অতঃপর মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে। এটি সূক্ষ্ম ফিকহী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যে বিষয়ে একজন জ্ঞানান্বেষীর (طالب العلم) গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। কারণ এমন অনেক মাসআলা রয়েছে যেগুলোতে মতভেদ বর্ণনা করা হয়, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে স্পষ্ট হয় যে, এই মতভেদটি পূর্ববর্তী একটি ঐক্যমতের (إجماع سابق) পরে উদ্ভূত হয়েছে। ফলে পূর্ববর্তী ঐক্যমতের (إجماع سابق) মাধ্যমে এই মতভেদটিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وكذلك ينعقد الإجماع بعد خلاف، بمعنى أن يكون في المسألة قولان ثم يجمع العلماء على أحد هذين القولين، وهذا الإجماع حجة، ويدل على أنه حجة كل دليل يدل على أن الإجماع حجة، فلما أجمع العلماء على أحد القولين فقد كشف لنا إجماعهم الراجح من هذين القولين وبيَّن لنا أن القول الأول هو الصحيح دون القول الثاني
(1).
ومما أنبه إليه أن أبا يعلى في «العدة»
(2)، نسب للإمام أحمد رواية أنه لا يرى أن الإجماع بعد الخلاف حجة.
لكن في هذه النسبة، وفما اعتمد عليه نظر؛ لذلك لم يوافقه أبو الخطاب الحنبلي
(3) -وهو تلميذ أبي يعلى - في أن يجعل هذا القول رواية عن الإمام أحمد، ومثله ابن قدامة في «روضة الناظر»
(4).
وصنيع أهل السنة العملي: يدل على أنه حجة، فأهل السنة استدلوا بحرمة الخروج على السلطان بإجماع أهل العلم، مع أنه قد حصل خلاف بين التابعين لكن انعقد الإجماع بعد ذلك.
وثمة أمثلة لهذه المسألة، منها:
المثال الأول: مسألة الخروج على السلطان كان في المسألة خلاف بين التابعين ثم انعقد الإجماع بعد ذلك قال ابن تيمية في «منهاج السنة»: استقر قول أهل السنة على عدم الخروج على السلطان
(5).
--------------------------------------------
একইভাবে মতভেদের (خلاف) পর ইজমা (إجماع) সংঘটিত হয়; যার অর্থ হলো কোনো মাসআলায় দুটি মত বিদ্যমান থাকার পর আলেমগণ সেই দুটি মতের কোনো একটির ওপর ঐক্যমত পোষণ করেন। আর এই ইজমা (إجماع) একটি হুজ্জাত (حجة)। ইজমা (إجماع) যে হুজ্জাত (حجة), তার সপক্ষে সেই প্রতিটি দলিল বিদ্যমান যা সাধারণভাবে ইজমা (إجماع) হুজ্জাত (حجة) হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে। সুতরাং যখন আলেমগণ দুটি মতের কোনো একটির ওপর ঐক্যমতে পৌঁছান, তখন তাদের সেই ইজমা (إجماع) আমাদের নিকট ওই দুটি মতের মধ্যে অগ্রগণ্য (الراجح) মতটিকে উন্মোচিত করে এবং আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দেয় যে, দ্বিতীয় মতটির পরিবর্তে প্রথম মতটিই সঠিক (الصحيح)
(১).
আমি একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, আবু ইয়ালা তার আল-উদ্দাহ গ্রন্থে ইমাম আহমদের থেকে এমন একটি বর্ণনা (رواية) সম্বন্ধ করেছেন যে, তিনি মতভেদের (خلاف) পর সংঘটিত ইজমা (إجماع)-কে হুজ্জাত (حجة) মনে করেন না।
কিন্তু এই সম্বন্ধযুক্তকরণে এবং তিনি যার ওপর নির্ভর করেছেন তাতে পর্যালোচনার (نظر) অবকাশ রয়েছে। এই কারণেই আবু ইয়ালার ছাত্র আবুল খাত্তাব আল-হানবালি এই মতটিকে ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা (رواية) হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে তার সাথে একমত হননি। একইভাবে ইবনে কুদামা তার রাওদাতুন নাজির গ্রন্থেও অনুরূপ অবস্থান নিয়েছেন।
আহলে সুন্নাহর ব্যবহারিক কর্মপদ্ধতিও এটি হুজ্জাত (حجة) হওয়ার প্রমাণ দেয়। কেননা আহলে সুন্নাহর আলেমগণ শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের ইজমা (إجماع) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যদিও তাবেয়ীদের (التابعين) মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ (خلاف) বিদ্যমান ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে ইজমা (إجماع) সংঘটিত হয়েছে।
এই মাসআলার আরও উদাহরণ রয়েছে, যার মধ্যে:
প্রথম উদাহরণ: শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার মাসআলা। এই বিষয়ে তাবেয়ীদের (التابعين) মধ্যে মতভেদ (خلاف) ছিল, অতঃপর এ বিষয়ে ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়। ইবনে তাইমিয়্যাহ মিনহাজুস সুন্নাহ গ্রন্থে বলেছেন: শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করার ওপর আহলে সুন্নাহর অভিমত স্থির হয়েছে
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وحكى الإمام أحمد في «أصول السنة»
(1)، وعلي بن المديني
(2)، والرازيان في «رسالتهما في الاعتقاد»
(3)، وابن أبي زيد القيرواني
(4) والمزني
(5) وجمع كبير من أئمة السنة إجماعَ أهل السنة على ذلك بل نصوا على أن من خالف فهو مبتدع، فهذا يدل على أنهم يرون أن المسألة إجماعية ولو أنه حصل خلاف قبل ذلك في عهد التابعين.
المثال الثاني: أن الصحابة اختلفوا في ربا الفضل.
ذهب ابن عباس
(6) إلى أنه ليس من الربا وتبعه بعض أصحابه، لكن انعقد الإجماع بعد ذلك
(7).
المثال الثالث: لحوم الحمر الأهلية فقد حصل خلاف بين الصحابة في حرمتها
(8)، ثم انعقد الإجماع على حرمتها
(9).
المثال الرابع: وجوب الغسل لمن جامع بلا إنزال، وقد تقدم أن في المسألة خلافًا ثم انعقد الإجماع.
--------------------------------------------
ইমাম আহমদ তার 'উসুলুস সুন্নাহ' গ্রন্থে
(১), আলী ইবনুল মাদিনী
(২), আর-রাযীয়ান (দুই রাযী) তাদের 'রিসালা ফিল ইতিকাদ'-এ
(৩), ইবনে আবি যায়েদ আল-কাইরাওয়ানী
(৪) এবং আল-মুযানী
(৫) সহ আহলে সুন্নাহর ইমামগণের এক বিশাল জামাত এ বিষয়ে আহলে সুন্নাহর ঐক্যমত (إجماع) বর্ণনা করেছেন। এমনকি তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে সে বিদআতি (مبتدع); এটি প্রমাণ করে যে, তারা বিষয়টিকে ঐক্যমত্যপূর্ণ (إجماعي) মনে করেন, যদিও এর আগে তাবেয়ীদের যুগে এ নিয়ে মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছিল।
দ্বিতীয় উদাহরণ: সাহাবীগণ রিবা আল-ফদল (উদ্বৃত্ত সুদ) নিয়ে মতভেদ করেছিলেন।
ইবনে আব্বাস
(৬) এই মত পোষণ করতেন যে, এটি সুদের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তার কিছু অনুসারী তাকে অনুসরণ করেছিলেন; কিন্তু পরবর্তীতে এ বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে
(৭)।
তৃতীয় উদাহরণ: গৃহপালিত গাধার গোশত। এর হারামের বিষয়ে সাহাবীগণের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল
(৮), পরবর্তীতে এর হারামের ওপর ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়
(৯)।
চতুর্থ উদাহরণ: বীর্যপাত ছাড়াই সহবাসকারীর ওপর গোসল ওয়াজিব হওয়া। পূর্বে এ মাসআলায় মতভেদ থাকার কথা আলোচিত হয়েছে, পরবর্তীতে ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকনা ফী হুজ্জিয়াতিল ইজমা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
والأمثلة على هذه ليست قليلة، والدليل على أنه حجة هو كل دليل يدل على أن الإجماع حجة؛ وذلك أن الإجماع يكشف القول الراجح من القول المرجوح.
أما من خالف في ذلك من المتكلمين وبعض الأصوليين الذين تأثروا بالمتكلمين لما قالوا: إن الأقوال لا تموت بقول قائليها. فقولهم مرجوح لما تقدم ذكره.
* * *
المسألة الثامنةضابط القول الشاذكثيرا ما يقع ناظراك في كلام أهل العلم على قولهم: «إن هذا القول شاذ»، فما ضابط ذلك القول الشاذ؟
فيقال وبالله - تعالى - التوفيق: ضابط القول الشاذ - والله أعلم - هو: القول المخالف للإجماع.
فإذا انعقد الإجماع على مسألة ثم حدث قول فإن هذا القول شاذ. وهذا الذي ذكرته مستفاد من صنيع ابن قدامة في «روضة الناظر»
(1).
وقد حصل توسع عند كثير من أهل العلم في وصف قول بأنه شاذ حتى إذا اشتهر في أهل البلد قول وخالفه أحد قالوا: إن قوله شاذ بحجة أنه خالف أهل البلد أو الشائع والمنتشر.
وهذا خطأ، فقد يكون القول الذي اشتهر عند أهل البلد ليس عليه إلا المذهب الذي شاع عند أهل البلد، كأن يشيع عندهم المذهب الحنبلي فيتبنى هذا القول أصحاب أهل البلد؛ لأنهم حنابلة وهذا القول من أفراد المذهب الحنبلي فإذا خالفهم أحد لدليل يراه متبعا في ذلك الحنفية والمالكية والشافعية وصف قوله
--------------------------------------------
এ ধরনের উদাহরণ কম নয় এবং এটি যে দলিল (حجة) হওয়ার প্রমাণ হলো ইজমার (الإجماع) প্রামাণিকতার প্রতিটি দলিল; কারণ ইজমা (الإجماع) বর্জনীয় মত (المرجوح) থেকে অগ্রগণ্য মতকে (الراجح) উম্মোচন করে।
আর যারা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যেমন কালামশাস্ত্রবিদ (المتكلمين) এবং কিছু উসুলবিদ (الأصوليين) যারা কালামশাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, যখন তারা বলেন: "বক্তাদের মৃত্যুর সাথে সাথে তাদের মতামত বিলুপ্ত হয় না।" তবে তাদের সেই বক্তব্য পূর্বোক্ত কারণে বর্জনীয় (مرجوح)।
* * *
অষ্টম মাসআলা (المسألة)বিচ্ছিন্ন মতের (القول الشاذ) মানদণ্ডআলেমদের (أهل العلم) আলোচনায় আপনি প্রায়শই তাদের এই উক্তিটি দেখতে পাবেন যে: «নিশ্চয়ই এই মতটি বিচ্ছিন্ন (شاذ)», তাহলে সেই বিচ্ছিন্ন মতের (القول الشاذ) মানদণ্ড কী?
এর উত্তরে আল্লাহর তাওফিকে বলা হয়: বিচ্ছিন্ন মতের (القول الشاذ) মানদণ্ড—আল্লাহই ভালো জানেন—হলো: ইজমা (الإجماع) বিরোধী বক্তব্য।
সুতরাং যখন কোনো মাসআলায় (مسألة) ইজমা (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় এবং এরপর কোনো নতুন মতের উদ্ভব ঘটে, তবে সেই মতটি বিচ্ছিন্ন (شاذ)। আমি যা উল্লেখ করেছি তা রওদাতুন নাজির গ্রন্থে ইবনে কুদামার কর্মপদ্ধতি থেকে গৃহীত।
(১)অনেক আলেমের (أهل العلم) মাঝে কোনো মতকে বিচ্ছিন্ন (شاذ) হিসেবে অভিহিত করার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা দেখা যায়। এমনকি কোনো অঞ্চলের মানুষের মাঝে কোনো মত প্রসিদ্ধি লাভ করলে যদি কেউ তার বিরোধিতা করে, তবে তারা বলে: তার বক্তব্যটি বিচ্ছিন্ন (شاذ); এই যুক্তিতে যে সে ওই অঞ্চলের মানুষের পরিপন্থী অথবা বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ মতের বিরোধী।
এটি ভুল, কারণ কোনো অঞ্চলের মানুষের কাছে যে মতটি প্রসিদ্ধ, তা কেবল সেই অঞ্চলে প্রচলিত মাযহাবের (المذهب) ভিত্তিতেও হতে পারে। যেমন—তাদের মাঝে হাম্বলী মাযহাব প্রচলিত থাকলে ওই অঞ্চলের লোকেরা সেই মতটিকেই গ্রহণ করে; কারণ তারা হাম্বলী এবং এই মতটি হাম্বলী মাযহাবের একক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এমতাবস্থায় যদি কেউ কোনো দলিলের ভিত্তিতে তাদের বিরোধিতা করে এবং সে ক্ষেত্রে হানাফী, মালিকী ও শাফেয়ী মাযহাব অনুসরণ করে, তখন তার বক্তব্যকে (বিচ্ছিন্ন হিসেবে) অভিহিত করা হয়...
--------------------------------------------