(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: -)
السنة النبوية في مواجهة شبهات الاستشراق - أنور الجندي القسم: علوم الحديث
الكتاب: السُنَّة في مواجهة شُبُهات الاستشراق (ضمن بحوث المؤتمر العالمي الثالث للسيرة والسُنَّة النبوية)
المؤلف: أحمد أنور سيد أحمد الجندي (ت 1422هـ)
عني بطبعه ومراجعته خادم العلم: عبد الله بن إبراهيم الأنصاري
الناشر: المكتبة العصرية، صيدا - بيروت.
الطبعة الأولى: 1401 هـ - 1981 م
عدد الصفحات: 24
أَعَدَّهُ للشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 جُمادَى الآخرة 1432
প্রাচ্যতত্ত্বের সংশয় মোকাবিলায় নবীজির সুন্নাহ (السنة النبوية) - আনোয়ার আল-জুন্দি বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: প্রাচ্যতত্ত্বের সংশয় মোকাবিলায় সুন্নাহ (السنة) (নবীজির সীরাত (السيرة) ও সুন্নাহ (السنة) বিষয়ক তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের গবেষণাপত্র সমূহের অন্তর্ভুক্ত)
লেখক: আহমাদ আনোয়ার সাইয়্যেদ আহমাদ আল-জুন্দি (মৃত্যু ১৪২২ হিজরি)
মুদ্রণ ও পর্যালোচনার তত্ত্বাবধানে জ্ঞানের সেবক: আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-আনসারী
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ، সিদন - বৈরুত.
প্রথম সংস্করণ: ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪
শামেলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন / তৌফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশী، আল্লাহ তাকে ও তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন.
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ জমাদিউল আখিরা ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[السُنَّة في مواجهة شُبُهات الاستشراق]ـ
المؤتمر العالمي الثالث للسيرة والسُنَّة النبوية
البحوث والدراسات المقدمة للمؤتمر - الجزء الثاني
عني بطبعه ومراجعته خادم العلم: عبد الله بن إبراهيم الأنصاري
الطبعة الأولى: 1401 هـ - 1981 م
منشورات المكتبة العصرية: صيدا - بيروت.
عدد الأجزاء: 1.
أَعَدَّهُ للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
—[প্রাচ্যবাদের সংশয়সমূহের মোকাবিলায় সুন্নাহ]—
সীরাত ও সুন্নাহ বিষয়ক তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন
সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণা ও প্রবন্ধসমূহ - দ্বিতীয় খণ্ড
মুদ্রণ ও নিরীক্ষণের দায়িত্বে ইলমের খাদেম: আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আল-আনসারি
প্রথম সংস্করণ: ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
আল-মাকতাবাতুল আসরিয়য়াহ প্রকাশনী: সিদা - বৈরুত।
খণ্ড সংখ্যা: ১।
আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন তাওফিক বিন মুহাম্মাদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।
[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সম্বলিত]।
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة الأولى: 1401 هـ - 1981 م
প্রথম সংস্করণ: ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ৩)
المؤتمر العالمي الثالث للسيرة والسُنَّة النبوية
الدوحة. محرم 1400 هـ.
البحوث والدراسات المقدمة للمؤتمر
সীরাত ও সুন্নাহ বিষয়ক তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন
দোহা। মহররম ১৪০০ হিজরি।
সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র ও অধ্যয়নসমূহ
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ৫)
السُنَّة النبوية في مواجهة شُبُهَات الاستشراق
الأستاذ أنور الجندي «مصر».
প্রাচ্যবাদের সংশয় মোকাবিলায় সুন্নাহ নববী
উস্তাদ আনোয়ার আল-জুন্দি «মিসর»।
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ৬)
المؤتمر العالمي الثالث للسيرة والسُنَّة النبوية
الدوحة. محرم 1400 هـ.
البحوث والدراسات المقدمة للمؤتمر
সীরাত ও সুন্নাহ বিষয়ক তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন
দোহা। মহররম ১৪০০ হিজরি।
সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণা ও প্রবন্ধসমূহ
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
السُنَّة النبوية في مواجهة شُبُهَات الاستشراق
الأستاذ أنور الجندي
لقد جاءت الحملة الضارية على السُنَّة النبوية كجزء من خطة واسعة من مخطط التغريب والغزو الفكري الواسع المركز الذي يستهدف سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم والشريعة الإسلامية والقرآن الكريم، والذي كشفت عنه مخططات التبشير والاستشراق منذ أكثر من قرن من الزمان، وقد جُنِّدَ له عدد ضخم من خصوم الإسلام من المستشرقين ومن دعاة التغريب واتباع مدارس الإرساليات في المشرق في
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রাচ্যতত্ত্বের (استشراق) সংশয়সমূহের (شبهات) মোকাবিলায় সুন্নাহ (سنة) নববি
অধ্যাপক আনোয়ার আল-জুন্দি
সুন্নাহর (سنة) ওপর এই তীব্র আক্রমণ মূলত পাশ্চাত্যকরণ (تغريب) এবং সুসংহত বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের (غزو فكري) একটি বিশাল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসেছে, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাত (سيرة), ইসলামি শরিয়াহ (شريعة) এবং পবিত্র কুরআনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে মিশনারি (تبشير) ও প্রাচ্যতত্ত্বের (استشراق) পরিকল্পনাগুলো থেকে এটি উন্মোচিত হয়েছে। এজন্য প্রাচ্যতাত্ত্বিক (مستشرقين), পাশ্চাত্যকরণের প্রবক্তা এবং প্রাচ্যে মিশনারি স্কুলগুলোর অনুসারী ইসলাম-বিদ্বেষীদের একটি বিশাল গোষ্ঠীকে নিয়োজিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ৮)
محاولة يائسة لتدمير هذه المنابع الأصيلة من الفكر الإسلامي وبخاصة في مجال العقائد والقيم الأساسية التي قام عليها المجتمع الإسلامي.
«لقد جَنَّدَ الاستعمار بعض المستشرقين - كما يقول الدكتور مصطفى السباعي - لتسميم هذا المنبع الروحي، فنصبوا الفخ باسم البحث العلمي والتفكير الحر، وجاء نفر فوقعوا في الفخ، وراحوا يُرَوِّجُونَ بضاعة الغُزاة، إما عن جهل بحقيقة التراث الإسلامي، أو عن انخداع بالأسلوب العلمي المزعوم، وإما عن رغبة في الظهور بمظهر التحرر العقلي وشجاعة الرأي، وإما عن انحراف فكري ووجداني بتأثير الاستهواء».
ويثير الباحثون في هذا المجال إلى أنَّ الحملة على السُنَّة كانت قديمة، وإنَّ الذين جَدَّدُوهَا من المستشرقين ودُعَاةِ التغريب لم يزيدوا عن أنْ أعادوا ترديد الشُبُهات القديمة التي رَدَّدَتْهَا المجوسية والشعوبية ودُعاة التأويل والتشبيه والمتاجرون بالشُبُهات والمفتريات من قديم.
إنَّ هدف الغزو الفكري وحركة التغريب هي هدم مفهوم الإسلام الصحيح الجامع المترابط من القرآن والسُنَّة: بين النص القرآني المُنَزَّلِ، وبين السُنَّة التي يتمثل فيها
ইসলামী চিন্তাধারার এই মৌলিক উৎসগুলোকে ধ্বংস করার এটি একটি মরিয়া প্রচেষ্টা, বিশেষ করে আকিদাহ (العقائد) এবং সেই মৌলিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে যার ওপর ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠিত।
«ডক্টর মুস্তফা আস-সিবাঈ যেমনটি বলেছেন— "উপনিবেশবাদ এই আধ্যাত্মিক উৎসকে বিষাক্ত করার জন্য কিছু প্রাচ্যবিদকে (المستشرقين) নিয়োজিত করেছে। তারা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও মুক্তচিন্তার নামে ফাঁদ পেতেছিল, অতঃপর একদল লোক এসে সেই ফাঁদে পা দিয়েছে এবং তারা আক্রমণকারীদের চিন্তাধারা প্রচার করতে শুরু করেছে; হয় ইসলামী ঐতিহ্যের (التراث الإسلامي) প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে, অথবা তথাকথিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির দ্বারা প্রতারিত হয়ে, কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তি ও মত প্রকাশের সাহসিকতা প্রদর্শনের আকাঙ্ক্ষা থেকে, অথবা মোহাচ্ছন্ন হওয়ার প্রভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিচ্যুতির কারণে।"»
এই বিষয়ের গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, সুন্নাহর (السنة) বিরুদ্ধে এই অভিযান অনেক পুরনো। প্রাচ্যবিদ এবং পাশ্চাত্যকরণের প্রবক্তারা যারা এটিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, তারা কেবল সেই পুরনো সংশয়গুলোরই (الشبهات) পুনরাবৃত্তি করেছে, যা প্রাচীনকালের অগ্নিপূজক (المجوسية), শুউবিয়াহ (الشعوبية), অপব্যাখ্যা (التأويل) ও উপমাদানের (التشبيه) প্রবক্তারা এবং সংশয় ও মিথ্যাচারের কারবারিরা করে আসছিল।
বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন এবং পাশ্চাত্যকরণ আন্দোলনের লক্ষ্য হলো কুরআন ও সুন্নাহর (السنة) সুসমন্বয়ে গঠিত ইসলামের সঠিক, সামগ্রিক ও আন্তঃসম্পর্কিত ধারণাটিকে ধ্বংস করা: অর্থাৎ অবতীর্ণ কুরআনী নস (النص) এবং সুন্নাহর (السنة) মধ্যকার সম্পর্ক নস্যাৎ করা যাতে তা মূর্ত হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ৯)
التطبيق العملي من حيث عمل الرسول صلى الله عليه وسلم وبيانه، وتفصيل لما أجمل، وتوضيح ما بَلَّغَ أو تقييد لمطلق، أو تخصيص لعام: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (1).
ولقد تعددت جوانب الشُبُهات المثارة حول الشريعة وحول سيرة الرسول، وحول القرآن، وقد تولى علماء كثيرون دحض هذه الشبهات وكشف زيفها، ثم جاءت في السنوات الأخيرة تلك الدعاوى الزائفة التي تحاول أَنْ تقول: «إِنَّ القرآن وحده يكفي». وقد دأب قوم في السنوات الأخيرة إلى توجيه الاتهامات إلى مصادر السُنَّة ورجالها. وقد كتب هذه الأشياء مستشرقون لهم ولاء ديني معارض ومخالف للإسلام وللمسلمين، وقد اعتمدوا في ذلك على خيوط جمعوها من فكر المعتزلة وغُلاة الشيعة وحكايات الأدب التي كان مؤلفوها موضع الشُبهة في أمرهم وتخريجهم للحقائق، و
كانت أبرز مَقَالَاتِهِمْ هي الاعتماد على كتب النوادر والمحاضرات والحكايات التي لم تؤلف لتأريخ الرجال ولم تُصَنَّفْ للتحقيق العلمي، والتي جمعت من المجالس وكانت مادة للتفكه والتسلية. وهذه لا يمكن أَنْ تُؤْخَذَ منها الأدلة والشواهد، وقد صدق من قال: إِنَّ علم الحديث لا يؤخذ من كتب الفقه وعلم التفسير، لا يؤخذ من كتب اللغة لأنَّ لكل علم مصادره التي تعرف منها حقائقه وقضاياه. أما الاعتماد على " حياة
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল ও বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি হলো একটি ব্যবহারিক প্রয়োগ, যা সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত রূপ, যা তিনি পৌঁছে দিয়েছেন তার ব্যাখ্যা, কিংবা যা নিঃশর্ত (مطلق) তাকে শর্তযুক্ত (تقييد) করা অথবা যা সাধারণ (عام) তাকে নির্দিষ্ট (تخصيص) করা: {আর আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} (১)।
শরীয়াহ, রাসূলের সীরাত এবং কুরআনকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত সংশয়গুলোর বহু দিক রয়েছে। অনেক আলেম এই সংশয়গুলো খণ্ডন এবং সেগুলোর অসারতা উন্মোচনের দায়িত্ব পালন করেছেন। অতঃপর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই সব মিথ্যা দাবি উত্থাপিত হয়েছে যা বলার চেষ্টা করে যে: «কেবল কুরআনই যথেষ্ট»। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একদল লোক সুন্নাহর উৎস এবং এর বর্ণনাকারীদের (رجال) প্রতি অভিযোগ উত্থাপনে সচেষ্ট হয়েছে। আর এই বিষয়গুলো এমন সব প্রাচ্যবিদরা লিখেছেন যাদের ধর্মীয় আনুগত্য ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতিকূলে ও বিপক্ষে। এ ক্ষেত্রে তারা মুতাজিলাদের চিন্তা-চেতনা, শিয়াদের চরমপন্থী (غلاة) অংশ এবং সাহিত্যের সেই সব গল্প-কাহিনীর ওপর নির্ভর করেছে যেগুলোর লেখকরা সত্যের বর্ণনার (تخريج) ক্ষেত্রে এবং তাদের নিজেদের ব্যাপারে সংশয়াচ্ছন্ন ছিলেন। আর
তাদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বক্তব্য ছিল বিরল ঘটনাবলি (النوادر), বক্তৃতা এবং গল্পের বইগুলোর ওপর নির্ভর করা যেগুলো বর্ণনাকারীদের (رجال) ইতিহাস বর্ণনার জন্য রচিত হয়নি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার (التحقيق العلمي) জন্যও শ্রেণীবদ্ধ করা হয়নি; বরং সেগুলো বিভিন্ন মজলিস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং তা কেবল বিনোদন ও আমোদপ্রমোদের উপকরণ ছিল। এগুলো থেকে কোনো দলিল (الأدلة) বা সাক্ষ্য (الشواهد) গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আর যিনি বলেছেন তিনি সত্যই বলেছেন যে: হাদিস বিজ্ঞান ফিকহ বা তাফসির শাস্ত্রের কিতাব থেকে গ্রহণ করা যাবে না, এমনকি ভাষা বিজ্ঞানের কিতাব থেকেও নয়; কারণ প্রতিটি বিজ্ঞানেরই নিজস্ব উৎস রয়েছে যা থেকে এর সত্যতা ও বিষয়াবলি জানা যায়। আর "জীবন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ১০)
الحيوان " للدميري، أو " ثمار القلوب " للثعالبي أو " مقامات " بديع الزمان للفصل في قضايا السُنَّة فذلك هو التزييف الشديد.
ولقد كانت ظاهرة تسجيل أحاديث القُصَّاصِ ونوادر المجالس من السموم الناقعات التي أفسدت العلم الصحيح واعتمد عليها أهل الباطل، حتى قال ابن الجوزي: «ما أمات العلم إلا القصاص». وللسيوطي كتابه " تحذير الخواص من أكاذيب القُصاص "، وقد أورد فيه فصلاً في إنكار العلماء على القُصاص ما أورده من أباطيل.
وحين تراجع تلك الشبهات المثارة حول السُنَّة فيما أورده محمود أبو رية، أو حول الشريعة الإسلامية فيما أورده علي عبد الرازق، نجد واضحًا أَنَّ النصوص كلها المعتمد عليها مستمدة من كتب الروايات، ونوادر المجالس، لا من كتب السُنَّة أو الفقه، وذلك هو المنهج العلمي الذي قدمه المستشرقون وأتباعهم لتزييف المفاهيم الأساسية والأصيلة بالاعتماد على كتب " ألف ليلة وليلة " و " الأغاني " وغيرها من كتب الشُعُوبِيِّينَ واعتبارها مراجع لمُضاهات العلم الصحيح، وإثارة الشُبُهات في وجه الحقائق العلمية الأصلية. ونحن نجد أَنَّ كل الذين حملوا لواء الشُبُهات حول السُنَّة النبوية قد اعتمدوا على مصدر أساس هو
كتاب جولدتسيهر " العقيدة والشريعة " الذي ترجم وطبع بتوجيه
দামীরীর "আল-হায়াওয়ান", অথবা সাআলিবীর "ছিমারুল কুলুব" অথবা বদিউজ্জামান [হামাদানির] "মাকামাত" ব্যবহার করে সুন্নাহর বিষয়গুলো ফয়সালা করা মূলত চরম জালিয়াতি।
গল্পকারদের (القُصَّاصِ) হাদিস এবং মজলিসের বিরল কিসসা-কাহিনী লিপিবদ্ধ করার প্রবণতা ছিল এমন এক মারাত্মক বিষ যা সঠিক ইলমকে কলুষিত করেছে এবং বাতিলপন্থীরা এর ওপর নির্ভর করেছে। এমনকি ইবনুল জাওযী বলেছেন: "ইলমকে কেবল গল্পকাররাই (القصاص) ধ্বংস করেছে।" ইমাম সূয়ূতীর "তাহযীরুল খাওয়াস মিন আকাযিবিল কুসসাস" নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে, যেখানে তিনি গল্পকারদের বর্ণিত বিভিন্ন অসার বক্তব্যের (أباطيل) ব্যাপারে আলেমদের আপত্তির ওপর একটি বিশেষ অধ্যায় উল্লেখ করেছেন।
মাহমুদ আবু রায়্যাহ সুন্নাহর ব্যাপারে অথবা আলী আব্দুল রাযেক ইসলামি শরীয়াহর ব্যাপারে যে সংশয়গুলো উত্থাপন করেছেন, সেগুলো পর্যালোচনা করলে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, তাদের নির্ভর করা সমস্ত উদ্ধৃতি মূলত সাধারণ বর্ণনার (روايات) কিতাব ও মজলিসের বিরল কাহিনীগুলো থেকে সংগৃহীত; সুন্নাহ বা ফিকহের কিতাবগুলো থেকে নয়। আর এটিই হলো সেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যা প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীরা মৌলিক ও বিশুদ্ধ ধারণাগুলোকে বিকৃত করার জন্য পেশ করেছে। তারা "আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা", "আল-আঘানি" এবং শুউবিদের অন্যান্য বইয়ের ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে সঠিক ইলমের সমান্তরাল তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং মৌলিক ইলমি সত্যের বিরুদ্ধে সংশয় উসকে দিয়েছে। আমরা দেখতে পাই যে, যারা সুন্নাহর ব্যাপারে সংশয়ের পতাকা বহন করেছেন, তারা একটি মূল উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, আর তা হলো গোল্ডজিহারের বই
"আল-আকিদাহ ওয়াশ শারীয়াহ" যা একটি বিশেষ মহলের নির্দেশনায় অনূদিত ও মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الدكتور طه حسين إبان إشرافه على «دار الكاتب المصري» اليهودية، وقد نقل أحمد أمين كثيرًا من الشبهات عن الحديث النبوي في كتابيه " فجر الإسلام " و " ضُحَاهُ " كما نقل عنه الدكتور علي حسن عبد القادر في كتابه " نظرة عامة في تاريخ الفقه الإسلامي ".
وقد رَدَّدَتْ هذه الشبهات كُتُبٌ عِدَّةٌ: منها جورجي زيدان في كتابه " تاريخ التمدن الإسلام "، وإبراهيم اليازجي في كتابه " حضارة الإسلام في السلام " وفليب حتي في كتابه " تاريخ العرب المطول "، وَرَدَّدَ هذه الأفكار: كُتَّاب " دائرة المعارف الإسلامية "، وكارل بروكلمان في كتابه " تاريخ الشعوب الإسلامية " ومؤلف كتاب " السيادة العربية " (1) وكريمر في كتابه " الحضارة الإسلامية ".
ولا ريب أَنَّ هذه المؤلفات كلها تحمل أهواء الاستشراق والغزو الفكري في محاولة انتقاص السُنَّة النبوية، إلى جانب الشريعة والقرآن وتاريخ الرسول والفكر الإسلامي كله، ولا ريب أَنَّ دعوتها إلى إثارة الشبهات حول الحديث النبوي والدعوة إلى الاكتفاء بالنص القرآني عمل خطير، هو محاولة للفصل بين النص والتطبيق في الإسلام، وهو أخطر الجوانب وأهمها: هذا التطبيق المتمثل في «الأسلوب» الذي اتبعه الرسول صلى الله عليه وسلم في تنفيذ النص القرآني، ومن هنا فإنَّ النص القرآني وحده لا يكفي المسلمين اليوم، ولا يحقق لهم إسلامًا
--------------------------------------------
ডক্টর ত্বহা হুসাইন যখন ইহুদি মালিকানাধীন ‘দারুল কাতিব আল-মিসরি’-এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন; আর আহমদ আমিন তাঁর "ফাজরুল ইসলাম" ও "দুহাল ইসলাম" গ্রন্থদ্বয়ে নববী হাদিস সম্পর্কে অনেক সংশয় উদ্ধৃত করেছেন, যেমনটি ডক্টর আলী হাসান আবদুল কাদির তাঁর "নাজরাহ আম্মাহ ফি তারিখিল ফিকহিল ইসলামি" গ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
এবং এই সংশয়গুলো বেশ কিছু গ্রন্থে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে: তন্মধ্যে রয়েছে জর্জি জায়দানের গ্রন্থ "তারিখুত তামাদ্দুনিল ইসলামি", ইব্রাহিম আল-ইয়াজিজির গ্রন্থ "হাদারাতুল ইসলাম ফিস সালাম" এবং ফিলিপ হিট্টির গ্রন্থ "তারিখুল আরাব আল-মুতাওয়াল"। এই ধারণাগুলোর পুনরাবৃত্তি করেছেন: "দায়িরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ"-এর লেখকবৃন্দ, কার্ল ব্রোকেলম্যান তাঁর "তারিখুশ শুউবিল ইসলামিয়্যাহ" গ্রন্থে, "আস-সিয়াদাতুল আরাবিয়্যাহ" (১) গ্রন্থের লেখক এবং ক্রেমার তাঁর "আল-হাদারাতুল ইসলামিয়্যাহ" গ্রন্থে।
নিঃসন্দেহে এই সকল রচনায় শরিয়ত, কুরআন, রাসুলের ইতিহাস এবং সমগ্র ইসলামি চিন্তাধারার পাশাপাশি নববী সুন্নাহকে (السنة) খাটো করে দেখার অপপ্রয়াসে প্রাচ্যবাদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের প্রতিফলন ঘটেছে। নিঃসন্দেহে নববী হাদিস সম্পর্কে সংশয় জাগিয়ে তোলা এবং কেবল কুরআনি পাঠের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো একটি বিপজ্জনক কাজ; এটি ইসলামে মূল পাঠ ও প্রয়োগের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর একটি অপচেষ্টা। এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ দিক: এই প্রয়োগ মূলত সেই ‘পদ্ধতি’র রূপান্তর যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনি পাঠ বাস্তবায়নে অনুসরণ করেছিলেন। এখান থেকেই স্পষ্ট হয় যে, বর্তমান সময়ের মুসলিমদের জন্য কেবল কুরআনি পাঠই যথেষ্ট নয় এবং তা তাদের জন্য ইসলামকে পূর্ণাঙ্গভাবে রূপায়িত করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ১২)
حقيقيًا، هذا فضلاً عن أَنَّ السُنَّة جزء من القرآن بنص القرآن {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (1).
فهذا البيان الذي يفسر للناس ويطبق، هو بإقرار القرآن نفسه جزء أساسي، وحين يراجع الباحث كتابات المستشرقين يجد أَنَّ موقفهم من السُنَّة هو جزء من موقفهم من القرآن وسيرة الرسول تمامًا، فإنَّ السُنَّةَ هي جزء من حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، وهي تفسير للقرآن، فلا بُدَّ أَنْ تنالها الشبهات وتصل إليها السموم وعوامل التزييف. يقول العالم الفرنسي المسلم إتيان دينيه: «إِنَّهُ مِنَ العَسِيرِ أَنْ يَتَجَرَّدَ المُسْتَشْرِقُونَ مِنْ عَوَاطِفِهِمْ وَنَزَعَاتِهِمْ عِنْدَمَا يُؤَرِّخُونَ حَيَاةَ الرَّسُولِ أَوْ يَدْرُسُونَ سُنَّتَهُ».
وقد صَرَّحَ في مقدمة كتابه " تاريخ حياة سيدنا محمد ": «إِنَّهُ مِنَ المُتَعَذََّرِ بَلْ مَنْ المُسْتَحِيلِ أَنْ يَتَحَرَّرَ المُسْتَشْرِقُونَ مِنْ عَوَاطِفِهِمْ وَنَزَعَاتِهِمْ المُخْتَلِفَةِ، وَإِنَّهُ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ قَدْ بَلَغَ تَحْرِيفُ بَعْضِهِمْ لِسِيرَةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مَبْلَغًا غَطََّىَ عَلَىَ الوَاقِعِ وَأَخْفَى الصُّوَرَةَ الحَقِيقِيَّةَ، وَذَلِكَ بِالرَّغْمِ مِمَّا يَزْعُمُهُ المُسْتَشْرِقُونَ مِنْ اتِّبَاعِهِمْ لأَسَالِيبِ النَّقْدِ البَرِيئَةِ وَلِقَوَانِينَ البَحْثِ العِلْمِيِّ المُحَايِدِ».
وقد عرض إتيان دينيه لكثير من اتهاماتهم للنبي وَرَدَّ عليها واتَّخَذَ من (لَامَنْسْ) مثالاً واضحًا على صحة ما ذهب إليه وحكم به.
تتركز شكوك المستشرقين في السُنَّة حول تأخر تدوين الحديث، فهم يرون أَنَّ تأخر تدوين الحديث الذي بدأ في
--------------------------------------------
বাস্তবিকভাবেই, এটি ছাড়াও কুরআনের অকাট্য বর্ণনা (نص) অনুযায়ী সুন্নাহ কুরআনেরই অংশ: {আর আমি আপনার নিকট যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের নিকট তা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} (১)।
সুতরাং এই ব্যাখ্যা যা মানুষের জন্য বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ করা হয়, তা কুরআনেরই স্বীকৃতি অনুযায়ী একটি মৌলিক অংশ। যখন একজন গবেষক প্রাচ্যবিদদের রচনাবলি পর্যালোচনা করেন, তখন তিনি দেখতে পান যে সুন্নাহর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত কুরআন ও রাসূলের সীরাতের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেননা সুন্নাহ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের অংশ এবং কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ; তাই স্বাভাবিকভাবেই এটি বিভিন্ন সংশয় (شبهات), বিষবাষ্প এবং জালকরণের (تزييف) উপাদানসমূহের লক্ষ্যবস্তু হবে। ফরাসি মুসলিম পণ্ডিত ইতিয়েন দিনিয়ে বলেন: “প্রাচ্যবিদদের পক্ষে তাদের আবেগ ও ঝোঁক থেকে মুক্ত হওয়া অত্যন্ত কঠিন যখন তারা রাসূলের জীবন ইতিহাস রচনা করেন বা তাঁর সুন্নাহ নিয়ে গবেষণা করেন।”
তিনি তাঁর “তারিখে হয়াতে সাইয়িদিনা মুহাম্মাদ” (আমাদের নেতা মুহাম্মাদ-এর জীবনের ইতিহাস) গ্রন্থের ভূমিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: “প্রাচ্যবিদদের পক্ষে তাদের বিবিধ আবেগ ও ঝোঁক থেকে মুক্ত হওয়া দুঃসাধ্য, এমনকি অসম্ভব। আর এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের ক্ষেত্রে তাদের কারো কারো বিকৃতি (تحريف) এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা বাস্তবতাকে আড়াল করেছে এবং প্রকৃত চিত্রকে গোপন করেছে; অথচ প্রাচ্যবিদরা দাবি করেন যে তারা নিরপেক্ষ সমালোচনা (النقد) পদ্ধতি এবং বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক গবেষণার নিয়মাবলী অনুসরণ করছেন।”
ইতিয়েন দিনিয়ে নবীর প্রতি তাদের অনেক অভিযোগ তুলে ধরেছেন এবং সেগুলোর উত্তর দিয়েছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যের সত্যতা ও সিদ্ধান্তের সপক্ষে ‘ল্যামেন্স’-কে একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
সুন্নাহ সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের সংশয়ের কেন্দ্রবিন্দু হলো হাদিস সংকলন (تدوين) বিলম্বে হওয়া, তারা মনে করেন যে হাদিস সংকলন (تدوين) যা শুরু হয়েছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المائة الثانية للهجرة أعطى فرصة للمسلمين ليزيدوا وينقصوا في الحديث وفي وضع أحاديث لخدمة أغراضهم.
يُرَدِّدُ هذا جولدتسيهر ودُوزِيِ وشبرنجر.
وقد شك جولدتسيهر في صحة وجود صحف كثيرة في عهد الرسول، راميًا من وراء ذلك إلى إضعاف الثقة باستظهار السُنَّة وحفظها في الصدور، وهو يرمي أيضًا إلى وصم السُنَّة (أو أغلبها) بالاختلاق والوضع على أَلْسِنَةِ المُدَوِّنِينَ، وهو يزعم أَنَّ هؤلاء المُدَوِّنِينَ لم يجمعوا من الأحاديث إِلَاّ ما يوافق هواهم، ويرى شبرنجر في كتابه " الحديث عند العرب " أَنَّ الشروع في التدوين وقع في القرن الهجري الثاني وأَنَّ السُنَّةَ انتقلت بطريق المشافهة. أما دُوزي فهو ينكر نسبة هامة (التركة المجهولة) كما يُسَمِّيهَا من الأحاديث إلى الرسول. وقد رَدَّ كثير من الباحثين المسلمين داحضين هذه الأهواء المُوغلة في الحقد والخصومة،
رَدَّ عليهم مصطفى السباعي، وأبو الحسن الندوي، وصُبحي الصالح وعشرات:أولاً - ما أورده الدكتور مصطفى السباعي حين قال: «حرص الصحابة على حفظ حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ونقله وحرص التابعين وتابعي التابعين
হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দী মুসলিমদেরকে হাদিসের মধ্যে হ্রাস-বৃদ্ধি করার এবং তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে হাদিস জাল (وضع) করার সুযোগ করে দিয়েছিল।
গোল্ডজিহার, ডোজি এবং স্প্রেঞ্জার এই কথাটিই বারবার পুনরাবৃত্তি করেছেন।
গোল্ডজিহার রাসুলুল্লাহর যুগে বহু পাণ্ডুলিপি বা সহিফা বিদ্যমান থাকার সঠিকতা (صحة) নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সুন্নাহ (السُنَّة) মুখস্থ রাখা এবং অন্তরে তা সংরক্ষণ করার প্রতি আস্থা দুর্বল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তিনি সুন্নাহকে (السُنَّة) (বা এর অধিকাংশকে) সংকলকদের মাধ্যমে উদ্ভাবন ও জাল (الوضع) করার অপবাদ দেওয়ারও অপচেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, এই সংকলকগণ কেবল সেই সব হাদিসই সংগ্রহ করেছেন যা তাদের খেয়াল-খুশির অনুকূলে ছিল। স্প্রেঞ্জার তার "হাদিস ইনদাল আরব" গ্রন্থে মনে করেন যে, হাদিস সংকলন (تدوين) শুরু হয়েছিল হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে এবং সুন্নাহ (السُنَّة) কেবল মৌখিক (مشافهة) পদ্ধতিতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। অন্যদিকে ডোজি হাদিসের একটি বড় অংশকে রাসুলুল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা অস্বীকার করেন, যাকে তিনি "অজ্ঞাত উত্তরাধিকার" (التركة المجهولة) হিসেবে অভিহিত করেছেন। অনেক মুসলিম গবেষকই বিদ্বেষ ও শত্রুতা প্রসূত এই খেয়াল-খুশিগুলোকে খণ্ডন করে জবাব দিয়েছেন।
তাদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন মোস্তফা আস-সিবায়ি, আবুল হাসান আন-নদভী, সুবহি আস-সালেহ এবং আরও অনেকে:প্রথমত - ড. মোস্তফা আস-সিবায়ি যা উল্লেখ করেছেন যখন তিনি বলেন: «রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস সংরক্ষণ ও তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে সাহাবি (صحابة) গণের গভীর আগ্রহ ছিল এবং তেমনি আগ্রহ ছিল তাবেয়ি (تابعين) ও তাবে-তাবেয়ি (تابعي التابعين) গণের।
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فمن بعدهم، على نقل هذا الحديث وجمعه وتنقيته من شوائب التحريف والتزيد، وما قام به علماء السُنَّة من جهود جبارة في تتبع الكذابين والوضَّاعين، وفضح نواياهم ودخائلهم، وبيان ما زادوه في السُنَّة من أحاديث مكذوبة، حتى جمعت السُنَّة في كتب صحيحة، وأشبعها النُقَّاد بحثاً وتمحيصاً، ثم خرجوا من ذلك إلى الاعتراف بصحتها والتسليم بها، إذا أمعنت النظر في ذلك كله، أيقنت أنَّ هؤلاء المستشرقين يخبطون في أودية الأوهام، ويتأثرون بأهوائهم [وتعصبهم في الحكم على حقائق يعتبر العبث بها في نظر المحقق المنصف إسفافاً وتلاعباً بالعلم، وإخضاعاً لحقائق التاريخ إلى نظريات الهوى والعصبية] (1).
ثانيًا - ما أشار إليه السيد أبو الحسن الندوي من أَنَّ الصحابة بدأوا في تدوين الحديث في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، وكانت هناك مجموعات من الأحاديث لعدد من الصحابة منها " الصحيفة الصادقة " لعبد الله بن عمرو بن العاص، وكان لِعَلِيٍّ بن أبي طالب صحيفة، وكان لأنس ولعبد الله بن عباس وعبد الله بن مسعود وجابر بن عبد الله، لكل منهم صحيفة، وهناك " صحيفة هَمَّاٍم بْنِ مُنَبِّهٍ، فإذا جمعت هذه الصحف والمجاميع كونت العدد الأكبر من
--------------------------------------------
অতঃপর তাদের পরবর্তী প্রজন্ম, এই হাদিস বর্ণনা, সংগ্রহ এবং বিকৃতি (تحريف) ও অতিরঞ্জনের (تزيد) কলুষতা থেকে একে পরিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে; এবং সুন্নাহর আলেমগণ চরম মিথ্যাবাদী (كذابين) ও জালকারীদের (وضاعين) খুঁজে বের করতে, তাদের অসৎ উদ্দেশ্য ও গোপন অভিসন্ধি উন্মোচন করতে এবং সুন্নাহর মধ্যে তাদের অনুপ্রবেশকৃত মিথ্যা উদ্ভাবিত হাদিসসমূহ (أحاديث مكذوبة) স্পষ্ট করতে যে বিশাল প্রচেষ্টা চালিয়েছেন; এমনকি সুন্নাহ বিশুদ্ধ (صحيحة) গ্রন্থাবলীতে সংকলিত হয়েছে এবং সমালোচকগণ (نقاد) একে গভীর গবেষণা ও চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করেছেন, অতঃপর তারা এর বিশুদ্ধতা (صحة) স্বীকার ও তা মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন—এই সবকিছুর দিকে যদি আপনি গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করেন, তবে নিশ্চিত হবেন যে, এই প্রাচ্যবিদগণ (مستشرقين) ভ্রান্তির গোলকধাঁধায় হাবুডুবু খাচ্ছেন এবং তারা তাদের খেয়ালখুশি ও পক্ষপাতের দ্বারা প্রভাবিত। [এমন সব বাস্তব সত্যের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের গোঁড়ামি কাজ করে, যে সত্যগুলো নিয়ে ছিনিমিনি খেলা একজন ইনসাফগার গবেষকের (محقق) দৃষ্টিতে হীনতা ও ইলমের সাথে তামাশা করার শামিল এবং ইতিহাসের বাস্তবতাকে প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামির থিওরির বশবর্তী করার নামান্তর।] (১)।
দ্বিতীয়ত—সৈয়দ আবুল হাসান নদভী যা উল্লেখ করেছেন তা হলো, সাহাবীগণ (صحابة) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেই হাদিস সংকলনের (تدوين) কাজ শুরু করেছিলেন। বেশ কয়েকজন সাহাবীর (صحابة) কাছে হাদিসের সংকলন ছিল, যার মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর "আস-সহিফাতুস সাদিকাহ" অন্যতম। এছাড়া আলী ইবনে আবি তালিবের একটি পুস্তিকা (صحيفة) ছিল এবং আনাস, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ—তাদের প্রত্যেকেরই একটি করে পুস্তিকা (صحيفة) ছিল। এছাড়া "সহিফা হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ" তো রয়েছেই। সুতরাং যখন এই পুস্তিকা (صحف) ও সংকলনগুলোকে একত্রিত করা হয়, তখন তা একটি বৃহৎ সংখ্যা গঠন করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الأحاديث التي جمعت في الجوامع والمسانيد والسُنن في القرن الثالث، وقد تحقق أَنَّ المجموع الأكبر من الأحاديث سبق تدوينه ونسخه من غير نظام وترتيب في عصر الرسول وفي عصر الصحابة، وقد شاع في الناس حتى المثقفين والمؤلفين أنَّ الحديث لم يكتب ولم يسجل إلَاّ في القرن الثالث الهجري
…وأحسنهم حالاً من يرى أنه كتب في القرن الثاني وما نشاهد هذا الغلط إلَاّ عن طريقين:
الأول: أَنَّ عامة المؤرخين يضطرون إلى ذكر مُدَوِّنِي الحديث في القرن الثاني ولا يُعْنُونَ بذكر هذه الصحف والمجاميع التي كتبت في القرن الأول لأنَّ عامتها فقدت أو ضاعت مع أنها اندمجت وذابت في المؤلفات المتأخرة.
الثاني: أَنَّ المحدثين يذكرون عدد الأحاديث الضخم الهائل الذي لا يتصور أَنْ يكون في هذه المجاميع الصغيرة التي كتبت في القرن الأول؛ مع أَنَّ عدد الأحاديث الصحاح غير المتكررة المتحررة من المتابعات لا يزال قليلاً، فحديث «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» مثلاً يُرْوَى من سبعمائة طريق، فلو جَرَّدْنَا مجاميع الأحاديث من هذه المتابعات والشواهد لبقي
তৃতীয় শতাব্দীতে জাওয়ামি, মাসানিদ এবং সুনান গ্রন্থসমূহে যে হাদিসগুলো সংকলিত হয়েছে, এটি সুনিশ্চিত যে হাদিসের একটি বিশাল অংশ রাসুল (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিন্যাস ছাড়াই পূর্বেই সংকলিত ও অনুলিপি করা হয়েছিল। এমনকি শিক্ষিত ব্যক্তি এবং লেখকদের মাঝেও এই ধারণাটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর পূর্বে হাদিস লেখা বা লিপিবদ্ধ করা হয়নি
…আর তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় রয়েছেন তারা, যারা মনে করেন যে এগুলো দ্বিতীয় শতাব্দীতে লেখা হয়েছে। আমরা এই ভ্রান্তিটি কেবল দুটি কারণে দেখতে পাই:
প্রথমত: সাধারণ ইতিহাসবিদগণ দ্বিতীয় শতাব্দীর হাদিস সংকলকদের কথা উল্লেখ করতে বাধ্য হন এবং তারা প্রথম শতাব্দীতে লিখিত এই সহিফা ও সংকলনগুলোর কথা উল্লেখ করার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেন না; কেননা এগুলোর অধিকাংশই হারিয়ে গেছে অথবা বিলীন হয়ে গেছে, যদিও সেগুলো পরবর্তীকালের গ্রন্থসমূহের সাথে একীভূত ও সংমিশ্রিত হয়ে আছে।
দ্বিতীয়ত: মুহাদ্দিসগণ হাদিসের এমন এক বিশাল ও বিপুল সংখ্যার কথা উল্লেখ করেন, যা প্রথম শতাব্দীতে লিখিত এই ক্ষুদ্র সংকলনসমূহে থাকা অকল্পনীয় বলে মনে হয়; অথচ মুতাবাআ (متابعات) থেকে মুক্ত এবং পুনরাবৃত্তিহীন সহিহ (صحاح) হাদিসের সংখ্যা এখনো স্বল্পই। উদাহরণস্বরূপ, ‘নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’—এই হাদিসটি সাতশত সূত্র (طريق) থেকে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং আমরা যদি হাদিস সংকলনগুলো থেকে এই মুতাবাআ (متابعات) এবং শাওয়াহিদ (شواهد) গুলো পৃথক করি, তবে যা অবশিষ্ট থাকবে...
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
عدد قليل من الأحاديث، فـ " الجامع الصحيح " للبخاري لا تزيد الأحاديث التي رويت بالسند الصحيح فيه عن ألفين وستمائة وحديثين. وأحاديث " مسلم " يبلغ عددها أربعة آلاف حديث. ومعظم هذه الثروة الحديثية قد كتب ودُوِّنَ بأقلام رُوَاةِ العصر الأول، وقد يزيد ما حفظ في الكتب والدفاتر كتابة وتحريرًا في العصر النبوي وفي عصر الصحابة على عشرة آلاف حديث إذا جمعت في صحف ومجاميع أبي هريرة وعبد الله بن عمرو بن العاص، وأنس بن مالك وجابر بن عبد الله وعلي وابن عباس.
وبذلك يمكن أَنْ يقال: إِنَّ ما ثبت من الأحاديث الصحاح وما احتوت عليه مجاميعها ومسانيدها قد كُتِبَ وَدُوِّنَ في عصر الصحابة قبل أَنْ يُدَوَّنَ " الموطأ " و " الصحاح " بكثير.
وكانت الخطوة التالية أَنْ قام المحدثون فَنَقَّبُوا في البلاد في البحث عن الروايات، المختلفة والأسانيد الصحيحة وكان لهم في ذلك هيام وغرام لم يعرف عن أُمَّةٍ من الأمم في التاريخ من التجول في البلاد والسفر في العالم الإسلامي من أقصاه إلى أقصاه، ولم يقتصروا على جمع الحديث وتدوينه بل
অল্প সংখ্যক হাদিস; ইমাম বুখারীর "আল-জামিউস সহিহ"-এ সহিহ (صحيح) সনদ (سند) দ্বারা বর্ণিত হাদিসগুলোর সংখ্যা দুই হাজার ছয়শত দুইটির বেশি নয়। আর "মুসলিম"-এর হাদিস সংখ্যা চার হাজারে পৌঁছায়। এই হাদিস সম্পদের অধিকাংশ প্রথম যুগের বর্ণনাকারীদের (رواة) লেখনীর মাধ্যমে লিপিবদ্ধ ও সংকলিত হয়েছে। নবীজি (সা.)-এর যুগে এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে গ্রন্থ ও খাতাগুলোতে লিখিত ও সংরক্ষিত হাদিসের সংখ্যা দশ হাজারের বেশি হতে পারে, যদি আবু হুরায়রা, আবদুল্লাহ বিন عمرو ইবনুল আস, আনাস বিন মালিক, জাবির বিন আবদুল্লাহ, আলী এবং ইবনে আব্বাসের সহিফা ও সংকলনগুলো একত্রিত করা হয়।
এর মাধ্যমে বলা যেতে পারে যে, সহিহ (صحاح) হিসেবে প্রমাণিত হাদিসসমূহ এবং এগুলোর সংকলন ও মুসনাদগুলোতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা "মুয়াত্তা" এবং "সহিহ" গ্রন্থসমূহ সংকলিত হওয়ার অনেক আগেই সাহাবীদের যুগে লিখিত ও সংকলিত হয়েছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ ছিল এই যে, মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) এবং সহিহ (صحيحة) সনদগুলোর (أسانيد) সন্ধানে জনপদগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। এই কাজে তাঁদের এমন এক ব্যাকুলতা ও গভীর অনুরাগ ছিল যা ইতিহাসের অন্য কোনো জাতির মাঝে দেখা যায় না—যেমনটা তাঁরা মুসলিম বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ভ্রমণ ও সফর করেছিলেন। তাঁরা কেবল হাদিস সংগ্রহ ও সংকলনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি বরং
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تَعَدَّتْ عنايتهم إلى الوسائط التي وقعت في رواية الحديث وهم الرُوَاةُ الذين رَوَوْا هذه الأحاديث، فعنوا بمعرفتهم ومعرفة أسمائهم وأسماء آبائهم وحوادث حياتهم وأخلاقهم ومكانتهم في الأمانة والصدق والحفظ، وهكذا ظهر علم أسماء الرجال إلى الوجود وكان من مفاخر هذه الأمة التي لا يشاركها فيها أُمَّةٌ من الأمم كما يقول الدكتور شبرنجر في مقدمته لكتاب " الإصابة ". وكان هؤلاء المحدثون أقوياء وعلى جانب عظيم من الصبر والجَلَدِ واحتمال المشاق وقوة الذاكرة، وكانت عندهم نهامة للعلم وحرص زائد على اقتباسه والتقاطه من موضعه.
وهكذا نجد أَنَّ الشُبْهَةَ التي اعتمدوا عليها في مهاجمة السُنَّة فاسدة ومُضَلِّلَةٌ ولم يكن لها أي أساس علمي أو تاريخي.
ولعل من الخرافات التي جرى وراءها المستشرقون وأتباعهم فرحين بأنهم التقطوا شيئًا ما، هو ما أطلقوا عليه "
معراج ابن عباس " والكتاب مكذوب، لا يتداوله إِلَاّ عامة الناس، وليس له سند يربطه به، ولا رواية ترقى إليه، وقد احتفل به المستشرقون ثم تَبَيَّنَ لهم زيفه.
ولقد عرف عن هؤلاء المستشرقين طابع التحامل الواضح
তাদের একাগ্রতা সেই মাধ্যমগুলোর দিকেও প্রসারিত হয়েছিল যারা হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে কাজ করেছেন, আর তারা হলেন সেইসব বর্ণনাকারী (الرواة) যারা এই হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন। ফলে তাঁরা তাদের পরিচয়, তাদের নাম ও তাদের পিতৃপরিচয়, তাদের জীবনের ঘটনাবলি, তাদের চরিত্র এবং আমানতদারি, সত্যবাদিতা ও মুখস্থশক্তির (الحفظ) ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। এভাবেই বর্ণনাকারীদের জীবনী বিষয়ক জ্ঞান (علم أسماء الرجال) অস্তিত্ব লাভ করে, যা ছিল এই উম্মতের অন্যতম এক গৌরবময় বিষয়, যাতে বিশ্বের অন্য কোনো জাতি তাদের অংশীদার নয়; যেমনটি ডক্টর স্প্রেঙ্গার তাঁর "আল-ইসাবা" গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। আর এই মুহাদ্দিসগণ ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ধৈর্য, সহনশীলতা, কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। তাঁদের মধ্যে ইলমের প্রতি ছিল প্রবল তৃষ্ণা এবং এর সঠিক উৎস থেকে তা আহরণ ও সংগ্রহের ব্যাপারে ছিল অতিরিক্ত আগ্রহ।
এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, সুন্নাহর ওপর আক্রমণ করার জন্য তারা যে সংশয়ের ওপর নির্ভর করেছে তা অসার ও বিভ্রান্তিকর এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক বা ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।
সম্ভবত প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীরা যে সমস্ত অলীক কল্পকাহিনীর পেছনে ছুটেছেন এবং কিছু একটা খুঁজে পেয়েছেন ভেবে আনন্দিত হয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো "
মিরাজ ইবনে আব্বাস" এবং গ্রন্থটি মিথ্যা ও বানোয়াট (مكذوب), যা কেবল সাধারণ মানুষের মধ্যেই প্রচলিত। এর সাথে তাকে যুক্ত করার মতো কোনো সনদ (سند) নেই এবং এর সপক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য বর্ণনা (رواية) নেই। প্রাচ্যবিদরা এটি নিয়ে মেতে উঠলেও পরবর্তীতে তাদের কাছে এর অসারতা স্পষ্ট হয়ে যায়।
আর এই প্রাচ্যবিদদের মধ্যে স্পষ্ট পক্ষপাতিত্বের বৈশিষ্ট্য সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وتزييف النصوص في محاولة دعم شُبُهَاتِهِمْ، ومن أقوى الأمثلة على ذلك: أَنَّ جولدتسيهر حَرَّفَ عبارة الإمام الزُّهْرِي: «إِنَّ هَؤُلَاءِ الأُمَرَاءِ أَكْرَهُونَا عَلَى كِتَابَةِ (الأَحَادِيثِ)» إلى لفظ: «عَلَى كِتَابَةِ (أَحَادِيثِ)» فضلاً عن اتهامه الإمام الزُّهْرِي بأنه واضع حديث فضل المسجد الأقصى إرضاءً لعبد الملك بن مروان ضد ابن الزبير، مع أَنَّ الزُّهْرِي لم يلق عبد الملك إلَاّ بعد سبع سنوات من مقتل [ابن] الزُبير.
أما القول الذي يتردد على ألسنة أصحاب الشُبُهات مثل قولهم: «لِنَرْجِعْ إِلَى القُرْآنِ الكَرِيمِ وَلكِنْ يَجِبُ أَلَاّ نَجْعَلَ مِنْ أَنْفُسِنَا مُتَعَبِّدِينَ لِلْسُنَّةِ» فإنَّ هذا القول، كما يقول العلَاّمة محمد أسد (ليوبولد فايس) «يكشف بكل بساطة عن جهل بالإسلام، إنَّ الذين يقولون هذا القول يشبهون رجلاً يريد أَنْ يدخل قصرًا ولكنه لا يريد أَنْ يستعمل المفتاح الأصلي الذي يستطيع به وحده أَنْ يفتح الباب!!» ويتساءل: «هل هناك مبرر علمي لرفض الحديث على أنه مصدر يستند إليه الشرع الإسلامي؟» ثم يجيب: «إنه على الرغم من جميع الجهود التي بذلت في سبيل تَحَدِّي الحديث على أنه نظام ما، فإنَّ أولئك النقاد العصريين من الشرقيين والغربيين لم يستطيعوا أَنْ يدعموا انتقادهم العاطفي الخالص بنتائج من البحث
এবং তাদের সংশয়সমূহ সমর্থনের প্রচেষ্টায় পাঠ্য বিকৃতি ঘটানো; এর অন্যতম জোরালো উদাহরণ হলো: গোল্ডজিহার ইমাম যুহরীর এই উক্তিটিকে বিকৃত করেছেন— "নিশ্চয়ই এই শাসকরা আমাদের (হাদিসসমূহ) লিখতে বাধ্য করেছেন," একে "হাদিস লিখতে (বাধ্য করেছেন)" শব্দে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে। পাশাপাশি তিনি ইমাম যুহরীকে ইবনুল জুবায়েরের বিরুদ্ধে আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে মসজিদে আকসার ফজিলত সংক্রান্ত হাদিস জালকারী (واضع) হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। অথচ ইবনুল জুবায়েরের শাহাদাতের সাত বছর পর ব্যতীত যুহরীর সাথে আবদুল মালিকের সাক্ষাৎই ঘটেনি।
আর সংশয়বাদীদের মুখে যে কথাটি বারবার উচ্চারিত হয়, যেমন তাদের উক্তি: "আসুন আমরা পবিত্র কুরআনের দিকে ফিরে যাই, তবে আমাদের নিজেদের সুন্নাহর অনুগত বানানো উচিত নয়"; এই উক্তিটি সম্পর্কে আল্লামা মুহাম্মদ আসাদ (লিওপোল্ড ওয়াইজ) যেমনটি বলেন, এটি "সহজভাবে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতাকেই উন্মোচন করে। যারা এই কথা বলে তারা সেই ব্যক্তির মতো যে একটি প্রাসাদে প্রবেশ করতে চায়, কিন্তু সেই আসল চাবিকাঠিটি ব্যবহার করতে চায় না যা দিয়ে একমাত্র সেই দরজাটি খোলা সম্ভব!!" তিনি প্রশ্ন করেন: "ইসলামি শরিয়তের উৎস হিসেবে হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করার কি কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?" এরপর তিনি উত্তর দেন: "হাদিসকে একটি সুসংগত ব্যবস্থা হিসেবে চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্যে পরিচালিত সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেই আধুনিক সমালোচকগণ তাদের নিছক আবেগপ্রসূত সমালোচনাকে গবেষণালব্ধ কোনো ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হননি।"
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
العلمي، لأنَّ الجامعين لكتب الحديث الأول - خصوصًا الإمامين البخاري ومسلما - قد قاموا بكل ما في طاقة البشر عند عرض صحة كل حديث على قواعد التحديث عرضًا أشد كثيرًا من الذي يلجأ إليه المؤرخون الأوروبيون عادة عند النظر في مصادر التاريخ القديم. ويكفي أَنْ نقول أنه نشأ من ذلك «علم تام الفروع» غايته الوحيدة البحث في معاني أحاديث الرسول وشكلها وطريقة روايتها. وإِنَّ رفض الأحاديث الصحيحة جملة واحدة أو أقسامًا ليس حتى اليوم إلَاّ قضية ذوق، وإِنَّ السبب الذي يحمل على مثل هذا الموقف من المعارضة بين كثيرين من المسلمين المعاصرين يمكن تتبعه إلى مصدره، إنَّ السبب يرجع إلى استحالة الجمع بين طريقة حياتنا وتفكيرنا الحاضرة المتقهقرة وبين روح الإسلام الصحيح. ولكي يستطيع نقدة الحديث المُزَيَّفُونَ أَنْ يُبَرِّرُوا قصورهم وقصور بيئتهم، فإنهم يحاولون أَنْ يزيلوا ضرورة اتِّبَاع السُنَّة، لأنهم إذا فعلوا ذلك كان بإمكانهم حينئذٍ أَنْ يَتَأوَّلُوا تعاليم القرآن الكريم كما يشاؤون على أوجه من التفكير السطحي أي حسب ميول كل واحد منهم وطريقة تفكيره هو، ولكن تلك المنزلة الممتازة التي للإسلام على أنه نظام خلقي وعملي ونظام شخصي واجتماعي تنتهي بهذه الطريقة إلى التهافت والاندثار، وإنَّ الذين خلبتهم المدنية
বৈজ্ঞানিক; কারণ আদি হাদিস গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ—বিশেষ করে ইমাম বুখারি ও মুসলিম—প্রত্যেকটি হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) হাদিসশাস্ত্রের নীতিমালার (قواعد التحديث) আলোকে যাচাই করার ক্ষেত্রে মানুষের সাধ্যের সবটুকু ব্যয় করেছেন। এই যাচাই প্রক্রিয়াটি ছিল ইউরোপীয় ঐতিহাসিকরা প্রাচীন ইতিহাসের উৎসসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সাধারণত যে পদ্ধতি অবলম্বন করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। এটুকুই বলা যথেষ্ট যে, এর ফলে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট শাস্ত্র’ (علم تام الفروع) গড়ে উঠেছে, যার একমাত্র লক্ষ্য হলো রাসূলের হাদিসসমূহের মর্মার্থ, স্বরূপ এবং এর বর্ণনার পদ্ধতি (طريقة روايتها) নিয়ে গবেষণা করা। প্রকৃতপক্ষে, বিশুদ্ধ (صحيحة) হাদিসসমূহকে পাইকারিভাবে বা আংশিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা আজ পর্যন্ত কেবল রুচিবোধের বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান সময়ের অনেক মুসলমানের মধ্যে বিরোধিতার এই প্রবণতা যে কারণে তৈরি হয়েছে, তার মূল উৎস খুঁজে পাওয়া সম্ভব; এর কারণ হলো আমাদের বর্তমান পশ্চাৎপদ জীবনধারা ও চিন্তাধারার সাথে ইসলামের প্রকৃত চেতনার সমন্বয় সাধনের অসম্ভবতা। আর হাদিসের এই ছদ্মবেশী সমালোচকরা (نقدة الحديث المزيفون) যাতে তাদের নিজেদের এবং তাদের পরিবেশের সীমাবদ্ধতাকে জায়েজ করতে পারে, তারা সুন্নাহ (السنة) অনুসরণের আবশ্যকতাকে বিলুপ্ত করার চেষ্টা করে। কারণ তারা যদি এটি করতে সক্ষম হয়, তবে তারা পবিত্র কুরআনের সুমহান শিক্ষাগুলোকে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো ভাসাভাসা চিন্তার ভিত্তিতে অর্থাৎ প্রত্যেকের নিজ নিজ ঝোঁক ও ব্যক্তিগত চিন্তাধারা অনুযায়ী ব্যাখ্যা (يتأولوا) করতে পারবে। কিন্তু একটি নৈতিক, ব্যবহারিক এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামের যে অনন্য মর্যাদা রয়েছে, তা এই প্রক্রিয়ায় অসারতা ও বিলুপ্তির দিকে পর্যবসিত হবে। আর যারা আধুনিক সভ্যতার মোহে আচ্ছন্ন...
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ২০)
الغربية لا يجدون مخرجًا من مأزقهم إلَاّ برفض السُنَّة على أنها غير واجبة الاِتِّبَاعِ بين المسلمين، ذلك لأنها قائمة على أحاديث لا يُوثَقُ بها، وبذلك يصح تحريف تعاليم القرآن الكريم لكي تظهر موافقته لروح المدنية الغربية أكثر سهولة».
وهذا هو الخطر الكامن وراء مهاجمة السُنَّة وإثارة الشُبْهَةِ حول الحديث النبوي.
لا مشاحة أَنَّ السُنَّةَ النبوية الشريفة هي المصدر الثاني للإسلام بعد القرآن باعتباره عقيدة وباعتباره تشريعًا وباعتباره أخلاقًا، وقد أشار النبي صلى الله عليه وسلم إلى هذا المعنى في قوله الشريف: «أَلَا إِنِّى أُوتِيتُ القُرْآنَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ. أَلَا وَأَنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا حَرَّمَ اللَّهُ».
وقد كان جبريل عليه السلام ينزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم بالسُنَّةِ كما ينزل عليه القرآن ويعلمه إياها كما يعلمه القرآن. قال الإمام الشافعي: «وَسُنَنُ رَسُولِ اللََّهِ صلى الله عليه وسلم وَجْهَانِ: أَحَدُهُمَا: نَصُّ كِتَابٍ فَاتَّبَعَهُ رَسُولُ اللََّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا أَنْزَلَ اللََّهُ، وَالآخَرُ جُمْلَةً، بَيَّنَ رَسُولُ اللََّهِ فِيهِ عَنْ اللََّهِ مَعْنَى مَا أَرَادَ بِالجُمْلَةِ وَأَوْضَحَ كَيْفَ فَرْضُهَا عَامًّا أَوْ خَاصًّا، وَكَيْفَ أَرَادَ أَنْ يَأْتِي بِهِ
পাশ্চাত্যের লোকেরা তাদের সংকট থেকে উত্তরণের কোনো পথ খুঁজে পায় না সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া—এই অজুহাতে যে, তা মুসলমানদের মাঝে অনুসরণ করা আবশ্যক নয়। এর কারণ হলো, তাদের দাবি অনুযায়ী সুন্নাহ এমন সব হাদিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা নির্ভরযোগ্য নয় (لا يُوثَقُ بِهَا), আর এর মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের শিক্ষাসমূহকে বিকৃত করা তাদের জন্য বৈধ হয়ে যায় যাতে পশ্চিমা সভ্যতার মেজাজের সাথে এর সামঞ্জস্য বিধান করা আরও সহজতর হয়।»
সুন্নাহর ওপর আক্রমণ এবং নববী হাদিস নিয়ে সংশয় সৃষ্টির পেছনে এই বিপদই নিহিত রয়েছে।এটি অনস্বীকার্য যে, পবিত্র নববী সুন্নাহ হলো আকিদা (عقيدة), শরিয়ত প্রণয়ন (تشريع) এবং নৈতিকতার ক্ষেত্রে কুরআনের পর ইসলামের দ্বিতীয় উৎস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একটি পবিত্র বাণীতে এই প্রসঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: «সাবধান! আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তারই অনুরূপ কিছু (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! শীঘ্রই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে: "তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল গণ্য করবে এবং যা হারাম পাবে তাকেই হারাম গণ্য করবে।" অথচ সাবধান! আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত বিষয়ের মতোই।»
জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সুন্নাহ নিয়ে অবতরণ করতেন যেভাবে তিনি কুরআন নিয়ে অবতরণ করতেন, এবং তিনি তাঁকে সুন্নাহর শিক্ষা দিতেন যেভাবে তিনি কুরআনের শিক্ষা দিতেন। ইমাম শাফেয়ী বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহসমূহ দুই প্রকার: একটি হলো কিতাবুল্লাহর সুস্পষ্ট বিধান (نص), যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুসরণ করেছেন ঠিক যেভাবে আল্লাহ তা অবতীর্ণ করেছেন। আর অন্যটি হলো সংক্ষিপ্ত বক্তব্য (جملة), যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন এবং তার বিধান কি সাধারণ (عام) নাকি বিশেষ (خاص) তা স্পষ্ট করেছেন, এবং তিনি তা পালনের পদ্ধতিও ব্যাখ্যা করেছেন...»
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ২১)
العِبَادُ وَكِلَاهُمَا اتَّبَعَ فِيهِ كِتَابَ اللِه».
ولقد كان الرسول صلى الله عليه وسلم يُبَيِّنُ للناس القرآن عقيدة وشريعة وأخلاقًا على وجوه شتى وعلى أنحاء مختلفة وعلى أساليب متعددة، يُبَيِّنُ لهم ذلك بسلوكه وبقوله وبإقراراته، يقول: «مَا تَرَكْتُ شَيْئاً مِمَّا أَمَرَكُمُ اللَّهُ بِهِ إِلَاّ وَقَدْ أَمَرْتُكُمْ بِهِ، وَلَا تَرَكْتُ شَيْئًا - مِمَّا نَهَاكُمُ اللَّهُ عَنْهُ. إِلَاّ وَقَدْ نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ» (1).
وقد عَلَّمَ النبي صلى الله عليه وسلم الناس بثلاث طرق: تعليماته الشفوية التي هي أقواله، وسلوكه الشخصي الذي هو أعماله، وسكوته الذي يعني موافقته الحكيمة على أفعال غيره من الناس، يقول الدكتور محمد عبد الله دراز: «إِنَّ الأحاديث النبوية مرتبطة في الإسلام بالقرآن كما ترتبط قوانين الدولة بدستورها، فالقرآن يأمرنا بالرجوع مباشرة للحديث النبوي لأخذ التعليمات المفصلة منه فيما يتعلق بأكبر فرضين أساسيين: الصلاة والزكاة (الصلاة واجبنا تجاه الله والزكاة تجاه مجتمعنا) والقرآن يُقِرُّ السُنَّة ويمنحها حق إيضاح فرائض القرآن العامة والتعريف بها، ولولا السُنَّة لظلت النصوص القرآنية غير مفهرسة ولبقيت مجملة».
ويقول الدكتور عبد الحليم محمود: «كان بيان رسول الله صلى الله عليه وسلم يشتمل على بيان ما أجمل في كتاب الله، أجمل القرآن الصلاة
--------------------------------------------
বান্দাগণ; আর তারা উভয়েই এতে আল্লাহর কিতাব অনুসরণ করেছেন।"
নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের নিকট কুরআনের আকিদা, শরিয়ত ও নৈতিকতা বিভিন্নভাবে, বিচিত্র পন্থায় ও নানাবিধ পদ্ধতিতে বর্ণনা করতেন। তিনি তাঁর আচরণ, কথা এবং মৌনসম্মতি (إقرار) দ্বারা তাদের নিকট তা স্পষ্ট করতেন। তিনি বলেন: "আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছুর আদেশ করেছেন তার কোনো কিছুই আমি তোমাদেরকে আদেশ না করে ছাড়িনি; আর আল্লাহ যা কিছু তোমাদের জন্য নিষেধ করেছেন তার কোনো কিছুই আমি তোমাদের নিষেধ না করে ছাড়িনি।" (১)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষকে তিনটি পদ্ধতিতে শিক্ষা দিয়েছেন: তাঁর মৌখিক নির্দেশনা যা হলো তাঁর কথা (قول), তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ যা হলো তাঁর কাজ (عمل), এবং তাঁর নীরবতা যা অন্যের কর্মের প্রতি তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ সম্মতি বা মৌনসম্মতি (إقرار) নির্দেশ করে। ডক্টর মুহাম্মদ আবদুল্লাহ দরাজ বলেন: "নিশ্চয়ই ইসলামে হাদিসসমূহ কুরআনের সাথে সেভাবেই সম্পর্কিত যেভাবে রাষ্ট্রের আইনসমূহ তার সংবিধানের সাথে সম্পর্কিত। কুরআন আমাদের সরাসরি হাদিসের দিকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেয় যাতে সেখান থেকে দুটি প্রধান মৌলিক ফরজ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা গ্রহণ করা যায়: সালাত ও জাকাত (সালাত আল্লাহর প্রতি আমাদের কর্তব্য এবং জাকাত সমাজের প্রতি আমাদের কর্তব্য)। কুরআন সুন্নাহকে স্বীকৃতি দেয় এবং কুরআনের সাধারণ ফরজসমূহ ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞায়িত করার অধিকার সুন্নাহকে প্রদান করে। সুন্নাহ না থাকলে কুরআনের পাঠগুলো শ্রেণিবিন্যস্ত হতো না এবং তা সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট (مجمل) থেকে যেত।"
ডক্টর আবদুল হালিম মাহমুদ বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাখ্যা আল্লাহর কিতাবে যা সংক্ষেপে (مجمل) বর্ণিত হয়েছে তার বিশদ বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। কুরআন সালাতকে সংক্ষেপে (مجمل) বর্ণনা করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ২২)
والزكاة والحج وفَصَّلَهَا رسول الله. بين ما فرض من الصلوات ومواقيتها وسُنَنِهَا وعدد ركعاتها، والزكاة ومواقيتها وكيف عمل الحج والعُمرة، كان يُبَيِّنُ كيفية الصلاة بقوله: " صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي "، وفي الحج: " خُذُوا عَنِّى مَنَاسِكَكُمْ "، وفرض الله سبحانه الزكاة ولم يُبَيِّنْ مقاديرها ولم يذكر بالتفصيل الزروع والثمار والأموال التي تجب فيها، وقد بَيَّنَتْ السُنَّةُ أَنَّ القاتل لا يرث وأَنَّ الوصية لا تكون في أكثر الثلث وأَنَّ الدَّيْنَ يُقَدَّمُ على الوصية»
ومما يروى أَنَّ عمران بن حصين قال لرجل يريد أَنْ يقتصر على القرآن دون السُنَّةِ: «إنك أمرؤ أحمق، أتجد في كتاب الله الظهر أربعاً لا يجهر فيها بالقراءة؟» ثم عدَّد عليه الصلاة والزكاة ونحو هذا.
وقد أشار القرآن إلى مكانة السُنَّة وإلى مهمة رسول الله صلى الله عليه وسلم في تفصيل ما أجمل القرآن وذلك في آيات بَيِّنَتٍ:
{وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} (1).
{وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (2).
{وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} (3).
{مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} (4).
{لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو
--------------------------------------------
...এবং জাকাত ও হজ, যা রাসুলুল্লাহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি ফরজকৃত নামাজসমূহ, সেগুলোর ওয়াক্তসমূহ, সুন্নাতসমূহ (سنن) এবং রাকাতের সংখ্যা এবং জাকাতের ওয়াক্ত ও হজ এবং ওমরার পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। তিনি নামাজের পদ্ধতি স্পষ্ট করে বলেছেন: "তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখছো", আর হজের বিষয়ে বলেছেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি গ্রহণ করো।" আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জাকাত ফরজ করেছেন কিন্তু এর পরিমাণ বর্ণনা করেননি এবং শস্য, ফলমূল ও যে সব সম্পদে জাকাত ওয়াজিব হয় তার বিস্তারিত বিবরণ দেননি। সুন্নাহ (السنة) স্পষ্ট করেছে যে, হত্যাকারী উত্তরাধিকারী হয় না, অসিয়ত এক-তৃতীয়াংশের বেশি হবে না এবং অসিয়তের পূর্বে ঋণ পরিশোধ করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বর্ণিত আছে যে, ইমরান ইবনে হুসাইন এমন এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন যে সুন্নাহ (السنة) ব্যতিরেকে কেবল কোরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছিল: "তুমি এক নির্বোধ লোক; তুমি কি আল্লাহর কিতাবে পাও যে জোহরের নামাজ চার রাকাত এবং তাতে উচ্চস্বরে কিরাত পড়া হয় না?" অতঃপর তিনি তার সামনে নামাজ, জাকাত এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো বিস্তারিত বর্ণনা করলেন।
কোরআন সুন্নাহর (السنة) মর্যাদা এবং কোরআনে সংক্ষেপে বর্ণিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছে, যা নিম্নোক্ত সুস্পষ্ট আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে:
{আর তিনি প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহি (وحي), যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।} (১)।
{রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} (২)।
{তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো।} (৩)।
{যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করলো, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহরই আনুগত্য করলো।} (৪)।
{তোমাদের মধ্যে যারা আশা রাখে তাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মাঝে রয়েছে উত্তম আদর্শ...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} (1).
{الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ} (2).
ويقول الدكتور عبد الجليل شلبي: «إِنَّ الأية الكريمة: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (3) تدل على أَنَّ وظيفة رسول الله صلى الله عليه وسلم أَنْ يُوَضِّحَ للناس الأحكام التي نزلت إليهم في القرآن الكريم، وكان لا بُدَّ أَنْ يفعل رسول الله وإِلَاّ لم يكن مُبَلِّغًا من عند الله وقد كان هذا البيان بالقول والعمل معًا. فالسُنَّةُ إذن مرجع الشريعة الكامل وبيانها الموضح كما أَنَّ السُنَّة جزء مكمل للقرآن وهي من عند الله تبارك وتعالى كما أَنَّ القرآن من عنده».
وقد أشار الأئمة الأعلام إلى أنه لا يرى قول الإمام من أئمة المذاهب في القرنين الثاني والثالث إِلَاّ وقد سبقه إليه صحابي أو تابعي، وإِنَّ مكانة السُنَّة النبوية والحديث من الشريعة الإسلامية لا تخفى، وأثرها في الفقه الإسلامي منذ عصر النبي والصحابة حتى عصور الاجتهاد
… واستقرار المذاهب، وَإِنَّ من يَطَّلِعُ على القرآن والسُنَّةِ يجد أَنَّ السُنَّةَ
--------------------------------------------
...আল্লাহ ও পরকাল এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।} (১)।
{যারা অনুসরণ করে সেই রসূল, উম্মী (নিরক্ষর) নবীর, যাঁর কথা তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; তিনি তাদেরকে সৎ কাজের নির্দেশ দেন এবং মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করেন; আর তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহকে তাদের ওপর হারাম করেন এবং তাদের ওপর থেকে তাদের বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ নামিয়ে দেন যা তাদের ওপর ছিল।} (২)।
এবং ড. আবদুল জলীল শালবী বলেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর এই আয়াত: {আর আমি আপনার প্রতি যিক্র অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} (৩) নির্দেশ করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব হলো মানুষের জন্য সেই সকল বিধান স্পষ্ট করে দেওয়া যা কুরআন মাজীদে তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য এটি করা অনিবার্য ছিল, অন্যথায় তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রচারক হিসেবে গণ্য হতেন না; আর এই ব্যাখ্যা ছিল কথা ও কাজ—উভয় মাধ্যমেই। সুতরাং সুন্নাহ হলো পূর্ণাঙ্গ শরীয়তের উৎস ও তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, যেমনটি সুন্নাহ কুরআনের একটি পরিপূরক অংশ এবং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত, যেমনটি কুরআন তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত।»
প্রথিতযশা ইমামগণ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীর মাযহাবের ইমামগণের এমন কোনো বক্তব্য দেখা যায় না যার পূর্বে কোনো সাহাবী (صحابي) বা তাবিঈর (تابعي) কোনো বক্তব্য বিদ্যমান ছিল না। আর ইসলামী শরীয়তে সুন্নাহ ও হাদিসের মর্যাদা কারো অজানা নয় এবং নবী ও সাহাবীগণের যুগ থেকে শুরু করে ইজতিহাদের যুগ
… ও মাযহাবসমূহের স্থায়িত্বকাল পর্যন্ত ইসলামী ফিকহে এর প্রভাব অনস্বীকার্য। আর যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহর ওপর গভীর দৃষ্টিপাত করবে, সে দেখতে পাবে যে সুন্নাহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতি শুবুহাতিল ইস্তিশরাক - আনওয়ার আল জান্দী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأثر الأكبر في اتساع دائرة التشريع الإسلامي وعظمتها وخلوده، هذا التشريع العظيم الذي بهر أنظار علماء القانون في جميع أنحاء العالم هو ما حمل ويحمل أعداء الإسلام في الماضي والحاضر على مهاجمة السُنَّة والتشكيك في صحتها ورُواتها من أعلام الصحابة.
هذا وبالله التوفيق،،،
أنور الجندي.
ইসলামী শরীয়তের পরিধির বিস্তৃতি, এর মহিমা ও শাশ্বত রূপের পেছনে প্রধানতম যে প্রভাব—তথা এই মহান আইন ব্যবস্থা যা বিশ্বজুড়ে আইনবিদদের দৃষ্টিকে মোহিত করেছে—তা-ই অতীত ও বর্তমানের ইসলামের শত্রুদের সুন্নাহর ওপর আক্রমণ করতে এবং এর বিশুদ্ধতা (صحة) ও বিশিষ্ট সাহাবী (صحابة) স্তরের বর্ণনাকারীদের (رواة) ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করতে প্ররোচিত করেছে।
আল্লাহর সাহায্যেই সাফল্য অর্জিত হয়,
আনোয়ার আল-জুন্দি।