(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: -)
مجالس العلماء للزجاجي   (أبو القاسم الزجاجي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مجالس العلماء

المؤلف: عبد الرحمن بن إسحاق البغدادي النهاوندي الزجاجي، أبو القاسم (ت 337هـ)

المحقق: عبد السلام محمد هارون

الناشر: مكتبة الخانجي - القاهرة، دار الرفاعي بالرياض

لطبعة: الثانية 1403 هـ - 1983 م

عدد الصفحات: 266

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আজ-জাজ্জাজির মাজালিসুল উলামা   (আবু আল-কাসিম আজ-জাজ্জাজি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: মাজালিসুল উলামা

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইসহাক আল-বাগদাদি আন-নাহাওয়ান্দি আজ-জাজ্জাজি, আবু আল-কাসিম (মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি)

সম্পাদক: আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন

প্রকাশক: মাকতাবাত আল-খানজি - কায়রো, দার আল-রিফায়ি, রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয় ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগী আল-খাইর আকবিল

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: -)
مجالس العلماء

 

لأبي القاسم عبد الرحمن إسحاق الزجاجي

339 هـ

 

عبد السلام محمد هارون

 

الناشر

مكتبة الخانجي - القاهرة

دار الرفاعي بالرياض

 

الطبعة الثانية

1403 هـ - 1983 م
উলামাদের মজলিসসমূহ

 

আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান ইসহাক আল-জাজ্জাজি রচিত

৩৩৯ হিজরি

 

আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন

 

প্রকাশক

মাকতাবাতুল খানজি - কায়রো

দারুর রিফাঈ - রিয়াদ

 

দ্বিতীয় সংস্করণ

১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌1- مجلس عيسى بن عمر الثقفي مع أبي عمرو بن العلاء

حدثني أبو عبد الله الحسن بن علي قال: حدثني أبو عبد الله اليزيدي عن عمه عن جده أبي محمد. وقال أبو جعفر محمد بن حبيب: ذكر أبو محمد اليزيدي قال:

جاء عيسى بن عمر إلى أبي عمرو بن العلاء ونحن عنده فقال: يا أبا عمرو، ما شيءٌ بلغني أنك تجيزه؟ قال: وما هو؟ قال: بلغني أنك تجيز: ((ليس الطيب إلا المسك)) بالرفع. قال: فقال له أبو عمرو: نمت يا أبا عمر وأدلج الناس، ليس في الأرض حجازي إلا وهو ينصب، ولا في الأرض تميمي إلا وهو يرفع.

قال اليزيدي: ثم قال أبو عمرو: تعال أنت يا يحيى، وتعال أنت يا خلف -لخلفٍ الأحمر- اذهبا إلى أبي المهدي فلقناه الرفع فإنه لا يرفع، واذهبا إلى المنتجع التميمي ولقناه النصب فإنه لا ينصب.

قال: فذهبت أنا وخلفٌ وأتينا أبا المهدي فإذا هو يصلي وكان به عارض، وإذا هو يقول في الصلاة: إخسأنان عني! قال: ثم قضى صلاته وانفتل إلينا فقال: ما خطبكما؟ قلنا: جئنا نسألك عن شيءٍ من كلام العرب. فقال: هاتيا. فقلت له: كيف تقول: ليس الطيب إلا المسك؟
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌১- আবু আমর ইবনুল আলার সাথে ঈসা ইবনে ওমর আস-সাকাফীর মজলিস

আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান ইবনে আলী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-ইয়াযিদী তাঁর চাচার সূত্রে তাঁর দাদা আবু মুহাম্মদের বরাতে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আর আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে হাবীব বলেন: আবু মুহাম্মদ আল-ইয়াযিদী উল্লেখ করেছেন যে:

ঈসা ইবনে ওমর, আবু আমর ইবনুল আলার নিকট আসলেন যখন আমরা তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন: হে আবু আমর, আমি আপনার সম্পর্কে এমন কী কথা শুনলাম যা আপনি বৈধ মনে করেন? তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি— ‘সুগন্ধি বলতে কেবল কস্তুরীই আছে’ বাক্যটিতে ‘কস্তুরী’ শব্দটিকে রফ (পেশ) দিয়ে পড়া বৈধ মনে করেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আবু আমর তাকে বললেন: হে আবু ওমর, আপনি তো ঘুমিয়ে ছিলেন অথচ মানুষ রাতের শেষাংশে পথ চলে গন্তব্যে পৌঁছে গেছে; জমিনে এমন কোনো হিজাযী নেই যে একে নসব (যবর) দিয়ে পড়ে না, আর জমিনে এমন কোনো তামীমী নেই যে একে রফ (পেশ) দিয়ে পড়ে না।

আল-ইয়াযিদী বলেন: এরপর আবু আমর বললেন: হে ইয়াহইয়া, তুমি এসো এবং হে খালাফ (খালাফ আল-আহমার), তুমিও এসো। তোমরা উভয়ে আবু আল-মাহদীর কাছে যাও এবং তাকে রফ (পেশ) দিয়ে পড়তে প্ররোচিত করো, কারণ সে রফ দিয়ে পড়বে না। আর তামীমী মুন্তাজিয়া’র কাছে যাও এবং তাকে নসব (যবর) দিয়ে পড়তে প্ররোচিত করো, কারণ সে নসব দিয়ে পড়বে না।

তিনি বলেন: তখন আমি ও খালাফ গেলাম এবং আমরা আবু আল-মাহদীর নিকট পৌঁছলাম। তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন এবং তাঁর ওপর একটি সাময়িক আবেশ ছিল। এমতাবস্থায় তিনি সালাতের মধ্যেই বলছিলেন: তোমরা আমার থেকে দূর হও! বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি তাঁর সালাত শেষ করে আমাদের দিকে ফিরলেন এবং বললেন: তোমাদের খবর কী? আমরা বললাম: আমরা আপনার নিকট আরবদের ভাষা সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। তিনি বললেন: পেশ করো। তখন আমি তাকে বললাম: আপনি ‘সুগন্ধি বলতে কেবল কস্তুরীই আছে’ বাক্যটি কীভাবে বলবেন?
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٤)
فقال: أتأمراني بالكذب على كبرة سني فأين الجادي؟ قال ابن حبيب: وحكى ابن الأعرابي: فأين بنة الإبل؛ وأين كذا وأين كذا؟ قال اليزيدي: فقال له خلفٌ: ليس الشراب إلا العسل. قال: فما يصنع سودان هجر، ما لهم شرابٌ إلا هذا التمر.

قال اليزيدي: فلما رأيت ذلك منه قلت له: ليس ملاك الأمر إلا طاعة الله والعمل بها. قال: فقال: هذا كلامٌ لا دخل فيه، ليس ملاك الأمر إلا طاعة الله والعمل به. فنصب.

قال اليزيدي: فقلت له: ليس ملاك الأمر إلا طاعة الله والعمل به. ورفعت، فقال: لا، ليس هذا من لحني ولا من لحن قومي. قال: فكتبنا ما سمعنا منه. قال: فقال: ألا أنشدكما أبياناً قلتها حين سمعت تراطن هذه الأعاجم حولي؟ قلنا: بلى. فأنشدنا:

يقولون لي شنبذ ولست مشنبذا … طوال الليالي أو يزول ثبير

ولا قائلا زوذا لأعجل صاحبي … وبستان في صدري علي كبير

ولا تاركاً لحناً لأحسن لحنكم … ولو دار صرف الدهر حيث يدور

قال: فكتبنا هذه الأبيات ثم أتينا المنتجع، فأتينا رجلا يعقل، فقال
অতঃপর তিনি বললেন: তোমরা কি আমার এই বৃদ্ধ বয়সে আমাকে মিথ্যে বলার আদেশ দিচ্ছ? তবে জাদি (জাফরান) কোথায়? ইবনে হাবিব বলেন: ইবনুল আরাবি বর্ণনা করেছেন: তবে উষ্ট্রীর দুগ্ধ কোথায়? অমুক কোথায় এবং অমুক কোথায়? ইয়াজিদি বলেন: অতঃপর খালাফ তাকে বললেন: মধু ছাড়া কোনো পানীয় নেই। তিনি বললেন: তবে হাজরের কৃষ্ণাঙ্গরা কী করবে? এই খেজুর ছাড়া তো তাদের অন্য কোনো পানীয় নেই।

ইয়াজিদি বলেন: যখন আমি তার পক্ষ থেকে এমনটি দেখলাম, তখন তাকে বললাম: আল্লাহর আনুগত্য এবং তদানুযায়ী আমল করাই হলো মূল বিষয়। তিনি বললেন: এটি একটি ত্রুটিমুক্ত কথা; আল্লাহর আনুগত্য এবং তদানুযায়ী আমল করাই মূল বিষয়। তখন তিনি নসব (জবর) দিয়ে পড়লেন।

ইয়াজিদি বলেন: আমি তাকে বললাম: আল্লাহর আনুগত্য এবং তদানুযায়ী আমল করাই মূল বিষয়। আমি রফ (পেশ) দিয়ে পড়লাম। তখন তিনি বললেন: না, এটি আমার বা আমার সম্প্রদায়ের বাচনভঙ্গি নয়। তিনি বলেন: আমরা যা তার কাছ থেকে শুনেছি তা লিখে নিলাম। তিনি বললেন: আমি কি তোমাদের এমন কিছু পঙক্তি শোনাব না যা আমি আমার চারপাশে থাকা এই অনারবদের অস্পষ্ট বুলি শোনার সময় বলেছিলাম? আমরা বললাম: অবশ্যই। অতঃপর তিনি আমাদের শোনালেন:

তারা আমাকে ‘শামবায’ বলে ডাকে, অথচ আমি শামবায নই … যদিনা দীর্ঘ রাতসমূহ শেষ হয়ে যায় কিংবা থাবীর পাহাড় অপসারিত হয়।

সাথিকে দ্রুত করার জন্য আমি ‘যাউদ’ বলব না … এবং আমার অন্তরে বাগান থাকা আমার নিকট এক বিশাল ব্যাপার।

তোমাদের সুন্দর বাচনভঙ্গির খাতিরে আমি আমার নিজস্ব বাচনভঙ্গি ত্যাগ করব না … যদিও কালের আবর্তন যেদিকেই ঘুরুক না কেন।

তিনি বলেন: আমরা এই পঙক্তিগুলো লিখে নিলাম, এরপর আমরা আল-মুনতাজাও-এর কাছে আসলাম। তখন আমরা একজন বুদ্ধিমান লোকের নিকট পৌঁছলাম, অতঃপর তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٥)
له خلف: ليس الطيب إلا المسك، قال: فرفع، ولقناه وجهدنا به في ذلك، فلم ينصب وأبي إلا الرفع.

قال: فأتينا أبا عمرو فأعلمناه وعنده عيسى بن عمر لم يبرح، قال فأخرج عيسى خاتمه من يده ثم قال: لك الخاتم، بهذا والله فقت الناس!

قال محمد بن سلام الجمحي: [كان أبو مهدي] هذا، وهو من باهلة، يضرب حنكيه يمينا وشمالا ويقول: إخسأنان عني. فسألناه عن ذلك فقال: جنانٌ تذأمني. أي تركبني.
খালাফের একটি বর্ণনা রয়েছে: "মেশক ছাড়া অন্য কোনো সুগন্ধি নেই।" তিনি বলেন: তিনি শব্দটিকে পেশ (রাফা) দিয়ে পাঠ করেছেন। আমরা তাকে এটি সংশোধন করে দেওয়ার চেষ্টা করলাম এবং এ বিষয়ে অনেক পরিশ্রম করলাম, কিন্তু তিনি জবর (নাসব) দিতে অস্বীকৃতি জানালেন এবং পেশ দিয়ে পড়ার ওপরই অনড় রইলেন।

তিনি বলেন: এরপর আমরা আবু আমরের কাছে আসলাম এবং তাকে বিষয়টি জানালাম। তখন ঈসা ইবনে ওমর তখনও তার কাছেই ছিলেন। ঈসা তার হাত থেকে আংটিটি খুলে বললেন: এই আংটিটি তোমার জন্য। আল্লাহর কসম, এই জ্ঞানের মাধ্যমেই তুমি মানুষকে ছাড়িয়ে গিয়েছ!

মুহাম্মদ ইবনে সাল্লাম আল-জুমাহি বলেন: এই [আবু মাহদি], যিনি বাহিলা গোত্রের লোক ছিলেন, তিনি নিজের চোয়ালের দুই পাশে ডানে ও বামে আঘাত করতেন এবং বলতেন: "তোমরা দুজন আমার নিকট থেকে দূর হও"। আমরা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: "দুইটি জিন আমাকে পেয়ে বসেছে।" অর্থাৎ তারা আমার ওপর সওয়ার হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌2- مجلس أبي عمرو مع أبي خيرة

حدثني أبو الحسن علي بن سليمان قال: حدثني أبو العباس أحمد بن يحيى قال: حدثني الرياشي، قال: حدثني الأصمعي قال:

قال أبو عمرو بن العلاء لأبي خيرة:

كيف تقول: حفرت إراتك؟ [فقال: حفرت إراتك] . قال: فكيف تقول: استأصل الله عرقاتِهم أو عرقاتَهم؟ فقال: استأصل الله عرقاتَهم. فلم يعرفها أبو عمرو وقال: لأن جلدك يا أبا خيرة. يقول: أخطأت.

قال أبو العباس: وهي لغةٌ لم تبلغ أبا عمرو. يقال وأرت إرة أئرها وأرا، إذا حفرت حفيرة تطبخ فيها. وإراتٌ: جمع إرة.

وقال أبو عثمان: كان أبو عمرو يرده ويراه لحنا.

قال المازني: واختلفوا فيها فقال بعضهم: عرقاتهم وقال بعضهم: عرقاتهم. فأما من قال عرقاتِهم فإنه يجعله جمع عرق، ومن نصبه جعله بمنزلة سِعلاة وعلقاة.
২- আবু খাইরার সাথে আবু আমরের মজলিস

আমাকে আবুল হাসান আলি ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আর-রিয়াশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আল-আসমাঈ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আবু আমর ইবনুল আলা আবু খাইরাকে বললেন:

তুমি কীভাবে বলো: 'হাফারতু ইরাতাকা' (আমি তোমার গর্ত খনন করেছি)? [তিনি বললেন: 'হাফারতু ইরাতাকা']। তিনি বললেন: তবে তুমি কীভাবে বলো: 'ইস্তাসাল্লাহু ইরকাতিহিম' নাকি 'ইরকাতাহুম' (আল্লাহ তাদের মূল উপড়ে ফেলুন)? তিনি বললেন: 'ইস্তাসাল্লাহু ইরকাতাহুম'। আবু আমর এটি চিনতে পারলেন না এবং বললেন: হে আবু খাইরা, তোমার চামড়া নরম হয়ে গেছে। অর্থাৎ: তুমি ভুল করেছ।

আবু আবুল আব্বাস বলেন: এটি এমন এক উপভাষা যা আবু আমরের নিকট পৌঁছায়নি। বলা হয় 'ওয়ারা', 'ইরা', 'আইরুহা', 'ওয়ারা'; যখন রান্নার জন্য কোনো গর্ত খনন করা হয়। আর 'ইরাত' হলো 'ইরা' শব্দের বহুবচন।

আবু উসমান বলেন: আবু আমর এটি প্রত্যাখ্যান করতেন এবং একে ব্যাকরণগত ভুল হিসেবে গণ্য করতেন।

আল-মাজিনি বলেন: এ বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন; তাদের কেউ কেউ 'ইরকাতিহিম' বলেছেন এবং কেউ কেউ 'ইরকাতাহুম' বলেছেন। যারা 'ইরকাতিহিম' (জের যোগে) বলেছেন তারা একে 'ইরক' শব্দের বহুবচন হিসেবে গণ্য করেছেন, আর যারা একে নসব (জবর) দিয়েছেন তারা একে 'সি’লাহ' ও 'আলকাহ' শব্দের সমগোত্রীয় মনে করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٧)
وأما لغاتهم وما أشبهه فلا يجوز فيه إلا الكسر، لأنه تاء جمع. وأنشدنا الأصمعي للهذلي:

كأن ظباتها عقرٌ بعيج …

فهذه جمع ظبة. وكذلك ثباتٌ.

والأصل في لغة لغوة، فلما تحركت الواو وانفتح ما قبلها قلبت ألفا. وهو اسمٌ حذفت لامه.
আর তাদের লুগাত এবং এর সদৃশ শব্দসমূহের ক্ষেত্রে কাসরা ব্যতীত অন্য কিছু বৈধ নয়, কারণ এটি বহুবচনের তা। আল-আসমাঈ আমাদের নিকট হুদালীর এই পঙক্তি পাঠ করেছেন:

যেন তার অগ্রভাগসমূহ ক্ষতবিক্ষত ও বিদীর্ণ …

এটি 'দুবাহ' শব্দের বহুবচন। অনুরূপভাবে 'তুবাত' শব্দটিও।

আর লুগাহ শব্দের মূল ভিত্তি হলো 'লুগওয়াহ'। যখন 'ওয়াও' হরকতযুক্ত হলো এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণটি ফাতহাযুক্ত হলো, তখন তা আলিফ দ্বারা পরিবর্তিত হলো। এটি এমন একটি বিশেষ্য যার 'লাম' কালিমাটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌3- مجلس المنتجع بن نبهان مع أبي خيرة

حدثني أبو الحسن قال: حدثني أحمد بن يحيى قال: حدثني الرياشي قال: حدثني أبو زيد قال: قال منتجع: كمء وكمأة للجميع. فقال أبو خيرة: كمأة للواحد وكمء للجميع، مثل تمرة وتمر. قال: فمر بهم رؤبة فسألوه فقال كما قال منتجع. وقال الأصمعي كما قال أبو خيرة. وقال أبو زيد: قد يقال كمأة وكمء كما قال أبو خيرة.

وقد سمعت أبا زيد يقول: قال المنتجع: أغمي على المريض. وقال أبو خيرة: غمي. فأرسلوا إلى أم أبي خيرة فقالت: أغمي على المريض. فقال لها المنتجع: أفسدك ابنك. وكان وراقا.
৩- আবু খাইরার সাথে মুনতাজি' ইবনে নাবহানের মজলিস

আবুল হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আর-রিয়াশী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যাইদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুনতাজি' বলেছেন: ‘কামউ’ এবং ‘কামাআহ’ উভয়ই বহুবচনের জন্য। অতঃপর আবু খাইরা বললেন: ‘কামাআহ’ একবচনের জন্য এবং ‘কামউ’ বহুবচনের জন্য, যেমন ‘তামরাহ’ এবং ‘তামর’। তিনি বলেন: অতঃপর রু'বাহ তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তিনি মুনতাজি'র কথার অনুরূপ উত্তর দিলেন। আর আসমায়ি আবু খাইরার মতের অনুরূপ মত পোষণ করলেন। আবু যাইদ বলেন: আবু খাইরা যেমনটি বলেছেন, সেভাবেও কখনো ‘কামাআহ’ ও ‘কামউ’ বলা হয়।

আমি আবু যাইদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মুনতাজি' বলেছেন: ‘উগমিয়া আলাল মারীদ’ (রোগীটি অজ্ঞান হয়ে পড়েছে)। আর আবু খাইরা বলেছেন: ‘গুমি’। তখন তারা আবু খাইরার মায়ের নিকট লোক পাঠালেন, তিনি উত্তরে বললেন: ‘উগমিয়া আলাল মারীদ’। মুনতাজি' তখন তাকে বললেন: তোমার ছেলেই তোমাকে বিগড়ে দিয়েছে। আর সে (আবু খাইরা) ছিল একজন লিপিকার।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌4- مجلس سيبويه مع الكسائي وأصحابه بحضرة الرشيد

حدثني أبو الحسن قال: حدثني أبو العباس أحمد بن يحيى، وأبو العباس محمد بن يزيد وغيرهما قال أحمد: حدثني سلمة قال: قال الفراء:

قدم سيبويه على البرامكة، فعزم يحيى على الجمع بينه وبين الكسائي، فجعل لذلك يوما، فلما حضر تقدمت والأحمر فدخلنا، فإذا بمثالٍ في صدر المجلس، فقعد عليه يحيى، وقعد إلى جانب المثال جعفرٌ والفضل ومن حضر بحضورهم، وحضر سيبويه فأقبل عليه الأحمر فسأله عن مسألةٍ أجاب فيها سيبويه، فقال له: أخطأت.

ثم سأله عن ثانية فأجابه فيها، فقال له: أخطأت. ثم سأله عن ثالثة فأجابه فيها فقال له: أخطأت. فقال له سيبويه: هذا سوء أدب!

قال: فأقبلت عليه فقلت: إن في هذا الرجل حدا وعجلة، ولكن ما تقول فيمن قال: هؤلاء أبون، ومررت بأبين، كيف تقول مثال ذلك من وأيت أو أويت. قال: فقدر فأخطأ. فقلت: أعد النظر فيه. فقدر فأخطأ. فقلت: أعد النظر، ثلاث مرات، يجيب ولا يصيب. قال: فلما كثر ذلك قال: لست أكلمكما أو يحضر صاحبكما حتى أناظره. قال: فحضر الكسائي فأقبل على سيبويه فقال: تسألني أو أسألك؟ فقال: لا، بل سلني أنت. فأقبل عليه الكسائي فقال له: ما تقول أو كيف تقول: قد كنت أظن أن العقرب أشد لسعة من الزنبور فإذا هو
৪- রশীদের উপস্থিতিতে কিসায়ী ও তাঁর সঙ্গীদের সাথে সিবওয়াইহের মজলিস

আবু আল-হাসান আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন ইয়াহইয়া, আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ ও অন্যান্যরা আমাকে বলেছেন; আহমদ বলেন: সালামাহ আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আল-ফাররা বলেছেন:

সিবওয়াইহ বারমাকিদের দরবারে আসলেন, তখন ইয়াহইয়া তাঁর এবং কিসায়ীর মধ্যে একটি বিতর্কের বৈঠকের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং এর জন্য একটি দিন নির্ধারণ করলেন। যখন নির্ধারিত সময় উপস্থিত হলো, আমি এবং আল-আহমার অগ্রসর হয়ে প্রবেশ করলাম। মজলিসের সম্মুখভাগে একটি উচ্চাসন রাখা ছিল, ইয়াহইয়া তাতে বসলেন এবং সেই আসনের পাশে জাফর, ফজল ও অন্যান্য যারা উপস্থিত হওয়ার তারা বসলেন। সিবওয়াইহ উপস্থিত হলে আল-আহমার তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁকে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করলেন। সিবওয়াইহ সেটির উত্তর দিলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন: আপনি ভুল করেছেন।

এরপর তিনি তাঁকে দ্বিতীয় একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করলেন এবং তিনি সেটিরও উত্তর দিলেন, তিনি বললেন: আপনি ভুল করেছেন। এরপর তিনি তাঁকে তৃতীয় একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করলেন এবং তিনি উত্তর দিলেন, তিনি আবারও বললেন: আপনি ভুল করেছেন। তখন সিবওয়াইহ তাঁকে বললেন: এটি অত্যন্ত শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ!

তিনি বলেন: তখন আমি তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম: এই ব্যক্তির মধ্যে তেজ ও অস্থিরতা রয়েছে; তবে যে ব্যক্তি বলে: ‘এরা হলো পিতাগণ’ এবং ‘আমি পিতাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম’, আপনি ‘ওয়াআইতু’ বা ‘আওয়াইতু’ শব্দ থেকে এর অনুরূপ উদাহরণ কীভাবে বলবেন? তিনি বলেন: সিবওয়াইহ উত্তর প্রদানের চেষ্টা করলেন কিন্তু ভুল করলেন। আমি বললাম: বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন। তিনি চেষ্টা করলেন কিন্তু ভুল করলেন। আমি আবারও বললাম: পুনর্বিবেচনা করুন; এভাবে তিনবার ঘটল—তিনি উত্তর দিচ্ছিলেন কিন্তু সঠিক হচ্ছিল না। তিনি বলেন: যখন বিষয়টি বারবার হতে লাগল, তখন সিবওয়াইহ বললেন: আমি তোমাদের দুজনের সাথে আর কোনো কথা বলব না যতক্ষণ না তোমাদের প্রধান সাথী উপস্থিত হন যাতে আমি তাঁর সাথে বিতর্ক করতে পারি। তিনি বলেন: এরপর কিসায়ী উপস্থিত হলেন এবং সিবওয়াইহের দিকে মনোনিবেশ করে বললেন: আপনি আমাকে প্রশ্ন করবেন নাকি আমি আপনাকে প্রশ্ন করব? তিনি বললেন: না, বরং আপনিই আমাকে প্রশ্ন করুন। তখন কিসায়ী তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁকে বললেন: আপনি কী বলেন বা কীভাবে বলেন: ‘আমি মনে করতাম বিচ্ছু বোলতার চেয়েও বেশি তীব্র দংশনকারী, কিন্তু দেখা গেল যে সে...’
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ١٠)
هي، أو فإذا هو إياها؟ فقال سيبويه: فإذا هو هي. ولا يجوز النصب.

فقال له الكسائي: لحنت. ثم سأله عن مسائل من هذا النوع: خرجت فإذا عبد الله القائم، أو القائم؟ فقال سيبويه في كل ذلك بالرفع دون النصب. فقال الكسائي: ليس هذا كلام العرب، العرب ترفع في ذلك كله وتنصب. فدفع سيبويه قوله، فقال يحيى بن خالد: قد اختلفتما وأنتما رئيسا بلديكما فمن ذا يحكم بينكما؟ فقال الكسائي: هذه العرب ببابك، قد جمعتهم من كل أوب، ووفدت عليك من كل صقع، وهم فصحاء الناس، وقد قنع بهم أهل المصرين، وسمع أهل الكوفة وأهل البصرة منهم، فيحضرون ويسألون. فقال يحيى وجعفر: لقد أنصفت. وأمر بإحضارهم، فدخلوا وفيهم أبو فقعسٍ، وأبو زياد، وأبو الجراح، وأبو ثروان، فسئلوا عن المسائل التي جرت بين الكسائي وسيبويه، فتابعوا الكسائي وقالوا بقوله. قال: فأقبل يحيى على سيبويه فقال له: قد تسمع أيها الرجل. قال: فاستكان سيبويه، وأقبل الكسائي على يحيى فقال: أصلح الله الوزير، إنه قد وفد عليك من بلده مؤمِّلا، فإن رأيت ألا ترده خائبا. فأمر له بعشرة آلاف درهم، فخرج وصير وجهه إلى فارس، فأقام هناك حتى مات ولم يعد إلى البصرة.

قال أبو العباس: وإنما أدخل العماد في قوله: فإذا هو إياها، لأن ((فإذا)) مفاجأة، أي فوجدته ورأيته. ووجدت ورأيت تنصب شيئين، ويكون معه خبر، فلذلك نصبت العرب.
সেটি কি 'সেটিই', নাকি 'সেটি তাকেই' হবে? সিবওয়াইহ বললেন: বাক্যটি হবে 'সেটি সেটিই'। এখানে নসব (দ্বিতীয় পদে জবর) হওয়া বৈধ নয়।

তখন আল-কিসায়ি তাকে বললেন: আপনি ব্যাকরণগত ভুল করেছেন। এরপর তিনি তাকে এই জাতীয় আরও কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: 'আমি বের হলাম এবং দেখলাম আবদুল্লাহ দণ্ডায়মান'—এক্ষেত্রে শব্দটি কি পেশযুক্ত হবে নাকি জবরযুক্ত? সিবওয়াইহ এগুলোর সবক্ষেত্রেই রফ (পেশ) পড়ার কথা বললেন এবং নসব পড়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেন। তখন আল-কিসায়ি বললেন: এটি আরবদের ভাষা নয়; আরবরা এসব ক্ষেত্রে রফ এবং নসব উভয়ই ব্যবহার করে। সিবওয়াইহ তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলেন। তখন ইয়াহইয়া বিন খালিদ বললেন: আপনারা দুজনেই নিজ নিজ শহরের প্রধান পণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও মতভেদে লিপ্ত হয়েছেন, এমতাবস্থায় আপনাদের মাঝে কে ফয়সালা করবে? আল-কিসায়ি বললেন: এই তো বিশুদ্ধভাষী আরবরা আপনার দরজায় উপস্থিত আছে, আপনি তাদের সব প্রান্ত থেকে একত্র করেছেন এবং প্রতিটি অঞ্চল থেকে তারা আপনার কাছে প্রতিনিধি হয়ে এসেছে। তারা অত্যন্ত বিশুদ্ধভাষী মানুষ, বসরার ও কুফার অধিবাসীরা তাদের নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে একমত এবং উভয় শহরের মানুষ তাদের থেকেই ভাষা শিখেছে। সুতরাং তাদের উপস্থিত করা হোক এবং জিজ্ঞাসা করা হোক। ইয়াহইয়া ও জাফর বললেন: আপনি ন্যায়সংগত প্রস্তাব দিয়েছেন। এরপর তিনি তাদের উপস্থিত করার আদেশ দিলেন। তখন আবু ফাকআস, আবু জিয়াদ, আবু আল-জাররাহ এবং আবু সারওয়ান প্রবেশ করলেন। তাদের সেই মাসআলাগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যা নিয়ে আল-কিসায়ি ও সিবওয়াইহর মধ্যে বিতর্ক হয়েছিল। তারা আল-কিসায়ির সুর মেলালেন এবং তার মতকেই সমর্থন করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন ইয়াহইয়া সিবওয়াইহর দিকে ফিরে বললেন: হে ব্যক্তি, আপনি নিশ্চয়ই শুনতে পাচ্ছেন (তারা কী বলছে)। সিবওয়াইহ অত্যন্ত ম্রিয়মাণ ও নিরব হয়ে গেলেন। এরপর আল-কিসায়ি ইয়াহইয়ার দিকে ফিরে বললেন: আল্লাহ উজিরের কল্যাণ করুন, তিনি নিজের শহর থেকে অনেক আশা নিয়ে আপনার সমীপে এসেছেন, তাই আমার অনুরোধ হলো আপনি তাকে নিরাশ করে ফেরত পাঠাবেন না। তখন তিনি তার জন্য দশ হাজার দিরহাম প্রদানের আদেশ দিলেন। এরপর সিবওয়াইহ সেখান থেকে বেরিয়ে পারস্যের দিকে যাত্রা করলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করলেন; তিনি আর বসরায় ফিরে আসেননি।

আবু আল-আব্বাস বলেন: আল-কিসায়ি তার বাক্যে সর্বনামের ব্যবহার এজন্য করেছেন কারণ এখানে 'ফাইজা' শব্দটি আকস্মিকতা প্রকাশ করে, যার অর্থ দাঁড়ায় 'আমি তাকে এমতাবস্থায় পেলাম' বা 'দেখলাম'। আর 'পাওয়া' বা 'দেখা' অর্থে ব্যবহৃত ক্রিয়াগুলো দুটি পদকে নসব (জবর) প্রদান করে এবং এর সাথে সংবাদ (খবর) থাকে; এই ব্যাকরণগত কারণেই আরবরা এখানে নসব ব্যবহার করেছে।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌5- مجلس الكسائي مع أبي محمد اليزيدي

حدثني أبو الحسن قال: حدثني أبو العباس ثعلب قال: حدثني خلف البزاز قال:

جمعت الكسائي واليزيدي في عرس أم هؤلاء –يعني أولاده- فقال له اليزيدي: يا أبا الحسن، تأتينا عنك أشياء ننكرها. فقال: وأي شيءٍ مع الناس إلا فضل بزاقى. قال: فما كلمه حتى قام.

قال أبو العباس: كان الكسائي لم يكن يعتل، فإذا اعتل لم يقم له.
৫- আবু মুহাম্মাদ আল-ইয়াজিদীর সাথে আল-কিসায়ীর বৈঠক

আবুল হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবুল আব্বাস সা'লাব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: খালাফ আল-বাজ্জায আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

আমি এদের মায়ের—অর্থাৎ তাঁর সন্তানদের মায়ের—বিবাহ অনুষ্ঠানে আল-কিসায়ী এবং আল-ইয়াজিদীর একত্র মিলন ঘটিয়েছিলাম। তখন আল-ইয়াজিদী তাঁকে বললেন: হে আবুল হাসান, আপনার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে এমন কিছু বিষয় পৌঁছেছে যা আমরা অস্বীকার করি। তিনি বললেন: মানুষের কাছে আমার থুতুর অবশিষ্টাংশ ছাড়া আর কী-ই বা আছে! বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি উঠে যাওয়া পর্যন্ত তাঁর সাথে আর কোনো কথা বলেননি।

আবুল আব্বাস বলেন: আল-কিসায়ী সাধারণত বিতর্কে লিপ্ত হতেন না, কিন্তু যখন তিনি বিতর্কে লিপ্ত হতেন, তখন কেউ তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারত না।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌6- مجلس عبد الملك بن قريب مع كيسان

حدثني أبو الحسن قال: حدثني أبو العباس ثعلب قال: قرأ بعض أصحاب الأصمعي عليه شعر النابغة الجعدي حتى انتهى إلى قوله:

إنك أنت المحزون في أثر الحي … فإن تنو نيهم تقم

فقال الأصمعي: معناه فإن تنو نيهم تقم صدور الإبل، تظعن نحوهم، كما قال الآخر:

أقم لها صدورها يابسبس

فقال له كيسان: كذبت، أما إنك سمعت من أبي عمرو بن العلاء، لكن نسيت، إنما أراد أنهم قد نووا فراقك فذهبوا وتركوك، فإن تنو لهم مثل ما نووا فيك من القطيعة تقم في دارك ومكانك، ولا ترحل عنهم ولا تطلبهم، كما قال الآخر:

إذا اختلجت عنك النوى ذا مودة … قربن بقطاع من البين ذي شعب

أذاقتك مر العيش أو مت حسرة … كما مات مسقى الضياح على ألب

ألب يألب، ولاب يلوب واحد. يقول: إذا باعدت بيني وبين من
৬- কাইসানের সাথে আবদুল মালিক ইবনে কুরাইবের মজলিস

আবুল হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস ছা'লাব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসমাঈর জনৈক শিষ্য তাঁর নিকট নাবিগাহ আল-জু'আদির কবিতা পাঠ করছিলেন, যতক্ষণ না তিনি এই পঙক্তি পর্যন্ত পৌঁছালেন:

নিশ্চয়ই আপনি গোত্রের চিহ্নের পশ্চাতে শোকাতুর … অতঃপর যদি আপনি তাদের সংকল্প করেন তবে দাঁড়িয়ে যাবেন

তখন আসমাঈ বললেন: এর অর্থ হলো, আপনি যদি তাদের অভিমুখে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন তবে উটের বুকগুলো সোজা হয়ে দাঁড়াবে, অর্থাৎ আপনি তাদের পানে যাত্রা করবেন; যেমন অন্য এক কবি বলেছেন:

হে বাসবাস, উটগুলোর বুক সোজা করো

তখন কাইসান তাকে বললেন: আপনি ভুল বলেছেন। আপনি এটি আবু আমর ইবনুল আলা থেকে শুনেছেন ঠিকই, কিন্তু ভুলে গেছেন। কবি বরং বুঝাতে চেয়েছেন যে, তারা আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকল্প করেছে, ফলে তারা চলে গেছে এবং আপনাকে বর্জন করেছে। এমতাবস্থায় আপনিও যদি তাদের প্রতি তেমনই বিচ্ছেদের সংকল্প করেন যেমনটি তারা আপনার ক্ষেত্রে করেছে, তবে আপনি আপনার ঘরে ও নিজ স্থানেই অবস্থান করবেন, তাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন না এবং তাদের অন্বেষণও করবেন না; যেমন অন্য এক কবি বলেছেন:

যখন গন্তব্য আপনার নিকট থেকে কোনো প্রিয়জনকে সরিয়ে নেয় … তখন বিচ্ছেদের নানাবিধ শাখা তাদের চূড়ান্ত বিচ্ছেদের নিকটবর্তী করে দেয়

তা আপনাকে তিক্ত জীবন আস্বাদন করিয়েছে অথবা আপনি আক্ষেপে প্রাণ হারিয়েছেন … যেমন সেই তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি মারা যায় যাকে পাতলা দুধ পান করানো হয়েছে অথচ সে গাঢ় দুধের জন্য তৃষ্ণার্ত ছিল

'আলব' এবং 'লাব' একই অর্থবোধক। তিনি বলছেন: যখন আমার এবং সেই ব্যক্তির মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয় যাকে...
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ١٣)
أحب قربن –يعني إبلي- قربت إلى منزلي ووطني، ومياهي، ولم أتبع من فارقني، لأني صبور على الفراق جلدٌ متعود لذلك.

فقطاع يعني نفسه هو القطاع، لأني أقطع من قطعني. وأذاقتك، يعني من تحب، وهي التي فارقتها، فأنت وإن كنت كذا وعلى هذا الحال فأنت صبورٌ، قوي على القطع. وكما قال الراعي:

وإلفٍ صبرت النفس عنه وقد رأى … غداة فراق الحي ألا تلاقيا

وقد قادني الجيران حينا وقدتهم … وفارقت حتى ما تحن جماليا
আমি আমার উটগুলোকে কাছে টানলাম—অর্থাৎ আমার উটগুলোকে—আমি সেগুলোকে আমার আবাসস্থল, স্বদেশ ও জলাশয়ের নিকটে নিয়ে এসেছি। আর যে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে আমি তার অনুসরণ করিনি; কারণ আমি বিচ্ছেদে ধৈর্যশীল এবং এতে অভ্যস্ত ও সহনশীল।

বিচ্ছেদকারী—অর্থাৎ তিনি নিজেই সেই বিচ্ছেদকারী; কারণ যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি। আর 'সে তোমাকে আস্বাদন করিয়েছে'—অর্থাৎ তোমার প্রিয়তমা, যার থেকে তুমি বিচ্ছিন্ন হয়েছ। অতএব তুমি যদিও এমন এবং এই অবস্থায় আছ, তবুও তুমি ধৈর্যশীল এবং বিচ্ছেদ ঘটাতে শক্তিশালী। যেমন আল-রায়ি বলেছেন:

এমন এক সঙ্গীর বিরহে আমি আমার অন্তরকে ধৈর্যধারণ করিয়েছি, যে … জনপদ ত্যাগের সেই প্রভাতে নিশ্চিত বুঝতে পেরেছিল যে আর কখনো দেখা হবে না।

প্রতিবেশীরা কখনো আমাকে পরিচালিত করেছে আবার কখনো আমি তাদের পরিচালনা করেছি, … এবং আমি এমনভাবে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছি যে আমার উটগুলোও আর বিরহকাতর হয় না।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌7- مجلس الأصمعي مع المفضل عند عيسى بن جعفر

حدثني أبو الحسن علي بن سليمان قال: حدثني أحمد بن يحيى ومحمد بن يزيد، قالا: حدثنا الرياشي عن الأصمعي قال:

ناظرني المفضل عند عيسى بن جعفر، فأنشد بيت أوس بن حجر:

وذات هدمٍ عار نواشرها … تصمت بالماء تولبا جذعا

فقلت له: هذا تصحيف، لا يوصف التولب بالإجذاع، وإنما هو ((جدعاً)) . والجدع: السيء الغذاء. قال: فجعل المفضل يشغب، فقلت له: تكلم كلام النمل وأصب، لو نفخت في شبور يهودي ما نفعك شيئا.

وحدثني أبو جعفر أحمد بن عبد الله بن مسلم قال: حدثني أبي عبد الله قال: بلغني عن الجاحظ أن المفضل أنشد جعفر بن سليمان بيت أوس بن حجر فأنشده ((جذعا)) بالذال مفتوحة، والأصمعي حاضر، فقال الأصمعي: إنما هو ((تولباً جدعاً)) ، بالدال مكسورة غير معجمة. وأنشد لأبي زبيد:

لا غيلٌ ولا جدع …
‌৭- ঈসা বিন জাফরের নিকট আল-মুফাদদালের সাথে আল-আসমাঈর বৈঠক

আবুল হাসান আলী বিন সুলাইমান আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন ইয়াহইয়া এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আমাকে বলেছেন, তাঁরা বলেন: আর-রিয়াশি আল-আসমাঈ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

ঈসা বিন জাফরের মজলিসে আল-মুফাদদাল আমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলেন, তখন তিনি আউস বিন হাজারের এই কাব্যচরণটি পাঠ করলেন:

তালি দেওয়া জীর্ণ বস্ত্র পরিহিতা এক নারী, যার হাতের শিরাসমূহ অনাবৃত … সে পানি দিয়ে এক গাধার বাচ্চাকে শান্ত করছে যাকে 'জাযা' (তরুণ) বলা হয়েছে।

তখন আমি তাকে বললাম: এটি লেখনশৈলীর ভুল (তাসহিফ); গাধার বাচ্চাকে 'ইজযা' (তরুণ হওয়া) গুণের মাধ্যমে বিশেষায়িত করা হয় না, বরং এটি হবে 'জাদা' (অপুষ্ট)। আর 'জাদা' হলো যার খাদ্য অত্যন্ত নিম্নমানের। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল-মুফাদদাল শোরগোল ও বিতর্ক করতে শুরু করলেন। আমি তাকে বললাম: তুমি পিঁপড়ার মতো অতি সূক্ষ্ম স্বরে কথা বলো কিন্তু সঠিক কথাটি বলো; তুমি যদি ইহুদিদের শিঙায় ফুঁ দাও তবুও তা তোমার কোনো উপকারে আসবে না।

আবু জাফর আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুসলিম আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আবদুল্লাহ আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আল-জাহিজের মাধ্যমে আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, আল-মুফাদদাল জাফর বিন সুলাইমানের নিকট আউস বিন হাজারের কাব্যচরণটি পাঠ করেছিলেন এবং তিনি 'জাযা' শব্দটি 'যাল' বর্ণের উপর ফাতহা (যবর) দিয়ে পাঠ করেছিলেন। আল-আসমাঈ তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন আল-আসমাঈ বললেন: এটি মূলত 'তাওলাবান জাদিয়ান', যা 'দাল' বর্ণের নিচে কাসরা (জের) দিয়ে এবং নুকতাহীনভাবে পড়তে হবে। তিনি আবু জুবাইদের একটি চরণ পাঠ করলেন:

না আছে কোনো ঘন বন, আর না আছে কোনো অপুষ্টির শিকার প্রাণী …
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ١٥)
وأنشده لآخر:

بلا جدعِ النبات ولا جديب …

فضج المفضل ورفع صوته وهو يصيح، فقال له الأصمعي: لو نفخت!

وفسر أبو محمد البيت فقال: النواشر: عصب الذراع، واحدها ناشرة، وبها سمي الرجل. والتولب يريد طفلها، وأصله ولد الحمار الصغير فاستعاره. والجدع: السيء الغذاء المقطوع عنه الري. تصمته بالماء، يقول: ليس لها لبنٌ من الضر وشدة الزمان، فهي تعلله بالماء.

وحدثني به أحمد بن مابنداذ، حدثني أحمد بن يحيى ثعلب.
এবং তিনি অন্য একজনের এই কবিতা আবৃত্তি করলেন:

উদ্ভিদের বিনাশ বা দুর্ভিক্ষ ছাড়াই …

তখন আল-মুফাদ্দাল আর্তনাদ করে উঠলেন এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করতে লাগলেন। আল-আসমায়ি তাকে বললেন: তুমি যদি ফুঁ দিতে!

আবু মুহাম্মদ পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করে বললেন: ‘আন-নাওয়াশির’ অর্থ বাহুর রগ, এর একবচন হলো ‘নাশিরাহ’, আর এর নামানুসারেই লোকটির নামকরণ করা হয়েছে। ‘আত-তাওলাব’ বলতে তিনি তার শিশুকে বুঝিয়েছেন, মূলত এটি গাধার ছোট শাবককে বলা হয়, যা তিনি এখানে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ‘আল-জাদা’ হলো নিকৃষ্ট আহার যা থেকে সিক্ততা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সে তাকে পানি দিয়ে শান্ত রাখে; তিনি বলছেন: অভাব ও কালের কঠোরতার কারণে তার স্তনে কোনো দুধ নেই, তাই সে তাকে পানি দিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে।

এটি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মাবান্দায, তিনি বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া সা‘লাব থেকে।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌8- مجلس الأصمعي مع ابن الأعرابي عند سعيد بن سلم

حدثني أبو جعفر أحمد بن عبد الله قال حدثني أبي قال: أخبرني بعض أصحابنا أن السبب في طعن ابن الأعرابي على الأصمعي وقدحه فيه، أن الأصمعي دخل يوما على سعيد بن سلم وابن الأعرابي يؤدب حينئذ ولده، فقال لبعضهم: أنشد أبا سعيد. فأنشد الغلام لرجل من بني كلاب شعرا رواه إياه ابن الأعرابي، وهو:

رأت نضو أسفارٍ أميمة قاعدا … على نضو أسفارٍ فجن جنونها

فقالت: من أي الناس أنت ومن تكن … فإنك راعي صرمةٍ لا تزينها

فقلت لها: ليس الشحوب على الفتى … بعارٍ ولا خير الرجال سمينها

عليك براعي ثلة مسلحبة … يروح عليه محضها وحقينها

سمين الضواحي لم تؤرقه ليلةٌ … وأنعم أبكار الهموم وعونها
৮- সাঈদ ইবনে সালমের নিকট ইবনুল আরাবির সাথে আসমায়ীর মজলিস

আবু জাফর আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কিছু সঙ্গী আমাকে জানিয়েছেন যে, আসমায়ীর ওপর ইবনুল আরাবির দোষারোপ ও তার প্রতি নিন্দার কারণ হলো—আসমায়ী একদিন সাঈদ ইবনে সালমের নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় ইবনুল আরাবি সেখানে তার সন্তানকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন। তখন তিনি (সাঈদ) তাদের একজনকে বললেন: আবু সাঈদকে কবিতা শোনাও। এরপর বালকটি বনী কিলাব গোত্রের এক ব্যক্তির একটি কবিতা আবৃত্তি করল যা তাকে ইবনুল আরাবি শিখিয়েছিলেন, আর তা হলো:

উমাইমাহ সফরের ক্লান্তিতে শীর্ণ এক ব্যক্তিকে দেখল, যে সফরের ক্লান্তিতে শীর্ণ এক সওয়ারির ওপর বসে আছে; তা দেখে সে হতবাক হয়ে গেল। …

সে বলল: তুমি কোন কওমের লোক এবং তুমি কে? তুমি তো একটি ক্ষুদ্র পালের রাখাল ছাড়া আর কিছুই নও, যাকে তুমি কোনো শ্রী দান করো না। …

আমি তাকে বললাম: যুবকের মলিন চেহারা কোনো লজ্জার বিষয় নয়, আর পুরুষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি স্থূলকায় বা মেদবহুল ব্যক্তি নয়। …

তোমার বরং এমন এক বিশাল পালের রাখালকে খোঁজা উচিত, যার কাছে টাটকা ও ঘনীভূত দুধ নিয়ে আসা হয়। …

যে বাহ্যিকভাবে হৃষ্টপুষ্ট এবং কোনো রাত তাকে নির্ঘুম রাখেনি, আর সে যাবতীয় দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে পরম সুখে জীবন কাটায়।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ١٧)
ورفع ليلة، فقال له الأصمعي: من رواك هذا؟ فقال: مؤدبي. فأحضره واستنشده البيت، فأنشده ورفع ليلة، فأخذ ذلك عليه، وفسر البيت فقال: إنما أراد لم تؤرقه ليلة أبكار الهموم. وعونها: جمع عوانٍ. وأنعم، أي زاد على هذه الصفة. وقوله: ((سمين الضواحي)) ، يريد ما ظهر فيه وبدا سمينٌ. ثم قال لابن سلم: من لم يحسن هذا فليس موضعا لتأديب ولدك. فنحاه.

وأنشدني هذه الأبيات أبو الحسن قال: أنشدني ثعلب عن ابن الأعرابي.
এবং তিনি 'লায়লা' শব্দটিকে রফা (পেশ) দিয়ে পড়লেন। তখন আসমায়ী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমাকে এটি কে বর্ণনা করেছে?" সে উত্তর দিল, "আমার শিক্ষক।" তখন তিনি তাকে উপস্থিত করলেন এবং তার কাছে কবিতাটি শুনতে চাইলেন। তিনি কবিতাটি শোনালেন এবং 'লায়লা' শব্দটিকে রফা দিয়ে পড়লেন। আসমায়ী তার এই ভুলটি ধরলেন এবং কবিতাটির ব্যাখ্যা করে বললেন, "তিনি কেবল বুঝাতে চেয়েছেন যে, নতুন দুশ্চিন্তার রাত তাকে নির্ঘুম রাখেনি।" আর 'আউন' হলো 'আওয়ান' শব্দের বহুবচন। 'আনআমা' অর্থ হলো এই গুণের ওপর আরও বৃদ্ধি করা। আর তার উক্তি "পার্শ্বদেশসমূহ স্থূলকায়" দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে ও দৃশ্যমান হয়েছে তা স্থূলকায় ছিল। অতঃপর তিনি ইবনে সালমকে বললেন, "যে ব্যক্তি এটি সঠিকভাবে জানে না, সে আপনার সন্তানকে শিক্ষিত করার যোগ্য নয়।" ফলে তিনি তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলেন।

আবুল হাসান আমাকে এই কবিতাগুলো শুনিয়েছেন; তিনি বলেন, সা’লাব ইবনুল আরাবীর সূত্রে আমাকে এটি শুনিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌9- مجلس الأصمعي مع أبي عمرو الشيباني

حدثني أبو جعفر عن أبيه أبي محمد عبد الله بن مسلم قال: حدثني غير واحدٍ، منهم أحمد بن سعيد اللحياني، عن أبي عبيد. وحدثني أبو الحسن قال: حدثني محمد بن يزيد المبرد قال: حدثني أبو محمد التوزي عن أبي عمرو الشيباني، قال:

كنا بالرقة، فأنشد الأصمعي:

عننا باطلا وظلما كما تعنز … عن حجرة الربيض الظباء

فقال له: سبحان الله! ((تعتر)) من العتيرة. فقال الأصمعي: ((تعنز)) أي تطعن بعنزة. فقلت له: لو نفخت في شبور اليهودي وصحت إلى التناد ما كان إلا ((تعتر)) ، ولا ترويه بعد اليوم إلا ((تعتر)) .

قال أبو العباس محمد بن يزيد: قال التوزي قال لي أبو عمرو:

فقال: والله لا أعود بعدها إلى ((تعنز)) . والشعر للحارث بن حلزة.
৯- আবু আমর আশ-শায়বানীর সাথে আসমাঈর মজলিস

আবু জাফর তাঁর পিতা আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে আহমদ ইবনে সাঈদ আল-লিহয়ানি আবু উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আবুল হাসান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুবররাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আত-তাউজি আবু আমর আশ-শায়বানী থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

আমরা রাক্কায় ছিলাম, তখন আসমাঈ আবৃত্তি করলেন:

আমাদের প্রতি অন্যায় ও জুলুম করা হয়েছে যেমন [পালানো হয়] … পালের বাথান থেকে হরিণসমূহ।

অতঃপর তিনি (আবু আমর) তাকে বললেন: সুবহানাল্লাহ! এটি হবে ‘তু’তারু’, যা ‘আতীরাহ’ (বলিদান) থেকে আগত। আসমাঈ বললেন: ‘তু’নাজু’ অর্থাৎ ‘আনযা’ (ছোট বর্শা) দিয়ে বিদ্ধ করা। তখন আমি তাকে বললাম: আপনি যদি ইহুদিদের শিঙ্গায় ফুঁ দিতেন এবং কিয়ামতের ডাক পর্যন্ত চিৎকার করতেন, তবুও এটি ‘তু’তারু’ ছাড়া আর কিছু হতো না। আর আজকের পর থেকে এটি ‘তু’তারু’ ছাড়া অন্যভাবে বর্ণনা করবেন না।

আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ বলেন: আত-তাউজি আমাকে বলেছেন যে আবু আমর বলেছেন:

অতঃপর তিনি (আসমাঈ) বললেন: আল্লাহর কসম, এরপর আমি আর কখনো ‘তু’নাজু’ পাঠে ফিরে যাব না। আর এই কবিতাটি হারিস ইবনে হিল্লিজার।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ١٩)
وحدثنا أبو عبد الله اليزيدي قال: حدثنا أحمد بن يحيى قال: حدثني أحمد بن سعيد بن سلم بن قتيبة الباهلي قال:

جاءني الأصمعي وأبو عمروٍ عند أبي، فأنشد الأصمعي:

((كما تعنز عن حجرة)) ، فقال أبو عمرو: ((تعتر)) ، فقال الأصمعي: هذا مأخوذ من العنزة والاعتناز. فقال أبو عمرو: ليس تروي بعد وقتك هذا إلا ((تعتر)) .

قال أبو محمد عبد الله بن مسلم: العتر: الذبح. والعتيرة: الذبيحة. والحجرة: الحظيرة تتخذ للغنم. والربيض: جماعة الغنم. وكان الرجل من العرب ينذر نذرا على شائه إذا بلغت مائة، أن يذبح عن كل عشرة منها شاة في رجب، وكان تسمى تلك الذبائح الرجبية، وهي العتائر. وكان الرجل منهم ربما بخل بشائه فيصيد ظباء فيذبحها عن غنمه في رجب ليوفي نذره، فقال: أنتم تأخذوننا بذنوب غيرنا، كما ذبح أولئك الظباء عن غنمهم. ومثله:

إذا اصطادوا بغاناً شيطوه … فكان وفاء شائهم القروع

ويروى: ((فكان وقاء شائهم القروع)) .
আবু আব্দুল্লাহ আল-ইয়াজিদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে সাঈদ ইবনে সালাম ইবনে কুতাইবাহ আল-বাহিলি আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন:

আমার পিতার নিকট আল-আসমাঈ এবং আবু আমর এসেছিলেন। তখন আল-আসমাঈ আবৃত্তি করলেন:

((যেমন বেষ্টনী থেকে দূরে সরে যায়)), তখন আবু আমর বললেন: ((উৎসর্গ করা হয়)), তখন আল-আসমাঈ বললেন: এটি 'আনজাহ' এবং 'ইতিনাজ' থেকে উদ্ভূত। তখন আবু আমর বললেন: তোমার এই সময়ের পর তুমি 'তা'তার' (উৎসর্গ করা) ব্যতীত অন্য কিছু বর্ণনা করবে না।

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম বলেন: 'ইতর' অর্থ যবাই করা। 'আতিরাহ' অর্থ যবাইকৃত পশু। 'হুজরাহ' অর্থ ছাগলের জন্য নির্মিত বেষ্টনী। আর 'রাবিয' অর্থ ছাগলের দল। আরবদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যখন তার ছাগল সংখ্যা একশতে পৌঁছাত, তখন সে মানত করত যে, প্রতি দশটি ছাগলের বিনিময়ে রজব মাসে একটি করে ছাগল যবাই করবে। এই যবাইকৃত পশুগুলোকে 'রাজাবিয়্যাহ' বলা হতো, আর এগুলোই হলো 'আতায়ির'। তাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি কখনো কখনো নিজের ছাগল দিতে কার্পণ্য করত, ফলে সে হরিণ শিকার করে তার মানত পূর্ণ করার জন্য ছাগলের পরিবর্তে রজব মাসে সেগুলো যবাই করত। কবি বলেন: তোমরা আমাদের অন্যের অপরাধে পাকড়াও করছ, যেমন তারা তাদের ছাগলের পরিবর্তে ঐ হরিণগুলোকে যবাই করেছিল। এর সদৃশ হলো:

যখন তারা হরিণ শিকার করত তখন তারা তা ঝলসে ফেলত … অতঃপর তাদের ছাগলের পরিবর্তে কুরু (উত্তম পশু) প্রদানই ছিল মানত পূরণ।

বর্ণিত আছে যে: ((অতঃপর তাদের ছাগলের পরিবর্তে কুরু প্রদানই ছিল সুরক্ষা))।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌10- مجلس الكسائي مع يونس

حدثني أبو الحسن علي بن سليمان قال: حدثني أبو العباس محمد بن يزيد قال: قال محمد بن سلام الجمحي: قدم الكسائي البصرة مع الرشيد، فجلس إلى يونس في حلقته، فألقى عليه بعض من حضر في المجلس ببيت الفرزدق:

غداة أحلت لابن أصرم طعنةٌ … حصينٍ عبيطات السدائف والخمر

فأنشده هكذا، فقيل للكسائي: على أي شيءٍ رفعت؟ فقال: أضمرت فعلا، كأنه: وحلت لي الخمر. فقال يونس: ما أحسن والله ما وجهته، غير أني سمعت الفرزدق ينشده:

غداة أحلت لابن أصرم ضربة … حصينٍ عبيطات السدائف والخمر

جعل الفاعل مفعولا كما قال الحطيئة:

فلما خشيت الهون والعير ممسكٌ … على رغمه ما أمسك الحبل حافره

والقصيدة على الرفع، جعل الفاعل مفعولا. فقال الكسائي: هذا على هذا وجهٌ.
১০- ইউনুসের সাথে আল-কিসায়ীর মজলিস

আবু হাসান আলী বিন সুলায়মান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন সালাম আল-জুমাহি বলেছেন: আল-কিসায়ী (খলিফা) আল-রশীদের সাথে বসরায় আগমন করলেন এবং ইউনুসের পাঠচক্রে তাঁর পাশে বসলেন। তখন মজলিসে উপস্থিত জনৈক ব্যক্তি আল-ফারাজদাকের এই পঙক্তিটি তাঁর কাছে উপস্থাপন করলেন:

সেদিন সকালে যখন ইবনে আসরামের বর্শার আঘাত হালাল করল … হুসাইনের জন্য তাজা উটের কুঁজের চর্বি ও শরাবকে।

তিনি পঙক্তিটি এভাবেই পাঠ করলেন। তখন আল-কিসায়ীকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কোন ভিত্তিতে (শরাব শব্দটিতে) ‘রাফা’ (পেশ) প্রদান করেছেন? তিনি উত্তর দিলেন: আমি এখানে একটি ক্রিয়া উহ্য রেখেছি; যেন বাক্যটি এমন ছিল: ‘এবং শরাবও আমার জন্য হালাল হয়েছে’। ইউনুস বললেন: আল্লাহর কসম, আপনি কতই না চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন! তবে আমি ফারাজদাককে এটি এভাবে পাঠ করতে শুনেছি:

সেদিন সকালে যখন ইবনে আসরামের আঘাত হালাল করল … হুসাইনের জন্য তাজা উটের কুঁজের চর্বি ও শরাবকে।

তিনি এখানে ‘ফায়েল’কে (কর্তা) ‘মাফউল’ (কর্ম) হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমনটি আল-হুতাইয়াহ বলেছেন:

যখন আমি লাঞ্ছনার ভয় করলাম এবং গাধাটি অনিচ্ছাসত্ত্বেও দড়িটি তার খুরকে আটকে ধরেছিল।

এই কাসিদাটি ‘রাফা’ (পেশ) এর ওপর ভিত্তি করে রচিত, তিনি এখানে ‘ফায়েল’কে ‘মাফউল’ করেছেন। তখন আল-কিসায়ী বললেন: এটিও একটি ব্যাকরণিক দিক হতে পারে।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌11- مجلس العتابي كلثوم بن عمرو مع منصور النمري

قال أحمد بن الحارث الخزاز: أنشد العتابي كلثوم بن عمرو:

يا ليلة لي بحوارين ساهرة … حتى تكلم في الصبح العصافير

فقال له منصور النمري: العصافير تتكلم؟ فقال العتابي: نعم تتكلم وتنطق، ويقال ذلك لما أعرب عن نفسه بحالٍ ترى فيه، فيقال: أخبرت الدار بكذا، وتكلمت بكذا، فكيف ماله نطقٌ؟! أما سمعت قول كثيرٍ:

سوى ذكرةٍ منها إذ الركب عرسوا … وهبت عصافير الصريم النواطق

وقول الكميت:

كالناطقات الصادقات … الواسقات من الذخائر

قال: فسكت منصورٌ منقطعا.
১১- আল-ইতাবী কুলসুম ইবনে আমর এবং মানসুর আন-নামারীর মজলিস

আহমদ ইবনুল হারিস আল-খাযযায বলেন: আল-ইতাবী কুলসুম ইবনে আমর আবৃত্তি করেছেন:

হাওয়ারিনে কাটানো আমার সেই নির্ঘুম রাত ... যতক্ষণ না ভোরে চড়ুইপাখিরা কথা বলে ওঠে

তখন মানসুর আন-নামারী তাকে বললেন: চড়ুইপাখিরা কি কথা বলে? আল-ইতাবী বললেন: হ্যাঁ, তারা কথা বলে ও শব্দ করে। আর এটি সেই জিনিসের ক্ষেত্রেও বলা হয় যা নিজের অবস্থার মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করে। যেমন বলা হয়: 'বাড়িটি এমন খবর দিয়েছে', 'বাড়িটি এমন কথা বলেছে'। তাহলে যার নিজস্ব আওয়াজ আছে তার ক্ষেত্রে কেন হবে না?! আপনি কি কুসাইয়্যিরের এই উক্তিটি শোনেননি:

সেখানকার স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নেই যখন আরোহীরা রাতে বিশ্রাম নিয়েছিল ... আর ঝোপঝাড়ের কথা বলা চড়ুইপাখিগুলো জেগে উঠেছিল

এবং কুমাইতের উক্তি:

বাকপটু সত্যবাদীদের ন্যায় ... যারা সঞ্চিত ভাণ্ডারে পরিপূর্ণ

বর্ণনাকারী বলেন: তখন মানসুর নিরুত্তর হয়ে চুপ হয়ে গেলেন।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌12- مجلس الأصمعي مع عباس بن الأحنف

قال الأصمعي: بعث إلي محمد بن هارون، فدخلت عليه وفي يده كتابٌ يديم النظر فيه ويتعجب منه، فقال لي: يا عبد الملك، أما تعجب من هذا الشاب وما يجيء به؟ فقلت: من هو؟ فقال: عباس بن الأحنف. ثم رمى إلي الكتاب فإذا فيه شعرٌ قاله عباس، وهو:

إذا ما شئت أن تصنع … شيئاً يعجب الناسا

فصور هاهنا فوزا … وصور ثم عباسا

ودع بينهما شبرا … وإن زدت فلا باسا

فإن لم يدنوا حتى … ترى راسيهما راسا

فكذبها بما قاست … وكذبه بما قاسى

قال الأصمعي: وكان بيني وبين عباس شيء فقلت: مسترقٌ يا أمير المؤمنين. قال: ممن؟ قلت: من العرب والعجم. قال لي: ما كان من العرب؟ قلت: رجلٌ يقال له ((عمر)) ، هوي جارية يقال لها ((قمر)) ، فقال:

إذا ما شئت أن تصنع … شيئاً يعجب البشرا
১২- আব্বাস ইবনে আল-আহনাফের সাথে আসমায়ীর মজলিস

আসমায়ী বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হারুন আমার নিকট লোক পাঠালেন, আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তখন তাঁর হাতে একটি কিতাব ছিল যাতে তিনি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন এবং বিস্ময় প্রকাশ করছিলেন। তিনি আমাকে বললেন: হে আব্দুল মালিক, তুমি কি এই যুবক এবং সে যা নিয়ে আসে সে বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ না? আমি বললাম: সে কে? তিনি বললেন: আব্বাস ইবনে আল-আহনাফ। এরপর তিনি কিতাবটি আমার দিকে ছুঁড়ে দিলেন, তাতে আব্বাসের বলা কিছু কবিতা ছিল, যা হলো:

যখন তুমি এমন কিছু তৈরি করতে চাইবে … যা মানুষকে অভিভূত করবে

তবে এখানে ফাউজ-এর ছবি আঁকো … আর সেখানে আব্বাসের ছবি আঁকো

তাদের উভয়ের মাঝে এক বিঘত পরিমাণ ফাঁকা রাখো … আর যদি এর চেয়ে সামান্য বৃদ্ধি করো তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই

যদি তারা এতটা নিকটবর্তী না হয় যে … তুমি তাদের দুই মাথাকে একটি মাথা হিসেবে দেখতে পাও

তবে সে (নারী) যা সহ্য করেছে তাতে তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো … এবং সে (পুরুষ) যা কষ্ট স্বীকার করেছে তাতে তাকেও মিথ্যা প্রতিপন্ন করো

আসমায়ী বলেন: আমার এবং আব্বাসের মধ্যে কিছুটা (মনোমালিন্য) ছিল, তাই আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, এটি অপহৃত (অন্যের থেকে চুরি করা)। তিনি বললেন: কার থেকে? আমি বললাম: আরব এবং অনারবদের থেকে। তিনি আমাকে বললেন: আরবদের থেকে কী (চুরি করেছে)? আমি বললাম: ‘উমর’ নামক এক ব্যক্তি ছিল, সে ‘কামার’ নাম্নী এক দাসীর প্রেমে পড়েছিল, তখন সে বলেছিল:

যখন তুমি এমন কিছু তৈরি করতে চাইবে … যা মানবজাতিকে অভিভূত করবে
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
فصور هاهنا عمراً … وصور هاهنا قمرا

فإن لم يدنوا حتى … ترى بشريهما بشرا

فكذبها بما ذكرت … وكذبه بما ذكرا

قال: فما كان من العجم؟ قلت: رجل يقال له ((فلقا)) ، هوي جارية يقال لها ((روق)) فقال:

إذا ما شئت أن تصنع … شيئاً يعجب الخلقا

فصور هاهنا روقا … وصور هاهنا فلقا

فإن لم يدنوا حتى … ترى خلقيهما خلقا

فكذبها بما لاقت … وكذبه بما يلقى

فبينا نحن كذلك إذ جاء الحاجب فقال: عباسٌ بالباب. فقال: ائذن له. فدخل فقال: يا عباس، تسرق معاني الشعر وتدعيه! فقال: ما سبقني أحد. فقال محمد: هذا الأصمعي يحكيه عن العرب والعجم. ثم قال: يا غلام ادفع الجائزة إلى الأصمعي. فلما خرجنا قال لي العباس: كذبتني وأبطلت جائزتي! فقلت: أتذكر يوم كذا. ثم أنشأت أقول:

إذا وترت امرأ فاحذر عداوته … من يزرع الشوك لا يحصد به عنبا
এখানে উমরের ছবি আঁকো … এবং এখানে চাঁদের ছবি আঁকো

যদি তারা এমনভাবে নিকটবর্তী না হয় যে … তুমি তাদের দুই দেহকে এক দেহ হিসেবে দেখবে

অতঃপর সে তাকে তার বর্ণিত বিষয়ের কারণে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল … এবং সেও তাকে তার বর্ণিত বিষয়ের কারণে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল

তিনি বললেন: অনারবদের অবস্থা কেমন ছিল? আমি বললাম: এক ব্যক্তি যাকে ‘ফিলাকা’ বলা হতো, সে ‘রুক’ নাম্নী এক দাসীর প্রেমে পড়েছিল। সে বলেছিল:

যখন তুমি এমন কিছু তৈরি করতে চাইবে … যা সৃষ্টিজগতকে অভিভূত করবে

তখন এখানে রুক-এর ছবি আঁকো … এবং এখানে ফিলাকার ছবি আঁকো

যদি তারা এমনভাবে নিকটবর্তী না হয় যে … তুমি তাদের দুই অবয়বকে এক অবয়ব হিসেবে দেখবে

অতঃপর সে তাকে যা সে ভোগ করেছে তা দিয়ে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল … এবং সে তাকে যা সে ভোগ করছে তা দিয়ে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল

আমরা এমতাবস্থায় ছিলাম যখন দ্বাররক্ষী এসে বলল: আব্বাস দরজায় উপস্থিত। তিনি বললেন: তাকে অনুমতি দাও। সে প্রবেশ করলে তিনি বললেন: হে আব্বাস! তুমি কবিতার অর্থ চুরি করো এবং তা নিজের বলে দাবি করো! সে বলল: আমার আগে কেউ এমনটি করেনি। তখন মুহাম্মদ বললেন: এই যে আসমায়ি, সে আরব ও অনারবদের থেকে এটি বর্ণনা করছে। তারপর তিনি বললেন: হে বালক, পুরস্কারটি আসমায়িকে প্রদান করো। আমরা যখন বের হলাম, আব্বাস আমাকে বলল: তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলে এবং আমার পুরস্কারটি পণ্ড করে দিলে! আমি বললাম: তোমার কি অমুক দিনের কথা মনে আছে? তারপর আমি আবৃত্তি করতে লাগলাম:

যদি তুমি কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করো তবে তার শত্রুতা থেকে সতর্ক থেকো … কারণ যে কাঁটা রোপণ করে সে তার মাধ্যমে আঙুর সংগ্রহ করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌13- مجلس حماد الراوية مع مروان بن أبي حفصة

حدثني أبو بكر قال: حدثني أبو العباس أحمد بن يحيى قال: حدثنا علي بن المغيرة الأثرم قال: حدثني مروان بن أبي حفصة، قال:

دخلت أنا وعدادٌ من الشعراء على الوليد، وإذا رجل غائبٌ في الفراش، وكنا عدة من الشعراء: طريح، وأشجع وغيرهما.

قال: فكل من أنشد التفت إلى الخليفة فقال: سرق ذا من كذا وذا من كذا، حتى يأتي على شعره، فقلت لبعض من أقول: من هذا؟ قال: حماد الراوية.

فلما وقفت على أمير المؤمنين قلت: يا أمير المؤمنين، ما لهذا والكلام، وهو لحانة! قال: فتهانف الشيخ وقال: يا ابن أخي، إني أجالس السوق فلساني على لسانهم، وأنا أعلم الناس بالشعر، فهل تروي من أشعار العرب شيئا. فذهب عليَّ الشعر إلا شعر ابن مقبل. فقال: أنشدني. فلما أنشدته:

سل الدار من جنبي حبرٍ فواهبٍ … إلى ما رأى هضب القليب المضيح

فذهبت أمر، فقال لي: مكانك، أين تذهب، ما يقول؟ قال: فلم أدر؟ قال: فقال لي: يقال رأى الموضع الموضع، إذا قابله. أنشد فلا بأس عليك. ثم لم ألقه إلى زمان المسودة. فبينا أنا في بعض الطرق
‌১৩- মারওয়ান ইবনে আবি হাফসার সাথে হাম্মাদ আল-রাবিয়ার মজলিস

আবু বকর আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আল-মুগিরা আল-আছরাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান ইবনে আবি হাফসা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

আমি এবং বেশ কয়েকজন কবি আল-ওয়ালিদের দরবারে প্রবেশ করলাম। তখন একজন লোক বিছানায় গা এলিয়ে বসে ছিল। আমরা অনেক কবি উপস্থিত ছিলাম: তুরাইহ, আশজা এবং আরও অনেকে।

তিনি বলেন: যে-ই কবিতা আবৃত্তি করত, সে (ঐ ব্যক্তি) খলিফার দিকে লক্ষ্য করে বলত: এ এটি অমুক থেকে চুরি করেছে এবং ওটি অমুক থেকে চুরি করেছে; এভাবে সে তার কবিতার আগাগোড়া সব বলে দিত। আমি আমার সঙ্গীদের একজনকে জিজ্ঞেস করলাম: এই ব্যক্তিটি কে? সে বলল: হাম্মাদ আল-রাবিয়া।

যখন আমি আমিরুল মুমিনিনের সম্মুখে দাঁড়ালাম, তখন বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, তার কথা বলার কী যোগ্যতা আছে, অথচ সে তো ব্যাকরণে ভুলকারী! তিনি বলেন: তখন বৃদ্ধটি উপহাসের হাসি হাসলেন এবং বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, আমি বাজারে সাধারণ মানুষের সাথে বসি, তাই আমার ভাষা তাদের ভাষার মতোই হয়ে গেছে। তবে আমি কবিতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী। তুমি কি আরবদের কোনো কবিতা জানো? তখন ইবনে মুকবিলের কবিতা ছাড়া আর সব কবিতা আমার স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেল। তিনি বললেন: আমাকে শোনাও। যখন আমি তাকে আবৃত্তি করে শোনালাম:

হাবর ও ওয়াহিবের দুই প্রান্তের বসতভিটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো … মুদাইয়াহ কূপের পাহাড় যা দেখেছে সে পর্যন্ত।

আমি চলে যেতে উদ্যত হলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: থামো, কোথায় যাচ্ছ? সে কী বলছে? তিনি বললেন: আমি (এর অর্থ) জানতাম না। তিনি বলেন: তখন তিনি আমাকে বললেন: বলা হয় 'এক স্থান অন্য স্থানকে দেখেছে' যখন সেটি তার মুখোমুখি হয়। তুমি আবৃত্তি করো, তোমার কোনো সমস্যা নেই। এরপর 'মুসাওবিদা' (আব্বাসীয়দের উত্থান কাল) পর্যন্ত তার সাথে আমার আর দেখা হয়নি। একদিন আমি কোনো এক রাস্তায় থাকাকালীন...
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
فإذا إنسانٌ من خلفي يغمزني بسوطه، فالتفت فإذا حماد، فقلت: لا إله إلا الله، أبعد تلك الحال! قال: نعم، ذهب ويحك ما كنت تعهد، ذاك زمانٌ وهذا زمان.

قال: وكانت قد جاءت الدولة العباسية.
হঠাৎ আমার পিছন থেকে জনৈক ব্যক্তি তাঁর চাবুক দিয়ে আমাকে খোঁচা দিলেন। আমি ফিরে তাকিয়ে দেখলাম তিনি হাম্মাদ। আমি বললাম: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! সেই অবস্থার পর এই অবস্থা! তিনি বললেন: হ্যাঁ, তোমার জন্য পরিতাপ! তুমি যা জানতে তা গত হয়েছে; সেটি ছিল এক কাল আর এটি অন্য কাল।

তিনি বললেন: তখন আব্বাসীয় শাসনকাল শুরু হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌14- مجلس محمد بن زياد الأعرابي مع الحسين بن الضحاك بحضرة الواثق بالله

قال إسحاق بن زياد أبو العباس أخو ابن الأعرابي: قال أبو عبد الله ابن الأعرابي:

دخلت على الواثق بالله، فقرأ علي الفتح بن خاقان شعر طرفة فقال:

تذكرون إذ نقاتلكم … إذ لا يضر معدما عدمه

قال: فقلت له: زد فيها ألفا: ((أتذكرون)) . قال: فقال لي الحسين بن الضحاك وهو نديم أمير المؤمنين، وكان معه محمد بن عمر الرومي: قد خزم مرة بقوله ((إذ لا)) ويخزم بألف أخرى في أوله؟ قال فقلت له: العرب تخزم أول الشعر، إذا احتاجت أن تصله بما قبله خزمته بالحرف والحرفين، وقد خزمه طرفة في أوله وأوسطه، الألف الأولى والثانية.

قال: وأنشدته قول امرئ القيس:

فلعمرك ما سعدٌ بخلةٍ آثم … ولا نأنإٍ يوم الحفاظ ولا حصر
১৪- আল-ওয়াথিক বিল্লাহর উপস্থিতিতে আল-হুসাইন বিন আদ-দাহহাকের সাথে মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল-আ’রাবীর মজলিস

ইসহাক বিন যিয়াদ আবুল আব্বাস, যিনি ইবনুল আ’রাবীর ভাই, তিনি বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল আ’রাবী বলেছেন:

আমি আল-ওয়াথিক বিল্লাহর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন আল-ফাতহ বিন খাকান আমার সামনে তারাফার কবিতা পাঠ করলেন:

তোমরা স্মরণ করো যখন আমরা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করছিলাম … যখন অভাবগ্রস্তের অভাব তার ক্ষতি করে না

তিনি বলেন: আমি তাকে বললাম: এতে একটি আলিফ বৃদ্ধি করুন: ((আ-তাজকুরুন - তোমরা কি স্মরণ করো))। তিনি বলেন: তখন আমীরুল মুমিনীনের সহচর আল-হুসাইন বিন আদ-দাহহাক আমাকে বললেন—এবং তার সাথে মুহাম্মদ বিন উমর আল-রূমীও ছিলেন—: সে কি একবার "ইজ লা" (যখন না) বলে 'খাজম' (কবিতার চরণে অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত করা) করেছে এবং আবার শুরুতে আলিফ দিয়ে 'খাজম' করবে? তিনি বলেন: আমি তাকে বললাম: আরবরা কবিতার শুরুতে 'খাজম' করে থাকে; যখন তারা পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে সংযোগ করার প্রয়োজন বোধ করে তখন একটি বা দুটি অক্ষর দ্বারা 'খাজম' করে। আর তারাফা এর শুরুতে এবং মাঝে—প্রথম ও দ্বিতীয় আলিফ দ্বারা—'খাজম' করেছেন।

তিনি বলেন: আমি তাকে ইমরুল কায়েসের এই পঙ্ক্তিটি শোনালাম:

তোমার জীবনের শপথ, সা’দ কোনো পাপিষ্ঠ বন্ধু নয় … এবং সে আশ্রয়ের দিনে কোনো দুর্বল বা কুণ্ঠিত ব্যক্তি নয়।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
فخزم بالفاء: وأنشدته قول قد بن مالك الوالبي:

تعالوا نجمع الأموال حتى … نجحدل من قبيلتنا المئينا

وإلا فتعالوا نجتلد بمهنداتٍ … نشق بها الحواجب والشئونا

فخزم بقوله: ((وإلا)) ولم يقل: تعالوا نجتلد، وخزم بالفاء التي في ((تعالوا)) ، فخزم مرتين.

وأنشدته لبعض بني تميم:

[إذا أنت لم تستقبل الأمر لم تجد … لك الدهر في أدباره متعلقا

وإذا أنت لم تترك أخاك وزلة … إذا زلها أوشكتما أن تفرقا

فخزم بالواو.

قال: وقرأ قصيدة عنترة:

نهدٍ تعاوره الكماة مكلم …

وكان رواه أبو مسلم المغرب فقال أبو عبد الله ((نقذٍ تعاوره الكماة)) . قال المغرب: ما سمعت بهذا إلا هكذا. قال أبو عبد الله: يروى هذا وهذا جميعا، و ((نقذ)) أجود القولين وأشعر. وإنما جاءوا بمثلي ليختار لهم خير الكلام.
তিনি 'ফা' বর্ণ যোগ করে খাযম করেছেন: আর আমি তাঁকে কাদ্দ ইবনে মালিক আল-ওয়ালিবি-র এই পঙক্তি আবৃত্তি করে শুনিয়েছি:

এসো আমরা ধন-সম্পদ সংগ্রহ করি যতক্ষণ না … আমরা আমাদের গোত্র থেকে শত শত লোককে ধরাশায়ী করি।

অন্যথায় এসো আমরা ভারতীয় ধারালো তরবারি দিয়ে লড়াই করি … যার দ্বারা আমরা ভ্রূ এবং করোটির সংযোগস্থলসমূহ বিদীর্ণ করব।

তিনি তাঁর উক্তি "ওয়া ইল্লা" (অন্যথায়) দ্বারা খাযম করেছেন এবং "তাআলাউ নাজতালিদ" (এসো আমরা লড়াই করি) বলেননি, এবং তিনি "ফাতাআলাউ" এর মধ্যে থাকা 'ফা' বর্ণ দ্বারাও খাযম করেছেন; ফলে তিনি দুইবার খাযম করেছেন।

আর আমি তাঁকে বনু তামিমে-র জনৈক কবির কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছি:

[যদি তুমি কোনো বিষয়ের সম্মুখপানে অগ্রসর না হও, তবে তুমি … মহাকালের বিবর্তনে তার পশ্চাৎভাগে কোনো অবলম্বন খুঁজে পাবে না।

আর যদি তুমি তোমার ভাইকে তার পদস্খলনসহ মার্জনা না করো … যখন সে পদস্খলিত হয়, তবে তোমাদের বিচ্ছেদ ঘটার সময় ঘনিয়ে আসবে।

তিনি 'ওয়াও' বর্ণ দ্বারা খাযম করেছেন।

তিনি বললেন: তিনি আনতারাহ-র কাসিদা পাঠ করলেন:

বিশালদেহী ঘোড়া যাকে বীর যোদ্ধারা পালাক্রমে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করেছে …

আর আবু মুসলিম আল-মাগরিব এটি বর্ণনা করেছেন, তখন আবু আবদুল্লাহ বললেন, "উদ্ধার পাওয়া ঘোড়া যাকে বীর যোদ্ধারা পালাক্রমে আঘাত করে।" আল-মাগরিব বললেন: আমি এটি এভাবেই শুনে এসেছি। আবু আবদুল্লাহ বললেন: এটি এবং সেটি উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়, তবে "নাকিয" (উদ্ধার পাওয়া) শব্দসংবলিত মতটি উভয় মতের মধ্যে অধিকতর উৎকৃষ্ট এবং কাব্যিক। তারা তো আমার মতো ব্যক্তির কাছেই এসেছে যাতে আমি তাদের জন্য সর্বোত্তম বাক্যটি নির্বাচন করে দিই।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
قال: وأنشدته قول عمرو بن كلثوم:

وتحملنا غداة الروع جردٌ … عرفن لنا نقائذ وافتلينا

يقول: استتنقذناهن من أعدائنا فصارت لنا، فهي نقائذ، وذلك أعز لهم: أن يكونوا غالبين أبدا، إنما هم على خيولٍ غنموها من آخرين ونتجت عندهم.

قال: ثم قرأ قصيدة عمرو بن كلثوم: ((ألا هبي)) . قال: وكان قد علمه:

فصالوا صولة فيما يليهم … وصلنا صولة فيما يلينا

قال: فرددت ((صولة)) وقلت: ((فصالوا صولهم)) ، ألا ترى قوله: ((وصلنا صولنا)) . قال: فأعجب ذلك أمير المؤمنين، وقالوا جميعا: هو أعلم بذلك منا يا أمير المؤمنين. فجزاه أمير المؤمنين خيرا وأمر له بعشرة آلاف درهم.
তিনি বললেন: আমি তাঁকে আমর ইবন কুলসুমের এই পঙক্তিটি পাঠ করে শুনিয়েছি:

যুদ্ধের বিভীষিকাময় প্রভাতে আমাদের বহন করে স্বল্পলোমবিশিষ্ট অশ্বরাজি … যারা আমাদের নিকট উদ্ধারকৃত হিসেবে পরিচিত ছিল এবং আমরাই তাদের লালন-পালন করেছি।

তিনি বলেন: আমরা এগুলোকে আমাদের শত্রুদের নিকট হতে উদ্ধার করেছি, ফলে সেগুলো আমাদের স্বত্বাধীন হয়ে গেছে; তাই এগুলো হলো 'নাকায়িজ' (উদ্ধারকৃত)। আর এটি তাদের জন্য অধিকতর গৌরবের বিষয়: যে তারা সর্বদা বিজয়ী থাকবে, মূলত তারা এমন সব ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয় যা তারা অন্যদের নিকট হতে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে লাভ করেছে এবং পরবর্তীতে তাদের কাছেই সেগুলোর বংশবৃদ্ধি ঘটেছে।

তিনি বললেন: অতঃপর তিনি আমর ইবন কুলসুমের কাসিদা 'আলা হুব্বি' পাঠ করলেন। তিনি বললেন: আর তিনি তাকে এটি শিখিয়েছিলেন:

তারা তাদের নিকটবর্তী এলাকায় আক্রমণ চালিয়েছে … আর আমরা আমাদের নিকটবর্তী এলাকায় আক্রমণ চালিয়েছি।

তিনি বললেন: আমি 'আক্রমণ' শব্দটিকে সংশোধন করে বললাম: 'তারা তাদের আক্রমণ চালিয়েছে', আপনি কি তাঁর এই উক্তিটি দেখছেন না: 'আমরা আমাদের আক্রমণ চালিয়েছি'। তিনি বললেন: এতে আমিরুল মুমিনীন মুগ্ধ হলেন এবং তারা সকলে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, তিনি এ বিষয়ে আমাদের চেয়ে অধিক প্রাজ্ঞ। অতঃপর আমিরুল মুমিনীন তাঁর জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন এবং তাঁকে দশ হাজার দিরহাম প্রদানের নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌15- مجلس الأصمعي مع أبي توبة ميمون بن حفص

قال أبو العباس أحمد بن يحيى: كان أبو توبة ميمون بن حفص مؤدبا لعمرو بن سعيد بن سلم، فقدم الأصمعي البصرة فنزل على سعيد بن سلم، فحضر يوما وأخذ يسائله، فدعا سعيد بأبي توبة فجعل أبو توبة إذا مر شيءٌ من الغريب بادر إليه، فيأتي بكل ما في الباب أو أكثره، فشق ذلك على الأصمعي فعدل إلى المعاني فسأل أبا توبة عنها، فقال له سعيد: لا تتبعه يا أبا توبة في هذا الفن فإن هذه صناعته. فقال: وما علي، إذا سألني عما أحسنه أجبته، وما لم أحسن تعلمته.

فلم يزل الأصمعي يسأله وأبو توبة يجيبه. حتى سأل عن هذا البيت:

واحدةٌ أعضلكم أمرها … فكيف لو درت على أربعٍ

قال: ونهض الأصمعي فدار على أربعٍ ليلبس على أبي توبة، فأجابه أبو توبة بجواب يشاكل ما وهمه، فضحك الأصمعي من جوابه فقال له سعيد: ألم أقل لك يا أبا توبة؟

قال: ومعنى البيت أنه تزوج امرأة واحدة فقال: قد شق عليك أن تزوجت واحدة، فكيف لو تزوجت أربعا.
‌১৫- আল-আসমাঈর সাথে আবু তাওবা মায়মুন বিন হাফসের মজলিস

আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন ইয়াহইয়া বলেন: আবু তাওবা মায়মুন বিন হাফস আমর বিন সাঈদ বিন সালামের শিক্ষক ছিলেন। অতঃপর আল-আসমাঈ বসরায় আগমন করেন এবং সাঈদ বিন সালামের আতিথ্য গ্রহণ করেন। একদিন তিনি উপস্থিত হলেন এবং তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন। তখন সাঈদ আবু তাওবাকে ডেকে পাঠালেন। আবু তাওবার সামনে যখনই কোনো বিরল বা দুর্বোধ্য শব্দের ব্যবহার আসত, তিনি দ্রুত তার উত্তর দিতে উদ্যত হতেন। তিনি সেই প্রসঙ্গের সবটুকু অথবা অধিকাংশ তথ্যই উপস্থাপন করতেন। বিষয়টি আল-আসমাঈর নিকট অসহনীয় মনে হলো, তাই তিনি শব্দের অর্থের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং আবু তাওবাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন। তখন সাঈদ তাকে বললেন: হে আবু তাওবা, এই শাস্ত্রে আপনি তার পিছু নেবেন না, কারণ এটিই তার বিশেষ দক্ষতা। তিনি বললেন: তাতে আমার কী ক্ষতি! তিনি যদি আমাকে এমন কিছু জিজ্ঞেস করেন যা আমি ভালো জানি, তবে আমি তার উত্তর দেব; আর যা আমি জানি না, তা আমি শিখে নেব।

আল-আসমাঈ তাকে প্রশ্ন করতে থাকলেন এবং আবু তাওবা তার উত্তর দিতে থাকলেন। পরিশেষে তিনি এই কাব্য পঙক্তিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন:

একটিই তোমাদের জন্য কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে … তবে কেমন হতো যদি তা চারে গিয়ে ঠেকত!

বর্ণনাকারী বলেন: আল-আসমাঈ উঠে দাঁড়ালেন এবং চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিতে শুরু করলেন যাতে আবু তাওবাকে বিভ্রান্তিতে ফেলা যায়। আবু তাওবা তাকে এমন এক উত্তর দিলেন যা তার কল্পিত বিভ্রান্তির সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল। আল-আসমাঈ তার উত্তরে হেসে দিলেন। তখন সাঈদ তাকে বললেন: হে আবু তাওবা, আমি কি আপনাকে বলিনি?

তিনি বললেন: এই কাব্য পঙক্তির অর্থ হলো, এক ব্যক্তি একজন নারীকে বিবাহ করেছিল। তাই বলা হয়েছে: একটি বিয়ে করাই তো তোমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে, তবে যদি তুমি চারটি বিয়ে করতে তবে কী অবস্থা হতো?
(খণ্ড: ১) মাজালিসুল উলামা লিজ-যাজ্জাজী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌16- مجلس علي بن حمزة الكسائي مع المفضل بحضرة الرشيد

قال أبو العباس أحمد بن يحيى: روي عن أبي عمرو الشيباني أنه قال: أخبرنا المفضل قال: جاءني رسول الرشيد يوم خميس بكرا فقال لي: أجب. فدخلت عليه ومحمدٌ عن يمينه، والمأمون عن يساره، والكسائي بين يديه باركا، وهو يطارح محمدا والمأمون معاني القرآن، فسلمت فردّ وقال: اجلس. فجلست فقال لي: كم اسمٍ في سيكفيكهم الله؟ قلت: ثلاثة أسماء يا أمير المؤمنين، أولا اسم الله تبارك وتعالى لا إله إلا هو، والثاني اسم النبي صلى الله عليه وسلم، والثالث اسم الكفرة، فالياء والكاف المتصلتان بالسين لله جل عز، والياء والكاف المتصلتان بالهاء للنبي لله، والهاء والميم للكفرة. فقال: كذا أخبرنا الشيخ. وأشار بيده إلى الكسائي، والتفت إلى محمد، فقال له: أفهمت؟ فقال: قد فهمت يا أمير المؤمنين. قال: فاردد ذلك علي، فرده فقال: أحسنت! ثم روى ببصره إلي فقال: من يقول:

نفلق هاما لم تنله سيوفنا … بأسيافنا هام الملوك القماقم

فقلت: الفرزدق يا أمير المؤمنين. قال: فما أراد بذلك؟ ثم قال: لا، ولكن نفلق هاما لم تنله سيوفنا فيما زعم. قلت: هذا لفظ مدغم يستتر فيه صواب معناه على التقديم والتأخير، وذلك أنه قال: نفلق بأسيافنا هام
১৬- রশিদের উপস্থিতিতে মুফাযযালের সাথে আলী ইবনে হামজা আল-কিসায়ীর মজলিস

আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া বলেন: আবু আমর আশ-শাইবানী থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: মুফাযযাল আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: এক বৃহস্পতিবার ভোরে রশিদের একজন দূত আমার কাছে এসে বলল: আমিরুল মুমিনীনের ডাকে সাড়া দিন। আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম; মুহাম্মাদ তাঁর ডানে এবং আল-মামুন তাঁর বামে বসা ছিলেন, আর কিসায়ী তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ছিলেন। তিনি মুহাম্মাদ ও আল-মামুনের সাথে কুরআনের অর্থ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আমি সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিলেন এবং বললেন: বসো। আমি বসলাম, তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: 'সাইয়াকফীকাহুমুল্লাহ' শব্দে কয়টি নাম রয়েছে? আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, তিনটি নাম। প্রথমটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার নাম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। দ্বিতীয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম এবং তৃতীয়টি কাফেরদের নাম। সুতরাং 'সীন'-এর সাথে যুক্ত 'ইয়া' ও 'কাফ' মহান আল্লাহর জন্য, আর 'হা'-এর সাথে যুক্ত 'ইয়া' ও 'কাফ' আল্লাহর নবীর জন্য, এবং 'হা' ও 'মীম' কাফেরদের জন্য। তিনি বললেন: শায়খ আমাদের এমনই জানিয়েছেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে কিসায়ীর দিকে ইশারা করলেন এবং মুহাম্মাদের দিকে ফিরে বললেন: তুমি কি বুঝেছ? সে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, আমি বুঝেছি। তিনি বললেন: তবে আমার কাছে তা পুনরায় বলো। সে তা পুনরায় বলল, তখন তিনি বললেন: চমৎকার! তারপর তিনি আমার দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন: কে এই কথা বলে:

আমরা এমন মস্তক বিদীর্ণ করি যা আমাদের তলোয়ারগুলো আগে পায়নি … আমাদের তলোয়ার দ্বারা শ্রেষ্ঠ রাজাদের মস্তকসমূহ

আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, এটি ফারাযদাকের উক্তি। তিনি বললেন: সে এর দ্বারা কী বুঝাতে চেয়েছে? তারপর তিনি বললেন: না, বরং তার দাবি অনুযায়ী আমরা এমন মস্তক বিদীর্ণ করি যা আমাদের তলোয়ারগুলো আগে পায়নি। আমি বললাম: এটি একটি সংকুচিত শব্দবন্ধ যেখানে পদের অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাসের কারণে এর সঠিক অর্থটি প্রচ্ছন্ন রয়েছে; আর তা হলো, সে বলেছে: আমরা আমাদের তলোয়ার দ্বারা বিদীর্ণ করি মস্তক...