(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: -)
الفوائد الحسان لابن النقور   (ابن النقور)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الفوائد الحسان عن الشيوخ الثقات، أو: مشيخة أبي بكر ابن النقور

المؤلف: أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللهِ ابْنُ الشَّيْخِ أَبِي مَنْصُوْرٍ مُحَمَّدِ ابْنِ الشَّيْخِ الكَبِيْرِ أَبِي الحُسَيْنِ أَحْمَدَ بن مُحَمَّدِ بنِ عَبْدِ اللهِ بنِ النَّقُّوْرِ البَغْدَادِيُّ، البَزَّازُ (ت 565هـ)

المحقق: مسعد عبد الحميد محمد السعدني

الناشر: أضواء السلف

الطبعة: الأولى 1418 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 96

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে আল-নাক্কুরের আল-ফাওয়ায়িদ আল-হিসান   (ইবনে আল-নাক্কুর)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: নির্ভরযোগ্য শাইখদের নিকট থেকে আল-ফাওয়ায়িদ আল-হিসান, অথবা: আবু বকর ইবনে আল-নাক্কুরের মাশইয়াখাহ

লেখক: আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনুল শায়খ আবি মানসুর মুহাম্মাদ ইবনুল শায়খ আল-কাবীর আবি আল-হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-নাক্কুর আল-বাগদাদী, আল-বাজজায (মৃত ৫৬৫ হিজরি)

সম্পাদক: মুসয়াদ আব্দুল হামিদ মুহাম্মাদ আল-সাদানি

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ

সংস্করণ: প্রথম ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: -)
مشيخة أبي بكر ابن النقور

الفوائد الحسان عن الشيوخ الثقات

 

تصنيف

الإمام المحدث الثقة

أبي بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُورِ الْبَزَّازُ

المتوفى (565 هـ)

 

تخريج

الإمام الحافظ أبي محمد عبد العزيز بن الأخضر

 

تحقيق

مسعد عبد الحميد محمد السعدني

 

أضواء السلف

 

الطبعة الأولى

1418 هـ - 1997 م
আবু বকর ইবনুন নাক্কুর-এর মাশইয়াখাহ

নির্ভরযোগ্য শায়খদের থেকে সংগৃহীত উৎকৃষ্ট ফায়দাহসমূহ

 

সংকলন

ইমাম, নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস

আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনুন নাক্কুর আল-বায্যায

মৃত্যু (৫৬৫ হিজরি)

 

তাখরিজ

ইমাম হাফিজ আবু মুহাম্মাদ আবদুল আজিজ ইবনুল আখদার

 

তাহকিক

মুসআদ আবদুল হামিদ মুহাম্মাদ আস-সা'দানি

 

আদওয়াউস সালাফ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

أَخْبَرَتْنَا الْمِسْمَعَةُ أُمُّ الْفَضْلِ ابْنَةُ الشَّرَفِ الْمَقْدِسِيِّ قِرَاءَة عَلَيْهَا فِي خامس شوال سنة 868 بِإِجَازَتِهَا إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا عَلَى وَالِدِهَا، سَمَاعَهُ عَلَى أَبِي الْمَحَاسِنِ يُوسُفَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الصَّيْرَفِيِّ.

قَالَ: أَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الدَّائِمِ الْمَقْدِسِيُّ سَمَاعًا.

أَنَا الإِمَامُ فَخْرُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مُسَلَّمِ بْنِ سَلْمَانَ الإِرْبَلِيُّ حُضُورًا.

أَنَا الشَّيْخُ الثِّقَةُ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُورِ الْبَزَّازُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ يَوْمَ الأَرْبِعَاءِ 2 رَجَبَ سَنَةَ 584، قَالَ:

1- قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَوْصِلِيِّ فِي سَنَةِ خَمْسِ مِئَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَكُمُ الشَّيْخُ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ فَأَقَرَّ بِهِ، أَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إسحاق بن بنجاب، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، أَنَا سَهْلُ بن بكار الدارمي، ثنا أَبُو عُوَانَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، وَعَلْقَمَةُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ:

((مَنْ قَرَأَ الآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي ليلةٍ كَفَتَاهُ)) .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আমাদের নিকট শ্রবণকারী আল-মিসমাআ উম্মুল ফাদল বিনতে আশ-শারাফ আল-মাকদিসি ৮৬৮ হিজরির ৫ই শাওয়াল তার নিকট পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। এটি তার পিতার নিকট থেকে তার প্রাপ্ত ইজাজতের ভিত্তিতে, যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে; আর তার পিতা এটি শ্রবণ করেছেন আবু আল-মাহাসিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আস-সায়রাফির নিকট থেকে।

তিনি বলেন: আমার নিকট আবু বকর বিন আহমদ বিন আব্দুল দায়িম আল-মাকদিসি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

আমার নিকট ইমাম ফখর উদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন সালমান আল-ইরবিলি উপস্থিতির মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন।

আমার নিকট নির্ভরযোগ্য শাইখ আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-নাক্কুর আল-বাজজায ৫৮৪ হিজরির ২রা রজব বুধবার বর্ণনা করেছেন, আমি তা শুনছিলাম যখন তার নিকট পাঠ করা হচ্ছিল। তিনি বলেন:

১- আমি ৫০০ হিজরি সনে শাইখ আবু আব্দুল্লাহ হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মাওসিলির নিকট পাঠ করেছি। তিনি বলেন: তোমাদের নিকট শাইখ আবু আল-কাসিম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। আমার নিকট আবু আল-হাসান আহমদ বিন ইসহাক বিন বিনজাব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাহল বিন বাক্কার আদ-দারিমি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আওয়ানাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ এবং আলক্বামাহ বিন কায়স থেকে, তারা আবু মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

((যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।))
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৩১)
2- قَرأْتُ عَلَى أَحْمَدَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ أَبِي الْعِزِّ ابْنِ كَادِشٍ فِي السَّنَةِ أَيْضًا، أَخْبَرَكُمُ: الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ فَأَقَرَّ بِهِ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حمدان، ثنا بشر بن موسى، ثنا أبو نعيم، ثنا سُفْيَانُ. (ح) ؛ وَأَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْمُعَدَّلُ أَنَا أحمد بن إسحاق، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الدَّارَمِيُّ، أَنَا أَبُو عُمَرُ -هُوَ: حَفْصُ بْنُ عمر- ثنا شُعْبَةُ، كِلاهُمَا عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ. وَأَخْبَرَنَا الْعُكْبَرِيُّ، أَنَا الْجُوهَرِيُّ، أنا القطيعي، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلِ بْنِ هِلالِ بْنِ أَسَدٍ -رحمه الله تعالى-، ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَالأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

((مَنْ قَرَأَ الآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَتِهِ كَفَتَاهُ)) .
২- আমি একই বছরে আহমাদ বিন উবাইদুল্লাহ আবুল ইযয ইবনে কাদিশের নিকট পাঠ করেছি, তিনি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন: আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন মূসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান। (হ); এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মালিক আল-মুআদ্দাল যে, আহমাদ বিন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আদ-দারিমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উমর—যিনি হাফস বিন উমর—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আল-উকবারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-জাওহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-কতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমার পিতা আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান থেকে, তিনি মানসুর ও আল-আ'মাশ থেকে, তাঁরা ইবরাহিম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

((যে ব্যক্তি রাতের বেলা সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে))।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৩২)
3- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْبَاقِلانِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ مِنْهُ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمُ الشَّيْخُ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْفَقِيهِ، ثنا أَبُو أَحْمَدَ هَارُونُ بْنُ يُوسُفَ بن زياد التاجر، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَاهُ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:

((يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرُ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْمَطَرِ، يَفِرُّ بدينه من الفتن)) .
৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু গালিব মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনু আহমাদ আল-বাকিলানি—তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি তা শুনছিলাম—তাঁকে বলা হলো: আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল কাসিম আব্দুল মালিক ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু বিশরান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনু আব্দুল্লাহ আল-ফকিহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ হারুন ইবনু ইউসুফ ইবনু যিয়াদ আত-তাজির, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু আবি উমর আল-আদানি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আবি সা'সা'আ থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর পিতাকে বলতে শুনেছেন: আমি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলতেন:

((শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন একজন মুসলিমের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হবে বকরি, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় এবং বৃষ্টির স্থানে চলে যাবে; সে ফিতনা থেকে স্বীয় দ্বীন রক্ষার উদ্দেশ্যে পলায়ন করবে।))।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
4- أَخبَرَنَا الشَّيْخُ الأَمِينُ أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَكُمُ الْحَسْنُ بْنُ علي، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ ⦗ص: 34⦘ بْنِ فَهْدٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَى، ثنا غَسَّانُ بْنُ الرَّبِيعِ، ثنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رضي الله عنه:

أَنَّهُ أُهْدِيَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُّوجَ حَرِيرٍ، فَلَبِسَهُ ثُمَّ صَلَّى فِيهِ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَنَزَعَهُ نَزْعًا شَدِيدًا كَالْكَارِهِ لَهُ، ثُمَّ قَالَ: ((لا يَنْبَغِي هَذَا لِلْمُتَّقِينَ)) .
৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশ্বস্ত শাইখ আবু তালিব আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম। তাঁকে বলা হলো: হাসান ইবনে আলী আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, হুসাইন ইবনে আহমাদ ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ ইবনে ফাহদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, গাসসান ইবনুর রাবী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, লাইস ইবনে সাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনে আবু হাবীব থেকে, তিনি আবু খাইর থেকে, তিনি উকবাহ ইবনে আমির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি রেশমি জুব্বা উপহার দেয়া হয়েছিল। অতঃপর তিনি তা পরিধান করলেন এবং তাতে নামাজ আদায় করলেন। এরপর নামাজ শেষে তিনি তা অত্যন্ত কঠোরভাবে খুলে ফেললেন, যেন তিনি তা অপছন্দ করছেন। এরপর তিনি বললেন: "মুত্তাকীদের জন্য এটি শোভনীয় নয়।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৩৫)
5- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْمُظَفَرِ بْنِ الْحَسَنِ التَّمَارِ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ سَوْسَنَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وأنا أسمع، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْحِرَفِيُّ إِمْلاءً فِي يوم الجمعة 29 رجب سنة 422، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، ثنا أَبُو إِسْمَاعِيلَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ السلمي، ثنا أصبغ بن الفرج، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَنَا عمرو بن الحارث، أن بَكْرُ بْنُ سُوَادَةَ حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رضي الله عنهما:

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَلا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ عليه السلام: {رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غفورٌ رحيمٌ} ، وَقَالَ عِيسَى عليه السلام: {إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} . فَرَفَعَ يَدَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: ((أُمَّتِي أَمَّتِي أُمَّتِي)) . وَبَكَى. ⦗ص: 36⦘ فَقَالَ اللَّهُ عز وجل: ((يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ إِلَى مُحَمَّدٍ فَقُلْ لَهُ: إِنَّا سَنُرْضِيكَ فِي أُمَّتِكَ وَلا نَسُوءُكَ)) .
৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু বকর আহমাদ ইবনুল মুজাফফর ইবনুল হাসান আত-তাম্মার, যিনি ইবনু সাওসান নামে পরিচিত, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হিরাফী, ৪২২ হিজরী সনের ২৯শে রজব জুমুআর দিনে শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আশ-শাফিয়ী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসমাইল মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আস-সুলামী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসবাগ ইবনুল ফারাজ। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব। তিনি বলেন, আমাকে আমর ইবনুল হারিস অবহিত করেছেন যে, বকর ইবনে সুওয়াদাহ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবরাহিম আলাইহিস সালামের এই বাণী তিলাওয়াত করলেন: {হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই এরা (মূর্তিগুলো) অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে; সুতরাং যে আমার অনুসরণ করবে সে আমার অন্তর্ভুক্ত, আর যে আমার অবাধ্য হবে, তবে নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু}। আর ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: {যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা, আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন তবে নিশ্চয়ই আপনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়}। অতঃপর তিনি তাঁর হাতদ্বয় উত্তোলন করলেন এবং বললেন: ((আমার উম্মত, আমার উম্মত, আমার উম্মত))। এরপর তিনি কাঁদতে লাগলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ তখন আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বললেন: ((হে জিবরীল! মুহাম্মাদের নিকট যাও এবং তাঁকে বলো: নিশ্চয়ই আমরা তোমার উম্মতের ব্যাপারে তোমাকে সন্তুষ্ট করব এবং তোমাকে ব্যথিত করব না))।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৩৬)
6- وَوَجَدْتُ هَذَا الْحَدِيثَ فِي كِتَابِ جَدِّي أَبِي الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ النَّقُورِ، وَأَخْبَرَنِي بِهِ عَنْهُ الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ تَوْبَةَ، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ الْوَزِيرِ ابْنِ أَبِي الْحَسِنِ عَلِيُّ بْنُ عِيسَى بْنِ دَاوُدَ بْنِ الْجَرَّاحِ إِمْلاءً فِي صَفَرَ سَنَةَ تِسْعِينَ وثلاثمائة ثنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ النَّيْسَابُورِيُّ إِمْلاءً، ثنا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، فَذَكَرَهُ.
৬- এবং আমি এই হাদিসটি আমার দাদা আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুন নাকূরের কিতাবে পেয়েছি। শায়খ আবুল হাসান বিন তাওবা তাঁর সূত্রে আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবুল কাসেম ঈসা ইবনুল উজির ইবনে আবিল হাসান আলী ইবনে ঈসা ইবনে দাউদ ইবনুল জাররাহ ৩৯০ হিজরীর সফর মাসে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জিয়াদ আন-নাইসাপুরী শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে আব্দুল আ’লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৩৬)
7- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ الشَّاشِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ أَنَا أَبُو عَبْدُ اللَّهِ مُحَمَّدُ بن بيان الكازروني، ثنا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ أحمد بن جعفر ⦗ص: 37⦘ السرائي، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عمر بن بكير، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ الزَّعْفَرَانِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ فَيْرُوزَ الأَزْرَقُ، قالا: ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ يُحَدِّثُ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ:

اشْتَرَيْتُ سِتْرًا فِيهِ تَمَاثِيلٌ، فَدَخَلَ عَلِيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَبْصَرَهُ، فَتَلَوَّنَ وَجْهُهُ فَقَالَ: ((مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ؟! إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُشَبِّهُونَ بِخَلْقِ اللَّهِ عز وجل)) .
৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুল হুসাইন আশ-শাশী, তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন বায়ান আল-কাযরুনী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন জা'ফর ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ আস-সারায়ী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন উমার ইবন বুকাইর; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবন মুহাম্মাদ ইবন আস-সাব্বাহ আয-যাফরানী এবং মুহাম্মাদ ইবন ফাইরুয আল-আযরাক, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান ইবন উয়াইনাহ; তিনি বলেন: আমি আয-যুহরীকে আল-কাসিম ইবন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছিলেন:

আমি একটি পর্দা ক্রয় করেছিলাম যাতে বিভিন্ন প্রতিকৃতি ছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং সেটি দেখলেন। তখন তাঁর চেহারার রঙ বদলে গেল এবং তিনি বললেন: "হে আয়েশা, এটি কী?! নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন সেই সব মানুষের আজাব সবচেয়ে কঠিন হবে যারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সৃষ্টির সাদৃশ্য তৈরি করে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৩৮)
8- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ، أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بن عبد الله، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ ثنا أحمد بن ثابت، ثنا عمر بن علي، ثنا أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

((مَنْ يَتَوَكَّلْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَرِجْلَيْهِ أَتَوَكَّلْ لَهُ الْجَنَّةَ)) .
৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু গালিব মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আহমাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু বকর বিন আবি দাউদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন সাবিত, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উমর বিন আলী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু হাজিম, সাহল বিন সা'দ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

((যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অংশ এবং তার দুই পায়ের মধ্যবর্তী অংশের জিম্মাদার হবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব)) ।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৩৯)
9- أَخْبَرَنَا أَبُو شُجَاعٌ عُمَرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَلْخِيُّ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الزِّيَادِيُّ، أَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ الخزاعي، ثنا أبو سعيد بن كليب، ثنا أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى الحافظ، ثنا حميد بن مسعدة، ثنا بشر بن المفضل، ثنا الْجَرِيرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:

((أَلا أُنَبِئُكُمْ بَأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ؟)) ، قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: ((الإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَينِ)) ، قَالَ: وَجَلَسَ، وَكَانَ مُتَّكِئًا، قَالَ: ((وَشَهَادَةُ الزُّورِ، وَقَوْلُ الزُّورِ)) ، فَمَا زَالَ يَقُولُ: حَتَّى قُلْنَا: لَيْتَهُ سَكَتَ.
৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু শুজা উমর বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বালখী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আয-যিয়াদী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-খুযায়ী, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ বিন কুলাইব, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-হাফিয, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন হুমায়দ বিন মাসআদাহ, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন বিশর বিন আল-মুফাযযাল, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আল-জারীরী, আব্দুর রহমান বিন আবু বাকরাহ থেকে, তিনি তার পিতা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তার উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন:

((আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না?)) তারা বললেন: "অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন: ((আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।)) বর্ণনাকারী বলেন: তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন, অতঃপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন: ((আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং মিথ্যা কথা বলা।)) তিনি এ কথাটি বারবার বলতে থাকলেন, এমনকি আমরা (মনে মনে) বলতে লাগলাম: "হায়, তিনি যদি এখন থামতেন!"
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৪১)
10- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْعَدْلُ أَبُو طَاهِرٍ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ النَّرْسِيُّ الْبَزَّازُ فِي سَنَةِ 496، أَنَا أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بن إبراهيم إملاءً، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بن ياسين، ثنا محمد بن معمر، ثنا روح بن عبادة، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَفْصَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيدٍ رضي الله عنهما قَالَ:

يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَيْنَ تَنْزِلُ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ؟، وَذَاكَ زَمَنُ الْفَتْحِ، قَالَ: ((وَهَلْ تَرَكَ لَنَا عَقِيلُ مِنْ مَنْزِلٍ؟)) ، ثُمَّ قَالَ: ((لا يَرِثُ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ، وَلا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الكافر)) .
১০- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ন্যায়পরায়ণ শায়খ আবু তাহের হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আন-নারসি আল-বাযযায ৪৯৬ হিজরি সনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম শ্রুতিলিপি প্রদানের মাধ্যমে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াসিন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মা’মার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাউহ বিন উবাদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবি হাফসাহ, যুহরি থেকে বর্ণিত, তিনি আলি বিন হুসাইন থেকে, তিনি আমর বিন উসমান থেকে, তিনি উসামা বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

হে আল্লাহর রাসুল! ইনশাআল্লাহ আগামীকাল আপনি কোথায় অবস্থান করবেন? আর এটি ছিল মক্কা বিজয়ের সময়ের ঘটনা। তিনি বললেন: “আকিল কি আমাদের জন্য কোনো ঘরবাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে?” অতঃপর তিনি বললেন: “কাফির মুসলিমের উত্তরাধিকারী হয় না এবং মুসলিমও কাফিরের উত্তরাধিকারী হয় না।”
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৪৩)
11- أخبرنا الحافظ أَبُو الْغَنَايِمِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مَيْمُونٍ النَّرْسِيُّ الْكُوفِيُّ بِقَرَاءَةِ الْحَافِظِ أَبِي الْفَضْلِ بْنِ نَاصِرٍ -رَحِمَهُمَا اللَّهُ-، قَالَ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ ابن مُحَمَّدِ بْنِ [فَدُّوَيْهِ] الْمُعَدَّلُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سَنَةِ 443، فَأَقَرَّ بِهِ، أَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ العلاء، ثنا يحيى بن أَبِي بُكَيْرٍ الْقِيسِيُّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُجَزْأَةَ بْنِ زَاهِرٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم:

أَنَّهُ كَانَ يَدْعُوُ: ((اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شيءٍ بَعْدُ، اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالْبَرْدِ وَالثَّلْجِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ، اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي مِنَ الذُّنُوبِ وَنَقِّنِي مِنْهَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوبُ الأَبْيضُ مِنَ الْوَسَخِ)) .
১১- হাফেয আবু আল-গানায়িম মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মাইমুন আন-নারসি আল-কুফি হাফেয আবুল ফজল ইবনে নাসিরের পাঠের মাধ্যমে আমাদের অবহিত করেছেন—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—তিনি তাঁকে বলেছেন: ৪৪৩ হিজরি সনে আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে [ফাদ্দুওয়াইহ্] আল-মুআদ্দাল তাঁর নিকট পাঠকালে আপনাদের অবহিত করেছেন, অতপর তিনি তা স্বীকার করেছেন; আমাদের অবহিত করেছেন আলী ইবনে আবদুর রহমান, আমাদের অবহিত করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-আলা, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর আল-কায়সি, শু'বাহ থেকে বর্ণিত, মুজাযআহ ইবনে যাহির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আউফাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে,

তিনি এই দুআ করতেন: ((হে আল্লাহ, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা—আসমানসমূহ ও যমীন পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি আর যা কিছু ইচ্ছা করেন তা পূর্ণ করে। হে আল্লাহ, আমাকে শিলাবৃষ্টি, বরফ ও শীতল পানি দিয়ে পবিত্র করুন। হে আল্লাহ, আমাকে গুনাহসমূহ থেকে পবিত্র করুন এবং আমাকে তা থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়।))
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৪৪)
12- أَخبَرَنَا أَبُو الْوَفَاءِ مُحَمَّدُ بْنُ تِرْكَامَشَاهُ بْنُ الْفَرَجِ، أَنَا أَبُو عَبْدُ اللَّهِ الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ الثَّقَفِيُّ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى بْنِ مردويه الحافظ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ يَحْيَى، ثنا مُوسَى بْنُ سَهْلِ بْنِ كَثِيرٍ، ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ زَيْدٍ الْعَمِيِّ، عَنْ جَعْفَرٍ الْعَبْدِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

((سَتْرُ بَيْنَ الْجِنِّ وَبَيْنَ عَوْرَاتِ بَنِي آدَمَ إِذَا وَضَعَ الرَّجُلُ ثَوْبَهُ أَنْ يَقُولَ: بِسْمِ اللَّهِ)) .
১২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়াফা মুহাম্মদ বিন তিরকামাশাহ বিন আল-ফারাজ, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-কাসিম বিন আল-ফাদল বিন আহমাদ আস-সাকাফি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুসা বিন মারদুওয়াই আল-হাফিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন সাহল বিন কাসির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল, যায়দ আল-আম্মি থেকে, তিনি জাফর আল-আবদি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

((জিন এবং আদম সন্তানদের লজ্জাস্থানের মধ্যকার পর্দা হলো—যখন কোনো ব্যক্তি তার পোশাক খোলে তখন যেন সে বলে: বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে)))।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৪৯)
13- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَاقِلانِيُّ، أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ بِشْرَانَ، أَنَا أَبُو بكر الآجري، ثنا أَبُو بَكْرٍ قَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا المطرز، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الْبُخْتُرِيُّ الطائي، ثنا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ:

أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ اطَّلَعَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ وَهُوَ يُحِدُّ لِسَانَهُ، فَقَالَ: مَا تَصْنَعُ يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللَّهِ؟!

فَقَالَ: هَذَا أَوْرَدَنِي الْمَوَارِدَ. إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

((لَيْسَ شَيْءٌ فِي الْجَسَدِ إِلا يَشْكُوا اللِّسَانَ إِلَى اللَّهِ عز وجل) .

⦗ص: 50⦘

[تَفَرَّدَ بِهَذَا الْحَدِيثَ أَبُو أُسَامَةَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، مُخَرَّجٌ عَنْهُ فِي ((الصَّحِيحَيْنِ)) ، رَوَاهُ عَنْ أَبِيهِ أَبِي خَالِدٍ أَسْلَمَ، وَهُوَ مِنْ سَبِي الْيَمَنِ، يُقَالُ كَانَ بَجَّاوِيًّا، حَدِيثُهُ عِنْدَ الْبُخَارِيِّ وَحْدَهُ، وَاخْتَلَفَ عَنْ زَيْدٍ، فَرَوَاهُ هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عِجْلانَ، وَدَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْعَمْرِيُّ، كَرِوَايَةِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الَّتِي رَوَيْنَاهَا عَنْهُ، وَرَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي بكر، قال فِيهِ: إِنَّ أَسْلَمَ قَالَ: رَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ، وَقِيلَ: إِنَّ هَذَا وَهِمَ مِنَ الثَّوْرِيِّ وَرَوَاهُ سُعَيْرُ بن الخمس، عَنْ زَيْدٍ، عَنْ عُمَرَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ أسلم، والصحيح من ذلك رواية عبد العزيز بن محمد بن أبي عبيد الدراوردي ومن تابعه عَنْ زَيْدٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ كَمَا أوردناه، والله أعلم] (1) .

--------------------------------------------

(1) ما بين المعقوفتين من هامش تحقيق تسمية الرواة عن سعيد بن منصور.
১৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু গালিব মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-বাকিলানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম ইবনে বিশরান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-আজুরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর কাসিম ইবনে জাকারিয়া আল-মুতাররিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবিল বুখতুরি আত-তাই, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ, যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন:

নিশ্চয়ই উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আবু বকর (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি তার জিহ্বা ধরে টানছিলেন। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুলের খলিফা! আপনি এ কী করছেন?!

তিনি (আবু বকর) বললেন: এটিই (জিহ্বা) আমাকে ধ্বংসের স্থানে উপনীত করেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

((শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই যা মহান আল্লাহর কাছে জিহ্বার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে না।))

⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘

[এই হাদিসটি উমর ইবনুল খাত্তাবের মুক্তদাস আবু উসামা যায়েদ ইবনে আসলাম এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তার সূত্রে এটি 'সহীহাইন' (বুখারি ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে। তিনি এটি তার পিতা আবু খালিদ আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি ইয়ামেনের যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; বলা হয় তিনি বাজ্জাভি গোত্রের ছিলেন। তার হাদিস কেবল বুখারিতে রয়েছে। যায়েদ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে; হিশাম ইবনে সাদ, মুহাম্মদ ইবনে আজলান, দাউদ ইবনে কায়েস এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরি এটি বর্ণনা করেছেন, যেভাবে আবদুল আজিজের বর্ণনায় আমরা তা বর্ণনা করেছি। সুফিয়ান আস-সাওরি এটি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু বকর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন যে, আসলাম বলেছেন: আমি আবু বকরকে দেখেছি। বলা হয় যে, এটি সাওরির ভুল। সুআইর ইবনুল খুমস এটি যায়েদ থেকে, তিনি উমর থেকে, তিনি আবু বকর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে আসলামের উল্লেখ করেননি। এর মধ্যে সঠিক হলো আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি উবাইদ আদ-দারাওয়ারদি এবং যারা তার অনুসরণ করেছেন তাদের বর্ণনা; যা যায়েদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উমর থেকে, তিনি আবু বকর থেকে—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।] (১) ।

--------------------------------------------

(১) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু সাঈদ ইবনে মানসুরের বর্ণনাকারীদের নামকরণের তাহকিকের টীকা থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৫১)
14- أَخبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْغَنَايِمِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مَيْمُونَ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ مُحَمَّدِ الكوفي، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بن العلاء، ثنا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، ثنا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي الْوَرْقَاءِ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ:

خَرَجَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: ((مَنْ كَانَتْ لَهُ حَاجَةٌ إِلَى اللَّهِ عز وجل أَوْ إِلَى أحدٍ مِنْ خَلْقِهِ فَلْيَتَوَضَّأْ وَليُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ، وَلْيَقُلْ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْحَكِيمُ، سُبْحَانَ اللَّهُ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنْ لا تَدَعَ لِي ذَنْبًا إِلا غَفَرْتَهُ، وَلا هَمًّا إِلا فَرَّجْتَهُ، وَلا حَاجَةً إِلا قَضَيْتَهَا، ثُمَّ يَسْأَلُ مِنَ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ)) .
১৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আল-গানায়িম মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মাইমুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আল-কুফি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবদুর রহমান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল আলা, আমাদের বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনুর রাবী, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আসিম, আবু আল-ওয়ারকা থেকে, তিনি ইবনে আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: ((যার মহান আল্লাহর নিকট কিংবা তাঁর সৃষ্টির কারো নিকট কোনো প্রয়োজন থাকে, সে যেন ওযু করে এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করে, আর সে যেন বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি পরম সহনশীল ও প্রজ্ঞাময়। মহান আরশের প্রতিপালক আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমার এমন কোনো গুনাহ বাকি না রাখেন যা আপনি ক্ষমা করেননি, এমন কোনো দুশ্চিন্তা না রাখেন যা আপনি দূর করেননি এবং এমন কোনো প্রয়োজন না রাখেন যা আপনি পূরণ করেননি। অতঃপর সে দুনিয়া ও আখেরাতের যা ইচ্ছা প্রার্থনা করবে।))।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৫৩)
15- أَخبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْمَعْرُوفِ بِابْنِ الْعَلْكِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي سَنَةِ خَمْسِ مِائَةِ، أَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ بْنِ حَرْبِ بْنِ مَهْرَانَ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الأَدَمِيُّ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بن إسحاق القاضي، ثنا أَبُو مُصْعَبُ ثنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ سُمَيٍّ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: قَالَ: ((مَنْ قَالَ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شيءٍ قَدِيرٌ، فِي كُلِّ يومٍ مِائَةَ مَرَّةٍ، كَانَتْ لَهُ عِدْلَ عَشْرَ رِقَابٍ، وَكُتِبتْ لَهُ مِائَةَ حَسَنَةٍ، وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةَ سَيِّئَةٍ، وَكَانَ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ حَتَّى يُمْسِيَ، وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلِ بِمَا جَاءَ بِهِ إِلا أحدٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، وَمَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهُ وَبِحَمْدِهِ فِي يومٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ)) .
১৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শেখ আবু আলী হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আজিজ ইবন ইসমাইল, যিনি ইবনুল আলকি নামে পরিচিত; ৫০০ হিজরি সনে তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হাসান ইবন আহমদ ইবন ইব্রাহিম ইবনুল হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন শাযান ইবন হারব ইবন মাহরান। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবন জাফর আল-আদামি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবন ইসহাক আল-কাদি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু মুসআব। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মালিক ইবন আনাস, তিনি আবু বকরের মুক্তদাস সুমায়্যি থেকে, তিনি আবু সালেহ আস-সাম্মান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশত বার বলবে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই জন্য, আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান", তবে তা তার জন্য দশটি গোলাম মুক্ত করার সমান হবে, তার জন্য একশত নেকি লেখা হবে এবং তার থেকে একশত পাপ মুছে ফেলা হবে। সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত শয়তান থেকে এটি তার জন্য রক্ষাকবচ হবে এবং এর চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবে না, তবে ওই ব্যক্তি ছাড়া যে এর চেয়ে বেশি আমল করেছে। আর যে ব্যক্তি দিনে একশত বার বলে: "আল্লাহ পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই", তার পাপসমূহ মোচন করে দেওয়া হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার ন্যায় অধিক হয়ে থাকে।))
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৫৪)
16- أَخبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْبَرَكَاتِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَحْيَى الْوَكِيلُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ سَنَةَ 415 هـ، أَنَا الْقَاضِي أَبُو الْعَلاءِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ يَعْقُوبَ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ ⦗ص: 55⦘ جَعْفَرِ بن حمدان، ثنا أَبُو الْحَسَنِ إِدْرِيسُ بْنُ عَبْدِ الكريم، ثنا خلف بن هشام، ثنا أَبُو عُوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زرارة بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

((الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ، وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ يُتَعْتِعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌ لَهُ أَجْرَانِ)) .
১৬- শায়খ আবুল বারাকাত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আল-ওয়াকিল ৪১৫ হিজরি সনে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, কাযী আবুল আলা মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইয়াকুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ জাফর ইবনে হামদান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান ইদরীস ইবনে আব্দুল কারীম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, খালাফ ইবনে হিশাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আওয়ানা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, কাতাদাহ হতে, তিনি যুরারাহ ইবনে আওফা হতে, তিনি সা'দ ইবনে হিশাম হতে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

((কুরআনে পারদর্শী ব্যক্তি সম্মানিত ও পুণ্যবান ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে আটকে আটকে যায় অথচ তা তার জন্য কষ্টসাধ্য, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।))
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৫৬)
17- أَخبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو غَالِبٍ شُجَاعُ بْنُ فَارِسِ بْنِ الْحُسَيْنِ الذُّهَلِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي سَنَةِ خَمْسَةِ مِائَةٍ، أَنَا أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَتْحِ، الْمَعْرُوفِ بِالْعُشَارِيِّ فَأَقَرَّ بِهِ، أَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الدَّقَاقِ، أَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عبيد، ثنا أَبُو خَيْثَمَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قالا: ثنا جَرِيرُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ⦗ص: 57⦘ ((لا حَسَدَ إِلا فِي اثْنَتَيْنِ: رجلٌ أَتَاهُ اللَّهُ مَالا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ، ورجلٌ أَتَاهُ اللَّهُ عز وجل حِكْمَةً فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا)) .
১৭- শায়খ আবু গালিব শুজা ইবনে ফারিস ইবনে আল-হুসাইন আদ-দুহালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর সামনে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শুনছিলাম পাঁচশত হিজরি সনে; (তিনি বলেন:) আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল ফাতহ, যিনি আল-উশারি নামে পরিচিত, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন; (তিনি বলেন:) আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দাক্কাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; (তিনি বলেন:) আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; (তিনি বলেন:) আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; (তিনি বলেন:) আবু খাইসামা এবং ইসহাক ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেন: জারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়স ইবনে আবি হাজিম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ ((দুইটি বিষয় ছাড়া আর কোনোটিতে ঈর্ষা নেই: এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে সেই সম্পদ সত্যের পথে নিঃশেষ করার পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছেন; আর এমন এক ব্যক্তি যাকে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ হিকমাহ (প্রজ্ঞা) দান করেছেন, যার মাধ্যমে সে বিচার-মীমাংসা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।))
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৬০)
18- أَخبَرَنَا وَالِدِي أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُورِ، أَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنِ عُمَرَ بْنِ خَلَفٍ أَنَا أَبُو يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بن سعد بن الحسن، ثنا جدي الحسن بن سفيان، ثنا محمد بن المتوكل، ثنا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي أَبِي، أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رضي الله عنه عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:

((قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: إِذَا تَقَرَّبَ عَبْدِي مِنِّي شِبْرًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِذَا تَقَرَّبَ مِنِّي ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِذَا أَتَانِي مَشْيًا أَتَيْتُهُ هرولةٌ، وَإِنْ هَرْوَلَ سَعَيْتُ إِلَيْهِ، وَاللَّهُ أَسْرَعُ بِالمَغْفِرَةِ)) أَوْ كَمَا قَالَ.
১৮- আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আন-নাকূর, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমর ইবনে খালাফ থেকে, তিনি আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবনে সাদ ইবনে আল-হাসান থেকে, আমার দাদা হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল মুতাওয়াক্কিল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুতামির ইবনে সুলায়মান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

((আল্লাহ তাআলা বলেছেন: যখন আমার বান্দা আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ নিকটবর্তী হয়, আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ নিকটবর্তী হই; এবং যখন সে আমার দিকে এক হাত পরিমাণ নিকটবর্তী হয়, আমি তার দিকে চার হাত (এক বা') পরিমাণ নিকটবর্তী হই; আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, তবে আমি তার দিকে দ্রুত গতিতে আসি; আর সে যদি দ্রুত গতিতে আসে, তবে আমি তার দিকে দৌড়ে আসি; আর আল্লাহ ক্ষমা করার ক্ষেত্রে অধিক দ্রুতগামী।)) অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৬১)
19- قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي الْعِزِّ أَحْمَدَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كادش العكبري في سنة خمسمائة، أَخْبَرَكُمُ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ فَأَقَرَّ بِهِ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حمدان بن مالك، ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَرْيَابِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُقَدِمِيُّ، ثنا إسماعيل، ثنا سُلَيْمَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عِجْلانَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيَوَةَ، عَنْ كاتب المغيرة بن شُعْبَةَ:

أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ كَتَبَ إِلَى الْمُغِيرَةَ بْنِ شُعْبَةَ يَسْأَلُهُ، مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي دُبُرِ الصَّلاةِ؟

فَقَالَ لَهُ الْمُغِيرَةُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي دُبُرِ الصَّلاةِ:

((لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، اللَّهُمَّ لا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلا يَنْفَعُ ذَا الْجَدُّ مِنْكَ الْجَدُّ)) .
১৯- আমি পাঁচশত হিজরী সনে শায়খ আবুল ইযয আহমাদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন কাদিশ আল-উকবারীর নিকট পাঠ করেছি, হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন; আবু বকর আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর বিন মুহাম্মাদ আল-ফারয়াবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মুকাদ্দামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন ইজলান থেকে, তিনি রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে, তিনি মুগীরা বিন শু’বার লেখকের থেকে বর্ণনা করেন:

মুআবিয়া বিন আবি সুফিয়ান মুগীরা বিন শু’বার নিকট লিখে জানতে চাইলেন যে, আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাতের শেষে কী পাঠ করতে শুনেছেন?

অতঃপর মুগীরা তাকে বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাতের শেষে বলতে শুনেছি:

((আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। হে আল্লাহ, আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। আর কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার নিকট (আপনার আযাবের বিপরীতে) কোনো উপকারে আসবে না))।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৬৩)
20- أَخبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو الْغَنَايِمِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُهْتَدِي بِاللَّهِ، وَوَالِدِي أَبُو مَنْصُورٍ، قِرَاءَةً عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا، قَالا: أَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْفَقِيهُ الْبَرْمَكِيُّ، أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إبراهيم بن أيوب، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مسلم، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأنصاري، ثنا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ أَبِي الْمُسَاوِرِ، عَنْ عُمْرَانَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، وَكَانَ مَمْلُوكًا لِعَبْدِ اللَّهِ: ⦗ص: 64⦘ فقال له: يا عمير بين لِي مَالَكَ، فَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَعْتِقَكَ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((مَنْ أَعْتَقَ عَبْدًا فَمَالَهُ لِلَّذِي أَعْتَقَ)) .
২০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরীফ আবু আল-গানায়িম মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-মুহতাদি বিল্লাহ এবং আমার পিতা আবু মানসুর—তাঁদের প্রত্যেকের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে—তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন উমর ইবন আহমাদ আল-ফকিহ আল-বারমাকি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবন ইব্রাহিম ইবন আইয়ুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ আল-আনসারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদ আল-আ’লা ইবন আবি আল-মুসাওয়ির, ইমরান ইবন উমায়ের থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন—যিনি আবদুল্লাহর ক্রীতদাস ছিলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ অতঃপর তিনি তাকে বললেন: হে উমায়ের, তোমার সম্পদ আমার নিকট স্পষ্ট করো, কেননা আমি তোমাকে মুক্ত করতে চাই; কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি কোনো ক্রীতদাসকে মুক্ত করবে, তার (দাসের) সম্পদ তাকে মুক্তকারীর প্রাপ্য হবে।”
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৬৪)
21- قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الأُخْوَةِ، قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْبُغْدَادِيُّ، أَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَزَّازُ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بن عمران في كتابه: ثنا عبدان بن أحمد الهمداني، ثنا أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ، سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ كَثِيرٍ الْعَبْدِيَّ، يَقُولُ:

سَمِعْتُ رَجُلا مِنْ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ مِمْنَ أُصَدِّقُهُ وَأَثْنَى عَلَيْهِ خَيْرًا: أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ فِيمَا يَرَى النَّائِمُ، وَأَبُو بَكْرٍ عَنْ يَمِينِهِ، وَعُمَرُ عَنْ يَسَارِهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! الْحَدِيثُ الَّذِي رَوَى عَنْكَ الأَعْمَشُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ فِي الْقَدَرِ، أَحَقٌ هُوَ؟، قَالَ: ((نَعَمْ، رَحِمَ اللَّهُ الأَعْمَشَ، وَرَحِمَ مَنْ حَدَّثَ بِهِ)) .
২১- আমি শায়খ আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন আলী বিন আল-উখওয়াহর নিকট পাঠ করেছি, আমি তাঁকে বলেছি: হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-বাগদাদী আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, (তিনি বলেন) হাসান বিন আহমদ বিন ইবরাহীম আল-বায্যায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, (তিনি বলেন) আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইমরান তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবদান বিন আহমদ আল-হামাদানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাতেম আর-রাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি মুহাম্মদ বিন কাসীর আল-আবদীকে বলতে শুনেছি:

আমি হাদীস অন্বেষণকারীদের মধ্য থেকে এমন একজন ব্যক্তির নিকট শুনেছি যাকে আমি সত্যবাদী বলে মনে করি এবং তাঁর প্রশংসা করি: তিনি স্বপ্নে মদীনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন, এমতাবস্থায় আবু বকর তাঁর ডান দিকে এবং উমর তাঁর বাম দিকে ছিলেন। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যে হাদীসটি আ'মাশ, যায়েদ বিন ওয়াহাব থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) থেকে আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন—যাতে আবদুল্লাহ বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তিনি হলেন সত্যবাদী ও যার সত্যতা স্বীকৃত—তাকদীর সংক্রান্ত সেই হাদীসটি কি সত্য? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আল্লাহ আ'মাশকে রহম করুন এবং যে ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছে তাকেও রহম করুন।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৬৫)
22- أَخبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَزَّازُ أَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدقاق إملاءً، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَنْصُورٍ الْخَالِدِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ. (ح) وَأَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ المقرئ، أَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاعِظُ، أَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قانع، ثنا يَعْقُوبُ بْنُ يُوسُفَ الْمُطَوِعِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ زِيَادٍ النَّرْسِيُّ، قَالا: عَنِ الأَعْمَشِ (ح) وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ أَبِي طَاهِرِ بْنِ الْعَلافِ، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ بِشْرَانَ، أَنَا ابْنُ قَانِعٍ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْفَضْلِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الأَهْوَازِيُّ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ الْهَدَادِيُّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، قَالا: ثنا زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، ثنا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ:

((إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا -أَوْ قَالَ: أَرْبَعِينَ لَيْلَةً-، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ الْمَلِكَ فَيُؤْمَرَ بِأَرْبعِ كلماتٍ، قَالَ: فَيَكْتُبُ رِزْقَهُ، وَأَجَلَهُ، وَعَمَلَهُ، وَشَقِيٌ أَوْ سَعِيدٌ، ثُمَّ يُنْفَخُ فِيهِ الرُّوحُ، قَالَ: فَوَالَّذِي لا إِلَهَ غَيْرُهُ، إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلا ذراعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيَعْمَلَ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيَكُونُ مِنْ أَهْلِهَا، وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلا ذِرَاعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ، فَيُخْتَمَ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَكُونُ مِنْ أَهْلِهَا)) .
২২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ, (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাযযার, (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দাক্কাক শ্রুতিলিপি অনুযায়ী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে মানসুর আল-খালিদী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ। (হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-মুকরী, (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল মালিক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ওয়ায়েজ, (তিনি বলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আবদুল বাকি ইবনে কানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ আল-মুতাওয়িঈ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে বাক্কার, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে যিয়াদ আন-নারসী; তাঁরা উভয়ে আল-আমাস হতে বর্ণনা করেছেন। (হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান ইবনে আবি তাহির ইবনুল আল্লাফ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল কাসিম ইবনে বিশরান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে কানি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুলাইমান ইবনুল ফাদল, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-আহওয়াযী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-হাদাদী, তিনি ইবনে আউন হতে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যাইদ ইবনে ওয়াহাব, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন—আর তিনি হলেন সত্যবাদী ও যাঁর সত্যবাদিতা (আল্লাহর পক্ষ থেকে) স্বীকৃত:

((তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন -অথবা তিনি বলেছেন: চল্লিশ রাত- একত্রিত করা হয়, অতঃপর অনুরূপ সময়ের জন্য তা রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়, অতঃপর অনুরূপ সময়ের জন্য তা গোশতপিণ্ডে পরিণত হয়, এরপর আল্লাহ তাআলা তার নিকট ফেরেশতা প্রেরণ করেন এবং তাকে চারটি বিষয় (লেখার) নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর তার রিযিক, তার আয়ুষ্কাল, তার কর্ম এবং সে কি হতভাগ্য না সৌভাগ্যবান—তা লিখে দেওয়া হয়। অতঃপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: সেই সত্তার শপথ, যাঁকে ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তোমাদের কোনো ব্যক্তি জান্নাতীদের আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাতের ব্যবধান থাকে, তখন তার ওপর তাকদীরের লিখন প্রবল হয় এবং সে জাহান্নামীদের আমল করতে শুরু করে, ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আর তোমাদের কোনো ব্যক্তি জাহান্নামীদের আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাতের ব্যবধান থাকে, তখন তার ওপর তাকদীরের লিখন প্রবল হয় এবং জান্নাতীদের আমলের মাধ্যমে তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে, ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে।))।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৬৬)
23- أَخبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ، أَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ، أَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ النَّحْوِيُّ، أَنَا أَبُو يُوسُفَ يَعْقُوبُ بن سفيان، ثنا حَسَنُ بْنُ زُرَيْقٍ أَبُو عَلِيٍّ الطهوي، ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ:

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَالْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ رضي الله عنهما يَلْعَبَانِ ويَصْعَدَانِ عَلَى ظَهْرِهِ، فَأُخِذَ الْمُسْلِمُونَ بِمَنْظَرْهِمَا، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ:

((مَنْ أَحَبَّنِي فَلْيُحِبَّ هَذَيْنِ)) .
২৩- আবু সা'দ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কারীম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আলী হাসান ইবনে আহমাদ আমাদের জানিয়েছেন, আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আন-নাহবী আমাদের জানিয়েছেন, আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আমাদের জানিয়েছেন, হাসান ইবনে জুরাইক আবু আলী আত-তাহাবী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আসিম ইবনে আবি আন-নাজুদ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করছিলেন এবং হাসান ও হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) খেলা করছিলেন ও তাঁর পিঠের ওপর চড়ছিলেন। মুসলমানগণ তাঁদের এই দৃশ্য দেখে অভিভূত হলেন। অতঃপর যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন:

((যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে, সে যেন এই দুইজনকে ভালোবাসে))।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৬৭)
24- أَخبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الدَّلالُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ في سنة ثلاث وخمسمائة، أَنَا أَبُو مُحَمَّدُ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حِمْدَانَ بْنِ مَالِكِ بْنِ شُبَيْبٍ الْقَطَيْعِيُّ في سنة 368، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلِ بْنِ هِلالِ بْنِ أَسَدٍ الشَّيْبَانِيُّ الإِمَامُ رحمه الله، ثنا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّلْمِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه قال:

بعث رسل اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً، وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ رَجُلا مِنَ الأَنْصَارِ، وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَسْمَعُوا لَهُ ويُطِيعُوا، فَأَغْضَبُوهُ فِي شَيْءٍ، فَقَالَ: اجْمَعُوا لِي حَطَبًا، ثُمَّ أَوْقِدُوا نَارًا، فَلَمَّا أَوْقَدُوا لَهُ نَارًا.

قَالَ: أَلَمْ يَأْمُرُكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَسْمَعُوا وتُطِيعُوا؟

فَقَالُوا: بَلَى.

قَالَ: فَادْخُلُوهَا.

قَالَ: فَنَظَرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ، وَقَالُوا: إِنَّمَا فَزَعْنَا إِلَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَجْلِ النَّارِ، فَكَانُوا كَذَلِكَ إِذْ سَكَنَ غَضَبَهُ وَطَفِئَتِ النَّارُ.

فَلَمَّا قَدِمُوا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ.

فَقَالَ: ((لَوْ دَخَلُوهَا مَا خَرَجُوا مِنْهَا، إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ)) .
২৪- শেখ আবু নাসর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আদ-দাল্লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তার নিকট পাঠ করা হয়েছিল এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম ৫০০ হিজরি সনে—তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালিক ইবনে শাবিব আল-কাতিয়ি ৩৬৮ হিজরি সনে, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ, তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ আশ-শাইবানি আল-ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াকি, তিনি আমাশ থেকে, তিনি সাদ ইবনে উবাইদাহ থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি থেকে এবং তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সেনাদল প্রেরণ করলেন এবং জনৈক আনসারী ব্যক্তিকে তাদের আমীর নিযুক্ত করলেন। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা তার কথা শোনে ও তার আনুগত্য করে। অতঃপর কোনো একটি বিষয়ে তারা তাকে রাগান্বিত করল। তখন সে বলল: আমার জন্য কাঠ সংগ্রহ করো। তারপর আগুন জ্বালাও। যখন তারা তার জন্য আগুন জ্বালাল—

সে বলল: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি তোমাদের শ্রবণ ও আনুগত্যের নির্দেশ দেননি?

তারা বলল: অবশ্যই দিয়েছেন।

সে বলল: তবে এতে (আগুনে) প্রবেশ করো।

তিনি (আলী) বলেন: তখন তারা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল এবং বলল: আমরা তো আগুনের হাত থেকে বাঁচার জন্যই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আশ্রয় নিয়েছি। তারা এই অবস্থায় থাকাকালীনই আমীরের ক্রোধ প্রশমিত হলো এবং আগুন নিভে গেল।

তারা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এলেন, তখন তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন।

তিনি (নবী) বললেন: "যদি তারা এতে প্রবেশ করত, তবে তারা আর কখনো তা থেকে বের হতে পারত না। আনুগত্য কেবল ন্যায়সঙ্গত ও সৎ কাজেই হয়ে থাকে।"
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৬৮)
25- أَخبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْقَاسِمِ، أَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الله بن إبراهيم، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بن عبيد، ثنا سويد بن سعيد، [ثنا سويد بن عبد العزيز] ، ثنا نُوحُ بْنُ ذَكْوَانَ، عَنْ أَخِيهِ أَيُّوبَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:

((يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: إِنِّي لأَسْتَحِي مِنْ عَبْدِي وَأَمَتِي يَشِيبَانِ فِي الإِسْلامِ، أُعَذِّبْهُمَا بَعْدَ ذَلِكَ)) .
২৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সা'দ আহমাদ বিন আব্দুল জাব্বার বিন আহমাদ বিন আল-কাসিম, আমাদের জানিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ বিন সাঈদ, [আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ বিন আব্দুল আজিজ], আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন নুহ বিন জাকওয়ান, তাঁর ভাই আইয়ুব থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

((মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: নিশ্চয়ই আমি আমার সেই দাস ও দাসীর প্রতি লজ্জা বোধ করি যারা ইসলামের ওপর বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে, যে এরপর তাদের আজাব প্রদান করব।))
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৬৯)
26- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْعَدْلُ أَبُو طَاهِرٍ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ الْبَزَّازُ، وَأَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ الشَّيْبَانِيُّ، قِرَاءَةً عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا، قَالا: أَنَا أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ الْبَزَّازُ، ثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ الْبَزَّازُ، إِمْلاءً فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ 352 هـ، وَهُوَ أَوَّلُ سَمَاعِ ابْنِ غَيْلانَ مِنَ الشَّافِعِيِّ، ثنا محمد بن سليمان، ثنا الْحَارِثُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يونس، ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيِّ عليه السلام، قَالَ:

أَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ، وُعُمَرُ رضي الله عنهما وَأَنَا جَالِسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: ((هَذَانِ سَيِّدا كُهُولِ أَهْلِ الجَنَّةِ مِنَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ إِلا النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ، لا تُخْبِرْهُمَا يَا عَلِيُّ)) قَالَ: فَمَا ذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُمَا حَتَّى مَاتَا.
২৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ন্যায়পরায়ণ শায়খ আবু তাহের হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বায্যায এবং আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আশ-শাইবানি, তাদের প্রত্যেকের নিকট পাঠের মাধ্যমে। তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-বায্যায। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম আশ-শাফিয়ী আল-বায্যায, ৩৫২ হিজরী সনের রমজান মাসে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে; আর এটিই ছিল শাফিয়ী থেকে ইবন গাইলানের প্রথম শ্রবণ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হারিস বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউনুস। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, তিনি হাসান বিন উমারাহ থেকে, তিনি ফিরাত থেকে, তিনি শা'বী থেকে, তিনি হারিস থেকে, তিনি আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এগিয়ে আসলেন যখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "এই দুইজন নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জান্নাতবাসীদের প্রৌঢ়দের সরদার। হে আলী, তুমি তাদের এ সংবাদ দিও না।" আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: তাদের মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাদের নিকট এ কথাটি আর উল্লেখ করিনি।
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৭১)
27- أَخبَرَنَا هِبَةُ اللَّهِ، وَهِبَةُ اللَّهِ، قَالا: أَنَا أَبُو طَالِبٍ الْغَيْلانِيُّ، ثنا أَبُو بَكْرٍ الشَّافِعِيُّ حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ [الْجُبَيْرِيُّ] ، ثنا إبراهيم بن سلمان الدباس، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانٍ، ثنا أَبُو جُنَابٍ الْكَلْبِيُّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ يُثَيْعٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، قَالَ:

أَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ وُعُمَرُ رضي الله عنهما، وَأَنَا جالسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: ((هَذَانِ سَيِّدا كُهُولِ أَهْلِ الجَنَّةِ-، مِنَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ إِلا النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ لا تُخْبِرْهُمَا يَا عَلِيُّ مَا عَاشَا)) .
২৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ এবং হিবাতুল্লাহ, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব আল-গাইলানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন: আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন আলি ইবনুল হুসাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ [আল-জুবাইরি], আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনু সালমান আদ-দাব্বাস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনু আবান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জুনাব আল-কালবি, তিনি আশ-শা’বি থেকে, তিনি যায়িদ ইবনু ইউসাই’ থেকে এবং তিনি আলি ইবনু আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এগিয়ে আসলেন, এমতাবস্থায় আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন: “নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল জান্নাতবাসী প্রৌঢ়দের সর্দার হলেন এই দুইজন। হে আলি, তাঁরা যতদিন জীবিত থাকেন, ততদিন তুমি তাঁদের এই সংবাদ দিয়ো না।”
(খণ্ড: ১) আল-ফাওয়ায়িদুল হিসান লিবনিন নাকূর (পৃষ্ঠা: ৭২)
28- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْمُظَفَرِ بْنِ الْحَسَنِ التَّمَارِ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْحِرَفِيُّ إِمْلاءً (ح) وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْعِزِّ بْنُ كَادِشٍ، أَنَا أَبُو مُحَمَّدُ الْحَسَنِ بْنُ عَلِيِّ الْجَوْهَرِيُّ قَالا: أَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حِمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يونس بن موسى، ثنا شَاصُونَةُ بْنُ عُبَيْدٍ أَبُو مُحَمَّدٍ الْيَمَامِيُّ سَنَةَ عَشْرٍ وَمِائَتَيْنِ، وَقَدِ انْصَرَفَ مِنْ عَدِنَ، حَدَّثَنِي مَعْرَضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْرَضِ بْنِ مُعَيْقِيبَ الْيَمَامِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ رضي الله عنه، قَالَ:

حَجَجْتُ حَجَّةِ الْوَدَاعِ، فَدَخَلْتُ دَارَ مَكَّةَ، فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنَّ وَجْهَهُ دَارَةَ الْقَمَرِ، فَسَمِعْتُ عَجَبًا، جَاءَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَامَةِ يَعْنِي يَوْمَ وُلِدَ قَدْ لَفَّهُ فِي خِرْقَةٍ.

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((يَا غُلامُ مَنْ أَنَا؟)) .

قَالَ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ.

قَالَ: ((صَدَقْتَ، بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ)) .

قَالَ: ثُمَّ إِنَّ العلام لَمْ يَتَكَلَّمْ بَعْدَهَا، حَتَّى شَبَّ.

قال: قال: إني كنا نسميه مُبَارُكُ الْيَمَامَةِ.
২৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু বকর আহমদ ইবনুল মুজাফ্ফার ইবনুল হাসান আত-তাম্মার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-হিারাফী ইমলা (শ্রুতলিপি) প্রদানের মাধ্যমে। (হ) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ইয ইবনে কাদিশ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলী আল-জাওহারী। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস ইবনে মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাসুনাহ ইবনে উবায়েদ আবু মুহাম্মদ আল-ইয়ামামী ২১০ হিজরী সনে, যখন তিনি এডেন থেকে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মা'রাজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মা'রাজ ইবনে মুআইকিব আল-ইয়ামামী, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমি বিদায় হজ্জ পালন করেছি, তখন মক্কার একটি ঘরে প্রবেশ করলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম, তাঁর চেহারা যেন পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল ছিল। তখন আমি এক আশ্চর্যজনক বিষয় শুনলাম। ইয়ামামার অধিবাসী এক ব্যক্তি তাঁর কাছে একটি শিশুকে নিয়ে আসলেন—সেদিনই তার জন্ম হয়েছিল—তাকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে রাখা হয়েছিল।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে বালক! আমি কে?"

সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল।

তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ, আল্লাহ তোমার মধ্যে বরকত দান করুন।"

তিনি বলেন: এরপর সেই বালকটি বড় না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো কথা বলেনি।

তিনি বলেন: তিনি বলেছেন: আমরা তাকে 'মুবারাকুল ইয়ামামা' (ইয়ামামার বরকতময় ব্যক্তি) বলে ডাকতাম।