(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: -)
ناسخ الحديث ومنسوخه للأثرم القسم: كتب السنة
الكتاب: ناسخ الحديث ومنسوخه
المؤلف: أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بنُ مُحَمَّدِ بنِ هَانِئ الإِسْكَافيُّ الأَثْرَم الطَّائِيُّ وَقِيْلَ: الكَلْبِيّ (ت 273هـ)
المحقق: عبد الله بن حمد المنصور
الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م
عدد الصفحات: 270
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433
আল-আছরামের নাসিখুল হাদিস ওয়া মানসুখুহু বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: নাসিখুল হাদিস ওয়া মানসুখুহু
লেখক: আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন হানি আল-ইসকাফি আল-আছরাম আত-তাই এবং বলা হয়েছে: আল-কালবি (মৃত্যু ২৭৩ হি.)
তাহকীক: আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-মানসুর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭০
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: -)
ناسخ الحديث ومنسوخه
تصنيف
الإمام أبي بكر أحمد بن محمد بن هانئ الأثرم
(ولد في دولة الرشيد - توفي بعد الستين ومئتين)
تحقيق
عبد الله بن حمد المنصور
الطبعة الأولى
1420 هـ - 1999 م
হাদিসের রহিতকারী ও রহিতকৃত
রচনা
ইমাম আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হানি আল-আছরাম
(রশিদের শাসনামলে জন্মগ্রহণ করেন - ২৬০ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন)
সম্পাদনা
আবদুল্লাহ বিন হামাদ আল-মানসুর
প্রথম সংস্করণ
১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الجزء الأول من كتاب ناسخ الحديث ومنسوخهتأليف أبي بكر أحمد بن محمد بن هانئ الطائي الأثرم
ما رواه عنه أبو الحسن علي بن يعقوب بن إبراهيم الكوسج رواية أبي الحسن علي بن محمد بن سعيد الموصلي الخفاف عنه رواية الشيخ أبي جعفر محمد بن أحمد بن محمد بن المسلمة عن أبي الحسين محمد بن عبد الله بن أخي ميمي إجازة عنه.
أخبرنا به بالإجازة له من ابن المسلمة أبو محمد طاهر بن سهل الإسفراييني، سماعٌ منه لعلي بن الحسن بن هبة الله الشافعي نفعه الله به.
নাসিখুল হাদিস ওয়াল মানসুখ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডআবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হানি আত-তায়ী আল-আছরাম-এর রচনা
তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আল-কাওসাজ; তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-মাওসিলি আল-খাফফাফ; তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন শাইখ আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুসলিমাহ, যিনি এটি আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আখি মিমির থেকে ইজাযত সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছেন।
ইবনে মুসলিমাহ-এর থেকে ইজাযত প্রাপ্ত হয়ে আবু মুহাম্মাদ তাহির বিন সাহল আল-ইসফরাইনি আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন, যা তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ করেছেন আলী বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ আশ-শাফিঈ, আল্লাহ তাকে এর দ্বারা উপকৃত করুন।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
بسم الله الرحمن الرحيم
أخبرنا الشيخ أبو جعفر محمد بن أحمد بن محمد بن المسلمة قراءةً عليه قال: أخبرنا أبو الحسين محمد بن عبد الله المعروف بابن أخي ميمي إجازةً قال: حدثنا أبو الحسن علي بن محمد بن سعيد الخفاف الموصلي، قال: حدثنا أبو الحسن علي بن يعقوب الكوسج قال: قال أبو بكر الأثرم رحمه الله:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
শায়খ আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মাসলামাহ আমাদের কাছে পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ—যিনি ইবনে আখি মিমি নামে পরিচিত—আমাদের ইজাজতসূত্রে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-খাফফাফ আল-মাওসিলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হাসান আলী বিন ইয়াকুব আল-কাওসাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আল-আছরাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٣١)
1 - باب فيمن نسي صلاة أو نام عنها فاستيقظ في وقت لا يصلى فيهروى همام وغيره عن قتادة عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من نسي صلاة، فليصلها إذا ذكرها، لا كفارة لها إلا ذلك)).
وروى عبد الجبار بن عباس عن عون بن أبي جحيفة عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من نام عن صلاة فليصل إذا استيقظ، ومن نسي صلاة فليصل إذا ذكر)).
وعطاء بن السائب عن بريد بن أبي مريم عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((أنه أمره فأقام الصلاة حين استيقظ فتوضأ)).
ومعمر عن الزهري عن سعيد عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من نسي صلاة فليصلها إذا ذكر)).
১ - পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি সালাত ভুলে যায় অথবা তা থেকে ঘুমিয়ে যায়, অতঃপর এমন সময়ে জাগ্রত হয় যখন সালাত আদায় করা যায় নাহাম্মাম ও অন্যান্যরা কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো সালাত ভুলে যায়, সে যেন তা মনে পড়ার সাথে সাথেই আদায় করে নেয়; এটি ছাড়া এর আর কোনো কাফফারা নেই।"
আর আব্দুল জব্বার ইবনে আব্বাস আউন ইবনে আবি জুহাইফাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাত থেকে ঘুমিয়ে থাকে, সে যেন জাগ্রত হওয়ার পর তা আদায় করে নেয়। আর যে ব্যক্তি সালাত ভুলে যায়, সে যেন মনে পড়ার পর তা আদায় করে নেয়।"
এবং আতা ইবনে সাইব বুরাইদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "তিনি তাকে আদেশ করেছিলেন, অতঃপর তিনি জাগ্রত হয়ে ওযু করলেন এবং সালাতের ইকামত দিলেন।"
এবং মা'মার যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো সালাত ভুলে যায়, সে যেন তা মনে পড়ার সাথে সাথেই আদায় করে নেয়।"
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وكذلك أيضاً روى حريز بن عثمان عن يزيد بن صالح عن ذي مخمر عن النبي صلى الله عليه وسلم.
وشعبة عن جامع بن شداد عن عبد الرحمن بن أبي علقمة عن ابن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم لما استيقظ قال: ((افعلوا كما كنتم تفعلون)).
فهذه الأحاديث كلها بمعنىً واحد.
وروى بشير أبو إسماعيل عن أبي حازم عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم أمرهم حين استيقظ أن يتنحوا عن ذلك المنزل قبل أن يصلوا.
وروى مثل ذلك هشام عن الحسن عن عمران بن حصين أن النبي صلى الله عليه وسلم أمرهم أن يرتحلوا قبل أن يصلوا.
অনুরূপভাবে হারীয ইবনে উসমান, ইয়াযীদ ইবনে সালিহ থেকে, তিনি যূ মুখমির থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং শু'বাহ, জামি' ইবনে শাদ্দাদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবী আলকামা থেকে এবং তিনি ইবনে মাসঊদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে জাগলেন তখন বললেন: "তোমরা তা-ই করো যা তোমরা (সাধারণত) করতে।"
সুতরাং এই হাদীসগুলো সবই একই অর্থবোধক।
আর বশীর আবু ইসমাঈল, আবু হাযিম থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে জাগলেন তখন সালাত আদায়ের পূর্বে তাদের সেই স্থান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।
অনুরূপভাবে হিশাম, হাসান থেকে এবং তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ের পূর্বে তাদের যাত্রা করার বা প্রস্থান করার নির্দেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وروى حماد بن سلمة عن عمرو بن دينار عن نافع بن جبير بن مطعم عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم أيضاً نحو هذا.
فهذه الأحاديث في ظاهرها مختلفة وليست كذلك، ولكن الوجه في ذلك أن منها خاص ومنها عام، فأما العام؛ فالذي أمر به النبي صلى الله عليه وسلم بقوله؛ ((فليصل إذا ذكر وإذا استيقظ، لا كافرة لها إلا ذلك)) ولم يقل فليرتحل، ثم ليصل، ولم يرخص في التاخير بعد الذكر، فهذا هو الذي أمر به، وعلمه أمته، فهو العام المعمول به، وأما الخاص فإن النبي صلى الله عليه وسلم لما ارتحل لعلةٍ قد فسرها، قال: ((إن هذا وادٍ به شيطان، فارتحلوا منه)) وهذا شيءٌ لا يعلمه إلا نبي فهو خاص.
হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি নাফে ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আপাতদৃষ্টিতে এই হাদিসগুলো ভিন্ন ভিন্ন মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। বরং এর তাৎপর্য হলো, এগুলোর কোনটি সাধারণ (আম) এবং কোনটি বিশেষ (খাস)। সাধারণ (আম) হলো তা, যার নির্দেশ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে দিয়েছেন: ((যখনই তার স্মরণে আসবে এবং যখনই সে জাগ্রত হবে তখনই যেন সে সালাত আদায় করে নেয়, এছাড়া এর আর কোনো কাফফারা নেই))। তিনি এ কথা বলেননি যে, সে যেন আগে স্থান পরিবর্তন করে এবং তারপর সালাত আদায় করে; আর তিনি স্মরণ হওয়ার পর বিলম্ব করার অনুমতিও দেননি। এটিই সেই নির্দেশ যা তিনি দিয়েছেন এবং তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন; সুতরাং এটিই হলো আমলযোগ্য সাধারণ বিধান। আর বিশেষ (খাস) হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি কারণবশত স্থান পরিবর্তন করেছিলেন যা তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছেন: ((নিশ্চয়ই এটি এমন একটি উপত্যকা যেখানে শয়তান উপস্থিত রয়েছে, সুতরাং তোমরা এখান থেকে সরে যাও))। এটি এমন এক বিষয় যা নবী ব্যতীত অন্য কেউ জানে না, তাই এটি বিশেষ।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
2 - باب تأخير الصلاة عن وقتها في الحربروى هشام عن يحيى عن أبي سلمة عن جابر أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى العصر يوم الخندق بعد غروب الشمس.
وروى أبو الزبير عن نافع بن جبير عن أبي عبيدة عن عبد الله أن المشركين شغلوا النبي صلى الله عليه وسلم عن الظهر والعصر والمغرب والعشاء فصلاهن بعد ما ذهب من الليل ما شاء الله عز وجل.
وروى بشر بن المفضل عن عبد الرحمن بن إسحاق عن عبد الرحمن بن معاوية عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى يوم الخندق الظهر والعصر والمغرب والعشاء بعد ما غاب الشفق.
وروى زياد بن عبد الله بن يحيى بن سعيد عن سعيد بن المسيب عن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الظهر والعصر يوم الخندق
২ - যুদ্ধের সময় সালাত তার ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করার পরিচ্ছেদহিশাম ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের দিন সূর্যাস্তের পর আসরের সালাত আদায় করেছিলেন।
আবুয যুবাইর নাফে ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার সালাত থেকে ব্যস্ত করে রেখেছিল, ফলে রাতের যতটুকু সময় আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল চেয়েছিলেন তা অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি সেগুলো আদায় করেছিলেন।
বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মুআবিয়াহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের দিন জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার সালাত পশ্চিমাকাশের লালিমা অদৃশ্য হওয়ার পর আদায় করেছিলেন।
যিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের দিন জোহর ও আসরের সালাত আদায় করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
بعد غروب الشمس.
فجاءت هذه الأحاديث بمعنىً واحد وخالفتها الأحاديث الباقية وذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الخوف في وقتها على ما استطاع، فهذا مخالف لذلك الفعل، فاختلفت هذه الأخبار، فبين ذلك حديث أبي سعيد. روى ابن أبي ذئب عن المقبري عن عبد الرحمن بن أبي سعيد عن أبيه قال: حبسنا يوم الخندق عن الظهر والعصر والمغرب والعشاء حتى كفينا ذلك، وذلك قول الله عز وجل: {وكفى الله المؤمنين القتال وكان الله قوياً عزيزاً}.
فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فأمر بلالاً فأقام الصلاة ثم صلى الظهر كما كان يصليها قبل ذلك، ثم أقام الصلاة فصلى العصر كما كان يصليها قبل ذلك، ثم أقام المغرب فصلاها كما كان يصليها قبل ذلك، ثم أقام العشاء فصلاها كما كان يصليها قبل ذلك، قال: وذلك قبل أن تنزل: {فإن خفتم فرجالاً أو ركباناً} فبين أن ذلك الفعل الذي كان يوم الخندق منسوخ.
সূর্য ডোবার পর।
এই হাদীসগুলো একই অর্থে এসেছে এবং অবশিষ্ট হাদীসগুলো এর বিপরীত হয়েছে। আর তা এই কারণে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভয়ের সালাত তার ওয়াক্তের মধ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী আদায় করেছিলেন, ফলে এটি সেই কর্মের পরিপন্থী। সুতরাং এই বর্ণনাগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে এবং আবু সাঈদের হাদীস বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে। ইবনে আবি যিব মাকবুরি থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি সাঈদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: খন্দকের যুদ্ধের দিন যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার সালাত থেকে আমাদের আটকে রাখা হয়েছিল যতক্ষণ না আমাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ সমাপ্ত হলো। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ যুদ্ধের জন্য মুমিনদের যথেষ্ট হয়ে গেলেন এবং আল্লাহ হচ্ছেন শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী।"
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং বিলালকে নির্দেশ দিলেন। বিলাল সালাতের ইকামত দিলেন, এরপর তিনি যোহর আদায় করলেন যেভাবে আগে আদায় করতেন। এরপর পুনরায় ইকামত দেওয়া হলো এবং তিনি আসর আদায় করলেন যেভাবে আগে আদায় করতেন। এরপর মাগরিবের ইকামত দেওয়া হলো এবং তিনি তা আদায় করলেন যেভাবে আগে আদায় করতেন। এরপর এশার ইকামত দেওয়া হলো এবং তিনি তা আদায় করলেন যেভাবে আগে আদায় করতেন। তিনি বলেন: আর এটি এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের ঘটনা: "যদি তোমরা ভয় করো, তবে পদব্রজে বা সওয়ার অবস্থায় (সালাত আদায় করো)"। সুতরাং এটি স্পষ্ট করে দিল যে, খন্দকের দিন যা করা হয়েছিল তা রহিত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
3 - باب الفتح على الإمامروى مروان بن معاوية عن يحيى بن كثير الكاهلي عن مسور بن يزيد الأسدي، قال: شهدت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في صلاة الفجر، فترك آية فلما فرغ قيل له: تركت آية كذا، فقال: ((فهلا أذكرتنيها إذاً))، يعني في الصلاة.
وروى قيس عن الأغر عن خليفة بن حصين عن أبي نصر عن ابن عباس قال: تردد رسول الله صلى الله عليه وسلم في آية في صلاة الصبح، فلم يفتحوا عليه، فلما قضى الصلاة، نظر في وجوه القوم فقال: ((أما شهد الصلاة معكم أبي بن كعب)) قالوا: لا، فرأى القوم أنه إنما تفقده ليفتح عليه.
وروى محمد بن إسحاق عن أبي إسحاق عن الحارث
৩ - ইমামের কিরাআত সংশোধন করার অধ্যায়মারওয়ান বিন মুআবিয়া ইয়াহইয়া বিন কাসির আল-কাহিলি থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন ইয়াযিদ আল-আসাদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফজরের সালাতে তিলাওয়াত করতে দেখেছি। তিনি একটি আয়াত ছেড়ে দিলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: আপনি অমুক আয়াতটি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন: “তবে কেন তোমরা তখন আমাকে তা মনে করিয়ে দিলে না?” অর্থাৎ সালাতের মধ্যে।
কায়স আল-আগার থেকে, তিনি খলিফা বিন হুসাইন থেকে, তিনি আবু নাসর থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরের সালাতে একটি আয়াতে সংশয়ে পড়লেন, কিন্তু তারা তাঁকে লোকমা দিল না (সংশোধন করল না)। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন উপস্থিত লোকদের চেহারার দিকে তাকিয়ে বললেন: “উবাই বিন কাব কি তোমাদের সাথে সালাতে উপস্থিত ছিলেন না?” তারা বলল: না। তখন লোকজন বুঝতে পারল যে, তিনি তাকে কেবল এজন্যই খুঁজছিলেন যাতে তিনি কিরাআত সংশোধন করে দিতে পারেন।
মুহাম্মদ বিন ইসহাক আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
عن علي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تفتح على الإمام)).
فاختلفت هذه الأحاديث في ظاهرها، والوجه فيها أن الحديثين الأولين أصح، وإن كانا ليسا بأقوى الأحاديث، لأن حديث الحارث عن علي قد ثبتت فيه علل توهنه، منها: أنه قد جاء عن علي من رواية من هو أوثق من الحارث خلاف ذلك:
روي عن أبي عبد الرحمن السلمي قال: قال علي عليه السلام: إذا استطعمك الإمام فأطعمه، فهذه علة.
ومن ذلك أن غير محمد بن إسحاق رواه عن أبي إسحاق عن الحارث عن علي رضي الله عنه موقوفاً، فهذه علتان.
আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইমামকে লোকমা দিও না।"
আপাতদৃষ্টিতে এই হাদিসগুলোর মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত হলো প্রথম দুটি হাদিসই অধিকতর বিশুদ্ধ, যদিও সেগুলো হাদিসসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পর্যায়ের নয়। কারণ আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হারিসের হাদিসটিতে এমন কিছু ত্রুটি প্রমাণিত হয়েছে যা তাকে দুর্বল করে দেয়। তার মধ্যে একটি হলো: হারিসের চেয়েও অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর মাধ্যমে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এর বিপরীত বর্ণনা এসেছে:
আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: যখন ইমাম তোমার কাছে লোকমা চাইবেন, তখন তাকে লোকমা দাও। সুতরাং এটি একটি ত্রুটি।
আরেকটি বিষয় হলো, মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীরা একে আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিস থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মাউকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এগুলো হলো দুটি ত্রুটি।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
ومن ذلك أن أبا إسحاق لم يسمع من الحارث إلا أربعة أحاديث ليس هذا منها، فهذه ثلاث. ومن ذلك أن الحارث متهم في الرواية، قد تكلم فيه نبلاء الناس: الشعبي فمن دونه.
এর মধ্যে একটি বিষয় হলো এই যে, আবু ইসহাক আল-হারিস থেকে মাত্র চারটি হাদীস শ্রবণ করেছেন যার অন্তর্ভুক্ত এটি নয়; সুতরাং এগুলো হলো তিনটি। এর মধ্যে আরও একটি বিষয় হলো এই যে, আল-হারিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত, বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ তাঁর সমালোচনা করেছেন: আশ-শা‘বী এবং তাঁর পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিবর্গ।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
4 - باب الرجل يسلم عليه وهو في الصلاةروى زيد بن أسلم عن ابن عمر عن صهيب أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا سلم عليه وهو يصلي أشار بيده.
وروى هشام بن سعد عن نافع عن ابن عمر عن بلال عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله.
وروى إبراهيم بن إسماعيل بن مجمع عن أبي الزيبير عن جابر أنه سلم على النبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي فأشار إليه.
وروي عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((من أشار في صلاته إشارة تفهم عنه فليعد)).
فهذا الحديث في ظاهره مخالف لتلك الأحاديث وفيه علتان:
৪ - পরিচ্ছেদ: সালাতরত অবস্থায় কাউকে সালাম দেওয়া হলেযায়দ ইবনে আসলাম ইবনে উমর থেকে এবং তিনি সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাত আদায় করতেন এবং তাঁকে সালাম দেওয়া হতো, তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করতেন।
হিশাম ইবনে সাদ নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি বিলাল (রা.) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইবরাহীম ইবনে ইসমাঈল ইবনে মাজমা’ আবু যুবাইর থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাতরত অবস্থায় সালাম দিয়েছিলেন, তখন তিনি তাঁর প্রতি ইশারা করেছিলেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি সালাতে এমন ইশারা করল যা বোধগম্য হয়, সে যেন পুনরায় সালাত আদায় করে।"
এই হাদীসটি বাহ্যিকভাবে ওই হাদীসগুলোর বিরোধী এবং এতে দুটি ত্রুটি রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
إحداهما: أنه ليس بقوي الإسناد.
والعلة الأخرى: أنه إن كان محفوظاً فقد يكون له وجه، أن تكون الكراهية في الإشارة في حوائج الدنيا من البيع والشراء والأمر والنهي فأما رد السلام فلا.
একটি হলো: এটি শক্তিশালী সনদবিশিষ্ট নয়।
এবং অন্য কারণটি হলো: এটি যদি সংরক্ষিত হয়েও থাকে, তবে এর একটি ব্যাখ্যা হতে পারে যে, ইশারার প্রতি অপছন্দনীয়তা হলো পার্থিব প্রয়োজনে—যেমন কেনাবেচা এবং আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে; কিন্তু সালামের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তা নয়।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٤١)
5 - باب النوم في المسجدروى الزهري عن سالم عن أبيه، وعبيد الله عن نافع عن ابن عمر قال: كنا نبيت في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد ونقيل فيه.
ومن ذاك أيضاً اعتكاف النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد ومبيته فيه، روي ذلك من وجوه.
وروى ابن لهيعة عن عمرو بن الحارث عن ابن زياد عن سعد بن أبي وقاص أن النبي صلى الله عليه وسلم خرج على ناس من أصحابه وهم رقود في المسجد فقال: ((انقلبوا، فإن هذا ليس لكم بمرقد)).
وروى داود بن أبي هند عن أبي حرب بن أبي الأسود عن
৫ - মসজিদে ঘুমানোর পরিচ্ছেদযুহরি সালিম থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, আর উবায়দুল্লাহ নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মসজিদে রাত অতিবাহিত করতাম এবং সেখানে দুপুরে বিশ্রাম নিতাম।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে ইতিকাফ করা এবং সেখানে রাত কাটানোও এর অন্তর্ভুক্ত; এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে লাহিয়া আমর ইবনুল হারিস থেকে, তিনি ইবনে যিয়াদ থেকে এবং তিনি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কিছু সাহাবীর নিকট বের হয়ে আসলেন যখন তারা মসজিদে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: "তোমরা ফিরে যাও, কেননা এটি তোমাদের জন্য ঘুমানোর জায়গা নয়।"
দাউদ ইবনে আবি হিন্দ আবু হারব ইবনে আবিল আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
عمه عن أبي ذر قال: رآني النبي صلى الله عليه وسلم نائماً في المسجد فضربني برجله، وقال: ألا أراك نائماً فيه))، قلت: يا نبي الله غلبتني عيني.
فهذه الأحاديث في ظاهرها مختلفة، والأولى أثبت التي جاءت بالرخصة، لأن حديث سعد إسناده مجهول منقطع، وحديث أبي ذر فيه رجل ليس بمعروف وهو عم أبي حرب، وليس فيه أيضاً بيان نهي.
তাঁর চাচা আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মসজিদে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখলেন এবং তাঁর পা দিয়ে আমাকে আঘাত করলেন, আর বললেন: "আমি কি তোমাকে এখানে ঘুমন্ত দেখছি না?" আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী, আমার চোখ আমাকে পরাভূত করেছিল।
এই হাদিসগুলো বাহ্যিকভাবে পরস্পরবিরোধী, আর যেগুলোতে অনুমতির অবকাশ এসেছে সেগুলোই অধিকতর সুসাব্যস্ত; কারণ সা’দের বর্ণিত হাদিসটির সনদ অজ্ঞাত ও বিচ্ছিন্ন, আর আবু যারের হাদিসটিতে এমন একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি সুপরিচিত নন—তিনি হলেন আবু হারবের চাচা—অধিকন্তু এতে কোনো নিষেধাজ্ঞার বর্ণনাও নেই।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
6 - باب في الثلاثة يصلون جماعة كيف يقومونروى زيد بن الحباب عن أفلح بن سعيد عن بريدة بن سفيان عن غلام لجده يقال له: مسعود أنه قام مع النبي صلى الله عليه وسلم هو وأبو بكر فجعلهما خلفه.
وعن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم أيضاً مثل هذا.
وعن سمرة عن النبي أيضاً مثل هذا.
وأما ابن مسعود فروى عن النبي صلى الله عليه وسلم إذا كانوا ثلاثة أن يصفوا معاً، أحدهما عن يمينه والآخر عن يساره.
فاختلفت هذه الأحاديث، فنرى أن حديث ابن مسعود هو المنسوخ، وبيان ذلك: أن ابن مسعود روى عن النبي صلى الله عليه وسلم هذا الحديث فذكر فيه التطبيق، وذكر فيه أن يكون أحدهما عن يمين الإمام والآخر عن يساره، فلما قال عمر وسعد وغيرهما
৬ - অধ্যায়: তিনজন জামাতে সালাত আদায় করলে তারা কীভাবে দাঁড়াবেযায়েদ ইবনে হুবাব আফলাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি বুরাইদাহ ইবনে সুফিয়ান থেকে, তিনি তাঁর দাদার মাসউদ নামক এক গোলাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি এবং আবু বকর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাতে দাঁড়িয়েছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁদের উভয়কে তাঁর পিছনে দাঁড় করিয়েছিলেন।
এবং জাবির থেকেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
এবং সামুরাহ থেকেও নবী থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আর ইবনে মাসউদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা যখন তিনজন হবে তখন তারা একত্রে কাতারবদ্ধ হবে, তাদের একজন তাঁর ডান পাশে এবং অন্যজন তাঁর বাম পাশে দাঁড়াবে।
এই হাদিসগুলোর মধ্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে, তাই আমরা মনে করি যে ইবনে মাসউদের হাদিসটিই রহিত (মানসুখ)। এর ব্যাখ্যা হলো: ইবনে মাসউদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে 'তাতবিক' (রুকুতে দুই হাতের তালু একত্রিত করে দুই হাঁটুর মাঝে রাখা) এর কথা উল্লেখ করেছেন, এবং তাতে আরও উল্লেখ করেছেন যে তাদের একজন ইমামের ডান পাশে এবং অন্যজন বাম পাশে থাকবে। অতঃপর যখন উমর, সা'দ এবং অন্যরা বললেন...
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
ما يدل على أن التطبيق منسوخ، علمنا أن ابن مسعود إنما حكى فعل النبي صلى الله عليه وسلم الأول، وعلمنا أن ابن مسعود هو أقدم إسلاماً وسناً من الذين رووا ما ذكرنا أن يكون الرجلان خلف الإمام مسعود وجابر وسمرة.
যে বিষয়টি ‘তাতবিক’ (রুকুতে দুই হাঁটুর মাঝে হাত রাখা) রহিত হওয়ার প্রমাণ দেয় তা হলো, আমরা অবগত হয়েছি যে ইবনে মাসউদ মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাথমিক আমলটিই বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আমরা এও জানি যে, ইবনে মাসউদ ইসলাম গ্রহণ ও বয়সের দিক থেকে তাদের চেয়ে অগ্রজ যারা বর্ণনা করেছেন যে দুইজন ব্যক্তি ইমামের পেছনে দাঁড়াবে—যথা মাসউদ, জাবির ও সামুরাহ।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
7 - باب الإيماء في الماء والطينروى هشام بن أبي عبد الله [عن] يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة عن أبي سعيد أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم يسجد في ماءٍ وطين، قال: حتى رأيت أثر الطين والماء على جبهته وأرنبته.
وروى كثير بن زياد عن عمرو بن [عثمان] بن يعلى بن أمية عن أبيه عن جده أن النبي صلى الله عليه وسلم انتهى إلى مضيق ومعه أصحابه، والسماء من فوقهم، والبلة من أسفل منهم، فصلى بهم على رواحلهم يوميء إيماءً.
فاختلف هاذان الخبران في ظاهرهما وإنما الوجه في ذلك أن يعمل بهما جميعاً، فحديث أبي سعيد فيما جف من
৭ - পানি ও কাদার মধ্যে ইশারার অধ্যায়হিশাম ইবনে আবি আব্দুল্লাহ [তিনি] ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছেন। তিনি বলেন: এমনকি আমি তাঁর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে কাদা ও পানির চিহ্ন দেখেছি।
কাসির ইবনে জিয়াদ, আমর ইবনে [উসমান] ইবনে ইয়ালা ইবনে উমাইয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিয়ে একটি সংকীর্ণ স্থানে পৌঁছালেন, এমতাবস্থায় ওপর থেকে বৃষ্টি পড়ছিল এবং তাঁদের নিচে ছিল সিক্ত ভূমি। ফলে তিনি তাঁদের নিয়ে তাঁদের সওয়ারির ওপর ইশারার মাধ্যমে সালাত আদায় করলেন।
বাহ্যিকভাবে এই বর্ণনা দুটির মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও এর সঠিক সমাধান হলো উভয়টির ওপর আমল করা। আবু সাঈদের হাদিসটি সেই পরিস্থিতির ক্ষেত্রে যেখানে ভূমি শুষ্ক...
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
البلل والطين وأمكن السجود عليه، وإن علق بالوجه بلله.
وحديث يعلى بن أمية فيما لم يمكن السجود عليه من كثرة الماء والطين.
আর্দ্রতা ও কাদা থাকা এবং তার ওপর সিজদাহ করা সম্ভব হওয়া, যদিও চেহারায় সেই আর্দ্রতা লেগে যায়।
এবং ইয়ালা ইবনে উমাইয়াহ বর্ণিত হাদীসটি ঐ প্রেক্ষাপটে যখন অত্যধিক পানি ও কাদার কারণে তার ওপর সিজদাহ করা সম্ভব হয় না।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
8 - باب في الركعتين إذا جاء الإمام يخطبروى شعبة عن عمرو بن دينار عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا جاء أحدكم والإمام يخطب فليصل ركعتين)).
وروى أبو الزبير عن جابر.
والأعمش عن أبي سفيان عن جابر.
والأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر سليكاً الغطفاني أن يصلي ركعتين حين دخل وهو يخطب)).
وروى ابن عجلان عن عياض عن أبي سعيد: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى رجلاً دخل المسجد في هيئة بذة، فأمره أن يصلي ركعتين، وقال: ((إنما أمرته أن يصلي ركعتين حتى تفطنوا له فتصدقوا عليه)).
৮ - অধ্যায়: ইমাম খুতবা দেওয়া অবস্থায় আগন্তুকের দুই রাকাত সালাত আদায় প্রসঙ্গেশু’বাহ আমর বিন দীনার থেকে, তিনি জাবির থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে কেউ যখন এমন অবস্থায় আসে যে ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় করে।”
আবু যুবাইর জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন।
আমাশ আবু সুফিয়ান থেকে এবং তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন।
আমাশ আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুলাইক আল-গাতাফানিকে দুই রাকাত সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন যখন তিনি প্রবেশ করেছিলেন এমতাবস্থায় যে তিনি (নবী) খুতবা দিচ্ছিলেন।”
ইবনে আজলান ইয়াজ থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন যে: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে জীর্ণ পোশাকে মসজিদে প্রবেশ করতে দেখলেন, তখন তাকে দুই রাকাত সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: ‘আমি তাকে দুই রাকাত সালাত আদায়ের নির্দেশ কেবল এই জন্য দিয়েছি যেন তোমরা তার প্রতি লক্ষ্য করো এবং তাকে দান-সদকা করো’।”
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
فخالف هذا الحديث تلك الأحاديث في ظاهرها، لأن هذا كأنه خاص وتلك الأحاديث عامة، وكلها صحاح الخاص والعام لقوله: ((إذا جاء أحدكم)) فقد بين ها هنا أنه لم يرد بذلك رجلاً بعينه.
ومما يبين ذلك أن أبا سعيد هو الذي روى الحديث الخاص ثم كان هو يستعمل ذلك إذا جاء والإمام يخطب يمنعه الأحراس فلا يمتنع، ويحتج بحديث النبي صلى الله عليه وسلم هذا الذي رواه، فجعله عاماً كسائر الأحاديث.
সুতরাং এই হাদিসটি তার বাহ্যিক দিক থেকে ওই হাদিসগুলোর পরিপন্থী মনে হচ্ছে, কারণ এটি যেন বিশেষ এবং ওই হাদিসগুলো সাধারণ; অথচ বিশেষ ও সাধারণ উভয় প্রকারের হাদিসই সহিহ। তাঁর এই বাণীর কারণে: "যখন তোমাদের কেউ আসবে", এর মাধ্যমে এখানে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি এর দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করেননি।
আর যা এই বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তা হলো, আবু সাঈদ-ই সেই বিশেষ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি নিজেও এটি আমল করতেন; যখন তিনি আসতেন এবং ইমাম খুতবা দিতেন, তখন প্রহরীরা তাঁকে বাধা প্রদান করত কিন্তু তিনি বিরত হতেন না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর সেই হাদিসটি দিয়ে দলিল পেশ করতেন। ফলে তিনি বিষয়টিকে অন্যান্য হাদিসের ন্যায় সাধারণ হিসেবেই গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
9 - باب الصلاة بعد الجمعةروى سهيل عن أبيه عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من كان منكم مصلياً، فليصل بعد الجمعة أربعاً)).
روى عبيد الله عن نافع عن ابن عمر، والزهري عن سالم عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصلي بعد الجمعة ركعتين.
فهذان الحديثان في ظاهرهما مختلفان، وإنما الوجه في ذلك أنه كله جائز: أن يصلي ركعتين، وأن يصلي أربعاً، وأن يصلي أكثر من ذلك، يفصل بين كل ركعتين لقوله: ((صلاة الليل والنهار مثنى مثنى)).
والدليل على ذلك أن ابن إدريس رواه عن سهيل بن أبي صالح عن أبيه عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من كان مصلياً، فليصل بعد الجمعة أربعاً، فإن عجل به أمر صلى
৯ - অনুচ্ছেদ: জুমার পরের সালাতসুহাইল তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে চায়, সে যেন জুমার পর চার রাকাত সালাত আদায় করে।"
উবায়দুল্লাহ নাফে' থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন; আর যুহরী সালেম থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার পর দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন।
এই হাদিস দুটি বাহ্যিকভাবে ভিন্ন মনে হলেও এর প্রকৃত ব্যাখ্যা হলো—এর সবগুলোই জায়েজ: চাই দুই রাকাত পড়ুক, চার রাকাত পড়ুক, কিংবা তার চেয়ে বেশি পড়ুক; প্রতি দুই রাকাতের মাঝে সালাম ফিরিয়ে পৃথক করবে। কারণ তাঁর বাণী: "রাত ও দিনের সালাত দুই রাকাত দুই রাকাত করে।"
এর প্রমাণ হলো ইবনে ইদ্রিস এটি সুহাইল ইবনে আবি সালেহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে চায়, সে যেন জুমার পর চার রাকাত সালাত আদায় করে; তবে যদি কোনো জরুরি কাজ তাকে ত্বরান্বিত করে, তবে সে যেন সালাত আদায় করে..."
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
ركعتين في المسجد، وركعتين في أهله)).
وروى شيخ بصري يقال له: محمد بن عبد الرحمن السهمي عن حصين عن عاصم بن ضمرة عن علي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصلي بعد الجمعة أربع ركعات فيسلم في آخرهن.
وهذا حديثٌ واهٍ، لأن هذا الشيخ السهمي ليس بالمعروف بالعلم، ولأن هذا الحديث قد رواه شعبة وجماعة عن أبي إسحاق فلم يذكروا هذا فيه.
মসজিদে দুই রাকাত এবং তাঁর পরিবারে (বাড়িতে) দুই রাকাত।
এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাহমী নামক একজন বসরাবাসী শাইখ হুসাইন থেকে, তিনি আসিম বিন দামরাহ থেকে এবং তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার পরে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং তাদের শেষে সালাম ফিরাতেন।
আর এটি একটি অত্যন্ত দুর্বল হাদিস; কেননা এই শাইখ আস-সাহমী ইলমের জন্য প্রসিদ্ধ নন, এবং এই হাদিসটি শু’বাহ ও একদল বর্ণনাকারী আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা এতে এই বিষয়টি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٥١)
10 - باب الصلاة يوم الجمعة بنصف النهارروى موسى بن علي بن رباح عن أبيه عن عقبة بن عامر قال: ((ثلاث ساعات نهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نصلي فيهن أو نقبر فيهن موتانا: حين تطلع الشمس حتى ترتفع، وحين يقوم قائم الظهيرة حتى تميل الشمس، وحين تضيف للغروب حتى تغرب)).
وروى مثل هذا المعنى عن النبي صلى الله عليه وسلم عمرو بن عبسة، والصنابحي، وأبو أمامة.
وروى حسان بن إبراهيم عن ليث عن مجاهد عن أبي الخليل عن أبي قتادة أن النبي صلى الله عليه وسلم ((نهى عن الصلاة بنصف النهار إلا يوم الجمعة، فإن جهنم تسجر كل يوم نصف النهار، إلا يوم الجمعة)).
وروى الواقدي عن سعيد بن مسلم بن بانك عن المقبري
১০ - পরিচ্ছেদ: জুমার দিনে দ্বিপ্রহরের সময় সালাত আদায়মুসা ইবনে আলি ইবনে রাবাহ তার পিতা থেকে এবং তিনি উকবা ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তিনটি সময়ে সালাত আদায় করতে অথবা আমাদের মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করেছেন: যখন সূর্য উদিত হতে থাকে যতক্ষণ না তা উপরে ওঠে, যখন সূর্য ঠিক দ্বিপ্রহরে মধ্য আকাশে অবস্থান করে যতক্ষণ না তা ঢলে পড়ে এবং যখন সূর্য সূর্যাস্তের দিকে ঝুঁকে পড়ে যতক্ষণ না তা অস্ত যায়))।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একই মর্মের বর্ণনা আমর ইবনে আবাসা, আস-সুনাবিহি এবং আবু উমামা থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
হাসসান ইবনে ইবরাহিম লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু আল-খালিল থেকে এবং তিনি আবু কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ((জুমার দিন ব্যতীত অন্য দিনে দ্বিপ্রহরের সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। কেননা, জুমার দিন ব্যতীত প্রতিদিন দ্বিপ্রহরের সময় জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়))।
ওয়াকিদি সাঈদ ইবনে মুসলিম ইবনে বানাক থেকে এবং তিনি মাকবুরি থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه: ((نهى عن الصلاة نصف النهار إلا يوم الجمعة)).
فخالف هذان الحديثان تلك الأحاديث، وأحاديث النهي عامة، أثبت، لأن حديث أبي قتادة فيه علل منها: أنه لم يروه غير حسان ومنها أنه من حديث ليث، ولقد أخبرت عن أبي عبد الله أنه قدم جابراً الجعفي على ليث في صحة الحديث، ومنها أن أبا الخليل لم يلق أبا قتادة، فهذه قصص حديث أبي قتادة.
وأما حديث أبي هريرة: فإنما رواه الواقدي، وقد عرفت قصة الواقدي في روايته.
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.): ((জুমার দিন ব্যতীত দ্বিপ্রহরে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন))।
ফলে এই হাদিসদ্বয় সেই হাদিসসমূহের বিরোধিতা করছে, অথচ নিষেধ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ ব্যাপক এবং অধিক সুপ্রমাণিত। কারণ আবু কাতাদার হাদিসে কিছু ত্রুটি রয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো—হাসসান ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি, এবং অপরটি হলো—এটি লাইসের বর্ণনা। আর আমি আবু আব্দুল্লাহ হতে সংবাদ পেয়েছি যে, তিনি হাদিসের বিশুদ্ধতার বিচারে লাইসের ওপর জাবির আল-জু’ফিকে অগ্রাধিকার দিতেন। অধিকন্তু, আবু আল-খালীল আবু কাতাদার সাক্ষাৎ পাননি—এই হলো আবু কাতাদার হাদিস সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।
পক্ষান্তরে আবু হুরায়রার হাদিসটি কেবল আল-ওয়াকিদী বর্ণনা করেছেন, আর বর্ণনার ক্ষেত্রে আল-ওয়াকিদীর বিষয়টি তো তোমার জানাই আছে।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
11 - باب ما يقرأ به في صلاة الجمعةروى إبراهيم بن محمد بن المنتشر عن أبيه عن حبيب بن سالم عن النعمان بن بشير أن النبي صلى الله عليه وسلم: ((كان يقرأ في الجمعة: {سبح اسم ربك الأعلى} و {هل أتاك حديث الغاشية})).
وكذلك روى معبد بن خالد عن زيد بن عقبة عن سمرة عن النبي صلى الله عليه وسلم.
وروى جعفر بن محمد عن أبيه عن عبيد الله بن أبي رافع عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم: ((كان يقرأ في الجمعة سورة الجمعة وسورة المنافقين)).
وروى مالك عن ضمرة بن سعيد عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة عن النعمان بن بشير أن النبي صلى الله عليه وسلم: ((كان يقرأ يوم الجمعة سورة الجمعة و {هل أتاك حديث الغاشية}
১১ - পরিচ্ছেদ: জুমুআর সালাতে যা তিলাওয়াত করা হবেইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনতাশির তাঁর পিতা থেকে, তিনি হাবিব ইবনে সালিম থেকে, তিনি নুমান ইবনে বাশির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমুআতে তিলাওয়াত করতেন: {সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা} এবং {হাল আতাকা হাদিসুল গাশিয়াহ}।
অনুরূপভাবে মা’বাদ ইবনে খালিদ যায়িদ ইবনে উকবাহ থেকে, তিনি সামুরা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
জা’ফর ইবনে মুহাম্মদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু রাফি’ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমুআতে সূরা আল-জুমুআ এবং সূরা আল-মুনাফিকুন তিলাওয়াত করতেন।
মালিক দামরা ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে, তিনি নুমান ইবনে বাশির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমুআর দিন সূরা আল-জুমুআ এবং {হাল আতাকা হাদিসুল গাশিয়াহ} তিলাওয়াত করতেন।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
)).
فاختلفت هذه الأحاديث في ظاهرها، وإنما الوجه فيها أن الأمر في ذلك واسع كله.
)).
সুতরাং এই হাদিসগুলো বাহ্যিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন রূপ লাভ করেছে; তবে এগুলোর ক্ষেত্রে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি হলো এই যে, এ সংক্রান্ত বিষয়টি সামগ্রিকভাবেই প্রশস্ত।
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
12 - باب في الساعة التي ترجى يوم الجمعةروى عبد الله بن وهب عن عمرو بن الحارث عن الجلاح مولى عبد العزيز بن مروان عن جابر بن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه ذكر الساعة التي في الجمعة، فقال: ((التمسوها آخر الساعات بعد العصر)).
وروى سلم بن قتيبة عن الأصبغ بن زيد عن سعيد بن رافع عن زيد بن علي عن أبيه عن فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم أنها سألت النبي صلى الله عليه وسلم عنها فقال: ((إذا تدلى نصف عين الشمس للغروب)).
وروى كثير بن عبد الله عن أبيه عن جده أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل عنها فقال: ((ما بين فراغ الإمام من الخطبة إلى أن تقضى الصلاة)).
১২ - জুমার দিনে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত বিষয়ক অনুচ্ছেদআবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমর ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আবদুল আজিজ ইবনে মারওয়ানের মুক্তদাস জুল্লাহ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জুমার দিনের সেই বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে উল্লেখ করেন এবং বলেন: “তোমরা তা আসরের পর দিনের শেষ মুহূর্তগুলোতে অন্বেষণ করো।”
সালম ইবনে কুতাইবা আসবাগ ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে রাফি থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আলী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কন্যা ফাতিমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: “যখন সূর্যাস্তের জন্য সূর্যের অর্ধেক চাকতি ঝুলে পড়ে।”
কাসীর ইবনে আবদুল্লাহ তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: “ইমামের খুতবা শেষ করা থেকে সালাত সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সময়টুকু।”
(খণ্ড: ১)
নাসিখুল হাদীস ওয়া মানসূখুহু লিল আসরাম
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
وروى محمد بن أبي حميد عن موسى بن وردان عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((التمسوها فيما بين صلاة العصر إلى غروب الشمس)).
وروى مخرمة بن بكير عن أبيه عن أبي بردة بن أبي موسى قال: قال لي ابن عمر: أسمعت أباك يحدث عن النبي صلى الله عليه وسلم في ساعة الجمعة، قال، فقلت: نعم، سمعته يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((هي ما بين أن يجلس الإمام إلى أن تقضى الصلاة)).
فاختلفت هذه الأحاديث في ظاهرها وفي أسانيدها، وإن أحسن ما يعمل به في ذلك أن تلتمس في جميع هذه الأوقات احتياطاً واستظهاراً.
فأما وجه اختلاف الأحاديث، فلن تخلوا من وجهين:
إما أن يكون بعضها أصح من بعض، وإما أن تكون هذه الساعة تتنقل في الأوقات كانتقال ليلة القدر في ليالي العشر.
মুহাম্মদ ইবন আবু হুমাইদ মূসা ইবন ওয়ারদান থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা একে আসরের সালাত থেকে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়ে অনুসন্ধান করো।"
মাখরামা ইবন বুকাইর তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু বুরদা ইবন আবু মূসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন উমর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কি আপনার পিতাকে জুমুআর দিনের বিশেষ মুহূর্ত সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন?" তিনি বলেন, আমি বললাম: "হ্যাঁ, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, 'তা হলো ইমামের বসা থেকে সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টুকু'।"
এই হাদীসগুলোর প্রকাশ্য রূপ এবং এগুলোর সনদসমূহে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে আমল করার সর্বোত্তম পন্থা হলো সতর্কতা এবং বিষয়টি সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সকল সময়েই তা অনুসন্ধান করা।
আর হাদীসগুলোর এই মতপার্থক্যের কারণ দুটি বিষয়ের বাইরে নয়:
হয়তো এগুলোর মধ্যে কিছু বর্ণনা অন্যগুলোর তুলনায় অধিকতর বিশুদ্ধ, অথবা এই বিশেষ মুহূর্তটি বিভিন্ন সময়ে আবর্তিত হয়, যেমন শেষ দশকের রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর আবর্তিত হয়ে থাকে।