(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: -)
الدرة الثمينة في أخبار المدينة - ط دار الأرقم (محب الدين ابن النجار)
القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: الدرة الثمينة في أخبار المدينة
المؤلف: محب الدين أبو عبد الله محمد بن محمود بن الحسن المعروف بابن النجار (ت 643 هـ)
المحقق: حسين محمد علي شكري
الناشر: شركة دار الأرقم بن أبي الأرقم
عدد الصفحات: 173
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - দারুল আরকাম প্রকাশনা (মুহিব্বুদ্দীন ইবনুন নাজ্জার)
বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী
বই: আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ
লেখক: মুহিব্বুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন আল-হাসান, যিনি ইবনুন নাজ্জার নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরি)
সম্পাদক: হুসাইন মুহাম্মদ আলী শুকরী
প্রকাশক: শারিকাহ দারুল আরকাম বিন আবিল আরকাম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৩
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খায়রি আকবিল
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: -)
الدرة الثمينةفي أخبار المدينة لابن النجارالإمام الحافظ أبي عبد الله محمد بن محمود بن النجار البغدادي(578 - 643 هـ) قابل أصوله الخطية وعلق عليهحسين محمد علي شكري شركة دار الأرقم بن أبي الأرقم
আদ-দুররাতুস সামীনাহ (মূল্যবান মুক্তা)মদিনার ইতিবৃত্ত প্রসঙ্গে ইবনুন নাজ্জার প্রণীতইমাম হাফিয আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মাহমুদ ইবনুন নাজ্জার আল-বাগদাদী(৫৭৮ - ৬৪৩ হিজরি) এর পাণ্ডুলিপিগুলোর মূল পাঠ মিলিয়েছেন এবং টীকা প্রদান করেছেনহুসাইন মুহাম্মাদ আলী শুকরী দারুল আরকাম বিন আবিল আরকাম প্রকাশনী
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مقدمة المؤلفبسم الله الرحمن الرحيموصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.أخبرنا الفقيه الأجل الإمام العالم الشريف العدل؛ تاج الدين علي بن أبي العباس أحمد بن الشيخ الأجل أبي محمد عبد المحسن بقراءتي عليه.أخبرنا الشيخ الفقيه الأجل أبو عبد الله محمد بن محمود بن النجار بقراءة أبي عليه، وقراءة ابن الوليد عليه وأنا أسمع، قال:الحمد لله حمداً يقتضي من إحسانه المزيد، ويبلغنا من رضوانه ما نؤمل ونريد، والصلاة والسلام على من هدانا إلى المنهج السديد، محمد الذي هو على أمته شهيد، وعلى آله وأصحابه ذوي المجد المشيد، ما سار راكب في البيد.وبعد؛ فإني لما دخلت مدينة النبي صلى الله عليه وسلم، وأسعدت بزيارته أقمت بها، واجتمعت بجماعة من أهل الصلاح والعلم والفضل من المجاورين بها، وفقهم الله وإيانا لمرضاته، فسألوني عن ((فضائل المدينة وأخبارها)) فأخبرتهم بما تعلق في خاطري من ذلك، فسألوني إثباته في أوراق، فاعتذرت إليهم بأن الحفظ قد يزيد وينقص، ولو كانت كتبي حاضرة كنت أجمع كتاباً في ذلك شافياً لما في النفس، فألحوا علي في ذلك وقالوا: تحصيل اليسير، خير من فوات الكثير! وهذه البلدة مع شرفها قد خلت ممن يعرف من أخبارها شيئاً، ونحن نحب أن يكون لك بها أثر صالح تذكر به!فأجبتهم إلى ذلك رجاء بركتهم، واغتناماً لامتثال أمرهم، وقضاء لحق جوارهم وصحبتهم، وطلباً لما عند الله تعالى من الثواب بنشر فضائل دار الهجرة ومنبع الوحي، وذكر أخبارها والترغيب في سكناها، والحث على زيارة المدفون بها، صلوات الله عليه وسلامه، واستخرت الله سبحانه وتعالى، وأثبت في هذا الكتاب ما تيسر من ذلك بعون الله تعالى وحسن توفيقه.
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।অতি মহান ফকীহ, ইমাম, আলিম, উচ্চবংশীয় ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি তাজউদ্দীন আলী ইবনে আবিল আব্বাস আহমদ ইবনে আশ-শায়খুল আজাল আবু মুহাম্মাদ আবদুল মুহসিন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, যখন আমি তাঁর সামনে পাঠ করছিলাম।অতি মহান শায়খ ও ফকীহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আন-নাজ্জার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতার পাঠের মাধ্যমে, এবং ইবনুল ওয়ালীদও তাঁর সামনে পাঠ করছিলেন আর আমি শুনছিলাম। তিনি বললেন:সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; এমন প্রশংসা যা তাঁর অনুগ্রহ থেকে আরও বৃদ্ধির দাবী রাখে এবং তাঁর সন্তুষ্টির যা কিছু আমরা আশা ও আকাঙ্ক্ষা করি, তাতে আমাদের পৌঁছে দেয়। আর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যিনি আমাদের সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন—মুহাম্মাদ, যিনি তাঁর উম্মতের ওপর সাক্ষী; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সঙ্গীদের ওপর, যতক্ষণ মরুভূমিতে কোনো আরোহী পথ চলবে।অতঃপর; যখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নগরে প্রবেশ করলাম এবং তাঁর যিয়ারতের সৌভাগ্য লাভ করলাম, তখন আমি সেখানে অবস্থান করলাম। সেখানে অবস্থানকারী একদল নেককার, জ্ঞানী ও গুণী মানুষের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো—আল্লাহ তাদেরকে এবং আমাদের তাঁর সন্তুষ্টির তাওফীক দান করুন। তাঁরা আমাকে "মদীনার ফযীলত ও এর ঘটনাবলী" সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। এ বিষয়ে আমার স্মৃতিতে যা কিছু ছিল আমি তাঁদের জানালাম। তাঁরা আমাকে এগুলো কাগজে লিখে রাখার অনুরোধ করলেন। আমি তাঁদের কাছে ওযর পেশ করলাম এই বলে যে, মুখস্থ স্মৃতি বাড়ে ও কমে; যদি আমার কিতাবগুলো উপস্থিত থাকতো তবে আমি এ বিষয়ে এমন একটি কিতাব সংকলন করতাম যা মনের তৃষ্ণা মেটাতো। কিন্তু তাঁরা এ বিষয়ে আমার ওপর জোরাজুরি করলেন এবং বললেন: "অল্প অর্জন করা অনেক হারিয়ে ফেলার চেয়ে উত্তম! এই শহরটি এত মর্যাদাপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে এখানে এমন কেউ নেই যে এর ইতিহাস সম্পর্কে কিছু জানে। আমরা চাই এখানে আপনার একটি নেক আমলের চিহ্ন থাকুক যার মাধ্যমে আপনাকে স্মরণ করা হবে!"তাই তাঁদের বরকতের আশায়, তাঁদের আদেশ পালনের সুযোগ গ্রহণ করে এবং তাঁদের প্রতিবেশী ও সাহচর্যের হক আদায়ের লক্ষ্যে আমি তাঁদের প্রস্তাবে সাড়া দিলাম। হিজরতভূমি ও ওহী নাযিলের স্থানের ফযীলত প্রচার করা, এর ঘটনাবলী উল্লেখ করা, এখানে বসবাসের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এখানে যিনি শায়িত আছেন তাঁর যিয়ারতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে সওয়াবের প্রত্যাশা করছি—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং আল্লাহর সাহায্য ও উত্তম তাওফীকে যা সহজ হয়েছে তা এই কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثم إني ذكرت أكثره بغير إسناد لتعذر حضور أصولي.. .. وأنا أسأل الله سبحانه وتعالى أن يجعل ذلك لوجهه خالصاً وإليه مقرباً، ولنا نافعاً في الدنيا والآخرة، إنه على ما يشاء قدير.وقد قسمته ثمانية عشر باباً، والله سبحانه الموفق للصواب:الباب الأول: في ذكر أسماء المدينة وأول ساكنيها.الباب الثاني: في ذكر فتح المدينة.الباب الثالث: في ذكره هجرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه إليها.الباب الرابع: في ذكر فضائلها.الباب الخامس: في ذكر تحريمها وحدود حرمها.الباب السادس: في ذكر وادي العقيق وفضله.الباب السابع: في ذكر آبار المدينة وفضلها.الباب الثامن: في ذكر جبل أحد وفضله وفضائل الشهداء به.الباب التاسع: في ذكر إجلاء بني النضير من المدينة.الباب العاشر: في ذكر حفر الخندق حول المدينة.الباب الحادي عشر: في ذكر قتل بني قريظة بالمدينة.الباب الثاني عشر: في ذكر مسجد النبي صلى الله عليه وسلم وفضله.الباب الثالث عشر: في ذكر المساجد التي بالمدينة وفضلها.الباب الرابع عشر: في ذكر مسجد الضرار وهدمه.الباب الخامس عشر: في ذكر وفاة النبي صلى الله عليه وسلم وصاحبيه رضي الله عنهما.الباب السادس عشر: في ذكر فضل زيارة النبي صلى الله عليه وسلم.الباب السابع عشر: في ذكر البقيع وفضله.الباب الثامن عشر: في ذكر أعيان من سكن المدينة من الصحابة والتابعين من بعدهم.ومن الله نستمد الهداية والسداد، إلى سبل الحق والرشاد.
অতঃপর আমি এর অধিকাংশ বিষয় সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছি আমার মূল উৎসগ্রন্থগুলো উপস্থিত না থাকার কারণে। আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানান, আর দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদের জন্য একে উপকারী করেন। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম।আমি একে আঠারোটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি, আর মহান আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা:প্রথম অধ্যায়: মদিনার নামসমূহ এবং এর প্রথম অধিবাসীদের আলোচনা।দ্বিতীয় অধ্যায়: মদিনা বিজয়ের আলোচনা।তৃতীয় অধ্যায়: মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের হিজরতের আলোচনা।চতুর্থ অধ্যায়: মদিনার ফজিলতের আলোচনা।পঞ্চম অধ্যায়: মদিনার পবিত্রতা এবং এর হারামের সীমানার আলোচনা।ষষ্ঠ অধ্যায়: ওয়াদি আকিক এবং এর ফজিলতের আলোচনা।সপ্তম অধ্যায়: মদিনার কূপসমূহ এবং সেগুলোর ফজিলতের আলোচনা।অষ্টম অধ্যায়: উহুদ পাহাড়, এর ফজিলত এবং সেখানে শহীদগণের ফজিলতের আলোচনা।নবম অধ্যায়: মদিনা থেকে বনু নাজিরের বহিষ্কারের আলোচনা।দশম অধ্যায়: মদিনার চারপাশে পরিখা খননের আলোচনা।একাদশ অধ্যায়: মদিনায় বনু কুরাইজার হত্যার (দণ্ড প্রদানের) আলোচনা।দ্বাদশ অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ এবং এর ফজিলতের আলোচনা।ত্রয়োদশ অধ্যায়: মদিনায় অবস্থিত অন্যান্য মসজিদসমূহ এবং সেগুলোর ফজিলতের আলোচনা।চতুর্দশ অধ্যায়: মসজিদে দিরার এবং তা ধ্বংস করার আলোচনা।পঞ্চদশ অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর দুই সাথীর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ইন্তেকালের আলোচনা।ষোড়শ অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জিয়ারতের ফজিলতের আলোচনা।সপ্তদশ অধ্যায়: জান্নাতুল বাকি এবং এর ফজিলতের আলোচনা।অষ্টাদশ অধ্যায়: সাহাবী এবং তাদের পরবর্তী তাবেয়ীদের মধ্য থেকে মদিনায় বসবাসকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আলোচনা।আমরা আল্লাহর কাছেই সত্য ও সঠিক পথের হেদায়েত এবং অবিচলতা কামনা করি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الباب الأول في ذكر أسماء المدينة وذكر أول ساكنيهاأنبأنا ذاكر بن كامل قال: كتب إلي أبو علي الحداد أن أبا نعيم الحافظ أخبره إجازة، عن أبي محمد الخلدي قال: أنبأنا محمد بن عبد الرحمن المخزومي، حدثنا الزبير بن بكار، قال: حدثنا محمد بن الحسن بن زبالة، عن إبراهيم بن أبي يحيى.قال: للمدينة في التوراة أحد عشر اسماً: المدينة، وطيبة، وطابة، والمسكينة، وجابرة، والمجبورة، والمرحومة، والعذراء، والمحبة، والمحبوبة، والقاصمة.وقال ابن زبالة: عن عبد العزيز بن محمد بن موسى بن عقبة، عن عطاء بن مروان، عن أبيه، عن كعب.قال: نجد في كتاب الله الذي نزل على موسى عليه السلام أن الله تعالى قال للمدينة: ((يا طيبة، يا طابة، يا مسكينة، لا تقبلي الكنوز، ارفعي أجاجيرك على أجاجير القرى)) .قال عبد العزيز بن محمد: وبلغني أن لها في التوراة أربعين اسماً.وفي ((صحيح مسلم)) من حديث جابر بن سمرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((إن الله تعالى سمى المدينة طابة)) .وفي ((صحيح مسلم)) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((هي المدينة يثرب)) .
প্রথম অধ্যায়: মদিনার নামসমূহ এবং এর প্রথম অধিবাসীদের বর্ণনায়জাকির বিন কামিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী আল-হাদ্দাদ আমার নিকট লিখেছেন যে, হাফেজ আবু নুআইম তাকে ইজাজতসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-খুলদি থেকে, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-মাখজুমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জুবাইর বিন বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন হাসান বিন জাবালা আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন আবু ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন।তিনি বলেন: তাওরাতে মদিনার এগারোটি নাম রয়েছে: আল-মদিনা, তয়িবা, তবা, আল-মিসকিনা, জাবিরা, আল-মাজবূরা, আল-মারহুমা, আল-আযরা, আল-মুহিব্বা, আল-মাহবুবা এবং আল-কাসিমা।ইবনে জাবালা আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন উকবা থেকে, তিনি আতা বিন মারওয়ান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেছেন।তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর কিতাবে, যা মুসা আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে পাই যে, আল্লাহ তাআলা মদিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: ((হে তয়িবা, হে তবা, হে মিসকিনা, তুমি ধন-ভাণ্ডার গ্রহণ করো না, তুমি তোমার অট্টালিকাগুলোকে অন্যান্য জনপদের অট্টালিকার উপরে উন্নীত করো))।আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তাওরাতে এর চল্লিশটি নাম রয়েছে।সহীহ মুসলিমে জাবির বিন সামুরা (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মদিনার নাম 'তবা' রেখেছেন))।সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((এটিই মদিনা, যা ইয়াসরিব))।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال أبو عبيدة معمر بن المثنى: يثرب اسم أرضٍ، ومدينة النبي صلى الله عليه وسلم في ناحية منها.وقال ابن زبالة: كانت يثرب أم قرى المدينة، وهي ما بين طرف قناة إلى طرف الجرف، وما بين المال الذي يقال له: البرني إلى زبالة.وكانت زهرة من أعظم قرى المدينة، قيل: وكان فيها ثلاثمائة صائغ من اليهود.وقيل: إن تبعاً لما قدم المدينة بعث رائداً ينظر إلى مزارع المدينة فأتاه فقال: قد نظرت؛ فأما قناة فحبٌ ولا تبنٌ، وأما الحرار فلا حبٌ ولا تبنٌ، وأما الجرف فالحب والتبن.قال أهل السير: كان أول من نزل المدينة بعد غرق قوم نوح قوم يقال لهم: صعل، وفالج. فغزاهم داود النبي عليه السلام، فأخذ منهم مائة ألف عذراء، قال: وسلط الله عليهم الدود في أعناقهم فهلكوا، فقبورهم هذه التي في السهل والجبل.قالوا: وكانت العماليق قد انتشروا في البلاد، فسكنوا مكة والمدينة والحجاز كله، وعتوا عتواً كبيراً، فبعث إليهم موسى –عليه السلام جنداً من بني إسرائيل فقتلوهم بالحجاز وأفنوهم.يروى عن زيد بن أسلم أنه قال: بلغني أن ضبعاً رؤيت هي وأولادها رابضةً في حجاج عين رجل من العماليق.وقال: لقد كان في ذلك الزمان تمضي أربعمائة سنة وما يسمع بجنازة!.ذكر سكنى اليهود الحجازقال: وإنما كان سبب سكنى اليهود بلاد الحجاز أن موسى عليه السلام لما أظهره الله على فرعون وأهلكه وجنوده، وطئ الشام وأهلك من بها، وبعث بعثاً من اليهود إلى الحجاز وأمرهم ألا يستبقوا من العماليق
আবু উবাইদাহ মা'মার ইবনুল মুসান্না বলেছেন: ইয়াসরিব হলো একটি ভূখণ্ডের নাম, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শহর এর এক পার্শ্বে অবস্থিত।ইবনে জাবালা বলেছেন: ইয়াসরিব ছিল মদিনার প্রধান গ্রামসমূহের কেন্দ্র, আর তা কানাতের এক প্রান্ত থেকে জুরফের এক প্রান্ত পর্যন্ত এবং আল-বারনি নামক বাগান থেকে জাবালা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।জুহরাহ ছিল মদিনার অন্যতম বৃহত্তম গ্রাম; বলা হয় যে, সেখানে ইহুদিদের তিনশ স্বর্ণকার ছিল।বর্ণিত আছে যে, তুব্বা যখন মদিনায় আসলেন, তখন তিনি মদিনার খামারগুলো দেখার জন্য একজন পরিদর্শক পাঠালেন। সে ফিরে এসে বলল: আমি দেখেছি; কানাত এলাকা হলো কেবল দানা (শস্য) কিন্তু সেখানে খড় নেই; হাররাহ অঞ্চলে শস্য বা খড় কিছুই নেই; আর জুরফ এলাকায় শস্য ও খড় উভয়ই রয়েছে।ইতিহাসবিদগণ বলেন: নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কওম নিমজ্জিত হওয়ার পর যারা সর্বপ্রথম মদিনায় বসতি স্থাপন করেছিল তারা ছিল সা’ল এবং ফালিজ নামক জাতি। নবী দাউদ (আলাইহিস সালাম) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তাদের থেকে এক লক্ষ কুমারী গ্রহণ করেন। তিনি বলেন: আল্লাহ তাদের ঘাড়ের ওপর পোকা বা কৃমি চাপিয়ে দিয়েছিলেন, ফলে তারা ধ্বংস হয়ে যায়। সমতল ও পাহাড়ে অবস্থিত এই কবরগুলো তাদেরই।তাঁরা বলেন: আমালিকা সম্প্রদায় বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তারা মক্কা, মদিনা ও সমগ্র হিজাজে বসবাস করত। তারা চরম অবাধ্যতা প্রদর্শন করেছিল। ফলে মুসা (আলাইহিস সালাম) তাদের বিরুদ্ধে বনী ইসরাইলের এক সেনাদল প্রেরণ করেন; তারা হিজাজে তাদের হত্যা করে এবং সমূলে নির্মূল করে দেয়।জাইদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আমালিকা সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির চোখের গর্তে একটি হায়েনা ও তার বাচ্চাদের শুয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল।তিনি বলেন: সেই সময় চারশ বছর অতিবাহিত হয়ে যেত অথচ কোনো জানাজার কথা শোনা যেত না!হিজাজে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের বিবরণতিনি বলেন: হিজাজ ভূখণ্ডে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের কারণ ছিল এই যে, আল্লাহ যখন মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে ফেরাউনের ওপর বিজয় দান করলেন এবং তাকে ও তার বাহিনীকে ধ্বংস করলেন, তখন তিনি শাম অঞ্চলে পদার্পণ করেন এবং সেখানকার অবাধ্যদের ধ্বংস করেন। এরপর তিনি হিজাজে ইহুদিদের একটি সেনাদল প্রেরণ করেন এবং তাদের নির্দেশ দেন যেন তারা আমালিকা সম্প্রদায়ের কাউকেই জীবিত না রাখে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أحداً بلغ الحلم، فقدموا عليهم فقتلوهم وقتلوا ملكهم ((نبنما)) . وكان يقال له: الأرقم بن أبي الأرقم، وأصابوا ابناً له شاباً من أحسن الناس، فضنوا به عن القتل، وقالوا: نستحييه حتى نقدم به على نبي الله موسى عليه السلام فيرى فيه رأيه، فأقبلوا وهو معهم، وقبض الله موسى قبل قدومهم.فلما سمع الناس بقدومهم تلقوهم، فسألوهم عن أمرهم، فأخبروهم بما فتح الله عليهم وقالوا: لم نستبق منهم أحداً إلا هذا الفتى، فإننا لم نر شاباً أحسن منه فاستبقيناه حتى نقدم به على [نبي الله] موسى عليه السلام فيرى فيه رأيه.فقالت لهم بنو إسرائيل: إن هذه لمعصية لمخالفتكم أمر نبيكم، لا والله لا تدخلون علينا بلادنا، وحالوا بينهم وبين الشام، فقال الجيش، ما بلد إذ منعتم بلدكم خير من البلد الذي خرجتم منه.وكانت الحجاز أشجر بلاد الله وأظهره ماءً.قال: وكان هذا أول سكنى اليهود الحجاز بعد العماليق.وقال آخرون: بل كان علماؤهم يجدون في التوراة أن نبياً يهاجر من العرب إلى بلد فيه نخل بين حرتين، فأقبلوا من الشام يطلبون صفة البلد، فنزل طائفة تيماء وتوطنوا نخلاً، ومضى طائفة فلما رأوا خيبر ظنوا أنها البلدة التي يهاجر إليها، فأقام بعضهم بها، ومضى أكثرهم وأشرفهم فلما رأوا يثرب سبخةً وحرةً ونخلاً قالوا: هذا البلد الذي يكون له مهاجر النبي إليها، فنزلوه، فنزل النضير بمن معه بطحان فنزلوا منها حيث شاءوا وكان جمعيهم بزهرة، وهي محل بين الحرة والسافلة مما يلي القف، وكانت لهم الأموال بالسافلة، ونزل جمهورهم بمكان يقال له: يثرب بمجتمع السيول –سيل بطحان والعقيق، وسيل قناة- مما يلي زغابة.قال: وخرجت قريظة وإخوانهم بنو هدل وعمرو أبناء الخزرج بن الصريح بن التومان بن السبط بن اليسع بن سعد بن لاوي بن خير بن النحام بن تنحوم بن عازر بن عذري بن هارون بن عمران عليه السلام.والنضر بن النحام بن الخزرج بن الصريح بعد هؤلاء، فتبعوا آثارهم
প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে তারা ছাড়ল না, বরং তাদের ওপর আক্রমণ করল এবং তাদের হত্যা করল এবং তাদের রাজাকেও হত্যা করল যার নাম ছিল (নাবনামা)। তাকে আল-আরকাম ইবন আবি আল-আরকাম বলা হতো। তারা তার এক অত্যন্ত সুদর্শন যুবক পুত্রকে পেল, ফলে তাকে হত্যা করতে তাদের মন চাইল না। তারা বলল: আমরা তাকে জীবিত রাখি যতক্ষণ না আল্লাহর নবী মূসা আলাইহিস সালামের কাছে নিয়ে যাই, যাতে তিনি তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। অতঃপর তারা অগ্রসর হলো এবং সে তাদের সাথে ছিল, কিন্তু তাদের পৌঁছানোর আগেই আল্লাহ মূসাকে মৃত্যু দান করলেন।যখন লোকেরা তাদের আগমনের কথা শুনল, তখন তারা তাদের অভ্যর্থনা জানাল এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তারা আল্লাহ তাদের ওপর যে বিজয় দান করেছেন সে সম্পর্কে অবহিত করল এবং বলল: আমরা এই যুবকটি ছাড়া তাদের কাউকে জীবিত রাখিনি। কারণ আমরা তার চেয়ে সুন্দর কোনো যুবক দেখিনি, তাই তাকে জীবিত রেখেছি যাতে আল্লাহর নবী মূসা আলাইহিস সালামের কাছে নিয়ে যাই এবং তিনি তার ব্যাপারে তাঁর সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।বনী ইসরাঈল তাদের বলল: তোমাদের নবীর নির্দেশের বিরোধিতা করার কারণে এটি অবশ্যই একটি পাপাচার। আল্লাহর কসম, তোমরা আমাদের দেশে আমাদের কাছে প্রবেশ করতে পারবে না। তারা তাদের এবং সিরিয়ার মাঝখানে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল। তখন সেনাবাহিনী বলল, তোমরা যখন তোমাদের দেশে আমাদের প্রবেশ করতে বাধা দিলে, তখন যে দেশ থেকে তোমরা বের হয়েছিলে সেই দেশের চেয়ে কোনো দেশই উত্তম নয়।আর হিজায ছিল আল্লাহর ভূমিসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃক্ষশোভিত এবং সবচেয়ে বেশি পানির উৎস সমৃদ্ধ দেশ।তিনি বলেন: আমালিকা সম্প্রদায়ের পর এটিই ছিল হিজাযে ইহুদিদের প্রথম বসতি স্থাপন।অন্যরা বলেন: বরং তাদের আলেমগণ তাওরাতে পেতেন যে, আরবদের মধ্য থেকে একজন নবী এমন এক শহরে হিজরত করবেন যেখানে দুটি আগ্নেয় শিলাবেষ্টিত ভূমির মাঝে খেজুর বাগান রয়েছে। ফলে তারা সিরিয়া থেকে সেই শহরের সন্ধানে বের হলেন। একদল তায়মায় অবতরণ করল এবং সেখানে খেজুর বাগানে বসতি স্থাপন করল। অন্য একদল অগ্রসর হলো, যখন তারা খায়বার দেখল, তারা ধারণা করল যে এটিই সেই শহর যেখানে তিনি হিজরত করবেন। তাই তাদের কেউ কেউ সেখানে অবস্থান করল। তাদের অধিকাংশ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে চললেন। যখন তারা ইয়াসরিবকে লবণাক্ত ভূমি, আগ্নেয় শিলাবেষ্টিত ভূমি এবং খেজুর বাগান হিসেবে দেখলেন, তখন তারা বললেন: এটিই সেই শহর যেখানে নবীর হিজরত হবে। তারা সেখানে অবতরণ করলেন। বানু নাযীর তাদের সাথীদের নিয়ে বাতহানে অবতরণ করলেন এবং সেখানে যেখানে ইচ্ছা বসবাস শুরু করলেন। তারা সবাই জাহরা নামক স্থানে ছিলেন, যা আগ্নেয় শিলাবেষ্টিত ভূমি এবং নিচু ভূমির মাঝখানে আল-কুফ সংলগ্ন একটি এলাকা। নিচু ভূমিতে তাদের সম্পদ ছিল। তাদের অধিকাংশ ইয়াসরিব নামক স্থানে অবতরণ করল যেখানে প্রবাহগুলোর মিলনস্থল ছিল—বাতহান ও আকীক প্রবাহ এবং কানাত প্রবাহ—যা জুগাবাহ সংলগ্ন এলাকা।তিনি বলেন: আর কুরাইজা এবং তাদের ভাই বানু হাদল ও আমর ইবনুল খাজরাজ ইবনাস সারীহ ইবনুত তাওমান ইবনুস সিবত ইবনুল ইয়াসা ইবনে সাদ ইবনে লাবী ইবনে খাইর ইবনুন নাহাম ইবনে তানহুম ইবনে আযির ইবনে উযরী ইবনে হারূন ইবনে ইমরান আলাইহিস সালাম বের হয়ে আসলেন।আর আন-নাযর ইবনুন নাহাম ইবনুল খাজরাজ ইবনাস সারীহ এদের পরে ছিলেন, তারা তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فنزلوا العالية على واديين يقال لهما: مذينيب ومهزور، فنزلت بنو النضير على مذينيب واتخذوا عليه الأموال، ونزل قريظة وهدل على مهزور واتخذوا عليه الأموال. وكانوا أول من احتفر بها الآبار وغرس الأموال، وابتنوا الآطام والمنازل، قالوا: فجميع ما بنى اليهود بالمدينة تسعة وخمسون أطماً.قال عبد العزيز بن عمران: وقد نزل المدينة قبل الأوس والخزرج أحياء من العرب، منهم أهل التهمة تفرقوا جانب بلقيز إلى المدينة، فنزلت ما بين مسجد الفتح إلى يثرب في الوطاء، وجعلت الجبل بينها وبين المدينة، فأبرت بها الآبار والمزارع.ذكر نزول أحياء من العرب على يهودقالوا: وكان بالمدينة قرى وأسواق من يهود بني إسرائيل، وكان قد نزلها عليهم أحياء من العرب فكانوا معهم، وابتنوا الآطام والمنازل قبل نزول الأوس والخزرج؛ وهم: بنو أنيف حي من بلي، ويقال: إنهم من بقية العماليق، وبنو مزيد حي من بلي، وبنو معاوية بن الحارث بن بهثة بن سليم بن منصور بن عكرمة بن خصفة بن قيس بن عيلان، وبنو الجذماء حي من اليمن.قالوا: وكانت الآطام عز أهل المدينة ومنعتهم التي يتحصنون فيها من عدوهم، فكان منها ما يعرف اسمه ومنها ما لا يعرف اسمه، ومنها ما يعرف باسم سيده، ومنها ما لا يدرى لمن كان، ومنها ما ذكر في الشعر، ومنها ما لم يذكر، فكان ما بني هناك من الآطام للعرب بالمدينة ثلاثة عشر أطماً.ذكر نزول الأوس والخزرج المدينةقالوا: فلم تزل اليهود الغالبة بها الظاهرة عليها حتى كان من أمر سيل العرم ما كان وما قص الله في كتابه، وذلك أن أهل مأرب وهي أرض سبأ كانوا آمنين في بلادهم، تخرج المرأة بمغزلها لا تتزود شيئاً، تبيت في قرية وتقيل في أخرى حتى تأتي الشام.فقالوا: {ربنا باعد بين أسفارنا} .
তারা আলিয়ার (উঁচু অঞ্চল) দুটি উপত্যকায় অবতরণ করল যাদের বলা হয়: মুযাইনিব এবং মাহযুর। বনু নাযির মুযাইনিবে অবতরণ করল এবং সেখানে বাগান ও সম্পদ গড়ে তুলল। আর বনু কুরায়জা এবং হাদাল মাহযুরে অবতরণ করল এবং সেখানে বাগান ও সম্পদ গড়ে তুলল। তারাই প্রথম সেখানে কূয় খনন করেছিল এবং বৃক্ষরোপণ করেছিল। তারা সেখানে দুর্গ ও ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছিল। তারা বলেন: মদিনায় ইহুদিদের নির্মিত দুর্গের মোট সংখ্যা ছিল ঊনষাটটি।আব্দুল আজিজ ইবনে ইমরান বলেন: আউস ও খাজরাজ গোত্রের আগমনের আগে মদিনায় আরবদের কিছু গোত্র বসবাস করত। তাদের মধ্যে তুহামার অধিবাসীরা বালকিযের পাশ থেকে মদিনায় ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা মাসজিদে ফাতহ থেকে ইয়াসরিবের মধ্যবর্তী নিচু সমতলে বসতি স্থাপন করেছিল এবং পাহাড়কে তাদের ও মদিনার মাঝে আড়াল হিসেবে রেখেছিল। তারা সেখানে কূয় খনন করেছিল এবং কৃষিজমি তৈরি করেছিল।ইহুদিদের সাথে আরব গোত্রগুলোর বসবাসের বর্ণনাতারা বলেন: মদিনায় বনী ইসরাঈলের ইহুদিদের গ্রাম ও বাজার ছিল। আউস ও খাজরাজ গোত্রের আগমনের পূর্বেই আরবদের কিছু গোত্র তাদের সাথে এসে বসবাস শুরু করেছিল এবং তারা সেখানে দুর্গ ও ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছিল। তারা হলো: বালির একটি শাখা বনু উনাইফ—বলা হয় যে তারা আমালিকা জাতির অবশিষ্টাংশ—বালির আরেকটি শাখা বনু মাযিদ, এবং বনু মুয়াবিয়া ইবনুল হারিস ইবনে বাহসাহ ইবনে সুলাইম ইবনে মানসুর ইবনে ইকরামা ইবনে খাসাফাহ ইবনে কায়স ইবনে আয়লান, আর ইয়ামানের একটি গোত্র বনু জাযমা।তারা বলেন: এই দুর্গগুলো ছিল মদিনাবাসীদের শক্তি ও নিরাপত্তার কেন্দ্র, যেখানে তারা শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করত। এগুলোর মধ্যে কোনোটির নাম সুপরিচিত ছিল, কোনোটির নাম জানা ছিল না; কোনোটি এর মালিকের নামে পরিচিত ছিল, আবার কোনোটি কার মালিকানায় ছিল তা জানা যেত না। কোনোটির কথা কবিতায় উল্লেখিত হয়েছে, কোনোটির হয়নি। মদিনায় আরবদের নির্মিত দুর্গের সংখ্যা ছিল তেরোটি।মদিনায় আউস ও খাজরাজ গোত্রের আগমনের বর্ণনাতারা বলেন: মদিনায় ইহুদিরাই প্রভাবশালী ও বিজয়ী হিসেবে অবস্থান করছিল, যতক্ষণ না ‘সায়লে আরিম’ (বাঁধ ভাঙা মহাপ্লাবন) এর ঘটনাটি ঘটে যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন। ব্যাপারটি ছিল এই যে, মারিবের অধিবাসীরা—যা ছিল সাবার ভূমি—তাদের দেশে অত্যন্ত নিরাপদ ছিল। একজন নারী তার সুতা কাটার চরকা নিয়ে বের হতো এবং সাথে কোনো পাথেয় নিত না; সে এক গ্রামে রাত কাটাত এবং অন্য গ্রামে দুপুরের বিশ্রাম নিত, এভাবে সে সিরিয়া পর্যন্ত পৌঁছে যেত।অতঃপর তারা বলল: "হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের সফরের বিরতিগুলোর মাঝে দূরত্ব বাড়িয়ে দিন।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فسلط الله عليهم العرم وهو جرذ، فنقب عليهم السد حتى دخل السيل عليهم فأهلكم، وتمزق من سلم منهم في البلاد، وكان السد فرسخاً في فرسخ، كان بناه لقمان الأكبر العادي، بناه للدهر على زعمه، وكان يجتمع إليه مياه أهل اليمن من مسيرة شهر.قالوا: فكانوا في عيدٍ لهم، وكان فيهم هتام بن ربيعة بن عمرو بن عامر، وكان كاهناً غيشوماً فقالت له بنو عمرو: قل. قال: قولي لكم وعليكم! قالوا: نعم، فقال:يا رب من ورث عاد … اجعل مأرب بيننا فانعماصحاصحا غيراً وفجاً اقتما … منها لأن الركب فيها أظلمافأوحش عليه الليل أزرما …فكان تمزيقهم.ويروى أن طريفة بنت ربيعة الكاهنة، امرأة عمر وبن عامر بن ثعلبة ابن امرئ القيس بن ثعلبة بن مازن بن الأزد بن الغوث قالت له: إني أتيت في المنام فقيل لي: رب أمر ذاب، شديد الذهاب، بعيد الإياب، من واد إلى واد، وبلاد إلى بلاد، كدأب ثمود وعاد! ثم مكثت.ثم قالت: أتيت الليلة فقيل لي: شيخ هرم، وجعل لزم، ورجل قرم، ودهر ازم، وشر لزم، يا ويح أهل العرم.ثم قالت: أتيت الليلة، فقيل لي: يا طريفة لكل اجتماع فراق، فلا رجوع ولا تلاق، من أفق إلى آفاق.ثم قالت: أتيت الليلة في النوم، فقيل لي: رب إلب موالب، وصامت وخاطب، بعد هلاك مارب.قالت: ثم أتيت في النوم، فقيل لي: لكل شيء سبب، الأغبش ذو الذنب، الأشعر الأزب، فنقب بين المقر والقرب، ليس من كأس ذهب.فخرج عمرو وامرأته طريفة فدخلا العرم، فإذا هما بجرذ يحفر في أصله، ويقلب بيديه ورجليه الصخرة ما يقلبها خمسون رجلاً.
আল্লাহ তাদের ওপর আরিম (এক প্রকার ইঁদুর) লেলিয়ে দিলেন, যা একটি ইঁদুর বিশেষ। এটি বাঁধটি ছিদ্র করে দিল, ফলে প্লাবন তাদের ওপর ধেয়ে এল এবং তাদের ধ্বংস করল। যারা বেঁচে রইল তারা বিভিন্ন দেশে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। বাঁধটি ছিল এক ফারসাখ দৈর্ঘ্য ও এক ফারসাখ প্রস্থ বিশিষ্ট। এটি আদ জাতির লোকমান আকবার নির্মাণ করেছিলেন। তার ধারণা মতে, তিনি এটি অনন্তকালের জন্য তৈরি করেছিলেন। সেখানে ইয়েমেনের এক মাসের পথের দূরত্ব থেকে পানি এসে জমা হতো।বর্ণনাকারীরা বলেন: তারা তাদের এক উৎসবের দিনে ছিল। তাদের মাঝে হিতাম ইবন রাবিআ ইবন আমর ইবন আমির নামক একজন গণক ছিল, যে ছিল অত্যন্ত বিজ্ঞ। বনু আমর তাকে বলল: "বলো।" সে বলল: "আমার কথা তোমাদের পক্ষেও যাবে আবার বিপক্ষেও!" তারা বলল: "হ্যাঁ (বলো)।" তখন সে বলল:হে প্রতিপালক, যে আদ জাতির উত্তরাধিকার লাভ করেছে … আমাদের মাঝে মারিবকে নিআমত পূর্ণ করোবিরান মরুভূমি আর অন্ধকার সংকীর্ণ পথ … সেখানে আরোহীদের জন্য অন্ধকার নেমে আসার কারণেরাত তার ওপর বিভীষিকা নিয়ে আসবে …এভাবেই তাদের বিচ্ছিন্নতা ঘটল।বর্ণিত আছে যে, গণক তারিফা বিনতে রাবিআ—যিনি আমর ইবন আমির ইবন সা'লাবা ইবন ইমরাউল কায়স ইবন সা'লাবা ইবন মাজিন ইবনুল আযদ ইবনুল গাওসের স্ত্রী ছিলেন—তাকে বললেন: স্বপ্নে আমার নিকট কেউ এসে বলল: "এমন এক ঘটনা যা গলিয়ে দেয়, অত্যন্ত দ্রুত চলে যায়, যার প্রত্যাবর্তন সুদূরপরাহত; এক উপত্যকা থেকে অন্য উপত্যকায়, এক দেশ থেকে অন্য দেশে; যেমনটা ঘটেছিল সামুদ ও আদ জাতির ভাগ্যে!" তারপর তিনি থেমে গেলেন।এরপর তিনি বললেন: আজ রাতে আমার কাছে আসা হয়েছিল এবং আমাকে বলা হলো: "জরাজীর্ণ বৃদ্ধ, নিরবচ্ছিন্ন বিচরণ, ক্ষুধার্ত ব্যক্তি, কঠিন সময় এবং অনিবার্য মন্দ; হায় আফসোস আরিমবাসীদের জন্য!"এরপর তিনি বললেন: আজ রাতে আমার কাছে আসা হলো এবং বলা হলো: "হে তারিফা, প্রতিটি মিলনেরই বিচ্ছেদ আছে, আর কোনো প্রত্যাবর্তন বা সাক্ষাৎ নেই; এক দিগন্ত থেকে অন্য দিগন্তের দিকে।"এরপর তিনি বললেন: আজ রাতে ঘুমের ঘোরে আমার নিকট আসা হলো এবং বলা হলো: "কতই না সম্মিলিত শত্রু, কত মৌন ও বক্তা; মারিবের ধ্বংসের পর।"তিনি বললেন: এরপর ঘুমের ঘোরে আমার নিকট আসা হলো এবং বলা হলো: "প্রত্যেক জিনিসের একটি কারণ থাকে; ধূসর বর্ণের লেজবিশিষ্ট, পশমযুক্ত বড় ইঁদুর, যা মূল ভিত্তি ও সন্নিকটস্থ স্থানে ছিদ্র করে দেয়; এটা স্বর্ণের পানপাত্র নয়।"তখন আমর ও তার স্ত্রী তারিফা বের হয়ে আরিম (বাঁধের) নিকট প্রবেশ করলেন। সেখানে তারা দেখতে পেলেন একটি ইঁদুর এর মূলে গর্ত করছে। ইঁদুরটি তার দুহাত ও দুপা দিয়ে এমন বিশাল পাথর উল্টে ফেলছে যা পঞ্চাশ জন মানুষ মিলেও উল্টাতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فقال: هذا والله البيان، وكتم أمره وما يريده، وقال لابن أخيه وداعة ابن عمرو: إني سأشتمك في المجلس فالطمني، فلطمه، فقال عمرو: والله لا أسكن بلداً لطمت فيه أبداً. من يشتري مني أموالي؟ قال: فوثبوا واغتنموا غضبته وتزايدوا في ماله فباعه.فلما أراد الظعن قالت طريفة: من كان يريد خمراً وخميراً، وبراً وشعيراً، وذهباً وحريراً؛ فلينزل بصرى وسديراً.ومن أراد الراسيات في الوحل، المطعمات في المحل؛ فليلج يثرب ذات النخل.ومن كان ذا جمل شديد، وهم بعيد؛ فليلحق بأرض عمان. فلحقت منهم فرقة بالشام بقود طمر بن عمرو وهو غسان، ولحق عمران بن عامر وهم الأزد بأرض عمان وبها يومئذٍ شترن، ولحقت خزاعة بتهامة، ولحقت بنو عمرو بن ثعلبة وهم الأوس والخزرج ابنا حارثة بن عمرو بن ثعلبة بن عمرو بن عامر بيثرب وهي المدينة.قالوا: وكان ممن بقي بالمدينة من اليهود حين نزلت عليهم الأوس والخزرج، بنو قريظة وبنو النضير وبنو محمحم وبنو زعوراء وبنو قينقاع وبنو حجر وبنو ثعلبة، وأهل زهرة، وأهل زبالة، وأهل يثرب، وبنو القصيص وبنو ناغصة وبنو ماسكة، وبنو القمعة، وبنو زيد اللات، وهم رهط عبد الله، وبنو عكوة وبنو مرانة.قالوا: فأقامت الأوسط والخزرج بالمدينة، ووجدوا الأموال والآطام والنخل في أيدي اليهود، ووجدوا العدد والقوة معهم فمكثت الأوس والخزرج معهم ما شاء الله.ثم إنهم سألوهم أن يعقدوا بينهم وبينهم جواراً وحلفاً يأمن به بعضهم من بعض ويمنعون به من سواهم، فتعاقدوا وتحالفوا واشتركوا وتعاملوا. فلم يزالوا على ذلك زمناً طويلاً وأثرت الأوس والخزرج وصار لهم مال وعدد.فلما رأت قريظة والنضير حالهم خافوهم أن يغلبوهم على دورهم وأموالهم، فتنمروا لهم حتى قطعوا الحلف الذي كان بينهم، وكانت قريظة
তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, এটিই সুস্পষ্ট বর্ণনা।" তিনি তার পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য গোপন রাখলেন। তিনি তার ভ্রাতুষ্পুত্র ওয়াদাআ ইবনে আমরকে বললেন: "আমি মজলিসে তোমাকে গালি দেব, তখন তুমি আমাকে চড় মারবে।" সে তাকে চড় মারল। তখন আমর বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি এমন কোনো জনপদে কখনো বসবাস করব না যেখানে আমাকে চড় মারা হয়েছে। কে আমার থেকে আমার সম্পদ ক্রয় করবে?" বর্ণনাকারী বলেন: লোকেরা ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তার রাগের সুযোগ নিল। তারা তার সম্পদের দাম বাড়িয়ে দিল এবং তিনি তা বিক্রি করে দিলেন।যখন তিনি দেশত্যাগের ইচ্ছা করলেন, তখন তরীফা বললেন: "যে ব্যক্তি শরাব ও খামির, গম ও যব এবং স্বর্ণ ও রেশম চায়; সে যেন বুসরা ও সাদীরে গিয়ে বসতি স্থাপন করে।""আর যে ব্যক্তি কাদার মধ্যে প্রোথিত শক্তিশালী বৃক্ষ এবং দুর্ভিক্ষের সময় আহারদানকারী চায়; সে যেন খেজুর বাগান সমৃদ্ধ ইয়াসরিবে প্রবেশ করে।""আর যার শক্তিশালী উট এবং সুদূরপ্রসারী সংকল্প রয়েছে; সে যেন ওমান ভূমিতে চলে যায়।" অতঃপর তাদের একটি দল তামর ইবনে আমরের নেতৃত্বে সিরিয়ায় পৌঁছে গেল, তারা হলো গাসসান। ইমরান ইবনে আমির—যারা হলো আযদ গোত্র—ওমান ভূমিতে পৌঁছে গেল এবং সেখানে তখন শাতরান সম্প্রদায় ছিল। খুযাআ গোত্র তিহামায় বসতি স্থাপন করল। আর বনু আমর ইবনে ছালাবা—যারা হলো হারিসা ইবনে আমর ইবনে ছালাবা ইবনে আমর ইবনে আমিরের দুই পুত্র আউস ও খাজরাজ—ইয়াসরিবে বসতি স্থাপন করল, যা বর্তমানে মদিনা।ঐতিহাসিকগণ বলেন: আউস ও খাজরাজ যখন মদিনায় আসলো, তখন সেখানে অবশিষ্ট ইহুদিদের মধ্যে ছিল বনু কুরাইজা, বনু নাজির, বনু মুহামহাম, বনু যাউরা, বনু কাইনুকা, বনু হুজর, বনু ছালাবা, জোহরাবাসী, যুবলাবাসী, ইয়াসরিববাসী, বনু কুসাইস, বনু নাগিসা, বনু মাসিকা, বনু কামআ, বনু যায়েদুল লাত—যারা ছিল আবদুল্লাহর গোষ্ঠী—বনু উকওয়া এবং বনু মারানা।তাঁরা বলেন: অতঃপর আউস ও খাজরাজ মদিনায় অবস্থান করল। তারা দেখল সম্পদ, দুর্গসমূহ এবং খেজুর বাগানগুলো ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণে এবং তাদের জনবল ও শক্তিও বেশি। ফলে আউস ও খাজরাজ আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুদিন তাদের সাথেই অবস্থান করল।অতঃপর তারা (আউস ও খাজরাজ) তাদের কাছে প্রস্তাব দিল যেন তাদের মধ্যে প্রতিবেশিত্ব ও মৈত্রীর চুক্তি হয়, যার মাধ্যমে একে অপরের থেকে নিরাপদ থাকবে এবং অন্যদের আক্রমণ থেকে একে অপরকে রক্ষা করবে। ফলে তারা চুক্তিবদ্ধ হলো, মৈত্রী স্থাপন করল, অংশীদারিত্ব বজায় রাখল এবং পারস্পরিক লেনদেন করল। দীর্ঘকাল তারা এভাবেই কাটাল এবং আউস ও খাজরাজ প্রভাবশালী হয়ে উঠল এবং তাদের সম্পদ ও জনবল বৃদ্ধি পেল।যখন বনু কুরাইজা ও বনু নাজির তাদের এই অবস্থা দেখল, তখন তারা আশঙ্কা করল যে, তারা তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। ফলে তারা তাদের প্রতি কঠোর হতে লাগল, এমনকি তাদের মধ্যকার মৈত্রী চুক্তি ছিন্ন করে দিল। আর বনু কুরাইজা ছিল...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والنضير أعدوا وأكثروا، فأقامت الأوس والخزرج في منازلهم وهم خائفون أن تحتلهم يهود حتى نجم منهم مالك بن العجلان أخو بني سالم بن عوف بن الخزرج.ذكر قتل يهود واستيلاء الأوس والخزرج على المدينةقالوا: ولما نجم مالك بن العجلان، سوده الحيان عليهما فبعث هو وجماعة من قومه إلى من وقع بالشام من قومهم يخبرونهم حالهم، ويشكون إليهم غلبة اليهود عليهم، وكان رسولهم الرمق بن زيد بن امرئ القيس، أحد بني سالم بن عوف بن الخزرج وكان قبيحاً دميماً شاعراً بليغاً، فمضى حتى قدم الشام على ملكٍ من ملوك غسان الذين ساروا من يثرب إلى الشام يقال له: أبو جبيلة، من ولد جفنة بن عمرو بن عامر، وقيل: كان أحد بني جشم بن الخزرج وكان قد أصاب ملكاً بالشام وشرفاً.فشكى إليه الرمق حالهم وغلبة اليهود عليهم وما يتخوفون منهم، وإنهم يخشون أن يخرجوهم. فأقبل أبو جبيلة في جمع كبير لنصرة الأوس والخزرج، وعاهد الله لا يبرح حتى يخرج من بها من اليهود أو يذلهم ويصيرهم تحت يد الأوس والخزرج. فسار وأظهر أنه يريد اليمن حتى قدم المدينة وهي يومئذٍ يثرب، فلقيه الأوس والخزرج وأعلمهم ما جاء به.فقالوا: إن علم القوم ما تريد تحصنوا في آطامهم فلم نقدر عليهم، ولكن ادعهم للقائك وتلطف بهم حتى يأمنوك ويطمئنوا فتتمكن منهم.فصنع لهم طعاماً وأرسل إلى وجوههم ورؤسائهم، فلم يبق من وجوههم أحدٌ إلا أتاه، وجعل الرجل منهم يأتي بخاصته وحشمه رجاء أن يحبوهم الملك. وقد كان بنى له حيزاً وجعل فيه قوماً، وأمرهم من دخل عليهم منهم أن يقتلوه حتى أتى على وجوههم ورؤسائهم، فلما فعل ذلك عزت الأوس والخزرج في المدينة، واتخذوا الديار والأموال، وانصرف أبو جبيلة راجعاً إلى الشام وتفرقت الأوس والخزرج في عالية المدينة وسافلتها، وبعضهم جاء إلى عفاً من الأرض لا ساكن فيه فنزله، ومنهم من لجأ إلى قرية من قراها واتخذوا الأموال، والآطام، فكان ما ابتنوا من الآطام
বনু নাদির প্রস্তুতি গ্রহণ করল এবং তাদের শক্তি বৃদ্ধি করল। ফলে আউস ও খাজরাজ গোত্র তাদের ঘরে অত্যন্ত শঙ্কিত অবস্থায় দিনাতিপাত করছিল যে পাছে ইহুদিরা তাদের ভূমি দখল করে নেয়; যতক্ষণ না তাদের মধ্য হতে বনু সালিম ইবনে আউফ ইবনে খাজরাজের ভ্রাতা মালিক ইবনে আল-আজলান আবির্ভূত হলেন।ইহুদিদের হত্যা এবং মদিনার উপর আউস ও খাজরাজ গোত্রের আধিপত্য বিস্তারের বিবরণবর্ণনাকারীগণ বলেন: যখন মালিক ইবনে আল-আজলান আবির্ভূত হলেন, উভয় গোত্র তাকে নিজেদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করল। তখন তিনি ও তার গোত্রের একদল লোক সিরিয়ায় (শাম) অবস্থানরত তাদের স্বগোত্রীয়দের নিকট দূত প্রেরণ করে তাদের শোচনীয় অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং তাদের ওপর ইহুদিদের আধিপত্যের অভিযোগ তুললেন। তাদের প্রেরিত দূত ছিলেন বনু সালিম ইবনে আউফ ইবনে খাজরাজ গোত্রের আল-রা মাক ইবনে যায়েদ ইবনে ইমরুল কায়স। তিনি ছিলেন দেখতে কুৎসিত কিন্তু অত্যন্ত বাগ্মী কবি। তিনি সিরিয়ায় গিয়ে গাসসানি রাজাদের মধ্য হতে আবু জুবায়লা নামক এক রাজার দরবারে উপস্থিত হলেন। এই রাজা ছিলেন আমর ইবনে আমিরের পুত্র জাফনার বংশধর, যারা ইয়াসরিব থেকে সিরিয়ায় হিজরত করেছিলেন। ভিন্নমতে, তিনি ছিলেন বনু জুশাম ইবনে খাজরাজ গোত্রের একজন এবং সিরিয়ায় রাজত্ব ও বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিলেন।আল-রা মাক তার কাছে তাদের করুণ অবস্থা এবং ইহুদিদের প্রবল প্রতাপ ও ভয়ের কথা নিবেদন করলেন। তারা আশঙ্কা করছিলেন যে তারা হয়তো তাদের উচ্ছেদ করবে। ফলে আবু জুবায়লা আউস ও খাজরাজকে সাহায্যের লক্ষ্যে এক বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং আল্লাহর নামে এই মর্মে অঙ্গীকার করলেন যে, যে পর্যন্ত না তিনি সেখান থেকে ইহুদিদের বিতাড়িত করবেন অথবা তাদের লাঞ্ছিত করে আউস ও খাজরাজের পদানত করবেন, সে পর্যন্ত তিনি ক্ষান্ত হবেন না। তিনি ইয়ামেন গমনের বাহানা করে যাত্রা করলেন এবং শেষ পর্যন্ত মদিনায় এসে পৌঁছালেন, যা সেই সময় ইয়াসরিব নামে অভিহিত ছিল। আউস ও খাজরাজ গোত্র তার সাথে সাক্ষাৎ করল এবং তিনি তাদের নিকট তার আগমনের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করলেন।তারা বলল: যদি সম্প্রদায়টি আপনার উদ্দেশ্য জানতে পারে, তবে তারা তাদের দুর্গে (আতাম) আশ্রয় গ্রহণ করবে এবং আমরা তাদের ওপর ক্ষমতা লাভ করতে পারব না। বরং আপনি তাদের সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের সাথে অত্যন্ত সৌজন্যমূলক ব্যবহার করুন যাতে তারা আপনার প্রতি আশ্বস্ত ও নির্ভয় হয়, ফলে আপনি তাদের ওপর চড়াও হতে পারবেন।অতঃপর তিনি তাদের জন্য একটি ভোজের আয়োজন করলেন এবং তাদের গণ্যমান্য ও নেতাদের নিকট নিমন্ত্রণ পাঠালেন। ফলে তাদের নেতাদের মধ্য হতে এমন কেউ বাকি রইল না যে সেখানে উপস্থিত হয়নি। তাদের প্রত্যেকেই রাজার অনুগ্রহ লাভের আশায় আপন ঘনিষ্ঠ অনুচর ও ভৃত্যদের নিয়ে হাজির হয়েছিল। তিনি আগে থেকেই তাদের জন্য একটি প্রাচীরঘেরা স্থান প্রস্তুত করেছিলেন এবং সেখানে একদল লোক নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি তাদের আদেশ দিয়েছিলেন যে, তাদের মধ্য হতে যে কেউ প্রবেশ করবে তাকে যেন হত্যা করা হয়। এভাবে তিনি তাদের সকল নেতাদের শেষ করে দিলেন। যখন এটি সম্পন্ন হলো, মদিনায় আউস ও খাজরাজ গোত্রের শক্তি ও সম্মান বৃদ্ধি পেল এবং তারা ভূসম্পদ ও সহায়-সম্বল নিজেদের হস্তগত করল। অতঃপর আবু জুবায়লা সিরিয়ায় ফিরে গেলেন এবং আউস ও খাজরাজ গোত্র মদিনার উচ্চভূমি ও নিম্নভূমিগুলোতে ছড়িয়ে পড়ল। তাদের কেউ জনমানবহীন ভূমিতে বসতি স্থাপন করল, আবার কেউ কেউ কোনো জনপদে আশ্রয় নিয়ে সম্পদ ও দুর্গ (আতাম) গড়ে তুলল। তারা যেসব দুর্গ নির্মাণ করেছিল...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
مائة وسبعة وعشرين أطماً وأقاموا وكلمتهم وأمرهم مجتمع، ثم دخلت بينهم حروب عظام.وكانت لهم أيام ومواطن وأشعار، فلم تزل الحروب بينهم إلى أن بعث الله نبيه صلى الله عليه وسلم وأكرمهم باتباعه.
একশত সাতাশটি দুর্গ। তারা সেখানে বসবাস করত এবং তাদের ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় ছিল; অতঃপর তাদের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধবিগ্রহ শুরু হলো।তাদের বহু রণদিবস, ঐতিহাসিক স্থান এবং কাব্যগাথা ছিল। তাদের মধ্যকার সেই লড়াই চলতেই থাকল, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করলেন এবং তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে তাদের ধন্য করলেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الباب الثاني في ذكر فتح المدينةقالت عائشة رضي الله عنها: كل البلاد افتتحت بالسيف وافتتحت المدينة بالقرآن.قالت: وذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يعرض نفسه في كل موسم على قبائل العرب ويقول: ((ألا رجلٌ يحملني إلى قومه؟ فإن قريشاً قد منعوني أن أبلغ كلام ربي)) ، فيأبونه ويقولون: قوم الرجل أعلم به.حتى لقي في بعض السنين عند العقبة نفراً من الأوس والخزرج قدموا في المنافرة التي كانت بينهم.فقال لهم: ((من أنتم؟)) قالوا: نفرٌ من الأوس والخزرج! قال: ((من موالي اليهود؟)) قالوا: نعم، قال: ((أفلا تجلسون أكلمكم؟)) ، قالوا: بلى، فجلسوا معه فدعاهم إلى الله عز وجل وعرض عليهم الإسلام وتلا عليهم القرآن. وكانوا أهل شرك وأوثان، وكان إذا كان بينهم وبين اليهود الذين معهم بالمدينة شيء، قالت اليهود لهم -وكانوا أصحاب كتاب-: إن نبياً يبعث الآن قد أظل زمانه، فنتبعه ونقتلكم معه قتل عاد وإرم.فلما كلم رسول الله صلى الله عليه وسلم أولئك النفر ودعاهم إلى الله قال بعضهم لبعض: يا قوم تعلمون والله أنه للنبي الذي توعدكم به اليهود، فلا تسبقنكم إليه فاغتنموه وآمنوا به، فأجابوه فيما دعاهم إليه وصدقوه وقبلوا منه ما عرض عليهم من الإسلام.وقالوا: إنا قد تركنا قومنا وبينهم من العداوة والشر ما بينهم، وعسى أن يجمعهم الله بك، فسنقدم عليهم فندعوهم إلى أمرك ونعرض
দ্বিতীয় অধ্যায়: মদিনা বিজয় প্রসঙ্গেআয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: সকল দেশ তলোয়ারের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে, কিন্তু মদিনা বিজিত হয়েছে কুরআনের মাধ্যমে।তিনি বলেন: তার কারণ হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি হজের মৌসুমে আরবের গোত্রগুলোর কাছে নিজেকে পেশ করতেন এবং বলতেন: "এমন কি কোনো ব্যক্তি আছে যে আমাকে তার কওমের কাছে নিয়ে যাবে? কেননা কুরাইশরা আমাকে আমার রবের বাণী পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে।" কিন্তু তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করত এবং বলত: কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে তার নিজ কওমই বেশি ভালো জানে।এমনকি এক বছর তিনি আকাবার নিকট আউস ও খাজরাজ গোত্রের একদল লোকের দেখা পেলেন, যারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের কারণে সেখানে এসেছিল।তিনি তাদের বললেন: "তোমরা কারা?" তারা বলল: আউস ও খাজরাজের একদল লোক! তিনি বললেন: "তোমরা কি ইহুদিদের মিত্র?" তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "তোমরা কি একটু বসবে যাতে আমি তোমাদের সাথে কথা বলতে পারি?" তারা বলল: অবশ্যই। এরপর তারা তার সাথে বসল, তিনি তাদের মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন, তাদের কাছে ইসলাম পেশ করলেন এবং তাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করলেন। তারা ছিল শিরক ও মূর্তিপূজারী। মদিনায় তাদের সাথে বসবাসরত ইহুদিদের সাথে যখন তাদের কোনো বিরোধ হতো, তখন ইহুদিরা—যারা ছিল কিতাবধারী—তাদের বলত: "নিশ্চয়ই একজন নবীর আবির্ভূত হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে, আমরা তাঁর অনুসরণ করব এবং তোমাদেরকে তাঁর সাথে নিয়ে আদ ও ইরাম জাতির মতো হত্যা করব।"যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই লোকগুলোর সাথে কথা বললেন এবং তাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন, তখন তারা একে অপরকে বলল: "হে আমার কওম, আল্লাহর কসম! তোমরা জানো যে, ইনিই সেই নবী যাঁর কথা বলে ইহুদিরা তোমাদের হুমকি দিত। সুতরাং তারা যেন তোমাদের আগে তাঁর কাছে পৌঁছাতে না পারে, তোমরা সুযোগটি গ্রহণ করো এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনো।" ফলে তিনি যে দাওয়াত দিলেন তাতে তারা সাড়া দিল, তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল এবং তিনি ইসলামের যে প্রস্তাব তাদের কাছে পেশ করলেন তা গ্রহণ করল।তারা বলল: আমরা আমাদের কওমকে এমন অবস্থায় রেখে এসেছি যে তাদের মধ্যে চরম শত্রুতা ও অনিষ্ট বিরাজ করছে। আশা করা যায় আল্লাহ আপনার মাধ্যমে তাদের একত্রিত করবেন। শীঘ্রই আমরা তাদের কাছে ফিরে যাব এবং আপনার দাওয়াত তাদের কাছে পৌঁছাব এবং পেশ করব।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
عليهم الذي أجبناك إليه من هذا الدين، فإن يجمعهم الله عليك فلا رجل أعز منك.ثم انصرفوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم راجعين إلى بلادهم قد آمنوا وصدقوا.وكانوا ستة: أسعد بن زرارة، وعوف ابن عفراء –وهي أمه- وأبو الحارث بن رفاعة، ورافع بن مالك بن العجلان، وقطبة بن عامر بن حديدة، وعقبة بن عامر بن نابي، وجابر بن عبد الله بن رئاب.فلما قدموا المدينة إلى قومهم، ذكروا لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وما جرى لهم ودعوهم إلى الإسلام، ففشا فيهم حتى لم يبق بيتٌ ولا دارٌ من دور الأنصار إلا ولرسول الله صلى الله عليه وسلم فيها ذكر.فلما كان العام المقبل، وافى منهم اثنا عشر رجلاً فلقوا رسول الله صلى الله عليه وسلم بالعقبة وهي العقبة الأولى فبايعوه، فلما انصرفوا بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم معهم مصعب بن عمير إلى المدينة وأمره أن يقرئهم القرآن، ويعلمهم الإسلام ويفقههم في الدين، وكان منزله على أسعد بن زرارة.ولقيه في الموسم الآخر سبعون رجلاً من الأنصار ومعهم امرأتان فبايعوه، وأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم أصحابه إلى المدينة، ثم خرج إلى الغار بعد ذلك وتوجه هو وأبو بكر رضي الله عنه إلى المدينة.
তাদের ওপর সেই দ্বীনের দাওয়াত যা আপনি আমাদের সামনে পেশ করেছেন এবং আমরা তা গ্রহণ করেছি; সুতরাং আল্লাহ যদি তাদের আপনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করে দেন, তবে আপনার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি আর কেউ হবে না।অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে বিদায় নিয়ে নিজ জনপদে ফিরে গেলেন। তারা ইতিপূর্বেই ঈমান এনেছিলেন এবং সত্যয়ন করেছিলেন।তারা সংখ্যায় ছিলেন ছয় জন: আসআদ ইবনে যুরারাহ, আওফ ইবনে আফরা (আফরা তাঁর মায়ের নাম), আবু হারিস ইবনে রিফাআহ, রাফি ইবনে মালিক ইবনে আজলান, কুতবা ইবনে আমির ইবনে হাদিদাহ, উকবা ইবনে আমির ইবনে নাবি এবং জাবির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে রিয়াব।যখন তারা মদিনায় তাদের কওমের কাছে পৌঁছালেন, তখন তারা তাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা এবং তাঁদের সাথে যা ঘটেছিল তা বর্ণনা করলেন এবং তাঁদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। ফলে তাদের মাঝে ইসলামের প্রসার ঘটল, এমনকি আনসারদের ঘরসমূহের মধ্য থেকে এমন কোনো ঘর বা আবাসস্থল বাকি রইল না যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আলোচনা পৌঁছায়নি।যখন পরবর্তী বছর এল, তখন তাদের মধ্য থেকে বারোজন ব্যক্তি উপস্থিত হলেন এবং আকাবায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। এটিই ছিল প্রথম আকাবার বাইআত এবং তারা তাঁর হাতে বাইআত গ্রহণ করলেন। তারা যখন ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে মুসআব ইবনে উমায়েরকে মদিনায় পাঠালেন এবং তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাদের কুরআন পাঠ করে শোনান, তাদের ইসলাম শিক্ষা দেন এবং দ্বীনের সম্যক জ্ঞান দান করেন। তিনি আসআদ ইবনে যুরারাহ-এর নিকট অবস্থান করতেন।পরবর্তী মৌসুমে আনসারদের মধ্য থেকে সত্তর জন পুরুষ এবং তাদের সাথে দুইজন নারী তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁর হাতে বাইআত হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে মদিনার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন, এরপর তিনি নিজেও গুহার দিকে বের হলেন এবং তিনি ও আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মদিনার দিকে অগ্রসর হলেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الباب الثالث في ذكر هجرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابهأخبرنا يحيى بن أسعد المهاجر، وأبو القاسم بن كامل الحذاء وجماعة غيرهما فيما أذنوا لي في روايته عنهم قالوا: أنبأنا الحسن بن أحمد أبو علي الحداد، عن أبي نعيم أحمد بن عبد الله الأصفهاني، قال: كتب إلي جعفر بن محمد بن نصير، أبو محمد الخلدي، قال: أنبأنا أبو شريك محمد بن عبد الرحمن المخزومي بمكة، قال: حدثنا الزبير بن بكار، قال: حدثنا محمد ابن الحسن بن زبالة، عن جعفر بن صالح بن ثعلبة، عن حده، يعلى بن سلام، عن محمد بن عبد الله بن خزيمة بن ثابت:أن تبعاً لما قدم المدينة وأراد إخرابها، جاءه حبران من قريظة يقال لهما: تحيت ومنبه، فقالا: أيها الملك انصرف عن هذه البلدة فإنها محفوظة، وإنها مهاجر نبي من بني إسماعيل اسمه أحمد يخرج آخر الزمان، فأعجبه ما سمع وصدقهما وكف عن أهل المدينة.وفي ((الصحيحين)) من حديث أبي موسى الأشعري، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((رأيت في المنام أني مهاجر من مكة إلى أرضٍ بها نخلٌ، فذهب وهلي إلى اليمامة أو هجر، فإذا هي المدينة يثرب)) .وذكر البخاري في ((صحيحه)) أن النبي صلى الله عليه وسلم لما ذكر هذا المنام لأصحابه، هاجر من هاجر منهم قبل المدينة، ورجع عامة من كان هاجر بأرض الحبشة إلى المدينة، وتجهز أبو بكر رضي الله عنه قبل المدينة، فقال
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের হিজরত প্রসঙ্গেআমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আসআদ আল-মুহাজির, আবু আল-কাসিম ইবনে কামিল আল-হাযযা এবং আরও একদল ব্যক্তি, যে বিষয়ে তাঁরা আমাকে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আহমদ আবু আলী আল-হাদ্দাদ, তিনি আবু নুয়াইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসফাহানী থেকে, তিনি বলেন: জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নুসায়ের আবু মুহাম্মদ আল-খুলদী আমার নিকট লিখেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মক্কায় আবু শারীক মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাখযূমী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুবাইর ইবনে বাক্কার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে যাবালা, তিনি জাফর ইবনে সালিহ ইবনে ছা’লাবা থেকে, তিনি তাঁর দাদা ইয়ালা ইবনে সালাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খুযাইমা ইবনে ছাবিত থেকে বর্ণনা করেন:নিশ্চয়ই তুব্বা যখন মদীনায় আসলেন এবং তা ধ্বংস করার ইচ্ছা করলেন, তখন কুরাইযা গোত্রের দুইজন ইহুদি পণ্ডিত তাঁর কাছে আসলেন, যাদের নাম ছিল তাহীত এবং মুনাব্বিহ। তাঁরা বললেন: হে বাদশাহ! আপনি এই শহর থেকে ফিরে যান, কারণ এটি সুরক্ষিত। আর এটি বনী ইসমাঈলের একজন নবীর হিজরতস্থল, যাঁর নাম আহমদ, যিনি শেষ যামানায় আত্মপ্রকাশ করবেন। তিনি যা শুনলেন তাতে মুগ্ধ হলেন এবং তাঁদেরকে সত্য বলে বিশ্বাস করলেন এবং মদীনার অধিবাসীদের ওপর আক্রমণ থেকে বিরত থাকলেন।এবং 'সহীহাইন'-এ (বুখারী ও মুসলিম) আবু মুসা আল-আশআরী বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে রয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ((আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মক্কা থেকে এমন এক ভূমিতে হিজরত করছি যেখানে অনেক খেজুর গাছ রয়েছে। আমার ধারণা হলো সেটি ইয়ামামা অথবা হাজার, কিন্তু দেখা গেল সেটি মদীনা বা ইয়াসরিব।))।এবং ইমাম বুখারী তাঁর 'সহীহ'-এ উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর সাহাবীগণের কাছে এই স্বপ্নের কথা বললেন, তখন তাঁদের মধ্যে যারা হিজরত করার ছিলেন তাঁরা মদীনার দিকে হিজরত করলেন। আর আবিসিনিয়া (হাবাশা) ভূমিতে যারা হিজরত করেছিলেন তাঁদের সাধারণ সবাই মদীনায় ফিরে আসলেন। আর আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু মদীনার উদ্দেশ্যে সফরের প্রস্তুতি নিলেন, তখন তিনি (নবীজি) বললেন:
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((على رسلك، فإني أرجو أن يؤذن لي)) ، فقال له أبو بكر: وهل ترجو ذلك بأبي أنت وأمي؟ قال: ((نعم)) ، فحبس أبو بكر نفسه على رسول الله صلى الله عليه وسلم ليصحبه، وعلف راحلتين كانتا عنده الخبط أربعة أشهر.قالت عائشة رضي الله عنها: بينما نحن يوماً جلوس في بيت أبي بكر في نحر الظهيرة، فقال قائل لأبي بكر رضي الله عنه: هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقبلاً متقنعاً في ساعة لم يكن يأتينا فيها، قال أبو بكر رضي الله عنه: فداً له أبي وأمي، والله ما جاء به في هذه الساعة إلا أمرٌ.قالت: فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستأذن، فأذن له، فدخل فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأبي بكر: أخرج من عندك، فقال أبو بكر رضي الله عنه: إنما هم أهلك –بأبي أنت يا رسول الله- قال: فإني قد أذن لي في الخروج، فقال أبو بكر رضي الله عنه: فالصحبة بأبي أنت وأمي يا رسول الله، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ((نعم) ، قال أبو بكر رضي الله عنه: بأبي أنت وأمي يا رسول الله، خذ إحدى راحلتي هاتين، قال رسول الله: ((بالثمن)) .قالت عائشة رضي الله عنها: فجهزناهما أحث الجهاز، ووضعنا لهما سفرةً في جراب، فقطعت أسماء بنت أبي بكر قطعةً من نطاقها فربطت به على فم الجراب، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن لها به نطاقين في الجنة)) ، فبذلك سميت ((ذات النطاقين)) .قالت: ثم لحق رسول الله صلى الله عليه وسلم بغارٍ في جبل ثور، فمكثا فيه ثلاث ليال يبيت عندهما عبد الله بن أبي بكر وهو غلام شاب لقنٌ ثقفٌ، فيدلج من عندهما بسحر فيصبح مع قريشٍ بمكة كبائتٍ، فلا يسمع أمراً يكادان به إلا وعاه حتى يأتيهما بخبر ذلك حين يختلط الظلام، ويرعى عليهما عامر بن فهيرة مولى أبي بكر منحةً من لبن، فيريحها عليهما حين تذهب ساعة من العشاء، فيبيتان في رسل حتى ينعق بها عامر بغلسٍ. يفعل ذلك في كل ليلة من تلك الليالي الثلاث.واستأجر رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر رجلاً من بني الدئل هادياً ماهراً بالهداية –وهو على دين كفار قريش- فأمناه فدفعا إليه راحلتيهما، وواعداه غار ثور بعد ثلاث ليال براحلتيهما صبح ثلاث، وانطلق معهما عامر بن
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তুমি ধৈর্য ধরো, আমি আশা করি আমাকে অনুমতি দেওয়া হবে।" তখন আবু বকর তাকে বললেন: "আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক, আপনি কি সেই আশা করছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" ফলে আবু বকর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী হওয়ার জন্য নিজেকে আটকে রাখলেন এবং তার কাছে থাকা দুটি উটকে চার মাস ধরে বাবলা পাতা খাইয়ে প্রস্তুত করলেন।আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: একদিন যখন আমরা ভরদুপুরে আবু বকরের ঘরে বসা ছিলাম, তখন জনৈক ব্যক্তি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: "এই যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা ঢেকে এগিয়ে আসছেন এমন এক সময়ে, যে সময়ে তিনি সাধারণত আমাদের কাছে আসতেন না।" আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "আমার পিতা-মাতা তার জন্য উৎসর্গ হোক! আল্লাহর শপথ, বিশেষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া তিনি এই সময়ে আসেননি।"তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং অনুমতি চাইলেন, তাকে অনুমতি দেওয়া হলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে বললেন: "তোমার কাছে যারা আছে তাদের বের করে দাও।" আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, তারা তো আপনারই পরিবার (অর্থাৎ আয়েশা ও আসমা)।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমাকে বের হওয়ার (হিজরতের) অনুমতি দেওয়া হয়েছে।" তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, তবে কি আমি আপনার সঙ্গী হতে পারি?" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ।" আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনি আমার এই দুটি উটের একটি গ্রহণ করুন।" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "মূল্যের বিনিময়ে।"আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: এরপর আমরা অতি দ্রুত তাদের সরঞ্জাম গুছিয়ে দিলাম এবং একটি চামড়ার থলিতে তাদের জন্য সফরের খাবার রাখলাম। তখন আবু বকরের কন্যা আসমা তার কোমরবন্ধের এক টুকরো ছিঁড়ে ফেললেন এবং তা দিয়ে থলির মুখ বাঁধলেন। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "জান্নাতে এর বিনিময়ে তার জন্য দুটি কোমরবন্ধ রয়েছে।" এ কারণেই তাকে 'জাতুন নিতাকাইন' (দুই কোমরবন্ধ বিশিষ্ট) উপাধি দেওয়া হয়।তিনি বলেন: এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওর পাহাড়ের এক গুহায় আশ্রয় নিলেন। তারা সেখানে তিন রাত অবস্থান করলেন। তাদের সাথে রাত কাটাতেন আবু বকরের পুত্র আবদুল্লাহ; তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও মেধাবী যুবক। তিনি শেষ রাতে তাদের কাছ থেকে বেরিয়ে পড়তেন এবং ভোরবেলা মক্কায় কুরাইশদের সাথে এমনভাবে উপস্থিত হতেন যেন তিনি রাত সেখানেই কাটিয়েছেন। তিনি তাদের কোনো ষড়যন্ত্রের কথা শুনলেই তা মনে রাখতেন এবং অন্ধকার ঘনিয়ে এলে সেই খবর নিয়ে তাদের কাছে পৌঁছাতেন। আর আবু বকরের মুক্তদাস আমির বিন ফুহাইরা তাদের জন্য এক পাল দুগ্ধবতী ছাগল চরাতেন এবং এশার এক প্রহর পার হওয়ার পর সেগুলো নিয়ে তাদের কাছে আসতেন। তারা সেখানে দুগ্ধ পান করে স্বস্তিতে রাত কাটাতেন, এরপর ভোরবেলা অন্ধকার থাকতেই আমির ছাগলগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়ে চলে যেতেন। সেই তিন রাতের প্রতি রাতেই তিনি এমনটি করতেন।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর বনু আদ-দিল গোত্রের এক ব্যক্তিকে পথপ্রদর্শক হিসেবে ভাড়া করলেন, যে পথ চেনার কাজে অত্যন্ত দক্ষ ছিল—অথচ সে তখনও কুরাইশ কাফেরদের ধর্মে ছিল। তারা তাকে বিশ্বাস করলেন এবং তাদের উট দুটি তার কাছে সঁপে দিলেন। তারা তাকে তিন রাত পর উট দুটি নিয়ে সওর গুহার কাছে আসার প্রতিশ্রুতি নিলেন এবং তিন দিন পর সকালে সে উপস্থিত হলো। তাদের সাথে আমির বিন...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فهيرة والدليل الديلي فأخذ بهم طريق السواحل أسفل من عسفان، ثم عارض الطريق على أمج، ثم لقي الطريق بناحية فنزل في خيام أم معبد بنت الأشقر الخزاعية بأسفل ثنية لفت، ثم على الخرار، ثم على ثنية المرة، ثم سلك بهما لقفاً، ثم أجاز بهما مدلجة لقف ثم استبطن بهما مدلجة محاج، ثم سلك بهما مرجح محاج، ثم تبطن بهما مرجح من ذي الغضوين، ثم بطن من ذي كشر، ثم الأجرد، ثم ذا سلم، ثم أعداء مدلجة تعهن، ثم أجاز القاحة، ثم هبط العرج ثنية العامر عن يمين ركوبة، ويقال: بل ركوبة نفسها، ثم بطن رئم حتى انتهى إلى بني عمرو بن عوف بظاهر قباء، فنزل عليهم على كلثوم بن الهدم بن امرئ القيس بن الحارث وكان سيد الحي، وقد اختلف في اليوم الذي نزل فيه!وعن نجيح بن أفلح مولى بني ضمرة قال: سمعت بريدة بن الحصيب يخبر أنه بعث يساراً غلامه مع النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر رضي الله عنه من الحروات، قال: وهي موضع أسفل من ثنية هرشى، يدلهما على العابرين ركوبة.قال يسار: فخرجت حتى صعدت الثنية ورجزت به فقلت:هذا أبو القاسم فاستقيمي … تعرضي مدارجاً وسوميتعرض الجوزاء للنجوم …قال: فلما علوا ظهر الظهيرة حضرت الصلاة، فاستقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم القبلة، فقام أبو بكر رضي الله عنه عن يمينه، وقمت عن يمين أبي بكر ودخلني الإسلام. فدفع رسول الله صلى الله عليه وسلم صدر أبي بكر فأخره، وأخرني أبو بكر فصففنا خلفه فصلينا، ثم خرجنا حتى قدمنا المدينة بكرة وكان يوم الاثنين، ولقي رسول الله صلى الله عليه وسلم الزبير في ركب من المسلمين كانوا تجاراً قافلين من الشام، فكسا الزبير رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبا بكر رضي الله عنه ثياب بياض.وسمع المسلمون بالمدينة بخروج رسول الله صلى الله عليه وسلم من مكة، فكانوا يغدون كل غداة إلى الحرة ينتظرونه حتى يردهم حر الظهيرة، فانقلبوا يوماً بعد أن طال انتظارهم، فلما أووا إلى بيوتهم، رقى رجل من اليهود
ফেহায়রা এবং দীলি বংশীয় পথপ্রদর্শক (আবদুল্লাহ ইবনে আরকাত), তিনি তাদের নিয়ে উসফানের নিচের উপকূলীয় পথ ধরলেন। তারপর আমজের দিকে পথ অতিক্রম করলেন। অতঃপর তিনি ফান্ন অঞ্চলের দিকে মূল পথের সাথে মিলিত হলেন এবং সানিয়াতু লাফ্ত-এর নিচে উম্মু মা'বাদ বিনতে আশকার আল-খুজায়িয়ার তাঁবুতে অবতরণ করলেন। এরপর আল-খাররার, তারপর সানিয়াতুল মুররাহ অতিক্রম করলেন। তারপর তাদের নিয়ে লাকফ নামক স্থান দিয়ে চললেন। এরপর তাদের নিয়ে মুদলাজাতু লাকফ পার হলেন, তারপর মুদলাজাতু মাহাজ-এর ভেতর দিয়ে গেলেন। এরপর মারজিহ মাহাজ এবং তারপর যিল গাদওয়াইনের মারজিহ-এর ভেতর দিয়ে পথ চললেন। এরপর যি কাশারের অভ্যন্তরভাগ, তারপর আল-আজরাদ, তারপর যা সালাম, তারপর তা'হুন এর মুদলাজাহ প্রান্তে পৌঁছালেন। এরপর আল-কাহাহ পার হলেন এবং রকুবার ডানদিকের সানিয়াতুল আমির হয়ে আল-আরজে অবতরণ করলেন। কেউ বলেন, বরং রকুবা হয়েই। তারপর বাতনু রি'ম হয়ে কুবার উপরিভাগে বনু আমর ইবনে আউফের নিকট পৌঁছালেন। সেখানে তিনি কুলসুম ইবনে হিদাম ইবনে ইমরুল কায়স ইবনে হারিসের নিকট অবস্থান করলেন, যিনি ছিলেন সেই গোত্রের নেতা। তবে তিনি কোন দিনে সেখানে অবতরণ করেছেন সে সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে।বনু দামরার আযাদকৃত দাস নাজীহ ইবনে আফলাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বুরায়দাহ ইবনে আল-হুসাইবকে বলতে শুনেছি যে, তিনি তাঁর দাস ইয়াসিরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আল-হারওয়াত থেকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন: এটি সানিয়াতু হারশার নিচের একটি স্থান, যেন সে তাঁদের রকুবার পথচারীদের রাস্তা দেখিয়ে দেয়।ইয়াসির বলেন: আমি বের হলাম যতক্ষণ না পাহাড়ে আরোহণ করলাম এবং উচ্চস্বরে কবিতা আবৃত্তি করে বললাম:তিনিই আবুল কাসিম, সুতরাং তুমি সোজা হয়ে যাও … চড়াই-উতরাই পথ অতিক্রম করো এবং দ্রুত চলোযেমন নক্ষত্ররাজির মাঝে জাওযা নক্ষত্র উদিত হয় …তিনি বলেন: যখন তাঁরা দ্বিপ্রহরের রোদে টিলার উপরে উঠলেন, তখন সালাতের সময় উপস্থিত হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ডানপাশে দাঁড়ালেন এবং আমি আবু বকরের ডানপাশে দাঁড়ালাম। তখন আমার অন্তরে ইসলাম প্রবেশ করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরের বুকে হাত দিয়ে তাকে পেছনে সরিয়ে দিলেন এবং আবু বকর আমাকে পেছনে সরিয়ে দিলেন। ফলে আমরা তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হলাম এবং সালাত আদায় করলাম। তারপর আমরা চলতে থাকলাম এবং সোমবার সকালে মদিনায় পৌঁছালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জুবায়েরের দেখা হলো, তিনি একদল মুসলিম কাফেলার সাথে ছিলেন যারা সিরিয়া থেকে ব্যবসা করে ফিরছিলেন। জুবায়ের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সাদা কাপড় পরিধান করালেন।মদিনার মুসলিমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কা থেকে বের হওয়ার সংবাদ শুনেছিলেন। তাই তারা প্রতিদিন সকালে 'হাররা' নামক স্থানে যেতেন এবং তাঁর প্রতীক্ষা করতেন যতক্ষণ না দুপুরের প্রচণ্ড তাপ তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করত। একদিন দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষার পর তারা ফিরে গেলেন। যখন তারা নিজ নিজ ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন ইহুদিদের এক ব্যক্তি উঁচু স্থানে আরোহণ করল।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
أطماً من آطامهم لأمر ينظر إليه، فبصر برسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه مبيضين، فلم يملك اليهودي أن قال بأعلى صوته: يا معشر العرب! هذا جدكم الذي تنتظرونه، فثار المسلمون إلى السلاح فتلقوا رسول الله صلى الله عليه وسلم بظهر الحرة، فعدل بهم ذات اليمين حتى نزل بهم في بني عمرو بن عوف، وذلك يوم الاثنين من شهر ربيع الأول، فقام أبو بكر رضي الله عنه للناس وجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم صامتاً، فطفق من جاء من الأنصار ممن آمن برسول الله صلى الله عليه وسلم يحيي أبا بكر رضي الله عنه حتى أصابت الشمس رسول الله، فأقبل أبو بكر حتى ظلل عليه بردائه، فعرف الناس رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك.ولما أقبل النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة، كان مردفاً لأبي بكر رضي الله عنه وأبو بكر شيخٌ يعرف، ونبي الله شاب لا يعرف، قال: فيلقى الرجل أبا بكر فيقول: يا أبا بكر، من هذا الرجل الذي بين يديك؟ فيقول: هذا الرجل الذي يهديني السبيل، فيحسب الحاسب أنه يعني الطريق، وإنما يعني سبيل الخير.ولبث رسول الله صلى الله عليه وسلم في بني عمرو بن عوف بضع عشرة ليلة، وأسس المسجد الذي أسس على التقوى وصلى فيه، ثم ركب راحلته فصار يمشي معه الناس حتى بركت عند مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة، وهو يصلي فيه يومئذ رجال من المسلمين، وكان مربداً للتمر لسهيل وسهل غلامين يتيمين في حجر أسعد بن زرارة.فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين بركت به راحلته: هذه إن شاء الله المنزل، ثم دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بالغلامين، فساومهما بالمربد ليتخذه مسجداً.فقالا: بل نهبه لك يا رسول الله، فأبى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يقبله منهما هبة حتى ابتاعه منهما ثم بناه مسجداً.وعن عبد الرحمن بن يزيد بن حارثة قال: لما نزل رسول الله صلى الله عليه وسلم على كلثوم بن الهدم، وصاح كلثوم بغلام له؛ يا نجيح، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أنجحت يا أبا بكر.
জনৈক ইহুদি তাদের একটি দুর্গের ওপর কোনো একটি প্রয়োজনে পর্যবেক্ষণ করছিল, তখন সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণকে শুভ্র পোশাকে দেখতে পেল। তখন সেই ইহুদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে উচ্চস্বরে বলে উঠল: "হে আরবের লোকসকল! এই তো তোমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত সৌভাগ্য, যার জন্য তোমরা অপেক্ষা করছিলে।" তখন মুসলিমগণ দ্রুত অস্ত্রের সন্ধানে ছুটে গেলেন এবং হাররার (মদিনার পাথুরে ভূমি) প্রান্তে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি তাদের নিয়ে ডান দিকে মোড় নিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বনু আমর ইবনে আউফের পল্লীতে অবতরণ করলেন। সেটি ছিল রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে রইলেন আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নীরবে বসে রইলেন। আনসারদের মধ্য থেকে যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ঈমান এনেছিলেন এবং সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন, তারা আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে অভিবাদন জানাতে শুরু করলেন (তাঁকে নবী মনে করে)। একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর রোদ পড়তে শুরু করলে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এগিয়ে এলেন এবং নিজের চাদর দিয়ে তাঁর ওপর ছায়া দান করলেন। তখনই লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে চিনতে পারলেন।যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পেছনে আসীন ছিলেন। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ পরিচিত ব্যক্তি, আর আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন (মদিনাবাসীর কাছে) একজন অপরিচিত যুবক। বর্ণনাকারী বলেন: কোনো লোকের সাথে আবু বকরের দেখা হলে সে জিজ্ঞেস করত: "হে আবু বকর, আপনার সামনের এই ব্যক্তিটি কে?" তখন তিনি উত্তর দিতেন: "এই ব্যক্তিটি আমাকে পথ দেখাচ্ছেন।" প্রশ্নকারী মনে করত যে তিনি রাস্তা বা ভ্রমণের পথ বোঝাচ্ছেন, অথচ তিনি এর দ্বারা হিদায়াত বা কল্যাণের পথ বোঝাতেন।রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বনু আমর ইবনে আউফ গোত্রে দশ রাতের কিছু বেশি সময় অবস্থান করলেন। তিনি সেখানে সেই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করলেন যা তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং সেখানে সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি তাঁর সওয়ারিতে আরোহণ করলেন এবং লোকেরা তাঁর সাথে চলতে থাকলেন, যতক্ষণ না সেটি মদিনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদের বর্তমান স্থানে গিয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসল। সে সময় সেখানে মুসলিমদের কিছু লোক সালাত আদায় করতেন। জায়গাটি ছিল আসআদ ইবনে যুরারার তত্ত্বাবধানে থাকা সুহাইল ও সাহল নামক দুই এতিম বালকের খেজুর শুকানোর স্থান (মিরবাদ)।যখন তাঁর সওয়ারিটি হাঁটু গেঁড়ে বসল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "ইনশাআল্লাহ, এটিই হবে গন্তব্যস্থল।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বালক দুজনকে ডাকলেন এবং সেখানে মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে জায়গাটি ক্রয়ের জন্য তাদের সাথে দাম নির্ধারণের কথা বললেন।তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! বরং আমরা এটি আপনাকে দান করছি।" কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা দান হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাদের থেকে তা ক্রয় করলেন। অতঃপর সেখানে তিনি মসজিদ নির্মাণ করলেন।আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযিদ ইবনে হারিসাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুলসুম বিন হিলমের বাড়িতে অবতরণ করলেন, তখন কুলসুম তাঁর এক গোলামকে ‘হে নাজীহ (সফল)’ বলে ডাক দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (শুভ লক্ষণ গ্রহণ করে) বললেন: "হে আবু বকর, আপনি সফল হয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: أقام رسول الله صلى الله عليه وسلم بقباء يوم الاثنين، ويوم الثلاثاء، ويوم الأربعاء، ويوم الخميس، وركب من قباء يوم الجمعة فجمع في بني سالم، فكانت أول جمعة جمعها في الإسلام.وكان يمر بدور الأنصار داراً داراً، فيدعونه إلى المنزل والمواساة، فيقول لهم: خيراً، ويقول: خلوها فإنها مأمورة.حتى انتهى إلى موضع مسجده اليوم، وكان المسلمون قد بنوا مسجداً يصلون فيه، فبركت ناقته ونزل، وجاء أبو أيوب الأنصاري، فأخذ رحله، وجاء أسعد بن زرارة فأخذ بزمام راحلته.فلما خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم من المسجد، تعلقت به الأنصار، فقال: المرء مع رحله، فنزل على أبي أيوب الأنصاري خالد بن يزيد بن كليب، ومنزله في بني غنم بن النجار.وعن أبي عمرو بن جحاش قال: اختار رسول الله صلى الله عليه وسلم المنازل، فنزل في منزله، ومسجده، فأراد أن يتوسط الأنصار كلها، فأحدقت به الأنصار.وقال البراء بن عازب: أول من قدم علينا مصعب بن عمير، وابن أم مكتوم، وكانا يقرئان الناس، ثم قدم عمار بن ياسر وبلال، ثم قدم عمر بن الخطاب في عشرين من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم.ثم قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فما رأيت أهل المدينة فرحوا بشيء فرحهم برسول الله صلى الله عليه وسلم، حتى جعل الإماء يقلن: قدم رسول الله فينا قدم، فما قدم حتى قرأت: {سبح اسم ربك الأعلى} في سور من المفصل.قالت عائشة رضي الله عنها: ((لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة وعك أبو بكر وبلال)) ، قالت: فدخلت عليهما. فقلت: يا أبت كيف تجدك؟ ويا بلال كيف تجدك؟ فكان أبو بكر رضي الله عنه إذا أخذته الحمى يقول:كل امرئ مصبحٌ في أهله … والموت أدنى من شراك نعله
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুবায় সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি শুক্রবার কুবা থেকে রওয়ানা হন এবং বনী সালিমের মাঝে জুমার সালাত আদায় করেন। এটিই ছিল ইসলামে তাঁর আদায় করা প্রথম জুমার সালাত।তিনি আনসারদের ঘরের পাশ দিয়ে একে একে যাচ্ছিলেন, আর তারা তাঁকে তাদের বাড়িতে এবং আতিথেয়তায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছিলেন। তিনি তাদের কল্যাণের কথা বলছিলেন এবং বলছিলেন: "তোমরা একে (উষ্ট্রীকে) ছেড়ে দাও, কারণ এটি আদিষ্ট হয়েছে।"এমনকি তিনি বর্তমানে তাঁর মসজিদের স্থানে এসে পৌঁছান, আর মুসলমানরা সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন যেখানে তাঁরা সালাত আদায় করতেন। সেখানে তাঁর উষ্ট্রীটি বসে পড়ল এবং তিনি নামলেন। আবু আইয়ুব আনসারী আসলেন এবং তাঁর সামানপত্র নিলেন, আর আসআদ ইবনে যুরারা আসলেন এবং তাঁর উষ্ট্রীর লাগাম ধরলেন।যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদ থেকে বের হলেন, তখন আনসাররা তাঁকে ঘিরে ধরল। তিনি বললেন: "মানুষ তার সামানপত্রের সাথেই থাকে।" অতঃপর তিনি আবু আইয়ুব আনসারী খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে কুলাইবের বাড়িতে অবস্থান করলেন, যার ঘর ছিল বনী গানাম ইবনে নাজ্জার গোত্রে।আবু আমর ইবনে জাহাশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাসস্থান নির্বাচন করলেন, অতঃপর তিনি তাঁর ঘরে এবং মসজিদে অবস্থান নিলেন। তিনি চাইলেন সকল আনসারদের মাঝখানে থাকতে, ফলে আনসাররা তাঁকে বেষ্টন করে নিল।বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমাদের কাছে সর্বপ্রথম যারা আসলেন তারা হলেন মুসআব ইবনে উমায়ের এবং ইবনে উম্মে মাকতুম, তাঁরা মানুষকে কুরআন পড়াতেন। অতঃপর আসলেন আম্মার ইবনে ইয়াসির এবং বিলাল। এরপর ওমর ইবনে খাত্তাব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিশজন সাহাবীর সাথে আসলেন।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমন করলেন। আমি মদিনাবাসীদের কোনো কিছুতে এতোটা আনন্দিত হতে দেখিনি যতটা তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনে আনন্দিত হয়েছিল। এমনকি দাসীরাও বলতে লাগল: "রাসূলুল্লাহ আমাদের মাঝে এসেছেন, তিনি এসেছেন।" তিনি আসার আগেই আমি মুফাসসাল সূরার অন্তর্গত 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা' পাঠ করে ফেলেছিলাম।আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: "যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় আসলেন, তখন আবু বকর ও বিলাল জ্বরে আক্রান্ত হলেন।" তিনি বলেন: আমি তাঁদের কাছে প্রবেশ করলাম এবং বললাম: হে আব্বাজান! আপনি কেমন বোধ করছেন? এবং হে বিলাল! আপনি কেমন বোধ করছেন? আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন জ্বরে আক্রান্ত হতেন, তখন তিনি বলতেন:প্রতিটি মানুষ তার পরিবারের মধ্যে সকাল অতিবাহিত করে … অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৪০)
قالت: وكان بلال إذا أقلعت عنه الحمى، يرفع عقيرته فيقول:ألا ليت شعري هل أبيتن ليلةً … بوادٍ وحولي إذخرٌ وجليلوهل أردن يوماً مياه مجنةٍ … وهل يبدون لي شامةٌ وطفيلقالت عائشة رضي الله عنها: فجئت رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبرته، فقال: ((اللهم حبب إلينا المدينة كحبنا مكة أو أشد، وصححها، وبارك لنا في صاعها ومدها، وانقل حماها واجعلها بالجحفة)) .قال أهل السير: وأقام علي بن أبي طالب رضي الله عنه بمكة ثلاث ليال وأيامها حتى أدى عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الودائع التي كانت عنده للناس، حتى إذا فرغ منها لحق برسول الله صلى الله عليه وسلم فنزل معه على كلثوم بن الهدم.قالوا: ولم يبق بمكة من المهاجرين إلا من حبسه أهله أو فتنوه.أنبأنا أبو القاسم الزندوزدي، عن أبي علي المقري، عن أبي نعيم الحافظ، عن جعفر الخواص، قال: أخبرنا محمد بن عبد الرحمن بن زيد بن أسلم، عن أبيه في قول الله عز وجل: {وقل رب أدخلني مدخل صدقٍ وأخرجني مخرج صدقٍ واجعل لي من لدنك سلطاناً نصيراً} .قال: جعل الله مدخل صدقٍ المدينة، ومخرج صدقٍ مكة، وسلطاناً نصيراً الأنصار.
তিনি বলেন: বিলাল যখন জ্বর থেকে কিছুটা সুস্থ বোধ করতেন, তখন উচ্চস্বরে আবৃত্তি করে বলতেন:হায়! আমি যদি জানতাম, আমি কি কোনোদিন মক্কার উপত্যকায় এমন একটি রাত কাটাতে পারব … যেখানে আমার চারপাশে ইযখির ও জালীল ঘাস থাকবে?আমি কি কোনোদিন মাজান্নার ঝর্ণাধারায় উপস্থিত হতে পারব? … আর শামাহ ও তাফীল পাহাড় কি কখনো আমার সামনে দৃশ্যমান হবে?আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: এরপর আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন: ((হে আল্লাহ! আমাদের নিকট মদীনাকে তেমনি প্রিয় করে দিন যেমন মক্কা আমাদের প্রিয় ছিল, অথবা তার চেয়েও বেশি। একে আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর করে দিন, এর সা’ ও মুদ-এ বরকত দান করুন এবং এর জ্বরকে জুহফায় স্থানান্তরিত করে দিন।))সীরাত বিশেষজ্ঞগণ বলেন: আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তিন দিন ও তিন রাত মক্কায় অবস্থান করেন, যতক্ষণ না তিনি মানুষের সেই আমানতসমূহ পরিশোধ করেন যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গচ্ছিত ছিল। যখন তিনি তা থেকে অবসর হলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে গিয়ে মিলিত হলেন এবং তাঁর সাথে কুলসুম বিন হিদমের বাড়িতে অবস্থান নিলেন।তাঁরা বলেন: মুহাজিরদের মধ্যে আর কেউই মক্কায় অবশিষ্ট ছিলেন না, কেবল তাঁরা ছাড়া যাদেরকে তাঁদের পরিবার বন্দি করে রেখেছিল অথবা ফেতনায় ফেলেছিল।আবুল কাসেম আয-যানদুযদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-মুকরি থেকে, তিনি আবু নুয়াইম আল-হাফিয থেকে, তিনি জাফর আল-খাওওয়াস থেকে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম তাঁর পিতা থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে: {এবং বলুন: হে আমার রব! আমাকে প্রবেশ করান সত্যের প্রবেশস্থলে এবং আমাকে বের করুন সত্যের প্রস্থানস্থল দিয়ে এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে দান করুন সাহায্যকারী শক্তি।}তিনি বলেন: আল্লাহ 'সত্যের প্রবেশস্থল' করেছেন মদীনাকে এবং 'সত্যের প্রস্থানস্থল' করেছেন মক্কাকে, আর 'সাহায্যকারী শক্তি' করেছেন আনসারদের।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الباب الرابع في ذكر فضائلها وما جاء في ترابهاأخبرنا عبد الرحمن بن علي الحافظ في كتابه قال: حدثنا معمر بن عبد الواحد إملاءً، قال: أنبأنا شكر بن أحمد، أنبأنا أبو سعيد الرازي الحافظ في كتابه، قال: قرأت على علي بن عمر بن أحمد، قال: حدثنا عبد الرحمن بن أبي حاتم، حدثنا سليمان بن داود، حدثنا أبو غزية، حدثنا عبد العزيز بن عمران، عن محمد بن إبراهيم بن إسماعيل بن ثابت بن قيس ابن شماس، عن أبيه قال:قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ((غبار المدينة شفاء من الجذام)) .أخبرتنا عفيفة الفارقانية في كتابها عن أبي علي المقري، عن أبي نعيم الحافظ، عن أبي محمد بن الخواص، قال: أخبرنا أبو يزيد المخزومي، حدثنا الزبير بن بكار، حدثنا محمد بن الحسن عن محمد بن فضالة، عن إبراهيم ابن الجهم: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتى بني الحارث فرآهم روباً.فقال: ((ما لكم يا بني الحارث روباً؟)) ، قالوا: نعم يا رسول الله، أصابتنا هذه الحمى، قال: ((فأين أنتم عن صعيب)) ؟ قالوا: يا رسول الله ما نصنع به؟ قال: ((تأخذون من ترابه فتجعلونه في ماء، ثم يتفل عليه أحدكم
চতুর্থ অধ্যায়: এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর মাটি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার বর্ণনা প্রসঙ্গেহাফেজ আব্দুর রহমান ইবনে আলী আমাদের তাঁর কিতাবে অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: মুয়াম্মার ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: শুকর ইবনে আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফেজ আবু সাঈদ আর-রাজি আমাদের তাঁর কিতাবে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি আলী ইবনে উমর ইবনে আহমাদের সামনে পাঠ করেছি, তিনি বলেছেন: আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবনে দাউদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু গাজিয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ ইবনে উমরান আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইল ইবনে সাবিত ইবনে কায়স ইবনে শামমাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((মদিনার ধূলিকণা কুষ্ঠরোগের আরোগ্য।))আফিফা আল-ফারকানিয়া তাঁর কিতাবে আবু আলী আল-মুদরি থেকে, তিনি হাফেজ আবু নুআইম থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ ইবনে আল-খাওওয়াস থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু ইয়াজিদ আল-মাখজুমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যুবায়ের ইবনে বাক্কার আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ফাদালাহ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনুল জাহম থেকে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বনু হারিসের নিকট আসলেন এবং তাদের অত্যন্ত দুর্বল ও পরিশ্রান্ত অবস্থায় দেখলেন।অতঃপর তিনি বললেন: ((হে বনু হারিস! তোমাদের কী হয়েছে যে তোমাদের এমন পরিশ্রান্ত দেখাচ্ছে?)), তারা বলল: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! এই জ্বর আমাদের আক্রান্ত করেছে। তিনি বললেন: ((তবে তোমরা সুআইব (নামক উপত্যকার মাটি) সম্পর্কে বিমুখ কেন?)) তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তা দিয়ে কী করব? তিনি বললেন: ((তোমরা তার মাটি থেকে কিছু অংশ সংগ্রহ করবে এবং তা পানিতে রাখবে, অতঃপর তোমাদের কেউ তাতে থুথু ছিটাবে...))
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৪২)
ويقول: ((باسم الله تراب أرضنا بريق بعضنا شفاء لمرضنا بإذن ربنا)) ، ففعلوا فتركتهم الحمى.قال أبو القاسم طاهر بن يحيى العلوي: ((صعيب)) وادي بطحان دون الماجشونية، وفيه حفرة مما يأخذ الناس منه وهو اليوم إذا ربا إنسان أخذ منه.قلت: ورأيت هذه الحفرة اليوم والناس يأخذون منها وذكروا أنهم جربوه فوجوده صحيحاً، وأخذت أنا منها أيضاً.وحدثنا ابن زبالة عن إبراهيم بن محمد بن أبي يحيى، عن عمارة بن غزية، عن محمد بن إبراهيم بن الحارث، عن أبي سلمة: أن رجلاً أتي به رسول الله صلى الله عليه وسلم وبرجله قرحة، فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم طرف الحصير، ثم وضع أصبعه التي تلي الإبهام على التراب بعد ما مسها بريقه.فقال: ((باسم الله ريق بعضنا، بتربة أرضنا، يشفى سقيمنا بإذن ربنا)) .ثم وضع أصبعه على القرحة فكأنما حل من عقال.ما جاء في ثمرهاروى مسلم في ((الصحيح)) من حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله تعالى عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من أكل سبع تمرات مما بين لابتيها حين يصبح، لم يضره شيء حتى يمسي)) .وروى البخاري ومسلم في ((الصحيحين)) من حديث سعدٍ أيضاً عن
এবং তিনি বলেন: "আল্লাহর নামে, আমাদের ভূমির মাটি, আমাদের কারো লালার মাধ্যমে, আমাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে আমাদের অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য।" অতঃপর তারা তা করল এবং তাদের জ্বর ছেড়ে গেল।আবুল কাসিম তাহির ইবনে ইয়াহইয়া আল-আলাভি বলেন: "সুআইব" মাজিশুনিইয়াহ-এর নিকটবর্তী বাতহান উপত্যকায় অবস্থিত। সেখানে একটি গর্ত রয়েছে যেখান থেকে মানুষ মাটি সংগ্রহ করে। আজও যখন কোনো ব্যক্তির শরীরে ফোলা রোগ হয়, সে সেখান থেকে মাটি সংগ্রহ করে।আমি বলছি: আমি বর্তমানে এই গর্তটি দেখেছি এবং মানুষ সেখান থেকে মাটি সংগ্রহ করছে। তারা উল্লেখ করেছে যে তারা এটি পরীক্ষা করে সত্য পেয়েছে। আমিও সেখান থেকে মাটি সংগ্রহ করেছি।ইবনে জুবাল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি উমারাহ ইবনে গাজিয়্যাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে: এক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আনা হলো যার পায়ে একটি ক্ষত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাটাইয়ের কিনারা তুললেন, তারপর নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলির পাশের আঙুলটি (তর্জনী) নিজের লালা দিয়ে ভেজানোর পর মাটির ওপর রাখলেন।অতঃপর তিনি বললেন: "আল্লাহর নামে, আমাদের কারো লালা এবং আমাদের ভূমির মাটি দ্বারা আমাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে আমাদের অসুস্থ ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করে।"এরপর তিনি তার আঙুলটি ক্ষতের ওপর রাখলেন, তখন যেন তার বন্ধন খুলে দেওয়া হলো।এর ফল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছেইমাম মুসলিম তার "সহীহ" গ্রন্থে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ভোরে এর (মদিনার) দুই পাথুরে এলাকার মধ্যবর্তী স্থানের সাতটি খেজুর খাবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।"ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাদের "সহীহ" গ্রন্থদ্বয়ে সাদের হাদিস থেকেই আরও বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من تصبح كل يوم سبع تمرات عجوة، لم يضره في ذلك اليوم سم ولا سحر)) .ما جاء في انقباض الإيمان إليهاروى البخاري في ((صحيحه)) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال:((إن الإيمان ليأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها)) .قلت: أي ينقبض إليها.ما جاء في دعاء النبي صلى الله عليه وسلم لها بالبركةأخبرنا أبو محمد بن علي الحافظ في كتابه، قال: أنبأنا يحيى بن علي القرشي، أنبأنا حيدرة بن علي الأنطاكي، أنبأنا أبو محمد بن أبي نصر، أنبأنا أحمد بن سليمان بن أيوب، حدثنا عبد الرحمن بن عمرو، حدثنا عبيد بن حسان، حدثنا الليث بن سعد، حدثني سعيد بن أبي سعيد، عن عمرو بن سليم الزرقي، عن عاصم بن عمرو، عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى إذا كنا بالسقيا التي كانت لسعد بن أبي وقاص، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ائتوني بوضوء)) .فلما توضأ قام فاستقبل القبلة، ثم كبر ثم قال: ((اللهم إن إبراهيم كان عبدك وخليلك دعاك لأهل مكة بالبركة، وأنا محمد عبدك ورسولك أدعوك لأهل المدينة أن تبارك لهم في مدهم وصاعهم مثل ما باركت لأهل مكة مع البركة بركتين)) .أنبأنا عبد الرحمن بن علي الفقيه، قال: أخبرنا علي بن أبي محمد،
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ বা জাদু তার কোনো ক্ষতি করবে না।"মদিনার দিকে ঈমান গুটিয়ে আসা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছেইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:"নিশ্চয়ই ঈমান মদিনার দিকে গুটিয়ে আসবে, যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে গুটিয়ে আসে।"আমি বলছি: অর্থাৎ এর (মদিনার) দিকে সংকুচিত বা গুটিয়ে আসবে।মদিনার বরকতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছেআবু মুহাম্মদ বিন আলী আল-হাফিয তাঁর কিতাবে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আলী আল-কুরাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হায়দারা বিন আলী আল-আনতাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ বিন আবি নাসর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন সুলাইমান বিন আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান বিন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদ বিন হাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস বিন সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাইদ বিন আবি সাইদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন সুলাইম আজ-জুরাকি থেকে, তিনি আসেম বিন আমর থেকে, তিনি আলী বিন আবি তালিব (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম, এমনকি যখন আমরা সুকিয়া নামক স্থানে পৌঁছালাম যা সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসের মালিকানাধীন ছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমার জন্য ওজুর পানি নিয়ে এসো।"অতঃপর যখন তিনি ওজু করলেন, তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং কিবলামুখী হলেন, এরপর তাকবির দিলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইব্রাহিম ছিলেন আপনার বান্দা ও খলিল, তিনি মক্কাবাসীদের বরকতের জন্য আপনার কাছে দোয়া করেছিলেন। আর আমি মুহাম্মদ, আপনার বান্দা ও রাসূল, আমি আপনার কাছে মদিনাবাসীদের জন্য দোয়া করছি যে, আপনি যেন তাদের মুদ ও সা'-তে বরকত দান করেন, যেমনটি আপনি মক্কাবাসীদের বরকত দিয়েছিলেন এবং সেই বরকতের সাথে আরও দুই গুণ বরকত দান করেন।"আবদুর রহমান বিন আলী আল-ফকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আবি মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন,
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
أخبرنا أحمد بن محمد البزار، أخبرنا ابن مدرك، حدثنا الحسين بن محمد قال: حدثنا محمد بن عزيز، حدثني سلامة، عن عقيل، عن ابن شهاب، قال: أخبرني أنس بن مالك رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((اللهم اجعل بالمدينة ضعفي ما جعلت بمكة من البركة)) .أخرجاه في ((الصحيحين)) .وأخرج مسلم في ((صحيحه)) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: كان الناس إذا رأوا الثمر جاءوا به إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا أخذه قال:((اللهم بارك لنا في ثمرنا، وبارك لنا في مدينتنا، وبارك لنا في صاعنا، وبارك لنا في مدنا، اللهم إن إبراهيم عبدك وخليلك ونبيك وإنه دعاك لأهل مكة، وإني أدعوك للمدينة بمثل ما دعاك لمكة ومثله معه)) .قال: ثم يدعو أصغر وليد فيعطيه ذلك الثمر.ما جاء في الصبر على لأوائها وشدتهاروى مسلم في ((صحيحه)) من حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال:((لا يثبت أحدٌ على لأوائها وجهدها إلا كنت له شهيداً أو شفيعاً يوم القيامة)) .أنبأنا أبو محمد الشافعي قال: أخبرنا محمد بن الخليل بن فارس، حدثنا أبو القاسم بن أبي العلاء، أنبأنا محمد بن عبد الله الدوري، حدثنا محمد ابن موسى بن إبراهيم بن فضالة، حدثنا أبو بكر محمد بن زبان بن حبيب، أخبرنا محمد بن رمح، أنبأنا الليث، عن سعيد بن أبي سعيد عن أبي سعيد مولى المهري، أنه جاء أبا سعيد الخدري رضي الله عنه ليالي الحرة فاستشاره في الجلاء من المدينة، وشكا إليه أسعارها وكثرة عياله،
আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-বাযযার আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে মুদরিক আমাদের জানিয়েছেন, হুসাইন বিন মুহাম্মদ বলেছেন: মুহাম্মদ বিন আযীয আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেছেন: আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: ((হে আল্লাহ! মক্কায় আপনি যে পরিমাণ বরকত দান করেছেন, মদিনায় তার দ্বিগুণ বরকত দান করুন))।তারা উভয়ে এটি (সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম) 'সহীহাইন'-এ বর্ণনা করেছেন।এবং মুসলিম তার 'সহীহ' গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানুষ যখন (প্রথম) ফল দেখত তখন তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে আসত। তিনি যখন তা গ্রহণ করতেন তখন বলতেন:((হে আল্লাহ! আমাদের ফলে আমাদের জন্য বরকত দান করুন, আমাদের মদিনায় আমাদের জন্য বরকত দান করুন, আমাদের সা’ এবং আমাদের মুদ-এ আমাদের জন্য বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইব্রাহিম আপনার বান্দা, আপনার খলীল এবং আপনার নবী ছিলেন এবং তিনি মক্কাবাসীদের জন্য আপনার নিকট দুআ করেছিলেন। আর আমি আপনার কাছে মদিনার জন্য দুআ করছি মক্কার জন্য তিনি যা দুআ করেছিলেন তার সমপরিমাণ এবং তার সাথে আরও সমপরিমাণ বরকতের জন্য))।তিনি বলেন: এরপর তিনি সর্বকনিষ্ঠ শিশুকে ডাকতেন এবং তাকে সেই ফলটি দিয়ে দিতেন।মদিনার দুঃখ-কষ্ট ও কাঠিন্যের ওপর ধৈর্য ধারণের বর্ণনামুসলিম তার 'সহীহ' গ্রন্থে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:((যে ব্যক্তি এর (মদিনার) দুঃখ-কষ্ট ও পরিশ্রমের ওপর ধৈর্য ধরে অবিচল থাকবে, কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সাক্ষী অথবা সুপারিশকারী হব))।আবু মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন আল-খলীল বিন ফারিস আমাদের জানিয়েছেন, আবুল কাসিম বিন আবিল আলা আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাওরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন মুসা বিন ইব্রাহিম বিন ফাদালা আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন যাব্বান বিন হাবীব আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন রুমহ আমাদের জানিয়েছেন, আল-লাইস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ বিন আবি সাঈদ থেকে, তিনি আল-মাহরির আযাদকৃত গোলাম আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হাররার (যুদ্ধের) রাতগুলোতে তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলেন এবং মদিনা থেকে হিজরত করে চলে যাওয়ার ব্যাপারে তাঁর নিকট পরামর্শ চাইলেন এবং তাঁর কাছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অধিক পরিবার-পরিজনের অভিযোগ করলেন,
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وأخبره أن لا صبر له على جهد المدينة، فقال له: ويحك! لا آمرك بذلك، إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:((لا يصبر أحدٌ على جهد المدينة ولأوائها فيموت، إلا كنت له شفيعاً أو شهيداً يوم القيامة إذا كان مسلماً)) .ما جاء في ذم من رغب عنهاخرج مسلم في ((الصحيح)) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((يأتي على الناس زمان يدعو الرجل ابن عمه وقريبه: هلم إلى الرخاء!، والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون، والذي نفسي بيده، لا يخرج منهم أحدٌ رغبة عنها إلا أخلف الله فيها خيراً منه، ألا إن المدينة كالكير تخرج الخبيث، لا تقوم الساعة حتى تنفي المدينة شرارها كما ينفي الكير خبث الحديد)) .ما جاء في ذم من أخاف المدينة وأهلهاأنبأنا أبو الفرج بن علي، قال أنبأنا عبد الوهاب الحافظ، أنبأنا أبو الحسين العاصمي، حدثنا أبو عمر بن مهدي، حدثنا عثمان بن أحمد السماك، حدثنا أحمد بن الخليل، والحسن بن موسى، قالا: حدثنا سعيد ابن زيد، حدثنا عمرو بن دينار، قال: حدثنا سالم بن عبد الله، قال: سمعت أبي يقول: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول: اشتد الجهد بالمدينة وغلا السعر، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((اصبروا يا أهل المدينة وأبشروا، فإني قد باركت على صاعكم ومدكم، كلوا جميعاً ولا تفرقوا، فإن طعام الرجل يكفي الاثنين، فمن صبر على لأوائها وشدتها كنت له شفيعاً وكنت له شهيداً يوم القيامة. ومن خرج عنها رغبة عما فيها أبدل الله عز وجل فيها من هو خيرٌ منه، ومن بغاها أو كادها بسوءٍ أذابه الله تعالى كما يذوب الملح في الماء)) .
এবং তিনি তাকে জানালেন যে মদীনার কষ্টের ওপর তার কোনো ধৈর্য নেই, তখন তিনি তাকে বললেন: তোমার ধ্বংস হোক! আমি তোমাকে এর আদেশ দিচ্ছি না, নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:((মদীনার কষ্ট ও অভাব-অনটনের ওপর যে কেউ ধৈর্য ধারণ করবে এবং সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, আমি কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষী হব, যদি সে মুসলিম হয়।))।মদীনার প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশকারীর নিন্দায় যা বর্ণিত হয়েছেমুসলিম তার ((সহীহ)) গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ তার চাচাতো ভাই ও নিকটাত্মীয়কে ডাকবে: সচ্ছলতার দিকে এসো! অথচ মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল যদি তারা জানত। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তাদের মধ্য থেকে যে কেউ মদীনার প্রতি অনাগ্রহবশত তা ত্যাগ করে বের হবে, আল্লাহ অবশ্যই সেখানে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার চেয়ে উত্তম কাউকে দান করবেন। জেনে রেখো, মদীনা হলো হাপরের মতো যা মন্দকে বের করে দেয়। ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না মদীনা তার মন্দ লোকদের দূর করে দেয়, যেমন হাপর লোহার ময়লা দূর করে দেয়।))।মদীনা ও মদীনাবাসীদের যারা ভীত-সন্ত্রস্ত করে তাদের নিন্দায় যা বর্ণিত হয়েছেআমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ বিন আলী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহাব আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আল-আসিমী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর বিন মাহদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন আহমাদ আল-সাম্মাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আল-খলীল এবং হাসান বিন মুসা, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে যায়েদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন দিনার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালেম বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: মদীনায় কষ্ট তীব্র হলো এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((হে মদীনাবাসী, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো, কারণ আমি তোমাদের সা’ এবং মুদ-এ বরকত দান করেছি। তোমরা সকলে একত্রে আহার করো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না, কারণ একজনের খাবার দুইজনের জন্য যথেষ্ট হয়। সুতরাং যে কেউ মদীনার অভাব ও কষ্টের ওপর ধৈর্য ধরবে, আমি কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশকারী এবং সাক্ষী হব। আর যে কেউ এর প্রতি অনাগ্রহের কারণে এখান থেকে বেরিয়ে যাবে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার পরিবর্তে এখানে এমন একজনকে দান করবেন যে তার চেয়ে উত্তম। আর যে ব্যক্তি মদীনার অনিষ্ট করতে চাইবে বা কোনো চক্রান্ত করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে গলিয়ে দেবেন যেমন লবণ পানিতে গলে যায়।))।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
أنبأنا أبو طاهر لاحق بن علي (قندرة) الصوفي، أنبأنا أبو القاسم الكاتب، أنبأنا أبو علي بن المذهب، أنبأنا أبو بكر القطيعي قال: أنبأنا عبد الله بن أحمد بن حنبل، حدثني أبي، حدثني أنس بن عياض، حدثني يزيد بن خصيفة، عن عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي صعصعة، عن عطاء ابن يسار، عن السائب بن خلاد رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من أخاف أهل المدينة ظلماً أخافه الله، وعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين؛ لا يقبل الله منه يوم القيامة صرفاً ولا عدلاً)) .أنبأنا أبو محمد بن الشافعي، عن أبي محمد بن طاووس، حدثنا سليمان ابن إبراهيم، حدثنا أبو عبد الله اليزدي، حدثنا محمد بن الحسن، حدثنا محمد بن محمود، حدثنا مكي بن إبراهيم، حدثنا هاشم بن عتبة بن أبي وقاص، عن عبد الله بن نسطاس، عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من أخاف أهل المدينة؛ فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صرفاً ولا عدلاً، ومن أخاف أهلها فقد أخاف ما بين هذين ووضع يديه على جنبيه تحت ثدييه)) .وخرج البخاري في ((صحيحه)) من حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((لا يكيد أهل المدينة أحدٌ إلا انماع كما ينماع الملح في الماء)) .أخبرنا عبد الرحمن بن أبي الحسن في كتابه قال: أنبأنا أبو البركات بن المبارك، أنبأنا عاصم بن الحسن، أنبأنا عبد الواحد بن محمد، حدثنا ابن السماك، حدثنا إسحاق بن يعقوب، حدثنا محمد بن عبادة، حدثنا أبو ضمرة، عن عبد السلام بن أبي الجنوب، عن
আবু তাহের লাহিক ইবন আলী (কুন্দরাহ) আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসিম আল-কাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী ইবনুল মুজাহহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-কাতিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবন ইয়াদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবন খুসাইফাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবি সা’সা’আহ থেকে, আতা ইবন ইয়াসার থেকে, আস-সাইব ইবন খাল্লাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদিনাবাসীদের ওপর জুলুম করে তাদের আতঙ্কিত করবে, আল্লাহ তাকে আতঙ্কিত করবেন এবং তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল ও সকল মানুষের অভিশাপ বর্ষিত হবে; কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।"আবু মুহাম্মদ ইবন আশ-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ ইবন তাউস থেকে, সুলাইমান ইবন ইবরাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুল্লাহ আল-ইয়াযদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন মাহমুদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মাক্কী ইবন ইবরাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাশিম ইবন উতবাহ ইবন আবি ওয়াক্কাস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন নাসতাস থেকে, জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদিনাবাসীদের আতঙ্কিত করবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল ও সকল মানুষের অভিশাপ বর্ষিত হবে, আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না। আর যে ব্যক্তি মদিনাবাসীদের আতঙ্কিত করল, সে মূলত আমার এ দুটির মধ্যবর্তী অংশকে আতঙ্কিত করল - আর তিনি (এ কথা বলার সময়) তাঁর হাত দুটি তাঁর বুকের নিচে দুই পাঁজরের ওপর রাখলেন।"ইমাম বুখারি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তিই মদিনাবাসীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, সে সেভাবেই গলে যাবে যেভাবে পানিতে লবণ গলে যায়।"আবদুর রহমান ইবন আবুল হাসান তাঁর কিতাবে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল বারাকাত ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসিম ইবনুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল ওয়াহিদ ইবন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুস সাম্মাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবন ইয়াকুব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন উবাদাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু দামরাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুস সালাম ইবন আবিল জুনুব থেকে,
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
عمرو بن عبيد، عن الحسن، عن معقل بن يسار رضي الله عنه.قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((المدينة مهاجري، فيها مضجعي وفيها مبعثي، حقيقٌ على أمتي حفظ جيراني ما اجتنبوا الكبائر، من حفظهم كنت له شهيداً أو شفيعاً يوم القيامة، ومن لم يحفظهم سقي من طينة الخبال)) .قيل للمزني: ما طينة الخبال؟ قال: عصارة أهل النار.ما جاء في منع الطاعون والدجال من دخولهاوفي ((الصحيحين)) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((على أنقاب المدينة ملائكة، لا يدخلها الطاعون ولا الدجال)) .وفيهما من حديث أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((ليس من بلدٍ إلى سيطؤه الدجال، إلا مكة والمدينة، ليس له نقبٌ من أنقابها إلا عليه الملائكة صافين يحرسونها، فينزل السبخة ثم ترجف المدينة بأهلها ثلاث رجفات، فيخرج إليه كل كافرٍ ومنافقٍ)) .وأخرج البخاري من حديث أبي بكرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((لا يدخل المدينة رعب المسيح الدجال، لها يومئذٍ سبعة أبوابٍ على كل بابٍ ملكان)) .ذكر ما يؤول إليه أمرهاأنبأنا القاسم بن علي، قال: أخبرنا عبد الرحمن بن أبي الحسن،
আমর ইবনে উবাইদ থেকে, হাসান থেকে, তিনি মা’কিল ইবনে ইয়াসার (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((মদিনা আমার হিজরতস্থল, এখানেই আমার শয়নস্থল এবং এখানেই আমার পুনরুত্থানস্থল। আমার উম্মতের ওপর কর্তব্য হলো আমার প্রতিবেশীদের মর্যাদা রক্ষা করা যতক্ষণ তারা কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে। যে ব্যক্তি তাদের মর্যাদা রক্ষা করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সাক্ষী অথবা সুপারিশকারী হব। আর যে তাদের মর্যাদা রক্ষা করবে না, তাকে ত্বিনাতুল খাবাল পান করানো হবে))।মুযানীকে জিজ্ঞেস করা হলো: ত্বিনাতুল খাবাল কী? তিনি বললেন: জাহান্নামীদের দেহনিসৃত নির্যাস।মদিনায় মহামারি ও দাজ্জালের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গেএবং 'সহীহাইন'-এ আবু হুরায়রা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসে রয়েছে যে তিনি বলেছেন: ((মদিনার প্রবেশপথসমূহে ফেরেশতারা নিয়োজিত আছেন, সেখানে মহামারি কিংবা দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না))।সেই গ্রন্থদ্বয়েই আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসে রয়েছে যে তিনি বলেছেন: ((মক্কা ও মদিনা ব্যতীত এমন কোনো ভূখণ্ড নেই যা দাজ্জাল পদদলিত করবে না। মদিনার প্রতিটি প্রবেশপথেই ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত রয়েছেন। অতঃপর দাজ্জাল নোনা প্রান্তরে অবতরণ করবে, তখন মদিনা তার অধিবাসীদের নিয়ে তিনবার কেঁপে উঠবে। ফলে সকল কাফের ও মুনাফিক তার কাছে বেরিয়ে আসবে))।ইমাম বুখারি আবু বাকরা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: ((মদিনায় মসীহ দাজ্জালের আতঙ্ক প্রবেশ করবে না। সেদিন মদিনার সাতটি প্রবেশপথ থাকবে এবং প্রতিটি প্রবেশপথে দুইজন করে ফেরেশতা থাকবেন))।মদিনার অবস্থা যে পরিণতির দিকে গড়াবে তার বর্ণনাআমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাসেম ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে আবুল হাসান,
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
أنبأنا سهل بن بشر، أنبأنا محمد بن الحسين، أنبأنا أبو طاهر الذهلي قال: حدثنا جعفر بن محمد الفريابي، حدثنا هشام بن عمار، أنبأنا يحيى بن حمزة، حدثنا الزبيدي، حدثنا الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لتتركن المدينة على خير ما كانت مدلاة ثمارها لا يغشاها إلا العوافي –يريد عوافي السباع والطير- وآخر من يحشر منها راعيان من مزينة يردان المدينة ينعقان بغنمها فيجدانها وحشاً، حتى إذا بلغا ثنية الوداع، خرا على وجوههما)) ، أخرجه البخاري في ((صحيحه)) .تضعيف الأعمال بهاأخبرنا عبد العزيز بن محمود بن الأخضر، قال: أخبرنا عبد الأول بن عيسى بن شعيب السجزي، قال: أخبرنا محمد بن عبد العزيز الفارسي، أخبرنا عبد الرحمن بن أبي شريح، حدثنا ابن صاعد، حدثنا هارون بن موسى، حدثنا عمر بن أبي بكر الموصلي، عن القاسم بن عبد الله، عن كثير بن عبد الله بن عمرو بن عوف، عن نافع، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال:قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((صلاة الجمعة بالمدينة كألف صلاةٍ فيما سواها)) .وبالإسناد عن ابن عمر رضي الله عنهما، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((صيام شهر رمضان في المدينة كصيام ألف شهرٍ فيما سواها)) .فضيلة الموت بهاأنبأنا عبد الرحمن بن علي قال: أنبأنا يحيى بن علي بن الطراح، قال: أنبأنا محمد بن أحمد المعدل، حدثنا محمد بن عبد الله الدقاق، حدثنا الصلت بن مسعود، حدثنا سفيان بن موسى،
সাহল ইবনে বিশর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহির আদ-দুহলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আয-যুবাইদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আয-যুহরি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((মদিনা যখন তার সবচেয়ে ভালো অবস্থায় থাকবে, তখন মানুষ তাকে বর্জন করে চলে যাবে, তার ফলসমূহ নুইয়ে ঝুলে থাকবে, বন্য হিংস্র পশু ও পাখি ছাড়া আর কেউ সেখানে আসবে না। আর মদিনা থেকে সবশেষে যাদের হাশর করা হবে, তারা হলো মুযাইনা গোত্রের দুই রাখাল, যারা তাদের বকরিগুলো হাঁকিয়ে মদিনার দিকে আসতে চাইবে, কিন্তু তারা মদিনাকে জনমানবহীন বন্য অবস্থায় দেখতে পাবে। শেষ পর্যন্ত যখন তারা সানিয়াতুল ওয়াদা নামক স্থানে পৌঁছাবে, তখন তারা তাদের চেহারার ওপর উপুড় হয়ে পড়ে যাবে))। এটি ইমাম বুখারি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।সেখানে আমলসমূহের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়াআবদুল আজিজ ইবনে মাহমুদ ইবনুল আখদার আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল আউয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুআইব আস-সিজজি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আল-ফারিসি আমাদের জানিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনে আবি শুরাইহ আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে সায়েদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হারুন ইবনে মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আবি বকর আল-মাওসিলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি কাসির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আউফ থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((মদিনায় জুমার সালাত আদায় করা অন্য জায়গার এক হাজার সালাতের সমান))।এবং পূর্বোক্ত সনদে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((মদিনায় রমজান মাসের রোজা রাখা অন্য জায়গার এক হাজার মাসের রোজার সমান))।সেখানে মৃত্যুবরণ করার ফজিলতআবদুর রহমান ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনুত তাররাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মুয়াদ্দিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দাক্কাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আস-সালত ইবনে মাসউদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
حدثنا أيوب، عن نافع، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال:قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من استطاع أن يموت بالمدينة فليمت، فإنه من مات بالمدينة شفعت له يوم القيامة)) .
আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি বলেন:আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মদিনায় মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম হয়, সে যেন সেখানেই মৃত্যুবরণ করে; কেননা যে ব্যক্তি মদিনায় মৃত্যুবরণ করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশ করব।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দুররাতুস সামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ - ত্ববআ দারুল আরকাম
(পৃষ্ঠা: ৫১)
الباب الخامس في ذكر تحريم النبي صلى الله عليه وسلم للمدينة وذكر حدود حرمهافي ((الصحيحين)) من حديث عبد الله بن زيد بن عاصم، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((إن إبراهيم حرم مكة ودعا لأهلها، وإني حرمت المدينة كما حرم إبراهيم مكة، وإني دعوت في صاعها ومدها بمثل ما دعا به إبراهيم لأهل مكة)) .وذكر أبو داود السجستاني في ((السنن)) من حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((المدينة حرامٌ ما بين عائر إلى ثور، فمن أحدث حدثاً أو آوى محدثاً فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه صرفاً ولا عدلاً، لا يختلى خلاها، ولا ينفر صيدها، ولا تلتقط لقطتها إلا لمن أنشد بها، ولا يصلح لرجل أن يحمل فيها السلاح لقتال، ولا يصلح أن يقطع منها شجرة إلا أن يعلف رجلٌ بعيره)) .وفي ((الصحيحين)) من حديث علي رضي الله عنه أيضاً، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((المدينة حرمٌ ما بين عير إلى ثور، فمن أحدث فيها حدثاً أو آوى محدثاً فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه يوم القيامة صرفاً ولا عدلاً)) .قال أبو عبيد القاسم بن سلام: عيرٌ وثورٌ جبلان، وأهل المدينة لا
পঞ্চম অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক মদিনাকে হারাম (পবিত্র ও নিষিদ্ধ এলাকা) ঘোষণা এবং এর হারামের সীমানা প্রসঙ্গে'সহীহাইন'-এ আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আসেম থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইব্রাহিম মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন এবং এর অধিবাসীদের জন্য দোয়া করেছেন। আর আমি মদিনাকে হারাম ঘোষণা করলাম যেমনিভাবে ইব্রাহিম মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছিলেন। আর আমি এর সা' এবং মুদ (পরিমাপের পাত্র)-এর বরকতের জন্য তেমনই দোয়া করেছি যেমনটি ইব্রাহিম মক্কাবাসীদের জন্য করেছিলেন।"আবু দাউদ সাজিস্তানি তার 'সুনান' গ্রন্থে আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আইর থেকে সাওর পর্যন্ত মদিনা হারাম। সুতরাং যে ব্যক্তি এখানে কোনো নতুন বিষয় (বিদআত) উদ্ভাবন করবে অথবা কোনো বিদআতিকে আশ্রয় দেবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না। এখানকার তাজা ঘাস কাটা যাবে না, এখানকার কোনো শিকারকে তাড়ানো যাবে না, কোনো হারানো বস্তু উঠানো যাবে না—তবে যে ব্যক্তি তা ঘোষণা করার (মালিককে খোঁজার) জন্য উঠায় তার কথা ভিন্ন। কোনো ব্যক্তির জন্য এখানে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে অস্ত্র বহন করা সমীচীন নয়, এবং এখান থেকে কোনো গাছ কাটা বৈধ নয়—তবে যদি কেউ তার উটের খাদ্যের প্রয়োজনে কাটে (তা জায়েজ)।"আবার 'সহীহাইন'-এ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেই বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আইর থেকে সাওর পর্যন্ত মদিনা হারাম। সুতরাং যে ব্যক্তি এখানে কোনো বিদআত সৃষ্টি করবে বা কোনো বিদআতিকে আশ্রয় দেবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোনো নফল বা ফরজ ইবাদত কবুল করবেন না।"আবু উবাইদ কাসেম বিন সাল্লাম বলেছেন: আইর এবং সাওর হলো দুটি পাহাড়, আর মদিনাবাসীরা...