(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: -)
الخراج ليحيى بن آدم   (يحيى بن آدم القرشي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الخراج

المؤلف: أبو زكرياء يحيى بن آدم بن سليمان القرشي بالولاء، الكوفي الأحول (ت 203هـ)

الناشر: المطبعة السلفية ومكتبتها

الطبعة: الثانية، 1384

عدد الصفحات: 169

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইয়াহইয়া ইবনে আদমের আল-খারাজ   (ইয়াহইয়া ইবনে আদম আল-কুরাশী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-খারাজ

লেখক: আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আদম ইবনে সুলায়মান আল-কুরাশী (মাওলা হিসেবে), আল-কুফি আল-আহওয়াল (মৃত্যু ২০৩ হিজরি)

প্রকাশক: আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ ওয়া মাকতাবাতুহা

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৮৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৯

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الخراج]ـ

المؤلف: أبو زكرياء يحيى بن آدم بن سليمان القرشي بالولاء، الكوفي الأحول (المتوفى: 203هـ)

الناشر: المطبعة السلفية ومكتبتها

الطبعة: الثانية، 1384

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة تخريج الأحاديث]

--------------------------------------------

الكتاب مرتبط بنسخة مصورة موافقه لترقيمه (ت أحمد شاكر) وأخرى مخالفة (ت حسين مؤنس)
—[আল-খারাজ]—

লেখক: আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আদম বিন সুলায়মান আল-কুরাশি (মাওলা সূত্রে), আল-কুফি আল-আহওয়াল (মৃত্যু: ২০৩ হিজরি)

প্রকাশক: আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ ও তার লাইব্রেরি

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৮৪

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি হাদীস তাখরীজ পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত]

--------------------------------------------

বইটি একটি চিত্রিত (স্ক্যান) কপির সাথে যুক্ত যা এর সংখ্যায়নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (তাহকীক: আহমাদ শাকির) এবং অন্যটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ (তাহকীক: হুসাইন মুনিস)
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ١٨)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

باب الغنيمة والفيء

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْبُسْرِيِّ أَحْسَنَ اللَّهُ تَوْفِيقَهُ. قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجََبَّارِ السُّكَّرِيُّ فِي الْمُحَرَّمِ سَنَةَ سِتَّ عَشْرَةَ وَأَرْبَعِمِائِةٍ. قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ إْسْمَاعِيلَ بِنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الصَّفَّارُ، قِرَاءَةًُ عَلَيْهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بِنْ عَفَّانَ الْكُوفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ بْنِ سُلَيْمَانَ الْقُرَشِيُّ قَالَ

 

1 -: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: سَمِعْنَا أَنَّ الْغَنِيمَةَ مَا غَلَبَ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ بِالْقِتَالِ حَتَّى يَأْخُذُوهُ عَنْوَةً، وَأَنَّ الْفَيْئَ مَا صُولِحُوا عَلَيْهِ، يَقُولُ: مِنَ الْجِزْيَةِ وَالْخَرَاجِ "
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

গনীমত ও ফায়-এর অধ্যায়

শায়খ আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী বিন আহমাদ বিন আল-বুসরী (আল্লাহ তাঁর তাওফীককে সুন্দর করুন) আমাদিগকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল জব্বার আস-সুককারী চারশ ষোলো হিজরীর মুহাররম মাসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আলী ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী বিন আফফান আল-কুফী আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আদম বিন সুলাইমান আল-কুরাশী আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

 

১ -: হাসান বিন সালেহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা শুনেছি যে, গনীমত হলো তা যা মুসলিমগণ যুদ্ধের মাধ্যমে জয় লাভ করে জোরপূর্বক দখল করেন, আর ফায় হলো তা যা সন্ধির মাধ্যমে অর্জিত হয়; তিনি বলেন: যেমন জিজিয়া ও খারাজ।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ١٨)
2 - قَالَ الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ: وَأَمَّا مَا هَرَبَ أَهْلُهُ ، وَتَرَكُوهُ مِنْ غَيْرِ قِتَالٍ، فَهَذَا " كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، مِمَّا لَمْ يُوجِفْ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ بِخَيْلٍ ، وَلَا رِكَابٍ ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُهُ حَيْثُ يَرَى "
২ - হাসান বিন সালিহ বলেন: আর যে সম্পদ থেকে এর বাসিন্দারা পলায়ন করেছে এবং কোনো যুদ্ধ ছাড়াই তা ছেড়ে চলে গেছে, তা ছিল আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য—যার জন্য মুসলিমরা কোনো ঘোড়া কিংবা উট পরিচালনা করেনি; সুতরাং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা সেখানে ব্যয় করতেন যেখানে তিনি সমীচীন মনে করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ١٨)
3 - قَالَ يَحْيَى: قُلْتُ لِلْحَسَنِ: فَإِنْ قَاتَلُوا عَلَى أَرْجُلِهِمْ حَتَّى يَظْهَرُوا؟ قَالَ: " فَهِيَ لَهُمْ "
৩ - ইয়াহইয়া বলেন: আমি হাসানকে বললাম: যদি তারা পায়ে হেঁটে (পদাতিক হয়ে) লড়াই করে যতক্ষণ না তারা বিজয়ী হয়? তিনি বললেন: "তবে তা তাদের জন্যই।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ١٨)
4 - قَالَ: " فَأَمَّا الْغَنِيمَةُ فَفِيهَا الْخُمُسُ لِلَّهِ عز وجل، وَهُوَ مَرْدُودٌ مِنَ اللَّهِ عز وجل عَلَى الَّذِينَ سَمَّى اللَّهُ {لِلرَّسُولِ ، وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى ، وَالْمَسَاكِينِ ، وَابْنِ السَّبِيلِ} [الأنفال: 41] ، لَا يُوضَعُ فِي غَيْرِهِمْ، وَذَلِكَ إِلَى الْإِمَامِ ، يَضَعُهُ فِيمَنْ حَضَرَهُ مِنْهُمْ، بَعْدَ أَنْ يَجْتَهِدَ رَأْيَهُ ، وَيَتَحَرَّى الْعَدْلَ، وَلَا يَعْمَلُ فِي ذَلِكَ بِالْهَوَى، وَمَا بَقَى بَعْدَ الْخُمُسِ ، فَهُوَ لِلَّذِينَ غَلَبُوا عَلَيْهِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، يُقْسَمُ بَيْنَهُمْ بِالسَّوِيَّةِ

 

5 - وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا يُضْرَبُ إِلَّا لِلْفَرَسِ، وَلَا يُفَضَّلُ الْفَرَسُ عَلَى الرَّجِلِ، وَلَكِنْ لِلْفَرَسِ سَهْمٌ، وَلِلرَّجِلِ سَهْمٌ، وَقَالَ أَصْحَابُنَا: لِلْفَرَسِ سَهْمَانِ وَلِصَاحِبِهِ سَهْمٌ، ⦗ص: 19⦘ فَمَنْ كَانَ مَعَهُ فَرَسٌ ، ضُرِبَ لِفَرَسِهِ بِسَهْمَيْنِ، وَلَهُ بِسَهْمٍ

 

6 -، وَمَنْ كَانَ مَعَهُ فَرَسَانِ ، فَقَدِ اخْتُلِفَ فِيهِ، قَالَ بَعْضُهُمْ: " لَا يُضْرَبُ إِلَّا لِفَرَسٍ وَاحِدٍ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: يُضْرَبُ لِفَرَسَيْنِ بِأَرْبَعَةِ أَسْهُمٍ، فَأَمَّا مَا زَادَ عَلَى الْفَرَسَيْنِ مِنَ الْخَيْلِ، فَلَيْسَ يُضْرَبُ لَهُ بِشَيْءٍ، وَالْإِبِلُ وَالْبِغَالُ وَالْحَمِيرُ كَذَلِكَ لَا يُضْرَبُ لَهَا بِشَيْءٍ

 

7 -، وَأَمَّا الْبَرَاذِينُ: فَقَدِ اخْتُلِفَ فِيهَا، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: الْبِرْذَوْنُ مِنَ الْخَيْلِ، وَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الْفَرَسِ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: يُضْرَبُ لَهُ بِسَهْمٍ وَاحِدٍ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَيْسَ لِلْبِرْذَوْنِ شَيْءٌ

 

8 -، وَلَا يَجُوزُ لِأَحَدٍ مِنَ الْجُنْدِ الَّذِينَ شَهِدُوا الْغَنِيمَةَ، أَنْ يَبِيعَ سَهْمَهُ مِنَ الْمَغْنَمِ، وَلَا يُعْتِقَهُ حَتَّى تُقْسَمَ الْغَنِيمَةُ، وَالْغَنِيمَةُ: جَمِيعُ مَا أَصَابُوا مِنْ شَيْءٍ، قَلَّ ذَلِكَ أَوْ كَثُرَ، حَتَّى الْإِبَرَ ، إِلَّا الْأَرَضِينَ

 

9 - فَإِنَّ الْأَرَضِينَ إِلَى الْإِمَامِ، إِنْ رَأَى أَنْ يُخَمِّسَهَا، وَيَقْسِمَ أَرْبَعَةَ أَخْمَاسِهَا لِلَّذِينَ ظَهَرُوا عَلَيْهَا فَعَلَ ذَلِكَ، وَإِنْ رَأَى أَنْ يَدَعَهَا فَيْئًا لِلْمُسْلِمِينَ عَلَى حَالِهَا أَبَدًا فَعَلَ، بَعْدَ أَنْ يُشَاوِرَ فِي ذَلِكَ ، وَيَجْتَهِدَ رَأْيَهُ؛ لِأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ وَقَفَ بَعْضَ مَا ظَهَرَ عَلَيْهِ مِنَ الْأَرَضِينَ فَلَمْ يَقْسِمْهَا، وَقَدْ قَسَمَ بَعْضَ مَا ظَهَرَ عَلَيْهِ
4 - তিনি বলেছেন: "গনীমতের ক্ষেত্রে এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) মহান পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর জন্য নির্ধারিত, আর তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ঐ ব্যক্তিদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হবে যাদের নাম আল্লাহ উল্লেখ করেছেন: {রাসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্মীয়দের জন্য, এতিমদের জন্য, মিসকিনদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য} [আল-আনফাল: ৪১]। এটি তাদের ব্যতীত অন্য কোথাও ব্যয় করা যাবে না। আর এটি ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধান) দায়িত্বে ন্যস্ত; তিনি তার ইজতিহাদ ও ন্যায়বিচারের অনুসন্ধান শেষে তাদের মধ্যে যারা উপস্থিত রয়েছে তাদের মাঝে তা বণ্টন করবেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রবৃত্তি অনুযায়ী কোনো কাজ করবেন না। আর এই এক-পঞ্চমাংশ বের করার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা ঐ সকল মুসলিমদের জন্য যারা বিজয়ী হয়েছে; যা তাদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে।"

 

5 - আর তাদের কেউ কেউ বলেছেন: কেবল ঘোড়ার জন্যই অংশ ধরা হবে, তবে ঘোড়াকে পদাতিকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হবে না। বরং ঘোড়ার জন্য এক অংশ এবং পদাতিকের জন্য এক অংশ। আমাদের সাথীগণ (ফকিহগণ) বলেছেন: ঘোড়ার জন্য দুই অংশ এবং তার মালিকের জন্য এক অংশ। ⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ অতএব, যার সাথে ঘোড়া থাকবে, তার ঘোড়ার জন্য দুই অংশ এবং তার নিজের জন্য এক অংশ নির্ধারিত হবে।

 

6 - আর যার সাথে দুটি ঘোড়া থাকবে, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: "কেবল একটি ঘোড়ার জন্যই অংশ ধরা হবে।" আবার কেউ কেউ বলেছেন: দুটি ঘোড়ার জন্য চার অংশ ধরা হবে। তবে দুটির বেশি ঘোড়ার ক্ষেত্রে কোনো অংশ ধরা হবে না। তদ্রূপ উট, খচ্চর এবং গাধার জন্যও কোনো অংশ ধরা হবে না।

 

7 - আর বারাযিন (অনারবীয় ঘোড়া)-এর ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: বারাযিনও ঘোড়ার অন্তর্ভুক্ত এবং এটি ঘোড়ার মর্যাদাই রাখে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এর জন্য এক অংশ নির্ধারিত হবে। আবার কেউ বলেছেন: বারাযিন-এর জন্য কিছুই নেই।

 

8 - আর গনীমতের যুদ্ধে উপস্থিত কোনো সৈন্যের জন্য গনীমত বণ্টন হওয়ার আগে তার প্রাপ্ত অংশ বিক্রি করা বা তা মুক্ত করা বৈধ নয়। আর গনীমত হলো: যা কিছু তারা লাভ করেছে তার সবকিছু, তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি, এমনকি সুই পর্যন্ত; কেবল ভূমি (জমি) ব্যতীত।

 

9 - কেননা ভূমির বিষয়টি ইমামের এখতিয়ারাধীন। তিনি যদি এর এক-পঞ্চমাংশ আলাদা করা এবং বাকি চার-পঞ্চমাংশ বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করা সমীচীন মনে করেন, তবে তিনি তা করবেন। আর যদি তিনি একে স্থায়ীভাবে মুসলিমদের জন্য 'ফায়' হিসেবে রেখে দেওয়া সমীচীন মনে করেন, তবে পরামর্শ ও ইজতিহাদের ভিত্তিতে তিনি তাও করবেন। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজিত ভূমির কিছু অংশ (রাষ্ট্রীয় কল্যাণে) রেখেছিলেন এবং তা বণ্টন করেননি, আবার কিছু অংশ তিনি বণ্টন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ١٩)
10 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ مُبَارَكٍ، عَنْ سُفْيَانَ، أَنَّهُ قَالَ: " إِنْ شَاءَ الْإِمَامُ خَمَّسَهَا، وَقَسَمَ أَرْبَعَةَ أَخْمَاسِهَا، وَإِنْ شَاءَ جَعَلَهَا فَيْئًا، كَمَا صَنَعَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِالسَّوَادِ "
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাসান, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, সুফিয়ান থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "ইমাম চাইলে এর এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণ করবেন এবং বাকি চার-পঞ্চমাংশ বণ্টন করে দেবেন; আর তিনি চাইলে একে 'ফায়' হিসেবে নির্ধারণ করতে পারেন, যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব সাওয়াদের (ইরাকের উর্বর ভূমি) ক্ষেত্রে করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ١٩)
11 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ: " الْغَنِيمَةُ مَا أَصَابَ الْمُسْلِمُونَ عَنْوَةً، فَفِيهِ الْخُمُسُ لِمَنْ سَمَّى اللَّهُ ، وَأَرْبَعَةُ أَخْمَاسٍ لِمَنْ شَهِدَهُ، وَالْفَيْءُ مَا صَالَحَ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ بِغَيْرِ ⦗ص: 20⦘ قِتَالٍ، لَيْسَ فِيهِ خُمُسٌ ، فَهُوَ لِمَنْ سَمَّى اللَّهُ وَرَسُولُهُ

 

12 - " وَقَالَ بَعْضُ الْفُقَهَاءِ: " الْأَرْضُ لَا تُخَمَّسُ؛ لِأَنَّهَا فَيْءٌ، وَلَيْسَتْ بِغَنِيمَةٍ، لِأَنَّ الْغَنِيمَةَ لَا تُوقَفُ، وَالْأَرْضُ إِنْ شَاءَ الْإِمَامُ وَقَفَهَا، وَإِنْ شَاءَ قَسَمَهَا كَمَا يَقْسِمُ الْفَيْءَ، فَلَيْسَ فِي الْفَيْءِ خُمُسٌ، وَلَكِنْ لِجَمِيعِ الْمُسْلِمِينَ، كَمَا قَالَ اللَّهُ عز وجل: {مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى} [الحشر: 7] حَتَّى قَالَ: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ} [الحشر: 8] ، ثُمَّ قَالَ: {وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ} ، ثُمَّ قَالَ: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ} ، فَلَمْ يَبْقَ أَحَدٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلَّا دَخَلَ فِي ذَلِكَ، فَإِنْ خَمَّسَهَا ، فَقَدْ صَارَتْ غَنِيمَةً، فَيَقْسِمُ أَرْبَعَةَ أَخْمَاسِهَا بَيْنَ مَنْ حَضَرَهَا

 

13 - " وَقَدْ جَاءَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ: " أَنَّهُ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْفَيْءِ وَالْغَنِيمَةِ شَيْءٌ - إِلَّا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ، فَمَنْ لَمْ يُجَاهِدْ مَعَ الْمُسْلِمِينَ، وَلَمْ يَكُ فَقِيرًا، أَوْ شُغِلَ بِتِجَارَةٍ ، أَوْ عَمَلٍ غَيْرَ ذَلِكَ، فَلَا شَيْءَ لَهُ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ، إِلَّا أَنْ تُصِيبَهُ حَاجَةٌ ، فَيَدْخُلَ مَعَ أَهْلِ الْحَاجَةِ "
১১ - ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: "গনীমত হলো যা মুসলমানরা শক্তির মাধ্যমে (যুদ্ধের দ্বারা) জয় করে অর্জন করে, তাতে আল্লাহ যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের জন্য এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) রয়েছে এবং অবশিষ্ট চার-পঞ্চমাংশ তাদের জন্য যারা যুদ্ধে উপস্থিত ছিল। আর ফাই হলো যা মুসলমানরা যুদ্ধ ছাড়াই ⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘ সন্ধির মাধ্যমে লাভ করে, এতে কোনো খুমুস নেই; বরং তা তাদের জন্য যাদের নাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূল উল্লেখ করেছেন।"

 

১২ - "এবং কোনো কোনো ফকীহ বলেছেন: "জমির খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) বের করা হবে না; কারণ তা ফাই, গনীমত নয়। কেননা গনীমত ওয়াকফ (স্থায়ীভাবে সৎকার্যে উৎসর্গ) করে রাখা যায় না, কিন্তু জমি ইমাম চাইলে ওয়াকফ করে দিতে পারেন, আবার চাইলে ফাইয়ের ন্যায় বণ্টনও করতে পারেন। আর ফাইয়ের মধ্যে কোনো খুমুস নেই, বরং তা সকল মুসলমানের জন্য; যেমনটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আল্লাহ এই জনপদবাসীদের নিকট থেকে তাঁর রাসূলকে যা ফাই হিসেবে দিয়েছেন...} [হাশর: ৭] এমনকি তিনি বলেছেন: {দরিদ্র মুহাজিরদের জন্য} [হাশর: ৮], তারপর বলেছেন: {এবং যারা তাদের পূর্বে এই আবাসভূমিতে (মদীনায়) বসবাস করছিল ও ঈমান এনেছিল}, অতঃপর বলেছেন: {এবং যারা তাদের পরে এসেছে}। ফলে মুসলমানদের মধ্যে আর কেউই বাকি থাকল না যে এর অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সুতরাং যদি তিনি (ইমাম) এর খুমুস বের করেন, তবে তা গনীমতে পরিণত হবে এবং এমতাবস্থায় এর চার-পঞ্চমাংশ যারা যুদ্ধে উপস্থিত ছিল তাদের মধ্যে বণ্টন করে দিতে হবে।"

 

১৩ - "এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বেদুইন মুসলমানদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে: 'ফাই এবং গনীমতে তাদের কোনো প্রাপ্য নেই—যতক্ষণ না তারা মুসলমানদের সাথে মিলে জিহাদ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি মুসলমানদের সাথে জিহাদ করেনি এবং সে দরিদ্রও নয়, বরং ব্যবসা বা অন্য কোনো কাজে লিপ্ত ছিল, গনীমত ও ফাইয়ে তার কোনো অংশ নেই; তবে যদি সে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তবে অভাবগ্রস্তদের তালিকাভুক্ত হিসেবে সে অংশ পেতে পারে'।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
14 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي أَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ: " لَيْسَ لَهُمْ فِي الْفَيْءِ وَالْغَنِيمَةِ شَيْءٌ، إِلَّا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ "
১৪ - ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলকামাহ ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিম বেদুঈনদের সম্পর্কে বলেছেন: "ফাই এবং গনীমতের মালে তাদের জন্য কোনো অংশ নেই, যদি না তারা মুসলিমদের সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করে।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
15 - قَالَ يَحْيَى: وَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: " مَا مِنْ مُسْلِمٍ إِلَّا وَلَهُ فِي هَذَا الْفَيْءِ حَقٌّ، إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ "
১৫ - ইয়াহইয়া বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: “এমন কোনো মুসলিম নেই যার এই ফায়-এর সম্পদে (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) কোনো অধিকার নেই, কেবল তোমাদের দাস-দাসীরা ব্যতীত।”
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢١)
16 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مِقْسَمٍ الْبُرِّيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: " الْفَيْءُ وَالْغَنِيمَةُ مُحْكَمَةٌ، لَمْ يَنْسَخْهَا شَيْءٌ "
১৬ - ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান বিন মিকসাম আল-বুররি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর বিন উবাইদ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "ফাই এবং গণিমত (সংক্রান্ত বিধান) মুহকাম, কোনো কিছুই এগুলোকে রহিত করেনি।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢١)
17 - قَالَ يَحْيَى: وَسَمِعْتُ شَرِيكَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: " إِنَّمَا أَرْضُ الْخَرَاجِ، مَا كَانَ صُلْحًا عَلَى خَرَاجٍ يُؤَدُّونَهُ إِلَى الْمُسْلِمِينَ "، قُلْتُ لَهُ: فَمَا بَالُ سَوَادِ الْكُوفَةِ؟ قَالَ: " هَذَا أُخِذَ عَنْوَةً فَهُوَ فَيْءٌ، وَلَكِنَّهُمْ تُرِكُوا فِيهِ، وَوُضِعَ عَلَيْهِمْ شَيْءٌ، وَلَيْسَ بِالْخَرَاجِ "
১৭ - ইয়াহিয়া বলেন: আমি শারিক বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই খারাজি ভূমি কেবল তা-ই, যা সন্ধির ভিত্তিতে অর্জিত হয়েছে এবং যার বিনিময়ে তারা মুসলিমদের নিকট খারাজ আদায় করে।" আমি তাঁকে বললাম: তাহলে কুফার সাওয়াদের বিষয়টি কী? তিনি বললেন: "এটি শক্তির মাধ্যমে বিজিত হয়েছে, তাই এটি ফায়। তবে তাদেরকে সেখানে বহাল রাখা হয়েছে এবং তাদের ওপর কিছু (কর) ধার্য করা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে খারাজ নয়।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢١)
18 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بنِ الطُّفَيْلِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: سَأَلْتُ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ خَيْبَرَ فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم افْتَتَحَ خَيْبَرَ عَنْوَةً بَعْدَ الْقِتَالِ، وَكَانَتْ خَيْبَرُ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ، فَخَمَّسَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَسَمَهَا بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ، وَنَزَلَ مَنْ نَزَلَ مِنْ أَهْلِ خَيْبَرَ عَلَى الْجَلَاءِ، فَدَعَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى مُعَامَلَةِ الْأَرْضِ
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আত-তুফাইল, মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে শিহাবকে খায়বার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি আমাকে জানালেন যে, তাঁর কাছে এই মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের পর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে খায়বার বিজয় করেছিলেন। আর খায়বার ছিল সেই সব সম্পদের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ‘ফাই’ হিসেবে দান করেছিলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণ করেন এবং তা মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। আর খায়বারবাসীদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট ছিল, তারা দেশত্যাগের শর্তে সেখানে অবস্থান করছিল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ভূমি চাষাবাদের চুক্তিতে আহ্বান করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢١)
19 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: سَمِعْتُ حَسَنَ بْنَ صَالِحٍ يَقُولُ: " كُنَّا نَسْمَعُ أَنَّ مَا دُونَ، الْجَبَلِ مِنْ سَوَادِنَا فَهُوَ فَيْءٌ، وَمَا وَرَاءَ الْجَبَلِ فَهُوَ صُلْحٌ "، قَالَ حَسَنٌ: " فَمَنْ كَانَ مِنْهُمْ صُلْحًا، فَعَلَيْهِمُ الَّذِي صُولِحُوا عَلَيْهِ، فَيُخَلَّى بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ أَرَضِيهِمْ، وَلَا يُوضَعُ عَلَيْهَا شَيْءٌ مَا أَقَامُوا بِصُلْحِهِمْ ، يُؤَدُّونَهُ إِلَى الْمُسْلِمِينَ "
১৯ - আমাদের নিকট ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসান ইবনে সালিহকে বলতে শুনেছি: "আমরা শুনতাম যে, আমাদের সাওয়াদের (ইরাকের উর্বর ভূমি) মধ্যে পাহাড়ের এদিকের অংশ হলো ফায় (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ), আর পাহাড়ের ওদিকের অংশ হলো সুলহ (সন্ধিকৃত অঞ্চল)।" হাসান বলেন: "অতঃপর তাদের মধ্যে যারা সন্ধিচুক্তিভুক্ত, তাদের ওপর সেই দায়বদ্ধতা থাকবে যার ওপর তারা সন্ধি করেছে। তাদের এবং তাদের ভূমির মধ্যে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না এবং তার ওপর নতুন কিছু আরোপ করা হবে না যতক্ষণ তারা তাদের সন্ধিচুক্তি বজায় রাখবে, যা তারা মুসলিমদের নিকট আদায় করে থাকে।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢١)
20 - قَالَ يَحْيَى: قُلْتُ لِلْحَسَنِ: فَإِنْ عَجَزُوا عَنْ ذَلِكَ؟ قَالَ: " يُخَفَّفُ عَنْهُمْ، وَإِنِ احْتَمَلُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَلَا يُزَادُ عَلَيْهِمْ، وَإِنْ تَظَالَمُوا فِيمَا بَيْنَهُمْ حَمَلَهُمْ إِمَامُ الْمُسْلِمِينَ عَلَى الْعَدْلِ، وَوَضَعَ ذَلِكَ الصُّلْحَ عَلَيْهِمْ جَمِيعًا، بِقَدْرِ مَا يُطِيقُونَ فِي أَمْوَالِهِمْ وَأَرْضِيهِمْ، وَلَا يُطْرَحُ عَنْهُمْ شَيْءٌ لِمَوْتِ مَنْ مَاتَ، وَلَا لْإِسْلَامِ مَنْ أَسْلَمَ مِنْهُمْ، وَيُؤْخَذُ بِذَلِكَ كُلِّهِ مَنْ بَقِيَ مِنْهُمْ مَا كَانُوا يُطِيقُونَهُ وَيَحْتَمِلُونَهُ ⦗ص: 22⦘

 

21 - " قَالَ يَحْيَى: وَسَمِعْنَا فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ: " أَنَّ رَجُلَيْنِ أَسْلَمَا مِنْ أَهْلِ أُلَّيْسَ، فَرَفَعَ عُمَرُ جِزْيَتَهُمَا مِنْ جَمِيعِ الْخَرَاجِ، وَذَلِكَ أَنَّ أَهْلَ أُلَّيْسَ كَانُوا صُلْحًا "
২০ - ইয়াহইয়া বলেন: আমি হাসানকে বললাম, তারা যদি তাতে অক্ষম হয়? তিনি বললেন: "তাদের ওপর তা লাঘব করা হবে। আর যদি তারা এর চেয়ে বেশি বহন করতে সক্ষম হয়, তবুও তাদের ওপর তা বাড়ানো হবে না। যদি তারা নিজেদের মধ্যে একে অপরের প্রতি জুলুম করে, তবে মুসলিমদের ইমাম তাদেরকে ন্যায়ের পথে পরিচালিত করবেন এবং তাদের সম্পদ ও ভূমির সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সকলের ওপর সেই সন্ধি কার্যকর করবেন। তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে বা কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তাদের থেকে কিছুই কমানো হবে না; বরং তাদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট থাকবে, তাদের নিকট থেকে এর পুরোটা আদায় করা হবে যতক্ষণ তারা তা বহন করতে সক্ষম হয়।" ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘

 

২১ - "ইয়াহইয়া বলেন: আমরা কোনো কোনো বর্ণনায় শুনেছি যে, উল্লাইসের অধিবাসীদের মধ্যে দুজন লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তখন উমর তাদের জিযিয়া মোট খাজনা থেকে মওকুফ করে দিয়েছিলেন। আর তা এজন্য যে, উল্লাইসের অধিবাসীরা সন্ধিবদ্ধ ছিল।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
22 - قَالَ يَحْيَى: قَالَ الْحَسَنُ: " مَنْ أَسْلَمَ مِنْ أَهْلِ الصُّلْحِ رُفِعَ الْخَرَاجُ عَنْ رَأْسِهِ ، وَعَنْ أَرْضِهِ، تَصِيرُ أَرْضَ عُشْرٍ، إِلَا أَنْ يَكُونَ مِنْ أَهْلِ الصُّلْحِ، صُولِحُوا عَلَى أَنْ يُوضَعَ عَلَى رُءُوسِهِمُ الْجِزْيَةُ، وَعَلَى أَرْضِيهِمُ الْخَرَاجُ، فَمَنْ أَسْلَمَ رُفِعَتِ الْجِزْيَةُ عَنْ رَأْسِهِ، وَكَانَ الْخَرَاجُ عَلَى أَرْضِهِ عَلَى حَالِهِ
22 - ইয়াহিয়া বলেন: হাসান বলেছেন: "সন্ধিভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে, তার ব্যক্তি এবং তার ভূমি থেকে খারাজ (কর) তুলে নেওয়া হয় এবং তা উশরী ভূমিতে পরিণত হয়। তবে তারা যদি এমন সন্ধিভুক্ত গোষ্ঠী হয় যাদের সাথে এই মর্মে সন্ধি হয়েছে যে তাদের ব্যক্তিদের ওপর জিজয়া এবং তাদের ভূমির ওপর খারাজ ধার্য থাকবে; এমতাবস্থায় কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তার ব্যক্তিগত জিজয়া তুলে নেওয়া হবে, কিন্তু তার ভূমির খারাজ পূর্বাবস্থায় বহাল থাকবে।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
23 - قَالَ يَحْيَى: قَالَ حَسَنٌ: وَأَمَّا سَوَادُنَا هَذَا، فَإِنَّا سَمِعْنَا أَنَّهُ كَانَ فِي أَيْدِي النَّبَطِ، فَظَهَرَ عَلَيْهِمْ أَهْلُ فَارِسَ، فَكَانُوا يُؤَدُّونَ إِلَيْهِمُ الْخَرَاجَ، فَلَمَّا ظَهَرَ الْمُسْلِمُونَ عَلَى أَهْلِ فَارِسَ، تَرَكُوا السَّوَادَ وَمَنْ يُقَاتِلُهُمْ مِنَ النَّبَطِ وَالدَّهَّاقِينَ عَلَى حَالِهِمْ، وَوَضَعُوا الْجِزْيَةَ عَلَى رُءُوسِ الرِّجَالِ، وَمَسَحُوا عَلَيْهِمْ مَا كَانَ فِي أَيْدِيهِمْ مِنَ الْأَرْضِ، وَوَضَعُوا عَلَيْهَا الْخَرَاجَ، وَقَبَضُوا عَلَى كُلِّ أَرْضٍ لَيْسَتْ فِي يَدِ أَحَدٍ فَكَانَتْ صَوَافِيَ إِلَى الْإِمَامِ

 

24 - " قَالَ يَحْيَى: وَمِنْ حُجَّةِ حَسَنٍ فِي الْأَرْضِ الَّتِي لَمْ يُوضَعْ عَلَيْهَا الْخَرَاجُ، أَنَّهَا أَرْضُ عُشْرٍ إِذَا أَسْلَمَ صَاحِبُهَا: قَوْلُ عُمَرَ لِلرَّجُلِ حِينَ قَالَ: أَسْلَمْتُ ، فَضَعْ عَنْ أَرْضِي الْخَرَاجَ - فَقَالَ: " إِنَّ أَرْضَكَ أُخِذَتْ عَنْوَةً "، فَهَذَا غَيْرُ مَا صُولِحُوا عَلَيْهِ، وَوَضَعَ عُمَرُ الْخَرَاجَ عَلَى كُلِّ عَامِرٍ وَغَامِرٍ مِنْ أَرَضِيهِمْ يَنَالُهُ الْمَاءُ ، وَيَقْدِرُ عَلَى عِمَارَتِهِ، عَمِلَهُ صَاحِبُهُ أَوْ لَمْ يَعْمَلْهُ. قَالَ حَسَنٌ: وَلَا أَنْ يَدَعَ عَمَلَهُ مِنْ عُذْرٍ، فَإِنَّهُ يُخَفَّفُ عَنْهُ، وَلَا يُكَلَّفُ فَوْقَ طَاقَتِهِ "
২৩ - ইয়াহইয়া বলেন: হাসান বলেছেন: আমাদের এই সাওয়াদ (ইরাকের উর্বর ভূমি) সম্পর্কে আমরা শুনেছি যে, এটি নবতীদের অধিকারে ছিল। এরপর পারস্যবাসীরা তাদের ওপর বিজয়ী হয় এবং তারা পারস্যবাসীদেরকে খারাজ প্রদান করত। যখন মুসলমানরা পারস্যবাসীদের ওপর বিজয়ী হলো, তখন তারা সাওয়াদ এবং সেখানকার যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এমন নবতী ও দাহকানদের (জমিদার) তাদের পূর্বাবস্থায় বহাল রাখেন। তারা পুরুষদের ওপর জিজিয়া ধার্য করেন এবং তাদের অধিকারে থাকা জমিগুলো জরিপ করেন ও সেগুলোর ওপর খারাজ ধার্য করেন। আর যেসব জমি কারো অধিকারে ছিল না, সেগুলো তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং সেগুলো ইমামের (রাষ্ট্রীয়) মালিকানাধীন খাস জমিতে পরিণত হয়।

 

২৪ - " ইয়াহইয়া বলেন: যে জমিতে খারাজ ধার্য করা হয়নি, মালিক ইসলাম গ্রহণ করলে তা উশরীয় ভূমি হিসেবে গণ্য হওয়ার স্বপক্ষে হাসানের একটি দলিল হলো উমর (রা.)-এর সেই উক্তি, যখন এক ব্যক্তি বলেছিল: 'আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি, সুতরাং আমার জমির খারাজ মওকুফ করুন।' তখন তিনি বলেছিলেন: 'তোমার জমি তো যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে।' সুতরাং এটি তাদের সাথে কৃত সন্ধিচুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। আর উমর (রা.) তাদের জমির প্রতিটি আবাদি ও অনাবাদী ভূমির ওপর খারাজ ধার্য করেছিলেন যেখানে পানি পৌঁছায় এবং যা আবাদযোগ্য, তার মালিক তাতে চাষাবাদ করুক বা না করুক। হাসান বলেন: তবে যদি কোনো সংগত ওজরের কারণে সে চাষাবাদ ত্যাগ করে, তবে তার ওপর থেকে কর কমানো হবে এবং তাকে তার সাধ্যের অতীত কোনো কিছুর দায়িত্ব দেওয়া হবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
25 - قَالَ حَسَنٌ فِي أَرْضِ الْخَرَاجِ لِأَهْلِ الذِّمَّةِ: " مَنْ أَسْلَمَ مِنْهُمْ فَهُوَ حُرٌّ مُسْلِمٌ، وَيُطْرَحُ الْجِزْيَةُ عَنْ رَأْسِهِ، وَلَهُ الْخِيَارُ فِي أَرْضِهِ، إِنْ شَاءَ أَقَامَ فِيهَا ، يُؤَدِّي عَنْهَا مَا ⦗ص: 23⦘ كَانَتْ تُؤَدِّي، وَإِنْ شَاءَ تَرَكَهَا ، فَقَبَضَهَا الْإِمَامُ لِلْمُسْلِمِينَ مَعَ مَا فِي يَدَيْهِ، مِمَّا كَانَ فِي أَيْدِي أَهْلِ فَارِسَ

 

26 -، وَمَنْ قُتِلَ مِنْهُمْ فِي الْحَرْبِ، وَمَنْ هَرَبَ وَتَرَكَ أَرْضَهُ، وَكُلُّ أَرْضٍ لَمْ يَكُنْ فِيهَا أَحَدٌ يُمْسَحُ عَلَيْهِ، وَلَمْ يُوضَعْ عَلَيْهَا الْخَرَاجُ، قَالَ الْحَسَنُ: " فَذَلِكَ لِلْمُسْلِمِينَ، وَهُوَ إِلَى الْإِمَامِ، إِنْ شَاءَ أَقَامَ فِيهَا مَنْ يُعَمِّرُهَا، وَيُؤَدِّي إِلَى بَيْتِ مَالِ الْمُسْلِمِينَ عَنْهَا شَيْئًا، وَيَكُونُ الْفَضْلَةُ لَهُ، وَإِنْ شَاءَ أَنْفَقَ عَلَيْهَا مِنْ بَيْتِ مَالِ الْمُسْلِمِينَ، وَاسْتَأْجَرَ مَنْ يَقُومُ فِيهَا، وَيَكُونُ فَضْلُهَا لِلْمُسْلِمِينَ، وَإِنْ شَاءَ أَقْطَعَهَا رَجُلًا مِمَّنْ لَهُ غَنَاءٌ عَنِ الْمُسْلِمِينَ "
২৫ - হাসান জিম্মিদের খারাজি ভূমির বিষয়ে বলেছেন: "তাদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করবে, সে একজন স্বাধীন মুসলিম এবং তার মাথা থেকে জিজিয়া সরিয়ে দেওয়া হবে। তার ভূমির বিষয়ে তার এখতিয়ার থাকবে; সে চাইলে তাতে অবস্থান করতে পারবে এবং তার বিনিময়ে তা-ই প্রদান করবে যা ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ আগে প্রদান করা হতো। আর সে চাইলে তা ত্যাগ করতে পারবে, এমতাবস্থায় ইমাম মুসলমানদের জন্য তা হস্তগত করবেন, সেই সাথে পারস্যবাসীদের হাতে যা ছিল এবং যা বর্তমানে তার হাতে রয়েছে তাও।"

 

২৬ - "এবং যুদ্ধে তাদের মধ্য থেকে যারা নিহত হয়েছে, আর যারা পলায়ন করেছে ও নিজের ভূমি পরিত্যাগ করেছে, এবং এমন প্রত্যেক ভূমি যেখানে জরিপ করার মতো কেউ নেই এবং যার ওপর খারাজ ধার্য করা হয়নি," হাসান বলেন: "তা মুসলমানদের প্রাপ্য এবং এর ফয়সালা ইমামের ওপর ন্যস্ত। তিনি চাইলে সেখানে এমন কাউকে নিয়োজিত করতে পারেন যে তা আবাদ করবে এবং সে এর বিনিময়ে মুসলমানদের বাইতুল মালে নির্দিষ্ট অংশ প্রদান করবে, আর অতিরিক্ত অংশ তার নিজের হবে। তিনি চাইলে মুসলমানদের বাইতুল মাল থেকে সেখানে ব্যয় করতে পারেন এবং সেখানে দেখাশোনার জন্য শ্রমিক নিয়োগ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে এর লভ্যাংশ মুসলমানদের প্রাপ্য হবে। আর তিনি চাইলে তা এমন কোনো ব্যক্তিকে জায়গির হিসেবে দান করতে পারেন, যে মুসলমানদের জন্য যথেষ্ট উপকারী প্রমাণিত হবে।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
27 - قَالَ يَحْيَى: وَكَرِهَ حَسَنُ بْنُ صَالِحٍ شِرَى أَرْضِ الْخَرَاجِ، " وَلَمْ يَرَ بَأْسًا بِشِرَى أَرْضِ الصُّلْحِ مِثْلَ أَهْلِ الْحِيرَةِ وَنَحْوِهِمْ "
27 - ইয়াহইয়া বলেছেন: হাসান ইবনে সালিহ খরাজী জমি ক্রয় করা অপছন্দ করতেন, "তবে তিনি হীরা-বাসী ও তাদের সমজাতীয়দের ন্যায় সন্ধিকৃত জমি ক্রয় করাতে কোনো দোষ দেখতেন না।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
28 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: " قَدْ رَدَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه إِلَيْهِمْ أَرَضِيهِمْ، وَتَرَكَهَا لَهُمْ ، وَصَالَحَهُمْ عَلَى الْخَرَاجِ، قَالَ: " فَكَانَ لَا يَرَى بِشِرَاهَا بَأْسًا "
২৮ - ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান বিন সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি লাইলা থেকে, নিশ্চয়ই তিনি বলতেন: "ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাদের নিকট তাদের জমিগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং তা তাদের জন্যই ছেড়ে দিয়েছেন, আর তাদের সাথে খারাজ এর ভিত্তিতে সন্ধি করেছিলেন।" তিনি বলেন: "তাই তিনি তা ক্রয়ে কোনো সমস্যা মনে করতেন না।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
29 - قَالَ يَحْيَى: قَالَ الْحَسَنُ فِي أَهْلِ الْخَرَاجِ الَّذِينَ وَضَعَ عَلَيْهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ الْجِزْيَةَ عَلَى رُءُوسِهِمْ ثَمَانِيَةً وَأَرْبَعِينَ، وَأَرْبَعَةً وَعِشْرِينَ، وَاثْنَيْ عَشَرَ، قَالَ: " وَلَا يُوضَعُ عَلَيْهِمْ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ، وَمَنْ عَجَزَ مِنْهُمْ خُفِّفَ عَنْهُ، وَأَمَّا أَرْضُهُمْ فَعَلَيْهَا الْخَرَاجُ الَّذِي وَضَعَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: عَلَى الْجَرِيبِ قَفِيزٌ وَدِرْهَمٌ، وَعَلَى النَّخْلِ وَالرِّطَابِ وَالْكَرْمِ وَالشَّجَرِ مَا وَضَعَهُ عَلَيْهِمْ عُمَرُ، فَإِنِ احْتَمَلُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَلَا يُزَادُ عَلَيْهِمْ، وَإِنْ عَجَزُوا عَنْ ذَلِكَ خُفِّفَ عَنْهُمْ، وَلَا يُكَلَّفُونَ فَوْقَ طَاقَتِهِمْ "، كَمَا قَالَ عُمَرُ "
২৯ - ইয়াহইয়া বলেন: হাসান (বাসরী) সেই সকল খারাজ প্রদানকারী প্রজাদের সম্পর্কে বলেছেন, যাদের ওপর উমর ইবনুল খাত্তাব মাথাপিছু আটচল্লিশ, চব্বিশ এবং বারো (দিরহাম) জিযিয়া ধার্য করেছিলেন। তিনি বলেন: "তাদের ওপর এর চেয়ে বেশি ধার্য করা যাবে না। আর তাদের মধ্যে যারা অক্ষম হবে, তাদের ভার লাঘব করা হবে। আর তাদের ভূমির ক্ষেত্রে সেই খারাজই প্রযোজ্য হবে যা উমর ইবনুল খাত্তাব ধার্য করেছিলেন: প্রতি জারীবের (জমির পরিমাপ) ওপর এক কাফীয এবং এক দিরহাম। আর খেজুর গাছ, শাক-সবজি, আঙুর বাগান এবং গাছপালার ওপর উমর যা ধার্য করেছিলেন তা-ই থাকবে। যদি তারা এর চেয়ে বেশি বহন করার সামর্থ্যও রাখে, তবুও তাদের ওপর তা বাড়ানো যাবে না। আর যদি তারা তা দিতে অক্ষম হয়, তবে তাদের ভার লাঘব করা হবে। তাদের সাধ্যাতীত কোনো বোঝা তাদের ওপর চাপানো হবে না," যেমনটি উমর বলেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
30 - قَالَ يَحْيَى، قَالَ حَسَنٌ: " وَلَا نَعْلَمُ عَلِيًّا خَالَفَ عُمَرَ، وَلَا غَيَّرَ شَيْئًا مِمَّا صَنَعَ حِينَ قَدِمَ الْكُوفَةَ "
৩০ - ইয়াহইয়া বলেছেন, হাসান বলেছেন: "আমরা জানি না যে আলী উমরের বিরোধিতা করেছেন, এবং তিনি যখন কুফায় আসলেন তখন তাঁর (উমরের) কৃত কোনো কিছুই পরিবর্তন করেননি।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
31 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ مُبَارَكٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَنَّ عَلِيًّا عليه السلام قَالَ لِأَهْلِ نَجْرَانَ حِينَ كَلَّمُوهُ: " إِنَّ عُمَرَ كَانَ رَشِيدَ الْأَمْرِ، وَلَنْ أُغَيِّرَ شَيْئًا صَنَعَهُ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
৩১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-হাসান, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনুল মুবারক, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি আশ-শা’বী থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী (আলাইহিস সালাম) নাজরানবাসীদের সাথে কথোপকথনকালে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই উমর বিষয়ের ক্ষেত্রে সঠিক পথপ্রাপ্ত ছিলেন, আর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যা কিছু করেছেন আমি তার কোনো কিছুই পরিবর্তন করব না।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
32 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ⦗ص: 24⦘ أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَمَّنْ أَخْبَرَهُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه حِينَ قَدِمَ الْكُوفَةَ: " مَا كُنْتُ لِأَحُلَّ عُقْدَةً شَدَّهَا عُمَرُ "
৩২ - আমাদের ইসমাইল সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ থেকে, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে যিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি শাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন কুফায় আসলেন তখন বললেন: "উমর যে গিঁট শক্ত করে বেঁধেছেন, আমি তা খোলার লোক নই।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
33 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ زُبَيْدٍ " كَانَ عَلِيٌّ يُشَبَّهُ بِعُمَرَ - يَعْنِي: فِي السِّيرَةِ "
৩৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শারীক, জুবাইদ থেকে বর্ণিত: "আলীকে উমরের সদৃশ মনে করা হতো—অর্থাৎ: জীবনচরিত বা আচরণের ক্ষেত্রে।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
34 - قَالَ يَحْيَى: قَالَ حَسَنُ بْنُ صَالِحٍ فِي الْمُسْلِمِ يَشْتَرِي أَرْضَ الْخَرَاجِ، كَرِهَهَ، وَقَالَ: " إِنْ فَعَلَ ، فَعَلَيْهِ أَنْ يُؤَدِّيَ عَنِ الْأَرْضِ مَا كَانَ يُؤَدِّي عَنْهَا، وَعَلَيْهِ الْعُشْرُ أَوْ نِصْفُ الْعُشْرِ فِي ثَمَرَتِهِ وَحَرْثِهِ، كَانَ يَقُولُ: " الْخَرَاجُ عَلَى الْأَرْضِ، وَالْعُشْرُ أَوْ نِصْفُ الْعُشْرِ زَكَاةٌ مَفْرُوضَةٌ عَلَى الْمُسْلِمِينَ "، وَذَكَرَهُ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ

 

35 - قَالَ يَحْيَى: وَأَحْسَنُ ذَلِكَ عِنْدَنَا فِي نَصْرَانِيَّيْنِ مِنْ بَنِي تَغْلِبَ اشْتَرَيَا أَرْضَ خَرَاجٍ: أَنَّ عَلَيْهِ الْخَرَاجَ، وَلَيْسَ عَلَيْهِ غَيْرُهُ، كَمَا قَالَ عُمَرُ لِعُتْبَةَ بْنِ فَرْقَدٍ حِينَ اشْتَرَى أَرْضَ خَرَاجٍ، فَقَالَ عُمَرُ: " أَدِّ عَنْهَا مَا كَانَتْ تُؤَدِّي "
৩৪ - ইয়াহিয়া বলেন: হাসান ইবনে সালিহ সেই মুসলিমের ব্যাপারে বলেছেন যে খারাজি জমি ক্রয় করে; তিনি একে অপছন্দ করতেন। তিনি বলেন: "যদি সে তা করে, তবে তাকে সেই জমির জন্য তাই আদায় করতে হবে যা তার থেকে আগে আদায় করা হতো, এবং তার ফল ও ফসলের ওপর তাকে উশর অথবা অর্ধেক উশর দিতে হবে।" তিনি বলতেন: "খারাজ হলো জমির ওপর ধার্য কর, আর উশর বা অর্ধেক উশর হলো মুসলিমদের ওপর ফরজকৃত জাকাত।" তিনি এটি উমর ইবনে আবদুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

৩৫ - ইয়াহিয়া বলেন: আমাদের নিকট এ বিষয়ে সবচেয়ে উত্তম অভিমত হলো বনু তাগলিব গোত্রের দুইজন খ্রিষ্টান যদি খারাজি জমি ক্রয় করে, তবে তার ওপর কেবল খারাজ প্রযোজ্য হবে এবং এছাড়া অন্য কিছু তার ওপর প্রযোজ্য হবে না; যেমনটি উমর (রা.) উতবা ইবনে ফারকাদকে বলেছিলেন যখন তিনি খারাজি জমি ক্রয় করেছিলেন। উমর (রা.) বলেছিলেন: "তুমি এর জন্য তাই আদায় করো যা এর থেকে আগে আদায় করা হতো।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
قَالَ يَحْيَى: وَسَمِعْنَا عَنْ عِكْرِمَةَ أَنَّهُ قَالَ: " لَا يَجْتَمِعُ الْعُشْرُ وَالْخَرَاجُ
ইয়াহইয়া বলেন: আমরা ইকরিমাহ থেকে শুনেছি যে তিনি বলেছেন: "উশর এবং খারাজ একত্রিত হবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
36 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا حَسَنٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ: " يُرْسَلُ إِلَى نَصَارَى بَنِي تَغْلِبَ فِي دِيَارِهِمْ، وَيُضَاعَفُ عَلَيْهِمِ الصَّدَقَةُ

 

37 - " قَالَ الْحَسَنُ: وَلَا يُرْسَلُ إِلَى أَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ فِي مَوَاشِيهِمْ مِنَ الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ وَالْغَنَمِ السَّائِمَةِ، وَلَا فِي شَيْءٍ مِنَ الثِّمَارِ وَالزَّرْعِ فِي أَرَضِيهِمْ، غَيْرَ بَنِي تَغْلِبَ، فَإِنَّهُ يُرْسَلُ إِلَيْهِمْ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ؛ لِأَنَّهُمْ صُولِحُوا عَلَيْهِ، هَذَا مَعْنَى مَا قَالَ حَسَنٌ، يَقُولُ: " هَذَا عَلَيْهِمْ بِمَنْزِلَةِ الْجِزْيَةِ عَلَى غَيْرِهِمْ، يُؤْخَذُونَ بِهِ، وَلَيْسَ يُؤْخَذُ مِنْ غَيْرِهِمْ مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ صَدَقَةٌ مُضَاعَفَةٌ، إِلَّا فِيمَا تَجِرُوا فِيهِ، إِذَا مَرُّوا بِهِ عَلَى الْعَاشِرِ "
৩৬ - ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি বলেন: "বনী তাগলিবের খ্রিস্টানদের নিকট তাদের এলাকায় (সংগ্রাহক) পাঠানো হবে এবং তাদের উপর সদকা দ্বিগুণ করা হবে।"

 

৩৭ - হাসান বলেন: "বনী তাগলিব ব্যতীত জিম্মিদের অন্তর্ভুক্ত অন্য কারো কাছে তাদের পশুসম্পদ—অর্থাৎ উট, গরু এবং চরে বেড়ানো ভেড়া-বকরি—কিংবা তাদের ভূমিতে উৎপন্ন ফলমূল ও ফসলের কোনো কিছুর জন্য (সংগ্রাহক) পাঠানো হবে না। তবে বনী তাগলিবের কাছে এই সবকিছুর জন্যই (সংগ্রাহক) পাঠানো হবে; কারণ তাদের সাথে এই শর্তেই সন্ধি করা হয়েছে।" এটিই হাসানের বক্তব্যের মর্মার্থ, তিনি বলেন: "এটি তাদের জন্য অন্যদের জিজইয়ার সমতুল্য, যা তাদের থেকে আদায় করা হয়। বনী তাগলিব ছাড়া অন্য জিম্মিদের থেকে দ্বিগুণ সদকা গ্রহণ করা হয় না, কেবল সেই মালের ক্ষেত্রে যা নিয়ে তারা ব্যবসা করে যখন তারা কর সংগ্রাহকের (আশির) নিকট দিয়ে অতিক্রম করে।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
38 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: وَقَالَ حَسَنٌ: " مَنْ أَسْلَمَ مِنْ بَنِي تَغْلِبَ فَأَرْضُهُ أَرْضُ عُشْرٍ؛ لِأَنَّهَا لَمْ تَكُنْ أَرْضَ خَرَاجٍ "
৩৮ - ইসমাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং হাসান বলেছেন: "বনু তাগলিব গোত্রের যারা ইসলাম গ্রহণ করবে, তাদের ভূমি হবে উশর ভূমি; কারণ তা খরাজ ভূমি ছিল না।"
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ লি ইয়াহইয়া বিন আদম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
39 - قَالَ حَسَنٌ: وَيُؤْخَذُ مِنْ جَمِيعِ أَهْلِ الذِّمَّةِ فِيمَا تَجِرُوا فِيهِ إِذَا مَرُّوا بِهِ عَلَى ⦗ص: 25⦘ الْعَاشِرِ، وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهُمْ فِي السَّنَةِ إِلَا مَرَّةً، وَلَا يُؤْخَذُ مِنْ أَقَلَّ مِنْ مِائَتَيْ دِرْهَمٍ شَيْءٌ، وَيُضَاعَفُ عَلَيْهِمُ الصَّدَقَةُ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ، يُؤْخَذُ مِنْهُمْ نِصْفُ الْعُشْرِ، وَيُؤْخَذُ مِنْ أَهْلِ الْحَرْبِ الْعُشْرُ، قَالَ يَحْيَى: " وَأَحْسَنُ ذَلِكَ عِنْدَنَا أَنْ يُجْعَلَ كُلُّ شَيْءٍ يُؤْخَذُ مِنْ بَنِي تَغْلِبَ وَمِمَّا تَجِرَ فِيهِ أَهْلُ الْعَهْدِ، وَمَنْ دَخَلَ إِلَيْنَا مِنْ أَهْلِ الْحَرْبِ بِأَمَانٍ فِي تِجَارَةٍ، فَذَلِكَ كُلُّهُ بِمَنْزِلَةِ الْفَيْءِ؛ لِأَنَّهُ صُلْحٌ ، وَلَيْسَ بِمَنْزِلَةِ الصَّدَقَةِ، إِنَّمَا هُوَ فَيْءٌ لِلْمُسْلِمِينَ، بِمَنْزِلَةِ الْخَرَاجِ وَالْجِزْيَةِ "
৩৯ - হাসান বলেন: সকল জিম্মি (অমুসলিম নাগরিক) যখন তাদের ব্যবসায়িক পণ্য নিয়ে ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ শুল্ক সংগ্রাহকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন তাদের থেকে (শুল্ক) গ্রহণ করা হবে। বছরে এক বারের বেশি তাদের থেকে তা নেওয়া হবে না এবং দুইশ দিরহামের কম মূল্যের পণ্যের ওপর কিছুই নেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে তাদের ওপর সদকা (কর) দ্বিগুণ করা হবে; অর্থাৎ তাদের থেকে উশরের অর্ধেক (বিশ ভাগের এক ভাগ) গ্রহণ করা হবে। আর হারবিদের (অমুসলিম বিদেশি) থেকে পূর্ণ উশর (দশ ভাগের এক ভাগ) গ্রহণ করা হবে। ইয়াহইয়া বলেন: "আমাদের নিকট এ বিষয়ে অধিকতর উত্তম মত হলো, বনু তাগলিবের নিকট থেকে যা গ্রহণ করা হয় এবং চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের (আহলে আহদ) ব্যবসায়িক পণ্য থেকে যা নেওয়া হয় এবং হারবিদের মধ্য থেকে যারা নিরাপত্তা (আমান) নিয়ে আমাদের নিকট ব্যবসা করতে আসে, এ সব কিছুই 'ফায়' হিসেবে গণ্য হবে। কারণ এটি সন্ধির অন্তর্ভুক্ত, এটি যাকাতের পর্যায়ভুক্ত নয়। বরং এটি মুসলমানদের জন্য 'ফায়', যা খরাজ ও জিজিয়ার সমতুল্য।"