(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: -)
خمسة أحاديث تخريج ابن بلبان   (ابن بلبان، أبو الحسن)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء فيه خمسة أحاديث عن الأئمة الخمسة

المؤلف: علي بن بلبان الدمشقي علاء الدين أبو الحسن الناصري المحدث ابن الشرف (ت 684هـ)

المحقق: رياض حسين الطائي

الناشر: دار المغني - الرياض

الطبعة: الأولى 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 48

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে বিলবানের তাখরীজকৃত পাঁচটি হাদিস   (ইবনে বিলবান, আবুল হাসান)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্রের কিতাবসমূহ


কিতাব: একটি পুস্তিকা (জুয) যাতে পাঁচজন ইমামের সূত্রে বর্ণিত পাঁচটি হাদিস রয়েছে

লেখক: আলী বিন বিলবান আদ-দামেশকী আলাউদ্দীন আবুল হাসান আন-নাসিরী আল-মুহাদ্দিস ইবনুশ শারাফ (ওফাত ৬৮৪ হিজরী)

তাহকীককারী: রিয়াদ হুসাইন আত-তাঈ

প্রকাশক: দারুল মুগনী - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৫ হিজরী - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: -)
جزء فيه

خمسة أحاديث عن الأئمة الخمسة

 

خرجها

الحافظ علاء الدين أبو القاسم علي بن بلبان المشرف الناصري

المتوفى سنة 684 هـ

 

من مسموعاته

بينه وبينهم فيها خمسة رجال

 

رواية العبد الفقير

عبد المؤمن بن عبد الحق بإجازته العامة عنه

 

حققه وعلق عليه

رياض حسين الطائي

 

دار المغني - الرياض

الطبعة الأولى

1425 هـ - 2004 م
একটি অংশ যাতে রয়েছে

পাঁচজন ইমামের বর্ণিত পাঁচটি হাদীস

 

এটি সংকলন করেছেন

আল-হাফিয আলাউদ্দীন আবুল কাসিম আলী বিন বালবান আল-মুশরিফ আন-নাসিরী

মৃত্যু: ৬৮৪ হিজরী

 

তাঁর শ্রুত বর্ণনা থেকে

এতে তাঁর এবং তাঁদের মাঝে পাঁচজন বর্ণনাকারী রয়েছেন

 

নিঃস্ব বান্দার বর্ণনা

আবদুল মুমিন বিন আবদুল হক, তাঁর নিকট থেকে প্রাপ্ত সাধারণ অনুমতির (ইজাযাহ) মাধ্যমে

 

সম্পাদনা ও টীকা সংযোজন করেছেন

রিয়াদ হুসাইন আত-তাঈ

 

দারুল মুগনী - রিয়াদ

প্রথম সংস্করণ

১৪২৫ হিজরী - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌جزء فيه خمسة أحاديث عن الأئمة الخمسة

خرجها الحافظ علاء الدين أبو القاسم علي بن بلبان المشرف الناصري

من مسموعاته بينه وبينهم فيها خمسة رجال

رواية العبد الفقير عبد المؤمن بن عبد الحق بإجازته العامة عنه
একটি পুস্তিকা যাতে পাঁচজন ইমাম থেকে বর্ণিত পাঁচটি হাদিস সংকলিত হয়েছে

এটি সংকলন করেছেন হাফেজ আলাউদ্দীন আবুল কাসেম আলি বিন বালবান আল-মুশরিফ আন-নাসিরি

তাঁর শ্রবণকৃত বর্ণনাগুলো হতে, যাতে তাঁর এবং তাঁদের মাঝে পাঁচজন বর্ণনাকারী রয়েছেন

অভাবী বান্দা আব্দুল মুমিন বিন আব্দুল হকের বর্ণনা, তাঁর নিকট হতে প্রাপ্ত সাধারণ অনুমতির ভিত্তিতে।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

أخبرنا الشيخ الإمام الحافظ المتقن علاء الدين أبو القاسم علي بن الأمير الأجل سيف الدين بلبان بن عبد الله المشرف الناصري رحمه الله؛ بإجازته العامة في سنة اثنتين وثمانين وستمئة، قال:

الحمد لله ذي العزة والبقاء، والعظمة والآلاء، الواسع العطاء، المتعالي المنزه عن الصاحبة والأبناء. أحمده على ما أسبع علينا من النعماء؛ حمداً يوجب المزيد لديه بلا انتهاء، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له؛ شهادةً أعدها للقاء يوم الجزاء، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله؛ المبعوث بأوضح الإنشاء، من صميم العرب العرباء، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وأزواجه صلاةً دائمةً بلا انقضاء.

وبعد، فإن أفضل العلوم الواردة عن العلماء أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم بلا امتراء. وقد خرج العبد الفقير علي بن بلبان من أصول سماعاته هذه الأحاديث الخمسة عن الأئمة الخمسة النجباء: الإمام أحمد، والبخاري، وأبي داود، والترمذي؛ والنسائي؛ ناقلي الآثار عن خاتم الأنبياء، مما بيني وبين كل واحدٍ منهم خمسة رواة من حيث العدد على الولاء، وهذا العلو الذي رزقناه، لا يعلوه سندٌ في جميع الأقطار والأرجاء.

وبدأت بذكر الإمام أبي عبد [الله] أحمد بن محمد بن حنبل ذي الرتبة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সুনিপুণ হাফেজ শেখ ইমাম আলাউদ্দীন আবুল কাসিম আলী বিন আল-আমীর আল-আজাল সাইফুদ্দীন বালবান বিন আব্দুল্লাহ আল-মুশরিফ আন-নাসিরী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) ৬৬২ হিজরী সালে তাঁর সাধারণ অনুমতির (ইজাযাত) মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সম্মান ও স্থায়িত্বের অধিকারী, মহত্ত্ব ও নেয়ামতসমূহের অধিপতি, প্রশস্ত দানশীল, যিনি সুউচ্চ এবং স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকে পবিত্র। আমি তাঁর প্রশংসা করি আমাদের ওপর তিনি যেসব নেয়ামত পরিপূর্ণভাবে দান করেছেন সেজন্য; এমন প্রশংসা যা তাঁর নিকট অবারিতভাবে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি অনিবার্য করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যা আমি প্রতিদান দিবসের সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; যিনি সর্বাধিক স্পষ্ট বার্তার সাথে খাঁটি আরবদের মধ্য থেকে প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও তাঁর পত্নীগণের ওপর এমন রহমত বর্ষণ করুন যা চিরকাল স্থায়ী এবং যার কোনো সমাপ্তি নেই।

অতঃপর, ওলামায়ে কেরাম থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই অভাবী বান্দা আলী বিন বালবান তাঁর শ্রবণকৃত মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঁচজন মহান ইমামের সূত্রে এই পাঁচটি হাদিস চয়ন করেছেন, তাঁরা হলেন: ইমাম আহমাদ, আল-বুখারী, আবু দাউদ, আত-তিরমিযী এবং আন-নাসায়ী; যারা শেষ নবীর বাণী ও কর্মসমূহ (আসার) বর্ণনাকারী। তাঁদের প্রত্যেকের এবং আমার মধ্যবর্তী রাবীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে পাঁচজন। আর এই উচ্চ সনদ যা আমাদের নসীব হয়েছে, সমস্ত দিগন্ত ও জনপদে এর চেয়ে উচ্চতর আর কোনো সনদ নেই।

এবং আমি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল-এর আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ১৬)
العلياء والمحجة البيضاء، الصابر في الله على المحنة والبلاء، ولم يزغ عن الحق حتى
উচ্চমর্যাদা ও উজ্জ্বল পথের অধিকারী, আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পরীক্ষা ও বিপদে ধৈর্যধারণকারী, এবং তিনি সত্য থেকে বিচ্যুত হননি যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ১৭)
نال عند الله أفضل منازل الشهداء، والراسخين العلماء.
তিনি আল্লাহর নিকট শহীদগণের এবং সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেমদের শ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ১৮)
فالله يجعل ذلك خالصاً لوجهه، ويثيبنا بفضله من أجزل الجزاء، فهو المسؤول والمرغوب إليه في الشدة والرخاء.
সুতরাং আল্লাহ যেন একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য সাব্যস্ত করেন এবং তাঁর অনুগ্রহে আমাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। কেননা সংকট ও স্বাচ্ছন্দ্য—উভয়াবস্থায় তিনিই একমাত্র যাচিত এবং যাঁর সমীপে আকাঙ্ক্ষা নিবেদন করা হয়।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الحديث الأول

أخبرنا الشيخ الإمام المؤرخ زين الدين، أبو الحسن، محمد بن أحمد بن عمر بن الحسين بن خلف القطيعي رحمه الله قراءةً عليه وأنا أسمع بمدينة السلام بغداد، في الحادي عشر من ربيع الآخر سنة ثلاثٍ وثلاثين وستمئة، قيل له: أخبرك أبو بكر محمد بن عبيد الله بن نصر بن الزاغوني؛ قراءةً عليه وأنت تسمع في شهورٍ سنة إحدى وخمسين وخمسمئة، فأقر به، وقال: نعم، قال: أبنا الشريف أبو نصر محمد بن محمد بن علي الزينبي؛ قراءةً عليه، وأنا أسمع في شهور سنة سبعين وأربعمئة قال: أبنا أبو طاهر محمد بن عبد الرحمن بن العباس بن عبد الرحمن المخلص؛ قراءةً عليه، وأنا أسمع، قال: أبنا أبو القاسم عبد الله بن محمد بن عبد العزيز البغوي سنة خمس عشرة وثلاثمئة، قثنا أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني، قثنا يحيى بن سعيد، عن شعبة
প্রথম হাদিস

আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, ইতিহাসবিদ যাইনুদ্দিন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উমর বিন আল-হুসাইন বিন খালাফ আল-কাতিয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন), তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণ করছিলাম শান্তির শহর বাগদাদে, ৬৩৩ হিজরির রবিউস সানি মাসের এগারো তারিখে। তাঁকে বলা হলো: আবু বকর মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন নাসর ইবনুল যাগুনি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন; তাঁর নিকট পাঠকালে আপনি শ্রবণ করছিলেন ৫৫১ হিজরির মাসগুলোতে। অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন এবং বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শরীফ আবু নাসর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-যাইনাবি; তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণ করছিলাম ৪৭০ হিজরির মাসগুলোতে। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আল-আব্বাস বিন আব্দুর রহমান আল-মুখলিস; তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণ করছিলাম। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাভি ৩১৫ হিজরিতে। তিনি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ আল-শায়বানি। তিনি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, তিনি শু’বা থেকে।

(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ২০)
قال: أخبرني أبو جمرة قال: سمعت ابن عباس يقول: قدم وفد عبد القيس على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأمرهم بالإيمان بالله عز وجل.

قال: ((تدرون ما الإيمان بالله عز وجل) ؟ قالوا: الله ورسوله أعلم. قال: ((شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وأن تعطوا الخمس من المغنم)) .

هذا حديث صحيح عالٍ متفقٌ على صحته. *

هكذا رواه الإمام أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل في مسنده المضيء بأنوار المعالم، الشاهد بفضله كل إمامٍ عالمٍ، المشتمل بمعجزه على كل معنىً عجيبٍ، الذي استمد من فضله كل قاصٍ وقريبٍ.

أخبرنا عبد الله بن عمر الحريمي؛ إجازةً عن الحافظ أبي الوقت عبد الأول بن عيسى: عن الحافظ أبي إسماعيل عبد الله بن محمد الأنصاري قال: أبنا أبو
তিনি বলেন: আবু জামরাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি: আবদ আল-কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিদল আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করল, অতঃপর তিনি তাঁদেরকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন।

তিনি বললেন: ((তোমরা কি জানো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি ঈমান কী?)) তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: ((এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং গনিমতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা।))।

এটি একটি সহিহ ও উচ্চপর্যায়ের হাদিস, যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। *

ইমাম আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল তাঁর মুসনাদে এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন, যা নিদর্শনাবলির আলোয় উদ্ভাসিত; প্রত্যেক বিজ্ঞ ইমাম যার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য প্রদান করেন; যা তার অলৌকিকত্বের মাধ্যমে প্রতিটি বিস্ময়কর অর্থকে শামিল করে এবং যার শ্রেষ্ঠত্ব থেকে নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলেই জ্ঞান আহরণ করে।

আবদুল্লাহ বিন উমর আল-হারিমি হাফেজ আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসার ইজাজতসূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: তিনি হাফেজ আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ২১)
يعقوب الحافظ قال: أبنا أبو بكر بن أبي الفضل المعدل: ثنا محمد بن (إبراهيم) الصرام: ثنا إبراهيم بن إسحاق الغسيلي قال: سمعت صالح بن أحمد بن حنبل يذكر نسبة أبيه، قال: هو أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد بن إدريس بن عبد الله بن حيان بن عبد الله بن أنس بن عوف بن قاسط بن مازن بن ذهل بن شيبان بن ثعلبة بن عكابة بن صعب بن علي بن بكر بن وائل بن قاسط بن هنب بن أفصى بن دعمي بن جديلة بن أسد بن ثعلبة بن نزار بن معد بن عدنان. *

ولد سنة أربع وستين ومئة، في ربيع الأول، وجيء به من مرو حملاً.

وبالإسناد إلى الأنصاري قال: أبنا غالب بن علي قال: أبنا محمد بن الحسين، قثنا محمد بن عبد الله بن شاذان قال: سمعت أبا القاسم بن صدقة
ইয়াকুব আল-হাফিজ বলেছেন: আবু বকর বিন আবিল ফাদল আল-মুয়াদ্দিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মাদ বিন (ইবরাহিম) আস-সাররাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: ইবরাহিম বিন ইসহাক আল-গুসায়লি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালিহ বিন আহমদ বিন হাম্বলকে তার পিতার বংশপরিচয় উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি বলেন: তিনি হলেন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ বিন ইদরিস বিন আবদুল্লাহ বিন হাইয়ান বিন আবদুল্লাহ বিন আনাস বিন আউফ বিন কাসিত বিন মাজিন বিন যুহল বিন শায়বান বিন সা'লাবা বিন উকাবাহ বিন সাব বিন আলি বিন বকর বিন ওয়াইল বিন কাসিত বিন হানাব বিন আফসা বিন দুয়মি বিন জাদিলা বিন আসাদ বিন সা'লাবা বিন নিযার বিন মা'আদ বিন আদনান। *

তিনি একশত চৌষট্টি হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং গর্ভস্থ অবস্থায় তাকে মার্ভ থেকে আনা হয়েছিল।

এবং আনসারি পর্যন্ত সনদের মাধ্যমে তিনি বলেন: গালিব বিন আলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন শাযান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল কাসিম বিন সাদাকাহকে বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ২২)
يقول: سمعت علي بن عبد الله الطلحي يقول: قال لي الربيع: قال لي الشافعي: يا ربيع خذ كتابي وامض به، وسلمه إلى أبي عبد الله أحمد بن حنبل، فأتيني بالجواب. قال الربيع: فدخلت بغداد ومعي الكتاب، فلقيت أحمد بن حنبل عند صلاة الصبح. فصليت معه الفجر، فلما انفتل من المحراب سلمت إليه الكتاب، وقلت له: هذا كتاب أخيك الشافعي من مصر، فقال أحمد: نظرت فيه؟ قلت: لا. فكسر أحمد الخاتم، وقرأ الكتاب، فتغرغرت عيناه بالدموع. فقلت: أيش فيه يا أبا عبد الله؟ فقال: ذكر أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم في المنام، فقال له: اكتب إلى أبي عبد الله أحمد بن حنبل، واقرأ عليه مني السلام، وقل له: إنك ستمتحن، وتدعى إلى خلق القرآن، فلا تجبهم يرفع الله لك علماً إلى يوم القيامة. قال الربيع: فقلت: البشارة. فخلع إحدى قميصيه الذي يلي جلده، فدفعه إلي فأخذته وخرجت إلى مصر، وأخذت جواب الكتاب، وسلمته إلى الشافعي. فقال: يا ربيع، أيش الذي دفع إليك؟ قلت: القميص الذي يلي جلده. فقال لي الشافعي: ليس نفجعك به، ولكن بله وادفع إلي الماء حتى أتبرك به. *

أخبرنا علي بن الأنجب بن ما شاء الله البغدادي: عن الإمام العلم الحافظ
তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তালহীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাবী' আমাকে বললেন: শাফি'ঈ আমাকে বলেছিলেন: হে রাবী', আমার এই পত্রটি নাও এবং এটি নিয়ে রওনা হও; এটি আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বলকে প্রদান করো এবং আমার কাছে এর উত্তর নিয়ে এসো। রাবী' বললেন: এরপর আমি পত্রটি নিয়ে বাগদাদে প্রবেশ করলাম এবং ফজরের নামাজের সময় আহমদ ইবনে হাম্বলের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আমি তাঁর সাথে ফজর সালাত আদায় করলাম। যখন তিনি মেহরাব থেকে ফিরলেন, আমি তাঁর নিকট পত্রটি হস্তান্তর করলাম এবং তাঁকে বললাম: এটি মিসর থেকে আপনার ভাই শাফি'ঈর পাঠানো পত্র। তখন আহমদ বললেন: তুমি কি এটি দেখেছ? আমি বললাম: না। তখন আহমদ মোহর ভাঙলেন এবং পত্রটি পড়লেন; এতে তাঁর দুই চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল। আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, এতে কী আছে? তিনি বললেন: তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছেন, যিনি তাঁকে বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বলকে পত্র লেখো এবং তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাও; আর তাঁকে বলো: নিশ্চয়ই তোমাকে শীঘ্রই পরীক্ষায় ফেলা হবে এবং কুরআন সৃষ্টির (খলকে কুরআন) মতবাদের দিকে আহ্বান করা হবে; তুমি তাদের আহ্বানে সাড়া দিও না, আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত তোমার জন্য একটি নিশান (মর্যাদা) সমুন্নত করবেন। রাবী' বললেন: আমি বললাম: এটি তো সুসংবাদ! তখন তিনি তাঁর শরীরের সাথে লেগে থাকা তাঁর দুটি জামার একটি খুলে আমাকে দিয়ে দিলেন। আমি সেটি গ্রহণ করলাম এবং মিসরের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। পত্রের উত্তর নিয়ে আমি শাফি'ঈর নিকট তা হস্তান্তর করলাম। তিনি বললেন: হে রাবী', তিনি তোমাকে কী দিয়েছেন? আমি বললাম: তাঁর শরীরের সাথে লেগে থাকা জামাটি। তখন শাফি'ঈ আমাকে বললেন: আমি এটি তোমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে তোমাকে কষ্ট দেব না, তবে তুমি এটি ধুয়ে সেই পানি আমাকে দাও যাতে আমি এর মাধ্যমে বরকত লাভ করতে পারি। *

আলী ইবনে আল-আনজাব ইবনে মা শা আল্লাহ আল-বাগদাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইমাম, মহান আলিম ও হাফিজ থেকে...
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ২৩)
جمال الدين أبي الفرج عبد الرحمن بن الجوزي قال: حدث علي بن أبي جرادة قال: كانت أمي مقعدة نحو عشرين سنة، فقالت يوماً: اذهب إلى أحمد ابن حنبل، فاسأله أن يدعو الله لي فسرت إليه، فدققت عليه الباب، وهو في دهليزه. فقلت: أنا رجل من أهل ذاك الجانب، سألتني أمي، وهي زمنة مقعدة؛ أن أسألك أن تدعو الله لها. فسمعت كلامه؛ كلام رجل مغضب، فقال: نحن أحوج إلى أن تدعو الله لنا. فوليت منصرفاً، فخرجت عجوز من داره، فقالت: أنت الذي كلمت أبا عبد الله؟ قلت: نعم. قالت: قد تركته يدعو الله لها. قال: فجئت من فوري إلى البيت، فدققت الباب، فخرجت إلي برجليها حتى فتحت الباب، فقالت: قد وهب الله لي العافية. *

ولد الإمام أحمد بن حنبل ببغداد، ونشأ بها، ثم رحل في طلب العلم إلى الكوفة، والبصرة، ومكة، والمدينة، واليمن، والشام، والجزيرة. وكتب عن علماء كل بلدٍ.

روى عنه البخاري، ومسلم، وأبو داود. وروى البخاري، وأبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه، عن رجل عنه.

مات رحمه الله يوم الجمعة، لاثنتي عشرة خلت من ربيع الآخر سنة إحدى وأربعين ومئتين.

قلت: ورواه الإمام أبو عبد الله البخاري في صحيحه في عدة مواضع، منها: في كتاب العلم: عن بندار، عن غندر، عن شعبة، وفي خبر الواحد، وفي الإيمان:
জামালুদ্দিন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনুল জাওযী বলেন: আলী বিন আবি জারাদা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার মা প্রায় বিশ বছর যাবত পঙ্গু ছিলেন। একদিন তিনি বললেন: "আহমদ ইবনে হাম্বলের কাছে যাও এবং তাঁকে আমার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করতে বলো।" আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং তাঁর দরজায় কড়া নাড়লাম, তখন তিনি তাঁর বারান্দায় ছিলেন। আমি বললাম: "আমি ঐ অঞ্চলের একজন লোক। আমার মা দীর্ঘকাল যাবত পঙ্গু ও শয্যাশায়ী; তিনি আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন যেন আমি আপনাকে তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করতে বলি।" আমি তাঁর কথা শুনলাম; যা ছিল একজন রাগান্বিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বরের মতো। তিনি বললেন: "আমাদেরই বরং অধিক প্রয়োজন যে আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবেন।" আমি তখন ফিরে আসছিলাম, এমন সময় তাঁর ঘর থেকে একজন বৃদ্ধা বের হয়ে এলেন এবং বললেন: "আপনিই কি আবু আব্দুল্লাহর সাথে কথা বলছিলেন?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আমি তাঁকে আপনার মায়ের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করা অবস্থায় রেখে এসেছি।" তিনি (আলী) বলেন: আমি তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফিরে এলাম এবং দরজায় কড়া নাড়লাম। তখন আমার মা নিজের পায়ে হেঁটে এসে দরজা খুলে দিলেন এবং বললেন: "আল্লাহ আমাকে সুস্থতা দান করেছেন।"

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই লালিত-পালিত হন। অতঃপর তিনি ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে কুফা, বসরা, মক্কা, মদিনা, ইয়েমেন, শাম এবং জাজিরায় সফর করেন। তিনি প্রতিটি জনপদের আলেমদের নিকট থেকে ইলম লিপিবদ্ধ করেন।

তাঁর থেকে বুখারী, মুসলিম ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আর বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ তাঁর সূত্রে এক ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ২৪১ হিজরী সনের ১২ই রবিউস সানি, জুমার দিনে ইন্তেকাল করেন।

আমি বলছি: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ বুখারী এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে একাধিক স্থানে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: ইলম অধ্যায়ে: বুন্দার থেকে, তিনি গুন্দার থেকে, তিনি শু'বা থেকে; এছাড়া খবরুল ওয়াহিদ এবং ঈমান অধ্যায়ে।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ২৪)
عن علي بن الجعد، عن شعبة، وعن إسحاق، عن النضر، عن شعبة، وفي الصلاة: عن قتيبة، عن عباد بن عباد، وفي الزكاة: عن الحجاج بن منهال، عن حماد، وفي مناقب قريش: عن مسدد، عن حماد، وفي الأدب: عن عمران بن ميسرة، عن عبد الوارث، عن أبي التياح، وفي المغازي: عن إسحاق، عن أبي عامر، عن قرة.

ورواه مسلم بن الحجاج القشيري في كتابه في الإيمان، والأشربة: عن خلف عن حماد، وعن يحيى بن يحيى، عن عباد. وفي الإيمان وحده: عن أبي موسى، وأبي بكر بن أبي شيبة، وبندار، عن غندر، عن شعبة، وعن نصر بن علي، عن أبيه، عن قرة، كلهم عن أبي جمرة بهذا.
আলী বিন আল-জাদ থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে; এবং ইসহাক থেকে, তিনি আন-নাদর থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে; এবং সালাত অধ্যায়ে: কুতাইবাহ থেকে, তিনি আব্বাদ বিন আব্বাদ থেকে; এবং যাকাত অধ্যায়ে: হাজ্জাজ বিন মিনহাল থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে; এবং কুরাইশদের মর্যাদা অধ্যায়ে: মুসাদ্দাদ থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে; এবং আদব অধ্যায়ে: ইমরান বিন মাইসারা থেকে, তিনি আবদুল ওয়ারিস থেকে, তিনি আবু আত-তায়্যাহ থেকে; এবং মাগাজি অধ্যায়ে: ইসহাক থেকে, তিনি আবু আমির থেকে, তিনি কুররাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরী এটি তাঁর কিতাবের ঈমান ও পানীয় অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: খালাফ থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, এবং ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আব্বাদ থেকে। আর কেবল ঈমান অধ্যায়ে: আবু মুসা, আবু বকর বিন আবি শাইবাহ এবং বুন্দার থেকে, তাঁরা গুন্দার থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, এবং নাসর বিন আলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি কুররাহ থেকে; তাঁরা সকলেই আবু জামরাহ থেকে এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ২৫)
ورواه أبو داود في الأشربة: عن سليمان بن حرب، ومحمد بن عبيد، عن حماد، وعن مسدد، عن عباد بن عباد، جميعاً عن أبي جمرة. وفي السنة: عن أحمد بن حنبل، عن يحيى بن سعيد، عن شعبة، عن أبي جمرة.

ورواه الترمذي في السير: عن قتيبة، عن عباد بن عباد المهلبي، وعن قتيبة، عن حماد ابن زيد -مختصراً-. وفي الإيمان: عن قتيبة، عنهما بطوله، وقال: حسن صحيح.

ورواه النسائي في الأشربة: عن أبي داود الحراني، عن سهل بن حماد، عن قرة بن خالد، عن أبي جمرة بنحوه. وفي الإيمان: عن قتيبة، عن عباد. وفي العلم: عن بندار، عن غندر، عن شعبة، جميعاً عن أبي جمرة، واسمه نصر بن عمران بن عصام الضبعي البصري.

وقع لنا عالياً وموافقةً عاليةً لأبي داود. وباعتبار العدد كأن بيني وبين أبي داود أربعة رواة، وهي من أحسن الموافقات، رواية إمام حافظ، عن إمام حافظ، ولله الحمد والمنة. *
এটি আবু দাউদ 'পানীয়' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: সুলায়মান ইবনে হারব ও মুহাম্মদ ইবনে উবায়দ থেকে, তাঁরা হাম্মাদ থেকে; এবং মুসাদ্দাদ থেকে, তিনি আব্বাদ ইবনে আব্বাদ থেকে; তাঁরা সকলেই আবু জামরা থেকে। আর 'সুন্নাহ' অধ্যায়ে: আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি আবু জামরা থেকে।

আর তিরমিযী এটি 'সিয়ার' (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: কুতায়বা থেকে, তিনি আব্বাদ ইবনে আব্বাদ আল-মুহাল্লাবী থেকে; এবং কুতায়বা থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে যায়দ থেকে—সংক্ষেপে। আর 'ঈমান' অধ্যায়ে: কুতায়বা থেকে, তিনি তাঁদের উভয়ের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে; এবং তিনি বলেছেন: এটি হাসান সহীহ।

আর নাসায়ী এটি 'পানীয়' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ আল-হাররানী থেকে, তিনি সাহল ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি কুররা ইবনে খালিদ থেকে, তিনি আবু জামরা থেকে অনুরূপভাবে। আর 'ঈমান' অধ্যায়ে: কুতায়বা থেকে, তিনি আব্বাদ থেকে। আর 'ইলম' (জ্ঞান) অধ্যায়ে: বুন্দার থেকে, তিনি গুন্দার থেকে, তিনি শু'বা থেকে; তাঁরা সকলেই আবু জামরা থেকে, যাঁর নাম হলো নাসর ইবনে ইমরান ইবনে ইসাম আদ-দুবায়ী আল-বাসরী।

এটি আমাদের নিকট উচ্চসূত্রে এবং আবু দাউদের সাথে উচ্চ পর্যায়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ (মুওয়াফাকাত) বর্ণনায় পৌঁছেছে। বর্ণনাকারীর সংখ্যার বিচারে আমার এবং আবু দাউদের মাঝে যেন চারজন বর্ণনাকারী রয়েছেন; আর এটি সর্বোত্তম সামঞ্জস্যপূর্ণ বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত—একজন হাফেজ ইমামের বর্ণনা অপর একজন হাফেজ ইমাম থেকে। সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الحديث الثاني

أخبرنا أبو الحسن محمد بن أحمد بن القطيعي قراءةً عليه، وأنا أسمع ببغداد في شهور سنة ثلاث وثلاثين وستمائة قال: أبنا أبو الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب السجزي؛ قراءةً عليه، وأنا أسمع في شهور سنة ثلاث وخمسين وخمسمئة قال: أبنا أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد الداوودي قال: أبنا أبو محمد عبد الله بن أحمد بن حمويه السرخسي قال: أبنا أبو عبد الله محمد بن يوسف بن مطر بن صالح الفربري قال: أبنا أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم البخاري قال: ثنا عبيد الله بن موسى؛ عن إسرائيل؛ عن أبي إسحاق؛
দ্বিতীয় হাদিস

আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—বাগদাদে ছয়শত তেত্রিশ হিজরি সনের মাসসমূহে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আওয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুআইব আস-সিজজি; পাঁচশত তিপ্পান্ন হিজরি সনের মাসসমূহে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আদ-দাউদি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হামুওয়াইহ আস-সারখাসি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার ইবনে সালিহ আল-ফারাবরি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আল-বুখারি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা; তিনি ইসরাঈল হতে; তিনি আবু ইসহাক হতে;
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ২৭)
عن البراء قال: اعتمر النبي صلى الله عليه وسلم، فأبى أهل مكة أن يدعوه يدخل مكة حتى قاضاهم على أن يقيم بها ثلاثة أيام، فلما كتبوا الكتاب، كتبوا: هذا ما قاضى عليه محمدٌ رسول الله. قالوا: لا نقر بها. فلو نعلم أنك رسول الله ما منعناك، لكن أنت محمد بن عبد الله. قال: ((أنا رسول الله، وأنا محمد بن عبد الله)) ، ثم قال لعلي: ((امح رسول الله)) . قال: لا والله، لا أمحوك أبداً. فأخذ رسول الله الكتاب فكتب: ((هذا ما قاضى عليه محمد بن عبد الله: لا يدخل مكة سلاح إلا في القراب، وأن لا يخرج من أهلها بأحد إن أراد أن يتبعه، وأن لا يمنع أحداً من أصحابه إن أراد أن يقيم بها)) .

فلما دخلها ومضى الأجل، أتوا علياً رضي الله عنه، قالوا: قل لصاحبك: اخرج عنا، فقد مضى الأجل. فخرج النبي صلى الله عليه وسلم فتبعتهم ابنة حمزة: يا عم، يا عم. فتناولها عليٌّ فأخذ بيدها، وقال لفاطمة: دونك ابنة عمك احمليها. فاختصم فيها عليٌّ، وزيدٌ، وجعفر. فقال علي عليه السلام: أنا أحق بها، وهي بنت عمي. وقال جعفر: بنت عمي، وخالتها تحتي. وقال زيد: بنت أخي.

فقضى بها النبي صلى الله عليه وسلم لخالتها. فقال: ((الخالة بمنزلة الأم)) . وقال لعلي: ((أنت مني، وأنا منك)) . وقال لجعفر: ((أشبهت خلقي وخلقي)) . وقال لزيد: ((أنت أخونا ومولانا)) .
বারা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমরা পালন করতে চাইলেন। কিন্তু মক্কাবাসীরা তাঁকে মক্কায় প্রবেশ করতে দিতে অসম্মতি জানালো যতক্ষণ না তিনি তাদের সাথে এই শর্তে চুক্তিবদ্ধ হলেন যে, তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করবেন। যখন তারা চুক্তিপত্রটি লিখল, তারা লিখল: "এটি সেই চুক্তি যা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সম্পাদন করেছেন।" তারা বলল: "আমরা এটি স্বীকার করি না। যদি আমরা জানতাম যে আপনি আল্লাহর রাসূল, তবে আমরা আপনাকে বাধা দিতাম না; বরং আপনি মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ।" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর রাসূল এবং আমি মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ।" এরপর তিনি আলীকে বললেন: "রাসূলুল্লাহ শব্দটি মুছে দাও।" তিনি বললেন: "না, আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে কখনোই মুছব না।" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে চুক্তিপত্রটি নিলেন এবং লিখলেন: "এটি সেই চুক্তি যা মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ সম্পাদন করেছেন: খাপবদ্ধ অস্ত্র ব্যতীত তিনি মক্কায় প্রবেশ করবেন না, মক্কাবাসীদের কেউ তাঁর অনুসারী হতে চাইলে তিনি তাকে সঙ্গে নিয়ে বের হতে পারবেন না এবং তাঁর সঙ্গীদের কেউ সেখানে থাকতে চাইলে তিনি তাকে বাধা দিতে পারবেন না।"

অতঃপর যখন তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলো, তখন তারা আলীর (রা.) কাছে এসে বলল: "আপনার সঙ্গীকে বলুন আমাদের এখান থেকে চলে যেতে, কারণ সময় শেষ হয়ে গেছে।" ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হলেন এবং হামজার কন্যা তাদের পিছু পিছু আসলেন আর ডাকলেন: "হে চাচা, হে চাচা।" তখন আলী তাকে কাছে টেনে নিয়ে তার হাত ধরলেন এবং ফাতিমাকে বললেন: "তোমার চাচাতো বোনকে নাও এবং তাকে বহন করো।" এরপর তাকে নিয়ে আলী, যায়েদ এবং জাফর বিতর্কে লিপ্ত হলেন। আলী (আলাইহিস সালাম) বললেন: "আমিই তার সবচেয়ে বেশি হকদার, সে আমার চাচাতো বোন।" জাফর বললেন: "সে আমার চাচাতো বোন এবং তার খালা আমার স্ত্রী।" আর যায়েদ বললেন: "সে আমার ভাইয়ের মেয়ে।"

অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেয়েটিকে তার খালার কাছে হস্তান্তরের ফয়সালা দিলেন। তিনি বললেন: "খালা মায়ের সমতুল্য।" আলীকে তিনি বললেন: "তুমি আমার এবং আমি তোমার।" জাফরকে বললেন: "তুমি আকৃতি ও চরিত্রে আমার সদৃশ হয়েছ।" আর যায়েদকে বললেন: "তুমি আমাদের ভাই এবং আমাদের বন্ধু।"
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ২৮)
هكذا رواه الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي بهذا الإسناد في كتابه ((الجامع الصحيح)) المتفق عليه بالتقديم والترجيح، تقدم على سائر أقرانه، وفاق جميع أهل زمانه، وكان بالصلاح معروفاً، وبالتقى والزهادة موصوفاً. اشتهر علمه في الآفاق وانتشر، وتناقلته الحفاظ وظهر، وصار عمدةً للإسلام، وحجةً للخاص والعام. *

قرأت على أبي المنصور مظفر بن عبد الملك بن عتيق، يعرف بابن الفوي الثغري بها في الحادي والعشرين من ذي القعدة سنة سبع وأربعين وستمئة قال: أبنا أحمد بن محمد الشافعي سنة خمس وسبعين وخمسمئة قال: أبنا أبو بكر أحمد بن علي بن الحسين الطريثيثي قال: أبنا الإمام أبو القاسم هبة الله بن الحسن اللالكائي قال: أبنا أحمد بن محمد بن حفص: ثنا محمد بن أحمد بن سليمان قال: أبنا خلف بن محمد، قثنا محمد بن الفضل البلخي قال: سمعت أبي يقول: ذهبت عينا محمد بن إسماعيل في صغره، فرأت والدته في المنام أن إبراهيم الخليل عليه السلام قال لها: يا هذه، قد رد الله على ابنك بصره لكثرة بكائك -أو كثرة دعائك، الشك من البلخي- فأصبحنا، وقد رد الله بصره. *
ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী আল-জুফী তাঁর 'আল-জামে আস-সহীহ' গ্রন্থে এই সনদেই এটি বর্ণনা করেছেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে শ্রেষ্ঠত্ব ও গুরুত্বের দিক থেকে অগ্রগণ্য। তিনি তাঁর সকল সমসাময়িকদের ওপর অগ্রগণ্য ছিলেন এবং তাঁর যুগের সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি নেককার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং খোদাভীতি ও দুনিয়াবিমুখতার গুণাবলীতে ভূষিত ছিলেন। তাঁর ইলম দিগদিগন্তে প্রসিদ্ধ ও বিস্তৃত হয়েছিল, হাফেজগণ তা বর্ণনা করেছেন এবং তা সুষ্পষ্ট হয়েছে। তিনি ইসলামের এক সুদৃঢ় স্তম্ভ এবং সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলের জন্য দালিলিক প্রমাণে পরিণত হয়েছেন। *

আমি আবু আল-মনসুর মুজাফফর বিন আবদুল মালিক বিন আতিকের নিকট—যিনি ইবনে আল-ফুওয়ী আস-সাগরী নামে পরিচিত—সেখানেই ৬৪৭ হিজরীর ২১ জিলকদ তারিখে পাঠ করেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিয়ী ৫৭৫ হিজরীতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন আত-তুরাইসী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইমাম আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-লালাকায়ী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাফস বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালাফ বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আল-বলখী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: শৈশবে মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের চোখ দুটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তখন তাঁর মা স্বপ্নে দেখলেন যে, ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাম তাঁকে বলছেন: হে নারী! তোমার অত্যধিক কান্নাকাটির কারণে—অথবা তোমার অত্যধিক দোয়ার কারণে (সন্দেহটি বর্ণনাকারী বলখীর পক্ষ থেকে)—আল্লাহ তোমার সন্তানের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর সকাল হলো এবং দেখা গেল আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। *
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ২৯)
أخبرنا الشيخ الصالح محمد بن نصر بن عبد الرحمن الشافعي: عن أبي القاسم علي بن الحسن الدمشقي، قال: أبنا أبو الحسن علي بن أحمد بن عبد الباقي بقراءتي عليه ببغداد قال: أبنا هناد بن إبراهيم قراءةً عليه: أبنا أبو عبد الله محمد بن أحمد بن محمد الحافظ البخاري المعروف بغنجار، قال: أبنا أبو الحسين محمد بن عمران بن موسى الجرجاني قال: أبنا الحسين بن جعفر الشاشي قال: سمعت إبراهيم بن معقل بسمرقند يقول: سمعت محمد بن إسماعيل البخاري يقول: خرجت كتابي "الجامع" في بضع عشرة سنة، وجعلته فيما بيني وبين الله حجة. *

وبالإسناد إلى أبي الحسن علي قال: أبنا هناد: أبنا أبو عبد الله: أبنا أبو الحسين محمد بن علي بن يعقوب الكاتب قال: سمعت إبراهيم بن معقل يقول: سمعت محمد بن إسماعيل يقول: ما أدخلت في كتابي إلا ما صح، وتركت من الصحاح
সালেহ শাইখ মুহাম্মাদ বিন নাসর বিন আব্দুর রহমান আশ-শাফিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবুল কাসিম আলি বিন আল-হাসান আদ-দিমাশকি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবুল হাসান আলি বিন আহমাদ বিন আব্দুল বাকি বাগদাদে আমার পাঠকালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হান্নাদ বিন ইবরাহিম তাঁর নিকট পাঠকালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-হাফিয আল-বুখারি, যিনি গুঞ্জার নামে পরিচিত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ বিন ইমরান বিন মুসা আল-জুরজানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন বিন জাফর আশ-শাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সমরকন্দে ইবরাহিম বিন মাকিলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি: আমি দশ বছরের কিছু অধিক সময়ে আমার এই "আল-জামি" কিতাবটি সংকলন করেছি এবং এটিকে আমার ও আল্লাহর মাঝে হুজ্জাত (প্রমাণ) হিসেবে নির্ধারণ করেছি।

এবং আবুল হাসান আলির প্রতি এই সনদে তিনি বলেন: হান্নাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন ইয়াকুব আল-কাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইবরাহিম বিন মাকিলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ বিন ইসমাইলকে বলতে শুনেছি: আমি আমার কিতাবে সহিহ ব্যতীত অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং আমি বহু সহিহ বর্ণনা বর্জন করেছি।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৩০)
لحال الطول. *

وقال البخاري: ألهمت حفظ الحديث، وأنا في الكتاب ابن عشر سنين. فلما بلغت ست عشرة سنة، حفظت كتب ابن المبارك، ووكيع، وعرفت كلام هؤلاء، فلما بلغت ثمان عشرة سنة، جعلت أصنف قضايا الصحابة والتابعين وأقاويلهم. وأحفظ مئة ألف حديثٍ صحيحٍ، وأحفظ مئتي ألف حديث غير صحيح. وأخرجت كتابي من زهاء ستمئة ألف حديث وصنفته لست عشرة سنة، وجعلته حجةً فيما بيني وبين الله. وما وضعت في كتاب "الصحيح" حديثاً إلا اغتسلت قبل ذلك وصليت ركعتين.

قال الفربري البخاري: رأيت محمد بن إسماعيل (في المنام) خلف النبي صلى الله عليه وسلم، وكلما وضع النبي صلى الله عليه وسلم وضع محمد بن إسماعيل قدمه.

وقال الفربري: سمعت "الجامع الصحيح" من أبي عبد الله بفربر، وكان يقرأ عليه ثلاث سنين؛ سنة ثلاثٍ وخمسين، وأربعٍ وخمسينٍ، وخمسٍ وخمسين، سمع كتاب "الصحيح" لمحمد بن إسماعيل تسعون ألف رجل، فما بقي يروي عنه أحد غيري.

قلت: وأخرجه مسلم في المغازي عن ابن معاذ، عن أبيه، عن شعبة، وعن أبي موسى، وبندار، عن شعبة، وعن إسحاق، وأحمد بن جناب، عن عيسى بن يونس، عن زكريا، كلهم عن أبي إسحاق به.
দীর্ঘ সময়ের অবস্থার প্রেক্ষিতে।

ইমাম বুখারী বলেন: আমি যখন মক্তবে পড়তাম এবং তখন আমার বয়স মাত্র দশ বছর, তখনই আমার অন্তরে হাদিস মুখস্থ করার প্রেরণা সৃষ্টি হয়। যখন আমার বয়স ষোল বছর পূর্ণ হলো, তখন আমি ইবনুল মুবারক ও ওয়াকী রহমাতুল্লাহি আলাইহিমার কিতাবসমূহ মুখস্থ করি এবং তাঁদের ইলমি বক্তব্য ও মানহাজ সম্পর্কে অবগত হই। এরপর যখন আমার বয়স আঠারো বছর হলো, তখন আমি সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেঈগণের ফয়সালাসমূহ এবং তাঁদের উক্তিগুলো সংকলন করতে শুরু করি। আমার এক লক্ষ সহিহ হাদিস মুখস্থ আছে এবং দুই লক্ষ গয়রে সহিহ (অসহিহ) হাদিস মুখস্থ আছে। আমি প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে যাচাই-বাছাই করে আমার এই কিতাবটি বের করেছি এবং দীর্ঘ ষোল বছর ধরে এটি সংকলন করেছি; আর একে আমার ও আল্লাহর মাঝে দলিল হিসেবে নির্ধারণ করেছি। আমি আমার 'সহিহ' গ্রন্থে কোনো হাদিসই সন্নিবেশিত করিনি, যার পূর্বে আমি গোসল করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করিনি।

ফিরিবরী বলেন: আমি স্বপ্নে মুহাম্মদ বিন ইসমাইলকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে (হাঁটতে) দেখলাম। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানেই তাঁর পা রাখছিলেন, মুহাম্মদ বিন ইসমাইলও ঠিক সেখানেই তাঁর পা রাখছিলেন।

ফিরিবরী আরও বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহর নিকট থেকে ফিরিবর নামক স্থানে 'আল-জামেউস সহিহ' শ্রবণ করেছি। তাঁর সামনে দীর্ঘ তিন বছর যাবত এটি পাঠ করা হয়েছিল; অর্থাৎ দুইশত তিপ্পান্ন, চুয়ান্ন ও পঞ্চান্ন হিজরি সালে। নব্বই হাজার লোক মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের নিকট থেকে এই 'সহিহ' গ্রন্থটি সরাসরি শ্রবণ করেছেন, কিন্তু বর্তমানে আমি ছাড়া এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করার মতো আর কেউ অবশিষ্ট নেই।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইমাম মুসলিম এটি 'আল-মাগাযী' অধ্যায়ে ইবনে মুয়ায থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি শু'বা থেকে এবং আবু মুসা ও বুন্দার শু'বা থেকে, আর ইসহাক ও আহমদ বিন জানাব ঈসা বিন ইউনুস থেকে, তিনি জাকারিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই আবু ইসহাক থেকে এই সূত্রেই এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৩১)
وأخرج أبو عيسى الترمذي منه الفصل الأخير، وهو: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لجعفر: ((أشبهت خلقي وخلقي)) ؛ مختصراً فرواه في المناقب عن محمد بن إسماعيل البخاري، عن عبيد الله بن موسى، عن إسرائيل، عن أبي إسحاق، واسمه عمرو بن عبد الله أبو إسحاق السبيعي الهمداني الكوفي. فوقع لنا عالياً وموافقة عاليةً للترمذي.

ورواه أيضاً إمامٌ حافظٌ عن إمام حافظٍ. وباعتبار العدد كأن بيني وبين البخاري أربعة رجال.

مات البخاري رحمه الله ليلة يوم الفطر سنة ستٍّ وخمسين ومئتين. *
আবু ঈসা আত-তিরমিজি এখান থেকে শেষ পরিচ্ছেদটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফরকে বলেছিলেন: "তুমি অবয়ব ও চরিত্রে আমার সদৃশ হয়েছ।" তিনি এটি 'আল-মানাকিব' অধ্যায়ে মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন মুসা থেকে, তিনি ইসরাঈল থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁর নাম হলো আমর বিন আব্দুল্লাহ আবু ইসহাক আস-সাবিঈ আল-হামদানি আল-কুফি। ফলে এটি আমাদের কাছে উচ্চ সনদসহ পৌঁছেছে এবং ইমাম তিরমিজির বর্ণনার সাথে এটি একটি উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গতিপূর্ণ (মুওয়াফাকাত) বর্ণনা হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

এটি একজন ইমাম হাফিজ অপর একজন ইমাম হাফিজের সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। আর বর্ণনাকারীর সংখ্যা বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, আমার ও বুখারির মাঝে মাত্র চারজন ব্যক্তি রয়েছেন।

বুখারি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ২৫৬ হিজরি সনের ঈদুল ফিতরের রাতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌الحديث الثالث

أخبرنا الشيخ الصالح الأمين أبو علي الحسن بن إبراهيم المصري، بجامعها؛ قراءةً عليه وأنا أسمع في رابع عشر ذي القعدة سنة أربع وثلاثين وستمئة قال: أبنا أبو طاهر أحمد بن محمد الشافعي قراءةً عليه وأنا أسمع في سابع رجب سنة سبع وستين وخمسمئة قال: أبنا أبو عبد الله القاسم بن الفضل بن أحمد بن محمود قال: أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن الحسن الغضائري قراءةً عليه ببغداد سنة ثلاث عشرة وأربعمئة، قثنا أبو بكر محمد بن يحيى الصولي سنة أربع وثلاثين وثلاثمائة قال: ثنا أبو داود سليمان بن الأشعث، قثنا أحمد بن
তৃতীয় হাদিস

আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন সৎ ও বিশ্বস্ত শায়খ আবু আলী হাসান বিন ইব্রাহিম আল-মিসরি, সেই শহরের জামে মসজিদে; তাঁর উপস্থিতিতে পঠিত হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম ৬৩৪ হিজরি সনের ১৪ই জিলকদ তারিখে। তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ, তাঁর উপস্থিতিতে পঠিত হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম ৫৬৭ হিজরি সনের ৭ই রজব তারিখে। তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-কাসিম বিন আল-ফজল বিন আহমদ বিন মাহমুদ। তিনি বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-গাদাইরি, ৪১৩ হিজরি সনে বাগদাদে তাঁর উপস্থিতিতে পঠনকালে। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আস-সুলি ৩৩৪ হিজরি সনে। তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
محمد بن حنبل، قثنا يحيى: عن عبد الملك: [ثنا ابن جريج] عن عطاء: عن جابر قال: كسفت الشمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان ذلك في اليوم الذي مات فيه ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم. فقال الناس: إنما كسفت الشمس لموت إبراهيم. فقام النبي صلى الله عليه وسلم، فصلى بالناس ست ركعاتٍ في أربع سجداتٍ، كبر ثم قرأ، فأطال القيام، ثم ركع نحواً مما قام، ثم رفع رأسه، فقرأ دون القراءة الأولى ثم ركع نحواً مما قام، ثم رفع رأسه، فقرأ القراءة الثالثة دون القراءة الثانية، ثم ركع نحواً مما كان قام، ثم رفع رأسه، وانحدر للسجود، فسجد سجدتين ثم قام، فركع ثلاث ركعاتٍ قبل أن يسجد، وليس فيها ركعةٌ إلا التي قبلها أطول منها إلا أن يكون ركوعه نحواً من قيامه، ثم تأخر في صلاته، فتأخرت الصفوف معه ثم تقدم فقام في مقامه، وتقدمت الصفوف، فقضى بعض الصلاة، وقد طلعت. فقال: ((يا أيها الناس إن الشمس والقمر آيتان من آيات الله لا تنكسفان لموت أحدٍ من الناس، فإذا رأيتم شيئاً من ذلك فصلوا حتى تنجلي)) .

মুহাম্মদ ইবন হানবাল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল মালিক থেকে, [ইবন জুরাইজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন], তিনি আতা থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, আর তা ছিল সেই দিন যেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইন্তিকাল করেছিলেন। তখন মানুষ বলতে লাগল: ইব্রাহীমের মৃত্যুর কারণেই কেবল সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন এবং মানুষকে নিয়ে চার সিজদাবিশিষ্ট ছয় রুকুতে সালাত আদায় করলেন। তিনি তাকবীর দিলেন, অতঃপর কিরাত পাঠ করলেন এবং কিয়াম (দাঁড়ানো) দীর্ঘ করলেন। এরপর তিনি কিয়ামের সমপরিমাণ দীর্ঘ সময় রুকু করলেন। এরপর মাথা তুললেন এবং প্রথম কিরাতের চেয়ে সংক্ষিপ্ত কিরাত পাঠ করলেন। পুনরায় তিনি কিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকু করলেন। এরপর মাথা তুললেন এবং দ্বিতীয় কিরাতের চেয়ে সংক্ষিপ্ত তৃতীয় কিরাত পাঠ করলেন। এরপর তিনি কিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকু করলেন। এরপর তিনি মাথা তুললেন এবং সিজদার জন্য অবনত হলেন। তিনি দুটি সিজদা করলেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে গেলেন। এরপর তিনি সিজদা করার পূর্বে আরও তিনটি রুকু করলেন। এর প্রতিটি রুকু তার পূর্ববর্তী রুকু অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল না (বরং পূর্বেরটি অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত ছিল), তবে তাঁর রুকু ছিল তাঁর কিয়ামের সমপরিমাণ। এরপর তিনি সালাতের মধ্যে কিছুটা পিছিয়ে গেলেন, ফলে তাঁর সাথে কাতারগুলোও পিছিয়ে গেল। পুনরায় তিনি সামনে এগিয়ে তাঁর নিজ স্থানে দাঁড়ালেন এবং কাতারগুলোও সামনে এগিয়ে এল। এভাবে তিনি সালাতের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করলেন, ইতিমধ্যে সূর্য প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তিনি বললেন: "হে লোকসকল! নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনাবলির মধ্য হতে দুটি নিদর্শন। মানুষের কারো মৃত্যুর কারণে এগুলোর গ্রহণ হয় না। অতএব যখন তোমরা এ ধরনের কিছু দেখবে, তখন সালাত আদায় করবে যতক্ষণ না তা পরিষ্কার হয়ে যায়।"

(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
حديثٌ صحيحٌ عالٍ.

رواه الإمام أبو داود سليمان بن الأشعث بن بشير بن شداد بن عمرو بن عمران الأزدي السجستاني، المشهور فضله، ولم يصنف كتابٌ مثله، المعول عليه في الأحكام بين علماء الإسلام، فأجاد في تصنيفه، وتفرد في تبويبه وتأليفه، وأتى بكل حديثٍ مشهورٍ، وسندٍ معمولٍ به مذكورٍ. *

أخبرنا شيخنا عبد العزيز بن محمد بن الحسن الصالحي: عن أبي القاسم علي بن الحسن الدمشقي الحافظ قال: أبنا أبو النجم بدر بن عبد الله مولى عبد المحسن التاجر ببغداد قال: أبنا أبو بكر أحمد بن علي الحافظ قال: حدثني أبو بكر محمد بن علي الدينوري بلفظه قال: [سمعت أبا الحسين محمد بن عبد الله بن الحسن الفرضي. سمعت أبا بكر بن داسة يقول:] سمعت أبا داود يقول: كتبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم خمسمئة ألف حديث، انتخبت منها ما ضمنته هذا
একটি সহিহ ও উচ্চস্তরের হাদিস।

এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস ইবনে বাশির ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আমর ইবনে ইমরান আল-আজদি আস-সিজিস্তানি, যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সুবিদিত, এবং যাঁর কিতাবের ন্যায় কোনো কিতাব সংকলিত হয়নি। ইসলামের আলেমদের নিকট বিধিবিধানের ক্ষেত্রে এটিই নির্ভরতার স্থল। তিনি এর সংকলনে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন এবং এর অধ্যায় বিন্যাস ও রচনায় অনন্য বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন। তিনি প্রতিটি প্রসিদ্ধ হাদিস এবং আমলযোগ্য বর্ণিত সনদ এতে উপস্থাপন করেছেন। *

আমাদের শায়খ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আস-সালিহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: হাফিজ আবুল কাসিম আলী বিন আল-হাসান আদ-দিমাশকি থেকে, তিনি বলেন: বাগদাদের ব্যবসায়ী আব্দুল মুহসিনের মুক্তদাস আবু আন-নাজম বদর বিন আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফিজ আবু বকর আহমদ বিন আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী আদ-দিনাওয়ারি তাঁর নিজ শব্দে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: [আমি আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-ফারাদিকে বলতে শুনেছি। আমি আবু বকর বিন দাসাহকে বলতে শুনেছি:] আমি আবু দাউদকে বলতে শুনেছি: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে পাঁচ লক্ষ হাদিস লিখেছি, তা থেকে আমি এই কিতাবে যা অন্তর্ভুক্ত করেছি তা নির্বাচন করেছি।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الكتاب؛ يعني: كتاب "السنن"، جمعت فيه أربعة آلاف وثمانمئة حديث.

ذكرت الصحيح وما يشبهه ويقاربه.

ويكفي الإنسان لدينه من ذلك أربعة أحاديث،

أحدها: قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((الأعمال بالنيات)) .

الثاني: قوله: ((من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه)) .

الثالث: قوله: ((لا يكون المؤمن مؤمناً حتى يرضى لأخيه ما يرضى لنفسه)) .

الرابع: قوله: ((الحلال بين والحرام بينٌ)) الحديث. *

وبالإسناد إلى الحافظ أبي القاسم، قال: أبنا أبو المعمر المبارك بن أحمد الخزرجي قال: أبنا أبو الفضل الحافظ قال: أبنا أبو القاسم عبد الله بن طاهر التميمي؛ قدم علينا الري حاجاً، قال: أبنا علي بن محمد بن نصر الدينوري، قثنا القاضي أبو الحسن علي بن الحسن بن محمد المالكي: أبنا أبو القاسم الحسن بن محمد بن أحمد: حدثني أبو بكر محمد بن إسحاق: [ثنا] الصولي قال: سمعت أبا يحيى زكريا بن يحيى الساجي يقول: كتاب الله عز وجل أصل الإسلام،
কিতাবটি; অর্থাৎ: "আস-সুনান" কিতাব, এতে আমি চার হাজার আটশত হাদীস সংকলন করেছি।

আমি এতে সহীহ এবং যা তার সদৃশ ও নিকটবর্তী তা উল্লেখ করেছি।

আর একজন মানুষের দ্বীনের জন্য এগুলো থেকে চারটি হাদীসই যথেষ্ট,

তার মধ্যে একটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল))।

দ্বিতীয়টি: তাঁর বাণী: ((একজন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো তার অনর্থক বিষয় ত্যাগ করা))।

তৃতীয়টি: তাঁর বাণী: ((মুমিন ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে))।

চতুর্থটি: তাঁর বাণী: ((হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট)) হাদীসটি শেষ পর্যন্ত। *

আর হাফেজ আবু আল-কাসিমের সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মুয়াম্মার আল-মুবারক ইবনে আহমাদ আল-খাজরাজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফাদল আল-হাফেজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে তাহের আত-তামিমি; তিনি হাজ্ব পালন শেষে আমাদের নিকট রাই শহরে আগমন করেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নাসর আদ-দিনাওয়ারি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কাজী আবু আল-হাসান আলী ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ আল-মালিকি: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক: [আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন] আস-সুলি, তিনি বলেন: আমি আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজি-কে বলতে শুনেছি: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাবই ইসলামের মূল ভিত্তি,
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وكتاب "السنن" لأبي داود عهد الإسلام. *

قال أبو داود: ما ذكرت في كتابي حديثاً أجمع الناس على تركه.

قلت: وأخرجه الإمام أبو الحسين مسلم بن الحجاج في صحيحه: عن أبي بكر، ومحمد بن عبد الله بن نمير، عن عبد الله بن نمير، عن عبد الملك، عن عطاء بن أبي رباح، عن جابر، به.

روى عنه الترمذي والنسائي.

مات في شوال سنة خمسٍ وسبعين ومئتين. *
আবু দাউদের "আস-সুনান" গ্রন্থটি ইসলামের যুগের এক অনন্য নিদর্শন।

আবু দাউদ বলেন: আমি আমার গ্রন্থে এমন কোনো হাদিস উল্লেখ করিনি যা বর্জন করার ব্যাপারে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

আমি বলছি: ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আবু বকর এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমায়র থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে নুমায়র থেকে, তিনি আবদুল মালিক থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি জাবির থেকে, এই সূত্রে।

তিরমিজি ও নাসায়ি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি দুইশত পঁচাত্তর হিজরি সালের শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌الحديث الرابع

أخبرنا الشيخ الصالح أبو المنجى عبد الله بن عمر بن زيد بن اللتي رحمه الله بقراءة أبي العباس أحمد بن الجوهري وإفادته رحمه الله (يوم في يوم) (1) الجمعة ثامن عشرين ربيع الأول سنة أربع وثلاثين وستمائة، بثغر الكرك المحروس، قال له: أخبرك أبو الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب السجزي؛ قراءةً عليه وأنت تسمع في شهور سنة ثلاث وخمسين وخمسمائة، فأقر به وقال: نعم، أبنا شيخ الإسلام أبو إسماعيل عبد الله بن محمد بن علي بن مت الهروي الأنصاري؛ قراءةً عليه وأنا أسمع، قال: أبنا أبو محمد عبد الجبار الجراحي، قال: أبنا محمد بن أحمد بن محبوب المحبوبي قال: أبنا أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي الحافظ،

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل.
চতুর্থ হাদিস

নেককার শায়খ আবু আল-মুঞ্জা আবদুল্লাহ বিন উমর বিন যাইদ বিন আল-লাত্তি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আল-জাওহারির পাঠ এবং তাঁর নির্দেশনায় (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), ছয়শ চৌত্রিশ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের আটাশ তারিখ শুক্রবার (দিনটিতে দিনটিতে) (১), সুরক্ষিত সীমান্ত শহর আল-কারাক-এ। তিনি তাঁকে বলেন: আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা বিন শুয়াইব আস-সিজজি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন; তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আপনি শুনছিলেন পাঁচশ তিপান্ন হিজরি সালের মাসগুলোতে। অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: হ্যাঁ, শায়খুল ইসলাম আবু ইসমাইল আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন মাত্তা আল-হারায়ি আল-আনসারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি শুনছিলাম। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার আল-জারাহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মাহবুব আল-মাহবুবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: হাফেজ আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ আত-তিরমিজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৩৮)
قثنا عقبة بن مكرم، قثنا ابن أبي فديك، قال: أخبرني سلمة بن وردان الليثي: عن أنس بن مالك: عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((من ترك الكذب، وهو باطلٌ؛ بني له في ربض الجنة. ومن ترك المراء، وهو محقٌّ؛ بني له في وسطها. ومن حسن خلقه، بني له في أعلاها)) . *

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উকবাহ বিন মুকরাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি ফুদাইক, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সালামাহ বিন ওয়ারদান আল-লাইসি: আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মিথ্যা পরিত্যাগ করে, অথচ তা বর্জনীয়; তার জন্য জান্নাতের প্রান্তদেশে ঘর নির্মাণ করা হয়। আর যে ব্যক্তি ঝগড়া পরিত্যাগ করে, অথচ সে সত্যের ওপর অটল; তার জন্য জান্নাতের মধ্যভাগে ঘর নির্মাণ করা হয়। আর যার চরিত্র সুন্দর হয়, তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে ঘর নির্মাণ করা হয়।"

(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৩৯)
هكذا رواه الإمام الحافظ المتقن لجميع الآثار، المجيد في ترتيب الأحاديث
এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম হাফিজ, যিনি সকল আসারের বর্ণনায় সুনিপুণ এবং হাদীস বিন্যাসে অনন্য পারদর্শী।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৪০)
والأخبار، الذي اشتهر فضله في جميع الأقطار. جمع جامعه فأحسن، وحقق وبين،
এবং হাদীসসমূহ, যাঁর মর্যাদা সকল দিগন্তে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এর সংকলক একে অতি চমৎকারভাবে সংকলন করেছেন এবং তা সুনিশ্চিত ও স্পষ্টভাবে বিবৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) খামসাতু আহাদীস তাখরীজু ইবনে বালবান (পৃষ্ঠা: ৪১)
وميز الصحيح من الحسن، أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي الحافظ الضرير. كان يضرب به الأمثال في تحقيق المتون وأسماء الرجال.

قال أبو سعيد عبد الرحمن بن محمد الإدريسي: سمعت أبا بكر محمد بن أحمد بن محمد بن الحارث المروزي الفقيه يقول: (سمعت) أحمد بن عبد الله بن
এবং সহিহ ও হাসানের মধ্যে পার্থক্য করেছেন হাফেজ ও দৃষ্টিহীন আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আত-তিরমিজি। মূল পাঠ যাচাই এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তিনি প্রবাদতুল্য ছিলেন।

আবু সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-ইদ্রিসি বলেছেন: আমি ফকিহ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হারিস আল-মারওয়াযিকে বলতে শুনেছি: (আমি শুনেছি) আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে