(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: -)
آداب البحث والمناظرة القسم: المنطق
الكتاب: آداب البحث والمناظرة
[آثار الشيخ العلامة محمد الأمين الشنقيطي (7)]
المؤلف: محمد الأمين بن محمد المختار الجكني الشنقيطي (1325 - 1393 هـ)
المحقق: سعود بن عبد العزيز العريفي
الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)
الطبعة: الخامسة، 1441 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)
عدد الصفحات: 379
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 شوّال 1442
আলোচনা ও বিতর্কের শিষ্টাচার বিভাগ: যুক্তিবিদ্যা
গ্রন্থ: আলোচনা ও বিতর্কের শিষ্টাচার
[শাইখ আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতীর রচনাবলী (৭)]
লেখক: মুহাম্মাদ আল-আমিন ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুখতার আল-জাকানি আশ-শানকিতী (১৩২৫ - ১৩৯৩ হিজরি)
মুহাক্কিক: সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-আরিফী
প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম (রিয়াদ) - দার ইবনে হাযম (বৈরুত)
সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (দার ইবনে হাযমের প্রথম সংস্করণ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৯
শামেলার জন্য পেশ করেছেন: «আতাআতিল ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১)
آثار الشيخ العلامة محمد الأمين الشنقيطي (7)
آداب البحث والمناظرة
تأليف
الشيخ العلامة محمد الأمين بن محمد المختار الجكني الشنقيطي (1325 هـ - 1393 هـ)
تحقيق
سعود بن عبد العزيز العريفي
إشراف
بكر بن عبد الله أبو زيد
دار عطاءات العلم - دار ابن حزم
আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শিনকিতির রচনাবলি (৭)
গবেষণা ও বিতর্কের শিষ্টাচার
রচনায়
শাইখ আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমিন বিন মুহাম্মাদ আল-মুখতার আল-জাকানি আশ-শিনকিতি (১৩২৫ হি. - ১৩৯৩ হি.)
সম্পাদনায়
সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-আরিফি
তত্ত্বাবধানে
বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়িদ
দার আতাআতিল ইলম - দার ইবনে হাজম
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله.
وبعد؛ فيسرني أن أقدم للقارئ الكريم كتاب "آداب البحث والمناظرة" للعلامة المفسر الفقيه الأصولي الشيخ محمد الأمين الجكَني الشنقيطي رحمه الله، في حلته الجديدة -ضمن مشروع آثار العلامة الشنقيطي- بعد مراجعته وتصحيحه والتعليق عليه بقدر ما تدعو إليه الحاجة، وكان الكتاب قد طبع عام 1388 بالمدينة النبوية، وأشرف على طبعه ووضَع عناوينَه -كما جاء في آخر تلك الطبعة- المشرفُ على مطبوعات الجامعة الإسلامية فضيلة الشيخ عطية محمد سالم رحمه الله، وهو من أخص تلاميذ المؤلف، إلا أن تلك الطبعة جاءت كثيرة الأخطاء، غير منسقة الفقرات، وذلك ما حال بين القارئ والانتفاع بالكتاب على الوجه المطلوب.
ومعلوم أن موضوع الكتاب من الموضوعات الدقيقة، التي قد تتأثر بأدنى خطأ طباعي، أو دمج بين المسائل والأمثلة في فقرة واحدة دون تفصيلها وتمييزها، وقد جربت ذلك في هذا الكتاب دراسة وتدريسًا فوجدت له أبلغ الأثر، فكم سهّل حسنُ ترتيب فقرات الكتاب على القارئ فهم المسائل، وذلك ما افتقرت إليه طبعة الكتاب السابقة، فلا عجب أن انصَرَفَ عنه إلى غيره كثيرٌ من المشتغلين بفني المنطق والجدل، مع تميزه على غيره من كتب هذين الفنين من عدة وجوه:
منها: أنه جمع بين الوجازة ووضوح العبارة ودقتها، وسهولة
উপস্থাপনা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।
এরপর; সম্মানিত পাঠকের নিকট আল্লামা, মুফাসসির, ফকিহ এবং উসুলবিদ শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আল-জাকানি আশ-শানকিতী (রহিমাহুল্লাহ)-এর "আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা" (গবেষণা ও বিতর্কের শিষ্টাচার) গ্রন্থটি তার নতুন সাজে—আল্লামা শানকিতীর রচনাবলি প্রকল্পের অধীনে—উপস্থাপন করতে পেরে আমি আনন্দিত। এটি প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যালোচিত, সংশোধিত এবং এর ওপর টীকা যুক্ত করার পর পেশ করা হলো। বইটি ১৩৮৮ হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারায় মুদ্রিত হয়েছিল এবং সেই মুদ্রণের শেষে যেমনটি উল্লেখ রয়েছে—মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা সমূহের তত্ত্বাবধায়ক শ্রদ্ধেয় শায়খ আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিম (রহিমাহুল্লাহ) এর মুদ্রণ তত্ত্বাবধান করেছিলেন এবং এর শিরোনামগুলো নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন লেখকের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ছাত্র। তবে সেই সংস্করণটি প্রচুর ভুলে ভরপুর ছিল এবং এর অনুচ্ছেদগুলো সুবিন্যস্ত ছিল না, যা পাঠককে কাঙ্ক্ষিত উপায়ে বইটি থেকে উপকৃত হতে বাধা প্রদান করেছিল।
এটি সুপরিচিত যে, এই বইয়ের আলোচ্য বিষয়বস্তু অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা সামান্যতম মুদ্রণজনিত ভুল কিংবা বিভিন্ন মাসআলা ও উদাহরণকে বিস্তারিত বর্ণনা ও পৃথকীকরণ ব্যতিরেকে একটি অনুচ্ছেদে একত্রিত করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমি এই বইটি অধ্যয়ন ও পাঠদানের সময় এটি অনুভব করেছি এবং এর গভীর প্রভাব লক্ষ্য করেছি। বইটির অনুচ্ছেদগুলোর সুশৃঙ্খল বিন্যাস পাঠকের জন্য মাসআলাগুলো বোঝা কতই না সহজ করে দিয়েছে! আর পূর্ববর্তী সংস্করণে এই বিষয়টিরই অভাব ছিল। তাই এটি আশ্চর্যের কিছু নয় যে, যুক্তিবিদ্যা (মানতিক) ও বিতর্ক শাস্ত্রের (জাদল) অনেক চর্চাকারী এই বইটির পরিবর্তে অন্য বইয়ের দিকে ঝুঁকেছিলেন, যদিও এই দুটি শাস্ত্রের অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এটি বেশ কয়েকটি দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার:
তার মধ্যে একটি হলো: এটি সংক্ষিপ্তসার এবং সুস্পষ্ট ও নির্ভুল অভিব্যক্তির সাথে সহজবোধ্যতার সমন্বয় ঘটিয়েছে,
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৬)
الأسلوب مع متانة المادة العلمية، وذلك ما يندر بالنسبة إلى طبيعة موضوع الكتاب.
ومنها: أن المؤلف اعتنى بالأمثلة الواقعية، والنماذج التطبيقية، وأورد الكثير منها، فطبق القياس المنطقي بأشكاله على المناظرة في بعض مسائل الاعتقاد كالاستواء والرؤية، وطبق طرق الجدل والمناظرة على قوادح العلة في علم الأصول، ولا شك أن كثرة الأمثلة الواقعية مما يعين طالب العلم على فهم الأصول والمسائل ذات الدقة والصعوبة، كما أنها تقرب من الثمرة المرجوّة من هذا النوع من العلوم.
ومنها: أن مؤلفه إمام محقق فقيه مفسر أصولي موسوعي، وقد اجتمعت له آلة الاجتهاد على وجه لم يُعرف عن غيره من معاصريه، وهو لم يُخْلِ كتابه هذا من بعض الترجيحات والتعقبات والنقودِ وإن لم يلتزم بذلك تجنبًا للإطالة، ولا شك أن عالمًا في مرتبته تجدر العناية بآرائه وترجيحاته.
وأخرى حسنة جميلة: وهي أن المؤلف سلفي المعتقد، أثري المنهج، زيَّن كتابه بخاتمة نفيسة في الحض على التمسك بالسنة، واتباع منهج السلف الصالح في الاعتقاد، والإعراض عن طريقة الخلف، خصوصًا في الصفات الإلهية، التي كثر الخوض فيها بالباطل من بعض طوائف الأمة. وكان لفني المنطق والجدل دورهما البارز في ذلك؛ فكم من مبتدع مخالف لصريح الكتاب والسنة روّج لمقالته البدعية بزعم أنها من القواطع العقلية، والنتائج المنطقية، وكم من
গদ্যশৈলী এবং বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুর বলিষ্ঠতা, যা এই গ্রন্থের বিষয়ের প্রকৃতির বিচারে বিরল।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে: লেখক বাস্তবধর্মী উদাহরণ ও প্রায়োগিক নমুনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এর অনেকগুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তিশাস্ত্রের অনুমিতি বা কিয়াসকে এর বিভিন্ন প্রকারসহ আকিদাগত কিছু বিষয়ের বিতর্কে প্রয়োগ করেছেন, যেমন (আরশের উপর) উঠা এবং (আল্লাহর) দর্শন। এছাড়া তিনি বিতর্ক ও মুনাজারার পদ্ধতিসমূহকে উসুল শাস্ত্রের ‘কাওয়াদিহুল ইল্লাত’ (কারণের ত্রুটিসমূহ)-এর ওপর প্রয়োগ করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বাস্তবধর্মী উদাহরণের আধিক্য ইলম অন্বেষণকারীকে সূক্ষ্ম ও কঠিন উসুল ও মাসয়ালাগুলো বুঝতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি এই ধরনের শাস্ত্র থেকে প্রত্যাশিত সুফলের নিকটবর্তী করে দেয়।
আরেকটি বিষয় হলো: এর লেখক একজন ইমাম, মুহাক্কিক, ফকিহ, মুফাসসির, উসুলি এবং বহুবিদ্যায় পারদর্শী। তাঁর মধ্যে ইজতিহাদের সক্ষমতা এমনভাবে পূর্ণতা পেয়েছিল যা তাঁর সমসাময়িক অন্য কারও মধ্যে পরিলক্ষিত হয়নি। কিতাবটি দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে তিনি সবসময় না করলেও, এটি কিছু বিষয়ের অগ্রাধিকার প্রদান, তদারকি ও সমালোচনা থেকে মুক্ত নয়। নিঃসন্দেহে তাঁর স্তরের একজন আলেমের মতামত ও অগ্রাধিকারসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরি।
আরও একটি প্রশংসনীয় দিক হলো: লেখক আকিদার ক্ষেত্রে সালাফি এবং মানহাজের ক্ষেত্রে আসারি। তিনি তাঁর কিতাবটিকে সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা এবং বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহিনের মানহাজ অনুসরণ ও খালাফদের পদ্ধতি বর্জন করার প্রতি উৎসাহিত করে একটি চমৎকার সমাপ্তি দিয়ে সজ্জিত করেছেন। বিশেষ করে আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে, যা নিয়ে উম্মতের কিছু গোষ্ঠী বাতিল পন্থায় অনেক বাড়াবাড়ি করেছে। এক্ষেত্রে যুক্তিবিদ্যা ও বিতর্কবিদ্যার এক বিশেষ ভূমিকা ছিল; কারণ কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট দলিলের বিরোধী কত বিদআতিই না তাদের বিদআতি বক্তব্যকে বুদ্ধিবৃত্তিক অকাট্য প্রমাণ ও যৌক্তিক ফলাফল বলে প্রচার করেছে, এবং কত...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৭)
مشتغل بالعلم سلّم لأهل البدع أو تهيب مخالفتهم والرد عليهم لتوهمه صحة ما ادعوه من اليقينيات المنطقية.
وميزات الكتاب غير هذه كثيرة، ستظهر للقارئ إن شاء الله واضحة في هذه الطبعة، التي كان جل عملنا فيها منصبًّا على ضبط النص، وتنقيته من الأخطاء والأوهام، ثم تفصيله في فقرات تراعي المادة العلمية وطبيعة الموضوع، بحث يناسب طالب العلم المبتدئ، وخصوصًا دارسي الأصلين: أصول الدين، وأصول الفقه؛ فهو من خير المقدمات للمتخصصين في العقيدة عند نقدهم للمنطق اليوناني، (وهي مادة معتمدة في أقسام العقيدة بالجامعات الإسلامية).
وقد جرت العادة بدراسة كتاب شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله "نصيحة أهل الإيمان بالرد على منطق اليونان" المشهور بالرد على المنطقيين، مع التقديم له بدراسة مختصرٍ في المنطق؛ إذ الحكم على الشيء فرع عن تصوره، فهذا الكتاب فيما رأينا من واقع التجربة، وفي ضوء الميزات السابقة، من خير ما يؤدي هذا الغرض.
أما دارسو أصول الفقه فأولى؛ فأكثر القسم الثاني من الكتاب (البحث والمناظرة) - وهو أكبر قسميه- في ذكر قوادح العلة وتطبيق طرق المناظرة عليها، وهي أدق وأهم مباحث القياس (أهم أبواب أصول الفقه) كما هو معلوم.
وقد حرصت على أن تكون هذه الطبعة مقابَلة على أصل الكتاب بخط مؤلفه؛ لكثرة ما رأيته من الأخطاء في الطبعة، وقد تطلّبتُ هذا الأصل، لكن لم أحصل على شيءٍ، فلعله لم يحفظ بعد طبع الكتاب،
ইলম চর্চায় রত এমন ব্যক্তি, যে বিদআতিদের বশ্যতা স্বীকার করেছে অথবা তাদের বিরোধিতা করতে ও তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ভয় পেয়েছে; কারণ সে তাদের দাবিকৃত যৌক্তিক নিশ্চিত বিষয়গুলোকে সঠিক বলে ভুল ধারণা করেছিল।
এই কিতাবটির বৈশিষ্ট্য এর বাইরেও অনেক রয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ এই মুদ্রণে পাঠকের কাছে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। এই সংস্করণে আমাদের কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মূল পাঠ নির্ধারণ করা, ভুলভ্রান্তি ও অমূলক ধারণা থেকে তা পরিশুদ্ধ করা এবং বৈজ্ঞানিক উপাদান ও বিষয়ের প্রকৃতি বিবেচনা করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করা; যাতে তা ইলমের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী হয়, বিশেষ করে যারা 'উসুলাইন' (উসূলে দ্বীন ও উসূলে ফিকহ) অধ্যয়নকারী। যারা গ্রিক যুক্তিবিদ্যার সমালোচনা করেন, সেই আকীদা বিশেষজ্ঞদের জন্য এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভূমিকা (এটি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আকীদা বিভাগে একটি অনুমোদিত পাঠ্য)।
সাধারণত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'নাসিহাতু আহলিল ঈমান বি-রদ্দি আলা মানতিকিল ইউনান' (যা 'আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন' নামে প্রসিদ্ধ) অধ্যয়ন করার প্রচলন রয়েছে, তবে তার আগে যুক্তিবিদ্যার একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ সম্পন্ন করা হয়; কারণ কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া সেই বিষয়টির সঠিক ধারণার ওপর নির্ভরশীল। আমাদের অভিজ্ঞতা এবং পূর্বোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের আলোকে এই কিতাবটি উক্ত উদ্দেশ্য সাধনে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
উসূলে ফিকহ অধ্যয়নকারীদের জন্য এটি আরও বেশি অগ্রগণ্য; কেননা কিতাবটির দ্বিতীয় অংশের অধিকাংশ (গবেষণা ও বিতর্ক) - যা এর দুটি অংশের মধ্যে বৃহত্তম - তাতে 'ইল্লত' বা কারণের ত্রুটিসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেগুলোতে বিতর্কের পদ্ধতিসমূহ প্রয়োগ করা হয়েছে। এটি কিয়াস বা অনুমানের (যা উসূলে ফিকহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়) সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, যা সর্বজনবিদিত।
পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে প্রচুর ভুলভ্রান্তি পরিলক্ষিত হওয়ায় আমি সচেষ্ট ছিলাম যেন এই মুদ্রণটি লেখকের নিজ হাতে লেখা মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়। আমি সেই মূল পাণ্ডুলিপিটি অনুসন্ধান করেছিলাম, কিন্তু তা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি; সম্ভবত কিতাবটি মুদ্রিত হওয়ার পর সেটি আর সংরক্ষণ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৮)
فاستعنتُ الله على إخراجه على الصورة التي يراها القارئ الكريم بين يديه، معتمدًا على طبعة الجامعة الإسلامية بالمدينة، راجيًا ممن يعلم شيئًا عن أي أصل يعتمد عليه أن يتفضل بإفادتنا وله منا جزيل الشكر وخالص الدعاء.
وقد أعادت مكتبة ابن تيمية بالقاهرة إخراج الكتاب في طبعة تجارية بصف جديد بدون تاريخ، إلا أن تلك الطبعة احتفظت بأكثر أخطاء طبعة الجامعة الإسلامية، ولم يُصوّب منها سوى بعض ما كان جليًّا لا يخفى، مما لا يعتمد تصويبه على فهم موضوعات الكتاب ومسائله، وأضافت إليها أخطاءً أخرى، كما افتقرت تلك الطبعة كسابقتها إلى الترتيب والتنسيق، وخلت من أي خدمة للنص.
ولما كانت أكثر عناوين الطبعة السابقة ليست من وضع المؤلف كما سبقت الإشارة إلى ذلك لم ألتزم بإيرادها في طبعتنا هذه؛ لعدم دقتها أحيانًا، ولكونها أشبه بالعناوين الجانبية الزائدة على الحاجة أحيانًا أخرى، ومهما يكن، فكونها ليست من وضع المؤلف جعلني في مندوحة من إيرادها، على أني جعلت فهرسًا مفصلًا انتظم مضمونها وزيادة، إلا أنني استبقيت العناوين المنسبكة مع سياق الكلام؛ لأنها لا بد أن تكون من وضع المؤلف، وهي قليلة.
وقد نبهت على أكثر أخطاء الطبعة السابقة؛ ليعلم القاريء فضل طبعتنا هذه عليها، والجهدَ الذي بذلناه فيها، وليحترز من هذه الأخطاء من عنده الطبعة السابقة، فقد استخرجت بعضها بالمناقيش (كما في ص 15، 35، 46، 62، 84، 101، 277، 254)، وأهملت التنبيه على
অতঃপর আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছি একে সেই অবয়বে প্রকাশ করার জন্য যা সম্মানিত পাঠক তার সামনে দেখতে পাচ্ছেন, যেখানে মদিনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্করণের ওপর নির্ভর করা হয়েছে। যারা এমন কোনো মূল উৎস সম্পর্কে জানেন যার ওপর নির্ভর করা যায়, তাদের কাছে আমি অনুগ্রহ করে আমাদের অবহিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি; তাদের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক দোয়া রইল।
কায়রোর মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ বইটিকে নতুন বিন্যাসে তারিখহীন একটি বাণিজ্যিক সংস্করণে পুনরায় প্রকাশ করেছে, তবে সেই সংস্করণটি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্করণের অধিকাংশ ভুলগুলোকেই বহাল রেখেছে। সেখানে কেবল সেই সমস্ত অত্যন্ত স্পষ্ট ভুলগুলো সংশোধন করা হয়েছে যা সংশোধনের জন্য বইটির বিষয়বস্তু ও মাসআলাগুলো বোঝার প্রয়োজন পড়ে না। তদুপরি, এটিতে আরও নতুন কিছু ভুল যুক্ত হয়েছে এবং আগের সংস্করণের মতো এটিও বিন্যাস ও সুশৃঙ্খলতার অভাবে জর্জরিত এবং মূল পাঠ্যের কোনো তদারকি ছাড়াই তা প্রকাশিত হয়েছে।
যেহেতু পূর্ববর্তী সংস্করণের অধিকাংশ শিরোনামই লেখকের নিজের দেওয়া ছিল না—যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—তাই আমাদের এই সংস্করণে আমি সেগুলো উল্লেখ করতে বাধ্য থাকিনি। এর কারণ হলো ক্ষেত্রবিশেষে সেগুলোর সঠিকতার অভাব এবং অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পার্শ্ব-শিরোনামের মতো হওয়া। যাই হোক না কেন, সেগুলো লেখকের নিজস্ব না হওয়ার বিষয়টি আমাকে তা বর্জন করার অবকাশ দিয়েছে; তবে আমি একটি বিস্তারিত সূচিপত্র তৈরি করেছি যা সেগুলোর বিষয়বস্তু ও আরও অতিরিক্ত তথ্যকে সুসংবদ্ধ করেছে। অবশ্য আমি সেই শিরোনামগুলো রেখে দিয়েছি যা আলোচনার প্রসঙ্গের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, কারণ সেগুলো অবশ্যই লেখকের নিজের হবে এবং এমন শিরোনামের সংখ্যা খুবই নগণ্য।
আমি আগের সংস্করণের অধিকাংশ ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছি, যাতে পাঠক এর ওপর আমাদের এই সংস্করণের শ্রেষ্ঠত্ব এবং এতে আমাদের মেহনত সম্পর্কে জানতে পারেন, আর যার কাছে আগের সংস্করণটি আছে সে যেন সেই ভুলগুলো সম্পর্কে সতর্ক হতে পারে। আমি এগুলোর মধ্য থেকে কিছু ভুল অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে চিহ্নিত করে বের করেছি (যেমন পৃষ্ঠা ১৫, ৩৫, ৪৬, 6২, ৮৪, ১০১, ২৭৭, ২৫৪-তে), আর অন্যগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করা থেকে বিরত থেকেছি...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৯)
بعض الأخطاء الواضحة التي لا تلتبس على القارئ، ولا أخفي أن كثرة الأخطاء في الطبعة السابقة قد أفقدها عندي المكانة التي تُعطى عادة للأصل المخطوط، وجرّأني على إثبات ما أراه صوابًا في الصلب دائمًا، سواء كان تصويبًا، أو إضافة أو حذفًا طفيفين، إلا أني أجعله بين معكوفين [هكذا]، وأنبه في الحاشية على الخطأ، دون التزام بتعليل التصويب إذا كان واضحًا، وقد كان خير معين لي في ذلك بعد الله -تعالى- سياق الكلام، وسباقه ولحاقه.
أما التعليقات فاقتصرت منها على ما دعت الضرورة إليه، فعزوت الأحاديث على قلتها إلى مصادرها مكتفيًا بذكر رقم الحديث، وحكمه إن كان خارج الصحيحين، أما الآيات فكُتبت برسم المصحف، وجعلْت أرقامها وسورها في الصلب تخفيفًا للحواشي، وخرَّجت الأبيات الشعرية من الدواوين والمصادر الأدبية، كما عرّفت بمن يحتاج إلى التعريف من الأعلام المذكورين، ووضَّحْت بعض المصطلحات والعبارات المستغلقة على ندرتها، ونبهت على بعض الأوهام التي قد تكون سبق قلم من المؤلف أو المصحح، (كما في ص 15، 53، 130، 161، 179، 201، 242، 305، 332)، وعلّقت ثلاث تعليقات موجزة صيانةً لما قد تُحمّلُه عبارة المؤلف من رأي مخالف لمذهب أهل السنة والجماعة هو منه بريء، وذلك في ص 224، 258، 235.
كما التزمت بعزو النقول وأقوال العلماء بحسب توفر مصادر المؤلف بين يدي.
পাঠকের কাছে অস্পষ্ট নয় এমন কিছু স্পষ্ট ভুল; আমি গোপন করছি না যে পূর্ববর্তী সংস্করণের ভুলগুলোর আধিক্য আমার নিকট পাণ্ডুলিপির যে মর্যাদা সাধারণত দেওয়া হয়, তা ক্ষুণ্ণ করেছে এবং এটি আমাকে যা সঠিক মনে হয়েছে তা সর্বদা মূল পাঠে সাব্যস্ত করতে সাহসী করেছে; চাই তা সংশোধন হোক অথবা সামান্য সংযোজন বা বিয়োজন। তবে আমি তা তৃতীয় বন্ধনী [এভাবে] এর মধ্যে রেখেছি এবং পাদটীকায় ভুলটির ব্যাপারে সতর্ক করেছি; সংশোধনের কারণ স্পষ্ট হলে তার ব্যাখ্যা প্রদানের বাধ্যবাধকতা রাখিনি। এক্ষেত্রে মহান আল্লাহর পর আমার জন্য সর্বোত্তম সহায়ক ছিল বক্তব্যের পূর্বাপর বর্ণনা এবং এর প্রেক্ষাপট ও পারম্পর্য।
আর টীকা-টিপ্পনীর ক্ষেত্রে আমি কেবল প্রয়োজনের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। তাই আমি হাদিসগুলোকে—সংখ্যায় কম হওয়া সত্ত্বেও—সেগুলোর মূল উৎসের দিকে নিসবত করেছি এবং হাদিস নম্বর উল্লেখ করার পাশাপাশি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এর বাইরে হলে সেগুলোর হুকুম বর্ণনা করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর আয়াতগুলো উসমানি লিপিতে লেখা হয়েছে এবং পাদটীকার বোঝা কমানোর জন্য আয়াতের নম্বর ও সূরার নাম মূল পাঠের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করেছি। কাব্যের পঙক্তিগুলো কাব্যগ্রন্থ ও সাহিত্যিক উৎস থেকে বের করে এনেছি। একইভাবে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে যাদের পরিচয়ের প্রয়োজন ছিল, তাদের পরিচয় প্রদান করেছি। যদিও খুব কম, তবুও কিছু পরিভাষা এবং দুর্বোধ্য বাক্যের ব্যাখ্যা দিয়েছি। এছাড়া লেখক বা সংশোধকের অসাবধানতাবশত কলম বিচ্যুতি বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের দিকেও ইঙ্গিত করেছি (যেমন: ১৫, ৫৩, ১৩০, ১৬১, ১৭৯, ২০১, ২৪২, ৩০৫, ৩৩২ পৃষ্ঠায়)। লেখকের কোনো বক্তব্য যেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতাদর্শের পরিপন্থী কোনো ভুল অর্থ বহন না করে—যা থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত—তা রক্ষার নিমিত্তে আমি তিনটি সংক্ষিপ্ত টীকা প্রদান করেছি; যা ২২৪, ২৫৮ ও ২৩৫ পৃষ্ঠায় রয়েছে।
পাশাপাশি লেখকের নাগালে থাকা উৎসসমূহ অনুযায়ী উদ্ধৃতিসমূহ এবং আলেমদের উক্তিগুলো সেগুলোর মূল উৎসের দিকে নিসবত করার ব্যাপারেও সচেষ্ট থেকেছি।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومما تميزت به طبعتنا هذه الإحالات، فقد أكثر المؤلف من قوله (كما سبق أن أشرنا)، (كما سيأتي)، ومعلوم أن هذا النوع من الفنون مترابط الفقرات، منبنٍ آخره على أوله، موضح بعضه لبعض، فالتزمت بالإحالة على رقم الصفحة حيثما أحال المؤلف.
موارد المؤلف:سبقت الإشارة إلى أن المؤلف عالم موسوعي، وهذا يعني أنه يعتمد في ما يكتب غالبًا على ما يملكه من مخزون علمي غزير، مع ما يفتح الله عليه من الفهم والاستنباط والتحليل والتحرير، والمؤلف رحمه الله -كما يُعرف من ترجمته قد رُزق حافظة نادرة، زانها ذكاء عزيز، وعبقرية فذة، وذلك ما ملّكه رقاب العلوم والفنون، ولا سيما علوم الآلة ومنها موضوع الكتاب، فهي ماثلة أمامه يقطف منها ما يشاء، فهو بحق (مستلم أستاذية العالم الإسلامي في عصره)، كما وصفه تلميذه العلّامة بكر أبو زيد -حفظه الله-، ومن هذا حاله قد يعسر تحديد موارده في كتبه، وله في كتابه هذا عبارات تؤكد ما ذكرنا، نحو: (وعلى هذا القول عامة المنطقيين) (وعليه عامة البيانيين) (وعلى هذا جماهير الأصوليين) (وبه يظهر غلط جماهير علماء الأصول)، ونحوها من العبارات التي يعلم من عرف غزارة علم الشيخ أنها مبنية على استقراء، لا مجرد نقل، ومع ذلك فقد نص في هذا الكتاب على بعض الأسماء التي قد تعبر عن بعض موارده، مع أنه يذكرها غالبًا للاستدراك والمناقشة، لا للنقل والعزو، وإليك ما ذكره منها وبعضَ مواضعها من الكتاب:
আমাদের এই সংস্করণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর উদ্ধৃতি বা রেফারেন্সসমূহ। লেখক প্রচুর পরিমাণে ‘যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি’ এবং ‘যেমনটি সামনে আসবে’ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। এটি সর্বজনবিদিত যে, এ ধরণের শাস্ত্রের অনুচ্ছেদসমূহ পরস্পর নিবিড়ভাবে যুক্ত, যার শেষাংশ প্রথমাংশের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এর প্রতিটি অংশ একে অপরের ব্যাখ্যা প্রদানকারী। তাই লেখক যেখানেই নির্দেশ করেছেন, সেখানে পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করার বিষয়টি আমি নিশ্চিত করেছি।
লেখকের তথ্যসূত্রসমূহ:ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, লেখক ছিলেন একজন বিশ্বকোষীয় পণ্ডিত। এর অর্থ হলো, তিনি যা লিখতেন তা মূলত তাঁর নিকট গচ্ছিত বিশাল ইলমী ভাণ্ডার এবং আল্লাহ প্রদত্ত গভীর বোধশক্তি, ইস্তিনবাত (তত্ত্ব ও বিধান আহরণ), বিশ্লেষণ ও সুসংহত করার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে লিখতেন। লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) – তাঁর জীবনী থেকে যেমনটি জানা যায় – এক বিরল স্মরণশক্তি লাভ করেছিলেন, যা তাঁর প্রখর মেধা ও অনন্য প্রতিভা দ্বারা সুশোভিত ছিল। আর এ বিষয়গুলোই তাঁকে বিভিন্ন জ্ঞান ও শাস্ত্রের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব দান করেছিল, বিশেষ করে সহায়ক শাস্ত্রসমূহের (উলুমুল আ-লাহ) ওপর, যার অন্তর্ভুক্ত হলো এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু। এই শাস্ত্রগুলো সর্বদা তাঁর দৃষ্টির সামনে দৃশ্যমান থাকত এবং তিনি তা থেকে যা ইচ্ছা আহরণ করতে পারতেন। তিনি যথার্থই ছিলেন ‘তাঁর সমকালীন মুসলিম বিশ্বের শিক্ষকতার ধারক’, যেমনটি তাঁর ছাত্র আল্লামা বকর আবু যাইদ (হাফিজাহুল্লাহ) তাঁকে বর্ণনা করেছেন। যাঁর অবস্থা এমন, তাঁর গ্রন্থগুলোতে ব্যবহৃত উৎস বা তথ্যসূত্রসমূহ সুনির্দিষ্ট করা বেশ দুরূহ হতে পারে। তাঁর এই গ্রন্থে এমন কিছু অভিব্যক্তি রয়েছে যা আমাদের উল্লিখিত বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করে, যেমন: ‘অধিকাংশ যুক্তিবিদ এই মত পোষণ করেন’, ‘এর ওপর অধিকাংশ অলঙ্কারবিদ একমত’, ‘উসুল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের সিংহভাগ এই মতের ওপর রয়েছেন’, ‘এর মাধ্যমে অধিকাংশ উসুলবিদের ভুল প্রতীয়মান হয়’ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বক্তব্য। শাইখের ইলমের প্রগাঢ়তা সম্পর্কে যারা অবগত, তারা জানেন যে তাঁর এই বক্তব্যগুলো নিছক কোনো বর্ণনা নয়, বরং তা গভীর পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও, তিনি এই গ্রন্থে নির্দিষ্ট কিছু নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যা তাঁর তথ্যসূত্র হিসেবে গণ্য হতে পারে; যদিও তিনি সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলোচনা ও পর্যালোচনার উদ্দেশ্যেই উল্লেখ করেছেন, কেবল উদ্ধৃতি বা অনুকরণের জন্য নয়। তিনি যেসকল নাম উল্লেখ করেছেন এবং গ্রন্থের যে স্থানগুলোতে তা এসেছে, তা নিচে প্রদান করা হলো:
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১১)
1 - نظم في المنطق للعلامة المختار بن بونة، ص 5.
2 - السلم المنورق في فن المنطق، للأخضري، ص 5.
3 - مختصر في علم المنطق، للسنوسي، ص 81.
4 - ابن عرفة، ولم يذكر اسم كتابه، ص 132.
5 - تاريخ بغداد، للخطيب البغدادي، ص 170.
6 - ألفية ابن مالك. ص 174.
7 - مراقي السعود، لعبد الله بن الحاج إبراهيم الشنقيطي. ص 244.
8 - شرح سلم الأخضري للبناني، ص 276، 196، وقد نقل منه صفحات.
9 - مختصر ابن الحاجب، ص 198، 308.
10 - رسالة في البحث والمناظرة، للشريف الجرجاني، ص 206.
11 - ركن الدين العميدي، ولم يذكر اسم كتابه في الجدل، فلعله رجح إليه بواسطة، ص 207.
12 - روضة الناظر، لابن قدامة، ص 308.
13 - الباقلاني، ص 322.
14 - الباجي، ص 322، ولم يسمّ لهما كتبًا، فلعله ينقل عنها بواسطة.
১ - আল্লামা আল-মুখতার বিন বুনা রচিত মানতিক (যুক্তিবিদ্যা) বিষয়ক পদ্য, পৃষ্ঠা ৫।
২ - আল-আখদারি রচিত মানতিক শাস্ত্রের 'আস-সুল্লাম আল-মুনাওরাক', পৃষ্ঠা ৫।
৩ - আল-সানুসি রচিত মানতিক শাস্ত্রের সংক্ষিপ্ত সার, পৃষ্ঠা ৮১।
৪ - ইবনে আরাফা, তাঁর গ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হয়নি, পৃষ্ঠা ১৩২।
৫ - আল-খাতিব আল-বাগদাদি রচিত তারিখু বাগদাদ, পৃষ্ঠা ১৭০।
৬ - আলফিয়্যাতু ইবনি মালিক, পৃষ্ঠা ১৭৪।
৭ - আবদুল্লাহ বিন আল-হাজ ইব্রাহিম আল-শানকিতি রচিত মারাকি আল-সুউদ, পৃষ্ঠা ২৪৪।
৮ - আল-বান্নানি রচিত শারহু সুল্লামিল আখদারি, পৃষ্ঠা ২৭৬, ১৯৬; এখান থেকে বেশ কিছু পৃষ্ঠা উদ্ধৃত হয়েছে।
৯ - মুখতাসারু ইবনিল হাজিব, পৃষ্ঠা ১৯৮, ৩০৮।
১০ - আশ-শরীফ আল-জুরজানি রচিত গবেষণা ও বিতর্ক বিষয়ক রিসালা, পৃষ্ঠা ২০৬।
১১ - রুকন উদ্দীন আল-আমিদি, বিতর্কশাস্ত্রে তাঁর কিতাবের নাম উল্লেখ করা হয়নি, সম্ভবত তিনি কোনো মধ্যস্থতার মাধ্যমে এর প্রতি ঝুঁকেছেন (বা উদ্ধৃত করেছেন), পৃষ্ঠা ২০৭।
১২ - ইবনে কুদামা রচিত রওদাতুন নাজির, পৃষ্ঠা ৩০৮।
১৩ - আল-বাকিলানি, পৃষ্ঠা ৩২২।
১৪ - আল-বাজি, পৃষ্ঠা ৩২২; তাঁদের কিতাবের নাম উল্লেখ করা হয়নি, সম্ভবত তিনি অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে তা থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১২)
هذا سوى موارده في القراءات والتفسير والحديث والشعر والأدب والنحو والبلاغة والتاريخ وغيرها مما يعتمد فيه على حفظه كما سبقت الإشارة إليه.
وننبه القارئ الكريم إلى أن المؤلف قد ذكر في مقدمته بعض المسائل المتوقف فهمها على دراسة فن المنطق وفهم مصطلحاته، وهو رحمه الله إنما خاطب بها غير المبتدئين، فلا يعترض عليه بأن هذا من استباق الكلام، وتقديم ما حقّه التأخير، ويمكن للمبتدئ تجاوزها وتأخيرها إلى ما بعد فهم المقدمة المنطقية.
كما أنه -رحمه الله تعالى- لم يستوعب جيميع مباحث المنطق طلبًا للاختصار، فترك ذكر لواحق القياس وغيرها من المسائل التي نبه على تركها اختصارًا مرارًا في كتابه، فمن أرادها فعليه بمطولات هذا الفن.
وفي ختام بهذا التقديم نستميح القارئ الكريم العذر في أي تقصير يلحظه في خدمة هذا الكتاب النفيس، ونسأل الله -تعالى- أن يتغمد مؤلفه بواسع رحمته، إنه جواد كريم، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
د. سعود بن عبد العزيز بن محمد العَرِيفي
مكة المكرمة -جامعة أم القرى- قسم العقيدة
এটি কিরাত, তাফসির, হাদিস, কবিতা, সাহিত্য, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র, ইতিহাস এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তাঁর উদ্ধৃতিসমূহ ব্যতীত যা তাঁর মুখস্থশক্তির ওপর নির্ভরশীল, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমরা সম্মানিত পাঠককে সতর্ক করছি যে, লেখক তাঁর ভূমিকায় এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যেগুলোর উপলব্ধি যুক্তিবিদ্যার অধ্যয়ন এবং এর পরিভাষাসমূহ বোঝার ওপর নির্ভরশীল। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এর মাধ্যমে মূলত অ-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের সম্বোধন করেছেন। সুতরাং তাঁর বিরুদ্ধে এমন আপত্তি উত্থাপন করা যাবে না যে, এটি অকালপক্ব আলোচনা বা পরে আসার যোগ্য বিষয়কে আগে উপস্থাপন করা; বরং প্রাথমিক শিক্ষার্থী তা এড়িয়ে যেতে পারেন এবং যুক্তিবিদ্যার ভূমিকা অনুধাবন করার পর তা অধ্যয়নের জন্য বিলম্বিত করতে পারেন।
তদ্রূপ তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) সংক্ষেপণের উদ্দেশ্যে যুক্তিবিদ্যার সকল আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেননি। তাই তিনি কিয়াসের অনুষঙ্গসমূহ এবং অন্যান্য মাসআলাসমূহ বাদ দিয়েছেন, যা তিনি তাঁর গ্রন্থে বারবার সংক্ষেপণের খাতিরে বর্জনের কথা উল্লেখ করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি তা বিস্তারিত জানতে চান, তাকে এই শাস্ত্রের বিস্তৃত গ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হতে হবে।
এই ভূমিকার শেষে, আমরা এই মূল্যবান কিতাবটির খিদমতে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে সম্মানিত পাঠকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর লেখককে তাঁর প্রশস্ত রহমত দ্বারা আবৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও মহানুভব। আর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।
ড. সাউদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-আরিফী
মক্কা মুকাররমা -উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়- আকীদাহ বিভাগ
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: -)
آداب البحث والمناظرة القسم: المنطق
الكتاب: آداب البحث والمناظرة
[آثار الشيخ العلامة محمد الأمين الشنقيطي (7)]
المؤلف: محمد الأمين بن محمد المختار الجكني الشنقيطي (1325 - 1393 هـ)
المحقق: سعود بن عبد العزيز العريفي
الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)
الطبعة: الخامسة، 1441 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)
عدد الصفحات: 379
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 شوّال 1442
আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা (গবেষণা ও বিতর্কের আদব) বিভাগ: যুক্তিবিদ্যা
গ্রন্থ: আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা
[আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকীতির রচনাবলি (৭)]
লেখক: মুহাম্মাদ আল-আমিন ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুখতার আল-জাকানি আশ-শানকীতি (১৩২৫ - ১৩৯৩ হিজরি)
সম্পাদক: সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-আরিফি
প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম (রিয়াদ) - দারু ইবনে হাজম (বৈরুত)
সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪৪১ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (দারু ইবনে হাজমের জন্য প্রথম সংস্করণ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৯
শামেলার জন্য পেশ করেছেন: প্রতিষ্ঠান «আতাআতিল ইলম», আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم أجمعين.
أما بعد:
فإنه لما كان من أهداف الجامعة الإسلامية نشرُ العلم، وتعليمُ أبناء المسلمين بصفة عامة، وتخريجُ الدعاة إلى الله بصفة خاصة، وكانت الدعوة إلى الله من أهم أعمال المسلمين جميعًا، فإن الجامعة مازالت دائبةً في تدعيم مناهجها إلى أن أصبحت -ولله الحمد- في المستوى المنهجي اللائقِ بها وبأهدافها.
وقد تخرّج أفواجٌ من أبنائها من كلية الشريعة، شغلوا مناصب عدةً من تدريس وقضاءٍ ودعوة.
ولما كان من المتوقع أن يواجه الدعاةَ إلى الحق دعاةٌ إلى الباطل مضللون، يجادلون لشبهٍ فلسفية، ومقدماتٍ سوفسطائية
(1)، وكانوا لشدة تمرُّنِهم على تلك الحُجج الباطلةِ كثيرًا ما يُظهرون الحقَّ في صورة الباطل، والباطلَ في صورة الحق، ويفحمون كثيرًا من طلبة العلم الذين لم يكن معهم سلاحٌ من العلمِ يدفع باطلَهم بالحق، وكان من الواجب على المسلمين أن يتعلموا من العلم ما يتسنّى لهم به إبطالُ
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
যেহেতু ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান প্রচার করা, সাধারণভাবে মুসলিম সন্তানদের শিক্ষা প্রদান করা এবং বিশেষভাবে আল্লাহর পথে আহ্বানকারী (দাঈ) তৈরি করা; আর আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া যেহেতু সকল মুসলিমের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ, তাই এই বিশ্ববিদ্যালয় তার পাঠ্যক্রমকে শক্তিশালী করতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যতক্ষণ না তা—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—তার মর্যাদা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের উপযোগী একটি মানসম্মত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
ইতিমধ্যেই এর শরিয়াহ অনুষদ থেকে বহু ছাত্র স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, যারা শিক্ষকতা, বিচারকার্য ও দাওয়াতের মতো বিভিন্ন পদে নিয়োজিত হয়েছেন।
আর যেহেতু এটি প্রত্যাশিত যে, সত্যের দিকে আহ্বানকারীরা বিভ্রান্ত বাতিলপন্থীদের সম্মুখীন হবেন, যারা দার্শনিক সংশয় এবং কুতর্কনির্ভর (সোফিস্ট্রি) প্রারম্ভিকার
(১) মাধ্যমে বিতর্ক করে থাকে; এবং সেই অসার দলিলসমূহে তাদের অত্যধিক অভিজ্ঞতার কারণে তারা প্রায়শই সত্যকে মিথ্যারূপে এবং মিথ্যাকে সত্যরূপে উপস্থাপন করে। এর ফলে তারা এমন বহু ইলম অন্বেষীকে নিরুত্তর করে দেয় যাদের কাছে সেই বাতিলকে সত্য দ্বারা প্রতিহত করার মতো জ্ঞানের অস্ত্র নেই। এমতাবস্থায় মুসলিমদের জন্য এমন জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক যার মাধ্যমে তারা বাতিলকে খণ্ডন করতে সক্ষম হবে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৪)
الباطل وإحقاقُ الحقِّ على الطرق المتعارَفة عند عامة الناس = حمل ذلك الجامعةَ على إنشاء كلية الدعوة وأصول الدين.
ومهمّتُها تخريجُ دعاة قادرين على تبليغ الدعوة بالحكمة والموعظة الحسنة، وعلى إفحام وإلزام الدعاة المضلِّلين، ببيان بها يصحح أدلتهم، ويظهرُ بطلانَ حُجج خصومهم.
ومن أجل ذلك قررَتْ في منهج هذه الكلية تدريسَ مادة "آداب البحث والمناظرة"؛ لأنه هو العلم الذي يَقدِر به من تعلمه على بيان مواضع الغلط في حُجة خصمه، وعلى تصحيح مذهبه بإقامة الدليل المقنعَ على صحته، أو صحة ملزومه، أو بطلان نقيضه، ونحو ذلك.
ومن المعلوم أن المقدمات التي تتركب منها الأدلةُ التي يحتج بها كل واحد من المتناظرَين إنما تُوجه الحجةُ بها منتظَمة على صورة القياس المنطقي.
ومن أجل ذلك كان فن "آداب البحث والمناظرة" يتوقف فهمُه كما ينبغي على فهم ما لا بد منه من فن المنطق؛ لأن توجيه السائل المنعَ على المقدمة الصغرى أو الكبرى مثلًا، أو القدحَ في الدليل بعدم تَكرار الحد الوسط، أو باختلال شرط من شروط الإنتاج ونحو ذلك
(1)، لا يفهمه من لا إلمام له بفن المنطق.
وكانت الجامعة قد أسندت إلينا تدريسَ فن "آداب البحث
--------------------------------------------
বাতিলকে নির্মূল করা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে পরিচিত পদ্ধতিতে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা = এই বিষয়টিই বিশ্ববিদ্যালয়কে দাওয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদ (কুল্লিয়াতুদ দাওয়াহ ওয়া উসুলুদ্দীন) প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করেছে।
আর এর লক্ষ্য হলো এমন একদল দাঈ তৈরি করা যারা হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াহর বাণী পৌঁছাতে সক্ষম হবেন এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী দাঈদের যুক্তি খণ্ডন ও লা-জওয়াব করতে পারবেন এমন এক বর্ণনার মাধ্যমে যার দ্বারা তাদের দলিলসমূহকে সংশোধন করা যায় এবং প্রতিপক্ষের যুক্তির অসারতা ফুটিয়ে তোলা যায়।
এই উদ্দেশ্যেই এই অনুষদের পাঠ্যক্রমে 'আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা' (গবেষণা ও বিতর্কের নিয়মাবলি) বিষয়টি পাঠদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; কারণ এটি এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী তার প্রতিপক্ষের যুক্তির ভুল জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় এবং নিজের মতবাদকে এর সত্যতার ওপর সন্তোষজনক দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে অথবা এর অনিবার্য বিষয়ের সত্যতা প্রমাণের মাধ্যমে কিংবা এর বিপরীত বিষয়ের অসারতা প্রমাণের মাধ্যমে সঠিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
এটি সর্বজনবিদিত যে, বিতর্ককারী উভয়ের ব্যবহৃত দলিলের সমন্বয়ে গঠিত ভূমিকাগুলো (মুকাদ্দামাসমূহ) কেবল যুক্তিবিদ্যার কিয়াস (Logical Syllogism)-এর আদলে সুবিন্যস্ত যুক্তির মাধ্যমেই পেশ করা হয়।
সেই কারণেই 'আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা' শিল্পটি যথাযথভাবে অনুধাবন করা যুক্তিবিদ্যার আবশ্যকীয় বিষয়গুলো বোঝার ওপর নির্ভরশীল; কেননা উদাহরণস্বরূপ, প্রশ্নকর্তার পক্ষ থেকে মুকাদ্দামা সুগরা (Minor Premise) বা মুকাদ্দামা কুবরা (Major Premise)-এর ওপর আপত্তি তোলা, কিংবা হাদ্দে আওসাত (Middle Term)-এর পুনরাবৃত্তি না ঘটার কারণে দলিলে ত্রুটি ধরা, অথবা ফলাফল লাভের (ইনতাজ) কোনো শর্তের বিচ্যুতি ঘটা ইত্যাদি বিষয়সমূহ
(১) সেই ব্যক্তি বুঝতে পারবে না যার যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে কোনো প্রাথমিক ধারণা নেই।
আর বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের ওপর 'আদাবুল বাহাস' বা গবেষণা পদ্ধতি বিষয়ক বিদ্যাটি পাঠদানের দায়িত্ব অর্পণ করেছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৫)
والمناظرة"، وكان لا بد من وضع مذكرة تُمكّن طلاب الفن من مقصودهم، فوضعنا هذه المذكرة، وبدأناها بإيضاح القواعد التي لابدّ منها من فن المنطق لآداب البحث والمناظرة، واقتصرنا فيها على المهم الذي لا بد منه للمناظرة، وجئنا بتلك الأصول المنطقية خالصةً من شوائب الشُّبه الفلسفية، فيها النفع الذي لا يخالطه ضررٌ البتة؛ لأنها من الذي خلّصه علماء الإسلام من شوائب الفلسفة، كما قال العلامة شيخ مشايخنا وابن عمنا المختار بن بونة
(1) -شارحُ الألفية والجامعُ معها ألفيةً أخرى من نظمه تكميلًا للفائدة- في نظمه في فن المنطق:
فإن تقُلْ حرّمه النواوي
… وابنُ الصلاح والسيوطي الراوي
قلتُ نرى الأقوال ذي المخالِفةْ
… محلُّها ما صنف الفلاسفةْ
أما الذي خلّصه من أسلما
… لا بد أن يعلم عند العلما
وأما قول الأخضري
(2) في سلمه
(3):
فابنُ الصلاح والنواوي حرما
… وقال قوم ينبغي أن يُعْلما
--------------------------------------------
এবং মুনাজারা (বিতর্ক); এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের তাদের কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম করার জন্য একটি নোট (মজাক্কিরা) প্রণয়ন করা অনিবার্য ছিল। তাই আমরা এই নোটটি প্রস্তুত করেছি এবং এটি শুরু করেছি যুক্তিবিদ্যার (মানতিক) সেইসব প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি স্পষ্ট করার মাধ্যমে যা গবেষণা ও বিতর্কের শিষ্টাচারের (আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা) জন্য অপরিহার্য। আমরা এতে কেবল সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি যা বিতর্কের জন্য অনিবার্য। আমরা সেইসব যৌক্তিক মূলনীতিগুলোকে দার্শনিক সংশয়ের কলুষতা থেকে মুক্ত ও বিশুদ্ধ অবস্থায় উপস্থাপন করেছি, যাতে এমন উপকার রয়েছে যার সাথে কোনো ক্ষতির সংমিশ্রণ নেই; কারণ এটি সেই জ্ঞান যা ইসলামের উলামায়ে কেরাম দর্শনের আবর্জনা থেকে পরিচ্ছন্ন করেছেন। যেমনটি আমাদের শাইখদের শাইখ এবং আমাদের পিতৃব্যপুত্র আল্লামা মুখতার বিন বুনা
(১) —যিনি আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাকার এবং এর সাথে উপকারের পূর্ণতা সাধনে নিজের রচিত অন্য একটি আলফিয়্যাহর সংকলনকারী— যুক্তিবিদ্যা বিষয়ক তার কাব্যগ্রন্থে বলেছেন:
যদি তুমি বলো যে নববী একে হারাম করেছেন
… এবং ইবনে সালাহ ও বর্ণনাকারী সুয়ূতীও
আমি বলব, আমরা এই ভিন্নমতগুলোকে দেখি যে
… এগুলোর প্রয়োগক্ষেত্র হলো দার্শনিকদের রচিত বিষয়গুলো
তবে যা মুসলিমরা পরিচ্ছন্ন করেছেন
… আলেমদের নিকট তা অবশ্যই শিখতে হবে
আর তার 'সুল্লাম'
(৩) গ্রন্থে আখদারী
(২)-র উক্তিটি হলো:
ইবনে সালাহ ও নববী হারাম করেছেন
… আর এক দল বলেছেন এটি জানা উচিত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৬)
والقولةُ المشهورةُ الصحيحةْ
… جوازهُ لكاملِ القريحةْ
مُمارِسِ السُنّةِ والكتابِ
… ليَهتدي به إلى الصوابِ
فمحلُّه المنطقُ المشوبُ بكلام الفلاسفة الباطل.
ومن المعلوم أن فن المنطق منذ تُرجم من اللغة اليونانية إلى اللغة العربية في أيام المأمون كانت جميعُ المؤلفات توجدُ فيها عِباراتٌ واصطلاحات منطقيةٌ لا يفهمُها إلا من له إلمامٌ به، ولا يَفهم الردَّ على المنطقيين في ما جاؤوا به من الباطل إلا من له إلمام بفن المنطق.
وقد يعين على رد الشبه التي جاء بها المتكلمون في أقيسة منطقية، فزعموا أن العقل يمنع بسببها كثيرًا من صفات الله الثابتةِ في الكتاب والسنة؛ لأن أكبر سبب لإفحام المبطل أن تكون الحجة عليه من جنس ما يحتج به، وأن تكون مركبة من مقدمات على الهيأة التي يعترف الخصم المبطل بصحة إنتاجها.
ولا شك أن المنطق لو لم يترجم إلى العربية ولم يتعلمه المسلمون لكان دينُهم وعقيدتُهم في غنىً عنه، كما استغنى عنه سلفهم الصالح، ولكنه لما تُرجم وتُعُلِّم، وصارت أقيسته هي الطريق الوحيدة لنفي بعض صفات الله الثابتةِ في الوحيين، كان ينبغي لعلماء المسلمين أن يتعلموه وينظروا فيه ليردّوا حجج المبطلين بجنس ما استدلوا به على نفيهم لبعض الصفات؛ لأن إفحامهم بنفس أدلتهم أدعى لانقطاعهم وإلزامهم الحق.
واعلم أن نفس القياس المنطقي في حد ذاته صحيح النتائج، إن
সুপ্রসিদ্ধ ও সঠিক মতটি হলো
… প্রখর মেধাসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য এটি বৈধ
যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহর অনুশীলনকারী
… যাতে সে এর মাধ্যমে সঠিক বিষয়ের দিকে দিশা লাভ করতে পারে।
আর এর ক্ষেত্র হলো সেই যুক্তিবিদ্যা, যা দার্শনিকদের বাতিল কথাবার্তার সাথে মিশ্রিত।
এটি সুবিদিত যে, খলীফা মামুনের শাসনামলে গ্রীক ভাষা থেকে যখন যুক্তিবিদ্যা আরবী ভাষায় অনূদিত হয়, তখন থেকে সকল রচনাতেই এমন সব যৌক্তিক পরিভাষা ও অভিব্যক্তি পাওয়া যেত যা কেবল সেই ব্যক্তিই বুঝতে পারত যার এই শাস্ত্রে বুৎপত্তি রয়েছে। আর যুক্তিবিদরা যেসব বাতিল বিষয় নিয়ে এসেছে, সেগুলোর খণ্ডনও এমন ব্যক্তি ব্যতীত কেউ বুঝতে সক্ষম নয় যে যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে সম্যক অবগত।
এটি ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের উপস্থাপিত যৌক্তিক সংশয়সমূহ নিরসনে সহায়ক হতে পারে; তারা দাবি করেছিল যে, যুক্তি-বুদ্ধি আল্লাহর এমন অনেক গুণাবলীকে বাধা দেয় যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। কেননা বাতিলপন্থীকে নির্বাক করে দেওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো তার বিরুদ্ধে এমন দলীল উপস্থাপন করা যা তার ব্যবহৃত যুক্তির ধরনেরই অন্তর্ভুক্ত, এবং যা এমন সব প্রস্তাবনার সমন্বয়ে গঠিত যা বাতিলপন্থী প্রতিপক্ষ সঠিক ফলাফল প্রদানের ক্ষেত্রে স্বীকার করে থাকে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যুক্তিবিদ্যা যদি আরবী ভাষায় অনূদিত না হতো এবং মুসলমানরা তা শিক্ষা না করত, তবে তাদের দ্বীন ও আকীদা এর মুখাপেক্ষী হতো না, যেভাবে তাদের উত্তরসূরি সালফে সালেহীনগণ এর থেকে অমুখাপেক্ষী ছিলেন। কিন্তু যখন এটি অনূদিত হলো এবং মানুষ তা শিখল, আর এর যুক্তিগুলো ওহী (কুরআন ও সুন্নাহ) দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহর কিছু গুণাবলীকে অস্বীকার করার একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াল, তখন মুসলিম উলামায়ে কেরামের জন্য এটি শিক্ষা করা এবং এতে দৃষ্টি দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ল—যাতে তারা বাতিলপন্থীদের সেই যুক্তির মাধ্যমেই তাদের দলীল খণ্ডন করতে পারেন যা দিয়ে তারা আল্লাহর কিছু গুণাবলী অস্বীকার করে থাকে। কেননা তাদের নিজস্ব দলীল দিয়েই তাদের নির্বাক করা তাদের যুক্তি খণ্ডন এবং সত্য মানতে বাধ্য করার জন্য অধিক কার্যকর।
জেনে রাখুন যে, যৌক্তিক অনুমানের (কিয়াস) ফলাফল মূলত নিজেই সঠিক হয়, যদি
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৭)
ركبت مقدماتُه على الوجه الصحيحِ صورةً ومادةً مع شروط إنتاجه فهو قطعي الصحة، وإنما يعتريه الخلل من جهة الناظر فيه، فيغلط، فيظن هذا الأمر لازمًا لهذا مثلًا، فيستدل بنفي ذلك اللازم في زعمه على نفي ذلك الملزوم، مع أنه لا ملازمةَ بينهما في نفس الأمر البتة.
ومن أجل غلطه في ذلك تخرج النتيجةُ مخالفةً للوحي الصحيح؛ لغلط المستدِل، ولو كان استعماله للقياس المنطقي على الوجه الصحيح لكانت نتيجتُه مطابقةً للوحي بلا شك؛ لأن العقل الصحيح لا يخالف النقل الصريح.
وإيضاحه باختصار أن القياس المنطقي نوعان:
الأول: الاقتراني، وهو المعروف بالحملي، وقياسِ الشمول، كما سيأتي إيضاحه إن شاء الله
(1)، وسائر أشكاله راجعةٌ إلى الشكل الأول، ووجهُ الحكم العقلي بصحة إنتاج الشكل الأول هو أن الحد الأصغرَ إذا اندرج في الحد الأوسط، واندرج الأوسط في الأكبر، لزم عقلًا اندراج الأصغر في الأكبر، وهذا أمر عقلي لا شك فيه، ولا يتغير بتغير الزمان؛ لأنه حكم عقلي قطعي ثابت.
وأما القياس الاستثنائي
(2) إن كان مركبًا من متصلة لزومية واستثنائية فلا يُنتج منه إلا ضربان، وحاصلهما بالتقريب للذهن أن نفي اللازم يقتضي نفي الملزوم، وثبوتَ الملزوم يقتضي ثبوتَ اللازم،
--------------------------------------------
যদি এর ভূমিকাগুলো (Premises) আকার এবং উপাদানের দিক থেকে উৎপাদনের শর্তাবলি সহ সঠিক পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করা হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবে নির্ভুল। এতে ত্রুটি কেবল পর্যবেক্ষকের দিক থেকেই অনুপ্রবেশ করে; ফলে সে ভুল করে এবং মনে করে যে, উদাহরণস্বরূপ এই বিষয়টি ওই বিষয়ের জন্য অবধারিত (Lāzim)। অতঃপর সে তার ধারণামতে সেই অবধারিত বিষয়টি অস্বীকার করার মাধ্যমে মূল বিষয়টি (Malzūm) অস্বীকার করার প্রমাণ পেশ করে, অথচ বাস্তবে তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক (Mulāzamah) নেই।
তার এই ভুলের কারণেই সিদ্ধান্তটি সঠিক ওহীর পরিপন্থী হয়ে প্রকাশ পায়; এটি মূলত প্রমাণকারীর ভুলের কারণে। যদি যৌক্তিক অনুমানের (Qiyās) ব্যবহার সঠিক পদ্ধতিতে হতো, তবে নিঃসন্দেহে এর ফলাফল ওহীর সাথে সংগতিপূর্ণ হতো; কারণ সুস্থ বিবেক সুস্পষ্ট ওহীর (Naql) বিরোধী হয় না।
সংক্ষেপে এর ব্যাখ্যা হলো যে, যৌক্তিক অনুমান (Qiyās) দুই প্রকার:
প্রথম: সংযোজক (Iqtiranī), যা বর্ণনামূলক (Hamlī) এবং ব্যাপকতা জ্ঞাপক অনুমান (Qiyās al-Shumūl) নামে পরিচিত, যার ব্যাখ্যা সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ
(১)। এর সমস্ত প্রকারভেদ প্রথম প্রকারের (প্রথম চিত্র) দিকেই ফিরে যায়। প্রথম প্রকারের ফলাফল নির্ভুল হওয়ার ব্যাপারে বুদ্ধিভিত্তিক হুকুমের কারণ হলো—যদি ক্ষুদ্রতর পদ (Minor term) মধ্যম পদের (Middle term) অন্তর্ভুক্ত হয় এবং মধ্যম পদটি বৃহত্তর পদের (Major term) অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে যুক্তিসঙ্গতভাবেই ক্ষুদ্রতর পদটি বৃহত্তর পদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া অবধারিত হয়ে পড়ে। এটি এমন এক বুদ্ধিভিত্তিক বিষয় যাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং সময়ের পরিবর্তনে এর কোনো পরিবর্তন হয় না; কারণ এটি একটি সুনিশ্চিত ও শাশ্বত বুদ্ধিভিত্তিক বিধান।
আর ব্যতিক্রমী অনুমান (Istithnā'ī)
(২) যদি একটি অবিচ্ছেদ্য শর্তযুক্ত বাক্য এবং একটি ব্যতিক্রমী বাক্য দ্বারা গঠিত হয়, তবে তা থেকে কেবল দুটি রূপই ফলপ্রসূ হয়। সহজভাবে সে দুটির সারকথা হলো—অবধারিত বিষয়টিকে (Lāzim) অস্বীকার করলে মূল বিষয়টির (Malzūm) অস্বীকৃতি অনিবার্য হয়ে পড়ে এবং মূল বিষয়টির সাব্যস্ত হওয়া অবধারিত বিষয়টির সাব্যস্ত হওয়াকে অপরিহার্য করে তোলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكلاهما حكم عقلي قطعي ثابت لا يمكن تغيّره.
والمركب من شرطية منفصلة
(1) إن كانت حقيقية مانعةَ جمع وخُلُوّ أنتجت ضروبُه الأربعة؛ لأن نفي كل واحد من النقيضين يستلزم وجود الآخر، ووجودَ كل واحد منهما يستلزم نفي الآخر، وهذه أحكام عقلية قطعية لا تتغير بحال.
والمركب من مانعة الجمع المجوِّزةِ للخُلُوّ يقطع العقل بصحة إنتاج ضربيه المنتجين؛ لأن مانعة الجمع المذكورةَ لا تتركب إلا من قضية وأخصَّ من نقيضها، فكلا طرفيها أخصُّ من نقيض الآخر، ولذا كان إثبات كل واحد من طرفيها يقتضي نفي الآخر؛ لأن إثبات ما هو أخصُّ من النقيض يستلزم إثبات النقيض؛ لأن ثبوت الأخصِّ يستلزم ثبوت الأعم بلا عكس.
وإذا ثبت النقيض عُلم انتفاءُ نقيضه قطعًا؛ لاستحالة اجتماع النقيضين، فتعين أن ثبوت كل واحد من طرفيها يقتضي نفي الآخر، بخلاف نفي أحد الطرفين فلا يقتضي نفي الآخر؛ لأن نفي ما هو أخص من النقيض لا يستلزم نفي النقيض؛ لأن نفي الأخص لا يستلزم نفي الأعم.
وكذلك المركب من مانعة الخُلُوّ المجوِّزةِ للجمع، فإن العقل الصحيح يقطع بصحة إنتاج الضربين المنتجين منه، وهما العقيمان في الذي قبله؛ لأن مانعة الخلو المجوزةَ للجمع لا تتركب إلا من قضية
--------------------------------------------
আর এ উভয়ই অকাট্য ও সুসাব্যস্ত যৌক্তিক সিদ্ধান্ত, যা পরিবর্তন হওয়া অসম্ভব।
আর বিচ্ছিন্ন শর্তসাপেক্ষ বাক্য এবং ব্যতিক্রমসূচক বাক্য দ্বারা গঠিত যৌগিক যুক্তি যদি প্রকৃত বা 'হাকিকিয়্যাহ' হয়—যা একইসাথে একত্র হওয়া এবং উভয়টি বাদ পড়াকে প্রতিরোধ করে—তবে তার চারটি রূপই ফলাফল প্রদান করে; কারণ দুটি বিপরীতধর্মী বিষয়ের যেকোনো একটির নেতিবাচকতা অন্যটির উপস্থিতিকে আবশ্যক করে, এবং একটির উপস্থিতি অন্যটির নেতিবাচকতাকে আবশ্যক করে। আর এগুলো অকাট্য যৌক্তিক সিদ্ধান্ত যা কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তিত হয় না।
আর যা একত্র হওয়াকে প্রতিরোধ করে কিন্তু উভয়টি বাদ পড়াকে বৈধতা দেয়, এমন বাক্য দ্বারা গঠিত যৌগিক যুক্তির ক্ষেত্রে বিবেক এর দুটি ফলপ্রসূ রূপের শুদ্ধতার ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্ত দেয়; কারণ উক্ত একত্র হওয়া প্রতিরোধকারী বাক্যটি কেবল একটি প্রতিজ্ঞা এবং তার বিপরীতের চেয়ে বিশেষ কোনো বিষয় দ্বারাই গঠিত হয়। ফলে এর উভয় প্রান্তই অপরটির বিপরীতের চেয়ে বিশেষ। আর এ কারণেই এর যেকোনো একটি প্রান্তকে সাব্যস্ত করা অন্যটির নেতিবাচকতাকে দাবি করে; কারণ বিপরীতের চেয়ে বিশেষ কিছুকে সাব্যস্ত করা স্বয়ং বিপরীতকেই সাব্যস্ত করাকে আবশ্যক করে। কেননা বিশেষের সাব্যস্ত হওয়া সাধারণের সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে, তবে এর বিপরীতটি সত্য নয়।
আর যখন কোনো বিষয়ের বিপরীতটি সাব্যস্ত হয়, তখন নিশ্চিতভাবে তার প্রতিপক্ষের অনুপস্থিতি জানা যায়; কারণ দুটি বিপরীতের একত্র হওয়া অসম্ভব। ফলে এটি নির্ধারিত হলো যে, এর প্রতিটি প্রান্ত সাব্যস্ত হওয়া অপরটির নেতিবাচকতাকে দাবি করে। পক্ষান্তরে কোনো একটি প্রান্তের নেতিবাচকতা অন্যটির নেতিবাচকতাকে দাবি করে না; কারণ বিপরীতের চেয়ে বিশেষ কোনো কিছুর নেতিবাচকতা স্বয়ং বিপরীতের নেতিবাচকতাকে আবশ্যক করে না। কেননা বিশেষের অনুপস্থিতি সাধারণের অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে না।
অনুরূপভাবে যা উভয়টি বাদ পড়াকে প্রতিরোধ করে কিন্তু একত্র হওয়াকে বৈধতা দেয়, এমন বাক্য দ্বারা গঠিত যৌগিক যুক্তির ক্ষেত্রেও সঠিক বিবেক এর থেকে নির্গত দুটি ফলপ্রসূ রূপের শুদ্ধতার ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্ত দেয়; আর এ দুটি হলো পূর্ববর্তী প্রকারের সেই দুটি রূপ যা ফলাফল প্রদানে অক্ষম ছিল। কারণ উভয়টি বাদ পড়াকে প্রতিরোধকারী বাক্যটি কেবল একটি প্রতিজ্ঞা এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ৯)
وأعمَّ من نقيضها، فكلا طرفيها أعمُّ من نقيض الآخر، ولذا كان نفي كل واحد منهما يقتضي وجود الآخر بلا عكس؛ لأن نفي ما هو أعمُّ من النقيض يستلزم نفي النقيض؛ لأن نفي الأعم يستلزم نفي الأخص، وإذا لزم من انتفائه انتفاءُ النقيض عُلم قطعًا ثبوتُ النقيض الآخَرِ؛ لاستحالة عدم النقيضين معًا.
فتبين أن نفي كل واحد من طرفيها يستلزم ثبوت الآخر بلا عكس، وكلَّ ما ذكر بحكم العقل
(1)، وأنه لا يتغير بتغير الزمان.
وبعد الانتهاء مما لا بد منه من فن المنطق نذكر جملا كافية من آداب البحث والمناظرة، تُعين من تعلمها على تصحيح مذهبه وإبطال مذهب خصمه، مع الآداب اللازمة لذلك، ثم نطبق ذلك في مسائلَ من القوادح في أصول الفقه، ومسائلَ من مسائل الكلام التي نفى فيها المعطلون بعض الصفات، ونوضح كيفية تصحيح الحق في ذلك وإبطالِ الباطل؛ لأن تطبيق ذلك عمليًّا يفيد الطالب إفادةَ أكبر.
ونختتم الكلام بالمقارنة بين ما يسميه المتكلمون مذهبَ السلف ومذهب الخلف، مع إحقاق الحق وإبطال الباطل على الطرق المعهودة في المنَاظرة؛ ليفيدَ ذلك الطالبَ تمرينًا على رد الشبه وإبطال الباطل بطريق المناظرة.
وهذا أوان الشروع في ذكر ما لا بد منه من المسائل المنطقية.
المؤلف
--------------------------------------------
এবং এটি তার বিপরীতের চেয়ে অধিক ব্যাপক। সুতরাং এর উভয় দিকই অন্যটির বিপরীতের চেয়ে অধিক ব্যাপক। এই কারণে এদের প্রত্যেকটি একটির অস্বীকার অন্যটির অস্তিত্বকে অনিবার্য করে তোলে কিন্তু এর বিপরীতটি নয়। কারণ যা বিপরীতের চেয়ে অধিক ব্যাপক তাকে অস্বীকার করা মানেই বিপরীতকে অস্বীকার করা; কেননা ব্যাপককে অস্বীকার করা মানেই বিশেষকে অস্বীকার করা। আর যখন একটির অনুপস্থিতি থেকে বিপরীতের অনুপস্থিতি অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন নিশ্চিতভাবেই অন্য বিপরীতটির অস্তিত্ব সাব্যস্ত হওয়া জানা যায়; কারণ দুটি বিপরীত বিষয় একসাথে অনুপস্থিত থাকা অসম্ভব।
সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, এর উভয় দিকের যেকোনো একটিকে অস্বীকার করা অন্যটিকে সাব্যস্ত করাকে অনিবার্য করে তোলে কিন্তু এর বিপরীতটি নয়। আর যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তা বুদ্ধিবৃত্তিক বিধানের ভিত্তিতে
(১), এবং এটি সময়ের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না।
যুক্তিবিদ্যার অপরিহার্য বিষয়গুলো সমাপ্ত করার পর আমরা বিতর্ক ও গবেষণার আদব সম্পর্কে পর্যাপ্ত বিষয় আলোচনা করব, যা শিক্ষার্থীকে তার নিজস্ব মতবাদকে সঠিক প্রমাণ করতে এবং তার প্রতিপক্ষের মতবাদকে বাতিল করতে সহায়তা করবে, সেই সাথে এর জন্য প্রয়োজনীয় আদবসমূহও আলোচিত হবে। এরপর আমরা এটি উসূলে ফিকহের ত্রুটিপূর্ণ বিষয়সমূহের মাসআলাগুলোতে এবং ইলমুল কালামের সেই সব মাসআলাগুলোতে প্রয়োগ করব যেখানে মুআত্তিলাগণ আল্লাহর কিছু গুণাবলিকে অস্বীকার করেছে। আমরা সেখানে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার এবং মিথ্যাকে বাতিল করার পদ্ধতি স্পষ্ট করব; কারণ এর ব্যবহারিক প্রয়োগ শিক্ষার্থীকে অধিকতর উপকৃত করবে।
আমরা আলোচনার ইতি টানব মুতাকাল্লিমগণ সলফদের মাজহাব ও খালাফদের মাজহাব বলে যা অভিহিত করেন সেগুলোর তুলনার মাধ্যমে; সাথে বিতর্কের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী সত্য প্রতিষ্ঠা ও বাতিলকে খণ্ডন করা হবে। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীকে বিতর্কের মাধ্যমে সংশয় নিরসন এবং বাতিলকে অপসারিত করার অনুশীলন করানো।
আর যুক্তিবিদ্যার অপরিহার্য মাসআলাগুলো আলোচনার সূচনা করার এখনই সময়।
লেখক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة منطقيةالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه، وبعد:
أنواع العلم الحادثأَي وهو علم المخلوقين؛ لأن الكلام فيه، احترازًا عن علم الله -جل وعلا-؛ فإنه لا يوسف بصفات علم المخلوقين.
اعلم أولًا أنا تركنا الأبحاث في تعريف العلم ومناقشتها اختصارًا؛ ولأن طالب العلم يفهم المراد بالعلم.
اعلم أن العلم الحادث ينقسم أربعة أقسام؛ لأنه إما علم تصور، وإما علم تصديق، وكل واحد منهما إما ضروري وإما نظري، فالمجموع أربعة، من ضرب اثنين في اثنين.
الأول: علمُ تصورٍ ضروري.
الثاني: علمُ تصورٍ نظري.
الثالث: علم تصديق ضروري.
الرابع: علم تصديق نظري.
واعلم أن علم التصور في الاصطلاح هو "إدراك معنى المفرد من غير تعرض لإثبات شيء له ولا لنفيه عنه"، كإدراك معنى اللذة،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
যৌক্তিক ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর। অতঃপর:
সৃষ্ট জ্ঞানের প্রকারভেদঅর্থাৎ এটি হলো মাখলুক বা সৃষ্টির জ্ঞান; কারণ আলোচনা একে নিয়েই, যা আল্লাহ তাআলা—যিনি মহান ও শ্রেষ্ঠ—তাঁর জ্ঞান থেকে পৃথক করার জন্য বলা হয়েছে; কেননা মহান আল্লাহর গুণাবলীকে সৃষ্টির জ্ঞানের গুণাবলী দ্বারা বিশেষিত করা যায় না।
প্রথমে জেনে রাখুন যে, আমরা সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে ইলমের (জ্ঞানের) সংজ্ঞা এবং এ সংক্রান্ত আলোচনা ও পর্যালোচনা পরিহার করেছি; এছাড়া ইলমের ছাত্র ইলম দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা বোঝেন।
জেনে রাখুন যে, সৃষ্ট জ্ঞান চার ভাগে বিভক্ত; কারণ এটি হয় তাসাউয়ুর (ধারণাগত জ্ঞান), অথবা তাসদীক (প্রত্যায়নমূলক জ্ঞান); এবং এগুলোর প্রতিটি হয় জরুরি (অপরিহার্য), অথবা নাজারি (গবেষণালব্ধ)। সুতরাং দুই গুণন দুই হিসেবে মোট চারটি বিভাগ।
প্রথম: জরুরি তাসাউয়ুর।
দ্বিতীয়: নাজারি তাসাউয়ুর।
তৃতীয়: জরুরি তাসদীক।
চতুর্থ: নাজারি তাসদীক।
আর জেনে রাখুন যে, পরিভাষায় তাসাউয়ুর হলো "কোনো একক বিষয়ের অর্থ অনুধাবন করা, তার জন্য কোনো কিছু সাব্যস্ত করা বা তা থেকে কোনো কিছু অস্বীকার করার সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই", যেমন স্বাদের অর্থ অনুধাবন করা,
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১২)
والألم، ومعنى المرارة، ومعنى الحلاوة، وإدراك معنى الإنسان، ومعنى الكاتب.
فإدراك كل مفرد مما ذكرنا ونحوه -أي فهم المعنى المراد به ذلك المفرد- من غير تعرضٍ لإثبات شيء له ولا لنفيه عنه هو المسمى في الاصطلاح بعلم التصور، وهو تفعُّل من الصورة، فكأن صورة المفرد تنطبع في الذهن؛ لإدراك المتصوِّر لها معناها.
والإدراك في الاصطلاح هو: "وصول النفس إلى المعنى بتمامه"، فإن وصلت إليه لا بتمامه فهو المسمى في الاصطلاح بالشعور.
وأما علم التصديق فهو "إثبات أمر لأمر بالفعل"، أو نفيه عنه بالفعل، وتقريبه للذهن أنه هو المسمى في اصطلاح البلاغيين بالإسناد الخبري، وفي اصطلاح النحويين بالجملة الاسمية التي هي المبتدأ والخبر، أو الفعليةِ التي هي الفعل والفاعل، أو الفعل ونائب الفاعل.
فلو قلت مثلًا: (الكاتب إنسان)، فإدراكك معنى (الكاتب) فقط علم تصور، وإدراكك معنى (الإنسان) فقط علم تصور، وإدراكك كونَ الإنسان كاتبًا بالفعل، أو ليس كاتبًا بالفعل، هو المسمى بالتصديق.
وإنما سمي تصديقًا لأنه خبر، والخبر بالنظر إلى مجرد ذاته يحتمل التصديق والتكذيب، فسمَّوه تصديقًا؛ بأشرف الاحتمالين.
وكونُ التصديق -الذي هو إدراك وقوع نسبة بالفعل أو عدمِ وقوعها بالفعل- من أنواع العلم هو قول الجمهور، وهو الحق. وقد تركنا ذكر ما خالفه وإبطاله لأجل الاختصار.
...এবং ব্যথা, তিক্ততার অর্থ, মিষ্টতার অর্থ, এবং মানুষের অর্থ ও লেখকের অর্থ উপলব্ধি করা।
আমরা যা উল্লেখ করেছি এবং তার সদৃশ প্রতিটি একক বিষয়ের উপলব্ধি—অর্থাৎ সেই একক শব্দ দ্বারা উদ্দীষ্ট অর্থটি বোঝা—তার জন্য কোনো কিছু সাব্যস্ত করা বা তা থেকে কোনো কিছু অস্বীকার করা ব্যতিরেকেই, পরিভাষায় একে 'তাসাওয়ুর' (ধারণা) সংক্রান্ত জ্ঞান বলা হয়। এটি 'সুরাহ' (রূপ) শব্দ থেকে উদ্ভূত একটি রূপান্তর, যেন একক শব্দটির রূপ বা ছবি চিন্তাশীল ব্যক্তির মনে অঙ্কিত হয় তার অর্থ উপলব্ধির জন্য।
আর পরিভাষায় উপলব্ধি (ইদরেক) হলো: "মনের অর্থের পূর্ণতায় পৌঁছানো"। যদি মন অর্থের পূর্ণতায় না পৌঁছে অপূর্ণভাবে পৌঁছায়, তবে পরিভাষায় তাকে 'শুঊর' (আভাস বা যৎসামান্য বোধ) বলা হয়।
আর 'তাসদিক' (সত্যায়ন) সংক্রান্ত জ্ঞান হলো "বাস্তবে এক বিষয়কে অন্য বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা" অথবা বাস্তবে তা থেকে অস্বীকার করা। মনের নিকট বিষয়টি সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য বলা যায় যে, এটি অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় 'সংবাদমূলক সম্বন্ধ' (ইসনাদ খবরী) নামে পরিচিত। আর ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় এটি 'নামবাচক বাক্য' (জুমলা ইসমিয়া) যা উদ্দেশ্য ও বিধেয় দ্বারা গঠিত, অথবা 'ক্রিয়াবাচক বাক্য' (জুমলা ফি'লিয়া) যা ক্রিয়া ও কর্তা অথবা ক্রিয়া ও স্থলাভিষিক্ত কর্তা দ্বারা গঠিত।
উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি বলেন: (লেখক একজন মানুষ), তবে কেবল 'লেখক' শব্দের অর্থ উপলব্ধি করা হলো 'তাসাওয়ুর' সংক্রান্ত জ্ঞান, এবং কেবল 'মানুষ' শব্দের অর্থ উপলব্ধি করা হলো 'তাসাওয়ুর' সংক্রান্ত জ্ঞান। আর মানুষটি বাস্তবে লেখক হওয়া বা বাস্তবে লেখক না হওয়ার যে উপলব্ধি, তাকেই 'তাসদিক' বলা হয়।
একে 'তাসদিক' (সত্যায়ন) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি একটি সংবাদ। আর সংবাদ তার নিজস্ব সত্তার বিচারে সত্য হওয়া এবং মিথ্যা হওয়ার উভয় সম্ভাবনা রাখে। তাই তারা এই দুটি সম্ভাবনার মধ্যে যেটি অধিকতর শ্রেষ্ঠ, সেই অনুসারে একে 'তাসদিক' বা সত্যায়ন নামকরণ করেছেন।
আর 'তাসদিক'—যা হলো বাস্তবে কোনো সম্বন্ধ ঘটা বা বাস্তবে না ঘটার উপলব্ধি—এটি যে জ্ঞানের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত, তা অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের (জমহুর) অভিমত এবং এটিই সত্য। সংক্ষেপ করার খাতিরে আমরা এর বিপরীত মতামতের উল্লেখ ও তা খণ্ডন করা বর্জন করেছি।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
واعلم أنه لا يمكن إدراك نسبة وقوع الأمر أو عدم وقوعها فعلًا إلا بأربعة تصورات هي:
الأول: تصور المحكوم عليه الذي هو الموضوع.
الثاني: تصور المحكوم به الذي هو المحمول.
الثالث: تصور النسبة الحُكْمية التي هي مَوْرد الإيجاب والسلب من غير حكم بوقوعها ولا عدم وقوعها، كما يقع من الشاكّ في قيام زيد، فإنه يتصور معنى زيد، ويتصور معنى القيام، ويتصور معنى نسبة القيام إلى زيد مع أنه شاكٌّ في وقوعها، فليس متصوّرًا لوقوعها ولا لعدم وقوعها، فإن تصوّرَ وقوعَها بالفعل أو عدمَ وقوعها بالفعل فهو التصديق.
وجمهورهم يقول: إن التصديق بسيط، وهو التصور الرابع وحده، والثلاثة قبله شروط فيه.
وقال الرازي
(1): التصديق مركب. يعني أنه مركب من أربعة تصورات، فهو عنده مجموع التصورات الأربعة.
والقولان متفقان على أنه لا بد قبلَه من ثلاثة تصورات؛ إلا أن من يقولُ هو بسيط يقول: توقفه على التصورات الثلاثة من توقف الماهية على شرطها، ومن يقول هو مركب يقول: هو من توقف الماهية على أركانها التي هي أجزاؤها.
--------------------------------------------
জেনে রাখুন যে, কোনো বিষয়ের সংঘটন বা অসংঘটনের অনুপাত বাস্তবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয় চারটি ধারণা ব্যতীত, আর সেগুলো হলো:
প্রথম: যার সম্পর্কে বিধান দেওয়া হচ্ছে তার ধারণা, যা হলো উদ্দেশ্য (মাওজু)।
দ্বিতীয়: যার মাধ্যমে বিধান দেওয়া হচ্ছে তার ধারণা, যা হলো বিদেয় (মাহমুল)।
তৃতীয়: বিধানগত সম্পর্কের ধারণা যা ইতিবাচক বা নেতিবাচক হওয়ার স্থল, তবে তা সংঘটন বা অসংঘটনের কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান ব্যতীত। যেমন যায়েদের দণ্ডায়মান হওয়ার বিষয়ে সংশয় পোষণকারীর ক্ষেত্রে ঘটে; সে যায়েদের অর্থ ধারণা করে, দণ্ডায়মান হওয়ার অর্থ ধারণা করে এবং যায়েদের সাথে দণ্ডায়মান হওয়ার সম্পর্কের ধারণা করে, অথচ সে এর সংঘটনের ব্যাপারে সংশয়যুক্ত। সুতরাং সে এর সংঘটন বা অসংঘটন কোনোটিরই ধারণা পোষণকারী নয়। অতঃপর যদি সে বাস্তবে এর সংঘটন বা অসংঘটনের ধারণা করে, তবে তাই হলো তাসদিক (প্রতিপাদন)।
তাঁদের (তর্কবিদদের) অধিকাংশের মতে: তাসদিক হলো অবিভাজ্য (বাসিত), আর তা হলো কেবল চতুর্থ ধারণাটিই; এবং পূর্বের তিনটি হলো এর জন্য শর্ত মাত্র।
আর রাজি
(১) বলেছেন: তাসদিক হলো যৌগিক (মুরাক্কাব)। অর্থাৎ এটি চারটি ধারণার সমন্বয়ে গঠিত, সুতরাং তাঁর নিকট এটি হলো চারটি ধারণার সমষ্টি।
উভয় মতই একমত যে, এর পূর্বে অবশ্যই তিনটি ধারণা থাকতে হবে; তবে যারা একে অবিভাজ্য বলেন তারা বলেন: তিনটি ধারণার ওপর এর নির্ভরতা হলো শর্তের ওপর সত্তার (মাহিয়্যাহ) নির্ভরতার মতো। আর যারা একে যৌগিক বলেন তারা বলেন: এটি হলো এর মূল উপাদানের ওপর সত্তার নির্ভরতা, যা এর অংশবিশেষ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فعُلم أن كل تصديق تصور، وليس كلُ تصور تصديقا.
واعلم أن الموضوع في اصطلاح المنطقيين هو المعروف في المعاني بالمسند إليه، وفي النحو بالمبتدأ، أو الفاعل والنائب عن الفاعل.
والمحمول
(1) في اصطلاحهم هو المعروف في المعاني بالمسند، وفي النحو بالخبر، أو الفعل.
وإنما سمي الموضوع موضوعًا لأن المحمول صفة من صفات الموضوع، أو فعل من أفعاله، والصفة لا بد لها من موصوف، والفعل لا بد له من فاعل، فالأساس الذي وضع لإمكان إثبات الصفات أو نفيها هو المحكوم عليه، ولذا سمي موضوعًا، كالأساس للبنيان.
وسُمّي الآخر محمولًا لأنه كسقف البنيان، لا بد له من أساس يبنى عليه.
فلو قلت: زيد عالم، أو زيد ضارب، فالعلم صفة زيد، والضرب فعله، ولا تمكنُ صفةٌ بدون موصوف، ولا فعل بدون فاعل، فصار المحكوم عليه كأنه وضع أساسًا للحكم، فسمي موضوعا، وسمي ما يسند إليه من صفات وأفعال محمولًا؛ لأنها لا تقوم بنفسها، فلا بد لها من أساس تُحمل عليه.
وإذا عرفتَ المراد بالتصور والتصديق، وأن كلًّا منهما يكون
--------------------------------------------
সুতরাং জানা গেল যে, প্রতিটি অনুমোদনই হলো ধারণা, কিন্তু প্রতিটি ধারণা অনুমোদন নয়।
জেনে রাখুন যে, যুক্তিবিদদের পরিভাষায় 'উদ্দেশ্য' (মাউজু) বলতে তাকেই বোঝানো হয় যাকে অলঙ্কারশাস্ত্রে 'মুসনাদ ইলাইহি' এবং ব্যাকরণশাস্ত্রে 'মুবতাদা' অথবা 'কর্তা' ও 'কর্তার স্থলাভিষিক্ত' বলা হয়।
এবং তাদের পরিভাষায় 'বিধেয়' (মাহমূল)
(১) হলো সেটি যাকে অলঙ্কারশাস্ত্রে 'মুসনাদ' এবং ব্যাকরণশাস্ত্রে 'খবর' বা 'সংবাদ' অথবা 'ক্রিয়া' বলা হয়।
মূলত উদ্দেশ্যকে 'উদ্দেশ্য' বা 'স্থাপিত' নামকরণ করা হয়েছে কারণ বিধেয় হলো উদ্দেশ্যের গুণাবলির মধ্য হতে একটি গুণ অথবা তার কাজগুলোর মধ্য হতে একটি কাজ। আর গুণের জন্য অবশ্যই গুণী (মাউসুফ) থাকা আবশ্যক এবং কাজের জন্য অবশ্যই কর্তা থাকা আবশ্যক। সুতরাং গুণাবলি সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করার সক্ষমতার জন্য যে ভিত্তিটি স্থাপন করা হয়েছে তা হলো 'মাহকুম আলাইহি' (যার ওপর বিধানারোপ করা হয়েছে); আর এ কারণেই একে ইমারতের ভিত্তির ন্যায় 'উদ্দেশ্য' বা 'মাউজু' বলা হয়।
আর অপরটিকে 'বিধেয়' বা 'আরোপিত' (মাহমূল) বলা হয় কারণ এটি ইমারতের ছাদের মতো, যার জন্য একটি ভিত্তি থাকা আবশ্যক যার ওপর তা নির্মাণ করা হয়।
যেমন আপনি যদি বলেন: 'যায়েদ বিদ্বান' অথবা 'যায়েদ প্রহারকারী', তবে জ্ঞান হলো যায়েদের গুণ এবং প্রহার হলো তার কাজ। আর গুণী ছাড়া গুণের অস্তিত্ব সম্ভব নয় এবং কর্তা ছাড়া কাজ সম্ভব নয়। ফলে 'মাহকুম আলাইহি' যেন বিধানের ভিত্তি হিসেবে স্থাপিত হয়েছে, তাই একে 'উদ্দেশ্য' নামকরণ করা হয়েছে। আর তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত গুণ ও কাজসমূহকে 'বিধেয়' বলা হয়; কারণ এগুলো নিজে নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অবস্থান করতে পারে না, তাই এগুলোর জন্য এমন একটি ভিত্তির প্রয়োজন হয় যার ওপর এগুলোকে রাখা বা আরোপ করা যায়।
আর যখন আপনি ধারণা এবং অনুমোদনের মর্মার্থ বুঝতে পারলেন এবং জানলেন যে তাদের প্রতিটি হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ضروريًّا ونظريًّا، فاعلم أن الضروري في الاصطلاح: "ما لا يحتاج إدراكه إلى تأمل"، والنظري في الاصطلاح هو: "ما يحتاج إدراكه إلى التأمل".
فالتصور الضروري كتصور معنى الواحد ومعنى الاثنين.
والتصديق الضروري كإدراك أن الواحد نصفُ الاثنين، وأن الكل أكبر من الجزء.
والتصور النظري مثّل له بعضُهم بتصور الملائكة، والجَنّة؛ فإنه [نظري]
(1)، ومن أمثلته: تشخيص الطبيب لعين [المرض]
(2)؛ فهو تصور له بعد بحث وتأمل ونظر.
والتصديق النظري كقولك: الواحد نصف سدس الاثني عشر، وربعُ عشر الأربعين.
والنظر في الاصطلاح: "الفكر المؤدي إلى علم أو غلبة ظن".
والفكر في الاصطلاح: "حركة النفس في المعقولات"، أما حركتها في المحسوسات فهو في الاصطلاح تخييل.
واعلم أن الطريق التي يُتوَصَّلُ بها إلى إدراك التصور النظري هي المعرِّفات بأنواعها، فيدخل فيها الحد، والرسم، واللفظي، والقسمة، والمثال، وتُسمى بالقول الشارح، كما سيأتي إيضاحه إن شاء
--------------------------------------------
আবশ্যক এবং তাত্ত্বিক; জেনে রাখুন যে, পরিভাষায় আবশ্যক হলো: "যার উপলব্ধির জন্য গভীর চিন্তার প্রয়োজন হয় না", আর পরিভাষায় তাত্ত্বিক হলো: "যার উপলব্ধির জন্য গভীর চিন্তার প্রয়োজন হয়"।
সুতরাং আবশ্যক ধারণা হলো এক-এর অর্থ এবং দুই-এর অর্থের ধারণার মতো।
আর আবশ্যক প্রত্যয়ন হলো যেমন এই উপলব্ধি করা যে, এক হলো দুই-এর অর্ধেক এবং সমষ্টি তার অংশের চেয়ে বড়।
আর তাত্ত্বিক ধারণার উদাহরণ কেউ কেউ ফেরেশতা এবং জান্নাতের ধারণা দিয়ে দিয়েছেন; কেননা এটি [তাত্ত্বিক]
(১), এবং এর আরও কিছু উদাহরণ হলো: চিকিৎসকের [রোগের] সঠিক প্রকৃতি নির্ণয় করা; কারণ এটি গবেষণা, গভীর চিন্তা ও পর্যালোচনার পর অর্জিত একটি ধারণা।
আর তাত্ত্বিক প্রত্যয়ন হলো আপনার এই উক্তির মতো: এক হলো বারো-এর এক-ষষ্ঠাংশের অর্ধেক এবং চল্লিশের এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ।
আর পরিভাষায় পর্যালোচনা হলো: "এমন চিন্তা যা জ্ঞান অথবা প্রবল ধারণার দিকে নিয়ে যায়।"
আর পরিভাষায় চিন্তা হলো: "বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে আত্মার বিচরণ", পক্ষান্তরে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ে এর বিচরণকে পরিভাষায় কল্পনা বলা হয়।
আর জেনে রাখুন যে, তাত্ত্বিক ধারণা অর্জনের মাধ্যম হলো বিভিন্ন প্রকারের সংজ্ঞায়নকারী পদ্ধতিসমূহ, এর মধ্যে পূর্ণ সংজ্ঞা, লক্ষণভিত্তিক সংজ্ঞা, আভিধানিক সংজ্ঞা, বিভাগ এবং উদাহরণ অন্তর্ভুক্ত; আর এগুলোকে ব্যাখ্যামূলক উক্তি বলা হয়, যা ইনশাআল্লাহ সামনে স্পষ্ট করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الله
(1).
والطريق التي يُتوصل بها إلى معرفة التصديق النظري هي الحجة، وهو القياس المنطقي بأنواعه، وسيأتي إيضاحه إن شاء الله
(2).
وما تركب من مقدمات يقينية فهو المسمى منها بالبرهان.
--------------------------------------------
আল্লাহ
(১)।
আর যে পদ্ধতির মাধ্যমে তাত্ত্বিক সত্যায়ন (তাসদিক নাজারি) উপলব্ধি করা যায় তা হলো 'হুজ্জাত' (যুক্তিপ্রমাণ), আর তা হলো বিভিন্ন প্রকারের যৌক্তিক অনুমিতি (মানতিকি কিয়াস); আল্লাহর ইচ্ছায় শীঘ্রই এর ব্যাখ্যা আসবে
(২)।
আর যা সুনিশ্চিত প্রস্তাবনাসমূহের (মুকাদ্দিমাত ইয়াকিনিয়্যাহ) সমন্বয়ে গঠিত হয়, তাকে 'বুরহান' (সুনিশ্চিত প্রমাণ) বলা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[الدلالة وأنواعها](1)اعلم أن الدَّلالة مثلثة الدال، والأفصح فتحُها، ثم كسرها، وأردأُها الضم.
وهي في الاصطلاح: "فهم أمر من أمر"، أو "كون أمر بحيث يُفهم منه أمر، فُهم بالفعل أو لم يفهم".
وقال بعضهم: هي مشتركة بين الأمرين. ومناقشات التعريفين كلها ساقطة، وقد تركناها اختصارًا.
وفهم الأمر من الأمر واضح، كفهم المسمّيات من فهم المراد بأسمائها.
وكونُه بحيث يُفهم منه أمر [فُهم بالفعل]
(2) أو لم يفهم: كعدم شق إخوة يوسفَ قميصَه، لما جعلوا عليه دم السخلة
(3) ليكون الدم قرينة على صدقهم في أنه أكله الذئب، فنظر يعقوب إلى القميص، فإذا هو ملطخ بالدم ولا شقَّ فيه، فعَلم أن عدم شق القميص فيه الدلالةُ الواضحة على كذبهم، وإن لم يَفهموا بالفعل ذلك الأمر الدال عليه، فقال يعقوب: سبحان الله، متى كان الذئب حليمًا كيِّسًا، يقتل يوسف ولا يشق قميصه؟!.
وكعدم فهم بعض الصحابة معنى الكلالة، وأنها الورثة الذين ليس
--------------------------------------------
[নির্দেশকতা ও এর প্রকারভেদ](১)জেনে রাখুন যে, 'দালালাহ' (নির্দেশকতা) শব্দে 'দাল' বর্ণটি তিনটি হরকত যোগে পড়া যায়; এর মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হলো ফাতহা (যবর) যোগে পড়া, এরপর কাসরা (যের), আর সবচেয়ে দুর্বল হলো যম্মাহ (পেশ) যোগে পড়া।
পরিভাষায় এর সংজ্ঞা হলো: "এক বিষয় থেকে অন্য বিষয় বোঝা", অথবা "একটি বিষয় এমন অবস্থায় থাকা যাতে তা থেকে অন্য একটি বিষয় বোঝা যায়, তা বাস্তবে বোঝা হোক বা না হোক"।
কেউ কেউ বলেছেন: এটি উভয় বিষয়ের মধ্যে সাধারণ। উভয় সংজ্ঞার ওপর কৃত যাবতীয় পর্যালোচনা অসার, যা আমরা সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে বর্জন করেছি।
এক বিষয় থেকে অন্য বিষয় বোঝার বিষয়টি স্পষ্ট, যেমন নামসমূহ থেকে নামধারী বিষয়সমূহ বোঝা।
আর বিষয়টি এমন অবস্থায় থাকা যাতে তা থেকে অন্য কিছু বোঝা যায় [তা বাস্তবে বোঝা হোক] বা না হোক: এর উদাহরণ হলো ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের তাঁর জামাটি না ছিঁড়া, যখন তারা এর ওপর ছাগল বা ভেড়ার বাচ্চার রক্ত মেখে দিয়েছিল যাতে সেই রক্ত তাদের এই দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হয় যে তাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে। অতঃপর ইয়াকুব (আ.) জামাটির দিকে তাকালেন এবং দেখলেন যে সেটি রক্তে রঞ্জিত কিন্তু তাতে কোনো ছেঁড়া চিহ্ন নেই। তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, জামাটি অক্ষত থাকা তাদের মিথ্যার ওপর এক স্পষ্ট নির্দেশকতা, যদিও তারা (ইউসুফ আ.-এর ভাইয়েরা) বাস্তবে সেই নির্দেশক বিষয়টি বুঝতে পারেনি। ইয়াকুব (আ.) বললেন: "সুবহানাল্লাহ! নেকড়ে কবে থেকে এত সহনশীল ও বুদ্ধিমান হলো যে সে ইউসুফকে হত্যা করল অথচ তার জামাটি ছিঁড়ল না?!"
তদ্রূপ কিছু সাহাবীর 'কালালাহ'-এর অর্থ বুঝতে না পারা; আর তা হলো এমন উত্তরাধিকারী যাদের নেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فيهم ابنٌ ولا أبٌ، مع دلالة آية الكلالة على ذلك؛ لأنه -تعالى- صرح بنفي الولد بقوله: {إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيسَ لَهُ وَلَدٌ} [النساء: 176]، ودل على أنه ليس له أبٌ التزامًا، بقوله -تعالى-: {وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ} لأن إرث الأخت يلزمه عدم وجود الأب؛ لأنه يحجبها.
واعلم أن أنواع الدلالة محصورة في ستة أقسام لا سابع لها، وإيضاحه أن الدالَّ إما (لفظي) أو (غير لفظي)، ولا ثالث لهما، وقد دل الاستقراء التام على أن دلالته ثلاثة أقسام لا رابع لها، وهي:
دلالته وضعًا، دلالته عقلًا، دلالته طبعًا.
فتضرب حالتي الدالّ في حالات الدلالة الثلاث، فالمجموع ستة، من ضرب اثنين في ثلاثة:
الأول: دلالة اللفظ وضعًا، كدلالة (الرجل) على الإنسان الكبير الذكر، و (المرأة) على الإنسان الأنثى، وهكذا في دلالة الألفاظ على معانيها المفردة والمركبة.
والوضع في الاصطلاح هو: "تعيين أمر للدلالة على أمر".
الثاني: دلالة اللفظ عقلًا، كدلالته على لافظٍ به.
الثالث: دلالة اللفظ طبعًا، أي عادةً، كدلالة الصُّراخ على مصيبة نزلت بالصارخ، ودلالة لفظة (أح) -بالمهملة- على ألم بالصدر.
الرابع: دلالة غير اللفظ وضعًا، كدلالة المُفْهِمات الأربعة، وهي: الخط، والإشارة، والعقد، والنصب.
তাদের মধ্যে কোনো সন্তান নেই এবং কোনো পিতাও নেই, আর কালালাহ সংক্রান্ত আয়াতটি এর ওপর প্রমাণ বহন করে; কেননা আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে সন্তান না থাকার কথা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন: {যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে এবং তার কোনো সন্তান না থাকে} [আন-নিসা: ১৭৬], এবং এটি আবশ্যিকভাবে প্রমাণ করে যে তার কোনো পিতাও নেই, আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: {এবং তার এক বোন থাকে, তবে সে যা রেখে গেছে তার অর্ধেক পাবে} কারণ বোনের উত্তরাধিকার হওয়ার জন্য পিতার অনুপস্থিতি আবশ্যক; কেননা পিতা তাকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করেন।
জেনে রাখুন যে, নির্দেশনার প্রকারসমূহ ছয়টি বিভাগে সীমাবদ্ধ, এর কোনো সপ্তম প্রকার নেই। এর ব্যাখ্যা হলো, নির্দেশক হয় ‘শাব্দিক’ অথবা ‘অ-শাব্দিক’, এর কোনো তৃতীয় প্রকার নেই। পূর্ণ আরোহী পদ্ধতি প্রমাণ করেছে যে, এর নির্দেশনার ধরণ তিনটি এবং চতুর্থ কোনো প্রকার নেই, সেগুলো হলো:
পারিভাষিক নির্দেশ, যৌক্তিক নির্দেশ এবং প্রকৃতিগত নির্দেশ।
সুতরাং নির্দেশকের দুই অবস্থাকে নির্দেশনার তিন অবস্থার সাথে গুণ করলে মোট ছয়টি পাওয়া যায় (দুই গুণ তিন সমান ছয়):
প্রথম: শাব্দিক পারিভাষিক নির্দেশ, যেমন ‘পুরুষ’ শব্দটি বয়স্ক মানব পুরুষকে নির্দেশ করা এবং ‘নারী’ শব্দটি মানব নারীকে নির্দেশ করা। এভাবে একক ও যৌগিক অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশনার বিষয়টিও একই রকম।
আর পরিভাষায় পারিভাষিক নির্ধারণ হলো: "একটি বিষয়কে অন্য একটি বিষয়ের নির্দেশক হিসেবে নির্দিষ্ট করা।"
দ্বিতীয়: শাব্দিক যৌক্তিক নির্দেশ, যেমন কোনো শব্দের মাধ্যমে তা উচ্চারণকারীর অস্তিত্ব নির্দেশ করা।
তৃতীয়: শাব্দিক প্রকৃতিগত নির্দেশ, অর্থাৎ স্বভাবজাতভাবে, যেমন চিৎকার করার দ্বারা চিৎকারকারীর ওপর কোনো বিপদ আপতিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া এবং ‘আহ’ শব্দটি দ্বারা বুকে ব্যথার নির্দেশ করা।
চতুর্থ: অ-শাব্দিক পারিভাষিক নির্দেশ, যেমন বোধগম্য চারটি বিষয়ের নির্দেশনা; আর সেগুলো হলো: লিখন, সংকেত, গণনা এবং চিহ্ন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فالنقوش التي هي الخط تدل على الألفاظ وضعًا، وليست لفظًا.
والمراد بالعقد عقد الأصابع لبيان قدر العدد، فهو يدل على قدر العدد وضعًا، وليس باللفظ.
والإشارة تدل على المعنى المشار إليه وضعًا، وليست لفظًا.
والمراد بالنصب: نصب الحدود بين الأملاك، ونصب أعلام الطريق، وهو واضح مما تقدم.
الخامس: دلالة غير اللفظ عقلًا، كدلالة المصنوعات على صانعها.
السادس: دلالة غير اللفظ طبعًا، أي عادة، كدلالة حُمرة الوجه على خجل صاحبه، ودلالة صُفرة الوجه على وجل صاحبه، أي خوفه، كما قال القائل:
تفاحةٌ جمعت لونين خلتُهما
… خَدّي مُحِب ومحبوب قد اعتنقا
تعانقا فرَيا واشٍ فراعهما
… فاحمرّ ذا خجلًا واصفرّ ذا فرقًا
(1)ومنه قول مسلم بن الوليد الأنصاري
(2):
إذا شكوتُ إليها الحبَّ خفرها
… شكواي فاحمرّ خداها من الخجلِ
إذا عرفتَ هذا فاعلم أن المقصود عند المنطقيين من هذه الأقسام الستة هو واحد فقط، وهو دلالة اللفظ وضعًا، وهي تنقسم عندهم إلي
--------------------------------------------
নকশা যা মূলত লিপি, তা সংকেতগতভাবে শব্দকে নির্দেশ করে, এটি নিজে কোনো শব্দ নয়।
'আকদ' বা আঙুলের গিঁট বলতে সংখ্যা প্রকাশের জন্য আঙুলের অবস্থানকে বোঝানো হয়; এটি সংকেতগতভাবে সংখ্যার পরিমাণ নির্দেশ করে, উচ্চারিত শব্দের মাধ্যমে নয়।
ইশারা বা ইঙ্গিত সংকেতগতভাবে উদ্দিষ্ট অর্থকে নির্দেশ করে, এটি নিজে কোনো শব্দ নয়।
'নসব' বা স্থাপনা বলতে সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণকারী চিহ্ন এবং পথের দিকনির্দেশক চিহ্ন স্থাপন করাকে বোঝায়; যা পূর্বের আলোচনা থেকে স্পষ্ট।
পঞ্চম: বুদ্ধিগতভাবে শব্দ বহির্ভূত বিষয়ের নির্দেশনা, যেমন সৃষ্টি বা উৎপন্ন বস্তু তার স্রষ্টার অস্তিত্ব নির্দেশ করে।
ষষ্ঠ: স্বভাবগতভাবে অর্থাৎ অভ্যাসগতভাবে শব্দ বহির্ভূত বিষয়ের নির্দেশনা, যেমন মুখমণ্ডল লাল হয়ে যাওয়া লজ্জার প্রমাণ এবং মুখমণ্ডল ফেকাসে বা হলুদ হয়ে যাওয়া ভয়ের প্রমাণ; যেমনটি কবি বলেছেন:
একটি আপেল যাতে দুটি রঙের সমাবেশ ঘটেছে, আমি মনে করলাম
… প্রেমিক ও প্রেমিকার গাল যেন আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়েছে।
তারা আলিঙ্গন করেছিল, তারপর এক চোগলখোরকে দেখে তারা আতঙ্কিত হলো
… ফলে একজন লজ্জায় লাল এবং অন্যজন ভয়ে পীতবর্ণ ধারণ করল।
(১)মুসলিম বিন আল-ওয়ালিদ আল-আনসারীর উক্তিও এর অন্তর্ভুক্ত
(২):
যখন আমি তার কাছে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করলাম, আমার কথায় সে লজ্জাবনত হলো
… ফলে লজ্জায় তার গাল দুটি লাল হয়ে উঠল।
আপনি যখন এটি জানলেন, তখন জেনে রাখুন যে, যুক্তিবিদদের নিকট এই ছয়টি প্রকারের মধ্যে উদ্দেশ্য হলো মাত্র একটি; আর তা হলো শব্দের সংকেতগত নির্দেশনা। এটি তাদের নিকট বিভক্ত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ২০)
ثلاثة أقسام: دلالة المطابقة، دلالة التضمن، دلالة الالتزام.
أما دلالة المطابقة: "فهي دلالة اللفظ على تمام المعنى الموضوع له اللفظ"، كدلالة الرجل على الإنسان الذكر، والمرأة على الإنسان الأنثى، وهكذا دلالاتُ الأسماء على مسمياتها التي وضعت لها، وسميت مطابقة لتطابق الوضع والفهم، فالمفهوم من اللفظ هو عين المعنى الموضوع له اللفظ.
وأما دلالة التضمن: فهي "دلالة اللفظ على جزء مسماه في ضِمْن كُلِّه"، ولا تكون إلا في المعاني المركبة، كدلالة الأربعة على الواحد ربعِها، وعلى الاثنين نصفِها، وعلى الثلاثة ثلاثةِ أرباعها.
فلو سمعتَ رجلًا قال: عندي أربعةُ دنانير، فقلتَ له: أقرضْني دينارًا، أو دينارين، أو ثلاثة دنانير، فقال: لا شيء عندي من ذلك، فقلتَ له: سمعتُك تقول: إن عندك أربعةَ دنانير، فقال: نعم ولكن لم أقل واحدًا أو اثنين أو ثلاثة، فإنك تقول له: لفظ الأربعة التي ذكرتَ يدل على الواحد رُبعِها، وعلى الاثنين نصفِها، وعلى الثلاثة ثلاثةِ أرباعها، بدلالة التضمن؛ لأن الجزء يُفهم في ضمن الكل.
وأما دلالة الالتزام: فهي دلالة اللفظ على خارجٍ عن مسماه لازم له لزومًا ذهنيًّا، بحيثُ يلزم من فهم المعنى المطابَقي فهمُ ذلك الخارجِ اللازم، كدلالة (الأربعة) على الزوجية.
والزوجيةُ في الاصطلاح هي: "الانقسام إلى متساويين".
واعلم أن اللوازم ثلاثةٌ لا رابع لما: لازم في الذهن والخارج معًا،
তিনটি প্রকার: পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধকতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থবোধকতা এবং অনুষঙ্গিক অর্থবোধকতা।
পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধকতা হলো: "শব্দের সেই অর্থের ওপর পূর্ণাঙ্গরূপে নির্দেশনা প্রদান করা, যে অর্থের জন্য শব্দটি গঠন করা হয়েছে।" যেমন: 'পুরুষ' শব্দটি পুরুষ মানুষকে এবং 'নারী' শব্দটি নারী মানুষকে বোঝানো। এভাবেই বিভিন্ন নাম সেই সব সত্তাকে নির্দেশ করে যার জন্য নামগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। একে 'পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্যপূর্ণ' বলা হয় কারণ শব্দ প্রয়োগ ও উপলব্ধির মধ্যে পূর্ণ মিল রয়েছে। ফলে শব্দ থেকে যা বোঝা যায় তা মূলত সেই অর্থের হুবহু রূপ যার জন্য শব্দটি গঠন করা হয়েছে।
আর অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থবোধকতা হলো: "শব্দ তার মূল অর্থের কোনো অংশের ওপর সেই পূর্ণ অর্থের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে নির্দেশনা প্রদান করা।" এটি কেবল যৌগিক অর্থের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। যেমন: 'চার' সংখ্যাটি তার এক-চতুর্থাংশ হিসেবে 'এক'-কে নির্দেশ করা, অর্ধেক হিসেবে 'দুই'-কে নির্দেশ করা এবং তিন-চতুর্থাংশ হিসেবে 'তিন'-কে নির্দেশ করা।
যদি আপনি কোনো ব্যক্তিকে বলতে শোনেন: "আমার কাছে চার দিনার আছে", আর আপনি তাকে বললেন: "আমাকে এক দিনার, দুই দিনার অথবা তিন দিনার ঋণ দিন", তখন সে বলল: "আমার কাছে এর কিছুই নেই।" তখন আপনি তাকে বললেন: "আমি তো আপনাকে বলতে শুনলাম যে আপনার কাছে চার দিনার আছে।" সে বলল: "হ্যাঁ, তবে আমি তো এক, দুই বা তিন দিনারের কথা বলিনি।" তখন আপনি তাকে বলবেন: "আপনি যে 'চার' শব্দটি উল্লেখ করেছেন, তা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্দেশনার মাধ্যমে তার এক-চতুর্থাংশ হিসেবে 'এক'-কে, অর্ধেক হিসেবে 'দুই'-কে এবং তিন-চতুর্থাংশ হিসেবে 'তিন'-কে নির্দেশ করে; কারণ সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই অংশকে বোঝা যায়।"
আর অনুষঙ্গিক অর্থবোধকতা হলো: শব্দের এমন একটি বাহ্যিক অর্থের ওপর নির্দেশনা প্রদান করা যা তার মূল অর্থের বহির্ভূত কিন্তু মানসিকভাবে তার সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। এমনভাবে যে, শব্দটির পূর্ণাঙ্গ অর্থ বোঝার সাথে সাথেই সেই বাহ্যিক অনুষঙ্গটিও মনে চলে আসে। যেমন: 'চার' শব্দটি 'জোড়' হওয়ার ওপর নির্দেশনা প্রদান করা।
পরিভাষায় 'জোড়' হওয়া বলতে বোঝায়: "সমান দুই ভাগে বিভক্ত হওয়া।"
জেনে রাখুন যে, অনুষঙ্গসমূহ তিন প্রকার, যার চতুর্থ কোনো প্রকার নেই: যা একই সাথে মনে এবং বাস্তবে অনুষঙ্গী,
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولازم في الذهن فقط، ولازم في الخارج فقط.
أما الأوّلان -وهما اللازم في الذهن والخارج معًا، واللازم في الذهن فقط- فتُسمى بهما دلالةُ التزام بالإجماع.
وأما الثالث -وهو اللازم في الخارج فقط- فلا تسمى به دلالةُ التزام عند المنطقيين، وإنما تسمى [به دلالة]
(1) التزام عند الأصوليين والبيانيين.
مثال اللازم في الذهن والخارج معًا: دلالة الأربعة على الزوجية، التي هي الانقسام إلى متساويين، فيلزم من فهم معنى الأربعة فهمُ أنها زوج، أي منقسمةٌ إلى متساويين، فهذا لازم في الذهن كما ذكرنا، ولازم في الخارج أيضًا، والمراد بالخارج هنا: "الواقع في نفس الأمر"، فالزوجية لازمة للأربعة في الذهن، وفي الواقع في نفس الأمر.
ومثال اللازم في الذهن فقط دون الخارج: لزومُ البصر للعمى؛ لأن معنى العمى بدلالة المطابقة هو "سلب البصر"، فمعناه المطابقي مركب إضافي، أي مركب من مضاف هو "سلب"، ومضاف إليه وهو "البصر"، ولا يُعقل "سلب البصر" حتى يعقل معنى البصر، فظهر أنه لا
--------------------------------------------
এবং কেবল মনে অনিবার্য, এবং কেবল বাস্তবে অনিবার্য।
প্রথম দুটির ক্ষেত্রে—যা মনে ও বাস্তবে একইভাবে অনিবার্য এবং যা কেবল মনে অনিবার্য—তাদেরকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে আনুষঙ্গিক দ্যোতনা (দালালাতে ইলতিজাম) বলা হয়।
আর তৃতীয়টির ক্ষেত্রে—যা কেবল বাস্তবে অনিবার্য—তর্কাস্ত্রবিদদের নিকট তাকে আনুষঙ্গিক দ্যোতনা বলা হয় না, বরং উসুলবিদ ও অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের নিকট তাকে আনুষঙ্গিক দ্যোতনা বলা হয়।
(১)মনে এবং বাস্তবে একইভাবে অনিবার্য হওয়ার উদাহরণ: চারের মাধ্যমে জোড় হওয়ার দ্যোতনা, যা হলো দুটি সমান ভাগে বিভক্ত হওয়া। ফলে চারের অর্থ অনুধাবন করলে এটি জোড় হওয়ার বিষয়টি বোঝা অনিবার্য হয়ে পড়ে, অর্থাৎ তা দুটি সমান ভাগে বিভক্ত। এটি মনেও অনিবার্য যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, এবং বাস্তবেও অনিবার্য। আর এখানে 'বাস্তব' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: "বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা"। সুতরাং জোড় হওয়া বিষয়টি চারের জন্য মনে এবং বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতার ক্ষেত্রেও অনিবার্য।
বাস্তব ব্যতীত কেবল মনে অনিবার্য হওয়ার উদাহরণ: অন্ধত্বের জন্য দৃষ্টিশক্তির অনিবার্যতা; কেননা শাব্দিক সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ (দালালাতে মুতাবাকাহ) অনুযায়ী অন্ধত্বের অর্থ হলো "দৃষ্টিশক্তির বিলোপ"। ফলে এর শাব্দিক অর্থটি একটি সম্বন্ধযুক্ত পদ, যা একটি সম্বন্ধকারী শব্দ "বিলোপ" এবং একটি সম্বন্ধিত শব্দ "দৃষ্টিশক্তি" দ্বারা গঠিত। আর দৃষ্টিশক্তির অর্থ অনুধাবন না করা পর্যন্ত "দৃষ্টিশক্তির বিলোপ" অনুধাবন করা সম্ভব নয়। ফলে স্পষ্ট হলো যে এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল বাহছি ওয়াল মুনাযারা
(পৃষ্ঠা: ২২)
يَفهم أحد معنى العمى حتى يفهم معنى البصر؛ لأن معنى البصر جزء من معنى العمى؛ لأن معنى العمى مركب إضافي، والبصر أحد جزأيه، وهذا اللازم إنما هو في الذهن فقط، لا في الخارج؛ لأن العين التي اتصفت بالعمى انتفى عنها البصر ضرورة؛ لما بين العمى والبصر من التنافي؛ المعبر عنه بمقابلة العلم والملكة
(1).
ومثال اللازم في الخارج فقط: دلالة لفظ الغراب على السواد؛ لأنه لا يوجد في الخارج غراب إلا هو متصف بالسواد، ولكن هذا لا يُفهم من فهم معنى الغراب؛ لأن من لم يرَ الغرابَ قط، ولم يخبره أحد بلونه قد يتصور أن الغراب طائر أبيض، فالسواد إنما يلزم الغرابَ في الخارج فقط، لا في الذهن، فدلالته عليه التزامية عند الأصوليين والبيانيين، وليست كذلك عند المنطقيين.
واعلم أن دلالة المطابقة وضعية بلا خلاف، وأما دلالةُ التضمن ودلالةُ الالتزام ففيهما لأهل العلم ثلاثةُ مذاهب:
الأول: أنهما وضعيتان أيضًا، وعلى هذا القول عامة المنطقيين، ووجهه أن سبب السبب سبب؛ لأن فهم المعنى المطابَقي هو سبب فهم جزئه في ضمن كله، وهو دلالة التضمن، وهو سبب فهم اللازم الخارج عن المسمى، وهو دلالة الالتزام، فلما كان وضع اللفظ سببًا لفهم المعنى المطابَقي، وفهمُ المعنى المطابقي سببًا في فهم الجزء في ضمن الكل، وفهم الخارج اللازم، صارت كل من التضمن والالتزام
--------------------------------------------
দৃষ্টির অর্থ না বোঝা পর্যন্ত কেউ অন্ধত্বের অর্থ বুঝতে পারে না; কারণ দৃষ্টির অর্থ অন্ধত্বের অর্থের একটি অংশ। কেননা অন্ধত্বের অর্থ একটি আপেক্ষিক যৌগিক বিষয়, আর দৃষ্টি এর দুটি অংশের একটি। এই আবশ্যিকতা কেবল মানসপটেই (জিহন) সীমাবদ্ধ, বাস্তব জগতে (খারিজ) নয়; কারণ যে চোখ অন্ধত্বে বিশেষিত হয়, তা থেকে দৃষ্টির আবশ্যিকভাবেই বিলোপ ঘটে। এর কারণ অন্ধত্ব ও দৃষ্টির মধ্যকার বৈপরীত্য; যাকে অভাব ও স্বভাবের (আদাম ও মালাকাহ) বৈপরীত্য হিসেবে অভিহিত করা হয়
(১)।
কেবল বাস্তব জগতে (খারিজ) আবশ্যিক হওয়ার উদাহরণ হলো: ‘কাক’ শব্দের কালো রঙের ওপর নির্দেশকতা; কারণ বাস্তব জগতে কালো রঙ ছাড়া কোনো কাক পাওয়া যায় না। কিন্তু এটি কেবল ‘কাক’ শব্দের অর্থ বোঝার মাধ্যমেই বোঝা যায় না; কারণ যে ব্যক্তি কখনও কাক দেখেনি এবং কেউ তাকে এর রঙের কথা বলেও দেয়নি, সে কাককে একটি সাদা পাখি হিসেবেও কল্পনা করতে পারে। সুতরাং, কালো রঙ কাকের জন্য কেবল বাস্তব জগতেই (খারিজ) আবশ্যক, মানসপটে (জিহন) নয়। তাই এর ওপর এই শব্দের নির্দেশকতা উসুলবিদ ও অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের মতে আনুষঙ্গিক (ইলতিযামিয়্যাহ), তবে যুক্তিবিদদের নিকট বিষয়টি তেমন নয়।
জেনে রাখুন যে, সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্দেশকতা (দালালাতে মুতবাকাহ) সর্বসম্মতভাবে শাব্দিক বা পারিভাষিক (ওয়াদয়্যি)। আর অন্তর্ভুক্তি নির্দেশকতা (দালালাতে তাদাম্মুন) ও আনুষঙ্গিক নির্দেশকতা (দালালাতে ইলতিযাম) সম্পর্কে বিদগ্ধ পণ্ডিতগণের তিনটি মত রয়েছে:
প্রথম: এই দুটিও শাব্দিক বা পারিভাষিক (ওয়াদয়্যি)। সাধারণ যুক্তিবিদগণ এই মত পোষণ করেন। এর যুক্তি হলো, কারণের কারণও একটি কারণ। কেননা মুতবাকাহ (পূর্ণ) অর্থ বোঝা হলো সমগ্রের অন্তর্ভুক্ত কোনো অংশকে বোঝার কারণ—যা হলো অন্তর্ভুক্তি নির্দেশকতা (তাদাম্মুন)। আবার এটিই মূল অর্থের বাইরের কোনো আবশ্যিক বিষয় বোঝারও কারণ—যা হলো আনুষঙ্গিক নির্দেশকতা (ইলতিযাম)। যেহেতু শব্দের প্রয়োগ বা নির্ধারণ (ওয়াদ) হলো মুতবাকাহ অর্থ বোঝার কারণ, আর মুতবাকাহ অর্থ বোঝা হলো সমগ্রের অংশ এবং বাইরের আবশ্যিক বিষয় বোঝার কারণ, সেহেতু তাদাম্মুন ও ইলতিযাম উভয়ই...
--------------------------------------------