(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: -)
فوائد أبي القاسم الحرفي رواية الأنصاري القسم: كتب السنة
الكتاب: الجزء الأول من الفوائد الصحاح والغرائب والأفراد
المؤلف: عبد الرحمن بن عبيد الله بن عبد الله ابن محمد، أبو القاسم الحربي الحُرْفي (ت 423هـ)
رواية: الشريف أبي الفضل محمد بن عبد السلام الأنصاري
المحقق: أبو عبد الله حمزة الجزائري
الناشر: الدار الأثرية [ضمن مجموع أبي القاسم الحرفي]
الطبعة: الأولى، 2007 م
عدد الصفحات: 120
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: أحمد الخضري (نسخ) ، ويا باغي الخير أقبل (مقابلة)
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু আল-কাসিম আল-হারফির ফাওয়ায়েদ, আনসারীর বর্ণনা বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-ফাওয়ায়েদ আস-সিহাহ ওয়াল-গারাইব ওয়াল-আফরাদ-এর প্রথম খণ্ড
লেখক: আব্দুর রহমান বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ، আবু আল-কাসিম আল-হারবি আল-হারফি (মৃত্যু ৪২৩ হি.)
বর্ণনায়: আশ-শরীফ আবি আল-ফজল মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম আল-আনসারী
তাহকীক: আবু আব্দুল্লাহ হামজাহ আল-জাযাইরি
প্রকাশক: আদ-দারুল আসারিয়্যাহ [আবু আল-কাসিম আল-হারফির সংকলনভুক্ত]
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: আহমাদ আল-খোদরী (অনুলিপি) ، এবং ইয়া বাগিয়াল খাইর আকবিল (মুقابালা বা পাঠ যাচাই)
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
بسم الله الرحمن الرحيم
الجزء الأول من الفوائد الصحاح والغرائب الأفراد
تخريج الشيخ أبي القاسم هبة الله بن الحسن
بن منصور الطبري الحافظ رحمه الله
للشيخ أبي القاسم عبد الرحمن بن عبيد الله بن عبد الله الحرفي
رواية الشريف أبي الفضل محمد بن عبد السلام الأنصاري
رواية الرئيس الثقة الأجل العالم أبي المعالي
أحمد بن عبد الغني بن محمد بن حنيفة الباجسرائي عنه
سماع عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আল-ফাওয়ায়িদ আস-সিহাহ ওয়াল গরায়েব আল-আফরাদ-এর প্রথম খণ্ড
শায়খ আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান
বিন মনসুর আত-তবারী আল-হাফিজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর তাখরিজ
শায়খ আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ আল-হারফীর জন্য
আশ-শরীফ আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন আবদুস সালাম আল-আনসারীর বর্ণনা
নির্ভরযোগ্য প্রধান, অত্যন্ত সম্মানিত আলেম আবু আল-মা'আলীর বর্ণনা
আহমদ বিন আবদুল গনি বিন মুহাম্মদ বিন হানিফা আল-বাজাসরাই কর্তৃক তাঁর থেকে বর্ণিত
আবদুল গনি বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরুর আল-মাকদিসীর শ্রবণকৃত পাঠ
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
1- قرئ على الشيخ الأجل الثقة أبي المعالي أحمد بن عبد الغني بن محمد بن حنيفة الباجسرائي وأنا أسمع ، وذلك يوم الخميس العشرين من ذي القعدة من سنة اثنتين وستين وخمسمائة قيل أخبرك الشريف أبو الفضل محمد بن عبد السلام الأنصاري قال أنبا أبو القاسم عبد الرحمن بن عبيد الله بن محمد بن الحسين الحرفي قال حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ [بْنِ] الْعَبَّاسِ بْنِ الْفَضْلِ بن الحارث قال حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بن عيسى بن حيان المدائني حدثنا سفيان بن عيينة عن الزهري عن سالم عن أبيه قال: رأيت رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يفتتح الصلاة حين يرفع يديه حتى يحاوز منكبيه وإذا أراد أن يركع وبعدما يرفع رأسه من الركوع ولا يرفع بين السجدتين
⦗ص: 44⦘هذا حديث صحيح أخرجه البخاري من حديث الزهري به ومسلم عن يحيى بن يحيى وسعيد بن منصور وأبي بكر بن أبي شيبة وعمرو الناقد وابن نمير كلهم عن سفيان بن عيينة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
১- মহান, নির্ভরযোগ্য শাইখ আবুল মাআলি আহমাদ বিন আব্দুল গনি বিন মুহাম্মাদ বিন হানিফা আল-বাজাসরাঈর নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তা শুনছিলাম। এটি ছিল ৫৬২ হিজরি সালের ২০শে জিলকদ বৃহস্পতিবার। বলা হলো: আপনাকে শরিফ আবু আল-ফজল মুহাম্মাদ বিন আব্দুল সালাম আল-আনসারি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান বিন উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আল-হারফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ হামযা বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস বিন আল-ফজল বিন আল-হারিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন হাইয়ান আল-মাদায়েনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনা, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা (ইবনে উমর রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি, তিনি যখন সালাত শুরু করতেন তখন তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন এমনকি তা তাঁর কাঁধ বরাবর হতো। আর যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করতেন এবং রুকু থেকে তাঁর মাথা উত্তোলন করার পর (হাত তুলতেন), তবে দুই সিজদার মাঝে তিনি হাত তুলতেন না।
⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘এটি একটি সহিহ হাদিস। ইমাম বুখারি এটি যুহরির হাদিস থেকে এই সূত্রেই বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, সাঈদ বিন মানসুর, আবু বকর বিন আবি শাইবা, আমর আন-নাকিদ এবং ইবনে নুমাইর থেকে—তাঁরা সকলেই সুফিয়ান বিন উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
2- حدثنا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ [بْنِ] الْعَبَّاسِ حدثنا أحمد بن الوليد الفحام حدثنا أبو
⦗ص: 45⦘ أحمد الزبيري حدثنا سفيان عن حبيب بن أبي ثابت عَنْ سَعِيد بْن جبير عَنِ ابن عباس عن عمر قال علي أقضانا وأبي بن كعب أقرؤنا وإنا لندع كثيرا من لحن أبي وأبي يقول أخذته من في رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فلن أدعه لشيء والله عز وجل يقول {مَا نَنْسَخْ مِنْ آَيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا}
هذا حديث صحيح أخرجه البخاري عن عمرو بن علي عن يحيى بن سعيد القطان عن سفيان الثوري.
২- আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ [ইবনুল] আব্বাস, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনুল ওয়ালীদ আল-ফাহ্হাম, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু
⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ আহমাদ আয-যুবাইরী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, হাবীব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক এবং উবাই ইবনে কাব আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কারী। আর আমরা উবাইয়ের পঠনরীতির অনেক কিছু বর্জন করি, অথচ উবাই বলেন, "আমি এটি সরাসরি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র মুখ থেকে গ্রহণ করেছি, তাই আমি কোনো কিছুর কারণেই তা ত্যাগ করব না।" অথচ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন, {আমি কোনো আয়াত রহিত করলে কিংবা বিস্মৃত করে দিলে, তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার সমরূপ আয়াত নিয়ে আসি}।
এটি একটি সহীহ হাদীস। বুখারী এটি আমর ইবনে আলী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান থেকে এবং তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
3- حَدَّثَنَا حمزة بن محمد حدثنا أحمد بن الوليد الفحام حدثنا شاذان حدثنا شعبة قال عبد الله بن دينار أخبرني قال سمعت ابن عمر يحدث عَنِ
⦗ص: 46⦘ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في ليلة القدر فقال من كان متحريا فليتحرها في السبع البواقي.
⦗ص: 47⦘ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ من حديث مالك عن عبد الله بن دينار.
৩- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হামযাহ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল ওয়ালিদ আল-ফাহহাম, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শাযান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি বলেন আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমি ইবনে উমরকে
⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছি; তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি তা তালাশ করতে চায়, সে যেন শেষ সাত রাতে তা তালাশ করে।"
⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ এটি একটি সহীহ হাদীস, ইমাম মুসলিম এটি মালিকের সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
4- حَدَّثَنَا حمزة بن محمد حدثنا الحارث بن محمد حدثنا أبو النضر حدثنا الليث عن موسى بن علي بن رباح عن أبيه عن عقبة بن عامر الجهني قال ثلاث ساعات نهانا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أن نصلي فيهن وأن نقبر فيهن موتانا عند طلوع الشمس حتى تبيض وعند انتصاف النهار حتى تزول وعند اصفرار الشمس إضافتها حتى تغيب.
⦗ص: 48⦘ صحيح أخرجه مسلم عن يحيى بن يحيى عن أبي عبد الرحمن الفهري.
৪- হামযা ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারিস ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আন-নাযর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে আলী ইবনে রাবাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উকবাহ ইবনে আমির আল-জুহানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনটি সময় এমন রয়েছে যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করতে এবং আমাদের মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করেছেন: সূর্যোদয়ের সময় যতক্ষণ না তা উজ্জ্বল হয়, দ্বিপ্রহরের সময় যখন সূর্য ঠিক মাথার উপরে থাকে যতক্ষণ না তা পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ে এবং সূর্য যখন অস্ত যাওয়ার জন্য হলদে বর্ণ ধারণ করে যতক্ষণ না তা পূর্ণরূপে অস্ত যায়।
⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ হাদীসটি সহীহ, ইমাম মুসলিম এটি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-ফিহরী থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
5- حَدَّثَنَا حمزة بن محمد حدثنا الحارث بن محمد حدثنا أبو النضر حدثنا الليث عن سعيد المقبري عن أبيه عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إذا زنت أمة أحكم فتبين زناها فليجلدها ولا يثرب عليها ثم إن زنت فليجلدها ولا يثرب عليها ثم إن زنت فليبعها ولو بحبل من شعر.
⦗ص: 49⦘ أخرجه البخاري عن عبد العزيز بن عبد الله بن أويس وعبد الله بن يوسف ومسلم عن عيسى بن حماد كلاهما عن الليث بن سعد.
৫- আমাদের নিকট হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আল-হারিস ইবনে মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু আন-নাদর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আল-লায়স বর্ণনা করেছেন সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যখন তোমাদের কারো দাসী যিনা করে এবং তার যিনা প্রমাণিত হয়, তবে সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং তাকে তিরস্কার না করে। পুনরায় যদি সে যিনা করে, তবে সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে এবং তাকে তিরস্কার না করে। এরপরও যদি সে যিনা করে, তবে সে যেন তাকে বিক্রি করে দেয়, যদিও তা একগাছি চুলের তৈরি দড়ির বিনিময়ে হয়।
⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ ইমাম বুখারী এটি আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ থেকে এবং ইমাম মুসলিম এটি ঈসা ইবনে হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই আল-লায়স ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
6- حَدَّثَنَا حمزة بن محمد حدثنا الحارث بن محمد أخبرنا أبو النضر أخبرنا الليث أخبرنا عبد الله بن عبيد الله عن المسور بن مخرمة قال سمعت رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يقول وهو على المنبر إن بني هاشم بن المغيرة استأذنوني في أن ينكحوا ابنتهم علي بن أبي طالب فلا آذن ثم لا آذن وإنما ابنتي بضعة مني يريبني ما رابها ويؤذيني ما آذاها.
⦗ص: 50⦘ هذا حديث صحيح أخرجه البخاري عن أبي الوليد عن الليث بن سعد.
৬- আমাদের নিকট হামযা বিন মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আল-হারিস বিন মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু আন-নাদর সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আল-লাইস সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন উবায়দুল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন আল-মিসওয়ার বিন মাখরামাহ থেকে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারের ওপর থাকা অবস্থায় বলতে শুনেছি, “বনু হাশিম বিন আল-মুগীরা তাদের কন্যাকে আলী বিন আবু তালিবের সাথে বিবাহ দেওয়ার জন্য আমার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেছে। আমি অনুমতি দেব না, পুনরায় বলছি আমি অনুমতি দেব না। মূলত আমার কন্যা আমারই একটি অংশ; যা তাকে বিচলিত করে তা আমাকেও বিচলিত করে এবং যা তাকে কষ্ট দেয় তা আমাকেও কষ্ট দেয়।”
⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ এটি একটি সহীহ হাদীস। ইমাম বুখারী এটি আবু আল-ওয়ালীদ থেকে, তিনি আল-লাইস বিন সা'দ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
7- حَدَّثَنَا حمزة بن محمد أخبرنا الحارث بن محمد أخبرنا العون بن عيسى أخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة زوج النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال مروا أبا بكر فليصل بالناس فقالت عائشة يا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إن أبا بكر إذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء فمر عمر فليصل بالناس فقال مروا أبا بكر فليصل بالناس فقالت عائشة لحفصة قولي له إن أبا بكر إذا قام في مقامك لم يسمع الناس من البكاء فمر عمر فليصل بالناس ففعلت حفصة فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إنكن لأنتن صواحب يوسف مروا أبا بكر فليصل بالناس فقالت حفصة لعائشة ما كنت لأصيب منك خيرا
هذا حديث صحيح أخرجه البخاري عن عبد الله بن يوسف وإسماعيل بن أبي أويس المدني كلاهما عن مالك.
৭- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হারিস ইবনে মুহাম্মাদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আউন ইবনে ঈসা, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে।" আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে মানুষ তাঁর আওয়াজ শুনতে পাবে না; তাই আপনি উমরকে নির্দেশ দিন সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে।" তিনি পুনরায় বললেন, "তোমরা আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে।" আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, "তাঁকে বলো যে, আবু বকর যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কান্নার কারণে মানুষ তাঁর আওয়াজ শুনতে পাবে না; তাই আপনি উমরকে নির্দেশ দিন যেন সে মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে।" হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাই করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "নিশ্চয়ই তোমরা ইউসুফের সেই সাথী নারীদের মতো। তোমরা আবু বকরকে নির্দেশ দাও সে যেন মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে।" তখন হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, "আমি তোমার থেকে কখনোই কোনো কল্যাণ পেলাম না।"
এটি একটি সহীহ হাদিস, ইমাম বুখারী এটি আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ এবং ইসমাঈল ইবনে আবি উওয়াইস আল-মাদানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
8- حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ حدثنا الحارث بن محمد أخبرنا يزيد بن هارون أخبرنا أبو مالك الأشجعي عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بحسب أصحابي القتل
هذا حديث صحيح على شرط مسلم وأبو مالك الأشجعي اسمه سعد بن طلق بن بن أشيم.
৮- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস ইবনে মুহাম্মাদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মালিক আল-আশজাঈ তাঁর পিতা থেকে, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমার সাহাবীদের জন্য নিহত হওয়াই যথেষ্ট।”
এই হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ এবং আবু মালিক আল-আশজাঈ-এর নাম হলো সাদ ইবনে তালক ইবনে আশইয়াম।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
9- حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن إسماعيل السلمي حدثنا إسحاق بن إبراهيم بن العلاء أخبرنا عمرو بن الحارث عن عبد الله بن سالم حدثه محمد بن الوليد عن عامر الزبيدي قال أخبرنا سعد بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف أن أبا سلمة حدثه أن عائشة قالت سَأَلْتُ
⦗ص: 52⦘ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أي العمل أحب إلى الله قال أدومه وإن قل
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ سعد بن إبراهيم المدني أخرجاه من حديث شعبة غريب من حديث الزبيدي عَنْهُ.
৯- হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আস-সুলামী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ইবনুল আলা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমর ইবনুল হারিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন সালিম থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালীদ তাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আমির আয-যুবাইদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সা'দ ইবন ইবরাহীম ইবন আবদির রহমান ইবন আওফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু সালামাহ তাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, আমি
⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন: "যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।"
এটি সা'দ ইবন ইবরাহীম আল-মাদানীর হাদীস থেকে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস। তারা উভয়ে (বুখারী ও মুসলিম) এটি শু'বাহর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর নিকট থেকে আয-যুবাইদীর সূত্রে বর্ণিত একটি গারীব হাদীস।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
10- حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن إسماعيل حدثنا إسحاق بن إبراهيم حدثني عمرو بن الحارث حدثني عبد الله بن سالم حدثني محمد بن الوليد بن عامر الزبيدي حدثنا سليم بن عامر أن المقدام حدثهم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال ما من أحد يموت سقطا ولا هرما وإنما الناس فيما بين ذلك إلا بعث ابن ثلاثين سنة فإن كان من أهل الجنة كان مسحة آدم وصورة يوسف وقلب أيوب ومن كان من أهل النار عظموا وفخموا كالجبال
⦗ص: 53⦘ هذا حديث صحيح على شرط مسلم يلزمه إخراجه.
১০- হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনুল হারিস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে সালিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে আমির আয-যুবাইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইম ইবনে আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মিকদাম তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কেউ গর্ভপাত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করুক অথবা বার্ধক্যে—বরং মানুষ এর মধ্যবর্তী যে কোনো অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করুক না কেন—তাকে ত্রিশ বছর বয়স্ক অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে। অতঃপর যদি সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সে হবে আদমের দৈহিক গড়ন, ইউসুফের রূপ-সৌন্দর্য এবং আইয়ুবের হৃদয়ের অধিকারী। আর যারা জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাদেরকে পাহাড়ের ন্যায় বিশাল ও স্থূলকায় করা হবে।”
⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী একটি সহীহ হাদীস, যা তাঁর কিতাবে বর্ণনা করা আবশ্যক ছিল।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
11- حَدَّثَنَا حمزة بن محمد أخبرنا أبو يحيى عبد الكريم بن الهيثم الدير عاقولي أخبرنا عبد الله بن جعفر الرقي حدثنا عبيد الله بن عمرو عن زيد عن عدي بن ثابت عن أبي حازم الأشجعي عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَنِ تطهر في بيته ثم مشى إلى بيت من بيوت الله ليؤدي فريضة الله عليه فخطوتاه إحدهما تحط خطيئة والأخرى ترفع درجة
هذا صحيح أخرجه مسلم عن إسحاق بن منصور الكوسج المروزي عن زكريا بن عدي عن عبيد الله بن عمرو الرقي عن زيد بْن أَبِي أنيسة.
১১- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হামযাহ ইবনে মুহাম্মাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াহইয়া আব্দুল কারীম ইবনুল হাইসাম আদ-দাইরাকুলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আর-রাক্কী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর, যায়িদ থেকে, তিনি আদী ইবনে সাবিত থেকে, তিনি আবু হাযিম আল-আশজা'ঈ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন: "যে ব্যক্তি তার ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্য হতে কোনো এক ঘরের (মসজিদ) দিকে হেঁটে গেল যাতে সে তার ওপর আল্লাহর অর্পিত ফরয আদায় করতে পারে, তবে তার পদক্ষেপদ্বয়ের একটি পাপ মোচন করে এবং অন্যটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে।"
এটি সহীহ; ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে মানসুর আল-কাউসাজ আল-মারওয়াযী থেকে, তিনি যাকারিয়া ইবনে আদী থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর আর-রাক্কী থেকে, তিনি যায়িদ ইবনে আবু আনীসাহ থেকে।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
12- حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بن الزبير الكوفي القرشي حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عفان العامري بالكوفة سنة خمسة وستين ومائتين حَدَّثَنَا
⦗ص: 55⦘ زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنِي عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان الشامي حدثني أبي عن أبي هزان عن عبد الرحمن بن خالد بن الوليد أنه احتجم على هامته وبين كتفيه فقيل له ما هذه الحجامة فقال أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال من أهراق منه هذه الدماء فلا يضره أن [لا] يتداوى بشيء لشيء
⦗ص: 56⦘ حديث غريب من حديث عبد الرحمن بن خالد أبي الوليد وهو عزيز الحديث.
১২- আমাদের নিকট আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-যুবায়ের আল-কুফি আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল হাসান আলী বিন আফফান আল-আমেরি কুফায় দুইশত পঁয়ষট্টি হিজরি সালে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট
⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ যায়েদ বিন আল-হুবাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবদুর রহমান বিন সাবিত বিন সাওবান আল-শামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আমার পিতা আবু হাজ্জান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান বিন খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর মাথার তালুতে এবং দুই কাঁধের মাঝখানে হিজামা (শিঙা) গ্রহণ করেছিলেন। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, এই হিজামা কিসের জন্য? তিনি বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের শরীর থেকে এই রক্ত প্রবাহিত করবে, তবে কোনো রোগের জন্য তার অন্য কোনো চিকিৎসা গ্রহণ না করাতে কোনো ক্ষতি হবে না।"
⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘ এটি আবদুর রহমান বিন খালিদ আবু আল-ওয়ালিদের বর্ণনা থেকে একটি গরীব হাদিস এবং এটি একটি আযীয হাদিস।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
13- حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الحسن بْنِ عَفَّانَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الحباب حدثني عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان حدثني عمير بن هانئ قال سمعت جنادة بن أبي أمية الكندي يقول سمعت عبادة بن الصامت يذكر عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أن جبريل جاءه وهو يوعك فقال أرقيك من كل داء يؤذيك ومن كل حسد حاسد ومن كل عين واسم الله يشفيك
⦗ص: 57⦘ هذا حديث جيد الإسناد من إسناد الشاميين لا أعلم رواه غير أبا عبد الرحمن ثابت بن ثوبان الشامي.
১৩- আলী ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে আফফান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাইদ ইবনুল হুবাব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে সাবিত ইবনে সাওবান আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উমায়ের ইবনে হানি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জুনাদা ইবনে আবু উমাইয়া আল-কিন্দিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি উবাদা ইবনুস সামিতকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, জিবরাঈল তাঁর নিকট আসলেন যখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "আমি আপনাকে রুকইয়াহ করছি এমন প্রতিটি রোগ থেকে যা আপনাকে কষ্ট দেয়, এবং প্রত্যেক হিংসুকের হিংসা থেকে ও প্রত্যেক কুদৃষ্টি থেকে; আর আল্লাহর নামেই তিনি আপনাকে আরোগ্য দান করবেন।"
⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ এই হাদীসটির সনদ উত্তম (জাইয়িদ); এটি শামীদের সনদের অন্তর্ভুক্ত। আমি জানি না যে আবু আবদুর রহমান সাবিত ইবনে সাওবান আশ-শামী ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
14- حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بن علي بن عفان قال حدثني عبد الرحمن بن عبد الله بن عتبة عن محمد بن عمرو بن الحارث بن أبي ضرار أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه أعطى امرأة عبد الله بن مسعود جارية من الخمس فباعتها من عبد الله بن مسعود بألف درهم واشترطت عليه خدمتها فبلغ ذلك عمر بن الخطاب فقال يا أبا عبد الرحمن اشتريت جارية امرأتك فاشترطت عليك خدمتها فقال نعم فقال لا تشترينها وفيها مثنوية
⦗ص: 58⦘ هذا الحديث حسن الإسناد ولا يعرف إلا من حديث أهل المدينة.
১৪- আমাদের নিকট আলী ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হারিস ইবনে আবি দিরার থেকে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের স্ত্রীকে খুমুস থেকে একটি দাসী প্রদান করেছিলেন। অতঃপর তিনি (আবদুল্লাহর স্ত্রী) দাসীটিকে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের নিকট এক হাজার দিরহামে বিক্রয় করলেন এবং তার নিকট থেকে দাসীটির সেবার শর্ত গ্রহণ করলেন। এই সংবাদ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন, "হে আবু আবদুর রহমান! আপনি কি আপনার স্ত্রীর দাসীটিকে তার সেবার শর্তে ক্রয় করেছেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "আপনি তাকে এমন অবস্থায় ক্রয় করবেন না যখন তাতে কোনো শর্তের মারপ্যাঁচ বা ব্যতিক্রম বিদ্যমান থাকে।"
⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ এই হাদিসটির সনদ হাসান এবং এটি কেবল মদিনাবাসীদের বর্ণিত হাদিস হিসেবেই পরিচিত।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
15- حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بن علي بن عفان قال أخبرنا زيد بن الحباب عن شعبة عن يزيد بن أبي مريم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كان يفطر على تمر
غريب من حديث شعبة عن يزيد بن أبي مريم وإن كان مرسلا.
১৫- আমাদের নিকট আলী ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যায়িদ ইবনুল হুবাব শু‘বা থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন।
ইয়াজিদ ইবনে আবি মারইয়ামের সূত্রে শু‘বার হাদীস হিসেবে এটি গারীব, যদিও এটি মুরসাল।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
16- حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الزُّبَيْرِ الْكُوفِيُّ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بن عفان العامري حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنِي داود بن أبي فرات حدثني محمد بن زيد العبدي وكان شيخ صدق عن أبي شريح عن أبي مسلم مولى زيد بن صوحان قال كنت مع سلمان بدمشق فرأى رجلا قضى الحاجة فأهوى أن ينزع خفيه فقال له سلمان امسح عليهما رأيت رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يمسح على الخفين والخمار
⦗ص: 59⦘ حديث غريب الإسناد من حديث المراوزة لا أعلم رواه غير داود بن أبي فرات عن محمد بن زيد قاضي مرو.
১৬- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবন মুহাম্মদ ইবনুন যুবাইর আল-কুফি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবন আলী ইবন আফফান আল-আমেরি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনুল হুবাব, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবন আবু ফুরাত, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন যাইদ আল-আবদি—যিনি একজন সত্যবাদী শাইখ ছিলেন—আবু শুরাইহ থেকে, তিনি যাইদ ইবন সুহানের মুক্ত দাস আবু মুসলিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি দামেস্কে সালমান (রা.)-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে তার হাজত পূরণ করার পর মোজা দুটি খোলার ইচ্ছা করছিল। সালমান তাকে বললেন: "তুমি সে দুটির উপর মাসাহ করো। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চামড়ার মোজা ও পাগড়ির ওপর মাসাহ করতে দেখেছি।"
⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ মারওয়াযীদের বর্ণনাকৃত হাদীসসমূহের মধ্যে এটি একটি গরিব সনদযুক্ত হাদীস। মার্ভের বিচারক মুহাম্মদ ইবন যাইদ থেকে দাউদ ইবন আবু ফুরাত ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
17- حَدَّثَنَا علي حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ حدثني عبد الوهاب الثقفي عن خالد الحذاء، عن عبد الرحمن بن أبي بكرة عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سئل عن المسح على الخفين فقال للمسافر ثلاثة أيام ولياليها وللمقيم يوم وليلة وكان أبي ينزع خفيه ويغسل رجليه
⦗ص: 61⦘ غريب من حديث خالد الحذاء لا أَعْلَمُ رَوَاهُ عَنْهُ غَيْرَ عبد الوهاب بن عبد المجيد الثقفي واختلف عليه وروى عنه الشافعي ومحمد بن بشار ومحمد بن المثنى وغيرهم عن المهاجر بن مخلد.
১৭- আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট যাইদ ইবনুল হুবাব বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী বর্ণনা করেছেন খালিদ আল-হায্যা থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি বাকরাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মোজার ওপর মাসেহ করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিন রাত এবং মুকিমের জন্য এক দিন ও এক রাত। আর আমার পিতা তাঁর মোজা খুলে ফেলতেন এবং তাঁর পা ধৌত করতেন।
⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ খালিদ আল-হায্যার হাদীস হিসেবে এটি গরীব; আমি জানি না যে, আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আবদুল মাজীদ আস-সাকাফী ব্যতীত আর কেউ এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে; এবং তাঁর থেকে শাফেয়ী, মুহাম্মদ ইবনে বাশশার, মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না ও অন্যান্যেরা মুহাজির ইবনে মুখাল্লাদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৬১)
18- حدثنا علي حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَفَّانَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ حدثني عبد الجليل بن عطية المزني قال حدثني عبد الله بن بريدة حدثني أبي قال ماكان من الناس أحد أبغض إلي من علي عليه السلام حتى أحببت رجلا من قريش ما أحببته إلا على بغض علي فبعث القرشي
⦗ص: 62⦘ على خيل فصحبته ما أصحبه إلا على بغض علي فأصبنا سبايا فبعث الرجل إلى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يبعث إليه من يخمسه فبعث إلينا علي بن أبي طالب فقسم وخمس وكانت وصيفة في السبي ليس فيه شيء أفضل منها فوقعت في الخمس ثم إنه قسم فصارت في سهم رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثم قسم فوقعت في سهم بيت آل علي فجاءنا ورأسه يقطر فقلنا يا أبا
⦗ص: 63⦘ الحسن ألم تروا الوصيفة وقعت عليها قال فكتب الرجل وبعثني لأصدق كتابه أقرأ وأصدق مقالته فأقتص ما صنع علي ما صنع فأخذ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بالكتاب وسر بالكتاب فقال فتبغض عليا فقال نعم فقال لا تبغضه وأحبه وازدد له حبا فوالذي نفس محمد بيده لنصيب آل علي في الخمس أفضل من الوصيفة فما كان من الناس أحد أحب إلي من علي بعد قول رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فقال عبد الله بن بريدة والله الذي لا إله إلا هو ما بيني وبين رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث إلا أبي
⦗ص: 64⦘ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ عبد الله بن بريدة عن أبيه ورواه علي بن سويد بن منجوف عنه مختصر أخرجه البخاري عن محمد بن شاذان عن روح بن عبادة عنه.
১৮- আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট যাইদ ইবনুল হুবাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আব্দুল জলীল ইবনে আতিয়্যাহ আল-মুযানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে আলীর (আলাইহিস সালাম) চেয়ে বেশি ঘৃণিত আমার কাছে আর কেউ ছিল না। এমনকি আমি কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তিকে কেবল এজন্যই ভালোবেসেছিলাম যে, সে আলীকে ঘৃণা করত। অতঃপর সেই কুরাইশ ব্যক্তিকে
⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ এক অশ্বারোহী বাহিনীর প্রধান করে পাঠানো হলো। আমি কেবল আলীর প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তার সঙ্গী হলাম। আমরা কিছু যুদ্ধবন্দী লাভ করলাম। তখন সেই ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট লোক পাঠালেন যেন তিনি এমন কাউকে পাঠান যিনি খুমুস (পঞ্চমাংশ) বণ্টন করবেন। ফলে তিনি আমাদের কাছে আলী ইবনে আবু তালিবকে পাঠালেন। তিনি এসে গনীমত বণ্টন করলেন এবং খুমুস পৃথক করলেন। যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে একজন দাসী ছিল যার চেয়ে উত্তম আর কেউ ছিল না; সে খুমুসের অন্তর্ভুক্ত হলো। অতঃপর তিনি বণ্টন করলেন এবং সেটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অংশে পড়ল। এরপর তিনি পুনরায় বণ্টন করলে সেটি আলীর পরিবারের অংশে পড়ল। তারপর তিনি আমাদের কাছে আসলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর মাথা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছিল। আমরা বললাম, হে আবুল
⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ হাসান! আপনি কি এই দাসীটিকে দেখেননি যার সাথে আপনি মিলিত হয়েছেন? বর্ণনাকারী বলেন, তখন সেই কুরাইশ ব্যক্তি (নবীজীর কাছে) একটি চিঠি লিখলেন এবং আমাকে পাঠালেন যাতে আমি তাঁর চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করি; আমি চিঠিটি পড়ি এবং তাঁর বক্তব্যকে সত্যায়ন করি এবং আলী যা করেছেন তা সবিস্তারে বর্ণনা করি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চিঠিটি গ্রহণ করলেন এবং তা দেখে আনন্দিত হলেন। এরপর তিনি বললেন, "তুমি কি আলীকে ঘৃণা করো?" সে বলল, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তাকে ঘৃণা করো না, বরং তাকে ভালোবাসো এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করো। সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! খুমুসে আলীর পরিবারের প্রাপ্য অংশ সেই দাসীর চেয়েও উত্তম।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর পর মানুষের মধ্যে আলীর চেয়ে প্রিয় আমার কাছে আর কেউ ছিল না। আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ বলেন, আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই! এই হাদীসটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আমার এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে কেবল আমার পিতাই রয়েছেন।
⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ এটি আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন—এই সূত্রে হাদীসটি সহীহ। আলী ইবনে সুওয়াইদ ইবনে মানজুফও তাঁর থেকে এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। বুখারী এটি মুহাম্মদ ইবনে শাযান থেকে, তিনি রাউহ ইবনে উবাদাহ থেকে, তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
19- حدثنا علي حدثنا الحسن حدثنا زيد حدثني مالك يعني ابن أنس عن سعيد بن سلمة من آل بني الأزرق عن المغيرة بن أبي بردة من بني عبد الدار حدثني أبو هريرة أن رجلا قال لرسول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إنا نركب البحر ونحمل معنا القليل من الماء فإن توضأنا به عطشنا أفنتوضأ من ماء البحر فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هو الطهر ماؤه الحل ميتته
⦗ص: 65⦘ هذا حديث جيد الإسناد في الموطأ وسعيد بن سلمة قد روى عنه الجلاح بن عبيد الله المقري مولى عمر بن عبد العزيز والمغيرة بن أبي بردة روى عنه يزيد بن محمد القرشي المصري فصار الحديث مشهورا صحيحا وقد روى عبد الرحمن بن إسحاق المدني.
১৯- আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক (অর্থাৎ ইবনে আনাস) আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে সালামা (যিনি বনু আজরাক বংশের) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বনু আবদুদ দার বংশের মুগিরা ইবনে আবি বুরদা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: আমরা সমুদ্রে আরোহণ করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি বহন করি; যদি আমরা সেই পানি দিয়ে অজু করি তবে আমরা পিপাসার্ত হয়ে পড়ব। এমতাবস্থায় আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু করতে পারি? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত (প্রাণী) হালাল।"
⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ মুয়াত্তায় বর্ণিত এই হাদিসটির সনদ উত্তম (জায়্যিদ)। সাঈদ ইবনে সালামা থেকে উমর ইবনে আবদুল আজিজের মুক্তদাস আল-জুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-মুক্রি বর্ণনা করেছেন এবং মুগিরা ইবনে আবি বুরদা থেকে ইয়াজিদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরাশি আল-মিসরি বর্ণনা করেছেন। ফলে হাদিসটি প্রসিদ্ধ ও সহিহ হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক আল-মাদানিও এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
20- حدثنا علي حدثنا الحسن حدثنا زيد حدثني مالك قال حدثني إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة الأنصاري صاحب رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عن
⦗ص: 66⦘ حميدة بنت عبيد عن كبشة بنت كعب بن مالك قالت كنت عند ولد أبي قتادة فدخل فصببت له وضوءا فتوضأ به فجاءت الهرة تشرب فأصغى لها الإناء فجعلت أنظر فقال أتعجبين يا بنت أخي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال إنها ليست بنجس هي من الطوافين عليكم أو الطوافات
هذا حديث في موطأ مالك وخولف في إسناده عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة وقوله أصح ممن خالفه.
২০- আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা আল-আনসারী—যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীর সহচর ছিলেন—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন
⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘ হুমায়দাহ বিনতে উবায়দ থেকে, তিনি কাবশাহ বিনতে কাব ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু কাতাদাহর পুত্রের নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি (আবু কাতাদাহ) প্রবেশ করলেন এবং আমি তাঁর ওযুর জন্য পানি ঢেলে দিলাম। তিনি তা দিয়ে ওযু করলেন। এরপর একটি বিড়াল পানি পান করতে এল, তখন তিনি তার জন্য পাত্রটি কাত করে ধরলেন। আমি তা দেখে অবাক হয়ে তাকাচ্ছিলাম। তিনি বললেন: হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রী! তুমি কি আশ্চর্য হচ্ছো? নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এটি অপবিত্র নয়; বরং এটি তোমাদের আশেপাশে বিচরণকারী বা বিচরণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত।
এই হাদীসটি মুয়াত্তা মালিকে রয়েছে। ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে এর সনদের বর্ণনায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে তাঁর (মালিকের) বর্ণনাটি যারা তাঁর বিরোধিতা করেছেন তাদের তুলনায় অধিকতর বিশুদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
21- حدثنا علي حدثنا الحسن حدثنا زيد قال حدثنا سفيان عن سلمة بن كهيل عن عيسى بن عاصم الأسدي عن زر عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الطيرة شرك وما منا إلا ولكن الله يذهبه بالتوكل
⦗ص: 67⦘ هذا حديث غريب وحديث سلمة بن كهيل عن عيسى بن عاصم عن زر لا أعلم رواه غيره.
২১- আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হাসান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট যাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি ঈসা ইবনে আসিম আল-আসাদী থেকে, তিনি যির থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কুলক্ষণ গ্রহণ করা শিরক। আমাদের মাঝে এমন কেউ নেই যার মনে এর প্রভাব পড়ে না, তবে আল্লাহ তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে তা দূর করে দেন।
⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ এটি একটি গরীব হাদিস এবং সালামাহ ইবনে কুহাইলের সূত্রে ঈসা ইবনে আসিম থেকে যিরের মাধ্যমে বর্ণিত হাদিসটি তিনি ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
22- حدثنا علي حدثنا الحسن حدثنا زيد حدثني نوح بن قيس أبو روح العبدي رجل من أهل البصرة حدثني سلامة الكندي الكوفي في زمن يوسف بن عمر أن علي بن أبي طالب كان يعلم الناس هذا الدعاء اللهم داحي المدحيات وبارئ المسمكات وجبار القلوب على فطرتها شقيها وسعيدها اجعل شرائف صلواتك ونوامي بركاتك ورافع تحياتك على محمد عبدك ورسولك الخاتم لما سبق والفاتح لما أغلق والمعلن الحق بالحق والدامغ جيشات الأباطيل كما كمل فاضطلع بأمرك لطاعتك مستوفرا في مرضاتك غير ملك في قدم ولا وهن في عزم داعيا لوحيك حافظا لعهدك ماضيا على نفاذ أمرك حتى أوري
⦗ص: 68⦘ قبسا للقابس أو حتى أوري قبسا للقابس إلا الله يصل بأهله لنا به هديت القلوب بعد خرصات الفتن والإثم موضحات الأعلام منيرات الإسلام ناثرات الأحكام فهو أمينك الأمون وخازن علمك المخزون وشهيدك يوم الدين وبعيثك نعمة ورسولك بالحق رحمة اللهم أفسح له مفسحات في عدلك واجزه مضاعفات الخير من فضلك له مهنيات غير مكدرات من فوز ثوابك المعلوم وجزيل عطائك المجلول اللهم أعل على بناء البنائين بناءه وأكرم مثواه لديك ونزله وأتمم له نوره وأجره من ابتعاثك له مقبول الشهادة مرضي المقالة ذا منطق عدل وحطة وفضل وحجة وبرهان عظيم
⦗ص: 69⦘ هذا حديث مشهور من حديث أبي روح نوح بن قيس الحداني البصري روى عنه غير واحد من المتأخرين ورواية زيد بن الحباب عنه حسن.
২২- আমাদের কাছে আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাসান বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে যায়েদ বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে নূহ ইবনে কাইস আবু রুহ আল-আবদি বর্ণনা করেছেন, যিনি বসরার অধিবাসী ছিলেন, আমার কাছে সালামাহ আল-কিন্দি আল-কুফি ইউসুফ ইবনে ওমরের যুগে বর্ণনা করেছেন যে, আলী ইবনে আবি তালিব মানুষকে এই দুআটি শিক্ষা দিতেন: হে আল্লাহ! আপনিই বিস্তৃত জমিনসমূহের বিস্তারকারী, সুউচ্চ আকাশসমূহের স্রষ্টা এবং অন্তরসমূহকে তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর—সেটি দুর্ভাগা হোক বা সৌভাগ্যবান—নিবন্ধকারী; আপনার শ্রেষ্ঠ রহমত, ক্রমবর্ধমান বরকত এবং উচ্চতর অভিবাদনসমূহ আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদের ওপর বর্ষণ করুন, যিনি পূর্ববর্তী সকল নবুওয়াতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন, যা রুদ্ধ ছিল তা উন্মুক্ত করেছেন, সত্যের মাধ্যমে সত্যকে প্রকাশ করেছেন এবং বাতিলের আস্ফালনকে চূর্ণ করেছেন; যেভাবে তিনি পূর্ণতা লাভ করেছেন, তেমনি আপনার নির্দেশ বাস্তবায়নে আপনার আনুগত্যের পথে অবিচল থেকেছেন, আপনার সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট ছিলেন, অগ্রসর হতে তিনি পিছপা হননি এবং স্বীয় সংকল্পে দুর্বল হননি; তিনি আপনার ওহীর দিকে আহ্বানকারী, আপনার অঙ্গীকারের হিফাযতকারী এবং আপনার নির্দেশ বাস্তবায়নে সদাতৎপর ছিলেন, এমনকি তিনি
⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ অন্বেষণকারীর জন্য জ্ঞানের আলো প্রজ্বলিত করেছেন অথবা যতক্ষণ না অন্বেষণকারীর জন্য আল্লাহর আলো প্রজ্বলিত হয়েছে; আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে এমন মানুষদের হিদায়াত দিয়েছেন যাদের অন্তর ফিতনা ও পাপের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল; তিনি হিদায়াতের নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট করেছেন, ইসলামের আলোকবর্তিকা প্রজ্বলিত করেছেন এবং বিধানসমূহকে বিস্তৃত করেছেন; সুতরাং তিনি আপনার অত্যন্ত বিশ্বস্ত আমানতদার, আপনার সুরক্ষিত ইলমের ভাণ্ডাররক্ষী, কিয়ামতের দিন আপনার সাক্ষী, আপনার প্রেরিত মহান নিআমত এবং সত্যসহ প্রেরিত আপনার দয়া ও করুণাস্বরূপ। হে আল্লাহ! আপনার ইনসাফের মাধ্যমে তাঁর জন্য জান্নাতের প্রশস্ত স্থানসমূহ উন্মুক্ত করে দিন এবং আপনার অনুগ্রহে তাঁকে বহুগুণ উত্তম প্রতিদান দান করুন; আপনার নির্ধারিত সাওয়াবের সফলতাজাত পবিত্র ও অনাবিল সুখ এবং আপনার পক্ষ থেকে মহান ও শ্রেষ্ঠ দান তাঁকে দান করুন। হে আল্লাহ! সকল নির্মাণকারীর নির্মাণের ওপর তাঁর মর্যাদার ইমারতকে সর্বোচ্চ করুন, আপনার সান্নিধ্যে তাঁর অবস্থান ও আতিথ্যকে সম্মানজনক করুন, তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করুন এবং আপনার পক্ষ থেকে তাঁকে এমন প্রতিদান দিন যাতে তাঁর সাক্ষ্য কবুল করা হয়, তাঁর কথা পছন্দনীয় হয় এবং তিনি হোন ন্যায়নিষ্ঠ বাগ্মীতা, গুনাহ মোচনকারী বিষয়, শ্রেষ্ঠত্ব, অকাট্য দলিল ও মহান প্রমাণের অধিকারী।
⦗পৃষ্ঠা: ৬৯⦘ এটি আবু রুহ নূহ ইবনে কাইস আল-হাদ্দানি আল-বসরির একটি প্রসিদ্ধ হাদীস। পরবর্তী যুগের একাধিক বর্ণনাকারী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে যায়েদ ইবনুল হুবাবের বর্ণনাটি হাসান পর্যায়ের।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
23- حدثنا علي حدثنا الحسن حدثنا زيد حدثني مالك بن أنس المدني عن نعيم بن عبد الله بن المجمر عن مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زيد الأنصاريّ قال أتانا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في مجلس عبادة بن الصامت فسأله بشير بن سعد أبو النعمان بن بشير: يا رسول الله إن الله قد أمرنا بالصلاة عليك فكيف نصلي فصمت حتى تمنينا أنه لم يسأله ثم قال قولوا اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم إنك حميد مجيد وبارك على محمد وعلى آل محمد كما بارك على إبراهيم في العالمين إنك حميد مجيد
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ عن يحيى بن يحيى عن مالك.
২৩- আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে আনাস আল-মাদানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন নুআইম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-মুজমির থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যায়িদ আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাদাহ ইবনে সামিত-এর মজলিসে আমাদের নিকট আসলেন। তখন বশীর ইবনে সাদ আবু নুমান ইবনে বশীর তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের আপনার ওপর দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন, সুতরাং আমরা কীভাবে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করব? তখন তিনি নীরব থাকলেন, এমনকি আমরা আকাঙ্ক্ষা করলাম যে যদি তিনি তাঁকে প্রশ্নটি না করতেন! তারপর তিনি বললেন: তোমরা বলো—হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহীমের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মহিমান্বিত। আর আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি বিশ্বজগতের মধ্যে ইব্রাহীমের ওপর বরকত দান করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মহিমান্বিত।
এটি একটি সহীহ হাদিস, যা ইমাম মুসলিম ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়ার সূত্রে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
24- حدثنا علي حدثنا الحسن حدثنا زيد حدثني جعفر بن إبراهيم من ولد عبد الله بن جعفر ذي الجناحين عليه السلام قال حدثني محمد بن عمر بن علي بن أبي طالب عليهم السلام أن عليا لم يقاتل أهل الجمل ⦗ص: 70⦘ حتى دعا الناس ثلاثا حتى كان يوم الثالث دخل عليه الحسن والحسين وعبد الله بن جعفر فقالوا قد أكثروا فينا الجراح فقال يا ابن أخي والله ما جهلت شيئا من أمرهم إلا ما كانوا فيه وقال وصب لي ماء فصب له ماء فتوضأ فصلى ركعتين حتى إذا فرغ رفع يديه ودعا ربه وقال لهم إن ظهرتم على القوم فلا تطلبوا مدبرا ولا تجيزوا على جريح وانظروا ما حضرت به الحرب من آيته فاقبضوه وما كان سوى ذلك فهو لورثته.
২৪- আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর যুল জানাহাইন (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বংশধর জাফর ইবনে ইবরাহিম আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনে আবি তালিব (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে উমর আমাকে জানিয়েছেন যে, আলী জঙ্গে জামালের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেননি ⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ যতক্ষণ না তিনি তিনবার লোকজনকে আহ্বান করেছিলেন। যখন তৃতীয় দিন উপস্থিত হলো, হাসান, হুসাইন এবং আবদুল্লাহ ইবনে জাফর তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন, তারা আমাদের ওপর অনেক আঘাত ও ক্ষত সৃষ্টি করেছে। তিনি বললেন, হে আমার ভাতিজা, আল্লাহর কসম, তারা যে পরিস্থিতির মধ্যে ছিল তা ব্যতীত তাদের কোনো বিষয়ই আমার অজানা ছিল না। তিনি বললেন, আমার জন্য পানি ঢালো। অতঃপর তাঁর জন্য পানি ঢালা হলো এবং তিনি অজু করলেন ও দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। যখন তিনি নামাজ শেষ করলেন, তিনি তাঁর দুই হাত তুললেন এবং তাঁর রবের নিকট দোয়া করলেন। অতঃপর তিনি তাঁদের বললেন, যদি তোমরা এই সম্প্রদায়ের ওপর বিজয় লাভ করো, তবে পলায়নকারীকে পিছু ধাওয়া করো না এবং কোনো আহত ব্যক্তিকে আঘাত (বা হত্যা) করো না। আর যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধের সাজসরঞ্জামের মধ্য থেকে যা উপস্থিত পাবে তা হস্তগত করো, এ ছাড়া অন্য যা কিছু রয়েছে তা তাদের উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৭০)
25- حدثنا علي حدثنا الحسن حدثنا زيد عن هشام بن هارون الأنصاري المديني حدثنا معاوية بن رفاعة بن رافع عن أبيه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللهم اغفر للأنصار [ولذراري الأنصار] ولذراري ذراريهم ولمواليهم وجيرانهم
⦗ص: 71⦘ هَذَا حديث غريب من حديث رفاعة بن رافع الزرقي الأنصاري من رواية ابنه معاذ عنه والذي في كتاب الشيخ معاوية وهو خطأ ومعاذ مشهور روى عنه يحيى بن سعيد الأنصاري وعبد اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ ومحمد بن إسحاق بن بشار وهشام بن هارون الأنصاري المدني ولا أعلم هذا حدث عنه غير زيد بن الحباب ولا حدث غير هشام عن معاذ من أحاديثه والله أعلم.
২৫- আলী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যায়িদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে হারুন আল-আনসারী আল-মাদিনী থেকে, মুআবিয়া ইবনে রিফাআহ ইবনে রাফে' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন তার পিতা থেকে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: হে আল্লাহ! আপনি আনসারদের ক্ষমা করুন, [এবং আনসারদের বংশধরদের] এবং তাদের বংশধরদের বংশধরদের, তাদের মিত্রদের ও তাদের প্রতিবেশীদের।
⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ এটি রিফাআহ ইবনে রাফে' আল-যুরকী আল-আনসারীর বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে একটি গরীব হাদীস, যা তার পুত্র মুআয তার থেকে বর্ণনা করেছেন। শাইখের কিতাবে যা (মুআবিয়া নামে) রয়েছে তা ভুল। মূলত মুআযই প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারী; তার থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে বাশার এবং হিশাম ইবনে হারুন আল-আনসারী আল-মাদানী বর্ণনা করেছেন। যায়িদ ইবনুল হুবাব ছাড়া অন্য কেউ তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই, আর হিশাম ছাড়া অন্য কেউ মুআযের হাদীসসমূহ থেকে এটি বর্ণনা করেননি। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৭১)
26- حدثنا علي حدثنا الحسن حدثنا زيد عن معاوية بن صالح حدثني عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نفير الحضرمي عن أبيه قال سمعت عمرو بن الحمق الخزاعي يقول قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إذا أراد الله بعبد خيرا
⦗ص: 72⦘ عسله فقيل يا رسول الله وما عسله قال: يفتح له عمل صالح بين يدي موته حتى يرضى عنه من حوله
حديث صحيح على شرط مسلم يلزمه إخراجه.
২৬- আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুআবিয়া ইবন সালিহ থেকে, তিনি আমার নিকট আবদুর রহমান ইবন জুবাইর ইবন নুফাইর আল-হাদরামি থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমর ইবনুল হামাক আল-খুজাইকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন আল্লাহ কোনো বান্দার কল্যাণ করতে চান, তখন তিনি তাকে সুমিষ্ট করেন।
⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘ জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তাকে সুমিষ্ট করা কী? তিনি বললেন: মৃত্যুর পূর্বে আল্লাহ তার জন্য নেক আমলের পথ উন্মুক্ত করে দেন, এমনকি তার চারপাশের লোকজন তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়।
হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ, এটি সংকলন করা তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৭২)
27- حدثنا أبو بكر أحمد بن سَلْمان بْنِ الْحَسَنِ الْفَقِيهُ النَّجَّادُ قَالَ حدثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل قال حدثني أبي رحمه الله قال حدثنا عبد الوهاب الثقفي قال حدثنا أيوب عن أبي قلابة عن قبيصة قال انكسفت الشمس.. وحدثنا أحمد بن سَلْمان قال حدثنا إسماعيل بن إسحاق قال حدثنا إبراهيم بن الحجاج قال حدثنا عبد الوارث بن سعيد عن أيوب عن أبي قلابة عن قبيصة الهلالي قال كسفت الشمس على عهد النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فصلى بهم ركعتين أطال فيهما القيام قال وانجلت فقال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إنما الآيات تخويف يخوف الله بها عباده فإذا رأيتم هذا فصلوا كأحدث صلاة صليتموها من المكتوبة
⦗ص: 73⦘ لفظ حديث عبد الوارث حدثنا أحمد بن سَلْمان حدثنا أبو عبد الرحمن حدثني أبي حدثنا أبو سعيد ابن بني هاشم قال حدثنا وهيب قال حدثنا أيوب عن أبي قلابة عن قبيصة الهلالي قال انكسفت الشمس على عهد النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وأنا يومئذ معه بالمدينة فذكر معنى حديث الثقفي
هذا حديث محفوظ وحديث أبي بكر أيوب بن أبي تميمة السختياني المصري عن أبي قلابة عبد الله بن واقد الجرمي البصري ولم يسمع أبو قلابة من قبيصة بن مخارق بن شداد بن أبي ربيعة الهلالي وهو مرسل.
২৭- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ ইবনে সালমান ইবনে হাসান আল-ফকিহ আন-নাজ্জাদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন, আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি কাবিদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সূর্যগ্রহণ হলো... এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সালমান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনুল হাজ্জাজ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সাঈদ, আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি কাবিদাহ আল-হিলালি থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। এরপর তিনি তাদেরকে নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন যাতে কিয়াম দীর্ঘ করলেন। তিনি বলেন, এরপর সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "নিশ্চয়ই নিদর্শনসমূহ ভীতি প্রদর্শনের জন্য, আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান। অতএব তোমরা যখন এটি দেখতে পাবে, তখন তোমরা তোমাদের পড়া ফরয সালাতগুলোর মতো সবশেষে পড়া সালাতের মতো সালাত আদায় করো।"
⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘ এটি আব্দুল ওয়ারিসের বর্ণিত হাদিসের শব্দ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সালমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুর রহমান, তিনি বলেন আমার পিতা আমাকে বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ ইবনে বনী হাশিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওহাইব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি কাবিদাহ আল-হিলালি থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল এবং আমি সেদিন তাঁর সাথে মদিনায় ছিলাম। অতঃপর তিনি আস-সাকাফি বর্ণিত হাদিসের অর্থের অনুরূপ উল্লেখ করলেন।
এই হাদিসটি সংরক্ষিত (মাহফুজ) এবং আবু বকর আইয়ুব ইবনে আবি তামিমি আস-সাখতিয়ানি আল-মিসরি বর্ণিত হাদিসটি আবু কিলাবা আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াকিদ আল-জারমি আল-বাসরি থেকে। কিন্তু আবু কিলাবা কাবিদাহ ইবনে মুখারিক ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আবি রাবিয়া আল-হিলালি থেকে সরাসরি শোনেননি, তাই এটি মুরসাল।
(খণ্ড: ১)
ফাওয়াইদু আবিল কাসিম আল-হারফী রিওয়ায়াতুল আনসারী
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
28- حدثنا أحمد بن سَلْمان حدثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل حدثني أبي رحمه الله حدثنا يحيى بن سعيد عن التيمي عن أبي عثمان عن قبيصة وزهير بن عمرو قالا لما نزلت..
وحدثنا أحمد بن سَلْمان قال حدثنا إسماعيل بن إسحاق حدثنا
… حدثنا يزيد بن زريع قال حدثنا سُلَيْمَان التيمي عَنْ أَبِي عُثْمَان عن قبيصة بن مخارق وزهير بن عمرو قالا: لما نزلت..
وحدثنا أحمد بن سَلْمان قال حدثنا عبد الله بن أحمد حدثني أبي حدثنا إسماعيل عن التيمي عن أبي عثمان عن قبيصة بن مخارق وزهير بن عمرو قالا لما نزلت {وأنذر عشيرتك الأقربين} صعد النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رضمة من جبل على أعلاها فجعل ينادي يا بني عبد مناف
⦗ص: 77⦘ إنما أنا نذير إنما مثلي ومثلكم كرجل رأى العدو يربو أهله فخشي أن يسبقوه فجعل ينادي ويهتف يا صباحاه. لفظ يحيى بن سعيد ومعناهم جميعا واحد
وحدثنا أحمد بن سَلْمان قال حدثنا إسماعيل بن إسحاق حدثنا محمد بن المنهال قال حدثنا
يزيد بن زريع بنحوه فقال فيه.. يا صباحاه أبيتم أبيتم..
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ عن أبي كامل الفضل بن الحسين الجحدري عن يزيد بن زريع
حدثنا أحمد بن سَلْمان قال حدثنا إسماعيل بن إسحاق حدثنا يحيى بن خلف حدثنا معتمر قال سمعت أبي يقول قال أبو عثمان عن زهير بن عمرو وعن قبيصة بن المخارق أنهما قالا أنزل عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {وأنذر عشيرتك الأقربين} فحدثنا عن نبي اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أنه علا رضمة من جبل فعلا أعلاها حجرا ثم نادى بأعلى صوته وهتف فقال يابني عبد مناف.. .. فخشيهم على فذهب يربؤهم فخشي أن
⦗ص: 78⦘ يسبقه العدو إلى أهله فجعل ينادي أو يهتف يا صباحاه
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ عن محمد بن عبد الأعلى الصنعاني عن معتمر بن سليمان التيمي.
২৮- আমাদের নিকট আহমাদ বিন সালমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাকে আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু উসমান থেকে, তিনি কাবিদাহ ও যুহাইর বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: যখন নাযিল হলো..
এবং আমাদের নিকট আহমাদ বিন সালমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট ইসমাঈল বিন ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট
… বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন যুরাই বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট সুলাইমান আত-তাইমি আবু উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি কাবিদাহ বিন মুখারিক ও যুহাইর বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: যখন নাযিল হলো..
এবং আমাদের নিকট আহমাদ বিন সালমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসমাঈল আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু উসমান থেকে, তিনি কাবিদাহ বিন মুখারিক ও যুহাইর বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: যখন {এবং আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} আয়াতটি নাযিল হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাহাড়ের একটি উঁচু পাথরের স্তূপের ওপর উঠলেন এবং সেটির সর্বোচ্চ চূড়ায় গিয়ে ডাক দিতে লাগলেন: হে বনু আবদে মানাফ!
⦗পৃষ্ঠা: ৭৭⦘ আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী। আমার এবং তোমাদের দৃষ্টান্ত কেবল সেই ব্যক্তির মতো যে শত্রুকে দেখতে পেল, যে তার পরিবারের ওপর আক্রমণ করতে উদ্যত, তাই সে আশঙ্কা করল যে তারা তাকে ছাড়িয়ে (পরিবারের কাছে) পৌঁছে যাবে; ফলে সে চিৎকার করে উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলতে লাগল— হে সকালের বিপদ! এটি ইয়াহইয়া বিন সাঈদের শব্দাবলী, তবে তাদের সকলের অর্থের মর্ম একই।
এবং আমাদের নিকট আহমাদ বিন সালমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট ইসমাঈল বিন ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আল-মিনহাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট
ইয়াযিদ বিন যুরাই অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন— হে সকালের বিপদ! তোমরা অস্বীকার করলে, তোমরা অস্বীকার করলে..
এটি একটি সহীহ হাদীস, যা ইমাম মুসলিম আবু কামিল আল-ফাদল বিন আল-হুসাইন আল-জহদারি থেকে, তিনি ইয়াযিদ বিন যুরাই থেকে বর্ণনা করেছেন।
আমাদের নিকট আহমাদ বিন সালমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমাদের নিকট ইসমাঈল বিন ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া বিন খালাফ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুতামির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি আবু উসমান থেকে, তিনি যুহাইর বিন আমর ও কাবিদাহ বিন আল-মুখারিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর নাযিল হলো {এবং আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন}। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি পাহাড়ের একটি উঁচু পাথরের স্তূপের ওপর উঠলেন, অতঃপর সেটির সর্বোচ্চ পাথরের ওপর আরোহণ করলেন। তারপর তিনি উচ্চস্বরে চিৎকার করে ডেকে বললেন: হে বনু আবদে মানাফ! .. .. অতঃপর তিনি তাদের ওপর শত্রুর আক্রমণ আশঙ্কা করলেন এবং তাদের পাহারাদার হিসেবে গিয়ে দেখলেন; ফলে শত্রু যাতে তাঁর
⦗পৃষ্ঠা: ৭৮⦘ পরিবারের কাছে পৌঁছানোর আগে তাঁকে ছাড়িয়ে না যায়, সেজন্য তিনি চিৎকার করে ডাক দিতে লাগলেন— হে সকালের বিপদ!
এটি একটি সহীহ হাদীস, যা ইমাম মুসলিম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আলা আস-সানআনি থেকে, তিনি মুতামির বিন সুলাইমান আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন।