(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: -)
السنة في مواجهة الأباطيل القسم: علوم الحديث
الكتاب: السنة في مواجهة الأباطيل
المؤلف: محمد طاهر بن حكيم غلام رسول
الناشر: دعوة الحق (سلسلة شهرية تصدر مع مطلع كل شهر عربي - السَنَة الثانية: 1402 هـ ربيع الأول العدد (12)) [مطبوعات رابطة العالم الإسلامي]
عدد الصفحات: 183
أَعَدَّهُ للشاملة: توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 جُمادَى الآخرة 1432
বাতিলের মোকাবিলায় সুন্নাহ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: বাতিলের মোকাবিলায় সুন্নাহ
লেখক: মুহাম্মদ তাহের বিন হাকিম গুলাম রাসুল
প্রকাশক: দাওয়াতুল হক (প্রতি আরবি মাসের শুরুতে প্রকাশিত মাসিক সিরিজ - দ্বিতীয় বর্ষ: ১৪০২ হিজরি রবিউল আউয়াল সংখ্যা (১২)) [রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামী এর প্রকাশনা]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৩
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি، আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ জুমাদিউল আখিরা ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[السنة في مواجهة الأباطيل]ـ
{وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا}
[مطبوعات رابطة العالم الإسلامي]
دعوة الحق: سلسلة شهرية تصدر مع مطلع كل شهر عربي
السَنَة الثانية: 1402 هـ ربيع الأول العدد (12)
السُنَّة في مواجهة الأباطيل
تأليف الأستاذ محمد طاهر حكيم
عدد الأجزاء: 1.
أَعَدَّهُ للمكتبة الشاملة / توفيق بن محمد القريشي، غفر الله له ولوالديه.
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي].
—[বাতিল মতবাদের মোকাবিলায় সুন্নাহ]—
“তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।”
[রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামী (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ)-এর প্রকাশনা]
দাওয়াতুল হক: প্রতি আরবি মাসের শুরুতে প্রকাশিত একটি মাসিক ধারাবাহিক
দ্বিতীয় বর্ষ: ১৪০২ হিজরি, রবিউল আউয়াল, সংখ্যা (১২)
বাতিল মতবাদের মোকাবিলায় সুন্নাহ
রচনায়: উস্তাদ মুহাম্মদ তাহের হাকিম
খণ্ডের সংখ্যা: ১।
আল-মাকতাবা আশ-শামেলা-র জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন তাওফিক বিন মুহাম্মদ আল-কুরাইশি, আল্লাহ তাকে এবং তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এতে পাদটীকা সংযোজিত হয়েছে]।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمة:الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وأنزل عليه كتابه تبياناً لكل شيء وهدى إلى صراط مستقيم، والصلاة والسلام على سيدنا محمد المنزل عليه الكتاب، فبيَّن أحكامه، ورفع إبهامه، وخصص إطلاقه وشرح أهدافه، صلى الله تعالى عليه وعلى آله وأصحابه وذريته وعلينا معهم أجمعين، آمين.
وبعد:
فلا يخفى على من له أدنى إلمام بشرائع الإسلام أنَّ السُنَّة هي المصدر الثاني للشريعة الإسلامية، بل هي قُطْبُ رحاها، ومصدر إشعاعها، وشمس الحقيقة ومنبع الهداية، وهي السراج الوهاج في ليل داج، فقد كانت البشرية في الجاهلية تتخبط خبط عشواء، وكانت منغمسة في شهواتها، ومنتهية في جهالاتها، ومرتطمة في نزواتها، في خبط وحيرة، وظلمات مدلهمَّة لا تهتدي سبيلاً، ولا تجد طريقاً. حتى منّ الله عليها ببعث نبيه الكريم صلى الله عليه وسلم وأنزل كتابه العظيم.
ولما كان القرآن الكريم محتوياً للأصول، غير مستقص لجميع التفاصيل، فيه من الإجمال شيء غير قليل، فوض الله بيانه إلى الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم بقوله:
{وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (1).
--------------------------------------------
ভূমিকা:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন এবং তাঁর ওপর তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং সরল পথের দিশারী হিসেবে। আর দরুদ ও সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, যাঁর ওপর কিতাব নাযিল হয়েছে, অতঃপর তিনি এর বিধানসমূহ বর্ণনা করেছেন, এর অস্পষ্টতা দূর করেছেন, এর ব্যাপকতাকে সুনির্দিষ্ট করেছেন এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীসাথী ও তাঁর বংশধরদের ওপর এবং তাঁদের সাথে আমাদের সবার ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, আমীন।
অতঃপর:
ইসলামী শরীয়াহর বিধিবিধান সম্পর্কে যাঁর সামান্যতম ধারণা আছে তাঁর কাছে এটা গোপন নয় যে, সুন্নাহ হলো ইসলামী শরীয়াহর দ্বিতীয় উৎস; বরং এটিই এর কেন্দ্রবিন্দু, এর আলো বিচ্ছুরণের উৎস, সত্যের সূর্য এবং হিদায়াতের প্রস্রবণ। এটি ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে এক উজ্জ্বল প্রদীপ। জাহেলিয়াতের যুগে মানবজাতি লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়ে বেড়াচ্ছিল, তারা তাদের কুপ্রবৃত্তিতে নিমজ্জিত ছিল, মূর্খতার চরম শিখরে পৌঁছে গিয়েছিল এবং নিজেদের খেয়াল-খুশিতে হাবুডুবু খাচ্ছিল; তারা এক বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং ঘনীভূত অন্ধকারের মধ্যে নিমগ্ন ছিল যেখান থেকে তারা কোনো পথের দিশা পাচ্ছিল না এবং কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অনুগ্রহ করলেন তাঁর সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণের মাধ্যমে এবং তাঁর মহান কিতাব অবতীর্ণ করার মাধ্যমে।
যেহেতু কুরআনুল কারীম মূলনীতিসমূহ ধারণকারী এবং সবকিছুর খুঁটিনাটি বিবরণে পূর্ণ নয়, বরং এতে সংক্ষিপ্ততা বেশ রয়েছে, তাই আল্লাহ তাআলা এর ব্যাখ্যার দায়িত্ব সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ন্যস্ত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে:
{আর আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।} (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ৪)
فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم هو المُبَيِّنُ عن الله والكتاب الناطق، والرحمة المهداة والنعمة المسداة.
ومن هنا يظهر جلياً، أنه لا يمكن فهم كتاب الله تعالى على وجهه، والعمل به على مراد الله تعالى، إلَاّ ببيان رسوله النيّر وأسوته الحسنة، وبيانه النيّر وأسوته الحسنة هما السُنَّة. فمن رام الهداية من غيرهما، أو من كتاب الله وحده، فقد رام المُحال.
ولما كانت للسُنَّة هذه المنزلة، وكان كتاب الله لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، فلا مطمع في تغييره بالتصحيف والتحريف، أو الزيادة والنقص، قام أعداء الإسلام بالتشكيك في السُنَّة وحُجِيَّتها وزعزعة الثقة بها، وأثاروا الشُبُهَات المختلفة حولها، حتى - لا قَدَّرَ اللهُ - إذا تم لهم ذلك، إنهار صرح الإسلام من أساسه، وبعد تقويض بنيانه، ما أسهل نقل المسلمين إلى أي نحلة من النحل الباطلة.
وإذا كان مُنكرو السُنَّة قديماً قد انقرضوا وصاروا في ذمة التاريخ، فإنَّ المستشرقين وتلامذتهم من المستسلمين قد حَلُّوا محلهم وقاموا بالهجوم على الإسلام، أنهم كشفوا عن سرائرهم، فليس يرضيهم شيء إلَاّ أن يفضوا أهله من حوله، وأنْ يملأوا الدنيا أراجيف بأن الإسلام دعوة باطلة، ورسالة زائفة، وأنه لا يجوز لها البقاء أكثر مِمَّا بقيت .. ألا ساء ما يصفون.
وقد تتابعت جهود المستشرقين وتلامذتهم لإشاعة هذا الإفك، وكثرت مؤلفاتهم التي تغمز الإسلام، وتنال من نبيه ورسالته، وتشريعاته، وبعض هذه المؤلفات قد تبدو عليها - في الظاهر - مسحة البحث العلمي المزعوم، وقد يكون صاحبه قد طالع -بالفعل - عدداً ضخماً من المؤلفات الإسلامية القديمة والحديثة، ومن ثم يعرض أفكاره السامة في ألبسة من الاستنتاج الهادئ، وبين يدي نقول محرفة عن مواضعها.
সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনাকারী এবং কথা বলা কিতাব, উপহারস্বরূপ রহমত এবং অবারিত নিআমত।
এখান থেকেই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর কিতাবকে যথাযথভাবে বোঝা এবং আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী তার ওপর আমল করা সম্ভব নয় তাঁর রাসূলের উজ্জ্বল বর্ণনা ও উত্তম আদর্শ ব্যতিরেকে। আর তাঁর সেই উজ্জ্বল বর্ণনা ও উত্তম আদর্শই হলো সুন্নাহ। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুটি ছাড়া অন্য কিছু থেকে অথবা কেবল আল্লাহর কিতাব থেকে হেদায়েত অন্বেষণ করতে চায়, সে অসম্ভব কিছু অন্বেষণ করল।
সুন্নাহর যেহেতু এই মর্যাদা এবং আল্লাহর কিতাবে যেহেতু সামনের দিক বা পিছনের দিক থেকে কোনো বাতিল অনুপ্রবেশ করতে পারে না, ফলে শব্দ পরিবর্তন বা বিকৃতি কিংবা সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে এটিকে পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই; তাই ইসলামের শত্রুরা সুন্নাহ ও এর প্রামাণিকতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করতে এবং এর ওপর আস্থা নাড়িয়ে দিতে সচেষ্ট হয়েছে। তারা একে ঘিরে বিভিন্ন সংশয় উত্থাপন করেছে, যাতে করে—আল্লাহ না করুন—যদি তারা এতে সফল হয়, তবে ইসলামের সৌধটি এর ভিত্তি থেকেই ধসে পড়বে। আর এর অট্টালিকা ধসে পড়ার পর মুসলিমদের যেকোনো বাতিল মতবাদে ধাবিত করা অত্যন্ত সহজ হয়ে পড়বে।
প্রাচীনকালের সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা যদিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে, কিন্তু প্রাচ্যবিদ এবং মুসলিমদের ছদ্মবেশে তাদের শিষ্যরা তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এবং ইসলামের ওপর আক্রমণে লিপ্ত হয়েছে। তারা তাদের মনের গোপন ইচ্ছা প্রকাশ করে দিয়েছে; তারা এর অনুসারীদের এর থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া অন্য কিছুতেই সন্তুষ্ট নয়। তারা পৃথিবীতে এই গুজব ছড়িয়ে দিতে চায় যে, ইসলাম একটি বাতিল দাওয়াত ও ভ্রান্ত রিসালাত এবং এটি এতদিন যেভাবে টিকে ছিল তার চেয়ে বেশিদিন টিকে থাকা এর জন্য অনুচিত। সাবধান! তারা যা বর্ণনা করে তা কতই না নিকৃষ্ট।
এই অপবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রাচ্যবিদ ও তাদের শিষ্যদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের এমন বহু রচনা বেড়েছে যা ইসলামকে আক্রমণ করে এবং এর নবী, রিসালাত ও বিধিবিধানের মানহানি করে। বাহ্যিকভাবে এসব রচনার কোনো কোনোটিতে তথাকথিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ছাপ থাকতে পারে। এমনকি এর রচয়িতা বাস্তবে হয়তো অসংখ্য প্রাচীন ও আধুনিক ইসলামি কিতাব পাঠও করে থাকতে পারে, আর এরপর সে তার বিষাক্ত চিন্তাগুলোকে অত্যন্ত ধীরস্থির সিদ্ধান্তের আবরণে এবং স্থানচ্যুত বিকৃত উদ্ধৃতি সম্বলিত উপস্থাপনায় পেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ৫)
ومن المؤسف حقاً أنَّ المستشرقين ليسوا وحدهم الخائضين في تاريخ الإسلام وتشريعه ورسالته، كذباً وزوراً، عن سوء قصد أو سوء فهم، بل يشترك معهم فريق كبير من المستغربين - من العرب والمسلمين - في هذا الحوض الظالم الأليم.
والأغلب من هؤلاء الذين ينخدعون من المسلمين بالمستشرقين يكونون قد تأثروا بأفكار المستشرقين، إما بدراستهم في جامعات الغرب، أو جهلهم بحقائق التراث الإسلامي، وانخداعهم بالأسلوب العلمي المزعوم الذي يدَّعيه أولئك الخصوم.
ونظراً لما أثير حول السُنَّة من اعتراضات وشُبُهات في ثبوتها وحجيتها ورُواتها، ولما فشا الجهل وضعف الوازع الديني في النفوس غالباً، كان لا بد من دحض مفترياتهم وكشف شُبُهاتهم حتى لا يتأثر بها ضعفاء المؤمنين من العامة الذين ليس لهم كبير إلمام بالعلم ولاسيما بالسُنَّة وعلومها.
وهذا ما حفزني على الإدلاء بدلوي بين الدلاء والكتابة فيه، إسهاماً متواضعاً في الذود عن رياض السُنَّة وعلومها، وقد جعلت الموضوع في ستة أبواب كالآتي:
الباب الأول: (السُنَّة وما إليها).
وفيه أربعة فصول:
1ـ تعريف السُنَّة.
2ـ مكانة السُنَّة التشريعية.
3ـ حُجِيَّة السُنَّة.
4ـ جهود العلماء لحفظ السُنَّة.
الباب الثاني: (نظرة سريعة عن مُنْكِرِي السُنَّة قديماً).
وفيه ثلاثة فصول:
এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ইসলামি ইতিহাস, এর বিধান এবং এর বার্তার বিষয়ে মিথ্যা ও প্রবঞ্চনার সাথে কেবল প্রাচ্যবিদরাই লিপ্ত নয়—তা সে অসদুদ্দেশ্যেই হোক বা ভুল বুঝাবুঝির কারণেই হোক—বরং আরব ও মুসলিমদের মধ্য থেকে পাশ্চাত্য ভাবধারায় প্রভাবিত এক বিশাল গোষ্ঠীও এই অন্যায় ও যন্ত্রণাদায়ক কর্মকাণ্ডে তাদের সাথে শরিক হয়েছে।
প্রাচ্যবিদদের দ্বারা প্রতারিত হওয়া এই মুসলিমদের অধিকাংশই তাদের চিন্তাধারার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে; হয় পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নের কারণে, নতুবা ইসলামি ঐতিহ্যের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে, এবং সেই প্রতিপক্ষদের দাবি করা তথাকথিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মোহে পড়ার কারণে।
সুন্নাহর বিশুদ্ধতা, প্রামাণিকতা এবং এর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে যেসব আপত্তি ও সংশয় উত্থাপন করা হয়েছে, এবং বর্তমানে মানুষের অন্তরে সাধারণত অজ্ঞতার প্রসার ও ধর্মীয় চেতনার দুর্বলতা দেখা দেওয়ার প্রেক্ষিতে, তাদের এই মিথ্যা অপবাদসমূহ খণ্ডন করা এবং সংশয়গুলো উন্মোচন করা আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। যাতে করে সাধারণ স্তরের দুর্বল ঈমানদাররা এর দ্বারা প্রভাবিত না হয়, যাদের ইলম সম্পর্কে এবং বিশেষ করে সুন্নাহ ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ সম্পর্কে বিশেষ কোনো ধারণা নেই।
আর এটিই আমাকে এই ময়দানে কলম ধরতে এবং এই বিষয়ে লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যা সুন্নাহর উদ্যান ও এর ইলমসমূহকে রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বিনম্র অবদান। আমি বিষয়টিকে নিম্নোক্ত ছয়টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: (সুন্নাহ ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি)।
এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
১. সুন্নাহর সংজ্ঞা।
২. শরিয়তে সুন্নাহর অবস্থান।
৩. সুন্নাহর প্রামাণিকতা।
৪. সুন্নাহ সংরক্ষণে ওলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: (অতীতের সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা)।
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ৬)
1 - السُنَّة والخوارج.
2 - السُنَّة والشيعة.
3 - السُنَّة والمعتزلة.
الباب الثالث: (السُنَّة ومُنْكروها حديثاً) عرض - وتحليل.
وفيه ستة فصول:
1 - السُنَّة والمستشرقون.
2 - السُنَّة والدكتور توفيق صدقي.
3 - السُنَّة والأستاذ أحمد أمين.
4 - السُنَّة ومحمود أبي رية.
5 - السُنَّة والدكتور أحمد زكي أبو شادي.
6 - السُنَّة ومنكروها في القارة الهندية.
الباب الرابع: (شُبُهات مُنكري السُنَّة).
وفيه فصلان:
1 - شُبُهَات مُنْكِرِي السُنَّة عموماً.
2 - شُبُهَات أهل القرآن في القارة الهندية.
الباب الخامس: اعتراضات من مُنْكِرِي السُنَّة.
الباب السادس: أمثلة من الأحاديث الصحيحة تعرضت لنقد مُنْكِرِي السُنَّة.
هذا وقد راعيت الجانب العلمي في البحث، فخرَّجت الأحاديث، وشرحت معاني الجمل - إذ رأيت المقام يقتضي ذلك - وناقشت الشُبُهَات بأسلوب علمي هادئ رصين، ومقارعة الحُجَّة بالحُجَّةِ، من غير إسفاف بحث فيه مقتنع لكل ذي لب وإنصاف.
والله المسؤول أنْ يوفِّقني لخدمة السُنَّة المطهرة والعمل بها، وهو المرجو أنْ يتقبل عملي ويجزل أجري ويعفو عن سيئاتي، ويستر عوراتي وعيوبي، فإنه هو الغفور الرحيم.
1 - সুন্নাহ এবং খাওয়ারিজগণ।
2 - সুন্নাহ এবং শিয়ারা।
3 - সুন্নাহ এবং মুতাজিলারা।
তৃতীয় অধ্যায়: (সুন্নাহ এবং আধুনিক যুগে এর অস্বীকারকারীরা) উপস্থাপনা ও বিশ্লেষণ।
এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
1 - সুন্নাহ এবং প্রাচ্যবিদগণ।
2 - সুন্নাহ এবং ডক্টর তাওফিক সিদকী।
3 - সুন্নাহ এবং অধ্যাপক আহমদ আমিন।
4 - সুন্নাহ এবং মাহমুদ আবু রাইয়্যাহ।
5 - সুন্নাহ এবং ডক্টর আহমদ জাকি আবু শাদি।
6 - সুন্নাহ এবং ভারতীয় উপমহাদেশে এর অস্বীকারকারীরা।
চতুর্থ অধ্যায়: (সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের সংশয়সমূহ)।
এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
1 - সাধারণভাবে সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের সংশয়সমূহ।
2 - ভারতীয় উপমহাদেশের 'আহলে কুরআন' অনুসারীদের সংশয়সমূহ।
পঞ্চম অধ্যায়: সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত আপত্তি।
ষষ্ঠ অধ্যায়: সহিহ হাদিসসমূহের কিছু উদাহরণ যা সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের সমালোচনার শিকার হয়েছে।
এক্ষেত্রে আমি গবেষণায় বৈজ্ঞানিক দিকটি বজায় রেখেছি; তাই আমি হাদিসসমূহের তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করেছি এবং বাক্যের অর্থসমূহ ব্যাখ্যা করেছি—যেখানে স্থানটি এর দাবি রাখে। আমি শান্ত ও বলিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংশয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এবং যুক্তির বিপরীতে যুক্তি উপস্থাপন করেছি, কোনো প্রকার অসারতা ছাড়াই; এতে প্রতিটি বুদ্ধিমান ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির জন্য সন্তোষজনক উপাদান রয়েছে।
আর আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে পবিত্র সুন্নাহর সেবা করার এবং সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। তাঁর নিকটই আশা রাখি যে তিনি আমার কাজ কবুল করবেন, আমার প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন, আমার পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং আমার দোষ-ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখবেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ৭)
وأختم كلمتي بدعوة الإمام ابن الجوزي رحمه الله إذ يقول: اللهم لا تعذب لساناً يخبر عنك، ولا عيناً تنظر إلى علوم تدل عليك، ولا قدماً تمشي إلى خدمتك، ولا يداً تكتب حديث رسولك، فبعزتك لا تدخلني النار، فقد علم أهلها أني كنت أذب عن دينك، اللهم آمين.
وصل الله على سيدنا محمد وآله وأصحابه وسلم تسليماً كثيراً ..
طيبة الطيبة في 29/ 9 / 1401 هـ
خادم الكتاب والسُنَّة
محمد طاهر حكيم
وفَّقه الله
আমি ইমাম ইবনুল জাওযী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর দুআ দিয়ে আমার বক্তব্যের ইতি টানছি, যেখানে তিনি বলেছেন: হে আল্লাহ! আপনি এমন জিহ্বাকে আযাব দেবেন না যা আপনার সম্পর্কে সংবাদ দেয়, এমন চোখকে আযাব দেবেন না যা আপনার দিকে পথপ্রদর্শনকারী ইলমসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করে, এমন পা-কে আযাব দেবেন না যা আপনার খিদমতে ধাবিত হয়, এবং এমন হাতকে আযাব দেবেন না যা আপনার রাসূলের হাদীস লিপিবদ্ধ করে। আপনার ইজ্জতের কসম! আমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন না; কেননা জাহান্নামবাসীরা জানে যে আমি আপনার দ্বীনের প্রতিরক্ষা করতাম। হে আল্লাহ, কবুল করুন।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক..
পবিত্র মদিনা, ২৯/ ৯ / ১৪০১ হিজরী
কিতাব ও সুন্নাহর খাদেম
মুহাম্মদ তাহের হাকীম
আল্লাহ তাকে তাওফীক দান করুন
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ৯)
الباب الأول: (السُنَّة وما إليها):وفيه أربعة فصول
1 - تعريف السُنَّة.
2 - مكانة السُنَّة التشريعية.
3 - حُجيَّة السُنَّة.
4 - جهود العلماء لحفظ السُنَّة.
يشتمل هذا الباب على بيان حقيقة السُنَّة ومعناها ومنزلتها في التشريع الإسلامي وحُجيَّتها في كافة الشؤون الدينية والاجتماعية والأخلاقية .. ونبذة من جهود العلماء التي بذلوها لحفظ السُنَّة في كلمات مختصرة. وكان لا بد منه إذ كيف يمكن الدفاع عن شيء قبل بيان حقيقته ومكانته والجهود التي بذلت في سبيل الحفاظ عليه.
প্রথম পরিচ্ছেদ: (সুন্নাহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি):এতে রয়েছে চারটি অনুচ্ছেদ
১ - সুন্নাহর পরিচিতি।
২ - শরিয়তে সুন্নাহর অবস্থান।
৩ - সুন্নাহর প্রামাণিকতা।
৪ - সুন্নাহ সংরক্ষণে আলেমদের প্রচেষ্টাসমূহ।
এই পরিচ্ছেদে সুন্নাহর প্রকৃত স্বরূপ, এর অর্থ, ইসলামি শরিয়তে এর মর্যাদা এবং সকল ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক বিষয়ে এর প্রামাণিকতার বর্ণনা রয়েছে... সেই সাথে সুন্নাহ সংরক্ষণে আলেমদের ব্যয়িত প্রচেষ্টার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। আর এটি অপরিহার্য ছিল, কেননা কোনো বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ, মর্যাদা এবং তা সংরক্ষণের নিমিত্তে ব্যয়িত প্রচেষ্টা বর্ণনা করার পূর্বে কীভাবে সেই বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিরক্ষা করা সম্ভব?
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الأول: تعريف السُنَّة:السُنَّة لغة: الطريقة، كذا في " القاموس " (1) و " اللسان " (2).
ومنه قوله تعالى: {سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا} (3).
وقوله: {سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ رُسُلِنَا وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلًا} (4).
قال ابن كثير: {سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا}: أي هكذا عادتنا في الدين كفروا برسلنا (5).
ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: «لتتبعن سنن من كان قبلكم» (6)
ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: «أَتَرْغَبُونَ عَنْ سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟» (7). أي عن طريقة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: সুন্নাহর সংজ্ঞা:শাব্দিক অর্থে সুন্নাহ: পদ্ধতি, 'আল-কামূস' (১) এবং 'আল-লিসান' (২)-এ এমনটিই বলা হয়েছে।
এর অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর এ বিধান পূর্ব থেকেই চলে আসছে, আর আপনি আল্লাহর বিধানে কোনো পরিবর্তন পাবেন না} (৩)।
এবং তাঁর বাণী: {আপনার পূর্বে আমি যেসব রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, এটি ছিল তাদের ক্ষেত্রে অনুসৃত নিয়ম। আর আপনি আমার নিয়মের কোনো পরিবর্তন পাবেন না} (৪)।
ইবনে কাসীর বলেন: {আপনার পূর্বে আমি যাদের রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছি তাদের নিয়ম}: অর্থাৎ যারা আমাদের রাসূলদের প্রতি কুফরি করেছে, তাদের ক্ষেত্রে আমাদের নিয়ম এমনই ছিল (৫)।
এর অন্তর্ভুক্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে" (৬)।
এর অন্তর্ভুক্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে বিমুখ হচ্ছ?" (৭)। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদ্ধতি থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقوله: «أَرْبَعٌ مِنْ سُنَنِ الْمُرْسَلِينَ» (1) أي من طريقتهم.
ويستخلص من النصوص السابقة أنَّ الكلمة استعملت بمعنى الطريقة والمادة.
والسُنَّة في اصطلاح المحدثين: «ما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خلقية أو خلقية أو سيرة سواء كان قبل البعثة أو بعدها» (2).
وأما الأصوليون فالسنة عندهم: «ما صدر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير (3) من غير القرآن الكريم».
وثمة إطلاق آخر في الفقه وهو ما يقابل الفرض فيقال: هذه سُنَّة وليس بواجب وليس بفرض.
السُنَّة عند المستشرقين:قال شاخت: «إنَّ النظرة الكلاسيكية للفقه الإسلامي تُعَرِّف السُنَّةَ بأفعال النبي صلى الله عليه وسلم المثالية، وفي هذا المفهوم يستعمل الشافعي كلمة السُنَّة وعنده أنَّ " السُنَّة " أو " سُنَّة الرسول " صلى الله عليه وسلم كلمتان مترادفتان لكن معنى السُنَّة - على وجه الدقة - إنما هو النظائر السابقة ( Precedent) ومنهج للحياة».
ويقول: «إنَّ مفهوم السُنَّة في المجتمع الإسلامي في العصر الأول كان: الأمر العرفي أو الأمر المجتمع عليه».
ولقد وضَّح جولدتسيهر «إنها مصطلح وثني في أصله وإنما تبنَّاهُ واقتبسه الإسلام».
--------------------------------------------
এবং তাঁর বাণী: "চারটি বিষয় রাসূলগণের সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত" (১) অর্থাৎ তাঁদের পদ্ধতি থেকে।
পূর্বোক্ত পাঠ্যসমূহ থেকে এই নির্যাস পাওয়া যায় যে, শব্দটি পদ্ধতি ও মূল উপাদান অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় সুন্নাহ হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত কথা, কাজ, মৌনসম্মতি, শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কিংবা জীবনী, যা নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে বা পরে সংঘটিত হয়েছে" (২)।
আর উসুলবিদগণের নিকট সুন্নাহ হলো: "আল-কুরআনুল কারীম ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা কিছু কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে" (৩)।
ফিকহ শাস্ত্রে এর আরেকটি প্রয়োগ রয়েছে যা ফরজের বিপরীত; ফলে বলা হয়: এটি সুন্নাহ, এটি ওয়াজিব নয় এবং ফরজও নয়।
প্রাচ্যবিদদের নিকট সুন্নাহ:শ্যাখত বলেছেন: "ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের ধ্রুপদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্নাহকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শিক কার্যাবলি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। এই ধারণায় শাফিঈ সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহার করেন এবং তাঁর নিকট 'সুন্নাহ' বা 'রাসূলের সুন্নাহ' সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শব্দ দুটি সমার্থক। তবে সুনির্দিষ্টভাবে সুন্নাহর অর্থ হলো নজির (Precedent) এবং জীবনপদ্ধতি।"
তিনি বলেন: "প্রথম যুগের ইসলামি সমাজে সুন্নাহর ধারণা ছিল: প্রথাগত বিষয় বা সর্বসম্মত বিষয়।"
গোল্ডজিহার স্পষ্ট করেছেন যে, "এটি মূলত একটি পৌত্তলিক পরিভাষা যা ইসলাম গ্রহণ ও আত্মস্থ করেছে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال مارغوليوث: «إنَّ معنى السُنَّة في صدر الإسلام: ما كان عُرفاً مألوفاً» (1).
إنَّ قوله هذا لا يستند إلى دليل وهو واهي في غاية الوهاء لأنَّ النبي صلى الله عليه وسلم كان مُشَرِّعاً بالوحي الإلهي لا مُقلداً للأعراف الجاهلية لأنه لم يكن ثم أي عرف قبل تشريع النبي صلى الله عليه وسلم الأحكام بالوحي الإلهي إلَاّ الأعراف الجاهلية، ومحال أنْ يتَّبع النبي صلى الله عليه وسلم الأعراف الجاهلية بَدَلَ الوحي الإلهي، وفساد كلامه ظاهر مستغن من الإطالة في ردِّه.
وأما قول شاخت أنَّ السُنَّة: «إنما هي النظائر السابقة» فلم تكن ثم قبل زمان النبي صلى الله عليه وسلم إلَاّ الجاهلية البحتة لأنَّ شريعة - موسى وعيسى - عَلَيْهِمَا الصَلَاةُ وَالسَّلَامُ - كانتا حُرِّفَتَا ومُسِخَتَا ولم يبق أي عمل من شرائع الأنبياء السابقة إلَاّ بعض أفعال الحج وتوحيد الله سبحانه وتعالى.
وخلاصة القول: إنَّ السُنَّة معناها في اللغة - الطريقة والعادة حسنة كانت أم سيئة، وقد استعملها الإسلام في معناها اللغوي ثم خصَّصها بطريق النبي صلى الله عليه وسلم.
ومن ناحية أخرى فإنَّ هذه الكلمة لم تكن مصطلحاً وثنياً قط ولم يكن يقصد بها عند المسلمين عُرف المجتمع. اهـ.
--------------------------------------------
মারগোলিউথ বলেছেন: "ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে সুন্নাহর অর্থ ছিল: যা ছিল পরিচিত রীতিনীতি" (১)।
তার এই উক্তিটি কোনো প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং এটি অত্যন্ত দুর্বল। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐশী ওহীর মাধ্যমে বিধান প্রদাতা ছিলেন, জাহেলী রীতিনীতির অন্ধ অনুসারী ছিলেন না। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐশী ওহীর মাধ্যমে বিধানাবলী প্রবর্তনের পূর্বে জাহেলী রীতিনীতি ছাড়া অন্য কোনো প্রথা বিদ্যমান ছিল না। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষে ঐশী ওহীর পরিবর্তে জাহেলী রীতিনীতির অনুসরণ করা অসম্ভব। তার এই বক্তব্যের অসারতা অত্যন্ত স্পষ্ট, যা খণ্ডন করার জন্য দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই।
আর শখ্ত্ (Schacht)-এর এই বক্তব্য যে, সুন্নাহ: "কেবল তা পূর্ববর্তী দৃষ্টান্তসমূহ"—এর উত্তরে বলা যায় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ের পূর্বে নিছক জাহেলিয়াত ছাড়া আর কিছুই ছিল না। কারণ মূসা ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর শরীয়তসমূহ বিকৃত ও পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল এবং পূর্ববর্তী নবীদের শরীয়তের কোনো আমলই অবশিষ্ট ছিল না, কেবল হজের কিছু কার্যাবলি এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তাওহীদ ব্যতীত।
কথার সারকথা হলো: অভিধানে সুন্নাহর অর্থ হলো—পদ্ধতি ও অভ্যাস, চাই তা ভালো হোক বা মন্দ। ইসলাম একে তার আভিধানিক অর্থে ব্যবহার করেছে, অতঃপর একে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পন্থার জন্য নির্দিষ্ট করেছে।
অন্যদিকে, এই শব্দটি কখনো পৌত্তলিক পরিভাষা ছিল না এবং মুসলমানদের নিকট এর দ্বারা সমাজের রীতিনীতি উদ্দেশ্য ছিল না। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الثاني: مكانة السُنَّة التشريعية:القرآن الكريم هو المصدر التشريعي الأول في الإسلام، والسُنَّة هي المصدر الثاني لأنها مُبيِّنة لأحكامه موضحة لإبهامه ومُخصِّصة لإطلاقه ومشرحة لأحكامه وأهدافه. قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (1).
وقال: {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (2).
والرسول صلى الله عليه وسلم كما خُصَّ بالوحي المتلو وهو القرآن الكريم كذلك خُصَّ بالوحي غير المتلو وهو السُنَّة، لا مندوحة عن اتباعها، قال تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} (3).
وقال صلى الله عليه وسلم: «أَلَا إِنِّى أُوتِيتُ القُرْآنَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ» (4). وهو السُنَّة.
قال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (5).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: সুন্নাহর বিধানিক মর্যাদা:পবিত্র কুরআন হলো ইসলামের প্রথম বিধানিক উৎস, আর সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় উৎস; কারণ এটি কুরআনের বিধিবিধানের ব্যাখ্যা প্রদানকারী, এর অস্পষ্ট বিষয়াবলি স্পষ্টকারী, এর সাধারণ বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্টকারী এবং এর বিধান ও উদ্দেশ্যসমূহকে বিশ্লেষণকারী। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} (১)।
তিনি আরও বলেন: {আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি কেবল একারণে যে, তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আপনি তা তাদের নিকট স্পষ্ট করে দেবেন এবং এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত} (২)।
আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেভাবে পঠিত ওহী অর্থাৎ পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন, তেমনি তিনি অপঠিত ওহী অর্থাৎ সুন্নাহর মাধ্যমেও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন; যা অনুসরণ করা ব্যতীত গত্যন্তর নেই। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়} (৩)।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জেনে রেখো, আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে» (৪)। আর তা হলো সুন্নাহ।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد قرن الله طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم بطاعته في آيات كثيرة من القرآن الكريم، قال تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} (1).
وألزم اتباعه عن طيب القلب تسليماً وانقياداً - فقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ} (2).
واعتبر طاعته طاعة لله واتباعه حُباً لله {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} (3)
وقال: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (4).
وحذَّرَ من مخالفة أمره: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (5).
ولم يسوِّغ للمؤمنين مطلقاً أنْ يخالفوه في شيء كائناً ما كان فقال: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} (6).
وقد بيَّنتْ السُنَّة القرآن من وجوه فبيَّنت ما أجمل من عبادات وأحكام فقد فرض الله الصلاة على المؤمنين من غير أنْ يُبيِّنَ أوقاتها وأركانها وعدد ركعاتها فبَيَّنَ الرسول الكريم هذا بصلاته وتعليم المسلمين كيفية الصلاة فقال: «صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي» (7).
--------------------------------------------
আল্লাহ পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যকে তাঁর নিজের আনুগত্যের সাথে যুক্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমাদের ওপর রহমত করা হয়} (১)।
এবং পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও বশ্যতা স্বীকার করে সন্তুষ্ট চিত্তে তাঁর অনুসরণকে আবশ্যক করেছেন। তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ, আল্লাহ ও রাসূল যখন তোমাদের এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে, তখন তোমরা তাতে সাড়া দাও} (২)।
এবং তাঁর আনুগত্যকে আল্লাহরই আনুগত্য এবং তাঁর অনুসরণকে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা হিসেবে গণ্য করেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} (৩)
তিনি আরও বলেছেন: {বলো, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু} (৪)।
এবং তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে সতর্ক করেছেন: {সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় আসতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হতে পারে} (৫)।
এবং তিনি মুমিনদের জন্য কোনোভাবেই কোনো বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করা বৈধ করেননি, তা যাই হোক না কেন। তিনি বলেছেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দ খাটানোর অবকাশ নেই} (৬)।
আর সুন্নাহ বিভিন্নভাবে কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। এটি ইবাদত ও বিধিবিধানের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিশদ বিবরণ দিয়েছে। যেমন, আল্লাহ মুমিনদের ওপর সালাত ফরজ করেছেন কিন্তু এর সময়সূচি, রুকনসমূহ এবং রাকাত সংখ্যা বর্ণনা করেননি। ফলে সম্মানিত রাসূল তাঁর সালাত আদায় এবং মুসলিমদের সালাতের পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে এটি সুস্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন: «তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ» (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وفرض الله الحج من غير أنْ يُبيِّن جميع مناسكه وجملة أحكامه، وقد بيَّنَ الرسول الكريم عليه الصلاة والسلام تلك المناسك المُجملة وكيفيتها وقال: «خُذُوا عَنِّى مَنَاسِكَكُمْ» (1).
وفرض الزكاة من غير أنْ يُبيِّنَ ما تجب فيها من أموال وعروض وزُرُوع كما لم يُبَيِّنْ النصاب الذي تجب فيه، فبَيَّنَتْ ذلك كله.
«وفي السُنَّةِ أحكام لم يَنُصَّ عليها الكتاب وليست بيانًا له ولا تطبيقًا مؤكدًا لما نَصَّ عليه كتحريم الحُمُرِ الأهلية وكل ذي ناب من السباع وتحريم نكاح المرأة على عمَّتِها أو خالتها» (2).
فخلاصة القول - أنَّ السُنَّة مصدر تشريعي مُهِمٌّ لا بد منه وأنها صِنْوُ الكتاب تسايره في الأحكام والتشريع على السواء وإنها لا يمكن الاستغناء عنها ولا يمكن فصل السُنَّة عن الكتاب بحال من الأحوال ولذلك قال الشافعي: «فكل من قبل عن الله فرائضه، قبل عن رسول الله سُنَّته، بفرض الله طاعة رسوله صلى الله عليه وسلم على خلقه، وأنْ ينتهُوا إلى حكمه. ومن قبل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فعن الله قبل، لما افترض الله من طاعته» (3).
--------------------------------------------
আল্লাহ হজকে ফরজ করেছেন এর সমস্ত বিধি-বিধান ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আহকাম বর্ণনা করা ছাড়াই। আর মহান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সংক্ষিপ্ত বিধি-বিধান ও তার পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: «তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলী গ্রহণ করো» (১)।
তিনি জাকাত ফরজ করেছেন কোন কোন সম্পদ, পণ্য ও ফসলে তা ওয়াজিব হবে—তা বর্ণনা করা ছাড়াই, যেমন তিনি এর নিসাবও বর্ণনা করেননি যে কতটুকুতে তা ওয়াজিব হবে। অতঃপর সুন্নাহ এই সবকিছু বর্ণনা করেছে।
«আর সুন্নাহর মধ্যে এমন কিছু বিধান রয়েছে যা কিতাবে (কুরআনে) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি এবং সেগুলো কিতাবের ব্যাখ্যাস্বরূপ নয় কিংবা কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তার কোনো তাকিদমূলক প্রয়োগও নয়। যেমন: গৃহপালিত গাধা ও ছেদনদন্ত বিশিষ্ট সকল হিংস্র প্রাণী হারাম করা এবং কোনো নারীকে তার ফুফু বা খালার সাথে একত্রে বিবাহ করা হারাম হওয়া» (২)।
সারসংক্ষেপ হলো— সুন্নাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য বিধানিক উৎস এবং এটি কিতাবের (কুরআনের) যমজ সদৃশ যা আহকাম ও বিধান প্রণয়নে সমান্তরালভাবে চলে। এটি ছাড়া চলা অসম্ভব এবং কোনো অবস্থাতেই সুন্নাহকে কিতাব থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। একারণেই ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: «সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ফরজকৃত বিধানসমূহ গ্রহণ করল, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাঁর সুন্নাহকেও গ্রহণ করল। কেননা আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা এবং তাঁর ফয়সালার দিকে ফিরে আসা ফরজ করেছেন। আর যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কোনো বিধান গ্রহণ করল, সে মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই তা গ্রহণ করল, কারণ আল্লাহ তাঁর আনুগত্য ফরজ করেছেন» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الفصل الثالث: حُجِيَّةُ السُنَّة:اتفق العلماء الذين يُعْتَدُّ بهم قاطبة على حُجِيَّةِ السُنَّةِ. قال الشوكاني: «إنَّ ثُبُوتَ حُجِّيَّةِ السُّنَّةِ الْمُطَهَّرَةِ وَاسْتِقْلَالَهَا بِتَشْرِيعِ الأَحْكَامِ ضَرُورَةٌ دِينِيَّةٌ وَلَا يُخَالِفُ فِي ذَلِكَ إِلَاّ مَنْ لَا حَظَّ لَهُ فِي دِينِ الإِسْلَامِ» (1).
والقرآن والسُنَّة وإجماع الأمَّة مطبقة على لزوم أتباع السُنَّة، قال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} (2).
وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ} (3).
قال ميمون بن مهران: «الردُّ إلى الله هو الرجوع إلى كتابه وَالرَدُّ إلى الرسول هو الرجوع إليه في حياته وإلى سُنَّتِهِ بعد وفاته» وقال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (4).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রামাণ্যতা:গ্রহণযোগ্য সকল আলেম সর্বসম্মতিক্রমে সুন্নাহর প্রামাণ্যতার বিষয়ে একমত হয়েছেন। শাওকানী বলেছেন: «পবিত্র সুন্নাহর প্রামাণ্যতা সাব্যস্ত হওয়া এবং বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে এর স্বকীয়তা থাকা একটি ধর্মীয় অপরিহার্যতা; ইসলাম ধর্মে যার কোনো অংশ নেই, সে ছাড়া অন্য কেউ এর বিরোধিতা করে না» (১)।
কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মাহর ইজমা সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যিকতার বিষয়ে একমত। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন} (২)।
তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রাসূলের আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা কর্তৃত্বশীল তাদের। এরপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো} (৩)।
মায়মুন ইবনে মিহরান বলেন: «আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া মানে তাঁর কিতাবের দিকে ফিরে যাওয়া, আর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া মানে তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর কাছে ফিরে যাওয়া এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সুন্নাহর দিকে ফিরে যাওয়া।» মহান আল্লাহ আরও বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فقد جعل سبحانه أمر رسوله واجب الاتِّباع ونهيُهُ واجب الانتهاء عنه، وهذه الآية تعتبر أصلاً لكل ما جاءت السُنَّة به مِمَّا لم يَرِدْ له ذكر في القرآن وعلى هذا الدرب صار من جاء بعد الصحابة من أئمة العلم والدين. فقد ذكر ابن عبد البر في كتاب " العلم " له عن عبد الرحمن بن يزيد: «أَنَّهُ رَأَى مُحْرِمًا عَلَيْهِ ثِيَابُهُ، فَنَهَى الْمُحْرِمَ، قَالَ: ائْتِنِي بِآيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ تَنْزِعُ بِهَا ثِيَابِي، فَقَرَأَ عَلَيْهِ {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7]».
وقال عليه الصلاة والسلام: «عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ مِنْ بَعْدِي عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ» (1).
وقال: «تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ، لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللهِ ، وَسُنَّتِي» (2).
وقال البيهقي: «لولا ثبوت الحُجَّة بالسُنَّة لما قال صلى الله عليه وسلم في خطبته بعد تعليم من شهدها أمر دينهم: " فَلْيُبْلِغْ الشَّاهِدُ مِنْكُمْ الْغَائِبَ، فَرُبَّ مُبَلِّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ "» (3).
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের নির্দেশ পালন করা ওয়াজিব করেছেন এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকাকে ওয়াজিব করেছেন। এই আয়াতটি সুন্নাহর মাধ্যমে আগত প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয় যা কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি। সাহাবীগণের পরবর্তী ইলম ও দ্বীনের ইমামগণ এই পথেই চলেছেন। ইবনে আবদিল বার তাঁর 'আল-ইলম' কিতাবে আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদ থেকে উল্লেখ করেছেন: «তিনি এক ইহরাম পরিহিত ব্যক্তিকে সাধারণ পোশাক পরিহিত দেখলেন। তিনি সেই মুহরিমকে (ইহরামকারী) নিষেধ করলেন। সে বলল: আল্লাহর কিতাব থেকে আমার কাছে এমন একটি আয়াত নিয়ে আসুন যার মাধ্যমে আপনি আমার পোশাক খুলিয়ে দেবেন। তখন তিনি তাকে পাঠ করে শোনালেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [হাশর: ৭]»।
এবং তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: «তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরে হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। একে তোমরা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো» (১)।
তিনি আরও বলেছেন: «আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় ছেড়ে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা আঁকড়ে ধরবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ» (২)।
ইমাম বাইহাকী বলেছেন: «সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল প্রতিষ্ঠিত হওয়া যদি সাব্যস্ত না হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপস্থিত ব্যক্তিদের দ্বীনি বিষয় শিক্ষা দেওয়ার পর তাঁর খুতবায় বলতেন না: "তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছ তারা যেন অনুপস্থিতদের নিকট পৌঁছে দেয়। কেননা যাকে পৌঁছানো হবে সে হয়তো সরাসরি শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হবে"» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ثم أورد حديث: «نَضَّرَ اللهُ امْرُءًا سَمِعَ مِنَّا حَدِيثاً فَأَدَّاهُ كَمَا سَمِعَهُ، فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ» (1).
قال الشافعي: «فلما ندب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى استماع مقالته وحفظها ، وأدائها، دَلَّ على أنه لا يأمر أنْ يُؤَدَّى عنه إلَاّ ما تقوم به الحُجَّةُ على من أدَّى إليه لأنه إنما يُؤَدَّى عنه حلال يُؤْتَى وحرام يُجْتَنَبُ وَحَدٌّ يُقَامُ ومالٌ يُؤْخَذُ ويُعْطَى في دين ودنيا.
ثم أورد البيهقي حديث أبي رافع قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَةٍ يَأْتِيهِ الأَمْرُ مِنْ أَمْرِي، مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، مَا وَجَدْنَا فِى كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَاهُ» (2).
وفي حديث المقداد أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم حَرَّمَ أشياء يوم خيبر: الحمار الأهلي وغيره ثم قال: «يُوشِكُ الرَجُلُ مُتَّكِئًا عَلى أرِيكَتِهِ، يُحَدِّثُ بَحَدِيث مِنْ حَدِيثي فَيَقُولُ: بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللهِ، فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَال اسْتَحْلَلْنَاهُ، ومَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ، أَلَا وَإنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللهِ مِثْلُ مَا حَرَّم اللهُ» (3).
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই অন্যের কাছে পৌঁছে দিল। কেননা অনেক সময় যার কাছে পৌঁছানো হয় সে মূল শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে» (১)।
ইমাম শাফিঈ বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর বাণী শ্রবণ করা, তা মুখস্থ রাখা এবং তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন, তখন এটি প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কেবল এমন কিছু পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন না যা দ্বারা সেই ব্যক্তির ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না যার কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কারণ তাঁর পক্ষ থেকে যা পৌঁছে দেওয়া হয় তা হলো এমন হালাল যা পালন করতে হয়, এমন হারাম যা পরিহার করতে হয়, এমন দণ্ডবিধি যা কার্যকর করতে হয় এবং এমন সম্পদ যা ধর্মীয় ও জাগতিক বিষয়ে গ্রহণ করতে হয় অথবা প্রদান করতে হয়।»
অতঃপর ইমাম বায়হাকি আবু রাফে-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি যেন তোমাদের কাউকেও তার সিংহাসনে বা সোফায় হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ এল—যা আমি আদেশ করেছি অথবা নিষেধ করেছি—আর সে তখন বলে ওঠে: 'আমি জানি না, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি শুধু তারই অনুসরণ করেছি'» (২)।
এবং মিকদাদের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের দিন কিছু বিষয় হারাম করেছিলেন: গৃহপালিত গাধা এবং আরও কিছু। অতঃপর তিনি বলেন: «এমন সময় নিকটবর্তী যে, কোনো ব্যক্তি তার সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার কাছে আমার হাদিসসমূহের কোনো একটি বর্ণনা করা হবে আর সে বলবে: 'আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট, তাতে আমরা যা হালাল পাব তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং যা হারাম পাব তা-ই হারাম হিসেবে গ্রহণ করব'। জেনে রেখো, রাসূলুল্লাহ যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের মতোই» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ثم قال البيهقي: «وهذا خبر من رسول الله صلى الله عليه وسلم عما يكون من بعده من رَدِّ المبتدعة فوجد تصديقه فيما بعده» (1).
ثمَّ أخرج الْبَيْهَقِيّ بِسَنَدِهِ عَنْ شَبِيبٍ بْنِ أَبِي فُضَالَةَ الْمَكِّيّ: «أََنَّ عِمْرَاَنَ بْنَ حُصَيْن - رَضِيَ اللهُ - عَنهُ ذكر الشَّفَاعَة فَقَالَ رجل من الْقَوْم: يَا أَبَا نَجِيدٍ إِنَّكُم تُحَدِّثُونَا بِأَحَادِيثَ لَمْ نَجِدْ لَهَا أَصْلاً فِي القُرْآنِ، فَغَضِبَ عِمْرَان وَقَالَ لِلْرَّجُلِ: قََرَأْتَ الْقُرْآن؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فََهَْل وَجَدْتَ فِيهِ صَلَاةَ العِشَاءِ أََرْبَعًا وَوَجَدْتَ المَغْرِبَ ثَلَاثًا وَالغَدَاةَ رَكْعَتَيْنِ وَالظّهْرَ أَرْبَعًا وَالعَصْرَ أَرْبَعًا؟ قَالَ: لَا: قَالَ. فَعَنْ مَنْ أَخَذْتُمْ ذَلِك، أَلَسْتُمْ عَنَّا أَخَذْتُمُوهُ وَأَخَذْنَاهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم؟ أَوَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ شَاةٍ شَاةً وَفِي كل كَذَا بَعِيرًا كَذَا وفى كُلِّ كَذَا دِرْهَماً كَذَا. قَالَ: لَا. قَالَ فَعَن من أَخَذْتُم ذَلِك؟ أَلَسْتُمْ عَنَّا أَخَذْتُمُوهُ وَأَخَذْنَاهُ عَن النَّبِِيِّ صلى الله عليه وسلم؟ وَقَالَ: أَوَجَدْتُمْ فِي الْقُرْآن: {وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ} (2) أَوَجَدْتُمْ فِيهِ فَطُوفُوا سَبْعاً وَارْكَعُوا رَكْعَتَيْنِ خَلْفَ المَقََامِ، أَوَجَدْتُمْ فِي الْقُرْآن: لَا جلب وَلَا جنب وَلَا شِغَارَ فِي الإِسْلَام؟ أَمَا سَمِعْتُمْ اللهَ قَالَ فِي كِتَابِهِ: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (3) قَالَ عِمْرَاَنُ: فَقَدْ أَخَذْنَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَشْيَاءَ لَيْسَ لَكُمْ بِهَا عِلْمٌ (4).
--------------------------------------------
অতঃপর বায়হাকী বলেন: «এটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে তাঁর পরবর্তী সময়ে বিদআতিদের প্রত্যাখানের বিষয়ে একটি সংবাদ, যার সত্যতা পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে» (১)।
অতঃপর বায়হাকী তাঁর সনদে শাবীব ইবনে আবী ফুযালাহ আল-মাক্কী থেকে বর্ণনা করেছেন: «ইমরান ইবনে হুসাইন - রাযিয়াল্লাহু আনহু - সুপারিশের কথা আলোচনা করলেন। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: হে আবু নাযীদ! আপনারা আমাদের এমন সব হাদীস শোনান যেগুলোর কোনো মূল ভিত্তি আমরা কুরআনে পাই না। তখন ইমরান রাগান্বিত হলেন এবং লোকটিকে বললেন: তুমি কি কুরআন পড়েছ? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে কি তুমি তাতে এশার সালাত চার রাকাআত, মাগরিব তিন রাকাআত, ফজরের সালাত দুই রাকাআত এবং যোহর চার রাকাআত ও আসর চার রাকাআত হওয়ার কথা পেয়েছ? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে কার থেকে তোমরা এসব গ্রহণ করেছ? তোমরা কি আমাদের থেকে তা গ্রহণ করোনি আর আমরা তা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর থেকে গ্রহণ করেছি? তুমি কি তাতে পেয়েছ যে প্রতি চল্লিশটি ছাগলে একটি ছাগল এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক উটে নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ দিরহামে নির্দিষ্ট পরিমাণ যাকাত? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে কার থেকে তোমরা এসব গ্রহণ করেছ? তোমরা কি আমাদের থেকে তা গ্রহণ করোনি আর আমরা তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর থেকে গ্রহণ করেছি? তিনি আরও বললেন: তোমরা কি কুরআনে পেয়েছ: {আর তারা যেন প্রাচীন গৃহের তাওয়াফ করে} (২)? তোমরা কি তাতে পেয়েছ যে সাতবার তাওয়াফ করো এবং মাকামের পেছনে দুই রাকাআত সালাত আদায় করো? তোমরা কি কুরআনে পেয়েছ যে: ইসলামে জালাব, জানাব এবং শিগার নেই? তোমরা কি শোনোনি আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন: {রসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (৩)? ইমরান বললেন: নিশ্চয়ই আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর থেকে এমন সব বিষয় গ্রহণ করেছি যে সম্পর্কে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই (৪)»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
حسب أهوائهم ونزعاتهم، وقد بحث في هذا الحديث بعض الأئمة فقال: عرضنا هذا الحديث الموضوع على كتاب الله فوجدناه مُخالفاً له لأنَّا وجدنا في كتاب الله: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (1).
ووجدنا فيه: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} (2).
ووجدنا فيه: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} (3).
وهكذا نرى أنَّ القرآن الكريم يُفَنِّدُ هذا الحديث ويَرُدُّهُ.
قال السيوطي: «فاعلموا رحمكم الله أَن من أنكر كَون حَدِيث النَّبِي صلى الله عليه وسلم قولاً كَانَ أَو فعلا بِشَرْطِهِ الْمَعْرُوف فِي الأُصُول حجَّة، كفر وَخرج عَن دَائِرَة الإِسْلَام وَحشر مَعَ الْيَهُود وَالنَّصَارَى، أَو مَعَ من شَاءَ الله من فرق الْكَفَرَة».
وروى الإمام الشافعي رضي الله عنه يوماً حديثاً وقال: إنه صحيح فقال له قائل: أَتَقُولُ بِهِ يَا أَبَا عَبْدَ اللهِ، فَاضْطَرَبَ وَقَالَ: يَا هَذَا أَرَأَيْتَنِي نَصْرَانِياً، أَرَأَيْتَنِي خَارِجاً من كَنِيسَةٍ، أَرَأَيْتَ فِي وَسَطِي زُنَّارًا؟ أَرْوِي حَدِيثَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا أَقُولُ بِهِ؟ (4) اهـ.
--------------------------------------------
তাদের খেয়ালখুশি ও ঝোঁক অনুযায়ী; কতিপয় ইমাম এই হাদীসটি নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং বলেছেন: আমরা এই বানোয়াট হাদীসটিকে আল্লাহর কিতাবের সামনে পেশ করেছি এবং এটিকে তার বিরোধী পেয়েছি। কারণ আমরা আল্লাহর কিতাবে পেয়েছি: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (১)।
এবং আমরা তাতে পেয়েছি: {বলো, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} (২)।
এবং আমরা তাতে পেয়েছি: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} (৩)।
এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, পবিত্র কুরআন এই হাদীসটিকে খণ্ডন করে এবং তা প্রত্যাখ্যান করে।
সুয়ূতী বলেন: «আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন, আপনারা জেনে রাখুন যে, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস—চাই তা কথা হোক বা কাজ, যা উসূলে (মূলনীতিতে) বর্ণিত পরিচিত শর্ত অনুযায়ী দলিল হিসেবে সাব্যস্ত—তা অস্বীকার করবে, সে কুফরী করল এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে গেল। তার হাশর হবে ইহুদি ও নাসারাদের সাথে অথবা কাফেরদের যে দলের সাথে আল্লাহ চাইবেন তাদের সাথে»।
ইমাম শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একদিন একটি হাদীস বর্ণনা করলেন এবং বললেন: এটি সহীহ। তখন জনৈক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি কি এ অনুযায়ী মত দেন? তিনি বিচলিত হয়ে বললেন: ওহে লোক, তুমি কি আমাকে খ্রিস্টান হিসেবে দেখছ? তুমি কি আমাকে গির্জা থেকে বের হতে দেখছ? তুমি কি আমার কোমরে যুননার (খ্রিস্টানদের বিশেষ বেল্ট) দেখছ? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনা করব আর তা মানব না? (৪) সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفصل الرابع: جهود العلماء لحفظ السُنَّة:أسلفنا في الفصلين السابقين - مكانة السُنَّة التشريعية وحُجية السُنَّة ونذكر في هذا الفصل بيذة من جهود العلماء من لدن الصحابة والتابعين لحفظ السُنَّة وصيانتها لِنُدَلِّلَ على أنَّ السُنَّة حظيت من أول يومها بسياج وحماية منقطعة النظير، وما ذلك إلَاّ لأنهم عرفوا منزلة السُنَّة وإنها المصدر التشريعي الأول بعد القرآن الكريم ولهذا اتبعوا كل سبيل يحفظ على السُنَّة نورها وبالغوا في التحري والتثبت في روايتها خشية الوقوع في الخطأ وخوفاً من أنْ يتسرَّب إليها التصحيف أو التحريف، بل إنَّ بعضهم فَضَّلَ الإقلال من الرواية، قال ابن قتيبة: «وَكَانَ عُمَرُ أَيْضًا شَدِيدًا عَلَى مَنْ أَكْثَرَ الرِّوَايَةَ، أَوْ أَتَى بِخَبَرٍ فِي الْحُكْمِ لَا شَاهِدَ لَهُ عَلَيْهِ. وَكَانَ يَأْمُرُهُمْ بِأَنْ يُقِلُّوا الرِّوَايَةَ، يُرِيدُ بِذَلِكَ: أَنْ لَا يَتَّسِع النَّاس فِيهَا، وَيَدْخُلُهَا الشَّوْبُ؛ وَيَقَعُ التَّدْلِيسُ وَالكَذِبُ مِنَ الْمُنَافِقِ وَالْفَاجِرِ وَالأَعْرَابِيِّ. وَكَانَ كَثِيرٌ مِنْ جُلَّةِ الصَّحَابَةِ، وَأَهْلِ الخَاصَّةِ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَبِي بَكْرٍ، وَالزُّبَيْرِ، وَأَبِي عُبَيْدَةَ، وَالْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، يُقِلُّون الرِّوَايَةَ عَنْهُ. بَلْ كَانَ بَعْضُهُمْ لَا يَكَادُ يَرْوِي شَيْئًا كَسَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ، وَهُوَ أَحَدُ الْعَشْرَةِ الْمَشْهُودِ لَهُمْ بِالجَنَّةِ» (1).
وكما احتاط السلف في التحديث احتاطوا وتثبَّتُوا في قبول الأخبار عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال الذهبي: «كَانَ أَبُو بَكْرٌ رضي الله عنه، أَوَّلَ مَنْ احْتَاطَ فِي قَبُولِ الأَخْبَارِ، فَرَوَى ابْنُ شِهَابٍ عَنْ قَبِيْصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ
--------------------------------------------
চতুর্থ অধ্যায়: সুন্নাহ সংরক্ষণে ওলামায়ে কিরামের প্রচেষ্টা:আমরা পূর্ববর্তী দুটি অধ্যায়ে সুন্নাহর বিধানগত মর্যাদা এবং সুন্নাহর প্রমাণ্যতা (হুজ্জিয়াত) সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এই অধ্যায়ে আমরা সুন্নাহর হেফাজত ও সুরক্ষায় সাহাবী এবং তাবিঈদের যুগ থেকে ওলামায়ে কিরামের প্রচেষ্টার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরব, যাতে এটি প্রমাণিত হয় যে, সুন্নাহ তার প্রথম দিন থেকেই নজিরবিহীন এক বেষ্টনী ও সুরক্ষা লাভ করেছে। এর কারণ কেবল এটাই ছিল যে, তাঁরা সুন্নাহর মর্যাদা জানতেন এবং জানতেন যে পবিত্র কুরআনের পর এটিই প্রথম আইনি উৎস। এই কারণেই তাঁরা সুন্নাহর জ্যোতি সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি পথ অনুসরণ করেছিলেন এবং ভুল হওয়ার ভয়ে এবং এতে কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তন যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁরা অধিকতর যাচাই-বাছাই ও সুনিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারে চরম সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। বরং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কম বর্ণনা করাকে অগ্রাধিকার দিতেন। ইবনে কুতায়বাহ বলেন: «উমর (রা.)-ও ঐ সকল ব্যক্তিদের প্রতি কঠোর ছিলেন যারা অধিক বর্ণনা করতেন, অথবা বিধানের ক্ষেত্রে এমন কোনো সংবাদ নিয়ে আসতেন যার সপক্ষে কোনো সাক্ষী নেই। তিনি তাঁদেরকে কম বর্ণনা করার নির্দেশ দিতেন, যার মাধ্যমে তিনি চেয়েছিলেন: যাতে মানুষ এর মধ্যে অতি বিস্তার না ঘটায় এবং এতে কোনো প্রকার মিশ্রণ প্রবেশ না করে; আর যাতে মুনাফিক, পাপাচারী ও গ্রাম্য আরবদের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার প্রবঞ্চনা ও মিথ্যা এতে ঢুকে না পড়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশিষ্ট সাহাবী এবং তাঁর একান্ত সাহচর্যে থাকা অনেক ব্যক্তি যেমন আবু বকর, যুবায়ের, আবু উবাইদাহ এবং আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব—তাঁরা তাঁর থেকে খুব কম বর্ণনা করতেন। এমনকি তাঁদের কেউ কেউ তো প্রায় কিছুই বর্ণনা করতেন না, যেমন সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল, যিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের অন্যতম ছিলেন» (১)।
পূর্বসূরিগণ হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে যেমন সতর্কতা অবলম্বন করতেন, তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আসা সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাঁরা সতর্কতা ও যাচাই-বাছাই করতেন। আয-যাহাবী বলেন: «আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম সতর্কতাকারী। ইবনে শিহাব কাবিদাহ ইবনে জুয়াইব থেকে বর্ণনা করেছেন যে...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
أَنَّ الجَدَّةَ جَاءَتْ إِلَى أَبِي بَكْرٍ تَلْتَمِسُ أَنْ تُوَرَّثَ، فَقَالَ: " مَا أَجِدُ لَكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ شَيْئًا، وَمَا عَلِمْتُ أَنَّ رَسُولَ الْلَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ لَكِ شَيْئًا "، ثُمَّ سَأَلَ النَّاسَ فَقَامَ المُغيرَةُ فَقَالَ: " سَمِعُتُ رَسُولَ الْلَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْطِيهَا الْسُّدُسَ ". فَقَالَ لَهُ: " هَلْ مَعَكَ أَحَدٌ؟ " فَشَهِدَ مُحَمَّدٌ بْن مَسْلَمَةَ بِمِثْلِ ذَلِكَ فَأَنْفَذَهُ لَهَا أَبُوْ بَكْرٍ رضي الله عنه» (1).
وفي " صحيح مسلم " (2): اسْتَشَارَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه النَّاسَ فِي إِمْلَاصِ الْمَرْأَةِ (3)، فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ: «شَهِدْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَضَى فِيهِ بِغُرَّةٍ عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ»، قَالَ: فَقَالَ عُمَرُ: ائْتِنِي بِمَنْ يَشْهَدُ مَعَكَ، قَالَ: فَشَهِدَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلمَةَ.
وحدث لعمر مثل هذه الحادثة مع كثير من الصحابة منهم أُبَيْ بن كعب وأبي موسى وفي رواية قال عمر لأبي موسى: «أَمَا إِنِّي لَمْ أَتَّهِمك، وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَتَقَوَّلَ النَّاسُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم» (4).
وعن عَلِيٍّ - كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ - قال: «كُنْتُ إِذَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا نَفَعَنِي اللَّهُ بِمَا شَاءَ مِنْهُ، وَإِذَا حَدَّثَنِي غَيْرُهُ اسْتَحْلَفْتُهُ، فَإِذَا حَلَفَ لِي صَدَّقْتُهُ، وَأَنَّ أَبَا بَكْرٍ حَدَّثَنِي وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٌ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْ رَجُلٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا، فَيَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، فَيَسْتَغْفِرُ اللَّهَ عز وجل، إِلَاّ غُفِرَ لَهُ» (5).
--------------------------------------------
একজন দাদী আবু বকর (রা.)-এর নিকট তাঁর উত্তরাধিকার দাবি করতে আসলেন। তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাবে আপনার জন্য আমি কিছুই পাচ্ছি না, আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনার সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেছেন বলেও আমার জানা নেই।" অতঃপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে মুগীরা দাঁড়িয়ে বললেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁকে ষষ্ঠাংশ প্রদানের ফয়সালা দিতে শুনেছি।" তিনি তাকে বললেন: "আপনার সাথে কি আর কেউ আছে?" তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা অনুরূপ সাক্ষ্য দিলেন এবং আবু বকর (রা.) তা তাঁর জন্য কার্যকর করলেন (১)।
এবং "সহীহ মুসলিম"-এ (২) রয়েছে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) কোনো মহিলার গর্ভপাত (৩) সম্পর্কে লোকজনের পরামর্শ চাইলেন। তখন মুগীরা ইবনে শু'বা বললেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ বিষয়ে একজন দাস বা দাসী জরিমানা হিসেবে প্রদানের ফয়সালা দিতে দেখেছি।" তিনি বললেন: "তোমার সাথে সাক্ষ্য দেবে এমন কাউকে নিয়ে এসো।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা সাক্ষ্য দিলেন।
উমর (রা.)-এর সাথে উবাই ইবনে কাব ও আবু মূসাসহ অনেক সাহাবীর ক্ষেত্রে এ জাতীয় ঘটনা ঘটেছে। এক বর্ণনায় উমর আবু মূসাকে বলেছিলেন: "জেনে রাখুন, আমি আপনাকে অভিযুক্ত করছি না, তবে আমি আশঙ্কা করেছি যে মানুষ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে মনগড়া কথা বলবে" (৪)।
আলী (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে সসম্মান রাখুন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে কোনো হাদীস শুনতাম, আল্লাহ তা থেকে আমাকে যা ইচ্ছা উপকার দান করতেন। আর যখন অন্য কেউ আমাকে হাদীস শোনাত, আমি তাকে শপথ করাতাম; সে শপথ করলে আমি তাকে সত্য বলে গ্রহণ করতাম। আর আবু বকর আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন এবং আবু বকর সত্য বলেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: 'কোনো ব্যক্তি যদি কোনো পাপ করে ফেলে, অতঃপর উত্তমরূপে ওযু করে এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেওয়া হয়'" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
هذا لا يعني أنَّ الصحابة اشترطوا لقبول الحديث أنْ يرويه راويان فأكثر أو يشهد الناس على الراوي أو أنْ يستحلف بل كان الحامل لهم على هذا ألَاّ يسترسل الناس في رواية الحديث ويتساهلوا فيه من غير تَحَرٍّ وَتَثَبُّتٍ كاف فيقعوا في الكذب على الرسول صلى الله عليه وسلم من حيث شعروا أو لم يشعروا ويتَّضح هذا من قول عمر لأبي موسى: «أَمَا إِنِّي لَمْ أَتَّهِمك، وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَتَقَوَّلَ النَّاسُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم» وإلَاّ فقد قبلوا أحاديث كثيرة برواية الآحاد وبنوا عليها أحكامهم، فقد ورد أَنَّ عُمَرَ ذَكَرَ الْمَجُوسَ. فَقَالَ: «مَا أَدْرِي كَيْفَ أَصْنَعُ فِي أَمْرِهِمْ».
فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمنِ بْنُ عَوْفٍ: أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «سُنُّوا بِهِمْ سُنَّةَ أَهْلِ الْكِتَابِ» (1).
وأراد رجم مجنونة حتى أُعْلِمَ بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم «رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثٍ» (2) فأمر أنْ لا تُرْجَمَ.
يَتَبَيَّنُ من هذا أنَّ الخلفاء الأربعة لم تكن لهم شروط معيَّنة لقبول الأخبار وإنَّ كل ما روي عنهم ما يوهم ذلك لا يعدو التثبت والتأكد وكل ما صدر عنهم كان في سبيل الحفاظ على السُنَّة المطهَّرة وألَاّ يشوبها ما ليس منها.
ومن الجهود التي بُذِلَتْ للحفاظ على السُنَّة وضع ضوبط مُقَرَّرَةٍ تعرف بها قوة الحديث أو وَهَنِهِ منها علم إسناد الحديث وقد بدأ المطالبة به منذ وقت مُبَكِّرٍ واهتم به العلماء حتى جعلوه من الدين، قال عبد الله بن المبارك: «الإِسْنَادُ مِنَ الْدِّينِ، وَلَوْلَا الإِسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ» وقال: «بَيْنَنَا وَبَيْنَ القَوْمِ الْقَوَائِمُ» (3) يَعْنِي الإِسْنَادَ.
--------------------------------------------
এর অর্থ এই নয় যে, সাহাবীগণ হাদীস কবুল করার জন্য শর্তারোপ করেছিলেন যে তা দুজন বা তার বেশি বর্ণনাকারীকে বর্ণনা করতে হবে, অথবা বর্ণনাকারীর পক্ষে লোকদের সাক্ষ্য দিতে হবে, কিংবা তাকে কসম করাতে হবে; বরং তাদের এ কাজের মূল চালিকাশক্তি ছিল যাতে মানুষ বাছবিচার ও পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়া হাদীস বর্ণনায় মেতে না ওঠে এবং এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন না করে, যার ফলে তারা নিজেরা বুঝতে পারুক বা না পারুক—আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করে বসবে। বিষয়টি আবু মুসার প্রতি উমরের এই উক্তি থেকে স্পষ্ট হয়: «শোন, আমি তোমাকে অভিযুক্ত করছি না, কিন্তু আমি আশঙ্কা করছি যে মানুষ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যা বলবে।» অন্যথায়, তারা একক বর্ণনার মাধ্যমে অসংখ্য হাদীস কবুল করেছেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে তাদের বিধানাবলি নির্ধারণ করেছেন। বর্ণিত হয়েছে যে, উমর অগ্নিপূজকদের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন: «আমি জানি না তাদের ব্যাপারে কী করব।»
তখন আবদুর রহমান ইবনে আউফ বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমরা তাদের সাথে আহলে কিতাবদের নিয়ম অনুসরণ করো» (১)।
তিনি জনৈক পাগল নারীকে রজম করতে চেয়েছিলেন, যতক্ষণ না তাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী জানানো হয়: «তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে» (২) অতঃপর তিনি আদেশ দিলেন যেন তাকে রজম না করা হয়।
এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, চার খলীফার হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট শর্ত ছিল না এবং তাদের থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে যা এমন বিভ্রম সৃষ্টি করতে পারে (যে তারা শর্তারোপ করেছিলেন), তা কেবল যাচাই এবং নিশ্চিত হওয়ার উর্ধ্বে কিছু নয়। তাদের পক্ষ থেকে যা কিছু প্রকাশ পেয়েছিল, তা ছিল পবিত্র সুন্নাহকে রক্ষা করার এবং তাতে সুন্নাহর বহির্ভূত কিছু যেন মিশে না যায় সেই উদ্দেশ্যে।
সুন্নাহকে রক্ষা করার জন্য যে প্রচেষ্টাগুলো চালানো হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল এমন কিছু নির্ধারিত মূলনীতি প্রণয়ন করা যার মাধ্যমে হাদীসের শক্তি বা দুর্বলতা চেনা যায়। এর মধ্যে একটি হলো হাদীসের ইসনাদ (সূত্র) শাস্ত্র। এর দাবি অত্যন্ত প্রাচীনকাল থেকেই শুরু হয়েছিল এবং আলেমগণ এর প্রতি এত গুরুত্বারোপ করেছিলেন যে তারা এটিকে দ্বীনের অংশ বানিয়ে দিয়েছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন: «ইসনাদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যে যা খুশি বলত।» তিনি আরও বলেছেন: «আমাদের এবং তাদের মধ্যে পার্থক্যকারী হলো খুঁটিসমূহ» (৩) অর্থাৎ ইসনাদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومنها - أيضاً - نقد الرُواة وبيان حالهم ومن تقبل روايته ومن لا تقبل من خلال دراسة الراوي سيرة وتاريخاً وما خفى من أمره وما ظهر. ولم تأخذ العلماء في ذلك لومة لائم. وقيل ليحيى بن سعيد القطان: «أَمَا تَخْشَى أَنْ يَكُونَ هَؤُلَاءِ الذِينَ تَرَكْتَ حَدِيثَهُمْ خُصَمَاءَكَ عِنْدَ اللهِ يَوْمَ القِيَامَةِ؟» فَقَالَ: «لأَنْ يَكُونَ هَؤُلَاءِ خَصْمِي أَحَبَّ إِليَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ خَصْمِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: لِمَ لَمْ تَذُبَّ الكَذِبَ عَنْ حَدِيثِي؟» (1).
هذه بعض جهود العلماء لحفظ السُنَّة ولا سبيل إلى استقصاء جهود علماء السُنَّة في الحفاظ عليها والإفاضة في بيانها في هذا المختصر.
--------------------------------------------
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে—বর্ণনাকারীদের সমালোচনা এবং তাদের অবস্থা স্পষ্ট করা; কার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য এবং কারটি অগ্রহণযোগ্য—তা নির্ধারণ করা বর্ণনাকারীর জীবনচরিত, ইতিহাস এবং তার গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়াদি পর্যালোচনার মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে আলেমগণ কোনো নিন্দুকের নিন্দার তোয়াক্কা করেননি। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানকে বলা হলো: "আপনি কি ভয় পান না যে, যাদের হাদিস আপনি বর্জন করেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তারা আপনার বিপক্ষে বাদী হবে?" তিনি উত্তর দিলেন: "তারা আমার বিপক্ষে বাদী হওয়া আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় এর চেয়ে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার বিপক্ষে বাদী হয়ে বলবেন: 'তুমি কেন আমার হাদিস থেকে মিথ্যাকে প্রতিহত করোনি?'" (১)।
সুন্নাহ সংরক্ষণে এটি আলেমদের কতিপয় প্রচেষ্টা মাত্র। এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে সুন্নাহর আলেমদের সকল প্রচেষ্টা অনুসন্ধান করা এবং সবিস্তারে তা বর্ণনা করার কোনো অবকাশ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الباب الثاني: (السُنَّةُ ومنكروها قديماً):لما كان منكرو السُنَّةِ حديثاً قد تعلَّقوا بكثير من آراء السُنَّة قديماً وكان لمنكري السُنَّةِ قديماً أثر كبير في ظهور منكري السُنَّة حديثاً لذا رأيت أنْ أقدِّم نبذة سريعة ونظرة عاجلة عن منكري السُنَّةِ قديماً في ثلاثة فصول:
1 - الفصل الأول: السُنَّةُ والخوراج.
2 - الفصل الثاني: السُنَّة والشيعة.
3 - الفصل الثالث: السُنَّة والمعتزلة.
দ্বিতীয় অধ্যায়: (সুন্নাহ এবং প্রাচীনকালের সুন্নাহ অস্বীকারকারীগণ):যেহেতু বর্তমানকালের সুন্নাহ অস্বীকারকারীগণ প্রাচীনকালের অনেক মতামতের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং বর্তমানকালের সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের আবির্ভাবে প্রাচীনকালের সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের একটি বিশাল প্রভাব ছিল, তাই আমি তিনটি পরিচ্ছেদে প্রাচীনকালের সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ ও দ্রুত আলোকপাত করা সমীচীন মনে করেছি:
১ - প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ ও খারেজী সম্প্রদায়।
২ - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ ও শিয়া সম্প্রদায়।
৩ - তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ ও মুতাজিলা সম্প্রদায়।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
تمهيد:ذكرنا - فيما سبق - مكانة السُنَّة من التشريع الإسلامي وإنها صنو الكتاب ولا يمكن الاستغناء عنها والاعتماد على القرآن وحده، وأنه لا يمكن الجمع بين دعوى الالتزام بتعاليم الإسلام وإنكار حُجِيَّةِ السُنَّةِ إلَاّ أنَّ بعض الناس قد يجهلون أو يتجاهلون البدهيات من الأمور وهذا الذي حدث بالنسبة للسُنَّة النبوية الشريفة.
قَالَ أُمَيَّةُ [بْنِ عَبْدِ اللَّهِ] بْنِ خَالِدٍ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: «إِنَّا نَجِدُ صَلَاةَ الْحَضَرِ، وَصَلَاةَ الْخَوْفِ فِي الْقُرْآنِ، وَلَا نَجِدُ صَلَاةَ السَّفَرِ فِي الْقُرْآنِ، فَقَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ: «يَا ابْنَ أَخِي، إِنَّ اللَّهَ عز وجل بَعَثَ إِلَيْنَا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَلَا نَعْلَمُ شَيْئًا، وَإِنَّمَا نَفْعَلُ كَمَا رَأَيْنَا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُ» (1).
ثم كثر أصحاب هذه الفتنة حتى قَالَ أَيُّوبُ السِّخْتِيَانِيِّ: «إِذَا حَدَّثْتَ الرَّجُلَ بِالسُّنَّةِ فَقَالَ: دَعْنَا مِنْ هَذَا وَحَدِّثْنَا مِنَ الْقُرْآنِ ، فَاعْلَمْ أَنَّهُ ضَالٌّ مُضِلٌّ» (2).
إلَاّ أنَّ هذا الاتجاه لم يكن عاماً جماعياً حيث لم يكن هناك حزب أو جماعة تعرف بهذا الاتجاه وإنما كان ثمة أفراد معدودون وأشخاص معروفون بالإلحاد والزندقة وبشكل خاص بالعراق.
ثم دار الزمان دوره فَقُبَيْلَ نهاية القرن الثاني، وُجِدَتْ شرذمة أنكرت حُجِيَّةَ السُنَّة كمصدر للتشريع، وأخرى أنكرت حُجِيَّةَ غير المتواتر منها، وإليك بعض هذه الطوائف:
--------------------------------------------
ভূমিকা:আমরা ইতিপূর্বে ইসলামী বিধানে সুন্নাহর মর্যাদা সম্পর্কে উল্লেখ করেছি যে, এটি আল্লাহর কিতাবের সমতুল্য এবং একে বর্জন করে কেবল কুরআনের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। একইভাবে ইসলামের শিক্ষা মেনে চলার দাবি এবং সুন্নাহর প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করার মধ্যে কোনো সমন্বয় করা সম্ভব নয়। তবে কিছু মানুষ মৌলিক ও স্বত:সিদ্ধ বিষয়গুলো সম্পর্কে অজ্ঞ থাকতে পারে অথবা তা উপেক্ষা করতে পারে, আর সুন্নাহর ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই ঘটেছে।
উমাইয়াহ [ইবনে আবদুল্লাহ] ইবনে খালিদ আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে বললেন: «আমরা কুরআনে আবস্থানকালীন সালাত এবং ভয়ের সালাত (সালাতুল খাওফ)-এর বর্ণনা পাই, কিন্তু আমরা কুরআনে সফরের সালাত খুঁজে পাই না।» তখন ইবনে উমর তাকে বললেন: «হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, মহান আল্লাহ আমাদের নিকট মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পাঠিয়েছেন যখন আমরা কিছুই জানতাম না। সুতরাং আমরা ঠিক সেভাবেই করি যেভাবে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে করতে দেখেছি।» (১)।
অতঃপর এই ফিতনায় লিপ্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, এমনকি আইয়ুব আস-সিখতিয়ানী বলেন: «যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে সুন্নাহর কথা বলো আর সে বলে: 'এসব ছাড়ো এবং আমাদেরকে কুরআন থেকে বলো', তখন জেনে রেখো যে সে নিজে পথভ্রষ্ট এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্টকারী।» (২)।
তবে এই প্রবণতাটি ব্যাপক বা দলগত ছিল না, কারণ এই মতাদর্শের অনুসারী কোনো দল বা গোষ্ঠী তখন ছিল না; বরং কিছু হাতেগোনা ব্যক্তি এবং নাস্তিক্য ও ধর্মহীনতার জন্য পরিচিত লোক ছিল, বিশেষ করে ইরাকে।
এরপর সময়ের পরিক্রমায় দ্বিতীয় হিজরি শতকের শেষের দিকে একদল লোকের উদ্ভব ঘটে যারা শরীয়তের উৎস হিসেবে সুন্নাহর প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করে, আর অন্য একদল সুন্নাহর মধ্যে যা মুতাওয়াতির নয় সেগুলোর প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করে। এই দলগুলোর কয়েকটি নিম্নে তুলে ধরা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الأول: السُنَّةُ والخوراج:الخوارج إنْ لم ينغمسوا في رذيلة الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم كما فعل أغمار الشيعة - نظراً لصراحتهم وتقواهم وبداوة طبائعهم وبُعْدِهِمْ عن الأخذ بمذهب التَقِيَّةِ الذي يؤمن به الشِيعَة، لكنهم خالفوا الجمهور في مواقف تشريعية كثيرة فرويت عنهم أحكام غريبة، مثل إباحتهم الجمع بين المرأة وعمّتها أو خالتها، وإنكارهم حكم الرجم الوارد في السُنّة، ولم يكن سبب ذلك كما زعم بعض الكاتبين جهلهم بالدين وجرأتهم على الله واستحلالهم لما حرّم اللهُ ورسُولُه، بل كان سببه ما ذهبوا إليه من رد الأحاديث التي خرجت بعد الفتنة أو التي اشترك رواتُها بالفتنة. وإنه لبلاء عظيم أن تسقط عدالة جمهور الصحابة الذين اشتركوا في النزاع مع عليّ ومعاوية، أو نسقط أحاديثهم ونحكم بكفرهم أو فسقهم، وهم هذا الرأي لا يقِلُّون عن الشِيعَة خطراً وفساد رأي وسوء نتيجة (1).
إلَاّ أنه ليس كل الخوارج على هذ الحالة بل كان هناك فرقة منها تُسَمَّى - الإباضية - يقبلون الأحاديث النبوية وَيَرْوُونَ عن عَلِيٍّ وعثمان وعائشة وابي هريرة وغيرهم رضي الله عنهم.
وأما أخذهم بخبر الآحاد فواضح مِمَّا كتبوه في أصول الفقه، ومن هنا لا ينبغي إطلاق القول بأنَّ كافة الخوارج يرفضون السُنَّة التي رواها الصحابة بعد التحكيم أو قبله، إلَاّ أنَّ السُنَّةَ الصحيحة قد لقيت من الخوارج والشيعة عَنَتاً كبيراً وكان لآرائهم الباطلة في الصحابة أثر كبير في اختلاف الآراء والأحكام في الفقه وفيما أثير حول السُنَّةِ من شُبَهٍ فيما بعد.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ ও খাওয়ারিজ:খাওয়ারিজগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যাচারের পাপে নিমজ্জিত হয়নি—যেভাবে শিয়াদের একদল অজ্ঞ ও স্থূল বুদ্ধিসম্পন্ন লোক লিপ্ত হয়েছিল—তাদের স্পষ্টবাদিতা, তাকওয়া, স্বভাবজাত সারল্য এবং শিয়াদের প্রবর্তিত ‘তাকিয়া’ নীতি গ্রহণ থেকে দূরে থাকার কারণে। তবে তারা বহু শরয়ি বিষয়ে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরোধিতা করেছে, ফলে তাদের থেকে কিছু অদ্ভুত বিধান বর্ণিত হয়েছে; যেমন—একই সাথে কোনো নারী এবং তার ফুফু বা খালাকে বিবাহ করা বৈধ মনে করা এবং সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত ‘রজম’ বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ডের বিধানকে অস্বীকার করা। এর কারণ কোনো কোনো লেখকের দাবি অনুযায়ী দ্বীন সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা, আল্লাহর বিরুদ্ধে স্পর্ধা বা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তাকে হালাল মনে করা ছিল না; বরং এর প্রকৃত কারণ ছিল ফেতনার পর উদ্ভূত হাদিসসমূহ কিংবা ফেতনার সাথে জড়িত রাবিদের বর্ণিত হাদিসসমূহকে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে তাদের গৃহীত নীতি। এটি এক বিরাট বিপর্যয় যে, আলী ও মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যকার বিবাদে অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) ক্ষুণ্ণ করা হবে, অথবা তাঁদের হাদিসসমূহ বর্জন করা হবে এবং তাঁদের কুফর বা ফাসেক হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হবে। এই মতামতের অধিকারী হিসেবে তারা বিপদ, ভ্রান্ত চিন্তা ও মন্দ পরিণতির দিক দিয়ে শিয়াদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় (১)।
তবে সকল খাওয়ারিজ এই অবস্থায় ছিল না, বরং তাদের মধ্যে ‘ইবাদিয়্যাহ’ নামক একটি দল ছিল—যারা নববী হাদিসসমূহ গ্রহণ করতেন এবং আলী, উসমান, আয়েশা, আবু হুরায়রা ও অন্যান্য (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন।
আর তাদের ‘খবরে ওয়াহেদ’ গ্রহণ করার বিষয়টি তাদের উসূলুল ফিকহ-এর গ্রন্থাদি থেকে সুস্পষ্ট। এখান থেকে বুঝা যায় যে, ঢালাওভাবে সকল খাওয়ারিজ সালিশি (তাহকিম) পরবর্তী বা পূর্ববর্তী সাহাবীদের বর্ণিত সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করত—এমন কথা বলা সমীচীন নয়। তবে এ কথা সত্য যে, সহীহ সুন্নাহ খাওয়ারিজ ও শিয়াদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল এবং সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে তাদের ভ্রান্ত ধারণা ফিকহি মতভেদ ও বিধানের ক্ষেত্রে এবং পরবর্তী সময়ে সুন্নাহকে কেন্দ্র করে সংশয় সৃষ্টিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الفصل الثاني: السُنَّة والشيعة:الشيعة طوائف عديدة وفرق كثيرة والموجود منهم حاليًا في العالم الإسلامي أكثرهم من الإثني عشرية، يطعنون في أبي بكر وعُمَرَ وعثمان ومن شايعهم من الصحابة ويُلَفِّقُونَ التُّهَمَ على أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها وينالون من طلحة والزبير ومعاوية وعمرو بن العاص ويحطون على جمهور الصحابة إلَاّ عَلِيًّا وشيعته من الصحابة - على زعمهم - وقد ذكر بعضهم أنهم من ثلاثة إلى خمسة عشر صحابيًا فقط، وأقاموا على ذلك مذاهبهم من رَدِّ أحاديث جمهور الصحابة إلَاّ ما رواه شيعة عَلِيٍّ رضي الله عنه، على أنْ تكون رواية الأحاديث التي يقبلونها من طرق أئمتهم لاعتقادهم عِصْمَتَهُمْ أو عن طريق من هو على نِحْلَتِهِمْ، والقاعدة العامة عندهم أنَّ من لم يوال عَلِيًّا - على التفصيل الذي عندهم - فقد خان وصية الرسول صلى الله عليه وسلم ونازع أئمة الحق فليس أهلاً للثقة والاعتماد مع أنهم أكذب الطوائف كلها. قال الشافعي: «مَا رَأَيْتُ أَشْهَدَ بالزُّورِ مِنَ الرَّافِضَةِ» وقال صاحب " الوشيعة: «ادَّعَتْ كُلُّ كُتُبِ الشِيعَةِ أَنَّ الأَئِمَّةَ أَوْلَادُ عَلِيٍّ كَانَتْ تُنْكِرُ كُلَّ حَدِيثٍ يَرْوِيهِ إِمَامٌ مَن أَئِمَّةِ الأُمَّةِ، وَأَنَّ الأَخْذَ بِنَقِيضِ مَا أَخَذَتْهُ الأُمَّةُ أَسْهَلُ طَرِيقٍ فِي الإِصَابَةِ ، وَكُلُّ خَبَرٍ وَافَقَ الأُمَّةَ بَاطِلٌ، ومَا خَالَفَ الأُمَّةَ فَفِيهِ الرَّشَادُ، وَكَانَ الإِمَامُ يَقُولُ: (دَعُوا مَا وَافَقَ القَوْمَ فَإِنَّ الرُّشْدَ فِي خِلَافِ القَوْمِ). وَتَقُولُ الشِّيعَةُ: إِنْ وَافَقَ الكُلَّ يَجِبُ الوُقُوفَ (أَيْ التَوَقُّفَ). وَكَانَ الصَّادِقُ يَأْمُرُ بِمَا فِيهِ خِلَافَ العَامَّةِ (أَهْلُ السُنَّةِ وَالجَمَاعَةِ) وَكَانَ يَقُولُ: إِنَّ عَلِيًّا لَمْ يَكُنْ يَدِينُ بِدِينٍ إلَاّ كَانَتْ الأُمَّةُ تُخَالِفُهُ إِلَى غَيْرِهِ إِبْطَالاً لأَمْرِ عَلِيٍّ» (1).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: সুন্নাহ ও শিয়া:শিয়াদের অনেক উপদল ও গোষ্ঠী রয়েছে এবং বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে তাদের অধিকাংশই দ্বাদশী বা ইসনা আশারিয়া মতাবলম্বী। তারা আবু বকর, উমর ও উসমান এবং সাহাবীদের মধ্যে যারা তাঁদের সমর্থন করেছেন, তাঁদের নিন্দা ও সমালোচনা করে। তারা উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে এবং তালহা, যুবাইর, মুয়াবিয়া ও আমর ইবনুল আসকে কটাক্ষ করে। তারা আলী এবং—তাদের দাবি অনুযায়ী—আলীর অনুসারী সাহাবীগণ ব্যতীত সাহাবীদের বৃহত্তর অংশের অবমাননা করে। তাদের কেউ কেউ তো উল্লেখ করেছে যে, তাঁরা (বিশ্বস্ত সাহাবী) সংখ্যায় মাত্র তিন থেকে পনেরো জন ছিলেন। এর ওপর ভিত্তি করেই তারা তাদের মাযহাব বা মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে তারা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর অনুসারীদের বর্ণিত হাদিস ব্যতীত সাধারণ সাহাবীদের হাদিসসমূহ প্রত্যাখ্যান করে। তদুপরি, তারা কেবল সেই হাদিসগুলোই গ্রহণ করে যা তাদের ইমামদের সূত্রে বর্ণিত—যেহেতু তারা তাঁদের নিষ্পাপ বলে বিশ্বাস করে—অথবা যারা তাদের মতাদর্শের অনুসারী তাদের সূত্রে বর্ণিত। তাদের নিকট সাধারণ মূলনীতি হলো, যে ব্যক্তি আলীর প্রতি আনুগত্য পোষণ করেনি—তাদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী—সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসিয়তের খেয়ানত করেছে এবং সত্য ইমামদের সাথে বিরোধ করেছে; সুতরাং সে নির্ভরযোগ্য বা বিশ্বস্ত নয়। অথচ তারা সকল উপদলের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী। ইমাম শাফেয়ী বলেন: «আমি রাফেজিদের চেয়ে অধিক মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারী আর কাউকে দেখিনি।» "আল-ওয়াশিয়া" গ্রন্থের লেখক বলেন: «শিয়াদের সকল কিতাব দাবি করেছে যে, আলীর বংশধর ইমামগণ উম্মতের ইমামদের বর্ণিত প্রতিটি হাদিস অস্বীকার করতেন এবং উম্মত যা গ্রহণ করেছে তার বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করাই সঠিক পথ পাওয়ার সহজ উপায়। উম্মতের সাথে মিলে যায় এমন প্রতিটি সংবাদই বাতিল, আর যা উম্মতের বিরোধী তাতেই সঠিক পথ নিহিত। ইমাম বলতেন: (সাধারণ মানুষ যা সমর্থন করে তা ত্যাগ করো, কেননা সঠিক পথ নিহিত রয়েছে সাধারণ মানুষের বিরোধিতার মাঝে)। শিয়ারা বলে: যদি সবাই কোনো বিষয়ে একমত হয়, তবে সেখানে থমকে যাওয়া (অর্থাৎ বিরত থাকা) আবশ্যক। জাফর সাদিক সেই কাজ করারই আদেশ দিতেন যাতে সাধারণ মানুষের (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত) বিরোধিতা রয়েছে। তিনি বলতেন: আলী যে দ্বীন পালন করতেন, উম্মত আলীর বিষয়টিকে নস্যাৎ করার জন্য সর্বদা তার বিরুদ্ধাচরণ করে অন্য পথ অবলম্বন করত» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هذه دعوة الشيعة، وهذا أصل من أصولهم مِمَّا يقتضي منه العجب، وذكر السيوطي: «أنَّ من غُلاة الرافضة من ذهبوا إلى إنكار الاحتجاج بالسُنَّة والاقتصار على القرآن، فهم يعتقدون أنَّ النبوة لِعَلِيٍّ، وأنَّ جبريل أخطأ في نزوله إلى سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم، ومنهم من أَقَرَّ للنبي صلى الله عليه وسلم بالنبوة ولكن قال أنَّ الخلافة كانت حقاً لِعَلِيٍّ، فلما عدل بها الصحابة عنه إلى أبي بكر قال هؤلاء - المخذولون لعنهم الله - كفروا وعدلوا بالحق مستحقه، وَكَفَّرُوا عَلِيًّا رضي الله عنه أيضًا لعدم طلبه حَقه فَبَنَوْا على ذَلِك رَدَّ الأَحَادِيث كلهَا لِأَنَّهَا عِنْدهم بزعمهم من رِوَايَة قوم كُفَّارٍ فَإنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون» (1).
إنَّ عدالة الصحابة أمر مُقَرَّرٌ بإجماع المسلمين وهو معلوم من الدين بالضرورة لأنه ورد فيهم ما يوجب لهم الجلالة ويجعلهم في قمة الثقة والأمانة. فهم جلساء رسول الله صلى الله عليه وسلم، اختارهم الله لِصُحْبَةِ رسوله وجعلهم أمناء على حديثه، كيف لا، وقد زَكَّاهُمْ الله ورسوله واجتمعت الأُمَّةُ على ذلك فلا سبيل إلى الطعن فيهم، قال تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الإِنْجِيلِ} (2).
وقال: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} (3).
--------------------------------------------
এটিই হলো শিয়াদের দাওয়াত এবং এটি তাদের এমন একটি মূলনীতি যা থেকে বিস্ময় সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন: «রাফেযীদের মধ্যে যারা চরমপন্থী, তারা সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল গ্রহণকে অস্বীকার করার এবং কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার পথে হেঁটেছে। তারা বিশ্বাস করে যে নবুওয়াত ছিল আলীর জন্য এবং জিবরীল সাইয়িদুল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অবতরণ করতে ভুল করেছেন। তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত স্বীকার করে কিন্তু বলে যে, খিলাফত ছিল আলীর প্রকৃত অধিকার। সুতরাং সাহাবীগণ যখন তা তাঁর পরিবর্তে আবু বকরের দিকে ফিরিয়ে দিলেন, তখন তারা—আল্লাহর অভিশপ্ত এই লাঞ্ছিতরা—বলল যে, তারা (সাহাবীগণ) কুফরী করেছে এবং সত্যকে তার প্রকৃত হকদারের কাছ থেকে বিচ্যুত করেছে। এমনকি তারা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-কেও তাঁর হক দাবি না করার কারণে কাফির আখ্যা দিল। এর ওপর ভিত্তি করে তারা সকল হাদীস প্রত্যাখ্যান করল, কারণ তাদের মিথ্যা দাবি অনুযায়ী সেগুলো একদল কাফিরের বর্ণনা। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী» (১)।
নিশ্চয়ই সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা মুসলমানদের ঐকমত্য (ইজমা) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি বিষয় এবং দ্বীনের অপরিহার্য বিষয় হিসেবে সুবিদিত। কারণ তাঁদের সম্পর্কে এমন সব বিষয় বর্ণিত হয়েছে যা তাঁদের মর্যাদা ও মহত্ত্বকে অবধারিত করে এবং তাঁদেরকে নির্ভরযোগ্যতা ও বিশ্বস্ততার সর্বোচ্চ শিখরে আসীন করে। তাঁরা ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহচর, আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর রাসূলের সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁর হাদীসের আমানতদার বানিয়েছেন। কেনই বা তা হবে না, যেখানে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তাঁদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং উম্মাহ এ বিষয়ে একমত হয়েছে? সুতরাং তাঁদের সমালোচনা করার কোনো পথ নেই। মহান আল্লাহ বলেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদের রুকূ ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখতে পাবেন; তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের মুখমন্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ} (২)।
এবং তিনি বলেছেন: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম ও অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি তাঁদের জন্য এমন জান্নাতসমূহ প্রস্তুত রেখেছেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবে। এটাই হলো মহাসফলতা} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ} (1).
وقال سُبْحَانَهُ: {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا} (2).
وقال صلى الله عليه وسلم: «لَا تَسُبُّوا أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِي، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَوْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ، وَلَا نَصِيفَهُ» (3).
وقال: «النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ، فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومُ أَتَى السَّمَاءَ مَا تُوعَدُ، وَأَنَا أَمَنَةٌ لأَصْحَابِي، فَإِذَا ذَهَبْتُ أَتَى أَصْحَابِي مَا يُوعَدُونَ، وَأَصْحَابِي أَمَنَةٌ لأُمَّتِي، فَإِذَا ذَهَبَ أَصْحَابِي أَتَى أُمَّتِي مَا يُوعَدُونَ» (4).
وقال عبد الله بن مسعود: «مَنْ كَانَ مِنْكُم مُسْتَنًّا فَليَسْتَنَّ بِِمَنْ قَدْ مَاتَ فََإِِنَّ الحَيَّ لَا تُؤْمَنُ عَلَيْهِ الْفِتْنَةُ أُولَئِكَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم كَانُوا وَاللهِ أَفْضَلَ هَذِهِ الأُمَّةِ وَأَبَرَّهَا قُلُوبًا، وَأَعْمَقُهَا عِلْمًا، وَأَقَلُّهَا تَكَلُّفًا، قَوْمٌ اخْتَارَهُمُ اللَّهُ لِصُحْبَةِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم، وَإِقَامَةِ دِينِهِ، فَاعْرِفُوا لَهُمْ فَضْلَهُمْ، وَاتَّبِعُوهُمْ فِي آثَارِهِمْ، وَتَمَسَّكُوا بِمَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ أَخْلَاقِهِمْ وَدِينِهِمْ، فَإِنَّهُمْ كَانُوا عَلَى الْهُدَى الْمُسْتَقِيمِ» (5).
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেছেন: {সেই অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি হতে বহিষ্কৃত হয়েছে; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই হলো সত্যবাদী} (১)।
এবং তিনি (পবিত্র ও মহান) বলেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করছিল। অতঃপর তিনি তাদের অন্তরে যা ছিল তা জানতেন, তাই তিনি তাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং তাদের পুরস্কার হিসেবে দিলেন এক আসন্ন বিজয়} (২)।
এবং সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার সাহাবীদের কাউকে গালি দিও না। কেননা তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবে তাদের একজনের এক 'মুদ' (এক অঞ্জলি) বা তার অর্ধেক পরিমাণ স্বর্ণ ব্যয়ের সমান সওয়াবেও পৌঁছাতে পারবে না» (৩)।
এবং তিনি বলেছেন: «নক্ষত্ররাজি আকাশের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে, তখন আকাশ তা-ই পাবে যার প্রতিশ্রুতি তাকে দেওয়া হয়েছে। আর আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। যখন আমি চলে যাব, তখন আমার সাহাবীরা তা-ই পাবে যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে। আর আমার সাহাবীরা আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ। সুতরাং যখন আমার সাহাবীরা চলে যাবে, তখন আমার উম্মত তা-ই পাবে যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে» (৪)।
এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে যারা অনুসরণ করতে চাও, তারা যেন মৃতদের অনুসরণ করে। কেননা জীবিতদের ক্ষেত্রে ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকা যায় না। তারা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ। আল্লাহর কসম! তারা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম, অন্তরের দিক থেকে সবচেয়ে পবিত্র, ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে গভীর এবং লৌকিকতার দিক থেকে সবচেয়ে কম। তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের আল্লাহ তাঁর নবীর সাহচর্য এবং তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য মনোনীত করেছেন। অতএব তাদের মর্যাদা উপলব্ধি করো, তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো এবং সাধ্যমতো তাদের চরিত্র ও দ্বীনের ওপর অটল থাকো। কেননা তারা সঠিক পথের ওপর ছিলেন» (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ولله درُّ أبي زُرعة الرازي ما أحسن قوله: «إِذَا رَأَيْتَ الرَّجُلَ يَنْتَقِصُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاعْلَمْ أَنَّهُ زِنْدِيقٌ ، وَذَلِكَ أَنَّ الرَّسُولَ صلى الله عليه وسلم حَقٌّ ، وَالْقُرْآنَ حَقٌّ ، وَمَا جَاءَ بِهِ حَقٌّ، وَإِنَّمَا أَدَّى ذَلِكَ كُلَّهُ إِلَيْنَا الصَحَابَةُ، وَهَؤُلَاءِ الزَنَادِقَةُ يُرِيدُونَ أَنْ يُجَرِّحُوا شُهُودَنَا لِيُبْطِلُوا الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ ، وَالْجَرْحُ بِهِمْ أَوْلَى» (1).
هذا هو الحق الصَرَاحُ والصدق القراح أنهم تَذَرَّعُوا بإنكار السُنَّة وحُجِيَّتَهَا إلى إبطالها رأسًا وبذلك مرقوا من الدين كما يمرق السهم من الرمية فأعجب بكفر هؤلاء، ويأبى الله إلَاّ أنْ يتم نوره ولو كره الكافرون.
আবু যুরআ আর-রাযীর প্রতি আল্লাহর করুণা বর্ষিত হোক, তাঁর কথাটি কতই না চমৎকার: «যখন তুমি দেখবে কোনো ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে কোনো একজনকে খাটো করছে, তখন জেনে রেখো যে সে একজন যিন্দিক। এর কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য, কুরআন সত্য এবং তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সত্য। আর সাহাবীগণই এই সবকিছু আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। এই যিন্দিকরা আমাদের সাক্ষীদের চরিত্রহনন করতে চায় যাতে তারা কিতাব ও সুন্নাহকে বাতিল করতে পারে; অথচ তাদেরকেই দোষারোপ করা ও প্রত্যাখ্যান করা অধিক যুক্তিযুক্ত» (১)।
এটাই সুস্পষ্ট সত্য এবং অনাবিল বাস্তবতা যে, তারা সুন্নাহ ও এর প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে একে সরাসরি বাতিল করার উছিলা তালাশ করেছে। এর ফলে তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বিচ্যুত হয়ে গেছে যেভাবে শিকার ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। তাদের এই কুফরি কতই না বিস্ময়কর! অথচ আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করা ছাড়া ক্ষান্ত হবেন না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।