(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
مفحمات الأقران في مبهمات القرآن   (الجلال السيوطي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: مفحمات الأقران في مبهمات القرآن

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911 هـ)

المحقق: الدكتور مصطفى ديب البغا

الناشر: مؤسسة علوم القرآن، دمشق - بيروت

الطبعة: الأولى، 1403 هـ - 1982 م

عدد الصفحات: 123

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুফহামাতুল আকরান ফি মুবহামাতিল কুরআন   (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


গ্রন্থ: মুফহামাতুল আকরান ফি মুবহামাতিল কুরআন

লেখক: আবদুর রহমান বিন আবি বকর، জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হি.)

সম্পাদক: ডক্টর মুস্তফা দীব আল-বুগা

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতু উলূমিল কুরআন، দামেস্ক - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৩ হি. - ১৯৮২ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

أما بعد: حمدا لله على ما منح من الإلهام، وفتح من غوامض العلوم بإخراج الإفهام، والصلاة والسلام على سيدنا محمد الذي أزال بيانه كل إبهام، وعلى اله وأصحابه، أولي النهى والأحلام.

فإن من علوم القرآن التي يجب الاعتناء بها معرفة مبهماته، وقد هتف أبن العساكر بكتابه المسمى ب (التكميل والإتمام) . وجمع القاضي بينهما القاضي بدر الدين ابن جماعة في كتاب سماه (التبيان في مبهمات القرآن) . وهذا كتاب يفوق الكتب الثلاثة بما حوى من الفوائد والزوائد، وحسن الإيجاز، وعزو كل القول إلى من قاله، مخرجا من كتب الحديث والتفاسير المسندة، فإن ذلك أدعى لقبوله وأقع في النفس. فإن لم أقف عليه مسندا عزوته إلى قائله من المفسرين والعلماء، وقد سميته (مفحمات الأقران في مبهمات القرآن) .

؟

 

‌‌مقدمة فيها فوائد

الأولى: علم المبهمات علم شريف، أعتني به السلف كثيرا: أخرج البخاري عن أبن العباس رضي الله تعالى عنهما قال: مكثت سنة أريد أن أسأل عمر عن المرأتين التين تظاهرتا على رسول الله صلى الله عليه وسلم.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

অতঃপর: আল্লাহর প্রশংসা করছি সেই ইলহামের (অনুপ্রেরণা) জন্য যা তিনি দান করেছেন এবং বোধশক্তি উন্মোচনের মাধ্যমে বিজ্ঞানের নিগূঢ় রহস্যসমূহ যা তিনি উন্মুক্ত করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যাঁর বর্ণনা সমস্ত অস্পষ্টতা দূর করেছে, এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর, যাঁরা প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী।

নিশ্চয়ই কুরআনের জ্ঞান বা উলুমের (علوم) মধ্যে মুবহামাত (অস্পষ্ট বিষয়সমূহ) (مبهمات) সম্পর্কে পরিজ্ঞাত হওয়া এমন একটি বিষয় যার প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া আবশ্যক। ইবনে আসাকির এ বিষয়ে তার 'আত-তাকমিল ওয়াল ইতমাম' নামক গ্রন্থের মাধ্যমে কাজ করেছেন। আর কাজী বদরুদ্দিন ইবনুল জামাআ এই উভয়কে একত্রিত করেছেন 'আত-তুবইয়ান ফি মুবহামাতিল কুরআন' নামক গ্রন্থে। আর বর্তমান এই গ্রন্থটি সেই তিনটি গ্রন্থকে অতিক্রম করে গেছে এর অন্তর্ভুক্ত বিবিধ ফাওয়ায়েদ (উপকারিতা), যাওয়ায়েদ (অতিরিক্ত তথ্য), উত্তম সংক্ষেপণ এবং প্রতিটি উক্তিকে তার প্রবক্তার দিকে সম্পৃক্ত করার বৈশিষ্ট্যের কারণে। আমি এগুলোকে বিভিন্ন হাদিসের গ্রন্থ এবং মুসনাদ (সূত্রযুক্ত) (مسندة) তাফসিরসমূহ থেকে চয়ন করেছি; কারণ এটি গ্রহণের জন্য অধিক উপযোগী এবং অন্তরের জন্য অধিক আশ্বস্তকর। যদি আমি কোনো বর্ণনা মুসনাদ (সূত্রযুক্ত) (مسندة) হিসেবে না পেয়েছি, তবে তা আমি মুফাসসির ও আলেমদের মধ্য থেকে তার প্রবক্তার দিকে সম্পৃক্ত করেছি। আমি এই গ্রন্থের নাম দিয়েছি 'মুফহামাতুল আকরান ফি মুবহামাতিল কুরআন'।

?

 

ভূমিকা, যাতে রয়েছে কিছু ফাওয়ায়েদ (উপকারিতা)

প্রথমত: মুবহামাত (অস্পষ্ট বিষয়সমূহ) (مبهمات) সংক্রান্ত ইলম একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান, যার প্রতি সালাফগণ (পূর্বসূরীগণ) অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। ইমাম বুখারি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এক বছর যাবৎ উমর (রা.)-কে সেই দুই নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার ইচ্ছা পোষণ করছিলাম, যারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিরুদ্ধে একে অপরকে সহায়তা করেছিল।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
قال العلماء هذا أصل في علم المبهمات.

وقال السهيلي: هذا دليل على شرف هذا العلم، وأن الاعتناء به حسن ومعرفته فضل.

قال: وقد روي عن عكرمة مولاي ابن عباس رضي الله عنه أنه قال: طلبت أسم الذي خرج من بيته مهاجرا إلى الله ورسوله ثم أدركه الموت أربع عشر سنة حتى وجدته.

وهذا دليل أوضح على اعتنائهم بهذا العلم ونفاسته عندهم.

قلت: هذا الكلام مروي عن أبن عباس نفسه: أخرجه أبن منده في كتاب (معرفة الصحافة) من طريق زيد بن أبي حكيم، عن الحكم بن أبان، عن عكرمة قال: سمعت أبن العاس يقول طلبت أسم رجل في القرآن، وهو الذي خرج مهاجرا إلى الله ورسوله، وهو ضمرة بن أبي العيص.

الثانية: مرجع هذا العلم النقل المحض، ولا مجال للرأي فيه، وءانما يرجع القول فيه ءالى قول النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه الآخذين عنه، والتابعين والآخذين عن الصحابة.

الثالثة: قال الزركشي في البرهان: لا يبحث عن مبهم أخبر الله باستئثاره بعلمه كقوله (وآخرين من دونهم لا تعلمونهم الله يعلمهم)
ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, এটি অস্পষ্ট নাম সংক্রান্ত ইলমের (علم المبهمات) একটি মূলভিত্তি।

সুহাইলি বলেন: এটি এই ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ, এবং এর প্রতি যত্নবান হওয়া প্রশংসনীয় ও এটি অবগত হওয়া ফযিলতের কাজ।

তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুক্তদাস ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করার উদ্দেশ্যে আপন গৃহ হতে বের হয়েছিলেন এবং অতঃপর মৃত্যু তাঁকে গ্রাস করেছিল, তাঁর নাম অনুসন্ধান করতে আমি চৌদ্দ বছর ব্যয় করেছি, অবশেষে আমি তা লাভ করেছি।

এটি তাঁদের নিকট এই ইলমের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং এর উচ্চ মর্যাদার একটি অধিকতর স্পষ্ট দলিল।

আমি বলছি: এই বক্তব্যটি স্বয়ং ইবনে আব্বাস থেকেই বর্ণিত (مروي): ইবনে মানদাহ তার 'মা'রিফাতুস সাহাবা' গ্রন্থে যায়েদ বিন আবি হাকিম, আল-হাকাম বিন আবান এবং ইকরিমাহ-এর সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন যে, ইকরিমাহ বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি কুরআনে উল্লিখিত এক ব্যক্তির নাম অনুসন্ধান করেছি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরতকারী হিসেবে বের হয়েছিলেন; তিনি হলেন জামরাহ বিন আবুল আইস।

দ্বিতীয়ত: এই ইলমের মূল ভিত্তি হলো কেবল বিশুদ্ধ বর্ণনা (النقل المحض), এতে কোনো প্রকার ব্যক্তিগত মতামতের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে মূল বক্তব্য কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর থেকে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জনকারী সাহাবীগণ এবং সাহাবীদের থেকে জ্ঞান অর্জনকারী তাবেয়ীদের বর্ণনার ওপরই ন্যস্ত।

তৃতীয়ত: যারকাশী 'আল-বুরহান' গ্রন্থে বলেছেন: এমন কোনো অস্পষ্ট (مبهم) বিষয় সম্পর্কে অনুসন্ধান করা যাবে না যার জ্ঞান আল্লাহ কেবল নিজের জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন বলে সংবাদ দিয়েছেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তারা ছাড়া অন্য আরও লোক রয়েছে যাদের তোমরা জানো না, আল্লাহ তাদের জানেন।"
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
قال: والعجب ممن تجرأ وقال: انهم قريظة، أو من الجن.

قلت: ليس في الآية أن جنسهم لا يعلم، وإنما المنفي علم أعيانهم، ولا ينافيه العلم بكونهم من قريظة أو من الجن، وهو نظير قوله من المنافقين (وممن حولكم من الأعراب منافقون ومن أهل المدينة مردوا على النفاق لا تعلمهم نحن نعلمهم) ، فان المنفي علم أعيانهم. ثم القول في أولئك أنهم من الجن ورد في خبر مرفوع إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، أخرجه ابن أبي حاتم وغيره، فلا جراءة.

الرابعة: للإبهام في القران أسباب: منها: الاستغناء ببيانه في موضع أخر، كقوله: (صراط الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين) .

ومنها: أن يتعين لاشتهاره، كقوله: (وقلنا يادم أسكن أنت وزوجك الجنة) ولم يقول حواء، لأنه ليس له غيرها. (ألم ترى إلى الذي حاج إبراهيم في ربه) والمراد نمروذ، لشهرة ذلك، لأنه مرسل إليه من قبل. وإنما ذكر فرعون في القرآن بصريح أسمه دون نمروذ، لان فرعون كان أذكى منه، كما يؤخذ من أجوبته لموسى، ونمروذ كان بليدا، ولهذا قال: (أنا أحيي وأميت) وفعل ما فعل من قتل شخص والعفو عن الأخر، وذلك غاية البلادة.

ومنها: قصد الستر عليه، ليكون أبلغ في استعطافه، نحو: (ومن الناس من يعجبك قوله في حياة الدنيا) ، وقيل: هو الاخنس بن شريق، قد أسلم بعد وحسن إسلامه.
তিনি বললেন: ঐ ব্যক্তির প্রতি বিস্ময় প্রকাশ পায় যে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে বলেছে যে, তারা কুরাইজা গোত্রের অথবা জিনের অন্তর্ভুক্ত।

আমি বলি: আয়াতে তাদের শ্রেণি বা উৎস অজ্ঞাত—এমন কথা বলা হয়নি; বরং নির্দিষ্টভাবে তাদের পরিচয় (ব্যক্তি হিসেবে) জানাকেই অস্বীকার করা হয়েছে। সুতরাং তারা কুরাইজা বা জিনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই আয়াতের পরিপন্থী নয়। এটি মুনাফিকদের সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণীর সদৃশ: "তোমাদের পার্শ্ববর্তী মরুবাসীদের মধ্যে কিছু মুনাফিক রয়েছে এবং মদিনাবাসীদের মধ্যেও; তারা নিফাকে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। তুমি তাদের চেনো না, আমি তাদের চিনি।" এখানেও মূলত নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জানাকেই অস্বীকার করা হয়েছে। উপরন্তু, তারা জিনের অন্তর্ভুক্ত ছিল—এই কথাটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত একটি মারফু (مرفوع) বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে, যা ইবনে আবি হাতিম ও অন্যান্যরা সংকলন করেছেন; তাই একে ধৃষ্টতা বলা সমীচীন নয়।

চতুর্থত: কুরআনে কোনো ব্যক্তির নাম উহ্য বা অস্পষ্ট (إبهام) রাখার একাধিক কারণ রয়েছে: এর মধ্যে একটি হলো অন্য স্থানে বর্ণনার মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা প্রদান করায় এখানে তার আবশ্যকতা না থাকা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন"—যা (অন্য আয়াতে) নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

আরেকটি কারণ হলো: অতি প্রসিদ্ধির কারণে বিষয়টি সুনির্ধারিত হওয়া। যেমন আল্লাহর বাণী: "এবং আমি বললাম, হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো।" এখানে 'হাওয়া' নাম উল্লেখ করা হয়নি কারণ আদম (আ.)-এর জন্য তিনি ব্যতীত অন্য কেউ ছিলেন না। আবার: "তুমি কি সেই ব্যক্তির অবস্থা দেখনি, যে ইব্রাহিমের সাথে তার প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করেছিল?" এখানে উদ্দেশ্য হলো 'নমরুদ'; কারণ তার বিষয়টি অতি প্রসিদ্ধ, যেহেতু ইব্রাহিম (আ.) ইতিপূর্বেও তার নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন। কুরআনে নমরুদের পরিবর্তে ফেরাউনের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো ফেরাউন তার চেয়ে অধিক চতুর ছিল, যা মুসা (আ.)-কে দেওয়া তার উত্তরগুলো থেকে প্রতিভাত হয়। অন্যদিকে নমরুদ ছিল নির্বোধ; একারণেই সে বলেছিল: "আমিও জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই।" আর সে যা করার তা-ই করল—একজনকে হত্যা করল এবং অন্যজনকে ছেড়ে দিল, যা ছিল চরম নির্বুদ্ধিতার বহিঃপ্রকাশ।

অন্য একটি কারণ হলো: কারো দোষ গোপন রাখার ইচ্ছা, যাতে তাকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা অধিকতর সহজ হয়। যেমন: "মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে পার্থিব জীবন সম্পর্কে যার কথাবার্তা তোমাকে মুগ্ধ করে।" বলা হয়ে থাকে, তিনি হলেন আখনাস বিন শুরাইক, যিনি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তার ইসলাম সুন্দর হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
ومنه: أن لا يكون في تعيينه كبير الفائدة، نحو: (فقلنا اضربوه ببعضها) . (وأسألهم عن القرية) .

ومنه: التنبيه على العموم، وأنه غير خاص، بخلاف لو عين، نحو: (ومن يخرج من بيته مهاجرا) .

ومنها: تعظيمه بالوصف الكامل دون الاسم، نحو: (ولا يأتل أولو الفضل) . (والذي جاء بالصدق وصدق به) الرمز:33، (إذ يقول لصاحبه) التوبة:40 والمراد الصديق في الكل.

ومنها تحقيره بالوصف الناقص، نحو: (إن شانئك هو الآبار) الكوثر: 3 والله سبحانه أعلم.

؟؟؟؟؟؟؟؟؟

 

‌‌سورة الفاتحة

(مالك يوم الدين) 4:هو يوم القيامة، أخرجه ابن جرير وغيره، من طريق الضحاك عن ابن عباس.

(صراط الذين أنعمت عليهم) 7: هم النبيون والصديقون والشهداء والصالحون، كما فسره أية النساء.

(غير المغضوب عليهم ولا الضالين) 7:الأول اليهود، والثاني النصارى، كما أخرجه أحمد وابن حبان والترمذي من حديث عدي بن حاتم قال:
এবং এর মধ্যে রয়েছে: সেটিকে নির্দিষ্ট করার মাঝে বিশেষ কোনো উপকার নেই, যেমন: (অতঃপর আমি বললাম: সেটির এক অংশ দ্বারা তাকে আঘাত করো)। (তাদেরকে জনপদটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো)।

এবং এর মধ্যে রয়েছে: ব্যাপকতা (عموم) সম্পর্কে সতর্ক করা, এবং এটি যে নির্দিষ্ট নয় তা বোঝানো; যা নির্দিষ্ট করার বিপরীত। যেমন: (আর যে ব্যক্তি মুহাজির হিসেবে নিজের ঘর থেকে বের হয়)।

এবং এর মধ্যে রয়েছে: নামের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির মাধ্যমে কাউকে মহিমান্বিত করা। যেমন: (তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদাবান তারা যেন শপথ না করে)। (আর যিনি সত্য নিয়ে এসেছেন এবং যিনি তা সত্য বলে গ্রহণ করেছেন - সূরা আয-যুমার: ৩৩), (যখন তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলছিলেন - সূরা তাওবা: ৪০)। আর এখানে সব জায়গাতেই সিদ্দিক উদ্দেশ্য।

এবং এর মধ্যে রয়েছে: ত্রুটিযুক্ত বর্ণনার মাধ্যমে কাউকে তুচ্ছজ্ঞান করা। যেমন: (নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই হলো নির্বংশ - সূরা কাওসার: ৩)। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সম্যক অবগত।

?????????

 

‌‌সূরা আল-ফাতিহা

(প্রতিদান দিবসের মালিক) ৪: এটি হলো কিয়ামত দিবস। ইবনে জারীর এবং অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস থেকে যাহহাকের সূত্র (طريق) হয়ে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرج)।

(তাদের পথ যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন) ৭: তারা হলেন নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ; যেমনটি সূরা নিসা-র আয়াতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

(যাদের ওপর আপনার ক্রোধ বর্ষিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়) ৭: প্রথমটি হলো ইয়াহুদি এবং দ্বিতীয়টি হলো নাসারা; যেমনটি ইমাম আহমাদ, ইবনে হিব্বান এবং তিরমিযী আদি বিন হাতিম থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن المغضوب عليهم هم اليهود، وان الضالين هم النصارى) .

وأخرجه ابن مردويه من حديث أبي ذر. قال ابن أبي حاتم: ولا أعلم فيه خلافا بين المفسرين.

؟

 

‌‌سورة البقرة

(إني جاعل في الأرض خليفة) 30: هو أدم، كما دل عليه السياق وورد في مرسل ضعيف أن الأرض المذكورة مكة، لكن قال ابن كثير: انه مدرج، وذلك: ما أخرجه ابن جرير وابن أبي حاتم من طريق عطاء بن السائب، عن عبد الرحمن بن سابط: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (دحيت الأرض من مكة، وأول من طاف بالبيت الملائكة، قال الله تعالى: (إني جاعل في الأرض خليفة) يعني مكة.

(اسكن أنت وزوجك الجنة) 35: هي حواء، بالمد. روى ابن جرير من طريق السدي بأسانيده: (سألت الملائكة أدم عن حواء ما اسمها؟ قال: حواء، قالوا: ولم سميت حواء؟ قال: لأنها خلقت من حي) .
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (যাদের ওপর ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে তারা হলো ইহুদি, আর যারা পথভ্রষ্ট তারা হলো নাসারা)।

আর ইবনে মারদুইয়াহ এটি আবু জার (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন। ইবনে আবি হাতিম বলেন: এ বিষয়ে মুফাসসিরদের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই।

?

 

‌‌সুরা আল-বাকারাহ

(আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে যাচ্ছি) ৩০: তিনি হলেন আদম, যেমনটি প্রসঙ্গের মাধ্যমে নির্দেশিত হয়েছে। একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) ও দুর্বল (ضعيف) বর্ণনায় এসেছে যে, উল্লিখিত ভূমি বলতে মক্কা বোঝানো হয়েছে, কিন্তু ইবনে কাসির বলেছেন: এটি একটি অনুপ্রবেশিত বা মিশ্রিত (مدرج) তথ্য। আর তা হলো: যা ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম আতা ইবনে সাইব-এর সূত্রে আবদুর রহমান ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (মক্কা থেকে জমিন বিস্তৃত করা হয়েছে এবং সর্বপ্রথম যারা বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছিলেন তারা হলেন ফেরেশতাগণ; আল্লাহ তাআলা বলেন: (নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে যাচ্ছি) অর্থাৎ মক্কায়।

(তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো) ৩৫: তিনি হলেন হাওয়া। ইবনে জারির সুদ্দির সূত্রে তাঁর বর্ণনাসূত্রসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে: (ফেরেশতারা আদমকে হাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাঁর নাম কী? তিনি বললেন: হাওয়া। তারা জিজ্ঞাসা করলেন: কেন তাঁর নাম হাওয়া রাখা হয়েছে? তিনি বললেন: কারণ তাঁকে জীবিত বস্তু থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে)।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
(ولا تقربا هذه الشجرة) 35: أخرج ابن جرير وأب أبي حاتم من طريق عكرمة، عن ابن عباس: أنها السنبلة. وله طريق عنه صحيحة.

وأخرج ابن جرير من طريق السدي بأسانيده: أنها الكرم. وزعم اليهود أنها الحنطة.

وأخرج أبو الشيخ من وجه أخر عن عكرمة عن ابن عباس قال: هي اللوز. وإسناده ضعيف. وعندي أنها تصفحت بالكرم. واخرج عن يزيد بن عبد الله بن قسيط قال: هي الاترج.

وأخرج ابن أبى حاتم عن أبي مالك قال: هي النخلة.

وأخرج ابن جرير عن مجاهد قال: هي تينة.

واخرج ابن أبي حاتم مثله عن قتادة بلفظ: هي التين.

فهذه ستة أقوال.

(وقلنا اهبطوا بعضكم لبعض عدوا) 36: أخرج ابن جرير عن ابن عباس: أنه خطاب لأدم وحواء، وإبليس، والحية.

(وإذ فرقنا بكم البحر) 50: هو القلزم، وكنيته أبو خالد، كما أخرجه أبن أبي حاتم، عن قيس بن عباد. قال ابن عساكر: كأنه كني بذلك لطول بقائه.
(আর তোমরা এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না) ৩৫: ইবনে জারির এবং ইবনে আবু হাতিম ইকরিমা-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এটি ছিল শস্যের শিষ। আর তাঁর থেকে বর্ণিত এর একটি বিশুদ্ধ (صحيحة) সূত্র (طريق) রয়েছে।

ইবনে জারির সুদ্দী-এর সূত্রে তাঁর সনদসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে: এটি ছিল আঙুর গাছ। আর ইহুদিদের দাবি যে, এটি ছিল গম।

আবুশ শাইখ অন্য একটি সূত্রে ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি ছিল কাঠবাদাম। তবে এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। আমার মতে, এটি সম্ভবত ‘আল-কারম’ (আঙুর গাছ) শব্দের বর্ণবিপর্যয়। ইয়াজিদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুসাইত থেকে বর্ণিত যে: এটি ছিল আতরাজ (এক প্রকার লেবু)।

ইবনে আবু হাতিম আবু মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি ছিল খেজুর গাছ।

ইবনে জারির মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি ছিল ডুমুর গাছ।

ইবনে আবু হাতিম কাতাদাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন যার শব্দ হলো: এটি হলো ডুমুর।

এগুলো হলো ছয়টি অভিমত।

(এবং আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অপরের শত্রু) ৩৬: ইবনে জারির ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এটি ছিল আদম, হাওয়া, ইবলিস এবং সাপের প্রতি সম্বোধন।

(এবং যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে দ্বিখণ্ডিত করেছিলাম) ৫০: এটি হলো কুলজুম সাগর, যার উপনাম হলো আবু খালিদ; যেমনটি ইবনে আবু হাতিম কাইস ইবনে আব্বাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আসাকির বলেন: সম্ভবত এর স্থায়িত্বের দীর্ঘতার কারণে একে এই উপনামে ভূষিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
وروى أبو يعلي بسند ضعيف، عن لنبي صلى الله عليه وسلم قال: (فلق البحر لبني إسرائيل يوم عاشوراء) .

(وإذ واعدنا موسى أربعين ليلة) 51: هي ذو القعدة وعشرة من ذو الحجة، أحرجه أبن جرير عن أبن العالية.

(ثم اتخذتم العجلة) 51: أخرج ابن عساكر في تاريخه، عن الحسن البصري قال: كان أسم عجل بني إسرائيل الذي عبدوه بهموت.

وأخرج ابن أبى حاتم ولفضه: بهبوت.

(ادخلوا هذه القرية) 58: أخرج عبد الرزاق، عن قتادة: أنها بيت المقدس.

وأخرج ابن الحرير من طريق الصولي، عن ابن عباس في قوله: (وادخلوا الباب سجدا) 58: قال: هو أحد أبواب بيت المقدس يدعى بباب.

وأخرج عن الربيع: أنها بيت المقدس. وعن أبي زيد أنها أريحة، قرية به.

(النصارى) 62: سمو بذلك لأنهم كانوا بقرية يقال لها ناصرة.

أخرجه ابن أبي حاتم عن قتادة.
আবু ইয়ালা একটি দুর্বল (ضعيف) সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: (আশুরা দিবসে বনী ইসরাঈলের জন্য সমুদ্র বিদীর্ণ করা হয়েছিল)।

(আর যখন আমি মূসার জন্য চল্লিশ রাত নির্দিষ্ট করেছিলাম) ৫১: তা হলো জিলকদ মাস এবং জিলহজ মাসের দশ দিন; ইবনে জারীর আবুল আলিয়া থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه)।

(অতঃপর তোমরা গোবৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করলে) ৫১: ইবনে আসাকির তার তারিখে হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলের সেই গোবৎসটির নাম ছিল 'বহমুত', যার তারা পূজা করত।

এবং ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন (أخرج) এবং তার শব্দবিন্যাস (لفظه) হলো: 'বহবুত'।

(তোমরা এই জনপদে প্রবেশ করো) ৫৮: আবদুর রাজ্জাক কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج): এটি হলো বাইতুল মাকদিস।

এবং ইবনে জারীর আস-সুলীর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং সিজদাবনত হয়ে দরজায় প্রবেশ করো) ৫৮ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন (أخرج): তিনি বলেন, এটি বাইতুল মাকদিসের একটি দরজা যা একটি বিশেষ নামে পরিচিত।

এবং আর-রবী থেকে বর্ণিত হয়েছে (أخرج) যে: এটি বাইতুল মাকদিস। আর আবু যাইদ থেকে বর্ণিত যে এটি আরীহা (জেরিকো), সেখানকার একটি জনপদ।

(নাসারা) ৬২: তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা 'নাসিরা' নামক একটি জনপদে বসবাস করত।

এটি ইবনে আবি হাতিম কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقيل: لقولهم: (نحن أنصار الله) 52: حكاه ابن عساكر.

(وإذ قتلتم نفسا) 72: اسم اعاميا، ذكره الكرماني. وقيل: نكار، حكاه المارودي. وقاتله ابن أخيه، أخرجه ابن جرير وغيره عن ابن عباس. وقيل: أخوه.

(فقلنا اضربوه ببعضها) 73: أخرج الفريابي عن ابن عباس قال: بالعظم الذي يلي الغضروف.

وقيل: ضربه بالبعضعة التي بين الكتفين، أخرجه ابن جرير عن قتادة ومجاهد.

وقيل: بعضهم من عظامها، أخرجه ابن أبى العالية.

وقيل: بلسانها، وقيل: بذنبها، حكاه الكرماني في الغرائب.

(وإذا خلا بعضهم إلى بعض) 76: أخرج ابن جرير عن ابن عباس: أنها في المنافقين من اليهود.

وأخرج ابن أبى حاتم عن عكرمة: إنها نزلت في ابن صوريا.

(ومنهم أميون) 78: قيل: المراد بهم المجوس، حكاه الهدوي، لأنهم لا كتاب لهم.
এবং বলা হয়েছে: তাদের এই উক্তির কারণে: (আমরা আল্লাহর সাহায্যকারী) ৫২: এটি ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন।

(আর যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে) ৭২: নিহতের নাম ছিল আমিয়া, এটি আল-কিরমানি উল্লেখ করেছেন। এবং বলা হয়েছে: নুকার, এটি আল-মারুদি বর্ণনা করেছেন। আর তার হত্যাকারী ছিল তার ভাতিজা, ইবনে জারির এবং অন্যরা ইবনে আব্বাস থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। এবং বলা হয়েছে: সে ছিল তার ভাই।

(অতঃপর আমি বললাম, এর কোনো এক অংশ দিয়ে তাকে আঘাত করো) ৭৩: আল-ফিরয়াবি ইবনে আব্বাস থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলেন: সেই হাড় দিয়ে যা তরুণাস্থির পার্শ্ববর্তী।

এবং বলা হয়েছে: তাকে দুই কাঁধের মধ্যবর্তী মাংসপিণ্ড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, এটি ইবনে জারির কাতাদাহ এবং মুজাহিদ থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

এবং বলা হয়েছে: তার হাড়সমূহের কোনো একটি অংশ দিয়ে, এটি ইবনে আবি আল-আলিয়াহ উদ্ধৃত করেছেন।

এবং বলা হয়েছে: তার জিহ্বা দিয়ে, আবার বলা হয়েছে: তার লেজ দিয়ে; আল-কিরমানি এটি আল-গরাইব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(আর যখন তারা একে অপরের সাথে নির্জনে মিলিত হয়) ৭৬: ইবনে জারির ইবনে আব্বাস থেকে উদ্ধৃত করেছেন: এটি ইহুদিদের মধ্য থেকে মুনাফিকদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।

এবং ইবনে আবি হাতিম ইকরিমাহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন: এটি ইবনে সুরিয়া সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।

(আর তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে) ৭৮: বলা হয়েছে: তাদের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অগ্নিপূজক, আল-হাদাভি এটি বর্ণনা করেছেন, কারণ তাদের কোনো কিতাব নেই।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
(إلا أياما معدودة) 80: زعموها سبعة، أخرجه الطبراني وغيره بسند حسن عن ابن عباس.

وأخرج ابن حاتم وابن جرير من طرق ضعيفة عنه: أنها أربعون.

(وأيدناه بروح القدس) 87: هو جبريل، أخرجه ابن أبي حاتم عن ابن مسعود.

(نبذه فريق منهم) 101: هو مالك بن الصيف، أخرجه أبن جرير عن ابن عباس.

(وما أنزل على الملكين) 103: هما هاروت وماروت، كما أخرجه ابن جرر عن ابن عباس.

وقيل: جبريل وميكائيل، أخرجه البخاري في تاريخه، وابن المنذر عن ابن عباس، وابن أبي حاتم عن عطية.

وقرىء بكسر اللام، فهما داود وسليمان، كما أخرجه ابن أبى حاتم عن عبد الرحمن بن ابزي. وأخرج عن الضحاك: أنهما علجان من بابل.

(ود كثير من أهل الكتاب) 109: سمي منهم كعب بن الاشرف، أخرج عن الزهري وقتادة. وحيي بن أخطب وأبو ياسر بن أخطب، أخرجه ابن عباس.

(وقالت اليهود ليست النصارى على شيء) 113: قاله رافع بن حرملة.
(নির্দিষ্ট কয়েক দিন মাত্র) ৮০: তারা এটিকে সাত দিন বলে মনে করত; তাবারানি এবং অন্যরা ইবনে আব্বাস থেকে একটি হাসান (حسن) সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর ইবনে হাতিম ও ইবনে জারির তাঁর থেকে কয়েকটি দুর্বল (ضعيفة) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: তা ছিল চল্লিশ দিন।

(আর আমি তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা শক্তিশালী করেছি) ৮৭: তিনি হলেন জিবরাঈল; ইবনে আবি হাতিম ইবনে মাসউদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(তাদের একদল তা ছুড়ে ফেলেছিল) ১০১: তিনি হলেন মালিক বিন আস-সাইফ; ইবনে জারির ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(আর যা দুই ফেরেশতার ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল) ১০৩: তারা হলেন হারুত ও মারুত, যেমনটি ইবনে জারির ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

কেউ কেউ বলেছেন: তারা জিবরাঈল ও মিকাইল; বুখারি তাঁর তারিখে এবং ইবনে মুনজির ইবনে আব্বাস থেকে এবং ইবনে আবি হাতিম আতিয়্যাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর এটি 'লাম' বর্ণে কাসরা যোগে পঠিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে তারা দাউদ ও সুলায়মান; যেমনটি ইবনে আবি হাতিম আবদুর রহমান বিন আবজা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর দাহহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: তারা ছিলেন বাবিলের দুইজন অনারব ব্যক্তি।

(আহলে কিতাবদের অনেকেই আকাঙ্ক্ষা করে) ১০৯: তাদের মধ্য থেকে কাব বিন আশরাফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা জুহরি ও কাতাদাহ থেকে বর্ণিত। আর হুয়াই বিন আখতাব ও আবু ইয়াসির বিন আখতাবের নাম ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন।

(আর ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানদের কোনো ভিত্তি নেই) ১১৩: এটি রাফে বিন হারমালাহ বলেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
(وقالت النصارى ليست اليهود على شيء) 113: قاله رجل من نجران.

أخرجه ابن جرير عن ابن عباس.

(كذلك قال الذين لا يعلمون) 113: قال السدي: هم العرب.

وقال عطاء: أمم كانت قبل اليهود والنصارى.

أحرجهما ابن جرير.

(ومن أظلم ممن منع مساجد الله) 114: أخرج ابن أبي حاتم عن ابن عباس: أنهم قريش. ومن طريق العوفي عنه: أنهم النصارى.

وأخرج عبد الرزاق عن قتادة: أنهم بختنصر وأصحابه الذين خربوا بيت المقدس.

(وقال الذين لا يعلمون لولا يكلمنا الله) 118:سمي منهم رافع بن حرملة، أخرجه ابن جرير عن ابن عباس. وأخرج عن قتادة قال: هم كفار العرب.

(ربنا وابعث فيهم رسول منهم) 129:هو النبي صلى الله عليه وسلم، ولذلك قال: (أنا دعوة أبى إبراهيم) . أخرجه أحمد من حديث العرباض بن سارية وغبره.

(ووصى إبراهيم بنيه ويعقوب) 132: أي بنيه، أما بنو إبراهيم فسمي منهم في القرآن إسماعيل واسحق. وسمي منهم الكلبي: مدن، ومدين، وبقشان، ورمران، وأشبق، وشوح،. أخرجه ابن سعد في طيقاته. ورأيت فيها الأسماء هكذا مضبوطة، في نسخة معتمدة ضيطها الدمياطي وأتقنها. ثم قال ابن
(এবং খ্রিস্টানরা বলেছিল, "ইহুদিরা কোনো ভিত্তির ওপর নেই") ১১৩: নাজরানের এক ব্যক্তি এই কথাটি বলেছেন।

ইবনে জারির এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(অনুরূপভাবে যারা জানে না তারাও বলেছিল) ১১৩: সুদ্দি বলেন, তারা হলো আরবরা।

আতা বলেন, তারা এমন কিছু জাতি যারা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পূর্বে ছিল।

ইবনে জারির এই দুটি বর্ণনা সংকলন করেছেন।

(আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম কে যে আল্লাহর মসজিদসমূহে বাধা প্রদান করে) ১১৪: ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা হলো কুরাইশরা। এবং আউফির সূত্র (طريق) থেকে তাঁর বরাতে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা হলো খ্রিস্টানরা।

আব্দুর রাজ্জাক কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা হলো বুখতানাসসার এবং তার সাথীরা যারা বাইতুল মুকাদ্দাস ধ্বংস করেছিল।

(আর যারা জানে না তারা বলে, "আল্লাহ কেন আমাদের সাথে কথা বলেন না?") ১১৮: তাদের মধ্য থেকে রাফে বিন হারমালার নাম উল্লেখ করা হয়েছে; ইবনে জারির ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর কাতাদা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, তারা হলো আরবের কাফেররা।

(হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি তাদের মধ্যে তাদের থেকেই একজন রাসূল প্রেরণ করুন) ১২৯: তিনি হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আর একারণেই তিনি বলেছিলেন: ("আমি আমার পিতা ইব্রাহিমের দোয়ার ফসল")। আহমদ এটি ইরবাদ বিন সারিয়া এবং অন্যদের বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(আর ইব্রাহিম তার সন্তানদের এই আদেশ দিয়ে গিয়েছিলেন এবং ইয়াকুবও) ১৩২: অর্থাৎ তার সন্তানদের; ইব্রাহিমের সন্তানদের মধ্যে কুরআনে ইসমাইল ও ইসহাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর কালবি তাদের মধ্য থেকে মাদান, মাদইয়ান, বাকশান, জামরান, আশবাক এবং শুহ-এর নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনে সাদ তাঁর তাবাকাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আমি সেখানে এই নামগুলোকে এভাবেই যথাযথভাবে স্বরচিহ্নসহ সংরক্ষিত দেখতে পেয়েছি, যা একটি নির্ভরযোগ্য (معتمدة) পাণ্ডুলিপিতে আল-দিমিয়াতি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিন্যস্ত করেছেন। এরপর ইবনে...
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
سعد: أنبأنا محمد بن عمر الاسلمي قال: ولد لإبراهيم إسماعيل وهو ابن تسعين سنة، وهو بكريه، وولد له اسحق بثلاثين سنة، ثم ولدت له قنطورا أربعة: ماذى وزمران وشوح واشبق، ثم ولدت له حجوى سبعة: نافس ومدين وكيشان وشروخ وأميم ولوط ويقشان، فجميع ولده ثلاثة عشر رجلا.

واخرج عن الكلبي قال: ولد لاسماعيل أثنى عشر رجلا: وذ، وقيذار، وأدبيل، ومسا، ومشمع، وذوما، واذر، وطيما، وبطور، ونبت، وماشي، وقيذما.

قوله: (والأسباط) 136: اخرج ابن جرير من طريق حجاج عن ابن جريح: قال ابن عباس: الأسباط بنو يعقوب: يوسف، وبنيامين، وروبيلا، ويهوذا، وشمعون، ولاوى، ودان، ونفتالى، وجاد، وربالون، وشجر، ودان.

(سيقول السفهاء) : قال البراء بن عازب: هم اليهود. أخرجه أبو داود في الناسخ والمنسوخ.

قال ابن عساكر: وقائلها منهم: رفاعة بن قيس، وقردم بن عمرو، وكعب بن الأشرف، ونافع بن حرملة، والحجاج بن عمرو، والربيع بن الحقيق. أخرجه ابن جرير وغيره.

(ويلعنهم اللاعنون) : فسر في الحديث - أخرجه ابن ماجه، عن البراء بن عازب - بدواب الأرض. كذا قال مجاهد. أخرجه سعيد بن منصور وغيره.

وقال قتادة والربيع: هم الملائكة والمؤمنون، أخرجه ابن جرير.
সাদ: মুহাম্মদ বিন উমর আল-আসলামি আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا), তিনি বলেন: ইব্রাহিম (আ.)-এর পুত্র ইসমাঈল জন্মলাভ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল নব্বই বছর, এবং তিনি ছিলেন তাঁর প্রথম সন্তান। তাঁর ত্রিশ বছর পরে ইসহাক জন্মলাভ করেন। এরপর কানতুরা তাঁর গর্ভে চারজন সন্তান প্রসব করেন: মাযী, যামরান, শুহ এবং আশবাক। এরপর হাজওয়া সাতজন সন্তান প্রসব করেন: নাফিস, মাদয়ান, কিশান, শারুখ, আমীম, লুত এবং ইয়াকশান। সুতরাং তাঁর মোট সন্তান ছিল তেরোজন পুরুষ।

এবং আল-কালবি থেকে বর্ণিত (أخرج) হয়েছে, তিনি বলেন: ইসমাঈলের বারোজন পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন: ওয়ায, কাইযার, আদবিল, মাসা, মিশমা, যুমা, আযার, তাইমা, বাতুর, নাবত, মাশি এবং কাইযামা।

তাঁর বাণী: (এবং বংশধরগণ) ১৩৬: ইবনে জারীর হাজ্জাজের সূত্রের মাধ্যমে (من طريق) ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: বংশধরগণ (الأسباط) হলো ইয়াকুবের পুত্রসন্তান: ইউসুফ, বিনয়ামীন, রুবিলা, ইয়াহুদা, শামউন, লাওয়ী, দান, নাফতালি, জাদ, রাবালুন, শাজার এবং দান।

(অচিরেই নির্বোধরা বলবে): বারা বিন আযিব (রা.) বলেন: তারা হলো ইহুদি। আবু দাউদ এটি আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ গ্রন্থে বর্ণনা (أخرج) করেছেন।

ইবনে আসাকির বলেন: তাদের মধ্যে যারা এটি বলেছিল তারা হলো: রিফাআহ বিন কায়স, কারদাম বিন আমর, কাব বিন আশরাফ, নাফি বিন হারমালাহ, হাজ্জাজ বিন আমর এবং রাবি বিন হুকাইক। ইবনে জারীর এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা (أخرج) করেছেন।

(এবং অভিশাপ দানকারীরা তাদের অভিশাপ দেয়): হাদিসে এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে—ইবনে মাজাহ এটি বারা বিন আযিব (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন—জমিনের জীবজন্তু হিসেবে। মুজাহিদও অনুরূপ বলেছেন। সাঈদ বিন মানসুর ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা (أخرج) করেছেন।

এবং কাতাদাহ ও রাবি বলেন: তারা হলো ফেরেশতা এবং মুমিনগণ। ইবনে জারীর এটি বর্ণনা (أخرج) করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
(واذا قيل لهم اتبعوا) : سمي منهم رافع بن حرملة، ومالك بن عوف، أخرجه أبن أبي حاتم، عن ابن عباس.

(علم الله أنكم كنتم تختانون أنفسكم) : سمي ممن وقع لهم ذلك عمر بن الخطاب، وكعب بن مالك، أخرجه الأمام أحمد باءسناد حسن.

(يسألونك عن الاهلة) : سمي منهم معاذ بن جبل، وثعلبة بن عنمه - بفتح المهملة والنون - الأنصاري السلمي. أخرجه ابن عساكر عن ابن عباس.

(الحج أشهر معلومات) : هي شوال وذو القعده وعشرة منذي الحجة. كما أخرجه الحاكم وغيره عن ابن عمر، وسعيد بن منصور عن ابن مسعود، والطبراني وغيره عن ابن عباس، وابن المنذر عن ابن الزبير.
(আর যখন তাদেরকে বলা হয় তোমরা অনুসরণ করো): তাদের মধ্যে রাফে ইবনে হারমালা এবং মালিক ইবনে আউফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, ইবনে আবী হাতিম এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(আল্লাহ জানেন যে তোমরা নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে): যাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটেছিল তাদের মধ্যে ওমর ইবনুল খাত্তাব এবং কাব ইবনে মালিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, ইমাম আহমাদ এটি একটি হাসান (حسن) সনদে বর্ণনা করেছেন।

(তারা আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে): তাদের মধ্যে মুয়াজ ইবনে জাবাল এবং সালাবা ইবনে আনামাহ — আইন এবং নুন বর্ণের ফাতহা (যবর) সহযোগে — আনসারী আস-সুলামীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে আসাকির এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(হজ হলো কয়েকটি নির্দিষ্ট মাস): সেগুলো হলো শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন। যেমনটি হাকেম এবং অন্যরা ইবনে ওমর থেকে, সাঈদ ইবনে মানসুর ইবনে মাসউদ থেকে, তাবারানী এবং অন্যরা ইবনে আব্বাস থেকে এবং ইবনে মুনজির ইবনুল জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقيل: ذو الحجة. أخرجه الطبراني وغيره من حديث ابن عمر مرفوعا، وسعيد بن منصور عن عمر بن الخطاب مرفوعا.

(ثم أفيضوا من حيث الفاض الناس) : أخرج ابن جريح عن طريق الضحاك عن ابن عباس في قوله: (أفاض الناس) قال: إبراهيم.

(في أيام معدودات) : هي أيام التشريق الثلاثة. أخرجه الفريابي عن ابن عمر وعن ابن عباس.

وقال ابن عباس أيضا: أربعة أيام: يوم النحر وثلاثة بعده. أخرجه ابن أبي حاتم.

وقال علي: ثلاثة أيام: يوم الأضحى، ويومان بعده. أخرجه ابن أبي حاتم.

(ومن الناس من يعجبك قوله) : وهو الأخنس بن شريق، أخرجه ابن جرير عن السدي.

(ومن الناس من يشري نفسه) : هو صهيب. أخرجه الحرث بن أبي أسامة في مسنده، وأبن أبي حاتم، عن سعيد بن المسيب. وأخرج ابن جرير عن عكرمة: أنها نزلت في صهيب، وأبي ذر، وجدب بن السكن، أحد أهل أبي ذر.

(يسألونك عن الخمر والميسر) : قال ابن عساكر: كان السائل حمزة بن عبد المطلب مع نفر من الأنصار.

وقال أبو حيان: عمر ومعاذ.

(ويسألونك ماذا ينفقون قل العفو) : سمي من السائلين معاذ ابن جبل، وثعلبة. أتخرجه ابن أبي حاتم عن يحي بلاغا.
এবং বলা হয়েছে: (এটি) জিলহজ মাস। তাবারানি এবং অন্যান্যরা এটি ইবনে উমরের হাদিস থেকে মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সাঈদ ইবনে মানসুর উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

(অতঃপর তোমরা সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করো যেখান থেকে মানুষেরা প্রত্যাবর্তন করে) : ইবনে জারির দাহহাকের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে মহান আল্লাহর বাণী: (মানুষেরা প্রত্যাবর্তন করে) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন: (এখানে মানুষেরা বলতে) ইবরাহিম।

(গণনা করা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে) : তা হলো তাশরিকের তিন দিন। ফিরইয়াবি ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আব্বাস আরও বলেছেন: (দিনগুলো হলো) চার দিন: কুরবানির দিন এবং তার পরবর্তী তিন দিন। ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন।

আলি বলেছেন: (দিনগুলো হলো) তিন দিন: ঈদুল আযহার দিন এবং তার পরবর্তী দুই দিন। ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন।

(আর মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে যার কথা পার্থিব জীবনে তোমাকে মুগ্ধ করে) : তিনি হলেন আখনাস ইবনে শুরাইক। ইবনে জারির সুদ্দী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের প্রাণ বিক্রয় করে দেয়) : তিনি হলেন সুহাইব। হারিস ইবনে আবি উসামা তার মুসনাদ-এ এবং ইবনে আবি হাতিম সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে জারির ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এটি সুহাইব, আবু যার এবং আবু যারের পরিবারের সদস্য জুনদুব ইবনুস সাকান সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।

(তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে) : ইবনে আসাকির বলেছেন: প্রশ্নকারী ছিলেন হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব এবং আনসারদের একটি দল।

আবু হাইয়ান বলেছেন: (প্রশ্নকারীরা ছিলেন) উমর এবং মুয়াজ।

(এবং তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে? বলো: যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত) : প্রশ্নকারীদের মধ্যে মুয়াজ ইবনে জাবাল ও সা'লাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে আবি হাতিম ইয়াহইয়া থেকে এটি বালাগ (بلاغا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
قال ابن عساكر في قوله: (يسألونك ماذا ينقون قل ما أنفقتم) : نزلت في عمرو بن الجموح، سأل عن مواضع النفقة فنزلت، ثم سأل بعد ذلك كم النفقة؟ فنزل: (ويسألونك ماذا ينفقون قل العفو) .

(ويسألونك عن اليتامى) : قال ابن الغرس في أحكام القرآن: قيل: إن السائل عبد الله بن رواحة. زاد أبو حيان: وقيل: ثابت بن رفاعة الأنصاري.

(ويسألونك عن المحيض) : أخرج ابن جرير، عن السدي، والمرودي، عن ابن عباس: أن السائل عن ذلك ثابت بن الدحداح الأنصاري.

وقال السهيلي: عباد بن بشر وأسيد بن الحضير.

(الذين خرجوا من ديارهم وهم ألوف) : أخرج الحاكم في مستدرك من طريق سعيد بن جبير، عن ابن عباس: أنهم كانوا أربعة آلاف.

وأخرج ابن أبي حاتم من طريق عكرمة عنه: أنهم أربعة آلاف من أهل قرية يقال لها: دراوردان.

وأخرج ابن جرير عن السدي: أنهم بضعة وثلاثون ألفا، من قرية يقال لها: دراوردان، قبل واسط.

وأخرج عن عطاء الخرساني: أنهم ثلاثة ألاف.

ومن طريق ابن جرير عن ابن عباس: أنهم أربعون ألفا.
ইবনে আসাকির আল্লাহ তাআলার বাণী: "(তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে? বলুন, তোমরা যা কিছু ব্যয় করো)"-এর প্রসঙ্গে বলেছেন: এটি আমর ইবনে আল-জামুহ-এর শানে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি ব্যয়ের খাতগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বিধায় আয়াতটি নাযিল হয়। এরপর তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ব্যয়ের পরিমাণ কত হবে? তখন নাযিল হলো: "(এবং তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে? বলুন, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত)।"

"(এবং তারা আপনাকে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে)": ইবনুল গারস 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, প্রশ্নকারী ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা। আবু হাইয়ান আরও যোগ করেছেন: এবং এটিও বলা হয়ে থাকে যে, তিনি সাবিত ইবনে রিফায়া আল-আনসারী।

"(এবং তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে)": ইবনে জারির সুদ্দি থেকে এবং মারুদি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: এ বিষয়ে প্রশ্নকারী ছিলেন সাবিত ইবনে আদ-দাহদাহ আল-আনসারী।

এবং সুহাইলি বলেছেন: (তারা ছিলেন) আব্বাদ ইবনে বিশর এবং উসাইদ ইবনে আল-হুদাইর।

"(যারা মৃত্যুর ভয়ে হাজারে হাজারে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল)": হাকেম 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে সাঈদ ইবনে জুবায়ের-এর সূত্র (طريق) হয়ে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: তারা সংখ্যায় চার হাজার ছিলেন।

এবং ইবনে আবি হাতিম ইকরিমা-এর সূত্র (طريق) হয়ে তাঁর থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: তারা চার হাজার লোক ছিলেন এবং 'দাওয়ারদান' নামক এক গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

ইবনে জারির সুদ্দি থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: তারা তিরিশ হাজারের কিছু বেশি (بضعة) ছিলেন এবং তারা ওয়াসিত-এর নিকটবর্তী 'দাওয়ারদান' নামক গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

এবং আতা আল-খুরাসানি থেকে বর্ণনা (أخرج) করা হয়েছে: তারা তিন হাজার ছিলেন।

এবং ইবনে জারিরের সূত্র (طريق) হয়ে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: তারা সংখ্যায় চল্লিশ হাজার ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
؟ (إذ قالوا لنبي لهم) : أخرج ابن جرير عن وهب بن منبه: أن اسمه شمويل، ونسبه لاوي بن يعقوب.

وأخرج السدي: أنه سمعون. قال: وإنما سمي به لان أمه دعت الله عز وجل أن يرزقها غلاما، فاستجاب لها دعاءها، فولدت غلاما، فسمته سمعون. تقول: الله سمع دعائي.

؟؟ وأخرج عن قتادة: أنه يوشع بن نون.

وقيل: اسمه حزقيل. حكاه الكرماني في العجائب.

وقال ابن عساكر: قيل: اسماويل بن حلفا، واسم أمه حسنة.

(فلما فصل طالوت بالجنود) : أخرج ابن جرير عن السدي: أنهم ثمانون الفا.

(مبتليكم بنهر) : أخرج الربيع وقتادة.

ومن طريق ابن جرير عن ابن عباس: أنه نهر بين الأردن وفلسطين.

ومن طريق العوفي عن ابن عباس: أنه نهر في فلسطين.

(فشربوا منه إلا قليلا منهم فلما جاوزه هو والذين أمنوا معه) : عدتهم ثلثمائة وبضعة عشر. كما أخرجه البخاري عن البراء.

(منهم من كلم الله ورفع بعضهم درجات) : أخرج ابن جرير، عن مجاهد في قوله: (منهم من كلم الله) قال: موسى. (ورفع بعضهم درجات) قال: محمدا.

(الذي حاج إبراهيم) : أخرج أبو داود الطيالسي في مسنده، عن علي قال: الذي حاج إبراهيم في ربه هو نمروذ بن كنعان.
? (যখন তারা তাদের নবীকে বলেছিল) : ইবনে জারির ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে: তার নাম শামউইল এবং তার বংশ পরিচয় লবি ইবনে ইয়াকুব।

এবং সুদ্দী বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে: তিনি শামউন। তিনি বলেন: তাঁর এই নামকরণ করা হয়েছিল কারণ তাঁর মা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যেন তিনি তাঁকে একটি পুত্রসন্তান দান করেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং তিনি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন, অতঃপর তিনি তাঁর নাম রাখেন শামউন। তিনি বলতেন: আল্লাহ আমার দোয়া শুনেছেন।

?? এবং কাতাদা থেকে বর্ণনা করা হয়েছে (أخرج) যে: তিনি ইউশা ইবনে নূন।

এবং বলা হয়েছে: তাঁর নাম হিযকিল। আল-কিরমানি তাঁর 'আল-আজায়িব' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

এবং ইবনে আসাকির বলেছেন: বলা হয়েছে যে, তাঁর নাম ইসমাউইল ইবনে হালফা এবং তাঁর মায়ের নাম হাসানা।

(অতঃপর তালুত যখন সৈন্যসামন্ত নিয়ে যাত্রা করলেন) : ইবনে জারির সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে: তারা সংখ্যায় ছিলেন আশি হাজার।

(একটি নদী দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করবেন) : আর-রবি এবং কাতাদা বর্ণনা করেছেন (أخرج)।

এবং ইবনে জারিরের সূত্রে (طريق) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে: এটি জর্ডান ও ফিলিস্তিনের মধ্যবর্তী একটি নদী।

এবং আউফির সূত্রে (طريق) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে: এটি ফিলিস্তিনের একটি নদী।

(অতঃপর তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক ছাড়া সবাই তা থেকে পান করল। যখন তিনি ও তাঁর সাথে থাকা মুমিনগণ তা অতিক্রম করলেন) : তাঁদের সংখ্যা ছিল তিনশ দশের কিছু বেশি। যেমনটি বুখারি বারা থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج)।

(তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং কারো কারো মর্যাদা উঁচু করেছেন) : ইবনে জারির মুজাহিদ থেকে এই আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন (أخرج): (তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন) তিনি হলেন মুসা। (এবং কারো কারো মর্যাদা উঁচু করেছেন) তিনি হলেন মুহাম্মদ।

(যে ব্যক্তি ইব্রাহিমের সাথে বিতর্ক করেছিল) : আবু দাউদ আত-তায়ালিসি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আলি থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে: যে ব্যক্তি ইব্রাহিমের সাথে তাঁর পালনকর্তা সম্পর্কে বিতর্ক করেছিল, সে হলো নমরুদ ইবনে কানআন।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
وأخرج ابن جرير مثله، عن مجاهد وقتادة والربيع وزيد بن أسلم.

(الذي مر على قرية) : هو عزيز. أخرجه الحاكم وغيره، عن علي بن أبي طالب.

وأخرج الخطيب البغدادي مثله عن عبد الله بن سلام، وعن ابن عباس، وزاد ابن سروحا.

وأخرج ابن جرير مثله عن ناجية بن كعب، وسليمان بن بريدة، والربيع، وقتادة، وعكرمة، والسدي، والضحاك.

وأخرج الفريابي عن عبد الله بن عبيد بن عمير قال: كان نبيا اسمه أرمياء.

وأخرج بن جرير مثله عن وهب بن منبه.

وأخرج أبن أبي حاتم، عن رجل من أهل الشام: أنه حزقيل بن بودا.

وحكى الكرماني في العجائب: انه الخضر.

وأما القرية فأخرج ابن جرير، عن وهب، عن قتادة والضحاك وعكرمة والربيع: أنها بيت المقدس.

وعن ابن زيد: أنها القرية التي أهلك الله الذين خرجوا من ديارهم وهم الوف حذر الموت.

وقال الكرماني في العجائب: قيل: سلماباذ. وقيل: سارا. وقيل: دير هرقل.

(فخذ أربعة من الطير) : أخرج ابن أبي حاتم من طريق الضحاك، عن ابن عباس: أن الطير الذي أخذه: وز، ورأل، وديك، وطاوس.
এবং ইবনে জারির অনুরূপ উদ্ধৃত করেছেন (أخرج) মুজাহিদ, কাতাদাহ, আল-রাবি এবং যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে।

(যিনি একটি জনপদ অতিক্রম করেছিলেন): তিনি হলেন উযাইর। আল-হাকিম এবং অন্যান্যগণ এটি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে উদ্ধৃত করেছেন (أخرج)।

এবং আল-খতিব আল-বাগদাদি অনুরূপ উদ্ধৃত করেছেন (أخرج) আবদুল্লাহ ইবনে সালাম এবং ইবনে আব্বাস থেকে, এবং ইবনে সুরুহ অতিরিক্ত (زاد) বর্ণনা করেছেন।

এবং ইবনে জারির অনুরূপ উদ্ধৃত করেছেন (أخرج) নাজিয়া ইবনে কাব, সুলায়মান ইবনে বুরাইদাহ, আল-রাবি, কাতাদাহ, ইকরিমাহ, আল-সুদ্দি এবং আল-দাহহাক থেকে।

এবং আল-ফিরইয়াবি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর থেকে উদ্ধৃত করেছেন (أخرج); তিনি বলেন: তিনি একজন নবী ছিলেন যার নাম ছিল আরমিয়া।

এবং ইবনে জারির ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে অনুরূপ উদ্ধৃত করেছেন (أخرج)।

এবং ইবনে আবি হাতিম সিরিয়ার জনৈক ব্যক্তি থেকে উদ্ধৃত করেছেন (أخرج) যে: তিনি ছিলেন হিযকিল ইবনে বুদা।

এবং আল-কিরমানি 'আল-আজায়িব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে: তিনি ছিলেন খিজির।

আর জনপদটির বিষয়ে ইবনে জারির বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব থেকে, তিনি কাতাদাহ, আল-দাহহাক, ইকরিমাহ এবং আল-রাবি থেকে উদ্ধৃত করেছেন (أخرج) যে: তা ছিল বাইতুল মাকদিস।

এবং ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণিত: এটি সেই জনপদ যার বাসিন্দাদের আল্লাহ ধ্বংস করেছিলেন, যারা মৃত্যুর ভয়ে হাজারে হাজারে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিল।

এবং আল-কিরমানি 'আল-আজায়িব' গ্রন্থে বলেছেন: বলা হয়েছে (তা ছিল) সালমাবাদ। আবার বলা হয়েছে: সারা। আরও বলা হয়েছে: দাইর হিরাকল।

(অতঃপর পাখিদের মধ্য থেকে চারটি গ্রহণ করো): ইবনে আবি হাতিম আল-দাহহাকের সূত্র (طريق) ধরে ইবনে আব্বাস থেকে উদ্ধৃত করেছেন (أخرج) যে: যে পাখিগুলো তিনি গ্রহণ করেছিলেন তা হলো: রাজহাঁস, উটপাখির ছানা, মোরগ এবং ময়ূর।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال: منجاب: والرأل فرخ النعام.

وأخرج من طريق حنش، عن ابن عباس: أنه الغزنوق - يعني الكركي - والطاوس والديك والحمامة.

وأخرج ابن جرير عن مجاهد: أنه الديك والطاوس والغراب والحمام.

(للفقراء الذين أحصروا) : قال: ابن عباس هم أهل الصفة. أخرجه ابن منذر.

(الذين ينفقون أموالهم بالليل والنهار سرا وعلانية) : أخرج ابن جرير، عن ابن عباس: أنها نزلت في عبد الرحمن بن عوف، وعثمان بن عفان. والله أعلم.

 

‌‌سورة آل عمران

(قل للذين كفروا ستغلبون) : هم يهود بنو قينقاع.

(ألم تر إلى الذين أوتوا نصيبا من الكتاب يدعون) : سمي منهم، نعمان بن عمرو، والحرث بن زيد،. أخرجه ابن جرير وابن أبي حاتم، عن ابن عباس.

(وأل عمران) : أراد موسى وهارون.

وقيل: عيسى وأمه. حكاه الكرماني، ورجحه عساكر والسهيلي.

(امرأة عمران) : أخرج ابن منذر عن عكرمة: أن أسمها حنة.

وقال ابن اسحق: اسمها حنة بنت فابوذ. وقيل: فاقوذ بن قبيل. أخرجه ابن جرير.
তিনি (মিঞ্জাব) বলেন: 'আর-রা’ল' হলো উটপাখির বাচ্চা।

এবং হানাশ-এর সূত্র (طريق) থেকে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করা হয়েছে (أخرج) যে: এটি হলো আল-গাযনুক—অর্থাৎ সারস পাখি—এবং ময়ূর, মোরগ ও কবুতর।

এবং ইবনে জারীর মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج): এটি হলো মোরগ, ময়ূর, কাক ও কবুতর।

(সেই অভাবগ্রস্তদের জন্য যারা অবরুদ্ধ হয়েছে): ইবনে আব্বাস বলেন, তারা হলেন আসহাবে সুফফাহ। ইবনে মুনযির এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(যারা নিজেদের সম্পদ দিনে ও রাতে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে): ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, এটি আবদুর রহমান ইবনে আউফ এবং উসমান ইবনে আফফান-এর শানে নাযিল হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌সূরা আল-ইমরান

(কাফিরদের বলো, তোমরা শীঘ্রই পরাজিত হবে): তারা হলো বনু কাইনুকা গোত্রের ইয়াহুদিরা।

(তুমি কি তাদের দেখনি যাদের কিতাবের একাংশ দেওয়া হয়েছে, তাদের ডাকা হচ্ছে): তাদের মধ্যে নুমান ইবনে আমর এবং হারিস ইবনে যায়েদ-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(এবং ইমরানের পরিবার): এর দ্বারা মুসা এবং হারুন-কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

আর বলা হয়েছে: ঈসা এবং তাঁর মা। কারমানি এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আসাকির ও সুহাইলি একে প্রাধান্য দিয়েছেন (رجحه)।

(ইমরানের স্ত্রী): ইবনে মুনযির ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, তাঁর নাম ছিল হান্নাহ।

এবং ইবনে ইসহাক বলেন: তাঁর নাম হান্নাহ বিনতে ফাবুয। আর বলা হয়েছে: ফাকুয ইবনে কাবীল। ইবনে জারীর এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
(فنادته الملائكة) : قال السدي: جبريل. أخرجه ابن جرير.

(وامرأتي عاقر) : اسمها ايشاع بنت فاقوذ.

وأخرج ابن أبي حاتم، عن شعيب الجباني قال: كان اسمها أشيع.

(إذ يلقون أقلامهم) : أخرج ابن عساكر في تاريخه، عن سعيد بن اسحق الدمشقي: قوله: (إذ يلقون أقلامهم أيهم يكفل مريم) : على نهر بحلب يقال له: قرمق.

(مصدقا بكلمة من الله) : قال ابن عباس: عيسى بن مريم. أخرجه ابن أبي حاتم.

(كهيئة الطير) : هو الخفاش. أخرجه ابن جرير عن ابن جريج.

(الحواريون) : سمي منهم قطروس، ويعقوس، ولحيس، وايدارانيس، وقياس، وابن تلما، ومتنا، وبوقاس، ويعقوب بن حليقا، وبدا وسيس، وقياسا ويودس، وكدمابوطا، وسرجس. وهو الذي ألقي عليه شبهه. أخرج ذلك ابن جرير، عن ابن اسحق.

(وقالت طائفة من أهل الكتاب أمنوا) : قال السدي: هم احدى عشر حبرا من اليهود. أخرجه ابن جرير، وسمي منهم السهيلي عبد الله بن الصيف، وعدي بن زيد، والحرث بن عوف.

(كيف يهدي الله قوما كفروا بعد ايمانهم) : سمي منهم الحرث بن سويد الأنصاري،. أخرجه عبد الرزاق عن مجاهد، وابن جرير عن السدي.
(অতঃপর ফেরেশতারা তাকে ডাকল): সুদ্দী বলেন: তিনি জিবরাঈল। ইবনে জারীর এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা): তাঁর নাম ছিল ঈশা বিনতে ফাকূদ।

ইবনে আবি হাতেম শুয়াইব আল-জুব্বানী থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: তাঁর নাম ছিল আশয়া।

(যখন তারা তাদের কলমগুলো নিক্ষেপ করছিল): ইবনে আসাকির তাঁর তারিখে সাঈদ বিন ইসহাক আদ-দিমাশকি থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: তাঁর উক্তি: (যখন তারা তাদের কলমগুলো নিক্ষেপ করছিল যে, তাদের মধ্যে কে মারইয়ামের লালন-পালনের দায়িত্ব নেবে): সিরিয়ার আলেপ্পোর একটি নদীর তীরে, যাকে বলা হয়: কুরমুক।

(আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বাণীর সত্যায়নকারী হিসেবে): ইবনে আব্বাস বলেন: তিনি ঈসা ইবনে মারইয়াম। ইবনে আবি হাতেম এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(পাখির আকৃতির মতো): সেটি হলো বাদুড়। ইবনে জারীর ইবনে জুরাইজ থেকে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(হাওয়ারীগণ): তাদের মধ্য থেকে ক্বাতরুস, ইয়াক্বুস, লাহিস, আইদারানিস, ক্বিয়াস, ইবনে তালমা, মাত্তা, বুক্বুস, ইয়াকুব বিন হালিক্বা, বাদা ও সিস, ক্বিয়াস ও ইউদাস, কাদমাবুতা এবং সারজাস-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি (সারজাস) হলেন সেই ব্যক্তি যার ওপর তাঁর সাদৃশ্য নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ইবনে জারীর ইবনে ইসহাক থেকে এটি বর্ণনা (أخرج) করেছেন।

(এবং আহলে কিতাবদের এক দল বলল, তোমরা ঈমান আনো): সুদ্দী বলেন: তারা ইহুদিদের এগারো জন পণ্ডিত ছিল। ইবনে জারীর এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন; আর সুহাইলী তাদের মধ্য থেকে আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাইফ, আদী ইবনে যায়িদ এবং হারিস ইবনে আউফের নাম উল্লেখ করেছেন।

(আল্লাহ কীভাবে এমন সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেবেন যারা তাদের ঈমানের পর কুফরি করেছে): তাদের মধ্যে হারিস ইবনে সুয়াইদ আল-আনসারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আবদুর রাজ্জাক মুজাহিদ থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন এবং ইবনে জারীর সুদ্দী থেকে এটি বর্ণনা (أخرج) করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
وأخرج عن عكرمة: أنها نزلت في أثني عشر رجلا: منهم أبو عامر الراهب، والحرث بن سويد بن الصامت، ووضوح بن الاسلت. زاد ابن عساكر: وطعيمة بن بيرق.

(إن تطيعوا فريقا من الذين أوتوا الكتاب) : قال زيد بن أسلم: عني به شاس بن قيس اليهودي. أخرجه ابن جرير.

قال السهيلي: هم عمرو بن شاس، وأوس بن قبطي، وجبار بن صخر.

(من أهل الكتاب أمة قائمة) : قال ابن عباس: نزلت في عبد الله بن سلام، وثعلبة بن سعية، وأسيد بن سعيد، وأسد بن عبيد، ومن أسلم معهم من اليهود. أخرجه ابن جرير وابن أبي حاتم.

وأخرج ابن جرير عن ابن جريج قال: هم عبد الله بن سلام، وأخوه ثعلبة بن سلام. وسعية، وميس، وأسيد وأسد ابنا كعب.

(إذ همت طائفتان منكم) :هما بنو حارثة وبنو سلمة. أخرجه البخاري ومسلم، عن عبد الله.

(إن تطيعوا الذين كفروا) : قال السدي: يعني أبا سفيان حرب. أخرجه ابن أبي حاتم.

(وطائفة قد أهمتهم أنفسهم) : هم المنافقون. أخرجه البخاري والترمذي وغيرهما، عن أبي طلحة.
এবং ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে (أخرج) যে: এটি বারোজন ব্যক্তির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে: তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু আমির আর-রাহিব, হারিস বিন সুওয়াইদ বিন আস-সামিত এবং ওয়াদূহ বিন আল-আসলাত। ইবনে আসাকির আরও উল্লেখ করেছেন: তুআইমাহ বিন বায়রাক।

(যদি তোমরা আহলে কিতাবদের একটি দলের আনুগত্য করো) : যায়দ বিন আসলাম বলেন: এর দ্বারা ইহুদি শাস বিন কায়সকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এটি ইবনে জারির বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

সুহাইলি বলেন: তারা হলেন আমর বিন শাস, আওস বিন কিবতি এবং জাব্বার বিন সাখর।

(আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যারা সত্যের ওপর অটল) : ইবনে আব্বাস বলেন: এটি আব্দুল্লাহ বিন সালাম, সা'লাবাহ বিন সা'ইয়াহ, উসায়েদ বিন সাঈদ, আসাদ বিন উবাইদ এবং তাদের সাথে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন সেই ইহুদিদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। এটি ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

এবং ইবনে জারির ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: তারা হলেন আব্দুল্লাহ বিন সালাম এবং তার ভাই সা'লাবাহ বিন সালাম, সা'ইয়াহ, মাইস, এবং উসায়েদ ও আসাদ—উভয়েই কাবের পুত্র।

(যখন তোমাদের মধ্য থেকে দুটি দল সংকল্প করেছিল) : তারা হলো বনু হারিসাহ ও বনু সালামাহ। এটি আব্দুল্লাহ থেকে বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য করো) : সুদ্দি বলেন: অর্থাৎ আবু সুফিয়ান হারব। এটি ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(এবং আরেকটি দল যাদেরকে তাদের জানগুলোই উদ্বিগ্ন করেছিল) : তারা হলো মুনাফিকগণ। এটি আবু তালহা থেকে বুখারি, তিরমিজি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
(يقولون هل لنا من الأمر من شيء) : قال ذلك عبد الله بن أبي. أخرجه ابن جرير عن ابن جريج.

(يقولون لو كان لنا من الأمر شيء ما قتلنا ههنا) :قال ذلك معتب بن قشير، أخرجه ابن أبي حاتم وغيره، عن الزبير. وعبد الله بن أبي، أخرجه ابن أبي حاتم، عن الحسن.

(إن الذين تولوا منكم) :أخرج ابن منده في الصحابة، من طريق الكلبي، عن صالح، عن ابن عباس، في قوله تعالى: (إن الذين تولوا منكم يوم التقى الجمعان) : قال: نزلت في عثمان، ورافع بن المعلى، وخارجه بن زيد.
(তারা বলে: "আমাদের কি এই বিষয়ে কোনো অধিকার আছে?"): এটি আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই বলেছিল। ইবনে জারির এটি ইবনে জুরাইজ হতে উদ্ধৃত (أخرج) করেছেন।

(তারা বলে: "যদি এই বিষয়ে আমাদের কোনো হাত থাকত, তবে আমাদের এখানে হত্যা করা হতো না"): এটি মুআত্তিব ইবনে কুশাইর বলেছিল; ইবনে আবি হাতিম ও অন্যান্যরা জুবায়ের হতে এটি উদ্ধৃত (أخرج) করেছেন। এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই (প্রসঙ্গেও বর্ণিত হয়েছে), ইবনে আবি হাতিম এটি হাসান হতে উদ্ধৃত (أخرج) করেছেন।

(তোমাদের মধ্যে যারা পিঠ প্রদর্শন করেছিল): ইবনে মানদাহ আস-সাহাবাহ গ্রন্থে কালবীর সূত্র (طريق) হয়ে সালেহ হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে উদ্ধৃত (أخرج) করেছেন: (তোমাদের মধ্য থেকে যারা দুই দল পরস্পর সম্মুখীন হওয়ার দিন পিঠ প্রদর্শন করেছিল); তিনি বলেন: এটি উসমান, রাফি ইবনুল মুআল্লা এবং খারিজাহ ইবনে জাইদ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
(وقالوا لإخوانهم إذا ضربوا في الأرض) : قال ذلك عبد الله بن أبي. أخرجه ابن أبي حاتم، عن مجاهد.

(وقيل لهم تعالوا قاتلوا في سبيل الله أو أدفعوا) : القائل ذلك عبد الله، والد جابر بن عبد الله الانصاري، والمقول لهم عبد الله بن لأبي وأصحابه، أخرجه ابن جرير عن السدي.

(الذين قالوا لإخوانهم وقعدوا) : قال الربيع وغيره: نزلت في عبد الله بن أبي وأصحابه. أخرجه ابن أبي حاتم وابن جرير.

(ولا تحسبن الذين قتلوا) : قال أبو الضحى: نزلت في قتلى أحد، وهم سبعون: أربعة من المهاجرين، وسائرهم من الأنصار. أورده سعيد بن منصور.

(الذين استجابوا لله ورسوله من بعد ما أصابهم القرح) : سمي منهم: أبوبكر، وعمر، وعثمان، وعلي، والزبير، وسعد، وطلحة، وابن عوف، وابن مسعود، وحذيفة بن اليمان، وأبوعبيدة بن الجراح، في سبعين رجلا. أخرجه ابن جرير من طريق العوفي، عن ابن عباس.

وسمي عكرمة: جابر بن عبد الله. أخرجه ابن جرير.
(এবং তারা তাদের ভাইদের সম্বন্ধে বলল যখন তারা জমিনে সফর করছিল) : এ কথা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই বলেছিল। ইবনে আবি হাতিম এটি মুজাহিদ থেকে উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন।

(এবং তাদের বলা হলো, এসো তোমরা আল্লাহর পথে লড়াই করো অথবা আত্মরক্ষা করো) : এই প্রবক্তা ছিলেন আবদুল্লাহ, যিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারীর পিতা; এবং যাদেরকে এ কথা বলা হয়েছিল তারা হলো আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ও তার সঙ্গীরা। ইবনে জারীর এটি সুদ্দী থেকে উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন।

(যারা তাদের ভাইদের সম্বন্ধে বলেছিল অথচ নিজেরা বসে ছিল) : রাবী এবং অন্যান্যরা বলেন: এটি আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ও তার সঙ্গীদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। ইবনে আবি হাতিম ও ইবনে জারীর এটি উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন।

(এবং যারা নিহত হয়েছে তাদের তুমি কখনো মনে করো না...) : আবু দুহা বলেন: এটি উহুদ যুদ্ধের শহীদদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে এবং তারা সংখ্যায় সত্তর জন ছিলেন: চার জন মুহাজির থেকে এবং অবশিষ্টরা আনসারদের মধ্য থেকে। সাঈদ ইবনে মানসুর এটি বর্ণনা (أورده) করেছেন।

(আহত হওয়ার পর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে) : তাদের মধ্য থেকে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, যুবাইর, সাদ, তালহা, ইবনে আউফ, ইবনে মাসুদ, হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান এবং আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ সহ সত্তর জন ব্যক্তি। ইবনে জারীর আউফীর সূত্র (طريق) ধরে ইবনে আব্বাস থেকে এটি উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন।

এবং ইকরিমা জাবির ইবনে আবদুল্লাহর নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনে জারীর এটি উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
(الذين قال لهم الناس إن الناس قد جمعوا لكم) : قائل ذلك: أعرابي من الخزاعة. أخرجه ابن مردويه عن أبي رافع.

وقال ابن اسحق: عن عبد الله بن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم: ركب من عبد القيس. أخرجه ابن جرير.

وقال السهيلي: نعيم بن مسعود الأشجعي.

(لقد سمع الله قول الذين قالوا إن الله فقير ونحن أغنياء) : قال ذلك فنحاص اليهودي من بني مرشد. أخرجه ابن أبي حاتم، عن ابن عباس، وابن جرير عن السدي. وأخرج عن قتادة: أنه حيي بن أخطب.

قال ابن عساكر: وقيل هو كعب بن الأشرف.

(لا تحسبن الذين يفرحون) : قال ابن عباس: يعني فنحاص، وأشيع، وأشباههما من الأحبار. أخرجه ابن جرير.

(مناديا ينادي للأيمان) : قال محمد بن كعب هو: القرآن.

وقال ابن جريج: هو محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم. أخرجهما ابن أبي حاتم وغيره.

(وان من أهل الكتاب لمن يؤمن بالله) : نزلت في النجاشي، كما أخرجه النسائي منة حديث أنس. وابن جرير من حديث جابر.
(যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, মানুষ তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে) : এই কথাটির বক্তা হলেন খুযাআ গোত্রের একজন বেদুইন। ইবনে মারদুওয়াইহ আবু রাফে থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

এবং ইবনে ইসহাক আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে বর্ণনা করেছেন: তারা ছিল আব্দুল কায়স গোত্রের একটি আরোহী দল। ইবনে জারীর এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

এবং সুহাইলি বলেছেন: তিনি হলেন নুয়াইম বিন মাসউদ আল-আশজাঈ।

(নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন যারা বলেছিল যে, আল্লাহ অভাবী এবং আমরা সম্পদশালী) : এই কথাটি বনু মুরশিদ গোত্রের ইহুদি ফিনহাস বলেছিল। ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে এবং ইবনে জারীর সুদ্দী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه)। কাতাদা থেকে বর্ণিত (أخرج) হয়েছে যে: সে ছিল হুয়াই বিন আখতাব।

ইবনে আসাকির বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে সে ছিল কা’ব বিন আশরাফ।

(যারা আনন্দিত হয় তাদের কথা কখনো মনে করো না) : ইবনে আব্বাস বলেছেন: অর্থাৎ ফিনহাস, আশইয়া এবং তাদের ন্যায় ইহুদি পণ্ডিতগণ। ইবনে জারীর এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে...) : মুহাম্মদ বিন কা’ব বলেছেন: তিনি হলেন কুরআন।

এবং ইবনে জুরাইজ বলেছেন: তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। ইবনে আবি হাতিম ও অন্যান্যরা এই উভয় বর্ণনা করেছেন (أخرجهما)।

(আর আহলে কিতাবদের মধ্যে অবশ্যই এমন লোক আছে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে) : এটি নাজাসির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমনটি নাসাঈ আনাসের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرجه)। এবং ইবনে জারীর জাবিরের হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال ابن جريج: نزلت في عبد الله بن رواحه وأصحابه. أخرجه ابن جرير، والله سبحانه وتعالى أعلم.

 

‌‌سورة النساء

(وبث منهما رجالا كثيرا ونساء) : روى ابن جرير، عن ابن اسحق: أن بني أدم لصلبه أربعون في عشرون بطنا، فمما حفظ من ذكورهم: قابيل، وهابيل، واباذ، وشبوبه، وهند، ومرانيس، وفحور وسند، وبارق، وشيث،. ومن نسائهم: اقليمة، وأشوف، وجزروه، وعزروا.

قال ابن عساكر: وقد روي أن من بني آدم لصلبه عبد المغيث، وتوأمته أمة المغيث. وذكر فيهم عبد الحرث.

وفي مختصر العين: في قول العرب هي ابن أبي، لمن لا يعرف أن هيا من ولد آدم، فانقرض نسله.

قال ابن عساكر: وجميع أنساب بني آدم ترجع إلى شيث، وسائر أولاده انقرضت أنسابهم جراء الطوفان.

وذكر تقي الدين بن مخلد: أن، ودا، وسواعا، ويغوث، ويعوق، ونسرا، كانوا أولاد آدم لصبه. حكاه ابن عساكر. وقد أخرج ابن أبي حاتم مثله عن عروة.
এবং ইবনে জুরাইজ বলেন: এটি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা এবং তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ইবনে জারির এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه), এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাই সর্বাধিক অবগত।

 

‌‌সূরা নিসা

(এবং তাদের উভয় থেকে তিনি বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিলেন) : ইবনে জারির ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন (روى) যে: আদমের সরাসরি ঔরসজাত সন্তান ছিল বিশটি গর্ভে মোট চল্লিশজন। তাদের পুরুষদের মধ্যে যাদের নাম সংরক্ষিত হয়েছে তারা হলো: কাবিল, হাবিল, আবায, শুবুবাহ, হিন্দ, মারানিস, ফুহুর, সানাদ, বারিক এবং শিস। এবং তাদের নারীদের মধ্যে: ইকলিমা, আশুফ, জাযরুওয়াহ এবং আযরুওয়া।

ইবনে আসাকির বলেন: বর্ণিত হয়েছে (روي) যে, আদমের সরাসরি সন্তানদের মধ্যে আবদ আল-মুগিথ এবং তার যমজ বোন আমাত আল-মুগিথও ছিল। তাদের মধ্যে আবদ আল-হারিসকেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এবং মুখতাসার আল-আইন গ্রন্থে রয়েছে: আরবদের প্রবাদ 'সে তো হায়া-এর পুত্র' (হায়া ইবনে আবি) তাদের জন্য প্রযোজ্য যাদের বংশপরিচয় জানা নেই, কারণ হায়া ছিল আদমের সন্তানদের একজন যার বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

ইবনে আসাকির বলেন: বনী আদমের সকল বংশধারা শিসের দিকেই ফিরে যায়, আর তাঁর বাকি সন্তানদের বংশধারা মহাপ্লাবনের কারণে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তাকিউদ্দিন ইবনে মাখলাদ উল্লেখ করেছেন যে: ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক এবং নাসর আদমের সরাসরি সন্তান ছিলেন। ইবনে আসাকির এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি হাতিম উরওয়াহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন (أخرج)।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
(الذين يتبعون الشهوات) : قال مجاهد: الزناة. وقال السدي: اليهود والنصارى. أخرجهما ابن جرير.

(الذين يبخلون ويأمرون الناس بالبخل) : نزلت في كدوم بن زيد، وأسامة بن حبيب، ونافع بن أبي نافع، ومحرى بن عمرو، وحيي بن أخطب، ورفاعة بن زيت بن التابوت،. أمروا رجالا من الأنصار بترك النفقة على من عند الرسول صلى الله عليه وسلم خوف الفقر عليهم. أخرجه ابن جرير، عن ابن عباس.

(ألم تر إلى الذين أوتوا نصيبا من الكتاب يشترون الضلالة) : سمي منهم رفاعة بن زيد بن التابوت. أخرجه ابن أبي حاتم، عن ابن عباس.

وأخرج عن عكرمة: أنها نزلت في رفاعة، وكدوم بن زيد، وأسامة بن حبيب، ورافع بن أبي رافع، ومحرى بن عمرو، وحيي بن أخطب.

(يا أيها الذين أوتوا الكتاب آمنوا) : قال السدي: نزلت في رفاعة بن زيد، ومالك بن الصيف.

وقال عكرمة: في كعب بن الأشرف، وعبد الله بن صوريا.

أخرجهما ابن أبي حاتم.

(ألم تر إلى الذين يزكون أنفسهم) : قال قتادة والضحاك والسدي: هم اليهود. أخرجه ابن جرير.

(ألم تر إلى الذين أوتوا نصيبا من الكتاب يؤمنون بالجبت والطاغوت) :
(যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে) : মুজাহিদ বলেন: তারা হলো ব্যভিচারী। আস-সুদ্দী বলেন: তারা হলো ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টান। ইবনে জারির উভয়টি বর্ণনা (أخرجهما) করেছেন।

(যারা কার্পণ্য করে এবং মানুষকে কার্পণ্যের নির্দেশ দেয়) : এটি কাদুম ইবনে যায়িদ, উসামা ইবনে হাবিব, নাফে ইবনে আবি নাফে, মুহরা ইবনে আমর, হুয়াই ইবনে আখতাব এবং রিফাআ ইবনে যায়িত ইবনে আত-তাবুত এর ব্যাপারে অবতীর্ণ (نزلت) হয়েছে। তারা আনসারদের কিছু লোককে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অবস্থানকারীদের পেছনে ব্যয় করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছিল এই ভয়ে যে, তারা নিজেরা দরিদ্র হয়ে পড়বে। ইবনে জারির এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(আপনি কি তাদের দেখেননি যাদের কিতাবের একাংশ প্রদান করা হয়েছে, যারা ভ্রষ্টতা ক্রয় করে) : তাদের মধ্য থেকে রিফাআ ইবনে যায়িদ ইবনে আত-তাবুত এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে আবি হাতিম এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

এবং ইকরামা থেকে বর্ণিত (أخرج) হয়েছে যে: এটি রিফাআ, কাদুম ইবনে যায়িদ, উসামা ইবনে হাবিব, রাফে ইবনে আবি রাফে, মুহরা ইবনে আমর এবং হুয়াই ইবনে আখতাব এর ব্যাপারে অবতীর্ণ (نزلت) হয়েছে।

(হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা ঈমান আনো) : আস-সুদ্দী বলেন: এটি রিফাআ ইবনে যায়িদ এবং মালিক ইবনে আস-সাইফ এর ব্যাপারে অবতীর্ণ (نزلت) হয়েছে।

وقال عكرمة: في كعب بن الأشرف، وعبد الله بن صوريا।

ইবনে আবি হাতিম উভয়টি বর্ণনা (أخرجهما) করেছেন।

(আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র বলে দাবি করে) : কাতাদাহ, দাহহাক এবং আস-সুদ্দী বলেন: তারা হলো ইয়াহুদি। ইবনে জারির এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(আপনি কি তাদের দেখেননি যাদের কিতাবের একাংশ প্রদান করা হয়েছে, যারা জিবত ও তাগুতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে) :
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
نزلت في كعب بن الأشرف، كما أخرجه أحمد من حديث ابن عباس.

(أم يحسدون الناس) : أخرج ابن جرير عن عكرمة قال: الناس في هذا الموضع النبي صلى الله عليه وسلم خاصة.

(ألم تر إلى الذين يزعمون أنهم آمنوا) : نزلت في الجلاس بن الصامت، ومصعب بن قريش، ورافع بن زيد، وبشر. أخرجه ابن أبي حاتم عن ابن عباس.

(أن يتحاكموا إلى الطاغوت) : هو أبو برزة الأسلمي، الكاهن. أخرجه الطبراني من طريق عكرمة، عن ابن عباس.

أو: كعب بن الأشرف،. أخرجه ابن أبي حاتم من طريق العوفي، عن ابن عباس.

(فلا وربك لا يؤمنون) : أخرج ابن أبي حاتم، عن سعيد بن المسيب قال: نزلت في الزبير بن العوام، وحاتم بن أبي بلتعه، اختصما في ماء، فقضى النبي صلى الله عليه وسلم للزبير.
এটি কা'ব ইবনে আশরাফ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস থেকে আহমদ বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(নাকি তারা লোকদের প্রতি হিংসা পোষণ করে): ইবনে জারির ইকরিমা থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: এই স্থানে 'লোকজন' বলতে বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বোঝানো হয়েছে।

(আপনি কি তাদের দেখেননি যারা দাবি করে যে তারা ঈমান এনেছে): এটি জুলাস ইবনে সামিত, মুসআব ইবনে কুরাইশ, রাফে ইবনে যায়েদ এবং বিশর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(তারা তাগুতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায়): তিনি হলেন গণক আবু বারযাহ আল-আসলামি। তাবারানি ইকরিমা-এর সূত্র (طريق) হয়ে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

অথবা: তিনি কা'ব ইবনে আশরাফ। ইবনে আবি হাতিম আউফি-এর সূত্র (طريق) হয়ে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(কিন্তু না, আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হতে পারবে না): ইবনে আবি হাতিম সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: এটি যুবায়ের ইবনুল আওয়াম এবং হাতিম ইবনে আবি বালতাআ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যখন তারা পানির বণ্টন নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিলেন; তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়েরের পক্ষে ফয়সালা দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
(ما فعلوه إلا قليل) : قال صلى الله عليه وسلم، وأشار إلى عبد الله بن رواحة: (لو أن الله كتب ذلك لكان ذلك في أولئك القليل) . أخرجه ابن أبي حاتم.

(وان منكم لمن ليبطئن) : قال مقاتل: هو عبد الله بن أبي. أخرجه ابن أبي حاتم وغيره.

(من هذه القرية الظالم أهلها) : قالت عائشة: هي مكة. أخرجه ابن أبي حاتم.

(الذين قيل لهم كفوا أيديكم) : سمي منهم عبد الرحمن بن عوف. أخرجه النسائي والحاكم من حديث ابن عباس.
(তাদের মধ্যে খুব সামান্য লোকই তা করত): রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহার দিকে ইশারা করে বললেন: "যদি আল্লাহ তা অবধারিত করে দিতেন তবে তিনি সেই অল্প সংখ্যক লোকদের মধ্যেই থাকতেন।" এটি ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(এবং তোমাদের মধ্যে অবশ্যই এমন ব্যক্তি আছে যে গড়িমসি করবেই): মুকাতিল বলেন: তিনি হলেন আব্দুল্লাহ বিন উবাই। এটি ইবনে আবি হাতিম ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(এই জনপদ থেকে যার অধিবাসীরা অত্যাচারী): আয়েশা (রা.) বলেন: এটি মক্কা। এটি ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(যাদেরকে বলা হয়েছিল তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখ): তাদের মধ্যে আব্দুর রহমান বিন আউফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে নাসায়ী ও হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
(بيت طائفة منهم) : قال الضحاك: هم أهل النفاق. أخرجه ابن جرير.

(إلا الذين يصلون) : أخرج ابن أبي حاتم، عن ابن عباس قال: نزلت في هلال بن عويمر الأسلمي، وسراقة بن مالك المدلجي، وفي بني خزيمة بن عامر بن عبد مناف.

(ستجدون آخرين) : قال مجاهد: هم أناس من أهل مكة.

وقال قتادة: حي كانوا بتهامة.

وقال السدي: جماعة منهم نعيم بن مسعود الأشجعي.

أخرج ابن أبي حاتم.

(ولا تقولوا لمن ألقى إليكم السلام) : المقول له ذلك: هو المسلم - عامر بن الأظبط الأشجعي. أخرجه أحمد من حديث عبد الله بن أبي حدود. وفيه: أن القائلين له: (لست مؤمنا) نفر من المسلمين، منهم أبو قتادة، ومحلم بن جثامة.

وعند ابن جرير، من حديث ابن عمر: أن القائل هو محلم، وهو الذي قتله.

وعند البزاز من حديث ابن عباس: أن القائل هو المقداد بن الأسود.

وأخرج ابن أبي حاتم، من طريق ابن الزبير، عن جابر. والثعلبي، من طريق الكلبي، عن أبي صالح، عن ابن عباس: أن اسم القاتل أسامة بن زيد.

(إن الذين توفاهم الملائكة ظالمي أنفسهم) : سمى عكرمة
(তাদের একটি দল রাতে ষড়যন্ত্র করে) : দাহহাক বলেছেন: তারা নিফাকপন্থী (أهل النفاق)। এটি ইবনে জারির বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(তবে তারা ব্যতীত যারা মিলিত হয়) : ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন (أخرج), ইবনে আব্বাস থেকে; তিনি বলেন: এটি হেলাল বিন উওয়াইমির আল-আসলামি, সুরাকা বিন মালিক আল-মুদলজি এবং বনু খুজাইমা বিন আমির বিন আবদ মানাফ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।

(তোমরা অন্য একদলকেও পাবে) : মুজাহিদ বলেছেন: তারা মক্কাবাসী কিছু মানুষ।

কাতাদাহ বলেছেন: তারা তিহামার একটি গোত্র ছিল।

সুদ্দী বলেছেন: তারা একদল লোক যাদের মধ্যে নুয়াইম বিন মাসউদ আল-আশজায়ি ছিলেন।

ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন (أخرج)।

(আর যে তোমাদের প্রতি সালাম পেশ করে তাকে বলো না [তুমি মুমিন নও]) : যাকে এ কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন মুসলিম—আমির বিন আল-আজবাত আল-আশজায়ি। আহমাদ এটি আবদুল্লাহ বিন আবি হাদরাদ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرجه)। এতে বর্ণিত হয়েছে যে, যারা তাকে বলেছিল: 'তুমি মুমিন নও', তারা ছিল মুসলিমদের একটি দল, যাদের মধ্যে আবু কাতাদাহ এবং মুহাল্লিম বিন জাছছামাহ ছিলেন।

ইবনে জারিরের নিকট ইবনে উমর-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: নিশ্চয়ই কথাটি যে বলেছিল সে হলো মুহাল্লিম, এবং সেই তাকে হত্যা করেছিল।

বাজজারের নিকট ইবনে আব্বাস-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: নিশ্চয়ই কথাটি যে বলেছিল সে হলো মিকদাদ বিন আল-আসওয়াদ।

ইবনে আবি হাতিম এটি ইবনে জুবায়ের-এর সূত্রে (طريق), জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج)। আর ছা’লাবি কালবি-এর সূত্রে (طريق), আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: নিশ্চয়ই হত্যাকারীর নাম ছিল উসামা বিন যায়েদ।

(নিশ্চয়ই ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় নিজেদের প্রতি জুলুম করা অবস্থায়) : ইকরিমা নাম উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
منهم: علي بن أمية بن خلف، والحرث بن زمعة، وقيس بن الوليد بن المغيرة، وأبا العاص بن منبتة بن الحجاج، وابا قيس بن الفاكه. أخرجه ابن أبي حاتم وعبد.

(إلا المستضعفين) : قال ابن عباس: كنت أنا وأمي من المستضعفين. أخرجه البخاري. وسمي منهم ي حديث أخر: عياش ابن أبي ربيعة، وسلمة بن هشام.

(ومن يخرج من بيته مهاجرا) : نزلت في ضمرة بنت جندب. أخرجه أبو يعلى بسند رجاله ثقات. عن ابن عباس.

وأخرج ابن أبي حاتم، عن سعيد بن جبير، أنه أبو ضمرة بن العيص.

وأخرج عبد عنه قال: هو رجل من خزاعة، يقال له ضمرة بن العيص.

وأخرج عن قتادة قال: يقال له سيرة.

وعن عكرمة قال: رجل من بني لبث.

وأخرج ابن جرير، عن سعيد بن جبير قال: هو رجل من خزاعة، يقال له: ضمرة بن العيص، أو، العيص بن ضمرة.

وأخرج ابن أبي بن حاتم، عن الزبير: أنها نزلت في خالد بن حزام، هاجر إلى الحبشة، فمات في الطريق. وهو غريب جدا.

وقيل: هو أكثم بن صيفي. أخرجه أبو حاتم في كتاب المعمرين من طريقين عن ابن عباس. والأموي في مغازيه عن عبد الملك بن عمير.
তাদের মধ্যে রয়েছেন: আলী ইবনে উমাইয়াহ ইবনে খালাফ, আল-হারিস ইবনে যামআহ, কায়েস ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনে আল-মুগিরাহ, আবুল আস ইবনে মুনাব্বিহ ইবনে আল-হাজ্জাজ এবং আবু কায়েস ইবনে আল-ফাকিহ। এটি ইবনে আবি হাতিম এবং আবদ বর্ণনা করেছেন।

(অসহায়দের ব্যতীত): ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: আমি এবং আমার মা অসহায়দের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। অন্য এক হাদিসে তাদের মধ্য থেকে আয়াশ ইবনে আবি রাবিআহ এবং সালামাহ ইবনে হিশামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

(আর যে ব্যক্তি তার ঘর থেকে হিজরতকারী হিসেবে বের হয়): এটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে দমরাহ বিনতে জানদাব সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আবু ইয়ালা এটি এমন এক সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

ইবনে আবি হাতিম সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হলেন আবু দমরাহ ইবনে আল-আইস।

আবদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি খুজাআহ গোত্রের এক ব্যক্তি, যাকে দমরাহ ইবনে আল-আইস বলা হয়।

কাতাদাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: তাঁকে সায়রাহ বলা হয়।

ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তিনি বনু লাইস গোত্রের এক ব্যক্তি।

ইবনে জারির সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি খুজাআহ গোত্রের এক ব্যক্তি, যাকে দমরাহ ইবনে আল-আইস অথবা আল-আইস ইবনে দমরাহ বলা হয়।

ইবনে আবি হাতিম যুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন: এটি খালিদ ইবনে হিযাম সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, যিনি হাবশায় হিজরত করেছিলেন এবং পথিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। আর এটি অত্যন্ত বিরল (غريب)।

এবং বলা হয়েছে: তিনি হলেন আকসাম ইবনে সাইফি। আবু হাতিম 'কিতাবুল মুআম্মারিন' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে দুটি সূত্রে (طريقين) এটি বর্ণনা করেছেন। আর আল-উমাউয়ি তাঁর 'মাগাযি' গ্রন্থে আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুফহিমাতুল আকরান ফী মুবহামাতিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
(ولا تكن للخائنين خصيما) : هم بنو أبيرق: بشر، وبشير، ومبشر. أخرجه الترمذي من حديث قتادة بن النعمان.

(ثم يرم به بريئا) : عني به لبيد بن سهيل، كما في حديث الترمذي.

وقيل: زيد بن السمين، رجل من اليهود. أخرجه ابن جرير، عن قتادة وعكرمة وابن سيرين.

(لهمت طائفة منهم أن يضلوك) : هم أسيد بن عروة وأصحابه، كما في حديث الترمذي.

(إن الذين آمنوا ثم كفروا) : قال أبو العالية: هم اليهود والنصارى.

وقال ابن زيد: هم المنافقون.

أخرج ذلك ابن جرير.

(إن المنافقين يخادعون الله وهو خادعهم) : قال ابن جرير: نزلت في عبد الله بن أبي، وأبي عامر بن النعمان. أخرجه ابن جرير.

(لا إلى هؤلاء ولا إلى هؤلاء) : قال مجاهد: لا إلى أصحاب محمد، ولا إلى اليهود.

وقال ابن جريج: لا إلى أهل الإيمان، ولا إلى أهل الكفر.

أخرجهما ابن جرير.
(আর তুমি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষাবলম্বনকারী হয়ো না) : তারা হলো বনু উবাইরিক—বিশর, বাশির এবং মুবাশশির। তিরমিযী এটি কাতাদাহ ইবনুন নুমানের হাদিস থেকে সংকলন করেছেন।

(অতঃপর তা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি আরোপ করে) : এর দ্বারা লাবিদ ইবনে সুহাইলকে বোঝানো হয়েছে, যেমনটি তিরমিযীর হাদিসে এসেছে।

এবং বলা হয়েছে: সে হলো যায়িদ ইবনে সামীন, জনৈক ইহুদি ব্যক্তি। ইবনে জারীর এটি কাতাদাহ, ইকরিমাহ এবং ইবনে সীরীন থেকে সংকলন করেছেন।

(তাদের একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেছিল) : তারা হলো উসাইদ ইবনে উরওয়াহ এবং তার সঙ্গীরা, যেমনটি তিরমিযীর হাদিসে এসেছে।

(নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, অতঃপর কুফরি করেছে) : আবুল আলিয়াহ বলেন: তারা হলো ইহুদি ও খ্রিস্টানরা।

ইবনে যায়িদ বলেন: তারা হলো মুনাফিকরা।

ইবনে জারীর এটি বর্ণনা করেছেন।

(নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে এবং তিনিও তাদের সাথে প্রতারণা করেন) : ইবনে জারীর বলেন: এটি আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এবং আবু আমির ইবনুন নুমান সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ইবনে জারীর এটি বর্ণনা করেছেন।

(না এদের দিকে, না তাদের দিকে) : মুজাহিদ বলেন: না মুহাম্মাদের সাহাবীদের দিকে, আর না ইহুদিদের দিকে।

ইবনে জুরাইজ বলেন: না ঈমানদারদের দিকে, আর না কুফরি অবলম্বনকারীদের দিকে।

ইবনে জারীর এই উভয়টি বর্ণনা করেছেন।