(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: -)
مفتاح العلوم   (السكاكي)

القسم: البلاغة


الكتاب: مفتاح العلوم

المؤلف: يوسف بن أبي بكر بن محمد بن علي السكاكي الخوارزمي الحنفي أبو يعقوب (ت 626هـ)

ضبطه وكتب هوامشه وعلق عليه: نعيم زرزور

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الثانية، 1407 هـ - 1987 م

عدد الصفحات: 602

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মিফতাহুল উলূম   (আল-সাক্কাকী)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)


গ্রন্থ: মিফতাহুল উলূম

লেখক: ইউসুফ বিন আবী বকর বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-সাক্কাকী আল-খাওয়ারিজমী আল-হানাফী আবু ইয়াকুব (মৃত্যু ৬২৬ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা লিখন: নাঈম যারযুর

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: -)
‌‌كَذَلِكَ نُصَرِّفُ الآيَاتِ لِقَوْمٍ يَشْكُرُونَ
এভাবেই আমরা কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি নিপুণভাবে বর্ণনা করি।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

قال الأستاذ الإمام البارع العلامة سراج الملة والدين أبو يعقوب يوسف بن أبي بكر محمد بن علي السكاكي تغمده الله برحمته ورضوانه: أحق كلام أن تلهج به الألسنة. وأن لا يطوى منشوره على توالي الأزمنة. كلام لا يفرغ إلا في قالب الصدق. ولا ينسج خبره إلا على منوال الحق. فبالحري تلقيه بالقبول إذا ورد يقرع الأسماع. وتأبيه أن يعلق بذيل مؤداه ريبة إذا حسر عن وجهه القناع. وهو مدح الله تعالى وحمده بما هو له من الممادح أزلاً وأبداً. وبما انخرط في سلكها من المحامد متجدداً. ثم الصلاة والسلام على حبيبه محمد البشير النذير. بالكتاب العربي المنير. الشاهد لصدق دعواه بكمال بلاغته. المعجز لدهماء المصاقع عن إيراد معارضته. إعجازاً أخرس شقشقة كل منطيق. وأظلم طرق المعارضة فما وضح إليها وجه طريق. حتى أعرضوا عن المعارضة بالحروف. على المقارعة بالسيوف. وعن المقاولة باللسان. على المقاتلة بالسنان. بغياً منهم وحسداً. وعناداً ولدداً. ثم على آله وأصحابه الأئمة الأعلام. وأزمة الإسلام.

وبعد: فإن نوع الأدب نوع يتفاوت كثرة شعب وقلة وصعوبة فنون وسهولة وتباعد طرفين وتدانيا بحسب حظ متوليه من سائر العلوم كمالاً ونقصاناً وكفاء منزلته هنالك ارتفاعاً وانحطاطاً وقدر مجاله فيها سعة وضيقاً، ولذلك ترى المعتنين بشأنه على مراتب مختلفة فمن صاحب أدب تراه يرجع منه على نوع أو نوعين لا يستطيع أن يتخطى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

উস্তাদ, ইমাম, সুনিপুণ পণ্ডিত, সিরাজুল মিল্লাত ওয়াদ দীন আবু ইয়াকুব ইউসুফ ইবনে আবি বকর মুহাম্মাদ ইবনে আলী আস-সাক্কাকী (আল্লাহ তাকে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন) বলেছেন: জিহ্বা দিয়ে বারবার উচ্চারিত হওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং যুগের পর যুগ যার প্রচার ও প্রসার সংকুচিত না হওয়ার দাবিদার হলো সেই কথা, যা কেবল সত্যের ছাঁচে ঢালা হয় এবং যার সংবাদ কেবল হকের নীতিতে বোনা হয়। অতএব, যখন এটি কানে প্রবেশ করে তখন তা কবুল করে নেওয়াই সমীচীন এবং যখন এর রহস্য উন্মোচিত হয়, তখন এর অর্থের সাথে কোনো সন্দেহ লেগে থাকাকে এটি প্রত্যাখ্যান করে। আর তা হলো মহান আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি, যা অনাদি ও অনন্তকাল ধরে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশংসাসমূহ এবং সেই ধারায় নতুনভাবে যুক্ত হওয়া স্তুতিমালার মাধ্যমে। অতঃপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রিয় মুহাম্মাদের ওপর, যিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং যিনি জ্যোতির্ময় আরবী কিতাব নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন। যা তার অলঙ্কারশাস্ত্রের পূর্ণতার মাধ্যমে তাঁর দাবির সত্যতার সাক্ষ্য দেয় এবং যা বড় বড় বাগ্মীদের এর মোকাবিলা করতে অক্ষম করে দিয়েছে। এটি এমন এক অলৌকিকতা যা প্রত্যেক সুবক্তার বাগ্মিতাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং বিরোধিতার সকল পথকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দিয়েছে, ফলে সেখানে যাওয়ার কোনো পথই আর স্পষ্ট থাকেনি। এমনকি তারা অক্ষরের মাধ্যমে বিরোধিতা করা ছেড়ে তলোয়ারের মাধ্যমে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং জিহ্বা দিয়ে তর্কের পরিবর্তে বর্শার ফলক দিয়ে লড়াইয়ের দিকে ধাবিত হয়েছিল—নিছক তাদের সীমালঙ্ঘন, হিংসা, হঠকারিতা ও ঘোর শত্রুতার কারণে। অতঃপর তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর (সালাম বর্ষিত হোক), যারা ছিলেন দিকপাল ইমাম এবং ইসলামের মূল চালিকাশক্তি।

অতঃপর: সাহিত্য (আদব) এমন এক বিষয় যার শাখা-প্রশাখার আধিক্য ও স্বল্পতা, শিল্পের কাঠিন্য ও সহজতা এবং এর দুই প্রান্তের দূরত্ব ও নৈকট্য বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে। এটি নির্ভর করে অন্যান্য জ্ঞানে তার চর্চাকারীর পূর্ণতা ও অপূর্ণতা, সেখানে তার মর্যাদার উত্থান ও পতন এবং তার বিচরণক্ষেত্রের প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতার পরিমাণের ওপর। এই কারণে আপনি সাহিত্যের অনুরাগী ব্যক্তিদের বিভিন্ন স্তরে দেখতে পাবেন। যেমন কোনো সাহিত্যিককে দেখবেন সে কেবল এক বা দুই প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং তা অতিক্রম করতে সক্ষম হয় না।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٦)
ذلك، ومن آخر تراه يرجع على ما شئت من أنواع مربوطة في مضمار اختلاف، فمن نوع لين الشكيمة سلس المقاد يكفي في اقتياده بعض قوة وأدنى تمييز، ومن آخر هو بعيد المأخذ نأي المطلب رهين الارتياد بمزيد ذكاء وفضل قوة طبع. ومن آخر كالمروز في قرن، ومن رابع لا يملك إلا بعدد متكاثرة وأوهاق متظافرة مع فضل إلهي في ضمن ممارسات كثيرة ومراجعات طويلة لاشتماله على فنون متنافية الأصول متباينة الفروع متغايرة الجنى ترى مبنى البعض على لطائف المناسبات المستخرجة بقوة القرائح والأذهان وترى مبنى البعض على التحقيق البحت وتحكيم العقل والصرف والتحرز عن شوائب الاحتمال، ومن آخر ريض لا يرتاض إلا بمشيئة خالق الخلق، وقد ضمنت كتابي هذا من أنواع الأدب دون نوع اللغة ما رأيته لا بد منه وهي عدة أنواع متآخذة فأودعته علم الصرف بتمامه وإنه لا يتم إلا بعلم الاشتقاق المتنوع على أنواعه الثلاثة وقد كشفت عنها القناع. وأوردت علم النحو بتمامه، وتمامه بعلمي المعاني والبيان، ولقد قضيت بتوفيق الله منهما الوطر، ولما كان تمام علم المعاني بعلمي الحد والاستدلال لم أر بداً من التسمح بهما، وحين كان التدرب في علمي المعاني والبيان موقوفاً على ممارسة باب النظم وباب النثر ورأيت صاحب النظم يفتقر على علمي العروض والقوافي ثنيت عنان القلم على إيرادهما وما ضمنت جميع ذلك كتابي هذا إلا بعد ما ميزت البعض عن البعض التمييز المناسب، ولخصت الكلام على حسب مقتضى المقام هنالك ومهدت لكل من ذلك أصولاً لائقة وأوردت حججاً مناسبة وقررت ما صادفت من آراء السلف قدس الله أرواحهم بقدر ما احتملت من التقرير مع الإرشاد على ضروب مباحث قلت عناية السلف بها وإيراد لطائف مفتنة ما فتق أحد بها رتق أذن، وها أنا ممل حواشي جارية مجرى الشرح للمواضع المشكلة مستكشفة
তা ছাড়া, আপনি অন্যান্য বিষয়কেও এমন সব প্রকারে বিভক্ত দেখতে পাবেন যা মতভেদের ময়দানে আবদ্ধ। এর মধ্যে কোনো প্রকার এমন যা নমনীয় ও সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য, যা পরিচালনায় সামান্য শক্তি ও ন্যূনতম বিচারবুদ্ধিই যথেষ্ট। আবার অন্যটি এমন যা আয়ত্ত করা কঠিন, যার লক্ষ্য সুদূরপরাহত এবং যা অধিক মেধা ও প্রকৃতির প্রবল শক্তির অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল। অন্যটি যেন শিংয়ের মারোজ (জটিলতা), আর চতুর্থ প্রকারটি এমন যা অধিক সংখ্যক উপকরণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যম ছাড়া আয়ত্ত করা সম্ভব নয়; সাথে থাকতে হয় প্রচুর চর্চা ও দীর্ঘ পর্যালোচনার মাঝে নিহিত খোদায়ী অনুগ্রহ। কারণ এটি এমন সব শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করে যার মূলনীতিগুলো পরস্পর বিরোধী, শাখাগুলো ভিন্নতর এবং ফলগুলো বৈচিত্র্যময়। আপনি কোনোটির ভিত্তি দেখতে পাবেন মেধা ও চিন্তাশক্তির মাধ্যমে উদঘাটিত সূক্ষ্ম সামঞ্জস্যের ওপর, আবার কোনোটির ভিত্তি দেখতে পাবেন নিছক অনুসন্ধান, বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্ত এবং সংশয়ের আবিলতা থেকে সতর্কতা ও বিচক্ষণতার ওপর। অন্যটি এমন বন্য যাকে বশ করা কেবল সৃষ্টির স্রষ্টার ইচ্ছাতেই সম্ভব। আমি আমার এই গ্রন্থে ভাষাতত্ত্ব ব্যতীত সাহিত্যের এমন সব প্রকার অন্তর্ভুক্ত করেছি যা আমি অপরিহার্য মনে করেছি। এগুলো এমন কতগুলো প্রকার যা একে অপরের পরিপূরক। আমি এতে পূর্ণাঙ্গ ইলমুত তাসরিফ (রূপান্তর বিদ্যা) সন্নিবেশিত করেছি; আর এটি ইলমুল ইশতিকাক (শব্দতত্ত্ব)-এর তিন প্রকারের জ্ঞান ছাড়া পূর্ণতা পায় না, যার রহস্য আমি উন্মোচন করেছি। আমি এতে পূর্ণাঙ্গ ইলমুন নাহু (ব্যাকরণ) নিয়ে এসেছি, যার পূর্ণতা ইলমুল মা'আনি ও ইলমুল বায়ানের মাধ্যমে ঘটে; আল্লাহর অনুগ্রহে আমি এ দুটি বিষয়ে উদ্দেশ্য পূর্ণ করেছি। যেহেতু ইলমুল মা'আনি-এর পূর্ণতা সংজ্ঞা ও প্রমাণ শাস্ত্রের (ইলমুল হাদ ওয়াল ইসতিদলাল) ওপর নির্ভরশীল, তাই আমি সে দুটিকেও সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করেছি। আর যখন ইলমুল মা'আনি ও ইলমুল বায়ানে দক্ষতা অর্জন কাব্য ও গদ্যের অনুশীলনের ওপর নির্ভরশীল ছিল, এবং আমি দেখলাম যে কাব্য রচয়িতার ইলমুল আরুজ (ছন্দতত্ত্ব) ও ইলমুল কাওয়াফি (অন্ত্যমিল)-এর প্রয়োজন রয়েছে, তখন আমি সে দুটি বর্ণনার দিকেও কলম ঘুরালাম। আমি আমার এই গ্রন্থে এ সব কিছু তখনই অন্তর্ভুক্ত করেছি যখন আমি প্রত্যেকটি বিষয়কে যথাযথভাবে স্বতন্ত্র করেছি এবং প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সংক্ষেপে আলোচনা করেছি। আমি এর প্রত্যেকটির জন্য উপযুক্ত মূলনীতি তৈরি করেছি এবং যুৎসই দলিল উপস্থাপন করেছি। পূর্বসূরিদের (আল্লাহ তাঁদের আত্মাকে পবিত্র করুন) যে সব অভিমত আমি পেয়েছি, ব্যাখ্যার যতটুকু সুযোগ ছিল আমি তা প্রতিষ্ঠিত করেছি; সাথে সাথে এমন সব বিচিত্র বিষয়ের দিকেও দিকনির্দেশনা দিয়েছি যেগুলোর প্রতি পূর্বসূরিদের মনোযোগ কম ছিল এবং এমন সব বিস্ময়কর সূক্ষ্ম বিষয় উপস্থাপন করেছি যা ইতিপূর্বে কারো কর্ণগোচর হয়নি। আর এখন আমি জটিল স্থানগুলোর ব্যাখ্যার অনুরূপ কতগুলো টীকা সংযোজন করছি যা সেগুলোর গূঢ় রহস্য উন্মোচনকারী।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٧)
عن لطائف المباحث المهملة مطلعة على مزيد تفاصيل في أماكن تمس الحاجة إليها فاعلاً ذلك كله عسى إذا قيض في اللحد المضجع أن يدعى لي بدعوة تسمع، هذا.

واعلم أن علم الأدب متى كان الحامل على الخوض فيه مجرد الوقوف على بعض الأوضاع وشيء من الاصطلاحات فهو لديك على طرف التمام. أما إذا خضت فيه لهمة تبعثك على الاحتراز عن الخطأ في العربية وسلوك جادة الصواب

فيها اعترض دونك منه أنواع تلقى لأدناها عرق القربة لاسيما إذا انضم على همتك الشغف بالتلقي لمراد الله تعالى من كلامه الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه فهناك يستقبلك منها ما لا يبعد أن يرجعك القهقرى وكأني بك وليس معك من هذا العلم إلا ذكر النحو واللغة قد ذهب بك الوهم على أن ما قرع سمعك هو شيء قد أفتر عنه عصبية الصناعة لا تحقق له وإلا فمن لصاحب علم الأدب بأنواع تعظم تلك العظمة لكنك إذا اطلعت على ما نحن مستودعوه كتابنا هذا مشيرين فيه على ما تجب الإشارة إليه ولن يتم لك ذلك إلا بعد أن تركب له من التأمل كل صعب وذلول علمت إذ ذاك أن صوغ الحديث ليس إلا من عين التحقيق وجوهر السداد، ولما كان حال نوعنا هذا ما سمعت ورأيت أذكياء أهل زماني الفاضلين الكاملي الفضل قد طال إلحاحهم عليّ في أن أصنف لهم مختصرا يحظيهم بأوفر حظ منه وأن يكون أسلوبه أقرب أسلوب من فهم كل ذكي صنفت هذا وضمنت لمن أتقنه أن ينفتح عليه جميع المطالب العلمية، وسميته: مفتاح العلوم وجعلت هذا الكتاب ثلاثة أقسام:

 

‌‌القسم الأول في

 

‌‌علم الصرف، القسم الثاني في علم النحو،
অবহেলিত গবেষণার সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ সম্পর্কে, যা প্রয়োজনীয় স্থানসমূহে অধিকতর বিবরণের দ্বার উন্মোচন করে; আমি এসবই করেছি এই আশায় যে, যখন কবরের শয্যা নির্ধারিত হবে, তখন যেন আমার জন্য এমন কোনো দোয়া করা হয় যা কবুল হবে। এই তো কথা।

আর জেনে রাখুন যে, সাহিত্য বিজ্ঞান (ইলমুল আদব)-এ অবগাহন করার প্রেরণা যদি হয় কেবল কিছু ভাষাগত বিন্যাস ও সামান্য কিছু পরিভাষার সাথে পরিচিত হওয়া, তবে তা আপনার নিকট পূর্ণতার প্রান্তসীমায় উপনীত হওয়া মনে হবে। কিন্তু আপনি যখন এতে এমন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে নিমগ্ন হবেন যা আপনাকে আরবি ভাষায় ভুল থেকে বাঁচতে এবং এতে সঠিক পথে চলতে অনুপ্রাণিত করবে,

তখন আপনার সামনে এমন সব বিষয় উপস্থিত হবে যার ক্ষুদ্রতমটির সম্মুখীন হলেও আপনি ঘর্মাক্ত হয়ে পড়বেন; বিশেষ করে যখন আপনার উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে আল্লাহর কালাম থেকে তাঁর উদ্দেশ্য উপলব্ধির গভীর অনুরাগ যুক্ত হয়, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না। তখন সেখানে আপনার সামনে এমন কিছু বিষয় আসবে যা আপনাকে পিছু হটিয়ে দেয়া অসম্ভব নয়। আর আমার মনে হয় আপনার নিকট এই শাস্ত্রের কেবল নাহু (ব্যাকরণ) ও লুগাত (অভিধান)-এর স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নেই; আপনার ভ্রান্ত ধারণা হতে পারে যে, আপনার কানে যা কিছু পৌঁছেছে তা নিছক তাত্ত্বিক গোঁড়ামির বহিঃপ্রকাশ মাত্র, যার কোনো বাস্তবতা নেই। অন্যথায়, সাহিত্য শাস্ত্রের অধিকারীর জন্য এমন সব বিষয় কোথা থেকে আসবে যা এত বড় মহত্ত্বের দাবিদার? কিন্তু আপনি যখন আমাদের এই কিতাবে গচ্ছিত বিষয়গুলো প্রত্যক্ষ করবেন এবং আমরা যাতে ইঙ্গিত করা আবশ্যক মনে করেছি সেসব দিকে লক্ষ্য করবেন—আর গভীর চিন্তাভাবনার প্রতিটি কঠিন ও সহজ পথ অতিক্রম করার আগে তা আপনার নিকট পূর্ণতা পাবে না—তখন আপনি জানতে পারবেন যে, এই আলোচনার বিন্যাস নিছক অনুসন্ধানের নির্যাস এবং সঠিকত্বের মূল নির্যাস ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যেহেতু আমাদের এই বিষয়ের অবস্থা তেমনই যা আপনি শুনলেন, এবং আমি আমার সময়ের বিজ্ঞ ও পূর্ণ গুণসম্পন্ন মেধাবীদের দেখেছি যে তারা আমার নিকট একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনার জন্য দীর্ঘকাল ধরে পীড়াপীড়ি করছেন, যা তাদেরকে এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ উপকৃত করবে এবং যার রচনাশৈলী হবে প্রত্যেক মেধাবীর বোধগম্যতার জন্য সহজতর; তাই আমি এটি সংকলন করেছি। আর যে ব্যক্তি এটি সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করবে তার জন্য আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, তার নিকট সমস্ত জ্ঞানীয় লক্ষ্য উন্মোচিত হবে। আমি এর নাম দিয়েছি: 'মিফতাহুল উলুম' (জ্ঞানবিজ্ঞানের চাবিকাঠি) এবং আমি এই কিতাবটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছি:

 

‌‌প্রথম ভাগ হলো

 

‌‌ইলমুস সারফ (শব্দতত্ত্ব) প্রসঙ্গে, দ্বিতীয় ভাগ ইলমুন নাহু (বাক্যতত্ত্ব) প্রসঙ্গে,
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٨)
القسم الثالث في علمي المعاني والبيان.

والذي اقتضى عندي هذا هو أن الغرض الأقدم من علم الأدب لما كان هو الاحتراز عند الخطأ في كلام العرب وأردت أن أحصل هذا الغرض وأنت تعلم أن تحصيل الممكن لك لا يتأتى بدون معرفة جهات التحصيل واستعمالها لا جرم أنا حاولنا أن نتلو عليك في أربعة الأنواع مذيلة بأنواع أخر مما لا بد من معرفته في غرضك لتقف عليه ثم الاستعمال بيدك، وإنما أغنت هذه لأن مثارات الخطأ إذا تصفحتها ثلاثة المفرد والتأليف وكون المركب مطابقاً لما يجب أن يتكلم له، وهذه الأنواع بعد علم اللغة هي المرجوع إليها في كفاية ذلك ما لم يتخط على النظم، فعلما الصرف والنحو يرجع إليهما في المفرد والتأليف، ويرجع على علمي المعاني والبيان في الأخير، ولما كان علم الصرف هو المرجوع إليه في المفرد أو فيما هو في حكم المفرد والنحو بالعكس من ذلك كما ستقف عليه وأنت تعلم أن المفرد متقدم على أن يؤلف وطباق المؤلف للمعنى متأخر عن نفس التأليف لا جرم أنا قدمنا البعض على هذا الوجه وضعا لنؤثر ترتباً استحقته طبعاً.

وهذا حين أن نشرع في الكتاب فنقول وبالله التوفيق:

القسم الأول

علم الصرف

أما: القسم الأول من الكتاب فمشتمل على ثلاثة فصول الأول: في بيان حقيقة علم الصرف والتنبيه على ما يحتاج إليه في تحقيقها. الثاني: في كيفية الوصول إليه. الثالث: في بيان كونه كافياً لما علق به من الغرض، وقبل أن نندفع على سوق هذه الفصول فلنذكر شيئاً لا بد منه في ضبط الحديث فيما نحن بصدده وهو الكشف عن معنى الكلمة وأنواعها.
তৃতীয় অংশ: ইলমুল মাআনি এবং ইলমুল বায়ান প্রসঙ্গে।

আমার নিকট এর যৌক্তিকতা এই যে, যেহেতু সাহিত্য শাস্ত্রের প্রাচীনতম উদ্দেশ্য হলো আরবি কথা বলার ক্ষেত্রে ভুল-ভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকা এবং আমি চেয়েছি এই উদ্দেশ্যটি অর্জন করতে; আর আপনি জানেন যে, কোনো সম্ভবপর বিষয় অর্জন করা তার অর্জনের পদ্ধতিসমূহ জানা এবং সেগুলোর প্রয়োগ ব্যতীত সম্পন্ন হয় না, সেহেতু আমি আপনার সামনে চারটি বিষয় আলোচনা করার প্রয়াস পেয়েছি এবং সেগুলোর সাথে আপনার অভীষ্ট উদ্দেশ্য সাধনে প্রয়োজনীয় আরও কিছু বিষয় যুক্ত করেছি যাতে আপনি সেগুলো অবগত হতে পারেন। অতঃপর সেগুলোর প্রয়োগ আপনার ইচ্ছাধীন। আর এগুলোই যথেষ্ট হওয়ার কারণ হলো, ভুলের উৎসসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তা তিনটি: একক শব্দ, বাক্য গঠন এবং বাক্যটি উদ্দিষ্ট প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া। লুগাত বা ভাষা বিজ্ঞানের পর এই শাস্ত্রগুলোই হলো সেই মাধ্যম যার দিকে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনে প্রত্যাবর্তন করা হয়, যতক্ষণ না তা কাব্যিক ছন্দের দিকে ধাবিত হয়। সুতরাং একক শব্দ এবং বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে সরফ ও নাহু শাস্ত্রের শরণাপন্ন হতে হয় এবং শেষোক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে ইলমুল মাআনি ও ইলমুল বায়ানের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হয়। আর যেহেতু সরফ শাস্ত্র হলো একক শব্দ অথবা যা একক শব্দের হুকুমভুক্ত এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তনের স্থল এবং নাহু শাস্ত্র হলো এর বিপরীত, যা আপনি শীঘ্রই জানতে পারবেন; আর আপনি জানেন যে, একক শব্দ বাক্য গঠনের পূর্ববর্তী বিষয় এবং অর্থের সাথে বাক্যের সামঞ্জস্য বিধান খোদ বাক্য গঠনের পরবর্তী বিষয়, তাই আমি স্বাভাবিক ক্রমবিন্যাস বজায় রাখার তাগিদে বিন্যাসগতভাবে বিষয়গুলোকে এভাবে অগ্র-পশ্চাৎ করেছি।

এখন আমরা গ্রন্থটি শুরু করছি এবং আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করে বলছি:

প্রথম অংশ

ইলমুস সরফ (শব্দ রূপান্তর বিদ্যা)

গ্রন্থের প্রথম অংশটি তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত। প্রথম পরিচ্ছেদ: ইলমুস সরফের স্বরূপ বিশ্লেষণ এবং তা অনুধাবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি সম্পর্কে সতর্ক করা। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই শাস্ত্রটি অর্জনের পদ্ধতি। তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যের জন্য এই শাস্ত্রের পর্যাপ্ততা বর্ণনা। এই পরিচ্ছেদগুলোর আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়ার পূর্বে আমাদের আলোচ্য বিষয়ের যথাযথ পর্যালোচনার জন্য অপরিহার্য একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, আর তা হলো ‘কালিমা’র (শব্দ) অর্থ ও প্রকারভেদ উন্মোচন করা।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٩)
الأقرب أن يقال الكلمة هي اللفظة الموضوعة للمعنى مفردة والمراد بالإفراد أنها بمجموعها وضعت لذلك المعنى دفعة واحدة ثم إذا كان معناها مستقلاً بنفسه وغير مقترن بأحد الأزمنة الثلاثة مثل علم وجهل سميت اسماً وإذا اقترنت مثل علم وجهل سميت فعلاً وإذا كان معناها لا يستقل بنفسه مثل من وعن سميت حرفاً ويفسر المستقل بنفسه على سبيل التقريب والتأنيس بأنه الذي يتم الجواب به كقول القائل زيد في جوابك إذا قلت من جاء وقرأ إذا قلت ماذا فعل بخلافه إذا قال في أو على إذا قلت أين قرأ، وإذ قد ذكر هذا فلنشرع في الفصل الأول ولنشرحه.

অধিকতর সঠিক অভিমত হলো এই যে, কালিমা হলো এমন একটি একক শব্দ যা কোনো অর্থের জন্য গঠন করা হয়েছে। আর 'একক' (মুফরাদ) হওয়ার উদ্দেশ্য হলো, শব্দটির পূর্ণ রূপটি সেই অর্থের জন্য একযোগে নির্ধারিত হয়েছে। অতঃপর, যদি এর অর্থ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় এবং তা তিনটি কালের কোনোটির সাথে সম্পৃক্ত না হয়, যেমন 'জ্ঞান' ও 'অজ্ঞতা', তবে তাকে 'ইসিম' (বিশেষ্য) বলা হয়। আর যদি তা কালের সাথে সম্পৃক্ত হয়, যেমন 'সে জেনেছে' ও 'সে অজ্ঞ ছিল', তবে তাকে 'ফে’ল' (ক্রিয়া) বলা হয়। আর যদি তার অর্থ স্বয়ংসম্পূর্ণ না হয়, যেমন 'থেকে' ও 'হতে', তবে তাকে 'হারফ' (অব্যয়) বলা হয়। 'স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া' বিষয়টি সহজভাবে বোঝার জন্য এভাবে ব্যাখ্যা করা হয় যে, এটি এমন শব্দ যার মাধ্যমে উত্তর প্রদান সম্পন্ন হয়; যেমন—যদি প্রশ্ন করা হয় "কে এসেছে?", তার উত্তরে কারো বলা "যায়েদ"; অথবা প্রশ্ন করা হয় "সে কী করেছে?", তার উত্তরে বলা "পড়েছে"। পক্ষান্তরে, যদি কেউ প্রশ্ন করে "সে কোথায় পড়েছে?", তখন উত্তরে শুধু 'মধ্যে' বা 'উপরে' বলা হলে তা এর বিপরীত হবে (অর্থাৎ উত্তর পূর্ণ হবে না)। যেহেতু এই প্রাথমিক বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে, তাই এখন আমরা প্রথম পরিচ্ছেদ শুরু করি এবং তার ব্যাখ্যা প্রদান করি।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ١٠)
اعلم أن الصرف هو تتبع اعتبارات الواضع في وضعه من جهة المناسبات والأقيسة ونعني بالاعتبارات وافرضها على أن تتحقق أنه أولاً جنس المعاني ثم قصد لجنس جنس منها معيناً بإزاء كل من ذلك طائفة طائفة من الحروف ثم قصد لتنويع الأجناس شيئاً ف شيئاً متصرفاً في تلك الطوائف بالتقديم والتأخير والزيادة فيها بعد أو النقصان منها مما هو كاللازم للتنويع وتكثير الأمثلة ومن التبديل لبعض تلك الحروف لغيره لعارض وهكذا عند تركيب تلك الحروف من قصد هيئة ابتداء ثم تغيرها شيئاً ف شيئاً ولعلك تستبعد هذه الاعتبارات إذ ليس طريق معرفتها عندك لكن لا يخفى عليك أن وضع اللغة ليس إلا تحصيل أشياء منتشرة تحت الضبط فإذا أمعنت فيه النظر وجدت شأن الواضع أقرب شيء من شأن المستوفي الحاذق وانك لتعلم ما يصنع في باب الضبط فيزل عنك الاستبعاً د ثم انك ستقف على جلية الأمر فيه مما يتلى عليك عن قريب.

জেনে রাখুন যে, সরফ (শব্দরূপান্তরবিদ্যা) হলো উপযুক্ততা এবং নিয়মাবলির প্রেক্ষিতে ভাষাপ্রণেতার ভাষাগত বিন্যাসে তাঁর বিবেচনাপ্রসূত চিন্তাধারার অনুসরণ করা। আমরা ‘বিবেচনাপ্রসূত চিন্তা’ বলতে যা বোঝাতে চাইছি—এবং আপনি তা এভাবে ধরে নিন যাতে আপনি এটি নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করতে পারেন—তা হলো: প্রথমে অর্থের একটি সাধারণ শ্রেণি বিদ্যমান ছিল, অতঃপর তিনি (ভাষাপ্রণেতা) সেই শ্রেণির প্রতিটি নির্দিষ্ট প্রকারের বিপরীতে এক একটি অক্ষরসমষ্টি নির্ধারণ করেছেন। এরপর তিনি সেই শ্রেণিগুলোর বৈচিত্র্য আনয়নের নিমিত্তে পর্যায়ক্রমে অগ্রসর হয়েছেন; সেই অক্ষরসমষ্টির মধ্যে কোনোটিকে আগে বা পরে নিয়ে আসা, তাতে কোনো অক্ষর বৃদ্ধি করা কিংবা তা থেকে হ্রাস করার মাধ্যমে কার্যাদি সম্পাদন করেছেন, যা শ্রেণিবিভাগ এবং উদাহরণ বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। একইভাবে কোনো আপতিত কারণবশত সেই অক্ষরগুলোর কতককে অন্য অক্ষর দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। অনুরূপভাবে, এই অক্ষরগুলোর বিন্যাসের সময় প্রথমে একটি প্রাথমিক কাঠামোর সংকল্প করা হয় এবং অতঃপর ধাপে ধাপে তাতে পরিবর্তন আনা হয়। সম্ভবত আপনি এই বিবেচনাগুলোকে অবাস্তব মনে করছেন, যেহেতু এগুলো জানার পদ্ধতি আপনার জানা নেই। কিন্তু আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, ভাষা প্রণয়ন মূলত বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একটি সুশৃঙ্খল শৃঙ্খলার অধীনে নিয়ে আসা ছাড়া আর কিছুই নয়। অতএব, আপনি যদি এতে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করেন, তবে দেখতে পাবেন যে ভাষাপ্রণেতার কর্মপদ্ধতি একজন সুদক্ষ হিসাবরক্ষক বা সংগ্রাহকের কাজের সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। আর আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কী করা হয়; ফলে আপনার সেই বিস্ময় বা অসম্ভব হওয়ার ধারণাটি দূর হয়ে যাবে। অচিরেই আপনার নিকট যা আলোচিত হবে, তা থেকে আপনি এই বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে পূর্ণরূপে অবগত হতে পারবেন।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ١١)
الفصل الثاني: في كيفية الوصول على النوعين، وهما معرفة الاعتبارات الراجعة على الحروف ومعرفة الاعتبارات الراجعة على الهيئات وفيه بابان. الأول في معرفة الطريق على النوع الأول وكيفية سلوكه. الثاني في معرفة الطريق على النوع الثاني وكيفية سلوكه أيضاً ومساق الحديث فيهما لا يتم إلا بعد التنبيه على أنواع الحروف التسعة والعشرين ومخارجها. اعلم أنها عند المتقدمين تتنوع على مجهورة ومهموسة وهي عندي كذلك لكن على ما أذكره وهو أن الجهر انحصار النفس في مخرج الحرف والهمس جرى ذلك فيه والمهجورة عندي الهمزة والألف والقاف والكاف والجيم والياء والراء والنون والطاء والدال والتاء والباء والميم والواو يجمعها قولك قدك أترجم ونطايب والمهموسة ما عداها ثم إذا لم يتم الانحصار ولا الجري كما في حروف قولك لم يروعنا سميت معتدلة وما بين الشديدة والرخوة وإذا تم الانحصار كما في حروف قولك أجدك قطبت سميت شديدة وإذا تم الجري كما في الباقية من ذلك سميت رخوة ثم إذا تبع

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দুই প্রকারের লক্ষ্যে পৌঁছানোর পদ্ধতি সম্পর্কে; আর তা হলো বর্ণমালার সাথে সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহের জ্ঞান এবং কাঠামোর সাথে সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহের জ্ঞান। এতে দুটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথমটি প্রথম প্রকারের পথ চেনা এবং তা অনুসরণের পদ্ধতি সম্পর্কে। দ্বিতীয়টি দ্বিতীয় প্রকারের পথ চেনা এবং একইভাবে তা অনুসরণের পদ্ধতি সম্পর্কে। আর এই দুই বিষয়ে আলোচনার ধারাবাহিকতা পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না উনত্রিশটি বর্ণের প্রকারভেদ এবং তাদের উচ্চারণস্থলসমূহ সম্পর্কে অবগত করা হয়। জেনে রাখুন যে, পূর্ববর্তীদের নিকট এগুলো মাজহুরা (মজবুত) এবং মাহমুসা (ফিসফিস ধ্বনি) এই দুই প্রকারে বিভক্ত। আমার নিকটও বিষয়টি তেমনই, তবে আমি যা উল্লেখ করছি তা হলো: জহর হলো বর্ণের উচ্চারণস্থলে শ্বাসের অবরুদ্ধ হওয়া এবং হামস হলো তাতে শ্বাস প্রবাহিত হওয়া। আমার নিকট মাজহুরা বর্ণগুলো হলো হামযাহ, আলিফ, ক্বাফ, কাফ, জীম, ইয়া, রা, নূন, ত্বা, দাল, তা, বা, মীম এবং ওয়াও; আপনার এই বাক্যটি তা একত্রিত করে: "ক্বদকা উতারজিমু ওয়া নুত্বায়িবু"। আর মাহমুসা হলো এগুলো ব্যতীত অন্যগুলো। অতঃপর যদি রুদ্ধ হওয়া কিংবা প্রবাহিত হওয়া কোনোটিই পূর্ণ না হয়, যেমন আপনার এই বাক্যের বর্ণগুলোতে রয়েছে: "লাম ইয়ারওয়া’না", তবে তাকে মুতাদিলা (মধ্যম) এবং শাদীদাহ ও রাখওয়াহ-র মধ্যবর্তী বলা হয়। আর যদি রুদ্ধ হওয়া পূর্ণ হয়, যেমন আপনার এই বাক্যের বর্ণগুলোতে রয়েছে: "আজা-দুকা ক্বত্বাবতা", তবে তাকে শাদীদাহ (কঠিন) বলা হয়। আর যদি প্রবাহিত হওয়া পূর্ণ হয়, যেমন অবশিষ্ট বর্ণগুলোতে রয়েছে, তবে তাকে রাখওয়াহ (নরম) বলা হয়। অতঃপর যদি অনুসরণ করে...

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ١٢)
الاعتدال ضعف تحمل الحركة أو الامتناع عنه كما في الواو والياء والألف سميت معتلة وإذا تبع تمام الانحصار حفز وضغط كما في حروف قولك قد طبخ سميت حروف القلقلة وتتنوع أيضاً على مستعلية وهي الصاد والضاد والطاء والظاء والغين والخاء والقاف وعلى منخفضة وهي ما عداها والاستعلاء أن تتصعد لسانك في الحنك الأعلى والانخفاض بخلاف ذلك فإن جعلت لسانك مطبقاً للحنك الأعلى كما في الصاد والضاد والطاء والظاء سميت مطبقة وإلا كما في سواها سميت منفتحة ومخارجها عند الأكثر ستة عشر على هذا النهج: أقصى الحلق للهمزة والألف والهاء ووسطه للعين والحاء وأدناه على اللسان للغين والخاء وأقصى اللسان وما فوقه من الحنك الأعلى مخرج القاف ومن أسفل من موضع القاف من اللسان قليلاً ومما يليه من الحنك الأعلى مخرج الكاف ومن وسطه اللسان بينه وبين وسط الحنك الأعلى مخرج الجيم والشين والياء ومن بين أول حافة اللسان وما يليها من الأضراس مخرج الضاد ومن حافة اللسان من أدناها على منتهى طرف اللسان من بينها وبين ما يليها من الحنك الأعلى فما فويق الضاحك والناب والرباعية والثنية مخرج اللام ومن طرف اللسان بينه وبين ما فويق الثنايا العليا مخرج النون ومن مخرج النون غير أنه أدخل في ظهر اللسان قليلاً لانحرافه على اللام مخرج الراء ومما بين طرف اللسان وأصول الثنايا العليا مخرج الطاء والدال والتاء ومما بين الثنايا وطرف اللسان مخرج الصاد والزاي والسين ومما بين طرف اللسان وأطراف الثنايا العليا مخرج الظاء والذال والثاء ومن باطن الشفة السفلى وأطراف الثنايا العليا مخرج الفاء ومما بين الشفتين مخرج الباء والميم والواو ومن الخياشيم مخرج النون الخفيفة ويتصور ما ذكرناه من الشكل الآتي

ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা হলো স্বরচিহ্ন বা হারাকাত বহনে অক্ষমতা কিংবা তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকা, যেমনটি ওয়াও, ইয়া এবং আলিফ বর্ণের ক্ষেত্রে ঘটে; এ কারণে এগুলোকে দুর্বল বর্ণ বলা হয়। আর যখন শব্দের পূর্ণ রুদ্ধ অবস্থার পর কোনো ধাক্কা ও চাপের সৃষ্টি হয়, যেমনটি ‘ক্বদ তবখ’ (ক্বফ, দাল, ত-এ, বা, খ-এ) বর্ণসমষ্টির ক্ষেত্রে ঘটে, তখন সেগুলোকে কলকলা বর্ণ বলা হয়। বর্ণগুলো আবার উচ্চস্বরীয় শ্রেণিতে বিভক্ত, যেগুলো হলো— সাদ, দাদ, ত-এ, জ-এ, গইন, খ-এ এবং ক্বফ; আর অবশিষ্ট বর্ণগুলো নিম্নস্বরীয়। উচ্চতা বা ইস্তি‘লা হলো জিহ্বাকে উপরের তালুর দিকে উঠানো, আর নিম্নতা বা ইনখিফাদ হলো এর বিপরীত। যদি আপনি আপনার জিহ্বাকে উপরের তালুর সাথে সংলগ্ন করে দেন, যেমনটি সাদ, দাদ, ত-এ এবং জ-এ বর্ণের ক্ষেত্রে হয়, তবে সেগুলোকে সংলগ্ন বর্ণ বলা হয়; নতুবা অন্য বর্ণগুলোর ক্ষেত্রে সেগুলোকে বিমুক্ত বর্ণ বলা হয়। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে বর্ণগুলোর উচ্চারণস্থল বা মাখরাজ ১৬টি, যা নিম্নরূপ পদ্ধতিতে বিন্যস্ত: কণ্ঠনালীর শেষ ভাগ থেকে হামযাহ, আলিফ ও হা উচ্চারিত হয়; এর মধ্যভাগ থেকে আইন ও হা এবং এর নিকটবর্তী অংশ (জিহ্বার সন্নিকটস্থ) থেকে গইন ও খ-এ উচ্চারিত হয়। জিহ্বার গোড়া এবং তার সরাসরি উপরের তালু হলো ক্বফ-এর উচ্চারণস্থল। ক্বফ-এর উচ্চারণস্থলের সামান্য নিচে জিহ্বার অংশ এবং তৎসংলগ্ন উপরের তালু হলো কাফ-এর উচ্চারণস্থল। জিহ্বার মধ্যভাগ এবং উপরের তালুর মধ্যভাগের মধ্যবর্তী স্থান হলো জীম, শীন ও ইয়া-এর উচ্চারণস্থল। জিহ্বার পার্শ্বদেশের শুরু এবং পার্শ্ববর্তী চোয়ালের দাঁতসমূহের মধ্যবর্তী স্থান হলো দাদ-এর উচ্চারণস্থল। জিহ্বার পার্শ্বদেশের নিকটবর্তী অংশ থেকে জিহ্বার অগ্রভাগ পর্যন্ত এবং তার সম্মুখস্থ উপরের তালু—যা সম্মুখস্থ পেষক দাঁত, ছেদক দাঁত, পার্শ্ববর্তী ছেদক দাঁত এবং সম্মুখস্থ দাঁতের উপরের অংশ—তার মধ্যবর্তী স্থান হলো লাম-এর উচ্চারণস্থল। জিহ্বার অগ্রভাগ এবং উপরের সম্মুখস্থ দাঁতগুলোর উপরের অংশ হলো নূন-এর উচ্চারণস্থল। নূন-এর উচ্চারণস্থল থেকেই রা-এর উচ্চারণ, তবে এটি জিহ্বার পিঠের দিকে সামান্য একটু ভেতরের দিকে বিচ্যুত হয়। জিহ্বার অগ্রভাগ এবং উপরের সম্মুখস্থ দাঁতগুলোর গোড়ার মধ্যবর্তী স্থান হলো ত-এ, দাল ও তা-এর উচ্চারণস্থল। সম্মুখস্থ দাঁতসমূহ এবং জিহ্বার অগ্রভাগের মধ্যবর্তী স্থান হলো সাদ, যা ও সীন-এর উচ্চারণস্থল। জিহ্বার অগ্রভাগ এবং উপরের সম্মুখস্থ দাঁতগুলোর আগার মধ্যবর্তী স্থান হলো জ-এ, যাল ও সা-এর উচ্চারণস্থল। নিচের ঠোঁটের অভ্যন্তরীণ অংশ এবং উপরের সম্মুখস্থ দাঁতগুলোর আগা হলো ফা-এর উচ্চারণস্থল। দুই ঠোঁটের মধ্যবর্তী স্থান হলো বা, মীম ও ওয়াও-এর উচ্চারণস্থল। নাসারন্ধ্র বা নাকের বাঁশি হলো হালকা নূন-এর উচ্চারণস্থল। আমরা যা বর্ণনা করেছি তা পরবর্তী চিত্র থেকে ধারণা করা সম্ভব হবে।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ١٣)
وعندي أن الحكم في أنواعها ومخارجها على ما يجده كل أحد مستقيم الطبع سليم الذوق إذا راجع نفسه واعتبرها كما ينبغي وإن كان بخلاف الغير لإمكان التفاوت في الآلات وإذ قد تنبهت لما ذكرنا فلنرجع على الباب الأول،
আমার নিকট এগুলোর প্রকার ও উচ্চারণস্থলসমূহের বিধান হলো তা-ই, যা প্রত্যেক সুস্থ স্বভাব ও নির্মল রুচিবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অনুভব করে যখন সে নিজের বিচার-বিশ্লেষণ করে এবং বিষয়টিকে যথাযথভাবে বিবেচনা করে; যদিও তা অন্যের উপলব্ধির পরিপন্থী হতে পারে, কারণ উচ্চারণ যন্ত্রসমূহের মাঝে তারতম্য থাকা সম্ভব। আর যেহেতু আমরা যা উল্লেখ করেছি সে বিষয়ে আপনি অবগত হয়েছেন, তাই আসুন আমরা প্রথম পরিচ্ছেদে ফিরে যাই।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ١٤)
والكلام فيه يستدعي تمهيد أصل، وهو أن اعتبار الأوضاع في الجملة مضبوطة أدخل في المناسبة من اعتبارها منتشرة وأعني بالانتشار ورودها مستأنفة في جميع ما يحتاج إليه في جانب اللفظ من الحروف والنظم والهيئة، وكذا في جانب المعنى من عدة اعتبارات تلزمه وبالضبط خلاف ذلك. وتقريره أن إيقاع القريب الحصول أسهل من البعيدة وفي اعتبارها مضبوطة تكون أقرب حصولاً لاحتياجها إذ ذاك على أقل مما تحتاج إليه على خلاف ذلك، ويظهر من هذا أن اعتبار الأوضاع الجزئية أعني بها المتناولة للمعاني الجزئية يلزم عند إمكان ضبطها أن تكون مسبوقة بأوضاع كلية لها، وقد خرج بقولي عند إمكان ضبطها ما كان في الظاهر جنسه نوعه كالحروف والأسماء المشاكلة لها من نحو إذا وأني ومتى عن أن يكون لوضعه الجزئي وضع كلي هذا على المذهب الظاهر من جمهور أصحابنا وإلا فخروج ذلك عندي ليس بحتم وإذا تمهد هذا فنقول الطريق على ذلك هو أن تبتدئ فيما يحتمل التنويع من حيث انتهى الواضع في تنويعه وهي الأوضاع الجزئية فترجع منها القهقرى في التجنيس، وهو التعميم على حيث ابتدأ منه وهو وضعه الكلي لتلك الجزئية كنحو أن تبتدئ من مثل لفظ المتباين وهو موضع التباين فترده على معنى أعم في لفظ التباين وهو المباينة من

এ বিষয়ে আলোচনা একটি মূলনীতি উপস্থাপনের দাবি রাখে; আর তা হলো, সামগ্রিকভাবে শব্দ-প্রয়োগের (ওয়াদ) নিয়মগুলোকে সুশৃঙ্খল বিবেচনা করা, সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত বিবেচনা করার চেয়ে অধিকতর প্রাসঙ্গিক। আর 'বিক্ষিপ্ত' হওয়া দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো, শব্দের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অক্ষর, বিন্যাস ও কাঠামোর প্রতিটি স্তরে নতুন করে সেগুলোর উপস্থাপনা ঘটা। একইভাবে অর্থের ক্ষেত্রেও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বহুমুখী বিবেচনার দিক থেকে নতুন করে আসা। আর 'সুশৃঙ্খল' হওয়া এর বিপরীত। এর ব্যাখ্যা হলো, যা নিকটবর্তী তা অর্জন করা দূরবর্তী বিষয় অর্জনের চেয়ে সহজ। আর শব্দ-প্রয়োগকে সুশৃঙ্খল মনে করা হলে তা অর্জনের অধিক নিকটবর্তী হয়; কারণ তখন তার প্রয়োজনীয়তা তার বিপরীত অবস্থার চেয়ে অনেক কম বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল থাকে। এখান থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, আংশিক শব্দ-প্রয়োগ (অর্থাৎ যা আংশিক বা বিশেষ অর্থকে শামিল করে) বিবেচনা করার ক্ষেত্রে—যদি তা সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হয়—তবে তার পূর্বে একটি সামগ্রিক বা মূল শব্দ-প্রয়োগ থাকা আবশ্যক। 'সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হলে'—আমার এই উক্তির দ্বারা ওইসব বিষয় বাদ পড়েছে যেগুলোর শ্রেণি এবং প্রকার বাহ্যিকভাবে অভিন্ন; যেমন অব্যয় (হরফ) এবং এর সদৃশ বিশেষ্যসমূহ, যথা 'যখন' (ইযা), 'কোথায়' (আন্না), এবং 'কখন' (মাতা)। এগুলোর আংশিক প্রয়োগের জন্য কোনো সামগ্রিক প্রয়োগ নেই—এটি আমাদের অধিকাংশ পণ্ডিতদের নিকট প্রসিদ্ধ মতানুসারে; নতুবা আমার নিকট এগুলোর বহির্ভূত হওয়া অনিবার্য নয়। যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন আমরা বলি যে, এর পদ্ধতি হলো—যেখানে প্রকারভেদ করা সম্ভব, সেখানে শব্দ-প্রয়োগকারী তার প্রকারভেদের যেখানে সমাপ্তি টেনেছেন, অর্থাৎ আংশিক প্রয়োগসমূহ থেকে শুরু করা। অতঃপর সেখান থেকে শ্রেণিভুক্তকরণের দিকে উল্টো পথে ফিরে যাওয়া; আর তা হলো সেই ব্যাপকতা প্রদান করা যেখান থেকে তিনি শুরু করেছিলেন, অর্থাৎ ওই আংশিক বিষয়ের জন্য তার সামগ্রিক শব্দ-প্রয়োগ। যেমন—উদাহরণস্বরূপ—আপনি 'ভিন্নতর' (মুতাবায়িন) শব্দ থেকে শুরু করলেন যা ভিন্নতার প্রেক্ষিত; অতঃপর আপনি একে 'ভিন্নতা' (তাবায়ুন) শব্দের অধিকতর ব্যাপক অর্থের দিকে ফিরিয়ে নিলেন, যা মূলত 'পৃথকতা' (মুবায়ানাহ) থেকে উদ্ভূত।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ١٥)
الجانبين ثم ترد التباين على أعم وهو المباينة من جانب في لفظ باين ثم ترده على أعم وهو حصول البينونة في لفظ بان ثم ترده على أعم وهو مجرد البين، وهذا هو الذي يعنيه أصحابنا في هذا النوع بالاشتقاق ثم إذا اقتصرت في التجنيس على ما تحتمله حروف كل طائفة بنظم مخصوص كمطلق معنى البينونة فيما ضربنا من المثال للباء ثم الياء ثم النون وهو المتعارف سمي الاشتقاق الصغير وإن تجاوزت على ما احتملته من معنى أعم من ذلك كيفما انتظمت مثل الصور الست للحروف الثلاثة المختلفة من حيث النظم والأربع والعشرين للأربعة والمائة والعشرين للخمسة سمي الاشتقاق الكبير. وههنا نوع ثالث من الاشتقاق كان يسميه شيخنا الحاتمي رحمه الله الاشتقاق الأكبر، وهو أن يتجاوز على ما احتملته أخوات تلك الطائفة من الحروف نوعاً أو مخرجا وقد عرفت الأنواع والمخارج على ما نبهناك وأنه نوع لم أر أحداً من سحرة هذا الفن وقليل ما هم حام حوله على وجهه إلا هو وما كان ذلك منه تغمده الله برضوانه وكساه حلل غفرانه إلا لكونه الأول والآخر في علماء الفنون الأدبية على علوم أخر " ولا ينبئك مثل خبير ". وسلوك هذا الطريق على وجهين أصل فيما يطلب منه وملحق به. أما الأصل فهو إذا ظفرت بأمثلة ترجع معانيها الجزئية على معنى كلي لها أن تطلب فيها من الحروف قدراً تشترك هي فيه وهو يصلح للوضع الكلي على أن لا تمتنع عن تقدير زيادة أو حذف أو تبديل إن توقف مطلوبك على ذلك وعن تقدير القلب أيضاً في الاشتقاق الصغير معينا كلا من ذلك بوجه يشهد له سوى وجه الضبط فهو بمجرده لا يصلح لذلك وتلك الحروف تسمى أصولاً والمثال الذي لا يتضمن إلا إياها مجرداً وما سوى تلك الحروف زوائد والمتضمن لشيء منها م وإذا أريد أن يعبر عن الأصول عبر عن أولها في ابتداء الوضع بالفاء وعن ثانيها

উভয় দিক, তারপর আপনি এই বৈপরীত্যকে আরও সাধারণ একটি দিকে ফিরিয়ে আনবেন, যা হলো 'বায়িন' শব্দের মধ্যে একদিকের ভিন্নতা। অতঃপর আপনি এটিকে আরও সাধারণ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনবেন, যা হলো 'বানা' শব্দের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটা। এরপর আপনি একে আরও সাধারণ স্তরে ফিরিয়ে নেবেন, যা কেবল ব্যবধান বা অন্তর্বর্তী হওয়া। আমাদের সঙ্গীরা এই প্রকারের ব্যুৎপত্তি বলতে এটিই বুঝিয়ে থাকেন। অতঃপর যদি আপনি শব্দ-শ্রেণীকরণকে প্রতিটি দলের বর্ণের নির্দিষ্ট বিন্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন—যেমনটি আমরা 'বা', 'ইয়া' এবং 'নুন' বর্ণত্রয় দিয়ে বিচ্ছেদের নিরঙ্কুশ অর্থের উদাহরণ দিয়েছি—যা সর্বজনবিদিত, তবে একে 'ছোট ব্যুৎপত্তি' বলা হয়। আর যদি আপনি বিন্যাস নির্বিশেষে সেই বর্ণগুলো থেকে সম্ভাব্য আরও সাধারণ অর্থের দিকে অগ্রসর হন—যেমন তিনটি ভিন্ন বর্ণের বিন্যাস থেকে প্রাপ্ত ছয়টি রূপ, চারটি বর্ণের জন্য চব্বিশটি এবং পাঁচটি বর্ণের জন্য একশ বিশটি রূপ—তবে তাকে 'বড় ব্যুৎপত্তি' বলা হয়। এখানে ব্যুৎপত্তির তৃতীয় আরেকটি প্রকার রয়েছে যাকে আমাদের শায়খ আল-হাতমি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) 'সর্ববৃহৎ ব্যুৎপত্তি' নামে অভিহিত করতেন। আর তা হলো বর্ণের সেই দলের স্বজাতীয় বা সম-উচ্চারণস্থলের অন্যান্য বর্ণের সম্ভাব্য অর্থের সীমানা অতিক্রম করা। আপনি ইতিপূর্বে আমাদের নির্দেশনার আলোকে বর্ণের প্রকার ও উচ্চারণস্থলসমূহ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এটি এমন এক প্রকার যা আমি এই শিল্পের নিপুণ পণ্ডিতদের—যাদের সংখ্যা অতি নগণ্য—কাউকে তাঁর মতো যথাযথভাবে বিচরণ করতে দেখিনি। আল্লাহ তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন এবং ক্ষমা ও মাগফিরাতের পোশাকে সজ্জিত করুন। এটি কেবল একারণেই সম্ভব হয়েছিল যে, তিনি অন্যান্য বিজ্ঞানের পাশাপাশি সাহিত্যকলা বিষয়ক বিজ্ঞানে আলেমদের মধ্যে অনন্য ও শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। "আর মহাজ্ঞানীর মতো কেউ আপনাকে সংবাদ দিতে পারবে না।" এই পথ অনুসরণের দুটি পদ্ধতি রয়েছে: যা কাম্য তার মূল এবং তার সাথে সংযুক্ত বিষয়। মূল বিষয়টি হলো, আপনি যখন এমন কিছু উদাহরণ পাবেন যেগুলোর আংশিক অর্থসমূহ একটি সামগ্রিক অর্থের দিকে ফিরে যায়, তখন আপনার উচিত হবে সেই বর্ণগুলোর মধ্য থেকে এমন একটি অংশ অনুসন্ধান করা যাতে তারা সকলে অংশীদার এবং যা সামগ্রিক প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত। তবে আপনার উদ্দিষ্ট বিষয় যদি তার ওপর নির্ভর করে, তবে আপনি কোনো বর্ণ বৃদ্ধি, হ্রাস বা পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে দ্বিধাবোধ করবেন না। এমনকি 'ছোট ব্যুৎপত্তি'র ক্ষেত্রে বর্ণের স্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করবেন, যেখানে শব্দ গঠনের কাঠামোগত প্রমাণ ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিটি বিষয়কে নির্দিষ্ট করতে হবে। কারণ কেবল বাহ্যিক গঠন এর জন্য যথেষ্ট নয়। সেই বর্ণগুলোকে 'মূল' বলা হয়। আর যে উদাহরণে কেবল সেই মূল বর্ণগুলোই বিদ্যমান থাকে তাকে 'সংযুক্তিহীন' বলা হয়। এছাড়া অন্য সব বর্ণকে 'অতিরিক্ত' বলা হয়। আর যা এগুলোর কোনো একটি ধারণ করে তা...। যখন মূল বর্ণগুলোকে প্রকাশ করার ইচ্ছা করা হয়, তখন শব্দ গঠনের শুরুতে প্রথম বর্ণকে 'ফা' এবং দ্বিতীয় বর্ণকে...

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ١٦)
بالعين وعن ثالثها باللام ثم إذا كان هناك رابع وخامس كرر لهما اللام فقيل اللام الثاني واللام الثالث وإذا أريد أن يعبر عن الزوائد عبر عنها بأنفسها إلا في المكرر والمبدل من تاء الافتعال وستعرفه هذا عند الجمهور وهو المتعارف، وإذا أريد تأدية هيئة الكلمة أديت بهذه الحروف ويسمى المنتظم منها إذ ذاك وزن الكلمة والكلام في تقرير هذا الأصل يستدعى تحرير خمسة قوانين. أحدها في أن القدر الصالح للوضع الكلي ماذا والباقية في أن الشاهد لتعيين كل من الأربعة الزيادة والحذف والبدل والقلب ماذا. أما القانون الأول فالذي عليه أصحابنا هو الثلاثة فصاعدا على خمسة خلافاً للكوفيين. أما الثلاثة فلكون البناء عليها أعدل الأبنية لا خفيفا خفيفا ولا ثقيلا ثقيلا، ولانقسامه على المراتب الثلاث وهي المبدأ والمنتهى والوسط بالسوية لكل واحد واحد لا تفاوت مع كونه صالحاً لتكثير الصور المحتاج إليه في باب التنويع

صلاحاً فوق الاثنين دع الواحد ويظهر من هذا أن مطلوبية العدد فيما جنسه نوعه دون مطلوبيته فيما سوى ذلك. وأما التجاوز عنها على الأكثر فلكونه أصلح منها لتكثير الصور المحتاج إليه. وأما الاقتصار على الخمسة فليكون على قدر احتمال نقصانها زيادتها، وقد ظهر من كلامنا هذا أن الكلمات الداخلة تحت الاشتقاق عند أصحابنا البصريين إما أن تكون ثلاثية أو رباعية أو خماسية في أصل الوضع، وأما القانون الثاني وهو أن الحرف إذا دار بين أن يكونلاحاً فوق الاثنين دع الواحد ويظهر من هذا أن مطلوبية العدد فيما جنسه نوعه دون مطلوبيته فيما سوى ذلك. وأما التجاوز عنها على الأكثر فلكونه أصلح منها لتكثير الصور المحتاج إليه. وأما الاقتصار على الخمسة فليكون على قدر احتمال نقصانها زيادتها، وقد ظهر من كلامنا هذا أن الكلمات الداخلة تحت الاشتقاق عند أصحابنا البصريين إما أن تكون ثلاثية أو رباعية أو خماسية في أصل الوضع، وأما القانون الثاني وهو أن الحرف إذا دار بين أن يكون

م على مثال هو فيه وبين أن يكون محذوفاً عن مثال ليس فيه فالشاهد للزيادة ماذا فوجوه وقبل أن نذكرها لابد من شيء يجب التنبيه عليه، وهو أن لا يكون توجه الحكم بالزيادة على الحرف بعد استجماع ما لابد
'আইন' দ্বারা এবং তৃতীয়টির ক্ষেত্রে 'লাম' দ্বারা। এরপর যদি সেখানে চতুর্থ এবং পঞ্চম বর্ণ থাকে, তবে তাদের জন্য 'লাম' পুনরাবৃত্তি করা হবে; ফলে বলা হয় দ্বিতীয় 'লাম' এবং তৃতীয় 'লাম'। আর যখন অতিরিক্ত বর্ণগুলো প্রকাশ করার ইচ্ছা করা হয়, তখন সেগুলো তাদের নিজ সত্তা দ্বারাই প্রকাশ করা হয়; তবে পুনরাবৃত্ত বর্ণ এবং 'ইফতিআল' এর 'তা' হতে পরিবর্তিত বর্ণগুলো ব্যতিরেকে। জুমহুর বা অধিকাংশ ভাষাবিদদের নিকট এটিই নিয়ম এবং এটিই প্রচলিত। যখন শব্দের গঠন বা রূপ প্রকাশ করার ইচ্ছা করা হয়, তখন এই বর্ণগুলোর মাধ্যমেই তা করা হয় এবং তখন সেই সুবিন্যস্ত রূপকে 'শব্দের ওজন' বলা হয়। এই মূলনীতিটি প্রতিষ্ঠিত করার আলোচনা পাঁচটি নিয়ম পর্যালোচনার দাবি রাখে। তার একটি হলো—সামষ্টিক গঠনের জন্য উপযুক্ত পরিমাণ কতটুকু? এবং অবশিষ্টগুলো হলো—অতিরিক্ত হওয়া, বিলুপ্তি, পরিবর্তন এবং স্থানান্তর—এই চারটির প্রত্যেকটি নির্ধারণের প্রমাণ কী তা নিয়ে। প্রথম নিয়মটি হলো—আমাদের সাথীদের (বসরাবাসী ভাষাবিদদের) নিকট তা হলো তিন বর্ণ হতে শুরু করে সর্বোচ্চ পাঁচ বর্ণ পর্যন্ত, যা কুফাবাসীদের মতের বিপরীত। তিন বর্ণবিশিষ্ট হওয়ার কারণ হলো এর ওপর ভিত্তি করে গঠন করা সবচেয়ে সুষম গঠন; এটি না অতিশয় হালকা, না অতিশয় ভারী। তদুপরি এটি তিনটি স্তরে (শুরু, শেষ এবং মধ্যভাগ) সমানভাবে বিভক্ত, যা প্রত্যেকের জন্য সমান এবং এতে কোনো তারতম্য নেই। সাথে সাথে এটি বৈচিত্র্য সৃষ্টির অধ্যায়ে প্রয়োজনীয় রূপসমূহ বৃদ্ধির জন্যও উপযুক্ত, যা দুইয়ের চেয়ে বেশি এবং একের তো প্রশ্নই আসে না।

দুইয়ের অধিক হলে উপযুক্ত হয়, একের কথা ছেড়ে দিন। এ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, সংখ্যার প্রয়োজনীয়তা যেখানে তার শ্রেণিই তার প্রজাতি, সেখানে তা অন্য বিষয়ের তুলনায় ভিন্ন। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অতিক্রম করার কারণ হলো এটি প্রয়োজনীয় রূপসমূহ বৃদ্ধির জন্য অধিকতর উপযুক্ত। আর পাঁচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কারণ হলো যাতে এর হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা এর বৃদ্ধির সমপরিমাণ হয়। আমাদের এই আলোচনা থেকে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, আমাদের বসরাবাসী সাথীদের নিকট শব্দতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত শব্দগুলো মূল গঠনের দিক থেকে হয় তিন বর্ণবিশিষ্ট, না হয় চার বর্ণবিশিষ্ট অথবা পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট। আর দ্বিতীয় নিয়মটি হলো—যখন কোনো বর্ণ এমন এক উদাহরণের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাঝে দোদুল্যমান থাকে যাতে সেটি বিদ্যমান, আর দুইয়ের অধিক হওয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত হয়, একের কথা ছেড়ে দিন। এ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, সংখ্যার প্রয়োজনীয়তা যেখানে তার শ্রেণিই তার প্রজাতি, সেখানে তা অন্য বিষয়ের তুলনায় ভিন্ন। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অতিক্রম করার কারণ হলো এটি প্রয়োজনীয় রূপসমূহ বৃদ্ধির জন্য অধিকতর উপযুক্ত। আর পাঁচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কারণ হলো যাতে এর হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা এর বৃদ্ধির সমপরিমাণ হয়। আমাদের এই আলোচনা থেকে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, আমাদের বসরাবাসী সাথীদের নিকট শব্দতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত শব্দগুলো মূল গঠনের দিক থেকে হয় তিন বর্ণবিশিষ্ট, না হয় চার বর্ণবিশিষ্ট অথবা পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট। আর দ্বিতীয় নিয়মটি হলো—যখন কোনো বর্ণ এমন এক উদাহরণের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাঝে দোদুল্যমান থাকে যাতে সেটি বিদ্যমান,

এবং এমন এক উদাহরণ থেকে বিলুপ্ত হওয়ার মাঝে দোদুল্যমান থাকে যাতে সেটি নেই, এমতাবস্থায় অতিরিক্ত হওয়ার প্রমাণ কী? এর কতগুলো দিক রয়েছে। তবে সেগুলো উল্লেখ করার পূর্বে একটি বিষয়ে সতর্ক করা আবশ্যক, আর তা হলো—আবশ্যকীয় বিষয়সমূহ পূর্ণ হওয়ার পর কোনো বর্ণের ওপর অতিরিক্ত হওয়ার হুকুম যেন প্রযুক্ত না হয়।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ١٧)
منه في ذلك نادراً مثله في الخارج عن مجموع قولك اليوم تنساه إذا لم يكن مكرراً على ما افترعه الاستقراء الصحيح، وهذه الحروف يسميها أصحابنا في هذا النوع حروف الزيادة بمعنى أن حكم الزيادة يتفق لها كثيراً، ولذلك جعل شرطاً في زيادة الحرف كونه مكرراً أو من هذه الأحرف وأن لا يتغير حكم الحرف في نظيره كنحو رجيل ومسيلم، وإذ قد تنبهت لهذا فنقول: الوجه الأول هو أن يفضل عن القدر الصالح للوضع الكلي كنحو ألف قبعثري. الثاني أن يكون ثبوته في اللفظ بقدر الضرورة كهمزة الوصل في اسم واعرف وأمثالهما وستعرف مواقعها. الثالث أن يمتنع عليه الحذف كحروف المضارعة لأدائها إذا قدرت محذوفة عن الماضي على خلاف قياس وهو أن لا يكون في الأفعال الوزن الذي هو في باب الاعتبار الأصل المقدم وهو الثلاثي ألبتة مع محذور آخر وهو التجاوز عن القدر الصالح للوضع الكلي. الرابع وهو أم الوجوه أن يكون ثبوته في أقل صوراً من لاثبوته، ولا مقتضى للحذف من مقتضياته التي تقف عليها في قانونه كالحروف التي تقع فيما يصغر ويثني ويجمع من نحو مسيلم ومسلمان أو مسلمين ومسلمون أو مسلمين أو مسلمات وفي الأسماء المتصلة بالأفعال كالمصادر وأسماء الفاعلين والمفعولين والصفات المشبهة من نحو مرحة وراحم ومرحوم ورحيم وفي أبنية التفضيل وأسماء الأزمنة والأمكنة وأسماء الآلات من نحو أطلع ومطلع ومصداق وفي غير ذلك مما يطلع عليه المتأمل وهذه أشياء لها تفاصيل يتضمنها مواضعها من هذا الكتاب إن شاء الله تعالى.

সঠিক আরোহ (ইস্তিকরা) যা সাব্যস্ত করেছে, সে অনুযায়ী যদি তা পুনরাবৃত্ত না হয়, তবে ‘আল-ইয়াওমা তানসাহু’ বাক্যের সমষ্টির বাইরের কোনো অক্ষর অতিরিক্ত হিসেবে আসা বিরল। আমাদের সাথীগণ এই প্রকারের ক্ষেত্রে এই অক্ষরগুলোকে ‘অতিরিক্ত অক্ষর’ (হুরূফুয যিয়াদাহ) নামে অভিহিত করেন; যার অর্থ হলো, এগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হওয়ার বিধানটি প্রায়শই প্রযোজ্য হয়। এ কারণেই কোনো অক্ষরের অতিরিক্ত হওয়ার জন্য শর্ত করা হয়েছে যে, হয় তা পুনরাবৃত্ত হতে হবে অথবা এই অক্ষরগুলোর অন্তর্ভুক্ত হতে হবে এবং তার সমজাতীয় শব্দে অক্ষরের বিধান পরিবর্তিত হবে না; যেমন ‘রুজাইল’ এবং ‘মুসাইিলম’ শব্দদ্বয়। আপনি যখন এ বিষয়ে অবগত হলেন, তখন আমরা বলছি: প্রথম দিকটি হলো, পূর্ণাঙ্গ গঠনের জন্য নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত হওয়া, যেমন ‘কুবাসরি’ শব্দের আলিফ। দ্বিতীয়টি হলো, উচ্চারণে তার উপস্থিতি কেবল প্রয়োজনের তাগিদে হওয়া, যেমন ‘ইসম’, ‘ই’রিফ’ এবং এই জাতীয় শব্দাবলির হামযাতুল ওয়াসল; অচিরেই আপনি এগুলোর প্রয়োগস্থল সম্পর্কে জানতে পারবেন। তৃতীয়টি হলো, তা বিলুপ্ত হওয়া অসম্ভব হওয়া, যেমন মুযারি-এর অক্ষরসমূহ; কারণ যদি এগুলোকে মাজি (অতীতকাল) থেকে বিলুপ্ত ধরা হয়, তবে তা কিয়াসের বিপরীত হবে। আর তা হলো ক্রিয়াসমূহের মধ্যে এমন কোনো ওযন (ছন্দ) না থাকা যা ভাষাতাত্ত্বিক বিচারে মৌলিক ও অগ্রগণ্য, অর্থাৎ যা মূলত তিন অক্ষরবিশিষ্ট; এর সাথে আরও একটি সমস্যা হলো পূর্ণাঙ্গ গঠনের জন্য উপযুক্ত মাত্রা অতিক্রম করা। চতুর্থটি—যা সকল পদ্ধতির মূল—তা হলো অক্ষরের উপস্থিতি তার অনুপস্থিতির চেয়ে কম ক্ষেত্র বা রূপে হওয়া, অথচ সেখানে বিলুপ্ত হওয়ার মতো এমন কোনো কারণ নেই যা আপনি এর ব্যাকরণগত নীতিমালায় জানতে পারবেন; যেমন সেই অক্ষরগুলো যা তাসগীর (ক্ষুদ্রার্থবোধক), দ্বিবচন এবং বহুবচনে পাওয়া যায়; যেমন ‘মুসাইিলম’, ‘মুসলিমানি’ বা ‘মুসলিমাইনি’, ‘মুসলিমূনা’ বা ‘মুসলিমীনা’ অথবা ‘মুসলিমাত’। তদ্রূপ ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্যগুলোতেও, যেমন মাসদার (ক্রিয়ামূল), ইসমুল ফাঈল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য), ইসমুল মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য) এবং সিফাতে মুশাব্বাহ; যেমন ‘মারহাহ’, ‘রাহিম’, ‘মারহুম’ এবং ‘রাহীম’। আরও রয়েছে ইসমে তাফযীল (আধিক্যবোধক বিশেষ্য), যামান ও মাকান (কাল ও স্থানবাচক বিশেষ্য) এবং ইসমে আলাহ (যন্ত্রবাচক বিশেষ্য); যেমন ‘আতলাআ’, ‘মাতলা’ ও ‘মিসদাক’। এছাড়া আরও অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যা একজন মনোযোগী পাঠক প্রত্যক্ষ করবেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই কিতাবের সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে এগুলোর বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ١٨)
أما ما يقرع سمعك أن من جملة الشواهد لزيادة الحرف أن يكون له معنى على حدة ممثلاً بالتنوين وتاء التأنيث وسين الكسكسة وهاء الوقف ولام ذلك وهنالك وأولالك وأشباه لها فلولا أنه يلزم من سوق هذا الحديث إدخال الشين المعجمة الكشكشية وكاف نحو ذلك وهنالك وكزيد وباء نحو بزيد في جملة حروف الزيادة، وأنه يلزم إدخال الأسماء الجارية مجرى الحروف في الاشتقاق لكان خلقاً بالقبول. وأما القانون الثالث وهو أن الحرف إذا اتفق له أن يدور بين الحذف والزيادة فالشاهد لكونه محذوفاً ماذا؟ فنقول هو أن يلزم من الإخلال بالحذف ترك أصل تراعيه مثل أن يلزم كون المثال على أقل من ثلاثة أحرف إما بدون تأمل كنحو غد ومن بل بتخفيف الهمزة وقل وقه ولم يك أو بأدنى تأمل كنحو رمتا ورموا وقمن وقمت وقمتما وقمتم وقمت وقمتن وقمت وقمنا، ونحو رمت وعدة وحرى فإن ضمائر الفاعلين وتاءي التأنيث وياء النسب كلمات على حدة، أو باستعمال قانون الزيادة في نحو يعد ويسل " والليل إذا يسر " ولم يخش ويقلن وتدعين واغز وأقم وغاز وغازون وأعلون وإقامة واستقامة وجوار وجوير وعلى ذا فقس أو مثل أن يلزم أن لا يكون في الأسماء التي هي لمدار التنويع القطب الأعظم خماسي أصلاً نظراً على التحقير والتكسير مع كونهما مستكرهين في نحو فريزد وفرزاد وسفيرج وسفارج وجميع ما شاكل ذلك. واعلم أن الحذف ليس يخص حرفاً دون حرف إلا أنه في حرف اللين إذا تأملت مفرط. وأما القانون الرابع وهو أن الشاهد لكون الحرف بدلا عن غيره في محل التردد ماذا فالقول فيه هو أن تجده أقل وجودا منه في أمثلة اشتقاقه كهمزة أجوه وتاء تراث ونظائرهما لا مساوياً له مساواة

আপনি যা শুনছেন যে, কোনো অক্ষরের অতিরিক্ত হওয়ার অন্যতম প্রমাণ হলো তার একটি স্বতন্ত্র অর্থ থাকা, যেমনটি দেখা যায় তানউইন, স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক 'তা', কাসকাসাহ-এর 'সিন', ওয়াকফের 'হা', দালিকা (ذلك), হুনালিকা (هنالك) ও উলালিকা (أولالك)-এর 'লাম' এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর ক্ষেত্রে। কিন্তু এই প্রসঙ্গের অবতারণা করলে কিশকিশিয়াহ-এর নুকতাযুক্ত 'শীন', দালিকা ও হুনালিকা-এর মতো শব্দের 'কাফ', 'কা-যাইদ' (وكزيد)-এর 'কাফ' এবং 'বি-যাইদ' (بزيد)-এর 'বা'-কেও অতিরিক্ত অক্ষরগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ত। তদুপরি, শব্দগঠনের (ইশতিকাক) ক্ষেত্রে হরফের ন্যায় ব্যবহৃত বিশেষ্যগুলোকেও এর অন্তর্ভুক্ত করতে হতো। অন্যথায় এই মতটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার উপযুক্ত হতো।

আর তৃতীয় নিয়মটি হলো: যদি কোনো অক্ষর বিলুপ্তি (হজফ) এবং অতিরিক্ত হওয়া (যিয়াদাহ)-এর মাঝে দোদুল্যমান থাকে, তবে সেটি যে বিলুপ্ত হয়েছে তার প্রমাণ কী? আমরা বলব, এর প্রমাণ হলো বিলুপ্তি না মানলে এমন কোনো মূলনীতি লঙ্ঘিত হওয়া যা রক্ষা করা আবশ্যক। যেমন শব্দটি তিন অক্ষরের কম হয়ে যাওয়া; তা কোনো গভীর চিন্তা ছাড়াই স্পষ্ট হতে পারে যেমন: গাদ (غد), মান (من), হামজা সহজ করার কারণে 'বাল' (بل), কুল (قل), কিহ (قه) এবং লাম ইয়াকু (لم يك)। অথবা সামান্য চিন্তার পর যা স্পষ্ট হয়, যেমন: রামাতা (رمتا), রামাও (رموا), কুমনা (قمن), কুমতা (قمت), কুমতুমা (قمتما), কুমতুম (قمتم), কুমতি (قمت), কুমতুন্না (قمتن), কুমতু (قمت) এবং কুমনা (قمنا); এবং রামাত (رمت), ইদাহ (عدة) এবং হারি (حرى) এর মতো শব্দসমূহ। কেননা কর্তাবাচক সর্বনামসমূহ, স্ত্রীলিঙ্গের দুটি 'তা' এবং নিসবতের 'ইয়া' হলো স্বতন্ত্র শব্দ। অথবা অতিরিক্ত হওয়ার নিয়ম প্রয়োগের মাধ্যমে (বিলুপ্তি সাব্যস্ত হওয়া), যেমন: ইয়াদূ (يعد), ইয়াসআল (يسل), 'ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াসরি' (والليل إذا يسر), লাম ইয়াখশা (لم يخش), ইয়াকুলনা (يقلن), তাদঈনা (تدعين), উগজু (اغز), আকিম (أقم), গাযিন (غاز), গাযুনা (غازون), আ'লাওনা (أعلون), ইক্বামাহ (إقامة), ইসতিক্বামাহ (استقامة), জিওয়ার (جوار) এবং জুওয়াইর (جوير) ইত্যাদি শব্দে। আর এই পদ্ধতিতেই অন্যান্য ক্ষেত্রগুলো অনুমান করুন। অথবা এমনটি হওয়া যে, শব্দরূপান্তরের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হওয়া বিশেষ্যগুলোর মধ্যে মূলত কোনো পঞ্চবর্ণের (খুমাসি) শব্দই অবশিষ্ট থাকবে না—যদি আমরা তাসগির (تحقير) এবং তাকসির (تكسير)-এর দিকে লক্ষ্য করি, যদিও ফারিযাদ (فريزد), ফারযাদ (فرزاد), সুফাইরিজ (سفيرج), সাফারিজ (سفارج) এবং এই জাতীয় শব্দগুলোতে এই দুটি বিষয় (তাসগির ও তাকসির) শ্রুতিকটু বা অপ্রিয় বলে গণ্য হয়। জেনে রাখুন যে, বিলুপ্তি কোনো নির্দিষ্ট অক্ষরের সাথে খাস নয়, তবে আপনি যদি লক্ষ্য করেন তবে দেখবেন যে কোমল বর্ণের (হরফে লীন) ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বেশি ঘটে।

আর চতুর্থ নিয়মটি হলো: সংশয়ের স্থলে কোনো অক্ষর অন্য অক্ষরের স্থলাভিষিক্ত (ইবদাল) হওয়ার প্রমাণ কী? এই বিষয়ে বক্তব্য হলো, আপনি শব্দগঠনের উদাহরণগুলোতে মূল অক্ষরের তুলনায় একে কম উপস্থিত পাবেন। যেমন: আজউহু (أجوه)-এর হামজা এবং তুরাছ (تراث)-এর 'তা' এবং এই জাতীয় শব্দগুলো; যেখানে স্থলাভিষিক্ত অক্ষরটি মূল অক্ষরের ন্যায় সমানভাবে বিদ্যমান থাকে না।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ١٩)
مثل الدال في نهد ينهد نهودا للضاد في نهض وينهض نهوضاً بعد أن يكون في مظان الاستشهاد للكثرة بمعزل عن تلك الأمثلة. أما استعمال هذا القانون في نظيره لكن من جنس قليلها في غير موضع يلحقه بذلك الكثير وجوبا فيبرزه في معرض التهمة عزل أصحابنا أمثلة الآتي وأتى وأنيت عند إثبات مساواة مثل الواو في نحو: أتوته آتوه أتواً، للياء في: أتيته أتياً مراعياً في هذا القانون عين ما راعيته في قانون الزيادة وهو أن لا يكون توجه الحكم البدل على ذلك الحرف عزيزاً مثله في الخارج عن مجموع قولك أنجدته يوم صال زط على ما شهد له اعتبار أصحابنا وأن لا تغير الحكم في النظير هذا إذا لم تتخط موضوع الباب وهو معرفة البدل في الحروف الأصول. أما إذا تخطيته على معرفته في الزوائد فالشاهد هناك لكون الحرف بدلاً عن غيره بعد كونه من حروف البدل؛ إما ما

ذكر أو فرعية متضمنة على متضمن من ذلك الغير فنحو الواو في ضويرب وضوارب بدل عن الألف ضارب أو لزوم إثبات بناء مجهول لكونه غير بدل لزومه من نحو هراق واصطبر وإدراك إذا لم تجعل الهاء بدلاً عن الهمزة ولا الطاء أو الدال عن التاء وأخوات لها، وقد ظهر من فحوى كلامنا هذا أن العامل هذا القانون مفتقر على الاستكثار من استعماله في مواضع شتى مختلفة المواد متأملا حق التأمل لنتائجه هنالك مضطر على التفطن لتفاوتها وجوباً وجوازاً مستمراً وغير مستمر ضابطاً كل ذلك واحداً فواحداً ليجذب بضبعه في مداحض الاعتبارات إذا دفع إليها ولاسيما اعتبارات كيفية وقوع البدل في النوعين فليست غير الأخذ بالأقيس فالأقيس، وأنا أورد عليك حاصل تأمل أصحابنا في هذا القانون إلا ما استصوب ظاهر الصناعة إلغاءه من نحو إبدال الميم من لام التعريف أو الهاء من تاء التأنيث في الوقف أو الأف من نون إذن والتنوين ونون التأكيد والمفتوح ما قبلها فيه وغير ذلك مما هو منخرط في هذا السلك إيرادا مرتبا في ثلاثة فصول. أحدها فيما يجب من ذلك، وثانيها فيما يجوز مستمرا، وثالثها فيما لا يستمر لأكفيك مؤنة تحصيلها من عند نفسك. أو فرعية متضمنة على متضمن من ذلك الغير فنحو الواو في ضويرب وضوارب بدل عن الألف ضارب أو لزوم إثبات بناء مجهول لكونه غير بدل لزومه من نحو هراق واصطبر وإدراك إذا لم تجعل الهاء بدلاً عن الهمزة ولا الطاء أو الدال عن التاء وأخوات لها، وقد ظهر من فحوى كلامنا هذا أن العامل هذا القانون مفتقر على الاستكثار من استعماله في مواضع شتى مختلفة المواد متأملا حق التأمل لنتائجه هنالك مضطر على التفطن لتفاوتها وجوباً وجوازاً مستمراً وغير مستمر ضابطاً كل ذلك واحداً فواحداً ليجذب بضبعه في مداحض الاعتبارات إذا دفع إليها ولاسيما اعتبارات كيفية وقوع البدل في النوعين فليست غير الأخذ بالأقيس فالأقيس، وأنا أورد عليك حاصل تأمل أصحابنا في هذا القانون إلا ما استصوب ظاهر الصناعة إلغاءه من نحو إبدال الميم من لام التعريف أو الهاء من تاء التأنيث في الوقف أو الأف من نون إذن والتنوين ونون التأكيد والمفتوح ما قبلها فيه وغير ذلك مما هو منخرط في هذا السلك إيرادا مرتبا في ثلاثة فصول. أحدها فيما يجب من ذلك، وثانيها فيما يجوز
যেমন ‘নাহাদা’ (উঁচু হওয়া) ক্রিয়ামূলের ‘দাল’ বর্ণটি ‘নাহাদা’ (উঠা) ক্রিয়ামূলের ‘দাদ’ বর্ণের সমতুল্য; যখন অধিক ব্যবহারের কারণে তা দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণের উপযোগী হয়। আর এই আইনের প্রয়োগ যখন তার সমরূপ ক্ষেত্রে হয়, তবে তা অল্প সংখ্যক ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত হয়—যা এমন স্থানে নয় যেখানে বাধ্যতামূলতভাবে আধিক্যের সাথে যুক্ত হয়—তখন তা সন্দেহের অবকাশে প্রকাশিত হয়। আমাদের সঙ্গীরা ‘আতি’, ‘আতা’ এবং ‘আনিতু’ এর উদাহরণগুলোকে পৃথক করেছেন যখন তারা ‘আতাওতুহু’ শব্দের ‘ওয়াও’ এবং ‘আতাইতুহু’ শব্দের ‘ইয়া’-এর সমতা প্রমাণ করছিলেন। এই আইনের ক্ষেত্রে আমি ঠিক সেই বিষয়টিই বিবেচনা করেছি যা আমি বৃদ্ধির আইনের (কানুনুয যিয়াদাহ) ক্ষেত্রে বিবেচনা করেছিলাম; আর তা হলো সেই বর্ণের উপর ‘বাদাল’ বা পরিবর্তনের বিধান প্রয়োগ করাটা যেন বিরল না হয়, যেমনটি ‘আনজাদতুহু ইয়াওমা সালা জুত’ নামক বাক্যের বর্ণগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—যা আমাদের সঙ্গীদের বিবেচনায় প্রমাণিত। এছাড়া সমরূপ ক্ষেত্রে যেন বিধানটি পরিবর্তিত না হয়; যদি না আপনি এই অধ্যায়ের মূল বিষয় অর্থাৎ মূল বর্ণসমূহের পরিবর্তনের জ্ঞান অতিক্রম করেন। তবে আপনি যদি অতিরিক্ত বর্ণসমূহের পরিবর্তনের জ্ঞানের দিকে অগ্রসর হন, তবে সেখানে একটি বর্ণ অন্য বর্ণের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রমাণ হলো বর্ণটি স্বয়ং পরিবর্তনযোগ্য বর্ণের অন্তর্ভুক্ত হওয়া; হয় তা যা উল্লেখ করা হয়েছে, অথবা তা এমন একটি গৌণ বিষয় যা অন্যটি থেকে কোনো কিছু ধারণ করে। যেমন ‘দুয়াইরিব’ এবং ‘দাওয়ারিব’ শব্দের ‘ওয়াও’ বর্ণটি ‘দারিব’ শব্দের ‘আলিফ’-এর পরিবর্তে এসেছে। অথবা এমন কোনো রূপ সাব্যস্ত করা যা পরিচিত নয়, কারণ সেটি এমন পরিবর্তন যা ‘হিরাকা’, ‘ইস্তাবারা’ এবং ‘ইদদারাকা’ এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে আবশ্যক হয় না—যদি আপনি ‘হা’ বর্ণকে ‘হামযা’র পরিবর্তে অথবা ‘তা’ বা ‘দাল’ বর্ণকে ‘তা’ ও তার সমজাতীয় বর্ণের পরিবর্তে না ধরেন। আমাদের আলোচনার এই সারমর্ম থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই আইনটি প্রয়োগকারীর জন্য বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন উপাদানে এর প্রচুর ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে সে এর ফলাফল সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারে। সেখানে সে বাধ্য হয় এর বাধ্যতামূলকতা ও বৈধতা, নিরবচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো উপলব্ধি করতে এবং এই সবগুলোকে একে একে আয়ত্ত করতে। এর ফলে সে যেন সংশয়ের পিচ্ছিল পথে পড়ে গেলেও নিজের অবস্থান দৃঢ় রাখতে পারে; বিশেষ করে দুই প্রকারের পরিবর্তনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে। এর সঠিক উপায় হলো অধিকতর শক্তিশালী কিয়াস বা অনুমান পদ্ধতি গ্রহণ করা। আমি এই আইনের ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গীদের গবেষণার সারসংক্ষেপ আপনার সামনে উপস্থাপন করছি, তবে ব্যাকরণবিদদের দৃষ্টিতে যেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে তা ব্যতিরেকে—যেমন বিরতির সময় ‘লামুত তারিফ’ (আলিফ-লাম)-এর পরিবর্তে ‘মিম’-এর ব্যবহার, অথবা স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’-এর পরিবর্তে ‘হা’-এর ব্যবহার, অথবা ‘ইযান’ শব্দের ‘নুন’, ‘তানভীন’ ও ‘নূনে তাকিদ’ এবং যার পূর্বাক্ষরে যবর রয়েছে এমন শব্দের নুন-এর পরিবর্তে ‘আলিফ’-এর ব্যবহার এবং এই ধারার অন্যান্য বিষয়গুলো। এগুলো আমি তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করে উপস্থাপন করছি। প্রথম পরিচ্ছেদ: যা আবশ্যক বা ওয়াজিব। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যা নিরবচ্ছিন্নভাবে বৈধ। তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যা নিরবচ্ছিন্ন নয়। যাতে আপনাকে নিজে থেকে এগুলো সংগ্রহের কষ্ট করতে না হয়। অথবা তা এমন একটি গৌণ বিষয় যা অন্যটি থেকে কোনো কিছু ধারণ করে; যেমন ‘দুয়াইরিব’ এবং ‘দাওয়ারিব’ শব্দের ‘ওয়াও’ বর্ণটি ‘দারিব’ শব্দের ‘আলিফ’-এর পরিবর্তে এসেছে। অথবা এমন কোনো রূপ সাব্যস্ত করা যা পরিচিত নয়, কারণ সেটি এমন পরিবর্তন যা ‘হিরাকা’, ‘ইস্তাবারা’ এবং ‘ইদদারাকা’ এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে আবশ্যক হয় না—যদি আপনি ‘হা’ বর্ণকে ‘হামযা’র পরিবর্তে অথবা ‘তা’ বা ‘দাল’ বর্ণকে ‘তা’ ও তার সমজাতীয় বর্ণের পরিবর্তে না ধরেন। আমাদের আলোচনার এই সারমর্ম থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই আইনটি প্রয়োগকারীর জন্য বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন উপাদানে এর প্রচুর ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে সে এর ফলাফল সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারে। সেখানে সে বাধ্য হয় এর বাধ্যতামূলকতা ও বৈধতা, নিরবচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো উপলব্ধি করতে এবং এই সবগুলোকে একে একে আয়ত্ত করতে। এর ফলে সে যেন সংশয়ের পিচ্ছিল পথে পড়ে গেলেও নিজের অবস্থান দৃঢ় রাখতে পারে; বিশেষ করে দুই প্রকারের পরিবর্তনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে। এর সঠিক উপায় হলো অধিকতর শক্তিশালী কিয়াস বা অনুমান পদ্ধতি গ্রহণ করা। আমি এই আইনের ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গীদের গবেষণার সারসংক্ষেপ আপনার সামনে উপস্থাপন করছি, তবে ব্যাকরণবিদদের দৃষ্টিতে যেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে তা ব্যতিরেকে—যেমন বিরতির সময় ‘লামুত তারিফ’-এর পরিবর্তে ‘মিম’-এর ব্যবহার, অথবা স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’-এর পরিবর্তে ‘হা’-এর ব্যবহার, অথবা ‘ইযান’ শব্দের ‘নুন’, ‘তানভীন’ ও ‘নূনে তাকিদ’ এবং যার পূর্বাক্ষরে যবর রয়েছে এমন শব্দের নুন-এর পরিবর্তে ‘আলিফ’-এর ব্যবহার এবং এই ধারার অন্যান্য বিষয়গুলো। এগুলো আমি তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করে উপস্থাপন করছি। প্রথম পরিচ্ছেদ: যা আবশ্যক, এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যা বৈধ।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
مستمرا، وثالثها فيما لا يستمر لأكفيك مؤنة تحصيلها من عند نفسك.

 

‌‌الفصل الأول

‌‌في؟؟؟؟؟؟؟؟؟؟ النتائج الواجبة

وأعني بالواجب ما لا يوجد نقيضه أو يقل جداً. الواو في غير صيغة أفعل خارج الأعلام إذا سكنت قبلها ياء غير بدل عن آخر ولا للتصغير أوله إلا أن الواو طرف تبدل ياء كسيد وأيام ودلية وضيون عندي كأسامة وهي غير بدل عن آخر إذا سكنت قبل ياء في كلمة أو فيما هو في حكم كلمة تدغم في ياء كطي ومرمي ومسلمي في إضافة مسلمون على ياء المتكلم وربما أبدلت الياء واوا في الندرة كنهو ومرضو وهى لاما في الفعلى مؤنث الأفعل تبدل ياء كالدنيا إلا في القليل النزر كالقصوى وطرفا من اسم في موضع يضم ما قبل آخره تبدل ياء مكسورا ما قبله كالأدلى والقلنسى والتداني إلا كلمة هو ولاما في فعول جمع تبدل ياء مع المدة مشددة مكسور ما قبلها كعصى إلا فيما لا اعتداد به كالنحو والنجو وصدرا للكلمة إذا كانت معها أخرى فتحرك تبدل همزة كأويصل وأواصل وهي أيضا طرفا مفتوحا ما قبلها تبدل ألفا وكذا الياء كالعصا والرحا ومكسورا ما قبلها تبدل ياء كالداعي ودعى وغير طرف عينا بين كسرة قبلها وألف زائدة بعدها في مصدر فعل عينه ألف أو في جمع مفرد ساكن العين صورة صحيح اللام تبدل ياء أيضاً كإياس وحياض وديار وهي أو الياء أيتهما كانت تبدل همزة إذا وقعت طرفا بعد ألف زائدة كالدعاء والبناء وهي بعد الكسر والياء بعد الضم ساكنتين غير مشددتين تبدلان ياء وواوا كميعاد وموقن وقيل واو فقط
নিরবচ্ছিন্নভাবে, এবং এর তৃতীয়টি হলো সেই ক্ষেত্রে যা নিরবচ্ছিন্ন নয়, যাতে আমি আপনাকে আপনার নিজের থেকে তা অর্জনের কষ্ট থেকে রেহাই দিতে পারি।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

‌‌আবশ্যকীয় ফলাফলের বর্ণনায়

আর 'আবশ্যক' বলতে আমি তা-ই বোঝাচ্ছি যার বিপরীতটি পাওয়া যায় না অথবা অত্যন্ত বিরল। বিশেষ্য (আলম) ব্যতীত 'আফআল' ওজনের বাইরে যদি 'ওয়াও' বর্ণটি সাকিন অবস্থায় থাকে এবং তার পূর্বে এমন 'ইয়া' থাকে যা শব্দের শেষ অক্ষরের স্থলাভিষিক্ত নয় এবং যা তাসগিরের (ক্ষুদ্রত্ববাচকতা) জন্য নয়, তবে 'ওয়াও' বর্ণটি যদি শব্দের শেষে না হয় তবে সেটি 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হয়; যেমন: 'সাইয়িদ', 'আইয়্যাম', 'দালিয়্যাহ' এবং আমার মতে 'দাইয়্যুন' যা 'উসামাহ' এর মতো। আর এটি যদি কোনো শব্দের শেষ অক্ষরের স্থলাভিষিক্ত না হয়ে শব্দের মাঝে থাকে এবং সাকিন অবস্থায় কোনো 'ইয়া' এর পূর্বে আসে অথবা এমন কিছুর পূর্বে আসে যা শব্দের হুকুমে গণ্য হয়, তবে তা 'ইয়া' এর সাথে ইদগাম (একীভূত) হয়ে যায়। যেমন: 'তাইয়্যুন', 'মারমিয়্যুন' এবং 'মুসলিমুন' শব্দকে 'ইয়া মুতাকাল্লিম'-এর দিকে সম্বন্ধ (ইযাফত) করার ক্ষেত্রে 'মুসলিমিয়্যা'। তবে কদাচিৎ 'ইয়া' বর্ণটি 'ওয়াও' এ পরিবর্তিত হয়, যেমন: 'নাহউ' এবং 'মারদুউ'। আর 'ফু'লা' ওজনে—যা 'আফআল'-এর স্ত্রীবাচক—সেখানে 'লাম' বর্ণ (শেষ বর্ণ) হিসেবে আসলে এটি 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হয়, যেমন: 'দুনিয়া', তবে অত্যন্ত বিরল কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হয় যেমন: 'কুসওয়া'। আর যদি কোনো বিশেষ্যের শেষে এমন স্থানে আসে যেখানে তার পূর্বের অক্ষরে পেশ (যম্মাহ) আছে, তবে তাকে 'ইয়া' তে রূপান্তর করা হয় এবং তার পূর্বের অক্ষরে যের (কাসরাহ) প্রদান করা হয়। যেমন: 'আল-আদলা', 'আল-কালানসা' এবং 'আত-তাদানি', কেবল 'হুওয়া' শব্দটি ব্যতীত। আর যখন এটি 'ফুয়ুল' বহুবচনের ওজনে 'লাম' বর্ণ হিসেবে আসে, তখন তাকে 'ইয়া' তে রূপান্তর করা হয় এবং মদ্দ ও তাশদীদের সাথে তার পূর্বের অক্ষরে যের দেওয়া হয়। যেমন: 'আসি', তবে যেগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্যতা নেই সেগুলো ব্যতীত, যেমন: 'আন-নাহউ' এবং 'আন-নাজউ'। আর এটি যদি শব্দের শুরুতে থাকে এবং সাথে অন্য একটি বর্ণ থাকে এবং তা হরকতযুক্ত হয়, তবে তা হামযায় রূপান্তরিত হয়। যেমন: 'উওয়াইসিল' এবং 'আওয়াসিল'। আর এটি যদি শব্দের শেষে থাকে এবং তার পূর্বের বর্ণটি যবরযুক্ত (মাফতুহ) হয়, তবে তা আলিফে রূপান্তরিত হয়—অনুরূপভাবে 'ইয়া' বর্ণটিও। যেমন: 'আল-আসা' এবং 'আর-রাহা'। আর যদি তার পূর্বের বর্ণটি যেরযুক্ত (মাকসুর) হয়, তবে তা 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হয়। যেমন: 'আদ-দায়ি' এবং 'দুয়ি'। আর যদি এটি শব্দের শেষে না হয়ে শব্দের মাঝে (আইন বর্ণ হিসেবে) থাকে এবং তার পূর্বে যের ও পরে অতিরিক্ত আলিফ থাকে—এমন ক্রিয়ামূলের (মাসদার) ক্ষেত্রে যার 'আইন' বর্ণটি আলিফ, অথবা এমন বহুবচনের ক্ষেত্রে যার একবচনের 'আইন' বর্ণটি সাকিন এবং 'লাম' বর্ণটি 'সহীহ' (দুর্বল বর্ণহীন)—তবে তা 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হয়। যেমন: 'ইইয়াস', 'হিয়াদ' এবং 'দিয়ার'। আর 'ওয়াও' বা 'ইয়া' এর যেটিই অতিরিক্ত আলিফের পরে শব্দের শেষে আসে, তা হামযায় রূপান্তরিত হয়। যেমন: 'আদ-দুআ' এবং 'আল-বিনা'। আর 'ওয়াও' বর্ণটি যেরের পরে এবং 'ইয়া' বর্ণটি পেশের পরে যদি সাকিন অবস্থায় থাকে (তাশদীদহীন), তবে সেগুলো যথাক্রমে 'ইয়া' এবং 'ওয়াও' এ রূপান্তরিত হয়। যেমন: 'মিয়াদ' এবং 'মুকিন', এবং বলা হয়েছে কেবল 'ওয়াও' এ রূপান্তরিত হয়।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٢١)
الياء لاما في فعلى اسما مفتوحة الفاء ساكنة العين تبدل واوا كالشروى وطرفا في فعل مضموما ما قبلها كذلك مثل قولك رموت اليد وهي مدة ثانية إذا كانت زائدة تبدل أيضاً واوا في التحقير والجمع الذي ليس على زنته واحد كضويرب وضواريب في ضيراب إن سمي به وكذلك الألف ثانية إذا كانت زائدة كضويرب وضوارب فإن لم تكن ردها التحقير على الأصل كبويب ونييبة، والألف تتبع ما قبلها ضما كان أو كسرا إذ لم تطلب لها حركة كضورب وضيراب ومفيتيح ومفاتيح وهي بعد ياء التحقير تبدل ياء ككثيب وإذا كانت عينا في فعل أبدلت همزة إذا وقعت في وزن فاعل كقائل وبائع وهي زائدة واقعة بعد ألف جمع تتوسط بين أربعة وكذا الواو الزائدة المدة أو الياء بهذا الوصف بعدها وكذا آخر المعتلين بالإطلاق أو الواوين خصوصا على خلاف فيه مما يكتنفانها كل منهما يبدل همزة وفي غير ذلك تبدل ياء مع إبدال الآخر ألفا كرسائل وعجائز وصحائف وبيائع وسيائق وأوائل وكذا قوائل عندي وخطايا وشوايا وهي أينما وقعت عينا أو لاما تكون بدلا كباب وناب والعصا والرحا وقال وباع ودعا ورمى وفي الطرف فوق الثلاثة زائدة كانت أو غير زائدة تقلب في مظان القلب ياء كحبليان وملهيان ومرميان وكيدعيان أيضاً وكيرضين فليتأمل. وأما ثالثة فترد فيها على الأصل كعصوان ورحيان وأعني بمظان القلب التثنية وجمعي السلامة واتصال الضمائر المرفوعة البارزة ونوني التأكيد. الهمزة طرفا بعد أخرى مكسورة تبدل ياء كالجائي وغير طرف ساكنة بعد متحركة تبدل مدة مناسبة لحركة المتحركة كآدم وقولك يسر أوسر وحكم الطرف في جميع ما قرع سمعك لا يتغير بتاء التأنيث إلا إذا لزمت وذلك قليل كما في نحو نهاية وعلاوة وحندوة وقمحدوة،

فعلى ওজনে ইসমের 'লাম' কালিমা হিসেবে অবস্থিত 'ইয়া', যার 'ফা' কালিমা জবরযুক্ত এবং 'আইন' কালিমা সাকিন, সেটি 'ওয়াও' দ্বারা পরিবর্তিত হয়। যেমন: 'আশ-শারওয়া'। এবং 'فعُل' ওজনে শব্দের শেষে অবস্থিত এবং তার পূর্বের অক্ষর পেশযুক্ত হলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য; যেমন আপনার কথা: 'রামুউতু'। 'ইয়া' যখন দ্বিতীয় অবস্থানে অতিরিক্ত মদ্দা হিসেবে থাকে, তখন তা তাসগির (ক্ষুদ্রতা জ্ঞাপক রূপ) এবং এমন জমার (বহুবচন) ক্ষেত্রেও 'ওয়াও' দ্বারা পরিবর্তিত হয় যার ওজন একবচনের ওজনের সাথে মেলে না। যেমন: 'দ্বুওয়াইরিব' এবং 'দ্বওয়ারীব', যা 'দ্বীরাব' থেকে নিষ্পন্ন যদি তা নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অনুরূপভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে অবস্থিত অতিরিক্ত আলিফও 'ওয়াও' হয়; যেমন: 'দ্বুওয়াইরিব' এবং 'দ্বওয়ারিব'। যদি তা অতিরিক্ত না হয়, তবে তাসগির একে তার মূল অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়, যেমন: 'বুওয়াইব' এবং 'নুয়াইয়িবাহ'। আর আলিফ তার পূর্ববর্তী হরকতের অনুসারী হয়, তা পেশ হোক বা যের, যতক্ষণ না এটি নিজস্ব কোনো হরকত দাবি করে; যেমন: 'দ্বুরিবা', 'দ্বীরাব', 'মুফায়তীহ' এবং 'মাফাতীহ'। এবং এটি তাসগিরের ইয়া-র পরে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তিত হয়; যেমন: 'কাছীব'।

যখন এটি কোনো ক্রিয়ায় 'আইন' কালিমা হিসেবে থাকে এবং 'ফাইল' ওজনে আসে, তখন তা হামজা দ্বারা পরিবর্তিত হয়; যেমন: 'কায়িল' এবং 'বায়ি'। এছাড়া অতিরিক্ত আলিফ যা চার অক্ষরের মধ্যবর্তী বহুবচনের আলিফের পরে আসে, এবং এই একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী অতিরিক্ত মদ্দা ওয়াও বা ইয়া, এবং সাধারণভাবে দুই হরফে ইল্লতের শেষেরটি, অথবা বিশেষত দুই ওয়াও-এর ক্ষেত্রে (এ নিয়ে মতভেদ আছে), যা আলিফকে ঘিরে রাখে, এদের প্রত্যেকটিই হামজা দ্বারা পরিবর্তিত হয়। অন্য ক্ষেত্রে এগুলো 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তিত হয় এবং শেষেরটি আলিফ হয়ে যায়। যেমন: 'রাসায়িল', 'আজায়িজ', 'সাহায়িফ', 'বায়ায়িই', 'সায়ায়িক্ব' এবং 'আওয়ায়িল'। অনুরূপভাবে আমার মতে 'কাওয়ায়িল', 'খাত্বায়া' এবং 'শাওয়ায়া'।

এবং এটি যেখানেই 'আইন' বা 'লাম' কালিমা হিসেবে আসুক না কেন, তা পরিবর্তিত হয়ে থাকে। যেমন: 'বাব', 'নাব', 'আল-আসা', 'আর-রাহা', 'ক্বলা', 'বাআ', 'দোয়া' এবং 'রামা'। আর তিন অক্ষরের অধিক শব্দের শেষে অতিরিক্ত হোক বা না হোক, পরিবর্তনের ক্ষেত্রসমূহে তা 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তিত হয়। যেমন: 'হাবলায়ান', 'ম লাহায়ান', 'মারমিইয়ান', এবং অনুরূপভাবে 'ইয়াদআয়ান' ও 'ইয়ারদাইন'। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা উচিত। আর যদি তা তৃতীয় বর্ণ হয়, তবে তা তার মূলের দিকে ফিরে যায়। যেমন: 'আসাওয়ান' এবং 'রাহায়ান'।

আর পরিবর্তনের ক্ষেত্রসমূহ বলতে আমি দ্বিবচন, উভয় প্রকার জমা-সালেম, দৃশ্যমান যমীরে মারফু সংযুক্ত হওয়া এবং তাকিদ প্রদানের দুই নুন-কে বোঝাচ্ছি। জেরযুক্ত অক্ষরের পরে শব্দের শেষে অবস্থিত হামজা 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তিত হয়; যেমন: 'আল-জায়ি'। আর শব্দের শেষে না হয়ে যদি সাকিন অবস্থায় হরকতযুক্ত অক্ষরের পরে আসে, তবে তা পূর্ববর্তী হরকতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মদ্দা দ্বারা পরিবর্তিত হয়। যেমন: 'আদম' এবং আপনার উক্তি 'ইয়ুসিরু' বা 'ঊসিরু'। শব্দের শেষের এই নিয়মগুলো যা আপনি শুনলেন, তা গোল 'তা' যুক্ত হওয়ার কারণে পরিবর্তিত হয় না, যদি না তা শব্দের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়। আর এমনটি খুব কমই ঘটে। যেমন: 'নিহায়াহ', 'ইলাওয়াহ', 'হিনদাওয়াহ' এবং 'ক্বামহাদাওয়াহ' ইত্যাদি শব্দে।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وقد نظم حرف التثنية في سلك هذه التاآت من قال ثنايان ومذروان. النون ساكنة قبل الباء تقلب ميما كعنبر. تاء الافتعال تبدل طاء إذ كانت الفاء مطبقا كاصطبر واطبخ واضطجع واصطلم، وإذا كانت بدل المطبق زايا أو دالا أو ذالا أبدلت دالا كازدجر وأدان واذدكر وإذا كانت تاء قلبت كل واحدة منهما على صاحبتها كأنار بالتاء والثاء. التثنية والجمع بالألف والتاء والنسبة يقلبن همزة ألف التأنيث الممدودة واوا كصحراوان وصحراوات وصحراوي. والنسبة تقلب كل ألف في الطرف أو ياء مكسور ما قبلها فيه إذا لم تحذفا واوا ألبتة كرحوي ومرموي وحبلوي وعصوي وملهوي وعموي وقضوي وكذا نونا التأكيد تقلباًن الألف في الطرف ياء.

 

‌‌الفصل الثاني

‌‌في النتائج الجائزة على استمرار

الواو غير طرف بعد ياء التحقير تبدل ياء كجديل وأسيد، وكذا طرفا في نحو مدعى وهي غير مشددة إذا انضمت ضماً لازماً تبدل همزة كأجوه وأقتت، وعند المازني رحمه الله أنها مكسورة أولا في إبدالها همزة كتلك مثل أشاح وأعاء أخيه. الواو والياء غير البدل عن الهمزة فاء في باب الافتعال ثابتة تاؤه تبدل تاء كاتعد واتسر ويتعد ويتسر ومتعد ومتسر، وأنه كالواجب عند الحجازيين. الياء بعد ألف غير زائدة قبل ياء النسبة تبدل همزة كثائي في النسبة على ثاية، ونحو الياء في رضي وبادية تبدل ألفا في لغة طي فيقال رضى وباداة. الألف آخراً لغير التثنية قبل ياء الإضافة تبدل ياء في لغة هذيل قريباً من الواجب كعصيّ ورحيّ.
যারা ‘থুনায়ান’ এবং ‘মাধরুওয়ান’ বলেন, তারা দ্বিবচনের বর্ণকে এই ‘তা’ সমূহের ধারায় বিন্যস্ত করেছেন। ‘বা’-এর পূর্বে সুকুনযুক্ত ‘নুন’ ‘মিম’-এ রূপান্তরিত হয় যেমন ‘আম্বার’। ইফতি‘আল বাব-এর ‘তা’ বর্ণটি ‘ত্বা’-তে রূপান্তরিত হয় যখন ফা-কালিমা মুতবাক (উচ্চারণে জিহ্বা তালুর সাথে লেগে থাকে এমন বর্ণ) হয়, যেমন ‘ইসত্বাবারা’, ‘ইত্ববাখা’, ‘ইদত্বাজায়া’ এবং ‘ইসত্বালামা’। আর যখন মুতবাক বর্ণের বদলে ‘যা’, ‘দাল’ অথবা ‘যাল’ থাকে, তখন তা ‘দাল’-এ রূপান্তরিত হয় যেমন ‘ইজদাজারা’, ‘আদানা’ এবং ‘ইযদাকারা’। আর যদি তা ‘তা’ হয় তবে তাদের প্রত্যেকটি একে অপরের ওপর রূপান্তরিত হয় যেমন ‘তা’ এবং ‘সা’ সহযোগে ‘আনারা’ শব্দে। দ্বিবচন, আলিফ ও তা যোগে বহুবচন এবং নিসবতের ক্ষেত্রে আলিফাতুত তানিছ আল-মামদুদার হামযাটি ‘ওয়াও’-তে রূপান্তরিত হয় যেমন ‘সাহরাওয়ান’, ‘সাহরাওয়াত’ এবং ‘সাহরাওয়ি’। নিসবত ব্যবহারের সময় প্রান্তস্থিত প্রতিটি আলিফ অথবা যার পূর্বে কাসরা (যের) রয়েছে এমন ইয়া—যদি সেগুলো বিলুপ্ত না হয়—তবে তা অবশ্যই ‘ওয়াও’-এ রূপান্তরিত হয় যেমন ‘রাহাওয়ি’, ‘মারমাওয়ি’, ‘হাবলাওয়ি’, ‘আসাউয়ি’, ‘মালহাওয়ি’, ‘আমাউয়ি’ এবং ‘কাদাউয়ি’। একইভাবে তাকিদ-এর নুনদ্বয় প্রান্তস্থিত আলিফকে ‘ইয়া’-তে রূপান্তরিত করে।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

‌‌ধারাবাহিক বৈধ ফলাফলসমূহ প্রসঙ্গে

তাসগির বা ক্ষুদ্রার্থবোধক ইয়া-এর পরে অবস্থিত অপ্রান্তস্থ ‘ওয়াও’ ‘ইয়া’-তে রূপান্তরিত হয় যেমন ‘জুদাইল’ এবং ‘উসাইদ’। একইভাবে প্রান্তস্থিত ক্ষেত্রেও যেমন ‘মুদ্দা’আ’। আর এটি যদি তাশদীদযুক্ত না হয় এবং তাতে যদি লাজিম বা অপরিহার্য যম্মা (পেশ) থাকে, তবে তা হামযায় রূপান্তরিত হয় যেমন ‘আজুহ’ এবং ‘উক্কিতাত’। ইমাম মাযানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, হামযায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে যদি তা শুরুতে কাসরা (যের) যুক্ত হয় তবে তাও অনুরূপ হবে যেমন ‘আশাহ’ এবং ‘আ’আ আখিহি’। ইফতি‘আল বাব-এর ফা-কালিমায় অবস্থিত ‘ওয়াও’ এবং ‘ইয়া’—যা হামযা থেকে পরিবর্তিত হয়ে আসেনি—যদি তার ‘তা’ স্থির থাকে তবে তা ‘তা’-তে রূপান্তরিত হয় যেমন ‘ইত্তায়াদা’, ‘ইত্তাসারা’, ‘ইয়াত্তায়িদু’, ‘ইয়াত্তাসিরু’, ‘মুত্তায়িদ’ এবং ‘মুত্তাসির’; হিজাজবাসীদের নিকট এটি প্রায় ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় বিষয়ের মতো। নিসবতের ইয়া-এর পূর্বে অতিরিক্ত নয় এমন আলিফ-এর পরে অবস্থিত ‘ইয়া’ হামযায় রূপান্তরিত হয় যেমন ‘ছায়া’ থেকে নিসবতের ক্ষেত্রে ‘ছাইয়ি’। আবার তায়ি গোত্রের ভাষায় ‘রাদিয়া’ এবং ‘বাদিয়া’ শব্দের ‘ইয়া’ আলিফে রূপান্তরিত হয়, ফলে তারা একে ‘রাদা’ এবং ‘বাদাহ’ বলে থাকে। হুযাইল গোত্রের ভাষায় ইযাফত-এর ইয়া-এর পূর্বে দ্বিবচনহীন প্রান্তস্থিত আলিফটি প্রায় আবশ্যিকভাবেই ‘ইয়া’-তে রূপান্তরিত হয় যেমন ‘আসা’য়ি’ এবং ‘রাহা’য়ি’।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الهمزة ساكنة لا بعد أخرى تبدل مدة مناسبة لحركة ما قبلها كراس وذيب وسول، ومفتوحة بعد ساكن تبدل ألفا عند الكوفيين كامرأة وبعد مضموم تبدل واوا كجول وبعد مكسور ياء كمبرة ومكسورة وبعد ياء التحقير ياء أيضا كأفيس وكذا مضمومة بعد مكسور تبدل ياء أيضا عند الأخفش رحمه الله كيستهزيون، وكيف كانت بعد مدة زائدة غير ألف تبدل مناسبة لها كخطية ومقروة، وها هنا إبدالات تختص بباب الإدغام كاسمع واطير وازين واثاقل وأدراءوا في استمع وتطير وتزين وتثاقل وتدراءوا فتأملها أنت. واعلم أن إبدال حروف اللين والهمزة بعضها من بعض نسميه إعلالا.

 

‌‌الفصل الثالث

‌‌في النتائج غير المستمرّة

ووجه ضبطها على أن الاختصار أن نطلعك على ما وقع بدلا منه كل حرف من حروف البدل دون غيره اللهم إلا عند التعمق. الألف وقعت بدلا في غير تلك المواضع عن الياء والواو والهمزة في نحو طائي وياجل ولا هناك المرتع والمراة عندنا. وأما آل فالحق المعول فيه ما ذكره ابن جني أن الألف فيه بدل عن همزة بدل عن الهاء. والياء عن أختيها والهمزة والعين والنون والسين والثاء والباء في نحو حبلى وصيم والواجي والضفادي وأناسي والسادي والثالي والثعالي، وعن أحد حرفي التضعيف في نحو دهديت وتلعيت ومكاكي ودياجى وتقضى البازى وأمليت، ونحو تسريت ولم يتسن والتصدية باعتبار وقصيت الأظفار وديياج وديماس وديوان، ونحو قوله أيتصلت وما شاكل ذلك.
হামযা সুকুনযুক্ত হলে এবং তা অন্য হামযার পরে না হলে, তা পূর্ববর্তী হরকতের অনুকূল একটি দীর্ঘ স্বরে (মাদ্দ) রূপান্তরিত হয়; যেমন—রাস, যিব এবং সুল। আর সুকুনের পরে যবরযুক্ত হামযা কূফী ব্যাকরণবিদদের মতে আলিফে রূপান্তরিত হয়; যেমন—ইমরাআ। পেশের পরে তা ওয়াও-তে রূপান্তরিত হয়; যেমন—জুওল। আর যেরের পরে ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়; যেমন—মিবরাহ। তদ্রূপ ক্ষুদ্রতাবোধক ইয়া-এর পরে যেরযুক্ত হামযাও ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়; যেমন—উফাইয়িস। একইভাবে যেরের পরে পেশযুক্ত হামযাও ইমাম আখফাশ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়; যেমন—ইয়াসতাহযিউন। আলিফ ব্যতীত অন্য কোনো অতিরিক্ত দীর্ঘ স্বরের পরে হামযা যেভাবেই আসুক না কেন, তা উক্ত দীর্ঘ স্বরের উপযোগী হরফে রূপান্তরিত হয়; যেমন—খাতিয়্যাহ ও মাকরুওয়্যাহ। এখানে কিছু রূপান্তর (ইবদাল) রয়েছে যা ইদগাম অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন—ইসতামাআ, তাতাইয়্যারা, তাযাইয়্যানা, তাছাকালা ও তাদারাউ শব্দসমূহের স্থলে যথাক্রমে ইসসাম্মাআ, ইত্তাইয়্যারা, ইযযাইয়্যানা, ইছছাকালা ও ইদ্দারাউ হওয়া। তুমি এগুলো গভীরভাবে লক্ষ্য করো। জেনে রেখো যে, হরফে লীন এবং হামযার একটিকে অন্যটি দ্বারা পরিবর্তন করাকে আমরা ‘ই’লাল’ বলে অভিহিত করি।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

‌‌অনিয়মিত ফলাফল প্রসঙ্গে

সংক্ষেপে এ বিষয়টি আয়ত্ত করার পদ্ধতি হলো, গভীর বিশদ আলোচনা ছাড়া আমরা তোমাকে কেবল এটি অবগত করব যে, রূপান্তরের প্রতিটি বর্ণ অন্য কোন বর্ণের পরিবর্তে আসে। আলিফ বর্ণটি উক্ত স্থানগুলো ব্যতীত অন্য স্থানে ইয়া, ওয়াও এবং হামযার পরিবর্তে আসে; যেমন—তায়িয়্যি, ইয়াজাল এবং আমাদের নিকট ‘লা হুনাকা আল-মারতা’ ও ‘আল-মারআ’ শব্দে। আর ‘আল’ শব্দের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সত্য মতটি হলো যা ইবনু জিন্নি উল্লেখ করেছেন যে, এর আলিফটি হামযার পরিবর্তে এসেছে, যা আবার মূলত ‘হা’ বর্ণের পরিবর্তে এসেছিল। আর ইয়া বর্ণটি তার সমগোত্রীয় অন্য দুই বর্ণ (আলিফ ও ওয়াও), হামযা, আঈন, নুন, সীন, ছা এবং বা-এর পরিবর্তে আসে; যেমন—হুবলা, সুইয়্যাম, আল-ওয়াজি, আদ-দাফাদি, আনাসি, আস-সাদি, আছ-ছালি এবং আছ-ছাআলি শব্দসমূহে। এছাড়া দ্বিত্ব বর্ণের (তাশদীদযুক্ত হরফ) একটির পরিবর্তে ইয়া আসে; যেমন—দাহদাইতু, তালা'আইতু, মাকাকি, দিয়াজি, তাকাদদাল বাযি এবং আমলাইতু শব্দসমূহে। আরও যেমন—তাসাররাইতু, লাম ইয়াতাসান্না এবং (নির্দিষ্ট বিবেচনায়) তাসদিয়াহ, কসসাইতুল আজফার, দিইয়াজ, দিমাস, দিওয়ান এবং কবির উক্তি ‘আইত্তাসালাত’ ও এই জাতীয় শব্দসমূহ।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
والواو عن أختيها في نحو حبلو وممضو عليه. والهمزة عن حروف اللين والهاء والعين في نحو بأز وشئمة ومؤقد وماء وأباب والهاء عن الألف والهمزة في نحو يا هناه باعتبار وهرقت والجيم عن الياء في نحو قوله: أمسجت وأمسجا. واللام عن الضاد والنون في نحو الطجع وأصيلال والنون عن الواو في صنعاني والدال عن التاء في اجدمعوا والصاد عن السين في نحو أصبغ وصلخ وصبقة وصاظع، والزاي عنها أيضا في نحو يزدل ثوبه والتاء من الواو والصاد والسين والبائي في نحو أنلج ولصت وطست والذعالت. والميم عن الواو والنون والباء في نحو فم وبنام وكثم ولولا أن الكلام في هذا الفصل وفيما قبله متطفل على الكلام في الفصل والأل إذا تأملت لما خففت فيهما كما ترى. وأما القانون الخامس، وهو أن شاهد القلب الدائر بين أن يكون مقلوبا عن غيره وأن لا يكون ماذا والذي حام حوله أصحابنا هو أن يكون أقل تصرفا كنحو قولهم ناء يناء فحسب ونأى ينأى نأيا، ونحو الجاه والحادي والآدر بمعنى الأدور والآرام بمعنى الأرآم والهاعى واللاعى والقسى والشواعى ونحو الجائي إذا لم نحمله على تخفيف الهمزة أو أن يكون الإخلال بالقلب يهدم عندك أصلا يلزمك رعايته كأشياء في غير باب المنصرف إذا لم تأخذها مقلوبة عن شيئاًء وقد كنت أبيت أن يكون أصلها أشيئاًء هذا تمام الأصل. وأما الملحق به فهو إذا لم يكن معك من الأمثلة ما يصلح لتمام ما ذكرنا أن تستخرج لأصالة الحروف وللزيادة أصولا، وكذا لوقوع البدل عن معين فتستعملها. وأما الحذف والقلب فيما نحن بصدده فكغير الواقع ندرة فلا تستخرج لهما أصولا وأن ألجئت على شيء من ذلك يوما من الدهر أمكنك أن تتفصى منه بأدنى نظر إذا أنت أتقنت ما سيقرع سمعك مما نحن له على أن تكون في استعمالك لتلك الأصول مجتهدا في أن لا تطرق لشيء لك منها على المعربة من نحو مرزنجوش

এবং 'উয়াও' তার অপর দুই সহোদর বর্ণের (আলিফ ও ইয়া) পরিবর্তে আসে, যেমন 'হাবলু' এবং 'মামদু' শব্দে। আর 'হামযা' আসে কোমল বর্ণসমূহ (হরফে লীন), 'হা' এবং 'আইন'-এর পরিবর্তে, যেমন 'বা'য', 'শুমাহ', 'মু'কাদ', 'মা' এবং 'আবব' শব্দে। এবং 'হা' আসে 'আলিফ' ও 'হামযা'-এর পরিবর্তে, যেমন 'ইয়া হানাহ' এবং 'হারাগতু' (রক্ত প্রবাহিত করা) শব্দে। এবং 'জীম' আসে 'ইয়া'-এর পরিবর্তে, যেমন কবিদের উক্তিতে: 'আমসাজাত' এবং 'আমসাজা'। এবং 'লাম' আসে 'দাদ' ও 'নূন'-এর পরিবর্তে, যেমন 'ইলতাজাআ' এবং 'আসিলান' (থেকে আসিলাল) শব্দে। এবং 'নূন' আসে 'উয়াও'-এর পরিবর্তে, যেমন 'সানআনি' শব্দে। এবং 'দাল' আসে 'তা'-এর পরিবর্তে, যেমন 'ইজদামাউ' শব্দে। এবং 'সাদ' আসে 'সীন'-এর পরিবর্তে, যেমন 'আসবাঘ', 'সালাখ', 'সাবকাহ' ও 'সাযা' শব্দে; এবং 'যা' বর্ণটিও সীনের পরিবর্তে আসে, যেমন 'ইয়াযদালু সাওবাহু' (সে তার কাপড় ঝুলিয়ে দিচ্ছে) বাক্যে। আর 'তা' আসে 'উয়াও', 'সাদ', 'সীন' এবং 'ইয়া'-এর পরিবর্তে, যেমন 'আনলাজ', 'লাসত', 'তাসত' এবং 'আয-যআলত' শব্দে। এবং 'মীম' আসে 'উয়াও', 'নূন' এবং 'বা'-এর পরিবর্তে, যেমন 'ফাম', 'বানাম' এবং 'কাথাম' শব্দে। যদি আপনি গভীরভাবে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন এই পরিচ্ছেদ ও এর পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদের আলোচনা মূলত 'আল' (নির্ধারক অব্যয়) সংক্রান্ত আলোচনার ওপর নির্ভরশীল, যেখানে কোনো নমনীয়তা দেখানো হয়নি।

আর পঞ্চম নীতিটি হলো: অক্ষর পরিবর্তনের (কালব) প্রমাণ যা অন্য কোনো বর্ণ থেকে পরিবর্তিত হওয়া বা না হওয়ার মাঝে আবর্তিত হয়; আমাদের পণ্ডিতগণ যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন তা হলো—শব্দটির রূপান্তর (তসররুফ) কম হওয়া। যেমন তাদের উক্তি: 'না-আ ইয়ানা-উ' (কেবল এইটুকু) এবং 'না-আ ইয়ান-আ না-ইয়ান'। এবং 'আল-জাহ', 'আল-হাদি', 'আল-আদার' (যা 'আল-আদওয়ার' অর্থে), 'আল-আরাম' ('আল-আরআম' অর্থে), 'আল-হা-ঈ', 'আল-লা-ঈ', 'আল-কুসী' এবং 'আশ-শাওয়া-ঈ'-এর ন্যায় শব্দসমূহ; এবং 'আল-জা-ঈ' শব্দটির ন্যায়, যদি আমরা একে হামযাহ সহজীকরণের ওপর প্রয়োগ না করি। অথবা অক্ষর পরিবর্তনের (কালব) অভাব যদি আপনার নিকট এমন কোনো মূলনীতিকে বিনষ্ট করে যা রক্ষা করা আপনার জন্য আবশ্যক; যেমন 'আশইয়া' (বস্তুসমূহ) শব্দটি গায়র-মুনসারিফ (অপরিবর্তনীয়) অধ্যায়ে, যদি আপনি একে 'শাই-আ-উ' থেকে পরিবর্তিত হিসেবে গ্রহণ না করেন। আর আমি এর মূল রূপ 'আশ-ই-আ-উ' হওয়াকে অস্বীকার করতাম; এটিই হলো মূলনীতির পূর্ণতা।

আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো: আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলো পূর্ণ করার মতো যদি আপনার নিকট পর্যাপ্ত উদাহরণ না থাকে, তবে আপনি মূল বর্ণ এবং অতিরিক্ত বর্ণের জন্য কিছু মূলনীতি উদ্ভাবন করবেন; তেমনিভাবে নির্দিষ্ট কোনো বর্ণের পরিবর্তে অন্য বর্ণ আসার ক্ষেত্রেও আপনি তা প্রয়োগ করবেন। আর আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করছি তাতে বিলুপ্তি (হাফয) এবং অক্ষর পরিবর্তন (কালব) সংঘটিত না হওয়ার মতোই বিরল, তাই এ দুটির জন্য কোনো মূলনীতি বের করবেন না। আর যদি কোনোদিন আপনি এর কোনোটির প্রতি বাধ্য হন, তবে সামান্য দৃষ্টিপাতেই তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব হবে, যদি আপনি সেই বিষয়গুলো উত্তমরূপে আত্মস্থ করেন যা এখন আপনার কর্ণকুহরে প্রবেশ করবে। তবে শর্ত হলো—আপনি সেই মূলনীতিগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই মর্মে সচেষ্ট থাকবেন যেন 'মারযানজুশ'-এর ন্যায় আরবিকৃত (মু'আরাব) অনারব শব্দগুলোর ওপর আপনার পক্ষ থেকে কোনো কিছু আরোপ করা না হয়।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وباذنجانة وأسيفيذباج وإستبرق طريقا وإلا وقعت في تخبط، ووجه الاستخراج هو أن تسلك الطريق على ما عرفت سلوكا في غير موضع صادق التأمل لحروف الزيادة وقد عرفتها أين تمتنع زيادتها أو تقل فتتخذ ذلك الموضع أصلا لأصالة الحروف وأين تجب لها أو تكثر فتتخذه أصلا للزيادة وهكذا الحروف البدل وقد أحاطت بها معرفتك أيما موضع يختص بحرف معين أو يكثر ذلك فيه فتتخذه أصلا لكون ما سوى ذلك الحرف هناك بدلا منه، وأنا أذكر لك

 

‌‌ما أورده أصحابنا من ذلك

في ثلاثة فصول: أحدهما

 

‌‌في بيان مواضع الأصالة وثانيها في بيان مواضع الزيادة، وثالثها في بيان مواضع البدل عن معين لأخلصك من ورطة الاستخراج.

 

‌‌الفصل الأول

في بيان مواضع الأصالة

وهي الأول من كلمة لا تصلح لزيادة الواو فواو ورنتل أصل، وهو والحشو منها اللام فلام نحو لهذم وقلفع أصل والآخر أيضا له إلا في عبدل وزيدل وفحجل وفي هيقل وطيسل وفيشلة احتمال، وأما نحو ذلك وهنالك وأولالك فليس عندي بمنظور فيه والأول من كل اسم غير متصل بالفعل وقد نبهت عليه فيما تقدم إذا كان من بعده أربعة أصول لا يصلح للزيادة فنحو الهمزة والميم في اصطخر ومردقوش أصل، وهو الثاني من كل اسم غير متصل
এবং বেগুন (বাদিনজানাহ), আসিফিদবাজ ও ইস্তাবরাক-এর মতো শব্দগুলোর ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করুন, অন্যথায় আপনি বিভ্রান্তিতে নিপতিত হবেন। আর বর্ণ নির্ধারণের পদ্ধতিটি হলো, আপনি অতিরিক্ত বর্ণগুলোর ক্ষেত্রে আপনার জানা পদ্ধতিটি এমন স্থানে প্রয়োগ করবেন যেখানে বর্ণগুলোর অতিরিক্ত হওয়া অসম্ভব অথবা বিরল হওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করা যায়। সুতরাং আপনি সেই স্থানটিকে বর্ণের মূল হওয়ার (আসালত) ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবেন। আবার যেখানে বর্ণগুলো অতিরিক্ত হওয়া আবশ্যক বা অধিকতর, সেখানে সেটিকে অতিরিক্ত হওয়ার (যিয়াদাত) ভিত্তি হিসেবে ধরবেন। একইভাবে পরিবর্তিত বর্ণের (বদল) ক্ষেত্রেও আপনার জ্ঞান সেটিকে পরিবেষ্টন করে আছে যে, কোন স্থানটি কোন নির্দিষ্ট বর্ণের জন্য বিশেষায়িত বা যেখানে সেটি অধিক ঘটে। অতএব, আপনি সেটিকে ভিত্তি হিসেবে ধরবেন যাতে সেই নির্দিষ্ট বর্ণটি ছাড়া অন্য যা কিছু সেখানে থাকে তা তার স্থলাভিষিক্ত বা 'বদল' হিসেবে গণ্য হয়। আর আমি আপনার নিকট

 

‌‌আমাদের ইমামগণ এই বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করছি

তিনটি পরিচ্ছেদে: তার একটি হলো

 

‌‌বর্ণের মূল হওয়ার স্থানসমূহের বর্ণনায় এবং দ্বিতীয়টি অতিরিক্ত বর্ণ হওয়ার স্থানসমূহের বর্ণনায়, আর তৃতীয়টি নির্দিষ্ট বর্ণের পরিবর্তে স্থলাভিষিক্ত (বদল) হওয়ার স্থানসমূহের বর্ণনায়, যাতে আমি আপনাকে বর্ণ নির্ধারণের জটিলতা থেকে মুক্ত করতে পারি।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

বর্ণের মূল হওয়ার স্থানসমূহের বর্ণনায়

আর তা হলো এমন কোনো শব্দের প্রথম বর্ণ যেখানে 'ওয়াও' অতিরিক্ত হওয়ার উপযুক্ত নয়; সুতরাং 'ওয়ারানতাল' শব্দের 'ওয়াও' বর্ণটি মূল। আর শব্দের মাঝখানের বর্ণ যদি 'লাম' হয়, তবে 'লাহযাম' এবং 'কালফা' এর মতো শব্দের 'লাম' বর্ণটি মূল। একইভাবে শব্দের শেষ বর্ণটিও মূল হবে, তবে 'আবদাল', 'যাইদাল' এবং 'ফাহজাল' শব্দের ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা রয়েছে; এবং 'হাইকাল', 'তাইসাল' ও 'ফায়শালাহ' শব্দগুলোতেও ভিন্ন সম্ভাবনা রয়েছে। আর 'যালিকা', 'হুনালিকা' এবং 'উলা-লিকা' শব্দগুলোর ক্ষেত্রে আমার মতে এখানে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। এবং প্রতিটি বিশেষ্যের (ইসম) প্রথম বর্ণ যা ক্রিয়ার (ফেল) সাথে সংশ্লিষ্ট নয়—যে সম্পর্কে আমি ইতিপূর্বে সংকেত দিয়েছি—যদি এর পরে চারটি মূল বর্ণ থাকে যা অতিরিক্ত হওয়ার অযোগ্য হয়, তবে 'ইসতাখর' এবং 'মারদাকুশ' শব্দের হামযাহ ও মীম বর্ণগুলো মূল হবে। একইভাবে প্রতিটি বিশেষ্যের দ্বিতীয় বর্ণ যা সংশ্লিষ্ট নয়...
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
بالفعل أيضاً إذا عرف في أحدهما زيادة فصاحبه لا يصلح للزيادة إلا نادراً كانقحر وا نقحل وانزهو فميم منجنيق أصل إذ عرف ثانيه زائداً بقولهم مجانيق وغير أول الكلمة لا يصلح لزيادة الهمزة والميم في الأغلب فهما في نحو ضئبيل وزئبر وجؤذر وبرأل وتكرفأ وحرمل وعظلم أصل إلا إذا كانت الهمزة طرفا بعد ألف قبلها ثلاثة أحرف فصاعداً خارجة عن احتمال الزيادة فهي زائدة كطرفاء وعاشوراء وبراكاء وبروكاء وجخادباء إلا فيما احتمل أن يكون النصف الثاني منه إذا ألفيت الألف عين النصف الأول كالضوضاء، ويسمى هذا مضاعف الرباعي والآخر من الفعل لا يصلح لزيادة النون فنون تدهقن وتشيطن أصل عند أصحابنا، والأقرب عندي على تجاوب الأصول أن هذا الأصل أكثريّ والنون فيما ذكرنا زائدة وكل واحد من المواضع الأربعة من مضاعف الرباعي لا يصلح للزيادة فليس في نحو وعوع وصيصة زيادة وكذا في نحو قوقيت. والسين لا تكون زائدة في الأسماء غير المتصلة بالأفعال كالميم في الأفعال ونحو تمندل وتمدرع وتمسكن لا اعتداد به فميم تمعدد وتمغفر واسمهر واحرنجم وأمثالها أصل ألبتة. وأما الهاء فقد كان أبو العباس المبرد رحمه الله يخرجها عن الحروف الزوائد، ولولا أني في قيد الاختصار لنصرت قوله بالجواب عما أورد عليه الإمام ابن جني رحمه الله في ذلك ولكن كيفما دارت القصة فالأصل فيها الأصالة فهاء نحو
তদ্রূপ কার্যক্ষেত্রেও যখন দুইটির একটিতে অতিরিক্ততা জানা যায়, তখন তার সাথীটি বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত অতিরিক্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখে না, যেমন: ইনকাহারা, ইনকাহালা এবং ইনযাহু। সুতরাং 'মানজানিউক' শব্দের 'মীম' বর্ণটি মূল বর্ণ, কারণ তাদের 'মাজানিউক' বলার মাধ্যমে এর দ্বিতীয় বর্ণটি অতিরিক্ত হিসেবে জানা গেছে। শব্দের শুরু ব্যতীত অন্য স্থানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হামযাহ এবং মীম অতিরিক্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। অতএব, যইবীল, যিবির, জু'যার, বারআল, তাকারফাউ, হারমাল এবং ইযলাম এর মতো শব্দগুলোতে এই বর্ণ দুটি মূল বর্ণ। তবে যদি হামযাহ শব্দটি এমন আলিফের পরে প্রান্তীয় বর্ণ হিসেবে আসে যার পূর্বে তিনটি বা ততোধিক বর্ণ থাকে যা অতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে মুক্ত, তবে সেটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে; যেমন: তারফা, আশূরা, বারাকা, বুরুকা এবং জাখাদাবা। তবে সেই ক্ষেত্রটি ভিন্ন যেখানে সম্ভাবনা থাকে যে এর দ্বিতীয় অর্ধাংশ প্রথম অর্ধাংশের হুবহু অনুরূপ হবে যদি আলিফকে প্রথম অর্ধাংশের 'আইন' বর্ণ হিসেবে পাওয়া যায়, যেমন: দওদা। আর একে মুদাআফে রুবাঈ বলা হয়। ক্রিয়ার শেষ বর্ণ নূন অতিরিক্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখে না, তাই আমাদের সাথীদের মতে 'তাদাহকানা' এবং 'তাশায়তানা' শব্দদ্বয়ের নূন মূল বর্ণ। তবে মূলনীতিসমূহের সামঞ্জস্যতার ভিত্তিতে আমার নিকট অধিকতর সঠিক হলো যে, এই মূলটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে নূন অতিরিক্ত। আর মুদাআফে রুবাঈ এর চারটি অবস্থানের কোনোটিই অতিরিক্ত হওয়ার যোগ্য নয়। সুতরাং ওয়া'ওয়া এবং সীসাহ এর মতো শব্দে কোনো অতিরিক্ততা নেই এবং কওয়াইতু এর ক্ষেত্রেও একই কথা। আর সীন বর্ণটি ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন ইসমে (বিশেষ্যে) অতিরিক্ত হয় না, যেমনটি ক্রিয়ার ক্ষেত্রে মীম অতিরিক্ত হয় না। তামানদালা, তামাদরাআ এবং তামাসকানা এর মতো শব্দগুলো ধর্তব্য নয়; তাই তামা'দাদা, তামাঘফারা, ইসমাহাররা, ইহরানজামা এবং এ জাতীয় শব্দগুলোর মীম নিশ্চিতভাবেই মূল বর্ণ। আর 'হা' বর্ণের ক্ষেত্রে আবু আব্বাস আল-মুবররাদ (রহিমাহুল্লাহ) একে অতিরিক্ত বর্ণসমূহের তালিকা থেকে বাদ দিতেন। আমি সংক্ষিপ্ত করার বাধ্যবাধকতায় না থাকলে ইমাম ইবনে জিন্নি (রহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে তাঁর ওপর যে আপত্তিগুলো উত্থাপন করেছেন তার উত্তর প্রদানের মাধ্যমে তাঁর মতকে শক্তিশালী করতাম। কিন্তু বিষয়টি যেভাবে আবর্তিত হোক না কেন, এর ক্ষেত্রে মূল কথা হলো এর মৌলিকতা (আসলাত); সুতরাং 'হা' যেমন-
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
هجرع ودرهم أصل. وأما هاء الوقف في نحو ثمه وكتابيه فبمعزل عندي عن الاعتبار أصلاً.

 

‌‌الفصل الثاني

‌‌في بيان مواضع الزيادة

أول كل كلمة فيها ثلاثة أصول لا يصلح لأصالة الهمزة والياء وكذا الميم لكن في الأغلب فأوائل أصبع ويعفر ومذحج زوائد وأعني بقولي أصول أن خروجها عن حروف الزيادة يشهد لذلك أو مواضعها وكل موضع من كلمة تشتمل على ثلاثة أصول، وليست مضاعف الرباعي لا يصلح لأصالة حروف اللين إلا الأول للواو فحروف اللين في نحو كاهل وغزال والعلقي وضيغم وعثير وعوسج وخروع زوائد وكذا إذا كانت أكثر من ثلاثة لكن سوى الأول لا يصلح لأصالتها أيضا فهي في نحو عذافر وسرداح والحبركي وسميدع وغرنيق وفدوكس وفردوس والقبعثري وخزعبيل وعضرفوط زوائد وآخر كل اسم قبله قبلها ثلاثة أحرف فصاعدا أصول لا يصلح لأصالة النون في الأغلب فنون سعدان وسرحان وعثمان وغمدان وملكعان وزعفران وجندمان وعقربان زائدة وكل موضع من الكلمة للنون أو التاء يخرجها بأصالتها عن أبنية الأصول المجردة وسنذكرها في الباب الثاني من هذا الكتاب لا يصلح لأصالتها فيحكم بزيادة النون والتاء في نحو نرجس وكنهبل وترتب وتتفل مفتوحي الأول وما لا يخرجها فالأمر بالعكس في الأغلب فهما في نحو نهشل وحنزقر وصعتر، وكذا في عنتر أصلان إلا النون إذا كانت ثالثة ساكنة مثلها في عقنقل وحجنفل وشرنبث فهي في نظائرها زائدة وكذا كل موضع أو موضعين للتكرير من الكلمة كقردد ورمدد وعندد وشربب وخدب وفلزوجبن وقطع
হাজরা’ এবং দিরহাম শব্দে এগুলো মূল অক্ষর। আর ‘ছুম্মাহ’ এবং ‘কিতাবিয়াহ’-এর মতো শব্দের শেষে বিরতি জ্ঞাপক ‘হা’ আমার নিকট মূল অক্ষর হওয়ার বিবেচনার একেবারেই বাইরে।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

‌‌অতিরিক্ত অক্ষরের স্থানসমূহ বর্ণনায়

যে শব্দের শুরুতে তিনটি মূল অক্ষর রয়েছে, সেখানে হামযাহ এবং ইয়া-র মূল অক্ষর হওয়ার যোগ্যতা নেই; তেমনিভাবে মীমের ক্ষেত্রেও অধিকাংশ সময় একই কথা প্রযোজ্য। সুতরাং আসবু’, ইয়া’ফুর এবং মাযহিজ-এর শুরুর অক্ষরগুলো অতিরিক্ত। আর ‘মূল অক্ষর’ বলতে আমি যা বুঝিয়েছি তা হলো, অক্ষরগুলো অতিরিক্ত অক্ষরের তালিকার বাইরে হওয়া অথবা তাদের অবস্থানই এর সাক্ষ্য দেয়। শব্দের প্রতিটি স্থান যা তিনটি মূল অক্ষরের ওপর অন্তর্ভুক্ত এবং যা রুবায়ী (চার অক্ষরবিশিষ্ট) দ্বিত্বযুক্ত শব্দ নয়, সেখানে কোমল অক্ষরসমূহের মূল অক্ষর হওয়ার উপযুক্ততা নেই, কেবল শুরুর ‘ওয়াও’ ব্যতীত। সুতরাং কাহিল, গাযাল, আলকী, দাইগাম, আছীর, আওসাজ এবং খিরওয়া-এর মতো শব্দে কোমল অক্ষরগুলো অতিরিক্ত। একইভাবে যখন অক্ষর সংখ্যা তিনটির বেশি হয়, তখনও প্রথমটি ছাড়া বাকিগুলোতে তাদের মূল হওয়ার যোগ্যতা নেই। সুতরাং আযাফির, সিরদাহ, হিবরাকী, সামাইদা, গুরনীক, ফাদাওকাস, ফিরদাউস, কুবায়াছরী, খুযা’বীল এবং আদরাফুত শব্দে এগুলো অতিরিক্ত। প্রতিটি ইসমের (বিশেষ্য) শেষে যার পূর্বে তিনটি বা ততোধিক মূল অক্ষর রয়েছে, সেখানে সাধারণত নূন-এর মূল হওয়ার যোগ্যতা নেই। ফলে সা’দান, সিরহান, উসমান, গুমদান, মালাক’আন, জা’ফরান, জুন্দুমান এবং আকরাবান শব্দে নূন-টি অতিরিক্ত। শব্দের প্রতিটি স্থানে নূন বা তা-এর এমন অবস্থান যা সেটিকে মূল হওয়ার কারণে মূল গঠনতন্ত্র থেকে বের করে দেয়—যা আমরা এই কিতাবের দ্বিতীয় অধ্যায়ে উল্লেখ করব—সেখানেও তাদের মূল হওয়ার যোগ্যতা নেই। ফলে নারজিস, কুনহুবুল, তারতুব এবং প্রথম অক্ষরে ফাতাহবিশিষ্ট তাতফাল শব্দে নূন ও তা-কে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। আর যা সেটিকে গঠনতন্ত্র থেকে বের করে না, সেক্ষেত্রে বিষয়টি অধিকাংশ সময় এর বিপরীত হয়। ফলে নাহশাল, হিনযাকর এবং সা’তার এর মতো শব্দে এই দুটি অক্ষর মূল; তেমনিভাবে আনতার শব্দেও অক্ষর দুটি মূল। তবে নূন যদি তৃতীয় অবস্থানে সাকিন হিসেবে থাকে, যেমন—আকানকাল, হিজানফাল এবং শারানবাছ, তবে এর সমজাতীয় শব্দগুলোতে এটি অতিরিক্ত। একইভাবে শব্দের যে এক বা একাধিক স্থানে অক্ষরের পুনরাবৃত্তি ঘটে, যেমন—কারদাদ, রামদাদ, ইনদাদ, শারবাব, খাদাব, ফিলাযয, জুবুন এবং কাত্তায়া।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
واقشعر ومرمريس وعصبصب إذا كانت توجد فيها ثلاثة أصول لا تصلح للأصالة. واعلم أن أصول هذين الفصلين كثيراً ما يجامع بعضها البعض وهي في ذلك إما أن لا تورث ترددا في إمضاء الحكم مثلها في نحو إصطبل حيث تقضي للام بالأصالة ثم للهمزة ونحو يستعور حيث تقضي للسين والتاء بالأصالة ثم للياء ونحو إعصار وأخريط وأدرون حيث تقضى لحروف اللين بالزيادة ثم للهمزة ونحو عقنقل حيث تقضى للنون بالزيادة ثم للمكرر ونحو خفيدد حيث تقضي للياء والمكرر بالزيادة ونحو ضميران حيث تقضى للياء والألف والنون بالزيادة فتمضي في الحكم كما ترى وإما أن تورث من حيث هي هي تردداً إما لاجتماعها على سبيل التعاند مثل أصلي التاء في ترتب وتتفل بالفتح والضم أو على سبيل الدور مثل الأصلين في نحو محبب وموظب ومكوزة ومريم وأيدع وأوتكي وحومان وما جرى مجراها فيقع عنان الحكم في يد الترجيح اللهم إلا عند الإعواز فيحام حول الخبرة إذ ذاك والقانون عندي في باب الترجيح ههنا هو اعتبار شبهة الاشتقاق ابتداء ثم من بعد اعتبار الكلي من هذه الأصول ثم إن وجد تعارض في النوعين اعتبار اللواحق، وأعني بقولي ههنا أن المنظور فيه ليس يرجع على اشتقاقين رجوع أرطى حيث يقال بعير آرط وراط وأديم مأروط ومرطى وشيطان حيث يعتزى على أصلين يلتقيان به وهما ش ط ن وش ى ط فان الترجيح في مثل هذا عند أصحابنا رحمهم الله بالتفاوت في وضوح الاشتقاق وخفائه ليس إلا، ونحن نستودع هذا الفصل من الأمثلة على اختصار ما يورثك بإذن الله تعالى كيفية التعاطي لهذا الفن جاذبا بضبعك فيما أنت من تمام تصوره بمنزلة، ثم نحيل باقتناص غايات المرام إذا رأيناها قد أعرضت لك مما فعلنا بك على صدق همتك في السعي لما يعقب ذلك.

ইকশাআররা, মারমারিস এবং আসাবসাব এর মতো শব্দগুলো যখন পাওয়া যায় যাতে তিনটি মূল অক্ষর বিদ্যমান থাকে কিন্তু সেগুলো মূল (আসল) হওয়ার যোগ্য নয়। জেনে রাখুন যে, এই দুই পরিচ্ছেদের মূলনীতিসমূহ প্রায়শই একে অপরের সাথে সমন্বিত হয়; এমতাবস্থায় সেগুলো সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধার সৃষ্টি করে না। যেমন 'ইস্তাবল' শব্দের ক্ষেত্রে, যেখানে আপনি 'লাম' অক্ষরটিকে মূল এবং এরপর 'হামজা'কে অতিরিক্ত হিসেবে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। অথবা 'ইয়াস্তা'উর' শব্দের মতো, যেখানে আপনি 'সিন' ও 'তা' অক্ষরদ্বয়কে মূল এবং এরপর 'ইয়া'কে অতিরিক্ত হিসেবে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। অথবা 'ই’সার', 'আখরিত' এবং 'আদোরুন' শব্দের মতো, যেখানে আপনি লীন হরফসমূহকে (দুর্বল বর্ণ) অতিরিক্ত এবং এরপর 'হামজা'কে মূল হিসেবে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। অথবা 'আকানকাল' শব্দের মতো, যেখানে আপনি 'নুন'কে অতিরিক্ত এবং এরপর দ্বিত্ব অক্ষরকে মূল হিসেবে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। অথবা 'খাফাইদাদ' শব্দের মতো, যেখানে আপনি 'ইয়া' এবং দ্বিত্ব অক্ষরকে অতিরিক্ত হিসেবে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। অথবা 'দুমাইরান' শব্দের মতো, যেখানে আপনি 'ইয়া', 'আলিফ' এবং 'নুন'কে অতিরিক্ত হিসেবে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। এভাবে আপনি আপনার সিদ্ধান্তে অগ্রসর হবেন যেমনটি দেখতে পাচ্ছেন।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
أما الترجيح بشبهة الاشتقاق فكالقضاء في نحو موظب ومكوزة ومحبب للواو والمكرر بالأصالة دون الميم على ارتكاب الشذوذ عما عليه قياس أخواتها من الكسر والإعلال والإدغام لما يوجد من وظ ب وك وز وح ب ب في الجملة دون م ظ ب وم ك ز وم ح ب، وأنا إذا قضيت لمريم وياجج بمفعل ويفعل ولنرتب وتتفل في اللغتين بزيادة التاء ولا مرة بفعلة ولعزويت بفعليت دون فعليل أو فعويل قضيت لهذا، وأما الترجيح بالكلي فكالقضاء بزيادة تاء ترتب وتتفل بدون اعتبار شبهة الاشتقاق، وأما الترجيح باللواحق فكالقضاء لمدين بزيادة الميم دون الياء لعوز فعيل بفتح الفاء في الأوزان وزيادة ميم مريم تؤكد بهذا وكالقضاء لمورق منه ومهدد وماجيح بزيادة الواو والمكرر دون الميم للزوم الشذوذ زيادتها وهو فتح الراء إذ ذاك وفك الإدغام مع عدم ما أوجب ارتكابه في مريم وكالقضاء لحومان بزيادة النون دون الواو لما تجد فعلان في الأوزان أكثر من فوعال ولحسان مضموم الحاء بفعلان لما تجده أكثر من فعال بالإطلاق ولرمان بعكس هذا لما تجد فعالا في باب النبات أكثر من فعلان ولحسان وحمار قبان بفعال إذا نقلا إليك مصروفين وبفعلان إذا نقلا إليك غير مصروفين

ولأيدع وأولق وأوتكي بزيادة الهمزة دون الياء والواو لما تجد أفعل أكثر من فيعل وفوعل ولأمعة بزيادة المكرر لما تجد فعلة أكثر من أفعلة فاؤها وعينها من جنس واحد، وهذا يؤكد ما قدمنا في أمرة ولكلتا بزيادة الألف وإبدال التاء من الواو لعوز فعتل والحولايا بفوعالا دون فعلايا لعوزها ولما تجد فعليتا دون فعويل تتأكد فعليتية عزويت دون فعويليته، ولنقتصر على هذا القدر في التنبيه به على ما حاولنا فانه بل الأقل كاف في حق من أوتي حظا من الجلادة، فأما البليد فوحقك لا يجدي عليه التطويل وان تليت عليه التوراة والإنجيل. ع وأولق وأوتكي بزيادة الهمزة دون الياء والواو لما تجد أفعل أكثر من فيعل وفوعل ولأمعة بزيادة المكرر لما تجد فعلة أكثر من أفعلة فاؤها وعينها من جنس واحد، وهذا يؤكد ما قدمنا في أمرة ولكلتا بزيادة الألف وإبدال التاء من الواو لعوز فعتل والحولايا بفوعالا دون فعلايا لعوزها ولما تجد فعليتا دون فعويل تتأكد فعليتية عزويت دون فعويليته، ولنقتصر على هذا القدر في التنبيه به على ما حاولنا فانه بل الأقل كاف في حق من أوتي حظا من الجلادة، فأما البليد فوحقك لا يجدي عليه التطويل وان تليت عليه التوراة والإنجيل.
বুৎপত্তিগত সাদৃশ্যের ভিত্তিতে প্রাধান্য প্রদানের বিষয়টি হলো যেমন ‘মুওয়াজ্জাব’, ‘মুকাওওয়াযাহ’ এবং ‘মুহাব্বাব’ এর ন্যায় শব্দগুলোতে ‘ওয়াও’ এবং ‘মৌলিক দ্বিত্ব বর্ণকে’ মূল হিসেবে গণ্য করা এবং ‘মীম’-কে অতিরিক্ত ধরা। যদিও এতে সমজাতীয় শব্দগুলোর কাসরা (জের), ই’লাল এবং ইদগামের নিয়মের বিপরীতে বিরলতা বা ব্যতিক্রমের আশ্রয় নিতে হয়; কারণ মূলধাতুর মধ্যে ‘ওয়াও-যা-বা’, ‘কাফ-ওয়াও-যা’ এবং ‘হা-বা-বা’ পাওয়া যায়, কিন্তু ‘মীম-যা-বা’, ‘মীম-কাফ-যা’ এবং ‘মীম-হা-বা’ পাওয়া যায় না। আর যখন আমি ‘মারইয়াম’ এবং ‘ইয়াজুজ’ শব্দদ্বয়কে ‘মাফআল’ এবং ‘ইয়াফআল’ ওজনের হওয়ার এবং ‘নারতাব’ ও ‘তুতফাল’ শব্দদ্বয়কে উভয় ভাষায় ‘তা’ বর্ণের আধিক্যের মাধ্যমে গঠিত হওয়ার ফয়সালা দিই, কিংবা ‘আম্মরা’ শব্দটিকে ‘ফাউলা’ ওজনের না হওয়ার এবং ‘আযওয়াইত’ শব্দটিকে ‘ফাউলীল’ বা ‘ফাউউইল’ এর পরিবর্তে ‘ফাইলীত’ ওজনের হওয়ার সিদ্ধান্ত দিই, তখন আমি এই কারণেই তা করি। আর সামগ্রিক বিষয়ের ভিত্তিতে প্রাধান্য প্রদান হলো যেমন ‘তারতাব’ এবং ‘তুতফাল’ শব্দে বুৎপত্তিগত সাদৃশ্যের বিবেচনা ছাড়াই ‘তা’ বর্ণকে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করা। আর অনুসর্গের মাধ্যমে প্রাধান্য প্রদান হলো যেমন ‘মাদইয়ান’ শব্দের ক্ষেত্রে ‘ইয়া’ এর পরিবর্তে ‘মীম’-কে অতিরিক্ত ধরা, কারণ ওজনসমূহের মধ্যে ফাতহাযুক্ত ফা বর্ণসহ ‘ফায়ীল’ ওজনের অভাব রয়েছে; আর ‘মারইয়াম’ শব্দে ‘মীম’-এর আধিক্য এই বিষয়টিকে জোরালো করে। অনুরূপভাবে ‘মাওরাক’ (সেটি থেকে), ‘মুহাত্তাদ’ এবং ‘মাজিয়াহ’ শব্দগুলোতে ‘মীম’-এর পরিবর্তে ‘ওয়াও’ এবং ‘দ্বিত্ব বর্ণকে’ অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করা, কারণ ‘মীম’ অতিরিক্ত ধরলে নিয়মের ব্যতিক্রম বা বিরলতা আবশ্যক হয়—আর তা হলো এমতাবস্থায় ‘রা’ বর্ণে ফাতহা হওয়া এবং ‘ইদগাম’ না থাকা, অথচ ‘মারইয়াম’ শব্দে ইদগাম করার কোনো কারণ ছিল না। অনুরূপভাবে ‘হাওমান’ শব্দে ‘ওয়াও’-এর পরিবর্তে ‘নুন’-কে অতিরিক্ত ধরা, কারণ ওজনসমূহের মধ্যে ‘ফালান’ ওজনকে ‘ফাউআল’ এর চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। আর পেশযুক্ত হা বর্ণসহ ‘হাসান’ শব্দকে ‘ফালান’ ওজনের অন্তর্ভুক্ত করা, কারণ নিঃশর্তভাবে একে ‘ফাউআল’ এর চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। তবে ‘রুম্মান’ এর ক্ষেত্রে বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যায়ে ‘ফাউআল’ ওজনকে ‘ফালান’ এর চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। আর ‘হাসান’ এবং ‘হিমারু কুব্বান’ শব্দদ্বয় যদি তোমার কাছে মুন্সারিফ (রূপান্তরযোগ্য) হিসেবে বর্ণিত হয় তবে তা ‘ফাউআল’ ওজনের হবে, আর যদি গায়র-মুন্সারিফ (অরূপান্তরযোগ্য) হিসেবে বর্ণিত হয় তবে তা ‘ফালান’ ওজনের হবে।

আর ‘আয়দা’, ‘আওলাক’ এবং ‘আউতাকি’ শব্দগুলোতে ‘ইয়া’ এবং ‘ওয়াও’-এর পরিবর্তে ‘হামযা’-কে অতিরিক্ত ধরা, কারণ ‘আফআল’ ওজনকে ‘ফায়আল’ এবং ‘ফাউআল’ এর চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। আর ‘ইম্মায়াহ’ শব্দে ‘দ্বিত্ব বর্ণকে’ অতিরিক্ত ধরা, কারণ ‘ফালাহ’ ওজনকে ‘আফআলাহ’ (যার ফা এবং আইন একই জাতীয় বর্ণ) এর চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এটি ‘আম্মরা’ সম্পর্কে আমরা যা পূর্বে উল্লেখ করেছি তাকে জোরালো করে। আর ‘কিলতা’ শব্দে আলিফ অতিরিক্ত হওয়া এবং ‘ওয়াও’ থেকে ‘তা’ পরিবর্তিত হওয়া, কারণ ‘ফাতাল’ ওজনের অভাব রয়েছে। ‘আল-হাওলায়া’ শব্দটি ‘ফাউআলা’ ওজনের হবে, ‘ফালায়া’ নয়, কারণ এর অভাব রয়েছে। আর যেহেতু ‘ফাইলীত’ ওজনকে ‘ফাউউইল’ অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায়, তাই ‘আযওয়াইত’ শব্দের ‘ফাইলীত’ হওয়া সুনিশ্চিত হয়। আমরা যা চেষ্টা করেছি সে বিষয়ে সচেতন করার জন্য এইটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব, কারণ যার সামান্য মেধা ও দৃঢ়তা আছে তার জন্য এই অল্পটুকুই যথেষ্ট। আর যে নির্বোধ, তোমার শপথ! তার জন্য দীর্ঘ আলোচনা কোনো উপকারে আসবে না, যদিও তার সামনে তাওরাত এবং ইনজিল পাঠ করা হয়। আর ‘আয়দা’, ‘আওলাক’ এবং ‘আউতাকি’ শব্দগুলোতে ‘ইয়া’ এবং ‘ওয়াও’-এর পরিবর্তে ‘হামযা’-কে অতিরিক্ত ধরা, কারণ ‘আফআল’ ওজনকে ‘ফায়আল’ এবং ‘ফাউআল’ এর চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। আর ‘ইম্মায়াহ’ শব্দে ‘দ্বিত্ব বর্ণকে’ অতিরিক্ত ধরা, কারণ ‘ফালাহ’ ওজনকে ‘আফআলাহ’ (যার ফা এবং আইন একই জাতীয় বর্ণ) এর চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এটি ‘আম্মরা’ সম্পর্কে আমরা যা পূর্বে উল্লেখ করেছি তাকে জোরালো করে। আর ‘কিলতা’ শব্দে আলিফ অতিরিক্ত হওয়া এবং ‘ওয়াও’ থেকে ‘তা’ পরিবর্তিত হওয়া, কারণ ‘ফাতাল’ ওজনের অভাব রয়েছে। ‘আল-হাওলায়া’ শব্দটি ‘ফাউআলা’ ওজনের হবে, ‘ফালায়া’ নয়, কারণ এর অভাব রয়েছে। আর যেহেতু ‘ফাইলীত’ ওজনকে ‘ফাউউইল’ অপেক্ষা অধিক পাওয়া যায়, তাই ‘আযওয়াইত’ শব্দের ‘ফাইলীত’ হওয়া সুনিশ্চিত হয়। আমরা যা চেষ্টা করেছি সে বিষয়ে সচেতন করার জন্য এইটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব, কারণ যার সামান্য মেধা ও দৃঢ়তা আছে তার জন্য এই অল্পটুকুই যথেষ্ট। আর যে নির্বোধ, তোমার শপথ! তার জন্য দীর্ঘ আলোচনা কোনো উপকারে আসবে না, যদিও তার সামনে তাওরাত এবং ইনজিল পাঠ করা হয়।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌الفصل الثالث

‌‌في بيان مواضع يقع البدل فيها

‌‌عن حرف معين

الألف طرفا زائدة على الثلاثة أو ثالثة لكن قبلها ياء لا تكون إلا مبدلة عن ياء، وكذا إذا لم تكن قبلها ياء لكنها تمال أو صدر كلمتها واو اللهم إلا نادراً.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

বদল সংঘটিত হওয়ার স্থানসমূহের বর্ণনায়

নির্দিষ্ট অক্ষরের পরিবর্তে

শব্দের শেষে অবস্থিত আলিফ যখন তিন অক্ষরের অতিরিক্ত হয় অথবা যখন তা তৃতীয় অক্ষর হয় কিন্তু তার পূর্বে ইয়া থাকে, তখন তা কেবল ইয়া থেকেই পরিবর্তিত হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে, যখন তার পূর্বে ইয়া না-ও থাকে কিন্তু তাতে ইমালা করা হয় অথবা শব্দের শুরুতে ওয়াও থাকে, তবে বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত তা ইয়া থেকেই পরিবর্তিত হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٣١)
الباب الثاني في الطريق على معرفة الاعتبارات الراجعة على الهيئات والكلام فيه مبني على الأصل الممهد في الباب الأول من مراعاة الضبط وتجنب الانتشار.

اعلم أن الطريق على هذه الاعتبارات على نحو الطريق على الاعتبارات الأول من انتزاع كلي عن جزئيات وسلوكه هو أن تعمد لاستقراء الهيئات فيما يتناوله الاشتقاق متطلباً بين متناسبتها رد البعض على البعض عن تأمل تتفتح له أكمام المناسبات المستوجبة للرعاية هناك مصروف الاجتهاد في شأن الرد على اعتبار أبلغ ما يمكن من التدريج فيه فاعلاً ذلك عن كمال التنبه لمجاريه وشواهده وما يضاد ذلك ضابطاً إياها كل الضبط في أصول تستنبطها وقوانين وكأني بك وقد ألفت فيما سبق أن أكون النائب عنك في مظان الاستقراء ومداحض التأمل تنزع ها هنا على مألوفك فاستمع لما يتلى عليك وبالله التوفيق. ولنقدم أمام الخوض فيما نحن له عدة اصطلاحات لأصحابنا رحمهم الله، عسى أن يستعان بها على شيء من الاختصار في أثناء مساق الحديث، وهي أن الاسم أو الفعل إذا لم يكن في حروفه الأصول معتلاً سمي صحيحاً وسالماً، وإذا كان بخلافه سمي معتلا، ثم إذا كان معتل الفاء
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রূপান্তরসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট বিবেচ্য বিষয়সমূহ জানার পদ্ধতি প্রসঙ্গে। এ বিষয়ের আলোচনাটি প্রথম পরিচ্ছেদে সুপ্রতিষ্ঠিত সেই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে রচিত, যা হলো নির্ভুলতা বজায় রাখা এবং বিক্ষিপ্ততা পরিহার করা।

জেনে রাখুন, এই বিবেচ্য বিষয়গুলোর পথ হলো প্রথমোক্ত বিবেচ্য বিষয়গুলোর পথের মতোই, যা আংশিক বিষয়াবলি থেকে একটি সামগ্রিক নীতি আহরণ করার নামান্তর। এর অনুসরণের পদ্ধতি হলো, ব্যুৎপত্তির অন্তর্ভুক্ত রূপগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার সংকল্প করা, যেখানে সদৃশ বিষয়গুলোর মধ্যে একটিকে অপরটির দিকে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করা হবে। এটি এমন এক গভীর চিন্তার মাধ্যমে হতে হবে, যার ফলে সেখানে বিবেচনার যোগ্য আনুষঙ্গিক সম্পর্কের পরতগুলো উন্মোচিত হয়। এই প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব সূক্ষ্ম পর্যায়ক্রম বজায় রাখার ব্যাপারে পূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যয় করতে হবে। এই কাজ করার সময় এর গতিপ্রকৃতি, প্রমাণাদি এবং এর বিপরীত বিষয়গুলোর প্রতি পূর্ণ সজাগ থাকতে হবে এবং আপনার উদ্ভাবিত মূলনীতি ও নিয়মাবলির মধ্যে সেগুলোকে অত্যন্ত সুচারুরূপে গেঁথে নিতে হবে। আমার মনে হচ্ছে, আপনি পূর্বের মতো এখানেও আমাকে আপনার প্রতিনিধি হিসেবে পেতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন—যিনি পর্যালোচনার স্থানগুলোতে এবং চিন্তার গভীরে আপনার হয়ে কাজ করবেন। সুতরাং আপনার সামনে যা পাঠ করা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন। আল্লাহর সাহায্যেই সাফল্য লাভ হয়। মূল আলোচনা শুরু করার আগে আমাদের পূর্বসূরি আলিমগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর দয়া করুন) বেশ কিছু পরিভাষা উপস্থাপন করছি, যেন আলোচনার ধারা বজায় রাখার সময় এগুলো সংক্ষিপ্তকরণে সহায়তা করে। তা হলো: বিশেষ্য বা ক্রিয়ার মূল অক্ষরগুলোর মধ্যে যদি কোনো দুর্বল অক্ষর না থাকে, তবে তাকে ‘সহিহ’ ও ‘সালিম’ বলা হয়। আর যদি এর ব্যতিক্রম হয়, তবে তাকে ‘মু’তাল’ বলা হয়। অতঃপর যদি তার প্রথম মূলাক্ষরটি দুর্বল হয়—
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উলুম (পৃষ্ঠা: ٣٢)
سمي مثالاً، وإذا كان معتل العين سمي أجوف وذا الثلاثة، وإذا كان معتل اللام سمي منقوصاً وذا الأربعة، وإذا كان معتل الفاء والعين أو العين واللام سمي لفيفاً مقروناً، وإذا كان معتل الفاء واللام سمي لفيفاً مفروقاً، ثم إن صحيح الثلاثي أو معتله إذا تجانس العين منه واللام سمي مضاعفاً وكذا الرباعي إذا تجانس الفاء واللام الأولى منه والعين واللام الثانية منه سمي مضاعفاً وقد تقدم هذا، والأول حقه الإدغام وهذا لا مجال فيه لذلك، وإذ قد وقفت على ذلك فلنعد على الموعود منبهين على أن الكلمة المستقرأة نوعان: نوع يشهد التأمل لتقدمه في باب الاعتبار، ونوع بخلافه والثاني هي الأفعال ومن الأسماء ما يتصل بها وقد تنبهت لها في صدر الكتاب والأول هي ما عدا ذلك وتسمى الأسماء الجوامد، ووجه التقدم والتأخر بين النوعين على ما يليق بهذا الموضع هو أن الفعل لتركب معناه ظاهر التأخر عن الجوامد وما يتصل به من الأسماء لاشك في فرعيتها عليه إلا المصدر فقط عند أصحابنا البصريين رحمهم الله، ودليل إعلال المصدر وتصحيحه باعتبار ذلك في الفعل وستقف عليه في أثناء النوع الثاني يرجح عندي مذهب الكوفيين فليتأمل المنصف وفرع المتأخر عن الشيء لابد من أن يكون متأخرا عن ذلك الشيء، ونحن على أن نراعي في إيراد النوعين حق الترتيب والله المستعان وعليه التكلان.

 

‌‌النوع الأول

وهو مشتمل على فصلين: أحدهما في

 

‌‌هيئات المجرد من ذلك، والثاني في هيئات المزيد.؟؟؟؟؟
তাকে মিছাল বলা হয়; আর যদি ‘আইন’ বর্ণটি হরফে ইল্লত বা দুর্বল বর্ণ হয় তবে তাকে আযওয়াফ এবং ‘যা-ছুলাছাহ’ (তিন অক্ষরের অধিকারী) বলা হয়; আর যদি ‘লাম’ বর্ণটি দুর্বল হয় তবে তাকে মানকুস এবং ‘যা-আরবাআহ’ (চার অক্ষরের অধিকারী) বলা হয়। আর যদি ‘ফা’ ও ‘আইন’ বর্ণ অথবা ‘আইন’ ও ‘লাম’ বর্ণ দুর্বল হয় তবে তাকে লাফিফে মাকরুন বলা হয়। আর যদি ‘ফা’ ও ‘লাম’ বর্ণ দুর্বল হয় তবে তাকে লাফিফে মাফরুক বলা হয়। অতঃপর ছালাছি (ত্রিপদী) সহীহ হোক বা মো’তাল, যদি তার ‘আইন’ ও ‘লাম’ বর্ণ সমজাতীয় হয় তবে তাকে মুদাআফ বলা হয়। তদ্রূপ রুবায়ী (চতুষ্পদী) শব্দের প্রথম ‘ফা’ ও প্রথম ‘লাম’ এবং দ্বিতীয় ‘আইন’ ও দ্বিতীয় ‘লাম’ যদি সমজাতীয় হয় তাকেও মুদাআফ বলা হয় এবং এটি পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে। প্রথম প্রকারের (ছালাছি মুদাআফ) দাবি হলো ইদগাম করা, তবে দ্বিতীয় প্রকারের (রুবায়ী) ক্ষেত্রে এর কোনো সুযোগ নেই। যখন আপনি বিষয়টি অবগত হলেন, তখন চলুন আমরা প্রতিশ্রুত আলোচনায় ফিরে যাই এবং এই বিষয়ে সজাগ করি যে, পর্যালোচিত শব্দসমূহ দুই প্রকার: এক প্রকার যার অগ্রগামিতা বিবেচনার ক্ষেত্রে চিন্তাশীলদের সাক্ষ্য রয়েছে, আর অন্য প্রকারটি এর ব্যতিক্রম। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো ক্রিয়াপদ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্যসমূহ, যা গ্রন্থের শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে। আর প্রথম প্রকারটি হলো তদ্ব্যতীত অন্যান্য শব্দ, যাদের আসমায়ে জামিদাহ (মৌলিক বিশেষ্য) বলা হয়। এই দুই প্রকারের মধ্যে অগ্রগামিতা ও পশ্চাদগামিতার কারণ যা এই স্থানের উপযোগী তা হলো, ক্রিয়াপদ তার অর্থের জটিলতার কারণে দৃশ্যত মৌলিক বিশেষ্যসমূহ থেকে পশ্চাদবর্তী। আর ক্রিয়াপদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্যসমূহ যে তারই শাখা, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই; তবে আমাদের বসরাবাসী আলেমদের (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) নিকট কেবল মাসদার (ক্রিয়ামূল) এর ব্যতিক্রম। মাসদারের ই’লাল (রূপান্তর) ও তাসহিহ (অপরিবর্তিত থাকা) ক্রিয়াপদের অনুরূপ হওয়া—যা আপনি দ্বিতীয় প্রকারের আলোচনার মাঝে জানতে পারবেন—আমার নিকট কুফাবাসীদের মাযহাবকেই প্রধান্য দেয়। অতএব ইনসাফগার ব্যক্তি যেন তা গভীরভাবে চিন্তা করেন। আর কোনো বিষয়ের পশ্চাদবর্তী জিনিসের শাখা অবশ্যই সেই মূল বিষয় থেকে পশ্চাদবর্তী হবে। আমরা উভয় প্রকার উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যথাযথ ক্রমধারা রক্ষা করার সংকল্প করছি। আল্লাহই সাহায্যকারী এবং তাঁরই ওপর ভরসা।

 

‌‌প্রথম প্রকার

এটি দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত: প্রথমটি হলো

 

‌‌মুজাররাদ (মৌলিক) রূপসমূহ সম্পর্কে, আর দ্বিতীয়টি মাজিদ (অতিরিক্ত যুক্ত) রূপসমূহ সম্পর্কে।