(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: -)
ستة مجالس لأبي يعلى الفراء   (القاضي أبو يعلى ابن الفراء)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء فيه ستة مجالس من أمالي القاضي أبي يعلى الفراء

المؤلف: القاضي أبو يعلى، محمد بن الحسين بن محمد بن خلف المعروف بـ ابن الفراء (ت 458هـ)

المحقق: محمد بن ناصر العجمي

الناشر: دار البشائر - دار الصديق

الطبعة: الأولى 2004 م

عدد الصفحات: 97

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: أحمد الخضري (نسخ)، ويا باغي الخير أقبل (مقابلة)

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433

আবু ইয়ালা আল-ফাররা-এর ছয়টি মজলিস   (কাজী আবু ইয়ালা ইবনুল ফাররা)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: কাজী আবু ইয়ালা আল-ফাররা-এর আমালি থেকে সংগৃহীত ছয়টি মজলিসের একটি অংশ

লেখক: কাজী আবু ইয়ালা, মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ, যিনি ইবনুল ফাররা নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি

প্রকাশক: দারুল বাশায়ির - দারুস সিদ্দিক

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৭

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমদ আল-খুদরি (অনুলিপি), ইয়া বাগিয়াল খায়ের আকবিল (পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাইকরণ)

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٤٧)
جزء فيه ستة مجالس من أمالي

القاضي أبي يَعْلَى مُحَمَّد بْن الْحُسَيْن بْن محمد بن خلف بن الفراء

رواية القاضي أبي بكر محمد بن عبد الباقي بن محمد الأنصاري عنه

رواية أبي حفص عمر بن محمد بن طبرزذ عنه سماعاً وإجازة

رواية الشيخين

قاضي القضاة شمس الدين أبي محمد عبد الرحمن بن

محمد بن أحمد بن قدامة

وفخر الدين أبي الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عبد الواحد المقدسيين

كليهما عنه

سماعاً منهما لمالكه أبي الحسن علي بن مسعود بن نفيس الموصلي

أثابه الله الجنة
একটি খণ্ড যাতে রয়েছে আমালি (শ্রুতিলিপি) থেকে সংগৃহীত ছয়টি মজলিস

কাজি আবু ইয়ালা মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন আল-ফাররা

তাঁর থেকে কাজি আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি বিন মুহাম্মদ আল-আনসারির বর্ণনা

তাঁর থেকে শ্রবণ ও অনুমতির মাধ্যমে আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন তাবারজাদের বর্ণনা

দুই শাইখের বর্ণনা

প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন

মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন কুদামা

এবং ফখরুদ্দিন আবুল হাসান আলি বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি

তাঁরা উভয়েই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন

এর স্বত্বাধিকারী আবু হাসান আলি বিন মাসউদ বিন নাফিস আল-মাওসিলির জন্য তাঁদের উভয়ের নিকট হতে শ্রবণের মাধ্যমে

আল্লাহ তাঁকে জান্নাত দ্বারা পুরস্কৃত করুন।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٤٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌الْمَجْلِسُ الأَوَّلُ

أَخْبَرَنَا الشَّيْخَانِ قَاضِي الْقُضَاةِ شَيْخُ الإِسْلامِ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ ابْنُ الشَّيْخِ أَبِي عُمَرَ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ قُدَامَةَ وَالإِمَامُ فَخْرُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَقْدِسِيَّانِ قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا مُنْفَرِدَيْنِ قُلْتُ لِكُلٍّ مِنْهُمَا:

أَخْبَرَكَ أَبُو حَفْصِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزَذَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ في سنة 604 قِيلَ لَهُ أَخْبَرَكَ الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيُّ إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا قَالَ أَنْبَأَ الْقَاضِي أَبُو يَعْلَى مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خَلَفِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْفَرَّاءِ إِمْلاءً فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ التَّاسِعِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ مِنْ سَنَةِ 456 قال:

1 - أنبأ أبو لحسن عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ الْحَرْبِيُّ السُّكَّرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي صَفَرٍ سنة 386 قال: حدثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الجبار الصوفي قال: حدثنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حدثنا عَبْدُ الأَعْلَى هُوَ ابْنُ عَبْدِ الأَعْلَى السَّامِيُّ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: ⦗ص: 50⦘ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " تَفْضُلُ صَلاةُ الْجَمِيعِ عَلَى صَلَاةِ الرَّجُلِ وَحْدَهُ خَمْسًا وَعِشْرِينَ دَرَجَةً قَالَ وَتَجْتَمِعُ مَلائِكَةُ اللَّيْلِ وَمَلائِكَةُ النَّهَارِ فِي صَلاةِ الْفَجْرِ".

قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ اقرؤوا إن شئتم {وقرآن الفجر إن قرآن الفجر كان مشهودا}.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌প্রথম মজলিস

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শায়খ—প্রধান বিচারপতি শাইখুল ইসলাম শামসুদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে শায়খ আবু উমর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা এবং ইমাম ফখরুদ্দিন আবুল হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী; তাঁদের দুজনের নিকট পৃথকভাবে পাঠ করার মাধ্যমে। আমি তাঁদের প্রত্যেককে বলেছি:

আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মা’মার ইবনে তাবারযাদ ৬০৪ হিজরী সনে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তাঁকে বলা হয়েছে: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন বিচারপতি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল বাকী ইবনে মুহাম্মাদ আল-আনসারী—সরাসরি শ্রবণ না হলেও অন্তত অনুমতির মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারপতি আবু ইয়া’লা মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে খালাফ ইবনে আহমাদ ইবনে আল-ফাররা ৪৫৬ হিজরী সনের ২৯শে জিলকদ রোজ শুক্রবার শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে; তিনি বলেন:

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শাযান আল-হারবী আস-সুককারী ৩৮৬ হিজরীর সফর মাসে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, আর আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে হাসান ইবনে আবদুল জব্বার আস-সূফী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি শায়বা; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল আ’লা—তিনি হলেন ইবনে আবদুল আ’লা আস-সামী—মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "জামাতের সালাত একাকী ব্যক্তির সালাতের ওপর পঁচিশ স্তর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে।" তিনি আরও বলেন: "রাতের ফেরেশতা ও দিনের ফেরেশতারা ফজরের সালাতে একত্রিত হন।"

আবু হুরায়রা বলেন, তোমরা চাইলে পাঠ করতে পারো: {আর ফজরের কুরআন পাঠ; নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ প্রত্যক্ষ করা হয়}।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٠)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ أخي ميمي الدقاق قال: حدثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عبد العزيز البغوي حدثنا أَبُو رَوْحٍ مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادِ بن فروة البلدي حدثنا أَبُو شِهَابٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَقَالَ إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ عز وجل عِيَانًا كَمَا تَرَوْنَ هَذَا لا تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لا تُغْلَبُوا عَلَى صَلاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ وَقَرَأَ {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الغروب}.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مُوسَى عَنْ عَاصِمِ بْنِ يُوسُفَ الْيَرْبُوعِيِّ عَنْ أَبِي شِهَابٍ فَكَأَنِّي سَمِعْتُهُ مِنَ الْبُخَارِيِّ.
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আখি মিমি আদ-দাক্কাক, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু রাওহ মুহাম্মদ বিন জিয়াদ বিন ফারওয়া আল-বালাদি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু শিহাব, তিনি ইসমাঈল বিন আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়স বিন আবি হাজিম থেকে, তিনি জারির বিন আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের দিকে তাকালেন এবং বললেন, "নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের প্রতিপালক মহান ও পরাক্রমশালীকে চাক্ষুষ দেখতে পাবে, যেমন তোমরা এই চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ। তাঁকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কোনো ভিড় বা অসুবিধার সম্মুখীন হবে না। সুতরাং যদি তোমরা সূর্যোদয়ের আগের সালাত এবং সূর্যাস্তের আগের সালাত আদায়ে পরাজিত না হওয়ার সামর্থ্য রাখো, তবে তা করো।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {এবং আপনার প্রতিপালকের প্রশংসার পবিত্রতা ঘোষণা করুন সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগে}।

এটি একটি সহিহ হাদিস। ইমাম বুখারি এটি ইউসুফ বিন মুসা থেকে, তিনি আসিম বিন ইউসুফ আল-ইয়ারবুয়ি থেকে, তিনি আবু শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে (সনদটি উচ্চ হওয়ার কারণে) মনে হচ্ছে যেন আমি এটি সরাসরি ইমাম বুখারি থেকেই শুনেছি।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥١)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ مُوسَى بْنُ عِيسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّرَّاجُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ سَنَةَ 386 حدثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْبَاغَنْدِيِّ حدثنا عيسى بن حماد زغبة أخبرنا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلانَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ رَجُلا لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ وَإِنَّهُ كَانَ يُدَايِنُ النَّاسَ فَيَقُولُ لِرَسُولِهِ خُذْ مَا تَيَسَّرَ وَاتْرُكْ مَا تَعَسَّرَ وَتَجَاوَزْ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَتَجَاوَزَ عَنَّا فَلَمَّا هَلَكَ قِيلَ لَهُ هَلْ عَمِلْتَ خَيْرًا قَطُّ قَالَ لا إِلا أَنِّي كَانَ لِي غُلامٌ فَكُنْتُ أُدَايِنُ النَّاسَ ، فَإِذَا بَعَثْتُهُ لِيَقْبِضَهَا قُلْتُ لَهُ خُذْ مَا تَيَسَّرَ وَاتْرُكْ مَا تَعَسَّرَ وَتَجَاوَزْ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَتَجَاوَزَ عَنَّا فَقَالَ اللَّهُ عز وجل قَدْ تَجَاوَزْتُ عَنْكَ.
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম মূসা ইবনে ঈসা ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাররাজ, ৩৮৬ হিজরি সনে তাঁর সামনে পাঠকালে আমি তা শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল বাগান্দী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে হাম্মাদ জুগবা। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস ইবনে সাদ, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: এক ব্যক্তি কখনো কোনো সৎকাজ করেনি, তবে সে মানুষকে ঋণ প্রদান করত। সে তার প্রতিনিধিকে বলত, "যা সহজসাধ্য তা গ্রহণ করো এবং যা কষ্টসাধ্য তা বর্জন করো, আর ক্ষমা ও মার্জনা করো; যেন আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেন।" অতঃপর যখন সে মৃত্যুবরণ করল, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "তুমি কি কখনো কোনো সৎকাজ করেছ?" সে বলল, "না, তবে আমার এক গোলাম ছিল এবং আমি মানুষকে ঋণ প্রদান করতাম। যখন আমি তাকে পাওনা উসুলের জন্য পাঠাতাম, তখন তাকে বলতাম—যা সহজসাধ্য তা গ্রহণ করো এবং যা কষ্টসাধ্য তা বর্জন করো, আর ক্ষমা ও মার্জনা করো; যেন আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেন।" তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বললেন, "আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।"
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥١)
4 - أَخْبَرَنَا وَالِدِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خَلَفِ بْنِ أَحْمَدَ الْفَرَّاءُ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ: حدثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ إِسْحَاقَ السوسي قال: حدثنا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ زُهَيْرٍ التستري حدثنا بنان بن سليمان قال: حدثنا الحسن بن عطية حدثنا قَيْسٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْر ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا مِنْ أيام يقرب اللَّهِ عز وجل فِيهَا الْعَمَلُ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ يَعْنِي الْعَشْرَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلا المجاهد في سبيل الله عز وجل قال وَلا الْمُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلا أَنْ يُجَاهِدَ بِنَفْسِهِ ⦗ص: 52⦘ وَمَالِهِ ولا يرجع بِشَيْءٍ.
৪ - আমাদের পিতা আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে খালাফ ইবনে আহমাদ আল-ফাররা (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে আবদির রাহিম ইবনে ইসহাক আস-সুসি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জুহাইর আত-তুস্তারি আমাদের বর্ণনা করেছেন, বানান ইবনে সুলাইমান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, কাইস আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: এমন কোনো দিন নেই যাতে আমল মহান আল্লাহর নিকট এই দিনগুলোর—অর্থাৎ (জিলহজের) দশ দিনের—চেয়ে অধিক প্রিয় বা নৈকট্যদানকারী। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর পথে জিহাদকারীও কি নয়? তিনি বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদকারীও নয়, তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে নিজের জীবন ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে বের হয়েছে এবং কোনো কিছু নিয়েই ফিরে আসেনি।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٢)
5 - حَدَّثَنِي جَدِّي أَبُو الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ يَحْيَى قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنْ أَصْلِ كِتَابِهِ وذلك في سنة 388 قال قرىء عَلَى أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمِصْرِيِّ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي شهر رمضان سنة 335 حدثنا يوسف بن يزيد حدثنا أسد بن موسى حدثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ أَتَى أَهْلُ الْيَمَنِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْعَثْ مَعَنَا رَجُلا يُعَلِّمُنَا فَأَخَذَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِ أَبِي عُبَيْدَةَ فَدَفَعَهُ إِلَيْهِمْ وَقَالَ هَذَا أَمِينُ هَذِهِ الأُمَّةِ.
৫ - আমার দাদা আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠের মাধ্যমে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আর এটি ছিল ৩৮৮ হিজরি সালে। তিনি বলেন, আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-মিসরীর নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম ৩৩৫ হিজরি সালের রমজান মাসে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইউসুফ বিন ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আসাদ বিন মুসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন সালামাহ বর্ণনা করেছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়ামেনবাসীরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সাথে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করুন যিনি আমাদের শিক্ষা দেবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু উবায়দাহ-এর হাত ধরলেন এবং তাঁকে তাদের নিকট সপে দিলেন এবং বললেন: ইনি হলেন এই উম্মতের আমানতদার।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٢)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ عِيسَى الْوَزِيرُ إِمْلاءً قَالَ قُرِئَ عَلَى أَبِي عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْوَرَّاقِ وَأَنَا أَسْمَعُ قِيلَ لَهُ حَدَّثَكُمْ عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ حَدَّثَنَي مَسْعُودُ بْنُ وَاصِلٍ عَنِ النَّهَّاسِ بْنِ قَهْمٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عز وجل أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ فِيهَا ⦗ص: 53⦘ مِنْ أَيَّامِ الْعَشْرِ وَإِنَّ الْيَوْمَ مِنْ صِيَامِهَا يَعْدِلُ صِيَامَ سَنَةٍ وَلَيْلَةٌ مِنْهَا بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ.
৬ - আমাদের নিকট আবুল কাসিম ঈসা বিন আলী বিন ঈসা আল-ওয়াজির শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আলী ইসমাঈল বিন আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াররাকের নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি তা শুনছিলাম; তাঁকে বলা হয়েছিল: আপনার নিকট উমর বিন শাব্বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাসউদ বিন ওয়াসিল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আন-নাহহাস বিন কাহম থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যাব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর নিকট যিলহজের দশ দিনের চেয়ে প্রিয় অন্য কোনো দিন নেই যাতে তাঁর ইবাদত করা হয়; ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ এই দিনগুলোর এক দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমতুল্য এবং এর এক রাত লাইলাতুল কদরের সমতুল্য।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٣)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ علي بن عيسى إملاء حدثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الأشعث حدثنا محمد بن أيوب الصوفي حدثنا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ هَارُونَ الْغَسَّانِيُّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي الرَّوَّادِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ عَشِيَّةُ عَرَفَةَ بَاهَى اللَّهُ بِالْحَاجِّ فَيَقُولُ لِمَلائِكَتِهِ انْظُرُوا إِلَى عِبَادِي شُعْثًا غُبْرًا قَدْ أَتَوْنِي مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ يَرْجُونَ رَحْمَتِي وَمَغْفِرَتِي أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ إِلا مَا كَانَ مِنْ تَبِعَاتِ بَعْضِهِمْ بَعْضًا ، فَإِذَا كَانَ غَدَاةُ الْمُزْدَلِفَةِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِلْمَلائِكَةِ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ تَبِعَاتِ بَعْضِهِمْ بَعْضًا وَضَمِنْتُ لأَهْلِهَا النَّوَافِلَ.
৭ - আবুল কাসিম ঈসা ইবনে আলী ইবনে ঈসা ইমলা সূত্রে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে আল-আশআস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব আস-সুফি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রহিম ইবনে হারুন আল-গাসসানি আব্দুল আজিজ ইবনে আবু রাওয়াদ থেকে, তিনি নাফি থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আরাফার সন্ধ্যা উপস্থিত হয়, তখন আল্লাহ হাজীদের নিয়ে গর্ব করেন এবং ফেরেশতাদের বলেন: 'তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকাও, তারা আলুথালু চুলে এবং ধূলিমলিন অবস্থায় প্রতিটি দূর-দূরান্তের পথ পাড়ি দিয়ে আমার নিকট এসেছে। তারা আমার রহমত ও ক্ষমা প্রত্যাশা করছে। আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি, তবে তাদের একে অপরের প্রতি পারস্পরিক পাওনা বা দায়বদ্ধতাগুলো ব্যতীত।' অতঃপর যখন মুজদালিফার সকাল হয়, তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বলেন: 'আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতাগুলোও ক্ষমা করে দিয়েছি এবং পাওনাদারদের জন্য আমি অতিরিক্ত প্রতিদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।'"
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٣)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ حُبَابَةَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قال حدثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عبد العزيز البغوي حدثنا علي بن الجعد أخبرنا شُعْبَةُ عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ⦗ص: 54⦘ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لا يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ مِنْ ضُرٍّ أَصَابَهُ ، فَإِنْ كَانَ لا بُدَّ فَاعِلا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لي.
৮ - আবুল কাসিম উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে হাবাবাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ী আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল জা'দ আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন তার ওপর আপতিত কোনো বিপদের কারণে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে। তবে যদি কাউকে তা করতেই হয়, তবে সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমাকে ততক্ষণ জীবিত রাখুন যতক্ষণ বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দান করুন যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٤)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو الطَّيِّبِ عُثْمَانُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْمُنْتَابِ الإِمَامُ الشَّيْخُ الصَّالِحُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سَنَةِ 385 وَهُوَ أَوَّلُ شَيْخٍ سَمِعْتُ مِنْهُ الحديث قال: حدثنا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بن صاعد حدثنا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ: أنبا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ قال: أخبرنا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "أَلا كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مسؤول عَنْ رَعِيَّتِهِ، فَالأَمِيرُ رَاعٍ وَهُوَ مسؤول عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أهله، وهو مسؤول عن رعيته، ومرأة الراجل رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ بَعْلِهَا، وَوَلَدِهِ وهي مسؤولة عَنْهُ، وَعَبْدُ الرَّجُلِ رَاعٍ عَلَى مال سيده وهو مسؤول عَنْهُ، أَلا فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مسؤول عن رعيته".
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুত্তায়্যিব উসমান ইবন আমর ইবনুল মুনতাব, যিনি ইমাম ও সৎ শায়খ; ৩৮৫ হিজরি সনে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি প্রথম শায়খ যাঁর নিকট থেকে আমি হাদিস শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ ইবন সায়িদ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মূসা ইবন উকবা, নাফি’ থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জেনে রেখো, তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং শাসক একজন দায়িত্বশীল এবং সে তার প্রজাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের ওপর একজন দায়িত্বশীল এবং সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। আর স্ত্রী তার স্বামীর ঘর ও সন্তানের ওপর দায়িত্বশীল এবং সে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। ব্যক্তির গোলাম তার মালিকের সম্পদের ওপর দায়িত্বশীল এবং সে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। জেনে রেখো, তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।"
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٤)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْمُخَلِّصُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ: حدثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عبد العزيز البغوي قال: حدثنا داود بن رشيد قال: حدثنا الْوَلِيدُ يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ عَنْ زُهَيْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِالْوَالِي خَيْرًا جَعَلَ لَهُ وَزِيرَ صِدْقٍ إِنْ نَسِيَ ذَكَّرَهُ وَإِنْ ذَكَرَ أَعَانَهُ ، وَإِذَا أَرَادَ بِهِ غَيْرَ ذَلِكَ جَعَلَ لَهُ وَزِيرَ سُوءٍ إِنْ نَسِيَ لَمْ يُذَكِّرْهُ وَإِنْ ذَكَرَ لَمْ يُعِنْهُ.
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্বাস আল-মুখাল্লিস, তাঁর নিকট এটি পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে রাশিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ অর্থাৎ ইবনে মুসলিম, যুহাইর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আল-কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন আল্লাহ কোনো শাসকের কল্যাণ চান, তখন তিনি তাকে একজন সত্যবাদী উজির (সহযোগী) দান করেন; যদি সে কোনো কিছু ভুলে যায় তবে সে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, আর যদি সে স্মরণ করে তবে সে তাকে সহায়তা করে। আর যখন তিনি তার জন্য এর বিপরীত কিছু (অকল্যাণ) চান, তখন তিনি তাকে একজন মন্দ উজির দান করেন; যদি সে ভুলে যায় তবে সে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় না, আর যদি সে স্মরণ করে তবে সে তাকে সহায়তা করে না।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٥)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مَعْرُوفِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَزَّازُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي جُمَادَى الأولى سنة 386 قال: حدثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ حدثنا علي بن الجعد قال: حدثنا شُعْبَةُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ قَالَ: سَمِعْتُ سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَوْسَطَ الْبَجَلِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رضي الله عنه بَعْدَمَا قُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ أَوَّلٍ مَقَامِي هَذَا ثُمَّ بَكَى أَبُو بَكْرٍ ، ثُمَّ قَالَ: عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّهُ مَعَ الْبِرِّ وَهُمَا فِي الْجَنَّةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّهُ مَعَ الْفُجُورِ وَهُمَا فِي النَّارِ وَسَلُوا اللَّهَ المعافاة فإنه لم يؤتى أحد شيئا بعد اليقين خير مِنَ الْمُعَافَاةِ وَلا تَقَاطَعُوا وَلا تَدَابَرُوا وَلا تَحَاسَدُوا وَلا تَبَاغَضُوا وكونوا عباداً الله إِخْوَانًا.
১১ - আবুল হাসান আলী বিন মারুফ বিন মুহাম্মদ আল-বাযযার আমাদের নিকট পাঠ করে শুনিয়েছেন এবং আমি তা শ্রবণ করেছি ৩৮৬ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আযীয আল-বাগাওয়ী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী বিন আল-জাদ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, ইয়াযীদ বিন খুমাইর থেকে, তিনি বলেন: আমি সুলাইম বিন আমিরকে আওসাত আল-বাজালী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গত বছর আমার এই দাঁড়ানোর স্থানে দাঁড়িয়েছিলেন।" অতঃপর আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কেঁদে ফেললেন। এরপর তিনি বললেন: "তোমরা সত্যবাদিতাকে আঁকড়ে ধরো, কারণ তা নেক আমলের সাথে থাকে এবং তারা উভয়ই জান্নাতে থাকবে। আর তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা পাপাচারের সাথে থাকে এবং তারা উভয়ই জাহান্নামে থাকবে। আর তোমরা আল্লাহর কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করো, কেননা দৃঢ় বিশ্বাসের (ইয়াকীন) পর সুস্থতার চেয়ে উত্তম কিছু কাউকে প্রদান করা হয়নি। তোমরা একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না, একে অপরের থেকে বিমুখ হয়ো না, একে অপরের প্রতি হিংসা করো না এবং একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাও।"
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٥)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْمُخَلِّصُ قال: حدثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عبد العزيز البغوي قال: حدثنا وهب بن بقية ⦗ص: 56⦘ حدثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُفْيَانَ الْوَاسِطِيُّ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاء عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ رَآنِي النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أمشي أمام أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه فَقَالَ " يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ أَتَمْشِي أَمَامَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْكَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ مَا طَلَعَتْ شَمْسٌ وَلا غَرَبَتْ عَلَى أَحَدٍ بَعْدَ النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ أَفْضَلَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه ".
১২ - আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আল-আব্বাস আল-মুখলিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল আজিজ আল-বাগাউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াহব ইবন বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘ আবদুল্লাহ ইবন সুফিয়ান আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু দারদা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: নবী (আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আমাকে আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর সামনে হাঁটতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন, "হে আবু দারদা! তুমি কি এমন ব্যক্তির সামনে হাঁটছো যিনি দুনিয়া ও আখিরাতে তোমার চেয়ে উত্তম? নবী ও রাসূলগণের পর এমন কোনো ব্যক্তির ওপর সূর্য উদিত হয়নি এবং অস্ত যায়নি, যিনি আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ।"
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٦)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ فِيمَا أَذِنَ لَنَا أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ الْحُسَيْنِ بْنِ عُمَرَ الْبَزَّازَ حَدَّثَهُ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ عِصَامٍ الْحَرْبِيِّ قَالَ رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنِّي قَدْ دَخَلْتُ دَرْبَ هِشَامٍ فَلَقِيَنِي بِشْرُ بْنُ الْحَارِثِ فَقُلْتُ مِنْ أَيْنَ يَا أَبَا نَصْرٍ قَالَ مِنْ عِلِّيِّينَ قُلْتُ فَمَا فَعَلَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ قَالَ تَرَكْتُ السَّاعَةَ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ وَعَبْدَ الْوَهَّابِ الْوَرَّاقَ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ عز وجل يَأْكُلانِ وَيَشْرَبَانِ وَيَتَنَعَّمَانِ قُلْتُ فَأَنْتَ قَالَ عَلِمَ اللَّهُ عز وجل قِلَّةَ رَغْبَتِي فِي الطَّعَامِ فَأَبَاحَنِي النَّظَرَ إِلَيْهِ عز وجل.

آخِرُ الْمَجْلِسِ الأَوَّلِ
১৩ - আবুল ফজল আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ আয-যুহরী আমাদের নিকট যা বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন তাতে আমাদের অবহিত করেছেন যে, হামযাহ ইবনুল হুসাইন ইবন উমর আল-বাযযার তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবন জাফর আমাকে ইছাম আল-হারবী থেকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি হিশামের গলিতে প্রবেশ করেছি, তখন বিশর ইবনুল হারিস আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। আমি বললাম, “হে আবু নাসর, আপনি কোথা থেকে আসছেন?” তিনি বললেন, “ইল্লিয়্যিন থেকে।” আমি বললাম, “আহমদ ইবন হাম্বল কী করছেন?” তিনি বললেন, “আমি এইমাত্র আহমদ ইবন হাম্বল ও আবদুল ওয়াহহাব আল-ওয়াররাককে মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর দুই হাতের সামনে রেখে এসেছি; তারা আহার করছেন, পান করছেন এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করছেন।” আমি বললাম, “আর আপনার কী অবস্থা?” তিনি বললেন, “মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ খাবারের প্রতি আমার অনাগ্রহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তাই তিনি আমাকে তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করার অনুমতি দিয়েছেন।”

প্রথম মজলিসের সমাপ্তি
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٧)
‌‌الْمَجْلِسُ الثَّانِي

حَدَّثَنَا الْقَاضِي الإِمَامُ السَّعِيدُ أَبُو يَعْلَى مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ خَلَفِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْفَرَّاءِ إِمْلاءً فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ بَعْدَ الصَّلاةِ فِي جَامِعِ الْمَنْصُورِ خَامِسَ الْمُحَرَّمِ من سنة 457 قَالَ:

14 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ السُّكَّرِيُّ الْحَرْبِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، فِي صَفَرٍ سَنَةَ ست وثمانين وثلاثمئة قال: حدثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الجبار الصوفي حدثنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حدثنا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى (1) عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَثَلُ الْمُؤْمِنِ مَثَلُ الزَّرْعِ لا تَزَالُ الرِّيحُ تُمِيلُهُ وَلا يَزَالُ الْمُؤْمِنُ يُصِيبُهُ بَلاءٌ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ كَمَثَلِ شَجَرَةِ الأَرْزِ لا تهتز حتى تستحصد ".

--------------------------------------------

(1) في نسخة أخرى زيادة: السَّامِيّ.
দ্বিতীয় মজলিস

আমাদের নিকট সুপ্রসিদ্ধ ইমাম আবু ইয়ালা মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনে আহমদ ইবনুল ফারা ৪৫৭ হিজরির ৫ই মহররম শুক্রবার জুমার নামাজের পর মানসুর জামে মসজিদে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

১৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে ওমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আস-সুক্কারি আল-হারবি, ৩৮৬ হিজরির সফর মাসে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সুফি, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি শায়বা, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল আলা ইবনে আব্দুল আলা (১), মা'মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "মুমিনের উদাহরণ হলো নরম শস্যের মতো, যাকে বাতাস সর্বদা হেলাদোলা করতে থাকে এবং মুমিন সর্বদা বিপদে আক্রান্ত হয়। আর মুনাফিকের উদাহরণ হলো আরজ (সিডার) বৃক্ষের মতো, যা কর্তিত হওয়ার আগে পর্যন্ত নড়াচড়া করে না।"

--------------------------------------------

(১) অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত রয়েছে: আস-সামি।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٧)
15 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ عِيسَى بْنِ دَاوُدَ بن الجراح الوزير حدثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ قال: حدثنا هدبة بن خالد حدثنا حمَّاد بْنُ سَلَمة عَنْ ثَابِتٍ عن عبد الرحمن ابن أَبِي لَيْلَى عَنْ صُهَيْبٍ قَالَ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وزيادة} قَالَ: " إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ وَأَهْلُ النَّارِ النَّارَ نَادَى مُنَادٍ إِنَّ لَكُمْ ⦗ص: 58⦘ عِنْدَ اللَّهِ عز وجل مَوْعِدًا يُرِيدُ أَنْ يُنْجِزَكُمُوهُ فَيَقُولُونَ مَا هُوَ أَلَمْ يُثَقِّلْ مَوَازِينَنَا وَيُبَيِّضْ وُجُوهَنَا وَيُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَيُجِرْنَا مِنَ النَّارِ فَيُكْشَفُ لَهُمُ الْحِجَابُ فَيَنْظُرُونَ إِلَى اللَّهِ عز وجل فَمَا شَيْءٌ أُعْطُوهُ هُوَ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَيْهِ وَهِيَ الزِّيَادَةُ ".
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম ঈসা ইবনে আলী ইবনে ঈসা ইবনে দাউদ ইবনুল জাররাহ আল-ওয়াজির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসেম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুদবাহ ইবনে খালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, সাবিত থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি সুহাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন— {যারা উত্তম কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং আরও অতিরিক্ত}। তিনি বললেন: "যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন একজন ঘোষণাকারী উচ্চস্বরে ঘোষণা করবেন: নিশ্চয়ই ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট তোমাদের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে যা তিনি তোমাদের জন্য পূর্ণ করতে চান। তখন তারা বলবে: সেটি কী? তিনি কি আমাদের নেকির পাল্লাসমূহ ভারী করে দেননি? আমাদের চেহারাগুলো উজ্জ্বল করে দেননি? আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি এবং আমাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? এরপর তাদের সামনে থেকে পর্দা উন্মোচন করে দেওয়া হবে, ফলে তারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে তাকাবে। তাদের প্রদানকৃত সকল বস্তুর মধ্যে আল্লাহর দিকে তাকানোর চেয়ে অধিক প্রিয় তাদের নিকট আর কিছুই হবে না। আর এটিই হলো সেই 'অতিরিক্ত'।"
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٨)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ مُوسَى بْنُ عِيسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّرَّاجُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي سنة 386 حدثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن سليمان الباغندي حدثنا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ النَّرْسِيُّ حدثنا حمَّاد بْنُ سَلَمة عَنْ قَتَادَةَ عَنْ غَيْلانَ بْنِ جَرِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ صَوْمُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ يُكَفِّرُ الْعَامَ الَّذِي قَبْلَهُ وَصَوْمُ يَوْمِ عَرَفَةَ يكفر العام الذي قبله والذي بَعْدَهُ.
১৬ - আবু আল-কাসিম মুসা ইবনে ঈসা ইবনে আবদুল্লাহ আস-সাররাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম ৩৮৬ হিজরি সনে। তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল-বাগন্দি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবদিল আ'লা ইবনে হাম্মাদ আন-নারসি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি গায়লান ইবনে জারির থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাবাদ আস-জিমমানি থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আশুরা দিবসের রোজা তার পূর্ববর্তী বছরের গুনাহ মোচন করে এবং আরাফা দিবসের রোজা তার পূর্ববর্তী বছর ও তার পরবর্তী বছরের গুনাহ মোচন করে।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٨)
17 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ عِيسَى بْنِ دَاوُدَ الوزير حدثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ حدثنا أَبُو سُلَيْمَانَ دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو الضبي حدثنا إسماعيل بن علية حدثنا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ تُرِكَ.
১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ঈসা ইবনে আলী ইবনে ঈসা ইবনে দাউদ আল-ওয়াজির, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজীজ আল-বাগাবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু সুলাইমান দাউদ ইবনে আমর আদ-দাব্বী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে উলইয়্যাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব, তিনি নাফে থেকে, আর তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশুরার রোজা পালন করেছেন এবং তা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো, তখন তা (আবশ্যকতা) ছেড়ে দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٨)
18 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ حُبَابَةَ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قال: حدثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ حدثنا عُبَيْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ العيشي ⦗ص: 59⦘ حدثنا سُفْيَانُ يَعْنِي ابْنَ عُيَيْنَةَ عَنْ عبد الله عمرو عن عكرمة قال حدثنا أَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ اللَّهَ عز وجل إِذَا قَضَى الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ ضَرَبَتِ الْمَلائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا، خُضْعَانًا لِقَوْلِهِ كَصَوْتِ السِّلْسِلَةِ عَلَى الصَّفْوَانِ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ عز وجل {حَتَّى إِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قالوا: الذي قال الحق وهو العلي الكبير} قَالَ: وَمُسْتَرِقُ السَّمْعِ رُبَّمَا أَدْرَكَهُ الشِّهَابُ قَبْلَ أَنْ يَرْمِيَ إِلَى صَاحِبِهِ بِهَا وَرُبَّمَا لَمْ يُدْرِكْهُ الشِّهَابُ حَتَّى يَرْمِيَ بِهَا إِلَى صَاحِبِهِ فَيَرْمِي بِهَا هَذَا إِلَى هَذَا وَهَذَا إِلَى هَذَا حَتَّى تُلْقَى عَلَى فَمِ سَاحِرٍ أَوْ كاهن فيكذب معها مئة كَذْبَةٍ، قَالَ فَيُصَدَّقُ وَيَقُولُ أَلَمْ يُخْبِرْ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا وَيَوْمَ كَذَا وَكَذَا فَوَجَدْنَاهُ حَقًّا وَهِيَ الْكَلِمَةُ الَّتِي سُمِعَتْ مِنَ السَّمَاءِ.

هَذَا حديثٌ صحيحٌ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنِ الْحُمَيْدِيِّ وَعَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ جَمِيعًا عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ.
১৮ - আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন হুবাবাহ আমাদের নিকট পাঠ করে শুনিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আয়িশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ সুফিয়ান অর্থাৎ ইবনে উয়ায়নাহ আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ যখন আকাশ থেকে কোনো ফয়সালা করেন, তখন ফেরেশতারা তাঁর বাণীর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে তাদের ডানাগুলো ঝাপটায়; যা মসৃণ পাথরের ওপর শিকল চালানোর শব্দের মতো মনে হয়। আর এটাই মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর সেই বাণী {অবশেষে যখন তাদের অন্তর থেকে আতঙ্ক দূর করা হয়, তখন তারা জিজ্ঞেস করে: 'তোমাদের রব কী বলেছেন?' তারা বলে: 'তিনি যা বলেছেন তা সত্য এবং তিনি সমুন্নত, মহান।'} তিনি বলেন: আর আড়ি পেতে শ্রবণকারী (শয়তান) কখনও তার সাথীর নিকট পৌঁছানোর আগেই উল্কাপিণ্ড তাকে আঘাত করে, আবার কখনও উল্কাপিণ্ড তাকে ধরার আগেই সে তা তার সাথীর নিকট পৌঁছে দেয়; এভাবে তারা একে অপরের নিকট পৌঁছাতে পৌঁছাতে শেষ পর্যন্ত তা কোনো জাদুকর বা গণকের মুখে গিয়ে পড়ে। এরপর সে এর সাথে একশটি মিথ্যা মিশ্রিত করে। তিনি বলেন: ফলে তাকে সত্যবাদী মনে করা হয় এবং বলা হয়, 'সে কি অমুক অমুক দিন আমাদের এই এই কথা বলেনি এবং আমরা কি তা সত্য পাইনি?' অথচ সেটি ছিল ওই একটি সত্য কথা যা আকাশ থেকে শোনা গিয়েছিল।

এটি একটি সহীহ হাদীস, ইমাম বুখারী এটি আল-হুমাইদী ও আলী বিন আল-মাদীনী উভয়ের সূত্রে সুফিয়ান বিন উয়ায়নাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٥٩)
19 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ أَخِي مِيمِيٍّ الدَّقَّاقُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وأنا أسمع سنة 386 قال: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ البغوي حدثنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ خَلادٍ الباهلي قال: حدثنا الوليد بن مسلم حدثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلانَ قَالَ: حَدَّثَنِي الْقَعْقَاعُ بْنُ حَكِيمٍ أَنَّ أَبَا صَالِحٍ السَّمَّانَ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا أَذْنَبَ ذَنْبًا كَانَتْ نُكْتَةٌ فِي قَلْبِهِ ، فَإِذَا تَابَ صُقِلَ قَلْبُهُ ، فَإِذَا زَادَ زَادَتْ حَتَّى يَسْوَدَّ قَلْبُهُ " قَالَ فَذَلِكَ قَوْلُهُ {كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يكسبون}.
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আখি মিমি আদ-দাক্কাক, তাঁর নিকট পাঠকালে আমি ৩৮৬ হিজরি সনে তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাভী। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন খাল্লাদ আল-বাহিলি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ বিন মুসলিম। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আজলান। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাক্কা বিন হাকিম যে, আবু সালেহ আস-সাম্মান তাকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা তাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "নিশ্চয়ই বান্দা যখন কোনো পাপ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো বিন্দু পড়ে। অতঃপর যদি সে তাওবা করে, তবে তার অন্তর পরিষ্কার করা হয়। আর যদি সে পাপ বাড়িয়ে দেয়, তবে সেই দাগও বাড়তে থাকে, এমনকি তা তার অন্তরকে কালো করে ফেলে।" তিনি বলেন: এটিই হলো মহান আল্লাহর বাণী {কখনোই না, বরং তারা যা অর্জন করত, তা-ই তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে}।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٦٠)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْمُخَلِّصُ حدثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ قال: حدثنا محمد بن عباد المكي حدثنا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ الْمَدِينِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُوَيْمِ بْنِ سَاعِدَةَ عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ اخْتَارَنِي وَاخْتَارَ لِي أَصْحَابًا فَجَعَلَ لِي فِيهِمْ وُزَرَاءَ وَأَنْصَارًا وَأَصْهَارًا فَمَنْ سَبَّهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلا عَدْلا.
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আব্বাস আল-মুখাল্লিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাভী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্বাদ আল-মাক্কী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন তালহা আল-মাদিনী, তিনি আব্দুর রহমান বিন সালিম বিন আব্দুল্লাহ বিন উওয়াইম বিন সায়েদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার জন্য আমার সাহাবীগণকে মনোনীত করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের মধ্য হতে আমার জন্য উজির, সাহায্যকারী এবং বৈবাহিক আত্মীয় নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের গালি দিবে, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোনো ফরজ কিংবা নফল ইবাদত কবুল করবেন না।”
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٦٠)
21 - أَخْبَرَتْنَا أُمُّ الْفَتْحِ أَمَةُ السَّلامِ بِنْتُ الْقَاضِي أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ كَامِلٍ قِرَاءَةً عَلَيْهَا وَأَنَا أسمع في سنة 386 قَالَتْ حَدَّثَنَا أَبُو الطَّيِّبِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ حُمَيْدِ بْنِ الربيع اللخمي قال: حدثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ حدثنا تَلِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُحَارِبِيُّ عَنْ أَبِي الْجَحَّافِ عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا مِنْ نَبِيٍّ إِلا وَلَهُ وَزِيرَانِ مِنْ أَهْلِ السَّماء وَوَزِيرَانِ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ فَأَمَّا وَزِيرَايَ مِنْ أَهْلِ السَّمَاءِ فَجِبْرِيلُ وَمِيكَائِيلُ وَأَمَّا وَزِيرَايَ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ فَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ.
২১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মুল ফাতহ আমাতুস সালাম বিনতে আল-কাদি আবু বকর আহমাদ বিন কামিল, ৩৮৬ হিজরি সনে তাঁর নিকট পাঠকালে আমি শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আত-তাইয়িব মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন হুমাইদ বিন আর-রাবী আল-লাখমি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন সাঈদ আল-কিন্দি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তালিদ বিন সুলাইমান আল-মুহারিবি, আবু আল-জাহহাফ হতে, তিনি আতিয়্যা বিন সা’দ হতে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এমন কোনো নবী নেই যার জন্য আসমানবাসীদের থেকে দুইজন উজির এবং যমিনবাসীদের থেকে দুইজন উজির নেই। আসমানবাসীদের মধ্য থেকে আমার দুইজন উজির হলেন জিবরাঈল ও মিকাইল, আর যমিনবাসীদের মধ্য থেকে আমার দুইজন উজির হলেন আবু বকর ও ওমর।"
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٦١)
22 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ معروف بن محمد البزاز حدثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ إسماعيل المحاملي حدثنا محمد بن إدريس قال: حدثنا عَبْدُ الصَّمَد بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَبَّادَانِيُّ قال: حدثنا أَبِي عَنْ حمَّاد بْنِ سَلَمة عَنْ أَيُّوبَ السِّخْتِيَانِيّ قَالَ مَنْ أَحَبَّ أَبَا بَكْرٍ فَقَدْ أَقَامَ الدِّينَ وَمَنْ أَحَبَّ عُمَرَ فَقَدْ أَوْضَحَ السَّبِيلَ وَمَنْ أَحَبَّ عُثْمَانَ فَقَدِ اسْتَنَارَ بِنُورِ اللَّهِ وَمَنْ أَحَبَّ عَلِيًّا فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى وَمَنْ قَالَ الْحُسْنَى فِي أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَدْ بَرِئَ مِنَ النِّفَاقِ.
২২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে মারুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-বায্যায, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুস সামাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আব্বাদানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি আবু বকরকে ভালোবাসল, সে মূলত দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করল; যে উমরকে ভালোবাসল, সে পথকে সুস্পষ্ট করল; যে উসমানকে ভালোবাসল, সে আল্লাহর নূরে আলোকিত হলো; যে আলীকে ভালোবাসল, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করল। আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের সম্পর্কে কল্যাণকর কথা বলল, সে নিফাক (মুনাফেকী) থেকে মুক্ত হলো।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٦١)
23 - حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عِيسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ عِيسَى إِمْلاءً قَالَ: حدثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ: حدثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ الْمَكِّيُّ قَالَ: حدثنا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَقْبَلَ الْعَبَّاسُ فَقَالَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: " هذا العباس ابن عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَمُّ نَبِيِّكُمْ أَجْوَدُ قُرَيْشٍ كَفًّا وَأَوْصَلُهَا" رضي الله عنه.
২৩ - আবুল কাসিম ঈসা ইবনে আলী ইবনে ঈসা আমাদের কাছে শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ আল-মাক্কী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে তালহা আত-তাইমী আবু সুহাইল ইবনে মালিক থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, তখন আব্বাস আগমন করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "ইনি আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, তোমাদের নবীর চাচা; কুরাইশদের মধ্যে হাতের দানে সবচেয়ে উদার এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় সবচেয়ে অগ্রগামী।" আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٦٢)
24 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَالِكٍ الْبَيِّعُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ سَنَةَ 386 حدثنا أَبُو نَصْرٍ اللَّيْثُ بْنُ مُحَمَّدِ بن الليث المروزي حدثنا أحمد بن جعفر المروزي حدثنا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ: حدثنا عبد الله بن المبارك حدثنا وَرْقَاءُ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ أُلْهِمَ خَمْسَةً لَمْ يُحْرَمْ خَمْسَةً " مَنْ أُلْهِمَ الدُّعَاءَ لَمْ يُحْرَمِ الإِجَابَةَ لأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ {وَقَالَ ربكم ادعوني أستجب لكم} وَمَنْ أُلْهِمَ التَّوْبَةَ لَمْ يُحْرَمِ الْقَبُولَ لأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ {وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عباده} وَمَنْ أُلْهِمَ الشُّكْرَ لَمْ يُحْرَمِ الزِّيَادَةَ لأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ {لئن شكرتم لأزيدنكم} وَمَنْ أُلْهِمَ الاسْتِغْفَارَ لَمْ يُحْرَمِ الْمَغْفِرَةَ لأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ {اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا} وَمَنْ أُلْهِمَ النَّفَقَةَ لَمْ يُحْرَمِ الخلف لأن الله يَقُولُ {وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فهو يخلفه}.
২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মালিক আল-বায়্যি'—তাঁর সামনে পাঠকালে আমি ৩৮৬ হিজরি সনে শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু নাসর আল-লায়স ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল লায়স আল-মারওয়াযী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে জাফর আল-মারওয়াযী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ওয়ারকা, তিনি সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যাকে পাঁচটি বিষয়ের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে, সে পাঁচটি বিষয় থেকে বঞ্চিত হবে না। যাকে দোয়ার অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে, সে কবুল হওয়া থেকে বঞ্চিত হবে না; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব}। আর যাকে তাওবার অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে, সে তা কবুল হওয়া থেকে বঞ্চিত হবে না; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তিনিই তাঁর বান্দাদের নিকট থেকে তাওবা কবুল করেন}। আর যাকে শুকরিয়া আদায়ের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে, সে নিআমত বৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হবে না; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব}। আর যাকে ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনা) অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে, সে ক্ষমা লাভ থেকে বঞ্চিত হবে না; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল}। আর যাকে ব্যয়ের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে, সে তার প্রতিদান লাভ থেকে বঞ্চিত হবে না; কারণ আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দিয়ে দেন}।"
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٦٢)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مَعْرُوفِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَزَّارُ قِرَاءَةً عليه وأنا أسمع قال: حدثنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَد الهاشمي قال: حدثنا أبي حدثنا عَمِّي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حدثنا عَبْدُ الصَّمَد بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَكْرِمُوا الشُّهُودَ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل يَسْتَخْرِجُ بِهِمُ الْحُقُوقَ وَيَدْفَعُ بِهِمُ الظُّلْمَ ".
২৫ - আবুল হাসান আলী ইবনে মারুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাযযার তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আব্দুস সামাদ আল-হাশেমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার চাচা ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুস সামাদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সাক্ষীদের সম্মান করো, কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের মাধ্যমে প্রাপ্য অধিকারসমূহ উদ্ধার করেন এবং তাদের মাধ্যমে যুলুম প্রতিহত করেন।"
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٦٣)
26 - أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ عَلِيٍّ الْوَزِيرُ حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا نعيم ابن الهيصم حدثنا خَلَفٌ يَعْنِي ابْنَ تَمِيمٍ قَالَ كَانَ سُفْيَانُ يَقُولُ صِنْفَانِ إِذَا صَلَحَا صَلَحَتِ الأُمَّةُ ، وَإِذَا فَسَدَا فَسَدَتِ الأُمَّةُ السُّلْطَانُ وَالْعُلَمَاءُ.
২৬ - ঈসা ইবনে আলী আল-ওয়াজীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নুআইম ইবনুল হায়সাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালাফ অর্থাৎ ইবনে তামীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান বলতেন: দুই শ্রেণীর মানুষ এমন রয়েছে যে, তারা যখন সংশোধিত হয়, তখন পুরো উম্মাহ সংশোধিত হয়ে যায়; আর যখন তারা কলুষিত হয়, তখন পুরো উম্মাহ কলুষিত হয়ে যায়। তারা হলো: শাসক এবং আলেম সমাজ।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٦٣)
27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الزُّهْرِيُّ فِيمَا أَذِنَ لَنَا قال: حدثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَدَائِنِيُّ قال: حدثنا أَبُو الْفَضْلِ الْوَرَّاقُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ هَانِئٍ عَنْ صَدَقَةَ الْمَقَابِرِيِّ قَالَ كَانَ فِي نَفْسِي عَلَى أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ رضي الله عنه قَالَ فَرَأَيْتُ فِي النَّوْمِ كَأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَمْشِي فِي طَرِيقٍ وَهُوَ آخِذٌ بِيَدِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ وَهُمَا يَمْشِيَانِ عَلَى تُؤَدَةٍ وَرِفْقٍ وَأَنَا خَلْفَهُمَا أُجْهِدُ نَفْسِي أَنْ أَلْحَقَ بِهِمَا فَمَا أَقْدِرُ فَلَمَّا اسْتَيْقَظْتُ ذَهَبَ مَا كَانَ فِي نَفْسِي ثُمَّ رَأَيْتُ بَعْدُ كَأَنِّي فِي الْمَوْسِمِ وَكَأَنَّ النَّاسَ مُجْتَمِعُونَ فَنَادَى مُنَادٍ الصَّلاةُ جَامِعَةٌ فَاجْتَمَعَ النَّاسُ فَنَادَى مُنَادٍ يَؤُمُّكُمْ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ ، فَإِذَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ يُصَلِّي بِهِمْ وَكُنْتُ بَعْدُ إِذَا سُئِلْتُ عَنْ شَيْءٍ قُلْتُ عَلَيْكُمْ بِالإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ رضي الله عنه.

آخِرُ المجلس الثاني (1).

--------------------------------------------

(1) قال أحمد الخضري:

قد نقص من هذا المجلس ثلاثة أحاديث موجودة في رواية أخرى لهذا المجلس وهو من رواية ضياء بن أبي القاسم وعبد الله بن دهبل كلاهما عن محمود بن عبد الباقي عن أبي يعلى الفراء وهذه الأحاديث الثلاثة هي:

1 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مَعْرُوفِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَزَّازُ قِرَاءَةً عليه وأنا أسمع قال: حدثنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَد الهاشمي قال: حدثني عَمِّي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حدثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مالك البيع قال: حدثنا أحمد بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الحسن الواسطي المعروف بالديباجي حدثنا أحمد بن عبد الله بن زياد الديباجي حدثنا محمد بن خالد الأهوازي حدثنا سليمان بن عمرو عن عبد الملك بن عمير عن عبد الرحمن ، عن أبيه عبد الله بن مسعود رضي الله عنه ، قال لا يقبل قول إلا بعمل ولا عمل إلا بقول ولا عمل وقول إلا بالنية ولا يقبل عمل وقول ونية إلا ما وافق السُّنَّة.

وروى هذا الحديث أنس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم مرفوعا:

حدثنا عيسى بن علي بن عيسى إملاء قال قرئ على أبي القاسم بدر بن الهيثم وأنا أسمع قيل له حدثكم عمرو بن النصر الغزال حدثنا عصمة حدثنا حبيب الجمال عن أبي جعفر قال أول قطرة من دم الأضحية كفارة لأربعة ألاف خطيئة.

2 - أخبرنا أبو الحسن علي بن عمر الحربي السكري قراءةً عليه وأنا أسمع سنة 386 قال: حدثنا أبو عبد الله أحمد بن الحسن بن عبد الجبار الصوفي الكبير حدثنا أبو زكريا يحيى بن معين في شعبان سنة 229 حدثنا عبد الله بن يوسف التنيسي وأخبرنا أبو القاسم موسى بن عيسى السراج حدثنا أبو محمد عبد الله بن الفضل بن جعفر وراق عبد الكريم قال: حدثنا عبد الكريم بن الهيثم قال: حدثنا أبو توبة الربيع بن نافع الحلبي قال: أخبرنا الهيثم بن حميد قال: أخبرني أبو سعيد وهو حفص بن غيلان عن طاوس عن أبي موسى الأشعري أن النبي صلى الله عليه وسلم قال وقال السراج قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله تعالى يبعث الأيام على هيئتها ويبعث يوم الجمعة وهي زهراء منيرة أهلها يحفون بها كالعروس تهدى إلى كريمها تضيء لهم يمشون في ضوئها ألوانهم كالثلج وريحهم يسطع كالمسك يخوضون في جبال الكافور ينظر إليهم الثقلان ما يطرفون تعجبا حتى يدخوا الجنة لا يخالطهم إلا المؤذنون المحتسبون.

3 - أخبرنا أبو محمد عبد الله بن أحمد بن مالك بن الحارث البيع قراءةً عليه في مستهل المحرم سنة 386 قال: حدثنا أبو عبد الله محمد بن القاسم بن محمد الأزدي قال: أخبرني الحسن بن علي بن محمد بن عمرو بن المغيرة أن محمد بن ثابت القرشي أخبرهم قال: سمعت ابن عون يقول سمعت ابن سيرين يقول سمعت أبا هريرة رضي الله عنه يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول أهل شغل الله في الدنيا هم أهل شغل الله في الآخرة وأهل شغل أنفسهم في الدنيا هم أهل شغل أنفسهم في الآخرة.

بهذه الأحاديث الثلاث ينتهي المجلس الثاني.
২৭ - আবু আল-ফাদল উবাইদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-জুহরি আমাদের সেই মর্মে সংবাদ দিয়েছেন যা তিনি আমাদের অনুমতি দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন ইসহাক আল-মাদায়িনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-ফাদল আল-ওয়াররাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন হানি আমাকে সাদাকাহ আল-মাকাবিরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম আহমাদ বিন হানবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি আমার মনে কিছু একটা (ক্ষোভ) ছিল। তিনি বলেন: এরপর আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি পথ দিয়ে হাঁটছেন এবং তিনি আহমাদ বিন হানবালের হাত ধরে আছেন। তারা দুজনে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে ও কোমলতার সাথে হাঁটছেন, আর আমি তাদের পিছনে নিজেকে তাদের সাথে মিলিয়ে নেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। আমি যখন জাগ্রত হলাম, আমার মনে যা ছিল তা চলে গেল। এরপর আমি আবার দেখলাম যেন আমি হজ্জের মৌসুমে আছি এবং মানুষ একত্রিত হয়েছে। এক ঘোষক ঘোষণা করল, সালাত সমবেতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তখন মানুষ সমবেত হলো। এরপর এক ঘোষক ঘোষণা দিল, আহমাদ বিন হানবাল আপনাদের ইমামতি করবেন। দেখা গেল আহমাদ বিন হানবাল তাদের নিয়ে সালাত আদায় করছেন। এরপর থেকে আমাকে যখনই কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, আমি বলতাম: আপনারা ইমাম আহমাদ বিন হানবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে অনুসরণ করুন।

দ্বিতীয় মজলিসের শেষ (১)।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ আল-খুদারি বলেন:

এই মজলিস থেকে তিনটি হাদিস কম রয়েছে যা এই মজলিসের অন্য একটি বর্ণনায় বিদ্যমান। সেটি হলো দিয়া বিন আবিল কাসিম এবং আবদুল্লাহ বিন দাহবাল-এর বর্ণনা, তারা উভয়ে মাহমুদ বিন আবদুল বাকি থেকে, তিনি আবু ইয়ালা আল-ফাররা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই তিনটি হাদিস হলো:

১ - আবু আল-হাসান আলী বিন মারুফ বিন মুহাম্মদ আল-বাযযা আমাদের সামনে পাঠ করা অবস্থায় সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আবদুস সামাদ আল-হাশিমি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মালিক আল-বায়ি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হাসান আল-ওয়াসিতি (যিনি আদ-দিবাজি নামে পরিচিত) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন যিয়াদ আদ-দিবাজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন Khalid আল-আহওয়াযি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুলাইমান বিন আমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল মালিক বিন উমাইর থেকে, তিনি আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কর্ম ছাড়া কথা কবুল হয় না, আর কথা ছাড়া কর্ম কবুল হয় না, এবং নিয়ত ছাড়া কর্ম ও কথা কবুল হয় না। আর সুন্নাহর অনুসারী না হওয়া পর্যন্ত কর্ম, কথা ও নিয়ত কবুল হয় না।

আর এই হাদিসটি আনাস বিন মালিক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন:

ঈসা বিন আলী বিন ঈসা ইমলা (শ্রুতিলিপি) আকারে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-কাসিম বদর বিন আল-হাইসামের সামনে পাঠ করা হলো এবং আমি তা শুনছিলাম, তাকে বলা হলো, আমর বিন আন-নাসর আল-গাযযাল আপনাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসমাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাবিব আল-জাম্মাল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু জাফর থেকে, তিনি বলেন: কুরবানির পশুর রক্তের প্রথম ফোঁটা চার হাজার পাপের কাফফারা (ক্ষমা) স্বরূপ।

২ - আবু আল-হাসান আলী বিন উমর আল-হারবি আস-সুক্কারি ৩৮৬ হিজরিতে আমাদের সামনে পাঠ করা অবস্থায় সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আবদুল জাব্বার আস-সুফি আল-কাবীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ২২৯ হিজরির শাবান মাসে আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মাইন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আত-তিননিসি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম মুসা বিন ঈসা আস-সাররাজ, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আল-ফাদল বিন জাফর (যিনি আবদুল কারিমের ওয়াররাক) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল কারিম বিন আল-হাইসাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু তাওবাহ আর-রাবি বিন নাফি আল-হালাবি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাইসাম বিন হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ (যিনি হাফস বিন গাইলান) আমাকে তাউস থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন (এবং সাররাজ বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন): নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ দিনগুলোকে তাদের স্বরূপে পুনরুত্থিত করবেন এবং জুমার দিনকে অত্যন্ত উজ্জ্বল ও আলোকময় অবস্থায় ওঠাবেন। জুমার দিনের অধিবাসীরা একে এমনভাবে ঘিরে থাকবে যেমনভাবে কনেকে তার বরের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় ঘিরে রাখা হয়। এটি তাদের জন্য আলো দেবে এবং তারা সেই আলোতে হাঁটবে। তাদের গায়ের রঙ হবে বরফের মতো সাদা এবং তাদের সুগন্ধি কস্তুরীর মতো ছড়িয়ে পড়বে। তারা কর্পূরের পাহাড়ের মধ্যে বিচরণ করবে। জিন ও মানুষ তাদের দিকে অপলক দৃষ্টিতে বিস্ময়ের সাথে তাকিয়ে থাকবে, যতক্ষণ না তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাওয়াবের প্রত্যাশী মুয়াজ্জিনগণ ছাড়া আর কেউ তাদের সাথে মিশতে পারবে না।

৩ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মালিক বিন আল-হারিস আল-বায়ি ৩৮৬ হিজরির মহররম মাসের শুরুতে আমাদের সামনে পাঠ করা অবস্থায় সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ আল-আযদি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন আল-মুগিরা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ বিন সাবিত আল-কুরাশি তাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আওনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে সিরিনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: দুনিয়াতে যারা আল্লাহর কাজে ব্যস্ত থাকে, আখিরাতেও তারা আল্লাহর কাজেই ব্যস্ত থাকবে। আর যারা দুনিয়াতে নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকে, আখিরাতেও তারা নিজেদের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকবে।

এই তিনটি হাদিসের মাধ্যমেই দ্বিতীয় মজলিস সমাপ্ত হলো।
(খণ্ড: ১) সিত্তাতু মাজালিস লি-আবী ইয়ালা আল-ফাররা (পৃষ্ঠা: ٦٤)
‌‌الْمَجْلِسُ الثَّالِثُ

حَدَّثَنَا الْقَاضِي الإِمَامُ أَبُو يَعْلَى مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَرَّاءِ إِمْلاءً فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ بَعْدَ الصَّلاةِ فِي جَامِعِ الْمَنْصُورِ لِسَبْعٍ خَلَوْنَ من رجب من سنة 457:

28 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ الْحَرْبِيُّ السُّكَّرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أسمع في سنة 386 أخبرنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ الكبير حدثنا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ سنة 228 قال: حدثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُجَالِدٍ عَنْ بَيَانٍ عَنْ وَبَرَةَ عَنْ هَمَّامٍ قَالَ: قَالَ عَمَّارٌ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا مَعَهُ إِلا خَمْسَةُ أَعْبُدٍ وَامْرَأَتَانِ وَأَبُو بَكْرٍ.
তৃতীয় মজলিস

কাজী ইমাম আবু ইয়ালা মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফাররা ৪৫৭ হিজরির রজব মাসের সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার দিন জুমার সালাতের পর জামে মানসুরে আমাদের কাছে শ্রুতিলিপি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন:

২৮ - আবুল হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাযান আল-হারবি আস-সুক্কারি ৩৮৬ হিজরিতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যা তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সুফি আল-কাবির; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন ২২৮ হিজরিতে, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে মুজালিদ, তিনি বায়ান থেকে, তিনি ওয়াবারাহ থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে, তিনি বলেন: আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি এমতাবস্থায় যে, তাঁর সাথে পাঁচজন ক্রীতদাস, দুইজন নারী এবং আবু বকর ব্যতীত আর কেউ ছিল না।