(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: -)
معيار العلم في فن المنطق   (أبو حامد الغزالي)

القسم: المنطق


الكتاب: معيار العلم في فن المنطق

المؤلف: أبو حامد محمد بن محمد الغزالي الطوسي (ت 505هـ)

المحقق: الدكتور سليمان دنيا

الناشر: دار المعارف، مصر

عام النشر: 1961 م

عدد الصفحات: 348

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

যুক্তিবিদ্যায় জ্ঞানের মানদণ্ড   (আবু হামিদ আল-গাজালি)

বিভাগ: যুক্তিবিদ্যা


গ্রন্থ: যুক্তিবিদ্যায় জ্ঞানের মানদণ্ড

লেখক: আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজালি আল-তুসি (মৃত ৫০৫ হিজরি)

সম্পাদক: ডক্টর সুলাইমান দুনিয়া

প্রকাশক: দারুল মা’আরিফ, মিশর

প্রকাশের বছর: ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৮

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৫৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم تسليما.

اللهم أرنا الحق حقا ووفقنا إلى اتباعه، وأرنا الباطل باطلا وأعنا على اجتنابه.

آمين.

اعلم وتحقق أيها المقصور على درك العلوم حرصه وإرادته الممدود نحو أسرار الحقائق العقلية همته، المصروف، عن زخارف الدنيا ونيل لذاتها الحقيرة سعيه وكده، الموقوف على درك السعادة بالعلم والعبادة جده وجهده، بعد حمد الله الذي يقدم على كل أمر ذي بال حمده، والصلاة على النبي محمد صلى الله عليه وسلم رسوله وعبده.

إن الباعث على تحرير هذا الكتاب الملقب بمعيار العلم غرضان مهمان: أحدهما تفهيم طرق الفكر والنظر، وتنوير مسالك الأقيسة والعبر؛ فإن العلوم النظرية لما لم تكن بالفطرة والغريزة مبذولة وموهوبة كانت لا محالة مستحصلة مطلوبة، وليس كل طالب يحسن الطلب، ويهتدي إلى طريق المطلب، ولا كل سالك يهتدي إلى الإستكمال، ويأمن الإغترار بالوقوف دون ذروة الكمال ولا كل ظان الوصول إلى شاكلة الصواب آمن من الإنخداع بلا مع السراب.

فلما كثر في المعقولات مزلة الأقدام، ومثارات الضلال، ولم تنفك مرآة العقل عما يكدرها من تخليطات الأوهام وتلبيسات الخيال، رتبنا هذا الكتاب معيارا للنظر والإعتبار، وميزانا للبحث والإفتكار، وصيقلا للذهن، ومشحذا لقوة الفكر والعقل، فيكون بالنسبة إلى أدلة العقول كالعروض بالنسبة إلى الشعر،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তা অনুসরণের তৌফিক দান করুন; আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান এবং তা বর্জন করতে আমাদের সাহায্য করুন।

আমীন।

হে সেই ব্যক্তি, যার আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা কেবল জ্ঞান অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বুদ্ধিভিত্তিক সত্যের রহস্য উন্মোচনে প্রসারিত, যার প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম দুনিয়ার চাকচিক্য এবং এর তুচ্ছ স্বাদ আস্বাদন থেকে বিমুখ, এবং যার চেষ্টা ও সাধনা জ্ঞান ও ইবাদতের মাধ্যমে পরম সৌভাগ্য অর্জনে নিবেদিত—আপনি জেনে নিন এবং নিশ্চিত হোন। সেই আল্লাহর প্রশংসার পর, যাঁর প্রশংসা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের শুরুতে করা হয়, এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠের পর, যিনি তাঁর রাসূল ও বান্দা।

'মি'ইয়ারুল ইলম' (জ্ঞানের মানদণ্ড) নামক এই কিতাবটি রচনার পেছনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য রয়েছে: প্রথমটি হলো চিন্তা ও গবেষণার পদ্ধতিগুলো বুঝিয়ে দেওয়া এবং যুক্তি ও দৃষ্টান্তের পথগুলোকে আলোকিত করা। কেননা তাত্ত্বিক জ্ঞানসমূহ যেহেতু প্রবৃত্তি বা স্বভাবজাতভাবে অর্জিত হয় না, তাই এগুলো অবশ্যই শ্রমলব্ধ ও অন্বেষণযোগ্য। আর প্রত্যেক অন্বেষণকারী উত্তমভাবে তা অন্বেষণ করতে পারে না এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর সঠিক পথ পায় না। আবার প্রত্যেক পথচারী পূর্ণতা লাভে সফল হয় না এবং পূর্ণতার শিখরে পৌঁছানোর আগেই থেমে যাওয়ার বিভ্রান্তি থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না। তেমনিভাবে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর ধারণা পোষণকারী প্রত্যেকে মরীচিকার ঝলকানিতে প্রতারিত হওয়া থেকে মুক্ত নয়।

যেহেতু বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে পদস্খলন এবং বিভ্রান্তির কারণ অনেক বেশি, আর মানুষের বিবেকের আয়না যেহেতু কল্পনার মিশ্রণ ও অলীক চিন্তার ধোঁয়াশা থেকে মুক্ত নয়, তাই আমি এই কিতাবটি বিচার-বিশ্লেষণের জন্য একটি মানদণ্ড, গবেষণা ও চিন্তার জন্য একটি তুলাদণ্ড, মেধার জন্য একটি মার্জক এবং চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির জন্য শানপাথর হিসেবে সংকলন করেছি। ফলে এটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের ক্ষেত্রে ঠিক তেমনি হবে, যেমন কবিতার ক্ষেত্রে ছন্দের জ্ঞান (ইলমুল আরূয) হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৬০)
والنحو بالإضافة إلى الإعراب.

إذ كما لا يعرف منزحف الشعر عن موزونه إلا بميزان العروض ولا يميز صواب الإعراب عن خطئه إلا بمحك النحو، كذلك لا يفرق بين فاسد الدليل وقويمه وصحيحه وسقيمه إلا بهذا الكتاب. فكل نظر لا يتزن بهذا الميزان ولا يعيار بهذا المعيار فاعلم أنه فاسد العيار غير مأمون الغوائل والأغوار.

والباعث الثاني الإطلاع على ما أودعناه كتاب تهافت الفلاسفة، فإنا ناظرناهم بلغتهم وخاطبناهم على حكم اصطلاحاتهم التي تواطأوا عليها في المنطق وفي هذا الكتاب تنكشف معاني تلك الإصطلاحات؛ فهذا اخص الباعثين والأول أعمهما وأهمهما. أما كونه أهم فلا يخفى عليك وجهه، وأما كونه أعم فمن حيث يشمل جدواه جميع العلوم النظرية: العقلية منها والفقهية، فإنا سنعرفك أن النظر في الفقهيات لا يباين النظر في العقليات، في ترتيبه وشروطه وعياره، بل في مآخذ المقدمات فقط. ولما كانت الهمم في عصرنا مائلة من العلوم إلى الفقه بل مقصورة عليه حتى حدانا ذلك إلى أن صنفنا في طرق المناظرة فيها مأخذ الخلاف أولا، ولباب النظر ثانيا، وتحصين المآخذ ثالثا، وكتاب المبادي والغايات رابعا، وهو الغاية القصوى في البحث الجاري على منهاج النظر العقلي في ترتيبه وشروطه، وأن فارقه في مقدماته
এবং ব্যাকরণ ও ইরাব (শব্দের বিভক্তি)।

কেননা যেভাবে আরূয বা ছন্দের শাস্ত্রের মানদণ্ড ব্যতিরেকে কবিতার সঠিক ছন্দ হতে বিচ্যুত ছন্দকে চেনা যায় না, এবং ব্যাকরণের কষ্টিপাথর ব্যতিরেকে শব্দের সঠিক ইরাব ও ভুল ইরাবের মধ্যে পার্থক্য করা যায় না; তদ্রূপ এই কিতাব ব্যতিরেকে প্রমাণের শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা এবং এর সবলতা ও দুর্বলতার মাঝে পার্থক্য করা সম্ভব নয়। সুতরাং যে কোনো চিন্তাধারা বা গবেষণা যা এই মানদণ্ডে ওজন করা হয় না এবং এই মাপকাঠিতে যাচাই করা হয় না, তবে জেনে রেখো যে তার মান ভ্রান্ত এবং তা বিপদ ও বিভ্রান্তি হতে নিরাপদ নয়।

দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো, আমরা ‘তহাফুতুল ফালাসিফাহ’ (দার্শনিকদের অসারতা) গ্রন্থে যা নিহিত রেখেছি তা অবগত করানো। কেননা সেখানে আমরা তাদের সাথে তাদের ভাষায় বিতর্ক করেছি এবং তাদেরই পরিভাষা অনুযায়ী তাদের সম্বোধন করেছি, যে পরিভাষাগুলোর ব্যাপারে তারা তর্কশাস্ত্রে একমত হয়েছে। আর এই কিতাবে সেই পরিভাষাগুলোর অর্থ উন্মোচিত হবে। এটি হলো দুটি উদ্দেশ্যের মধ্যে বিশেষ উদ্দেশ্য, আর প্রথমটি হলো অধিকতর সাধারণ এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এর গুরুত্বের কারণ আপনার কাছে অস্পষ্ট নয়। আর এটি অধিকতর সাধারণ হওয়ার কারণ হলো, এর উপযোগিতা সমস্ত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে শামিল করে; চাই তা বুদ্ধিভিত্তিক হোক বা ফিকহশাস্ত্রীয়। আমরা আপনাকে অবগত করব যে, ফিকহী মাসআলার গবেষণা ও বুদ্ধিভিত্তিক মাসআলার গবেষণার মধ্যে বিন্যাস, শর্তাবলি এবং মানদণ্ডের দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই; বরং পার্থক্য কেবল মুকাদ্দিমা বা প্রারম্ভিক প্রস্তাবনাসমূহের উৎসের ক্ষেত্রে। যেহেতু আমাদের যুগে মানুষের আগ্রহ অন্যান্য জ্ঞান থেকে বিমুখ হয়ে ফিকহশাস্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, বরং তা কেবল ফিকহশাস্ত্রেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে; যা আমাদের বিতর্কের পদ্ধতিসমূহের উপর সর্বপ্রথম ‘মাআখিযুল খিলাফ’, দ্বিতীয়ত ‘লুবাবুন নাযার’, তৃতীয়ত ‘তাহসিনুল মাআখিয’ এবং চতুর্থত ‘কিতাবুল মাবাদী ওয়াল গায়াত’ রচনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আর এটি যৌক্তিক চিন্তাধারার বিন্যাস ও শর্তাবলির আলোকে পরিচালিত গবেষণার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত লক্ষ্যবস্তু, যদিও এটি তার মুকাদ্দিমাসমূহের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৬১)
رغبنا ذلك أيضا في أن نورد في منهاج الكلام في هذا الكتاب أمثلة فقهية فتشمل فائدته وتعم سائر الأصناف جدواء وعائدته.

ولعل الناظر بالعين العوراء نظر الطعن والإزراءِ، ينكر انحرافنا عن العادات في تفهيم العقليات القطعية، بالأمثلة الفقهية الظنية فليكف عن غلوائه في طعنه وإزرائه، وليشهد على نفسه بالجهل بصناعة التمثيل وفائدتها، فإنها لم توضع إلا لتفهيم الأمر الخفي بما هو الأعرف عند المخاطب المسترشد، ليقيس مجهوله إلى ما هو معلوم عنده فيستقر المجهول في نفسه.

فإن كان الخطاب مع نجار لا يحسن إلا النجر وكيفية استعمال آلاته، وجب على مرشده ألا يضرب له المثل إلا من صناعة النجارة، ليكون ذلك أسبق إلى فهمه وأقرب إلى مناسبة عقله وكما لا يحسن إرشاد المتعلم إلا بلغته لا يحسن إيصال المعقول إلى فهمه إلا بأمثلة هي أثبت في معرفته؛ فقد عرفناك غاية هذا الكتاب وغرضه تعريفا مجملا فلنزد له شرحا وإيضاحا لشدة حاجة النظار إلى هذا الكتاب.

لعلك تقول أيها المنخدع بما عندك من العلوم الذهنية المستهتر بما يسوق إليه البراهين العقلية، ما هذا التفخيم والتعظيم وأي حاجة بالعاقل إلى معيار وميزان، فالعقل هو القسطاس المستقيم والمعيار القويم، فلا يحتاج العاقل بعد كمال عقله إلى تسديد وتقويم، فلتتئد ولتتثبت فيما تستخف به من غوائل الطرق العقلية، ولتتحقق قبل كل شيء أن فيك
আমরা আরও ইচ্ছা করেছি যে, এই কিতাবের আলোচনার পদ্ধতিতে কিছু ফিকহি উদাহরণ অন্তর্ভুক্ত করি, যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয় এবং সকল শ্রেণীর মানুষের নিকট এর সুফল পৌঁছে যায়।

হতে পারে কোনো বক্রদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি, যে কেবল বিদ্রূপ ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে, অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ বুঝানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রথা বহির্ভূত এই পদ্ধতিকে—অর্থাৎ ধারণাপ্রসূত ফিকহি উদাহরণের প্রয়োগকে—অস্বীকার করবে। সুতরাং সে যেন তার বিদ্রূপ ও অবজ্ঞার বাড়াবাড়ি থেকে নিবৃত্ত হয় এবং উদাহরণের শিল্পকলা ও এর উপকারিতা সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতার সাক্ষ্য দেয়। কেননা, উদাহরণের মূল লক্ষ্যই হলো—দিকনির্দেশনা প্রত্যাশী সম্বোধিত ব্যক্তির নিকট পরিচিত বিষয়ের মাধ্যমে কোনো অস্পষ্ট বিষয়কে বুঝিয়ে দেওয়া, যাতে সে তার অজানা বিষয়কে জানা বিষয়ের ওপর তুলনা করতে পারে এবং সেই অজানা বিষয়টি তার অন্তরে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

যদি সম্বোধিত ব্যক্তি এমন একজন সূত্রধর হয়, যে কেবল কাঠ চেরা ও তার যন্ত্রপাতির ব্যবহার ছাড়া আর কিছু বোঝে না, তবে তার পথপ্রদর্শকের ওপর আবশ্যক হলো কেবল সূত্রধর শিল্পের মাধ্যমেই তার সামনে উদাহরণ পেশ করা; যাতে তা তার অনুধাবনের জন্য অধিকতর সহজ হয় এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। যেভাবে একজন শিক্ষার্থীকে তার নিজস্ব ভাষা ব্যতীত অন্য ভাষায় পথপ্রদর্শন করা সমীচীন নয়, তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ কারো অনুধাবনে পৌঁছানোর জন্য এমন সব উদাহরণ পেশ করা বাঞ্ছনীয় যা তার জ্ঞানের জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত। আমরা আপনার নিকট এই কিতাবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সংক্ষেপে তুলে ধরেছি; তবে পাঠকদের এই কিতাবের প্রতি প্রবল মুখাপেক্ষিতার কারণে আমরা এর আরও ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ পেশ করছি।

হে স্বীয় লব্ধ মানসিক জ্ঞান দ্বারা প্রবঞ্চিত এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের প্রতি অতি উৎসাহী ব্যক্তি! আপনি হয়তো বলবেন: "এই মহিমা কীর্তন ও গুরুত্বারোপের কী প্রয়োজন? একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির মানদণ্ড ও তুলাদণ্ডের কী দরকার? কেননা বুদ্ধিই তো হলো সঠিক পরিমাপক ও সুপ্রতিষ্ঠিত মানদণ্ড। সুতরাং বুদ্ধির পূর্ণতার পর একজন বিবেকবান ব্যক্তির কোনো সংশোধন ও পরিমার্জনের প্রয়োজন নেই।" আপনি বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতির যে বিপদসমূহকে তুচ্ছজ্ঞান করছেন, সে বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করুন ও স্থির হোন; এবং অন্য সবকিছুর আগে এটি নিশ্চিতভাবে জেনে নিন যে আপনার মধ্যে...
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৬২)
حاكما حسيا وحاكما وهميا وحاكما عقليا، والمصيب من هؤلاء الحكام هو الحاكم العقلي، والنفس في أول الفطرة أشد إذعانا وإنقيادا للقبول من الحاكم الحسي والوهمي، لأنهما سبقا في أول الفطرة إلى النفس وفاتحاها بالإحتكام عليها، فألفت احتكامهما وأنست بهما قبل أن أدركها الحاكم العقلي، فاشتد عليها الفطام عن مألوفها والإنقياد لما هو كالغريب من مناسبة جبلتها، فلا تزال تخالف حاكم العقل وتكذبه وتوافق حاكم الحس والوهم وتصدقهما إلى أن تضبط بالحيلة التي سنشرحها في الكتاب.

وإن أردت أن تعرف مصداق ما تقوله في تخرص هذين الحاكمين واختلالهما، فانظر إلى حاكم الحس كيف يحكم إذا نظرت إلى الشمس عليها بأنها في عرض مجر، وفي الكواكب بأنها كالدانير المنثورة على بساط أزرق، وفي الظل الواقع على الأرض للأشخاص المنتصبة بأنه واقف بل على شكل الصبي في مبدأ نشئه بأنه واقف، وكيف عرف العقل ببراهين لم يقدر الحس على المنازعة فيها، إن قرص الشمس أكبر من كرة الأرض بأضعاف مضاعفة، وكذلك الكواكب، وكيف هدانا إلى أن الظل الذي نراه واقفا هو متحرك على الدوام لا يفتر، وأن طول الصبي في مدة النشء غير واقف بل هو في النمو على الدوام والإستمرار، ومترق إلى الزيادة ترقيا خفي التدريج يكل الحس عن دركه ويشهد العقل به.
ইন্দ্রিয়গত বিচারক, কাল্পনিক বিচারক এবং বুদ্ধিভিত্তিক বিচারক—এই বিচারকদের মধ্যে বুদ্ধিভিত্তিক বিচারকই সঠিক। সৃষ্টির সূচনালগ্নে আত্মা ইন্দ্রিয়গত ও কাল্পনিক বিচারকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রতি অধিক অনুগত ও বিনম্র থাকে। কারণ তারা আত্মার সূচনালগ্নেই তার নিকট উপস্থিত হয়েছে এবং তার উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেদের শুরু করেছে। ফলে বুদ্ধিভিত্তিক বিচারক তার কাছে পৌঁছানোর আগেই আত্মা তাদের শাসনের সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং তাদের প্রতি আসক্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় তার চিরাচরিত অভ্যাস ত্যাগ করা এবং যা তার স্বভাবজাত প্রকৃতির কাছে আগন্তুকের মতো মনে হয়, তার প্রতি অনুগত হওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সে বুদ্ধিভিত্তিক বিচারকের বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকে ও তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আর ইন্দ্রিয়গত ও কাল্পনিক বিচারকের সাথে একমত পোষণ করে ও তাদের সত্য বলে বিশ্বাস করে—যতক্ষণ না তাকে সেই কৌশলের মাধ্যমে আয়ত্তে আনা হয় যা আমরা এই কিতাবে বর্ণনা করব।

যদি আপনি এই দুই বিচারকের অনুমান ও ত্রুটির বাস্তব চিত্র জানতে চান, তবে ইন্দ্রিয়গত বিচারকের দিকে তাকান—সে কীভাবে বিচার করে যখন আপনি সূর্যের দিকে তাকান যে তা একটি সাধারণ প্রস্থের সমান, আর নক্ষত্রদের মনে করে যেন নীল গালিচায় ছড়িয়ে থাকা মুদ্রার মতো, এবং দণ্ডায়মান ব্যক্তিদের ভূমিতে পতিত ছায়া সম্পর্কে ধারণা করে যে তা স্থির, এমনকি বাড়ন্ত শিশুর অবয়ব সম্পর্কেও মনে করে যে তা স্থির। অথচ বুদ্ধি এমন সব অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে জেনেছে যে বিষয়ে বিতর্ক করার ক্ষমতা ইন্দ্রিয়ের নেই—আর তা হলো সূর্যের চাকতি পৃথিবীর গোলকের তুলনায় বহুগুণ বড়, নক্ষত্রদের ক্ষেত্রেও তাই। বুদ্ধি আমাদের এই দিশা দিয়েছে যে, আমরা যে ছায়াকে স্থির দেখি তা আসলে বিরতিহীনভাবে সর্বদা গতিশীল, আর বাড়ন্ত শিশুর উচ্চতাও স্থির নয় বরং তা সর্বদা ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এমন এক সূক্ষ্ম ধাপে ধাপে বৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যা উপলব্ধি করতে ইন্দ্রিয় অক্ষম কিন্তু বুদ্ধি তার সাক্ষ্য দেয়।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৬৩)
وأغاليط الحس من هذا الجنس تكثر فلا تطمع في استقصائها، واقنع بهذه النبذة اليسيرة من أنبائه لتطلع به على أغوائه. وأما الحاكم الوهمي فلا تغفل عن تكذيبه بموجود لا إشارة إلى جهته. وأما الحاكم الوهمي فلا تغفل عن تكذيبه بموجود لا إشارة إلى جهته، وإنكاره شيئا لا يناسب أجسام العالم بانفصال واتصال، ولا يوصف بأنه داخل العالم ولا خارجه. ولولا كفاية العقل شر الوهم في تضليله هذا لرسخ في نفوس العلماء من الإعتقادات الفاسدة في خالق الأرض والسماءن مارسخ في قلوب العوام والأغبياء.

ولا نفتقر إلى هذا الأبعاد في تمثيل تضليله وتخييله، فإنه يكذب فيما هو أقرب إلى المحسوسات مما ذكرناه، لأنك إن عرضت عليه جسما واحدا فيه حركة وطعم ولون ورائحة واقترحت عليه أن يصدق بوجود ذلك في محل واحد على سبيل الإجتماع، كاع عن قبوله وتخيل أن بعض ذلك مضام للبعض ومجاور له. وقدر التصاق كل واحد بالآخر في مثال ستر رقيق ينطبق على ستر آخر، ولم يمكن في جبلته أن يفهم تعدده المكان، فإن الوهم إنما يأخذ من الحس، والحس في غاية الأمر يدرك التعدد والتباين بتباين المكان أو الزمان؛ فإذا رفعا جميعا عسر عليه التصديق بأعداد متغايرة بالصفة والحقيقة حالة فيما هو في حيز واحد.

فهذا وأمثاله من أغاليط الوهم يخرج عن حد الإحصاء والحصر، والله تعالى هوالمشكور على ما وهب من العقل الهادي من الضلالة، المنجي عن ظلمات الجهالة، المخلص بضياء البرهان، عن ظلمات وساوس الشيطان.

فإن أردت مزيد إستظهار في الإحاطة بخيانة هذين الحاكمين، فدونك وإستقراء ما ورد في الشرع من نسبة هذه التمويهات إلى الشيطان وتسميتها وسواسا
ইন্দ্রিয়ের এই জাতীয় ভ্রান্তি অনেক, তাই তা পূর্ণরূপে অনুসন্ধান করার আকাঙ্ক্ষা কোরো না। বরং এর সংবাদ থেকে এই সামান্য অংশেই সন্তুষ্ট থাকো, যাতে তুমি এর মাধ্যমে এর বিভ্রান্তি সম্পর্কে অবগত হতে পারো। আর কাল্পনিক বিচারকের ক্ষেত্রে, এমন এক বিদ্যমান সত্তার অস্তিত্বকে তার অস্বীকার করার ব্যাপারে গাফেল থেকো না যার কোনো দিকের প্রতি ইশারা করা যায় না। আর জগতের দেহসমূহের সাথে বিচ্ছিন্নতা বা সংযোগের দিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যাকে জগতের ভেতরে বা বাইরে বলে বর্ণনা করা যায় না—এমন কিছুর প্রতি তার (কল্পনার) অস্বীকৃতির বিষয়ে সতর্ক থাকো। আর যদি বুদ্ধি বা আকল এই বিভ্রান্তিতে কল্পনার অনিষ্ট থেকে রক্ষাকারী না হতো, তবে পৃথিবী ও আকাশের স্রষ্টা সম্পর্কে আলেমদের মনেও এমন সব ভ্রান্ত বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়ে যেত, যা সাধারণ মানুষ ও নির্বোধদের হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে থাকে।

আর তার (কল্পনার) বিভ্রান্তি ও খামখেয়ালিপনার উদাহরণের জন্য আমাদের এত দূরের বিষয়ের প্রয়োজন নেই, কারণ আমরা যা উল্লেখ করেছি তার চেয়েও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নিকটতর বিষয়ে সে মিথ্যাচার করে। কারণ তুমি যদি তার সামনে এমন একটি দেহ উপস্থাপন করো যাতে গতি, স্বাদ, বর্ণ ও গন্ধ বিদ্যমান এবং তাকে প্রস্তাব করো যে সে যেন একীভূত অবস্থায় একই স্থানে এই সবকিছুর অস্তিত্ব বিশ্বাস করে, তবে সে তা গ্রহণে কুণ্ঠাবোধ করবে এবং কল্পনা করবে যে এদের একটি অন্যটির সাথে সংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী হয়ে আছে। সে একে অপরের সাথে লেগে থাকার বিষয়টি এমনভাবে কল্পনা করে যেমন একটি পাতলা পর্দা অন্য পর্দার উপর পতিত হয়। তার প্রকৃতিতে এটি সম্ভব নয় যে সে স্থানের ভিন্নতা ব্যতিরেকে বহুত্ব অনুধাবন করবে। কেননা কল্পনা কেবল ইন্দ্রিয় থেকেই গ্রহণ করে, আর ইন্দ্রিয় চূড়ান্ত পর্যায়ে স্থান বা কালের পার্থক্যের মাধ্যমেই বহুত্ব ও ভিন্নতা অনুভব করে। সুতরাং যখন এই উভয়টিই অপসারিত হয়, তখন একই আধারে অবস্থিত গুণ ও বাস্তবতায় ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের অস্তিত্ব বিশ্বাস করা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

এটি এবং কল্পনার এই জাতীয় ভ্রান্তিগুলো গণনা ও সীমার বাইরে। আর আল্লাহ তাআলাই সেই মহান সত্তা যার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা কর্তব্য, কারণ তিনি এমন এক বুদ্ধি দান করেছেন যা পথভ্রষ্টতা থেকে পথপ্রদর্শক, মূর্খতার অন্ধকার থেকে ত্রাণকর্তা এবং প্রমাণের আলো দ্বারা শয়তানের কুমন্ত্রণার অন্ধকার থেকে মুক্তিদাতা।

সুতরাং তুমি যদি এই দুই বিচারকের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত পরিবেষ্টন করতে চাও, তবে শরিয়তে এই বিভ্রান্তিগুলোকে শয়তানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং সেগুলোকে 'ওয়াসওয়াসা' হিসেবে নামকরণ করার যে বিবরণ এসেছে তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করো।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৬৪)
وإحالتها عليه، وتسمية ضياء العقل هداية ونورا ونسبته إلى الله تعالى وملائكته في قوله (الله نُورُ السَمَواتِ وَالأَرض) ولما كان مظنة الوهم والخيال الماغ وهما منبعا الوسواس، قال أبو بكر رحمة الله عليه لمن كان يقيم الحد على بعض الجناة: اضرب الرأس فإن الشيطان في الرأس، ولما كانت الوساوس الخيالية والوهمية ملتصقة بالقوة المفكرة التصاقا يقل من يستقل بالخلاص منها حتى كان ذلك كامتزاج الدم بلحومنا وأعضائنا، قال صلى الله عليه وسلم: {إن الشيطان ليجري من ابن آدم مجرى الدم} وإذا لاحظت بعين العقل هذه الأسرار التي نبهتك عليها استيقنت شدة حاجتك إلى تدبير حيلة في الخلاص عن ضلال هذين الحاكمين.

فإن قلت: فما الحيلة في الإحتياط مع ما وصفتمونه من شدة الرباط بهذه المغويات؛ فتأمل لطف حيل العقل فيه فإنه استدرج الحس والوهم إلى أمور يساعدانه على دركها من المشاهدات الموافقة للموهوم والمعقول، وأخذ منها مقدمات يساعده الوهم عليها ورتبها ترتيبا لا ينازع فيه، واستنتج منها بالضرورة نتيجة لم يسع الوهم التكذيب بها، إذ كانت مأخوذة من الأمور التي لا يتخلف الوهم والعقل عن القضاء بها، وهي العلوم التي لم يختلف فيها الناس من الضروريات والحسيات وأستسلمها من الحس والوهم وارتهنها منهما، فصدقا بأن النتيجة اللازمة منها صادقة حقيقة، ثم نقلها العقل بعينها على ترتيبها إلى ما ينازع الوهم فيه وأخرى منها نتائج.

فلما كذب الوهم بها وامتنع عن قبولها هان على العقل مؤونته، فإن المقدمات التي وضعها كان الوهم يصدق بها على الترتيب الذي رتبه لانتاج النتيجة، فكأن الوهم قد سلم لزوم النتيجة منها فتحقق الناظر أن آباء الوهم عن قبول النتيجة بعد
এবং তাঁর দিকে এটি ন্যস্ত করা, আর বুদ্ধিবৃত্তিক জ্যোতিকে হেদায়েত ও নূর হিসেবে অভিহিত করা এবং আল্লাহ তাআলার বাণী—"আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর নূর"—এর মাধ্যমে তা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতাদের দিকে নিসবত করা। আর যেহেতু বিভ্রান্তিকর ধারণা (ওহম) ও অসার কল্পনা ছিল কুমন্ত্রণার উৎস, তাই আবু বকর (রহমতুল্লাহি আলাইহি) জনৈক অপরাধীর ওপর দণ্ডবিধি কার্যকরকারীকে বলেছিলেন: "মাথায় আঘাত করো, কারণ শয়তান মাথাতেই অবস্থান করে।" আর যেহেতু কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর কুমন্ত্রণাগুলো চিন্তাশক্তির সাথে এমনভাবে লেগে থাকে যে, তা থেকে মুক্ত হওয়া খুব কম লোকের পক্ষেই সম্ভব হয়, এমনকি তা আমাদের রক্ত আমাদের গোশত ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাথে মিশে যাওয়ার মতো হয়ে যায়, তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই শয়তান আদম সন্তানের রক্ত প্রবাহের নালাগুলোতে বিচরণ করে।" আর যখন আপনি বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টি দিয়ে এই রহস্যগুলো লক্ষ্য করবেন যেগুলোর প্রতি আমি আপনাকে সজাগ করেছি, তখন আপনি এই দুই শাসকের বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বনের তীব্র প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করবেন।

যদি আপনি বলেন: তবে এই বিভ্রান্তিকারীদের সাথে আপনি যেমনটি বর্ণনা করেছেন তেমন নিবিড় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার কৌশল কী? তবে এ বিষয়ে বুদ্ধির সূক্ষ্ম কৌশলের প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করুন; কেননা বুদ্ধি ইন্দ্রিয় ও বিভ্রান্তিকে এমন সব বিষয়ের দিকে ধাবিত করে যা তাকে কাল্পনিক ও যুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলো অনুধাবনে সহায়তা করে। এবং বুদ্ধি তা থেকে এমন কিছু ভূমিকা গ্রহণ করে যেগুলোতে বিভ্রান্তি তাকে সহায়তা করে এবং সেগুলোকে এমন সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করে যেখানে কোনো বিবাদ থাকে না। আর তা থেকে এমন এক অনিবার্য উপসংহার বের করে যা অস্বীকার করার অবকাশ বিভ্রান্তির থাকে না; যেহেতু তা এমন সব বিষয় থেকে গৃহীত যা সম্পর্কে ফয়সালা প্রদানে বিভ্রান্তি ও বুদ্ধি কখনো দ্বিমত পোষণ করে না। আর এগুলো হলো এমন জ্ঞান যাতে মানুষ মতভেদ করে না, যেমন স্বতঃসিদ্ধ ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহ। বুদ্ধি এগুলোকে ইন্দ্রিয় ও বিভ্রান্তি থেকে গ্রহণ করে এবং তাদের নিকট থেকে তা নিশ্চিতরূপে গ্রহণ করে। ফলে তারা উভয়েই বিশ্বাস করে নেয় যে, এ থেকে প্রাপ্ত অনিবার্য ফলাফলটিই প্রকৃত সত্য। এরপর বুদ্ধি সেই ফলাফলটিকে হুবহু তার পূর্বের বিন্যাস অনুযায়ী এমন এক স্তরে নিয়ে যায় যেখানে বিভ্রান্তি সাধারণত বিবাদ করে থাকে এবং সেখান থেকে আরও ফলাফল বের করে আনে।

অতঃপর যখন বিভ্রান্তি একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চায় এবং গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তখন বুদ্ধির জন্য এর ভার বহন করা সহজ হয়ে যায়। কারণ বুদ্ধি যেসব ভূমিকা স্থাপন করেছিল, বিভ্রান্তি সেই নির্দিষ্ট বিন্যাসে সেগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করে নিয়েছিল যা এই ফলাফল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন ছিল। ফলে যেন বিভ্রান্তি নিজেই এই ফলাফলের আবশ্যকতাকে মেনে নিল। এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষকের নিকট এটি নিশ্চিতভাবে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ফলাফল গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির এই অস্বীকৃতি...
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৬৫)
التصديق بالمقدمات، والتصديق بصحة الترتيب المنتج لقصور في طباعه وجبلته عن درك هذه النتيجة، لا لكون هذه النتيجة كاذبة لأن ترتيب المقدمات منقول من موضع ساعد الوهم على التصديق بها، فإذن غرضنا في هذا الكتاب أن نأخذ من المحسوسات والضروريات الجبلية معيارا للنظر، حتى إذا نقلناه إلى الغوامض لم نشك في صدق ما يلزم منها. ولعلك الآن تقول: فإن تم للنظار ما ذكرتموه فلم اختلفوا في المعقولات، وهلا اتفقوا عليها اتفاقهم على النظريات الهندسية والحسابية التي يساعد الوهم العقل فيها؟ فجوابك من وجهين: أحدهما أن ما ذكرناه أحد مثارات الضلال لا كلها، ووراء ذلك في النظر في العقليات عقبات مخطرة يعز في العقلاء من يتخطاها فيسلم منها.

وإذا أحطت بمجامع شروط البرهان المنتج لليقين، لم تستبعد أن تقصر قوة أكثر البشر عن درك حقائق المعقولات الخفية.

الثاني: ان القضايا الوهمية لما انقسمت إل ما يصدق وإلى ما يكذب وكانت الكاذبة منها شديدة الشبه بالصادقة، اعترض فيها قضايا إعتاض على النفس تمييزها عن الكاذبة، ولم يقو عليها إلا من أيده الله بتوفيقه وأكرمه بسلوك منهاج الحق بطريقه، فانقسمت العقليات إلى ما هان دركها على الأكثر، وإلى ما استعصى على عقول الجماهير إلا على الشذاذ من أولياء الله تعالى المؤيدين بنور الحق الذين لا تسمح الإعصار الطويلة بوجود الآحاد منهم، فضلا عن العدد الكثير الجم.
উপস্থাপিত প্রাঙ্গণসমূহকে সত্য বলে স্বীকার করা এবং ফলাফল প্রদানকারী বিন্যাসের শুদ্ধতাকে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে ব্যর্থতা ঘটে, তা মূলত মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি ও সৃষ্টির ত্রুটির কারণে এই ফলাফল অনুধাবন করতে না পারার ফল; এটি এই কারণে নয় যে উক্ত ফলাফলটি মিথ্যা। কারণ, প্রাঙ্গণসমূহের বিন্যাস এমন এক স্থান থেকে গ্রহণ করা হয়েছে যেখানে কল্পনা বা ভ্রান্তি সেগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করতে প্ররোচিত করেছে। সুতরাং, এই কিতাবে আমাদের উদ্দেশ্য হলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়াদি এবং স্বভাবজাত অপরিহার্য বিষয়াদি থেকে চিন্তাভাবনার এমন একটি মানদণ্ড গ্রহণ করা, যাতে করে যখন আমরা একে অস্পষ্ট ও জটিল বিষয়াবলীতে প্রয়োগ করব, তখন তা থেকে যা অনিবার্যভাবে প্রমাণিত হয় তার সত্যতা নিয়ে আমরা যেন সংশয়ে না পড়ি। এখন হয়তো আপনি বলবেন: চিন্তাবিদদের জন্য যদি আপনার উল্লেখিত বিষয়সমূহ পূর্ণাঙ্গই হয়ে থাকে, তবে কেন তারা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলীতে মতভেদ করেন? আর কেনই বা তারা সেগুলোতে এমনভাবে একমত হন না যেমনটি তারা জ্যামিতিক ও গাণিতিক তত্ত্বসমূহের ক্ষেত্রে একমত হন, যেখানে কল্পনা বুদ্ধিকে সহায়তা করে থাকে? এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত, আমরা যা উল্লেখ করেছি তা বিভ্রান্তির কারণসমূহের একটি মাত্র, সব নয়। এর বাইরে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াদি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এমন সব বিপজ্জনক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে যা অতিক্রম করে নিরাপদ থাকা বুদ্ধিমানদের মধ্যেও বিরল।

আর আপনি যখন নিশ্চিত জ্ঞান প্রদানকারী প্রমাণের শর্তাবলীর সমষ্টি সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করবেন, তখন আপনি একে অস্বাভাবিক মনে করবেন না যে অধিকাংশ মানুষের শক্তি নিগূঢ় বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলির প্রকৃত রূপ অনুধাবনে অক্ষম হতে পারে।

দ্বিতীয়ত: কাল্পনিক প্রস্তাবনাসমূহ যখন সত্য ও মিথ্যায় বিভক্ত হলো এবং সেগুলোর মধ্যে মিথ্যাগুলো সত্যের সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে দেখা দিল, তখন সেখানে এমন কিছু প্রস্তাবনার উদ্ভব ঘটল যা মানুষের আত্মার পক্ষে মিথ্যা থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ল। এর ওপর কেবল তারাই সক্ষম হন যাদের আল্লাহ তাঁর তাওফীক দিয়ে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর পথে হকের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। ফলে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ এমনভাবে বিভক্ত হয়ে গেল যার কিছু অনুধাবন করা অধিকাংশের জন্য সহজ, আর কিছু জনসাধারণের বুদ্ধির জন্য দুঃসাধ্য—কেবল মহান আল্লাহর সেই বিরল ওলীগণ ব্যতীত যারা সত্যের নূর দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত, দীর্ঘ যুগ অতিক্রান্ত হলেও যাদের হাতেগোনা কয়েকজনের অস্তিত্ব মেলা ভার, বিপুল সংখ্যক তো দূরের কথা।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৬৬)
ولعلك الآن تحسب نفسك واحدا من غمار الناس فتتلو على نفسك سورة اليأس، وتزعم أني متى أكون واحد الدهر، فريد العصر، مؤيدا بنور الحق متخلصا عن نزغات الشيطان مستوليا على وصفته من شروط البرهان؛ فالركون إلى الدعة أولى بي والقناعة بالإعتقاد الموروث من الآباء أسلم لي من أن أركب متن الخطر ولست أثق بنيل قاصية الوطر، فيقال في مثالك، إن خطر هذا ببالك: ما أنت إلا كإنسان لاحظ رتبة سلطان الزمان وما ساعده من الشوكة والعدة والنجدة والثروة والأشياع والأتباع، والأمر المتبع المطاع، واستبعد أن ينال رتبته أو يقارب درجته، والأمر المتبع المطاع، واستبعد أن ينال رتبته أو يقارب درجته، ولكن اقتدر أن ينال رتبة الوزارة أو رتبة الرئاسة أو منزلة أخرى دونها فقال: الصواب لي بعد العجز عن الغاية القصوى، والذروة العليا التي هي درجة سلطان الدنيا أن أقنع بصناعة الكنس التي هي صناعة آبائي، فالكناس ليس يعجز عن خبز يتناوله وثوب يستره إقتداء بقول الشاعر:

دع المكارم لا ترحل لبغيتها … واقعد فإنك أنت الطاعم الكاسي

وهذا الخسيس القاصر النظر، لو أنعم الفكر وتأمل واعتبر علم أن بين درجة الكناس والسلطان منازل فلا كل من يعجز عن الدرجات العلي ينبغي أن يقنع بالدركات السفلى، بل إذا انتهض مترقيا عن رتبة الخساسة، فما يترقى إليه بالإضافة إلى ما يترقى عنه رياسة - فهكذا ينبغي أن تعتقد درجات السعادة بين العلماء، فما منا إلا له مقام معلوم لا يتعداه، وطور محدود لا يتخطاه، ولكن ينبغي أن يشوف إلى أقصى
হয়তো এখন তুমি নিজেকে সাধারণ মানুষের একজন মনে করছো এবং নিজের মনে নিরাশার সূরা পাঠ করছো; আর দাবি করছো যে, আমি কখন কালের অদ্বিতীয় ও যুগের অনন্য হতে পারব, সত্যের আলোয় সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব এবং প্রমাণের শর্তাবলীর বর্ণনার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করব? তাই স্বস্তিতে ও আলস্যে থাকাই আমার জন্য শ্রেয় এবং পূর্বপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিশ্বাসের ওপর তুষ্ট থাকাই আমার জন্য অধিক নিরাপদ—বিপদের পথে পা বাড়ানো অপেক্ষা; অথচ আমি চূড়ান্ত উদ্দেশ্য সফল হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত নই। তোমার ক্ষেত্রে উদাহরণস্বরূপ বলা যায়—যদি এই চিন্তা তোমার মনে উদয় হয়ে থাকে—তুমি ঠিক সেই ব্যক্তির ন্যায় যে সমসাময়িক সুলতানের মর্যাদা এবং তার প্রভাব-প্রতিপত্তি, রণসজ্জা, বীরত্ব, সম্পদ, অনুসারী ও দলবল এবং মান্য করা হয় এমন আদেশের প্রতি লক্ষ্য করেছে। সে সুলতানের সেই মর্যাদা লাভ করা বা তার কাছাকাছি হওয়াকে সুদূরপরাহত মনে করেছে। অথচ তার সামর্থ্য ছিল মন্ত্রীত্ব বা নেতৃত্বের পদ অথবা তার নিচের কোনো মর্যাদা লাভ করার। কিন্তু সে বলল: "চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ও সর্বোচ্চ শিখর—যা দুনিয়ার সুলতানের মর্যাদা—তা অর্জনে অক্ষম হওয়ার পর আমার জন্য সঠিক হলো ঝাড়ুদারবৃত্তিতে সন্তুষ্ট থাকা, যা আমার বাপ-দাদাদের পেশা ছিল। কেননা একজন ঝাড়ুদার তার আহারের রুটি ও শরীর ঢাকার কাপড় জোগাতে অক্ষম হয় না।" এটি কবির এই পংক্তির অনুকরণে:

মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ত্যাগ করো, তা অন্বেষণে যাত্রা করো না … বরং বসে থাকো, কেননা তুমি তো আহার ও বস্ত্র পেয়েই যাচ্ছো।

আর এই নীচ ও হ্রস্বদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি যদি গভীরভাবে চিন্তা করত এবং অনুধাবন করত, তবে সে জানতে পারত যে ঝাড়ুদার ও সুলতানের মর্যাদার মাঝে আরও অনেক স্তর রয়েছে। অতএব উচ্চতর স্তরে পৌঁছাতে অক্ষম প্রত্যেকের জন্য সর্বনিম্ন স্তরে সন্তুষ্ট থাকা অনুচিত। বরং সে যখন হীনতা থেকে উত্তরণের জন্য সচেষ্ট হবে, তখন সে যে স্তরে উন্নীত হবে তা তার পূর্বের অবস্থার তুলনায় এক প্রকার শ্রেষ্ঠত্ব। আলেমদের মাঝে সৌভাগ্যের স্তরসমূহকেও এভাবেই বিশ্বাস করা উচিত। আমাদের প্রত্যেকেরই একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে যা সে অতিক্রম করে না এবং একটি নির্ধারিত সীমা রয়েছে যা সে ছাড়িয়ে যায় না। তবে উচিত হলো সর্বোচ্চ স্তরের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা...
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৬৭)
مرقاه، وأن يخرج من القوة إلى الفعل كل ما تحتمله قواه. فإن قلت: إني فهمت الآن شدة الحاجة إلى هذا الكتاب بما أوضحته من التحقيق، ثم اشتدت رغبتي بما أوردته من التشويق، واتضح لي غايته وثمرته فأوضح لي مضمونه.

فاعلم أن مضمونه تعليم كيفية الإنتقال من الصور الحاصلة في ذهنك إلى الأمور الغائبة عنك. فإن هذا الإنتقال له هيئة وترتيب إذا روعيت أفضت إلى المطلوب، وإن أهملت قصرت عن المطلوب، والصواب من هيئته وترتيبه شديد الشبه بما ليس بصواب. فمضمون هذا العلم على سبيل الإجمال هذا، وأما على سبيل التفصيل فهو أن المطلوب هو العلم، والعلم ينقسم إلى العلم بذوات الأشياء، كعلمك بالإنسان والشجر والسماء وغير ذلك. ويسمى هذا العلم تصورا، وغلى العلم بنسبة هذه الذوات المتصورة بعضها إلى بعض إما بالسلب أو بالإيجاب، كقولك الإنسان حيوان والإنسان ليس بحجر، فإنك تفهم الإنسان والحجر فهما تصوريا لذاتهما، ثم تحكم بأن أحدهما مسلوب عن الآخر أو ثابت له، ويسمى هذا تصديقا لأنه يتطرق إليه التصديق والتكذيب.
তাঁর সোপান, এবং তাঁর শক্তিসমূহ যা ধারণ করতে সক্ষম তা যেন সুপ্ত অবস্থা থেকে বাস্তবতায় নির্গত হয়। যদি আপনি বলেন: আপনি যে বিশ্লেষণের মাধ্যমে যা স্পষ্ট করেছেন তা থেকে আমি এখন এই কিতাবটির তীব্র প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছি, অতঃপর আপনি যে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তাতে আমার আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর লক্ষ্য ও ফলাফল আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে, তাই এখন এর বিষয়বস্তু আমার কাছে ব্যাখ্যা করুন।

তবে জেনে রাখুন যে, এর বিষয়বস্তু হলো আপনার হৃদয়ে অর্জিত প্রতিচ্ছবিসমূহ থেকে আপনার নিকট অনুপস্থিত বিষয়সমূহের দিকে উত্তরণের পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া। কেননা এই উত্তরণের একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো ও বিন্যাস রয়েছে; যদি তা অনুসরণ করা হয় তবে তা উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়, আর যদি তা উপেক্ষা করা হয় তবে তা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। এর সঠিক কাঠামো ও বিন্যাস এবং বেঠিকের মধ্যে অত্যন্ত সাদৃশ্য রয়েছে। সংক্ষেপে এই শাস্ত্রের বিষয়বস্তু হলো এটি। আর বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, কাঙ্ক্ষিত বিষয় হলো জ্ঞান; আর জ্ঞান দুই ভাগে বিভক্ত: বস্তুর সত্তাসমূহ সম্পর্কিত জ্ঞান, যেমন—মানুষ, বৃক্ষ, আকাশ ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আপনার জ্ঞান। এই জ্ঞানকে ধারণা (তাসাওয়ুর) বলা হয়। আর এই ধারণাকৃত সত্তাসমূহকে একে অপরের সাথে নেতিবাচক বা ইতিবাচকভাবে সম্পৃক্ত করার জ্ঞান; যেমন আপনার কথা—'মানুষ হলো জীব' এবং 'মানুষ পাথর নয়'। এখানে আপনি মানুষ ও পাথরকে তাদের সত্তাগত দিক থেকে ধারণা করছেন, অতঃপর আপনি এই সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন যে, এদের একটি অন্যটি থেকে নেতিবাচক অথবা তার জন্য ইতিবাচকভাবে সাব্যস্ত। একে সত্যায়ন (তাসদিক) বলা হয়, কারণ এতে সত্যারোপ বা মিথ্যারোপ করার অবকাশ থাকে।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৬৮)
فالبحث النظري بالطالب إما أن يتجه إلى تصو أو إلى تصديق، والموصل إلى التصور يسمى قولا شارحا فمنه حد ومنه رسم، والموصل إلى التصديق يسمى حجة فمنه قياس ومنه استقراء وغيره. ومضمون هذا الكتاب تعريف مبادىء القول الشارح لما أريد تصوره حدا كان أو رسما، وتعريف مبادىء الحجة الموصلة إلى التصديق قياسا كانت أوغيره مع لا تنبيه على شروط صحتها ومثار الغلط فيهما. فإن قلت: كيف يجهل الإنسان العلم التصوري حتى يفتقر إلى الحد؟ قلنا بأن يسمع الإنسان إسما لا يفهم معناه كمن قال: ما الخلاء وما الملاء وما الملك وما الشيطان وما العقار؟ فتقول: العقار هو الخمر، فإن لم يفهمه باسمه المعروف أفهمه بحده. وقيل: إن الخمر شراب معتصر من العنب مسكر، فيحصل له علم تصوري بذات الخمر. وأما العلم التصديقي فبأن يجهل الإنسان مثلا أن للعالم صانعا، فيقول: هل للعالم صانع؟ فتقول: نعم للعالم صانع. وتعرفه صدق ذلك بالحجة والبرهان على ما سنوضحه، فهذا مضمون الكتاب.

শিক্ষার্থীর তাত্ত্বিক অনুসন্ধান হয় কোনো ধারণার অভিমুখে হবে অথবা কোনো সত্যায়নের অভিমুখে। যা ধারণার দিকে পৌঁছায় তাকে ব্যাখ্যামূলক বাক্য বলা হয়, যার অন্তর্ভুক্ত হলো পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা ও বিবরণমূলক সংজ্ঞা। আর যা সত্যায়নের দিকে পৌঁছায় তাকে যুক্তি বলা হয়, যার অন্তর্ভুক্ত হলো ন্যায়ানুমান, আরোহ এবং অন্যান্য। এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু হলো সেই ব্যাখ্যামূলক বাক্যের নীতিমালা পরিচিত করানো যা ধারণার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য—তা পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা হোক বা বিবরণমূলক সংজ্ঞা। সেই সাথে সত্যায়নের দিকে পরিচালনাকারী যুক্তির নীতিমালা পরিচিত করানো—তা ন্যায়ানুমান হোক বা অন্য কিছু, এবং সেই সাথে এগুলোর সঠিক হওয়ার শর্তাবলি ও ভুলের উৎসসমূহ সম্পর্কে অবহিত করা। আপনি যদি বলেন: মানুষ ধারণামূলক জ্ঞান সম্পর্কে কীভাবে অজ্ঞ থাকতে পারে যে তার সংজ্ঞার প্রয়োজন হবে? আমরা বলব: এটি এভাবে হয় যে, মানুষ এমন কোনো শব্দ শ্রবণ করে যার অর্থ সে বোঝে না, যেমন কেউ বলল: শূন্যতা কী? পূর্ণতা কী? ফেরেশতা কী? শয়তান কী? এবং ‘আকার’ কী? তখন আপনি বলবেন: ‘আকার’ হলো মদ। যদি সে তার পরিচিত নাম দ্বারা বিষয়টি না বোঝে, তবে আপনি তাকে সংজ্ঞার মাধ্যমে বোঝাবেন। তখন বলা হবে: মদ হলো আঙুর থেকে নিংড়ানো নেশাজাতীয় পানীয়; ফলে তার মধ্যে মদের প্রকৃত সত্তা সম্পর্কে একটি ধারণামূলক জ্ঞান অর্জিত হবে। আর সত্যায়নমূলক জ্ঞানের বিষয়টি হলো এমন যে, যেমন কোনো মানুষ জানে না যে এই জগতের একজন স্রষ্টা আছেন, ফলে সে জিজ্ঞাসা করে: জগতের কি কোনো স্রষ্টা আছেন? তখন আপনি বলবেন: হ্যাঁ, জগতের একজন স্রষ্টা আছেন। এরপর আপনি যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে তাকে এর সত্যতা অবগত করবেন, যেমনটি আমরা সামনে স্পষ্ট করব। এটাই এই কিতাবের মূল বিষয়বস্তু।

(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৬৯)
وإن أردت أن تعلم فهرست الأبواب.

فاعلم أنا قسمنا القول في مدارك العلوم إلى كتب أربعة: كتاب مقدمات القياس، وكتاب القياس، وكتاب الحد، وكتاب أقسام الوجود وأحكامه.
আর যদি আপনি অধ্যায়সমূহের সূচিপত্র জানতে চান।

তবে জেনে রাখুন যে, আমরা জ্ঞান অর্জনের উপায়সমূহের আলোচনাকে চারটি কিতাবে বিভক্ত করেছি: কিয়াসের উপক্রমনিকা বিষয়ক কিতাব, কিয়াস বিষয়ক কিতাব, হদ্দ বা সংজ্ঞা বিষয়ক কিতাব এবং অস্তিত্বের প্রকারভেদ ও এর বিধানসমূহ বিষয়ক কিতাব।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৭০)
الكتاب الأول في مقدمات القياس، ولنذكر مقدمة يعرف بها وجه إنقسام النظر في القياس إلى أدنى وإلى أقصى فنقول: المطلب الأقصى في هذا القسم هو البرهان المحصل للعلم اليقيني والبرهان نوع من القياس إذ القياس إسم عام، والبرهان إسم خاص لنوع منه، والقياس لا ينتظم إلا بمقدمتين، وكل مقمدة لا تنتظم إلا بمخبر عنه يسمى موضوعا وخبر يسمى محمولا، وكل موضوع أو محمول يذكر في قضية فهو لفظ نيدل لا محالة على معنى، فالقياس مركب، وكل ناظر في شيء مركب، فطريقه أن يحلل المركب إلى المفردات ويبتدىء بالنظر في الآحاد، ثم في المركب، فلزم من النظر في القياس النظر فيما ينحل إليه القياس من المقدماتنومن النظر في المقدمات النظر في المحمولن والموضوع اللذين منهما تتألف المقدمات، ومن النظر في المحمول والموضوع النظر في الألفاظ والمعاني المفردة التي بها يتم المحمول والموضوع،
প্রথম গ্রন্থ: কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) ভূমিকা প্রসঙ্গে। আমরা এমন একটি ভূমিকা উল্লেখ করব যার মাধ্যমে কিয়াসের পর্যালোচনার নিম্নস্তর ও উচ্চস্তরে বিভক্ত হওয়ার বিষয়টি জানা যাবে। সুতরাং আমরা বলি: এই অধ্যায়ে চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এমন 'বুরহান' (প্রমাণ) যা নিশ্চিত জ্ঞান অর্জনে সহায়ক। আর 'বুরহান' হলো 'কিয়াস'-এর একটি প্রকার; কেননা 'কিয়াস' একটি সাধারণ নাম এবং 'বুরহান' হলো তার একটি বিশেষ প্রকারের নাম। কিয়াস দুটি ভূমিকা (Premises) ব্যতিরেকে গঠিত হয় না। আবার প্রতিটি ভূমিকা এমন একটি বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদানকারী ছাড়া গঠিত হয় না যাকে 'মাউজু' (উদ্দেশ্য) বলা হয় এবং একটি সংবাদ ছাড়া গঠিত হয় না যাকে 'মাহমুল' (বিধেয়) বলা হয়। কোনো 'কাজিয়া' (বচন)-তে উল্লেখিত প্রতিটি 'মাউজু' বা 'মাহমুল' হলো এমন শব্দ যা অনিবার্যভাবে একটি নির্দিষ্ট অর্থের ওপর নির্দেশ করে। সুতরাং কিয়াস হলো একটি যৌগিক বিষয়। আর যেকোনো যৌগিক বিষয় সম্পর্কে পর্যালোচনাকারীর পদ্ধতি হলো যৌগিক বিষয়টিকে তার একক উপাদানসমূহে বিশ্লেষণ করা এবং এককগুলোর পর্যালোচনা দিয়ে শুরু করা, অতঃপর যৌগিক বিষয়টির পর্যালোচনা করা। ফলে কিয়াসের পর্যালোচনা থেকে অবধারিতভাবে সেই ভূমিকাগুলোর পর্যালোচনাও জরুরি হয়ে পড়ে যাতে কিয়াস বিশ্লেষিত হয়। আবার ভূমিকাগুলোর পর্যালোচনা থেকে সেই 'মাহমুল' ও 'মাউজু'র পর্যালোচনা জরুরি হয়ে পড়ে যা দ্বারা ভূমিকাগুলো গঠিত হয়। আর 'মাহমুল' ও 'মাউজু'র পর্যালোচনা থেকে সেই একক শব্দ ও অর্থসমূহের পর্যালোচনা জরুরি হয়ে পড়ে যার মাধ্যমে 'মাহমুল' ও 'মাউজু' পূর্ণতা লাভ করে।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৭১)
ولزم من النظر في المقدمات النظر في شروطها؛ فإن كل مركب من مادة وصورة يجب النظر في مادته وصورته. وما هذا إلا كمن يريد بناء بيت فحقه أن يهتم بإفراز المواد التي منها يتركب كاللبن والطين والخشب، ثم يشتغل بالتنصوير وكيفية التنضيد والتركيب؛ فكذلك النظر في القياس، فهذا بيان الحاجة إلى هذه الأقسام، ولنأخذ بعده في المقصود.

ভূমিকার আলোচনার অনুষঙ্গ হিসেবে সেগুলোর শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করাও অপরিহার্য হয়ে পড়ে; কারণ, উপাদান ও রূপ দ্বারা গঠিত প্রতিটি যৌগিক বস্তুর ক্ষেত্রেই তার উপাদান ও রূপ উভয়টি নিয়ে আলোচনা করা আবশ্যক। এটি ঠিক সেই ব্যক্তির মতো, যে একটি গৃহ নির্মাণ করতে চায়। এমতাবস্থায় তার কর্তব্য হলো প্রথমে সেই উপাদানগুলো পৃথক ও সংগ্রহ করা যার দ্বারা ঘরটি তৈরি হবে—যেমন ইট, কাদা ও কাঠ। অতঃপর সে এর নকশা এবং সাজানোর ও বিন্যাসের পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করবে। যুক্তিনির্ভর অনুমানের (কিয়াস) বিষয়টিও ঠিক তদ্রূপ। সুতরাং এটি হলো এসব প্রকারভেদের প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা। এখন আমরা এর পর মূল উদ্দীষ্ট বিষয়ের আলোচনায় প্রবেশ করব।

(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৭২)
الفن الأول: من كتاب مقدمات في دلالة الألفاظ وبيان وجوه دلالتهاونسبتها إلى المعاني وبيانه بسبعة تقسيمات: القسمة الأولى: أن نقول: الألفاظ تدل على المعاني من ثلاثة أوجه متباينة: الوجه الأول الدلالة من حيث المطابقة كالإسم الموضوع بإزاء الشي، وذلك كدلالة لفظ الحائط على الحائط.

والآخر أن تكون بطريق التضمن وذلك كدلالة لفظ البيت على الحائط ودلالة لفظ الإنسان على الحيوان، وكذلك دلالة كل وصف أخص على الوصف الأعم الجوهري.

الثالث: الدلالة بطريق الإلتزام والإستتباع كدلالة لفظ السقف على الحائط؛ فإنه مستتبع له إستتباع الرفيق اللازم الخارج عن ذاته، ودلالة الإنسان على قابل صنعة الخياطة وتعلمها، والمعتبر في التعريفات دلالة المطابقة والتضمن. فأما دلالة الإلتزام فلا لأنها ما وضعها واضع اللغة بخلافهما، لأن المدلول فيها غير محدود ولا محصور، إذ لوازم الأشياء ولوازم لوازمها لا تنضبط ولا تنحصر فيؤدي إلى أن يكون اللفظ دليلا على مالا يتناهى من المعاني وهو محال.
প্রথম পরিচ্ছেদ: শব্দের নির্দেশ্যতা এবং তার নির্দেশনার স্বরূপ ও অর্থের সাথে এর সম্পর্কের ভূমিকা বিষয়ক গ্রন্থ হতে, যা সাতটি বিভাজনের মাধ্যমে বর্ণিত: প্রথম বিভাজন: আমরা বলি: শব্দসমূহ অর্থের ওপর তিনটি ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে নির্দেশ করে: প্রথম দিকটি হলো সামঞ্জস্যতা (মুতাবাক্বাত) অনুযায়ী নির্দেশ করা, যেমন কোনো বস্তুর বিপরীতে নির্ধারিত নাম; আর তা হলো যেমন 'দেওয়াল' শব্দটি খোদ দেওয়ালকেই নির্দেশ করা।

আর অন্যটি হলো অন্তর্ভুক্তিকরণ (তাদামমুন) পদ্ধতিতে নির্দেশ করা, যেমন 'বাড়ি' শব্দটি দেওয়ালকে নির্দেশ করা এবং 'মানুষ' শব্দটি প্রাণীকে নির্দেশ করা, একইভাবে প্রতিটি বিশেষ গুণের মাধ্যমে তার সাধারণ ও মৌলিক গুণকে নির্দেশ করা।

তৃতীয়: অপরিহার্যতা (ইলতিজাম) এবং অনুগমন পদ্ধতিতে নির্দেশ করা, যেমন 'ছাদ' শব্দটি দেওয়ালকে নির্দেশ করা; কেননা এটি তার সত্তার বাইরের এক অপরিহার্য সঙ্গীর মতো তাকে অনুসরণ করে। এবং মানুষ শব্দ দ্বারা সেলাই শিল্প গ্রহণ ও তা শেখার যোগ্যতাকে বোঝানো। সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যতা (মুতাবাক্বাত) এবং অন্তর্ভুক্তিকরণ (তাদামমুন) মূল ধর্তব্য। তবে অপরিহার্যতার (ইলতিজাম) মাধ্যমে নির্দেশ করা ধর্তব্য নয়, কারণ ভাষা প্রণেতা এটি অন্য দুটির মতো নির্ধারণ করেননি। কারণ এর দ্বারা নির্দেশিত অর্থ অসীম এবং সীমাবদ্ধ নয়। কেননা বস্তুর অপরিহার্য অনুষঙ্গ এবং সেই অনুষঙ্গের অনুষঙ্গসমূহ সুশৃঙ্খল বা সীমাবদ্ধ নয়; যার ফলে একটি শব্দ অগণিত অর্থের নির্দেশক হয়ে পড়বে, যা অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৭৩)
القسمة الثانية: للفظ بالنسبة إلى عموم المعنى وخصوصه، واللفظ ينقسم إلى جزئي وكلي، والجزئي ما يمنع نفس تصور معناه عن وقوع الشركة في مفهومه، كقولك زيد وهذا الشجر وهذا الفرس، فإن المتصور من لفظ زيد شخص معين لا يشاركه غيره في كونه مفهوما من لفظ زيد. والكلي هو الذي لا يمنع نفس تصور معناه عن وقوع الشركة فيه، فإن امتنع امتنع بسبب خارج عن نفس مفهومه ومقتضى لفظه، كقولك الإنسان والفرس والشجر وهي أسماء الأجناس والأنواع والمعاني الكلية العامة، وهو جار في لغة العرب في كل إسم أدخل عليه الألف واللام لا في معرض الحوالة على معلوم معين سابق، كالرجل فهو إسم جنس، فإنك قد تطلق وتريد به رجلا معينا عرفه المخاطب من قبل، فتقول: أقبل الرجل فتكون الألف واللام فيه للتعريف أي الرجل الذي جاءني من قبل. فإذا لم تكن مثل هذه القرينة، كان إسم الرجل إسما كليا يشترك في الإندراج تحته كل شخص من أشخاص الرجال.

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অর্থের ব্যাপকতা ও বিশেষত্বের বিচারে শব্দের প্রকারভেদ। শব্দ দুই ভাগে বিভক্ত: আংশিক এবং সামগ্রিক। আংশিক শব্দ হলো তা, যার অর্থের নিছক ধারণা তার মর্মার্থের মধ্যে অন্য কারো অংশীদারিত্ব ঘটাকে বাধা প্রদান করে। যেমন আপনার বলা— যায়েদ, এই গাছটি এবং এই ঘোড়াটি। কেননা ‘যায়েদ’ শব্দ থেকে যা ধারণা করা হয় তা একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি, যাতে অন্য কেউ ‘যায়েদ’ শব্দের মর্মার্থ হওয়ার ক্ষেত্রে তার সাথে শরিক হয় না। আর সামগ্রিক শব্দ হলো তা, যার অর্থের নিছক ধারণা তার মধ্যে অংশীদারিত্ব ঘটার পথে কোনো বাধা প্রদান করে না। যদি কখনো বাধা সৃষ্টি হয়, তবে তা তার অর্থের প্রকৃত রূপ ও শব্দের দাবির বাইরের কোনো স্বতন্ত্র কারণে হয়ে থাকে। যেমন আপনার বলা— মানুষ, ঘোড়া ও গাছ। এগুলো মূলত বিভিন্ন বর্গ, প্রকার এবং সাধারণ সামগ্রিক অর্থের নাম। এটি আরবি ভাষায় এমন প্রতিটি বিশেষ্যের ক্ষেত্রে প্রচলিত যাতে ‘আলিফ’ এবং ‘লাম’ যুক্ত হয়েছে, যদি না তা পূর্বপরিচিত কোনো নির্দিষ্ট সত্তার দিকে ইঙ্গিত করার জন্য হয়। যেমন— ‘পুরুষ’ শব্দটি; এটি একটি শ্রেণিবাচক নাম। তবে কখনো কখনো আপনি এটি ব্যবহার করে এমন একজন নির্দিষ্ট পুরুষকে বোঝাতে পারেন যাকে সম্বোধনকারী আগে থেকেই চেনেন। এমতাবস্থায় আপনি বললেন: ‘পুরুষটি এসেছে’; এখানে ‘আলিফ’ এবং ‘লাম’ ব্যবহৃত হয়েছে পরিচিতি প্রদানের জন্য, অর্থাৎ সেই ব্যক্তি যে আমার কাছে ইতিপূর্বে এসেছিল। সুতরাং যখন এই ধরণের কোনো লক্ষণ বিদ্যমান না থাকে, তখন ‘পুরুষ’ শব্দটি একটি সামগ্রিক নাম হিসেবে গণ্য হবে, যার অধীনে সকল পুরুষ ব্যক্তিই অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সমান অংশীদার।

(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৭৪)
فإن قلت: فإذا قلنا الشكل الكروي المحيط بإثني عشر برجا فذلك، ولم يكن في الوجود شكل بهذه الصفة غلا واحد فكيف يكون الإسم كليا والمسمى واحد، وقد دخل الألف واللام المقتضى لإستغراق الجن عليه؟ فيقال لك: إن هذا كلي لأنا لسنا نشترط أن يكون الداخل تحته موجودا بالفعل، بل يجوز أن يكون موجودا بالقوة والإمكان، ولو قدر وجوده لكان داخلا فيه لا محالة، وهو قبل الوجود داخل لا كإسم زيد فإنه يمتنع وقوع الشركة فيه بالفعل والقوة جميعا.

فإن قلت: فإذا قلنا الإله الحق هكذا فكيف يكون هذا كليا ويمنع وقوع الشركة فيه بالفعل والقوة جميعا، وكذلك قولنا: الشمس على أصل من لا يجوز وجود شمس أخرى فإنه يتعين الداخل تحته تعين شخص زيد في التصور من لفظ زيد؟ فيقال لك: اللفظ كلي وإمتناع وقوع الشركة فيه ليس لنفس مفهوم اللفظ وموضوعه بل لمعنى خارج عنه، وهو إستحالة وجود إلهين للعالم، ولم نشترط في كون اللفظ كليا إلا أن لا يمنع من وقوع الشركة فيه نفس مفهوم اللفظ وموضوعه، فقد حصل لك من السؤالين وجوابهما أن الكلي ثلاثة أقسام: قسم توجد فيه الشركة بالفعل كقولنا الإنسان إذا كانت الأشخاص منه موجودة، وقسم توجد الشركة فيه بالقوة كقولنا الإنسان إذا اتفق إن لم يبق في الوجود إلا شخص واحد، والكرة المحيطة بإثني عشر برجا إذ ليس في الوجود غلا واحد، وقسم لا شركة فيه لا بالفعل ولا بالقوة كالإله، وهو مع ذلك كلي لأن المنع ليس هو من موضوع لالفظ ومحموله بخلاف لفظ زيد.
আপনি যদি বলেন: যদি আমরা বলি 'বারোটি রাশিচক্রকে পরিবেষ্টনকারী গোলাকার আকৃতি', এবং বাস্তবে এই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন একটির বেশি আকৃতি বিদ্যমান না থাকে, তবে নামটি কেন 'কুল্লি' (সামগ্রিক) হবে অথচ নামধারী মাত্র একটি? তদুপরি এর ওপর আলিফ ও লাম যুক্ত হয়েছে যা সমগ্র শ্রেণীকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রাখে। এর উত্তরে আপনাকে বলা হবে: এটি একটি কুল্লি শব্দ; কারণ এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়টি বাস্তবে বিদ্যমান থাকা আমরা শর্ত করি না, বরং তা শক্তিগতভাবে বা সম্ভবনামূলকভাবে বিদ্যমান থাকা বৈধ। যদি এর অস্তিত্ব কল্পনা করা হয়, তবে তা অনিবার্যভাবে এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এটি অস্তিত্ব লাভের পূর্বেই এর অন্তর্ভুক্ত, যা 'যায়েদ' নামের মতো নয়; কেননা 'যায়েদ' নামের ক্ষেত্রে বাস্তবে বা শক্তিগতভাবে কোনো অংশীদারিত্ব থাকা অসম্ভব।

আপনি যদি বলেন: আমরা যখন বলি 'সত্য ইলাহ', তখন এটি কীভাবে কুল্লি হয় এবং এতে বাস্তবে ও শক্তিগতভাবে অংশীদারিত্ব ঘটা অসম্ভব হয়? অনুরূপভাবে আমাদের কথা: 'সূর্য'—তাদের মূলনীতি অনুযায়ী যারা দ্বিতীয় কোনো সূর্য থাকা অসম্ভব মনে করেন—এক্ষেত্রে এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়টি তো 'যায়েদ' শব্দের ধারণায় যায়েদ নামক ব্যক্তির ন্যায় নির্দিষ্ট হয়ে যায়। এর উত্তরে আপনাকে বলা হবে: শব্দটি কুল্লি বা সামগ্রিক, আর এতে অংশীদারিত্ব ঘটা অসম্ভব হওয়াটি স্বয়ং শব্দের ধারণা বা তার প্রয়োগক্ষেত্রের কারণে নয়, বরং বহিঃস্থ একটি কারণে; আর তা হলো মহাবিশ্বের জন্য দুইজন ইলাহ থাকা অসম্ভব হওয়া। কোনো শব্দ কুল্লি হওয়ার জন্য আমরা কেবল এটুকুই শর্ত করি যে, স্বয়ং শব্দটির ধারণা বা তার প্রয়োগক্ষেত্র যেন অংশীদারিত্বের পথে বাধা না হয়। সুতরাং এই দুটি প্রশ্ন ও উত্তর থেকে আপনার কাছে স্পষ্ট হলো যে, কুল্লি তিন প্রকার: এক প্রকার যাতে বাস্তবে অংশীদারিত্ব পাওয়া যায়, যেমন আমাদের বলা 'মানুষ', যখন এর অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা বাস্তবে বিদ্যমান থাকে। দ্বিতীয় প্রকার যাতে শক্তিগতভাবে অংশীদারিত্ব পাওয়া যায়, যেমন আমাদের বলা 'মানুষ'—যদি বাস্তবে কেবল একজন মানুষই অবশিষ্ট থাকে; এবং সেই গোলক যা বারোটি রাশিচক্রকে পরিবেষ্টন করে আছে, যেহেতু বাস্তবে এমন একটিই বিদ্যমান। তৃতীয় প্রকার যাতে বাস্তবে বা শক্তিগতভাবে কোনো অংশীদারিত্ব নেই, যেমন 'ইলাহ'। এতদসত্ত্বেও এটি কুল্লি বা সামগ্রিক; কারণ এর অংশীদারিত্বে বাধাটি শব্দের প্রয়োগক্ষেত্র বা এর বিধেয় থেকে আসেনি, যা 'যায়েদ' শব্দের বিপরীত।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৭৫)
‌‌فائدة فقهية

قد اختلف الأصوليون في أن الإسم المفرد إذا اتصل به الألف واللام هل يقتضي الإستغراق، وهل ينزل منزلة العموم كقول القائل الدينار أفضل من الدرهم والرجل خير من المرأة، فظن الظانون أنه من حيث كونه اسما فردا لا يقتضي الإستغراق لمجرده، ولكن فهم العموم بقرينة التسعير وقرينة التفضيل للذكر على الأنثى، إنما هو لعلمنا بنقصان الدرهمية عن الدينارية ونقصان الأنوثة عن الذكورة. وأنت إذا تأملت ما ذكرناه في تحقيق معنى الكلي، فهمت زلل هؤلاء بجهلهم أن اللفظ الكي يقتضي الإستغراق بمجرده ولا يحتاج إلى قرينة زائدة فيه. فإن قلت: ومن أين وقع لهم هذا الغلط؟ فستفهم ذلك من القسمة الثالثة.

 

‌‌القسمة الثالثة في بيان رتبة

‌‌الألفاظ من مراتب الوجود

إعلم أن المراتب فيما نقصده أربعة واللفظ في الرتبة الثالثة، فإن للشيء وجودا في الأعيان ثم في الأذهان، ثم في الألفاظ ثم في الكتابة.

فالكتابة دالة على اللفظ واللفظ دال على المعنى الذي في النفس، والذي في النفس هو مثال الموجود في الأعيان،
একটি ফিকহি ফায়দা

উসুলবিদগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, একবচন বিশেষ্য যখন আলিফ-লাম যুক্ত হয়, তখন তা কি পূর্ণ ব্যাপকতা (ইস্তিগরাক) দাবি করে কি না এবং তা ব্যাপকতার (উমুম) স্তরে গণ্য হয় কি না; যেমন কোনো বক্তার উক্তি: "দীনার দিরহামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ" এবং "পুরুষ নারীর চেয়ে উত্তম"। ধারণা পোষণকারীরা মনে করেছেন যে, এটি একবচন বিশেষ্য হওয়ার কারণে কেবলমাত্র এককভাবে ব্যাপকতা দাবি করে না, বরং মূল্যমান নির্ধারণের সূত্র এবং নারীর উপর পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বের সূত্রের মাধ্যমেই এখানে ব্যাপকতা বোঝা গিয়েছে। এটা মূলত দিরহামের তুলনায় দীনারের শ্রেষ্ঠত্ব এবং পুরুষত্বের তুলনায় নারীত্বের অপূর্ণতা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের কারণেই হয়েছে। আপনি যখন 'সামগ্রিক' (কুল্লি) অর্থের স্বরূপ বিশ্লেষণে আমাদের বর্ণিত আলোচনাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তখন তাদের এই পদস্খলনটি বুঝতে পারবেন। তাদের অজ্ঞতা ছিল এই যে, সামগ্রিক শব্দ তার আপন সত্তার মাধ্যমেই ব্যাপকতা দাবি করে এবং এতে অতিরিক্ত কোনো সূত্রের প্রয়োজন হয় না। আপনি যদি প্রশ্ন করেন: তাদের এই ভুলটি কোথা থেকে হলো? তবে আপনি তা তৃতীয় পরিচ্ছেদ থেকে বুঝতে পারবেন।

 

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অস্তিত্বের স্তরসমূহের মধ্যে

শব্দের স্তর বর্ণনায়

জেনে রাখুন যে, আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী স্তরসমূহ চারটি এবং শব্দ হলো তৃতীয় স্তরে। কেননা কোনো বস্তুর অস্তিত্ব প্রথমে থাকে বাস্তবে, তারপর মনে, তারপর শব্দে এবং এরপর লেখায়।

সুতরাং লেখা শব্দের ওপর নির্দেশক, আর শব্দ নির্দেশ করে সেই অর্থের ওপর যা অন্তরে রয়েছে, আর যা অন্তরে রয়েছে তা হলো বাস্তবে বিদ্যমান বস্তুর প্রতিচ্ছবি।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৭৬)
فما لم يكن للشيء ثبوت في نفسه لم يرتسم في النفس مثاله. ومهما ارتسم في النفس مثاله فهو العلم به، إذ لا معنى للعلم إلا مثال يحصل في النفس مطابق لما هو مثال له في الحس وهو المعلوم، وما لم يظهر هذا الأثر في النفس لا ينتظم لفظ يدل به على ذلك الأثر، وما لم ينتظم اللفظ الذي ترتب فيه الأصوات والحروف لا ترتسم كتابة للدلالة عليه. والوجود في الأعيان دالتان بالوضع والإصطلاح.

وعند هذا نقول: من زعم أن الإسم المفرد لا يقتضي الإستغراق ظن انه موضوع بإزاء الموجود في الأعيان فإنها أشخاص معينة إذ الدينار الموجود شخص معين، فإن جمعت أشخاص سميت دنانير، ولم يعرف أن الدينار الشخصي المعين يرتسم منهفي النفس أثر هو مثاله وعلم به وتصور له، وذلك المثال يطابق ذلك الشخص وسائر اشخاص الدنانير الموجودة والممكن وجوها، فتكون الصورة الثابتة في النفس من حيث مطابقتها لكل دينار يفرض صورة كلية لا شخصية؛
যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো বস্তুর নিজস্ব অস্তিত্ব না থাকে, ততক্ষণ মনে তার প্রতিচ্ছবি অঙ্কিত হয় না। আর যখনই মনে তার প্রতিচ্ছবি অঙ্কিত হয়, সেটিই হলো তার জ্ঞান; কারণ মনে অর্জিত এমন একটি প্রতিচ্ছবি যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের (যা পরিচিত) সাথে হুবহু মিলে যায়, তা ছাড়া জ্ঞানের আর কোনো অর্থ নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত মনে এই প্রভাবটি প্রকাশ না পায়, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই প্রভাবটিকে নির্দেশ করার জন্য কোনো শব্দ বিন্যস্ত হয় না। আর যতক্ষণ পর্যন্ত শব্দ বিন্যস্ত না হয়—যাতে ধ্বনি ও বর্ণ পর্যায়ক্রমে সাজানো থাকে—ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে নির্দেশ করার জন্য কোনো লিপি বা লেখা অঙ্কিত হয় না। আর বাহ্যিক অস্তিত্বসমূহ নির্ধারণ ও পরিভাষার ভিত্তিতে নির্দেশক হয়ে থাকে।

এই পর্যায়ে আমরা বলি: যারা মনে করেন যে একবচন বিশেষ্য ব্যাপকতা (ইস্তিগরাক) দাবি করে না, তারা ধারণা করেন যে এটি কেবল বাহ্যিক অস্তিত্বের বিপরীতে নির্ধারিত হয়েছে; কারণ সেগুলো তো সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিসত্তা। যেমন বিদ্যমান একটি দিনার একটি সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিসত্তা; যখন অনেকগুলো ব্যক্তিসত্তাকে একত্রিত করা হয় তখন সেগুলোকে ‘দিনারসমূহ’ বলা হয়। তিনি বুঝতে পারেননি যে, সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিসত্তাসম্পন্ন দিনার থেকে মনে একটি প্রভাব অঙ্কিত হয় যা তার প্রতিচ্ছবি, জ্ঞান এবং কল্পনা। সেই প্রতিচ্ছবিটি উক্ত সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিসত্তা এবং বিদ্যমান ও সম্ভাব্য সকল দিনারের ব্যক্তিসত্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। ফলে মনে বদ্ধমূল হওয়া সেই রূপটি প্রতিটি কল্পিত দিনারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণে সেটি একটি সামষ্টিক বা সার্বিক রূপ হিসেবে গণ্য হয়, কোনো ব্যক্তিক রূপ হিসেবে নয়;
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৭৭)
فإن اعتقدت أن إسم الدينار دليل على الأثر في النفس لا على المؤثر وذلك الأثر كلي، كان الإسم كليا لا محالة، وما قدمناه من الترتيب يعرفك أن الألفاظ لها دلالات على في النفوس، وما في النفوس مثال لما في الأعيان وسيأتي مزيد للعاني الكلية المرتسمة في النفوس بسبب مشاهدة الأشخاص الجزئية في كتاب أحكام الوجود ولواحقه.

 

‌‌القسمة الرابعة للفظ

‌‌قسمته من حيث إفراده وتركيبه

اعلم أن اللفظ ينقسم إلى مفرد ومركب، والمركب ينقسم إلى مركب ناقص وغلى مركب تام، فهي ثلاثة أقسام:

 

‌‌الأول

هو المفرد وهو الذي لا يراد بالجزء منه دلالة على شيء أصلا حين هو جزؤه كقولك عيسى وإنسان، فإن جزئي عيسى وهما " عي وسا " وجزئي إنسان وهما " إن وسان " مايراد بشيء منهما الدلالة على شيء أصلا. فإن قلت: فما قولك في عبد الملك؟ فاعلم أنه أيضا مفرد إذا جعلته إسما علما كقولك زيد، وعند ذلك لا تريد بعبد دلالة على معنى ولا بالملك دلالة على معنى. فكل منهما من حيث هو جزؤه لا يدل على شيء فيكونان كأجزاء
আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে, দিনার নামটি মনের ওপর পড়া প্রভাবের প্রমাণ, প্রভাবশালী সত্তার নয়, এবং সেই প্রভাবটি যদি সামগ্রিক (কুলি) হয়, তবে নামটি অবশ্যই সামগ্রিক হবে। আমরা ইতিপূর্বে বিন্যাসের মাধ্যমে যা উপস্থাপন করেছি তা আপনাকে বুঝিয়ে দেবে যে, শব্দাবলি মানুষের মনের অভ্যন্তরের অর্থের ওপর নির্দেশনা প্রদান করে। আর মনের অভ্যন্তরের বিষয়গুলো বাহ্যিক সত্তার উদাহরণ মাত্র। আংশিক বা একক সত্তাগুলো দর্শনের ফলে মনের মধ্যে যে সামগ্রিক অর্থগুলো অঙ্কিত হয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা 'আহকামুল উজুদ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি' গ্রন্থে আসবে।

 

‌শব্দের চতুর্থ বিভাজন

‌একক ও যৌগিক হওয়ার দিক থেকে এর বিভাজন

জেনে রাখুন যে, শব্দ মুফরাদ (একক) এবং মুরাক্কাব (যৌগিক) — এই দুই ভাগে বিভক্ত। আবার যৌগিক শব্দ মুরাক্কাব-এ নাকিস (অসম্পূর্ণ যৌগিক) এবং মুরাক্কাব-এ তাম (সম্পূর্ণ যৌগিক) — এই দুই ভাগে বিভক্ত। সুতরাং মোট তিনটি বিভাগ:

 

‌প্রথম

তা হলো মুফরাদ (একক শব্দ); এটি এমন একটি শব্দ যার কোনো অংশ দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে কোনো অর্থের ইঙ্গিত দেওয়া মোটেও উদ্দেশ্য হয় না যখন সেটি মূল শব্দের অংশ হিসেবে থাকে। যেমন আপনার উক্তি 'ঈসা' এবং 'ইনসান' (মানুষ)। এখানে 'ঈসা' শব্দের দুই অংশ 'ঈ' ও 'সা', এবং 'ইনসান' শব্দের দুই অংশ 'ইন' ও 'সান' দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে কোনো কিছুর অর্থ প্রকাশ করা মোটেও উদ্দেশ্য নয়। আপনি যদি প্রশ্ন করেন: তবে 'আবদুল মালিক' সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তবে জেনে রাখুন যে, এটিও মুফরাদ (একক শব্দ) যখন আপনি একে কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট নাম হিসেবে ব্যবহার করবেন, যেমন আপনি 'যায়েদ' বলে থাকেন। সেই অবস্থায় আপনি 'আবদ' দ্বারা কোনো অর্থের ইঙ্গিত দেওয়া উদ্দেশ্য করেন না এবং 'মালিক' দ্বারাও কোনো অর্থের ইঙ্গিত দেওয়া উদ্দেশ্য করেন না। সুতরাং এদের প্রত্যেকটি যখন মূল শব্দের অংশ হিসেবে থাকে, তখন তা কোনো কিছুর অর্থ প্রকাশ করে না। ফলে এগুলো [একক শব্দের] অংশসমূহের মতোই গণ্য হবে...
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৭৮)
إسم زيد وهما إسمان في الصورة جعلا إسما واحدا كبعلبك ومعد يكرب، فإن اتفق أن يكون المسمة به عبدا للملك تحقيقا فيكون هذا الإسم مطلقا عليه من وجهين: احدهما في تعريف ذاته فيكون الإسم مطلقا عليه من وجهين: أحدهما في تعريف ذاته فيكون الإسم مفرادا، والآخر في تعيف صفته في عبودية الملك فيكون قولك عبد الملك وصفا له فيكون مركبا لا مفردا، فافهم هذه الدقائق فإن مثار الأغاليط في النظريات تنشأ من إهمالها.

والمركب التام هو الذي كل لفظ منه يدل على معنى والمجموع بدل دلالة تامة بحيث يصح السكوت عليه، فيكون من إسمين ويكون من إسم وفعل. والمنطقي يسمى الفعل كلمة والمركب الناقص بخلافه.

فقولك: زيد يمشي والناطق حيوان؛ مركب تام، وقولك: في الدار أو انسان؛ مركب ناقص لأنه مركب من إسم وأداة لا من إسمين ولامن إسم وفعل، فإن مجرد قولك " زيد في " أو " زيد لا " لا يدل على المعنى الذي يراد الدلالة عليه في المحاورة ما لم يقل زيد في الدار أو زيد لا يظلم، فإنه بذلك الإقتران والتتميم يدل دلالة تامة بحيث يصح السكوت عليه.
যায়িদ নাম; এটি বাহ্যত দুটি নাম হলেও বালবাক ও মা'দী কারিব-এর ন্যায় একটি নাম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যদি এমন হয় যে, যাকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে সে বাস্তবপক্ষেই রাজার একজন দাস, তবে এই নামটি তার ওপর দুটি দিক থেকে প্রযোজ্য হবে: প্রথমটি হলো তার সত্তাকে পরিচিত করার ক্ষেত্রে, তখন নামটি একক হিসেবে গণ্য হবে। আর দ্বিতীয়টি হলো রাজার দাসত্বের ক্ষেত্রে তার গুণাগুণ বর্ণনার সময়, তখন আপনার 'আবদুল মালিক' বলাটি তার জন্য একটি বিশেষণ হবে এবং এটি যৌগিক হিসেবে গণ্য হবে, একক নয়। সুতরাং এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অনুধাবন করুন, কারণ তাত্ত্বিক আলোচনায় বিভ্রান্তির উৎসগুলো এগুলোকে উপেক্ষা করার কারণেই তৈরি হয়।

আর পূর্ণ যৌগিক হলো এমন পদসমষ্টি যার প্রতিটি শব্দ একটি অর্থ প্রকাশ করে এবং সমষ্টিগতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করে যাতে সেখানে থামা শুদ্ধ হয়। এটি দুটি বিশেষ্য দ্বারা অথবা একটি বিশেষ্য ও একটি ক্রিয়া দ্বারা গঠিত হয়। যুক্তিবিদগণ ক্রিয়াকে 'শব্দ' বলে অভিহিত করেন। আর অপূর্ণ যৌগিক এর বিপরীত।

সুতরাং আপনার উক্তি: 'যায়িদ হাঁটছে' এবং 'বাকশক্তি সম্পন্ন সত্তা একটি প্রাণী' হলো পূর্ণ যৌগিক। আর আপনার উক্তি: 'ঘরের মধ্যে' অথবা 'মানুষ' হলো অপূর্ণ যৌগিক; কারণ এটি একটি বিশেষ্য ও একটি অব্যয় দ্বারা গঠিত হয়েছে, দুটি বিশেষ্য বা একটি বিশেষ্য ও একটি ক্রিয়া দ্বারা নয়। কেননা আপনার শুধু 'যায়িদ মধ্যে' অথবা 'যায়িদ না' বলা কথোপকথনের ক্ষেত্রে সেই অর্থ প্রকাশ করে না যা প্রকাশের ইচ্ছা করা হয়েছে, যতক্ষণ না বলা হয় 'যায়িদ ঘরের মধ্যে' অথবা 'যায়িদ জুলুম করে না'। কারণ এই সংযুক্তি ও পূর্ণতার মাধ্যমেই এটি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে যার ওপর থামা শুদ্ধ হয়।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৭৯)
‌‌القسمة الخامسة للفظ المفرد في نفسه

اللفظ إما إسم أو فعل أو حرف. ولنذكر حدّ كل واحد على شرط المنطقيين لتنكشف أقسامه، فنقول: الإسم صوت دال بتواطؤ مجرد عن الزمان والجزء من أجزائه لا يدل على إنفراده ويدل على معنى محصل، ولما كان الحد، مكربا من الجنس والفصول وتذكر الفصول للاحترازات، كان قولنا صوت جنسا، وقولنا دال فصلا يفصله عن العطاس والنحنحنة والسعال وأمثالها، وقولنا بتواطؤ يفصله عن نباح الكلبح فإنه صوت دال على ورود وارد لكن لا بتواطؤ، وقولنا مجرد عن الزمان نحو قولنا يقوم وقام وسيقوم، فإن كل واحد صوت دال بتواطؤ، وقولنا الجزء من أجزائه لا يدل على إنفراده احترازا عن المركب التام كقولنا زيد حيوان، فإن هذا يسمى خبرا وقولا لا إسما، وقولنا يدل على معنى محصل احترازا عن الأسماء التي ليست محصلة كقولنا لا إنسان، فإنه محصل احترازا عن الأسماء التي ليست محصلة كقولنا لا إنسان، فإنه لا يسمى إسما مع وجود جميع أجزاء الحد فيه سوى هذا الإحتراز.

فإن قولنا لا إنسان قد يدل على الحجر والسماء والبقر، وبالجملة على كل شيء ليس بإنسان
একক শব্দের নিজস্ব সত্তার নিরিখে পঞ্চম বিভাজন

শব্দ হয় বিশেষ্য, ক্রিয়া অথবা অব্যয়। আমরা যুক্তিবিদদের শর্তানুসারে প্রত্যেকটির সংজ্ঞা উল্লেখ করব যাতে এর প্রকারগুলো উন্মোচিত হয়; সুতরাং আমরা বলছি: বিশেষ্য হলো এমন একটি অর্থবহ ধ্বনি যা পারস্পরিক সমঝোতা বা পরিভাষাভিত্তিক এবং সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, যার কোনো অংশ এককভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না এবং যা একটি সুনির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করে। যেহেতু সংজ্ঞা ‘জিনস’ (সাধারণ বৈশিষ্ট্য) এবং ‘ফাসল’ (বিভেদক বৈশিষ্ট্য) দ্বারা গঠিত হয় এবং বিভেদকগুলো মূলত বর্জনের উদ্দেশ্যে উল্লেখ করা হয়, তাই আমাদের ‘ধ্বনি’ বলাটি একটি সাধারণ শ্রেণী (জিনস), এবং ‘অর্থবহ’ বলাটি হলো একটি বিভেদক (ফাসল), যা একে হাঁচি, গলা খাঁকারি, কাশি এবং এ জাতীয় শব্দ থেকে পৃথক করে। আর ‘পারস্পরিক সমঝোতাভিত্তিক’ বলাটি একে কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ থেকে পৃথক করে, কারণ এটি আগন্তুকের আগমন নির্দেশক শব্দ হলেও তা কোনো পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নয়। আর ‘সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়’ বলাটি ‘সে দাঁড়াচ্ছে’, ‘সে দাঁড়িয়েছিল’ এবং ‘সে অচিরেই দাঁড়াবে’—এর মতো শব্দগুলোকে বর্জন করার জন্য; কারণ এগুলোর প্রতিটিই পারস্পরিক সমঝোতাভিত্তিক ও অর্থবহ ধ্বনি। আর ‘এর কোনো অংশ এককভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না’ বলাটি পূর্ণাঙ্গ যৌগিক বাক্য থেকে সতর্ক থাকার জন্য, যেমন আমাদের বলা ‘যায়েদ একজন প্রাণী’; কারণ একে সংবাদ এবং বাক্য বলা হয়, বিশেষ্য নয়। আর ‘সুনির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করে’ বলাটি অনির্দিষ্ট নামসমূহ বর্জন করার জন্য, যেমন আমাদের বলা ‘অ-মানুষ’, কারণ সংজ্ঞার সকল অংশ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও এই বর্জনের কারণে একে বিশেষ্য বলা হয় না।

কেননা আমাদের ‘অ-মানুষ’ বলাটি পাথর, আকাশ, গরু—এককথায় মানুষ নয় এমন প্রতিটি বস্তুকে নির্দেশ করতে পারে।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৮০)
فليس له معنى محصل، إنما هو دليل على نفي الإنسان لا على إثبات شيء.

وأما الفعل وهو الكلمة فإنه صوت دال بتواطؤ على الوجه الذي ذكرناه في الإسم، إنما يباينه في أنه يدل على معنى وقوعه في زمان كقولنا قام ويقوم، وليس يكفي في كونه فعلا أن يدل على الزمان فحسب؛ فإن قولنا أمس واليوم وغدا وعام أول ومضرب الناقة ومقدم الحاج يدل على الزمان، وليس بفعل، حيث أن الفعل يدل على معنى وزمان يقع فيه المعنى فيكون الفعل أبدا دليلا على معنى محمول على غيره، فإذن الفرق بين الإسم والفعل تضمن معنى الزمان فقط.

وأما الحرف وهو الأداة فهو كل ما يدل على معنى لا يمكن أن يفهم بنفسه ما لم يقدر اقتران غيره به، مثل من وعلى وما أشبه ذلك.

وقد أوجز هذه الحدود فقيل في الإسم: إنه لفظ مفرد يدل على معنى من غير أن يدل على زمان وجود ذلك المعنى من الأزمنة الثلاثة، ثم منه ما هو محصل كزيد ومنه ما هو غير محصل، كما إذا اقترن به حرف سلب فقيل لا إنسان.

والكلمة هي لفظة مفردة تدل على معنى وعلى الزمان الذي ذلك المعنى موجود فيه لموضوع ما غير معين، والحرف أو الأداة ما لا يدل على معنى باقترانه بغيره.
সুতরাং এর কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ নেই; বরং এটি মানুষের নেতিবাচকতা বা অনস্তিত্বের প্রমাণ, কোনো কিছুর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য নয়।

আর ক্রিয়া, যা কালিমা নামে পরিচিত, তা বিশেষ্যের ন্যায় একটি ধ্বনি যা প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী অর্থ নির্দেশ করে। তবে এটি বিশেষ্য থেকে পৃথক এই কারণে যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো অর্থ সংঘটিত হওয়াকে নির্দেশ করে, যেমন আমাদের কথা ‘সে দাঁড়িয়েছিল’ এবং ‘সে দাঁড়াচ্ছে’। কেবল সময়ের নির্দেশক হওয়াই ক্রিয়া হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়; কারণ আমাদের কথা ‘গতকাল’, ‘আজ’, ‘আগামীকাল’, ‘গত বছর’, ‘উটের প্রহারের সময়’ এবং ‘হজযাত্রীর আগমনের সময়’ কাল নির্দেশ করলেও এগুলো ক্রিয়া নয়। যেহেতু ক্রিয়া এমন একটি অর্থ ও সময়ের নির্দেশ দেয় যাতে সেই অর্থটি সংঘটিত হয়, তাই ক্রিয়া সর্বদা অন্য কিছুর ওপর আরোপিত কোনো অর্থের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। অতএব, বিশেষ্য ও ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য কেবল সময়ের অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকা।

আর অব্যয়, যা উপকরণ হিসেবে পরিচিত, তা হলো এমন প্রতিটি শব্দ যা এমন এক অর্থ নির্দেশ করে যা নিজে নিজে বোঝা সম্ভব নয় যতক্ষণ না অন্য কিছুর সাথে এর সংযোগ অনুমিত হয়, যেমন ‘হতে’, ‘উপরে’ এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।

এই সংজ্ঞাগুলোকে সংক্ষেপে বর্ণনা করে বিশেষ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে: এটি এমন একটি একক শব্দ যা কোনো অর্থ নির্দেশ করে কিন্তু তিনটি কালের কোনোটির সাথে সেই অর্থের অস্তিত্বের সম্পর্ক নির্দেশ করে না। অতঃপর এর কোনোটি সুনির্দিষ্ট, যেমন ‘যায়েদ’; আবার কোনোটি অনির্দিষ্ট, যেমন যখন এর সাথে কোনো না-বোধক অব্যয় যুক্ত হয় এবং বলা হয় ‘অ-মানুষ’।

আর কালিমা বা ক্রিয়া হলো এমন একটি একক শব্দ যা কোনো অর্থের প্রতি এবং একটি অনির্দিষ্ট বিষয়ের প্রেক্ষাপটে সেই অর্থটি যে সময়ে বিদ্যমান তার প্রতি নির্দেশ করে। আর অব্যয় বা উপকরণ হলো তা, যা অন্য কিছুর সাথে মিলিত হওয়া ব্যতীত অর্থ প্রকাশ করে না।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৮১)
‌‌القسم السادسة في نسبة الألفاظ إلى المعاني

إعلم أن الألفاظ من المعاني على أربعة منازل: المشتركة والمتواطئة والمترادفة والمتزايلة.

أما المشتركة فهي اللفظ الواحد الذي يطلق على موجودات مختلفة بالحد والحقيقة إطلاقا متساويا كالعين تطلق على العين الباصرة، وينبوع الماء وقرص الشمس وهذه مختلفة الحدود والحقائق.

 

‌‌وأما المتواطئة

فهي التي تدل على أعيان متعددة بمعنى واحد مشترك بينها، كدلالة إسم الإنسان على زيد وعمرو، ودلالة إسم الحيوان على الإنسان والفرس والطير لأنها متشاركة في معنى الحيوانية والإسم بإزاء ذلك المعنى المشترك المتواطىء، بخلاف العين الباصرة وينبوع الماء.

وأما المترادفة: فهي الأسماء المختلفة الدالة على معنى يندرج تحت حد واحد كالخمر والراح والعقار؛ فإن المسمة بهذه يجمعه حد واحد وهو المائع المسكر المعتصر من العنب والأسامي مترادفة عليه.

وأما المتزايلة: فهي الأسماء المتباينة التي ليس بينها شيء من هذه النسب كالفرس والذهب والثياب؛ فإنها ألفاظ مختلفة تدل على معان مختلفة بالحد والحقيقة، والمشترك ينبغي أن يجتنب إستعامله في المخاطبات فضلا عن البراهين، وأما المتواطئة فتستعلم في الجميع لا سيما البراهين.
ষষ্ঠ বিভাগ: অর্থের প্রতি শব্দের সম্বন্ধ প্রসঙ্গে

জেনে রাখুন যে, অর্থের নিরিখে শব্দসমূহ চার স্তরে বিন্যস্ত: মুশতারাক (যুগ্মার্থবোধক), মুতাওয়াত্বি (সাধারণ), মুতারাদিফ (সমার্থবোধক) এবং মুতাযায়িল (বিপ্রতীপ বা ভিন্ন)।

মুশতারাক হলো এমন একটি শব্দ যা সংজ্ঞা ও প্রকৃত সত্তার (হাকীকত) দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন বিদ্যমান বিষয়ের ওপর সমভাবে প্রযুক্ত হয়। যেমন 'আইন' শব্দটি দেখার চোখ, পানির প্রস্রবণ এবং সূর্যের চাকতির ওপর ব্যবহৃত হয়; অথচ এগুলোর সংজ্ঞা ও প্রকৃত সত্তা পরস্পর ভিন্ন।

 

আর মুতাওয়াত্বি প্রসঙ্গে

এটি এমন যা একাধিক সত্তাকে তাদের মধ্যকার একটি সাধারণ অর্থের মাধ্যমে নির্দেশ করে। যেমন 'ইনসান' (মানুষ) শব্দটি যায়েদ ও আমরের ওপর প্রযুক্ত হওয়া, এবং 'হায়াওয়ান' (প্রাণী) শব্দটি মানুষ, ঘোড়া ও পাখির ওপর প্রযুক্ত হওয়া; কারণ তারা প্রাণীত্বের অর্থে অংশীদার এবং নামটি সেই সাধারণ বা মুতাওয়াত্বি অর্থের বিপরীতেই নির্দিষ্ট। এটি চাক্ষুষ চোখ ও পানির প্রস্রবণের (মুশতারাক হওয়ার) বিপরীত।

আর মুতারাদিফ হলো: সেই সকল ভিন্ন ভিন্ন নাম যা এমন একটি অর্থকে নির্দেশ করে যা একই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। যেমন 'খামর', 'রাহ' এবং 'আকার'; কেননা এই নামগুলো দ্বারা যা অভিহিত হয় তা একটি সংজ্ঞার অধীনেই একত্রিত হয়, আর তা হলো আঙ্গুর থেকে নিংড়ানো নেশাজাতীয় তরল পদার্থ। আর নামগুলো এর ওপর সমার্থবোধক হিসেবে প্রযুক্ত।

আর মুতাযায়িল হলো: সেই সকল পৃথক নাম যেগুলোর মধ্যে উল্লেখিত কোনো সম্বন্ধ নেই। যেমন ঘোড়া, স্বর্ণ এবং বস্ত্র; কারণ এগুলো ভিন্ন ভিন্ন শব্দ যা সংজ্ঞা ও প্রকৃত সত্তার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। সাধারণ আলাপ-আলোচনায় মুশতারাক শব্দের ব্যবহার বর্জন করা উচিত, দলীল-প্রমাণের ক্ষেত্রে তো বটেই। পক্ষান্তরে, মুতাওয়াত্বি শব্দ সবক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে দলীল-প্রমাণের ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৮২)
‌‌إرشاد إلى مزلة قدم في الفرق بين المشتركة

‌‌والمتواطئة والتباس إحداهما بالأخرى

فإن المشتركة في الإسم هي المختلفان في المعنى المتفقان في الإسم، حيث لا يكونبينهما إتفاق وتشابه في المعنى البتة، وتقابلها المتواطئة وهي المشتركان في الحد والرسم المتساويان فيه بحيث لا يكون الإسم لأحدهما بمعنى إلا وهو للآخر بذلك المعنى، فلا يتفاوتان بالأولى والأحرى والتقدم والتأخر والشدة والضعف كإسم الإنسان لزيد وعمرو، وإسم الحيوان للفرس والثور؛ وربما يدل إسم واحد على شيئين بمعنى واحد في نفسه، ولكن يختلف ذلك المعنى بينهما من جهة أخرى ولنسميه إسما مشككا، وقد لا يكون المعنى واحدا ولكن يكون بينهما مشابهة ولنسمه متشابها.

أما الأول فالكالوجود للموجودات؛ فإنه معنى واحد في الحقيقة ولكن يختلف بالإضافة إلى المسميات، فإنه للجوهر قبل ما هو للعرض ولبعض الأعراض قبله لبعض آخر، فهذا بالتقدم والتأخر. وأما المقول بالأولى والأحرى فالكالوجود أيضا فإنه لبعض الأشياء من ذاته ولبعضها من غره، وما له الوجود من ذاته أولى وأحرى بالإسم، واما المقول بالشدة والضعف فيتصور فيما يقبل الشدة والضعف كالبياض للعاج والثلج، فإنه لا يقال عليهما بالتواطؤ المطلق المتساوي بل أحدهما أشد فيه من الآخر.
‌‌নাম-সাদৃশ্যপূর্ণ পদের পার্থক্যের ক্ষেত্রে পদস্খলনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা

‌‌এবং সমার্থক পদ ও তাদের একটির সাথে অন্যটির সংশয় প্রসঙ্গে

নাম-সাদৃশ্যপূর্ণ পদ হলো সেইসব বিষয় যা অর্থে ভিন্ন কিন্তু নামে এক, যেখানে তাদের মাঝে অর্থের দিক থেকে কোনোভাবেই কোনো মিল বা সাদৃশ্য থাকে না। এর বিপরীতে রয়েছে সমার্থক পদ, যা সংজ্ঞা ও বর্ণনায় সমানভাবে অংশীদার এবং তাতে উভয়ে সমান; ফলে একটির ক্ষেত্রে নামটি যে অর্থে ব্যবহৃত হয়, অন্যটির ক্ষেত্রেও ঠিক সেই একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার, শ্রেয়তা, অগ্রগামীতা, পশ্চাদগামীতা, তীব্রতা বা দুর্বলতার কারণে কোনো পার্থক্য হয় না; যেমন জায়েদ ও আমরের জন্য ‘মানুষ’ নামটি এবং ঘোড়া ও বলদের জন্য ‘প্রাণী’ নামটি। কখনও কখনও একটি নাম তার নিজ সত্তাগতভাবে একই অর্থের ভিত্তিতে দুটি জিনিসের ওপর প্রযুক্ত হয়, কিন্তু অন্য কোনো দিক থেকে তাদের মাঝে সেই অর্থের পার্থক্য ঘটে; একে আমরা সংশয়যুক্ত নাম বলতে পারি। আবার কখনও অর্থ এক হয় না, তবে তাদের মাঝে এক ধরনের সাদৃশ্য থাকে; একে আমরা সদৃশ নাম বলতে পারি।

প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো বিদ্যমান বস্তুসমূহের জন্য ‘অস্তিত্ব’ শব্দটি; কারণ এটি প্রকৃতপক্ষে একটিই অর্থ, কিন্তু নামধারীদের নিরিখে এতে ভিন্নতা আসে। সারবস্তুর জন্য অস্তিত্বের বিষয়টি আপতিক গুণের চেয়ে অগ্রগামী, আবার কোনো কোনো আপতিক গুণের ক্ষেত্রে অন্য গুণের তুলনায় তা অগ্রগামী; এটি হলো অগ্রগামীতা ও পশ্চাদগামীতার উদাহরণ। আর অগ্রাধিকার ও শ্রেয়তার ভিত্তিতে যা বলা হয়, সেটিও ‘অস্তিত্ব’ শব্দের মতোই; কেননা কোনো কোনো জিনিসের অস্তিত্ব তার নিজ সত্তা থেকে, আবার কোনোটির অস্তিত্ব অন্য থেকে প্রাপ্ত। যার অস্তিত্ব নিজ সত্তা থেকে, এই নামের ক্ষেত্রে সে-ই অধিকতর অগ্রগণ্য ও শ্রেয়। আর তীব্রতা ও দুর্বলতার ভিত্তিতে যা বলা হয়, তা এমন সব বিষয়ের ক্ষেত্রে কল্পনা করা যায় যা তীব্রতা ও দুর্বলতা গ্রহণ করে; যেমন হাতির দাঁত ও বরফের ক্ষেত্রে ‘শুভ্রতা’ শব্দটি। কারণ এই দুইয়ের ক্ষেত্রে শব্দটি নিরঙ্কুশ ও সমান সমার্থকতায় প্রয়োগ করা হয় না, বরং একটির শুভ্রতা অন্যটির চেয়ে অধিক তীব্র।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৮৩)
أما الحيوان لزيد وعمرو، والفرس والثور فلا يتطرق إليه شيء من هذا التفاوت بحال، فقد ظهر بهذا الفرق انه قسم آخر، والمشكك قد يكون مطلقا كما سبق، وقد يكون بحسب النسبة إلى مبدأ واحد كقولنا طبي للكتاب والمبضع والدواء، أو لانتسابه إلى غاية واحدة كقولنا صحي للدواء والرياضة والفصد. وقد يكون إلى مبدأ وغاية واحدة كقولنا لجميع الأشياء أنها الإلهية. وأما الذي لا يجمعهما معنى واحد، ولكن بينهما تشابه ما كالإنسان على صورة متشكلة من الطين بصورة الإنسان وعلى الإنسان الحقيقي، فليس هذا بالتواطؤ إذ يخلفان بالحد فحد هذا حيوان ناطق مائت، وحد ذلك شكل صناعي يحاكي به صورة حيوان ناطق مائت؛ وكذلك القائمة للحيوان وللسرير حده في أحدهما أنه عضو طبيعي يقوم عليه الحيوان ويمشي به، وفي الآخر أنه جسم صناعي مسدير في أسفل السرير ليقله ولكن نجد بينهما شبها في شكل أو حال. ومثل هذا الإسم يكون موضوعا في أحدهما وضعا متقدما ويكون منقولا إلى الآخر، فإن أضيف إليهما سمي متشابه الإسم، وإن أضيف إلى المتقدم منهما سمي موضوعا، وإن أضيف إلى الأخير سمي منقولا؛ ثم هذا الضرب من التشابه على ثلاثة أقسام: الأول أن يكون في صفة قارة ذاتية كصورة الإنسان. والثاني أن يكون في صفة إضافية غير ذاتية كإسم المبدأ لطرف الخط والعلة.

পক্ষান্তরে যায়েদ ও আমরের ক্ষেত্রে ‘প্রাণী’ শব্দ এবং ঘোড়া ও বলদের ক্ষেত্রে ‘প্রাণী’ শব্দের ব্যবহারের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই এই ধরনের কোনো তারতম্য প্রবেশ করে না। এই পার্থক্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে এটি অন্য একটি প্রকার। আর সংশয়যুক্ত শব্দ কখনো নিরঙ্কুশ হতে পারে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, আবার কখনো তা একটি মূল উৎসের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে হতে পারে, যেমন বই, অস্ত্রোপচারের ছুরি ও ওষুধের ক্ষেত্রে আমাদের ‘চিকিৎসা-সংক্রান্ত’ বলা; অথবা কোনো একটি উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কের কারণে হতে পারে, যেমন ওষুধ, ব্যায়াম ও রক্তমোক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের ‘স্বাস্থ্যকর’ বলা। আবার কখনো একই উৎস এবং একই উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে হতে পারে, যেমন সকল বস্তুর ক্ষেত্রে আমাদের এ কথা বলা যে সেগুলো ‘ইলাহি’ বা খোদায়ী। আর যে দুটি বিষয়ের মাঝে কোনো একক অর্থ বিদ্যমান নেই, কিন্তু তাদের মাঝে কোনো এক প্রকারের সাদৃশ্য রয়েছে—যেমন মানুষের আকৃতিতে তৈরি মাটির মূর্তিকে ‘মানুষ’ বলা এবং প্রকৃত মানুষকেও ‘মানুষ’ বলা—তবে এটি একার্থবোধক নয়, কারণ সংজ্ঞার দিক থেকে তারা ভিন্ন। কেননা প্রকৃত মানুষের সংজ্ঞা হলো ‘মরণশীল বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণী’, আর মূর্তির সংজ্ঞা হলো ‘একটি কৃত্রিম অবয়ব যা মরণশীল বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণীর আকৃতিকে অনুকরণ করে’। অনুরূপভাবে প্রাণীর পা এবং খাটের পায়ের বিষয়টিও; এদের মধ্যে একটির সংজ্ঞা হলো যে এটি একটি প্রাকৃতিক অঙ্গ যার ওপর প্রাণী ভর দিয়ে দাঁড়ায় এবং যার সাহায্যে সে চলাফেরা করে, আর অন্যটির ক্ষেত্রে এটি একটি কৃত্রিম বস্তু যা খাটের নিচের অংশে তাকে ধারণ করার জন্য থাকে; তবে আমরা উভয়ের আকৃতি বা অবস্থার মাঝে একটি সাদৃশ্য খুঁজে পাই। আর এই ধরনের নাম কোনো একটির ক্ষেত্রে মৌলিকভাবে আগে প্রয়োগ করা হয় এবং অন্যটির দিকে তা স্থানান্তরিত করা হয়। যদি উভয়টির দিকে সম্বন্ধ করা হয় তবে তাকে ‘সদৃশ নাম’ বলা হয়, আর যদি পূর্ববর্তীটির দিকে সম্বন্ধ করা হয় তবে তাকে ‘মৌলিক’ বলা হয়, আর যদি পরবর্তীটির দিকে সম্বন্ধ করা হয় তবে তাকে ‘স্থানান্তরিত’ বলা হয়। এরপর সাদৃশ্যের এই প্রকারটি তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথমটি হলো এমন গুণ যা স্থায়ী ও সত্তাগত, যেমন মানুষের আকৃতি। দ্বিতীয়টি হলো এমন আপেক্ষিক গুণ যা সত্তাগত নয়, যেমন রেখার প্রান্তবিন্দু এবং কারণ—উভয়কেই ‘মূল উৎস’ বলা।

(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৮৪)
والثالث أن يكون التشابه جاريا في أمر بعيد كالكلب لنجم مخصوص ولحيوان، إذ لا تشابه بينهما إلا في أمر بعيد مستعار لأن النجم رئي كالتابع للصورة التي كالإنسان، ثم وجد الكلب أتبع الحيوانات للإنسان فسمي باسمه. ومثل هذا ينبغي أن يلحق بالمشترك المحض، فإنه لا عبرة بمثل هذا الإشتباه فقد صارت الأسامي بهذه القسمة ستة: متباينة، ومترادفة، ومتواطئة، ومشتركة، ومشككة، ومتشابهة؛ لأن العقل إذا قسم الشيء إلى ستة أقسام فيحتاج إلى ست عبارات في التفهيم.

 

‌‌إرشاد إلى مزلة قدم المتباينات

ولا يخفى أن الموضوعات إذ تباينت مع تباين الحدود فالأسامي متباينة متزايلة كالفرس والحجر، ولكن قد يتحد الموضوع ويتعدد الإسم بحسب اختلاف إعتبارات، فيظن أنها مترادفة ولا تكون كذلك؛ فمن ذلك أن يكون أحد الإسمين له من حيث موضوعه، والآخر من حيث له وصفن كقولنا سيف وصارم؛ فإن الصارم دل على موضوع موصوف بصفة الحدة بخلاف السيف، ومن ذلك أن يدل كل واحد على وصف للموضوع الواحد كالصارم والمهند، فإن
তৃতীয় প্রকারটি হলো সাদৃশ্য কোনো দূরবর্তী বিষয়ে হওয়া, যেমন নির্দিষ্ট একটি নক্ষত্র এবং একটি প্রাণীর ক্ষেত্রে 'কুকুর' শব্দের ব্যবহার। কারণ এই দুয়ের মধ্যে একটি দূরবর্তী রূপক বিষয় ছাড়া আর কোনো সাদৃশ্য নেই। কেননা নক্ষত্রটিকে এমন একটি আকৃতির অনুসারী হিসেবে দেখা গেছে যা মানুষের মতো; অতঃপর দেখা গেল যে কুকুর হলো মানুষের সবচেয়ে অনুসারী প্রাণী, তাই সেটিকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে। এই ধরণের শব্দকে নিছক অনেকর্থক শব্দের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, কারণ এই ধরণের অস্পষ্টতা ধর্তব্য নয়। সুতরাং এই বিভাজন অনুযায়ী নামসমূহ ছয় প্রকার হলো: ভিন্নার্থক, সমার্থক, একজাতীয়, অনেকর্থক, সংশয়যুক্ত এবং সদৃশ; কারণ বুদ্ধি যখন কোনো বিষয়কে ছয়টি ভাগে বিভক্ত করে, তখন তা বোঝানোর জন্য ছয়টি পরিভাষার প্রয়োজন হয়।

 

ভিন্নার্থক শব্দসমূহের পদস্খলনের স্থানের প্রতি নির্দেশনা

এটা অস্পষ্ট নয় যে, যখন সংজ্ঞার পার্থক্যের সাথে সাথে উদ্দেশ্যসমূহ পৃথক হয়, তখন নামগুলোও ভিন্ন ও স্বতন্ত্র হয়, যেমন ঘোড়া এবং পাথর। কিন্তু কখনো কখনো উদ্দেশ্য অভিন্ন হতে পারে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নাম একাধিক হতে পারে, ফলে ধারণা হতে পারে যে সেগুলো সমার্থক, অথচ সেগুলো সমার্থক নয়। এর একটি উদাহরণ হলো, একটি নাম তার মূল সত্তার দিক থেকে হওয়া এবং অন্যটি তার কোনো গুণের দিক থেকে হওয়া; যেমন আমাদের বলা 'তলোয়ার' এবং 'তীক্ষ্ণ তলোয়ার'। কারণ 'তীক্ষ্ণ তলোয়ার' শব্দটি তীক্ষ্ণতার গুণে গুণান্বিত একটি সত্তাকে নির্দেশ করে, যা সাধারণ 'তলোয়ার' শব্দের বিপরীত। এর আরেকটি উদাহরণ হলো, প্রতিটি শব্দই একই সত্তার কোনো না কোনো গুণের ওপর প্রমাণ করা, যেমন 'তীক্ষ্ণ তলোয়ার' এবং 'ভারতীয় তলোয়ার', কারণ...
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৮৫)
أحدهما يدل على حدته والآخر على نسبته، ومن ذلك أن يكون أحدهما بسبب وصف، والآخر بسبب وصف الوصف كالناطق والفصيح. ومن المتباينة المشتق والمنسوب مع المشتق منه والمنسوب إليه كالنحو والنحوي، والحديد والحداد، والمال والمتمول، والعدل والعادل، فإن العادل لو سمي عدلا كما سميت العدالة عدلا كان ذلك من قبيل ما يقال باشتباه افسم، ولكن غيرت الصيغة وبقيت المادة والمعنى الأول زيد فيه ما دل على زيادة المعنى فسمي مشتقا.

 

‌‌القسمة السابعة للف المطلق

‌‌بالإشتراك على مختلفات

إعلم أن اللفظ المطلق على معان مختلفة ثلاثة أقسام: مستعارة ومنقولة ومخصوصة باسم باسم المشترك.

أما المستعارة فهي أن يكون إسم دالا على ذات الشيء بالوضع ودائما من أول الوضع إلى الآن، ولكن يلقب به في بعض الأحوال لا على الدوام شيء آخر لمناسبته للأول على وجه من وجوه المناسبات، من غير أن يجعل ذاتيا للثاني وثابتا عليه ومنقولا إليه
এগুলোর একটি এর স্বকীয়তা নির্দেশ করে এবং অন্যটি এর সম্বন্ধ নির্দেশ করে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো যখন একটি কোনো গুণের কারণে হয় এবং অন্যটি গুণের গুণের কারণে হয়, যেমন- বাকসম্পন্ন এবং সাবলীল ভাষী। আর ভিন্নধর্মী শব্দাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো ব্যুৎপন্ন (মুশতাক) ও সম্বন্ধযুক্ত শব্দ এবং যেখান থেকে ব্যুৎপন্ন হয়েছে ও যার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক; যেমন- ব্যাকরণ ও ব্যাকরণবিদ, লোহা ও কামার, সম্পদ ও সম্পদশালী, ন্যায়বিচার ও ন্যায়বিচারক। কেননা ন্যায়বিচারককে যদি 'ন্যায়বিচার' হিসেবে নামকরণ করা হতো যেমনটি ন্যায়পরায়ণতাকে 'ন্যায়বিচার' বলা হয়, তবে তা নামের সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হতো। কিন্তু এখানে শব্দের রূপ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং মূল ধাতু ও আদি অর্থটি অবশিষ্ট রাখা হয়েছে, আর তাতে অর্থের আধিক্য নির্দেশক কিছু যোগ করা হয়েছে, ফলে একে 'ব্যুৎপন্ন' (মুশতাক) বলা হয়।

 

‌‌ভিন্ন ভিন্ন অর্থের ক্ষেত্রে সাধারণ শব্দের সপ্তম বিভাগ

‌‌ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের ওপর সাধারণত্বের ভিত্তিতে

জেনে রাখুন যে, ভিন্ন ভিন্ন অর্থের ওপর প্রযোজ্য সাধারণ শব্দাবলি তিন প্রকার: রূপক (মুস্তায়ার), স্থানান্তরিত (মানকুল) এবং যা 'মুশতারাক' (সাধারণ নাম) নামে বিশেষায়িত।

আর রূপক শব্দ হলো এমন একটি নাম যা আভিধানিক নির্ধারণের ভিত্তিতে কোনো বস্তুর সত্তাকে নির্দেশ করে এবং তা আদি নির্ধারণ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সর্বদা বহাল রয়েছে, কিন্তু স্থায়িত্বের ভিত্তিতে নয় বরং বিশেষ বিশেষ অবস্থায় অন্য কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে সেই প্রথমটির সাথে কোনো না কোনো দিকের সাদৃশ্যের কারণে একে উপাধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়; তবে একে দ্বিতীয়টির জন্য সত্তাগত করা হয় না, বা তার ওপর স্থায়ী করা হয় না এবং তার দিকে পূর্ণরূপে স্থানান্তরিতও করা হয় না।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৮৬)
كلفظ الأم، فإنه موضوع للوالدة ويستعار للأرض يقال إنها أم البشر، بل ينقل إلى العناصر الأربعة فتسمى أمهات على معنى أنها أصول. والأم أيضا أصل للولد فهذه المعاني التي استعير لها لفظ الأم لها أسماء خاصة بها.

وإنما تسمى بهذه الأسامي في بعض الأحوال على طريق الإستعارة، وخصص باسم المستعار لأن العارية لاتدوم وهذا أيضا يستعار في بعض الأحوال.

وأما المنقول فهو أن ينقل الإسم عن موضوعه إلى معنى آخر ويجعل إسما له ثابتا دائما، ويستعمل أيضا في الأول فيصير مشتركا بينهما كإسم الصلاة والحج ولفظ الكافر والفاسق، وهذا يفارق المستعار بأنه صار ثابتا في المنقول إليه دائما ويفارق المخصوص باسم المشترك بأن المشترك هو الذي وضع بالوضع الأول مشتركا للمعنيين لا على أنه استحقه أحد المسميين، ثم نقل عنه إلى غيره إذ ليس لشيء من ينبوع الماء والدينار وقرص الشمس والعضو الباصر سبق إلى استحقاق إسم العين، بل وضع للكل وضعا متساويا بخلاف المستعار والمنقول.

والمستعار ينبغي أن يجتنب في البراهين دون المواعظ والخطابيات والشعر، بل هي أبلغ باستعماله فيها. وأما المنقول فيستعمل في العلوم كلها لمسيس الحاجة إليها إذ واضع اللغة لما لم يتحقق عنده جميع المعاني لم يفردها بالأسامي، فاضطر غيره إلى النقل. فالجوهر وضعه واضع اللغة لحجر يعرفه الصيرفي والمتكلم نقله إلى معنى حصله في نفسه، وهو أحد أقسام الموجودات وهذا مما يكثر إستعماله في العلوم والصناعات.

وأما المشتركة فلا يؤتى بها في البراهين خاصة ولا في الخطابيات إلا إذا كانت معها قرينة،
যেমন ‘মা’ শব্দটি; এটি জননীর জন্য নির্ধারিত এবং পৃথিবীর জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যখন বলা হয় পৃথিবী হলো মানবজাতির জননী। বরং এটি চারটি মৌলিক উপাদানের ক্ষেত্রেও স্থানান্তরিত হয় এবং সেগুলোকে ‘মূল উৎসসমূহ’ বলা হয় এই অর্থে যে সেগুলোই হলো মূল ভিত্তি। জননীও সন্তানের জন্য মূল ভিত্তি। সুতরাং যেসব অর্থের জন্য ‘মা’ শব্দটি রূপক হিসেবে ধার করা হয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকের নিজস্ব স্বতন্ত্র নাম রয়েছে।

নির্দিষ্ট কিছু অবস্থায় এগুলোকে রূপক হিসেবে এই নামে অভিহিত করা হয়। একে ‘মুস্তায়ার’ বা ধার করা নাম বলা হয় কারণ ধার করা বস্তু স্থায়ী হয় না, আর এটিও কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

পক্ষান্তরে ‘মানকুল’ বা স্থানান্তরিত শব্দ হলো সেটি, যা তার মূল অর্থ থেকে অন্য একটি অর্থে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেই নতুন অর্থের জন্য তাকে স্থায়ী ও চিরন্তন নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি পূর্বের আদি অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে, ফলে তা উভয়ের মধ্যে সাধারণ বা অংশীদারিত্বমূলক শব্দে পরিণত হয়; যেমন সালাত ও হজ্জ এবং কাফির ও ফাসিক শব্দসমূহ। এটি রূপক শব্দ থেকে পৃথক এই কারণে যে, এটি স্থানান্তরিত অর্থে স্থায়ী রূপ লাভ করেছে। আর এটি বিশেষ ‘মুশতারাক’ বা সাধারণ নাম থেকে পৃথক এই দিক দিয়ে যে, মুশতারাক হলো সেই শব্দ যাকে আদি উদ্ভাবনকালেই উভয় অর্থের জন্য সমানভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে; এমন নয় যে কোনো একটি অর্থ আগে এর যোগ্য ছিল এবং পরবর্তীতে তা অন্যের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। কেননা পানির ঝরনা, স্বর্ণমুদ্রা, সূর্য এবং দর্শনেন্দ্রিয় বা চোখ—এগুলোর কোনোটিই ‘আইন’ নামের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের দাবিদার নয়; বরং রূপক ও স্থানান্তরিত শব্দের বিপরীতে এখানে সবগুলোর জন্যই এটি সমানভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অকাট্য প্রমাণের ক্ষেত্রে রূপক শব্দ বর্জন করা উচিত, তবে ওয়াজ-নসিহত, অলঙ্কারিক বক্তৃতা এবং কবিতার ক্ষেত্রে তা নয়; বরং এসব ক্ষেত্রে এর ব্যবহার অধিকতর বাগ্মীতাপূর্ণ। তবে স্থানান্তরিত শব্দসমূহ সকল বিজ্ঞানেই ব্যবহৃত হয়, কারণ এগুলোর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। কেননা ভাষার আদি উদ্ভাবক যখন সকল অর্থের প্রকৃত রূপ উপলব্ধি করতে পারেননি, তখন তিনি সবকিছুর জন্য আলাদা নামও নির্ধারণ করেননি, ফলে পরবর্তীগণ নাম স্থানান্তরে বাধ্য হয়েছেন। যেমন ‘জাওহার’ বা মণি শব্দটি ভাষা উদ্ভাবক এমন এক পাথরের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন যা মুদ্রা পরীক্ষকগণ চেনেন, কিন্তু মুতাকাল্লিম বা তত্ত্বজ্ঞানী একে এমন এক অর্থে স্থানান্তরিত করেছেন যা তিনি মনে মনে স্থির করেছেন, আর তা হলো বিদ্যমান বস্তুর প্রকারসমূহের একটি। বিজ্ঞান ও কারিগরি বিদ্যায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার প্রচুর।

আর মুশতারাক বা দ্ব্যর্থবোধক শব্দ বিশেষ করে অকাট্য প্রমাণের ক্ষেত্রে আনা যাবে না, এবং অলঙ্কারিক বক্তৃতার ক্ষেত্রেও নয়, যদি না এর সাথে কোনো প্রাসঙ্গিক সূত্র থাকে।
(খণ্ড: ১) মিইয়ারুল ইলমি ফী ফাননিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৮৭)
وهي أيضا أقسام: فمنها ما يقع في أحوال الصيغة كالإسم الذي يتحد فيه بناء الفاعل والمفعول نحو المختار فإنك تقول زيد مختار والعلم مختار، وأحدهما بمعنى الفاعل، والآخر بمعنى المفعول وكالمضطر وأشباهه. ومنها ما يقع على عدة أمور متشابهو في الظاهر مختلفة في الحقيقة لا يكاد يوقف على وجه مخالفتها كالحي الذي يطلق على الله وعلى الإنسان وعلى النبات والنور الذي يطلق على المدرك بالبصر المضاد للظلام، وعلى العقل الهادي إلى غوامض الأمور.

فإن قال قائل: فما مثال المستعار؟ قلنا: مثاله استعارة أطراف الحيوان لغير الحيوان كقولهم: رأس المال، وجه النهار، عين الماء، حاجب الشمس، أنف الجبل، ريق المزن، يد الدهر، جناح الطريق، كبد السماء، وكقولهم: بيه سمع الأرض وبصرها، وكقولهم: أيد للشر ناجذيه، ودارت رحى الحرب، وشابت مفارق الجبال، وكقولهم: الشيب عنوان الموت، والرشوة رشا الحاجة، العيال سوس المال، الوحدة قبر الحي، الإرجاف زند الفتنة، الشمس قطيفة مباحة للمساحين.

ومن إستعارات القرآن: (وَأَنّهُ في أُم الكِتابِ لِتُنذِرَ بِهِ أُمَّ القُرى وَمَن حَولَها) (وَاخفِض لَهُمَا جُناحَ الذُلِّ مِنَ الرَحمَة) (وَالصُبحِ إِذا تَنَفَس)) (فَأذاقَها الله لِباسَ الجُوعِ وَالخَوفِ) (كُلَّما أَوقَدوا نَاراً لِلحَربِ أَطفَأَها الله) (أَحاطَ بِهِم سُرادِقُها) (فَما بَكَت عَلَيهِمُ السماء والأرض) (واشتعل الرأس شيبا) (فصب عليهم ربك سوط عذاب) (ولما سكت عن موسى الغضب) ونظائره مما يكثر، وهذه الإستعارات بنوع مناسبة بين المستعار والمستعار منه،
এগুলোও বিভিন্ন প্রকারের: এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা শব্দের গঠনের (সিগা) ক্ষেত্রে ঘটে, যেমন এমন বিশেষ্য যাতে কর্তা (ফায়েল) ও কর্ম (মাফউল) উভয় রূপ অভিন্ন হয়। যেমন— ‘মুখতার’ (নির্বাচিত/নির্বাচনকারী), কেননা আপনি বলেন: ‘যায়েদ মুখতার’ এবং ‘ইলম মুখতার’। এখানে একটি কর্তার অর্থে এবং অন্যটি কর্মের অর্থে ব্যবহৃত। অনুরূপভাবে ‘মুদতার’ (অসহায়/নিরুপায়) এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দ। আবার এমন কিছু রয়েছে যা আপাতদৃষ্টিতে সাদৃশ্যপূর্ণ কিন্তু বাস্তবে ভিন্নধর্মী একাধিক বিষয়ের ওপর প্রযুক্ত হয়, যার পার্থক্যের স্বরূপ সহজে অনুধাবন করা যায় না। যেমন— ‘আল-হাই’ (জীবন্ত), যা আল্লাহর ক্ষেত্রে, মানুষের ক্ষেত্রে এবং উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বলা হয়। এবং ‘আন-নূর’ (আলো), যা দৃষ্টিশক্তির সাহায্যে অনুভূত হয় এবং অন্ধকারের বিপরীত এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আবার এমন বিবেক-বুদ্ধির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা জটিল বিষয়াবলির দিকে পথপ্রদর্শন করে।

যদি কেউ প্রশ্ন করেন: রূপকের (মুসতাআর) উদাহরণ কী? আমরা বলব: এর উদাহরণ হলো প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে অপ্রাণীর জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহার করা। যেমন তাদের উক্তি: মূলধনের মাথা (আসল পুঁজি), দিনের মুখ, পানির চোখ (উৎস), সূর্যের ভ্রু, পাহাড়ের নাক, মেঘের লালা (বৃষ্টি), কালের হাত, রাস্তার ডানা, আকাশের কলিজা (মধ্যভাগ)। এবং তাদের উক্তি: সে জমিনের শ্রবণ ও দর্শনের মাঝে রয়েছে। এবং তাদের উক্তি: সে অনিষ্টের জন্য তার মাড়ির দাঁত শক্ত করেছে, যুদ্ধের যাঁতাকল আবর্তিত হয়েছে, পাহাড়ের সিঁথি পেকেছে। এবং তাদের উক্তি: বার্ধক্য হলো মৃত্যুর শিরোনাম, ঘুষ হলো প্রয়োজনের দড়ি, পরিবার হলো সম্পদের ঘুণপোকা, একাকীত্ব হলো জীবিতের কবর, গুজব হলো ফিতনার চকমকি পাথর, সূর্য হলো পরিমাপকারীদের জন্য একটি সাধারণ চাদর।

কুরআনের রূপকসমূহের মধ্যে রয়েছে: “আর নিশ্চয়ই তা কিতাবের মূলে রয়েছে”, “যাতে আপনি জনপদসমূহের মূল (মক্কা) ও তার চারপাশের অধিবাসীদের সতর্ক করতে পারেন”, “তাদের উভয়ের প্রতি দয়াবশে বিনয়ের ডানা অবনমিত করুন”, “শপথ ভোরের যখন তা শ্বাস নেয়”, “অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে ক্ষুধা ও ভীতির পোশাক আস্বাদন করালেন”, “যখনই তারা যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করে, আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দেন”, “তাদেরকে এর পরিবেষ্টনী ঘিরে ফেলেছে”, “আসমান ও জমিন তাদের জন্য কাঁদেনি”, “বার্ধক্যে মাথা জ্বলে উঠেছে”, “সুতরাং আপনার প্রতিপালক তাদের ওপর আজাবের চাবুক ঢেলে দিলেন”, “যখন মূসার ক্রোধ শান্ত হলো” এবং এই জাতীয় অসংখ্য উদাহরণ। এই রূপকগুলো রূপক হিসেবে ব্যবহৃত শব্দ ও যার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে—এ উভয়ের মধ্যে এক প্রকার সামঞ্জস্য থাকার কারণে হয়ে থাকে।