(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: -)
أشراط الساعة وذهاب الأخيار وبقاء الأشرار لعبد الملك بن حبيب   (عبد الملك بن حبيب)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أشراط الساعة وذهاب الأخيار وبقاء الأشرار

المؤلف: عبد الملك بن حَبِيب بن حبيب بن سليمان بن هارون السلمي الإلبيري القرطبي، أبو مروان (ت 238هـ)

المحقق: عبد الله عبد المؤمن الغماري الحسني

الناشر: أضواء السلف

الطبعة: الأولى، 2005 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: أحمد الخضري (نسخ) ، ويا باغي الخير أقبل (مقابلة)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কিয়ামতের আলামত, নেককারদের প্রস্থান এবং বদকারদের অবশিষ্ট থাকা - আব্দুল মালিক বিন হাবিব   (আব্দুল মালিক বিন হাবিব)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: কিয়ামতের আলামত, নেককারদের প্রস্থান এবং বদকারদের অবশিষ্ট থাকা

লেখক: আব্দুল মালিক বিন হাবিব বিন হাবিব বিন সুলাইমান বিন হারুন আস-সুলামি আল-ইলবিরি আল-কুরতুবি, আবু মারওয়ান (মৃত্যু ২৩৮ হিজরি)

তাহকীককারী: আব্দুল্লাহ আব্দুল মুমিন আল-গুমারি আল-হাসানি

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদরি (অনুলিপি), এবং হে কল্যাণের অন্বেষী অগ্রসর হও (পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা ও সংশোধন)

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٧٧)
1- حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي مُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ الْعُمَرِيِّ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، أَنَّهُ قَالَ: إِذَا كَانَ أَوَّلُ الْعَلامَاتِ يَتْبَعُ بَعْضُهَا بَعْضًا كَخَرَزِ (هِلالٍ) فِي خَيْطٍ انْقَطَعَ يَتَتَابَعُونَ.
১- আমাদের নিকট আব্দুল মালিক ইবনে হাবীব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন উমারী থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যখন (কিয়ামতের) প্রথম নিদর্শনসমূহ প্রকাশ পাবে, তখন একটির পর আরেকটি এমনভাবে আসতে থাকবে যেমন সুতায় গাঁথা পুঁতি ছিঁড়ে গেলে তা একের পর এক ঝরতে থাকে।
(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٧٩)
2- قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَسَدُ بْنُ مُوسَى عَنِ الْمُبَارَكِ بْنِ فَضَالة عَنِ الْحَسَنِ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكُونَ السَّلامُ بِالْمَعْرِفَةِ وَحَتَّى تُتَّخَذَ الْمَسَاجِدُ طُرُقًا وَحَتَّى تَتَّجِرَ الْمَرْأَةُ مَعَ زَوْجِهَا وَحَتَّى يَطُوفَ السَّائِلُ مِنَ الْجُمُعَةِ إِلَى الْجُمُعَةِ وَلا يُوضَعُ فِي يَدِهِ دِرْهَمٌ ، فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ جَاءَتِ الأَرْضَ خَوْرَةٌ ظَنَّ أَهْلُ كُلِّ نَاحِيَةٍ أَنَّ مِنْ قِبَلِهِمْ خَارَتْ ثُمَّ أَلْقَتِ الأَرْضُ أَفْلاذَ أَسَاطِينَ مِثْلَ هَذِهِ وَفِضَّةً ⦗ص: 80⦘ فَلا تَنْفَعُ يَوْمَئِذٍ.

قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ وَلَتُقْطَعَنَّ يَدُ كُلِّ لِصٍّ عَلَى الْمَالِ أَوَّلَ النَّهَارِ ثُمَّ يَفِيضُ آخِرَ النَّهَارِ حَتَّى يُطْرَحَ الْمَالُ فِي الطَّرِيقِ حَتَّى ⦗ص: 81⦘ لا يَجِدَ الرَّجُلُ مَنْ يَقْبِضُ مِنْهُ الصَّدَقَةَ فَيَمُرُّ الَّذِي قُطِعَتْ يَدُهُ عَلَى الْمَالِ مَطْرُوحًا فِي الطَّرِيقِ فَيُقَلِّبُهُ بِكَفِّهِ وَيَقُولُ يَا حَسْرَتِي عَلَى هَذَا قُطِعَتْ يدي.
২- তিনি বলেন: আসাদ ইবনে মুসা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুবারক ইবনে ফাদালাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন: কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না সালাম কেবল পরিচিতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হবে, এবং যতক্ষণ না মসজিদসমূহকে যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহার করা হবে, এবং যতক্ষণ না স্ত্রী তার স্বামীর সাথে ব্যবসায় অংশগ্রহণ করবে, এবং যতক্ষণ না সাহায্যপ্রার্থী এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত ঘুরে বেড়াবে অথচ তার হাতে একটি দিরহামও দেওয়া হবে না। যখন এমনটা ঘটবে, তখন যমীনে এক প্রবল ধস বা কম্পন আসবে, যার ফলে প্রতিটি অঞ্চলের অধিবাসীরা মনে করবে যে ধসটি তাদের দিক থেকেই এসেছে। অতঃপর যমীন তার কলিজার টুকরো সদৃশ স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিশালাকার স্তম্ভসমূহ বের করে দেবে ⦗পৃষ্ঠা: ৮০⦘ যা সেদিন আর কোনো উপকারে আসবে না।

ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: দিনের শুরুতে সম্পদের কারণে প্রত্যেক চোরের হাত কাটা হবে, এরপর দিনের শেষে সম্পদের এমন প্রাচুর্য দেখা দেবে যে সম্পদ রাস্তায় পড়ে থাকবে, এমনকি ⦗পৃষ্ঠা: ৮১⦘ কোনো ব্যক্তি তার সদকা গ্রহণ করার মতো কাউকে খুঁজে পাবে না। তখন যার হাত কাটা হয়েছিল সে রাস্তার ওপর পড়ে থাকা সম্পদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে এবং তার হাতের তালু বা কবজি দিয়ে তা নাড়াচাড়া করবে আর বলবে, "হায় আফসোস! এরই জন্য আমার হাত কাটা হয়েছিল।"
(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٨٢)
3- قال: وحدثني رجل عن نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ قُدَامَةَ عَنِ الْمَقْبُرِيِّ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يُصَدَّقُ فِيهِ الْكَاذِبُ وَيُكَذَّبُ فِيهِ الصادق ويؤمن فِيهِ الْخَائِنُ وَيُخَوَّنُ الأَمِينُ وَتَنْطِقُ فِيهِ الرُّوَيْبِضَةُ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ قَالَ السَّفِيهُ الَّذِي يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ.
৩- তিনি বলেন: আমার নিকট জনৈক ব্যক্তি নাফি থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে কুদামা থেকে, তিনি আল-মাকবুরি থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: মানুষের নিকট অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলে গণ্য করা হবে এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী বলে গণ্য করা হবে; বিশ্বাসঘাতককে বিশ্বাস করা হবে এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে বিশ্বাসঘাতক সাব্যস্ত করা হবে। আর তখন 'রুওয়াইবিদাহ' কথা বলবে। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, 'রুওয়াইবিদাহ' কী? তিনি বললেন: নির্বোধ ব্যক্তি, যে সাধারণ মানুষের বিষয়াবলি নিয়ে কথা বলবে।
(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٨٥)
4- قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: وَبَلَغَنِي عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشْرٌ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ مِنَ الْعَلامَاتِ الْبَيِّنَاتِ أَنْ تَظْهَرَ الْفَحْشَاءُ وَالشُّحُّ وَأَنْ تَكُونَ الصَّدَقَةُ مَغْرَمًا عَلَى أَهْلِهَا وَأَنْ يُؤْكَلَ الرِّبَا وَيَفْشُوَ الزِّنَا وَأَنْ يُصَدَّقَ الْكَاذِبُ ويكذب الصادق ويؤمن الْخَائِنُ وَيُخَوَّنَ الأَمِينُ وَيُبْغَضَ الْمُؤْمِنُ وَيُحَبَّ الْفَاجِرُ.
৪- আব্দুল মালিক বলেন: বারা ইবনে আযিব (রা.) থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামতের সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহের মধ্যে দশটি আলামত হলো—অশ্লীলতা ও কৃপণতা প্রকাশ পাওয়া; দান-সদকা করাকে এর প্রদানকারীদের কাছে দণ্ড বা বোঝা মনে হওয়া; সুদ ভক্ষণ করা; ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়া; মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী মনে করা ও সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী মনে করা; বিশ্বাসঘাতককে আমানতদার মনে করা ও আমানতদারকে বিশ্বাসঘাতক মনে করা; এবং মুমিনকে ঘৃণা করা ও পাপাচারীকে ভালোবাসা।
(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٨٦)
5- قَالَ: وَحَدَّثَنِي الْمَكْفُوفُ عَنِ الْعَلاءِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لا يَزْدَادُ الأَمْرُ إِلا شِدَّةً وَلا الْوُلاةُ إِلا غِلْظَةً وَلا يَزْدَادُ النَّاسُ إِلا شُحًّا وَلا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلا عَلَى شِرَارِ النَّاسِ.
৫- তিনি বলেন: মাকফুফ আমাদের কাছে আল-আলা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: পরিস্থিতি কেবল উত্তরোত্তর কঠিন হতে থাকবে, শাসকরা উত্তরোত্তর রূঢ় হতে থাকবে, মানুষ কেবল উত্তরোত্তর কৃপণ হতে থাকবে এবং কিয়ামত কেবল নিকৃষ্টতম মানুষের ওপরই সংঘটিত হবে।
(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٨٨)
6- قَالَ: وَحَدَّثَنِي الْمَقْبُرِيُّ عَنِ الْمَسْعُودِيِّ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ شَرُّ الأَيَّامِ وَالْجُمُعَةِ وَالسِّنِينَ أَقْرَبُهَا إِلَى السَّاعَةِ.
৬- তিনি বলেন: আল-মাকবুরী আল-মাসউদী থেকে, তিনি হাবীব ইবনে আবী সাবিত থেকে এবং তিনি ইবনে মাসঊদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “দিনসমূহ, জুমুআ এবং বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মন্দ হলো সেগুলো, যা কিয়ামতের সবচেয়ে নিকটবর্তী।”
(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٨٩)
7- قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَسَدُ بْنُ مُوسَى عَنْ عَدِيِّ بْنِ الْفُضَيْلِ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ خَيْثَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَبْعَثَ اللَّهُ رِيحًا حَمْرَاءَ فَتَقْبِضَ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ حَتَّى يُقَالَ مَاتَ فُلانٌ فِي بَيْتِهِ مَاتَ فُلانٌ فِي سُوقِهِ مَاتَ فُلانٌ فِي مَسْجِدِهِ وَلَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَصُومُونَ شَهْرَ رَمَضَانَ وَلَيْسَ فِيهِمْ مُؤْمِنٌ.
৭- তিনি বলেন: আসাদ ইবনে মূসা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আদী ইবনুল ফুযাইল থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি খাইসামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না আল্লাহ একটি লাল বাতাস প্রেরণ করবেন, যা প্রত্যেক মুমিনের প্রাণ হরণ করবে; এমনকি বলা হবে, অমুক তার ঘরে মারা গেছে, অমুক তার বাজারে মারা গেছে, অমুক তার মসজিদে মারা গেছে। আর মানুষের ওপর অবশ্যই এমন এক সময় আসবে যখন তারা রমজান মাসে রোজা রাখবে, অথচ তাদের মাঝে কোনো মুমিন থাকবে না।
(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٩١)
8- قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: وَبَلَغَنِي عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّهُ قَالَ: لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمْشِيَ النَّاسُ عَرَايَا فِي السِّكَكِ مِنْ قِلَّةِ الْحَيَاءِ لا يَلْبَسُونَ ثَوْبًا وَيَرْكَبُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا كَتَسَافُدِ الْبَهَائِمِ وَلا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُحْفَرَ فِي بِئْرٍ طَرِيقُهُ سَبْعُونَ ذِرَاعًا (بَاعًا) لا يُدْرَكُ فِيهَا الْمَاءُ وَحَتَّى يَحْسِرَ الْفُرَاتُ بِالْكُوفَةِ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ فيقتتلون عليه فيقتتل مِنْ كُلِّ عَشَرَةٍ تِسْعَةٌ.
৮- আবদুল মালিক বলেন: আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না মানুষ লজ্জাহীনতার কারণে রাস্তাঘাটে উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করবে, তারা কোনো পোশাক পরিধান করবে না এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় একে অপরের ওপর উপগত হবে। আর কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না এমন কূপ খনন করা হবে যার গভীরতা সত্তর হাত (বা বাহু), অথচ তাতে পানি পাওয়া যাবে না এবং যতক্ষণ না কুফায় ফোরাত নদী থেকে একটি স্বর্ণের পাহাড় উন্মোচিত হবে। অতঃপর তারা তা নিয়ে লড়াইয়ে লিপ্ত হবে এবং প্রতি দশজনের মধ্যে নয়জনই নিহত হবে।
(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٩٢)
9- قَالَ: وَحَدَّثَنِي الْمُغِيرَةُ عَنِ الْمَسْعُودِيِّ عَنْ هُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ ، أَنَّهُ قَالَ: لا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلا عَلَى أَشْرَارِ النَّاسِ لا يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَلا يَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ يَتَهَارَجُونَ كَمَا تَتَهَارَجُ الْبَهَائِمُ حَتَّى تَمُرَّ الْمَرْأَةُ بِالطَّرِيقِ فَيَقُومَ الرَّجُلُ إِلَيْهَا فَيَقْضِي مِنْهَا حَاجَتَهُ فَيَضْحَكَ إِلَيْهَا وَتَضْحَكُ إِلَيْهِ كَرَجْرَاجَةِ الْمَاءِ الَّذِي لا يُطْعَمُ يَعْنِي مِنْ مَرَارَتِهِ.
৯- তিনি বলেন: আল-মুগীরাহ আমাকে আল-মাসউদী থেকে, তিনি হুযাইল ইবন শুরাহবীল থেকে, তিনি ইবন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: কিয়ামত কেবল নিকৃষ্টতম মানুষদের ওপরই সংঘটিত হবে। তারা সৎ কাজের আদেশ দেবে না এবং মন্দ কাজে নিষেধ করবে না। তারা পশুর মতো বিশৃঙ্খলা ও অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত হবে, এমনকি কোনো নারী রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো পুরুষ তার দিকে অগ্রসর হবে এবং তার সাথে নিজের কামনাবাসনা পূর্ণ করবে। অতঃপর সে তার দিকে তাকিয়ে হাসবে এবং নারীটিও তার দিকে তাকিয়ে হাসবে; যেন পানির উপরিভাগের সেই আস্তরণ বা ফেনার মতো যা তিক্ততার কারণে পান করা যায় না।
(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٩٤)
10- قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَسَدُ بْنُ مُوسَى عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لا يُقَالَ (اللَّهُ) فِي الأَرْضِ وَحَتَّى تُمْطَرَ الأَرْضُ فَلا تُنْبِتُ شَيْئًا وَيَقِلُّ الرِّجَالُ وَيَكْثُرُ النِّسَاءُ فَتَمُرُّ الْمَرْأَةُ بِالْقَوْمِ فَيَقُولُونَ قَدْ كَانَ لِهَذِهِ زَوْجٌ، وَهَذَا مِنْ قِلَّةِ الرِّجَالِ.
১০- তিনি বলেন: আসাদ ইবনে মুসা আমার নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি সাবিত আল-বুনানি থেকে এবং তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না জমিনে "আল্লাহ" বলা বন্ধ হয়, এবং যতক্ষণ না জমিনে বৃষ্টি বর্ষিত হয় অথচ তা কিছুই উৎপন্ন করে না, এবং পুরুষের সংখ্যা কমে যায় ও নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়; ফলে কোনো নারী একদল লোকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা বলে: "এই মহিলার একসময় স্বামী ছিল", আর এটি হবে পুরুষের স্বল্পতার কারণে।
(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٩٥)
11- وَحَدَّثَنِي أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ: يَبْقَى الأشرار بعد الأخيار مئة وَعِشْرِينَ سَنَةً، لا يَدْرِي أَحَدُهُمْ مَتَى يَدْخُلُ أولها.
১১- এবং আবু মুয়াবিয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস বলেছেন: নেককার লোকদের (চলে যাওয়ার) পর পাপাচারীরা একশ বিশ বছর অবশিষ্ট থাকবে, তাদের কেউ জানবে না কখন এর সূচনা হবে।
(খণ্ড: ١) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٩٦)
12- وَحَدَّثَنِي أَسَدُ بْنُ مُوسَى عَنِ الْحَسَنِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلا مِنْ غَضْبَةٍ يَغْضَبُهَا اللَّهُ رَبُّكُمْ لَمْ يَغْضَبْ مِثْلَهَا.

عَافَانَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ مِنْ غضبه وسوء نقمته وسخطه وهو المسؤول أَنْ يَمُنَّ عَلَيْنَا بِفَضْلِهِ وَعَفْوِهِ وَغُفْرَانِهِ وَسَعَةِ رَحْمَتِهِ إِنَّهُ سَمِيعُ الدُّعَاءِ فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ قَادِرٌ عَلَى مَا يَشَاءُ

فَهَذَا مَا جَاءَ فِي أَشْرَاطِ السَّاعَةِ مِنْ ذَهَابِ الأَخْيَارِ وَبَقَاءِ الأَشْرَارِ وَنَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَخْتِمَ عَلَيْنَا بِفَضْلِهِ وَكَرَمِهِ آمِينَ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ
১২- আসাদ ইবনে মুসা হাসান ইবনে দীনার থেকে, তিনি হাসান বসরী থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামত কেবল তখনই কায়েম হবে যখন তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ এমন এক ক্রোধে রাগান্বিত হবেন, যার সদৃশ ক্রোধ তিনি কখনো করেননি।

আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের তাঁর ক্রোধ, তাঁর কঠোর শাস্তি ও অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা করুন। এবং তাঁর কাছেই এই প্রার্থনা যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহ, ক্ষমা, মার্জনা এবং প্রশস্ত রহমতের মাধ্যমে আমাদের প্রতি কৃপা করেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী, তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন এবং তিনি যা চান তাতে সক্ষম।

কিয়ামতের আলামতসমূহ তথা নেককারদের চলে যাওয়া এবং বদকারদের অবশিষ্ট থাকা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা-ই এটি। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও দানশীলতার মাধ্যমে আমাদের শেষ পরিণাম সুন্দর করেন। আমীন, হে জগতসমূহের রব।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: -)
أشراط الساعة وذهاب الأخيار وبقاء الأشرار لعبد الملك بن حبيب   (عبد الملك بن حبيب)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أشراط الساعة وذهاب الأخيار وبقاء الأشرار

المؤلف: عبد الملك بن حَبِيب بن حبيب بن سليمان بن هارون السلمي الإلبيري القرطبي، أبو مروان (ت 238هـ)

المحقق: عبد الله عبد المؤمن الغماري الحسني

الناشر: أضواء السلف

الطبعة: الأولى، 2005 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: أحمد الخضري (نسخ) ، ويا باغي الخير أقبل (مقابلة)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কিয়ামতের আলামতসমূহ এবং নেককারদের প্রস্থান ও পাপিষ্ঠদের অবশিষ্ট থাকা - আব্দুল মালিক বিন হাবিব   (আব্দুল মালিক বিন হাবিব)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: কিয়ামতের আলামতসমূহ এবং নেককারদের প্রস্থান ও পাপিষ্ঠদের অবশিষ্ট থাকা

লেখক: আব্দুল মালিক বিন হাবিব বিন হাবিব বিন সুলাইমান বিন হারুন আস-সুলামি আল-ইলবিরি আল-কুরতুবি, আবু মারওয়ান (মৃত্যু ২৩৮ হি.)

সম্পাদক: আব্দুল্লাহ আব্দুল মুমিন আল-গুমারি আল-হাসানি

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদরি (অনুলিপি) , এবং ইয়া বাগিয়াল খাইর আকবিল (পাণ্ডুলিপি যাচাই)

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٢) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٩٧)
‌‌بَابُ مَا جَاءَ فِي الأَشْرَاطِ الَّتِي تَقُومُ عَلَيْهَا السَّاعَةُ أَعَاذَنَا اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ

أَوَّلُهَا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنَ الْمَغْرِبِ ثُمَّ الدَّابَّةُ ثُمَّ الدَّجَّالُ ثُمَّ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ ثُمَّ الدُّخَانُ.

وَاخْتُلِفَ فِي هَذِهِ السِّتَّةِ أَيَّتِهَا قَبْلَ الأُخْرَى.
পরিচ্ছেদ: কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আলামতসমূহ প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন

সেগুলোর প্রথমটি হলো পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, অতঃপর ভূগর্ভস্থ প্রাণী, অতঃপর দাজ্জাল, অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ, অতঃপর ধোঁয়া।

এই ছয়টির মধ্যে কোনটি অন্যটির আগে ঘটবে, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ٢) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ٩٩)
13- قال عبد الملك: فِي قَوْلِهِ تَعَالَى {يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ ربك لا ينفع نفسا إيمانها} .

قَالَ يَعْنِي طُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَهُوَ أول الآيات إذا جاءت لا ينفع إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا كَذَلِكَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

وَقَالَ صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلامُهُ عَلَيْهِ: مَنْ تَابَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ.
১৩- আব্দুল মালিক বলেন: মহান আল্লাহর বাণী— {যেদিন তোমার রবের কিছু নিদর্শন আসবে, সেদিন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না} প্রসঙ্গে।

তিনি বলেন, এর অর্থ হলো পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়। আর এটি হলো নিদর্শনসমূহের মধ্যে প্রথম; যখন এটি ঘটবে, তখন এমন কোনো ব্যক্তির ঈমান উপকারে আসবে না যে ইতিপূর্বে ঈমান আনেনি অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুরূপই বলেছেন।

তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) আরও বলেছেন: যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্বে তাওবা করবে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।
(খণ্ড: ٢) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١٠٠)
14- وَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: طُلُوعُهَا مِنْ مَغْرِبِهَا فِي سنة ثلاثمئة مِنَ التَّارِيخِ كَذَلِكَ حَدَّثَنِي الْحِزَامِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ ⦗ص: 101⦘ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ.

وَحَدَّثَنِيهِ أَصْبَغُ بْنُ الْفَرَجِ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مهران عن ابن عباس وأبي هريرة وعبد الله بن عمرو بن العاص وحذيفة بْنِ الْيَمَانِ وَعُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ اللَّيْثِيِّ وَمُجَاهِدٍ وَالْحَسَنِ وَقَتَادَةَ وَالْكَلْبِيِّ كُلُّهُمْ فِي تَفْسِيرِ قَوْلِهِ تَعَالَى {يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لا ينفع نفسا إيمانها.. ..} إِلَى آخِرِهَا أَنَّهَا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا.
১৪- আব্দুল মালিক বলেছেন: ইতিহাসের তিনশত তম বছরে পশ্চিম দিক থেকে এর (সূর্যের) উদয় ঘটবে। আল-হিযামী সুফিয়ান থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১০১⦘ আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আমার কাছে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আর আসবাগ ইবনে আল-ফারাজ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান, উবায়দ ইবনে উমায়ের আল-লাইসী, মুজাহিদ, হাসান, কাতাদাহ এবং কালবী থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে—{যেদিন আপনার রবের কিছু নিদর্শন আসবে, সেদিন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না...} শেষ পর্যন্ত—বলেছেন যে, তা হলো পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া।
(খণ্ড: ٢) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١٠٢)
وَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: إِذَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا خَتَمَتْ بَابَ التَّوْبَةِ عَلَى مَنْ لَمْ يَكُنْ مُؤْمِنًا وَعَلَى مَنْ كَانَ مُؤْمِنًا وَلَمْ يَكُنْ مُخْلِصًا قَبْلَ ذَلِكَ وَهُوَ قَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ {يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا} .
এবং আবদুল মালিক বলেছেন: যখন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে, তখন তা ঐ ব্যক্তির জন্য তওবার দরজা বন্ধ করে দেবে যে ইতিপূর্বে মুমিন ছিল না এবং ঐ ব্যক্তির জন্যও যে মুমিন ছিল কিন্তু ইতিপূর্বে একনিষ্ঠ ছিল না। আর এটিই হলো মহামহিম আল্লাহর বাণী: {যেদিন আপনার রবের কিছু নিদর্শন আসবে, সেদিন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না যদি সে ইতিপূর্বে ঈমান না এনে থাকে অথবা সে তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন না করে থাকে।}।
(খণ্ড: ٢) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١٠٣)
قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ: وَهِيَ ثَلاثُ آيَاتٍ أَوَّلُهَا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا ثُمَّ الدَّابَّةُ ثُمَّ الدَّجَّالُ وَقِيلَ هَذِهِ الآيَاتُ الثَّلاثُ الإِيمَانُ مَعَهَا لا يَنْفَعُ وَالتَّوْبَةُ لا تُقْبَلُ ونزول عيسى بن مَرْيَمَ وَخُرُوجُ الدَّجَّالِ وَخُرُوجُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ كُلُّهَا علامات وآيات وإنما سميت كلها آيات الساعة أعني علامتها وقد سميت أيضا الطوام.

আবদুল মালিক ইবনে হাবিব বলেন: আর সেগুলো হলো তিনটি নিদর্শন; যার প্রথমটি হলো পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্য উদিত হওয়া, এরপর দাব্বাহ (ভূগর্ভস্থ প্রাণী), অতঃপর দাজ্জাল। এবং বলা হয়েছে যে, এই তিনটি নিদর্শন প্রকাশিত হওয়ার পর ঈমান আনা কোনো উপকারে আসবে না এবং তাওবা কবুল করা হবে না। আর ঈসা ইবনে মারিয়ামের অবতরণ, দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ এবং ইয়াজুজ ও মাজুজের বের হওয়া—এসবই লক্ষণ ও নিদর্শন। মূলত এগুলোর সবকটিকেই কিয়ামতের নিদর্শন বলা হয়, অর্থাৎ এর আলামতসমূহ; আর এগুলোকে 'তাওয়াম' (মহা বিপদসমূহ) নামেও অভিহিত করা হয়েছে।

(খণ্ড: ٢) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١٠٤)
15- وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ أَنَّ مُوسَى بْنَ عِمْرَانَ عليه السلام لَمَّا أَخْبَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِمَا أَعْطَى مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم مِنَ الْكَرَامَاتِ عَجِبَ وَكَأَنَّهُ شُقَّ عَلَيْهِ إِذْ لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ لأُمَّتِهِ فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى يَا مُوسَى إِنَّ الطَّوَامَّ سَبْعٌ وَاحِدَةٌ مَضَتْ وَسِتَّةٌ فِي أُمَّةِ مُحَمَّدٍ، فَأَمَّا الطَّامَّةُ الْمَاضِيَةُ فَالْغَرَقُ الَّذِي فِي زَمَنِ نُوحٍ عليه السلام وَأَمَّا السِّتَّةُ الَّتِي فِي أمة محمد فَالدَّجَّالُ ⦗ص: 105⦘ وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَطُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَالدَّابَّةُ وَالدُّخَانُ وَقِيَامُ السَّاعَةِ.

قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: ولم يسم هاهنا نزول عيسى بن مَرْيَمَ كَأَنَّهُ لَيْسَ مِنَ الطَّوَامِّ وَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الآيَاتِ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى {وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ للساعة} .
১৫- এবং আব্দুল্লাহ ইবন সালিহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন লাইস ইবন সা'দ থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবন আবী হাবীব থেকে বর্ণনা করেন যে, মূসা ইবন ইমরান (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক)-কে যখন আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-কে প্রদত্ত মর্যাদাসমূহ সম্পর্কে অবহিত করলেন, তখন তিনি বিস্মিত হলেন এবং বিষয়টি তাঁর নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হলো যেহেতু তা তাঁর উম্মতের জন্য ছিল না। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: হে মূসা, প্রলয়ঙ্করী মহাবিপদ (আত-তাম্মাহ) সাতটি; একটি অতিবাহিত হয়েছে এবং ছয়টি মুহাম্মাদের উম্মতের মধ্যে সংঘটিত হবে। আর অতিবাহিত হওয়া মহাবিপদটি হলো নূহ (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সময়ের মহাপ্লাবন। আর মুহাম্মাদের উম্মতের মধ্যে যে ছয়টি ঘটবে তা হলো: দাজ্জাল ⦗পৃষ্ঠা: ১০৫⦘ ইয়াজুজ ও মাজুজ, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, ভূগর্ভস্থ প্রাণী (দাব্বাতুল আরদ), ধোঁয়া এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়া।

আব্দুল মালিক বলেন: এখানে ঈসা ইবন মারইয়ামের অবতরণের কথা উল্লেখ করা হয়নি, যেন তা প্রলয়ঙ্করী মহাবিপদগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত; আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই তিনি কিয়ামতের জন্য একটি নিদর্শন}।
(খণ্ড: ٢) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١٠٦)
16- قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: قَالَ مُطَرِّفٌ عَنْ مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الأَعْرَجِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال: لا تقوم الساعة تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا ، فَإِذَا رَآهَا النَّاسُ آمَنُوا كُلُّهُمْ وَذَلِكَ حِينَ لا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا.
১৬- আব্দুল মালিক বলেন: মুতাররিফ মালিক থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না সূর্য তার পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়। অতঃপর যখন মানুষ তা দেখবে, তখন তারা সকলেই ঈমান আনবে। আর এটি সেই সময় যখন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না যদি সে আগে থেকে ঈমান না এনে থাকে অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন না করে থাকে।
(খণ্ড: ٢) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١٠٨)
17- قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: وَحَدَّثَنِي أَسَدُ بْنُ مُوسَى عَنِ الْعَلاءِ بْنِ هِلالٍ عَنْ وَهْبِ بْنِ جَابِرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّهُ قَالَ: الشَّمْسُ تَطْلُعُ مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ الْفَجْرُ وَتَغْرُبُ مِنْ حَيْثُ يَغْرُبُ الْفَجْرُ وَإِذا أَرَادَتْ أَنْ تَطْلُعَ غَابَتْ حَتَّى تَغْرُبَ بِالْعَمَلِ، وَتَقُولُ: يَا رَبِّ إِذَا طَلَعْتُ عُبِدْتُ مِنْ دُونِكَ فَتَطْلُعُ عَلَيْهِمْ مِنَ الْمَشْرِقِ فَتَجْرِي إِلَى الْمَغْرِبِ وَالْقَمَرُ كَذَلِكَ حَتَّى يَأْتِيَ عَلَيْهَا يَوْمٌ تَغْرُبُ فِيهِ فَيُصْعَدُ بِهَا إِلَى اللَّهِ تبارك وتعالى مِنْ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ حَتَّى تُوقَفَ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ فَتُسَلِّمُ فَلا يَرُدُّ عَلَيْهَا سَلامًا فَتَسْجُدُ فَلا يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَتَسْتَأْذِنُ فَلا يُؤْذَنُ لَهَا فَيُعْلَى جِبْرِيلُ عليه السلام إِلَى الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ فَيَقُولُ: ⦗ص: 109⦘ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَأْمُرُكُمَا أَنْ تَرْجِعَا إِلَى مَغَارِبِكُمَا لا ضُوءَ لَكُمَا وَلا نُورَ بَعْدَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ، فَيَبْكِيَانِ مِنْ خَوْفِ رَبِّهِمَا وَمِنْ هَوْلِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَبَيْنَمَا النَّاسُ كَذَلِكَ يَبْكُونَ وَيَتَضَرَّعُونَ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى وَالْغَافِلُونَ فِي غَفْلَتِهِمْ إِذْ بِمُنَادٍ يُنَادِي: أَلا إِنَّ بَابَ التَّوْبَةِ قَدْ غُلِقَ وَإِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ قَدْ طَلَعَا مِنْ مَغْرِبِهِمَا، فَيَنْظُرُ النَّاسُ فَإِذَا هُمْ بِالشَّمْسِ وَالْقَمَرِ أَسْوَدَانِ كَالْعِكْمَيْنِ لا ضوء لهما فلذلك قَوْلُهُ تَعَالَى {وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ يَقُولُ الإِنْسَانُ يومئذ أين المفر} فَيَرْتَفِعَانِ مِثْلَ الْبَعِيرَيْنِ الْمَقْرُونَيْنِ يَتَنَازَعُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ اسْتِبَاقًا وَيَتَصَايَحُ أَهْلُ الدُّنْيَا وَتَذْهَلُ الأُمَّهَاتُ عَنْ أَوْلادِهَا وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا، فَأَمَّا الصَّالِحُونَ الأَبْرَارُ فَإِنَّهُمْ يَنْفَعُهُمْ بُكَاؤُهُمْ وَأَمَّا الْفَاسِقُونَ الْفُجَّارُ فَلا يَنْفَعُهُمْ بُكَاؤُهُمْ يَوْمَئِذٍ وَتُكْتَبُ لَهُمْ حَسْرَةٌ، فَإِذَا بَلَغَتِ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ كَبِدَ السَّماء أَيْ وَسَطَهَا جَاءَهُمَا جِبْرِيلُ عليه السلام فَأَخَذَ بِقُرُونِهِمَا فَيَرُدُّهُمَا ⦗ص: 110⦘ إِلَى الْمَغْرِبِ فَيَقْرِنُهُمَا فِي بَابِ التَّوْبَةِ.

قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: وَمَا بَابُ التَّوْبَةِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ يَا عُمَرُ خَلَقَ اللَّهُ بَابًا لِلتَّوْبَةِ وَهُوَ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ لَهُ مِصْرَاعَانِ مِنْ ذَهَبٍ مُكَلَّلانِ بِالدُّرِّ وَالْجَوْهَرِ ما بين المصرع والمصرع أربعون عاما للر اكب الْمُسْرِعِ، وَذَلِكَ الْبَابُ مَفْتُوحٌ مُنْذُ خَلَقَهُ اللَّهُ إِلَى صَبِيحَةِ تِلْكَ اللَّيْلَةِ عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ مِنْ مَغَارِبِهِمَا، وَمَا مِنْ عَبْدٍ يَتُوبُ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا مِنْ وَلَدِ آدَمَ إِلا وَلَجَتْ تِلْكَ التَّوْبَةُ مِنْ ذَلِكَ الْبَابِ.

فَقَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ: يَا رَسُولَ الله سول وَمَا التَّوْبَةُ النَّصُوحُ قَالَ أَنْ يَتُوبَ ثُمَّ لا يَعُودَ قَالَ فَقَرَنَهُمَا جِبْرِيلُ عليه السلام فِي ⦗ص: 111⦘ ذَلِكَ الْبَابِ ثُمَّ يَرُدُّ الْمِصْرَاعَيْنِ فَيَلْتَئِمُ مَا بَيْنَهُمَا وَيَصِيرَا كَأَنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِمَا صَدْعٌ قَطُّ وَلا خَلَلٌ بِقُدْرَةِ اللَّهِ تَعَالَى ، فَإِذَا غُلِقَ بَابُ التَّوْبَةِ لَمْ تُقْبَلْ لِعَبْدٍ بَعْدَ ذَلِكَ تَوْبَةٌ يُحْدِثُهَا وَلَمْ تَنْفَعْهُ حَسَنَةٌ يعملها إلا من كان قَدَّمَ لِنَفْسِهِ خَيْرًا وَكَانَ قَبْلَ ذَلِكَ مُحْسِنًا لِقَوْلِهِ عز وجل {يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خيرا} .
১৭- আব্দুল মালেক বলেন: আসাদ ইবনে মূসা আমাকে আল-আলা ইবনে হিলাল থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে জাবির থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: সূর্য সেখান থেকেই উদিত হয় যেখান থেকে ফজর উদিত হয় এবং সেখানেই অস্ত যায় যেখানে ফজর অস্ত যায়। যখন এটি উদিত হতে চায়, তখন আমলসহ অস্ত যাওয়া পর্যন্ত এটি অদৃশ্য থাকে এবং বলে: হে রব! আমি যদি উদিত হই, তবে আপনার পরিবর্তে আমার ইবাদত করা হবে। তখন এটি তাদের ওপর পূর্ব দিগন্ত থেকে উদিত হয় এবং পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত প্রবাহিত হয়। চাঁদও ঠিক একইভাবে চলে, শেষ পর্যন্ত এমন একদিন আসবে যখন এটি অস্ত যাবে এবং এটিকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার কাছে এক আসমান থেকে অন্য আসমান অতিক্রম করে উঠিয়ে নেওয়া হবে, এমনকি একে আল্লাহর দুই হাতের সামনে দাঁড় করানো হবে। তখন সে সালাম দেবে কিন্তু তার সালামের উত্তর দেওয়া হবে না। সে সিজদা করবে কিন্তু তার দিকে দৃষ্টিপাত করা হবে না। সে অনুমতি চাইবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হবে না। তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম সূর্য ও চাঁদের কাছে আরোহণ করবেন এবং বলবেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১০৯⦘ আল্লাহ তাআলা তোমাদের উভয়কে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা তোমাদের অস্ত যাওয়ার স্থানে ফিরে যাও। এই রাতের পর তোমাদের কোনো উজ্জ্বলতা বা আলো থাকবে না। তখন তারা তাদের রবের ভয়ে এবং কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতায় কাঁদতে থাকবে। মানুষ যখন এভাবে কাঁদতে থাকবে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে মিনতি করতে থাকবে, আর গাফেলরা তাদের গাফিলতির মধ্যেই মগ্ন থাকবে, তখন একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন: জেনে রেখো, তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে গেছে এবং সূর্য ও চাঁদ তাদের অস্ত যাওয়ার স্থান থেকে উদিত হয়েছে। তখন মানুষ তাকিয়ে দেখবে যে সূর্য ও চাঁদ দুটি কালো বস্তার মতো কালো হয়ে গেছে, তাদের কোনো আলো নেই। একারণেই আল্লাহ তাআলার বাণী: {সূর্য ও চাঁদকে একত্রিত করা হবে। সেদিন মানুষ বলবে, পালানোর জায়গা কোথায়?}। তখন তারা দুটি জোড়া লাগানো উটের মতো উপরে উঠবে যারা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। দুনিয়াবাসী চিৎকার করতে থাকবে, মায়েরা তাদের সন্তানদের কথা ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভপাত করবে। আর যারা সৎকর্মশীল পুণ্যবান, তাদের কান্না তাদের উপকারে আসবে। কিন্তু যারা পাপাচারী অবাধ্য, সেদিন তাদের কান্না কোনো কাজে আসবে না এবং তাদের জন্য আক্ষেপ লিখে দেওয়া হবে। সূর্য ও চাঁদ যখন আকাশের ঠিক মধ্যস্থলে পৌঁছাবে, তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাদের কাছে আসবেন এবং তাদের শিং ধরে টেনে ⦗পৃষ্ঠা: ১১০⦘ পশ্চিম দিকে ফিরিয়ে দেবেন এবং তাওবার দরজায় তাদের একত্রে আবদ্ধ করবেন।

ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাওবার দরজা কী? তিনি বললেন: হে ওমর! আল্লাহ তাওবার জন্য একটি দরজা সৃষ্টি করেছেন যা জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্যে একটি। এর দুটি পাল্লা স্বর্ণের তৈরি এবং মুক্তা ও মণি-মুক্তা দ্বারা খচিত। দুই পাল্লার মধ্যবর্তী দূরত্ব একজন দ্রুতগামী অশ্বারোহীর জন্য চল্লিশ বছরের পথ। আল্লাহ তাআলা যেদিন থেকে এটি সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকে সেই রাতের ভোরবেলা পর্যন্ত তা খোলা রয়েছে, যখন সূর্য ও চাঁদ তাদের অস্তমিত হওয়ার স্থান থেকে উদিত হবে। আদমের সন্তানদের মধ্যে আল্লাহর এমন কোনো বান্দা নেই যে খাঁটিভাবে তাওবা করে আর সেই তাওবা এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে না।

মুয়াজ ইবনে জাবাল বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! খাঁটি তাওবা (তাওবায়ে নাসুহ) কী? তিনি বললেন: তা হলো বান্দা তাওবা করবে এবং পুনরায় সেই পাপে ফিরে যাবে না। তিনি বলেন: এরপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাদের উভয়কে ⦗পৃষ্ঠা: ১১১⦘ সেই দরজায় আবদ্ধ করবেন, তারপর পাল্লা দুটি বন্ধ করে দেবেন। ফলে আল্লাহ তাআলার কুদরতে তাদের মধ্যবর্তী স্থানটি এমনভাবে মিশে যাবে যেন সেখানে কখনো কোনো ফাটল বা ছিদ্র ছিল না। যখন তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে, এরপর কোনো বান্দার নতুন কোনো তাওবা কবুল করা হবে না এবং তার কোনো নেক আমল উপকারে আসবে না, তবে ওই ব্যক্তি ছাড়া যে আগে থেকেই নিজের জন্য কল্যাণ পাঠিয়েছিল এবং এর আগে থেকেই সৎকর্মশীল ছিল। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {যেদিন তোমার রবের কিছু নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোনো ব্যক্তির ঈমান কাজে আসবে না যে আগে ঈমান আনেনি অথবা যে তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি}।
(খণ্ড: ٢) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١١٣)
18- قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: حَدَّثَنِي الْمَكْفُوفُ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ خُوطٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلالٍ عَنْ كَعْبٍ.

وَحَدَّثَنِيهِ سَعِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ لَيْثِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ رَبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ قَالا جَمِيعًا: يَلْبَثُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ ، عليه السلام ، بَعْدَ نُزُولِهِ أَرْبَعِينَ سَنَةً إِمَامًا لِهَذِهِ ⦗ص: 114⦘ الأُمَّةِ وَيَكُونُ قَرَارُهُ بِالشَّامِ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ وَيُهْلِكُ اللَّهُ عَلَى يَدِهِ الدَّجَّالَ وَيَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ فِي أَوَّلِ زَمَانِهِ ، فَإِذَا هَلَكَ فِي الأَرْبَعِينَ سَنَةً وذلك المقام ثلاثمائة سنة من التاريح الَّذِي طَلَعَتِ الشَّمْسُ مِنَ الْمَغْرِبِ فَبَاتُوا لَيْلَتَهُمْ فَتَطُولُ عَلَى طُولِ ثَلاثِ لَيَالٍ ثُمَّ يَأْتُونَ عيسى بن مَرْيَمَ عليه السلام ، فَيَقُولُونَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَرَى مِنْ طُولِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ فَيَقُولُ لَهُمْ عليه السلام: غَدًا تَطْلُعُ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا، فَيَتَضَرَّعُونَ وَيَبْكُونَ ، فَإِذَا أَصْبَحُوا صَلَّوْا فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ خَرَجُوا مِنَ الْمَسْجِدِ فَيَنْظُرُونَ طُلُوعَهَا ، فَإِذَا هِيَ تَطْلُعُ مِنَ الْمَغْرِبِ كَمَا كَانَتْ تَطْلُعُ مِنَ الْمَشْرِقِ ، فَإِذَا ارْتَفَعَتْ صَارَتْ سَوْدَاءَ ثُمَّ جَرَتْ مِنْ مَجَارِيهَا كَمَا كَانَتْ تَجْرِي مِنَ الْمَشْرِقِ حَتَّى تَكُونَ فِي وَسَطِ السَّماء ثُمَّ تَرْجِعَ إِلَى مَغْرِبِهَا.

فَتَكُونُ تِلْكَ حَالَهَا حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ ، فَإِذَا كَانَتْ تِلْكَ السَّنَةُ حَجَّ عِيسَى عليه السلام ، وَجَمَاعَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ، فَإِذَا قَضَوْا مَنَاسِكَهُمْ أَتَوُا الْمَدِينَةَ زَائِرِينَ قَبْرَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فيخرجوا منها حتى يأتوا الشام و (يلقى) عِيسَى عليه السلام ، مَوْضِعَهُ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ أَتَاهُ الصَّرِيخُ بِأَنْ ذَا السُّوَيْقَتَيْنِ

⦗ص: 115⦘ صَاحِبَ الْحَبَشَةِ (يَدْعُو) الْبَيْتَ لِيَهْدِمَهُ لِيَبْعَثَ إِلَيْهِمْ جَيْشًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَلا يَصِلُونَ إِلَيْهِمْ وَلا يَرْجِعُونَ إِلَى أَصْحَابِهِمْ حَتَّى يَبْعَثَ اللَّهُ رِيحًا مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ تُقْبِلُ مِنْ نَاحِيَةِ الْيَمَنِ أَبْرَدَ مِنَ الثَّلْجِ وَأَلْيَنَ مِنَ الرِّيحِ وَأَطْيَبَ مِنَ الْمِسْكِ فَتَقْبِضُ رُوحَ عِيسَى عليه السلام ، وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَتَقْبِضُ أَرْوَاحَ (الْمُوعَدِينَ) مِنْ أَهْلِ ذَلِكَ الْجَيْشِ وَتَسْيحُ فِي الأَرْضِ فَلا تَدَعُ مُؤْمِنًا إِلا قَبَضَتْ رُوحَهُ إِلا قَلِيلا مِنْهُمْ فَيَبْقَى أَشْرَارُ النَّاسِ فِي قِلَّةٍ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَيَهْجُرُ النَّاسُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا (وَسَالَ عَلَيْهِمُ الشير) فَيُرْفَعُ عَنْهُمُ الْحَيَاءُ فَيُظْهِرُونَ الْفَوَاحِشَ وَيَتَهَارَجُونَ فِي الطَّرِيقِ تَهَارُجَ الْحَمِيرِ، فَعَلَيْهِمْ تَخْرُجُ الدَّابَّةُ ثُمَّ الدَّجَّالُ ثُمَّ الرِّيحُ الَّتِي تُلْقِي أَكْثَرَهُمْ فِي الْبَحْرِ ثُمَّ النَّارُ الَّتِي تَحْشُرُهُمْ إِلَى الْمَحْشَرِ ثُمَّ تَقُومُ السَّاعَةُ.
১৮- আবদুল মালিক বলেন: আল-মাকফুফ আইয়ুব ইবনে খুত থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হুমাইদ ইবনে হিলাল থেকে, তিনি কাব থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।

এবং সাঈদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে খুসাইম লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি রাবি ইবনে খুসাইম থেকে, তিনি হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়েই বলেছেন: ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) তাঁর অবতরণের পর এই ⦗পৃষ্ঠা: ১১৪⦘ উম্মতের ইমাম হিসেবে চল্লিশ বছর অবস্থান করবেন। তাঁর অবস্থান হবে শামে বাইতুল মাকদিসে। আল্লাহ তাঁর হাতের মাধ্যমে দাজ্জাল এবং ইয়াজুজ ও মাজুজকে তাঁর (ঈসার) প্রথম যুগে ধ্বংস করবেন। অতঃপর যখন সেই চল্লিশ বছরের মধ্যে তিনি ইন্তেকাল করবেন—আর সেই অবস্থানকাল ছিল ইতিহাসের সেই সময় থেকে তিনশত বছর যখন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়েছিল—তখন লোকেরা তাদের রাত অতিবাহিত করবে এবং সেই রাতটি দীর্ঘ হয়ে তিন রাতের সমান লম্বা হবে। তারপর তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে আসবে এবং তাঁকে বলবে: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এই দীর্ঘ রাত সম্পর্কে কী মনে করেন? তখন তিনি (আলাইহিস সালাম) তাদের বলবেন: আগামীকাল সূর্য তার পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। তখন তারা রোনাজারি করবে ও কাঁদবে। সকাল হলে তারা বাইতুল মাকদিসে সালাত আদায় করবে, তারপর মসজিদ থেকে বের হয়ে সূর্যের উদয় হওয়ার প্রতিক্ষায় তাকিয়ে থাকবে। হঠাৎ দেখা যাবে তা পশ্চিম দিক থেকে উদিত হচ্ছে যেভাবে ইতিপূর্বে পূর্ব দিক থেকে উদিত হতো। যখন তা উপরে উঠবে, তখন তা কালো হয়ে যাবে। তারপর তা তার কক্ষপথ ধরে চলতে থাকবে যেভাবে পূর্ব দিক থেকে চলত, যতক্ষণ না তা আকাশের মাঝখানে পৌঁছাবে, এরপর তা পুনরায় পশ্চিম দিকে ফিরে যাবে।

কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত সূর্যের অবস্থা এমনটিই থাকবে। সেই বছর ঈসা (আলাইহিস সালাম) এবং মুসলমানদের একটি দল হজ পালন করবেন। হজের কার্যাদি সম্পন্ন করে তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবর জিয়ারত করতে মদিনায় আসবেন। এরপর সেখান থেকে বের হয়ে তারা শামে পৌঁছাবেন এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম) বাইতুল মাকদিসে তাঁর অবস্থানে পৌঁছালে এক চিৎকারকারী এসে সংবাদ দেবে যে, যাস-সুওয়াইকাতাইন ⦗পৃষ্ঠা: ১১৫⦘ নামক হাবশার সেই অধিপতি কাবা ঘর ধ্বংস করার জন্য লোকজনকে ডাকছে। তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের একটি সেনাবাহিনী পাঠাবেন। কিন্তু তারা সেখানে পৌঁছাতে পারবে না এবং তাদের সঙ্গীদের কাছে ফিরেও আসতে পারবে না, তার আগেই আল্লাহ আরশের নিচ থেকে একটি বায়ু প্রেরণ করবেন যা ইয়ামেন থেকে আসবে। তা হবে বরফের চেয়েও শীতল, রেশমের চেয়েও কোমল এবং মিসকের চেয়েও সুগন্ধিযুক্ত। তা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর সাথে থাকা মুমিনদের জান কবজ করবে। সেই সেনাবাহিনীর নির্ধারিত ব্যক্তিদের জানও কবজ করবে এবং তা জমিনে প্রবাহিত হবে। ফলে তা অতি অল্প সংখ্যক ব্যতীত সকল মুমিনের জান কবজ করবে। অতঃপর মুমিনদের স্বল্প উপস্থিতিতে পাপিষ্ঠ লোকেরাই অবশিষ্ট থাকবে। তারা একে অপরকে বর্জন করবে এবং তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসবে। তাদের ওপর থেকে লজ্জা-শরম উঠে যাবে। তারা প্রকাশ্যে অশ্লীলতায় লিপ্ত হবে এবং গাধাদের মতো রাস্তায় কামাচারে লিপ্ত হবে। তাদের ওপরই 'দাব্বাতুল আরদ' (জমিন থেকে বের হওয়া জন্তু) প্রকাশ পাবে, তারপর দাজ্জাল, তারপর সেই বায়ু যা তাদের অধিকাংশকে সাগরে নিক্ষেপ করবে, এরপর সেই আগুন যা তাদেরকে হাশরের ময়দানে একত্রিত করবে, এরপর কিয়ামত সংঘটিত হবে।
(খণ্ড: ٢) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١١٧)
19- قَالَ: عَبْدُ الْمَلِكِ: وَحَدَّثَنِي مُعَاذُ بْنُ الْحَكَمِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ تَأْتِي رِيحٌ لَيِّنَةٌ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ.

قَالَ ابْنُ عُمَرَ تَأْتِي مِنْ قِبَلِ الْيَمَنِ وَهِيَ صَفْرَاءُ حَمْرَاءُ تَصْفَرُّ مَرَّةً وتحمر أخرى.
১৯- আব্দুল মালিক বলেন: মুআয ইবনে হাকাম আমার কাছে নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামতের প্রাক্কালে একটি কোমল বাতাস প্রবাহিত হবে এবং তা প্রত্যেক মুমিনের রূহ কবজ করে নেবে।

ইবনে উমর বলেন: তা ইয়েমেনের দিক থেকে আসবে এবং সেটি হবে হলদে-লাল বর্ণের; যা একবার হলুদ হবে এবং আরেকবার লাল হবে।
(খণ্ড: ٢) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١١٨)
20- وَحَدَّثَنِي أَسَدُ بْنُ مُوسَى عَنْ نَصْرِ بْنِ صيريف عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ السَّائِبِ قَالَ: قَالَ أبو هريرة يلتقي الشيخان بعد عشرين ومئة سَنَةٍ فَيَقُولُ أَحَدُهُمَا لِلآخَرِ مَتَى وُلِدْتَ؟ فَيَقُولُ وُلِدْتُ لَيْلَةَ طُلُوعِ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا.

قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: وَذَلِكَ عِنْدَ تَدَانِي السَّاعَةُ، أَمَاتَنَا اللَّهُ قَبْلَ حُضُورِ عَلامَاتِهَا وَأَهْوَالِهَا بِمَنِّهِ.
২০- আসাদ ইবনে মুসা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন নাসর ইবনে সাইরিফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আস-সাইব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা বলেছেন যে, একশত বিশ বছর পর দুই বৃদ্ধ লোক একে অপরের সাথে মিলিত হবে। তাদের একজন অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘আপনার জন্ম কখন হয়েছিল?’ সে বলবে, ‘আমি সেই রাতে জন্মগ্রহণ করেছি যে রাতে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হয়েছিল।’

আব্দুল মালিক বলেন: আর তা হবে কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সময়। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে এর নিদর্শনাবলী ও ভয়াবহতা আসার পূর্বেই আমাদের মৃত্যু দান করুন।
(খণ্ড: ১) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: -)
أشراط الساعة وذهاب الأخيار وبقاء الأشرار لعبد الملك بن حبيب   (عبد الملك بن حبيب)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أشراط الساعة وذهاب الأخيار وبقاء الأشرار

المؤلف: عبد الملك بن حَبِيب بن حبيب بن سليمان بن هارون السلمي الإلبيري القرطبي، أبو مروان (ت 238هـ)

المحقق: عبد الله عبد المؤمن الغماري الحسني

الناشر: أضواء السلف

الطبعة: الأولى، 2005 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: أحمد الخضري (نسخ) ، ويا باغي الخير أقبل (مقابلة)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবদুল মালিক বিন হাবিবের কিয়ামতের আলামতসমূহ, সৎলোকদের প্রস্থান এবং মন্দদের অবস্থান   (আবদুল মালিক বিন হাবিব)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: কিয়ামতের আলামতসমূহ, সৎলোকদের প্রস্থান এবং মন্দদের অবস্থান

লেখক: আবদুল মালিক বিন হাবিব বিন হাবিব বিন সুলাইমান বিন হারুন আস-সুলামি আল-ইলবিরা আল-কুরতুবি, আবু মারওয়ান (মৃত্যু ২৩৮ হি.)

তাহকীককারী: আবদুল্লাহ আবদুল মুমিন আল-গুমারি আল-হাসানি

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদরি (অনুলিপি) , এবং হে কল্যাণের অন্বেষী, এগিয়ে এসো (মুশাবাহাহ বা তুলনা)

শামলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٣) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١٢٠)
‌‌بَابُ مَا جَاءَ فِي خُرُوجِ الدَّابَّةِ مِنَ الأَرْضِ الَّتِي تُكَلِّمُ النَّاسَ وَهُمْ عَلَى غَفْلَةٍ.

قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ فِي قَوْلِ اللَّهِ تبارك وتعالى: {وإذا وقع.. .. تكلمهم} .

يَعْنِي تُحَدِّثُهُمْ وَكَذَلِكَ فِي قِرَاءَةِ بَعْضِهِمْ.

21- قَالَ: حَدَّثَنَا الْمَكْفُوفُ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ خُوطٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ فِي تَفْسِيرِ ذَلِكَ كُلِّهِ.
পরিচ্ছেদ: জমিন থেকে সেই প্রাণীর আত্মপ্রকাশ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, যা মানুষের সাথে কথা বলবে এমতাবস্থায় যখন তারা গাফিলতির মধ্যে থাকবে.

আব্দুল মালিক মহান ও বরকতময় আল্লাহর বাণী: {আর যখন (আজাব) আপতিত হবে... সেটি তাদের সাথে কথা বলবে} সম্পর্কে বলেন—

অর্থাৎ সেটি তাদের সাথে কথা বলবে এবং একইভাবে কারও কারও কিরাআতেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

২১- তিনি বলেন: আল-মাকফূফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব ইবনে খুওয়াত থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, আর তিনি হাসান থেকে এই সবকিছুর তাফসীরের বিষয়ে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٣) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١٢١)
22- قَالَ: وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ عَنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَطِيَّةَ بْنِ دِلافٍ الْمُزَنِيِّ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ تَخْرُجُ الدَّابَّةُ فَتُوشِمُ النَّاسَ عَلَى خَرَاطِيمِهِمْ فَتَبْيَضُّ وُجُوهُ الْمُؤْمِنِينَ وَتَسْوَدُّ وُجُوهُ الْمُنَافِقِينَ وَيَمْتَازُ هَؤُلاءِ عَنْ هَؤُلاءِ، ثُمَّ يَمُرُّونَ بَعْدَ ذَلِكَ حَتَّى يَشْتَرِيَ الرَّجُلُ الشَّيْءَ فَيُقَالُ لَهُ مِمَّنِ اشْتَرَيْتَهُ؟ فَيَقُولُ مِنْ أَحَدِ الْمُخَرْطَمِينَ.
22- তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন আবি সালামাহ থেকে, তিনি উমর বিন আব্দুর রহমান বিন আতিয়্যাহ বিন দিলাফ আল-মুজানি থেকে, তিনি আবু উমামাহ আল-বাহিলি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "একটি জন্তু (দাব্বাহ) বের হবে এবং সে মানুষের নাকের ওপর চিহ্ন এঁকে দেবে। এতে মুমিনদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এবং মুনাফিকদের মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে এবং তারা একে অপর থেকে পৃথক হয়ে পড়বে। অতঃপর তারা এর পরবর্তী সময়কাল এমনভাবে অতিবাহিত করবে যে, কোনো ব্যক্তি যখন কোনো কিছু ক্রয় করবে, তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, 'তুমি এটি কার কাছ থেকে ক্রয় করেছ?' সে বলবে, 'নাক চিহ্নিত ব্যক্তিদের একজনের কাছ থেকে'।"
(খণ্ড: ٣) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١٢٣)
23- قَالَ: وَحَدَّثَنِي الأُوَيْسِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ أَنَّهُ سَمِعَ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ يَقُولُ فِي الدَّابَّةِ: يَكُونُ لَهَا ثَلاثُ خَرَجَاتٍ تَخْرُجُ فِي نَوَاحِيَ الْيَمَنِ فَيَكْثُرُ ذِكْرُهَا فِي أَهْلِ الْبَادِيَةِ ثُمَّ تَمْكُثُ حِينًا ثُمَّ تَخْرُجُ خَرْجَةً أُخْرَى قَرِيبًا مِنْ مَكَّةَ فَيَفْشُو ذِكْرُهَا فِي الْمَدَائِنِ وَالْقُرَى حَتَّى تُهْرِقَ الأُمَرَاءُ عَلَيْهَا الدِّمَاءَ، ثُمَّ يَبْقَى النَّاسُ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ثُمَّ تَدْنُو إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ الْمَسْجِدِ وَذَلِكَ مَا بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ الأَسْوَدِ إِلَى بَابِ بَنِي مَخْزُومٍ إِلَى الصَّفَا إِلَى مَا هُنَالِكَ عَنْ يَمِينِ الْخَارِجِ مِنَ الْمَسْجِدِ فَيَنْفَضُّ النَّاسُ هَارِبِينَ وَيَلْبَثُ فِي الْمَسْجِدِ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَهُمْ يَوْمَئِذٍ خَيْرُ ⦗ص: 124⦘ أَهْلِ الْمَسْجِدِ فَيَعْرِفُونَ أَنَّهُمْ لَمْ يُعْجَزُوا فَتَخْرُجُ الدَّابَّةُ تَنْفُضُ التُّرَابَ عَنْ رَأْسِهَا فَتَسْتَقْبِلُ الْمَشْرِقَ بِوَجْهِهَا فَتَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ فِي السَّماء وَالأَرْض مِنَ الْمَخْلُوقِينَ فِي ذَلِكَ الْوَجْهِ ثُمَّ تَسْتَقْبِلُ الْمَغْرِبَ فَتَفْعَلُ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ تَبْتَدِئُ بِتِلْكَ الْعُصْبَةِ الَّتِي فِي الْمَسْجِدِ فَتُبَشِّرُهُمْ وَتُحَدِّثُهُمْ بِمَحَاسِنِ أَعْمَالِهِمْ وَمَا لَهُمْ فِي الْجَنَّةِ مِنَ الثَّوَابِ ثُمَّ تَمْسُحُ وُجُوهَهُمْ فَتَجْلُوهَا حَتَّى تَكُونَ كَضَوْءِ الشَّمْسِ وَالْكَوَاكِبِ الدُّرِّيَّةِ.

ثُمَّ تَتْبَعُ النَّاسَ فَتَمْسَحُ وَجْهَ الْمُؤْمِنِ عَلَى مَوْضِعِ السُّجُودِ وَأَمَّا الْكَافِرُ وَالْمُنَافِقُ فَتَسْوَدُّ وُجُوهُهُمَا مِنْ خَضْمَتِهَا ثُمَّ تُبْدئُ فَتَفْتَحُ فَاهًا مَسِيرَةَ ثَلاثِ لَيَالٍ ثُمَّ تَذْهَبُ فِي الأَرْضِ فَلا يُدْرِكُهَا طَالِبٌ وَلا يَنْجُو مِنْهَا هَارِبٌ فَيَتَعَوَّذُ النَّاسُ مِنْهَا بِالصَّلاةِ فَتَأْتِي الرَّجُلَ الْفَاجِرَ فَتَقِفُ عَلَيْهِ وَهُوَ يُصَلِّي فَتَقُولُ لَهُ مَا الصَّلاةُ مَا شَأْنُكَ فَيَمْشِي الشَّقِيُّ فِي صَلاتِهِ فَتَقُولُ لَهُ طَوِّلْ مَا كُنْتَ تُطَوِّلُ فَوَاللَّهِ لأَخْطِمَنَّكَ خَطْمَةً يَسْوَدُّ مِنْهَا وَجْهُكَ وَتُذَكِّرُهُ بِمَسَاوِئِ عَمَلِهِ فَيَلْتَفِتُ إِلَيْهَا فَتَخْطِمُهُ فَيَسْوَدُّ وَجْهُهُ فَتَفْعَلُ ذَلِكَ بِالنَّاسِ كُلِّهِمْ

فَقِيلَ لِحُذَيْفَةَ كَيْفَ يَكُونُ النَّاسُ بَعْدَ ذَلِكَ فَقَالَ يُعَمَّرُونَ حِينًا شُرَكَاءَ فِي ⦗ص: 125⦘ الأَمْوَالِ وَجِيرَانًا فِي الدِّيَارِ وَأَصْحَابًا فِي الأَسْفَارِ فَيَقُولُ الرَّجُلُ جَاوَرَنِي الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ وَيَقُولُ الآخَرُ جَاوَرَنِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَيَقُولُ اشْتَرَيْتُ مِنْ رَجُلٍ مِنَ الْمُخَرْطَمِينَ حَتَّى يُسَمَّى كُلُّ وَاحِدٍ وَكُلُّ قَوْمٍ بِسِيمَاهِمْ حَتَّى أَرَى الرَّجُلَ لَيَسُومُ الرَّجُلَ بِالشِّرَاءِ فَيَقُولُ كَيْفَ تَبِيعُ هَذَا يَا مُؤْمِنُ وَيَقُولُ الآخَرُ كَيْفَ تَبِيعُ هَذَا يَا كَافِرُ وَيَقُولُ لِلرَّجُلِ هَنِيئًا لَكَ الْجَنَّةُ وَيَقُولُ لِلآخَرِ هَنِيئًا لَكَ النَّارُ.

قال وحدثني أَسَدُ بْنُ مُوسَى عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ حُذَيْفَةَ مِثْلَ ذَلِكَ.
২৩- তিনি বলেন: আল-উওয়ায়সী আমাকে আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়েদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু তুফায়ল আমির ইবনে ওয়াসিলা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামানকে 'দাব্বাহ' (জমিন থেকে নির্গত প্রাণী) সম্পর্কে বলতে শুনেছেন: সেটির তিনটি আত্মপ্রকাশ ঘটবে। একটি ইয়েমেনের কোনো এক প্রান্ত থেকে ঘটবে, যার ফলে মরুবাসীদের মধ্যে তার আলোচনা ছড়িয়ে পড়বে। এরপর সে কিছুকাল অবস্থান করবে। তারপর মক্কার নিকটবর্তী স্থান থেকে তার দ্বিতীয়বার প্রকাশ ঘটবে এবং নগর ও গ্রামগুলোতে তার কথা ছড়িয়ে পড়বে, এমনকি শাসকরা তার কারণে রক্তপাত ঘটাবে। অতঃপর মানুষ মসজিদুল হারামে অবস্থান করবে। তারপর সে মসজিদের এক প্রান্তের নিকটবর্তী হবে—আর তা হলো রুকন ও মাকামে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থান থেকে বনু মাখজুমের দরজা, সাফা এবং মসজিদের বহির্গামী পথের ডান দিকের এলাকা পর্যন্ত। তখন মানুষ ভয়ে চারদিকে পালিয়ে যাবে। কিন্তু মুসলমানদের একটি দল মসজিদে থেকে যাবে, তারা সেদিন ⦗পৃষ্ঠা: ১২৪⦘ মসজিদবাসীদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হবে। তারা বুঝতে পারবে যে তারা (আল্লাহর কুদরতকে) পরাস্ত করতে পারবে না। এরপর 'দাব্বাহ' তার মাথা থেকে ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে বের হবে। সে পূর্ব দিকে মুখ করে এমন এক চিৎকার দেবে যা আসমান ও জমিনের সেই দিকের সকল সৃষ্টি শুনতে পাবে। অতঃপর সে পশ্চিম দিকে মুখ করবে এবং অনুরূপ করবে। এরপর সে মসজিদের সেই দলের কাছে আসবে, তাদের সুসংবাদ দেবে এবং তাদের নেক আমল ও জান্নাতে তাদের জন্য নির্ধারিত সওয়াব সম্পর্কে বলবে। অতঃপর সে তাদের মুখমণ্ডল মুছে দেবে, ফলে তাদের চেহারা সূর্যের আলো ও উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় দীপ্তিমান হবে।

এরপর সে মানুষের পিছু নেবে এবং মুমিনের সেজদার জায়গায় (কপালে) স্পর্শ করবে। পক্ষান্তরে কাফের ও মুনাফিকের নাক মলে দেবে, যার ফলে তাদের মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে। এরপর সে তার মুখ উন্মুক্ত করবে যা তিন রাতের দূরত্বের সমান হবে। তারপর সে জমিনে বিচরণ করবে। কোনো অনুসন্ধানকারী তাকে ধরতে পারবে না এবং কোনো পলায়নকারী তার থেকে রেহাই পাবে না। মানুষ তার থেকে বাঁচতে নামাজের আশ্রয় নেবে। তখন সে একজন পাপিষ্ঠ ব্যক্তির কাছে এসে দাঁড়াবে যখন সে নামাজরত থাকবে। সে তাকে বলবে, "এ নামাজ কীসের? তোমার ব্যাপার কী?" তখন সেই হতভাগা তার নামাজ চালিয়ে যাবে। সে (দাব্বাহ) তাকে বলবে, "যতক্ষণ ইচ্ছা দীর্ঘ করো, আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তোমার নাকে এমন দাগ দেব যাতে তোমার চেহারা কালো হয়ে যাবে।" সে তাকে তার মন্দ কাজগুলোর কথা মনে করিয়ে দেবে। লোকটি তার দিকে তাকালে সে তার নাকে দাগ দেবে এবং তার মুখ কালো হয়ে যাবে। সে সকল মানুষের সাথে এমন আচরণ করবে।

হুযায়ফা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, এরপর মানুষের অবস্থা কেমন হবে? তিনি বললেন: তারা দীর্ঘকাল বসবাস করবে, ধন-সম্পদে অংশীদার ⦗পৃষ্ঠা: ১২৫⦘ হিসেবে থাকবে, বসতবাড়িতে প্রতিবেশী হবে এবং সফরে সফরসঙ্গী হবে। তখন একজন বলবে, "জাহান্নামবাসীদের একজন আমার প্রতিবেশী হয়েছে।" অন্যজন বলবে, "জান্নাতবাসীদের একজন আমার প্রতিবেশী হয়েছে।" কেউ বলবে, "আমি নাকে ছাপ লাগানো একজন ব্যক্তির কাছ থেকে সওদা করেছি।" এমনকি প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিটি জাতি তাদের চিহ্ন দ্বারা পরিচিত হবে। এমনকি আমি একজন ব্যক্তিকে দেখব সে অন্যজনের সাথে কেনাবেচা করছে এবং বলছে, "হে মুমিন, তুমি এটি কত দামে বিক্রি করবে?" এবং অন্যজন বলবে, "হে কাফের, তুমি এটি কত দামে বিক্রি করবে?" আর একজনকে বলবে, "তোমার জন্য জান্নাতের শুভকামনা," এবং অন্যজনকে বলবে, "তোমার জন্য জাহান্নামের শুভকামনা।"

বর্ণনাকারী বলেন: আসাদ ইবনে মুসা আমাকে জারীর ইবনে হাযিম থেকে, তিনি কায়স ইবনে সাদ থেকে, তিনি আবু তুফায়ল থেকে এবং তিনি হুযায়ফা (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٣) আশরাতুস সাআতি ওয়া যাহাবুল আখইয়ার ওয়া বাকাউল আশরার লি আব্দুল মালিক বিন হাবীব (পৃষ্ঠা: ١٢٦)
24- قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: وَحَدَّثَنِي أَسَدُ بْنُ مُوسَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ صَالِحٍ مَوْلَى التوأمة عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّهُ قَالَ: تَخْرُجُ الدَّابَّةُ مِنْ مَكَّةَ مِنْ صَخْرَةٍ بِشِعْبِ أَجْيَادٍ أَيَّامَ الْحَجِّ فَيَبْلُغُ رَأْسُهَا السَّحَابَ وَمَا خَرَجَتْ رِجْلُهَا مِنَ الأَرْضِ يَخْرُجُ أَوَّلُهَا أَوَّلَ النَّهَارِ وَآخِرُهَا آخِرَ النَّهَارِ وَلا تَكْمُلُ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَيَبِيتُ النَّاسُ وَيَصِيرُونَ إِلَى جَمْعٍ وَاحِدٍ وَتَسِيرُ دَابَّةُ الأَرْضِ تَسْرِي إِلَيْهِمْ فَيُصْبِحُونَ وَقَدْ جَعَلَتْهُمْ بَيْنَ رَأْسَيْهَا وَذَنَبِهَا فَمَا مِنْ مُؤْمِنٍ إِلا وَتَمْسَحُهُ وَلا كَافِرٍ إِلا وَتُخَرْطِمُهُ فَيَفْزَعُ النَّاسُ إِلَى الصَّلاةِ فَتَأْتِي الرَّجُلَ الْفَاجِرَ وَهُوَ يُصَلِّي فَتَقُولُ لَهُ طَوِّلْ مَا أَنْتَ مُطَوِّلٌ وَاللَّهِ لأخْطِمَنَّكَ فَتَدْخُلُ عَلَى النَّاسِ فِي بُيُوتِهِمْ فَتُخْبِرُهُمْ بِأَفْعَالِهِمْ وَتَقُولُ أَنْتَ يَا فُلانُ بْنَ فُلانٍ مِنْ أَهْلِ النَّارِ وَأَنْتَ يَا فُلانُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى يُعْرَفَ الْمُؤْمِنُ وَالْفَاجِرُ بِهِ وَالْمُخْلِصُ مِنَ الْمُنَافِقِ.

⦗ص: 127⦘ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو لَوْ شِئْتُ أَنْ أَضَعَ قَدَمِي عَلَى الْمَوْضِعِ الَّذِي تَخْرُجُ مِنْهُ لَوَضَعْتُهُ.

وَحَدَّثَنِي أَسَدُ بْنُ مُوسَى عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ مِثْلَ ذَلِكَ.
২৪- আব্দুল মালিক বলেন: আসাদ ইবনে মূসা মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি সালেহ মাওলা তুয়ামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মক্কার শিব আজইয়াদ নামক গিরিপথের একটি পাথর থেকে হাজ্জের দিনগুলোতে জমিনের বিচরণকারী প্রাণীটি (দাব্বাহ) বের হবে। সেটির মাথা মেঘমালা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, অথচ তখনও তার পা জমিন থেকে পুরোপুরি বের হবে না। দিনের শুরুতে তার প্রথম অংশ বের হওয়া শুরু হবে এবং দিনের শেষে তার শেষ অংশ বের হবে। সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত তার বের হওয়া পূর্ণ হবে না। অতঃপর মানুষ রাত অতিবাহিত করবে এবং এক স্থানে সমবেত হবে। তখন জমিনের বিচরণকারী প্রাণীটি তাদের দিকে চলতে শুরু করবে এবং তাদের কাছে পৌঁছাবে। সকালে তারা দেখবে যে, সে তাদের নিজের মাথা ও লেজের মাঝখানে ঘিরে ফেলেছে। এমন কোনো মুমিন থাকবে না যাকে সে স্পর্শ করবে না এবং এমন কোনো কাফির থাকবে না যার নাকে সে চিহ্ন এঁকে দিবে না। ফলে মানুষ ভীত হয়ে সালাতের দিকে ধাবিত হবে। তখন সে একজন পাপাচারী লোকের কাছে আসবে যখন সে সালাত রত থাকবে এবং তাকে বলবে, "তুমি যত ইচ্ছা দীর্ঘ করো, আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তোমাকে চিহ্নবিদ্ধ করব।" সে মানুষের ঘরে ঘরে প্রবেশ করবে এবং তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সংবাদ দিবে। সে বলবে, "হে অমুকের পুত্র অমুক! তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত, আর হে অমুক! তুমি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত।" এভাবে এর মাধ্যমে মুমিন ও পাপাচারী এবং একনিষ্ঠ ব্যক্তি ও মুনাফিককে আলাদাভাবে চেনা যাবে।

⦗পৃষ্ঠা: ১২৭⦘ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বলেন, "আমি যদি চাইতাম যে স্থান থেকে এটি বের হবে সেখানে আমার পা রাখতে, তবে আমি অবশ্যই তা রাখতাম।"

আসাদ ইবনে মূসা হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে আমার নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।