(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح الزرقاني على المواهب اللدنية بالمنح المحمدية   (الزرقاني، محمد بن عبد الباقي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: شرح الزرقاني على المواهب اللدنية بالمنح المحمدية للقسطلاني (ت 923 هـ)

المؤلف: [محمد بن عبد الباقي] الزرقاني (ت 1122 هـ)

ضبطه وصححه: محمد عبد العزيز الخالدي

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1996 م

عدد الأجزاء: 12

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ-এর ওপর যুরকানির ব্যাখ্যাগ্রন্থ   (যুরকানি, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকি)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: কাসতালানি (মৃত ৯২৩ হি.) বিরচিত আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ-এর ওপর যুরকানির ব্যাখ্যাগ্রন্থ

লেখক: [মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকি] যুরকানি (মৃত ১১২২ হি.)

সম্পাদনা ও সংশোধন: মুহাম্মাদ আব্দুল আযীয আল-খালিদী

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হি. - ১৯৯৬ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ১২

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح العلامة الزرقاني على المواهب اللدنية بالمنح المحمدية]ـ

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن عبد الباقي بن يوسف بن أحمد بن شهاب الدين بن محمد الزرقاني المالكي (المتوفى: 1122هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية

الطبعة: الأولى 1417هـ-1996م

عدد الأجزاء: 12

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল-মানাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ-এর ওপর আল্লামা যারকানির ব্যাখ্যাগ্রন্থ]

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমদ ইবনে শিহাবুদ্দিন ইবনে মুহাম্মদ আয-যারকানি আল-মালিকি (মৃত্যু: ১১২২ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি-১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে এবং এটি টীকা দ্বারা সমৃদ্ধ]
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المجلد الأول

‌‌باب مقدمة

‌‌ترجمة شهاب الدين أحمد بن محمد القسطلاني مؤلف المواهب اللدنية

…

بسم الله الرحمن الرحيم

ترجمة شهاب الدين أحمد بن محمد القسطلاني 1 مؤلف المواهب اللدنية:

هو الحافظ شهاب الدين أبو العباس، أحمد بن محمد، بن أبي بكر، بن عبد الملك، بن أحمد، بن محمد، بن حسين، بن علي القسطلاني المصري الشافعي، الإمام العلامة، الحجة الرحالة، الفقيه المقرئ المسند.

قال السخاوي: مولده ثاني عشر ذي القعدة سنة إحدى وخمسين وثمانمائة بمصر، ونشأ بها وحفظ القرآن، وتلا السبع وحفظ الشاطبية والجزرية والوردية وغير ذلك، وذكر له عدة مشايخ منهم: الشيخ خالد الأزهري النحوي، والفخر المقدسي، والجلال البكري وغيرهم، وأنه قرأ صحيح البخاري في خمسة مجالس على الشاوي، وتلمذ له أيضًا، وأنه قرأ عليه أعني السخاوي بعض مؤلفاته، وأنه حج غير مرة، وجاور سنة أربع وثمانين وسنة أربع وتسعين، وأنه أخذ بمكة عن جماعة، منهم: النجم بن فهد، وولي مشيخة مقام سيدي الشيخ أحمد الحرار بالقرافة الصغرى، وعمل تأليفًا في مناقب الشيخ المذكور سماه نزهة الأبرار في مناقب الشيخ أبي العباس الحرار، وكان يعظ بالجامع العمري، وغيره ويجتمع عنده

--------------------------------------------

1 انظر ترجمته في السخاوي: الضوء اللامع 2/ 103-104، ابن العماد، شذرات الذهب 8/ 121-123، الغزي: الكواكب السائرة 1/ 126-127، العيدروسي: النور السافر 113-115، الشوكاني: البدر الطالع 1/ 102-103، الكناني: فهرس الفهارس 2/ 318-320، حاجي خليفة: كشف الظنون 69، 166، 366، 552، 558، 647، 867، 919، 960، 2090، 1232، 1235، 1236، 1235، 1519، 1534، 1551، 1552، 1568، 1662، 1663، 1688، 1799، 1847، 1869، 1938، 1965، العش: فهرس مخطوطات الظاهرية 6/ 58-60، البغدادي: إيضاح المكنون 2/ 484-684، سركيس: معجم المطبوعات العربية والمصرية 1511، كحالة: معجم المؤلفين 2/ 85.
প্রথম খণ্ড

ভূমিকা অধ্যায়

আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়্যাহ-এর লেখক শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কাসতাল্লানি-এর জীবনী

...

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়্যাহ-এর লেখক শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কাসতাল্লানি (১)-এর জীবনী:

তিনি হলেন হাফেজ শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস, আহমদ বিন মুহাম্মদ, বিন আবু বকর, বিন আব্দুল মালিক, বিন আহমদ, বিন মুহাম্মদ, বিন হুসাইন, বিন আলী আল-কাসতাল্লানি আল-মিসরি আল-শাফিঈ; তিনি একাধারে ইমাম, আল্লামা (মহা-পণ্ডিত), হুজ্জাহ (প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব), পর্যটক, ফকিহ, ক্বারি এবং মুসনিদ (হাদিস বর্ণনাকারী)।

সাখাভি বলেন: তিনি মিসরে ৮৫১ হিজরি সালের ১২ই জিলকদ জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং সাবআ ক্বিরাত (সাতটি পঠনরীতি) পাঠ শেষ করেন। এছাড়া তিনি আল-শাতিবিয়্যাহ, আল-জাজারিয়্যাহ, আল-ওয়ারদিয়্যাহ সহ অন্যান্য গ্রন্থ মুখস্থ করেন। তাঁর অনেক শায়খের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: নাহুবিদ শায়খ খালিদ আল-আযহারি, ফখর আল-মাকদিসি, জালাল আল-বাকরি এবং আরও অনেকে। তিনি আশ-শাউয়ির নিকট মাত্র পাঁচটি মজলিসে সহিহ বুখারি পাঠ সম্পন্ন করেন এবং তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি সাখাভির নিকট (অর্থাৎ আমার নিকট) আমার রচিত কিছু গ্রন্থ পাঠ করেছেন। তিনি একাধিকবার হজ পালন করেন এবং ৮৮৪ ও ৮৯৪ হিজরি সালে মক্কায় অবস্থান (জিওয়ার) করেন। মক্কায় তিনি একদল আলেমের নিকট শিক্ষা লাভ করেন, যাঁদের মধ্যে নাজম বিন ফাহদ অন্যতম। তিনি কারাফা আল-সুগরায় সিদি শায়খ আহমদ আল-হাররারের মাকামের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন এবং উক্ত শায়খের গুণাবলি বর্ণনা করে ‘নুযহাতুল আবরার ফি মানাকিব আল-শায়খ আবি আব্বাস আল-হাররার’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি জামি আল-উমারি ও অন্যান্য মসজিদে ওয়াজ-নসিহত করতেন এবং তাঁর নিকট অনেক মানুষ সমবেত হতো...

--------------------------------------------

১ তাঁর জীবনী দেখুন: সাখাভি: আদ-দউ আল-লামি ২/১০৩-১০৪, ইবনুল ইমাদ: শাযারাতুয যাহাব ৮/১২১-১২৩, আল-গুযযি: আল-কাওয়াকিবুস সাইয়্যারা ১/১২৬-১২৭, আল-আইদারুসি: আন-নূরুস সাফির ১১৩-১১৫, আল-শাওকানি: আল-বাদরুত তালি ১/১০২-১০৩, আল-কাত্তানি: ফিহরিসুল ফাহারিস ২/৩১৮-৩২০, হাজি খলিফা: কাশফুয যুনুন ৬৯, ১৬৬, ৩৬৬, ৫৫২, ৫৫৮, ৬৪৭, ৮৬৭, ৯১৯, ৯৬০, ২০৯০, ১২৩২, ১২৩৫, ১২৩৬, ১২৩৫, ১৫১৯, ১৫৩৪, ১৫৫১, ১৫৫২, ১৫৬৮, ১৬৬২, ১৬৬৩, ১৬৮৮, ১৭৯৯, ১৮৪৭, ১৮৬৯, ১৯৩৮, ১৯৬৫, আল-উশ: ফিহরিস মাখতুতাত আল-যাহিরিয়্যাহ ৬/৫৮-৬০, আল-বাগদাদি: ঈযাউল মাকনুন ২/৪৮৪-৬৮৪, সারকিস: মুজামুল মাতবুআত আল-আরাবিয়্যাহ ওয়াল মিসরিয়্যাহ ১৫১১, কাহহালা: মুজামুল মুআল্লিফিন ২/৮৫।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الجم الغفير، ولم يكن له نظير في الوعظ، وكتب بخطه شيئًا كثيرًا لنفسه ولغيره وأقرأ الطلبة وتعاطى الشهادة، ثم انجمع وأقبل على التأليف، وذكر من تصانيفه: العقود السنية في شرح المقدمة الجزرية، والكنز في وقف حمزة وهشام على الهمز، وشرحًا على الشاطبية زاد فيه زيادات ابن الجزري مع فوائد غريبة، وشرحًا على البردة سماه الأنوار المضية، وكتاب نفائس الأنفاس في الصحبة واللباس، والروض الزاهر في مناقب الشيخ عبد القادر، وتحفه السامع والقاري بختم صحيح البخاري ورسائل في العمل بالربع المجيب. انتهى ما ذكره السخاوي ملخصًا.

وقال في النور: ارتفع شأنه بعد ذلك فأعطي السعادة في قلمه وكَلِمِه، وصنف التصانيف المقبولة التي سارت بها الركبان في حياته، ومن أجلها شرح على صحيح البخاري مزجًا في عشرة أسفار كبار، لعله أجمع شروحه وأحسنها وألخصها، ومنها المواهب اللدنية بالمنح المحمدية، وهو كتاب جليل المقدار عظيم الواقع كثير النفع ليس له نظير في بابه، ويحكى أن الحافظ السيوطي كان يغض منه ويزعم أنه يأخذ من كتبه ويستمد منها ولا ينسب النقل إليها، وأنه ادعى عليه بذلك بين يدي شيخ الإسلام زكريا، فألزمه بيان مدعاه، فعدد مواضع قال: إنه نقل فيها عن البيهقي، وقال: إنه للبيهقي عدة مؤلفات فليذكر لنا ذكره في أي مؤلفاته لنعلم أنه نقل عن البيهقي، ولكنه رأى في مؤلفاتي ذلك النقل عن البيهقي فنقله برمته، وكان الواجب عليه أن يقول: نقل السيوطي عن البيهقي.

وحكى الشيخ جار الله بن فهد، أن الشيخ رحمه الله قصد إزالة ما في خاطر الجلال السيوطي، فمشى من القاهرة إلى الروضة إلى باب السيوطي ودق الباب فقال له: من أنت؟ فقال أنا القسطلاني جئت إليك حافيًا مكشوف الرأس ليطيب خاطرك عليّ، فقال له: قد طاب خاطري عليك، ولم يفتح له الباب ولم يقابله، قال في النور: وبالجملة فإنه كان إمامًا حافظًا متقنا جليل القدر، حسن التقرير والتحرير، لطيف الإشارة بليغ العبارة، حسن الجمع والتأليف، لطيف الترتيب والترصيف، زينة أهل عصره ونقاوة ذوي دهره، ولا يقدح فيه تحامل معاصريه عليه، فلا زالت الأكابر على هذا في كل عصر.

توفي في ليلة الجمعة سابع المحرم سنة ثلاث وعشرين وتسعمائة بالقاهرة
বিশাল জনসমাবেশ ঘটত, এবং ওয়াজ-নসিহতে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। তিনি নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্য নিজস্ব হস্তাক্ষরে প্রচুর লিখেছিলেন। তিনি ছাত্রদের পাঠদান করতেন এবং সাক্ষ্যদানের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। এরপর তিনি নির্জনতা অবলম্বন করেন এবং গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর গ্রন্থাবলীর মধ্যে উল্লেখ করা হয়: মুকাদ্দিমা আল-জাজারিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-উকুদুস সানিয়্যাহ’, হামজা ও হিশামের হামজার ওয়াকফ বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-কানজ’, শাতবিয়্যাহ-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যাতে তিনি ইবনুল জাজরির অতিরিক্ত অংশগুলোর সাথে দুর্লভ কিছু ফায়দা যুক্ত করেছেন, আল-বুরদাহ-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম দিয়েছেন ‘আল-আনওয়ারুল মুদিয়্যাহ’, সহচর্য ও পোশাক-পরিচ্ছদ বিষয়ক গ্রন্থ ‘নাফাইসুল আনফাস’, শেখ আব্দুল কাদের জিলানির মানাকিব বিষয়ক গ্রন্থ ‘আর-রাওদুয যাহির’, সহিহ বুখারির খতম উপলক্ষে ‘তুহফাতুস সামিই ওয়াল ক্বারি’ এবং রুবউল মুজাইয়্যাব ব্যবহারের নিয়মাবলী সম্বলিত কিছু রিসালাহ। সাখাবি যা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন তা এখানেই শেষ।

‘আন-নূর’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এরপর তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তাঁকে তাঁর কলম ও বাক্যে সৌভাগ্য দান করা হয়। তিনি এমন সব গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেন যা তাঁর জীবদ্দশাতেই দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সহিহ বুখারির একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা মূল পাঠের সাথে মিশিয়ে দশটি বড় খণ্ডে রচিত; সম্ভবত এটিই এই কিতাবের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, সুন্দর ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। আরও রয়েছে ‘আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ’, যা অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, প্রভাবশালী এবং ব্যাপক কল্যাণকর একটি কিতাব, যার সমতুল্য কোনো কিতাব এই বিষয়ে নেই। বর্ণিত আছে যে, হাফেজ সুয়ূতি তাঁর সমালোচনা করতেন এবং দাবি করতেন যে, তিনি সুয়ূতির কিতাব থেকে গ্রহণ করেন এবং সেখান থেকেই তথ্য সংগ্রহ করেন কিন্তু তাঁর নাম উল্লেখ করেন না। তিনি শেখুল ইসলাম জাকারিয়ার কাছে এই নিয়ে অভিযোগও পেশ করেছিলেন। শেখুল ইসলাম তাঁকে তাঁর দাবির প্রমাণ দিতে বললে তিনি কিছু স্থান নির্দিষ্ট করে বললেন: এখানে তিনি বায়হাকি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। সুয়ূতি আরও বললেন: বায়হাকির অনেকগুলো কিতাব রয়েছে, তিনি কেন উল্লেখ করলেন না যে বায়হাকির কোন কিতাব থেকে তিনি এটি নিয়েছেন? যাতে আমরা জানতে পারতাম যে তিনি সরাসরি বায়হাকি থেকে নিয়েছেন। কিন্তু তিনি আমার কিতাবে বায়হাকির সেই উদ্ধৃতিটি দেখেছেন এবং অবিকল তা নকল করেছেন। তাঁর উচিত ছিল এ কথা বলা যে: সুয়ূতি বায়হাকি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

শেখ জারুল্লাহ বিন ফাহদ বর্ণনা করেন যে, শেখ কাসতাল্লানি রহমতুল্লাহি আলাইহি জালালুদ্দিন সুয়ূতির মনের ক্ষোভ দূর করার সংকল্প করলেন। তিনি কায়রো থেকে রওজায় সুয়ূতির দরজায় হেঁটে গেলেন এবং কড়া নাড়লেন। সুয়ূতি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কে? তিনি উত্তর দিলেন: আমি কাসতাল্লানি, আমি আপনার কাছে খালি পায়ে এবং খোলা মাথায় এসেছি যাতে আপনার মন আমার প্রতি তুষ্ট হয়। সুয়ূতি ভেতর থেকে বললেন: আপনার প্রতি আমার মন তুষ্ট হয়েছে, কিন্তু তিনি তাঁর জন্য দরজা খোলেননি এবং তাঁর সাথে দেখাও করেননি। ‘আন-নূর’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: মোদ্দাকথা এই যে, তিনি ছিলেন একজন ইমাম, হাফেজ, সুদক্ষ ও সুমহান মর্যাদার অধিকারী। তাঁর বর্ণনা ও লিখনশৈলী ছিল চমৎকার, ইঙ্গিত ছিল সূক্ষ্ম এবং ভাষা ছিল সাবলীল। তাঁর সংকলন ও রচনাশৈলী ছিল নিখুঁত এবং বিন্যাস ছিল চমৎকার। তিনি ছিলেন নিজ যুগের অলঙ্কার এবং সমকালের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। সমসাময়িকদের বিদ্বেষ তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারে না, কারণ প্রতিটি যুগেই বড়দের সাথে এমনটা হয়ে আসছে।

তিনি ৯২৩ হিজরির ৭ই মহরম শুক্রবার দিবাগত রাতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
ودفن بالمدرسة العينية جوار منزله، انتهى.

وقال في الكواكب: كان موته بعروض فالحج نشأ له من تأثره ببلوغه قطع رأس إبراهيم بن عطاء الله المكي، بحيث سقط عن دابته وأغمي عليه، فحمل إليه منزله ثم مات بعد أيام.
এবং তাঁকে তাঁর গৃহ সংলগ্ন আল-আইনিয়্যাহ মাদরাসায় দাফন করা হয়েছে, সমাপ্ত।

এবং আল-কাওয়াকিবে বলা হয়েছে: তাঁর মৃত্যু হয়েছিল আরূদুল হজে। ইব্রাহিম বিন আতাউল্লাহ আল-মাক্কীর শিরশ্ছেদ করার সংবাদে তিনি প্রচণ্ড আঘাত পান এবং এর প্রভাবেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। সংবাদটি শুনে তিনি তাঁর সওয়ারি থেকে পড়ে যান এবং মূর্ছিত হয়ে পড়েন। অতঃপর তাঁকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং কয়েক দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌التعريف بالمواهب اللدنية بالمنح المحمدية:

قال حاجي خليفة في كشف الظنون: المواهب اللدنية في السيرة النبوية في مجلد، للشيخ الإمام شهاب الدين أبي العباس، أحمد بن محمد القسطلاني المصري، المتوفى سنة 923 ثلاث وعشرين وتسعمائة، وهو كتاب جليل القدر كثير النفع ليس له نظير في بابه، رتبه على عشرة مقاصد:

الأول: في تشريف الله تعالى نبيه بسبق نبوته وطهارة نسبه وولادته ورضاعه ومغازيه وسراياه مرتبًا على السنين إلى وفاته عليه الصلاة والسلام.

الثاني: في أسمائه وأولاده وأزواجه وأعمامه وخدمه.

الثالث: فيما منحه الله تعالى من كمال خلقته؛ وفيه ثلاثة فصول.

الرابع: في معجزاته وخصائصه.

الخامس: في خصائص المعراج.

السادس: فيما ورد من آي التنزيل في رفعة ذكره.

السابع: في وجوب محبته واتباع سنته.

الثامن: في طبه وتعبيره الرؤيا.

التاسع: في لطيفه من حقائق عباداته.

العاشر: في إتمامه سبحانه وتعالى نعمته عليه بوفاته، وفيه ثلاثة فصول.

وذكر في كشف الظنون عن القسطلاني أنه فرغ من تأليفه في شوال سنة 898 ثمان وتسعين وثمانمائة ومن تبييضه في شعبان سنة 899 تسع وتسعين وثمانمائة.

وقال الغزي في الكواكب: وأقام عند النبي صلى الله عليه وسلم فحصل له جذب فصنف
আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ-এর পরিচিতি:

হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে বলেছেন: সীরাতে নববী বিষয়ক 'আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ' গ্রন্থটি এক খণ্ডে রচিত, যার লেখক হলেন শাইখ ইমাম শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাসতাল্লানি আল-মিসরি (মৃত্যু ৯২৩ হিজরি)। এটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও অত্যন্ত উপকারী একটি কিতাব, যার সমতুল্য কোনো কিতাব এই বিষয়ে নেই। তিনি একে দশটি মূল অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন:

প্রথম: আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর নবীকে তাঁর নবুওয়াতের অগ্রগণ্যতা, বংশের পবিত্রতা, জন্ম, দুগ্ধপান, যুদ্ধসমূহ এবং ছোট ছোট অভিযানসমূহ দিয়ে সম্মানিত করার বর্ণনা, যা ইন্তেকাল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) পর্যন্ত সাল ভিত্তিক বিন্যস্ত।

দ্বিতীয়: তাঁর নামসমূহ, সন্তানাদি, স্ত্রীগণ, চাচাগণ এবং সেবকদের বিবরণে।

তৃতীয়: আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর সৃষ্টির পূর্ণতা থেকে যা দান করেছেন; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

চতুর্থ: তাঁর মুজিজা (অলৌকিক নিদর্শন) ও অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে।

পঞ্চম: মেরাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে।

ষষ্ঠ: তাঁর সুখ্যাতি সমুন্নত করার বিষয়ে অবতীর্ণ হওয়া কুরআনের আয়াতসমূহ সম্পর্কে।

সপ্তম: তাঁকে ভালোবাসা এবং তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করার আবশ্যকতা সম্পর্কে।

অষ্টম: তাঁর চিকিৎসাবিদ্যা এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে।

নবম: তাঁর ইবাদতসমূহের সূক্ষ্ম রহস্য ও হাকিকত সম্পর্কে।

দশম: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর ইন্তেকালের মাধ্যমে তাঁর উপর স্বীয় নিআমত পূর্ণ করার বিষয়ে; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে আল-কাসতাল্লানি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ৮৯৮ হিজরি সালের শাওয়াল মাসে এর রচনা শেষ করেন এবং ৮৯৯ হিজরি সালের শা'বান মাসে এর পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করেন।

আল-গাযযি 'আল-কাওয়াকিব' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজার পাশে অবস্থান করেন এবং সেখানে তাঁর মাঝে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক আকর্ষণ তৈরি হয়, অতঃপর তিনি এটি রচনা করেন।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
المواهب اللدنية لما صحا … وقال: وكان له اعتقاد تام في الصوفية وأكثر في المواهب من الاستشهاد بكلام سيد وفا … واختار مذهب مالك رضي الله عنه في تفضيل المدينة على مكة؛ قلت: -أي الغزي- وأول دليل على قبول أعماله وإخلاصه في تأليفه، عناية الناس بكتابه المواهب اللدنية، ومغالاتهم في ثمنه مع قلة الرغبات. ا. هـ. وفي كشف الظنون، ترجمه المولى الفاضل عبد الباقي بن … 1 الشاعر الرومي المشهور أحسن ترجمة وسماه معالم اليقين2، وتوفي سنة 1088هـ.

وعلى المواهب حاشية لمولانا نور الدين على القاري المكي المشهور المتوفى سنة 1014 أربع عشر وألف.

وللعلامة لالشيخ إبراهيم بن محمد الميموني المصري الشافعي المتوفى سنة 1079 تسع وسبعين وألف، حاشية أيضًا.

وشرح المواهب المولى العلامة خاتمة المحدثين محمد بن عبد الباقي بن يوسف الزرقاني المصري المالكي، المتوفى سنة 1122 اثنتين وعشرين ومائة وألف، شرحًا حافلا في أربع مجلدات، جمع فيه أكثر الأحاديث المروية في شمائل المصطفى صلى الله عليه وسلم وسيره وصفاته الشريفة جزاه الله خيرًا ورحمه رحمة واسعة.

وللشيخ أبي الضياء علي بن علي الشبراملسي المتوفى سنة 1087 سبع وثمانين، وألف حاشية على المواهب في خمس مجلدات ضخام، نقلها الأميني في خلاصة السير.

--------------------------------------------

1 كذا في المطبوع من كشف الظنون.

2 أي أن المؤلف ترجم المواهب إلى الرومية حسب ما يظهر أو شرحه. ا. هـ.
আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ যখন বিশুদ্ধ হলো … এবং তিনি বললেন: সুফিবাদের প্রতি তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস ছিল এবং তিনি 'আল-মাওয়াহিব' গ্রন্থে সাইয়্যিদ ওয়াফার বক্তব্যের উদ্ধৃতি অধিক পরিমাণে ব্যবহার করেছেন … এবং তিনি মক্কার তুলনায় মদীনার শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে ইমাম মালিক (রা.)-এর মাযহাব গ্রহণ করেছেন। আমি -অর্থাৎ আল-গাযযী- বলছি: তাঁর কার্যাবলীর কবুলিয়্যাত এবং তাঁর রচনার ইখলাসের প্রথম প্রমাণ হলো 'আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ' গ্রন্থের প্রতি মানুষের বিশেষ মনোযোগ এবং চাহিদার স্বল্পতা সত্ত্বেও এর উচ্চমূল্য। (সমাপ্ত)। এবং 'কাশফুয যুনুন'-এ বর্ণিত হয়েছে যে, ফাযেল মাওলা আব্দুল বাকী বিন … ১, যিনি একজন বিখ্যাত রুমী কবি, তিনি এটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে অনুবাদ করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন 'মাআলিমুল ইয়াকীন' ২। তিনি ১০৮৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

এবং 'আল-মাওয়াহিব'-এর উপর মাওলানা নূরুদ্দীন আলী আল-কারী আল-মাক্কী -যিনি বিখ্যাত এবং ১০১৪ (এক হাজার চৌদ্দ) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন- তাঁর একটি হাশিয়া (টীকা) রয়েছে।

আল্লামা শাইখ ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ আল-মায়মুনী আল-মিসরী আশ-শাফেয়ী, যিনি ১০৭৯ (এক হাজার উনআশি) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, তাঁরও একটি হাশিয়া রয়েছে।

আর 'আল-মাওয়াহিব'-এর ব্যাখ্যা (শারহ) করেছেন আল্লামা মাওলা, মুহাদ্দিসকুলের শিরোমণি মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকী বিন ইউসুফ আয-যারকানী আল-মিসরী আল-মালিকী, যিনি ১১২২ (এক হাজার একশ বাইশ) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। এটি চার খণ্ডে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যাতে তিনি মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শামায়েল (আদর্শ), সীরাত (জীবনচরিত) এবং তাঁর মহান গুণাবলী সম্পর্কে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিস একত্রিত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।

এবং শাইখ আবুল যিয়া আলী বিন আলী আশ-শুবরামানালিসী, যিনি ১০৮৭ (এক হাজার সাতাশি) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, তাঁরও 'আল-মাওয়াহিব'-এর উপর বিশাল পাঁচ খণ্ডে একটি হাশিয়া রয়েছে, যা আল-আমীনী 'খুলাসাতুস সিয়ার' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

--------------------------------------------

১ 'কাশফুয যুনুন'-এর মুদ্রিত কপিতে এভাবেই রয়েছে।

২ অর্থাৎ যা প্রতীয়মান হয় সে অনুযায়ী লেখক 'আল-মাওয়াহিব' গ্রন্থটি রুমী ভাষায় অনুবাদ করেছেন অথবা এর ব্যাখ্যা করেছেন। (সমাপ্ত)
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ترجمة الزرقاني شارح المواهب:

هو محمد الزرقاني بن عبد الباقي بن يوسف بن أحمد بن علوان المصري، الأزهري المالكي، الشهير بالزرقاني الإمام المحدث، الناسك النحرير، الفقيه العلامة. وقال الزركلي أبو عبد الله: خاتمة المحدثين بالديار المصرية، مولده ووفاته بالقاهرة، ونسبته إلى زرقان من قرى منوف بمصر. وقال كحالة: محدث فقيه أصولي.

أخذ عن والده، وعن النور علي الشبراملسي، وعن الشيخ محمد البابلي وغيرهم، كما أخذ عن الشيخ محمد خليل العجلوني الدمشقي والجمال عبد الله الشبراوي:

وله من المؤلفات:

- شرح على الموطأ. ذكره كحالة1 باسم: أبهج المسالك بشرح موطأ الإمام مالك.

- شرح على المواهب اللدنية. قال سركيس: وهو شرح حافل جمع فيه أكثر الأحاديث المروية في شمائل المصطفى وسيره وصفاته الشريفة.

- وذكره كحالة2 باسم: إشراق مصابيح السيرة المحمدية بمزج أسرار المواهب اللدنية.

- شرح المنظومة البيقونية.

- مختصر3 المقاصد الحسنة في الأحاديث المشتهرة.

- وصول الأماني في الحديث.

--------------------------------------------

1 ذكر الزركلي في الأعلام 6/ 184: تلخيص المقاصد الحسنة.

2 انظر معجم المؤلفين 10/ 124.

3 مصادر ترجمته: معجم المؤلفين 10/ 124، الجبرتي: عجائب الآثار 1/ 69، المرادي: سلك الدرر 4/ 32-33، الكناني: فهرس الفهارس 1/ 342-343، البغدادي: هدية العارفين 2/ 311، الزركلي: الأعلام 6/ 184.
মাওয়াহিবের ব্যাখ্যাকার আল-যুরক্বানীর জীবনী:

তিনি হলেন মুহাম্মদ আল-যুরক্বানী বিন আব্দুল বাক্বী বিন ইউসুফ বিন আহমদ বিন আলওয়ান আল-মিসরী, আল-আযহারী আল-মালিকী; আল-যুরক্বানী নামে প্রসিদ্ধ ইমাম, মুহাদ্দিস, নিভৃতচারী ইবাদতগুজার, তীক্ষ্ণধী গবেষক এবং বিজ্ঞ ফকীহ। আবু আব্দুল্লাহ আয-যিরিকলী বলেন: তিনি মিশর ভূখণ্ডের মুহাদ্দিসগণের ধারায় সর্বশেষ ব্যক্তিত্ব; তাঁর জন্ম ও মৃত্যু কায়রোতে, আর তাঁর বংশীয় সম্পৃক্ততা মিশরের মানুফ অঞ্চলের যুরক্বান গ্রামের সাথে। কাহহালা বলেন: তিনি একজন মুহাদ্দিস, ফকীহ ও উসূলবিদ।

তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং নূর আলী আশ-শুবরামালসী, শাইখ মুহাম্মদ আল-বাবিলী ও অন্যান্যদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি শাইখ মুহাম্মদ খলীল আল-আজলুনী আদ-দিমাশকী এবং আল-জামাল আব্দুল্লাহ আশ-শাবরাবী থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন:

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলী হলো:

- মুওয়াত্তার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। কাহহালা ১ এটি 'আবাহজুল মাসালিক বি-শারহি মুওয়াত্তা আল-ইমাম মালিক' নামে উল্লেখ করেছেন।

- আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ। সারকীস বলেন: এটি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ যেখানে তিনি আল-মুস্তফার (সা.) স্বভাব-চরিত্র, তাঁর সীরাত ও মহান গুণাবলী সম্পর্কে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিস সংকলন করেছেন।

- কাহহালা ২ এটি 'ইশরাক্বু মাসাবিহিস সিরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ বি-মাযজি আসরারিল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়াহ' নামে উল্লেখ করেছেন।

- আল-মানযুমাহ আল-বাইক্বুনিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

- প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহের বর্ণনায় আল-মাক্বাসিদ আল-হাসানাহ-এর সংক্ষিপ্তসার ৩।

- হাদিস শাস্ত্রীয় গ্রন্থ 'উসুলুল আমানী'।

--------------------------------------------

১ আয-যিরিকলী 'আল-আ’লাম' (৬/১৮৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: তালখীসুল মাক্বাসিদ আল-হাসানাহ।

২ দেখুন: মু’জামুল মুআল্লিফীন ১০/১২৪।

৩ তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ: মু’জামুল মুআল্লিফীন ১০/১২৪, আল-জাবারতী: আজাইবুল আসার ১/৬৯, আল-মুরাদী: সিলকুদ দুরার ৪/৩২-৩৩, আল-ক্বিনানী: ফিহরিসুল ফাহারিস ১/৩৪২-৩৪৩, আল-বাগদাদী: হাদিয়্যাতুল আরিফীন ২/৩১১, আয-যিরিকলী: আল-আ’লাম ৬/১৮৪।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة:

الحمد لله الذي جعلنا خير أمة أخرجت للناس، ورفع منابر تشريفنا على منابر صفحات الدهور ثابتة الأساس، ووضع عنا الإصر والأغلال، ومنعنا الاجتماع على الضلال، وقدمنا تقديم البسملة في القرطاس، فنحن الآخرون السابقون تبجيلًا وتكريمًا لمن أرسله فينا رؤوفًا رحيمًا، فأقام دعائم الدين بعد طول تناس؛ وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، تعالى عما يقول الظالمون الأرجاس، وأشهد أن سيدنا محمدًا عبده وسوله، وحبيبه وخليله، الأمين المأمون الطيب الأنفاس، ألا وهو أجل من أن يحيط به وصف، وأشرف من أن يضم جواهره نظم أو وصف، زكي المنابت، طيب الأغراس، أضاءت قبل كونه وإرهاصاته المقباس، وأزهرت في حمله وولادته ورضاعه زهراءي، اقتبس منها النبراس، وأشرقت أعلام نبوته، ولمعت لوامع براهين رسالته، فشيدت منار الهدى بعدما كان في إبلاس، وبهر بالآيات البينات، فشق له البدر في دجى الأغلاس، وغلب بمعجزات بدروها في التمام، وجواهرها تروق في الترصيع والانتظام، ورياضها تتأرج بنسمات سماته، وتنشق عن نور زهر شمائله، ونور زهر صفاته التي كل عن إحصاء راموزها المقياس؛ صلى الله وسلم عليه وعلى إخوانه من الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وصحابته وأزواجه وذريته الطيبين الطاهرين الأكياس، الناهضين بأعباء المناقب، في علياء المناصب، البالغين في نصر الدين، النجوم الثواقب، الهادين من الكفر الجبال الرواس، حتى نسفوها نسفًا، وحكموا بالعدل وأقاموا القسطاس.

أما بعد: فهذا الكتاب لم يطلبه مني طالب، ولا رغب إلي من تصنيفه راغب، وإنما تطلبت نفسي فيه مزج المواهب، فأودعته نفائس بها يتنافس في شرح السنة النبوية، وعرائس استجليتها من مخدرات خدور السيرة المحمدية، وجواهر استخرجتها من قاموس الحكم المصطفوية، وزواهر اقتبستها من أرقعة السيرة الهاشمية، وزهور اجتثيتها من جنات وجنات الروضة المدنية، يبهر من عقد نظامها الناظر، وينادي من أي هذا القاصر، فيجيبه حال اللسان الوهاب، قوي قادر، أما العيوب وإن كثرت، فما لا سبيل إلى السلامة منها لغير المعصوم، وقد قال:

من ذا الذي ما ساء قط … ومن له الحسنى فقط

وقد قال ابن عبدوس النيسابوري: لا أعلم في الدنيا كتابًا سلم إلى مؤلفه ولم يتبعه من يليه، فكيف وفهمي فاتر، ونظري قاصر، ووجودي في الزمان الآخر مع ما أقاسيه من تلاطم أمواج
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মানুষের জন্য বের করা শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, এবং কালের পৃষ্ঠার মিম্বরসমূহে আমাদের সম্মানের মিম্বরসমূহকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর সমুন্নত করেছেন; আমাদের থেকে বোঝা ও শিকলসমূহ নামিয়ে দিয়েছেন, এবং ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন। তিনি কাগজে বিসমিল্লাহর অগ্রগণ্যতার ন্যায় আমাদের অগ্রগণ্যতা দান করেছেন। সুতরাং আমরা শেষে এসেও মর্যাদা ও সম্মানের বিচারে সেই সত্তার খাতিরে অগ্রগামী, যাঁকে তিনি আমাদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময় হিসেবে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ বিস্মৃতির পর দ্বীনের স্তম্ভসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; অশুচি জালেমরা যা বলে তিনি তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর প্রিয়তম ও অন্তরঙ্গ বন্ধু, যিনি আমানতদার ও বিশ্বস্ত এবং পবিত্র নিঃশ্বাসের অধিকারী। জেনে রাখো, তিনি বর্ণনার সীমায় আবদ্ধ হওয়ার চেয়েও মহান, এবং তাঁর রত্নরাজিকে কোনো কবিতা বা গুণকীর্তনের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করার চেয়েও তিনি অধিক সম্মানিত। তাঁর উৎপত্তিস্থল পবিত্র এবং তাঁর রোপণকৃত বৃক্ষসমূহ সুগন্ধিময়। তাঁর অস্তিত্ব ও অলৌকিক নিদর্শনাদি প্রকাশের পূর্বেই প্রদীপসমূহ আলোকিত হয়েছিল। তাঁর গর্ভধারণ, জন্ম ও দুগ্ধপানকালে এমন উজ্জ্বল জ্যোতি বিকশিত হয়েছিল, যা থেকে প্রদীপ আলো গ্রহণ করেছিল। তাঁর নবুওয়াতের ঝান্ডাসমূহ উদিত হয়েছে এবং তাঁর রিসালাতের প্রমাণের আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত হয়েছে; ফলে হেদায়েতের আলোকস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে যখন তা নিরাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তিনি সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে বিশ্বকে অভিভূত করেছেন, ফলে অন্ধকার রাতে তাঁর জন্য চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। তিনি এমন সব মুজিজার মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছেন যার পূর্ণিমা পূর্ণতা লাভ করেছে, যার রত্নরাজি বিন্যাস ও শৃঙ্খলায় অতীব মনোরম, যার বাগানসমূহ তাঁর বৈশিষ্ট্যের মৃদু বাতাসে সুবাসিত এবং তাঁর চরিত্রের উজ্জ্বল ফুলের নূর ও তাঁর গুণাবলীর ফুলের নূর থেকে বিকশিত, যার সংকেতসমূহ গণনা করতে পরিমাপকও অক্ষম। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর ভাই অন্যান্য নবী ও রাসূলগণের ওপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, পত্নীগণ এবং তাঁর পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও প্রজ্ঞাবান বংশধরদের ওপর; যাঁরা উচ্চমর্যাদায় আসীন হয়ে শ্রেষ্ঠত্বের গুরুভার বহন করেছেন, যাঁরা দ্বীনের সাহায্যে চরম সীমায় পৌঁছেছেন, উজ্জ্বল নক্ষত্রতুল্য, এবং কুফরের সুদৃঢ় পর্বতসমূহ থেকে মানুষকে হেদায়েত দান করেছেন, এমনকি তাঁরা সেগুলোকে সমূলে উৎপাটিত করেছেন এবং ন্যায়বিচার করেছেন ও ইনসাফ কায়েম করেছেন।

অতঃপর: এই কিতাবটি আমার কাছে কোনো অন্বেষণকারী দাবি করেনি এবং এটি রচনার জন্য কোনো আগ্রহী ব্যক্তি অনুরোধ করেনি। বরং আমার মন এতে বিভিন্ন প্রাপ্ত জ্ঞানের সংমিশ্রণ ঘটাতে চেয়েছে। তাই আমি এতে সুন্নতে নববীর ব্যাখ্যায় এমন কিছু অমূল্য রত্ন গচ্ছিত রেখেছি যার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা করা যায়, এবং সীরাতে মুহাম্মদিয়ার পর্দার অন্তরালে থাকা এমন কিছু সৌন্দর্য উন্মোচিত করেছি যা কনের মতো লাবণ্যময়, এবং মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিকমতের সাগর থেকে রত্নরাজি আহরণ করেছি, সীরাতে হাশেমিয়ার পত্রপল্লব থেকে উজ্জ্বল আলোকচ্ছটা গ্রহণ করেছি এবং রওজায়ে মদিনার উদ্যানসমূহ থেকে পুষ্পরাজি চয়ন করেছি। এর সুশৃঙ্খল বিন্যাস দর্শককে বিমোহিত করে এবং আহ্বান জানায় যে, এ অক্ষম ব্যক্তি কোথা থেকে এটা পেল? তখন অবস্থার জবান উত্তর দেয় যে, মহাদানশীল আল্লাহ সুদৃঢ় ও সর্বশক্তিমান। আর ত্রুটি-বিচ্যুতি যদিও অনেক হয়, তবে নিষ্পাপ ব্যক্তি ছাড়া তা থেকে মুক্ত থাকার কোনো উপায় নেই। যেমনটি কবি বলেছেন:

কে সেই ব্যক্তি যে কখনো মন্দ কাজ করেনি … এবং কার কেবলই কল্যাণ রয়েছে?

ইবনে আবদুস আন-নীশাপুরী বলেছেন: আমি দুনিয়াতে এমন কোনো কিতাব জানি না যা তার লেখকের কাছে নিরাপদ থেকেছে এবং তার পরবর্তী ব্যক্তি সেটির সমালোচনা করেনি। সেক্ষেত্রে আমার অবস্থা কী হবে, যখন আমার উপলব্ধি শিথিল, দৃষ্টি সীমাবদ্ধ এবং আমার অস্তিত্ব বর্তমান সময়ের শেষ ভাগে, সেইসাথে আমি যাতনা ভোগ করছি উত্তাল ঢেউয়ের...
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الهموم وأقلامه من ترادف جيوش الغموم، لكني أنتظر الفرج من الحي القيوم، مستعيذًا به من حسود ظلوم، والله أسال العون على إتمامه، والتوفيق من امتنانه وهو حسبنا ونعم الوكيل.

هذا؛ وجامعه الحقير الفاني، محمد بن عبد الباقي الزرقاني، قد أخذ الكتاب رواية ودراية، عن علامة الدنيا؛ الآخذ من بحار التحقيق بالغايتين: القصوى والدنيا، الأصول النحوي النظار الفقيه النحرير الجهبذ الفهامة النبيه الشيخ علي الشمرلسي شيخ الإسلام، فسح الله له وأدام به نفع الأنام. وكم بحمد الله صغى لي وسمع ما أقول وكتب أنقالي وحثني على إحضار ما أراه من النقول، إذا رأى ملالي، ولم أزل عنده من نعم الله بالمحل الأرفع العالي، والله يعلم أني لم أقل ذلك للفخر، وأي فخر لمن لا يعلم ما حاله في القبر، بل امتثالا للأمر بالتحدث بالنعمة، كشف الله عنا كل غمة، بحق روايته له عن شيخ الإسلام أحمد بن خليل السبكي، إجازة عن السيد يوسف الأرميوني عن المؤلف، وعن البرهان إبراهيم اللقاني، عن العرافين المحمدين: البنوفري، وابن الترجمان، عن العارف الشعراني، عن مؤلفها، وعن الفقيه النور الأجهوري، عن البدر القرافي والبنوفري، عن عبد الرحمن الأجهوري، عن مؤلفه. وقد وضع عليه حال القراءة، هاتيك الحاشية الرقيقة، الحاوية لجواهر أبحاثه الدقيقة، وبدور الأنقال الأنيقة. وهو مرادي بشيخنا في الإطلاق، وربما عبرت عنه بالشارح لغرض صحيح لدى الحذاق.

ح وأخبرنا به إجازة أبو عبد الله الحافظ محمد العلائي البابلي، قال: أخبرنا بها سماعًا لبعضها وإجازة لباقيها، شيخ الإسلام علي الزيادي، عن قطب الوجود أبي الحسن البكري، عن مؤلفها وهو أحمد بن محمد بن أبي بكر بن عبد الملك بن أحمد القسطلاني القتيبي المصري الشافعي، ولد كما ذكره شيخه الحافظ السخاوي، في الضوء بمصر عشر ذي القعدة سنة إحدى وخمسين وثمانمائة، وأخذ عن الشهاب العبادي، والبرهان العجلوني والفخر لمقدسي، والشيخ خالد الأزهري النحوي، والسخاوي وغيرهم.

وقرأ البخاري على الشهاوي في خمسة مجالس وحج مرارًا، وجاور بمكة مرتين وروى عن جمع منهم النجم بن فهد، وكان يعظ بالعمري وغيره الجم الغفير، ولم يكن له في الوعظ نظيرًا انتهى. وتوفي ليلة الجمعة بالقاهرة، سابع محرم سنة ثلاث وعشرين وتسعمائة، وصلي عليه بعد صلاة الجمعة بالأزهر، ودفن بمدرسة العيني، وله عدة مؤلفات أعظمها هذه المواهب اللدنية، التي أشرقت من سطورها أنوار الأبهة والجلالة، وقطرت من أديمها ألفاظ النبوة والرسالة، أحسن فيها ترتيبًا وصنعًا، وأحكمها ترصيعًا، وكساه الله فيها رداء القبول، ففاقت على كثير مما سواها عند ذوي العقول.
দুশ্চিন্তা এবং দুঃখ-কষ্টের বাহিনীর ক্রমাগত আক্রমণ থেকে কলমগুলো [থমকে আছে], তবে আমি চিরঞ্জীব ও অনাদি সত্তার (আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম) পক্ষ থেকে মুক্তির প্রতীক্ষায় রয়েছি। আমি অত্যাচারী হিংসুক থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এটি সম্পন্ন করার জন্য আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাওফিক কামনা করি; তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।

বিষয়টি এই যে; এর অধম ও নশ্বর সংকলক মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-যারকানি এই কিতাবটি বর্ণনা (রিওয়ায়েত) ও বিশ্লেষণাত্মক জ্ঞান (দিরায়েত) সহকারে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আল্লামার নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন; যিনি সূক্ষ্ম গবেষণার সমুদ্র থেকে উভয় লক্ষ্য—চরম ও পরম—অর্জন করেছেন। তিনি হলেন উসুল শাস্ত্রবিদ, ব্যাকরণবিদ, প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন ফকিহ, বিজ্ঞ পন্ডিত ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব শায়খ আলী আল-শাবরামাল্লিসি, যিনি শায়খুল ইসলাম; আল্লাহ তাঁর প্রশস্ততা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর মাধ্যমে সৃষ্টিজগতের উপকার অব্যাহত রাখুন। আল্লাহর প্রশংসায় বলছি, কতই না তিনি মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনেছেন, আমার উদ্ধৃতিগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন এবং কোনো উদ্ধৃতি সংগ্রহে আমার ক্লান্তি দেখলে আমাকে তা নিয়ে আসার জন্য উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহর অনুগ্রহে তাঁর নিকট আমি সর্বদা অত্যন্ত উচ্চ ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে ছিলাম। আল্লাহ জানেন যে, আমি এ কথা গর্ব করার জন্য বলছি না; আর কবরে নিজের অবস্থা কী হবে তা যে জানে না, তার কিসের গর্ব? বরং এটি করা হয়েছে নেয়ামতের কথা প্রকাশ করার নির্দেশ পালনার্থে। আল্লাহ আমাদের সকল দুঃখ দূর করুন। তিনি এটি বর্ণনা করার অনুমতি লাভ করেছেন শায়খুল ইসলাম আহমদ বিন খলিল আল-সুবকির নিকট থেকে। তিনি এজাজত পেয়েছেন সাইয়্যেদ ইউসুফ আল-আরমিউনি থেকে, যিনি সরাসরি লেখকের নিকট থেকে এবং বুরহান ইব্রাহিম আল-লাক্কানি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (লাক্কানি) দুই পরিচিত আরেফ—আল-বানুফারি ও ইবনুত তারজুমান থেকে, তারা আরেফ আশ-শারানি থেকে, তিনি লেখকের নিকট থেকে। আবার ফকিহ নূর আল-আজহুরি থেকেও এটি বর্ণিত, তিনি বদর আল-কারাফি ও আল-বানুফারি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান আল-আজহুরি থেকে এবং তিনি সরাসরি লেখকের নিকট থেকে। কিতাবটি পাঠের সময় তিনি (আলী আল-শাবরামাল্লিসি) এর ওপর এক সূক্ষ্ম পাদটীকা রচনা করেছেন, যা তাঁর সূক্ষ্ম গবেষণার মণি-মুক্তা ও চমৎকার উদ্ধৃতির পূর্ণিমায় সমৃদ্ধ। সাধারণভাবে যখন আমি 'আমাদের শায়খ' বলি, তখন উদ্দেশ্য তিনিই। কখনো কখনো বিজ্ঞজনদের নিকট কোনো সঠিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আমি তাঁকে 'ব্যাখ্যাকার' (শারহে) হিসেবেও ব্যক্ত করি।

(হ) এবং আমাদের এটি এজাজতক্রমে সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ মুহাম্মদ আল-আলায়ি আল-বাবিলি। তিনি বলেন: আমাদের এটি কিছু অংশ শ্রবণের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট অংশ এজাজতক্রমে শুনিয়েছেন শায়খুল ইসলাম আলী আল-জিয়াদি। তিনি কুতুবুল উজুদ আবুল হাসান আল-বাকরি থেকে, তিনি এর লেখক আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু بকর বিন আব্দুল মালিক বিন আহমদ আল-কাসতালানি আল-কুতাইবি আল-মিসরি আশ-শাফেয়ি থেকে। যেমনটি তাঁর উস্তাদ হাফিজ আল-সাখাবি 'আদ-দাও' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তিনি ৮৫১ হিজরির ১০ই জিলকদ মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিহাব আল-আব্বাদি, বুরহান আল-আজলুনি, ফখর আল-মাকদিসি, ব্যাকরণবিদ শায়খ খালিদ আল-আজহারি, সাখাবি ও অন্যান্যদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।

তিনি আশ-শাহাভির নিকট মাত্র পাঁচটি মজলিসে বুখারি পাঠ সম্পন্ন করেছেন এবং বহুবার হজ করেছেন। তিনি দুইবার মক্কায় অবস্থান (জাওয়ার) করেছেন এবং নাজমুদ্দিন বিন ফাহদসহ বহু আলেমের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আল-উমরি মসজিদসহ অন্যান্য স্থানে বিশাল জনসমুদ্রের সামনে ওয়ায করতেন এবং ওয়ায করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। তিনি ৯২৩ হিজরির ৭ই মহরম জুমার রাতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। জুমার নামাজের পর আল-আযহারে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয় এবং আল-আইনি মাদরাসায় তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো এই 'আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়্যাহ', যার প্রতিটি পঙক্তি থেকে গাম্ভীর্য ও মর্যাদার আলো বিচ্ছুরিত হয় এবং যার প্রতিটি ভাঁজ থেকে নবুওয়াত ও রিসালাতের শব্দসমূহ নিঃসৃত হয়। তিনি এতে বিন্যাস ও শৈল্পিক কারুকার্যের এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন এবং এটিকে অলঙ্করণের মাধ্যমে সুসংহত করেছেন। আল্লাহ একে কবুলিয়াতের পোশাক পরিধান করিয়েছেন, যার ফলে এটি বুদ্ধিমানদের নিকট সমজাতীয় অনেক কিতাবের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌شرح مقدمة المواهب

‌‌مدخل

…

بسم الله الرحمن الرحيم

شرح مقدمة المواهب:

--------------------------------------------

قال رحمه الله: "بسم الله الرحمن الرحيم" بدأ بها عملا بقوله صلى الله عليه وسلم: "كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم، فهو أقطع". رواه الخطيب وغيره من حديث أبي هريرة وأصله في سنن أبي داود، وابن ماجه، والنسائي في عمل يوم وليلة، وابن حبان في صحيحه، بلفظ بالحمد، وفي لفظ أبتر، وآخر أجذم بجيم وذال معجمة، تشبيه بليغ في العيب المنفر.

واقتداء بأشرف الكتب السماوية، فإن العلماء متفقون على استحباب ابتدائه بالبسلمة في غير الصلاة وإن لم يقل بأنها منه، كما قاله الخطاب، فسقط اعتراض مالكي على من قال ذلك من المالكية، والأصح أنها بهذه الألفاظ العربية، على هذا الترتيب من خصائص المصطفى وأمته المحمدية، مما في سورة النمل جاء على جهة الترجمة عما في ذلك الكتاب، فإنه لم يكن عربيًا، كما أتقنه بعض المحققين وعند الطبراني عن بريدة رفعه: "أنزل عليّ آية لم ينزل على نبي بعد سليمان غيري {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1] ".

وحديث: " {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} كل كتاب"، رواه الخطيب في الجامع معضلا فيه وجهان أحدهما: لفظ البسملة قد افتتح به كل كتاب من الكتب السماوية المنزلة على الأنبياء، والثاني: إن حقها أن تكون في مفتتح كل كتاب، استعانة وتيمنا بها وهذا أقرب، وإن زعم أن المتبادر الأول، فلا ينافي الخصوصية، ولئن سلم فهو معضل لا حجة فيه.

وفي الاسم لغات معلومة، وفي أنه عين المسمى أو غيره كلام سيجيء إن شاء الله تعالى في أول المقصد الثاني، وإضافته إلى الله من إضافة العام للخاص كخاتم حديد، واتفق على أنه أعرف المعارف، وإن كان علمًا انفرد به سبحانه فقال: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم: 65] وهو عربي، ونطق غير العرب به من توافق اللغات، مرتجل جامد عند المحققين وقيل مشتق، وعليه جمهور النحاة وهو اسم الله العظيم، كما قاله جماعة، لأنه الأصل في الأسماء الحسنى، لأن سائر الأسماء تضاف إليه، وعدم إجابة الدعاء به لكثير، لفقد شروط الدعاء التي منها أكل الحلال البحت وحفظ اللسان والفرج.

والرحمن المبالغ في الرحمة والإنعام، صفة الله تعالى؛ وعورض بوروده غير تابع لاسم قبله. قال تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5] ، {الرَّحْمَنُ، عَلَّمَ الْقُرْآنَ} [الرحمن: 1/ 2] ، وأجيب بأنه وصف يراد به الثناء، وقيل عطف بيان، ورده السهيلي، بأن اسم الجلالة الشريفة غير مفتقر، لأنه أعرف المعارف كلها؛ ولذا قالوا: "وما الرحمن"، ولم يقولوا: وما الله.

والرحيم: فعيل، حول من فاعل للمبالغة، والاسمان مشتقان من الرحمة، وقرن بينهما
‌‌শারহ মুকাদ্দিমাতিল মাওয়াহিব

‌‌ভূমিকা

...

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শারহ মুকাদ্দিমাতিল মাওয়াহিব:

--------------------------------------------

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"। তিনি এটি দিয়ে শুরু করেছেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে যে: "যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা ছিন্ন বা অসম্পূর্ণ।" খতিব এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর মূল উৎস আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, নাসাঈর 'আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ' এবং ইবনে হিব্বানের সহিহ গ্রন্থে রয়েছে। এতে 'হামদ' (প্রশংসা) শব্দে এবং অন্য শব্দে 'আবতার' (লেজকাটা) ও 'আজযাম' (কুষ্ঠরোগী বা ছিন্ন) শব্দেও বর্ণিত হয়েছে—যা মূলত একটি অত্যন্ত চমৎকার উপমা যা ত্রুটি বা বিচ্যুতিকে বুঝায়।

এবং আসমানি কিতাবসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম কিতাবের অনুসরণ করে। কেননা ওলামায়ে কেরাম সালাত ব্যতীত অন্যান্য কাজের শুরুতে 'বিসমিল্লাহ' বলা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন, যদিও কেউ কেউ একে কিতাবের অংশ মনে করেন না। যেমন আল-খাত্তাব এটি বলেছেন। সুতরাং সেই সকল মালিকি আলেমের ওপর করা আপত্তি বাতিল হয়ে গেল যারা এমনটি বলতেন। বিশুদ্ধ মতানুসারে, এই নির্দিষ্ট আরবি শব্দগুলো এই ক্রমানুসারে সাজানো মুহাম্মাদি উম্মত এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সূরা আন-নামলে যা এসেছে তা মূলত সেই কিতাবে যা ছিল তার অনুবাদ হিসেবে এসেছে, কেননা সেটি আরবিতে ছিল না। যেমনটি কিছু গবেষক সাব্যস্ত করেছেন। তাবারানিতে বুরাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার ওপর এমন একটি আয়াত নাযিল করা হয়েছে যা সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) ব্যতীত অন্য কোনো নবীর ওপর নাযিল হয়নি, আর তা হলো: {বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম} [সূরা আল-ফাতিহা: ১]।"

এবং এই হাদিসটি: "{বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম} প্রত্যেক কিতাবের শুরুতে রয়েছে।" খতিব তার আল-জামে' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন যা 'মুদাল' (সূত্রে বিচ্যুতি আছে)। এর দুটি দিক হতে পারে: এক. নবীদের ওপর নাযিলকৃত প্রতিটি আসমানি কিতাব এই 'বিসমিল্লাহ' শব্দ দ্বারা শুরু করা হয়েছিল। দুই. প্রতিটি কিতাবের শুরুতে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং বরকতের উদ্দেশ্যে এটি থাকা বাঞ্ছনীয়। এই দ্বিতীয় অর্থটিই অধিকতর সঠিক। আর যদি মনে করা হয় প্রথম অর্থটিই অগ্রগণ্য, তবে তা (উম্মতে মুহাম্মাদির) বিশেষত্বের পরিপন্থী নয়। আর যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও হাদিসটি 'মুদাল' হওয়ার কারণে এটি কোনো দলিল হওয়ার যোগ্য নয়।

'ইসম' (নাম) শব্দটির গঠনে বিভিন্ন পরিচিত ভাষাতাত্ত্বিক রূপ রয়েছে। আর 'নাম' কি 'নামি' (সত্তা)-র অনুরূপ নাকি ভিন্ন, সে আলোচনা ইনশাআল্লাহ দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুতে আসবে। 'ইসম' শব্দটিকে আল্লাহর দিকে সম্বোধন করা মূলত 'সাধারণ'কে 'বিশেষ'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা (ইযাফাতুল আম ইলাল খাস), যেমন: লোহার আংটি। সকলে এ বিষয়ে একমত যে, এটি (আল্লাহ শব্দ) সবচেয়ে সুপরিচিত সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (আরাফুল মাআরিফ), যদিও এটি এমন একটি নাম যা কেবল মহান আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। তিনি বলেছেন: {তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানো?} [সূরা মারইয়াম: ৬৫]। এটি আরবি শব্দ। অনারবিদের এটি বলা মূলত বিভিন্ন ভাষার মধ্যে মিল থাকা মাত্র। গবেষকদের মতে এটি 'মূর্তিজাল' (মৌলিক) ও 'জামিয' (অব্যুৎপন্ন) শব্দ, তবে অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মতে এটি 'মুশতাক' (ব্যুৎপন্ন)। একদল আলেমের মতে এটিই আল্লাহর মহান নাম (ইসমে আযম); কারণ এটি সুন্দর নামসমূহের মূল ভিত্তি এবং অন্য সকল নাম এর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। অনেকের দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ এই নামের বরকত নয়, বরং দোয়ার শর্তাবলি পূরণ না হওয়া, যার মধ্যে রয়েছে পবিত্র হালাল খাবার গ্রহণ এবং জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজত।

'আর-রাহমান' হলো এমন সত্তা যিনি দয়া এবং অনুগ্রহ প্রদানে আধিক্য প্রকাশ করেন, এটি মহান আল্লাহর একটি বৈশিষ্ট্য (সিফাত); এর বিপরীতে আপত্তি তোলা হয় যে, এটি কোনো পূর্ববর্তী নামের অনুগামী না হয়েও ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {রাহমান আরশের উপর উঠেছেন} [সূরা ত্বহা: ৫], {পরম করুণাময় (রাহমান), তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন} [সূরা আর-রাহমান: ১/২]। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি এমন একটি গুণ যা দ্বারা প্রশংসা উদ্দেশ্য। কেউ কেউ বলেছেন এটি 'আতফুন বায়ান' (বর্ণনামূলক সংযোগ), তবে আস-সুহাইলী এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এই যুক্তিতে যে, সম্মানিত 'ইসমুল জালালাহ' (আল্লাহ শব্দ) কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নয়, কারণ এটি সকল সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের মধ্যে সবচেয়ে সুপরিচিত। এ কারণেই তারা বলেছিল: "আর-রাহমান কী?", তারা বলেনি: "আল্লাহ কী?"

আর 'আর-রাহিম': এটি 'ফায়ীল' ছাঁচে গঠিত, যা আধিক্য বুঝানোর জন্য 'ফায়িল' (কর্তা) থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। উভয় নামই 'রাহমত' (দয়া) থেকে উৎপন্ন এবং এদের একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الحمد لله................................................................

--------------------------------------------

للمناسبة، ومعناهما واحد عند المحققين، إلا أن الرحمن مختص به تعالى، ولذا قدم على الرحيم لأنه صار كالعلم من حيث إنه لا يوصف به غيره، وقول بني حنيفة في مسيلمة: رحمان اليمامة، وقول شاعرهم: لا زلت رحمانا. عنت في الكفر أو شاذ، أو المختص بالله تعالى، أو المعرف باللام، فالرحمن خاص لفظًا لحرمة إطلاقه على غير الله، عام معنى من حيث إنه يشمل جميع الموجودات، والرحيم عام من حيث الاشتراك في التسمي به خاص معنى لرجوعه إلى اللطف والتوفيق، وقد قال صلى الله عليه وسلم: "الله رحمن الدنيا والآخرة ورحيمهما". رواه الحاكم. وقيل: اسم الله الأعظم هو الأسماء الثلاثة: الله الرحمن الرحيم.

وروى الحاكم في المستدرك وصححه عن ابن عباس، أن عثمان بن عفان سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} فقال: "هو اسم من أسماء الله تعالى، وما بينه وبين اسم الله الأكبر إلا كما بين سواد العين وبياضها من القرب". ولكون الحمد من أفرادها اقتصر عليها إمامنا في الموطأ والبخاري وأبو داود، ومن لا يحصى، وأيده الحافظ بأن أول ما نزل: {قْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} [العلق: 1] ، فطريق التأسي به الافتتاح بها والاقتصار عليها، وبأن كتبه صلى الله عليه وسلم إلى الملوك وغيرهم مفتتحة بها دون حمدلة وغيرها، لكن المصنف كالأكثر أردفها به، لأن المقتصر عليها لا يسمى حامدًا عرفًا، فقال: "الحمد لله" وللاقتداء بالكتاب العزيز ولقوله صلى الله عليه وسلم: "إن الله عز وجل يحب أن يحمد"، رواه الطبراني وغيره.

وروى الشيخان وغيرهما مرفوعًا: لا أحد أحب إليه الحمد من الله عز وجل، وقوله صلى الله عليه وسلم: "فإن الله يحب الحمد يحمد به ليثيب حامده، وجعل الحمد لنفسه ذكرًا ولعباده ذخرًا". رواه الديلمي عن الأسود بن سريع. وقوله صلى الله عليه وسلم: "كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بالحمد لله فهو أقطع". رواه أبو داود وابن ماجه وغيرهما، وصححه ابن حبان وأبو عوانة، وإن كان في سنده قرة بن عبد الرحمن تكلم فيه، لأنه لم ينفرد به، بل تابعه سعيد بن عبد العزيز، وأخرجه النسائي. وفي رواية أحمد: لا يفتتح بذكر الله فهو أبتر أو أقطع. تشبيه بليغ في العيب المنفر بحذف الأداة والأصل هو كالأبتر أو الأقطع في عدم حصول المقصود منه، أو استعارة ولا يضر الجمع فيه بين المشبه والمشبه به، لأن امتناعه إذا كان على وجه ينبئ عن التشبيه لا مطلقًا للتصريح بكونه استعارة في نحو:

قد زر ازراره على القمر

على أن المشبه في هذا التركيب محذوف، والأصل هو ناقص، كالأقطع، فحذف المشبه وهو الناقص وعبر عنه باسم المشبه به، فصار المراد من الأقطع الناقص، وعليه فلا جمع بين
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য................................................................

--------------------------------------------

প্রাসঙ্গিকতার কারণে উল্লেখ্য যে, মুহাক্কিক আলেমদের নিকট এই দুটির অর্থ অভিন্ন। তবে ‘আর-রাহমান’ শব্দটি মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট, একারণেই একে ‘আর-রাহীম’-এর পূর্বে আনা হয়েছে। কেননা এটি মহান আল্লাহর নাম সদৃশ হয়ে গিয়েছে এই দিক থেকে যে, তিনি ছাড়া অন্য কাউকে এই গুণে গুণান্বিত করা যায় না। বনু হানিফা গোত্রের লোকেরা মুসাইলামার ক্ষেত্রে ‘রাহমানুল ইয়ামামা’ বলেছিল, এবং তাদের কবি বলেছিল: ‘তুমি সর্বদা রাহমান থেকো’। এটি কুফরের চরম বহিঃপ্রকাশ অথবা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র। অথবা ‘আর-রাহমান’ শব্দটি মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট, অথবা এটি ‘আলিফ-লাম’ দ্বারা সংজ্ঞায়িত হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট। সুতরাং ‘আর-রাহমান’ শব্দটি শব্দগতভাবে নির্দিষ্ট হওয়ার কারণে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য এর ব্যবহার হারাম, কিন্তু অর্থগতভাবে এটি ব্যাপক যেহেতু এটি সমস্ত অস্তিত্বশীল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। আর ‘আর-রাহীম’ শব্দটি নাম হিসেবে ব্যবহারের দিক থেকে সাধারণ (সৃষ্টির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়) হলেও অর্থগতভাবে এটি নির্দিষ্ট, যা কেবল করুণা এবং তাওফীক প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতের রাহমান এবং উভয় জগতের রাহীম।" (হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন)। কেউ কেউ বলেছেন: আল্লাহর ইসমে আযম বা সুমহান নাম হলো এই তিনটি নাম: আল্লাহ, আর-রাহমান, আর-রাহীম।

ইমাম হাকিম মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে যে, উসমান ইবনে আফফান (রাযি.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন: "এটি মহান আল্লাহর নামসমূহের মধ্য থেকে একটি নাম। এটি এবং আল্লাহর সুমহান নামের (ইসমে আকবার) মধ্যকার দূরত্ব চোখের মণি এবং তার সাদা অংশের মধ্যকার দূরত্বের মতোই নিকটবর্তী।" যেহেতু হামদ বা প্রশংসা এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর একটি, তাই আমাদের ইমাম (ইমাম মালিক) তাঁর মুওয়াত্তা গ্রন্থে এবং বুখারী, আবু দাউদ ও অসংখ্য ইমাম কেবল এর মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার একে সমর্থন করে বলেছেন যে, সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: {পাঠ করুন আপনার রবের নামে} [আল-আলাক: ১]। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করার পদ্ধতি হলো এর মাধ্যমে শুরু করা এবং এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা। তাছাড়া সম্রাট ও অন্যদের নিকট প্রেরিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পত্রগুলো হামদ বা অন্য কিছু ছাড়াই এর মাধ্যমে শুরু হতো। তবে গ্রন্থকার অধিকাংশ আলেমের মতো এর সাথে হামদ বা প্রশংসা যুক্ত করেছেন, কারণ কেবল বিসমিল্লাহ পাঠকারীকে প্রচলিতভাবে ‘হামেদ’ বা প্রশংসাকারী বলা হয় না। তাই তিনি বলেছেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য"। এটি পবিত্র কুরআনের অনুসরণ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পছন্দ করেন যে তাঁর প্রশংসা করা হোক।" (তাবারানী ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন)।

বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্যরা মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর চেয়ে বেশি প্রশংসা আর কেউ পছন্দ করে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রশংসাকে পছন্দ করেন, তাঁর প্রশংসা করা হয় যাতে তিনি প্রশংসাকারীকে পুরস্কৃত করেন; এবং তিনি প্রশংসাকে নিজের জন্য যিকির এবং তাঁর বান্দাদের জন্য সঞ্চয় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।" (দাইলামি আসওয়াদ ইবনে সারী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (আল্লাহর প্রশংসা) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা কর্তিত।" (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন, ইবনে হিব্বান ও আবু আওয়ানাহ একে সহীহ বলেছেন)। যদিও এর সনদে কুররাহ ইবনে আবদুর রহমান রয়েছেন এবং তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা আছে, তবুও তিনি এই বর্ণনায় একাকী নন, বরং সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং ইমাম নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন। আহমদের এক বর্ণনায় এসেছে: "যা আল্লাহর যিকির দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা বা কর্তিত।" এটি একটি চমৎকার উপমা যা কোনো কিছুর দোষ বা অসম্পূর্ণতা বোঝাতে অব্যয় উহ্য রেখে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মূল অর্থ হলো, উদ্দেশ্য হাসিল না হওয়ার দিক থেকে এটি লেজকাটা বা কর্তিত জিনিসের মতো। অথবা এটি একটি রূপক ব্যবহার; আর এতে উপমেয় ও উপমানকে একত্রে উল্লেখ করা কোনো দোষের নয়। কারণ এর নিষেধাজ্ঞা তখনই প্রযোজ্য যখন তা উপমা প্রকাশের ভঙ্গিতে হয়, ঢালাওভাবে নয়; যেমন নিম্নোক্ত পঙক্তিতে রূপকের স্পষ্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে:

সে চাঁদের ওপর তার বোতামগুলো লাগাল (অর্থাৎ সুন্দর চেহারার ওপর পোশাক পরল)

তাছাড়া এই কাঠামোতে উপমেয়টি উহ্য আছে; মূল কথা হলো এটি ‘ত্রুটিযুক্ত’, যা ‘কর্তিত’ জিনিসের মতো। সুতরাং উপমেয় অর্থাৎ ‘ত্রুটিযুক্ত’ শব্দটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে উপমানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ‘কর্তিত’ শব্দের অর্থ এখানে ‘ত্রুটিযুক্ত’। আর এমতাবস্থায় এখানে উপমেয় ও উপমানের কোনো একত্রীকরণ ঘটেনি।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الذي أطلع في سماء الأزل شمس أنوار معارف النبوة المحمدية، وأشرق من أفق أسرار مظاهر الرسالة تجلي صفات.................................................

--------------------------------------------

الطرفين بل المذكور اسم المشبه به فقط.

"الذي أطلع" نعت لله، والجملة الفعلية صلة الموصول، وهو وصلته كالشيء الواحد، وهما في معنى المشتق؛ لأن الصلة هي التي حصلت بها الفائدة، وترتيب الحكم على المشتق يؤذن بعلية ما منه الاشتقاق، فكأنه قال الاطلاع إلى آخره، فيكون حمده تعالى لذاته ولصفاته فهو واجب، أي يثاب عليه ثوابه لا أنه يأثم بتركه لا لفظًا ولا نية. وقد قام البرهان عقلا ونقلا على وجوب حمده سبحانه، لأن شكر المنعم واجب به للآيات والأخبار الآمرة بالتدبر الموجبة للتفكر، وهو سبحانه وتعالى، قد أفاض نعمه على كل موجود ظاهره وباطنه وإن كان قد فاوت بينهم فيها، ولذا قيل: نعمتان ما خلا موجود عنهما: نعمة الإيجاد، ونعمة الإمداد.

"في سماء الأزل،" بالتحريك القدم؛ فهو استعارة بالكناية شبه الأزل من حيث وجوده قبل العالم بمكان يعلوه سماء، وأثبت له السماء استعارة تخييلية، والسماء المظلة للأرض. قال بن الأنباري: تذكر وتؤنث، وقال الفراء: التذكير قليل، وهو على السقف وكأنه جمع سماوة كسحاب، وسحابة وجمعت على سموات.

"شمس الأنوار:" جمع نور، أي: أضواء.

"معارف النبوة المحمدية،" ولكونها قبل العالم عبر باطلع المشعر بأنها لم تكن موجودة، ثم كانت لانتفاء القدم لغير الباري، ثم بعد وجوده وإشراقه، بمظاهر الصفات، وهي كائنة في عالم المشاهدة عبر بالإشراق الذي هو الإضاءة لهذا العالم، فقال: "وأشرق" أي: أضاء، وهو لازم؛ كما قال تعالى: {وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا} ويعد في كلام المولدين حملا على أضاء، لأنه بمعناه والشيء يحمل على نظيره وضده. وأضاء جاء متعديًا وازمًا بتضمين معناه، أو بمعنى التصيير كما قيل به في ثلاثة: تشرق الدنيا ببهجتها، واستعماله مزيدًا أكثر، وثبت ثلاثية، فقيل هما بمعنى، وقيل أشرقت: أضاءت، وشرقت، طلعت.

"من أفق" بضم فسكون وبضمتين؛ كما في القاموس وغيره، أي: ناحية.

"أسرار مظاهر الرسالة" جمع مظهر، اسم موضع الظهور، وقال في لطائف الأعلام: الأفق في اصطلاح القوم، يكنى به عن الغاية التي ينتهي إليها سلوك المقربين، وكل من حصل منهم إلى الله على مرتبة قرب إليه، فتلك المرتبة هي أفقه ومعراجه.

"تجلي الصفات" هو عند الصوفية ما يكون مبدؤه من الصفات، من حيث تعيينها وامتيازها عن الذات، كذا في التوقيف. وقال صاحب لطائف الأعلام في إشارات أهل الإلهام،
যিনি অনাদিত্বের আকাশে মুহাম্মাদী নবুওয়াতের মা’রিফাতের নূরসমূহের সূর্যকে উদিত করেছেন, এবং রিসালাতের বহিঃপ্রকাশের রহস্যের দিগন্ত থেকে গুণাবলির বিকাশকে আলোকিত করেছেন.................................................

--------------------------------------------

উভয় পক্ষ নয়, বরং শুধু যাঁর সাথে তুলনা করা হয়েছে তাঁর নামই উল্লেখ করা হয়েছে।

"যিনি উদিত করেছেন" বাক্যটি আল্লাহর একটি গুণবাচক বিশেষণ, এবং এই ক্রিয়াবাচক বাক্যটি সিলাতুল মাওসুল। এটি এবং এর সিলাহ একটি বিষয়ের মতোই এবং তারা অর্থগতভাবে একটি উদ্ভূত শব্দের ন্যায়। কারণ সিলাহ’র মাধ্যমেই অর্থ পূর্ণতা পায়। আর উদ্ভূত শব্দের ওপর কোনো বিধানের প্রয়োগ নির্দেশ করে যে, যেখান থেকে শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে তাই সেই বিধানের কারণ। যেন তিনি বললেন, ‘উদিত করা’ শেষ পর্যন্ত। সুতরাং আল্লাহর প্রশংসা তাঁর সত্তার জন্য এবং তাঁর গুণাবলির জন্য, তাই এটি আবশ্যক। অর্থাৎ এর ওপর সওয়াব দেওয়া হবে, তবে এটি ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে না, শব্দে বা নিয়তে কোনোভাবেই নয়। আর মহান আল্লাহর প্রশংসার আবশ্যকতা বুদ্ধি এবং বর্ণনা উভয় দ্বারা প্রমাণিত। কারণ নিয়ামতদাতার শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক সেই সব আয়াত ও বাণীর কারণে যা চিন্তা-গবেষণা করার নির্দেশ দেয় এবং যা চিন্তাভাবনা করাকে আবশ্যক করে। মহান আল্লাহ প্রত্যেক বিদ্যমান বস্তুর প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য দিকে তাঁর নিয়ামত বর্ষণ করেছেন, যদিও তিনি এর মাঝে তারতম্য করেছেন। আর এ কারণেই বলা হয়েছে: এমন দুটি নিয়ামত রয়েছে যা থেকে কোনো সৃষ্টিই বঞ্চিত নয়: অস্তিত্ব দানের নিয়ামত এবং লালন-পালনের নিয়ামত।

"অনাদিত্বের আকাশে," শব্দের শেষাক্ষরে হারাকাতসহ যার অর্থ অনাদিত্ব। এটি একটি ইস্তিয়ারা বিল কিনায়া, যেখানে জগত সৃষ্টির পূর্বে অনাদিত্বের অস্তিত্বকে এমন একটি স্থানের সাথে তুলনা করা হয়েছে যার উপরে আকাশ রয়েছে। আর কাল্পনিক রূপক হিসেবে তার জন্য আকাশের অস্তিত্ব সাব্যস্ত করা হয়েছে। আকাশ হচ্ছে যা জমিনকে ছায়া দান করে। ইবনুল আনবারী বলেন: এটি পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গ উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর আল-ফাররা বলেন: পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার কম। এটি ছাদ অর্থেও ব্যবহৃত হয়, আর এটি যেন ‘সামাওয়াহ’ এর বহুবচন যেমন ‘সাহাব’ ও ‘সাহাবাহ’, আর এর বহুবচন ‘সামাওয়াত’ করা হয়েছে।

"নূরসমূহের সূর্য:" নূর এর বহুবচন আনওয়ার, অর্থাৎ আলোকমালা।

"মুহাম্মাদী নবুওয়াতের মা’রিফাত," এবং যেহেতু এটি জগত সৃষ্টির পূর্বে ছিল, তাই তিনি ‘আতলা’ (উদিত করেছেন) শব্দ ব্যবহার করেছেন যা নির্দেশ করে যে এটি ইতিপূর্বে ছিল না, এরপর অস্তিত্ব লাভ করেছে; কেননা স্রষ্টা ব্যতীত অন্য কারও অনাদিত্ব অসম্ভব। এরপর এর অস্তিত্ব ও গুণাবলির বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে আলোকিত হওয়ার পর, যা দৃশ্যমান জগতে বিদ্যমান, তিনি ‘ইশরাক’ (আলোকিত হওয়া) শব্দ ব্যবহার করেছেন যা এই জগতের আলোকিত হওয়াকে বুঝায়। তিনি বলেছেন: "এবং আলোকিত করেছেন" অর্থাৎ আলো ছড়িয়েছেন। এটি একটি অকর্মক ক্রিয়া; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর পৃথিবী তার রবের নূরে আলোকিত হবে}। পরবর্তী যুগের লেখকদের ভাষায় এটিকে ‘আদাআ’ (আলোকিত করা) অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ এটি একই অর্থবোধক এবং কোনো কিছুকে তার সমার্থবোধক বা বিপরীতবোধক শব্দের ওপর প্রয়োগ করা যায়। ‘আদাআ’ শব্দটি সকর্মক এবং অকর্মক উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়; হয় অর্থের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অথবা রূপান্তরের অর্থে যেমনটি তিনটির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে: দুনিয়া তার সৌন্দর্যে আলোকিত হয়। এর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত রূপের ব্যবহার বেশি, তবে তিন অক্ষরবিশিষ্ট মূল রূপও প্রমাণিত। বলা হয়েছে উভয়টিই একই অর্থের। আবার কেউ বলেছেন: ‘আশরাকাত’ মানে আলোকিত হয়েছে, আর ‘শারাকাত’ মানে উদিত হয়েছে।

"দিগন্ত থেকে" প্রথম বর্ণে পেশ এবং দ্বিতীয় বর্ণে সাকিন অথবা উভয় বর্ণেই পেশ সহযোগে; যেমনটি আল-কামুস ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে, অর্থাৎ প্রান্ত বা দিক।

"রিসালাতের বহিঃপ্রকাশের রহস্যসমূহ" মাজহার-এর বহুবচন, যা প্রকাশের স্থানের নাম। ‘লাতাইফুল আলাম’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এই দলের পরিভাষায় দিগন্ত দ্বারা সেই চূড়ান্ত সীমাকে বুঝানো হয় যেখানে নৈকট্যপ্রাপ্তদের পথচলা শেষ হয়। তাদের মধ্যে যারা আল্লাহর নৈকট্যের যে স্তরে পৌঁছেছে, সেই স্তরটিই তার দিগন্ত এবং তার মিরাজ।

"গুণাবলির বিকাশ" এটি সুফিদের মতে তা-ই যার উৎস হচ্ছে গুণাবলি, সেই গুণাবলির নির্দিষ্ট হওয়া এবং সত্তা থেকে আলাদা হওয়ার দিক থেকে। ‘আত-তাওকিফ’ গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আর ‘লাতাইফুল আলাম ফি ইশারাত আহলিল ইলহাম’ এর লেখক বলেছেন,
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الأحمدية، أحمده على أن وضع أساس نبوته على سوابق أزليته، ورفع دعائم رسالته

--------------------------------------------

يعنون بالتجلي تجريد القوى والصفات عن نسبتها إلى الخلق بإضافتها إلى الحق، وذلك أن العبد إذا تحقق بالفقر الحقيقي، وهو انتفاء الملك بشهود العز له تعالى، صار قبلة للتجلي الصفاتي، بحيث يصير هذا القلب التقي النقي مرآة ومجلى للتجلي الوحداني الصفاتي الشامل حكمه لجميع القوى والمدارك، كما إليه الإشارة بالحديث القدسي: "فإذا أحببته كنت سمعه" الحديث، وأطال في بيان ذلك.

"الأحمدية" المنسوبة إلى أحمد صلى الله عليه وسلم وهو اسم لم يتسم به أحد قبله، قال الحافظ: والمشهور أن: "أول من سمي به بعده صلى الله عليه وسلم والد الخليل بن أحمد". لكن زعم الواقدي أنه كان لجعفر بن أبي طالب ابن اسمه أحمد. وحكى ابن فتحون في ذيل الاستيعاب أن اسم أبي حفص بن المغيرة الصحابي أحمد، ويقال في والد أبي السفر أن اسمه أحمد. قال الترمذي: أبو السفر هو سعيد بن يحمد، ويقال: ابن أحمد، انتهى.

"أحمده على أن وضع أساس" أصل "نبوته"، أي: النبي المفهوم من نبوة أو نبوة محمد صلى الله عليه وسلم المستفاد من المحمدية "على سوابق أزليته"، أي: على الأمور التي اعتبرها في الأزل سابقة على غيرها. قال محمد بن أبي بكر بن عبد القادر الرازي: "وليس هو الفخر" صاحب التفسير في كتابه -مختار الصحاح- الأزل: القدم يقال أزلي: ذكر بعض أهل العلم أن أصل هذه الكلمة قولهم للقديم لم يزل، ثم نسب إلى هذا فلم يستقم الأب باختصار، فقالوا: يزلي ثم أبدلت الباء ألفًا؛ لأنها أخف، فقالوا: أزلي، كما قالوا في الرمح المنسوب إلى ذي يزن أزني.

"ورفع دعائم رسالته" أي: المعجزات عبر عنها بذلك لمشابهتها لها في إثبات رسالته وتقويتها، كتقوية الجدار بما يدعم به، ثم هو استعارة تصريحية شبه المعجزات بالدعائم واستعار اسمها لها، أو مكنية شبه الرسالة المؤيدة، بالمعجزة ببيت مشيد الأركان مدعم بما يمنع تطرق الخلل له، وأثبت الدعائم تخييلا، ولم تزل البلغاء تستعير الدعائم، كقول ابن زيدون:

أين البناء الذي أرسوا قواعده … على دعائم من عز ومن ظفر

ويقال للسيد في قومه: هو دعامة القوم، كما يقال: هو عمادهم، قال الراغب الرسالة سفارة العبد بين الله وبين خلقه. وقيل: إزاحة علل ذوي العقول فيما تقصر عنه عقولهم من مصالح المعاش والمعاد، وجمع بعض المحققين بينهما، "فقال سفارة بين الله وبين ذوي الألباب لإزاحة عللهم فيما يحتاجونه من مصالح الدراين" وهذا حد كامل جامع بين المبدأ المقصود بالرسالة
আহমাদিয়া, আমি তাঁর প্রশংসা করছি এই জন্য যে তিনি তাঁর নবুওয়াতের ভিত্তি তাঁর অনাদিত্বের পূর্বনির্ধারিত বিষয়ের ওপর স্থাপন করেছেন এবং তাঁর রিসালাতের স্তম্ভসমূহকে সমুন্নত করেছেন।

--------------------------------------------

তারা 'তাজাল্লি' (প্রকাশ) বলতে উদ্দেশ্য করেন শক্তি ও গুণাবলিকে সৃষ্টির সাথে সম্পৃক্ততা থেকে মুক্ত করে সত্যের (আল্লাহর) সাথে সম্পৃক্ত করা। আর তা এভাবে যে, বান্দা যখন প্রকৃত মুখাপেক্ষিতা (ফকর) অর্জন করে—আর তা হলো মহান আল্লাহর প্রতাপ অবলোকনের মাধ্যমে নিজের মালিকানা বিলুপ্ত হওয়া—তখন সে গুণাবলির তাজাল্লির কেন্দ্রে পরিণত হয়, যাতে এই আল্লাহভীরু ও পবিত্র অন্তরটি একক ঐশ্বরিক গুণাবলির তাজাল্লির আয়না ও প্রকাশস্থলে রূপান্তরিত হয়, যার প্রভাব সমস্ত শক্তি ও অনুভূতির ওপর পরিব্যাপ্ত হয়। যেমনটি হাদিসে কুদসিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে: "যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমিই তার কান হয়ে যাই..." (পুরো হাদিসটি), এবং তিনি এর বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

'আহমাদিয়া' শব্দটি আহমাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সম্পর্কিত, যা এমন একটি নাম যা তাঁর পূর্বে আর কেউ গ্রহণ করেনি। হাফেজ বলেন: প্রসিদ্ধ মত হলো, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে এই নামে সর্বপ্রথম যাকে নামকরণ করা হয়েছিল তিনি হলেন খলিল বিন আহমাদের পিতা। তবে ওয়াকিদি দাবি করেছেন যে, জাফর বিন আবি তালিবের আহমাদ নামে এক পুত্র ছিল। ইবনে ফাতহুন 'যাইলুল ইস্তিআব'-এ উল্লেখ করেছেন যে, সাহাবী আবু হাফস বিন মুগিরার নাম ছিল আহমাদ। আবু সাফারের পিতার নামও আহমাদ বলা হয়ে থাকে। তিরমিযী বলেন: আবু সাফার হলেন সাঈদ বিন ইয়াহমাদ, কেউ কেউ বলেছেন ইবনে আহমাদ। সমাপ্ত।

'আমি তাঁর প্রশংসা করছি যে তিনি ভিত্তি স্থাপন করেছেন'—মূল 'নবুওয়াতের', অর্থাৎ নবুওয়াত থেকে যা বোঝা যায় এমন নবী অথবা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত যা 'মুহাম্মাদিয়া' শব্দ থেকে গৃহীত—'তাঁর অনাদিত্বের পূর্বনির্ধারিত বিষয়ের ওপর', অর্থাৎ এমন সব বিষয় যা তিনি অনাদিকাল থেকে অন্য সবকিছুর ওপর অগ্রবর্তী হিসেবে বিবেচনা করেছেন। মুহাম্মাদ বিন আবু বকর বিন আব্দুল কাদির আল-রাযী (তিনি তাফসীরকারক ফখর নন) তাঁর 'মুখতারুস সিহাহ' গ্রন্থে বলেন: 'আযাল' (অনাদিত্ব) মানে অবিনশ্বরতা। বলা হয় আযালী। কোনো কোনো আলেম উল্লেখ করেছেন যে, এই শব্দের মূল হলো প্রাচীন জিনিসের ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য 'লাম ইয়াযাল' (যা শেষ হয়নি), অতঃপর একে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কিন্তু বিষয়টি সহজবোধ্য হয়নি; তাই তারা বলেছে 'ইয়াযালী', তারপর 'ইয়া' বর্ণটিকে 'আলিফ' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে কারণ এটি সহজতর, ফলে তারা বলেছে 'আযালী', যেমন 'যু ইয়াযান'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত বর্শাকে বলা হয় 'আযানি'।

'এবং তাঁর রিসালাতের স্তম্ভসমূহকে সমুন্নত করেছেন' অর্থাৎ মুজিযাসমূহ। একে 'স্তম্ভ' হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে কারণ তাঁর রিসালাত সাব্যস্তকরণ ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এগুলো স্তম্ভের মতো কাজ করে, যেমন কোনো দেয়ালকে মজবুত করার জন্য স্তম্ভ ব্যবহার করা হয়। অতঃপর এটি একটি সরাসরি রূপক, যেখানে মুজিযাসমূহকে স্তম্ভের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং স্তম্ভের নাম মুজিযাকে দেওয়া হয়েছে। অথবা এটি উহ্য রূপক, যেখানে মুজিযা দ্বারা সমর্থিত রিসালাতকে এমন এক সুদৃঢ় প্রাসাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে যার ভিত্তি শক্তিশালী এবং যা সব ধরনের ত্রুটি থেকে মুক্ত রাখার জন্য স্তম্ভ দ্বারা ঠেক দেওয়া হয়েছে। আর স্তম্ভের উল্লেখ কাল্পনিকভাবে আনা হয়েছে। আলঙ্কারিকগণ সর্বদা স্তম্ভ শব্দটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন, যেমন ইবনে যাইদুন বলেছেন:

সেই দালানটি কোথায় যার ভিত্তি তারা স্থাপন করেছিল … সম্মান ও বিজয়ের স্তম্ভের ওপর

গোত্রের প্রধান ব্যক্তিকে সেই জাতির স্তম্ভ বলা হয়, যেমন বলা হয় তারা তাদের আশ্রয়স্থল। রাগেব বলেন: রিসালাত হলো আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির মধ্যে বান্দার দূতিয়ালী। কেউ কেউ বলেন: সৃষ্টির পার্থিব ও পরকালীন কল্যাণের ক্ষেত্রে যা অনুধাবনে জ্ঞানীরা অক্ষম, সে সব বিষয়ে যুক্তিসঙ্গত কারণসমূহ স্পষ্ট করা। কতিপয় গবেষক এই দুই মতের সমন্বয় করে বলেছেন: "এটি আল্লাহ এবং জ্ঞানী ব্যক্তিদের মাঝে একটি দূতিয়ালী, যাতে তাদের প্রয়োজনীয় উভয় জগতের কল্যাণ লাভের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা বা কারণসমূহ নিরসন করা যায়।" এটি রিসালাতের উদ্দেশ্য ও উৎসের মধ্যে সমন্বয়কারী একটি পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
على لواحق أبديته.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، الفرد المنفرد في فردانيته بالعظمة والجلال.................

--------------------------------------------

وهي الخصوصية، وبين منتهاها وهو إزاحة عللهم، انتهى.

"على لواحق أبديته"، أي: دهوره التي لا انقضاء لها؛ فالأبد الدهر الذي لا نهاية له أو الدهر، وعبر هنا بلواحق، لأنه محل المعجزات وهي إنما تكون بعد وجوده في ذا العالم، فناسب أن تكون على الأمور اللاحقة الخارقة للعادة. وفيما قيل بسوابق؛ لأنه مظهر لأساس النبوة وهو معتبر قبل وجود العالم.

"وأشهد" أقر وأعلم وأبين، والشهادة الإخبار عن أمر متيقن قطعًا، "أن لا إله إلا الله" لا معبود بحق، إلا الله، أتى به لخبر أبي داود والترمذي والبيهقي، وصححه مرفوعًا، كل خطبة ليس فيها تشهد فهي كاليد الجذماء، أي: القليلة البركة، وأن المخففة من الثقيلة لا الناصبة للفعل إذ لا فعل هنا، ولأن أشهد من أفعال اليقين فيجب أن يكون بعدها أن المؤكدة لتناسب اليقين.

"وحده:" نصب على الحال بمعنى متوخذًا، وهو توكيد لتوحيد الذات. "لا شريك" لا مشارك "له" تأكيدًا لتوحيد الأفعال ردًا على نحو المعتزلة. وقد روى مالك وغيره مرفوعًا: "أفضل ما قلته أنا والنبيون من قبلي لا إله إلا الله وحده لا شريك له".

"الفرد:" قال الراغب: الفرد الذي لا يختلط بغيره، وهو أعم من الوتر وأخص من الواحد، وجمعه فرادى. قال تعالى: {لا تَذَرْنِي فَرْدًا} [الأنبياء: 89] أي: وحيدًا. ويقال في الله فرد تنبيها على أنه مخالف للأشياء كلها في الازدواج، المنبه عليها بقوله تعالى: {وَمِنْ كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ} [الذاريات: 49] ، معناه أنه المستغني عما عداه، فهو كقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ} [العنكبت: 6] ، فإذا قيل هو فرد فمعناه منفرد بوحدانيته، مستغن عن كل تركيب مخالف للموجودات كلها.

"المنفرد" من باب الانفعال للمطاوعة، والمراد بدون صنع بل بذاته، وإطلاقه على الله، إما لثبوته كما يشعر به كلامهم، أو للاكتفاء بورود ما يشاركه في مادته ومعناه، أو بناء على جواز إطلاق ما لا يوهم نقصًا مطلقًا، أو على سبيل التوصيف دون التسمية كما ذهب إليه الغزالي.

"في فرادنيته بالعظمة والجلال" مرادف، فجلال الله: عظمته، والعظمة هي جلاله وكبرياؤه. لكن قال الرازي: الجليل الكامل في الصفات، والكبير الكامل في الذات، والعظيم الكامل فيهما. فالجليل يفيد كمال الصفات السلبية والثبوتية. وقد ذهب الأصمعي إلى أن
তাঁর অনাদিত্বের অনুবর্তী কালসমূহের উপর।

এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি সেই একক সত্তা, যিনি মহিমা ও গাম্ভীর্যের মাধ্যমে স্বীয় একত্বে অনন্য...

--------------------------------------------

এটি হলো বৈশিষ্ট্য, আর এর সমাপ্তি হলো তাদের ত্রুটিসমূহ দূর করা, সমাপ্ত।

"তাঁর অনাদিত্বের অনুবর্তী কালসমূহের উপর", অর্থাৎ: তাঁর সেই কালসমূহ যার কোনো সমাপ্তি নেই; কারণ অনাদিত্ব (আবাদ) হলো এমন কাল যার কোনো শেষ নেই অথবা এটি মহাকাল। এখানে 'লাওয়াহিক' (অনুবর্তী কালসমূহ) শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন কারণ এটি মুজিযাসমূহের ক্ষেত্র, আর মুজিযা এই জগতে তাঁর অস্তিত্ব প্রকাশের পরেই ঘটে থাকে। তাই অলৌকিক অনুবর্তী বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করাই অধিক উপযোগী। অন্য বর্ণনায় 'সাওয়াবিক' (পূর্ববর্তী বিষয়সমূহ) শব্দটিও এসেছে; কারণ তা নবুওয়াতের ভিত্তির বহিঃপ্রকাশ এবং তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই বিবেচনাযোগ্য।

"আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি" অর্থাৎ আমি স্বীকার করছি, জানছি এবং বর্ণনা করছি। সাক্ষ্য প্রদান হলো কোনো সুনিশ্চিত বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা। "যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই। এটি আবু দাউদ, তিরমিযি ও বায়হাকির বর্ণিত একটি হাদিসের কারণে আনা হয়েছে, যা মারফু হিসেবে বিশুদ্ধ প্রমাণিত: "যে খুতবায় সাক্ষ্য প্রদান (তাশাহহুদ) নেই, তা ছিন্ন হাতের মতো," অর্থাৎ বরকতহীন। আর এখানে 'আন' হলো সাকিলাহ থেকে মুখাফফাফাহ (সংক্ষিপ্ত রূপ), এটি ক্রিয়াপদকে নসবকারী অব্যয় নয়, কারণ এখানে কোনো ক্রিয়াপদ নেই। তাছাড়া 'আশহাদু' যেহেতু নিশ্চিত অর্থবোধক ক্রিয়া, তাই এর পরে নিশ্চয়তাসূচক 'আন' থাকা আবশ্যক যেন তা নিশ্চিত সংবাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

"ওয়াহদাহু" (তিনি একক): এটি অবস্থা (হাল) হিসেবে নসব হয়েছে যার অর্থ হলো 'একক অবস্থায় থাকা', যা আল্লাহর সত্তার তাওহীদের একটি তাকিদ বা নিশ্চয়তা প্রদান। "তাঁর কোনো শরিক নেই" অর্থাৎ তাঁর কার্যে কোনো অংশীদার নেই, যা মুতাজিলাদের মতবাদের খণ্ডনস্বরূপ কার্যাবলির তাওহীদের নিশ্চয়তা দেয়। ইমাম মালিক ও অন্যান্যরা মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছি তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই।"

"একক সত্তা" (আল-ফারদ): রাগিব বলেছেন: ফারদ হলো সেই সত্তা যা অন্যের সাথে মিশ্রিত হয় না। এটি 'বিতর' থেকে অধিক ব্যাপক এবং 'ওয়াহিদ' (এক) থেকে অধিক বিশিষ্ট, আর এর বহুবচন হলো 'ফুরাদা'। মহান আল্লাহ বলেন: {আমাকে একা ছেড়ে দিয়েন না} [আম্বিয়া: ৮৯] অর্থাৎ নিঃসঙ্গ অবস্থায়। আল্লাহর ক্ষেত্রে 'ফারদ' বলা হয় এটি সতর্ক করার জন্য যে, তিনি জোড়ায় জোড়ায় থাকা সমস্ত বস্তু থেকে ভিন্ন। জোড়ায় সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহ বলেন: {আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি} [যারিয়াত: ৪৯]। এর অর্থ হলো তিনি অন্য সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী। এটি আল্লাহর এই বাণীর মতো: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত থেকে অমুখাপেক্ষী} [আনকাবুত: ৬]। অতএব যখন তাঁকে 'ফারদ' বলা হয়, তখন এর অর্থ হয় তিনি স্বীয় একত্বে অনন্য, সকল প্রকার যৌগিকতা থেকে মুক্ত এবং সমস্ত বিদ্যমান বস্তু থেকে ভিন্ন।

"অনন্য" (আল-মুনফারিদ) শব্দটি বাবে ইনফেয়াল থেকে এসেছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কারো সৃষ্টি ছাড়াই বরং তিনি নিজ সত্ত্বাগতভাবেই এমন। আল্লাহর ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগ হয়তো এর সাব্যস্ত হওয়ার কারণে যেমনটি আলেমদের বক্তব্যে ফুটে ওঠে, অথবা এর মূল ধাতু ও অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ ব্যবহারের কারণে, অথবা ত্রুটির সম্ভাবনা নেই এমন শব্দ অবাধে ব্যবহারের বৈধতার ভিত্তিতে, অথবা নাম হিসেবে নয় বরং গুণ হিসেবে বর্ণনার উদ্দেশ্যে, যেমনটি ইমাম গাজালি অভিমত দিয়েছেন।

"মহিমা ও গাম্ভীর্যের মাধ্যমে স্বীয় একত্বে (অনন্য)" এ দুটি শব্দ সমার্থক। আল্লাহর গাম্ভীর্য (জালাল) হলো তাঁর মহিমা (আযামাত), আর মহিমা হলো তাঁর গাম্ভীর্য ও বড়ত্ব। তবে রাজি বলেছেন: 'জলীল' হলো গুণাবলিতে পূর্ণ সত্তা, 'কাবীর' হলো স্বীয় সত্তায় পূর্ণ, আর 'আযীম' হলো যা এই উভয় ক্ষেত্রেই পূর্ণ। সুতরাং 'জলীল' শব্দটি নেতিবাচক ও ইতিবাচক গুণাবলির পূর্ণতা প্রকাশ করে। আসমায়ী এই মত পোষণ করেছেন যে...
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الواحد المتوحد في وحدانيته باستحقاق الكمال، وأشهد أن سيدنا وحبيبنا محمدًا عبده ورسوله...................................

--------------------------------------------

الجلال لا يوصف به غير الله لغة. وأكثر اللغوين على خلافه، وأنه يوصف به غيره، كقوله:

ألمم على أرض تقادم عهدها … بالجذع واستلب الزمان جلالها

وكقول هدبة:

فلا ذا جلال هبنه لجلاله … ولا ذا ضياع هن يتركن للعقد

"الواحد" في ذاته وصفاته وأفعاله، من الأسماء الحسنى؛ كما في رواية الترمذي، وفي رواية ابن ماجه: الأحد. قال الأزهري: الفرق بينهما أن الأحد بني لنفي ما يذكر معه من العدد، تقول: ما جاءني أحد، والواحد اسم بني لمفتتح العدد، ما جاءني واحد من الناس، ولا تقول: جاءني أحد، فالواحد منفرد بالذات في عدم المثل والنظير والأحد منفرد بالمعنى. وقال غيره: الأحد الذي ليس بمنقسم ولا متحيز، فهو اسم لمعنى الذات فيه سلب الكثرة عن ذاته، والواحد وصف لذاته فيه سلب النظير والشريك عنه، فافترقا. وقال السهيلي: أحد أبلغ وأعم، ألا ترى أن ما في الدار أحد، أعم وأبلغ من ما فيها واحد، وقال بعضهم: قد يقال: إنه الواحد في ذاته وصفاته وأفعاله، والأحد في وحدانيته إذ لا يقبل التغيير ولا التشبيه بحال.

"المتوحد" فيه ما مر في المنفرد ولو أبدله بالأحد لكان فيه تلميح بالروايتين. "في وحدانيته باستحقاق الكمال" إذ الكمال الخالص المطلق ليس إلا له فلا يتغير سبحانه وتعالى.

ولما كان الواسطة في وصول الفيض من الله إلينا هو النبي صلى الله عليه وسلم وتطابق العقل والنقل على وجوب شكر المنعم عقب الشهادة لله، بالشهادة لرسوله، فقال: "وأشهد أن سيدنا وحبيبنا" طبعًا وشرعًا لحب الله "محمدًا عبده ورسوله" صلى الله عليه وسلم ولدخوله في قوله: "كل خطبة … "، الحديث. قال تعالى: {وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ} [الشرح: 4] أي: لا أذكر إلا وتذكر معي، كما ورد مفسرًا عن جبريل عن الله تعالى.

والمصطفى هو الذي علمنا شكر المنعم، وكان السبب في كمال هذا النوع إذ لا بد من القابل والمفيد، وأجسامنا في غاية الكدورة وصفات الباري في غاية العلو والصفاء والضياء.

فاقتضت الحكمة الإلهية توسط ذي جهتين تكون له صفات عالية جدًا وهو من جنس البشر ليقبل عن الله بصفاته الكمالية، وتقبل عنه بصفاته البشرية، فلذا استوجب قرن شكره بشكره؛ و"محمدًا" عطف بيان لا صفة لتصريحهم بأن العلم ينعت ولا ينعت به، ولا بدل؛ لأن البدلية وإن جوزت في {ذِكْرُ رَحْمَتِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا} ، لكن القصد الأصلي، هنا إيضاح الصفة السابقة وتقرير النسبة تبع، والبدلية تستدعي العكس، وقدم العبودية المضافة لله، لكونها أشرف أوصافه
যিনি এক, স্বীয় একত্বে অনন্য এবং পূর্ণতার যোগ্যতার অধিকারী; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের নেতা ও প্রিয় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল...................................

--------------------------------------------

ভাষাগতভাবে 'জালাল' (মহিমা) গুণটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য ব্যবহৃত হয় না। তবে অধিকাংশ ভাষাবিদ এর বিপরীত মত পোষণ করেন এবং বলেন যে, এটি অন্য কারো ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন কবি বলেছেন:

সেই ভূমিতে অবতরণ করো যার প্রাচীনকাল গত হয়েছে … গাছের কাণ্ডের পাশে, আর কাল তার মহিমাকে ছিনিয়ে নিয়েছে

এবং হুদবার উক্তি:

তারা কোনো মহান ব্যক্তিকে তার মহত্বের কারণে ভয় পায় না … আর না কোনো অসহায়কে তারা চুক্তির জন্য ছেড়ে দেয়

'আল-ওয়াহিদ' (এক) তাঁর সত্তা, গুণাবলী ও কার্যাবলিতে; এটি আসমাউল হুসনার অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে। আর ইবনে মাজাহর বর্ণনায় এসেছে: 'আল-আহাদ'। আল-আযহারী বলেন: এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো, 'আহাদ' শব্দটি তার সাথে উল্লিখিত সংখ্যার নেতিবাচকতা বুঝাতে গঠিত হয়েছে, আপনি বলেন: 'আমার কাছে কেউ (আহাদ) আসেনি'। আর 'ওয়াহিদ' শব্দটি সংখ্যার প্রারম্ভ বুঝাতে গঠিত হয়েছে, যেমন 'মানুষের মধ্য থেকে একজন (ওয়াহিদ) আমার কাছে এসেছে'। আপনি 'আমার কাছে কেউ এসেছে' (ইতিবাচক অর্থে) 'আহাদ' বলেন না। সুতরাং 'ওয়াহিদ' সত্তাগতভাবে একক যার কোনো সদৃশ বা সমকক্ষ নেই, আর 'আহাদ' অর্থগতভাবে একক। অন্যরা বলেন: 'আহাদ' তিনি যিনি অবিভাজ্য এবং স্থান গ্রহণকারী নন, এটি এমন একটি সত্তাগত নাম যা সত্তা থেকে বহুত্বকে অস্বীকার করে। আর 'ওয়াহিদ' তাঁর সত্তার একটি গুণ যা তাঁর থেকে সদৃশ ও অংশীদারকে অস্বীকার করে। ফলে এই দুটির মধ্যে পার্থক্য তৈরি হলো। আস-সুহায়লী বলেন: 'আহাদ' শব্দটি অধিক অর্থবোধক ও ব্যাপক। আপনি কি দেখেন না যে, 'ঘরে কেউ (আহাদ) নেই' কথাটি 'ঘরে একজন (ওয়াহিদ) নেই' কথাটির চেয়ে অধিক ব্যাপক ও অর্থবোধক? কেউ কেউ বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, তিনি তাঁর সত্তা, গুণাবলী ও কার্যাবলিতে 'ওয়াহিদ'; আর তাঁর একত্বে তিনি 'আহাদ', যেহেতু তিনি কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তন বা সাদৃশ্য গ্রহণ করেন না।

'আল-মুতাওয়াহহিদ' (অনন্য) শব্দের ব্যাখ্যায় তাই প্রযোজ্য যা 'আল-মুনফারিদ' (একক) সম্পর্কে অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি যদি এর পরিবর্তে 'আল-আহাদ' ব্যবহার করতেন, তবে উভয় বর্ণনার প্রতি ইঙ্গিত থাকত। 'স্বীয় একত্বে পূর্ণতার অধিকারী' হওয়ার অর্থ হলো, খাঁটি ও নিরঙ্কুশ পূর্ণতা কেবল তাঁরই জন্য, সুতরাং মহান আল্লাহ অপরিবর্তনীয়।

যেহেতু আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট অনুগ্রহ পৌঁছানোর মাধ্যম হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), এবং দাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে যুক্তি ও বর্ণনা একমত, তাই আল্লাহর সাক্ষ্য প্রদানের পর তিনি তাঁর রাসূলের সাক্ষ্য প্রদান করে বললেন: "এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের নেতা ও প্রিয়" - স্বাভাবিকভাবে এবং শরীয়ত অনুযায়ী আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণে - "মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল" (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এটি "প্রত্যেক খুতবা … " শীর্ষক হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি} [আশ-শারহ: ৪] অর্থাৎ: আমাকে যখনই স্মরণ করা হবে, তখনই আমার সাথে আপনাকে স্মরণ করা হবে, যেমনটি জিবরাঈলের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা থেকে ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে।

আর মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন তিনি, যিনি আমাদের অনুগ্রহকারীর কৃতজ্ঞতা শিখিয়েছেন, এবং তিনি এই মানবজাতির পূর্ণতার কারণ ছিলেন। কারণ দাতা ও গ্রহণকারীর উপস্থিতি আবশ্যক, অথচ আমাদের দেহ অত্যন্ত কলুষিত এবং স্রষ্টার গুণাবলী অত্যন্ত উচ্চতর, পবিত্র ও জ্যোতির্ময়।

তাই খোদায়ী হিকমত বা প্রজ্ঞা এমন এক মাধ্যম দাবি করেছে যার দুটি দিক রয়েছে; তাঁর অত্যন্ত উচ্চতর গুণাবলী থাকবে অথচ তিনি মানবজাতির অন্তর্ভুক্ত হবেন, যাতে তিনি তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে গ্রহণ করতে পারেন এবং তাঁর মানবীয় গুণাবলীর মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। একারণেই আল্লাহর কৃতজ্ঞতার সাথে তাঁর কৃতজ্ঞতাকে যুক্ত করা আবশ্যক হয়েছে। আর 'মুহাম্মাদ' শব্দটি এখানে 'আতফে বায়ান' হয়েছে, 'সিফাত' বা বিশেষণ নয়, কারণ ভাষাবিদদের মতে নামবাচক বিশেষ্য (আলাম) দ্বারা গুণ বর্ণনা করা যায়, কিন্তু তা নিজে গুণ হয় না। এটি 'বাদাল' বা স্থলাভিষিক্তও নয়; যদিও {আপনার রবের অনুগ্রহের বর্ণনা তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি} আয়াতে বদল হওয়া বৈধ করা হয়েছে, কিন্তু এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্ববর্তী গুণের ব্যাখ্যা করা এবং সম্পর্কের স্বীকৃতি দেওয়া তার অনুগামী মাত্র। আর 'বাদাল' এর বিপরীতটি দাবি করে। তিনি আল্লাহর সাথে সম্বন্ধযুক্ত 'দাসত্ব' বা 'আবদিয়্যাহ' শব্দটিকে আগে এনেছেন, কারণ এটি তাঁর শ্রেষ্ঠতম গুণ।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أشرف نوع الإنسان، وإنسان عيون الأعيان، المستخلص من خالص خلاصة ولد عدنان، الممنوح ببدائع الآيات، والمخصوص بعموم الرسالة وغرائب المعجزات، السر الجامع الفرقاني، والمخصص بمواهب القرب من النوع الإنساني، مورد الحقائق الأزلية ومصدرها، وجامع جوامع مفرداتها ومنبرها، وخطيبها إذا حضر في حظائر......................

--------------------------------------------

وله بها كمال اختصاص، ولأن العبد يتكفله مولاه بإصلاح شأنه، والرسول يتكفل لمولاه بإصلاح شأن الأمة، وكم بينهما، وإيماء إلى أن النبوة وهبية، ولأن العبودية في الرسول لكونها انصرافًا من الخلق إلى الحق أجل من رسالته؛ لكونها بالعكس.

"أشرف" أفراد "نوع الإنسان" ذاتا وصفات والإضافة بيانية؛ "وإنسان" أي حدقة "عيون الأعيان المستخلص" المنتخب "من خالص خلاصة" قال في المصباح خلاصة الشيء بالضم ما صفا منه، مأخوذ من خلاصته السمن، وهو ما يلقى فيه تمر أو سويق ليخلص به من بقايا اللبن، انتهى.

"ولد" بفتحتين وبضم فسكون يكون واحدا وجمعا "عدنان" أحد أجداده "الممنوح" المخصوص، وأصل المنحة العطية، ويتعدى بنفسه وضمنه هنا بمعنى المخصوص فعداه بالباء في قوله: "ببدائع الآيات" جمع آية، ولها معان منها العلامة الدالة على نبوته صلى الله عليه وسلم، "المخصوص بعموم الرسالة" للعالمين، ومنهم الملائكة على ما رجحه جمع محققون، وردوا على من حكى الإجماع على انفكاكهم عن شرعه، بل زاد بعضهم والجمادات كما سيأتي إن شاء الله تعالى تفصيله في محله.

"وغرائب المعجزات" من إضافة الصفة للموصوف، والآية والمعجزة مشتركان في الدلالة على صدقه، لكن الآية أعم؛ لأنه لا يشترط فيها مقارنة النبوة، والتحدي، فكل معجزة آية ولا عكس. فشق صدره وتسليم الحجر عليه قبل البعثة ونحوه آية لا معجزة؛ "السر الجامع" بين ما تفرقه في غيره وبين الحكم بالظاهر والباطن والشريعة والحقيقة، ولم يكن للأنبياء إلا أحدهما دليل قصة موسى مع الخضر. وقد نص عليه البدر ابن الصاحب في تذكرته وأيد بحديث السارق والمصلي الذي أمر بقتلهما.

"الفرقاني" نسبة إلى الفرقان لفرقه بين الحق والباطل، "والمخصص بمواهب القرب" من ربه تبارك وتعالى قرب مكانه، زيادة من سواه "من النوع الإنساني" فإن المقربين منه لهم قرب دون قربه عليه السلام، "مورد الحقائق الأزلية" جمع حقيقة، وهي عند أرباب السلوك العلوم، المدركة بتصفية الباطن "ومصدرها"، يعني: أن ذاته محل لورود الحقائق عليها من الحق، ومحل لصدورها عنها على الخلق، "وجامع جوامع مفرداتها ومنبرها وخطيبها إذا حضر في حظائر
মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সত্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের চক্ষুর মণি, আদনানের বংশধরদের বিশুদ্ধ নির্যাস থেকে চয়নকৃত, অভিনব নিদর্শনাবলীতে ভূষিত, বিশ্বজনীন রিসালাত ও বিস্ময়কর মুজিজা দ্বারা বিশেষায়িত, সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী মহসমন্বয়কারী রহস্য, মানবজাতির মধ্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের দানে ধন্য, অনাদি সত্যসমূহের অবতরণস্থল ও উৎস, সত্যের সকল উপাদানের আধার ও মিম্বর, এবং যখন তিনি পবিত্র প্রাঙ্গণসমূহে উপস্থিত হন তখন তার প্রধান প্রবক্তা...

--------------------------------------------

এর মাধ্যমে তাঁর প্রতি আল্লাহর পূর্ণ বিশেষত্ব প্রকাশ পায়। কারণ, বান্দার সমস্ত বিষয় সংশোধনের দায়িত্ব তার মনিব গ্রহণ করেন, আর রাসূল তাঁর মনিবের জন্য উম্মতের অবস্থা সংশোধনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন—উভয়ের মধ্যে কত বিশাল ব্যবধান! এটি একটি ইঙ্গিত যে নবুয়ত হলো মহান আল্লাহর বিশেষ দান। আর রাসূলের ক্ষেত্রে ‘উবুদিয়্যাত’ (দাসত্ব) তাঁর রিসালাতের চেয়েও মহান; কারণ দাসত্ব হলো সৃষ্টি থেকে স্রষ্টার দিকে মনোনিবেশ করা, পক্ষান্তরে রিসালাত হলো এর বিপরীত।

'সর্বশ্রেষ্ঠ'—সত্তা ও গুণাবলীতে মানবজাতির সকল ব্যক্তির মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এখানে সম্বন্ধটি ব্যাখ্যামূলক। 'ইনসান' অর্থাৎ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের চক্ষুর মণি। 'নির্বাচিত'—যা বিশুদ্ধ নির্যাস থেকে বাছাইকৃত। আল-মিসবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: কোনো বস্তুর 'খুলাসাহ' (পেশ সহযোগে) হলো তার স্বচ্ছ অংশ; এটি ঘৃতের নির্যাস থেকে গৃহীত, যা দুধের অবশিষ্টাংশ থেকে আলাদা করার জন্য খেজুর বা ছাতু মিশিয়ে বের করা হয়, সমাপ্ত।

'ওয়ালাদ' (দুই জবর যোগে) অথবা 'উলদ' (পেশ ও সুকুন যোগে)—এটি একবচন ও বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। 'আদনান' তাঁর অন্যতম পূর্বপুরুষ। 'ভূষিত'—অর্থাৎ বিশেষায়িত। 'মিনহাহ' শব্দের মূল অর্থ দান। এটি সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে, তবে এখানে 'বিশেষায়িত' অর্থে ব্যবহৃত হওয়ায় 'বা' অব্যয় যোগে যুক্ত হয়েছে। যেমন তাঁর উক্তি: 'অভিনব নিদর্শনাবলী'—এটি 'আয়াহ' শব্দের বহুবচন। এর বিভিন্ন অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো এমন চিহ্ন যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুয়তের প্রমাণ বহন করে। 'বিশ্বজনীন রিসালাত দ্বারা বিশেষায়িত'—সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য, যার মধ্যে ফেরেশতাগণও অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি একদল গবেষক আলেম প্রাধান্য দিয়েছেন। তারা তাদের প্রতিবাদ করেছেন যারা ফেরেশতাগণ তাঁর শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত নয়—এ বিষয়ে ঐকমত্যের দাবি করেছেন। বরং কোনো কোনো আলেম জড়বস্তুসমূহকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

'বিস্ময়কর মুজিজাসমূহ'—এখানে গুণবাচক শব্দকে বিশেষ্যের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। 'আয়াহ' এবং 'মুজিজা' উভয়ই তাঁর সত্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে অভিন্ন, তবে 'আয়াহ' শব্দটি অধিক ব্যাপক। কারণ এতে নবুয়তের সমসাময়িক হওয়া বা চ্যালেঞ্জ থাকা শর্ত নয়। ফলে প্রত্যেক মুজিজাই আয়াহ, কিন্তু প্রত্যেক আয়াহ মুজিজা নয়। যেমন নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ হওয়া এবং পাথর কর্তৃক তাঁকে সালাম প্রদান করা—এগুলো আয়াহ, মুজিজা নয়। 'সমন্বয়কারী রহস্য'—যা অন্যদের মাঝে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল তার সমন্বয় এবং জাহির, বাতিন, শরীয়ত ও হকীকতের বিধানের সমন্বয়। পূর্ববর্তী নবীদের ক্ষেত্রে কেবল একটি দিক বিদ্যমান ছিল, যার প্রমাণ হলো মূসা ও খিজিরের কাহিনী। বদর ইবনুল সাহেব তাঁর 'তাযকিরা' গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং চোর ও সেই মুসল্লি যাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—তাদের হাদীস দ্বারা এটি সমর্থন করেছেন।

'আল-ফুরকানি'—'ফুরকান' শব্দের সাথে সম্পর্কিত, কারণ তিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী। 'নৈকট্য লাভের দানে বিশেষায়িত'—অর্থাৎ তাঁর বরকতময় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সুউচ্চ মর্যাদা ও নৈকট্য, যা অন্য কোনো মানুষের চেয়ে বেশি। কারণ আল্লাহর অন্যান্য নৈকট্যপ্রাপ্তদের মর্যাদা তাঁর (আলাইহিস সালাম) মর্যাদার নিচে। 'অনাদি সত্যসমূহের অবতরণস্থল'—হাকীকত শব্দের বহুবচন। আধ্যাত্মিক সাধকদের মতে এটি এমন জ্ঞান যা অন্তর পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে অর্জিত হয়। 'এবং তার উৎস'—অর্থাৎ তাঁর সত্তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সত্যসমূহের অবতরণস্থল এবং সৃষ্টির নিকট তা বিকিরণের উৎস। 'সত্যের সকল উপাদানের আধার, তার মিম্বর এবং তার প্রবক্তা যখন তিনি পবিত্র প্রাঙ্গণসমূহে উপস্থিত হন।'
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
قدسها ومحضرها، بيت الله المعمور الذي اتخذه لنفسه، وجعله ناظمًا لحقائق أنسه، مدة مداد نقطة الأكوان، ومنبع ينابيع الحكم والعرفان، الممد من بحر مدد الوفاء على القائل من أهل المعارف والاصطفاء حيث خاطب.....................

--------------------------------------------

قدسها"، بضمتين وتسكن داله، أي: مواضع جمع حظيرة وهي في الأصل ما حظرته على الغنم وغيرها من الشجر للحفظ، والقدس، أصل معناه الطهر سمي به جبل المقدس لطهارته بالعبادة فيه، وقدس الله وحظيرة قدسه الجنة. قال التبريزي في شرح ديوان الحماسة: واسم الجبل يقال أنه غير منصرف، وأنشدوا الكثير كالمصرخي غدًا فأصبح واقفًا في قدس بين مجاثم الأوعال. "ومحضرها،" أي: محل حضورها.

"بيت الله المعمور" بما أورده عليه فوعاه مما لا يطيقه غيره، ولم ينزله على أحد قبله وسماه بيتا على التشبيه، وما يروى: القلب بيت الرب. لا أصل له كما في المقاصد، "الذي اتخذه لنفسه" مجاز عن إدخال علومه فيه، وأطلق النفس على الله؛ كقوله: {كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ} ، وقوله: "أنت كما أثنيت على نفسك"، وقيل: إنما يراد للمشاكلة، كقوله تعالى: {تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ} [المائدة: 116] ، "وجعله ناظمًا" أي: جامعًا "لحقائق أنسه"، جمع حقيقة وهي ما أقر في الاستعمال واشتقاقه على أصل وضعه في اللغة، قاله ابن جني وابن فارس، وزاد من قولنا حق الشيء إذا وجب، واشتقاقه من الشيء المحقق وهو المحكم، وقال المرزوقي: هي في كلام العرب الأور التي يحق حمايتها، والأنفة من تركها عن الرؤساء، وقال الخليل: هي ما يصير إليه حق الأمر ووجوبه. كما قيل:

ألم ترى أني قد حميت حقيقتي … وباشرت حد الموت والموت دونها

"مدة" بالنصب والرفع، أي: أصل؛ "مداد نقطة الأكوان؛" أي: مركزه الذي يدور عليه.

ومنبع؛" بفتح الميم والباء مخرج "ينابيع" جمع ينبوع؛ وهي في الأصل العين التي يخرج منها الماء فشبه بها. "الحكم؛" جمع حكمة، وهي تحقيق العلم وإتقان العمل، كما في الأنوار. وقال النووي: فيها أقوال كثيرة صفا لنا منها إنها العلم المشتمل على المعرفة بالله، مع نفاذ البصيرة وتهذيب النفس وتحقيق الحق للعمل به والكف عن ضده. والحكيم من جاز ذلك، انتهى ملخصًا، قال الحافظ، وقد تطلق الحكمة على القرءان، وهو مشتمل على ذلك كله وعلى النبوة كذلك، وقد تطلق على العلم فقط وعلى المعرفة فقط، انتهى.

"والعرفان" أي: العلم مصدر عرف "الممد" اسم فاعل، "من بحر مدد الوفاء على القائل من أهل المعارف والاصطفاء" الاختيار، وعلل كونه من أهلهما بقوله "حيث خاطب" القائل
তার পবিত্রতা ও উপস্থিতিস্থল; আল্লাহর আবাদকৃত ঘর, যা তিনি নিজের জন্য গ্রহণ করেছেন এবং একে তাঁর সান্নিধ্যের হাকিকতসমূহের বিন্যাসকারী বানিয়েছেন। এটি মহাবিশ্বের বিন্দুর কালির প্রসারণ এবং প্রজ্ঞা ও মারেফাতের ঝর্ণাধারাসমূহের উৎস। যা আনুগত্যের সাহায্যের সমুদ্র থেকে মারেফাত ও নির্বাচনের অধিকারীদের মধ্য হতে ঐ বক্তার ওপর প্রসারিত হয়, যখন তিনি সম্বোধন করেন...

--------------------------------------------

"তার পবিত্রতা" শব্দটি দুই পেশ বিশিষ্ট, তবে এর দাল বর্ণটিকে সাকিনও করা যায়। এর অর্থ হলো বেষ্টনী বা চত্বরের সমষ্টি। মূলত গবাদি পশু বা অন্য কিছু রক্ষার জন্য গাছপালা দিয়ে ঘেরা জায়গাকে এটি বলা হয়। "কুদ্স" শব্দের মূল অর্থ হলো পবিত্রতা। পবিত্র পাহাড়ে ইবাদতের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জিত হয় বলে একে এ নামে ডাকা হয়। আল্লাহর পবিত্রতা ও তাঁর পবিত্র বেষ্টনী হলো জান্নাত। তিবরিযী 'শারহু দিওয়ানে হামাসা'-তে বলেন: পাহাড়ের নাম হিসেবে এটি অব্যয় সদৃশ (গায়রে মুনসারিফ) বলা হয়। তারা আল-মাসরাখির মতো অনেক কবিতা আবৃত্তি করেছেন: "আগামীকাল তিনি পবিত্র স্থানে বন্য ছাগলের আস্তানার মাঝে দাঁড়িয়ে সকালে উপনীত হলেন।" "তার উপস্থিতিস্থল" অর্থাৎ তার উপস্থিত হওয়ার স্থান।

"আল্লাহর আবাদকৃত ঘর" বলতে বোঝানো হয়েছে যা তার ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং সে তা ধারণ করেছে, যা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। আর তাঁর আগে কারো ওপর এটি অবতীর্ণ হয়নি। একে রূপকভাবে ঘর বলা হয়েছে। আর যে বর্ণনাটি পাওয়া যায় যে—"অন্তর হলো রবের ঘর"—এর কোনো ভিত্তি নেই, যেমনটি 'মাকাসিদ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। "যাকে তিনি নিজের জন্য গ্রহণ করেছেন" এটি তাঁর জ্ঞানকে সেখানে প্রবেশ করানোর একটি রূপক বর্ণনা। আর আল্লাহর ক্ষেত্রে "নফস" (সত্তা) শব্দটির প্রয়োগ করা হয়েছে যেমন আল্লাহর বাণী: "তোমাদের প্রতিপালক দয়া করাকে নিজের ওপর অবধারিত করেছেন," এবং রাসুলের বাণী: "আপনি তেমনই, যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।" আবার কখনো একে ভাষাগত সামঞ্জস্যের (মুশাকালা) জন্য ব্যবহার করা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আপনি জানেন যা আমার অন্তরে আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার সত্তায় আছে।" [মায়েদাহ: ১১৬]। "এবং তাকে বিন্যাসকারী বানিয়েছেন" অর্থাৎ "একত্রকারী" বানিয়েছেন "তাঁর সান্নিধ্যের হাকিকতসমূহের জন্য।" হাকিকত হলো 'হাকিকাহ' শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো যা ব্যবহারে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ভাষার মূল অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে। এটি ইবনে জিন্নি ও ইবনে ফারিস বলেছেন। তিনি আরও যোগ করেছেন যে, এটি আমাদের কথা 'বস্তুটি সত্য বা অবধারিত হয়েছে' থেকে এসেছে যখন তা আবশ্যক হয়। এর উৎপত্তি 'সুদৃঢ়' বস্তু থেকে যা মজবুত। মারযুকি বলেছেন: এটি আরবদের ভাষায় এমন বিষয়কে বোঝায় যা রক্ষা করা আবশ্যক এবং যা বর্জন করা নেতাদের জন্য লজ্জাজনক। খলিল বলেছেন: এটি এমন বিষয় যার দিকে বিষয়ের সত্যতা ও আবশ্যকতা প্রত্যাবর্তন করে। যেমন বলা হয়েছে:

তুমি কি দেখনি যে আমি আমার সম্মান রক্ষা করেছি... এবং আমি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি অথচ মৃত্যু তার চেয়েও নিকটে ছিল।

"মুদ্দাতান" শব্দটি যবর বা পেশ যোগে পড়া যায়, যার অর্থ হলো: মূল; "মহাবিশ্বের বিন্দুর কালি" অর্থাৎ তাঁর কেন্দ্রবিন্দু যার ওপর সবকিছু আবর্তিত হয়।

"উৎস" শব্দটি মিম ও বা বর্ণে যবর সহ, যার অর্থ বের হওয়ার স্থান। "ঝর্ণাধারা" হলো 'ইয়ানবু' শব্দের বহুবচন; মূলত এটি সেই ঝর্ণাকে বলা হয় যেখান থেকে পানি বের হয়, তাই এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। "প্রজ্ঞা" হলো 'হিকমাহ' শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো জ্ঞানের সঠিক অনুসন্ধান ও কর্মের দৃঢ়তা, যেমনটি 'আনওয়ার' গ্রন্থে রয়েছে। নববী বলেছেন: এ সম্পর্কে অনেক মত রয়েছে, যার নির্যাস হলো—এটি এমন জ্ঞান যা আল্লাহর পরিচয় (মারেফাত) অন্তর্ভুক্ত করে, সাথে সাথে অন্তর্দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা, আত্মার পরিশুদ্ধি এবং আমল করার জন্য সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা ও তার বিপরীত থেকে বিরত থাকাকে বোঝায়। আর 'হাকিম' সেই ব্যক্তি যে এগুলো অর্জন করেছে—সংক্ষেপে শেষ হলো। হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: কখনো প্রজ্ঞা শব্দটি কুরআনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, কারণ কুরআন এই সবকিছুর সমষ্টি। নবুওয়াতের ক্ষেত্রেও এটি একইভাবে ব্যবহৃত হয়। আবার কখনো শুধু জ্ঞান বা শুধু পরিচয়ের (মারেফাত) ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়—সমাপ্ত।

"মারেফাত" বা পরিচয় অর্থাৎ জ্ঞান, এটি 'আরাফা' ক্রিয়ামূল থেকে আগত। "প্রসারিত" শব্দটি কর্তা হিসেবে ব্যবহৃত। "আনুগত্যের সাহায্যের সমুদ্র থেকে মারেফাত ও নির্বাচনের অধিকারীদের মধ্য হতে ঐ বক্তার ওপর" অর্থাৎ যাকে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি ঐ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন: "যখন তিনি সম্বোধন করেন।"
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ذاته، بالمنح الأنفسية بشعر من بحر الطويل:

فأنت رسول الله أعظم كائن … وأنت لكل الخلق بالحق مرسل

عليك مدار الخلق إذ أنت قطبه … وأنت منار الحق تعلو وتعدل

فؤادك بيت الله دار علومه … وباب عليه منه للحق يدخل

ينابيع علم الله منه تفجرت … ففي كل حي منه لله منهل

منحت بفيض كل مفضل … فكل له فضل به منك يفضل

نظمت نثار الأنبياء فتاجهم … لديك بأنواع الكمال مكلل

--------------------------------------------

"ذاته" صلى الله عليه وسلم "بالمنح" العطايا؛ "الأنفسية" أي: الشريفة "بشعر من بحر الطويل" أحد بحور الشعر المعروفة، "فأنت رسول الله" نداء والخبر، "أعظم كائن" موجود "وأنت لكل الخلق بالحق" أي: الأمور المطابقة للواقع، "مرسل" من الله "عليك مدار" مصدر ميمي، أي: دوران، "الخلق إذ أنت قطبه" أي: أصل الخلق الذي يرجع إليه، "وأنت منار الحق تعلو" ترتفع على غيرك "وتعدل" في قضاياك بين الناس "فؤادك" قلبك أو غشاؤه وقوي بحديث: "أرق أفئدة وألين قلوبًا".

"بيت الله" إضافة لامية على مجاز الحذف، أي: بيت علوم الله كما أوضحه بقوله "دار علومه" وهي لامية أيضًا وقد أعلمه الله تعالى ما عدا مفاتيح الغيب الخمسة، وقيل: حتى هـ وأمره بكتمها؛ كما في الخصائص "و" أنت "باب عليه منه للحق" أي: للأمور المطابقة للواقع فحذف الموصوف أولا وأمر الله، فحذف المضاف. "يدخل ينابيع" جمع ينبوع، وهو في الأصل العين التي تورد:

"علم الله منه تفجرت … ففي كل حي منه لله منهل"

بفتح الميم والهاء، أي: عين تورد "منحت" أي: خصصت:

"بفيض الفضل كل مفضل … فكل له فضل"

أي: كل إنسان ثبت له فضل فهو "به منك يفضل"؛ فالبيت على حد قول البوصيري:

وكلهم من رسول الله ملتمس … غرفًا من البحر أو رشفًا من الديم

"نظمت نثار" بكسر النون بعدها مثلثة بمعنى المنثور، ككتاب بمعنى مكتوب، "الأنبياء" أي: شرائعهم. "فتاجهم" مفرد تيجان، وهو ما يصاغ للملوك من الذهب والجوهر وقد توجته إذا ألبسته التاج، كما في النهاية. "لديك" أي: عندك "بأنواع الكمال مكلل" بلامين خبر تاج، أي: مرصع، و"في" نسخة مكمل بالميم يأباها الطبع.
তাঁর সত্তা, মহিমান্বিত অনুগ্রহসমূহের বর্ণনায় তাবিল ছন্দের কবিতার মাধ্যমে:

আপনি আল্লাহর রাসূল, সর্বশ্রেষ্ঠ সত্তা … আর আপনি সত্যসহ সকল সৃষ্টির প্রতি প্রেরিত

সৃষ্টির আবর্তন আপনার উপরই, যেহেতু আপনি এর মেরু … আর আপনি সত্যের মিনার, আপনি উন্নত হন এবং ইনসাফ করেন

আপনার হৃদয় আল্লাহর ঘর, তাঁর জ্ঞানসমূহের আবাস … এবং এমন এক দরজা যার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য প্রবেশ করে

আল্লাহর জ্ঞানের ঝর্ণাধারা তা থেকে উৎসারিত হয়েছে … তাই প্রতিটি জীবিত সত্তার মধ্যে তাঁর পক্ষ থেকে পানের আধার রয়েছে

আপনি প্রতিটি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে অনুগ্রহের প্রাচুর্য দান করেছেন … ফলে যারই কোনো শ্রেষ্ঠত্ব আছে, তা আপনার মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে

আপনি নবীদের বিক্ষিপ্ত মুক্তাসমূহ সুবিন্যস্ত করেছেন, তাই তাঁদের মুকুট … আপনার কাছে পূর্ণতার নানা বৈচিত্র্যে সুশোভিত

--------------------------------------------

"তাঁর সত্তা" সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "অনুগ্রহসমূহ" অর্থাৎ দানসমূহ; "আনফাসিয়্যাহ" অর্থাৎ: মহিমান্বিত "তাবিল ছন্দের কবিতার মাধ্যমে" যা কবিতার সুপরিচিত ছন্দগুলোর একটি, "আপনি আল্লাহর রাসূল" এখানে সম্বোধন ও সংবাদ, "সর্বশ্রেষ্ঠ সত্তা" অর্থাৎ বিদ্যমান বস্তুসমূহের মধ্যে "আর আপনি সত্যসহ সকল সৃষ্টির প্রতি" অর্থাৎ: বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ বিষয়াবলি সহকারে, "প্রেরিত" আল্লাহর পক্ষ থেকে। "আপনার উপর আবর্তন" এটি একটি মাসদারে মিমি, যার অর্থ: ঘূর্ণন। "সৃষ্টির যেহেতু আপনি তার মেরু" অর্থাৎ: সৃষ্টির মূল উৎস যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়। "আর আপনি সত্যের মিনার, আপনি উন্নত হন" অর্থাৎ অন্যের চেয়ে উচ্চতায় আসীন হন "এবং ইনসাফ করেন" মানুষের মধ্যে আপনার বিচারকার্যে। "আপনার হৃদয়" আপনার অন্তর বা তার আবরণ, আর এটি এই হাদিস দ্বারা সমর্থিত: "অত্যন্ত কোমল হৃদয় ও অত্যন্ত নরম অন্তর।"

"আল্লাহর ঘর" এখানে 'লাম' বর্ণ যোগে সম্বন্ধ (ইদাফাত) হয়েছে এবং রূপক অর্থে উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ: আল্লাহর জ্ঞানসমূহের ঘর যেমনটি তিনি "তাঁর জ্ঞানসমূহের আবাস" কথাটি দ্বারা স্পষ্ট করেছেন; আর এটিও 'লাম' বর্ণ যোগে সম্বন্ধ। আল্লাহ তাআলা তাঁকে অদৃশ্যের পাঁচটি চাবিকাঠি ব্যতীত সবকিছু জানিয়েছেন, কেউ কেউ বলেন: এমনকি সেগুলোও (জানিয়েছেন), তবে তাঁকে তা গোপন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন; যেমনটি খাসায়িস গ্রন্থে রয়েছে। "এবং" আপনি "এমন এক দরজা যার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যের জন্য" অর্থাৎ বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ বিষয়াবলির জন্য, এখানে প্রথমে বিশেষ্য এবং আল্লাহর নির্দেশ উহ্য রাখা হয়েছে, ফলে সম্বন্ধপদটি উহ্য হয়েছে। "প্রবেশ করে। ঝর্ণাধারা" এটি ইয়ানবু এর বহুবচন, আর এর মূল অর্থ হলো এমন পানির উৎস যেখানে মানুষ পানি নিতে আসে:

"আল্লাহর জ্ঞান তা থেকে উৎসারিত হয়েছে … তাই প্রতিটি জীবিত সত্তার মধ্যে তাঁর পক্ষ থেকে পানের আধার রয়েছে"

'মিম' ও 'হা' বর্ণের জবর সহকারে, যার অর্থ: পানির উৎস যেখানে আসা হয়। "দান করেছেন" অর্থাৎ: বিশিষ্ট করেছেন:

"শ্রেষ্ঠত্বের প্রাচুর্যের মাধ্যমে প্রতিটি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে … ফলে প্রত্যেকেরই শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে"

অর্থাৎ: যে কোনো মানুষের জন্যই যে শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হয়, তা "আপনার মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে"; তাই এই চরণটি বুসিরির বাণীর অনুরূপ:

"এবং তাঁরা সকলেই আল্লাহর রাসূলের নিকট থেকে সমুদ্রের এক অঞ্জলি অথবা অবিরাম বৃষ্টির এক চুমুক প্রার্থনা করেন।"

"সুবিন্যস্ত করেছেন বিক্ষিপ্তগুলো" 'নুন' বর্ণের নিচে কাসরা সহকারে এরপর 'ছা' বর্ণ, এর অর্থ হলো যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যেমন কিতাব অর্থ যা লিখিত। "নবীদের" অর্থাৎ: তাঁদের শরিয়তসমূহকে। "ফলে তাঁদের মুকুট" এটি তিজান এর একবচন, আর তা হলো স্বর্ণ ও রত্ন দিয়ে রাজাদের জন্য যা তৈরি করা হয়। যখন কাউকে মুকুট পরানো হয় তখন বলা হয় 'আমি তাকে মুকুট পরিয়েছি', যেমনটি নিহায়াহ গ্রন্থে রয়েছে। "আপনার কাছে" অর্থাৎ আপনার নিকটে। "পূর্ণতার নানা বৈচিত্র্যে সুশোভিত" দুটি 'লাম' যোগে এটি মুকুটের সংবাদ (বিধেয়), অর্থাৎ: রত্নখচিত; আর একটি পাণ্ডুলিপিতে 'মুকাম্মাল' (পূর্ণকৃত) 'মিম' যোগে রয়েছে যা রুচিবোধ প্রত্যাখ্যান করে।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
فيما مدة الإمداد نقطة خطه … ويا ذروة الإطلاق إذ يتسلسل

محال يحول القلب عنك وإنني … وحقك لا أسلو ولا أتحول

عليك صلاة الله منه تواصلت … صلاة اتصال عنك لا تتنصل

شخصت أبصار بصائر سكان سدرة المنتهى لجلال جماله، وحنت أرواح رؤساء الأنبياء إلى مشاهدة كماله.........................

--------------------------------------------

"فيا مدة" أي: زيادة "الإمداد نقطة خطه ويا ذروة الإطلاق إذا يتسلسل محال": باطل غير ممكن الوقوع أنه "يحول" يتغير "القلب عنك وإنني وحقك لا أسلو" أصبر "ولا أتحول" عن حبك "عليك صلاة الله منه" متعلق بقوله: "تواصلت صلاة اتصال" مفعول مطلق "عنك لا تتنصل" أي: لا تزول عنك "شخصت" بفتحات نظرت "أبصار بصائر" جمع بصيرة، وهي للنفس كالعين للشخص "سكان سدرة المنتهى" بفتحات نظرت "أبصار بصائر" جمع بصيرة، وهي للنفس كالعين للشخص "سكان سدرة المنتهى" وهم الملائكة الكرام. روى أبو يعلى، والبزار وابن جري، وابن ماجه، عن أبي سعيد، رفعه في حديث المعراج وغشيها من الملائكة، أمثال الغربان حين يقعن على الشجر. وعند الحاكم وغيره عن أبي هريرة رفعه: ونزل على كل ورقة ملك من الملائكة "لجلال" عظمة "جماله" حسنه وفي جعله الشخوص لجلال الجمال دون الجمال نفسه لطف وإيماء إلى أن هؤلاء وإن كانوا مقربين ما استطاعوا النظر لنفس الحسن، بل شخصوا في الجلال الحاجب له فكيف بغيرهم، ولذا قال علي يقول ناعته، أي: عند العجز عن وصفه، لم أر قبله ولا بعده مثله، ومن ثم يفتتن به مع أنه أوتي كل الحسن؛ كما قال:

بجمال حجبته بجلال … طاب واستعذب العذاب هناكا

"وحنت" اشتاقت، "أرواح رؤساء الأنبياء" أكابرهم، وهم الذين رأوه في السماوات ليلة المعراج "إلى مشاهدة" أي: رؤية "كماله" هو التمام فيما يفضل به الشيء على غيره؛ فيشمل الظاهر؛ والباطن، لكن المراد هنا الظاهر لأنه المشاهد بالحاسة لا الباطن، لعدم تعلقها به، وإن تعلقت بما دل عليه، وتخصيص الأرواح بالذكر لأن الإدراك بها وإن نسب للجسد فهو بواسطتها فلا يشكل بما في تنوير الحلك، من أنه لا يمتنع رؤية ذاته عليه السلام بجسده وروحه، وذلك لأنه وسائر الأنبياء صلى الله عليه وسلم ردت إليهم أرواحهم بعدما قبضوا، وأذن لهم في الخروج من قبورهم للتصرف في الملكوت العلوي والسفلي، انتهى. ونحوه يأتي للمصنف في غير موضع من هذا الكتاب، وقد روى الحاكم في تاريخه، والبيهقي في حياة الأنبياء، عن أنس، أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "إن الأنبياء لا يتركون في قبورهم أربعين ليلة، ولكن يصلون بين يدي الله تعالى حتى ينفخ في الصور". قال البيهقي: فعلى هذا يصيرون، أي: يكونون حيث ينزلهم الله تعالى، انتهى. وهذا لا يشكل بأن الأنبياء في قبورهم، وأن المصطفى أول من تنشق عنه الأرض، وأول من يقوم من
সাহায্যের প্রসারের সময়কালে তাঁর রেখার বিন্দুই সব … এবং হে চূড়ান্ত মুক্তির শিখর যখন তা ধারাবাহিকভাবে আসে।

অন্তর আপনার থেকে ফিরে যাওয়া অসম্ভব … আপনার কসম, আমি আপনাকে ভুলে থাকব না এবং বিচ্যুত হব না।

আপনার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অবিরত সালাত বর্ষিত হোক … এমন নিরবচ্ছিন্ন সালাত যা কখনো আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।

সিদরাতুল মুনতাহার অধিবাসীদের অন্তর্দৃষ্টির চোখসমূহ তাঁর সৌন্দর্যের মহিমার দিকে স্থির হয়ে তাকিয়ে ছিল, আর প্রধান নবীদের রুহসমূহ তাঁর পূর্ণতা দর্শনের জন্য ব্যাকুল হয়েছিল.........................

--------------------------------------------

"হে সময়কাল" অর্থাৎ: আধিক্য "সাহায্যের প্রসারের তাঁর রেখার বিন্দু এবং হে চূড়ান্ত মুক্তির শিখর যখন তা ধারাবাহিকভাবে আসে, তা অসম্ভব": অর্থাৎ যা ঘটা অসম্ভব যে "ফিরে যাওয়া" বা পরিবর্তিত হওয়া "অন্তর আপনার থেকে, আর নিশ্চয়ই আমি আপনার কসম করে বলছি আমি বিস্মৃত হব না" বা ধৈর্য ধরব না "এবং বিচ্যুত হব না" আপনার ভালোবাসা থেকে। "আপনার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত" এটি তাঁর এই বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট: "অবিরত বর্ষিত হোক এমন নিরবচ্ছিন্ন সালাত" যা মাফউলে মুতলাক "আপনার থেকে যা বিচ্ছিন্ন হবে না" অর্থাৎ: আপনার থেকে অপসারিত হবে না। "স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল" ফাতাহ যুক্ত বর্ণসহ যার অর্থ দেখল "অন্তর্দৃষ্টির চোখসমূহ" এটি বাসীরাহ-এর বহুবচন, যা নফসের জন্য তেমন যেমন ব্যক্তির জন্য চোখ। "সিদরাতুল মুনতাহার অধিবাসী" ফাতাহ যুক্ত বর্ণসহ যার অর্থ দেখল "অন্তর্দৃষ্টির চোখসমূহ" যা বাসীরাহ-এর বহুবচন এবং তা নফসের জন্য ঠিক চোখের মতো। "সিদরাতুল মুনতাহার অধিবাসী" আর তারা হলেন সম্মানিত ফেরেশতাকুল। আবু ইয়ালা, বাজ্জার, ইবনে জারির এবং ইবনে মাজাহ আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদিসটি মারফু হিসেবে মেরাজের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, সেখানে ফেরেশতারা যখন গাছের ওপর বসেছিল তখন তাদের দেখতে কাকের মতো মনে হচ্ছিল। হাকেম এবং অন্যদের বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: প্রত্যেক পাতার ওপর একজন করে ফেরেশতা অবতীর্ণ হলেন। "মহিমার জন্য" অর্থাৎ মহানুভবতা "তাঁর সৌন্দর্যের" অর্থাৎ রূপের। আর সৌন্দর্য নিজেই দেখার পরিবর্তে সৌন্দর্যের মহিমার দিকে তাকানোর বিষয়টি উল্লেখ করার মাঝে সূক্ষ্মতা ও ইঙ্গিত রয়েছে যে, তারা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও খোদ সৌন্দর্যের দিকে তাকাতে সক্ষম হননি, বরং তারা মহিমার দিকেই তাকিয়েছিলেন যা সেই সৌন্দর্যকে আবৃত করে রেখেছিল। তাহলে অন্যদের অবস্থা কী হবে? এজন্যই আলী (রা.) তাঁর গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, অর্থাৎ যখন তিনি বর্ণনা দিতে অক্ষম হতেন: আমি তাঁর পূর্বে বা পরে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি। আর সেখান থেকেই মানুষ তাঁর প্রেমে বিমোহিত হয় অথচ তাঁকে সমস্ত সৌন্দর্য দান করা হয়েছিল; যেমনটি বলা হয়েছে:

এমন সৌন্দর্যের মাধ্যমে যাকে আপনি মহিমা দিয়ে আবৃত করেছেন … সেখানে আজাবও উত্তম ও সুস্বাদু মনে হয়।

"এবং ব্যাকুল হয়েছে" অর্থাৎ আকাঙ্ক্ষা করেছে, "প্রধান নবীদের রুহসমূহ" অর্থাৎ তাঁদের বড়গণ, আর তাঁরা হলেন তাঁরাই যাঁরা মেরাজের রাতে তাঁকে আসমানসমূহে দেখেছিলেন "দর্শনের জন্য" অর্থাৎ দেখার জন্য "তাঁর পূর্ণতা" যা হলো এমন একটি পরিপূর্ণতা যার মাধ্যমে কোনো বস্তু অন্য বস্তুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে; এটি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু এখানে উদ্দেশ্য হলো প্রকাশ্য দিকটি, কারণ এটি ইন্দ্রিয় দ্বারা প্রত্যক্ষ করা যায়, অভ্যন্তরীণ দিকটি নয়, কারণ ইন্দ্রিয় তার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় যদিও তা যা নির্দেশ করে তার সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। আর রুহকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো উপলব্ধি রুহ দিয়েই হয়, যদিও তা শরীরের দিকে সম্বন্ধ করা হয় তবুও তা রুহের মাধ্যমেই ঘটে। তাই 'তানভিরুল হালাক'-এ যা বলা হয়েছে তার সাথে এটি কোনো বিরোধ সৃষ্টি করে না যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সত্তাকে তাঁর দেহ ও রুহসহ দেখা অসম্ভব নয়। আর এর কারণ হলো তিনি এবং অন্য সকল নবীদের (সা.) রুহ তাঁদের মৃত্যুর পর পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের কবুর থেকে বের হয়ে ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতে বিচরণ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সমাপ্ত। একই ধরনের আলোচনা গ্রন্থকার এই বইয়ের অন্যান্য স্থানেও করেছেন। হাকেম তাঁর ইতিহাসে এবং বায়হাকি 'হায়াতুল আম্বিয়া'-তে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই নবীদের তাঁদের কবরে চল্লিশ রাতের বেশি রাখা হয় না, কিন্তু তাঁরা আল্লাহর সামনে নামাজ পড়েন যতক্ষণ না শিঙায় ফুঁ দেওয়া হয়।" বায়হাকি বলেছেন: এর ভিত্তিতে তাঁরা হয়ে যান অর্থাৎ তাঁরা সেখানে থাকেন যেখানে আল্লাহ তাঁদের অবস্থান করান। সমাপ্ত। আর এটি নবীদের তাঁদের কবরে থাকা এবং মুস্তফা (সা.)-এর সর্বপ্রথম মাটি ফেটে বের হওয়া এবং সর্বপ্রথম কবর থেকে উঠে দাঁড়ানোর বিষয়ের সাথে কোনো জটিলতা তৈরি করে না।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وتلفتت لفتات أنفس الملأ الأعلى إلى نفائس نفحاته، وتطاولت أعناق العقول إلى أعين لمحاته ولحظاته، فعرج به إلى المستوى الأقدس، وأطلعه على السر الأنفس، في إحاطته الجامعة، وحضرات حظيرة قدسه الواسعة، فوقفت أشخاص الأنبياء في حرم الحرمة، على أقدام الخدمة، وقامت أشباح الملائكة في معارج الجلال، على أرجل

--------------------------------------------

قبره. لأن معناه لا يتركون على حالة بحيث لا يقوى تعلق روحهم بجسدهم، على وجه يمنع من ذهاب الروح بعد تعلقها بالجسد حيث شاءت متشكلة بصورة الجسد، وإن بقي الجسد نفسه إلى يوم القيامة في القبر، وبهذا لا تعارض بين الأخبار؛ وطاح زعم من أدعي بطلان كونهم لا يتركون في نفسه.

"وتلفتت لفتات أنفس الملأ الأعلى" أي: ذواتهم وأرواحهم "إلى نفائس نفحاته" أي: روائحه الطيبة "وتطاولت" امتدت "أعناق" ذوي "العقول"؛ فهو مجاز بالحذف أو مرسل باستعمال العقول في أهلها، أو شبه العقول بالذوات المدركة استعارة بالكناية. وأثبت لها ما هو من خواصها وهي الأعناق تخييلا، وقد جوزت الأوجه الثلاثة في نحو: واسأل القرية "إلى أعين لمحاته" من إضافة الموصوف إلى صفته، أي: الأعين اللامحة واللمح: النظر باختلاس البصر، ولمح البصر امتد إلى الشيء ويمكن تنوين أعين. ولمحاته "ولحظاته" بدل اشتمال واللحظ: المراقبة أو النظر بمؤخر العين عن يمين وشمال. "فعرج به إلى المستوى" بفتح الواو: الموضع المشرف وهو المصعد، وقيل: المكان المستوي؛ "الأقدس وأطلعه على السر الأنفس" كما قال: "فأوحى إلى عبده ما أوحى"، فأبهمه للتعظيم في أحد الأقوال فلا يطلع عليه بل يتعبد بالإيمان به؛ كما قيل:

بين المحبين سر ليس يفشيه … قول ولا قلم في الكون يحكيه

"في إحاطته الجامعة": متعلق باطلع، أي: فيما تتعلق إحاطته، أي: علمه به؛ "وحضرات" بالضاد المعجمة "حظيرة" بالظاء المعجمة المشالة "قدسه الواسعة" وليس المراد بها هنا الجنة، فإن اطلاعه على السر كان حين العروج إلى المستوى كما كلمه ربه، وهو بعد رفعه إلى السدرة، ورفعه إليها كان بعد دخوله الجنة، وعرض النار عليه؛ كما فصل في المعراج. "فوقفت أشخاص الأنبياء" صورهم "في حرم الحرمة" التعظيم "على أقدام" جمع قدم مؤنث، "الخدمة وقامت أشباح الملائكة" إضافة بيانية، جمع شبح وهو الشخص؛ كما في المصباح، فغاير تفننًا، وللإشارة إلى مغايرتها لأجسام البشر، وإنما هي أجسام لطيفة نورانية على الصحيح.

"في معارج الجلال" جمع معرج ومعراج وهو المصعد والمرقى كلها بمعنى؛ "على أرجل" جمع رجل الإنسان التي يمشي بها، مؤنثة ولا جمع لها غيره؛ كما في المصباح.
উচ্চতর জগতের সত্তাসমূহ তাঁর বহুমূল্য সুবাসের দিকে মনোনিবেশ করল, এবং জ্ঞানবানদের ঘাড় তাঁর নজরের ও দৃষ্টির উজ্জ্বল ঝিলিকসমূহের দিকে প্রসারিত হল। অতঃপর তাঁকে পবিত্রতম সমতলে আরোহণ করানো হল এবং তাঁকে পরম গোপন রহস্য সম্পর্কে অবহিত করা হলো, যা তাঁর সর্বব্যাপী পরিবেষ্টন এবং তাঁর প্রশস্ত পবিত্র বেষ্টনীর উপস্থিতিতে বিদ্যমান। সেখানে নবীদের ব্যক্তিসত্ত্বা সম্মানের হারামে খেদমতের পায়ের ওপর দণ্ডায়মান ছিল এবং ফেরেশতাদের অবয়বসমূহ মহিমার আরোহণক্ষেত্রসমূহে পায়ের ওপর

--------------------------------------------

কবর। কারণ এর অর্থ হলো, তাদের এমন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয় না যে তাদের দেহের সাথে রূহের সম্পর্ক শক্তিশালী থাকে না, যা রূহ দেহের সাথে সংযুক্ত হওয়ার পর দেহের রূপ ধারণ করে যেখানে ইচ্ছা যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে, যদিও কিয়ামত পর্যন্ত মূল দেহ কবরেই অবশিষ্ট থাকে। এর মাধ্যমে সংবাদসমূহের (হাদিসের) মধ্যে কোনো বৈপরীত্য থাকে না; আর যারা দাবি করে যে তাদের সে অবস্থায় ছেড়ে না দেওয়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন, তাদের সেই ধারণা অসার সাব্যস্ত হয়।

"উচ্চতর জগতের সত্তাসমূহ মনোনিবেশ করল" অর্থাৎ: তাদের সত্তা ও রূহসমূহ। "তাঁর বহুমূল্য সুবাসের দিকে" অর্থাৎ: তাঁর পবিত্র ঘ্রাণের দিকে। "দীর্ঘায়িত হল" অর্থাৎ প্রসারিত হল জ্ঞানবানদের "ঘাড়"; এটি উহ্য শব্দের রূপক বা রূপকার্থে জ্ঞানবানদের অর্থে বুদ্ধির ব্যবহার। অথবা বুদ্ধিকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সত্তার সাথে তুলনা করা হয়েছে যা একটি ইস্তিয়ারা বিল কিনায়াহ। আর এর জন্য একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা হলো ঘাড়। "হে গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসা করুন" এই আয়াতের মতো এখানেও তিনটি রূপক সম্ভাবনা রয়েছে। "তাঁর দৃষ্টির ঝিলিকের দিকে" এটি মওসূফকে (গুণী) সিফাতের (গুণ) দিকে সম্বন্ধ করার উদাহরণ। অর্থাৎ: দৃষ্টিপাতকারী চোখ। 'লামহ' অর্থ হলো চোখের পলকে দ্রুত দেখা। 'আ'ইয়ুন' শব্দটি তানভীন সহ পড়া সম্ভব। "এবং তাঁর নজরসমূহ" এটি বদলুল ইশতিমাল। 'লাহজ' অর্থ হলো পর্যবেক্ষণ করা অথবা চোখের কোণ দিয়ে ডানে-বামে তাকানো। "অতঃপর তাঁকে আল-মুস্তাওয়াতে আরোহণ করানো হল" ওয়ಾವ್-এর ফাতহা সহ: অর্থাৎ উঁচু স্থান যা আরোহণের জায়গা; কেউ বলেন: সমতল স্থান; "পবিত্রতম এবং তাঁকে পরম গোপন রহস্য সম্পর্কে অবহিত করলেন" যেমনটি আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর তিনি তাঁর দাসের প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন", একটি মত অনুসারে মহত্ত্ব প্রকাশের জন্য একে অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, তাই কেউ এর ওপর অবগত হতে পারে না বরং এর ওপর ঈমান রাখাই ইবাদত; যেমনটি বলা হয়েছে:

প্রেমাসক্তদের মাঝে এমন এক গোপন রহস্য রয়েছে যা কোনো কথা প্রকাশ করে না … এবং সৃষ্টিজগতের কোনো কলম তা বর্ণনা করতে পারে না

"তাঁর সর্বব্যাপী পরিবেষ্টনে": এটি 'অবহিত করা' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ তাঁর পরিবেষ্টন বা তাঁর জ্ঞান যা কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট। "এবং তাঁর প্রশস্ত পবিত্র বেষ্টনীর উপস্থিতিতে" এখানে এর দ্বারা জান্নাত উদ্দেশ্য নয়, কারণ রহস্য সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়েছিল সমতলে আরোহণের সময় যখন তাঁর রব তাঁর সাথে কথা বলেছিলেন। আর এটি সিদরাতুল মুনতাহায় উত্তোলনের পরের ঘটনা। আর সেখানে উত্তোলন হয়েছিল জান্নাতে প্রবেশ এবং তাঁর সামনে জাহান্নাম প্রদর্শনের পর; যেমনটি মেরাজের বর্ণনায় বিস্তারিত এসেছে। "নবীদের ব্যক্তিসত্ত্বা দণ্ডায়মান হল" তাদের আকৃতিসমূহ "সম্মানের হারামে" অর্থাৎ মর্যাদার স্থানে "পায়ের ওপর" 'কদম' শব্দের বহুবচন যা স্ত্রীলিঙ্গ, "খেদমতের এবং ফেরেশতাদের অবয়বসমূহ দণ্ডায়মান হল" এটি তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা হিসেবে একটির ওপর অন্যটির সংযোজন, 'আশবাত' হলো 'শাবহ' এর বহুবচন যার অর্থ ব্যক্তি বা অবয়ব; যেমনটি আল-মিসবাহ গ্রন্থে রয়েছে। বৈচিত্র্য আনয়নের জন্য এবং মানুষের দেহের সাথে তাদের ভিন্নতা বোঝানোর জন্য শব্দে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সঠিক মতানুসারে তারা হলো সূক্ষ্ম নূরানি দেহ।

"মহিমার আরোহণক্ষেত্রসমূহে" 'মাআরিজ' হলো 'মা'রাজ' এবং 'মি'রাজ' এর বহুবচন যার অর্থ আরোহণের সিঁড়ি বা সোপান, যার সবগুলোই সমার্থক; "পায়ের ওপর" 'আরজুল' হলো পা-এর বহুবচন যা দিয়ে হাঁটা হয়, এটি স্ত্রীলিঙ্গ এবং এর অন্য কোনো বহুবচন নেই; যেমনটি আল-মিসবাহ গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الإجلال، وهامت أرواح العشاق في معاناة الأشواق:

كل إليك بكله مشتاق … وعليه من رقبائه أحداق

يهواك ما ناح الحمام بأيكة … أو لاح برق في الدجى خفاق

شوقي إليه لا يزال يديره … فجميعه لجميعه عَشاق

اشتاق القمر.............................................

--------------------------------------------

"الإجلال وهامت أرواح العشاق" خرجت على وجهها فلم تدر أين تتوجه، "في معاناة الأشواق" جمع شوق، وهو نزاع النفس إلى الشيء والحنين، وشوقني إلى كذا هيجني وأنشد لغيره قوله "كل" استغراقية؛ كقوله: {وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [البقرة: 282] . "وكل راع مسئول عن رعيته". ولا يستعمل إلا مضافًا لفظًا كما رأيت، أو تقديرًا؛ كقوله: {كُلٌّ يَجْرِي} [الرعد: 2، لقمان: 29، فاطر: 13، الزمر: 5] .

قال الأخفش: المعنى كلهم يجري كما تقول كل منطلق، أي: كلهم، ومنه ما هنا، أي: كل الشاخصين ومن بعدهم. "إليك بكله" بجملته روحًا وجسمًا "مشتاق وعليه من رقبائه" جمع رقيب "أحداق" عيون، "يهواك" تميل نفسه إليك "ما ناح الحمام بأيكة" مفرد أيك، كتمر وتمرة شجر، كما في المصباح، أو هو مضاف للضمير لأدنى ملابسة، فيكون جمعًا "أو لاح برق" ما يلمع من السحاب، مصدر "في الدجى" والظلم "خفاق" والدجى لا يكاد ينفك عن برق إن لم يعم فإن فقد في مكان وجد في غيره، "شوقي" فاعل يهوي "إليه" بإشباع الهاء للوزن، وفيه التفات عن الخطاب، وفي نسخ إليك "لا يزال يديره" يحرك الهوى "فجميعه" أي: كل أو الشوق، والأول أولى؛ لأنه المحدث عنه، ولفظ كل واحد ومعناه متعدد، فيجوز عود الضمير على اللفظ وعلى المعنى "لجميعه" أي: النبي صلى الله عليه وسلم، وإن لم يتقدم له ذكر لدلالة الكلام عليه فكأنه مذكور؛ كقوله: "ولأبويه، لكل واحد منهما السدس"، أي: الميت، أي: كل محب "عشاق" بفتح المهملة، أي: كثير العشق لجميع أجزاء المصطفى، فجميع متعلق به مقدم عليه "اشتاق القمر" سمي بذلك لبياضه. قال الفارابي وتبعه الجوهري: الهلال ثلاث ليال أول الشهر ثم هو قمر بعد ذلك. وقال الأزهري: القمر يسمى ليلتين أول الشهر هلالا، كليلتي ست وسبع وعشرين، ويسمى قمرًا فيما بين ذلك. وقال غيره: الهلال ثلاث ليال، ثم هو قمر إلى ثلاثة عشر، ثم يستوي ليلة ثلاثة عشر فتسمى تلك الليلة ليلة السواء، ثم تليها ليلة البدر؛ لأنه إذا بدرت الشمس بالغروب بادرها بالطلوع. وقيل: من البدرة، وهي ألف دينار لتمام عدده، ثم يسمى ليلة النصف قمرًا وزبرقانًا بكسر الزاي، ومنه:
মহিমা ও গাম্ভীর্য, আর অনুরাগের যন্ত্রণায় আশেকদের আত্মাগুলো ব্যাকুল হয়ে ঘুরে বেড়ালো:

আপনার প্রতি প্রত্যেকেই তার সর্বস্ব দিয়ে অনুরাগী … আর তার উপর তার প্রহরীদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ

সে আপনাকে ভালোবাসে যতক্ষণ ঘুঘু পাখি কুঞ্জবনে বিলাপ করে … অথবা অন্ধকারের বুকে উজ্জ্বল বিদ্যুৎ চমকায়

তার প্রতি আমার অনুরাগ নিরন্তর তাকে আন্দোলিত করে … তাই তার প্রতিটি অংশ তার প্রতিটি অংশের জন্য অতিশয় প্রেমিক

চাঁদ অভীপ্সা করল.............................................

--------------------------------------------

"মহিমা ও গাম্ভীর্য এবং আশেকদের আত্মাগুলো ব্যাকুল হয়ে ঘুরে বেড়ালো" অর্থাৎ সে লক্ষ্যহীনভাবে বেরিয়ে পড়ল এবং কোথায় যাবে তা বুঝতে পারল না। "অনুরাগের যন্ত্রণায়" এটি 'শওক' এর বহুবচন, আর তা হলো কোনো কিছুর প্রতি নফসের টান ও আকুতি। আমাকে অমুক জিনিসের প্রতি অনুরাগী করেছে অর্থাৎ আমাকে আলোড়িত করেছে। তিনি অন্যের কবিতা আবৃত্তি করেছেন যেখানে "প্রত্যেক" শব্দটি ব্যাপকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে; যেমন আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত} [বাকারা: ২৮২]। "প্রত্যেক রাখালই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে"। এটি কেবল শব্দতগতভাবে সম্বন্ধযুক্ত হিসেবেই ব্যবহৃত হয় যেমনটি আপনি দেখছেন, অথবা উহ্যভাবে; যেমন আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেকেই পরিভ্রমণ করে} [রাদ: ২, লুকমান: ২৯, ফাতির: ১৩, জুমার: ৫]।

আখফাশ বলেন: এর অর্থ হলো তাদের সবাই পরিভ্রমণ করে, যেমন আপনি বলেন প্রত্যেকেই প্রস্থানকারী, অর্থাৎ তারা সবাই। এখানেও সেই অর্থই উদ্দেশ্য, অর্থাৎ উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের পরবর্তী সবাই। "আপনার প্রতি তার সর্বস্ব দিয়ে" অর্থাৎ তার আত্মা ও দেহসহ সামগ্রিকভাবে "অনুরাগী এবং তার উপর তার প্রহরীদের" এটি 'রকীব' এর বহুবচন "তীক্ষ্ণ দৃষ্টি" অর্থাৎ চোখসমূহ। "সে আপনাকে ভালোবাসে" অর্থাৎ তার মন আপনার দিকে ঝুঁকে পড়ে "যতক্ষণ ঘুঘু পাখি কুঞ্জবনে বিলাপ করে" এটি 'আইক' এর একবচন, যেমন খেজুর ও খেজুর গাছ, যেমনটি মিসবাহ গ্রন্থে রয়েছে। অথবা এটি সামান্য সম্পর্কের কারণে সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে, সেক্ষেত্রে এটি বহুবচন হবে। "অথবা বিদ্যুৎ চমকায়" মেঘ থেকে যা উদ্ভাসিত হয়, যা একটি ক্রিয়ামূল। "অন্ধকারের বুকে" এবং তমসায় "উজ্জ্বলভাবে", আর অন্ধকার সাধারণত বিদ্যুৎ থেকে মুক্ত থাকে না যদি তা ব্যাপক না হয়; তবে এক স্থানে না থাকলে অন্য স্থানে পাওয়া যায়। "আমার অনুরাগ" এটি 'ভালোবাসা' ক্রিয়ার কর্তা। "তার প্রতি" এখানে ছন্দের প্রয়োজনে 'হা' বর্ণটিকে দীর্ঘ করা হয়েছে, আর এখানে সম্বোধন থেকে নামপুরুষের দিকে মোড় নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে "আপনার প্রতি" রয়েছে। "নিরন্তর তাকে আন্দোলিত করে" অর্থাৎ অনুরাগ তাকে নাড়া দেয়। "তাই তার প্রতিটি অংশ" অর্থাৎ প্রত্যেকের বা অনুরাগের; তবে প্রথমটিই অধিকতর উপযোগী, কারণ সে সম্পর্কেই আলোচনা হচ্ছে। 'প্রত্যেক' শব্দটির গঠন একবচন কিন্তু অর্থ বহুবচন, তাই সর্বনামটি শব্দের দিকেও ফিরতে পারে আবার অর্থের দিকেও ফিরতে পারে। "তার প্রতিটি অংশের জন্য" অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য, যদিও পূর্বে তাঁর উল্লেখ নেই, তবে আলোচনার প্রেক্ষাপট তা নির্দেশ করছে বিধায় তিনি যেন উল্লিখিতই আছেন; যেমন আল্লাহর বাণী: "আর তার পিতামাতার প্রত্যেকের জন্য ষষ্ঠাংশ", অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির। অর্থাৎ প্রত্যেক প্রেমিক "অতিশয় প্রেমিক" আইন বর্ণে ফাতহা দিয়ে, অর্থাৎ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রতি অতিশয় প্রেমাসক্ত; সুতরাং 'তার প্রতিটি অংশ' এর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এর পূর্বে এসেছে। "চাঁদ অভীপ্সা করল" তার শুভ্রতার কারণে তাকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। ফারাবী বলেছেন এবং জওহারী তার অনুসরণ করেছেন: মাসের প্রথম তিন রাত একে নবচন্দ্র বলা হয়, তারপর এটি চাঁদ। আর আজহারী বলেছেন: মাসের শুরুতে দুই রাত একে নবচন্দ্র বলা হয়, যেমন সাতাশ ও আঠাশ তারিখের রাত; আর এর মধ্যবর্তী সময়ে একে চাঁদ বলা হয়। অন্য কেউ বলেছেন: তিন রাত পর্যন্ত নবচন্দ্র, তারপর তের তারিখ পর্যন্ত চাঁদ, এরপর তের তারিখের রাতে তা পূর্ণতা পায় বিধায় সেই রাতকে সমতার রাত বলা হয়। এরপর আসে পূর্ণিমার রাত; কারণ সূর্য যখন অস্ত যায়, তখন এটি উদিত হতে ত্বরান্বিত হয়। বলা হয়ে থাকে: এটি 'বাদরাহ' থেকে এসেছে, যার অর্থ এক হাজার দিনার, তার সংখ্যা পূর্ণ হওয়ার কারণে। এরপর পনের তারিখের রাতকে চাঁদ এবং 'যিবরিকান' বলা হয় 'যা' বর্ণে যের দিয়ে; আর তা থেকেই:
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
لمشاهدته فانشق، فشق مرائر الأشقياء الشاقين، وحن لمفارقته الجذع، فتصدع فانصدعت قلوب الأغبياء المنافقين وبرقت من مشكاة بعثته بوارق طلائع الحقائق، وانقادت لدعوته العامة خاصة خلاصة الخلائق، ولم يزل يجاهد في الله بصدق عزماته، وينظم أشتات الإسلام بعد افتراق جهاته، حتى كملت كمالات دينه..........

--------------------------------------------

تضيء بك المنابر حين ترقى … عليها مثل ضوء الزبرقان

"لمشاهدته فانشق" لما سأله أهل مكة آية قبل الهجرة بنحو خمس سنين فرقتين، فرقة فوق الجبل وفرقة دونه، "فشق مرائر الأشقياء" الكفار "الشاقين" عليه باقتراح الآيات، وفي جعله انشقاقه مفرعًا على اشتياقه وقفة، إذ الثابت أنه انشق لطلب الكفار آية، وقد تدفع الوقفة "وحن" اشتاق، "لمفارقته الجذع" الذي كان يخطب عليه قبل اتخاذ المنبر "فتصدع" الجذع وانشق، كما في حديث أبي بن كعب عند الشافعي وغيره بلفظ، فلما صنع، أي: المنبر، وضعه موضعه الذي هو فيه فكان إذا بدا لرسول الله صلى الله عليه وسلم أن يخطب عليه، تجاوز الجذع الذي كان يخطب عليه، فلما جاوزه خار حتى تصدع وانشق فنزل، فلما سمع صوت الجذع فمسحه بيده.

وفي حديث أنس عند الموصلي: لما قعد على المنبر خار كخوار الثور، وارتج المسجد لخواره حزنًا عليه، فنزل إليه فالتزمه وهو يخور فسكت. فقال صلى الله عليه وسلم: "والذي نفس محمد بيده، لو لم ألتزمه لما زال هكذا حتى تقوم الساعة"، فأمر به فدفن. وفي حديث أحمد والدارمي وابن ماجه: فأخذ أبي بن كعب ذلك الجذع لما هدم المسجد، فلم يزل عنده حتى بلي واد رفاتًا، قال الجاحظ: وهذا لا ينافي أنه دفن لاحتمال أنه ظهر بعد الهدم عند التنظيف، انتهى.

كان الحسن البصري إذا حدث هذا الحديث بكى، وقال: يا عباد الله، الخشبة تحن إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم شوقًا إليه لمكانه من الله، فأنتم أحق أن تشتاقوا إلى لقائه. "فانصدعت قلوب الأغبياء" الجهال، جمع غبي؛ "المنافقين" غيظًا من هذه المعجزة الباهرة، التي قال فيها الشافعي: إنها أعظم من إحياء عيسى الموتى.

"وبرقت" لمعت، "من مشكاة" هي القنديل أو موضع القتيلة منه، أو معلاقه أو كوة غير نافذة، والكوة بفتح الكاف وضمها اسم ما لا ينفذ، قيل: إنها معربة من الحبشية "بعثته بوارق طلائع الحقائق وانقادت لدعوته العامة" بالجر نعت وفاعل انقاد "خاصة خلاصة الخلائق" ما صفا منهم "ولم يزل يجاهد في الله" بالسيف والحجة "يصدق عزماته وينظم" يجمع "أشتات الإسلام بعد افتراق جهاته حتى كملت" بتثليث الميم والكسر أردأها؛ كما في الصحاح، "كمالات دينه
তাঁকে দেখার জন্য চাঁদ বিদীর্ণ হলো, ফলে তা সেই সকল অবাধ্য দুর্ভাগাদের পিত্তথলি বিদীর্ণ করল যারা তাঁর বিরোধিতা করেছিল। আর তাঁর থেকে পৃথক হওয়ার কারণে খেজুরের শুকনো কাণ্ডটি বিলাপ করল, ফলে সেটি ফেটে গেল। আর এর মাধ্যমে নির্বোধ মুনাফিকদের অন্তরসমূহ বিদীর্ণ হলো। তাঁর নবুওয়াতের প্রদীপাধার থেকে সত্যের আলোকবর্তিকাগুলো প্রজ্বলিত হলো এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ তাঁর দাওয়াতের অনুগত হলো। তিনি আল্লাহর পথে তাঁর দৃঢ় সংকল্পের সাথে সর্বদা জিহাদ চালিয়ে গেলেন এবং বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে থাকা ইসলামের বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে সুসংবদ্ধ করলেন, যতক্ষণ না তাঁর দ্বীনের পূর্ণতাগুলো পূর্ণতা লাভ করল...

--------------------------------------------

মিম্বরসমূহ আপনার মাধ্যমে আলোকিত হয় যখন আপনি তাতে আরোহণ করেন... তাতে পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো জ্যোতি বিচ্ছুরিত হয়।

"তাঁকে দেখার জন্য তা বিদীর্ণ হলো" - যখন হিজরতের প্রায় পাঁচ বছর আগে মক্কাবাসী তাঁর কাছে একটি নিদর্শন চেয়েছিল, তখন চাঁদ দুই খণ্ড হয়ে গিয়েছিল; এক খণ্ড পাহাড়ের উপরে এবং অন্য খণ্ডটি পাহাড়ের নিচে। "ফলে তা দুর্ভাগাদের পিত্তথলি বিদীর্ণ করল" অর্থাৎ সেই কাফেরদের, যারা নিদর্শন দাবি করার মাধ্যমে তাঁর সাথে "বিরোধিতা" করেছিল। চাঁদ বিদীর্ণ হওয়াকে তাঁর দর্শনের প্রতি আকাঙ্ক্ষার ফল হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে একটি তাত্ত্বিক বিরতি রয়েছে, কেননা এটি প্রমাণিত যে কাফেরদের নিদর্শন দাবির কারণেই তা বিদীর্ণ হয়েছিল। তবে এই বিরতিটি নিরসন করা সম্ভব। "এবং বিলাপ করল" অর্থাৎ আকাঙ্ক্ষা করল, "তাঁর থেকে বিচ্ছেদের কারণে সেই শুকনো কাণ্ডটি" যার ওপর দাঁড়িয়ে তিনি মিম্বর তৈরির পূর্বে খুতবা দিতেন। "ফলে তা ফেটে গেল" অর্থাৎ কাণ্ডটি বিদীর্ণ হয়ে গেল, যেমনটি ইমাম শাফেয়ী এবং অন্যান্যদের গ্রন্থে উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন মিম্বর তৈরি করে যথাস্থানে রাখা হলো, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবা দেওয়ার জন্য যখন সেই কাণ্ডটি অতিক্রম করে মিম্বরের দিকে গেলেন, তখন সেই কাণ্ডটি বলদের মতো শব্দ করে গোঙাতে শুরু করল এবং ফেটে গেল। তিনি যখন সেই গোঙানি শুনলেন, তখন মিম্বর থেকে নেমে এসে সেটিকে হাত দিয়ে স্পর্শ করলেন।

মাওসিলিতে বর্ণিত আনাসের হাদিসে আছে: যখন তিনি মিম্বরে বসলেন, তখন সেটি বলদের মতো হাহাকার করে উঠল এবং বিরহের কারণে তার কান্নায় পুরো মসজিদ কেঁপে উঠল। তিনি নেমে এসে সেটিকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন সেটি শিশুর মতো ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে শান্ত হলো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, যদি আমি একে জড়িয়ে না ধরতাম তবে কিয়ামত পর্যন্ত এটি এভাবেই কাঁদতে থাকত।" এরপর তিনি সেটিকে দাফন করার নির্দেশ দিলেন। আহমদ, দারেমি এবং ইবনে মাজাহর হাদিসে আছে: যখন মসজিদ পুনর্নির্মাণ করা হলো তখন উবাই বিন কাব সেই কাঠটি নিয়ে নিলেন। সেটি তাঁর কাছেই ছিল যতক্ষণ না তা জীর্ণ হয়ে মাটিতে মিশে গেল। আল-জাহিজ বলেন: এটি দাফন করার বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক নয়, কারণ সম্ভাবনা আছে যে মসজিদ সংস্কারের সময় সেটি মাটি থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। সমাপ্ত।

হাসান বসরী যখন এই হাদিস বর্ণনা করতেন তখন কাঁদতেন এবং বলতেন: হে আল্লাহর বান্দারা, আল্লাহর কাছে তাঁর উচ্চ মর্যাদার কারণে একটি কাঠ যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরহে এমন বিলাপ করতে পারে, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা করার বেশি হকদার তো তোমরাই। "ফলে নির্বোধদের অন্তরসমূহ বিদীর্ণ হলো" অর্থাৎ অজ্ঞদের; "মুনাফিকদের" এই স্পষ্ট মুজিজা দেখে রাগে ক্ষোভে অন্তর ফেটে গিয়েছিল, যে মুজিজা সম্পর্কে ইমাম শাফেয়ী বলেছিলেন: এটি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মৃতকে জীবিত করার চেয়েও বড় মুজিজা।

"এবং প্রজ্বলিত হলো" অর্থাৎ উজ্জ্বল হলো, "মিশকাত থেকে" যা হলো প্রদীপ রাখার স্থান বা কুলঙ্গি। বলা হয়ে থাকে এটি হাবশি ভাষা থেকে আগত শব্দ। "তাঁর নবুওয়াতের মাধ্যমে সত্যের আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত হলো এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ তাঁর দাওয়াতের অনুগত হলো" অর্থাৎ তাদের মধ্যে যারা বিশুদ্ধ ছিল। "তিনি আল্লাহর পথে সর্বদা জিহাদ চালিয়ে গেলেন" তলোয়ার এবং অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে, "তাঁর দৃঢ় সংকল্পের সাথে এবং সুসংবদ্ধ করলেন" অর্থাৎ একত্রিত করলেন "ইসলামের বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ার পর, যতক্ষণ না পূর্ণ হলো" তাঁর দ্বীনের পূর্ণতাগুলো।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وحججه البالغة، وتمت على سائر أمته نعمته السابغة، وخير فاختار الرفيق الأعلى، وآثر الآخرة على الأولى، فنقله الله قائمًا على قدم السلامة، إلى دار السلام

--------------------------------------------

وحججه البالغة" بيناته الواضحة التي بلغت غاية المتانة والقوة "وتمت على سائر" أي: جميع "أمته" والأكثر استعماله بمعنى الباقي مطلقًا على الأصح، أو الباقي القليل مشتق من السؤر بالهمز البقية. حتى قال الأزهري: اتفق أهل اللغة على أن سائر الشيء باقيه قل أو كثر، واستعماله بمعنى الجميع ذهب إليه الجوهري والجواليقي وجماعة وخطأهم فيه كثير، كابن قتيبة والحريري في الدرة؛ لأنه مخالف للسماع.

ففي الحديث: "أمسك أربعًا وفارق سائرهن": أي: باقيهن، والاشتقاق فإنه من السؤر فلا يصح كونه بمعنى الجميع، وقال الصغاني: سائر الناس: باقيهم، وليس معناه جميعهم، كما زعم من قصر في اللغة باعه، وجعله بمعنى الجميع من لفظ العوام، انتهى. ولكن انتصر للجوهري والجماعة قوم بأنه سمع من الصحفاء؛ كقوله:

ألزم العالمون حبك طرا … فهو فرض في سائر الأديان

وقول عنترة:

إني امرؤ من خير عبس منصبا … شطري وأحمي سائري بلمنصل

وقول ذي الرمة:

معرسًا في بياض الصبح وقعته … وسائر السير إلا ذلك السير

واشتقاقه عندهم من اليسير، أي: يسير فيه هذا الاسم ويطلق عليه، لا البقية.

"الأمية" المنسوبة إلى النبي الأمي صلى الله عليه وسلم، "نعمته السابغة" الكثيرة التامة، وهو في الأصل صفة للدرع والثوب الطويل استعير من الطول والسعة لما ذكر، ثم صار حقيقة فيه لشيوعه، "وخير" بين الحياة والممات، "فاختار الرفيق الأعلى" أي: الجماعة من الأنبياء الذين يسكنون أعلى عليين، اسم جاء على فعيل كصديق وخليط، أو الله تعالى فإنه الرفيق بعباده، وعند مسلم مرفوعًا: "إن الله رفيق يحب الرفق". فهو فعل بمعنى فاعل، أو المراد حظيرة القدس، وعند النسائي وصححه ابن حبان، فقال صلى الله عليه وسلم: "أسأل الله الرفيق الأسعد مع جبريل وميكائيل وإسرافيل" وظاهره: أن الرفيق: المكان الذي يحصل فيه المرافقة مع المذكورين.

"وآثر الآخرة على الأولى" أي: الدنيا؛ لأنها أحق بالإيثار منها، كما قال بعض الأماجد: لو كانت الدنيا من ذهب يفنى، والآخرة من خزف يبقى، لآثر العاقل الباقي على الفاني، فكيف والنعيم السرمدي الذي لم يخطر على قلب بشر، إنما هو في الأخرى.

"فنقله الله قائمًا على قدم السلامة" حسا ومعنى "إلى دار السلام" الجنة لسلام الله
এবং তাঁর সুষ্পষ্ট দলীলসমূহ; আর তাঁর পরিপূর্ণ নিয়ামত তাঁর সমগ্র উম্মতের ওপর পূর্ণ হয়েছে; তাঁকে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, ফলে তিনি সর্বোচ্চ সঙ্গীকে বেছে নিয়েছেন এবং ইহকালের ওপর পরকালকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে নিরাপত্তার পায়ের ওপর অটল রেখে শান্তির আবাসে স্থানান্তরিত করেছেন।

--------------------------------------------

"এবং তাঁর সুষ্পষ্ট দলীলসমূহ" অর্থাৎ তাঁর প্রকাশ্য প্রমাণাদি যা সুদৃঢ়তা ও শক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। "আর পূর্ণ হয়েছে তাঁর সমগ্র" অর্থাৎ: সকল "উম্মতের ওপর"; আর বিশুদ্ধতর মত অনুযায়ী এটি নিরঙ্কুশভাবে 'অবশিষ্টাংশ' অর্থে অথবা হামযাহ যোগে 'সু'র' (পাত্রের অবশিষ্টাংশ) শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়ে 'অল্প অবশিষ্টাংশ' অর্থে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়। এমনকি আল-আযহারী বলেছেন: ভাষাবিদগণ একমত হয়েছেন যে, কোনো বস্তুর 'সা-ইর' হলো তার অবশিষ্টাংশ, তা অল্প হোক বা অধিক। আর একে 'সমগ্র' অর্থে ব্যবহার করার দিকে গিয়েছেন আল-জাওহারী, আল-জাওয়ালিকী এবং একদল আলিম; তবে ইবনে কুতাইবা ও আল-হারীরী 'আদ-দুররাহ' গ্রন্থে তাঁদের ভুল ধরেছেন; কারণ এটি শ্রুতির (আরবদের ভাষ্য) পরিপন্থী।

হাদীসে এসেছে: "চারজনকে রাখো এবং তাদের অবশিষ্টাংশকে পৃথক করো": অর্থাৎ তাদের বাকিদের। আর ব্যুৎপত্তিগতভাবে এটি 'সু'র' থেকে এসেছে, তাই এটি 'সকল' অর্থে হওয়া সঠিক নয়। আস-সাগানী বলেন: মানুষের 'সা-ইর' মানে তাদের অবশিষ্টাংশ, এর অর্থ তাদের সবাই নয়—যেমনটি তারা ধারণা করেছে যাদের ভাষাগত জ্ঞান সীমিত; আর একে 'সমগ্র' অর্থে ব্যবহার করা সাধারণ মানুষের পরিভাষা। সমাপ্ত। তবে আল-জাওহারী ও উক্ত দলের পক্ষে একদল মানুষ সমর্থন দিয়েছেন এই বলে যে, এটি নির্ভরযোগ্য কাব্য থেকে শোনা গেছে; যেমন কবির উক্তি:

সারা বিশ্ববাসী তোমার ভালোবাসাকে সম্পূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরেছে … সুতরাং এটি অন্যান্য সকল ধর্মের মধ্যে আবশ্যক

এবং আনতারাহ-র উক্তি:

নিশ্চয়ই আমি বংশমর্যাদায় শ্রেষ্ঠ আবস গোত্রের একজন পুরুষ … আমার অর্ধেক (উৎকৃষ্ট অংশ) এবং আমি আমার অবশিষ্টাংশকে তলোয়ার দিয়ে রক্ষা করি

এবং যুর রুম্মাহ-র উক্তি:

ভোরের শুভ্রতায় তার অবতরণস্থল … এবং সেই ভ্রমণ ব্যতীত বাকি সমস্ত ভ্রমণ

তাঁদের মতে এর ব্যুৎপত্তি 'ইয়াসীর' (সহজ বা চলমান) থেকে, অর্থাৎ এই নামটি তার মধ্যে প্রবহমান বা তার ওপর প্রযুক্ত হয়, এটি অবশিষ্টাংশ অর্থে নয়।

"আল-উম্মিয়্যাহ" যা উম্মী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। "তাঁর পরিপূর্ণ নিয়ামত" অর্থাৎ প্রচুর ও পূর্ণ নিয়ামত। এটি মূলত দীর্ঘ বর্ম ও পোশাকের বিশেষণ, যা উল্লিখিত প্রশস্ততা ও আধিক্যের অর্থে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, অতঃপর অধিক ব্যবহারের কারণে তা প্রকৃত অর্থে পরিণত হয়েছে। "পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল" অর্থাৎ জীবন ও মৃত্যুর মাঝে। "ফলে তিনি সর্বোচ্চ সঙ্গীকে বেছে নিয়েছেন" অর্থাৎ নবীদের সেই জামাত যারা ইল্লিয়্যিনের সর্বোচ্চ স্তরে বসবাস করেন; এটি একটি বিশেষ্য যা 'ফাউইল' ওজনে এসেছে যেমন সিদ্দীক ও খলীত। অথবা এর দ্বারা মহান আল্লাহ উদ্দেশ্য, কারণ তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু (রফিক)। মুসলিমের বর্ণনায় মারফু সূত্রে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ দয়ালু (রফিক), তিনি দয়া ও কোমলতা পছন্দ করেন।" এটি 'ফাইল' (কর্তা) অর্থে একটি ক্রিয়াজাত শব্দ। অথবা এর দ্বারা 'পবিত্র বেষ্টনী' (হাদীরাতুল কুদস) উদ্দেশ্য। নাসায়ীতে বর্ণিত এবং ইবনে হিব্বান কর্তৃক সহীহকৃত রেওয়ায়েতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি আল্লাহর কাছে জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের সাথে পরম সৌভাগ্যময় সঙ্গ (রফিক) প্রার্থনা করছি।" এর বাহ্যিক অর্থ হলো: 'রফিক' হলো সেই স্থান যেখানে উল্লিখিতদের সাথে সাহচর্য অর্জিত হয়।

"এবং ইহকালের ওপর পরকালকে প্রাধান্য দিয়েছেন" অর্থাৎ দুনিয়া; কারণ দুনিয়ার চেয়ে আখিরাত অগ্রাধিকার পাওয়ার অধিক যোগ্য। যেমন জনৈক মহান ব্যক্তি বলেছেন: যদি দুনিয়া নশ্বর স্বর্ণের হতো আর আখিরাত হতো চিরস্থায়ী মাটির পাত্রের, তবুও বুদ্ধিমান ব্যক্তি নশ্বর বস্তুর ওপর চিরস্থায়ী বস্তুকে প্রাধান্য দিতেন। তাহলে চিরন্তন নিআমত যা কোনো মানুষের অন্তরে কখনও উদিত হয়নি, তার ক্ষেত্রে কেমন হওয়া উচিত? তা তো কেবল পরকালেই বিদ্যমান।

"অতঃপর আল্লাহ তাঁকে নিরাপত্তার পায়ের ওপর অটল রেখে স্থানান্তরিত করেছেন" দৃশ্যত ও মর্মগতভাবে "শান্তির আবাসে" অর্থাৎ জান্নাতে; আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কারণে এর এই নামকরণ।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وفردوس الكرامة، وبوأه أسنى مراقي التكريم في دار المقامة، ومنحه أعلى مواهب الشرف في اليوم المشهود، فهو الشاهد المشهود، المحمود بالمحامد التي يلهمها للحامد المحمود، والمنزلة العلية، والدرجة السنية، في حظائر القدس الأقدسية، والمشاهد الأنفسية، واصل الله عليه فضائل الصلوات.................

--------------------------------------------

وملائكته على من يدخلها، أو لسلامتهم من الآفات، "وفردوس الكرامة" التكريم والتبجيل له صلى الله عليه وسلم، "وبوأه أسنى" أنزله أشرف "مراقي التكريم في دار المقامة" بالضم الإقامة، وقد تكون بمعنى القيام لأنك إذا جعلته من قام يقوم فمفتوح، أو من أقام يقيم، فمضمون وقوله تعالى: {لَا مُقَامَ لَكُمُ} [الأحزاب: 13] ، أي: لا موضع لكم وقرئ: {لَا مُقَامَ لَكُمُ} [الأحزاب: 13] ، بالضم، أي: لا إقامة لكم.

قال الجوهري: "ومنحه" أعطاه "أعلى مواهب الشرف في اليوم المشهود" يوم القيامة بحضرة جميع الخلائق "فهو الشاهد"؛ كما قال تعالى: {إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا} [الأحزاب: 45، الفتح: 8] ، أي: على أمته بتبليغه إليهم، وعلى الأمم بأن أنبياءهم بلغتهم "المشهود" المنظور إليه من جميع الرسل، "المحمود" الذي يحمد "بالمحامد التي يلهمها" بالبناء للفاعل في ذلك اليوم، ولم يلهمها قبل "للحامد" الذي هو النبي صلى الله عليه وسلم، "المحمود" أي: الله سبحانه وتعالى، فاعل يلهمها، "و" بوأه ومنحه "المزلة" المرتبة "العلية" كقيامه عن يمين العرش، وفي نسخ ذو المنزلة "والدرجة السنية" واحدة الدرجات وهي الوسيلة، التي هي أعلى درجة في الجنة؛ "في حظائر القدس الأقدسية" الجنة "والمشاهد الأنفسية" ولما ذكر أن المصطفى وصل إلى أعلى مراتب الكمال في الدارين، وكمال غيره، إما بهدايته والاقتباس من نور شريعته، ناسب أن يعظمه ويدعو له، أداء لبعض حقه وتوسلا إلى الله تعالى في قبول حمده وإتمام قصده.

فقال: "واصل الله عليه فضائل الصلوات" قال السهيلي: أصل الصلاة انحناء وانعطاف من الصلوين وهما عرقان في الظهر، ثم قالوا: صلى عليه، أي: انحنى له رحمة له، ثم سموا الرحمة حنوا وصلاة إذا أرادوا المبالغة فيها، فقوله صلى الله عليه وسلم أرق وأبلغ من رحمة في الحنو والعطف، فالصلاة أصلها من المحسوسات، ثم عبر بها عن هذا المعنى للمبالغة، ومنه قيل: صليت على الميت، أي: دعوت له دعاء من يحنو عليه ويعطف. ولهذا لا تكون الصلاة بمعنى الدعاء على الإطلاق، انتهى. والصلاة من الله رحمة، ومن العبد دعاء، ومن الملائكة استغفار. كما جاء عن الحبر ترجمان القرءان واعتراضه بقوله: {أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ} [البقرة: 157] ، رد بأنه أخص من مطلق الرحمة، وعطف العام على الخاص مفيد، وخص المعصوم بلفظها تعظيمًا له وتمييزًا.
এবং সম্মানের ফেরদাউস, আর তিনি তাঁকে চিরস্থায়ী আবাসে সম্মানের সর্বোচ্চ স্তরে স্থান দিয়েছেন, এবং তাঁকে সাক্ষ্যপ্রদ দিবসে শ্রেষ্ঠ মর্যাদাপূর্ণ উপহারসমূহ দান করেছেন। সুতরাং তিনি হলেন সেই সাক্ষী যাকে প্রত্যক্ষ করা হবে, সেই প্রশংসিত যিনি সেই সকল প্রশংসার মাধ্যমে প্রশংসিত যা প্রশংসাকারী প্রশংসিত সত্তাকে করার জন্য অনুপ্রেরণা প্রাপ্ত হবেন। আর সুউচ্চ মর্যাদা এবং মহিমান্বিত স্তর, অতি পবিত্র পবিত্রতার বেষ্টনীতে এবং আত্মিক দৃশ্যপটে। আল্লাহ তাঁর ওপর অব্যাহতভাবে সালাতের শ্রেষ্ঠত্বসমূহ বর্ষণ করুন...

--------------------------------------------

এবং তাঁর ফেরেশতাগণ যারা সেখানে প্রবেশ করবে তাদের ওপর, অথবা বিপদ-আপদ থেকে তাদের নিরাপত্তার জন্য। "সম্মানের ফেরদাউস" হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য সম্মান ও মহিমা। "আর তাঁকে সর্বোচ্চ স্তরে স্থান দিয়েছেন" অর্থাৎ তাকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ "চিরস্থায়ী আবাসে সম্মানের উচ্চস্তরসমূহ"-এ অবতীর্ণ করেছেন। 'মুক্বামাহ' (ميم এর পেশ সহ) অর্থ অবস্থান করা। এটি 'কিয়াম' (দাঁড়ানো) অর্থেও হতে পারে; কারণ যদি আপনি একে 'ক্বামা-ইয়াক্বুমু' থেকে ধরেন তবে তা 'মীম' এর জবর হবে, আর যদি 'আক্বামা-ইউক্বিমু' থেকে ধরেন তবে তা 'মীম' এর পেশ হবে। আর মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য কোনো অবস্থানের জায়গা নেই} [আহযাব: ১৩], অর্থাৎ তোমাদের কোনো জায়গা নেই। আর (অন্য ক্বিরাতে) 'মীম' এর পেশ সহ {তোমাদের কোনো অবস্থানের জায়গা নেই} পড়া হয়েছে, অর্থাৎ তোমাদের কোনো অবস্থান করা নেই।

জাওহারী বলেন: "এবং তাঁকে দান করেছেন" অর্থাৎ দিয়েছেন "সাক্ষ্যপ্রদ দিবসে শ্রেষ্ঠ মর্যাদাপূর্ণ উপহারসমূহ", আর সাক্ষ্যপ্রদ দিবস হলো কিয়ামতের দিন যখন সমস্ত সৃষ্টি উপস্থিত থাকবে। "সুতরাং তিনি হলেন সাক্ষী"; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা হিসেবে পাঠিয়েছি} [আহযাব: ৪৫, ফাতহ: ৮], অর্থাৎ আপন উম্মতের ওপর তাদের কাছে দ্বীন পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে এবং অন্য উম্মতদের ওপর এই মর্মে যে তাদের নবীগণ তাদের কাছে দ্বীন পৌঁছে দিয়েছিলেন। "প্রত্যক্ষকৃত" (আল-মাশহুদ) অর্থাৎ সকল রাসূল তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করবেন। "প্রশংসিত" (আল-মাহমুদ) যাঁকে প্রশংসা করা হয় "সেই সকল প্রশংসার মাধ্যমে যা তিনি (আল্লাহ) ইলহাম করবেন" - এটি সেই দিনে কর্তাবাচ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যা এর আগে ইলহাম করা হয়নি - "প্রশংসাকারীর প্রতি" যিনি হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর "প্রশংসিত" (আল-মাহমুদ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা, যিনি সেই প্রশংসা ইলহাম করার কর্তা। "এবং" তাঁকে স্থান দিয়েছেন ও দান করেছেন "সুউচ্চ মর্যাদা" বা সুউচ্চ অবস্থান, যেমন আরশের ডান দিকে তাঁর দাঁড়ানো। কোনো কোনো কপিতে 'মর্যাদার অধিকারী' শব্দটিও আছে। "মহিমান্বিত স্তর" যা জান্নাতের স্তরগুলোর মধ্যে একটি এবং তা হলো 'অসীলাহ', যা জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর। "অতি পবিত্র পবিত্রতার বেষ্টনীতে" অর্থাৎ জান্নাতে। "এবং আত্মিক দৃশ্যপটে"। যখন লেখক উল্লেখ করলেন যে, মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উভয় জাহানে পূর্ণতার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছেন, এবং অন্যদের পূর্ণতা হয় তাঁর হেদায়েত ও তাঁর শরীয়তের নূর থেকে আলো গ্রহণের মাধ্যমে, তখন তাঁর সম্মান করা এবং তাঁর জন্য দোয়া করা উপযুক্ত হলো, যা তাঁর হকের সামান্য দাবি আদায় এবং তাঁর (লেখকের) হামদ কবুল হওয়া ও উদ্দেশ্য পূর্ণ হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে উসীলা স্বরূপ।

অতঃপর তিনি বললেন: "আল্লাহ তাঁর ওপর অব্যাহতভাবে সালাতের শ্রেষ্ঠত্বসমূহ বর্ষণ করুন"। সুহাইলী বলেন: সালাত-এর মূল অর্থ হলো ঝুঁকে পড়া বা আনত হওয়া, যা পৃষ্ঠদেশের দুই পার্শ্বের রগ থেকে নির্গত। অতঃপর তারা বলে: 'সাল্লা আলাইহি' অর্থাৎ তিনি তার প্রতি দয়ার বশবর্তী হয়ে ঝুঁকে পড়েছেন। এরপর তারা দয়া বা রহমতকেও 'ঝুঁকে পড়া' ও 'সালাত' নামে অভিহিত করেছে যখন তারা তাতে অতিশয়তা বুঝাতে চেয়েছে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী রহমতের তুলনায় কোমলতা ও অনুরাগের ক্ষেত্রে অধিক সূক্ষ্ম ও অর্থবহ। মূলত সালাত শব্দটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় থেকে এসেছে, অতঃপর এই অর্থের জন্য অতিশয়তা বুঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে। এ থেকেই বলা হয়: 'আমি মৃত ব্যক্তির ওপর সালাত পড়েছি', অর্থাৎ আমি তার জন্য এমনভাবে দোয়া করেছি যেমনটি কেউ কারো প্রতি মায়া ও অনুরাগের বশবর্তী হয়ে করে থাকে। এই কারণেই সালাত নিরঙ্কুশভাবে কেবল দোয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয় না। সমাপ্ত। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো রহমত, বান্দার পক্ষ থেকে দোয়া এবং ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা। যেমনটি উম্মতের শ্রেষ্ঠ আলেম ও কুরআনের ভাষ্যকার (ইবনে আব্বাস রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর তাঁর এই বাণীর ওপর যে আপত্তি করা হয়: {তাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে সালাত ও রহমত বর্ষিত হয়} [বাক্বারা: ১৫৭], এর উত্তরে বলা হয় যে, এটি সাধারণ রহমতের চেয়ে অধিক বিশেষ। আর বিশেষের পর সাধারণের উল্লেখ করা অর্থবহ। আর মাসুমকে (নিষ্পাপ নবীকে) এই শব্দের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়েছে তাঁকে সম্মান ও পৃথক করার জন্য।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وشرائف التسليم، ونوامي البركات، وعلى آله الأطهار، وأصحابه الأبرار، صلاة وسلامًا لا ينقطع عنهما أمد الأمد، ولا يحصيهما العدد أبد الأبد.

وبعد:

--------------------------------------------

"وشرائف التسليم" مصدر، وجمع بين الصلاة والسلام للآية. ولما رواه أحمد والحاكم وصححه عن عبد الرحمن بن عوف، قال: خرج صلى الله عليه وسلم فأتبعته حتى دخل نخلًا، فسجد فأطال السجود، حتى خفت أو خشيت أن يكون الله قد توفاه، قال: فجئت أنظر، فرفع رأسه، فقال: "ما لك يا عبد الرحمن"؟ قال: فذكرت ذلك له، فقال: "إن جبريل قال لي: ألا أبشرك أن الله تعالى قال: من صلى عليك صليت عليه، ومن سلم عليك سلمت عليه"، والأحاديث في هذا الباب كثيرة جدًا.

"ونوامي البركات" زوائد: والإضافة بيانية، فالبركة الزيادة "وعلى آله الأطهار" أصل معناه الأتباع، ولم يضف في الأكثر المطرد إلا إلى العقلاء الأشراف، وزيد قيد الذكور والكل أغلبي؛ لقولهم: آل الله وآل البيت، قال:

وانصر على آل الصليـ … ـب وعابديه اليوم آلك

وفي أنهم بنو هاشم، أو والمطلب أو عترته وأهل بيته، أو بنو غالب أو أتقياء أمته، واختبر في مقام الدعاء، وأيد بأنه إذا أطلق في التعاريف، شمل الصحب والتابعين لهم بإحسان أقوال: ويجوز إضافته إلى الضمير على الأصح؛ وإن زعم المبرد أنه من لحن العامة، "وأصحابه" جمع قلة لصاحب وإن كانوا ألوفًا؛ لأن جمع القلة والكثرة إنما يعتبران في نكران الجموع، أما في المعارف فلا فرق بينهما. "الأبرار" روى البخاري في الأدب المفرد والطبراني في الكبير عن ابن عمر رفعه: "إنما سماهم الله تعالى الأبرار، لأنهم بروا الآباء والأمهات والأبناء"، كما أن لوالديك عليك حقًا كذلك لولدك، "صلاة وسلامًا" اسمان مصدران منصوبان على المفعولية المطلقة، مفيدان لتقوية عاملهما مؤكدان لمعناه؛ "لا ينقطع عنهما أمد الأمد" أي: زمانه، والأمد الغاية، "ولا يحصيهما" يطيقهما "العدد" لكثرتهما "أبد الأبد" أي: آخر الدهر؛ كما في الصحاح. قال الراغب: والمد والأبد متقاربان، لكن الأبد عبارة عن مدة الزمان التي لا حد لها ولا تتقيد ولا يقال أبد كذا. والأمد لها حد مجهول إذا أطلق وقد ينحصر فيقال: أمد كذا، كما يقال زمن كذا، والفرق بين الزمان والأمد: أن الأمد يقال باعتبار الغاية، والزمن عام في المبدأ والغاية، ولذا قيل: المدى والأمد متقاربان.

"وبعد" ظرف مبني على الضم كغيره من الظروف المقطوعة عن الإضافة، وأجاز هشام فتحه من غير تنوين، وقال ابن النحاس: إنه غير معروف. وروي عن سيبويه رفعها ونصبها ظرف
এবং সর্বোত্তম অভিবাদন ও ক্রমবর্ধমান বরকতসমূহ তাঁর পবিত্র বংশধর এবং পুণ্যবান সাহাবীদের উপর বর্ষিত হোক; এমন দরুদ ও সালাম যা অনন্তকাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন থাকবে এবং কোনো সংখ্যাই চিরকাল তা গণনা করতে পারবে না।

অতঃপর:

--------------------------------------------

"সর্বোত্তম অভিবাদন" শব্দটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল)। দরুদ ও সালামকে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে কুরআনের আয়াতের কারণে। এবং আহমাদ ও হাকীম বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হলেন এবং আমি তাঁর অনুসরণ করলাম যতক্ষণ না তিনি একটি খেজুর বাগানে প্রবেশ করলেন। এরপর তিনি সিজদা করলেন এবং দীর্ঘ সময় সিজদাবনত রইলেন, এমনকি আমার ভয় হলো বা আমি শঙ্কা বোধ করলাম যে সম্ভবত আল্লাহ তাঁর প্রাণ হরণ করেছেন। তিনি বলেন: আমি দেখতে কাছে গেলাম, তখন তিনি মাথা তুললেন এবং বললেন: "তোমার কী হয়েছে, হে আব্দুর রহমান?" তিনি বলেন: আমি তাঁর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই জিবরীল আমাকে বলেছেন: আমি কি আপনাকে সুসংবাদ দেব না যে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: যে ব্যক্তি আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করবে, আমি তার প্রতি রহমত বর্ষণ করব; আর যে আপনার প্রতি সালাম পাঠাবে, আমি তাকে নিরাপত্তা (সালাম) দান করব?" এবং এই বিষয়ে হাদিসসমূহ অনেক বেশি।

"ক্রমবর্ধমান বরকতসমূহ" মানে বৃদ্ধি পাওয়া বিষয়সমূহ। এখানে সম্বন্ধটি বর্ণনামূলক (ইদাফাতে বায়ানিয়া); কারণ বরকত অর্থ হলো বৃদ্ধি। "এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের উপর"; মূলগতভাবে এর অর্থ হলো অনুসারীগণ। এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল বুদ্ধিমান ও অভিজাতদের দিকেই সম্বন্ধ করা হয়। পুরুষ হওয়ার শর্তও অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে, তবে এ সবই মূলত অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কেননা তারা বলেন: আল্লাহর বংশ এবং আহলে বাইত। কবি বলেছেন:

আর ক্রুশ পূজারী … এবং এর ইবাদতকারীদের বিরুদ্ধে আজ আপনার আপনজনদের সাহায্য করুন

তাঁরা কি বনু হাশিম, নাকি বনু মুত্তালিবসহ, নাকি তাঁর পরিবার ও আহলে বাইত, নাকি বনু গালিব, নাকি তাঁর উম্মতের মুত্তাকীগণ—এই বিষয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। দোয়ার ক্ষেত্রে এটি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে এবং সমর্থন করা হয়েছে যে, সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যখন এটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি সাহাবীগণ এবং উত্তমভাবে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেঈদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী একে সর্বনামের (দমীর) দিকে সম্বন্ধ করা জায়েজ; যদিও মুবাররাদ দাবি করেছেন যে এটি সাধারণ মানুষের ভুল ভাষা। "এবং তাঁর সাহাবীগণ"; 'সাহিব' (সাথী) শব্দের স্বল্পতাবাচক বহুবচন (জামউ কিল্লাত) হলো আসহাব, যদিও তাঁরা হাজার হাজার ছিলেন। কারণ স্বল্পতাবাচক এবং আধিক্যবাচক বহুবচনের পার্থক্য কেবল অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকেরা) ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়। নির্দিষ্ট বিশেষ্যের (মারেফা) ক্ষেত্রে এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। "পুণ্যবানগণ" (আবরার); বুখারী তাঁর 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এ এবং তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ ইবনে উমর থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁদের পুণ্যবান বা আবরার নামকরণ করেছেন কারণ তাঁরা পিতা-মাতা এবং সন্তানদের সাথে সদ্ব্যবহার করেছিলেন।" তোমার ওপর তোমার পিতামাতার যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমার সন্তানেরও অধিকার রয়েছে। "দরুদ ও সালাম"; এ দুটি হলো ইসমে মাসদার যা মাফউলে মুতলাক হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়েছে, যা তাদের আমেলের (ক্রিয়ার) শক্তি বৃদ্ধি করে এবং অর্থকে দৃঢ় করে। "অনন্তকাল পর্যন্ত যা নিরবচ্ছিন্ন থাকবে" অর্থাৎ এর সময়কাল; আর 'আমানদ' অর্থ হলো শেষ সীমা। "সংখ্যা তা গণনা করতে পারবে না" অর্থাৎ তাদের আধিক্যের কারণে সংখ্যা তাদের আয়ত্ত করতে পারবে না। "চিরকাল" অর্থাৎ মহাকালের শেষ পর্যন্ত; যেমনটি 'সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে। রাغب বলেছেন: 'আলা-মুদ্দাহ' এবং 'আল-আবাদ' শব্দ দুটি কাছাকাছি অর্থবোধক। কিন্তু 'আবাদ' হলো এমন সময়ের কাল যা সীমাহীন এবং যা কোনো কিছুর সাথে আবদ্ধ নয়; 'অমুক সময়ের আবাদ' এভাবে বলা হয় না। আর 'আমানদ' সাধারণভাবে ব্যবহৃত হলে এর সীমা অজানা থাকে, তবে কখনো এটি সীমিত হতে পারে এবং বলা হয় 'অমুক সময়' যেমনটি বলা হয় 'অমুক কাল'। যামান এবং আমানদ-এর মধ্যে পার্থক্য হলো: আমানদ ব্যবহৃত হয় শেষ সীমার বিচারে, আর যামান হলো শুরু ও শেষ উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণ। এই জন্য বলা হয়েছে: মাদা এবং আমানদ কাছাকাছি অর্থবোধক।

"অতঃপর" (ওয়া বাদু); এটি একটি জরফ (অব্যয়) যা দম্মা (পেশ) এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত, যেমন অন্যান্য ইদাফাত বা সম্বন্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অব্যয়গুলো হয়ে থাকে। হিশাম একে তানভীন ছাড়া ফাতহা (যবর) দিয়ে পড়া বৈধ বলেছেন, তবে ইবনে নাহহাস বলেছেন যে এটি অপরিচিত। সিবওয়াইহ থেকে একে রফা (পেশ) এবং জরফ হিসেবে নাসব (যবর) দিয়ে পড়ার বর্ণনাও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
فهذه لطيفة من لطائف نفحات العواطف الرحمانية، ومنحة من منح مواهب العطايا الربانية، تنبئ عن نبذة من كمال شرف نبينا محمد -عليه أفضل الصلوات وأنمى التسليم وأسنى الصلات............................

--------------------------------------------

زمان كثيرًا كجاء زيد بعد عمرو، ومكان قليلا كدار زيد بعد دار عمرو، وهي هنا كما قيل صالحة للزمان باعتبار اللفظ، وللمكان باعتبار الرقم.

"فهذه" الفاء على توهم الناظر وجود، أما في الكلام البليغ لأن الشيء إذا كثر الإتيان به ترك وتوهم وجوده؛ كقوله:

بدا لي أني لست مدرك ما مضى … ولا سابق شيئًا إذا كان جائيًا

وقد كثر مصاحبة أما لبعد فإذا تركت توهم وجودها، أو على تقديرها في نظم الكلام، والواو عوض عنها او دون تعويض. أو لإجراء الظرف مجرى الشرط. قيل -وهو الوجه الوجيه- فلا يشكل بأن الفاء إنما تدخل في جواب الشرط. وذكر الدماميني أن بعد معمول لمحذوف تقديره وأقول بعد هذا الكلام، ومقول القول محذوف، أي: تنبه لكذا، فالفاء سببية، وهي هنا فصيحة والإشارة إلى موجود ذهنًا إن كانت قبل التأليف.

هذا، وقد ثبت أنه صلى الله عليه وسلم، كان يقول أما بعد في خطبه وشبهها، كما روى ذلك أربعون صحابيًا كما أفاده الرهاوي في أربعينه المتباينة الأسانيد، وما أدري ما وجه اقتصار كثيرين على الظرف كالمصنف ولا يكفي الاعتذار بأن المدار عليه أو روما للاختصار؛ لأن المطلوب اتباع ما جاءت به السنة، لاسيما والإطناب مطلوب في الخطب، وكون المدار عليه يحتاج لوحي يسفر عنه؛ وفي أن أول من نطق بأما بعد، داود؛ وكانت له فصل الخطاب؛ أو كعب أو يعرب أو ق أو سحبان أو يعقوب أو أيوب أقوال: وفي غرائب مالك للدارقطني أن يعقوب أول من قالها.

قال الحافظ: فإن ثبت وقلنا: إن قحطان من ذرية إسماعيل فيعقوب أول من قالها مطلقًا، وإن قلنا: إن قحطان قبل إبراهيم فيعرب أول من قالها، انتهى.

"لطيفة" من اللطافة ضد الكثافة، "من لطائف نفحات" عطايا "العواطف الرحمانية" المنسوبة إلى الرحمن تبارك وتعالى، "ومنحة" عطية "من منح مواهب" من إضافة الأعم إلى الأخص "العطايا" بمعنى الإعطاءات، فكأنه قيل منحة: هي بعض المنح التي هي مواهب حاصلة بإعطاء الله "الربانية" المنسوبة إلى الرب المربي لعباده بنعم لا تحصى، "تنبئ": تخبر "عن نبذة" بضم النون وقد تفتح، يقال: ذهب ماله وبقي منه نبذة، أي قليل، لأن القليل ينبذ، أي: يطرح ولا يبالي به لقلته، أي: عن خواص قليلة "من كمال شرف نبينا محمد عليه أفضل الصلوات وأنمى التسليم وأسنى" أرفع "الصلات" بكسر الصاد، جمع صلة بمعنى الإحسان من
এটি রহমানি করুণার সুগন্ধি স্নিগ্ধতার এক সূক্ষ্ম নিদর্শন এবং রব্বানি দান ও অনুদানসমূহের মধ্য হতে এক উপহার, যা আমাদের নবী মুহাম্মদ (যাঁর ওপর শ্রেষ্ঠ সালাত, বর্ধনশীল সালাম এবং উচ্চতর কল্যাণসমূহ বর্ষিত হোক)-এর মর্যাদার পূর্ণতার এক সামান্য অংশ সম্পর্কে অবহিত করে...

--------------------------------------------

এটি সময়ের ক্ষেত্রে অধিক ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'আমর-এর পরে যায়েদ এসেছে', এবং স্থানের ক্ষেত্রে অল্প ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'আমর-এর বাড়ির পরে যায়েদ-এর বাড়ি'। এটি এখানে, যেমনটি বলা হয়েছে, শব্দের দিক থেকে সময়ের জন্য এবং লিখিত বিন্যাসের দিক থেকে স্থানের জন্য উপযুক্ত।

"অতঃএব এটি" — এখানে 'ফা' অক্ষরটি পাঠকের মনে 'অতঃপর' (আম্মা) শব্দের অস্তিত্বের ধারণার ওপর ভিত্তি করে এসেছে। সাবলীল ও অলঙ্কারপূর্ণ বাক্যে কোনো বিষয়ের প্রয়োগ যখন অত্যধিক হয়, তখন সেটি উহ্য রাখা হয় এবং তার অস্তিত্ব ধরে নেওয়া হয়। যেমন কবির উক্তি:

আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, আমি অতীতকে ফিরে পাব না … আর যা আসছে আমি তার আগে যেতে পারব না।

'বাদু' শব্দের সাথে 'আম্মা' শব্দের সাহচর্য অত্যন্ত বেশি, তাই যখন এটি বাদ দেওয়া হয়, তখন তার উপস্থিতি ধরে নেওয়া হয়, অথবা বাক্যের বিন্যাসে তাকে উহ্য ধরা হয়। আর 'ওয়াও' তার স্থলাভিষিক্ত হয় অথবা স্থলাভিষিক্ত হওয়া ছাড়াই আসে। অথবা যরফকে শর্তের স্থলে স্থলাভিষিক্ত করার কারণে এমনটি হয়ে থাকে। বলা হয়েছে—আর এটিই গ্রহণযোগ্য মত—এতে কোনো সংশয় থাকে না যে, 'ফা' কেবল শর্তের উত্তর হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। দামামিনী উল্লেখ করেছেন যে, 'বাদু' শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত যার মূল রূপ হলো: 'আমি এই আলোচনার পর বলছি', আর যা বলা হয়েছে তাও উহ্য, অর্থাৎ: 'অমুক বিষয়ে সচেতন হও'। সুতরাং এখানে 'ফা' হলো কারণবাচক, আর এটি এখানে 'ফা-এ ফাসীহাহ'। যদি কিতাব রচনার আগে এটি মনে বিদ্যমান থাকে তবে সেই বিদ্যমান বিষয়ের দিকে এটি ইশারা।

উল্লেখ্য যে, এটি প্রমাণিত সত্য যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর খুতবা ও অনুরূপ আলোচনায় 'আম্মা বাদু' (অতঃপর) বলতেন। এটি চল্লিশজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন, যেমনটি রুহাওয়ী তাঁর ভিন্ন ভিন্ন সনদের চল্লিশ হাদিসের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আমি জানি না কেন গ্রন্থকারের মতো অনেকে কেবল যরফের (অর্থাৎ 'বাদু') ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন। এই অজুহাত যথেষ্ট নয় যে, মূল বিষয় এর ওপরই আবর্তিত হয় অথবা সংক্ষেপ করার জন্য এটি করা হয়েছে; কারণ উদ্দেশ্য হলো সুন্নাহর অনুসরণ করা, বিশেষ করে খুতবায় বিস্তারিত আলোচনা কাম্য। আর মূল বিষয় এর ওপর আবর্তিত হওয়ার জন্য ওহীর প্রমাণের প্রয়োজন। 'আম্মা বাদু' প্রথম কে বলেছেন—দাউদ (আ.); যা ছিল তাঁর জন্য 'ফাসলুল খিতাব'; অথবা কা'ব, ইয়ারুব, কুস, সাহবান, ইয়াকুব বা আইয়ুব—এ বিষয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। দারা কুতনীর 'গারাইবে মালেক' গ্রন্থে এসেছে যে, ইয়াকুব (আ.) সর্বপ্রথম এটি বলেছেন।

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: যদি এটি প্রমাণিত হয় এবং আমরা বলি যে কাহতান ইসমাইল (আ.)-এর বংশধর, তবে ইয়াকুব (আ.)-ই নিরঙ্কুশভাবে সর্বপ্রথম এটি বলেছেন। আর যদি আমরা বলি যে কাহতান ইব্রাহিম (আ.)-এর আগে ছিলেন, তবে ইয়ারুব সর্বপ্রথম এটি বলেছেন। সমাপ্ত।

"লাতীফাহ" শব্দটি লতাফত থেকে এসেছে, যা স্থূলতার বিপরীত। "রহমানি করুণার সুগন্ধি স্নিগ্ধতার মধ্য হতে" অর্থাৎ বরকতময় ও সুউচ্চ রহমানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত দানসমূহ। "মিনহাহ" অর্থ উপহার, "দান ও অনুদানসমূহের মধ্য হতে" — এখানে সাধারণকে বিশেষের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। "আতায়া" মানে প্রদানসমূহ। যেন বলা হয়েছে—উপহার হলো সেই সকল অনুদানের অংশ যা আল্লাহর প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত প্রতিভা। "রব্বানি" শব্দটি রবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যিনি তাঁর বান্দাদের অগণিত নেয়ামত দিয়ে লালন-পালন করেন। "তুনবিউ" অর্থ সংবাদ দেওয়া। "নুবযাহ" — নুন অক্ষরে পেশ সহকারে, কখনও জবরও হয়। বলা হয়: তার সম্পদ চলে গেছে কিন্তু তার সামান্য কিছু (নুবযাহ) বাকি আছে। কারণ সামান্য জিনিসকে ছুড়ে ফেলা হয় অথবা তার তুচ্ছতার কারণে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অর্থাৎ আমাদের নবী মুহাম্মদ (যাঁর ওপর শ্রেষ্ঠ সালাত, বর্ধনশীল সালাম এবং উচ্চতর কল্যাণসমূহ বর্ষিত হোক)-এর মর্যাদার পূর্ণতার কতিপয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এটি অবহিত করে। "আসনাল সিলাত" — অর্থাৎ উচ্চতর। "সিলাত" সদ অক্ষরে যের সহকারে, যা 'সিলাহ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ অনুগ্রহ।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وسبق نبوته في الأزمان الأزلية، وثبوت رسالته في الغايات الأحدية، والتبشير بأحمديته في الأزمان الخالية، والتذكير بمحمديته في الأمم الماضية، وإشراق بوارق لوامع أنوار آيات ولادته التي سار ضوء فجرها...................................

--------------------------------------------

وصل، والهاء عوض من الواو المحذوفة، كما في النهاية، وهذه النبذة وإن كانت قليلة في نفسها، لكنها محيطة في نوعها فريدة في فنها جامعة في شأنها.

"و" تنبئ عن "سبق نبوته في الأزمان الأزلية" القديمة وآدم بين الروح والجسد "وثبوت رسالته في الغايات الأحدية" المنسوبة للأحد، قال الكاشي في لطائفه: الغايات يعني بها ما يتم به ظهور الكمال المختص بكل شيء بالنسبة إلى ما كان له من ذلك الكمال في حضرة العلم الأزلي، كما هو الحال من كون الغاية من السرير الجلوس عليه، والقلم الكتابة به.

قال: وهكذا لكل موجود إنسانًا أو غيره غايات، انتهى. "والتبشير بأحمديته" أي: صفاته المحمودة، ومنها أن اسمه أحمد "في الأزمان الخالية" وقد روى أبو نعيم والطبراني أن في التوراة عبدي أحمد المختار، وفي التنزيل عن عيسى {وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} "والتذكير بمحمديته في الأمم الماضية" المتبادر بأن اسمه محمد عليه السلام.

"و" تنبئ عن "إشراق بوارق" جمع بارق، قال المجد: سحاب ذو برق، "لوامع أنوار آيات ولادته" من نار ينور إذا نفر ومنه نوار للظبية، وبه سميت المرأة فوضع له لانتشاره أو لإزالة الظلام كأنه ينفر منه، ويطلئق على الله والمصطفى والقرءان "التي سار ضوء فجرها" قيل: الضوء أبلغ من النور؛ لقوله تعالى: {هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا} [يونس: 5] ، وعليه الزمخشري إذ قال: الإضاءة فرط الإنارة، ورد بأن ابن السكيت سوى بينهما، وأجيب بأن كلامه بحسب أصل الوضع، وما ذكر بحسب الاستعمال، كما في الأساس.

والتحقيق ما في الكشف: أن الضوء فرع النور وهو الشعاع المنتشر، ولذا أطلق النور على الذوات دون الضوء، وفي الروض الأنف في قول ورقة:

ويظهر في البلاد ضياء نور … يقيم به البرية أن يموجا

ما يوضح الفرق بينهما، وأن الضياء الشعاع المنتشر عن النور، فالنور أصله ومنه مبدؤه وعنه يصدر، قال تعالى: {فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ} [البقرة: 17] ، {جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً} لأن القمر لا ينتشر عنه ما ينتشر عنها، لا سيما في طرفي الشهر، ولذا سمى الله القمر نورًا دون ضياء فعلم أن بينهما فرقًا لغة واستعمالا، وأصل الفجر الشق الواسع، قال الراغب: ومنه قيل للصبح فجر لكونه فاجر الليل.
অনাদি অনন্ত কাল হতে তাঁর নবুওয়াতের অগ্রবর্তিতা, এককত্বের চূড়ান্ত লক্ষ্যসমূহে তাঁর রিসালাতের স্থায়িত্ব, বিগত হওয়া যামানাসমূহে তাঁর আহমাদিয়াত (প্রশংসিত বৈশিষ্ট্য) এর সুসংবাদ প্রদান, অতীত উম্মতগণের মাঝে তাঁর মুহাম্মাদিয়াত এর স্মরণ এবং তাঁর জন্মের নিদর্শনাদির উজ্জ্বল আলোকচ্ছটার বিচ্ছুরণ যার ভোরের আলো বিস্তৃত হয়েছিল...................................

--------------------------------------------

এটি 'ওয়াসল' শব্দ হতে এসেছে, আর 'হা' বর্ণটি এখানে বিলুপ্ত 'ওয়াও' এর পরিবর্তে এসেছে, যেমনটি 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে রয়েছে। এই অংশটি যদিওবা সংক্ষেপে সংকলিত, তবে এটি স্বীয় প্রকারভেদে ব্যাপক, স্বীয় শাস্ত্রে অনন্য এবং স্বীয় বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ।

"ওয়াও" বর্ণটি 'অনাদি অনন্ত কাল হতে তাঁর নবুওয়াতের অগ্রবর্তিতা'র সংবাদ দিচ্ছে যখন আদম রুহ ও শরীরের অন্তর্বর্তী অবস্থায় ছিলেন। 'এককত্বের লক্ষ্যসমূহে তাঁর রিসালাতের স্থায়িত্ব' যা 'আহাদ' বা এককের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আল-কাশি তাঁর 'লাতাইফ' গ্রন্থে বলেন: 'লক্ষ্যসমূহ' বলতে তিনি সেই বিষয়কে বুঝিয়েছেন যা দ্বারা প্রতিটি জিনিসের সাথে বিশেষিত পূর্ণতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যা অনাদি ইলমের দরবারে সেই বস্তুর জন্য নির্ধারিত ছিল; যেমন খাটের লক্ষ্য হলো তার উপর বসা এবং কলমের লক্ষ্য হলো তা দিয়ে লেখা।

তিনি বলেন: এভাবেই প্রতিটি বিদ্যমান সত্তার—চাই তা মানুষ হোক বা অন্য কিছু—লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে (সমাপ্ত)। "তাঁর আহমাদিয়াত এর সুসংবাদ প্রদান" অর্থাৎ তাঁর প্রশংসিত গুণাবলি, যার অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর নাম 'আহমাদ'। আবু নুআইম ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন যে তাওরাতে রয়েছে: 'আহমাদ আল-মুখতার আমার বান্দা'। আর ওহী বা মহাগ্রন্থে ঈসা আলাইহিস সালাম হতে বর্ণিত হয়েছে: {এবং আমি এমন একজন রাসূলের সুসংবাদ দিচ্ছি যিনি আমার পরে আসবেন, যাঁর নাম হবে আহমাদ}। "অতীত উম্মতগণের মাঝে তাঁর মুহাম্মাদিয়াত এর স্মরণ" অর্থাৎ এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বুঝানো হয়েছে যে তাঁর নাম হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

"ওয়াও" বর্ণটি 'উজ্জ্বল আলোকচ্ছটার' বিচ্ছুরণ সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছে। 'বাওয়ারিক' হলো 'বারিক' এর বহুবচন। আল-মাজদ বলেন: বিদ্যুৎ চমকানো মেঘমালা। "তাঁর জন্মের নিদর্শনাদির উজ্জ্বল জ্যোতি" যা 'নার' (আগুন) থেকে উদ্ভূত যা বিচ্ছুরিত হলে আলোকিত হয়। এর থেকেই হরিণীকে 'নাওয়ার' বলা হয় এবং নারীকেও এই নামে অভিহিত করা হয় তার বিস্তৃতি বা অন্ধকার দূর করার কারণে, যেন অন্ধকার তার থেকে পলায়ন করে। এটি আল্লাহ, মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কুরআনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। "যার ভোরের আলো বিস্তৃত হয়েছিল" - বলা হয়েছে যে, 'দ্বউ' শব্দটি 'নূর' অপেক্ষা অধিক অর্থবহ; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যকে তেজস্কর আলো (দ্বিয়া) এবং চাঁদকে নূর (জ্যোতি) করেছেন} [ইউনূস: ৫]। আল্লামা যামাখশারী এই মত পোষণ করেছেন, তিনি বলেন: 'ইদাআহ' হলো আলোর আধিক্য। এর প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে, ইবনুল সিক্কিত উভয়টিকে সমান বলেছেন। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, তাঁর উক্তিটি ভাষাগত মূল উৎপত্তির প্রেক্ষিতে, আর যা উপরে বর্ণিত হয়েছে তা ব্যবহারের প্রেক্ষিতে, যেমনটি 'আল-আসাস' গ্রন্থে রয়েছে।

প্রকৃত গবেষণা হলো যা 'আল-কাশফ' গ্রন্থে বিদ্যমান: 'দ্বউ' হলো 'নূর' এর শাখা এবং এটি হলো বিচ্ছুরিত রশ্মি। এই কারণেই নূর শব্দটি সত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু 'দ্বউ' হয় না। 'রওদুল উনুফ' গ্রন্থে ওয়ারাকার উক্তিতে রয়েছে:

এবং দেশসমূহে নূরের আলো (দ্বিয়া) প্রকাশ পাবে … যার মাধ্যমে তিনি সৃষ্টিজগতকে বিশৃঙ্খলা হতে স্থির রাখবেন

এটি এই দুইয়ের পার্থক্য স্পষ্ট করে যে, 'দ্বিয়া' হলো সেই রশ্মি যা নূর হতে বিচ্ছুরিত হয়। সুতরাং নূর হলো তার মূল এবং সেখান হতেই তার উৎপত্তি ও প্রকাশ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যখন আগুন তার চারপাশকে আলোকিত করল, তখন আল্লাহ তাদের নূর কেড়ে নিলেন} [আল-বাকারা: ১৭]। {সূর্যকে দ্বিয়া করেছেন} কারণ চাঁদ হতে তেমন কিছু বিচ্ছুরিত হয় না যা সূর্য হতে হয়, বিশেষ করে মাসের দুই প্রান্তে। তাই আল্লাহ চাঁদকে নূর বলেছেন, দ্বিয়া বলেননি। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে ভাষা ও ব্যবহারের দিক দিয়ে এই দুটির মাঝে পার্থক্য রয়েছে। আর 'ফজর' এর মূল অর্থ হলো প্রশস্ত বিদীর্ণ হওয়া। রাঘিব বলেন: এখান থেকেই প্রভাতকে ফজর বলা হয় কারণ তা রাতের অন্ধকারকে বিদীর্ণ করে।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
في سائر بريته، ودار بدر فخرها في أقطار ملته، وعواطف لطائف رضاعه وحضانته، وينابيع أسرار سر مسراه وبعثته وهجرته، وعوارف معارف عبوديته الساري عرف شذاها في آفاق قلوب أهل ولايته، ونفائس أنفاس أحواله الزكية، ودقائق حقائق سيرته العلمية، إلى حين نقلته لروضة قدسه الأحدية، وتشريفه بشرائف الآيات، وتكريمه بكرائم المعجزات، وترفيعه في آي التنزيل برفعه ذكره، وعلو خطره، وتعظيم محاسن................

--------------------------------------------

"في سائر بريته" خليقته من برأ النسمة فيجوز همزه وتخفيفه وهو أفصح وأكثر، وهو يدل على أنه غير معتل من البري بمعنى التراب، كما ذهب إليه بعض اللغويين. "ودار بدر" اسم القمر ليلة الرابع عشر لمبادرته بالطلوع غروب الشمس، أو لتمام عدده من البدرة، كما مر "فخرها" بفاء وخاء معجمة، مصدر كالفخار، أي: المباهاة.

"في أقطار" نواحي "ملته" قال الراغب: هي اسم لما شرعه الله تعالى لعباده على لسان أنبيائه، ليتوصلوا به إلى جواره، والفرق بينها وبين الدين: أن الملة لا تضاف إلى الذي تستند إليه، ولا تكاد توجد مضافة إلى الله ولا إلى آحاد الأمة ولا تستعمل إلا في جملة الشرائع دون آحادها. كذا قال، "و" تنبئ عن "عواطف لطائف رضاعه وحضانته" بفتح الحاء وكسرها؛ كما في المصباح، "وينابيع" عيون "أسرار سر مسراه وبعثته وهجرته" من مكة إلى طيبة، "وعوارف معارف عبوديته الساري عرف" أي: ريح "شذاها" جمع شذاة، وهو في الأصل كسر العود بكسر ففتح، أي: العود الذي يتبخر به وهو مكسر لكونه أقوى في الرائحة، ويطلق على الرائحة نفسها. والمراد هنا المعنى الأول لئلا يتحد المضاف والمضاف إليه.

"في آفاق" نواحي "قلوب أهل ولايته" الموالين له باتباع أوامره واجتناب نواهيه واقتباس هداه. "و" تنبئ عن "نفائس" جمع نفيس، أي: جلائل "أنفاس أحواله الزكية" التي لا يدانيه فيها مخلوق "ودقائق" جمع دقيقة من الدقة خلاف الغلظة أو صغر الجرم "حقائق سيرته العلية" هي هيئة السير جمعها سير، ثم خصت بحاله في غزواته ونحوها "إلى حين نقلته لروضة قدسه" الجنة "ألأحدية" المنسوبة للأحد سبحانه، لابتداعه لها وجعلها مختصة بالموحدين محرمة على غيرهم.

"و" تنبئ عن "تشريفه بشرائف الآيات" العلامات الدالة على نبوته صلى الله عليه وسلم، "و" عن "تكريمه بكرائم المعجزات" المور المعجزة للبشر الخارقة للعادة "وترفيعه في آي التنزيل" بمد الهمزة وتخفيف الباء، جمع آية أو اسم جنس جمعي لها "برفعة ذكره وعلو خطره" بفتح الخاء المعجمة وفتح الطاء المهملة: قدره ومنزلته، "وتعظيم" توفير وتكريم "محاسن" جمع حسن على
তাঁর সকল সৃষ্টির মাঝে, এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণিমার চাঁদ আবর্তিত হয়েছে তাঁর আদর্শের দিগন্তসমূহজুড়ে, এবং তাঁর দুগ্ধপান ও লালন-পালনের করুণাসিক্ত সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ, এবং তাঁর মিরাজ, নবুওয়াত ও হিজরতের রহস্যের গূঢ় উৎসসমূহ, এবং তাঁর দাসত্বের উচ্চতর জ্ঞানের উপহারসমূহ যার সৌরভের সুবাস তাঁর আনুগত্যকারীদের হৃদয়ের দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে, এবং তাঁর পবিত্র অবস্থাসমূহের মূল্যবান মুহূর্তসমূহ, এবং তাঁর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সিরাতের সূক্ষ্ম ও প্রকৃত রহস্যসমূহ; আল্লাহর অদ্বিতীয় পবিত্র বাগানে তাঁর স্থানান্তরিত হওয়ার সময় পর্যন্ত। আর তাঁকে উচ্চমর্যাদাপূর্ণ নিদর্শনাবলি দ্বারা ভূষিত করা, শ্রেষ্ঠ অলৌকিক ঘটনাবলি দ্বারা সম্মানিত করা এবং অবতীর্ণ কিতাবের আয়াতসমূহে তাঁর স্মরণকে সমুন্নত করার মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করা, তাঁর উচ্চ পদমর্যাদা এবং সৌন্দর্যের মাহাত্ম্যকে সম্মান জানানো................

--------------------------------------------

"তাঁর সকল সৃষ্টির মাঝে" অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টিজগত। এটি 'বারাউন নাসামাহ' (প্রাণ সৃষ্টি করা) থেকে উদ্ভূত, তাই এটি হামজাসহ বা হামজা ছাড়া তখফিফ করে পড়া জায়েজ, যা অধিক বিশুদ্ধ ও প্রচলিত। এটি নির্দেশ করে যে শব্দটি 'বারী' বা মাটি থেকে উৎপন্ন নয়, যেমনটি কোনো কোনো ভাষাবিদ মনে করেন। "পূর্ণিমার চাঁদ" হলো চৌদ্দতম রাতের চাঁদের নাম, কারণ এটি সূর্যাস্তের সাথে সাথেই উদিত হয়, অথবা 'বাদরাহ' শব্দ থেকে সংখ্যা পূর্ণ হওয়ার কারণে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। "তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব" ফা এবং নুকতাযুক্ত খা বর্ণ যোগে, এটি একটি মূলধাতু যেমন 'ফখার', অর্থাৎ গৌরব করা বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা।

"দিগন্তসমূহজুড়ে" অর্থাৎ প্রান্তসমূহ। "তাঁর আদর্শ" সম্পর্কে রাগিব বলেছেন: এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীদের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের জন্য প্রবর্তিত জীবনব্যবস্থা, যাতে তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। 'মিল্লাত' ও 'দ্বীন'-এর মধ্যে পার্থক্য হলো: মিল্লাতকে তার উৎসের দিকে সম্বন্ধ করা হয় না এবং এটি সাধারণত আল্লাহর দিকে বা উম্মতের কোনো ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয় না। এটি কেবল সামগ্রিক শরিয়তের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, এর একক বিধানের ক্ষেত্রে নয়। তিনি এমনটিই বলেছেন। "এবং" শব্দটি যুক্ত হয়েছে "দুগ্ধপান ও লালন-পালনের করুণাসিক্ত সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ"-এর প্রতি নির্দেশ করতে। লালন-পালন (হাদানাহ) শব্দটি হা বর্ণের ফাতহা বা কাসরা উভয়ভাবেই পড়া যায়, যেমনটি আল-মিসবাহ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। "উৎসসমূহ" অর্থাৎ ঝরনাধারা। "তাঁর মিরাজ, নবুওয়াত ও হিজরতের রহস্যের গূঢ় উৎসসমূহ" যা মক্কা থেকে তাইবায় (মদিনা) সংঘটিত হয়েছিল। "তাঁর দাসত্বের উচ্চতর জ্ঞানের উপহারসমূহ যার সৌরভ" অর্থাৎ সুগন্ধ। "সুবাস" এটি 'শাজাহ' শব্দের বহুবচন। মূলগতভাবে এর অর্থ সুগন্ধি কাঠের টুকরো যা জ্বালিয়ে সুবাস গ্রহণ করা হয়। টুকরো করা অবস্থায় এর ঘ্রাণ অধিক শক্তিশালী হয় বলে একে এই নামে অভিহিত করা হয়। কখনও কখনও এটি সরাসরি সুগন্ধ অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তবে এখানে প্রথম অর্থটিই উদ্দেশ্য যাতে শব্দটি তার পরবর্তী শব্দের সাথে পুনরাবৃত্তি না হয়।

"দিগন্তসমূহ" অর্থাৎ প্রান্তসমূহ। "তাঁর আনুগত্যকারীদের হৃদয়" যারা তাঁর আদেশ অনুসরণ, নিষেধ বর্জন এবং তাঁর হেদায়েত গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর অনুসারী হয়েছে। "এবং" শব্দটি নির্দেশ করে "মূল্যবান" এর দিকে যা 'নাফিস'-এর বহুবচন, অর্থাৎ মহিমান্বিত। "তাঁর পবিত্র অবস্থাসমূহের শ্বাসপ্রশ্বাস (মুহূর্তসমূহ)" যাতে কোনো সৃষ্টি তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না। "সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ" এটি 'দাকিকা' শব্দের বহুবচন, যা স্থূলতার বিপরীত অথবা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়। "তাঁর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সিরাতের প্রকৃত রহস্যসমূহ" এটি জীবন চলার পদ্ধতি বিশেষ যার বহুবচন হলো 'সিয়ার'। পরবর্তীতে এটি তাঁর যুদ্ধাভিযান ও অনুরূপ ঘটনাবলির জন্য বিশেষায়িত হয়েছে। "পবিত্র বাগানে তাঁর স্থানান্তরিত হওয়ার সময় পর্যন্ত" অর্থাৎ জান্নাত। "অদ্বিতীয়" যা মহান অদ্বিতীয় আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, কারণ তিনি এটি সৃষ্টি করেছেন এবং একে কেবল একত্ববাদীদের জন্য নির্দিষ্ট করে অন্যদের জন্য হারাম করেছেন।

"এবং" শব্দটি নির্দেশ করে "মর্যাদাপূর্ণ নিদর্শনাবলি দ্বারা তাঁকে সম্মানিত করা" যা তাঁর নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণসমূহ। "এবং" নির্দেশ করে "শ্রেষ্ঠ অলৌকিক ঘটনাবলি দ্বারা তাঁকে সম্মানিত করা" যা সাধারণ অভ্যাসের বহির্ভূত এবং যা মানুষকে অক্ষম করে দেয়। "অবতীর্ণ কিতাবের আয়াতসমূহে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করা" এখানে আয়াত শব্দের বহুবচন বা জাতিবাচক নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। "তাঁর স্মরণকে উচ্চ করার মাধ্যমে এবং তাঁর উচ্চ পদমর্যাদার কারণে" এখানে 'খাতর' শব্দটি খা এবং ত্বা বর্ণের ফাতহা যোগে: যার অর্থ মর্যাদা ও অবস্থান। "মাহাত্ম্য" তথা সম্মান ও মর্যাদা প্রদান। "সৌন্দর্যের" এটি 'হুসন' এর বহুবচন হিসেবে।
(খণ্ড: ১) শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
شمائله وخلائقه، وتخصيصه بعموم رسالته، ووجوب محبته واتباع طريقته وسيادته الجامعة لجوامع السؤدد في مشهد مشاهد المرسلين، وتفضيله بالشفاعة العظمى، العامة لعموم الأولين والآخرين، إلى غير ذلك من عجائب آياته ومنحه، وغرائب أعلام نبوته وحججه.

أوردتها حججًا قاهرة على الملحدين، وذكرى نافعة للموحدين..................

--------------------------------------------

خلاف القياس، أو جمع مفرد مقدر لم يسمع كمحسن بزنة مقعد أو لا واحد له، وهي الأمر الحسن مطلقًا، أو الحسن الخفي، "شمائله" جمع شمال بالكسر، أي: أخلاقه وصفاته المحمودة "وخلائقه" جمع خلق؛ كقول حسان:

إن الخلائق فاعلم شرها البدع

ولم يذكره صاحب القاموس في جموع خليقة.

"وتخصيصه بعموم رسالته" مع الجواب عن نوح وآدم عليهما السلام، "و" تنبئ عن "وجوب محبته و" وجوب "اتباع طريقته" في غير ما اختص به "و" تنبئ عن "سيادته الجامعة لجوامع السؤدد" بالضم أنواع السيادة "في مشهد مشاهد المرسلين" في الدنيا كاقتدائهم به ليلة الإسراء، والأخرى فآدم فمن سواه تحت لوائه، "وتفضيله بالشفاعة العظمى" في فصل القضاء بين الخلق "العامة لعموم الأولين والآخرين" التي يتنصل منها رؤساء الأنبياء، حتى يقوم لها "إلى غير ذلك من عجائب آياته" جمع آية، وهي العلامة، "ومنحه" بكسر ففتح جمع، أي: عطاياه، "وغرائب أعلام" جمع علم بفتحتين، العلامة المنصوبة في الطريقة ليعرف بها، ولذا سميت نصبًا، ويكون بمعنى الجبل أيضًا لأنه يهتدي به؛ كما قالت الخنساء:

إن صخرا لتأتم الهداة به … كأنه علم في رأسه نار

وفي قولها: صخر، وهو اسم أخيها لطيفة اتفاقية لمناسبة الجبل. "نبوته" عرفها إمام الحرمين بأنها صفة كلامية، هي قول الله تعالى: هو رسولي وتصديقه بالأمر الخارق، ولا تكون عن قوة في النفس كما قاله الحكماء، ولا عن رياضة يحصل بها الصفاء فيحصل التجلي في النفس، كما قاله بعض الصوفية، ولا عن قربان الهياكل السبعة كما زعمه المنجمون، ولا هي بالإرث، كما قال بعض أهل البيت وأتباعهم، ولا هي علم الإنسان بربه لأنه عام، ولا علم النبي بكونه نبيًا لتأخره بالذات، انتهى.

"وحججه" براهينه "أوردتها حججًا قاهرة" صفة لحجج، أي: مانعة لهم من المعارضة، "على الملحدين" متعلق بحجج فلا حاجة لدعوى التضمين في قاهرة "وذكرى نافعة" أي: أسبابًا مذكرة "للموحدين" خصهم بالذكر لأنهم المنتفعون بها كما في قوله: {وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى
তাঁর গুণাবলি ও স্বভাব-চরিত্র, তাঁর রিসালাতের সার্বজনীনতার মাধ্যমে তাঁকে বিশিষ্ট করা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণ ও তাঁর সুন্নাহর অনুসরণের আবশ্যকতা, এবং রাসুলগণের উপস্থিতির দৃশ্যপটে সমস্ত শ্রেষ্ঠত্বের আধার হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব লাভ করা। এছাড়া পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য প্রযোজ্য সুমহান সুপারিশের (শাফায়াতে কুবরা) মাধ্যমে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর আরও অন্যান্য বিস্ময়কর নিদর্শন, অনুদান, নবুওয়াতের অসাধারণ চিহ্ন ও প্রমাণসমূহ।

আমি এগুলো নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অকাট্য দলিল হিসেবে এবং একত্ববাদীদের জন্য উপকারী স্মারক হিসেবে উপস্থাপন করেছি..................

--------------------------------------------

এটি নিয়মের পরিপন্থী, অথবা এটি একটি উহ্য একবচনের বহুবচন যা লোকমুখে প্রচলিত নয়, যেমন 'মুহসিন' শব্দটি 'মাকআদ' এর ওজনে, অথবা এর কোনো একবচন নেই। এটি সাধারণত সুন্দর বিষয় অথবা সূক্ষ্ম সৌন্দর্যকে বোঝায়। 'শামাইল' শব্দটি 'শিমাল' (শিন বর্ণের নিচে কাসরা যোগে) এর বহুবচন, যার অর্থ: প্রশংসনীয় চরিত্র ও গুণাবলি। 'খালাইক' শব্দটি 'খুলুক' এর বহুবচন; যেমন হাসসানের উক্তি:

নিশ্চয়ই সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো বিদআত, তা জেনে রেখো।

কামুস গ্রন্থের রচয়িতা একে 'খালিক্বাহ' এর বহুবচনের অন্তর্ভুক্ত করেননি।

'তাঁর রিসালাতের সার্বজনীনতার মাধ্যমে তাঁকে বিশিষ্ট করা'—এখানে নূহ ও আদম আলাইহিমাস সালামের বিষয়ে উত্থাপিত আপত্তির জবাবও রয়েছে। 'এবং' শব্দটি তাঁর 'প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর পথের অনুসরণ ওয়াজিব হওয়া'র প্রতি ইঙ্গিত দেয় এমন বিষয়ে যা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট নয়। 'এবং' শব্দটি তাঁর 'নেতৃত্বের' প্রতি ইঙ্গিত দেয় যা সমস্ত শ্রেষ্ঠত্বের প্রকারভেদকে একত্রিত করে, যা 'রাসুলগণের সমাবেশের দৃশ্যপটে' পরিলক্ষিত হয়; যেমন দুনিয়াতে ইসরার রাতে তাঁদের ইমামতি করা এবং আখেরাতে আদমসহ অন্যান্য নবীদের তাঁর পতাকাতলে থাকা। 'মহান সুপারিশের মাধ্যমে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব' বিচার ফয়সালার সময় 'যা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য প্রযোজ্য', যা থেকে প্রধান নবীগণও বিরত থাকবেন এবং পরিশেষে তিনি তার জন্য দণ্ডায়মান হবেন। 'তাঁর বিস্ময়কর নিদর্শনসমূহ পর্যন্ত' এখানে 'নিদর্শন' (আয়াত) বলতে চিহ্ন বোঝানো হয়েছে। 'তাঁর অনুদানসমূহ' (মিনাহ) এর অর্থ হলো তাঁর প্রতি আল্লাহর দান। 'অসাধারণ চিহ্নসমূহ' এখানে 'আলাম' শব্দটি দুই জবরসহ 'আলামুন' এর বহুবচন, যার অর্থ রাস্তায় স্থাপিত কোনো চিহ্ন যা দ্বারা পথ চেনা যায়, একে 'নুসুব'ও বলা হয়। এর অর্থ পাহাড়ও হতে পারে, কারণ পাহাড়ের মাধ্যমে পথ চেনা যায়; যেমন খিনসা বলেছিলেন:

নিশ্চয়ই সাখর এমন এক ব্যক্তিত্ব যাকে পথপ্রদর্শকরা অনুসরণ করে, যেন সে একটি পাহাড় যার চূড়ায় আগুন জ্বলছে।

তাঁর বর্ণনায় 'সাখর' শব্দটি তাঁর ভাইয়ের নাম হলেও এখানে পাহাড়ের সাথে একটি চমৎকার ও কাকতালীয় মিল রয়েছে। 'নবুওয়াত'-এর সংজ্ঞায় ইমামুল হারামাইন বলেন যে, এটি একটি কালামী (বাচনিক) গুণ, যা আল্লাহর এই বাণী: 'তিনি আমার রাসুল' এবং অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে তাঁর সত্যায়ন। এটি আত্মার কোনো বিশেষ শক্তি থেকে উদ্ভূত হয় না যেমনটি দার্শনিকরা বলে থাকেন, কিংবা কোনো রিয়াযাতের (সাধনা) মাধ্যমে প্রাপ্ত স্বচ্ছতা নয় যা দ্বারা অন্তরে প্রকাশ ঘটে যেমনটি কিছু সুফি দাবি করেন, এটি সাতটি নক্ষত্রপুঞ্জের নৈকট্য লাভের ফলেও হয় না যেমনটি জ্যোতিষীরা মনে করে, আর এটি কোনো উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বিষয়ও নয় যেমনটি আহলে বাইতের কিছু লোক ও তাদের অনুসারীরা বলে থাকে। এটি মানুষের তার রব সম্পর্কে জ্ঞান হওয়াও নয় কারণ তা তো সাধারণ বিষয়, আবার নবীর নিজের নবী হওয়ার জ্ঞান থাকাও নবুওয়াত নয় কারণ এটি সত্তাগতভাবে পরের বিষয়, সমাপ্ত।

'তাঁর প্রমাণসমূহ' অর্থাৎ তাঁর দলিলসমূহ। 'আমি এগুলো অকাট্য দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেছি'—এটি দলিলের বিশেষণ, অর্থাৎ যা বিরোধীদের মোকাবিলা করতে বাধা দেয়। 'নাস্তিকদের বিরুদ্ধে' এটি দলিলের সাথে সম্পৃক্ত, তাই অকাট্য শব্দের মধ্যে কোনো লুকায়িত অর্থের প্রয়োজন নেই। 'উপকারী স্মারক' অর্থাৎ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যম। 'একত্ববাদীদের জন্য'—তাদের বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তারাই এর দ্বারা উপকৃত হয়, যেমনটি আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {আর আপনি স্মরণ করিয়ে দিন, কেননা স্মরণ করিয়ে দেওয়া...}