(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح الزرقاني على المواهب اللدنية بالمنح المحمدية القسم: السيرة النبوية
الكتاب: شرح الزرقاني على المواهب اللدنية بالمنح المحمدية للقسطلاني (ت 923 هـ)
المؤلف: [محمد بن عبد الباقي] الزرقاني (ت 1122 هـ)
ضبطه وصححه: محمد عبد العزيز الخالدي
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1996 م
عدد الأجزاء: 12
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ-এর ওপর যুরকানির ব্যাখ্যাগ্রন্থ বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: কাসতালানি (মৃত ৯২৩ হি.) বিরচিত আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ-এর ওপর যুরকানির ব্যাখ্যাগ্রন্থ
লেখক: [মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকি] যুরকানি (মৃত ১১২২ হি.)
সম্পাদনা ও সংশোধন: মুহাম্মাদ আব্দুল আযীয আল-খালিদী
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হি. - ১৯৯৬ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ১২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح العلامة الزرقاني على المواهب اللدنية بالمنح المحمدية]ـ
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن عبد الباقي بن يوسف بن أحمد بن شهاب الدين بن محمد الزرقاني المالكي (المتوفى: 1122هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية
الطبعة: الأولى 1417هـ-1996م
عدد الأجزاء: 12
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল-মানাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ-এর ওপর আল্লামা যারকানির ব্যাখ্যাগ্রন্থ]
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমদ ইবনে শিহাবুদ্দিন ইবনে মুহাম্মদ আয-যারকানি আল-মালিকি (মৃত্যু: ১১২২ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি-১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে এবং এটি টীকা দ্বারা সমৃদ্ধ]
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المجلد الأول
باب مقدمة
ترجمة شهاب الدين أحمد بن محمد القسطلاني مؤلف المواهب اللدنية…بسم الله الرحمن الرحيم
ترجمة شهاب الدين أحمد بن محمد القسطلاني 1 مؤلف المواهب اللدنية:
هو الحافظ شهاب الدين أبو العباس، أحمد بن محمد، بن أبي بكر، بن عبد الملك، بن أحمد، بن محمد، بن حسين، بن علي القسطلاني المصري الشافعي، الإمام العلامة، الحجة الرحالة، الفقيه المقرئ المسند.
قال السخاوي: مولده ثاني عشر ذي القعدة سنة إحدى وخمسين وثمانمائة بمصر، ونشأ بها وحفظ القرآن، وتلا السبع وحفظ الشاطبية والجزرية والوردية وغير ذلك، وذكر له عدة مشايخ منهم: الشيخ خالد الأزهري النحوي، والفخر المقدسي، والجلال البكري وغيرهم، وأنه قرأ صحيح البخاري في خمسة مجالس على الشاوي، وتلمذ له أيضًا، وأنه قرأ عليه أعني السخاوي بعض مؤلفاته، وأنه حج غير مرة، وجاور سنة أربع وثمانين وسنة أربع وتسعين، وأنه أخذ بمكة عن جماعة، منهم: النجم بن فهد، وولي مشيخة مقام سيدي الشيخ أحمد الحرار بالقرافة الصغرى، وعمل تأليفًا في مناقب الشيخ المذكور سماه نزهة الأبرار في مناقب الشيخ أبي العباس الحرار، وكان يعظ بالجامع العمري، وغيره ويجتمع عنده
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা অধ্যায়আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়্যাহ-এর লেখক শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কাসতাল্লানি-এর জীবনী...পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়্যাহ-এর লেখক শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কাসতাল্লানি (১)-এর জীবনী:
তিনি হলেন হাফেজ শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস, আহমদ বিন মুহাম্মদ, বিন আবু বকর, বিন আব্দুল মালিক, বিন আহমদ, বিন মুহাম্মদ, বিন হুসাইন, বিন আলী আল-কাসতাল্লানি আল-মিসরি আল-শাফিঈ; তিনি একাধারে ইমাম, আল্লামা (মহা-পণ্ডিত), হুজ্জাহ (প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব), পর্যটক, ফকিহ, ক্বারি এবং মুসনিদ (হাদিস বর্ণনাকারী)।
সাখাভি বলেন: তিনি মিসরে ৮৫১ হিজরি সালের ১২ই জিলকদ জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং সাবআ ক্বিরাত (সাতটি পঠনরীতি) পাঠ শেষ করেন। এছাড়া তিনি আল-শাতিবিয়্যাহ, আল-জাজারিয়্যাহ, আল-ওয়ারদিয়্যাহ সহ অন্যান্য গ্রন্থ মুখস্থ করেন। তাঁর অনেক শায়খের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: নাহুবিদ শায়খ খালিদ আল-আযহারি, ফখর আল-মাকদিসি, জালাল আল-বাকরি এবং আরও অনেকে। তিনি আশ-শাউয়ির নিকট মাত্র পাঁচটি মজলিসে সহিহ বুখারি পাঠ সম্পন্ন করেন এবং তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি সাখাভির নিকট (অর্থাৎ আমার নিকট) আমার রচিত কিছু গ্রন্থ পাঠ করেছেন। তিনি একাধিকবার হজ পালন করেন এবং ৮৮৪ ও ৮৯৪ হিজরি সালে মক্কায় অবস্থান (জিওয়ার) করেন। মক্কায় তিনি একদল আলেমের নিকট শিক্ষা লাভ করেন, যাঁদের মধ্যে নাজম বিন ফাহদ অন্যতম। তিনি কারাফা আল-সুগরায় সিদি শায়খ আহমদ আল-হাররারের মাকামের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন এবং উক্ত শায়খের গুণাবলি বর্ণনা করে ‘নুযহাতুল আবরার ফি মানাকিব আল-শায়খ আবি আব্বাস আল-হাররার’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি জামি আল-উমারি ও অন্যান্য মসজিদে ওয়াজ-নসিহত করতেন এবং তাঁর নিকট অনেক মানুষ সমবেত হতো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الجم الغفير، ولم يكن له نظير في الوعظ، وكتب بخطه شيئًا كثيرًا لنفسه ولغيره وأقرأ الطلبة وتعاطى الشهادة، ثم انجمع وأقبل على التأليف، وذكر من تصانيفه: العقود السنية في شرح المقدمة الجزرية، والكنز في وقف حمزة وهشام على الهمز، وشرحًا على الشاطبية زاد فيه زيادات ابن الجزري مع فوائد غريبة، وشرحًا على البردة سماه الأنوار المضية، وكتاب نفائس الأنفاس في الصحبة واللباس، والروض الزاهر في مناقب الشيخ عبد القادر، وتحفه السامع والقاري بختم صحيح البخاري ورسائل في العمل بالربع المجيب. انتهى ما ذكره السخاوي ملخصًا.
وقال في النور: ارتفع شأنه بعد ذلك فأعطي السعادة في قلمه وكَلِمِه، وصنف التصانيف المقبولة التي سارت بها الركبان في حياته، ومن أجلها شرح على صحيح البخاري مزجًا في عشرة أسفار كبار، لعله أجمع شروحه وأحسنها وألخصها، ومنها المواهب اللدنية بالمنح المحمدية، وهو كتاب جليل المقدار عظيم الواقع كثير النفع ليس له نظير في بابه، ويحكى أن الحافظ السيوطي كان يغض منه ويزعم أنه يأخذ من كتبه ويستمد منها ولا ينسب النقل إليها، وأنه ادعى عليه بذلك بين يدي شيخ الإسلام زكريا، فألزمه بيان مدعاه، فعدد مواضع قال: إنه نقل فيها عن البيهقي، وقال: إنه للبيهقي عدة مؤلفات فليذكر لنا ذكره في أي مؤلفاته لنعلم أنه نقل عن البيهقي، ولكنه رأى في مؤلفاتي ذلك النقل عن البيهقي فنقله برمته، وكان الواجب عليه أن يقول: نقل السيوطي عن البيهقي.
وحكى الشيخ جار الله بن فهد، أن الشيخ رحمه الله قصد إزالة ما في خاطر الجلال السيوطي، فمشى من القاهرة إلى الروضة إلى باب السيوطي ودق الباب فقال له: من أنت؟ فقال أنا القسطلاني جئت إليك حافيًا مكشوف الرأس ليطيب خاطرك عليّ، فقال له: قد طاب خاطري عليك، ولم يفتح له الباب ولم يقابله، قال في النور: وبالجملة فإنه كان إمامًا حافظًا متقنا جليل القدر، حسن التقرير والتحرير، لطيف الإشارة بليغ العبارة، حسن الجمع والتأليف، لطيف الترتيب والترصيف، زينة أهل عصره ونقاوة ذوي دهره، ولا يقدح فيه تحامل معاصريه عليه، فلا زالت الأكابر على هذا في كل عصر.
توفي في ليلة الجمعة سابع المحرم سنة ثلاث وعشرين وتسعمائة بالقاهرة
বিশাল জনসমাবেশ ঘটত, এবং ওয়াজ-নসিহতে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। তিনি নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্য নিজস্ব হস্তাক্ষরে প্রচুর লিখেছিলেন। তিনি ছাত্রদের পাঠদান করতেন এবং সাক্ষ্যদানের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। এরপর তিনি নির্জনতা অবলম্বন করেন এবং গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর গ্রন্থাবলীর মধ্যে উল্লেখ করা হয়: মুকাদ্দিমা আল-জাজারিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-উকুদুস সানিয়্যাহ’, হামজা ও হিশামের হামজার ওয়াকফ বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-কানজ’, শাতবিয়্যাহ-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যাতে তিনি ইবনুল জাজরির অতিরিক্ত অংশগুলোর সাথে দুর্লভ কিছু ফায়দা যুক্ত করেছেন, আল-বুরদাহ-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম দিয়েছেন ‘আল-আনওয়ারুল মুদিয়্যাহ’, সহচর্য ও পোশাক-পরিচ্ছদ বিষয়ক গ্রন্থ ‘নাফাইসুল আনফাস’, শেখ আব্দুল কাদের জিলানির মানাকিব বিষয়ক গ্রন্থ ‘আর-রাওদুয যাহির’, সহিহ বুখারির খতম উপলক্ষে ‘তুহফাতুস সামিই ওয়াল ক্বারি’ এবং রুবউল মুজাইয়্যাব ব্যবহারের নিয়মাবলী সম্বলিত কিছু রিসালাহ। সাখাবি যা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন তা এখানেই শেষ।
‘আন-নূর’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এরপর তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তাঁকে তাঁর কলম ও বাক্যে সৌভাগ্য দান করা হয়। তিনি এমন সব গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেন যা তাঁর জীবদ্দশাতেই দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সহিহ বুখারির একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা মূল পাঠের সাথে মিশিয়ে দশটি বড় খণ্ডে রচিত; সম্ভবত এটিই এই কিতাবের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, সুন্দর ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। আরও রয়েছে ‘আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ’, যা অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, প্রভাবশালী এবং ব্যাপক কল্যাণকর একটি কিতাব, যার সমতুল্য কোনো কিতাব এই বিষয়ে নেই। বর্ণিত আছে যে, হাফেজ সুয়ূতি তাঁর সমালোচনা করতেন এবং দাবি করতেন যে, তিনি সুয়ূতির কিতাব থেকে গ্রহণ করেন এবং সেখান থেকেই তথ্য সংগ্রহ করেন কিন্তু তাঁর নাম উল্লেখ করেন না। তিনি শেখুল ইসলাম জাকারিয়ার কাছে এই নিয়ে অভিযোগও পেশ করেছিলেন। শেখুল ইসলাম তাঁকে তাঁর দাবির প্রমাণ দিতে বললে তিনি কিছু স্থান নির্দিষ্ট করে বললেন: এখানে তিনি বায়হাকি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। সুয়ূতি আরও বললেন: বায়হাকির অনেকগুলো কিতাব রয়েছে, তিনি কেন উল্লেখ করলেন না যে বায়হাকির কোন কিতাব থেকে তিনি এটি নিয়েছেন? যাতে আমরা জানতে পারতাম যে তিনি সরাসরি বায়হাকি থেকে নিয়েছেন। কিন্তু তিনি আমার কিতাবে বায়হাকির সেই উদ্ধৃতিটি দেখেছেন এবং অবিকল তা নকল করেছেন। তাঁর উচিত ছিল এ কথা বলা যে: সুয়ূতি বায়হাকি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
শেখ জারুল্লাহ বিন ফাহদ বর্ণনা করেন যে, শেখ কাসতাল্লানি রহমতুল্লাহি আলাইহি জালালুদ্দিন সুয়ূতির মনের ক্ষোভ দূর করার সংকল্প করলেন। তিনি কায়রো থেকে রওজায় সুয়ূতির দরজায় হেঁটে গেলেন এবং কড়া নাড়লেন। সুয়ূতি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কে? তিনি উত্তর দিলেন: আমি কাসতাল্লানি, আমি আপনার কাছে খালি পায়ে এবং খোলা মাথায় এসেছি যাতে আপনার মন আমার প্রতি তুষ্ট হয়। সুয়ূতি ভেতর থেকে বললেন: আপনার প্রতি আমার মন তুষ্ট হয়েছে, কিন্তু তিনি তাঁর জন্য দরজা খোলেননি এবং তাঁর সাথে দেখাও করেননি। ‘আন-নূর’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: মোদ্দাকথা এই যে, তিনি ছিলেন একজন ইমাম, হাফেজ, সুদক্ষ ও সুমহান মর্যাদার অধিকারী। তাঁর বর্ণনা ও লিখনশৈলী ছিল চমৎকার, ইঙ্গিত ছিল সূক্ষ্ম এবং ভাষা ছিল সাবলীল। তাঁর সংকলন ও রচনাশৈলী ছিল নিখুঁত এবং বিন্যাস ছিল চমৎকার। তিনি ছিলেন নিজ যুগের অলঙ্কার এবং সমকালের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। সমসাময়িকদের বিদ্বেষ তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারে না, কারণ প্রতিটি যুগেই বড়দের সাথে এমনটা হয়ে আসছে।
তিনি ৯২৩ হিজরির ৭ই মহরম শুক্রবার দিবাগত রাতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ودفن بالمدرسة العينية جوار منزله، انتهى.
وقال في الكواكب: كان موته بعروض فالحج نشأ له من تأثره ببلوغه قطع رأس إبراهيم بن عطاء الله المكي، بحيث سقط عن دابته وأغمي عليه، فحمل إليه منزله ثم مات بعد أيام.
এবং তাঁকে তাঁর গৃহ সংলগ্ন আল-আইনিয়্যাহ মাদরাসায় দাফন করা হয়েছে, সমাপ্ত।
এবং আল-কাওয়াকিবে বলা হয়েছে: তাঁর মৃত্যু হয়েছিল আরূদুল হজে। ইব্রাহিম বিন আতাউল্লাহ আল-মাক্কীর শিরশ্ছেদ করার সংবাদে তিনি প্রচণ্ড আঘাত পান এবং এর প্রভাবেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। সংবাদটি শুনে তিনি তাঁর সওয়ারি থেকে পড়ে যান এবং মূর্ছিত হয়ে পড়েন। অতঃপর তাঁকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং কয়েক দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
التعريف بالمواهب اللدنية بالمنح المحمدية:قال حاجي خليفة في كشف الظنون: المواهب اللدنية في السيرة النبوية في مجلد، للشيخ الإمام شهاب الدين أبي العباس، أحمد بن محمد القسطلاني المصري، المتوفى سنة 923 ثلاث وعشرين وتسعمائة، وهو كتاب جليل القدر كثير النفع ليس له نظير في بابه، رتبه على عشرة مقاصد:
الأول: في تشريف الله تعالى نبيه بسبق نبوته وطهارة نسبه وولادته ورضاعه ومغازيه وسراياه مرتبًا على السنين إلى وفاته عليه الصلاة والسلام.
الثاني: في أسمائه وأولاده وأزواجه وأعمامه وخدمه.
الثالث: فيما منحه الله تعالى من كمال خلقته؛ وفيه ثلاثة فصول.
الرابع: في معجزاته وخصائصه.
الخامس: في خصائص المعراج.
السادس: فيما ورد من آي التنزيل في رفعة ذكره.
السابع: في وجوب محبته واتباع سنته.
الثامن: في طبه وتعبيره الرؤيا.
التاسع: في لطيفه من حقائق عباداته.
العاشر: في إتمامه سبحانه وتعالى نعمته عليه بوفاته، وفيه ثلاثة فصول.
وذكر في كشف الظنون عن القسطلاني أنه فرغ من تأليفه في شوال سنة 898 ثمان وتسعين وثمانمائة ومن تبييضه في شعبان سنة 899 تسع وتسعين وثمانمائة.
وقال الغزي في الكواكب: وأقام عند النبي صلى الله عليه وسلم فحصل له جذب فصنف
আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ-এর পরিচিতি:হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে বলেছেন: সীরাতে নববী বিষয়ক 'আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ' গ্রন্থটি এক খণ্ডে রচিত, যার লেখক হলেন শাইখ ইমাম শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাসতাল্লানি আল-মিসরি (মৃত্যু ৯২৩ হিজরি)। এটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও অত্যন্ত উপকারী একটি কিতাব, যার সমতুল্য কোনো কিতাব এই বিষয়ে নেই। তিনি একে দশটি মূল অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন:
প্রথম: আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর নবীকে তাঁর নবুওয়াতের অগ্রগণ্যতা, বংশের পবিত্রতা, জন্ম, দুগ্ধপান, যুদ্ধসমূহ এবং ছোট ছোট অভিযানসমূহ দিয়ে সম্মানিত করার বর্ণনা, যা ইন্তেকাল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) পর্যন্ত সাল ভিত্তিক বিন্যস্ত।
দ্বিতীয়: তাঁর নামসমূহ, সন্তানাদি, স্ত্রীগণ, চাচাগণ এবং সেবকদের বিবরণে।
তৃতীয়: আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর সৃষ্টির পূর্ণতা থেকে যা দান করেছেন; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
চতুর্থ: তাঁর মুজিজা (অলৌকিক নিদর্শন) ও অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে।
পঞ্চম: মেরাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে।
ষষ্ঠ: তাঁর সুখ্যাতি সমুন্নত করার বিষয়ে অবতীর্ণ হওয়া কুরআনের আয়াতসমূহ সম্পর্কে।
সপ্তম: তাঁকে ভালোবাসা এবং তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করার আবশ্যকতা সম্পর্কে।
অষ্টম: তাঁর চিকিৎসাবিদ্যা এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে।
নবম: তাঁর ইবাদতসমূহের সূক্ষ্ম রহস্য ও হাকিকত সম্পর্কে।
দশম: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর ইন্তেকালের মাধ্যমে তাঁর উপর স্বীয় নিআমত পূর্ণ করার বিষয়ে; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে আল-কাসতাল্লানি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ৮৯৮ হিজরি সালের শাওয়াল মাসে এর রচনা শেষ করেন এবং ৮৯৯ হিজরি সালের শা'বান মাসে এর পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করেন।
আল-গাযযি 'আল-কাওয়াকিব' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজার পাশে অবস্থান করেন এবং সেখানে তাঁর মাঝে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক আকর্ষণ তৈরি হয়, অতঃপর তিনি এটি রচনা করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المواهب اللدنية لما صحا
… وقال: وكان له اعتقاد تام في الصوفية وأكثر في المواهب من الاستشهاد بكلام سيد وفا
… واختار مذهب مالك رضي الله عنه في تفضيل المدينة على مكة؛ قلت: -أي الغزي- وأول دليل على قبول أعماله وإخلاصه في تأليفه، عناية الناس بكتابه المواهب اللدنية، ومغالاتهم في ثمنه مع قلة الرغبات. ا. هـ. وفي كشف الظنون، ترجمه المولى الفاضل عبد الباقي بن
… 1 الشاعر الرومي المشهور أحسن ترجمة وسماه معالم اليقين2، وتوفي سنة 1088هـ.
وعلى المواهب حاشية لمولانا نور الدين على القاري المكي المشهور المتوفى سنة 1014 أربع عشر وألف.
وللعلامة لالشيخ إبراهيم بن محمد الميموني المصري الشافعي المتوفى سنة 1079 تسع وسبعين وألف، حاشية أيضًا.
وشرح المواهب المولى العلامة خاتمة المحدثين محمد بن عبد الباقي بن يوسف الزرقاني المصري المالكي، المتوفى سنة 1122 اثنتين وعشرين ومائة وألف، شرحًا حافلا في أربع مجلدات، جمع فيه أكثر الأحاديث المروية في شمائل المصطفى صلى الله عليه وسلم وسيره وصفاته الشريفة جزاه الله خيرًا ورحمه رحمة واسعة.
وللشيخ أبي الضياء علي بن علي الشبراملسي المتوفى سنة 1087 سبع وثمانين، وألف حاشية على المواهب في خمس مجلدات ضخام، نقلها الأميني في خلاصة السير.
--------------------------------------------
আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ যখন বিশুদ্ধ হলো
… এবং তিনি বললেন: সুফিবাদের প্রতি তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস ছিল এবং তিনি 'আল-মাওয়াহিব' গ্রন্থে সাইয়্যিদ ওয়াফার বক্তব্যের উদ্ধৃতি অধিক পরিমাণে ব্যবহার করেছেন
… এবং তিনি মক্কার তুলনায় মদীনার শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে ইমাম মালিক (রা.)-এর মাযহাব গ্রহণ করেছেন। আমি -অর্থাৎ আল-গাযযী- বলছি: তাঁর কার্যাবলীর কবুলিয়্যাত এবং তাঁর রচনার ইখলাসের প্রথম প্রমাণ হলো 'আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ' গ্রন্থের প্রতি মানুষের বিশেষ মনোযোগ এবং চাহিদার স্বল্পতা সত্ত্বেও এর উচ্চমূল্য। (সমাপ্ত)। এবং 'কাশফুয যুনুন'-এ বর্ণিত হয়েছে যে, ফাযেল মাওলা আব্দুল বাকী বিন
… ১, যিনি একজন বিখ্যাত রুমী কবি, তিনি এটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে অনুবাদ করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন 'মাআলিমুল ইয়াকীন' ২। তিনি ১০৮৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং 'আল-মাওয়াহিব'-এর উপর মাওলানা নূরুদ্দীন আলী আল-কারী আল-মাক্কী -যিনি বিখ্যাত এবং ১০১৪ (এক হাজার চৌদ্দ) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন- তাঁর একটি হাশিয়া (টীকা) রয়েছে।
আল্লামা শাইখ ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ আল-মায়মুনী আল-মিসরী আশ-শাফেয়ী, যিনি ১০৭৯ (এক হাজার উনআশি) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, তাঁরও একটি হাশিয়া রয়েছে।
আর 'আল-মাওয়াহিব'-এর ব্যাখ্যা (শারহ) করেছেন আল্লামা মাওলা, মুহাদ্দিসকুলের শিরোমণি মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকী বিন ইউসুফ আয-যারকানী আল-মিসরী আল-মালিকী, যিনি ১১২২ (এক হাজার একশ বাইশ) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। এটি চার খণ্ডে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যাতে তিনি মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শামায়েল (আদর্শ), সীরাত (জীবনচরিত) এবং তাঁর মহান গুণাবলী সম্পর্কে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিস একত্রিত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।
এবং শাইখ আবুল যিয়া আলী বিন আলী আশ-শুবরামানালিসী, যিনি ১০৮৭ (এক হাজার সাতাশি) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, তাঁরও 'আল-মাওয়াহিব'-এর উপর বিশাল পাঁচ খণ্ডে একটি হাশিয়া রয়েছে, যা আল-আমীনী 'খুলাসাতুস সিয়ার' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ترجمة الزرقاني شارح المواهب:هو محمد الزرقاني بن عبد الباقي بن يوسف بن أحمد بن علوان المصري، الأزهري المالكي، الشهير بالزرقاني الإمام المحدث، الناسك النحرير، الفقيه العلامة. وقال الزركلي أبو عبد الله: خاتمة المحدثين بالديار المصرية، مولده ووفاته بالقاهرة، ونسبته إلى زرقان من قرى منوف بمصر. وقال كحالة: محدث فقيه أصولي.
أخذ عن والده، وعن النور علي الشبراملسي، وعن الشيخ محمد البابلي وغيرهم، كما أخذ عن الشيخ محمد خليل العجلوني الدمشقي والجمال عبد الله الشبراوي:
وله من المؤلفات:
- شرح على الموطأ. ذكره كحالة1 باسم: أبهج المسالك بشرح موطأ الإمام مالك.
- شرح على المواهب اللدنية. قال سركيس: وهو شرح حافل جمع فيه أكثر الأحاديث المروية في شمائل المصطفى وسيره وصفاته الشريفة.
- وذكره كحالة2 باسم: إشراق مصابيح السيرة المحمدية بمزج أسرار المواهب اللدنية.
- شرح المنظومة البيقونية.
- مختصر3 المقاصد الحسنة في الأحاديث المشتهرة.
- وصول الأماني في الحديث.
--------------------------------------------
মাওয়াহিবের ব্যাখ্যাকার আল-যুরক্বানীর জীবনী:তিনি হলেন মুহাম্মদ আল-যুরক্বানী বিন আব্দুল বাক্বী বিন ইউসুফ বিন আহমদ বিন আলওয়ান আল-মিসরী, আল-আযহারী আল-মালিকী; আল-যুরক্বানী নামে প্রসিদ্ধ ইমাম, মুহাদ্দিস, নিভৃতচারী ইবাদতগুজার, তীক্ষ্ণধী গবেষক এবং বিজ্ঞ ফকীহ। আবু আব্দুল্লাহ আয-যিরিকলী বলেন: তিনি মিশর ভূখণ্ডের মুহাদ্দিসগণের ধারায় সর্বশেষ ব্যক্তিত্ব; তাঁর জন্ম ও মৃত্যু কায়রোতে, আর তাঁর বংশীয় সম্পৃক্ততা মিশরের মানুফ অঞ্চলের যুরক্বান গ্রামের সাথে। কাহহালা বলেন: তিনি একজন মুহাদ্দিস, ফকীহ ও উসূলবিদ।
তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং নূর আলী আশ-শুবরামালসী, শাইখ মুহাম্মদ আল-বাবিলী ও অন্যান্যদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি শাইখ মুহাম্মদ খলীল আল-আজলুনী আদ-দিমাশকী এবং আল-জামাল আব্দুল্লাহ আশ-শাবরাবী থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন:
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলী হলো:
- মুওয়াত্তার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। কাহহালা ১ এটি 'আবাহজুল মাসালিক বি-শারহি মুওয়াত্তা আল-ইমাম মালিক' নামে উল্লেখ করেছেন।
- আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ। সারকীস বলেন: এটি একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ যেখানে তিনি আল-মুস্তফার (সা.) স্বভাব-চরিত্র, তাঁর সীরাত ও মহান গুণাবলী সম্পর্কে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিস সংকলন করেছেন।
- কাহহালা ২ এটি 'ইশরাক্বু মাসাবিহিস সিরাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ বি-মাযজি আসরারিল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়াহ' নামে উল্লেখ করেছেন।
- আল-মানযুমাহ আল-বাইক্বুনিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহের বর্ণনায় আল-মাক্বাসিদ আল-হাসানাহ-এর সংক্ষিপ্তসার ৩।
- হাদিস শাস্ত্রীয় গ্রন্থ 'উসুলুল আমানী'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة:الحمد لله الذي جعلنا خير أمة أخرجت للناس، ورفع منابر تشريفنا على منابر صفحات الدهور ثابتة الأساس، ووضع عنا الإصر والأغلال، ومنعنا الاجتماع على الضلال، وقدمنا تقديم البسملة في القرطاس، فنحن الآخرون السابقون تبجيلًا وتكريمًا لمن أرسله فينا رؤوفًا رحيمًا، فأقام دعائم الدين بعد طول تناس؛ وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، تعالى عما يقول الظالمون الأرجاس، وأشهد أن سيدنا محمدًا عبده وسوله، وحبيبه وخليله، الأمين المأمون الطيب الأنفاس، ألا وهو أجل من أن يحيط به وصف، وأشرف من أن يضم جواهره نظم أو وصف، زكي المنابت، طيب الأغراس، أضاءت قبل كونه وإرهاصاته المقباس، وأزهرت في حمله وولادته ورضاعه زهراءي، اقتبس منها النبراس، وأشرقت أعلام نبوته، ولمعت لوامع براهين رسالته، فشيدت منار الهدى بعدما كان في إبلاس، وبهر بالآيات البينات، فشق له البدر في دجى الأغلاس، وغلب بمعجزات بدروها في التمام، وجواهرها تروق في الترصيع والانتظام، ورياضها تتأرج بنسمات سماته، وتنشق عن نور زهر شمائله، ونور زهر صفاته التي كل عن إحصاء راموزها المقياس؛ صلى الله وسلم عليه وعلى إخوانه من الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وصحابته وأزواجه وذريته الطيبين الطاهرين الأكياس، الناهضين بأعباء المناقب، في علياء المناصب، البالغين في نصر الدين، النجوم الثواقب، الهادين من الكفر الجبال الرواس، حتى نسفوها نسفًا، وحكموا بالعدل وأقاموا القسطاس.
أما بعد: فهذا الكتاب لم يطلبه مني طالب، ولا رغب إلي من تصنيفه راغب، وإنما تطلبت نفسي فيه مزج المواهب، فأودعته نفائس بها يتنافس في شرح السنة النبوية، وعرائس استجليتها من مخدرات خدور السيرة المحمدية، وجواهر استخرجتها من قاموس الحكم المصطفوية، وزواهر اقتبستها من أرقعة السيرة الهاشمية، وزهور اجتثيتها من جنات وجنات الروضة المدنية، يبهر من عقد نظامها الناظر، وينادي من أي هذا القاصر، فيجيبه حال اللسان الوهاب، قوي قادر، أما العيوب وإن كثرت، فما لا سبيل إلى السلامة منها لغير المعصوم، وقد قال:
من ذا الذي ما ساء قط
… ومن له الحسنى فقط
وقد قال ابن عبدوس النيسابوري: لا أعلم في الدنيا كتابًا سلم إلى مؤلفه ولم يتبعه من يليه، فكيف وفهمي فاتر، ونظري قاصر، ووجودي في الزمان الآخر مع ما أقاسيه من تلاطم أمواج
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মানুষের জন্য বের করা শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, এবং কালের পৃষ্ঠার মিম্বরসমূহে আমাদের সম্মানের মিম্বরসমূহকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর সমুন্নত করেছেন; আমাদের থেকে বোঝা ও শিকলসমূহ নামিয়ে দিয়েছেন, এবং ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন। তিনি কাগজে বিসমিল্লাহর অগ্রগণ্যতার ন্যায় আমাদের অগ্রগণ্যতা দান করেছেন। সুতরাং আমরা শেষে এসেও মর্যাদা ও সম্মানের বিচারে সেই সত্তার খাতিরে অগ্রগামী, যাঁকে তিনি আমাদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময় হিসেবে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ বিস্মৃতির পর দ্বীনের স্তম্ভসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; অশুচি জালেমরা যা বলে তিনি তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর প্রিয়তম ও অন্তরঙ্গ বন্ধু, যিনি আমানতদার ও বিশ্বস্ত এবং পবিত্র নিঃশ্বাসের অধিকারী। জেনে রাখো, তিনি বর্ণনার সীমায় আবদ্ধ হওয়ার চেয়েও মহান, এবং তাঁর রত্নরাজিকে কোনো কবিতা বা গুণকীর্তনের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করার চেয়েও তিনি অধিক সম্মানিত। তাঁর উৎপত্তিস্থল পবিত্র এবং তাঁর রোপণকৃত বৃক্ষসমূহ সুগন্ধিময়। তাঁর অস্তিত্ব ও অলৌকিক নিদর্শনাদি প্রকাশের পূর্বেই প্রদীপসমূহ আলোকিত হয়েছিল। তাঁর গর্ভধারণ, জন্ম ও দুগ্ধপানকালে এমন উজ্জ্বল জ্যোতি বিকশিত হয়েছিল, যা থেকে প্রদীপ আলো গ্রহণ করেছিল। তাঁর নবুওয়াতের ঝান্ডাসমূহ উদিত হয়েছে এবং তাঁর রিসালাতের প্রমাণের আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত হয়েছে; ফলে হেদায়েতের আলোকস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে যখন তা নিরাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তিনি সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে বিশ্বকে অভিভূত করেছেন, ফলে অন্ধকার রাতে তাঁর জন্য চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। তিনি এমন সব মুজিজার মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছেন যার পূর্ণিমা পূর্ণতা লাভ করেছে, যার রত্নরাজি বিন্যাস ও শৃঙ্খলায় অতীব মনোরম, যার বাগানসমূহ তাঁর বৈশিষ্ট্যের মৃদু বাতাসে সুবাসিত এবং তাঁর চরিত্রের উজ্জ্বল ফুলের নূর ও তাঁর গুণাবলীর ফুলের নূর থেকে বিকশিত, যার সংকেতসমূহ গণনা করতে পরিমাপকও অক্ষম। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর ভাই অন্যান্য নবী ও রাসূলগণের ওপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, পত্নীগণ এবং তাঁর পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও প্রজ্ঞাবান বংশধরদের ওপর; যাঁরা উচ্চমর্যাদায় আসীন হয়ে শ্রেষ্ঠত্বের গুরুভার বহন করেছেন, যাঁরা দ্বীনের সাহায্যে চরম সীমায় পৌঁছেছেন, উজ্জ্বল নক্ষত্রতুল্য, এবং কুফরের সুদৃঢ় পর্বতসমূহ থেকে মানুষকে হেদায়েত দান করেছেন, এমনকি তাঁরা সেগুলোকে সমূলে উৎপাটিত করেছেন এবং ন্যায়বিচার করেছেন ও ইনসাফ কায়েম করেছেন।
অতঃপর: এই কিতাবটি আমার কাছে কোনো অন্বেষণকারী দাবি করেনি এবং এটি রচনার জন্য কোনো আগ্রহী ব্যক্তি অনুরোধ করেনি। বরং আমার মন এতে বিভিন্ন প্রাপ্ত জ্ঞানের সংমিশ্রণ ঘটাতে চেয়েছে। তাই আমি এতে সুন্নতে নববীর ব্যাখ্যায় এমন কিছু অমূল্য রত্ন গচ্ছিত রেখেছি যার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা করা যায়, এবং সীরাতে মুহাম্মদিয়ার পর্দার অন্তরালে থাকা এমন কিছু সৌন্দর্য উন্মোচিত করেছি যা কনের মতো লাবণ্যময়, এবং মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিকমতের সাগর থেকে রত্নরাজি আহরণ করেছি, সীরাতে হাশেমিয়ার পত্রপল্লব থেকে উজ্জ্বল আলোকচ্ছটা গ্রহণ করেছি এবং রওজায়ে মদিনার উদ্যানসমূহ থেকে পুষ্পরাজি চয়ন করেছি। এর সুশৃঙ্খল বিন্যাস দর্শককে বিমোহিত করে এবং আহ্বান জানায় যে, এ অক্ষম ব্যক্তি কোথা থেকে এটা পেল? তখন অবস্থার জবান উত্তর দেয় যে, মহাদানশীল আল্লাহ সুদৃঢ় ও সর্বশক্তিমান। আর ত্রুটি-বিচ্যুতি যদিও অনেক হয়, তবে নিষ্পাপ ব্যক্তি ছাড়া তা থেকে মুক্ত থাকার কোনো উপায় নেই। যেমনটি কবি বলেছেন:
কে সেই ব্যক্তি যে কখনো মন্দ কাজ করেনি … এবং কার কেবলই কল্যাণ রয়েছে?
ইবনে আবদুস আন-নীশাপুরী বলেছেন: আমি দুনিয়াতে এমন কোনো কিতাব জানি না যা তার লেখকের কাছে নিরাপদ থেকেছে এবং তার পরবর্তী ব্যক্তি সেটির সমালোচনা করেনি। সেক্ষেত্রে আমার অবস্থা কী হবে, যখন আমার উপলব্ধি শিথিল, দৃষ্টি সীমাবদ্ধ এবং আমার অস্তিত্ব বর্তমান সময়ের শেষ ভাগে, সেইসাথে আমি যাতনা ভোগ করছি উত্তাল ঢেউয়ের...
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الهموم وأقلامه من ترادف جيوش الغموم، لكني أنتظر الفرج من الحي القيوم، مستعيذًا به من حسود ظلوم، والله أسال العون على إتمامه، والتوفيق من امتنانه وهو حسبنا ونعم الوكيل.
هذا؛ وجامعه الحقير الفاني، محمد بن عبد الباقي الزرقاني، قد أخذ الكتاب رواية ودراية، عن علامة الدنيا؛ الآخذ من بحار التحقيق بالغايتين: القصوى والدنيا، الأصول النحوي النظار الفقيه النحرير الجهبذ الفهامة النبيه الشيخ علي الشمرلسي شيخ الإسلام، فسح الله له وأدام به نفع الأنام. وكم بحمد الله صغى لي وسمع ما أقول وكتب أنقالي وحثني على إحضار ما أراه من النقول، إذا رأى ملالي، ولم أزل عنده من نعم الله بالمحل الأرفع العالي، والله يعلم أني لم أقل ذلك للفخر، وأي فخر لمن لا يعلم ما حاله في القبر، بل امتثالا للأمر بالتحدث بالنعمة، كشف الله عنا كل غمة، بحق روايته له عن شيخ الإسلام أحمد بن خليل السبكي، إجازة عن السيد يوسف الأرميوني عن المؤلف، وعن البرهان إبراهيم اللقاني، عن العرافين المحمدين: البنوفري، وابن الترجمان، عن العارف الشعراني، عن مؤلفها، وعن الفقيه النور الأجهوري، عن البدر القرافي والبنوفري، عن عبد الرحمن الأجهوري، عن مؤلفه. وقد وضع عليه حال القراءة، هاتيك الحاشية الرقيقة، الحاوية لجواهر أبحاثه الدقيقة، وبدور الأنقال الأنيقة. وهو مرادي بشيخنا في الإطلاق، وربما عبرت عنه بالشارح لغرض صحيح لدى الحذاق.
ح وأخبرنا به إجازة أبو عبد الله الحافظ محمد العلائي البابلي، قال: أخبرنا بها سماعًا لبعضها وإجازة لباقيها، شيخ الإسلام علي الزيادي، عن قطب الوجود أبي الحسن البكري، عن مؤلفها وهو أحمد بن محمد بن أبي بكر بن عبد الملك بن أحمد القسطلاني القتيبي المصري الشافعي، ولد كما ذكره شيخه الحافظ السخاوي، في الضوء بمصر عشر ذي القعدة سنة إحدى وخمسين وثمانمائة، وأخذ عن الشهاب العبادي، والبرهان العجلوني والفخر لمقدسي، والشيخ خالد الأزهري النحوي، والسخاوي وغيرهم.
وقرأ البخاري على الشهاوي في خمسة مجالس وحج مرارًا، وجاور بمكة مرتين وروى عن جمع منهم النجم بن فهد، وكان يعظ بالعمري وغيره الجم الغفير، ولم يكن له في الوعظ نظيرًا انتهى. وتوفي ليلة الجمعة بالقاهرة، سابع محرم سنة ثلاث وعشرين وتسعمائة، وصلي عليه بعد صلاة الجمعة بالأزهر، ودفن بمدرسة العيني، وله عدة مؤلفات أعظمها هذه المواهب اللدنية، التي أشرقت من سطورها أنوار الأبهة والجلالة، وقطرت من أديمها ألفاظ النبوة والرسالة، أحسن فيها ترتيبًا وصنعًا، وأحكمها ترصيعًا، وكساه الله فيها رداء القبول، ففاقت على كثير مما سواها عند ذوي العقول.
দুশ্চিন্তা এবং দুঃখ-কষ্টের বাহিনীর ক্রমাগত আক্রমণ থেকে কলমগুলো [থমকে আছে], তবে আমি চিরঞ্জীব ও অনাদি সত্তার (আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম) পক্ষ থেকে মুক্তির প্রতীক্ষায় রয়েছি। আমি অত্যাচারী হিংসুক থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এটি সম্পন্ন করার জন্য আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাওফিক কামনা করি; তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
বিষয়টি এই যে; এর অধম ও নশ্বর সংকলক মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি আল-যারকানি এই কিতাবটি বর্ণনা (রিওয়ায়েত) ও বিশ্লেষণাত্মক জ্ঞান (দিরায়েত) সহকারে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আল্লামার নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন; যিনি সূক্ষ্ম গবেষণার সমুদ্র থেকে উভয় লক্ষ্য—চরম ও পরম—অর্জন করেছেন। তিনি হলেন উসুল শাস্ত্রবিদ, ব্যাকরণবিদ, প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন ফকিহ, বিজ্ঞ পন্ডিত ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব শায়খ আলী আল-শাবরামাল্লিসি, যিনি শায়খুল ইসলাম; আল্লাহ তাঁর প্রশস্ততা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর মাধ্যমে সৃষ্টিজগতের উপকার অব্যাহত রাখুন। আল্লাহর প্রশংসায় বলছি, কতই না তিনি মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনেছেন, আমার উদ্ধৃতিগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন এবং কোনো উদ্ধৃতি সংগ্রহে আমার ক্লান্তি দেখলে আমাকে তা নিয়ে আসার জন্য উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহর অনুগ্রহে তাঁর নিকট আমি সর্বদা অত্যন্ত উচ্চ ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে ছিলাম। আল্লাহ জানেন যে, আমি এ কথা গর্ব করার জন্য বলছি না; আর কবরে নিজের অবস্থা কী হবে তা যে জানে না, তার কিসের গর্ব? বরং এটি করা হয়েছে নেয়ামতের কথা প্রকাশ করার নির্দেশ পালনার্থে। আল্লাহ আমাদের সকল দুঃখ দূর করুন। তিনি এটি বর্ণনা করার অনুমতি লাভ করেছেন শায়খুল ইসলাম আহমদ বিন খলিল আল-সুবকির নিকট থেকে। তিনি এজাজত পেয়েছেন সাইয়্যেদ ইউসুফ আল-আরমিউনি থেকে, যিনি সরাসরি লেখকের নিকট থেকে এবং বুরহান ইব্রাহিম আল-লাক্কানি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (লাক্কানি) দুই পরিচিত আরেফ—আল-বানুফারি ও ইবনুত তারজুমান থেকে, তারা আরেফ আশ-শারানি থেকে, তিনি লেখকের নিকট থেকে। আবার ফকিহ নূর আল-আজহুরি থেকেও এটি বর্ণিত, তিনি বদর আল-কারাফি ও আল-বানুফারি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান আল-আজহুরি থেকে এবং তিনি সরাসরি লেখকের নিকট থেকে। কিতাবটি পাঠের সময় তিনি (আলী আল-শাবরামাল্লিসি) এর ওপর এক সূক্ষ্ম পাদটীকা রচনা করেছেন, যা তাঁর সূক্ষ্ম গবেষণার মণি-মুক্তা ও চমৎকার উদ্ধৃতির পূর্ণিমায় সমৃদ্ধ। সাধারণভাবে যখন আমি 'আমাদের শায়খ' বলি, তখন উদ্দেশ্য তিনিই। কখনো কখনো বিজ্ঞজনদের নিকট কোনো সঠিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আমি তাঁকে 'ব্যাখ্যাকার' (শারহে) হিসেবেও ব্যক্ত করি।
(হ) এবং আমাদের এটি এজাজতক্রমে সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ মুহাম্মদ আল-আলায়ি আল-বাবিলি। তিনি বলেন: আমাদের এটি কিছু অংশ শ্রবণের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট অংশ এজাজতক্রমে শুনিয়েছেন শায়খুল ইসলাম আলী আল-জিয়াদি। তিনি কুতুবুল উজুদ আবুল হাসান আল-বাকরি থেকে, তিনি এর লেখক আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু بকর বিন আব্দুল মালিক বিন আহমদ আল-কাসতালানি আল-কুতাইবি আল-মিসরি আশ-শাফেয়ি থেকে। যেমনটি তাঁর উস্তাদ হাফিজ আল-সাখাবি 'আদ-দাও' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তিনি ৮৫১ হিজরির ১০ই জিলকদ মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিহাব আল-আব্বাদি, বুরহান আল-আজলুনি, ফখর আল-মাকদিসি, ব্যাকরণবিদ শায়খ খালিদ আল-আজহারি, সাখাবি ও অন্যান্যদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
তিনি আশ-শাহাভির নিকট মাত্র পাঁচটি মজলিসে বুখারি পাঠ সম্পন্ন করেছেন এবং বহুবার হজ করেছেন। তিনি দুইবার মক্কায় অবস্থান (জাওয়ার) করেছেন এবং নাজমুদ্দিন বিন ফাহদসহ বহু আলেমের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আল-উমরি মসজিদসহ অন্যান্য স্থানে বিশাল জনসমুদ্রের সামনে ওয়ায করতেন এবং ওয়ায করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। তিনি ৯২৩ হিজরির ৭ই মহরম জুমার রাতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। জুমার নামাজের পর আল-আযহারে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয় এবং আল-আইনি মাদরাসায় তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো এই 'আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়্যাহ', যার প্রতিটি পঙক্তি থেকে গাম্ভীর্য ও মর্যাদার আলো বিচ্ছুরিত হয় এবং যার প্রতিটি ভাঁজ থেকে নবুওয়াত ও রিসালাতের শব্দসমূহ নিঃসৃত হয়। তিনি এতে বিন্যাস ও শৈল্পিক কারুকার্যের এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন এবং এটিকে অলঙ্করণের মাধ্যমে সুসংহত করেছেন। আল্লাহ একে কবুলিয়াতের পোশাক পরিধান করিয়েছেন, যার ফলে এটি বুদ্ধিমানদের নিকট সমজাতীয় অনেক কিতাবের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
شرح مقدمة المواهب
مدخل…بسم الله الرحمن الرحيم
شرح مقدمة المواهب:
--------------------------------------------
শারহ মুকাদ্দিমাতিল মাওয়াহিব
ভূমিকা...পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শারহ মুকাদ্দিমাতিল মাওয়াহিব:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الحمد لله................................................................
--------------------------------------------
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য................................................................
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الذي أطلع في سماء الأزل شمس أنوار معارف النبوة المحمدية، وأشرق من أفق أسرار مظاهر الرسالة تجلي صفات.................................................
--------------------------------------------
যিনি অনাদিত্বের আকাশে মুহাম্মাদী নবুওয়াতের মা’রিফাতের নূরসমূহের সূর্যকে উদিত করেছেন, এবং রিসালাতের বহিঃপ্রকাশের রহস্যের দিগন্ত থেকে গুণাবলির বিকাশকে আলোকিত করেছেন.................................................
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الأحمدية، أحمده على أن وضع أساس نبوته على سوابق أزليته، ورفع دعائم رسالته
--------------------------------------------
আহমাদিয়া, আমি তাঁর প্রশংসা করছি এই জন্য যে তিনি তাঁর নবুওয়াতের ভিত্তি তাঁর অনাদিত্বের পূর্বনির্ধারিত বিষয়ের ওপর স্থাপন করেছেন এবং তাঁর রিসালাতের স্তম্ভসমূহকে সমুন্নত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
على لواحق أبديته.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، الفرد المنفرد في فردانيته بالعظمة والجلال.................
--------------------------------------------
তাঁর অনাদিত্বের অনুবর্তী কালসমূহের উপর।
এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি সেই একক সত্তা, যিনি মহিমা ও গাম্ভীর্যের মাধ্যমে স্বীয় একত্বে অনন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الواحد المتوحد في وحدانيته باستحقاق الكمال، وأشهد أن سيدنا وحبيبنا محمدًا عبده ورسوله...................................
--------------------------------------------
যিনি এক, স্বীয় একত্বে অনন্য এবং পূর্ণতার যোগ্যতার অধিকারী; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের নেতা ও প্রিয় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল...................................
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أشرف نوع الإنسان، وإنسان عيون الأعيان، المستخلص من خالص خلاصة ولد عدنان، الممنوح ببدائع الآيات، والمخصوص بعموم الرسالة وغرائب المعجزات، السر الجامع الفرقاني، والمخصص بمواهب القرب من النوع الإنساني، مورد الحقائق الأزلية ومصدرها، وجامع جوامع مفرداتها ومنبرها، وخطيبها إذا حضر في حظائر......................
--------------------------------------------
মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সত্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের চক্ষুর মণি, আদনানের বংশধরদের বিশুদ্ধ নির্যাস থেকে চয়নকৃত, অভিনব নিদর্শনাবলীতে ভূষিত, বিশ্বজনীন রিসালাত ও বিস্ময়কর মুজিজা দ্বারা বিশেষায়িত, সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী মহসমন্বয়কারী রহস্য, মানবজাতির মধ্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের দানে ধন্য, অনাদি সত্যসমূহের অবতরণস্থল ও উৎস, সত্যের সকল উপাদানের আধার ও মিম্বর, এবং যখন তিনি পবিত্র প্রাঙ্গণসমূহে উপস্থিত হন তখন তার প্রধান প্রবক্তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قدسها ومحضرها، بيت الله المعمور الذي اتخذه لنفسه، وجعله ناظمًا لحقائق أنسه، مدة مداد نقطة الأكوان، ومنبع ينابيع الحكم والعرفان، الممد من بحر مدد الوفاء على القائل من أهل المعارف والاصطفاء حيث خاطب.....................
--------------------------------------------
তার পবিত্রতা ও উপস্থিতিস্থল; আল্লাহর আবাদকৃত ঘর, যা তিনি নিজের জন্য গ্রহণ করেছেন এবং একে তাঁর সান্নিধ্যের হাকিকতসমূহের বিন্যাসকারী বানিয়েছেন। এটি মহাবিশ্বের বিন্দুর কালির প্রসারণ এবং প্রজ্ঞা ও মারেফাতের ঝর্ণাধারাসমূহের উৎস। যা আনুগত্যের সাহায্যের সমুদ্র থেকে মারেফাত ও নির্বাচনের অধিকারীদের মধ্য হতে ঐ বক্তার ওপর প্রসারিত হয়, যখন তিনি সম্বোধন করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ذاته، بالمنح الأنفسية بشعر من بحر الطويل:
فأنت رسول الله أعظم كائن
… وأنت لكل الخلق بالحق مرسل
عليك مدار الخلق إذ أنت قطبه
… وأنت منار الحق تعلو وتعدل
فؤادك بيت الله دار علومه
… وباب عليه منه للحق يدخل
ينابيع علم الله منه تفجرت
… ففي كل حي منه لله منهل
منحت بفيض كل مفضل
… فكل له فضل به منك يفضل
نظمت نثار الأنبياء فتاجهم
… لديك بأنواع الكمال مكلل
--------------------------------------------
তাঁর সত্তা, মহিমান্বিত অনুগ্রহসমূহের বর্ণনায় তাবিল ছন্দের কবিতার মাধ্যমে:
আপনি আল্লাহর রাসূল, সর্বশ্রেষ্ঠ সত্তা
… আর আপনি সত্যসহ সকল সৃষ্টির প্রতি প্রেরিত
সৃষ্টির আবর্তন আপনার উপরই, যেহেতু আপনি এর মেরু
… আর আপনি সত্যের মিনার, আপনি উন্নত হন এবং ইনসাফ করেন
আপনার হৃদয় আল্লাহর ঘর, তাঁর জ্ঞানসমূহের আবাস
… এবং এমন এক দরজা যার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য প্রবেশ করে
আল্লাহর জ্ঞানের ঝর্ণাধারা তা থেকে উৎসারিত হয়েছে
… তাই প্রতিটি জীবিত সত্তার মধ্যে তাঁর পক্ষ থেকে পানের আধার রয়েছে
আপনি প্রতিটি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে অনুগ্রহের প্রাচুর্য দান করেছেন
… ফলে যারই কোনো শ্রেষ্ঠত্ব আছে, তা আপনার মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে
আপনি নবীদের বিক্ষিপ্ত মুক্তাসমূহ সুবিন্যস্ত করেছেন, তাই তাঁদের মুকুট
… আপনার কাছে পূর্ণতার নানা বৈচিত্র্যে সুশোভিত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فيما مدة الإمداد نقطة خطه
… ويا ذروة الإطلاق إذ يتسلسل
محال يحول القلب عنك وإنني
… وحقك لا أسلو ولا أتحول
عليك صلاة الله منه تواصلت
… صلاة اتصال عنك لا تتنصل
شخصت أبصار بصائر سكان سدرة المنتهى لجلال جماله، وحنت أرواح رؤساء الأنبياء إلى مشاهدة كماله.........................
--------------------------------------------
সাহায্যের প্রসারের সময়কালে তাঁর রেখার বিন্দুই সব
… এবং হে চূড়ান্ত মুক্তির শিখর যখন তা ধারাবাহিকভাবে আসে।
অন্তর আপনার থেকে ফিরে যাওয়া অসম্ভব
… আপনার কসম, আমি আপনাকে ভুলে থাকব না এবং বিচ্যুত হব না।
আপনার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অবিরত সালাত বর্ষিত হোক
… এমন নিরবচ্ছিন্ন সালাত যা কখনো আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।
সিদরাতুল মুনতাহার অধিবাসীদের অন্তর্দৃষ্টির চোখসমূহ তাঁর সৌন্দর্যের মহিমার দিকে স্থির হয়ে তাকিয়ে ছিল, আর প্রধান নবীদের রুহসমূহ তাঁর পূর্ণতা দর্শনের জন্য ব্যাকুল হয়েছিল.........................
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وتلفتت لفتات أنفس الملأ الأعلى إلى نفائس نفحاته، وتطاولت أعناق العقول إلى أعين لمحاته ولحظاته، فعرج به إلى المستوى الأقدس، وأطلعه على السر الأنفس، في إحاطته الجامعة، وحضرات حظيرة قدسه الواسعة، فوقفت أشخاص الأنبياء في حرم الحرمة، على أقدام الخدمة، وقامت أشباح الملائكة في معارج الجلال، على أرجل
--------------------------------------------
উচ্চতর জগতের সত্তাসমূহ তাঁর বহুমূল্য সুবাসের দিকে মনোনিবেশ করল, এবং জ্ঞানবানদের ঘাড় তাঁর নজরের ও দৃষ্টির উজ্জ্বল ঝিলিকসমূহের দিকে প্রসারিত হল। অতঃপর তাঁকে পবিত্রতম সমতলে আরোহণ করানো হল এবং তাঁকে পরম গোপন রহস্য সম্পর্কে অবহিত করা হলো, যা তাঁর সর্বব্যাপী পরিবেষ্টন এবং তাঁর প্রশস্ত পবিত্র বেষ্টনীর উপস্থিতিতে বিদ্যমান। সেখানে নবীদের ব্যক্তিসত্ত্বা সম্মানের হারামে খেদমতের পায়ের ওপর দণ্ডায়মান ছিল এবং ফেরেশতাদের অবয়বসমূহ মহিমার আরোহণক্ষেত্রসমূহে পায়ের ওপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الإجلال، وهامت أرواح العشاق في معاناة الأشواق:
كل إليك بكله مشتاق
… وعليه من رقبائه أحداق
يهواك ما ناح الحمام بأيكة
… أو لاح برق في الدجى خفاق
شوقي إليه لا يزال يديره
… فجميعه لجميعه عَشاق
اشتاق القمر.............................................
--------------------------------------------
মহিমা ও গাম্ভীর্য, আর অনুরাগের যন্ত্রণায় আশেকদের আত্মাগুলো ব্যাকুল হয়ে ঘুরে বেড়ালো:
আপনার প্রতি প্রত্যেকেই তার সর্বস্ব দিয়ে অনুরাগী
… আর তার উপর তার প্রহরীদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ
সে আপনাকে ভালোবাসে যতক্ষণ ঘুঘু পাখি কুঞ্জবনে বিলাপ করে
… অথবা অন্ধকারের বুকে উজ্জ্বল বিদ্যুৎ চমকায়
তার প্রতি আমার অনুরাগ নিরন্তর তাকে আন্দোলিত করে
… তাই তার প্রতিটি অংশ তার প্রতিটি অংশের জন্য অতিশয় প্রেমিক
চাঁদ অভীপ্সা করল.............................................
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لمشاهدته فانشق، فشق مرائر الأشقياء الشاقين، وحن لمفارقته الجذع، فتصدع فانصدعت قلوب الأغبياء المنافقين وبرقت من مشكاة بعثته بوارق طلائع الحقائق، وانقادت لدعوته العامة خاصة خلاصة الخلائق، ولم يزل يجاهد في الله بصدق عزماته، وينظم أشتات الإسلام بعد افتراق جهاته، حتى كملت كمالات دينه..........
--------------------------------------------
তাঁকে দেখার জন্য চাঁদ বিদীর্ণ হলো, ফলে তা সেই সকল অবাধ্য দুর্ভাগাদের পিত্তথলি বিদীর্ণ করল যারা তাঁর বিরোধিতা করেছিল। আর তাঁর থেকে পৃথক হওয়ার কারণে খেজুরের শুকনো কাণ্ডটি বিলাপ করল, ফলে সেটি ফেটে গেল। আর এর মাধ্যমে নির্বোধ মুনাফিকদের অন্তরসমূহ বিদীর্ণ হলো। তাঁর নবুওয়াতের প্রদীপাধার থেকে সত্যের আলোকবর্তিকাগুলো প্রজ্বলিত হলো এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ তাঁর দাওয়াতের অনুগত হলো। তিনি আল্লাহর পথে তাঁর দৃঢ় সংকল্পের সাথে সর্বদা জিহাদ চালিয়ে গেলেন এবং বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে থাকা ইসলামের বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে সুসংবদ্ধ করলেন, যতক্ষণ না তাঁর দ্বীনের পূর্ণতাগুলো পূর্ণতা লাভ করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وحججه البالغة، وتمت على سائر أمته نعمته السابغة، وخير فاختار الرفيق الأعلى، وآثر الآخرة على الأولى، فنقله الله قائمًا على قدم السلامة، إلى دار السلام
--------------------------------------------
এবং তাঁর সুষ্পষ্ট দলীলসমূহ; আর তাঁর পরিপূর্ণ নিয়ামত তাঁর সমগ্র উম্মতের ওপর পূর্ণ হয়েছে; তাঁকে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, ফলে তিনি সর্বোচ্চ সঙ্গীকে বেছে নিয়েছেন এবং ইহকালের ওপর পরকালকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে নিরাপত্তার পায়ের ওপর অটল রেখে শান্তির আবাসে স্থানান্তরিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وفردوس الكرامة، وبوأه أسنى مراقي التكريم في دار المقامة، ومنحه أعلى مواهب الشرف في اليوم المشهود، فهو الشاهد المشهود، المحمود بالمحامد التي يلهمها للحامد المحمود، والمنزلة العلية، والدرجة السنية، في حظائر القدس الأقدسية، والمشاهد الأنفسية، واصل الله عليه فضائل الصلوات.................
--------------------------------------------
এবং সম্মানের ফেরদাউস, আর তিনি তাঁকে চিরস্থায়ী আবাসে সম্মানের সর্বোচ্চ স্তরে স্থান দিয়েছেন, এবং তাঁকে সাক্ষ্যপ্রদ দিবসে শ্রেষ্ঠ মর্যাদাপূর্ণ উপহারসমূহ দান করেছেন। সুতরাং তিনি হলেন সেই সাক্ষী যাকে প্রত্যক্ষ করা হবে, সেই প্রশংসিত যিনি সেই সকল প্রশংসার মাধ্যমে প্রশংসিত যা প্রশংসাকারী প্রশংসিত সত্তাকে করার জন্য অনুপ্রেরণা প্রাপ্ত হবেন। আর সুউচ্চ মর্যাদা এবং মহিমান্বিত স্তর, অতি পবিত্র পবিত্রতার বেষ্টনীতে এবং আত্মিক দৃশ্যপটে। আল্লাহ তাঁর ওপর অব্যাহতভাবে সালাতের শ্রেষ্ঠত্বসমূহ বর্ষণ করুন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وشرائف التسليم، ونوامي البركات، وعلى آله الأطهار، وأصحابه الأبرار، صلاة وسلامًا لا ينقطع عنهما أمد الأمد، ولا يحصيهما العدد أبد الأبد.
وبعد:
--------------------------------------------
এবং সর্বোত্তম অভিবাদন ও ক্রমবর্ধমান বরকতসমূহ তাঁর পবিত্র বংশধর এবং পুণ্যবান সাহাবীদের উপর বর্ষিত হোক; এমন দরুদ ও সালাম যা অনন্তকাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন থাকবে এবং কোনো সংখ্যাই চিরকাল তা গণনা করতে পারবে না।
অতঃপর:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فهذه لطيفة من لطائف نفحات العواطف الرحمانية، ومنحة من منح مواهب العطايا الربانية، تنبئ عن نبذة من كمال شرف نبينا محمد -عليه أفضل الصلوات وأنمى التسليم وأسنى الصلات............................
--------------------------------------------
এটি রহমানি করুণার সুগন্ধি স্নিগ্ধতার এক সূক্ষ্ম নিদর্শন এবং রব্বানি দান ও অনুদানসমূহের মধ্য হতে এক উপহার, যা আমাদের নবী মুহাম্মদ (যাঁর ওপর শ্রেষ্ঠ সালাত, বর্ধনশীল সালাম এবং উচ্চতর কল্যাণসমূহ বর্ষিত হোক)-এর মর্যাদার পূর্ণতার এক সামান্য অংশ সম্পর্কে অবহিত করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وسبق نبوته في الأزمان الأزلية، وثبوت رسالته في الغايات الأحدية، والتبشير بأحمديته في الأزمان الخالية، والتذكير بمحمديته في الأمم الماضية، وإشراق بوارق لوامع أنوار آيات ولادته التي سار ضوء فجرها...................................
--------------------------------------------
অনাদি অনন্ত কাল হতে তাঁর নবুওয়াতের অগ্রবর্তিতা, এককত্বের চূড়ান্ত লক্ষ্যসমূহে তাঁর রিসালাতের স্থায়িত্ব, বিগত হওয়া যামানাসমূহে তাঁর আহমাদিয়াত (প্রশংসিত বৈশিষ্ট্য) এর সুসংবাদ প্রদান, অতীত উম্মতগণের মাঝে তাঁর মুহাম্মাদিয়াত এর স্মরণ এবং তাঁর জন্মের নিদর্শনাদির উজ্জ্বল আলোকচ্ছটার বিচ্ছুরণ যার ভোরের আলো বিস্তৃত হয়েছিল...................................
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
في سائر بريته، ودار بدر فخرها في أقطار ملته، وعواطف لطائف رضاعه وحضانته، وينابيع أسرار سر مسراه وبعثته وهجرته، وعوارف معارف عبوديته الساري عرف شذاها في آفاق قلوب أهل ولايته، ونفائس أنفاس أحواله الزكية، ودقائق حقائق سيرته العلمية، إلى حين نقلته لروضة قدسه الأحدية، وتشريفه بشرائف الآيات، وتكريمه بكرائم المعجزات، وترفيعه في آي التنزيل برفعه ذكره، وعلو خطره، وتعظيم محاسن................
--------------------------------------------
তাঁর সকল সৃষ্টির মাঝে, এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পূর্ণিমার চাঁদ আবর্তিত হয়েছে তাঁর আদর্শের দিগন্তসমূহজুড়ে, এবং তাঁর দুগ্ধপান ও লালন-পালনের করুণাসিক্ত সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ, এবং তাঁর মিরাজ, নবুওয়াত ও হিজরতের রহস্যের গূঢ় উৎসসমূহ, এবং তাঁর দাসত্বের উচ্চতর জ্ঞানের উপহারসমূহ যার সৌরভের সুবাস তাঁর আনুগত্যকারীদের হৃদয়ের দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে, এবং তাঁর পবিত্র অবস্থাসমূহের মূল্যবান মুহূর্তসমূহ, এবং তাঁর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সিরাতের সূক্ষ্ম ও প্রকৃত রহস্যসমূহ; আল্লাহর অদ্বিতীয় পবিত্র বাগানে তাঁর স্থানান্তরিত হওয়ার সময় পর্যন্ত। আর তাঁকে উচ্চমর্যাদাপূর্ণ নিদর্শনাবলি দ্বারা ভূষিত করা, শ্রেষ্ঠ অলৌকিক ঘটনাবলি দ্বারা সম্মানিত করা এবং অবতীর্ণ কিতাবের আয়াতসমূহে তাঁর স্মরণকে সমুন্নত করার মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করা, তাঁর উচ্চ পদমর্যাদা এবং সৌন্দর্যের মাহাত্ম্যকে সম্মান জানানো................
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুয যুরকানী আলাল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
شمائله وخلائقه، وتخصيصه بعموم رسالته، ووجوب محبته واتباع طريقته وسيادته الجامعة لجوامع السؤدد في مشهد مشاهد المرسلين، وتفضيله بالشفاعة العظمى، العامة لعموم الأولين والآخرين، إلى غير ذلك من عجائب آياته ومنحه، وغرائب أعلام نبوته وحججه.
أوردتها حججًا قاهرة على الملحدين، وذكرى نافعة للموحدين..................
--------------------------------------------
তাঁর গুণাবলি ও স্বভাব-চরিত্র, তাঁর রিসালাতের সার্বজনীনতার মাধ্যমে তাঁকে বিশিষ্ট করা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণ ও তাঁর সুন্নাহর অনুসরণের আবশ্যকতা, এবং রাসুলগণের উপস্থিতির দৃশ্যপটে সমস্ত শ্রেষ্ঠত্বের আধার হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব লাভ করা। এছাড়া পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য প্রযোজ্য সুমহান সুপারিশের (শাফায়াতে কুবরা) মাধ্যমে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর আরও অন্যান্য বিস্ময়কর নিদর্শন, অনুদান, নবুওয়াতের অসাধারণ চিহ্ন ও প্রমাণসমূহ।
আমি এগুলো নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অকাট্য দলিল হিসেবে এবং একত্ববাদীদের জন্য উপকারী স্মারক হিসেবে উপস্থাপন করেছি..................
--------------------------------------------