(খণ্ড: ১) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: -)
فوائد الحنائي = الحنائيات   (أبو القاسم الحنائي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الحنائيات (فوائد أبي القاسم الحنائي)

المؤلف: أَبُو القَاسِمِ الحُسَيْنُ بنُ مُحَمَّدِ بنِ إِبْرَاهِيْمَ بنِ الحُسَيْنِ الدِّمَشْقِيُّ، الحِنَّائِي (ت 459هـ)

تخريج: النخشبي

المحقق: خالد رزق محمد جبر أبو النجا

الناشر: أضواء السلف

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تمت مقابلة الكتاب وقوبل أيضا على طبعة مكتبة الأصالة والتراث في مجلد بتحقيق حمدي عبد المجيد السلفي، وعند الاختلاف أثبت ما في المخطوط، ما عدا الأجزء {الثاني والتاسع إلى آخر الكتاب} فلم تتوفر مخطوطاتها، فأثبتت أهم الاختلافات، وظهر من خلال عرض الاختلافات على المخطوط أن الطبعة المعتمدة أقل خطئاً، وبالنسة لترقيم الأحاديث فالرقم الأول للطبعة المعتمدة، والذي بعده بين [] لطبعة السلفي

أعده للشاملة: أحمد الخضري (نسخ) ، ويا باغي الخير أقبل (مقابلة)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফাওয়াইদুল হিন্নায়ী = আল-হিন্নাইয়্যাত   (আবু আল-কাসিম আল-হিন্নায়ী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আল-হিন্নাইয়্যাত (ফাওয়াইদু আবি আল-কাসিম আল-হিন্নায়ী)

লেখক: আবু আল-কাসিম আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-হুসাইন আদ-দিমাশকি, আল-হিন্নায়ী (মৃত্যু ৪৫৯ হি.)

তাখরিজ: আন-নাখশাবি

গবেষক ও সম্পাদক: খালিদ রিযক মুহাম্মাদ জাবর আবু আন-নাজা

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হি. - ২০০৭ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

কিতাবটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং হামদী আব্দুল মাজীদ আস-সালাফীর সম্পাদনায় মাকতাবাতুল আসালাহ ওয়াত তুরাহ থেকে প্রকাশিত এক খণ্ডের সংস্করণের সাথেও মিলিয়ে দেখা হয়েছে। পাঠভেদের ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপির পাঠকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, তবে {দ্বিতীয় এবং নবম থেকে কিতাবের শেষ পর্যন্ত} অংশগুলো এর ব্যতিক্রম, কারণ এগুলোর পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি; তাই সেখানে গুরুত্বপূর্ণ পাঠভেদগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ভিত্তি হিসেবে গৃহীত সংস্করণটিতে ভুল কম রয়েছে। আর হাদিস নাম্বারিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথম নাম্বারটি ভিত্তি হিসেবে গৃহীত সংস্করণের জন্য, এবং এরপর ব্র্যাকেটের [] ভেতরকার নাম্বারটি সালাফী সংস্করণের জন্য।

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদরি (অনুলিপন) ، এবং ইয়া বাগী আল-খাইর আকবিল (যাচাইকরণ)

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٠٧)
‌‌الجزء السادس مِنْ فَوَائِدِ الشَّيْخِ أَبِي الْقَاسِمِ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحِنَّائِيِّ

تَخْرِيجُ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَاصِمٍ النَّخْشَبِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ
শায়খ আবুল কাসিম আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-হিন্নায়ীর বর্ণিত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ হতে ষষ্ঠ খণ্ড

আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আসিম আন-নাখশাবীর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সংকলন
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٠٩)
[بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ رَبِّ يَسِّرْ] (1)

151-[159] [أخبرنا أبو مُحَمَّدٍ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْمُسْلِمِ قراءة عليه ونحن بدمشق قيل له: أخبرك أَبُو مُحَمَّدٍ طَاهِرُ بْنُ سَهْلِ بْنِ بِشْرِ الإسفرائيني وأنت تسمع ح] (2) وأخبرنا الشيخ المعدل أبو الْمَحَاسِنِ مُحَمَّدِ بْنِ كَامِلِ بْنِ أَحْمَدَ التَّنُوخِيِّ بقراءتي عليه بدمشق قلت لَهُ أَخْبَرَكُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ طَاهِرِ بْنِ سَهْلِ بْنِ بِشْرٍ الإِسْفَرَايِينِيِّ قال أبنا أَبُو الْقَاسِمِ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحِنَّائِيِّ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُوسَى بْنِ رَاشِدِ بْنِ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْكِلابِيُّ مِنْ لَفْظِهِ قَالَ أبنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ خُرَيْمِ بْنِ مَرْوَانَ الْعُقَيْلِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قال: ثنا أَبُو الْوَلِيدِ هِشَامُ بْنُ عَمَّارِ بْنِ نُصَيْرِ بْنِ مَيْسَرَةَ السلمي قال: ثنا مالك بن أنس قال: ثنا إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: الرُّؤْيَا الْحَسَنَةُ مِنَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَالِكُ بْنُ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ الأَصْبَحِيِّ حَلِيفِ عُثْمَانَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ التَّيْمِيِّ الْقُرَشِيِّ إِمَامِ الْمَدِينَةِ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ الْأَنْصَارِيِّ النَّجَّارِيِّ الْخَزْرَجِيِّ خَادِمِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

أَخْرَجَهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ فِي التَّعْبِيرِ عَنِ الْقَعْنَبِيِّ عَنْ مَالِكٍ

وَكَانَ شَيْخُنَا حَدَّثَنَا بِهِ عَنِ الْبُخَارِيِّ وَبَيْنِي وَبَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيهِ ستة رجال والحمد لله.

--------------------------------------------

(1) [[من طبعة السلفي والمخطوط]]

(2) [[من طبعة السلفي والمخطوط]]
[পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আর মহান ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই। হে পালনকর্তা, সহজ করে দিন।] (১)

১৫১-[১৫৯] [আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে আলী ইবনুল মুসলিম, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যখন আমরা দামেস্কে ছিলাম। তাঁকে বলা হলো: আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ তাহের ইবনে সাহল ইবনে বিশর আল-ইসফারায়িনী এবং আপনি তা শুনছিলেন।] (২) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শেখ আল-মুআদ্দাল আবু মাহাসিন মুহাম্মাদ ইবনে কামিল ইবনে আহমাদ আত-তানুখি, তাঁর কাছে আমার পাঠের মাধ্যমে যখন আমি দামেস্কে ছিলাম। আমি তাঁকে বললাম, আপনাকে কি সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ তাহের ইবনে সাহল ইবনে বিশর আল-ইসফারায়িনী? তিনি বললেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আল-হিন্নাঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যখন আমি শুনছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবুল হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুল হাসান ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে মুসা ইবনে রাশিদ ইবনে খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কিলাবি, তাঁর নিজস্ব উচ্চারণ থেকে। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে খুরাইম ইবনে মারওয়ান আল-উকাইলি, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যখন আমি শুনছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবুল ওয়ালিদ হিশাম ইবনে আম্মার ইবনে নুসাইর ইবনে মাইসারাহ আস-সুলামি। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস। তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "একজন সৎ ব্যক্তির দেখা উত্তম স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।"

এটি আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবি আমির আল-আসবাহি (যিনি মদিনার ইমাম এবং উসমান ইবনে উবাইদুল্লাহ আত-তাইমি আল-কুরাশির মিত্র)-এর বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস; যা ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাদেম আবু হামজাহ আনাস ইবনে মালিক আল-আনসারি আন-নাজ্জারি আল-খাযরাজি থেকে বর্ণনা করেছেন।

এটি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী 'কিতাবুত তা'বীর' (স্বপ্নব্যাখ্যা অধ্যায়)-এ আল-কা'নাবি-এর সূত্রে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং আমাদের শায়খ আমাদের নিকট এটি বুখারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সূত্রে আমার এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যে ছয়জন ব্যক্তি রয়েছেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।

--------------------------------------------

(১) [[সালাফী মুদ্রণ ও পাণ্ডুলিপি থেকে]]

(২) [[সালাফী মুদ্রণ ও পাণ্ডুলিপি থেকে]]
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨١٣)
152-[160] أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ الْحَكَمِ بْنِ الْوَلِيدِ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ أَبِي الْحَدِيدِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ أبنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ بِشْرِ بْنِ النَّضْرِ الْهَرَوِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حاضر قال: ثنا محمد بن حماد الطهراني قال أبنا عبد الرزاق قال أبنا مَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ مِنْهَا: قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ عَلَى صُورَتِهِ طُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا فلما خلقه قال: اذهب فسلم على هؤلائك النَّفَرِ - نَفَرٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ جُلُوسٍ - وَاسْمَعْ مَا يحيوك فَإِنَّهَا تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ قَالَ: فَذَهَبَ فَقَالَ: السَّلامُ عَلَيْكُمْ فَقَالُوا: عَلَيْكَ السَّلامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ قَالَ: فَكُلُّ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ آدَمَ عليه السلام وَطُولُهُ سِتُّونَ ذِرَاعًا فَلَمْ يزل الخلق ينقص بَعْدُ حَتَّى الآنَ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عُرْوَةَ مَعْمَرِ بْنِ رَاشِدٍ الصَّنْعَانِيِّ بَصْرِيِّ الأَصْلِ نَزَلَ صَنْعَاءَ عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ أَخِي وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ وَهُمْ أَرْبَعَةُ إِخْوَةٍ: هَمَّامٌ وَوَهْبُ وَعَقِيلٌ وَمَعْقِلٌ بَنُو مُنَبِّهِ بْنِ كَامِلِ بْنِ سَيْجٍ الصَّنْعَانِيِّ مِنْ أَبْنَاءِ الْفُرْسِ الْيَمَانِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

⦗ص: 814⦘ أَخْرَجَهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ فِي خَلْقِ آدَمَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ هُوَ الْمُسْنَدِيُّ وَفِي الاسْتِئْذَانِ عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْفَرٍ هُوَ ابْنُ أَعْيَنَ الْبِيكَنْدِيُّ.

وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ النَّيْسَابُورِيُّ كُلُّهُمْ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ كَمَا أَخْرَجْنَاهُ

فَكَأَنَّ شَيْخَنَا حَدَّثَنَا بِهِ عَنِ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ جَمِيعًا.
১৫২-[১৬০] আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন আল-হাকাম বিন আল-ওয়ালিদ, যিনি ইবনে আবি আল-হাদিদ নামে পরিচিত, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন বিশর বিন আন-নদর আল-হারাউই তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তখন উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন হাম্মাদ আত-তিহরানি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি বলেন: এটি সেই হাদিস যা আবু হুরায়রা আমাদের নিকট মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তার মধ্য হতে একটি হলো: তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ আদমকে তাঁর (আল্লাহর) আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। যখন তিনি তাঁকে সৃষ্টি করলেন, তখন বললেন: যাও এবং ঐ দলটিকে—যারা ফেরেশতাদের একটি উপবিষ্ট দল ছিল—সালাম দাও এবং শোনো তারা তোমাকে কী অভিবাদন জানায়, কারণ সেটিই হবে তোমার এবং তোমার বংশধরদের অভিবাদন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি গেলেন এবং বললেন: আস-সালামু আলাইকুম। তাঁরা বললেন: আলাইকাস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তিনি বলেন: সুতরাং যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা আদমের আকৃতিতে হবে এবং তাঁর উচ্চতা হবে ষাট হাত। এরপর থেকে সৃষ্টির উচ্চতা ক্রমাগত হ্রাস পেতে পেতে বর্তমান সময় পর্যন্ত পৌঁছেছে।"

এটি একটি সহিহ হাদিস, যা আবু উরওয়াহ মা'মার বিন রাশিদ আস-সানআনি—যিনি মূলগতভাবে বসরি কিন্তু সানআতে বসবাস করতেন—বর্ণনা করেছেন হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ থেকে, যিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহের ভাই। তাঁরা চার ভাই: হাম্মাম, ওয়াহাব, আকিল এবং মাকিল; তাঁরা মুনাব্বিহ বিন কামিল বিন সাইজ আস-সানআনির পুত্র, যারা পারসিক বংশোদ্ভূত ইয়েমেনিদের বংশধর। তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

⦗পৃষ্ঠা: ৮১৪⦘ এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি 'আদমের সৃষ্টি' অধ্যায়ে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ—যিনি আল-মুসনাদি—থেকে এবং 'অনুমতি গ্রহণ' অধ্যায়ে ইয়াহইয়া বিন জাফর—যিনি ইবনে আয়ান আল-বিকান্দি—থেকে।

এবং এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ মুহাম্মাদ বিন রাফি আন-নাইসাবুরি থেকে। তাঁরা সকলে আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন যেভাবে আমরা এটি বর্ণনা করেছি।

ফলে মনে হচ্ছে আমাদের শায়খ এটি আমাদের নিকট বুখারি ও মুসলিম উভয় থেকে একত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨١٧)
153-[161] أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِلالٍ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ: ثنا أَبُو يُوسُفَ يَعْقُوبُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرحمن الجصاص الدعاء قال: ثنا أحمد بن الوليد قال: ثنا أبو عبد الرحمن المقرئ قال: ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ عَنِ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنْ عُرِضَ عَلَيْهِ طِيبٌ فَلا يَرُدَّهُ فَإِنَّهُ خَفِيفُ الْمَحْمَلِ طَيِّبُ الرَّائِحَةِ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي يَحْيَى سَعِيدٍ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ وَاسْمُ أَبِي أَيُّوبَ مِقْلاصٌ الْمِصْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ الْقُرَشِيِّ الْمِصْرِيِّ عَنِ الأَعْرَجِ وَهُوَ أَبُو دَاوُدَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هُرْمُزَ الْمَدِينِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.

وَهُوَ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَبْدِ الرحمن بْنِ يَزِيدَ الْمُقْرِئِ الْمَكِّيِّ عَنْهُ

أَخْرَجَ مُسْلِمٌ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ وَزُهَيْرِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئِ هذا الحديث وحديثا آخر لفظه " من عرض عليه ريحان فَلا يَرُدَّهُ "

وَهَذَا الْحَدِيثُ أَشْهَرُ وَالآخَرُ أَغْرَبُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

فَكَانَ شَيْخُنَا حَدَّثَنَا بِهِ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ الْحَجَّاجِ بِحَمْد اللَّهِ وَمَنِّهِ.
১৫৩-[১৬১] আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হিলাল (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শুনছিলাম—তিনি বলেন: আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-জাসসাস আদ-দুয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন আবি আইয়ুব আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ বিন আবি জাফর থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাজিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যাকে সুগন্ধি উপঢৌকন দেওয়া হয়, সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়; কেননা এটি বহনে হালকা এবং এর ঘ্রাণ অত্যন্ত চমৎকার।"

এই হাদিসটি আবু ইয়াহইয়া সাঈদ বিন আবি আইয়ুবের বর্ণনা থেকে একটি সহীহ হাদিস। আর আবু আইয়ুবের নাম হলো মিকলাস আল-মিসরি। তিনি বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন আবি জাফর আল-কুরাশি আল-মিসরি থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে—যিনি হলেন আবু দাউদ আব্দুর রহমান বিন হুরমুজ আল-মাদিনি—এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে।

আর এটি আবু আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ আল-মুকরি আল-মাক্কির সূত্রেও সহীহ।

ইমাম মুসলিম আবু বকর বিন আবি শায়বা ও জুহাইর বিন হারব থেকে, তাঁরা আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি থেকে এই হাদিসটি এবং অন্য একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যার শব্দ হলো: "যাকে রায়হান (সুগন্ধি উদ্ভিদ) দেওয়া হয় সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়।"

এই হাদিসটি অধিক প্রসিদ্ধ এবং অন্যটি অধিক বিরল। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে আমাদের শাইখ ইমাম মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ থেকে এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٢٢)
154-[162] أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِلَالٍ الْحِنَّائِيُّ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ: ثنا أَبُو يُوسُفَ يَعْقُوبُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرحمن الجصاص الدعاء قال: ثنا يحيى بن حبيب أبو عقيل قال: ثنا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ حَدَّثَ بِحَدِيثٍ وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ الثَّوْرِيِّ أَحَدِ أَئِمَّةِ الْكُوفَةِ عَنْ أَبِي يَحْيَى حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ وَاسْمُ أَبِي ثَابِتٍ قَيْسُ بْنُ دِينَارٍ الْكُوفِيُّ مَوْلَى بَنِي أَسَدٍ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ وَيُقَالُ: أَبُو عِيسَى الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ الثَّقَفِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي أَوَّلِ الْكِتَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ هُوَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ وَكِيعٍ عَنْ شُعْبَةَ وَسُفْيَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ كَمَا أَخْرَجْنَاهُ

فَكَانَ شَيْخُنَا حَدَّثَنَا بِهِ عَنْ مُسْلِمٍ.
১৫৪-[১৬২] আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হিলাল আল-হিন্নায়ী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাদের নিকট পাঠ করে শুনিয়েছেন এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আল-জাসসাস আদ-দুআ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে হাবিব আবু আকিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উসামা আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি মাইমুন ইবনে আবি শাবীব থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে শু'বা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো হাদীস বর্ণনা করল এমতাবস্থায় যে সে মনে করে এটি মিথ্যা, তবে সেও মিথ্যাবাদীদের একজন।"

এই হাদীসটি কুফার অন্যতম ইমাম আবু আবদুল্লাহ সুফিয়ান ইবনে সাঈদ ইবনে মাসরুক আস-সাওরী-এর বর্ণনা থেকে একটি সহীহ হাদীস; তিনি আবু ইয়াহইয়া হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে (আর আবু সাবিতের নাম হলো কায়স ইবনে দীনার আল-কুফী, যিনি বনু আসাদের আযাদকৃত দাস), তিনি মাইমুন ইবনে আবি শাবীব থেকে, তিনি আবু আবদুল্লাহ—যাকে আবু ঈসাও বলা হয়—মুগীরা ইবনে শু'বা আস-সাক্বাফী থেকে, তিনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম মুসলিম এটি কিতাবের শুরুতে আবু বকর—যিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি শায়বাহ—থেকে, তিনি ওকী' থেকে, তিনি শু'বা ও সুফিয়ান থেকে এবং তারা হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।

আমাদের শায়খ এটি আমাদের নিকট ইমাম মুসলিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٢٦)
155-[163] أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِلالٍ الْحِنَّائِيُّ أَبُو بَكْرٍ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ أبنا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بن صالح الصفار ببغداد قال: ثنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ بْنِ يَزِيدَ العبدي قال: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ أَخْبَرَنِي خَالِدُ بْنُ أَبِي عِمْرَانَ عَنْ حَنَشٍ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ خَيْبَرَ بِقِلادَةٍ فِيهَا خَرَزٌ مُعَلَّقَةٌ بِذَهَبٍ ابْتَاعَهَا رَجُلٌ بِسَبْعَةِ دَنَانِيرَ أَوْ بِتِسْعَةِ دَنَانِيرَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: لا حَتَّى تُمَيِّزَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَالَ: إِنَّمَا اخْتَرْتُ الْحِجَارَةَ قَالَ: لا حَتَّى تُمَيِّزَ بَيْنَهُمَا قَالَ: فَرَدَّهُ حَتَّى مُيِّزَ بَيْنَهُمَا.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ الْمَرْوَزِيُّ الْحَنْظَلِيُّ مَوْلاهُمْ أَحَدُ أَئِمَّةِ خُرَاسَانَ عَنْ أَبِي يَحْيَى سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ وَاسْمُ أَبِي أَيُّوبَ مِقْلاصٌ الْخُزَاعِيُّ الْمِصْرِيُّ عَن خَالِدِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ عَنْ حَنَشِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّبَائِيِّ (1) الصَّنْعَانِيِّ وَقَالَ زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ: حَنَشُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ مِنْ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ هُوَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ

فَكَانَ شَيْخُنَا حَدَّثَنَا بِهِ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ الحجاج ولله الحمد.

--------------------------------------------

(1) [[من طبعة السلفي والمخطوط، وفي المطبوع: الشيباني]]
১৫৫-[১৬৩] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হিলাল আল-হিন্নায়ী আবু বকর (রাহিমাহুল্লাহ), তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সালিহ আস-সাফফার বাগদাদে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আরাফাহ বিন ইয়াজিদ আল-আবদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক, সাঈদ বিন আবি আইয়ুব থেকে, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন খালিদ বিন আবি ইমরান, হানাশ থেকে, তিনি ফাদালা বিন উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খায়বরের বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট একটি হার আনা হলো যাতে পুঁতি ছিল এবং তা সোনার সাথে ঝোলানো ছিল। এক ব্যক্তি তা সাত দিনার অথবা নয় দিনারের বিনিময়ে ক্রয় করেছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "না, যতক্ষণ না তুমি এর মধ্য থেকে সোনা ও পুঁতি পৃথক করবে।" সে বলল: "আমি তো কেবল পাথরগুলোই (পুঁতি) চেয়েছিলাম।" তিনি বললেন: "না, যতক্ষণ না তুমি এ দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করবে।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন যতক্ষণ না সেগুলোকে পৃথক করা হলো।

এটি একটি সহীহ হাদীস যা বর্ণিত হয়েছে আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক আল-মারওয়াজি আল-হানজালি (তাদের মুক্তদাস)-এর সূত্রে, যিনি খুরাসানের অন্যতম ইমাম। তিনি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া সাঈদ বিন আবি আইয়ুব থেকে, আর আবু আইয়ুবের নাম হলো মিকলাস আল-খুজায়ি আল-মিসরি। তিনি খালিদ বিন আবি ইমরান থেকে, তিনি হানাশ বিন আব্দুল্লাহ আস-সাবায়ি (১) আস-সানআনি থেকে। আর জাইদ বিন হুবাব বলেছেন: হানাশ বিন আলী, ফাদালা বিন উবাইদ আল-আনসারি থেকে, যিনি বনু আমর বিন আউফের বংশোদ্ভূত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে।

এটি ইমাম মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন আবু বকর থেকে, যিনি ইবনে আবি শাইবাহ, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক থেকে।

সুতরাং আমাদের শায়খ এটি মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজের সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আর সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।

--------------------------------------------

(১) [[সালাফি সংস্করণ এবং পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী, তবে মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: আশ-শায়বানি]]
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٣٢)
156-[164] أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أحمد الوراق قال أبنا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ حَذْلَمٍ قال: ثنا بكار بن قتيبة أبو بكرة البكراوي قال: ثنا حسين بن حفص الأصبهاني قال: ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ مَوْتِهِ بِثَلاثِ يَقُولُ: لا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلا وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللَّهِ عز وجل.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُحَمَّدٍ سُلَيْمَانَ بْنِ مِهْرَانَ الأَعْمَشِ مَوْلَى امْرَأَةٍ مِنْ بَنِي كَاهِلٍ الْكُوفِيِّ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ طلحة بن نافع المديني عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَرَامٍ الأَنْصَارِيِّ الْمَدِينِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ وَعَنْ أَبِي كُرَيْبٍ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ وَعَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاهَوَيْهِ عن عِيسَى وَأَبِي مُعَاوِيَةَ كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ بِهَذَا.

وَلَمْ يُخْرِجِ الْبُخَارِيُّ لأَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ شَيْئًا إِلا مَقْرُونًا بِأَبِي صَالِحٍ لأَنَّ وكيعا قال عن شعبة: أبو سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ إِنَّمَا هُوَ كِتَابٌ يَعْنِي صَحِيفَةً عَنْ جَابِرٍ فَلِذَلِكَ لَمْ يُخَرِّجْهُ الْبُخَارِيُّ والله أعلم.
১৫৬-[১৬৪] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান উবাইদুল্লাহ বিন হাসান বিন আহমদ আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ বিন সুলাইমান বিন আইয়ুব বিন হাজলাম, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বাক্কার বিন কুতায়বা আবু বাকরা আল-বাকরাওয়ী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন বিন হাফস আল-আসবাহানি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর মৃত্যুর তিন দিন আগে বলতে শুনেছেন: তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ না করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ না করে।

এটি একটি সহীহ হাদিস, যা বনু কাহিল গোত্রের এক মহিলার মুক্তদাস কুফি আবু মুহাম্মদ সুলাইমান বিন মিহরান আল-আ'মাশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সুফিয়ান তালহা বিন নাফি আল-মাদিনি থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ জাবির বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম আল-আনসারী আল-মাদিনি থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

এটি মুসলিম বিন হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া বিন আবি যায়িদাহ থেকে, এবং আবু কুরায়ব থেকে, তিনি আবু মুয়াবিয়া থেকে, এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইহ থেকে, তিনি ঈসা ও আবু মুয়াবিয়া থেকে, তারা সকলেই আ'মাশ থেকে এই সনদে।

ইমাম বুখারী জাবির থেকে আবু সুফিয়ানের কোনো বর্ণনা সংকলন করেননি, কেবল আবু সালিহের সাথে মিলিতভাবে বর্ণনা করা হলে করেছেন। কারণ ওয়াকি' শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: জাবির থেকে আবু সুফিয়ানের বর্ণনা মূলত একটি কিতাব অর্থাৎ জাবির থেকে প্রাপ্ত একটি সহীফা (লিখিত পাণ্ডুলিপি) ছিল। এই কারণেই ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেননি, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٣٧)
157-[165] حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْوَرَّاقُ قال أبنا أحمد بن سليمان قال: ثنا بكار بن قتيبة قال: ثنا مؤمل بن إسماعيل قال: ثنا سفيان الثوري قال: ثنا الأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ: كُنْتُ أَضْرِبُ غُلامًا لِي فَسَمِعْتُ خَلْفِي قَائِلا يَقُولُ: اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ فَالْتَفَتُّ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: وَاللَّهِ إِنَّ اللَّهَ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَيْهِ

قَالَ: فَمَا ضَرَبْتُ مَمْلُوكًا بَعْدَ ذَلِكَ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُحَمَّدٍ سُلَيْمَانَ بْنِ مِهْرَانَ الأعمش الكاهلي مولاهم عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ شَرِيكٍ التَّيْمِيِّ تَيْمِ الرَّبَابِ الْكُوفِيِّ عَنْ أَبِيهِ يزيد بن شريك بن طارق عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عُقْبَةَ بْنِ عَمْرٍو الْأَنْصَارِيِّ وَيُقَالُ لَهُ الْبَدْرِيُّ لأَنَّهُ سَكَنَ بَدْرًا وَلَمْ يَشْهَدْ بَدْرًا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ زُهَيْرِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حُمَيْدٍ الْمَعْمَرِيِّ عَنْ سُفْيَانَ وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنِ سُفْيَانَ

فَكَانَ شَيْخُنَا حَدَّثَنَا بِهِ عَنْ مُسْلِمٍ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ.
১৫৭-[১৬৫] উবাইদুল্লাহ বিন হাসান বিন আহমদ আল-ওয়াররাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমদ বিন সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, বাকার বিন কুতাইবা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মুআম্মাল বিন ইসমাঈল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান আস-সাওরী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-আ’মাশ ইবরাহীম আত-তাইমী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার এক গোলামকে মারধর করছিলাম। তখন আমার পেছন থেকে একজনকে বলতে শুনলাম: জেনে রেখো হে আবু মাসউদ! জেনে রেখো হে আবু মাসউদ! আমি পেছনে ফিরে তাকালাম, দেখলাম তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! তোমার এই গোলামের ওপর তোমার যতটুকু ক্ষমতা আছে, তোমার ওপর আল্লাহর ক্ষমতা তার চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি বললেন: এরপর আমি আর কখনো কোনো গোলামকে মারিনি।

এটি একটি সহীহ হাদীস, যা আবু মুহাম্মদ সুলাইমান বিন মিহরান আল-আ’মাশ আল-কাহিলী (তাদের আযাদকৃত গোলাম), আবু আসমা ইবরাহীম বিন ইয়াযীদ বিন শারীক আত-তাইমী (তাইমে রাবাব-এর কুফী), তাঁর পিতা ইয়াযীদ বিন শারীক বিন তারিক থেকে এবং তিনি আবু মাসউদ উকবা বিন আমর আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন। তাকে ‘বদরী’ বলা হয় কারণ তিনি বদর নামক স্থানে বসবাস করতেন, তবে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন না।

এটি মুসলিম বিন হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন যুহাইর বিন হারব থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন হুমাইদ আল-মামারী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে এবং মুহাম্মদ বিন রাফে থেকে, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমাদের শাইখ এটি আমাদের নিকট মুসলিম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٤٢)
158-[166] أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ تَمَّامُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الْجُنَيْدِ الرَّازِيُّ الحافظ رحمه الله قال أبنا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ حَذْلَمٍ قَالَ: ثنا أَبُو زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ: ثنا أبو اليمان الحكم بن نافع قال أبنا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: تَفْضُلُ صَلاةُ الْجَمْعِ صَلاةَ أَحَدِكُمْ وَحْدَهُ خَمْسًا وَعِشْرِينَ جُزْءًا وَتَجْتَمِعُ مَلائِكَةُ اللَّيْلِ وَمَلائِكَةُ النَّهَارِ فِي صلاة الفجر ثم يقول أبو هريرة: اقرؤوا إن شئتم {وقرآن الفجر إن قرآن الفجر كان مشهودا} .

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بِشْرٍ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ دِينَارٌ مَوْلَى بَنِي أُمَيَّةَ الْقُرَشِيُّ الْحِمْصِيُّ عَنْ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ حَزْنٍ الْمَخْزُومِيِّ الْقُرَشِيِّ وَأَبِي سَلَمَةَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.

أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ أَبِي الْيَمَانِ عَنْهُ كَمَا أَخْرَجْنَاهُ.
১৫৮-[১৬৬] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম তাম্মাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আল-জুনাইদ আল-রাজি আল-হাফিজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ ইবনে সুলাইমান ইবনে আইয়ুব ইবনে হাজলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু জুরআ আবদুর রহমান ইবনে আমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ামান আল-হাকাম ইবনে নাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুআইব ইবনে আবি হামজা, তিনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব এবং আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান যে, আবু হুরাইরা বলেছেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তোমাদের কারো একাকী সালাতের চেয়ে জামাতের সালাত পঁচিশ গুণ শ্রেষ্ঠত্ব রাখে এবং ফজরের সালাতে রাতের ফেরেশতা ও দিনের ফেরেশতারা একত্রিত হন।" অতঃপর আবু হুরাইরা বলেন: তোমরা চাইলে পাঠ করো— {আর ফজরের কুরআন পাঠ; নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ প্রত্যক্ষ করা হয়}।

এটি আবু বিশর শুআইব ইবনে আবি হামজা দিনার—যিনি বনু উমাইয়্যা কুরাইশির মুক্তদাস ও হিমসের অধিবাসী—তাঁর সূত্রে একটি সহিহ হাদিস, তিনি বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শিহাব আল-যুহরি থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ইবনে হাজন আল-মাখজুমি আল-কুরাইশি এবং আবু সালামা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আল-যুহরি থেকে, তাঁরা আবু হুরাইরা থেকে।

ইমাম বুখারি এটি আবু ইয়ামান থেকে তাঁর সূত্রে বের করেছেন যেভাবে আমরা এটি বের করেছি।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٤٥)
159-[167] أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ مَعْرُوفِ بْنِ حَبِيبِ بْنِ أبان التميمي قراءة عليه قال أبنا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ حَذْلَمٍ الْقَاضِي قَالَ: ثنا أَبُو زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ: ثنا إبراهيم بن يعقوب قال: ثنا المكي بن إبراهيم قال أبنا الْجُعَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سعد أن أباها قال: اشتكيت بمكة شَكْوَى شَدِيدَةً فَجَاءَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي تَرَكْتُ مَالا وَلَمْ أَتْرُكْ إِلا ابْنَةً وَاحِدَةً فَأُوصِي بِثُلُثَيْ مَالِي وَأَتْرُكُ الثُّلُثَ؟ قَالَ: لا، قلت: فَأُوصِي بِالنِّصْفِ وَأَتْرُكُ لَهَا النِّصْفَ؟ قَالَ: لا، قُلْتُ: فَأُوصِي بِالثُّلُثِ وَأَتْرُكُ لَهَا الثُّلُثَيْنِ؟ قَالَ: الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ أَتِمَّ لَهُ هِجْرَتَهُ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ جُعَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَوْسٍ الْمَدِينِيِّ وَيُقَالُ جَعْدٌ عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهَا

أَخْرَجَهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ عَنْ مَكِّيِّ بْنِ إِبْرَاهِيمَ كَمَا أخرجناه.
১৫৯-[১৬৭] আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবন উসমান ইবনুল কাসিম ইবন মারুফ ইবন হাবীব ইবন আবান আত-তামিমী তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবুল হাসান আহমদ ইবন সুলাইমান ইবন আইয়ুব ইবন হাযলাম আল-কাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু যুরআ আবদুর রহমান ইবন আমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবন ইয়াকুব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মাক্কী ইবন ইব্রাহিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, জুআইদ ইবন আবদুর রহমান আয়েশা বিনতে সাদ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর পিতা বলেছেন: মক্কায় আমি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী, আমি অনেক সম্পদ রেখে যাচ্ছি এবং আমার মাত্র একজন কন্যা সন্তান ছাড়া আর কেউ নেই। এমতাবস্থায় আমি কি আমার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ ওসিয়ত করব এবং এক-তৃতীয়াংশ রেখে দেব? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: তবে কি আমি অর্ধেক ওসিয়ত করব এবং তার জন্য অর্ধেক রেখে দেব? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: তবে কি আমি এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়ত করব এবং তার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ রেখে দেব? তিনি বললেন: এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ, তার হিজরতকে পূর্ণ করে দিন।

এটি জুআইদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আওস আল-মাদিনী —যাকে জাদ-ও বলা হয়— বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস, যা তিনি আয়েশা বিনতে সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল আল-বুখারী এটি মাক্কী ইবন ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন যেভাবে আমরা তা উদ্ধৃত করেছি।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٥٠)
160-[168] أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ معروف قال أبنا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ حَذْلَمٍ قَالَ: ثنا أَبُو زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ وحدثني عقبة بن مكرم الضبي قال: ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: لأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ أَحَدِكُمْ قَيْحًا خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بِسْطَامٍ شُعْبَةَ بْنِ الْحَجَّاجِ بِنِ الْوَرْدِ الْعَتَكِيِّ مَوْلَاهُمْ عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ قَتَادَةَ بْنِ دُعَامَةَ السَّدُوسِيِّ الْبَصْرِيِّ عَنْ أَبِي غَلابٍ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ الْبَصْرِيِّ عَنْ أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ أَبِي إِسْحَاقَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَاسْمُ أَبِي وَقَّاصٍ مَالِكِ بْنِ وُهَيْبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ زُهْرَةَ الزُّهْرِيُّ الْقُرَشِيِّ.

⦗ص: 851⦘ أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ أَبِي مُوسَى وَبُنْدَارٍ عَنْ غُنْدَرٍ عَنْ شُعْبَةَ كما أخرجناه.
১৬০-[১৬৮] আব্দুর রহমান বিন উসমান বিন আল-কাসিম বিন মারুফ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আবুল হাসান আহমাদ বিন সুলায়মান বিন আইয়ুব বিন হাজলাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু যুরআ আব্দুর রহমান বিন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন এবং উকবা বিন মুকরিম আদ-দব্বি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের নিকট শু'বাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি ইউনুস বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে সা'দ থেকে, তিনি সা'দ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তোমাদের কারো পেট পুঁজ দিয়ে পূর্ণ হওয়া তার কবিতা দিয়ে পূর্ণ হওয়ার চেয়ে উত্তম।

এটি আবু বিসতাম শু'বাহ বিন আল-হাজ্জাজ বিন আল-ওয়ারদ আল-আতাকি—তাদের মুক্ত করা দাস—এর সূত্রে একটি সহীহ হাদিস, যা বর্ণিত হয়েছে আবুল খাত্তাব কাতাদাহ বিন দুয়ামাহ আস-সাদুসি আল-বসরি থেকে, তিনি আবু গালাব ইউনুস বিন জুবায়ের আল-বসরি থেকে, তিনি আবু হাফস উমর বিন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি তার পিতা আবু ইসহাক সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে। আর আবু ওয়াক্কাসের নাম হলো মালিক বিন উহাইব বিন আব্দ মানাফ বিন জুহরাহ আয-যুহরি আল-কুরাশি।

⦗পৃষ্ঠা: ৮৫১⦘ এটি মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আবু মুসা এবং বুন্দার থেকে, তারা গুন্দার থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٥٦)
161-[169] أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَحْدَرِيُّ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قال: ثنا أَبُو سَعِيدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ الأَعْرَابِيَّ بمكة قال: ثنا سعدان بن نصر بن منصور البزاز قال: ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ أَبُو مُحَمَّدٍ الْهِلالِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هريرة يبلغ به النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ كَانَ عَلَى كُلِّ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ مَلائِكَةٌ يَكْتُبُونَ النَّاسَ الأَوَّلَ فَالأَوَّلَ فَالْمُهَجِّرُ إِلَى الصَّلاةِ كَالْمُهْدِي بَدَنَةً ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ كَالْمُهْدِي بَقَرَةً ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ كَالْمُهْدِي الْكَبْشَ حَتَّى ذَكَرَ الدَّجَاجَةَ وَالْبَيْضَةَ فَإِذَا جَلَسَ الإِمَامُ طَوَوُا الصُّحُفَ وَاجْتَمَعُوا لِلْخُطْبَةِ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُحَمَّدٍ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ مَوْلَى مِسْعَرِ بْنِ كِدَامٍ الْهِلالِيِّ عَنْ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ حَزْنٍ الْمَخْزُومِيِّ الْقُرَشِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.

أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ فِي الصَّلاةِ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى وَعَمْرٍو النَّاقِدِ عَنْ سُفْيَانَ كَمَا أَخْرَجْنَاهُ

وَكَانَ شَيْخُنَا حَدَّثَنَا بِهِ عَنْ مسلم.
১৬১-[১৬৯] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-জাহদারি বাইতুল মাকদিসে, তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করেছি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আল-আরাবি মক্কায়; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা’দান ইবনে নাসর ইবনে মনসুর আল-বাযযায; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আল-হিলালি, তিনি যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন, তিনি বলেন: যখন জুমার দিন উপস্থিত হয়, তখন মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতাগণ অবস্থান করেন, তাঁরা পর্যায়ক্রমে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। সুতরাং সালাতের জন্য দ্রুত আগমনকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো যে একটি উট কুরবানি করেছে। এরপর যে আসে সে সেই ব্যক্তির মতো যে একটি গরু কুরবানি করেছে। এরপর যে আসে সে সেই ব্যক্তির মতো যে একটি মেষ কুরবানি করেছে। এমনকি তিনি মুরগি এবং ডিমের কথাও উল্লেখ করেছেন। অতঃপর ইমাম যখন উপবেশন করেন, তখন তাঁরা (ফেরেশতাগণ) নথিপত্র গুটিয়ে নেন এবং খুতবা শোনার জন্য সমবেত হন।

এই হাদিসটি আবু মুহাম্মদ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ (মিসআর ইবনে কিদামের মুক্তদাস আল-হিলালি)-এর সূত্রে বর্ণিত একটি সহিহ হাদিস, তিনি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শিহাব আয-যুহরি থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ইবনে হাযন আল-মাখযুমি আল-কুরাশি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।

মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ এটি ‘সালাত’ অধ্যায়ে ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া এবং আমর আন-নাকিদ-এর সূত্রে সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, যেভাবে আমরা এটি বর্ণনা করেছি।

এবং আমাদের শায়খ আমাদের নিকট এটি মুসলিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٦٠)
162-[170] أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ أَبُو الفتح البصري ببيت المقدس قال أبنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادِ بْنِ الْأَعْرَابِيِّ قال: ثنا سعدان بن نصر بن منصور البزاز قال: ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ وَمَاؤُهَا شِفَاءٌ لِلْعَيْنِ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُحَمَّدٍ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ الْهِلالِيِّ مَوْلاهُمْ عَنْ أَبِي عَمْرٍو عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ الْقِبْطِيِّ وَهُوَ الْقُرَشِيُّ وَإِنَّمَا قِيلَ لَهُ الْقِبْطِيُّ مَنْسُوبًا إِلَى فَرَسٍ لَهُ كَانَ سَابِقًا قِبْطِيًّا عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ الْمَخْزُومِيِّ وَلَهُ صُحْبَةٌ عَنْ أَبِي الأَعْوَرِ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ رَبَاحِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُرْطِ (1) بْنِ رَزَاحِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ الْعَدَوِيِّ الْقُرَشِيِّ وَهُوَ أَحَدُ الْعَشَرَةِ.

أَخْرَجَهُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ أَبِي عُمَرَ الْعَدْنِيِّ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عيينة كما أخرجناه.

--------------------------------------------

(1) [[من طبعة السلفي والمخطوط، وفي المطبوع: قرة]]
১৬২-[১৭০] বায়তুল মুকাদ্দাসে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ আবুল ফাতহ আল-বাসরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ইবনুল আরাবী আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, সা'দান ইবনে নাসর ইবনে মানসুর আল-বাযযার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, সুফইয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি আমর ইবনে হুরাইস থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "ছত্রাক (কামআহ) হলো সেই মান্ন-এর অন্তর্ভুক্ত যা বনী ইসরাঈলের ওপর নাযিল করা হয়েছিল এবং এর নির্যাস চোখের জন্য আরোগ্যকারী।"

এই হাদীসটি আবু মুহাম্মাদ সুফইয়ান ইবনে উয়াইনাহ আল-হিলালী (তাদের মুক্ত করা দাস) বর্ণিত হাদীস হিসেবে সহীহ, যা তিনি আবু আমর আবদুল মালিক ইবনে উমাইর আল-কিবতী থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি কুরাশী ছিলেন, কিন্তু তাকে কিবতী বলা হতো তার একটি দ্রুতগামী ঘোড়ার দিকে সম্বন্ধ করে যার নাম ছিল কিবতী। তিনি আবু সাঈদ আমর ইবনে হুরাইস আল-মাখযুমী (যিনি সাহাবী ছিলেন) থেকে, তিনি আবুল আ'ওয়ার সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল ইবনে আবদুল উযযা ইবনে রাবাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুরত (১) ইবনে রাযাহ ইবনে আদি ইবনে কা'ব আল-আদাবী আল-কুরাশী থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর (আশারায়ে মুবাশশারাহ) একজন।

এটি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবু উমর আল-আদানী থেকে, তিনি সুফইয়ান ইবনে উয়াইনাহ থেকে, ঠিক যেভাবে আমরা এটি উদ্ধৃত করেছি।

--------------------------------------------

(১) [[সালাফী সংস্করণ ও পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী; তবে মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: 'কুররাহ']]
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٦٥)
163-[171] أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ مَعْرُوفِ بْنِ حَبِيبِ بْنِ أَبَانٍ التَّمِيمِيُّ فِيمَا أَجَازَ لَنَا أَنَّ أَبَا الْحَسَنِ خَيْثَمَةَ بْنَ سُلَيْمَانَ بْنَ حَيْدَرَةَ الأَطْرَابُلُسِيَّ حدثهم قال: ثنا أبو عتبة أحمد بن الفرج الحجازي قال: ثنا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ قَالَ: كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ أن أناسا قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ؟ قَالُوا: لا قَالَ: فَهَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ؟ قَالُوا: لا قَالَ: فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَ رَبَّكُمْ عز وجل يوم القيامة كذلك ويقول اللَّهُ عز وجل يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِكُلِّ أُمَّةٍ كَانَتْ تَعْبُدُ مِنْ دُونِهِ شَيْئًا مَنْ كَانَ يَعْبُدُ شَيْئًا فَلْيَتَّبِعْهُ فَيَتَّبِعُ الشَّمْسَ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ الشَّمْسَ وَيَتَّبِعُ الْقَمَرَ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ الْقَمَرَ وَيَتَّبِعُ الطَّوَاغِيتَ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ الطَّوَاغِيتَ وَتَبْقَى هَذِهِ الأُمَّةُ فِيهَا مُنَافِقُوهَا فَيَأْتِيهِمْ رَبُّهُمْ عز وجل فِي صُورَةٍ غَيْرِ صُورَتِهِ فَيَقُولُ: أَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّبِعُونِي فَيَقُولُونَ: هَذَا مَكَانُنَا حَتَّى يَأْتِيَنَا رَبُّنَا فَإِذَا رَأَيْنَا رَبَّنَا عَرَفْنَاهُ فَيَأْتِيهِمُ اللَّهُ عز وجل فِي صُورَتِهِ الَّتِي يَعْرِفُونَهُ فَيَقُولُ: أَنَا رَبُّكُمْ فَيَقُولُونَ: أَنْتَ رَبُّنَا فَيَتَّبِعُونَهُ فَيَضْرِبُ الصِّرَاطَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ جَهَنَّمَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: فَأَكُونُ أَنَا وَأُمَّتِي أَوَّلَ مَنْ يَجُوزُ عَلَى الصِّرَاطِ وَلا يَتَكَلَّمُ ⦗ص: 866⦘ يَوْمَئِذٍ إِلا الرُّسُلُ وَقَوْلُهُمْ يَوْمَئِذٍ: اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: فَأُجِيزُ أُمَّتِي وَفِي النَّارِ كَلالِيبُ مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ هَلْ رَأَيْتُمْ شَوْكَ السَّعْدَانِ؟ قَالُوا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: فَإِنَّهَا نَحْوُ شَوْكِ السَّعْدَانِ غَيْرَ أَنَّهَا لا يُعْلَمُ عِظَمَهَا إِلا اللَّهُ عز وجل يَخْطَفُ الناس بأعمالهم كالموبق في جهنم بعمله والمتخردل ثم ينجوا فَإِذَا فَرَغَ اللَّهُ عز وجل مِنَ الْقِصَاصِ بَيْنَ الْعِبَادِ وَأَرَادَ رَحْمَتَهُ مِمَّنْ فِي النَّارِ أَمَرَ الْمَلائِكَةَ أَنْ يُخْرِجُوا مِنْ جَهَنَّمَ مَنْ أراد رحمته فيخرجون وَيَعْرِفُوهُمْ بِآثَارِ السُّجُودِ وَحَرَّمَ اللَّهُ عز وجل عَلَى النَّارِ أَنْ تَأْكُلَ آثَارَ السُّجُودِ فَيُخْرِجُونَهُمْ من النار قد امْتُحِشُوا فَيُصَبُّ عَلَيْهِمْ مَاءُ الْحَيَاةِ فَيَنْبُتُونَ فِيهِ كَمَا تَنْبُتُ الْحَبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ حَتَّى بقي رَجُلٌ هُوَ آخِرُ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَنْ يَدْخُلَهَا قَاعِدٌ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ مُقْبِلٌ بِوَجْهِهِ عَلَى جَهَنَّمَ فَيَقُولُ: أَيْ ⦗ص: 867⦘ رَبِّ اصْرِفْ وَجْهِي عَنِ النار فإنه قد أحرقني وقشبني ريحها ويدعوا ما شاء الله أن يدعوه فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: فَهَلْ عَسَيْتَ إِنْ فُعِلَ ذَلِكَ بِكَ أَنْ تَسْأَلَ غَيْرَهُ؟ فَيَقُولُ: لا وَعِزَّتِكَ لا أَسْأَلُ غَيْرَهُ وَيُعْطِي رَبَّهُ مِنْ عَهْدٍ وَمِيثَاقٍ مَا شَاءَ اللَّهُ عز وجل فَيَصْرِفُ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ قَبْلَ الْجَنَّةِ فَإِذَا بَرَزَتْ لَهُ الْجَنَّةُ رَآهَا سَكَتَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَسْكُتَ ثُمَّ قَالَ: أَيْ رَبِّ قَدِّمْنِي عِنْدَ بَابِ الْجَنَّةِ فَيَقُولُ اللَّهُ: وَيْلَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا أَغْدَرَكَ فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ وَيَدْعُو حَتَّى يَقُولَ اللَّهُ: فَهَلْ عَسَيْتَ إِنْ أُعْطِيتَ ذَلِكَ أَنْ تَسْأَلَ غَيْرَهُ؟ فَيَقُولُ: لا وَعِزَّتِكَ ثُمَّ يُعْطِي رَبَّهُ ما شاء من عهود ومواثيق فيقدمه الله إِلَى بَابِ الْجَنَّةِ فَإِذَا قَدِمَ إِلَى بَابِ الْجَنَّةِ انْفَهَقَتْ لَهُ الْجَنَّةُ فَرَأَى مَا فِيهَا مِنَ الْخَيْرِ وَالسُّرُورِ ثُمَّ يَسْكُتُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَسْكُتَ ثُمَّ يَقُولُ: أَيْ رَبِّ أَدْخِلْنِي الْجَنَّةَ فَيَقُولُ: أَوَلَيْسَ قَدْ أُعْطِيتَ عُهُودَكَ وَمَوَاثِيقَكَ لا تَسْأَلُ غَيْرَ مَا أُعْطِيتَ؟ وَيْلَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا أَغْدَرَكَ فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ لا أَكُونُ أَشْقَى خَلْقِكَ فَلا يَزَالُ يدعوا وَيَسْأَلُهُ حَتَّى يَضْحَكَ اللَّهُ عز وجل مِنْهُ فيدخله الجنة ثم يقول: تمنى فَيَتَمَنَّى حَتَّى تَنْقَطِعَ بِهِ الأَمَانِيُّ وَيُذَكِّرُهُ اللَّهَ عز وجل فيقول: ومن كذا ومن كذا فيسأل من كَذَا وَكَذَا فَيَسْأَلُ حَتَّى إِذَا انْتَهَتْ نَفْسُهُ قَالَ اللَّهُ عز وجل: لَكَ ذَلِكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ.

قَالَ عَطَاءُ [بْنُ يَزِيدَ] (1) : وَأَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ جَالِسٌ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ حِينَ حَدَّثَ بهذا الْحَدِيثَ لا يَرُدُّ عَلَيْهِ مِنْ حَدِيثِهِ شَيْئًا، يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنَّ ⦗ص: 868⦘ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: لَمْ أَحْفَظْ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَوْلَهُ ذَلِكَ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: وَذَلِكَ الرَّجُلُ آخِرُ أَهْلِ الْجَنَّةِ دُخُولا الْجَنَّةِ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ مِسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ الشَّامِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَاسْمُهُ عَبْدُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ غَنْمٍ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَاسْمُهُ سَعْدُ بْنُ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ الأَنْصَارِيُّ.

وَهُوَ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي يَحْمُدَ (2) بَقِيَّةَ بْنِ الْوَلِيدِ الْكَلاعِيِّ الْحِمْصِيِّ عَنْ أَبِي الْهُذَيْلِ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَامِرٍ الزُّبَيْدِيِّ عَنْهُ. وَبَقِيَّةُ صَحِيحُ الْحَدِيثِ إِذَا رَوَى عَنِ الثِّقَاتِ الْمَشْهُورِينَ غَيْرَ أَنَّهُ كَثِيرًا مَا يَرْوِي عَنِ الْمَجْهُولِينَ بِالْمَنَاكِيرِ وَقَدْ أَخْرَجَ مُسْلِمٌ لِبَقِيَّةَ أَحَادِيثَ متابعة.

أَخْرَجَ مُحَمَّدٌ الْبُخَارِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ فِي الْجَامِعِ الصَّحِيحِ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأُوَيْسِيِّ الْمَدِينِيِّ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ

وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ زُهَيْرِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنِ الزُّهْرِيِّ

وَقَدْ رَوَاهُ شُعَيْبُ بْنُ أَبِي ⦗ص: 869⦘ حَمْزَةَ وَمَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ

وَرَوَاهُ سَلامَةُ بْنُ رَوْحِ بْنِ خَالِدٍ عَنْ عَمِّهِ عُقَيْلِ بْنِ خَالِدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَلَمْ يَذْكُرْ عَطَاءَ بْنَ يَزِيدَ وَلا سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَالْمَوْصُولُ صَحِيحٌ وَسَلامَةُ بْنُ رَوْحٍ لا يعتد باختلافه والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) [[من طبعة السلفي والمخطوط]]

(2) [[من طبعة السلفي والمخطوط، وفي المطبوع: محمد]]
১৬৩-[১৭১] আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন উসমান বিন আল-কাসিম বিন মারুফ বিন হাবিব বিন আবান আত-তামিমি আমাদের কাছে যা অনুমতি (ইজাজাহ) দিয়েছেন তাতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল হাসান খাইসামা বিন সুলাইমান বিন হাইদারা আল-আত্রাবুলুসি তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উতবা আহমদ বিন আল-ফারাজ আল-হিজাজি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ আজ-জুবাইদি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আজ-জুহরি থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াজিদ আল-লাইসি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা বর্ণনা করতেন যে, কিছু লোক বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাব? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমরা কি পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে কোনো কষ্টের সম্মুখীন হও? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তোমরা কি মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কোনো কষ্টের সম্মুখীন হও? তারা বলল: না। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তোমরা কিয়ামতের দিন তোমাদের রব আযযা ওয়া জাল্লাকে একইভাবে দেখতে পাবে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কিয়ামতের দিন প্রত্যেক উম্মতকে বলবেন, যারা তাঁর পরিবর্তে অন্য কিছুর ইবাদত করত: যে যার ইবাদত করত সে যেন তার অনুসরণ করে। তখন যারা সূর্যের ইবাদত করত তারা সূর্যের অনুসরণ করবে, যারা চাঁদের ইবাদত করত তারা চাঁদের অনুসরণ করবে, আর যারা মূর্তিপূজা করত তারা মূর্তিদের অনুসরণ করবে। আর এই উম্মত অবশিষ্ট থাকবে এবং তাদের মধ্যে তাদের মুনাফিকরাও থাকবে। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের কাছে এমন এক আকৃতিতে আসবেন যা তারা চেনে না। তিনি বলবেন: আমি তোমাদের রব, সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ করো। তারা বলবে: আমাদের রব আমাদের কাছে না আসা পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান করব; যখন আমাদের রব আমাদের কাছে আসবেন, তখন আমরা তাঁকে চিনতে পারব। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের কাছে সেই আকৃতিতে আসবেন যাতে তারা তাঁকে চেনে। তিনি বলবেন: আমি তোমাদের রব। তারা বলবে: আপনিই আমাদের রব। অতঃপর তারা তাঁর অনুসরণ করবে। তারপর জাহান্নামের ওপর পুলসিরাত স্থাপন করা হবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমি এবং আমার উম্মতই হব প্রথম যারা পুলসিরাত অতিক্রম করবে। আর সেদিন ⦗পৃষ্ঠা: ৮৬৬⦘ রাসূলগণ ব্যতীত কেউ কথা বলবে না। সেদিন তাঁদের কথা হবে: হে আল্লাহ! সালামত রাখুন, সালামত রাখুন। আবু হুরায়রা বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমি আমার উম্মতকে পার করে নেব, আর জাহান্নামে সা'দান কাঁটার মতো অসংখ্য আঁকড়া থাকবে। তোমরা কি সা'দান কাঁটা দেখেছ? তারা বলল: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই সেগুলো সা'দান কাঁটার মতো হবে, তবে সেগুলো কতটা বিশাল হবে তা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ছাড়া আর কেউ জানে না। সেগুলো মানুষকে তাদের আমল অনুযায়ী ছিনিয়ে নেবে। আমলের কারণে কেউ ধ্বংস হবে, আবার কেউ ক্ষতবিক্ষত হয়েও মুক্তি পাবে। যখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা শেষ করবেন এবং জাহান্নামে অবস্থানকারীদের মধ্য থেকে যাদের প্রতি দয়া করার ইচ্ছা করবেন, তখন ফেরেশতাদের নির্দেশ দেবেন জাহান্নাম থেকে তাদের বের করে আনতে যাদের প্রতি তিনি দয়া করতে চেয়েছেন। তারা তাদের সিজদার চিহ্ন দেখে চিনতে পারবেন। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা জাহান্নামের আগুনের জন্য সিজদার চিহ্নসমূহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন। তারা তাদের জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন এমতাবস্থায় যে তারা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের ওপর জীবনের পানি ঢালা হবে, ফলে তারা সেখান থেকে এমনভাবে গজিয়ে উঠবে যেভাবে বন্যার পানির স্রোতে বয়ে আসা আবর্জনার মাঝে বীজ গজিয়ে ওঠে। পরিশেষে একজন লোক বাকি থাকবে যে জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হবে। সে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে বসে থাকবে এবং তার মুখ জাহান্নামের দিকে ফিরে থাকবে। সে বলবে: হে ⦗পৃষ্ঠা: ৮৬৭⦘ রব! আমার মুখমণ্ডল জাহান্নাম থেকে ফিরিয়ে দিন, কারণ এর উত্তাপ আমাকে পুড়িয়ে ফেলেছে এবং এর দুর্গন্ধ আমাকে বিচলিত করছে। সে আল্লাহর কাছে ততক্ষণ দোয়া করতে থাকবে যতক্ষণ আল্লাহ চাইবেন। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: তোমার এই দাবি পূর্ণ করা হলে তুমি কি আর কিছু চাইবে? সে বলবে: না, আপনার ইজ্জতের কসম! আমি আর কিছু চাইব না। সে তার রবের কাছে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী নানা প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার দেবে। তখন আল্লাহ তার মুখমণ্ডল জাহান্নাম থেকে জান্নাতের দিকে ফিরিয়ে দেবেন। যখন সে জান্নাতের নিকটবর্তী হবে এবং তা দেখতে পাবে, তখন আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন সে নীরব থাকবে। তারপর সে বলবে: হে রব! আমাকে জান্নাতের দরজার কাছে পৌঁছে দিন। আল্লাহ বলবেন: দুর্ভোগ তোমার জন্য হে আদম সন্তান! তুমি কত বড় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! সে বলবে: হে রব! এবং সে দোয়া করতে থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ বলবেন: তোমার এই চাওয়া পূর্ণ করা হলে তুমি কি আর কিছু চাইবে? সে বলবে: না, আপনার ইজ্জতের কসম! অতঃপর সে তার রবের কাছে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী নানা প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার দেবে। আল্লাহ তাকে জান্নাতের দরজার কাছে পৌঁছে দেবেন। যখন সে জান্নাতের দরজায় পৌঁছাবে, তখন তার সামনে জান্নাত উন্মোচিত হবে এবং সে জান্নাতের ভেতরে বিদ্যমান কল্যাণ ও আনন্দ দেখতে পাবে। অতঃপর আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন সে নীরব থাকবে। তারপর সে বলবে: হে রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ বলবেন: তুমি কি ইতিপূর্বে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার দাওনি যে, যা তোমাকে দেওয়া হয়েছে তার অতিরিক্ত আর কিছু চাইবে না? দুর্ভোগ তোমার জন্য হে আদম সন্তান! তুমি কত বড় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! সে বলবে: হে রব! আমি যেন আপনার সৃষ্টির মধ্যে সবচাইতে হতভাগ্য না হই। সে এভাবে অনবরত দোয়া করতে থাকবে এবং তাঁর কাছে চাইতে থাকবে, এমনকি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তার এই অবস্থায় হাসবেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অতঃপর তিনি বলবেন: তুমি আকাঙ্ক্ষা করো। তখন সে আকাঙ্ক্ষা করতে থাকবে যতক্ষণ না তার সকল আকাঙ্ক্ষা শেষ হবে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলবেন: এটা চাও, ওটা চাও। সে চাইবে, এমনকি যখন তার সব চাওয়া শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: এ সবই তোমার জন্য এবং এর সাথে আরও সমপরিমাণ দেওয়া হলো।

আতা [বিন ইয়াজিদ] (১) বলেন: যখন আবু হুরায়রা এই হাদিস বর্ণনা করছিলেন, তখন আবু সাঈদ আল-খুদরি তাঁর পাশে বসা ছিলেন এবং তিনি তাঁর এই বর্ণনার কোনো কিছুরই প্রতিবাদ করেননি। হে আবু হুরায়রা! নিশ্চয়ই ⦗পৃষ্ঠা: ৮৬৮⦘ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'এবং তার দশগুণ'। আবু হুরায়রা বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তাঁর এই বাণী 'এবং তার দশগুণ' আমার মনে নেই। অতঃপর আবু হুরায়রা বললেন: সেই ব্যক্তিটিই হবে জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তি।

এটি আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন শিহাব আজ-জুহরি থেকে আতা বিন ইয়াজিদ আল-লাইসি আশ-শামি সূত্রে আবু হুরায়রা (যার নাম আবদু আমর বিন আবদু গানম) এবং আবু সাঈদ আল-খুদরি (যার নাম সাদ বিন মালিক বিন সিনান আল-আনসারি) থেকে বর্ণিত একটি সহিহ হাদিস।

আর এটি আবু ইয়াহমুদ (২) বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ আল-কালা'য়ি আল-হিমসি থেকে আবুল হুযাইল মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ বিন আমির আজ-জুবাইদি থেকে তাঁর সূত্রে একটি গারিব হাদিস। আর বাকিয়্যাহ যখন নির্ভরযোগ্য এবং প্রসিদ্ধ রাবিদের থেকে বর্ণনা করেন তখন তা সহিহ হয়। তবে তিনি প্রায়ই অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে মুনকার হাদিস বর্ণনা করেন। ইমাম মুসলিম বাকিয়্যাহ-এর কিছু হাদিস মুতাবা'আত হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

মুহাম্মদ আল-বুখারি এই হাদিসটি তাঁর জামে সহিহ গ্রন্থে আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-উয়াইসি আল-মাদিনি থেকে ইব্রাহিম বিন সাদ সূত্রে বের করেছেন।

আর মুসলিম বিন হাজ্জাজ এটি বের করেছেন জুহাইর বিন হারব থেকে ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম থেকে তাঁর পিতা থেকে সালিহ বিন কাইসান থেকে আজ-জুহরি সূত্রে।

শুয়াইব বিন আবি ⦗পৃষ্ঠা: ৮৬৯⦘ হামজা এবং মা'মার এটি আজ-জুহরি থেকে আতা বিন ইয়াজিদ ও সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

সালামা বিন রাওহ বিন খালিদ তাঁর চাচা উকাইল বিন খালিদ থেকে তিনি আজ-জুহরি থেকে তিনি আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আতা বিন ইয়াজিদ বা সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিবের কথা উল্লেখ করেননি। আর সংযুক্ত বর্ণনাটিই সহিহ, এবং সালামা বিন রাওহ-এর মতপার্থক্য ধর্তব্য নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) [[সালাফি সংস্করণ ও পাণ্ডুলিপি থেকে]]

(২) [[সালাফি সংস্করণ ও পাণ্ডুলিপি থেকে, আর মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: মুহাম্মদ]]
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٧٢)
164-[172] أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ الْقَاسِمِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ أبنا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ حَذْلَمٍ قال: ثنا سعد بن محمد البيروتي قال: ثنا العباس بن عثمان قال: ثنا الوليد بن مسلم قال: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ قَالَ حَدَّثَنِي الضَّحَّاكُ الْمُعَافِرِيُّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابن عباس قال: ثنا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَصْحَابِهِ ذَاتَ يَوْمٍ: أَلا هَلْ مُشَمِّرٌ لِلْجَنَّةِ؟ فَإِنَّ الْجَنَّةَ لا خَطَرَ لَهَا: هِي وَرَبِّ الْكَعْبَةَ نُورٌ يَتَلأْلأُ وَرَيْحَانَةٌ تَهْتَزُّ وَقَصْرٌ مَشِيدٌ وَنَهْرٌ مُطَّرِدٌ وَفَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ نَضِيجَةٌ وَزَوْجَةٌ حَسْنَاءُ جَمِيلَةٌ وَحُلَلٌ كَثِيرَةٌ فِي مَقَامٍ أَبَدًا فِي حَبْرَةٍ وَنَضْرَةٍ فِي دَارٍ عَالِيَةٍ سَلِيمَةٍ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَحْنُ الْمُشَمِّرُونَ لَهَا قَالَ: قُولُوا إِنْ شَاءَ اللَّهُ قَالَ: ثُمَّ ذَكَرَ الْجِهَادَ وَحَضَّ عَلَيْهِ.

هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى الدِّمَشْقِيِّ يُقَالَ كُنْيَتُهُ أَبُو أَيُّوبَ وَيُقَالُ لَهُ ابْنُ الأَشْدَقِ عَنْ كُرَيْبٍ أَبِي رِشْدِينَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ مَوْلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وهو حبه.

لا يُعْرَفُ إِلا مِنْ حَدِيثِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ الدِّمَشْقِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُهَاجِرٍ ⦗ص: 873⦘ عَنِ الضَّحَّاكِ الْمُعَافِرِيِّ عَنْ سُلَيْمَانَ بِهَذَا وَسُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى يُتَكَلَّمُ فِيهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
১৬৪-[১৭২] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন উসমান বিন আল-কাসিম, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আহমাদ বিন সুলাইমান বিন আইয়ুব বিন হাজলাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা'দ বিন মুহাম্মদ আল-বাইরুতী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আব্বাস বিন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালীদ বিন মুসলিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুহাজির, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আদ-দাহহাক আল-মুআফিরী, সুলাইমান বিন মুসা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব থেকে, তিনি উসামা বিন যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তাঁর সাহাবীদের বললেন: "সাবধান! জান্নাতের জন্য কোমর বেঁধে প্রস্তুতি গ্রহণকারী কেউ কি আছে? কারণ জান্নাতের কোনো তুলনা বা সমকক্ষ নেই। কাবার রবের কসম! তা এক চমকপ্রদ আলো, দোদুল্যমান সুগন্ধি উদ্ভিদ, সুউচ্চ প্রাসাদ, প্রবহমান নদী, প্রচুর পাকা ফল, সুন্দরী রূপবতী স্ত্রী এবং জান্নাতবাসীদের চিরস্থায়ী অবস্থানের জন্য অসংখ্য পোশাক, যা আনন্দ ও সজীবতায় ভরপুর এক সুউচ্চ ও নিরাপদ আবাসে অবস্থিত।" তারা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরাই এর জন্য কোমর বেঁধে প্রস্তুতি গ্রহণকারী।" তিনি বললেন: "বলো, ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান)।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি জিহাদের কথা উল্লেখ করলেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করলেন।

সুলাইমান বিন মুসা আদ-দিমাশকী-এর বর্ণনা থেকে এটি একটি গরীব (অপরিচিত) হাদিস। বলা হয় তাঁর উপনাম আবু আইয়ুব এবং তাঁকে ইবনুল আশদাকও বলা হয়। তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব আবু রিশদীন থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস ও তাঁর প্রিয়পাত্র উসামা বিন যায়েদ বিন হারিসাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

আল-ওয়ালীদ বিন মুসলিম আদ-দিমাশকী-এর বর্ণনা ব্যতিরেকে এটি পরিচিত নয়, তিনি মুহাম্মদ বিন মুহাজির থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৮৭৩⦘ আদ-দাহহাক আল-মুআফিরী থেকে, তিনি সুলাইমান থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর সুলাইমান বিন মুসা সম্পর্কে (মুহাদ্দিসদের) সমালোচনা রয়েছে এবং আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٧٧)
165-[173] أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُبَيِد اللَّهِ بْنِ يَحْيَى الْقَطَّانُ قِرَاءَةً عليه وأنا أسمع قال أبنا أَبُو الْحَسَنِ خَيْثَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَيْدَرَةَ قال: ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أبي وعقبة بن علقمة قالا قال: ثنا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ حَدَّثَنِي مَكْحُولٌ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلانِيِّ عَنْ عَبْدِ الله بن حوالة قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّكُمْ سَتُجَنِّدُونَ أَجْنَادًا جُنْدًا فِي الشَّامِ وَجُنْدًا فِي الْعِرَاقِ وَجُنْدًا بِالْيَمَنِ قَالَ: قُلْتُ: يا رسول الله خِرْ لِي قَالَ: عَلَيْكُمْ بِالشَّامِ فَمَنْ أَبَى فَلْيَلْحَقْ بِيَمَنِهِ وَلْيَسْقِ مِنْ غُدُرِهِ فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ تَكَفَّلَ لِي بِالشَّامِ وَأَهْلِهِ

قَالَ سَعِيدٌ: وَكَانَ ابْنُ حَوَالَةَ رَجُلا مِنَ الأَزْدِ وَكَانَ مَسْكَنُهُ الأُرْدُنَ وَكَانَ إِذَا حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ: وَمَا تَكَفَّلَ اللَّهُ بِهِ فَلا ضَيَّعَهُ عَلَيْهِ.

هَذَا حَدِيثٌ مَشْهُورٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُحَمَّدٍ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الدِّمَشْقِيِّ وَاخْتُلِفَ عليه: فَرَوَاهُ الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ الْبَيْرُوتِيُّ وَعُقْبَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ عَنْهُ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَوَالَةَ الأَزْدِيِّ.

وَخَالَفَهُمَا فِي ذَلِكَ أَبُو مُسْهِرٍ عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ مُسْهِرٍ الْغَسَّانِيُّ: فَرَوَاهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيِّ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَوَالَةَ.

وَرَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ وَمَكْحُولٍ كِلاهُمَا ثِقَتَانِ وَأَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلانِيُّ ⦗ص: 878⦘ اسْمُهُ عَائِذُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَوَالَةَ هَذَا يُعَدُّ فِي الشَّامِيِّينَ لَهُ صُحْبَةٌ وَلَهُ حَدِيثٌ آخَرُ يَقُولُ فِيهِ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَكْتُبُ كِتَابًا فَقَالَ: يَا ابْنَ حَوَالَةَ أَكْتُبُ لَكَ؟ فَسَكَتُّ فَنَظَرْتُ فِي الْكِتَابِ فَإِذَا فِيهِ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَقُلْتُ نَعَمْ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ لا يُعْرَفُ إِلا بِهَذَيْنِ الْحَدِيثَيْنِ

وَحَدِيثُ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَقْرَبُ إِلَى الصَّوَابِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
165-[173] আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আল-কাত্তান পাঠ করেছেন এবং আমি তা শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান খাইসামাহ বিন সুলাইমান বিন হায়দারাহ। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস বিন ওয়ালিদ বিন মাজিদ। তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা এবং উকবাহ বিন আলক্বামাহ সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মাকহুল, তিনি আবু ইদরিস আল-খাওলানি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন হাওয়ালা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "অচিরেই তোমরা বিভিন্ন বাহিনীতে বিভক্ত হবে—একটি বাহিনী শামে, একটি বাহিনী ইরাকে এবং একটি বাহিনী ইয়ামেনে।" তিনি (ইবনে হাওয়ালা) বলেন, আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য একটি পছন্দ করে দিন।" তিনি বললেন: "তোমাদের জন্য শাম আবশ্যক। আর যে তাতে অস্বীকার করবে, সে যেন তার ইয়ামেনের সাথে যুক্ত হয় এবং সে যেন তার জলাশয় থেকে পানি পান করে। কারণ আল্লাহ আমার জন্য শামের এবং সেখানকার বাসিন্দাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।"

সাঈদ বলেন: ইবনে হাওয়ালা ছিলেন আযদ গোত্রের একজন লোক এবং তার বাসস্থান ছিল জর্ডানে। তিনি যখনই এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: "আর আল্লাহ যার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তিনি তাকে কখনোই ধ্বংস হতে দেবেন না।"

এটি আবু মুহাম্মদ সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ আদ-দিমাশকির বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিস। তবে তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে: আব্বাস বিন ওয়ালিদ বিন মাজিদ আল-বৈরুতি এবং উকবাহ বিন আলক্বামাহ তাঁর থেকে এটি মাকহুল—আবু ইদরিস—আব্দুল্লাহ বিন হাওয়ালা আল-আযদি সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এ ক্ষেত্রে আবু মুশহির আব্দুল আ’লা বিন মুশহির আল-গাসসানি তাঁদের বিরোধিতা করেছেন: তিনি এটি সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি রাবিয়াহ বিন ইয়াজিদ আদ-দিমাশকি থেকে, তিনি আবু ইদরিস আল-খাওলানি থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ বিন হাওয়ালা সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

রাবিয়াহ বিন ইয়াজিদ এবং মাকহুল উভয়েই নির্ভরযোগ্য। আবু ইদরিস আল-খাওলানি ⦗পৃষ্ঠা: ৮৭৮⦘ এর নাম হলো আইযুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ। আর এই আব্দুল্লাহ বিন হাওয়ালাকে শামের অধিবাসীদের মধ্যে গণ্য করা হয়। তিনি সাহাবী ছিলেন। তাঁর বর্ণিত আরেকটি হাদিস রয়েছে যাতে তিনি বলেন: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম যখন তিনি একটি লিপি লিখছিলেন। তিনি বললেন: 'হে ইবনে হাওয়ালা! আমি কি তোমার নাম লিখে দেব?' আমি চুপ থাকলাম। এরপর আমি লিপিতে তাকালাম এবং দেখলাম তাতে আবু বকর ও উমরের নাম রয়েছে। তখন আমি বললাম, 'হ্যাঁ'।" এরপর তিনি বাকি হাদিসটি উল্লেখ করেন। তিনি কেবল এই দুটি হাদিসের মাধ্যমেই পরিচিত।

আর ইনশাআল্লাহ তাআলা, সাঈদ বিন আব্দুল আজিজের হাদিসটিই সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٨٢)
166-[174] أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ تَمَّامُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ الرَّازِيُّ الْحَافِظُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ أبنا أَبُو يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ هَاشِمِ بْنِ زَامِلٍ الأَذْرَعِيُّ وَغَيْرُهُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ قَالا ثنا بَكْرُ بْنُ سَهْلٍ الدِّمْيَاطِيُّ ثنا عَبْدُ الله بن يوسف قال: ثنا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ عِيسَى الكوفي قال: ثنا مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ قَالَ حَدَّثَنِي مُجَاهِدُ بْنُ جَبْرٍ الْمَكِّيُّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عَيَّاشٍ الزُّرَقِيُّ قَالَ: غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَقِيَهُ الْمُشْرِكُونَ بِعُسْفَانَ وَعَلَى خَيْلِهِمْ يَوْمَئِذٍ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَحَضَرَتْنَا صَلاةُ الظُّهْرِ فَأَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ فَأَقَامَ الصَّلاةَ فَهَمَّ الْمُشْرِكُونَ أَنْ يَحْمِلُوا عَلَيْنَا فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهَا سَتَحْضُرُهُمْ صَلاةٌ هِيَ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِنْ أَوْلادِهِمْ يَعْنُونَ صَلاةَ الْعَصْرِ وَأَتَاهُ جِبْرِيلُ بِالآيَاتِ الَّتِي فِي صَلاةِ الْخَوْفِ فَلَمَّا حَضَرَتِ الصَّلاةُ وَأَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ فَأَقَامَ فَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفَفْنَا خَلْفَهُ صَفَّيْنِ وَالْمُشْرِكُونَ يَوْمَئِذٍ مِمَّا يَلِي الْقِبْلَةَ فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَكَعْنَا ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ وَقَامَ الْمُؤَخَّرُ فَلَمَّا فَرَغُوا مِنْ سُجُودِهِمْ سَجَدَ الصَّفُّ الْمُؤَخَّرُ فَتَلاوَمَ الْمُشْرِكُونَ بَيْنَهُمْ

قَالَ أَبُو عَيَّاشٍ: وَصَلَّى بِنَا فِي أَرْضِ بَنِي سُلَيْمٍ أَيْضًا مِثْلَهَا.

هَذَا حَدِيثٌ مَشْهُورٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَتَّابٍ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ السُّلَمِيِّ الْكُوفِيِّ عَنْ أَبِي الْحَجَّاجِ مُجَاهِدِ بْنِ جَبْرٍ الْمَكِّيِّ عَنْ أَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيِّ وَاسْمُهُ زَيْدُ بْنُ الصَّامِتِ.

رَوَاهُ وَرْقَاءُ بْنُ عُمَرَ الْيَشْكُرِيُّ وسفيان بن سعيد الثوري وشعبة وجرير بن عبد الحميد وَغَيْرُهُمَا عَنْ مَنْصُورٍ.

وَهُوَ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ داود بن عيسى وأراه كوفيا ونزل الشام ورواه عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ أَيْضًا رَوَاهُ عَنْهُ سُوَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الدِّمَشْقِيُّ.

⦗ص: 883⦘ وَقَدْ خَرَّجْتُ حَدِيثَ الثَّوْرِيُّ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيِّ فِي صَلاةِ الْخَوْفِ فِي الْجُزْءِ الَّذِي قَبْلَ هَذَا

وَرَوَاهُ الأَوْزَاعِيُّ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلًا وَرَوَاهُ يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَيْقٍ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْهُ وَهُوَ الصَّوَابُ إِنْ شَاءَ الله.
১৬৬-[১৭৪] হাফেজ আবুল কাসিম তাম্মাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল জুনায়েদ আর-রাজি আমাদের নিকট পড়ে শোনালেন এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে হাশেম ইবনে জামিল আল-আজরয়ী এবং অন্য একজন আমাদের নিকট পড়ে শোনালেন; তারা উভয়ে বলেন: বকর ইবনে সাহল আদ-দিমইয়াতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ দাউদ ইবনে ঈসা আল-কুফি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মনসুর ইবনুল মুতামির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুজাহিদ ইবনে জাবর আল-মাক্কি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আইয়াশ আজ-জুরাকি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি যুদ্ধে বের হলাম। তখন উসফান নামক স্থানে মুশরিকদের সাথে তাঁর মোকাবিলা হলো। সেদিন তাদের অশ্বারোহী বাহিনীর নেতৃত্বে ছিল খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ। যোহরের নামাজের সময় হলে মুয়াজ্জিন আজান দিলেন এবং ইকামত দিলেন। তখন মুশরিকরা আমাদের ওপর আক্রমণ করার সংকল্প করল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, "শীঘ্রই তাদের নিকট এমন এক নামাজ আসবে যা তাদের নিকট তাদের সন্তানদের চেয়েও বেশি প্রিয়" – তারা আসরের নামাজের উদ্দেশ্যেই এ কথা বলেছিল। তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) 'সালাতুল খাওফ' (ভীতিভয়কালীন নামাজ) সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। যখন নামাজের সময় হলো এবং মুয়াজ্জিন আজান ও ইকামত দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এগিয়ে গেলেন এবং আমরা তাঁর পেছনে দুই কাতারে দন্ডায়মান হলাম। সেদিন মুশরিকরা কেবলার দিকেই অবস্থান করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু করলেন এবং আমরাও রুকু করলাম। অতঃপর তিনি সিজদা করলেন এবং তাঁর সংলগ্ন কাতারটিও সিজদা করল, আর পেছনের কাতারটি দাঁড়িয়ে থাকল। যখন তারা সিজদা শেষ করল, তখন পেছনের কাতারটি সিজদা করল। অতঃপর মুশরিকরা একে অপরকে তিরস্কার করতে লাগল।

আবু আইয়াশ বলেন: তিনি আমাদের নিয়ে বনী সুলাইম গোত্রের ভূখণ্ডেও অনুরূপভাবে নামাজ আদায় করেছেন।

এই হাদিসটি আবু আত্তাব মনসুর ইবনুল মুতামির আস-সুলামি আল-কুফি থেকে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিস, যা তিনি আবুল হাজ্জাজ মুজাহিদ ইবনে জাবর আল-মাক্কি থেকে এবং তিনি আবু আইয়াশ আজ-জুরাকি থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর নাম হলো যায়েদ ইবনে সামিত।

ওয়ারকা ইবনে উমর আল-ইয়াশকুরি, সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরি, শু'বা, জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ এবং অন্য অনেকে মনসুর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

তবে দাউদ ইবনে ঈসার বর্ণনা অনুযায়ী এটি একটি বিরল হাদিস। আমি তাঁকে কুফাবাসী মনে করি এবং তিনি শামে বসবাস করেছিলেন। আসিম ইবনে উবায়দুল্লাহও এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে সুওয়াইদ ইবনে আব্দুল আজিজ আদ-দিমাশকি এটি বর্ণনা করেছেন।

⦗পৃষ্ঠা: ৮৮৩⦘ আমি মনসুর থেকে মুজাহিদ ও আবু আইয়াশ আজ-জুরাকি সূত্রে বর্ণিত সাওরির সালাতুল খাওফ সংক্রান্ত হাদিসটি এর পূর্ববর্তী খণ্ডে উল্লেখ করেছি।

আওজায়ি এটি আইয়ুব ইবনে মুসা থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে 'মুরসাল' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জুরাইক এটি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আওজায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইনশাআল্লাহ এটিই সঠিক।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٨٧)
167-[175] كَتَبَ إِلَيَّ أَبُو مُسْلِمٍ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ الْكَاتِبِ الْبَغْدَادِيُّ مِنْ مِصْرَ يَذْكُرُ أَنَّ أَبَا إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي ثابت حدثهم بدمشق قال: ثنا هلال بن العلاء قال ثنا أبي قال: ثنا هلال بن عمر قال: ثنا الْخَلِيلُ بْنُ مُرَّةَ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: جَاءَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ مِنْ أَخْوَالِهِ يُقَالُ لَهُ قَبِيصَةُ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَحَّبَ بِهِ قَالَ لَهُ: يَا قَبِيصَةُ جِئْتَ كَبُرَتْ سِنُّكَ وَرَقَّ عَظْمُكَ وَاقْتَرَبَ أَجَلُكَ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ جِئْتُ وَمَا كِدْتُ أَنْ أَجِيئَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَبُرَتْ سِنِّي وَرَقَّ عَظْمِي وَاقْتَرَبَ أَجَلِي وَافْتَقَرْتُ وَهُنْتُ عَلَى النَّاسِ فَجِئْتُكَ فَعَلِّمْنِي شَيْئًا يَنْفَعُنِي اللَّهُ بِهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَلا تُكْثِرْ عَلَيَّ فَإِنِّي شَيْخٌ نَسِيٌّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ قُلْتَ يَا قَبِيصَةُ؟ قَالَ: فَأَعَادَهُنَّ عليه فقال: والذي يعثني بِالْحَقِّ مَا كَانَ حَوْلَكَ مِنْ حَجَرٍ وَلا مَدَرٍ إِلا بَكَى لِقَوْلِكَ فَهَاتِ قَالَ: جِئْتُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُعَلِّمُنِي شَيْئًا يَنْفَعُنِي اللَّهُ بِهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَلا تُكْثِرْ عَلَيَّ فَإِنِّي شَيْخٌ نَسِيٌّ، فَقَالَ: يَا قَبِيصَةُ إِذَا أَصْبَحْتَ أَوْ إِذَا صَلَّيْتَ الْفَجْرَ فَقُلْ: سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إلا بالله أربعا يعطيك اللَّهُ بِهِنَّ أَرْبَعًا لِدُنْيَاكَ وَأَرْبَعًا لآخِرَتِكَ فَأَمَّا أَرْبَعًا لِدُنْيَاكَ: فَإِنَّكَ تُعَافَى مِنَ الْجُنُونِ وَالْجُذَامِ ⦗ص: 888⦘ وَالْبَرَصِ وَالْفَالِجِ وَأَمَّا الأَرْبَعُ لآخِرَتِكَ فَقُلِ اللَّهُمَّ اهْدِنِي مِنْ عِنْدِكَ وَأَفِضْ عَلَيَّ مِنْ فَضْلِكَ وانشر علي رَحْمَتِكَ وَأَنْزِلْ عَلَيَّ بَرَكَتَكَ فَجَعَلَ يَعْقِدُ عَلَيْهِنَّ فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَشَدَّ مَا عَقَدَ عَلَيْهِنَّ خَالُكَ، فَقَالَ: أَمَا إِنَّهُ إن وافا بِهِنَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَمْ يَدَعْهُنَّ رَغْبَةً عَنْهُنَّ وَلا نِسْيَانًا لَمْ يَأْتِ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ إِلا وَجَدَهُ مَفْتُوحًا لَهُ.

هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ وَاسْمُ أَبِي رَبَاحٍ أَسْلَمُ مَوْلَى آلِ ابْنِ (1) خَيْثَمٍ الْمَكِّيِّ الْقُرَشِيِّ عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَقَبِيصَةُ هَذَا لا يُعْرَفُ لَهُ صُحْبَةٌ.

وَهُوَ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ الْخَلِيلِ بْنِ مُرَّةَ وَهُوَ الَّذِي يَرْوِي عَنْهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَهُوَ شَامِيٌّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ وَهُوَ مجهول ولعله محمد بن فضاء الَّذِي رَوَى عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَوَى عَنْهُ أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ وَتَصَحَّفَ عَلَى الْكَاتِبِ وَالْخَلِيلُ بْنُ مُرَّةَ قَدْ تَكَلَّمُوا فِيهِ وَلا يُعْرَفُ هَذَا الْحَدِيثُ هَكَذَا إِلا مِنْ حَدِيثِ هِلالِ بْنِ عُمَرَ الرَّقِّيِّ مِنْ حَدِيثِ أولاده عنه بهذا الإسناد والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) [[من طبعة السلفي والمخطوط، وفي المطبوع: أبي]]
১৬৭-[১৭৫] মিশর থেকে আবু মুসলিম মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আলী আল-কাতিব আল-বাগদাদী আমার নিকট লিখেছেন যে, দামেস্কে আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবি সাবিত তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিলাল ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিলাল ইবন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খলীল ইবন মুররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল ফদল আতা ইবন আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাঁর মামাদের মধ্য থেকে কাবিদাহ নামক এক ব্যক্তি আসলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম দিলেন এবং নবী তাঁকে স্বাগত জানালেন। তিনি তাঁকে বললেন: হে কাবিদাহ, তুমি এমন অবস্থায় এসেছ যখন তোমার বয়স বেড়েছে, হাড় দুর্বল হয়েছে এবং তোমার সময় ঘনিয়ে এসেছে। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি এসেছি অথচ আমার আসার সামর্থ্য ছিল না বললেই চলে। হে আল্লাহর রাসূল, আমার বয়স বেড়েছে, হাড় দুর্বল হয়েছে, সময় ঘনিয়ে এসেছে, আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি এবং মানুষের কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছি। তাই আমি আপনার কাছে এসেছি, আপনি আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যার মাধ্যমে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে আমাকে উপকৃত করবেন। আর আমার ওপর বেশি চাপ দেবেন না, কারণ আমি একজন বিস্মৃতিপরায়ণ বৃদ্ধ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে কাবিদাহ, তুমি কী বললে? তিনি কথাগুলো পুনরায় বললেন। তখন তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যিনি আমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তোমার চারপাশের এমন কোনো পাথর বা মাটির ঢিলা ছিল না যা তোমার কথার কারণে কাঁদেনি। এখন বলো। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার কাছে এসেছি যাতে আপনি আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যার মাধ্যমে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে আমাকে উপকৃত করবেন। আর আমার ওপর বেশি চাপ দেবেন না, কারণ আমি একজন বিস্মৃতিপরায়ণ বৃদ্ধ। তিনি বললেন: হে কাবিদাহ, যখন তুমি সকাল করবে অথবা ফজর সালাত পড়বে, তখন চারবার বলো: "মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে এবং আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই"। এর মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে চারটি দুনিয়াবী ও চারটি পরকালীন পুরস্কার দেবেন। তোমার দুনিয়ার জন্য চারটি হলো: তুমি উন্মাদনা, কুষ্ঠ, ⦗পৃষ্ঠা: ৮৮৮⦘ ধবল এবং পক্ষাঘাত থেকে মুক্তি পাবে। আর পরকালের চারটি পুরস্কারের জন্য তুমি বলো: "হে আল্লাহ, আমাকে আপনার নিকট থেকে হেদায়েত দিন, আপনার পক্ষ থেকে আমার ওপর অনুগ্রহ বর্ষণ করুন, আপনার রহমত আমার ওপর ছড়িয়ে দিন এবং আপনার বরকত আমার ওপর অবতীর্ণ করুন"। তখন তিনি আঙ্গুল দিয়ে এগুলো গুনতে শুরু করলেন। এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার মামা এগুলো কতই না মজবুতভাবে ধারণ করলেন! তিনি বললেন: জেনে রাখো, যদি সে কিয়ামতের দিন এগুলো নিয়ে উপস্থিত হয়—অনিচ্ছায় বা ভুলে না ছেড়ে দিয়ে—তবে সে জান্নাতের যে দরজায় আসবে তা-ই তার জন্য খোলা পাবে।

এই হাদিসটি আবু মুহাম্মদ আতা ইবন আবি রাবাহ-এর সূত্রে বর্ণিত একটি গরীব হাদিস। আবু রাবাহ-এর নাম হলো আসলাম, যিনি মক্কার কুরাইশ বংশের আল-ইবন (১) খাইসাম-এর পরিবারের মুক্ত দাস। তিনি আবু আব্বাস আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই কাবিদাহ নামক ব্যক্তির সাহাবী হওয়া সম্পর্কে জানা যায় না।

এবং এটি খলীল ইবন মুররাহ-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিস হিসেবেও গরীব। তার থেকে লায়স ইবন সাদ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন শামী। তিনি মুহাম্মদ ইবনুল ফদল থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি অজ্ঞাত; সম্ভবত তিনি মুহাম্মদ ইবন ফাদা' হবেন যিনি উমর ইবন আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে আইয়ুব ইবন সুওয়াইদ বর্ণনা করেছেন; আর এটি লেখকের পক্ষ থেকে অনুলিখনে ভুল হয়েছে। খলীল ইবন মুররাহ সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণ সমালোচনা করেছেন। এই হাদিসটি কেবল হিলাল ইবন উমর আর-রাক্কী-এর সূত্রেই এভাবে পরিচিত এবং তার সন্তানদের থেকে এই সনদে এটি বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) [[সালাফি সংস্করণ ও পাণ্ডুলিপি থেকে, আর মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: আবু]]
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٩١)
168-[176] حَدَّثَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بن القاسم بن درستويه قال: ثنا أَبُو يَحْيَى زَكَرِيَّا بْنُ أَحْمَدَ الْبَلْخِيُّ الْقَاضِيُ قال: ثنا محمد بن مسلمة الواسطي قال: ثنا يزيد بن هارون قال أبنا شَرِيكٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: الْحَيَّاتُ مَا سَالَمْنَاهُنَّ مُنْذُ حَارَبْنَاهُنَّ فَمَنْ تَرَكَ شَيْئًا مِنْ خِيفَتِهِنَّ فَلَيْسَ مِنَّا.

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النَّخَعِيِّ قَاضِي الْكُوفَةِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّبِيعِيِّ الْهَمْدَانِيِّ عَنِ الْقَاسِمِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ الْهُذَلِيِّ الْكُوفِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ كُنْيَتُهُ أَبُو عُبَيْدَةَ وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِيهِ شيئا وَإِنَّمَا مَاتَ عَبْدُ اللَّهِ وَهُوَ صَغِيرٌ وَلَكِنْ يُقَالُ حَدِيثُهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ صَحِيحٌ كُلُّهُ فإنه ما سمعه إلا من عُلَمَاءَ أَصْحَابِ أَبِيهِ وَلَكِنَّهُ مُرْسَلٌ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
১৬৮-[১৭৬] আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শায়খ আবু আলী আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আল-কাসিম ইবনে দুরুসতুওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া ইবনে আহমদ আল-বালখি আল-কাজী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শারিক, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আল-কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সাপদের সাথে আমাদের কোনো সন্ধি নেই যখন থেকে আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের ভয়ে কোনো সাপকে ছেড়ে দিল, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”

এটি কুফার বিচারক আবু আবদুল্লাহ শারিক ইবনে আবদুল্লাহ আন-নাখায়ি বর্ণিত একটি হাসান হাদিস; তিনি আবু ইসহাক আমর ইবনে আবদুল্লাহ আস-সাবিয়ি আল-হামদানি থেকে, তিনি আল-কাসিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-হুযালি আল-কুফি থেকে, তিনি তার পিতা আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবদুর রহমানের উপনাম হলো আবু উবাইদাহ, এবং তিনি তার পিতার থেকে সরাসরি কিছু শ্রবণ করেননি; কারণ আবদুল্লাহ যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন তিনি ছোট ছিলেন। তবে বলা হয় যে, আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত তার সকল হাদিসই সহিহ, কারণ তিনি তা কেবল তার পিতার বিজ্ঞ সাথীদের থেকেই শ্রবণ করেছেন। তবে এটি মুরসাল (বিচ্ছিন্ন সূত্রের) হাদিস। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٩٥)
169-[177] حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ درستويه قال: ثنا أبو يحيى القاضي البلخي قال: ثنا محمد بن مسلمة قال: ثنا يزيد بن هارون قال أبنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ أَبَا طَلْحَةَ خَطَبَ أُمَّ سُلَيْمٍ قَالَتْ: يَا أَبَا طَلْحَةَ أَلَسْتَ تَعْلَمُ أن إلهك الذي تعبد خشبة تنبت مِنَ الأَرْضِ نَجَّرَهَا حَبَشِيُّ بَنِي فُلانٍ أَرَأَيْتَ إِنْ أَسْلَمْتَ فَإِنِّي لا أُرِيدُ مِنْكَ مِنَ الصَّدَاقِ غَيْرَهُ قَالَ: حَتَّى أَنْظُرَ فِي أَمْرِي قَالَ: فَذَهَبَ ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَتْ: يَا أَنَسُ زَوِّجْ أَبَا طَلْحَةَ.

هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَلَمَةَ حَمَّادِ بْنِ [سَلَمَةَ بْنِ] (1) دِينَارٍ الْبَصْرِيِّ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ (2) ثَابِتِ بْنِ أَسْلَمَ الْبُنَانِيِّ وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ وَهُوَ أَخُو إِسْحَاقَ وَعَمْرٍو وَيَعْقُوبَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ عَمِّهِ لأُمِّهِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَبِي حَمْزَةَ الأَنْصَارِيِّ النَّجَّارِيِّ الْخَزْرَجِيِّ خَادِمِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

لَا نَعْرِفُهُ إِلا مِنْ حَدِيثِ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ عنه والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) [[من طبعة السلفي والمخطوط]]

(2) [[من طبعة السلفي والمخطوط، وفي المطبوع: عمر]]
১৬৯-[১৭৭] আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে দুরুসতাওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াহইয়া আল-কাদি আল-বালখি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ সাবিত এবং ইসমাঈল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু তালহা থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আবু তালহা উম্মে সুলাইমকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তিনি (উম্মে সুলাইম) বললেন: হে আবু তালহা, আপনি কি জানেন না যে আপনার ইলাহ (উপাস্য) যাকে আপনি পূজা করেন, তা হচ্ছে মাটি থেকে জন্মানো একটি কাঠ, যা অমুক বংশের একজন হাবশি খোদাই করেছে? আপনি কি মনে করেন না যে, আপনি যদি ইসলাম গ্রহণ করেন তবে আমি আপনার কাছ থেকে মোহরানা হিসেবে তা ছাড়া আর কিছুই চাইব না? তিনি (আবু তালহা) বললেন: আমি বিষয়টি ভেবে দেখি। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি চলে গেলেন এবং পুনরায় ফিরে এসে বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। তখন তিনি (উম্মে সুলাইম) বললেন: হে আনাস, আবু তালহার সাথে (আমার) বিয়ে সম্পন্ন করো।

এটি আবু সালামাহ হাম্মাদ ইবনে [সালামাহ ইবনে] (১) দিনার আল-বাসরির হাদিস হিসেবে একটি ‘গরিব’ হাদিস, যা তিনি বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ (২) সাবিত ইবনে আসলাম আল-বুনানি এবং ইসমাঈল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু তালহা থেকে। এই ইসমাঈল হলেন ইসহাক, আমর, ইয়াকুব এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আবু তালহার ভাই। তিনি তাঁর মামা আনাস ইবনে মালিক আবু হামজাহ আল-আনসারি আল-নাজ্জারি আল-খাযরাজি থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম ছিলেন।

আমরা এটি কেবল ইয়াযিদ ইবনে হারুনের মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণিত হিসেবেই জানি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) [[সালাফি সংস্করণ এবং পাণ্ডুলিপি থেকে]]

(২) [[সালাফি সংস্করণ এবং পাণ্ডুলিপি থেকে, আর মুদ্রিত কপিতে আছে: উমর]]
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٨٩٨)
170-[178] أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ مَعْرُوفِ بْنِ حَبِيبِ بْنِ أَبَانٍ التَّمِيمِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ أبنا أَبُو الْحَسَنِ خَيْثَمَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ حَيْدَرَةَ القرشي قراءة عليه قال: ثنا أَبُو عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ حَازِمِ بْنِ أَبِي غرزة الغفاري قال أبنا عُبَيْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مُوسَى الْعَبْسِيَّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ أَبِي كَرِيمَةَ الشَّامِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: لَيْلَةُ الضَّيْفِ وَاجِبَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فَإِنْ أَصْبَحَ بِفِنَائِهِ كَانَ دَيْنًا عَلَيْهِ إِنْ شَاءَ اقْتَضَى وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ.

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ مَشْهُورٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ الثَّوْرِيِّ مِنْ ثَوْرِ هَمْدَانَ إمام الكوفة عَنْ أَبِي عَتَّابٍ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ السُّلَمِيِّ عَنْ أَبِي عَمْرٍو عَامِرِ بْنِ شُرَاحِيلَ الْشَّعْبِيِّ الْهَمْدَانِيِّ مِنْ شَعْبِ هَمْدَانَ عَنْ أَبِي كَرِيمَةَ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ الْكِنْدِيِّ الشَّامِيِّ.

وَهُوَ صَحِيحٌ وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ وَقَدْ سَمِعَ الشَّعْبِيُّ مِنَ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ وَلِلْمِقْدَامِ فِي الصَّحِيحِ حَدِيثَانِ وَلَكِنَّهُ مِنْ حَدِيثِ الشَّامِيِّينَ عَنْهُ وَاللَّهُ أعلم.
১৭০-[১৭৮] আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে উসমান ইবনুল কাসিম ইবনে মারুফ ইবনে হাবীব ইবনে আবান আত-তামিমী তাঁর নিকট পাঠকালে আমাদের জানিয়েছেন এবং আমি শ্রবণ করছিলাম, তিনি বলেন: আবুল হাসান খাইসামাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে হায়দারাহ আল-কুরাশী তাঁর নিকট পাঠকালে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আমর আহমাদ ইবনে হাযিম ইবনে আবি গারযাহ আল-গিফারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উবায়দুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মুসা আল-আবসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি আশ-শা’বী থেকে, তিনি আবু কারিমাহ আশ-শামি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "মেহমানের এক রাতের মেহমানদারি করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব। যদি সে তার আঙিনায় ভোরে উপনীত হয় তবে তা তার ওপর একটি ঋণ স্বরূপ হবে; সে চাইলে তা আদায় করে নিতে পারে, আর চাইলে তা ছেড়ে দিতে পারে।"

এটি একটি হাসান মাশহুর হাদীস যা আবু আব্দুল্লাহ সুফিয়ান ইবনে সাঈদ ইবনে মাসরুক আস-সাওরী (হামদানের সাওরের বংশোদ্ভূত এবং কুফার ইমাম) এর হাদীস থেকে বর্ণিত, তিনি আবু আত্তাব মানসুর ইবনুল মুতামির আস-সুলামী থেকে, তিনি আবু আমর আমির ইবনে শুরাহিল আশ-শা’বী আল-হামদানি (হামদানের শা’ব বংশের) থেকে, তিনি আবু কারিমাহ আল-মিকদাম ইবনে মাদি কারিব আল-কিন্দি আশ-শামি থেকে বর্ণনা করেছেন।

এটি সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আর শা’বী আল-মিকদাম ইবনে মাদি কারিব থেকে শুনেছেন। সহীহ গ্রন্থে মিকদামের দুটি হাদীস রয়েছে, তবে এটি শামি বর্ণনাকারীদের সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٩٠١)
171-[179] أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ مَعْرُوفٍ التَّمِيمِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ أَبِي نَصْرٍ قال أبنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي ثابت قال: ثنا عبد الحميد بن مهدي البالسي قال: ثنا المعافى قال: ثنا مُوسَى عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ قَالَ حَدَّثَنِي سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: مَنْ سَبَّحَ دُبُرَ كُلِّ صَلاةٍ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ وَكَبَّرَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ وَحَمِدَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ وَقَالَ تَمَامَ الْمِائَةِ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا عَمِلَ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ.

هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عُتْبَةَ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ الْحِمْصِيِّ الشَّامِيِّ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ وَاسْمُهُ ذَكْوَانُ مَوْلَى جُوَيْرِيَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ الْغَطْفَانِيِّ الْمَدِينِيِّ الزَّيَّاتِ عَنْ أَبِيهِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ الشَّامِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ

وَقَدْ سَمِعَ سُهَيْلٌ مِنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ حَدِيثَهُ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ بَايَعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ.

لا نَعْرِفُهُ إِلا مِنْ حَدِيثِ الْمُعَافَى بْنِ سُلَيْمَانَ الْجَزَرِيِّ عَنْ مُوسَى وَهُوَ ابْنُ أَعْيَنَ الْجَزَرِيُّ إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ

وَعَبْدُ الْحَمِيدُ بْنُ مَهْدِيٍّ الْبَالِسِيُّ هَذَا عِنْدَهُ مَنَاكِيرُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مِنْ غَيْرِ ذِكْرِ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ وَهُوَ أَشْهَرُ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
১৭১-[১৭৯] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবন উসমান ইবনুল কাসিম ইবনে মারুফ আত-তামিমি, যিনি ইবন আবি নাসর নামে পরিচিত; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবি সাবিত; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল হামিদ ইবনে মাহদি আল-বালিসি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-মুআফা; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুসা, তিনি ইসমাইল ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশ বার আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে (সুবহানাল্লাহ), তেত্রিশ বার আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে (আল্লাহু আকবার) এবং তেত্রিশ বার আল্লাহর প্রশংসা করে (আলহামদুলিল্লাহ) এবং একশ পূর্ণ করতে বলে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই, তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন এবং তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান', তবে আল্লাহ তার কৃত পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার ন্যায় বিপুল হয়।"

এই হাদিসটি আবু উতবা ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আল-হিমসি আশ-শামি এর বর্ণনায় সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে একটি গারিব (বিরল) হাদিস; আর তাঁর (সুহাইলের) নাম হলো যাকওয়ান, যিনি জুওয়াইরিয়াহ বিনতুল হারিস আল-গাতফানি আল-মাদিনি আয-যাইয়্যাতের মুক্তদাস; তিনি তাঁর পিতা আবু সালিহ থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াজিদ আল-লাইসি আশ-শামি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর সুহাইল আতা ইবনে ইয়াজিদ থেকে তামীম আদ-দারি এর সূত্রে বর্ণিত তাঁর এই হাদিসটি শুনেছেন যে: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট শ্রবণ, আনুগত্য এবং প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনার (নাসিহাত) ওপর বাইয়াত গ্রহণ করেছি।"

আমরা এই হাদিসটি আল-মুআফা ইবনে সুলাইমান আল-জাজারি এর বর্ণনা ব্যতিরেকে জানি না, তিনি মুসা থেকে—আর তিনি হলেন ইবন আ'য়ান আল-জাজারি, ইনশাআল্লাহ—তিনি ইসমাইল ইবনে আইয়াশ থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর এই আবদুল হামিদ ইবনে মাহদি আল-বালিসি—তাঁর নিকট মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনা রয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

এই হাদিসটি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে—আতা ইবনে ইয়াজিদের উল্লেখ ব্যতিরেকে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে এবং সেটিই অধিক প্রসিদ্ধ; আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٩٠٥)
172-[180] أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَحْدَرِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْبَصْرِيِّ بِالْقُدْسِ حَرَسَهُ الله قال: ثنا أبو الحسن أحمد بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَلامٍ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَثَلاثِينَ وثلاثمائة بطرسوس قال: ثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سلام قال: ثنا إسحاق الأزرق قال: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَوْنٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ أَبَا طَالِبٍ قَالَ: كُنْتُ بِذِي الْمَجَازِ وَمَعِيَ ابْنُ أَخِي فَأَدْرَكَنِي الْعَطَشُ فَشَكَوْتُ إِلَيْهِ الْعَطَشَ قُلْتُ: يَا ابْنَ أَخِي عَطِشْتُ وَمَا قُلْتُ لَهُ وَأَنَا أَرَى عِنْدَهُ شَيْئًا إِلا الْجَزَعَ قَالَ: فَثَنَى وَرِكَهُ ثُمَّ نَزَلَ فَقَالَ: يَا عَمُّ أَعَطِشْتَ؟ قُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: فَأَهْوَى بِعَقِبِهِ إِلَى الأَرْضِ فَإِذَا بِالْمَاءِ فَقَالَ لَهُ: اشْرَبْ يَا عَمُّ قَالَ: فَشَرِبْتُهُ.

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُحَمَّدٍ إِسْحَاقَ بْنِ يُوسُفَ الأَزْرَقِ الْوَاسِطِيِّ عَنْ أَبِي عَوْنٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْنِ بْنِ أَرْطَبَانَ مَوْلَى مُزَيْنَةَ الْبَصْرِيِّ عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ وَقَدْ أَدْرَكَ عَمْرَو بْنَ سَعِيدٍ هَذَا حُمَيْدٌ الْحِمْيَرِيُّ وشهده وَرَوَى عَنِ الشَّعْبِيِّ وَهُوَ مُرْسَلٌ وَهَذَا يَدْخُلُ فِي مُعْجِزَاتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَعَ إِلَيْنَا عَالِيًا مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَلامٍ الطَّرَسُوسِيِّ عَنْ إِسْحَاقَ الأَزْرَقِ.
১৭২-[১৮০] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ আল-জাহদারি, যিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে ইবনুল বাসরি নামে পরিচিত—আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন সালাম ৩৩৪ হিজরি সনে তারসুস নগরীতে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন সালাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক আল-আজরাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন আওন, আমর ইবন সাঈদ থেকে বর্ণিত যে, আবু তালিব বলেছেন: আমি যুল-মাজাজে ছিলাম এবং আমার সাথে আমার ভাতিজা ছিল। এমতাবস্থায় আমি অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লাম এবং তার কাছে তৃষ্ণার অভিযোগ করলাম। আমি বললাম: হে ভাতিজা! আমি তৃষ্ণার্ত। আমি যখন তাকে এ কথা বললাম, তখন তার মাঝে অস্থিরতা প্রকাশ পাওয়া ছাড়া অন্য কিছু প্রত্যক্ষ করছিলাম না। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তার উরু বাঁকালেন এবং নিচে নামলেন। এরপর বললেন: হে চাচা! আপনি কি তৃষ্ণার্ত? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বলেন: এরপর তিনি তার গোড়ালি দিয়ে জমিনে আঘাত করলেন, অমনি সেখানে পানি দেখা দিল। তিনি বললেন: হে চাচা! পান করুন। তিনি বলেন: এরপর আমি তা পান করলাম।

এটি আবু মুহাম্মদ ইসহাক ইবন ইউসুফ আল-আজরাক আল-ওয়াসিতির বর্ণিত একটি হাসান হাদিস, যা তিনি আবু আওন আবদুল্লাহ ইবন আওন ইবন আরতাবান—বসরার মুযাইনা গোত্রের আযাদকৃত দাস—থেকে, তিনি আমর ইবন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। হুমাইদ আল-হিময়ারি এই আমর ইবন সাঈদকে পেয়েছেন এবং তাকে প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি আশ-শা’বি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি মুরসাল বর্ণনা। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজিজাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আবদুর রহমান ইবন সালাম আত-তারসুসির সূত্রে ইসহাক আল-আজরাক থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি উচ্চমানের সনদে আমাদের নিকট পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٩٠٩)
173-[181] أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِلَالٍ الْحِنَّائِيُّ رحمه الله قال: ثنا الْقَاضِي أَبُو الْحُسَيْنِ عُمَرُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ علي بن مالك الشيباني قال: ثنا الحارث يعني ابن محمد بن أبي أسامة قال: ثنا يزيد بن هارون قال: ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ عَبْدِ السَّلامِ عن محمد بن أبي بردة: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه كَتَبَ إِلَى أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ رحمه الله: أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ أَسْعَدَ الرُّعَاةِ عِنْدَ اللَّهِ من سعد بِهِ رَعِيَّتُهُ وَإِنَّ أَشْقَى الرُّعَاةِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْ شَقِيَتْ بِهِ رَعِيَّتُهُ فَإِيَّاكَ أَنْ تَرْتَعَ فِيهِ مَعَ عُمَّالِكَ فَيَكُونَ مِثْلُكَ عِنْدَ اللَّهِ مِثْلَ الْبَهِيمَةِ نَظَرَتْ إِلَى الأَرْضِ الْخَضِرَةَ فَرَتَعَتْ فِيهَا تَلْتَمِسُ بِذَلِكَ السَّمْنَ وَإِنَّمَا حَتْفُهَا فِي سمنها والسلام.
১৭৩-[১৮১] আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হিলাল আল-হিন্নাই (রহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন বিচারক আবু আল-হুসাইন উমর ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে মালিক আশ-শাইবানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হারিস অর্থাৎ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি উসামা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ, আবদুস সালাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবি বুরদাহ থেকে বর্ণনা করেন যে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু মুসা আল-আশআরি (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট লিখেছিলেন: অতঃপর, আল্লাহর নিকট সেই শাসকই সর্বাধিক সৌভাগ্যবান যার মাধ্যমে তার প্রজারা সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ করে। আর আল্লাহর নিকট সেই শাসকই সর্বাধিক হতভাগা যার কারণে তার প্রজারা দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হয়। সুতরাং সাবধান! তুমি তোমার কর্মচারীদের সাথে মিলে যেন পার্থিব ভোগবিলাসে মত্ত না হও; অন্যথায় আল্লাহর নিকট তোমার দৃষ্টান্ত হবে সেই চতুষ্পদ জন্তুর মতো, যে কোনো সবুজ-শ্যামল ভূমির দিকে তাকিয়ে সেখানে তৃপ্তিভরে বিচরণ করে এবং এর মাধ্যমে মোটাতাজা হওয়ার চেষ্টা করে, অথচ তার মৃত্যু ও ধ্বংস তো সেই মোটাতাজা হওয়ার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ওয়াসসালাম।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٩١١)
174-[182] أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بن القاسم بن معروف التميمي قال أبنا أَبُو الْمَيْمُونِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بن راشد البجلي قال: ثنا وريزة بن محمد الغساني قال: ثنا إبراهيم بن سعيد الجوهري قال: ثنا ابْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ: خَاصَمَتِ امْرَأَةٌ إِلَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ فَرَاعَهُ جَمَالُهَا فَوَجَّهَ إِلَيْهَا فَخَطَبَهَا سِرًّا فَوَجَّهَتْ إِلَيْهِ مَا أَصْنَعُ بِأُخْتِ الزَّنْيَةِ إِمَّا نِكَاحٌ صَحِيحٌ وَإِمَّا زِنًا قَبِيحٌ، قَالَ: فَبَعَثَ إِلَيْهَا لا هَذَا وَلا هَذَا ثُمَّ أَقَامَ أَيَّامًا فَلَمْ يَصْبِرْ فَوَجَّهَ إِلَيْهَا أَمْتِعِينَا بِنَظْرَةٍ قَالَ: فَاخْتَفَتْ ثُمَّ دَخَلَتْ فَلَمَّا رَآهَا قَالَ لَهَا وَيْحَكِ هَذَا الْحُسْنُ لَكِ إِنَّمَا كان ينبغي أن يقطع وجهك خيلانا فتزين به وجوه الْبَشَرَ ثُمَّ تَزَوَّجَهَا فَقَالَ:

تَغَلْغَلَ حُبُّ عَثْمَةَ فِي فُؤَادِي … فَظَاهِرُهُ مَعَ الْخَافِي يَسِيرُ

تَغَلْغَلَ حَيْثُ لَمْ يَبْلُغْ شَرَابٌ … وَلا حُزْنٌ وَلَمْ يَبْلُغُ سُرُورُ

صَدَعْتِ الْقَلْبَ ثُمَّ ذَرَرْتِ فِيهِ … هواك فليم فالتأم الفطور
১৭৪-[১৮২] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উসমান ইবনুল কাসিম ইবনে মা'রুফ আত-তামিমি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাইমুন আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে রাশিদ আল-বাজালি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ারিজাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-গাসসানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি উয়াইস, তিনি বলেন: এক মহিলা উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদের নিকট একটি বিবাদ নিয়ে উপস্থিত হলো। তখন তার সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করল। তিনি তার কাছে লোক পাঠালেন এবং গোপনে তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। তখন মহিলাটি তাঁর কাছে বার্তা পাঠাল যে, "ব্যভিচারের ভগ্নী (অর্থাৎ অবৈধ গোপন প্রণয়) দিয়ে আমি কী করব? হয় সঠিক বিবাহ হতে হবে, অন্যথায় তা হবে জঘন্য ব্যভিচার।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তার কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, না এটা, না ওটা। এরপর তিনি কয়েক দিন অতিবাহিত করলেন কিন্তু আর ধৈর্য ধরতে পারলেন না। তখন তিনি তার কাছে সংবাদ পাঠালেন: "আমাদের এক পলক দেখার সুযোগ দিয়ে আনন্দিত করো।" বর্ণনাকারী বলেন: সে আত্মগোপন করল, তারপর প্রবেশ করল। যখন তিনি তাকে দেখলেন, তখন তাকে বললেন: "তোমার জন্য পরিতাপ! এই রূপ-লাবণ্য কি তোমার একার জন্য? তোমার চেহারার এই সৌন্দর্যকে তো তিল হিসেবে খণ্ডিত করে বন্টন করা উচিত ছিল, যা দ্বারা অপরাপর মানুষের চেহারা সুশোভিত হতো।" অতঃপর তিনি তাকে বিবাহ করলেন এবং বললেন:

আসমাহর ভালোবাসা আমার হৃদয়ের গহীনে প্রবেশ করেছে … যার প্রকাশ্য ও গোপন সবটুকুই সেখানে বহমান।

তা এমন গভীরে পৌঁছেছে যেখানে পানীয় পৌঁছাতে পারে না … এমনকি দুঃখ কিংবা সুখও সেখানে পৌঁছাতে অক্ষম।

তুমি আমার হৃদয় বিদীর্ণ করেছ, অতঃপর তাতে ছিটিয়ে দিয়েছ … তোমার অনুরাগ, ফলে তা জোড়া লেগে গেল এবং হৃদয়ের ফাটলগুলো উপশম হলো।
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٩١٤)
175-[183] أَنْشَدَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ المترفق الطرسوسي قال: وأنشدنا في المعنى يعني حَدِيثٍ قَدْ سَبَقَ:

وَأَصْبِرُ عَنْ زِيَارَتِكُمْ لأَنِّي … إذا ما زرتكم زاد اشتياقي

ينغصني السُّرُورَ بِكُمْ هُمُومِي … لِمَا أَلْقَاهُ مِنْ مَضَضِ الْفِرَاقِ

فَمَا لِي رَاحَةٌ فِي الْبُعْدِ مِنْكُمْ … ولا لي سلوة عند التلاق

[آخر الجزء السادس وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى محمد وآله وسلم] (1)

--------------------------------------------

(1) [[من طبعة السلفي والمخطوط]]
১৭৫-[১৮৩] আবুল হাসান আলী ইবনে আল-হাসান ইবনুল মুতারফফীক আত-তারসুসি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: এবং তিনি এই অর্থেই অর্থাৎ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হওয়া একটি হাদীসের মর্মে আবৃত্তি করেছেন:

আমি আপনাদের সাথে সাক্ষাৎ করা থেকে বিরত থাকি কারণ আমি … যখনই আপনাদের সাথে সাক্ষাৎ করি, আমার ব্যাকুলতা বেড়ে যায়

আপনাদের সান্নিধ্যের আনন্দকে আমার দুশ্চিন্তা বিষিয়ে দেয় … বিচ্ছেদের যে যন্ত্রণা আমি সহ্য করি তার কারণে

আপনাদের থেকে দূরে থাকাতেও আমার কোনো প্রশান্তি নেই … আর মিলনের সময়ও আমার কোনো সান্ত্বনা নেই

[ষষ্ঠ খণ্ড সমাপ্ত এবং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহ মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন] (১)

--------------------------------------------

(১) [[সালাফি সংস্করণ ও পাণ্ডুলিপি থেকে]]
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٩١٧)
‌‌الْجُزْءُ السَّابِعُ مِنْ فَوَائِدِ الشَّيْخِ أَبِي الْقَاسِمِ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحِنَّائِيِّ

تَخْرِيجُ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَاصِمٍ النَّخْشَبِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ
শাইখ আবুল কাসিম আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আল-হিন্নায়ীর 'ফাওয়ায়িদ' (উপকারিতা) সমূহের সপ্তম অংশ

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আসিম আন-নাখশাবি (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক তাখরিজকৃত
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٩١٩)
[بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ رَبِّ وَفِّقْ] (1)

176-[184] قرئ على الشَّيْخِ الإِمَامِ أَبِي الْفَضْلِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَلِيِّ بن إبراهيم الجنزوي وأنا أسمع قيل له أخبركم أبو الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعِيدٍ الْعَطَّارِ قال أبنا أَبُو الْقَاسِمِ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحِنَّائِيِّ قال: ثنا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُوسَى بْنِ رَاشِدِ بْنِ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الكلابي لفظا قال أبنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ خُرَيْمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ الْعُقَيْلِيُّ قِرَاءَةً عليه قال: ثنا هِشَامُ بْنُ عَمَّارِ بْنِ نُصَيْرِ بْنِ مَيْسَرَةَ السلمي قال: ثنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الزِّنَادِ عَنِ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ ثُمَّ لِيَسْتَنْثِرْ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَالِكُ بْنُ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ الأَصْبَحِيِّ إِمَامِ الْمَدِينَةِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ وَاسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ذَكْوَانَ وَيُقَالُ: كُنْيَتُهُ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَبُو الزِّنَادِ لَقَبٌ وَهُوَ مَوْلَى آلِ عُثْمَانَ عَنْ أَبِي دَاوُدَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ الأَعْرَجِ الْمَدِينِيِّ مَوْلَى بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَاسْمُهُ عَبْدُ عَمْرِو بْنِ غَنْمٍ كَذَا قَالَهُ سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ الْمُحَرَّرِ بْنِ أَبِي هُرَيْرَةَ.

أَخْرَجَهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ فِي صَحِيحِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُوسُفَ عَنْ مَالِكٍ كَمَا أَخْرَجْنَاهُ

فَكَانَ شَيْخُنَا حَدَّثَنَا بِهِ عَنْ البخاري.

--------------------------------------------

(1) [[من طبعة السلفي والمخطوط]]
[পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই। হে প্রভু, তাওফিক দান করুন।] (১)

১৭৬-[১৮৪] শেখ ইমাম আবুল ফজল ইসমাইল ইবনে আলী ইবনে ইব্রাহিম আল-জানজাভির নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, তাকে বলা হলো যে, আবুল হাসান আলী ইবনে আল-হাসান ইবনে সাঈদ আল-আত্তার আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম আল-হিন্নায়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হুসাইন আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আল-হাসান ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসা ইবনে রাশিদ ইবনে খালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-কিলাবি মৌখিকভাবে আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে খুরইম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান আল-উকাইলি তার নিকট পঠিত পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে আম্মার ইবনে নুসাইর ইবনে মাইসারা আস-সুলামি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাস আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুয যিনাদ আমার নিকট আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন ওযু করবে, সে যেন তার নাকে পানি দেয় এবং এরপর যেন তা ঝেড়ে ফেলে।

এই হাদিসটি মদিনার ইমাম আবু আবদুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবি আমির আল-আসবাহির বর্ণনা থেকে একটি সহিহ হাদিস। তিনি বর্ণনা করেছেন আবুয যিনাদ থেকে, যার নাম হলো আবদুল্লাহ ইবনে জাকওয়ান। বলা হয় যে, তার কুনিয়াত বা উপনাম আবু আবদুর রহমান, আর আবুয যিনাদ হলো তার লকব বা উপাধি। তিনি আল-উসমানের আযাদকৃত দাস। তিনি বনী আবদিল মুত্তালিবের আযাদকৃত দাস আবু দাউদ আবদুর রহমান ইবনে হুরমুয আল-আরাজ আল-মাদিনি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, যার নাম হলো আবদু আমর ইবনে গানম—এভাবেই সুফিয়ান ইবনে হুসাইন যুহরি থেকে, তিনি আল-মুহাররার ইবনে আবি হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি এটি তার সহিহ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফের সূত্রে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, যেভাবে আমরা এটি বর্ণনা করেছি।

সুতরাং আমাদের শায়খ এটি বুখারির সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) [[সালাফি সংস্করণ এবং পাণ্ডুলিপি থেকে]]
(খণ্ড: ٢) ফাওয়ায়িদুল হিনায়ী = আল-হিনায়িয়াত (পৃষ্ঠা: ٩٢٣)
177-[185] أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هِلَالٍ الْحِنَّائِيُّ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ: ثنا أَبُو يُوسُفَ يَعْقُوبُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرحمن الجصاص قال: ثنا علي بن عمرو الأنصاري قال: ثنا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ: كُنَّا مَعَ حُذَيْفَةَ فَمَرَّ رَجُلٌ فَقَالُوا: إِنَّ هَذَا يُبَلِّغُ الأُمَرَاءَ الْحَدِيثَ فَقَالَ حُذَيْفَةُ: أَشْهَدُ أَوْ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَتَّاتٌ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي عَتَّابٍ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ السُّلَمِيِّ الْكُوفِيِّ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ النَّخَعِيِّ الْكُوفِيِّ عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ النَّخَعِيِّ الْكُوفِيِّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ حُذَيْفَةَ بْنِ اليمان العبسي الْكُوفِيُّ

أَخْرَجَهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ مَنْصُورٍ

وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُجْرٍ وَإِسْحَاقَ بْنِ رَاهَوَيْهِ عَنْ جَرِيرٍ عَنْ مَنْصُورٍ كَمَا أَخْرَجْنَاهُ.
১৭৭-[১৮৫] আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হিলাল আল-হিন্নাঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি শুনছিলাম; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-জাসসাস; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আমর আল-আনসারী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে উয়াইনাহ, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি হাম্মাম বিন আল-হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা হুজায়ফার সাথে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি সেখান দিয়ে অতিক্রম করল। তখন লোকেরা বলল: নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি শাসকদের নিকট কথা পৌঁছে দেয়। তখন হুজায়ফা বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি অথবা তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

এই হাদিসটি আবু আত্তাব মানসুর বিন আল-মুতামির আস-সুলামী আল-কুফীর হাদিস থেকে বর্ণিত একটি সহিহ হাদিস, যা তিনি আবু ইমরান ইব্রাহিম বিন ইয়াজিদ আন-নাখাঈ আল-কুফী থেকে, তিনি হাম্মাম বিন আল-হারিস আন-নাখাঈ আল-কুফী থেকে এবং তিনি আবু আব্দুল্লাহ হুজায়ফা বিন আল-ইয়ামান আল-আবাসী আল-কুফী থেকে বর্ণনা করেছেন।

এটি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে এবং তিনি মানসুর থেকে।

এবং এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন আলী বিন হুজর ও ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ থেকে, তাঁরা জারীর থেকে এবং তিনি মানসুর থেকে, যেভাবে আমরা তা বর্ণনা করেছি।