(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: -)
مجلسان من أمالي أبي الحسين بن بشران   (ابن بشران، أبو الحسين)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء فيه مجلسان من أمالي أبي الحسين بن بشران

المؤلف: علي بن محمد بن عبد الله بن بشران الأموي أبو الحسين البغدادي المعدل (ت 415هـ)

المحقق: أبي عبد الله حمزة الجزائري

الناشر: الدار الأثرية [ضمن مجموع كتاب سلوك طريق السلف وستة أجزاء أخرى]

الطبعة: الأولى 2009 م

عدد الصفحات: 229

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: أحمد الخضري (نسخ) ، ويا باغي الخير أقبل (مقابلة)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আবু আল-হুসাইন বিন বিশরানের আমালি থেকে দুটি মজলিস   (ইবনে বিশরান, আবু আল-হুসাইন)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: এমন একটি খণ্ড যাতে আবু আল-হুসাইন বিন বিশরানের আমালি থেকে দুটি মজলিস রয়েছে

লেখক: আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-উমাবী আবু আল-হুসাইন আল-বাগদাদি আল-মুয়াদ্দিল (মৃত্যু ৪১৫ হিজরি)

সম্পাদক: আবু আব্দুল্লাহ হামজা আল-জাজাইরি

প্রকাশক: আদ-দারুল আসারিয়্যাহ [সুলুক তরিক আস-সালাফ এবং আরও ছয়টি খণ্ডের সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত]

সংস্করণ: প্রথম ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদরি (অনুলিখন) ، এবং হে কল্যাণের অন্বেষী, এগিয়ে এসো (পাঠ সংকলন ও মোকাবিলা)

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২০৭)
جزء فيه: مجلسان من أمالي الإمام أبي الحسين علي بن محمد بن عبد الله بن بشران المعدل (رحمة الله عليه)

رواية: الإمام أبي الحطاب نصر بن أحمد بن عبد الله بن البطر عنه.

رواية: أبي الفضل عبد الله بن أحمد ابن محمد بن عبد القاهر عنه
একটি পুস্তিকা, যাতে রয়েছে: ইমাম আবু আল-হুসাইন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুয়াদ্দাল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর আমালি হতে প্রাপ্ত দুটি মজলিস।

বর্ণনা: ইমাম আবু আল-হাততাব নাসর বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-বাতার তাঁর থেকে।

বর্ণনা: আবু আল-ফজল আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাহের তাঁর থেকে।
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২০৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

1- قال: [أخبرنا] (1) الشيخ الإمام أبو الفضل عبد الله بن أحمد بن محمد بن عبد القاهر الطوسي الخطيب بالموصل وذلك في شهر رجب سنة ست وستين [وخمسمئة] (2) قال: أنا الشيخ الإمام أبو الخطاب نصر بن أحمد بن عبد الله بن البطر قراءة عليه في شهر صفر سنة إحدى وتسعين وأربعمائة قال: ثنا الشيخ أبو الحسين علي بن محمد بن عبد الله بن بشران المعدل إملاءً في يوم الجمعة سابع عشر ذي الحجة سنة اثني عشرة وأربعمائة قال: أخبرنا أبو علي إسماعيل بن محمد بن إسماعيل ⦗ص: 210⦘ الصفار ثنا عبد الرحمن بن محمد بن منصور ثنا معاذ بن هشام قال: حدثني أبي عن قتادة عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ عَنْ ثَوْبَانَ أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((إنَّ اللَّهَ عز وجل زَوَى لِي الأَرْضَ حَتَّى رَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَأَعْطَانِي الْكَنْزَيْنِ الأَحْمَرَ وَالأَبْيَضَ وَإِنَّ ملك أمتي سيبلغ مَا زُوِيَ لِي مِنْهَا وَإِنِّي سَأَلْت رَبِّي عز وجل أن لا يهلكهم بسنةٍ عَامَّةٍ، وَأَنْ لَا يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَيُهْلِكَهُمْ، وَأَنْ لَا يُلْبِسَهُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَهُمْ بَأْسَ بَعْضٍ، فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي إِذَا أَعْطَيْتُ عَطَاءً فَلَا مَرَدَّ لَهُ، وإني أَعْطَيْتُكَ لأُمَّتِكَ أَنْ لَا يُهْلَكُوا بسنةٍ عامةٍ وَأَنْ لَا أُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَيَسْتَبِيحَهُمْ، وََإِنْ اجْتُمِعَ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْنَ (3) أَقْطَارِهَا حَتَّى يَكُونَ بَعْضُهُمْ يَهْلِكُ بَعْضًا وَبَعْضُهُمْ يَسْبِي بَعْضًا وَبَعْضُهُمْ يُفْنِي بَعْضًا، وَإِنَّهُ سَيَرْجِعُ قَبَائِلُ من أمتي إلى الشرك وَعِبَادَةِ الأَوْثَانِ، وَإِنَّ مِنْ أَخْوَفِ مَا أَخَافُ الأئمة المضلين، وإنه إذا وضع السيف فيهم لم يرفع إلى يوم القيامة وإنه سيخرج في أُمَّتِي كَذَّابُونَ دَجَّالُونَ قَرِيبًا مِنْ ثَلَاثِينَ، وَإِنِّي خَاتَمُ الأَنْبِيَاءِ، لَا نَبِيَّ بَعْدِي، وَلَا تَزَالُ طائفةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ مَنْصُورَةٌ حَتَّى يأتي أمر الله)) .

⦗ص: 211⦘

قال الشيخ أبو الفتح رضي الله عنه ورحمه) : ((هذا حديث صحيح أخرجه مسلم عن أبي إسحاق بن إبراهيم وزهير بن بشار وابن المثنى كلهم عن معاذ بن هشام عن أبيه ووقع إلينا عالياً)) .

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط]]

(2) [[من المخطوط]]

(3) [[من المخطوط، وفي المطبوع: بني]]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

১- তিনি বললেন: [আমাদের সংবাদ দিয়েছেন] (১) শাইখ ইমাম আবুল ফজল আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল কাহের আত-তুসি, যিনি মউসিলের খতিব ছিলেন, আর এটি ছিল হিজরি পাঁচশত ছেষট্টি (২) সালের রজব মাসে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট শাইখ ইমাম আবুল খাত্তাব নাসর বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-বাত্র হিজরি চারশত একানব্বই সালের সফর মাসে পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট শাইখ আবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুআদ্দাল হিজরি চারশত বারো সালের সতেরোই জিলহজ শুক্রবার শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল ⦗পৃষ্ঠা: ২১০⦘ আস-সাফফার, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন মুয়াঁজ বিন হিশাম, তিনি বলেন: আমার নিকট আমার পিতা কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু আসমা থেকে, তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ আমার জন্য জমিনকে গুটিয়ে দিলেন, ফলে আমি তার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তগুলো দেখতে পেলাম। আর তিনি আমাকে লাল ও সাদা দুটি ধনভাণ্ডার দান করেছেন। অচিরেই আমার উম্মতের শাসন সেই পর্যন্ত পৌঁছাবে যা আমার জন্য গুটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি আমার মহান রবের নিকট প্রার্থনা করেছি যেন তিনি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস না করেন এবং তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য কোনো শত্রু তাদের উপর চাপিয়ে না দেন যারা তাদের সমূলে বিনাশ করবে, আর তিনি যেন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে বিভ্রান্ত না করেন এবং তাদের এক পক্ষকে অন্য পক্ষের হিংস্রতা আস্বাদন না করান। তখন আল্লাহ বললেন, হে মুহাম্মদ! আমি যখন কোনো কিছু দান করি, তখন তা আর রদ করা হয় না। আমি তোমার উম্মতকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, আমি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস করব না এবং তাদের উপর তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য কোনো শত্রু চাপিয়ে দেব না যারা তাদের অস্তিত্ব বিনাশ করবে, যদিও পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়; যতক্ষণ না তারা একে অপরকে ধ্বংস করবে, একে অপরকে বন্দী করবে এবং একে অপরকে নিঃশেষ করে দেবে। আর অচিরেই আমার উম্মতের কিছু গোত্র শিরক এবং মূর্তিপূজার দিকে ফিরে যাবে। আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো পথভ্রষ্টকারী নেতা। আর যখন তাদের মধ্যে একবার তলোয়ার আপতিত হবে, তা কিয়ামত পর্যন্ত আর তুলে নেওয়া হবে না। অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে, অথচ আমিই হলাম শেষ নবী, আমার পরে আর কোনো নবী নেই। আর আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) এসে পৌঁছায়।))।

⦗পৃষ্ঠা: ২১১⦘

শাইখ আবু আল-ফাতহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: ((এটি একটি সহিহ হাদিস যা ইমাম মুসলিম আবু ইসহাক বিন ইবরাহিম, জুহাইর বিন বাশার এবং ইবনুল মুসান্না থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সকলে মুয়াঁজ বিন হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে। আর হাদিসটি আমাদের নিকট উচ্চতর সনদে পৌঁছেছে।))।

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে]]

(২) [[পাণ্ডুলিপি থেকে]]

(৩) [[পাণ্ডুলিপি থেকে, আর মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: বানি]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২১১)
2- أخبرنا أبو جعفر محمد بن عمرو (1) بن البختري قال: ثنا محمد بن عبد الملك الدقيقي ثنا يزيد بن هارون قال: أنبا فضيل بن مرزوق قَالَ: حَدَّثَنِي الْوَلِيدُ بْنُ بُكَيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم عَلَى مِنْبَرِهِ يَقُولُ: ((يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللهِ قَبْلَ أَنْ تَمُوتُوا وَبَادِرُوا بِالأَعْمَالِ الصالحة، وَصِلُوا الَّذِي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ رَبِّكُمْ بِكَثْرَةِ ذِكْرِكُمْ لَهُ وَكَثْرَةِ الصَّدَقَةِ فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ تُؤْجَرُوا وتحمدوا وترزقوا، واعلموا أن الله عز وجل قد فرض عَلَيْكُمُ الْجُمُعَةَ فَرِيضَةً مَكْتُوبَةً فِي مَقَامِي هَذَا فِي شَهْرِي هَذَا فِي عَامِي هَذَا إِلَى يوم القيامة مَنْ وَجَدَ إِلَيْهَا سَبِيلاً فَمَنْ تَرَكَهَا فِي حَيَاتِي أَوْ بَعْدِي جُحُودًا بِهَا، وَاسْتِخْفَافًا بِهَا وَلَهُ إمامٌ جائرٌ أَوْ عادلٌ فَلَا جَمَعَ اللَّهُ لَهُ شَمْلا وَلَا بَارَكَ اللَّهُ لَهُ في أمره ألا ولا صلاة له وَلَا وُضُوءَ لَهُ أَلَا وَلَا زَكَاةَ لَهُ، ألا ولا حج له، أَلَا وَلَا بِرَّ لَهُ حَتَّى يَتُوبَ فَإنْ تاب، تاب الله عليه، ألا ولا تؤمن امرأةً رجلاً، ألا ولا يؤمن أعرابيٌ مهاجراً، ألا وَلَا يَؤُمّنَ فاجرٌ مُؤْمِنًا، إِلَاّ أَنْ يَقْهَرَهُ بسلطان يخاف سيفه وسوطه)) .

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: عمر]]
২- আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আমর (১) বিন আল-বাখতারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আদ-দাকিকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফুযাইল বিন মারযুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ বিন বুকাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন যায়িদ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: "হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের মৃত্যুর পূর্বে আল্লাহর নিকট তাওবা করো এবং নেক আমলের দিকে ধাবিত হও। আর তোমাদের ও তোমাদের রবের মধ্যবর্তী সম্পর্ককে সুদৃঢ় করো অধিক পরিমাণে তাঁর যিকির করার মাধ্যমে এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে অধিক সদকা করার মাধ্যমে; তবেই তোমরা প্রতিদান লাভ করবে, প্রশংসিত হবে এবং তোমাদের রিযিক দান করা হবে। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তোমাদের ওপর জুমুআকে একটি লিখিত ফরয হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, যা আমার এই স্থানে, আমার এই মাসে এবং আমার এই বছরে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। যে ব্যক্তি জুমুআর সামর্থ্য রাখে [তার ওপর এটি ফরয]। অতঃপর যে ব্যক্তি আমার জীবদ্দশায় কিংবা আমার মৃত্যুর পর এটি অস্বীকার করে অথবা একে তুচ্ছজ্ঞান করে বর্জন করবে—এমতাবস্থায় যে তার কোনো যালেম কিংবা ন্যায়পরায়ণ শাসক বিদ্যমান থাকে—তবে আল্লাহ তার বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করবেন না এবং তার কোনো কাজে বরকত দান করবেন না। সাবধান! তার কোনো সালাত নেই, তার কোনো ওযু নেই; সাবধান! তার কোনো যাকাত নেই; সাবধান! তার কোনো হাজ্জ নেই; সাবধান! তার কোনো পুণ্য নেই যতক্ষণ না সে তাওবা করে। অতঃপর যদি সে তাওবা করে, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। সাবধান! কোনো নারী যেন কোনো পুরুষের ইমামতি না করে, কোনো গ্রাম্য আরব যেন কোনো মুহাজিরের ইমামতি না করে এবং কোনো পাপাচারী ব্যক্তি যেন কোনো মুমিনের ইমামতি না করে, যদি না শাসক তাকে ক্ষমতার মাধ্যমে বাধ্য করে যার তলোয়ার ও চাবুকের ভয় থাকে।"

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে, তবে মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: উমর]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২১২)
3- أخبرنا أبو الحسن علي بن محمد بن أحمد المصري قال: ثنا يحيى بن أيوب العلاف ثنا سعيد بن أبي مريم قال نا نافع بن زيد قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ غَزِيَّةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ أَنَّ أُمَّهُ فَاطِمَةَ بِنْتَ الْحُسَيْنِ حَدَّثَتْهُ أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهَا، أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ: إنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ، لِفَاطِمَةَ: ((يَا بُنَيَّةُ أَحْنِي)) ، فَأَحْنَتْ عَلَيْهِ فَنَاجَاهَا سَاعَةً، ثُمَّ انْكَشَفَتْ عَنْهُ وَهِيَ تَبْكِي وَعَائِشَةُ حاضرةٌ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ بساعةٍ: ((احني علي بنية)) ، فأحنت عليه فناجاها ساعةً ثم انكشفت تضحك، قال فقالت عائشة: أي بنية أخبريني ماذا ناجاك أبوك؟ قالت فاطمة أو شكت رأته: ناجاني على حال سر وظننت أني أخبر بِسِرِّهِ وَهُوَ حيٌ؟ [قَالَ] (1) فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنْ يَكُونَ سِرٌّ دُونَهَا فَلَمَّا قَبَضَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ قَالَتْ عَائِشَةُ لفاطمة رضي الله عنها: يا بنية ألا تخبريني بذلك الخبر؟ قالت: أَمَّا الآنَ فَنَعَمْ نَاجَانِي فِي الْمَرَّةِ الأُولَى فَأَخْبَرَنِي أَنَّ جِبْرِيلَ عليه السلام كَانَ يُعَارِضُهُ بالْقُرْآنَ فِي كُلِّ عامٍ مَرَّةً وَإِنَّهُ عَارَضَنِي القرآن العام مرتين وأخبرني: أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ نبيٌ كَانَ بَعْدَهُ نَبِيٌّ إلَاّ عَاشَ بَعْدَهُ نِصْفَ عُمْرِ الَّذِي كَانَ قبله وأنه أخبرني: أن عيسى ابن مريم عليه السلام عاش عشرين ومائة سنة فلا أراني إلا ⦗ص: 213⦘ ذاهباً على رأس الستين وأبكاني ذلك، وَقَالَ: ((يَا بُنَيَّةُ إنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ نساء المسلمين أعظم رزيةً مِنْك، فَلَا تَكُونِي [مِنْ] أَدْنَى امرأةٍ صَبْرًا)) ، وناجاني في المرة الآخرة فَأَخْبَرَنِي: أَنِّي أَوَّلُ أَهْلِهِ لُحُوقًا بِهِ وَقَالَ: ((إنَّك سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ إلَاّ مَا كَانَ مِنَ الْبَتُولِ مَرْيَمُ بِنْتُ (2) عِمْرَانَ)) ، فَضَحِكْتُ لذلك (3) .

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط]]

(2) [[من المخطوط، وفي المطبوع: ابنة]]

(3) [[من المخطوط، وفي المطبوع: بذلك]]
৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মিসরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আল-আল্লাফ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি মারিয়াম, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাফি বিন যায়েদ, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে গাজিয়্যাহ, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন উসমান থেকে বর্ণিত যে, তার মা ফাতিমা বিনতুল হুসাইন তাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, আয়েশা (রা.) তাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলতেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সেই অসুস্থতার সময় যাতে তাঁর জান কবজ করা হয়েছিল, ফাতিমাকে বললেন: ((হে প্রিয় কন্যা, আমার দিকে ঝুঁকে আসো)), অতঃপর তিনি তাঁর দিকে ঝুঁকে আসলেন এবং তিনি কিছুক্ষণ তার সাথে গোপনে কথা বললেন। তারপর তিনি (ফাতিমা) তাঁর নিকট থেকে সরে আসলেন এমতাবস্থায় যে তিনি কাঁদছিলেন, আর আয়েশা (রা.) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কিছুক্ষণ পর বললেন: ((হে প্রিয় কন্যা, আমার দিকে ঝুঁকে আসো)), তিনি তাঁর দিকে ঝুঁকে আসলেন এবং তিনি পুনরায় কিছুক্ষণ তাঁর সাথে গোপনে কথা বললেন। এরপর তিনি সরে আসলেন হাসিমুখে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আয়েশা (রা.) বললেন: হে প্রিয় কন্যা, আমাকে বলো তোমার পিতা তোমার সাথে গোপনে কী কথা বলেছেন? ফাতিমা বললেন অথবা আয়েশা তাকে দেখলেন যে তিনি বলছেন: তিনি আমার সাথে গোপনে কথা বলেছেন, আমি কি তাঁর জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর গোপন কথা প্রকাশ করে দেব? [তিনি বলেন] (১) এতে আয়েশা (রা.)-এর নিকট বিষয়টি কষ্টকর মনে হলো যে, তাঁকে বাদ দিয়ে কোনো গোপন কথা রাখা হয়েছে। অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে তুলে নিলেন, তখন আয়েশা (রা.) ফাতিমা (রা.)-কে বললেন: হে প্রিয় কন্যা, তুমি কি আমাকে সেই সংবাদটি দিবে না? তিনি বললেন: এখন হ্যাঁ, জানানো যায়। প্রথমবার তিনি আমার সাথে গোপনে কথা বলে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রতি বছর একবার তাঁর সাথে কুরআন পর্যালোচনা করতেন, কিন্তু এ বছর তিনি দুইবার কুরআন পর্যালোচনা করেছেন। আর তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, এমন কোনো নবী ছিলেন না যাঁর পরে অন্য কোনো নবী এসেছেন, তবে সেই নবী পূর্ববর্তী নবীর অর্ধেক বয়স লাভ করেছেন। এবং তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাম) একশ বিশ বছর জীবিত ছিলেন। তাই আমি নিজেকে ⦗পৃষ্ঠা: ২১৩⦘ ষাট বছরের মাথায় চলে যাওয়ার (মৃত্যুর) অপেক্ষায় দেখছি। আর এটিই আমাকে কাঁদিয়েছিল। এবং তিনি বলেছিলেন: ((হে প্রিয় কন্যা, মুসলিম নারীদের মধ্যে তোমার চেয়ে অধিক বিপদে আর কেউ নেই, সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণের দিক থেকে নূন্যতম নারী হয়ো না))। এবং তিনি শেষবার আমার সাথে গোপনে কথা বললেন এবং আমাকে সংবাদ দিলেন যে, তাঁর পরিজনদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম তাঁর সাথে মিলিত হব। এবং তিনি বললেন: ((নিশ্চয়ই তুমি জান্নাতবাসিনী নারীদের নেত্রী, তবে কুমারী মারিয়াম বিনতু (২) ইমরান ব্যতীত))। একারণেই আমি হেসেছিলাম (৩)।

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে]]

(২) [[পাণ্ডুলিপি থেকে, এবং মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: ইবনাতু (কন্যা)]]

(৩) [[পাণ্ডুলিপি থেকে, এবং মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: বি-যালিকা (ঐ কারণে)]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২১৩)
4- حدثنا أبو عمرو عثمان بن أحمد المعروف بابن السماك قال: نا إسحاق ابن إبراهيم بن سنين قال: نا السري بن زيد بن المهلب وأبو الفضل المروزي ثنا إسماعيل بن يحيى بن عبيد الله قال: نا أبو سنان عن الضحاك عن النزال بن سبرة قال: وافقنا ذات يوم علي بن أبي طالب طيب النفس مزاح فقلت له: يا أمير ⦗ص: 214⦘ المؤمنين حدثنا عن أصحاب رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟، قال: كل أصحاب رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أصحابي، قالوا حدثنا عن أصحابك خاصة؟ قال: ما كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم صاحب إلا وهو صاحب لي (1) ، قال: سلوني؟، قالوا: حدثنا عن أبي بكر بن أبي قحافة؟ قال: ذاك امرؤ سماه الله [عز وجل] (2) الصديق على لسان جبريل ولسان محمد صلى الله عليه وسلم، خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم على الصلاة رضيه رسول الله صلى الله عليه وسلم لديننا ورضيناه لدنيانا (3) ، قالوا: فحدثنا عن عمر بن الخطاب؟ قال: ذلك امرؤ سماه الله عز وجل الفاروق فرق بين الحق والباطل، سمعت رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يقول: ((اللهم أعز الإسلام بعمر)) ، قالوا: حدثنا عن عثمان بن عفان؟، قال: ذاك امرؤ يدعى في الملأ الأعلى ذا النورين كان ختن رسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم على ابنتيه، ضمن له رسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم بيتاً ببيت في الجنة.

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: صاحبي]]

(2) [[من المخطوط]]

(3) [[من المخطوط، وفي المطبوع: لديه ورضيناه لدينا]]
৪- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান ইবনে আহমাদ, যিনি ইবনুস সাম্মাক নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ইবনে সুনাইন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আস-সারী ইবনে যাইদ ইবনুল মুহাল্লাব এবং আবু আল-ফাদল আল-মারওয়াযী, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উবায়দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সিনান, যাহহাক থেকে, তিনি নাযযাল ইবনে সাবরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন আমাদের সাথে আলী ইবনে আবি তালিবের দেখা হলো, তখন তিনি প্রফুল্ল মনে ও রসিক মেজাজে ছিলেন। আমি তাঁকে বললাম: হে আমিরুল ⦗পৃষ্ঠা: ২১৪⦘ মুমিনীন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমস্ত সাহাবীই আমার সাথী। তাঁরা বললেন: বিশেষভাবে আপনার সাথীদের সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন কোনো সাহাবী ছিলেন না যিনি আমারও সাথী নন (১)। তিনি বললেন: আমাকে জিজ্ঞাসা করো। তাঁরা বললেন: আবু বকর ইবনে আবি কুহাফাহ সম্পর্কে আমাদের বলুন? তিনি বললেন: তিনি এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ [মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী] (২) জিবরাঈলের মুখে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে 'সিদ্দীক' নামকরণ করেছেন। তিনি নামাজের ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থলাভিষিক্ত; আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দ্বীনের জন্য তাঁকে পছন্দ করেছেন, আর আমরা আমাদের পার্থিব জীবনের জন্য তাঁকে পছন্দ করেছি (৩)। তাঁরা বললেন: তাহলে উমর ইবনুল খাত্তাব সম্পর্কে আমাদের বলুন? তিনি বললেন: তিনি এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী 'ফারুক' নামকরণ করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছেন। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((হে আল্লাহ, উমরের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন))। তাঁরা বললেন: উসমান ইবনে আফফান সম্পর্কে আমাদের বলুন? তিনি বললেন: তিনি এমন এক ব্যক্তি যাকে উর্ধ্বজগতে 'যুন-নূরাইন' বলে ডাকা হয়। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই কন্যার জামাতা ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতে তাঁর একটি ঘরের বিনিময়ে একটি ঘরের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে, আর মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: আমার সাথী]]

(২) [[পাণ্ডুলিপি থেকে]]

(৩) [[পাণ্ডুলিপি থেকে, আর মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: তাঁর নিকট এবং আমরা আমাদের নিকট তাঁকে পছন্দ করেছি]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২১৫)
5- أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دعلج قال: حدثنا أبو بكر ابن بنت معاوية قال: ثنا معاوية يعني ابن عمرو قال: حدثنا زائدة عن عبد الله بن عثمان ابن خُثَيْمٍ الْمَكِّيُّ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ ذَكْوَانُ حَاجِبُ عَائِشَةَ أَنَّهُ جَاءَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما يَسْتَأْذِنُ عَلَى عَائِشَةَ رضي الله عنها فَجِئْتُ وَعِنْدَ رَأْسِهَا ابْنُ أَخِيهَا عَبْدُ اللهِ بِنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقُلْتُ: هَذَا ابْنُ عَبَّاسٍ يَسْتَأْذِنُ فَأَكَبَّ عَلَيْهَا ابْنُ [أَخِيهَا] عَبْدُ الله فقال هذا ابن عباس يستأذن. فَقَالَتْ: دَعْنِي مِنَ ابْنِ عَبَّاسٍ فَإِنَّهُ لَا حَاجَةَ لِي بِهِ، فَقَالَ: يَا أُمَّتَاهُ إِنَّ ابن عباسٍ من صالح بنيك، يسلم عَلَيْكِ وَيَدْعُو لكِ فَقَالَتْ: ائْذَنْ لَهُ إِنْ شِئْتَ، قَالَ: فَأَدْخَلْتُهُ، فَلَمَّا جَلَسَ قَالَ أَبْشِرِي، فَقَالَتْ: أَيْضًا! فَقَالَ: مَا بَيْنَكِ وَبَيْنَ أَنْ تَلْقَيْ (1) مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَالأَحِبَّةَ إِلَاّ أَنْ تَخْرُجَ الرُّوحُ مِنَ الجَسَدِ، كُنْتِ أَحَبَّ نِسَاءِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ إِلَاّ طَيِّبًا، وَسَقَطَتْ قِلادَتُكِ يومَ الأَبْوَاءِ فَأَصْبَحَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يُصْبِحَ فِي الْمَنْزِلِ، وَأَصْبَحَ النَّاسُ لَيْسَ مَعَهُمْ ماءٌ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل: {فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا} وكَانَ ذَلِكَ فِي سَبَبِكِ (2) وما أنزل الله لهذه الأمة، وَأَنْزَلَ اللَّهُ بَرَاءَتَكِ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سماواتٍ جاء بها الرُّوحُ الأَمِينُ، فَأَصْبَحَ لَيْسَ مسجدٌ مِنْ مَسَاجِدِ اللهِ عز وجل يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ إِلَاّ هي تتلى فِيهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ، فَقَالَتْ: دَعْنِي منك ويا ابن عباس فوالذي نَفْسِي بِيَدِهِ (3) لَوَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ نَسْيًا مَنْسِيًّا.

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: تلحقي]]

(2) [[من المخطوط، وفي المطبوع: شأنك]]

(3) [[من المخطوط، وفي المطبوع: يدي]]
৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ দালাজ ইবনে আহমাদ ইবনে দালাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে বিনতে মুআবিয়াহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুআবিয়াহ অর্থাৎ ইবনে আমর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদাহ, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে খুসাইম আল-মাক্কী থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকাহ যে, তাকে আয়িশার দারোয়ান যাকওয়ান বর্ণনা করেছেন যে: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইতে আসলেন। আমি আসলাম এমতাবস্থায় যে তাঁর মাথার কাছে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান বসা ছিলেন। আমি বললাম: এই যে ইবনে আব্বাস প্রবেশের অনুমতি চাচ্ছেন। তখন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আবদুল্লাহ তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ে বললেন: ইনি ইবনে আব্বাস, অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইবনে আব্বাসের থেকে অব্যাহতি দাও, কারণ তাঁর প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন নেই। তখন তিনি (ভ্রাতুষ্পুত্র) বললেন: হে আম্মাজান! নিশ্চয়ই ইবনে আব্বাস আপনার নেক সন্তানদের একজন, তিনি আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং আপনার জন্য দোয়া করছেন। তিনি বললেন: তবে চাইলে তাঁকে অনুমতি দাও। তিনি বলেন: অতঃপর আমি তাঁকে ভেতরে নিয়ে আসলাম। যখন তিনি বসলেন, তখন বললেন: আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। তিনি বললেন: আরও (সুসংবাদ)? তিনি বললেন: আপনার জন্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং প্রিয়জনদের সাথে সাক্ষাতের মাঝে কেবল শরীর থেকে প্রাণ বের হওয়ার ব্যবধানটুকুই বাকি। আপনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়, আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু ভালোবাসতেন না। আর আল-আবওয়া দিবসে আপনার হার হারিয়ে গিয়েছিল, ফলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে অবস্থান করল এমতাবস্থায় যে তাদের কাছে কোনো পানি ছিল না। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {অতঃপর তোমরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো}। আর এটি আপনার কারণেই (উসিলায়) হয়েছিল যা আল্লাহ এই উম্মতের জন্য অবতীর্ণ করেছেন। আর আল্লাহ আপনার নির্দোষিতার ঘোষণা সাত আসমানের উপর থেকে অবতীর্ণ করেছেন যা রূহুল আমীন (জিবরাঈল) নিয়ে এসেছিলেন। ফলে এখন আল্লাহর মসজিদগুলোর মধ্যে এমন কোনো মসজিদ নেই যেখানে আল্লাহর জিকির করা হয় অথচ সেখানে আপনার সেই আয়াতগুলো দিবা-রাত্রি তিলাওয়াত করা হয় না। তিনি বললেন: ইবনে আব্বাস, আপনার এসব কথা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিন। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমি যদি একেবারেই বিস্মৃত ও বিলুপ্ত হতাম!

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে, আর মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: আপনি মিলিত হবেন]]

(২) [[পাণ্ডুলিপি থেকে, আর মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: আপনার বিষয়]]

(৩) [[পাণ্ডুলিপি থেকে, আর মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: আমার হাত]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২১৬)
6- أخبرنا أبو عمر بن عبد الواحد الزاهد قال: حدثنا الحارث بن محمد قال: ثنا الواقدي ثنا عبد الله بن جعفر الزهري عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ عَنْ هِنْدَ بِنْتِ الْحَارِثِ الفِرَاسِيَّةِ (1) عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ قَالَتْ: دَخَلَ رسول الله صلى الله عليه وسلم على رجل يعوده وهو شاكي فتمنى الموت فقال رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((لَا تَتَمَنّواَ الْمَوْتَ فَإِنَّكَ إِنْ تَكُ مُحْسِنًا تَزْدَدْ (2) إحساناً إلى إحسانك، وإن تكن مسيئاً فتؤخر تستعتب، فلا تمنوا الموت)) .

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: الفارسية]]

(2) [[من المخطوط، وفي المطبوع: تكن محسنا تزداد]]
৬- আবু উমর বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-জাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হারিস বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকিদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন জাফর আল-জুহরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন আল-হাদ থেকে, তিনি হিন্দ বিনতে আল-হারিস আল-ফিরাসিইয়্যাহ (১) থেকে, তিনি উম্মুল ফজল বিনতে আল-হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির অসুস্থাবস্থায় তাকে দেখতে গেলেন, তখন সে ব্যক্তি মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করো না; কেননা তুমি যদি নেককার হও, তবে তোমার নেক আমলের সাথে আরও নেক আমল বৃদ্ধি পাবে (২), আর যদি তুমি গুনাহগার হও, তবে তোমাকে বিলম্বিত করা হবে যাতে তুমি তওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে পারো। সুতরাং তোমরা মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করো না।"

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে প্রাপ্ত, আর মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: আল-ফারিসিয়্যাহ]]

(২) [[পাণ্ডুলিপি থেকে প্রাপ্ত, আর মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: তুমি নেককার হলে বৃদ্ধি পাবে]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২১৭)
7- أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الطِّيبِيُّ رحمه الله قال: ثنا الحسين بن علي بن زياد قال: حدثني أحمد بن الحسين اللهبي قال: حدثني إبراهيم بن محمد عن محمد بن المنكدر عن أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَمِينًا، وَإِنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنُ الجَرَّاحِ أَمِينَنَا (1) ، قَالَ: ثُمَّ طَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم في خاصرة أبي عبيدة، ثم قال: إن هذه لخاصرة مؤمنةٌ)) .

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: أمينا]]
৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ ইবনে ইসহাক আত-তিবি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে আলী ইবনে জিয়াদ, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আল-হুসাইন আল-লাহাবি, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ, মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির থেকে, আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((নিশ্চয়ই প্রত্যেক উম্মতের একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি (আমীন) থাকে, আর আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ হলেন আমাদের বিশ্বস্ত ব্যক্তি (১)। তিনি (আনাস) বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু উবাইদাহ-এর পাঁজরে মৃদু আঘাত (টোকা) করলেন, তারপর বললেন: নিশ্চয়ই এটি একজন মুমিনের পাঁজর।))

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি হতে, আর মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২১৮)
8- أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الشافعي رحمه الله قال ثنا إسحاق بن الحسن الحربي ثنا عمر بن عبد الوهاب الرياحي ثنا يزيد بن زريع ثنا رَوْحُ بْنُ القَاسِمِ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَطَاءِ بْنِ أَبِي الْخُوَارِ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُرَيْجٍ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ الْبَرْصَاءِ قَالَ سَمِعْت رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَمْشِي بَيْنَ جَمْرَتَيْنِ مِنَ الْجِمَارِ وَهُوَ يَقُولُ: ((مَنْ أَخَذَ شَيْئًا مِنْ مَالِ أَخِيهِ بِيَمِينٍ فَاجِرَةٍ فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتًا فِي النار)) .
৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনুল হাসান আল-হারবি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আর-রিয়াহি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে জুরাই, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন রাউহ ইবনুল কাসিম, ইসমাঈল ইবনে উমাইয়াহ থেকে, তিনি উমর ইবনে আতা ইবনে আবিল খুওয়ার থেকে, তিনি উবাইদ ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি হারিস ইবনুল বারসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনেছি যখন তিনি জামরাসমূহের মধ্য হতে দুই জামরার মধ্য দিয়ে হাঁটছিলেন এবং বলছিলেন: ((যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে তার ভাইয়ের কোনো সম্পদ গ্রহণ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা (ঘর) বানিয়ে নেয়))।
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২১৮)
9- أخبرنا أبو الحسين إسحاق بن أحمد الكاذي رحمه الله قال: ثنا عبد الله بن أحمد بن محمد بن حنبل قال: ثنا أبي ثنا عبد الله بن يزيد ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدِ الله بن الوليد عن [خالد الْحَجْرِيِّ] (1) عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رحمه الله أَنَّهُ ⦗ص: 219⦘ قَالَ: لَوْلَا ثَلَاثُ خِلَالٍ لأَحْبَبْتُ أَنْ لَا أَبْقَى فِي الدُّنْيَا فَقُلْتُ وَمَا هُنَّ؟ فَقَالَ: لَوْلَا وُضُوعُ (2) وَجْهِي لِلسُّجُودِ لِخَالِقِي فِي اخْتِلَافِ الليل والنهار تَقَدُّمُهُ لِحَيَاتِي وَظَمَأُ الْهَوَاجِرِ وَمُقَاعَدَةُ أقوامٍ يَنْتَقُونَ الْكَلَامَ كَمَا تُنْتَقَى الْفَاكِهَةُ وَتَمَامُ التَّقْوَى أَنْ يتقي الله العبد حتى [يتقيه] (3) في مِثْقَالِ ذَرَّةٍ [حَتَّى] (4) يَتْرُكَ بَعْضَ مَا يَرَى أنه حلالٌ خشية أن يكون حراماً حَاجِزًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْحَرَامِ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قد بين للعباد الَّذِي هُوَ مَصِيرُهُمْ إِلَيْهِ قَالَ اللَّهَ عز وجل: {فمن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذرةٍ خَيْرًا يَرَهُ. وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذرةٍ شَرًّا يَرَهُ} ، فَلَا تَحْقِرَنَّ شَيْئًا مِنَ الشَّرِّ أَنْ تَتَّقِيَهُ وَلَا شَيْئًا مِنَ الخير أن تفعله.

--------------------------------------------

(1) هكذا جاء في الأصل وفي تاريخ دمشق، وجاء في الحلية وفي تاريخ دمشق كما سيأتي: عباس بن جليد الحجري.. .. ولعل هذا خطأ من بعض النساخ، والله أعلم.

(2) [[من المخطوط، وفي المطبوع: وضعي]]

(3) [[من المخطوط]]

(4) [[من المخطوط]]
৯- আবুল হুসাইন ইসহাক বিন আহমদ আল-কাযী (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ বিন আবি আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবদুল্লাহ বিন আল-ওয়ালিদ [খালেদ আল-হাজরী] (১) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ২১৯⦘ বলেছেন: যদি তিনটি বৈশিষ্ট্য না থাকত, তবে আমি এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা পছন্দ করতাম না। আমি জিজ্ঞেস করলাম: সেগুলো কী? তিনি বললেন: দিন ও রাতের আবর্তনে আমার স্রষ্টার উদ্দেশ্যে সিজদায় আমার চেহারা রাখা (২) যা আমার জীবনের পাথেয়, দুপুরের প্রচণ্ড রোদে পিপাসার্ত থাকা (রোজা রাখা) এবং এমন সব লোকদের সাহচর্যে বসা যারা কথাকে এমনভাবে বাছাই করে যেমন উৎকৃষ্ট ফলমূল বাছাই করা হয়। আর তাকওয়ার পূর্ণতা হলো এই যে, বান্দা আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করবে যেন সে অণু পরিমাণ বিষয়েও তাকে [ভয় করে] (৩), [এমনকি] (৪) সে যা হালাল মনে করে তার কিছু অংশও বর্জন করে এই ভয়ে যে তা হারাম হতে পারে, যা তার এবং হারামের মধ্যে একটি অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা বান্দাদের নিকট তাদের সেই গন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যার দিকে তারা প্রত্যাবর্তন করবে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে। এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে}। সুতরাং কোনো মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকাকে তুচ্ছ জ্ঞান করো না এবং কোনো ভালো কাজ করাকেও তুচ্ছ মনে করো না।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এবং তারীখে দিমাশকে এভাবেই এসেছে; তবে আল-হিলইয়াহ এবং তারীখে দিমাশকে সামনে আসবে: আব্বাস বিন জুলুদ আল-হাজরী... সম্ভবত এটি কোনো লিপিকারের ভুল, আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) [[পাণ্ডুলিপি হতে; আর মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: আমার রাখা]]

(৩) [[পাণ্ডুলিপি হতে]]

(৪) [[পাণ্ডুলিপি হতে]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২১৯)
10- أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ قال: ثنا يحيى بن محمد بن بشر الدقاق ثنا عُمَرُ النَّاقِدُ عَنْ حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرواسي عن محمد بن مسلم الطائفي عن عثمان بن عبد الله بن أوس عَنْ عَمِّهِ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ قَالَ: ((الْمُخْبِتُونَ الَّذِينَ لَا يَظْلِمُونَ وَإِذَا ظُلِمُوا لَمْ يَنْتَصِرُوا (1)) .

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: ينتقموا]]
১০- আবু আমর উসমান ইবনে আহমাদ আদ-দাক্কাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বিশর আদ-দাক্কাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর আন-নাকিদ, হুমাইদ ইবনে আব্দুর রহমান আর-রুআসি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম আত-তায়েফি থেকে, তিনি উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আউস থেকে, তিনি তাঁর চাচা আমর ইবনে আউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: ((বিনয়ী ও অনুগত বান্দারা (মুখবিতুন) হলো তারা, যারা জুলুম করে না এবং যখন তাদের ওপর জুলুম করা হয় তখন তারা প্রতিশোধ গ্রহণ করে না (১))।

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে; আর মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: প্রতিশোধ গ্রহণ করে না]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২০)
11- أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ الْبَرْدَعِيُّ ثنا عبد الله بن محمد قال ثنا الحسن بن حماد الضبي ثنا حسين الْجُعْفِيُّ عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ قَالَ: ((كَانَ مِنْ دُعَائِهِمْ اللَّهُمَّ زَهِّدْنَا في الدنيا ووسع علينا منها، ولا تردها عَنَّا فَتُرَغِّبَنَا فِيهَا)) .

آخر المجلس سمعت وابني محمد مجلس يوم الجمعة بعد الصلاة في جامع المهدي لست بقين من ذي الحجة سنة اثنتي عشرة وأربع مائة.
১১- আবু আলী আল-হুসাইন ইবন সাফওয়ান আল-বারদাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, হাসান ইবন হাম্মাদ আদ-দাব্বি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, হুসাইন আল-জু'ফি ফুযাইল ইবন ইয়াদ থেকে এবং তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তাদের দুআ সমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল: হে আল্লাহ! আমাদের দুনিয়ার প্রতি বিরাগভাজন করুন এবং আমাদের জন্য তা প্রশস্ত করে দিন, আর আমাদের থেকে তা সরিয়ে নেবেন না, পাছে আমরা এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি।"

মজলিসের সমাপ্তি। আমি এবং আমার পুত্র মুহাম্মদ চারশত বারো হিজরি সনের যিলহজ মাসের ছয় দিন অবশিষ্ট থাকতে জুমার নামাজের পর জামে আল-মাহদীতে এই মজলিসটি শ্রবণ করেছি।
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২০)
12- حدثنا الشيخ أبو الحسين علي بن محمد بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ بَشْرِانَ الْمُعَدِّلُ إمْلَاءً قال ثنا أبو جعفر محمد بن عمرو بن البختري ثنا أحمد بن عبد الجبار ثنا مُعَاوِيَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: يَا ابْنَ أُخْتِي كَانَ أَبَوَاكَ (1) الزُّبَيْرَ وَأَبُو بَكْرٍ مِنَ الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَالرَّسُولِ مِنْ بَعْدِ مَا أَصَابَهُمُ الْقَرْحُ، قَالَ: لَمَّا انْصَرَفَ الْمُشْرِكُونَ مِنْ أُحُدٍ وَأَصَابَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ مَا أَصَابَهُمْ خَافَ أَنْ يَرْجِعُوا، فَقَالَ: مَنْ يَنْتَدِبُ لِهَؤُلَاءِ فِي آثَارِهِمْ حَتَّى يَعْلَمُوا أَنَّ بِنَا قُوَّةً؟ قَالَ: فَانْتُدِبَ أَبُو بَكْرٍ وَالزُّبَيْرُ فِي سبعين فخرجوا في آثارهم فسمعوا بهم فانصرفا بنعمةٍ مِنَ اللهِ وفضلٍ، قَالَ: لَمْ يَلْقُوا عَدُوًّا.

⦗ص: 221⦘

قَالَ الشَّيْخُ أَبُو الْفَتْحِ رضي الله عنه: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةُ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ ووقع إلينا عالياً.

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: أبوك]]
১২- শায়খ আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুয়াদ্দিল আমাদের নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আল-বাখতারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ বিন আব্দুল জাব্বার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) বলেছেন: হে আমার ভাগ্নে! তোমার পিতৃদ্বয় (১) যুবাইর এবং আবু বকর সেই সমস্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন, তাদের ওপর আঘাত আসার পরেও। তিনি বলেন: যখন মুশরিকরা উহুদ থেকে ফিরে গেল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের ওপর যা আপতিত হওয়ার ছিল তা হলো, তখন তিনি (রাসূল) আশঙ্কা করলেন যে তারা পুনরায় ফিরে আসতে পারে। ফলে তিনি বললেন: তাদের পশ্চাদ্ধাবনে কারা স্বেচ্ছায় প্রস্তুত আছে যাতে তারা বুঝতে পারে যে আমাদের মাঝে শক্তি অবশিষ্ট আছে? তিনি বলেন: তখন আবু বকর ও যুবাইর সত্তর জনের একটি দলের সাথে স্বেচ্ছায় প্রস্তুত হলেন এবং তাদের পিছু ধাওয়া করলেন। মুশরিকরা তাদের সম্পর্কে জানতে পারল, ফলে তারা (সাহাবীগণ) আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহ নিয়ে ফিরে এলেন। তিনি বলেন: তারা কোনো শত্রুর সম্মুখীন হননি।

⦗পৃষ্ঠা: ২২১⦘

শায়খ আবুল ফাতহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: হিশাম বিন উরওয়াহ এর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে আয়েশা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত এই হাদীসটি সহীহ। ইমাম বুখারী এটি মুহাম্মাদের সূত্রে আবু মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি আমাদের নিকট উচ্চমানের সনদসহ পৌঁছেছে।

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত, আর মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: তোমার পিতা]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২১)
13- أخبرنا أبو علي إسماعيل بن محمد الصفار ثنا أبو عمر أنيس الدلال ثنا داود بن رشيد قال: ثنا الرَّبِيعُ بْنُ بَدْرٍ عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ عَمَّارٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((كَفَى بِالْمَوْتِ وَاعِظًا، وَكَفَى بِالْيَقِينِ غِنًى، وَكَفَى بِالْعِبَادَةِ شُغْلاً)) .
১৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইসমাঈল ইবন মুহাম্মদ আস-সাফফার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর আনীস আদ-দাল্লাল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবন রাশিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রাবী ইবন বাদ্র, ইউনুস ইবন উবায়দ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আম্মার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন: "উপদেশদাতা হিসেবে মৃত্যুই যথেষ্ট, সচ্ছলতা হিসেবে নিশ্চিত বিশ্বাসই (ইয়াকীন) যথেষ্ট এবং কর্মব্যস্ততা হিসেবে ইবাদতই যথেষ্ট।"।
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২২)
14- أخبرنا أبو الحسن علي بن محمد بن أحمد المصري ثنا سليمان بن شعيب ثنا بشر بن بكر ثنا الأوزاعي ثنا إبراهيم بْنِ مُرَّةَ قَالَ: حدَّثَنِي الزُّهْرِيِّ قَالَ: حدَّثَنِي (1) أَبُو سَلَمَة قَالَ حدَّثَنِي أَبُو هُرَيرة قَالَ: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يكون بعدي خلفاء يعملون بما يعلمون ويفعلون ما يؤمرون، وسيكون بعدهم خلفاء يعملون بما لا يعلمون، ويفعلون بما لا يؤمرون فمن أنكر برئ، ومن أمسك يدا سلم، ولكن من رضي وتابع)) .

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: حدثنا]]
১৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মিসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে শুআইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে বকর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আওযায়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে মুররাহ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-যুহরি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (১) আবু সালামাহ, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আমার পরে এমন সব খলিফা আসবে যারা যা জানে সে অনুযায়ী আমল করবে এবং যা তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে তা পালন করবে। অচিরেই তাদের পরে এমন সব খলিফা আসবে যারা যা জানে না (বা ইলম অনুযায়ী নয়) সে অনুযায়ী আমল করবে এবং যা তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়নি তা করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি (তাদের অন্যায়ের) প্রতিবাদ করবে সে দায়মুক্ত হবে, আর যে ব্যক্তি (ফিতনা থেকে) হাত গুটিয়ে রাখবে সে নিরাপদ থাকবে, কিন্তু যে ব্যক্তি তাতে সন্তুষ্ট হবে এবং তাদের অনুসরণ করবে (সে ধ্বংস হবে)।))।

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে; আর মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২৩)
15- أخبرنا أبو عمر عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ السَّمَّاكِ قال: ثنا أَبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفِ بْنِ عبد السلام المروزي ثنا الصلت بن مسعود الجحدري ثنا المعلى بن راشد أبو اليمان القواس ثنا زياد بن ميمون أبو عمارة عن أنس بن مالك قال: بينما النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قاعد في ملإٍ من أصحابه إذا ضحك أو بكى فقال له اصحابه يا نبي الله ما الذي اضحكك أو ابكاك؟ قال: ((عجبت من رجلٍ يجيء يوم القيامة متعلقاً إلى ربه عز وجل، فيقول: يا رب خذ لي حقى من هذا، قال: فيقول الرب عز وجل: أعط أخاك هذا حقه فيقول يا رب والله ما لي حسنة.

قال: فيقول الرب زعم أخوك هذا انه ليس له حسنة. قال: فيقول: يا رب فخذ من سيئاتى فاحملها عليه. فيقول الرب ارفع طرفك فانظر. قال: فيرفع طرفه فينظر فيفتح له أبواب الجنان فيرى فيها قصور الدر (1) والياقوت والذهب، قال فيقول: يا رب لمن هذا؟ لأي ملك هذا؟ أو لأي نبي هذا؟ أو لأي مصطفى هذا؟ قال فيقول له الرب عز وجل: هذا لمن أعطى ثمنه. قال: ومن عنده ثمن هذا أو من يقدر عليه؟ قال: فيقول له الرب عز وجل: هو عندك وأنت تقدر عليه، فيقول: يا رب وما هو؟ قال: تعفو عن أخيك هذا. قال: فيقول: يا رب عفوت، يا رب عفوت، يا رب عفوت عنه ثلاثا. قال فيقول الرب جل وعز: فخذ بيده. قال: فياخذ بيده ثم ينطلقان جميعا حتى يدخلا الجنة)) .

⦗ص: 224⦘

قال أبو عبد الله [محمد بن خلف] (2) : سمعت هذا الحديث مع أحمد بن حنبل من هذا الشيخ.

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: قصور من الدر]]

(2) [[من المخطوط]]
১৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর উসমান ইবনে আহমদ আদ-দাক্কাক, যিনি ইবনুস সাম্মাক নামে পরিচিত। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনে আব্দুস সালাম আল-মারওয়াযী। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আস-সালত ইবনে মাসউদ আল-জাহদারী। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুআল্লা ইবনে রাশিদ আবু আল-ইয়ামান আল-কাওয়াস। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যিয়াদ ইবনে মাইমুন আবু আমারা, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একদল সাহাবীর সাথে বসে ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি হাসলেন অথবা কাঁদলেন। তখন তাঁর সাহাবীরা তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর নবী, কিসে আপনাকে হাসালো অথবা কাঁদালো? তিনি বললেন: "আমি এমন এক ব্যক্তির ব্যাপারে বিস্মিত হলাম, যে কিয়ামতের দিন তার মহান ও পরাক্রমশালী রবের সাথে লটকে থাকা অবস্থায় আসবে এবং বলবে: হে রব, এই ব্যক্তির নিকট থেকে আমার হক আদায় করে দিন। তিনি বলেন: তখন মহান ও পরাক্রমশালী রব বলবেন: তোমার এই ভাইকে তার হক দিয়ে দাও। তখন সে বলবে: হে রব, আল্লাহর শপথ, আমার কোনো নেকি নেই।

তিনি বলেন: তখন রব বলবেন: তোমার এই ভাই দাবি করছে যে তার কোনো নেকি নেই। সে বলবে: হে রব, তবে আমার গুনাহসমূহ থেকে নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দিন। তখন রব বলবেন: তোমার দৃষ্টি তোলো এবং দেখো। তিনি বলেন: তখন সে তার দৃষ্টি তুলবে এবং দেখবে, তার জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং সে সেখানে মুক্তা, ইয়াকুত ও স্বর্ণের প্রাসাদসমূহ দেখতে পাবে। তিনি বলেন: তখন সে বলবে: হে রব, এগুলো কার জন্য? কোন বাদশাহর জন্য? নাকি কোন নবীর জন্য? নাকি কোন মনোনীত বান্দার জন্য? তিনি বলেন: মহান ও পরাক্রমশালী রব তাকে বলবেন: এটি তার জন্য যে এর মূল্য প্রদান করবে। সে বলবে: এর মূল্য কার কাছে আছে বা কে এর সামর্থ্য রাখে? তিনি বলেন: মহান ও পরাক্রমশালী রব তাকে বলবেন: এটি তোমার কাছেই আছে এবং তুমি এর সামর্থ্য রাখো। সে বলবে: হে রব, সেটি কী? তিনি বলবেন: তোমার এই ভাইকে ক্ষমা করে দেওয়া। সে বলবে: হে রব, আমি ক্ষমা করলাম; হে রব, আমি ক্ষমা করলাম; হে রব, আমি তাকে ক্ষমা করলাম—এভাবে তিনবার বলবে। তিনি বলেন: তখন মহান ও পরাক্রমশালী রব বলবেন: তবে তার হাত ধরো। তিনি বলেন: তখন সে তার হাত ধরবে এবং তারা উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত একসাথে চলবে।"

⦗পৃষ্ঠা: ২২৪⦘

আবু আব্দুল্লাহ [মুহাম্মদ ইবনে খালাফ] বলেন: আমি এই হাদীসটি আহমাদ ইবনে হাম্বলের সাথে এই শাইখের নিকট থেকে শুনেছি।

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে; আর মুদ্রিত কপিতে আছে: মুক্তার প্রাসাদসমূহ]]

(২) [[পাণ্ডুলিপি থেকে]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২৪)
16- أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ إملاءً ثنا معاذ بن المثنى ثنا عبد الله بن مسلم القرشي ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: لَمَّا طعن عمر رضي الله عنه أمر بِالشُّورَى (1) ، دَخَلَتْ عَلَيْهِ ابْنَتُهُ حَفْصَةُ فَقَالَتْ: يَا أَبَتَاهُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ تَكَلَّمُوا. فَقَالَ: أَسْنِدُونِي فَلَمَّا أُسْنِدَ قَالَ: مَا عَسَى أَنْ يَقُولُوا فِي عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((يَا عَلِيُّ يَدَكُ فِي يَدِي تَدْخُلُ مَعِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ)) ، حَيْثُ أَدْخُلُ مَا عَسَى أَنْ يَقُولُوا فِي عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ؟ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((يَوْمَ يَمُوتُ عُثْمَانُ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَلَائِكَةُ السَّمَاءِ)) قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عُثْمَانَ خَاصَّةً؟ أَو النَّاسِ عَامَّةً؟ قَالَ: ((لِعُثْمَانَ خَاصَّةً)) ، قَالَ مَا عَسَى أَنْ يَقُولُوا فِي طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَيْلَةً وَقَدْ سقط رحله: ((من يسوي رحلي وهو في الجنة؟)) فبدر (2) طلحة وسواه لَهُ حَتَّى رَكِبَ فَقَالَ [لَهُ] (3) النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ((يا طلحة، الله يقرؤك السلام ويقول لك: أنا معك في أهوال القيامة أُنْجِيَكَ مِنْهَا)) ، مَا عَسَى يَقُولُون فِي الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ رَأَيْتُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَدْ نَامَ ⦗ص: 225⦘ فَجَلَسَ الزُّبَيْرُ عِنْدَ وجهه حتى استيقظ فقال له: ((أَبَا عَبْدِ اللَّهِ لَمْ تَزَلْ؟)) ، قَالَ: لَمْ أزل بأبي وأمي قال: ((هذا جبريل يقرؤك السَّلَامَ، وَيَقُولُ لَكَ أَنَا مَعَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حتى أذهب عن وجهك شرر جهنم)) . ما عسى يَقُولُون فِي سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ؟ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ بَدْرٍ وَقَدْ أَوْتَرَ قَوْسَهُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ مَرَّةً وَيَقُولُ له: ((ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي)) . مَا عَسَى يَقُولُون فِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ؟ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي مَنْزِلِ فَاطِمَةَ والحسن والحسين يبكيان جوعاً ويتضوران فَقَالَ [لَهُ] (4) النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ يَصِلُنَا بِشَيْءٍ؟)) ، فَطَلَعَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عوف بصحفة فيها حيسة، ورغيفين بينهما إهالة فقال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ((كَفَاكَ اللَّهُ أمر دنياك، فأما آخرتك فأنا لها ضامنٌ)) .

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: بأمر الشورى]]

(2) [[من المخطوط، وفي المطبوع: فنزل]]

(3) [[من المخطوط]]

(4) [[من المخطوط]]
১৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন সালমান আল-ফকিহ্ শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুয়ায বিন আল-মুসান্না, আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম আল-কুরাশি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম, মামার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আঘাতপ্রাপ্ত হলেন, তিনি শূরার (পরামর্শ সভা) নির্দেশ দিলেন। তখন তার কন্যা হাফসা তার কাছে প্রবেশ করলেন এবং বললেন: হে আব্বাজান, নিশ্চয়ই লোকেরা নানা কথা বলছে। তিনি বললেন: আমাকে ঠেস দিয়ে বসিয়ে দাও। যখন তাকে ঠেস দিয়ে বসানো হলো, তিনি বললেন: আলী বিন আবি তালিব সম্পর্কে তারা কী-ই বা বলতে পারে? আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: ((হে আলী, তোমার হাত আমার হাতের মধ্যে থাকবে, তুমি কিয়ামতের দিন আমার সাথে প্রবেশ করবে)), যেখানে আমি প্রবেশ করব। উসমান বিন আফফান সম্পর্কে তারা কী-ই বা বলতে পারে? আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: ((যেদিন উসমান মারা যাবে, আসমানের ফেরেশতারা তার জানাজা পড়বে))। তিনি (ইবনে উমর) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, এটি কি বিশেষভাবে উসমানের জন্য? নাকি সকল মানুষের জন্য? তিনি বললেন: ((বিশেষভাবে উসমানের জন্য))। তিনি বললেন: তালহা বিন উবাইদিল্লাহ সম্পর্কে তারা কী-ই বা বলতে পারে? আমি এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন তার সওয়ারির সরঞ্জাম পড়ে গিয়েছিল: ((কে আমার সওয়ারির সরঞ্জাম ঠিক করে দেবে আর সে জান্নাতি হবে?))। তখন তালহা দ্রুত এগিয়ে এলেন এবং তা ঠিক করে দিলেন যতক্ষণ না তিনি আরোহণ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: ((হে তালহা, আল্লাহ তোমাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং তোমাকে বলছেন: আমি কিয়ামতের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তোমার সাথে থাকব এবং তোমাকে তা থেকে মুক্তি দেব))। জুবাইর বিন আল-আওয়াম সম্পর্কে তারা কী-ই বা বলতে পারে? আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ঘুমানো অবস্থায় দেখেছি ⦗পৃষ্ঠা: ২২৫⦘ এমতাবস্থায় জুবাইর তার শিয়রে বসে ছিলেন যতক্ষণ না তিনি জেগে উঠলেন। তিনি তাকে বললেন: ((হে আবু আব্দুল্লাহ, তুমি কি সারাক্ষণ এখানেই ছিলে?))। তিনি বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমি সারাক্ষণ এখানেই ছিলাম। তিনি বললেন: ((এই জিবরাঈল তোমাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং তোমাকে বলছেন যে, কিয়ামতের দিন আমি তোমার সাথে থাকব যাতে তোমার চেহারা থেকে জাহান্নামের আগুনের স্ফুলিঙ্গ দূর করতে পারি))। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস সম্পর্কে তারা কী-ই বা বলতে পারে? আমি বদরের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখেছি যে তিনি তার ধনুকে চৌদ্দবার ছিল্লা চড়িয়েছিলেন এবং তাকে বলছিলেন: ((তীর নিক্ষেপ করো, তোমার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক))। আব্দুর রহমান বিন আউফ সম্পর্কে তারা কী-ই বা বলতে পারে? আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ফাতিমার ঘরে দেখেছি যে হাসান ও হুসাইন ক্ষুধায় কাঁদছিল এবং যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ((কে আমাদের কিছু দিয়ে সাহায্য করবে?))। এরপর আব্দুর রহমান বিন আউফ একটি বড় পাত্র নিয়ে হাজির হলেন যাতে হাইসাহ (খেজুর ও ঘি মিশ্রিত খাবার) ছিল এবং চর্বি মাখানো দুটি রুটি ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ((আল্লাহ তোমার দুনিয়ার বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হোন, আর তোমার আখিরাতের ব্যাপারে আমি জিম্মাদার রইলাম))।

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে, আর মুদ্রিত কপিতে আছে: শূরার নির্দেশে]]

(২) [[পাণ্ডুলিপি থেকে, আর মুদ্রিত কপিতে আছে: ফলে তিনি নামলেন]]

(৩) [[পাণ্ডুলিপি থেকে]]

(৪) [[পাণ্ডুলিপি থেকে]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২৫)
17- أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدُ حَمْزَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ العباس ثنا عبد الكريم بن الهيثم ثنا محمد بن عبد الله الخزاعي ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ ⦗ص: 226⦘ وَحَمَّادُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: ((لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَبَاهَى النَّاسُ بِالْمَسَاجِدِ)) .
১৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ হামযাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল কারীম বিন আল-হাইসাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-খুযাঈ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ২২৬⦘ এবং হাম্মাদ আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না মানুষ মসজিদগুলো নিয়ে একে অপরের কাছে গর্ব করবে))।
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২৬)
18- أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دعلج ثنا جعفر الحصيبي وأبو جعفر بن حيان التمار قالا: ثنا أبو كريب ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ عَنْ شَيْبَانَ (1) عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه: يا رسول الله أراك شِبْتَ. قَالَ: ((شَيَّبَتْنِي هودٌ، وَالْوَاقِعَةُ، وَالْمُرْسَلَاتُ، وَعَمَّ يتساءلون، وإذا الشمس كورت)) .

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: سنان]]
১৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ দা'লাজ বিন আহমাদ বিন দা'লাজ, আমাদের বলেছেন জা'ফার আল-হুসাইবি এবং আবু জা'ফার বিন হাইয়ান আত-তাম্মার, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের বলেছেন আবু কুরাইব, আমাদের বলেছেন মুআবিয়াহ বিন হিশাম, শায়বান (১) থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি দেখছি আপনার চুল পেকে গেছে। তিনি বললেন: "সূরা হুদ, আল-ওয়াকিয়াহ, আল-মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসাআলুন এবং ইযাশ শামসু কুউয়িরাত আমার চুল পাকিয়ে দিয়েছে (আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে)।"

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে; আর মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: সিনান]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২৭)
19- أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الزاهد رحمه الله نا أحمد بن عبيد الله نا عبيد الله بن موسى نا ابْنُ أَبِي لَيْلَى عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنه فِي قَوْلِهِ عز وجل: {يمحو الله ما يشاء ويثبت وعنده أم الكتاب} قال: [ينزل] تبارك وتعالى إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فِي شَهْرِ رمضان، فيدبر أمر السماء، فَيَمْحُوَ مَا يَشَاءُ غَيْرَ الشَّقَاءِ وَالسَّعَادَةِ وَالْمَوْتِ والحياة.
১৯- আবু উমর মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-জাহিদ (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের জানিয়েছেন, আহমদ ইবন উবাইদুল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন, উবাইদুল্লাহ ইবন মুসা আমাদের জানিয়েছেন, ইবন আবি লায়লা মিনহাল ইবন আমর থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: {আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা স্থির রাখেন, আর তাঁর কাছেই রয়েছে উম্মুল কিতাব (মূল কিতাব)}। তিনি বলেন: বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ রমজান মাসে দুনিয়ার আসমানে [নামেন], এরপর তিনি আসমানের বিষয়াবলী পরিচালনা করেন। অতঃপর তিনি যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন, তবে দুর্ভাগ্য, সৌভাগ্য, মৃত্যু এবং জীবন ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২৭)
20- أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الشافعي ثنا أحمد بن زكريا الجوهري ثنا محمد بن موسى بن بزيع الشيباني ثنا حماد بن خالد الخياط الكوفي ثنا أَبُو ⦗ص: 228⦘ مُعَاذٍ الصَّائِغُ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((اتَّقُوا فِرَاسَةَ الْمُؤْمِنِ فَإِنَّهُ يَنْظُرُ بِنُورِ اللَّهِ عز وجل) .
২০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে জাকারিয়া আল-জাওহারি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে মুসা ইবনে বাজি আল-শায়বানি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে খালিদ আল-খাইয়্যাত আল-কুফি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ⦗পৃষ্ঠা: ২২৮⦘ মুআজ আস-সায়িগ, তিনি হাসান হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা মুমিনের অন্তর্দৃষ্টিকে ভয় করো, কারণ সে মহান আল্লাহর নূরের সাহায্যে প্রত্যক্ষ করে।"
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২৮)
21- أخبرنا أبو الحسين إسحاق بن أحمد الكاذي ثنا عبد الله بن أحمد بن محمد بن حنبل ثنا أبي ثنا جرير عن قابوس عن أبيه عن جرير قال: قال لي سلمان: يا جرير بن عبد الله: تواضع لله عز وجل في الدنيا، فإنه من تواضع لله عز وجل في الدنيا يرفعه الله عز وجل يوم القيامة. تدري يا جرير ما ظلمة النار يوم القيامة؟ قال: هو ظلم الناس بعضهم بعضا في الدنيا.
২১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন ইসহাক বিন আহমদ আল-কাযী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বর্ণনা করেছেন জারীর থেকে, তিনি কাবুস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আর তিনি জারীর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: সালমান আমাকে বললেন: হে জারীর বিন আবদুল্লাহ, দুনিয়াতে মহান আল্লাহর জন্য বিনয়ী হও। কারণ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মহান আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাকে উচ্চমর্যাদা দান করবেন। হে জারীর, তুমি কি জান কিয়ামতের দিন জাহান্নামের অন্ধকার কী? তিনি বললেন: তা হলো দুনিয়াতে মানুষের একে অপরের প্রতি করা জুলুম।
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২৮)
22- أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الطِّيبِيُّ ثنا إبراهيم بن الحسين (1) الهمداني ثنا آدم بن أبي إياس ثنا ضمرة بن سعيد عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ فِي ⦗ص: 229⦘ قَوْلِهِ عز وجل: {يغفر لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ} قَالَ: يَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ الْعَظِيمَ، وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ عَلَى الصغير.

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: الحسن]]
২২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ ইবন ইসহাক আত-তিবি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবন আল-হুসাইন (১) আল-হামদানি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদম ইবন আবি ইয়াস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দামরা ইবন সাঈদ, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে বর্ণনা করেন ⦗পৃষ্ঠা: ২২৯⦘ মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন}। তিনি বলেন: তিনি যাকে ইচ্ছা বড় (পাপ) ক্ষমা করেন, এবং যাকে ইচ্ছা ছোট (পাপের) কারণে শাস্তি প্রদান করেন।

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে প্রাপ্ত, আর মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে: আল-হাসান]]
(খণ্ড: ১) মজলিসানি মিন আমালী আবিল হুসাইন বিন বিশরান (পৃষ্ঠা: ২২৯)
23- أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ الْبَرْدَعِيُّ ثنا عَبْدُ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ القُرَشِيُّ قَالَ: قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الحُسَيْنِ حَدَّثَنِي وَلِيدُ بْنُ صَالِحٍ قال حدثني أبو كثير اليماني لقيته بمكة سَنَةَ سَبْعِينَ قَالَ: قَالَ وَهْبُ بْنُ مُنَبِّهٍ: الْمُؤْمِنُ مُفَكِّرٌ مُذَكِّرٌ مُزْدَجِرٌ تَفَكَّرَ فَعَلَتْهُ السَّكِينَةُ، سَكَنَ فَتَوَاضَعَ، قَنَعَ فَلَمْ يَهْتَمَّ، رَفَضَ الشَّهَوَاتِ فَصَارَ حُرًّا، أَلْقَى الْحَسَدَ فَظَهَرَتْ لَهُ الْمَحَبَّةُ، زَهِدَ فِي كُلِّ فَانٍ فَاسْتَكْمَلَ الْعَقْلَ، رَغِبَ فِي كُلِّ بَاقٍ فَعَقَلَ الْمَعْرِفَةَ، فَقَلْبُهُ مُتَعَلِّقٌ بَهَمِّهِ وَهْمُهُ مُوَكَّلٌ بِمَعَادِهِ، لَا يَفْرَحُ إِذَا فَرِحَ أَهْلُ الدُّنْيَا لِفَرَحِهِمْ بَلْ حُزْنُهُ عَلَيْهِ سرمد فَهُوَ دَهْرُهُ مَحْزُونٌ، وَفَرَحَهُ إِذَا مَا نَامَتِ الْعُيُونُ، يَتْلُو كِتَابَ اللهِ يُرَدِّدُهُ عَلَى قَلْبِهِ فمرة يفرح قلبه، ومرة تهمل عيناه، يقطع عَنْهُ اللَّيْلَ بِالتِّلَاوَةِ، وَيَقْطَعُ عَنْهُ النَّهَارَ بِالْخُلْوَةِ، مفكراً في ذنوبه مستصغراً في أعماله، قال وهب: هذا (1) يُنَادَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي ذَلِكَ الْجَمْعِ الْعَظِيمِ عَلَى رُؤُوسِ الْخَلَائِقِ قُمْ أَيُّهَا الْكَرِيمُ فَادْخُلِ الجنة.

آخر المجلس

--------------------------------------------

(1) [[من المخطوط، وفي المطبوع: هذا]]
২৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান আল-বারদাঈ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-কুরাশী, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বলেছেন, আমার নিকট ওয়ালিদ বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার নিকট আবু কাসীর আল-ইয়ামানি বর্ণনা করেছেন—যার সাথে সত্তর হিজরি সনে মক্কায় আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল—তিনি বলেন: ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ বলেছেন: মুমিন হলো চিন্তাশীল, উপদেশ গ্রহণকারী এবং বিরত থাকাকারী। সে চিন্তা করে, ফলে তার ওপর প্রশান্তি ছেয়ে যায়; সে শান্ত হয়, ফলে সে বিনয়ী হয়; সে অল্পে তুষ্ট থাকে, ফলে সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয় না; সে প্রবৃত্তিকে বর্জন করে, ফলে সে স্বাধীন হয়; সে হিংসা পরিত্যাগ করে, ফলে তার জন্য ভালোবাসা প্রকাশ পায়; সে প্রতিটি নশ্বর জিনিসের প্রতি বিরাগভাজন হয়, ফলে সে তার বুদ্ধিকে পূর্ণতা দান করে; সে প্রতিটি অবিনশ্বর জিনিসের প্রতি আগ্রহী হয়, ফলে সে পরিচয় (মা'রিফাত) অনুধাবন করে। তার অন্তর তার মূল লক্ষ্যের সাথে নিবদ্ধ এবং তার চিন্তা তার পরকালের জন্য নিয়োজিত; দুনিয়াদাররা যখন আনন্দিত হয়, তখন সে তাদের আনন্দে আনন্দিত হয় না, বরং তার দুঃখ তার উপর চিরস্থায়ী হয়; ফলে সে আজীবন বিষণ্ণ থাকে। আর তার আনন্দ তখন হয় যখন চোখগুলো ঘুমিয়ে পড়ে; সে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং তা বারবার তার অন্তরে আবৃত্তি করে; ফলে কখনও তার অন্তর আনন্দিত হয়, আবার কখনও তার চোখ থেকে অশ্রু ঝরে। সে তিলাওয়াতের মাধ্যমে রাত অতিবাহিত করে এবং নির্জনতার মাধ্যমে দিন অতিবাহিত করে, নিজ পাপসমূহ নিয়ে চিন্তা করে এবং নিজ আমলসমূহকে অতি সামান্য মনে করে। ওয়াহাব বলেন: এই ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন সেই বিশাল সমাবেশে সকল সৃষ্টির সামনে ডেকে বলা হবে—হে সম্মানিত ব্যক্তি! দাঁড়ান এবং জান্নাতে প্রবেশ করুন।

মজলিসের সমাপ্তি

--------------------------------------------

(১) [[পাণ্ডুলিপি থেকে, এবং মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: এই]]