(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: -)
مسبوك الذهب في فضل العرب وشرف العلم على شرف النسب   (مرعي الكرمي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: مسبوك الذهب في فضل العرب وشرف العلم على شرف النسب

المؤلف: مرعي بن يوسف بن أبى بكر بن أحمد الكرمى المقدسي الحنبلى (ت 1033هـ)

قدم له، وحققه، وعلق عليه: الدكتور نجم عبد الرحمن خلف

الناشر: مكتبة الرشد للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية - الرياض - طريق الحجاز

الطبعة: الأولى، 1411 هـ - 1990 م

عدد الصفحات: 72

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাসবুক আল-জাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফিল ইলম আলা শারাফিন নাসাব   (মারঈ আল-কারমি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: মাসবুক আল-জাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফিল ইলম আলা শারাফিন নাসাব

লেখক: মারঈ বিন ইউসুফ বিন আবি বকর বিন আহমদ আল-কারমি আল-মাকদিসি আল-হানবালি (ওফাত: ১০৩৩ হিজরি)

উপস্থাপনা, সম্পাদনা ও টীকা: ডক্টর নাজম আবদুর রহমান খালাফ

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, সৌদি আরব রাজ্য - রিয়াদ - হিজাজ রোড

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌صور من المخطوطات التي اعتمدناها في تحقيق الكتاب

‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

وبه الإعانة قَالَ العبدُ الفقيرُ إلى الله تعالى: مرعي بن يوَسُف الحنْبليُّ المَقْدسي: الحمدُ لله الذي تفضَّلَ ووَهبَ، وأبعدَ مَنْ شاءَ وَقَرَّبَ، يخلقُ ما يشاءُ ويختار ما كانَ لَهُمُ الخِيرَة، وإنَّا لَنَعْجبُ، ولمْ ندرِ ما الحكمة والسبب.

والصلاةُ والسَلامُ على المبعوَثِ من خير بني آدم، وأشرفِ قبائل العَرَبِ، وعلى آله وأصحابهِ الحائزين أعْلَى الرتَبِ، والجائزين على بَحْرِ البلاغَةِ والأدبِ.

وبعد: فهذهِ مسائل تُستعذب، ودلائلً تُستغربُ، تتعلقُ بفضلِ العَرب وما حازُوهُ من شرفِ النَسب والحسَب، وَسَمَيْتُهُ (مَسْبُوك الذَّهبِ، في فَضْلِ العربِ، وشرف العلم على شرف الَنسب) فأَقوَل - وعلى الله اعتمد، ومن فضله استمد -:

 

‌‌مقدمة

اعلم أرشدك الله أن العُربَ - بالضمِّ وبالتحْرِيكِ - خِلاف العَجَمِ. والعُجمُ - بالضمِّ والتحريكِ - خِلافُ العرب من أيِّ جنسٍ كان، من تُرْك ورُومٍ وهنْدٍ وبربَرٍ وَزنْجً.

والعرَبُ العارِبةُ والعرَبُ العرْبَاء الخُلَّصُ منهم، وعَرَبٌ مُتعَربَةٌ ومُسْتَعْربة
কিতাবটির সম্পাদনায় আমরা যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি, তার কিছু চিত্র

‌‌বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দা মারঈ বিন ইউসুফ আল-হাম্বালি আল-মাকদিসি বলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অনুগ্রহ করেছেন ও দান করেছেন; যাকে ইচ্ছা দূর করেছেন এবং যাকে ইচ্ছা নিকটবর্তী করেছেন। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন, তাদের জন্য কোনো এখতিয়ার নেই। আমরা সত্যিই বিস্মিত হই, তবে এর পেছনে হিকমত বা কারণ কী তা জানি না।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আদম সন্তানদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আরব গোত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত প্রেরিত পুরুষের ওপর। আর তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর, যাঁরা সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাহিত্যের সমুদ্রে বিচরণকারী।

অতঃপর: এগুলো কিছু মনোমুগ্ধকর মাসআলা এবং বিস্ময়কর প্রমাণ, যা আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং বংশীয় ও আভিজাত্যের যে মর্যাদা তারা লাভ করেছে সে সম্পর্কিত। আমি গ্রন্থটির নাম দিয়েছি ‘মাসবুকুজ জাহাব, ফি ফাদলিল আরব, ওয়া শরাফিল ইলমি আলা শরাফিন নাসাব’ (আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং বংশীয় মর্যাদার ওপর ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের স্বর্ণখচিত বর্ণনা)। আমি বলছি—আর আমি আল্লাহর ওপরই নির্ভর করি এবং তাঁর অনুগ্রহই কামনা করি—:

 

‌‌ভূমিকা

জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, ‘আল-আরব’—আইন বর্ণে পেশ বা যবর যোগে—অনারবদের বিপরীত শব্দ। আর ‘আল-উজম’ বা ‘আল-আজাম’ হলো আরবদের বিপরীত, তারা যে জাতিরই হোক না কেন—তুর্কি, রোমান, হিন্দু, বারবার কিংবা কৃষ্ণাঙ্গ।

আর ‘আরবে আরিবা’ ও ‘আরবে আরবা’ বলতে তাদের মধ্যে খাঁটি আরবদের বোঝায়। আর ‘আরবে মুতাআররিবা’ ও ‘মুসতাআররিবা’ হলো যারা আরবে মিশে গিয়ে আরব হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
دُخَلاءُ بينهُمْ (ويقال العرب العاربة هم الذين تكلموا بلسان يعرب بن قحطان، وهو اللسان القديم، والعرب المستعربة هم الذين تكلموَا بلسان إسماعيل. وهي لغَة أهل الحجاز وما والاها من البادية) .

قالَ في القَامُوسِ: والعرَبُ سكان الأمْصَارِ. والأعْرَابُ منهم سكان البادِيَةِ. وكلام النَحاةِ يخالف كلام القاموَس، فإنهم قالوا: أبَى سيبويه أنْ يجعل الأعراب جمع عرب لأنْ الجمع أعمّ من المفرد، والعرب يعم الحاضرين والبادين. والأعراب خاص بالبادينْ قيل: بل الأعراب جمع عربي.

وقيل: اسم جنس جمعي لا واحد له من لفظه يفرق بينه وبين واحده بياء النسَبِ، مثل روم ورومي، وزنج وزنجي. وهذا أظهر.

وَاعْلَمْ أن العرَبَ موجودة مِنْ قَبل إسماعيل لإبراهيم، فإنَّ الله تعالى قد بعثَ إليهم قبل إسماعيل هُوداً وصَالِحاً عليهما السلام. وما قيل مِنْ أن إسماعيل أبوَ العربِ فلعل المراد أشرف العرب، أو غالب العرب.

ثم رأيت في حديث الترمذي وَحَسنَهُ عن النبي (قالَ: (سَامٌ أبو العَرَبِ، وَحَامٌ أبو الحبَشِ، وَيافِثٌ أبو الروم) .
তাদের মধ্যে প্রবিষ্ট বহিরাগত (বলা হয়ে থাকে যে, 'আল-আরব আল-আরিবা' হলো তারা যারা ইয়াবুব বিন কাহরানের ভাষায় কথা বলত, যা প্রাচীন ভাষা; আর 'আল-আরব আল-মুসতা'রিবা' হলো তারা যারা ইসমাইল আ.-এর ভাষায় কথা বলত। আর এটি হিজাজবাসী এবং তৎসংলগ্ন মরুভূমি অঞ্চলের অধিবাসীদের ভাষা)।

‘আল-কামুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: আরব হলো জনপদের অধিবাসীগণ। আর ‘আ’রাব’ হলো তাদের মধ্যে মরুভূমির অধিবাসীগণ। ব্যাকরণবিদগণের বক্তব্য ‘আল-কামুস’-এর বক্তব্যের পরিপন্থী, কেননা তারা বলেন: সিবওয়াই ‘আ’রাব’ শব্দটিকে ‘আরব’-এর বহুবচন হিসেবে গণ্য করতে অস্বীকার করেছেন; কারণ বহুবচন সাধারণত একবচনের তুলনায় অধিক ব্যাপক হওয়া উচিত, অথচ ‘আরব’ শব্দটি শহরবাসী ও মরুচারী উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। পক্ষান্তরে ‘আ’রাব’ শব্দটি কেবল মরুচারীদের জন্য নির্দিষ্ট। বলা হয়ে থাকে: বরং ‘আ’রাব’ হলো ‘আরবি’ শব্দের বহুবচন।

আরও বলা হয়েছে: এটি একটি সমষ্টিবাচক জাতিবাচক বিশেষ্য যার নিজস্ব শব্দমূল থেকে কোনো একবচন নেই; এর একবচন থেকে একে ‘ইয়ায়ে নিসবত’ দ্বারা পৃথক করা হয়, যেমন— রোম ও রোমি, এবং জিঞ্জ ও জিঞ্জি। আর এটাই অধিক স্পষ্ট।

জেনে রাখুন যে, ইব্রাহিম আ.-এর পুত্র ইসমাইল আ.-এর পূর্বেও আরব জাতির অস্তিত্ব ছিল, কেননা আল্লাহ তাআলা ইসমাইল আ.-এর পূর্বে তাদের নিকট হূদ ও সালিহ আ.-কে প্রেরণ করেছিলেন। ইসমাইল আ. আরবদের পিতা— এই উক্তির দ্বারা সম্ভবত আরবদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান অংশ অথবা আরবদের অধিকাংশকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

অতঃপর আমি তিরমিযির একটি হাদিস দেখেছি এবং তিনি একে হাসান (حسن) হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা নবী (সা.) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "সাম হলো আরবদের পিতা, হাম হলো হাবশীদের পিতা এবং ইয়াফিথ হলো রোমকদের পিতা।"
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
ورأيت صاحب (تاريخ الخميس) ذكر ما حاصله: أن أبناء نوح عليه السلام ثلاثة: سام وهوَ أبوَ العَرَب، وفَارِس، والروم.

ويافث وهو أبو التُرك، ويأجوَج ومأجوج: (والخَز) والصقالبة.

وحام وهوَ أبو السوَدان من الحبشة والزنج والقبط والأفرنج.

قال: ومن أولاد سام عراق وكرمان وخُراسان وفارس وروم، وباسْمِ كل واحدٍ سُمَّيَتْ المملكة التي حلّ بها.

قال: وأما ولد ارم بن سام بن نوح فإنهم احتقروا الناس بما أنعم الله عليهم من القوة والبَطْش واللسانِ العَرَبي، وكانوَا سبعة إخوة، وهم: عاد - وكانَ أعَظمَهُم قوَةِ وبطشاً -، وثموَد، وصحار، ووبار، وطسم، وجديس، وجاسِم، وهؤلاء كلهم تفرقوا بجزيرةِ العرب، وهم العربُ السالفة الأولى الذينَ انقرض غَالبُهُم.
আমি (তারিখুল খামিস) গ্রন্থের প্রণেতাকে এমন বিষয় উল্লেখ করতে দেখেছি যার সারমর্ম হলো: নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র ছিলেন তিনজন: সাম, যিনি আরব, পারস্য ও রোমীয়দের আদি পিতা।

এবং ইয়াফিস, যিনি তুর্কি, ইয়াজুজ ও মাজুজ, খায এবং স্লাভদের আদি পিতা।

এবং হাম, যিনি হাবশা, জাঞ্জ, কিবতী ও ফিরিঙ্গিদের ন্যায় কৃষ্ণাঙ্গদের আদি পিতা।

তিনি বলেন: সামের সন্তানদের মধ্যে ছিল ইরাক, কিরমান, খোরাসান, ফারিস ও রুম; এবং তাদের প্রত্যেকে যে জনপদে বসতি স্থাপন করেছিলেন, সেই রাজ্যের নামকরণ তাদের নামানুসারেই করা হয়েছে।

তিনি বলেন: আর সাম ইবনে নূহ-এর পুত্র ইরামের বংশধরদের কথা হলো—আল্লাহ তাআলা তাদের যে শক্তি, প্রতাপ ও আরবি ভাষার নিয়ামত দান করেছিলেন, তার কারণে তারা অন্য মানুষদের তুচ্ছজ্ঞান করত। তারা ছিল সাত ভাই: আদ—যিনি শক্তি ও প্রতাপে তাদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন—সামুদ, সুহার, উবার, তাসম, জাদিস ও জাসিম। তারা সবাই আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তারা ছিলেন প্রাচীন আদি আরব (العرب السالفة الأولى), যাদের অধিকাংশ জাতিই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩২)
قال: وقد فَهَمَ الله العربيةَ لِعمْلِيق، وََطَسْم، وعاد، وعبيل، وثمود، وجَدِيس.

وقال صاحب (تاريخ الملوك التبابعة وملوك حِمْيَر ": إنَ هُوداً عليه السلام بن عابر بن شالخ بن أرفخشد بن سام بن نوَح هو أبوَ العرب العاربة. وإنَّ ابنَهُ قحطان هوَ ولي عهده قد لزم طريقتَهُ، واقتدى بها وأن يعْرُبَ بنَ قحطان بن هود هوَ أول مَنْ ألْهمَهُ الله - تعالى - العربيةَ المحْضَةَ، وَقَالَ فَأبْلغَ، وَاخْتصَرَ فَأوْجزَ، وأشتقَّ اسم العربية من اسمه. وأنَّ يشجب بن يعرب قام مقامَهُ في النهي والأمر وحاز اليمن والحجاز، وأنَ سبأ بنَ يشجب كان ملكاً عظيماً، وهو أولُ مَنْ سبَى السَبي. غزا ملوَك بابل وفارس والروم والشام حتى أتى المغرب، ثمَّ رجع إلى اليمن فبنى السَّدَ الذي ذكرَهُ الله - تعالى - واسمه العَرِم، وقسم المُلْكَ بين ولديه حمير وكهلانِ.
তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা ইমলিক, তাসম, আদ, উবাইল, সামুদ ও জাদিসকে আরবি ভাষা অনুধাবনের সক্ষমতা দান করেছেন।

‘তারিখুল মুলুকুত তবাবিয়া ওয়া মুলুকু হিময়ার’ গ্রন্থের লেখক বলেন: নুহ-এর পুত্র সাম, তাঁর পুত্র আরফাখশাদ, তাঁর পুত্র শালিহ, তাঁর পুত্র আবের এবং আবেরের পুত্র হুদ (আলাইহিস সালাম) হলেন খাঁটি আরবদের (العرب العاربة) আদিপিতা। তাঁর পুত্র কাহতান ছিলেন তাঁর স্থলাভিষিক্ত উত্তরাধিকারী, যিনি তাঁর পিতার পথ অনুসরণ করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছিলেন। আর হুদ-এর পৌত্র এবং কাহতানের পুত্র ইয়ারুব হলেন প্রথম ব্যক্তি যাকে মহান আল্লাহ বিশুদ্ধ (المحضة) আরবি ভাষার ইলহাম দান করেছিলেন। তিনি অলংকারপূর্ণ ও সাবলীল ভাষায় কথা বলতেন এবং সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত অর্থবহ বর্ণনা দিতেন। মূলত তাঁর নাম থেকেই ‘আরবি’ নামের উৎপত্তি হয়েছে। ইয়ারুবের পুত্র ইয়াশজুব আদেশ ও নিষেধ প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং ইয়ামেন ও হিজাজের আধিপত্য লাভ করেন। ইয়াশজুবের পুত্র সাবা ছিলেন এক মহান সম্রাট এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি যুদ্ধবন্দীদের দাস হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ব্যাবিলন, পারস্য, রোম ও শামের রাজাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এমনকি মাগরিব পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। অতঃপর তিনি ইয়ামেনে ফিরে এসে সেই বাঁধটি (السد) নির্মাণ করেন যার কথা আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন এবং যার নাম হলো আল-আরিম (العرم)। এরপর তিনি তাঁর দুই পুত্র হিময়ার ও কাহলানের মধ্যে রাজত্ব ভাগ করে দেন।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَاعْلَم أنَ آدم عليه السلام هو أول مَنْ تكلَّم بالعربيةِ. بل بالألسنة كلِّها بجميع لُغاتِها، وعلَّمَها أولادَهُ، فَلما افترقوا في البلادِ وكثروا اقتصرَ كلُ قوَمٍ على لغة. وما روي: أولُ مَنْ تَكَلَّمَ بالعربيةِ إسماعيلُ، أو يعربُ بنُ قحطانِ فالمراد مِنْ ولدِ إبراهيمَ، أو من قبيلتهِ، وعلى هذا فالظاهرُ أنَّ لغَةَ العرب قديمةٌ، بل وسائر اللغات. وأنً مَنْ كانِ يتكلمُ بالعربيةِ من بني آدم قبل الطوَفان فهَم العرَبُ، أو أن العُرْبَ والعُجْمَ والرُّومَ والتُركَ والحبَشَ أوصاف حادثة بعد الطوَفانَّ، وأنَّهُ كانت للنَّاس أوصافٌ وأجناس أُخر قبل الطوفان نُسخَتْ ونُسيَتْ، فإن الطُوَفان عم أهْلَ الأرض جميعاً بحيثُ لم يبقَ على وجهِ الأرضِ أحدٌ.

ونوح عليه السلام هو الأبُ الثاني للبشر قال تعالى: (وَجَعَلنَا ذُريَّتَهُ هُمُ البَاقِين) ثم تناسلوا وكثروا وتكلموَا باللغات كلها إما بإلهام من الله - تعالى - كما مر، أو بتلقيها من نوح عليه السلام، وتلقاها أولاده عنه، هذا محل تردد، ولم أر في ذلك نقلاً. والأقرب تلقيها من نوح عليه السلام فإنَ اللغة لا يحيط بها
জেনে রাখুন যে, আদম (আলাইহিস সালাম) প্রথম ব্যক্তি যিনি আরবি ভাষায় কথা বলেছেন। বরং তিনি সকল জবান ও ভাষার সবকটি জানতেন এবং তা তাঁর সন্তানদের শিখিয়েছিলেন। অতঃপর যখন তাঁরা বিভিন্ন ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়লেন এবং তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন প্রতিটি জাতি একটি নির্দিষ্ট ভাষার ওপর সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। আর যা বর্ণিত (روي) হয়েছে যে: "সর্বপ্রথম আরবি ভাষায় কথা বলেছেন ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) অথবা ইয়ারুব বিন কাহতান," তার উদ্দেশ্য হলো ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানদের মধ্য থেকে অথবা তাঁর গোত্রের মধ্য থেকে। এই ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, আরবদের ভাষা অত্যন্ত প্রাচীন, বরং সকল ভাষাই প্রাচীন। আর প্লাবনের পূর্বে আদম সন্তানদের মধ্যে যারা আরবি ভাষায় কথা বলতেন তারাই ছিলেন আরব। অথবা আরব, আজম (অনারব), রোমান, তুর্কি ও হাবশি—এসব বিশেষত্ব প্লাবনের পর উদ্ভূত হয়েছে। এবং প্লাবনের আগে মানুষের জন্য অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ও জাতিসত্তা বিদ্যমান ছিল যা রহিত (نسخت) ও বিস্মৃত হয়ে গেছে; কেননা প্লাবন সমগ্র পৃথিবীবাসীকে পরিবেষ্টন করেছিল, যার ফলে ভূপৃষ্ঠে কেউ অবশিষ্ট ছিল না।

নূহ (আলাইহিস সালাম) হলেন মানবজাতির দ্বিতীয় পিতা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং আমি তাঁর বংশধরদেরই অবশিষ্ট রেখেছি।" অতঃপর তাঁদের বংশানুক্রমিক ধারা বিস্তৃত হয় ও তাঁরা সংখ্যায় বৃদ্ধি পান এবং সকল ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন—হয় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ইলহাম বা ঐশ্বরিক প্রেরণার মাধ্যমে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, অথবা নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট থেকে শেখার মাধ্যমে, যা তাঁর সন্তানরা তাঁর থেকে প্রাপ্ত হয়েছে। এই বিষয়টি সংশয়ের (تردد) অবকাশ রাখে এবং এ বিষয়ে আমি কোনো উদ্ধৃতি (نقل) দেখিনি। আর অধিকতর নিকটবর্তী (الأقرب) মত হলো এটি নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছে; কারণ ভাষা এমন বিষয় নয় যা (সহজেই) আয়ত্ত করা সম্ভব নয়...
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
إلا ملك أو نبي.

واعلم أنَ الأعراب في الأصل اسم لسكان بادية أرض العرب، فإن كل أمةٍ لها حاضرة وباديةٌ، فباديةُ العرب الأعراب، وبادية الروم الأرمن، وبادية الترك التركمان، وبادية الفرس الأكراد.

وأرض العرب هي: جزيرة العرب التي هي من بحر القلزم شرقي مصر إلى بحر البصرة، ومن أقصى حجر باليمن إلى أوائل الشام.

وقال أبو عبيد: جزيرة العرب من عدن إلى ريف العراق طولاً، ومن تهامة - بكسر التاء - إلى ما وراءها، إلى أطراف الشام. وسميت جزيرة لأن بحر فارس، وبحر الحبش، ودجلة والفُرات قد أحاطت بها.
ফেরেশতা অথবা নবী ব্যতীত।

জেনে রাখুন যে, 'আ'রাব' মূলত আরব ভূখণ্ডের মরুচারী অধিবাসীদের নাম। কেননা প্রতিটি জাতিরই নগরবাসী এবং মরুবাসী জনপদ রয়েছে। সুতরাং আরবের মরুবাসী হলো 'আ'রাব', রোমানদের মরুবাসী হলো 'আর্মেনীয়', তুর্কিদের মরুবাসী হলো 'তুর্কমেন' এবং পারস্যের মরুবাসী হলো 'কুর্দি'।

আরব ভূখণ্ড হলো: আরব উপদ্বীপ, যা মিশরের পূর্বদিকের কুলজুম সাগর থেকে বসরার সাগর পর্যন্ত এবং ইয়েমেনের সুদূর হজর থেকে সিরিয়ার প্রারম্ভিক সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত।

আবু উবাইদ বলেছেন: আরব উপদ্বীপের দৈর্ঘ্য এডেন থেকে ইরাকের গ্রামীণ জনপদ পর্যন্ত এবং (প্রস্থে) তিহামাহ —'তা' বর্ণে কাসরাহ প্রদানসহ— থেকে এর পশ্চাৎবর্তী অঞ্চল হয়ে সিরিয়ার প্রান্তসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। একে উপদ্বীপ নামকরণ করা হয়েছে কারণ পারস্য সাগর, আবিসিনীয় সাগর এবং দজলা ও ফোরাত নদী একে চারদিক থেকে পরিবেষ্টন করে আছে।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
إذا تقرَّر هذا فاعلم أنَّ جنس العرب أفضل من جنس العجم، كما أن جنس الرجل أفضل من جنس المرأة، وأمَّا باعتبار ألأفراد أو أشخاص، فقد يوجد من النَساء ما هو أفضل من ألوفٍ من الرجال كمريم وفاطمة وعائشة. وقد يوَجد من العجم ما هوَ أفضلُ من ألوفٍ من العرب كصهيب الرومي وسلمان الفارسي وبلال الحبشي وغيرهم فإنَ كل واحدٍ منهم أفضلُ من ألوَفٍ من العرب بل أفضلُ من ألوفٍ من قريشٍ وبني العبًاس والأشرافْ ويصحُ أن نقوَل: إنَ كل واحدٍ من مثل سلمان وبلال وصهيب لصحبة رسول الله - (- أفضلُ من جعفر الصادق وموسى الكاظم، وأفضلُ من أبي حنيفة ومالك والشافعي واحمد.

وهل يصح أن يُقال إن الواحد من الصحابة أفضلُ من جميع أمة محمد من غير الصحابة المشتملة على الأقطاب والأنجاب والأبدال والعلماء والشهداء والأولياء؟ الظاهر صحة ذلك وإن كان العق يأبى ذلك ويستبعده. لا سيما في الهيئة الاجتماعية من الفضل والقوة غاية المزية فليتامل.

والدليل على فضل العرب من وجهين، من المنقوَل والمعقوَل:
যখন এটি সুনিশ্চিত হলো, তখন জেনে রাখুন যে, আরব জাতি সামগ্রিকভাবে অনারব (عجم) জাতির চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যেমন পুরুষ জাতি নারী জাতির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তবে ব্যক্তিবিশেষ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিবেচনায় এমন নারী পাওয়া যেতে পারে যারা হাজারো পুরুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যেমন মরিয়ম, ফাতিমা ও আয়েশা। আবার এমন অনারব (عجم) পাওয়া যেতে পারে যারা হাজারো আরবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যেমন সুহাইব আর-রুমি, সালমান আল-ফারিসি, বিলাল আল-হাবাশি প্রমুখ; কেননা তাঁদের প্রত্যেকেই হাজার হাজার আরবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এমনকি হাজার হাজার কুরাইশ, বনু আব্বাস ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এটি বলাও সঠিক যে, সালমান, বিলাল ও সুহাইবের মতো ব্যক্তিবর্গের প্রত্যেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য (صحبة) লাভের কারণে জাফর আস-সাদিক ও মুসা আল-কাজিমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ি ও আহমাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

আর এটি বলা কি সঠিক হবে যে, একজন সাহাবি (صحابي) মুহাম্মাদি উম্মতের অবশিষ্ট সকল মানুষ যারা সাহাবি (صحابي) নন—যাদের মধ্যে কুতুব (أقطاب), নুজাউ (أنجاب), আবদাল (أبدال), আলেম (علماء), শহিদ (شهداء) এবং ওলিগণ (أولياء) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন—তাদের সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ? বাহ্যত এটিই সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়, যদিও বিবেক-বুদ্ধি (عقل) একে অস্বীকার করে এবং সুদূরপরাহত মনে করে। বিশেষ করে শ্রেষ্ঠত্ব ও শক্তির সামষ্টিক রূপের চরম বৈশিষ্ট্যের বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন।

আরবদের শ্রেষ্ঠত্বের দলিল দুই প্রকার: বর্ণিত (منقول) এবং যৌক্তিক (معقول)।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩৬)
امَا النَّقل: فقد روى الطَبرانيُّ والبيهقيُ وأبو نعيمٍ (والحاكم) عن ابن عمر - رض الله عنه - قال: قال رسوَلُ الله (: (إنَّ الله - تعالى - خلقَ الخلقَ، فاختارَ من الخلقِ بني آدم، واختار من بني آدم العرب، واختار من العرب مُضر، واختار من مُضر قُريشاً، واختار من قريشٍ بني هاشمٍ، وَاختارني من بني هاشم، فأنا خيارٌ من خيارٍ، فمن أحبً العرب فبحبي أحبهم، ومن أبغض العرب فببغضي أبغضهم) .

فهذا النَّقلُ صريح في فضل العرب على العجم، وصريح في فضل جنس بني آدم على (جنس) الملائكة، خلافاً للمُعتزلة ومن وافقهم.

وروى الترمذيُّ أيضاً وحسَنه من حديث العبًاس - رض الله عنه - أنِ النبيَّ - (- قال: (إنَ الله خلقَ الخلقَ فجعلني في خير فرقهم، ثمَّ خير القبائل
উদ্ধৃতির (النقل) ক্ষেত্রে বলা যায়: তাবারানি, বায়হাকি, আবু নুয়াইম এবং (হাকেম) ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টিজগত থেকে বনী আদমকে মনোনীত করেছেন; বনী আদমের মধ্য থেকে আরবদের মনোনীত করেছেন; আরবদের মধ্য থেকে মুযারকে মনোনীত করেছেন; মুযার থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন; কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং আমাকে বনী হাশিম থেকে মনোনীত করেছেন। ফলে আমি সর্বোত্তমদের মধ্য থেকে মনোনীত সর্বোত্তম। অতএব, যে ব্যক্তি আরবদের ভালোবাসল, সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসল, আর যে ব্যক্তি আরবদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করল, সে আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তাদের ঘৃণা করল)।

এই উদ্ধৃতিটি (النقل) অনারবদের ওপর আরবদের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে সুস্পষ্ট এবং ফেরেশতাদের প্রজাতির ওপর মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারেও সুস্পষ্ট; যা মুতাযিলা এবং তাদের মতাদর্শের অনুসারীদের পরিপন্থী।

তিরমিযিও এটি বর্ণনা করেছেন এবং আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসটিকে হাসান (حسن) হিসেবে অভিহিত করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম দলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অতঃপর গোত্রগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম গোত্রে...
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩৭)
فجعلني في خير قبيلةٍ، ثمَّ خير البيوت فجعلني في خير بيوَتهم، فأنا خيرهم نفساً، وخيرهم بيتاً) .

وروى الترمذي أيضاً وحسَّنه، قال: جاء العبَّاس إلى رسول الله - (- وكأنَّه سمع شيئاً فقام النبيُ - (- على المنبر فقال: (من أنا؟ فقالوا: أنت رسول الله.

فقال: (أنا محمدُ بن عبد الله بن عبد المطلب) . ثمَّ قال: (إنَ الله خلقَ الخلقَ فجعلني في خيرهم، ثمَّ جعلهم فرقتين فجعلني في خير فرقةٍ، ثمَ جعلهم قبائل فجعلني في خيرهم قبيلة، ثم جعلهم بيوتاً فجعلني في خيرهم بيتاً، وخيرهم نفساً) . وروى الإِمامُ أحمدُ هذا الحديث في (المسند) وفيه: فصعد النبيُّ - (- المنبر فقال: (من أنا؟ " فقالوا: أنت رسوَلُ الله.

فقال: (أنا محمدُ بنُ عبد الله بن عبد المُطَلب. إنَّ الله خلق الخلق فجعلني في خير
...অতঃপর তিনি আমাকে শ্রেষ্ঠ গোত্রে স্থান দিলেন, তারপর শ্রেষ্ঠ পরিবারসমূহের মধ্যে আমাকে শ্রেষ্ঠ পরিবারে অন্তর্ভুক্ত করলেন। সুতরাং আমি তাদের মধ্যে ব্যক্তিসত্তায় শ্রেষ্ঠ এবং পরিবারের দিক থেকেও শ্রেষ্ঠ।)

তিরমিজি এটিও বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান (حسن) আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন: আব্বাস (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আসলেন—মনে হচ্ছিল তিনি কিছু শুনেছেন। অতঃপর নবী (সা.) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: "আমি কে?" তারা উত্তর দিলেন: "আপনি আল্লাহর রাসূল।"

অতঃপর তিনি বললেন: "আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব।" তারপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম অংশে রেখেছেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে দুটি দলে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ দলে রেখেছেন। এরপর তিনি তাদেরকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ গোত্রে রেখেছেন। তারপর তিনি তাদেরকে বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পরিবারে ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিসত্তায় রেখেছেন।" ইমাম আহমদ এই হাদিসটি মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: নবী (সা.) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন: "আমি কে?" তারা বললেন: "আপনি আল্লাহর রাসূল।"

অতঃপর তিনি বললেন: "আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে শ্রেষ্ঠ...
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩৮)
خلقه، وجعلهم فرقتين فجعلني في خيرفرقة، وجعلهم قبائل فجعلني في خير قبيلةٍ، وجعلهم بيوتاً فجعلني في خير بيتٍ، فأنا خيركم بيتاً وخيركم نفساً) .

وروى الحَافِظُ ابنُ تَيْمِية من طرقٍ معروفةٍ إلى محمدِ بن إسحاق الصَاغَاني بإسنادِهِ إلى ابن عُمَرَ عن النبي - (- وفيه: (ثم خَلَقَ الخَلْقَ فاختار مِنَ الخلقِ بني آدم، واختارَ من بني آدمَ العربَ، واختار من العَرَب مُضر، واخْتَارَ مِنْ مُضر قُرَيْشاً، واخْتَارَ مِنْ قريشٍ بني هَاشِمٍ، واختارني مِنْ بني هاشِمٍ، فأنَا من خِيارٍ إلى خيار، فَمَنْ أحَبَّ العَرَبَ فبحبي أحَبَّهُمْ، وَمَنْ أبغضَ العَرَبَ فببغضي أبْغَضَهُمْ) .

ففي هذه الأحاديث كلَّها أخْبَرَ رسولُ الله - (- أنهُ تعالى جَعَلَ بني آدمَ فرقتينِ، والفرقتان العَرَبُ والعَجَمُ، ثمَّ جَعَلَ العَرَبَ قبائلَ. فكانت قريش أفضلَ قبائلِ العَرَب، ثَم جَعَلَ قُرَيْشاً بُيُوَتاً، فكانت بنوَ هَاشِمٍ افضل البُيًوتِ) .

فالأحاديث كلُّها صريحةٌ بتفضيلِ العَرَب على غيرهم.

وروى الإِمامُ أحمدُ ومسلمُ والتِّرمِذِي من حديث الأوْزَاعي، عن شَدَّادٍ، عن واثلة بن الأسْقَعِ - رض الله عنه - قَالَ: سمعتُ رسولَ الله - (- يقولُ: (إنَّ
সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাদের দুই দলে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম দলে রেখেছেন; এরপর তাদের গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম গোত্রে রেখেছেন; এরপর তাদের পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম পরিবারে রেখেছেন। সুতরাং আমি বংশমর্যাদায় তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং ব্যক্তিগত সত্তার দিক থেকেও তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ)।

হাফিজ ইবনে তাইমিয়্যাহ সুপরিচিত বিভিন্ন সূত্র (طرق)-এর মাধ্যমে মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানি থেকে তাঁর সনদে (إسناد) ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে নবী কারীম (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন—সেখানে বর্ণিত হয়েছে: (অতঃপর তিনি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলেন এবং সৃষ্টিজগত থেকে বনী আদমকে মনোনীত করলেন। বনী আদম থেকে আরবদের মনোনীত করলেন এবং আরবদের মধ্য থেকে মুদার গোত্রকে মনোনীত করলেন। মুদার থেকে কুরাইশকে মনোনীত করলেন এবং কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করলেন। আর আমাকে বনী হাশিম থেকে মনোনীত করলেন। সুতরাং আমি সর্বোত্তমের বংশজাত সর্বোত্তম। অতএব, যে ব্যক্তি আরবদের ভালোবাসল, সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসল; আর যে ব্যক্তি আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল, সে আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল)।

এই সকল হাদিসের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.) সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা বনী আদমকে দুই দলে বিভক্ত করেছেন—আরব ও অনারব। অতঃপর তিনি আরবদের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন। আর কুরাইশ ছিল আরবদের সর্বোত্তম গোত্র। এরপর তিনি কুরাইশদের বিভিন্ন বংশে বিভক্ত করেছেন, আর বনী হাশিম ছিল সর্বোত্তম বংশ (পরিবার)।

সুতরাং এই সকল হাদিস অন্যদের তুলনায় আরবদের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে সুস্পষ্ট (صريح)।

ইমাম আহমাদ, মুসলিম ও তিরমিযী আওযাঈ-এর হাদিস থেকে শাদ্দাদের সূত্রে ওয়াসিলা বিন আসকা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়...
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৩৯)
الله اصْطَفَى كِنَانَةَ من وَلَدِ إسماعيلَ، واصْطَفَى قُرَيْشاً من كِنَانَةَ، واصْطَفَى من قُرَيشٍ بني هَاشِم، واصْطَفَاني من بني هَاشِم) .

وفي لفظ آخر (إنَّ الله اصْطَفَى مِنْ وَلَدِ إبراهيمَ إسماعيل، واصْطَفَى مِنْ وَلَدِ إسماعيل بني كِنَانَةَ) إلى آخره.

قال الترمذي: هذا حَدِيث صَحِيحٌ.

وهذا الحديث يقتضي أنَ إسماعيل وَذريتَهُ صَفْوَةُِ وَلَدِ إبراهيمَ، وأنًهُمْ أفْضَلُ من وَلَدِ إسْحَاقَ، ومعلوَمً أنَّ ولد إسحاق الذين هم بنو إسرائيل افضلُ مِنَ العَجَمِ لما فيهم مِنَ النُّبوة والكِتَاب حَيْثُ ثَبَتَ فَضْلُ وَلَدِ إسماعيلَ على بني إسرائيل، فعلى غيرهم بطريقِ الأولى.

وقد احْتَجَ الشافعيّةُ في الكَفَاءةِ بهذا، فقالوا: إنَّ العَرَبَ طَبَقَات، فلا يكافئ غير قُرَشي مِنَ العَرَب قُرَشِيَّة، وليس القُرَشي كُفْءاً للهاشِمِيَّةِ، للحديث السابق: (إِنَّ الله اصْطَفَى) إلَى آخره.

قالوَا: وأولادُ فَاطِمَةَ عليها السلام لا يكافؤهم غيرهم من بقيةِ بني هَاشِمٍ، لأنَ مِنْ خَصَائِصِهِ عليه السلام أن أولادَ بناتِهِ يُنْسَبُنَ إليهِْ قالوا: وكذا باقي الأمم فلا يكوَنُ مَنْ ليسَ مِنْ بني إسرائيل كفءاً لإِسرائيلية.

ومذهبُ الإمام أحمد - رحمه الله تعالى -: أنَّ جميعَ العَرَب أكفاء لبعضِهِمْ، كما
(আল্লাহ ইসমাঈল-এর বংশধরদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহর মধ্য থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশদের মধ্য থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিমের মধ্য থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন)।

অন্য একটি শব্দবিন্যাসে রয়েছে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ ইব্রাহিমের বংশধরদের মধ্য থেকে ইসমাঈলকে মনোনীত করেছেন এবং ইসমাঈলের বংশধরদের মধ্য থেকে বনী কিনানাহকে মনোনীত করেছেন...) শেষ পর্যন্ত।

তিরমিযী বলেছেন: এই হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح)।

আর এই হাদিসটি এই দাবি রাখে যে, ইসমাঈল ও তাঁর বংশধরেরা ইব্রাহিমের সন্তানদের মধ্যে মনোনীত অংশ, এবং তাঁরা ইসহাকের বংশধরদের চেয়েও উত্তম। আর এটি সুবিদিত যে, ইসহাকের বংশধরেরা—যারা বনী ইসরাঈল—তারা অনারবদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; কারণ তাদের মধ্যে নবুওয়াত ও কিতাব বিদ্যমান ছিল। যেহেতু বনী ইসরাঈলের ওপর ইসমাঈলের বংশধরদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়েছে, সেহেতু অন্যদের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও জোরালোভাবে প্রমাণিত হয়।

শাফেঈগণ বিবাহের সমতার ক্ষেত্রে এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তারা বলেছেন: নিশ্চয়ই আরবরা বিভিন্ন স্তরের; সুতরাং কুরাইশ বংশীয় নয় এমন কোনো আরব ব্যক্তি কোনো কুরাইশ নারীর সমকক্ষ হতে পারে না, এবং কোনো কুরাইশ পুরুষ কোনো হাশেমী নারীর সমকক্ষ নয়; ওই পূর্বোক্ত হাদিসের কারণে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ মনোনীত করেছেন...) শেষ পর্যন্ত।

তারা আরও বলেছেন: ফাতেমা (আলাইহাস সালাম)-এর সন্তানদের সমকক্ষ বনী হাশিমের অন্য কেউ হতে পারবে না। কারণ তাঁর (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর) অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে, তাঁর কন্যাদের সন্তানরা তাঁর দিকেই সম্বন্ধিত হয়। তারা বলেছেন: অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ, সুতরাং যে ব্যক্তি বনী ইসরাঈলভুক্ত নয়, সে কোনো ইসরাঈলী নারীর সমকক্ষ হবে না।

আর ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব হলো: সকল আরব একে অপরের সমকক্ষ, যেমন...
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৪০)
أنَّ جَميعَ العجم أكْفَاء لبعضِهِمْ، واعْتُبِر النَسَبُ في الكَفَاءةِ لأن العَرَبَ تَفْتَخِرُ بِهِ.

واعْلمْ أن لأحَادِيثَ الوَارِدَةَ في فَضْلِ قُرَيْشٍ، ثُم في فَضْلِ بني هَاشِمٍ كثيرة جِداً. وليسَ هذا مَوْضِعُهَا.

وأما العَقْلُ الدَّالُ على فَضْلِ العَرَب: فقد ثبتَ بالتَوَاتُرِ المَحْسُوسِ المُشَاهَدِ أنَّ العَرَبَ أكْثَرُ النَاس لسَخَاءً، وَكَرَماً، وَشَجَاعَةً، ومروءةً، وَشَهَامةً، وبلاغةً، وفَصَاحَةً. وِلساَنُهم أَتُم الألْسِنَةِ بياناً، وَتَمْييزاً للمعاني جمعاً وفَرْقاً بجمعِ المعاني الكثيرةِِ في اللَّفْظِ القَليلِ، إذا شاء المتكلِّمُ الجَمْعِ. ويميّزُ بين كلِّ لفظين مشتبهين بلفظٍ آخر مختصرٍ، إلى غيرِ ذَلكَ من خَصَائِصِ اللَسانِ العربيِّ.

ومَنْ كان كذلكَ فالعقلُ قَاضٍ بفضلهِ قَطْعَاً على مَنْ ليسَ كذلكَ، ولهم مكارمُ أخْلَاقٍ مَحموَدة لا تَنْحَصِرُ، غريزةٌِ في أنفسهم، وَسَجِيَّة لهم جُبلُوا عليها، لكنْ كانوا قبلَ الإِسلامِ طَبِيعةً قَابِلَةً للخيرِ ليسَ عندَهم عِلْمٌ مُنَزَّلٌ مِنَ السَّماءِ، وَلَا هُمْ أيضاً
নিশ্চয়ই সকল অনারব একে অপরের সমকক্ষ (أكفاء), এবং বিবাহের সমকক্ষতার (الكفاءة) ক্ষেত্রে বংশমর্যাদাকে বিবেচনা করা হয়েছে কারণ আরবরা এটি নিয়ে গর্ব করে।

জেনে রাখুন যে, কুরাইশদের ফযিলত এবং এরপর বনু হাশিমের ফযিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ সংখ্যায় অত্যন্ত অধিক। আর এটি সেসব আলোচনার উপযুক্ত স্থান নয়।

আর আরবদের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর যে যৌক্তিক প্রমাণ রয়েছে: তা ইন্দ্রিয়লব্ধ ও প্রত্যক্ষ গণবর্ণনার (التواتر) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে যে, আরবরা দানশীলতা, উদারতা, সাহসিকতা, পৌরুষ, মহত্ত্ব, অলঙ্কারশাস্ত্র ও প্রাঞ্জলতায় মানুষের মধ্যে অগ্রগণ্য। তাদের ভাষা ভাবপ্রকাশে এবং অল্প কথায় অনেক অর্থ প্রকাশ করার মাধ্যমে অর্থের পার্থক্য নিরূপণে সব ভাষার চেয়ে পরিপূর্ণ, যখন বক্তা তা সংক্ষেপ করতে চান। এটি অন্য একটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে দুটি সদৃশ (مشتبه) শব্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে; এছাড়াও আরবি ভাষার আরও অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

আর যারা এরূপ গুণের অধিকারী, তাদের ক্ষেত্রে বিবেক অকাট্যভাবে (قطعاً) তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের ফয়সালা দেয় যারা এরূপ নয়। তাদের মধ্যে অগণিত প্রশংসনীয় চারিত্রিক গুণাবলি রয়েছে, যা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি এবং স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে ইসলামের পূর্বে তারা কল্যাণ গ্রহণের উপযোগী এক প্রকৃতির অধিকারী ছিল মাত্র, যদিও তাদের কাছে আসমান থেকে অবতীর্ণ কোনো জ্ঞান ছিল না এবং তারা...
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৪১)
مُشْتَغلُونَّ ببعضِ العُلُوَم العَقْلية المَحْضَة كَالطِّبِّ أو الحِسَاب أو المَنْطِقِ ونحوه. إنَما علمُهُمْ ما سَمَحَتْ بهِ قًرَائِحُهُمْ مِنَ الشِّعْرِ والخُطَبَ أو ماَ حَفِظُوه مِنْ أنْسَابهِمْ وأيَّامِهم، أو ما احْتَاجُوَا إليه في دنياهم مِنَ الأنواء والنُجوَم، أو الحُروب، فلما بعثَ الله محمداً - (- بالهُدَى الذي ما جَعَلَ الله. في الأرضَِ مِثْلَهُ تَلَقُّوَهُ عَنْهُ بعدَ مُجَاهَدَتِهِ الشديدةِ لهم، ومعالَجتهم على نقلهم عن تلكَ العاداتِ الجَاهِليَّةِ التي كانت قد أحالتْ قلوَبَهُمْ عن فِطْرَتِهَا، فلمَّا تلقَوا عنه ذلكَ الهُدَى زَالَتْ تلكَ الرُّيُوَن عن قلوَبهِمْ واسْتَنَارَتْ بهدي الله فَأخذوا هذا الهدي العظيم بتلكَ الفِطْرةِ الجيدةِ فاجتمِعََ لهم الكَمَال التَامُ بالقوة المَخْلُوَقَةِ فيهم، والهُدَى الذي أنزلَهُ عليهم، ثُمَّ خصَّ قُريشاً على سائرِ العَرَبِ بما جعل فيهم خلافَةَ النُبُوةِ وغير ذلكَ من الخَصَائِصِ، ثُمَّ خَص بني هَاشِمٍ بتحريمِ الصَّدَقَةِ، واستحقاقِ قِسْطٍ مِنَ الفَيءِ إلى غيرِ ذلكَ من الخَصَائِصِ، فأعطى الله - سبحانه - كل درجة من الفَضْلِ بحسبِهَا والله عليمٌ حكيمٌ (الله يَصْطَفِي مِنَ الملائِكَةِ رُسُلاً وَمِنَ النَّاسِ) (الله أعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالاته) .

واعلم أنًهُ ليسَ فَضْلُ العَرَبِ ثمَّ قُرَيْشٍ ثُم بني هَاشِمٍ بمجردِ كَوَْنِ النبي - (- مِنْهُمْ كما يُتَوهمُ وإنْ كانَ هوَ عليه السلام قد زَادَهُمْ فضلاً وشرفاً بلا
(তারা) চিকিৎসা বিজ্ঞান, গণিত বা যুক্তিবিদ্যার মতো কিছু বিশুদ্ধ বুদ্ধিভিত্তিক জ্ঞানে ব্যাপৃত ছিল। তাদের জ্ঞান ছিল কেবল কবিতা ও বাগ্মিতার ক্ষেত্রে যা তাদের প্রতিভা অনুমোদন করত, অথবা তাদের বংশপরম্পরা ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলি যা তারা মুখস্থ রাখত, অথবা তাদের পার্থিব জীবনে নক্ষত্রপুঞ্জ, নক্ষত্রবিদ্যা কিংবা যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্য যা প্রয়োজন হতো। অতঃপর আল্লাহ যখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন হিদায়াত সহ প্রেরণ করলেন যার সমতুল্য আল্লাহ পৃথিবীতে আর কিছুই সৃষ্টি করেননি, তখন তারা তাঁর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করল। এটি সম্ভব হয়েছিল তাদের ওপর তাঁর কঠোর সাধনা এবং সেই জাহিলি অভ্যাসসমূহ থেকে তাদের বিবর্তিত করার প্রচেষ্টার পর, যা তাদের অন্তরকে স্বভাবজাত প্রবৃত্তি থেকে বিচ্যুত করেছিল। অতঃপর যখন তারা তাঁর কাছ থেকে সেই হিদায়াত গ্রহণ করল, তখন তাদের অন্তর থেকে সেই কলুষতা দূরীভূত হলো এবং আল্লাহর হিদায়াতের নূরে তা উদ্ভাসিত হলো। ফলে তারা এই মহান হিদায়াতকে তাদের সেই উৎকৃষ্ট স্বভাবজাত যোগ্যতার মাধ্যমে গ্রহণ করল এবং তাদের সহজাত শক্তি ও তাদের ওপর অবতীর্ণ হিদায়াতের এক পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় ঘটল। অতঃপর তিনি অন্য সকল আরবের ওপর কুরাইশদেরকে নবুওয়াতের খিলাফত এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য প্রদানের মাধ্যমে বিশেষিত করেন। এরপর তিনি বনী হাশিমকে সদকা গ্রহণ হারাম করা এবং 'ফায়' (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) থেকে নির্দিষ্ট অংশ লাভের অধিকারসহ অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বিশেষভাবে সম্মানিত করেন। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা প্রত্যেক স্তরের শ্রেষ্ঠত্বকে তার যথোপযুক্ত পরিমাণে দান করেছেন; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। "আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন।" "আল্লাহই ভালো জানেন তিনি কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন।"

আর জেনে রাখুন যে, আরব জাতি, অতঃপর কুরাইশ এবং এরপর বনী হাশিমের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বংশজাত হওয়ার কারণে নয়—যেমনটি ভুলবশত ধারণা করা হয়—যদিও তিনি (আলাইহিস সালাম) তাদের মর্যাদা ও সম্মান নিঃসন্দেহে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৪২)
ريب - بل هُمْ في أنْفُسِهِمْ أفْضَلُ وَأشرفُ وأكْمَلُ. وبذلكَ ثَبَتَ لَه عليه السلام أنَّهُ أفضل نَفْساً وَنَسَباً، وإلا لَلَزمَ الدَّوْرُ وهو بَاطِلٌ.

وبالجملةِ فالذي عليه أهلُ السُنًةِ والجماعةِ اعتقاد أنَّ جنسَ العَرَب أفضلُ من جنس العجم عبرانيهم، وسريانيهم، ورومهم، وفرسهم، وغيرهم، وأنَّ قريشاً أفضلُ العرب، وأن بني هاشم أفضلُ قريشٍ، وأن رسوَلَ الله - (- أفضلُ بني هاشم. فهوَ أَفضلُ الخلق أجمعين، وأشرفهم نسباً وحسباً، وعلى ذلك دَرَجَ السَلَفُ والخَلفُ.

قال أبوَ محمد حَرْبُ بنُ إسماعيلَ الكَرْمَانيُّ صاحب الإِمام أحمد في وصفه للسُّنَّةِ، التي قال فيها: هذا مذهبُ أئمةِ العلَمِ، وأصحاب الأثَرِ، وأهل السُنَةِ المعروفين بها، المفتدى بهم فيها.

قالَ: وأدركتُ مَنْ أدركتُ مِنْ أهلِ العِراقِ والحِجازِ والشام وغيرهم عليها، وأن
সন্দেহাতীতভাবে—বরং তারা স্বয়ং শ্রেষ্ঠ, অধিক সম্মানিত এবং অধিক পরিপূর্ণ। এর মাধ্যমেই তাঁর (আলাইহিস সালাম) জন্য সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি সত্তাগতভাবে এবং বংশমর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ; অন্যথায় তা চক্রকতায় পর্যবসিত হবে, যা বাতিল (باطل)।

সারকথা হলো, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের (أهل السنة والجماعة) আকিদা বা বিশ্বাস এই যে, সামগ্রিকভাবে আরব জাতি অনারবদের—অর্থাৎ তাদের হিব্রু, সিরীয়, রোমান, পারস্য এবং অন্যদের—চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কুরাইশরা আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, বনু হাশিম কুরাইশদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বনু হাশিমের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তিনি সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম এবং বংশ ও মর্যাদার দিক থেকে সর্বাধিক সম্মানিত; আর সালাফ (السلف) তথা পূর্ববর্তী এবং খালাফ (الخلف) তথা পরবর্তীগণ এ বিষয়ের ওপরই অটল ছিলেন।

ইমাম আহমাদের সহচর আবু মুহাম্মদ হারব বিন ইসমাইল আল-কিরমানি সুন্নাহর (السنة) বর্ণনায় বলেছেন—যেটি সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেছেন: এটিই ইলমের ইমামগণ, আসহাবুল আসার (أصحاب الأثر) এবং সুন্নাহর অনুসারী হিসেবে সুপরিচিত আহলে সুন্নাতের (أهل السنة) মাযহাব (مذهب), যাদেরকে এ ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

তিনি বলেন: আমি ইরাক, হিজাজ, সিরিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলের যাদের সান্নিধ্য পেয়েছি, তাঁদেরকেও এ মতাদর্শের ওপরই পেয়েছি যে...
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৪৩)
مَنْ خالفها أو طعنَ فيها أو عابَ قائلها فهو مبتدع خارج عن الجماعة زائل عن منهج السنة وسبيل الحقْ - وساق كلاماً طويلا إلى أنَّ قال -: وَنَعْرِفُ للعربِ حَقها وفضلها وسابقتها، ونُحِبُّهم لحديث رسوَل الله - (- (حُبُّ العَرَب إيمان، وبغْضُهُم نِفَاق) ولا نقوَل بقولِ الشُّعُوبية وأرادَ الموالي الذينَ لا يُحبونَّ العَرَبَ ولا يقرُّونَّ بفضلِهِمْ - فإن قوَلهُمْ بِدْعَةٌ وخلافٌ.

وقد وَرَدَتْ أحاديثُ تؤيد مذهبَ أهل السُنَةِ والجماعةِ: رَوى الحاكمُ عن انس عن النبيِّ - (- (حبُّ العَرَب إيمان وبُغْضُهُمْ كفر، فَمَنْ أحب العَرَبَ فقد أحبَّني، ومَنْ أبْغَضَ العَرَبَ فقد أبْغضَني) .

وروى الطَبَراَنيُّ عن أنس رضي الله عنه عن النبي - (- (حب قُريشٍ
যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করে অথবা এতে আক্রমণ করে অথবা এর প্রবক্তাকে নিন্দা করে, সে একজন উদ্ভাবক (مبتدع) যে জামাআত (الجماعة) থেকে বহিষ্কৃত এবং সুন্নাহর (السنة) আদর্শ ও সত্য পথ থেকে বিচ্যুত—তিনি দীর্ঘ আলোচনা করলেন যতক্ষণ না বললেন—: আর আমরা আরবদের অধিকার, মর্যাদা ও তাদের অগ্রবর্তিতা স্বীকার করি এবং আমরা আল্লাহর রাসূলের হাদিসের কারণে তাদের ভালোবাসি—'আরবদের ভালোবাসা হলো ঈমান (إيمان) এবং তাদের প্রতি ঘৃণা হলো নিফাক (نفاق)' এবং আমরা শুউবিয়্যাহদের (الشعوبية) মতবাদ গ্রহণ করি না—আর তিনি এর দ্বারা সেই সব মুক্তদাসদের (الموالي) উদ্দেশ্য করেছেন যারা আরবদের ভালোবাসে না এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে না—কেননা তাদের বক্তব্য হলো বিদআত (بدعة) ও সত্যের পরিপন্থী।

এবং এমন সব হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের (أهل السنة والجماعة) মাযহাবকে (مذهب) সমর্থন করে: আল-হাকিম আনাস থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: ‘আরবদের ভালোবাসা হলো ঈমান (إيمان) এবং তাদের প্রতি ঘৃণা হলো কুফর (كفر)। সুতরাং যে ব্যক্তি আরবদের ভালোবাসল সে মূলত আমাকেই ভালোবাসল, আর যে ব্যক্তি আরবদের ঘৃণা করল সে মূলত আমাকেই ঘৃণা করল’।

এবং তাবারানি আনাস (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: ‘কুরাইশদের প্রতি ভালোবাসা...
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৪৪)
إيمان وبغْضُهُمْ كفر، وحبُّ العَرَب إيمان وبُغْضُهُم كُفْر، فمن أحبَّ العربَ فقد أحبَّني، ومَنْ أبغَضَ العَرَبَ فقد أبْغَضنِي) .

وروى ابنُ عساكِرِ والسِّلَفِيُ عن جابرِ بنِ عبد الله رضي الله عنه قال: قَالَ رسوَلُ الله - (-: حُبُّ أبي بكر وعمرَ مِنَ الإِيمانَّ وبغَضهما كُفْرٌ، وحُبُ الأنصارِ مِنَ الإِيمانَّ وبُغْضُهُمْ كُفْر، وحبُ العَرَبِ منَ الإِيمانِ وبُغْضُهمْ كُفْرٌ) .

وروى التِّرمذيُّ وغيرُهُ عن سلمانَّ - رض الله عنه - قالَ: قالَ رسولُ الله - (- (يا سلمانُ لا تُبْغِضْني فَتُفَارِقَ دِينَكَ) .

قلتُ يا رسوَل الله، كيف أبْغِضُكَ وبكَ هَدَاني الله؟ قالَ: (تُبْغِضُ العَرَبَ فَتُبْغِضُنِي) .

قال الترمذيُ: هذا حديث حَسَن غَرِيبٌ.

فَجَعَلَ النبي - (- بغضَ العرب سبباً لفراقِ الدِّينِ، وجعلَ بغضَهم مقتضياً لبغضِهِ عليه السلام ولعلَّهُ إنَماَ خَاطَبَ سلمانَ بهذا وهوَ سابق الفُرْسِ، وذوِ الفضائل المأثوَرةِ تنبيهاً لغيره مِنْ سائرِ الفُرْسِ، لما علمهُ الله - تعالى - مِنْ أنَّ
...ইমান এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফর (كفر)। আর আরবদের ভালোবাসা হলো ইমান এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফর (كفر)। সুতরাং যে ব্যক্তি আরবদের ভালোবাসল, সে মূলত আমাকেই ভালোবাসল; আর যে ব্যক্তি আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল, সে মূলত আমার প্রতিই বিদ্বেষ পোষণ করল।

ইবনে আসাকির ও সিলাফি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আবু বকর ও উমরের প্রতি ভালোবাসা ইমানের অংশ এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফর (كفر)। আনসারদের প্রতি ভালোবাসা ইমানের অংশ এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফর (كفر)। আর আরবদের প্রতি ভালোবাসা ইমানের অংশ এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফর (كفر)।"

তিরমিজি ও অন্যান্যরা সালমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে সালমান! তুমি আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, অন্যথায় তুমি তোমার দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে।"

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কীভাবে আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে পারি, অথচ আপনার মাধ্যমেই আল্লাহ আমাকে হেদায়েত দান করেছেন? তিনি বললেন: "তুমি আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, ফলে তা আমার প্রতিই বিদ্বেষ পোষণ করা হবে।"

ইমাম তিরমিজি বলেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) গরিব (غريب)।

ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করাকে দ্বীন ত্যাগের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখাকে তাঁর (আলাইহিস সালাম) প্রতি বিদ্বেষের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সম্ভবত তিনি সালমানকে—যিনি পারস্যবাসীদের মধ্যে (ইসলাম গ্রহণে) অগ্রগামী এবং বহু বর্ণিত মর্যাদার অধিকারী—এই সম্বোধনটি করেছেন অন্য সকল পারস্যবাসীকে সতর্ক করার জন্য; যেহেতু মহান আল্লাহ জানেন যে...
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الشيطانَّ قد يدعو بعضَ النفوس إلى شيءٍ من ذلكَ.

وهذا دليل على أنَّ بغضَ جنس العرب ومعاداتهم كُفْر، أو سبب للكفرِ، ومقتضاهُ أنًهم أفضلُ من غيرهم، وأنّ محبتَهم سببُ قوةِ الإِيمانِ.

وعن أبي هريرةِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رسوَلُ الله - (-: (أحِبُّوَا العَرَبَ وبقاءهم، فإنً بقاءهم نور في الإِسلام، وإنَّ فناءهم فَنَاءٌ في الإِسلام) . رواه أبو الشيخ ابنُ حبَّان.

وعن جابرٍ - رض الله عنه - أن النبي - (- (قَالَ: إذا ذلت العرب ذَل الإِسلام) . حديثٌ صحيح.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قَالَ: قَال النبي - (- (النَّاسُ تَبَعٌ لقريشٍ في هذا الشَّأن، مُسْلِمهُمْ تَبَع لمُسْلِمِهِمْ، وكَافِرُهم تَبَعٌ لكافِرِهِمْ، والنَّاسُ مَعَادِن، خِيارُهمْ في الجاهلية خِيارهُمْ في الإِسلامِ إذا فقهوَا) . حديث صحيحٌ متفق عليه.
শয়তান হয়তো কোনো কোনো আত্মাকে এ জাতীয় কোনো বিষয়ের দিকে প্ররোচিত করতে পারে।

এটি একথার প্রমাণ যে, আরব জাতির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা এবং তাদের সাথে শত্রুতা করা কুফর (كفر) অথবা কুফরের কারণ। এর দাবি হলো এই যে, তারা অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের শক্তির কারণ।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমরা আরবদের ভালোবাসো এবং তাদের অস্তিত্ব কামনা করো; কেননা তাদের স্থায়িত্ব ইসলামের নূর, আর তাদের বিনাশ ইসলামেরই বিনাশ।" এটি বর্ণনা করেছেন আবুশ শাইখ ইবনে হিব্বান।

জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী ﷺ বলেছেন: "যখন আরবরা লাঞ্ছিত হবে, ইসলামও লাঞ্ছিত হবে।" এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী ﷺ বলেছেন: "মানুষ এই (নেতৃত্বের) বিষয়ে কুরাইশদের অনুসারী; তাদের মুসলিমরা কুরাইশদের মুসলিমদের অনুসারী এবং তাদের কাফিররা কুরাইশদের কাফিরদের অনুসারী। আর মানুষ হলো খনির মতো; তাদের মধ্যে যারা জাহিলিয়াত যুগে শ্রেষ্ঠ ছিল, ইসলামেও তারা শ্রেষ্ঠ যদি তারা দ্বীনি প্রজ্ঞা (فقه) অর্জন করে।" এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস যা মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وقال - (-: (الأنْصَارُ لا يحبهم إلا مؤمن، ولا يبغضُهُمْ إلَا منافق. فَمَنْ أحبهُمْ أحبهُ الله، وَمَنْ أبْغَضهمْ أبْغَضَهُ الله) . حديثَ صحيح. أخرجَهُ الأئِمةُ الستةُ) .

قالَ شيخُ الإِسلامِ ابنُ تَيْميَّة: وقد رُوِيَتْ في ذلكَ أحاديثُ، النكرةُ ظاهرة عليها كحديثِ التَرْمِذِيِّ من حديث حُصين بنِ عمرَ بإسنادهِ عن عثمان بن عَفَّانِ - رض الله عنه - قالَ: قَالَ رسولُ الله - (-: (مَنْ غش العَرَبَ لم يدخل في شفاعتي، ولم تَنَلْهُ مَوَدَّتي) .

قالَ الترْمِذيُ: هذا حديث حَسَن غَرِيبٌ، لا نعرفُه إلَا من حديث حُصين بن عمر.

قالَ ابن تيمية: حصين هذا الذي رواه قد أنكرَ أكْثَرُ الحُفَّاظِ حَدِيثَهُ.

قَال يحيى بنُ معين: ليسَ بشيء.

وقال ابنُ المَديني: ليس بالقوي.

وقالَ البخاريُّ وأبوَ زُرْعَةَ: مكرُ الحَديثِ.

وقالَ ابنُ عدي: عامةُ أحاديثهِ معاضيل وينفرد عن كل مَنْ رَوَى عنه منهم. ومنهم من يجاوز به الضعف إلى الكذب.
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আনসারদের কেবল মুমিনরাই ভালোবাসে এবং কেবল মুনাফিকরাই তাদের ঘৃণা করে। সুতরাং যে তাদের ভালোবাসে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন, আর যে তাদের ঘৃণা করে আল্লাহ তাকে ঘৃণা করেন)। এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস। এটি ছয়জন ইমাম বর্ণনা করেছেন।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: এই বিষয়ে কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে অস্বীকৃতি (النكرة) স্পষ্ট, যেমন তিরমিজিতে বর্ণিত হুসাইন ইবনে উমরের হাদিস, যা তিনি উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি আরবদের সাথে প্রতারণা করবে সে আমার সুপারিশ লাভ করবে না এবং আমার ভালোবাসা তার নিকট পৌঁছাবে না)।

তিরমিজি বলেন: এটি একটি হাসান (حسن) ও অপরিচিত (غريب) হাদিস, আমরা এটি হুসাইন ইবনে উমরের হাদিস ব্যতীত অন্য কোনো সূত্রে জানি না।

ইবনে তাইমিয়া বলেন: এই হুসাইন যিনি এটি বর্ণনা করেছেন, অধিকাংশ হাফেজ তার হাদিসকে অস্বীকৃতি (أنكر) জানিয়েছেন।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: তিনি নগণ্য (ليس بشيء)।

ইবনুল মাদিনি বলেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)।

বুখারি এবং আবু যুরআ বলেন: তিনি হাদিস বর্ণনায় অস্বীকৃত (منكر الحديث)।

ইবনে আদি বলেন: তার অধিকাংশ হাদিসই অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ (معاضيل) এবং তিনি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের প্রত্যেকের থেকে বর্ণনায় একক (ينفرد)। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে দুর্বলতার (الضعف) গণ্ডি ছাড়িয়ে মিথ্যার (الكذب) পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وروى عبدُ الله بنُ أحمد في مسند أبيه (من طريقِ إسماعيل بنَ عَيَّاش عن يزيد بنُ جبير بإسناده، عن علي رضي الله عنه قال: قالَ رسوَلُ الله - (-: (لا يبغض العَرَبَ إلا منافقٌ) .

قالَ ابنُ تيمية: وزيد بن جَبيرة عندهم منكرُ الحديثِ، وروايةُ إسماعيل بن عياش عن الشاميين مُضطَّربة.

وروى العُقَيليُّ في (الضُّعَفاء) والطَبراني في (الكبير "، والحاكمُ في (المُسْتَدْرَكِ) . والبيهقيُ في (شُعَب الإِيمانِ) عن ابنِيِ عباس - رض الله عنه - قالَ: قالَ رسوَلُ الله - (-: (أحبُوا الَعَرَبَ لثلاثٍ، لأني عربي، والقرآنُ عربي، وكلامُ أهلَ الجَنَّةِ عربي) .
আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ তাঁর পিতার মুসনাদে (ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি ইয়াযিদ ইবনে জুবায়র এর সূত্রে তাঁর সনদসহ বর্ণনা করেছেন) আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "মুনাফিক ব্যতীত অন্য কেউ আরবদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না।"

ইবনে তাইমিয়া বলেন: তাদের নিকট যায়েদ ইবনে জুবাইরা হলেন প্রত্যাখ্যাত (منكر الحديث), আর শামবাসীদের থেকে ইসমাঈল ইবনে আইয়াশের বর্ণনা গোলযোগপূর্ণ (مضطربة)।

উকায়লী তাঁর যুয়াফা গ্রন্থে, তাবারানী তাঁর কাবীর গ্রন্থে, হাকিম মুস্তাদরাক গ্রন্থে এবং বায়হাকী শুয়াবুল ঈমান গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "তিনটি কারণে আরবদের ভালোবাসো; যেহেতু আমি একজন আরব, কুরআন আরবিতে এবং জান্নাতবাসীদের ভাষা আরবি।"
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৪৮)
قالَ الحافظُ السِّلَفِي: هذا حديث حَسَن.

قال ابنُ تيمية: فما أدري أرادَ حُسن إسنادِهِ على طريقةِ المُحَدِّثين، أو حسن متنه على الاصطلاح العام؟ قالَ: وابن الجَوْزِيُ ذَكَرَ هذا الحديثَ في (المَوْضُوعَاتِ) وقالَ: قالَ العُقَيْليُّ: لا أصل له.

وعن أبي هريرةَِ قَال: قَالَ رسوَلُ الله - (- أنا عربي، والقرآنَّ عرييّ، ولسانُِ أهلَ الجَنَة عربي.

قال الحاكمُ: حديثٌ صحيحٌ رجالُهُ كُلُهم ثِقَاتٌ.

ومما يدلُ على فضلِ العَرَبِ أيضاً ما رواهُ البَزَّارُ بإسنادِهِ قَالَ: قالَ سلمان
হাফেজ আস-সিলাফি বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।

ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: আমি জানি না তিনি কি মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুযায়ী এর সনদের (إسناد) হাসান (حسن) হওয়া বুঝিয়েছেন, নাকি সাধারণ পরিভাষা অনুযায়ী এর মতন (متن) এর সৌন্দর্য বুঝিয়েছেন? তিনি বলেছেন: ইবনুল জাওজি এই হাদিসটি আল-মাওদুআত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আল-উকাইলি বলেছেন: এর কোনো ভিত্তি (لا أصل له) নেই।

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— আমি আরব, কুরআন আরবি এবং জান্নাতবাসীদের ভাষা আরবি।

আল-হাকিম বলেছেন: এটি একটি সহিহ (صحيহ) হাদিস, এর বর্ণনাকারীদের সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

আরবদের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর আরও যা প্রমাণ বহন করে তা হলো আল-বাযযার তাঁর সনদের (إسناد) সাথে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সালমান বলেছেন...
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৪৯)
- رض الله عنه - نفضِّلُكُمْ يا معشر العَرَب لتفضيل رسولِ الله - (- إيَّاكُمْ، لا ننكح نِسَاءَكُمْ، ولا نؤمُكُمْ في الصًلَاةِ.

قالَ ابنُ تيمية: وهذا إسنادٌ جيدٌ.

قال: وقد رُويَ منْ طريقٍ أخر عن سلمانَ الفَارِسيَ رضي الله عنه أنّهُ قَالَ: فضلتموَنا يا معشرَ العَرَبَ باثنتين: لا نؤمكم، ولا ننكح نساءَكم. ورواهُ سعيد في (سننه) وغيرُهُ.

وهذا الحديث ممَا احتجً بهِ أكثرُ الفقهاء الذين جعلوَا العربيةَ منَ الكفَاءةِ بالنسبة إلى العجمي قائلين: ولا تزوج عربية بعجمي.

قالَ الفقهاءُ في تعليلِ ذلكَ -: لأن الله - تعالى - اصطفى العربَ على غيرهم وَمَيَّزَهُم عنهم بفضائل جمة.

واحتج أصحابُ الإِمام الشَّافعيِّ، والإِمام أحمد بهذا على أنَّ الشرفَ ممَا يستحق به التقدم في الصَّلَاة.

ولما وَضَعَ الإِمامُ عمرُ بنُ الخَطَّاب رضي الله عنه الديوَانَ للعطاء كَتَبَ النَاسَ على قدرِ أنْسَابهِمْ، فبدأ بأقربهم نَسَباً إلى رسوَل الله - (-، فَلَمَّا انقضَتْ العَرَبُ ذَكَرَ العَجَمَ، هكذَا كان الديوانُ على عهدِ الخُلَفَاءِ الراشدينَ، وسائرِ الخلفاءِ من بني أمَيةَ، والخلفاءِ من بني العَباسِ إلى أنْ تغير الأمرُ بعدَ ذلك.

وذكر غيرُ واحد أنَ عمر بنَ الخطاب حينَ وَضَعَ الدَيوانَ، قالوَا له: يبدأ أميرُ المؤمنينَ بنفسِه.

আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন - (তিনি বললেন:) হে আরব সম্প্রদায়! আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের কারণে আমরা আপনাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করি। সাবধান! আমরা আপনাদের নারীদের বিবাহ করব না এবং আপনাদের সালাতে ইমামতি করব না।

ইবনে তাইমিয়া বলেন: এই সনদ (إسناد) টি উত্তম (جيد)।

তিনি বলেন: সালমান আল-ফারসি (রা.) থেকে অন্য একটি সূত্রে (طريق) বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: হে আরব সম্প্রদায়! আপনারা দুই বিষয়ে আমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন: আমরা আপনাদের ইমামতি করি না এবং আপনাদের নারীদের বিবাহ করি না। এটি সাঈদ তাঁর সুনান গ্রন্থে এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

এই হাদিসটিই সেই দলীল যা অধিকাংশ ফকিহ ব্যবহার করেছেন, যারা অনারবদের তুলনায় আরব হওয়াকে বিবাহের সমতা বা কুফু (الكفاءة)-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন; তারা বলেন: কোনো আরব নারীকে অনারব পুরুষের সাথে বিবাহ দেওয়া হবে না।

ফকিহগণ এর কারণ দর্শাতে গিয়ে বলেছেন: কারণ আল্লাহ তাআলা অন্যদের ওপর আরবদের মনোনীত করেছেন এবং অনেক ফযিলতের মাধ্যমে তাদের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন।

ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আহমাদের অনুসারীরা এর মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন যে, বংশীয় মর্যাদা এমন একটি বিষয় যার কারণে সালাতে অগ্রগণ্যতা লাভের যোগ্যতা অর্জিত হয়।

ইমাম উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যখন রাষ্ট্রীয় ভাতার জন্য দেওয়ান বা রেজিস্ট্রার প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তিনি মানুষের বংশমর্যাদা অনুযায়ী তাদের নাম তালিকাভুক্ত করেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নিকটতম আত্মীয়দের দিয়ে শুরু করেন। যখন আরবদের তালিকা শেষ হলো, তখন তিনি অনারবদের নাম উল্লেখ করলেন। খুলাফায়ে রাশেদিন, বনু উমাইয়া এবং বনু আব্বাসের খলিফাদের আমলে দেওয়ানের ব্যবস্থা এভাবেই ছিল, পরবর্তী সময়ে এর পরিবর্তন ঘটে।

একাধিক বর্ণনাকারী উল্লেখ করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যখন দেওয়ান প্রস্তুত করেন, তখন তারা তাঁকে বলেছিল: আমিরুল মুমিনীন যেন নিজের নাম দিয়ে শুরু করেন।

(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৫০)
فقال: لا، ولكن ضعوا عُمَرَ حيث وَضَعَهُ الله - تعالى - فبدأ بأهْل بيت رسولِ الله - (- ثُم مَنْ يليهم حتى جاءت نوبتهُ في بني عَدِي، وهم متأخرون عن أكثرِ بُطُون قُرَيْش فانظروا إلى هذا الإِنصاف من عمر حيث عَرَفَ الحَقَّ لأهْلِهِ، وبموجبِ هذا الاتباع للحقَ ونحوه قدمه على عامةِ بني هَاشِمٍ فَضْلاً عن غيرهم من قريش.

فظهرَ بما تقرر: أنَ جنسَ العَرَب أفضلُ مِنْ جنس العجم، وأن حبَّ العَرَب مِنَ الإِيمان وبغضهم نفاق، أو كفرٌ، وعلى هذا دَرَجَ السَلَفُ والخَلَفُ كما تقدَّمَ لكً ذكرُهُ.

واعلم وَفقكَ الله - تعالى - أنَّ فضلَ الجنس لا يستلزم فضل الشخص من حيث الدِّين الذي هو المقصود الأعظم، وإنْ استلزمها مِنْ حيث الكفاءةُ. وهنا مزلة أقدام، وهوَ أن كثيراً يتوهم أنَ شرفَ النَسب أفضلُ من شرفِ العلمِ، ويقوَل: إنَّ الشَّرفَ الذاتي أفضلُ من الشرف الكَسْبي، وبعضُهم يعكس.

وأطن أن كلا من الفريقين لا يعرفُ تحقيقَ وجهِ الأفضليةِ، والصوَابُ التفصيل وعدمُ الإِطلاقِ، وهو أنَ شرفَ النَسَب أفضل من حيث الكفاءةِ فلا يكافيء عجمي عالم بنت عربي جاهل، وأنَّ الزوجة الأمَةَ المسلمة لا تساوي من حيث القسم الزوجة الحُرةِ اليهوَدية، أو النصرانية، فللحرةِ ليلتان، وللأمَةِ ليلة. إلى غير ذلك مِنَ الأحكام.
তিনি বললেন: "না, বরং উমরকে সেখানেই স্থান দিন যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁকে স্থান দিয়েছেন।" অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহর পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে শুরু করলেন, এরপর যারা মর্যাদায় তাঁদের নিকটবর্তী; এভাবে অবশেষে বনী আদীর মধ্যে তাঁর নিজের পালা এল। অথচ তাঁরা কুরাইশদের অধিকাংশ গোত্রের তুলনায় বংশীয় মর্যাদায় পিছিয়ে ছিল। উমরের এই ন্যায়পরায়ণতার প্রতি লক্ষ্য করুন, যেখানে তিনি হকদারকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার প্রদান করেছেন। সত্যের এই অনুসরণের ফলেই তিনি কুরাইশদের অন্যদের তো বটেই, এমনকি বনী হাশিমের সাধারণ সদস্যদের ওপরও তাঁকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

উপরে যা স্থিরীকৃত হয়েছে তা থেকে স্পষ্ট হলো যে: সামগ্রিকভাবে আরব জাতি অনারবদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ, এবং আরবদের ভালোবাসা ঈমানের অংশ আর তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা নিফাক বা কুফরি। সালাফ এবং খালাফগণ এ পথেই চলেছেন, যেমনটি আপনার নিকট পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেনে রাখুন—আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফীক দান করুন—জাতির শ্রেষ্ঠত্ব দ্বীনের দিক থেকে ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে আবশ্যক করে না, যা মূলত প্রকৃত উদ্দেশ্য; যদিও বিবাহের সমমর্যাদার ক্ষেত্রে তা বিবেচিত হয়। এখানেই অনেকের পদস্খলন ঘটে; অনেকে ধারণা করে যে বংশীয় মর্যাদা ইলমের মর্যাদার চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং তারা বলে: জন্মগত মর্যাদা অর্জিত মর্যাদার চেয়ে উত্তম। আবার কেউ কেউ এর বিপরীত মত পোষণ করে।

আমি মনে করি, উভয় দলের কেউই শ্রেষ্ঠত্বের প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করতে পারেনি। সঠিক পন্থা হলো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা এবং ঢালাওভাবে কোনো মন্তব্য না করা। তা হলো—বংশীয় মর্যাদা বিবাহের সমমর্যাদার বিচারে শ্রেষ্ঠ; তাই একজন অনারব আলিম একজন মূর্খ আরবের কন্যার সমকক্ষ হয় না। আবার একজন মুসলিম দাসী স্ত্রী রাত যাপনের বণ্টনের ক্ষেত্রে একজন স্বাধীন ইহুদি বা খ্রিস্টান স্ত্রীর সমান নয়; এক্ষেত্রে স্বাধীন স্ত্রীর জন্য দুই রাত এবং দাসী স্ত্রীর জন্য এক রাত নির্ধারিত। এছাড়া অন্যান্য বিধানের ক্ষেত্রেও অনুরূপ পার্থক্য বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৫১)
وشرفُ العلم أفضلُ من حيث التقدم في الصَلاةِ ومنصب الإِفتاءِ والقضاءِ وغير ذلك. وينظر في منصب الخلافةِ، والإِمامةِ العُظْمَى فَهل يستحقها قرشي جاهل، أو عجميّ فاضل؟ وهذا كلُه مع الاتِّصاف بتقوَى الله - تعالى - وإلا فالعالمُ الفاسقُ كإبليس، والعربي الجاهل كفرعوَن وكلاهما مذموَم.

وأيضاً فَمَنْ اغْتَرَّ في الكفاءة بشرف النسب، فيقال له: إنَ العجمي وإنْ كانَ ليس كفءاً للعربيةِ، فالعربي الفاسقُ أيضاً ليس كفءأ للعجمية المَرْضِيَّة، فإن الشرع أيضا يعتبر في الكفاءةِ مَنْصِبَ الدِّين كما يعتبر منصبَ النسبِ. ولا يكافئ العربي الجاهلُ بنتَ العالم. صرًّحَ بذلكَ الشافعيَّةُ.

إذا علمتَ هذا فاعلمْ أنَ الذي يرجعُ إليه ويعوَلُ في الفَضْلِ عليه هو الشَرفُ الكسبيُّ الذي منه العلم والتفوَى، وهو الفضل الحقيقي، لا مجرد الشرف الذاتي
জ্ঞানের মর্যাদা সালাতে অগ্রগণ্য হওয়া, ফতোয়া (إفتاء) প্রদানের পদ এবং বিচারিক (قضاء) পদসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে অধিকতর উত্তম। খেলাফত এবং ইমামতে উজমা (মহা-নেতৃত্ব) পদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি লক্ষ্যণীয়—একজন মূর্খ কুরাইশ কি এর যোগ্য, নাকি একজন গুণী অনারব (عجمي)? আর এই সবকিছুই আল্লাহ তাআলার খোদাভীতি (تقوى) গুণের সাথে সম্পৃক্ত; অন্যথায় পাপাচারী (فاسق) আলেম ইবলিসের ন্যায় এবং মূর্খ আরব ফেরাউনের ন্যায়, আর তারা উভয়ই নিন্দিত।

তাছাড়া, বিবাহের সমমর্যাদার (كفاءة) ক্ষেত্রে যারা কেবল বংশীয় আভিজাত্য দেখে প্রতারিত হয়, তাদের উদ্দেশ্যে বলা যায়: অনারব ব্যক্তি যদিও আরব নারীর জন্য সমমর্যাদাসম্পন্ন (كفء) না হয়, তবে একজন পাপাচারী (فاسق) আরবও একজন সন্তোষজনক চরিত্রের অনারব নারীর জন্য সমমর্যাদাসম্পন্ন (كفء) নয়। কারণ শরিয়ত সমমর্যাদার (كفاءة) ক্ষেত্রে বংশীয় মর্যাদার ন্যায় দ্বীনি অবস্থানকেও বিবেচনা করে। একজন মূর্খ আরব ব্যক্তি কোনো আলেমের কন্যার সমকক্ষ হতে পারে না। শাফিঈগণ এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন জেনে রাখুন যে, শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং যার ওপর নির্ভর করা হয়, তা হলো অর্জিত মর্যাদা (شرف كسبي), যার অন্তর্ভুক্ত হলো ইলম ও খোদাভীতি (تقوى)। আর এটিই প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব, কেবল সত্তাগত বা বংশীয় মর্যাদা (شرف ذاتي) নয়।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৫২)
الذي هوَ شرف النَسب بشهادةِ القران ِوشهادة النبيّ عليه السلام وشهادةِ الأذكياء مِنَ الأنام. مفرد:

إنَّ الفَتَى مَنْ يَقُولُ هَا أنَاذَا … لَيْسَ الفَتَى مَنْ يقوَلُ كَانَ أبي

فمنَ الغُرورِ الوََاضِحِ، والحُمْقِ الفَاضِحِ أنْ يفتخرَ أحدٌ مِنَ العَرَب على أحد مِنَ العجم بمجردِ نَسَبهِ، أو حَسَبهِ، ومن فَعَلَ ذلكَ فإنه مخطيء جَاهل مغرورٌ. فَرُبَّ حبشي أفضل عند اَلله تعالى منَ ألوَف مِنْ قريشٍ. قال الله - تعالى - في مثلِ ذلك: (يَا ايها النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وأنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوباً وقبائلَ لتعارَفوا، إنِ أكْرَمكُمْ عِنْدَ الله أَتْقَاكُمْ) .

وقال تعالى: (وَلَعَبْدٌ مُؤْمنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ * بر وَلأمَة مُؤْمِنَةٌ خَيرٌ مِنْ مُشْركَةٍ وَلَوَْ أعْجَبَتْكُمْ) .

وقالَ تعالى: (هَلْ يَسْتَوي الذَّينَ يَعْلَمُونَ والذينَ لا يعلموَن) .

وقالَ: (يَرْفَعِ الله الذينَ آمنوَا مِنْكُمْ والذينَ أوتُوَا العِلْمَ دَرَجَات) إلى غير ذلك من الآيات.

وقالَ النبيُ - (- في الحديث الصحيح: (إنَ الله - تعالى - قَدْ أذْهَبَ عنكم
যা বংশীয় আভিজাত্যের শ্রেষ্ঠত্ব হিসেবে কুরআন, নবী (সা.)-এর সাক্ষ্য এবং মানুষের মধ্যে যারা প্রজ্ঞাবান তাদের সাক্ষ্য দ্বারা স্বীকৃত। একবচন:

প্রকৃত যুবক সে-ই যে বলে, "আমিই সেই (যোগ্য) ব্যক্তি", … সে যুবক নয় যে বলে, "আমার পিতা ছিলেন (অমুক)"।

সুতরাং এটি স্পষ্ট বিভ্রান্তি এবং নির্লজ্জ মূর্খতা যে, কোনো আরব ব্যক্তি তার নিছক বংশ বা আভিজাত্যের কারণে কোনো অনারব ব্যক্তির ওপর গর্ব করবে। যে ব্যক্তি এরূপ করে সে মূলত ভ্রান্ত, অজ্ঞ ও প্রবঞ্চিত। কেননা আল্লাহর কাছে অনেক সময় একজন হাবশী ব্যক্তি কুরাইশ বংশের হাজারো মানুষ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারেন। আল্লাহ তাআলা এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন: (হে মানবজাতি! নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী)।

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: (আর একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক অপেক্ষা উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে; আর একজন মুমিন দাসী একজন মুশরিকা অপেক্ষা উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে)।

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: (যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?)।

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: (তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন) - এ ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

নবী (সা.) সহিহ (صحيح) হাদিসে ইরশাদ করেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের থেকে দূর করে দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৫৩)
عُبِّيَّةَ الجاهلية، وَفَخْرَهَا بالأباءِ، مؤمن تقي أو فاجر شقي، أنتم بنو آدم وآدم من تراب، ليدَعنً رجال فخرهم بأقوَامٍ إنَما هم فحمٌ مِنْ فَحْمِ جَهَنَم، أو ليكوَننَّ أهونِ على الله مِنَ الجعلان الَّتي تدفع بأنفها النتن) .

رواه أبوَ داود وغيره.

وقال ابنُ تيمية: وهو صحيح.

وفي حديث آخر بإسناد صحيح أن النبي - (- قَالَ في خطبته بمنى: (يا أيها الناس ألا إنَ ربكم عز وجل واحد، ألا إن أباكم واحد، ألا لا فضل لعربيّ على عجميّ، ألا لا فضلَ لأسوَد على أحمر إلا بالتقوَىْ ألا قد بلَّغت؟ قالوَا: نعم.

قال: ليبلّغ الشاهد الغائب) .

وروى مسلم في صحيحه: (أنَّ النبي - (- قالَ: إني أوحيَ إليَّ أنْ تَوَاضَعوا حَتَى لا يَفْخَر أحدٌ على أحَدٍ، ولا يبغي أحَدٌ على أحَدٍ) .
(জাহেলিয়াতের আভিজাত্যের দম্ভ এবং পূর্বপুরুষদের নিয়ে গৌরব করা (বর্জন করো); মানুষ হয় মুত্তাকী মুমিন অথবা দুর্ভাগা পাপাচারী। তোমরা আদমের সন্তান, আর আদম মাটি থেকে তৈরি। কিছু লোক যেন অবশ্যই তাদের কওমদের নিয়ে গর্ব করা ছেড়ে দেয় যারা মূলত জাহান্নামের কয়লা বিশেষ, অন্যথায় তারা আল্লাহর নিকট সেই গোবরে পোকার চেয়েও তুচ্ছ হবে যে তার নাক দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা ঠেলে নিয়ে যায়)।

এটি আবু দাউদ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: এটি সহিহ (صحيح)।

এবং অপর একটি হাদিসে সহিহ সনদ (إسناد صحيح) সহকারে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিনায় তাঁর খুতবায় বলেছেন: (হে লোকসকল! জেনে রেখো, তোমাদের প্রতিপালক মহান ও পরাক্রমশালী এক, জেনে রেখো, তোমাদের পিতাও এক। সাবধান! তাকওয়া ব্যতীত অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কৃষ্ণাঙ্গের ওপর রক্তাভ বর্ণের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আমি কি তোমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছি? তারা বলল: হ্যাঁ।

তিনি বললেন: উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়)।

ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আমার প্রতি ওহী করা হয়েছে যে, তোমরা বিনয়ী হও, যাতে কেউ কারো ওপর অহংকার না করে এবং কেউ কারো ওপর সীমালঙ্ঘন না করে)।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৫৪)
فنهى الله سبحانه وتعالى على لسان ِرسوَله عن نوعي الفخر والبغَي اللذين هما الاستيطال على الخلق، فَمَنْ استطالَ بحقٍ فقدْ افْتَخَرَ، وإنْ كانَ بغير حقٍ لقدْ بَغَى، ولا يحلُ. هذا ولا هذا.

ولو كان الفخرُ بالحسب أو النَسَب لكان لليهود فخرّ وأيُ فخر، فهم أولادُ يعقوب إسرائيل الله بن إسحاق: ذبيح الله بن إبراهيم: خليل الله، إنًما الفَخْر بتقوى الله وطاعتِهِ، بامتثالِ أوامره، واجتناب نواهيهِ، ولهذا قال - (-: (يا فاطمةُ بنتَ محمدٍ لا أغني عنك مِنَ اللهِ شيئاً، يا عَبَّاسُ عمٌ رسولِ الله لا أغني عنكَ مِنَ الله شيئاً، يا صفيةُ عَمَةَ رسوَل الله - (- لا أغني عنك مِنَ الله شيئاً) .

ففي ذلك تنبيه منه عليه السلام لمن انتسبَ لهؤلاء الثلاثةِ أنْ لا يغتروا بالنَسبِ ويتركوَا الكَلِمَ الطَيب، والعملَ الصالح.

نَعَمْ مَنِ اتَقى الله - تعالى - من العَرَبِ فقد حَازَ فضيلةَ التقوَى، وفضيلةَ النَسبِ، ومَنْ لم يَتَقِ الله فهوَ إلى البهائم أقرب.

قال الله تعالى: (أنْ هًمْ إلا كالأنْعَام بَلْ هُمْ أضَلّ سَبيلا) .

وقال تعالى: (وَلَعَبْدُ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ) .

فالفضلُ الحقيقي هو اتَباعُ ما بعثَ الله - تعالى - به محمداً مِنَ الإيمان ِوالعلمٍ باطناً وظاهراً، لا أنَهُ (بمُجَرَّد) كون الشخص عربياً أو عجمياً أو أسوَدَ أو أبيض أو بدوياً أو قَرَوياً.

وفي الصحيحين عن أبي هريرة - رض الله عنه - قال: (كُنَّا جلوَساً عند النبي
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর রাসূলের জবানিতে দুই ধরনের অহংকার ও সীমা লঙ্ঘন নিষিদ্ধ করেছেন, যা মূলত সৃষ্টির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করা। সুতরাং যে ব্যক্তি ন্যায়ের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করল সে অহংকার করল, আর যদি তা অন্যায়ের ভিত্তিতে হয় তবে সে সীমা লঙ্ঘন করল; আর এর কোনোটিই বৈধ নয়।

যদি আভিজাত্য বা বংশমর্যাদার ভিত্তিতে গৌরব করার সুযোগ থাকত, তবে ইহুদিদের জন্য অনেক বড় গৌরবের অবকাশ থাকত; কারণ তারা হলো আল্লাহর ইসরাঈল ইয়াকুবের সন্তান, যিনি আল্লাহর যবিহ ইসহাকের পুত্র, যিনি আল্লাহর খলিল ইবরাহিমের পুত্র। প্রকৃতপক্ষে গৌরব কেবল আল্লাহর তাকওয়া ও তাঁর আনুগত্যের মধ্যে, তাঁর আদেশসমূহ পালন এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জনের মধ্যেই নিহিত। এজন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা, আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচাতে আমি তোমার কোনো উপকারে আসব না। হে আল্লাহর রাসূলের চাচা আব্বাস, আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচাতে আমি তোমার কোনো উপকারে আসব না। হে আল্লাহর রাসূলের ফুফু সাফিয়্যাহ—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুফু—আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচাতে আমি তোমার কোনো উপকারে আসব না।"

এর মাধ্যমে তাঁর (আলাইহিস সালাম) পক্ষ থেকে ঐ সকল ব্যক্তির জন্য সতর্কবার্তা রয়েছে যারা এই তিনজনের সাথে বংশীয় সম্পর্ক রাখে, যেন তারা কেবল বংশমর্যাদা নিয়ে বিভ্রান্ত না হয় এবং উত্তম কথা ও সৎ আমল পরিত্যাগ না করে।

হ্যাঁ, আরবদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করল, সে তাকওয়ার ফজিলত এবং বংশমর্যাদার ফজিলত উভয়ই লাভ করল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করল না, সে চতুষ্পদ জন্তুর অধিক নিকটবর্তী।

আল্লাহ তায়ালা বলেন: "তারা তো কেবল চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও অধিক পথভ্রষ্ট।"

তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয়ই একজন মুমিন ক্রীতদাস একজন মুশরিকের চেয়ে উত্তম।"

সুতরাং প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব হলো আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে ইমান ও ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে সেটির অনুসরণ করা; কেবল কোনো ব্যক্তি আরব বা অনারব, কৃষ্ণবর্ণ বা শ্বেতবর্ণ, মরুচারী বা গ্রামবাসী হওয়ার মধ্যে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।

সহিহাইন-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম..."
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৫৫)
- صلى الله علية وسلم - فأنزلت عليه سورة الجمعة (وآخرينَ منهم لَمَّا يَلْحَقُوا بهِمْ) .

فقال قائل: مَنْ همْ يا رسولَ الله؟ فلم يراجعه، حتى سألَ ثلاثاً، وفينا سلمانُ الفارسيُّ، فوَضع رسوَلُ الله - (- يَدَهُ على سلمانَ، ثم قالَ: لو نهانَ الإِيمانَّ عندَ الثريَّا لَنَالَهُ رِجَالّ مِنْ هؤلاء) .

وفي صحيح مسلم عن أبي هريرةَ (رض الله عنه - قالَ: قالَ رسوَلُ الله - (-: (لَوَْ كَانَ الذَينُ عندَ الثُّرَيَّا لَذَهَبَ بهِ رجلٌ مِنْ فَارِسَ) أو قال: (مِنْ أبناءِ فَارِسً) .

وفي روايةٍ ثَالِثَةٍ: (لو كانِ العِلْمُ عندَ الثرَيَّا لتَناوَلَهُ رِجَالٌ مِنْ أبناءِ فَارِسَ) .

وروى الترمذي عن أبي هريرةِ - أيضا - عن النبي - (- في قوَله تعالى: (وإن تَتوَلوْا يَسْتَبْدِل قَوْماً غَيْركُمْ) إنَّهم مِنْ أبناءِ فَارِسَ) . إلى غير ذلك مِنْ آثارٍ
-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- তাঁর ওপর সূরা আল-জুমুআ অবতীর্ণ হলো: (এবং তাদের মধ্যে অন্যদের ওপরও যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি)।

জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি কোনো উত্তর দিলেন না, যতক্ষণ না তিনি তিনবার জিজ্ঞাসা করলেন। আমাদের মাঝে সালমান আল-ফারিসি উপস্থিত ছিলেন। আল্লাহর রাসুল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- সালমানের ওপর হাত রাখলেন, অতঃপর বললেন: "যদি ঈমান সুরাইয়া নক্ষত্রের নিকটবর্তী হতো, তবে এদের মধ্যকার কিছু লোক তা অর্জন করে নিত।"

এবং সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেছেন: "যদি দ্বীন সুরাইয়া নক্ষত্রের নিকটবর্তী হতো, তবে পারস্যের জনৈক ব্যক্তি সেখানে পৌঁছে যেত" অথবা বলেছিলেন: "পারস্যের সন্তানদের মধ্য হতে কেউ।"

তৃতীয় একটি বর্ণনায় (رواية): "যদি ইলম সুরাইয়া নক্ষত্রের নিকটবর্তী হতো, তবে পারস্যের বংশোদ্ভূত কিছু লোক তা লাভ করত।"

তিরমিজি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, নবী -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: (আর যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন) বলেছেন: "তারা পারস্যের বংশোদ্ভূত।" এছাড়া আরও অনেক বর্ণনা (آثار) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৫৬)
رُويتْ في فضلِ رجالٍ مِنْ أبناءِ فارس الأحرار والموالي، مثل: الحسن، وابن سِيرين، وعِكْرِمَةَ مولى ابن عباس، وغيرهم مِمَّنْ وجد بعد ذلك فيهم مِنَ الرَّاسِخينَ في الإِيمان والدِّين والعلم، بحيثُ صاروا في ذلك أفضل من كثير من العَرَبِ.

وكذلك في سائر أصناف العجم من الرُّوم والتُرك والحبشة، فإنَّ الفضل الحقيقي هوَ اتباع ما بعثَ الله به محمداً - (- كما تقدَّم.

ولهذا كانَ اللذين تناولوا العلم والإِيمان من أبناء فارس إنَّما حصلَ لهم ذلك بمتابعتهم الدِّينَ الحنيف ولوازمه من العربية وغيرها، ومَنْ نقص مِنَ العرب فإنَّما هوَ بتخلّفهم عن مثل ذلك، ولهذا كانوا يفضلوَن من الفرس من رأوه أقرب إَلى متابعةِ السابقين مِنَ الصحابةِ والتابعين، حتى قال الأصْمَعِي فيما رواه عنه أبوَ طاهر السلفي في (كتابِ فَضْلِ الفُرْس) قالَ: عجمُ أصبهان: قريش العجم.

وروى - أيضاً - السَلَفيُّ بإسنادٍ معروف عن سعيدِ بن المُسَيبِ، قَالَ: لو أني لم أكن من قريش لأحببتُ أنَّ أكونَّ مِنْ فارسَ، ثُمَّ أحببتُ أنْ أكوَنَ مِنْ أصبهانَِ.
পারস্যের স্বাধীন ব্যক্তি ও মুক্তদাসদের (الموالي) মধ্য থেকে এমন কতিপয় ব্যক্তিদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে (رُويتْ), যেমন: হাসান, ইবনে সিরিন, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমা এবং তাদের পরবর্তী এমন ব্যক্তিবর্গ যারা ঈমান, দ্বীন ও ইলমের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় ছিলেন, এমনকি তারা এই ক্ষেত্রে অনেক আরবের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন।

একইভাবে রোমান, তুর্কি ও হাবশি জাতিসহ অন্যান্য সকল অনারবদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। কেননা প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রয়েছে মুহাম্মদ (সা.) যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তার অনুসরণের মধ্যে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই কারণেই পারস্য বংশোদ্ভূত যারা ইলম ও ঈমান অর্জন করেছেন, তারা মূলত দ্বীনে হানিফ এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবে আরবি ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ের অনুসরণের মাধ্যমেই তা অর্জন করেছেন। আর আরবদের মধ্যে যাদের ঘাটতি ঘটেছে, তা মূলত এই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণেই হয়েছে। এই কারণেই তারা পারসিকদের মধ্য থেকে তাদেরকেই অগ্রাধিকার দিতেন যাদেরকে তারা সাহাবী ও তাবিঈনদের (التابعين) মতো অগ্রগামীদের অনুসরণে অধিকতর নিকটবর্তী মনে করতেন। এমনকি আসমায়ি, আবু তাহির সিলাফি বর্ণিত কিতাবু ফাদলিল ফুরস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: "ইসফাহানের অনারবরা হলো অনারবদের কুরাইশ।"

সিলাফি একটি পরিচিত সনদসহ (إسنادٍ) সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "আমি যদি কুরাইশ না হতাম, তবে আমি পারস্যের অধিবাসী হতে পছন্দ করতাম, অতঃপর আমি ইসফাহানের অধিবাসী হতে পছন্দ করতাম।"
(খণ্ড: ১) মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারাফাল ইলমি আলা শারাফান নাসাব (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَروى بإسنادٍ آخر عن سعيد بن المسيب، قال: لولا أني رجل من قريشٍ لتمنيتُ أنَّ أكوَنَّ من أهل أصبهانَ، لقولِ النبي - (-: لَوْ كَانَ الدَينُ مُعَلَّقاً بالثُرَيَّا لتناوَلَهُ ناس من أبناءِ الَعَجَمِ، أسعد الناس بها فارس وأصبهان.

قالوا: وكانَ سلمانُ الفارسيُّ من أهل أصبهان، وكذلك عكرمة مولى ابن عباس. وآثار الإِسلام كانت بأصبهان أظهر منها بغيرها حتى قالَ الحافظُ عبد القادر الرُّهاويُ: ما رأيتُ بَلَداً بعدَ بَغْدَادَ أكثر حديثاً من أصبهانِ. وكان أئمةُ السُنَةِ علماً وفقهاً وحديثاً فيها أكثر من غيرها. وانظر الآنِ كيف أصبحت دار بدْعَةٍ وتحت سلطان الرافضةِ المخذولين. ما شاء الله كان وما لم يشأ لم يكن، والدنيا
সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে অন্য একটি সূত্র (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "যদি আমি কুরাইশ বংশের একজন ব্যক্তি না হতাম, তবে আমি ইসফাহানের অধিবাসী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতাম। কারণ নবী (সা.)-এর বাণী: 'যদি দ্বীন সুরাইয়া নক্ষত্রেও ঝুলানো থাকত, তবে অনারবদের মধ্য থেকে কিছু মানুষ তা অর্জন করত; পারস্য ও ইসফাহানের অধিবাসীরাই এর দ্বারা সর্বাধিক সৌভাগ্যবান হবে'।"

তাঁরা বলেন: সালমান আল-ফারসি ইসফাহানের অধিবাসী ছিলেন এবং ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস (مولى) ইকরিমাও তেমনি ছিলেন। ইসলামের নিদর্শনসমূহ অন্যান্য স্থানের তুলনায় ইসফাহানে অধিকতর প্রকাশমান ছিল, এমনকি হাফিজ (الحافظ) আব্দুল কাদির আর-রুহাভি বলেছেন: "আমি বাগদাদের পর ইসফাহানের চেয়ে অধিক হাদিস সমৃদ্ধ আর কোনো শহর দেখিনি।" সেখানে সুন্নাহর ইমামগণ জ্ঞান, ফিকহ এবং হাদিসের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় অধিক সংখ্যায় বিদ্যমান ছিলেন। আর এখন লক্ষ্য করুন, কীভাবে এটি বিদআতের (بدعة) আবাসে পরিণত হয়েছে এবং লাঞ্ছিত রাফেজিদের (الرافضة) শাসনের অধীনে চলে গেছে। আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন তা-ই হয়েছে, আর যা তিনি ইচ্ছা করেননি তা হয়নি, আর দুনিয়া...