(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: -)
محك النظر   (أبو حامد الغزالي)

القسم: المنطق


الكتاب: محك النظر في المنطق

المؤلف: أبو حامد محمد بن محمد الغزالي الطوسي (ت 505هـ)

المحقق: أحمد فريد المزيدي

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

عدد الصفحات: 279

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মিহাক্কুন নাজার   (আবু হামিদ আল-গাজালি)

বিভাগ: যুক্তিবিদ্যা


গ্রন্থ: মিহাক্কুন নাজার ফীল মানতিক (যুক্তিবিদ্যার কষ্টিপাথর)

লেখক: আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-গাজালি আত-তুসি (মৃত্যু ৫০৫ হিজরি)

সম্পাদক: আহমদ ফরিদ আল-মাজিদি

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২০৩)
‌‌مقدمة تحصر مقصود الكتاب وترتيبه وأقسامه

اعلم أنك إن التمست شرط القياس الصحيح والحد الصحيح والتنبيه على مثارات الغلط فيها وقفت للجمع بين الأمرين، فإنها رباط العلوم كلها. فإن العلوم إدراك الذوات المفردة كعلمك بمعنى الجسم والحركة والعالم والحادث والقديم وسائر المفردات وإدراك نسبة هذه المفردات بعضها إلى البعض بالنفي والإثبات. فإنك تعلم أولاً معنى لفظ العالم وهو أمر مفرد ومعنى لفظ الحادث ومعنى لفظ القديم وهما أيضاً أمران مفردان، ثم تنسب مفرداً إلى مفرد بالنفي كما تنسب القِدم إلى العالم بالنفي، فتقول ليس العالم قديماً وتنسب الحادث إليه بالإِثبات فتقول العالم حادث والضرب الأخير هو الذي يتطرق إليه التكذيب والتصديق، فأما الأول فلا يدخله تصديق وتكذيب، إذ يستحيل التصديق والتكذيب في المفردات بل إنما يتطرق ذلك إلى الخبر ولا ينتظم خبر إلا بمفردين موصوف ووصف، فإذا نسب الوصف إلى الموصوف بنفي أو إثبات فلا بأس أن يُصطلح على التعبير عن هذين الضربين بعبارتين مختلفتين. فإن حق الأمور المختلفة أن تختلف ألفاظها إذ الألفاظ مثل المعاني فحقها أن يحاذي بها المعنى فلنسمِ الأول معرفة ولنسمِ الثاني علماَ، متأسين فيه بقول النحاة: إن المعرفة تتعدّى إلى مفعول واحد إذ تقول عرفت زيداً، والظن يتعدّى إلى مفعولين إذ تقول ظننت زيداً عالماً. والعلم أيضاً يتعدى إلى مفعولين فتقول علمت زيداً عدلَا، فهو من باب الظن لا من باب المعرفة. هذا هو الوضع اللغوي وإن كانت عبارة أهل النظر بهما تخالفه في استعمال أحدهما بدلاً عن الآخر. فإذا استقر هذا الاصطلاح فنقول الإدراكات المعلومة تنحصر في المعرفة والعلم. وكل علم يتطرق إليه التصديق فمن ضرورته أن تتقدم عليه معرفتان، فإن من لا يعلم المفرد كيف يعلم المركب، ومن لا يفهم معنى العالم ومعنى الحادث كيف يعلم أن العالم حادث. والمعرفة قسمان: أولى وهو الذي لا يطلب بالبحث كالمفردات المدركة بالحس، ومطلوب وهو الذي يدل اسمه منه على أمر جملي غير مفصل فيطلب تفصيله. وكذلك العلم ينقسم إلى أولي وإلى مطلوب. فالمطلوب من المعرفة لا يقتنص إلا بالحد والمطلوب من العلم الذي يتطرق إليه التصديق أو التكذيب لا يقتنص إلا بالحجة والبرهان وهو القياس؛ وكأن طالب القياس والحد طالب الآلة التي بها تقتنص العلوم والمعارف كلها. فليكن كتابنا قسمين قسم هو محل القياس وقسم هو محل الحد.
একটি ভূমিকা যা গ্রন্থের উদ্দেশ্য, বিন্যাস এবং এর পরিচ্ছেদসমূহকে সীমাবদ্ধ করে

জেনে রাখুন যে, আপনি যদি সঠিক কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) ও সঠিক সংজ্ঞার (হাদ্দ) শর্তাবলী এবং সেগুলোর ভুলভ্রান্তির কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত হতে চান, তবে আপনি উভয় বিষয়কে একত্রিত করতে উদ্যত হয়েছেন; কারণ এই দু’টিই হলো সমস্ত বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি। কেননা জ্ঞান হলো একক সত্তাসমূহকে উপলব্ধি করা—যেমন বস্তু, গতি, জগত, নশ্বর, অনাদি এবং অন্যান্য একক বিষয়সমূহের অর্থ সম্পর্কে আপনার জ্ঞান—এবং এই একক বিষয়সমূহের একটির সাথে অপরটির সম্পর্ককে অস্বীকৃতি বা স্বীকৃতির মাধ্যমে উপলব্ধি করা। প্রথমে আপনি 'জগত' শব্দের অর্থ জানেন যা একটি একক বিষয়, এবং 'নশ্বর' ও 'অনাদি' শব্দদ্বয়ের অর্থ জানেন যা দুটি পৃথক একক বিষয়। অতঃপর আপনি একটি একক বিষয়কে অন্যটির সাথে অস্বীকৃতির মাধ্যমে সম্পর্কিত করেন, যেমন আপনি অনাদিত্বকে জগতের সাথে অস্বীকৃতির মাধ্যমে সম্পর্কিত করে বলেন, 'জগত অনাদি নয়'। আবার আপনি নশ্বরতাকে জগতের সাথে স্বীকৃতির মাধ্যমে সম্পর্কিত করে বলেন, 'জগত নশ্বর'। এই শেষোক্ত প্রকারটিই হলো এমন বিষয় যাতে সত্যয়ন (تصديق) ও প্রত্যাখ্যান (تكذيب) প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে সত্যয়ন বা প্রত্যাখ্যান প্রবেশ করে না; কারণ একক বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে সত্যয়ন ও প্রত্যাখ্যান অসম্ভব। বরং এটি কেবল সংবাদের (খবর) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর একটি সংবাদ গঠিত হয় কেবল দুটি একক বিষয়ের সমন্বয়ে—একটি বিশেষ্য (মাওসুফ) এবং অপরটি বিশেষণ (ওয়াসফ)। সুতরাং যখন বিশেষণকে বিশেষ্যের সাথে অস্বীকৃতি বা স্বীকৃতির মাধ্যমে সম্পর্কিত করা হয়, তখন এই দুই প্রকারকে দুটি ভিন্ন পরিভাষায় ব্যক্ত করায় কোনো বাধা নেই। কেননা ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে শব্দেরও ভিন্নতা থাকা বাঞ্ছনীয়; যেহেতু শব্দসমূহ অর্থের অনুসারী, তাই অর্থের সাথে শব্দের সামঞ্জস্য থাকা আবশ্যক। অতএব আমরা প্রথম প্রকারের নাম দিই 'পরিচয়' (মা’রিফাত) এবং দ্বিতীয় প্রকারের নাম দিই 'জ্ঞান' (ইলম)। এক্ষেত্রে আমরা বৈয়াকরণদের অনুসরণ করছি, যারা বলেন: 'মা’রিফাত' কেবল একটি কর্মের (মাফউল) দিকে ধাবিত হয়, যেমন আপনি বলেন 'আমি জায়েদকে চিনেছি'। আর 'ধারণা' (জান্ন) দুটি কর্মের দিকে ধাবিত হয়, যেমন আপনি বলেন 'আমি জায়েদকে বিদ্বান বলে ধারণা করেছি'। 'ইলম' বা জ্ঞানও অনুরূপভাবে দুটি কর্মের দিকে ধাবিত হয়, যেমন আপনি বলেন 'আমি জায়েদকে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে জেনেছি'। সুতরাং এটি 'জান্ন'-এর পর্যায়ভুক্ত, 'মা’রিফাত'-এর পর্যায়ভুক্ত নয়। এটি হলো ভাষাগত অবস্থান, যদিও তাত্ত্বিকদের পরিভাষায় একটির পরিবর্তে অন্যটির ব্যবহার এর বিপরীত হতে পারে। যখন এই পরিভাষাটি স্থির হলো, তখন আমরা বলতে পারি যে, জ্ঞাত উপলব্ধিগুলো 'পরিচয়' ও 'জ্ঞান'-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর প্রতিটি জ্ঞান যার মধ্যে সত্যয়ন প্রবেশ করে, তার জন্য আবশ্যক হলো যে তার পূর্বে দুটি পরিচয় বিদ্যমান থাকা। কারণ যে ব্যক্তি একক বিষয় সম্পর্কে জানে না, সে কীভাবে যৌগিক বিষয় সম্পর্কে জানবে? আর যে ব্যক্তি জগত ও নশ্বরতার অর্থ বোঝে না, সে কীভাবে জানবে যে জগত নশ্বর? পরিচয় দুই প্রকার: প্রাথমিক—যা অনুসন্ধানের মাধ্যমে অর্জন করতে হয় না, যেমন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য একক বিষয়সমূহ; এবং অন্বেষিত—যা এমন এক সামগ্রিক বিষয়কে নির্দেশ করে যার বিস্তারিত রূপ অস্পষ্ট, তাই এর বিস্তারিত জ্ঞান অন্বেষণ করা হয়। অনুরূপভাবে জ্ঞানও প্রাথমিক ও অন্বেষিত—এই দুই ভাগে বিভক্ত। পরিচয়ের ক্ষেত্রে যা অন্বেষিত, তা কেবল সংজ্ঞার (হাদ্দ) মাধ্যমেই লাভ করা যায়। আর জ্ঞানের ক্ষেত্রে যা অন্বেষিত—যাতে সত্যয়ন বা প্রত্যাখ্যান প্রবেশ করে—তা কেবল যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমেই লাভ করা যায়, আর তা-ই হলো কিয়াস; যেন কিয়াস ও সংজ্ঞার অন্বেষণকারী আসলে সেই যন্ত্রেরই অন্বেষণ করছে যার মাধ্যমে সমস্ত জ্ঞান ও পরিচয় শিকার করা যায়। অতএব আমাদের গ্রন্থটি দুটি ভাগে বিভক্ত হোক: একটি ভাগ হলো কিয়াসের ক্ষেত্র এবং অপর ভাগটি হলো সংজ্ঞার ক্ষেত্র।
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২০৪)
‌‌القول في شروط القياس

اعلم أن القياس عبارة عن أقاويل مخصوصة أُلفت تأليفاً مخصوصاً ونُظمت
কিয়াসের শর্তাবলি সংক্রান্ত আলোচনা

জেনে রাখুন যে, কিয়াস হলো বিশেষ কিছু বচনের সমষ্টি যা একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সংকলিত ও সুবিন্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২০৫)
نظماً مخصوصاً بشرط مخصوص يلزم منه رأي هو مطلوب الناظر، والخلل يدخل عليه تارة من الأقاويل التي هي مقدمات القياس إذ تكون خالية عن شروطها وأخرى من كيفية الترتيب والنظم وإن كانت المقدمات صحيحة يقينية، ومرة منهما جميعاً. ومثاله في المحسوس البيت المبني فإنه أمر مركّب تارة يختل بسبب في هيئة التأليف، بأن تكون الحيطان معوجة والسقف منخفضاً إلى موضع قريب من الأرض، فيكون فاسداً من حيث الصورة، وأن كانت الأحجار والجزوع وسائر الآلات صحيحة. وتارة يكون البيت صحيح الصورة في تربيعها ووضع حيطانها وسقفها، ولكن يكون الاختلال من رخاوة في الجزوع وتشعث في اللبنات. فهذا حكم القياس والحد وكل أمر مركب، فإن الخلل فيه إما أن يكون في هيئة تركيبه وترتيبه وأما أن يكون في الأصل الذي يرد عليه التركيب، كالثوب في القميص والخشب قي الكرسي واللبن في الحائط والجذوع في السقف. وكما أن من يريد بناء بيت بعيد من الخلل يفتقر إلى أن يعذ الآلات المفردة أولاً، كالجذوع واللبن والطين، ثم إذا أراد اللبن يفتقر إلى إعداد مفرداته وهو الماء والتراب والقالب الذي فيه يضرب فيبتدئ أولاً بالأجزاء.المفردة فيركبها ثم يركّب المركب، وهكذا إلى آخر العمل، فكذلك طالب القياس ينبغي أن ينظر في نظم القياس وفي صورته وفي الأمر الذي يضع الترتيب والنظم فيه، وهي المقدمات. وأقل ما ينتظم منه قياس مقدمتان أعني علمين يتطرق إليهما التصديق والتكذيب. واقل ما تحصل منه مقدمة معرفتان توضع إحداهما مُخبراً عنه والأخرى خبراَ أو وصفاً. فقد انقسم القياس إلى مقدمتين، وانقسمت كل مقدمة إلى معرفتين تنسب إحداهما إلى الأخرى، وكل مفرد فهو معنى ويُدل عليه لا محالة بلفظ. فيجب ضرورة أن ينظر في المعاني المفردة وأقسامها، وفي الألفاظ المفردة ووجوه دلالتها. ثم إذا فهمنا اللفظ مفرداً والمعنى مفرداً

একটি বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে বিশেষ বিন্যাস, যা থেকে এমন একটি সিদ্ধান্ত অনিবার্য হয় যা অনুসন্ধানকারীর উদ্দেশ্য। এর মধ্যে ত্রুটি কখনও কখনও এমন উক্তিগুলোর মাধ্যমে প্রবেশ করে যা কিয়াসের (যুক্তি) ভূমিকা হিসেবে কাজ করে, যখন সেগুলো তাদের প্রয়োজনীয় শর্তাবলি থেকে মুক্ত থাকে। আবার কখনও ত্রুটি ঘটে বিন্যাস ও পদ্ধতির কারণে, যদিও ভূমিকাগুলো সঠিক ও সুনিশ্চিত হয়। আবার কখনও উভয় কারণেই ত্রুটি হতে পারে। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর মধ্যে এর উদাহরণ হলো একটি নির্মিত ঘর; এটি একটি যৌগিক বিষয়, যা কখনও বিন্যাসের কাঠামোর ত্রুটির কারণে সমস্যাযুক্ত হয়, যেমন দেয়ালগুলো বাঁকা হওয়া বা ছাদ মাটির খুব কাছাকাছি নিচু হওয়া। ফলে কাঠামোগত দিক থেকে এটি ত্রুটিপূর্ণ হয়, যদিও পাথর, কড়িকাঠ এবং অন্যান্য উপকরণ সঠিক থাকে। আবার কখনও ঘরটি তার চতুষ্কোণ আকৃতি এবং দেয়াল ও ছাদের বিন্যাসের দিক থেকে সঠিক কাঠামোর হয়, কিন্তু কড়িকাঠের নড়বড়ে অবস্থা বা ইটের ভঙ্গুরতার কারণে ত্রুটি দেখা দেয়। কিয়াস, সংজ্ঞা এবং প্রতিটি যৌগিক বিষয়ের বিধান এমনই। এতে ত্রুটি হয় তার গঠন ও বিন্যাসের কাঠামোর মধ্যে থাকে, অথবা সেই মূল উপাদানের মধ্যে থাকে যার ওপর ভিত্তি করে গঠনটি তৈরি হয়; যেমন জামার ক্ষেত্রে কাপড়, চেয়ারের ক্ষেত্রে কাঠ, দেয়ালের ক্ষেত্রে ইট এবং ছাদের ক্ষেত্রে কড়িকাঠ। যেভাবে ত্রুটিমুক্ত ঘর নির্মাণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি প্রথমে একক উপকরণগুলো প্রস্তুত করতে বাধ্য হয়, যেমন কড়িকাঠ, ইট ও কাদা; অতঃপর যখন সে ইট তৈরি করতে চায়, তখন তার একক উপাদানগুলো যেমন পানি, মাটি এবং ছাঁচ প্রস্তুত করতে হয় যার মধ্যে ইট ঢালাই করা হয়। সুতরাং সে প্রথমে একক অংশগুলো থেকে শুরু করে, তারপর সেগুলো যুক্ত করে এবং এরপর পুরো যৌগিক কাঠামোটি গড়ে তোলে; এভাবেই কাজের শেষ পর্যন্ত চলে। ঠিক তেমনিভাবে, কিয়াস বা যুক্তির অন্বেষণকারীর উচিত কিয়াসের বিন্যাস, তার কাঠামো এবং যে বিষয়ের ওপর বিন্যাস ও কাঠামো তৈরি হচ্ছে—অর্থাৎ ভূমিকাগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা। কিয়াস গঠিত হওয়ার জন্য ন্যূনতম দুটি ভূমিকার প্রয়োজন, অর্থাৎ এমন দুটি জ্ঞান যাতে সত্যারোপ বা মিথ্যারোপ করা সম্ভব হয়। আর একটি ভূমিকা গঠিত হওয়ার জন্য ন্যূনতম দুটি পরিচিত বিষয়ের প্রয়োজন, যার একটি সংবাদ হিসেবে (বিধেয়) এবং অন্যটি যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে (উদ্দেশ্য) অথবা বর্ণনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং কিয়াস দুটি ভূমিকায় বিভক্ত হলো এবং প্রতিটি ভূমিকা দুটি পরিচিত বিষয়ে বিভক্ত হলো যার একটি অন্যটির সাথে সম্পর্কিত। প্রতিটি একক বিষয়ই একটি অর্থ প্রকাশ করে এবং অনিবার্যভাবে তা শব্দের মাধ্যমে নির্দেশিত হয়। অতএব, একক অর্থ ও তার প্রকারভেদ এবং একক শব্দ ও তার নির্দেশের পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনা করা অপরিহার্য। অতঃপর যখন আমরা একক শব্দ ও একক অর্থ বুঝতে পারব

(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২০৬)
ألفنا معنيين وجعلناهما مقدمة، وننظر في حكم المقدمة وشرطها ثم نجمع مقدمتين فنصوغ منهما قياساً، وننظر في كيفية الصياغة الصحيحة. وكل من أراد أن يعرف القياس بغير هذا الطريق فقد طمع في محال، وكان كمن طمع في أن يكتب الخطوط المنظومة وهو لا يحسن كتبة الكلمات، أو يطمع أن يكتب الكلمات وهو لا يحسن كتبة الحروف المفردة، وهكذا القول في كل مركب. فإن أجزاء المركب تتقدم على المركب بالضرورة حتى لا يوصف الله تعالى بالقدرة على خلق العالم المركب دون الآحاد، كما لا يوصف بالقدرة على تعليم كتبة الخطوط المنظومة دون تعليم الكلمات والحروف، فهذه الصورة ينبغي أن تشمل كلامنا.

 

‌‌القياس على ثلاثة فنون

 

‌‌‌‌الفن الأول: في السوابق

وهو النظر في الألفاظ ثم في المعاني ثم في تأليف مفردات المعاني إلى أن تصير علماً تصديقياً يصلح أن يجعل مقدمة.

 

‌‌الفن الثاني: النظر في كيفية تأليف المقدمات

لينصاغَ منها صحيح النظم وهو في المقاصد، فإن ما قبله استعداد له. ويشتمل هذا الفن على مدارك العلوم اليقينية الأولية التي منها التأليف ونسبتها إلى القياس نسبة الثوب إلى القميص.

 

‌‌الفن الثالث: في لواحق ينعطف عليها بالكشف عند الفراغ منها تبتدي بالنظر في الحدود وشروطها.
আমরা দুটি অর্থকে সংযুক্ত করেছি এবং সেগুলোকে ভূমিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছি। আমরা ভূমিকার বিধান ও শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করব, এরপর দুটি ভূমিকাকে একত্রে যুক্ত করে তা থেকে একটি কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) গঠন করব এবং সঠিক গঠনপদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করব। যে ব্যক্তি এই পথ ব্যতীত কিয়াস জানতে চায়, সে অসম্ভব কিছু প্রত্যাশা করল। সে এমন ব্যক্তির ন্যায় যে সুশৃঙ্খল লিপি লিখতে চায় অথচ সে শব্দ লিখতে জানে না, অথবা শব্দ লিখতে চায় অথচ সে একক বর্ণগুলো লিখতে জানে না। প্রতিটি যৌগিক বিষয়ের ক্ষেত্রে কথাটি এমনই। কেননা যৌগিক জিনিসের অংশসমূহ আবশ্যিকভাবেই সম্পূর্ণ যৌগিক রূপটির পূর্বে অবস্থান করে। এমনকি মহান আল্লাহকেও একক উপাদানসমূহ সৃষ্টি করা ব্যতীত যৌগিক জগৎ সৃষ্টিতে সক্ষম বলে বিশেষায়িত করা হয় না, যেমন শব্দ ও বর্ণ শিক্ষা দেওয়া ব্যতীত সুশৃঙ্খল লিপি শিক্ষা প্রদানে সক্ষম বলে তাঁকে বিশেষায়িত করা হয় না। সুতরাং এই চিত্রটি আমাদের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।

 

‌‌কিয়াস তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল

 

‌‌‌‌প্রথম বিষয়: পূর্ববর্তী অনুষঙ্গসমূহ প্রসঙ্গে

আর তা হলো শব্দসমূহ নিয়ে আলোচনা, এরপর অর্থসমূহ নিয়ে, তারপর অর্থের একক উপাদানগুলোকে বিন্যস্ত করা—যতক্ষণ না তা এমন একটি প্রত্যায়নমূলক জ্ঞান হিসেবে পরিণত হয় যা ভূমিকা হিসেবে ব্যবহারের যোগ্য হয়।

 

‌‌দ্বিতীয় বিষয়: ভূমিকাসমূহ বিন্যস্ত করার পদ্ধতির পর্যালোচনা

যাতে তা থেকে সঠিক বিন্যাস গঠিত হতে পারে এবং এটিই মূল উদ্দেশ্য, আর এর পূর্বের অংশটি এর জন্য প্রস্তুতিস্বরূপ। এই বিষয়টি এমন প্রাথমিক নিশ্চিত জ্ঞানসমূহের উৎসকে অন্তর্ভুক্ত করে যেখান থেকে বিন্যাসটি তৈরি হয়; কিয়াসের সাথে এর সম্পর্ক হলো কাপড়ের সাথে কামিজের সম্পর্কের মতো।

 

‌‌তৃতীয় বিষয়: পরবর্তী অনুষঙ্গসমূহ প্রসঙ্গে, যা আলোচনার শেষে উন্মোচিত হয় এবং সংজ্ঞার্থ ও তার শর্তাবলি পর্যালোচনার মাধ্যমে শুরু হয়।
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২০৭)
الفن الأول

 

‌‌في السوابق وفيه ثلاثة فصول

فصل في الألفاظ.

فصل في المعاني.

فصل في تأليف المعاني.

حتى تصير علماَ يتطرق إليه التصديق والتكذيب.

 

‌‌الفصل الأول:

‌‌في دلالة الألفاظ على المعاني

إعلم وفقك الله أن الكلام في هذا الفن يطول ولكن لا أتعرض لما أظنك مستقلَا بإدراكه من نفسك، وأقتصر على التنبيه على تقسيمات تثور من إهمالها أغاليط كثيرة.

القسم الأول: إن دلالة اللفظ على المعنى ينحصر في ثلاثة أوجه: وهي المطابقة والتضمن والالتزام. فإن لفظة البيت تدل على معنى البيت بطريق المطابقة، وتدل على السقف وحده بطريق التضمن. فإن البيت يتضمن السقف لأن البيت عبارة عن السقف والجدران. وكما يدل لفظ الفرس على الجسم إذ لا فرس إلا وهو جسم، إذ وجدنا الجسمية في الفرسية مهما قلنا فرس. فلنصطلح على تسمية هذا الوجه تضمّناً وعلى تسمية الوجه الأول مطابقة.

وأما طريق الالتزام: فهو كدلالة لفظ السقف على الحائط، فإنه غير موضوع للحائط وضع لفظ لحائط حتى يكون مطابقاً له، ولا بتضمن. إذ ليس الحائط جزءاً من السقف كما كان السقف جزءاً من نفس البيت، وكما كان الحائط جزءاً من نفس البيت، لكنه كالرفيق اللازم الخارج من ذات السقف الذي لا ينفك السقف عنه، فدلالته على نمط أخر. فلنخترع له لفظاً آخر وهو الالتزام والاستتباع. وإياك أن تستعمل في نظر العقل من الألفاظ ما يدل بطريق الالتزام أو تمكن خصمك بل اقتصر على ما يدل بطريق المطابقة أو التضمن. فإن الدلالة بطريق الالتزام لا
প্রথম কলা

 

‌‌উপক্রমণিকা প্রসঙ্গে, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে

শব্দাবলী সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

অর্থসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

অর্থসমূহের বিন্যাস সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

যাতে এটি এমন এক জ্ঞানে পরিণত হয় যাতে সত্যায়ন ও মিথ্যায়নের অবকাশ থাকে।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ:

‌‌অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশক হওয়া প্রসঙ্গে

জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাকে তাওফিক দান করুন, এই কলায় আলোচনা দীর্ঘ হতে পারে, তবে তুমি যা নিজ থেকেই উপলব্ধি করতে সক্ষম বলে আমি মনে করি, আমি তা নিয়ে আলোচনা করব না। আমি কেবল সেই বিভাগগুলো সম্পর্কে সতর্ক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব, যা উপেক্ষা করার কারণে অনেক ভুলভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

প্রথম ভাগ: অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশক হওয়া তিনটি প্রকারে সীমাবদ্ধ: সেগুলো হলো পূর্ণ সামঞ্জস্য, অন্তর্ভুক্তি এবং অপরিহার্যতা। উদাহরণস্বরূপ, 'ঘর' শব্দটি ঘরের পূর্ণ অর্থের ওপর পূর্ণ সামঞ্জস্য পদ্ধতিতে নির্দেশ করে, এবং এটি কেবল 'ছাদ'-এর ওপর অন্তর্ভুক্তি পদ্ধতিতে নির্দেশ করে। কেননা ঘর ছাদকে অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ ঘর বলতে ছাদ ও দেয়ালের সমষ্টিকে বোঝায়। ঠিক তেমনি 'ঘোড়া' শব্দটি 'দেহের' ওপর নির্দেশ করে; কারণ এমন কোনো ঘোড়া নেই যা দেহধারী নয়। ফলে আমরা যখনই 'ঘোড়া' বলি, তখনই ঘোড়াত্বের মধ্যে দেহত্ব বিদ্যমান পাই। অতএব আমরা এই প্রকারটির নাম দিই 'অন্তর্ভুক্তি' এবং প্রথম প্রকারটির নাম দিই 'পূর্ণ সামঞ্জস্য'।

আর অপরিহার্যতা পদ্ধতিটি হলো: যেমন 'ছাদ' শব্দটি 'দেয়ালের' ওপর নির্দেশ করা। কারণ 'ছাদ' শব্দটি দেয়ালের জন্য সেভাবে গঠিত হয়নি যেভাবে 'দেয়াল' শব্দটি দেয়ালের জন্য গঠিত, যাতে এটি তার সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে; আবার এটি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেও নয়। কেননা দেয়াল ছাদের অংশ নয়, যেমনটি ছাদ ঘরের অংশ ছিল কিংবা দেয়াল ঘরের অংশ ছিল; বরং এটি ছাদের সত্তার বাইরের এমন এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ যা থেকে ছাদ পৃথক হতে পারে না। ফলে এর নির্দেশ করার ধরনটি ভিন্ন। সুতরাং আমরা এর জন্য অন্য একটি শব্দ উদ্ভাবন করি, যা হলো 'অপরিহার্যতা' এবং 'অনুসৃতি'। বুদ্ধিভিত্তিক বিচার-বিশ্লেষণে এমন শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকো যা অপরিহার্যতা পদ্ধতিতে নির্দেশ করে, অথবা তোমার প্রতিপক্ষকেও তেমনটি করতে দিও না; বরং তুমি কেবল সেই সব শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকো যা পূর্ণ সামঞ্জস্য বা অন্তর্ভুক্তির পদ্ধতিতে নির্দেশ করে। কেননা অপরিহার্যতা পদ্ধতিতে শব্দের নির্দেশ...
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২০৮)
تنحصر في حدٍ، إذ الحائط يلزم السقف والأس يلزم الحائط والأرض تلزم الأس ويتداعى هذا إلى غير نهاية.

القسم الثاني: إن اللفظ بالإضافة إلى خصوص المعنى وشموله ينقسم إلى لفظ يدل على عين واحدة نسميه معيناً وإلى ما يدل على أشياء كثيرة تتفق في معنى واحد نسقيه مطلقاً، مثال الأول قولك زيد وهذا الفرس وهذه الشجرة، فإنه لا يدل إلا على شخص معيّن، وكذلك قولك هذا السواد وهذه الحركة وحده إنه اللفظ الذي لا يمكن أن يكون مفهومه إلا ذلك الواحد بعينه. فإن قصد اشتراك غيره فيه منع نفس مفهوم اللفظ منه. وأما المطلق فهو الذي لا يمنع نفس مفهوم اللفظ من وقوع الاشتراك في معناه، كقولك السواد والحركة والإنسان، وبالجملة الإسم المفرد في لغة العرب إذا أُدخل عليه الألف واللام كان لاستغراق الجنس. وقد يسقى لفظاً عاماَ، ويقال الألف واللام للعموم، فإن قيل كيف يستقيم هذا ومن يقول الإله أو الشمس أو الأرض فقد أدخل الألف واللام، ولا يدل اللفظ إلا على وجود معيّن خاص لا شركة فيه.

فاعلم أن هذا الوهم غلط فان امتناع الشركة هاهنا ليس لنفس اللفظ بل الذي وضع اللغة لو جوّز في الآلهة عدداً لكان يرى هذا اللفظ عاما في الالهة، فحيث امتنع الشمول لم يكن لوضع اللفظ بل لاستحالة وجود إلَه ثان، فلم يكن المانع نفس مفهوم اللفظ يل المانع في الشمس أن الشمس في الوجود واحدة. فإن فرضنا عوالم وفي كل واحد شمس وأرض كان قولنا الشمس والأرض شاملاً للكل فتأمل هذا. فإن من له قدم في جملة الأمور النظرية ولا يفرّق بين قوله السواد وبين قوله الشمس وبين قوله هذه الشمس عظم شهوة في النظريات من حيث لا يدري.

القسم الثالث: إن الألفاظ المتعدّدة بالإضافة إلى المسميات المتعددة على أربعة منازل، فلنخترع لها أربعة ألفاظ: وفي المترادفة والمتباينة والمتواطئة والمشتركة.

أما المترادفة: فنعني بها الألفاظ المختلفة في الصيغة المتواردة على مسمى واحد كالخمر والعقار والليث والأسد والسهم والنشاب، وبالجملة كل إسمين عبّرت بهما عن معنى واحد فهما مترادفان.

وأما المتباينة: فنعني بها الأسامي المختلفة المعاني كالسواد والقدرة والأسد والمفتاح والسماء والشجر والأرض وسائر الأسامي، وهي الأكثر. وأما المتواطئة: فهي الأسامي التي تطلق على أشياء متغايرة بالعدد ولكنها متّفقة بالمعنى الذي وضع له، كاسم الرجل فإنه يطلق على زيد وعمرو وبكر وخالد وكاسم الجسم فإنه يطلق على الإنسان والسماء والأرض لاشتراك هذه الأعيان في معنى الجسمية التي
একটি সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে; যেহেতু দেয়াল ছাদকে অপরিহার্য করে, ভিত্তি দেয়ালকে অপরিহার্য করে এবং মাটি ভিত্তিকে অপরিহার্য করে, আর এটি অসীম পর্যন্ত ধাবিত হয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অর্থের নির্দিষ্টতা ও ব্যাপকতার নিরিখে শব্দসমূহ এমন শব্দে বিভক্ত হয় যা একটি মাত্র সত্তাকে নির্দেশ করে, তাকে আমরা নির্দিষ্ট বলি; আর যা এমন অনেক বস্তুকে নির্দেশ করে যারা একটি অর্থে একীভূত হয়, তাকে আমরা নিঃশর্ত বলি। প্রথমটির উদাহরণ হলো আপনার কথা: যাইদ, এই ঘোড়া এবং এই গাছ; কারণ এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকেই নির্দেশ করে। অনুরূপভাবে আপনার কথা: এই কালো রং এবং এই গতি—এটি এমন শব্দ যার মর্ম কেবল সেই নির্দিষ্ট একক সত্তা ছাড়া আর কিছু হওয়া সম্ভব নয়। যদি এতে অন্য কোনো কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা করা হয়, তবে শব্দের মর্মই তা হতে বাধা দেয়। আর নিঃশর্ত শব্দ হলো তা, যার অর্থের মধ্যে অংশীদারিত্ব ঘটা থেকে শব্দের মূল অর্থ বাধা দেয় না, যেমন আপনার কথা: কালো রং, গতি এবং মানুষ। সারকথা হলো, আরবি ভাষায় একবচন বিশেষ্যের শুরুতে যখন আলিফ ও লাম যুক্ত হয়, তখন তা সমগ্র জাতিকে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। একে সাধারণ শব্দও বলা হয় এবং বলা হয় যে আলিফ ও লাম ব্যাপকতা বোঝায়। যদি প্রশ্ন করা হয়: যারা উপাস্য বা সূর্য বা পৃথিবী বলে তারা তো আলিফ ও লাম যুক্ত করেছে, অথচ এই শব্দগুলো তো কেবল একটি নির্দিষ্ট অস্তিত্বকেই নির্দেশ করে যাতে কোনো অংশীদারিত্ব নেই, তবে তা কীভাবে সঠিক হয়?

জেনে রাখুন যে, এই ধারণাটি ভুল। কারণ এখানে অংশীদারিত্বের প্রতিবন্ধকতা শব্দের নিজস্ব কারণে নয়। বরং ভাষা প্রণেতা যদি উপাস্যের ক্ষেত্রে একাধিক সংখ্যা অনুমোদন করতেন, তবে তিনি এই শব্দটিকে উপাস্যদের মধ্যে সাধারণ হিসেবেই গণ্য করতেন। সুতরাং যেখানে ব্যাপকতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তা শব্দের সংজ্ঞায়নের কারণে নয়, বরং দ্বিতীয় কোনো উপাস্যের অস্তিত্ব অসম্ভব হওয়ার কারণে। অতএব শব্দের নিজস্ব মর্ম এখানে প্রতিবন্ধক নয়; বরং সূর্যের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হলো বাস্তবে সূর্য একটিই। আমরা যদি একাধিক জগতের কল্পনা করি এবং প্রতিটিতে একটি করে সূর্য ও পৃথিবী থাকে, তবে আমাদের 'সূর্য' ও 'পৃথিবী' বলাটি সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করত; সুতরাং এটি নিয়ে চিন্তা করুন। তাত্ত্বিক বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে যার সামান্যতম পদচারণা (পা) আছে, সে যদি 'কালো রং', 'সূর্য' এবং 'এই সূর্য'—এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে না পারে, তবে সে না জেনেই তাত্ত্বিক বিষয়ে বড় ধরণের বিভ্রান্তিতে নিপতিত হবে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: একাধিক নামধারী বস্তুর প্রেক্ষিতে একাধিক শব্দাবলি চার স্তরে বিন্যস্ত। আমরা এর জন্য চারটি পরিভাষা উদ্ভাবন করছি: সমার্থক, পৃথক অর্থবোধক, সাদৃশ্যপূর্ণ এবং উভয়ার্থবোধক।

সমার্থক বলতে আমরা সেই শব্দগুলোকে বুঝি যেগুলোর রূপ ভিন্ন হলেও একই নামধারী বস্তুর ওপর আপতিত হয়; যেমন: মদ ও আকার, সিংহ ও আসাদ, এবং তীর ও নাশশাব। মোদ্দা কথা, যে দুটি নাম দ্বারা আপনি একটি অর্থকেই প্রকাশ করেন, সেগুলোই সমার্থক।

পৃথক অর্থবোধক বলতে আমরা সেই নামগুলোকে বুঝি যেগুলোর অর্থ ভিন্ন ভিন্ন; যেমন: কালো রং, ক্ষমতা, সিংহ, চাবি, আকাশ, গাছ, পৃথিবী এবং অন্যান্য সকল নাম। আর এগুলোর সংখ্যাই সর্বাধিক। সাদৃশ্যপূর্ণ হলো সেই নামগুলো যা সংখ্যায় ভিন্ন কিন্তু যে অর্থের জন্য শব্দটি তৈরি করা হয়েছে তাতে এক—এমন বস্তুর ওপর প্রয়োগ করা হয়; যেমন: 'ব্যক্তি' নামটি, যা যাইদ, আমর, বকর ও খালিদ—সবার ওপর প্রয়োগ করা হয়। অথবা 'দেহ' শব্দটি, যা মানুষ, আকাশ ও পৃথিবীর ওপর প্রয়োগ করা হয়; কারণ এই সত্তাগুলো দেহত্বের সেই অর্থের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সমান যা...
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২০৯)
وضع بإزائها. فكل اسم مطلق ليس بمعين كما سبق فانه يُطلق على آحاد مسمّياته الكثيرة بطريق التواطئ. فاسم اللون للبياض والسواد بطريق التواطئ، فأنها متفقة في المعنى الذي سُقي به اللون لوناً وليس بطريق الاشتراك البتة.

وأما المشتركة: فهي الأسامي التي تُطلق على، مسمّيات مختلفة لا تشترك بالحد والحقيقة، كاسم العين للعضو الباصر وللميزان وللموضع الذي ينفجر منه الماء، وهي العين الفوَّارة، وللذهب والشمس وكاسم المشتري لقابل عقد البيع والكوكب الذي هو في السماء المعدود عند المنجمين من السعود. ولقد ثار من التباس المشتركة بالمتواطئة غلطٌ كثير في العقليات، حتى ظن جماعة من ضعفاء العقول أن السواد لا يشارك البياض في اللونية إلا من الإسم، وأن ذلك كمشاركة الذهب للحدقة إلباصرة في اسم العين وكمشاركة قابل البيع للكوكب في اسم المشتري. وبالجملة الاهتمام بتمييز المشتركة عن المتواطئة مهم فلنزد له شرطاً. ونقول الإسم المشترك قد يدل على المختلفين كما ذكرنا وقد بدل على المتضادين ولا شركة بينهما البتة، كالجليل للحقير والخطير والناهل للعطشان والريان والجون للأسود والأبيض والقرء للطهر والحيض، وأيضاً المشترك قد يكون مشككاً قريب الشبه من المتواطئ ويعسر الفرق على الذهن وإن كان في غاية الصفاء، ولنسّم ذلك متشابهاً، وذلك مثل اسم النور الواقع على الضوء الذي يدرك بحاسة البصر من الشمس والنار والواقع على العقل الذي به يهتدي في الغوامض ولا مشاركة بين حقيقة ذات العقل والضوء إلا كمشاركة السماء للإنسان في كونه جسما، إذ الجسمية فيهما لا تختلف البتة مع أنه ذاتي لهما ويقرب من لفظ النور لفظ الحي على النبات والحيوان، فإنه بالاشتراك المحض، إذ يُراد به من النبات المعنى الذي به نماؤه ويُراد به من الحيوان المعنى الذي به يحسّ ويتحرك بالإِرادة وإطلاقه على الباري جلَّ وعلا إذا تأملت عرفت بأنه لوجه ثالث يخالف الأمرين جميعا. وأمثال هذه ينابيع الأغاليط وساشرحه زيادة شرح في اللواحق عند حصر مدارك الغلط في القياس.

" مغلطة أخرى " قد تلتبس المتباينة بالمترادفة وذلك مهما أطلقت أسامي مختلفة على شيء ولكن باعتبارات مختلفة ربما ظن أنها مترادفة كالسيف والمهنّد والصارم، فإن المهنّد يدلّ على السيف مع زيادة نسبة إلى الهند، يخالف إذاً مفهومه مفهوم السيف والصارم والصارمُ يدلّ على السيف مع صفة الحدة والقطع، لا كالليث والأسد فإن ثبت ان الليث يدل على صفة ليست في الأسد التحق بالمتباينة ولم يكن مع المترادفة، وهذا كما أنا في اصطلاحاتنا النظرية نفتكر إلى تبديل الأسامي على شيء واحد عند تبديل
স্থাপন করা হয়েছে। পূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি সাধারণ বিশেষ্য যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে না, তা তার অন্তর্ভুক্ত অসংখ্য বিষয়ের ওপর 'একার্থবোধক' পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হয়। যেমন 'রঙ' শব্দটি সাদা ও কালোর ক্ষেত্রে একার্থবোধক পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়; কারণ তারা সেই অর্থের ওপর একমত যার কারণে রঙকে 'রঙ' বলা হয় এবং এটি কোনোভাবেই 'অনেকার্থবোধক' পদ্ধতিতে নয়।

আর 'অনেকার্থবোধক' শব্দগুলো হলো সেই সমস্ত নাম যা এমন ভিন্ন ভিন্ন সত্তার ওপর প্রয়োগ করা হয় যাদের সংজ্ঞা এবং হাকীকত বা বাস্তবতা এক নয়। যেমন 'আইন' শব্দটি চাক্ষুষ অঙ্গের (চোখ) জন্য, তুলাদণ্ডের (দাঁড়িপাল্লা) জন্য এবং যেখান থেকে পানি প্রবাহিত হয় অর্থাৎ প্রবহমান ঝরনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি সোনা এবং সূর্যের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। অনুরূপভাবে 'মুশতারী' শব্দটি ক্রয় চুক্তির গ্রহীতা (ক্রেতা) এবং আকাশের সেই গ্রহের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা জ্যোতির্বিদদের নিকট শুভ গ্রহ হিসেবে গণ্য। অনেকার্থবোধক শব্দের সাথে একার্থবোধক শব্দের সংমিশ্রণ ঘটার ফলে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে অনেক ভুলের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি একদল দুর্বল বুদ্ধিসম্পন্ন লোক মনে করেছে যে, কালো বর্ণ সাদা বর্ণের সাথে রঙ হওয়ার ক্ষেত্রে কেবল নাম ছাড়া আর কোনো বিষয়ে অংশীদার নয়। এটি অনেকটা চোখের সাথে সোনার 'আইন' নাম ধারণ করার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের মতো, কিংবা ক্রেতার সাথে নক্ষত্রের 'মুশতারী' নাম ধারণের অংশীদারিত্বের মতো। মোটকথা, একার্থবোধক শব্দ থেকে অনেকার্থবোধক শব্দকে পৃথক করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, তাই আমরা এর জন্য একটি শর্ত যোগ করি। আমরা বলি: অনেকার্থবোধক শব্দ কখনো যেমন আমরা উল্লেখ করেছি—ভিন্ন ভিন্ন জিনিসের ওপর প্রমাণ দেয়, আবার কখনো তা দুটি পরস্পরবিরোধী জিনিসের ওপরও প্রমাণ দেয় যাদের মধ্যে কোনো সাধারণ অংশীদারিত্ব নেই। যেমন 'জালীল' শব্দটি তুচ্ছ ও মহান উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়; 'নাহিল' শব্দটি তৃষ্ণার্ত ও তৃপ্ত উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়; 'জাওন' শব্দটি কালো ও সাদা উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং 'কুরু' শব্দটি পবিত্রতা ও ঋতুস্রাব উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার অনেকার্থবোধক শব্দ কখনো কখনো 'সংশয়যুক্ত' হতে পারে যা একার্থবোধক শব্দের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, ফলে মেধা অত্যন্ত প্রখর হলেও এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা একে 'সদৃশ' নাম দিতে পারি। যেমন 'নূর' (আলো) শব্দটি সেই আলোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা সূর্য ও আগুনের মাধ্যমে চাক্ষুষ ইন্দ্রিয়ে অনুভূত হয়, আবার এটি 'বুদ্ধি'-র ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যার মাধ্যমে জটিল বিষয়ে দিশা পাওয়া যায়। বুদ্ধির মূল সত্তা এবং আলোর মূল সত্তার মধ্যে আকাশ ও মানুষের মধ্যকার যেটুকু অংশীদারিত্ব তারা 'দেহ' হওয়ার ক্ষেত্রে ধারণ করে, তার বাইরে আর কোনো অংশীদারিত্ব নেই। কেননা উভয়ের ক্ষেত্রে দেহ হওয়া কোনোভাবেই ভিন্ন নয়, যদিও তা তাদের উভয়ের জন্য স্বীয় সত্তাগত বিষয়। নূর বা আলোর শব্দের নিকটবর্তী হলো উদ্ভিদ ও প্রাণীর ক্ষেত্রে 'জীবন্ত' শব্দের প্রয়োগ। এটি বিশুদ্ধ অনেকার্থবোধকতা; কারণ উদ্ভিদ দ্বারা সেই অর্থ উদ্দেশ্য যা দ্বারা তার বৃদ্ধি ঘটে, আর প্রাণী দ্বারা সেই অর্থ উদ্দেশ্য যা দ্বারা সে অনুভব করে এবং ইচ্ছানুসারে নড়াচড়া করে। আর মহান স্রষ্টার ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ নিয়ে চিন্তা করলে তুমি বুঝতে পারবে যে, তা এমন এক তৃতীয় বিষয়ের জন্য যা উল্লিখিত উভয় অর্থের চেয়ে ভিন্ন। এ জাতীয় শব্দগুলোই হলো ভুল-ভ্রান্তির উৎস, আর আমি কিয়াসের ক্ষেত্রে ভ্রান্তির স্থানগুলো আলোচনা করার সময় পরিশিষ্ট অংশে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করব।

« অন্য একটি বিভ্রান্তি » কখনো কখনো ভিন্নার্থক শব্দ সমার্থক শব্দের সাথে সংশয় তৈরি করতে পারে। এটি তখন ঘটে যখন একটি বিষয়ের ওপর বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্ন ভিন্ন নাম প্রয়োগ করা হয়, তখন হয়তো ধারণা করা হয় যে সেগুলো সমার্থক। যেমন: তরবারি, মুহান্নাদ ও সারিম। 'মুহান্নাদ' শব্দটি তরবারি বোঝানোর সাথে সাথে ভারতের সাথে এর সম্পর্কের আধিক্যকেও বোঝায়, ফলে এর মূল ধারণা তরবারি ও সারিম-এর ধারণা থেকে ভিন্ন। আবার 'সারিম' শব্দটি তরবারি বোঝানোর সাথে সাথে এর তীক্ষ্ণতা ও কর্তন করার গুণকেও বোঝায়। এটি লাইস ও আসাদ (সিংহ)-এর মতো নয়। যদি প্রমাণিত হয় যে 'লাইস' এমন কোনো গুণের ওপর প্রমাণ দেয় যা 'আসাদ'-এর মধ্যে নেই, তবে তা ভিন্নার্থকের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং সমার্থকের অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। এটি ঠিক তেমনই যেমনটি আমরা আমাদের তাত্ত্বিক পরিভাষাগুলোতে কোনো একটি বিষয়ের রূপান্তরের সময় নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি।
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২১০)
اعتباراته، كما إنا نسمّي العلم التصديقي الذي هو نسبة بين مفردين دعوى إذا تحدّى به المتحدّي ولم يكن عليه برهان وكان في مقابلة القائل خصم فان لم يكن في مقابلته خصم سقيناه قضية لأنه قض على شيء بشيء، فإن خاض في ترتيب قياس الدليل عليه سقيناه نتيجة، فإن استعمله دليلاً في طلب آمر آخر ورتّبه في أجزاء قياس سقيناه مقدمة وهذا ونظائره مما يذكر كثير.

" مغلطة أخرى " المشترك في الأصل هو الاسم الذي يعبّر به عن مسميين لا يكون موضوعا لأحدهما ومستعارا منه للآخر أو منقولاً منه إلى الآخر بل لا يكون أحدهما بأن يجعل أصلا والأخر منقولاً إليه أو مستعاراً منه باولى من نقيضه كلفظ المشتري، إذ لا يمكن أن يقال استعير الكوكب من العاقد أو العاقد من الكوكب أو وضع لأحدهما أولَا ثم حدث الثاني بعده.، وكذلك لفظ المفعول والفاعل فيما لا يختلف تصريفه كقولك اختار يختار اختياراً فهو مختار وذلك مختار، فالفاعل والمفعول لهما صيغة واحدة وليس اللفظ بأحدهما هو أولى من الآخر، وليس كذلك لفظ الأم ل (حوّاء) فإنها أم البشر، والأرض فإنها تسقى أم البشر ولكن الأول بالوضع والثاني بالاستعارة. ولا كذلك الألفاظ التي نقلت وغيّرت كلفظ المنافق والفاسق والكافر والملحد والصوم والصلاة وسائر الألفاظ الشرعية فإنها مشتركة لأمرين مختلفين، ولكن لبعضها أول ولبعضها ثان، أي منقول من البعض إلى البعض. فالأول منقول عنه والثاني منقول إليه. وقد حصل مقصود الاشتراك وإن كان على الترتيب، كما حصل في لفظ العاقد والكوكب وإن لم يكن على الترتيب، مثال الغلط في المشترك حتى تستدل به على غيره إن الحال ليس يحتمل استقصاء هذه المفاضة. م أما سمعت الشافعي رضي الله عنه في مسألة لمُكره يقول يُلزمُ القَصاص لأنه مُكْرَه مختار. ويكاد الذهن ينبو عن التصديق بالضدين فإنه محال. فنرى الفقهاءَ يعثرون فيه ولا يهتدون إلى حله وإنما ذلك لأن لفظ المختار مشترك، إذ قد يحمل لفظ المختار مرادفاً للفظ القادر ومساوياً له إذا قوبل بالذي لا قدرة له على الحركة الموجودة، كالمحمول فنقول هذا عاجز محمول هذا مختار قادر ويراد بالمختار القادر الذي يقدر على الفعل والترك، وهذا يصدق على المُكرَه. وقد يعبر بالمختار عمّن تخلى في استعمال قدرته ودواعي ذاته ولا تحرر دواعيه من خارج، وهذا يكذب على المُكرَه ونقيضه وهو أنه ليس بمختار يصدق عليه، فإذا صدق أنه مختار وصدق أنه ليس بمختار ولكن بشرط أن يكون مفهوم المختار المنفي غير مفهوم المختار المثبت. ولهذا نظائر في النظريات لا تحص تاهت بسببها عقول
এর দৃষ্টিভঙ্গিগুলো ভিন্ন; যেমন আমরা তাত্ত্বিক জ্ঞানকে—যা মূলত দুটি একক পদের মধ্যবর্তী একটি সম্বন্ধ—'দাবি' হিসেবে অভিহিত করি যখন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী একে চ্যালেঞ্জ করে অথচ এর সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থিত থাকে না এবং বক্তার বিপরীতে কোনো প্রতিপক্ষ বিদ্যমান থাকে। আর যদি তার বিপরীতে কোনো প্রতিপক্ষ না থাকে, তবে আমরা তাকে 'প্রতিজ্ঞা' বা 'প্রস্তাবনা' নাম দেই, কারণ এতে এক বস্তুর মাধ্যমে অন্য বস্তুর ওপর ফয়সালা করা হয়। অতঃপর যদি এর সপক্ষে দলীল বা প্রমাণের যৌক্তিক বিন্যাস করা হয়, তবে তাকে আমরা 'সিদ্ধান্ত' বলি। আর যদি একে অন্য কিছু অন্বেষণে দলীল হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং যুক্তির অংশ হিসেবে বিন্যস্ত করা হয়, তবে তাকে আমরা 'ভূমিকা' বা 'হেতু' হিসেবে অভিহিত করি। এ জাতীয় বিষয় এবং এর সদৃশ আরও অনেক কিছু উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

"অন্য একটি বিভ্রান্তি" মৌলিকভাবে অনেকার্থক শব্দ হলো সেই নাম যা দুটি নামধারী সত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেখানে শব্দটি কোনো একটির জন্য মৌলিকভাবে নির্ধারিত হয়ে অন্যটির জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, কিংবা একটি থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরিত হয় না। বরং এর অবস্থা এমন নয় যে, কোনো একটিকে মূল হিসেবে গণ্য করা হবে এবং অন্যটিকে তার বিপরীতে স্থানান্তরিত বা রূপক হিসেবে গণ্য করা হবে; যেমন 'মুশতারি' (ক্রেতা বা বৃহস্পতি গ্রহ) শব্দটি। কেননা এখানে এমনটি বলা সম্ভব নয় যে, গ্রহের নামটি চুক্তিকারীর নিকট থেকে রূপক হিসেবে নেওয়া হয়েছে, অথবা চুক্তিকারীর নামটি গ্রহ থেকে নেওয়া হয়েছে, কিংবা শব্দটিকে প্রথমে কোনো একটির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয়টি উদ্ভূত হয়েছে। অনুরূপভাবে, যে সকল শব্দের রূপান্তরে পরিবর্তন হয় না সেগুলোর কর্তা এবং কর্মের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; যেমন আপনার উক্তি 'পছন্দ করা', সুতরাং সে হলো পছন্দকারী এবং সেটিও পছন্দকৃত। এখানে কর্তা ও কর্ম উভয়ের রূপ একই, আর শব্দটির ক্ষেত্রে কোনো একটিকে অপরটির চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে 'মা' শব্দটি হাওয়ার ক্ষেত্রে এমন নয়; কেননা তিনি হলেন মানবজাতির জননী, আবার জমিনকেও বলা হয় যে সে মানবজাতির জননীকে সিক্ত করে—কিন্তু প্রথমটি মৌলিক নামকরণের মাধ্যমে আর দ্বিতীয়টি রূপক অর্থে। আবার ঐ সকল শব্দের মতোও নয় যা স্থানান্তরিত এবং পরিবর্তিত হয়েছে, যেমন মুনাফিক, ফাসিক, কাফির, নাস্তিক, রোজা, নামাজ এবং অন্যান্য শরয়ী শব্দসমূহ। এগুলো দুটি ভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে অনেকার্থক শব্দ, তবে এগুলোর কয়েকটির ক্ষেত্রে প্রথম অর্থ এবং কয়েকটির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অর্থ রয়েছে, অর্থাৎ এক অর্থ থেকে অন্য অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমটি হলো যা থেকে অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছে এবং দ্বিতীয়টি হলো যাতে অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছে। আর এখানে অনেকার্থকতার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে যদিও তা ক্রমানুসারী, যেমনটি ক্রেতা ও গ্রহ শব্দের ক্ষেত্রে ক্রমানুসারী না হয়েও অর্জিত হয়েছিল। অনেকার্থক শব্দের ক্ষেত্রে ভুলের উদাহরণ—যা দিয়ে অন্য কিছুর ওপর দলীল দেওয়া হয়—তা হলো, বর্তমান পরিস্থিতি এই বিস্তৃতিকে পূর্ণরূপে ধারণ করার সক্ষমতা রাখে না। আপনি কি ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) কে জবরদস্তিকৃত ব্যক্তির মাসআলায় বলতে শোনেননি যে, "তার ওপর কিসাস বা প্রতিশোধ বাধ্যতামূলক হবে, কারণ সে হলো জবরদস্তিকৃত স্বেচ্ছাকারী"? দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়কে সত্য বলে মেনে নিতে মন প্রায় অস্বীকার করে, কারণ তা অসম্ভব। আমরা দেখি ফকিহগণ এই বিষয়ে হোঁচট খান এবং এর সমাধানের পথ খুঁজে পান না। এটি মূলত এজন্য যে, 'স্বেচ্ছাকারী' শব্দটি অনেকার্থক। কারণ 'স্বেচ্ছাকারী' শব্দটি অনেক সময় 'সক্ষম' শব্দের সমার্থক ও সমান অর্থবোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয় যখন তাকে এমন ব্যক্তির বিপরীতে রাখা হয় যার নড়াচড়া করার কোনো ক্ষমতা নেই, যেমন যাকে বহন করে নেওয়া হচ্ছে। তখন আমরা বলি: এ ব্যক্তি অক্ষম-বাহিত, আর ঐ ব্যক্তি স্বেচ্ছাকারী-সক্ষম। এখানে 'স্বেচ্ছাকারী' বলতে এমন সক্ষম ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যে কাজ করা বা ছেড়ে দেওয়া—উভয়টিরই ক্ষমতা রাখে, আর এটি জবরদস্তিকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সত্য। আবার কখনো 'স্বেচ্ছাকারী' বলতে তাকে বোঝানো হয় যাকে তার নিজস্ব ক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ প্রেরণা প্রয়োগের জন্য স্বাধীন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাইরে থেকে তার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। এটি জবরদস্তিকৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে মিথ্যা প্রতিপন্ন হয় এবং এর বিপরীতটি—অর্থাৎ সে 'স্বেচ্ছাকারী' নয়—তার ক্ষেত্রে সত্য হয়। সুতরাং যখন সে 'স্বেচ্ছাকারী' হওয়া সত্য হয় এবং সে 'স্বেচ্ছাকারী' না হওয়াও সত্য হয়, তবে তা এই শর্তে যে, যে 'স্বেচ্ছাকারী' শব্দটিকে অস্বীকার করা হয়েছে তার অর্থ যেন ঐ 'স্বেচ্ছাকারী' শব্দ থেকে ভিন্ন হয় যাকে স্বীকার করা হয়েছে। তাত্ত্বিক বিষয়ে এর এমন অসংখ্য নজির রয়েছে যার কারণে বহু বুদ্ধিমান ব্যক্তি বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২১১)
الضعفاء فاستدل بهذا اليسير على الكثير. فإن الخال ليس يحتمل التطويل وأقنع بهذا القدر من النظر في دلالات الألفاظ وإن كان فيها مباحث سواه.

 

‌‌الفصل الثاني:

‌‌في النظر في المعاني المفردة

ولنقتصر فيه على ثلاث تقسيمات جلية: التقسيم الأول: إن المعاني التي يُدَلُ عليها بالألفاظ إذا نُسِبَ بعضها إلى بعض وُجِدَ إما مساوياَ لها وإما أعم منها وإما أخصّ منها، وهذا ممّا يحتاج إلى معرفته في القياس. فإذا نسبت الجسم إلى المتحيز وجدته مساويا لا يزيد ولا ينقص، إذ كل جسم متحيز وكل متحيّز جسم، هذا على رأي من يقول إن كل متحيز منقسم. وأما نحن فننسب التحيّز إلى الجوهر فنرى التحيز مساويا له. وأما إذا نسبنا الوجود إلى الجسم وجدناه أعم منه، فربّ موجود ليس بجسم. وأما إذا نسبنا الحركة إلى الجسم وجدناها أخص منه، مربّ جسم ليس بمتحرك بالفعل كالأرض عند عدم الزلزلة.

التقسيم الثاني: المعنى إذا نسب إلى المعنى وجدناه إما ذاتياً له ويُسقى صفة النفس وإما لازماً ويُسقى وصفاً لازماَ وإما عارضاً له لا يبعد أن ينفصل عنه في الوجود. ولا بدّ من إتقان هذه النسبة فإنها نافعة في القياس والحد جميعاً.

أما الذاتي: فإني أعني به كل شيء داخل في حقيقة الشيء وماهيته دخولاً لا يتصور فهم المعنى دون فهمه، وذلك كاللونية للسواد وكالجسمية في الفرس والشجر. فإن من فهم الشجر فقد فهم جسما مخصوصاً. فتكون الجسمية داخلة في ذات الشجرية دخولاً به قِوامها في الوجود والعقل على وجه لو قدّر عدمها لبطل وجود الشجر والفرس وما يجري هذا المجرى. ولا بدّ من إدراجه في حدّ الشيء فمن يحدّ النبات يلزمه أن يقول إنه جسم نامي لا محالة.

وأما الالتزام: فما لا يفارق الذات البتة ولكن فهم الحقيقة والماهية
দুর্বলদের জন্য; এই সামান্য আলোচনার দ্বারা আপনি অনেক বিষয়ের প্রমাণ গ্রহণ করুন। কেননা বর্তমান অবস্থা দীর্ঘ আলোচনার ভার সইতে পারবে না, তাই শব্দের অর্থগত নির্দেশনার এই আলোচনার ওপরই সন্তুষ্ট থাকুন, যদিও এ বিষয়ে আরও অন্যান্য আলোচনা রয়েছে।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

‌‌একক অর্থসমূহ পর্যালোচনার বিষয়ে

আর আমরা এক্ষেত্রে তিনটি স্পষ্ট বিভাজনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকব: প্রথম বিভাজন: শব্দ দ্বারা নির্দেশিত অর্থসমূহকে যখন একে অপরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, তখন তা হয় তার সমান (Musawi), অথবা তার চেয়ে ব্যাপকতর (A'amm), অথবা তার চেয়ে সংকীর্ণতর (Akhas) হিসেবে পাওয়া যায়। আর এটি এমন একটি বিষয় যা কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমানের ক্ষেত্রে জানা প্রয়োজন। সুতরাং আপনি যখন 'শরীর'কে (Jism) 'স্থান দখলকারী' (Mutahayyiz) হওয়ার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করবেন, তখন আপনি একে সমান পাবেন, যা বাড়েও না কমেও না। কারণ প্রতিটি শরীরই স্থান দখলকারী এবং প্রতিটি স্থান দখলকারীই হলো শরীর। এটি তাদের মতানুসারে যারা বলেন যে, প্রতিটি স্থান দখলকারীই বিভাজ্য। আর আমরা স্থান দখল করাকে মৌলিক সত্তার (Jawhar) সাথে সম্বন্ধযুক্ত করি, ফলে আমরা স্থান দখল করাকে তার সমান দেখতে পাই। আর যখন আমরা অস্তিত্বকে (Wujud) শরীরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করি, তখন আমরা একে অধিকতর ব্যাপক পাই। কারণ এমন অনেক অস্তিত্বশীল সত্তা রয়েছে যা শরীর নয়। আর যখন আমরা গতিকে শরীরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করি, তখন আমরা একে অধিকতর সংকীর্ণ পাই। কারণ এমন অনেক শরীর রয়েছে যা কার্যত গতিশীল নয়, যেমন ভূমিকম্পহীন অবস্থায় পৃথিবী।

দ্বিতীয় বিভাজন: একটি অর্থকে যখন অন্য অর্থের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, তখন আমরা তাকে হয় তার জন্য সত্তাগত (Dhati) হিসেবে পাই যাকে 'সিফাতে নাফস' (আত্মগত গুণ) বলা হয়; অথবা অবিচ্ছেদ্য (Lazim) হিসেবে পাই যাকে 'অবিচ্ছেদ্য গুণ' বলা হয়; অথবা একে আপতিক (Arid) হিসেবে পাই যা অস্তিত্বের ক্ষেত্রে সত্তা থেকে পৃথক হওয়া অসম্ভব নয়। আর এই সম্বন্ধটি যথাযথভাবে আয়ত্ত করা আবশ্যক, কারণ এটি কিয়াস (অনুমান) এবং হাদ্দ (সংজ্ঞা) উভয় ক্ষেত্রেই ফলপ্রসূ।

সত্তাগত (Dhati) বলতে আমি এমন প্রতিটি বিষয়কে বোঝাচ্ছি যা কোনো বস্তুর হাকিকত (প্রকৃত স্বরূপ) এবং তার মাহিয়্যাতের (সারসত্তা) অন্তর্ভুক্ত। এটি এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত যে, সেই বিষয়টি বোঝা ছাড়া মূল অর্থটি অনুধাবন করা কল্পনা করা যায় না। যেমন- কালো রঙের জন্য বর্ণময়তা এবং ঘোড়া ও বৃক্ষের জন্য শরীর হওয়া। কারণ যে ব্যক্তি বৃক্ষ বুঝেছে, সে মূলত একটি বিশেষ শরীরকেই বুঝেছে। সুতরাং শরীর হওয়া বিষয়টি বৃক্ষ হওয়ার সত্তার মধ্যে এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত যে, অস্তিত্ব ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে তার স্থায়িত্ব এরই ওপর নির্ভরশীল। এটি এমন পর্যায়ের যে, যদি তার অনুপস্থিতি কল্পনা করা হয়, তবে বৃক্ষ, ঘোড়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য জিনিসের অস্তিত্বও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর বস্তুর সংজ্ঞায় (Hadd) একে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। সুতরাং যে ব্যক্তি উদ্ভিদের সংজ্ঞা প্রদান করবে, তাকে অবশ্যই বলতে হবে যে এটি একটি বর্ধিষ্ণু শরীর।

আর অবিচ্ছেদ্যতা (Iltizam) হলো: যা সত্তা থেকে একেবারেই পৃথক হয় না, কিন্তু হাকিকত ও মাহিয়্যাত অনুধাবন করার ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২১২)
غير موقوف عليه، كوقوع الظل لشخص الفرس والنبات عند طلوع الشمس. فإن هذا أمر لازم لا يتصور أن يفارق وجوده عند من يعتر عن مجاري العادات باللزوم ويعتقده، ولكنه من توابع الذات ولوازمه وليس بذاتي له، وأعني به أن فهم كُنه حقيقته غير موقوف على فهم ذلك، بل الغافل عن وقوع الظل يفهم الفرس والنبات بل الجسم الذي هو أعم منه، ولم يخطر بباله ذلك، وكذلك كون الأرض مخلوقة وصف لازم للأرض لا تتصور مفارقته لها، ولكن فهم الأرض غير موقوف على كونها مخلوقة فقد يدرك حقيقة الأرض والسماء من لم يدرك بعدُ أنهما مخلوقتان. فإنا نعلم أولاً حقيقة الجسمية ثم نطلب بالدليل كونه مخلوقاً ولم يمكنا أن نعلم السماء والأرض ما لم نعلم الجسم.

وإما العارض فأعني به ما ليس من ضرورته أن يلازم بل تتصور مفارقته إما سريعا كحمرة الخجل أو بطيئا كصفرة الذهب، وربما لا يزول في الوجود كزرقة العواد وسواد الزنجي، ولكن يمكن رفعه في الوهم. وأما كون الأرض مخلوقة وكون الجسم الكثيف ذا طل مانع نور الشمس فلازم لا تتصور مفارقته. ومن مثارات الأغاليط الكثيرة التباس اللازم التابع بالذاتي فإنهما مشتركان في استحالة المفارقة واستقصاؤه في هذه العجالة غير ممكن البتة.

التقسيم الثالث: إن المعاني باعتبار أسبابها المدركة لها ثلاثة محسوسة ومتخيلة ومعقولة. ولنصطلح على تسمية سبب الإدراك قوة فنقول في حدقتك معنى تتميز به الحدقة عن الجبهة حتى صرت تبصر به، وإذا بطل ذلك من الأعمى بطل الإبصار، والحالة التي تدركها عند الإبصار شرطها وجود المبصر. فلو انعدم المبصر بقيت صورته في دماغه وتلك الصورة لا تفتقر إلى وجود المتخيل وعدمه لا ينفي الحالة المسمّاة تخيلاً وينفي الحالة المسمّاة إبصاراً، ولما كنت تحس في التخيل في دماغك لا في فخذك وبطنك فاعلم أن في هذا الدماغ غريزة وصفةَ بها تهيأ للتخيل وبها باين البطن والفخذ كما باينت العين الجبهة والعقب في الإبصار بمعنى اختص به لا محالة. والصبي في أول نشؤه تقوى به قوة الإبصار دون قوة التخيّل. ولذلك إذا أولع بشيء فغيبته عنه وشغلته بغيره اشتغل به، وربما يحدث في الدماغ مرض يفسد القوة الحافظة للخيال ولا يفسد الإبصار فيرى الشيء، ولكن كلما يغيب عن عينه فينساه، وهذه القوة تشارك البهيمة فيها الإنسان، ولذلك مهما رأى الفرس الشعير تذكّر صورته التي كانت له في دماغه فعرف أنه موافق وأنه مستلذ لديه فبادر إليه، ولو كانت الصورة لا تثبت في خياله لكانت رؤيته له ثانياً كرؤيته له أولا، حتى لا يبادر إليه ما لم يجده بالذوق مرة
যা তার ওপর নির্ভরশীল নয়, যেমন সূর্যোদয়ের সময় ঘোড়া বা উদ্ভিদের ছায়া পড়া। কারণ এটি একটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়, যার অস্তিত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া কল্পনা করা যায় না তাদের নিকট যারা স্বভাবজাত নিয়মের ধারাকে অপরিহার্য বলে মনে করেন এবং তাতে বিশ্বাস করেন। তবে এটি সত্তার অনুগামী ও অপরিহার্য বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু এটি তার জন্য সত্তাগত নয়। এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো যে, তার প্রকৃত স্বরূপ বা হাকিকত বোঝা এর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং ছায়া পড়ার বিষয়ে গাফেল ব্যক্তিও ঘোড়া বা উদ্ভিদ বুঝতে পারে, এমনকি দেহ যা এর চেয়েও ব্যাপকতর তাও বুঝতে পারে, অথচ তার মনে ওই বিষয়টি উদয়ও হয় না। তদ্রূপ পৃথিবীর 'সৃষ্ট' হওয়া পৃথিবীর জন্য একটি অপরিহার্য গুণ যা থেকে একে পৃথক করা কল্পনা করা যায় না, কিন্তু পৃথিবী বোঝা সেটি সৃষ্ট হওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। কারণ পৃথিবী ও আকাশের হাকিকত এমন ব্যক্তিও উপলব্ধি করতে পারে যে এখনো বুঝতে পারেনি যে তারা সৃষ্ট। কেননা আমরা প্রথমে দৈহিকতার হাকিকত জানি, অতঃপর দলিলের মাধ্যমে তার সৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি অনুসন্ধান করি। আর দেহ সম্পর্কে না জানা পর্যন্ত আকাশ ও পৃথিবী সম্পর্কে জানা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

আর আগন্তুক গুণ বলতে আমি তাকে বোঝাচ্ছি যা অপরিহার্যভাবে লেগে থাকা জরুরি নয়, বরং তার বিচ্ছিন্ন হওয়া কল্পনা করা যায়; হতে পারে তা দ্রুত অপসৃয়মাণ যেমন লজ্জার লাল আভা, অথবা ধীরস্থায়ী যেমন স্বর্ণের হলদেটে ভাব। আবার কখনো অস্তিত্বের বিচারে তা অপসারিত হয় না, যেমন চোখের নীল বর্ণ অথবা কৃষ্ণাঙ্গের কালো রঙ, কিন্তু মনে মনে বা কল্পনায় তা অপসারণ করা সম্ভব। কিন্তু পৃথিবীর সৃষ্ট হওয়া এবং ঘন দেহের ছায়া থাকা যা সূর্যের আলোকে বাধা দেয়—তা অপরিহার্য বিষয়, যা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া কল্পনা করা যায় না। অনেক ভুলের একটি উৎস হলো অনুগামী অপরিহার্য গুণকে সত্তাগত গুণের সাথে গুলিয়ে ফেলা। কারণ বিচ্ছিন্ন হওয়া অসম্ভব হওয়ার ক্ষেত্রে তারা উভয়েই অংশীদার। আর এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে এর বিস্তারিত অনুসন্ধান করা মোটেও সম্ভব নয়।

তৃতীয় বিভাজন: অর্থসমূহ তার উপলব্ধিগত কারণের বিচারে তিন প্রকার: ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, কাল্পনিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক। উপলব্ধির কারণকে আমরা ‘শক্তি’ বলে অভিহিত করব। সুতরাং আমরা বলব, আপনার চোখের মণির মধ্যে এমন একটি অর্থ বা গুণ রয়েছে যার মাধ্যমে মণিটি কপাল থেকে পৃথক হয় এবং যার দ্বারা আপনি দেখতে পান। অন্ধ ব্যক্তির মধ্য থেকে যখন তা বিলুপ্ত হয়, তখন তার দৃষ্টিশক্তিও লোপ পায়। আর দেখার সময় আপনি যা উপলব্ধি করেন তার শর্ত হলো দৃশ্যমান বস্তুটির অস্তিত্ব থাকা। কিন্তু দৃশ্যমান বস্তুটি যদি অনুপস্থিত হয়ে যায়, তবে তার ছবি মস্তিষ্কে রয়ে যায়। সেই ছবিটি কল্পিত বস্তুর অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের মুখাপেক্ষী নয়। দৃশ্যমান বস্তুর অনুপস্থিতি ‘কল্পনা’ নামক অবস্থাকে নাকচ করে না, তবে ‘দৃষ্টি’ নামক অবস্থাকে নাকচ করে দেয়। যেহেতু আপনি কল্পনার অনুভূতি আপনার মস্তিষ্কে পান, আপনার উরু বা পেটে নয়, তাই জেনে রাখুন যে এই মস্তিষ্কে এমন একটি প্রকৃতি ও গুণ রয়েছে যার মাধ্যমে এটি কল্পনার জন্য প্রস্তুত হয় এবং যার দ্বারা এটি পেট ও উরু থেকে ভিন্ন হয়; ঠিক যেমন চোখ কপাল ও গোড়ালি থেকে দেখার শক্তির মাধ্যমে ভিন্ন হয়, যা অনিবার্যভাবেই তার জন্য নির্দিষ্ট। শিশু তার জন্মের শুরুতে দৃষ্টিশক্তিতে সবল হয় কিন্তু কল্পনাশক্তিতে নয়। একারণে শিশু যদি কোনো জিনিসের প্রতি আসক্ত হয় এবং আপনি তা তার থেকে আড়াল করে অন্য কিছুতে তাকে ব্যস্ত করে দেন, তবে সে তাতেই মগ্ন হয়ে যায়। কখনো মস্তিষ্কে এমন রোগ হয় যা কল্পনার সংরক্ষণ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয় কিন্তু দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে না; ফলে সে বস্তু দেখে ঠিকই, কিন্তু যখনই তা চোখের আড়াল হয়, সে তা ভুলে যায়। এই শক্তিতে চতুষ্পদ জন্তু মানুষের সাথে অংশীদার। এই কারণেই ঘোড়া যখন যব দেখে, তখন তার মস্তিষ্কে থাকা পূর্বের ছবিটি স্মরণ করে এবং বুঝতে পারে যে এটি তার অনুকূল ও সুস্বাদু, ফলে সে দ্রুত তার দিকে ধাবিত হয়। যদি ছবিটি তার কল্পনায় স্থির না থাকত, তবে দ্বিতীয়বার দেখাটি প্রথমবার দেখার মতোই হতো, এমনকি একবার স্বাদ গ্রহণ না করা পর্যন্ত সে তার দিকে ধাবিত হতো না।
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২১৩)
أخرى ثم فيك قوة ثالثة شريفة بها يباين الإنسان البهيمة تسمى عقلاً، ومحله إما دماغك أو قلبك وعند من يرى النفس جوهراً قائماً بذاته غير متحيّز محله النفس ولها أعني قوة العقل إدراك وتأثير بالتخيلات مباين لإِدراك التخيّل مباينة اشد من مباينة إدراك التخيّل لإدراك البصر، إذ لم يكن بين التخيل والإبصار فرق إلا أن وجود المبصر وحضوره كان شرطاً لبقاء الإبصار ولم يكن شرطاً لبقاء التخيل، وإلا فصورة الفرس تدخل في الإبصار مع قدر مخصوص ولون مخصوص وبُعدٍ منك مخصوص، ويبقى في التخيل ذلك القدر وذلك البُعد وذلك الشكل والوضع، حتى كأنك تنظر إليه ولعمري فيك قوة رابعة تُسمى المفكّرة شأنها أنها تقدر على تفصيل الصور التي في الخيال وتقطيعها وتركيبها وليس لها إدراك شيء آخر، ولكن إذا حضر في الخيال صورة الإنسان قدر أن يجعله بنصفين فيصور نصف إنسان، وربما ركب شخصاً نصفه من إنسان ونصفه من فرس، وربما صور إنسانا يطير إذ ثبت في الخيال صورة الإنسان وحدَّه وصورة الطيران وحدّه، وهذه القوة تجمع بينهما كما تفرق نصفي الإنسان وليس في وسعها البتة اختراع صورة لا مثال لها في الخيال، بل كل تصرفاتها بالتفريق والتأليف في الصورة الحاصلة في الخيال. والمقصود أن مباينة إدراك العقل الأشياءَ لإدراك التخيل أشد من مباينة التخيل للإبصار، إذ ليس للتخيل أن يدرك المعاني المجردة العرية عن القرائن العربية التي ليست داخلة في ذاتها، أعني الذي ليست ذاتية لها كما سبق. فإنك لا تقدر على تخيل السواد إلا في مقدار مخصوص من الجسم ومعه شكل مخصوص من الجسم ووضع مخصوص منك بقرب أو بُعد. ومعلوم أن الشكل غير اللون والقدر غير الشكل، فإن المثلث له شكل واحد صغيراً كان أو كبيراً، وإنما إدراك هذه المفردات المجردة ليس إلا بقوة أخرى اصطلحنا على تسميتها عقلاً فيدرك ويقضي بقضايا ويدرك اللونية مجرّدة ويدرك الحيوانية والجسمية مجرّدة، وحيث يدرك الحيوانية قد لا يحضره التفات إلى العاقل وغير العاقل، وإن كان الحيوان لا يخلو عن القسمين، وحيث يستمر في نطره قاضيا على الألوان بقضية قد لا يحضره معنى السوادية والبياضية وغيرهما، وهذا من عجيب خواصهما وبديع أفعالهما، فإذا رأى فرساً واحدا أدرك الفرس المطلق الذي يشترك فيه الصغير والكبير والأشهب والكميت والبعيد منك في المكان والقريب، بل يدرك الفرسية المجردة المطلقة منزهاً عن كل قرينة ليست ذاتية له. فإن القدر المخصوص واللون المخصوص ليس للفرس ذاتياً بل عارضاً أو لازماً في الوجود، إذ مختلفات القدر واللون تشترك في حقيقة الفرسية. وهذه المطلقات المجردة

এরপর আপনার মধ্যে এক তৃতীয় মহৎ শক্তি রয়েছে যার মাধ্যমে মানুষ চতুষ্পদ জন্তু হতে পৃথক হয়; একে 'আকল' বা বুদ্ধি বলা হয়। এর স্থান হয় আপনার মস্তিষ্ক অথবা আপনার হৃদয়। আর যারা আত্মাকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং অ-স্থানিক সত্তা হিসেবে গণ্য করেন, তাদের মতে এর আধার হলো আত্মা। এই বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির এমন এক উপলব্ধি এবং কল্পনার ওপর প্রভাব রয়েছে যা কল্পনাজাত উপলব্ধি থেকে ভিন্ন; এবং এই ভিন্নতা কল্পনাজাত উপলব্ধি ও চাক্ষুষ উপলব্ধির মধ্যকার ভিন্নতার চেয়েও অনেক বেশি প্রবল। কারণ কল্পনা এবং দর্শনের মধ্যে পার্থক্য কেবল এটাই যে, দৃশ্যমান বস্তুর বিদ্যমানতা এবং উপস্থিতি দর্শনের স্থায়িত্বের জন্য শর্ত, কিন্তু কল্পনার স্থায়িত্বের জন্য তা শর্ত নয়। অন্যথায়, একটি ঘোড়ার অবয়ব একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ, নির্দিষ্ট রঙ এবং আপনার থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বসহ দৃষ্টিগোচর হয়; আর কল্পনায় সেই পরিমাণ, সেই দূরত্ব এবং সেই রূপ ও অবস্থানটি থেকে যায়, যেন আপনি সেটির দিকে তাকিয়ে আছেন। আমার জীবনের কসম! আপনার মধ্যে চতুর্থ একটি শক্তি রয়েছে যাকে চিন্তাশক্তি (মুফাক্কিরা) বলা হয়। এর কাজ হলো কল্পনার মধ্যে সংরক্ষিত ছবিগুলোকে বিশ্লিষ্ট করা, খণ্ড খণ্ড করা এবং পুনরায় বিন্যস্ত করা; এছাড়া অন্য কোনো কিছু উপলব্ধি করার ক্ষমতা এর নেই। তবে যখন কল্পনায় কোনো মানুষের প্রতিকৃতি আসে, তখন এটি তাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে অর্ধেক মানুষের ছবি কল্পনা করতে পারে। কখনও হয়তো এটি এমন এক অবয়ব তৈরি করে যার অর্ধেক মানুষ এবং অর্ধেক ঘোড়া। কখনও হয়তো এটি উড়ন্ত মানুষের ছবি তৈরি করে, যেহেতু কল্পনায় মানুষের ছবি এবং ওড়ার ছবি পৃথকভাবে আগে থেকেই বর্তমান ছিল। এই শক্তি যেমন মানুষের দুই অর্ধাংশকে পৃথক করে, তেমনি এই দুই ভিন্ন চিত্রকে একত্রিতও করে। তবে কল্পনায় যার কোনো দৃষ্টান্ত নেই এমন কোনো নতুন ছবি উদ্ভাবন করার ক্ষমতা এর মোটেও নেই; বরং এর সমস্ত কার্যাবলি হলো কল্পনায় অর্জিত ছবিগুলোর বিভাজন ও সংমিশ্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মূল উদ্দেশ্য হলো, আকল বা বুদ্ধির মাধ্যমে বিষয়াবলি উপলব্ধি করা এবং কল্পনার মাধ্যমে উপলব্ধি করার মধ্যে যে ব্যবধান, তা কল্পনা ও চাক্ষুষ দর্শনের মধ্যকার ব্যবধানের চেয়েও অনেক বেশি গভীর। কেননা কল্পনার পক্ষে এমন বিমূর্ত অর্থগুলো উপলব্ধি করা সম্ভব নয় যা বাহ্যিক অনুষঙ্গ থেকে মুক্ত এবং যা তার সারসত্তার অন্তর্ভুক্ত নয়; অর্থাৎ যা তার জন্য মৌলিক নয় যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ আপনি কোনো বস্তুর নির্দিষ্ট পরিমাণ, শরীরের নির্দিষ্ট আকার এবং আপনার থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বা নৈকট্য ছাড়া কেবল 'কালোরূপ' কল্পনা করতে সক্ষম নন। এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, আকার রঙের চেয়ে ভিন্ন এবং পরিমাণ আকারের চেয়ে ভিন্ন। যেমন একটি ত্রিভুজ বড় হোক বা ছোট, তার আকারগত বৈশিষ্ট্য অভিন্ন। এই বিমূর্ত একক বিষয়গুলোর উপলব্ধি কেবল অন্য একটি শক্তির মাধ্যমেই সম্ভব যাকে আমরা 'আকল' বা বুদ্ধি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি। এটি উপলব্ধি করে এবং বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করে। এটি বর্ণহীন বিমূর্ত রঙকে উপলব্ধি করে এবং বিমূর্ত প্রাণীত্ব ও বস্তুত্বকে উপলব্ধি করে। এটি যখন প্রাণীত্বকে উপলব্ধি করে, তখন হয়তো বুদ্ধিমান বা বুদ্ধিহীন হওয়ার দিকে লক্ষ্য করার প্রয়োজন হয় না, যদিও প্রাণী এই দুই প্রকারের বাইরে হওয়া সম্ভব নয়। আবার যখন এটি রঙসমূহের ওপর কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত প্রদান করে, তখন হয়তো এর নিকট কালো বা সাদার বিশেষ কোনো অর্থ উপস্থিত থাকে না। এটি এগুলোর এক বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য এবং অনন্য ক্রিয়া। সুতরাং যখন এটি একটি ঘোড়া দেখে, তখন সে এক সর্বজনীন বা নিরঙ্কুশ ঘোড়াকে উপলব্ধি করে যাতে ছোট-বড়, ধূসর-লালচে, দূরবর্তী বা নিকটবর্তী সকল ঘোড়াই অন্তর্ভুক্ত থাকে। বরং এটি সমস্ত আনুষঙ্গিক অনুষঙ্গ থেকে মুক্ত হয়ে 'ঘোড়া হওয়ার' বিমূর্ত নিরঙ্কুশ সত্তাকেই উপলব্ধি করে যা তার মৌলিক বা সত্তাগত অংশ নয়। কারণ নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং নির্দিষ্ট রঙ ঘোড়ার মৌলিক সত্তার অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা অস্তিত্বের ক্ষেত্রে আকস্মিক বা আনুষঙ্গিক বিষয়; কেননা ভিন্ন ভিন্ন পরিমাপ ও রঙের ঘোড়াগুলো 'ঘোড়া হওয়ার' প্রকৃত সত্যের মাঝে সমভাবে অংশীদার। আর এই বিমূর্ত নিরঙ্কুশ বিষয়গুলো—

(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২১৪)
الشاملة لأمور متخيّلة هي التي يعبّر عنها المتكلمون بالوجوه أو الأحوال أو الأحكام، ويعبر عنها المنطقيون بالقضايا الكلية المجردة، ويزعمون أنها موجودة في الأذهان لا في الأعيان. وتارة يعبّرون عنها بأنها غير موجودة في خارج بل في داخل يعني خارج الذهن وداخله. ويقول أرباب الأحوال أنها أمور ثابتة ثم

تارةرة يقولون أنها موجودة معلومة وأخرى يقولون لا موجودة ولا معدومة ولا معلومة ولا مجهولة، وقد دارت فيه رؤوسهم وتاهت عقولهم، والعجب انه أول منزل ينفصل به المعقول عن المحسوس. إذ من ها هنا يأخذ العقل ألإنساني في التصرف وما كان قبله كان يشارك هذا التخيل البهيمي التخيل الإنساني ومن تحيّر في أول منزل من منازل تصرف العقل كيف يُرجى فلاحه في تصرفاته الغامضة، ومن التبس عليه قول القائل إن السواد والبياض يشتركان في أمر معقول هو اللونية والوجود ويختلفان في أمر ذاتي، وما فيه الاختلاف بالضرورة غير ما فيه الاشتراك. إذ ليس هذا اشتراكاً في مجرد الاسم كاشتراك العائد والكوكب في اسم المشتري، وان هذه الغيرية معلومة على القطع إلى أن يبحث عن حقيقتها أنها تباين في الوجود أو تباين في العقل، وهو من خواص العقل. فمن التبس عليه هذا كيف يتضح له أمر من الغوامض ولنتجاوز هذه المغاصّة فإن كشف غطائها يقرع أبواباً مغلقة على أكثر التضاد ولا يمكن التكفل ببيانه مع ما نحن بصدده من الاختصار. يقولون أنها موجودة معلومة وأخرى يقولون لا موجودة ولا معدومة ولا معلومة ولا مجهولة، وقد دارت فيه رؤوسهم وتاهت عقولهم، والعجب انه أول منزل ينفصل به المعقول عن المحسوس. إذ من ها هنا يأخذ العقل ألإنساني في التصرف وما كان قبله كان يشارك هذا التخيل البهيمي التخيل الإنساني ومن تحيّر في أول منزل من منازل تصرف العقل كيف يُرجى فلاحه في تصرفاته الغامضة، ومن التبس عليه قول القائل إن السواد والبياض يشتركان في أمر معقول هو اللونية والوجود ويختلفان في أمر ذاتي، وما فيه الاختلاف بالضرورة غير ما فيه الاشتراك. إذ ليس هذا اشتراكاً في مجرد الاسم كاشتراك العائد والكوكب في اسم المشتري، وان هذه الغيرية معلومة على القطع إلى أن يبحث عن حقيقتها أنها تباين في الوجود أو تباين في العقل، وهو من خواص العقل. فمن التبس عليه هذا كيف يتضح له أمر من الغوامض ولنتجاوز هذه المغاصّة فإن كشف غطائها يقرع أبواباً مغلقة على أكثر التضاد ولا يمكن التكفل ببيانه مع ما نحن بصدده من الاختصار.

 

‌‌الفصل الثالث:

‌‌من فن السوابق في أحكام السوابق

‌‌المعاني المؤلّفة تأليفا يتطرق إليه التصديق والتكذيب

كقولنا مثلاً العالم حادث والبارئ تعالى قديم، فإن هذا يرجع إلى تأليف القوة المفكرة بين معرفتين لذاتين مفردين ونسبة أحدهما إلى الآخر بالإثبات، فإن قلت العالم ليس بقديم والباري ليس بحادث كانت النسبة نسبة النفي. وقد التئم هذا القول من جزئين يُسمي النحويون أحدهما مبتدأ والآخر خبراً، ويُسمي المتكلمون أحدهما موصوفاً والآخر صفة، ويُسمي الفقهاء أحدهما حكماً والآخر محكوماً عليه، ويُسمي المنطقيون أحدهما موضوعاً وهو المخبر عنه والآخر محمولاً وهو الخبر، ولنصطلح نحن على تسمية الفقهاء فنسمّيهما حكماً ومحكوماً عليه ولنسمِّ مجموع الحكم والمحكوم عليه قضية ولنسميهما إذا استعملناهما في سياق قياس مقدمةً، فإذا استفدناهما من قياس نتيجةً. وما دام غير مستنتج من القياس دعوى إن كان لنا خصم ومطلوباً إن لم يكن لنا خصم. فإن هذه الاصطلاحات إذا لم تتحرر اختبطت المخاطبات والتعليمات بل ربما اضطرب الفكر
কল্পিত বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্তকারী বিষয়গুলোকেই কালামশাস্ত্রবিদগণ বিভিন্ন দিক (উজুহ), অবস্থা (আহওয়াল) বা বিধান (আহকাম) হিসেবে ব্যক্ত করেন। আর যুক্তিবিদগণ এগুলোকে বিমূর্ত সার্বিক প্রবচন হিসেবে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে, এগুলোর অস্তিত্ব কেবল মনের মধ্যে (আযহান), বাস্তব অস্তিত্বে (আ’ইয়ান) নয়। কখনও তারা এগুলোকে ব্যক্ত করেন যে এগুলো বাইরে বিদ্যমান নয় বরং ভেতরে, অর্থাৎ মনের বাইরে ও ভেতরে। অবস্থাসমূহ বা 'আহওয়াল'-এর প্রবক্তাগণ বলেন যে এগুলো স্থির বিষয়; আবার

কখনও তারা বলেন এগুলো বিদ্যমান ও জ্ঞাত, আবার কখনও বলেন এগুলো বিদ্যমানও নয়, অবিদ্যমানও নয়, জ্ঞাতও নয়, অজ্ঞাতও নয়। এতে তাদের মাথা ঘুরে গেছে এবং তাদের বুদ্ধি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এটিই প্রথম ধাপ যেখানে বুদ্ধিগম্য বিষয় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় থেকে পৃথক হয়। কারণ এখান থেকেই মানুষের বুদ্ধি সক্রিয় হতে শুরু করে, আর এর পূর্ব পর্যন্ত মানুষের কল্পনা ও পশুসুলভ কল্পনা একই স্তরে ছিল। বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রিয়াকলাপের প্রথম ধাপেই যে বিভ্রান্ত হয়, তার সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে সফল হওয়ার আশা কীভাবে করা যায়? আর যার কাছে এক প্রবক্তার এই কথাটি অস্পষ্ট থেকে যায় যে—কালিমা ও শুভ্রতা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে একীভূত হয় আর তা হলো 'রঙিন হওয়া' ও 'অস্তিত্ব', কিন্তু তারা উভয়ে একটি স্বকীয় বিষয়ে পৃথক হয়—তখন যেখানে পার্থক্য বিদ্যমান তা অবশ্যই যেখানে একতা বিদ্যমান তার চেয়ে ভিন্ন হবে। কারণ এটি কেবল নামের অংশীদারিত্ব নয়, যেমন 'মুশতারি' নামটিতে একটি গ্রহ ও প্রত্যাবর্তনকারী ব্যক্তি উভয়ে শরিক থাকে। এই ভিন্নতা অকাট্যভাবে জ্ঞাত, যতক্ষণ না এর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অনুসন্ধান করা হয় যে, এই ভিন্নতা কি বাস্তব অস্তিত্বের ক্ষেত্রে নাকি কেবল বুদ্ধির ক্ষেত্রে; আর এটি বুদ্ধির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। যার কাছে এটি অস্পষ্ট রয়ে যায়, তার কাছে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো কীভাবে স্পষ্ট হবে? আমরা এই জটিলতাটি এড়িয়ে যাই, কারণ এর রহস্য উন্মোচন করতে গেলে অনেকগুলো রুদ্ধ দ্বারে কড়া নাড়তে হবে যা অত্যন্ত পরস্পরবিরোধী এবং আমরা যে সংক্ষিপ্তসার রচনায় প্রবৃত্ত হয়েছি তাতে এর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়। তারা বলেন এগুলো বিদ্যমান ও জ্ঞাত, আবার কখনও বলেন এগুলো বিদ্যমানও নয়, অবিদ্যমানও নয়, জ্ঞাতও নয়, অজ্ঞাতও নয়। এতে তাদের মাথা ঘুরে গেছে এবং তাদের বুদ্ধি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এটিই প্রথম ধাপ যেখানে বুদ্ধিগম্য বিষয় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় থেকে পৃথক হয়। কারণ এখান থেকেই মানুষের বুদ্ধি সক্রিয় হতে শুরু করে, আর এর পূর্ব পর্যন্ত মানুষের কল্পনা ও পশুসুলভ কল্পনা একই স্তরে ছিল। বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রিয়াকলাপের প্রথম ধাপেই যে বিভ্রান্ত হয়, তার সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে সফল হওয়ার আশা কীভাবে করা যায়? আর যার কাছে এক প্রবক্তার এই কথাটি অস্পষ্ট থেকে যায় যে—কালিমা ও শুভ্রতা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে একীভূত হয় আর তা হলো 'রঙিন হওয়া' ও 'অস্তিত্ব', কিন্তু তারা উভয়ে একটি স্বকীয় বিষয়ে পৃথক হয়—তখন যেখানে পার্থক্য বিদ্যমান তা অবশ্যই যেখানে একতা বিদ্যমান তার চেয়ে ভিন্ন হবে। কারণ এটি কেবল নামের অংশীদারিত্ব নয়, যেমন 'মুশতারি' নামটিতে একটি গ্রহ ও প্রত্যাবর্তনকারী ব্যক্তি উভয়ে শরিক থাকে। এই ভিন্নতা অকাট্যভাবে জ্ঞাত, যতক্ষণ না এর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অনুসন্ধান করা হয় যে, এই ভিন্নতা কি বাস্তব অস্তিত্বের ক্ষেত্রে নাকি কেবল বুদ্ধির ক্ষেত্রে; আর এটি বুদ্ধির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। যার কাছে এটি অস্পষ্ট রয়ে যায়, তার কাছে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো কীভাবে স্পষ্ট হবে? আমরা এই জটিলতাটি এড়িয়ে যাই, কারণ এর রহস্য উন্মোচন করতে গেলে অনেকগুলো রুদ্ধ দ্বারে কড়া নাড়তে হবে যা অত্যন্ত পরস্পরবিরোধী এবং আমরা যে সংক্ষিপ্তসার রচনায় প্রবৃত্ত হয়েছি তাতে এর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ:

‌‌পূর্ববর্তী বিষয়সমূহের বিধানের শিল্প থেকে

‌‌সেই বিন্যস্ত অর্থসমূহ যার বিন্যাসে সত্যয়ন বা মিথ্যয়ন প্রবেশ করতে পারে

যেমন আমাদের কথা: 'জগত সৃষ্টিশীল' এবং 'স্রষ্টা তা'আলা অনাদি'। এটি মূলত চিন্তাশক্তি কর্তৃক দুটি একক সত্তার পরিচয়ের মধ্যে সমন্বয় করা এবং তাদের একটিকে অন্যটির সাথে ইতিবাচকভাবে সম্পর্কিত করার নামান্তর। আপনি যদি বলেন 'জগত অনাদি নয়' এবং 'স্রষ্টা সৃষ্টিশীল নন', তবে এই সম্পর্কটি হবে নেতিবাচক। এই বাক্যটি দুটি অংশ থেকে গঠিত হয়েছে, ব্যাকরণবিদগণ এদের একটিকে মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং অন্যটিকে খবর (বিধেয়) বলেন। কালামশাস্ত্রবিদগণ একটিকে মাউসুফ (গুণান্বিত) এবং অন্যটিকে সিফাত (গুণ) বলেন। ফকিহগণ একটিকে হুকুম (বিধান) এবং অন্যটিকে মাহকুম আলাইহি (যাঁর ওপর বিধান জারি হয়) বলেন। আর যুক্তিবিদগণ একটিকে মাওদু' (উদ্দেশ্য) বলেন—যা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়—এবং অন্যটিকে মাহমুল (বিধেয়) বলেন—যা সংবাদ হিসেবে আসে। আমরা ফকিহদের পরিভাষাকেই গ্রহণ করব এবং এদেরকে 'হুকুম' ও 'মাহকুম আলাইহি' বলব। আর হুকুম ও মাহকুম আলাইহি-এর সমষ্টিকে আমরা 'কাদিয়াহ' (প্রবচন) বলব। যখন আমরা এগুলোকে কোনো প্রমাণের (কিয়াস) ধারায় ব্যবহার করব, তখন তাকে 'মুকাদ্দামা' (ভিত্তি) বলব, আর যখন এগুলো থেকে কোনো সিদ্ধান্ত লাভ করব, তখন তাকে 'নাতিজাহ' (ফলাফল) বলব। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রমাণ দ্বারা সিদ্ধান্ত না আসবে, ততক্ষণ আমাদের প্রতিপক্ষ থাকলে একে 'দাওয়া' (দাবি) বলব, আর প্রতিপক্ষ না থাকলে একে 'মাতলুব' (উদ্দিষ্ট) বলব। এই পরিভাষাগুলো যদি সুনির্দিষ্ট করা না হয়, তবে আলাপ-আলোচনা ও শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে গোলযোগ তৈরি হয়, এমনকি অনেক সময় চিন্তাধারাও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২১৫)
على الناظر المنفرد بنفسه. فإن فكر الناظر أيضاً لا ينتظم إلا بألفاظ وآمال يرتبها في نفسه. ولنذكر من أحكام القضايا وأقسامها ما يليق بهذا الإيجاز ويتضح الغرض بتفصيلات أربعة:

 

‌‌التفصيل الأول

إن القضية بعد انقسامها إلى النافية مثل قولنا العالم ليس بقديم وإلى المثبتة مثل قولنا العالم حادث تنقسم بالإضافة إلى المحكوم عليه إلى التعيين والخصوص والعموم والإِهمال والقضايا بهذا الاعتبار أربعة: الأولى: قضية في عين كقولنا زيد كاتب وهذا السواد المشار إليه باليد عرض.

الثانية: قضية مطلقة خاصة كقولك بعض الناس كاتب وبعض الأجسام ساكن.

الثالثة: قضية مطلقة عامة كقولك كل جسم متحيّز وكل سواد لون وكل حركة عرض.

الرابعة: قضية مهملة كقولنا الإِنسان في خسر، وعلة هذه القسمة أن المحكوم عليه إما أن يكون عيناً مشاراً إليه أو لا يكون عيناً. فإن لم يكن عيناً فإما أن يحصر بسور بين مقداره بكلية فتكون مطلقة عامة أو بجزئية فتكون مطلقة خاصة أو لا يحصر بسور بل بمهمل. والسور هو قولك كل وبعض وما يقوم مقامهما، فإن سكت عنهما بقيت القضية مهملة، ومن طرق المغالطين المحتالين في النظر استعمال المهملات بدل القضايا العامة. فإن المهملات قد يعني بها الخصوص فيصدق طرف النقيض فيها إذ قد يقال ليس الإِنسان في خسر ويراد به الأنبياء والذين آمنوا وعملوا الصالحات، وقد يقال الإِنسان في خسر ويراد به أكثر الخلق. فإياك وأن تسامح بهذا في النظريات فتغلط، ومثاله من الفقه إن طلبت استيضاحاً أن يقول الشافعي مثلاً معلوم أن المطعوم ربويّ والسفرجل مطعوم فليكن ربوياً. فإذا قيل فلِمَ قلت إن المطعوم ربوي فيقول الدليل عليه أن البُر والشعير والتمر والرز مطعومات وهي ربوية، فينبغي أن يقال له قولك العموم ربويَ أردت به كل المطعومات أو بعضها، فإن أردت به البعض لم تلزم النتيجه. إذ يمكن أن يكون السفرجل من البعض الذي ليس بربوي، ويكون هذا خللاً في نظر القياس مُخرجاً له عن كونه منتجاً كما سيأتي وجهه. وإن أردت به الكل فمن أين عرفت هذا وليس يظهر هذا بما ذكرته من البُر والشعير والتمر والرز ما لم تبتين أن كل المطعومات ربويّة، وهذا المثال وإن كان في هذا المقام واضحاً فإنه يتفق في أمثاله عند تراكم الأقيسة صور غامضة يجب الاحتراز عنها.
এটি ব্যক্তিগত চিন্তাশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কেননা চিন্তাশীল ব্যক্তির চিন্তাও কেবল শব্দ ও সংকল্পের মাধ্যমেই সুবিন্যস্ত হয় যা সে নিজের মনে সাজিয়ে নেয়। আমরা প্রতিজ্ঞাসমূহের বিধান ও শ্রেণিবিভাগ থেকে এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার উপযোগী বিষয়গুলো উল্লেখ করব এবং চারটি বর্ণনার মাধ্যমে উদ্দেশ্যটি স্পষ্ট হবে:

 

‌‌প্রথম বর্ণনা

প্রতিজ্ঞা নেতিবাচক (যেমন আমাদের কথা: 'জগত অনাদি নয়') এবং ইতিবাচক (যেমন আমাদের কথা: 'জগত নতুন সৃষ্ট')—এই দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পর, যাকে উদ্দেশ্য করে বিধান দেওয়া হচ্ছে তার সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্দিষ্টকরণ, বিশেষত্ব, সাধারণত্ব এবং অনির্দিষ্টতা অনুযায়ী বিভক্ত হয়। এই বিচারে প্রতিজ্ঞা চার প্রকার: প্রথম: নির্দিষ্ট সত্তা বিষয়ক প্রতিজ্ঞা, যেমন আমাদের কথা: 'যায়েদ একজন লেখক' এবং 'হাত দ্বারা ইশারা করা এই কালো রংটি একটি আপতিক গুণ'।

দ্বিতীয়: বিশেষ নিঃশর্ত প্রতিজ্ঞা, যেমন আপনার কথা: 'কিছু মানুষ লেখক' এবং 'কিছু বস্তু স্থির'।

তৃতীয়: সাধারণ নিঃশর্ত প্রতিজ্ঞা, যেমন আপনার কথা: 'প্রত্যেক বস্তুই স্থান দখলকারী', 'প্রত্যেক কালো রং-ই একটি বর্ণ' এবং 'প্রত্যেক গতিই একটি আপতিক গুণ'।

চতুর্থ: অনির্দিষ্ট প্রতিজ্ঞা, যেমন আমাদের কথা: 'মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে'। এই বিভাজনের কারণ হলো, যার ওপর বিধান আরোপ করা হচ্ছে সে হয় ইশারাপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট কোনো সত্তা হবে, অথবা তা হবে না। যদি নির্দিষ্ট সত্তা না হয়, তবে হয় তাকে পরিমাপক শব্দ দ্বারা পূর্ণ ব্যাপ্তির মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা হবে, ফলে তা সাধারণ নিঃশর্ত প্রতিজ্ঞা হবে; অথবা আংশিক ব্যাপ্তির মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা হবে, ফলে তা বিশেষ নিঃশর্ত প্রতিজ্ঞা হবে; অথবা কোনো পরিমাপক শব্দ দ্বারা সীমাবদ্ধ না করে অনির্দিষ্ট রাখা হবে। পরিমাপক শব্দ হলো আপনার বলা 'প্রত্যেক' ও 'কিছু' এবং এগুলোর স্থলাভিষিক্ত শব্দসমূহ। যদি এগুলো উল্লেখ না করা হয় তবে প্রতিজ্ঞাটি অনির্দিষ্ট হিসেবে থেকে যায়। যুক্তিতর্কের প্রতারক ও কৌশলীদের অন্যতম পদ্ধতি হলো সাধারণ প্রতিজ্ঞার পরিবর্তে অনির্দিষ্ট প্রতিজ্ঞা ব্যবহার করা। কারণ অনির্দিষ্ট প্রতিজ্ঞা দ্বারা অনেক সময় বিশেষ অর্থ উদ্দেশ্য হতে পারে, ফলে তার বিপরীত পক্ষটিও সত্য হতে পারে। যেমন কখনো বলা হতে পারে 'মানুষ ক্ষতির মধ্যে নেই' এবং এর দ্বারা নবীগণ এবং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের উদ্দেশ্য করা হয়। আবার বলা হতে পারে 'মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে' এবং এর দ্বারা অধিকাংশ সৃষ্টিকে উদ্দেশ্য করা হয়। সুতরাং তাত্ত্বিক আলোচনায় এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন থেকে সাবধান থাকুন, অন্যথায় আপনি ভুল করবেন। আপনি যদি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করতে চান তবে ফিকহ থেকে এর উদাহরণ হলো, শাফিঈ যেমন বলেন: এটি জানা কথা যে খাদ্যদ্রব্য সুদী পণ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং সফরজল একটি খাদ্যদ্রব্য, সুতরাং এটিও সুদী পণ্য হবে। এখন যদি তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, আপনি কেন বললেন যে 'খাদ্যদ্রব্য সুদী পণ্য'? উত্তরে তিনি বললেন, এর দলিল হলো: গম, যব, খেজুর ও চাল খাদ্যদ্রব্য এবং সেগুলো সুদী পণ্য। এমতাবস্থায় তাকে বলা উচিত যে, আপনার কথা 'খাদ্যদ্রব্য সুদী পণ্য'—এর দ্বারা আপনি কি সমস্ত খাদ্যদ্রব্য বুঝিয়েছেন নাকি কিছু অংশ? যদি আপনি কিছু অংশ বুঝিয়ে থাকেন তবে ফলাফলটি অনিবার্য হয় না। কারণ সফরজল সেই অংশের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যা সুদী পণ্য নয়। আর এটি কিয়াসের ক্ষেত্রে এমন এক ত্রুটি যা তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদানে অযোগ্য করে দেয়, যার কারণ সামনে আসবে। আর যদি আপনি এর দ্বারা সমস্ত খাদ্যদ্রব্য বুঝিয়ে থাকেন, তবে আপনি এটি কীভাবে জানলেন? আপনি গম, যব, খেজুর ও চালের যে উল্লেখ করেছেন তা থেকে তো এটি স্পষ্ট হয় না, যতক্ষণ না আপনি প্রমাণ করছেন যে সমস্ত খাদ্যদ্রব্যই সুদী। এই উদাহরণটি এখানে স্পষ্ট হলেও, যখন অনেকগুলো কিয়াস বা যুক্তি একত্রিত হয় তখন এমন অস্পষ্ট রূপ ধারণ করে যা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২১৬)
‌‌التفصيل الثاني

إن الحكم المنسوب إلى المحكوم عليه في القضية لا يخلو عن ثلاثة أقسام: وهي الإِمكانُ والوجودُ والاستحالةُ. مثال الحكم الذي نسبته نسبة الإمكان قولك الإِنسان كاتب الإِنسان ليس بكاتب، إذ الكتابة بالإضافة في حيّز الإِمكان. ومثال الواجب قولك السواد لون والسواد ليس بلون، إذ نسبة اللون إلى السواد نسبة الوجوب والضرورة. ومثال الممتنع قولك السواد علم والسواد ليس بعلم والإنسان حجر والإِنسان ليس بحجر. فإن قلت لا استحالة في قولك الإِنسان ليس بحجر بل هو واجب ولا وجوب في قولك السواد ليس بلون بل هو ممتنع فكيف جمعت بين النفي والإِثبات؟ فاعلم أني لم أقصد ذكر الامتناع والوجوب في جملة القضية المسلّمة على الحكم والمحكوم عليه ولكني أخذت الحكم مفرداً وبيّنت نسبته إلى المحكوم عليه. ثم القضية قِد تتضمن النفي والإثبات ويكون بعضه صادقاً وبعضه كاذباً وليس الغرض ذلك.

 

‌‌التفصيل الثالث في بيان نقيض الفضية

وهذا ممّا يحتاج إليه، إذ ربّ مطلوب لا يقوم على نفسه دليل ولكن يقوم الدليل على بطلان نقيضه فيتسلق من إبطاله إلى إثبات نقيضه، فلا بد من معرفته. وربما يظن أن نقيض
দ্বিতীয় বিস্তারিত বিবরণ

একটি প্রতিজ্ঞায় (কাজীয়া) যার ওপর বিধানারোপ করা হয়েছে (মাহকুম আলাইহি), তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানটি তিনটি প্রকারের বাইরে নয়: আর তা হলো সম্ভাবনা (ইমকান), অস্তিত্ব (বা আবশ্যকতা) এবং অসম্ভবতা (ইস্তিহালাহ)। সম্ভাবনার সম্পর্কের ভিত্তিতে দেওয়া বিধানের উদাহরণ হলো আপনার এই উক্তি যে, ‘মানুষ লেখক’ এবং ‘মানুষ লেখক নয়’। কেননা মানুষের সাথে লেখার সম্পর্কটি সম্ভাবনার স্তরে বিদ্যমান। আর আবশ্যকীয় (ওয়াজিব) বিধানের উদাহরণ হলো আপনার এই উক্তি যে, ‘কালো একটি রঙ’ এবং ‘কালো কোনো রঙ নয়’। কেননা কালোর সাথে রঙের সম্পর্কটি হলো আবশ্যকতা ও অনিবার্যতার সম্পর্ক। আর অসম্ভব (মুমতানি) বিধানের উদাহরণ হলো আপনার এই উক্তি যে, ‘কালো হলো জ্ঞান’ এবং ‘কালো কোনো জ্ঞান নয়’, অথবা ‘মানুষ পাথর’ এবং ‘মানুষ পাথর নয়’। আপনি যদি বলেন যে, আপনার উক্তি ‘মানুষ পাথর নয়’ এর মাঝে কোনো অসম্ভবতা নেই বরং তা আবশ্যকীয়; আর ‘কালো কোনো রঙ নয়’ এর মাঝে কোনো আবশ্যকতা নেই বরং তা অসম্ভব—তবে আপনি কেন নেতিবাচক ও ইতিবাচক (নফি ও ইসবাত) উভয়কে একত্রে উল্লেখ করলেন? তবে জেনে রাখুন, আমি বিধান ও বিষয়ের (মাহকুম আলাইহি) সমন্বয়ে গঠিত স্বীকৃত প্রতিজ্ঞার পূর্ণাঙ্গ বাক্যে অসম্ভবতা ও আবশ্যকতা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য করিনি; বরং আমি বিধানটিকে এককভাবে গ্রহণ করেছি এবং বিষয়ের সাথে তার সম্পর্কের ধরনটি বর্ণনা করেছি। অধিকন্তু, প্রতিজ্ঞা কখনো ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যার কিছু অংশ সত্য এবং কিছু অংশ মিথ্যা হয়; তবে এখানে সেই উদ্দেশ্য করা হয়নি।

 

প্রতিজ্ঞার বিপরীত (নাকিদ) বর্ণনায় তৃতীয় বিস্তারিত বিবরণ

এটি এমন একটি বিষয় যার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কেননা অনেক সময় এমন অন্বেষিত বিষয় বা দাবি থাকে যার নিজের স্বপক্ষে কোনো দলীল পাওয়া যায় না, কিন্তু তার বিপরীতটির অসারতার ওপর দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে বিপরীতটি বাতিলের মাধ্যমে মূল দাবিটি প্রমাণের দিকে পৌঁছানো যায়। তাই এটি জানা আবশ্যক। অনেক সময় ধারণা করা হয় যে, বিপরীত...
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২১৭)
القضية جلي لا يحتاج إلى البيان، ومع ذلك فإنه مثار لجملة من الأغاليط لا تحصى، فإن الأمور في أوائلها تلوح جلية ولكن إذا لم يهتم الناظر بتنقيحها وتحقيقها اعتاص عليه التفصيل بين القضيتين المتنافيتين. وأعني بالقضيتين المتنافيتين كل قضيتين إذا صدقت إحداهما كذبت الأخرى بالضرورة، كقولنا العالم حادث العالم ليس بحادث، وهما قضيتان تصدق إحداهما وتكذب الأخرى، وإنما يلزم صدق إحداهما من كذب الأخرى بستة شروط.

বিষয়টি সুস্পষ্ট, যা কোনো ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়; তা সত্ত্বেও এটি অসংখ্য বিভ্রান্তির উৎস। কেননা বিষয়াবলি শুরুর দিকে সুস্পষ্ট প্রতিভাত হয়, কিন্তু যদি পর্যবেক্ষণকারী তা পরিমার্জন ও যাচাই-বাছাইয়ে ভ্রূক্ষেপ না করে, তবে তার জন্য দুটি পরস্পরবিরোধী প্রতিজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর পরস্পরবিরোধী প্রতিজ্ঞা বলতে আমি এমন দুটি প্রতিজ্ঞাকে বোঝাচ্ছি যে, যার একটি সত্য হলে অন্যটি অনিবার্যভাবে মিথ্যা হয়, যেমন আমাদের এই কথা— ‘জগৎ সৃষ্টিজগত’ এবং ‘জগৎ সৃষ্টিজগত নয়’; এই দুটি এমন প্রতিজ্ঞা যার একটি সত্য এবং অন্যটি মিথ্যা। আর একটির মিথ্যার ফলে অন্যটির সত্য হওয়া ছয়টি শর্তের সাপেক্ষে অনিবার্য হয়ে থাকে।

(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২১৮)
الأول: أن يكون المحكوم عليه في القضيتين واحداً بالذات لا بمجرد اللفظ، فإن اتحد الاسم دون المعنى لم يتناقضا، كقولك النور مدركٌ بالبصر النور ليس بمدرك بالبصر، فهما صادقان إن أردت بأحدهما الضوء وبالآخر نور العقل، وكذلك لا يتناقض، قول الفقهاء المضطر مختار المضطر. ليس بمختار في مسئلة المُكْره، وقولهم المضطر آثم المضطر غير آثم إذ المضطر قد يعبّر به عن المدعو بالسيف إلى الفعل فالاسم متحد والمعنى مختلف.

الثاني: أن يكون الحكم واحداً والإِثم متناقضاً كقولك العالم قديم العالم ليس بقديم، وأردت بأحد القديمين ما أراد الله تعالى بقوله (كالعرجون القديم) وكذلك أيضاً لم يتنافى قول الخصمين المُكْره مختار والمُكْره ليس بمختار، إذ ذكرتا أن المختار عبارة عن معنيين مختلفين.

الثالث: أن تتحد الإضافة قي الأمور الإضافية فإنك لو قلت زيد أب زيد ليس بأب لم يتناقض، إذ يكون أباً لبكر ولا يكون أباً لخالد، وكذلك تقول زيد أب، زيد ابن، فيكون أباً لشخص وابناً لآخر، والعشرة نصف والعشرة ليست بنصف أي هي نصف العشرين. وليست نصف الثلاثين. وفي النظريات الفقهية والعقلية أغاليط كثيرة هذا منشأها كقولك المرأة مولّى عليها المرأة ليس بمولّى عليها وهما صادقتان بالإضافة إلى النكاح والبيع وإلى العصبة والأجنبي.

الرابع: أن يتساويا في القوة والفعل فإنك تقول الماء في الكوز مروٍ بالقوة وليس بمروٍ بالفعل وهما صادقتان، والسيف بالغمد صارم وليس بصارم وهما صادقتان، والفاسق شاهد وليس بشاهد. ومن هذا خلط المختلفون في أن الله تعالى في الأزل خالق وأن الله تعالى في الأزل ليس بخالق.

الخامس: التساوي في الجزء والكل فإنك تقول الزنجي أسود الزنجي ليس بأسود أي أسود البشرة ليس بأسود الأسنان فيصدقان. وعن هذا الغلط تخيل من بعد عن التحصيل أن العالمية حال بجملة زيد إذا قلنا زيد عالم وزيد عبارة عن جملته، ولم يعرف أنا إذا قلنا زيد في بغداد لم نرد به أنه في كل البلد بل في بعضه، وان كانت بغداد عبارة عن كل البلد. ولكن أعني بالعادة والحس بيان أن زيداً في بغداد في مكان يساوي مساحة بدنه، وكذلك أعني وضوح الأمر إذ تقول إن زيداً عالم بحر لا يجري من قلبه أو دماغه.

السادس: التساوي في الزمان والمكان فإنك تقول العالم حادث العالم ليس
প্রথমত: দুই ক্ষেত্রে যার সম্পর্কে বিধান দেওয়া হচ্ছে (মাহকুম আলাইহি) যেন সত্তাগতভাবে একই হয়, শুধু শাব্দিকভাবে নয়। যদি নাম এক হয় কিন্তু অর্থ ভিন্ন হয়, তবে তারা পরস্পরবিরোধী হবে না। যেমন তোমার কথা: "আলো দৃষ্টির মাধ্যমে উপলব্ধ হয়" এবং "আলো দৃষ্টির মাধ্যমে উপলব্ধ হয় না"—এ দুটি কথাই সত্য হতে পারে যদি তুমি একটি দ্বারা বাহ্যিক আলো এবং অন্যটি দ্বারা বুদ্ধিবৃত্তিক আলো উদ্দেশ্য করো। অনুরূপভাবে ফকিহদের বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী হবে না যে, "বিপন্ন ব্যক্তি ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন" এবং "বিপন্ন ব্যক্তি ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন নয়" যখন জবরদস্তির মাসআলায় কথা বলা হয়। এবং তাদের বক্তব্য "বিপন্ন ব্যক্তি গুনাহগার" এবং "বিপন্ন ব্যক্তি গুনাহগার নয়", কারণ বিপন্ন ব্যক্তি দ্বারা কখনো এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যাকে তলোয়ারের ভয় দেখিয়ে কোনো কাজে বাধ্য করা হয়েছে; ফলে এখানে নাম এক হলেও অর্থ ভিন্ন।

দ্বিতীয়ত: বিধান এক হওয়া কিন্তু অর্থের দিক থেকে বিপরীত হওয়া। যেমন তোমার কথা: "পৃথিবী প্রাচীন" এবং "পৃথিবী প্রাচীন নয়"। এখানে একটি "প্রাচীন" দ্বারা তুমি তা উদ্দেশ্য করেছ যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে উদ্দেশ্য করেছেন (শুষ্ক পুরনো খেজুর শাখার মতো)। অনুরূপভাবে বিবাদমান দুই পক্ষের বক্তব্যও স্ববিরোধী হবে না যে, "জবরদস্তিকৃত ব্যক্তি ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন" এবং "জবরদস্তিকৃত ব্যক্তি ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন নয়", কেননা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে 'ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন' শব্দটি দুটি ভিন্ন অর্থ বহন করে।

তৃতীয়ত: আপেক্ষিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সম্বন্ধ (ইযাফাত) এক হওয়া। কেননা তুমি যদি বলো "যায়েদ একজন পিতা" এবং "যায়েদ পিতা নয়", তবে তা স্ববিরোধী হবে না। কারণ সে বকরের পিতা হতে পারে কিন্তু খালেদের পিতা নয়। অনুরূপভাবে তুমি বলতে পারো "যায়েদ পিতা" এবং "যায়েদ পুত্র", কারণ সে একজনের পিতা এবং অন্যজনের পুত্র। আবার "দশ হলো অর্ধেক" এবং "দশ অর্ধেক নয়"—অর্থাৎ দশ হলো বিশের অর্ধেক, কিন্তু ত্রিশের অর্ধেক নয়। ফিকহ ও বুদ্ধিবৃত্তিক তত্ত্বে অনেক ভুল রয়েছে যার উৎস এটিই। যেমন তোমার কথা: "নারীর ওপর অভিভাবকত্ব আছে" এবং "নারীর ওপর অভিভাবকত্ব নেই", এ দুটি কথাই সত্য যখন বিবাহ ও ক্রয়-বিক্রয়ের প্রেক্ষিতে এবং আসাবাহ (নিকটাত্মীয়) ও অপরিচিতের প্রেক্ষিতে সম্বন্ধ করা হয়।

চতুর্থত: সম্ভাবনা (কুওয়াত) ও বাস্তবতার (ফেল) ক্ষেত্রে সমতা থাকা। কেননা তুমি বলো "কলসির পানি সুপ্তভাবে পিপাসা নিবারণকারী" এবং "কার্যত পিপাসা নিবারণকারী নয়"—এ দুটি কথাই সত্য। এবং "খাপের তলোয়ার ধারালো এবং ধারালো নয়"—এ দুটি কথাই সত্য। এবং "পাপাচারী ব্যক্তি সাক্ষী এবং সাক্ষী নয়"। এখান থেকেই বিরোধীরা সংশয়ে পড়েছে যে, আল্লাহ তাআলা অনাদিকালে স্রষ্টা এবং আল্লাহ তাআলা অনাদিকালে স্রষ্টা নন।

পঞ্চমত: অংশ এবং সমগ্রের ক্ষেত্রে সমতা থাকা। কেননা তুমি বলো "কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি কালো" এবং "কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি কালো নয়", অর্থাৎ তার গায়ের চামড়া কালো কিন্তু দাঁত কালো নয়; ফলে উভয় কথাই সত্য হয়। এই ভ্রান্তি থেকেই একদল মানুষ, যারা প্রকৃত জ্ঞান অর্জন থেকে দূরে আছে, কল্পনা করে নিয়েছে যে 'বিদ্বান হওয়া' বিষয়টি যায়েদের পুরো সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি অবস্থা যখন আমরা বলি "যায়েদ আলেম" এবং যায়েদ বলতে তার পুরো সত্তাকে বোঝানো হয়। সে জানে না যে আমরা যখন বলি "যায়েদ বাগদাদে আছে", তখন আমাদের উদ্দেশ্য এই নয় যে সে পুরো শহরে পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে, বরং সে শহরের কোনো এক অংশে আছে, যদিও বাগদাদ বলতে পুরো শহরকেই বোঝায়। কিন্তু অভ্যাসগতভাবে ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে এর অর্থ হলো যায়েদ বাগদাদের এমন একটি স্থানে আছে যা তার শরীরের আয়তনের সমান। অনুরূপভাবে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যখন তুমি বলো "যায়েদ জ্ঞানের সাগর", যার অর্থ এই নয় যে তার অন্তর বা মস্তিষ্ক থেকে কোনো নদী প্রবাহিত হচ্ছে।

ষষ্ঠত: সময় এবং স্থানের ক্ষেত্রে সমতা থাকা। কেননা তুমি বলো "পৃথিবী নশ্বর" এবং "পৃথিবী নশ্বর নয়" [অসমাপ্ত বাক্য]
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২১৯)
بحادث وهما صادقان، ولكنه حادث عند أول وجوده وليس بحادث قبله ولا بعده بل قبله معدوم وبعده باق، وتقول الصبي ينبت له أسنان الصبي لا ينبت له أسنان ونعني بأحدهما السنة الأولى وبالآخر بعده ولا ينبغي أن نطول بتحديد الشروط والأمثلة فلنجمل له ضبطاً وهو أن القضية المناقضة هي التي تسلب مثلاً ما تثبته الأولى بعينه أو تثبت ما سلبته الأولى ونفته، وفي ذلك الوقت والمكان والحال وتلك الإضافة بعينها، وبالقوة إن كان ذلك بالقوة وبالفعل إن كان ذلك بالفعل. وكذا في الجزء والكل. ويحصل ذلك بان لا تخالف القضية النافية المثبتة إلا في تبديل النفي بالإثبات فقط هذا إذا كانت القضية قضية في عين، فإن كانت عامة زادت شريطة أخرى وهي أن تكون إحداهما عامة والأخرى خاصة ليلزم التناقض وألا يتصور أن يجتمعا في الصدق أو الكذب ولا يكون التناقض ضرورياً، فإن القضيتين العامتين في نسبة الممكنات كاذبتان، كقولنا كل إنسان كاتب لا أحد من الناس كاتب والخاصتان صادقتان، كقولك بعض الناس كاتب بعض الناس ليس بكاتب، فتأمل هذه الشروط واستخرج من نفسك بقية الأمثلة.

 

‌‌التفصيل الرابع في بيان عكس القضية

وهذا أيضاً يحتاج إليه وربما لا يصادف الدليل على نفس المطلوب ويصادف على عكسه، فيمكن التوصل منه إلى المطلوب، وأعني بالعكس أن تجعل الحكم محكوماً عليه والمحكوم عليه حكماً ولا تتصرف فيه إلا هذا القدر وتبقى القضية صادقة، فعند ذلك تقول هذه قضية منعكسة، أي عكسها أيضا صادق. والقضايا بهذا الاعتبار أربع: الأولى: نافية عامة ولسنا نتكلم في قضية العين فإنها لا تستعمل في النظريات بل في الأعمال والصناعات والعادات. فالنافية العامة تنعكس مثل نفسها نافية عامة، فمهما صدق قولنا لا متحيّز واحد عرض صدق قولنا لا عرض واحد متحيز. وإذا صدق قولنا لا سواد واحد علم صدق قولنا لا علم واحد سواد، فإن ما يسلب عن الشيء فمسلوب عنه الشيء بالضرورة.

الثانية: النافية الخاصة ولا يصدق عكسها البتة، فإنك إذا قلت بعض اللون ليس بسواد لم يمكن إن تقول وبعض السواد ليس بلون ولا أمكنك أن تقول كل السواد ليس بلون.

الثالثة: المثبتة العامة ولا تنعكس مثل نفسها فانك مهما قلت بعض الألوان سواد
একটি নশ্বর ঘটনা হিসেবে, অথচ উভয়টিই সত্য। তবে এটি এর অস্তিত্বের শুরুতে নশ্বর, এর আগে বা পরে নয়; বরং এর আগে এটি অবিদ্যমান ছিল এবং পরে তা বাকি থাকে। আপনি বলেন, শিশুর দাঁত গজায়, আবার বলেন শিশুর দাঁত গজায় না—এখানে একটি দ্বারা প্রথম বছর এবং অন্যটি দ্বারা পরবর্তী সময় বুঝানো হয়। শর্তাবলী ও উদাহরণ নির্ধারণ করে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা করা উচিত নয়। তাই সংক্ষেপে একটি নীতি উল্লেখ করা যাক: তা হলো, একটি বৈপরীত্যমূলক বচন হলো সেটি, যা প্রথমটি যা সাব্যস্ত করেছে ঠিক তা-ই নাকচ করে দেয় অথবা প্রথমটি যা নাকচ করেছে তা সাব্যস্ত করে; এবং তা হতে হবে একই সময়, একই স্থান, একই অবস্থা এবং একই সম্পর্কের ক্ষেত্রে; এবং যদি তা সুপ্ত অবস্থায় থাকে তবে সুপ্ত অবস্থায়, আর যদি কার্যকর অবস্থায় থাকে তবে কার্যকর অবস্থায়। অংশ ও সমগ্রের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। এটি তখনই অর্জিত হয় যখন নেতিবাচক বচনটি ইতিবাচক বচনের কেবল নেতিবাচক ও ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমেই ভিন্ন হয়। এটি কেবল তখনই হয় যখন বচনটি নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে হয়। কিন্তু যদি তা সাধারণ হয়, তবে অন্য একটি শর্ত যুক্ত হয়, আর তা হলো একটি বচন হতে হবে সার্বিক এবং অন্যটি হতে হবে বিশেষ, যাতে বৈপরীত্য অনিবার্য হয় এবং এমনটি না ঘটে যে উভয়টি একই সাথে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কারণ তখন বৈপরীত্য অপরিহার্য থাকে না। কেননা সম্ভাব্য বিষয়সমূহের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুটি সার্বিক বচনই মিথ্যা হতে পারে, যেমন আমাদের উক্তি: 'প্রত্যেক মানুষ লেখক' এবং 'কোনো মানুষই লেখক নয়'। আবার দুটি বিশেষ বচন সত্য হতে পারে, যেমন আপনার উক্তি: 'কিছু মানুষ লেখক' এবং 'কিছু মানুষ লেখক নয়'। সুতরাং এই শর্তগুলো নিয়ে চিন্তা করুন এবং নিজের থেকে বাকি উদাহরণগুলো বের করে নিন।

 

‌‌বচনের পরিবর্তনের বর্ণনায় চতুর্থ বিস্তারিত আলোচনা

এটিরও প্রয়োজন রয়েছে। অনেক সময় উদ্দিষ্ট বিষয়ের পক্ষে সরাসরি দলিল পাওয়া যায় না, কিন্তু তার বিপরীতে দলিল পাওয়া যায়। ফলে তার মাধ্যমে উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়। পরিবর্তনের অর্থ হলো, আপনি বিধেয়কে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্যকে বিধেয় হিসেবে নির্ধারণ করবেন এবং এর অতিরিক্ত কোনো পরিবর্তন করবেন না, অথচ বচনটি সত্য হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে। এমতাবস্থায় আপনি বলবেন এটি একটি পরিবর্তনশীল বচন, অর্থাৎ এর বিপরীতটিও সত্য। এই বিচারে বচন চার প্রকার: প্রথম: সার্বিক নেতিবাচক। আমরা নির্দিষ্ট বিষয়ের বচন নিয়ে আলোচনা করছি না, কারণ তা তাত্ত্বিক বিষয়ে ব্যবহৃত হয় না, বরং কর্ম, শিল্প ও অভ্যাসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং সার্বিক নেতিবাচক বচন নিজের মতোই সার্বিক নেতিবাচক হিসেবে পরিবর্তিত হয়। যখনই আমাদের এই উক্তি সত্য হবে যে: 'কোনো স্থান দখলকারীই একটি গুণ নয়', তখনই আমাদের এই উক্তির সত্যতা প্রকাশ পাবে যে: 'কোনো একটি গুণই স্থান দখলকারী নয়'। আর যখন আমাদের এই উক্তি সত্য হবে যে: 'কোনো একটি কালো রং বিজ্ঞান নয়', তখন আমাদের এই উক্তির সত্যতা জানা যাবে যে: 'কোনো একটি বিজ্ঞানই কালো রং নয়'। কারণ যা কোনো কিছু থেকে নাকচ করা হয়, সেটি থেকেও ওই বিষয়টি অনিবার্যভাবে নাকচ হয়ে যায়।

দ্বিতীয়: বিশেষ নেতিবাচক এবং এর বিপরীতটি কখনোই সত্য হয় না। কারণ আপনি যখন বলেন: 'কিছু রঙ কালো নয়', তখন আপনার পক্ষে এটা বলা সম্ভব নয় যে: 'কিছু কালো রঙ রঙ নয়', আর না আপনার পক্ষে এটা বলা সম্ভব যে: 'সকল কালো রঙই রঙ নয়'।

তৃতীয়: সার্বিক ইতিবাচক। এটি নিজের মতো করে পরিবর্তিত হয় না। কারণ আপনি যখনই বলেন: 'কিছু রঙ কালো'...
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২২০)
صدق قولك بعض السواد لون، فإن كون كل سواد لون لا يخرج عن الصدق قولنا بعض السواد لون ولا يلتفت إلى فحوى الخطاب فليس ذلك من مقتض وضع اللفظ وهو خارج عن غرضنا هذا وإن كان صحيحاً في موضعه.

الرابعة: المثبتة الخاصة وهي تنعكس كنفسها فإنك مهما قلت بعض الجماد جسم صدق قولك بعض الجسم جماد. واقتصر من السوابق على هذا القدر فالزيادة غلبة لا تليق بحجم هذا الكتاب.
আপনার এই কথাটি সত্য যে ‘কিছু কালো হলো রঙ’; কেননা ‘প্রত্যেক কালোই রঙ’ হওয়ার বিষয়টি আমাদের এই কথা ‘কিছু কালো রঙ’-এর সত্যতাকে নাকচ করে না। আর বক্তব্যের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের দিকে ভ্রূক্ষেপ করা হবে না; কারণ এটি শব্দের প্রায়োগিক অবস্থানের দাবি নয় এবং এটি আমাদের বর্তমান উদ্দেশ্য বহির্ভূত, যদিও তা নিজ স্থানে সঠিক।

চতুর্থ: বিশেষ ইতিবাচক যুক্তিবাক্য, আর এটি অনুরূপভাবেই আবর্তিত হয়। কেননা আপনি যখনই বলবেন ‘কিছু জড়বস্তু হলো দেহ’, তখন আপনার এই কথাটিও সত্য হবে যে ‘কিছু দেহ হলো জড়বস্তু’। পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে এই পরিমাণের ওপরই ক্ষান্ত হোন; কারণ অতিরিক্ত সংযোজন এমন বাহুল্য যা এই গ্রন্থের কলেবরের জন্য মানানসই নয়।
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২২১)
‌‌الفن الثاني

‌‌من محك القياس في المقاصد

وهو طرفان

أحدهما في نظم القياس والآخر في محك النظم وشرطه وهو المقدمات. واعلم أنى أعني بالقياس قضايا ألفت تأليفا يلزم من تسليمها بالضرورة قضية أخرى وهذا ليس يتحد نمطه بل يرجع إلى ثلاثة أنواع مختلفة المأخذ والبقايا ترجع إليها.

أما النمط الأول: فنظمه من ثلاثة أوجه: النظم الأول: أن تكون العلة حكماً في إحدى المقدمتين محكوماً عليه في الأخرى، ممل قولنا كل جسم مؤلف وكل مؤلف حادث فيلزم منه أن كل جسم حادث، وقولنا في الفقه كل نبيذ مسكر وكل مسكر حرام فيلزم منه أن كل نبيذ حرام. وعادة الفقهاء في الصيغة أن يقولوا النبيذ مسكر فينبغي أن يكون حراماً قياساً على الخمر، ولا ينكشف الغطاء ولا تنقطع الطالبة إلا بالنظم الذي ذكرناه. ومثل هذه الأقيسة إذا لم يمكن ردها إلى هذا النظم لم تكن النتيجة لازمة ولم تنقطع المطالبة. فإذا فهمت صورة هذا النظم فاعلم أن في هذا القياس مقدمتين.

إحداهما: قولنا كل نبيذ مسكر والأخرى قولنا كل مسكر حرام وكل مقدمة تنقسم إلى جزئين بالضرورة مبتدأ وخبر وحكم ومحكوم عليه فيكون مجموع أجزائها أربعة أمور تتكرّر في المقدمتين فتعود إلى ثلاثة بالضرورة، لأنها لو بقيت أربعة لم تشترك المقدمتان في شيء وبطل الازدواج بينهما ولا تتولد النتيجة، فإنك إذا قلت النبيذ مسكر ولم تتعرض.

في المقدمة الثانية: لا للنبيذ ولا للمسكر ولكن قلت والقتل حرام أو العالم
দ্বিতীয় শিল্প

উদ্দেশ্যসমূহের ক্ষেত্রে কিয়াসের কষ্টিপাথর হতে

এটি দুটি দিক নিয়ে গঠিত।

একটি হলো কিয়াসের বিন্যাস সম্পর্কে এবং অন্যটি হলো বিন্যাসের কষ্টিপাথর ও এর শর্ত সম্পর্কে, আর তা হলো প্রস্তাবনাসমূহ (মুকাদ্দিমাত)। জেনে রাখুন যে, কিয়াস বলতে আমি এমন সব প্রস্তাবনা বুঝাচ্ছি যা এমনভাবে সুসংবদ্ধ করা হয়েছে যে, সেগুলো মেনে নিলে অপরিহার্যভাবে অন্য একটি সিদ্ধান্ত সাব্যস্ত হয়। এর পদ্ধতি কোনো একক ছাঁচে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তিনটি ভিন্ন প্রকারের উৎসের দিকে ফিরে যায় এবং অবশিষ্ট পদ্ধতিগুলোও এগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।

প্রথম পদ্ধতি: এর বিন্যাস তিনভাবে হতে পারে। প্রথম বিন্যাস: 'ইল্লাত' (হেতু) একটি প্রস্তাবনায় 'হুকুম' (বিধেয়) হিসেবে থাকবে এবং অন্যটিতে 'মাহকুম আলাইহি' (উদ্দেশ্য বা যার ওপর হুকুম করা হয়) হিসেবে থাকবে। যেমন আমাদের বক্তব্য: প্রতিটি দেহ হলো সুসংবদ্ধ, আর প্রতিটি সুসংবদ্ধ বস্তু হলো নতুন সৃষ্ট; সুতরাং এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, প্রতিটি দেহ হলো নতুন সৃষ্ট। এবং ফিকহের ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য: প্রতিটি 'নবীয' হলো নেশাজাতীয়, আর প্রতিটি নেশাজাতীয় বস্তু হলো হারাম; ফলে এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, প্রতিটি নবীয হলো হারাম। ফকিহগণের সাধারণ রীতি হলো তারা বলেন: 'নবীয হলো নেশাজাতীয়, তাই মদের ওপর কিয়াস করে এটি হারাম হওয়া উচিত'। কিন্তু আমরা যে বিন্যাস উল্লেখ করেছি তা ব্যতিরেকে রহস্য উন্মোচিত হয় না এবং দাবির অবসান ঘটে না। এ জাতীয় কিয়াসসমূহকে যদি এই বিন্যাসে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয়, তবে সিদ্ধান্তটি আর অপরিহার্য থাকে না এবং অনুসন্ধিৎসার নিবৃত্তি ঘটে না। আপনি যখন এই বিন্যাসের রূপটি বুঝতে পারবেন, তখন জেনে রাখুন যে, এই কিয়াসে দুটি প্রস্তাবনা রয়েছে।

তার একটি হলো আমাদের কথা: 'প্রতিটি নবীয হলো নেশাজাতীয়'; এবং অন্যটি হলো: 'প্রতিটি নেশাজাতীয় বস্তু হলো হারাম'। প্রতিটি প্রস্তাবনা আবার আবশ্যিকভাবে দুটি অংশে বিভক্ত: মুবতাদা (উদ্দেশ্য) ও খবর (বিধেয়), অথবা হুকুম (বিধান) ও মাহকুম আলাইহি (যার ওপর বিধান প্রযোজ্য)। ফলে এই প্রস্তাবনা দুটির অংশগুলোর সমষ্টি হয় চারটি বিষয়, যা মুকাদ্দিমা দুটির মধ্যে পুনরাবৃত্ত হওয়ার কারণে আবশ্যিকভাবে তিনটিতে রূপান্তরিত হয়। কারণ যদি তা চারটিতেই থেকে যেত, তবে প্রস্তাবনা দুটির মধ্যে কোনো সাধারণ যোগসূত্র থাকত না এবং তাদের মধ্যকার জোড়বন্ধন বাতিল হয়ে যেত, ফলে কোনো ফলাফল আসত না। কেননা আপনি যখন বললেন 'নবীয হলো নেশাজাতীয়', কিন্তু দ্বিতীয় প্রস্তাবনায় আপনি নবীয বা নেশাজাতীয় কোনোটিরই উল্লেখ করলেন না, বরং বললেন 'হত্যা করা হারাম' অথবা 'জগত...
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২২২)
حادث فلا ترتبط إحداهما بالأخرى. فبالضرورة لا بد من أن يكون أحد الأجزاء الأربعة متكررا في المقدمتين فيرجع إلى ثلاثة، فلنصطلح على تسمية المكرّر في المقدمتين علة وهو الذي يمكن أن يمرن بقولك لأنه في جواب المطالبة. فإنه إذا قيل لك لِمَ قلت إن النبيذ حرام فتقول لأنه مسكر ولا تقول لأنه حرام فما يقترن به لأن هو العلة، ولنسمِّ ما يجري مجرى النبيذ محكوماً عليه وما يجري مجرى الحرام حكماً، فإنا في النتيجة نقول فالنبيذ حرام فنحكم على النبيذ بأنه حرام ونشتق للمقدمتين اسمين مختلفين من الأجزاء والمعاني التي تشتمل عليها لتسهل علينا الإِشارة إليهما في التفهيم والمخاطبة، ولا يمكن اشتقاق اسمين مختلفين لهما من العلّة. فإن العلة داخلة فيهما جميعاً فنشتقه من الجزئين الآخرين، فالمقدمة التي فيها تعرض للمحكوم عليه نسقيها المقدمة الأولى والتي فيها الحكم نسقيها الثانية اشتقاقاً من ترتيب أجزاء النتيجة. فإنا نقول في النتيجة فالنبيذ حرام فيكون النبيذ أولاً والحرام ثانياً. والمقدمة التي فيها المحكوم عليه لا يتصور أن يكون فيها الحكم، وهي مقدمة، والتي فيها الحكم لا يتصور أن يكون فيها المحكوم عليه، وهي مقدمة بل هما خاصتان للمقدمتين. واعلم أن النتيجة إنما تلزم من هذا القياس إذا كانت المقدمتان مسلمتين يقيناً إن كان المطلوب عقلياً أو ظناً إن كان المطلوب فقهياً. فإن نازعك الخصم في قولك كل مسكر حرام فإثباته بالنقل وهو قوله " كل مسكر حرام " فإن لم تتمكن من تحقيق تلك المقدمة بحس ولا غيره ولا من إثبات الثاني بنقل أو غيره لم ينفعك القياس، ومهما سلّمنا لم يتصور النزاع في النتيجة البتة، بل كل عقل صدق المقدمتين فهو مضطر للتصديق بالنتيجة مهما أحضرهما في الذهن وأحضر مجموعهما بالبال. وحاصل وجه الدلالة في هذا النظم أن الحكم على الصفة حكم على الموصوف، فإنك إذا قلت النبيذ مسكر فقد جعلت المسكر وصفاً فإذا قلت المسكر حرام فقد حكمت على الوصف، فبالضرورة يدخل فيه الموصوف، فإنك إذا قلت النبيذ مسكر وكل مسكر حرام وبطل قولنا النبيذ حرام مع انه مسلم أنه مسكر بطل قولنا إن كل مسكر حرام، إذ ظهر لنا مسكر ليس بحرام. ومهما صدقت القضية العامة لم يمكن أن يخرج منها بعض المسقيات، وهذا النظم له شرطان حتى يكون منتجاً، شرط في المقدمة الأولى وهو أن تكون مثبتة، فإن كانت نافية لم ينتج لأنك إذا نفيت شيئاً عن شيء لم يكن الحكم على المنفي حكماً على المنفي عنه، فإنك إذا قلت لا خل واحد مسكر وكل مسكر حرام لم يلزم منه حكم في الخل، إذ وقعت
একটি নতুন বিষয়, তাই এদের একটি অন্যটির সাথে সম্পর্কিত নয়। সুতরাং অনিবার্যভাবে চারটি অংশের মধ্যে একটিকে অবশ্যই উভয় ভূমিকায় (মুকদ্দিমা) পুনরাবৃত্তি হতে হবে, যাতে তা তিনে ফিরে আসে। অতএব, উভয় ভূমিকায় যা পুনরাবৃত্তি হয় তাকে আমরা 'ইল্লত' (কারণ) হিসেবে নামকরণের পরিভাষা গ্রহণ করি। আর এটি সেই বিষয় যা আপনি 'কেননা' বলার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন, কারণ এটি দাবির উত্তর হিসেবে আসে। কেননা আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, "আপনি কেন নাবিদকে হারাম বলেছেন?" তখন আপনি বলবেন, "কেননা তা মাদকদ্রব্য"; আপনি বলবেন না যে "কেননা তা হারাম"। সুতরাং 'কেননা' শব্দের সাথে যা যুক্ত হয়, তা-ই হলো ইল্লত। আর যা নাবিদের ন্যায় ব্যবহৃত হয় তাকে আমরা 'মাহকুম আলাইহি' (যার ওপর বিধান প্রযোজ্য) এবং যা হারামের ন্যায় ব্যবহৃত হয় তাকে 'হুকুম' (বিধান) হিসেবে নামকরণ করব। কেননা আমরা ফলাফলে বলি, "অতএব নাবিদ হারাম"; ফলে আমরা নাবিদের ওপর হারাম হওয়ার বিধান প্রদান করি। আমরা উভয় ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত অংশ ও অর্থ থেকে দুটি ভিন্ন নাম বের করি, যাতে বোঝানো এবং আলোচনার ক্ষেত্রে সেগুলোর দিকে ইশারা করা আমাদের জন্য সহজ হয়। আর ইল্লত থেকে উভয় ভূমিকার জন্য দুটি ভিন্ন নাম বের করা সম্ভব নয়। কারণ ইল্লত উভয় ভূমিকার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত, তাই আমরা অন্য দুটি অংশ থেকে নাম বের করব। সুতরাং যে ভূমিকায় 'মাহকুম আলাইহি' বা যার ওপর বিধান প্রযোজ্য তার উল্লেখ থাকে, তাকে আমরা প্রথম ভূমিকা বলি; আর যাতে বিধান থাকে তাকে আমরা দ্বিতীয় ভূমিকা বলি। এটি ফলাফলের অংশগুলোর ক্রমবিন্যাস থেকে গৃহীত। কারণ আমরা ফলাফলে বলি, "অতএব নাবিদ হারাম"; ফলে নাবিদ হয় প্রথম এবং হারাম হয় দ্বিতীয়। যে ভূমিকায় 'মাহকুম আলাইহি' থাকে, সেখানে বিধান থাকার কল্পনা করা যায় না—এটি একটি ভূমিকা; আর যাতে বিধান থাকে, সেখানে 'মাহকুম আলাইহি' থাকার কল্পনা করা যায় না—এটি আরেকটি ভূমিকা। বরং এগুলো উভয় ভূমিকার জন্য নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য। জেনে রাখুন যে, ফলাফল এই যুক্তি (কিয়াস) থেকে তখনই অনিবার্য হবে যখন উভয় ভূমিকা নিশ্চিতভাবে স্বীকৃত হবে—যদি উদ্দেশ্যটি বুদ্ধিবৃত্তিক হয়; অথবা ধারণাভিত্তিক স্বীকৃত হবে—যদি উদ্দেশ্যটি ফিকহ শাস্ত্রীয় হয়। যদি প্রতিপক্ষ আপনার এই কথায় বিতর্ক করে যে, "প্রত্যেক মাদকদ্রব্য হারাম", তবে এর প্রমাণ হবে শ্রুত দলিলের মাধ্যমে, যা হলো তাঁর বাণী: "প্রত্যেক মাদকদ্রব্য হারাম"। যদি আপনি সেই ভূমিকাকে ইন্দ্রিয় বা অন্য কোনো মাধ্যমে সাব্যস্ত করতে না পারেন, অথবা দ্বিতীয়টিকে শ্রুত দলিল বা অন্য কোনো উপায়ে প্রমাণ করতে না পারেন, তবে এই যুক্তি আপনার কোনো উপকারে আসবে না। আর যখনই আমরা ভূমিকা দুটিকে মেনে নেব, তখন ফলাফলের ব্যাপারে কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকবে না। বরং প্রতিটি বিবেক যা উভয় ভূমিকাকে সত্য বলে মানে, সে ফলাফলের সত্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হবে, যখনই সে ঐ দুটিকে এবং তাদের সমষ্টিকে মনে বা চিন্তায় উপস্থিত করবে। এই বিন্যাসের নির্দেশনার সারকথা হলো, গুণের ওপর কোনো বিধান দেওয়া মানেই গুণান্বিত সত্তার (মাউসুফ) ওপরও সেই বিধান দেওয়া। কেননা আপনি যখন বলেন "নাবিদ মাদকদ্রব্য", তখন আপনি মাদকতাকে একটি গুণ হিসেবে নির্ধারণ করেন। এরপর যখন আপনি বলেন "মাদকদ্রব্য হারাম", তখন আপনি গুণের ওপর বিধান দিলেন। ফলে অনিবার্যভাবেই গুণান্বিত সত্তা এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। কারণ যদি আপনি বলেন "নাবিদ মাদকদ্রব্য" এবং "প্রত্যেক মাদকদ্রব্য হারাম", আর আমাদের কথা "নাবিদ হারাম" বাতিল হয়ে যায়—অথচ এটি স্বীকৃত যে তা মাদকদ্রব্য—তবে আমাদের এই কথাটিই বাতিল হয়ে যাবে যে "প্রত্যেক মাদকদ্রব্য হারাম"। কারণ তখন আমাদের সামনে এমন এক মাদকদ্রব্য প্রকাশ পেল যা হারাম নয়। আর যখনই কোনো সাধারণ নীতি বা বাক্য সত্য হয়, তখন তার অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয় সেখান থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। এই বিন্যাস ফলাফলদায়ক হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে: প্রথম ভূমিকার শর্ত হলো একে ইতিবাচক হতে হবে। যদি তা নেতিবাচক হয় তবে তা কোনো ফলাফল দেবে না। কারণ আপনি যখন কোনো বস্তু থেকে কোনো কিছুকে অস্বীকার বা নেতিবাচক করেন, তখন যা অস্বীকার করা হয়েছে তার ওপর বিধান দেওয়া মানে যার থেকে অস্বীকার করা হয়েছে তার ওপর বিধান দেওয়া নয়। কারণ আপনি যদি বলেন "কোনো সিরকাই মাদকদ্রব্য নয়" এবং "প্রত্যেক মাদকদ্রব্য হারাম", তবে এর দ্বারা সিরকার ব্যাপারে কোনো বিধান অবধারিত হয় না, যেহেতু...
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২২৩)
المباينة بين الخل والمسكر فحكمك على المسكر بالنفي أو الإِثبات لا يتعدّى إلى الخل البتة.

الشرط الثاني: أن تكون المقدمة الثانية عامة حتى يدخل بسبب عمومها المحكوم عليه فيه، فإنك لو قلت كل سفرجل مطعوم وبعض المطعوم ربوي لم يلزم منه كون السفرجل ربوياً، إذ ليس من ضرورة الحكم على بعض المطعوم أن يتناول السفرجل بل ربما كان الربوي بعضاً اًخر، نعم إذا قلت وكل مطعوم ربوي لزم حكم الربا في السفرجل، ولكن يحتاجِ إلى إثبات المقدمة بعموم قوله " لا تبيعوا الطعام بالطعام " أو بمدرك آخر، وسنذكر مدارك المقدمات في الطرف الثاني من هذا الفن، فإن قلت بماذا فارق هذا النظم النظمين بعده فاعلم أن العلة إما أن توضع بحيث تكون حكماً في المقدمتين أو محكوماً عليه في المقدمتين أو توضع بحيث تكون حكماً في إحدى المقدمتين محكوماً عليه في الأخرى وهذا الآخر هو النظم الأول، وهو الأوضح، فإن الثاني والثالث لا يتضح غاية الاتضاح بالبرهان المحقق إلا بالرد إليه فلذلك قدّمته وسقيته النظم الأول الأوضح.

النظم الثاني: من نظم القياس أن تكون العلة، أعني المعنى المتكرر في المقدمتين حكماً في المقدمتين، أعني أن يكون خبراً فيهما ولا يكون مبتدأ في أحدهما خبراً في الآخر، ولا مبتدأً فيهما جميعاً، مثاله قولنا إن الباري تعالى ليس بجسم لأن الباري ليس بمؤلف وكل جسم مؤلف فالباري ليس بجسم، فها هنا ثلاثة معان الباري والمؤلف والجسم والمتكرر في المقدمتين هو المؤلف فهو العلّة وتراه خبراً في المقدمتين غير مبتدأ به بخلاف المسكر في النظم الأول، إذ كان خبراً في إحداهما مبتدأً في الأخرى ووجه لزومه النتيجة يمكن تفهيمه مجملاً ومفصلاً ومحققاً. أما المجمل فهو أن كل شيئين ثبت لأحدهما ما انتفى عن الآخر ولا يكون بينهما التقاء واتصال لا يجوز أن يخبر بأحدهما عن الآخر، فالتأليف ثابت للجسم ومنفي عن الباري، فلا يكون بين معنى الجسم والباري التقاء، فلا يقال الباري
সিরকা ও মাদকদ্রব্যের মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান; ফলে মাদকদ্রব্যের ওপর আপনার নেতিবাচক বা ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্তই সিরকার ওপর কোনোভাবেই প্রযোজ্য হবে না।

দ্বিতীয় শর্ত: দ্বিতীয় প্রস্তাবনাটি সার্বিক হতে হবে যাতে এর সার্বিকতার কারণে যার ওপর সিদ্ধান্ত প্রদান করা হচ্ছে তা এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কারণ আপনি যদি বলেন, 'প্রত্যেকটি সফরজল খাদ্যযোগ্য' এবং 'কিছু খাদ্যযোগ্য বস্তু সুদী', তবে এর থেকে সফরজল সুদী হওয়া অপরিহার্য হয় না। কেননা কিছু খাদ্যযোগ্য বস্তুর ওপর হুকুম দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তা সফরজলকেও অন্তর্ভুক্ত করবে; বরং সুদী বস্তু অন্য কিছুও হতে পারে। হ্যাঁ, যদি আপনি বলেন, 'এবং প্রত্যেকটি খাদ্যযোগ্য বস্তুই সুদী', তবে সফরজলের ক্ষেত্রে সুদের বিধান অপরিহার্য হবে। তবে রাসুলুল্লাহর বাণী 'তোমরা খাদ্যের বিনিময়ে খাদ্য বিক্রয় করো না' এর সার্বিকতা দিয়ে অথবা অন্য কোনো প্রমাণের মাধ্যমে সেই প্রস্তাবনাটি প্রমাণ করার প্রয়োজন হবে। আমরা এই শাস্ত্রের দ্বিতীয় ভাগে প্রস্তাবনাগুলোর উৎসসমূহ আলোচনা করব। এখন যদি আপনি বলেন, এই বিন্যাসটি পরবর্তী দুটি বিন্যাস থেকে কিসের দ্বারা পৃথক হলো? তবে জেনে রাখুন যে, হেতু হয় এমনভাবে স্থাপিত হবে যাতে তা উভয় প্রস্তাবনায় 'বিধেয়' হয়, অথবা উভয় প্রস্তাবনায় 'উদ্দেশ্য' হয়, অথবা এমনভাবে স্থাপিত হবে যাতে তা এক প্রস্তাবনায় 'বিধেয়' এবং অন্যটিতে 'উদ্দেশ্য' হয়। আর এই শেষোক্তটিই হলো প্রথম বিন্যাস এবং এটিই সর্বাধিক সুস্পষ্ট। কারণ দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিন্যাসটি সুনিশ্চিত প্রমাণের মাধ্যমে ততক্ষণ পর্যন্ত পুরোপুরি স্পষ্ট হয় না যতক্ষণ না সেগুলোকে প্রথম বিন্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এই কারণেই আমি একে অগ্রাধিকার দিয়েছি এবং একে প্রথম ও সর্বাধিক স্পষ্ট বিন্যাস হিসেবে অভিহিত করেছি।

দ্বিতীয় বিন্যাস: যৌক্তিক অনুমানের বিন্যাসগুলোর মধ্যে এটি হলো এমন যেখানে হেতু—অর্থাৎ উভয় প্রস্তাবনায় পুনরাবৃত্ত অর্থটি—উভয় প্রস্তাবনারই 'বিধেয়' হবে। অর্থাৎ তা উভয়টিতে বিধেয় হবে, কোনো একটিতে উদ্দেশ্য ও অন্যটিতে বিধেয় হবে না এবং উভয়টিতে উদ্দেশ্য হিসেবেও থাকবে না। এর উদাহরণ হলো আমাদের এই উক্তি: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা দেহধারী নন; কারণ আল্লাহ তাআলা যৌগিক নন এবং প্রত্যেকটি দেহধারী বস্তু যৌগিক; সুতরাং আল্লাহ তাআলা দেহধারী নন।' এখানে তিনটি অর্থ রয়েছে: আল্লাহ তাআলা, যৌগিক এবং দেহধারী। উভয় প্রস্তাবনায় পুনরাবৃত্ত অর্থটি হলো 'যৌগিক', সুতরাং এটিই হেতু। আপনি একে উভয় প্রস্তাবনায় বিধেয় হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন, উদ্দেশ্য হিসেবে নয়। এটি প্রথম বিন্যাসের 'মাদকদ্রব্য' পদটির বিপরীত, কারণ সেটি এক প্রস্তাবনায় বিধেয় এবং অন্যটিতে উদ্দেশ্য ছিল। এর থেকে ফলাফল নির্গত হওয়ার বিষয়টি সংক্ষিপ্ত, বিস্তারিত ও সুনিশ্চিতভাবে বোঝানো সম্ভব। সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাটি হলো এই যে, এমন দুটি বস্তু যার একটির জন্য যা সাব্যস্ত হয় অন্যটির ক্ষেত্র থেকে তা অপসারিত এবং তাদের উভয়ের মধ্যে কোনো মিলন বা সংযোগ নেই, তবে তাদের একটির মাধ্যমে অন্যটি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া বৈধ নয়। সুতরাং 'যৌগিকতা' দেহের জন্য সাব্যস্ত কিন্তু আল্লাহ তাআলার জন্য তা অস্বীকৃত; তাই 'দেহ' এবং 'আল্লাহ' এই দুটি অর্থের মধ্যে কোনো মিলন নেই। সুতরাং বলা যাবে না যে 'আল্লাহ...'
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২২৪)
جسم ولا يقال الجسم باري. وأما بالتحقيق والتفصيل فينبغي أن يرد إلى النظم الأول بعكس المقدمة النافية. ولنعدل إلى مثال اخر تصاوناً عن ترديد لفظ الباري. فإن قول القائل إنه ليس بجسم كأنه سوء أدب كما أن قوله هو جسم كفر، فإن من قال للملك أنه ليس بحجام ولا بحائك فقد أساء الأدب إذا وهم إمكان ما صرح بنفيه، إذ لا يتعرض إلا لنفي ما له إمكان في المادة والجسمية أشد استحالة في ذاته تعالى عن قول الزائغين من الحياكة والحجامة في الملك، فنقول مثلاً الأجسام ليست أزلية، إذ كل جسم مؤلف ولا أزلي واحد مؤلف فيلزم منه لا جسم واحد أزلي، إذ صار المؤلف ثابتاً للجسم مسلوباً عن الأزلي ولا يبقى بين الأزلي والجسم ارتباط الخبر والمخبر. وتفصيله بأن تنعكس المقدمة النافية فإنها نافية عامة، وقد قدّمنا أن النافية العامة تنعكس مثل نفسها فإذا صدق قولنا ولا أزلي واحد مؤلف صدق قولنا ولا مؤلف واحد أزلي وهو عكسه، فنضيف إليه قولنا وكل جسم مؤلف فيعود إلى النظم الاول، فيكون وجه دلالته ولزوم نتيجته ما سبق. وخاصية هذا النظم أنه لا ينتح إلا القضية النافية، أما الإِثبات فلا. وأما النظم الأول فهو أكمل لأنه ينتح القضايا الأربعة، أعني المثبتة العامة والمثبتة الخاصة والنافية العامة والنافية الخاصة. ولم نفرد تفصيل هذه الآحاد استثقال التطويل فإن قلت فلمَ لا ينتج هذا النظم الإِثبات فاعلم أن هذا لا ينتج إلا النفي، ومن شرطه ان تختلف المقدمتان أيضاً في النفي والإثبات، فإن كانتا مثبتتين لم ينتجا لأن حاصل هذا النظم يرجع إلى الحكم بشيء واحد على شيئين وليس من ضرورة كل شيئين يحكم عليهما بشيء واحد أن يخبر بأحدهما عن الآخر، فإنا نحكم على السواد والبياض جميعاً باللونية ولا يلزم أن يخبر عن السواد بأنه بياض ولا عن البياض بأنه سواد، ونظم القياس فيه أن يقال كل سواد لون وكل بياض لون فكل سواد بياض أو كل بياض سواد واللون هو المتكرّر وقد جعل خبراً في المقدمتين، ولم ينتح بين المعنيين لا اتصالاً ولا انفصالاً، نعم كل شيئين أخبر عن أحدهما بما يخبر عن الآخر بنفيه يجب أن يكون بينهما انفصال وهو النفي، وبرهانه عكس المقدمة النافية ليعود إلى النظم الأول.

النظم الثالث: أن تكون العلة مبتدأ في المقدمتين جميعاً. فهذا إذا جمع شروطه كان منتجاً، ولكن نتيجة خاصة لا عامة، مثاله كل سواد عرض وكل سواد لون فيلزم منه أن بعض العرض لون، وكذلك إذا قلت كل بُر مطعوم وكل بُر ربوي فيلزم منه بالضرورة أن بعض المطعوم ربوي. وبيان وجه دلالته ولزوم النتيجة منه بالإجمال إن الربوي والمطعوم حكمنا بهما على شيء واحد وهو البُر فيلزم بالضرورة بينهما التقاء، وأقل درجات الالتقاء
দেহ, আর বলা হয় না যে দেহ হলো স্রষ্টা। আর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত বর্ণনায় একে প্রথম বিন্যাসের দিকে ফিরিয়ে আনা উচিত, না-বোধক প্রস্তাবনাটিকে বিপরীত করার মাধ্যমে। আর আমরা 'স্রষ্টা' শব্দের পুনরাবৃত্তি পরিহার করার জন্য অন্য একটি উদাহরণের দিকে মোড় নিই। কারণ কোনো বক্তার এই কথা যে 'তিনি দেহ নন', তা যেন এক প্রকার শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ, যেমনটি তাঁর সম্পর্কে 'তিনি দেহ' বলা কুফরি। কেননা যে ব্যক্তি কোনো রাজাকে বলে যে সে রক্তমোক্ষণকারী নয় বা তন্তুবায় নয়, সে শিষ্টাচার লঙ্ঘন করল; কারণ সে এমন কিছুর সম্ভাবনা কল্পনা করেছে যা সে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছে। কেননা কোনো কিছুর অস্তিত্বের সম্ভাবনা থাকলেই কেবল তা অস্বীকার করার অবকাশ থাকে, আর পথভ্রষ্টদের কথা অনুযায়ী রাজার ক্ষেত্রে তন্তুবায় বা রক্তমোক্ষণকারী হওয়ার চেয়ে আল্লাহর সত্তার ক্ষেত্রে দেহধারী হওয়া অনেক বেশি অসম্ভব। সুতরাং আমরা উদাহরণস্বরূপ বলি, দেহসমূহ অনাদি নয়। কারণ প্রতিটি দেহ সংমিশ্রিত, আর কোনো অনাদি সত্তাই সংমিশ্রিত নয়; ফলে এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে কোনো দেহই অনাদি নয়। যেহেতু 'সংমিশ্রিত' হওয়া বিষয়টি দেহের ক্ষেত্রে প্রমাণিত কিন্তু অনাদি সত্তার ক্ষেত্রে নেতিবাচক, তাই অনাদি সত্তা এবং দেহের মধ্যে বিধেয় ও উদ্দেশ্যের কোনো সম্পর্ক থাকে না। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা হলো যে, না-বোধক প্রস্তাবনাটিকে বিপরীত করতে হবে, কারণ এটি একটি সাধারণ না-বোধক প্রস্তাবনা। আর আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, সাধারণ না-বোধক প্রস্তাবনাটি তার নিজের মতোই বিপরীত হয়। সুতরাং যখন আমাদের এই কথাটি সত্য হয় যে 'কোনো অনাদি সত্তাই সংমিশ্রিত নয়', তখন আমাদের এই কথাটিও সত্য হবে যে 'কোনো সংমিশ্রিত সত্তাই অনাদি নয়', যা এর বিপরীত। অতঃপর আমরা এর সাথে আমাদের এই কথাটি যোগ করি যে 'প্রত্যেকটি দেহই সংমিশ্রিত', ফলে তা প্রথম বিন্যাসে ফিরে আসে। সুতরাং এর প্রমাণের দিক এবং ফলাফলের অনিবার্য হওয়ার কারণ পূর্বের মতোই হবে। আর এই বিন্যাসের বৈশিষ্ট্য হলো এটি কেবল না-বোধক সিদ্ধান্তই প্রদান করে, হাঁ-বোধক নয়। আর প্রথম বিন্যাসটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, কারণ এটি চার প্রকারের সিদ্ধান্তই প্রদান করে; অর্থাৎ সাধারণ হাঁ-বোধক, বিশেষ হাঁ-বোধক, সাধারণ না-বোধক এবং বিশেষ না-বোধক। আর দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় আমরা এগুলোর প্রতিটি পৃথকভাবে বিস্তারিত আলোচনা করিনি। আপনি যদি প্রশ্ন করেন কেন এই বিন্যাসটি হাঁ-বোধক সিদ্ধান্ত দেয় না, তবে জেনে রাখুন যে এটি কেবল না-বোধক সিদ্ধান্তই প্রদান করে। আর এর একটি শর্ত হলো যে দুটি প্রস্তাবনাই হাঁ-বোধক ও না-বোধক হওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে হবে; যদি দুটিই হাঁ-বোধক হয় তবে তা কোনো সিদ্ধান্ত দেবে না। কারণ এই বিন্যাসের সারমর্ম হলো দুটি জিনিসের ওপর একই বিষয়ের হুকুম আরোপ করা; আর দুটি জিনিসের ওপর একই হুকুম আরোপ করা হলেই যে তাদের একটিকে অন্যটির সংবাদ হিসেবে গণ্য করতে হবে এমন কোনো আবশ্যকতা নেই। যেমন আমরা কালো ও সাদা উভয়কেই 'রঙ' হিসেবে গণ্য করি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে কালোকে সাদা বলা হবে অথবা সাদাকে কালো বলা হবে। আর এর যুক্তিকাঠামো হলো এভাবে বলা যে: 'প্রত্যেক কালো বস্তু রঙ' এবং 'প্রত্যেক সাদা বস্তু রঙ', সুতরাং 'প্রত্যেক কালো বস্তু সাদা' অথবা 'প্রত্যেক সাদা বস্তু কালো'। এখানে 'রঙ' বিষয়টি পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং উভয় প্রস্তাবনাতেই একে বিধেয় হিসেবে রাখা হয়েছে। এটি অর্থ দুটির মধ্যে কোনো সংযোগ বা বিচ্ছেদ ঘটায় না। তবে হ্যাঁ, যে দুটি জিনিসের একটি সম্পর্কে এমন কিছু বলা হয় যা অন্যটি থেকে অস্বীকার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অবশ্যই বিচ্ছেদ বা না-বোধক সম্পর্ক থাকতে হবে। আর এর প্রমাণ হলো না-বোধক প্রস্তাবনাটিকে বিপরীত করা যাতে তা প্রথম বিন্যাসে ফিরে আসে।

তৃতীয় বিন্যাস: হেতু বা মধ্যপদটি উভয় প্রস্তাবনাতেই উদ্দেশ্য হিসেবে থাকবে। এটি যখন তার শর্তাবলি পূরণ করে তখন তা সিদ্ধান্ত প্রদান করে, তবে তা বিশেষ সিদ্ধান্ত হয়, সাধারণ নয়। উদাহরণস্বরূপ: 'প্রত্যেক কালো বস্তু একটি আকস্মিক গুণ' এবং 'প্রত্যেক কালো বস্তু একটি রঙ'; সুতরাং এর থেকে অনিবার্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, 'কিছু আকস্মিক গুণ হলো রঙ'। অনুরূপভাবে আপনি যদি বলেন 'প্রত্যেকটি গম খাদ্যদ্রব্য' এবং 'প্রত্যেকটি গম সুদি পণ্য', তবে এর থেকে আবশ্যিকভাবে প্রমাণিত হয় যে 'কিছু খাদ্যদ্রব্য হলো সুদি পণ্য'। আর এর প্রমাণের পদ্ধতি এবং ফলাফল অনিবার্য হওয়ার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা হলো এই যে, আমরা 'সুদি' এবং 'খাদ্যদ্রব্য' এই উভয় হুকুম একটি জিনিসের ওপরই আরোপ করেছি আর তা হলো 'গম'; সুতরাং তাদের উভয়ের মধ্যে একটি মিলন থাকা আবশ্যক, আর মিলনের সর্বনিম্ন পর্যায় হলো
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২২৫)
أن يوجب حكماً خاصاً وإن لم يكن عاماً فأمكن أن يقال بعض المطعوم ربوي حكماً خاصاً، دان لم يكن عاماً وبعض الربوي مطعوم، وان لم يمكن أن يف ل بمجرد هذا كل واحد مطعوم ربوي أو كل ربوي مطعوم. وأما تفصيل تفهيمه فهو بأن تعكس المقدمة التي ذكرناها أولاً وهو قولنا كل بُر مطعوم، وقد ذكرنا أن المثبتة العامة تنعكس مثبتة خاصة، فإن صدق قولنا كل بُر مطعوم صدق قولنا بعض المطعوم بُر فتبقى المقدمة الثانية، وهو أن كل بُر ربوي ويرجع إلى النظم الأول، إذ يصير المطعوم الذي هو المتكرر مبتدأ في إحدى المقدمتين خبراً في الأخرى، وشرط الإنتاج في هذا النظم أن تكون المقدمة الأولى التي فيها المحكوم عليه مثبتة ولا تكون نافية كما شرطنا ذلك في النظم الأول، فان كانت نافية لم تلزم النتيجة ولا يضر أن تكون خاصة، والذي يشترك. فيه كل نظم أمران أحدهما أنه لا بد أن يكون في جملة المقدمتين قضية عأمة فلا تلزم نتيجة من خاصتين البتة. والثاني أن يكون فيهما مثبتة فلا تلزم نتيجة من نافيتين قط، ولهذا شرح لكن لا أظنك تهتدي إلى ذلك بنفسك مهما ساعدك الجد في التأمل والمثابرة على الممارسة. فان عليك وظيفتين إحداهما تأمل هذه الأمور الدقيقة، والأخرى الأنس بهذه الألفاظ العربية. فأني اخترعت أكثرها من تلقاء نفسي لأن الاصطلاحات في هذا الفن ثلاثة اصطلاح المتكلمين والفقهاء والمنطقيين، ولا أؤثر أن أتبع واحداً منهم فيقصر فهمك عليه، ولا تفهم اصطلاح الفريقين الآخرين، ولكن استعملت من الألفاظ ما رأيته كالمتداول بين جميعهم واخترعت ألفاظا لم يشتركوا في استعمالها؛ حتى إذا فهمت المعاني بهذه الألفاظ فما تصادفه في سائر الكتب يمكنك أن ترده إليها وتطلع على مرادهم منها.

النمط الثاني:

من القياس ألا يكون فيه علة وحكم ومحكوم عليه كما سبق بل تكون فيه مقدمتان والمقدمة الأولى تشتمل على قضيتين والمقدمة الثانية تشتمل على
একটি বিশেষ বিধানকে আবশ্যক করে, যদিও তা সাধারণ না হয়। তাই বলা সম্ভব যে, কিছু খাদ্যদ্রব্য সুদী (রিবয়ী) একটি বিশেষ বিধান হিসেবে, যদিও তা সাধারণ নয়, এবং কিছু সুদী বস্তু হলো খাদ্যদ্রব্য। যদিও কেবলমাত্র এর দ্বারা এটা বলা সম্ভব নয় যে, প্রতিটি খাদ্যদ্রব্যই সুদী অথবা প্রতিটি সুদী বস্তুই খাদ্যদ্রব্য। আর এটি বুঝানোর বিস্তারিত পদ্ধতি হলো আমাদের প্রথমে উল্লিখিত ভূমিকাটি পরিবর্তন করা, যা ছিল আমাদের কথা: "প্রত্যেক গম হলো খাদ্যদ্রব্য"। আর আমরা উল্লেখ করেছি যে, 'সাধারণ ইতিবাচক' বাক্যটি 'বিশেষ ইতিবাচক' বাক্যে পরিবর্তিত হয়। সুতরাং যদি আমাদের এই কথাটি সত্য হয় যে "প্রত্যেক গম হলো খাদ্যদ্রব্য", তবে আমাদের এই কথাটিও সত্য হবে যে "কিছু খাদ্যদ্রব্য হলো গম"। ফলে দ্বিতীয় ভূমিকাটি অবশিষ্ট থাকে, আর তা হলো "প্রত্যেক গম হলো সুদী" এবং এটি প্রথম বিন্যাসে ফিরে যায়। কেননা 'খাদ্যদ্রব্য' যা পুনরাবৃত্ত হয়েছে, তা এক ভূমিকায় উদ্দেশ্য এবং অন্যটিতে বিধেয় হিসেবে পরিণত হয়। আর এই বিন্যাসে ফলাফল আসার শর্ত হলো, প্রথম ভূমিকাটি—যাতে যার ওপর বিধান আরোপ করা হয়েছে তা বিদ্যমান—ইতিবাচক হতে হবে, নেতিবাচক হতে পারবে না, যেমনটি আমরা প্রথম বিন্যাসে শর্তারোপ করেছিলাম। সুতরাং যদি তা নেতিবাচক হয় তবে ফলাফল আসবে না, আর তা বিশেষ (আংশিক) হলে কোনো ক্ষতি নেই। আর যে দুটি বিষয় প্রতিটি বিন্যাসে সমানভাবে বিদ্যমান: তার একটি হলো, দুই ভূমিকার মধ্যে অবশ্যই একটি সাধারণ (সার্বিক) বাক্য থাকতে হবে; ফলে দুটি বিশেষ বাক্য থেকে কখনোই কোনো ফলাফল আসবে না। আর দ্বিতীয়টি হলো, তাদের মধ্যে অবশ্যই একটি ইতিবাচক বাক্য থাকতে হবে; ফলে দুটি নেতিবাচক বাক্য থেকে কখনোই কোনো ফলাফল আসবে না। আর এর ব্যাখ্যা রয়েছে, তবে আমি মনে করি না যে আপনি একা একা এর পথ পাবেন, যদিও আপনি চিন্তাভাবনা এবং অনুশীলনে অত্যন্ত সচেষ্ট ও অবিচল থাকেন। কেননা আপনার ওপর দুটি দায়িত্ব রয়েছে; একটি হলো এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করা, আর অন্যটি হলো এই আরবি শব্দগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া। কেননা আমি এগুলোর অধিকাংশ নিজের থেকেই উদ্ভাবন করেছি; কারণ এই বিদ্যায় পরিভাষা হলো তিন প্রকার: মুতাকাল্লিমদের পরিভাষা, ফকিহদের পরিভাষা এবং যুক্তিবিদদের পরিভাষা। আর আমি তাদের কোনো একটির অনুসরণ করা পছন্দ করি না, কারণ তাতে আপনার বুঝ কেবল সেই গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে এবং আপনি অন্য দুই দলের পরিভাষা বুঝতে পারবেন না। বরং আমি এমন শব্দ ব্যবহার করেছি যা সবার মধ্যে প্রচলিত হিসেবে দেখেছি এবং এমন কিছু শব্দ উদ্ভাবন করেছি যা তারা ব্যবহারে অংশ নেয়নি; যাতে আপনি যখন এই শব্দগুলোর মাধ্যমে অর্থ বুঝে ফেলবেন, তখন অন্য বইগুলোতে যা কিছু পাবেন তা এর দিকে ফিরিয়ে দিতে পারেন এবং তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন।

দ্বিতীয় বিন্যাস:

কিয়াসের (যুক্তি) এমন একটি ধরণ যাতে পূর্বের ন্যায় কারণ, বিধান এবং যার ওপর বিধান আরোপ করা হয়েছে তা থাকে না; বরং এতে দুটি ভূমিকা থাকে, যার প্রথম ভূমিকাটি দুটি বাক্যকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং দ্বিতীয় ভূমিকাটি অন্তর্ভুক্ত করে...
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২২৬)
ذكر واحد من تينك القضيتين أو نقيضها. ولنسمَّ هذا النمط نمط التلازم، ومثاله قولنا إن كان العالم حادثاً فله مُحدِث ومعلوم أنه محدَث فتلزم منه نتيجة وهو أن له مُحدِثاً بالضرورة. فالمقدمة الأولى قولنا إن كان العالم حادثاً وهما قضيتان إن حذف قولنا إن، كان أحدهما قولنا العالم حادث ولنسقه المقدّم، والثاني قبرلنا فله مُحدِث ولنسقه اللازم أو التابع، والمقدمة الثانية اشتملت على تسليم عين القضية التي سقيناها مقدماً وهو قولنا معلوم أن العالم حادث فتلزم منه نتيجة وهو أن العالم مُحدَث؛ وهو عين اللازم. ومثاله في الفقه قولنا إن كان الوِتر يؤدّى على الراحلة بكل حال فهو نفلٌ، ومعلوم أنه يؤدّى على الراحلة بكل حال فثبت أنه نفل.،وهذا النمط يتطرق إليه أربع تسليمات ينتج منها اثنتان ولا ينتج اثنتان. أما المنتج فتسليم عين القضية التي سقيناها مقدماً فإنه ينتج عين اللازم، مثاله قولنا إن كانت هذه الصلاة صحيحة فالمصلي متطهر ومعلوم أن هذه الصلاة صحيحة فيلزم منه المصلي متطهر. ومثاله من الحس قولنا إن كان هذا سواداً فهو لون ومعلوم أنه سواد فهو إذاً لون. وأما المنتج الآخر فهو تسليم نقيض اللازم فانه ينتج نقيض المقدّم، ومعاله قولنا إن كانت هذه الصلاة صحيحة فالمصلي متطهر ومعلوم أن المصلي غير متطهر فينتج أن الصلاة ليست صحيحة، فانظر كيف أنتج تسليمِ نقيض اللازم نقيض المقدّم، ومثاله أيضاً فولنا إن كان بيع الغائب صحيحا فهو يلزم بصريح الإلزام ومعلوم إن هذا اللازم باطل فإنه ليس يلزم بصريح الإلزام فيلزم منه نقيض المقدّم، وهو إن البيع غير صحيح. ومثاله أيضاً قولنا إن كان الباري تعالى على العرش فهو مقدّر لأنه مساو للعرش أو أصغر أو أكبر، ومعلوم أن اللازم محال وهو كونه مقدّراً فيكون المقدّم محالاً. ووجه دلالة هذا أن المؤدي إلى المحال محال وقول الخصم أنه على العرش مؤدي إلى المحال فهو محال، وقوله إن بيع الغائب صحيح مؤدِ إلى المحال، وهو أن يلزم بصريح الإلزام على خلاف الإجماع والمؤد إلى المحال محال. فأما الذي لا ينتج فهو تسليم عين اللازم. فإنا إذا قلنا إن كانت هذه الصلاة صحيحة فالمصلي متطهر ومعلوم أن المصلي متطهر فيلزم أن الصلاة صحيحة، وهو غير صحيح، إذ ربما تكون الصلاة باطلة بعلة أخرى سوى الطهارة. وكذلك تسليم نقيض المقدّم لا ينتج لا عين اللازم ولا نقيضه. فانك لو قلت ومعلوم أن الصلاة ليست بصحيحة فلا يلزم من هذا أن المصلي متطهر ولا أنه غير متطهر. والفرق بين هذا

সেই দুটি বিষয়ের একটি অথবা তার বিপরীতটির উল্লেখ করা। আসুন আমরা এই পদ্ধতিকে ‘সংসক্তি’ (তলাজুম) পদ্ধতি বলি। এর উদাহরণ হলো আমাদের কথা— যদি জগত নশ্বর হয় তবে তার একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন; আর এটি জানা কথা যে জগত নশ্বর, ফলে এখান থেকে একটি ফলাফল অনিবার্য হয় যে, অবশ্যই এর একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। প্রথম ভূমিকাটি হলো আমাদের কথা— ‘যদি জগত নশ্বর হয়’; এখানে ‘যদি’ শব্দটি বাদ দিলে দুটি বিষয় থাকে— একটি হলো ‘জগত নশ্বর’, আসুন আমরা একে ‘পূর্বপদ’ (মুকাদ্দাম) বলি। দ্বিতীয়টি হলো আমাদের কথা— ‘তবে তার একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন’, আসুন আমরা একে ‘পরপদ’ (লাজিম) বা অনুগামী বলি। দ্বিতীয় ভূমিকাটি সেই বিষয়ের মূল অংশকে স্বীকার করে নিয়েছে যা আমরা পূর্বপদ হিসেবে পেশ করেছিলাম; আর তা হলো আমাদের এই কথা— ‘এটি জানা কথা যে জগত নশ্বর’। সুতরাং এখান থেকে এই ফলাফল আসে যে, জগত সৃষ্ট; যা মূলত পরপদেরই অনুরূপ। ফিকহ শাস্ত্র থেকে এর উদাহরণ হলো আমাদের কথা— যদি বিতর নামাজ সব অবস্থাতেই বাহনের ওপর আদায় করা যায় তবে তা নফল; আর এটি জানা কথা যে তা সব অবস্থাতেই বাহনের ওপর আদায় করা যায়, সুতরাং প্রমাণিত হলো যে এটি নফল। এই পদ্ধতির ক্ষেত্রে চারটি স্বীকারোক্তি আসতে পারে, যার মধ্যে দুটি ফলাফল প্রদান করে এবং দুটি কোনো ফলাফল প্রদান করে না। যা ফলাফল প্রদান করে, তার একটি হলো সেই বিষয়ের মূল অংশকে স্বীকার করা যাকে আমরা পূর্বপদ হিসেবে পেশ করেছি; কারণ এটি অবিকল পরপদটিকে ফলাফল হিসেবে দেয়। এর উদাহরণ হলো আমাদের কথা— যদি এই নামাজটি শুদ্ধ হয় তবে নামাজি ব্যক্তি পবিত্র; আর এটি জানা কথা যে এই নামাজটি শুদ্ধ, সুতরাং এখান থেকে অনিবার্য হয় যে নামাজি ব্যক্তি পবিত্র। ইন্দ্রিয়জাত উদাহরণ হলো আমাদের কথা— যদি এটি কালো হয় তবে এটি একটি রং; আর এটি জানা কথা যে এটি কালো, সুতরাং এটি একটি রং। আর অন্য যে বিষয়টি ফলাফল প্রদান করে তা হলো পরপদের বিপরীতকে স্বীকার করা, কারণ এটি পূর্বপদের বিপরীতকে ফলাফল হিসেবে দেয়। এর উদাহরণ হলো আমাদের কথা— যদি এই নামাজটি শুদ্ধ হয় তবে নামাজি ব্যক্তি পবিত্র; আর এটি জানা কথা যে নামাজি ব্যক্তি পবিত্র নয়, ফলে ফলাফল আসে যে নামাজটি শুদ্ধ নয়। দেখুন, কীভাবে পরপদের বিপরীতকে স্বীকার করা পূর্বপদের বিপরীতকে ফলাফল হিসেবে প্রদান করল। এর আরও একটি উদাহরণ হলো আমাদের কথা— যদি অদৃশ্য বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় সঠিক হয়, তবে তা স্পষ্ট বাধ্যবাধকতার সাথে কার্যকর হবে; আর এটি জানা কথা যে এই পরপদটি বাতিল, কারণ তা স্পষ্ট বাধ্যবাধকতার সাথে কার্যকর হয় না, সুতরাং এখান থেকে পূর্বপদের বিপরীত ফলাফল আসে, আর তা হলো ক্রয়-বিক্রয়টি সঠিক নয়। এর আরও একটি উদাহরণ হলো আমাদের কথা— যদি স্রষ্টা তাআলা আরশের উপর উঠে থাকেন, তবে তিনি পরিমিত; কারণ তিনি হয় আরশের সমান, অথবা তার চেয়ে ছোট কিংবা বড়। আর এটি জানা কথা যে, পরপদটি অসম্ভব—আর তা হলো তাঁর পরিমিত হওয়া; সুতরাং পূর্বপদটিও অসম্ভব। এর প্রমাণের দিকটি হলো— যা অসম্ভবের দিকে নিয়ে যায় তা নিজেও অসম্ভব। প্রতিপক্ষের এই দাবি যে তিনি আরশের উপর উঠেছেন—তা একটি অসম্ভবের দিকে নিয়ে যায়, সুতরাং তা অসম্ভব। তেমনি তার কথা ‘অদৃশ্য বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় সঠিক’—তাও একটি অসম্ভবের দিকে নিয়ে যায়, আর তা হলো ইজমার বিপরীতে একে স্পষ্ট বাধ্যবাধকতার সাথে কার্যকর করা; আর যা অসম্ভবের দিকে নিয়ে যায় তা অসম্ভব। আর যা ফলাফল প্রদান করে না, তা হলো পরপদের মূল বিষয়টিকে স্বীকার করা। কারণ আমরা যদি বলি— যদি এই নামাজটি শুদ্ধ হয় তবে নামাজি ব্যক্তি পবিত্র, আর এটি জানা কথা যে নামাজি ব্যক্তি পবিত্র, তবে এখান থেকে নামাজটি শুদ্ধ হওয়া অনিবার্য হয় না; কারণ পবিত্রতা ছাড়াও অন্য কোনো ত্রুটির কারণে নামাজ বাতিল হতে পারে। একইভাবে পূর্বপদের বিপরীতকে স্বীকার করা পরপদের মূল বিষয় বা তার বিপরীত কোনোটিই ফলাফল হিসেবে দেয় না। কেননা আপনি যদি বলেন— এটি জানা কথা যে নামাজটি শুদ্ধ নয়, তবে এখান থেকে এটি অনিবার্য হয় না যে নামাজি ব্যক্তি পবিত্র, আবার এটিও অনিবার্য হয় না যে তিনি অপবিত্র। আর এর মধ্যে পার্থক্য হলো...

(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২২৭)
النمط والنمط الأول أن الأول ترتيبه خبر عن شيء تمَّ حكم على الخبر بشيء فلزم منه نتيجة وهو الالتقاء بين المبتدأ الأول والخبر الأخير، وكل واحد من الأجزاء الثلاثة يصلح أن يجعل وصفاً وخبراً وحكماً للآخر في نظم هذا الكلام. وأما هذا فإنه إظهار تلازم بين قضيتين غير متداخلتين. فإن قولنا إن كانت الصلاة صحيحة فالمصلي متطهر بيان أن كون المصلي متطهراً لازم لكون الصلاة صحيحة، فلا يمكن أن يجعل كون المصلي متطهراً لا وصفاً للصلاة ولا وصفاً للصحة. والفرق من حيث الترتيب والنظم ظاهر. وأما وجه الدلالة فهو أنه مهما جعل شيء لازماً لشيء فينبغي أن لا يكون الملزوم أعم من اللازم، بل إما أخص وإما مساوياً. ومهما كان أخص فبثبوت الأخص يلزم بالضرورة ثبوت الأعم. إذ يلزم من ثبوت السواد وجوده ووجود اللون، وهو الذي عنيناه بتسليم عين المقدم. وانتفاء الأعم يوجب انتفاء الأخص، إذ يلزم من انتفاء اللون انتفاء السواد وهو الذي عنيناه بتسليم نقيض اللازم. فأما ثبوت الأعم فلا يوجب ثبوت الأخص، فإن ثبوت اللون لا يدل على ثبوت السواد، فلذلك قلنا تسليم عين اللازم لا ينتج لا نفي اللازم ولا ثبوته، وأما انتفاء الأخص فلا يوجب انتفاء الأعم، فإن انتفاء السواد لا يوجب انتفاء اللون ولا ثبوته، وهو الذي عنيناه بقولنا إن تسليم نقيض المتدّم لا ينتج لا عين اللازم ولا نقيضه. وأما جعل الأخص لازماً للأعم فهو خطأ، كمن يقول إن كان هذا لوناً فهو سواد وإن كان اللازم مساوياً للمتقدم أنتج منه أربع تسليمات: كقولنا إن كان زنا المحصَن موجوداً فالرجم واجب ومعلوم أنه موجود فإذن

الرجم واجب، أو معلوم أنه غير موجود فإذاً الرجم غير واجب، أو معلوم أن الرجم واجب فإذاً زنا المحصن موجود، أو معلوم أن الرجم غير واجب فإذاً الزنا غير موجود. وكذلك كل معلول له علة وهو مساو لعلته ويلزم أحدهما الآخر فينتج فيه التسليمات الأربع، ومثاله من المحسوس إن كانت الشمس طالعة فالنهار موجود لكنها طالعة فهو موجود لكنها غير طالعة فهو غير موجود، ولكن النهار موجود فالشمس طالعة، ولكن النهار غير موجود فالشمس غير طالعة. م واجب، أو معلوم أنه غير موجود فإذاً الرجم غير واجب، أو معلوم أن الرجم واجب فإذاً زنا المحصن موجود، أو معلوم أن الرجم غير واجب فإذاً الزنا غير موجود. وكذلك كل معلول له علة وهو مساو لعلته ويلزم أحدهما الآخر فينتج فيه التسليمات الأربع، ومثاله من المحسوس إن كانت الشمس طالعة فالنهار موجود لكنها طالعة فهو موجود لكنها غير طالعة فهو غير موجود، ولكن النهار موجود فالشمس طالعة، ولكن النهار غير موجود فالشمس غير طالعة.

النمط الثالث نمط التعاند: وهو على ضد نمط التلازم والمتكلمون يسقونه السبر والتقسيم والمنطقيون يسمونه الشرطي المنفصل، ونحن سميناه التعاند، ومثاله
রীতি এবং প্রথম রীতিটি হলো, প্রথমটির বিন্যাস হলো কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে একটি সংবাদ, যার ফলে সেই সংবাদের ওপর একটি বিধান দেওয়া হয়, আর তা থেকে একটি ফলাফল নির্গত হয়; যা হলো প্রথম উদ্দেশ্য (মুবতাদা) এবং শেষ সংবাদের (খবর) মধ্যে সংযোগ স্থাপন। আর এই বক্তব্যের বিন্যাসে তিনটি অংশের প্রতিটি অন্যটির জন্য বিশেষণ, সংবাদ এবং বিধান হওয়ার যোগ্যতা রাখে। আর এটি হলো দুটি অবিচ্ছিন্ন নয় এমন বিষয়ের (প্রতিজ্ঞা) মধ্যে পারস্পরিক অবিচ্ছেদ্যতা প্রকাশ করা। যেমন আমাদের কথা: "যদি নামাজ সঠিক হয়, তবে নামাজি পবিত্র"—এটি একটি বর্ণনা যে, নামাজি পবিত্র হওয়া নামাজের সঠিক হওয়ার জন্য অপরিহার্য। সুতরাং নামাজি পবিত্র হওয়াকে নামাজের বিশেষণ কিংবা সঠিক হওয়ার বিশেষণ হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়। বিন্যাস এবং কাঠামোর দিক থেকে পার্থক্যটি স্পষ্ট। আর প্রমাণের দিকটি হলো, যখনই কোনো কিছুকে অন্য কিছুর জন্য অপরিহার্য করা হয়, তখন আবশ্যক হলো যে শর্তযুক্ত বিষয়টি যেন অপরিহার্য বিষয়টি থেকে অধিক ব্যাপক না হয়; বরং সেটি হয় অধিকতর নির্দিষ্ট হবে অথবা সমান হবে। আর যখনই তা অধিকতর নির্দিষ্ট হবে, তখন নির্দিষ্টটির প্রমাণের দ্বারা অনিবার্যভাবে অধিক ব্যাপকটির প্রমাণ নিশ্চিত হয়। কারণ কৃষ্ণবর্ণের অস্তিত্বের প্রমাণ থেকে স্বয়ং তার অস্তিত্ব এবং বর্ণের অস্তিত্ব প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক হয়। আর এটিই আমরা 'পূর্ববর্তী বিষয়ের মূলকে স্বীকার করা' দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছি। আর ব্যাপকটির অনুপস্থিতি নির্দিষ্টটির অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে, কারণ বর্ণের অনুপস্থিতি থেকে কৃষ্ণবর্ণের অনুপস্থিতি হওয়া আবশ্যক। আর এটিই আমরা 'অপরিহার্য বিষয়ের বিপরীতকে স্বীকার করা' দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছি। পক্ষান্তরে, ব্যাপকটির প্রমাণ নির্দিষ্টটির প্রমাণকে আবশ্যক করে না; কেননা বর্ণের অস্তিত্ব কৃষ্ণবর্ণের অস্তিত্বকে প্রমাণ করে না। এই কারণেই আমরা বলেছি, 'অপরিহার্য বিষয়ের মূলকে স্বীকার করা' অপরিহার্য বিষয়ের অস্বীকৃতি বা স্বীকৃতি কোনো ফলাফলই প্রদান করে না। আর নির্দিষ্টটির অনুপস্থিতি ব্যাপকটির অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে না; কারণ কৃষ্ণবর্ণের অনুপস্থিতি বর্ণের অনুপস্থিতি কিংবা তার অস্তিত্ব কোনোটিকেই আবশ্যক করে না। আর এটিই আমরা আমাদের এই কথার দ্বারা বুঝিয়েছি যে, 'পূর্ববর্তী বিষয়ের বিপরীতকে স্বীকার করা' অপরিহার্য বিষয়ের মূল বা তার বিপরীত কোনোটিই ফলাফল হিসেবে প্রদান করে না। আর নির্দিষ্ট বিষয়কে ব্যাপক বিষয়ের জন্য অপরিহার্য করা একটি ভুল; যেমন কারো এই কথা বলা: "যদি এটি বর্ণ হয় তবে তা কৃষ্ণবর্ণ।" আর যদি অপরিহার্য বিষয়টি পূর্ববর্তী বিষয়ের সমান হয়, তবে তা থেকে চারটি স্বীকৃতি উৎপন্ন হয়। যেমন আমাদের কথা: "যদি বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচার সাব্যস্ত হয়, তবে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যু (রজম) ওয়াজিব হবে।" এখন এটি যদি জানা থাকে যে তা বিদ্যমান, তবে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যু (রজম) ওয়াজিব। অথবা যদি জানা থাকে যে তা বিদ্যমান নেই, তবে রজম ওয়াজিব নয়। অথবা যদি জানা থাকে যে রজম ওয়াজিব, তবে বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচার সাব্যস্ত। অথবা যদি জানা থাকে যে রজম ওয়াজিব নয়, তবে ব্যভিচার সংঘটিত হয়নি।

একইভাবে প্রতিটি কার্যের জন্য একটি কারণ থাকে এবং তা তার কারণের সমান হয় এবং তাদের একটি অন্যটির জন্য অপরিহার্য হয়; ফলে তাতে চারটি স্বীকৃতিই কার্যকর হয়। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের মধ্য থেকে এর উদাহরণ হলো: "যদি সূর্য উদিত হয় তবে দিন বিদ্যমান।" কিন্তু সূর্য উদিত, অতএব দিন বিদ্যমান। কিন্তু সূর্য উদিত নয়, অতএব দিন বিদ্যমান নয়। কিন্তু দিন বিদ্যমান, অতএব সূর্য উদিত। কিন্তু দিন বিদ্যমান নয়, অতএব সূর্য উদিত নয়। পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যু (রজম) ওয়াজিব। অথবা যদি জানা থাকে যে তা বিদ্যমান নেই, তবে রজম ওয়াজিব নয়। অথবা যদি জানা থাকে যে রজম ওয়াজিব, তবে বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচার সাব্যস্ত। অথবা যদি জানা থাকে যে রজম ওয়াজিব নয়, তবে ব্যভিচার সংঘটিত হয়নি। একইভাবে প্রতিটি কার্যের জন্য একটি কারণ থাকে এবং তা তার কারণের সমান হয় এবং তাদের একটি অন্যটির জন্য অপরিহার্য হয়; ফলে তাতে চারটি স্বীকৃতিই কার্যকর হয়। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের মধ্য থেকে এর উদাহরণ হলো: "যদি সূর্য উদিত হয় তবে দিন বিদ্যমান।" কিন্তু সূর্য উদিত, অতএব দিন বিদ্যমান। কিন্তু সূর্য উদিত নয়, অতএব দিন বিদ্যমান নয়। কিন্তু দিন বিদ্যমান, অতএব সূর্য উদিত। কিন্তু দিন বিদ্যমান নয়, অতএব সূর্য উদিত নয়।

তৃতীয় রীতি হলো বিরোধের রীতি: এটি পারস্পরিক অবিচ্ছেদ্যতার রীতির বিপরীত। কালাম শাস্ত্রবিদগণ একে 'পরীক্ষণ ও বিভাজন' নামে অভিহিত করেন এবং যুক্তিবিদগণ একে 'বিয়োজক শর্তমূলক' বলেন, আর আমরা এর নামকরণ করেছি 'বিরোধ'। এর উদাহরণ হলো:
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২২৮)
العالم إما قديم وإما حادث فهذه مقدمة وهما قضيتان، يحذف إما الأولى قولنا العالم قديم أو الثانية قولنا العالم حادث، فتسليم إحدى القضيتين أو نقيضها يلزم منه لا محالة نتيجة وينتج فيه أربع تسليمات: فانا نقول ومعلوم أنه حادث فيلزم منه نقيض المقدمة الأخرى وهو أنه ليس بقديم. أو نقول ومعلوم أنه ليس بحادث فيلزم منه عين المقدمة الأخرى. أو نقول ومعلوم أنه قديم فيلزم منه نقيض الأخرى وهو أنه ليس بحادث. أو نقول ومعلوم أنه ليس بقديم فيلزم منه عين الأخرى. فبالجملة كل قسمين متناقضين متقابلين إذا وجد فيهما شرائط التناقض كما سبق فينتج إثبات أحدهما نفي الآخر ونفي أحدهما إثبات الآخر، ولا يشترط إن تنحصر المقدمة في قسمين بل شرطه أن تُستَوفى أقسامه وإن كان ثلاثاً. فإنا نقول هذا الشيء إما مساو وإما أقل وإما أكثر فهذه ثلاثة ولكنها حاصرة، فاثبات واحد ينتج نفي الآخرين وإبطال اثنين ينتج إثبات الثالث وإبطال واحد ينتج انحصار الحق في الآخرين أحدهما لا بعينه، والذي لا ينتج فهو أن لا يكون محصوراً، كقولك زيد إما بالعراق وإما بالحجاز وهذا مما يوجب إثبات واحد نفي الآخر، فإنه إن ثبت أنه بالعراق انتفى عن الحجاز وغيره. وأما إبطال واحد فلا ينتج إثبات الآخر إذ ربما يكون في صقع ثالث ويكاد يكون كلام من يستدل على إثبات رؤية الباري بإحالة تصحيح الروية على الوجود غير محصور، إلا أن نتكلف لحصره وجهاً بان نقول تصحيح الرؤية لا يخلو إما أن يكون بكونه جوهراً فيبطل بالعرض أو كونه عرضاً فيبطل بالجوهر أو كونه سواداً أو لوناً فيبطل بالحركة. فلا تبقى شركة لهذه المختلفات إلا في الوجود فهو المصحح، إذ يمكن إن يكون قد بقي أمر آخر مشترك لم يعثر عليه الباحث سوى الموجود، ممل كونه بجهة من الرائي مثلاً. فإن أبطل هذا أيضاً فلعلّ ثمَّ معنى أخر، إلا أن نتكلف

জগত হয় অনাদি অথবা সৃষ্টি; এটি একটি ভূমিকা এবং এতে দুটি প্রতিজ্ঞা রয়েছে। হয় প্রথমটি অর্থাৎ আমাদের এই কথা যে 'জগত অনাদি' বাদ দেওয়া হবে, অথবা দ্বিতীয়টি অর্থাৎ 'জগত সৃষ্টি' বাদ দেওয়া হবে। ফলে এই দুটি প্রতিজ্ঞার কোনো একটি বা তার বিপরীতটি মেনে নিলে অনিবার্যভাবে একটি সিদ্ধান্ত আসবে এবং এতে চারটি স্বীকৃতির পথ তৈরি হবে।

কারণ আমরা বলি এবং এটি জানা যে জগত সৃষ্টি, সুতরাং এর থেকে অন্য ভূমিকার বিপরীতটি আবশ্যক হয়, আর তা হলো জগত অনাদি নয়। অথবা আমরা বলি এবং এটি জানা যে এটি সৃষ্টি নয়, তবে অন্য ভূমিকাটি সরাসরি সাব্যস্ত হবে। অথবা আমরা বলি এবং এটি জানা যে এটি অনাদি, তবে অন্যটির বিপরীতটি অর্থাৎ এটি সৃষ্টি নয় তা আবশ্যক হয়। অথবা আমরা বলি এবং এটি জানা যে এটি অনাদি নয়, তবে অন্যটি সরাসরি সাব্যস্ত হবে।

মোটকথা, দুটি পরস্পরবিরোধী ও বিপরীতমুখী অংশ যদি পূর্বোল্লিখিত বিরোধের শর্তসমূহ পূরণ করে, তবে একটিকে প্রমাণ করলে অন্যটি নাকচ হয়ে যায় এবং একটিকে নাকচ করলে অন্যটি প্রমাণিত হয়। এটি শর্ত নয় যে ভূমিকা কেবল দুটি ভাগে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, বরং শর্ত হলো এর সকল বিভাগ পূর্ণ হতে হবে, এমনকি তা তিনটি হলেও। কারণ আমরা বলি, এই বস্তুটি হয় সমান, অথবা কম, অথবা বেশি। এখানে তিনটি ভাগ রয়েছে কিন্তু এগুলো সীমাবদ্ধ। সুতরাং একটিকে প্রমাণ করলে অন্য দুটি নাকচ হওয়া নিশ্চিত হয়, দুটিকে বাতিল করলে তৃতীয়টি প্রমাণিত হয় এবং একটিকে বাতিল করলে সত্যটি অন্য দুটির মধ্যে অনির্দিষ্টভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

আর যা কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করে না তা হলো যখন বিভাগগুলো সীমাবদ্ধ থাকে না। যেমন তোমার কথা: জায়েদ হয় ইরাকে অথবা হিজাজে। এটি একটিকে প্রমাণ করলে অন্যটিকে নাকচ করা আবশ্যক করে; কারণ যদি প্রমাণিত হয় যে সে ইরাকে আছে, তবে হিজাজ এবং অন্যান্য স্থান থেকে তার অবস্থান নাকচ হয়ে যায়। কিন্তু একটিকে বাতিল করলে অন্যটি প্রমাণিত হয় না, কারণ সম্ভবত সে তৃতীয় কোনো অঞ্চলে থাকতে পারে।

স্রষ্টাকে দেখার বিষয়টির সত্যতা প্রমাণের জন্য যারা দেখার যোগ্য হওয়ার বিষয়টি কেবল অস্তিত্বের (ওজুদ) ওপর ভিত্তি করে দলিল দেন, তাদের কথা প্রায় অসম্পূর্ণ বা সীমাবদ্ধতাহীন হয়ে পড়ে। যতক্ষণ না আমরা একে সীমাবদ্ধ করার জন্য কষ্টসাধ্যভাবে এমন কোনো পথ খুঁজি যে: দেখা সম্ভব হওয়ার বিষয়টি হয় এটি ‘জাওহার’ (মৌলিক সত্তা) হওয়ার কারণে হবে, যা ‘আরাজ’ (বৈশিষ্ট্য) দ্বারা বাতিল হয়ে যায়; অথবা এটি ‘আরাজ’ হওয়ার কারণে হবে, যা ‘জাওহার’ দ্বারা বাতিল হয়; অথবা এটি কালো বর্ণ বা কোনো রঙ হওয়ার কারণে হবে, যা গতির দ্বারা বাতিল হয়ে যায়। ফলে এই বৈচিত্র্যময় বিষয়গুলোর মাঝে অস্তিত্ব ছাড়া আর কোনো সাধারণ দিক বাকি থাকে না, সুতরাং অস্তিত্বই হলো দেখার যোগ্য হওয়ার মূল কারণ। কারণ এটি সম্ভব যে অস্তিত্ব ছাড়া অন্য কোনো সাধারণ বিষয় বাকি রয়ে গেছে যা গবেষক খুঁজে পাননি, যেমন দর্শক থেকে কোনো নির্দিষ্ট দিকে থাকা। যদি এটিও বাতিল করা হয়, তবে সম্ভবত অন্য কোনো অর্থ থাকতে পারে, যতক্ষণ না আমরা তা কষ্টসাধ্যভাবে সীমাবদ্ধ করি।

(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২২৯)
حصر المعاني ونتكلف نفي جميعها ونبين أن طلب مصحح لا بد منه فعند ذلك تحصل النتيجة، فهذه ضروب الأقيسة. فكل استدلال لا يمكن رده إلى هذه الضروب فهو غير منتج وسنزيده شرحاً في حق اللواحق.

অর্থসমূহকে পূর্ণরূপে পরিবেষ্টন করা এবং সেগুলোর সবগুলোকে নাকচ করার শ্রমসাধ্য প্রয়াস চালানো এবং আমরা এটি স্পষ্ট করি যে, একটি সঠিক প্রমাণকারী বিষয়ের অনুসন্ধান অপরিহার্য; আর তখনই ফলাফল অর্জিত হয়। এগুলোই হলো কিয়াসের (যুক্তিকাঠামোর) বিভিন্ন প্রকার। সুতরাং যে কোনো যুক্তিপ্রক্রিয়া যেটিকে এই প্রকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়, তা কোনো ফলাফল দেয় না। আমরা আনুষঙ্গিক বিষয়াবলির আলোচনায় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করব।

(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২৩০)
‌‌الفن الثالث من المقاصد

في بيان المقدمات الجارية من القياس مجرى الثوب من القميص والخشب من السرير، فان ما ذكرناه جرى مجرى الخياطة من القميص وشكل السرير من الخشب، وكما لا يمكن أن يتخذ من كل جسم سيف وسرير وقميص، إذ لا يتأتى من الخشب قميص ولا من الثوب سيف ولا من السيف سرير فكذلك لا يمكن أن يتخذ من كل مقدمة وقضية قياس منتج، بل القياس المنتج لا ينصاغ إلا من مقدمات يقينية إن كان المطلوب يقينيا أو ظنياً إن كان المطلوب فقهياً، فلنذكر معنى اليقين في نفسه لتفهم ذاته ولنذكر مدركه لتفهم الآلة التي بها نقتنص اليقين. وهذا وإن كان القول يطول فيه ولكنا نحرص على الإيجاز بقدر الإمكان. إما اليقين فلا تعرفه إلا بما أقوله وهو أن النفس إذا أذعنت للتصديق بقضية من القضايا وسكنت فلها ثلاثة أحوال:

احدها: أن تتيقن وتقطع به وينضاف إليه قطع ثان وهو أن يقطع بأن قطعه به صحيح ويتيقن بأن يقينه لا يمكن أن يكون فيه سهو ولا غلط ولا التباس، ولا يجوز الغلط لا في تيقنه بالقضية ولا في تيقنه الثاني بصحة يقينه، ويكون فيه آمناً مطمئناً قاطعاً بأنه لا يتصور أن يتغير فيه رأيه ولا أن يطلع على دليل غاب عنه فيغير اعتقاده، ولوِ حكى نقيض اعتقاده عن أفضل الناس فلا يتوقف في تجهيله وتكذيبه وخطأه، بل لو حكى له أن نبياً مع معجزة قد ادعى أن ما يتيقنه خطأ ودليل خطأه معجزته فلا يكون له تأثير بهذا السماع إلا أن يضحك منه، ومن المحكي عنه. فإن خطر بباله أنه يمكن أن يكون الله قد اطْلع نبيه على سر انكشف له نقيض اعتقاده، فليس اعتقاده يقيناً. ومثال هذا العلم قولنا إن الثلاثة أقل من الستة، وإن شخصاً واحداً لا يكون في مكانين، وإن شخصين لا يجتمعان في موضع ونظائر ذلك.

الحالة الثانية: أن يصدّق به تصديقاً جزماً لا يتمارى فيه ولا يشعر بنقيضه البتة ولو أشعر بنقيضه عسر عليه اذعان نفسه للإِصغاء إليه ولكنه لو ثبت وأصغى وحكى له نقيض معتقده عمّن هو أعلم الناس وأعدلهم عنده، وقد نقله مثلاً عن النبي أورث ذلك في يقينه توقفاً ما ولنسمِّ هذا الجنس اعتقاداً جزماً وهو أكثر اعتقاد عوام
উদ্দেশ্যসমূহের তৃতীয় শিল্প

সেই সকল মুখবন্ধ বা প্রস্তাবনা বর্ণনায় যা যুক্তিনির্ভর অনুমানের (কিয়াস) ক্ষেত্রে জামার জন্য কাপড় এবং খাটের জন্য কাঠের ন্যায়। কেননা আমরা যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি তা জামার সেলাই এবং কাঠের কাঠামোর ন্যায়। আর যেমন প্রতিটি বস্তু থেকে তলোয়ার, খাট বা জামা তৈরি করা সম্ভব নয়—যেহেতু কাঠ থেকে জামা হয় না, কাপড় থেকে তলোয়ার হয় না এবং তলোয়ার থেকে খাট হয় না—তেমনিভাবে প্রতিটি মুখবন্ধ ও প্রতিজ্ঞা থেকে ফলপ্রসূ অনুমান গঠন করা সম্ভব নয়। বরং ফলপ্রসূ অনুমান কেবল নিশ্চিত মুখবন্ধসমূহ থেকেই গঠিত হয় যদি অন্বেষিত বিষয়টি নিশ্চিত পর্যায়ের হয়, অথবা ধারণাভিত্তিক মুখবন্ধ থেকে যদি অন্বেষিত বিষয়টি ফিকহী বা আইনশাস্ত্রীয় হয়। অতএব, আমরা স্বয়ং নিশ্চিত বিশ্বাসের (ইয়াকিন) অর্থ বর্ণনা করব যাতে তার সারসত্তা উপলব্ধি করা যায়, এবং এর উৎস উল্লেখ করব যাতে সেই মাধ্যমটি বোঝা যায় যার সাহায্যে আমরা ইয়াকিন লাভ করি। যদিও এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ হওয়ার অবকাশ রাখে, তবে আমরা যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করতে সচেষ্ট থাকব। ইয়াকিনকে কেবল সেভাবেই চেনা সম্ভব যেভাবে আমি বলছি—আর তা হলো: যখন মন কোনো বিষয়ের সত্যতাকে স্বীকার করে নেয় এবং তাতে স্থিতি লাভ করে, তখন তার তিনটি অবস্থা থাকে:

প্রথমটি: সে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানবে এবং অকাট্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, এবং এর সাথে দ্বিতীয় একটি অকাট্য সিদ্ধান্ত যুক্ত হবে—আর তা হলো এই অকাট্য বিশ্বাস রাখা যে, তার প্রথম সিদ্ধান্তটি সঠিক; এবং সে নিশ্চিত হবে যে তার এই নিশ্চিত বিশ্বাসের মধ্যে কোনো বিস্মৃতি, ভুল বা অস্পষ্টতা থাকার সম্ভাবনা নেই। কোনো বিষয়ের প্রতি তার নিশ্চিত বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যেমন ভুল হওয়া অসম্ভব, তেমনি সেই বিশ্বাসের সঠিকতার ব্যাপারে তার দ্বিতীয় স্তরের নিশ্চিত বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও ভুল হওয়া সম্ভব নয়। সে এ বিষয়ে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত হয়ে অকাট্য বিশ্বাস রাখবে যে, এ বিষয়ে তার মত পরিবর্তনের কোনো অবকাশ নেই, অথবা এমন কোনো দলিলের উদ্ভব হবে না যা আগে তার অগোচরে ছিল এবং যা তার এই বিশ্বাসকে বদলে দেবে। যদি শ্রেষ্ঠতম কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকেও তার বিশ্বাসের বিপরীত কিছু বর্ণনা করা হয়, তবে সে তাকে অজ্ঞ প্রতিপন্ন করতে, মিথ্যা সাব্যস্ত করতে এবং ভুল বলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। বরং যদি তার কাছে বর্ণনা করা হয় যে, একজন নবী মোজেজাসহ দাবি করেছেন যে তার এই সুনিশ্চিত বিশ্বাসটি ভুল এবং সেই ভুলের প্রমাণ হলো তাঁর মোজেজা, তবে এই কথা শুনে তার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না, বরং সে নিজে হাসবে এবং যার সম্পর্কে বলা হয়েছে তাকে নিয়ে উপহাস করবে। আর যদি তার মনে এই খটকা জাগে যে, হতে পারে আল্লাহ তাঁর নবীকে এমন কোনো রহস্য অবগত করেছেন যার মাধ্যমে তার এই বিশ্বাসের বিপরীত কিছু উন্মোচিত হয়েছে, তবে তার এই বিশ্বাস ইয়াকিন বা সুনিশ্চিত বিশ্বাস নয়। এই জ্ঞানের উদাহরণ হলো আমাদের এই উক্তি: 'তিন হলো ছয়ের চেয়ে কম', 'একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুই স্থানে থাকতে পারে না', 'দুইজন ব্যক্তি একটি স্থানে একত্রিত হতে পারে না' এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।

দ্বিতীয় অবস্থা: সে বিষয়টিকে এমন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যাতে সে কোনো সন্দেহ পোষণ করে না এবং এর বিপরীত কোনো কিছুর সম্ভাবনা মোটেও অনুভব করে না। যদি এর বিপরীত কিছুর কথা তার সামনে আনাও হয়, তবে তার মন তা শোনার জন্য সায় দেওয়া কঠিন মনে করে। কিন্তু যদি তাকে স্থির করা হয় এবং সে মন দিয়ে শোনে, আর তার বিশ্বাসের বিপরীত বিষয়টি এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা করা হয় যে তার দৃষ্টিতে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ও ন্যায়পরায়ণ—যেমন উদাহরণস্বরূপ তিনি তা নবী থেকে বর্ণনা করেছেন—তবে তা তার এই বিশ্বাসের মধ্যে এক প্রকার দ্বিধা বা সংশয় সৃষ্টি করবে। আমরা এই প্রকারটিকে 'দৃঢ় বিশ্বাস' নাম দেব, আর এটিই হলো সাধারণ মানুষের অধিকাংশ বিশ্বাসের ধরন।
(খণ্ড: ১) মাহাক্কুন নাজার (পৃষ্ঠা: ২৩১)
المسلمين واليهود والنصارى في معتقداتهم وأديانهم ومذاهبهم، بل أكثر اعتقاد المتكلمين في نصرة مذاهبهم بطريق الأدلة، فإنهم قبلوا المذاهب والأدلة جميعاً بحسن الظن والتصديق من أرباب مذاهبهم الذين حَسُنَ فيهم اعتقادهم بكثرة سماعهم الثناء عليهم وتقبيح مخالفتهم ونشؤهم على سماع ذلك منذ الصبا، فإن المستقل بالنظر الذي يستوي مثيله في أول نظره إلى الكفر والإِسلام وسائر المذاهب عزيز.

الحالة الثالثة: أن يكون له سكون نفس إلى شيء والتصديق به وهو يشعر بنقيضه أو لا يشعر ولكنه إن أشعر به لم ينفر طبعه عن قبوله، وهذا يُسمّى ظناً وله درجات في الميل إلى الزيادة والنقصان لا تحصى، فمن سمع من عدل شيئاً سكنت إليه نفسه، فإن انضاف إليه ثان زاد السكون وقوي الظن، فإن انضاف إليه ثالث زادت القوة، فإن انضافت إليه تجربة بصدقهم على الخصوص زادت القوة، فإن انضافت إليه قرينة حال كما إذا أخبروا عن أمر مخوف وهم على صورة مذعورين صفر الوجوه مضطربي الأحوال زاد الظن، وهكذا لا يزال يترقى قليلاً قليلاً في القوة إلى أن ينقلب الظن على التدريج يقيناً إذا انتهى الخبر إلى حد التواتر. والمحدثون يسقون أكثر هذه الأحوال علماً ويقيناً حتى يطلقون بأن الأخبار التي تشتمل عليها الصحاح يوجب العلم العمل بها على كافة الخلق إلا آحاد المحققين، فإنهم يسقون الحالة الثانية يقيناً ولا يميزون بين الحالة الثانية والأولى، والحق أن اليقين هو الأول والثاني مظان الغلط. فمهما ألفت القياس من مقدمات يقينية حقيقية في صورة تأليف الشروط التي قدمناها كانت النتيجة الحاصلة يقينية ضرورية بحسب ذوق المقدمات.

 

‌‌الفصل الثاني

‌‌في مدارك اليقين والاعتقاد

لعلك تقول قد استقصيت في شروط اليقين استقصاءً مؤنساً عن نيله والظفر به فمن أين يقتنص مثل هذا اليقين وما آلته ومدركه. فاعلم أن مدارك الظنون لست أذكرها فإنها واضحة للفقهاء والناس كافة، ولكن أذكر مدارك اليقين والاعتقادات التي يظن بها اليقين ومجامعها فيما حضرني الآن ينحصر في سبعة أقسام، ولنخترع لكل واحد منها اسماً مشتقاً من سببه:

মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস, ধর্ম ও মতাদর্শের ক্ষেত্রে, বরং নিজেদের মতাদর্শের সমর্থনে দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে মুতাকাল্লিমগণের অধিকাংশ বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই। কারণ তারা তাদের মাযহাবের ইমামগণের প্রতি সুধারণা ও বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে মাযহাব ও দলিলসমূহকে সামগ্রিকভাবে গ্রহণ করে নিয়েছে। শৈশব থেকে তাদের প্রশংসা এবং তাদের বিরোধীদের নিন্দা শুনতে শুনতে বড় হওয়ার কারণে তাদের প্রতি এই ভক্তি ও বিশ্বাস সুদৃঢ় হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এমন নিরপেক্ষ চিন্তাশীল ব্যক্তি পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর, যার কাছে প্রাথমিক দৃষ্টিতে কুফর, ইসলাম ও অন্যান্য সমস্ত মতাদর্শ সমান বিবেচিত হবে।

তৃতীয় অবস্থা: কোনো বিষয়ের প্রতি মনের প্রশান্তি ও বিশ্বাস জন্মানো, যদিও সে তার বিপরীত কোনো কিছুর সম্ভাবনা অনুভব করুক বা না করুক। তবে যদি সে তা অনুভবও করে, তবুও তার প্রকৃতি তা গ্রহণ করতে বিমুখ হয় না। একে 'জান্ন' বা প্রবল ধারণা বলা হয় এবং এর হ্রাস-বৃদ্ধির অগণিত স্তর রয়েছে। যখন কেউ কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু শোনে, তখন তার মন তাতে আশ্বস্ত হয়। এরপর যদি দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি যুক্ত হয়, তবে সেই আশ্বস্ততা বৃদ্ধি পায় এবং ধারণা আরও প্রবল হয়। যদি তৃতীয় কেউ যুক্ত হয়, তবে শক্তি আরও বেড়ে যায়। এর সাথে যদি তাদের সত্যবাদিতার বিশেষ কোনো অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়, তবে সেই শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়। এর সাথে যদি পারিপার্শ্বিক কোনো অবস্থা বা আলামত যুক্ত হয়—যেমন তারা কোনো ভয়ংকর বিষয়ের সংবাদ দিল এবং তাদের চেহারা ফ্যাকাশে ও আতঙ্কগ্রস্ত দেখা গেল—তবে ধারণা আরও বৃদ্ধি পায়। এভাবে শক্তির স্তর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং সংবাদের সংখ্যা যখন 'তাওয়াতুর' (অবিচ্ছিন্নতা) এর পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সেই প্রবল ধারণাটি ক্রমান্বয়ে নিশ্চিত বিশ্বাসে (ইয়াকিন) রূপান্তরিত হয়। মুহাদ্দিসগণ এই অবস্থার অধিকাংশকেই 'ইলম' (জ্ঞান) ও 'ইয়াকিন' (নিশ্চয়তা) বলে অভিহিত করেন। এমনকি তারা এও বলেন যে, 'সহিহ' গ্রন্থসমূহে বর্ণিত সংবাদসমূহ সমস্ত সৃষ্টির ওপর তা অনুযায়ী আমল করাকে অনিবার্য করে দেয়, কেবল অল্প কয়েকজন গবেষক ব্যতীত। কারণ তারা দ্বিতীয় অবস্থাকেই 'ইয়াকিন' বলে গণ্য করেন এবং প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করেন না। অথচ সত্য হলো, কেবল প্রথমটিই প্রকৃত ইয়াকিন বা নিশ্চিত বিশ্বাস, আর দ্বিতীয়টি হলো ভুলের সম্ভাব্য ক্ষেত্র। সুতরাং যখনই আপনি আমাদের বর্ণিত শর্তানুসারে প্রকৃত নিশ্চিত হেতুবাক্য দ্বারা কোনো যুক্তি গঠন করবেন, তখন তার লব্ধ ফলাফলও হেতুবাক্যের প্রকৃতি অনুযায়ী অকাট্য ও নিশ্চিত হবে।

 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

নিশ্চয়তা ও বিশ্বাসের উৎসসমূহ সম্পর্কে

আপনি হয়তো বলবেন, আপনি তো নিশ্চিত বিশ্বাসের শর্তাবলি এমন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করেছেন যা তা অর্জন করার ব্যাপারে মানুষকে নিরাশ করে দেয়; তাহলে এ ধরনের নিশ্চয়তা কোথা থেকে লাভ করা যাবে এবং এর মাধ্যম ও উৎসই বা কী? জেনে রাখুন, প্রবল ধারণার উৎসসমূহ আমি বর্ণনা করছি না, কারণ তা ফকিহগণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট। তবে আমি নিশ্চিত বিশ্বাস এবং সেই সব বিশ্বাসের উৎসসমূহ উল্লেখ করব যেগুলোকে নিশ্চিত বিশ্বাস বলে মনে করা হয়। আমার কাছে বর্তমানে যা উপস্থিত আছে, তাতে এগুলো সাতটি ভাগে বিভক্ত। আমি এদের প্রত্যেকটির জন্য তার কারণ অনুযায়ী একটি করে নাম নির্ধারণ করব: