(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: -)
الغوامض والمبهمات لعبد الغني بن سعيد   (عبد الغني بن سعيد الأزدي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الغوامض والمبهمات في الحديث النبوي

المؤلف: أبو محمد عبد الغني بن سعيد بن علي بن بشر بن مروان الأزدي المصري (ت 409هـ)

المحقق: د / حمزة أبو الفتح بن حسين قاسم محمد النعيمي

الناشر: دار المنارة

الطبعة: الأولى 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 193

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আব্দুল গনি ইবনে সাঈদের আল-গাওয়ামিদ ওয়াল-মুবহামাত   (আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আজদি)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: নববী হাদিসে অস্পষ্ট ও প্রচ্ছন্ন বিষয়সমূহ

লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ ইবনে আলী ইবনে বিশর ইবনে মারওয়ান আল-আজদি আল-মিসরি (মৃত্যু ৪০৯ হিজরি)

সম্পাদক: ড. হামজা আবু আল-ফাতহ ইবনে হুসাইন কাসিম মুহাম্মদ আল-নুআইমি

প্রকাশক: দার আল-মানারাহ

সংস্করণ: প্রথম ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: ইয়া বাঘিয়া আল-খাইর আকবিল

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: -)
كتاب

الغوامض والمبهمات

في الحديث النبوي

 

تصنيف

الإمام عبد الغني بن سعيد بن علي الأزدي

المتوفى سنة 409 هـ

 

حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه

د / حمزة أبو الفتح بن حسين قاسم محمد النعيمي

الأستاذ المساعد بقسم الكتاب والسنة بالجامعة الإسلامية العالمية بكوالالمبور - ماليزيا

 

دار المنارة

 

الطبعة الأولى

1421 هـ - 2000 م
কিতাব

আল-গাওয়ামিদ ওয়া আল-মুবহামাত

নববী হাদিসে

 

রচনা

ইমাম আব্দুল গনী বিন সাঈদ বিন আলী আল-আযদি

মৃত্যু: ৪০৯ হিজরী

 

তাহকীক, টীকা ও হাদিস তাখরীজ করেছেন

ড. হামযাহ আবুল ফাতহ বিন হুসাইন কাসিম মুহাম্মাদ আল-নুআইমী

সহকারী অধ্যাপক, কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগ, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি কুয়ালালামপুর - মালয়েশিয়া

 

দারুল মানারাহ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২১ হিজরী - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌باب

1- أخبرنا القاضي الفقيه أبو محمد عبد الله بن القاضي أبي الفضل عبد الرحمن بن يحيى بن إسماعيل العثماني الديباجي قراءة مني عليه، بعد أن نقلت من أصل سماعه، قال: أخبرنا الشيخ الفقيه أبو الحسن علي بن المشرف بن المسلم بن حميد الأنماطي، قراءة مني عليه، في الخامس والعشرين من ذي القعدة سنة سبع وخمس ماية، قال: أخبرنا الشيخ الحافظ أبو زكريا عبد الرحيم بن أحمد بن نصر البخاري، إجازة في سنة أربع ⦗ص: 48⦘ وخمسين وأربع ماية، قال: أخبرنا الشيخ أبو محمد عبد الغني بن سعيد بن علي بن سعيد الأزدي الحافظ، قراءة عليه وأنا أسمع، قال: حدثنا أبو أحمد بن المفسر، أن علي بن غالب حدثهم، قال: حدثنا علي المديني، قال: حدثنا الضحاك بن مخلد، قال: حدثنا موسى بن عبيدة الربذي، قال: حدثنا عمر بن الحكم، أنه سمع ⦗ص: 49⦘ أبا أسيد، قال: تزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم امرأة من بلجون. قال: فبعثني لآتيه بها. قال: فجئت بها فأنزلتها في الشوط، ثم أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلت: قد جئتك بأهلك. فانطلق يمشي، فأهوى ليقبلها. قال: وكان إذا اختلا النساء أصغى وأهوى وقبل. فقالت: أعوذ بالله منك، فقال لها: لقد استعذت معاذاً. ثم قال: ردها. فرددتها إلى أهلها.
পরিচ্ছেদ

১- কাজী ফকীহ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন কাজী আবু ফজল আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া বিন ইসমাইল আল-উসমানী আল-দিবাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, তাঁর শ্রবণের মূল কপি থেকে নকল করার পর। তিনি বলেন: শায়খ ফকীহ আবুল হাসান আলী বিন আল-মুশাররফ বিন আল-মুসলিম বিন হুমাইদ আল-আনমাতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, পাঁচশত সাত হিজরীর পঁচিশে যিলকদ তারিখে। তিনি বলেন: শায়খ হাফিয আবু যাকারিয়া আবদুর রহিম বিন আহমদ বিন নাসর আল-বুখারী চারশত ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ চুয়ান্ন হিজরীতে ইজাযতসূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি বিন সাঈদ বিন আলী বিন সাঈদ আল-আযদী আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠকালে যখন আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আবু আহমদ বিন আল-মুফাসসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আলী বিন গালিব তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আলী আল-মাদিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: দাহহাক বিন মাখলাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মূসা বিন উবাইদাহ আর-রাবাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উমর বিন আল-হাকাম বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৪৯⦘ আবু উসাইদকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বালজুন গোত্রের এক মহিলাকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাকে নিয়ে আসার জন্য আমাকে পাঠালেন। তিনি বলেন: আমি তাকে নিয়ে আসলাম এবং তাকে আশ-শাওত নামক স্থানে নামালাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললাম: আমি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছি। তিনি হেঁটে রওনা হলেন এবং তাকে চুম্বন করার জন্য ঝুঁকছিলেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মহিলাদের সাথে নির্জনে থাকতেন, তখন তাদের দিকে মনোনিবেশ করতেন, ঝুঁকতেন এবং চুম্বন করতেন। তখন সে (মহিলাটি) বলল: আমি আপনার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তখন তিনি তাকে বললেন: তুমি এক মহান সত্তার নিকট আশ্রয় চেয়েছ। অতঃপর তিনি বললেন: একে ফিরিয়ে দাও। ফলে আমি তাকে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দিলাম।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
2- حدثنا حميد بن الحسن الوراق، أن محمد بن خريم حدثهم، قال: حدثنا دحيم، قال: حدثنا ⦗ص: 50⦘ الوليد، قال: حدثنا الأوزاعي، قال: سألت الزهري، أي أزواج النبي صلى الله عليه وسلم استعاذت منه؟

فقال: أخبرني عروة، عن عائشة، أن ابنة الجون لما أدخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فدنا منها، قالت: أعوذ بالله منك. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ⦗ص: 51⦘ لقد عذت بعظيم، الحقي بأهلك.

قال الزهري: الحقي بأهلك تطليقة.
২- আমাদের নিকট হুমাইদ বিন হাসান আল-ওয়াররাক বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ বিন খুরাইম তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট দাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আওযাঈ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যুহরীকে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে কে তাঁর থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন?

অতঃপর তিনি বললেন: উরওয়াহ আমাকে আয়েশা থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, যখন জুনের কন্যাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আনা হলো এবং তিনি তার নিকটবর্তী হলেন, তখন সে বলল: আমি আপনার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ তুমি এক মহান সত্তার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছ, সুতরাং তুমি তোমার পরিবারের নিকট ফিরে যাও।

যুহরী বলেন: "তোমার পরিবারের নিকট ফিরে যাও" কথাটি একটি তালাক হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৫১)
قال الشيخ أبو محمد عبد الغني بن سعيد: اسم هذه المرأة الجونية: أميمة بنت النعمان. والحجة في ذلك:

3- ما حدثنا أبو أحمد المصري، أن علي بن غالب حدثهم، قال: حدثنا علي بن المديني، قال: حدثنا الفضل بن دكين، قال: حدثنا عبد الرحمن بن الغسيل، عن حمزة بن أبي ⦗ص: 52⦘ أسيد، عن أبي أسيد، قال: خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى انطلقنا إلى حائط يقال له: الشوط، حتى انتهينا إلى حائطين فجلسنا بينهما. فقال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: اجلسوا هاهنا. قال: وأتي بالجونية أميمة بنت النعمان بن شراحيل، ومعها داية لها حاضنة، وقد أنزلت بيتاً من النخل. فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم: هبي نفسك. فقالت: هل تهب الملكة نفسها للسوقة؟ فأومأ بيده، يضع يده عليها لتسكن. فقالت: أعوذ بالله منك، فقال: لقد تعوذت معاذاً، ثم خرج علينا. فقال: يا أبا أسيد: أكسها رازقيتين، وألحقها بأهلها.

يعني بالرازقيتين: أنه كساها ثوبين، متعها بذلك.
শেখ আবু মুহাম্মদ আব্দুল গণি ইবনে সাঈদ বলেছেন: এই জওনিয়া মহিলার নাম হলো: উমাইমা বিনতে নুমান। আর এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো:

৩- আবু আহমাদ আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আলি ইবনে গালিব তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলি ইবনুল মাদিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফজল ইবনে দুকাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনুল গাসিল আমাদের নিকট হামজা ইবনে আবি ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ উসাইদ থেকে, তিনি আবু উসাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম এবং 'শাওত' নামক একটি বাগানে গেলাম। অবশেষে আমরা দু’টি বাগানের মাঝে পৌঁছলাম এবং সেখানে বসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন: তোমরা এখানে বসো। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: এরপর জওনিয়া উমাইমা বিনতে নুমান ইবনে শারাহিলকে আনা হলো, তার সাথে তার একজন ধাত্রী বা লালনকারিনী ছিল, এবং তাকে খেজুর পাতার তৈরি একটি ঘরে রাখা হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি নিজেকে আমার নিকট সোপর্দ করো। সে বলল: কোনো রানী কি সাধারণ মানুষের নিকট নিজেকে সোপর্দ করতে পারে? তখন তিনি তাকে শান্ত করার জন্য নিজের হাত দিয়ে ইশারা করলেন এবং তার ওপর নিজের হাত রাখতে চাইলেন। সে বলল: আমি আপনার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। তিনি বললেন: তুমি এক মহান সত্তার নিকট আশ্রয় চেয়েছ। এরপর তিনি আমাদের নিকট বেরিয়ে এলেন এবং বললেন: হে আবু উসাইদ, একে দুটি রাজেকিয়া (সাদা লিনেন কাপড়) পরিয়ে দাও এবং তাকে তার পরিবারের নিকট পৌঁছে দাও।

'রাজেকিয়া' বলতে উদ্দেশ্য হলো: তিনি তাকে দুটি কাপড় পরিয়েছিলেন এবং এর মাধ্যমে তাকে বিদায়ী উপহার প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
قال الشيخ أبو محمد عبد الغني بن سعيد: ويقال إن هذه المرأة هي: فاطمة بنت الضحاك بن سفيان الكلابي. والحجة في ذلك:

4- ما حدثناه علي بن العباس بن الون، قال: حدثنا جعفر بن سليمان النوفلي، قال:

حدثنا إبراهيم بن المنذر الحزامي، قال: حدثني عمر بن أبي بكر المؤملي، أن زكريا بن عيسى حدثهم، عن الزهري، عن عروة، عن عائشة قالت: تزوج رسول الله صلى الله عليه وسلم الكلابية، فلما أدخلت عليه دنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالت: إني أعوذ بالله منك. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لقد عذت بمعاذ، الحقي بأهلك.

⦗ص: 54⦘ قال الزهري: وهي فاطمة بنت الضحاك بن سفيان.
শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ বলেন: বলা হয় যে এই নারী হলেন: ফাতিমা বিনতে দাহহাক ইবনে সুফিয়ান আল-কিলাবি। আর এ বিষয়ে প্রমাণ হলো:

৪- আমাদের নিকট আলী ইবনে আব্বাস ইবনুল ওয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জাফর ইবনে সুলাইমান আন-নাওফালি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনুল মুনজির আল-হিযামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট উমর ইবনে আবু বকর আল-মুআম্মালি বর্ণনা করেছেন যে, জাকারিয়া ইবনে ঈসা তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিলাবি গোত্রের জনৈক নারীকে বিবাহ করেন। যখন তাকে তাঁর নিকট নিয়ে আসা হলো, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকটবর্তী হলেন। তখন সে বলল: আমি আপনার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তুমি এক মহান সত্তার আশ্রয় গ্রহণ করেছ, তুমি তোমার পরিবারের নিকট ফিরে যাও।

⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ যুহরি বলেন: আর তিনি হলেন ফাতিমা বিনতে দাহহাক ইবনে সুফিয়ান।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌باب

5- حدثنا سلم بن الفضل، قال: حدثنا يوسف بن يعقوب، قال: حدثنا سليمان بن حرب، قال: حدثنا حماد بن سلمة، عن هشام بن ⦗ص: 56⦘ عروة، عن أبيه، عن عائشة، أن رجلاً قام من الليل، فقرأ فرفع صوته بالقرآن. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يرحم الله فلاناً، كأين من آية أذكرنيها الليلة كنت أسقطتها. ⦗ص: 57⦘ قال أبو محمد عبد الغني بن سعيد: الرجل هو: عبد الله بن يزيد الخطمي. والحجة في ذلك:
পরিচ্ছেদ

৫- আমাদের কাছে সালাম ইবনুল ফাদল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সুলায়মান ইবনে হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘ উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রাতে সালাতে দাঁড়ালেন এবং উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আল্লাহ অমুক ব্যক্তির ওপর রহম করুন, তিনি আজ রাতে আমাকে এমন অনেক আয়াতের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন যা আমি ভুলে গিয়েছিলাম। ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গানি ইবনে সাইদ বলেন: সেই ব্যক্তিটি হলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-খাতমি। আর এর প্রমাণ হলো:
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
6- ما حدثناه أبو الطاهر السدوسي، قال: حدثنا موسى بن هارون، قال: حدثنا أبو موسى الأنصاري، قال: حدثنا أبو زرعة الرازي. ⦗ص: 58⦘ قال لنا موسى: ثم لقيت أبا زرعة فحدثني، قال: حدثني إبراهيم بن موسى الفراء، قال: حدثنا عبد الله بن سلمة الأفطس، عن أبي جعفر الخطمي، عن عبد الله بن أبي بكر، عن عمرة، عن عائشة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سمع قارئاً يقرأ، فقال: صوت من هذا؟ فقالوا: عبد الله بن يزيد. قال: رحمه الله، لقد ذكرني آية كنت أنسيتها.
৬- আবু তাহির আস-সাদুসী আমাদের নিকট যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মূসা আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যুরআহ আর-রাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ মূসা আমাদের বলেন: পরবর্তীতে আমি আবু যুরআহর সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তিনি আমাকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনে মূসা আল-ফাররা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে সালামাহ আল-আফতাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আল-খাতমী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়িশা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ক্বারীকে তিলাওয়াত করতে শুনলেন, অতঃপর তিনি বললেন: এটি কার কণ্ঠ? তারা বললেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ। তিনি বললেন: আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি আমাকে এমন একটি আয়াতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যা আমি ভুলে গিয়েছিলাম।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
7- حدثنا محمد بن علي النقاش من أصله، أن أحمد بن كعب حدثهم، قال: حدثنا أبو حاتم الرازي، قال: حدثنا إبراهيم بن موسى الرازي، قال: حدثنا عبد الله بن سلمة وهو الأفطس، عن أبي جعفر الخطمي، عن أبي بكر بن حزم، عن عمرة عن عائشة، قالت: سمع النبي صلى الله عليه وسلم قراءة عبد الله بن يزيد الأنصاري، فقال: لقد ذكرني آية كنت نسيتها.

كتبه علي بن عمر عن النقاش.

⦗ص: 60⦘

[قال الشيخ أبو محمد] : وفي حديث النقاش عن أحمد بن كعب، عن أبي حاتم خلافاً لحديث أبي زرعة؛ لأن في حديث أبي زرعة عبد الله بن أبي بكر مكان أبيه أبي بكر بن عمرو بن حزم.
৭- মুহাম্মদ ইবনে আলী আন-নাক্কাশ তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যে, আহমাদ ইবনে কা'ব তাঁদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হাতিম আর-রাজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে মুসা আর-রাজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে সালামাহ (যিনি আল-আফতাস নামে পরিচিত) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আবু জাফর আল-খাতমি থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে হাযম থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ আল-আনসারীর কিরাত শুনলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই তিনি আমাকে এমন একটি আয়াতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যা আমি ভুলে গিয়েছিলাম।"

আলী ইবনে উমর এটি নাক্কাশের সূত্রে লিপিবদ্ধ করেছেন।

⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘

[শায়খ আবু মুহাম্মদ বলেন]: আহমাদ ইবনে কা'ব থেকে নাক্কাশের বর্ণিত আবু হাতিমের হাদীসটিতে আবু যুরআ’র হাদীসের বৈপরীত্য রয়েছে; কারণ আবু যুরআ’র হাদীসে তাঁর পিতা আবু বকর ইবনে আমর ইবনে হাযমের স্থলে আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৬১)
‌‌باب

8- حدثنا أبو الطاهر السدوسي، قال: حدثنا أحمد بن عمرو القطراني، قال: حدثنا محمد بن عبيد، قال: حدثنا حماد بن زيد، عن عمرو بن دينار، عن جابر، أن رجلاً أعتق غلاماً له عن دبرٍ لم يكن له ⦗ص: 62⦘ مال غيره، فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: من يشتريه مني؟ فاشتراه نعيم بن عبد الله بثمان مائة درهم، فدفعها إليه.

قال جابر بن عبد الله: عبداً قبطياً مات عام أول.
পরিচ্ছেদ

৮- আবু তাহের আস-সাদুসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে আমর আল-কাতরানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত, জাবির (রা.) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার এক গোলামকে মুদাব্বার হিসেবে (অর্থাৎ নিজের মৃত্যুর পর সে মুক্ত হবে এমন শর্তে) মুক্তি দান করেছিল, অথচ তার নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ ওই গোলাম ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ ছিল না। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: "কে আমার নিকট হতে একে ক্রয় করবে?" তখন নুআইম ইবনে আব্দুল্লাহ আটশত দিরহামের বিনিময়ে তাকে ক্রয় করলেন এবং তিনি (নবীজী) সেই অর্থ তার (মালিকের) নিকট হস্তান্তর করলেন।

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন: সেটি ছিল এক কিবতী গোলাম, যে গত বছর মারা গিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
9- حدثنا النقاش، قال: حدثنا زيد بن عبد العزيز، قال: حدثنا محمد بن يحيى الفياض، قال: حدثنا محمد بن عبد الله الأنصاري، قال: حدثنا عزرة بن ثابت، عن أبي الزبير، عن جابر، قال: أعتق ⦗ص: 64⦘ رجل من بني عذرة غلاماً له عن دبرٍ، فبعث النبي صلى الله عليه وسلم فباعه ودفع إليه ثمنه، وقال له: ابدأ بنفسك فتصدق عليها، ثم على والديك ثم على قرابتك، ثم هكذا، ثم هكذا، ثم هكذا.
৯- আন-নাক্কাশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যাইদ ইবন আব্দুল আযীয আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া আল-ফাইয়াদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আযরাহ ইবন সাবিত আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুয যুবাইর থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ বনু উযরাহ গোত্রের এক ব্যক্তি তার এক গোলামকে তার মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার শর্তে আযাদ করে দিলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোক পাঠিয়ে গোলামটিকে বিক্রি করলেন এবং তার মূল্য ঐ ব্যক্তিকে প্রদান করলেন। আর তিনি তাকে বললেন: নিজের মাধ্যমে শুরু করো এবং নিজের প্রয়োজনে ব্যয় (সাদাকা) করো, তারপর তোমার পিতামাতার জন্য, তারপর তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য, তারপর এভাবে, তারপর এভাবে এবং তারপর এভাবে।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
10-[حدثنا أبو يوسف يعقوب بن المبارك، أن محمد بن جعفر بن أعين] حدثهم، قال: حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، قال: حدثنا شريك، عن سلمة بن ⦗ص: 65⦘ كهيل، عن عطاء، وأبي الزبير، عن جابر بن عبد الله، أن النبي صلى الله عليه وسلم باع مدبراً.
১০-[আমাদের কাছে আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আল-মুবারক বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আয়ান] তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু বকর বিন আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে শারিক বর্ণনা করেছেন সালামাহ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ কুহাইল থেকে, তিনি আতা ও আবু আল-যুবাইর থেকে, তারা জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন মুদাব্বার (মৃত্যু পরবর্তী আযাদ হওয়ার চুক্তিবদ্ধ দাস) বিক্রয় করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
11- حدثنا أحمد بن بهزاذ إملاءً، أن محمد بن علي بن زيد حدثهم، قال: حدثنا محرز بن سلمة، قال: حدثنا المنكدر بن محمد، ⦗ص: 67⦘ عن أبيه، عن جابر بن عبد الله، قال: أعتق رجل -يعني: عبداً- لم يكن له مال غيره، فدعا به رسول الله صلى الله عليه وسلم فرده في الرق، وباعه من نعيم بن عبد الله النحام، وأعطى ثمنه لسيده.
১১- আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে বাহযাদ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে যায়িদ তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহরিয ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মুনকাদির ইবনে মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি এক দাসকে মুক্ত করে দিয়েছিল, অথচ তার নিকট সেই দাসটি ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ ছিল না। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ডাকলেন এবং পুনরায় তাকে দাসত্বে ফিরিয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি তাকে নুআইম ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাহহামের নিকট বিক্রি করলেন এবং তার বিক্রয়লব্ধ মূল্য তার মালিককে প্রদান করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
قال أبو محمد عبد الغني بن سعيد: مولى الغلام المنعم عليه بالعتق هو: أبو مذكور. الحجة في ذلك:

12- ما حدثنا به محمد بن علي النقاش أن محمد بن علي غلام طالوت حدثهم، قال: حدثنا موسى بن هارون أبو عيسى الطوسي، قال: حدثنا حسين بن محمد المروذي، عن جرير، قال: حدثني عبد الله بن ⦗ص: 68⦘ أبي نجيح، عن مجاهد، عن [جابر بن عبد الله] ، أن رجلاً يكنى أبا مذكور، أعتق عبداً له عن دبرٍ وليس له مال غيره، فبعث النبي صلى الله عليه وسلم فباعه من نعيم بن عبد الله النحام بثمان مائة درهم، ودعاه فرد عليه الثمن. فقال: إنما يعتق من له فضل، وإلا فإنما يعود على نفسه.
আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ বলেন: আযাদ করার মাধ্যমে যে গোলামের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়েছিল, তার অভিভাবক (মালিক) হলেন: আবু মাযকুর। এর স্বপক্ষে দলিল হলো:

১২- মুহাম্মদ ইবনে আলী আন-নাক্কাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তালুতের গোলাম মুহাম্মদ ইবনে আলী তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবনে হারুন আবু ঈসা আত-তুসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর থেকে, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ আবি নাজীহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ থেকে, তিনি [জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ] থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি যার উপনাম ছিল আবু মাযকুর, তিনি তার এক দাসকে মুদাব্বার হিসেবে (অর্থাৎ নিজের মৃত্যুর পর আযাদ হওয়ার শর্তে) আযাদ করে দিয়েছিলেন, অথচ ওই দাসটি ছাড়া তার আর কোনো সম্পদ ছিল না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোক পাঠিয়ে তাকে নুয়াইম ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাহ্হামের নিকট আটশ দিরহামে বিক্রয় করলেন এবং তাকে ডেকে বিক্রয়লব্ধ অর্থ তাকে ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "কেবল সেই ব্যক্তিই আযাদ করবে যার অতিরিক্ত সম্পদ রয়েছে, অন্যথায় সে তো নিজের প্রয়োজনেই তা ফিরে পাবে (অর্থাৎ নিজের প্রয়োজন আগে মেটাবে)।"
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৬৮)
[قال أبو محمد عبد الغني] : والغلام هو يعقوب. والحجة في ذلك:

13- ما حدثنا به الحسن بن الخضر، قال: حدثنا إسحاق بن إبراهيم بن يونس، قال: حدثنا يعقوب بن إبراهيم ⦗ص: 69⦘ الدورقي، قال: حدثنا ابن علية، عن أيوب، عن أبي الزبير، عن جابر، أن رجلاً من الأنصار يقال له: أبو مذكور، أعتق غلاماً له عن دبر يقال له: يعقوب. لم يكن له مال غيره. فدعا به رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: من يشتريه مني؟ فاشتراه نعيم بن عبد الله النحام بثمان مائة درهم، ثم دفعها إليه. فقال: ((إذا كان أحدكم فقيراً فليبدأ بنفسه، فإن كان فضل فعلى عياله، فإن كان فضل على ذوي قرابته، أو على ذي رحمه، فإن كان فضل فها هنا، وها هنا)) .
[আবু মুহাম্মদ আব্দুল গানি বলেছেন] : এবং গোলামটি হলো ইয়াকুব। আর এ বিষয়ে প্রমাণ হলো:

১৩- আল-হাসান বিন আল-খিদর আমাদের নিকট যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব বিন ইবরাহিম ⦗পৃষ্ঠা: ৬৯⦘ আদ-দাওরাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উলাইয়্যাহ আইয়ুব থেকে, তিনি আবুয যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আনসারদের জনৈক ব্যক্তি—যাকে আবু মাযকুর বলা হতো—তার ইয়াকুব নামক এক গোলামকে 'মুদাব্বার' হিসেবে (মালিকের মৃত্যুর পর স্বাধীন হওয়ার শর্তে) মুক্ত করেছিলেন। তাঁর নিকট ঐ গোলাম ছাড়া আর কোনো সম্পদ ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: আমার থেকে এটি কে ক্রয় করবে? তখন নুআইম বিন আব্দুল্লাহ আন-নাহহাম আটশত দিরহামের বিনিময়ে তাকে ক্রয় করলেন, অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ) সেই অর্থ তাকে (মালিককে) প্রদান করলেন। এরপর তিনি বললেন: ((তোমাদের কেউ যখন অভাবগ্রস্ত হয়, তখন সে যেন নিজের মাধ্যমে শুরু করে। যদি অতিরিক্ত থাকে, তবে তা তার পরিবার-পরিজনের জন্য। যদি আরও অতিরিক্ত থাকে, তবে তা তার নিকটাত্মীয়দের জন্য বা রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের জন্য। এরপরও যদি অতিরিক্ত থাকে, তবে তা এখানে এবং এখানে।))।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৭০)
‌‌باب

14- حدثنا أبو بكر عبد الله بن محمد بن الخصيب قاضي مصر، أن أبا محمد بهلول بن إسحاق بن بهلول حدثهم، قال: حدثنا سعيد بن منصور، عن سفيان وهو ابن عيينة، عن عمرو بن دينار، قال: حدثني الحسن بن محمد [بن] (1) علي، أن عبيد الله بن أبي ⦗ص: 71⦘ رافع، أخبره عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه، قال: بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم والزبير والمقداد، فقال: إيتوا روضة خاخ، فإن بها ظعينة معها كتاب.

فانطلقنا تعادي بنا خيلنا حتى أتينا الروضة، فإذا نحن بالظعينة، فقلنا لها: أخرجي الكتاب. قالت: ما عندي كتاب: قلنا: لتخرجن الكتاب ⦗ص: 72⦘ أو لنطرحن الثياب. فأخرجته من عقاصها. فأتينا به رسول الله صلى الله عليه وسلم. فإذا هو من حاطب بن أبي بلتعة إلى مشركي أهل مكة، يخبرهم ببعض أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى حاطب، فقال: ما هذا؟ قال: لا تعجل علي يا رسول الله، فإني كنت امرأً ملصقاً في قريش، ولم أكن من أنفسها، وليس أحد من المهاجرين إلا ولهم قرابات يحمون بها أهاليهم وأموالهم، ووالله ما فعلته كفراً، ولا ارتداداً ولا رضاً بالكفر بعد إسلامي.

فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أما إنه قد صدق. فقال عمر: دعني يا رسول الله أضرب عنق هذا المنافق. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: وما يدريك يا عمر لعل الله اطلع إلى أهل بدر فقال: اعملوا ما شئتم، فقد غفرت لكم.

⦗ص: 73⦘ رواه حصين عن أبي عبد الرحمن السلمي عن علي. وأبو الزبير، عن جابر. وإسحاق بن راشد، عن الزهري، عن عروة، عن عبد الرحمن بن حاطب بن أبي بلعتة، عن ⦗ص: 74⦘ أبيه.

--------------------------------------------

(1) ساقطة من المطبوع.
পরিচ্ছেদ

১৪- আমাদের নিকট আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল খাসিব, মিসরের কাজি (বিচারক) বর্ণনা করেছেন যে, আবু মুহাম্মদ বাহলুল ইবনে ইসহাক ইবনে বাহলুল তাঁদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে মনসুর বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে—আর তিনি হলেন ইবনে উয়াইনাহ—তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি বলেন: আমাকে হাসান ইবনে মুহাম্মদ [ইবনে] (১) আলী বর্ণনা করেছেন যে, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ রাফি তাকে সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আমাকে, জুবাইর এবং মিকদাদকে পাঠালেন এবং বললেন: "তোমরা ‘রওদায়ে খাখ’ নামক স্থানে যাও, কেননা সেখানে এক উষ্ট্রী আরোহী নারী রয়েছে যার কাছে একটি পত্র আছে।"

অতঃপর আমরা রওনা হলাম এবং আমাদের ঘোড়াগুলো আমাদের নিয়ে দ্রুতবেগে ছুটল, যতক্ষণ না আমরা সেই রওদাতে পৌঁছলাম। সেখানে আমরা সেই উষ্ট্রী আরোহী নারীকে দেখতে পেলাম। আমরা তাকে বললাম: "পত্রটি বের কর।" সে বলল: "আমার কাছে কোনো পত্র নেই।" আমরা বললাম: "হয় তুমি পত্রটি বের করবে ⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘ অথবা আমরা অবশ্যই তোমার পোশাক তল্লাশি করব।" তখন সে তার চুলের বেণী থেকে সেটি বের করে দিল। আমরা সেটি নিয়ে আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) কাছে আসলাম। দেখা গেল সেটি হাতিব ইবনে আবি বালতায়ার পক্ষ থেকে মক্কাবাসী মুশরিকদের প্রতি লেখা, যাতে তিনি তাদেরকে আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) কিছু পদক্ষেপের ব্যাপারে সংবাদ দিচ্ছিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) হাতিবকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: "এটি কী?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমার ব্যাপারে তড়িঘড়ি করবেন না; আমি কুরাইশদের সাথে কেবল সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তি ছিলাম, কিন্তু তাদের বংশজাত ছিলাম না। মুহাজিরদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাদের সেখানে আত্মীয়-স্বজন নেই, যারা তাদের পরিবার ও ধন-সম্পদ রক্ষা করে থাকে। আল্লাহর কসম, আমি এটি কুফর বা ইসলাম গ্রহণের পর ধর্মত্যাগ করার জন্য কিংবা কুফরের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে করিনি।"

তখন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন: "সে সত্য বলেছে।" ওমর বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিই।" তখন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন: "হে ওমর! তুমি কীভাবে জানবে, হয়তো আল্লাহ বদরবাসীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং বলেছেন: ‘তোমরা যা ইচ্ছা কর, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।’"

⦗পৃষ্ঠা: ৭৩⦘ এটি হুসাইন বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি থেকে, তিনি আলী থেকে। এবং আবু জুবায়ের জাবির থেকে। এবং ইসহাক ইবনে রাশিদ জুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে হাতিব ইবনে আবি বালতায়া থেকে, তিনি তাঁর ⦗পৃষ্ঠা: ৭৪⦘ পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত সংস্করণ থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
15- حدثناه النقاش، عن أبي يعلى، عن هاشم بن الحارث، عن عبيد الله بن عمرو، عن إسحاق.

ح وحدثنا محمد بن علي النقاش، أن أبا يعلى حدثهم، قال: حدثنا كامل بن طلحة، قال: حدثنا الليث بن سعد، عن أبي الزبير، عن جابر، ⦗ص: 75⦘ أنه أخبره أن حاطب بن أبي بلتعة كتب إلى أهل مكة يذكر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أراد غزوهم. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: علي المرأة التي معها الكتاب، فأرسل إليها، فأخذ كتابها من رأسها. فقال: يا حاطب! أفعلت؟ فقال: نعم. فقال: أما إني لم أفعله غشاً لرسول الله صلى الله عليه وسلم ولا نفاقاً، قد علمت أن الله مظهر رسوله، ومتمم له أمره، غير أني كنت بين ظهرانيهم وكانت والدتي معهم، فأردت أت أتخذها عندهم. فقال له عمر: ألا أضرب عنق هذا؟ قال: تقتل رجلاً من أهل بدر؟ لعل الله قد اطلع على أهل بدر، فقال: اعملوا ما شئتم.
১৫- আন-নাক্কাশ আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা থেকে, তিনি হাশিম বিন আল-হারিস থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আমর থেকে, তিনি ইসহাক থেকে।

এবং মুহাম্মদ বিন আলী আন-নাক্কাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু ইয়ালা তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: কামিল বিন তালহা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-লাইস বিন সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘ যে তিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, হাতিব বিন আবি বালতাআ মক্কাবাসীদের নিকট এই মর্মে পত্র লিখেছিলেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সেই নারীটিকে ধর যার নিকট পত্রটি রয়েছে।" অতঃপর তিনি তার নিকট লোক পাঠালেন এবং তার মাথার চুল থেকে পত্রটি উদ্ধার করা হলো। তিনি বললেন: "হে হাতিব! তুমি কি এটা করেছ?" সে বলল: "হ্যাঁ।" সে বলল: "আমি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি কোনো প্রকার প্রতারণা বা নিফাকের বশবর্তী হয়ে এটি করিনি। আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে বিজয়ী করবেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেন। তবে আমি তাদের মাঝে বসবাস করতাম এবং আমার মা তাদের সাথে ছিলেন; তাই আমি চেয়েছিলাম তাদের নিকট আমার কোনো অনুগ্রহ থাকুক। তখন উমর তাকে বললেন: "আমি কি এর গর্দান উড়িয়ে দেব না?" তিনি বললেন: "তুমি কি বদরবাসীদের অন্তর্ভুক্ত একজনকে হত্যা করবে? সম্ভবত আল্লাহ বদরবাসীদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন, তাই তিনি বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা কর।"
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
قال أبو محمد عبد الغني بن سعيد، هذه المرأة الحاملة لكتاب حاطب بن أبي بلعتة، هي: أم سارة مولاة لقريش. والحجة في ذلك:

16- ما حدثنا به يعقوب بن المبارك، أن محمد بن جعفر بن أعين حدثهم، قال: حدثنا الحسن بن بشر بن سلم الكوفي سنة عشرين، قال: أخبرنا الحكم بن عبد الملك، عن قتادة، عن أنس [بن ⦗ص: 76⦘ مالك] ، قال: أمن رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس يوم فتح مكة، إلا أربعة من الناس: عبد العزى بن خطل، ومقيس بن صبابة الكناني، وعبد الله بن سعد بن أبي سرح، وأم سارة.

فأما عبد العزى فإنه قتل وهو آخذ بأستار الكعبة.

قال: ونذر رجل من الأنصار أن يقتل عبد الله بن سعد إذا رآه، وكان أخا عثمان بن عفان من الرضاعة، فأتى به سول الله صلى الله عليه وسلم يستشفع له. فلما بصر به الأنصاري اشتمل على السيف وخرج في طلبه، فوجده في حلقة رسول الله صلى الله عليه وسلم فهاب قتله، فجعل يتردد ويكره أن يقدم عليه لأنه في حلقة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فبسط رسول الله يده فبايعه. ثم قال للأنصاري: قد انتظرتك أن توفي بنذرك. قال: يا رسول الله! هبتك أفلا أومضت إلي؟ قال: إنه ليس لنبي أن يومض.

وأما مقيس بن صبابة: فإنه كان له أخ مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فقتل خطأ، فبعث معه رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلاً من بني فهر ليأخذ له عقله من الفهري. فلما جمع له ⦗ص: 77⦘ العقل ورجع يؤم الفهري، فوثب مقيس وأخذ حجراً فجلد به رأسه فقتله، ثم أقبل وهو يقول:

شفى النفس من قد بات بالقاع مسنداً … تضرج ثوبيه دماء الأخادع

وكانت هموم النفس من قبل قتله … تلم فتنيئني وطاء المضاجع

حللت به نذري وأدركت ثؤرتي … وكنت إلى الأوثان أول راجع

وأما أم سارة: فإنها كانت مولاة لقريش، فأتت رسول الله صلى الله عليه وسلم فشكت إليه الحاجة فأعطاها شيئاً. ⦗ص: 78⦘ ثم أتاها رجل فدفع إليها كتاباً إلى أهل مكة يتقرب بذلك إليهم ليحفظ به في عياله، وكان له بها عيال، فأخبر جبريل رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك. فبعث في إثرها عمر بن الخطاب وعلي بن أبي طالب رضي الله عنهما. فلحقاها ففتشاها، فلم يقدرا على شيء معها، قأقبلا راجعين. فقال أحدهما لصاحبه: والله ما كذبنا ولا كذبنا، ارجع بنا إليها، فرجعا إليها فسلا سيفيهما، وقالا: والله لنذيقنك الموت، أو لتدفعن إلينا الكتاب. فأنكرت، ثم قالت: أدفعه إليكما على أن لا ترداني إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم. فقبلا ذلك منها. فحلت عقاص رأسها، فأخرجت الكتاب من قرن من قرونها، فدفعته إليهما. فرجعا به إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فدفعاه إليه. [فبعث إلى الرجل] ، فقال: ما هذا الكتاب؟

قال: أخبرك يا رسول الله. إنه ليس من أحد معك إلا وله بمكة من يحفظه في عياله غيري. فكتبت هذا الكتاب ليكونوا لي في عيالي.

فأنزل الله عز وجل: {يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم أولياء تلقون إليهم بالمودة [وقد كفروا بما جاءكم من الحق يخرجون الرسول وإياكم أن تؤمنوا بالله ربكم إن كنتم خرجتم جهاداً في سبيلي وابتغاء مرضاتي تسرون إليهم بالمودة] وأنا أعلم بما أخفيتم ⦗ص: 79⦘ وما أعلنتم ومن يفعله منكم فقد ضل سواء السبيل} .
আবু মুহাম্মদ আব্দুল গণি বিন সাঈদ বলেছেন, হাতেব বিন আবি বালতা’আ-র চিঠি বহনকারী এই নারী হলেন: উম্মে সারা, কুরাইশদের মুক্তদাসী। এর প্রমাণ হলো:

১৬- আমাদের কাছে ইয়াকুব বিন মুবারক বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আ’ইয়ুন তাঁদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাসান বিন বিশর বিন সালাম আল-কুফি দুইশ বিশ হিজরি সালে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাকাম বিন আব্দুল মালিক সংবাদ দিয়েছেন কাতাদা থেকে, তিনি আনাস [বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৭৬⦘ মালিক] থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারজন ব্যক্তি ব্যতীত সকল মানুষকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। তারা হলো: আব্দুল উযযা বিন খাতাল, মিকইয়াস বিন সাবাবাহ আল-কিনানি, আব্দুল্লাহ বিন সা’দ বিন আবি সারহ এবং উম্মে সারা।

আব্দুল উযযাকে হত্যা করা হয় যখন সে কাবার গিলাফ ধরে ঝুলছিল।

বর্ণনাকারী বলেন: আনসারদের এক ব্যক্তি মানত করেছিলেন যে, তিনি যখনই আব্দুল্লাহ বিন সা’দকে দেখবেন তখনই তাকে হত্যা করবেন। সে ছিল উসমান বিন আফফানের দুধভাই। উসমান তাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন যেন তার জন্য সুপারিশ করতে পারেন। যখন আনসারী ব্যক্তি তাকে দেখলেন, তখন তিনি তলোয়ার নিয়ে তার খোঁজে বের হলেন এবং তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে পেলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতির কারণে তিনি তাকে হত্যা করতে ভয় পেলেন। তিনি দ্বিধা করতে লাগলেন এবং অগ্রসর হওয়া অপছন্দ করলেন কারণ সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে ছিল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত প্রসারিত করলেন এবং তার থেকে বায়আত গ্রহণ করলেন। অতঃপর তিনি আনসারী ব্যক্তিকে বললেন: আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম যাতে তুমি তোমার মানত পূর্ণ করো। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনাকে ভয় পাচ্ছিলাম, আপনি কেন আমাকে চোখের ইশারা দিলেন না? তিনি বললেন: কোনো নবীর জন্য শোভা পায় না চোখের ইশারা দেওয়া।

আর মিকইয়াস বিন সাবাবার ব্যাপারে কথা হলো: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তার এক ভাই ছিল যে ভুলবশত নিহত হয়েছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে বনু ফিহর গোত্রের এক ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন যাতে সে ঐ ফিহরি ব্যক্তির কাছ থেকে রক্তপণ গ্রহণ করতে পারে। যখন তার জন্য ⦗পৃষ্ঠা: ৭৭⦘ রক্তপণ জমা করা হলো এবং সে ঐ ফিহরি ব্যক্তিকে নিয়ে ফিরছিল, তখন মিকইয়াস লাফিয়ে উঠল এবং একটি পাথর নিয়ে তার মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করল। তারপর সে এই কবিতা বলতে বলতে ফিরে এলো:

আমার প্রাণের প্রতিশোধ নিয়েছে সে, যে প্রান্তরে হেলান দিয়ে রাত কাটিয়েছে … যার দুই কাপড় ঘাড়ের শিরার রক্তে রঞ্জিত

তাকে হত্যার আগে মনের উদ্বেগগুলো … বারবার ফিরে আসত এবং আমাকে বিছানার আরাম থেকে বিচ্যুত করত

তার মাধ্যমে আমি আমার মানত পূর্ণ করেছি এবং প্রতিশোধ গ্রহণ করেছি … আর আমিই মূর্তিপূজার দিকে প্রথম প্রত্যাবর্তনকারী

আর উম্মে সারার বিষয়টি হলো: সে ছিল কুরাইশদের এক মুক্তদাসী। সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তার অভাবের অভিযোগ জানাল, ফলে তিনি তাকে কিছু দান করলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৭৮⦘ এরপর এক ব্যক্তি তার কাছে আসলেন এবং মক্কাবাসীদের কাছে পাঠানোর জন্য একটি চিঠি দিলেন। এর মাধ্যমে তিনি তাদের প্রিয় হতে চেয়েছিলেন যেন তারা তাঁর পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করে, কারণ সেখানে তাঁর পরিবার ছিল। জিবরাঈল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই সংবাদ জানালেন। তখন তিনি উমর বিন খাত্তাব এবং আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে তার পিছু পাঠালেন। তাঁরা তাকে ধরে ফেললেন এবং তল্লাশি করলেন, কিন্তু তার কাছে কিছুই পেলেন না। তখন তাঁরা ফিরে আসছিলেন। তাঁদের একজন অন্যজনকে বললেন: আল্লাহর কসম, আমাদের মিথ্যা বলা হয়নি এবং আমাদের কাছেও মিথ্যা বলা হয়নি। আমাদের তার কাছে ফিরে যেতেই হবে। তাঁরা আবার তার কাছে ফিরে গেলেন এবং তলোয়ার উন্মুক্ত করলেন। তাঁরা বললেন: আল্লাহর কসম, হয় আমরা তোমাকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করাব, নতুবা তুমি আমাদের কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করবে। প্রথমে সে অস্বীকার করল, তারপর বলল: আমি তোমাদের কাছে এটি এই শর্তে হস্তান্তর করব যে তোমরা আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে না। তাঁরা এই শর্ত মেনে নিলেন। তখন সে তার চুলের বেণী খুলে ফেলল এবং তার একটি ঝুঁটি থেকে চিঠিটি বের করল এবং তাঁদের হাতে দিয়ে দিল। তাঁরা সেটি নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে আসলেন এবং সেটি তাঁকে দিলেন। [অতঃপর তিনি ঐ ব্যক্তিকে ডেকে পাঠালেন] এবং বললেন: এই চিঠিটি কী?

তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনাকে বলছি। আপনার সাথে থাকা এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার মক্কায় এমন কেউ নেই যে তার পরিবারকে রক্ষা করবে, একমাত্র আমি ছাড়া। তাই আমি এই চিঠিটি লিখেছি যাতে তারা আমার পরিবারের প্রতি সদয় থাকে।

অতঃপর মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, [অথচ তোমাদের কাছে যে সত্য এসেছে তারা তা অস্বীকার করেছে। তারা রাসুলকে এবং তোমাদেরকে বের করে দিয়েছে এজন্য যে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছ। যদি তোমরা আমার পথে জিহাদ করতে এবং আমার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে বের হয়ে থাকো, তবে কেন তোমরা গোপনে তাদের সাথে বন্ধুত্বের বার্তা বিনিময় করছ?] তোমরা যা গোপন করো ⦗পৃষ্ঠা: ৭৯⦘ এবং যা প্রকাশ করো, আমি তা খুব ভালো করেই জানি। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এমনটি করবে, সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হবে।}।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৮০)
‌‌باب

17- حدثنا محمد بن علي النقاش، أن أبا يعلى الموصلي حدثهم، قال: حدثنا أبو خيثمة، قال: حدثنا يعقوب بن إبراهيم، قال: حدثنا أبي، عن ابن شهاب، عن سنان بن أبي سنان الدؤلي، أن جابر بن عبد الله أخبره أنه غزا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم غزوة قبل أحد، فأدركتهم القائلة يوماً في واد كثير العضاه، فنزل رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتفرق الناس في العضاه يستظلون بالشجر، ونزل رسول الله صلى الله عليه وسلم تحت شجرة، فعلق بها سيفه، فقال ⦗ص: 81⦘ رسول الله صلى الله عليه وسلم لرجل عنده: إن هذا اخترط سيفي وأنا نائم، فاستيقظت وهو في يده صلتاً، فقال لي: من يمنعك مني؟ فقلت: الله. فشام السيف. فقال: من يمنعك مني؟ فقلت: الله. فشام السيف وجلس، وها هو ذا جالس، ثم لم يعاقبه.
অধ্যায়

১৭- মুহাম্মাদ বিন আলী আন-নাক্কাশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী তাঁদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খাইসামা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকূব বিন ইবরাহীম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সিনান বিন আবি সিনান আদ-দুয়ালী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জাবির বিন আব্দুল্লাহ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উহুদের যুদ্ধের পূর্বে একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর একদিন দ্বিপ্রহরের বিশ্রামের সময় হলো এমন এক উপত্যকায় যেখানে প্রচুর কণ্টকাকীর্ণ গাছ ছিল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করলেন এবং লোকজন গাছের ছায়ায় আশ্রয়ের জন্য কণ্টকাকীর্ণ গাছগুলোর মাঝে ছড়িয়ে পড়ল। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাছের নিচে অবতরণ করলেন এবং তাতে তাঁর তলোয়ার ঝুলিয়ে রাখলেন। অতঃপর ⦗পৃষ্ঠা: ৮১⦘ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট উপস্থিত এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বললেন: "আমি যখন ঘুমে ছিলাম তখন এই ব্যক্তি আমার তলোয়ারটি কোষমুক্ত করেছিল। আমি যখন জাগ্রত হলাম তখন দেখলাম সেটি তার হাতে উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। সে আমাকে বলল: 'কে তোমাকে আমার থেকে রক্ষা করবে?' আমি বললাম: 'আল্লাহ'। তখন সে তলোয়ারটি কোষবদ্ধ করল। সে পুনরায় বলল: 'কে তোমাকে আমার থেকে রক্ষা করবে?' আমি বললাম: 'আল্লাহ'। তখন সে তলোয়ারটি কোষবদ্ধ করে বসে পড়ল। আর এই যে সে এখানে বসে আছে।" অতঃপর তিনি তাকে কোনো শাস্তি দিলেন না।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৮২)
18- حدثنا أبو الطاهر، أن أحمد بن أبي عوف البزوري حدثهم، قال: حدثنا مخلد بن خالد، قال: حدثنا إبراهيم بن خالد، قال: حدثنا رباح بن زيد، عن ⦗ص: 83⦘ معمر، عن الزهري، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، عن جابر بن عبد الله، قال: غزوت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما قفل رسول الله صلى الله عليه وسلم قفلت معه، فأدركتنا القائلة يوماً في واد كثير العضاه، ورسول الله صلى الله عليه وسلم تحت سمرة قد علق سيفه، فإذا رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعونا، فأجبناه، فإذا عنده أعرابي جالس. فقال: إن هذا قد اخترط سيفي وأنا نائم، وهو في يده، فقال: من يمنعك مني؟ فقلت: الله. فشام السيف.
১৮- আমাদের কাছে আবু তাহের বর্ণনা করেছেন যে, আহমদ ইবনে আবি আউফ আল-বাজ্জুরি তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মাখলাদ ইবনে খালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইব্রাহিম ইবনে খালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে রাবাহ ইবনে যায়েদ বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৮৩⦘ মা’মার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে এবং তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসছিলেন, তখন আমিও তাঁর সাথে ফিরে আসছিলাম। একদিন প্রচুর কাঁটাযুক্ত গাছপালা বিশিষ্ট এক উপত্যকায় আমাদের দুপুরের বিশ্রামের সময় হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাবলা গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং সেখানে তাঁর তলোয়ারটি ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ডাকলেন, আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম। গিয়ে দেখি তাঁর কাছে একজন বেদুঈন বসে আছে। তিনি বললেন: আমি ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় এই ব্যক্তি আমার তলোয়ারটি কোষমুক্ত করে নিয়েছিল এবং সেটি তখন তার হাতে ছিল। সে আমাকে জিজ্ঞেস করল: আমার থেকে আপনাকে কে রক্ষা করবে? আমি বললাম: আল্লাহ। তখন সে তলোয়ারটি খাপে ঢুকিয়ে রাখল।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৮৪)
قال أبو محمد عبد الغني بن سعيد: هذا الرجل الذي اخترط السيف، ولقي النبي صلى الله عليه وسلم بما لقيه به، هو: غورث بن الحارث، سماه سليمان اليشكري، عن جابر بن عبد الله.

الحجة في ذلك:

19- حدثنا أبو الطاهر السدوسي، قال: حدثنا خلف بن عمرو العكبري، قال: حدثنا سعيد بن منصور، قال: حدثنا أبو عوانة، عن ⦗ص: 85⦘ أبي بشر، عن سليمان بن قيس، عن جابر بن عبد الله، قال: قاتل رسول الله صلى الله عليه وسلم محارب خصفة، فرأوا [من المسلمين] غرة، فجاء رجل منهم يقال له: غورث بن الحارث، حتى قام على رسول الله صلى الله عليه وسلم بالسيف، فقال: ما يمنعك مني؟ قال: الله. فسقط السيف من يده، فأخذه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: ما يمنعك مني؟ قال: كن خير آخذ. قال: تشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله؟ قال: ولكن أعاهدك أني لا أقاتلك، ولا أكون مع قوم يقاتلونك. فخلى سبيله. فرجع، فقال: جئتكم من عند خير الناس.

فلم حضرت الصلاة صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف، فكان الناس طائفتين، طائفة بإزاء عدوهم، وطائفة صلوا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم. فصلى بالطائفة الذين معه ركعتين، ثم انصرفوا، فكانوا بمكان أولئك الذين بإزاء العدو، وانصرف أولئك الذين كانوا بإزاء عدوهم، فصلوا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين، ⦗ص: 86⦘ فكان لرسول الله صلى الله عليه وسلم أربع ركعات وللقوم ركعتين ركعتين.
আবু মুহাম্মদ আবদুল গনি ইবনে সাঈদ বলেন: এই ব্যক্তি যে তলোয়ার কোষমুক্ত করেছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুখোমুখি হয়ে যা করেছিল, সে হলো: গাওরাস ইবনুল হারিস। জাবির ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে সুলায়মান আল-ইয়াশকুরি তার এই নাম উল্লেখ করেছেন।

এ বিষয়ে প্রমাণ:

১৯- আবু তাহের আস-সাদ্দুসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালাফ ইবনে আমর আল-উকবারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৮৫⦘ আবু বিশর থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে কায়স থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুহারিব খাসাফার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন, তখন তারা [মুসলিমদের মধ্যে] কিছুটা অসতর্কতা দেখতে পায়। তখন তাদের মধ্য থেকে গাওরাস ইবনুল হারিস নামক এক ব্যক্তি তলোয়ার হাতে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাথার ওপর এসে দাঁড়াল এবং বলল: আপনাকে আমার থেকে কে রক্ষা করবে? তিনি বললেন: আল্লাহ। তখন তার হাত থেকে তলোয়ারটি পড়ে গেল। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটি তুলে নিলেন এবং বললেন: এখন তোমাকে আমার থেকে কে রক্ষা করবে? সে বলল: আপনি সর্বোত্তম পাকড়াওকারী হোন। তিনি বললেন: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল? সে বলল: না, তবে আমি আপনার সাথে এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে, আমি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না এবং যারা আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তাদের সাথেও থাকব না। তখন তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। সে তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে গিয়ে বলল: আমি তোমাদের কাছে শ্রেষ্ঠতম মানুষের নিকট থেকে এসেছি।

অতঃপর যখন নামাজের সময় হলো, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভয়ের নামাজ (সালাতুল খাওফ) পড়লেন। তখন মানুষ দুই দলে বিভক্ত হলো; এক দল শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকল এবং অন্য দল আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে নামাজ পড়ল। তিনি তার সাথে থাকা দলকে নিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন, এরপর তারা চলে গিয়ে শত্রুর মোকাবিলায় থাকা লোকদের জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল। আর যারা শত্রুর মোকাবিলায় ছিল তারা ফিরে এল এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে দুই রাকাত নামাজ পড়ল। ⦗পৃষ্ঠা: ৮৬⦘ ফলে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মোট চার রাকাত এবং লোকদের দুই রাকাত করে নামাজ হলো।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৮৮)
‌‌باب

20- حدثنا محمد بن العباس بن سلام الحلبي، قال: حدثنا أبو عروبة، قال: حدثنا محمد بن الحارث، قال: حدثنا محمد بن سلمة، عن أبي عبد الرحيم، عن زيد بن أبي أنيسة، عن أبي الزبير المكي، عن عبد الرحمن بن الهضهاض الدوسي، عن أبي هريرة، قال: جاء ⦗ص: 89⦘ ماعز بن مالك [الأسلمي] إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: [إن الأبعد] قد زنا.

فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ويلك! وما يدريك ما الزنا؟ ثم أمر به فطرد وأخرج. ثم أتاه الثانية، فقال: [يا رسول الله! إن الأبعد] قد زنا. فقال له: ويلك! وما يدريك ما الزنا؟ فطرد وأخرج. ثم أتاه الثالثة، فقال: يا رسول الله! إن الأبعد قد زنا.

فقال: ويلك! وما يدريك ما الزنا؟ قال: أتيت امرأة حراماً ما يأتي الرجل من امرأته. فأمر فطرد وأخرج.

ثم أتاه الرابعة، فقال: يا رسول الله! إن الأبعد قد زنا. فقال: ويلك، وما يدريك ما الزنا؟ أدخلت وأخرجت؟ قال: نعم. فأمر به أن يرجم. فلما وجد مس الحجارة تحمل إلى شجرة، فرجم عندها حتى مات.

فمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك معه نفر من أصحابه، فقال رجل منهم لصاحبه: وأبيك إن هذا لهو الخاين، أتى النبي صلى الله عليه وسلم مراراً، كل ذلك يرده، حتى قتل كما يقتل الكلب.

⦗ص: 90⦘ فسكت عنهما رسول الله صلى الله عليه وسلم، حتى مر بجيفة حمار شائلاً رجله، فقال: كلا من هذا. قالا: من جيفة حمار يا رسول الله؟ قال: فالذي نلتما من عرض أخيكما آنفاً أكثر. والذي نفس محمد بيده، إنه لفي نهر من أنهار الجنة يتقمص.
পরিচ্ছেদ

২০- মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে সালাম আল-হালাবি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আরুবাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আল-হারিস আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুর রহিম থেকে, তিনি জাইদ ইবনে আবি আনিসাহ থেকে, তিনি আবুয যুবায়ের আল-মাক্কি থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আল-হাদহাদ আদ-দাওসি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৮৯⦘ মায়িজ ইবনে মালিক [আল-আসলামি] আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: [এই দুর্ভাগা] ব্যভিচার করেছে।

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার দুর্ভোগ! তুমি কীভাবে জানলে ব্যভিচার কী? তারপর তিনি নির্দেশ দিলেন, ফলে তাকে সরিয়ে দেয়া হলো এবং বের করে দেয়া হলো। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন: [হে আল্লাহর রাসুল! এই দুর্ভাগা] ব্যভিচার করেছে। তিনি তাকে বললেন: তোমার দুর্ভোগ! তুমি কীভাবে জানলে ব্যভিচার কী? তাকে সরিয়ে দেয়া হলো এবং বের করে দেয়া হলো। এরপর তিনি তৃতীয়বার তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! এই দুর্ভাগা ব্যভিচার করেছে।

তিনি বললেন: তোমার দুর্ভোগ! তুমি কীভাবে জানলে ব্যভিচার কী? সে বলল: আমি এক মহিলার সাথে হারামে লিপ্ত হয়েছি, যেভাবে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর কাছে যায়। তখন তিনি নির্দেশ দিলেন, ফলে তাকে সরিয়ে দেয়া হলো এবং বের করে দেয়া হলো।

এরপর তিনি চতুর্থবার আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! এই দুর্ভাগা ব্যভিচার করেছে। তিনি বললেন: তোমার দুর্ভোগ, তুমি কীভাবে জানলে ব্যভিচার কী? তুমি কি (লিঙ্গ) প্রবেশ করিয়েছিলে এবং বের করেছিলে? সে বলল: হ্যাঁ। তখন তিনি তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দিলেন। যখন সে পাথরের আঘাত অনুভব করল, সে একটি গাছের দিকে ছুটে গেল। সেখানে তাকে পাথর মারা হলো যতক্ষণ না সে মারা গেল।

এরপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একদল সাহাবীকে নিয়ে সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাঁদের মধ্যে একজন তাঁর সাথীকে বললেন: তোমার পিতার কসম! এ তো এক বড় বিশ্বাসঘাতক, সে বারবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসেছিল, প্রতিবারই তিনি তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাকে কুকুরের মতো হত্যা করা হলো।

⦗পৃষ্ঠা: ৯০⦘ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের কথা শুনে চুপ থাকলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি গাধার মৃতদেহের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেটির পা ওপরের দিকে উঠে ছিল। তখন তিনি বললেন: তোমরা এটি থেকে খাও। তাঁরা বললেন: গাধার মৃতদেহ থেকে খাব, হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন: কিছুক্ষণ আগে তোমরা তোমাদের ভাইয়ের সম্মানহানি করে যা অর্জন করেছ, তা এর চেয়েও বেশি (নিকৃষ্ট)। যার আল্লাহর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর কসম! নিশ্চয়ই সে এখন জান্নাতের নদীগুলোর একটিতে অবগাহন করছে।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৯২)
قال أبو محمد عبد الغني بن سعيد: الجارية التي وقع عليها ماعز بن مالك تسمى فاطمة، فتاة هزال.

⦗ص: 93⦘

21- كما حدثني إبراهيم بن علي الحنائي، قال: حدثنا الحسن بن المثنى، قال: حدثنا عفان بن مسلم، قال: أخبرنا أبان بن يزيد، عن يحيى بن أبي كثير، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، عن نعيم بن هزال، أن هزالاً كان استأجر ماعز بن مالك. وكانت لهم جارية قد أمروها ترعى غنماً لهم يقال لها: فاطمة، وإن ماعز بن مالك وقع عليها، فأخذه هزال فخدعه، قال: انطلق إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فعسى أن ينزل فيك قرآن. فأمر به النبي صلى الله عليه وسلم فرجم. فلما عضه مس الحجارة انطلق يسعى، فاستقبله رجل بلحي، أو قال: ساق بعير، فضربه. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لو كنت سترته بثوبك ⦗ص: 94⦘ لكان خيراً لك.
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনি বিন সাঈদ বলেন: যে দাসীর সাথে মা’ইজ বিন মালিক লিপ্ত হয়েছিলেন তার নাম ছিল ফাতিমা, সে ছিল হাযজালের দাসী।

⦗পৃষ্ঠা: ৯৩⦘

২১- যেমনটি ইব্রাহিম বিন আলি আল-হিন্নায়ি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান বিন আল-মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আফফান বিন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবান বিন ইয়াজিদ আমাদের জানিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে, তিনি আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি নুয়াইম বিন হাযজাল থেকে বর্ণনা করেন যে, হাযজাল মা’ইজ বিন মালিককে মজুর হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। আর তাদের একটি দাসী ছিল যাকে তারা তাদের বকরি চরাবার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাকে ফাতিমা বলা হতো। মা’ইজ বিন মালিক তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হন। তখন হাযজাল তাকে পাকড়াও করেন এবং তাকে প্ররোচিত করে বলেন: তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাও, সম্ভবত তোমার বিষয়ে কোনো কুরআন অবতীর্ণ হবে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিষয়ে নির্দেশ দিলেন এবং তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) করা হলো। যখন পাথরের আঘাত তাকে বিদ্ধ করল তখন সে দৌড়াতে শুরু করল। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি উটের চোয়ালের হাড় দিয়ে—অথবা বর্ণনাকারী বলেছেন: উটের পা দিয়ে—তার মুখোমুখি হয়ে তাকে আঘাত করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি যদি তাকে তোমার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে ⦗পৃষ্ঠা: ৯৪⦘ তবে তা তোমার জন্য অধিকতর কল্যাণকর হতো।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৯৫)
‌‌باب

22- حدثنا محمد بن علي النقاش، أن أبا يعلى حدثهم، قال: حدثنا بشر بن الوليد الكندي، قال: حدثنا شريك، عن الأعمش، عن مجاهد عن عائشة، قالت: دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم رجل، فقربه وأدنى مجلسه، فلما خرج من عنده، قالت: قلت: يا رسول الله! ألست كنت تشكو هذا؟ قال: بلى. ولكن من شرار الناس الذين يكرمون اتقاء شرهم.
পরিচ্ছেদ

২২- মুহাম্মদ ইবনে আলী আন-নাক্কাশ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যে, আবু ইয়ালা তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনুল ওয়ালিদ আল-কিন্দি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি প্রবেশ করল, তখন তিনি তাকে কাছে টেনে নিলেন এবং কাছে বসালেন। অতঃপর যখন সে তাঁর নিকট থেকে বেরিয়ে গেল, তিনি (আয়েশা) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি ইতিপূর্বে এই ব্যক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করতেন না? তিনি বললেন: হ্যাঁ, অবশ্যই। তবে মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো তারা, যাদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য মানুষ তাদের সম্মান প্রদর্শন করে।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৯৭)
قال أبو محمد عبد الغني بن سعيد: الرجل المتقى هو: مخرمة بن نوفل أبو صفوان الزهري، والد المسور بن مخرمة، وقيل: إنه عيينة بن حصن. الحجة في ذلك:

23- ما حدثنا به أبو العباس أحمد بن عمرو بن مويس، أن محمد بن ⦗ص: 98⦘ فضلويه حدثهم، قال: حدثنا أحمد بن منصور المروزي -هو: زاج-، قال: حدثنا النضر بن شميل، قال: حدثنا أبو عامر الخزاز عن أبي يزيد المدني، عن عائشة، قالت: جاء مخرمة بن نوفل [يستأذن] ، فلما سمع النبي صلى الله عليه وسلم صوته، قال: بئس أخو العشيرة. فلما دخل بش به حتى خرج. ⦗ص: 99⦘ فقلت: يا رسول الله! قلت له وهو على الباب ما قلت، فلما دخلت بششت به حتى خرج. قال: -أظنه قال- متى عهدتني فحاشاً؟ إن شر الناس من يتقى شره.
আবু মুহাম্মদ আবদুল গনি বিন সাঈদ বলেছেন: যাকে ভয় করে চলা হয় সেই ব্যক্তি হলেন: মাখরামা বিন নাওফাল আবু সাফওয়ান আল-জুহরি, মিসওয়ার বিন মাখরামার পিতা। এবং বলা হয়েছে যে: তিনি উয়াইনা বিন হিসন। এ বিষয়ে দলিল হলো:

২৩- আবু আব্বাস আহমদ বিন আমর বিন মুওয়াইস আমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৯৮⦘ ফাদলুওয়াইহ তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন মনসুর আল-মারওয়াযি—যিনি যাজ—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাদর বিন শুমাইল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আমির আল-খায্যায আমাদের কাছে আবু ইয়াযিদ আল-মাদানির সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাখরামা বিন নাওফাল আসলেন [অনুমতি প্রার্থনা করতে], যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কণ্ঠস্বর শুনলেন, তখন বললেন: সে গোত্রের কতই না মন্দ ভাই। এরপর যখন তিনি প্রবেশ করলেন, তখন তিনি (রাসূল) তাঁর সাথে হাসিমুখে ব্যবহার করলেন যতক্ষণ না তিনি বের হয়ে গেলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৯৯⦘ তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তিনি যখন দরজায় ছিলেন তখন আপনি তাঁর সম্পর্কে যা বলার বললেন, কিন্তু যখন তিনি প্রবেশ করলেন তখন আপনি তাঁর সাথে হাসিমুখে মিশলেন যতক্ষণ না তিনি বের হয়ে গেলেন। তিনি বললেন: —বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা তিনি বলেছেন— তুমি আমাকে কবে অশ্লীলভাষী হিসেবে পেয়েছ? নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য তাকে পরিহার করে চলা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ৯৯)
24- حدثنا أبو العباس أحمد بن إبراهيم بن جامع، قال: حدثنا هارون بن كامل، قال: حدثنا عبد الله بن عبد الحكم، قال: أخبرنا مالك بن أنس، أنه بلغه عن عائشة، أنها قالت: استأذن عيينة بن حصن بن حذيفة بن بدر الفزاري على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا معه في البيت، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: بئس ابن العشيرة، ثم أذن له رسول الله صلى الله عليه وسلم. ⦗ص: 100⦘ فقالت عائشة: فلم أنشب أن سمعت ضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم معه. فلما خرج الرجل، قالت له: يا رسول الله! قلت له ما قلت، ولم تنشب أن ضحكت معه. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن من شر الناس من اتقاه الناس لشره.

روى الطهراني، عن عبد الرزاق، عن معمر، أنه بلغه أن هذا الرجل: عيينة ابن حصين.
২৪- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে জামি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন ইবনে কামিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক ইবনে আনাস যে, তাঁর নিকট আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা পৌঁছেছে, তিনি বলেছেন: উয়াইনা ইবনে হিসন ইবনে হুযাইফা ইবনে বদর আল-ফাযারি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন, তখন আমি তাঁর সাথে ঘরে ছিলাম। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সে তার গোত্রের কতই না মন্দ সন্তান! এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে অনুমতি দিলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ১০০⦘ আয়েশা (রা.) বললেন: এরপর সামান্য সময় অতিবাহিত হতে না হতেই আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তার সাথে হাসতে শুনলাম। যখন লোকটি বেরিয়ে গেল, তখন আয়েশা (রা.) তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তার সম্পর্কে যা বলার বলেছিলেন, অথচ কিছুক্ষণ পরেই আপনি তার সাথে হাসলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মন্দ সেই ব্যক্তি, যার অনিষ্টের ভয়ে মানুষ তাকে পরিহার করে চলে।

তুহরানি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, এই লোকটি হলো: উয়াইনা ইবনে হুসাইন।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ১০১)
‌‌باب

25- حدثنا صالح بن علي، أن محمد بن الحسن بن قتيبة حدثهم، قال: حدثنا حرملة بن يحيى، قال: حدثنا عبد الله بن وهب، قال: أخبرني يونس بن يزيد، عن ابن شهاب، قال: أخبرني عروة بن الزبير، عن عائشة رضي الله عنها، أن قريشاً أهمهم شأن المرأة التي سرقت في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة الفتح. فقالوا: من يكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقالوا: ومن ⦗ص: 102⦘ يجترئ عليه إلا أسامة بن زيد حب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فكلمه أسامة بن زيد. فتلون وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: أتشفع في حد من حدود الله؟ فقال له أسامة: استغفر لي يا رسول الله.

فلما كان العشي، قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فاختطب، فأثنى على الله بما هو أهله، ثم قال: أما بعد، فإنما هلك الذين من قبلكم أنهم كانوا إذا سرق فيهم الشريف تركوه، وإذا سرق فيهم الضعيف أقاموا عليه الحد، وإني والذي [نفسي بيده، لو أن فاطمة بنت محمد سرقت لقطعت يدها] . ثم أمر بتلك المرأة التي سرقت فقطع يدها.

قال ابن شهاب: قال عروة: قالت عائشة: فحسنت توبتها بعد، وتزوجت وكانت تأتي بعد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأرفع حاجتها عند رسول الله صلى الله عليه وسلم.
পরিচ্ছেদ

২৫- সালেহ ইবনে আলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে কুতাইবা তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ ইবনে শিহাব থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের আমাকে আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, মক্কা বিজয়ের অভিযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যে মহিলা চুরি করেছিল, তার বিষয়টি কুরাইশদের অত্যন্ত চিন্তিত করে তুলল। তারা বলল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এ ব্যাপারে কে কথা বলবে? তারা বলল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়পাত্র উসামা ইবনে যায়েদ ব্যতীত আর কে ⦗পৃষ্ঠা: ১০২⦘ তাঁর কাছে সাহস করবে? অতঃপর উসামা ইবনে যায়েদ তাঁর সাথে কথা বললেন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং তিনি বললেন: তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধিসমূহের কোনো একটির ব্যাপারে সুপারিশ করছ? তখন উসামা তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

যখন সন্ধ্যা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন। তিনি আল্লাহর উপযুক্ত প্রশংসা জ্ঞাপন করলেন, তারপর বললেন: "অতঃপর, তোমাদের পূর্ববর্তীগণ কেবল একারণেই ধ্বংস হয়েছিল যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি চুরি করত তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত, আর যখন কোনো দুর্বল ব্যক্তি চুরি করত তখন তারা তার ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করত। আর সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম।" অতঃপর তিনি সেই মহিলার ব্যাপারে আদেশ দিলেন যে চুরি করেছিল এবং তার হাত কেটে ফেলা হলো।

ইবনে শিহাব বলেন: উরওয়াহ বলেছেন: আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: পরবর্তীতে তার তাওবা অত্যন্ত সুন্দর হয়েছিল এবং সে বিবাহ করেছিল। সে এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসত এবং আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তার প্রয়োজনীয় বিষয়াদি পেশ করতাম।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ১০৪)
قال أبو محمد عبد الغني بن سعيد: هي فاطمة بنت أبي الأسد، بنت أخي أبي سلمة عبد الله بن عبد الأسد، زوج أم سلمة [زوج النبي صلى الله عليه وسلم] . والحجة في ذلك:

⦗ص: 105⦘

26- ما حدثني به عبد الله بن أحمد بن طالب، أن محمد بن جعفر المطيري، حدثهم عن عيسى بن عبد الله الطيالسي، عن أسيد بن زيد الجمال، عن يحيى بن سلمة بن كهيل، عن عمار الدهني، عن شقيق، قال: سرقت فاطمة بنت أبي الأسد بنت أخي أبي سلمة زوج أم سلمة، فأشفقت قريش أن يقطعها رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكلموا أسامة بن زيد. ⦗ص: 106⦘ فكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فقال: كل شيء، ولا حد من حدود الله عز وجل، لو كانت فاطمة بنت محمد لقطعتها. فقطعها.
আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি বিন সাঈদ বলেছেন: তিনি হলেন ফাতিমা বিনতে আবিল আসাদ, যিনি উম্মে সালামার স্বামী [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী] আবু সালামা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আসাদের ভ্রাতুষ্পুত্রী। আর এর সপক্ষে প্রমাণ হলো:

⦗পৃষ্ঠা: ১০৫⦘

২৬- আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন তালিব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ বিন জাফর আল-মুতাইরি তাদের নিকট ঈসা বিন আব্দুল্লাহ আত-তায়ালিসি থেকে, তিনি উসাইদ বিন যাইদ আল-জাম্মাল থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সালামাহ বিন কুহাইল থেকে, তিনি আম্মার আদ-দুহনি থেকে, তিনি শাকিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফাতিমা বিনতে আবিল আসাদ—যিনি উম্মে সালামার স্বামী আবু সালামার ভ্রাতুষ্পুত্রী ছিলেন—চুরি করেছিল। তখন কুরাইশরা আশঙ্কা করল যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত কেটে ফেলবেন। তাই তারা উসামা বিন যাইদের সাথে কথা বলল। ⦗পৃষ্ঠা: ১০৬⦘ অতঃপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বললেন।

অতঃপর তিনি (রাসূল) বললেন: সবকিছু হতে পারে, কিন্তু মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধির (হুদূদ) ক্ষেত্রে কোনো সুপারিশ নেই। যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও হতো, তবে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম। অতঃপর তিনি তার হাত কেটে দিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ১০৭)
‌‌باب

27- حدثنا أبو الحسن محمد بن عبد الله بن زكريا النيسابوري، قال: حدثنا أبو بكر بن عمرو بن عبد الخالق البزار، قال: حدثنا نصر بن علي، قال: حدثنا محمد بن عبد الرحمن الطفاوي، عن أيوب، عن ⦗ص: 108⦘ محمد بن المنكدر، عن جابر، أن امرأة دعت النبي صلى الله عليه وسلم ومعه بعض أصحابه، فبسطت لهم على صور، وأتتهم بخبز ولحم، ثم خرجوا إلى الصلاة ورجعوا إلى بقية ذلك، فأكلوا ولم يتوضؤوا.
পরিচ্ছেদ

২৭- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যাকারিয়া আন-নাইসাবুরী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আমর ইবনে আবদুল খালিক আল-বাযযার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাসর ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আত-তুফাবী, আইয়ুব থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১০৮⦘ মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দাওয়াত দিলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর কয়েকজন সাহাবীও ছিলেন। অতঃপর সেই নারী তাঁদের জন্য চিত্রশোভিত বা নকশাদার বিছানা বিছালেন এবং তাঁদের নিকট রুটি ও গোশত নিয়ে আসলেন। অতঃপর তাঁরা সালাতের জন্য বের হলেন এবং পুনরায় ফিরে এসে অবশিষ্ট খাবার খেলেন; অথচ তাঁরা (নতুন করে) ওযু করলেন না।
(খণ্ড: ১) আল-গাওয়ামিযু ওয়াল মুবহামাতু লি-আবদিল গানি ইবনে সাঈদ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
قال أبو محمد عبد الغني بن سعيد: هذه المرأة: عمرة بنت حزم، أخت عمرو بن حزم. والحجة في ذلك:

⦗ص: 109⦘

28- حدثنا أبو بكر أحمد بن محمد بن إسماعيل الذارع المهندس، أن أباه حدثه، قال: حدثنا أحمد بن عبد المؤمن، قال: حدثنا عمرو بن طارق الهلالي.

ح قال: وحدثنا شعيب بن يحيى المعافري، قال: حدثنا يحيى بن أيوب، عن محمد بن ثابت البناني، عن محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله، عن عمرة ابنة حزم، أنها جعلت للنبي صلى الله عليه وسلم في صور ⦗ص: 110⦘ نخل ملتف كنسته، ورشته، وذبحت له شاة ودعته. فأكل، ثم توضأ، فصلى، فقدمت له من لحمها، فأكل وصلى العصر ولم يتوضأ.
আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ বলেন: এই নারী হলেন আমরাহ বিনতে হাযম, তিনি আমর ইবনে হাযমের বোন। আর এর স্বপক্ষে দলিল হলো:

⦗পৃষ্ঠা: ১০৯⦘

২৮- আমাদের কাছে আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-যারা আল-মুহান্দিস বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা তাঁকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আহমদ ইবনে আব্দুল মুমিন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আমর ইবনে তারিক আল-হিলালি বর্ণনা করেছেন।

(হা) তিনি বলেন: এবং আমাদের কাছে শুয়াইব ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাআফিরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আমরাহ বিনতে হাযম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য একটি ঘন ⦗পৃষ্ঠা: ১১০⦘ খেজুর বাগানে বসার স্থান প্রস্তুত করেছিলেন, যা তিনি ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেছিলেন এবং পানি ছিটিয়েছিলেন। তিনি তাঁর জন্য একটি বকরি জবেহ করেছিলেন এবং তাঁকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। এরপর তিনি আহার করলেন, অতঃপর ওজু করলেন ও সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি (আমরাহ) তাঁর সামনে সেই বকরির গোশত পেশ করলেন, তিনি তা থেকে আহার করলেন এবং আসরের সালাত আদায় করলেন কিন্তু পুনরায় ওজু করলেন না।