(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: -)
الفوائد والأخبار لابن حمكان القسم: كتب السنة
الكتاب: الفوائد والأخبار والحكايات عن الشافعي وحاتم الأصم ومعروف الكرخي وغيرهم
المؤلف: الْحَسَن بن الْحُسَيْن بن حمكان أَبُو عَلِيّ الهمذاني (ت 405هـ)
المحقق: الدكتور عامر حسن صبري
الناشر: دار البشائر الإسلامية [ضمن سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (17) ]
الطبعة: الأولى 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 171
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে হামকানের আল-ফাওয়ায়িদ ওয়াল-আখবার বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ইমাম শাফেয়ী, হাতিম আল-আসাম, মারুফ আল-কারখি এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত আল-ফাওয়ায়িদ, আল-আখবার ওয়াল-হিকায়াত
লেখক: আল-হাসান বিন আল-হুসাইন বিন হামকান আবু আলী আল-হামদানি (মৃত্যু ৪০৫ হিজরি)
মুহাক্কিক (সম্পাদক): ডক্টর আমির হাসান সাবরি
প্রকাশক: দার আল-বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ [হাদিস বিষয়ক সংকলন ও গ্রন্থ সিরিজের অন্তর্ভুক্ত (১৭) ]
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭১
শামেলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (17)
الْفَوَائِد وَالأَخْبَار وَالْحِكَايَات
عَنِ الشَّافِعِيِّ وَحَاتِمِ الأَصَمِّ ومعروف الكرخي وغيرهم
للمحدث الفقيه أَبِي عَلِيِّ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ حَمْكَانَ الهمذاني الشافعي
(المتوفى سنة 405 هـ)
دراسة وتحقيق وتعليق
الدكتور عامر حسن صبري
دار البشائر الإسلامية
الطبعة الأولى
1422 هـ - 2001 م
হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা ও গ্রন্থ সিরিজ (১৭)
বিবিধ ফায়দা, সংবাদ ও ঘটনাবলি
ইমাম শাফিঈ, হাতেম আল-আসাম, মারুফ আল-কারখী এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত
মুহাদ্দিস ও ফকিহ আবু আলী আল-হাসান ইবনুল হুসাইন ইবনে হামকান আল-হামদানি আশ-শাফিঈ-এর রচনা
(মৃত্যু: ৪০৫ হিজরি)
গবেষণা, সম্পাদনা ও টীকা
ডক্টর আমের হাসান সাবরি
দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ
প্রথম সংস্করণ
১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১২১)
الْجُزْءُ الأَوَّلُ مِنَ الْفَوَائِدِ وَالأَخْبَارِ وَالْحِكَايَاتِ عَنِ الشَّافِعِيِّ وَحَاتِمِ الأَصَمِّ وَمَعْرُوفٍ الْكَرْخِيِّ وَغَيْرِهِمْ رضي الله عنهم
رِوَايَةُ: أَبِي عَلِيِّ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ حَمْكَانَ الْفَقِيهُ الشَّافِعِيُّ عَنْ شُيُوخِهِ
رواية: الشيخ أبي بكر محمد علي المقرئ المعروف بابن الخياط عَنْهُ
رِوَايَةُ: أَبِي مُحَمَّدِ يَحْيَى بْنِ عَلِيِّ بن محمد بن الطراح المدير عَنْهُ
رِوَايَةُ: الشَّيْخِ الإِمَامِ أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَبَرْزَدَ عَنْهُ
رِوَايَةُ: الشَّيْخِ الإِمَامِ الْعَالِمِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بن عبد الواحد عنه
سماع: محمد بن عبد المنعم بن غازي بن عمر المقدسي منه
আশ-শাফিয়ী, হাতিম আল-আসাম, মা’রুফ আল-কারখী এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত শিক্ষণীয় বিষয়, সংবাদ ও কাহিনীমালার প্রথম অংশ, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
বর্ণনা: আবু আলী আল-হাসান ইবনুল হুসাইন ইবনে হামকান আল-ফকিহ আশ-শাফিয়ী, তাঁর শিক্ষকদের থেকে।
বর্ণনা: শাইখ আবু বকর মুহাম্মাদ আলী আল-মুকরি, যিনি ইবনুল খাইয়াত নামে পরিচিত, তাঁর থেকে।
বর্ণনা: আবু মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুত তাররাহ আল-মুদাইর, তাঁর থেকে।
বর্ণনা: শাইখুল ইমাম আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে তাবারযাদ, তাঁর থেকে।
বর্ণনা: শাইখুল ইমাম আল-আলিম আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ, তাঁর থেকে।
শ্রবণ: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মুনইম ইবনে গাযী ইবনে উমর আল-মাকদিসী, তাঁর থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَلا حَوْلَ وَلا قوة إلا بالله العلي العظيم
أخبرنا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْعَالِمُ الْحَافِظُ الثِّقَةُ فَخْرُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ شَمْسِ الدِّينِ أَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَقْدِسِيِّ، قَالَ: أخبرنا الشَّيْخُ الإِمَامُ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَبَرْزَدَ، أخبرنا يَحْيَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الطَّرَّاحِ، قال: أخبرنا الشيخ الجليل أبو بكر محمد ابن علي بن محمد المقرئ المعروف بابن الخياط أيده الله، قال: حدثنا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ حَمْكَانَ الْفَقِيهُ الشَّافِعِيُّ، قَالَ:
1- سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي زَكَرِيَّا الْفَقِيهُ بِهَمَذَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ بْنِ خُزَيْمَةَ الْفَقِيهَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ سُلَيْمَانَ يَقُولُ:
كَانَ لِلشَّافِعِيِّ فِي رَمَضَانَ سِتُّونَ خَتْمَةً، لا يَحْسِبُ مِنْهَا مَا يَقْرَأُ في الصلاة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, আলিম, হাফিয, বিশ্বস্ত, ফাখরুল দীন আবুল হাসান আলী বিন শামসুদ দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি; তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম উমর বিন মুহাম্মাদ বিন তাবারযাদ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আলী বিন মুহাম্মাদ ইবনুত তাররাহ; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহিমান্বিত শাইখ আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আলী বিন মুহাম্মাদ আল-মুকরি, যিনি ইবনুল খাইয়াত নামে পরিচিত (আল্লাহ তাকে সাহায্য করুন); তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী হাসান বিন হুসাইন বিন হামকান আল-ফকিহ আশ-শাফিঈ; তিনি বলেন:
১- আমি হামাদানে মুহাম্মাদ বিন আবু যাকারিয়া আল-ফকিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুযাইমা আল-ফকিহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাবি বিন সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন:
রমযান মাসে শাফিঈ (রহ.)-এর ষাটটি কুরআন খতম ছিল, সালাতে তিনি যা পড়তেন তা এর মধ্যে গণনা করতেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
2- وَبِإِسْنَادِهِ، قَالَ: سَمِعْتُ يُونُسَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ:
لَسْتُ أَسْتَوْحِشُ مِنَ الإِفْلاسِ، لَقَدْ أَفْلَسْتُ ثَلاثَ مراتٍ، حَتَّى لَقَدْ رَأَيْتُنِي آكُلُ السَّمَكَ بِالتَّمْرِ، لا أَجِدُ غَيْرَهُمَا.
২- এবং তাঁর বর্ণনাসূত্রে, তিনি বলেন: আমি ইউনুসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি:
আমি নিঃস্ব হওয়াতে আতঙ্কিত হই না। আমি তিনবার নিঃস্ব হয়েছি, এমনকি আমি নিজেকে খেজুরের সাথে মাছ খেতে দেখেছি, এ দুটি ব্যতীত অন্য কিছু আমি খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
3- حدثنا ابن أبي زكريا قال: حدثنا ابْنُ خُزَيْمَةَ قَالَ: سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ سُلَيْمَانَ يَقُولُ: قَالَ الْحُمَيْدِيِّ.
قَدِمَ الشَّافِعِيُّ مَرَّةً مِنَ الْيَمَنِ، وَمَعَهُ عِشْرُونَ أَلْفَ دينارٍ، فَضَرَبَ خَيْمَةً خَارِجًا مِنْ مَكَّةَ، فَمَا قَامَ حَتَّى فَرَّقَهَا كلها.
৩- ইবনে আবি যাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনু খুযাইমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাবি' বিন সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল-হুমাইদি বলেছেন।
শাফি'ঈ একবার ইয়ামেন থেকে আসলেন এবং তাঁর সাথে বিশ হাজার দিনার ছিল। অতঃপর তিনি মক্কার বাইরে একটি তাঁবু স্থাপন করলেন এবং তিনি সেখান থেকে উঠার পূর্বেই তা সমস্তই বণ্টন করে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
4- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حرجة بِنَهَاوَنْدَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زَكَرِيَّا الْغِلابِيُّ قال: حدثنا أبو حذيفة قال: حدثنا الْمَسْعُودِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ:
عُنْوَانُ صَحِيفَةِ الْمُؤْمِنِ، حُسْنُ ثَنَاءِ النَّاسِ عَلَيْهِ.
৪- আমাদের নিকট আবু বকর উমর বিন আহমাদ বিন হারজাহ নাহাওয়ান্দে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন যাকারিয়া আল-গিলাবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হুযায়ফা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মাসউদি বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
মুমিনের আমলনামার শিরোনাম হলো তার সম্পর্কে মানুষের উত্তম প্রশংসা।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
5- حدثنا ابن حرجة قال: حدثنا أبو بكر محمد بن حسن البلغي قال: حدثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَرْوَانَ، عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ قَالَ:
كُنَّا عِنْدَ مُحَمَّدِ بْنِ كعبٍ القرظي، فأتاه رجلٌ فقال: يا أبا عَبْدَ اللَّهِ، مَا تَقُولُ فِي التَّوْبَةِ؟ فَقَالَ: مَا أَحْسَنَهَا، قَالَ: أَفَرَأَيْتَ إِنْ أَعْطَيْتُ اللَّهَ عَهْدًا أَنْ لا أَعْصِيهِ أَبَدًا، قَالَ: فَقَالَ له محمد: فمن حينئذٍ أعظم جرماً منك، تألا عَلَى اللَّهِ أَنْ لا يُنَفِّذَ فِيكَ أَمْرَهُ.
৫- ইবনে হারজাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন হাসান আল-বালগী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আবি মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা বিন ইউনুস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমরা মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাজি-র নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, তওবা সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: এটি কতই না চমৎকার! তিনি বললেন: তবে আপনি কি মনে করেন যদি আমি আল্লাহর নিকট এই মর্মে অঙ্গীকার করি যে, আমি আর কখনও তাঁর অবাধ্য হব না? মুহাম্মদ তাকে বললেন: তবে সেই সময় তোমার চেয়ে বড় অপরাধী আর কে হবে? তুমি আল্লাহর ওপর এই মর্মে শপথ করছ যে, তিনি তোমার ব্যাপারে তাঁর ফয়সালা কার্যকর করবেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
6- حدثنا عبدان بن يزيد الدقاق قال: حدثنا إبراهيم بن الحسين بن ديزيل قال: حدثنا حيوة قال: حدثنا بقية قال: حدثني عمر بْنُ وَاقِدٍ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ الزُّبَيْرِ بْنِ العوام قال:
ترك الزبير عليهم مِنَ الدَّيْنِ أَلْفَ أَلْفِ دِرْهَمٍ، فَقَالَ لَهُ رجلٌ: تَرَكَ أَبُوكَ أَلْفَ أَلْفِ دِرْهَمٍ دَيْنًا، وَكَانَ عَلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْفَضْلِ، فَقَالَ: إِنَّهَا لَمْ تَكُنْ كُلَّهَا دَيْنًا عَلَيْهِ، وَلَكِنَّهَا كَانَتْ مواعيدٌ عَلَيْهِ، فَكَتَبَ مَوَاعِيدَهُ، كَمَا كتب دينه.
৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদান ইবনে ইয়াজিদ আদ-দাক্কাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে আল-হুসাইন ইবনে দিজিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাইওয়াহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে ওয়াকিদ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আজ-জুবাইর ইবনুল আওয়াম, তিনি বলেন:
জুবাইর তাদের ওপর দশ লক্ষ দিরহাম ঋণ রেখে গিয়েছিলেন। জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: আপনার পিতা দশ লক্ষ দিরহাম ঋণ রেখে গিয়েছেন, অথচ তাঁর যে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব ছিল (তা সত্ত্বেও)। তখন তিনি বললেন: এর পুরোটাই তাঁর ওপর ঋণ ছিল না, বরং এগুলোর কিছু ছিল তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিগুলোও লিখে রেখেছিলেন, যেভাবে তিনি তাঁর ঋণসমূহ লিখে রেখেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
7- قال: حدثني أبو أحمد الحسن العسكري قال: حدثنا ابْنُ الأَنْبَارِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ: قَالَ يَحْيَى بْنُ خَالِدٍ الْبَرْمَكِيُّ، لِوَلَدِهِ:
كَانُوا يَكْتُبُونَ أَحْسَنَ مَا يَسْمَعُونَ.
وَيَحْفَظُونَ أَحْسَنَ مَا يَكْتُبُونَ.
وَيَتَحَدَّثُونَ بِأَحْسَنِ مَا يحفظون.
৭- তিনি বলেন: আবু আহমাদ আল-হাসান আল-আসকারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল আম্বারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন উবাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন খালিদ আল-বারমাকী তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন:
তারা যা শুনতেন, তার মধ্যে যা সবচেয়ে উত্তম তা লিখে রাখতেন।
আর তারা যা লিখতেন, তার মধ্যে যা সবচেয়ে উত্তম তা মুখস্থ রাখতেন।
এবং তারা যা মুখস্থ রাখতেন, তার মধ্যে যা সবচেয়ে উত্তম তা নিয়ে আলোচনা করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
8- حدثنا علي قال: حدثنا أَبُو أَحْمَدَ الْعَسْكَرِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ عَرَفَةَ يَحْكِي عَنْ ثَعْلَبٍ، عَنِ
⦗ص: 127⦘ ابْنِ الأَعْرَابِيِّ قَالَ: كَانَ يَقُولُ:
ثَمَرَةُ الْعِلْمُ حِفْظُهُ.
وَكَانَ الْخَلِيلُ بْنُ أَحْمَدَ يَقُولُ:
اجْعَلْ مَا فِي كتابك رأس مالك، وما في صدرك النفقة.
৮- আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আহমদ আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবরাহিম ইবনে আরাফাহকে ছালাব থেকে এবং তিনি
⦗পৃ: ১২৭⦘ ইবনুল আরাবী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলতেন:
জ্ঞানের ফল হলো তা মুখস্থ রাখা (সংরক্ষণ করা)।
এবং খলীল ইবনে আহমদ বলতেন:
তোমার কিতাবে যা আছে তাকে তোমার মূলধন বানাও, আর তোমার অন্তরে যা আছে তাকে ব্যয়ের পাথেয় করো।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
9- دُعَاءٌ لأَبِي بكرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه.
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الحسن النَّقَّاشُ الْمُقْرِئُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ بهراة قال: حدثنا أبو بكر ابن أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا احْتَضَرَ أَبُو بكرٍ الصِّدِّيقُ حَضَرَهُ جماعةٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إن رأيت أن تزودها شَيْئًا يَنْفَعُنَا، إِنَّا لَنَرَاكَ وَجِعًا، فَقَالَ لَهُمْ:
افْهَمُوا عَنِّي كلماتٍ، مَنْ قَالَهُنَّ حِينَ يُمْسِي، وَحِينَ يُصْبِحُ، جَعَلَ اللَّهُ رُوحَهُ فِي الأُفُقِ الْمُبِينِ، قَالُوا: وَمَا الأُفُقُ الْمُبِينُ رَحِمَكَ اللَّهُ؟ قَالَ: قاعٌ تَحْتَ الْعَرْشِ فِيهِ رياضٌ، وأشجارٌ، وأنهارٌ، وأطيارٌ، تغشاه في كُلَّ يومٍ أَلْفُ رحمةٍ، وَأَلْفُ مغفرةٍ، فَمَنْ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ الْقَوْلِ جَعَلَ اللَّهُ رُوحَهُ في ذلك المكان وحباه وَأَزْلَفَهُ، وَأَقَرَّ عَيْنَهُ.
⦗ص: 128⦘اللَّهُمَّ إِنَّكَ بَدَأْتَ الْخَلْقَ مِنْ غَيْرِ حاجةٍ بِكَ إِلَيْهِمْ، بَلْ مَنًّا مِنْكَ عَلَيْهِمْ، فَجَعَلْتَهُمْ فَرِيقَيْنِ: فَرِيقًا لِلنَّعِيمِ، وَفَرِيقًا للجحيم.
اللهم فَاجْعَلْنِي مِنْ خَيْرِ الْفَرِيقَيْنِ، مِنْ فَرِيقِ النَّعِيمِ، وَلا تَجْعَلْنِي مِنْ فَرِيقِ الْجَحِيمِ.
اللَّهُمَّ إِنَّكَ جَعَلْتَ الْخَلْقَ كُلَّهُمْ فِرَقًا، وَمَيَّزْتَهُمْ طُرُقًا، فَجَعَلْتَ مُنْهُمْ شَقِيًّا وَمِنْهُمْ سَعِيدًا، وَغَوِيًّا وَرَشِيدًا، فَأَسْعِدْنِي بِطَاعَتِكَ، ولا تُشْقِنِي بِمَعْصِيَتِكَ.
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَلِمْتَ مَا تَكْسِبُ كُلُّ نفسٍ قَبْلَ أَنْ تَخْلُقَهَا، فَلا مَحِيصَ لَهَا مِمَّا عَلِمْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَا عَلِمْتَهُ مِنِّي.
اللَّهُمَّ إِنْ أَحَدًا لا يَشَاءُ حَتَّى تَشَاءَ، فَاجْعَلْ مَشِيئَتَكَ لِي أَنْ أَشَاءَ مَا يُقَرِّبُنِي إِلَيْكَ.
اللَّهُمَّ إِنَّكَ قَدَّرْتَ حَرَكَاتِ الْعِبَادِ، فَلا يَتَحَرَّكُ شيءٌ إِلا بِإِذْنِكَ، فَاجْعَلْ حَرَكَاتِي كُلَّهَا فِي تَقْوَاكَ.
اللَّهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ الْخَيْرَ وَالشَّرَّ، وَجَعَلْتَ لِكُلِّ واحدٍ مِنْهُمَا أَهْلا وَعَامِلا يَعْمَلُ بِهِ، فَاجْعَلْنِي فِي خَيْرِ الْقِسْمَيْنِ.
اللَّهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ، وجَعَلْتَ لِكُلِّ واحدةٍ مِنْهُمَا أَهْلا وَسُكَّانًا، فَاجْعَلْنِي مِنْ سُكَّانِ جَنَّتِكَ بِرَحْمَتِكَ.
اللَّهُمَّ إِنَّكَ أَرَدْتَ بقومٍ الْهُدَى وَشَرَحْتَ صُدُورَهُمْ، وَأَرَدْتَ لقومٍ الضَّلالَةَ، وَضَيَّقْتَ صُدُورَهُمْ، فَاشْرَحْ لِي صَدْرِي بِالإِيمَانِ،
⦗ص: 129⦘ وَزَيِّنْهُ فِي قَلْبِي، وَكَرِّهْ إِلَيَّ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ، وَاجْعَلْنِي مِنَ الرَّاشِدِينَ.
اللَّهُمَّ إِنَّكَ دَبَّرْتَ الأُمُورَ وَجَعَلْتَ مَصِيرَهَا إِلَيْكَ، فَأَحْيِنِي بَعْدَ الْمَوْتِ حَيَاةً طَيِّبَةً، وَقَرِّبْنِي مِنْكَ زُلْفَى.
اللَّهُمَّ مَنْ أَصْبَحَ وَأَمْسَى ثقته ورجاءه غَيْرُكَ، فَإِنَّكَ أَنْتَ ثِقَتِي وَرَجَائِي، وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ.
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَحَفِظْتُ ذَلِكَ، فَأَنَا أَقُولُ فِي كُلِّ يَوْمٍ مَرَّتَيْنِ، وَلَمْ يَزَلْ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه يَسْتَعِيدُنِي حَتَّى حَفِظَهُ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَهَذَا كُلُّهُ موجودٌ فِي كِتَابِ اللَّهِ عز وجل، وصدق أبو بكر.
৯- আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি দুআ।
মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আন-নাক্কাশ আল-মুকরি আমাদের বলেছেন: হুসাইন ইবনে ইদ্রিস হিরাতে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যখন আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর অন্তিম সময় উপস্থিত হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। তাঁরা বললেন: হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলিফা! আপনি যদি আমাদের এমন কিছু পাথেয় প্রদান করতেন যা আমাদের উপকারে আসবে; কেননা আমরা আপনাকে অত্যন্ত অসুস্থ দেখছি। তখন তিনি তাঁদের বললেন:
আমার নিকট থেকে কয়েকটি বাক্য বুঝে নাও; যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এবং সকালে এই বাক্যগুলো পাঠ করবে, আল্লাহ তার আত্মাকে 'উফুকুল মুবীন'-এ স্থান দেবেন। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন: আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, 'উফুকুল মুবীন' কী? তিনি বললেন: এটি আরশের নিচে অবস্থিত একটি সমতল ভূমি, যাতে রয়েছে বাগানসমূহ, বৃক্ষরাজি, নদ-নদী এবং পক্ষিকূল। প্রতিদিন তা এক হাজার রহমত ও এক হাজার ক্ষমা দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই কথাগুলোর ওপর মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তার আত্মাকে সেই স্থানে রাখবেন এবং তাকে সম্মান দান করবেন, নৈকট্য প্রদান করবেন এবং তার চোখ জুড়িয়ে দেবেন।
⦗পৃষ্ঠা: ১২৮⦘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি সৃষ্টিজগতকে কোনো প্রয়োজন ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন, বরং এটি ছিল তাদের প্রতি আপনার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ। অতঃপর আপনি তাদের দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: একদল নিয়ামতপ্রাপ্তদের জন্য এবং অন্য দল জাহান্নামের জন্য।
হে আল্লাহ! আমাকে এই দুই দলের মধ্যে সর্বোত্তম দলের অন্তর্ভুক্ত করুন, অর্থাৎ নিয়ামতপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে জাহান্নামী দলের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।
হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি সমস্ত সৃষ্টিজগতকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেছেন এবং তাদের পথসমূহকে পৃথক করেছেন; ফলে তাদের মধ্যে কাউকে করেছেন দুর্ভাগা এবং কাউকে সৌভাগ্যবান, কাউকে পথভ্রষ্ট এবং কাউকে হেদায়াতপ্রাপ্ত। সুতরাং আপনার আনুগত্যের মাধ্যমে আমাকে সৌভাগ্যবান করুন এবং আপনার অবাধ্যতার দ্বারা আমাকে দুর্ভাগা করবেন না।
হে আল্লাহ! আপনি প্রতিটি প্রাণ সৃষ্টি করার পূর্বেই সে কী অর্জন করবে তা জানতেন, সুতরাং আপনার জানা বিষয় হতে তার পালানোর কোনো পথ নেই। অতএব, আমার সম্পর্কে আপনি যা জানেন (আমার গুনাহসমূহ), তা ক্ষমা করে দিন।
হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি না চাইলে কেউ কিছুই ইচ্ছা করতে পারে না; সুতরাং আপনার ইচ্ছা আমার জন্য এমন করে দিন যাতে আমি সেই ইচ্ছাই করি যা আমাকে আপনার নিকটবর্তী করে দেয়।
হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি বান্দাদের নড়াচড়া ও কাজসমূহ নির্ধারণ করেছেন, আপনার অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো কিছুই নড়াচড়া করে না। অতএব, আমার প্রতিটি নড়াচড়া বা কাজকে আপনার তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত করে দিন।
হে আল্লাহ! আপনি কল্যাণ ও অকল্যাণ সৃষ্টি করেছেন এবং এই দুইটির প্রত্যেকটির জন্য উপযুক্ত লোক ও আমলকারী নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং আমাকে এই দুই ভাগের মধ্যে কল্যাণকর ভাগের অন্তর্ভুক্ত করুন।
হে আল্লাহ! আপনি জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন এবং এই দুইটির প্রত্যেকটির জন্য উপযুক্ত লোক ও অধিবাসী নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং আপনার রহমতের মাধ্যমে আমাকে আপনার জান্নাতের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
হে আল্লাহ! আপনি কোনো কওমের জন্য হেদায়াত চেয়েছেন এবং তাদের বক্ষসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, আবার কোনো কওমের জন্য পথভ্রষ্টতা চেয়েছেন এবং তাদের বক্ষসমূহকে সংকীর্ণ করে দিয়েছেন। সুতরাং ঈমানের মাধ্যমে আমার বক্ষ উন্মুক্ত করে দিন,
⦗পৃষ্ঠা: ১২৯⦘ আমার অন্তরে একে সুশোভিত করুন এবং কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে আমার নিকট অপ্রিয় করে দিন এবং আমাকে সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
হে আল্লাহ! আপনিই সকল বিষয় পরিচালনা করেন এবং সবকিছুর প্রত্যাবর্তন আপনার নিকট স্থির করেছেন; সুতরাং মৃত্যুর পর আমাকে পবিত্র জীবন দান করুন এবং আমাকে আপনার একান্ত নৈকট্য দান করুন।
হে আল্লাহ! যার সকাল ও সন্ধ্যা আপনার পরিবর্তে অন্য কারো ওপর ভরসা ও প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় (তার বিষয় ভিন্ন), কিন্তু নিশ্চয়ই আপনিই আমার ভরসা এবং আমার প্রত্যাশা। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি এই কথাগুলো মুখস্থ করে নিয়েছি এবং আমি প্রতিদিন দুই বার করে এগুলো পাঠ করি। আমিরুল মুমিনীন ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সর্বদা আমার নিকট এটি পুনরাবৃত্তি করতে বলতেন যতক্ষণ না তিনি তা মুখস্থ করে নিয়েছিলেন। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, 'এই সব কিছুই মহান আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে।' আর আবু বকর সত্যই বলেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
10- حدثنا أبو بكر محمد بن [أحمد بن إبراهيم بن يونس] ختن الليث الرازي بِالرَّيِّ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيَّ يَقُولُ: دَخَلْتُ دِمَشْقَ عَلَى كِتَبَةِ الْحَدِيثِ، فَمَرَرْتُ بِحَلَقَةِ قَاسِمِ الْجُوعِيِّ، فَرَأَيْتُ نَفَرًا جُلُوسًا حَوْلَهُ وَهُو يَتَكَلَّمُ عَلَيْهِمْ، فَهَالَنِي مَنْظَرُهُمْ، فَتَقَدَّمْتُ إِلَيْهِمْ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ:
اغتْنِمُوا مِنْ أَهْلِ زَمَانِكُمْ خَمْسًا، مِنْهَا:
⦗ص: 130⦘إِنْ حَضَرْتُمْ لَمْ تُعْرَفُوا.
وَإِنْ غِبْتُمْ لَمْ تُفْتَقَدُوا.
وَإِنْ شَهِدْتُمْ لَمْ تُشَاوِرُوا.
وَإِنْ قُلْتُمْ شَيْئًا لَمْ يَقْبَلُوا مِنْكُمْ.
وإن عملتم شَيْئًا لَمْ تُعْطُوا بِهِ.
وَأُوصِيكُمْ بخمسٍ أَيْضًا:
إن ظُلِمْتُمْ لَمْ تَظْلِمُوا.
وَإِنْ مُدِحْتُمْ لَمْ تَفْرَحُوا.
وَإِنْ ذُمِمْتُمْ لَمْ تَجْزَعُوا.
وَإِنْ كُذِّبْتُمْ فَلا تَغْضَبُوا.
وَإِنْ خَانُوكُمْ فَلا تَخُونُوا.
قَالَ: فَجَعَلْتُ هَذَا فَائِدَتِي مِنْ دِمَشْقَ.
১০- আমাদের নিকট রায় শহরে আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে [আহমাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে ইউনুস], যিনি লাইস আর-রাজীর জামাতা, হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর-রাজীকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: আমি হাদীস অনুলিপিকারীদের নিকট দামেশকে গেলাম, তখন আমি কাসিম আল-জুয়ীর মাজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। আমি দেখলাম একদল লোক তাঁর চারপাশে বসে আছে এবং তিনি তাদের সাথে কথা বলছেন। তাদের দৃশ্য দেখে আমি অভিভূত হলাম, অতঃপর আমি তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাঁকে বলতে শুনলাম:
তোমাদের যামানার মানুষের নিকট থেকে পাঁচটি বিষয় অর্জনের সুযোগ নাও, তার মধ্যে:
⦗পৃষ্ঠা: ১৩০⦘যদি তোমরা উপস্থিত থাকো, তবে তোমাদের চেনা হবে না।
আর যদি তোমরা অনুপস্থিত থাকো, তবে তোমাদের খোঁজ করা হবে না।
যদি তোমরা উপস্থিত থাকো, তবে তোমাদের সাথে পরামর্শ করা হবে না।
যদি তোমরা কোনো কথা বলো, তবে তারা তোমাদের থেকে তা গ্রহণ করবে না।
আর যদি তোমরা কোনো কাজ করো, তবে তার বিনিময়ে তোমাদের কিছু দেওয়া হবে না।
এবং আমি তোমাদের আরও পাঁচটি বিষয়ের অসিয়ত করছি:
যদি তোমরা জুলুমের শিকার হও, তবে তোমরা জুলুম করো না।
যদি তোমাদের প্রশংসা করা হয়, তবে তোমরা আনন্দিত হয়ো না।
যদি তোমাদের নিন্দা করা হয়, তবে তোমরা বিচলিত হয়ো না।
যদি তোমাদের মিথ্যাবাদী বলা হয়, তবে তোমরা রাগান্বিত হয়ো না।
আর যদি তারা তোমাদের সাথে খিয়ানত করে, তবে তোমরা খিয়ানত করো না।
তিনি বললেন: আমি এটিকেই দামেশক থেকে আমার অর্জিত ফায়দা হিসেবে গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
11- سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ مِقْسَمٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ وَاصِلٍ الْخَلالَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بنَ سُلَيْمَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ:
⦗ص: 131⦘مَا أَوْرَدْتُ الْحَقَّ والْحُجَّةَ عَلَى أحدٍ فَقَبِلَهَا مِنِّي إِلا هِبْتُهُ، وَاعْتَقَدْتُ مَوَدَّتَهُ.
وَلا كَابَرَنِي عَلَى الْحَقِّ أحدٌ وَدَافَعَ الْحُجَّةَ، إِلا سَقَطَ مِنْ عَيْنِي.
১১- আমি আবুল হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মিকসামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াসিল আল-খাল্লালকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাবি ইবনে সুলাইমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি:
⦗পৃষ্ঠা: ১৩১⦘আমি যখনই কারো সামনে সত্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছি আর সে তা আমার কাছ থেকে গ্রহণ করেছে, আমি তাকে শ্রদ্ধা করেছি এবং তার প্রতি ভালোবাসা পোষণ করেছি।
আর যে কেউ সত্যের মোকাবিলায় আমার সাথে অহংকার করেছে এবং প্রমাণকে প্রতিহত করেছে, সে আমার চোখে মর্যাদাহীন হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
12- حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَبْدَانُ بْنُ يَزِيدَ الدَّقَّاقُ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَطَّانُ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْعَطَّارُ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بُكَيْرٍ الْحَضْرَمِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ الْعُمَرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ قَالَ:
جَاءَ عُثْمَانُ بْنُ مظعونٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، غَلَبَنِي حَدِيثُ النفس فلم أُحِبُّ أَنْ أُحَدِّثَ شَيْئًا حَتَّى أَذْكُرُ ذَلِكَ لَكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: وَمَا تُحَدِّثُكَ نَفْسُكَ بِهِ يَا عُثْمَانُ؟ قلت: تحدثني نفسي أن أختصي، قال: مَهْلا يَا عُثْمَانُ، اعْلَمْ أَنَّ خِصَاءَ أُمَّتِي الصِّيَامُ.
قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنَّ نَفْسِي تحدثني أن أترهب في رؤوس الْجِبَالِ، قَالَ: مَهْلا يَا عُثْمَانُ فَإِنَّ تَرَهُّبَ أُمَّتِي الْجُلُوسُ فِي الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلَواتِ.
قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنَّ نَفْسِي تُحَدِّثُنِي أَنْ أَسِيحَ فِي الأَرْضِ، قَالَ: مَهْلا يَا عُثْمَانُ، فَإِنَّ سِيَاحَةَ أُمَّتِي الْغَزْوُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، والحج والعمرة.
⦗ص: 132⦘قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنَّ نَفْسِي تُحَدِّثُنِي بِأَنْ أُخْرِجَ مِنْ مَالِي كَذَا، قَالَ: مَهْلا يَا عُثْمَانُ، فَإِنَّ صَدَقَتَكَ يَوْمًا بيومٍ، وَتَكْفِ نَفْسَكَ وَعِيَالَكَ، وَتَرْحَمُ الْمَسَكيِنَ وَالْيَتِيمَ، وَتُطْعِمُهُ، أَفْضَلُ مِنْ ذَلِكَ.
قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنَّ نفسي تحدثني أن أُطَلِّقَ خَوْلَةَ امْرَأَتِي، قَالَ: مَهْلا يَا عُثْمَانُ، فَإِنّ هِجْرَةَ أُمَّتِي مِنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ، أَوْ هَاجَرَ فِي حَيَاتِي، أَوْ زَارَ قَبْرِي بَعْدَ مَوْتِي، أَوْ مَاتَ وَلَهُ امرأةٌ، أَوِ امْرَأَتَانِ، أَوْ ثلاثةٌ، أَوْ أربعةٌ.
قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنَّ نَفْسِي تُحَدِّثُنِي أَنْ لا أَغْشَاهَا، قَالَ: مَهْلا يَا عُثْمَانُ، فَإِنَّ الرَّجُلَ الْمُسْلِمَ إِذَا غَشِيَ أَهْلَهُ، فَإِنْ لم يكن له مِنْ وَقْعَتِهِ ولدٌ كَانَ لَهُ وصيفٌ فِي الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ لَهُ مِنْ وَقْعَتِهِ ذَلِكَ ولدٌ، فَإِنْ مَاتَ قَبْلَهُ كَانَ فَرَطًا وَشَفِيعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَإِنْ مَاتَ بَعْدَهُ كَانَ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فإن نفسي تحدثني أن لا آكُلَ اللَّحْمَ، قَالَ: مَهْلا يَا عُثْمَانُ، فَإِنِّي أُحِبُّ اللَّحْمَ وَآكُلُهُ إِذَا وَجَدْتُ، وَلَوْ سَأَلْتُ رَبِّي أَنْ يُطْعِمَنِي فِي كُلِّ يومٍ لأَطْعَمْنِيهِ.
قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنَّ نَفْسِي تُحَدِّثُنِي بِأَنْ لا أَمَسَّ الطِّيبَ، قَالَ: مَهْلا يَا عُثْمَانُ، فَإِنَّ جِبْرِيلَ أَمَرِني بِالطِّيبِ غِبًّا وَيَوْمَ الْجُمُعَةِ، لا مَتْرَكَ لَهُ يَا عُثْمَانُ، لا تَرْغَبْ عَنْ سُنَّتِي، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سنتي، ثم
⦗ص: 133⦘ مات قَبْلَ أَنْ يَتُوبَ صَرَفَتِ الْمَلائِكَةُ وَجْهَهُ عَنْ حوضي.
১২- আবুল হাসান আবদান বিন ইয়াজিদ আদ-দাক্কাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন নাসর বিন আবদুর রহমান আল-কাত্তান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আল-আত্তার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন বুকাইর আল-হাদরামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাসিম বিন আবদুল্লাহ বিন উমর আল-উমরি আমাদের কাছে উবাইদুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি আলি বিন জাইদ বিন জুদআন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
উসমান বিন মাজউন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, মনের প্ররোচনা আমার ওপর প্রবল হয়েছে, তাই আমি আপনার কাছে বিষয়টি উল্লেখ না করে কোনো কিছু করা পছন্দ করিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে উসমান, তোমার মন তোমাকে কী প্ররোচনা দিচ্ছে? আমি বললাম: আমার মন আমাকে নপুংসক হওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছে। তিনি বললেন: ক্ষান্ত হও হে উসমান! জেনে রাখো, আমার উম্মতের নপুংসকতা হলো রোজা রাখা।
তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মন আমাকে পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে বৈরাগ্য সাধনের প্ররোচনা দিচ্ছে। তিনি বললেন: ক্ষান্ত হও হে উসমান! কারণ আমার উম্মতের বৈরাগ্য হলো মসজিদে অবস্থান করা এবং নামাজের অপেক্ষা করা।
তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মন আমাকে পৃথিবীতে পরিব্রাজন (উদ্দেশ্যহীন ভ্রমণ) করার প্ররোচনা দিচ্ছে। তিনি বললেন: ক্ষান্ত হও হে উসমান! কারণ আমার উম্মতের পরিব্রাজন হলো আল্লাহর পথে জিহাদ করা, হজ এবং উমরা করা।
⦗পৃষ্ঠা: ১৩২⦘তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মন আমাকে আমার সম্পদ থেকে অমুক পরিমাণ দান করে দেওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছে। তিনি বললেন: ক্ষান্ত হও হে উসমান! কারণ তোমার প্রতিদিনের সাধারণ দান, নিজের এবং পরিবারের প্রয়োজন পূরণ করা এবং মিসকিন ও এতিমদের প্রতি দয়া করা ও তাদের অন্ন দান করা এর চেয়েও বেশি উত্তম।
তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মন আমাকে আমার স্ত্রী খাওলা-কে তালাক দেওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছে। তিনি বললেন: ক্ষান্ত হও হে উসমান! কারণ আমার উম্মতের হিজরত হলো আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করা, অথবা আমার জীবদ্দশায় আমার নিকট হিজরত করা, অথবা আমার মৃত্যুর পর আমার কবর জিয়ারত করা, অথবা এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা যখন তার এক, দুই, তিন অথবা চারজন স্ত্রী রয়েছে।
তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মন আমাকে তার (স্ত্রীর) সাথে মেলামেশা না করার প্ররোচনা দিচ্ছে। তিনি বললেন: ক্ষান্ত হও হে উসমান! কারণ একজন মুসলিম ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, তখন যদি সেই মিলনের ফলে তার কোনো সন্তান নাও হয়, তবে জান্নাতে তার জন্য একজন খাদেম থাকবে। আর যদি সেই মিলনের ফলে তার কোনো সন্তান হয় এবং সে (সন্তান) তার আগে মারা যায়, তবে সে কিয়ামতের দিন তার জন্য অগ্রগামী সওয়াব এবং সুপারিশকারী হবে; আর যদি সে তার পরে মারা যায়, তবে কিয়ামতের দিন সে তার জন্য নূর হবে।
তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মন আমাকে মাংস না খাওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছে। তিনি বললেন: ক্ষান্ত হও হে উসমান! কারণ আমি মাংস পছন্দ করি এবং যখনই পাই তখনই খাই। আমি যদি আমার রবের কাছে প্রতিদিন আমাকে মাংস খাওয়ানোর জন্য প্রার্থনা করতাম, তবে তিনি অবশ্যই আমাকে তা খাওয়াতেন।
তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার মন আমাকে সুগন্ধি স্পর্শ না করার প্ররোচনা দিচ্ছে। তিনি বললেন: ক্ষান্ত হও হে উসমান! কারণ জিবরীল আমাকে মাঝেমধ্যে এবং জুমার দিনে সুগন্ধি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। হে উসমান, এটি বর্জন করা উচিত নয়। তুমি আমার সুন্নাহর প্রতি বিমুখ হয়ো না। কারণ যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর প্রতি বিমুখ হবে এবং তওবা করার আগেই
⦗পৃষ্ঠা: ১৩৩⦘ মৃত্যুবরণ করবে, ফেরেশতারা আমার হাউজ থেকে তার মুখ ফিরিয়ে নেবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
13- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ النَّقَّاشُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نعيم الإستراباذي قَالَ: حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ:
أَشَدُّ الأَعْمَالِ ثلاثةٌ:
الْجُودُ مِنْ قِلَّةٍ.
وَالْوَرَعُ فِي خلوةٍ.
وَكَلِمَةُ الْحَقِّ عِنْدَ مَنْ يُرْجَى وَيُخَافُ.
১৩- আবু বকর আন-নাককাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুয়াইম আল-ইস্তারাবাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাবি ইবনে সুলায়মান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি:
সবচেয়ে কঠিন কাজ তিনটি:
অভাব থাকা সত্ত্বেও দানশীলতা।
নির্জনতায় পরহেজগারি অবলম্বন করা।
এবং এমন ব্যক্তির নিকট সত্য কথা বলা যাকে ভয় করা হয় কিংবা যার নিকট থেকে কোনো কিছুর প্রত্যাশা থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
14- حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الطُّوسِيُّ بِهَمَذَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا الرَّاجِحُ بْنُ الحسن بحلب قَالَ: حَدَّثَنَا
⦗ص: 134⦘ مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْبَصْرِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ يَقُولُ:
إِنَّ الرَّجُلَ لَيَسْأَلُنِي الحاجة، فأبادر بها مخافة أن تبدو له.
14- আমাদের নিকট আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আত-তুসী হামাদানে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আর-রাজিহ ইবনুল হাসান হালাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট
⦗পৃষ্ঠা: ১৩৪⦘ মুহাম্মদ ইবনে কাসীর আল-বাসরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরীকে বলতে শুনেছি:
নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যখন আমার নিকট কোনো প্রয়োজনের কথা পেশ করে, তখন আমি তা পূরণে দ্রুত এগিয়ে যাই এই আশঙ্কায় যে, পাছে তার নিকট (তা চাওয়ার বিষয়ে ভিন্ন কিছু) প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
15- سمعت جعفر بن محمد بن نصير الخلدي يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا مُوسَى الدَّيْبُلِيَّ يَقُولُ: قُلْتُ لأبي يزيد: من أصحب؟ قال: من إِذَا مَرِضْتَ عَادَكَ.
وَإِذَا أَذْنَبْتَ تَابَ.
وَمَنْ يَعْلَمُ مِنْكَ مَا يَعْلَمْهُ اللَّهُ مِنْكَ.
১৫- আমি জাফর বিন মুহাম্মদ বিন নাসির আল-খুলদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু মুসা আদ-দাইবুলীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু ইয়াজিদকে বললাম: আমি কার সংশ্রব অবলম্বন করব? তিনি বললেন: এমন ব্যক্তির, যে তুমি অসুস্থ হলে তোমাকে দেখতে আসবে।
এবং যখন তুমি অপরাধ করবে, সে তাওবা করবে।
আর যে তোমার সম্পর্কে তা-ই জানে যা আল্লাহ তোমার সম্পর্কে জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
16- سمعت جعفر بن محمد بن نصير الخلدي يَقُولُ: سَمِعْتُ الْجُنَيْدَ يَقُولُ: وَسُئِلَ عَنْ مَعْنَى الْمُرُوءَةِ، فَقَالَ:
احْتِمَالُ زَلَلِ الإِخْوَانِ.
১৬- আমি জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন নুসাইর আল-খুলদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল-জুনাইদকে বলতে শুনেছি, তাঁকে মুরুওয়াতের (মানবতা বা বীরত্ব) মর্মার্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
ভাইদের ভুলত্রুটি বা পদস্খলন সহ্য করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
17- حدثنا أبو إسحاق المزكي قال: سمعت ابن خزيمة يقول: حَدَّثَنِي الْمُزَنِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ: ⦗ص: 135⦘ تَعَلَّمُوا مِمَّنْ هُوَ أَعْلَمُ مِنْكُمْ، وَعَلِّمُوا مَنْ أَنْتُمْ أَعْلَمُ مِنْهُ، فَإِذَا فَعَلْتُمْ ذَلِكَ عَلِمْتُمْ مَا جَهِلْتُمْ، وَحَفَظْتُمْ مَا عَلِمْتُمْ.
১৭- আবু ইসহাক আল-মুযাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে খুযাইমাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আল-মুযানী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফিঈকে বলতে শুনেছি: ⦗পৃষ্ঠা: ১৩৫⦘ তোমরা তাদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো যারা তোমাদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং তাদের শিক্ষা দান করো যাদের চেয়ে তোমরা অধিক জ্ঞানী। যখন তোমরা তা করবে, তখন তোমরা যা জানতে না তা শিখে যাবে এবং যা তোমরা জানতে তা তোমাদের কাছে সংরক্ষিত থাকবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
18- حدثني أبو عبد الله بن مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْفَقِيهُ الْبَصْرِيُّ بِهَمَذَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الصُّولِيُّ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى أَبِي الْعَيْنَاءِ فِي آخِرِ عُمْرِهِ وَقَدْ كُفَّ بَصَرُهُ، قَالَ: فَسَمِعَ صَرِيرَ قَلَمِي عَلَى الدَّفْتَرِ، فَقَالَ: مَنْ هَذَا، قُلْتُ: عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الصُّولِيُّ قَالَ: بَلْ وَلَدِي وَابْنُ أَخِي، مَا تَكْتُبُ؟
قُلْتُ: جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ، أَكْتُبُ شَيْئًا مِنَ النَّحْوِ وَالتَّصْرِيفِ.
فَقَالَ: النَّحْوُ فِي الْعُلُومِ كَالْمِلْحِ فِي الْقِدْرِ، إذا أكثرت منه صار القدر زعافاً، يَا بُنَيَّ، إِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَكُونَ صَدْرًا فِي الْمَجَالِسِ فَعَلَيْكَ بِالْفِقْهِ، وَمَعَانِي الْقُرْآنِ، وَإِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَكُونَ مُنَادِمًا لِلْخُلَفَاءِ وَذَوِي الْمَرُوءَاتِ والأَدُبَاءِ فَعَلَيْكَ بِنُتَفِ الأَشْعَارِ وَمُلَحِ الأَخْبَارِ.
১৮- হামাদানে আবু আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-ফাকিহ আল-বাসরি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আস-সুলি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল আইনাইর শেষ জীবনে তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তিনি বলেন: তিনি খাতায় আমার কলমের খসখস শব্দ শুনতে পেলেন এবং বললেন: কে এই ব্যক্তি? আমি বললাম: আপনার গোলাম এবং আপনার গোলামের পুত্র মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আস-সুলি। তিনি বললেন: বরং তুমি আমার সন্তান এবং আমার ভ্রাতুষ্পুত্র। তুমি কী লিখছ?
আমি বললাম: আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, আমি নাহু (ব্যাকরণ) এবং তাসরিফ (শব্দরূপ) এর কিছু অংশ লিখছি।
তিনি বললেন: জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নাহু হলো হাঁড়িতে লবণের মতো; যদি তুমি এর আধিক্য করো, তবে হাঁড়ির খাবার বিস্বাদ বা অখাদ্য হয়ে যায়। হে বৎস, যদি তুমি মজলিসসমূহের প্রধান বা শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি হতে চাও, তবে তুমি ফিকহ এবং কুরআনের মর্মার্থসমূহ আয়ত্ত করো। আর যদি তুমি খলিফাগণ, মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গ এবং সাহিত্যিকদের সহচর হতে চাও, তবে তুমি কবিতার অংশবিশেষ এবং চমৎকার ও রসাত্মক সংবাদসমূহ সংগ্রহ করো।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
19- حدثني أبو غانم سهيل بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ بُلْبُلٍ الْفَقِيهُ بِوَاسِطَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ السُّحَيْمِيُّ القاضي قال:
⦗ص: 136⦘ حدثنا أَبُو حَاتِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ حَسَّانَ قَالَ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ:
إِنَّمَا الْعِلْمُ عِلْمَانِ: عِلْمُ الدِّينِ، وَعِلْمُ الدُّنْيَا.
وَالْعِلْمُ الَّذِي لِلدِّينِ فَهُوَ الْفِقْهُ.
وَالْعِلْمُ الَّذِي لِلدُّنْيَا فهو الطب.
ما سِوَى ذَلِكَ مِنَ الشِّعْرِ، وَالنَّحْوِ فَهُوَ غناءٌ، أو عبثٌ.
১৯- ওয়াসিত নিবাসী ফকিহ আবু গানিম সুহাইল ইবনে ইসমাইল ইবনে বুলবুল আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাজী আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সুহাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
⦗পৃষ্ঠা: ১৩৬⦘ আবু হাতিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফিঈ-কে বলতে শুনেছি:
নিশ্চয়ই জ্ঞান কেবল দুই প্রকার: দ্বীনের জ্ঞান এবং দুনিয়ার জ্ঞান।
আর যে জ্ঞান দ্বীনের জন্য, তা হলো ফিকহ।
আর যে জ্ঞান দুনিয়ার জন্য, তা হলো চিকিৎসা বিজ্ঞান।
এ ছাড়া কবিতা ও ব্যাকরণ সংক্রান্ত যা কিছু আছে, তা কেবল গান অথবা অনর্থক বিষয় মাত্র।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
20- حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ لالٍ الْفَقِيهُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبُخَارِيُّ إِمْلاءً قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بن عزير القطان المروزي قال: حدثنا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى قَالَ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ:
النَّاسُ عيالٌ عَلَى هَؤُلاءِ الأَرْبَعَةِ:
فَمَنْ أَرَادَ أن يتبحر فِي الْمَغَازِي، فَهُوَ عيالٌ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ إسحاق.
ومن أراد أن يتبحر فِي الشِّعْرِ فَهُوَ عيالٌ عَلَى زُهَيْرِ بْنِ أبي سلمى.
⦗ص: 137⦘ومن أراد أن يتبحر فِي النَّحْوِ فَهُوَ عيالٌ عَلَى الْكِسَائِيِّ.
وَمَنْ أراد أن يتبحر فِي تَفْسِيرِ الْقُرْآنِ فَهُوَ عيالٌ عَلَى مُقَاتِلِ بن سليمان.
২০- আহমদ বিন আলী বিন লাল আল-ফকিহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-বুখারি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ফদল আব্বাস বিন উযাইর আল-কাত্তান আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারমালা বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফিঈ-কে বলতে শুনেছি:
মানুষ এই চার ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল:
সুতরাং যে ব্যক্তি মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এর বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে চায়, সে মুহাম্মদ বিন ইসহাকের ওপর নির্ভরশীল।
এবং যে ব্যক্তি কবিতার বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে চায়, সে যুহাইর বিন আবি সুলমার ওপর নির্ভরশীল।
⦗পৃষ্ঠা: ১৩৭⦘এবং যে ব্যক্তি নাহু (ব্যাকরণ) এর বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে চায়, সে আল-কিসায়ির ওপর নির্ভরশীল।
এবং যে ব্যক্তি কুরআনের তাফসীরের বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে চায়, সে মুকাতিল বিন সুলাইমানের ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
21- أخبرنا أبو بكر محمد بن حسن النقاش المقرئ قال: حدثنا الْحُسَيْنُ بْنُ حَزْمٍ بِهَرَاةَ قَالَ: حَدَّثَنِي الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: قُلْتُ لِلشَّافِعِيِّ: مَتَى يَكُونُ الرَّجُلُ عَالِمًا؟ فَقَالَ لِي:
يَكُونُ الرَّجُلُ عَالِمًا إذا هو حقق في تَعْلَّمَهُ، وَتَعَرَّضَ لِسَائِرِ الْعُلُومِ فَنَظَرَ فِيهَا، فَإِنَّهُ حكي لي عن جالنيوس أَنَّهُ قِيلَ لَهُ: إِنَّكَ تَأْمُرُ لِلدَّاءِ الْوَاحِدِ بِالأَدْوِيَةِ الْكَثِيرَةِ الْمُجْتَمِعَةِ، أَفَكُلُّ الأَدْوِيَةِ دواءٌ لِذَلِكَ الدَّاءِ؟ قَالَ: لا، إِنَّمَا الْمَقْصُودُ مِنْهُ واحدٌ، وَإِنَّمَا يُجْعَلُ مَعَهُ غَيْرُهُ لِتَسْكُنَ حِدَّتُهُ، لأَنَّ الإفراد قاتل.
২১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন হাসান আন-নাক্কাশ আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন হাযম হিরাতে, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আর-রাবী বিন সুলাইমান, তিনি বলেন: আমি শাফিঈকে বললাম: একজন ব্যক্তি কখন আলিম বা প্রকৃত বিদ্বান হন? তিনি আমাকে বললেন:
একজন মানুষ তখনই আলিম হন যখন তিনি তার শিক্ষায় বুৎপত্তি অর্জন করেন এবং অন্যান্য সকল শাস্ত্রের সান্নিধ্যে এসে সেগুলোতে গভীর দৃষ্টিপাত করেন। কেননা জালিনুস সম্পর্কে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তাকে বলা হয়েছিল: আপনি একটি রোগের জন্য অনেকগুলো ওষুধের সমন্বিত ব্যবহারের নির্দেশ দেন, তবে কি এই সকল ওষুধই ঐ রোগের প্রতিষেধক? তিনি বললেন: না, বরং এর মূল উদ্দেশ্য একটিই, আর অন্যগুলো এর সাথে যুক্ত করা হয় যাতে সেটির তীব্রতা প্রশমিত হয়, কেননা একক ওষুধ প্রাণঘাতী হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
22- حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الْمُزَكِّي قال: حدثنا ابن خزيمة قال: حدثنا إِبْرَاهِيمَ الْمُزَنِيُّ قَالَ: كَانَ الشَّافِعِيُّ يَقُولُ:
مَنْ طلب الرياسة فِي غَيْرِ حِينِهَا، لَمْ يَزَلْ فِي ذُلِّ ما بقى.
২২- আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুজাক্কি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবন খুজাইমাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম আল-মুজানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ বলতেন:
যে ব্যক্তি অসময়ে নেতৃত্ব অন্বেষণ করে, সে তার অবশিষ্ট জীবন লাঞ্ছনার মধ্যেই অতিবাহিত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
23- حدثنا إبراهيم بن محمد بن يحيى بن المزكي قال: حدثنا ابن خزيمة الفقيه قال: حدثنا الْمُزَنِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ:
مَنِ اقْتَصَرَ عَلَى عِلْمِهِ، لَمْ يَشْعُرْ بِكَثْرَةِ الْعِلْمِ.
২৩- আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আল-মুযাক্কি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ফকিহ ইবনে খুজাইমা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মুযানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি:
যে ব্যক্তি নিজের অর্জিত জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সে জ্ঞানের প্রাচুর্য উপলব্ধি করতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
24- حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى الْمُزَكِّي قال: حدثنا ابن خزيمة قال: حدثنا الْمُزَنِيُّ قَالَ: خَرَجَ الشَّافِعِيُّ ذَاتَ يومٍ؛ فَقَالَ لَنَا:
لَيْسَ بعِلْمٍ مَا يَعِي الْقِمَطْرُ، لا خَيْرَ فِي علمٍ لا يَعِيهِ الصَّدْرُ. ثُمّ قَالَ لَنَا: الْعِلْمُ مَا دَخَلَ مَعَ صَاحِبِهِ الحمام.
২৪- আমাদের নিকট ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুযাক্কি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে খুযাইমাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মুযানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন ইমাম শাফিঈ বের হলেন; অতঃপর তিনি আমাদের বললেন:
যা কিতাব রাখার আধার বা সিন্দুক সংরক্ষণ করে তা প্রকৃত জ্ঞান নয়, আর সেই জ্ঞানে কোনো কল্যাণ নেই যা অন্তর ধারণ করে না। অতঃপর তিনি আমাদের বললেন: প্রকৃত জ্ঞান হলো তা-ই, যা তার অধিকারীর সাথে গোসলখানায়ও প্রবেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
25- حدثنا النقاش قال: حدثنا محمد بن طريف بهراة قال: أخبرنا الربيع بن سليمان قال: حدثنا الشافعي عمن سَمِعَ قَتَادَةَ يَقُولُ:
إِنَّهُ لا يَزَالُ الرَّجُلُ عَاقِلا مَا دَامَ يَطْلُبُ الْعِلْمَ، فَإِذَا رَأَى أنه قد قَدِ اكْتَفَى فَهُوَ جاهلٌ، وَذَلِكَ أَنَّهُ لَوِ اكْتَفَى أحدٌ مِنَ الْعِلْمِ لاكْتَفَى مُوسَى كَلِيمُ اللَّهِ، إِذْ يَقُولُ: {هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تعلمن مما علمت رشداً} ،
⦗ص: 139⦘ وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رسول الله أسوةٌ حسنةٌ} ، وروت عنه عائشة أنه قال: لا بُورِكَ لِي فِي طُلُوعِ شَمْسِ يومٍ لا أَزْدَادُ فِيهِ عِلْمًا.
২৫- আন-নাক্কাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে তরীফ হিরাতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আর-রবী ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আশ-শাফিয়ী এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি কাতাদাহকে বলতে শুনেছেন:
নিশ্চয়ই মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত বুদ্ধিমান থাকে যতক্ষণ সে ইলম অন্বেষণ করে। কিন্তু যখন সে মনে করে যে সে যথেষ্ট অর্জন করে ফেলেছে, তখন সে অজ্ঞ হয়ে যায়। আর এটি এই কারণে যে, যদি কারো পক্ষে ইলম অর্জনে তুষ্ট হয়ে ক্ষান্ত হওয়া সম্ভব হতো, তবে আল্লাহর সাথে সরাসরি কথোপকথনকারী মূসা অবশ্যই ক্ষান্ত হতেন, যখন তিনি বলেছিলেন: {আমি কি এই শর্তে আপনার অনুসরণ করব যে, আপনাকে যে সঠিক পথের জ্ঞান দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দেবেন?},
⦗পৃষ্ঠা: ১৩৯⦘ এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ}। আর আয়েশা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আমার জন্য এমন দিনের সূর্যোদয় বরকতময় না হোক, যে দিনে আমি আমার ইলম বা জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারিনি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
26- أخبرنا ابن المزكي قال: حدثنا ابن خزيمة الفقيه قال: حدثنا الربيع قال: قال الشافعي:
من طلب الرياسة، فرت منه.
وإذا تصدر الحدث، فاته علمٌ كثيرٌ.
২৬- ইবনুল মুযাক্কী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ফকীহ ইবনু খুযাইমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আর-রাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আশ-শাফিঈ বলেছেন:
যে ব্যক্তি নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা করে, তা তার থেকে পলায়ন করে।
আর যখন কোনো অল্পবয়স্ক ব্যক্তি নেতৃত্বের আসনে বসে যায়, তখন সে অনেক ইলম থেকে বঞ্চিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদু ওয়াল আখবারু লি-ইবনি হামাকান
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
27- حدثنا النقاش قال: حدثنا أَبُو نُعَيْمٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَاضِي قَالَ: حَدَّثَنِي الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: قَالَ الشَّافِعِيُّ ذَاتَ يومٍ:
اسْتَعِينُوا عَلَى الْكَلامِ بِالصَّمْتِ، وعلى الاستنباط بالفكر.
২৭- আন-নাক্কাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুআইম আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আল-কাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আর-রাবি ইবনে সুলাইমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম শাফিঈ একদিন বলেছেন:
তোমরা কথা বলার ক্ষেত্রে নীরবতার মাধ্যমে সাহায্য গ্রহণ করো এবং (মাসয়ালা বা বিধান) উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে চিন্তার মাধ্যমে সাহায্য নাও।