(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: -)
مرويات فضائل علي بن أبي طالب في المستدرك   (أحمد الجابري)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: مرويات فضائل علي بن أبي طالب في مستدرك الحاكم - دراسة حديثية

جمعه وحققه وعلق عليه: أحمد بن إبراهيم الجابري

الناشر:، وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية، الكويت

الطبعة: الأولى، 1435 هـ - 2014 م

عدد الصفحات: 479

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 30 رمضان 1442

মুস্তাদরাক গ্রন্থে আলি ইবনে আবি তালিবের গুণাবলি সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো   (আহমদ আল-জাবিরি)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


গ্রন্থ: হাকেমের মুস্তাদরাক গ্রন্থে আলি ইবনে আবি তালিবের গুণাবলি সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো - একটি হাদিসতাত্ত্বিক গবেষণা

সংগ্রহ, সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: আহমদ বিন ইব্রাহিম আল-জাবিরি

প্রকাশক:, আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৯

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ রমজান ১৪৪২

(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ১)
إدارة الثقافة الإسلامية

وزراة الأوقاف والشؤون الإسلامية

دولة الكويت

 

بحثٌ في

مَرْويَّات فضائل عليِّ بن أبي طالبٍ رضي الله عنه

في مُستَدرَك الحاكِم

دراسة حَديثيَّة

 

جَمَعه وحقَّقه وعلَّق عليه

أحمد بن إبراهيم الجابري
ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগ

ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

কুয়েত রাষ্ট্র

 

গবেষণা বিষয়

আলি ইবনে আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুর ফযীলত বিষয়ক বর্ণনাগুলো

হাকেম-এর মুস্তাদরাক গ্রন্থে

হাদিসতাত্ত্বিক পর্যালোচনা

 

সংকলন, তাহকিক ও টীকা প্রদান করেছেন

আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-জাবেরি
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المُقدِّمة

الحمد لله وحده ذي الجلال، والصلاة والسلام على خير أنبيائه محمد وصحبه وأزواجه والآل، ومن سار على نهجهم واقتفى أثرهم واتبعهم بإحسان.

أما بعد، فإن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم هم خير هذه الأمة، وأفضل رجالها، فهم الذين وعوا السنن، وأدّوها ناصحين محسنين، حتى كمل بما نقلوه الدين، وثبتت بهم حجة الله تعالى على المسلمين، ولذلك كانوا خير الناس في هذه الأمة أجمعين. وقد شهد لهم بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الصادق الأمين؛ فقال: «خير أمتي - وفي لفظ: خير الناس -: قَرْني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم»(1). والكلام عن فضلهم طويل، قد أُفردت له كتبٌ ومصنَّفات، ورسائل ومؤلَّفات.

--------------------------------------------

(1) متفق عليه: أخرجه البخاري (كتاب الشهادات، باب لا يشهد على شهادة جور إذا أشهد، رقم 2651، وكتاب المناقب، باب فضائل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، رقم 3650، وكتاب الرقاق، باب باب ما يحذر من زهرة الدنيا والتنافس فيها، رقم 6428، وكتاب الأيمان والنذور، باب إثم من لا يفي بالنذر، رقم 6695) ومسلم (كتاب فضائل الصحابة، باب فضل الصحابة ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم، رقم 2535) عن عمران بن حصين.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, যিনি মহান মহিমার অধিকারী। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বোত্তম নবী মুহাম্মাদ, তাঁর সঙ্গী-সাথি, তাঁর সহধর্মিণীগণ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, এবং যারা তাঁদের পথ অবলম্বন করেছে, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী হয়েছে।

অতঃপর, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ এই উম্মতের শ্রেষ্ঠতম এবং এর সর্বোত্তম ব্যক্তি। তাঁরাই সুন্নাহসমূহকে যথাযথভাবে অনুধাবন করেছেন এবং তা হিতাকাঙ্ক্ষী ও নিষ্ঠাবান হিসেবে পৌঁছে দিয়েছেন, এমনকি তাঁরা যা বর্ণনা করেছেন তার মাধ্যমেই দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছে এবং তাঁদের মাধ্যমেই মুসলিমদের ওপর মহান আল্লাহর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এই কারণেই তাঁরা এই সমগ্র উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের ব্যাপারে এই সাক্ষ্য দিয়েছেন, আর তিনি তো পরম সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত; তিনি বলেছেন: «আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ - অন্য বর্ণনায়: শ্রেষ্ঠ মানুষ - হলো আমার যুগের লোকরা, এরপর যারা তাদের পরবর্তী, এরপর যারা তাদের পরবর্তী»(১)। তাঁদের মর্যাদার ব্যাপারে আলোচনা দীর্ঘ, এর জন্য স্বতন্ত্র বহু কিতাব, সংকলন, পুস্তিকা ও রচনা প্রস্তুত করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি: বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (সাক্ষ্য অধ্যায়, মিথ্যা সাক্ষ্যের ওপর সাক্ষ্য না দেওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদীস নং ২৬৫১; এবং মর্যাদা অধ্যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের মর্যাদা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদীস নং ৩৬৫০; এবং রিকাক অধ্যায়, দুনিয়ার চাকচিক্য ও এর প্রতি প্রতিযোগিতার ব্যাপারে সতর্কতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদীস নং ৬৪২৮; এবং শপথ ও মানত অধ্যায়, মানত পূর্ণ না করার গুনাহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদীস নং ৬৬৯৫) এবং মুসলিম (সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়, সাহাবীদের মর্যাদা এবং তাদের পরবর্তী ও তাদের পরবর্তীদের মর্যাদা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদীস নং ২৫৩৫) ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد ثبتت عدالة جميعهم بثناء الله عز وجل عليهم، وثناء رسوله عليه الصلاة والسلام، ولا أعدل ممن ارتضاه الله لصحبة نبيه ونصرته، ولا تزكية أفضل من ذلك، ولا تعديل أكمل منه. قال الله تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ} [الفتح: 29]. فهذه صفة من بادر إلى تصديقه والإيمان به، وآزره ونصره، ولصق به وصحبه، وليس كذلك جميع من رآه، ولا جميع من آمن به، فالصحابة ليسوا جميعا في منزلة واحدة من الدين والإيمان، والفضل والتقدم، فالله قد فضَّل بعض النبيين على بعض، وكذلك سائر المسلمين، والحمد لله رب العالمين، وقال عز وجل: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [التوبة: 100].

وقد اختلف السَّلف في المراد بالسابقين الأولين المذكورين في الآية:

فقال بعضهم: هم الذين صلّوا إلى القبلتين. وقال آخرون: هم الذين بايعوا بيعة الرضوان(1).

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير الطبري (11/ 637 - 640)، والاستيعاب في معرفة الأصحاب لابن عبدالبر (1/ 2 - 8).
তাঁদের সকলের ন্যায়পরায়ণতা মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁদের প্রশংসা এবং তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) পক্ষ থেকে তাঁদের প্রশংসার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। আর আল্লাহ যাকে তাঁর নবীর সাহচর্য ও সাহায্যের জন্য পছন্দ করেছেন, তাঁর চেয়ে ন্যায়পরায়ণ আর কেউ হতে পারে না। এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো চারিত্রিক সনদ আর নেই এবং এর চেয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো ন্যায়পরায়ণতার সাক্ষ্য হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াশীল। আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবেন, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে।" [আল-ফাতহ: ২৯]। এটি তাঁদের গুণ যারা তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করতে ও তাঁর ওপর ঈমান আনতে অগ্রণী হয়েছিলেন, তাঁকে শক্তিশালী করেছেন ও সাহায্য করেছেন এবং তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে ছিলেন ও তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন। যারা তাঁকে দেখেছেন অথবা যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছেন, তাদের সকলের অবস্থা এমন নয়। কারণ সকল সাহাবী দ্বীন, ঈমান, মর্যাদা ও অগ্রগামিতার ক্ষেত্রে একই স্তরের নন। আল্লাহ যেভাবে এক নবীকে অন্য নবীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, তেমনি অন্যান্য মুসলিমদের ক্ষেত্রেও তা করেছেন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।" [আত-তাওবাহ: ১০০]।

আয়াতে বর্ণিত 'প্রথম ও অগ্রগামী' (আস-সাবিকুন আল-আউয়ালুন) বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে সালাফগণ মতভেদ করেছেন:

তাদের কেউ কেউ বলেছেন: তাঁরা হলেন সেই ব্যক্তিগণ যারা দুই কিবলার দিকেই সালাত আদায় করেছেন। অন্যরা বলেছেন: তাঁরা হলেন সেই ব্যক্তিগণ যারা বায়আতুর রিদওয়ানে (রিদওয়ানের শপথ) অংশগ্রহণ করেছিলেন।(১).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীরে তাবারী (১১/ ৬৩৭ - ৬৪০), এবং ইবনে আবদিল বার রচিত আল-ইসতিয়াব ফী মা’রিফাতিল আসহাব (১/ ২ - ৮)।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ৯)
ومما يدل على مسألة المفاضلة بين الصحابة: قول عبدالله بن عمر: «كنا في زمن النبي صلى الله عليه وسلم لا نعدل بأبي بكر أحدا، ثم عمر، ثم عثمان، ثم نترك أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، لا نفاضل بينهم»(1).

وقال الحافظُ ابنُ حَجَر - في معرض كلامه على هذا الأثر -: «وقد تقرر عند أهل السنة قاطبة تقديم بقية العشرة المبشرة على غيرهم، وتقديم أهل بدر على من لم يشهدها، وغير ذلك»(2).

فالشاهد من هذه النقولات: أنَّ الصحابة أنفسهم على درجات متفاوتة من الفضل والخير، وأعلاهم مرتبة في ذلك: الخلفاء الأربعة الراشدون المهديون: أبو بكر الصديق، وعمر بن الخطاب، وعثمان بن عفَّان، وعلي بن أبي طالب، رضي الله عنهم أجمعين.

ولا يكاد يُعرف عن أحد من هؤلاء الراشدين الأربعة اختلاف الناس فيه، بين غالٍ ومُقصِّر، ومُفْرِط ومُفَرِّط؛ كما عُرف عن أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه(3)!

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (كتاب المناقب، باب فضل أبي بكر بعد النبي صلى الله عليه وسلم، رقم 3655، وباب مناقب عثمان بن عفان، رقم 3697).

(2) فتح الباري (7/ 58).

(3) سيأتي تفصيل ذلك بإذن الله في ترجمته رضي الله عنه (ص: 40).
সাহাবীদের মাঝে মর্যাদার পার্থক্যের বিষয়ের ওপর যা প্রমাণ বহন করে তা হলো আবদুল্লাহ ইবনে উমরের উক্তি: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আবু বকরের সমকক্ষ কাউকে মনে করতাম না, তারপর উমর, তারপর উসমান। এরপর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের বিষয়টি ছেড়ে দিতাম, তাঁদের মাঝে আর কাউকে কারো ওপর প্রধান্য দিতাম না।"(১).

হাফেজ ইবনে হাজার—এই বর্ণনার ওপর আলোচনার সূত্রে—বলেছেন: "আহলুস সুন্নাহর সকলের নিকট এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত অবশিষ্ট দশজনকে অন্যদের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের তাঁদের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, ইত্যাদি।"(২).

এই উদ্ধৃতিগুলো থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো: সাহাবীগণ নিজেরাই মর্যাদা ও কল্যাণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরের অধিকারী ছিলেন। তাঁদের মাঝে মর্যাদায় সর্বোচ্চ হলেন চারজন সঠিক পথপ্রাপ্ত ও হিদায়েতপ্রাপ্ত খলিফা: আবু বকর সিদ্দিক, উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনে আফফান এবং আলী ইবনে আবি তালিব, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আর এই চারজন রাশিদুন খলিফার মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যায় না যাঁকে নিয়ে মানুষের মাঝে চরমপন্থী ও শিথিলপন্থী অথবা অতিরঞ্জনকারী ও অবহেলাকারীর মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে; যেমনটি আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে জানা যায়!(৩)!

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (মানাকিব অধ্যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আবু বকরের শ্রেষ্ঠত্ব পরিচ্ছেদ, নং ৩৬৫৫; এবং উসমান ইবনে আফফানের মর্যাদা পরিচ্ছেদ, নং ৩৬৯৭)।

(২) ফাতহুল বারি (৭/৫৮)।

(৩) ইনশাআল্লাহ তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জীবনী আলোচনায় এর বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে (পৃষ্ঠা: ৪০)।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ১০)
ويُضاف لذلك أيضا: ما ورد في شأنه وفضائله من الأحاديث الكثيرة التي لم ترد لغيره(1)، ولا يكاد يخلو كتاب من كتب الأحاديث المُسنَدة، السنن، أو الجوامع، يُخصِّص صاحبُه فيه كتابا للحديث عن المناقب؛ من إفراد باب خاص للحديث عن فضائل عليٍّ ومناقبه، وحُقَّ لهم ذلك. وأمَّا المصنَّفات في فضائل الصحابة خاصَّة: فلا تخلو من هذا الباب الهام.

ومن كتب الأحاديث، التي أفرد صاحبها في كتابه كتابا لمعرفة الصحابة ومناقبهم، وبداخله بابا

مفردا للحديث عن عليٍّ بن أبي طالب رضي الله عنه ومناقبه؛ كتاب «المُستَدرَك» لأبي عبدالله الحاكم النيسابوري.

وتظهر أهمية هذه الأحاديث التي في هذا الكتاب: حينما نعلم أن صاحبه إمام من أئمة الحديث(2)، كما أنه ألَّف كتابه هذا ليستدرك على الشيخين - البخاري ومسلم - ما فاتهما من الأحاديث الصحيحة، وعلى ذلك: فوجود هذه الأحاديث في كتابه مظنَّة الصحة، لكنَّ الأمر في حقيقته ليس كظاهره!

--------------------------------------------

(1) انظر الكلام عن هذه العبارة وصحتها ومعناها (ص: 37) من هذا البحث.

(2) انظر ثناء العلماء على الحاكم، وشهادتهم له بالإمامة والعلم، في ترجمته (ص: 50) من هذا البحث.
এর সাথে আরও যুক্ত করা যায়: তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বর্ণিত এমন অসংখ্য হাদিস, যা অন্য কারো ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়নি(১)। মুসনাদ, সুনান বা জামে—হাদিসের এমন কোনো কিতাব পাওয়া দুষ্কর, যেখানে লেখক গুণাবলি (মানাকিব) আলোচনার জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন অথচ সেখানে আলী-র ফজিলত ও গুণাবলি বর্ণনার জন্য একটি বিশেষ পরিচ্ছেদ রাখা হয়নি; আর তাঁদের জন্য এটি করাই ছিল সংগত। আর বিশেষ করে সাহাবীগণের ফজিলত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এই গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদটি থেকে শূন্য নয়।

হাদিসের গ্রন্থসমূহের মধ্যে—যার লেখক তাঁর কিতাবে সাহাবীগণের পরিচিতি ও তাঁদের গুণাবলি আলোচনার জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় এবং তার অভ্যন্তরে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর গুণাবলি বর্ণনার জন্য একটি পৃথক পরিচ্ছেদ রেখেছেন—তা হলো আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরীর ‘আল-মুস্তাদরাক’ কিতাবটি।

এই কিতাবে বিদ্যমান হাদিসগুলোর গুরুত্ব তখনই স্পষ্ট হয়, যখন আমরা জানতে পারি যে এর লেখক হাদিসশাস্ত্রের ইমামগণের মধ্যে একজন অন্যতম ইমাম(২)। তদুপরি, তিনি তাঁর এই কিতাবটি সংকলন করেছেন শাইখাইন—বুখারি ও মুসলিম—কর্তৃক বাদ পড়া সহিহ হাদিসগুলোর পরিপূরক হিসেবে; আর সেই সুবাদে তাঁর কিতাবে এই হাদিসগুলোর উপস্থিতি সহিহ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়, তবে বিষয়টির হাকিকত বা বাস্তবতা তার বাহ্যিক রূপের মতো নয়!

--------------------------------------------

(১) এই গবেষণার (৩৭ নং পৃষ্ঠা) এই উক্তিটি এবং এর বিশুদ্ধতা ও অর্থ সম্পর্কে আলোচনা দেখুন।

(২) এই গবেষণার (৫০ নং পৃষ্ঠা) আল-হাকিমের জীবনীতে তাঁর ইলম ও ইমামত সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা ও সাক্ষ্য দেখুন।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ১১)
فقد انتُقِد الحاكم كثيرا بسبب هذا الكتاب، ورُمِي بالتساهل في تصحيح أحاديثه، بل نُسب إلى الانحراف عن منهج أهل السنة والجماعة، واتهامه بالرفض، بسبب بعض الأحاديث التي أوردها في مناقب عليٍّ رضي الله عنه، حتى قال الذهبي: «ليته لم يُصنِّف المُستَدرَك، فإنه غض من فضائله بسوء تصرفه»(1).

لهذه الأسباب التي تقدَّمت جميعها، وغيرها؛ عزمتُ على استخراج أحاديث مناقب عليٍّ رضي الله عنه من المُستَدرَك، وتحقيقها، لتبيين صحة حكم الحاكم عليها من خطئه، وتبيين من وافقه ومن خالفه، حتى يكون في ذلك إنصافٌ للحاكم نفسه من جهة، بتبيين أنه في بعض التصحيحات لم ينفرد، بل وافقه بعض من سبقه من الأئمة، فلا لوم عليه في ذلك، ومن جهة أخرى: نذبُّ عن سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، بتبيين ما وَهِم فيه الحاكم رحمه الله من مخالفة للأئمة في تصحيح ما ليس بصحيح، مُتحريا في ذلك الإنصاف - قدر المُستطاع -، فهو عزيز، كما قال الذهبي(2)، والله المستعان.

--------------------------------------------

(1) تذكرة الحفاظ (3/ 166).

(2) انظر: سير أعلام النبلاء (13/ 120).
এই কিতাবটির কারণে আল-হাকিম অনেক সমালোচিত হয়েছেন এবং তাঁর হাদিস সহিহ করার ক্ষেত্রে শিথিলতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফজিলত বর্ণনায় তাঁর উল্লিখিত কিছু হাদিসের কারণে তাঁকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ থেকে বিচ্যুত হওয়ার এবং রাফযী মতাদর্শের অপবাদও দেওয়া হয়েছে। এমনকি আয-যাহাবী বলেছেন: «হায়, তিনি যদি 'আল-মুস্তাদরাক' সংকলন না করতেন! কেননা তিনি তাঁর ত্রুটিপূর্ণ কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে নিজের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ণ করেছেন»(১).

পূর্বোক্ত সকল কারণ এবং অন্যান্য কারণে; আমি 'আল-মুস্তাদরাক' থেকে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফজিলত সংক্রান্ত হাদিসগুলো চয়ন করার এবং সেগুলোর তাহকীক করার সংকল্প করেছি, যাতে সেগুলোর ওপর আল-হাকিমের হুকুমের সঠিকতা ও ভুল স্পষ্ট করা যায়, এবং কারা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন আর কারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন তা প্রকাশ পায়। এর ফলে একদিকে যেমন স্বয়ং আল-হাকিমের প্রতি ইনসাফ করা হবে—এটি স্পষ্ট করার মাধ্যমে যে, কিছু হাদিস সহিহ করার ক্ষেত্রে তিনি একক নন, বরং তাঁর পূর্বসূরি আইম্মাহগণের কেউ কেউ তাঁর সাথে একমত হয়েছেন, ফলে এ ক্ষেত্রে তাঁর ওপর কোনো তিরস্কার নেই। অন্যদিকে: আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করব—যে বিষয়গুলোতে আল-হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) সহিহ নয় এমন হাদিসকে সহিহ বলার ক্ষেত্রে আইম্মাহগণের বিরোধিতা করে ভ্রমে পতিত হয়েছেন সেগুলো স্পষ্ট করার মাধ্যমে। আমি এতে যথাসম্ভব ইনসাফ বজায় রাখার চেষ্টা করেছি—আর ইনসাফ অত্যন্ত দুষ্কর বিষয়, যেমনটি আয-যাহাবী বলেছেন(২), আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

--------------------------------------------

(১) তাযকিরাতুল হুফফায (৩/ ১৬৬)।

(২) দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/ ১২০)।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌عملي في هذا الكتاب:

* قُمتُ باستخراج الأحاديث المرفوعة في مناقب عليٍّ بن أبي طالب رضي الله عنه الواردة في كتاب المُستَدرَك، ولم أتقيَّد في ذلك بكتاب أو بباب مُعين من كتب وأبواب الكتاب، بل حيثما ورد الحديث في فضل عليٍّ رضي الله عنه استخرجته، ووضعته هنا.

واحترزتُ بقولي «الأحاديث المرفوعة» عن الآثار الموقوفة والمقطوعة، الواردة في المُستَدرَك في فضائله، فهي ليست من موضوع هذا البحث.

* قُمتُ بترتيب هذه الأحاديث على مسانيد الصحابة، ثم رتبتُ هذه المسانيد تبعا لحروف الهجاء.

* وضعت ترقيما تسلسليا لهذه الأحاديث بين قوسين ()، تبعا لموطن ورودها في هذا البحث، يعقب ذلك الترقيم: رقم الحديث وفق ما جاء في كتاب المُستَدرَك، تبعا لطبعة «دار الكتب العلمية».

* قُمتُ بالتعريف برجال الإسناد المذكورين بكناهم، ليستطيع القارئُ الوقوف على أسمائهم.
এই গ্রন্থে আমার সম্পাদিত কর্ম:

* আমি ‘আল-মুসতাদরাক’ গ্রন্থে বর্ণিত আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদা বিষয়ক মারফু হাদিসসমূহ সংকলন করেছি। এক্ষেত্রে আমি উক্ত কিতাবের নির্দিষ্ট কোনো অধ্যায় বা পরিচ্ছেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিনি; বরং যেখানেই আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফজিলত সংক্রান্ত হাদিস বর্ণিত হয়েছে, আমি তা উদ্ধার করেছি এবং এখানে সন্নিবেশিত করেছি।

‘মারফু হাদিসসমূহ’ বলার মাধ্যমে আমি ‘আল-মুসতাদরাক’-এ তাঁর ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত মাওকুফ ও মাকতু আছারসমূহকে বাদ দিয়েছি, কারণ সেগুলো এই গবেষণার বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত নয়।

* আমি এই হাদিসগুলোকে সাহাবীদের মুসনাদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি, অতঃপর এই মুসনাদগুলোকে বর্ণানুক্রমিক সাজিয়েছি।

* আমি এই গবেষণায় হাদিসগুলোর অবস্থানের ভিত্তিতে বন্ধনীতে () একটি ধারাবাহিক নম্বর প্রদান করেছি। সেই নম্বরের পর ‘দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ’ সংস্করণ অনুযায়ী ‘আল-মুসতাদরাক’ কিতাবের হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি।

* সনদে যে সকল বর্ণনাকারীর নাম তাদের কুনিয়াত (উপনাম) দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আমি তাদের পরিচয় প্রদান করেছি যেন পাঠক তাদের মূল নাম সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ১৩)
* لم أقم بالترجمة لرجال الإسناد كلهم، إلا من كانت مرتبته دون الثقات، عندها أذكر درجته، لأنها مؤثرة في الحكم على الحديث، ومن لم أُترجم له: فهو ثقة - إن شاء الله -.

* من كانت مرتبته من هؤلاء الرواة دون الثقات، فهم على قسمين:

أ- قسم ذكره الحافظ ابن حجر في «تقريب التهذيب»، وهؤلاء أيضا على قسمين: قسم وافقته في حكمه عليهم؛ فأكتفي عندها بذكر حكمه. وقسم لم أوافقه في الحكم عليهم؛ فعندها لا أذكر حكمه، بل أذكر الراجح عندي، مؤيدا ذلك الحكم بأقوال أئمة الجرح والتعديل المتقدِّمين.

ب- وقسم لم يذكره الحافظ ابن حجر في كتابه «التقريب»، فهؤلاء أذكر الحكم عليهم من خلال أقوال أئمة الجرح والتعديل، مشيرا إلى مصادر تراجمهم.

* قُمتُ بتخريج الأحاديث المستخرجة بتوسع قدر المستطاع، من خلال المصادر المطبوعة، مراعيا في التخريج المتابعات لرجال إسناد الحاكم، وكذلك مراعيا الترتيب الزمني لوفيات أصحاب الكتب، مقدما الأقدم وفاة على الأحدث. مع تصدير ذلك بالحكم الراجح - عندي - على الحديث.
আমি সনদের সকল বর্ণনাকারীর জীবনী উল্লেখ করিনি, কেবল তাদের ছাড়া যাদের মর্যাদা নির্ভরযোগ্যদের নিচে; সেক্ষেত্রে আমি তাদের মান উল্লেখ করেছি, কারণ তা হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। আর যাদের জীবনী আমি উল্লেখ করিনি, ইনশাআল্লাহ তারা নির্ভরযোগ্য।

এই বর্ণনাকারীদের মধ্যে যাদের মর্যাদা নির্ভরযোগ্যদের নিচে, তারা দুই প্রকার:

ক- এক প্রকার যাদের হাফেজ ইবনে হাজার ‘তাকরিবুত তাহজিব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এরাও আবার দুই ভাগে বিভক্ত: এক ভাগের ক্ষেত্রে আমি তাদের ওপর তাঁর প্রদত্ত হুকুমের সাথে একমত হয়েছি; তাই সেক্ষেত্রে আমি কেবল তাঁর হুকুমটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি। আর অন্য ভাগের ক্ষেত্রে আমি তাদের ওপর তাঁর প্রদত্ত হুকুমের সাথে একমত হতে পারিনি; সেক্ষেত্রে আমি তাঁর হুকুমটি উল্লেখ না করে বরং আমার নিকট যা অগ্রগণ্য তা উল্লেখ করেছি এবং পূর্ববর্তী জারাহ ও তাদিল ইমামগণের বক্তব্যের মাধ্যমে সেই হুকুমকে জোরালো করেছি।

খ- এবং অন্য এক প্রকার যাদের হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর ‘তাকরিব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেননি। আমি তাঁদের সম্পর্কে জারাহ ও তাদিল ইমামগণের বক্তব্যের আলোকে হুকুম বর্ণনা করেছি এবং তাঁদের জীবনীর উৎসগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছি।

আমি মুদ্রিত উৎসগুলোর মাধ্যমে যথাসম্ভব বিস্তারিতভাবে মুস্তাখরাজ হাদিসগুলোর তাখরিজ সম্পন্ন করেছি। তাখরিজের ক্ষেত্রে আমি হাকিমের সনদের বর্ণনাকারীদের মুতাবা'আত (সমর্থনকারী বর্ণনা) সমূহের প্রতি লক্ষ রেখেছি এবং কিতাবসমূহের রচয়িতাদের মৃত্যুর কালানুক্রমিক বিন্যাসও বজায় রেখেছি, যেখানে পূর্ববর্তী ইন্তেকালকারীকে পরবর্তী ইন্তেকালকারীর আগে স্থান দিয়েছি। এর সাথে হাদিসটির ওপর আমার নিকট যেটি অগ্রগণ্য হুকুম, তা শুরুতে বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ১৪)
* إذا كان الحديث موجودا في مصدر من المصادر المذكورة في التخريج، كمصنِّف ابن أبي شيبة - مثلا - ورواه من طريقه صاحب كتاب آخر، كابن أبي عاصم في السنة - مثلا -؛ فإنني لا أذكر المصدر الفرعي، الذي روى الحديث من طريق صاحب المصدر الأصلي المذكور، إلا في حالة من اثنتين:

الأولى: أن يكون صاحب المصدر الفرعي قد اشترط لكتابه الصحة - كابن حبان وابن خزيمة في صحيحيهما، على سبيل المثال -، أو يكون قد خصص كتابه للأحايث الضعيفة والموضوعة - كالموضوعات لابن الجوزي، على سبيل المثال -؛ لأن ذكره هنا يفيد في ترجيح الحكم على الحديث،

صحة أو ضعفا.

الثانية: أن تكون المصادر التي وقفتُ عليها عند تخريج الحديث شحيحة قليلة، فعندها أذكر المصادر الفرعية، لتبيين من أخرج الحديث، وإن كان من طريق صاحب المصدر الأصلي.

* قُمتُ بشرح غريب الحديث، وتبيين معاني الألفاظ الغامضة، من خلال كتب غريب الحديث، وكتب الشروح.

* قُمتُ بالتعليق على الأحاديث التي فيها بعض العبارات المُشكَلَة، أو التي أُسيء فهمها، واستُدلَّ بها في غير موطنها، مُبيِّنا الصواب في ذلك، من خلال نصوص العلماء وأقوالهم.
* যদি হাদীসটি তাখরীজে উল্লিখিত কোনো মূল উৎসগ্রন্থে বিদ্যমান থাকে—যেমন উদাহরণস্বরূপ ইবনে আবী শায়বার ‘আল-মুসান্নাফ’—এবং অন্য কোনো গ্রন্থকার তার সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেন—যেমন উদাহরণস্বরূপ ইবনে আবী আসিম তার ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে—তবে আমি সেই গৌণ উৎসগ্রন্থটি উল্লেখ করি না যা মূল গ্রন্থের লেখকের সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছে, কেবল দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত:

প্রথমত: গৌণ উৎসগ্রন্থের লেখক যদি তার গ্রন্থের জন্য বিশুদ্ধতার (সহীহ হওয়ার) শর্তারোপ করে থাকেন—যেমন উদাহরণস্বরূপ ইবনে হিব্বান ও ইবনে খুযায়মাহ তাদের নিজ নিজ ‘সহীহ’ গ্রন্থে করেছেন—অথবা যদি তিনি তার গ্রন্থটিকে দুর্বল ও জাল হাদীসের জন্য নির্দিষ্ট করে থাকেন—যেমন উদাহরণস্বরূপ ইবনে আল-জাওযীর ‘আল-মাওযূআত’—কারণ এক্ষেত্রে গ্রন্থটির উল্লেখ হাদীসের হুকুম,

বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা নির্ধারণে সহায়ক হয়।

দ্বিতীয়ত: হাদীস তাখরীজ করার সময় আমি যে উৎসগুলো পেয়েছি তা যদি সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য হয়, তবে সেক্ষেত্রে হাদীসটি কে কে বর্ণনা করেছেন তা স্পষ্ট করার জন্য আমি গৌণ উৎসগুলো উল্লেখ করি, যদিও তা মূল গ্রন্থকারের সূত্রেই বর্ণিত হয়ে থাকে।

* আমি ‘গারীবুল হাদীস’ (হাদীসের অপ্রচলিত ও কঠিন শব্দসমূহ) ব্যাখ্যা করেছি এবং ‘গারীবুল হাদীস’ বিষয়ক গ্রন্থাবলী ও ব্যাখ্যাগ্রন্থের মাধ্যমে অস্পষ্ট শব্দগুলোর অর্থ স্পষ্ট করেছি।

* আমি এমন সব হাদীসের ওপর টীকা প্রদান করেছি যেগুলোতে কিছু জটিল বাক্য রয়েছে, অথবা যেগুলোকে ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং অপ্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে দলীল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; এক্ষেত্রে আমি আলিমদের বর্ণনা ও বক্তব্যের আলোকে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ১৫)
* ذيَّلتُ هذا البحث بفهرس لأطراف الأحاديث، مُرتَّبا على حروف الهجاء، ثم الفهرس العام للموضوعات، وبين الفهارس وأحاديث الكتاب؛ وضعتُ: جريدة المصادر والمراجع.

* قدَّمتُ لأحاديث الكتاب، والتي تقع في الباب الثاني منه؛ بباب تمهيدي، قسمته على فصلين:

o الفصل الأول: وهو خاص بأمير المؤمنين علي بن أبي طالب، وينقسم لمبحثين:

 

• المبحث الأول: ترجمة موجزة لأمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه، وتشمل الحديث عن:

 

• اسمه ونسبه.

 

• كنيته.

 

• مولده.

 

• صفته.

 

• إسلامه.

 

• أزواجه وأولاده.

 

• جهاده ونشره للدين.

 

• علاقته بالخلفاء الراشدين، ومكانته في أيامهم وخلافتهم.

 

• خلافته، ومبايعة الصحابة له.
* আমি এই গবেষণার শেষে বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে হাদীসের প্রথমাংশের (আত্বরাফ) একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, এরপর বিষয়ভিত্তিক সাধারণ নির্ঘণ্ট প্রদান করেছি। আর নির্ঘণ্টসমূহ ও গ্রন্থের হাদীসগুলোর মাঝে আমি উৎস ও তথ্যসূত্র সমূহের একটি তালিকা স্থাপন করেছি।

* আমি গ্রন্থের হাদীসগুলোর জন্য—যা এর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে অবস্থিত—একটি ভূমিকা মূলক অধ্যায় পেশ করেছি, যা আমি দুই পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

o প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবী তালিবের জন্য বিশেষিত এবং এটি দুই অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

 

• প্রথম অনুচ্ছেদ: আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করে:

 

• তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

 

• তাঁর উপনাম।

 

• তাঁর জন্ম।

 

• তাঁর দৈহিক বৈশিষ্ট্য।

 

• তাঁর ইসলাম গ্রহণ।

 

• তাঁর স্ত্রী ও সন্তানাদি।

 

• তাঁর জিহাদ এবং দ্বীন প্রচার।

 

• খুলাফায়ে রাশেদীনের সাথে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁদের শাসনামলে ও খিলাফতে তাঁর অবস্থান।

 

• তাঁর খিলাফত এবং সাহাবায়ে কিরাম কর্তৃক তাঁর নিকট বাইআত গ্রহণ।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ১৬)
• تلخيص لما حدث في معركة الجمل.

 

• تلخيص لما حدث في معركة صفين.

 

• تلخيص لما حدث في معركة النهروان.

 

• مقتله.

 

• مناقبه.

 

• المبحث الثاني: اختلاف الفرق فيه، وموقف أهل السنة منه.

o الفصل الثاني: وهو مختص بالحاكم وكتابه «المُستَدرَك»، وينقسم أيضا لمبحثين:

 

• المبحث الأول: ترجمة الحاكم رحمه الله، وتشمل الحديث عن:

 

• اسمه وكنيته.

 

• شهرته.

 

• لقبه.

 

• مولده.

 

• طلبه للعلم، وجهوده في حفظ السنة.

 

• وفاته.

 

• ما أُخِذ عليه.
• উটের যুদ্ধের ঘটনার সারসংক্ষেপ।

 

• সিফফীনের যুদ্ধের ঘটনার সারসংক্ষেপ।

 

• নাহরাওয়ানের যুদ্ধের ঘটনার সারসংক্ষেপ।

 

• তাঁর শাহাদাত।

 

• তাঁর গুণাবলি।

 

• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন ফিরকার মতভেদ এবং তাঁর ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের অবস্থান।

o দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি আল-হাকিম এবং তাঁর গ্রন্থ ‘আল-মুস্তাদরাক’ সংক্রান্ত, এবং এটিও দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

 

• প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম আল-হাকিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

 

• তাঁর নাম ও উপনাম।

 

• তাঁর প্রসিদ্ধি।

 

• তাঁর উপাধি।

 

• তাঁর জন্ম।

 

• তাঁর জ্ঞানার্জন এবং সুন্নাহ সংরক্ষণে তাঁর প্রচেষ্টা।

 

• তাঁর মৃত্যু।

 

• তাঁর যেসব বিষয়ের সমালোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ১৭)
• المبحث الثاني: التعريف بكتاب «المُستَدرَك»، ويشمل الحديث عن:

 

• سبب التأليف.

 

• موضوع الكتاب.

 

• المنهج الذي سار عليه الحاكم في «المُستَدرَك».

 

• أقسام أحاديث «المُستَدرَك».

 

• ما أُلِّف حول «المُستَدرَك».

وبعد هذا: فإني لا أنُزِّه هذا العمل عن الخطأ أو التقصير، فهو لا يعدو جهدا بشريا، يصدق فيه وفي غيره قول الله عز وجل: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} [النساء: 82]. وقد أبى الله أن يجعل العصمة لكتاب: إلا لكتابه.

لكن حسبي أني اجتهدت، وأوضحت في أول كلامي عمَّا قصدتُ وأردت، فإن أصبت: فذاك فضل من الله، أحمده عليه، وإن أخطأتُ أو قصرت: فهو من نفسي ومن الشيطان، فأستغفر الله منه.

وخِتاماً: فإني أسأل الله جل وعلا بأسمائه الحسنى وصفاته العلى، أن ينفع بهذا الكتاب صاحبه، وناشره، وقارئه، وأن يجعله باب خير وبركة
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থের পরিচয়, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

 

• রচনার কারণ।

 

• গ্রন্থের বিষয়বস্তু।

 

• ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে ইমাম হাকিম যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।

 

• ‘আল-মুস্তাদরাক’-এর হাদিসসমূহের প্রকারভেদ।

 

• ‘আল-মুস্তাদরাক’ কেন্দ্রিক অন্যান্য রচনা।

এরপর: আমি এই কাজটিকে ভুল বা ত্রুটি থেকে মুক্ত বলে দাবি করি না; কেননা এটি মানুষের প্রচেষ্টার ঊর্ধ্বে নয়। এই কাজ এবং অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর এই বাণীটি সত্য: “আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অবশ্যই অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত” [নিসা: ৮২]। আল্লাহ কেবল তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তবে আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে আমি পরিশ্রম করেছি এবং আমার বক্তব্যের শুরুতে আমি কী উদ্দেশ্য করেছি ও কী চেয়েছি তা স্পষ্ট করেছি। যদি আমি সঠিক করে থাকি, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ, যার জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করি। আর যদি আমি ভুল বা ত্রুটি করে থাকি, তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, তাই আমি এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

পরিশেষে: আমি মহান আল্লাহর কাছে তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় প্রার্থনা করছি, তিনি যেন এই কিতাবের মাধ্যমে এর লেখক, প্রকাশক ও পাঠককে উপকৃত করেন এবং এটিকে কল্যাণ ও বরকতের একটি দ্বার বানিয়ে দেন।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ১৮)
عليَّ - في الحياة والممات - وعلى سائر المسلمين، وأن يرزقنا الصدق والإخلاص في القول والعمل، والسر والعلن. اللهم آمين.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلِّ اللهم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه وأزواجه، وسلِّم تسليما كثيرا إلى يوم الدين.

 

وكتبه:

أحمد بن إبراهيم الجابريّ

E-Mail:

Islamtime@Hotmail.Com.
আমার ওপর—জীবনে ও মরণে—এবং সকল মুসলিমের ওপর; আর তিনি যেন আমাদের কথা ও কাজে, গোপনে ও প্রকাশ্যে সত্যবাদিতা ও একনিষ্ঠতা দান করেন। হে আল্লাহ! আপনি কবুল করুন।

আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও সহধর্মিনীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত প্রচুর শান্তি অবতীর্ণ করুন।

 

এটি লিখেছেন:

আহমাদ বিন ইব্রাহিম আল-জাবিরি

ই-মেইল:

Islamtime@Hotmail.Com.
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الباب الأول: تمهيد البحث، ويشتمل على فصلين

الفصل الأول: وهو خاص بأمير المؤمنين علي بن أبي طالب.

الفصل الأول: وهو خاص بالحاكم، وكتابه المستدرك.
প্রথম অধ্যায়: গবেষণার ভূমিকা, এবং এটি দুইটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবী তালিবের জন্য নির্দিষ্ট।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি আল-হাকেম এবং তাঁর গ্রন্থ আল-মুস্তাদরাকের জন্য নির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الفصل الأول، ويشتمل على مبحثين

المبحث الأول: ترجمة أمير المؤمنين علي بن أبي طالب.

المبحث الثاني: اختلاف الفِرَقِ في أمير المؤمنين علي بن أبي طالب، وموقف أهل السنة منه.
প্রথম অধ্যায়, যা দুটি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে

প্রথম পরিচ্ছেদ: আমিরুল মুমিনীন আলী বিন আবি তালিব-এর জীবনী।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আমিরুল মুমিনীন আলী বিন আবি তালিব-এর বিষয়ে বিভিন্ন দলের মতভেদ এবং তাঁর প্রতি আহলে সুন্নাতের অবস্থান।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الأول: تَرْجمةُ أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه(1)

 

•‌‌ اسمُهُ ونَسَبُه:

هو علي بن أبي طالب(2) بن عبدالمطلب(3) بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان.

فهو ابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويلتقي معه في جده الأول عبد المطلب بن هاشم، ووالده أبو طالب شقيق عبدالله والد النبي صلى الله عليه وسلم.

وأُمُّه هي: فاطمة بنت أسد بن هاشم بن عبد مناف، رضي الله عنها، أول هاشمية ولدت هاشميا، وقد أسلمت وهاجرت، وهي التي

--------------------------------------------

(1) مصادر الترجمة: الطبقات الكبرى لابن سعد (2/ 337 - 340)، تاريخ الطبري (4/ 427 - 576، 5/ 1 - 157)، السيرة النبوية وأخبار الخلفاء لابن حبان (2/ 521 - 552)، الاستيعاب لابن عبدالبر (3/ 1089 - 1133)، صفة الصفوة لابن الجوزي (1/ 115 - 125)، أسد الغابة في معرفة الصحابة لابن الأثير (4/ 87 - 117)، الرياض النضرة في مناقب العشرة لمحب الدين الطبري (3/ 104 - 241)، تهذيب الأسماء واللغات للنووي (1/ 344 - 349)، تاريخ الإسلام للذهبي (3/ 621 - 652)، البداية والنهاية لابن كثير (10/ 411 - 686، 11/ 1 - 130)، الإصابة في تمييز الصحابة لابن حجر (7/ 275 - 282)، تاريخ الخلفاء للسيوطي (ص: 130 - 146)، أسمى المطالب في سيرة أمير المؤمنين علي بن أبي طالب للصلَّابي، وغير ذلك من المصادر.

(2) قال ابن عبدالبر في الاستيعاب (3/ 1089): واسم أَبِي طالب: عبد مناف، وقيل: اسمه كنيته. والأول أصح. ا. هـ

(3) قال ابن عبدالبر في الاستيعاب (3/ 1089): وكان يُقال لعبدالمطلب: شيبة الحمد. ا. هـ
প্রথম পরিচ্ছেদ: আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনী(১)

 

•‌‌ তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আলী ইবনে আবি তালিব(২) ইবনে আব্দুল মুত্তালিব(৩) ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে লুআই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানা ইবনে খুযাইমা ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান।

তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচাতো ভাই এবং তাঁর সাথে তাঁর প্রথম দাদা আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমের মাধ্যমে মিলিত হয়েছেন। তাঁর পিতা আবু তালিব ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিতা আব্দুল্লাহর আপন ভাই।

আর তাঁর মা হলেন: ফাতিমা বিনতে আসাদ ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)। তিনি ছিলেন প্রথম হাশেমী নারী যিনি একজন হাশেমী সন্তান প্রসব করেছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং হিজরত করেছিলেন, এবং তিনিই সেই নারী যিনি

--------------------------------------------

(১) জীবনীর উৎসসমূহ: ইবনে সা'দের আল-তাবাকাতুল কুবরা (২/ ৩৩৭ - ৩৪০), তারিখুত তাবারী (৪/ ৪২৭ - ৫৭৬, ৫/ ১ - ১৫৭), ইবনে হিব্বানের আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া আখবারুল খুলাফা (২/ ৫২১ - ৫৫২), ইবনে আব্দুল বার-এর আল-ইসতিআব (৩/ ১০৮৯ - ১১৩৩), ইবনে জাওযীর সিফাতুস সাফওয়া (১/ ১১৫ - ১২৫), ইবনে আসীরের উসদুল গাবাহ ফি মা'রিফাতিস সাহাবাহ (৪/ ৮৭ - ১১৭), মুহিব্বুদ্দীন তাবারীর আর-রিয়াদুন্নাদরাহ ফি মানাকিবিল আশারা (৩/ ১০৪ - ২৪১), ইমাম নববীর তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত (১/ ৩৪৪ - ৩৪৯), ইমাম যাহাবীর তারিখুল ইসলাম (৩/ ৬২১ - ৬৫২), ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১০/ ৪১১ - ৬৮৬, ১১/ ১ - ১৩০), ইবনে হাজারের আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ (৭/ ২৭৫ - ২৮২), সুয়ূতী-র তারিখুল খুলাফা (পৃ. ১৩০ - ১৪৬), আস-সাল্লাবীর আসমাল মাতালিব ফি সিরাতি আমীরিল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব এবং অন্যান্য উৎসসমূহ।

(২) ইবনে আব্দুল বার 'আল-ইসতিআব' গ্রন্থে (৩/ ১০৮৯) বলেন: আবু তালিবের নাম ছিল: আবদে মানাফ। কারো মতে: তাঁর উপনামই তাঁর নাম। তবে প্রথমটিই অধিক সঠিক। সমাপ্ত।

(৩) ইবনে আব্দুল বার 'আল-ইসতিআব' গ্রন্থে (৩/ ১০৮৯) বলেন: আব্দুল মুত্তালিবকে 'শাইবাতুল হামদ' বলা হতো। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ২৪)
سمَّت عليا: أَسَدَاً عند مولده، وسمته بذلك لاسم أبيها أسد بن هاشم، ويدل على ذلك ارتجازه يوم خيبر، حيث قال:

أنا الذي سمَّتني أُمِّي حَيْدَرَه(1) كَلَيْثِ غابات كَرِيهِ المَنْظَرَه(2)

وكان أبو طالب غائبًا فلما عاد، كره هذا الاسم، وسمَّاه عليًا(3).

 

•‌‌ كُنْيتُه:

له كنيتان مشهورتان: الأولى: أبو الحسن، نسبة لابنه الأكبر: الحسن بن علي، وهو ابنه من فاطمة رضي الله عنها.

والثانية: أبو تراب، وتسميته بها من قِبَل النبي صلى الله عليه وسلم، ولها قصة:

يقول سهل بن سعد: «ما كان لعليٍّ اسم أحب إليه من أبي التراب، وإن كان ليفرح إذا دُعِيَ بها»، فقيل لسهل: أخبرنا عن قصته، لم سُمِّيَ أبا تراب؟ قال: «جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم بيت فاطمة، فلم يجد

--------------------------------------------

(1) حيدره: من أسماء الأسد.

(2) هذا البيت ثابت الإسناد عن علي رضي الله عنه، وقد جاء ضمن حديث أخرجه مسلم (كتاب الجهاد والسير، باب غزوة ذي قرد وغيرها، رقم 1807) عن سلمة بن الأكوع.

(3) الرياض النضرة (3/ 107).
তিনি আলীর জন্মের সময় তাঁর নাম রেখেছিলেন আসাদ, এবং তাঁর পিতা আসাদ বিন হাশিমের নামানুসারে তিনি এই নামকরণ করেছিলেন। খায়বরের দিন তাঁর কাব্যিক উচ্চারণ এর প্রমাণ দেয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন:

আমিই সেই ব্যক্তি যার মা আমার নাম রেখেছিলেন হায়দারা(১) বনের সেই সিংহের মতো যা দেখতে অত্যন্ত ভয়ংকর(২)

আবু তালিব অনুপস্থিত ছিলেন, যখন তিনি ফিরে এলেন তখন তিনি এই নামটি অপছন্দ করলেন এবং তাঁর নাম রাখলেন আলী(৩)।

 

•‌‌ তাঁর উপনাম:

তাঁর দুটি প্রসিদ্ধ উপনাম ছিল: প্রথমটি হলো আবুল হাসান, যা তাঁর বড় ছেলে হাসান বিন আলীর সাথে সম্পর্কিত, যিনি ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর গর্ভজাত তাঁর পুত্র।

দ্বিতীয়টি হলো আবু তুরাব, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে এই উপনাম প্রদান করেছিলেন, যার একটি ঘটনা রয়েছে:

সাহল বিন সাদ বলেন: «আলীর নিকট আবু তুরাবের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো নাম ছিল না, এবং তাঁকে যখন এই নামে ডাকা হতো তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হতেন», সাহলকে বলা হলো: আমাদের এই ঘটনাটি বলুন, কেন তাঁর নাম আবু তুরাব রাখা হয়েছিল? তিনি বললেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাতেমার ঘরে আসলেন, কিন্তু তাঁকে সেখানে পেলেন না...

--------------------------------------------

(১) হায়দারা: সিংহের অন্যতম নাম।

(২) আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই পঙক্তিটির সনদ প্রমাণিত, এবং এটি ইমাম মুসলিম বর্ণিত একটি হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে এসেছে (কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার, অনুচ্ছেদ: যুল-কারাদ যুদ্ধ ও অন্যান্য, হাদিস নম্বর ১৮০৭) সালামা ইবনে আকওয়া থেকে।

(৩) আর-রিয়াদুন্নদরা (৩/ ১০৭)।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ২৫)
عليا في البيت، فقال: «أين ابن عمك؟» فقالت: كان بيني وبينه شيء، فغاضبني فخرج، فلم يَقِلْ(1) عندي، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لإنسان «انظر، أين هو؟» فجاء فقال: يا رسول الله هو في المسجد راقد، فجاءه رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مضطجع، قد سقط رداؤه عن شقه، فأصابه تراب، فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسحه عنه ويقول «قم أبا التراب، قم أبا التراب»(2).

ويُقال له أيضا: أبو السِّبْطَيْن (الحسن والحسين)(3).

 

•

‌‌مَوْلِدُه:

 

وقع خلاف بين الروايات في تحديد وقت مولده، ففي بعضها: أنه وُلِد قبل البعثة بخمس عشرة أو ست عشرة سنة(4)، وفي أخرى: أنه

--------------------------------------------

(1) من القيلولة، وهي النوم في نصف النهار.

(2) متفق عليه: أخرجه البخاري (كتاب الصلاة، باب نوم الرجال في المسجد، رقم 441، وكتاب المناقب، باب مناقب علي بن أبي طالب، رقم 3703، وكتاب الأدب، باب التكني بأبي تراب وإن كانت له كنية أخرى، رقم 6204، وكتاب الاستئذان، باب القائلة في المسجد، رقم 6280) ومسلم (كتاب فضائل الصحابة، باب من فضائل علي بن أبي طالب، رقم 2409) واللفظ لمسلم.

(3) أسد الغابة (4/ 87)، تهذيب الأسماء واللغات (1/ 344)، تاريخ الخلفاء (ص: 130).

(4) المعجم الكبير للطبراني (1/ رقم 163).
আলী ঘরে [আছেন কি না দেখতে এসে], তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার চাচাতো ভাই কোথায়?" তিনি উত্তর দিলেন: আমার ও তাঁর মধ্যে কিছু একটা ঘটেছিল, ফলে তিনি আমার ওপর রাগান্বিত হয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন এবং আমার এখানে দুপুরে বিশ্রাম(১) করেননি। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনকে বললেন: "দেখো তো, তিনি কোথায়?" সে ফিরে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, তিনি মসজিদে ঘুমাচ্ছেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে আসলেন যখন তিনি কাত হয়ে শুয়ে ছিলেন, তাঁর চাদরটি তাঁর পাশ থেকে খসে পড়েছিল এবং তাঁর শরীরে মাটি লেগেছিল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শরীর থেকে মাটি মুছতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, "ওঠো হে আবু তুরাব, ওঠো হে আবু তুরাব"(২)।

তাঁকে 'আবুস সিবতাইন' (হাসান ও হুসাইনের পিতা)-ও বলা হয়(৩)।

 

•

‌‌তাঁর জন্ম:

 

তাঁর জন্মের সময় নির্ধারণ নিয়ে বর্ণনাসমূহের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি নবুওয়াত প্রাপ্তির পনেরো বা ষোল বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন(৪), আবার অন্য বর্ণনায় এসেছে যে...

--------------------------------------------

(১) এটি 'কায়লুলাহ' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো দ্বিপ্রহরের ঘুম বা বিশ্রাম।

(২) মুত্তাফাকুন আলাইহি: ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (সালাত অধ্যায়, মসজিদে পুরুষদের ঘুমানো অনুচ্ছেদ, নম্বর ৪৪১; মানাকিব অধ্যায়, আলী ইবনে আবি তালিবের মর্যাদা অনুচ্ছেদ, নম্বর ৩৭০৩; আদব অধ্যায়, অন্য উপনাম থাকা সত্ত্বেও 'আবু তুরাব' উপনাম ব্যবহার অনুচ্ছেদ, নম্বর ৬২০৪; অনুমতি গ্রহণ অধ্যায়, মসজিদে দ্বিপ্রহরের বিশ্রাম অনুচ্ছেদ, নম্বর ৬২৮০) এবং ইমাম মুসলিম (সাহাবীগণের মর্যাদা অধ্যায়, আলী ইবনে আবি তালিবের মর্যাদা অনুচ্ছেদ, নম্বর ২৪০৯), আর শব্দবিন্যাস ইমাম মুসলিমের।

(৩) উসদুল গাবাহ (৪/ ৮৭), তাহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত (১/ ৩৪৪), তারিখুল খুলাফা (পৃষ্ঠা: ১৩০)।

(৪) তাবারানির আল-মু'জামুল কাবীর (১/ নম্বর ১৬৩)।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ২৬)
قبل البعثة بثماني سنين(1)، وفي ثالثة: أنه قبل البعثة بعشر سنين، وهذا الأخير هو ما ذكره ابن إسحاق(2)، ورجَّحه الحافظ ابن حجر(3).

وأمَّا عن مكان مولده؛ فيقول الحاكم: «إن الأخبار تواترت بأن عليًا وُلِد في جوف الكعبة»(4).

 

•‌‌ صِفَتُه:

كان عليٌّ رضي الله عنه: شيخًا سمينًا، عظيم البطن، أصلعاً، كثير الشعر، آدم(5) شديد الأدمة، ثقيل العينين عظيمهما، أقرب إلى القصر من الطول، عظيم اللحية جدًّا، قد ملأت ما بين منكبيه، أبيض الرأس واللحية، لم يصفه أحد بالخضاب إلا سوادة بن حنظلة؛ فإنه قال: «رأيت علياً أصفر اللحية»، ويشبه أن يكون قد خضب مرة ثم ترك(6).

 

•‌‌ إِسْلامُه:

يقول مجاهد بن جبر: «كان من نعمة الله على علي بن أبي طالب، ومما صنع الله له، وأراده به من الخير، أن قريشا أصابتهم أزمة شديدة، وكان

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (1/ رقم 162)، الاستيعاب (3/ 1092).

(2) السيرة النبوية لابن إسحاق (ص: 137).

(3) فتح الباري (7/ 174).

(4) المستدرك (3/ 550) هكذا ساقه بلا إسناد، وقال الفاكهي في أخبار مكة (3/ 198): وأول من وُلِد في الكعبة من بني هاشم من المهاجرين: علي بن أبي طالب رضي الله عنه. ا. هـ

(5) أي: أسمر اللون.

(6) تاريخ الطبري (5/ 153)، الاستيعاب (3/ 1111)، صفة الصفوة (1/ 116)، تاريخ الخلفاء (ص: 130).
নবুওয়াত প্রাপ্তির আট বছর পূর্বে(১), এবং তৃতীয় একটি বর্ণনায় রয়েছে: নবুওয়াত প্রাপ্তির দশ বছর পূর্বে, আর এই শেষোক্ত মতটিই ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন(২) এবং হাফেজ ইবনে হাজার একেই প্রাধান্য দিয়েছেন(৩)।

আর তাঁর জন্মস্থানের ব্যাপারে আল-হাকিম বলেন: «সংবাদসমূহ মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আলী কাবা গৃহের অভ্যন্তরে জন্মগ্রহণ করেছেন»(৪)।

 

•‌‌ তাঁর দৈহিক বৈশিষ্ট্য:

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন: একজন স্থূলকায় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, বড় পেটবিশিষ্ট, টেকো মাথা, অধিক লোমশ, তামাটে বর্ণের(৫) অর্থাৎ গাঢ় তামাটে, বড় ও গভীর চোখবিশিষ্ট, লম্বার চেয়ে খাটোর কাছাকাছি গড়ন, অনেক বড় দাড়ি যা তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে রাখত, তাঁর মাথা ও দাড়ির চুল ছিল সাদা। সুওয়াদা বিন হানজালা ব্যতীত আর কেউ তাঁকে খেজাব ব্যবহারকারী হিসেবে বর্ণনা করেননি; তিনি বলেন: «আমি আলীকে হলুদ রঙের দাড়ি বিশিষ্ট দেখেছি», এবং সম্ভবত তিনি একবার খেজাব লাগিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তা ছেড়ে দিয়েছিলেন(৬)।

 

•‌‌ তাঁর ইসলাম গ্রহণ:

মুজাহিদ ইবনে জাবর বলেন: «আলী ইবনে আবি তালিবের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ তাঁর জন্য যা কিছু করেছেন ও তাঁর জন্য যে কল্যাণের ইচ্ছা করেছেন তার মধ্য হতে অন্যতম হলো এই যে, কুরাইশরা এক কঠিন সংকটে (দুর্ভিক্ষে) পতিত হয়েছিল এবং...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (১/ নং ১৬২), আল-ইস্তিআব (৩/ ১০৯২)।

(২) ইবনে ইসহাকের সীরাতুন নববী (পৃষ্ঠা: ১৩৭)।

(৩) ফাতহুল বারী (৭/ ১৭৪)।

(৪) আল-মুস্তাদরাক (৩/ ৫৫০), এটি এভাবেই কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করা হয়েছে। আল-ফাকিহি 'আখবারু মক্কা' (৩/ ১৯৮) গ্রন্থে বলেন: বনু হাশিমের মুহাজিরদের মধ্যে কাবা ঘরে প্রথম যিনি জন্মগ্রহণ করেন তিনি হলেন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু। (সমাপ্ত)

(৫) অর্থাৎ: তামাটে বর্ণের।

(৬) তারীখে তাবারী (৫/ ১৫৩), আল-ইস্তিআব (৩/ ১১১১), সিফাতুস সাফওয়াহ (১/ ১১৬), তারীখুল খুলাফা (পৃষ্ঠা: ১৩০)।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ২৭)
أبو طالب ذا عيال كثير، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم للعباس عمه، وكان من أيسر بني هاشم،: «يا عباس: إن أخاك أبا طالب كثير العيال، وقد

أصاب الناس ما ترى من هذه الأزمة، فانطلق بنا إليه، فلنخفف عنه من عياله، آخذ من بنيه رجلا، وتأخذ أنت رجلا، فنكلهما عنه». فقال العباس: نعم. فانطلقا حتى أتيا أبا طالب، فقالا له: إنا نريد أن نخفف عنك من عيالك حتى ينكشف عن الناس ما هم فيه، فقال لهما أبو طالب: إذا تركتما لي عقيلا فاصنعا ما شئتما.

فأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم عليا، فضمه إليه، وأخذ العباس جعفرا فضمه إليه، فلم يزل علي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى بعثه الله تبارك وتعالى نبيا، فاتبعه علي رضي الله عنه، وآمن به وصدَّقه، ولم يزل جعفر عند العباس حتى أسلم واستغنى عنه»(1).

ولهذه المكانة لعلي في بيت النبوة: كان أول من أسلم من الصبيان، واختُلف في أول من أسلم من

--------------------------------------------

(1) سيرة ابن هشام (1/ 246) وإسناده صحيح إلى مجاهد.
আবু তালিবের পরিবার অনেক বড় ছিল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর চাচা আব্বাসকে—যিনি বনু হাশেমের মধ্যে বেশ সচ্ছল ছিলেন—বললেন: «হে আব্বাস! আপনার ভাই আবু তালিবের পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনেক। আর মানুষের যে সংকট চলছে তা তো আপনি দেখছেনই। চলুন আমরা তাঁর কাছে যাই এবং তাঁর পরিবারের বোঝা কিছুটা লাঘব করি। আমি তাঁর ছেলেদের মধ্য থেকে একজনকে গ্রহণ করি এবং আপনি একজনকে গ্রহণ করুন; এভাবে আমরা তাঁর পক্ষ থেকে তাঁদের দায়িত্বভার গ্রহণ করব»। আব্বাস বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তাঁরা দুজনে রওনা হয়ে আবু তালিবের কাছে আসলেন এবং তাঁকে বললেন: «আমরা আপনার পরিবারের বোঝা কিছুটা কমাতে চাই, যতক্ষণ না মানুষের এই বর্তমান সংকট দূর হয়»। আবু তালিব তাঁদেরকে বললেন: «যদি তোমরা আমার জন্য আকিলকে রেখে দাও, তবে তোমরা যা ইচ্ছে করতে পার»।

অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলীকে গ্রহণ করলেন এবং নিজের কাছে নিয়ে নিলেন। আর আব্বাস জাফরকে গ্রহণ করলেন এবং নিজের কাছে নিয়ে নিলেন। আলী আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথেই ছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁকে নবী হিসেবে প্রেরণ করলেন। ফলে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর অনুসরণ করলেন, তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন এবং তাঁকে সত্য বলে সাক্ষ্য দিলেন। আর জাফর আব্বাসের নিকটেই ছিলেন, যতক্ষণ না তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং সচ্ছল হলেন»(১)।

নবুওয়াতের ঘরে আলীর এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের কারণেই তিনি ছিলেন বালকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। আর সর্বপ্রথম কে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) সীরাতে ইবনে হিশাম (১/ ২৪৬) এবং মুজাহিদ পর্যন্ত এর সনদ সহিহ।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ২৮)
الرجال عامة: هل هو أبو بكر الصديق أم علي؟ فقال ابن عبدالبر: «الصحيح في أمر أبي بكر أنه أول من أظهر إسلامه، كذلك قال مجاهد وغيره، قالوا: ومنعه قومه. وقال ابن شهاب، وعبدالله بن محمد بن عقيل، وقتادة، وأبو إسحاق: أول من أسلم من الرجال علي. واتفقوا على أن خديجة أول من آمن بالله ورسوله وصدَّقه فيما جاء به، ثم علي بعدها».

ثم أسند ابن عبدالبر إلى محمد بن كعب القرظي أنه سُئِل عن أول من أسلم: عليٌّ أو أبو بكر رضي الله عنهما؟ فقال: «سبحان الله! عليٌّ أولهما إسلاما، وإنما شُبِّه على الناس لأن عليَّا أخفى إسلامه من أبي طالب، وأسلم أبو بكر فأظهر إسلامه، ولا شك أن عليَّا عندنا أولهما إسلاما»(1).

وأيا كان الراجح في هذه المسألة، قهي تدل على فضيلة ظاهرة لعلي رضي الله عنه، في سبقه للإسلام.

 

•‌‌ أزواجه وأولاده:

تزوج من فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهي أولى زوجاته، ولم يتزوج عليها حتى

ماتت، رضي الله عنها، ووُلِد له منها: الحسن، والحسين، وزينب الكبرى، وأم كلثوم الكبرى(2).

--------------------------------------------

(1) الاستيعاب (3/ 1092)، ورجَّح الحاكم في المستدرك (3/ 147) أن أبا بكر الصديق رضي الله عنه كان أول الرجال البالغين إسلاما، وعلي بن أبي طالب تقدم إسلامه قبل البلوغ.

(2) قال الطبري في التاريخ (5/ 153): ويُذكر أنه كان لها منه ابن آخر يسمى محسنا، توفي صغيرا. ا. هـ
পুরুষদের মধ্যে সাধারণভাবে: তিনি কি আবু বকর সিদ্দিক নাকি আলি? ইবনে আব্দুল বার বলেন: «আবু বকরের ব্যাপারে সঠিক কথা হলো তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁর ইসলাম প্রকাশ করেছিলেন; মুজাহিদ ও অন্যান্যরা এমনই বলেছেন। তাঁরা বলেন: তাঁর কওম তাঁকে বাধা দিয়েছিল। আর ইবনে শিহাব, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকিল, কাতাদাহ এবং আবু ইসহাক বলেন: পুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী হলেন আলি। তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, খাদিজা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রথম ঈমান আনয়নকারী এবং তাঁর আনীত বিষয়ের প্রতি সত্যয়নকারী, অতঃপর তাঁর পরে আলি।»

অতঃপর ইবনে আব্দুল বার মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আলি নাকি আবু বকর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন)? তিনি বললেন: «সুবহানাল্লাহ! আলি তাঁদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণে প্রথম, মানুষের নিকট এটি অস্পষ্ট হয়েছে কারণ আলি আবু তালিবের নিকট তাঁর ইসলাম গোপন রেখেছিলেন এবং আবু বকর ইসলাম গ্রহণ করে তা প্রকাশ করেছিলেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমাদের নিকট আলি তাঁদের উভয়ের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী।»(১).

এই মাসআলায় যেটিই অগ্রগণ্য হোক না কেন, তা ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী হওয়ার ক্ষেত্রে আলি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর সুস্পষ্ট মর্যাদাকে নির্দেশ করে।

 

•‌‌ তাঁর স্ত্রীগণ ও সন্তানাদি:

তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমাকে বিবাহ করেছিলেন, তিনি ছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী, এবং তিনি মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত আলি তাঁর উপস্থিতিতে অন্য কোনো বিবাহ করেননি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)। তাঁর গর্ভে তাঁর নিম্নোক্ত সন্তানগণ জন্মগ্রহণ করেন: হাসান, হুসাইন, যায়নাব আল-কুবরা এবং উম্মে কুলসুম আল-কুবরা।(২).

--------------------------------------------

(১) আল-ইস্তিআব (৩/ ১০৯২), এবং আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে (৩/ ১৪৭) এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ছিলেন, আর আলি ইবনে আবি তালিব প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

(২) আত-তাবারী আল-তারিখে (৫/ ১৫৩) বলেছেন: এটিও উল্লেখ করা হয় যে, তাঁর গর্ভে তাঁর আরও এক পুত্র ছিল যার নাম মুহসিন, যে শৈশবে ইন্তেকাল করেছিল। (সমাপ্ত)
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ২৯)
وتزوج من خولة بنت جعفر بن قيس بن مسلمة، ووُلِد له منها: محمد الأكبر، وهومحمد بن الحنفية.

وتزوج من ليلى بنت مسعود بن خالد من بنى تميم، ووُلِد له منها: عبيد الله، وأبو بكر.

وتزوج من أم البنين بنت حزام بن خالد بن جعفر بن ربيعة، ووُلِد له منها: العباس الأكبر، وعثمان، وجعفر الأكبر، وعبدالله.

وتزوج من أسماء بنت عميس الخثعمية، ووُلِد له منها: يحيى وعون.

وتزوج من الصهباء أم حبيب بنت ربيعة بن بجير، ووُلِد له منها: عمر الأكبر، ورقية.

وتزوج من أمامة بنت العاص بن الربيع، ووُلِد له منها: محمد الأوسط.

وتزوج من أم سعيد بنت عروة بن مسعود الثقفي، ووُلِد له منها: أم الحسن، ورملة الكبرى.

وتزوج من محياة بنت امرئ القيس، ووُلِد له منها: ابنة هلكت وهي جارية.
তিনি খাওলা বিনতে জাফর ইবনে কায়েস ইবনে মাসলামাহকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে তাঁর মুহাম্মদ আল-আকবার জন্মগ্রহণ করেন, যিনি মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ।

তিনি বনু তামিম গোত্রের লায়লা বিনতে মাসউদ ইবনে খালিদকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে তাঁর উবাইদুল্লাহ ও আবু বকর জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি উম্মুল বানীন বিনতে হিজাম ইবনে খালিদ ইবনে জাফর ইবনে রাবিআহকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে তাঁর আব্বাস আল-আকবার, উসমান, জাফর আল-আকবার ও আবদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি আসমা বিনতে উমাইস আল-খাসআমিয়্যাহকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে তাঁর ইয়াহইয়া ও আওন জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি আস-সাহবা উম্মে হাবিব বিনতে রাবিআহ ইবনে বুজাইরকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে তাঁর উমর আল-আকবার ও রুকাইয়্যাহ জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি উমামাহ বিনতে আস ইবনুর রবিকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে তাঁর মুহাম্মদ আল-আওসাত জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি উম্মে সাঈদ বিনতে উরওয়াহ ইবনে মাসউদ আস-সাকাফীকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে তাঁর উম্মুল হাসান ও রামলা আল-কুবরা জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি মুহায়্যাহ বিনতে ইমরুল কায়েসকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে তাঁর একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে যে শৈশবেই মারা যায়।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ৩০)
ووُلِد له من أمهات الأولاد: محمد الأصغر، وأم هانئ، وميمونة، وزينب الصغرى، ورملة الصغرى، وأم كلثوم الصغرى، وفاطمة، وأمامة، وخديجة، وأم الكرام، وأم سلمة، وأم جعفر، جمانة ونفيسة.

قال ابن سعد: «فجميع ولد علي بن أبي طالب لصلبه أربعة عشر ذكرا، وتسع عشرة امرأة، وكان النسل من ولده لخمسة: الحسن، والحسين، ومحمد وابن الحنفية، والعباس ابن الكلابية، وعمر ابن التغلبية. ولم يصح لنا من ولد علي رضي الله عنه غير هؤلاء»(1).

 

•‌‌ جِهادُه ونَشْرُه للدين:

منذ اللحظات الأولى التي أعلن عليٌّ إسلامه فيها، وهو يعلم أن منزلة رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يدانيها منزلة أحد من البشر، وأنه لا ينبغي لأحد من المسلمين أن يتردد في أن يفدي رسول الله صلى الله عليه وسلم بنفسه. وكذلك علم أن عليه واجبا تجاه دينه ينبغي أن يؤديه، وقد أثبتت الأيام

صدق ما رسخ في نفسه في هذا الوقت.

ففي حادث الهجرة: عندما تمالأ كفار قريش على قتل رسول الله صلى الله عليه وسلم، واجتمعوا حول بيته لتنفيذ جريمتهم؛ أراد رسول

--------------------------------------------

(1) طبقات ابن سعد (3/ 19 - 20)، وانظر: المنتظم في تاريخ الملوك والأمم لابن الجوزي (5/ 69).
উম্মাহাতুল আওলাদদের (সন্তানবতী দাসী) পক্ষ থেকে তাঁর আরও সন্তান জন্মগ্রহণ করেন: মুহাম্মদ আল-আসগর, উম্মু হানি, মায়মুনা, যয়নব আস-সুগরা, রামলা আস-সুগরা, উম্মু কুলসুম আস-সুগরা, ফাতিমা, উমামা, খাদিজা, উম্মুল কিরাম, উম্মু সালামা, উম্মু জাফর, জুমানা এবং নাফিসা।

ইবনে সাদ বলেন: «আলী ইবনে আবি তালিবের ঔরসজাত মোট সন্তান ছিল চৌদ্দজন পুত্র এবং উনিশজন কন্যা। তাঁর সন্তানদের মধ্যে পাঁচজনের মাধ্যমে বংশধারা অব্যাহত রয়েছে: হাসান, হুসাইন, মুহাম্মদ ও ইবনুল হানাফিয়্যা, আব্বাস ইবনুল কিলাবিয়্যা এবং উমর ইবনুত তাগলিবিয়্যা। আমাদের নিকট আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সন্তানদের মধ্যে এদের ব্যতীত অন্য কারো বংশধারা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়»(১)।

 

•‌‌ তাঁর জিহাদ ও দ্বীন প্রচার:

আলী যে মুহূর্ত থেকে তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই প্রথম লগ্ন থেকেই তিনি জানতেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুউচ্চ মর্যাদার সমকক্ষ কোনো মানুষের মর্যাদা হতে পারে না। আর কোনো মুসলিমেরই উচিত নয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে বিন্দুমাত্র ইতস্তত করা। তেমনিভাবে তিনি এও জানতেন যে, তাঁর দ্বীনের প্রতি তাঁর একটি বিশেষ কর্তব্য রয়েছে যা তাঁকে অবশ্যই পালন করতে হবে। পরবর্তী দিনগুলো

সেই সময়ে তাঁর অন্তরে প্রোথিত এই বিশ্বাসের সত্যতা প্রমাণ করেছে।

হিজরতের ঘটনার সময়: যখন কুরাইশ কাফিররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে হত্যার ষড়যন্ত্র করল এবং তাদের জঘন্য অপরাধ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাঁর গৃহের চারপাশে সমবেত হলো; তখন রাসূলুল্লাহ

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতে ইবনে সাদ (৩/ ১৯ - ২০), এবং দেখুন: ইবনুল জাওযি প্রণীত আল-মুনতাযাম ফি তারিখিল মুলুক ওয়াল উমাম (৫/ ৬৯)।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ৩১)
الله صلى الله عليه وسلم أن يترك أحدا مكانه في فراشه، وهي مهمة خطرة بلا شك، قد يدفع من يقوم بها حياتَه ثمنا لها، فانتدب النبي صلى الله عليه وسلم عليَّا لها، وقال له: «نَمْ على فراشي، وتَسَجَّ(1) ببردي هذا الحضرمي الأخضر، فنَمْ فيه، فإنه لن يخلص إليك شيء تكرهه منهم»(2).

قال ابن عباس: «شَرَى عليٌّ نفسه، فلبس ثوب النبي صلى الله عليه وسلم، ثم نام في مكانه»(3).

ولم يتوقف جهاده في سبيل الله، مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عند حادث الهجرة، بل ترك وطنه وأهله ولحق عليٌّ بنبيه بعد هجرته، وظلَّ يتنقل معه من غزوة لأخرى، ومن مشهد لآخر، فمن بَدْرٍ لأُحُد، ثم الأحزاب، فبيعة الرضوان وصلح الحديبية، ثم خيبر، ثم فتح مكة، وحنين، والطائف، مرورا بالسرايا والمهمات الخاصة التي كان النبي صلى الله عليه وسلم ينتدبه لها.

--------------------------------------------

(1) تسجَّى بالثوب: غطَّى به جسده ووجهه.

(2) هذه القصة مما تتابع على نقلها أهل السير، ولم أقف لها على إسناد صحيح للآن!

انظر: سيرة ابن هشام (1/ 482 - 483)، طبقات ابن سعد (1/ 228)، دلائل النبوة للبيهقي (2/ 465 - 470)، البداية والنهاية (4/ 441).

(3) في سنده لابن عباس ضعف، وسيأتي تخريجه بإذن الله ضمن حديث طويل لابن عباس في مُسنَده برقم (4652).
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চাইলেন যে তিনি তাঁর বিছানায় কাউকে রেখে যাবেন, এবং এটি নিঃসন্দেহে একটি বিপজ্জনক কাজ ছিল, যার সম্পাদনকারীকে প্রাণের বিনিময়ে মূল্য দিতে হতে পারে। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীকে এর জন্য মনোনীত করলেন এবং তাঁকে বললেন: «তুমি আমার বিছানায় ঘুমাও এবং আমার এই সবুজ হাজরামি চাদরটি মুড়ি দাও(১); এতেই ঘুমাও, কেননা তাদের পক্ষ থেকে তোমার অপছন্দনীয় কোনো কিছু তোমার কাছে পৌঁছাবে না»(২)।

ইবনে আব্বাস বলেন: «আলী নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন, তাই তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পোশাক পরিধান করলেন এবং তাঁর বিছানায় ঘুমিয়ে পড়লেন»(৩)।

এবং আল্লাহর পথে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাঁর জিহাদ কেবল হিজরতের ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি হিজরতের পর স্বদেশ ও পরিবার ত্যাগ করে তাঁর নবীর সাথে মিলিত হন। তিনি অবিরত তাঁর সাথে এক যুদ্ধ থেকে অন্য যুদ্ধে এবং এক রণক্ষেত্র থেকে অন্য রণক্ষেত্রে যাতায়াত করতে থাকেন; বদর থেকে ওহুদ, এরপর আহযাব, অতঃপর বায়আতে রিদওয়ান ও হুদায়বিয়ার সন্ধি, তারপর খায়বার, অতঃপর মক্কা বিজয়, হুনাইন এবং তায়েফ—সেই সাথে বিভিন্ন ছোট যুদ্ধ ও বিশেষ অভিযানগুলোর মধ্য দিয়েও তিনি অতিবাহিত করেছেন যেগুলোর জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে মনোনীত করতেন।

--------------------------------------------

(১) কাপড় মুড়ি দেওয়া: এর দ্বারা নিজের দেহ ও মুখমণ্ডল আবৃত করা।

(২) এই কাহিনীটি সীরাত লেখকদের নিকট পরম্পরায় বর্ণিত, তবে আমি এখন পর্যন্ত এর কোনো সহীহ সনদ খুঁজে পাইনি!

দেখুন: সীরাত ইবনে হিশাম (১/ ৪৮২ - ৪৮৩), তাবাকাত ইবনে সাদ (১/ ২২৮), দালায়েলুন নুবুওয়্যাহ লিল বায়হাকী (২/ ৪৬৫ - ৪৭০), আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (৪/ ৪৪১)।

(৩) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ ইবনে আব্বাসের মুসনাদে একটি দীর্ঘ হাদিসের (নম্বর ৪৬৫২) অধীনে এর তাখরীজ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ৩২)
يقول النووي: «وأجمع أهل التواريخ على شهوده بدرًا وسائر المشاهد غير تبوك. قالوا: وأعطاه النبى صلى الله عليه وسلم اللواء في مواطن كثيرة. وقال سعيد بن المسيب: أصابت عليًا يوم أُحُد ستةُ عشر ضربة. وثبت في الصحيحين أن النبي صلى الله عليه وسلم أعطاه الراية يوم خيبر، وأخبر أن الفتح يكون على يديه(1)، وأحواله في الشجاعة وآثاره في الحروب مشهورة»(2).

فلم يتخلَّف علي عن غزوة من الغزوات، إلا ما كان منه في غزوة تبوك، حينما استخلفه النبي صلى الله عليه وسلم على المدينة، فقال له علي: «أتخلفني في الصبيان والنساء؟» فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: «ألا ترضى أن تكون مني بمنزلة هارون، من موسى إلا أنه لا نبي بعدي؟»(3).

ولم تقتصر خدمة عليٍّ لدين الله، ونشره له؛ على ميدان القتال والسيف فحسب، بل نَشَرَه كذلك بلسانه، فحمل إلى الأمة حديثا كثيرا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم. فروى عن رسول الله صلى الله عليه

--------------------------------------------

(1) حديث الراية وفتح خيبر: يأتي تخريجه والكلام عليه بإذن الله في مُسند سعد بن أبي وقاص، برقم (4575).

(2) تهذيب الأسماء واللغات (1/ 345).

(3) يأتي تخريجه والكلام عليه بإذن الله في مُسند سعد بن أبي وقاص، برقم (4575).
আন-নববী বলেন: «ইতিহাসবিদগণ একমত হয়েছেন যে তিনি বদর ও তাবুক ছাড়া অন্য সকল যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বহু স্থানে যুদ্ধের পতাকা দান করেছিলেন। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: উহুদ যুদ্ধের দিন আলীর শরীরে ষোলোটি আঘাত লেগেছিল। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের দিন তাঁকে যুদ্ধের পতাকা দিয়েছিলেন এবং সংবাদ দিয়েছিলেন যে তাঁর মাধ্যমেই বিজয় আসবে(১), আর তাঁর বীরত্ব ও যুদ্ধে তাঁর প্রভাবসমূহ সুবিখ্যাত»(২)।

আলী কোনো যুদ্ধেই অনুপস্থিত ছিলেন না, তবে তাবুক যুদ্ধের বিষয়টি ছিল ব্যতিক্রম, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মদীনায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। তখন আলী তাঁকে বললেন: «আপনি কি আমাকে শিশু ও নারীদের মাঝে রেখে যাচ্ছেন?» তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: «তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার কাছে তোমার মর্যাদা ঠিক তেমন, যেমন মূসার কাছে হারূনের মর্যাদা ছিল? তবে পার্থক্য হলো আমার পরে আর কোনো নবী নেই»(৩)।

আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আলীর খেদমত এবং এর প্রচার কেবল যুদ্ধক্ষেত্র ও তলোয়ারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তিনি তাঁর জবানের মাধ্যমেও তা প্রচার করেছেন। ফলে তিনি উম্মতের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অনেক হাদীস পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন

--------------------------------------------

(১) পতাকার হাদীস এবং খায়বার বিজয়: ইনশাআল্লাহ এর তাখরীজ ও আলোচনা সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের মুসনাদে আসবে, হাদীস নম্বর (৪৫৭৫)।

(২) তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত (১/ ৩৪৫)।

(৩) ইনশাআল্লাহ এর তাখরীজ ও আলোচনা সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের মুসনাদে আসবে, হাদীস নম্বর (৪৫৭৫)।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وسلم خمسمائة حديث وستة وثمانين حديثًا، اتفق البخاري ومسلم منها على عشرين، وانفرد البخاري بتسعة، ومسلم بخمسة عشر(1)، هذا بخلاف فتاويه وتعليمه للناس.

يقول النووي: «وأما علمه، فكان من العلوم بالمحل العالي»(2).

 

•‌‌ علاقته بالخلفاء الراشدين، ومكانته في أيامهم وخلافتهم:

‌‌أوَّلاً: عليٌّ مع أبي بكر الصدِّيق رضي الله عنهما:

وردت عِدَّةُ أخبار في شأن تأخر علي عن مبايعة أبي بكر الصديق، وجُلُّ هذه الأخبار ليست صحيحة، وفي المقابل جاءت روايات صحيحة السند تفيد بأن عليًا بايع الصديق في أول الأمر، ومن ذلك: ما جاء عن أبي سعيد الخدري- رضي الله عنه قال: «لما تُوفِّي رسولُ الله صلى الله عليه وسلم قام خطباء الأنصار .... ، فذكر بيعة السقيفة، ثم قال: فلما قعد أبو بكر على المنبر نظر في وجوه القوم فلم ير عليًا، فسأل عنه، فقام أناس من الأنصار، فأتوا به، فقال أبو بكر: ابن عم رسول الله

--------------------------------------------

(1) تهذيب الأسماء واللغات (1/ 345).

(2) المصدر السابق.
পাঁচশত ছিয়াশিটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে বুখারী ও মুসলিম বিশটি হাদীসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন, এবং বুখারী এককভাবে নয়টি এবং মুসলিম এককভাবে পনেরটি হাদীস বর্ণনা করেছেন(১), এটি তাঁর ফতোয়া প্রদান এবং মানুষকে শিক্ষা দান ব্যতীত।

নববী বলেন: «আর তাঁর জ্ঞানের কথা বলতে গেলে, তা ছিল সুউচ্চ পর্যায়ের জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত»(২)।

 

•‌‌ খোলাফায়ে রাশেদীনের সাথে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁদের সময়ে ও খিলাফতকালে তাঁর মর্যাদা:

‌‌প্রথমত: আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে আলী:

আবু বকর সিদ্দীকের নিকট আলীর বায়আত গ্রহণে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে বেশ কিছু বর্ণনা এসেছে, যার অধিকাংশ খবরই সহীহ নয়। বিপরীতে সহীহ সনদে এমন রেওয়ায়েত এসেছে যা প্রমাণ করে যে, আলী শুরুতেই সিদ্দীকের নিকট বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। তার মধ্যে একটি হলো: যা আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন, তখন আনসারদের খতীবগণ দাঁড়ালেন....» এরপর তিনি সাকীফার বায়আতের কথা উল্লেখ করলেন, তারপর বললেন: «অতঃপর আবু বকর যখন মিম্বরে বসলেন, তিনি লোকজনের চেহারার দিকে তাকালেন কিন্তু আলীকে দেখতে পেলেন না। তিনি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আনসারদের কিছু লোক উঠে গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসলেন। অতঃপর আবু বকর বললেন: হে রাসূলুল্লাহর চাচাতো ভাই!»

--------------------------------------------

(১) তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত (১/ ৩৪৫)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ৩৪)
صلَّى الله عليه وسلَّم وختنه، أردت أن تشق عصا المسلمين؟ فقال: لا تثريب يا خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فبايعه»(1).

قال الحافظ ابن كثير: «هذا إسناد صحيح محفوظ، وفيه فائدة جليلة، وهي مبايعة علي بن أبي طالب، إما في أول يوم، أو في الثاني من الوفاة، وهذان حق، فإن علي بن أبي طالب لم يفارق الصديق في وقت من الأوقات، ولم ينقطع عن صلاة من الصلوات خلفه»(2).

ووقف عليٌّ بعد ذلك بجوار أبي بكر الخليفة في حروبه ضد المرتدِّين، يساند ويؤازر وينصح، ويتجلَّى نصحه وصدقه يوم أراد

--------------------------------------------

(1) إسناده صحيح: أخرجه الحاكم (كتاب معرفة الصحابة، باب من فضائل أبي بكر، رقم 4457) والبيهقي =

= (كتاب قتال أهل البغي، باب الأئمة من قريش، 8/ 143)، وصحّح إسناده الحافظ ابن كثير، كما سيأتي لاحقا.

ومما يدل على أهمية هذا الحديث وصحته، ما أسنده البيهقي عقبه، من أن الإمام مسلم بن الحجاج - صاحب الجامع الصحيح - ذهب إلى محمد بن إسحاق بن خزيمة - صاحب صحيح ابن خزيمة- فسأله عن هذا الحديث، فكتب له ابن خزيمة الحديث، وقرأه عليه، فقال مسلم لابن خزيمة: هذا الحديث يساوي بدنة، فقال ابن خزيمة: هذا الحديث يساوي بدنة؟! إنه يساوي بدرة. ا. هـ وإسناد هذه القصة صحيح.

والبدنة: هي الناقة أو البقرة التي تنحر بمكة، وسمِّيت بدنة لعظمها وضخامتها.

والبدرة: كيس فيه ألف أو عشرة آلاف دينار، والمعنى: أنه كنز ثمين.

(2) البداية والنهاية (8/ 92).
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর জামাতা, আপনি কি মুসলিমদের ঐক্যে ফাটল ধরাতে চেয়েছেন? তিনি বললেন: কোনো তিরস্কার নেই হে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খলিফা, অতঃপর তিনি তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলেন।(১).

হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন: «এটি একটি সহিহ ও সংরক্ষিত সনদ, এবং এতে একটি মহান ফায়দা রয়েছে; আর তা হলো আলী ইবনে আবি তালিবের বায়আত গ্রহণ, যা হয় (রাসূলের) ইন্তেকালের প্রথম দিনে অথবা দ্বিতীয় দিনে হয়েছিল। আর এই উভয়টিই সত্য, কেননা আলী ইবনে আবি তালিব কোনো মুহূর্তের জন্য সিদ্দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হননি এবং তাঁর পেছনে কোনো সালাত আদায় করা থেকেও বিরত হননি»(২).

এরপর আলী খলিফা আবু বকরের পাশে তাঁর ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন; তিনি সমর্থন দান করতেন, সাহায্য করতেন এবং পরামর্শ দিতেন। তাঁর এই নসিহত ও সততা সেদিন স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছিল যখন তিনি চেয়েছিলেন...

--------------------------------------------

(১) এর সনদ সহিহ: আল-হাকিম (কিতাবু মা'রিফাতিস সাহাবা, আবু বকরের ফজিলত পরিচ্ছেদ, নং ৪৪৫৭) এবং বাইহাকি =

= (কিতাবু কিতালি আহলিল বাগি, কুরাইশদের মধ্য থেকে ইমাম হওয়া পরিচ্ছেদ, ৮/১৪৩) এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ ইবনে কাসীর এর সনদকে সহিহ বলেছেন, যেমনটি সামনে আসবে।

এই হাদিসের গুরুত্ব ও বিশুদ্ধতার ওপর যা প্রমাণ পেশ করে তা হলো বাইহাকি এর পরপরই যা বর্ণনা করেছেন— ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ (সহিহ মুসলিমের লেখক) মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজায়মা (সহিহ ইবনে খুজায়মার লেখক)-এর নিকট যান এবং তাঁকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। অতঃপর ইবনে খুজায়মা তাঁর জন্য হাদিসটি লিখে দেন এবং তাঁকে পড়ে শুনান। তখন মুসলিম ইবনে খুজায়মাকে বললেন: এই হাদিসটি একটি 'বদনা' (কুরবানির পশু)-এর সমতুল্য। ইবনে খুজায়মা বললেন: এই হাদিসটি কি একটি 'বদনা'-এর সমতুল্য?! এটি তো একটি 'বদরা' (স্বর্ণমুদ্রার থলি)-এর সমতুল্য। ইতি। এবং এই ঘটনার সনদ সহিহ।

বদনা: এটি হলো উষ্ট্রী বা গাভী যা মক্কায় জবেহ করা হয়, এবং এর বিশালতা ও স্থূলতার কারণে একে বদনা বলা হয়।

বদরা: একটি থলি যাতে এক হাজার বা দশ হাজার দিনার থাকে; এর অর্থ হলো: এটি একটি মূল্যবান সম্পদ।

(২) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (৮/৯২)।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الصدِّيق أن يخرج بنفسه لقتال المرتدِّين، فوقف له عليٌّ، وأخذ بزمام فرسه، وقال له: «إلى أين يا خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ أقول لك ما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم أحد: «شم سيفك، ولا تفجعنا بنفسك». وارجع إلى المدينة، فوالله لئن فجعنا بك لا يكون للإسلام نظام أبدا». فرجع، وأمضى الجيش(1).

وكان عليٌّ يعرف لأبي بكر فضله، فيقدِّمه على نفسه، وهذا بصريح قوله لا بقول أحد غيره، ومن ذلك: أن ابنه محمد بن الحنفية قال له يوما: يا أبت، أيُّ الناس خيرٌ بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: «أبو بكر»، قُلتُ: ثُمَّ مَنْ؟ قال: «ثُمَّ عمر»، وخشيتُ أن يقول عثمان، قُلتُ: ثُمَّ أنت؟ قال: «ما أنا

إلا رجل من المسلمين»(2).

وفي المقابل: كان أبو بكر يعرف لعلي ولآل البيت فضلهم، فينزلهم منزلتهم، ويقدرهم قدرهم، ومن ذلك: أن أبا بكر رضي الله عنه صلَّى

--------------------------------------------

(1) أخرجه الدارقطني من حديث ابن عمر، والساجي من حديث عائشة؛ كما في البداية والنهاية (9/ 466). وإسناده صحيح.

(2) أخرجه البخاري (كتاب المناقب، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: «لو كنت متخذا خليلا»، رقم 3671).

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية في منهاج السنة (7/ 385) عن هذا الحديث: أنه مما استفاض وتواتر عن عليّ، وتوعَّد عليٌ بجلد المفتري من يفضله عليه - أي: على أبي بكر -.ا. هـ
সিদ্দিক (আবু বকর রা.) মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য নিজে বের হতে চেয়েছিলেন, তখন আলী (রা.) তাঁর সামনে দাঁড়ালেন এবং তাঁর ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরলেন। তিনি তাঁকে বললেন: «হে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খলিফা! আপনি কোথায় যাচ্ছেন? ওহুদ যুদ্ধের দিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে যা বলেছিলেন, আমি আপনাকে তাই বলছি: «আপনি আপনার তরবারি কোষবদ্ধ করুন এবং আপনার বিয়োগের মাধ্যমে আমাদের শোকাহত করবেন না»। আপনি মদীনায় ফিরে যান, আল্লাহর শপথ! যদি আপনার বিয়োগের মাধ্যমে আমরা শোকাহত হই, তবে ইসলামের শৃঙ্খলা আর কখনো কায়েম হবে না»। অতঃপর তিনি ফিরে এলেন এবং বাহিনীকে প্রেরণ করলেন(১).

আলী (রা.) আবু বকর (রা.)-এর মর্যাদা সম্পর্কে জানতেন, তাই তিনি তাঁকে নিজের ওপর প্রাধান্য দিতেন। এটি তাঁর নিজের মুখের সুস্পষ্ট কথা, অন্য কারও বক্তব্য নয়। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো: তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ একদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আব্বাজান! আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর মানুষের মধ্যে কে সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «আবু বকর», আমি জিজ্ঞেস করলাম: তারপর কে? তিনি বললেন: «তারপর উমর», আমি আশঙ্কা করলাম যে তিনি হয়তো উসমানের নাম বলবেন, তাই আমি বললাম: তারপর কি আপনি? তিনি বললেন: «আমি তো

মুসলমানদের মধ্যে একজন সাধারণ ব্যক্তি বৈ নই»(২).

অপরপক্ষে: আবু বকর (রা.) আলী (রা.) এবং আহলে বাইতের (নবী পরিবার) মর্যাদা সম্পর্কে জানতেন। তাই তিনি তাঁদের যথাযোগ্য মর্যাদায় আসীন করতেন এবং তাঁদের সম্মান রক্ষা করতেন। এর একটি উদাহরণ হলো: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সালাত আদায় করলেন

--------------------------------------------

(১) আদ-দারাকুতনী ইবনে উমরের বর্ণনা থেকে এবং আস-সাজি আয়িশার বর্ণনা থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন; যেমনটি আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (৯/ ৪৬৬) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এর সনদ সহীহ।

(২) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (মানাকিব অধ্যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: «আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম» পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৬৭১)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মিনহাজুস সুন্নাহ (৭/ ৩৮৫) গ্রন্থে এই হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: এটি আলী (রা.) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ ও মুতাওয়াতির (বহুসূত্রে বর্ণিত) বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। আলী (রা.) সেই অপবাদকারীকে বেত্রাঘাত করার হুমকি দিয়েছেন, যে তাঁকে আবু বকরের ওপর প্রাধান্য দেয়। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মারওয়িয়্যাতু ফাদায়িলি আলী ইবনে আবী তালিব ফিল মুস্তাদরাক (পৃষ্ঠা: ৩৬)
العصر يوما، ثم خرج يمشي، فرأى الحسن يلعب مع الصبيان، فحمله على عاتقه، وقال: «بأبي، شبيه بالنبي، لا شبيه بعلي». وعلي رضي الله عنه يضحك(1).

وظلَّت هذه العلاقة من المودة والإخاء، والمحبة والتقدير بينهما حتى لحق الصدِّيق بربه، واستخلف عُمَرَ من بعده.

ثانياً: عليٌ مع عمر بن بن الخطاب رضي الله عنهما:

على درب الصدق والنصح والإخاء الذي سار عليه مع الصدِّيق، سار عليٌّ مع عمر بن الخطاب. وفي المقابل أيضا: كانت لعلي منزلته العالية عند الفاروق عمر، كما كانت عند أبي بكر.

يقول ابن الجوزي عن عليّ: «كان أبو بكر وعمر يشاورانه ويرجعان إلى رأيه، وكان كل الصحابة مفتقرا إلى علمه، وكان عمر يقول: «أعوذ بالله من معضلة ليس لها أبو الحسن»(2).

ولذلك جعله عمر من مجلس مشورته، وتراجع مرات عن رأيه، آخذا برأي علي، حينما تبيَّن له صحته، ومن ذلك: أن عمر بن الخطاب، رضي الله عنه، أُتِيَ بامرأة قد زنت، فأمر برجمها، فذهبوا بها ليرجموها، فلقيهم عليٌّ، رضي الله عنه، فقال: «ما هذه؟» قالوا: زنت فأمر عمر

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (كتاب المناقب، باب صفة النبي صلى الله عليه وسلم، رقم 3542، وباب مناقب الحسن والحسين، رقم 3750) عن عقبة بن الحارث.

(2) المنتظم في تاريخ الملوك والأمم (5/ 68).
একদিন আসরের সময়, এরপর তিনি হেঁটে বের হলেন। তিনি হাসানকে শিশুদের সাথে খেলতে দেখলেন, তখন তিনি তাকে নিজের কাঁধে তুলে নিলেন এবং বললেন: "আমার পিতার কসম! সে তো নবীর সদৃশ, আলীর সদৃশ নয়।" আর আলী (রা.) হাসছিলেন(১).

মমতা, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধের এই সম্পর্ক অব্যাহত ছিল যতক্ষণ না সিদ্দীক তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন এবং তাঁর পরে উমরকে স্থলাভিষিক্ত করলেন।

দ্বিতীয়ত: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সাথে আলী (রা.):

সততা, সদুপদেশ এবং ভ্রাতৃত্বের যে পথে তিনি সিদ্দীকের সাথে চলেছিলেন, সেই পথেই আলী উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে পথ চলেছেন। এর বিপরীতে উমরের কাছেও আলীর সুউচ্চ মর্যাদা ছিল, ঠিক যেমনটি ছিল আবু বকরের নিকট।

ইবনুল জাওযী আলী সম্পর্কে বলেন: "আবু বকর ও উমর তাঁর সাথে পরামর্শ করতেন এবং তাঁর মতামতের দিকে ফিরে আসতেন। সকল সাহাবী তাঁর জ্ঞানের মুখাপেক্ষী ছিলেন। উমর বলতেন: 'আমি এমন কঠিন সমস্যা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই যার সমাধানের জন্য আবুল হাসান নেই'।"(২).

একারণেই উমর তাঁকে তাঁর পরামর্শ সভার অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং আলীর মতামতের সঠিকতা যখন তাঁর কাছে প্রতিভাত হতো, তখন তিনি বহুবার নিজের মতামত থেকে ফিরে এসে আলীর মতামত গ্রহণ করতেন। এর একটি উদাহরণ হলো: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট একজন মহিলাকে আনা হলো যে ব্যভিচার করেছিল। তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তারা তাকে রজম করার জন্য নিয়ে যেতে লাগল। তখন আলী (রা.) তাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: "বিষয়টি কী?" তারা বলল: সে ব্যভিচার করেছে, তাই উমর নির্দেশ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (মানাকিব অধ্যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলি পরিচ্ছেদ, নম্বর ৩৫৪২; এবং হাসান ও হুসাইনের মর্যাদা পরিচ্ছেদ, নম্বর ৩৭৫০), ওকবা ইবনুল হারিস থেকে।

(২) আল-মুনতাযাম ফি তারিখিল মুলুক ওয়াল উমাম (৫/ ৬৮)।