(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: -)
الأربعون للمؤيد بن محمد الطوسي القسم: كتب السنة
الكتاب: كتاب الأربعين عن المشايخ الأربعين والأربعين صحابيا وصحابية رضي الله عنهم
المؤلف: رَضِيُّ الدِّيْنِ، أَبُو الحَسَنِ المُؤَيَّدُ بنُ مُحَمَّدِ بنِ عَلِيِّ بنِ حَسَنِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ أَبِي صَالِحٍ الطُّوْسِيُّ، ثُمَّ النَّيْسَابُوْرِيُّ (ت 617هـ)
المحقق: عامر حسن صبري
الناشر: دار البشائر الإسلامية [ضمن سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (7) ]
الطبعة: الأولى 1418 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 171
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুআইয়্যাদ বিন মুহাম্মাদ আত-তুসী সংকলিত চল্লিশ হাদীস বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: চল্লিশজন শাইখ থেকে চল্লিশজন পুরুষ ও মহিলা সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বর্ণিত চল্লিশ হাদীসের কিতাব
লেখক: রাযিউদ্দীন, আবুল হাসান মুআইয়্যাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আবি সালিহ আত-তুসী, অতঃপর আন-নাইসাবুরী (মৃত্যু ৬১৭ হিজরি)
তাহকীককারী: আমির হাসান সাবরী
প্রকাশনী: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ [হাদীস বিষয়ক খণ্ড ও কিতাব সিরিজের অন্তর্ভুক্ত (৭) ]
সংস্করণ: প্রথম ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭১
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: ইয়া বাগী আল-খাইর আকবিল
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (7)
كتاب الأربعين
عن المشايخ الأربعين والأربعين صحابيا وصحابية
رضي الله عنهم
للإمام المحدث المقرئ أبي الحسن المؤيد بن محمد الطوسي ثم النيسابوري
524 - 617 هـ
وفيه تراجم شيوخه من أعلام حفاظ القرن السادس الهجري
تقديم وتحقيق وتخريج
الدكتور عامر حسن صبري
دار البشائر الإسلامية
الطبعة الأولى
1418 هـ - 1998 م
হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা ও গ্রন্থাবলি সিরিজ (৭)
কিতাবুল আরবাঈন
চল্লিশজন শাইখ এবং চল্লিশজন সাহাবী ও সাহাবীয়া হতে বর্ণিত
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন
ইমাম, মুহাদ্দিস, ক্বারী আবুল হাসান আল-মুআইয়্যাদ বিন মুহাম্মাদ আত-তুসী অতঃপর আন-নাইসাবুরী রচিত
৫২৪ - ৬১৭ হিজরি
এতে ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর প্রখ্যাত হাফেজগণের মধ্য থেকে তাঁর শাইখদের জীবনীসমূহ রয়েছে
উপস্থাপনা, সম্পাদনা ও হাদিস বিশ্লেষণ
ডক্টর আমির হাসান সাবরি
দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ
প্রথম সংস্করণ
১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
بسم الله الرحمن الرحيم وبه أستعين وعليه أتوكل
الحمد لله الواحد الأحد الفرد السيد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفواً أحد، أحمده على ما أولى من النعم وأسدى من الكرم، وأصلي على رسوله محمد المنعوت بأعظم الشيم، المبعوث إلى أكرم الأمم، وأسلم عليه، وعلى آله تسليماً كثيراً.
أما بعد: فإن الله من علي بعد منة الهداية بعلو الرواية في الصحاح التي هي الأعلام بشرائع الإسلام، كالصحيحين وموطأ مالك بن أنس الإمام، فتفردت برواية بعضه في هذا الزمان من بين الأقران، وعلوت في بعضه في الإسناد حتى ألحقت الأحفاد بالأجداد، فهممت أن أجمع أربعين حديثاً، اقتداء بأئمة السلف رضي الله عنهم أجمعين، ولما وردت من الفضائل في رواية الأربعين من سنن سيد المرسلين.
فقد روى عبد الله بن عباس، عن معاذ بن جبل، عن النبي صلى الله عليه وسلم: من حفظ على أمتي أربعين حديثاً من أمر دينها بعثه الله يوم القيامة في زمرة الفقهاء العلماء.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। তাঁরই নিকট আমি সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক, অদ্বিতীয়, তুলনাহীন, মহান অধিপতি ও অমুখাপেক্ষী; যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর প্রদত্ত নিআমতসমূহ এবং অবারিত অনুগ্রহের জন্য। আমি দরুদ পাঠ করছি তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের ওপর, যিনি মহত্তম চরিত্রে গুণান্বিত এবং শ্রেষ্ঠতম উম্মতের নিকট প্রেরিত; এবং আমি তাঁর ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর অনেক অনেক সালাম পেশ করছি।
অতঃপর: হিদায়াতের নিআমত প্রদানের পর আল্লাহ তাআলা আমাকে ইসলামের শরীয়তের নিশানস্বরূপ ‘সহীহ’ কিতাবসমূহের বর্ণনায় উচ্চমানের সনদ দান করে ধন্য করেছেন, যেমন সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং ইমাম মালিক বিন আনাসের মুয়াত্তা। ফলে আমি এই যুগে আমার সমসাময়িকদের মধ্যে এর কোনো কোনোটির বর্ণনায় অনন্যতা লাভ করেছি এবং কোনো কোনোটির সনদে এমন উচ্চতা অর্জন করেছি যে, আমি নাতিদেরকে দাদাদের স্তরে শামিল করেছি। তাই আমি পূর্বসূরী ইমামগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং রাসূলগণের সরদারের সুন্নাহ হতে চল্লিশটি হাদীস বর্ণনার ফযীলতসমূহ সামনে রেখে চল্লিশটি হাদীস সংকলন করার সংকল্প করেছি।
নিশ্চয়ই আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) মুআজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য তাদের দ্বীন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চল্লিশটি হাদীস মুখস্থ করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে ফকীহ ও আলেমদের দলভুক্ত করে পুনরুত্থিত করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
ورواه أبو الدرداء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: من حفظ على أمتي أربعين حديثاً من أمر دينها بعثه الله فقيهاً، وكنت له يوم القيامة شافعاً وشهيداً.
ورواه أبو هريرة بلفظةٍ أرجى من هذا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: من روى عني أربعين حديثاً جاء في زمرة العلماء يوم القيامة.
وعن ابن عباس في حديثٍ غريبٍ: من حفظ على أمتي حديثاً واحداً كان له أجر أحد وسبعين نبياً صديقاً.
আর আবু দারদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনের বিষয়ে চল্লিশটি হাদীস সংরক্ষণ করবে, আল্লাহ তাকে ফকীহ হিসেবে পুনরুত্থিত করবেন এবং কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী ও সাক্ষী হব।"
আর আবু হুরায়রা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর চেয়েও অধিক আশাব্যঞ্জক শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে চল্লিশটি হাদীস বর্ণনা করবে, সে কিয়ামতের দিন আলেমদের দলভুক্ত হয়ে উপস্থিত হবে।"
আর ইবনে আব্বাস থেকে একটি গরীব হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য একটি হাদীসও সংরক্ষণ করবে, তার জন্য একাত্তরজন সত্যনিষ্ঠ নবীর সমান সওয়াব রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
وفي روايةٍ: من حفظ على أمتي حديثاً واحداً من أمر دينهم، أعطاه الله أجر اثنين وسبعين صديقاً.
ورواه سفيان الثوري: عن ليثٍ، عن طاووس، عن ابن عباس، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: من أدى إلى أمتي حديثاً واحداً يقيم به سنة، ويرد بدعةً فله الجنة.
فهذه الفضائل وأمثالها حداني لتخريج هذا الأربعين.
وصدرته بالأربعة الخلفاء الراشدين رضي الله عنهم أجمعين، وأستعين في جميع ذلك الله ونعم الوكيل.
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনি বিষয়ে একটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, আল্লাহ তাকে বাহাত্তর জন সিদ্দীকের সওয়াব দান করবেন।
সুফিয়ান সাওরি এটি বর্ণনা করেছেন: লাইস থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন: যে ব্যক্তি আমার উম্মতের নিকট এমন একটি হাদিস পৌঁছে দেবে যার মাধ্যমে সে কোনো সুন্নাতকে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং বিদআতকে প্রতিরোধ করবে, তার জন্য জান্নাত রয়েছে।
এই ফজিলতসমূহ এবং এর অনুরূপ বিষয়সমূহ আমাকে এই চল্লিশ হাদিসের সংকলনটি প্রস্তুত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
আমি এটি চারজন খোলাফায়ে রাশেদীনের (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বিবরণের মাধ্যমে শুরু করেছি এবং এই সকল বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
الحديث الأول عن أبي بكر الصديق رضي الله عنهأخبرنا الإمام فقيه الحرم أبو عبد الله محمد بن الفضل الفراوي رحمه الله قراءة عليه وأنا أسمع، سنة ثلاثين وخمسمائة -وفيها مات رحمه الله أخبرنا الشيخ أبو الحسين عبد الغافر بن محمد بن عبد الغافر الفارسي، أخبرنا أبو أحمد محمد بن عيسى بن عمرويه بن منصور الجلودي، أخبرنا أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان الفقيه، حدثنا أبو الحسين مسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري، حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا الليث. ح:
وبه: حدثنا مسلم، وحدثنا محمد بن رمحٍ، أخبرنا الليث، عن
প্রথম হাদিস, আবু বকর আস-সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিতআমাদের সংবাদ দিয়েছেন হারামের ফকিহ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল আল-ফারাওয়ি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম, পাঁচশত ত্রিশ হিজরি সনে - আর এই বছরেই তিনি ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আল-হুসাইন আব্দুল গাফির বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল গাফির আল-ফারিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আমরুয়্যাহ বিন মানসুর আল-জালুদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান আল-ফকিহ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ বিন মুসলিম আল-কুশাইরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবা বিন সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-লাইস। রূপান্তর:
এবং এই সূত্রেই: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম, এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রুমহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-লাইস, বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٦١)
يزيد بن أبي حبيب، عن أبي الخير، عن عبد الله بن عمرو، عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه أنه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: علمني دعاءً أدعو به في صلاتي، قال: قل اللهم إني ظلمت نفسي ظلماً كبيراً -وقال قتيبة: كثيراً- ولا يغفر الذنوب إلا أنت، فاغفر لي مغفرةً من عندك، وارحمني، إنك أنت الغفور الرحيم.
وبه: حدثنا مسلم، قال: وحدثنيه أبو الطاهر، أخبرنا عبد الله بن وهبٍ، قال: أخبرني رجل سماه [و] عن عمرو بن الحارث، عن يزيد بن أبي حبيب، عن أبي الخير، أنه سمع عبد الله بن عمرو بن العاص يقول: أن أبا بكر الصديق رضي الله عنه قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: علمني يا رسول الله دعاءً أدعو به في صلاتي وفي بيتي.. .. ثم ذكر بمثل حديث الليث، غير أنه قال: ظلماً كبيراً.
هذا حديث صحيح، متفق على صحته.
فرواه البخاري في الصلاة عن قتيبة.
ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব, আবুল খায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: "আমাকে একটি দুআ শিখিয়ে দিন যা আমি আমার সালাতে পাঠ করব।" তিনি বললেন: "বলো: হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের ওপর অনেক বেশি জুলুম করেছি—আর কুতাইবা বলেছেন: অত্যন্ত অধিক—এবং আপনি ব্যতীত আর কেউ গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারে না। অতএব, আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে মার্জনা করুন এবং আমার প্রতি রহম করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।"
এবং এই একই সূত্রে: আমাদের নিকট মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবু তাহির এটি বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন: আমাকে একজন ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি আমর ইবনুল হারিস থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসকে বলতে শুনেছেন যে, আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি দুআ শিখিয়ে দিন যা আমি আমার সালাতে এবং আমার ঘরে পাঠ করব..." অতঃপর তিনি লাইসের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি "বিশাল জুলুম" শব্দটি উল্লেখ করেছেন।
এটি একটি সহিহ হাদিস, এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য (মুত্তাফাকুন আলাইহি) রয়েছে।
ইমাম বুখারি এটি কুতাইবা থেকে সালাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
وفي الدعوات عن عبد الله بن يوسف، كلاهما عن الليث.
ورواه في التوحيد عن يحيى بن سليمان، عن ابن وهب، عن عمرو بن الحارث.
ورواه مسلم في التوحيد أيضاً عن قتيبة ومحمد بن رمحٍ، عن الليث.
وفي الدعوات كما أخرجناه.
سمعت من هذا الشيخ صحيح مسلم رحمه الله بكماله، وهو فقيه الحرم أبو عبد الله محمد بن الفضل بن أحمد بن محمد بن أبي العباس الصاعدي الفراوي، أصله من أهل ثغر فراوة، وولد بنيسابور سنة اثنتين وأربعين وأربعمائة، وتوفي بها ضحوة يوم الخميس الثاني والعشرين من شوال سنة ثلاثين وخمسمائة، وكان رحمه الله إماماً مفتياً مناظراً محدثاً واعظاً، أثنى عليه الإمام أبو سعد السمعاني،
এবং আদ-দাওয়াত অধ্যায়ে আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ থেকে বর্ণিত, তারা উভয়েই লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি এটি আত-তাওহীদ অধ্যায়ে ইয়াহইয়া বিন সুলাইমান থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে এবং তিনি আমর বিন হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর ইমাম মুসলিমও এটি আত-তাওহীদ অধ্যায়ে কুতাইবা ও মুহাম্মদ বিন রুমহ থেকে, তারা উভয়ে লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং আদ-দাওয়াত অধ্যায়ে আমরা যেভাবে এটি বর্ণনা করেছি।
আমি এই শাইখের নিকট থেকে পূর্ণাঙ্গ সহীহ মুসলিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) শ্রবণ করেছি; তিনি হলেন হারামের ফকীহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ফজল বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবুল আব্বাস আস-সাঈদী আল-ফারাওয়ী। তাঁর আদি নিবাস ছিল ফারাওয়া সীমান্ত এলাকায় এবং তিনি ৪৪২ হিজরী সনে নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সেখানে ৫৩০ হিজরী সনের ২২শে শাওয়াল বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্ণে ইন্তেকাল করেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) একজন ইমাম, মুফতি, তার্কিক, মুহাদ্দিস ও ওয়ায়েজ ছিলেন; ইমাম আবু সা’দ আস-সামআনী তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
وقال: ما رأيت في شيوخنا مثله، مع كثرة ما لقي من المشايخ.
এবং তিনি বললেন: অনেক শাইখের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের শাইখদের মধ্যে আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
الحديث الثاني عن عمر بن الخطاب رضي الله عنهأخبرنا أبو المعالي محمد بن إسماعيل بن محمد بن الحسين بن القاسم بن عبد الصمد الفارسي رحمه الله أخبرنا أبو عثمان سعيد بن أبي سعيد العيار الصوفي، أخبرنا أبو علي محمد بن عمر بن محمد الشبوي، أخبرنا محمد بن يوسف بن مطر بن صالح بن بشر الفربري، حدثنا أبو عبد الله بن محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় হাদিসআমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মা'আলি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-কাসিম বিন আব্দুস সামাদ আল-ফারিসি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান সাঈদ বিন আবি সাঈদ আল-আইয়ার আস-সুফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি মুহাম্মদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ আশ-শাবুই, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মাতার বিন সালিহ বিন বিশর আল-ফিরাবরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন...
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
المغيرة الجعفي، حدثنا عبد الله بن الزبير الحميدي، حدثنا سفيان بن عيينة، حدثنا يحيى بن سعيد الأنصاري، أخبرني محمد بن إبراهيم التيمي، أنه سمع علقمة بن وقاص الليثي، يقول: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه على المنبر، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئٍ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها، أو امرأةٍ ينكحها، فهجرته إلى ما هاجر إليه.
هذا حديث صحيح، متفق على صحته.
فرواه البخاري في أول كتابه الصحيح كذلك.
ورواه في الإيمان، والنكاح، والعتق، وهجرة النبي صلى الله عليه وسلم، وترك الحيل، والأيمان والنذور، بطرق.
ورواه مسلم في الجهاد.
মুগীরাহ আল-জু’ফী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল যুবাইর আল-হুমাইদী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আত-তাইমী যে, তিনি আলকামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসীকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে হবে অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"
এটি একটি সহীহ হাদিস, এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের শুরুতে একইভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
তিনি এটি ঈমান, বিবাহ, দাসমুক্তি, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিজরত, কৌশল বর্জন এবং শপথ ও মানত অধ্যায়ে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
আর ইমাম মুসলিম এটি জিহাদ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
وغيره بطرق أيضاً.
ولا يروى على الصحة إلا عن يحيى بن سعيد الأنصاري قاضي المدينة بإسناده.
وروي بأسانيد أخر لا يصح منها شيء، والله أعلم.
وشيخنا هذا عدل ثقة، سمع الحديث في صغره مع جده لأمه أبي الحسن عبد الجبار الدهان، وهو آخر من روى الصحيح عن أبي عثمان العيار، وتفرد برواية كتاب السنن الكبير، والمدخل إلى السنن، من تصانيف الأستاذ أبي بكر البيهقي، ولي عنه إجازة
এবং অন্যান্যরাও বিভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর মদিনার বিচারক ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারির সনদ ব্যতীত এটি সহিহ বা বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়নি।
এটি অন্যান্য সনদেও বর্ণিত হয়েছে যেগুলোর কোনটিই সহিহ নয়, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
আমাদের এই শাইখ হলেন ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভরযোগ্য; তিনি তাঁর শৈশবে তাঁর মাতামহ আবুল হাসান আবদুর জব্বার আদ-দাহহানের সাথে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি আবু উসমান আল-আইয়ারের নিকট থেকে 'সহিহ' বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি এবং উস্তাদ আবু বকর আল-বাইহাকির রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত 'আস-সুনান আল-কবীর' ও 'আল-মাদখাল ইলাস সুনান' গ্রন্থদ্বয় বর্ণনায় তিনি একক ছিলেন; আর তাঁর থেকে আমার ইজাজত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
صحيحة، وسمعت منه صحيح البخاري بكماله بهذا الإسناد، ولد في شعبان سنة ثمان وأربعين وأربعمائة، وتوفي رحمه الله ليلة الأحد ثالث جمادى الآخرة سنة ثمان وثلاثين وخمسمائة.
বিশুদ্ধ; এবং আমি তাঁর নিকট থেকে এই সনদে পূর্ণাঙ্গ সহীহ আল-বুখারী শ্রবণ করেছি। তিনি ৪৪৮ হিজরীর শাবান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৩৮ হিজরীর ৩রা জুমাদাল আখিরাত রবিবার রাতে ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
الحديث الثالث عن عثمان بن عفان رضي الله عنهأخبرنا الإمام أبو البركات عبد الله بن محمد بن الفضل الفراوي يوم الأحد السابع عشر من صفر سنة ست وثلاثين وخمسمائة، أخبرنا أبو العباس الفضل بن عبد الواحد بن عبد الصمد، أخبرنا القاضي أبو بكر أحمد بن الحسن الحرشي الحيري، أخبرنا أبو محمد حاجب بن أحمد بن يرحم بن سفيان الطوسي، حدثنا محمد بن حماد، حدثنا عبد الرزاق، عن معمرٍ، عن الزهري، عن عطاء بن يزيد الليثي، عن حمران بن أبانٍ، قال: رأيت عثمان بن عفان توضأ، فأفرغ على يديه ثلاثاً فغسلها، ثم تمضمض واستنشق، ثم غسل وجهه ثلاثاً، ثم غسل يده اليمنى إلى المرفق ثلاثاً، ثم غسل اليسرى مثل ذلك، ثم مسح برأسه، ثم غسل قدمه اليمنى ثلاثاً، ثم اليسرى مثل ذلك، ثم قال: رأيت
উসমান ইবন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত তৃতীয় হাদীসআমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবুল বারাকাত আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবনুল ফাযল আল-ফারাবী, ৫৩৬ হিজরী সনের সফর মাসের সতেরো তারিখ, রবিবার। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-ফাযল ইবন আবদিল ওয়াহিদ ইবন আবদিল সামাদ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযী আবু বকর আহমাদ ইবনুল হাসান আল-হারশী আল-হায়রী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ হাজিব ইবন আহমাদ ইবন ইয়ারহাম ইবন সুফিয়ান আত-তূসী। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন হাম্মাদ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আতা ইবন ইয়াযিদ আল-লাইসী থেকে, তিনি হুমরান ইবন আবান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উসমান ইবন আফফানকে ওযু করতে দেখেছি। তিনি তাঁর দুই হাতের ওপর তিনবার পানি ঢাললেন এবং তা ধৌত করলেন। এরপর তিনি কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন। এরপর তিনবার তাঁর মুখমণ্ডল ধৌত করলেন। এরপর তাঁর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন, এরপর বাম হাতও অনুরূপভাবে ধৌত করলেন। এরপর তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন। এরপর তাঁর ডান পা তিনবার ধৌত করলেন, এরপর বাম পা-ও অনুরূপভাবে ধৌত করলেন। তারপর তিনি বললেন: আমি দেখেছি
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
رسول الله صلى الله عليه وسلم توضأ نحو وضوئي هذا، ثم قال: من توضأ وضوئي هذا ثم صلى ركعتين لا يحدث فيهما نفسه، غفر له ما تقدم من ذنبه.
هذا حديث صحيح متفق على صحته.
فرواه البخاري في الطهارة عن عبد العزيز بن عبد الله، عن إبراهيم بن سعد، عن الزهري.
وعن إبراهيم، عن صالح، عن الزهري.
وعن أبي اليمان، عن شعيب.
وعن عبدان، عن عبد الله، عن معمر، كلاهما عن الزهري.
ورواه مسلم عن أبي الطاهر، وحرملة، عن ابن وهبٍ، عن يونس، عن الزهري.
فكأن بيني وبين الشيخين ثلاثة أنفس، باعتبار هذين الطريقين
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করলেন, অতঃপর বললেন: যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে, তারপর এমনভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে যাতে সে অন্তরে (দুনিয়ার) কোনো কথা না বলে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
এটি একটি সহীহ হাদীস, যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ইমাম বুখারী এটি পবিত্রতা অধ্যায়ে আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবরাহীম ইবনে সাদ থেকে এবং তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর ইবরাহীম থেকে, তিনি সালিহ থেকে এবং তিনি যুহরী থেকে।
আর আবুল ইয়ামান থেকে, তিনি শুয়াইব থেকে।
আর আবদান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তাঁরা উভয়েই যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মুসলিম এটি আবু তাহির ও হারমালাহ থেকে, তাঁরা ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি ইউনুস থেকে এবং তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন।
ফলে এই দুটি সূত্রের বিবেচনায়, আমার এবং শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর মাঝে যেন তিনজন ব্যক্তি রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
الآخرين، وصافحت الفارسي، والعيار الصوفي، والحفصي.
وشيخنا هذا هو: الإمام الزاهد الثقة أبو البركات عبد الله بن الإمام فقيه الحرم أبي عبد الله الفراوي، كان ثقةً عالماً صدوقاً ديناً حسن الأخلاق كثير المشايخ والرواية، ولد سنة أربع وسبعين وأربعمائة، وتوفي سنة تسع وأربعين وخمسمائة بعد إغارة الغز نيسابور، وقيل: أنه مات من الجوع رحمه الله.
অন্যদের সাথে, এবং আমি আল-ফারিসি, আল-আইয়্যার আস-সুফি ও আল-হাফসির সাথে করমর্দন করেছি।
আর আমাদের এই শাইখ হলেন: ইমাম, অনাড়ম্বর, নির্ভরযোগ্য আবু বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন ইমাম ফকিহুল হারাম আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাওয়ি; তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, বিজ্ঞ আলেম, সত্যবাদী, দ্বীনদার, উত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং তাঁর অনেক শাইখ ও বর্ণনা ছিল। তিনি চারশত চুয়াত্তর হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাঁচশত উনপঞ্চাশ হিজরি সনে গাজ্জদের নিশাপুর আক্রমণের পর ইন্তেকাল করেন। আর বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٧١)
الحديث الرابع عن أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنهأخبرنا الشيخ الإمام أبو سعيد طاهر بن زاهر الشحامي، أخبرنا أبو العباس الفضل بن عبد الواحد بن عبد الصمد، أخبرنا القاضي أبو بكر أحمد بن الحسن الحرشي الحيري، حدثنا حاجب بن أحمد الطوسي، حدثنا محمد بن حماد، حدثنا أبو معاوية، عن إسماعيل بن أبي خالد، عن الشعبي، عن أبي جحيفة، قال: سمعت علياً يقول: خير هذه الأمة بعد نبيها أبو بكرٍ، وخيرها بعد أبي بكرٍ عمر، ولو شئت أن أسمي الثالث لفعلت.
وبه: حدثنا محمد بن حماد، حدثنا أبو معاوية، عن هارون بن سلمان مولى عمرو بن حريث، عن عمرو بن حريث، قال: سمعت علياً يقول: خير هذه الأمة بعد نبيها أبو بكرٍ، وخيرها بعد أبي بكرٍ عمر، ولو شئت أن أسمي الثالث لفعلت.
আমিরুল মুমিনিন আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত চতুর্থ হাদিসআমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ ইমাম আবু সাঈদ তাহির বিন জাহির আশ-শাহামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আল-ফাদল বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুস সামাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাদি আবু বকর আহমাদ বিন আল-হাসান আল-হারাশি আল-হাইরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজিব বিন আহমাদ আত-তুসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন হাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, তিনি ইসমাঈল বিন আবি খালিদ হতে, তিনি আশ-শা’বি হতে, তিনি আবু জুহাইফা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলীকে বলতে শুনেছি: এই উম্মতের নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, এবং আবু বকরের পর শ্রেষ্ঠ হলেন উমর। আর আমি যদি তৃতীয় ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতে চাইতাম, তবে অবশ্যই করতাম।
এবং একই সূত্রে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন হাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, তিনি আমর বিন হুরাইসের মুক্তদাস হারুন বিন সালমান হতে, তিনি আমর বিন হুরাইস হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলীকে বলতে শুনেছি: এই উম্মতের নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, এবং আবু বকরের পর শ্রেষ্ঠ হলেন উমর। আর আমি যদি তৃতীয় ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতে চাইতাম, তবে অবশ্যই করতাম।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
وبه: حدثنا أبو محمد حاجب بن أحمد بن يرحم بن سفيان الطوسي، حدثنا عبد الله بن هاشم، حدثنا وكيع، حدثنا شعبة، عن الحكم، عن يحيى بن الجزار، عن علي قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يوم الخندق على فرضةٍ من فرض الخندق، فقال: شغلونا عن صلاة الوسطى صلاة العصر حتى غابت الشمس، ملأ الله قبورهم، أو بيوتهم، أو بطونهم، أو أجوافهم - ناراً.
حديث صحيح.
أخرجه مسلم في الصلاة عن أبي بكر بن أبي شيبة وزهير، عن وكيع.
وعن عبيد الله بن معاذ، عن أبيه، كلاهما عن شعبة.
وقع إلي عالياً، فكأن بيني وبين مسلم ثلاثة أنفسٍ، وكأني صافحت أبا الحسين عبد الغافر بن محمد الفارسي، وسمعت منه.
وشيخنا هذا هو: الإمام الثقة العدل أبو سعيد طاهر بن زاهر بن طاهر بن محمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن يوسف بن محمد بن
এবং তাঁর মাধ্যমেই: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ হাজিব ইবন আহমাদ ইবন ইয়ারহাম ইবন সুফিয়ান আত-তুসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন হাশিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, হাকাম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনুল জায্যার থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খন্দকের যুদ্ধের দিন খন্দকের একটি প্রবেশপথে ছিলেন, তখন তিনি বললেন: "তারা আমাদের মধ্যবর্তী সালাত অর্থাৎ আসরের সালাত থেকে বিরত রেখেছে যতক্ষণ না সূর্য ডুবে গেছে। আল্লাহ তাদের কবরসমূহ, অথবা তাদের ঘরসমূহ, অথবা তাদের উদরসমূহ, অথবা তাদের দেহভ্যন্তর আগুন দিয়ে পূর্ণ করে দিন।"
হাদিসটি সহিহ।
ইমাম মুসলিম এটি সালাত অধ্যায়ে আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ ও জুহাইর থেকে, তারা ওয়াকি থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং উবায়দুল্লাহ ইবন মুয়াজ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তারা উভয়েই শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
এটি আমার নিকট উচ্চ সনদে পৌঁছেছে, ফলে যেন আমার এবং ইমাম মুসলিমের মধ্যে মাত্র তিনজন ব্যক্তি রয়েছেন এবং যেন আমি আবুল হুসাইন আব্দুল গাফির ইবন মুহাম্মদ আল-ফারিসির সাথে মুসাফাহা করেছি এবং তাঁর থেকে শ্রবণ করেছি।
আমাদের এই শাইখ হলেন: বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ ইমাম আবু সাঈদ তাহির ইবন জাহির ইবন তাহির ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ইবন মুহাম্মদ ইবন
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٧٣)
المرزبان بن علي بن عبد الله بن المرزبان الشحامي، ولد في شهور سنة اثنتين وثمانين وأربعمائة، بنيسابور، وتوفي بها في أواخر شوال سنة اثنتين وأربعين وخمسمائة.
وحديث أبي جحيفة عن علي رضي الله عنه حديث غريب.
وقول علي رضي الله عنه: (ولو شئت أن أسمي الثالث لفعلت) لم يرد به نفسه، لما أخبرنا المشايخ العشرون قالوا: أخبرنا أبو بكر أحمد بن علي بن عبد الله بن عمرو بن خلف الشيرازي، أخبرنا الحاكم أبو عبد الله محمد بن عبد الله الحافظ، أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن الحسن بن أيوب الطوسي، أخبرنا أبو حاتم الرازي، حدثنا محمد بن كثير، أخبرنا سفيان، حدثنا جامع بن أبي راشد، حدثنا أبو يعلى منذر بن يعلى الثوري، عن محمد بن الحنفية، قال: قلت لأبي يا أبة، أي الناس خيرٌ بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: أبو بكر، قلت: ثم من؟ قال: ثم عمر،
আল-মারজুবান বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মারজুবান আশ-শাহহামী চারশত বিরাশি হিজরি সালের কোনো এক মাসে নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে পাঁচশত বিয়াল্লিশ হিজরি সালের শাওয়াল মাসের শেষের দিকে মৃত্যুবরণ করেন।
আর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আবু জুহাইফার হাদিসটি একটি গরিব হাদিস।
এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বক্তব্য: (আর আমি যদি তৃতীয় ব্যক্তির নাম বলতে চাইতাম, তবে অবশ্যই তা করতাম) - এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে উদ্দেশ্য করেননি; কারণ বিশজন শায়খ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন খালাফ আশ-শিরাজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান বিন আইয়ুব আত-তুসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাতিম আর-রাজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন কাসির, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জামে বিন আবি রাশিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা মুনজির বিন ইয়ালা আস-সাওরি, মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বললাম, হে প্রিয় পিতা! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে? তিনি বললেন: আবু বকর। আমি বললাম: তারপর কে? তিনি বললেন: তারপর উমর।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٧٤)
وخشيت أن أقول: ثم من؟ فيقول: كذا، فقلت: ثم أنت يا أبة، فقال: ما أنا إلا رجلٌ من المسلمين.
هذا حديث صحيح.
أخرجه البخاري في كتابه عن محمد بن كثير.
وأبي جحيفة اسمه: وهب بن عبد الله السوائي، صحابي، سمع النبي صلى الله عليه وسلم. أخرج عنه أصحاب الصحاح، في الصحيحين أربعة عشر أحاديث.
ولم يخرجا هذا الحديث، مع أنه من شرطهما، مع أنه حديث غريب عجيب، لأنه رواية الصحابي عن الصحابي، ورواه الشعبي -واسمه: عامر بن شراحيل- عن أبي جحيفة، عن علي، مع أنه أدرك علياً رضي الله عنه وروى عنه، ورواه إسماعيل بن أبي خالد عن الشعبي عن أبي جحيفة، مع أنه أدرك أبا جحيفة وروى عنه غير حديث في الصحيحين، والله أعلم.
এবং আমি আশঙ্কা করলাম যে, আমি যদি বলি: ‘তারপর কে?’, তবে তিনি হয়তো অন্য কারও নাম বলবেন। তাই আমি বললাম: ‘তারপর আপনি, হে আব্বাজান!’ তিনি বললেন: ‘আমি তো মুসলিমদের মধ্য থেকে একজন সাধারণ মানুষ মাত্র।’
এটি একটি সহীহ হাদিস।
ইমাম বুখারী এটি তাঁর গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে কাসীর থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর আবু জুহাইফার নাম হলো: ওয়াহাব ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সুওয়াই। তিনি একজন সাহাবী, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে শুনেছেন। সিহাহ গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। সহীহাইনের (বুখারী ও মুসলিম) মধ্যে তাঁর চৌদ্দটি হাদিস রয়েছে।
তবে তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি, যদিও এটি তাঁদের নির্ধারিত শর্তানুযায়ী ছিল। এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার ও বিরল হাদিস; কারণ এটি একজন সাহাবীর বর্ণনা অপর একজন সাহাবী থেকে। আর শা’বী—যাঁর নাম: আমির ইবনে শারাহিল—এটি আবু জুহাইফা থেকে এবং তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেছেন; অথচ তিনি (শা’বী) আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে পেয়েছেন এবং তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবার ইসমাইল ইবনে আবু খালিদ এটি শা’বী থেকে এবং তিনি আবু জুহাইফা থেকে বর্ণনা করেছেন; অথচ তিনিও (ইসমাইল) আবু জুহাইফাকে পেয়েছেন এবং সহীহাইনের মধ্যে তাঁর থেকে অন্য হাদিসও বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٧٥)
الحديث الخامس عن طلحة بن عبيد الله رضي الله عنهأخبرنا الإمام أبو بكر وجيه بن طاهر بن محمد بن محمد الشحامي الخطيب، أخبرنا أبو سهل محمد بن أحمد بن عبيد الله الحفصي، أخبرنا أبو الهيثم محمد بن المكي الكشميهني، أخبرنا أبو عبد الله محمد بن يوسف الفربري، حدثنا أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، حدثني إسماعيل، حدثني مالك بن أنس، عن عمه أبي سهيل بن مالك، عن أبيه، أنه سمع طلحة بن عبيد الله يقول: جاء رجلٌ إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من أهل نجدٍ، ثائر الرأس، نسمع دوي صوته ولا نفقه ما يقول، حتى دنا، فإذا هو يسأل عن الإسلام، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: خمس صلواتٍ في اليوم والليلة. فقال: هل علي غيرها؟ قال: لا، إلا أن تطوع. قال رسول الله: وصيام رمضان. قال: هل علي غيره؟ قال: لا،
তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত পঞ্চম হাদীসইমাম আবু বকর ওয়াজইহ বিন তাহির বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আশ-শাহহামি আল-খতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাহল মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উবায়দুল্লাহ আল-হাফসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাইসাম মুহাম্মাদ বিন আল-মাক্কি আল-কুশমিহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-ফিরাবরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসমাইল আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, মালিক বিন আনাস তাঁর চাচা আবু সুহাইল বিন মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তালহা ইবন উবায়দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: নজদবাসীদের মধ্য থেকে উস্কোখুস্কো চুলের এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। আমরা তাঁর কণ্ঠের গুনগুন শব্দ শুনছিলাম কিন্তু তিনি কী বলছিলেন তা বুঝতে পারছিলাম না, যতক্ষণ না তিনি নিকটবর্তী হলেন। তখন জানা গেল যে তিনি ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া আরও কিছু কর্তব্য আছে? তিনি বললেন: না, তবে তুমি যদি স্বেচ্ছায় নফল হিসেবে কিছু করো। রাসুলুল্লাহ বললেন: এবং রমজানের সিয়াম। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া আর কিছু আছে? তিনি বললেন: না,
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٧٦)
إلا أن تطوع. قال: فقال رسول الله: الزكاة. فقال: هل علي غيرها؟ قال: لا، إلا أن تطوع. قال: فأدبر الرجل، وهو يقول: والله لا أزيد على هذا ولا أنقص. قال رسول الله: أفلح الرجل إن صدق.
هذا حديث صحيح، متفق على صحته.
فرواه البخاري كذلك في كتاب الإيمان.
وعن قتيبة عن إسماعيل بن جعفر، عن أبي سهيل.
ورواه مسلم عن قتيبة، عن مالك.
وعن يحيى بن أيوب وقتيبة، عن إسماعيل بن جعفر، عن أبي سهيل.
وشيخنا هذا هو: الإمام أبو بكر وجيه بن طاهر بن محمد بن محمد بن أحمد بن يوسف بن محمد بن المرزبان الشحامي، أخو أبي القاسم زاهر بن طاهر الأصغر منه، سمعه أبوه الكثير ورحل بنفسه إلى بغداد وهراة، وأدرك الشريف أبا نصرٍ محمد بن محمد بن علي الزينبي، وسمع منه، وكان يفتخر به، ولد بنيسابور صبيحة يوم الثلاثاء
তবে যদি তুমি নফল (স্বেচ্ছায়) কিছু করো। বর্ণনাকারী বলেন: অত:পর আল্লাহর রাসূল বললেন: জাকাত। সে বলল: আমার ওপর কি এছাড়া অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: না, তবে যদি তুমি নফল (স্বেচ্ছায়) কিছু করো। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর লোকটি প্রস্থান করল এবং সে বলছিল: আল্লাহর শপথ, আমি এর চেয়ে বেশিও করব না এবং কমও করব না। আল্লাহর রাসূল বললেন: লোকটি সফল হলো যদি সে সত্য বলে থাকে।
এটি একটি সহীহ হাদিস, এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে।
ইমাম বুখারী এটি একইভাবে ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
এবং কুতাইবা থেকে, তিনি ইসমাইল বিন জাফর থেকে, তিনি আবু সুহাইল থেকে।
আর ইমাম মুসলিম এটি কুতাইবা থেকে এবং তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব ও কুতাইবা থেকে, তারা ইসমাইল বিন জাফর থেকে, তিনি আবু সুহাইল থেকে।
এবং আমাদের এই শাইখ হলেন: ইমাম আবু বকর ওয়াজিহ বিন তাহির বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মারযুবান আশ-শাহামি, তিনি আবুল কাসিম জাহির বিন তাহিরের ছোট ভাই। তার পিতা তার জন্য অনেক (হাদিস) শ্রবণ করেছেন এবং তিনি নিজেও বাগদাদ ও হিরাতে সফর করেছেন। তিনি আশ-শরিফ আবু নাসর মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি আজ-জাইনাবিকে পেয়েছেন এবং তাঁর থেকে হাদিস শুনেছেন, আর তিনি তাঁকে নিয়ে গর্ব করতেন। তিনি নিশাপুরে মঙ্গলবার ভোরে জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٧٧)
منتصف شوال سنة خمس وخمسين وأربعمائة، وتوفي بها ضحوة يوم الاثنين بعدما توضأ ثامن عشر جمادى الآخرة سنة إحدى وأربعين وخمسمائة، سمعت منه صحيح البخاري من أوله إلى آخره بهذا الإسناد بحمد الله ومنه.
৪৫৫ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে, এবং ৫৪১ হিজরি সনের আঠারোই জুমাদাল আখিরাহ সোমবার চাশতের সময় অযু করার পর তিনি সেখানে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর অনুগ্রহে আমি এই সনদে তাঁর নিকট থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহীহ আল-বুখারী শ্রবণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٧٨)
الحديث السادس عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنهأخبرنا أبو منصور عبد الخالق بن زاهر الشحامي وآخرون، قالوا: أخبرنا أبو بكر أحمد بن علي بن خلف الشيرازي، أخبرنا أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن البيع، أخبرني أبو القاسم عبد الرحمن بن الحسن القاضي بهمذان، حدثنا إبراهيم بن الحسين، حدثنا آدم بن أبي إياس، حدثنا شعبة، عن الأعمش، عن زيد بن وهبٍ، عن عبد الله، قال: حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الصادق المصدوق: إن خلق أحدكم يجمع في بطن أمه أربعين يوماً، ثم يكون علقةً مثل ذلك، ثم يكون مضغةً مثل ذلك، ثم يبعث إليه الملك فيؤمر بأربعةٍ: برزقه وعمله وأجله وشقي أو سعيدٌ، وإن أحدكم، أو أن الرجل ليعمل بعمل أهل النار، حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراعٌ، أو غير ذراعٍ فيسبق عليه الكتاب، فيعمل بعمل أهل الجنة فيدخلها، وإن الرجل ليعمل بعمل أهل الجنة حتى
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত ষষ্ঠ হাদীসআমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর আবদুল খালিক বিন যাহির আশ-শাহামি এবং অন্যান্যরা, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন খালাফ আশ-শিরাজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-বায়্যি, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হামাদানের আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান বিন আল-হাসান আল-কাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আল-হুসাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদম বিন আবি ইয়াস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আমাশ থেকে, তিনি যায়িদ বিন ওয়াহাব থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—আর তিনি হলেন সত্যবাদী ও আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যায়িত: "নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত জমা রাখা হয়, এরপর তা অনুরূপ সময়ে জমাট রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়, এরপর তা অনুরূপ সময়ে মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়। অতঃপর তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠানো হয় এবং তাকে চারটি বিষয় (লেখার) নির্দেশ দেওয়া হয়: তার রিযিক, তার আমল, তার আয়ুষ্কাল এবং সে কি দুর্ভাগা নাকি সৌভাগ্যবান। আর তোমাদের মধ্যে কেউ—অথবা কোনো ব্যক্তি—জাহান্নামীদের মতো আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাত বা তারও কম ব্যবধান অবশিষ্ট থাকে, এমন সময় তার ওপর তাকদীরের লিখন প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতীদের মতো আমল করে এবং তাতে প্রবেশ করে। আর নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি জান্নাতীদের মতো আমল করতে থাকে যতক্ষণ না..."
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٧٩)
ما يكون بينه وبينها غير ذراعٍ، فيسبق عليه الكتاب، فيعمل [بعمل] أهل النار فيدخلها.
حديث متفق على صحته.
فرواه البخاري عن آدم.
ورواه مسلم عن عبيد الله بن معاذ، عن أبيه، عن شعبة.
وروياه بطرقٍ أخر.
وقع إلي عالياً موافقةً عن البخاري، وكأن بيني وبين ومسلم ثلاثة أنفس، وكأني رأيت أبا الحسين الفارسي وصافحته بحمد الله ومنه.
واسم الأعمش: سليمان بن مهران، والأعمش لقب.
এমনকি তার এবং তার (জান্নাতের) মাঝে মাত্র এক হাতের ব্যবধান থাকে, এমতাবস্থায় তাকদির তার ওপর প্রবল হয়, অতঃপর সে জাহান্নামীদের আমল করে এবং তাতে প্রবেশ করে।
এটি একটি সর্বসম্মত সহিহ হাদিস।
ইমাম বুখারি এটি আদম থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর ইমাম মুসলিম এটি ওবায়দুল্লাহ ইবনে মুয়াজ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি শু’বা থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং তাঁরা উভয়ই এটি অন্যান্য সূত্রেও বর্ণনা করেছেন।
এটি ইমাম বুখারির সনদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি উচ্চতর সনদে আমার নিকট পৌঁছেছে। যেন আমার এবং ইমাম মুসলিমের মাঝে মাত্র তিনজন ব্যক্তি রয়েছেন। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে আমি যেন আবুল হোসেন আল-ফারসিকে দেখেছি এবং তাঁর সাথে মুসাফাহা করেছি।
আল-আ’মাশের নাম হলো সুলাইমান ইবনে মিহরান, আর আল-আ’মাশ তাঁর উপাধি।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٨٠)
وشيخنا أبو منصور عبد الخالق بن زاهر بن طاهر بن محمد بن محمد بن أحمد بن يوسف الشحامي، شيخ عالم ثقة صدوق فاضل متميز، استملى على المشايخ سنين، وسمعه أبوه الكثير، واستملى عن أبيه نيابة، ثم استملى أصالة، ثم جلس مكان أبيه فأملى الحديث وكتبوا عنه، وبيتهم بيت الحديث:
كان أبوه زاهر، وعمه وجيه.
وزوجته أم سلمة ستيك.
وأخواه: طاهر، والفضل.
وأختاه: سعيدة، وجوهرناز.
আমাদের শায়খ আবু মানসুর আবদুল খালিক বিন যাহির বিন তাহির বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইউসুফ আল-শাহহামি; তিনি একজন প্রাজ্ঞ আলেম, নির্ভরযোগ্য, অত্যন্ত সত্যবাদী, বিদগ্ধ ও বিশিষ্ট শায়খ। তিনি দীর্ঘ বছর মাশায়েখদের মজলিসে শ্রুতিলেখকের (মুস্তামলি) দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পিতা তাকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করিয়েছেন। তিনি প্রথমে তার পিতার প্রতিনিধি হিসেবে শ্রুতিলেখন করিয়েছেন এবং পরবর্তীতে মৌলিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর তিনি তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হন এবং হাদিস ইমলা (শ্রুতলিপি প্রদান) করেন এবং ছাত্ররা তার নিকট থেকে তা লিপিবদ্ধ করেন। তাদের পরিবার ছিল ইলমে হাদিসের একটি নিবেদিত ঘরানা:
তার পিতা ছিলেন যাহির এবং তার চাচা ছিলেন ওয়াজইহ।
তার স্ত্রী ছিলেন উম্মে সালামাহ সুতাইক।
তার দুই ভাই: তাহির ও আল-ফজল।
তার দুই বোন: সাঈদা ও জওহারনাজ।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٨١)
وابنه: عبد الجبار.
وأولاد عمه: بكر، ومحمد، والخليل، ويوسف، وكامل، أولاد أبي بكر وجيه.
وولدا عمه الآخر: أبو المظفر عبد الكريم، وفاطمة، ولدا خلف.
وولدا عمته: أبو البركات عبد الله وشريفة، ولد فقيه الحرم محمد بن الفضل الفراوي، وهما ولدا طريفة بنت طاهر بن محمد الشحامي. وغيرهم كانوا يروون الحديث، قرأ على جميعهم الإمام أبو سعد السمعاني وغيره.
এবং তাঁর পুত্র: আব্দুল জব্বার।
এবং তাঁর চাচার সন্তানগণ: বকর, মুহাম্মদ, আল-খালিল, ইউসুফ এবং কামিল; তাঁরা আবু বকর ওয়াজিহ-এর সন্তান।
এবং তাঁর অপর চাচার দুই সন্তান: আবুল মুজাফফর আব্দুল কারিম এবং ফাতিমা; তাঁরা খালাফ-এর দুই সন্তান।
এবং তাঁর ফুফুর দুই সন্তান: আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ এবং শারিফাহ; তাঁরা ফকিহুল হারাম মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আল-ফারাবির সন্তান, আর এই দুজন তরিফাহ বিনতে তাহির বিন মুহাম্মদ আশ-শাহামির সন্তান। তাঁরা ছাড়াও আরও অনেকে হাদিস বর্ণনা করতেন, ইমাম আবু সাদ আস-সামআনি এবং অন্যান্যরা তাঁদের সকলের নিকট হাদিস পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٨٢)
ولد يوم السبت الرابع والعشرين من ربيع الأول سنة خمس وسبعين وأربعمائة، وآخر أمره أن عسكر الغز أغاروا على نيسابور في شوال سنة تسع وأربعين وخمسمائة ففقد شيخنا هذا، ومات في العقوبة والمطالبة، رحمه الله.
তিনি চারশ পঁচাত্তর হিজরি সনের চব্বিশে রবিউল আউয়াল শনিবার জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জীবনের শেষ পরিণতি এই ছিল যে, পাঁচশ ঊনপঞ্চাশ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে ওগুজ বাহিনী নিশাপুরে আক্রমণ চালায়, তখন আমাদের এই শাইখ নিখোঁজ হন এবং তিনি নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٨٣)
الحديث السابع عن عائشة رضي الله عنهاأخبرنا أبو المظفر عبد الكريم بن خلف الشحامي وآخرون، أخبرنا أبو بكر أحمد بن علي بن خلف الشيرازي، أخبرنا أبو عبد الله محمد بن عبد الله الحاكم، أخبرنا أبو العباس القاسم بن القاسم السياري بمرو، حدثنا أبو الموجه محمد بن عمرو الفزاري، أخبرنا عبدان بن عثمان، أخبرنا إبراهيم بن سعد، عن أبيه، عن القاسم بن محمد، عن عائشة، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من أحدث في ديننا ما ليس منه فهو رد.
حديث متفق على صحته.
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত সপ্তম হাদিসআমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুজাফফর আব্দুল কারিম ইবন খালাফ আশ-শাহামি ও অন্যান্যরা, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবন আলী ইবন খালাফ আশ-শিরাজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-হাকিম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মার্ভ শহরের আবু আব্বাস আল-কাসিম ইবন আল-কাসিম আস-সাইয়ারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াজ্জাহ মুহাম্মদ ইবন আমর আল-ফাজারি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদান ইবন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবন সাদ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি কাসিম ইবন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।
হাদিসটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম একমত পোষণ করেছেন (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।
(খণ্ড: ১)
আল-আরবাঊনা লিল মুআইয়্যাদি বিন মুহাম্মাদ আত-তূসী
(পৃষ্ঠা: ٨٤)
فرواه البخاري عن يعقوب بن إبراهيم، عن أبيه.
ورواه مسلم عن محمد بن الصباح وعبد الله بن عونٍ، عن إبراهيم بن سعد الزهري.
قال الحاكم: حدثونا عن عبد الله بن أحمد بن حنبل عن أبيه أنه قال: ينبغي أن يبتدأ بهذه الأحاديث في كل تصنيف، فإنها أصول الحديث.
يعني هذا الحديث، وحديث عبد الله بن مسعود الذي تقدم، وحديث الأعمال بالنية.
وشيخنا هذا أبو المظفر عبد الكريم بن خلف بن طاهر بن محمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن يوسف بن محمد بن المرزبان، من بيت الحديث، وكان أحد العدول عند القاضي، ولد في السادس والعشرين من شهر رمضان سنة ست وستين وأربعمائة بنيسابور، وتوفي بها يوم الخميس سلخ جمادى الأولى سنة إحدى وأربعين وخمسمائة.
ইমাম বুখারি এটি ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর ইমাম মুসলিম এটি মুহাম্মদ ইবনুল সাব্বাহ ও আবদুল্লাহ ইবনে আউন থেকে, তাঁরা ইবরাহিম ইবনে সা’দ আল-জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন।
আল-হাকিম বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: প্রতিটি গ্রন্থ সংকলনের শুরুতে এই হাদিসগুলো দিয়ে আরম্ভ করা বাঞ্ছনীয়, কারণ এগুলো হলো হাদিসের মূল ভিত্তি।
অর্থাৎ এই হাদিসটি, এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের সেই হাদিসটি যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং নিয়ত সংক্রান্ত হাদিসটি।
আর আমাদের এই শায়খ হলেন আবুল মুজাফফর আবদুল কারিম ইবনে খালাফ ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মারজুবান; তিনি একটি হাদিস বিশারদ পরিবারের সন্তান ছিলেন এবং বিচারকের নিকট অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হতেন। তিনি ৪৬৬ হিজরি সনের ২৬ শে রমজান নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ৫৪১ হিজরি সনের জুমাদাল উলার শেষ দিন বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন।