(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: -)
الديباج للختلي   (إسحاق بن إبراهيم الختلي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: كتاب الديباج

المؤلف: إسحاق بن إبراهيم بن سنين أبو القاسم الخَتْلي (ت 283 هـ)

المحقق: إبراهيم صالح [ت 1443 هـ]

الناشر: دار البشائر

الطبعة: الأولى، 1994

عدد الصفحات: 116

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433

খুততালির আদ-দিবাজ   (ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-খুততালি)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: কিতাবুল দিবাজ

লেখক: ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন সানিন আবু আল-কাসিম আল-খুততালি (মৃত ২৮৩ হি.)

সম্পাদক: ইব্রাহিম সালিহ [মৃত ১৪৪৩ হি.]

প্রকাশক: দারুল বাশা ইরি

সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৬

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: -)
نوادر الرسائل (4)

 

كتاب الديباج

 

تأليف

أبي القاسم إسحاق بن إبراهيم بن محمد الختلي

المتوفى سنة 283 هـ

 

عني بتحقيقه

إبراهيم صالح

 

دار البشائر

 

الطبعة الأولى

1994
বিরল পত্রাবলি (৪)

 

কিতাবুদ দিবাজ

 

রচনায়

আবুল কাসিম ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-খাত্তালি

মৃত্যু ২৮৩ হিজরি

 

সম্পাদনায়

ইব্রাহিম সালিহ

 

দারুল বাশায়ির

 

প্রথম সংস্করণ

১৯৯৪
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌الجزء الأول كتاب الديباج

تأليف أبي القاسم إسحاق بن إبراهيم [بن محمد بن خازم] بن سنين الختلي رضي الله عنه

رواية أبي عمرو عثمان بن أحمد بن عبد الله بن يزيد الدقاق، عنه.

رواية أبي الحسن محمد بن عبيد الله بن محمد الحنائي، عنه

رواية أبي عبد الله الحسين بن أحمد بن محمد النعال، عنه

رواية شهدة بنت أحمد بن الفرج بن أحمد الإبري، عنه

رواية الحافظ تقي الدين أبي محمد عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي، عنها
প্রথম খণ্ড: কিতাব আল-দিবাজ

রচনায়: আবু আল-কাসিম ইসহাক বিন ইব্রাহিম [বিন মুহাম্মাদ বিন খাযিম] বিন সুনাইন আল-খুতালি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)

বর্ণনায়: আবু আমর উসমান বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযিদ আদ-দাক্কাক, তাঁর থেকে।

বর্ণনায়: আবু আল-হাসান মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-হিন্নায়ী, তাঁর থেকে।

বর্ণনায়: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আন-নাআল, তাঁর থেকে।

বর্ণনায়: শুহদাহ বিনতে আহমাদ বিন আল-ফারাজ বিন আহমাদ আল-ইবরি, তাঁর থেকে।

বর্ণনায়: হাফিজ তাকিউদ্দিন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি, তাঁর থেকে।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢١)
بسم الله الرحمن الرحيم رب يسر وأعن

أخبرنا الشيخ الإمام الحافظ تقي الدين، أبو محمد، عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي، مد الله في عمره، قال: أخبرتنا شهدة بنت أحمد بن الفرج بن عمر الإبري، أنبا أبو عبد الله الحسين بن أحمد بن محمد بن طلحة النعال؛ [أنبا أبو الحسن محمد بن عبيد الله] بن محمد الحنائي، في يوم الأحد، الثاني عشر، من [شهر] ربيع الآخر، سنة عشر وأربعمئة، في مسجده بدرب الديزج؛ أخبرنا أبو عمرو عثمان بن أحمد بن عبد الله بن يزيد الدقاق، المعروف بابن السماك، قراءة عليه:

1 - حدثنا أبو القاسم إسحاق بن إبراهيم بن سنين الختلي؛ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَفَّانَ الصوفي، ثنا محمد بن مجيب الصائغ، ثنا جعفر ابن مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي رَأَيْتُ عَلَى الْعَرْشِ مَكْتُوبًا: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، عُمَرُ الْفَارُوقُ، عُثْمَانُ ذُو النُّورَيْنِ يقتل مظلوماً)).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আমার প্রতিপালক, সহজ করে দিন ও সাহায্য করুন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শেখ, ইমাম, হাফেজ তাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল গণি বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরুর আল-মাকদিসি—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুহদাহ বিনতে আহমদ বিন আল-ফারাজ বিন উমর আল-ইবরি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন তালহা আন-নিআল; [সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ] বিন মুহাম্মদ আল-হিনাই, রবিবার, ১২ই রবিউল আখের, ৪১০ হিজরি সনে, দারবুল দিজাজে তাঁর মসজিদে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আদ-দাক্কাক, যিনি ইবনুস সাম্মাক নামে পরিচিত, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে:

১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন সিনিন আল-খুতালি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুর রহমান বিন আফফান আস-সুফি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুজীব আস-সাইগ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মদ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে রাতে আমাকে নৈশভ্রমণ করানো হয়েছিল, আমি আরশের ওপর লিখিত দেখেছিলাম: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, আবু বকর সিদ্দিক, উমর ফারুক, উসমান যুন-নুরাইন মজলুম হিসেবে নিহত হবেন।"
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢١)
2 - عَنْ [عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُعَلَّى -يَعْنِي الْكُوفِيَّ-] عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: ⦗ص: 22⦘ قَالَ رجلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فِي عُثْمَانَ رضي الله عنه:

وَكَفَّ يَدَيْهِ ثُمَّ أَغْلَقَ بَابَهُ … وَأَيْقَنَ أَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِغَافِلِ

وَقَالَ لأَهْلِ الدَّارِ: أَنْ لا تُقَاتِلُوا … عَفَا اللَّهُ عَنْ ذَنْبِ امْرِئٍ لَمْ يُقَاتِلِ

فَكَيْفَ رَأَيْتَ اللَّهَ أَلْقَى عَلَيْهِمُ العداوة … وَالْبَغْضَاءَ بَعْدَ التَّوَاصُلِ

وَكَيْفَ رَأَيْتَ الْخَيْرَ أَدْبَرَ بَعْدَهُ … عَنِ النَّاسِ إِدْبَارَ النَّعَامِ الْجَوَافِلِ
২ - [আবদুল্লাহ ইবনুল মুআল্লাহ - অর্থাৎ কুফী -] থেকে বর্ণিত, উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ আনসারদের জনৈক ব্যক্তি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে বলেছেন:

তিনি তাঁর হাত দুটি গুটিয়ে নিয়েছিলেন, অতঃপর তাঁর দরজা বন্ধ করেছিলেন … আর তিনি সুনিশ্চিত ছিলেন যে, আল্লাহ মোটেও উদাসীন নন।

তিনি ঘরের অধিবাসীদের বলেছিলেন: তোমরা লড়াই করো না … আল্লাহ সেই ব্যক্তির গুনাহ ক্ষমা করুন যে লড়াই করেনি।

তুমি কীভাবে দেখলে যে আল্লাহ তাদের মধ্যে শত্রুতা নিক্ষেপ করলেন … এবং পারস্পরিক সুসম্পর্কের পর ঘৃণা সৃষ্টি করলেন?

আর তুমি কীভাবে দেখলে যে তাঁর পরে কল্যাণ পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল … মানুষের নিকট থেকে পলায়নপর উটপাখির দ্রুত পলায়নের মতো।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
3 - وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُعَلَّى، عَنْ يُونُسَ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ بَعْضِ أَشْيَاخِهِ، قَالَ:

قَالَ رَاعِي الإِبِلِ النُّمَيْرِيُّ فِي عُثْمَانَ رضي الله عنه:

عَشِيَّةَ يَدْخُلُونَ بِغَيْرِ إِذْنٍ … عَلَى متوكلٍ أَوْفَى وَطَابَا

خَلِيلِ محمدٍ وَوَزِيرِ صدقٍ … وَرَابِعِ خَيْرِ مَنْ وَطِئَ التُّرَابَا
৩ - এবং আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুআল্লা, ইউনুস ইবনুল হাকাম থেকে, তিনি তাঁর জনৈক উস্তাদের সূত্রে, তিনি বলেন:

উট-চালক আন-নুমাইরি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে বলেছেন:

সেই বিকেলে যখন তারা অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করল … এমন এক ভরসাকারীর নিকট যিনি ছিলেন প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ও নিষ্কলুষ

মুহাম্মাদের বন্ধু ও সত্যনিষ্ঠ উজির … এবং মাটির ওপর পদচারণাকারী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে চতুর্থজন
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
4 - [حدثنا القاسم بن أبي علي الكوفي، نا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَمْرٍو الْخُرَاسَانِيُّ، عَنْ جَرِيرٍ،] عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((لَيْسَ فِي الْجَنَّةِ شجرةٌ إِلا وَعَلَى كُلِّ ورقةٍ مِنْهَا مكتوبٌ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، عُمَرُ الْفَارُوقُ، عُثْمَانُ ذُو النُّورَيْنِ، رضي الله عنهم).
৪ - [আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবনে আবি আলি আল-কুফি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে আমর আল-খুরাসানি, তিনি জারির থেকে,] লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((জান্নাতে এমন কোনো বৃক্ষ নেই যার প্রতিটি পাতায় এটি লিখিত নেই: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আবু বকর আস-সিদ্দিক, উমর আল-ফারুক, উসমান যুন-নুরাইন, আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন)।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
5 - [حَدَّثَنَا السَّرِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ،] عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((لَمَّا أُسْرِيَ بِي نَظَرْتُ إِلَى الْعَرْشِ، فَإِذَا فريدةٌ خَضْرَاءُ مكتوبٌ فِيهَا بِقَلَمٍ أَبْيَضَ مِنْ نورٍ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، محمدٌ رَسُولُ اللَّهِ، أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه).
৫ - [আস-সারী ইবন আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন ফুযাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবন জুরাইজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন,] আতা থেকে বর্ণিত, তিনি আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, আমি আরশের দিকে তাকালাম, তখন দেখলাম একটি সবুজ মণি যাতে নূরের তৈরি একটি সাদা কলম দিয়ে লেখা রয়েছে: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আবু বকর আস-সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু))।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
6 - [ .. .. ] عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمَا كُنْتَ بِجَانِبِ الطُّورِ إِذْ نادينا ولكن} قَالَ: ((كَتَبَ اللَّهُ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ الْخَلْقَ بِأَلْفَيْ عامٍ، فِي وَرَقَةِ آسٍ، ثُمَّ وَضَعَهَا مَعَهُ عَلَى الْعَرْشِ، ثُمَّ نَادَى: يَا أُمَّةَ محمدٍ؛ إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي؛ أَعْطَيْتُكُمْ قَبْلَ أَنْ تَسْأَلُونِي، وَغَفَرْتُ لَكُمْ قَبْلَ أَنْ تَسْتَغْفِرُونِي؛ مَنْ لَقِيَنِي مِنْكُمْ يَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدِي وَرَسُولِي، أدخلته الجنة)).
৬ - [ .. .. ] সাহল ইবনে সা'দ আস-সা'ঈদী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:

মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর আমি যখন আহ্বান করেছিলাম তখন তুমি তূর পাহাড়ের পার্শ্বে উপস্থিত ছিলে না, কিন্তু...} এর প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আল্লাহ তাআলা মাখলুক সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লিপিবদ্ধ করেছেন, যা একটি সুগন্ধি বৃক্ষের পাতায় সংরক্ষিত। অতঃপর তিনি সেটি তাঁর সাথে আরশের উপর রাখলেন। এরপর তিনি আহ্বান করে বললেন: হে মুহাম্মাদের উম্মত; নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে; তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা করার পূর্বেই আমি তোমাদের দান করেছি এবং তোমরা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করার পূর্বেই আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি; তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার সাথে এই সাক্ষ্য দিয়ে সাক্ষাৎ করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আমার বান্দা ও রাসূল, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব।))
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
7 - [حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مَرْحُومُ بْنُ أَرْطَبَانَ ابْنِ عَمِّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ،] عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((أَوَّلُ مَنْ يُعْطَى كِتَابُهُ بِيَمِينِهِ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، وَلَهُ شعاعٌ كَشُعَاعِ الشَّمْسِ)). فَقِيلَ لَهُ: فَأَيْنَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: ((هَيْهَاتَ، زَفَّتْهُ الْمَلائِكَةُ إِلَى الْجِنَانِ)).
৭ - [উমর ইবনে ইবরাহীম ইবনে খালিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আউনের চাচাতো ভাই মারহুম ইবনে আরতাবান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আসিম আল-আহওয়াল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন,] যায়িদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((এই উম্মতের মধ্যে যার ডান হাতে সর্বপ্রথম তার আমলনামা প্রদান করা হবে, তিনি হলেন উমর ইবনে আল-খাত্তাব; এবং তার জন্য সূর্যের দ্যুতির ন্যায় এক আলোকচ্ছটা থাকবে))। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তবে আবু বকর কোথায়? তিনি বললেন: ((সুদূরপরাহত! ফেরেশতারা তাকে জান্নাতসমূহে পৌঁছে দিয়েছেন))।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
8 - [ .. .. عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ،]⦗ص: 24⦘ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: [ثنا ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ: إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:]

((إِنَّمَا خَلَقَ اللَّهُ عز وجل لَوْحًا مِنْ دُرَّةٍ بَيْضَاءَ، حَافَّتَاهُ ياقوتةٌ حَمْرَاءُ، قَلَمُهُ برقٌ، كِتَابَتُهُ نورٌ؛ ينظر فيه كل يومٍ ستين وثلاثمئة نَظْرَةً، [فِي] كُلِّ نظرةٍ يَخْلُقُ وَيَرْزُقُ، وَيُحْيِي وَيُمِيتُ، وَيُعِزُّ وَيُذِلُّ، وَيَفْعَلُ مَا يَشَاءُ)).
৮ - [ .. .. লায়স থেকে, তিনি আব্দুল মালিক বিন সাঈদ বিন জুবাইর থেকে,]⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ সাঈদ বিন জুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: [আমাদের নিকট ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:]

((নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শ্বেত মুক্তা দ্বারা একটি ফলক (লাওহ) সৃষ্টি করেছেন, যার দুই প্রান্ত লাল ইয়াকুত পাথরের, যার কলম বিদ্যুৎ এবং যার লিখনী হলো নূর; তিনি প্রতিদিন তাতে তিনশ ষাট বার দৃষ্টিপাত করেন। প্রতি দৃষ্টিপাতে তিনি সৃষ্টি করেন ও রিজিক দান করেন, জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন, সম্মানিত করেন ও লাঞ্ছিত করেন এবং তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন।))
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
9 - [ .. .. ] أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ:

يُدْنِي اللَّهُ تَعَالَى الْعَبْدَ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيَضَعُ عَلَيْهِ كَنَفَهُ فَيَسْتُرُهُ مِنَ الْخَلائِقِ كُلِّهَا، وَيَدْفَعُ إِلَيْهِ كِتَابَهُ فِي كِلَلِ السَّتْرِ، فَيَقُولُ له: اقرأ يا ابن آدم كتابك. [فيقرأ،] فيمر بالحسنة فيبيض له وَجْهُهُ، وَيُسَرُّ بِهَا قَلْبُهُ.

قَالَ: فَيَقُولُ اللَّهُ عز وجل: أَتَعْرِفُ يَا عَبْدِي؟ قَالَ: فَيَقُولُ: نَعَمْ يَا رَبِّ. قَالَ: فَيَقُولُ: [إِنِّي قَبِلْتُهَا مِنْكَ. فَيَسْجُدُ فَيَقُولُ: ارْفَعْ رَأْسَكَ، وَعُدْ فِي قِرَاءَتِكَ؛ فَيَمُرُّ بِالسَّيِّئَةِ فَيَسْوَدُّ لَهَا وَجْهُهُ، وَيَوْجَلُ مِنْهَا قَلْبُهُ، وَتَرْتَعِدُ مِنْهَا ⦗ص: 25⦘ فَرَائِصُهُ، وَيَأْخُذُهُ مِنَ الْحَيَاءِ مِنْ رَبِّهِ مَا لا يَعْلَمُهُ غَيْرُهُ؛ فَيَقُولُ اللَّهُ: أَتَعْرِفُ يَا عَبْدِي؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ يَا رَبِّ، فَيَقُولُ:] إِنِّي أَعْرَفُ بِهَا مِنْكَ، قَدْ غَفَرْتُهَا لَكَ فَلا يَزَالُ [حَتَّى يَمُرَّ] بحسنةٍ تُقْبَلُ، فَيَجِدُ وَسِيلَةً تَغْفِرُ فَيَسْجُدُ، فَلا يَرَى الْخَلائِقُ مِنْهُ إِلا ذَلِكَ، حَتَّى يُنَادِيَ الْخَلائِقُ الْخَلائِقَ بَعْضَهُمْ بَعْضًا: طُوبَى لِهَذَا الْعَبْدِ الَّذِي لَمْ يَعْصِ اللَّهَ قَطُّ.

وَلا يَدْرُونَ مَا قَدْ لَقِيَ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللَّهِ عز وجل مِمَّا قَدْ وَقَفَهُ عَلَيْهِ.
৯ - [ .. .. ] আবু ইমরান আল-জাওনী, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন বান্দাকে তাঁর নিকটবর্তী করবেন এবং তাঁর ওপর তাঁর আবরণ স্থাপন করবেন। অতঃপর তাকে সমস্ত সৃষ্টিজগত থেকে ঢেকে রাখবেন এবং পর্দার আড়ালে তাকে তার আমলনামা প্রদান করবেন। এরপর তাকে বলবেন: হে আদম সন্তান! তোমার আমলনামা পাঠ করো। [অতঃপর সে পাঠ করবে,] তখন সে কোনো নেক আমলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে এবং তাতে তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে ও তার অন্তর আনন্দিত হবে।

তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: হে আমার বান্দা! তুমি কি এটি চিনতে পারছ? সে বলবে: হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! তিনি বলবেন: [আমি এটি তোমার পক্ষ থেকে কবুল করেছি। তখন সে সেজদায় লুটিয়ে পড়বে। তখন তিনি বলবেন: তোমার মাথা তোলো এবং পুনরায় পাঠ শুরু করো। অতঃপর সে যখন কোনো গুনাহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন তার চেহারা কালো হয়ে যাবে এবং তার অন্তর ভীত হয়ে পড়বে এবং ভয়ে তার ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ শরীরের মাংসপেশি কাঁপতে থাকবে। আর তার প্রতিপালকের প্রতি তার এমন লজ্জা অনুভূত হবে যা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। তখন আল্লাহ বলবেন: হে আমার বান্দা! তুমি কি এটি চিনতে পারছ? সে বলবে: হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! তখন তিনি বলবেন:] আমি তোমার চেয়ে এটি সম্পর্কে বেশি অবগত, আমি এটি তোমার জন্য ক্ষমা করে দিয়েছি। এভাবে সে চলতে থাকবে [যতক্ষণ না সে এমন কোনো নেক আমলের] পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে যা কবুল করা হয়েছে, আর দেখবে যে তা ক্ষমার অসীলা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন সে সেজদাবনত হবে। আর সৃষ্টিজগত তার থেকে কেবল এটিই দেখতে পাবে, এমনকি সৃষ্টিজগত একে অপরকে ডেকে বলতে থাকবে: ধন্য এই বান্দা, যে কখনো আল্লাহর নাফরমানি করেনি!

অথচ তারা জানে না যে, তার এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র মধ্যে কী অতিবাহিত হয়েছে যা তিনি তাকে অবগত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
10 - [حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجَرَّاحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ،] عَنْ مُجَاهِدٍ فِي قَوْلِهِ عز وجل: {وكان تحته كنزٌ لهما}. قَالَ: صُحُفُ علمٍ.
১০ - [আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-জাররাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি নাজীহ থেকে,] মুজাহিদ থেকে মহান ও মহীয়ান আল্লাহর বাণী: {এবং তার নিচে তাদের উভয়ের জন্য একটি গুপ্তধন ছিল} সম্পর্কে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: তা ছিল ইলমের (জ্ঞানের) পত্রসমূহ।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
11 - [حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ بَسَّامٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ:

كَانَ الْكَنْزُ لَوْحًا مِنْ ذَهَبٍ، فِي أَحَدِ] جَانِبَيْهِ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، الْوَاحِدُ {الصَّمَدُ. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ}.

وَكَانَ فِي الْجَانِبِ الآخر: وعجباً لِمَنْ أَيْقَنَ بِالْمَوْتِ كَيْفَ يَفْرَحُ، وَعَجَبًا لِمَنْ أَيْقَنَ بِالنَّارِ كَيْفَ يَضْحَكُ، وَعَجَبًا لِمَنْ رَأَى الدُّنْيَا وَتَقَلُّبَهَا بِأَهْلِهَا ثُمَّ هُوَ يَطْمَئِنُّ إِلَيْهَا، وَعَجَبًا لِمَنْ أَيْقَنَ بِالْحِسَابِ غَدًا ثُمَّ لا يعمل.
১১ - [আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কুতায়বা ইবনে বাসসাম বর্ণনা করেছেন, ইসমাইলের সূত্রে, তিনি লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

সেই গুপ্তধনটি ছিল স্বর্ণের একটি ফলক, যার এক] পার্শ্বে ছিল: আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক {অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই}।

এবং অন্য পার্শ্বে ছিল: আর বিস্ময় সেই ব্যক্তির জন্য যে মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে আনন্দিত হয়, এবং বিস্ময় সেই ব্যক্তির জন্য যে আগুনের (জাহান্নামের) ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে হাসে, এবং বিস্ময় সেই ব্যক্তির জন্য যে দুনিয়া এবং তার অধিবাসীদের প্রতি এর পটপরিবর্তন প্রত্যক্ষ করে, অতঃপর সে তাতেই নিশ্চিন্ত থাকে, এবং বিস্ময় সেই ব্যক্তির জন্য যে আগামীকালের হিসাবের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও আমল করে না।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
12 - [ .. .. ] ثنا الْفَضْلُ بْنُ فَضَالَةَ قَالَ:

سَأَلْتُ أَبَا الصَّخْرِ حُمَيْدَ بْنَ زِيَادٍ الْمَدَنِيَّ، عَنْ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {قَالَ الَّذِي ⦗ص: 26⦘ عِنْدَهُ علمٌ مِنَ الْكِتَابِ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَنْ يَرْتَدَّ إليك طرفك}.

قَالَ: أَمَّا الَّذِي عِنْدَهُ علمٌ مِنَ الْكِتَابِ، فَهُوَ رجلٌ مِنَ الإِنْسِ كَانَ يَعْلَمُ الاسْمَ الأَكْبَرَ، فَدَعَا بِهِ.
১২ - [ .. .. ] ফাদল ইবন ফাদালা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমি আবুস সাখর হুমাইদ ইবন যিয়াদ আল-মাদানীকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: {যার কাছে ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ কিতাবের জ্ঞান ছিল সে বলল, তোমার চোখের পলক ফিরে আসার আগেই আমি তা তোমার কাছে নিয়ে আসব।}

তিনি বললেন: যার কাছে কিতাবের জ্ঞান ছিল, তিনি ছিলেন মানবজাতির অন্তর্ভুক্ত একজন ব্যক্তি যিনি (আল্লাহর) মহত্তম নাম (ইসমে আযম) জানতেন, অতঃপর তিনি সেই নামে আহ্বান (দুআ) করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
13 - [ .. .. ] أَبُو بَدْرٍ -رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَحْرَيْنِ- قَالَ:

غَسَّلْتُ رَجُلا مِنْ أَهْلِ الْبَحْرَيْنِ، فَإِذَا عَلَى نَحْرِهِ: طُوبَاكَ يَا غَرِيبُ؛ فَذَهَبْتُ أَنْظُرُ، فَإِذَا هو بين الجلد والعظم.
১৩ - [ .. .. ] আবু বদর —বাহরাইনের অধিবাসীদের জনৈক ব্যক্তি— বলেন:

আমি বাহরাইনের অধিবাসীদের এক ব্যক্তিকে গোসল করাচ্ছিলাম, হঠাৎ তার কণ্ঠনালীর উপরিভাগে (দেখতে পেলাম): ‘হে প্রবাসী, আপনার জন্য সুসংবাদ’; তখন আমি নিবিড়ভাবে দেখার জন্য এগিয়ে গেলাম এবং দেখলাম যে তা চামড়া ও হাড়ের মাঝখানে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
14 - [ .. .. ثنا أبو عمرو السلفي،] ثنا نُزَيْلٌ الشَّاهِلِيُّ، قَالَ:

كَانَ شَيْخٌ لا يَغْزُو مَعَ قومٍ حَتَّى يَشْتَرِطَ عَلَيْهِمُ الْخِدْمَةَ، فَكَانَ الرَّجُلُ مِنْهُمْ إِذا أَرَادَ أَنْ يَغْسِلَ ثَوْبَهُ أَو رَأْسَهُ، قَالَ: فِ بِشَرْطِي.

فَمَاتَ الرَّجُلُ، فَشَهِدْتُ غُسْلَهُ، فَإِذَا هُوَ مَكْتُوبٌ فِي كَفِّهِ الأَيْمَنِ: مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ. فَذَهَبْنَا لِنَنْظُرَ، فَإِذَا هو مكتوبٌ بين الجلد والعظم.
১৪ - [ .. .. আবু আমর আস-সালাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,] নুযাইল আশ-শাহিলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

জনৈক বৃদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন যিনি কোনো সম্প্রদায়ের সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধে যেতেন না যতক্ষণ না তাদের নিকট এই মর্মে শর্তারোপ করতেন যে, তিনি তাদের সেবা করবেন। ফলে তাদের মধ্য হতে কোনো ব্যক্তি যখন নিজের পোশাক অথবা মস্তক ধৌত করতে চাইতেন, তখন তিনি বলতেন: আমার শর্তটি পূর্ণ করো।

অতঃপর সেই ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলেন এবং আমি তাঁর গোসলের সময় উপস্থিত ছিলাম। তখন দেখা গেল তাঁর ডান হাতের তালুতে লিখিত রয়েছে: "জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত"। আমরা দেখার জন্য নিকটবর্তী হলাম এবং দেখলাম যে, তা চর্ম ও অস্থির মধ্যবর্তী স্থানে লিখিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
15 - [ .. .. ] قال: سمعت ثابت الْبُنَانِيَّ، قَالَ:

بَلَغَنَا أَنَّ لِلَّهِ عز وجل مَلائِكَةً، مَعَهُمْ ألواحٌ مِنْ فضةٍ، وأقلامٌ مِنْ ذهبٍ، يَطُوفُونَ يَكْتُبُونَ مَنْ صَلَّى لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ وَيَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي جماعةٍ.
১৫ - [ .. .. ] তিনি বললেন: আমি সাবিত আল-বুনানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন:

আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এমন কিছু ফেরেশতা রয়েছেন যাদের কাছে রূপার ফলক এবং সোনার কলম থাকে। তারা ঘুরে ঘুরে তাদের নাম লিপিবদ্ধ করেন যারা জুমার রাত ও জুমার দিনে জামাতের সাথে সালাত আদায় করে।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
16 - [ .. .. ]⦗ص: 27⦘ حَدَّثَنِي رجلٌ مِنْ جِيرَانِ حَبِيبٍ، مِنْ أَهْلِ سِكَّةِ الْمَوَالِي، يُكْنَى أَبَا زَكَرِيَّا الصَّائِغَ، قَالَ:

جَاءَ رجلٌ إِلَى حَبِيبٍ مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ يُرِيدُ مَكَّةَ، فَقَالَ: يَا شَيْخُ، اشْتَرِ لِي دَارًا. وَدَفَعَ إِلَيْهِ الثَّمَنَ مَالا، وَخَرَجَ إِلَى مَكَّةَ.

فَأَخَذَ حَبِيبٌ الْمَالَ، فَتَصَدَّقَ بِهِ؛ فَقَدِمَ عَلَيْهِ الرَّجُلُ، فَقَالَ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، اذْهَبْ إِلَى الدَّارِ الَّتِي اشْتَرَيْتَهَا فَأَرِنِيهَا. قَالَ لَهُ حَبِيبٌ: إِنَّكَ لا تَرَاهَا الْيَوْمَ، وَلَكِنْ إِذَا مِتَّ فَسَتَرَاهَا. فَقَالَ الْخُرَاسَانِيُّ: اكْتُبْ لِي عُهْدَتَهَا حَتَّى أَذْهَبَ بِهَا مَعِيَ إِلَى خُرَاسَانَ. فَكَتَبَ:

بسم الله الرحمن الرحيم

((هَذَا مَا اشْتَرَى حبيبٌ مِنْ رَبِّهِ عز وجل، قَصْرًا فِي الْجَنَّةِ، طُولُهُ كَذَا، وَعَرْضُهُ كَذَا، وَارْتِفَاعُهُ فِي الْجَنَّةِ كَذَا)).

ثُمَّ خَتَمَ الْكِتَابَ، وَدَفَعَهُ إِلَيْهِ؛ فَأَخَذَهُ الرَّجُلُ، فَذَهَبَ بِهِ إِلَى خُرَاسَانَ؛ فَقَالُوا لَهُ: أَنْتَ مَجْنُونٌ؛ لَوْلا أَنَّكَ ضَيَّعْتَ مَالَكَ لَذَهَبَ بِكَ إِلَى الدَّارِ، وَلَكِنْ هَذَا إنسانٌ مجنونٌ.

فَبَقِيَ الرَّجُلُ مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ مَاتَ، فَقَالَ: ضَعُوا هَذِهِ الْعُهْدَةَ فِي كَفَنِي. فَوَضَعُوهَا وَحَمَلُوهُ إِلَى الْقَبْرِ؛ فَأَصْبَحَ حَبِيبٌ بِالْبَصْرَةِ فإذا الكتاب عنده فِي بَيْتِهِ. فَقِيلَ لَهُ فِي الْكِتَابِ:

((يَا أَبَا مُحَمَّدٍ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ سَلَّمَ إِلَيْهِ الْقَصْرَ الَّذِي اشْتَرَيْتَهُ لَهُ)).

فَعَمِدَ حبيبٌ فَكَتَبَ إلى القوم: إن الله قد سلم إلى أبيكم الْقَصْرَ؛ وَهَذِهِ الْعُهْدَةُ. ⦗ص: 28⦘ فَنَظَرُوا فَإِذَا هُوَ الْكِتَابُ الَّذِي وَضَعُوهُ مَعَهُ فِي الْقَبْرِ.
১৬ - [ .. .. ]⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ হাবিবের এক প্রতিবেশী, সিক্কাতুল মাওয়ালির অধিবাসী, যার উপনাম আবু জাকারিয়া আস-সাইগ, তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

খোরাসান থেকে এক ব্যক্তি হাবিবের কাছে আসলেন, তিনি মক্কা যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তিনি বললেন: হে শায়খ, আমার জন্য একটি ঘর ক্রয় করে দিন। অতঃপর তিনি তাকে মূল্য হিসেবে অর্থ প্রদান করলেন এবং মক্কার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন।

হাবিব সেই অর্থ গ্রহণ করলেন এবং তা দান করে দিলেন। এরপর যখন সেই ব্যক্তি ফিরে আসলেন, তখন বললেন: হে আল্লাহর বান্দা, আপনি আমার জন্য যে ঘরটি ক্রয় করেছেন সেখানে চলুন এবং তা আমাকে দেখান। হাবিব তাকে বললেন: তুমি আজ তা দেখতে পাবে না, তবে যখন তুমি মৃত্যুবরণ করবে তখন তা দেখতে পাবে। তখন সেই খোরাসানি ব্যক্তি বললেন: তবে আমার জন্য এর একটি অঙ্গীকারনামা লিখে দিন, যাতে আমি তা সাথে করে খোরাসানে নিয়ে যেতে পারি। তখন তিনি লিখলেন:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

((এটি হলো তা যা হাবিব তার মহান ও পরাক্রমশালী রবের নিকট থেকে ক্রয় করেছেন; জান্নাতের একটি প্রাসাদ, যার দৈর্ঘ্য এত, প্রস্থ এত এবং জান্নাতে এর উচ্চতা এত।))

অতঃপর তিনি লিপিতে মোহর অঙ্কিত করলেন এবং তা তাকে প্রদান করলেন। লোকটি তা গ্রহণ করলেন এবং খোরাসানে নিয়ে গেলেন। (সেখানে পৌঁছালে) লোকেরা তাকে বলল: তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? তুমি যদি তোমার অর্থ অপচয় না করতে তবে সে তোমাকে সেই ঘরে নিয়ে যেত, কিন্তু এই লোকটি তো একজন উন্মাদ।

অতঃপর সেই ব্যক্তি যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা জীবিত থাকলেন এবং এরপর মারা গেলেন। (মৃত্যুর পূর্বে) তিনি বলেছিলেন: এই অঙ্গীকারনামাটি আমার কাফনের ভেতরে রেখে দিও। তারা তাই করল এবং তাকে কবরে নিয়ে গেল। এরপর ভোরবেলা বসরায় হাবিব দেখতে পেলেন যে, সেই লিপিটি তার ঘরে তার কাছেই রয়েছে। লিপিটিতে তাকে বলা হলো:

((হে আবু মুহাম্মাদ, আপনি যার জন্য প্রাসাদটি ক্রয় করেছিলেন, আল্লাহ তা তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।))

তখন হাবিব সেই লোকদের কাছে লিখে পাঠালেন: আল্লাহ তোমাদের পিতার কাছে সেই প্রাসাদটি অর্পণ করেছেন; আর এই হলো সেই অঙ্গীকারনামা। ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ তখন তারা দেখল এবং দেখতে পেল যে এটি সেই লিপি যা তারা তার সাথে কবরে রেখেছিল।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
17 - [ .. .. ] قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ شيخٌ مِنَ الشُّعَرَاءِ، قال:

رؤي على قبرٍ مكتوباً:

الْمَوْتُ أَخْرَجَنِي مِنْ دَارِ مَمْلَكَتِي … فَالتُّرْبُ مُضْطَجَعِي مِنْ بَعْدِ تَتْرِيفِ

لِلَّهِ عبدٌ رَأَى قَبْرِي فَأَحْزَنَهُ … وَهَابَ مِنْ دَهْرِهِ رَيْبَ التَّصَارِيفِ

هَذَا مَصِيرُ ذَوِي الدُّنْيَا وَإِنْ جَمَعُوا … فِيهَا وَغَرَّهُمُ طُولُ التَّسَاوِيفِ

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ مِنْ عَمْدِي وَمِنْ خَطَأي … وَأَسْأَلُ اللَّهَ فَوْزًا يَوْمَ تَوْقِيفِي
১৭ - [ .. .. ] তিনি বলেন: আবু বকর নামক কবিদের একজন শায়খ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

একটি কবরের ওপর লিখিত দেখা গেছে:

মৃত্যু আমাকে আমার রাজত্ব থেকে বের করে দিয়েছে … আর বিলাসিতার পর এখন মাটিই আমার শয্যা।

আল্লাহর এমন কোনো বান্দা যে আমার কবর দেখেছে এবং তা তাকে ব্যথিত করেছে … আর সে কালের বিবর্তন ও বিপর্যয়কে ভয় পেয়েছে।

দুনিয়াদারদের পরিণাম এমনই, যদিও তারা এতে সম্পদ জমা করে … আর দীর্ঘ টালবাহানা তাদের প্রতারিত করে।

আমি আল্লাহর কাছে আমার স্বেচ্ছায় কৃত ও অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চাই … এবং হিসাবের দিন আল্লাহর কাছে সফলতা প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
18 - [ .. .. ] قَالَ: حَدَّثَنِي شَيْخٌ مِنَ الشُّعَرَاءِ، أَنَّهُ قَرَأَ على قبرٍ مكتوباً:

أَيَضْمَنُ لِي فَتًى تَرْكَ الْمَعَاصِي … وَأَرْهَنُهُ الْكَفَالَةَ بِالْخَلاصِ

أَطَاعَ اللَّهَ قومٌ فَاسْتَرَاحُوا … وَلَمْ يَتَجَرَّعُوا غصص المعاصي
১৮ - [ .. .. ] তিনি বলেন: কবিদের মধ্য থেকে একজন শায়খ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একটি কবরের ওপর লিখিত অবস্থায় পাঠ করেছেন:

কোনো যুবক কি আমার নিকট পাপাচার বর্জনের জিম্মাদার হবে? … তবে আমি তাকে মুক্তির জামিনদার হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

একদল লোক আল্লাহর আনুগত্য করেছে ফলে তারা প্রশান্তি লাভ করেছে … এবং তারা পাপাচারের তিক্ততা আস্বাদন করেনি।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
19 - [ .. .. ] عَنْ سَعِيدٍ التَّمَّارِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رَفَعَهُ، قَالَ:

((مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَرَى السَّيْفَ فِي أُمَّتِي، لَقِيَ اللَّهَ مَكْتُوبًا فِي كَفَنِهِ: آيسٌ من رحمتي)).
১৯ - [ .. .. ] সাঈদ আত-তাম্মার থেকে, আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি হাদিসটি মারফু হিসেবে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

((যে ব্যক্তি আমার উম্মতের মধ্যে তলোয়ার চালানো (বিদ্রোহ) বৈধ মনে করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তার কাফনে লেখা থাকবে: সে আমার রহমত হতে নিরাশ।))
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
20 - [ .. .. ] ثنا عَوْنٌ الْعُقَيْلِيُّ، قَالَ:

قَرَأْتُ فِي التَّوْرَاةِ: ابْنُ آدم خطاءٌ وأن غفارٌ، وخير الخطائين المستغفرين.
২০ - [ .. .. ] আউন আল-উকাইলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমি তাওরাতে পড়েছি: আদম সন্তান অত্যন্ত ভুলকারী এবং আমি অতিশয় ক্ষমাশীল; আর ভুলকারীদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
21 - [ .. .. ]⦗ص: 29⦘ ثنا مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ، قَالَ: قَرَأْتُ فِي الزَّبُورِ مَكْتُوبًا -وَهِيَ فِي الزَّبُورِ الأَوَّلِ-:

طُوبَى لِمَنْ [لم] يسلك سبيل الأئمة، وَلَمْ يُجَالِسِ الْخَطَّائِينَ، وَلَمْ يَدْخُلْ فِي زَهْوِ الْمُسْتَهْزِئِينَ، وَلَكِنْ هَمُّهُ ذَنْبُهُ، أَوْثَقَتْهُ وَإِيَّاهَا، يَتَعَلَّمُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ؛ مَثَلُهُ كَمَثَلِ شجرةٍ نَبَتَتْ فِي شاطئ الماء، تؤتي ثمرها فِي حِينِهَا، وَلا يَتَنَاثَرُ مِنْ وَرَقِهَا شيءٌ؛ وَكُلُّ عَمَلِهِ تَامٌّ؛ وَلَيْسَ ذَلِكَ مِثْلَ عَمَلِ المنافق.
২১ - [ .. .. ]⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ মালিক ইবনে দিনার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জবুর কিতাবে লিখিত পেয়েছি —আর এটি প্রথম জবুরেই রয়েছে—:

সৌভাগ্য সেই ব্যক্তির জন্য যে [ভ্রষ্ট] নেতাদের পথ অনুসরণ করেনি, পাপাচারীদের সাথে বসেনি এবং উপহাসকারীদের দম্ভে লিপ্ত হয়নি। বরং তার মূল চিন্তা হলো নিজের গুনাহ নিয়ে, যা তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে আচ্ছন্ন করে রেখেছে; সে দিবা-রাত্রি শিক্ষা গ্রহণ করে। তার দৃষ্টান্ত হলো পানির তীরে উৎপন্ন হওয়া সেই বৃক্ষের ন্যায়, যা যথাসময়ে ফল দান করে এবং যার কোনো পাতাই ঝরে যায় না। তার প্রতিটি কর্মই পূর্ণাঙ্গ; আর মুনাফিকের কর্ম এমন নয়।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
22 - [ .. .. ] عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، قَالَ:

بَلَغَنَا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ: ((إِنَّ اللَّهَ يَكْتُبُ لِلْمُؤْمِنِ بِالْحَسَنَةِ الْوَاحِدَةِ أَلْفَ أَلْفِ حسنةٍ)).

قَالَ: فَحَجَجْتُ ذَلِكَ الْعَامَ وَلَمْ أَكُنْ أُرِيدُ الْحَجَّ، فَلَقِيتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، فَقُلْتُ: بَلَغَنِي أَنَّكَ قُلْتَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَكْتُبُ لِلْمُؤْمِنِ بِالْحَسَنَةِ الْوَاحِدَةِ أَلْفَ أَلْفِ حسنةٍ.

قَالَ: لَيْسَ هَكَذَا قُلْتُ، وَلَمْ يَحْفَظِ الَّذِي حَدَّثَكَ عَنِّي. قُلْتُ: فَكَيْفَ قُلْتَ؟ قَالَ: قُلْتُ: أَكْثَرُ مِنْ أَلْفَيْ أَلْفِ حسنةٍ؛ ثُمَّ قَالَ: أَلَسْتُمْ تَجِدُونَ هَذَا فِي كِتَابِ اللَّهِ؟ قُلْتُ: وَأَيْنَ؟ قَالَ: {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كثيرةً} وَالْكَثِيرُ مِنَ اللَّهِ أَكْثَرُ مِنْ أَلْفَيْ ألفٍ وألفي ألفٍ.
২২ - [ .. .. ] আবু উসমান আন-নাহদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

আবু হুরায়রা থেকে আমাদের নিকট এই মর্মে হাদিস পৌঁছেছে যে: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনের জন্য একটি নেকির বিনিময়ে দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন))।

তিনি বলেন: আমি সেই বছর হজ পালন করলাম, যদিও আমার হজের ইচ্ছা ছিল না। অতঃপর আমি আবু হুরায়রার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুমিনের জন্য একটি নেকির বিনিময়ে দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন।

তিনি বললেন: আমি এমনটি বলিনি, আর যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে তোমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছে সে তা যথাযথভাবে মনে রাখতে পারেনি। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তবে আপনি কী বলেছিলেন? তিনি বললেন: আমি বলেছিলাম: বিশ লক্ষের চেয়েও বেশি নেকি;

অতঃপর তিনি বললেন: তোমরা কি আল্লাহর কিতাবে এটি পাও না? আমি বললাম: তা কোথায়? তিনি বললেন: {কে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে? ফলে তিনি তার জন্য তা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেবেন।} আর আল্লাহর নিকট ‘বহু’ (এর পরিমাণ) হলো বিশ লক্ষ ও বিশ লক্ষের চেয়েও অধিক।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
23 - عَنْ عَبَّاسٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ:

أُصِيبَ عَلَى بَابِ خَزَانَةِ لُقْمَانَ، أَوْ لغيره:

⦗ص: 30⦘

غِنَى النَّفْسِ يَكْفِي النَّفْسَ حَتَّى يَكُفَّهَا … وَإِنْ عضها حَتَّى يُضَرَّ بِهَا الْفَقْرُ

وَمَا عسرةٌ فَاصْبِرْ لها إن لقيتها … بكائنةٍ إلا سيتعبها يسر
২৩ - আব্বাস হতে বর্ণিত, আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি বলেন:

লোকমান কিংবা অন্য কারো ধনভাণ্ডারের দরজায় এটি পাওয়া গিয়েছে:

⦗পৃ: ৩০⦘

অন্তরের সচ্ছলতাই অন্তরের জন্য যথেষ্ট হওয়া পর্যন্ত তাকে নিবৃত্ত রাখে … যদিও দারিদ্র্য তাকে দংশন করে এমনকি এর ফলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়

আর যখনই কোনো কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে, তার ওপর ধৈর্য ধারণ করো … কেননা এমন কোনো বিপদ নেই যা সংঘটিত হয় কিন্তু স্বাচ্ছন্দ্য অচিরেই তাকে অপসারিত করবে না
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
24 - [ .. .. ] عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَاشِدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ يَقُولُ:

إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((إِنَّ بَيْنَ يدي الرحمن لوحاً، فيه ثلاثمئة وَخَمْسَ عَشْرَةَ شَرِيعَةً، فَيَقُولُ الرَّبُّ: وَعِزَّتِي، لا يَجِيئُنِي عبدٌ لا يُشْرِكُ بِي شَيْئًا، [يُؤْمِنُ] بواحدةٍ مِنْهُنَّ، إِلا أَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ)).
২৪ - [ .. .. ] আবদুল্লাহ ইবনে রাশিদ থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরীকে বলতে শুনেছেন:

নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই রহমানের দুই হাতের সামনে একটি ফলক রয়েছে, যাতে তিনশত পনেরটি শরীয়ত রয়েছে। তখন রব বলেন: আমার ইজ্জতের কসম, এমন কোনো বান্দা যে আমার সাথে কোনো কিছু শরিক করে না এবং এগুলোর মধ্য থেকে একটির প্রতি [ঈমান আনে], সে আমার নিকট আসলে আমি তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাব।))
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
25 - [ .. .. ] عَنْ يَزِيدَ بْنِ وَهْبٍ:

إِنَّ آدَمَ عليه السلام خَرَجَ مِنَ الْجَنَّةِ، وَمَعَهُ ضغثٌ مِنْ قُضْبَانِ الْجَنَّةِ، فَنَصَبَهَا بِالْهِنْدِ؛ فَمَا يُذْكَرُ بِالْهِنْدِ مِنَ الطِّيبِ فَهُوَ مِنَ ذَلِكَ الضِّغْثِ.
২৫ - [ .. .. ] ইয়াজিদ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত:

নিশ্চয়ই আদম আলাইহিস সালাম জান্নাত থেকে বের হয়েছিলেন এবং তাঁর সাথে জান্নাতের ডালপালার একটি গুচ্ছ ছিল। অতঃপর তিনি তা হিন্দুস্তানে রোপণ করেন; ফলে হিন্দুস্তানে যে সুগন্ধির কথা উল্লেখ করা হয়, তা সেই গুচ্ছ থেকেই।
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
26 - [حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سَيَّارٌ،] حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ يَقُولُ:

مَرَرْتُ بِطَرِيقِ الشَّامِ، فَإِذَا قبرٌ عَلَيْهِ مكتوبٌ:

يا أيها الرَّكْبُ سِيرُوا، إِنَّ قَصْرَكُمُ … أَنْ تُصْبِحُوا ذَاتَ يومٍ لا تَسِيرُونَا

حُثُّوا الْمَطَايَا وَأَرْخُوا مِنْ أَزِمَّتِهَا … قَبْلَ الْمَمَاتِ، وَقَضُّوا مَا تُقَضُّونَا

فَمِثْلُكُمْ قَبْلَكُمْ كُنَّا فَغَيَّرَنَا … دهرٌ، فَعَمَّا قليلٍ كَمَا صرنا تكونونا
২৬ - [হারুন ইবন আবদুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, সাইয়্যার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন,] জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবন দিনারকে বলতে শুনেছি:

আমি শামের পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ একটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যার ওপর লেখা ছিল:

হে আরোহী দল! তোমরা চলতে থাকো, তোমাদের শেষ গন্তব্য হলো … একদিন সকালে এমন অবস্থায় উপনীত হওয়া যখন তোমরা আর চলতে পারবে না

সওয়ারিদের দ্রুত হাঁকাও এবং তাদের লাগাম শিথিল করে দাও … মৃত্যুর আগে, আর যা কিছু সম্পন্ন করার তা সম্পন্ন করে নাও

তোমাদের আগে আমরাও তোমাদের মতোই ছিলাম, অতঃপর কাল আমাদের বদলে দিয়েছে … শীঘ্রই তোমরাও তেমন হয়ে যাবে যেমন আমরা হয়েছি
(খণ্ড: ১) আদ-দীবাজু লিল খুতালী (পৃষ্ঠা: ٣١)
27 - [حدثني هارون بن عبد الله، حدثنا سيار،]⦗ص: 31⦘ حدثنا جعفر وصالح، قالا: ثنا مَالِكٌ، قَالَ:

قَرَأْتُ فِي الزَّبُورِ: فَيُجَاءُ بِرَاعِي السُّوءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُقَالُ: يَا رَاعِيَ السُّوءِ؛ أَكَلْتَ اللَّحْمَ، وَشَرِبْتَ اللَّبَنَ، وَلَبِسْتَ الصُّوفَ، لَمْ تُؤْوِ الضَّالَّةَ، وَلَمْ تَجْبُرِ الْكَسِيرَ، وَلَمْ تَرْعَهَا فِي مَرْعَاهَا! الْيَوْمَ أَنْتَقِمُ لَهَا مِنْكَ.
২৭ - [হারুন ইবন আবদুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, সাইয়্যার আমাদের বর্ণনা করেছেন,]⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ জা'ফর এবং সালিহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: মালিক আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

আমি যাবুরে পাঠ করেছি: কিয়ামতের দিন মন্দ রাখালকে উপস্থিত করা হবে, অতঃপর বলা হবে: হে মন্দ রাখাল! তুমি গোশত খেয়েছ, দুধ পান করেছ এবং পশম পরিধান করেছ, কিন্তু পথভ্রষ্টকে আশ্রয় দাওনি এবং ভগ্নকে সেবা করোনি, আর তাদের চারণভূমিতে তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করোনি! আজ আমি তাদের পক্ষ থেকে তোমার নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব।