(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: -)
أنساب الأشراف - ت حميد الله   (البلاذري)

القسم: الأنساب


الكتاب: أنساب الأشراف

المؤلف: أحمد بن يحيى المعروف بـ البَلَاذُري

تحقيق: د محمد حميد الله [ت 1423 هـ]

يخرجه: معهد المخطوطات بجامعة الدول العربية

بالاشتراك مع: دار المعارف بمصر (ضمن سلسلة ذخائر العرب - 27)

عام النشر: 1959 م

عدد الصفحات: 594 [أخرج معهد المخطوطات هذا الجزء فقط ثم توقف]

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 شعبان 1445

আনসাবুল আশরাফ - সম্পাদনা: হামিদুল্লাহ   (আল-বালাজুরি)

বিভাগ: বংশবৃত্তান্ত


বই: আনসাবুল আশরাফ

লেখক: আহমাদ বিন ইয়াহইয়া, যিনি আল-বালাজুরি নামে পরিচিত

সম্পাদনা ও গবেষণা: ড. মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ [মৃত্যু ১৪২৩ হিজরি]

প্রকাশক: আরব লীগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট

সহযোগিতায়: মিশরের দারুল মাআরিফ (যাখাইরুল আরব সিরিজের অন্তর্ভুক্ত - ২৭)

প্রকাশের বছর: ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯৪ [পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট শুধুমাত্র এই খণ্ডটি প্রকাশ করেছে, এরপর কাজ বন্ধ হয়ে যায়]

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ শাবান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المحقق

إن حظ ضخام الكتب لم يكن وافرًا في قديم الزمان، وبخاصة قبل إنشاء المطابع. فيقال إن كتاب أنساب الأشراف للبلاذرى لم تكن توجد له نسخة كاملة في جميع العراق - محل تأليفه - في القرن الخامس للهجرة، حتى عثر محمد بن أحمد البخاري (المتوفى سنة 483 هـ) على نسخة منه في عشرين مجلدًا في مصر. والنساخ ينقلونه في مجلدين، أو أربعة، أو عشرين حسب حاجاتهم، فيما نرى.

أما في عصرنا هذا، فلم نقف إلا على نسخة في استانبول، وقطعتين في برلين وصنعاء كما نفصل فيما يأتي:

لا يوجد في برلين إلا المجلد الحادى عشر. وقد حققه ونشره المستشرق ألوارت في جرائفسوالد سنة 1883 م. (وهو يوافق ص 1110 - 1196 من المجلد الأول الاستانبولى، و ص 1 - 29 من المجلد الثاني منه).

ذُكر لنا في سنة 1947 م في صنعاء أن مكتبة جلالة الإمام هناك تحتوى على المجلد الرابع منه، ولم أقدر أن أراه فلا أعرف ماذا يشتمل عليه. لعل الله يُحدث بعد ذلك أمرا، فنستفيد منه للمقارنة مع نسخ أخرى لدينا وقت الطبع.

إن نسخة باريس ليست إلا نقل قسم من المجلد الأول من نسخة إستانبول حُررت على طلب المستشرق شيفر. ونسخة مصر أيضًا تنقل النسخة عينها الاستانبولية. فلا نحتاج إلى توصيف مزاياها.

أما نسخة استانبول، فهي في مجلدين ضخمين، في مكتبة رئيس الكتاب (الموجود الآن في بناء المكاتب المسمى سليمانية)، رقم 597 - 598، من القطع الكبير. المجلد الأول يشتمل على 1196 صفحة، والثاني على 1268
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

প্রাচীনকালে বিশালাকার গ্রন্থসমূহের ভাগ্য খুব একটা সুপ্রসন্ন ছিল না, বিশেষ করে ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার পূর্বে। বলা হয়ে থাকে যে, হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে আল-বালাজুরীর 'আনসাবুল আশরাফ' গ্রন্থটির কোনো পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি সমগ্র ইরাকে—যা এর রচনার স্থান ছিল—পাওয়া যেত না, যতক্ষণ না মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-বুখারী (মৃত্যু ৪৮৩ হিজরি) মিশরে বিশ খণ্ডে এর একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পান। এবং আমাদের জানামতে, লিপিকারগণ তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী এটি দুই, চার অথবা বিশ খণ্ডে অনুলিপি করতেন।

বর্তমান যুগে আমরা ইস্তাম্বুলে একটি পাণ্ডুলিপি এবং বার্লিন ও সানআ-তে দুটি খণ্ডিত অংশ ছাড়া আর কিছুর সন্ধান পাইনি, যার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

বার্লিনে কেবল একাদশ খণ্ডটি বিদ্যমান। প্রাচ্যবিদ অ্যালওয়ার্ড ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে গ্রিফসোয়াল্ডে এটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। (এটি ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপির প্রথম খণ্ডের ১১১০ - ১১৯৬ পৃষ্ঠা এবং দ্বিতীয় খণ্ডের ১ - ২৯ পৃষ্ঠার সাথে সংগতিপূর্ণ)।

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে সানআ-তে আমাদের জানানো হয়েছিল যে, সেখানে মহামান্য ইমামের লাইব্রেরিতে এর চতুর্থ খণ্ডটি সংরক্ষিত আছে। আমি সেটি দেখার সুযোগ পাইনি, ফলে এতে কী আছে তা আমার জানা নেই। হতে পারে আল্লাহ এর পরে অন্য কোনো উপায় বের করে দেবেন, যাতে মুদ্রণের সময় আমাদের কাছে থাকা অন্যান্য পাণ্ডুলিপির সাথে এটি তুলনা করে আমরা উপকৃত হতে পারি।

প্যারিসের পাণ্ডুলিপিটি মূলত ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপির প্রথম খণ্ডের একটি অংশের অনুলিপি মাত্র, যা প্রাচ্যবিদ শেফারের অনুরোধে তৈরি করা হয়েছিল। মিসরের পাণ্ডুলিপিটিও হুবহু সেই ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপিরই অনুলিপি। তাই এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই।

আর ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপিটি দুটি বিশাল খণ্ডে বিভক্ত, যা রয়ীসুল কুতুব লাইব্রেরিতে (বর্তমানে সুলাইমানিয়া লাইব্রেরি ভবনে অবস্থিত) ৫৯৭ - ৫৯৮ নম্বরে বড় আকারে সংরক্ষিত। প্রথম খণ্ডটি ১১৯৬ পৃষ্ঠা এবং দ্বিতীয় খণ্ডটি ১২৬৮ পৃষ্ঠা সংবলিত।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وهو، مع الأسف، ناقص الآخر. وفى كل صفحة 37 سطرًا.

والنسخة جيدة على العموم، قابلها الناسخ على المنقول منه وعلى نسخة أخرى وسيجد القارئ في بعض عكوسها ما يغنينا عن إطالة الكلام في توصيف نهج الخط ومزايا أخرى للمخطوطة، غير أن الناسخ كتب كثيرًا ما "بنوا" في أسماء القبائل، فنقلنا "بنو" ولم ننبه في الحاشية، كما كتب أيضًا "الحرث" بدل "الحارث" وما ماثله.

ومما يجدر بالذكر أن بعض الاقتباسات من ابن سعد وابن إسحاق لا توجد في كتاب الطبقات وكتاب سيرة رسول الله لابن هشام المطبوعين. ومن المعروف أنه لم توجد نسخة كتاب الطبقات كاملة لدى ناشريه. فكتاب البلاذرى هذا مصدر لتكميل ما لم يصل إلينا من تلك الكتب. ولنذكر كذلك أن القسم الأول من هذا المجلد ليس إلا نقل من جمهرة الأنساب لابن الكلبي (مع شرح وزيادات) كما وجدناه عند المقابلة.

 

‌‌الفوائد من المخطوطة:

على الصفحة الأولى من المخطوطة ذكر تملك لا يقرأ. وآخر هذا نصه:

"الحمد لله في نوبة الفقير إلى الله تعالى زين العابدين بن سعيد المتولى المكي المدنى عفى الله عنهما".

وهناك خاتم الوقف لمصطفى رئيس الكتاب، المؤرخ سنة 1154.

وتحته عبارة كأنها بخط ناسخ الكتاب. وهي هذه:

قال أحمد بن يحيى بن جابر البلاذرى: قد كتبتُ الأسماء في كتابي هذا على صورها، ولم أعربها في النسب، لئلا يظن ظان أن بعض الألفاظ التي في الاسم المنصوب الجارى(1) ثابتة فيه، وأنها ليست بإعراب. وكذلك رأيت عدة من المشائخ فعلوا، نقلت هذه النسخة من أصل حسن معتبرًا بخط المحسّن بن الحسين بن كوجك العبسى، ورأيت بخطه في أوله: نقلت هذه النسخة

--------------------------------------------

(1) مثلا سيقول "ولد النضر بن كنانة: مالك"، ولا يقول "مالكا". (تعليق الناشر).

এবং এটি, দুঃখজনকভাবে, এর শেষ অংশটি অপূর্ণ। এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ৩৭টি করে লাইন রয়েছে।

পাণ্ডুলিপিটি সাধারণভাবে বেশ ভালো; অনুলিপিকারক এটিকে মূল উৎস এবং অন্য একটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করেছেন। পাঠক এর কিছু প্রতিলিপিতে এমন কিছু দেখতে পাবেন যা পাণ্ডুলিপির লিখনশৈলী ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের দীর্ঘ বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেবে। তবে অনুলিপিকারক গোত্রগুলোর নামের ক্ষেত্রে প্রায়শই "বানু" (وا যুক্ত) লিখেছেন, যা আমরা প্রচলিত "বানু" (و যুক্ত) হিসেবে লিখেছি এবং পাদটীকায় তা উল্লেখ করিনি। একইভাবে তিনি "হারিস"-এর পরিবর্তে "হারস" এবং অনুরূপ শব্দ লিখেছেন।

উল্লেখ করা জরুরি যে, ইবনে সাদ এবং ইবনে ইসহাকের কিছু উদ্ধৃতি মুদ্রিত "কিতাবুত তাবাকাত" এবং ইবনে হিশামের "সিরাতু রাসূলিল্লাহ" গ্রন্থে পাওয়া যায় না। এটি সর্বজনবিদিত যে, "তাবাকাত" গ্রন্থের কোনো পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি এর প্রকাশকদের কাছে ছিল না। তাই আল-বালাজুরীর এই বইটি ওই গ্রন্থগুলোর যেসব অংশ আমাদের কাছে পৌঁছায়নি, তা পূর্ণ করার একটি উৎস। আমরা এটিও উল্লেখ করতে চাই যে, এই খণ্ডের প্রথম অংশটি ইবনুল কালবীর "জামহারাতুল আনসাব" থেকে গৃহীত (ব্যাখ্যা ও সংযোজনসহ), যা আমরা মিলিয়ে দেখার সময় পেয়েছি।

 

‌‌পাণ্ডুলিপি থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি:

পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠায় একটি মালিকানা স্বত্বের উল্লেখ রয়েছে যা পড়া যায় না। আর অন্য একটির পাঠ এরূপ:

"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এটি মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী যাইনুল আবিদীন ইবনে সাঈদ আল-মুতাওয়াল্লি আল-মাক্কি আল-মাদানি-এর সংগ্রহে থাকাকালীন সময়কার, আল্লাহ তাদের উভয়কে ক্ষমা করুন।"

সেখানে ১১৫৪ হিজরি সালের তারিখ সম্বলিত মুস্তাফা রাইসুল কাত্তাব-এর একটি ওয়াকফ সিল রয়েছে।

এবং এর নিচে একটি বাক্য রয়েছে যা দেখে মনে হয় পাণ্ডুলিপির অনুলিপিকারকের হস্তাক্ষর। তা হলো এটি:

আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাবির আল-বালাজুরী বলেছেন: আমি আমার এই বইয়ে নামগুলোকে তাদের মূল রূপ অনুযায়ী লিখেছি এবং বংশপরম্পরার বর্ণনায় সেগুলোকে ব্যাকরণগত রূপ (ইরাব) দেইনি, যাতে কেউ মনে না করেন যে মানসুব (কর্মকারক) অবস্থায় থাকা নামের কিছু শব্দ তাতে স্থায়ী এবং তা ব্যাকরণগত পরিবর্তন নয়। আমি অনেক শাইখকেও এমনটি করতে দেখেছি। এই অনুলিপিটি আল-মুহাসসিন ইবনুল হুসাইন ইবনে কুজাক আল-আবসির হস্তাক্ষরে লিখিত একটি উত্তম ও নির্ভরযোগ্য মূল পাণ্ডুলিপি থেকে তৈরি করা হয়েছে এবং আমি তার হস্তাক্ষরে এর শুরুতে দেখেছি: এই অনুলিপিটি স্থানান্তর করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) উদাহরণস্বরূপ তিনি বলবেন "আন-নাজর ইবনে কিনানার সন্তান: মালিক", তিনি "মালিকান" বলবেন না। (প্রকাশকের মন্তব্য)।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
من نسخة منقولة من خط البلاذرى وأصله، وهى نسخة الوزير أبي الفضل جعفر بن الفضل بن الفرات، يشهد لها بذلك خطه عليها، رحمه الله تعالى، بعد أن قوبل بها ووثق بصحتها حرفًا بحرف، ومثلت الضبط في الأسماء المعجمة وصححتُ ذلك بأن أعلمتُ على الحرف المشكل بعد ضبطه "صح" لئلا يغير ويقدر أنه صُحّف، كما وجدت أحمد بن يحيى بن جابر ضبطه في أصله بخطه، وتركت إعراب الأسماء كما تركها، فلا يطعن عليّ في إسقاط الألف الثابتة في الاسم، إذا أعربه، طاعن. وبالله ثقتي، وعليه متكلي. قال كاتب هذه النسخة أحمد: اختصرت من كتاب تأريخ دمشق للحافظ أبي القاسم بن عساكر رحمه الله تعالى: قال: أبو الحسن، ويقال أبو جعفر، ويقال أبو بكر أحمد بن يحيى بن جابر بن داود البغدادي الكاتب، سمع بدمشق، وبأنطاكية، وبالعراق جماعة، منهم أبو عبيد القاسم بن سلام، وعثمان بن أبي شيبة، وعلى بن المديني، ومحمد بن سعد كاتب الواقدى، وروى عنه جماعة، وروى أنه قال: قال لي محمود الوراق: قُلْ من الشعر ما يبقى لك ذكره، ويزولُ عنك إثمه، فقلت:

قد تيقّنت أنه ليس للحـ … ـي خلود ولا من الموت بدّ

أنت تسهين والحوادث لا … تسهو وتلهين والمنايا تجدّ

أي ملك في الأرض أو أي حـ … ـظ لامريء حظه من الأرض لحد

لا ترجّى البقاء في معدن المو … ت ودار حتوفها لك ورد

كيف يهوى امرؤ لذاذة أيا … م عليه الأنفاس فيها تُعد

وكان أديبًا راوية، له كتب جياد، ومدح المأمون بمدائح، وجالس المتوكل، وتوفى في أيام المعتمد، ووسوس في آخر عمره رحمه الله. ومن تأريخ بغداد للخطيب؛ قال: بويع للمعتمد على الله في رجب سنة ست وخمسين ومايتين، ومات في رجب سنة سبع وسبعون ومايتين فجأة ببغداد، وحُمل إلى سرّ من رأى، فدفن بها، رحمه الله والمسلمين. ومهما وجد في هذه النسخة من حاشية لغوية، عليها علامة "ص" فهى من كتاب الصحاح للجوهرى.
আল-বালাযুরীর হস্তলিপি ও তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা একটি পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সংগৃহীত, যা উজির আবু আল-ফজল জাফর ইবনে আল-ফজল ইবনে আল-ফুরাতের পাণ্ডুলিপি; এর ওপর তাঁর স্বাক্ষর এর সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। এটি আক্ষরিকভাবে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং এর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমি অনারব নামগুলোর উচ্চারণ নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করেছি এবং জটিল অক্ষরগুলো নির্ধারণ করার পর তার ওপর 'সহিহ' চিহ্ন দিয়ে তা সংশোধন করেছি, যাতে তা পরিবর্তন করা না হয় বা ভুল পাঠ করা হয়েছে বলে ধারণা না করা হয়, ঠিক যেভাবে আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাবির তাঁর মূল পাণ্ডুলিপিতে নিজের হাতে তা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। আর আমি নামগুলোর বিভক্তি সেভাবেই রেখে দিয়েছি যেভাবে তিনি রেখেছিলেন। তাই কোনো সমালোচক যেন নামের শেষে স্থির আলিফ বাদ পড়ার কারণে আমার সমালোচনা না করেন যখন তিনি তা বিশ্লেষণ করবেন। আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা এবং তাঁরই ওপর আমি নির্ভরশীল। এই পাণ্ডুলিপির লেখক আহমাদ বলেন: আমি হাফেজ আবুল কাসিম ইবনে আসাকির (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) রচিত 'তারিখে দামেস্ক' গ্রন্থ থেকে এটি সংক্ষেপ করেছি। তিনি বলেন: আবুল হাসান, যাঁকে আবু জাফর এবং আবু বকরও বলা হয়, তিনি হলেন আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাবির ইবনে দাউদ আল-বাগদাদি আল-কাতিব। তিনি দামেস্ক, আনতাকিয়া এবং ইরাকে একদল পণ্ডিতের নিকট শ্রবণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম, উসমান ইবনে আবি শাইবা, আলী ইবনুল মাদিনি এবং ওয়াকিদির লেখক মুহাম্মদ ইবনে সাদ। তাঁর থেকে একদল বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: মাহমুদ আল-ওয়াররাক আমাকে বলেছিলেন: এমন কবিতা বলো যার সুনাম তোমার জন্য অবশিষ্ট থাকবে কিন্তু তার গুনাহ তোমার থেকে মুছে যাবে। তখন আমি বললাম:

আমি নিশ্চিত হয়েছি যে জীবিতের কোনো … অমরত্ব নেই, আর মৃত্যু থেকে নিষ্কৃতি নেই।

তুমি অসতর্ক হয়ে আছ অথচ বিপদরাজি কখনো … বিচ্যুত হয় না; তুমি খেলায় মত্ত আছ অথচ মৃত্যু ধেয়ে আসছে।

পৃথিবীতে কোন রাজত্ব বা কোন … ভাগ্য আছে এমন ব্যক্তির জন্য যার পৃথিবীর অংশ কেবল কবরের গর্ত?

মৃত্যুর খনিতে স্থায়িত্বের … আশা করো না, আর এমন ঘর যার ধ্বংসের ঝর্ণাধারা তোমার পানপাত্র।

কীভাবে একজন মানুষ সেই দিনগুলোর স্বাদ আস্বাদন … করতে ভালোবাসে, যাতে তার প্রতিটি নিশ্বাস গণনা করা হচ্ছে?

তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক ও বর্ণনাকারী, তাঁর চমৎকার সব গ্রন্থ রয়েছে। তিনি আল-মামুনের প্রশংসা করে কবিতা পাঠ করেছেন, আল-মুতাওয়াক্কিলের মজলিসে বসেছেন এবং আল-মুতামিদের যুগে ইন্তেকাল করেছেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি কিছুটা মানসিক অস্থিরতায় ভুগেছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। খতিব বাগদাদির 'তারিখে বাগদাদ' থেকে বর্ণিত: ২৫৬ হিজরির রজব মাসে আল-মুতামিদ আলাল্লাহর হাতে বায়আত গ্রহণ করা হয় এবং ২৭৭ হিজরির রজব মাসে বাগদাদে হঠাৎ তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে 'সুররা মান রাআ'-তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই দাফন করা হয়, আল্লাহ তাঁর ওপর এবং সকল মুসলমানের ওপর রহম করুন। এই পাণ্ডুলিপিতে ভাষাগত কোনো টীকা যেখানে 'সোয়াদ' চিহ্ন পাওয়া যাবে, তা জাওহারির 'আস-সিহাহ' গ্রন্থ থেকে গৃহীত।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
إن ابن يحيى أحمد المعروف بالبلاذرى … جمع في كتابه نفائس المفاخر

قارئه يسبح في بحر علوم زاخر … يرحمه الله لقد بالغ في المآثر

 

‌‌شكر

وأنا أشكر معهد المخطوطات بجامعة الدول العربية الذي تفضل بتفويض الجزء الأول من هذا الكتاب إليّ لتحقيقه وإعداده للطبع. فشكر الله مساعيه لإحياء هذا التراث العظيم. وقد أكرهتنا ضخامة الكتاب إلى تقليل الحواشي والاكتفاء بما لابد منه. وما توفيقنا إلا بالله.

باريس

محمد حميد الله
নিশ্চয়ই ইবনে ইয়াহইয়া আহমাদ, যিনি আল-বালাজুরি নামে প্রসিদ্ধ … তাঁর গ্রন্থে 'নাফাইসুল মাফাখির' সংকলন করেছেন

এর পাঠক ইলমের এক বিশাল সমুদ্রে অবগাহন করে … আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি শ্রেষ্ঠ কার্যাবলীর বর্ণনায় অত্যন্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন

 

‌‌কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

আর আমি আরব লিগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটের নিকট কৃতজ্ঞ, যারা অনুগ্রহ করে এই গ্রন্থের প্রথম খণ্ডটি সম্পাদনা ও মুদ্রণের প্রস্তুতির দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করেছেন। এই মহান ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে তাঁদের এই প্রচেষ্টাকে আল্লাহ কবুল করুন। কিতাবটির বিশাল কলেবরের কারণে আমরা টীকা সংক্ষেপ করতে এবং যতটুকু অপরিহার্য ততটুকুর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য হয়েছি। আর আমাদের সাফল্য কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব।

প্যারিস

মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌أهمّ مصادر التصحيح

ابن البيطار، كتاب المفردات، طبع مصر، على حروف المعجم.

ابن حبيب، كتاب المحبّر، طبع حيدر آباد الدكن.

"أيضًا، كتاب أمهات النبي، طبع بغداد.

"أيضًا، كتاب المنمّق، مخطوطة في مكتبة السيد ناصر حسين، بلكهنو في الهند، وعندى نقله.

ابن حجر العسقلاني، تهذيب التهذيب، طبع حيدر آباد الدكن.

ابن حنبل، المسند، الطبع الأول والثانى بمصر. وفى الثاني ترقيم الأحاديث.

ابن الدمينة، مخطوطة ديوانه في سليمانيه باستانبول وعندى شريطه المصغر.

ابن سيده، كتاب المخصص، طبع مصر.

"أيضًا، كتاب المحكم، مخطوطة كوبرولو باستانبول.

ابن عبد البر، العقد الفريد، طبع بولاق.

ابن عبد ربه، الاستيعاب في معرفة الأصحاب، طبع حيدر آباد الدكن.

على حروف المعجم.

ابن قتيبة، كتاب الأنواء، طبع حيدر آباد الدكن، وفيه ترقيم الفصول.

ابن كثير، تأريخه (البداية والنهاية)، طبع مصر.

"أيضًا، تفسير القرآن العظيم، طبع مصر.

ابن الكلبي، جمهرة الأنساب، مخطوطة لوندرا (المجلد الأول)، وايسكوريال (الثاني منه).

ابن ماجه، السنن، نشرة فؤاد عبد الباقى (مع مراجع الكتب والأبواب).

ابن منظور، لسان العرب (رجعنا إلى المادة، لا المجلد والصفحة).

ابن هشام، سيرة رسول الله، طبع أوربا.

أبو الأسود الدؤلي، ديوانه طبع بغداد.
সংশোধনের প্রধান উৎসসমূহ

ইবনে আল-বাইতার, কিতাবুল মুফরাদাত, মিসরীয় মুদ্রণ, বর্ণানুক্রমিক।

ইবনে হাবিব, কিতাবুল মুহাব্বার, হায়দারাবাদ ডেকান মুদ্রণ।

"প্রাগুক্ত, কিতাবু উম্মাহাতিন নবী, বাগদাদ মুদ্রণ।

"প্রাগুক্ত, কিতাবুল মুনাম্মাক, ভারতের লখনউতে সাইয়্যেদ নাসির হোসেনের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি, এর একটি অনুলিপি আমার নিকট আছে।

ইবনে হাজার আল-আসকালানি, তাহজিবুত তাহজিব, হায়দারাবাদ ডেকান মুদ্রণ।

ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদ, মিসরের প্রথম ও দ্বিতীয় মুদ্রণ। দ্বিতীয় মুদ্রণে হাদিস নম্বর প্রদান করা হয়েছে।

ইবনে আদ-দুমাইনা, ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত তাঁর দিওয়ানের পাণ্ডুলিপি এবং আমার নিকট এর মাইক্রোফিল্ম রয়েছে।

ইবনে সিদাহ, কিতাবুল মুখাসসাস, মিসরীয় মুদ্রণ।

"প্রাগুক্ত, কিতাবুল মুহকাম, ইস্তাম্বুলের কোপরুলু লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি।

ইবনে আবদিল বার্র, আল-ইকদুল ফারিদ, বুলাক মুদ্রণ।

ইবনে আবদি রাব্বিহি, আল-ইসতিয়াব ফি মারিফাতিল আসহাব, হায়দারাবাদ ডেকান মুদ্রণ।

বর্ণানুক্রমিক।

ইবনে কুতাইবা, কিতাবুল আনওয়া, হায়দারাবাদ ডেকান মুদ্রণ, এতে অধ্যায় নম্বর রয়েছে।

ইবনে কাসির, তাঁর ইতিহাস গ্রন্থ (আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ), মিসরীয় মুদ্রণ।

"প্রাগুক্ত, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, মিসরীয় মুদ্রণ।

ইবনে আল-কালবি, জামহারাতুল আনসাব, লন্ডন পাণ্ডুলিপি (প্রথম খণ্ড), এবং এসকোরিয়াল পাণ্ডুলিপি (দ্বিতীয় খণ্ড)।

ইবনে মাজাহ, আস-সুনান, ফুয়াদ আব্দুল বাকির সংস্করণ (কিতাব ও অধ্যায়ের রেফারেন্সসহ)।

ইবনে মানজুর, লিসানুল আরব (আমরা মূল শব্দের ভিত্তিতে দেখেছি, খণ্ড বা পৃষ্ঠা নম্বর নয়)।

ইবনে হিশাম, সিরাতে রাসূলুল্লাহ, ইউরোপীয় মুদ্রণ।

আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি, তাঁর দিওয়ান, বাগদাদ মুদ্রণ।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
أبو ذؤيب، ديوانه، طبع أوربا.

أبو عبيد، كتاب الأموال، مع ترقيم الفصول.

الاستيعاب، راجع ابن عبد البر.

الأسود بن يعفر، ديوانه (في ديوان أعشى، طبع أوربا).

الأصبهاني، كتاب الأغانى، طبعة مصر الأولى.

الأعشى ديوانه، طبع أوربا.

الأغاني، راجع الأصبهاني.

امرؤ القيس، ديوانه، طبع باريس. 1836 م.

أمية بن أبي الصلت، ديوانه، طبع أوربا.

البخاري، كتاب الصحيح (مع مراجع الكتب والأبواب).

البصرى، التنبيهات على أغلاط الرواة، مخطوطة مصر.

البيرونى، الجماهر في معرفة الجواهر، طبع حيدر آباد الدكن.

الجاحظ، الرسالة العثمانية، طبع مصر.

جرير بن عطية، ديوانه طبع مصر 1313 هـ.

جميل، ديوانه طبع بيروت.

حسّان بن ثابت، ديوانه طبع أوربا.

الحلبي، إنسان العيون في السيرة، طبع بولاق.

حميد الله، الوثائق السياسية للعهد النبوى والخلافة الراشدة، طبع ثاني بمصر، مع ترقيم الوثائق للمراجعة.

الدينوري، كتاب النبات، القطعة المطبوعة في أبسالا.

السهيلي، الروض الأنف، طبع مصر.

الطبرى، تأريخه طبع أوربا.

"أيضًا تفسيره طبع مصر.

العَجّاج، ديوانه طبع أوربا.
আবু জুয়াইব, তাঁর কাব্যসমগ্রহ (দিওয়ান), ইউরোপে মুদ্রিত।

আবু উবায়েদ, কিতাবুল আমওয়াল (সম্পদ বিষয়ক গ্রন্থ), পরিচ্ছেদসমূহের ক্রমিক নম্বরসহ।

আল-ইস্তিয়াব, ইবনে আব্দুল বার দ্রষ্টব্য।

আল-আসওয়াদ বিন ইয়াফুর, তাঁর কাব্যসমগ্রহ (আ'শার কাব্যসমগ্রহের অন্তর্ভুক্ত, ইউরোপে মুদ্রিত)।

আল-আসবাহানী, কিতাবুল আগানি (গীতিমালা গ্রন্থ), মিশরের প্রথম সংস্করণ।

আল-আ'শা, তাঁর কাব্যসমগ্রহ, ইউরোপে মুদ্রিত।

আল-আগানি, আল-আসবাহানী দ্রষ্টব্য।

ইমরুল কায়েস, তাঁর কাব্যসমগ্রহ, প্যারিসে মুদ্রিত, ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দ।

উমাইয়া বিন আবিস সালত, তাঁর কাব্যসমগ্রহ, ইউরোপে মুদ্রিত।

আল-বুখারী, সহীহ গ্রন্থ (কিতাব ও পরিচ্ছেদসমূহের তথ্যসূত্রসহ)।

আল-বসরী, আত-তানবিহাত আলা আগলাতির রুওয়াত (বর্ণনাকারীদের ভুলভ্রান্তি সংক্রান্ত সতর্কবার্তা), মিশরীয় পাণ্ডুলিপি।

আল-বীরুনী, আল-জামাহির ফি মা'রিফাতিল জাওয়াহির (মণি-মুক্তা সংক্রান্ত জ্ঞানকোষ), হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যে মুদ্রিত।

আল-জাহিজ, আর-رিসালাতুল উসমানিয়্যাহ (উসমানিয়া পত্র), মিশরে মুদ্রিত।

জারীর বিন আতিয়্যাহ, তাঁর কাব্যসমগ্রহ, মিশরে মুদ্রিত ১৩১৩ হিজরী।

জামীল, তাঁর কাব্যসমগ্রহ, বৈরুতে মুদ্রিত।

হাসসান বিন সাবিত, তাঁর কাব্যসমগ্রহ, ইউরোপে মুদ্রিত।

আল-হালাবী, ইনসানুল উয়ূন ফি সীরাতিল আমীনিল মামুন (সীরাত বিষয়ক গ্রন্থ), মিশরের বুলাকে মুদ্রিত।

হামিদুল্লাহ, আল-ওয়াসাইকুস সিয়াসিয়্যাহ (নবী যুগের ও খুলাফায়ে রাশেদীনের রাজনৈতিক দলিলাদি), মিশরের দ্বিতীয় মুদ্রণ, তথ্য যাচাইয়ের জন্য দলিলের নম্বরসহ।

আদ-দিনাওয়ারী, কিতাবুন নাবাত (উদ্ভিদ বিষয়ক গ্রন্থ), উপসালায় মুদ্রিত খণ্ড।

আস-সুহাইলী, আর-রওদুল উনুফ, মিশরে মুদ্রিত।

আত-তবারী, তাঁর ইতিহাস গ্রন্থ (তারিখ), ইউরোপে মুদ্রিত।

"এছাড়াও তাঁর তাফসীর গ্রন্থ, মিশরে মুদ্রিত।

আল-আজজাজ, তাঁর কাব্যসমগ্রহ, ইউরোপে মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
علقمة بن عبدة، ديوانه طبع أوربا في كتاب العقد الثمين في دواوين الشعراء الجاهليين.

الكاساني، بدائع الصنائع، طبع مصر.

الكتّاني، التراتيب الإدارية والعمالات والصناعات والمتاجر والحالة العلمية التي كانت على عهد تأسيس المدنية الإسلامية في المدينة المنورة، (المعروف بنظام الحكومة النبوية)، طبع مراكش في مجلدين.

كثيّر، ديوانه، طبع الجزائر.

لبيد، ديوانه طبع أوربا.

لسان العرب، راجع ابن منظور.

مالك بن أنس، كتاب الموطأ، نشرة فؤاد عبد الباقى مع مراجع الكتب والأبواب.

مصعب بن عبد الله الزبيري، نسب قريش، طبع مصر.

المسعودي، مروج الذهب، طبع بولاق.

"أيضًا، التنبيه والإشراف طبع أوربا.

المقريزي، إمتاع الأسماع، طبع في مصر المجلد الأول منه إلى الآن.

النابغة الذبياني، ديوانه طبع أوربا (في العقد الثمين).

الوثائق السياسية، راجع حميد الله.

وستنفلد، جداول النسب باللغة الألمانية، طبع أوربا.

ياقوت، معجم البلدان، المرتب على حروف المعجم.

يحيى بن آدم، كتاب الخراج، طبع أوربا.
আলকামা বিন আবদাহ, জাহেলী যুগের কবিদের কাব্যসংগ্রহ সম্বলিত গ্রন্থ 'আল-ইকদ আল-ছামীন'-এ তার দিওয়ান, ইউরোপে মুদ্রিত।

আল-কাসানী, বাদায়েউস সানায়ে, মিশরে মুদ্রিত।

আল-কাত্তানী, আত-তারাতিব আল-ইদারিয়্যাহ ওয়াল উমালাত ওয়াস সানাআত ওয়াল মাতাজির ওয়াল হালাত আল-ইলমিয়্যাহ যা মদীনা মুনাওয়ারায় ইসলামী সভ্যতা প্রতিষ্ঠার যুগে বিদ্যমান ছিল, (যা 'নিযামুল হুকুমাতিন নাবাবিয়্যাহ' নামে পরিচিত), মারাক্কেশে দুই খণ্ডে মুদ্রিত।

কুসাইয়ির, তার দিওয়ান, আলজেরিয়ায় মুদ্রিত।

লাবীদ, তার দিওয়ান ইউরোপে মুদ্রিত।

লিসানুল আরব, ইবনে মানযুর দেখুন।

মালিক বিন আনাস, কিতাবুল মুয়াত্তা, গ্রন্থ ও অধ্যায়ের উদ্ধৃতিসহ ফুয়াদ আব্দুল বাকী কর্তৃক সম্পাদিত।

মুসআব বিন আব্দুল্লাহ আল-যুবায়রী, নাসাব কুরাইশ, মিশরে মুদ্রিত।

আল-মাসউদী, মুরুজুজ জাহাব, বুলাকে মুদ্রিত।

পূর্বোক্ত লেখকেরই, আত-তানবীহ ওয়াল ইশরাফ ইউরোপে মুদ্রিত।

আল-মাকরিযী, ইমতাউল আসমা, মিশরে মুদ্রিত, বর্তমানে এর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত।

আন-নাবিগাহ আদ-জুবইয়ানী, তার দিওয়ান ইউরোপে মুদ্রিত (আল-ইকদ আল-ছামীন-এর অন্তর্ভুক্ত)।

আল-ওয়াছাইক আস-সিয়াসিয়াহ, হামিদুল্লাহ দেখুন।

উসটেনফেল্ড, জার্মান ভাষায় বংশতালিকা, ইউরোপে মুদ্রিত।

ইয়াকুত, মুজামুল বুলদান, অভিধানের বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত।

ইয়াহইয়া বিন আদম, কিতাবুল খারাজ, ইউরোপে মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الرموز المستعملة

[] الزيادة من خارج مخطوطة الأصل.

ب البيت في قصيده شاعر.

ج الجلد.

خ نسخة المخطوطة المبنى عليها هذا الكتاب

ص صفحة.

ق قصيدة في ديوان شاعر.
ব্যবহৃত সংকেতসমূহ

[] মূল পাণ্ডুলিপির বহির্ভূত সংযোজন।

ব কবির কবিতার পঙ্ক্তি।

জ খণ্ড।

খ পাণ্ডুলিপির যে অনুলিপির ওপর ভিত্তি করে এই গ্রন্থটি সম্পাদিত হয়েছে।

স পৃষ্ঠা।

ক কোনো কবির কাব্যসংকলনের (দিওয়ান) পূর্ণাঙ্গ কবিতা।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌قيمة البلاذرى(1) وكتاب أنساب الأشراف

للأستاذ عبد الستار فراج

 

لم يحظ أحد لدى الخلفاء وأصحاب السلطان في الدولتين الأموية والعباسية إلا من أوتى نصيبًا موفورًا من العلم أو الأدب يرفعه إلى مرتبة المجالسة والمنادمة.

وما ألفه البلاذرى دليل على قدره وقيمته فليس عجيبًا أن ينادم المتوكل ويحظى لدى المستعين والمعتز والمعتمد من الخلفاء، وعبيد الله بن يحيى وأحمد بن صالح من الوزراء.

ومن روى عنهم مباشرة من شيوخه الذين يتجاوزون المائة وأكثرهم من جلة الرواة والمحدثين، وبعضهم من كبار المؤلفين دليل على ضخامة ما تلقاه البلاذرى من أخبار وأحاديث.

والشريف المرتضى وقد ألف بعد البلاذرى بحوالى قرن يذكر في كتابه الشافى ما يأتي:

ص 207، وقد روى أبو الحسن أحمد بن يحيى بن جابر البلاذرى - وحاله في الثقة عند العامة والبعد عن مقارنة الشيعة والضبط لما يرويه معروف - قال حدثني بكر. . . . . . . . . . . ".

وفي ص 246، وقد روى البلاذرى في تاريخه - وهو معروف الثقة والضبط ويرى (ولعل صوابها: وبرئ من مماثلة (ولعل صوابها: ممالأة) الشيعة ومقارنتها أن أبا بكر وعمر كانا في جيش أسامة.

ويكفي في قيمته أن من تلاميذه يحيى بن علي بن المنجم(2) (241 - 300) مؤلف كتاب الباهر في أخبار شعراء مخضرمى الدولتين، كما كان نديمًا للخلفاء ومن تلاميذه جعفر بن قدامة وكانت له مؤلفات.

--------------------------------------------

(1) أثبت الدكتور صلاح الدين المنجد مدير معهد المخطوطات بالجامعة العربية في مقدمته لكتاب فتوح البلدان الذي حققه، مصادر ترجمة البلاذرى باستيفاء من قديمة وحديثة، وترجم له ترجمة جديدة واسعة فليرجع إليها.

(2) حرف على مسيو دخويه فذكره محمد بن إسحاق النديم ونعته بصاحب الفهرست، والفرق بين وفاتيهما أكثر من مائة عام.

‌‌আল-বালাজুরীর গুরুত্ব(১) এবং আনসাবুল আশরাফ গ্রন্থ

উস্তাদ আবদুল সাত্তার ফাররাজ-এর লিখিত

 

উমাইয়া ও আব্বাসীয় উভয় খিলাফতের খলিফা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নিকট কেবল তারাই বিশেষ মর্যাদা লাভ করতেন, যাদের জ্ঞান বা সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল, যা তাদের খলিফাদের মজলিশে বসা ও অন্তরঙ্গ বন্ধু হওয়ার মর্যাদায় উন্নীত করত।

আল-বালাজুরী যা কিছু রচনা করেছেন তা তাঁর পদমর্যাদা ও গুণেরই প্রমাণ। সুতরাং তিনি যে খলিফা মুতাওয়াক্কিলের অন্তরঙ্গ বন্ধু হবেন এবং খলিফাদের মধ্যে আল-মুসতাইন, আল-মুতাজ ও আল-মুতামিদের নিকট এবং মন্ত্রীদের মধ্যে উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া ও আহমাদ বিন সালেহের নিকট বিশেষ মর্যাদা লাভ করবেন, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।

তিনি যাদের কাছ থেকে সরাসরি বর্ণনা করেছেন, তাঁর সেই উস্তাদদের সংখ্যা একশ অতিক্রম করেছে; যাদের অধিকাংশই ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত বর্ণনাকারী ও মুহাদ্দিস, আর তাদের কেউ কেউ ছিলেন বড় বড় লেখক। এটি আল-বালাজুরী কত বিশাল পরিমাণ সংবাদ ও হাদিস লাভ করেছিলেন, তারই প্রমাণ।

আশ-শরীফ আল-মুরতাজা, যিনি আল-বালাজুরীর প্রায় এক শতাব্দী পর গ্রন্থ রচনা করেছেন, তিনি তাঁর 'আশ-শাফি' গ্রন্থে নিম্নোক্ত তথ্য উল্লেখ করেছেন:

পৃষ্ঠা ২০৭, আবুল হাসান আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন জাবির আল-বালাজুরী বর্ণনা করেছেন—সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর বিশ্বস্ততা, শিয়াদের সাহচর্য থেকে তাঁর দূরত্ব এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর নির্ভুলতা সর্বজনবিদিত—তিনি বলেন, বকর আমাকে বর্ণনা করেছেন...

এবং ২৪৬ পৃষ্ঠায় আছে, আল-বালাজুরী তাঁর ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন—তিনি তাঁর বিশ্বস্ততা ও নির্ভুলতার জন্য প্রসিদ্ধ এবং তিনি মনে করেন (সম্ভবত সঠিক হবে: তিনি মুক্ত ছিলেন) শিয়াদের সাথে জোটবদ্ধ হওয়া (সম্ভবত সঠিক হবে: চাটুকারিতা) ও তাদের ঘনিষ্ঠতা থেকে—যে আবু বকর এবং উমর উসামার বাহিনীতে ছিলেন।

তাঁর গুরুত্বের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তাঁর ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন ইয়াহইয়া বিন আলী বিন আল-মুনাজ্জিম(২) (২৪১ - ৩০০ হি.), যিনি উভয় খিলাফতের মধ্যবর্তী সময়ের কবিদের সংবাদের উপর 'আল-বাহির' গ্রন্থের রচয়িতা এবং খলিফাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তেমনি তাঁর ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন জাফর বিন কুদামাহ, যাঁর নিজস্ব বেশ কিছু রচনা ছিল।

--------------------------------------------

(১) আরব লীগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. সালাহউদ্দীন আল-মুনজিদ তাঁর সম্পাদিত 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থের ভূমিকায় আল-বালাজুরীর জীবনী সংক্রান্ত প্রাচীন ও আধুনিক উৎসগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন এবং তাঁর একটি বিস্তৃত নতুন জীবনী সংকলন করেছেন; যা সেখান থেকে দেখে নেওয়া যেতে পারে।

(২) মসিউ ডি জুয়ের কাছে আসা তথ্যে বিকৃতি ঘটেছে, তাই মুহাম্মদ বিন ইসহাক আন-নাদিম তাঁকে উল্লেখ করেছেন এবং 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থের লেখক হিসেবে অভিহিত করেছেন, অথচ তাঁদের দুইজনের মৃত্যুর সময়ের ব্যবধান একশ বছরেরও বেশি।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مؤلفاته

إن النص على مؤلفاته كاملة يرجع إلى كتاب الفهرست لمحمد بن إسحاق النديم، وقد ذكرها كما يأتي:

(1) كتاب البلدان الصغير.

(2) كتاب البلدان الكبير ولم يتمه.

(3) كتاب الأخبار والأنساب.

(4) كتاب عهد أردشير ترجمه بشعر.

ونقل ياقوت في معجم الأدباء عن الفهرست ما يأتي:

(1) كتاب البلدان الصغير.

(2) كتاب البلدان الكبير لم يتم.

(3) كتاب جمل نسب الأشراف - وهو كتابه المعروف المشهور.

(4) كتاب عهد أردشير ترجمه بشعر.

ثم أضاف ياقوت كتابًا خامسًا هو كتاب الفتوح.

ومن الملاحظ أن إضافة ياقوت هذه لم تذكر في الفهرست، وواضح أنه تكرار لكتاب البلدان أو فتوح البلدان، كما يلاحظ أنه ذكر اسم جمل نسب الأشراف في حين أن الفهرست المطبوع مذكور فيه باسم كتاب الأخبار والأنساب. وياقوت يقول إنه نقل عن الفهرست. فلعل نسخة ياقوت تخالف قليلا النسخة التي تجدها مطبوعة الآن، أو أنه كتب اسم الكتاب "جمل نسب الأشراف" من اطّلاعه هو، وكان بين يديه، ويدلنا على ذلك إضافته لجملة "وهو كتابه المعروف المشهور".

وقد أشار المسعودى وهو سابق على صاحب الفهرست إلى كتابين من هذه المؤلفات، أولهما ذكره في مروج الذهب الجزء الأول في مقدمته (ص 5 المطبعة البهية سنة 1346) فقال: "وكتاب النسب لأحمد بن علي البلاذرى، وصوابها ولا شك أحمد بن يحيى البلاذرى، وتحريفها عن الطباع". وثانيهما:
তাঁর রচনাবলী

তাঁর রচনাবলীর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আন-নাদীমের 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থের দিকে ফিরে যায়, এবং তিনি সেগুলো নিম্নরূপ উল্লেখ করেছেন:

(১) কিতাবুল বুলদান আস-সগীর (ছোট দেশসমূহের গ্রন্থ)।

(২) কিতাবুল বুলদান আল-কাবীর (বড় দেশসমূহের গ্রন্থ), যা তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি।

(৩) কিতাবুল আখবার ওয়াল আনসাব (সংবাদ ও বংশলতিকার গ্রন্থ)।

(৪) কিতাবু আহদি আরদাশির (আরদাশিরের অঙ্গীকারের গ্রন্থ), যা তিনি কাব্যিক আকারে অনুবাদ করেছেন।

ইয়াকুত তাঁর 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে 'আল-ফিহরিস্ত' থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উদ্ধৃত করেছেন:

(১) কিতাবুল বুলদান আস-সগীর।

(২) কিতাবুল বুলদান আল-কাবীর, যা সমাপ্ত হয়নি।

(৩) কিতাবু জুমালি নাসাবিল আশরাফ — এটি তাঁর পরিচিত ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থ।

(৪) কিতাবু আহদি আরদাশির, যা তিনি কাব্যিক আকারে অনুবাদ করেছেন।

এরপর ইয়াকুত একটি পঞ্চম গ্রন্থ যোগ করেছেন, যা হলো 'কিতাবুল ফুতুহ'।

এটি লক্ষণীয় যে, ইয়াকুতের এই সংযোজনটি 'আল-ফিহরিস্ত'-এ উল্লেখ করা হয়নি এবং এটি স্পষ্ট যে এটি 'কিতাবুল বুলদান' বা 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থের একটি পুনরাবৃত্তি। আরও লক্ষ্য করা যায় যে, তিনি 'জুমালু নাসাবিল আশরাফ' নামটি উল্লেখ করেছেন, অথচ বর্তমানে মুদ্রিত 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থে এটি 'কিতাবুল আখবার ওয়াল আনসাব' নামে উল্লেখ আছে। ইয়াকুত বলছেন যে তিনি 'আল-ফিহরিস্ত' থেকেই উদ্ধৃত করেছেন। সম্ভবত ইয়াকুতের নিকট থাকা পাণ্ডুলিপিটি বর্তমানে মুদ্রিত কপির চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ছিল, অথবা তিনি তাঁর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ থেকে গ্রন্থটির নাম 'জুমালু নাসাবিল আশরাফ' লিখেছিলেন যা তাঁর কাছে বিদ্যমান ছিল; তাঁর এই অতিরিক্ত বাক্যটি—"এটি তাঁর পরিচিত ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থ"—সে কথাই নির্দেশ করে।

আল-মাসউদী, যিনি 'আল-ফিহরিস্ত' প্রণেতার পূর্ববর্তী ছিলেন, তিনি এই রচনাবলীর মধ্য থেকে দুটি গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। প্রথমটি তিনি 'মুরুজুয যাহাব' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ৫, আল-মাতবাআতুল বাহিয়্যাহ, ১৩৪৬ হিজরি) উল্লেখ করে বলেছেন: "আহমদ ইবনে আলী আল-বালাযুরীর 'কিতাবুন নাসাব' (বংশলতিকার গ্রন্থ); তবে নামটির সঠিক রূপ হবে নিঃসন্দেহে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-বালাযুরী, আর পূর্বোক্তটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি।" আর দ্বিতীয় গ্রন্থটি হলো:
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
فتوح البلدان وذكره في كتابه التنبيه والإشراف (ص 310 مطبعة الصاوى سنة 1938).

كما أن عبيد الله بن أحمد بن أبي طاهر سبق المسعودى في ذكره لكتاب البلدان فقال عن البلاذرى، وهو صاحب كتاب البلدان، صنفه وأحسن تصنيفه.

وبعد هذا نجد في كشف الظنون اسم الكتاب الآتى: استقصاء في الأنساب والأخبار للشيخ أبى العباس أحمد بن جابر البلاذري، سوّده في أربعين مجلدًا ومات فلم يكمله، في حين أنه ذكر أنساب الأشراف فقال عنه: وهو كتاب كبير كثير الفائدة، كتب فيه عشرين مجلدًا ولم يتم.

وفي مقدمة "تاج العروس شرح القاموس" نجد الزبيدي يذكر من المراجع كتاب المعاليم للبلاذرى ثلاثون مجلدًا، وفي مادة نصب ج 1 ص 487، النواصب والناصبية. . . وهم طائفة الخوارج وأخبارهم مستوفاة في كتاب المعالم للبلاذرى.

وفي مادة لجأ قال البلاذرى في مفاهيم الأشراف ما نصه …(1) ".

وفي ابن عساكر في ترجمة البلاذرى:. . . الكاتب صاحب التاريخ.

وفي معجم الأدباء في ترجمة هشام بن محمد الكلبي: قال البلاذرى في تاريخه.

وفى كتاب الشافي ص 196 وروى أبو الحسن أحمد بن يحيى البلاذري في كتابه المعروف بتاريخ الأشراف، أما في ص 239، 246 فيقول: البلاذرى في تاريخه.

وفي الوافي بالوفيات للصفدى (697 - 764) ص 50 جـ 1: وتاريخ البلاذرى.

وفى كتاب بديع القرآن لابن أبي الأصبع (المتوفى سنة 654) وهو نسخة خطية ضمن مجموعة نهاية الإيجاز في دراية الإعجاز رقم 250 بلاغة بدار الكتب يذكر في مراجعه في ص 4، شروح الأشراف للبلاذرى.

فلندع كتاب عهد أردشير الذي ترجمه بشعر لأنه شيء لم نره ولا اختلاف في اسمه. ولندع أيضًا كتاب البلدان الصغير أو فتوح البلدان المطبوع في

--------------------------------------------

(1) لم يشر جوتين إلى هذه التسمية.

'ফুতুহুল বুলদান' এবং তিনি তাঁর 'আত-তানবিহ ওয়াল ইশরাফ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩১০, আস-সাবি প্রেস, ১৯৩৮ সাল) এটি উল্লেখ করেছেন।

তেমনিভাবে উবাইদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আবি তাহির 'কিতাবুল বুলদান'-এর বর্ণনায় আল-মাসউদীকেও ছাড়িয়ে গেছেন; তিনি আল-বালাজুরি সম্পর্কে বলেছেন—যিনি 'কিতাবুল বুলদান'-এর লেখক—তিনি এটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সংকলন করেছেন।

এরপর আমরা 'কাশফ উজ-জুনুন'-এ নিম্নোক্ত বইয়ের নাম পাই: শায়খ আবুল আব্বাস আহমদ বিন জাবির আল-বালাজুরির রচিত 'ইস্তিকসা ফিল আনসাব ওয়াল আখবার'; তিনি এটি চল্লিশ খণ্ডে খসড়া করেছিলেন কিন্তু সম্পন্ন করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে তিনি 'আনসাবুল আশরাফ' সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন: এটি একটি বৃহৎ এবং অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থ, তিনি এর বিশটি খণ্ড লিখেছিলেন কিন্তু তা সমাপ্ত হয়নি।

'তাজুল আরুস শারহুল কামুস'-এর ভূমিকায় আমরা দেখি যে, আয-যাবিদি আল-বালাজুরির ৩০ খণ্ডের 'কিতাবুল মাআলিম'-কে তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর 'নাসব' পরিচ্ছেদে (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৮৭) আন-নাওয়াসিব ও আন-নাসিবিয়া... তারা হলো খাওয়ারিজদের একটি গোষ্ঠী এবং তাদের সংবাদসমূহ আল-বালাজুরির 'কিতাবুল মাআলিম'-এ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

এবং 'লাজা' পরিচ্ছেদে আল-বালাজুরি 'মাফাহিমুল আশরাফ'-এ যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ …(১) "।

এবং ইবনে আসাকিরের গ্রন্থে আল-বালাজুরির জীবনীতে রয়েছে: ... লেখক ও ইতিহাসের রচয়িতা।

এবং 'মু'জামুল উদাবা'-তে হিশাম বিন মুহাম্মদ আল-কালবির জীবনীতে বলা হয়েছে: আল-বালাজুরি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বলেছেন।

এবং 'কিতাবুল শাফি'-র ১৯৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে: আবুল হাসান আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-বালাজুরি তাঁর 'তারিখুল আশরাফ' নামে পরিচিত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর ২৩৯ ও ২৪৬ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: আল-বালাজুরি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে।

আস-সাফাদির (৬৯৭ - ৭৬৪ হিজরি) 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত' গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ৫০ পৃষ্ঠায় রয়েছে: এবং আল-বালাজুরির ইতিহাস।

ইবন আবিল আসবা' (মৃত্যু ৬৫৪ হিজরি) রচিত 'বাদিউল কুরআন' গ্রন্থে—যা 'দারুল কুতুব'-এ সংরক্ষিত 'নিহায়াতুল ইজায ফি দিরায়াতিল ইজায' (অলঙ্কারশাস্ত্র নং ২৫০) সংকলনের অন্তর্ভুক্ত একটি পাণ্ডুলিপি—এর ৪ নম্বর পৃষ্ঠায় তথ্যসূত্র হিসেবে আল-বালাজুরির 'শুরুহুল আশরাফ' উল্লেখ করা হয়েছে।

সুতরাং আমরা 'আহদ আরদাশির' গ্রন্থটির আলোচনা বাদ দিই, যা তিনি কাব্য আকারে অনুবাদ করেছিলেন; কারণ এটি এমন কিছু যা আমরা দেখিনি এবং এর নামের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। আমরা 'কিতাবুল বুলদান আস-সগির' বা 'ফুতুহুল বুলদান'-এর আলোচনাও বাদ দিই যা মুদ্রিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) গোটিন এই নামকরণের দিকে ইঙ্গিত করেননি।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
480 صفحة. ولتتناول أولا ما بقى مما ذكره صاحب الفهرست. أحدهما كتاب البلدان الكبير ولم يتمه والآخر كتاب الأخبار والأنساب أو جمل نسب الأشراف هل هما كتاب واحد واختلف اسماهما أو هما كتابان مختلفان؟ إننا نرجح بل نجزم أن كتاب البلدان الكبير يختلف عن كتاب الأخبار والأنساب. ذلك أن فتوح البلدان الموجود أمامنا لا يلتقى أبدًا في طريقته وموضوعاته مع ما نجده في كتاب الأنساب، فذاك يتناول البلاد وأسباب تسميتها وفاتحيها، وهذا يتناول الأشخاص وذرياتهم وأخبارهم. وإذا كان البلاذرى قد ألف كتابًا صغيرًا في البلدان فإن الكتاب الكبير حسب التسمية يتناول موضوعات الأصغر وطريقته بتوسع وإفاضة. ومع كل هذا فليس هناك ما يدعونا إلى الشك في نص محمد بن إسحاق النديم الذي عدهما كتابين مختلفين، والمسعودى - وقد سبق صاحب الفهرست وقارب البلاذرى - أشار إلى الكتابين في المروج والتنبيه.

فلنعد إذن إلى ما قاله صاحب تاج العروس وما قاله صاحب كشف الظنون، قال الزبيدى عن المعاليم أو المعالم: إنه ثلاثون مجلدًا، ونجده في بعض نقوله في مواطن أخر يذكر كتاب أنساب الأشراف. فهل كان يعنى بالمعاليم كتاب الأنساب أو كان يعني به كتابًا آخر غيره؟

لقد رجح (س. د. ف. جوتين) أنهما كتاب واحد. وحجته في ذلك -ونحن لا نخالفه فما رآه- أن الكتب التي ترجمت للبلاذرى لم تشر إلى المعالم أو المعاليم، وأنه بالرجوع إلى كشف الظنون في أسماء الكتب التي بلفظ معالم أو معاليم لا نجد اسم البلاذرى بين مؤلفيها. وأن أغلب كتب المعالم هي في الشئون الدينية أو تاريخ سيدنا محمد. والأجزاء الأولى من أنساب الأشراف فيها سيرة النبي صلى الله عليه وسلم، كما أن الأنساب يتناول الخوارج الذين منهم أو هم النواصب والناصبية.

وقال (جوتين): إن الدكتور (بانيث) لاحظ أن المؤلفين في العهود السابقة كانوا يوردون الموضوع الواحد في عدة أجزاء، وقد يحدث أن تحمل هذه
৪৮০ পৃষ্ঠা। এবং প্রথমে আমরা আল-ফিহরিস্ট প্রণেতার উল্লেখিত অবশিষ্ট অংশগুলো নিয়ে আলোচনা করব। তাদের একটি হলো কিতাবুল বুলদান আল-কাবীর যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি, এবং অন্যটি হলো কিতাবুল আখবার ওয়াল আনসাব বা জুমালু নাসাবিল আশরাফ। এই দুটি কি আসলে একটিই বই যার নাম ভিন্ন, নাকি এগুলো দুটি পৃথক বই? আমরা বরং প্রবলভাবে মনে করি এবং নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি যে, কিতাবুল বুলদান আল-কাবীর বইটি কিতাবুল আখবার ওয়াল আনসাব থেকে ভিন্ন। কেননা আমাদের সামনে থাকা ফুতুহুল বুলদান বইটির পদ্ধতি ও বিষয়বস্তু কোনোভাবেই কিতাবুল আনসাব-এ যা পাওয়া যায় তার সাথে মেলে না। প্রথমটি শহরসমূহ, তাদের নামকরণের কারণ এবং বিজয়ীদের নিয়ে আলোচনা করে, আর দ্বিতীয়টি ব্যক্তিদের বংশধর ও তাদের সংবাদ নিয়ে আলোচনা করে। যদি বালাজুরি শহরসমূহ নিয়ে একটি ছোট বই লিখে থাকেন, তবে নাম অনুযায়ী বড় বইটি ছোট বইটির বিষয়বস্তু ও পদ্ধতিকেই আরও বিস্তৃত ও বিশদভাবে আলোচনা করবে। এতৎসত্ত্বেও মুহাম্মদ বিন ইসহাক আন-নাদিমের বক্তব্যের বিষয়ে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই, যিনি এই দুটিকে দুটি ভিন্ন বই হিসেবে গণ্য করেছেন। আর আল-মাসউদী—যিনি আল-ফিহরিস্ট প্রণেতার পূর্ববর্তী ছিলেন এবং বালাজুরির সমসাময়িক ছিলেন—তিনিও আল-মুরুজ এবং আত-তানবিহ গ্রন্থে এই দুটি বইয়ের প্রতি ইশারা করেছেন।

অতএব, চলুন তাজুল আরুস প্রণেতা এবং কাশফুজ জুনুন প্রণেতার বক্তব্যের দিকে ফিরে যাই। জুবাইদি আল-মাআলিম বা আল-মাআলিম সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি ত্রিশ খণ্ডের একটি বই। আমরা তাঁর অন্যান্য উদ্ধৃতিতে অন্য স্থানে আনসাবুল আশরাফ বইটির উল্লেখ পাই। তাহলে তিনি কি আল-মাআলিম বলতে আনসাব বইটিকেই বুঝিয়েছেন, নাকি এটি অন্য কোনো বই ছিল?

এস. ডি. এফ. গোটেইন প্রবলভাবে মত দিয়েছেন যে, এগুলো মূলত একটিই বই। এই বিষয়ে তাঁর যুক্তি হলো—এবং তিনি যা দেখেছেন তাতে আমরা তাঁর দ্বিমত পোষণ করি না—বালাজুরির জীবনী নিয়ে লেখা বইগুলোতে মাআলিম বা মাআলিম এর কোনো উল্লেখ নেই। তাছাড়া কাশফুজ জুনুন-এ মাআলিম বা মাআলিম শব্দযুক্ত বইগুলোর নামের তালিকায় আমরা লেখক হিসেবে বালাজুরির নাম পাই না। আরও কারণ হলো, মাআলিম নামযুক্ত অধিকাংশ বই ধর্মীয় বিষয়াবলি বা আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইতিহাসের ওপর রচিত। আনসাবুল আশরাফ-এর প্রথম অংশগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাত বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আনসাব গ্রন্থে খাওয়ারিজদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যাদের মধ্য থেকেই নাওয়াসিব বা নাসিবিয়া গোষ্ঠীর উদ্ভব।

গোটেইন বলেছেন: ডক্টর বানিথ লক্ষ্য করেছেন যে, পূর্ববর্তী যুগের লেখকরা একটি বিষয়কে বেশ কয়েকটি খণ্ডে উপস্থাপন করতেন এবং এমনটিও ঘটত যে এগুলো
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الأجزاء أسماء مختلفة. فلعل أحد النساخ - في الأزمان المتأخرة - وضع اسم المعالم والمعاليم على الأجزاء الأولى من أنساب الأشراف لما فيه من ذكر للرسول، وإشارة الزبيدى في مادة نصب من أن النواصب أو الناصبية … هم الخوارج، وأخبارهم مستوفاة في المعالم للبلاذرى - ترجح لنا أن المقصود به أنساب الأشراف وذكره للكتاب باسم المفاهيم لعله تحريف طباعي أو هو اسم يراد به معنى المعاليم.

أما ما جاء في كشف الظنون باسم استقصاء في الأنساب والأخبار للشيخ أبي العباس أحمد بن جابر البلاذرى فظاهر فيه أنه يشبه موضوع أنساب الأشراف. ولا مانع من أنه هو، فالأنساب استقصى الأنساب والأخبار. ولعل التحريف في كنية البلاذرى جاء من النساخ. ولا عبرة باختلاف عدد المجلدات التي ذكر أنها أربعون مجلدًا، وأن أنساب الأشراف عشرون مجلدًا، وأن المعاليم الذي ذكره الزبيدى ثلاثون مجلدًا. فهذه أشياء تختلف باختلاف الناسخين ومساحات الصفحات التي كتبوا عليها وعدد الأوراق.

 

‌‌اسم الكتاب

إن الكتاب يتناول أنساب العرب ويشرحها ويتناول الأخبار ويستقصى في ذلك، فهو من جهة يعد كتاب أنساب، ومن جهة أخرى يعد كتاب أخبار أو تاريخ أو استقصاء أو شروح.

لهذا لا نعجب حينما نرى تعدد أسمائه لدى الناقلين منه بعده. فعنوان الكتاب المخطوط: "أنساب الأشراف" في حين أنه قد كتب في آخره ما يأتي:

هذا آخر ما صنفه أحمد بن يحيى بن جابر البلاذرى من "جمل أنساب الأشراف وأخبارهم".

وفى تهذيب ابن عساكر ج 6 ص 11: … في كتابه: جمل أنساب الأشراف
খণ্ডগুলোর বিভিন্ন নাম রয়েছে। সম্ভবত পরবর্তীকালের কোনো একজন অনুলিপিকার ‘আনসাবুল আশরাফ’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডগুলোর ওপর ‘আল-মাআলিম’ ও ‘আল-মাআলিম’ নাম দিয়েছেন, কারণ এতে রাসূলের উল্লেখ রয়েছে। আর ‘নসব’ ধাতু প্রসঙ্গে জাবিদীর ইঙ্গিত—যে ‘নাওয়াসিব’ বা ‘নাসিবিয়া’ … হলো খারেজি সম্প্রদায়, এবং তাদের সংবাদ বা বিবরণ বালাযুরির ‘আল-মাআলিম’ গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে—এটি আমাদের কাছে এই মতকে জোরালো করে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘আনসাবুল আশরাফ’। আর গ্রন্থটিকে ‘আল-মাফাহিম’ নামে উল্লেখ করা সম্ভবত একটি মুদ্রণজনিত বিকৃতি অথবা এটি এমন কোনো নাম যা দ্বারা ‘আল-মাআলিম’ অর্থই উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে।

আর ‘কাশফুজ জুনুন’ গ্রন্থে শেখ আবু আব্বাস আহমাদ বিন জাবির আল-বালাযুরির ‘ইস্তিকসা ফিল আনসাব ওয়াল আখবার’ নামে যা এসেছে, তাতে বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে এটি ‘আনসাবুল আশরাফ’-এর বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এবং এটিই যে সেই গ্রন্থ, তাতে কোনো বাধা নেই; কারণ ‘আনসাব’ গ্রন্থটি বংশপরম্পরা ও সংবাদসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছে। আর বালাযুরির উপনামে যে বিকৃতি ঘটেছে, তা সম্ভবত অনুলিপিকারদের পক্ষ থেকে হয়েছে। খণ্ডসংখ্যার পার্থক্যের কোনো গুরুত্ব নেই, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি চল্লিশ খণ্ড, এবং ‘আনসাবুল আশরাফ’ বিশ খণ্ড, আর জাবিদী যে ‘আল-মাআলিম’-এর কথা উল্লেখ করেছেন তা ত্রিশ খণ্ড। কারণ এ বিষয়গুলো অনুলিপিকারদের ভিন্নতা, পৃষ্ঠার আয়তন এবং পাতার সংখ্যার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হয়।

 

‌‌গ্রন্থের নাম

নিশ্চয়ই গ্রন্থটি আরবদের বংশপরম্পরা নিয়ে আলোচনা ও ব্যাখ্যা করে এবং ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করে ও তাতে গভীর অনুসন্ধান চালায়। তাই একদিক থেকে এটি একটি বংশবিদ্যার গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়, আর অন্যদিকে এটি ইতিহাস, সংবাদ, পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান বা ব্যাখ্যার গ্রন্থ হিসেবে গণ্য হয়।

একারণে আমরা আশ্চর্য হই না যখন পরবর্তী উদ্ধৃতিদাতাদের কাছে এর নামের ভিন্নতা দেখতে পাই। পাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থের শিরোনাম হলো: "আনসাবুল আশরাফ", অথচ এর শেষে নিম্নোক্ত কথাটি লেখা হয়েছে:

এটিই আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন জাবির আল-বালাযুরি রচিত "জুমালু আনসাবিল আশরাফ ওয়া আখবারিহিম"-এর শেষ অংশ।

আর ইবনে আসাকিরের ‘তহজিব’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ১১ পৃষ্ঠায়: … তাঁর গ্রন্থ: ‘জুমালু আনসাবিল আশরাফ’-এ।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي معجم الأدباء وله من الكتب: "جمل نسب الأشراف".

وفي ابن خلكان ترجمة يوسف بن عمر: "كتاب أنساب الأشراف وأخبارهم".

وفي ابن خلكان ترجمة يزيد بن سلمة بن سمرة: "كتاب أنساب الأشراف".

وفي تاج العروس مادة خشب ص 234 جـ 1: والذي قرأت في كتاب الأنساب للبلاذرى، وكذلك في مادة شرعب جـ 1 ص 316، وقبل مادة بحرج جـ 2 ص 6.

وفي مروج الذهب في المقدمة: وكتاب النسب.

وفي كتاب بديع القرآن: شروح الأشراف.

وفي كتاب الشافي ص 196: كتابه المعروف بتاريخ الأشراف، وفي ص 239 - 246: البلاذرى في تاريخه.

وفي كتاب شرح نهج البلاغة ج 3 ص 318: وما زاده يحيى بن جابر البلاذرى في تاريخ الأشراف.

وفي معجم الأدباء ترجمة الأدباء ترجمة هشام بن محمد الكلبي: البلاذري في تاريخه.

وفي ابن عساكر ترجمة البلاذرى: صاحب التاريخ.

وتقدم أنه في الفهرست المطبوع: كتاب الأخبار والأنساب.

وتقدم أيضًا أن كشف الظنون فيه: أنساب الأشراف، واستقصاء في الأنساب والأخبار.

من هذا كله نخلص إلى أن الكتاب باسمه المطول كان:

"جمل أنساب الأشراف وأخبارهم".

وتناوله الاختصار: "جمل أنساب الأشراف". جمل نسب الأشراف. أنساب الأشراف وأخبارهم. أنساب الأشراف. النسب. شروح الأشراف. تاريخ الأشراف. التاريخ." وتناوله بعض التغيير: كتاب الأخبار والأنساب. واستقصاء في الأنساب والأخبار.
এবং মুজামুল উদাবাতে রয়েছে যে, তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: "জুমালু নাসাবিল আশরাফ"।

আর ইবনে খাল্লিকানে ইউসুফ ইবনে উমারের জীবনীতে রয়েছে: "কিতাবু আনসাবিল আশরাফ ওয়া আখবারিহিম"।

আর ইবনে খাল্লিকানে ইয়াযিদ ইবনে সালামাহ ইবনে সামুরার জীবনীতে রয়েছে: "কিতাবু আনসাবিল আশরাফ"।

আর তাজুল আরুস-এর 'খাশাব' পরিচ্ছেদে (১ম খণ্ড, ২৩৪ পৃষ্ঠা) রয়েছে: "এবং যা আমি আল-বালাযুরির কিতাবুল আনসাব-এ পড়েছি", আর অনুরূপভাবে 'শারআব' পরিচ্ছেদে (১ম খণ্ড, ৩১৬ পৃষ্ঠা) এবং 'বাহরাজ' পরিচ্ছেদের পূর্বে (২য় খণ্ড, ৬ পৃষ্ঠা)।

আর মুরুজুয যাহাব-এর ভূমিকায় রয়েছে: "ওয়া কিতাবুন নাসাব"।

আর বাদিউল কুরআন গ্রন্থে রয়েছে: "শুরুহুল আশরাফ"।

আর কিতাবুশ শাফি-তে (১৯৬ পৃষ্ঠা): "তাঁর গ্রন্থটি তারিখুল আশরাফ নামে পরিচিত", এবং ২৩৯-২৪৬ পৃষ্ঠায়: "আল-বালাযুরি তাঁর ইতিহাসে"।

আর শারহু নাহজিল বালাগা গ্রন্থে (৩য় খণ্ড, ৩১৮ পৃষ্ঠা): "এবং ইয়াহইয়া ইবনে জাবির আল-বালাযুরি তারিখুল আশরাফ-এ যা বৃদ্ধি করেছেন"।

আর মুজামুল উদাবাতে হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আল-কালবির জীবনীতে: "আল-বালাযুরি তাঁর ইতিহাসে"।

আর ইবনে আসাকিরে আল-বালাযুরির জীবনীতে: "ইতিহাস রচয়িতা"।

পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, মুদ্রিত আল-ফিহরিস্ট-এ রয়েছে: "কিতাবুল আখবার ওয়াল আনসাব"।

আরও অতিক্রান্ত হয়েছে যে, কাশফুজ জুনুন-এ এতে রয়েছে: "আনসাবুল আশরাফ" এবং "ইসতিকসাউ ফিল আনসাব ওয়াল আখবার"।

এই সমস্ত কিছু থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, গ্রন্থটির পূর্ণাঙ্গ নাম ছিল:

"জুমালু আনসাবিল আশরাফ ওয়া আখবারিহিম"।

এবং একে সংক্ষেপে বলা হয়েছে: "জুমালু আনসাবিল আশরাফ", "জুমালু নাসাবিল আশরাফ", "আনসাবুল আশরাফ ওয়া আখবারিহিম", "আনসাবুল আশরাফ", "আন-নাসাব", "শুরুহুল আশরাফ", "তারিখুল আশরাফ" ও "আত-তারিখ"। আর এতে কিছু পরিবর্তনও এসেছে: "কিতাবুল আখবার ওয়াল আনসাব" এবং "ইসতিকসাউ ফিল আনসাব ওয়াল আখবার"।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الأشراف

يطلق الشريف في اللغة على الرجل الماجد أو من كان كريم الآباء، ثم أطلق لقب الشريف على من كان من آل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم شاملا العلويين والجعفريين والعباسيين. ومن الناس من قصره على ذرية الحسن والحسين. على أن التخصيص بآل البيت وبخاصة نسل عليّ لم يشتهر إلا في القرن الرابع الهجرى ويغلب أنه كان في أواخره.

ولعل الضعف الشديد الذي انتاب الدولة العباسية وظهور الدولة الفاطمية وقوتها هو الذي جرّأ على إطلاق لقب الشريف على من كانوا ينتمون إلى نسل على من السيدة فاطمة بنت رسول الله. إذ لا يعقل أن يطلق هذا على العلويين في عهد قوة العباسيين الذين كانوا يرون أن العم أولى من ابن البنت.

وإنا نجد هذا اللقب ألحق بالمرتضى: الشريف المرتضى على بن الحسين (355 - 436) وأطلق على الرضى: الشريف الرضي محمد بن الحسين (359 - 406) أما قبل ذلك فقد كان يطلق على نسل الإمام على لفظ العلويين، وعلى نسل أبيه لفظ الطالبيين، فلسنا نجد لقب الشريف أطلق على جعفر الصادق (80 - 148)، ولم يقترن بعليّ الرضا بن موسى الكاظم (153 - 202)، كما لم يقترن بالحسين بن علي بن محمد بن علي بن موسى الرضا (231 - 260)، بل إن الحسين بن موسى بن محمد وهو والد الشريف المرتضى والشريف الرضى وكان من (307 - 400) لم يطلق عليه لقب الشريف، وكل ما لقبوه به هو الطاهر ذو المناقب.

ولقد جاء في كتب التراجم من لُقِّب من العباسيين بالشريف، فمن ذلك الشريف البياضي مسعود بن عبد العزيز أو ابن الحسين (توفى 468). وابن الهبارية محمد بن محمد بن صالح (توفى سنة 504) كان يلقب بالشريف العباسي. وهذان ينتهي نسبهما إلى عبد الله بن عباس.
আশরাফগণ

শরিফ শব্দটি আভিধানিকভাবে মর্যাদাবান ব্যক্তি বা যার পিতৃপুরুষ সম্ভ্রান্ত এমন ব্যক্তিকে বোঝায়। পরবর্তীতে শরিফ উপাধিটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইতের সদস্য তথা আলভী, জাফরী এবং আব্বাসীয়দের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যবহৃত হতে থাকে। কেউ কেউ একে কেবল হাসান ও হুসাইনের বংশধরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। তবে আহলে বাইত, বিশেষ করে আলীর বংশধরদের জন্য এই বিশেষায়িত ব্যবহার হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর আগে প্রসিদ্ধি লাভ করেনি এবং সম্ভবত এটি সেই শতাব্দীর শেষভাগে প্রচলিত হয়েছে।

সম্ভবত আব্বাসীয় খিলাফতের চরম দুর্বলতা এবং ফাতিমী রাষ্ট্রের উত্থান ও তাদের প্রভাবই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমার মাধ্যমে আলীর বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের 'শরিফ' উপাধি দেওয়ার পথ প্রশস্ত করেছিল। কারণ আব্বাসীয়দের শক্তিশালী শাসনামলে আলভীদের এই উপাধি দেওয়া অকল্পনীয় ছিল, কেননা তারা মনে করতেন যে মেয়ের ছেলের চেয়ে চাচা (উত্তরাধিকারে) অধিক হকের দাবিদার।

আমরা এই উপাধিটি মুর্তজার নামের সাথে যুক্ত পাই: শরিফ মুর্তজা আলী ইবনুল হুসাইন (৩৫৫ - ৪৩৬ হিজরি) এবং এটি রযীর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে: শরিফ রযী মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন (৩৫৯ - ৪০৬ হিজরি)। তবে এর আগে ইমাম আলীর বংশধরদের 'আলভী' এবং তাঁর পিতার বংশধরদের 'তালিবী' শব্দে অভিহিত করা হতো। আমরা জাফর আস-সাদিক (৮০ - ১৪৮ হিজরি)-এর ক্ষেত্রে শরিফ উপাধিটির ব্যবহার পাই না, এমনকি আলী আল-রযা বিন মুসা আল-কাযিম (১৫৩ - ২০২ হিজরি)-এর নামের সাথেও এটি যুক্ত ছিল না। একইভাবে হুসাইন বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসা আল-রযা (২৩১ - ২৬০ হিজরি)-এর নামের সাথেও এটি ব্যবহৃত হয়নি। এমনকি শরিফ মুর্তজা ও শরিফ রযীর পিতা হুসাইন বিন মুসা বিন মুহাম্মদ (৩০৭ - ৪০০ হিজরি)-কেও শরিফ উপাধি দেওয়া হয়নি; বরং তাঁকে কেবল 'আত-তাহির যুল মানাকিব' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।

জীবনীগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু আব্বাসীয়দের উল্লেখ পাওয়া যায় যাদের শরিফ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে রয়েছেন শরিফ আল-বায়াযী মাসউদ বিন আব্দুল আজিজ বা ইবনুল হুসাইন (মৃত্যু ৪৬৮ হিজরি) এবং ইবনুল হাব্বারিয়্যাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সালিহ (মৃত্যু ৫০৪ হিজরি), যাঁকে শরিফ আল-আব্বাসী উপাধি দেওয়া হতো। এই দুজনের বংশসূত্র আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসের সাথে মিলিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
لهذا فإن ما أورده المرحوم أحمد تيمور في كتابه التذكرة ص 37 نقلا عن كتاب مشاهد الصفا أن الشريف كان يطلق في الصدر الأول على من كان من أهل البيت سواء كان علويًا أو جعفريًا أو عباسيًا، ثم خصه الفاطميون بذرية الحسن والحسين عليها السلام. هو نص ضعيف الحجة في أوله، ومتفق معنا في نصفه الأخير. ويشبه هذا النص أيضًا ما أورده في التذكرة نقلا عن كتاب عذراء الرسائل.

فالشريف في الصدر الأول لم يكن يقصد به إلا معنى السيد والماجد. وقصة جبلة بن الأسهم وهو غسانى، وتنصره في أيام عمر معروفة، وقد ندم فقال:

تنصرت الأشراف من عار لطمة … وما كان فيها لو صبرت لها ضَرَرْ

وينقل لنا المرحوم أحمد تيمور أن لقب شريف أطلق على غير آل البيت، من ذلك في طبقات السبكي: الشريف العمري لأحد ذرية سيدنا عمر، وما ينقله عن الضوء اللامع عدم تخصيص الشرف ببنى فاطمة عليها السلام في بعض النواحى بل يطلقونه على بني العباس بل وسائر بني هاشم.

وفي الحق أنه في عهودنا هذه تنصرف كلمة شريف إلى من كانوا من آل البيت، مع أنها قد ابتذلت في بعض البلاد فصارت تطلق على من دخل الإسلام من أهل الملل الأخرى.

والبلاذرى لم يُرِد بعنوان كتابه أنساب الأشراف أن يترجم لآل البيت، وذلك واضح مما اشتمل عليه الكتاب من تراجم وأنساب وما كان متعارفًا له في عهده وقبله من معنى الشريف في اللغة.

ويتضح لنا ذلك أيضًا مما ألفه السابقون للبلاذرى، فالمدائني من مؤلفاته: كتاب أشراف عبد القيس، وابن عبدة من مؤلفاته: كتاب أشراف بكر وتغلب وعبد القيس وبكر وتغلب لا تمت إلى الهاشميين ولا القرشيين ولا المضريين وإنما هي من ربيعة.

وأشار المرحوم أحمد تيمور إلى الأغانى جـ 15 ص 91 طبع بولاق - وهذا نجده في ترجمة محمد بن صالح العلوى الذي ينتهي نسبه إلى الحسن بن علي
এই কারণে, মরহুম আহমদ তাইমুর তাঁর 'আত-তাযকিরা' গ্রন্থের ৩৭ পৃষ্ঠায় 'মাশাহিদ আস-সাফা' কিতাব থেকে উদ্ধৃত করে যা উল্লেখ করেছেন যে, প্রথম যুগে 'শরীফ' শব্দটি আহলে বাইতভুক্ত প্রত্যেকের জন্যই ব্যবহৃত হতো, তারা আলভী, জাফরি কিংবা আব্বাসী যা-ই হোক না কেন। অতঃপর ফাতেমীয়রা একে হাসান ও হুসাইন (আলাইহিমাস সালাম)-এর বংশধরদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়। এই উদ্ধৃতিটি এর প্রথমাংশের যুক্তিতে দুর্বল, তবে শেষার্ধের ক্ষেত্রে আমাদের সাথে একমত। এই উদ্ধৃতিটি 'আত-তাযকিরা' গ্রন্থে 'আযরা আল-রাসায়িল' কিতাব থেকে উদ্ধৃত অন্য একটি বর্ণনার অনুরূপ।

সুতরাং প্রথম যুগে 'শরীফ' বলতে কেবল নেতা বা মহান ব্যক্তিকেই বোঝানো হতো। জাবালা বিন আল-আইহামের ঘটনাটি—যিনি ছিলেন একজন গাসসানি এবং উমরের (রা.) যুগে তাঁর খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করার ঘটনাটি সুবিদিত—তিনি অনুতপ্ত হয়ে বলেছিলেন:

একটি চড় খাওয়ার লজ্জায় উচ্চবংশীয়রা (আশরাফ) খ্রিস্টান হয়েছে … অথচ আমি যদি ধৈর্য ধারণ করতাম তবে এতে কোনো ক্ষতি ছিল না।

মরহুম আহমদ তাইমুর আমাদের নিকট আরও বর্ণনা করেন যে, 'শরীফ' উপাধিটি আহলে বাইত ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতো। এর উদাহরণ হিসেবে 'তাবাকাত আস-সুবকি' থেকে উল্লেখ করা হয়েছে: আমাদের নেতা উমরের (রা.) একজন বংশধরের ক্ষেত্রে 'আশ-শরীফ আল-উমরি' উপাধি। আবার 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থ থেকে তিনি যা উদ্ধৃত করেছেন তা হলো, কোনো কোনো অঞ্চলে 'শরাফ' (মর্যাদা বা শরীফ উপাধি) কেবল ফাতিমা (আলাইহাস সালাম)-এর সন্তানদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল না, বরং তারা এটি আব্বাসীয়দের জন্য, এমনকি সমস্ত বনী হাশেমের জন্যও ব্যবহার করত।

প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান যুগে 'শরীফ' শব্দটি আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, যদিও কোনো কোনো দেশে এটি সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হতে হতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

আর আল-বালাযুরি তাঁর 'আনসাবুল আশরাফ' কিতাবের শিরোনাম দ্বারা কেবল আহলে বাইতের জীবনী বর্ণনা করতে চাননি। কিতাবটিতে অন্তর্ভুক্ত জীবনী ও বংশলতিকাসমূহ এবং তাঁর যুগে ও তার পূর্বে 'শরীফ' শব্দের আভিধানিক অর্থ যা প্রচলিত ছিল, তা থেকে বিষয়টি সুস্পষ্ট।

আল-বালাযুরির পূর্বসূরিদের রচনাবলি থেকেও আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়। যেমন আল-মাদাইনির গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'কিতাব আশরাফ আবদ আল-কায়েস'। আবার ইবনে আবদার গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'কিতাব আশরাফ বকর ওয়া তাগলিব'। আর আবদ আল-কায়েস, বকর এবং তাগলিব গোত্রসমূহের সাথে হাশেমী, কুরাইশী কিংবা মুদারীদের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং তারা রাবিআ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।

মরহুম আহমদ তাইমুর বুলাক সংস্করণের 'আল-আঘানি' গ্রন্থের ১৫তম খণ্ডের ৯১ পৃষ্ঠার দিকে ইঙ্গিত করেছেন—যা আমরা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-আলভির জীবনীতে দেখতে পাই, যাঁর বংশলতিকা হাসান বিন আলী পর্যন্ত পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ابن أبي طالب ناقلا ما يأتي: "تدعو لي بالشريف(1) المتولى أمر هذا الجيش" وقال تيمور: وهو حسنى. وبالرجوع إلى القصة نجد أن حمدونة بنت عيسى بن موسى الحرى التي خرجت في قافلة إنما تعنى بالشريف السيد أو الماجد أو رئيس الجيش ذلك أن محمد بن صالح العلوى كان يقطع الطريق وذلك في أيام المتوكل، فقال: "خرجت في سنة كذا وكذا ومعى أصحابي على القافلة الفلانية فقاتلنا من كان فيها فهزمناهم وملكنا القافلة، فبينا أنا أحوزها وأنيخ الجمال إذ طلعت عليّ امرأة من العمارية ما رأيت قط أحسن منها وجهًا ولا أحلى منطقًا فقالت: يا فتى إن رأيت أن تدعو لى بالشريف المتولى أمر هذا الجيش؟ إلخ. . . ." فهي لا تعرف إلا أنها وقعت في أيدى جيش لقاطع طريق. وصاحب الأغانى لم يكن يعنى بالشريف والأشراف إلا السادة، من ذلك ما جاء في الجزء الرابع من الأغانى ص 299 طبعة دار الكتب في ترجمة الدلال: وكان يجالس المشيخة والأشراف فيفيض معهم في أخبار الناس وأيامهم حتى قضى نحبه.

ويرى (جوتين) أيضًا أن الأشراف يراد بها النبلاء والعرب الخلص، ومن كان يُفرض له في بيت المال ألفا درهم أو ألفان وخمسمائة، واستشهد لذلك الأخير بما جاء في أنساب الأشراف نفسه في ص 32 جـ 5 الذي حققه وهو يأتي في الخطبة في صفحة 937 بالمجلد الخامس ونصه: "فقال له عتاب بن علاق أحد بني عوافة بن سعد وكان شريفًا. وكان عمر بن الخطاب فرض لعتاب هذا الأشراف في ألفين وخمسمائة" واستشهد بما جاء في ص 136 وهو في الخطية يأتى في ص 996 المجلد الخامس: وقتل الضحاك وقُتل معه من الأشراف ثمانون كلهم كان يأخذ القطيفة كان لكل رجل منهم في العطاء ألفان وقطيفة يعطونها مع عطائهم.

--------------------------------------------

(1) لعلها أيضًا محرفة عن كلمة العريف ومعناها: القيم بأمر القوم.

ইবনে আবি তালিব নিম্নোক্ত বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন: "তুমি আমার জন্য এই বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত শরীফের(১) কাছে প্রার্থনা করো।" তৈমুর বলেছেন: তিনি হাসানী। গল্পের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখি যে, হামদুনাহ বিনতে ঈসা ইবনে মুসা আল-হাররি, যিনি একটি কাফেলায় বেরিয়েছিলেন, তিনি 'শরীফ' বলতে সরদার, মহানুভব ব্যক্তি বা বাহিনীর প্রধানকে বুঝিয়েছেন। কারণ মুহাম্মদ ইবনে সলিহ আল-আলাভি মুতাওয়াক্কিলের শাসনামলে পথিমধ্যে লুণ্ঠন করতেন। তিনি বলেন: "আমি অমুক অমুক বছরে আমার সঙ্গীদের নিয়ে অমুক কাফেলার বিরুদ্ধে অভিযানে বের হই। আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের পরাজিত করি এবং কাফেলাটি দখল করি। যখন আমি মালামাল সংগ্রহ করছিলাম এবং উটগুলোকে হাঁটু গেড়ে বসাচ্ছিলাম, তখন হাওদা থেকে এক মহিলা বের হয়ে এলেন, যার চেয়ে সুন্দর মুখমণ্ডল এবং যার চেয়ে মিষ্টি কথা আমি কখনো শুনিনি। তিনি বললেন: হে যুবক, আপনি কি দয়া করে আমার জন্য এই বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত শরীফকে ডেকে দেবেন? ইত্যাদি..." তিনি কেবল এটাই জানতেন যে তিনি একজন দস্যু বাহিনীর হাতে পড়েছেন। আর 'আল-আগানী'র লেখক 'শরীফ' এবং 'আشরাফ' বলতে কেবল সরদার বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদেরই বুঝিয়েছেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায় 'আল-আগানী'র ৪র্থ খণ্ড, ২৯৯ পৃষ্ঠায় (দারুল কুতুব সংস্করণ), আদ-দালালের জীবনীতে: তিনি বড়দের এবং শরীফদের (অভিজাতদের) সাথে বসতেন এবং তাদের সাথে মানুষের সংবাদ ও ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতেন যতক্ষণ না তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

(গোইটিন) এর মতেও 'আশরাফ' বলতে অভিজাত এবং খাঁটি আরবদের বোঝানো হয়, যাদের জন্য বায়তুল মাল থেকে দুই হাজার বা দুই হাজার পাঁচশ দিরহাম বরাদ্দ করা হতো। তিনি তার শেষোক্ত মতের সপক্ষে 'আনসাব আল-আশরাফ'-এর ৫ম খণ্ড, ৩২ পৃষ্ঠার (যা তিনি সম্পাদনা করেছেন, পাণ্ডুলিপির ৫ম খণ্ডের ৯৩৭ পৃষ্ঠা) উদ্ধৃতি দিয়েছেন: "বনু আওয়াফা ইবনে সা'দের অন্যতম ব্যক্তি আত্তাব ইবনে আলাক তাকে বললেন—এবং তিনি একজন শরীফ ছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব এই আত্তাবের জন্য শরীফদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দুই হাজার পাঁচশ দিরহাম বরাদ্দ করেছিলেন।" তিনি আরও উদ্ধৃতি দিয়েছেন ১৩৬ পৃষ্ঠা থেকে (পাণ্ডুলিপির ৫ম খণ্ডের ৯৯৬ পৃষ্ঠা): আদ-দাহহাক নিহত হন এবং তার সাথে আশিজন শরীফ নিহত হন, যাদের প্রত্যেকেই 'কাতিফাহ' (এক প্রকার মখমল বস্ত্র) গ্রহণ করতেন; তাদের প্রত্যেকের জন্য দুই হাজার দিরহাম ভাতা এবং তাদের ভাতার সাথে একটি করে কাতিফাহ প্রদান করা হতো।

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত এটি 'আরিফ' শব্দের একটি বিকৃত রূপ, যার অর্থ হলো গোত্রের বিষয়াবলি তদারককারী।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌سبق التسمية

لم تكن هذه الألفاظ: "أنساب، أشراف، أخبار" من مستحدثات البلاذرى، بل هي كلمات جرى على التسمية بها من سبقوه. فأبو اليقظان(1) النسابة (توفي سنة 190) من كتبه: أخبار تميم، نسب خندف وأخبارها، النسب الكبير. وهشام بن محمد الكلبي (توفى سنة 206) من كتبه: كتاب النسب الكبير يحتوى على نسب كثير من القبائل. والهيثم بن عدى (توفي سنة 207) من كتبه: كتاب تاريخ الأشراف الكبير، وتاريخ الأشراف الصغير. والمدائني (توفي سنة 215) من كتبه: كتاب أشراف عبد القيس. وأحمد بن الحارث الخزاز (توفي سنة 258) من كتبه: كتاب الأشراف. ومصعب بن عبد الله الزبيري (توفي سنة 233) من كتبه: النسب الكبير ونسب قريش وقد طبع. والزبير بن بكار (توفي سنة 256) من كتبه: أنساب قريش أو نسب قريش وأخبارها.

ولقد جاء البلاذرى فرأى بعض هذه الكتب، وسمع عن بعض آخر منها، وتلقى من بعض مؤلفيها، فوضع لنا كتابه مقتبسًا التسمية كغيره ممن عاصروه أو سبقوه.

 

‌‌النسخة

النسخة التي بين أيدينا هي النسخة الوحيدة الموجودة بمكتبة عاشر أفندي بالآستانة، صورتها دار الكتب في اثني عشر مجلدًا، المجلدات الستة الأول عدد صفحاتها 1196 صفحة، والمجلدات الستة الأخر عدد صفحاتها 1258 صفحة، فجملة صفحات الكتاب 2454 صفحة وتتراوح

--------------------------------------------

(1) انظر الفهرست عند تراجم كل منهم.

পূর্ববর্তী নামকরণ

এই পরিভাষাগুলো: "আনসাব (বংশলতিকা), আশরাফ (অভিজাতগণ), আখবার (সংবাদ/ইতিহাস)" আল-বালাযুরীর কোনো নতুন উদ্ভাবন ছিল না, বরং এগুলো এমন শব্দ ছিল যা তাঁর পূর্বসূরিরা নামকরণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে গেছেন। বংশলতিকা বিশেষজ্ঞ আবু আল-ইয়াকজান(১) (মৃত্যু ১৯০ হি.) এর বইসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'আখবারু তামীম', 'নাসাবু খানদাফ ওয়া আখবারুহা' এবং 'আল-নাসাব আল-কাবীর'। হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আল-কালবী (মৃত্যু ২০৬ হি.) এর বইসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'কিতাব আল-নাসাব আল-কাবীর', যা অনেক গোত্রের বংশপরিচয় ধারণ করে। আল-হাইসাম ইবনে আদী (মৃত্যু ২০৭ হি.) এর বইসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'কিতাব তারীখ আল-আশরাফ আল-কাবীর' এবং 'তারীখ আল-আশরাফ আল-সাগীর'। আল-মাদায়িনী (মৃত্যু ২১৫ হি.) এর বইসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'কিতাব আশরাফ আবদ আল-কায়স'। আহমদ ইবনে আল-হারিস আল-খাযযায (মৃত্যু ২৫৮ হি.) এর বইসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'কিতাব আল-আশরাফ'। মুসআব ইবনে আবদুল্লাহ আল-যুবাইরী (মৃত্যু ২৩৩ হি.) এর বইসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'আল-নাসাব আল-কাবীর' এবং 'নাসাবু কুরাইশ', যা বর্তমানে মুদ্রিত। আল-যুবাইর ইবনে বাক্কার (মৃত্যু ২৫৬ হি.) এর বইসমূহের মধ্যে রয়েছে: 'আনসাবু কুরাইশ' অথবা 'নাসাবু কুরাইশ ওয়া আখবারুহা'।

অতঃপর আল-বালাযুরী এলেন এবং তিনি এগুলোর কিছু বই দেখেছিলেন, আবার কিছু সম্পর্কে শুনেছিলেন এবং তাঁদের কয়েকজন লেখকের থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁর সমসাময়িক বা পূর্বসূরিদের মতো নামকরণের রীতি গ্রহণ করে আমাদের জন্য তাঁর এই কিতাবটি রচনা করেন।

 

‌‌পাণ্ডুলিপি

আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিটি হলো আস্তানার (ইস্তাম্বুল) আশির এফেন্দী লাইব্রেরিতে বিদ্যমান একমাত্র কপি। 'দারুল কুতুব' এটি বারো খণ্ডে চিত্রায়িত করেছে; প্রথম ছয় খণ্ডের পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১৯৬ এবং শেষ ছয় খণ্ডের পৃষ্ঠা সংখ্যা ১২৫৮। সুতরাং কিতাবটির মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা হলো ২৪৫৪ এবং তা...

--------------------------------------------

(১) তাদের প্রত্যেকের জীবনীর জন্য আল-ফিহরিস্ত দেখুন।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
أسطرها بين 32، 37 سطرًا حسب وضع العنوان في وسط الصفحات، والمجلد السابع يبدأ ترقيمه بالعدد (1).

وأصل هذه النسخة الخطية - كما جاء في آخرها - "كتب من الأصل المشروع في كتبه سنة 391 والمفروغ منه في صفر سنة 395 بمصر".

نسخها - كما جاء في مقدمتها المحسن بن الحسين بن كوجك العبسي (المتوفى سنة 416)، وذكر ابن كوجك ما يأتى: "نقلت هذه النسخة من نسخة منقولة من خط البلاذرى وأصله، وهي نسخة الوزير أبي الفضل جعفر بن الفضل بن الفرات يشهد لها بذلك خطه عليها رحمه الله تعالى بعد أن قوبل بها ووثق بصحتها حرفًا بحرف".

على أن قول ابن كوجك فيه نظر، فابن الفرات الذي كان وزيرًا بمصر ولد سنة 308 وتوفي في صفر سنة 391 هـ (انظر ابن خلكان ومعجم الأدباء) ولا يتأتى التوفيق بين قول ابن كوجك وبين ما جاء في آخر النسخة -من أن الفراغ منها كان في صفر سنة 395 بمصر- إلا بأن جعفر بن الفضل بن الفرات وقع بخطه على النسخة حين الشروع في كتابتها قبل وفاته بحوالي شهر.

ثم إن نسخة ابن كوجك نسخها بعده أحمد بن محمد الموصلى، فقد جاء في آخر الكتاب ما يأتي: "وكان في الأصل على قدمه اضطراب في مواضع من تقديم وتأخير وإسقاط ومحو، وأتقنت كل ذلك من نسخة أخرى، فصار هذا الفرع مرجحًا على أصله. وكان الشروع في كتبه في يوم السبت الثامن والعشرين من ذى الحجة سنة ثمان وخمسين والفراغ منه في يوم السبت بعد صلاة عيد الأضحى سنة تسع وخمسين وست مئة، على فترات تخللت الكتابة، فصار كتب جميعه في مدة عشرة أشهر وأيام(1)، كتبه لنفسه الفقير إلى الله أحمد بن محمد بن عبد الله بن أبي بكر الموصلى ثم الدمشقي الشافعي بسكنه برباط السميساطى بدمشق حامدًا لله ومصليًا على رسوله محمد وآله وصحبه أجمعين وحسبنا الله ونعم الوكيل.

--------------------------------------------

(1) يلاحظ أن المدة هي 11 شهرًا واثنا عشر يومًا، إلا إذا كان قد أسقط الفترات التي لم يكتب فيها.

এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় শিরোনামের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে ৩২ থেকে ৩৭টি করে লাইন রয়েছে এবং সপ্তম খণ্ডটির নম্বর ১ থেকে শুরু হয়েছে।

এই পাণ্ডুলিপির মূল কপি সম্পর্কে—যেমনটি এর শেষে উল্লেখ করা হয়েছে—বলা হয়েছে: "এটি এমন একটি মূল কপি থেকে লেখা শুরু হয়েছে যা ৩৯১ হিজরিতে শুরু হয়েছিল এবং ৩৯৫ হিজরির সফর মাসে মিশরে সমাপ্ত হয়েছিল।"

এর অনুলিপি করেছেন—যেমনটি এর ভূমিকায় এসেছে—মুহসিন বিন আল-হুসাইন বিন কুজাক আল-আবসি (মৃত্যু ৪১৬ হিজরি)। ইবনে কুজাক নিম্নরূপ উল্লেখ করেছেন: "আমি এই পাণ্ডুলিপিটি এমন একটি কপি থেকে নকল করেছি যা স্বয়ং আল-বালাজুরির পাণ্ডুলিপি ও মূল কপি থেকে নকল করা হয়েছিল। এটি উজির আবু আল-ফজল জাফর বিন আল-ফজল বিন আল-ফুরাতের পাণ্ডুলিপি। এর ওপর থাকা তার নিজ হস্তাক্ষরই এর সত্যতার সাক্ষ্য দেয়—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দয়া করুন—যা মূলের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং অক্ষর অক্ষরে এর নির্ভুলতা নিশ্চিত করা হয়েছে।"

তবে ইবনে কুজাকের এই বক্তব্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ ইবনে আল-ফুরাত, যিনি মিশরের উজির ছিলেন, তিনি ৩০৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৯১ হিজরির সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন (দ্রষ্টব্য: ইবনে খাল্লিকান এবং মুজাম আল-উdabā)। ইবনে কুজাকের কথা এবং পাণ্ডুলিপির শেষে যা উল্লেখ আছে—যে ৩৯৫ হিজরির সফর মাসে মিশরে এর কাজ শেষ হয়েছিল—এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান কেবল তখনই সম্ভব, যদি জাফর বিন আল-ফজল বিন আল-ফুরাত তাঁর মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে যখন এটি লেখা শুরু হয়, তখন সেই পাণ্ডুলিপিতে স্বাক্ষর করে থাকেন।

অতঃপর ইবনে কুজাকের এই পাণ্ডুলিপিটি তাঁর পরে আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মাওসিলি অনুলিপি করেন। বইয়ের শেষে নিম্নরূপ বর্ণিত হয়েছে: "প্রাচীন হওয়ার কারণে এর মূলে বিভিন্ন স্থানে আগে-পিছে হওয়া, বিলুপ্তি ও মুছে যাওয়ার মতো কিছু ত্রুটি ছিল। আমি অন্য একটি পাণ্ডুলিপির সাহায্যে সেই সব নিখুঁতভাবে সংশোধন করেছি, ফলে এই অনুলিপিটি তার মূল কপির চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য হয়েছে। এটি লেখার কাজ শুরু হয়েছিল ৬৫- হিজরির ২৮শে জিলহজ শনিবার এবং সমাপ্ত হয়েছে ৬৬০ হিজরির ঈদুল আযহার নামাজের পর শনিবার। মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে এটি লেখা হয়েছে, ফলে এর অনুলিপি তৈরির মোট সময়কাল ছিল দশ মাস কয়েক দিন(১)। এটি নিজের জন্য লিখেছেন আল্লাহর মুখাপেক্ষী আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবু বকর আল-মাওসিলি অতঃপর আদ-দিমাশকি আশ-শাফেয়ি, দামেস্কের রিবাত আস-সুমিয়া সাতি-তে অবস্থানকালে। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করছেন এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ পাঠ করছেন। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।"

--------------------------------------------

(১) লক্ষ্যণীয় যে, সময়কালটি হলো ১১ মাস ১২ দিন, যদি না তিনি সেই বিরতিগুলো বাদ দিয়ে থাকেন যে সময়ে তিনি লেখেননি।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد ظلت نسخة الموصلي قرونًا في مكانها - الذي لا نعرفه الآن - إلى أن نسخت -كما جاء في آخر الكتاب- في القرن الثاني عشر الهجرى بخط أحمد بن حسن الدهمشاوى في يوم السبت عشرين شهر ربيع الأول من شهور سنة ثلاث وعشرين ومائة وألف من الهجرة (1123).

ثم نقلت نسخة الدهمشاوى إلى مكتبة عاشر أفندى حوالى سنة 1154 هـ كما يدل على ذلك ختم واقفها المثبت عليها.

وقد جاء في فهارس دار الكتب عن هذه النسخة المصورة من النسخة الخطية ما يأتي: "وهذه النسخة المخطوطة جزءان أحدهما بخط المحسن بن الحسين بن كوجك العبسى نقله من جزء من نسخة بخط المؤلف. والآخر بخط أحمد بن حسن الدهمشاوي. ونقله من نسخة بخط أحمد بن محمد بن عبد الله الدمشقي … ".

ويبدو أن المفهرس لم يتحقق من الخطوط والمقدمة والمؤخرة في الكتاب لأنه يخالف ما كتبه عنها، ونحن فيما كتبناه نتفق بعد مراجعتنا للكتاب مع ما كتبه (جوتين) بإيجاز في الجزء الخامس الذي أخرجه.

 

‌‌موضوعات الكتاب وطريقته

بدأ الكتاب بذكر نسب نوح عليه السلام، ثم تكلم عن العرب ونزل إلى عدنان الذي هو رأس عمود نسب الرسول وظل ينزل إلى أجداد النبي واحدًا واحدًا، ذاكرًا ما يتصل بكل جد على حدة ذاكرًا أبناءه باختصار حتى وصل إلى مولد الرسول في ص 41 المجلد الأول واستغرقت الصفحات في سيرته 237 صفحة، ثم تكلم عن أمر السقيفة، وبدأ بعد ذلك يصعد في نسب الرسول مرة أخرى، فتناول أبناء الجد الأول عبد المطلب واحدًا واحدًا فبنيهم وبني أبنائهم ومن نزل، مستوفيًا ما شاء من الأخبار والروايات، ثم صعد إلى أبناء
মাওসিলির পাণ্ডুলিপিটি কয়েক শতাব্দী ধরে তার স্থানে সংরক্ষিত ছিল—যা বর্তমানে আমাদের জানা নেই—যতক্ষণ না এটি দ্বাদশ হিজরি শতাব্দীতে আহমদ বিন হাসান আদ-দাহমাশাবীর হস্তলিপিতে ১১২৩ হিজরি সনের ২০শে রবিউল আউয়াল শনিবার প্রতিলিপি করা হয়েছিল, যেমনটি গ্রন্থের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে।

অতঃপর ১১৫৪ হিজরির দিকে দাহমাশাবীর অনুলিপিটি 'আশির এফেন্দি' লাইব্রেরিতে স্থানান্তরিত হয়, যার প্রমাণ এর ওপর লাগানো ওয়াকফকারীর সীলমোহর থেকে পাওয়া যায়।

পাণ্ডুলিপিটি থেকে গৃহীত এই আলোকচিত্রায়িত অনুলিপি সম্পর্কে 'দারুল কুতুব'-এর ক্যাটালগে নিম্নোক্ত তথ্য এসেছে: "এই পাণ্ডুলিপিটি দুটি খণ্ডে বিভক্ত; একটি আল-মুহসিন বিন আল-হুসাইন বিন কুজাক আল-আবসির হস্তলিপিতে, যা তিনি লেখকের নিজ হাতের পাণ্ডুলিপির একটি অংশ থেকে অনুলিপি করেছেন। অন্যটি আহমদ বিন হাসান আদ-দাহমাশাবীর হস্তলিপিতে, যা তিনি আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আদ-দিমাশকির পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছেন … "।

মনে হচ্ছে ক্যাটালগ প্রস্তুতকারী গ্রন্থের হস্তলিপি, ভূমিকা ও উপসংহার ভালোভাবে যাচাই করেননি, কারণ এটি তার বর্ণনার বিপরীত। আমরা যা লিখেছি, তা গ্রন্থটি পর্যালোচনার পর 'গোটেইন' তাঁর প্রকাশিত পঞ্চম খণ্ডে সংক্ষেপে যা লিখেছেন তার সাথে একমত পোষণ করে।

 

‌‌গ্রন্থের বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি

গ্রন্থটি নূহ আলাইহিস সালামের বংশপরম্পরা বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এরপর আরবদের কথা আলোচনা করা হয়েছে এবং ক্রমান্বয়ে আদনান পর্যন্ত পৌঁছানো হয়েছে, যিনি রাসূলুল্লাহর বংশলতিকার মূল স্তম্ভ। এরপর নবীর পূর্বপুরুষদের একে একে বর্ণনা করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলী পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাথে তাঁদের সন্তানদের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে। এভাবে প্রথম খণ্ডের ৪১ পৃষ্ঠায় রাসূলুল্লাহর জন্ম পর্যন্ত আলোচনা পৌঁছেছে। তাঁর সীরাত বা জীবনচরিত্র ২৩৭ পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত। এরপর 'সাকিফা'র বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে পুনরায় রাসূলুল্লাহর বংশপরম্পরা ধরে উপরের দিকে আলোচনা শুরু হয়েছে; প্রথম দাদা আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানদের একে একে বর্ণনা করা হয়েছে, তারপর তাঁদের সন্তান ও বংশধরদের বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় সকল সংবাদ ও বর্ণনা পর্যাপ্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অতঃপর তিনি আরও উপরের স্তরের সন্তানদের দিকে অগ্রসর হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الجد الثاني هاشم، ونجده ينتهى من بني هاشم بن عبد مناف في المجلد الرابع، ويبدأ ببنى عبد شمس بن عبد مناف.

وهكذا يظل متتبعًا عمود النسب حتى يصل إلى النضر الذي يسمى قريشًا، فينتهى من نسب قريش في المجلد العاشر فيقول: انقضي نسب قريش.

 

بسم الله الرحمن الرحيم

نسب بني كنانة بن خزيمة بن مدركة

وفى المجلد 12 ص 1078، تم نسب ولد إلياس بن مضر

بسم الله الرحمن الرحيم

نسب قيس ولد إلياس بن مضر

ثم ينزل متتبعًا نسل قيس حتى يصل إلى ثقيف في ص 1200 ويترجم لبعض رجال ثقيف. ويبدو أنه توفى قبل أن ينتهى من بقية قبائل قيس.

ولا ندرى أكان في منهجه أن يترجم لقبائل ربيعة والقبائل اليمنية أم أنه كان يريد الاقتصار على المضريين.

أن الكتاب خاص بالعرب نجده عند ذكر الخلفاء يتكلم على ما كانوا في عهدهم من لم رجالات وثائرين ولو لم يكونوا عربًا، مثل أبي مسلم الخراساني وابن المقفع.

وليست للمؤلف مقدمة في أول الكتاب ترينا ما كان يريد، وهذا الخلو من المقدمة يشبه ما فعله أيضًا في ابتدائه فتوح البلدان، فإنه بدأ الفتوح كما يأتي: "قال أحمد بن يحيى بن جابر: أخبرني جماعة من أهل العلم بالحديث والسير وفتوح البلدان … "، وبدأ أنساب الأشراف بما يأتي: "قال أحمد بن يحيى بن جابر: أخبرني جماعة من أهل العلم بالكتب قالوا … " (ص 2). لكنه وضع مقدمة صغيرة لا شأن لها بمنهج الكتاب، وإنما بين فيها السبب في
দ্বিতীয় দাদা হাশিম; আমরা দেখতে পাই যে তিনি চতুর্থ খণ্ডে বনু হাশিম বিন আবদ মানাফের আলোচনা শেষ করেছেন এবং বনু আবদ শামস বিন আবদ মানাফের আলোচনা শুরু করেছেন।

এভাবে তিনি বংশধারা অনুসরণ করতে থাকেন যতক্ষণ না নাযর পর্যন্ত পৌঁছান যাকে কুরাইশ বলা হয়; অতঃপর দশম খণ্ডে তিনি কুরাইশদের বংশপরিচয় শেষ করে বলেন: কুরাইশদের বংশপরিচয় সমাপ্ত হলো।

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

বনু কিনানাহ বিন খুযাইমাহ বিন মুদরিকাহ-এর বংশপরিচয়

এবং ১২তম খণ্ডের ১০৭৮ পৃষ্ঠায় ইলিয়াস বিন মুযার-এর সন্তানদের বংশপরিচয় সম্পন্ন হয়েছে।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

মুযার-এর পুত্র ইলিয়াসের সন্তান কায়স-এর বংশপরিচয়

অতঃপর তিনি কায়স-এর বংশধারা অনুসরণ করে অগ্রসর হন যতক্ষণ না ১২০০ পৃষ্ঠায় সাকীফ পর্যন্ত পৌঁছান এবং সাকীফ গোত্রের কিছু ব্যক্তির জীবনী আলোচনা করেন। আর প্রতীয়মান হয় যে, কায়স গোত্রের অবশিষ্ট শাখাগুলোর আলোচনা শেষ করার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন।

আমরা জানি না যে তাঁর কর্মপদ্ধতিতে রাবিয়াহ গোত্রসমূহ এবং ইয়ামানি গোত্রসমূহের জীবনী আলোচনা করার পরিকল্পনা ছিল কি না, নাকি তিনি কেবল মুযারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছিলেন।

বইটি আরবদের জন্য বিশেষায়িত হলেও আমরা দেখি যে খলিফাদের বর্ণনার সময় তিনি তাঁদের যুগের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপ্লবীদের কথা আলোচনা করেছেন যদিও তাঁরা আরব ছিলেন না, যেমন আবু মুসলিম আল-খুরাসানি এবং ইবনুল মুকাফফা।

গ্রন্থের শুরুতে লেখকের কোনো ভূমিকা নেই যা আমাদের তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা দেবে; ভূমিকার এই অনুপস্থিতি তাঁর 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থের শুরুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ তিনি ফুতুহ গ্রন্থটি এভাবে শুরু করেছেন: "আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন জাবির বলেছেন: হাদিস, সীরাত এবং দেশ বিজয়ের একদল বিশেষজ্ঞ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন … ", এবং তিনি 'আনসাবুল আশরাফ' এভাবে শুরু করেছেন: "আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন জাবির বলেছেন: কিতাবধারী একদল বিজ্ঞ লোক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তাঁরা বলেছেন … " (পৃষ্ঠা ২)। তবে তিনি একটি ছোট ভূমিকা যুক্ত করেছেন যার সাথে গ্রন্থের পদ্ধতির কোনো সম্পর্ক নেই, বরং সেখানে তিনি এর কারণ স্পষ্ট করেছেন যে...
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
عدم إعرابه للأعلام فقد جاء ما يأتي: "قال أحمد بن يحيى بن جابر البلاذرى(1): "وقد كتبت الأسماء في كتابي هذا على صورها ولم أعربها في النسب لئلا يظن ظان أن بعض الألفات التي في الاسم المنصوب الجاري(2) ثابتة فيه وأنها ليست بإعراب، وكذلك رأيت عدة من المشايخ فعلوه في النسب".

ونبه ابن كوجك أيضًا في المقدمة بقوله: "وتركت إعراب الأسماء كما تركتها، فلا يطعن عليّ - في إسقاط الألف الثابت في الاسم إذا أعرب - طاعن - ".

والخلو من المقدمات في الكتب التي اعتمدت على رواية الأخبار بأسانيدها يكاد أن يكون نمطًا جاريًا في عصر البلاذري، ومن ذلك كتاب الطبقات لابن سعد (230) وأخبار أبي نواس لأبي هفان (257) وكتاب الأخبار الطوال للدينورى (281) وكتاب الورقة لابن الجراح (296) وكتاب المعاني الكبير لابن قتيبة (276) بخلاف كتبه عيون الأخبار والشعر والشعراء والإمامة والسياسة المنسوب إليه فهى تكاد تخلو من رجال السند، وله في بعضها أقوال ودراسات، أما الكتب المختصة بالحديث: مسند أحمد (241) وسنن الدارمى (255) وصحيح البخارى (256) وسنن ابن ماجه (273) وسنن أبي داود (275) فإنها خلت من المقدمات، ما عدا صحيح مسلم (261) الذي كتب مقدمة وافية بغرضه.

وأنساب الأشراف ككل الكتب ذات الأسانيد يذكر الخبر برواياته المختلفة ويعقد تراجم مطولة لبعض الأعلام الذين اشتهروا من حكام وعلماء وأدباء. فقد ترجم مثلا لأبي بكر في 20 صفحة، ولعمر في 72 صفحة، ولعلى

--------------------------------------------

(1) يلاحظ أن كلمة البلاذري هذه يغلب أن تكون زائدة من الناسخ لأن البلاذرى لم يذكرها في مقدماته وفى ص 2 أيضًا من الأنساب: "قال أحمد بن يحيى بن جابر: وحدثت عن أبي روق … " ولا يعقل أن يضيف إلى نفسه كلمة البلاذرى التي ألحقت به بعد شربه البلاذري فجعله موسوسًا يوضع في المارستان إلا إذا صح أن الذي شربه هو جده جابر بن داود.

(2) المقصود بالجاري: المصروف.

নামগুলোর শেষে স্বরচিহ্ন (ই'রাব) না দেওয়া সম্পর্কে নিম্নোক্ত বর্ণনা এসেছে: "আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাবির আল-বালাজুরি(১) বলেছেন: 'আমি আমার এই কিতাবে নামগুলো তাদের মূল রূপেই লিখেছি এবং বংশপরম্পরা (নাসাব) বর্ণনায় সেগুলোতে স্বরচিহ্ন বা ই'রাব দেইনি, যাতে কোনো ধারণাকারী এমন ধারণা না করে যে, নসবযুক্ত ও তানভীন গ্রহণকারী(২) নামের শেষে বিদ্যমান কিছু আলিফ শব্দের মূল অংশ এবং সেগুলো ই'রাব নয়। অনুরূপভাবে আমি অনেক শাইখকেও দেখেছি যে, তারা বংশপরম্পরা বর্ণনায় এমনটিই করেছেন।'

ইবনে কুজাকও তার ভূমিকায় এই বলে সতর্ক করেছেন: 'আমি নামসমূহের ই'রাব বাদ দিয়েছি যেমনটি পূর্ববর্তীরা বাদ দিয়েছিলেন, সুতরাং নামের ই'রাব করার ক্ষেত্রে যে আলিফটি বিলুপ্ত হয়, তা বাদ পড়ার কারণে কোনো সমালোচক যেন আমাকে সমালোচনা না করেন।'

সনদসহ বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল গ্রন্থগুলোতে ভূমিকা না থাকাটা বালাজুরির যুগে প্রায় একটি প্রচলিত ধারা ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ইবনে সা'দের (২৩০ হি.) কিতাবুত তাবাকাত, আবু হাফফানের (২৫৭ হি.) আখবারু আবি নাওয়াস, দিনাওয়ারির (২৮১ হি.) কিতাবুল আখবারুত তিওয়াল, ইবনুল জাররাহের (২৯৬ হি.) কিতাবুল ওয়ারাকাহ এবং ইবনে কুতায়বার (২৭৬ হি.) কিতাবুল মাআনী আল-কাবীর। তবে তার অন্যান্য গ্রন্থ যেমন—উয়ুনুল আখবার, আশ-শিরু ওয়াশ-শুয়ারা এবং তার প্রতি নিসবতকৃত আল-ইমামাহ ওয়াস-সিয়াসাহ এর ব্যতিক্রম, কারণ এগুলো বর্ণনাকারীদের (রিজালুস সানাদ) উল্লেখ থেকে প্রায় খালি। সেগুলোর কয়েকটিতে তার নিজস্ব বক্তব্য ও গবেষণা রয়েছে। আর হাদিস বিষয়ক বিশেষ গ্রন্থগুলো যেমন: মুসনাদে আহমদ (২৪১ হি.), সুনানে দারেমি (২৫৫ হি.), সহিহ বুখারি (২৫৬ হি.), সুনানে ইবনে মাজাহ (২৭৩ হি.) এবং সুনানে আবু দাউদ (২৭৫ হি.) সেগুলোতে কোনো ভূমিকা ছিল না; কেবল সহিহ মুসলিম (২৬১ হি.) ব্যতীত, যাতে তিনি তার উদ্দেশ্য নিয়ে একটি পরিপূর্ণ ভূমিকা লিখেছেন।

আনসাবুল আশরাফ গ্রন্থটি সনদযুক্ত অন্যান্য গ্রন্থের ন্যায় বিভিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে সংবাদ উল্লেখ করে এবং শাসক, আলেম ও সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রসিদ্ধ কতিপয় ব্যক্তিত্বের দীর্ঘ জীবনী পেশ করে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি আবু বকরের জীবনী ২০ পৃষ্ঠায়, ওমরের জীবনী ৭২ পৃষ্ঠায় এবং আলীর...

--------------------------------------------

(১) লক্ষ্যণীয় যে, 'আল-বালাজুরি' শব্দটি সম্ভবত পাণ্ডুলিপি লিপিকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সংযোজন, কারণ বালাজুরি তার ভূমিকাসমূহে এটি উল্লেখ করেননি। এছাড়াও আনসাব গ্রন্থের ২য় পৃষ্ঠায় রয়েছে: 'আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাবির বলেছেন: আমি আবু রুক থেকে বর্ণনা করছি...'। এটা যুক্তিগ্রাহ্য নয় যে, তিনি নিজের নামের সাথে 'আল-বালাজুরি' শব্দটি যুক্ত করবেন, যা মূলত তার 'বালাজুরি' (এক প্রকার ভেষজ) পান করার পর তার নামের সাথে যুক্ত হয়েছে। কারণ এটি পান করার ফলে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং তাকে চিকিৎসালয়ে রাখা হয়েছিল; অবশ্য এটি কেবল তখনই সম্ভব হতে পারে যদি এটি সত্য হয় যে, যিনি ওই পানীয় পান করেছিলেন তিনি ছিলেন তার দাদা জাবির ইবনে দাউদ।

(২) 'জারি' দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো: তানভীন গ্রহণকারী বা মাসরুফ শব্দ।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وبنيه في أكثر من 300 صفحة، وترجم لجرير في 15 صفحة، وللفرزدق في 20 والحجاج بن يوسف الثقفى في 41 …

وإذا أورد نصًا في موضوع أو ترجمة ثم جاءت ترجمة لشخص يتعلق به النص أورده مرة أخرى، وذلك شيء نلحظه أيضًا في كتب الحديث التي تعيد الأحاديث إذا ناسبت بعض الموضوعات.

فأمر السقاية وانتقالها أورده البلاذرى في ص 24، 25 المجلد الأول، ثم أورده في ص 533 المجلد الثالث، وفى المجلد الثاني ص 336: "حدثنا يوسف بن موسى ...... قال على عليه السلام بالكوفة كيف أنتم إذا أتاكم أهل بيت نبيكم … " وأورده في المجلد الثالث ص 470. وفي المجلد الثاني ص 340: قال هشام لعمر بن علي بن أبي طالب كيف لا تطلب القيام بهذه الصدقة لنفسك. . ." وأورده في المجلد الثالث ص 503 - وفى المجلد الثالث ص 477 أورد كتاب معاوية إلى الحسين ثم أورده في المجلد الرابع الرابع ص 743، 744 ......

أما الحادثة الطويلة فإنه يحيل فيها على ما تقدم. ففي المجلد الثالث ص 478: وكان من خبر مقتله (مسلم بن عقيل) ما قد ذكرناه في خبر ولد عقيل بن أبي طالب، وقد أورد ذلك في المجلد الثاني من ص 308 إلى ص 312.

وقد عنى البلاذرى بذكر الخوارج عناية كبرى فلم يترك خليفة أمويًّا يترجم له إلا بعد أن يعنون بما يأتى: "الخوارج في عهده".

وهذا بخلاف ما ذكره في خلافة عليبن أبي طالب.

والكتاب يختلف عن كتب التاريخ فهو لا يسوق الحوادث على تسلسل الأعوام ولا بتتبع تسلسل الحكام.

ويختلف عن كتب الأنساب فلا يسرد النسب موجزًا. ولم يقتصر في ترجمته للحاكمين على مبدأ حياتهم ومنتهاها باختصار. بل هو صاحب طريقة وأسلوب يختلف عن كل ذلك، إنه يجمع بين التاريخ والتراجم والأدب وتشابك الأنساب.
এবং তার সন্তানদের কথা ৩০০-এর অধিক পৃষ্ঠায় আলোচনা করেছেন, আর জারীরের জীবনী ১৫ পৃষ্ঠায়, ফারাযদাকের ২০ পৃষ্ঠায় এবং হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফীর জীবনী ৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন ...

তিনি যদি কোনো বিষয়ে বা জীবনীতে কোনো পাঠ্য উল্লেখ করেন, আর পরবর্তীতে সেই পাঠ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির জীবনী আসে, তবে তিনি তা পুনরায় উল্লেখ করেন। এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা হাদিসের কিতাবগুলোতেও লক্ষ্য করি, যেখানে কোনো হাদিস একাধিক বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক হলে তা বারবার উল্লেখ করা হয়।

যেমন, পানি পানের ব্যবস্থা (সিকাআহ) এবং এর হস্তান্তরের বিষয়টি বালাযুরী প্রথম খণ্ডের ২৪ ও ২৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, এরপর তা পুনরায় তৃতীয় খণ্ডের ৫৩৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় খণ্ডের ৩৩৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে: "ইউসুফ বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন... আলী (আলাইহিস সালাম) কুফায় বলেছিলেন, তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমাদের নবীর আহলে বাইত তোমাদের নিকট আসবে ... " এবং তিনি এটি তৃতীয় খণ্ডের ৪৭০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় খণ্ডের ৩৪০ পৃষ্ঠায় রয়েছে: হিশাম উমর বিন আলী বিন আবি তালিবকে বললেন, "আপনি কেন এই সদকা পরিচালনার দায়িত্ব নিজের জন্য প্রার্থনা করছেন না..." এবং তিনি এটি তৃতীয় খণ্ডের ৫০৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। আর তৃতীয় খণ্ডের ৪৭৭ পৃষ্ঠায় তিনি হুসাইনের প্রতি মুয়াবিয়ার পত্র উল্লেখ করেছেন, এরপর চতুর্থ খণ্ডের ৭৪৩ ও ৭৪৪ পৃষ্ঠায় তা পুনরায় উল্লেখ করেছেন...

দীর্ঘ ঘটনাবলির ক্ষেত্রে তিনি পূর্বের বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করেন। যেমন তৃতীয় খণ্ডের ৪৭৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে: "তার (মুসলিম বিন আকীল) নিহত হওয়ার ঘটনা তাই যা আমরা আকীল বিন আবি তালিবের সন্তানদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছি," এবং তিনি তা দ্বিতীয় খণ্ডের ৩০৮ থেকে ৩১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছিলেন।

বালাযুরী খারিজিদের বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, তাই তিনি কোনো উমাইয়া খলিফার জীবনী আলোচনা করার সময় "তার শাসনামলে খারিজিরা" শিরোনাম যুক্ত না করে তাকে বাদ দেননি।

আর এটি আলী বিন আবি তালিবের খিলাফতের বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার বিপরীত।

গ্রন্থটি ইতিহাসের সাধারণ কিতাবগুলো থেকে ভিন্ন; কারণ এটি বছরভিত্তিক ধারাবাহিকতা অনুযায়ী অথবা শাসকদের পর্যায়ক্রম অনুসরণ করে ঘটনাবলি বর্ণনা করে না।

এটি বংশবিদ্যার কিতাবগুলো থেকেও আলাদা, কারণ এতে সংক্ষিপ্তভাবে বংশতালিকা বর্ণনা করা হয়নি। শাসকদের জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি কেবল তাদের জীবনের শুরু ও শেষ অতি সংক্ষেপে তুলে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। বরং তিনি এমন এক পদ্ধতি ও শৈলীর অধিকারী যা এই সবকিছু থেকে ভিন্ন; তিনি ইতিহাস, জীবনী, সাহিত্য এবং বংশীয় জটিলতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌توثيق النسخة والنقل عنها

إن الفترة التي بين خط النسخة الأخيرة التي وصلتنا من الكتاب وبين تأليفه حوالى تسعة قرون. فهل هذه النسخة الأخيرة مطابقة لما ألفه البلاذري أو هي شيء آخر غيره؟

لقد دُوّن في أول الكتاب أنه للبلاذرى كما أثبت مثل ذلك في آخره. وعلى الرغم من هذا فقد يحدث الوهم بأنه موضوع عليه لطول الفترة بين التأليف والنسخ الأخير.

إلا أننا بالرجوع إلى رجال السند الذين امتلأت بهم صفحات الكتاب نجدهم رجالا غير مفتعلين، فكل منهم ثبت اتصاله بمن بعده وأخذه عمن كان قبله، والذين حدث عنهم البلاذرى مباشرة ورد النص على اتصاله بأغلبهم، وأجاز اتفاق الزمن أنه أخذ عن بقيتهم، وبمقارنة رجال السند في أنساب الأشراف برجال السند في فتوح البلدان نجد الأكثرية من سلسلة الرجال متفقة في الكتابين. ومع هذا فإن ما جاء في الكتب التي ألفت بعد البلاذرى آخذة عنه يتفق مع ما ورد في نسختنا تمام الاتفاق، وبخاصة إذا أوردت سلسلة الإسناد. وهناك أخبار كثيرة وروايات متفقة في نصها مع ما في كتاب البلاذرى وردت في كتب الحديث والتراجم وتاريخ الطبرى ويختلف رجالها المباشرون لكل مؤلف، وهذا ما يبعث على الثقة بأن الكتاب خلا من افتعال الأخبار وتلفيق المحدثين والرواة، ويكاد يكون من العبث بعد هذا ادعاء أن إنسانًا ألف هذا الكتاب القيم وزعم أنه هو كتاب البلاذري الذي طال بيننا وبينه الأمد.

ونحن لا ننتظر من معاصري البلاذرى أن ينقلوا عن كتبه، أو ينقلوا شيئًا من أخباره الأدبية، فابن قتيبة قد أهمل كثيرًا من شعراء عصره وأدبائه، والبلاذرى نفسه أهمل أخبار من عاصروه.

أما معاصرو البلاذرى من أصحاب كتب الحديث فإنهم كانوا -وبخاصة البخاري ومسلم- يتحرون في شيوخهم شروطًا قد لا تتوافر جميعها في البلاذري، ولا يقال إن المعاصرة دعتهم إلى تركه، فمهمتهم مرتبطة باتصال الرجال، ورواية
পাণ্ডুলিপির প্রামাণিকতা এবং তা থেকে উদ্ধৃতি

বইটির সর্বশেষ যে পাণ্ডুলিপিটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তার অনুলিপি প্রস্তুতের সময় এবং মূল রচনার সময়ের মধ্যে ব্যবধান প্রায় নয় শতাব্দী। সুতরাং এই সর্বশেষ পাণ্ডুলিপিটি কি আল-বালাযুরীর মূল রচনার অনুরূপ, নাকি এটি অন্য কিছু?

বইয়ের শুরুতে এটি আল-বালাযুরীর কাজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমনটি বইয়ের শেষেও প্রমাণিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও, মূল রচনা এবং সর্বশেষ অনুলিপির মধ্যবর্তী দীর্ঘ সময়ের কারণে এটি তাঁর নামে জাল করা হয়েছে বলে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হতে পারে।

তবে আমরা যদি বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে থাকা সনদের বর্ণনাকারীদের দিকে লক্ষ্য করি, তবে আমরা দেখতে পাই যে তারা কোনো কাল্পনিক ব্যক্তি নন। তাদের প্রত্যেকেরই পরবর্তী স্তরের সাথে সংযোগ এবং পূর্ববর্তী স্তর থেকে গ্রহণের বিষয়টি প্রমাণিত। আল-বালাযুরী সরাসরি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তাদের অধিকাংশের সাথে তাঁর সংযোগের কথা দলিলে উল্লিখিত হয়েছে এবং সমকালীনতা বিচার করলে অবশিষ্টাংশের কাছ থেকেও তাঁর গ্রহণের সম্ভাবনা যৌক্তিক মনে হয়। 'আনসাবুল আশরাফ'-এর বর্ণনাকারীগণের সাথে 'ফুতুহুল বুলদান'-এর বর্ণনাকারীগণের তুলনা করলে দেখা যায় যে, উভয় গ্রন্থের বর্ণনাকারী পরম্পরার অধিকাংশই অভিন্ন। এছাড়া আল-বালাযুরীর পরে রচিত যেসকল গ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর সাথে আমাদের কাছে থাকা পাণ্ডুলিপির পূর্ণ মিল রয়েছে, বিশেষ করে যেখানে সনদ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হাদিস, জীবনীগ্রন্থ এবং তাবারীর ইতিহাসে এমন অনেক সংবাদ ও বর্ণনা রয়েছে যা আল-বালাযুরীর গ্রন্থের পাঠের সাথে হুবহু মিলে যায়, যদিও প্রত্যেক লেখকের সরাসরি বর্ণনাকারী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এটি এই বিষয়ে আস্থা জোগায় যে, গ্রন্থটি সংবাদের জালিয়াত এবং মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারীদের কারসাজি থেকে মুক্ত। এরপরে এটি দাবি করা নিরর্থক যে, কোনো ব্যক্তি এই মূল্যবান গ্রন্থটি রচনা করে সেটিকে আল-বালাযুরীর কিতাব হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন কেবল এই অজুহাতে যে, আমাদের ও তাঁর সময়ের মধ্যে দীর্ঘ ব্যবধান রয়েছে।

আমরা আল-বালাযুরীর সমসাময়িকদের কাছ থেকে তাঁর বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার বা তাঁর সাহিত্যিক সংবাদগুলো বর্ণনা করার আশা করি না। কারণ ইবনে কুতাইবাহ তাঁর সমসাময়িক অনেক কবি ও সাহিত্যিককে উপেক্ষা করেছেন এবং খোদ আল-বালাযুরীও তাঁর সমসাময়িকদের সংবাদ উপেক্ষা করেছেন।

আল-বালাযুরীর সমসাময়িক হাদিসগ্রন্থের সংকলকগণ—বিশেষ করে বুখারী ও মুসলিম—তাঁদের শায়খদের ক্ষেত্রে এমন কিছু শর্ত অনুসন্ধান করতেন যা হয়তো আল-বালাযুরীর মধ্যে পুরোপুরি বিদ্যমান ছিল না। এটি বলা সমীচীন হবে না যে, সমসাময়িকতা তাঁদেরকে তাঁকে ত্যাগ করতে প্ররোচিত করেছে; বরং তাঁদের দায়িত্ব ছিল বর্ণনাকারীদের নিরবচ্ছিন্ন পরম্পরা এবং বর্ণনা...
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الحديث لا تأتى إلا عن طريق المشافهة، وكانوا في كثير من رواياتهم يتلقى الأكبر عمن يصغره سنا للثقة به أو لانفراده بالخبر.

ولقد كان البلاذرى إخباريا نسابة هجاء، يسعى وراء الاتصال بأصحاب الجاه والسلطان، يضاف إلى هذا أنه وسوس في آخر عمره، وبعض هذا مما يدعو رجال الحديث إلى تركه أو إهمال ما أخذ منه، ونحن لا نجد في رجال البخارى ومسلم رواية عن ابن سعد صاحب الطبقات، ولا عن الواقدى، أو هشام بن الكلبى، أو أبيه محمد بن السائب، ولا عن مصعب بن عبد الله الزبيرى، ولا ابن أخيه الزبير بن بكار (راجع كتاب الجمع بين رجال الصحيحين).

لكن العجب من محمد بن جرير الطبرى، كيف لم ينقل عن البلاذرى ولم يذكره في تاريخه؟ (راجع فهارس الطبرى) لعل الفترة الطويلة من المعاصرة هي التي جعلته يتركه. فالطبرى ولد سنة 214 وتوفى سنة 310 هـ أما كونه مفسرًا محدثًا وفقيها مجتهدًا، له شروط في رجاله، فهذا شيء لا يدعوه إلى أن يهمل البلاذري في سوق الحوادث التاريخية، لأن الطبرى نقل كثيرًا مما رواه أبو مخنف لوط بن يحيى (المتوفى سنة 157) وقد قيل فيه: إنه إخباري تالف لا يوثق به، وإنه ضعيف، وإنه ليس بشيء.

وأبو الفرج الأصفهاني (184 - 356) أمره أعجب من الطبري، فإنه في كتابه مقاتل الطالبيين لم يذكر شيئًا عن البلاذرى، في حين أن ما أورده البلاذرى عن آل أبي طالب يتجاوز ثلاثمائة صفحة.

على أنه قد ذكر البلاذرى في بعض أسانيده في كتاب الأغاني (انظر الجزء الرابع طبعة دار الكتب) وما رواه عنه هو عن طريق يحيى بن النديم، ونجده في كتاب أنساب الأشراف، ففي الأغانى ج 4 ص 397 أن ابن هرمة كان مغرمًا بالنبيذ فمر على جيرانه وهو شديد السكر. . . إلخ، وهذا موجود في المجلد العاشر ص 696 من الأنساب. وفي الأغانى ج 4 ص 326 - 327 قصة عن طريح بن إسماعيل الثقفى نجدها في المجلد 12 ص 1254 من الأنساب.
হাদীস কেবল মৌখিক শ্রবণের (মুশাফাহাহ) মাধ্যমেই অর্জিত হয়। বর্ণনাকারীরা তাদের অনেক বর্ণনায় বড়রা ছোটদের থেকে জ্ঞান গ্রহণ করতেন, তাদের বিশ্বস্ততার কারণে কিংবা কোনো সংবাদে তাদের একচেটিয়া আধিকার থাকার কারণে।

নিশ্চয়ই আল-বালাজুরি ছিলেন একজন ইতিহাসবিদ, বংশবিদ এবং ব্যঙ্গাত্মক কবি, যিনি উচ্চপদস্থ ও ক্ষমতাশালীদের সাথে ঘনিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করতেন। এর সাথে আরও যুক্ত হয়েছে যে, তিনি তার জীবনের শেষ দিকে মতিভ্রম বা মানসিক অস্থিরতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এগুলোর কিছু কারণ হাদীস বিশারদদের তাকে বর্জন করতে অথবা তার থেকে সংগৃহীত বর্ণনাগুলো উপেক্ষা করতে বাধ্য করে। আমরা বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারীদের মধ্যে ‘তাবাকাত’ রচয়িতা ইবনে সাদ, ওয়াকিদি, হিশাম বিন আল-কালবি, তার পিতা মুহাম্মদ বিন আস-সাইব, মুসআব বিন আব্দুল্লাহ আল-জুবাইরি কিংবা তার ভ্রাতুষ্পুত্র জুবাইর বিন বাক্কার থেকে কোনো বর্ণনা পাই না (দেখুন: কিতাবুল জামই বাইনা রিজালিস সাহিহাইন)।

তবে মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তাবারির বিষয়টি বিস্ময়কর; তিনি কেন বালাজুরি থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেননি এবং কেন তার ইতিহাসে তাকে উল্লেখ করেননি? (দেখুন: তাবারির নির্ঘণ্ট)। সম্ভবত সমসাময়িক হওয়ার দীর্ঘ সময়কালই তাকে এটি বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আত-তবারি ২১৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩১০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তার মুফাসসির, মুহাদ্দিস এবং ফকিহ মুজতাহিদ হওয়ার কারণে বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে তার বিশেষ শর্তাবলী ছিল; তবে এটি ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর ক্ষেত্রে তাকে বালাজুরিকে অবহেলা করার দিকে পরিচালিত করতে পারে না। কারণ আত-তবারি আবু মিখনাফ লুত বিন ইয়াহইয়া (মৃত্যু: ১৫৭ হি.) থেকে অনেক বর্ণনা করেছেন, যার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি একজন অযোগ্য ইতিহাসবিদ যার উপর আস্থা রাখা যায় না, তিনি দুর্বল এবং হাদীসশাস্ত্রে তার কোনো গুরুত্ব নেই।

আর আবুল ফারাজ আল-ইসফাহানির (১৮৪-৩৫৬ হি.) বিষয়টি আত-তবারির চেয়েও অধিক বিস্ময়কর। তিনি তার ‘মাকাতিলুত তালিবিয়্যিন’ গ্রন্থে বালাজুরি সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি, অথচ আল-বালাজুরি আবু তালিবের বংশধরদের সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তা তিনশ পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে গেছে।

তা সত্ত্বেও তিনি তার ‘কিতাবুল আগানি’র কিছু সনদে বালাজুরিকে উল্লেখ করেছেন (দেখুন: চতুর্থ খণ্ড, দারুল কুতুব সংস্করণ)। তার থেকে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা ইয়াহইয়া ইবনুন নাদিমের সূত্রে, যা আমরা ‘আনসাবুল আশরাফ’ গ্রন্থেও খুঁজে পাই। যেমন— আগানি ৪র্থ খণ্ড, ৩৯৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনে হারমাহ আঙুর রসের নেশায় আসক্ত ছিলেন এবং চরম মাতাল অবস্থায় তার প্রতিবেশীদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন... ইত্যাদি। এটি আনসাবুল আশরাফ-এর দশম খণ্ড, ৬৯৬ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান। আবার আগানি ৪র্থ খণ্ড, ৩২৬-৩২৭ পৃষ্ঠায় তুরাইহ বিন ইসমাইল আস-সাকাফি সম্পর্কে একটি কাহিনী রয়েছে যা আমরা আনসাবুল আশরাফ-এর ১২তম খণ্ড, ১২৫৪ পৃষ্ঠায় খুঁজে পাই।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وفي الأغاني ج 4 ص 309 أن أم الصلت ابن طريح ماتت وهو صغير … ونجد ذلك في المجلد 12 ص 1255.

وروى الصولى عن طريق يحيى بن النديم عن البلاذرى أيضًا في كتابه الأوراق أشعار أولاد الخلفاء نصين وهما موجودان في الأنساب، ففي ص 17: "حدثنا يحيى بن علي عن أحمد بن يحيى بن جابر قال حدثني هبة الله بن إبراهيم بن المهدى أن محياة الطائفية أم ولد المنصور كانت بعثت بشكلة أم إبراهيم إلى الطائف … " وهذا في الأنساب بالمجلد الرابع 670، وفى الأوراق ص 16 حدثنا يحيى بن عبد الله (وصوابها عليّ) قال: حدثني أحمد بن يحيى بن جابر قال: هجا ابن سماعة المعيطى سليمان بن أبي جعفر ............. إلخ" وهذا في الأنساب المجلد الرابع ص 668.

والشريف المرتضى في أماليه بطريق الرواية عن علي بن محمد الكاتب عن الصولى عن يحيى بن المنجم عن البلاذرى نقل حوادث وأقوالا تروى عن خالد بن صفوان (انظر ج 2 ص 261 إلى 263 من أمالي المرتضى) وهذه النصوص موجودة في أنساب الأشراف المجلد الحادى عشر في ترجمة خالد بن صفوان من 967 - 987 وأولها في الأمالي نجده في ص 978 وباقى ما في الأمالى منه انظر ص 969، 969 أيضًا و 974، 974 أيضًا من الأنساب. والشريف المرتضى في أماليه لم يشر إلى كتاب الأنساب، ولكنه ذكر كتاب الأنساب، صراحة في كتابه (الشافي في الإمامة والنقض على كتاب المغنى للقاضي عبد الجبار بن أحمد والرد عليه فيما أورده لنصرة أولياء الشيخين وأهل السنة والجماعة طبع 1301 هـ إيران) إلا أنه سماه تاريخ الأشراف، والتاريخ.

فمما جاء من ذلك في الشافي ص 207 سطر 21: وقد روى أبو الحسن أحمد بن يحيى بن جابر البلاذرى ". . . . . . . قال حدثني بكر بن الهشام (وصوابها الهيثم) قال حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الكلبي عن أبي صالح عن ابن عباس قال بعث أبو بكر عمرَ بن الخطاب إلى عليّ حين قعد عن بيعته وقال:
'আল-আগানি' গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ড, ৩০৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে যে, উম্মুস সালত ইবনে তুরিহ যখন ছোট ছিলেন তখনই তার মা মারা যান … এবং আমরা এটি ১২তম খণ্ডের ১২৫৫ পৃষ্ঠায় খুঁজে পাই।

আস-সুলি ইয়াহইয়া বিন আন-নাদিমের মাধ্যমে বালাজুরি থেকেও তাঁর 'আল-আওরাক আশআর আওলাদ আল-খুলাফা' গ্রন্থে দুটি পাঠ্য বর্ণনা করেছেন এবং সেই দুটিই 'আনসাব' গ্রন্থে বিদ্যমান। ১৭ পৃষ্ঠায় আছে: "ইয়াহইয়া বিন আলী আমাদের কাছে আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিবাতুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন আল-মাহদী আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, মানসুরের উম্মু ওয়ালাদ মুহইয়াহ আত-তায়েফিয়া, ইবরাহিমের মা শাকলাহকে তায়েফে পাঠিয়েছিলেন … " এবং এটি 'আনসাব' গ্রন্থের চতুর্থ খণ্ডের ৬৭০ পৃষ্ঠায় রয়েছে। আর 'আল-আওরাক' এর ১৬ পৃষ্ঠায় আছে: "ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ (সঠিক হলো আলী) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন জাবির আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে সামা'আ আল-মুয়াইতি সুলাইমান বিন আবু জাফরকে উপহাস করেছিলেন ............. ইত্যাদি।" এবং এটি 'আনসাব' গ্রন্থের চতুর্থ খণ্ড, ৬৬৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

আশ-শরিফ আল-মুরতাদা তাঁর 'আমালি' গ্রন্থে আলী বিন মুহাম্মদ আল-কাতিব এর বর্ণনাসূত্রে আস-সুলি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আল-মুনাজ্জিম থেকে, তিনি বালাজুরি থেকে খালিদ বিন সাফওয়ান সম্পর্কে বর্ণিত ঘটনাবলি ও উক্তিগুলো উদ্ধৃত করেছেন (মুরতাদার 'আমালি' এর ২য় খণ্ড, ২৬১ থেকে ২৬৩ পৃষ্ঠা দেখুন)। এই পাঠ্যগুলো 'আনসাব আল-আশরাফ' গ্রন্থের একাদশ খণ্ডে খালিদ বিন সাফওয়ানের জীবনী আলোচনায় ৯৬৭ - ৯৮৭ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান। যার প্রথমাংশ আমরা 'আমালি' এর ৯৭৮ পৃষ্ঠায় পাই এবং 'আমালি'-তে থাকা এর অবশিষ্ট অংশগুলো 'আনসাব' গ্রন্থের ৯৬৯, ৯৬৯ এবং ৯৭৪, ৯৭৪ পৃষ্ঠায় দেখুন। আশ-শরিফ আল-মুরতাদা তাঁর 'আমালি' গ্রন্থে 'আনসাব' গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করেননি, কিন্তু তিনি তাঁর (আশ-শাফি ফিল ইমামাহ ওয়ান নাকজ আলা কিতাবিল মুগনি লিল কাজি আবদিল জাব্বার বিন আহমদ ওয়ার রাদ্দু আলাইহি ফিমা আওরাদানু লিনুসরাতি আউলিয়ায়িশ শাইখাইন ওয়া আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত, মুদ্রিত ১৩০১ হিজরি, ইরান) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে 'আনসাব' গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি সেটিকে 'তারিখুল আশরাফ' এবং 'আত-তারিখ' নামে অভিহিত করেছেন।

সুতরাং এ সংক্রান্ত যা কিছু 'আশ-শাফি'র ২০৭ পৃষ্ঠার ২১ নম্বর লাইনে এসেছে: "নিশ্চয়ই আবুল হাসান আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন জাবির আল-বালাজুরি বর্ণনা করেছেন '... তিনি বলেন, বকর বিন আল-হিশাম (সঠিক হলো আল-হাইসাম) আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের কাছে মা'মার থেকে, তিনি আল-কালবী থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর উমর ইবনুল খাত্তাবকে আলীর কাছে পাঠিয়েছিলেন যখন তিনি আনুগত্যের শপথ থেকে বিরত ছিলেন এবং বললেন: "
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
ائتني به بأعنف العنف، فلما أتاه جرى بينهما كلام، فقال له علي: احلب حلبًا لك شطره، والله ما حرصك على إمارته اليوم إلا ليؤمرك غدًا، وما ننفس على أبي بكر هذا الأمر، لكنا أنكرنا ترككم مشاورتنا". وهذا النص في الأنساب المجلد الثاني ص 282. وفي الشافي ص 208 سطر 6: وروى البلاذرى عن المدائى عن أبي جرى عن الزهري عن عروة عن عائشة قالت: "لم يبايع عليّ أبا بكر حتى ماتت فاطمة بعد ستة أشهر، فلما ماتت ضرع إلى صلح أبي بكر، فأرسل إليه أن يأتيه، فقال عمر: لا تأته وحدك، قال: وماذا يصنعون بي؟ فأتاه أبو بكر فقال رضي الله عنه والله ما نفسنا عليك ما ساق الله إليك من فضل وخير … ؟ " وهذا النص في الأنساب المجلد الثاني ص 282، وانظر أيضًا ما جاء في الشافي ص 288 سطر 27 فإنه في الأنساب المجلد الثاني ص 358 وما جاء في الشافي ص 260 سطر 3 فإنه في الأنساب المجلد الخامس ص 231.

وقد جاءت نقول أخرى في كتب مختلفة عن أنساب الأشراف مصرحة باسم الكتاب أو باسم البلاذرى فقط، ذكر أغلبها (جوتين) في صفحة 24 من المقدمة الإنجليزية(1) ولم يقابل بينها وبين ما جاء في الأصل إلا ما كان في الجزء الذي أخرجه، ولم يذكر ما أورده ابن خلكان في ترجمة يوسف بن عمر وما أورده في ترجمة يزيد بن سلمة بن سمرة، وذكر ما أورده ابن خلكان في ترجمة ابن المقفع. ولم يشر إلى ما جاء في الأغاني ج 4، ولا ما في أمالي المرتضى، وانظر بعض النقول عن الكتاب في شرح نهج البلاغة ج 3 ص 311، 345، 350، 352، 358، 399، 400.

ونحن نورد بعض ما أشار إليه جوتين:

تهذيب ابن عساكر ج 3 ص 250 و ج 5 ص 66 و ج 6 ص 11.

الشافي للمرتضى ص 196، 207، 208، 239، 246، 260، 296.

--------------------------------------------

(1) لم يذكر (جوتين) إلا أرقامًا، وقد رجعنا إلى مواضعها في الكتب التي بين أيدينا وتحققنا من صحتها.

তাকে আমার কাছে অত্যন্ত কঠোরতার সাথে নিয়ে এসো। যখন সে তার কাছে আসল, তখন তাদের মধ্যে কথোপকথন হলো। আলী তাকে বললেন: "এমনভাবে দোহন করো যার অর্ধেকটা তোমার হবে। আল্লাহর কসম, আজ তার নেতৃত্বের প্রতি তোমার এই আগ্রহ কেবল এই জন্য যে, তিনি যেন আগামীকাল তোমাকে আমির বানিয়ে দেন। আমরা আবু বকরের এই নেতৃত্বের বিষয়ে ঈর্ষান্বিত নই, তবে তোমরা আমাদের সাথে পরামর্শ না করায় আমরা তা অপছন্দ করেছি।" এই পাঠ্যটি আল-আনসাব গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড, ২৮২ পৃষ্ঠায় রয়েছে। এবং আশ-শাফি গ্রন্থের ২০৮ পৃষ্ঠার ৬ নম্বর লাইনে আছে: বালাজুরি মাদাইনি থেকে, তিনি আবু জারি থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ফাতেমা মারা যাওয়া পর্যন্ত ছয় মাস আলী আবু বকরের নিকট বায়আত হননি। যখন তিনি মারা গেলেন, তখন তিনি আবু বকরের সাথে সন্ধির আকাঙ্ক্ষা করলেন এবং তাকে আসার জন্য সংবাদ পাঠালেন। উমর বললেন: আপনি একাকী তার কাছে যাবেন না। তিনি বললেন: তারা আমার সাথে কী-ই বা করবে? অতঃপর আবু বকর তার কাছে এলেন এবং তিনি বললেন (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন): আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে যে ফযিলত ও কল্যাণ দান করেছেন, সে বিষয়ে আমরা আপনার প্রতি কোনো ঈর্ষা পোষণ করিনি … ?" এই পাঠ্যটি আল-আনসাব গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড, ২৮২ পৃষ্ঠায় রয়েছে। আরও দেখুন আশ-শাফি গ্রন্থের ২৮৮ পৃষ্ঠার ২৭ নম্বর লাইন যা আল-আনসাব গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড, ৩৫৮ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান এবং আশ-শাফি গ্রন্থের ২৬০ পৃষ্ঠার ৩ নম্বর লাইন যা আল-আনসাব গ্রন্থের পঞ্চম খণ্ড, ২৩১ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

আনসাবুল আশরাফ থেকে বিভিন্ন গ্রন্থে আরও কিছু উদ্ধৃতি এসেছে যেখানে সরাসরি গ্রন্থের নাম অথবা কেবল বালাজুরির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর অধিকাংশ (গোইটেইন) ইংরেজি ভূমিকার ২৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন(১) তবে তিনি যে অংশটি প্রকাশ করেছেন তা ব্যতীত মূল পাঠ্যের সাথে সেগুলোর তুলনা করেননি। তিনি ইবনে খাল্লিকান ইউসুফ বিন উমরের জীবনীতে এবং ইয়াজিদ বিন সালামাহ বিন সামুরাহর জীবনীতে যা উল্লেখ করেছেন তা উল্লেখ করেননি। তবে ইবনে খাল্লিকান ইবনুল মুকাফফার জীবনীতে যা উল্লেখ করেছেন তা তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি আল-আগানি গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ড বা আমালি আল-মুরতাদার কোনো উদ্ধৃতির দিকে ইঙ্গিত করেননি। গ্রন্থটি থেকে আরও কিছু উদ্ধৃতি দেখুন শারহু নাহজিল বালাগাহ-এর ৩য় খণ্ড, ৩১১, ৩৪৫, ৩৫০, ৩৫২, ৩৫৮, ৩৯৯, ৪০০ পৃষ্ঠায়।

আমরা গোইটেইন যা ইঙ্গিত করেছেন তার কিছু উল্লেখ করছি:

তহজীব ইবনে আসাকির ৩য় খণ্ড ২৫০ পৃষ্ঠা, ৫ম খণ্ড ৬৬ পৃষ্ঠা এবং ৬ষ্ঠ খণ্ড ১১ পৃষ্ঠা।

আল-মুরতাদার আশ-শাফি ১৯৬, ২০৭, ২০৮, ২৩৯, ২৪৬, ২৬০, ২৯৬ পৃষ্ঠা।

--------------------------------------------

(১) (গোইটেইন) কেবল সংখ্যাগুলো উল্লেখ করেছেন। আমাদের কাছে বিদ্যমান গ্রন্থগুলোতে আমরা সেই স্থানগুলো মিলিয়ে দেখেছি এবং সেগুলোর সঠিকতা নিশ্চিত করেছি।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
معجم الأدباء ترجمة هشام بن محمد الكلبي، معجم البلدان. غزة. والهرم.

الإصابة ج 1 ص 824 وليس بين أيدينا هذه النسخة، ولكني وجدت في الإصابة ج 8 ص 29 أسماء بنت مخربة ذكر البلاذري عن أبي عبيدة معمر بن المثنى، قدم هشام بن المغيرة نجران ....... وفي ص 10 وقال البلاذرى ....

تاج العروس ص 234 ج 1 (مادة خشب) و ج 1 ص 316 مادة شرعب و ج 2 ص 6 قبل مادة بحرج.

وقد قابلت بعض ما أورده جوتين فوجدت ما جاء عن ابن المقفع في ابن خلكان موجودًا في المجلد الرابع ص 638.

وما جاء في معجم البلدان (هرم) هو في المجلد الأول أنساب 35 ونقله عنه تاج العروس. وما جاء في معجم البلدان (غزة) هو في المجلد الأول أنساب ص 27.

هذا بخلاف ما سبق أن ذكرته مقابلا في الصفحات السابقة ويكفى ما قابلناه دليلا على صحة النقل وتوثيق الكتاب.

 

‌‌مضمون أنساب الأشراف

وإتمامًا للفائدة رأينا أن نثبت هنا الفهرس العام لمضامين كتاب أنساب الأشراف. وكان الأستاذ الجليل الدكتور محمد حميد الله قد وضع هذه المضامين عن نسخة استامبول الموجودة بين أيدينا. ونشرها في نشرة المعهد الفرنسي بدمشق عام 1954(1). ونحن ننقل ذلك عنه:

--------------------------------------------

(1) M. Hamidullah.Le Livre des Généalogies d'Al - BALADURIY dans le bulletin d'études 1952 - 1954 orientales (I.F.D) Tome XIV

মুজামুল উদাবা, হিশাম বিন মুহাম্মদ আল-কালবীর জীবনী; মুজামুল বুলদান। গাজা এবং হারাম।

আল-ইসাবাহ ১ম খণ্ড ৮২৪ পৃষ্ঠা, তবে এই সংস্করণটি বর্তমানে আমাদের নিকট নেই; কিন্তু আমি আল-ইসাবাহর ৮ম খণ্ডের ২৯ পৃষ্ঠায় আসমা বিনতে মুখাররিবাহ সম্পর্কে পেয়েছি যে, আল-বালাজুরি আবু উবায়দাহ মুয়াম্মার ইবনুল মুসান্না থেকে বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনুল মুগিরা নাজরানে এসেছিলেন... এবং ১০ পৃষ্ঠায় আল-বালাজুরি বলেছেন...

তাজুল আরুস ১ম খণ্ড ২৩৪ পৃষ্ঠা (খাশাব মূলশব্দ), এবং ১ম খণ্ড ৩১৬ পৃষ্ঠা শার'আব মূলশব্দ এবং ২য় খণ্ড ৬ পৃষ্ঠা বাহরাজ মূলশব্দের পূর্বে।

আমি গোটেইন যা উল্লেখ করেছেন তার কিছু অংশ মিলিয়ে দেখেছি এবং ইবনে খাল্লিকানের গ্রন্থে ইবনুল মুকাফফা সম্পর্কে যা এসেছে তা চতুর্থ খণ্ডের ৬৩৮ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান পেয়েছি।

মুজামুল বুলদান-এ (হারাম সম্পর্কে) যা এসেছে তা প্রথম খণ্ডের আনসাব ৩৫-এ রয়েছে এবং তাজুল আরুস তাঁর থেকে তা উদ্ধৃত করেছে। আর মুজামুল বুলদান-এ (গাজা সম্পর্কে) যা এসেছে তা প্রথম খণ্ডের আনসাব ২৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

এটি ইতিপূর্বে পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে আমি যা উল্লেখ করেছি তার বিপরীত, এবং আমরা যা মিলিয়ে দেখেছি তা-ই উদ্ধৃতির বিশুদ্ধতা এবং কিতাবটির নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।

 

‌‌আনসাবুল আশরাফ-এর বিষয়বস্তু

উপকারিতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমরা আনসাবুল আশরাফ গ্রন্থের বিষয়বস্তুর সাধারণ সূচি এখানে অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করছি। মহান শিক্ষক ডক্টর মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ আমাদের নিকট থাকা ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপি থেকে এই সূচিটি তৈরি করেছিলেন। তিনি এটি ১৯৫৪ সালে দামেস্কের ফরাসি ইনস্টিটিউটের বুলেটিনে প্রকাশ করেন(১)। আমরা এটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করছি:

--------------------------------------------

(১) এম. হামিদুল্লাহ। আল-বালাজুরির বংশপরিচয় বিষয়ক গ্রন্থ (লি লিভর দে জেনিয়ালজিস ডি আল-বালাজুরি), বুলেটিন ডি এটুডেস ওরিয়েন্টালস (আই.এফ.ডি), খণ্ড ১৪, ১৯৫২-১৯৫৪।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারাতু ফী নাসাবিন নাবিইয়ি ওয়া আসহাবিহিল আশারাহ (পৃষ্ঠা: -)
الجوهرة في نسب النبي وأصحابه العشرة   (محمد البري)

القسم: الأنساب


الكتاب: الجوهرة في نسب النبي وأصحابه العشرة

المؤلف: محمد بن أبي بكر بن عبد الله بن موسى الأنصاري التِّلمساني المعروف بالبُرِّي (ت بعد 645هـ)

نقحها وعلق عليها: د محمد التونجي، الأستاذ بجامعة حلب

الناشر: دار الرفاعي للنشر والطباعة والتوزيع - الرياض

الطبعة: الأولى، 1403 هـ - 1983 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নবী এবং তাঁর দশজন সাহাবীর বংশপরিচয়ের রত্নভাণ্ডার (আল-জাওহারা ফি নাসাবিন নাবি ওয়া আসহাবিহিল আশারা)   (মুহাম্মদ আল-বিররি)

বিভাগ: বংশতত্ত্ব


গ্রন্থ: নবী এবং তাঁর দশজন সাহাবীর বংশপরিচয়ের রত্নভাণ্ডার (আল-জাওহারা ফি নাসাবিন নাবি ওয়া আসহাবিহিল আশারা)

লেখক: মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসা আল-আনসারি আত-তিলিমসানি, আল-বিররি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৪৫ হিজরির পর)

পরিমার্জন ও টীকা প্রদান: ড. মুহাম্মদ আত-তুনজি, আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

প্রকাশক: দারুর রিফাই প্রকাশনা, মুদ্রণ ও বিতরণ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১