(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: -)
مشيخة السهروردي   (السهروردي، أبو حفص)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مشيخة السهروردي

المؤلف: عمر بن محمد بن عبد الله ابن عمويه، أبو حفص شهاب الدين القرشي التيمي البكري السُّهْرَوَرْدي (ت 632هـ)

المحقق: عامر حسن صبري

الناشر: مؤسسة الريان [طبع ضمن مجموع فيه ثلاث من كتب المشيخات الحديثية]

الطبعة: الأولى 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 111

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাশইয়খাতুস সুহরাওয়ার্দী   (আস-সুহরাওয়ার্দী, আবু হাফস)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: মাশইয়খাতুস সুহরাওয়ার্দী

লেখক: উমর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে আমওয়াইহ, আবু হাফস শিহাবুদ্দিন আল-কুরাশি আত-তাইমি আল-বাকরি আস-সুহরাওয়ার্দী (মৃত্যু ৬৩২ হিজরি)

সম্পাদক: আমির হাসান সাবরি

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রায়য়ান [হাদিসের মাশইয়খাহ সংক্রান্ত তিনটি গ্রন্থের সংকলনের অংশ হিসেবে মুদ্রিত]

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

শামলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (26 - 27 - 28)

 

مجموع فيه

ثلاث من كتب المشيخات الحديثية

 

-[مشيخة الإمام الزاهد شهاب الدين أبي حفص عمر بن محمد السهروردي]-

المتوفى سنة (632 هـ)

 

المشيخة البغدادية للإمام رشيد الدين أبي العباس أحمد بن المفرج ابن مسلمة الأموي

المتوفى سنة (650 هـ)

 

مشيخة أبي المنجى عبد الله بن عمر ابن اللتي البغدادي

المتوفى سنة (635 هـ)

 

حققها وقدم لها

الدكتور عامر حسن صبري

 

مؤسسة الريان

الطبعة الأولى

1425 هـ - 2004 م
হাদীস বিষয়ক খণ্ড ও গ্রন্থাবলী সিরিজ (২৬ - ২৭ - ২৮)

 

এর মধ্যে সংকলিত রয়েছে

হাদীসের মাশইয়াখাত বিষয়ক তিনটি গ্রন্থ

 

-[ইমাম যাহিদ শিহাবুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ আস-সুহরাওয়ার্দীর মাশইয়াখাত]-

মৃত্যু (৬৩২ হিজরি)

 

ইমাম রশীদুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আল-মুফাররাজ ইবনে মুসলিমাহ আল-উমাবীর বাগদাদী মাশইয়াখাত

মৃত্যু (৬৫০ হিজরি)

 

আবুল মুনজা আব্দুল্লাহ বিন উমর ইবনুল লাত্তি আল-বাগদাদীর মাশইয়াখাত

মৃত্যু (৬৩৫ হিজরি)

 

এটি তাহকীক ও ভূমিকা প্রদান করেছেন

ডক্টর আমির হাসান সাবরি

 

মুআসসাসাতুর রায়্যান

প্রথম সংস্করণ

১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌مشيخة شهاب الدين أبي حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بن عمويه السهروردي، عن شيوخه

تخريج الحسن بن محمد بن الحسن بن أبي جرويه الشيباني الموصلي له

رواية: الشيخ العالم أبي المعالي أحمد بن إِسْحَاقَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُؤَيَّدِ بْنِ عَلِيِّ الأبرقوهي، عنه.

رواية: القاضي رئيس الشام عماد الدين أبي الفضل محمد بن القاضي تاج الدين أحمد بن أحمد بن محمد بن محمد بن هبة الله الشيرازي، عنه
শিহাবুদ্দীন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমওয়াইহ আস-সুহরাওয়ার্দীর মাশায়িখনামা, তাঁর উস্তাদদের থেকে বর্ণিত

আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আবু জারওয়াইহ আশ-শায়বানী আল-মাওসিলী কর্তৃক তাঁর জন্য কৃত তাখরিজ

বর্ণনা: শায়খ আলিম আবুল মাআলি আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুআইয়াদ ইবনে আলী আল-আবরকুহী, তাঁর থেকে।

বর্ণনা: শামের প্রধান বিচারপতি ইমাদুদ্দীন আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে বিচারপতি তাজউদ্দীন আহমদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হিবাতুল্লাহ আশ-শিরাজী, তাঁর থেকে
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
بسم الله الرحمن الرحمن رَبِّ يَسِّرْ

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْعَالِمُ الْفَاضِلُ الْمُحَدِّثُ الأَصِيلُ شِهَابُ الدِّينِ أَبُو الْمَعَالِي أَحْمَدُ ابْنُ الْحَافِظِ أَبِي مُحَمَّدٍ إِسْحَاقَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُؤَيَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْهَمَذَانِيُّ الأَصْلُ الأَبَرْقُوهِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، فِي يَوْمِ الأَحَدِ لِلَيْلَتَيْنِ بَقِيَتَا مِنْ جُمَادَى الأُولَى، سَنَةَ تسع وتسعين وستمائة، بِالْجَامِعِ الطُّولُونِيِّ بَيْنَ الْقَاهِرَةِ وَمِصْرَ الْمَحْرُوسَتَيْنِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْعَالِمُ قُدْوَةُ الْمَشَايِخِ شِهَابُ الدِّينِ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمُّوَيْهِ السَّهْرَوَرْدِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أسمع، في أحد شهور سنة عشرين وستمائة، ببغداد، قال:
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। হে রব, সহজ করে দিন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, বিজ্ঞ আলেম, সজ্জন ও উচ্চবংশীয় মুহাদ্দিস শিহাবুদ্দীন আবুল মাআলি আহমদ ইবনুল হাফিজ আবু মুহাম্মদ ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুআইয়্যাদ ইবনে আলী ইবনে ইসমাইল আল-হামাদানি আল-আবারকুহি—৬৯৯ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসের অবশিষ্ট দুই রাত থাকাকালীন রবিবার দিনে, কায়রো ও মিসর নামক সুরক্ষিত দুই নগরের মধ্যবর্তী জামে তুলুনিতে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আর আমি শ্রবণ করছিলাম—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, আলেম ও মাশায়েখদের আদর্শ শিহাবুদ্দীন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মুওয়াইহ আস-সুহরাওয়ার্দী—৬২০ হিজরি সনের কোনো এক মাসে বাগদাদে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আর আমি শ্রবণ করছিলাম—তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৬০)
الشَّيْخُ الأَوَّلُ

1- أَخْبَرَنَا [الشَّيْخُ الإِمَامُ شَيْخُ الإِسْلامِ] عَمِّي‌‌ ضِيَاءُ الدِّينِ أَبُو النَّجِيبِ عَبْدُ الْقَاهِرِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، الْمَعْرُوفُ بِعَمُّوَيْهِ، ابْنُ سَعْدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ الْقَاسِمِ [بْنِ عَلْقَمَةَ بْنِ النَّضْرِ بْنِ مُعَاذِ] بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، مِنْ لَفْظِهِ -وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ- حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرٍ الشَّحَّامِيُّ -وَهُوَ أَوَّلُ حديثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ- قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْمُؤَذِّنُ -وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ- أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْمِشٍ الزِّيَادِيُّ -وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ- أَخْبَرَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بِلالٍ -وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ- حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ -وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ- حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ -وَهُوَ أَوَّلُ ⦗ص: 61⦘ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ- عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي قَابُوسٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ، ارْحَمُوا مَنْ فِي الأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ)) .
প্রথম শায়খ

১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন [শায়খ, ইমাম, শায়খুল ইসলাম] আমার চাচা‌‌ জিয়াউদ্দীন আবু নাজীব আব্দুল কাহির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, যিনি আম্মুওয়াইহ নামে পরিচিত, ইবনে সা’দ ইবনুল হুসাইন ইবনুল কাসিম [ইবনে আলকামাহ ইবনে আন-নাদর ইবনে মুয়ায] ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকর আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আস-সিদ্দিক, তাঁর নিজের মুখনিসৃত শব্দে—আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি—তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম যাহির ইবনে তাহির আশ-শাহ্হামী—আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি—তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ আহমদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-মুয়াযযিন—আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমিশ আয-যিয়াদী—আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বিলাল—আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি—আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে বিশর ইবনুল হাকাম—আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি—আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা—আর এটিই প্রথম ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি—আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের মুক্তদাস আবু কাবুল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((দয়াশীলদের ওপর পরম করুণাময় দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তবে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।))
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৬১)
2- حَدَّثَنَا شَيْخُنَا الإِمَامُ أَبُو النَّجِيبِ السَّهْرَوَرْدِيُّ رضي الله عنه، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ نَبْهَانَ الْكَاتِبُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ شَاذَانَ، حَدَّثَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، أَخْبَرَنَا الْبَغَوِيُّ -وَهُوَ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَبُو الْحَسَنِ- عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ الْقَاسِمِ بْنِ سَلامٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ فِي الْمَكَارِهِ، وَإِعْمَالُ الأَقْدَامِ إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلاةِ، تَغْسِلُ الخطايا غسلاً)) .
2- আমাদের শায়খ ইমাম আবু নাজীব আস-সুহরাওয়ার্দী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আলী মুহাম্মদ ইবন সাঈদ ইবন নাবহান আল-কাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী আল-হাসান ইবন আহমদ ইবন শাযান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, দালাজ ইবন আহমদ ইবন দালাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-বাগাওয়ী—যিনি হলেন আলী ইবন আবদুল আযীয আবুল হাসান—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উবায়দ আল-কাসিম ইবন সাল্লাম থেকে, সাফওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আলী ইবন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((কষ্টকর পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গরূপে ওযু করা, মসজিদের দিকে পদচালনা করা এবং এক সালাতের পর পরবর্তী সালাতের জন্য অপেক্ষা করা, গুনাহসমূহকে পুরোপুরি ধৌত করে দেয়))।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৬১)
3- وَبِهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حجاجٌ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زيدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:

((مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ آيةٌ إلا ولها ظهرٌ وبطنٌ، وَلِكُلِّ حرفٍ حَدٌّ، وَلِكُلِّ حَدٍّ مطلعٌ)) . قَالَ: فَقُلْتُ يَا أَبَا سَعِيدٍ، مَا الْمَطْلَعُ؟ قَالَ: قومٌ يَعْمَلُونَ بِهِ.

قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: أَحْسَبُ أَنَّ قَوْلَ الْحَسَنِ هَذَا، إِنَّمَا ذَهَبَ إِلَى قَوْلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ.
৩- এবং এই সূত্রেই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উবাইদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আলি ইবনে যাইদ থেকে, তিনি হাসান (বাসরী) থেকে বর্ণনা করেন—যিনি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত করেছেন (মারফু হিসেবে)—তিনি বলেছেন:

((কুরআনের এমন কোনো আয়াত অবতীর্ণ হয়নি যার একটি বাহ্যিক এবং একটি অভ্যন্তরীণ দিক নেই; প্রতিটি অক্ষরের জন্য একটি সীমা রয়েছে এবং প্রতিটি সীমার জন্য রয়েছে একটি পর্যবেক্ষণস্থল।)) তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি বললাম, হে আবু সাঈদ! ‘পর্যবেক্ষণস্থল’ কী? তিনি বললেন: এমন এক সম্প্রদায় যারা এর ওপর আমল করে।

আবু উবাইদ বলেন: আমি মনে করি হাসান (বাসরী)-এর এই কথাটি মূলত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের উক্তিরই অনুগামী।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৬১)
قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنِي حَجَّاجٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: ((مَا مِنْ آيةٍ إِلا وَقَدْ عَمِلَ بِهَا قومٌ، أَوْ لَهَا قومٌ يَعْمَلُونَ بِهَا)) .

تُوُفِّيَ شَيْخُنَا أَبُو النَّجِيبِ رضي الله عنه فِي لَيْلَةِ السَّبْتِ ثَامِنَ عَشَرَ ⦗ص: 63⦘ جُمَادَى الآخِرَةِ مِنْ سَنَةِ ثَلاثٍ وستين وخمسمائة [وَدُفِنَ مِنَ الْغَدِ بِمَدْرَسَتِهِ عَلَى شَاطِئِ دِجْلَةَ] وكان مولده تقديراً في سنة تسعين وأربعمائة.
আবু উবাইদ বলেন: হাজ্জাজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শুবা থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি মুররাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "এমন কোনো আয়াত নেই যার ওপর কোনো এক জাতি আমল করেনি, অথবা এমন কোনো জাতি নেই যারা তার ওপর আমল করছে।"

আমাদের শায়খ আবু নাজীব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) পাঁচশ তেষট্টি হিজরী সালের আঠারো জুমাদাল আখিরাহ শনিবার রাতে ইন্তেকাল করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ [এবং পরের দিন দজলা নদীর তীরে তাঁর মাদরাসায় তাঁকে দাফন করা হয়]। তাঁর জন্ম আনুমানিক চারশ নব্বই হিজরী সালে হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
شيخٌ آخَرُ ثانٍ

4- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ‌‌ أَبُو الْمُظَفَّرِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الشِّبْلِيُّ رحمه الله، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، بِمَجْلِسِ عَمِّي الإِمَامِ رضي الله عنه، فِي شَهْرِ رمضان سنة ست وخمسين وخمسمائةٍ، أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ الزَّاهِدُ أَبُو نصرٍ مُحَمَّدُ بْنُ محمد بن علي الزينبي، قراءةً عليه أنا أَسْمَعُ، فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ ثَمَانٍ وسبعين وأربعمائة، أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُخَلِّصُ، قِرَاءَةً عليه وأنا حاضرٌ، في سنة تسعين وثلاثمائة، حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْبَغَوِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ ⦗ص: 65⦘ الْحُدَّانِيُّ، عَنِ النَّضْرِ -يَعْنِي ابْنَ شَيْبَانَ- قَالَ: قُلْتُ لأَبِي سَلَمَةَ: حَدِّثْنِي بشيءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ أَبِيكَ، يُحَدِّثُ بِهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي فِي شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((فَرَضَ اللَّهُ عز وجل عَلَيْكُمْ شَهْرَ رَمَضَانَ، وَسَنَنْتُ لَكُمْ قِيَامَهُ، فَمَنْ صَامَهُ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا خَرَجَ مِنَ الذُّنُوبِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أمه)) .
অন্য একজন দ্বিতীয় শাইখ

৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আল-মুজাফফর হিবাতুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আশ-শিবলী রহিমাহুল্লাহ, তাঁর নিকট পঠনকালে এবং আমি শ্রবণরত ছিলাম, আমার চাচা ইমাম রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর মজলিসে, পাঁচশত ছাপ্পান্ন হিজরি সনের রমজান মাসে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শরিফ যাহেদ আবু নাসর মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি আয-যাইনাবী, তাঁর নিকট পঠনকালে এবং আমি শ্রবণরত ছিলাম, চারশত আটাত্তর হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আব্বাস বিন আব্দুর রহমান আল-মুখাল্লিস, তাঁর নিকট পঠনকালে এবং আমি উপস্থিত ছিলাম, তিনশত নব্বই হিজরি সনে; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আত-তাম্মার; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসিম বিন ফাদল ⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ আল-হুদ্দানি, নাদর—অর্থাৎ ইবনে শায়বান—থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু সালামাহকে বললাম: আমাকে এমন কিছু বর্ণনা করুন যা আপনি আপনার পিতার নিকট শুনেছেন এবং তিনি তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: আমার পিতা রমজান মাসে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তোমাদের ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য এর রাতের সালাতকে (কিয়াম) সুন্নাত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানসহ ও সওয়াবের আশায় এই মাসে রোজা রাখবে এবং রাতে সালাত আদায় করবে, সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে নিষ্কলুষ হয়ে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
5- وَبِهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ -وَهُوَ الْبَغَوِيُّ- حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْن مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلِ بْنِ هِلالِ بْنِ أسدٍ الشَّيْبَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سعيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، أَخْبَرَنِي أَبُو جَمْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عباسٍ يَقُولُ:

((قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَمَرَهُمْ بِالإِيمَانِ بِاللَّهِ عز وجل، قَالَ: تَدْرُونَ مَا الإِيمَانُ بِاللَّهِ عز وجل؟ قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: شَهَادَةُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ وَأَنْ تُعْطُوا الْخُمُسَ مِنَ الْمَغْنَمِ)) .
৫- এবং তাঁর মাধ্যমেই, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ - যিনি আল-বাগাওয়ী - বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ আশ-শায়বানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, শু'বা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু জামরা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি:

((আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, অতঃপর তিনি তাদেরকে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন: তোমরা কি জানো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী? তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: এ সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং তোমরা যেন গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করো।))।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
6- وَبِهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الْوَرْقَاءِ -قَالَ ابْنُ مَنِيعٍ: وَاسْمُهُ فَائِدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ -عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى- قَالَ ابْنُ مَنِيعٍ: بَلَغَنِي أَنَّ اسْمَ أَبِي أَوْفَى: عَلْقَمَةُ -قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ قَالَ إِحْدَى عَشْرَةَ مَرَّةً: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، أَحَدًا صَمَدًا، لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ: كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَلْفَيْ أَلْفِ حسنةٍ)) .
৬- এবং তাঁর সূত্রেই, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজীজ আবু নাসর আত-তাম্মার, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, তিনি আবু আল-ওয়ারকা থেকে—ইবনে মানী' বলেন: তাঁর নাম হলো ফায়িদ বিন আবদুর রহমান—তিনি আবদুল্লাহ বিন আবি আওফা থেকে—ইবনে মানী' বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আবু আওফার নাম হলো আলকামাহ—তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি এগারো বার বলবে: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি একক ও অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই’; আল্লাহ তার জন্য বিশ লক্ষ নেকি লিখে দেবেন।))।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৬৫)
7- وَبِهِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ عبيد الله بْنِ مقسمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ:

((قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مِنْبَرِهِ: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ، وَالأَرْضُ جميعاً قبضته يوم القيامة} قَالَ: فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ هَكَذَا يُمَجِّدُ نَفْسَهُ، وَيَقُولُ: أَنَا الْعَزِيزُ، أَنَا الْجَبَّارُ، أَنَا الْمُتَكَبِّرُ، يَعْنِي اللَّهَ ⦗ص: 67⦘ عز وجل، فَرَجَفَ بِهِ الْمِنْبَرُ، حَتَّى قُلْنَا: لَتَخِرَّنَّ بِهِ الأَرْضُ)) .
৭- এবং তাঁর মাধ্যমেই আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু নাসর আত-তাম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে মিকসাম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে তিলাওয়াত করলেন: {আর তারা আল্লাহকে তাঁর যথাযথ মর্যাদা দেয়নি, অথচ কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয়}। তিনি (ইবনে উমর) বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবে ইশারা করে মহান আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করতে লাগলেন এবং বলতে থাকলেন: আমিই মহাপরাক্রমশালী, আমিই প্রবল প্রতাপশালী, আমিই পরম অহঙ্কারী—অর্থাৎ আল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ আযযা ওয়া জাল্লা—তখন মিম্বারটি তাঁকে নিয়ে কাঁপতে লাগল, এমনকি আমরা বলতে লাগলাম: এটি কি তাঁকে নিয়ে মাটিতে ধসে পড়বে?)) .
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
8- أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُظَفَّرِ الشِّبْلِيُّ [قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي يَوْمِ الإِثْنَيْنِ رَابِعِ شَهْرِ رَمَضَانَ سنة ست وخمسين وخمسمائة] ، أَخْبَرَنَا طَرَّادُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّيْنَبِيُّ [قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الآخِرِ] ، سَنَةَ ثمانين وأربعمائة، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ [أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ] رِزْقَوَيْهِ [الْبَزَّازُ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي شَهْرِ رمضان] ، سنة إحدى عشرة وأربعمائة، أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حربٍ، [فِي شَهْرِ ربيع الأول من] سنة تسع وثلاثين وثلاثمائة فِي دَرْبِ دَجَاجٍ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حَرْبِ بْنِ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ:

قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ((لا حَسَدَ إِلا فِي اثْنَيْنِ: رجلٌ آتَاهُ اللَّهُ عز وجل الْقُرْآنَ، فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ، وَآنَاءَ النَّهَارِ، ورجلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالا فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ)) .
৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মুজাফফর আশ-শিবলী [তার নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম ৫৬৬ হিজরি সনের রমজান মাসের চতুর্থ দিন সোমবারে], আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তরাদ বিন মুহাম্মদ আজ-জাইনাবী [তার নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম রবিউস সানি মাসে], ৪৮০ হিজরি সনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন [আহমদ বিন মুহাম্মদ] রিজকওয়াইহ [আল-বাজ্জাজ, রমজান মাসে তার নিকট পাঠ করার সময়], ৪১১ হিজরি সনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন উমর বিন আলী বিন হারব, ৩৩৯ হিজরি সনের [রবিউল আউয়াল মাসে] দারবে দাজাজ নামক স্থানে, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন হারব বিন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান বিন উয়াইনা, যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কেবল দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈর্ষা করা যায়: এক ব্যক্তি যাকে মহান আল্লাহ কুরআন দান করেছেন এবং সে রাত ও দিনের বিভিন্ন প্রহরে তা নিয়ে দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, আর অন্য ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সে রাত ও দিনের বিভিন্ন প্রহরে তা ব্যয় করে।”
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
9- وَبِهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي يَعْفُورَ، عَنْ مسلمٍ، عَنْ مسروقٍ، سَمِعْنَا عَائِشَةَ تَقُولُ:

((كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ الأَوَاخِرُ مِنْ رَمَضَانَ شَدَّ الْمِئْزَرَ، وَأَحْيَا اللَّيْلَ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ)) .

تُوُفِّيَ أَبُو الْمُظَفَّرِ [هِبَةُ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ محمدٍ بْنِ الشِّبْلِيِّ الْقَصَّارُ فِي يَوْمِ الأَحَدِ] سَلْخَ [ذِي الْحَجَّةِ] سَنَةَ سبع وخمسين وخمسمائةٍ، وَهُوَ آخِرُ مَنْ حَدَّثَ عَنِ [الشَّرِيفِ أَبِي نصرٍ] الزَّيْنَبِيِّ [وَالشَّرِيفُ أَبُو نَصْرٍ الزَّيْنَبِيُّ آخِرُ مَنْ حَدَّثَ عَنِ الْمُخَلِّصِ] .
৯- এবং এই সনদেই, সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াফুর থেকে, তিনি মুসলিম থেকে, তিনি মাসরুক থেকে; আমরা আয়েশা (রা.)-কে বলতে শুনেছি:

((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রমজানের শেষ দশকে প্রবেশ করতেন, তখন তিনি তাঁর কোমর কষে নিতেন (তহবন্দ মজবুত করে বাঁধতেন), রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং তাঁর পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন))।

আবু আল-মুজাফ্ফর [হিবাতুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আশ-শিবলি আল-কাসসার রবিবার দিনে] পাঁচশত সাতান্ন হিজরি সনের [জিলহজ] মাসের শেষ দিনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন [আশ-শরিফ আবু নাসর] আজ-জাইনাবি থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি [আর আশ-শরিফ আবু নাসর আজ-জাইনাবি ছিলেন আল-মুখাল্লিস থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি]।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৬৭)
شيخٌ ثالثٌ

10- أَخْبَرَنَا‌‌ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سَلْمَانَ [قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ] ، ثَانِي ربيع الآخر سنة ست وخمسين وخمسمائة، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مَالِكُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْبَانِيَاسِيُّ الْمَالِكِيُّ، فِي شهور سنة خمس وثمانين وأربعمائة، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ [مُوسَى] بْنِ الْحَكَمِ بْنِ الصَّلْتِ الْقُرَشِيُّ الْمُجَبِّرُ، قراءةً عليه في رجبٍ سنة خمس وأربعمائةٍ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ الْهَاشِمِيُّ إِمْلاءً، حَدَّثَنَا أَبُو مصعبٍ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الزُّهْرِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عن شِهَابٍ، عَنْ سالمٍ، عَنْ أَبِيهِ:

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ مَرَّ عَلَى رجلٍ وَهُوَ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ، فَقَالَ ⦗ص: 70⦘ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((الْحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ)) .
তৃতীয় শাইখ

১০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে আহমদ ইবনে সালমান [তার নিকট পাঠ করা অবস্থায় এবং আমি শ্রবণরত ছিলাম জুমার দিনে], ৫৫৬ হিজরির ২রা রবিউস সানি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আহমদ ইবনে আলী ইবনে ইব্রাহিম আল-বানিয়াসি আল-মালিকি, ৪৮৫ হিজরির মাসগুলোতে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে [মুসা] ইবনে আল-হাকাম ইবনে আস-সালত আল-কুরাশি আল-মুজাব্বির, ৪০৫ হিজরির রজব মাসে তার নিকট পাঠ করার সময়; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আব্দুস সামাদ আল-হাশেমি শ্রুতলিখন হিসেবে; আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু মুসআব আহমদ ইবনে আবু বকর আজ-জুহরি, তিনি মালিক ইবনে আনাস হতে, তিনি শিহাব হতে, তিনি সালিম হতে এবং তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে:

আল্লাহর রাসুল এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন সে তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছিল, তখন ⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "লজ্জা ঈমানের অংশ।"
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭০)
11- وَبِهِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ:

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((لَوْلا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَحْبَبْتُ أَنْ لا أَتَخَلَّفَ خَلْفَ سريةٍ تَخْرُجُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَلَكِنْ لا أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ، وَلا يَجِدُونَ مَا يَحْمِلُونَ عَلَيْهِ، وَيَشُقُّ عَلَيْهِمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا بَعْدِي، فَوَدِدْتُ أَنْ أُقَاتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأُقْتَلُ، ثُمَّ أَحْيَا فَأُقْتَلُ، ثُمَّ أَحْيَا فَأُقْتَلُ)) .
১১- এবং এই সনদেই মালিক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ থেকে, তিনি আবু সালিহ আস-সাম্মান থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেন:

নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আল্লাহর পথে বের হওয়া কোনো ক্ষুদ্র সেনাদলের পেছনে থেকে যাওয়া আমি পছন্দ করতাম না। কিন্তু আমি তাদের বহন করার মতো কোনো সওয়ারি পাচ্ছি না, আর তারাও কোনো সওয়ারি পাচ্ছে না যাতে তারা আরোহণ করবে; ফলে আমার পেছনে থেকে যাওয়া তাদের জন্য কষ্টদায়ক হবে। আমি অবশ্যই কামনা করি যে, আমি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করি ও শহীদ হই, এরপর পুনরায় জীবিত হই ও শহীদ হই, এরপর পুনরায় জীবিত হই ও শহীদ হই।"।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭০)
12- وَأَخْبَرَنَاهُ الشُّيُوخُ: أَبُو مُحَمَّدِ بْنَ الْمَوْصِلِيِّ، وَأَبُو بكر ابن الْمُقَرَّبِ، وَيَحْيَى بْنُ ثَابِتٍ، وَأَبُو الْمُعَمَّرِ بْنُ الْهَاطِرَا، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ طَلْحَةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ بْنُ مَهْدِيٍّ، أَخْبَرَنَا الْمَحَامِلِيُّ، ⦗ص: 71⦘ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، بِمِثْلِهِ.
১২- আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন শায়খগণ: আবু মুহাম্মাদ বিন আল-মাওসিলি, আবু বকর ইবনুল মুকাররিব, ইয়াহইয়া বিন সাবিত এবং আবু আল-মুয়াম্মার বিন আল-হাতিরা; তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন তালহা; তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর বিন মাহদি; তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মাহামিলি; ⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন ইসমাঈল আল-মাদানি; তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭১)
13- أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي، أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، [و] الفضل بْنُ مُوسَى، قَالا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((نِعْمَتَانِ مغبونٌ فِيهِمَا كثيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ)) .
১৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক বিন আহমদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন আব্দুস সামাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-মারওয়াযী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক এবং আল-ফাদল বিন মুসা, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আবু হিন্দ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দুটি নিআমত এমন যাতে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: সুস্থতা এবং অবসর।"
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭১)
14- وَبِهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَزْرَقِيُّ، حَدَّثَنِي جَدِّي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَاهْ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((يا بني عبدمنافٍ، يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، إِنْ وُلِّيتُمْ مِنْ هَذَا الأَمْرِ شَيْئًا فَلا تَمْنَعُوا أَحَدًا طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ وَصَلَّى، أَيَّةَ ساعةٍ شَاءَ مِنْ ليلٍ أَوْ نهارٍ)) .

⦗ص: 72⦘

تُوُفِّيَ [أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بن عبد الباقي] ابن الْبَطِّيِّ فِي يَوْمِ الْخَمِيسِ خَامِسِ عِشْرِينَ جُمَادَى الأولى من سنة أربع وستين وخمسمائة، ومولده سنة سبع وسبعين وأربعمائة.
১৪- এবং একই সনদে, ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল-আযরাকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার দাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আয-যুবায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন বাবাহ থেকে, তিনি জুবায়ের বিন মুতঈম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((হে বনু আবদ মানাফ, হে বনু আবদ আল-মুত্তালিব, তোমরা যদি এই বিষয়ের কোনো কর্তৃত্ব লাভ করো, তবে এমন কাউকে বাধা দিও না যে এই ঘর তাওয়াফ করে এবং সালাত আদায় করে, রাত বা দিনের যে কোনো সময়েই সে তা করতে চাক না কেন)) ।

⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘

[আবু আল-ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আবদ আল-বাকি] ইবনুল বাত্তি ৫৬৪ হিজরি সালের ২৫শে জুমাদাল উলা বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন, আর তার জন্ম ছিল ৪৭৭ হিজরি সালে।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭২)
شيخٌ رابعٌ

15- أَخْبَرَنَا‌‌ أَبُو زُرْعَةَ طَاهِرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَاهِرِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الصُّوفِيُّ [الشَّيْبَانِيُّ الْمَقْدِسِيُّ] رحمه الله، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ ثَالِثِ عِشْرِينَ شهر ربيعٍ الأول سنة ثمانٍ وخمسين وخمسمائة، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ عَبْدُوسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدُوسٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الطُّوسِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الأَصَمُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدَ [الْعُذْرِيُّ] الْبَيْرُوتِيُّ، أَخْبَرَنَا عُقْبَةُ -هُوَ ابْنُ عَلْقَمَةَ الْمَعَافِرِيُّ- أَخْبَرَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانٍ، حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه، حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ رضي الله عنها:

⦗ص: 74⦘

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((مَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَ اللَّهَ فَلا يَعْصِهِ)) .
চতুর্থ শাইখ

১৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যুরআহ তাহির বিন মুহাম্মাদ বিন তাহির বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সুফি [আশ-শাইবানি আল-মাকদিসি] আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি শুনছিলাম, পাঁচশত আটান্ন হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের তেইশ তারিখ শুক্রবার দিনে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আবদুস বিন আব্দুল্লাহ বিন আবদুস তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আত-তুসি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম্ম; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ফাদল আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ বিন মাজইয়াদ [আল-উযরি] আল-বাইরুতি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উকবাহ—যিনি হলেন ইবন আলক্বামাহ আল-মাআফিরি—; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আওযায়ি; আমাকে বর্ণনা করেছেন যুহরি; আমাকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আবান; আমাকে বর্ণনা করেছেন কাসেম বিন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর আস-সিদ্দিক আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন; আমাকে বর্ণনা করেছেন মুমিন জননী আয়িশা আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন:

⦗পৃষ্ঠা: ৭৪⦘

নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার মানত করে, সে যেন তাঁর অবাধ্য না হয়।"
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭৪)
16- وَبِهِ، حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ، أَخْبَرَنِي عُقْبَةُ، أَخْبَرَنِي الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو قِلابَةَ الْجَرْمِيُّ، حَدَّثَنِي ثَابِتُ بْنُ الضَّحَّاكِ الأَنْصَارِيُّ:

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((مَنْ حَلَفَ بملةٍ سِوَى الإِسْلامِ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ، وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بشيءٍ فِي الدُّنْيَا عُذِّبَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَيْسَ عَلَى الرَّجُلِ نذرٌ فِيمَا لا يملك)) .
16- এবং তাঁর মাধ্যমেই, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উকবাহ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আওযায়ী, আমাকে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর, আমাকে বর্ণনা করেছেন আবু কিলাবাহ আল-জারমি, আমাকে বর্ণনা করেছেন সাবিত ইবনে যাহহাক আল-আনসারী:

নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মের নামে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে শপথ করে, সে তেমনই হবে যেমন সে বলেছে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বস্তু দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে তা দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে। আর মানুষের জন্য এমন কোনো বিষয়ে মানত নেই যার মালিকানা তার নেই।”
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭৪)
17- أَخْبَرَنَا أَبُو زُرْعَةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَحْمَدَ الْمُقَوِّمِيُّ، إِجَازَةً إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا، وَكَانَ الشَّيْخُ أَبُو زُرْعَةَ محقق سماعه، فقرأ علي احْتِيَاطًا كَذَلِكَ، حَدَّثَنَا أَبُو طَلْحَةَ الْقَاسِمُ بْنُ أَبِي الْمُنْذِرِ الْخَطِيبُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَلَمَةَ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا ⦗ص: 75⦘ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ مَاجَهْ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ:

((وَالَّذِي أَذْهَبَ بِنَفْسِهِ صلى الله عليه وسلم، مَا مَاتَ حَتَّى كَانَ أَكْثَرَ صَلاتِهِ وَهُوَ جالسٌ، وَكَانَ أَحَبَّ الأَعْمَالِ إِلَيْهِ الْعَمَلُ الصَّالِحُ الَّذِي يَدُومُ عَلَيْهِ الْعَبْدُ وَإِنْ كَانَ يَسِيرًا)) .

سَمِعْتُ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي زُرْعَةَ بِهَذَا الإِسْنَادِ جَمِيعَ سُنَنِ ابن ماجة.
১৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যুরআহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আহমদ আল-মুক্বাওয়িমি—ইজাযাতান (অনুমতিসূত্রে) যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে; আর শাইখ আবু যুরআহ তাঁর শ্রবণের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন, তাই তিনি সতর্কতা হিসেবে আমার নিকট এভাবেই পাঠ করেছেন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তালহা আল-কাসিম ইবনে আবিল মুনযির আল-খতিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবনে ইবরাহিম ইবনে সালামাহ আল-ক্বাত্তান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মাজাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আহওয়াস, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

((সেই সত্তার কসম, যিনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রাণ কবজ করেছেন, তিনি ইন্তেকাল করা পর্যন্ত তাঁর অধিকাংশ সালাত বসে থাকা অবস্থায় আদায় করতেন। আর তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল ছিল সেই নেক আমল যা বান্দা নিয়মিত পালন করে, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।))

আমি শাইখ আবু যুরআহর নিকট এই সনদেই সুনানে ইবনে মাজাহ-র সম্পূর্ণ অংশ শ্রবণ করেছি।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭৫)
18- وَبِهِ، حَدَّثَنَا ابْنُ مَاجَهْ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَالْوَلِيدُ بْنُ مسلمٍ، قَالا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلانَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حكيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ:

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ ذَنْبًا كَانَتْ نكتةٌ سَوْدَاءَ فِي قَلْبِهِ، فَإِنْ تَابَ وَنَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ صُقِلَ قَلْبُهُ، فَإِنْ زَادَ زَادَتْ، فَذَلِكَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَهُ اللَّهُ عز وجل فِي كِتَابِهِ: {كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قلوبهم ما كانوا يكسبون} .

⦗ص: 76⦘

وُلِدَ أَبُو زُرْعَةَ [طَاهِرُ بْنُ مُحَمَّدٍ] بِالرَّيِّ سنة إحدى وثمانين وأربعمائة، وَتُوُفِّيَ بِهَمَذَانَ يَوْمَ الأَرْبِعَاءِ سَابِعَ عَشَرَ شَهْرِ ربيع الآخر، سنة سبع وستين وخمسمائة.
১৮- এবং এর মাধ্যমেই, আমাদের নিকট ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবন আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাতিম ইবন ইসমাঈল ও আল-ওয়ালিদ ইবন মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: মুহাম্মদ ইবন আজলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-কাক্কা ইবন হাকিম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন:

নিশ্চয় আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিন ব্যক্তি যখন কোনো গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। অতঃপর সে যদি তাওবা করে, গুনাহ বর্জন করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তার অন্তরকে স্বচ্ছ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সে যদি গুনাহ বাড়িয়ে দেয়, তবে সেই দাগও বৃদ্ধি পায়। এটাই সেই মরিচা (রান) যার কথা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন: {কখনোই না, বরং তারা যা অর্জন করত তা-ই তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে}।"

⦗পৃষ্ঠা: ৭৬⦘

আবু জুরআ [তাহির ইবন মুহাম্মদ] চারশত একাশি হিজরিতে রাই শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাঁচশত সাতষট্টি হিজরির রবিউস সানি মাসের সতেরো তারিখ বুধবার হামাদানে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
شيخٌ خامسٌ

19- أَخْبَرَنَا‌‌ الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبَيْضَاوِيُّ [قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي] سَنَةِ سِتٍّ وخمسين [وخمسمائة] ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْخَطَّابِ نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْبَطِرِ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عبيد الله بْنِ يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا الْبَيِّعُ، حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا جريرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ أبي مسعودٍ قَالَ:

((إِنِّي لأَضْرِبُ غُلامًا لِي، إِذْ سَمِعْتُ صَوْتًا مِنْ خَلْفِي: اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ، قَالَ: فَجَعَلْتُ لا أَلْتَفِتُ إِلَيْهِ مِنَ الْغَضَبِ حَتَّى غَشِيَنِي، فَإِذَا هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَلَمَّا رَأَيْتُهُ وَقَعَ السَّوْطُ مِنْ يَدِي مِنْ هَيْبَتِهِ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: لَلَّهُ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَى هَذَا، فَقُلْتُ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، لا أَضْرِبُ غُلامًا لِي أبداً)) .
পঞ্চম শায়খ

১৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কাদি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাইদাউয়ি [তাঁকে পড়ে শোনানো হচ্ছিল এমতাবস্থায় যে আমি শুনছিলাম] ৫৫৬ হিজরি সনে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-খাত্তাব নাসর ইবনে আহমদ ইবনে আল-বাতীর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া আল-বায়্যি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাদি আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর, আল-আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

((আমি আমার এক গোলামকে প্রহার করছিলাম, এমন সময় আমার পেছন থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম: হে আবু মাসউদ, জেনে রেখো। তিনি বলেন: রাগের আতিশয্যে আমি সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করলাম না, যতক্ষণ না আওয়াজকারী আমার নিকটবর্তী হলেন। তখন দেখি তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি বলেন: যখন আমি তাঁকে দেখলাম, তাঁর গাম্ভীর্যের কারণে আমার হাত থেকে চাবুক পড়ে গেল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: তুমি এই গোলামের ওপর যতটুকু ক্ষমতা রাখো, আল্লাহ তোমার ওপর তার চেয়েও বেশি ক্ষমতা রাখেন। তখন আমি বললাম: আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আর কখনোই আমার কোনো গোলামকে প্রহার করব না।))।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
20- وَبِهِ، حَدَّثَنَا جريرٌ، عَنْ منصورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ:

((كُنَّا فِي سفرٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نَسِيرُ، إِذْ قَالَ الْمُهَاجِرُونَ: لَوَدِدْنَا أَنَّا عَلِمْنَا أَيَّ الْمَالِ خيرٌ أَوْ أَفْضَلُ فَنَتَّخِذُهُ، إِذْ أُنْزِلَ فِي الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ مَا أُنْزِلَ، قَالَ: فَقَالَ عُمَرُ: إِنْ شِئْتُمْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالُوا: أَجَلْ، فَانْطَلَقَ وَتَبِعْتُهُ، أُوضَعُ عَلَى قعودٍ لي، قال: يا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِنَّ الْمُهَاجِرِينَ لَمَّا أُنْزِلَ فِي الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ مَا أُنْزِلَ، قَالُوا: وَدِدْنَا أَنَّا عَلِمْنَا الآنَ أَيَّ الْمَالِ خيرٌ فَنَتَّخِذُهُ. قَالَ: نَعَمْ، لِيَتَّخِذْ أَحَدُكُمْ لِسَانًا ذَاكِرًا، وَقَلْبًا شَاكِرًا، وَزَوْجَةً مُؤْمِنَةً تُعِينُ أَحَدَكُمْ عَلَى إِيمَانِهِ)) .
২০- এবং একই সূত্রে, জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবিল জা'দ থেকে, তিনি সাওবান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

((আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম এবং আমরা পথ চলছিলাম। এমতাবস্থায় মুহাজিরগণ বললেন: আমরা যদি জানতাম কোন সম্পদ উত্তম বা শ্রেষ্ঠ, তবে আমরা তা গ্রহণ করতাম; যেহেতু সোনা ও রূপার ব্যাপারে যা অবতীর্ণ হওয়ার তা অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন: তখন উমর (রা.) বললেন: তোমরা চাইলে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করতে পারি। তারা বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি রওয়ানা হলেন এবং আমিও তাঁর পিছু নিলাম, আমি আমার উটের ওপর সওয়ার ছিলাম। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), সোনা ও রূপার ব্যাপারে যা অবতীর্ণ হওয়ার তা যখন অবতীর্ণ হলো, তখন মুহাজিরগণ বললেন: আমরা যদি জানতাম এখন কোন সম্পদ সবচেয়ে উত্তম, তবে আমরা তা গ্রহণ করতাম। তিনি বললেন: হ্যাঁ, তোমাদের প্রত্যেকের উচিত একটি যিকরকারী জিহ্বা, একটি শুকরগুজার অন্তর এবং এমন একজন মুমিন স্ত্রী গ্রহণ করা, যে তোমাদের কাউকে তার ঈমানের ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।))।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭৬)
21- أَخْبَرَنَا [الْقَاضِي] أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْخَطَّابِ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا الْمَحَامِلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شبيبٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي أويسٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ:

⦗ص: 79⦘

عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: ((لا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صلاةٍ مَا ثبت في مصلاه)) .
২১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন [ক্বাযী] আবু আব্দুল্লাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-খাত্তাব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-মাহামিলি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে শাবীব, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি উয়াইস, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল মালিক, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আল-ফাদল হতে, তিনি আল-আ’রাজ হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেছেন:

⦗পৃষ্ঠা: ৭৯⦘

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: ((তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত তার সালাতের স্থানে স্থির থাকে, ততক্ষণ সে সালাতের মধ্যেই গণ্য হয়।))
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭৯)
22- وبه، حدثنا المحاملي، الْعَبَّاسُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نميرٍ، حَدَّثَنَا فِطْرُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ:

((كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُخَفِّفُ رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ)) .

تُوُفِّيَ [الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ] الْبَيْضَاوِيُّ [لَيْلَةَ الْخَمِيسِ] رَابِعَ شَوَّالٍ سَنَةَ ثمانٍ وَخَمْسِينَ، وَكَانَ مَوْلِدُهُ سَنَةَ ستٍ وَثَمَانِينَ.
২২- এবং তাঁর সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মাহামিলি, আল-আব্বাস বিন ইয়াজিদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনু নুমাইর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফিতর বিন খলিফাহ, তিনি মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাকাত সংক্ষেপ করতেন))।

[কাযী আবু আব্দুল্লাহ] আল-বাইযাভী [বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে] চার শাওয়াল আটান্ন সনে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর জন্ম ছিল ছিয়াশি সনে।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৭৯)
شيخٌ سادسٌ

23- أَخْبَرَنَا‌‌ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْمُقَرَّبِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ الْحَسَنِ الْكَرْخِيُّ رحمه الله، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ [فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ ثَانِي عَشَرَ رَبِيعٍ الآخِرِ] سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وستين وخمسمائة، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ النِّعَالِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَهْدِيٍّ الْفَارِسِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فَأَقَرَّ بِهِ، حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ [إِمْلاءً فِي يَوْمِ الْخَمِيسِ لِسِتٍّ بَقِينَ مِنْ جُمَادَى الآخِرَةِ] ، سَنَةَ تِسْعٍ وعشرين وثلثمائة، حَدَّثَنَا أَبُو الأَشْعَثِ أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، أَخْبَرَنِي حُصَيْنٌ، سَمِعْتُ أَبَا عُبَيْدَةَ يُحَدِّثُ عَنْ عَمَّتِهِ فَاطِمَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ:

((أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نساءٍ نَعُودُهُ، فَإِذَا سقاءٌ يَقْطُرُ عَلَيْهِ مِنْ شِدَّةِ مَا يَجِدُ مِنَ الْحُمَّى، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ دَعَوْتَ اللَّهَ عز وجل فَكَشَفَ ⦗ص: 81⦘ عَنْكَ، فَقَالَ: إِنَّ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ بَلاءً الأَنْبِيَاءُ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ)) .
ষষ্ঠ শাইখ

২৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবনুল মুকাররাব ইবনুল হুসাইন ইবনুল হাসান আল-কারখি রহমাতুল্লাহি আলাইহি, তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় আমি শ্রবণ করেছি [৫৬২ হিজরীর ১২ই রবিউস সানি, শুক্রবার], তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে তালহা আন-নিআলি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাহদি আল-ফারিসি, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকৃতি দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-কাদি আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলি [৩২৯ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসের ছয় দিন অবশিষ্ট থাকতে বৃহস্পতিবার শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে], তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আল-আশআস আহমাদ ইবনুল মিকদাম, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন খালিদ ইবনুল হারিস, শু’বাহ থেকে, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন, তিনি বলেন: আমি আবু উবাইদাহকে তাঁর ফুফু ফাতিমাহর নিকট থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন:

((আমরা কয়েকজন নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অসুস্থাবস্থায় দেখতে গেলাম। তখন তাঁর তীব্র জ্বরের কারণে একটি মশক থেকে তাঁর ওপর পানি টপকে পড়ছিল। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে দুআ করতেন, তবে তিনি আপনার থেকে এই কষ্ট দূর করে দিতেন। ⦗পৃষ্ঠা: ৮১⦘ তখন তিনি বললেন: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীগণ, এরপর তাঁদের নিকটবর্তী স্তরের ব্যক্তিগণ, এরপর তাঁদের নিকটবর্তী স্তরের ব্যক্তিগণ।))।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৮১)
24- وَبِهِ، قَالَ الْمَحَامِلِيُّ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، حَدَّثَنَا -أَوْ قَالَ:

حَدَّثَنِي مَنْ شَهِدَ خُطْبَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى فِي وَسَطِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ، وَهُوَ عَلَى بعيرٍ، فَقَالَ: ((يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَلا إِنَّ رَبَّكُمْ عز وجل واحدٌ، أَلا لا فَضْلَ لعربيٍ عَلَى عجميٍ، أَلا لا فَضْلَ لأَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ إِلا بِالتَّقْوَى، أَلا بَلَّغْتُ؟ قَالُوا: بَلَى. قَالَ: لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ. أَلا هَلْ بَلَّغْتُ؟ قَالُوا: نَعَمْ. قَالَ: لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ)) .
২৪- এবং এই একই সূত্রে, আল-মাহামিলি বলেছেন: ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আদ-দাওরাকি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ আল-জুরায়রি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু নাদরা থেকে বর্ণিত, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন - অথবা বলেছেন:

আমার নিকট এমন একজন ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন যিনি মিনায় আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোর মাঝামাঝি সময়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুতবা প্রত্যক্ষ করেছেন, এমতাবস্থায় তিনি একটি উটের ওপর আরোহী ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: ((হে লোকসকল, জেনে রাখো, তোমাদের রব পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত এক। জেনে রাখো, কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কোনো রক্তিম বর্ণের মানুষের ওপর কোনো কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কেবল তাকওয়া (আল্লাহভীতি) ব্যতীত। আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? তারা বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয়। জেনে রাখো, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয়))।
(খণ্ড: ১) মাশইয়াহাতুস সোহরাওয়ার্দী (পৃষ্ঠা: ৮১)
25- وَبِهِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَيُوسُفُ بْنُ مُوسَى، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ هَانِئٍ، وَرَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ، قَالُوا: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، أَخْبَرَنِي أَبُو صخرٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَخْبَرَهُ، عَنْ سالمٍ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَخْبَرَنِي أَبُو أَيُّوبَ الأَنْصَارِيُّ:

⦗ص: 82⦘

((أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ مَرَّ عَلَى إِبْرَاهِيمَ خَلِيلِ الرَّحْمَنِ، فَقَالَ إِبْرَاهِيمُ لِجِبْرِيلَ: مَنْ مَعَكَ يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: جِبْرِيلُ: هَذَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ إِبْرَاهِيمُ: يَا مُحَمَّدُ، مُرْ أُمَّتَكَ فَلْيُكْثِرُوا مِنْ غِرَاسِ الْجَنَّةِ، فَإِنَّ تُرْبَتَهَا طَيِّبَةٌ، وَأَرْضَهَا واسعةٌ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لإِبْرَاهِيمَ: وَمَا غِرَاسُ الجنة؟ فقال: لا حول ولا قوة إلى بِاللَّهِ)) .

وَقَالَ يُوسُفُ: إِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَخْبَرَهُ، وَقَالَ: قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَرَّةً أُخْرَى: عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ.

تُوُفِّيَ [الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ] بْنُ الْمُقَرَّبِ [الصُّوفِيُّ لَيْلَةَ الإِثْنَيْنِ] خَامِسَ عَشَرَ ذِي الْحَجَّةِ سنة ثلاثٍ وستين وخمسمائة.
২৫- এবং তাঁর মাধ্যমেই, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মানসুর, ইউসুফ ইবনে মুসা, ইব্রাহিম ইবনে হানি এবং রাউহ ইবনুল ফারাজ; তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাইওয়াহ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু সাখর যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে সংবাদ দিয়েছেন, সালেম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আইয়ুব আল-আনসারি:

⦗পৃষ্ঠা: ৮২⦘

((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে রাতে নৈশভ্রমণে (ইসরা) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন তিনি রাহমানের বন্ধু ইব্রাহিমের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন ইব্রাহিম জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলেন: হে জিবরাঈল, তোমার সাথে কে? জিবরাঈল বললেন: ইনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন ইব্রাহিম তাঁকে বললেন: হে মুহাম্মদ, আপনার উম্মতকে নির্দেশ দিন যেন তারা জান্নাতের চারাগাছ বেশি বেশি রোপণ করে, কেননা জান্নাতের মাটি অত্যন্ত চমৎকার এবং এর ভূমি অতি প্রশস্ত। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহিমকে জিজ্ঞেস করলেন: জান্নাতের চারাগাছ কী? তিনি বললেন: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই)।))

এবং ইউসুফ বলেছেন: আব্দুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর তাকে সংবাদ দিয়েছেন। এবং আবু আব্দুর রহমান অন্য এক সময় বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

[শায়খ আবু বকর আহমদ] ইবনুল মুকাররাব [আস-সুফি সোমবার রাতে] পাঁচশত তেষট্টি হিজরি সালের পনেরই জিলহজ ইন্তেকাল করেন।