(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: -)
التبصير في معالم الدين للطبري   (ابن جرير الطبري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: التبصير في معالم الدين

المؤلف: محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي، أبو جعفر الطبري (ت 310هـ)

المحقق: علي بن عبد العزيز بن علي الشبل

الناشر: دار العاصمة

الطبعة: الأولى 1416 هـ - 1996 م

عدد الصفحات: 222

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাবারী রচিত আত্তাবসীর ফী মাআলিমুদ্দিন   (ইবন জারীর আত-তাবারী)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আত্তাবসীর ফী মাআলিমুদ্দিন

লেখক: মুহাম্মদ ইবন জারীর ইবন ইয়াযীদ ইবন কাসীর ইবন গালিব আল-আমুলী, আবু জাফর আত-তাবারী (ওফাত ৩১০ হিজরী)

সম্পাদক: আলী ইবন আব্দুল আযীয ইবন আলী আশ-শিবল

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ

সংস্করণ: প্রথম ১৪১৬ হিজরী - ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: -)
التبصير في معالم الدين

 

تأليف

الإمام أبي جعفر محمد بن جرير بن يزيد الطبري

(224 - 310هـ - رحمة الله عليه)

 

تحقيق وتعليق

علي بن عبد العزيز بن علي الشبل

غفر الله له ولوالديه ومشايخه والمسلمين

 

دار العاصمة

للنشر والتوزيع

 

الطبعة الأولى

1416 هـ - 1996 م
দ্বীনের নিদর্শনসমূহের পরিচিতি

 

রচনায়

ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির ইবনে ইয়াজিদ আত-তবারি

(২২৪ - ৩১০ হিজরি - আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)

 

তাহকিক ও টীকা প্রদান

আলি ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আলি আশ-শিবল

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে, তাঁর শিক্ষকগণকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন

 

দারুল আসিমাহ

প্রকাশনা ও পরিবেশনা

 

প্রথম সংস্করণ

১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٠٣)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم وصلى الله على سيدنا محمد وآله

1- الحمد لله الذي تتابعت على خلقه نعمه، وترادفت لديهم مننه، وتكاملت فيهم حججه، بواضح البيان، وبين البرهان، ومحكم آي الفرقان؛ {ليدبروا آياته وليتذكر أولو الألباب} .

وصلى الله على سيد الأصفياء، وخاتم الأنبياء محمد وآله وسلم كثيراً.

قال أبو جعفر: ثم أما بعد: ذلكم معاشر حملة الآثار ونقلة سنن الأخبار من المهاجرين والأنصار والتابعين لهم بإحسان، من أهل آمل طبرستان فإنكم سألتموني تبصيركم سبل الرشاد في القول فيما تنازعت فيه أمة نبينا محمدٍ صلى الله عليه وسلم من بعد فراقه إياهم، واختلفت فيه بعده من أمر دينهم، مع اجتماع كلمة جميعهم على أن ربهم تعالى ذكره واحدٌ، ونبيهم محمدٌ صلى الله عليه وسلم صادقٌ، وقبلتهم واحدةٌ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

১- সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর নিয়ামতরাজি তাঁর সৃষ্টির ওপর অবিরাম বর্ষিত হচ্ছে, যাঁর অনুদানসমূহ তাদের নিকট নিরবচ্ছিন্নভাবে আসছে এবং যাঁর প্রমাণাদি তাদের নিকট পূর্ণতা লাভ করেছে—সুস্পষ্ট বর্ণনা, উজ্জ্বল দলিল এবং ফুরকানের সুদৃঢ় আয়াতের মাধ্যমে; {যাতে তারা তাঁর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং যাতে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে}।

এবং আল্লাহর রহমত ও প্রচুর পরিমাণে শান্তি বর্ষিত হোক মনোনীত ব্যক্তিবর্গের নেতা ও শেষ নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের উপর।

আবু জাফর বলেন: অতঃপর, হে আসার (বাণী) বহনকারী এবং সুন্নাহ ও সংবাদের বর্ণনাকারী দল—যারা মুহাজির, আনসার এবং নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাবারস্তানের আমুল শহরের অধিবাসী—আপনারা আমার কাছে সেই বিষয়ে সঠিক পথের দিশা চেয়েছেন, যে বিষয়ে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিদায়ের পর তাঁর উম্মত বিবাদে লিপ্ত হয়েছে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে দ্বীনের বিষয়ে মতভেদ করেছে; অথচ এই বিষয়ে তাদের সবার ঐক্যমত্য ছিল যে, তাদের রব—যাঁর আলোচনা সুউচ্চ—তিনি এক, তাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্যবাদী এবং তাদের কিবলা এক।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٠٤)
وقلتم. قد كثرت الأهواء، وتشتت الآراء، وتنابز الناس بالألقاب، وتعادوا فتباغضوا وافترقوا، وقد أمرهم الله تعالى ذكره بالألفة، ونهاهم عن الفرقة، فقال جل ذكره في محكم كتابه: {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون. واعتصموا بحبل الله جميعاً ولا تفرقوا واذكروا نعمت الله عليكم إذ كنتم أعداءً فألف بين قلوبكم فأصبحتم بنعمته إخواناً، وكنتم على شفا حفرة من النار فأنقذكم منها، كذلك يبين الله لكم آياته لعلكم تهتدون. ولتكن منكم أمة يدعون إلى الخير ويأمرون بالمعروف، وينهون عن المنكر وأولئك هم المفلحون. ولا تكونوا كالذين تفرقوا واختلفوا من بعد ما جاءهم البينات وأولئك لهم عذاب عظيم} .

وقال تعالى ذكره: {شرع لكم من الدين ما وصى به نوحاً والذي أوحينا إليك وما وصينا به إبراهيم وموسى وعيسى أن أقيموا الدين ولا تتفرقوا فيه} .

2- وقلتم: هذا كتاب الله المنزل وتنزيله المحكم، يأمر بالائتلاف، وينهى عن الاختلاف، وقد خالف ذلك من قد علمتم من الأمة؛ فكفر بعضهم بعضاً، وتبرأ بعضٌ من بعضٍ، وكل حزبٍ يدلي بحجة لما يظهر من اعتقاده؛ فيلعن –على القول بخلافه فيه-
এবং আপনারা বলেছেন: কুপ্রবৃত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, মতভেদ ছড়িয়ে পড়েছে, মানুষ একে অপরকে মন্দ উপনামে ডাকছে এবং তারা পরস্পর শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অথচ আল্লাহ তাআলা তাদের ঐক্যের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিভেদ থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর সেই নিআমতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করলেন, ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা আগুনের গর্তের কিনারে ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের সেখান থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনাবলী বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও। আর তোমাদের মধ্যে এমন এক দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম। তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মতভেদ করেছে; তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।"

এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন, আর যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি এবং যার নির্দেশ আমি ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম—এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং তাতে বিচ্ছিন্ন হবে না।"

২- এবং আপনারা বলেছেন: এটি আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব এবং তাঁর সুদৃঢ় বাণী, যা ঐক্যের নির্দেশ দেয় এবং মতভেদ থেকে নিষেধ করে। অথচ উম্মতের মধ্যে যাদের সম্পর্কে আপনারা জানেন, তারা এর বিরোধিতা করেছে; ফলে তাদের একে অপরকে কাফির বলছে এবং একে অপরের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করছে। প্রত্যেক দল তাদের প্রকাশিত বিশ্বাসের সপক্ষে প্রমাণ পেশ করছে এবং এর বিপরীতে কথা বলার কারণে অন্যকে অভিশাপ দিচ্ছে—
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٠٥)
من خالفه، ولا سيما في زماننا هذا وبلدتنا هذه، فإن المصدور عن قوله فيهم، والمأخوذ معالم الدين عنه منهم الأجهل، والمقنوع برأيه وعلمه في نوازل الحلال والحرام وشرائع الإسلام عندهم الأسفه الأرذل.

فالمسترشد منهم حائرٌ تزيده الليالي والأيام على طول استرشاده إياهم حيرةً، والمستهدي منهم إلى الحق فيهم تائهٌ، يتردد على كر الدهور باستهدائه إياهم في ظلمةٍ لا يتبين حقاً من باطلٍ، ولا صواباً من خطأٍ.

3- وسألتموني إيضاح قصد السبيل، وتبيين هدي الطريق لكم في ذلك بواضح من القول وجيز، وبين من البرهان بليغ؛ ليكون ذلك لكم إماماً في القول فيما اشتجر فيه الماضون تأتمون به، وعماداً تعتمدون عليه فيما تبتغونه من معرفة صحة القول في الحوادث والنوائب فيما يختلف فيه الغابرون.

وإن مسألتكم إياي صادفت مني فيكم تحريا، ووافقت مني
যারা এর বিরোধিতা করে, বিশেষ করে আমাদের এই জামানায় এবং আমাদের এই জনপদে, তাদের অবস্থা এমন যে—যাদের কথার ওপর নির্ভর করা হয় এবং যাদের কাছ থেকে দ্বীনের নিদর্শনসমূহ গ্রহণ করা হয়, তারা হচ্ছে চরম মূর্খ। আর হালাল-হারামের উদ্ভূত সমস্যাবলি ও ইসলামের শরীয়াহর বিধানে যাদের রায় ও ইলমের ওপর তুষ্ট থাকা হয়, তারা তাদের নিকট সবচাইতে নির্বোধ ও নিকৃষ্ট।

ফলে তাদের মধ্য থেকে হেদায়েতপ্রত্যাশী ব্যক্তি বিভ্রান্ত; দীর্ঘকাল তাদের কাছে পথনির্দেশনা চাওয়ার ফলে দিন ও রাতের আবর্তনে তার বিভ্রান্তি কেবল বৃদ্ধিই পায়। আর তাদের মধ্য থেকে হকের পথে দিশা অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি তাদের মাঝে পথভ্রষ্ট; তাদের কাছে পথপ্রার্থনা করার কারণে মহাকালের আবর্তনে সে এমন অন্ধকারে ঘুরপাক খায়, যেখানে সে সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করতে পারে না এবং সঠিক ও ভুলের মাঝে তফাত করতে সক্ষম হয় না।

৩- আর তোমরা আমার কাছে সঠিক পথের স্পষ্ট বর্ণনা এবং সেই পথের হেদায়েতের ব্যাখ্যা প্রার্থনা করেছ—সুস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে এবং প্রাঞ্জল ও বলিষ্ঠ প্রমাণের সাহায্যে; যাতে পূর্ববর্তীরা যেসব বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল, সেসব বক্তব্যের ক্ষেত্রে এটি তোমাদের জন্য এমন এক অনুসরণীয় আদর্শ হয় যা তোমরা অনুসরণ করবে, এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটে বা যেসব বিপদাপদ আসে এবং যে বিষয়ে পরবর্তীরা মতভেদ করে, সেসব ক্ষেত্রে সঠিক বক্তব্য চেনার জন্য এটি এমন এক অবলম্বন হয় যার ওপর তোমরা নির্ভর করবে।

আর আমার কাছে তোমাদের এই নিবেদন তোমাদের বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে গভীর অনুসন্ধান ও সদিচ্ছার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়েছে, এবং আমার পক্ষ থেকে তা লাভ করেছে...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٠٦)
لكم احتساباً؛ لما صح عندي، وتقرر لدي من خصوص عظيم البلاء ببلدكم دون بلاد الناس سواكم من ترؤس الرويبضة فيكم، واستعلاء أعلام الفجرة عليكم وإعلانهم صريح الكفر جهرةً بينكم، وإصغاء عوامكم لهم، وترك وزعتكم إلحاقهم بنظائرهم بقتلهم ثم صلبهم والتمثيل بهم، حتى لقد بلغني عن جماعة منهم أن

সওয়াবের আশায় আপনাদের প্রতি এই নিবেদন; কারণ আমার নিকট এটি প্রমাণিত ও সুনিশ্চিত হয়েছে যে, অন্য জনপদসমূহের তুলনায় আপনাদের দেশে বিশেষভাবে এক মহা বিপর্যয় বিদ্যমান। আর তা হলো আপনাদের মধ্যে অযোগ্য ও নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের নেতৃত্ব প্রদান, আপনাদের ওপর পাপাচারীদের পতাকাধারীদের প্রাধান্য লাভ এবং আপনাদের সম্মুখে তাদের প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট কুফরি ঘোষণা করা, আপনাদের সাধারণ জনগণের তাদের কথায় কর্ণপাত করা, এবং আপনাদের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে তাদেরকে হত্যা ও ক্রুশবিদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের সমজাতীয়দের ন্যায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে অবহেলা করা; এমনকি তাদের এক দলের ব্যাপারে আমার নিকট এই সংবাদ পৌঁছেছে যে...

(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٠٧)
الأمنية بينكم بلغت بهم، والجرأة عليكم حملتهم على إظهار نوعٍ من الكفر لا يعلم أنه دان به يهوديٌ، ولا نصرانيٌ، ولا مجوسيٌ، ولا وثنيٌ، ولا زنديقٌ ولا ثنويٌ، ولا جنسٌ من
তোমাদের মাঝে তাদের আকাঙ্ক্ষা তাদেরকে এই পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে এবং তোমাদের প্রতি ধৃষ্টতা তাদেরকে এমন এক প্রকার কুফরি প্রকাশ করতে প্ররোচিত করেছে, যা কোনো ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক, মূর্তিপূজক, জিন্দিক, দ্বিত্ববাদী কিংবা অন্য কোনো শ্রেণির মানুষ ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে জানা নেই।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٠٨)
أجناس أهل الكفر سواهم، وهو أن أحدهم –فيما ذكر لي- يخط بيده في التراب بسم الله، ويكتب بيده نحوه على اللوح، أو ينطق بلسانه، ثم يقول: ((قولي هذا الذي قلته ربي الذي أعبده، وكتاب هذا الذي كتبته: خالقي الذي خلقني)) .

ويزعم أن علته في صحة القول بذلك أن أبا زرعة وأبا حاتم الرازيين قالا: ((الاسم هو المسمى)) .

4- فلا هو يعقل الاسم ولا يعرف المسمى، ولا هو يدري ما مراد القائل: الاسم هو المسمى، ولا مراد القائل: الاسم غير المسمى، ولا مراد القائل: لا هو المسمى ولا غير المسمى، بلادة وعمى،
কুফরকারীদের অন্যান্য প্রকারসমূহ তাদের বাদে; আর তা হলো তাদের মধ্যে কেউ কেউ—যেমনটি আমাকে জানানো হয়েছে—মাটিতে নিজের হাতে 'আল্লাহর নামে' (বিসমিল্লাহ) কথাটি অঙ্কন করে, এবং ফলকের উপরেও নিজের হাতে অনুরূপভাবে লেখে, অথবা নিজের জিহ্বা দ্বারা তা উচ্চারণ করে, এরপর বলে: "আমার এই কথা যা আমি বলেছি, তা-ই আমার রব যাঁর ইবাদত আমি করি; আর আমার এই লেখা যা আমি লিখেছি, তা-ই আমার স্রষ্টা যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন।"

এবং সে দাবি করে যে, এই কথাটি সঠিক হওয়ার স্বপক্ষে তার যুক্তি হলো এই যে, আবু জুরআহ এবং আবু হাতিম আর-রাজি বলেছেন: "নামই হলো নামধারী।"

৪- ফলে সে নাম সম্পর্কেও বোঝে না, আর নামধারী সম্পর্কেও জানে না; এবং সে এও জানে না যে, যে ব্যক্তি বলে "নামই হলো নামধারী" তার উদ্দেশ্য কী, আর যে ব্যক্তি বলে "নাম নামধারী থেকে ভিন্ন" তার উদ্দেশ্য কী, কিংবা যে ব্যক্তি বলে "তা নামধারীও নয় আবার তার থেকে ভিন্ন কিছুও নয়" তার উদ্দেশ্য কী—এটি কেবলই নির্বুদ্ধিতা ও অন্ধত্ব।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٠٩)
فسبحان الله لقد عظمت مزلة هؤلاء القوم الذين وصفت صفتهم، الزاعمين أنهم يعملون ربهم بأيديهم، ويحدثونه بألسنتهم كلما شاءوا، ويفنونه بعد إحداثهموه كلما أحبوا، لقد خابوا وخسروا، وضلوا بفريتهم هذه على الله ضلالاً بعيداً، وقالوا على الله قولاً عظيماً.

অতএব আল্লাহ অতীব পবিত্র; নিশ্চয়ই ঐ সম্প্রদায়ের পদস্খলন অত্যন্ত গুরুতর হয়েছে যাদের বৈশিষ্ট্য আমি বর্ণনা করেছি, যারা দাবি করে যে তারা তাদের প্রতিপালককে তাদের নিজেদের হাত দ্বারা তৈরি করে এবং যখনই তারা ইচ্ছা করে তাদের জিহ্বা দ্বারা তাঁকে উদ্ভাবন করে, আর যখনই তারা পছন্দ করে তাঁকে উদ্ভাবন করার পর পুনরায় বিলীন করে দেয়। তারা নিশ্চয়ই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের এই মিথ্যারোপের কারণে তারা সুদূরপ্রসারী পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়েছে এবং তারা আল্লাহর ব্যাপারে এক গুরুতর কথা বলেছে।

(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١١٠)
وغير بديع –رحمكم الله- أن يصغى إلى مثل هذا العظيم من الكفر العجيب فيتقبله من كان قد أخذ عن آبائه الدينونة بنبوة السندي الرشنيق، ويقبل منهم عنه تحليل الزنا، وإباحة فروج
আর এটি আশ্চর্যজনক নয়—আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন—যে এই ধরনের ভয়াবহ ও বিস্ময়কর কুফরির প্রতি কর্ণপাত করা হবে এবং তা এমন ব্যক্তিই গ্রহণ করবে যে তার পিতৃপুরুষদের নিকট থেকে সিন্দী রুশনীকের নবুওয়াতের প্রতি আনুগত্যের দীক্ষা নিয়েছে, আর তাদের নিকট থেকে ব্যভিচারকে হালাল করা এবং লজ্জাস্থানসমূহকে বৈধ করার বিষয়টিও সে গ্রহণ করে নেয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١١١)
النساء بغير نكاح ولا شراء، ومن كان دايناً بإمامة من رأى أن المآثم تزول عن الزاني بامرأة رجلٍ بإحلال زوجها له ذلك.

5- وإن بلدةً وجد فيها أشكال من ذكرنا على جهله وعمى قلبه اتباعاً، وسلم فيها من سفك دمه جهاراً، لحريٌ أن تكون الأقلام عن أهلها مرفوعةً، وأن يكون الإثم عنهم موضوعاً وجديرون أن يتركوا في طغيانهم يعمهون، وفي دجى الظلماء يترددون، غير أني تحريث بياني ما بينت، وإيضاحي ما أوضحت في كتابي هذا لذوي الأفهام والألباب منكم، ليكون ذلك ذكرى لمن كان له قلبٌ أو ألقى السمع وهو شهيد.

فليدبر كل من قرأ –منكم ومن سائر الناس غيركم- كتابي هذا بإشعار نفسه نصحها، وطلبه حضها، وتركه تقليد الرؤوس الجهال، ودعاة الضلال؛ فإني لم آل نفسي فيه وإياكم والمسلمين نصحاً. فإلى الله أرغب في حسن التوفيق، وإصابة القول في توحيده وعدله وشرائع دينه، والعون على ما يقرب من محابه، إنه سميعٌ قريب، وصلى الله على محمدٍ النبي وسلم تسليماً.
বিবাহ বা ক্রয় (দাসী হিসেবে গ্রহণ) ব্যতিরেকেই নারী গ্রহণ করা; এবং যে ব্যক্তি এমন নেতৃত্বের অনুসারী হয়েছে যে মনে করে যে, কোনো ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারকারীর পাপ দূর হয়ে যায় যদি স্বামী তার জন্য তা বৈধ করে দেয়।

৫- আর যে জনপদে আমাদের বর্ণিত এই ধরণের চরিত্রের লোক পাওয়া যায়, যারা অজ্ঞতা ও অন্তরের অন্ধত্বের কারণে এদের অনুগামী হয়েছে এবং যেখানে প্রকাশ্যে তাদের রক্তপাত থেকে তারা নিরাপদ থাকে, তবে সেই জনপদের অধিবাসীদের ওপর থেকে (গুনাহ লিপিবদ্ধ করার) কলম তুলে নেয়াই শ্রেয় এবং তাদের থেকে পাপের দায়ভার সরিয়ে নেয়াই সংগত। তারা এই যোগ্য যে, তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে এবং ঘুটঘুটে অন্ধকারে লক্ষ্যহীনভাবে বিচরণ করতে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে আমি আপনাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান, তাদের জন্য আমার এই গ্রন্থে যা বর্ণনা ও স্পষ্ট করেছি, তা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করেছি; যেন এটি তার জন্য উপদেশ হয় যার অন্তর আছে অথবা যে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে।

অতএব, আপনাদের মধ্য থেকে এবং আপনাদের ব্যতীত অন্য সকল মানুষের মধ্য থেকে যারা আমার এই গ্রন্থটি পাঠ করবেন, তাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ আত্মাকে নসিহত করার সংকল্প নিয়ে, নিজের পরম কল্যাণ অন্বেষণ করে এবং মূর্খ নেতা ও গোমরাহির দিকে আহ্বানকারীদের অন্ধ অনুসরণ পরিত্যাগ করে এটি গভীরভাবে চিন্তা করা। কেননা আমি এই গ্রন্থে নিজের জন্য, আপনাদের জন্য এবং সকল মুসলমানের জন্য নসিহত করার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করিনি। আমি আল্লাহর নিকট উত্তম তাওফিক এবং তাঁর তাওহিদ, তাঁর ইনসাফ ও তাঁর দ্বীনের শরিয়তসমূহ সম্পর্কে সঠিক কথা বলার আকাঙ্ক্ষা করছি, আর সেই সকল বিষয়ে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি যা তাঁর প্রিয় বিষয়গুলোর নিকটবর্তী করে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী। আর আল্লাহর রহমত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মাদের ওপর।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١١٢)
‌‌القول في المعاني التي تدرك حقائق المعلومات من أمور الدين، وما يسع الجهل به منه، وما لا يسع ذلك فيه، وما يعذر بالخطأ فيه المجتهد الطالب، وما لا يعذر بذلك فيه.

6- اعلموا –رحمكم الله- أن كل معلومٍ للخلق من أمر الدين والدنيا أن تخرج من أحد معنيين:

(أ) من أن يكون إما معلوماً لهم بإدراك حواسهم إياه.

(ب) وإما معلوماً لهم بالاستدلال عليه بما أدركته حواسهم.
দ্বীনি বিষয়াবলির সেই অর্থসমূহ প্রসঙ্গে যার মাধ্যমে তথ্যের বাস্তবতা উপলব্ধি করা যায়; এবং এগুলোর মধ্য থেকে যে বিষয়ে অজ্ঞ থাকা মার্জনীয় এবং যে বিষয়ে মার্জনীয় নয়; আর যে বিষয়ে সত্যানুসন্ধানী মুজতাহিদ ভুল করলে ওজরগ্রস্ত গণ্য হন এবং যে বিষয়ে তিনি তা গণ্য হন না.

৬- আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন—দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াবলির মধ্য থেকে সৃষ্টির জন্য জ্ঞাতব্য সবকিছু দুটি বিষয়ের একটির বাইরে নয়:

(ক) হয় তা তাদের নিকট তাদের ইন্দ্রিয়জাত উপলব্ধির মাধ্যমে জ্ঞাত।

(খ) অথবা তাদের নিকট তা জ্ঞাত তাদের ইন্দ্রিয়জাত উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে দলিল বা প্রমাণের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١١٣)
ثم لن يعدو جميع أمور الدين –الذي امتحن الله به عباده- معنيين: أحدهما: توحيد الله وعدله.

والآخر: شرائعه التي شرعها لخلقه من حلالٍ وحرامٍ وأقضيةٍ وأحكام.

(أ) فأما توحيده وعدله: فمدركةٌ حقيقة علمه استدلالاً بما أدركته الحواس.

(ب) وأما شرائعه فمدركةٌ حقيقة علم بعضها حساً بالسمع، وعلم بعضها استدلالاً بما أدركته حاسة السمع.

ثم القول فيما أدركت حقيقة علمه منه استدلالاً على وجهين:

أحدهما: معذورٌ فيه بالخطأ والمخطئ، ومأجورٌ فيه على الاجتهاد والفحص والطلب؛ كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من اجتهد فأصاب فله أجران، ومن اجتهد فأخطأ فله أجرٌ)) .

وذلك الخطأ فيما كانت الأدلة على الصحيح من القول فيه مختلفةً غير مؤتلفةٍ، والأصول في الدلالة عليه مفترقةً غير متفقةٍ،
अতঃপর দ্বীনের সকল বিষয়—যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেছেন—দুটি মূল বিষয়ের বাইরে যাবে না: একটি হলো আল্লাহর তাওহীদ ও তাঁর ইনসাফ।

আর অন্যটি হলো তাঁর শরীয়ত, যা তিনি তাঁর সৃষ্টির জন্য প্রবর্তন করেছেন—হালাল, হারাম, বিচারিক ফয়সালা এবং বিধিবিধানের মধ্য থেকে।

(ক) অতঃপর তাঁর তাওহীদ ও ইনসাফ সম্পর্কে বক্তব্য হলো: এর প্রকৃত জ্ঞান অর্জিত হয় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়াবলি থেকে দলীলের মাধ্যমে।

(খ) আর তাঁর শরীয়ত সম্পর্কে বক্তব্য হলো: এর কোনো কোনোটির প্রকৃত জ্ঞান শ্রবণের মাধ্যমে সরাসরি উপলব্ধ হয়, আর কোনোটির জ্ঞান অর্জিত হয় শ্রবণলব্ধ দলীলের মাধ্যমে।

অতঃপর যে বিষয়গুলোর প্রকৃত জ্ঞান দলীল বা প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত হয়, সেগুলোর ব্যাপারে বক্তব্য দুই প্রকার:

এক প্রকার হলো: যাতে ভুল এবং ভুলকারী ব্যক্তি মার্জনীয়, এবং ইজতিহাদ, অনুসন্ধান ও অন্বেষণের জন্য সে সওয়াব লাভ করবে; যেমনটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয় তার জন্য দুটি সওয়াব, আর যে ব্যক্তি ইজতিহাদ করে ভুল করে তার জন্য একটি সওয়াব।"

আর এই ভুল সেই সকল বিষয়ে হয়ে থাকে যেখানে সঠিক সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে প্রমাণাদি ছিল বৈচিত্র্যময় ও অসংহত, এবং সেটির প্রতি নির্দেশিত মূলনীতিসমূহ ছিল বিচ্ছিন্ন ও অনৈক্যপূর্ণ,
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١١٤)
وإن كان لا يخلو من دليل على الصحيح من القول فيه، فميز بينه وبين السقيم منه، غير أنه يغمض بعضه غموضاً يخفى على كثير من طلابه، ويلتبس على كثيرٍ من بغاته.

والآخر منهما غير معذورٍ بالخطأ فيه مكلفٌ قد بلغ حد الأمر والنهي، ومكفرٌ بالجهل به الجاهل، وذلك ما كانت الأدلة الدالة على صحته متفقةً غير مفترقة، ومؤتلفةً غير مختلفةٍ، وهي مع ذلك ظاهرةٌ للحواس.
যদ্যপি এটি সে বিষয়ে সঠিক মতের সপক্ষে দলিল-প্রমাণ থেকে শূন্য নয়, ফলে তিনি এর সঠিক এবং অশুদ্ধ দিকের মধ্যে পার্থক্য করেছেন; তবে এর কিছু অংশ এমন জটিলতা সম্পন্ন যে তা এর বহু শিক্ষার্থীর নিকট অস্পষ্ট থেকে যায় এবং এর অন্বেষণকারীদের অনেকের নিকট বিভ্রান্তিকর মনে হয়।

আর এ দুটির অপরটি এমন যে, এতে ভুল করার ক্ষেত্রে সেই মুকাল্লাফ ব্যক্তি ক্ষমার অযোগ্য যে আদেশ ও নিষেধের সীমায় উপনীত হয়েছে, এবং এর প্রতি অজ্ঞতার কারণে অজ্ঞ ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করা হয়। আর এটি হলো সেই বিষয় যার সঠিকতার সপক্ষে দলিলসমূহ ঐকমত্যপূর্ণ ও অবিচ্ছিন্ন, এবং সুসংগত ও অভিন্ন; তদুপরি তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١١٥)
7- وأما ما أدركت حقيقة علمه منه حساً، فغير لازمٍ فرضه أحداً إلا بعد وقوعه تحت حسه، فأما وهو واقعٌ تحت حسه فلا سبيل له إلى العلم به، وإذا لم تكن له إلى العلم به سبيلٌ، لم يجز تكلفيه فرض العمل به، مع ارتفاع العلم به؛ وذلك أنه من لم ينته إليه الخبر بأن الله تعالى ذكره بعث رسولاً يأمر الناس بإقامة خمس صلواتٍ كل يومٍ وليلةٍ، لم يجز أن يكون معذباً على تركه إقامة الصلوات الخمس. لأن ذلك من الأمر الذي لا يدرك إلا
৭- আর যে বিষয়ের প্রকৃত জ্ঞান পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়, তার বিধান পালন করা কারো ওপর আবশ্যক হয় না যতক্ষণ না তা তার ইন্দ্রিয়গোচর হয়। আর যতক্ষণ তা তার ইন্দ্রিয়গোচর না হয়, ততক্ষণ তা জানার কোনো পথ তার থাকে না; আর যখন তা জানার কোনো পথ থাকে না, তখন সেই জ্ঞান অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় তাকে সেটি পালনের দায়িত্ব প্রদান করা বৈধ নয়। আর তা এ কারণে যে, যার নিকট এই সংবাদ পৌঁছেনি যে, আল্লাহ তাআলা—তাঁর স্মরণ সুউচ্চ হোক—এমন একজন রসূল পাঠিয়েছেন যিনি মানুষকে দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করার নির্দেশ দেন, তাকে সেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বর্জনের কারণে শাস্তি প্রদান করা বৈধ হবে না। কারণ এটি এমন একটি বিষয় যা কেবল...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١١٦)
بالسماع، ومن لم يسمع ذلك ولم يبلغه؛ فلم تلزمه الحجة به، وإنما يلزم فرضه من ثبتت عليه به الحجة.

8- فأما الذي لا يجوز الجهل به من دين الله لمن كان في قلبه من أهل التكليف لوجود الأدلة متفقةً في الدلالة عليه غير مختلفةٍ،
শ্রুতির মাধ্যমে; আর যে ব্যক্তি তা শুনেনি এবং যার কাছে তা পৌঁছেনি, তার ওপর এর দ্বারা প্রমাণ সাব্যস্ত হবে না। বরং এর আবশ্যকতা কেবল তার ওপরেই বর্তাবে, যার বিরুদ্ধে এর দ্বারা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

৮- পক্ষান্তরে আল্লাহর দ্বীনের সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য বৈধ নয়, যেগুলোর স্বপক্ষে এমন সব প্রমাণাদি বিদ্যমান যা নির্দেশনার ক্ষেত্রে অভিন্ন এবং যাতে কোনো মতভেদ নেই।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١١٧)
ظاهرةً للحس غير خفية، فتوحيد الله تعالى ذكره، والعلم بأسمائه وصفاته وعدله، وذلك أن كل من بلغ حد التكليف من أهل الصحة والسلامة، فلن يعدم دليلاً دالاً وبرهاناً واضحاً يدله على وحدانية ربه جل ثناؤه، ويوضح له حقيقة صحة ذلك؛ ولذلك لم يعذر الله جل ذكره أحداً كان بالصفة التي وصفت بالجهل وبأسمائه، وألحقه إن مات على الجهل به بمنازل أهل العناد فيه تعالى ذكره، والخلاف عليه بعد العلم به، وبربوبيته في أحكام الدنيا، وعذاب الآخرة فقال –جل ثناؤه-: {قل هل ننبئكم بالأخسرين أعمالاً. الذين ضل سعيهم في الحياة الدنيا وهم يحسبون أنهم يحسنون صنعاً. أولئك الذين كفروا بآيات ربهم ولقائه فحبطت أعمالهم فلا نقيم لهم يوم القيامة وزناً} .

فسوى –جل ثناؤه- بين هذا العامل في غير ما يرضيه على حسبانه أنه في عمله عاملٌ بما يرضيه في تسميته في الدنيا بأسماء أعدائه المعاندين له، الجاحدين ربوبيته مع علمهم بأنه ربهم، وألحقه بهم في الآخرة في العقاب والعذاب. وذلك لما وصفنا من
যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং গোপনীয় নয়; আল্লাহর একত্ববাদ—যাঁর যিকির সমুন্নত—তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী এবং তাঁর ন্যায়বিচার সম্পর্কে জ্ঞান। আর তা এজন্য যে, সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন যে কেউ যখন শরয়ী বাধ্যবাধকতার (তাকলীফ) সীমায় পৌঁছায়, তখন সে এমন কোনো নির্দেশক প্রমাণ বা স্পষ্ট যুক্তি থেকে বঞ্চিত হবে না যা তাকে তার রবের—যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত—একত্ববাদের দিকে পরিচালিত করবে এবং তার কাছে সেই সত্যের যথার্থতা স্পষ্ট করে দেবে। আর একারণেই আল্লাহ—যাঁর যিকির মহিমান্বিত—এমন কাউকে ক্ষমা করবেন না যে বর্ণিত গুণের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও অজ্ঞতায় নিপতিত ছিল এবং তাঁর নামসমূহ সম্পর্কে বেখবর ছিল। আর যদি সে তাঁর সম্পর্কে এই অজ্ঞতার ওপর মৃত্যুবরণ করে, তবে তিনি দুনিয়ার বিধানে এবং আখেরাতের শাস্তিতে তাকে সেই সব একগুঁয়ে ও বিরোধীদের স্তরে শামিল করবেন যারা সত্য জানার পরও তাঁর এবং তাঁর রুবুবিয়াতের (প্রভুত্বের) বিরোধিতা করেছিল। অতঃপর আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত—বলেছেন: {বলুন: ‘আমি কি তোমাদেরকে আমলসমূহের দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সংবাদ দেব? তারা সেই সব লোক যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে পথভ্রষ্ট হয়েছে, অথচ তারা মনে করছে যে তারা ভালো কাজই করছে। তারাই সেই সব লোক যারা তাদের রবের নিদর্শনসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করেছে, ফলে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে; সুতরাং কেয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোনো ওজন (মর্যাদা) স্থাপন করব না।’}।

অতঃপর আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত—সেই আমলকারীর মাঝে সমতা বিধান করেছেন যে তাঁর সন্তুষ্টি বহির্ভূত কাজে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও ধারণা করছিল যে সে তাঁর সন্তুষ্টির কাজই করছে; দুনিয়াতে তাকে তাঁর সেইসব একগুঁয়ে শত্রুদের নামে অভিহিত করার মাধ্যমে যারা তাঁকে তাদের রব হিসেবে জানা সত্ত্বেও তাঁর প্রভুত্ব অস্বীকার করেছিল। আর আখেরাতে তিনি তাকে শাস্তি ও আজাবের ক্ষেত্রে তাদের সাথে শামিল করেছেন। আর এটি এজন্য যে, আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١١٨)
استواء حال المجتهد المخطئ في وحدانيته وأسمائه وصفاته وعدله، وحال المعاند في ذلك في ظهور الأدلة الدالة المتفقة غير المفترقة لحواسهما، فلما استويا في قطع الله –جل وعز- عذرهما بما أظهر لحواسهما من الأدلة والحجج، وجبت التسوية بينهما في العذاب والعقاب.

আল্লাহর একত্ববাদ, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী এবং তাঁর ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ভুলকারী মুজতাহিদ ও হঠকারী ব্যক্তির অবস্থা সমান; বিশেষ করে তাদের উভয়ের ইন্দ্রিয়ের নিকট সুস্পষ্ট, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অভিন্ন দলিলসমূহ প্রকাশিত হওয়ার ক্ষেত্রে। অতঃপর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ যখন তাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দলিল ও প্রমাণাদির মাধ্যমে তাদের ওজর পেশ করার পথ রুদ্ধ করার ক্ষেত্রে উভয়কে সমান করে দিলেন, তখন আজাব ও শাস্তির ক্ষেত্রেও তাদের উভয়ের মধ্যে সমতা বিধান করা অপরিহার্য হয়ে পড়ল।

(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١١٩)
وخالف حكم ذلك حكم الجهل بالشرائع، لما وصفت من أن من لم يقطع الله عذره بحجة أقامها عليه بفريضة ألزمه إياها من شرائع الدين، فلا سبيل له إلى العلم بوجوب فرضها؛ إذ لا دلالة على وجوب فرضها، وإذا كان ذلك كذلك لم يكن مأموراً، وإذا لم يكن مأموراً لم يكن بترك العمل لله –عز ذكره- عاصياً، ولا لأمر ربه مخالفاً؛ فيستحق عقابه؛ لأن الطاعة والمعصية إنما تكون باتباع الأمر ومخالفته.

এই বিষয়ের বিধান শরীয়তের বিধি-বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার বিধান থেকে ভিন্ন। কারণ আমি বর্ণনা করেছি যে, আল্লাহ যাকে দ্বীনের শরীয়তসমূহের মধ্য হতে এমন কোনো ফরজের ব্যাপারে প্রমাণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার ওজর বা অজুহাত রহিত করেননি যা তার ওপর তিনি অবধারিত করেছিলেন, তবে তার পক্ষে সেটি ফরজ হওয়ার আবশ্যকতা জানার কোনো পথ থাকে না; যেহেতু সেটি ফরজ হওয়ার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ বিদ্যমান নেই। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে সে আদেশপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে না। আর সে যখন আদেশপ্রাপ্ত নয়, তখন আল্লাহর—যাঁর আলোচনা অত্যুজ্জ্বল—জন্য নির্দিষ্ট কোনো আমল বর্জন করার কারণে সে পাপিষ্ঠ হিসেবে সাব্যস্ত হবে না এবং সে তার রবের নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণকারীও হবে না যে সে তাঁর শাস্তির উপযুক্ত হবে; কেননা আনুগত্য ও অবাধ্যতা কেবল আদেশ অনুসরণ এবং তার বিরুদ্ধাচরণের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।

(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٢٠)
9- فإن قال لنا قائلٌ:

فإنك قد تستدل بالمحسوس من أحكام الشرائع بعد وقوعه تحت الحس على نظائره التي لم تقع تحت الحس ويحكم له بحكم نظيره، ويفرق فيه بين المجتهد المخطئ، وبين المعاند فيه بعد العلم بحقيقته؛ فتجعل المجتهد المخطئ مأجوراً باجتهاده، والإثم عنه زائلاً بخطئه. وقد سويت بين حكم المجتهد المخطئ في توحيد الله وأسمائه وصفاته وعدله، والمعاند في ذلك بعد العلم به.

فما الفصل بينك وبين من عارضك في ذلك، فسوى بين المجتهد المخطئ والمعاند بعد العلم، حيث فرقت بينهما، وفرق حيث سويت؟

قيل: الفرق بيني وبينه أن من قيلي وقيل كل موحدٍ: أن كل محسوسٍ أدركته حاسة خلقٍ في الدنيا فدليلٌ لكل مستدل على وحدانية الله عز وجل وأسمائه وصفاته وعدله، وكل دال على ذلك فهو في الدلالة عليه متفقٌ غير مفترق، ومؤتلفٌ غير مختلف.

وإن من قيلي وقيل كل قائلٍ بالاجتهاد في الحكم على الأصول: أنه ليست الأصول كلها متفقةً في الدلالة على كل فرع.

وذلك أن الحجة قد ثبتت على أن واطئاً لو وطئ نهاراً في شهر رمضان امرأته في حالٍ يلزمه فيها فرض الكف عن ذلك، أن عليه
৯- যদি আমাদের কেউ বলে:

আপনি সম্ভবত শরীয়তের বিধিবিধানের ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহ ইন্দ্রিয়গোচর হওয়ার পর, সেগুলোর অনুরূপ যে বিষয়গুলো ইন্দ্রিয়গোচর হয়নি সেগুলোর ওপর দলিল পেশ করেন এবং সেগুলোর জন্য অনুরূপ হুকুম নির্ধারণ করেন; আর এতে ভুলকারী মুজতাহিদ এবং সত্যের বাস্তবতা জানার পর বিরোধিতাকারীর মধ্যে পার্থক্য করেন; ফলে আপনি ভুলকারী মুজতাহিদকে তার ইজতিহাদের কারণে সওয়াবের অধিকারী সাব্যস্ত করেন এবং তার ভুলের কারণে তার গুনাহ মিটিয়ে দেন। অথচ আপনি আল্লাহর তাওহিদ, তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ভুলকারী মুজতাহিদ এবং এ সম্পর্কে জানার পর বিরোধিতাকারীর বিধানকে এক করে ফেলেছেন।

এমতাবস্থায় আপনার এবং আপনার বিরোধিতাকারীর মধ্যে পার্থক্য কী রইল? সেই বিরোধিতাকারী ওই ক্ষেত্রে ভুলকারী মুজতাহিদ এবং সত্য জানার পর বিরোধিতাকারীকে সমান সাব্যস্ত করেছে যেখানে আপনি তাদের মাঝে পার্থক্য করেছেন, আর সেখানে পার্থক্য করেছে যেখানে আপনি তাদের সমান সাব্যস্ত করেছেন?

এর উত্তরে বলা হবে: আমার এবং তার মধ্যে পার্থক্য এই যে, আমার বক্তব্য এবং প্রত্যেক তাওহিদপন্থীর বক্তব্য হলো—দুনিয়াতে সৃষ্টির প্রতিটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় যা কোনো ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয়েছে, তা সুমহান আল্লাহর একত্ববাদ, তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর ন্যায়বিচারের বিষয়ে প্রত্যেক অনুসন্ধানকারীর জন্য একটি প্রমাণ; আর এই প্রমাণগুলো এ বিষয়ে অভিন্ন, বিচ্ছিন্ন নয় এবং ঐক্যবদ্ধ, পরস্পরবিরোধী নয়।

আর আমার এবং মূলনীতির আলোকে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের প্রবক্তাদের বক্তব্য হলো—সবগুলো মূলনীতি প্রতিটি শাখা বিধানের ক্ষেত্রে দলিলের দিক থেকে অভিন্ন নয়।

এর কারণ হলো, এই দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি রমজান মাসে দিনের বেলায় এমন অবস্থায় তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে যখন তার ওপর বিরত থাকা ফরজ ছিল, তবে তার ওপর অবশ্যই...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٢١)
كفارةً بحكم رسول الله صلى الله عليه وسلم وذلك حكمٌ من الله تعالى ذكره على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم فيمن وطئ امرأته في حالٍ حرامٌ عليه وطؤها، وقد يلزمه في حالٍ أخرى يحرم عليه فيها وطؤه، فلا يلزمه ذلك الحكم بل يلزمه غيره؛ وذلك لو وطئها معتكفاً، أو حائضاً: أو مطلقةً تطليقةً واحدة قبل الرجعة، وفي أحوال سواها نظائرٌ لها. فقد اختلفت أحكام الفرج الموطوء في الأحوال المنهي فيها الواطئ عن وطئه مع اتفاق أحواله كلها في أنه منهيٌ في جميعها عن وطئه.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা অনুযায়ী কাফফারা হিসেবে; আর এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এমন একটি বিধান যা তিনি তাঁর নবীর মুখে ব্যক্ত করেছেন এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যে তার স্ত্রীর সাথে এমন অবস্থায় সহবাস করেছে যখন তার জন্য সহবাস করা হারাম ছিল। আবার কখনও অন্য কোনো অবস্থায় তার ওপর অন্য কিছু আবশ্যক হতে পারে যেখানে সহবাস করা তার জন্য হারাম, তখন ওই বিধানটি তার ওপর আবশ্যক হবে না বরং ভিন্ন একটি বিধান আবশ্যক হবে; আর তা হলো—যদি সে ইতিকাফ অবস্থায় অথবা ঋতুবতী অবস্থায় সহবাস করে, অথবা এক তালাক প্রদানের পর রাজআ করার আগে সহবাস করে; এবং এগুলি ছাড়াও আরও অনেক অনুরূপ অবস্থা রয়েছে। সুতরাং যে সকল অবস্থায় সহবাসকারীকে সহবাস থেকে নিষেধ করা হয়েছে, সেই সকল অবস্থায় সহবাসকৃত লজ্জাস্থানের বিধানসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, যদিও সকল অবস্থার অভিন্ন দিক হলো এই যে, এগুলোর প্রত্যেকটিতেই সহবাস করা নিষিদ্ধ ছিল।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٢٢)
وليست كذلك الأدلة على وحدانية الله –جل جلاله وأسمائه وصفاته وعدله، بل هي كلها مؤتلفةٌ غير مختلفة، ليس منها شيءٌ إلا وهو في ذلك دالٌ على مثل الذي دلت عليه الأشياء كلها. ألا ترى أن السماء ليست بأبين في الدلالة من الأرض، ولا الأرض من الجبال، ولا الجبال من البهائم، ولا شيء من المحسوسات وإن كبر وعظم بأدل على ذلك من شيءٍ فيها وإن صغر ولطف، فلذلك افترق القول في حكم الخطأ في التوحيد، وحكم الخطأ في شرائع الدين وفرائضه.

ولولا قصدنا في كتابنا هذا الاختصار والإيجاز فيما قصدنا البيان عنه لاستقصينا القول في ذلك، وأطنبنا في الدلالة على صحة
আল্লাহর একত্ববাদ—তাঁর মহিমা সুউচ্চ হোক—এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও তাঁর ন্যায়ের প্রমাণাদি এমন নয়; বরং সেগুলো সবই সুসংগত ও অভিন্ন। সেগুলোর প্রতিটিই সেই একই বিষয়ের প্রতি পথনির্দেশ করে যার প্রতি অন্য সকল সৃষ্টি পথনির্দেশ করে। আপনি কি দেখেন না যে, আসমান তার নির্দেশের স্পষ্টতায় জমিনের চেয়ে অধিকতর সুস্পষ্ট নয়, আর জমিন পাহাড়ের চেয়ে নয়, পাহাড় চতুষ্পদ প্রাণীর চেয়ে নয়? ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুসমূহের কোনোটিই—তা যতই বিশাল ও মহান হোক না কেন—তাতে বিদ্যমান কোনো ক্ষুদ্র ও সূক্ষ্ম জিনিসের চেয়ে এই বিষয়ে অধিকতর প্রমাণবাহী নয়। একারণেই তাওহিদের বিষয়ে ভুল করার বিধান এবং দ্বীনের শরিয়ত ও ফরজ বিধানসমূহের বিষয়ে ভুল করার বিধানের ব্যাপারে বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

আমরা যদি আমাদের এই কিতাবে উদ্দিষ্ট বিষয়ের বর্ণনায় সংক্ষিপ্ততা ও সংক্ষেপ করার সংকল্প না করতাম, তবে আমরা এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতাম এবং এর সত্যতার প্রমাণাদি বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করতাম।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٢٣)
ما قلنا فيه

وفيما بينا من ذلك مكتفىً لمن وفق لفهمه.

10- وإذا كان صحيحاً ما قلنا بالذي عليه استشهدنا، فواجبٌ أن يكون كل من بلغ حد التكليف من الذكور والإناث وذلك قبل أن يحتلم الغلام أو يبلغ حد الاحتلام، وأن تحيض الجارية أو تبلغ حد المحيض – فلم يعرف صانعه بأسمائه وصفاته التي تدرك بالأدلة بعد بلوغه الحد الذي حددت، فهو كافرٌ حلال الدم والمال، إلا أن يكون من أهل العهد الذين صولح سلفهم على الجزية وأقهروا فمن عليهم ووصف عليهم خراجٌ يؤدونه إلى المسلمين، فيكون من أجل ذلك محقون الدم والمال وإن كان كافراً.

فإن قال قائلٌ:

فإذا كان الوقت الذي تلزمه الفرائض هو الوقت الذي ألزمته الكفر إن لم يكن عارفاً بصانعه، بأسمائه وصفاته التي ذكرت، فمتى لزمه فرض النظر والفكر في مدبره وصانعه حتى كان مستحقاً اسم الكفر في الحال التي وصفت والحكم عليه بحكم أهله؟

قيل له:

لم يلزمه فرض شيءٍ من الأشياء قبل الحد الذي وصفت، غير
আমরা যাতে যা বলেছি

এবং এর মধ্যে আমরা যা বর্ণনা করেছি, তা সেই ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট যাকে তা বোঝার তৌফিক দেওয়া হয়েছে।

১০- আর আমরা যা বলেছি এবং যার মাধ্যমে দলিল পেশ করেছি তা যদি সঠিক হয়, তবে সাবালকত্বের সীমায় পৌঁছানো প্রত্যেক নর ও নারীর জন্য—আর তা হলো বালকের স্বপ্নদোষ হওয়ার বা স্বপ্নদোষের বয়সে পৌঁছানোর আগে এবং বালিকার ঋতুস্রাব হওয়া বা ঋতুস্রাবের বয়সে পৌঁছানোর আগে—যদি সে আমার নির্ধারিত সেই সীমায় পৌঁছানোর পর তার স্রষ্টাকে তাঁর সেই নাম ও গুণাবলি দ্বারা না চেনে যা দলিলের মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়, তবে সে কাফির এবং তার রক্ত ও সম্পদ হালাল, যদি না সে সেই চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হয় যাদের পূর্বসূরিদের সাথে জিজিয়ার বিনিময়ে সন্ধি করা হয়েছে এবং যাদের পরাজিত করার পর অনুগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের ওপর খারাজ ধার্য করা হয়েছে যা তারা মুসলিমদের প্রদান করে; এমতাবস্থায় কাফির হওয়া সত্ত্বেও এই কারণে তার রক্ত ও সম্পদ সংরক্ষিত থাকবে।

যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে:

যদি তার ওপর ফরজসমূহ আবশ্যক হওয়ার সময়টিই সেই সময় হয় যখন তার স্রষ্টা এবং তাঁর বর্ণিত নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে পরিচিত না হওয়ার কারণে আপনি তার ওপর কুফরের হুকুম দিচ্ছেন, তবে তার পরিচালক ও স্রষ্টা সম্পর্কে চিন্তা ও গবেষণা করার আবশ্যকতা তার ওপর কখন অর্পিত হলো, যার ফলে সে আপনার বর্ণিত অবস্থায় কুফর নামের অধিকারী হলো এবং তার ওপর কাফিরদের বিধান প্রযোজ্য হলো?

তাকে বলা হবে:

আমি যে সীমার কথা উল্লেখ করেছি তার আগে তার ওপর কোনো কিছুই ফরজ হয়নি, এছাড়া
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٢٤)
أنه مع بلوغه حدث التمييز بين ماله فيه الحظ وعليه فيه البخس: أن يخليه داعي الرحمن وداعي الشيطان من الدعاء، هذا إلى معرفة الرحمن وطاعته، وهذا إلى اتباع الشيطان وخطواته؛ كما قال الله تعالى ذكره: {الشيطان يعدكم الفقر ويأمركم بالفحشاء والله يعدكم مغفرة منه وفضلاً والله واسع عليم} . وذلك قد يكون في حال بلوغ الصبي سبع سنين أو ثمان سنين، فإذا عرض له الداعيان اللذان وصفت في تلك الحال، فهو ممهلٌ بعد ذلك من الوقت السنين، وربما كان ذلك قدر عشر سنين وربما كان ثمانية، وربما كان أقل وأكثر.

وأقل ما يكون ست سنين، وفي قدر ذلك من المهل، وفي
নিশ্চয়ই যখন সে পার্থক্যের বয়সে উপনীত হয় তখন তার জন্য যাতে কল্যাণ রয়েছে এবং যাতে তার লোকসান রয়েছে, সে বিষয়গুলোর মধ্যে প্রভেদ সৃষ্টি হয়: করুণাময় আল্লাহর আহ্বানকারী এবং শয়তানের আহ্বানকারী তাকে আহ্বানের মাধ্যমে পৃথক অবস্থায় রাখে; এ (আল্লাহর আহ্বানকারী) করুণাময় আল্লাহর পরিচয় লাভ ও তাঁর আনুগত্যের দিকে এবং ঐ (শয়তানের আহ্বানকারী) শয়তানের অনুসরণ ও তার পদাঙ্ক অনুসরণের দিকে আহ্বান করে; যেমন আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন: "শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়; আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।" আর এটি সম্ভবত শিশুর সাত বা আট বছর বয়সে উপনীত হওয়ার সময় ঘটে থাকে। সুতরাং আমি যে দুই আহ্বানকারীর বর্ণনা দিয়েছি, তারা যখন ঐ অবস্থায় তার সামনে উপস্থিত হয়, তখন তাকে এর পরবর্তী বছরগুলোতে অবকাশ দেওয়া হয়; সম্ভবত তা দশ বছর পরিমাণ হতে পারে, আবার কখনও আট বছর, আবার কখনও কম বা বেশি হতে পারে।

আর সর্বনিম্ন অবকাশের সময় হতে পারে ছয় বছর। আর অবকাশের এই পরিমাণে, এবং...
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٢٥)
أقل منه ما يتذكر من هو متذكرٌ، ويعتبر من هو معتبرٌ. ولن يهلك الله –جل ذكره- إلا هالكاً.
এর চেয়ে সামান্য বিষয় থেকেও উপদেশ গ্রহণকারী উপদেশ গ্রহণ করে এবং শিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষা লাভ করে। আর আল্লাহ—যাঁর স্মরণ সুমহান—কেবল তাকেই ধ্বংস করবেন যে ধ্বংস হওয়ার যোগ্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٢٦)
‌‌القول في صفة المستحق القتل أنه بالله عارفٌ المعرفة التي يزول بها عنه اسم الكفر

11- قال أبو جعفر: لن يستحق أحدٌ أن يقال له: إنه بالله [عارفٌ] المعرفة التي إذا قارنها الإقرار والعمل استوجب به اسم الإيمان، وأن يقال له: إنه مؤمنٌ، إلا أن يعلم بأن ربه صانع كل
যাকে হত্যা করা বৈধ এমন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা—সে আল্লাহ সম্পর্কে এমন পরিচিতি রাখে যার দ্বারা তার থেকে কুফর নাম অপসারিত হয়

১১- আবু জাফর বলেন: কোনো ব্যক্তিই এই যোগ্য হবে না যে তাকে বলা হবে—সে আল্লাহ সম্পর্কে এমন [পরিচিতি] রাখে, যার সাথে যদি মৌখিক স্বীকৃতি ও আমল যুক্ত হয় তবে তার দ্বারা ঈমান নাম সাব্যস্ত হয় এবং তাকে মুমিন বলা যায়; যতক্ষণ না সে এ কথা জানবে যে তার রব সবকিছুর স্রষ্টা
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٢٧)
شيءٍ ومدبره، منفرداً بذلك دون شريكٍ ولا ظهيرٍ، وأنه الصمد الذي ليس كمثله شيءٌ: العالم الذي أحاط بكل شيء علمه، والقادر الذي لا يعجزه شيءٌ أراده، والمتكلم الذي لا يجوز عليه السكوت. وأن يعلم أن له علماً لا يشبهه علوم خلقه، وقدرةً لا تشبهها قدرة عباده، وكلاماً لا يشبهه كلام شيء سواه. وأنه لم يزل له العلم والقدرة والكلام.

12- فإن قال لنا قائلٌ:

فإنك قد ألزمت هذا الذي بلغ حد التكليف شططاً: أوجبت له الكفر بجهل ما قد عجز عن إدراك صحته من قد عاش من السنين
সবকিছুর ব্যবস্থাপক, তিনি তাতে একক, তাঁর কোনো অংশীদার বা সাহায্যকারী নেই। তিনি আস-সামাদ (অমুখাপেক্ষী), যাঁর সদৃশ কিছুই নেই: তিনি এমন এক মহাজ্ঞানী যাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে, এবং এমন এক সর্বশক্তিমান যাকে তাঁর অভিপ্রেত কোনো কিছুই অক্ষম করতে পারে না, এবং তিনি এমন এক বক্তা যাঁর জন্য নীরবতা প্রযোজ্য নয়। আরও জানতে হবে যে, তাঁর এমন জ্ঞান রয়েছে যার সদৃশ তাঁর সৃষ্টির কোনো জ্ঞান নয়, তাঁর এমন ক্ষমতা রয়েছে যার সদৃশ তাঁর বান্দাদের কোনো ক্ষমতা নয়, এবং তাঁর এমন কালাম (কথা) রয়েছে যার সদৃশ তিনি ছাড়া অন্য কোনো কিছুর কালাম নয়। আর নিশ্চয়ই অনাদিকাল থেকে তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও কালাম রয়েছে।

১২- যদি কোনো প্রশ্নকারী আমাদের বলে:

নিশ্চয়ই আপনি এমন ব্যক্তিকে—যে শরয়ি দায়িত্ব পালনের (তাকলিফ) বয়সে পৌঁছেছে—অত্যধিক কঠোরতার সম্মুখীন করেছেন: আপনি তার জন্য কুফরিকে সাব্যস্ত করেছেন এমন বিষয়ের অজ্ঞতার কারণে, যার সত্যতা অনুধাবনে দীর্ঘকাল অতিবাহিত করা ব্যক্তিরাও অক্ষম হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٢٨)
مائة، ومن العمر طويلاً من المدة، وأنى له السبيل في المدة التي ذكرت مع قصرها إلى معرفة هذه المعاني.

قيل له: إن الذين جهلوا حقيقة ذلك مع مرور الزمان الطويل، لم يجهلوه لعدم الأسباب الممكن معها الوصول إلى علم ذلك في أقصر المدة وأيسر الكلفة؛ ولكنهم تجاهلوا مع ظهور الأدلة الواضحة، والحجج البالغة لحواسهم؛ فأدخلوا اللبس على أنفسهم، والشبهة على عقولهم، حتى أوجب ذلك لهم الحيرة، وأكسبهم الجهل والملالة. ولو أنهم لزموا محجة الهدى، وأعرضوا عما دعاهم إليه دواعي الهوى لوجدوا للحق سبيلاً نهجاً، وطريقاً سهلاً.

وأي أمر أبين، وطريقٍ أوضح، ودليلٍ أدل دلالةً من قول القائل: الله عالمٌ، على إثبات عالمٍ له علمٌ.
শত, এবং দীর্ঘায়ু লাভ করেছেন। তবে উল্লিখিত সেই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কীভাবে তাঁর পক্ষে এই সকল অর্থ অনুধাবনের পথ উন্মুক্ত হতে পারে?

তাঁকে বলা হয়েছে: যারা দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এই বাস্তবতার হাকিকত সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেছে, তারা এজন্য অজ্ঞ থাকেনি যে সেই জ্ঞান অর্জনের উপায়-উপকরণের অভাব ছিল, যার মাধ্যমে স্বল্পতম সময়ে ও অনায়াসে তা অর্জন করা সম্ভব ছিল; বরং তারা সুস্পষ্ট প্রমাণাদি এবং তাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অকাট্য যুক্তিসমূহ প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও সত্যকে উপেক্ষা করেছে। ফলে তারা নিজেদের আত্মায় সংশয় এবং নিজেদের বিবেকের ওপর বিভ্রান্তি আপতিত করেছে, যা অবশেষে তাদের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তায় নিপতিত করেছে এবং তাদের মাঝে অজ্ঞতা ও অবসাদের জন্ম দিয়েছে। যদি তারা হিদায়াতের সঠিক পথে অবিচল থাকত এবং কুপ্রবৃত্তির তাড়না থেকে বিমুখ হতো, তবে তারা সত্যের জন্য একটি সুনিশ্চিত ও সহজ পথ খুঁজে পেত।

আর কোনো বক্তার এই উক্তির চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট বিষয়, অধিকতর স্বচ্ছ পথ এবং অধিকতর বলিষ্ঠ দলিল আর কী হতে পারে যে: "আল্লাহ সর্বজ্ঞ", যা মূলত একজন 'জ্ঞানী' সত্তারই সপ্রমাণ ঘোষণা যার 'জ্ঞান' গুণটি সাব্যস্ত।
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٢٩)
13- ولئن كان لا دلالة في قول القائل:

هو عالمٌ، على إثبات عالمٍ له علمٌ أنه لا دلالة من قول قائل: ((إنه على إثباته؛ إذ كان المعلوم في النشوء والعادة أن كل شيءٍ مسمى بعالمٍ فإنما هو مسمى به من أجل أن له علماً، فإن يك واجباً أن يكون المعلوم في النشوء والعادة في المنطق الجاري بينهم، والمتعارف فيه في بارئ الأشياء: خلافاً لما جرت به العادة والتعارف بينهم.

إنه لواجبٌ أن يكون قول القائل: ((إنه)) دليلٌ على النفي لا على الإثبات، فيكون المقر بوجود الصانع مقراً بأنه غير عدمٍ، لا مقراً بوجوده؛ كما كان المقر بأنه عالمٌ مقراً –عند قائل هذه المقالة- بأنه ليس بجاهلٍ، لا مقراً بأن له علماً.

فإن كان المقر عندهم بأنه مقرٌ بإثباته ووجوده، لا نافياً عدمه؛ فكذلك المقر بأنه عالمٌ مقرٌ بإثبات علمٍ له لا ينفي الجهل عنه.

وكذلك القول في القدرة، والكلام، والإرادة، والعزة،
১৩- আর যদি কোনো বক্তার এই উক্তি—'তিনি জ্ঞানী'—এমন কোনো জ্ঞানীর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করার প্রমাণ না হয় যার জ্ঞান রয়েছে, তবে কোনো বক্তার এই উক্তি—'নিশ্চয়ই তিনি [আছেন]'—তা তাঁর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করার দলীল হবে না; যেহেতু সৃষ্টিগত প্রকৃতি ও অভ্যাসগতভাবে এটি সুবিদিত যে, যাকে 'জ্ঞানী' নামে অভিহিত করা হয়, তাকে এই নামেই অভিহিত করা হয় কারণ তার জ্ঞান রয়েছে। সুতরাং মানুষের মাঝে প্রচলিত যুক্তি ও প্রথায় সৃষ্টিগত প্রকৃতি ও অভ্যাসে যা পরিচিত, তা যদি বস্তুর স্রষ্টার ক্ষেত্রে তাদের মাঝে প্রচলিত রীতি ও প্রথার বিপরীত হওয়া আবশ্যক হয়:

তবে এটি আবশ্যক হয়ে পড়বে যে, বক্তার এই উক্তি—'নিশ্চয়ই তিনি [আছেন]'—তা হবে নাস্তিত্বের প্রমাণ, অস্তিত্বের নয়। ফলে স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকারকারী ব্যক্তি কেবল একথাই স্বীকারকারী হবে যে তিনি 'অবিদ্যমান নন', তাঁর অস্তিত্বের প্রকৃত স্বীকারকারী হবে না। যেমন এই মতবাদের প্রবক্তার নিকট 'তিনি জ্ঞানী' বলে স্বীকারকারী ব্যক্তি কেবল এটাই স্বীকার করে যে তিনি 'অজ্ঞ নন', তিনি যে জ্ঞানের অধিকারী—তা সে স্বীকার করে না।

অতএব তাদের নিকট যদি [অস্তিত্বের] স্বীকারকারী ব্যক্তি তাঁর সত্তা ও অস্তিত্বের সাব্যস্তকারী হয়—কেবল তাঁর অবিদ্যমানতাকে অস্বীকারকারী না হয়—তবে অনুরূপভাবে 'তিনি জ্ঞানী' বলে স্বীকারকারী ব্যক্তিও তাঁর জন্য জ্ঞান সাব্যস্তকারী হিসেবে গণ্য হবে, কেবল তাঁর থেকে অজ্ঞতাকে দূরকারী নয়।

অনুরূপভাবে ক্ষমতা, কথা, ইচ্ছা এবং মহা-প্রতাপের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য,
(খণ্ড: ১) আত-তাবসীর ফী মাআলিমুদ দ্বীন লিত-তবারী (পৃষ্ঠা: ١٣٠)
والعظمة، والكبرياء، والجمال، وسائر صفاته التي هي صفات ذاته.

14- فإن قال لنا قائلٌ:

فهل من معاني المعرفة شيءٌ سوى ما ذكرت؟

قيل: لا.

فإن قال: فهل يكون عارفاً به من زعم أنه يفعل العبد ما لا يريده ربه ولا يشاء؟ قيل: لا.

وقد دللنا فيما وصفناه بالعزة التي لا تشبهها عزةٌ على ذلك.

وذلك أنه من لم يعلم أنه لا يكون في سلطان الله –عز ذكره- شيءٌ إلا بمشيئته، ولا يوجد موجودٌ إلا بإرادته، لم يعلمه عزيزاً.

وذلك أن من أراد شيئاً فلم يكن وكان مالم يرد، فإنما هو مقهورٌ ذليلٌ، ومن كان مقهوراً ذليلاً فغير جائزٍ أن يكون موصوفاً بالربوبية.
এবং মহানত্ব, গৌরব, সৌন্দর্য এবং তাঁর অন্যান্য সকল গুণাবলি যা তাঁর সত্তাগত গুণাবলি।

১৪- যদি কোনো প্রশ্নকারী আমাদের প্রশ্ন করেন:

আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতিরেকে মারেফাত বা পরিচয়ের কি অন্য কোনো অর্থ আছে?

বলা হবে: না।

যদি সে বলে: তবে যে ব্যক্তি দাবি করে যে বান্দা এমন কাজ করে যা তার রব ইচ্ছা করেন না এবং চান না, সে কি আল্লাহ সম্পর্কে পরিচিত (আরিফ) বলে গণ্য হবে? বলা হবে: না।

আর আমরা যে সম্মানের বর্ণনা দিয়েছি যার সদৃশ কোনো সম্মান নেই, তাতে আমরা এর প্রমাণ পেশ করেছি।

আর তা এই কারণে যে, যে ব্যক্তি এটি জানে না যে আল্লাহর রাজত্বে —যাঁর স্মরণ মহিমান্বিত— তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই ঘটে না এবং তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কোনো কিছুরই অস্তিত্ব লাভ হয় না, সে আল্লাহকে মহা-সম্মানিত হিসেবে জানে না।

কেননা যে ব্যক্তি কোনো কিছুর ইচ্ছা করল কিন্তু তা সম্পন্ন হলো না, বরং যা সে চাইল না তা-ই ঘটল, তবে সে তো মূলত পরাজিত ও লাঞ্ছিত। আর যে ব্যক্তি পরাজিত ও লাঞ্ছিত, তাকে প্রভুত্বের গুণে গুণান্বিত করা বৈধ নয়।