(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الاختلاف في اللفظ والرد على الجهمية لابن قتيبة القسم: كتب السنة
الكتاب: الاختلاف في اللفظ والرد على الجهمية والمشبهة
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري (ت 276 هـ)
المحقق: عمر بن محمود أبو عمر
الناشر: دار الراية
الطبعة: الأولى 1412 هـ - 1991 م
عدد الصفحات: 68
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফয ওয়ার রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ - ইবনে কুতায়বাহ বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আল-ইখতিলাফ ফিল লাফয ওয়ার রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুসাব্বিহাহ
লেখক: আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বাহ আদ-দিনাওয়ারী (মৃত্যু ২৭৬ হি.)
সম্পাদক: উমর ইবনে মাহমুদ আবু উমর
প্রকাশক: দারুর রায়াহ
সংস্করণ: প্রথম ১৪১২ হি. - ১৯৯১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগী আল-খায়ের আকবিল
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الاختلاف في اللفظ
والرد على الجهمية والمشبهة
للإمام أبي محمد
عبد الله بن مسلم بن قتيبة الكاتب الدينوري
213 - 276 هـ
قدم له وعلق عليه وخرج أحاديثه
عمر بن محمود أبو عمر
دار الراية
الطبعة الأولى
1412 هـ - 1991 م
শব্দের উচ্চারণগত মতভেদ
এবং জাহমিয়্যা ও মুশাব্বিহাদের খণ্ডন
ইমাম আবু মুহাম্মদ
আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বা আল-কাতিব আদ-দিনাওয়ারী-এর রচিত
২১৩ - ২৭৬ হিজরি
ভূমিকা, টীকা ও হাদিস বিশ্লেষণ করেছেন
উমর বিন মাহমুদ আবু উমর
দারুর রায়াহ
প্রথম সংস্করণ
১৪১২ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
(مقدمة المؤلف)الحمد لله مرتضي الحمد لنفسه، وجاعله فاتحة وحيه، ومنتهى شكره، وكفاء نعمته، ودعوى أهل جنته عند إفضائهم إلى كرامته، البر بخلقه، العواد على المذنبين بعفوه، الذي لا يخيب راجيه، ولا يرد داعيه، ولا ينسى ذاكريه، ولا يقطع حبل عصمته ممن تمسك بعروته، أحمده بجميع محامده على جميع نعمه، وندعوه أن يشعرنا خشيته، ويشرب قلوبنا مراقبته عند كل لفظ وعقد وكل قبض وبسط، وأن يجعل كلامنا له ودلالتنا عليه وإرشادنا إليه، ويؤم بنا سمت الحق وقصد السبيل، وأن يبلغ نبينا المصطفى صلى الله عليه وسلم منا أفضل صلاة وأنماها وأزكاها وأقضاها لما فرض من حقه وأوجب من ذكره، صلى الله وملائكته المقربون عليه وعلى آله الطيبين وعلى جميع النبيين والمرسلين، ونعوذ بالله من نزغ الشيطان ومصائده ولطيف خدعه ومكائده، فقد صدق على هذه الأمة ظنه، وأجلب عليهم بخيله ورجله، وقعد لهم رصداً بكل مرصد، ونصب لهم شركاً بكل ريع، وطفق لغوايتهم بكل شبهة، فأصبح الناس إلا قليلاً ممن عصم الله مفتونين، وفيما يوبقهم خائفين، وعن سبيل نجاتهم ناكبين، ولما وضعه الله عنهم متكلفين، وعما كلفهم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(লেখকের ভূমিকা)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিজের জন্য প্রশংসা পছন্দ করেছেন এবং একে তাঁর ওহীর সূচনা, তাঁর কৃতজ্ঞতার শেষ সীমা, তাঁর নিআমতের পর্যাপ্ত বিনিময় এবং জান্নাতবাসীরা যখন তাঁর অনুগ্রহ লাভ করবে তখন তাদের ধ্বনি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির প্রতি সদয়, স্বীয় ক্ষমার মাধ্যমে গুনাহগারদের প্রতি বারবার অনুগ্রহকারী; যিনি তাঁর কাছে আশাকারীকে নিরাশ করেন না, তাঁর কাছে প্রার্থনাকারীকে ফিরিয়ে দেন না, তাঁর যিকিরকারীকে ভুলে যান না এবং যারা তাঁর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ করে তাদের থেকে তাঁর সুরক্ষার বন্ধন ছিন্ন করেন না। আমি তাঁর সকল নিআমতের জন্য তাঁর সকল প্রশংসার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করছি। আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের অন্তরে তাঁর ভয় জাগ্রত করে দেন এবং প্রতিটি শব্দ, সংকল্প এবং প্রতিটি সঙ্কোচন ও প্রসারণের সময় আমাদের অন্তরে তাঁর পর্যবেক্ষণ সঞ্চারিত করে দেন। তিনি যেন আমাদের কথাকে তাঁরই জন্য এবং আমাদের দিকনির্দেশনা ও পথপ্রদর্শন তাঁরই অভিমুখে করে দেন। তিনি যেন আমাদের সত্যের পথে ও সঠিক লক্ষ্যে পরিচালিত করেন। তিনি যেন আমাদের মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম, ক্রমবর্ধমান, পবিত্রতম এবং তাঁর প্রাপ্য অধিকার ও আবশ্যক স্মরণের সবচেয়ে যথাযথ সালাত পৌঁছে দেন। আল্লাহ এবং তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাগণ তাঁর ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর এবং সকল নবী ও রাসুলগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমরা শয়তানের প্ররোচনা, তার ফাঁদসমূহ এবং তার সূক্ষ্ম প্রতারণা ও ষড়যন্ত্র থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এই উম্মতের ব্যাপারে তার ধারণা সত্য প্রমাণিত হয়েছে; সে তার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, প্রতিটি ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওঁৎ পেতে বসেছে, প্রতিটি উঁচু স্থানে তাদের জন্য জাল পেতেছে এবং তাদের বিভ্রান্ত করার জন্য প্রতিটি সংশয় নিয়ে মেতে উঠেছে। ফলে আল্লাহর সংরক্ষিত অল্প কিছু লোক ছাড়া মানুষ ফিতনায় নিপতিত হয়েছে; যা তাদের ধ্বংস করে এমন বিষয়ে তারা শঙ্কিত, নিজেদের নাজাতের পথ থেকে বিচ্যুত, আর আল্লাহ যা তাদের ওপর থেকে লাঘব করেছেন তা নিয়ে তারা অনর্থক ভার গ্রহণ করছে, এবং যা তিনি তাদের ওপর অর্পণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
معرضين، إن دعوا أنفوا، وإن وعظوا هزأوا، وإن سئلوا تعسفوا، وإن سألوا أعنتوا، قد فرقوا الدين وصاروا شيعاً فهم يتنابزون بالألقاب ويتسابون بالكفر ويتعاضدون بالنحل ويتناصرون على الهوى وعاد الإسلام غريباً كما بدأ، فماذا يعجب من سلة السيف وشمول الخوف ونقص الأموال والأنفس وهل يتوقع بعد تزيدنا في الغواية إلا التزيد في البلاء حتى يحكم الله بما شاء بيننا وهو خير الحاكمين.
وكان طالب العلم فيما مضى يسمع ليعلم ويعلم ليعمل ويتفقه في دين الله لينتفع وينفع فقد صار طالب العلم الآن يسمع ليجمع ويجمع ليذكر ويحفظ ليغالب ويفخر، وكان المتناظرون في الفقه يتناظرون في الجليل من الواقع والمستعمل من الواضح وفيما ينوب الناس فينفع الله به القائل والسامع، فقد صار أكثر التناظر فيما دق وخفي وفيما لا يقع وفيما قد
বিমুখ অবস্থায়; যদি তাদের আহ্বান করা হয় তবে তারা অহংকার করে, আর যদি তাদের উপদেশ দেওয়া হয় তবে তারা উপহাস করে। যদি তাদের কাছে কিছু জানতে চাওয়া হয় তবে তারা যথেচ্ছাচার করে, আর যদি তারা নিজেরা প্রশ্ন করে তবে তারা নাজেহাল করার উদ্দেশ্যে করে। তারা দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে তারা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডাকে, কুফরির অপবাদ দিয়ে গালিগালাজ করে, বিভিন্ন মতবাদের ভিত্তিতে একে অপরকে সাহায্য করে এবং প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করে। ইসলাম তেমনিভাবে আগন্তুক হয়ে পড়েছে যেমনভাবে তা শুরু হয়েছিল। সুতরাং তলোয়ার কোষমুক্ত হওয়া, ভয়ভীতি ব্যাপক হওয়া এবং ধন-সম্পদ ও জীবনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়াতে আশ্চর্যের কী আছে? আমাদের পথভ্রষ্টতা বৃদ্ধির পর বিপদ-আপদ বৃদ্ধি ছাড়া আর কী-ই বা প্রত্যাশা করা যায়? যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে যা ইচ্ছা ফয়সালা করেন, আর তিনি শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।
অতীতে ইলম অন্বেষণকারী শ্রবণ করতেন জানার জন্য, আর জানতেন আমল করার জন্য; এবং আল্লাহর দ্বীনের সম্যক জ্ঞান অর্জন করতেন যাতে নিজে উপকৃত হতে পারেন এবং অন্যকে উপকৃত করতে পারেন। কিন্তু বর্তমানের ইলম অন্বেষণকারী শ্রবণ করে কেবল তথ্য জমা করার জন্য, আর জমা করে যাতে তার সুখ্যাতি হয়; সে মুখস্থ করে বিতর্কে জয়ী হতে এবং গর্ব প্রকাশ করতে। ফিকহ শাস্ত্রের তার্কিকগণ বাস্তবসম্মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সুস্পষ্ট ব্যবহারিক মাসআলা নিয়ে বিতর্ক করতেন, যা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে ঘটে থাকে; ফলে আল্লাহ তার মাধ্যমে বক্তা এবং শ্রোতা উভয়কেই উপকৃত করতেন। কিন্তু বর্তমানের অধিকাংশ বিতর্কই হয়ে দাঁড়িয়েছে অতি সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট বিষয় নিয়ে, এবং যা সচরাচর ঘটে না এমন বিষয় নিয়ে, আর যা কেবল...
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
انقرض من حكم الكتابة وحكم اللعان ورجم المحصن، وصار الغرض فيه إخراج لطيفه، وغوصاً على غريبه، ورداً على متقدم، فهذا يرد على أبي حنيفة وهذا يرد على مالك، وآخر يرد على الشافعي بزخرف من القول، ولطيف من الحيل، كأنه لا يعلم أنه إذا رد على الأول صواباً عند الله بتمويهه فقد تقلد المآثم عن العاملين به دهر الداهرين.
وهذا يطعن بالرأي على ماض من السلف وهو يرى، وبالابتداع في دين الله على آخر وهو يبتدع.
وكان المتناظرون فيما مضى يتناظرون في معادلة الصبر بالشكر وفي تفضيل أحدهما على الآخر وفي الوساوس والخطرات ومجاهدة النفس وقمع الهوى فقد صار المتناظرون يتناظرون في الاستطاعة والتولد والطفرة والجزء والعرض والجوهر فهم دائبون يخبطون في العشوات قد تشعبت بهم الطرق وقادهم الهوى بزمام الردى.
দাসমুক্তির চুক্তির বিধান, লিআনের বিধান এবং বিবাহিত ব্যভিচারীকে রজম করার বিধানের জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন এর উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে কেবল সূক্ষ্ম বিষয়াবলী বের করা, দুর্লভ বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করা এবং পূর্ববর্তীদের খণ্ডন করা। ফলে কেউ ইমাম আবু হানিফাকে খণ্ডন করছে, কেউ ইমাম মালিককে খণ্ডন করছে, আবার অন্য কেউ বাকচাতুর্য ও সূক্ষ্ম কৌশলের আশ্রয়ে ইমাম শাফেয়ীকে খণ্ডন করছে। সে যেন জানেই না যে, সে যদি তার প্রতারণামূলক তর্কের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট যা সঠিক ছিল তাকে খণ্ডন করে, তবে অনন্তকাল ধরে যারা সেই সঠিক বিষয়ের ওপর আমল করবে তাদের পাপের দায়ভার সে নিজের ঘাড়ে তুলে নিল।
আর এই ব্যক্তি নিজের মতামতের ভিত্তিতে অতীত সালাফদের সমালোচনা করে অথচ সে নিজেই পথভ্রষ্ট দৃষ্টির অধিকারী, এবং আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে অন্যকে বিদআতি আখ্যা দেয় অথচ সে নিজেই বিদআতে লিপ্ত।
অতীতের বিতর্ককারীরা ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার সমতা রক্ষা, এদের একটির ওপর অপরটির শ্রেষ্ঠত্ব, মনের কুমন্ত্রণা ও খটকা, নফসের সাথে মুজাহাদা এবং প্রবৃত্তিকে দমন করার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক করতেন। কিন্তু বর্তমানের বিতর্ককারীরা সক্ষমতা, কার্যকারণজাত প্রভাব, আকস্মিক উল্লম্ফন, অবিভাজ্য অংশ, আকস্মিক গুণ এবং মৌলিক সত্তা নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়। ফলে তারা বিরামহীনভাবে বিভ্রান্তির অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছে; তাদের পথগুলো বহুধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং প্রবৃত্তি ধ্বংসের লাগাম ধরে তাদের পরিচালিত করছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
[سبب تأليف الرسالة]وكان آخر ما وقع من الاختلاف أمراً خص بأصحاب الحديث الذين لم يزالوا بالسنة ظاهرين، وبالاتباع قاهرين يداجون بكل بلد ولا يداجون ويستتر منهم بالنحل ولا يستترون، ويصدعون بحقهم الناس ولا يستغشون، ولا يرتفع بالعلم إلا من رفعوا، ولا يتضع فيه إلا من وضعوا، ولا تسير الركبان إلا بذكر من ذكروا، إلى أن كادهم الشيطان بمسألة لم يجعلها الله تعالى أصلاً في الدين، ولا فرعاً، في جهلها سعة وفي العلم بها فضيلة، فنمى شرها، وعظم شأنها حتى فرقت جماعتهم وشتتت كلمتهم ووهنت أمرهم وأشمتت حاسديهم وكفت عدوهم مؤنتهم بألسنتهم وعلى أيديهم فهو دائب يضحك منهم ويستهزئ بهم حين رأى بعضهم يكفر بعضاً وبعضهم يلعن بعضاً ورآهم مختلفين وهم كالمتفقين ومتباينين وهم كالمجتمعين ورأى نفسه قد صار لهم سلماً بعد أن كان لهم حرباً.
ولما رأيت إعراض أهل النظر عن الكلام في هذا الشأن منذ وقع، وتركهم تلقيه بالدواء حين بدا، وبكشف القناع عنه حين نجم، إلى أن استحكم أساسه، وبسق رأسه، وجرى على اعتياد الخطأ فيه الكهل، ونشأ عليه الطفل وعسر على المداوين أن يخرجوا من القلوب ما قد استحكم بالألف ونبت على شراه اللحم، لم أر لنفسي عذراً في ترك ما أوجبه الله علي بما وهب من فضل المعرفة في أمر استفحل بأن قصر مقصر فتكلفت بمبلغ علمي ومقدار طاقتي ما رجوت أن يقضي بعض الحق عني لعل الله ينفع به فإنه بما شاء نفع، وليس على من أراد الله بقوله أن يسأله الناس بل عليه التبصير وعلى الله التيسير.
وسيوافق قولي هذا من الناس ثلاثة:
[রিসালাহ রচনার কারণ]আর মতভেদের ক্ষেত্রে যা সবশেষে ঘটেছে তা ছিল এমন এক বিষয় যা বিশেষভাবে আসহাবে হাদীসের সাথে সংশ্লিষ্ট। তারা সর্বদা সুন্নাহর ওপর বিজয়ী ছিলেন এবং সুন্নাহর অনুসরণের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারকারী ছিলেন। প্রতিটি জনপদে তাদের সমীহ করা হতো কিন্তু তারা হকের প্রশ্নে কারো সাথে আপস করতেন না। ভ্রান্ত মতাবলম্বীরা তাদের ভয়ে আত্মগোপন করত কিন্তু তারা আত্মগোপন করতেন না। তারা মানুষের মাঝে সত্যের বাণী উচ্চকিত করতেন এবং কোনো আবরণ গ্রহণ করতেন না। ইলমের ময়দানে কেবল তারাই মর্যাদা লাভ করতেন যাদের আসহাবে হাদীস মর্যাদা দিতেন এবং কেবল তারাই হীন গণ্য হতেন যাদের তারা হীন সাব্যস্ত করতেন। কাফেলাগুলো কেবল তাদেরই চর্চার মাধ্যমে পথ চলত যাদের কথা তারা উল্লেখ করতেন। শেষ পর্যন্ত শয়তান তাদের এমন এক বিষয়ের মাধ্যমে চক্রান্তে ফেলল যা আল্লাহ তাআলা দ্বীনের মূলনীতি কিংবা কোনো শাখা বিষয় হিসেবেও নির্ধারণ করেননি; যা না জানার মধ্যে অবকাশ রয়েছে এবং জানার মধ্যে রয়েছে ফযীলত। ফলে এর মন্দ বৃদ্ধি পেল এবং এর বিষয়টি গুরুতর হয়ে উঠল, এমনকি তা তাদের জামাআতকে বিভক্ত করল, তাদের ঐক্য বিনষ্ট করল, তাদের শক্তিকে দুর্বল করল এবং তাদের প্রতি হিংসুকদের আনন্দিত হওয়ার সুযোগ করে দিল। তাদের নিজেদের জিহ্বা ও হাতের মাধ্যমেই শত্রুর কাজ লাঘব হয়ে গেল। শয়তান ক্রমাগত তাদের দেখে হাসছে এবং উপহাস করছে যখন সে দেখল তাদের একে অপরকে কাফির বলছে এবং একে অপরকে অভিশাপ দিচ্ছে। সে তাদের দেখল যে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অথচ তারা একমত হওয়ারই যোগ্য ছিল এবং তারা পরস্পর থেকে দূরে সরে গেছে অথচ তারা একত্রিত থাকার কথা ছিল। শয়তান নিজেকে তাদের জন্য শান্তিদায়ক অবস্থায় দেখল অথচ ইতিপূর্বে সে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিল।
আর যখন আমি লক্ষ্য করলাম যে চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ এ বিষয়টি শুরু হওয়ার পর থেকে এ বিষয়ে কথা বলা থেকে বিমুখতা প্রদর্শন করছেন এবং এর আবির্ভাবের সময় প্রতিষেধক দ্বারা একে মোকাবিলা করা বর্জন করেছেন এবং এর প্রকাশের সময় এর রহস্য উন্মোচন করা ছেড়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না এর ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে এবং এর উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ ভ্রান্তির ওপর বয়স্করা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং শিশুরা বেড়ে উঠেছে। ফলে চিকিৎসকদের জন্য অন্তর থেকে তা বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে যা দীর্ঘদিনের অভ্যাসে বদ্ধমূল হয়েছে এবং যার মন্দ স্বভাবের ওপর মাংস বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায় আল্লাহ আমাকে ইলমের যে বিশেষ জ্ঞান দান করেছেন, তার আলোকে এই ভয়াবহ রূপ নেওয়া বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারীর অবহেলার বিপরীতে আমি নিজের জন্য কোনো অজুহাত খুঁজে পেলাম না। ফলে আমি আমার ইলমের দৌড় ও সাধ্য অনুযায়ী সে বিষয়ে সচেষ্ট হয়েছি যা দ্বারা আমি আশা করি যে আমার ওপর অর্পিত হকের কিছু অংশ আদায় হবে। হতে পারে আল্লাহ এর মাধ্যমে উপকার দান করবেন, কেননা তিনি যা ইচ্ছা করেন তার মাধ্যমেই উপকার দান করেন। যে ব্যক্তি তার কথার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, তার জন্য উচিত নয় মানুষের কাছে চাওয়া; বরং তার দায়িত্ব হলো পথ দেখানো এবং সহজ করে দেওয়ার দায়িত্ব কেবল আল্লাহর।
আর মানুষের মধ্য থেকে তিন শ্রেণীর ব্যক্তি আমার এই বক্তব্যের সাথে একমত হবেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
رجلاً منقاداً سمع قوماً يقولون فقال كما قالوا فهو لا يرعوي ولا يرجع لأنه لم يعتقد الأمر بنظر فيرجع عنه بنظر.
ورجلاً تطمح به عزة الرياسة وطاعة الإخوان وحب الشهرة فليس يرد عزته ولا يثني عنانه إلا الذي خلقه إن شاء، لأن في رجوعه إقراره بالغلط واعترافه بالجهل وتأبى عليه الأنفة وفي ذلك أيضاً تشتت جمع وانقطاع نظام واختلاف إخوان عقدتهم له النحلة، والنفوس لا تطيب بذلك إلا من عصمه الله ونجاه.
ورجلاً مسترشداً يريد الله بعمله لا تأخذه فيه لومة لائم ولا تدخله من مفارق وحشة ولا تلفته عن الحق أنفة فإلى هذا بالقول قصدنا وإياه أردنا.
ولم أر صواباً أن يكون الكتاب محرراً بذكر هذا الباب خاصة دون غيره فقدمت القول فيه بذكر بعض ما تأولته الجهمية في الكتاب والحديث وإن قل لنحمد الله تعالى على النعمة ونعلم أن الحق مستغن عن الحيلة، ولم أعد في أكثر الرد عليهم طريق اللغة.
(الرد على نفاة القدر)فأما الكلام فليس من شأننا ولا أكثر من هلك إلا به وبحمل الدين
এমন এক অনুগত ব্যক্তি, যে একদল লোককে কিছু বলতে শুনেছে এবং তাদের মতই বলেছে; সে (তা থেকে) নিবৃত্ত হয় না এবং ফিরেও আসে না। কারণ সে বিষয়টি বিচার-বিশ্লেষণ বা অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্রহণ করেনি যে, পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা থেকে ফিরে আসবে।
আর এমন এক ব্যক্তি, যাকে নেতৃত্বের দম্ভ, অনুসারীদের আনুগত্য এবং খ্যাতির মোহ প্রলুব্ধ করে। আল্লাহ যদি চান, তবে যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন তিনি ব্যতীত আর কেউ তার সেই দম্ভকে প্রতিহত করতে বা তার লাগাম টেনে ধরতে পারে না। কেননা তার (ভুল থেকে) ফিরে আসার অর্থ হলো নিজের ভুল স্বীকার করা এবং নিজের অজ্ঞতা মেনে নেওয়া, যা তার অহমিকা হতে দেয় না। তদুপরি, এতে ঐক্যবদ্ধ দলের বিচ্ছিন্নতা, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার বিচ্যুতি এবং সেই অনুসারী ভাইদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির ভয় থাকে, যাদেরকে একটি বিশেষ মতাদর্শ তার সাথে আবদ্ধ করেছে। যাদেরকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন এবং মুক্তি দিয়েছেন তারা ব্যতীত অন্য কারও প্রবৃত্তি এতে সম্মত হয় না।
আর এমন এক পথপ্রত্যাশী ব্যক্তি, যে তার কর্মের মাধ্যমে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে। এক্ষেত্রে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কার তাকে দমাতে পারে না, বিচ্ছিন্নতা তাকে একাকীত্বের আশঙ্কায় ফেলে না এবং কোনো অহমিকা তাকে সত্য থেকে বিচ্যুত করে না। মূলত আমাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে এই ব্যক্তিকেই লক্ষ্য করা হয়েছে এবং তাকেই আমরা উদ্দেশ্য করেছি।
আমি অন্যান্য বিষয় বাদ দিয়ে কেবল এই বিশেষ অধ্যায়টি দ্বারা গ্রন্থটি সংকলন করা সঠিক মনে করিনি। তাই আমি কিতাব ও হাদিসের সেইসব বিষয়ের মধ্য থেকে সামান্য কিছু আলোচনার মাধ্যমে বক্তব্য শুরু করেছি যেগুলোর ক্ষেত্রে জাহমিয়াহরা অপব্যাখ্যা করেছে—যদিও তা পরিমাণে অল্প—যাতে আমরা এই নিয়ামতের জন্য মহান আল্লাহর প্রশংসা করতে পারি এবং জানতে পারি যে সত্য কোনো কূটকৌশলের মুখাপেক্ষী নয়। তাদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ সময় ভাষাতাত্ত্বিক পদ্ধতির বাইরে যাইনি।
(তকদির অস্বীকারকারীদের খণ্ডন)আর ইলমুল কালামের কথা যদি বলি, তবে তা আমাদের কাজ নয়; যারা ধ্বংস হয়েছে তাদের অধিকাংশ কেবল এই কালাম শাস্ত্রের কারণে এবং দ্বীনকে (ভুলভাবে) ধারণ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
على ما يوجبه القياس.
ألا ترى أن أهل القدر حين نظروا في قدر الله الذي هو سره بآرائهم وحملوه على مقاييسهم أرتهم أنفسهم قياساً على ما جعل في تركيب المخلوق من معرفة العدل من الخلق على الخلق أن يجعلوا ذلك حكماً بين الله وبين العبد فقالوا بالتخلية والإهمال وجعلوا العباد فاعلين لما لا يشاء وقادرين على ما لا يريد، كأنهم لم يسمعوا بإجماع الناس على ما شاء الله كان وما لم يشأ لم يكن وقالوا كيف يضل ويعذب ويريد ويكره ويحول ويكلف؟ وهل قصر فاعل هذا عن أفحش الظلم؟
ونسوا ما يلزمهم في اختلاف الحكمين وأن من ملك البعض ليس
যা কিয়াসের দাবি অনুযায়ী।
আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, কদরপন্থী (ক্বাদারিয়া) সম্প্রদায় যখন তাদের নিজস্ব অভিমতের ভিত্তিতে আল্লাহর তাকদির—যা তাঁর গোপন রহস্য—তার প্রতি দৃষ্টিপাত করল এবং সেটিকে তাদের উদ্ভাবিত মানদণ্ডসমূহের ওপর প্রয়োগ করল, তখন তাদের কুপ্রবৃত্তি তাদের এমন এক কিয়াসের পথ দেখাল যা সৃষ্টির প্রকৃতিতে বিদ্যমান পারস্পরিক ন্যায়বিচারবোধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তারা সেটাকেই আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যে বিচারক সাব্যস্ত করল। ফলে তারা বান্দাকে দায়মুক্ত ও স্বাধীন ছেড়ে দেওয়ার কথা বলল এবং বান্দাদের এমন সব কাজের কর্তা বানিয়ে দিল যা আল্লাহ চান না এবং এমন সব বিষয়ে সক্ষম সাব্যস্ত করল যা তিনি ইচ্ছা করেন না। যেন তারা মানুষের সেই সর্বসম্মত বিশ্বাসের কথা শোনেনি যে, 'আল্লাহ যা চান তা-ই হয় এবং যা তিনি চান না তা হয় না'। তারা বলল, 'তিনি কীভাবে পথভ্রষ্ট করেন ও আজাব দেন, আর কীভাবে তিনি ইচ্ছা করেন ও ঘৃণা করেন এবং (অন্তরকে) পরিবর্তন করেন ও কষ্টসাধ্য দায়িত্বারোপ করেন? যে এরূপ করে সে কি জঘন্যতম জুলুম থেকে পিছিয়ে থাকল?'
এবং তারা ভুলে গেল যে দুই প্রকার বিধানের পার্থক্যের ক্ষেত্রে তাদের ওপর কী আবশ্যিক হয় এবং যার মালিকানা আংশিক সে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كمن ملك الكل، وأن الخلق كله لله يميت ويحيى ويفقر ويغني ويصح ويسقم ويبتدئ بالنعم من يشاء ويصطفي للرسالة من شاء ويؤيده بالتوفيق ويملأ قلبه بالنور ويعصمه من الذنوب ويجعل من بين يديه ومن خلفه رصداً من الملائكة وأنه لو لم يرد المعصية لما هيأهم هيئة المعصية ولما ركب فيهم آلة الشهوة كما طبع الملائكة ولا سلط عليهم عدوهم ثم أمرهم بالاحتراس.
যেমন তিনি সবকিছুর মালিক, আর সমস্ত সৃষ্টিই আল্লাহর; তিনি মৃত্যু দান করেন ও জীবন দান করেন, অভাবী করেন ও অভাবমুক্ত করেন, সুস্থ করেন ও অসুস্থ করেন, যাকে ইচ্ছা নেয়ামত দানে ধন্য করেন, যাকে ইচ্ছা রিসালাতের জন্য মনোনীত করেন, তাকে তাওফিকের মাধ্যমে সাহায্য করেন, তার অন্তরকে নূর দিয়ে পূর্ণ করেন, তাকে গুনাহ থেকে রক্ষা করেন এবং তার সামনে ও পেছনে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে প্রহরী নিযুক্ত করেন। আর নিশ্চয়ই তিনি যদি অবাধ্যতা না চাইতেন, তবে তাদেরকে অবাধ্যতার অবস্থায় তৈরি করতেন না এবং তাদের মধ্যে কামনার উপকরণ স্থাপন করতেন না—যেভাবে তিনি ফেরেশতাদের প্রকৃতি দান করেছেন—আর না তাদের উপর তাদের শত্রুকে আধিপত্য দিতেন; অতঃপর তিনি তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأنى للضعيف الاحتراس ممن حرست منه السموات بالنجوم ومنع من الاستماع بالرجوع وجعل له السبيل إلى القلوب من حيث لا يرى فهو يجري مجرى الدم ويوسوس ويخنس ولا يعصمه الله ولا خلق آدم للأرض وأسكنه الجنة وحرم عليه الشجرة وقد علم أنه سيغر فيغتر ويستزل فيزل حتى يخرجه منها إلى حيث جعل له فيه مستقراً ومتاعاً إلى حين.
ولما اطرد لهم القول على ما أصلوا ورأوه حسن الظاهر قريباً من النفوس يروق السامعين ويستميل قلوب الغافلين نظروا في كتاب الله فوجدوه ينقض ما قاسوا ويبطل ما أسسوا فطلبوا له التأويلات المستكرهة والمخارج البعيدة وجعلوه عويصاً وألغازاً وإن كانوا لم يقدروا من تلك الحيل على ما يصح في النظر ولا في اللغة كقولهم في: {يضل من يشاء} ينسبهم إلى الضلال {ويهدي من يشاء} ينسبهم إلى الهداية وما في نسبتهم إلى ذلك؟ حتى يعيد ويبدي، ولو أراد النسبة لقال يضللهم،
দুর্বল মানুষের পক্ষে এমন সত্তা থেকে সতর্ক থাকা কীভাবে সম্ভব, যার থেকে আকাশমন্ডলীকে নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে রক্ষা করা হয়েছে এবং যাকে আড়ি পেতে শোনা থেকে বিতাড়ন করে বিরত রাখা হয়েছে? তার জন্য মানুষের অন্তরে প্রবেশের এমন পথ করে দেওয়া হয়েছে যেখান থেকে সে দৃষ্টিগোচর হয় না। সে রক্ত চলাচলের পথে বিচরণ করে, কুমন্ত্রণা দেয় এবং আত্মগোপন করে। আল্লাহ তাকে রক্ষা করেননি, আর আদমকে তিনি পৃথিবীর জন্যই সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাকে জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছিলেন ও তার জন্য বৃক্ষটি নিষিদ্ধ করেছিলেন। অথচ তিনি জানতেন যে, ইবলিস তাকে প্রলুব্ধ করবে এবং সে প্রলুব্ধ হবে, সে তাকে পদস্খলিত করার চেষ্টা করবে এবং তার পদস্খলন ঘটবে, যতক্ষণ না তিনি তাকে জান্নাত থেকে এমন এক স্থানে বের করে আনেন যেখানে তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবাস ও জীবনোপকরণ নির্ধারিত রয়েছে।
যখন তাদের বক্তব্য তাদের উদ্ভাবিত মূলনীতির ওপর সুসংহত হলো এবং তারা একে বাহ্যত সুন্দর ও মানুষের মনের নিকটবর্তী হিসেবে দেখল, যা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে এবং অসতর্ক ব্যক্তিদের অন্তর জয় করে, তখন তারা আল্লাহর কিতাবের প্রতি দৃষ্টিপাত করল। তারা দেখতে পেল যে, কিতাব তাদের অনুমানকে খণ্ডন করছে এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত ভিত্তিগুলোকে বাতিল করে দিচ্ছে। ফলে তারা এর জন্য কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যা ও দূরবর্তী অর্থের সন্ধান করতে লাগল এবং একে জটিল ও ধাঁধাঁপূর্ণ বিষয়ে পরিণত করল। যদিও তারা সেই সকল কলাকৌশলের মাধ্যমে এমন কিছু পেশ করতে সক্ষম হয়নি যা যুক্তি বা ভাষার বিচারে সঠিক হয়। যেমন তাদের উক্তি: {তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন} অর্থাৎ তিনি তাদের পথভ্রষ্টতার দিকে সম্বন্ধ করেন, এবং {তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন} অর্থাৎ তিনি তাদের হিদায়াতের দিকে সম্বন্ধ করেন। অথচ কেবল সম্বন্ধ করার মাঝে এমন কী তাৎপর্য আছে যার জন্য বারবার এই বিষয়ের অবতারণা করতে হবে? যদি তিনি কেবল সম্বন্ধ করারই ইচ্ছা করতেন, তবে তিনি বলতেন "তিনি তাদের পথভ্রষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেন"।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كما يقال يخونهم ويفسقهم ويظلمهم أي ينسبهم إلى ذلك.
وقالوا في قوله عز وجل: {وما كان لنفس أن تؤمن إلا بإذن الله} أي ما كان لها أن تؤمن إلا بعلم الله وعلموا ما يلزمهم أن جعلوا الإذن ههنا: المشيئة والإطلاق، وذهبوا إلى قول القائل: (آذنتك بالأمر) أي أعلمتك.
وهذا من تأويلهم لا يصح في نظر ولا في لغة:
أما النظر: فإنه لم يقل أحد من الناس أن شيئاً يحدث في الأرض لا يعلمه الله فيقول وما كان لنفس أن تؤمن إلا بعلم الله وإنما اختلفوا في الإذن الذي هو المشيئة والإطلاق فقال المثبتون لم يشأ الله أن يؤمن جميع الناس ولو شاء لآمنوا فليس لنفس أن تؤمن حتى يشاء الله ذلك ويطلقه.
وقال أهل القدر: قد شاء الله هذا لكل نفس وأطلقه فلها أن تؤمن إن شاءت وفي صدر هذا الكلام دليل على ما قال أهل الإثبات لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يحب إيمان قريش فأنزل الله عليه: {ولو شاء ربك لآمن من في الأرض كلهم جميعاً أفأنت تكره الناس حتى يكونوا مؤمنين} ثم قال على إثر ذلك: {وما كان لنفس أن تؤمن إلا بإذن الله} يريد بمشيئته وإطلاقه.
فأول الكلام دليل على آخره والناس مجمعون لا يختلفون على أن القائل إذا قال لو شئت لأتيتك أنه لم يشأ إتيانه ولو شئت لحججت أنه لم يشأ
যেমন বলা হয়, তিনি তাদের খেয়ানতকারী, পাপাচারী বা জালেম বলেন, অর্থাৎ তিনি তাদের এসবের প্রতি সম্বন্ধ করেন।
আর তারা মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেছেন: "আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো সত্তার পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়" অর্থাৎ আল্লাহর জ্ঞান ব্যতীত তার পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়। আর তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তারা যদি এখানে 'অনুমতি' অর্থ 'ইচ্ছা' ও 'অবারিতকরণ' গ্রহণ করেন তবে তাদের জন্য কী (পরিণতি) অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে, তাই তারা এক বক্তার এই উক্তির দিকে ধাবিত হয়েছেন: (আমি তোমাকে বিষয়টি সম্পর্কে অনুমতি দিয়েছি) অর্থাৎ আমি তোমাকে জানিয়েছি।
তাদের এই ব্যাখ্যা যুক্তি বা ভাষা—কোনো বিচারেই সঠিক নয়:
যুক্তির বিচারে: মানুষের মধ্যে কেউই এমন কথা বলেনি যে, পৃথিবীতে এমন কিছু ঘটে যা আল্লাহ জানেন না, যার ফলে তিনি বলবেন "আল্লাহর জ্ঞান ব্যতীত কোনো সত্তার পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়।" বরং তারা সেই 'অনুমতি' নিয়ে মতবিরোধ করেছেন যা দ্বারা 'ইচ্ছা' ও 'অবারিতকরণ' বোঝানো হয়। ফলে ইতিবাচকগণ বলেছেন, আল্লাহ সকল মানুষের ঈমান আনার ইচ্ছা করেননি; তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তবে অবশ্যই তারা সকলে ঈমান আনত। সুতরাং আল্লাহ যতক্ষণ না সেই ইচ্ছা করেন এবং তা অবারিত করেন, ততক্ষণ কোনো সত্তার পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়।
আর কদরপন্থীগণ বলেছেন: আল্লাহ প্রতিটি সত্তার জন্যই এটি ইচ্ছা করেছেন এবং অবারিত করেছেন, সুতরাং সে চাইলে ঈমান আনতে পারে। অথচ এই বক্তব্যের প্রারম্ভেই ইতিবাচকগণের সপক্ষে দলিল বিদ্যমান। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের ঈমান আনা পছন্দ করতেন, তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি নাযিল করেন: "আর তোমার রব যদি ইচ্ছা করতেন তবে জমিনে যারা আছে তারা সবাই একত্রে ঈমান আনত। তবে কি তুমি মানুষকে বাধ্য করবে যাতে তারা মুমিন হয়ে যায়?" এরপর এর অনতিবিলম্বেই তিনি বলেছেন: "আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো সত্তার পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়", এখানে তিনি তাঁর ইচ্ছা ও অবারিতকরণকেই বুঝিয়েছেন।
সুতরাং বক্তব্যের প্রথমাংশ এর শেষাংশের ওপর দলিল। আর মানুষ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে এবং কেউ এতে দ্বিমত করে না যে—যখন কোনো বক্তা বলে "আমি যদি ইচ্ছা করতাম তবে তোমার কাছে আসতাম", এর অর্থ হলো সে আসার ইচ্ছা করেনি; এবং "যদি আমি ইচ্ছা করতাম তবে হজ করতাম", এর অর্থ হলো সে ইচ্ছা করেনি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الحج ولو شئت لتزوجت أنه لم يشأ الزواج فكذلك يلزم في: {لو شاء ربك لأمن من في الأرض} أنه لم يشأ ذلك ومثله: {أن لو يشاء الله لهدى الناس جميعاً} و: {ولو شئنا لآتينا كل نفس هداها} فإن قال أراد لو شاء لآمنوا إجباراً ولكنه لم يشأ أن يجبرهم على ذلك قيل له لم يشأه على حال فاجعله بأي وجه شئت.
وقيل: والله يفعل بعباده ما هو أصلح لهم في كل حال عندهم فأي الأمرين كان أصلح لهم؟ أن يجبرهم على الإيمان فيؤمنوا أو يخليهم وشأنهم فيكفروا؟ فهذا النظر.
وأما اللغة: فإنه لا يجوز فيها أن يجعل الأذن العلم لأنه الأذن، ألا ترى أن قائلاً لو قال لك قد آذنتك بخروج الأمير إيذاناً أي أعلمتك خروجه إعلاماً أن جوابك كان يكون له قد آذنت لقولك أذناً: أي سمعته فعلمته، والإيذان المأخوذ من الأذن إنما هو إيقاع الخبر في الأذن. والأذن استماعه وعلمه.
قال عدي بن زيد:
أيُّها القلب تَعلَّلْ بدَدَنْ
… إنَّ همي في سماع وأذن
ومنه أذان الصلاة إنما هو إسماع الناس ذكرها حتى يعلموا وقول الله عز وجل: {وأذان من الله ورسوله} أي إسماع إعلام والأذن في الشيء أن تشاءه وتطلقه تقول: (أذنت له في الخروج إذناً) هذا ما ليس به خفاء على من نظر في اللغة وفهمها.
وقالوا في قوله عز وجل: {فمن يرد الله أن يهديه يشرح صدره للإسلام ومن يرد أن يضله يجعل صدره ضيقاً حرجاً}
হজ, আর আমি যদি চাইতাম তবে বিবাহ করতাম—এর অর্থ হলো তিনি বিবাহ করতে চাননি। একইভাবে এই আয়াতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য: "যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করতেন, তবে জমিনে যারা আছে তারা সকলেই ঈমান আনত," এর অর্থ হলো তিনি তা চাননি। অনুরূপভাবে: "আল্লাহ ইচ্ছা করলে অবশ্যই সকল মানুষকে হিদায়াত দিতেন" এবং: "আর আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার হিদায়াত দান করতাম।" অতঃপর যদি কেউ বলে—তিনি বুঝিয়েছেন যে তিনি যদি চাইতেন তবে তারা বাধ্য হয়ে ঈমান আনত, কিন্তু তিনি তাদের বাধ্য করতে চাননি; তবে তাকে বলা হবে—তিনি কোনো অবস্থাতেই তা চাননি, এখন আপনি যেভাবেই একে সাব্যস্ত করতে চান করুন।
আরও বলা হয়েছে: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সেই আচরণই করেন যা তাদের নিকট সর্বাবস্থায় অধিকতর কল্যাণকর। তাহলে তাদের জন্য এই দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনটি অধিক কল্যাণকর ছিল? তাদের ঈমান আনতে বাধ্য করা যার ফলে তারা ঈমান আনত, নাকি তাদের তাদের নিজ অবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া যার ফলে তারা কুফরি করত? এটিই হলো তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি।
আর ভাষার ক্ষেত্রে: ‘কান’ (আযন) শব্দটিকে সরাসরি ‘জ্ঞান’ (ইলম) অর্থে গ্রহণ করা জায়েজ নয় কারণ এটি মূলত কান। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যদি কেউ আপনাকে বলে, ‘আমি আপনাকে আমিরের বহির্গমনের সংবাদ দিয়েছি’ অর্থাৎ আমি আপনাকে তাঁর বের হওয়ার কথা জানিয়েছি, তখন আপনার উত্তরটি তার জন্য হতো ‘আমি তা আযান করেছি (শুনেছি)’; অর্থাৎ আমি তা শুনেছি এবং জেনেছি। আর ‘কান’ থেকে গৃহীত ‘ইযান’ শব্দটি মূলত কানে খবর পৌঁছে দেওয়া। আর ‘উযুন’ অর্থ হলো শ্রবণ করা এবং তা অবগত হওয়া।
আদি বিন যায়েদ বলেছেন:
হে হৃদয়! তুমি ক্রীড়া-কৌতুক নিয়ে মগ্ন থাকো
… আমার চিন্তা তো কেবল শ্রবণ ও শ্রুত বিষয় নিয়ে।
আর এর থেকেই এসেছে সালাতের ‘আযান’, যা মূলত মানুষকে এর জিকির শোনানো যাতে তারা তা জানতে পারে। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা (আযান)," অর্থাৎ শোনানো ও জানানো। আর কোনো বিষয়ে অনুমতি দেওয়া অর্থ হলো তা চাওয়া এবং তা সম্পাদন করার অবকাশ দেওয়া; আপনি বলেন: "আমি তাকে বের হওয়ার অনুমতি দিয়েছি।" যারা ভাষা নিয়ে গবেষণা করেন এবং তা অনুধাবন করেন, তাদের কাছে এটি অস্পষ্ট নয়।
আর তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেন: "অতঃপর আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করার ইচ্ছা করেন, ইসলামের জন্য তার বক্ষ উন্মুক্ত করে দেন, আর যাকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষ অত্যন্ত সংকীর্ণ ও সংকুচিত করে দেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فجعلوا الإرادة في الهداية والإضلال للعبد لا لله وركبوا في ذلك أفحش غلط وأحول كلام. والإرادة لا تجوز أن تكون للعبد وقد وليها اسم الله وهو مرفوع بإجماع القراء، ولو كان أحد منهم نصب الله لكان أقرب من المعنى الذي أراده وإن كان لا يجوز أيضاً لأنه يضم في الكلام (من) فيكون معناه من يريد من الله أن يهديه يشرح صدره للإسلام ثم يحذف (من) وينصب الله لما نزع حرف الصلة كما يقال (من يسرق القوم مالهم يقطع) أي يسرق من القوم مالهم وهذا ليس يجوز إلا مع حروف معدودة محكية عن العرب، لا نحمل عليها غيرها ونقيسه عليها.
وقالوا في قوله تعالى: {ولقد ذرأنا لجهنم كثيراً من الجن والإنس} دفعنا وألقينا واحتج من احتج منهم بقول المثقب العبدي حكاية عن ناقته:
تقول إذا ذرأت لها وضيني
… أهذا دينه أبداً وديني
وهذا جهل باللغة وتصحيف وإنما هو (درأت) بالدال غير المعجمة والله يقول: {ولقد ذرأنا} بالذال وأحسبهم سمعوا بقول العرب (أذرته الدابة عن ظهرها) أي ألقته فتوهموا أن ذرأنا من ذلك.
তারা হিদায়াত (পথপ্রদর্শন) এবং পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা বা ইখতিয়ারকে আল্লাহর পরিবর্তে বান্দার জন্য নির্ধারণ করেছে এবং এর মাধ্যমে তারা জঘন্যতম ভুল ও অত্যন্ত অসার কথা বলেছে। এখানে ইচ্ছা বা ইরাদা বান্দার দিকে সম্পৃক্ত করা বৈধ নয়, কারণ এর ঠিক পরেই আল্লাহর নাম এসেছে এবং ক্বারিদের সর্বসম্মতিক্রমে তা 'পেশ' (রাফা) অবস্থায় রয়েছে। যদি তাদের কেউ 'আল্লাহ' শব্দটিকে 'যবর' (নাসব) দিয়ে পাঠ করতেন, তবে সেটি তাদের কাঙ্ক্ষিত অর্থের কাছাকাছি হতো, যদিও সেটিও ব্যাকরণগতভাবে বৈধ হতো না। কারণ সেক্ষেত্রে বাক্যে 'থেকে' (মিন) অব্যয়টি উহ্য ধরতে হতো, তখন অর্থ দাঁড়াত: যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট থেকে চায় যে তিনি তাকে হিদায়াত দান করবেন, তিনি তার বক্ষ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। অতঃপর 'থেকে' (মিন) অব্যয়টি বিলুপ্ত করা হতো এবং সংযোগকারী হরফ বিলুপ্ত হওয়ার কারণে 'আল্লাহ' শব্দটি 'যবর' প্রাপ্ত হতো; যেমন বলা হয়, 'যে ব্যক্তি সম্প্রদায়ের মাল চুরি করে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে', যার অর্থ হলো 'সম্প্রদায়ের নিকট থেকে' মাল চুরি করা। আর এটি আরবদের থেকে বর্ণিত গুটিকয়েক উদাহরণ ছাড়া অন্য কোথাও বৈধ নয়; আমরা এর ওপর অন্য কিছুকে প্রয়োগ করি না এবং এর সাথে তুলনাও করি না।
তারা মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি অবশ্যই জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি} এর ব্যাখ্যায় বলেছে, আমরা নিক্ষেপ করেছি বা ফেলে দিয়েছি। তাদের মধ্যে যারা এ বিষয়ে দলিল পেশ করেছে তারা আল-মুসাক্কাব আল-আবদির একটি পঙক্তি ব্যবহার করেছে যেখানে তিনি তার উষ্ট্রীর উক্তি বর্ণনা করেছেন:
সে বলে যখন আমি তার জন্য আমার জিনের গদিটি ফেলে দিই
… এটাই কি চিরকাল তার এবং আমার নিয়ম?
এটি ভাষাগত অজ্ঞতা এবং শব্দগত বিকৃতি। কারণ শব্দটি মূলত নুক্তাবিহীন 'দাল' যোগে 'দারা'তু' (আমি সরিয়ে দিয়েছি বা ফেলে দিয়েছি)। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন 'যারআনা' (আমরা সৃষ্টি করেছি) নুক্তাযুক্ত 'যাল' দিয়ে। আমার ধারণা তারা আরবদের প্রচলিত কথা 'আযরাতুহুদ দাব্বাতু আন যাহরিহা' (জন্তু তাকে তার পিঠ থেকে ফেলে দিয়েছে) শুনেছে, অর্থাৎ তাকে ফেলে দিয়েছে; ফলে তারা ধারণা করে নিয়েছে যে 'যারআনা' শব্দটি সেখান থেকে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ذرأنا في تقدير فعلنا غير مهموز ولو أريد ذلك المعنى لكان: (ولقد أذرينا لجهنم) وسمعوا بقوله: (ذرته الريح) وبقول الله: {فأصبح هشيماً تذروه الرياح} أي تنسفه وتلقيه فتوهموه منه ولو أريد ذلك لكان: (ولقد ذرونا لجهنم) وليس يجوز أن يكون (ذرأنا) في هذا الموضع إلا خلقنا: {ذرأكم في الأرض} وقال: {يذرؤكم فيه} أي يخلقكم في الرحم ومنه قيل ذرية الرجل لولده وإنما هو خلق الله.
وقالوا في قوله: {إن هي إلا فتنتك تضل بها من تشاء وتهدي من تشاء} . أراد إن هو إلا اختيارك تضل به من تشاء يعني الفاسقين وتهدي من تشاء يعني المؤمنين واحتجوا بقوله: {وما يضل به إلا الفاسقين} والفاسقون ههنا الكافرون لأنه قال في صدر الآية: {وأما الذين كفروا فيقولون ماذا أراد الله بهذا مثلاً} وكيف يضل الضال ويهدي المهتدي فإن قالوا يريد الكافر ضلالة والمؤمن هداية أكذبهم في هذا الموضوع معنى الآية لأن فتنة القوم بالعجل أنه كان فضة وحلياً فتحول جسداً له خوار فارتدوا عن الإسلام وعبدوه ولم يكن مع موسى بني إسرائيل كافر ولو كانوا كفاراً ما غضب ولا ألقى الألواح، فإنما وقع الضلال ههنا بمسلمين.
وأما قوله عز وجل: {وما يضل به إلا الفاسقين} فإنه نزل في قوم من اليهود وسمعوا قوله عز وجل: {مثل الذين اتخذوا من دون الله أولياء كمثل العنكبوت} وقوله: {إن الذين تدعون من دون الله لن يخلقوا ذباباً ولو اجتمعوا له وإن يسلبهم الذباب شيئاً لا يستنقذوه منه} فقالوا ما هذه الأمثال التي لا تليق بالله فأنزل الله عز وجل: {إن الله لا يستحي أن يضرب مثلاً ما بعوضة فما فوقها} من الذباب والعنكبوت فقالوا ما أراد بمثل ينكره فيضل به كثيراً من الناس. فقال الله تعالى: {فأما الذين آمنوا فيعلمون أنه الحق من ربهم وأما الذين كفروا
আমাদের কাজের পরিমাপে 'যারাআনা' (আমরা সৃষ্টি করেছি) শব্দটি হামযাহ বিহীন নয়। যদি সেই অর্থটিই উদ্দেশ্য হতো তবে তা হতো: (আমরা জাহান্নামের জন্য উড়িয়ে দিয়েছি)। তারা এই কথা শুনেছে: (বাতাস তাকে উড়িয়ে দিয়েছে) এবং আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে: {অতঃপর তা শুকনো খড়কুটোয় পরিণত হয় যা বাতাস উড়িয়ে দেয়} অর্থাৎ তা ধূলিসাৎ করে ও নিক্ষেপ করে; ফলে তারা একে সেই মূল থেকে উদ্ভূত বলে ভ্রম করেছে। অথচ যদি সেটিই উদ্দেশ্য হতো তবে তা হতো: (আমরা জাহান্নামের জন্য ছড়িয়ে দিয়েছি)। আর এই স্থানে 'যারাআনা' শব্দটির অর্থ 'আমরা সৃষ্টি করেছি' ছাড়া অন্য কিছু হওয়া বৈধ নয়: {তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন} এবং তিনি বলেছেন: {তিনি তোমাদেরকে তাতে সৃষ্টি করেন} অর্থাৎ জরায়ুর মধ্যে তোমাদের সৃষ্টি করেন। এ থেকেই কোনো ব্যক্তির সন্তানকে 'যুররিয়্যাহ' (বংশধর) বলা হয়, যা মূলত আল্লাহরই সৃষ্টি।
আর আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে তারা বলেছে: {এ তো কেবল আপনার পরীক্ষা, এর মাধ্যমে আপনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন}। তারা দাবি করেছে যে, তিনি এর দ্বারা আপনার নির্বাচনকে বুঝিয়েছেন যার মাধ্যমে আপনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন অর্থাৎ পাপাচারীদের, আর যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন অর্থাৎ মুমিনদের। তারা আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছে: {আর তিনি এর মাধ্যমে পাপাচারী ছাড়া কাউকে পথভ্রষ্ট করেন না}। আর এখানে পাপাচারী বলতে কাফেরদের বোঝানো হয়েছে, কারণ তিনি আয়াতের শুরুতে বলেছেন: {আর যারা কুফরি করেছে তারা বলে, আল্লাহ এ উদাহরণের মাধ্যমে কী বুঝাতে চেয়েছেন?}। কিন্তু পথভ্রষ্ট ব্যক্তি কীভাবে পথভ্রষ্ট হয় এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি কীভাবে হিদায়াত পায়? তারা যদি বলে যে, কাফের পথভ্রষ্টতা চায় এবং মুমিন হিদায়াত চায়, তবে এই স্থানে আয়াতের অর্থ তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। কারণ বাছুরের মাধ্যমে সেই সম্প্রদায়ের পরীক্ষাটি ছিল এই যে, সেটি রূপা ও অলংকার দ্বারা নির্মিত ছিল, অতঃপর তা হাম্বারবকারী একটি দেহে পরিণত হয়েছিল। ফলে তারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে মুরতাদ হয়ে যায় এবং তার উপাসনা শুরু করে। অথচ মূসার সাথে বনী ইসরাঈলের মধ্যে কোনো কাফের ছিল না। যদি তারা কাফেরই হতো, তবে তিনি রাগান্বিত হতেন না এবং ফলকগুলো ছুড়ে ফেলে দিতেন না। সুতরাং এখানে পথভ্রষ্টতা মুসলমানদের মধ্যেই ঘটেছিল।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি এর মাধ্যমে পাপাচারী ছাড়া কাউকে পথভ্রষ্ট করেন না}—এটি ইহুদিদের এক সম্প্রদায়ের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। তারা মহান আল্লাহর এই বাণী শুনেছিল: {যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের দৃষ্টান্ত মাকড়সার মতো} এবং তাঁর বাণী: {তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো, তারা কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা এর জন্য সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা সেটি তার কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না}। তখন তারা বলেছিল, এগুলো কেমন উদাহরণ যা আল্লাহর শানের সাথে মানানসই নয়? তখন মহান আল্লাহ নাযিল করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও ক্ষুদ্রতর কোনো কিছুর উদাহরণ দিতে সংকুচিত হন না} অর্থাৎ মাছি ও মাকড়সার উদাহরণ দিতে। তখন তারা বলেছিল, তিনি এমন উদাহরণের মাধ্যমে কী বুঝাতে চেয়েছেন যা তারা অস্বীকার করে এবং যার মাধ্যমে অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করা হয়। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: {অতঃপর যারা ঈমান এনেছে তারা জানে যে এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য, আর যারা কুফরি করেছে...}
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فيقولون ماذا أراد الله بهذا مثلاً يضل به كثيراً ويهدي به كثيراً وما يضل به إلا الفاسقين} يعني اليهود لأنهم ضلوا بالمثل وأنكروا ولم ينكره غيرهم.
وقد يأتي الحرف وظاهره العموم ومعناه الخصوص كقول موسى عليه السلام: {وأنا أول المؤمنين} وقول النبي صلى الله عليه وسلم: {وأنا أول المسلمين} لم يريدا كل المؤمنين وكل المسلمين في جميع الأزمنة بل مؤمني زمن موسى ومسلمي زمن نبينا عليهما السلام
وكذلك قوله تعالى في بني إسرائيل: {فضلكم على العالمين} لم يفضلهم على محمد صلى الله عليه وسلم ولا أممهم على أمته وإنما أراد عالمي أزمنتهم
وشيء لم نزل نسمعه منهم على قديم الأيام قد ارتضوه لأنفسهم ودونوه في كتبهم وأجمع عليه عالمهم وجاهلهم وكهلهم وحدثهم في تأويل قول الله عز وجل: {أفرأيت من اتخذ إلهه هواه وأضله الله على علم وختم على سمعه وقلبه وجعل على بصره غشاوة فمن يهديه من بعد الله أفلا تذكرون} . وقوله: {إنا جعلنا في أعناقهم أغلالاً فهي إلى الأذقان فهم مقمحون وجعلنا من بين أيديهم سداً ومن خلفهم سداً فأغشيناهم فهم لا يبصرون} وقوله: {ختم الله على قلوبهم وعلى سمعهم وعلى أبصارهم غشاوة ولهم عذاب عظيم} وأشباه هذا أنه حكم عليهم فإذا نحن تدبرنا هذا التأويل وقابلنا به التنزيل لم نجد هذا المتأول حمل كتاب الله على مثل هذه التأويلات إلا لإقامة مذهبه وحاول بعضهم إبدال بعض حروفه بغيرها فقرأ: {عذابي أصيب به من أشاء} بالسين
তারা বলে, "আল্লাহ এই উদাহরণের মাধ্যমে কী বুঝাতে চেয়েছেন? তিনি এর মাধ্যমে অনেককে বিভ্রান্ত করেন এবং অনেককে সৎপথ প্রদর্শন করেন। আর তিনি পাপাচারী ব্যতীত অন্য কাউকে এর মাধ্যমে বিভ্রান্ত করেন না।" অর্থাৎ ইহুদিরা, কারণ তারা উদাহরণের কারণে বিভ্রান্ত হয়েছিল এবং তা অস্বীকার করেছিল, আর তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা অস্বীকার করেনি।
কখনো কখনো কোনো শব্দ ব্যবহৃত হয় যার বাহ্যিক রূপ ব্যাপক হলেও অর্থ হয় সুনির্দিষ্ট। যেমন মূসা আলাইহিস সালামের উক্তি: "এবং আমি মুমিনদের মধ্যে প্রথম।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উক্তি: "এবং আমি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।" তারা সকল যুগের সকল মুমিন ও সকল মুসলিমকে বুঝাতে চাননি, বরং মূসা আলাইহিস সালামের সময়ের মুমিনদের এবং আমাদের নবী আলাইহিস সালামের সময়ের মুসলিমদের বুঝিয়েছেন।
অনুরূপভাবে বনী ইসরাঈল সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: "আমি তোমাদেরকে বিশ্বজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।" তিনি তাদেরকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেননি এবং তাদের উম্মতকে তাঁর উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেননি; বরং তিনি কেবল তাদের সমসাময়িক বিশ্ববাসীদের বুঝিয়েছেন।
আর এমন একটি বিষয় যা আমরা প্রাচীনকাল থেকে তাদের নিকট থেকে শুনে আসছি, যা তারা নিজেদের জন্য পছন্দ করে নিয়েছে, তাদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছে এবং তাদের আলেম, জাহেল, বৃদ্ধ ও যুবক সকলেই যে বিষয়ে একমত হয়েছে। তা হলো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে: "আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে? আল্লাহ জেনে-বুঝে তাকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং তার কান ও হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন, আর তার চোখের ওপর রেখেছেন পর্দা। অতএব আল্লাহর পর কে তাকে হিদায়াত দেবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?" এবং তাঁর বাণী: "আমি তাদের ঘাড়ে বেড়ী পরিয়েছি যা চিবুক পর্যন্ত ঠেকে আছে, ফলে তাদের মাথা উপরের দিকে আটকে আছে। আর আমি তাদের সামনে একটি দেয়াল ও পিছনে একটি দেয়াল স্থাপন করেছি, অতঃপর আমি তাদের ঢেকে দিয়েছি, ফলে তারা দেখতে পায় না।" এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ তাদের হৃদয়ে ও তাদের কানে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তাদের চোখের ওপর রয়েছে পর্দা, আর তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।" এই জাতীয় আয়াতের ক্ষেত্রে তাদের দাবি হলো যে, আল্লাহ তাদের ওপর এমনটিই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমরা যখন এই ব্যাখ্যার ওপর গভীরভাবে চিন্তা করি এবং অবতীর্ণ ওহীর সাথে এর তুলনা করি, তখন আমরা দেখতে পাই যে, এই ব্যাখ্যাকারী ব্যক্তি কেবল তার নিজস্ব মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্যই আল্লাহর কিতাবকে এই ধরনের ব্যাখ্যার ওপর প্রয়োগ করেছে। এমনকি তাদের কেউ কেউ এর কিছু বর্ণকে অন্য বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছে, ফলে সে 'আসীবু' (أصيب) শব্দটিকে 'সীন' বর্ণ দিয়ে পাঠ করেছে: "আমার আজাব তাকেই পৌঁছাব যাকে আমি চাই।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
غير المعجمة والنصب وقرأ جميع ما في القرآن من المخلصين بكسر اللام وإن كان قرأ بذلك بعض القراء يريد أن يجعل الإخلاص لهم ولا يكون لله في ذلك صنع فكيف يصنع بقوله: {إنا أخلصناهم بخالصة ذكرى الدار} وقرأ: {ولا تحسبن الذين كفروا أنما نملي لهم خير لأنفسهم إنما نملي لهم ليزدادوا إثماً} بكسر إنما الأولى وفتح الثانية يريد لا يحسبن الذين كفروا إنما نملي لهم ليزدادوا إثماً إنما نملي لهم خير لأنفسهم فحرف المعنى عن جهته ونقله عن سننه وجعل الإملاء للكفار من الله إنما هو لخير يريده بهم.
وقد حمل بعضهم على أنه قرأ (ليزدادوا إيماناً) وألحقها في بعض المصاحف طمعاً في أن تبقى على الدهر ويجعلها الناس وجهاً وكيف له ما قدر والله يقول إلى جنبها: {ولهم عذاب مهين} .
(الرد على أهل الجبر)ولما رأى قوم من أهل الإثبات إفراط هؤلاء في القدر وكثر بينهم التنازع حملهم البغض لهم واللجاج على أن قابلوا غلوهم بغلو وعارضوا إفراطهم بإفراط فقالوا بمذهب جهم في الجبر المحض وجعلوا العبد المأمور المنهي المكلف لا يستطيع من الخير والشر شيئاً على الحقيقة ولا يفعل شيئاً على الصحة وذهبوا إلى أن كل فعل ينسب إليه فإنما ينسب إليه على المجاز كما يقال في الموات: مال الحائط وإنما يراد أميل وذهب البرد وإنما ذهب به وكلا الفريقين غالط وعن سواء الحق حائد.
নুনের নুকতাহীন পাঠ এবং যবর দিয়ে পড়েছেন। তিনি কুরআনের সকল স্থানে 'মুখলাসীন' শব্দটিকে লাম বর্ণের নিচে যের দিয়ে পাঠ করেছেন, যদিও কোনো কোনো ক্বারী তা পড়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি একনিষ্ঠতাকে তাদের নিজেদের কাজ হিসেবে সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন এবং এতে আল্লাহর কোনো ভূমিকা নেই বলে গণ্য করতে চেয়েছেন। অথচ আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে তিনি কী করবেন: "নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে একটি বিশেষ গুণের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করেছি, যা হলো পরকালের স্মরণ।" আর তিনি পাঠ করেছেন: "আর যারা কুফরি করেছে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, আমি তাদেরকে যে অবকাশ দিচ্ছি তা তাদের জন্য কল্যাণকর; আমি তো তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছি যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায়"—এখানে তিনি প্রথম 'ইন্নামা' শব্দটিকে যের এবং দ্বিতীয়টিকে যবর দিয়ে পড়েছেন। তিনি এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন: যারা কুফরি করেছে তারা যেন মনে না করে যে, আমি তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছি যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায়; বরং আমি তাদের অবকাশ দিচ্ছি কারণ তা তাদের জন্য কল্যাণকর। এভাবে তিনি অর্থের দিক পরিবর্তন করেছেন এবং একে এর সঠিক ধারা থেকে বিচ্যুত করেছেন। তিনি কাফিরদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এই অবকাশ দানকে এমন এক কল্যাণের জন্য সাব্যস্ত করেছেন যা তিনি তাদের জন্য চান।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও ধারণা করেছেন যে, তিনি "যাতে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়" পাঠ করেছেন এবং তা কোনো কোনো মাসহাফে যুক্ত করে দিয়েছেন এই আশায় যে, তা চিরকাল টিকে থাকবে এবং মানুষ একে একটি পাঠরীতি হিসেবে গ্রহণ করবে। কিন্তু তার এই পরিকল্পনা কীভাবে সফল হবে যখন আল্লাহ এর পাশেই বলছেন: "এবং তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।"
(জবরবাদীদের খণ্ডন)যখন আহলুল ইসবাত (গুণাবলী সাব্যস্তকারী)-দের একদল তাকদিরের বিষয়ে এদের অতি বাড়াবাড়ি দেখল এবং তাদের মধ্যে বিবাদ বেড়ে গেল, তখন তাদের প্রতি বিদ্বেষ ও জেদ তাদেরকে এই প্রান্তিকতার বিপরীতে অন্য এক প্রান্তিকতায় নিয়ে গেল এবং তারা তাদের বাড়াবাড়ির মোকাবিলা বাড়াবাড়ি দিয়ে করল। তারা খাঁটি জবরবাদ বা নিয়তিবাদের ক্ষেত্রে জাহমের মতবাদ গ্রহণ করল। তারা আদেশপ্রাপ্ত, নিষেধপ্রাপ্ত এবং শরীয়তের দায়বদ্ধ বান্দাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেল যে, সে বাস্তবে কল্যাণ বা অকল্যাণের কোনো ক্ষমতা রাখে না এবং প্রকৃতপক্ষে সে কোনো কিছুই করে না। তারা মনে করল যে, বান্দার দিকে যেসব কাজ সম্পৃক্ত করা হয় তা মূলত রূপকভাবে করা হয়; যেমন জড়বস্তুর ক্ষেত্রে বলা হয়: "দেয়ালটি হেলে পড়েছে" যার অর্থ আসলে "একে হেলিয়ে দেয়া হয়েছে", কিংবা "শীত চলে গেছে" যার অর্থ হলো "একে নিয়ে যাওয়া হয়েছে"। উভয় দলই ভ্রান্ত এবং সত্যের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ولو كان الأمر على ما قالوا لم يكن القدر سراً ولم يكن الناظر إليه كالناظر في شعاع الشمس ففيم اختصمت الملائكة.
যদি বিষয়টি তেমন হতো যেমনটি তারা বলেছে, তবে তাকদির কোনো রহস্য হতো না এবং এর প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি সূর্যের রশ্মির দিকে দৃষ্টিপাতকারীর ন্যায় হতো না; তবে ফেরেশতারা কী বিষয়ে বিতর্ক করেছিল?
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وفيم ألح عزير حتى محي من ديوان النبوة.
এবং কোন বিষয়ে উজাইর পীড়াপীড়ি করেছিলেন যার ফলে তাকে নবুওয়তের দপ্তর থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وفيم احتج آدم وموسى.
এবং আদম ও মুসা কী বিষয়ে বিতর্ক করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وإنما صار سراً لأنك ترى قادراً وهو عاجز، ومؤيداً وهو ممنوع، وترى حازماً محروماً، وعاجزاً مرزوقاً، وشجاعاً مخذولاً، وجباناً منصوراً، وعاقلاً لا يستشار في الأمور ولا يستعمل، وساقطاً متهافتاً لا يعطل، وعالمين متقاربين في العلم والنظر في الدين خصمين وهما مختلفان فهذا يقول بالإهمال المحض وذاك يقول بالإجبار المحض وهذا حروري وذاك
আর এটি কেবল এক রহস্যে পর্যবসিত হয়েছে কারণ আপনি একজন সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে অক্ষম অবস্থায় দেখেন, এবং একজন সাহায্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দেখেন নিবৃত্ত অবস্থায়। আপনি দেখেন একজন বিচক্ষণ ব্যক্তিকে বঞ্চিত হতে, আর একজন অক্ষম ব্যক্তিকে রিযিকপ্রাপ্ত হতে। দেখেন সাহসীকে লাঞ্ছিত হতে এবং কাপুরুষকে সাহায্যপ্রাপ্ত হতে। দেখেন এমন একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে যার সাথে কোনো বিষয়ে পরামর্শ করা হয় না এবং যাকে কাজে লাগানো হয় না, আবার একজন অযোগ্য পতনশীল ব্যক্তিকে দেখেন যাকে কর্মচ্যুত করা হয় না। আপনি এমন দুইজন আলেমকে দেখেন যারা ইলম ও দ্বীনি অন্তর্দৃষ্টির ক্ষেত্রে পরস্পর নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও চরম প্রতিদ্বন্দ্বী ও ভিন্নমতাবলম্বী। ফলে তাদের একজন নিরঙ্কুশ কর্মমুক্তির কথা বলে এবং অন্যজন নিরঙ্কুশ বাধ্যবাধকতার কথা বলে। এ ব্যক্তি হারুরি এবং ঐ ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
رافضي وترى أعداء الله يدالون أولياءه حتى يقتلوهم كل قتلة ويمزقوهم كل ممزق.
وترى الناس أصنافاً في التفضيل فمنهم قوم ابتدأهم الله بالنعم وأسكنهم ريف الأرض وأكرمهم وأخدمهم وحسن وجوههم وبيض ألوانهم وسقاهم العذب النقاح ورزقهم من الطيبات وأطعمهم من كل الثمرات ووفر عليهم العقول والأفهام وفتق ألسنتهم بالحكمة وألبابهم بالعلم وبعث فيهم بالقرب منهم الرسل لأهل هذا الإقليم الذي أسكنناه الله بفضله.
ومنهم قوم أنزلهم أطراف الأرض وجدوبة البلاد وأذلهم وأعراهم وشوه خلقهم وسود ألوانهم وسقاهم الملح الأجاج وجعل أقواتهم الحشرات والنبات وسلبهم العقول وباعدهم من مبعث الرسل ومنتهى الدعوة فهم كالأنعام بل هم أضل سبيلاً ثم جعلهم لجهنم حصيباً ولسعيرها وقوداً كالزنج وصنوف كثيرة من السودان وأصناف من الأعاجم ويأجوج ومأجوج فهل لهؤلاء أن يحتجوا على الله بما منح غيرهم ومنعهم؟
لا لعمر الله ما لأحد عليه حجة ولا قبله حق ولا فيما خلق شرك بل له الحجة البالغة، وهو الفعال لما يريد.
وعدل القول في القدر أن تعلم أن الله عدل لا يجور: كيف خلق، وكيف قدر، وكيف أعطى، وكيف منع، وأنه لا يخرج من قدرته شيء ولا يكون في ملكوته من السموات والأرض إلا ما أراد، وأنه لا دين لأحد عليه ولا حق لأحد قبله، فإن أعطى فبفضل، وإن منع فبعدل، وأن العباد يستطيعون ويعملون ويجزون بما يكسبون، وأن لله لطيفة يبتدئ بها من أراد ويتفضل بها على من أحب، ويوقعها في القلوب فيعود بها إلى طاعته ويمنعها
রাফেজি এবং আপনি আল্লাহর শত্রুদের দেখবেন যে তারা তাঁর বন্ধুদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করছে, এমনকি তারা তাদের নির্মমভাবে হত্যা করছে এবং তাদের সম্পূর্ণ ছিন্নভিন্ন করে ফেলছে।
আপনি মানুষকে শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত দেখবেন। তাদের মধ্যে এমন এক কওম রয়েছে যাদের আল্লাহ নেয়ামত দিয়ে শুরু করেছেন, পৃথিবীর উর্বর স্থানে বসবাস করিয়েছেন, তাদের সম্মানিত করেছেন এবং অন্যদের তাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। তিনি তাদের চেহারা সুন্দর করেছেন, গায়ের রং ফর্সা করেছেন, তাদের সুমিষ্ট বিশুদ্ধ পানি পান করিয়েছেন, পবিত্র বস্তু থেকে রিযিক দিয়েছেন এবং সব ধরনের ফলমূল খাইয়েছেন। তিনি তাদের প্রচুর বুদ্ধি ও বোধশক্তি দান করেছেন, তাদের জিহ্বাকে হিকমতের মাধ্যমে এবং তাদের অন্তরকে ইলমের মাধ্যমে উন্মুক্ত করেছেন। আর এই অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে তাদের নিকটবর্তী স্থান থেকেই রাসূলদের পাঠিয়েছেন, যেখানে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে আমাদের বসবাস করিয়েছেন।
আবার তাদের মধ্যে এমন কওম রয়েছে যাদের তিনি পৃথিবীর শেষ প্রান্তে এবং অনুর্বর ভূমিতে স্থান দিয়েছেন। তাদের তিনি লাঞ্ছিত করেছেন, উলঙ্গ রেখেছেন, তাদের আকৃতি বিকৃত করেছেন, গায়ের রং কালো করেছেন এবং তাদের লোনা ও কটু পানি পান করিয়েছেন। তিনি তাদের খাদ্য বানিয়েছেন পোকামাকড় ও উদ্ভিদকে, তাদের থেকে বুদ্ধি কেড়ে নিয়েছেন এবং রাসূলদের আবির্ভাবস্থল ও দাওয়াতের শেষ সীমা থেকে তাদের দূরে রেখেছেন। ফলে তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও বেশি পথভ্রষ্ট। এরপর তিনি তাদের জাহান্নামের জ্বালানি এবং এর লেলিহান আগুনের ইন্ধন বানিয়েছেন, যেমন যানজ জাতি, কৃষ্ণাঙ্গদের অনেক গোষ্ঠী, অনারবদের বিভিন্ন দল এবং ইয়াজুজ ও মাজুজ। তবে কি অন্যদের যা দান করেছেন এবং তাদের যা থেকে বঞ্চিত করেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের কোনো দলীল পেশ করার সুযোগ আছে?
না, আল্লাহর কসম! তাঁর বিরুদ্ধে কারও কোনো যুক্তি নেই, তাঁর কাছে কারও কোনো পাওনা নেই এবং তাঁর সৃষ্টিতে কোনো অংশীদারিত্ব নেই। বরং তাঁর জন্যই রয়েছে চূড়ান্ত প্রমাণ, আর তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন।
তাকদীর সম্পর্কে ন্যায়নিষ্ঠ কথা হলো এটি জানা যে, আল্লাহ ইনসাফকারী, তিনি জুলুম করেন না; তিনি কীভাবে সৃষ্টি করেছেন, কীভাবে নির্ধারণ করেছেন, কীভাবে দান করেছেন এবং কীভাবে বঞ্চিত করেছেন—সবক্ষেত্রেই তিনি ন্যায়নিষ্ঠ। তাঁর সক্ষমতার বাইরে কোনো কিছুই নেই এবং আসমান ও জমিনে তাঁর রাজত্বে তা-ই ঘটে যা তিনি চান। তাঁর ওপর কারও কোনো ঋণ নেই এবং তাঁর কাছে কারও কোনো হক নেই। যদি তিনি দান করেন তবে তা তাঁর অনুগ্রহ, আর যদি তিনি বঞ্চিত করেন তবে তা তাঁর ন্যায়বিচার। আর বান্দারা সক্ষমতা রাখে, কাজ করে এবং তারা যা অর্জন করে সেই অনুযায়ী তাদের প্রতিদান দেওয়া হয়। আর আল্লাহর একটি বিশেষ অনুগ্রহ রয়েছে যা দিয়ে তিনি যাকে ইচ্ছা শুরু করেন এবং যাকে ভালোবাসেন তাকে কৃপা করেন। তিনি তা অন্তরে ঢেলে দেন যার ফলে বান্দা তাঁর আনুগত্যে ফিরে আসে, আর তিনি তা যাকে ইচ্ছা তার থেকে রুখে দেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
من حقت عليه كلمته فهذه جملة ما ينتهي إليه علم ابن آدم من قدر الله عز وجل وما سوى ذلك مخزون عنه.
[الرد على نفاة الصفات والقائلين بالمجاز والزاعمين أن صفات الله كلها معنى واحد]وتعمق آخرون في النظر وزعموا أنهم يريدون تصحيح التوحيد بنفي التشبيه عن الخالق فأبطلوا الصفات مثل الحلم والقدرة والجلال والعفو وأشباه ذلك.
فقالوا هو الحليم ولا نقول بحلم، وهو القادر ولا نقول بقدرة، وهو العالم ولا نقول بعلم، كأنهم لم يسمعوا إجماع الناس على أن يقولوا (أسألك عفوك) وأن يقولوا (بعفو بحلم ويعاقب بقدرة) والقدير هو ذو القدرة والعافي هو ذو العفو، والجليل هو ذو الجلال والعليم هو ذو العلم فإن زعموا أن هذا
যার ওপর তাঁর বাণী (ফয়সালা) অবধারিত হয়েছে; আদম সন্তানের জ্ঞানের দৌড় আল্লাহর তাকদির সম্পর্কে এই পর্যন্তই এবং এর অতিরিক্ত বিষয়সমূহ তার থেকে সংরক্ষিত (গোপন) রাখা হয়েছে।
[সিফাত বা গুণাবলি অস্বীকারকারী, রূপক অর্থের প্রবক্তা এবং আল্লাহর সকল গুণাবলি একই অর্থবোধক—এমন দাবিদারদের খণ্ডন]অন্য একদল লোক তত্ত্বানুসন্ধানে অতি গভীরে প্রবেশ করল এবং দাবি করল যে, তারা স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সাদৃশ্য অস্বীকারের মাধ্যমে তাওহিদকে বিশুদ্ধ করতে চায়। ফলে তারা ধৈর্য (হিলম), ক্ষমতা (কুদরত), মহিমা (জালাল), ক্ষমা (আফ্উ) এবং এই জাতীয় গুণাবলিকে বাতিল করে দিল।
তারা বলল: তিনি সহনশীল (হালিম) কিন্তু আমরা বলব না যে তাঁর 'ধৈর্য' (হিলম) আছে; তিনি ক্ষমতাধর (কাদির) কিন্তু আমরা বলব না যে তাঁর 'ক্ষমতা' (কুদরত) আছে; তিনি জ্ঞানী (আলিম) কিন্তু আমরা বলব না যে তাঁর 'জ্ঞান' (ইলম) আছে। যেন তারা মানুষের এই সর্বসম্মত বাক্য শোনেনি যা তারা বলে থাকে যে— "আমি আপনার কাছে আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি", এবং বলে— "তিনি ক্ষমার সাথে ধৈর্যধারণ করেন এবং ক্ষমতার সাথে শাস্তি দেন।" আর 'কাদির' (সর্বশক্তিমান) হলেন ক্ষমতার অধিকারী, 'আফী' (ক্ষমাশীল) হলেন ক্ষমার অধিকারী, 'জলীল' (মহিমান্বিত) হলেন মহিমার অধিকারী এবং 'আলিম' (সর্বজ্ঞানী) হলেন জ্ঞানের অধিকারী। এখন তারা যদি দাবি করে যে এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
مجاز، قيل لهم ما تقولون في قول القائل: غفر الله لك وعفا عنك وحلم الله عنك أمجاز هو أم حقيقة؟ فإن قالوا مجاز فالله لا يغفر لأحد ولا يعفو عن أحد ولا يحلم عن أحد على الحقيقة. ولن يركبوا هذه. وإن قالوا هو حقيقة فقد وجب في المصدر ما وجب في الصدر لأنا نقول غفر الله مغفرة وعفا عفواً وحلم حلماً فمن المحال أن يكون واحد حقيقة والآخر مجازاً وقال الله: {إن كيدي متين} وأجمع الناس على أن الحول والقوة لله، والحول الحيلة.
وقالوا في (سميع بصير) هما سواء ليس في سميع من المعنى إلا ما في بصير ولا فيهما إلا معنى عليم وقد سمع الله قول اليهود: {إن الله فقير ونحن أغنياء} حين قالوه وعلمه قبل أن يقولوه فهل يجوز لأحد أن يقول إن الله سمعه قبل أن يقولوه وكذلك قول المجادلة في زوجها قد سمع الله جدالها وسمع محاورتها للنبي صلى الله عليه وسلم حين جادلته وحاورته وعلمه قبل أن تجادل وتحاور به فهل لأحد أن يقول إن الله قد سمعه قبل أن يكون وإذا لم يجز ذلك فقد علم أن في سميع معنى غير معنى عليم والله يقول: {إنني معكما أسمع وأرى} .
রূপক; তাদেরকে বলা হয়: কেউ যখন বলে, “আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনার অপরাধ মার্জনা করুন এবং আপনার প্রতি সহনশীল হোন”, সে বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী? এটি কি রূপক নাকি বাস্তব? যদি তারা বলে এটি রূপক, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহ প্রকৃতপক্ষে কাউকে ক্ষমা করেন না, মার্জনা করেন না এবং কারো প্রতি সহনশীল হন না। আর তারা এই পথে পা বাড়াবে না। আর যদি তারা বলে এটি বাস্তব, তবে মূল শব্দের ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য, তার ক্রিয়ামূলের (মাসদার) ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে। কারণ আমরা বলি, আল্লাহ ক্ষমা করেছেন, মার্জনা করেছেন এবং সহনশীলতা প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং একটি বাস্তব এবং অন্যটি রূপক হওয়া অসম্ভব। আর আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমার কৌশল অত্যন্ত সুদৃঢ়}। আর সকল মানুষ একমত যে, পরিবর্তন করার ক্ষমতা ও শক্তি আল্লাহরই জন্য; আর ‘হাওল’ মানে হলো কৌশল।
আর তারা ‘সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ সম্পর্কে বলে যে, এ দুটি অভিন্ন; ‘সর্বশ্রোতা’ গুণের মাঝে ‘সর্বদ্রষ্টা’ গুণের অর্থের বাইরে অন্য কিছু নেই এবং এ দুটির মাঝে ‘সর্বজ্ঞ’ গুণের অর্থ ব্যতিরেকে অন্য কোনো অর্থ নেই। অথচ আল্লাহ ইয়াহুদিদের কথা শুনেছেন যখন তারা বলেছিল: {নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবগ্রস্ত আর আমরা অভাবমুক্ত}। তারা যখন বলেছিল তখনই আল্লাহ তা শুনেছেন, অথচ তারা তা বলার পূর্বেই তিনি তা জানতেন। তবে কি কারো পক্ষে এটা বলা বৈধ হবে যে, তারা বলার পূর্বেই আল্লাহ তা শুনেছেন? তদ্রূপ স্বীয় স্বামীর বিষয়ে বাদানুবাদকারী নারীর কথা; আল্লাহ তার বাদানুবাদ শুনেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তার কথোপকথন শুনেছেন যখন সে তাঁর সাথে বাদানুবাদ ও আলাপ করছিল। অথচ সে বাদানুবাদ ও আলাপ করার পূর্বেই আল্লাহ তা জানতেন। তবে কি কারো পক্ষে বলা সম্ভব যে, তা সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ তা শুনেছেন? আর যখন তা সম্ভব নয়, তখন জানা গেল যে, ‘সর্বশ্রোতা’ গুণের মাঝে ‘সর্বজ্ঞ’ গুণের অর্থ ব্যতিরেকে ভিন্ন অর্থ বিদ্যমান। আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি এবং দেখি}।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
[الرد على القائلين بخلق القرآن]وقالوا في كلام الله أنه مخلوق لأن الله تعالى قال: {إنا جعلناه قرآنا عربياً} والجعل بمعنى الخلق ولأنه قال: {ما يأتيهم من ذكر من ربهم محدث} وكل محدث مخلوق وأن معنى: {كلم الله} أوجد كلاماً و: {كلم الله موسى تكليماً} أوجد كلاماً سمعه فخرجوا بهذا التأويل من اللغة والمعقول، لأن معنى تكلم الله أتى بالكلام من عنده، وترحم الله أتى بالرحمة من عنده، كما يقال تخشع فلان أتى بالخشوع من نفسه، وتشجع أتى بالشجاعة من نفسه، وتبتل أتى بالتبتل من نفسه، وتحلم أتى بالتحلم من نفسه، ولو كان المراد أوجد كلاماً لم يجز أن يقال: يتكلم، وكان الواجب أن يقال: أكلم، كما يقال أقبح الرجل أتى بالقباحة وأطاب أتى بالطيب وأخس أتى بالخساسة، وأن يقال أكلم الله موسى إكلاماً، كما يقال أقبر الله الميت: أي جعل له قبراً أو أرعى الله الماشية جعلها ترعى، في أشباهٍ لهذا كثيرة لا تخفى على أهل اللغة.
والعرب تسمي الكلام لساناً لأنه على اللسان يكون.
[কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তাদের খণ্ডন]তারা আল্লাহর কালাম সম্পর্কে বলেছে যে তা সৃষ্টি, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় আমি একে আরবি কুরআন বানিয়েছি}। আর 'বানানো' (জায়ল) অর্থ হলো সৃষ্টি করা। এবং যেহেতু তিনি বলেছেন: {তাদের নিকট তাদের রবের পক্ষ থেকে কোনো নতুন উপদেশ আসে না}, আর প্রত্যেক নতুন বিষয়ই সৃষ্টি। এবং তাদের মতে {আল্লাহ কথা বলেছেন} এর অর্থ হলো তিনি কথা অস্তিত্বে এনেছেন, আর {আল্লাহ মূসার সাথে কথোপকথন করেছেন} এর অর্থ হলো তিনি এমন কথা অস্তিত্বে এনেছেন যা তিনি (মূসা) শুনেছেন। এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে তারা ভাষা ও যুক্তি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। কারণ আল্লাহর কথা বলার অর্থ হলো তিনি নিজের পক্ষ থেকে কথা প্রকাশ করেছেন, আর আল্লাহর দয়া করার অর্থ হলো তিনি নিজের পক্ষ থেকে দয়া দান করেছেন; যেমন বলা হয় অমুক ব্যক্তি বিনয় অবলম্বন করেছে অর্থাৎ সে নিজের থেকে বিনয় প্রকাশ করেছে, সে সাহসিকতা প্রদর্শন করেছে অর্থাৎ নিজের থেকে সাহসিকতা এনেছে, সে একনিষ্ঠ হয়েছে অর্থাৎ নিজের থেকে একনিষ্ঠতা এনেছে এবং সে সহনশীলতা অবলম্বন করেছে অর্থাৎ নিজের থেকে সহনশীলতা এনেছে। আর যদি উদ্দেশ্য হতো 'কথা অস্তিত্বে আনা', তবে 'তিনি কথা বলেন' বলা বৈধ হতো না, বরং 'কথা বলিয়েছেন' বলা আবশ্যক হতো। যেমন বলা হয়, ব্যক্তিটি মন্দ কাজ করেছে অর্থাৎ সে মন্দ কিছু এনেছে, সে উত্তম কাজ করেছে অর্থাৎ ভালো কিছু এনেছে এবং সে হীন কাজ করেছে অর্থাৎ হীনতা এনেছে। তখন বলা হতো 'আল্লাহ মূসাকে কথা বলিয়েছেন', যেমন বলা হয় 'আল্লাহ মৃত ব্যক্তিকে কবরে দিয়েছেন' অর্থাৎ তার জন্য কবরের ব্যবস্থা করেছেন অথবা 'আল্লাহ গবাদি পশুকে চরিয়েছেন' অর্থাৎ তাদের চরে বেড়ানোর ব্যবস্থা করেছেন। এ জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা ভাষাবিদদের কাছে গোপন নয়।
আর আরবরা কথাকে 'জিহ্বা' বলে অভিহিত করে, কারণ তা জিহ্বার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
قال الشاعر وهو أمية بن أبي الصلت:
واسمع كلام الله كيف شكُوله
… فاعجب ويُلسِنك الذي تستنشد
أراد اسمع كلام الله ثم قال: (ويلسنك) أي يكلمك الذي تستنشده أي كأنه يكلمك.
وقال الله عز وجل حكاية عن إبراهيم: {واجعل لي لسان صدق في الآخرين} وقال الشاعر:
إني أتتني لسان لا أسر بها
أي أخبرت.
وأما استشهادهم بالجعل على خلق القرآن في قول الله: {إنا جعلناه قرآناً عربياً} فإن الجعل يكون بمعنيين: أحدهما خلق، والآخر غير خلق فأما الموضع الذي يكون فيه خلقاً: فإذا رأيته متعدياً إلى مفعول واحد لا يجاوزه كقول الله: {خلق السموات والأرض وجعل الظلمات والنور} فهذا بمعنى خلق، وكذلك: {وجعل منها زوجها} أي خلق منها.
وأما الموضع الذي يكون فيه غير الخلق فإذا رأيته متعدياً إلى مفعولين كقوله: {وقد جعلتم الله عليكم كفيلا} أي صيرتم. وكقوله: {فحعلناها نكالاً لما بين يديها وما خلفها} وكقول القائل (جعل فلانٌ أمر امرأته في يدها) فإن هم وجدوا في القرآن كله جعل متعديه إلا القرآن وحده ليقضوا عليه بالخلق فنحن نتابعهم، وكذلك المحدث ليس هو في موضع بمعنى مخلوق، فإن أنكروا ذلك فليقولوا في قول الله: {لعل الله يحدث بعد ذلك أمراً} أنه يخلق وكذلك قوله: {لعلهم يتقون أو يحدث لهم ذكرا} أي يحدث لهم القرآن ذكراً. والمعنى يجدد عندهم ما لم يكن.
وكذلك قوله: {ما يأتيهم من ذكر من ربهم محدث} أي ذكر حدث عندهم لم يكن قبل ذلك.
কবি উমাইয়া ইবনে আবিস সালত বলেছেন:
এবং আল্লাহর বাণী শ্রবণ করো যে তার ধরন কেমন
… সুতরাং আশ্চর্যান্বিত হও, আর যার কাছে তুমি আবৃত্তি প্রার্থনা করো সে তোমার সাথে কথা বলবে
তিনি বুঝাতে চেয়েছেন ‘আল্লাহর কালাম শ্রবণ করো’, তারপর বললেন: (আর সে তোমার সাথে কথা বলবে) অর্থাৎ যার কাছে তুমি আবৃত্তি প্রার্থনা করো সে তোমার সাথে কথা বলবে, অর্থাৎ যেন সে তোমার সাথে কথা বলছে।
আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইবরাহিমের কথা বর্ণনা করে বলেন: {আর আমার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সত্যের সুখ্যাতি দান করুন} এবং কবি বলেছেন:
নিশ্চয়ই আমার নিকট একটি সংবাদ পৌঁছেছে যাতে আমি আনন্দিত নই
অর্থাৎ আমি সংবাদ প্রাপ্ত হয়েছি।
আর আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন করেছি} এর মধ্যে ‘জায়াল’ (করা) শব্দ দ্বারা কুরআনের মাখলুক হওয়ার স্বপক্ষে তাদের দলিল পেশ করার বিষয়টি হলো—নিশ্চয়ই ‘জায়াল’ শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: একটি হলো ‘খালাকা’ (সৃষ্টি করা), এবং অন্যটি সৃষ্টি করা ব্যতীত অন্য অর্থ। যে স্থানে এটি সৃষ্টির অর্থে ব্যবহৃত হয় তা হলো: যখন আপনি একে একটি মাত্র কর্মপদ (মাফুল) গ্রহণ করতে দেখবেন যা অতিক্রম করে না, যেমন আল্লাহর বাণী: {তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন}, এখানে এটি সৃষ্টির অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অনুরূপভাবে: {আর তিনি তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন} অর্থাৎ তা থেকে সৃষ্টি করেছেন।
আর যে স্থানে এটি সৃষ্টি করা ব্যতীত অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়, তা হলো যখন আপনি একে দুটি কর্মপদ (মাফুল) গ্রহণ করতে দেখবেন। যেমন তাঁর বাণী: {এবং তোমরা আল্লাহকে তোমাদের উপর জামিন নিযুক্ত করেছ} অর্থাৎ সাব্যস্ত করেছ। এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর আমি একে তার সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত করেছি}। এবং যেমন কোনো বক্তার কথা (অমুক ব্যক্তি তার স্ত্রীর বিষয়টি তার নিজের হাতে সোপর্দ করেছে)। যদি তারা পুরো কুরআনে এমন কোনো ‘জায়াল’ শব্দ পায় যা কেবল কুরআনের ক্ষেত্রেই দুটি কর্মপদ গ্রহণকারী হওয়া সত্ত্বেও তাকে সৃষ্টির অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে যাতে তারা কুরআনের মাখলুক হওয়ার ফয়সালা দিতে পারে, তবে আমরা তাদের অনুসরণ করব। একইভাবে ‘মুহদাস’ (নতুন/উদ্ভূত) শব্দটি কোনো স্থানেই ‘মাখলুক’ (সৃষ্ট) অর্থে নয়। যদি তারা এটি অস্বীকার করে, তবে আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে তারা কী বলবে: {হয়তো আল্লাহ এরপর নতুন কোনো বিষয় করবেন} যে তিনি ‘সৃষ্টি’ করবেন? অনুরূপভাবে তাঁর বাণী: {যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা এটি তাদের জন্য কোনো উপদেশ তৈরি করে} অর্থাৎ কুরআন তাদের জন্য উপদেশ তৈরি করে। আর এর অর্থ হলো তাদের কাছে এমন কিছু নতুনভাবে উপস্থাপন করা যা আগে ছিল না।
একইভাবে তাঁর বাণী: {তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের কাছে কোনো নতুন উপদেশ আসে না} অর্থাৎ এমন উপদেশ যা তাদের নিকট নতুনভাবে এসেছে যা ইতিপূর্বে ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
[الرد على متأولي الصفات] (الرد على القائلين أن اليد هي النعمة)وفعلوا في كتاب الله أكثر مما فعل الأولون في تحريف التأويل عن جهته فقالوا في قول الله: {وقالت اليهود يد الله مغلولة} أن اليد ههنا النعمة وما ننكر أن اليد قد تتصرف على ثلاثة وجوه من التأويل:
أحدها: النعمة.
والآخر: القوة من الله: {أولي الأيد والأبصار} يريد أولي القوة في دين الله والبصائر ومنه يقول الناس (ما لي بهذا الأمر يد) يعنون مالي به من طاقة.
الوجه الثالث: اليد بعينها.
ولكنه لا يجوز أن يكون أراد في هذا الموضع النعمة لأنه قال: {وقالت اليهود يد الله مغلولة} والنعم لا تغل وقال: {غلت أيديهم} معارضة بمثل ما قالوا ولا يجوز أن يكون أراد غلت نعمهم ثم قال: {بل يداه مبسوطتان} ولا يجوز أن يريد نعمتاه مبسوطتان.
وكان مما احتجوا به للنعمة قوله: {غلت أيديهم} لو أراد اليد بعينها لم يكن في الأرض يهودي غير مغلول اليد، فما أعجب هذا الجهل والتعسف في القول بغير علم.
ألم يسمعوا بقول الله تعالى: {قتل الإنسان ما أكفره} وبقوله: {قاتلهم الله أنى يؤفكون} وقوله: {لعنوا بما قالوا} واللعن الطرد. فهل قتل الله الناس جميعاً وهل قتل قوماً وطرد آخرين ولم يسمعوا بقول العرب: قاتله الله ما أبطشه، وأخزاه الله ما أشعره، ويقول النبي صلى الله عليه وسلم لرجل: ((تربت يداه)) أي افتقر ولم يفتقر.
[সিফাত বা গুণাবলীর অপব্যাখ্যাকারীদের খণ্ডন] (হাত বলতে নেয়ামত বা অনুগ্রহ উদ্দেশ্য গ্রহণকারীদের খণ্ডন)তারা আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের চেয়েও বেশি বাড়াবাড়ি করেছে সঠিক অর্থ থেকে অপব্যাখ্যার দিকে বিচ্যুত করার মাধ্যমে। তারা আল্লাহর বাণী—"আর ইহুদিরা বলে, আল্লাহর হাত আবদ্ধ"—এর ব্যাপারে বলেছে যে, এখানে ‘হাত’ অর্থ হলো নেয়ামত। আমরা এটি অস্বীকার করি না যে, ‘হাত’ শব্দটি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে:
প্রথমটি হলো: নেয়ামত বা অনুগ্রহ।
দ্বিতীয়টি হলো: আল্লাহর পক্ষ থেকে শক্তি। যেমন: "হাত ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন"—এখানে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে শক্তিশালী এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে। এখান থেকেই মানুষ বলে থাকে, "এই বিষয়ে আমার কোনো হাত নেই", অর্থাৎ আমার কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।
তৃতীয় অর্থটি হলো: খোদ হাত (সত্তাগত হাত)।
কিন্তু এই স্থানে ‘হাত’ দ্বারা ‘নেয়ামত’ উদ্দেশ্য হওয়া জায়েজ নয়। কারণ তিনি বলেছেন: "আর ইহুদিরা বলে, আল্লাহর হাত আবদ্ধ"; অথচ নেয়ামত কখনও ‘আবদ্ধ’ হয় না। আর তিনি বলেছেন: "তাদের হাতই আবদ্ধ হয়েছে"—এটি তাদের কথার পাল্টা উত্তর হিসেবে বলা হয়েছে। এখানে "তাদের নেয়ামতসমূহ আবদ্ধ হয়েছে" এমন অর্থ হওয়া অসম্ভব। এরপর তিনি বলেছেন: "বরং তাঁর উভয় হাতই প্রসারিত"; এখানেও "তাঁর উভয় নেয়ামত প্রসারিত" এমন অর্থ নেওয়া জায়েজ নয়।
তারা হাতকে ‘নেয়ামত’ বলার স্বপক্ষে এই যুক্তি দেয় যে, আল্লাহর বাণী: "তাদের হাতই আবদ্ধ হয়েছে"—যদি এখানে খোদ হাত উদ্দেশ্য হতো, তবে পৃথিবীতে এমন কোনো ইহুদি থাকতো না যার হাত শারীরিকভাবে আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত নয়। এই অজ্ঞতা এবং জ্ঞানহীন জবরদস্তিমূলক কথা কতই না আশ্চর্যজনক!
তারা কি আল্লাহ তাআলার এই বাণী শোনেনি: "মানুষ ধ্বংস হোক, সে কতই না অকৃতজ্ঞ!" এবং তাঁর এই বাণী: "আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে?" এবং তাঁর এই বাণী: "তাদের উক্তির কারণে তাদের ওপর লানত করা হয়েছে"—আর লানত অর্থ হলো বিতাড়িত করা। তবে কি আল্লাহ সকল মানুষকে হত্যা করেছেন? কিংবা তিনি কি কোনো এক কওমকে হত্যা করেছেন এবং অন্যদের বিতাড়িত করেছেন? তারা কি আরবদের এই প্রচলিত কথা শোনেনি: "আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, সে কতই না শক্তিশালী!" এবং "আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন, সে কতই না বড় কবি!"। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "তার দুই হাত ধূলিমলিন হোক"—অর্থাৎ সে অভাবগ্রস্ত হোক, অথচ সে ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
ولامرأة ((عقرى حلقى)) ولم يعقرها الله ولا أصاب حلقها بوجع.
فإن قال لنا: ما اليدان ههنا قلنا هما اليدان اللتان تعرف الناس
كذلك قال ابن عباس في هذه الآية: (اليدان اليدان)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((كلتا يديه يمين)) فهل يجوز لأحد أن يجعل اليدين ههنا نعمة أو نعمتين وقال: {لما خلقت بيدي} فنحن نقول كما قال الله تعالى وكما قال رسوله ولا نتجاهل ولا يحملنا ما نحن فيه من نفي التشبيه على أن ننكر ما وصف به
এক মহিলার ক্ষেত্রে [বলা হয়েছে] "নিঃসন্তান ও গলাব্যথাগ্রস্ত", অথচ আল্লাহ তাকে নিঃসন্তান করেননি এবং তার গলায় কোনো ব্যথাও দেননি।
যদি কেউ আমাদের প্রশ্ন করে: এখানে 'দুই হাত' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? আমরা বলব: এগুলো সেই দুই হাত যা মানুষ চেনে।
অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "(দুই হাত বলতে) দুই হাতই (উদ্দেশ্য)।"
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তাঁর উভয় হাতই ডান।" সুতরাং এখানে 'দুই হাত' এর অর্থ 'নিয়ামত' বা 'দুটি নিয়ামত' করা কি কারো জন্য বৈধ হবে? আর তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: "যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি।" সুতরাং আল্লাহ তাআলা যা বলেছেন এবং তাঁর রাসূল যা বলেছেন, আমরা ঠিক তেমনটিই বলি। আমরা এ বিষয়ে কোনো অজ্ঞতা প্রকাশ করি না, আর সাদৃশ্য নিরসনের প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে আল্লাহ নিজেকে যেভাবে গুণান্বিত করেছেন তা অস্বীকার করতেও আমরা প্রলুব্ধ হই না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
نفسه، ولكنا لا نقول كيف اليدان وإن سئلنا نقتصر على جملة ما قال ونمسك عما لم يقل.
وتأويل الآية: أن اليهود قالت: يد الله مغلولة أي ممسكة عن العطاء فضرب الغل في اليد مثلاً لأنه يقبض اليد عن أن تمتد وتنبسط كما تقبض يد البخيل، فقال الله تعالى: {غلت أيديهم} أي قبضت عن العطاء والإنفاق في الخير والبر {ولعنوا بما قالوا بل يداه مبسوطتان} بالعطاء {ينفق كيف يشاء} ومثله قوله: {إنا جعلنا في أعناقهم أغلالاً فهي إلى الأذقان فهم مقمحون} أي قبضنا أيديهم عن الإنفاق في سبيل الله بموانع الأغلال.
وما قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((كلتا يديه يمين)) فإنه أراد معنى التمام والكمال لأن كل شيء مياسره تنقص عن ميامنه في القوة والبطش والتمام وكانت العرب تحب التيامن وتكره التياسر لما في اليمين من التمام وفي اليسار من النقص ولذلك قيل اليمن والشؤم.
فاليمن في اليد اليمنى، والشؤم في اليد الشؤمى وهي اليسار.
وقالوا فلان ميمون من اليمين ومشؤوم من الشؤمى وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم في الإبل: ((إن أدبرت أدبرت وإن أقبلت أدبرت ولا يأتي نفعها من جانبها الأشأم)) يعني الأيسر.
ويمكن أيضاً أن يريد العطاء باليدين جميعاً لأن اليمنى هي المعطية
তিনি নিজে, তবে আমরা বলব না আল্লাহর হাত দুটি কেমন এবং যদি আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তিনি যা বলেছেন আমরা তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব এবং যা তিনি বলেননি তা থেকে বিরত থাকব।
আর আয়াতের ব্যাখ্যা হলো: ইহুদিরা বলেছিল: আল্লাহর হাত আবদ্ধ, অর্থাৎ দান করা থেকে বিরত। এখানে হাতে শৃঙ্খল লাগানোকে একটি উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে, কারণ এটি হাতকে প্রসারিত ও উন্মুক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে, যেমন কৃপণ ব্যক্তির হাত সংকুচিত থাকে। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের হাতই আবদ্ধ হয়েছে} অর্থাৎ কল্যাণ ও নেক কাজে দান ও ব্যয় করা থেকে তাদের হাত গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে {এবং তাদের উক্তির কারণে তাদের প্রতি লানত করা হয়েছে; বরং আল্লাহর হাত দুটি প্রশস্ত} দানের ক্ষেত্রে {তিনি যেভাবে ইচ্ছা ব্যয় করেন}। এর অনুরূপ হলো তাঁর বাণী: {আমি তাদের ঘাড়ে শৃঙ্খল পরিয়েছি, যা চিবুক পর্যন্ত ঠেকেছে, ফলে তাদের মাথা ঊর্ধ্মুখী হয়ে আছে} অর্থাৎ শৃঙ্খলের প্রতিবন্ধকতার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করা থেকে তাদের হাতকে বিরত রেখেছি।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: ((আল্লাহর হাত দুটিই ডান)), এর মাধ্যমে তিনি পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অর্থ বুঝিয়েছেন। কারণ প্রতিটি জিনিসের বাম অংশ শক্তি, প্রভাব ও পূর্ণতার দিক থেকে ডান অংশের চেয়ে কম হয়ে থাকে। আর আরবরা ডান দিককে পছন্দ করত এবং বাম দিককে অপছন্দ করত, কারণ ডানের মধ্যে রয়েছে পূর্ণতা আর বামের মধ্যে রয়েছে অপূর্ণতা; আর এই কারণেই বরকত ও অশুভ লক্ষণ শব্দদ্বয় বলা হয়ে থাকে।
সুতরাং বরকত হলো ডান হাতে, আর অশুভ হলো অশুভ হাতে যা মূলত বাম হাত।
তারা বলত, অমুক ব্যক্তি ডান থেকে বরকতময় এবং অশুভ থেকে দুর্ভাগা। আর উট সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যদি সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যায় তবে চলেই গেল, আর যদি সামনে আসে তবুও চলে গেল, আর তার অশুভ দিক থেকে কোনো উপকার আসে না)) অর্থাৎ বাম দিক থেকে।
আর এটিও সম্ভব যে, তিনি আল্লাহর হাত দুটি দ্বারাই দান করা বুঝিয়েছেন, কারণ ডান হাত হলো প্রদানকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
فإذا كانت اليدان يمينين كان العطاء بهما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يمين الله سخاء لا يغيضها شيء الليل والنهار)) أي تصب العطاء ولا ينقصها ذلك وإلى هذا المعنى ذهب المرار حيث يقول:
وإن على الأوانة من عقيل
… فتى كلتا اليدين له يمين
(الرد على متأول الروح)وقالوا في قوله تعالى: {ونفخت فيه من روحي} أن الروح هو الأمر أي أمرت أن يكون.
واحتجوا بقول سليمان وأبي الدرداء: إنا نقوم فنكبر بروح الله أي بكلامه.
والروح كما ذكروا قد يكون كلام الله في بعض المواضع نحو قوله: {يلقي الروح من أمره على من يشاء من عباده} وكقوله عز وجل: {وكذلك أوحينا [إليك] (1) روحاً من أمرنا} .
والروح أيضاً: روح الأجسام الذي يقبضه الله عند الممات.
والروح أيضاً: ملكٌ عظيم من ملائكة الله قال الله تعالى: {يوم يقوم الروح والملائكة صفاً} .
والروح: الرحمة قال الله تعالى: {وأيدهم بروح منه}
--------------------------------------------
যখন উভয় হাতই ডান হাত হয়, তখন উভয় দ্বারাই দান করা হয়। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর ডান হাত প্রাচুর্যময়, রাত-দিনের কোনো কিছুই তা কমাতে পারে না।" অর্থাৎ তিনি দান বর্ষণ করেন এবং এতে তাঁর কোনো কমতি হয় না। আল-মুরার এই অর্থেরই দিকে গিয়েছেন যখন তিনি বলেন:
নিশ্চয়ই আকিল বংশের আল-আওয়ানা-তে এমন এক যুবক রয়েছে
… যার উভয় হাতই ডান হাত।
(রূহ-এর অপব্যাখ্যাকারীদের খণ্ডন)আর মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তাতে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছি} এর ব্যাপারে তারা বলেছে যে, রূহ হলো আদেশ; অর্থাৎ আমি নির্দেশ দিয়েছি যেন সে হয়ে যায়।
তারা সুলাইমান এবং আবু দারদার উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছে: আমরা দাঁড়াই এবং আল্লাহর রূহ দ্বারা অর্থাৎ তাঁর কালাম (বাণী) দ্বারা তাকবীর পাঠ করি।
রূহ যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন, কিছু স্থানে আল্লাহর কালামও হতে পারে, যেমন আল্লাহর বাণী: {তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তাঁর নির্দেশে রূহ প্রেরণ করেন} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি [তোমার প্রতি] (১) আমার নির্দেশে রূহ ওহী করেছি}।
রূহ আবার দেহের প্রাণও হয়, যা আল্লাহ মৃত্যুর সময় কবজ করেন।
রূহ আবার আল্লাহর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন মহান ফেরেশতা; মহান আল্লাহ বলেন: {যেদিন রূহ ও ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে}।
রূহ হলো রহমত; মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তিনি তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা শক্তিশালী করেছেন}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইখতিলাফ ফিল লাফযি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
أي برحمة كذلك قال المفسرون.
وقال الله تعالى: {فروح وريحان} فمن قرأ بالضم أراد فرحمة ورزق وقال فبقاء ورزق.
والروح: النفخ سمي روحاً لأنه ريح يخرج عن الروح.
فأي شيء جعلت الروح من هذه التأويلات؟
فإذا نفخت: لا يحتمل إلا معنى واحداً قال ذو الرمة وذكر ناراً قدمها:
وقلت له ارفعها إليت وأحيها
… بروحك واقتته لها قيتةً قدرا
يقول أحيي النار بنفخك.
فنحن نؤمن بالنفخ وبالروح ولا نقول كيف. ذلك لأن الواجب علينا أن ننتهي في صفات الله حيث انتهى في صفته أو حيث انتهى رسوله صلى الله عليه وسلم ولا نزيل اللفظ عما تعرفه العرب وتضعه عليه ونمسك عما سوى ذلك.
(الرد على نفاة النظر لوجه الله يوم القيامة)وقالوا في قوله: {وجوهٌ يومئذٍ ناضرة إلى ربها ناظرة} أي منتظرة والعرب تقول نظرتك وانتظرتك بمعنى واحد ومنه قول الله: {انظرونا نقتبس من نوركم} أي انتظرونا.
وقال الحطيئة:
وقد نظرتكم إيناء صادرة
… للخمس طال بها حوزي وتنساسي
أي انتظرتكم.
وما ننكر أن نظرت قد يكون بمعنى انتظرت وأن الناظر قد يكون بمعنى
অর্থাৎ করুণার মাধ্যমে; মুফাসসিরগণ এমনই বলেছেন।
আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য}। সুতরাং যিনি (রূহের ‘রা’ বর্ণে) পেশ দিয়ে পড়েছেন, তিনি এর দ্বারা করুণা ও রিযিক বুঝিয়েছেন, আবার কেউ বলেছেন স্থায়িত্ব ও রিযিক।
আর রূহ: হলো ফুঁক দেওয়া, একে রূহ বলা হয় কারণ এটি এমন এক বায়ু যা প্রাণ থেকে নির্গত হয়।
সুতরাং এই ব্যাখ্যাগুলোর মধ্য থেকে আপনি রূহকে কোন অর্থে গ্রহণ করবেন?
যখন ফুঁক দেওয়ার কথা আসে: তখন এর একটি মাত্র অর্থ ছাড়া আর কোনো সম্ভাবনা থাকে না। যু-রুম্মাহ একটি আগুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন যা তিনি প্রজ্বলিত করেছিলেন:
আমি তাকে বললাম, এটি আমার দিকে তুলে ধরো এবং তোমার ফুঁকের মাধ্যমে একে প্রজ্বলিত করো
… এবং এর জন্য পরিমিত জ্বালানি জোগাড় করো।
তিনি বলছেন, তোমার ফুঁকের মাধ্যমে আগুনকে সজীব করো।
অতএব আমরা ফুঁক দেওয়া এবং রূহের ওপর ঈমান রাখি এবং এর ধরন (কাইফ) বর্ণনা করি না। এটি এই কারণে যে, আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো সেখানেই থেমে যাওয়া যেখানে তিনি নিজের গুণাবলি বর্ণনায় থেমেছেন অথবা যেখানে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেমেছেন। আর আরবরা যে অর্থে শব্দটিকে চেনে এবং যে উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করে, আমরা শব্দটিকে সেই অর্থ থেকে বিচ্যুত করি না এবং এর বাইরে অন্য সব কিছু থেকে বিরত থাকি।
(কিয়ামতের দিন আল্লাহর চেহারা দেখার অস্বীকারকারীদের খণ্ডন)আর তারা আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছে: {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে} অর্থাৎ তারা অপেক্ষা করবে। আর আরবরা বলে ‘আমি তোমার দিকে তাকিয়েছি’ এবং ‘আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি’ একই অর্থে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর বাণী: {তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করো যাতে আমরা তোমাদের আলো থেকে কিছু গ্রহণ করতে পারি} অর্থাৎ তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করো।
আর আল-হুতাইআ বলেছেন:
আর আমি তোমাদের জন্য অপেক্ষা করেছি তৃষ্ণার্ত উটগুলোর পানি পান শেষে ফেরার সময় পর্যন্ত
… দীর্ঘ সময় ধরে আমি তাদের হাঁকিয়েছি এবং তাড়িয়ে নিয়েছি।
অর্থাৎ আমি তোমাদের জন্য অপেক্ষা করেছি।
আর আমরা এটি অস্বীকার করি না যে, ‘তাকানো’ শব্দটি কখনো ‘অপেক্ষা করা’ অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে এবং ‘দর্শনকারী’ শব্দটি কখনো এমন অর্থে হতে পারে যে...