(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: -)
مناقب علي لابن المغازلي   (ابن المغازلي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مناقب أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه

المؤلف: علي بن محمد بن محمد بن الطيب بن أبي يعلى بن الجلابي، أبو الحسن الواسطي المالكي، المعروف بابن المغازلي (ت 483هـ)

المحقق: أبو عبد الرحمن تركي بن عبد الله الوادعي

الناشر: دار الآثار - صنعاء

الطبعة: الأولى 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 483

تنبيه: قال ابن تيمية عن هذا الكتاب في (منهاج السنة): وَأَمَّا نَقْلُ ابْنِ الْمَغَازِلِيِّ الْوَاسِطِيِّ فَأَضْعَفُ وَأَضْعَفُ، فَإِنَّ هَذَا قَدْ جَمَعَ فِي كِتَابِهِ مِنَ الْأَحَادِيثِ الْمَوْضُوعَاتِ مَا لَا يَخْفَى أَنَّهُ كَذِبٌ عَلَى مَنْ لَهُ أَدْنَى مَعْرِفَةٍ بِالْحَدِيثِ

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 صفر 1432

ইবনে আল-মাগাজিলী রচিত আলীর মর্যাদা   (ইবনে আল-মাগাজিলী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা

লেখক: আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-তাইয়্যিব বিন আবি ইয়ালা বিন আল-জাল্লাবি, আবুল হাসান আল-ওয়াসিতি আল-মালিকি, ইবনে আল-মাগাজিলী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪৮৩ হিজরি)

মুহাক্কিক: আবু আব্দুর রহমান তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াদেয়ি

প্রকাশক: দারুল আসার - সানা

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৩

সতর্কতা: ইবনে তাইমিয়া এই কিতাব সম্পর্কে (মিনহাজুস সুন্নাহ)-তে বলেছেন: আর ইবনে আল-মাগাজিলী আল-ওয়াসিতির বর্ণনা তো আরও অধিক দুর্বল; কেননা তিনি তার কিতাবে এমন সব জাল হাদিস একত্রিত করেছেন যা হাদিস সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও মিথ্যা হিসেবে স্পষ্ট।

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, এগিয়ে এসো

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ সফর ১৪৩২

(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: -)
مناقب أمير المؤمنين

علي بن أبي طالب رضي الله عنه

 

للحافظ أبي الحسن علي بن محمد الواسطي

المعروف بابن المغازلي

المتوفى سنة (483 هـ)

 

تحقيق وتعليق

أبي عبد الرحمن تركي بن عبد الله الوادعي

 

دار الآثار

صنعاء

 

الطبعة الأولى

1424 هـ - 2003 م
আমিরুল মুমিনীন-এর মর্যাদা ও গুণাবলি

আলী বিন আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)

 

আল-হাফিজ আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়াসিতি-কৃত

যিনি ইবনুল মাগাজিলি নামে পরিচিত

মৃত্যু (৪৮৩ হিজরি)

 

গবেষণা ও টীকা

আবু আবদুর রহমান তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াদায়ী

 

দারুল আসার

সানা

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: -)
‌‌ابن المغازلي وكتابه

 

قال ابن تيمية عن هذا الكتاب في (منهاج السنة) [ت محمد رشاد سالم 7/ 15]: وَأَمَّا نَقْلُ ابْنِ الْمَغَازِلِيِّ الْوَاسِطِيِّ فَأَضْعَفُ وَأَضْعَفُ، فَإِنَّ هَذَا قَدْ جَمَعَ فِي كِتَابِهِ مِنَ الْأَحَادِيثِ الْمَوْضُوعَاتِ مَا لَا يَخْفَى أَنَّهُ كَذِبٌ عَلَى مَنْ لَهُ أَدْنَى مَعْرِفَةٍ بِالْحَدِيثِ

 

وقال في منهاج السنة -أيضا-: [7/ 62: 63]

وَهَذَا الْمَغَازِلِيُّ لَيْسَ مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ، كَأَبِي نُعَيْمٍ وَأَمْثَالِهِ، وَلَا هُوَ أَيْضًا مِنْ جَامِعِي الْعِلْمِ الَّذِينَ يَذْكُرُونَ مَا غَالِبُهُ حَقٌّ وَبَعْضُهُ بَاطِلٌ ; كَالثَّعْلَبِيِّ وَأَمْثَالِهِ، بَلْ هَذَا لَمْ يَكُنِ الْحَدِيثُ مِنْ صَنْعَتِهِ، فَعَمَدَ إِلَى مَا وَجَدَهُ مِنْ كُتُبِ النَّاسِ مِنْ فَضَائِلِ عَلِيٍّ فَجَمَعَهَا، كَمَا فَعَلَ أَخْطَبُ خُوَارِزْمَ، وَكِلَاهُمَا لَا يَعْرِفُ الْحَدِيثَ، وَكُلٌّ مِنْهُمَا يَرْوِي فِيمَا جَمَعَهُ مِنَ الْأَكَاذِيبِ الْمَوْضُوعَةِ، مَا لَا يَخْفَى أَنَّهُ كَذِبٌ عَلَى أَقَلِّ عُلَمَاءِ النَّقْلِ وَالْحَدِيثِ.

وَلَسْنَا نَعْلَمُ أَنَّ أَحَدُهُمَا يَتَعَمَّدُ الْكَذِبَ فِيمَا يَنْقُلُهُ، لَكِنَّ الَّذِي تَيَقَّنَاهُ أَنَّ الْأَحَادِيثَ الَّتِي يَرْوُونَهَا فِيهَا مَا هُوَ كَذِبٌ كَثِيرٌ بِاتِّفَاقِ أَهْلِ الْعِلْمِ، وَمَا قَدْ كَذَّبَهُ النَّاسُ قَبْلَهُمْ، وَهُمَا - وَأَمْثَالُهُمَا - قَدْ يَرْوُونَ ذَلِكَ وَلَا يَعْلَمُونَ أَنَّهُ كَذِبٌ، وَقَدْ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ كَذِبٌ. فَلَا أَدْرِي هَلْ كَانَا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِأَنَّ هَذَا كَذِبٌ؟ أَوْ كَانَا مِمَّا لَا يَعْلَمَانِ ذَلِكَ؟

 

وقال فيه أيضا [7/ 130]:

فَقَدْ عُرِفَ أَنَّ مُجَرَّدَ رِوَايَةِ ابْنِ الْمَغَازِلِيِّ لَا يَسُوغُ الِاحْتِجَاجُ بِهَا بِاتِّفَاقِ أَهْلِ الْعِلْمِ.

 

وقال [7/ 355]:

لَا سِيَّمَا خَطِيبُ خُوَارَزْمَ، فَإِنَّهُ مِنْ أَرَوَى النَّاسِ لِلْمَكْذُوبَاتِ، وَلَيْسَ هُوَ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ، وَلَا الْمَغَازِلِيُّ

 

وجاء في الوافي بالوفيات [22/ 85]:

وَكَانَ - أي ابْن المغازلي- كثير الْغَلَط قَلِيل الْحِفْظ والمعرفة
ইবনুল মাগাযেলি এবং তাঁর কিতাব

 

ইবনে তাইমিয়্যাহ এই কিতাব সম্পর্কে (মিনহাজুস সুন্নাহ) [মুহাম্মদ রাশাদ সালেম সম্পাদিত ৭/ ১৫] গ্রন্থে বলেছেন: আর ইবনুল মাগাযেলি আল-ওয়াসিতির বর্ণনা তো আরও দুর্বল এবং আরও দুর্বল। কেননা তিনি তাঁর কিতাবে এমন সব জাল হাদিস একত্রিত করেছেন যা হাদিস সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও মিথ্যা হিসেবে গোপন নয়।

 

মিনহাজুস সুন্নাহ-তে তিনি আরও বলেছেন: [৭/ ৬২: ৬৩]

আর এই মাগাযেলি আবু নুয়াইম ও তাঁর ন্যায় ব্যক্তিদের মতো হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত নন। আবার তিনি সেই সব জ্ঞান সংগ্রহকারীদের অন্তর্ভুক্তও নন যারা এমন সব বিষয় উল্লেখ করেন যার অধিকাংশ সত্য এবং কিছু অংশ বাতিল; যেমন ছালাবি এবং তাঁর ন্যায় ব্যক্তিগণ। বরং হাদিস তাঁর পেশা বা বিশেষত্বের বিষয় ছিল না। তিনি মানুষের কিতাবসমূহে আলীর মর্যাদা সম্পর্কে যা কিছু পেয়েছেন তা সংগ্রহ করার সংকল্প করেন, যেমনটি খাওয়ারিজমের খতিব করেছিলেন। তাঁদের উভয়েই হাদিস শাস্ত্র সম্পর্কে অবগত নন। তাঁরা উভয়েই তাঁদের সংগৃহীত বিষয়ে এমন সব জাল মিথ্যা বর্ণনা করেছেন, যা বর্ণনাকারী এবং হাদিস শাস্ত্রের সামান্যতম আলেমদের কাছেও মিথ্যা হিসেবে গোপন নয়।

আমরা জানি না যে তাঁদের কেউ বর্ণনার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেছেন কি না, তবে আমরা যা নিশ্চিত হয়েছি তা হলো—তাঁরা যে সব হাদিস বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে আলেমদের ঐকমত্যে অনেক মিথ্যা রয়েছে, যা তাঁদের পূর্বের লোকেরাও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন। তাঁরা—এবং তাঁদের ন্যায় ব্যক্তিরা—তা বর্ণনা করে থাকেন অথচ জানেন না যে এটি মিথ্যা, আবার কখনও হয়তো জানেনও। সুতরাং আমি জানি না যে তাঁরা কি এই বিষয়ে জ্ঞান রাখতেন যে এটি মিথ্যা? নাকি তাঁরা এমন ছিলেন যারা তা জানতেন না?

 

সেখানে তিনি আরও বলেছেন [৭/ ১৩০]:

নিশ্চয়ই এটি পরিচিত যে, আলেমদের ঐকমত্যে কেবল ইবনুল মাগাযেলির বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করা বৈধ নয়।

 

তিনি বলেছেন [৭/ ৩৫৫]:

বিশেষ করে খাওয়ারিজমের খতিব, কেননা তিনি মিথ্যা বর্ণনাসমূহ বর্ণনাকারী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম, আর তিনি হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত নন এবং মাগাযেলিও নন।

 

আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত [২২/ ৮৫] গ্রন্থে এসেছে:

তিনি—অর্থাৎ ইবনুল মাগাযেলি—অত্যন্ত ভুলকারী এবং সামান্য মুখস্থ শক্তি ও জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ١٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة المصنف

الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، أخبرنا الفقيه الأجل الزاهد بهاء الدين علي بن أحمد بن الحسين الأكوع قراءة عليه وأنا أسمع في جمادى الآخرة من سنة تسعٍ وتسعين وخمسمائة بمسجد المدرسة المنصورية بقرية حوث، قال: أخبرنا علي بن محمد بن حامد الصنعاني اليمني بمكة حرسها الله تعالى في العشر الوسطى من شهر ذي الحجة آخر شهور سنة ثمان وتسعين وخمسمائة مناولةً، قال: أخبرنا أبو الحسن علي بن أبي الفوارس بن أبي نزار ابن الشرفية، قال: أخبرنا الشيخ المعمر صدر الدين المقرئ صدر الجامع بواسط أبو بكر ابن الباقلاني المقرئ والقاضي جمال
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌লেখকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক যাদের তিনি মনোনীত করেছেন। অত্যন্ত মর্যাদাবান ফকীহ ও যাহিদ বাহাউদ্দিন আলি ইবনে আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আল-আকওয়া ৫৯৯ হিজরি সালের জুমাদাল আখিরা মাসে ‘হাওস’ গ্রামের মাদরাসা আল-মানসুরিয়াহর মসজিদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যা তাঁর সামনে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হামিদ আস-সানআনি আল-ইয়ামানি মক্কায়—আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন—৫৯৮ হিজরি সালের শেষ মাস যিলহজ মাসের মধ্যম দশকে হস্তান্তরের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবুল হাসান আলি ইবনে আবি আল-ফাওয়ারিস ইবনে আবি নিযার ইবন আল-শারাফিয়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: দীর্ঘজীবী শায়খ সদরুদ্দিন আল-মুকরি, যিনি ওয়াসিত জামে মসজিদের প্রধান, আবু বকর ইবনুল বাকিল্লানি আল-মুকরি এবং বিচারক জামাল
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
الدين نعمة الله ابن العطار، والقاضي الأجل العدل عز الدين هبة الكريم بن الحسن بن الفرج بن علي بن حبانش رحمه الله، رواه في شهر الله الأصم رجب من سنة إحدى وتسعين وخمسمائة، قال: أخبرنا القاضي الأجل أبو عبد الله محمد بن علي بن محمد بن الطيب الجلابي رحمه الله تعالى قال: أخبرني
দ্বীন নি'মাতুল্লাহ ইবনুল আত্তার এবং অত্যন্ত সম্মানিত ও ন্যায়পরায়ণ বিচারক ইজ্জুদ্দীন হিবাতুল কারীম ইবনুল হাসান ইবনুল ফারজ ইবনে আলী ইবনে হাব্বানিশ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আল্লাহর মাস রজবে, পাঁচশত একানব্বই হিজরি সালে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন অত্যন্ত সম্মানিত বিচারক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুত তৈয়িব আল-জাল্লাবি (আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٢١)
أبي العدل أبو الحسن علي بن محمد بن الجلابي الخطيب المصنف رحمه الله المعروف بابن المغازلي قال: الحمد لله الفاشي في الخلق أمره وحمده، الظاهر بالكرم جوده ومجده، الباسط بالجود يده، الذي لا ينقص بالجود خزائنه، ولا يزيده كثرة العطاء إلا كرماً وجوداً، إنه هو العزيز الوهاب. أحمده حمداً خالداً مع خلوده بجميع محامده كلها على جميع نعمائه كلها، حتى ينتهي الحمد إلى ما يحب ربنا ويرضى.

وصلى الله على سيدنا محمد المصطفى، الصادق الأمين، خاتم النبيين وسيد المرسلين، وصفوة رب العالمين، من الخلق أجمعين، وسلام عليه وعلى أولي العزم من الرسل، والأنبياء والصديقين، والشهداء والصالحين. وعلى علي أمير المؤمنين، وسيد المسلمين، وقائد الغر المحجلين وأبي الغر الميامين، المصابيح المشرقة، والأغصان المورقة، وعلى سيدة النساء فاطمة الزهراء البتول، حبل الله الموصول، ونوره المجبول وسلالة الرسول. وعلى السيدين الإمامين السبطين سيدي شباب أهل الجنة: الحسن والحسين، وعلى الأئمة المهتدين مصابيح الدجى، وأعلام الهدى، وأسماء الله الحسنى، وأمثاله العليا، أركان توحيده، ومشاكي نوره، وخزائن علمه، وأمنائه على خلقه، الذين خلفهم من نوره، وغشاهم بضياء قدسه، وزينهم
আবুল আদল আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-জাল্লাবি আল-খতিব আল-মুসান্নিফ (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি ইবনুল মাগাজিলি নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সৃষ্টিজগতে যাঁর আদেশ ও প্রশংসা পরিব্যাপ্ত, যাঁর দানশীলতা ও মহিমা করুণার দ্বারা প্রকাশিত, যিনি স্বীয় হাত দানশীলতার সাথে প্রসারিত করে রেখেছেন; যাঁর দানশীলতায় তাঁর ভাণ্ডারসমূহ হ্রাস পায় না এবং অধিক দান তাঁর অনুগ্রহ ও দানশীলতাকে কেবল বাড়িয়েই দেয়, নিশ্চয়ই তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাদাতা। আমি তাঁর সকল প্রশংসার মাধ্যমে তাঁর স্থায়িত্বের সাথে চিরস্থায়ী প্রশংসা করছি তাঁর সকল নিআমতের ওপর, যতক্ষণ না এই প্রশংসা আমাদের রব যা পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন সেখানে গিয়ে পৌঁছে।

আর আল্লাহ সালাত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল-মুস্তফার ওপর, যিনি সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত, নবীদের মোহর এবং রাসূলগণের সরদার এবং সমগ্র সৃষ্টির মধ্য থেকে রাব্বুল আলামীনের মনোনীত বান্দা; এবং তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং উলুল আযম রাসূলগণ, নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও নেককার বান্দাদের ওপর। এবং আলী আমীরুল মুমিনীন, মুসলিমদের নেতা, উজ্জ্বল মুখাবয়ব ও হাত-পা বিশিষ্ট জান্নাতীদের অগ্রনায়ক এবং বরকতময় আলোকবর্তিকাদের পিতার ওপর—যারা প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকা এবং পত্রপল্লবিত শাখা স্বরূপ; এবং নারীদের নেত্রী ফাতেমা আয-যাহরা আল-বাতুলের ওপর, যিনি আল্লাহর নিরবচ্ছিন্ন রশি, তাঁর সৃষ্টিগত নূর এবং রাসূলের বংশধর। এবং জান্নাতী যুবকদের দুই সরদার, দুই ইমাম ও দুই নাতি হাসান ও হোসাইনের ওপর, এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণের ওপর—যারা অন্ধকারের প্রদীপ, হিদায়াতের নিশান, আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ ও তাঁর মহান দৃষ্টান্তসমূহ, তাঁর তাওহীদের স্তম্ভ, তাঁর নূরের আধার, তাঁর ইলমের ভাণ্ডার এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর বিশ্বস্ত প্রতিনিধি; যাদেরকে তিনি স্বীয় নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর পবিত্রতার জ্যোতি দ্বারা তাঁদের আচ্ছাদিত করেছেন এবং তাঁদের অলঙ্কৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
ببهائه، الذين قضوا بالحق وبه يعدلون. أما بعد: فإن أولى ما ذخره وكسبه العباد، ما يأملون به النجاة يوم المعاد، وإني رأيت التعلق بمحبة الطاهرين من آل طه وياسين، والتمسك بحبل ولائهم المتين، هو المنهج القويم، والطريق المستقيم، فجمعت في فضائلهم ما انتهت إليه معرفتي، وبلغه جهدي وطاقتي، مما أنزل الله تعالى فيهم من الآيات في السورات، وما جرى على لفظ الرسول من الدلالات، وما ظهر منهم من المعجزات، ما لا يمكن المنصف بعقله إنكاره، والموسوم بصحة المعرفة جحوده، وإن كانت مناقبهم لا يحصيها عد، ولا ينتهي إليها حد، أرجو بذلك النجاة يوم لا ينفع مال ولا بنون، إلا من أتى الله بقلب سليم، خالص في موالاة أهل البيت الطيبين الطاهرين صلوات الله عليهم أجمعين. ولما عرفت خلوص اعتقادك في الولاء لأهل البيت عليهم السلام، أحببت أن أتحفك بهذا الكتاب، وأجعله في خزانتك تقرباً إليك، ورغبة في الزلفى لديك، وأرجو من إنعامك وأياديك التصفح له بعين الارتضاء، والله الموفق للصواب.

তাঁর মহিমায়, যাঁরা সত্যের মাধ্যমে ফয়সালা করেছেন এবং তার আলোকেই ন্যায়বিচার করেন। অতঃপর: বান্দারা যা কিছু সঞ্চয় ও অর্জন করে, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তা যার মাধ্যমে তারা পুনরুত্থান দিবসে মুক্তির আশা করে। আমি লক্ষ্য করেছি যে, তোহা ও ইয়াসিনের বংশজাত পবিত্র ব্যক্তিদের প্রতি ভালোবাসার বন্ধন এবং তাঁদের সুদৃঢ় আনুগত্যের রজ্জু ধারণ করাই হলো সঠিক পন্থা ও সরল পথ। তাই আমি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে আমার জ্ঞান ও সাধ্যানুযায়ী যা সংগ্রহ করতে পেরেছি তা সংকলন করেছি; যার মাঝে রয়েছে আল্লাহ তাআলা পবিত্র সূরাসমূহে তাঁদের সম্পর্কে যেসব আয়াত নাজিল করেছেন, রাসূলের বাণীতে যেসব ইঙ্গিত বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁদের মাধ্যমে যেসব অলৌকিক নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে—যা কোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি তার বুদ্ধি দিয়ে অস্বীকার করতে পারে না এবং সঠিক জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তি তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। যদিও তাঁদের গুণাবলি গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয় এবং এর কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই। আমি এর মাধ্যমে সেই দিন মুক্তি কামনা করি, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে আল্লাহর নিকট পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যে পরিপূর্ণ এক বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। যেহেতু আমি আহলে বাইতের (তাঁদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক) প্রতি আপনার অকৃত্রিম বিশ্বাসের কথা অবগত হয়েছি, তাই আমি এই গ্রন্থটি আপনাকে উপঢৌকন হিসেবে প্রদান করতে এবং আপনার সান্নিধ্য লাভের আশায় আপনার সংগ্রহশালায় এটি অর্পণ করতে পছন্দ করেছি। আমি আপনার বদান্যতা ও অনুগ্রহের নিকট এই প্রত্যাশা রাখি যে, আপনি এটি সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে পাঠ করবেন। আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।

(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌[1] نسب علي عليه السلام

1 - أخبرنا أبو الحسن علي بن عمر بن عبد الله بن شوذب رحمه الله تعالى بقراءتي عليه فأقر به، قلت له: حدثك والدك عمر بن عبد الله بن شوذب الواسطي، قال: حدثنا أبو عبد الله محمد بن الحسين الزعفراني العدل الواسطي قال: حدثنا أحمد بن أبي خيثمة، قال: حدثنا أبي، قال: أخبرنا مصعب بن عبد الله قال: هو علي بن أبي طالب بن عبد المطلب بن هاشم بن عبدمناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن ⦗ص: 24⦘ نزار بن معدٍ بن عدنان، واسم أبي طالب عبدمناف.
‌[১] আলীর (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বংশপরিচয়

১ - আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন আবদুল্লাহ বিন শাওযাব (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। আমি তাঁকে বললাম: আপনার পিতা উমর বিন আবদুল্লাহ বিন শাওযাব আল-ওয়াসিতি আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আজ-জাফরানি আল-আদল আল-ওয়াসিতি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আবি খাইসামা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসআব বিন আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: তিনি হলেন আলী বিন আবি তালিব বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন আন-নাদর বিন কিনানা বিন খুজাইমা বিন মুদরিকা বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ নিযার বিন মা'দ বিন আদনান। আর আবু তালিবের নাম হলো আবদে মানাফ।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌[2] أمه عليها السلام

2 - أخبرنا أبو غالب محمد بن أحمد بن سهل النحوي رحمه الله قال: أخبرنا أبو عبد الله محمد بن علي قال: حدثنا محمد بن الحسين الزعفراني، قال: حدثنا أحمد بن أبي خيثمة، قال: أخبرنا مصعب، قال: أم علي بن ⦗ص: 26⦘ أبي طالب: فاطمة بنت أسد بن هاشم بن عبدمناف بن قصي، وهي أول هاشمية ولدت لهاشمي، وقد أسلمت وهاجرت إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
[২] তাঁর মাতা (আলাইহাস সালাম)

২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সাহল আন-নাহবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আজ-জাফরানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আবি খাইসামা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসআব, তিনি বলেন: আলী ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ আবি তালিবের মাতা হলেন: ফাতিমা বিনতে আসাদ বিন হাশিম বিন আবদু মানাফ বিন কুসাই; তিনি প্রথম হাশেমী নারী যিনি কোনো হাশেমী পুরুষের ঔরসে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি হিজরত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌[3] مولده عليه السلام

3 - أخبرنا أبو طاهر محمد بن علي بن محمد البيع، قال: أخبرنا أبو عبد الله أحمد بن محمد بن عبد الله بن خالد الكاتب، قال: حدثنا أحمد بن جعفر بن محمد بن سلم الختلي قال: حدثني عمر بن أحمد بن روح، حدثني ⦗ص: 27⦘ أبو طاهر يحيى بن الحسن العلوي، قال: حدثني محمد بن سعيد الدارمي حدثنا موسى بن جعفر، عن أبيه، عن محمد بن علي، عن أبيه علي بن الحسين، قال: كنت جالساً مع أبي ونحن زائرون قبر جدنا عليه السلام، وهناك نسوان كثيرة، إذ أقبلت امرأة منهن فقلت لها: من أنت يرحمك الله؟ قالت: أنا زيدة بنت قريبة بن العجلان من بني ساعدة. فقلت لها: فهل عندك شيئاً تحدثينا؟ فقالت: إي والله حدثتني أمي أم العارة بنت عبادة بن نضلة بن مالك بن عجلان الساعدي .. أنها كانت ذات يوم في نساءٍ من العرب إذ أقبل أبو طالب كئيباً حزيناً، فقلت له: ما شأنك يا أبا طالب؟ قال: إن فاطمة بنت أسد في شدة المخاض، ثم وضع يديه على وجهه. فبينا هو كذلك، إذ أقبل محمد صلى الله عليه وسلم فقال له: ((ما شأنك يا عم؟)) فقال: إن فاطمة بنت أسد تشتكي المخاض، فأخذ بيده وجاء وهي معه فجاء بها إلى الكعبة فأجلسها في الكعبة، ثم قال: ((اجلسي على اسم الله!)) قال: فطلقت طلقة فولدت غلاماً مسروراً، نظيفاً، منظفاً لم أر كحسن وجهه، فسماه أبو طالب علياً وحمله النبي صلى الله عليه وسلم حتى أداه إلى منزلها. قال علي بن الحسين عليهم السلام: فوالله ما سمعت بشيء قط إلا وهذا أحسن منه.
[৩] তাঁর (আলাইহিস সালাম) জন্ম

৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ আল-বায়ি’, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন খালিদ আল-কাতিব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন সালাম আল-খুতালি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন আহমদ বিন রাওহ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ আবু তাহের ইয়াহইয়া বিন আল-হাসান আল-আলাওয়ি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আদ-দারিমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন জাফর, তাঁর পিতা থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আলি থেকে, তিনি তাঁর পিতা আলি বিন আল-হুসাইন থেকে। তিনি বলেন: আমি আমার পিতার সাথে বসেছিলাম এবং আমরা আমাদের দাদা (আলাইহিস সালাম)-এর কবর যিয়ারত করছিলাম, সেখানে অনেক নারী উপস্থিত ছিলেন। এমতাবস্থায় তাদের মধ্য থেকে এক নারী এগিয়ে এলেন, তখন আমি তাঁকে বললাম: আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, আপনি কে? তিনি বললেন: আমি বনু সা’ইদা গোত্রের কুরিবা বিন আল-আজলানের কন্যা যায়দাহ। আমি তাঁকে বললাম: আপনার কাছে কি এমন কিছু আছে যা আমাদের শুনাতে পারেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, আমার মা উম্মুল আ’রা বিনতে উবাদাহ বিন নাদলাহ বিন মালিক বিন আজলান আস-সা’ইদি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একদিন আরব নারীদের সাথে ছিলেন, এমতাবস্থায় আবু তালিব বিষণ্ণ ও চিন্তিত মনে এগিয়ে এলেন। আমি তাঁকে বললাম: হে আবু তালিব, আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন: ফাতিমা বিনতে আসাদ তীব্র প্রসব বেদনায় ভুগছেন। এরপর তিনি তাঁর দুই হাত নিজের মুখে রাখলেন। তিনি যখন এই অবস্থায় ছিলেন, তখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এবং তাঁকে বললেন: ((হে চাচা, আপনার কী হয়েছে?)) তিনি বললেন: ফাতিমা বিনতে আসাদ প্রসব যন্ত্রণার অভিযোগ করছেন। তখন তিনি (মুহাম্মদ) তাঁর হাত ধরলেন এবং তিনি তাঁর সাথে আসলেন। তিনি তাঁকে কাবার কাছে নিয়ে আসলেন এবং কাবার ভেতরে বসালেন। এরপর তিনি বললেন: ((আল্লাহর নামে বসুন!)) বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তাঁর প্রসব বেদনা হলো এবং তিনি এক আনন্দিত, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন বালকের জন্ম দিলেন, যার চেহারার সৌন্দর্যের মতো আমি আর কিছু দেখিনি। আবু তালিব তাঁর নাম রাখলেন ‘আলি’ এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে কোলে নিলেন এবং তাঁর ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন। আলি বিন আল-হুসাইন (আলাইহিমুস সালাম) বলেন: আল্লাহর কসম, আমি কখনও এমন কিছু শুনিনি যা এর চেয়ে সুন্দর।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌[4] كنيته عليه السلام له كنيتان: إحداهما أبو الحسن:

4 - أخبرنا أبو بكر أحمد بن محمد بن عبد الوهاب بن طاوان، قال: أخبرنا القاضي أبو الفرج أحمد بن علي بن جعفر بن محمد بن المعلى الخيوطي، قال: سمعت أبا عبد الله محمد بن الحسين بن سعيد الزعفراني العدل، قال: حدثنا أحمد بن أبي خيثمة، قال: سمعت أبي يقول: علي بن أبي طالب: أبو الحسن.
[৪] তাঁর (আলাইহিস সালাম) উপনাম (কুনিয়াত); তাঁর দুটি উপনাম ছিল: তার একটি হলো আবুল হাসান:

৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন তাওয়ান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযী আবু আল-ফারাজ আহমাদ বিন আলী বিন জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুআল্লা আল-খিওতী, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন সাঈদ আজ-জাফরানী আল-আদলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আবি খায়সামাহ, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আলী বিন আবি তালিব: আবুল হাসান।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌[5] والأخرى أبو تراب

5 - أخبرنا أحمد بن محمد بن عبد الوهاب بقراءته علي وأنا أسمع في ⦗ص: 30⦘ ذي الحجة من سنة خمس وثلاثين وأربعمائة قال: أخبرنا أحمد بن علي بن جعفر بن محمد بن المعلى الخيوطي الحافظ، قال: حدثنا أبو عبد الله محمد بن سعيد الزعفراني العدل الواسطي، قال: حدثنا يحيى بن جعفر بن أبي طالب، قال: أخبرنا عبد الرحمن بن حفص، حدثنا عبد الله بن زياد، عن ابن إسحاق، قال: حدثني يزيد بن محمد بن خثيم المحاربي عن محمد بن كعب القرظي عن محمد بن خثيم أبي يزيد عن عمار بن ياسر. قال: كنت أنا وعلي بن أبي طالب عليه السلام رفيقين في غزوة العشيرة، فلما نزلها رسول الله صلى الله عليه وسلم وأقام بها، إذ هناك ناس من بني مدلج يعملون في عين لهم في نخيل، فقال علي عليه السلام: يا أبا اليقظان هل لك في أن تأتي هؤلاء فتنظر كيف يعملون؟ قال: قلت: إن شئت. قال: فجئناهم فنظرنا إلى عملهم ساعة، ثم غشينا النوم، فانطلقت أنا وعلي عليه السلام حتى اضطجعنا في صور من النخل، وفي دقعائها فوالله ما أهبنا إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم يحركنا برجله، وقد تتربنا من تلك الدقعاء التي نمنا فيها، فيومئذٍ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعلي: ((ما لك يا أبا تراب))؟ لما يرى عليه من التراب. ثم قال: ((ألا ⦗ص: 31⦘ أحدثكم بأشقى رجلين))؟ قلنا: بلى يا رسول الله، قال: ((أحيمر ثمود الذي عقر الناقة، والذي يضربك يا علي على هذه))، ووضع يده على قرنه، ((حتى تبتل منه هذه)) وأخذ بلحيته.
[৫] এবং অন্যটি হলো আবু তুরাব

৫ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট তাঁর পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন যা আমি শুনছিলাম ৪৩৫ হিজরীর ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ জিলহজ মাসে; তিনি বলেন: হাফেজ আহমদ বিন আলী বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুয়াল্লা আল-খায়ূতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-জাফরানি আল-আদল আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন জাফর বিন আবি তালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন হাফস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন জিয়াদ ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ বিন মুহাম্মদ বিন খাইসাম আল-মুহারিবি আমার নিকট মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাজি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ বিন খাইসাম আবু ইয়াজিদ থেকে এবং তিনি আম্মার বিন ইয়াসির থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি এবং আলী বিন আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) উশায়রাহ যুদ্ধে সঙ্গী ছিলাম। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে অবতরণ করলেন এবং অবস্থান করলেন, তখন সেখানে বনু মুদলিয গোত্রের কিছু লোক খেজুর বাগানে তাদের একটি ঝরনায় কাজ করছিল। তখন আলী (আলাইহিস সালাম) বললেন: হে আবু ইয়াকজান! আপনি কি তাদের কাছে যাবেন যাতে দেখতে পারেন তারা কীভাবে কাজ করছে? তিনি (আম্মার) বলেন: আমি বললাম: আপনি চাইলে যেতে পারেন। তিনি বলেন: এরপর আমরা তাদের কাছে গেলাম এবং কিছুক্ষণ তাদের কাজ দেখলাম, এরপর আমাদের ঘুম পেয়ে গেল। আমি এবং আলী (আলাইহিস সালাম) চলে গেলাম এবং একটি খেজুর কুঞ্জ ও ধূলিময় মাটিতে শুয়ে পড়লাম। আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পা দিয়ে আমাদের নাড়া দেওয়া ছাড়া আর কিছুতে আমাদের ঘুম ভাঙেনি। আমরা যে মাটিতে ঘুমিয়েছিলাম তার ধুলোয় আমরা ধূলিধূসরিত হয়ে পড়েছিলাম। সেদিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীকে বললেন: ((হে আবু তুরাব, তোমার কী হয়েছে?)) — তাঁর গায়ে ধুলোবালি দেখার কারণে তিনি এটি বলেছিলেন। এরপর তিনি বললেন: ((আমি কি ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ তোমাদের সবচেয়ে হতভাগা দুইজন ব্যক্তি সম্পর্কে বলব না?)) আমরা বললাম: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: ((সামুদ জাতির সেই লালচে লোকটা যে উষ্ট্রীকে হত্যা করেছিল, আর সেই ব্যক্তি যে হে আলী, তোমাকে এখানে আঘাত করবে)) — এবং তিনি তাঁর হাত তাঁর মাথার তালুর ওপর রাখলেন — ((যতক্ষণ না এটি এর দ্বারা সিক্ত হয়)) — এবং তিনি তাঁর দাড়ি ধরলেন।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣١)
6 - قال: وحدثنا يحيى بن أبي طالب قال: أخبرنا محمد بن الصلت، حدثنا يحيى بن العلاء، عن أبي حازم عن سهل بن سعد قال: جاء النبي صلى الله عليه وسلم إلى فاطمة عليها السلام فقال لها: ((أين بعلك وابن عمك؟)) قال: فقالت: يا رسول الله وقع بيني وبينه كلام فخرج مغاضباً، فقال لإنسان: ((ابغ علياً))، قال: هو ذلك في المسجد قال: فأتاه النبي صلى الله عليه وسلم والريح تسفي عليه التراب، فقال: ((قم أبا تراب)). قال: سهل بن سعد، فوالله إن كانت لأحب الأسماء إلى علي عليه السلام.
৬ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুস সালত সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনুল আলা হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হাযেম থেকে, তিনি সাহল ইবনে সা’দ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতিমা আলাইহাস সালামের নিকট আসলেন এবং তাঁকে বললেন: “তোমার স্বামী তথা তোমার চাচাতো ভাই কোথায়?” তিনি বলেন: ফাতিমা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার ও তাঁর মধ্যে কিছু কথা কাটাকাটি হয়েছে, ফলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন: “আলীকে তালাশ করো।” সে বলল: তিনি ওই যে মসজিদে আছেন। তিনি বলেন: অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিকট আসলেন, এমতাবস্থায় যে বাতাস তাঁর ওপর ধূলি উড়াচ্ছিল। তিনি বললেন: “ওঠো, হে আবু তুরাব (ধূলির পিতা)।” সাহল ইবনে সা’দ বলেন: আল্লাহর কসম, এটি আলী আলাইহিস সালামের নিকট তাঁর সবচেয়ে প্রিয় নাম ছিল।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣١)
7 - أخبرني القاضي أبو محمد يوسف بن رباح بن علي بن موسى ⦗ص: 32⦘ الحنفي قال: فيما كتب به إلي بأن أبا بكر أحمد بن محمد بن إسماعيل بن أبي الفرج المهندس المصري أخبرهم بمصر في منزله بالفسطاط سنة أربع وثمانين وثلاثمائة قال: حدثني أبو بشر محمد بن أحمد بن حماد الأنصاري الدولابي بمصر -لفظاً- سنة تسع وثلاثمائة قال: حدثني أبو موسى يونس بن عبد الأعلى قال: حدثني سعيد بن منصور قال: حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن الزهري قال: حدثني أبو حازم عن سهل بن سعد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل على فاطمة عليها السلام فقال لها: ((أين ابن عمك؟)) قالت: كان بيني وبينه كلام، فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا هو نائم في ظل جدار المسجد قد سقط تراب عليه، فجعل النبي صلى الله عليه وسلم ينفض التراب عن جسده ويقول له: ((قم يا أبا تراب)). ثم قال سهل: فما كان اسم أحب إلى علي عليه السلام أن يدعى به من أبي تراب.
৭ - বিচারক আবু মুহাম্মদ ইউসুফ ইবনে রাবাহ ইবনে আলী ইবনে মুসা ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ আল-হানাফী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: তিনি আমাকে যা লিখেছেন তাতে রয়েছে যে, আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে আবিল ফারাজ আল-মুহান্দিস আল-মিসরী মিসরের ফুস্তাতে তাঁর নিজ বাসভবনে তিনশত চুরাশি হিজরি সনে তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বিশর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্মাদ আল-আনসারী আদ-দুলাবী মিসরে—মৌখিকভাবে—তিনশত নয় হিজরি সনে আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুসা ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে মানসুর আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব ইবনে আবদির রহমান আজ-জুহরী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হাজিম আমার নিকট সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা আলাইহাস সালামের নিকট আসলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: ((তোমার চাচাতো ভাই কোথায়?)) তিনি বললেন: আমার ও তাঁর মধ্যে কিছু কথা হয়েছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং দেখলেন তিনি (আলী) মসজিদের দেয়ালের ছায়ায় ঘুমাচ্ছেন এবং তাঁর ওপর মাটি পড়ে আছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শরীর থেকে মাটি ঝাড়তে লাগলেন এবং তাঁকে বলতে লাগলেন: ((ওঠো, হে আবু তুরাব))। এরপর সাহল বলেন: আলীর (আলাইহিস সালাম) নিকট আবু তুরাব অপেক্ষা অধিক প্রিয় আর কোনো নাম ছিল না যা দিয়ে তাঁকে ডাকা হতো।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌[6] تاريخ البيعة، وقعة الجمل وصفين، ووفاته

8 - أخبرنا أحمد بن محمد قال: أخبرنا أحمد بن علي بن جعفر قال: حدثنا محمد بن الحسين قال: حدثنا أحمد بن أبي خيثمة قال: حدثنا أحمد بن حنبل قال: بويع لعلي عليه السلام سنة خمس وثلاثين، وكانت وقعة الجمل سنة ست وثلاثين، ثم كانت صفين في ربيع الآخر سنة سبع وثلاثين، ثم قتل علي عليه السلام في شهر رمضان يوم الجمعة لسبع عشرة ليلة من رمضان سنة أربعين.
[৬] বায়আতের ইতিহাস, জামাল ও সিফফিনের যুদ্ধ এবং তাঁর মৃত্যু

৮ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আলী বিন জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আবি খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: পঁয়ত্রিশ হিজরিতে আলী (আলাইহিস সালাম)-এর অনুকূলে বায়আত সম্পন্ন হয়, ছত্রিশ হিজরিতে জামাল (উষ্ট্র) এর যুদ্ধ সংঘটিত হয়, অতঃপর সাইত্রিশ হিজরির রবিউস সানি মাসে সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, এরপর আলী (আলাইহিস সালাম) চল্লিশ হিজরির রমজান মাসের সতেরো তারিখ শুক্রবার শাহাদাত বরণ করেন।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
9 - أخبرنا محمد بن أحمد بن سهل النحوي رحمه الله قال: حدثنا محمد بن علي السقطي قال: حدثنا محمد بن الحسين الزعفراني قال: حدثنا أحمد بن أبي خيثمة قال: حدثنا أبي قال: حدثنا وهب بن جرير قال: قتل علي عليه السلام لسبع عشرة ليلة خلت من شهر رمضان سنة أربعين، واختلف في سنه لما قتل عليه السلام كم هو.
৯ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সাহল আন-নাহবী (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আলী আস-সাকাতী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আজ-জা’ফরানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আবী খায়সামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াহাব বিন জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: চল্লিশ হিজরি সনের রমজান মাসের সতেরো রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর আলী (আলাইহিস সালাম) নিহত হন এবং যখন তিনি (আলাইহিস সালাম) নিহত হন, তখন তাঁর বয়স কত ছিল সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
10 - وأخبرنا محمد بن علي السقطي قال: حدثنا محمد بن الحسين قال: حدثنا أحمد بن أبي خيثمة قال: سمعت مصعب بن عبد الله يقول: كان الحسين بن علي عليهما السلام يقول: قتل أبي وهو ابن ثمان وخمسين سنة.
১০ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আলী আস-সাকতি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আবি খাইসামাহ, তিনি বলেন: আমি মুসআব বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হুসাইন বিন আলী (তাঁদের উভয়ের উপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলতেন: আমার পিতা নিহত হয়েছেন যখন তাঁর বয়স ছিল আটান্ন বছর।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
11 - وأخبرنا أبو طاهر محمد بن علي بن محمد البيع البغدادي -قدم علينا واسط- قال: حدثنا أبو عبد الله أحمد بن محمد بن عبد الله بن خالد الكاتب قال: أخبرنا أحمد بن جعفر بن سلم الختلي قال: حدثنا عمر بن أحمد بن روح قال: حدثنا عبد العزيز بن أحمد بن سالم قال: حدثنا موسى بن بهلول قال: حدثنا يزيد بن هارون قال: حدثنا محمد بن إسحاق قال: قتل علي عليه السلام وهو ابن ستين سنة.
১১ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-বায়ি আল-বাগদাদী -তিনি আমাদের নিকট ওয়াসিতে এসেছিলেন- তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ আল-কাতিব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন জাফর বিন সালাম আল-খুতাল্লী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উমর বিন আহমদ বিন রাওহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন আহমদ বিন সালিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুসা বিন বাহলুল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন হারুন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, তিনি বলেন: আলী আলাইহিস সালাম যখন নিহত হন, তখন তাঁর বয়স ছিল ষাট বছর।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
12 - أخبرنا محمد بن علي بن محمد بن عبد الله البيع قال: أخبرنا ⦗ص: 35⦘ أحمد بن محمد قال: أخبرنا أحمد بن جعفر قال: حدثنا عمر بن روح قال: حدثنا محمد بن إدريس المكي قال: حدثنا سليمان بن حرب قال: قال الواقدي: قتل علي عليه السلام وهو ابن أربع وستين سنة.
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বায়্যি‘, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ আহমদ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন জাফর, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন রুহ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আল-মাক্কি, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন হারব, তিনি বলেছেন: আল-ওয়াকিদি বলেছেন: আলি আলাইহিস সালাম নিহত হয়েছেন যখন তাঁর বয়স ছিল চৌষট্টি বছর।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
13 - قال حدثنا محمد بن إدريس المكي قال: حدثنا ابن خشاب عن أبي عونه قال: قتل علي عليه السلام وهو ابن سبع وخمسين سنة قال قتادة: وكان علي عليه السلام آدم، شديد الأدمة، عظيم البطن، عظيم العينين، أصلع، إلى القصر. وقال يزيد بن هارون عن محمد بن إسحاق: ذكر عن الحارث أن علياً عليه السلام قتل وهو ابن ثمان وخمسين سنة.
১৩ - তিনি বলেন, মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস আল-মাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল খাশশাব আবু আওনাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী আলাইহিস সালাম যখন নিহত হন তখন তাঁর বয়স ছিল সাতান্ন বছর। কাতাদাহ বলেন: আলী আলাইহিস সালাম ছিলেন শ্যামবর্ণের, অত্যন্ত গাঢ় শ্যামল বর্ণের, বড় উদর ও বড় চক্ষু বিশিষ্ট এবং টেকো; তিনি কিছুটা খাটো আকৃতির ছিলেন। ইয়াযিদ বিন হারুন মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন: আল-হারিস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী আলাইহিস সালাম যখন নিহত হন তখন তাঁর বয়স ছিল আটান্ন বছর।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
14 - وبالإسناد الأول قال: حدثنا أحمد بن أبي خيثمة قال: حدثنا ⦗ص: 36⦘ أبو عمر إسماعيل بن إبراهيم، حدثنا سفيان بن عيينة عن جعفر بن محمد عليهما السلام أن علياً عليه السلام قتل وهو ابن سبع وخمسين سنة.
১৪ - এবং প্রথম সনদ অনুযায়ী তিনি বলেন: আহমাদ ইবন আবি খাইসামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ আবু উমর ইসমাঈল ইবন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবন উইয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবন মুহাম্মদ (তাঁদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে যে, নিশ্চয়ই আলি (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সাতান্ন বছর বয়সে নিহত হন।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
‌‌[7] قول الحسن عليه السلام فيه لما قتل

15 - أخبرنا أبو الحسن علي بن عمر بن عبد الله بن شوذب قال: ⦗ص: 37⦘ حدثني أبو أحمد عمر بن عبد الله بن شوذب قال: حدثنا أبو عبد الله محمد بن الحسين بن سعيد الزعفراني العدل قال: حدثنا أحمد بن أبي خيثمة حدثنا موسى بن إسماعيل قال: حدثنا سكين بن عبد العزيز العطار، حدثنا حفص بن خالد عن أبيه خالد بن جابر عن جده قال: لما قتل علي عليه السلام قام الحسن خطيباً فحمد الله وأثنى عليه، ثم قال: أما والله لقد قتلتم الليلة رجلاً في ليلة نزل فيها القرآن، وفيها رفع عيسى ابن مريم، وفيها قتل يوشع بن نون. وطعن لأحد وعشرين ليلة خلت من شهر رمضان ليلته التاسعة.
[৭] আলী আলাইহিস সালাম যখন শহীদ হলেন তখন তাঁর সম্পর্কে হাসান আলাইহিস সালামের বক্তব্য

১৫ - আবু আল-হাসান আলী বিন উমর বিন আব্দুল্লাহ বিন শাউযাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ আবু আহমাদ উমর বিন আব্দুল্লাহ বিন শাউযাব আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন সাঈদ আজ-জাফরানি আল-আদল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আবি খাইসামা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুসা বিন ইসমাঈল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুকাইন বিন আব্দুল আজিজ আল-আত্তার আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, হাফস বিন খালিদ তাঁর পিতা খালিদ বিন জাবির থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আলী আলাইহিস সালাম শহীদ হলেন, হাসান খুতবা দিতে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, তারপর বললেন: সাবধান! আল্লাহর কসম, আজ রাতে তোমরা এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছ, যে রাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল, যে রাতে ঈসা ইবনে মারিয়ামকে উপরে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং যে রাতে ইউশা বিন নুন নিহত হয়েছিলেন। রমজান মাসের একুশ রাত অতিবাহিত হওয়ার সময় তাঁকে আঘাত করা হয়েছিল, যা ছিল তাঁর ঊনবিংশতম রাত।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣٧)
16 - أخبرنا الحسن بن موسى قال: أخبرنا أبو الحسن أحمد بن محمد ⦗ص: 38⦘ قال: حدثنا أحمد بن عقدة الحافظ، حدثنا يعقوب بن يوسف، حدثنا إسماعيل بن أبان، حدثنا إسماعيل بن أبي خالد عن أبي خالد عن أبي إسحاق عن هبيرة بن يريم قال: سمعت الحسن بن علي عليهما السلام قام خطيباً فخطب إلينا فقال: أيها الناس إنه قد فارقكم أمس رجل ما سبقه الأولون، ولا يدركه الآخرون، ولقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يبعثه المبعث فيعطيه الراية، فما يرجع حتى يفتح الله عز وجل عليه، وإن جبريل عليه السلام عن يمينه وميكائيل عن شماله، ما ترك بيضاء، ولا صفراء إلا سبعمائة درهم فضلت من عطائه أراد أن يشتري بها خادماً.
১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন মুসা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফেজ আহমদ বিন উকদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন ইউসুফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আবান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আবি খালিদ, তিনি আবু খালিদ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি হুবাইরা বিন ইয়ারিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি হাসান বিন আলী (তাদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-কে খতিব হিসেবে দাঁড়িয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে শুনেছি, তিনি বলেন: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই গতকাল তোমাদের নিকট থেকে এমন এক ব্যক্তি বিদায় নিয়েছেন যাকে পূর্ববর্তীগণ ছাড়িয়ে যেতে পারেননি এবং পরবর্তীগণও তাঁর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে কোনো অভিযানে পাঠানোর সময় তাঁর হাতে পতাকা তুলে দিতেন; আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর মাধ্যমে বিজয় দান না করা পর্যন্ত তিনি ফিরে আসতেন না। জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) তাঁর ডান পাশে এবং মিকাইল (আলাইহিস সালাম) তাঁর বাম পাশে থাকতেন। তিনি কোনো রূপা বা সোনা রেখে যাননি, কেবল সাতশত দিরহাম ব্যতীত যা তাঁর ভাতা থেকে অবশিষ্ট ছিল এবং তা দিয়ে তিনি একজন সেবক ক্রয় করতে চেয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
‌‌[8] ما جاء في إسلامه عليه السلام

17 - أخبرنا أبو طالب محمد بن أحمد بن عثمان بن فرج بن الأزهر ⦗ص: 39⦘ البغدادي رحمه الله -قدم علينا واسط- قال: أخبرنا أبو الحسن علي بن محمد بن عرفة بن لؤلؤ قال: حدثنا عمر بن أحمد الباقلاني قال: حدثنا محمد بن خلف الحدادي قال: حدثنا عبد الرحمن بن قيس أبو معاوية قال: حدثنا عمرو بن ثابت عن يزيد بن أبي زياد عن عبد الرحمن بن سعد مولى أبي أيوب الأنصاري عن أبي أيوب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((صلت الملائكة علي وعلى علي سبع سنين، وذلك أنه لم يصل معي أحد غيره)).
[৮] তাঁর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)

১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তালিব মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন ফারাজ বিন আল-আযহার ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ আল-বাগদাদী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) - তিনি আমাদের নিকট ওয়াসিত শহরে এসেছিলেন - তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আরাফাহ বিন লু’লু’, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর বিন আহমাদ আল-বাকিল্লানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন খালাফ আল-হাদ্দাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন কায়স আবু মুয়াবিয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন সাবিত, তিনি ইয়াযিদ বিন আবি যিয়াদ থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারির মাওলা আব্দুর রহমান বিন সাদ থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: ((ফেরেশতাগণ আমার ওপর এবং আলীর ওপর সাত বছর যাবত সালাত পাঠ করেছেন; আর তা এজন্য যে, তখন তিনি ব্যতীত আমার সাথে আর কেউ সালাত আদায় করত না))।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
18 - أخبرنا أحمد بن محمد بن طاوان قال: حدثنا أحمد بن علي بن ⦗ص: 40⦘ جعفر قال: حدثنا محمد بن الحسين الزعفراني قال: حدثنا أحمد بن أبي خثيمة قال: حدثنا علي بن الجعد قال: أخبرنا شعبة قال: أخبرني عمرو بن مرة قال: سمعت أبا حمزة الأنصاري قال: سمعت زيد بن أرقم يقول: أول من صلى مع رسول الله صلى الله عليه وسلم علي بن أبي طالب عليه السلام.
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন তাওয়ান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন আলী ইবন ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ জাফর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আজ-জাফরানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন আবি খাইসামা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল জাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবন মুররাহ, তিনি বলেন: আমি আবু হামজাহ আল-আনসারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি যায়েদ ইবন আরকামকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সর্বপ্রথম যিনি সালাত আদায় করেছেন তিনি হলেন আলী ইবন আবি তালিব আলাইহিস সালাম।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٤٠)
19 - أخبرنا أبو القاسم عبد الواحد بن علي بن العباس البزار قال: حدثنا أبو القاسم عبيد الله بن محمد بن أحمد بن أسد البزار إملاءً، قال: حدثنا محمد أبو مقاتل، حدثنا الحسن بن أحمد بن منصور قال: حدثنا سهل بن صالح المروزي قال: سمعت أبا معمر عباد بن عبد الصمد يقول: سمعت أنس بن مالك يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((صلت الملائكة علي ⦗ص: 41⦘ وعلى علي سبعاً، وذلك أنه لم يرفع إلى السماء شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، إلا مني ومنه)).
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসেম আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলি বিন আল-আব্বাস আল-বায্যার, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসেম উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আসাদ আল-বায্যার শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ আবু মুকাতিল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আহমাদ বিন মানসুর, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাহল বিন সালিহ আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন: আমি আবু মা’মার আব্বাদ বিন আব্দুস সামাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((ফেরেশতারা আমার ওপর ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ এবং আলীর ওপর সাতবার দরুদ পাঠ করেছেন; আর তা এ কারণে যে, আকাশ পানে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল’—এই সাক্ষ্যটি কেবল আমার এবং তাঁর পক্ষ থেকেই উত্তোলিত হয়েছিল))।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٤١)
20 - أخبرنا أبو محمد الحسن بن أحمد بن موسى قال: حدثنا أبو أحمد عبيد الله بن محمد بن أحمد بن أبي مسلم الفرضي قال: حدثنا يوسف بن يعقوب بن إسحاق بن البهلول الأزرق حدثني جدي، حدثنا عبيد الله عن سفيان وشعبة عن سلمة بن كهيل عن حبة عن علي عليه السلام قال: أنا أول من أسلم.
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ হাসান ইবন আহমাদ ইবন মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ উবায়দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আবি মুসলিম আল-ফারাদি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবন ইয়াকুব ইবন ইসহাক ইবন আল-বাহলুল আল-আযরাক, তিনি বলেন: আমার দাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ও শুবা থেকে, তারা সালামাহ ইবন কুহাইল থেকে, তিনি হাব্বাহ থেকে, আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমিই প্রথম ব্যক্তি যে ইসলাম গ্রহণ করেছে।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٤١)
21 - أخبرنا القاضي أبو الخطاب عبد الرحمن بن عبد الله الإسكافي قال: أخبرنا عبد الله بن يحيى قال: حدثنا الحسين بن محمد المحاملي، حدثنا محمد بن عثمان، حدثنا عبيد الله عن سفيان وشعبة عن سلمة بن كهيل عن حبة عن علي عليه السلام قال: أنا أول من أسلم.
২১ - আল-কাজী আবু আল-খাত্তাব আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আল-ইস্কাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-মাহামিলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট সুফিয়ান ও শু’বাহ থেকে, তিনি সালামা বিন কুহাইল থেকে, তিনি হাব্বাহ থেকে, তিনি আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমিই প্রথম ব্যক্তি যে ইসলাম গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٤٢)
22 - أخبرنا أحمد بن موسى بن الطحان إجازة عن القاضي أبي ⦗ص: 43⦘ الفرج الخيوطي، حدثنا ابن عبادة، حدثنا جعفر بن محمد الخليدي، حدثنا عبد السلام بن صالح، حدثنا عبد الرزاق عن الثوري عن سلمة بن كهيل عن أبي صادق عن عليم بن قيعن الكندي عن سلمان رحمه الله قال: قال ⦗ص: 44⦘ رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((أول الناس وروداً على الحوض أولهم إسلاماً: علي بن أبي طالب عليه السلام).
২২ - আহমাদ ইবন মুসা ইবনুত তাহহান আমাদের ইজাজাহ সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন কাযী আবুল ⦗পৃ: ৪৩⦘ ফারাজ আল-খায়ূতী থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন উবাদাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবন মুহাম্মদ আল-খুলয়দী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সালাম ইবন সালিহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি সওরী থেকে, তিনি সালামাহ ইবন কুহাইল থেকে, তিনি আবু সাদিক থেকে, তিনি আলীম ইবন কায়আন আল-কিন্দী থেকে, আর তিনি সালমান (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃ: ৪৪⦘ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((হাউজের নিকট লোকেদের মধ্যে সর্বপ্রথম উপস্থিত হবে তাদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী ব্যক্তি: তিনি হলেন আলী ইবন আবী তালিব আলাইহিস সালাম))।
(খণ্ড: ১) মানাকিব আলি লি-ইবনিল মাগাযিলী (পৃষ্ঠা: ٤٤)
‌‌[9] قوله صلى الله عليه وسلم: ((من كنت مولاه فعلي مولاه))

23 - أخبرنا أبو يعلى علي بن عبيد الله بن العلاف البزار إذناً قال: أخبرنا عبد السلام بن عبد الملك بن حبيب البزار قال: أخبرنا عبد الله بن محمد بن عثمان قال: حدثنا محمد بن بكر بن عبد الرازق، حدثنا أبو حاتم مغيرة بن محمد المهلبي قال: حدثني مسلم بن إبراهيم، حدثنا نوح بن قيس الحداني، حدثنا الوليد بن صالح عن امرأة زيد بن أرقم قالت: أقبل نبي الله من مكة في حجة الوداع حتى نزل صلى الله عليه وسلم بغدير الجحفة بين مكة والمدينة، فأمر بالدوحات فقم ما تحتهن من شوك ثم نادى: الصلاة جامعة! ⦗ص: 45⦘ فخرجنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في يوم شديد الحر، وإن منا لمن يضع رداءه على رأسه وبعضه على قدميه من شدة الرمضاء، حتى انتهينا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى بنا الظهر ثم انصرف إلينا فقال: ((الحمد لله نحمده ونستعينه، ونؤمن به ونتوكل عليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، الذي لا هادي لمن أضل، ولا مضل لمن هدى، وأشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله. أما بعد: أيها الناس! فإنه لم يكن لنبي من العمر إلا نصف من عمر من قبله، وإن عيسى بن مريم لبث في قومه أربعين سنة وإني قد أسرعت في العشرين وإني يوشك أن أفارقكم، ألا وإني مسئول وأنتم مسئولون فهل بلغت فماذا أنتم قائلون؟))، فقام من كل ناحية من القوم مجيب يقولون: نشهد أنك عبد الله ورسوله، قد بلغت رسالته، وجاهدت في سبيله، وصدعت بأمره، وعبدته حتى أتاك اليقين، جزاك الله عنا خير ما جزى نبيناً عن أمته. فقال: ((ألستم تشهدون أن لا إله إلا الله لا شريك له، وأن محمداً عبده ورسوله، وأن الجنة حق، وأن النار حق، وتؤمنون بالكتاب كله؟)) قالوا: بلى. قال: ((فإني أشهد أن قد صدقتكم، وصدقتموني، ألا وإني فرطكم، وإنكم تبعي، توشكون أن تردوا علي الحوض، فأسألكم حين تلقونني عن ثقلي، كيف خلفتموني فيهما))، قال: فأعيل علينا ما ندري ما الثقلان، حتى قام رجل من المهاجرين وقال: بأبي وأمي أنت يا نبي الله ما الثقلان؟ قال صلى الله عليه وسلم: ((الأكبر منهما كتاب الله تعالى: سبب، طرف بيد الله وطرف ⦗ص: 46⦘ بأيديكم، فتمسكوا به ولا تضلوا. والأصغر منهما عترتي، من استقبل قبلتي وأجاب دعوتي! فلا تقتلوهم ولا تقهروهم ولا تقصروا عنهم. فإني قد سألت لهم اللطيف الخبير فأعطاني، ناصرهما لي ناصر، وخاذلهما لي خاذل، ووليهما لي ولي، وعدوهما لي عدو. ألا وإنها لم تهلك أمة قبلكم حتى تتدين بأهوائها، وتظاهر على نبوتها، وتقتل من قام بالقسط)). ثم أخذ بيد علي بن أبي طالب عليه السلام فرفعها، ثم قال: ((من كنت مولاه فهذا مولاه، ومن كنت وليه فهذا وليه اللهم وال من والاه، وعاد من عاداه)). قالها ثلاثاً. هذا آخر الخطبة.
‌‌[৯] তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: ((আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা))

২৩ - আবু ইয়ালা আলী বিন উবায়দুল্লাহ বিন আল-আল্লাফ আল-বাযযার আমাদের অনুমতিসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুস সালাম বিন আব্দুল মালিক বিন হাবিব আল-বাযযার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন বকর বিন আব্দুল রাযযাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু হাতিম মুগীরা বিন মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুসলিম বিন ইব্রাহিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, নূহ বিন কায়েস আল-হাদ্দানী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ওয়ালীদ বিন সালিহ যায়েদ বিন আরকাম-এর স্ত্রীর সূত্রে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর নবী বিদায় হজ শেষে মক্কা থেকে আসলেন এবং মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী জুহফার 'গাদীর' নামক স্থানে অবতরণ করলেন। সেখানে তিনি বড় গাছগুলোর (নিচে একত্রিত হওয়ার) নির্দেশ দিলেন। অতঃপর সেগুলোর নিচের কাঁটা পরিষ্কার করা হলো। তারপর তিনি ঘোষণা করলেন: নামাজ সমবেতভাবে অনুষ্ঠিত হবে! ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ প্রচণ্ড গরমের দিনে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে বেরিয়ে আসলাম। বালুর প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তার চাদরের একাংশ মাথায় এবং একাংশ তার পায়ের ওপর রাখছিল। শেষে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলাম। তিনি আমাদের নিয়ে যোহরের নামাজ আদায় করলেন, অতঃপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন: ((সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাঁর প্রতি ঈমান আনি ও তাঁর ওপর ভরসা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের কর্মের মন্দ দিক থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোন পথপ্রদর্শক নেই, আর তিনি যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই কোন নবীর বয়সই তার পূর্ববর্তী নবীর বয়সের অর্ধেকের বেশি হয়নি। ঈসা ইবনে মারয়াম তাঁর কওমের মধ্যে চল্লিশ বছর অবস্থান করেছিলেন, আর আমি বিশ বছরের মধ্যেই (আমার কাজ শেষে) দ্রুত অগ্রসর হচ্ছি এবং শীঘ্রই আমি তোমাদের থেকে বিদায় নেব। জেনে রেখো, আমি জিজ্ঞাসিত হব এবং তোমরাও জিজ্ঞাসিত হবে। আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? তোমরা কী বলবে?))। তখন কওমের সকল দিক থেকে উত্তর প্রদানকারীরা দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁর পথে জিহাদ করেছেন, তাঁর নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং তাঁর ইবাদত করেছেন যতক্ষণ না আপনার কাছে মৃত্যু এসেছে। আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে আপনাকে এমন সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন যা তিনি একজন নবীকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে দান করেন। তখন তিনি বললেন: ((তোমরা কি সাক্ষ্য দাও না যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য এবং তোমরা কি সমগ্র কিতাবের প্রতি ঈমান রাখো?)) তারা বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: ((আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি তোমাদের সত্য প্রতিপন্ন করেছি এবং তোমরাও আমাকে সত্য প্রতিপন্ন করেছ। জেনে রেখো, আমি তোমাদের অগ্রগামী (হাওযে কাউসারে) এবং তোমরা আমার অনুগামী। অচিরেই তোমরা হাওযের কিনারে আমার কাছে আসবে। যখন তোমরা আমার সাথে মিলিত হবে, তখন আমি তোমাদের আমার রেখে যাওয়া অতি মূল্যবান দুটি বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব, আমার পরে তোমরা তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছ))। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লাম এবং আমরা বুঝতে পারছিলাম না যে সেই মূল্যবান বস্তু দুটি কী। তখন মুহাজিরদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক হে আল্লাহর নবী, সেই মূল্যবান বস্তু দুটি কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((তাদের মধ্যে বড়টি হলো মহান আল্লাহর কিতাব; এটি একটি রশি, যার এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে এবং অপর প্রান্ত ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ তোমাদের হাতে। সুতরাং তোমরা এটি আঁকড়ে ধরো এবং পথভ্রষ্ট হয়ো না। আর তাদের মধ্যে ছোটটি হলো আমার বংশধর; যারা আমার কিবলামুখী হয় এবং আমার আহবানে সাড়া দেয়! তোমরা তাদের হত্যা করো না, তাদের ওপর চড়াও হয়ো না এবং তাদের ব্যাপারে অবহেলা করো না। আমি তাদের জন্য সুক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি এবং তিনি আমাকে তা দান করেছেন। তাদের উভয়ের সাহায্যকারী মূলত আমারই সাহায্যকারী, তাদের লাঞ্ছনাকারী মূলত আমারই লাঞ্ছনাকারী, তাদের বন্ধু আমারই বন্ধু এবং তাদের শত্রু আমারই শত্রু। জেনে রেখো, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতসমূহ ধ্বংস হয়নি যতক্ষণ না তারা তাদের খেয়াল-খুশিকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছিল, তাদের নবুওয়াতের বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য করেছিল এবং যারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল তাদের হত্যা করেছিল))। অতঃপর তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর হাত ধরলেন এবং তা উঁচিয়ে ধরলেন, তারপর বললেন: ((আমি যার মাওলা, এই আলীও তার মাওলা। আমি যার বন্ধু, এই আলীও তার বন্ধু। হে আল্লাহ! যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, আপনিও তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন; আর যে তার সাথে শত্রুতা করে, আপনিও তার সাথে শত্রুতা করুন))। তিনি কথাটি তিনবার বললেন। এটিই ছিল খুতবার শেষ অংশ।