(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: -)
الرد على من يقول الم حرف لابن منده   (ابن منده عبد الرحمن بن محمد)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الرد على من يقول الم حرف لينفي الألف والام والميم عن كلام الله عز وجل

المؤلف: عبد الرحمن بن محمد بن إسحاق، ابن مندة العبدي الأصبهاني، أبو القاسم (ت 470 هـ)

تحقيق: عبد الله بن يوسف الجديع

الناشر: دار العاصمة - الرياض

الطبعة: الأولى - 1409 هـ

عدد الصفحات: 82

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

যারা আলিফ-লাম-মীমকে একটি অক্ষর বলে তাদের খণ্ডন - ইবনে মানদাহ   (ইবনে মানদাহ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: মহান আল্লাহর বাণী থেকে আলিফ, লাম ও মীমকে অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে যারা আলিফ-লাম-মীমকে একটি অক্ষর বলে, তাদের খণ্ডন

লেখক: আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক، ইবনে মানদাহ আল-আবদি আল-আসবাহানি، আবু আল-কাসিম (মৃত্যু ৪৭০ হিজরি)

তাহকিক: আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুদাঈ

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম - ১৪০৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খাইর আকবিল

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: -)
أجزاء حديثية (4)

 

الرد على من يقول الم حرف

لينفي الألف والام والميم عن كلام الله عز وجل

 

تصنيف

الإمام الحافظ أبي القاسم عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إسحاق بن منده الأصبهاني

رحمه الله

383 - 470 هـ

 

تحقيق

عبد الله بن يوسف الجديع

 

دار العاصمة

الرياض

 

الطبعة الأولى

1409 هـ
হাদিস বিষয়ক সংকলন (৪)

 

তাঁর খণ্ডন যিনি বলেন ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি হরফ

যেন এর মাধ্যমে তিনি মহান আল্লাহর কালাম থেকে আলিফ, লাম এবং মীম-কে অস্বীকার করতে পারেন

 

গ্রন্থনায়

ইমাম হাফেজ আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মান্দাহ আল-আসবাহানি

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন

৩৮৩ - ৪৭০ হিজরি

 

সম্পাদনা ও যাচাই

আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুদাই

 

দারুল আসিমাহ

রিয়াদ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪০৯ হিজরি
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌كتاب

الرد على من يقول (الم) حرف

لينفي الألف واللام والميم عن كلام الله عز وجل

تصنيف

الشيخ الحافظ أبي القاسم عبد الرحمن بن أبي عبد الله محمد

[إسحاق بن محمد] بن يحيى ابن منده الحافظ

رحمه الله

رواية ابن أخيه أبي زكريا يحيى بن عبد الوهاب عنه

رواية الشيخ أبي بكر عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أحمد بن النقور عنه
‌‌কিতাব

যারা বলে (আলিফ-লাম-মীম) একটি বর্ণ, তাদের খণ্ডন

যাতে সে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কালাম থেকে আলিফ, লাম এবং মীমকে অস্বীকার করতে পারে

রচনা

শায়খ হাফিজ আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন আবি আবদুল্লাহ মুহাম্মদ

[ইসহাক বিন মুহাম্মদ] বিন ইয়াহইয়া ইবনে মান্দাহ আল-হাফিজ

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন

তাঁর থেকে তাঁর ভাতিজা আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাবের বর্ণনা

তাঁর থেকে শায়খ আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-নাক্কুরের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر

قرئ على شيخنا وسيدنا الإمام العالم موفق الدين أبي محمد عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة بن نصر بن مقدام المقدسي الفقيه الحنبلي وأنا أسمع بجامع دمشق قيل له أخبركم الشيخ الثقة أبو بكر عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أحمد بن النقور البزاز رحمه الله قراءة عليه وأنت تسم ببغداد سنة ثلاث وستين وخمسمئة قال كتب إلي الحافظ أبو زكريا يحيى بن عبد الوهاب بن أبي عبد الله بن منده من أصبهان يخبرني أن عمه الإمام أبو القاسم عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إسحاق بن مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ مَنْدَهْ أخبرهم قراءة عليه:

1- أَخْبَرَنَا أَبِي رحمه الله أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شَاذَانَ التَّاجِرُ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

হে প্রতিপালক, সহজ করে দিন

এটি আমাদের শায়খ এবং আমাদের নেতা, ইমাম, আলিম, মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা ইবনে নাসর ইবনে মিকদাম আল-মাকদিসি, হাম্বলি ফকিহের সামনে পাঠ করা হয়েছে, আর আমি দামেস্কের জামে মসজিদে তা শুনছিলাম। তাকে বলা হলো, নির্ভরযোগ্য শায়খ আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুন নাক্কুর আল-বায্যায (রাহিমাহুল্লাহ) আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন যখন তার সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং আপনি বাগদাদে পাঁচশ তেষট্টি হিজরি সনে তা শুনছিলেন। তিনি বলেন, হাফিজ আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আবি আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ ইসফাহান থেকে আমার নিকট লিখে পাঠিয়েছেন যে, তার চাচা ইমাম আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ তাদের সংবাদ দিয়েছেন তার সামনে পাঠকালে:

১- আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে শাযান আত-তাজির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عبد الرحمن عن مجاهد عن عبد الله بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِكلِّ عَامِلٍ فَتْرَةٌ وَلِكُلِّ فَتْرَةٍ شِرَّةٌ فَمَنْ كَانَتْ فَتْرَتُهُ إِلَى سُنَّتِي فَقَدْ أَفْلَحَ.

رَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنْ شُعْبَةَ مِنْهُمْ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ غُنْدَرٌ
শুবা হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "প্রত্যেক আমলকারীর জন্য একটি শৈথিল্য রয়েছে এবং প্রতিটি শৈথিল্যের জন্য একটি উদ্যম রয়েছে। সুতরাং যার শৈথিল্য আমার সুন্নাতের অনুগামী হয়, সে অবশ্যই সফলকাম হয়েছে।"

শুবা থেকে একদল রাবী এটি বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর গুন্দার তাঁদের অন্যতম।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَوَهْبُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ وَرَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ وَعَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ وَأَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ وَغَيْرُهُمْ.

وَرَوَاهُ غَيْرُ هَؤلَاءِ عَنْ أَبِي الْعَبَاسِ السَّائِبِ بْنِ فَرُّوخٍ الشَّاعِرِ عن عبد الله بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِلَفْظٍ آخَرَ نَحْوَ مَعْنَاهُ.
ওয়াহব ইবনে জারীর ইবনে হাযিম, রাওহ ইবনে উবাদাহ, আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস, আবু দাউদ সুলায়মান ইবনে দাউদ আত-তায়ালিসি এবং তাঁরা ব্যতীত আরও অনেকে।

এবং তাঁরা ছাড়াও অন্যরা আবুল আব্বাস আস-সাইব ইবনে ফাররুখ আশ-শায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এর সমার্থক অন্য শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَهُوَ أَيْضًا مَشْهُورٌ. *

2- وَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَمْرِو بْنِ مَهْدِيٍّ أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَسْرُوقُ بْنُ الْمَرْزُبَانِ حَدَّثَنَا الْمُسَيَّبُ بْنُ شَرِيكٍ عَنْ عِيسَى بْنِ مَيْمُونَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَاسٍ رضي الله عنهما قَالَ
এবং এটিও প্রসিদ্ধ। *

২- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন আমর ইবন মাহদী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান ইবন আহমাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন উসমান ইবন আবি শায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ মাসরুক ইবনুল মারযুবান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসাইয়িব ইবন শারীক, তিনি ঈসা ইবন মাইমুন থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবন কাব আল-কুরাযী থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ فَإِذَا أَصْوَاتٌ كَدَوِيِّ النَّحْلِ مِنْ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فَقَالَ إِنَّ الْإِسْلَامَ يَشِيعُ ثُمَّ يَكُونُ إِلَى فَتْرَةٍ فَمَنْ كَانَتْ فَتْرَتُهُ إِلَى اقْتِصَادٍ وَسُنَّةٍ فَأُولَئِكَ أَهْلُ الْجَنَّةِ وَمَنْ كَانَتْ فَتْرَتُهُ إِلَى غُلُوٍّ وَبِدْعَةٍ فَأُولَئِكَ أَهْلُ النَّارِ. *

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে প্রবেশ করলেন। তখন কুরআন তিলাওয়াতের দরুন সেখানে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো আওয়ায শোনা যাচ্ছিল। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই ইসলাম বিকশিত হবে, অতঃপর এক সময় এতে শিথিলতা আসবে। সুতরাং যার এই শিথিলতা পরিমিতিবোধ ও সুন্নাতের দিকে হবে, তারাই জান্নাতবাসী। আর যার এই শিথিলতা অতিরঞ্জন ও বিদআতের দিকে হবে, তারাই জাহান্নামী। *

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
3- وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ جَهْضَمٍ الْهَمَذَانِيُّ بِمَكَّةٍ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَوَّاصُ قَالَ
৩- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মক্কায় আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন জাহদাম আল-হামাযানী, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-খাওয়াস, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
سَمِعْتُ الْجُنَيْدَ بْنَ مُحَمَّدٍ رحمه الله يَقُولُ كُلُّ مَنْ سَبِيلُهُ وَمَذْهَبُهُ الْكَلَامُ لَا يُفْلِحُ *
আমি জুনাইদ ইবন মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-কে বলতে শুনেছি, যার পথ ও মত হলো ইলমুল কালাম, সে সফল হবে না। *
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌بَابُ مَا تُعْرَفُ بِهِ السُّنَّةُ مِنَ الْبِدْعَةِ فِي الْحُرُوفِ

قَوْلُ اللَّهِ عز وجل {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} .

4- وَمَا أَخْبَرَنَا أَبِي رحمه الله أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أبي الأحوص عن عبد الله رضي الله عنه رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ {الم} حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ وَلَامٌ وَمِيمٌ ثَلَاثُونَ حَسَنَةً. *
বর্ণমালার (হরফ) ক্ষেত্রে সুন্নাহ ও বিদআতের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয়ের অধ্যায়

মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের দিকে হিদায়াত করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ়}।

৪- আর আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে গালিব ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াল্লা ইবনে মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে মারফু হিসেবে (অর্থাৎ নবীজি থেকে সরাসরি) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেবেন। সাবধান! আমি বলছি না যে {আলিফ-লাম-মীম} একটি অক্ষর, বরং আলিফ, লাম এবং মীম (আলাদা আলাদা অক্ষর হওয়ার কারণে) ত্রিশটি নেকি।" *
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَالْبِدْعَةُ قَوْلُ مَنْ يَقُولُ (الم) حَرْفٌ وَرَأْيُ مَنْ يُفَرِّقُ بِهِ بَيْنَ الْكِتَابِ وَالْقُرْآنِ.

5- فَأَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ أَخْبَرَنَا جَدِّي أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي يَحْيَى الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَزِيدَ الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عن أبي الأحوص عن عبد الله بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আর বিদআত হলো ওই ব্যক্তির কথা যে বলে (আলিফ-লাম-মিম) একটি বর্ণ এবং ওই ব্যক্তির অভিমত যে এর দ্বারা কিতাব ও কুরআনের মধ্যে পার্থক্য করে।

৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাহল বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবি ইয়াহইয়া আজ-জুহরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন ইয়াজিদ আল-কাত্তান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম বিন ইয়াহইয়া, আতা বিন আস-সাইব থেকে, তিনি আবু আল-আহওয়াস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন-
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّكُمْ تُؤْجَرُونَ بِكُلِّ حَرْفٍ مِنْهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ لَا أقول {الم} وَلَكِنْ أَلِفٌ عَشْرًا وَاللَّامُ عَشْرًا وَالْمِيمُ عَشْرًا.

وَلَمْ يَقُلْ (الم) حَرْفٌ وَلَكِنَّهُ قَالَ أَلِفٌ وَلَامٌ وَمِيمٌ وَلَمْ يُفَرِّقْ بِهِ بَيْنَ الْكِتَابِ وَالْقُرْآنِ إِذْ لَمْ يَقُلْ (الم) حَرْفٌ. *

6- وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ يَحْيَى بْنِ جَعْفَرٍ الْإِمَامُ أَخْبَرَنَا الطَّبَرَانِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ التُّسْتَرِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْجُنَيْدِ الدَّقَّاقُ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عن عبد الله رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
তোমরা কুরআন পাঠ করো, কেননা এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে তোমাদের দশটি করে নেকি প্রদান করা হবে। আমি বলছি না যে {আলিফ-লাম-মীম} (একটি অক্ষর), বরং আলিফ দশটি, লাম দশটি এবং মীম দশটি (নেকি)।

এবং তিনি বলেননি যে (আলিফ-লাম-মীম) একটি অক্ষর, বরং তিনি বলেছেন আলিফ, লাম এবং মীম। আর তিনি এর মাধ্যমে কিতাব ও কুরআনের মাঝে কোনো পার্থক্য করেননি, যেহেতু তিনি বলেননি যে (আলিফ-লাম-মীম) একটি অক্ষর। *

৬- এবং ইমাম আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাবারানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে জুহাইর আত-তুস্তারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আল-জুনাইদ আদ-দাক্কাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আতা ইবনে আস-সাইব থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّكُمُ تُؤْجَرُونَ عَلَيْهِ أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ (الم) حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ عَشْرًا وَلَامٌ عَشْرًا وَمِيمٌ عَشْرًا فَذَلِكَ ثَلَاثُونَ حَسَنَةً

قَالَ الطَّبَرَانِيُّ رَفَعَهُ أَبُو عَاصِمٍ وَوَقَفَهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَالنَّاسُ

حَدَّثَنَاهُ الدَّبَرِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه مِثْلَهُ مَوْقُوفًا
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, "তোমরা কুরআন পাঠ করো, কেননা তোমাদেরকে এর বিনিময়ে প্রতিদান প্রদান করা হবে। জেনে রেখো, আমি বলছি না যে (আলিফ-লাম-মীম) একটি বর্ণ, বরং আলিফ দশ (নেকি), লাম দশ (নেকি) এবং মীম দশ (নেকি); সুতরাং তা হলো ত্রিশটি নেকি।"

তাবারানি বলেন, আবু আসিম একে মারফু হিসেবে (রাসূলের বাণী হিসেবে) বর্ণনা করেছেন এবং আবদুর রাজ্জাক ও অন্যান্য বর্ণনাকারীরা একে মাওকুফ হিসেবে (সাহাবীর বাণী হিসেবে) বর্ণনা করেছেন।

দাবারী আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপভাবে মাওকুফ হিসেবে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَمِمَّنْ وَقَفَهُ شُعْبَةُ وَهُشَيْمٌ وَجَرِيرٌ وَمُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ الضَّبِّيُّ وَغَيْرُهُمْ وَلَمْ يَقُلْ أَحَدٌ مِنْهُمْ (الم) حَرْفٌ بَلْ وَافَقَ كُلُّهُمْ فِي قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ (الم) حَرْفٌ*

طَرِيقٌ آخَرٌ لِهَذَا الْحَدِيثِ رَدًّا عَلَى مَنْ يَزْعُمُ أَنَّ الْمَتْلَوَّ مِنَ الْكِتَابِ وَالْقُرْآنِ بِالْأَلِفِ لَا أَلِفٌ.

7- أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْهَجَرِيِّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عبد الله قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى الله عليه وسلم
আর যারা একে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শু’বাহ, হুশাইম, জারীর, মুহাম্মাদ ইবনে ফুযাইল আদ-দাব্বী এবং অন্যান্যরা। তাদের কেউই বলেননি যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর; বরং তারা সকলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর সাথে একমত পোষণ করেছেন: “জেনে রাখো, আমি বলছি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর।”

এই হাদীসের আরেকটি সূত্র, তাদের খণ্ডনে যারা দাবি করে যে কিতাব ও কুরআন থেকে যা আলিফ দ্বারা পাঠ করা হয় তা আলিফ নয়।

৭- মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাহল ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুশহির এবং মুহাম্মাদ ইবনে ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম আল-হাজারী থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
اتلو الْقُرْآنَ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَأْجُرُكُمْ عَلَى تِلاوَتِهِ كُلَّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ (الم) حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ عَشْرٌ وَلَامٌ عَشْرٌ وَالْمِيمُ عَشْرٌ*

وَأَصْحَابُ الْحَدِيثِ لَا يَقُولُونَ (الم) حَرْفٌ وَلَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْقُرْآنِ وَالْكِتَابِ.

8- فَأَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَخْبَرَنَا الطَّبَرَانِيُّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ
তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো, কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদের এর তিলাওয়াতের প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি করে নেকি দান করবেন। সাবধান! আমি বলছি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর, বরং আলিফ দশটি, লাম দশটি এবং মীম দশটি নেকি।*

আর আসহাবে হাদিসগণ ‘আলিফ-লাম-মীম’-কে একটি অক্ষর বলেন না এবং এর দ্বারা তারা কুরআন ও কিতাবের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না।

৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুর রহমান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাবারানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল আজিজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান বিন মুসলিম।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُسْلِمٍ الْهَجَرِيِّ عن أبي الأحوص عن عبد الله بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اتْلُوا كِتَابَ اللَّهِ عز وجل فَإِنَّ لَكُمْ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ (الم) حَرْفٌ وَلَكِنْ بِالْأَلِفِ عَشْرُ حَسَنَاتٍ وَبِاللَّامِ عَشْرُ حَسَناتٍ وَبِالْمِيمِ عَشْرُ حَسَنَاتٍ.

رَفَعَهُ يَزِيدُ بْنُ عَطَاءٍ وَأَبُو الْيَقْظَانِ وَغَيْرُهُمَا وَوَقَفَهُ ابن عتيبة وَزَائِدةُ وَأَبُو شِهَابٍ وَيَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ الْحَنَفِيُّ وَجَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ وَعَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ وَغَيْرُهُمْ. وَلَمْ يَقُلْ أَحَدٌ مِنْهُمْ (الم) حَرْفٌ لِيُقَالَ الْمَتْلُوُّ مِنَ الْكِتَابِ وَالْقُرْآنِ بِالْأَلِفِ لَا أَلِفٌ. *

9- وَأَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ
সুলাইমান বিন আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন মুসলিম আল-হাজারি থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাব পাঠ করো, কারণ এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে তোমাদের জন্য দশটি নেকি রয়েছে। শোনো, আমি বলছি না যে (আলিফ-লাম-মীম) একটি অক্ষর, বরং আলিফের বিনিময়ে দশ নেকি, লামের বিনিময়ে দশ নেকি এবং মীমের বিনিময়ে দশ নেকি।

ইয়াজিদ বিন আতা, আবু ইয়াকজান এবং আরও অনেকে হাদিসটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে উতাইবাহ, যায়িদাহ, আবু শিহাব, ইয়াহইয়া বিন উসমান আল-হানাফি, জাফর বিন আউন, আলী বিন আসিম এবং অন্যরা একে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের কেউ বলেননি যে (আলিফ-লাম-মীম) একটি অক্ষর, যাতে এটি বলা যায় যে কিতাব ও কুরআন থেকে যা পাঠ করা হয় তা 'আলিফ' (উচ্চারণ) দ্বারা হয়, 'আলিফ' (অক্ষর) নয়। *

৯- এবং হারুন বিন মুহাম্মদ বিন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ أَخْبَرَنَا عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْهَجَرِيِّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مَأْدُبَةُ اللَّهِ تبارك وتعالى فَتَعَلَّمُوا مِنْ مَأْدُبَتِهِ مَا اسْتَطَعْتُمْ أَتْلُوهُ فَإِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى يَأْجُرُكُمْ عَلَيْهِ بِكُلِ حَرْفٍ مِنْهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ لَمْ أَقُلْ لَكُمْ (الم) حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ.

فَمَنْ مَيَّزَ بِالْحَرْفِ بَيْنَ التِّلَاوَةِ وَالْمَتْلُوِّ فَقَدْ حَرَّفَ قَوْلَهُ صلى الله عليه وسلم بِكُلِّ حرف منه وقال عليه مالم يَقُلْ فَلَمْ يَقُلْ بِكُلِّ حَرْفٍ بِهِ الْقُرْآنِ أَوِ الْكِتَابِ عَشْرُ حَسَنَاتٍ. *

طَرِيقٌ لِهَذَا الْحَدِيثِ رَدًّا عَلَى مَنْ يَرَى الْحَسَنَةَ بِـ (الم) عَشْرًا.

10- أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى بْنِ مَرْدُوَيْهِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبِ بْنِ حَرْبٍ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ
...বিন আহমাদ বিন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন ইব্রাহিম আদ-দাবারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে উয়াইনাহ থেকে, তিনি ইব্রাহিম আল-হাজারী থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার ভোজসভা। সুতরাং তোমরা তাঁর ভোজসভা থেকে সাধ্যমতো শিক্ষা গ্রহণ করো। তোমরা এটি তিলাওয়াত করো, কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে তোমাদের দশটি করে নেকি দান করবেন। আমি তোমাদের বলছি না যে (আলিফ-লাম-মীম) একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।"

সুতরাং যে ব্যক্তি অক্ষরের মাধ্যমে তিলাওয়াত (পড়া) এবং মাতলু (যা পড়া হয়)-এর মধ্যে পার্থক্য করে, সে মূলত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী "এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে" কে বিকৃত করল এবং তাঁর ব্যাপারে এমন কথা বলল যা তিনি বলেননি। কেননা তিনি এমনটি বলেননি যে, কুরআন বা কিতাব যে অক্ষরগুলো দ্বারা গঠিত তার প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি নেকি।

এই হাদিসের একটি সূত্র, যা তাদের প্রতিবাদ স্বরূপ যারা মনে করে যে (আলিফ-লাম-মীম) এর জন্য দশটি নেকি।

১০- আহমাদ বিন মুসা বিন মারদুওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন গালিব বিন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাহদী বিন...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
عِيسَى الْوَاسِطِيُّ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ عَنْ أَبَّانَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عن عبد الله بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ لِتَالِي الْقُرْآنِ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ (الم) عَشْرٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ عَشْرٌ وَلَامٌ عَشْرٌ وَمِيمٌ عَشْرٌ*

ঈসা আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বান থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে আবি ইমরান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই কুরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি নেকি রয়েছে। আমি বলছি না যে (আলিফ-লাম-মীম) দশ; বরং আলিফ দশ, লাম দশ এবং মীম দশ।

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَالْمُبْتَدِعُ يَقُولُ بِـ (الم) عَشْرٌ وَالْقُرْآنُ عِنْدَ حَقِيقَةِ آيَةٍ أَوْ كَلِمَةٍ وَالْأَلِفُ وَاللَّامُ وَالْمِيمُ عِنْدُهُ لَيْسَ بِقُرْآنٍ

طَرِيقٌ آخَرٌ لِهَذَا الْحَدِيثِ رَدًّا عَلَى مَنْ يُشِيرُ بِأَلِفٍ لَامٍ مِيمٍ إِلَى قُرْآنٍ غَيْرِ هَذَا.

11- أَخْبَرَنَا أَبِي رحمه الله أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَبِي الْخَصِيبِ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ زِيَادٍ الْإِيَادِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ عَن أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مَأْدُبَةُ اللَّهِ عز وجل فَتَعَلَّمُوا مِنْ مَأَدُبَتِهِ مَا اسْتَطَعْتُمْ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ هُوَ حَبْلُ اللَّهِ تبارك وتعالى هُوَ النُّورُ الْمُبِينُ وَالشِّفَاءُ النَّافِعُ عِصْمَةٌ لِمَنْ تَمَسَّكَ بِهِ وَنَجَّاةُ مَنْ تَبِعَهُ لَا يُعَوجُ فَيُقَوَّمُ وَلَا يَزِيغُ فَيُسْتَعْتَبُ وَلَا تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ وَلَا يُخَلَّقُ عَنْ كَثْرَةِ الرَّدِّ فَاتْلُوهُ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَأْجُرُكُمْ عَلَى تِلاوَتِهِ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ (الم) وَلكِنْ فِي الْأَلِفِ عَشْرٌ وَفِي اللَّامِ عَشْرٌ وَفِي الْمِيمِ عَشْرٌ*
আর বিদআতী ব্যক্তি বলে যে (আলিফ-লাম-মীম) মিলে দশটি নেকি, আর তার নিকট কুরআন কেবল প্রকৃত আয়াত বা শব্দ। তার মতে আলিফ, লাম এবং মীম কুরআন নয়।

এই হাদিসের অন্য একটি সূত্র, যা তাদের প্রতিবাদস্বরূপ যারা আলিফ, লাম ও মীম দ্বারা এই কুরআন ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে ইঙ্গিত করে।

১১- আমাদের পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল ওয়াহিদ বিন আবিল খাসীব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন উবাইদ বিন যিয়াদ আল-ইয়াদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহহাব বিন নাজদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন খালিদ আল-ওয়াহবী মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আলকামা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয় এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ হতে একটি ভোজসভা, সুতরাং তোমরা তাঁর এই ভোজসভা থেকে সাধ্যমতো শিক্ষা গ্রহণ করো। নিশ্চয় এই কুরআন হলো বরকতময় ও মহান আল্লাহর রশি, এটি সুস্পষ্ট জ্যোতি এবং উপকারী নিরাময়। যে একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে তার জন্য এটি সুরক্ষা এবং যে একে অনুসরণ করবে তার জন্য এটি মুক্তি। এটি বাঁকা হয় না যে তাকে সোজা করতে হবে, আর এটি পথভ্রষ্ট হয় না যে তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আবেদন করতে হবে। এর বিস্ময়কর বিষয়াবলি শেষ হয় না এবং বারবার পাঠ করার ফলে এটি পুরনো হয় না। সুতরাং তোমরা এটি তিলাওয়াত করো, কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদের এর তিলাওয়াতের বিনিময়ে প্রতিটি হরফে দশটি করে নেকি দান করবেন। সাবধান! আমি বলছি না যে (আলিফ-লাম-মীম) একটি হরফ; বরং আলিফ-এ দশ নেকি, লাম-এ দশ নেকি এবং মীম-এ দশটি নেকি রয়েছে।*
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَالْمُبْتَدِعُ يَرَى الْأَجْرَ وَاجِبًا بِالتِّلَاوَةِ وَلَكِنَّهُ يَرَى الْأَلِفَ وَاللَّامَ وَالْمِيمَ فِعْلَ اللِّسَانِ بَعْدَ مَا يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى {لا تُحَرِّكْ بِهِ لسانك} وَصَاحِبُ الْحَدِيثِ يَقُولُ

12- أَخْبَرَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْقُرَشِيُّ أَخْبَرَنَا الطَّبَرَانِيُّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنِ ابْنِ جريح أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ أَنَّ عَاصِمَ بْنَ بَهْدَلةَ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عن عبد الله رضي الله عنه قَالَ تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ وَاتْلُوهُ فَإِنَّكُمْ تُؤْجَرُونَ فِيهِ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ (الم) وَلكِنْ أَلِفٌ وَلَامٌ وَمِيمٌ ثَلَاثُونَ حَسَنَةً *

وَلَا نَقُولُ تُؤْجَرُونَ عَلَيْهَا أَوْ فِيهَا فَفِيهِ تَبْدِيلُ الْقُرْآنِ بِقُرْآنٍ غَيْرِ هَذَا قُرْآنًا لَا يَتَحَرَّكُ بِهِ الْلِسَانُ وَلَيْسَ مِنْهُ الْحُرُوفُ.

13- بعد ما أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى بْنِ مردويه حدثني
বিদআতী মনে করে তিলাওয়াতের কারণে সওয়াব পাওয়া আবশ্যক, কিন্তু সে মনে করে আলিফ, লাম এবং মীম হলো জিহ্বার কাজ, অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আপনি ওহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনার জিহ্বা নাড়াচাড়া করবেন না}। আর আহলে হাদীসগণ বলেন:

১২- আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-কুরাশী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আত-তাবারানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে আব্দুল আযীয আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদ বলেছেন: হাজ্জাজ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, আতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে আসিম ইবনে বাহদালাহ তাকে আবু আহওয়াস থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: তোমরা কুরআন শিক্ষা করো এবং তা তিলাওয়াত করো। কারণ এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে তোমাদের দশটি করে নেকি দেওয়া হবে। সাবধান! আমি বলছি না যে (আলিফ-লাম-মীম) একটি বর্ণ, বরং আলিফ, লাম এবং মীম মিলে ত্রিশটি নেকি। *

আর আমরা এ কথা বলি না যে তোমরা এর উপরে বা এতে সওয়াব পাবে, কারণ এতে কুরআনকে এমন এক কুরআন দ্বারা পরিবর্তন করা হয় যা এই কুরআন নয়—এমন এক কুরআন যাতে জিহ্বা সঞ্চালিত হয় না এবং যাতে কোনো বর্ণ নেই।

১৩- এরপর আহমাদ ইবনে মূসা ইবনে মারদুওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৫২)
محمد بن عبد الله بْنِ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ الصِّينِيُّ أَخْبَرَنَا عُبَيْدَةُ عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عبد الله رضي الله عنه قَالَ تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى يُعْطِيكُمْ بِكُلِّ حَرْفٍ مِنْهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ لَا أَقُولُ (الم) وَلَكِنْ أَلِفٌ وَلَامٌ
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর বিন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম বিন ইসহাক আস-সিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবু আল-আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তোমরা কুরআন শিক্ষা করো, কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে তোমাদের দশটি করে নেকি দান করেন। আমি বলছি না (আলিফ-লাম-মীম), বরং আলিফ এবং লাম...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَمِيمٌ

رَوَاهُ الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ وَغَيْرُهُ عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ وَلَمْ يَقُلْ أَحُدٌ مِنْهُمْ بِكُلِّ حَرْفٍ بِهِ الْقُرْآنُ مَعْلُومًا أَوْ مَتْلُوًّا أَوْ مَسْمُوعًا أَوْ مَكْتُوبًا أَوْ مَعْرُوفًا. *
এবং মীম

এটি আল-ওয়ালিদ ইবন আবি সাওর এবং অন্যরা আবি হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাদের মধ্যে কেউই প্রতিটি হরফ সম্পর্কে বলেননি যে, যার মাধ্যমে কুরআন জ্ঞাত, অথবা পঠিত, অথবা শ্রুত, অথবা লিখিত, অথবা সুপরিচিত। *
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
‌‌بَابُ مَا يُعْرَفُ بِهِ اللِّسَانُ وَالْقُرْآنُ

قَوْلُ اللَّهِ {لا تُحَرِّكْ به بسانك}

14- وَمَا أَخْبَرَنَا أَبِي رحمه الله أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عُمَرَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْأَزْهَرِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عِثْمَانَ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ عَنِ ابْنِ مَسْعِودٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم [قَالَ] (1) مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنَ الْقُرْآنِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ (الم) حَرْفٌ وَلَكِنْ الْأَلِفُ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وميم حرف

--------------------------------------------

(1) ليس في الأصل، وزدته لاقتضاء السياق.
‌‌জিহ্বা ও কুরআন যা দ্বারা পরিচিত হয় সেই সংক্রান্ত অধ্যায়

আল্লাহর বাণী: {তা নিয়ে আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না}

১৪- এবং যা আমাকে আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন উমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আল-আযহার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন আবু ফুদাইক, দ্বহ্হাক বিন উসমান থেকে, তিনি আইয়ুব বিন মুসা থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কাব থেকে, তিনি ইবন মাসউদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) [বলেছেন] (১): "যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য এর বিনিময়ে একটি নেকি রয়েছে, আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি পায়। আমি বলি না যে (আলিফ-লাম-মীম) একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।"

--------------------------------------------

(১) এটি মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, প্রসঙ্গের প্রয়োজনে আমি তা যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
رَوَاهُ أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ وَغَيْرُهُ عَنِ الضَّحَّاك بْنِ عُثْمَانَ وَلَمْ يقول أحد منهم من قَرَأَ حَرْفًا بِهِ الْقُرْآنِ كَقَوْلِهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ لَأَنَّهُ رَأْيُ مَنْ يَزْعَمُ أَنَّ الْقُرْآنَ لَا يَتَحَرَّكُ بِهِ اللِّسَانُ

وَمَنْ تَحَرَّكَ لِسَانُهُ بِالْأَلِفِ تَعَلُّمًا أَوْ قِرَاءةً فله به عشر حسنات لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنَ الْقُرْآنِ وَلَمْ يَقُلْ حَرْفٌ بِهِ الْقُرْآنِ كَمَا قَالَ بِهِ الْحَسَنَةِ وَالْمُبْتَدِعُ يَرَى الْحُرُوفَ وَالْكَلِمَاتِ وَالْآيَاتِ وَالسِّورَ قُرْآنًا كَمَا يَرَى بِهِ الْحَسَنَاتِ والدَّرَجَاتِ. *
আবু বকর আল-হানাফি এবং অন্যান্যরা দাহহাক ইবনে উসমান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাদের কেউই বলেননি যে, 'যে ব্যক্তি এর (জিহ্বার নড়াচড়ার) মাধ্যমে কুরআনের একটি অক্ষর পাঠ করবে...', যেমনটি তার উক্তি: 'তার জন্য এর বিনিময়ে একটি নেকি রয়েছে'। কারণ এটি তাদের অভিমত যারা দাবি করে যে, কুরআনের মাধ্যমে জিহ্বা নড়াচড়া করে না।

আর যার জিহ্বা শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে অথবা তিলাওয়াতের জন্য 'আলিফ' উচ্চারণে নড়েছে, তার জন্য এর বিনিময়ে দশটি নেকি রয়েছে; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর পাঠ করবে..."। তিনি এ কথা বলেননি যে, 'এর মাধ্যমে কুরআনের একটি অক্ষর', যেভাবে নেকির বর্ণনায় বলা হয়েছে। আর বিদআতিরা অক্ষর, শব্দ, আয়াত এবং সূরাসমূহকে কুরআন মনে করে, ঠিক যেমন তারা এর মাধ্যমে নেকি ও উচ্চ মর্যাদা লাভ করাকে দেখে থাকে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌بَابُ مِعْرِفَةُ مَا يُكْتَبُ بِهِ الْحَسَنَاتُ لِلْإِنْسَانِ

وَهُوَ الْحَرْفُ الَّذِي يَتَحَرَّكُ بِهِ اللِّسَانُ

يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ}

15- وَأَخْبَرَنَا أَبِي أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَجْلَانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْهَيَّاجِ حدثنا يحيى بن عبد الرحمن الْأَرْحَبِيُّ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْمَلَكِ بْنِ أَبْجَرَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ قَيْسِ بْنِ السَّكَنِ عَنْ عبد الله بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّكُمْ تُؤْجَرُونَ عَلَيْهِ إِنَّهُ يُكْتَبُ لَكُمْ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ وَيُكَفَّرُ عَنْكُمْ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرُ سَيْئَاتٍ أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ (الم) حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ *
মানুষের জন্য কিসের বিনিময়ে নেকি লেখা হয় তা জানার পরিচ্ছেদ

আর তা হলো সেই অক্ষর যার দ্বারা জিহ্বা সঞ্চালিত হয়

আল্লাহ তাআলা বলেন {আপনি এর মাধ্যমে আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না}

১৫- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে আজলান, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনুল হাইয়্যাজ, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবদুর রহমান আল-আরহাবি, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে আবদুল মালিক ইবনে আবজার তার পিতা থেকে, তিনি মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি কায়স ইবনে সাকান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তোমরা কুরআন পাঠ করো, কেননা তোমাদের এর ওপর প্রতিদান দেওয়া হবে। নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি করে নেকি লেখা হবে এবং প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে তোমাদের দশটি করে পাপ মোচন করা হবে। সাবধান! আমি বলছি না যে (আলিফ-লাম-মিম) একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মিম একটি অক্ষর। *
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَالْمُبْتَدِعُ يَقُولُ (الم) حَرْفٌ وَلَا يُكْتَبُ إلَّا بِهَذَا النَّظْمِ عَشْرًا.

16- وَأَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الطَّبَرَانِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ أَخْبَرَنَا عَبْدِ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مُعَمِرٌ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيِّ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنِ ابْنِ مَسْعِودٍ رضي الله عنه قَالَ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فَلَهُ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرُ حَسَنَاتٍ وَلَا أَقُولُ (الم) عَشْرٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ عَشْرٌ وَلَامٌ عَشْرٌ وَمِيمٌ عَشْرٌ ثَلَاثُونَ حَسَنَةً *

وَأَصْحَابُ الْحَدِيثِ لَا يَرَوْنَ بِالْحَرْفِ الْقُرْآنَ فَقَدْ وَرَدَ فِي خَبَرٍ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَفِي حَدِيثٍ آخَرٍ مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْهُ وَيَحْسِبُونَ بِهِ الْحَسَنَاتِ كَمَا وَرَدَ

وَأَهْلُ الْبِدَعِ يَرَوْنَ الْمُعْجَمَ وَنَظْمَ الْمُعْرَبِ فِعْلًا لَهُمْ وَيَرَوْنَ بِفِعْلِهِمُ الْآيَاتِ وَالْحَسَنَاتِ.

17- بَعْدَ مَا أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَرَّاقُ أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ
আর বিদআতিরা বলে (আলিফ-লাম-মীম) একটি হরফ এবং এটি এই বিন্যাস ব্যতীত দশ (নেকি) হিসেবে লেখা হয় না।

১৬- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হারুন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাবারানি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাবারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি আবদুল কারীম আল-জাজারি থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে, তার জন্য প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি নেকি রয়েছে। আমি বলছি না যে (আলিফ-লাম-মীম) দশ, বরং আলিফ দশ, লাম দশ এবং মীম দশ—অর্থাৎ মোট ত্রিশটি নেকি।"

আর আসহাবুল হাদিসগণ হরফের মাধ্যমেই কুরআনকে (বিদ্যমান) মনে করেন। কেননা একটি বর্ণনায় এসেছে "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবে" এবং অন্য একটি হাদিসে এসেছে "যে ব্যক্তি তা থেকে একটি হরফ পাঠ করবে" এবং যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই তারা এর মাধ্যমে নেকি গণনা করেন।

আর বিদআতিরা বর্ণমালা এবং এর সুশৃঙ্খল বিন্যাসকে তাদের নিজেদের কাজ মনে করে এবং তারা তাদের কাজের মাধ্যমেই আয়াতসমূহ ও নেকিগুলো (অর্জিত হওয়া) মনে করে।

১৭- মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আমাদের সংবাদ দেওয়ার পর, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
بْنُ مَنِيعٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عن عبد الله رضي الله عنه قَالَ أَمَا إِنِّي لَسْتُ مِمَّنْ يَزْعُمُ أَنَّ بِكُلِّ آيَةٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ وَلَكِنْ أَزْعُمُ أَنَّ بِكُلِّ حَرْفٍ مِنْ حُرُوفِ الْمُعْجَمِ عَشْرَ حَسَنَاتٍ

يُكْتَبُ إِلَّا بِهَذَا الْحَرْفِ قُرْآنًا (1) *

18- فَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْأَسْوَارِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَرْدَسْتَانِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَهْلِ بْنِ حَمْدُوَيْهَ حَدَّثَنَا السَّرِيُّ بْنُ عِصَّامٍ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بن إسحاق

--------------------------------------------

(1) هكذا جاءت هذه الجملة في الأصل، ولم يظهر لي استقامتها.
ইবনে মানী‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে যায়দ ইবনে জুদ‘আন কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “শোনো, আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই যারা দাবি করে যে প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে দশটি নেকি পাওয়া যায়, বরং আমি মনে করি যে বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি নেকি পাওয়া যায়।”

কুরআন হিসেবে এই বর্ণ ব্যতীত লিখিত হয় না (১) *

১৮- আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-আসওয়ারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-আরদাস্তানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে সাহল ইবনে হামদুওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আস-সারী ইবনে ইসসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে বাক্যটি এভাবেই এসেছে এবং এর গঠনগত সঠিকতা আমার নিকট স্পষ্ট হয়নি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْوَانَ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ أُسَيْرٍ عَنْ عبد الله بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ، أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ (الم) عَشْرًا وَلَكِنْ بِالْأَلِفِ عَشْرًا وَبِاللَّامِ عَشْرًا وَبِالْمِيمِ عَشْرًا.

وَلَمْ يَقُلْ بِـ (الم) عَشْرًا وَلَا يَقُولُ صَاحِبُ الْحَدِيثِ (الم) حرف. *

19- أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا جَدِّي حَدَّثَنَا
মুহাম্মাদ ইবনে মারওয়ান আমাদের নিকট হুমাইদ ইবনে হিলাল থেকে, তিনি উসাইর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তোমরা কুরআন শিক্ষা করো, কারণ এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি করে নেকি রয়েছে। মনে রেখো, আমি বলছি না যে (আলিফ-লাম-মীম) মিলে দশটি নেকি, বরং আলিফ-এর জন্য দশটি, লাম-এর জন্য দশটি এবং মীম-এর জন্য দশটি নেকি রয়েছে।

তিনি (আলিফ-লাম-মীম)-এর জন্য দশটি বলেননি এবং হাদিস বর্ণনাকারী (আলিফ-লাম-মীম)-কে একটি অক্ষর বলেননি। *

১৯- মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার দাদা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান ইয়াকুলু আলিফ লাম মীম হারফুন লি-ইবনি মান্দাহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
عَلِيُّ بْنُ رُسْتُمَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُعَمَرٍ

(ح) وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْأَسْوَارِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمِ بْنُ أَبِي صَالِحٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بن عبد الله حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُعَمَرٍ حَدَّثَنَا الْمُسَيِّبُ بْنُ وَاضِحٍ قَالَ
আলী ইবনে রুস্তম আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবনে মুয়াম্মার বর্ণনা করেছেন

(হা) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-আসওয়ারী, আমাদের নিকট আবু মুসলিম ইবনে আবু সালিহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবনে মুয়াম্মার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-মুসাইয়িব ইবনে ওয়াদিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন—