(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: -)
مسند عابس الغفاري لابن أبي غرزة   (ابن أبي غرزة)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الجزء فيه مسند عابس الغفاري وجماعة من الصحابة رضي الله عنهم

المؤلف: أَحْمَدُ بنُ حَازِمِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ يُوْنُسَ بنِ قَيْسِ بنِ أَبِي غَرَزَةَ، أَبُو عَمْرٍو الغِفَارِيُّ الكُوْفِيُّ (ت 276هـ)

المحقق: الدكتور غالب بن محمد أبو القاسم الحامضي

الناشر: دار الوطن - الرياض

الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 82

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433

ইবনে আবি গারজাহ রচিত মুসনাদে আবিস আল-গিফারি   (ইবনে আবি গারজাহ)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আবিস আল-গিফারি এবং একদল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মুসনাদ সম্বলিত অংশ

লেখক: আহমাদ ইবনে হাযিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুস ইবনে কায়স ইবনে আবি গারজাহ, আবু আমর আল-গিফারি আল-কুফি (মৃত্যু ২৭৬ হি.)

সম্পাদক: ডক্টর গালিব ইবনে মুহাম্মাদ আবু আল-কাসিম আল-হামিদি

প্রকাশক: দারুল ওয়াতান - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হি. - ১৯৯৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারী: ইয়া বাঘিয়াল খাইর আকবিল

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: -)
الجزء فيه

مسند عابس الغفاري

وجماعة من الصحابة رضي الله عنهم

 

جمع أبي عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ حَازِمِ بْنِ أَبِي غَرْزَةَ الغفاري

المتوفى سنة (276 هـ)

 

دراسة وتحقيق

الدكتور غالب بن محمد أبو القاسم الحامضي

الأستاذ المساعد بكلية الدعوة وأصول الدين

جامعة أم القرى بمكة المكرمة

 

دار الوطن

الرياض

 

الطبعة الأولى

1419 هـ - 1998 م
এই খণ্ডে রয়েছে

আবিস আল-গিফারীর মুসনাদ

এবং একদল সাহাবী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)

 

সংকলনে: আবু আমর আহমাদ ইবনে হাযিম ইবনে আবি গারযাহ আল-গিফারী

মৃত্যু: (২৭৬ হিজরি)

 

গবেষণা ও সম্পাদনা

ডক্টর গালিব বিন মুহাম্মাদ আবুল কাসিম আল-হামিদি

সহকারী অধ্যাপক, দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদ

উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা আল-মুকাররমাহ

 

দারুল ওয়াতান

রিয়াদ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحَافِظُ شَيْخُ الإِسْلامِ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَفِيِّ بْنِ أَصْبَهَانِيٍّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ [ .... ] أثنا أَبُو الْبَقَاءِ الْمُعَمَّرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحَبَّالِ بِالْكُوفَةِ [ … ] وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَافِظُ النَّرْسِيُّ، أثنا أَبُو الْقَاسِمِ زَيْدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْعَلَوِيُّ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دُحَيْمٍ الشَّيْبَانِيُّ، ثنا أَبُو عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ حَازِمِ بْنِ أَبِي غَرْزَةَ الْغِفَارِيُّ، قَالَ:

 

‌‌عَابِسٌ الْغِفَارِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

1 - أَخْبَرَنَا أَبُو غَسَّانَ مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا زُهَيْرٌ، ⦗ص: 18⦘ حَدَّثَنِي لَيْثٌ، حَدَّثَنِي عُثْمَانُ، عَنْ زَاذَانَ، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ عَابِسٍ الْغِفَارِيِّ عَلَى ظَهْرِ إِجَارٍ حَتَّى أَوْ حِينَ رَأَى النَّاسَ ⦗ص: 19⦘ يَتَحَمَّلُونَ لِيَهْرُبُوا مِنَ الطَّاعُونِ، فَقَالَ: مَا هَؤُلاءِ؟ قَالَ: يَهْرُبُونَ مِنَ الطَّاعُونِ، قَالَ: يَا طَاعُونُ خُذْنِي. ثَلاثًا، فَقَالَ لَهُ ابْنُ عمٍّ لَهُ -كَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: لِمَ تَتَمَنَّى الْمَوْتَ وَقَدْ سَمِعْتُ أَوْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((لا يَتَمَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ فَيَكُونَ ذَلِكَ انْقِطَاعَ أَجَلِهِ، وَلا يُرَدُّ فَيَسْتَعْتِبَ)) فَقَالَ عَابِسٌ: إِنِّي أَتَخَوَّفُ خِصَالا، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَخَوَّفُهُنَّ عَلَى أُمَّتِهِ مِنْ بَعْدِهِ: بَيْعُ الْحُكْمِ، وَإِمَارَةُ السُّفَهَاءِ، وَكَثْرَةُ الشُّرَطِ، وَاسْتِخْفَافٌ بِالدَّمِ، وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ، ونشأٌ يَتَّخِذُونَ الْقُرْآنَ مَزَامِيرَ، يُقَدِّمُونَ الرَّجُلَ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ، لَيْسَ بِأَفْقَهِهِمْ، أَوْ لَيْسَ بِأَعْلَمِهِمْ وَلا أَفْقَهِهِمْ، لا يُقَدِّمُونَهُ إِلا لِيُغْنِيَهُمْ بِهِ [غِنَاءً].
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, হাফিজ, শায়খুল ইসলাম আবু তাহির আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সালাফি বিন আসবাহানি, তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে [ .... ] আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-বাকা আল-মুআম্মার বিন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন আল-হাব্বাল কুফায় [ … ] এবং মুহাম্মাদ বিন আলি আল-হাফিজ আল-নারসি। তারা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম যায়দ বিন জাফর বিন মুহাম্মাদ আল-আলাভি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আলি বিন দুহাইম আল-শায়বানি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর আহমাদ বিন হাযিম বিন আবি গারযা আল-গিফারি। তিনি বলেন:

 

‌‌আবিস আল-গিফারি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন

১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গাসসান মালিক বিন ইসমাঈল। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যুহায়র। ⦗পৃষ্ঠা: ১৮⦘ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস। তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান, যাযান থেকে। যাযান বলেন: একদা আমরা আবিস আল-গিফারি এর সাথে একটি ছাদের ওপর ছিলাম। সেই মুহূর্তে তিনি দেখলেন যে, ⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ লোকজন মহামারি থেকে বাঁচতে পলায়ন করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এরা কারা? (লোকজন) বলল: তারা মহামারি থেকে পলায়ন করছে। তখন তিনি বললেন: হে মহামারি! আমাকে তুলে নাও। কথাটি তিনি তিনবার বললেন। তখন তাঁর এক চাচাতো ভাই—যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য পেয়েছিলেন—তাঁকে বললেন: আপনি কেন মৃত্যু কামনা করছেন? অথচ আমি শুনেছি—বা আপনি শুনেছেন—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: ‘তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে; কেননা তা হলো আয়ুষ্কাল সমাপ্ত হওয়া, আর (মরে গেলে) ফিরে এসে তওবা করার সুযোগ পাওয়া যায় না।’ তখন আবিস বললেন: আমি এমন কিছু স্বভাব বা বৈশিষ্ট্যের আশঙ্কা করছি, যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরবর্তী উম্মতের জন্য আশঙ্কা করেছিলেন: বিচারের কেনাবেচা (ঘুষের বিনিময় বিচার), নির্বোধদের শাসনকর্তা হওয়া, প্রহরীদের আধিক্য, রক্তপাতকে তুচ্ছ জ্ঞান করা, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা, এবং এমন এক নতুন প্রজন্মের আবির্ভাব যারা কুরআনকে বাদ্যযন্ত্রের মতো ব্যবহার করবে। তারা একজনকে (ইমামতি বা নেতৃত্বের জন্য) সামনে বাড়িয়ে দিবে যে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকিহ নয়, কিংবা তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ বা শ্রেষ্ঠ ফকিহ নয়; তাকে তারা কেবল এ জন্যই সামনে দিবে যাতে সে তাদের গান শুনিয়ে আনন্দ দেয়।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
2 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ، عَنْ زَاذَانَ، عَنْ عُلَيْمٍ قَالَ: كُنْتُ مَعَ عَابِسٍ الْغِفَارِيِّ عَلَى سَطْحٍ، فَرَأَى قَوْمًا يَتَحَمَّلُونَ مِنَ الطَّاعُونِ، فَقَالَ: مَا لِهَؤُلاءِ يَتَحَمَّلُونَ مِنَ الطَّاعُونِ؟ يَا طَاعُونُ خُذْنِي إِلَيْكَ. مَرَّتَيْنِ. ⦗ص: 21⦘ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَمٍّ لَهُ -ذُو صُحْبَةٍ-: لِمَ تَمَنَّى الْمَوْتَ؟ وَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((لا يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ، فَإِنَّهُ عِنْدَ انْقِطَاعِ عَمَلِهِ)) فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((بَادِرُوا بِالْعَمَلِ خِصَالا سِتًّا، إِمْرَةُ السُّفَهَاءِ، وَكَثْرَةُ الشُّرَطِ، وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ، وَبَيْعُ الْحُكْمِ، وَاسْتِخْفَافًا بِالدَّمِ ونشأٌ يتَّخِذُونَ الْقُرْآنَ مَزَامِيرَ، يُقَدِّمُونَ الرَّجُلَ لَيْسَ بِأَفْقَهِهِمْ وَلا بِأَعْلَمِهِمْ، مَا يقدمونه إلا ليغنيهم)).
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ, শারিক থেকে, তিনি আবু ইয়াকজান থেকে, তিনি যাযান থেকে, তিনি উলাইম থেকে। উলাইম বলেন: আমি আবিস আল-গিফারির সাথে একটি ছাদের উপর ছিলাম। তখন তিনি একদল লোককে দেখলেন যারা মহামারীর ভয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। তিনি বললেন: এদের কী হয়েছে যে তারা মহামারীর ভয়ে চলে যাচ্ছে? হে মহামারী, আমাকে তোমার নিকট নিয়ে নাও। তিনি কথাটি দুইবার বললেন। ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ তখন তার এক চাচাতো ভাই—যিনি সাহাবী ছিলেন—তাকে বললেন: আপনি কেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করছেন? অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে, কারণ এর ফলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়।” তিনি (আবিস) বললেন: নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “তোমরা ছয়টি বিষয়ের আগে দ্রুত নেক আমল করো: নির্বোধদের শাসন, পুলিশের আধিক্য, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, বিচারকার্য কেনাবেচা করা, রক্তপাতকে তুচ্ছ জ্ঞান করা এবং এমন এক প্রজন্মের উদ্ভব যারা কুরআনকে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করবে। তারা এমন ব্যক্তিকে (ইমামতির জন্য) সামনে এগিয়ে দেবে যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকিহ বা আলেম নয়, বরং কেবল সুর করে শোনানোর জন্যই তাকে সামনে এগিয়ে দেবে।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌رَافِعُ بْنُ الْحَكَمِ الْغِفَارِيُّ

3 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي الْحَكَمِ الْغِفَارِيَّ، حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي، عَنْ عَمِّ أَبِي رَافِعِ بْنِ عَمْرٍو الْغِفَارِيِّ، قَالَ: كُنْتُ وَأَنَا غُلامٌ أَرْمِي نَخْلا لِلأَنْصَارِ، فَقِيلَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ ههنا غلام يَرْمِي نَخْلَنَا، فَأَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فقال: ((يا غلام لم ترم النَّخْلَ)) فَقَالَ: ((آكُلُ))، فَقَالَ: ((لا تَرْمِ النَّخْلَ، وَكُلْ مِمَّا يَسْقُطُ فِي أَسْفَلِهَا)) ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ، وَقَالَ: ⦗ص: 23⦘ ((اللَّهُمَّ أَشْبِعْ بَطْنَهُ)).
রাফি ইবনুল হাকাম আল-গিফারি

৩ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুতামির ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবি আল-হাকাম আল-গিফারিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার দাদি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতার চাচা রাফি ইবনে আমর আল-গিফারি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যখন বালক ছিলাম তখন আনসারদের খেজুর গাছে ঢিল ছুঁড়তাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হলো: এখানে একটি বালক আছে যে আমাদের খেজুর গাছে ঢিল ছুঁড়ছে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন এবং বললেন: ((হে বালক, তুমি কেন খেজুর গাছে ঢিল ছুঁড়ছ?)) সে বলল: ((খাওয়ার জন্য।)) তিনি বললেন: ((তুমি খেজুর গাছে ঢিল ছুঁড়ো না, বরং এর নিচে যা পড়ে থাকে তা থেকে খাও।)) এরপর তিনি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ ((হে আল্লাহ, আপনি তার পেট পূর্ণ করে দিন।))
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌قَيْسُ بْنُ أَبِي غَرْزَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

4 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانٍ الأَزْدِيُّ، ثنا حِبَّانُ بْنُ عَلِيٍّ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي غَرْزَةَ، قَالَ: كُنَّا نَبِيعُ الأَوْسَاقَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكُنَّا نُسَمِّي أَنْفُسَنَا السَّمَاسِرَةَ، فَسَمَّانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْمًا هُوَ أَحْسَنُ مِنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: ((يَا مَعْشَرَ التُّجَّارِ الْبَيْعُ يَحْضُرُهُ الْحَلِفُ وَالْكَذِبُ فشوبوه بالصدقة)).
কায়স ইবনে আবি গারযা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত

৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আবান আল-আজদি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হিব্বান ইবনে আলী, তিনি আমাশ থেকে, তিনি শাকিক থেকে, তিনি কায়স ইবনে আবি গারযা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে পণ্যের ওসাক (পরিমাপ বিশেষ) বিক্রি করতাম এবং আমরা নিজেদের ‘সামাসিরাহ’ (দালাল) বলে অভিহিত করতাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এমন এক নামে অভিহিত করলেন যা তার চেয়েও উত্তম। তিনি বললেন: “হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! কেনাবেচায় প্রায়শই কসম ও মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটে যায়, সুতরাং তোমরা একে সদকার মাধ্যমে মিশ্রিত করো।”
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
5 - أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، ⦗ص: 26⦘ عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ قَيْسُ بْنُ أَبِي غَرْزَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، نَحْوَهُ.
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক বিন ইসমাইল, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ, ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ আসিম থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি কায়স বিন আবু গারজাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
6 - أَخْبَرَنَا أَبِي حَازِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ قُتَيْبَةَ الْغَاصوِيُّ، ثنا سَعِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْجَرِيرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ بْنِ الْقَاسِمِ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ أَبِي زَيْدٍ الأَزْدِيِّ، عَنْ أَمَةِ اللَّهِ بِنْتِ نُعَيْمٍ، عَنْ أَبِيهَا نُعَيْمٍ، قَالَ: قَالَ ابْنُ أَبِي غَرَزَةَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ ⦗ص: 27⦘ مَنْ قَامَ اللَّيْلَ وَصَامَ النَّهَارَ، وَلَمْ يَغْشَ شَيْئًا مِنَ الْمَحَارِمِ، وَقُتِلَ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ، وَلَقِيَ اللَّهَ بِبُغْضِكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ، قَالَ: ((إِذًا يَحْشُرُهُ اللَّهُ يهودياً، وسلني مم ذاك يا ابن أِبَي غَرْزَةَ))، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ رَجُلٌ قَامَ اللَّيْلَ، وَصَامَ النَّهَارَ، وَلَمْ يَغْشَ شيئاً من المحارم! قال: ((يا ابن أَبِي غَرْزَةَ إِنْ رَأَيْتَ رَجُلا يُحِبُّنَا أَهْلَ الْبَيْتِ فَأَحِبَّهُ وَلا تُبْغِضْهُ، وَقَرِّبْهُ وَلا تُبَاعِدْهُ، فَإِنَّ حُبَّنَا لَنْ يَجُرَّهُ إِلا إِلَى خَيْرٍ)).
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা হাজিম বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান বিন কুতাইবাহ আল-গাসওয়ি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন ইবরাহিম আল-জারিরি, আব্দুল মুমিন বিন আল-কাসিম আল-আনসারি থেকে, আল-হাকাম বিন আবি কাসির থেকে, উমর বিন আব্দুল্লাহ থেকে, ওয়াহাব বিন আবি যায়িদ আল-আযদি থেকে, আমাতুল্লাহ বিনতে নুয়াইম থেকে, তিনি তাঁর পিতা নুয়াইম থেকে। তিনি (নুয়াইম) বলেন: ইবনে আবি গারাজাহ বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মনে করেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ যে ব্যক্তি রাতে নামাজে দাঁড়িয়েছে এবং দিনে রোজা রেখেছে, আর কোনো প্রকার নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়নি, অতঃপর তাকে রুকন এবং মাকামের মধ্যবর্তী স্থানে হত্যা করা হয়েছে এবং সে আপনাদের আহলে বায়তের প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছে? তিনি বললেন: "তবে আল্লাহ তাকে ইহুদি হিসেবে হাশর করবেন (উঠাবেন)। হে ইবনে আবি গারাজাহ, এর কারণ কী তা তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করো।" তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! একজন ব্যক্তি যে রাতে নামাজ পড়েছে, দিনে রোজা রেখেছে এবং কোনো নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়নি (তার পরিণতি এমন হবে)! তিনি বললেন: "হে ইবনে আবি গারাজাহ, যদি তুমি এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখো যে আমাদের আহলে বায়তকে ভালোবাসে, তবে তুমি তাকে ভালোবাসো এবং তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না; তাকে কাছে টেনে নাও এবং তাকে দূরে সরিয়ে দিও না। কেননা আমাদের প্রতি ভালোবাসা তাকে কেবল কল্যাণের দিকেই নিয়ে যাবে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
7 - أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا مُعَاوِيَةُ بْنُ مَيْسَرَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ ⦗ص: 28⦘ قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم برجلٍ مَعَهُ طَعَامٌ فِي وعاءٍ لَهُ، فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهِ، فَخَرَّجَ دَاخِلَهُ شَرًّا مِنْ خَارِجِهِ، قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((لَيْسَ مِنَّا مَنْ غَشَّنَا)).
৭ - উসমান ইবনে মুহাম্মদ আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন, মুআবিয়াহ ইবনে মাইসারাহ ইবনে শুরাইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-হাকাম ইবনে উতাইবাহ ইবনে রাবাহ থেকে, তিনি কায়স ইবনে আবি গারাজাহ থেকে বর্ণনা করেন, ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার নিকট একটি পাত্রে খাদ্য ছিল। অতঃপর তিনি তাতে তাঁর হাত প্রবেশ করালেন এবং এর ভেতর থেকে এমন কিছু বের করে আনলেন যা বাইরের অংশের চেয়ে নিকৃষ্ট ছিল। তিনি বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَسَنَةَ الْجُهَنِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

8 - أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، ثنا الأَعْمَشُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَسَنَةَ، قَالَ: كُنَّا فِي سَفَرٍ فَأَصَابَنَا جُوعٌ، فَنَزَلْنَا مَنْزِلا كَثِيرَ الضِّبَابِ، فَبَيْنَا الْقُدُورُ تَغْلِي بِهَا، إِذْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((إِنَّهُ مُسِخَتْ أُمَّةٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَأَخَافُ أَنْ تَكُونَ هَذِهِ)) فَكَفَيْنَا الْقُدُورَ.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে আব্দুর রহমান ইবন হাসানা আল-জুহানি

৮ - ইয়ালা ইবন উবাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-আমাশ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবন ওয়াহাব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবন হাসানা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা এক সফরে ছিলাম এবং আমরা ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিলাম। অতঃপর আমরা এমন এক স্থানে অবতরণ করলাম যেখানে প্রচুর পরিমাণে ধব (মরুভূমির বড় গিরগিটি) ছিল। যখন হাঁড়িগুলোতে সেগুলো টগবগ করে ফুটছিল, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈলের একটি উম্মতকে বিকৃত করা হয়েছিল, আর আমি আশঙ্কা করছি যে সম্ভবত এগুলিই তারা।” ফলে আমরা হাঁড়িগুলো উল্টে দিলাম।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
9 - أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ⦗ص: 31⦘ حَسَنَةَ، قَالَ: كُنْتُ أَنَا وَعَمْرُو بْنُ الْعَاصِ جَالِسَيْنِ، فَخَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَفِي يَدِهِ دَرَقَةٌ، فَبَالَ وَهُوَ جَالِسٌ، فَتَكَلَّمْنَا فِيمَا بَيْنَنَا، فَقُلْنَا: يَبُولُ كَمَا تَبُولُ الْمَرْأَةُ، فَأَتَانَا فقال: أوماتدرون مَا لَقِيَ صَاحِبُ بَنِي إِسْرَائِيلَ، كَانُوا إِذَا أَصَابَهُمْ بَوْلٌ قَرَضُوهُ، فَنَهَاهُمْ، فَتَرَكُوهُ فَعُذِّبَ فِي قبره)).
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়ালা ইবনে উবাইদ এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা, তাঁরা আমাশ থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ হাসানা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এবং আমর ইবনুল আস উপবিষ্ট ছিলাম। এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন, তাঁর হাতে ছিল একটি ঢাল। অতঃপর তিনি বসে প্রস্রাব করলেন। আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলাম: তিনি তো নারীদের ন্যায় প্রস্রাব করছেন। তখন তিনি আমাদের নিকট এসে বললেন: “তোমরা কি জানো না বনী ইসরাঈলের সেই ব্যক্তি কিসের সম্মুখীন হয়েছিল? তাদের কারো শরীরে প্রস্রাব লাগলে তারা তা কেটে ফেলত। কিন্তু সে তাদের তা করতে নিষেধ করেছিল, ফলে তারা তা বর্জন করেছিল। এই কারণে তাকে তার কবরে আযাব দেওয়া হয়েছিল।”))
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌الأَغَرُّ الْجُهَنِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

10 - أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ الْعُمَرِيُّ، أثنا مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنِ ⦗ص: 33⦘ الأَغَرِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((تُوبُوا إِلَى رَبِّكُمْ فَوَاللَّهِ إِنِّي لأَتُوبُ إِلَى رَبِّي فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ)).
আল-আগার আল-জুহানি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে

১০ - জাফর ইবনে আউন আল-উমারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মিসআর ইবনে কিদাম আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবু বুর্দাহ থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ আল-আগার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের রবের কাছে তাওবাহ করো। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি দিনে একশত বার আমার রবের কাছে তাওবাহ করি।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌خَالِدُ بْنُ عَدِيٍّ الْجُهَنِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

11 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي أَبُو الأَسْوَدِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ ⦗ص: 35⦘ سَعِيدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عَدِيٍّ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ((مَنْ بَلَغَهُ مَعْرُوفٌ مِنْ أَخِيهِ مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ وَلا إِشْرَافٍ، فَلْيَقْبَلْهُ وَلا يَرُدَّهُ، فَإِنَّمَا هُوَ رِزْقٌ سَاقَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ)).
খালিদ ইবনে আদি আল-জুহানি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন

১১ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব থেকে, আবু আল-আসওয়াদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন বুকাইর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বুসর ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ সাঈদ থেকে, তিনি খালিদ ইবনে আদি আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: ((যার নিকট তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার যাচ্ঞা বা আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই কোনো কল্যাণ পৌঁছে, সে যেন তা গ্রহণ করে এবং তা প্রত্যাখ্যান না করে; কারণ এটি মূলত রিজিক যা আল্লাহ তার দিকে পাঠিয়েছেন।))
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌سَلَمَةُ بْنُ الأَكْوَعِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

12 - أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ الْعُمَرِيُّ، وَأَبُو نُعَيْمٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ ⦗ص: 37⦘ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَ رجلٌ عَيْنُ الْمُشْرِكِينَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ نَازِلٌ، فَلَمَّا طَعِمَ انْسَلَّ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((عَلَيَّ الرَّجُلَ، اقْتُلُوهُ)) فَابْتَدَرَهُ الْقَوْمُ، وَكَانَ أَبِي يَسْبِقُ الْفَرَسَ شَدًّا، فَبَدَرَهُمْ إِلَيْهِ حَتَّى أَخَذَ بِخِطَامِ رَاحِلَتِهِ، ثُمَّ قَتَلَهُ، فَنَفَّلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَلَبَهُ.
সালামাহ ইবনুল আকওয়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন

১২ - জাফর ইবনে আউন আল-উমারি ও আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা আল-আমাশ থেকে, তিনি ইয়াস ইবনে সালামাহ ইবনুল আকওয়া থেকে, তিনি তাঁর ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুশরিকদের একজন গুপ্তচর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসল যখন তিনি এক স্থানে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর সে আহার করার পর সংগোপনে সটকে পড়ল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "লোকটিকে পাকড়াও করো এবং তাকে হত্যা করো।" ফলে লোকেরা তার পিছু নিল। আমার পিতা দৌড়ে ঘোড়াকেও ছাড়িয়ে যেতেন। তাই তিনি তাদের আগে লোকটির কাছে পৌঁছে গেলেন এবং তার উটের লাগাম ধরে ফেললেন। অতঃপর তিনি তাকে হত্যা করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নিহত শত্রুর ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পুরস্কার হিসেবে দান করলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
13 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حَكِيمٍ، قَالا: أثنا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي عُمَيْسٍ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ شِعَارُهُمْ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ ⦗ص: 39⦘ غَزَوَاتِهِ: ((أَمِتْ أَمِتْ)).
১৩ - মুহাম্মদ ইবন সাঈদ এবং আলী ইবন হাকিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: শারীক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু উমাইস থেকে, তিনি ইয়াস ইবন সালামাহ ইবনুল আকওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো কোনো ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ যুদ্ধে তাঁদের রণধ্বনি ছিল: ((মৃত্যু দাও, মৃত্যু দাও))।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
14 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ أَسَدِيٍّ، أَبُو إِبْرَاهِيمَ، ⦗ص: 40⦘ ثنا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ الْيَوْمَ رَجُلا يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِ))، فَدَفَعَهَا إِلَى عَلِيٍّ فَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ خَيْبَرَ.
১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন আসাদি, আবু ইব্রাহিম, ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুসা বিন উবাইদাহ, ইয়াস বিন সালামাহ বিন আল-আকওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আজ আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে এই ঝাণ্ডা প্রদান করব, যার হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন)), অতঃপর তিনি তা আলীর হাতে অর্পণ করলেন এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে খায়বার বিজয় দান করলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
15 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أثنا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ الحديبية فنحر مائة بدنة، ⦗ص: 41⦘ ونحن سبع عَشْرَةَ مِائَةً، قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: لا أَعْلَمُهُ إِلا قَالَ: أَرْبَعَ عَشْرَةَ مِائَةً، وَمَعَهُ عُدَّةُ الرِّجَالِ وَالسِّلاحُ وَالْخَيْلُ، وَكَانَ فِي بُدْنِهِ، فَصَالَحَتْهُ قُرَيْشٌ عَلَى أَنَّ هَذَا الْهَدْيَ حَبِيسٌ، وَهُوَ محله.
১৫ - উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মূসা ইবনে উবাইদাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াস ইবনে সালামাহ ইবনুল আকওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হুদায়বিয়ার যুদ্ধে বের হলাম। তখন তিনি একশটি উট কুরবানি করলেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ আর আমরা ছিলাম সতেরো শত জন। উবাইদুল্লাহ বলেন: আমি জানি না, তবে সম্ভবত তিনি বলেছিলেন: চৌদ্দ শত জন। তাঁর সাথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোক, অস্ত্রশস্ত্র ও ঘোড়া ছিল এবং তা তাঁর কুরবানির পশুর অন্তর্ভুক্ত ছিল। অতঃপর কুরাইশরা তাঁর সাথে এই মর্মে সন্ধি করল যে, এই হাদয় (কুরবানির পশু) আটকে রাখা হবে এবং এটাই তার জবেহ করার স্থান।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
16 - أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، ثنا يَعْلَى بْنُ الْحَارِثِ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْجُمُعَةَ، ثُمَّ نَرْجِعُ فَمَا نَجِدُ شَيْئًا ⦗ص: 42⦘ نَسْتَظِلُّ بِهِ.
১৬ - আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়ালা ইবনুল হারিস আল-মুহারিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াস ইবনে সালামাহ ইবনুল আকওয়া আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে জুমুআর সালাত আদায় করতাম, অতঃপর আমরা ফিরে আসতাম কিন্তু আমরা এমন কিছু পেতাম না ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ যা দ্বারা আমরা ছায়া গ্রহণ করতে পারি।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
17 - أَنْبَأَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ثنا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: بَعَثَتْ قُرَيْشٌ ⦗ص: 43⦘ سُهَيْلَ بْنَ عَمْرٍو وَحُوَيْطِبَ بْنَ عَبْدِ الْعُزَّى، وَحَفْصَ بْنَ فُلانَ، إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِيُصَالِحُوهُ، فَلَمَّا رَآهُمْ رَسُولُ اللَّهِ فِيهِمْ سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ: ((سُهِّلَ مِنْ أَمْرِ الْقَوْمِ يَأْتُونَ إِلَيْكُمْ، وَسَائِلُوكُمُ الصُّلْحَ فَابْعَثُوا الْهَدْيَ، وَأَظْهِرُوا التَّلْبِيَةَ، لَعَلَّ ذَاكَ يُلَيِّنُ))، فَلَبُّوا مِنْ نَوَاحِي الْعَسْكَرِ حَتَّى ارْتَجَّتْ أَصْوَاتُهُمْ بِالتَّلْبِيَةِ، قَالَ: فَجَاءُوهُ، فَسَأَلُوهُ الصُّلْحَ، فَبَيْنَمَا النَّاسُ قَدْ تَوَادَعُوا، وَفِي الْمُسْلِمِينَ نَاسٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ، وَفِي الْمُشْرِكِينَ ناس من المسلمين، فقبل أَبُو سُفْيَانَ، فَإِذَا الْوَادِي يَسِيلُ بِالرِّجَالِ وَالسِّلاحِ، قَالَ إِيَاسٌ: قَالَ سَلَمَةٌ: فَجِئْتُ بِسِتَّةٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ مُسَلَّحِينَ أَسُوقُهُمْ، مَا يَمْلِكُونَ لأَنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَلا نَفْعًا، فَأَتَيْتُ بِهِمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمْ يُسَلِّبْ، وَلَمْ يَقْتُلْ وَعَفَا. قَالَ: فَشَدَدْنَا عَلَى مَنْ فِي أَيْدِي الْمُشْرِكِينَ مِنَّا، فَمَا تَرَكْنَا فِيهِمْ رَجُلا مِنَّا إِلا اسْتَنْقَذْنَاهُ، قَالَ: فَغُلِبْنَا عَلَى مَنْ فِي أَيْدِينَا مِنْهُمْ، قَالَ: ثُمَّ إِنَّ قُرَيْشًا بَعَثُوا سُهَيْلَ بْنَ عَمْرٍو، وَحُوَيْطِبَ بْنَ عَبْدِ الْعُزَّى، فَوُلُّوا صُلْحَهُمْ، وَبَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلِيًّا رضي الله عنه فِي صُلْحِهِ، فَكَتَبَ عَلِيٌّ رضي الله عنه بَيْنَهُمْ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ، هَذَا مَا صَالَحَ عَلَيْهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ [صلى الله عليه وسلم] قُرَيْشًا، صَالَحَهُمْ عَلَى أَنَّهُ لا إِغْلالَ وَلا إِسْلالَ وَعَلَى ⦗ص: 44⦘ أَنَّهُ مَنْ قَدِمَ مَكَّةَ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا، أَوْ مَنْ جَاءَ مِنْ قُرَيْشٍ إِلَى مُحَمَّدٍ فَهُوَ ردٌّ إِلَيْهِمْ، وَمَنْ جَاءَهُمْ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ فَهُوَ لَهُمْ، فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ جَاءَهُمْ مِنَّا فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ، وَمَنْ جَاءَنَا مِنْهُمْ رَدَدْنَاهُ إِلَيْهِمْ، فَإِنْ يَعْلَمِ اللَّهُ الإِسْلامَ مِنْ نَفْسِهِ، جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مَخْرَجًا))، وَصَالَحُوهُ عَلَى أَنَّهُ يَقْدُمُ عَلَيْنَا عَامًا قَابِلَ فِي مِثْلِ هَذَا الشَّهْرِ، لا يَدْخُلُ عَلَيْنَا بخيلٍ وَلا سِلاحٍ إِلا مَا يحمل المسافر في قرابة، يثوى فِينَا ثَلاثَ لَيَالٍ، وَعَلَى أَنَّ هَذَا الْهَدْيَ حَيْثُ مَا حَبَسْنَاهُ فَهُوَ مَحَلُّهُ، لا يُقْدِمُهُ عَلَيْنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((نَحْنُ نَسُوقُهُ، وَأَنْتُمْ تَرُدُّونَ وَجْهَهُ))، فَسَارَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ الْهَدْيِ وَسَارَ النَّاسُ.
১৭ - উবাইদুল্লাহ বিন মূসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মূসা বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াস বিন সালামাহ বিন আল-আকওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুরাইশগণ ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ সুহাইল বিন আমর, হুওয়াইতিব বিন আব্দুল উযযা এবং হাফস বিন অমুককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সন্ধি করার জন্য পাঠাল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মধ্যে সুহাইল বিন আমরকে দেখলেন, তখন তিনি বললেন: ((লোকদের বিষয়টি সহজ হয়ে গেছে; তারা তোমাদের কাছে আসছে এবং তারা তোমাদের কাছে সন্ধি প্রার্থনা করবে। সুতরাং তোমরা কুরবানির পশুগুলো পাঠিয়ে দাও এবং উচ্চস্বরে তালবিয়াহ পাঠ করো, সম্ভবত এটি তাদের হৃদয়কে নরম করবে।)) ফলে সৈন্যদলের চারপাশ থেকে তারা এমনভাবে তালবিয়াহ পাঠ করতে লাগল যে তাদের কণ্ঠে তালবিয়াহ ধ্বনিত হয়ে উঠল। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তারা তাঁর নিকট এল এবং তাঁর কাছে সন্ধি প্রার্থনা করল। এমতাবস্থায় যখন লোকেরা একে অপরের সাথে সন্ধির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল, এবং মুসলিমদের মধ্যে মুশরিকদের কিছু লোক ছিল এবং মুশরিকদের মধ্যে মুসলিমদের কিছু লোক ছিল, তখন আবু সুফিয়ান উপস্থিত হলো। তখন হঠাৎ দেখা গেল উপত্যকাটি মানুষ এবং অস্ত্রে প্লাবিত হয়ে গেছে। ইয়াস বলেন, সালামাহ বলেছেন: আমি ছয়জন সশস্ত্র মুশরিককে বন্দি করে তাড়িয়ে নিয়ে আসলাম, তারা নিজেদের কোনো ক্ষতি বা উপকারের ক্ষমতা রাখত না। আমি তাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট নিয়ে এলাম, কিন্তু তিনি তাদের মালামাল কেড়ে নিলেন না, তাদের হত্যাও করলেন না এবং ক্ষমা করে দিলেন। তিনি বলেন: এরপর মুশরিকদের হাতে আমাদের যারা (বন্দি) ছিল তাদের ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থান নিলাম এবং আমাদের কোনো লোককেই তাদের মাঝে ছেড়ে আসলাম না, বরং তাদের উদ্ধার করলাম। তিনি বলেন: এরপর আমাদের হাতে তাদের যারা ছিল তাদের ব্যাপারে আমরা পরাজিত হলাম (অর্থাৎ তারা আমাদের থেকে মুক্ত হয়ে গেল)। তিনি বলেন: অতঃপর কুরাইশগণ সুহাইল বিন আমর এবং হুওয়াইতিব বিন আব্দুল উযযাকে পাঠাল এবং তারা তাদের সন্ধির দায়িত্ব গ্রহণ করল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলীকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পক্ষ থেকে সন্ধির জন্য পাঠালেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদের মাঝে লিখলেন: বিসমিল্লাহির রহমান (পরম করুণাময় আল্লাহর নামে), এটি সেই বিষয় যার ওপর আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কুরাইশদের সাথে সন্ধি করেছেন। তিনি তাদের সাথে এই মর্মে সন্ধি করেছেন যে, কোনো গোপন খেয়ানত বা তলোয়ার চালানো হবে না এবং ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে কেউ যদি হজ বা উমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় আসে, অথবা কুরাইশদের পক্ষ থেকে কেউ যদি মুহাম্মদের নিকট আসে তবে তাকে তাদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে। আর মুহাম্মদের সাহাবীদের মধ্য থেকে কেউ যদি তাদের কাছে যায়, তবে সে তাদেরই থাকবে। এটি মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত কঠিন মনে হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ((আমাদের মধ্য থেকে যে তাদের কাছে যাবে, আল্লাহ তাকে দূরে সরিয়ে দিন। আর তাদের মধ্য থেকে যে আমাদের কাছে আসবে, আমরা তাকে তাদের নিকট ফেরত দেব; কারণ আল্লাহ যদি তার অন্তরে ইসলাম আছে বলে জানেন, তবে আল্লাহই তার জন্য কোনো না কোনো পথ তৈরি করে দেবেন।)) তারা তাঁর সাথে এই মর্মেও সন্ধি করল যে, তিনি আগামী বছর এই মাসের মতো সময়ে আমাদের কাছে আসবেন; তিনি আমাদের নিকট কোনো ঘোড়া বা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করবেন না, কেবল মুসাফিরের কোষবদ্ধ তলোয়ার ছাড়া। তিনি আমাদের মাঝে তিন রাত অবস্থান করবেন। আর এই কুরবানির পশুগুলো যেখানে আমরা আটকে দিয়েছি সেখানেই এর হালাল হওয়ার (কুরবানির) স্থান হবে, তিনি সেগুলো আমাদের দিকে আগে পাঠাবেন না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ((আমরা এগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে আসব, আর তোমরা সেগুলোর মুখ ফিরিয়ে দেবে।)) এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানির পশুগুলো নিয়ে চললেন এবং লোকেরাও চলতে লাগল।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
18 - أَخْبَرَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، ثنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ أَبِي بَكْرٍ هَوَازِنَ فَنَفَّلَنِي بِنْتَ الْمَرْأَةِ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((هَبْ لِيَ الْمَرْأَةَ)) فَبَعَثَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَكَّةَ ⦗ص: 46⦘ فَفَادَى بِهَا أُنَاسًا كَانُوا أُسِرُوا مِنَ الْمُسْلِمِينَ.
১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন আল-রাবী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, ইকরিমা বিন আম্মার থেকে, তিনি ইয়াস বিন সালামা বিন আল-আকওয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকরের সাথে হাওয়াজিন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম, তখন তিনি আমাকে এক মহিলার কন্যাকে পুরস্কার হিসেবে প্রদান করেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: ((মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও))। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মক্কায় পাঠালেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ এবং তার বিনিময়ে মুসলমানদের মধ্য থেকে যারা বন্দী হয়েছিলেন তাদের মুক্ত করলেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
19 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ثنا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جِئْتُ مُحْضَرًا فِي مِثْلِ ⦗ص: 47⦘ الرِّيحِ، فَمَرَرْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ فِي شِرْذِمَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ، لَمْ أَرَ قَبَلْهُمْ وَلا بَعْدَهُمْ مِثْلَهُمْ مُتَقَلِّدِينَ سُيُوفًا، شُحْذًا قَرِيبًا مِنَ الثَّلاثِينَ، فَقَالَ لِي رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: ((يا ابن الأَكْوَعِ رَأَيْتَ فَزَعًا)).
১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে উবায়দাহ, তিনি ইয়াস ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বাতাসের ন্যায় দ্রুত গতিতে ⦗পৃষ্ঠা: ৪৭⦘ উপস্থিত হলাম। অতঃপর আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম, এমতাবস্থায় তিনি আনসারদের একটি ক্ষুদ্র দলের মাঝে ছিলেন। আমি তাদের পূর্বে বা পরে তাদের ন্যায় আর কাউকে দেখিনি যারা ধারালো তরবারি সজ্জিত ছিলেন, তারা সংখ্যায় প্রায় তিরিশ জন ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: "হে ইবনুল আকওয়া! তুমি কি আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু দেখেছ?"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
20 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ثنا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((النُّجُومُ أَمَانٌ لأَهْلِ السَّمَاءِ، وَأَهْلُ بَيْتِي أَمَانٌ لأُمَّتِي)).
২০ - উবাইদুল্লাহ ইবনুল মূসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মূসা বিন উবাইদাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াস বিন সালামাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((নক্ষত্ররাজী আসমানের অধিবাসীদের জন্য নিরাপত্তার কারণ, আর আমার আহলে বাইত আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তার কারণ।))
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
21 - أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ يَزِيدَ مَوْلَى سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ سَلَمَةَ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فديةٌ طَعَامُ مسكينٍ}، كَانَ مَنْ أَرَادَ أَنْ يُفْطِرَ وَيَفْتَدِيَ، حَتَّى نَزَلَتِ الآيَةُ الَّتِي بَعْدَهَا فَنَسَخَتْهَا.
21 - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুতাইবাহ ইবন সাঈদ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বকর ইবন মুদার, তিনি আমর ইবনুল হারিস থেকে, তিনি বুকাইর ইবন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনুল আকওয়ার আযাদকৃত গোলাম ইয়াযীদ থেকে, তিনি সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন এই আয়াতটি নাযিল হলো: {আর যারা এটি (রোজা) পালনে সক্ষম, তাদের ওপর ফিদিয়া হলো একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো}, তখন যে ব্যক্তি রোজা না রেখে ফিদিয়া দিতে চাইত, সে তা করত; যতক্ষণ না পরবর্তী আয়াতটি নাযিল হয়ে একে রহিত করল।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
22 - أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ⦗ص: 50⦘ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ: سَمِعْتُ سَلَمَةَ بْنَ الأَكْوَعِ، قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبْعَ غَزَوَاتٍ، وَغَزَوْتُ فِيمَا بَعَثَ مِنَ الْبُعُوثِ سَبْعَ غَزَوَاتٍ، مَرَّةً عَلَيْنَا أَبُو بَكْرٍ، وَمَرَّةً عَلَيْنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ.
22 - কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাতিম ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ সালামাহ ইবনুল আকওয়ার মুক্তদাস ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সালামাহ ইবনুল আকওয়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং তিনি যেসব বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন তার মধ্যে আমি আরও সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি; একবার আমাদের নেতৃত্বে ছিলেন আবু বকর এবং একবার আমাদের নেতৃত্বে ছিলেন উসামা ইবনে জায়েদ।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৫১)
23 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ مُوسَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ أَنَّهُ ⦗ص: 52⦘ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَتَصَيَّدُ أَفَأُصَلِّي فِي الْقَمِيصِ الْوَاحِدِ؟ قَالَ: نَعَمْ، وَزُرَّهُ وَلَوْ بشوكة)).
২৩ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দারাওয়ার্দি আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুসা ইবনে ইবরাহিম থেকে, তিনি সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি শিকার করি, আমি কি একটি মাত্র জামা পরে সালাত আদায় করতে পারব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, এবং এর বোতাম লাগিয়ে নাও, যদিও তা একটি কাঁটা দিয়ে হয়।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৫২)
24 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ السَّكُونِيُّ، عَنْ مُوسَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، أَخْبَرَنِي ⦗ص: 53⦘ أَبِي، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلاةِ فِي الْقَوْسِ وَالْقَرَنِ، فَقَالَ: ((صَلِّ فِي الْقَوْسِ، وَاطْرَحِ الْقَرَنَ)).
২৪ - আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উকবাহ বিন খালিদ আস-সাকুনি, তিনি মুসা বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাকে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ আমার পিতা সংবাদ দিয়েছেন সালামাহ বিন আল-আকওয়া থেকে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ধনুক ও তূণীর (তীর রাখার পাত্র) সাথে নিয়ে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন: "ধনুক সাথে নিয়ে সালাত আদায় করো, তবে তূণীরটি সরিয়ে রাখো।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
25 - حدثنا عبد الله بن محمد، ثنا هاشم بْنُ الْقَاسِمِ، ثنا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، ⦗ص: 54⦘ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ: بَارَزَ عَمِّي يَوْمَ خَيْبَرَ مَرْحَبَ الْيَهُودِيَّ، فَقَالَ مَرْحَبُ:

قَدْ عَلِمَتْ خَيْبَرُ أَنِّي مَرْحَبُ

شَاكِي السِّلاحِ بَطَلٌ مُجَرَّبُ

إِذَا اللُّيُوثُ أَقْبَلَتْ تَلَهَّبُ

فَقَالَ عَمِّي عَامِرٌ:

قَدْ عَلِمَتْ خَيْبَرُ أَنِّي عَامِرُ

شَاكِي السِّلاحِ بَطَلٌ مُغَامِرُ

فَاخْتَلَفَا ضَرْبَتَيْنِ، فَوَقَعَ سَيْفُ مَرْحَبَ فِي تُرْسِ عَامِرٍ، فَرَجَعَ السَّيْفُ عَلَى سَاقِهِ فَقَطَعَ أَكْحَلَهُ، وَكَانَتْ فِيهَا نَفْسُهُ، فَلَقِيتُ مِنْ صَحَابَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: بَطَلَ عَمَلُ عَامِرٍ قَتَلَ نَفْسَهُ، قَالَ سَلَمَةُ: فَجِئْتُ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبْكِي، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بَطَلَ عَمَلُ عَامِرٍ، قَالَ: مَنْ قَالَ، قُلْتُ: أُنَاسٌ مِنْ أَصْحَابِكَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((كَذَبَ مَنْ قَالَ ذَاكَ: بَلْ لَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ)).

وَأَنَّهُ حِينَ خَرَجَ إِلَى خَيْبَرَ جَعَلَ يَرْتَجِزُ بِأَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَفِيهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَسُوقُ رِكَابَهُ، وَهُوَ يَقُولُ:

تَاللَّهِ لَوْلا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا

وَلا تَصَدَّقْنَا وَلا صَلَّيْنَا

إِنَّ الَّذِينَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا

إِذَا أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا

وَنَحْنُ عَنْ فَضْلِكَ مَا اسْتَغْنَيْنَا

فَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاقَيْنَا

⦗ص: 55⦘

وَأَنْزِلَنَّ سَكِينَةً عَلَيْنَا

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ هَذَا)) فَقَالَ عَامِرٌ: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: ((غَفَرَ لَكَ رَبُّكَ)) قَالَ: وَمَا اسْتَغْفَرَ لإِنْسَانٍ قَطُّ يَخُصُّهُ إِلا اسْتُشْهِدَ، قَالَ: فَلَمَّا سَمِعَ ذَلِكَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ تَشَاءُ مَتَّعْتَنَا بِعَامِرٍ، فَقَامَ فَاسْتُشْهِدَ، ثُمَّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَنِي إِلَى عَلِيٍّ، وَقَالَ: لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ الْيَوْمَ رَجُلا يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ، قَالَ: فَجِئْتُ بِهِ أَقُودُهُ، وَهُوَ أَرْمَدُ فَبَصَقَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي عَيْنِهِ، ثُمَّ أَعْطَاهُ الرَّايَةَ، فَخَرَجَ مَرْحَبُ يَخْطِرُ بِسَيْفِهِ فَقَالَ:

قَدْ عَلِمَتْ خَيَبْرُ أَنِّي مَرْحَبُ

شَاكِ السِّلاحِ بَطَلٌ مُجَرَّبُ

إِذَا الْحُرُوبُ أَقْبَلَتْ تَلَهَّبُ

فَقَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه:

أَنَا الَّذِي سَمَّتْنِي أُمِّي حَيْدَرَهْ

كَلَيْثِ غَابَاتٍ كَرِيهِ الْمَنْظَرَهْ

أُوفِيهِمْ بِالصَّاعِ كَيْلَ السَّنْدَرَهْ

فَفَلَقَ رَأْسَ مَرْحَبَ بِالسَّيْفِ، وَكَانَ الْفَتْحُ عَلَى يَدَيْهِ.
২৫ - আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাশিম ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরিমাহ ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াস ইবনে সালামাহ ইবনুল আকওয়া’ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: খয়বারের যুদ্ধের দিন আমার চাচা ইহুদি বীর মারহাবের সাথে দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হলেন। তখন মারহাব বলল:

খয়বার জানে যে আমিই মারহাব

সুসজ্জিত অস্ত্রধারী এক পরীক্ষিত বীর

যখন সিংহেরা অগ্নিমূর্তি ধারণ করে এগিয়ে আসে।

তখন আমার চাচা আমির বললেন:

খয়বার জানে যে আমিই আমির

সুসজ্জিত অস্ত্রধারী এক দুঃসাহসী বীর।

অতঃপর তারা একে অপরকে দুটি আঘাত করলেন। মারহাবের তলোয়ার আমিরের ঢালে গিয়ে পড়ল। তখন আমিরের তলোয়ারটি (ঢালে প্রতিহত হয়ে) ফিরে এসে তাঁর নিজের পায়ের ওপর লাগল এবং তাঁর পায়ের প্রধান শিরাটি কেটে ফেলল। এতেই তাঁর মৃত্যু হলো। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করলে তাঁরা বললেন: আমিরের আমল বাতিল হয়ে গেছে; সে নিজেই নিজেকে হত্যা করেছে। সালামাহ বলেন: এরপর আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কাঁদতে কাঁদতে আসলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমিরের আমল কি বাতিল হয়ে গেছে? তিনি বললেন: "একথা কে বলেছে?" আমি বললাম: আপনার সাহাবীদের মধ্য থেকে কিছু লোক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যে ব্যক্তি এ কথা বলেছে সে মিথ্যা বলেছে; বরং তাঁর জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার।"

আর তিনি যখন খয়বারের দিকে বের হলেন, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সামনে বীরত্বগাথা কবিতা পাঠ করতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের মাঝেই ছিলেন এবং তিনি (সালামাহ) তাঁর সওয়ারি হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন:

আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ না হতেন তবে আমরা হিদায়াত পেতাম না

সদকা দিতাম না এবং সালাতও আদায় করতাম না।

নিশ্চয়ই তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে

যদি তারা ফিতনা সৃষ্টি করতে চায়, তবে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।

আমরা আপনার অনুগ্রহ থেকে অমুখাপেক্ষী নই

সুতরাং যখন আমরা (শত্রুর) মুখোমুখি হই তখন আমাদের পা অটল রাখুন,

⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘

এবং আমাদের ওপর প্রশান্তি বর্ষণ করুন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এই ব্যক্তি কে?" আমির বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আমির। তিনি বললেন: "তোমার রব তোমাকে ক্ষমা করুন।" সালামাহ বলেন: তিনি (নবীজী) কখনো কোনো ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে সে ব্যক্তি শহীদ হতেন। বর্ণনাকারী বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব যখন এ কথা শুনলেন তখন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আমাদের আমিরের দ্বারা আরও কিছুকাল উপকৃত হওয়ার সুযোগ দিতেন! এরপর তিনি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে শাহাদাত বরণ করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আলীর নিকট পাঠালেন এবং বললেন: "আজ আমি এমন এক ব্যক্তির হাতে ঝাণ্ডা প্রদান করব, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন।" সালামাহ বলেন: আমি তাঁকে (আলীকে) পথ দেখিয়ে নিয়ে আসলাম, তাঁর চোখে প্রদাহ ছিল। তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চোখে থুতু দিলেন এবং তাঁকে ঝাণ্ডা প্রদান করলেন। তখন মারহাব তার তলোয়ার ঘোরাতে ঘোরাতে আস্ফালন করে বেরিয়ে আসল এবং বলল:

খয়বার জানে যে আমিই মারহাব

সুসজ্জিত অস্ত্রধারী এক পরীক্ষিত বীর

যখন যুদ্ধসমূহ অগ্নিমূর্তি ধারণ করে এগিয়ে আসে।

তখন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন:

আমি সেই ব্যক্তি যার নাম আমার মা রেখেছেন 'হায়দার' (সিংহ)

বনের সেই সিংহের মতো যার চেহারা অতি ভয়ঙ্কর

আমি তাদের পাওনা পূর্ণমাত্রায় পরিশোধ করব।

অতঃপর তিনি তলোয়ারের আঘাতে মারহাবের মাথা দ্বিখণ্ডিত করে ফেললেন এবং তাঁর হাতেই বিজয় অর্জিত হলো।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
26 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَنَا مُوسَى، حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: فَلَمَّا أَصْبَحْنَا بَعَثَتْ قُرَيْشٌ خَارِجَةَ بْنَ كُرْزٍ يَطْلُعُ لَهُمْ طَلِيعَةً، فَرَجَعَ حَامِدًا يحسن الثناء فقالوا: إنك أعرابي، فقعقعوا لَكَ السِّلاحَ فَطَارَ فُؤَادُكَ، فَمَا دَرَيْتَ مَا قِيلَ لَكَ، وَلا مَا قُلْتَ، ثُمَّ أَرْسَلُوا عُرْوَةَ بْنَ مَسْعُودٍ، فَجَاءَهُ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا هَذَا الْحَدِيثُ؟ تَدْعُو إِلَى ذَاتِ اللَّهِ، ثُمَّ جِئْتَ قَوْمَكَ بِأَوْبَاشِ النَّاسِ، مَنْ تَعْرِفُ وَمَنْ لا تَعْرِفُ، لِتَقْطَعَ أَرْحَامَهُمْ، ⦗ص: 57⦘ وَتَسْتَحِلَّ حُرْمَتَهُمْ، دِمَاءَهُمْ، وَأَمْوَالَهُمْ، فَقَالَ: إِنِّي لَمْ آتِ قَوْمِي إِلا لِيَصِلَ اللَّهُ أَرْحَامَهُمْ، وَيُبْدِلَهَا اللَّهُ بِدِينٍ خَيْرٍ مِنْ دِينِهِمْ، وَمَعَايِشَ خَيْرٍ مِنْ مَعَايِشِهِمْ، فرجع حامداً أيضاً يحسن الثناء.
২৬ - উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াস ইবনে সালামাহ ইবনে আল-আকওয়া তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন সকাল হলো, কুরাইশরা তাদের জন্য সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে খারিজা ইবনে কুরজ-কে পাঠাল। সে (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর) প্রশংসা ও গুণকীর্তন করতে করতে ফিরে এল। তারা বলল: তুমি তো একজন মরুবাসী আরব, তারা তোমার সামনে অস্ত্রের ঝনঝনানি সৃষ্টি করেছে আর তোমার অন্তর উড়ে গেছে, ফলে তোমাকে কী বলা হয়েছে আর তুমি কী বলেছ তা তুমি বুঝতে পারোনি। অতঃপর তারা উরওয়াহ ইবনে মাসউদকে পাঠাল। সে তাঁর কাছে এসে বলল: হে মুহাম্মদ, এই সব কী কথা? তুমি আল্লাহর সত্তার দিকে আহ্বান করছ, এরপর তোমার কওমের কাছে এমন সব ইতর লোকদের নিয়ে এসেছ যাদের তুমি চেনো অথবা চেনো না, যাতে তাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতে পারো, ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ এবং তাদের মর্যাদা, রক্ত ও ধন-সম্পদকে বৈধ করে নিতে পারো। তিনি বললেন: আমি আমার কওমের কাছে এসেছি কেবল এ জন্য যে, আল্লাহ যেন তাদের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন এবং আল্লাহ তাদের বর্তমান ধর্মের চেয়ে উত্তম দ্বীন এবং তাদের বর্তমান জীবনোপায়ের চেয়ে উত্তম জীবনোপায় দান করেন। অতঃপর সে-ও প্রশংসা ও গুণকীর্তন করতে করতে ফিরে গেল।
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
27 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ مُوسَى، قَالَ: قَالَ إِيَاسٌ، عَنْ أَبِيهِ فَاشْتَدَّ الْبَلاءُ عَلَى مَنْ كَانَ فِي أَيْدِي الْمُشْرِكِينَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، قَالَ: فَدَعَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُمَرَ، فَقَالَ: ((يَا عُمَرُ هَلْ أَنْتَ مُبْلِغٌ عَنِّي إِخْوَانَكَ مَنْ أُسَارَى الْمُسْلِمِينَ)) قَالَ: بِأَبِي أَنْتَ، وَاللَّهِ مَا لِي بِمَكَّةَ عَشِيرَةٌ، غَيْرِي أَكْثَرُ عَشِيرَةً مِنِّي، فَدَعَى عُثْمَانَ فَأَرْسَلَهُ إِلَيْهِمْ، فَخَرَجَ عُثْمَانُ عَلَى رَاحِلَتِهِ حَتَّى جَاءَ عَسْكَرَ الْمُشْرِكِينَ، فَعَبَثُوا بِهِ وَأَسَاءُوا لَهُ الْقَوْلَ، ثُمَّ أَجَارَهُ أَبَانُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، ابْنُ عَمِّهِ، وَحَمَلَهُ عَلَى السَّرْجِ، وَرَدَفَ، فلما قدم قال: يا ابن عم طف، قال: يا ابن عَمِّ إِنَّ لَنَا صَاحِبًا لا نَبْتَدِعُ أَمْرًا، يَكُونُ هُوَ الَّذِي يَعْمَلُهُ فَنَتَّبِعُ أَثَرَهُ، قَالَ: يا ابن عم مالي أَرَاكَ مُتَخَشِّعًا ⦗ص: 58⦘ أَسْبَلَ، قَالَ: وَكَانَ إِزَارُهُ إِلَى أَنْصَافِ سَاقَيْهِ، قَالَ لَهُ عُثْمَانُ: هَكَذَا أُزْرَةُ صَاحِبِنَا، فَلَمْ يَدَعْ أَحَدًا بِمَكَّةَ مِنْ أُسَارَى الْمُسْلِمِينَ إِلا بَلَّغَهُمْ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

قال سلمة: فينا نَحْنُ قَائِلُونَ إِذْ نَادَى مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَيُّهَا النَّاسُ الْبَيْعَةَ الْبَيْعَةَ، نَزَلَ رُوحُ الْقُدُسِ، قَالَ: فَمَرَرْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ سَمُرَةَ، فَبَايَعْنَاهُ، وَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يبايعونك تحت الشجرة}، قَالَ: وَبَايَعَ لِعُثْمَانَ رضي الله عنه إِحْدَى يَدَيْهِ بِالأُخْرَى فَقَالَ النَّاسُ: هَنِيئًا لأَبِي عَبْدِ اللَّهِ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ، وَنَحْنُ هَهُنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((لَوْ مَكَثَ كَذَا وَكَذَا سَنَةً مَا طَافَ حَتَّى أَطُوفَ)).
২৭ - উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মূসা থেকে, তিনি ইয়াস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুশরিকদের হাতে বন্দি থাকা মুসলমানদের ওপর বিপদ চরম আকার ধারণ করল। তিনি বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরকে ডাকলেন এবং বললেন: "হে উমর! তুমি কি আমার পক্ষ থেকে তোমার ভাই বন্দি মুসলমানদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেবে?" তিনি বললেন: আপনার প্রতি আমার পিতা উৎসর্গিত হোন, আল্লাহর শপথ, মক্কায় আমার এমন কোনো গোত্র নেই (যে আমাকে রক্ষা করবে), আমি ছাড়া অন্যদের গোত্রীয় শক্তি আমার চেয়ে বেশি। তখন তিনি উসমানকে ডাকলেন এবং তাঁকে তাদের কাছে পাঠালেন। উসমান তাঁর সওয়ারিতে চড়ে বের হলেন এবং মুশরিকদের সৈন্যশিবিরে পৌঁছালেন। তারা তাঁর সাথে উপহাস করল এবং তাঁর প্রতি কটু কথা বলল। অতঃপর তাঁর চাচাতো ভাই আবান ইবনে সাঈদ ইবনুল আস তাঁকে আশ্রয় দিলেন, তাঁকে ঘোড়ার জিনে চড়ালেন এবং নিজে তাঁর পেছনে বসলেন। যখন তিনি মক্কায় পৌঁছালেন, আবান বললেন: হে চাচাতো ভাই! আপনি তাওয়াফ করে নিন। তিনি (উসমান) বললেন: হে চাচাতো ভাই! আমাদের একজন নেতা (রাসূলুল্লাহ) আছেন, আমরা তাঁর আগে কোনো কাজ শুরু করি না; তিনি যা করেন আমরা কেবল তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করি। আবান বললেন: হে চাচাতো ভাই! কী ব্যাপার আমি আপনাকে এত বিনীত দেখছি ⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘ যে আপনি কাপড় ঝুলিয়ে দিচ্ছেন না? বর্ণনাকারী বলেন: তাঁর (উসমানের) লুঙ্গি ছিল তাঁর দুই পায়ের নলার অর্ধেক পর্যন্ত। উসমান তাঁকে বললেন: আমাদের নেতার (রাসূলুল্লাহর) পরিধেয় বস্ত্র এমনই। অতঃপর তিনি মক্কার বন্দি মুসলমানদের মধ্যে এমন কাউকে বাকি রাখলেন না যাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা তিনি পৌঁছে দেননি।

সালামাহ বলেন: আমরা যখন দুপুরের বিশ্রামে ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষণাকারী উচ্চস্বরে ঘোষণা দিলেন: হে লোকসকল! বায়আত করো, বায়আত করো; রূহুল কুদুস (জিবরাঈল আ.) অবতরণ করেছেন। তিনি বলেন: অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম যখন তিনি বাবলা গাছের নিচে ছিলেন এবং আমরা তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করলাম। আর এ ব্যাপারেই মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করছিল"। তিনি বলেন: আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষ থেকে তাঁর এক হাত অন্য হাতের ওপর রেখে বায়আত সম্পন্ন করলেন। তখন লোকেরা বলতে লাগল: আবু আবদুল্লাহর (উসমান) জন্য সুসংবাদ, তিনি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছেন আর আমরা এখানে অবস্থান করছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তিনি যদি সেখানে এত এত বছরও অবস্থান করতেন, তবুও আমি তাওয়াফ না করা পর্যন্ত তিনি তাওয়াফ করতেন না।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদু আবিস আল-গিফারী লি-ইবনি আবী গুরজাহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
28 - أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، ثنا [عُمَرُ] بْنُ رَاشِدٍ الْيَمَامِيُّ، ثنا إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ عن أبيه قال: قل ما سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَفْتِحُ بِدُعَاءٍ إِلا اسْتَفْتَحَهُ بِسُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى العلي الوهاب.
২৮ - আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন [উমর] ইবনে রাশিদ আল-ইয়ামামি, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াস ইবনে সালামা ইবনে আল-আকওয়া তাঁর পিতা থেকে; তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুব কমই কোনো দুআ শুরু করতে শুনেছি যা তিনি ‘আমার সুউচ্চ, অতি মহান ও পরম দাতা পালনকর্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি’ বলে শুরু করেননি।